বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ২৮ / ৩৫৪ · ২,৭০১২,৮০০ / ৩৫,৭১৩

২,৭০১.
‘পরিবার’ শব্দে ‘পরি’ কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. ক) বিদেশি
  2. খ) খাঁটি বাংলা
  3. গ) তৎসম
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
• ‘পরিবার’ শব্দে ‘পরি’ একটি তৎসম উপসর্গ

উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

•বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমির অভিধান।
২,৭০২.
প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. গণ
  2. বৃন্দ
  3. বর্গ
  4. সব
ব্যাখ্যা
• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে '-সব', '-সমূহ', '-আবলি', '-মালা' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন:
- সব: ভাইসব, পাখিসব। 
- সমূহ: গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ। 
- আবলি: নিয়মাবলি, রচনাবলি
- মালা: মেঘমালা, পর্বতমালা।

অন্যদিকে, 
• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে '-গণ,' '-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', '-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন-
গণ- সদস্যগণ, সচিবগণ। 
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ। 
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী। 
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২,৭০৩.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. শশীভূষণ কি আসে নাই?
  2. হীন চরিত্রবান লোক পশ্বাধম।
  3. আমি এখন ভীষণ ব্যস্ত।
  4. সব মাছগুলোর দাম কত?
ব্যাখ্যা

- প্রদত্ত অপশনগুলোতে 'আমি এখন ভীষণ ব্যস্ত।' বাক্যটি সঠিক।
- 'শশীভূষণ কি আসে নাই?' বাক্যটিতে 'শশীভূষণ' বানানটি ভুল। এর সঠিক হবে - 'শশিভূষণ কি আসে নাই?'
- সব মাছগুলোর দাম কত? বাক্যটির সঠিক হবে - মাছগুলোর দাম কত?
- 'হীন চরিত্রবান লোক পশ্বাধম।' বাক্যটির সঠিক হবে - চরিত্রহীন লোক পশ্বধম‌।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৭০৪.
যে ছন্দের মূল পর্বের মাত্রা সংখ্যা চার, তাকে কী বলা হয়?
  1. স্বরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. অমিত্রাক্ষর
ব্যাখ্যা
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।
- প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট,পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
২,৭০৫.
কোন ধরনের সংখ্যাশব্দে নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে?
  1. ক্রমবাচক
  2. তারিখবাচক
  3. ভগ্নাংশবাচক
  4. সাধারণ পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
• সাধারণ পূরণবাচক শব্দ:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়।
যেমন - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ইত্যাদি।

এগুলো আবার সংক্ষিপ্তরূপেও লেখা যায়।
যেমন - ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।

• বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে।
যেমন - প্রথমা, দ্বিতীয়া, অষ্টমী, দশমী, ত্রয়োদশী, ষোড়শী ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৭০৬.
নিচের কোনটি কৃদন্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) হামলা
  2. খ) মেঘলা
  3. গ) পানসে
  4. ঘ) ফ্যাকাসে
ব্যাখ্যা
- 'হামলা' হচ্ছে কৃদন্ত শব্দের উদাহরণ। এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়- হাম্‌ + লা

অন্যান্য অপশন:
'মেঘলা' এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়- মেঘ + লা (তদ্ধিতান্ত শব্দ)।
'পানসে' এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়- পানি + সে (তদ্ধিতান্ত শব্দ)।
'ফ্যাকাসে' এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়- ফিকা + সে (তদ্ধিতান্ত শব্দ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৭০৭.
ক্ষুধিত পাষাণ কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. তৎপুরুষ
  4. দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:
- বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস  হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়  তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন, 
- ক্ষুধিত-পাষাণ = ক্ষুধিত যে পাষাণ।
- অক্ষয়কীর্তি = অক্ষয় যে কীর্তি। 
- অর্ধপথ = অর্ধ যে পথ।
- খাসমহল = খাস যে মহল। 
- নবান্ন = নব যে অন্ন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৭০৮.
'Subjudice' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. অবিচার 
  2. বিচারাধীন
  3. অধস্তন 
  4. স্বচ্ছ 
ব্যাখ্যা

• Subjudice এর বাংলা পরিভাষা 'বিচারাধীন'।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:
- Act- আইন,
- Addendum- পরিশিষ্ট, সংযোজন,
- Adjournment- মুলতবি,
- Ad-hoc - তদর্থক,
- Adjustment- সমন্বয়ন,
- Affidavit- হলফনামা,
- Affiliation-সম্বন্ধীকরণ,
- Agenda- আলোচ্যসূচি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৭০৯.
Vice-Versa এর পারিভাষিক শব্দ কী
  1. প্রতিপাদন
  2. সমানুপাতিক
  3. তদ্বিপরীত
  4. আনুসাঙ্গিক
ব্যাখ্যা
Vice-Versa এর পারিভাষিক শব্দ তদ্বিপরীত 

verification - প্রতিপাদন 
Supplement - ক্রোড়পত্র 
Voucher - রসিদ 
Violation - লংঘন
Telegraph - তার 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭১০.
কোন শব্দে 'ণ' এর প্রয়োগ ভুল হয়েছে?
  1. নারায়ণ
  2. বিপণি
  3. গৃহিণী
  4. সমাবর্তণ
ব্যাখ্যা

• 'সমাবর্তণ' এর শুদ্ধ বানান হবে 'সমাবর্তন'।
- 'সমাবর্তন' বানানের ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধানের কোনো নিয়ম খাটছে না। তাই এখানে 'ন' হবে।

• 'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লণ্ঠন, কান্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
৩. - ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি ষ, য়, ব, হ, ৎ এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন: কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প্ + অ+), লক্ষণ (ক্+অ+ প্)। এরূপ রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

এখানে, 
- 'গৃহিণী', 'নারায়ণ' ২নং নিয়মে গঠিত হয়েছে।
- বিপণি স্বভাবতই 'ণ' হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২,৭১১.
শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √কৃর্‌ + অনীয় = করণীয়
  2. √শোচ্ + অনীয় = শোচনীয়
  3. √পাল + অনীয় = পালনীয়
  4. √বর্‌ + অনীয় = বরণীয়
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয়: √পাল + অনীয় = পালনীয়।  

• কৃৎ প্রত্যয় -অনীয় (অনীয়র্):
যোগ্য বা কর্তব্য অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- √কৃ+ অনীয় = করণীয়,
- √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়,
- √শুচ্ + অনীয় = শোচনীয়,
- √স্মৃ + অনীয় = স্মরণীয়,
- √পালি + অনীয় = পালনীয়,
- √বৃ + অনীয় = বরণীয়। 

এরূপ- মাননীয়, পূজনীয়, পানীয়, গ্রহণীয়, রমণীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৭১২.
’আমরা কঠোর পরিশ্রম করি' কর্তাবাচ্যের এই বাক্যটি কর্মবাচ্যে কী হবে?
  1. আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়
  2. আমার কঠোর পরিশ্রম হয়
  3. আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতেই হবে
  4. আমাদের কঠোর পরিশ্রম করা লাগে
ব্যাখ্যা
• কর্মবাচ্য: আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
• কর্তাবাচ্য: আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।

• বাচ্য পরিবর্তন
• কর্তাবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য:
কর্তাবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে কর্তার সঙ্গে দ্বারা, দিয়ে,কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যোগ করতে হয় এবং ক্রিয়ারূপকে কর্মের অনুসারী করতে হয়।
যেমন
কর্তাবাচ্য: জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন।
কর্মবাচ্য: জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।
কর্তাবাচ্য: তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
কর্মবাচ্য: তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।

• কর্মবাচ্য থেকে কর্তাবাচ্য:
কর্মবাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে কর্তার সঙ্গে যুক্ত দ্বারা, দিয়ে,কর্তৃক প্রভৃতি অনুসর্গ বাদ দিতে হয় এবং ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।
যেমন
কর্মবাচ্য: প্রধানশিক্ষক কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়েছে।
কর্তাবাচ্য: প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
২,৭১৩.
কোনটি উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ?
  1. বাঙালি
  2. বিদ্বান
  3. চেয়ার
  4. সুন্দর
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

লিঙ্গান্তরের নিয়ম ও উদাহরণ:
- লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ।
- বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যেগুলো কোনোটি পুরুষ জাতীয়, কোনোটি সত্রী জাতীয়, কোনোটি আবার স্ত্রী-পুরুষ উভয়কেই বোঝায়। তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, সত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে।

• লিঙ্গ চার প্রকার।
যথা:
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, শিশু, সন্তান, বাঙালি
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২,৭১৪.
'অক্লিষ্ট' শব্দের অর্থ কী?
  1. অলস 
  2. অচেতন 
  3. অক্ষয় 
  4. অক্লান্ত
ব্যাখ্যা

• 'অক্লিষ্ট' শব্দের অর্থ- ক্লান্তিহীন/অক্লান্ত। 

'অক্লান্ত' শব্দের সমার্থক শব্দ:
ক্লান্তিহীন, শ্রান্তিহীন, অশ্রান্ত, অনলস, নিরলস, অদম্য, অক্লিষ্ট, অনবসন্ন, পরিশ্রমী, উদ্যমী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৭১৫.
"আমরা সেদিন পাহাড় থেকে নেমে আসলাম" বাক্যটি ভাববাচ্যে রূপান্তর করলে কী হবে?
  1. পাহাড় থেকে নেমে আসলাম।
  2. আমাদের দ্বারা সেদিন পাহাড় থেকে নেমে আসতে হলো।
  3. আমাদের সেদিন পাহাড় থেকে নেমে আসা হলো।
  4. আমরা পাহাড় থেকে নেমে আসলাম।
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্য:
নিয়ম: কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে -
১. কর্তায় ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়।
২. ক্রিয়া নাম পুরুষের হয়।
যেমন -
- আমি যাবো না। -- আমার যাওয়া হবে না।
- তুমিই ঢাকা যাবে। -- তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।
- তোমরা কখন এলে? -- তোমাদের কখন আসা হলো?
- আমরা সেদিন পাহাড় থেকে নেমে আসলাম। -- আমাদের সেদিন পাহাড় থেকে নেমে আসা হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৭১৬.
‘লঞ্চ’ শব্দটির যুক্তবর্ণের সঠিকরূপ কোনটি?
  1. ঞ্ + ছ
  2. ঞ্ + চ
  3. চ্ + ঞ
  4. ছ্ + ঞ
ব্যাখ্যা
• ‘লঞ্চ’ শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিকরূপ - ঞ্চ = ঞ্ + চ

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- হ্ + ম = হ্ম,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ঋ = হৃ,
- হ্ + ন = হ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
২,৭১৭.
নিচের কোন দুটি বাংলা উপসর্গ?
  1. অজ, অতি
  2. আন, অনা
  3. অতি, অভি
  4. অনা, অতি
ব্যাখ্যা
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ - অতি, অভি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৭১৮.
'পাল' ও 'যূথ' কেবল ___ এর বহুবচনে যুক্ত হয়।
  1. ক) জন্তু
  2. খ) অপ্রাণি
  3. গ) মানুষ
  4. ঘ) প্রাণি ও অপ্রাণি
ব্যাখ্যা
'পাল' ও 'যূথ' কেবল জন্তু এর বহুবচনে যুক্ত হয়। 
- রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে। 
- হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৭১৯.
‘মরি তো মরব।’এখানে ‘তো’ কোন ধরনের ক্রিয়া বিশেষণ?
  1. পদাণু
  2. কালবাচক
  3. বহুপদী
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে’, ‘বা’, ‘না’, ‘তো’ প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন :
কি : আমি কি খাব?
যে : খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
বা : কখনো বা দেখা হবে।
না : একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
তো : মরি তো মরব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৭২০.
'মাথা খাটিয়ে কাজ করবে'- এখানে 'মাথা' শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. রোগ
  2. বুদ্ধি
  3. সামান্য
  4. মস্তক
ব্যাখ্যা
• 'মাথা খাটিয়ে কাজ কর' বাক্যে ‘মাথা’ শব্দটি বুদ্ধি অর্থে ব্যবহৃত।

একই শব্দের ভিন্নার্থক প্রয়োগ:
• মাথা ধরা (মাথায় যন্ত্রণা হওয়া) - ওষুধ খেয়ে রুগির মাথা ধরা কমেছে।
• মাথা পাতা (সম্মত হওয়া) - এ কাজে আমি মাথা পাততে পারি না।
• মাথা আসা ( বোধগম্য হওয়া) - অঙ্কটি কিছুতেই আমার মাথায় আসছে না।
• মাথা খাওয়া (নষ্ট করা) - অতি আদর দিয়ে ছেলেটার মাথা খেয়ো না।
• মাথা ঠেকান (প্রণাম করা) - ও আমার দেশের মাটি, তোমার তরে ঠেকাই মাথা৷
• মাথায় উঠা (প্রশয় পাওয়ার) - আদর পেয়ে ছেলেটা মাথায় উঠে যাচ্ছে।
• মাথা গরম করা (চটিয়া যাওয়া) - এত অল্পে ছেলেটা মাথায় উঠে যাচ্ছে।
• চোখের মাথা খাওয়া (অন্ধ হওয়া) - চোখের মাথা না খেলে কেউ এমন কাজ করতে পারে?
• মাথার দিব্যি (শপথ) - মাথার দিব্যি, দয়া করে এ কাজ করো না।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭২১.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নিশীথীনি
  2. উর্ধ্ব
  3. পিঁপীলীকা
  4. কোষ্ঠকাঠিন্য
ব্যাখ্যা
• কোষ্ঠকাঠিন্য (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: পেটের রোগ বিশেষ।

অন্যদিকে, 
অন্য অপশনের অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধ বানান: 
• নিশীথিনী (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = (নিশীথ + ইন্‌ +ঈ),
অর্থ: 
- গভীর রাত।
- রজনি।

• ঊর্ধ্ব (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- ওপরের দিকে।
- উপরিভাগ।
- উচ্চতা।

• পিপীলিকা (বিশেষ্য পদ), 
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = (পিপীলক + আ),
অর্থ: পিঁপড়া, পিঁপড়ে।

উৎস: বাংলা একাডেমি,আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৭২২.
‘আগড়ম-বাগড়ম’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
  1. ক) অনুকার দ্বিত্ব
  2. খ) পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. গ) ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. ঘ) কোনটিই নয়।
ব্যাখ্যা
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরনে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন: অঙ্ক-টঙ্ক, ঝাল-টাল, মোটা-সোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে, অল্প-সল্প, বুদ্ধি-শুদ্ধি, গুটি-শুটি, আম-টাম, আগড়ম-বাগড়ম

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৭২৩.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. সর্বাঙ্গিন
  2. সর্বাঙ্গীন
  3. সর্ব্বাঙ্গীন
  4. সর্বাঙ্গীণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - সর্বাঙ্গীণ
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- সর্বাঙ্গব্যাপী,
- পূর্ণাঙ্গ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৭২৪.
নিম্নের কোনটি পর্বত শব্দের সমার্থক নয়?
  1. ক) অদ্রী
  2. খ) ভূধর
  3. গ) দ্রুম
  4. ঘ) শৈল
ব্যাখ্যা

পর্বত শব্দের সমার্থক শব্দ গুলো হচ্ছে - পাহাড়, অদ্রী, ভূধর, শৈল, অচল।

অন্যদিকে বৃক্ষ শব্দের সমার্থক শব্দ গুলো হচ্ছে - গাছ, তরু, দ্রুম, শাখী, পাদপ, মহীরুহ, উদ্ভিদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।

২,৭২৫.
"আমার ছেলেকে বকবে না।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি
  2. কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি
  3. করণকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি
  4. কর্মকারকে চতুর্থী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।

• "আমার ছেলেকে বকবে না।" - 
- নিম্নরেখ শব্দটি কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তির উদাহরণ। কারণ, বাক্যটিকে 'কাকে দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘ছেলেকে’। এর সাথে 'কে' দ্বিতীয়া বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।

আরো উদাহরণ:
অসহায়কে সাহায্য করো। ( কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি)।
- শিক্ষককে জানাও। ( কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি)।
- বাঁশি বাজে। ( কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি)।
- তাঁকে বল। ( কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯ ও ২০২২)।
২,৭২৬.
ধ্বনি উৎপন্ন হয় মূলত—
  1. শ্বাস গ্রহণের সময়
  2. শ্বাস ত্যাগের সময় 
  3. হৃদপিণ্ডের ধকধকের সাথে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

বাগ্‌যন্ত্র:
- ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলােকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলে।
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগ্‌যন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।

ফুসফুস:
- ধ্বনি সৃষ্টিকারী বায়ুপ্রবাহের উৎস ফুসফুস।
- ফুসফুস শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করে।
- মূলত — শ্বাস ত্যাগের মাধ্যমে ধ্বনি উৎপন্ন হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৭২৭.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি?
  1. ক) অন্যান্য
  2. খ) মার্তণ্ড
  3. গ) অহর্নিশ
  4. ঘ) পরস্পর
ব্যাখ্যা
যেসকল ব্যঞ্জন সন্ধিকে কোনো নিয়মের মধ্যে ফেলা যায় না সেসকল ব্যঞ্জন সন্ধিকে নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
পরস্পর = পর্‌ + পর।
এটি ব্যঞ্জন সন্ধি হলেও কোনো নিয়মে ফেলা যায় না।
পক্ষান্তরে অন্যান্য, মার্তণ্ড নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি, আর অর্হনিশ বিশেষ নিয়মে সাধিত বিসর্গ সন্ধি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)।
২,৭২৮.
'সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন সুর'- এখানে কী ধরনের অলঙ্কারের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. অসঙ্গতি
  2. বিভাবনা অলঙ্কার
  3. বিরোধাভাস অলঙ্কার
  4. বিষম অলঙ্কার
ব্যাখ্যা
• 'সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন সুর'- এখানে 'বিরোধাভাস অলঙ্কার' এর প্রয়োগ ঘটেছে। 

• বিরোধাভাস অলঙ্কার:  
- যদি দুটি বস্তুর মধ্যে আপাত বিরোধ দেখা যায়, ওই বিরোধে যদি কাব্যে চমৎকারিত্ব বা উৎকর্ষের সৃষ্টি হয় তবে তাকে বিরোধাভাস অলঙ্কার বলে।
যেমন :
‘সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন সুর।'
---------রবীন্দ্রনাথ

(সীমার মধ্যে অসীমের স্থিতি আপাত বিরোধের চিন্তা। কিন্তু অসীম ঈশ্বর সীমিত বিশ্বেও বিরাজমান।
সুতরাং বিরোধ এখানে যথার্থ নয়, কাব্যে চারুত্ব দান করার জন্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭২৯.
'Faction' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ভাজক
  2. উপনালা
  3. উপদল
  4. কণা
ব্যাখ্যা
• 'Faction' শব্দের বাংলা পরিভাষা: উপদল।

অন্যদিকে,
• 'Divisor' শব্দের বাংলা পরিভাষা- ভাজক।
• 'Diversion cut' শব্দের বাংলা পরিভাষা- উপনালা।
• 'Particle' শব্দের বাংলা পরিভাষা- কণা।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
২,৭৩০.
বিপরীত ভাব অর্থে 'বি' উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ক) বিক্ষেপ
  2. খ) বিশৃঙ্খল
  3. গ) বিরাগ
  4. ঘ) বিকার
ব্যাখ্যা
• বিপরীত ভাব অর্থে তৎসম ‘বি' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - বিরাগ শব্দে।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
- খাটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ
- বিদেশি উপসর্গ ।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গতৎসম শব্দেও পাওয়া যায়। ]

• বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়।

অন্যদিকে,
• গতি অর্থে তৎসম 'বি' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - বিক্ষেপ শব্দে।
• অপ্রকৃতিস্থ অর্থে তৎসম 'বি' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - বিকার শব্দে।
• অভাব অর্থে 'বি' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - বিশৃঙ্খল শব্দে।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি – ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৭৩১.
'স্বাধীন' শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. স্বীয়-এর অধীন
  2. সত্ত্বার অধীন
  3. স্ব-এর অধীন 
  4. স্বত্তের-অধীন
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - স্ব-এর অধীন। এটি একটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস: 
-  পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা: 
- চায়ের বাগান = চাবাগান, 
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র, 
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।
- স্ব-এর অধীন = স্বাধীন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান।

২,৭৩২.
'কারক বিশ্লেষণ' ব্যাকরণের কোন তত্ত্বে আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. বাক্যতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'কারক বিশ্লেষণ' ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়।

------------
ব্যাকরণের প্রধান আলোচ্য বিষয় ৪টি।
যথা–
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব,
- বাক্যতত্ত্ব ও
- অর্থতত্ত্ব।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কিভাবে বিন্যস্ত থাকে বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
এছাড়া বাক্যের রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি এই অংশের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন ইত্যাদি বাক্যতত্ত্ব অংশে আলোচিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
২,৭৩৩.
নিচের কোনটি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. জলদ
  2. অরুণরাঙ্গা
  3. নদীমাতৃক
  4. জ্ঞানশূন্য
ব্যাখ্যা

- বহুব্রীহি সমাসে পরপদে মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে 'ক' যুক্ত হয়।
যেমন:
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক, 
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার বিপত্নীক। 
- এরূপ সস্ত্রীক, অপুত্রক ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। 
যথা- বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার বহুব্রীহি। এখানে 'বহু' কিংবা 'ব্রীহি' কোনোটিরই অর্থের প্রাধান্য নেই, যার বহু ধান আছে এমন লোককে বোঝাচ্ছে।

অন্যদিকে,
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস এর উদাহরণ- জলদ।
• তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস এর উদাহরণ- জ্ঞানশূন্য।
• উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ- অরুণরাঙ্গা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৭৩৪.
ধ্বন্যাত্মক শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. চাকর-বাকর
  2. চকচক
  3. জ্বর জ্বর
  4. সুরে সুরে
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক শব্দ:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।

কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, টসটস, থকথকে, ভটভট, হিস হিস।

কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট। 

অন্যদিকে, 
------------------
• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন:
কচর-মচর, অঙ্ক-টঙ্ক, চাকর-বাকর, এলোমেলো, অল্পসল্প, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে ইত্যাদি।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২,৭৩৫.
কোন দুটি মূর্ধন্য ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
  1. ছ, জ
  2. ট, ড়
  3. হ, র
  4. ল, স
ব্যাখ্যা
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- হাতি শব্দের 'হ' কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৭৩৬.
সংকোচক অব্যয় শনাক্ত করুন।
  1. ক) কিন্তু
  2. খ) অধিকন্তু
  3. গ) অথবা
  4. ঘ) নতুবা
ব্যাখ্যা
সংযোজক অব্যয় - আর, অধিকন্তু, সুতরাং। বিয়োজক অব্যয় - বা, অথবা, নতুবা, নয়তো। সংকোচক অব্যয় - কিন্তু, বরং, অথচ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২,৭৩৭.
নিম্নের কোন বাক্যটি পুরাঘটিত অতীত কালের?
  1. আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
  2. তুমি কি কাজটি করেছিলে?
  3. বাবা প্রতিদিন বাজার করতেন।
  4. শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।

যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- তুমি কি কাজটি করেছিলে?

অন্যদিকে,
সাধারণ অতীত কাল - শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
নিত্যবৃত্ত অতীত - বাবা প্রতিদিন বাজার করতেন।
ঘটমান অতীত কাল - আমরা তখন বই পড়ছিলাম।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৩৮.
'বড় + আই = বড়াই' কোন প্রকার প্রকৃতি-প্রত্যয়?
  1. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  2. তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
  4. কৃৎ-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন -
→ লাজ + উক = লাজুক,
→ বড় + আই = বড়াই,
→ ঘর + আমি = ঘরামি।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।

- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৭৩৯.
কোন সমাসে ব্যাসবাক্য হয় না?
  1. ক) নিত্য সমাস
  2. খ) প্রাদি সমাস
  3. গ) অলুক সমাস
  4. ঘ) দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
- যে সমাসের ব্যাসবাক্য হয় না, কিংবা ব্যাসবাক্য করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে।
 যেমন:
- অন্য দেশ = দেশান্তর;
- ঈষৎ লাল = লালচে,
- অন্যকাল = কালান্তর ইত্যাদি।
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ [নবম দশম শ্রেণি]
২,৭৪০.
‘দুধভাত’ কোন সমাস?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

দুধভাত = দুধ মিশ্রিত ভাত (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়)

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

২,৭৪১.
Mayor এর সঠিক পারিভাষিক অর্থ কোনটি?
  1. ক) নগরকর্তা
  2. খ) কেবিনেট সদস্য
  3. গ) নগরপর্ষদ্‌
  4. ঘ) মহানাগরিক
ব্যাখ্যা
Mayor এর সঠিক পারিভাষিক অর্থ = মহানাগরিক। 

উৎস:
বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান। 
২,৭৪২.
'বর্ধমান' শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. চঞ্চল
  2. ক্ষীয়মাণ
  3. হ্রস্ব
  4. ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা
• 'বর্ধমান' শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ - ক্ষীয়মাণ

অন্যদিকে,
- 'স্থির' শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ - চঞ্চল।
- 'হ্রস্ব' শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ - দীর্ঘ।
- 'ভূত' শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ - ভবিষ্যৎ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২,৭৪৩.
'মৃন্ময়' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মৃদ + ময় = মৃন্ময়
  2. মৃন + ময় = মৃন্ময়
  3. মৃত + ময় = মৃন্ময়
  4. মৃৎ + ময় = মৃন্ময়
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম:
আগে ৎ বা দ্‌  এবং পরে ন/ম্ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে ন্ হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়। কিন্তু, ৎ/দ্‌-এর পর ল্ থাকলে ৎ/দ্‌ সন্ধিতে ল্ হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে ল্ল হয়।

যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি,
- তদ্‌ + নিমিত্ত = তন্নিমিত্ত,
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়,
- তদ্ + মধ্যে = তন্মধ্যে,
- উৎ + লিখিত = উল্লিখিত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৭৪৪.
'সর্বংসহা' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সর্বঙ্গ + সহা
  2. সর্ব + সহা
  3. সর্বম্ + সহা
  4. সর্বং + সহা
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম: 
আগে ম্ এবং পরে অন্তঃস্থ ব্যঞ্জন (য/র/ল/ব) বা উষ্মধ্বনি (শ/স/হ) থাকলে সন্ধিতে ম্ স্থানে অনুষার ( ং) হয়।
যেমন:
- সম্ + যত = সংযত,
- সম্ + যুক্ত = সংযুক্ত, 
- সম্ + রাগ = সংরাগ,
- সম্‌ + রক্ষণ = সংরক্ষণ, 
- সর্বম্ + সহা = সর্বংসহা, 
- সম্ + লাপ = সংলাপ,
- সম্ + শোধন = সংশোধন
- সম্ + লগ্ন = সংলগ্ন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৭৪৫.
'পাওয়ার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ কী?
  1. ঈর্ষী
  2. ঈপ্সা
  3. ঈপ্সিত
  4. ঈক্ষিত
ব্যাখ্যা
• 'পাওয়ার ইচ্ছা' এক কথায় প্রকাশ - ঈপ্সা।

অন্যদিকে, 
• 'ঈর্ষী' অর্থ - ঈর্ষাপরায়ণ।
• 'ঈপ্সিত' অর্থ - অভিলষিত, কাঙ্ক্ষিত।
• 'ঈক্ষিত' অর্থ - দেখা হয়েছে এমন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৭৪৬.
‘আমরা পরস্পর মিলেমিশে থাকি।’- বাক্যে ‘পরস্পর’ কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. অনুসর্গ
  4. যোজক
ব্যাখ্যা
• ‘আমরা পরস্পর মিলেমিশে থাকি।’- বাক্যে ‘পরস্পর’ পারস্পারিক সর্বনাম পদ

⇒ সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন-  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৭৪৭.
'লোকটা হাড়ে হাড়ে শয়তান' - বাক্যে ‘হাড়ে হাড়ে’ দ্বিরুক্ত শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ভাবের প্রগাঢ়তা
  2. কালের বিস্তার
  3. সর্তকতা
  4. আধিক্য
ব্যাখ্যা
বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ:
- ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো। (সতর্কতা),
- ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা। (ভাবের প্রগাঢ়তা),
- থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে। (কালের বিস্তার),
- লোকটা হাড়ে হাড়ে শয়তান। (আধিক্য)

দ্বিরুক্ত শব্দ:
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়। -
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৭৪৮.
'একত্রিত' কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. উপসর্গ অপপ্রয়োগ
  2. প্রত্যয় অপপ্রয়োগ
  3. বিভক্তি অপপ্রয়োগ
  4. সন্ধি অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
- প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

অশুদ্ধ = শুদ্ধ
• আবশ্যকীয় - আবশ্যক,
• একত্রিত - একত্র,
• পুজ্য - পূজ্য,
• বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৭৪৯.
'পেয়ে বসা' কোন ধরনের ক্রিয়া পদের উদাহরণ?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সংযোগ ক্রিয়া
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. সরল ক্রিয়া
ব্যাখ্যা


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই (২০২১ সংস্করণ)।
২,৭৫০.
'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক কোনটি?
  1. সরিৎ
  2. তটিনী
  3. রত্নাকর
  4. শৈবলিনী
ব্যাখ্যা
'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক:
- সাগর, সিন্ধু, সায়র, দরিয়া, জলধি, অকূল, পাথার, বারিধি, রত্নাকর, নীলাম্বু, পয়োধি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- নদ, নদনদী, গাঙ, স্রোতস্বিনী, তটিনী, স্রোতস্বতী, শৈবলিনী, সরিৎ, প্রবাহিণী, নির্ঝরণী, তরঙ্গিণী, মন্দাকিনী, কল্লোলিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৭৫১.
কোন বাক্যে অকর্মক ক্রিয়া আছে?
  1. আমি রাতে খাব না।
  2. আকাশে চাঁদ দেখি না।
  3. ছেলেটা কথা শোনে।
  4. সে বই পড়ছে। 
ব্যাখ্যা

অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমনঃ ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না।
- কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
- প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে।

যেমন:
অকর্মক: সে পড়ছে।
সকর্মক: সে বই পড়ছে। 
 
অকর্মক: আমি রাতে খাব না।
সকর্মক: আমি রাতে ভাত খাব না।
 
অকর্মক: আমি চোখে দেখি না।
সকর্মক: আকাশে চাঁদ দেখি না।
 
অকর্মক: ছেলেটা কানে শোনে না।
সকর্মক: ছেলেটা কথা শোনে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৭৫২.
কোনটি তৎসম উপসর্গ নয়?
  1. নির
  2. ভর
  3. দুর
  4. অধি
ব্যাখ্যা
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

অন্যদিকে,
বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৭৫৩.
তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।- বাক্যটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) করণ কারক
  2. খ) অপাদান কারক
  3. গ) সম্প্রাদান কারক
  4. ঘ) অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়। যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক। 

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা' বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি – টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি – তার কথা যেন মধুতে মাখা। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৫৪.
তৃষ্ণার্ত এর সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) তৃষ্ণা + আর্ত
  2. খ) তৃষ্ণা + ঋত
  3. গ) উভয়ই
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম অনুযায়ী আ+ঋ = আর হয়। সুতরাং তৃষ্ণা + ঋত = তৃষ্ণার্ত; ক্ষুধা + ঋত = ক্ষুধার্ত। তৃষ্ণা + ঋত। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২,৭৫৫.
নিচের কোনটি পর্তুগিজ শব্দ?
  1. তোয়ালে
  2. ডেরা
  3. কাতান
  4. কুর্নিশ
ব্যাখ্যা
• পর্তুগিজ শব্দ - তোয়ালে
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- জল শোষণ করতে পারে এমন সূতা তোলা মোটা গামছাজাতীয় বস্ত্রখণ্ড I

অন্যদিকে,
দেশি শব্দ - কাতান।
তুর্কি শব্দ - কুর্নিশ।
হিন্দি শব্দ - ডেরা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৭৫৬.
'খতি' শব্দের অর্থ -
  1. বিপদ
  2. ক্রেতা
  3. ক্ষণকাল
  4. ঘুস
ব্যাখ্যা
• 'খতি' শব্দের অর্থ - ঘুস

অন্যদিকে,
- 'খতর' শব্দের অর্থ - বিপদ।
- 'খদ্দের' শব্দের অর্থ - ক্রেতা।
- 'খনেক' শব্দের অর্থ - ক্ষণকাল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৭৫৭.
এক কথায় প্রকাশ নির্ণয় করুন - 'নাটকের পাত্রপাত্রী'
  1. পাংশুল
  2. উল্লুক
  3. আনাড়ি
  4. ধীমান্
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'নাটকের পাত্রপাত্রী' এর এক কথায় প্রকাশ - কুশীলব।

অন্যদিকে,
- 'নাড়িজ্ঞান নেই যার' এর এক কথায় প্রকাশ - আনাড়ি।
- 'নীলবর্ণ বানর' এর এক কথায় প্রকাশ - উল্লুক।
- 'ধুলার মতো যার রং' এর এক কথায় প্রকাশ - পাংশুল।
- 'ধী আছে যার' এর এক কথায় প্রকাশ - ধীমান্।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৭৫৮.
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে কী বলে?
  1. সম্প্রকর্ষ
  2. অসমীকরণ
  3. অপিনিহিতি
  4. প্রগত সমীভবন
ব্যাখ্যা
অসমীকরণ:
- একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন:
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোন ধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে।
- অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।

অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৭৫৯.
বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় বলা হয় কোন ভাষাকে?
  1. ওড়িয়া
  2. অহমিয়া
  3. ইন্দো-ইরানীয়
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।

• পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান,ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো  বাংলা ভাষায় ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য। 
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।

• ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে। এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করেতে হয়েছে, সেগুলো হলো: ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানীয় → ভারতীয় আর্য → প্রাকৃত → বাংলা।

• আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে বাংলাভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন ‘চর্যাপদ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৭৬০.
”খোশমেজাজ” কোন প্রকার সমাস?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. দ্বিগু
  4. তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে কোন নতুন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

যেমন:
- শ্রী যার = হতশ্রী,
- খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ। 
- দিগম্বর = দিক অম্বর যার,
- নীলাম্বর = নীল অম্বর যার।
- এরকম হৃতসর্বস্ব, উচ্চশির, পীতাম্বর, নীলকণ্ঠ, জবরদস্তি, সুশীল, সুশ্রী, বদব্য, কমবস্তু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষা ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সালে সংস্করণ)।

২,৭৬১.
১০-১৩: বাগ্‌ধারার অর্থ নির্ণয় করুন: সাতকাহন
  1. অলিক বস্তু
  2. সুখের সম্ভার
  3. জগাখিচুড়ি
  4. সপ্তপদ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'সাতকাহন' শব্দের অর্থ: ষোলো পণসংখ্যক অর্থ্যাৎ ৭*১২৮৯ = ৮৯৬০টি।
(অলংকাররূপে), অসংখ্য, অন্তহীন। 

সে হিসেবে, 
'সাতকাহন' বাগ্‌ধারার অর্থ - প্রচুর পরিমাণ/ অন্তহীন
সুতরাং, উত্তর -কোনটিই নয়।


অন্যদিকে,
- 'সুসময়ের বন্ধু' বাগ্‌ধারার অর্থ - সুখের পায়রা।
- 'জগাখিচুড়ি' বাগ্‌ধারার অর্থ - বিশৃঙ্খল।
- 'সপ্তপদ' বাগ্‌ধারার অর্থ - সাতটি পা বিশিষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৭৬২.
"কুণ্ডল" শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. সংস্কৃত
  2. তদ্ভব
  3. দেশি
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা
• "কুণ্ডল" শব্দটি 'সংস্কৃত' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- কানের অলংকার,
- বলয়াকৃতি অলংকার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৭৬৩.
'তারকা' শব্দের বহুবচন - 
  1. তারকাপুঞ্জ
  2. তারকানিচয়
  3. তারকারাজি
  4. তারকাগুচ্ছ
ব্যাখ্যা

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ:

যেমন:
- আবলি- পুস্তকাবলি
- গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
- দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
- নিকর- কমলনিকর।
- পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
- মালা- পর্বতমালা।
- রাজি- তারকারাজি।
- রাশি- বালিরাশি।
- নিচয়- কুসুমনিচয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

২,৭৬৪.
কৃষ্ণ কোন ধরণের শব্দ?
  1. ক) দেশি
  2. খ) বিদেশী
  3. গ) তৎসম
  4. ঘ) অর্ধতৎসম
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

কেষ্ট [কেশ্‌টো] (বিশেষ্য) কৃষ্ণ।
কেষ্টবিষ্টু (বিশেষ্য) (বিদ্রূপে) সন্মানিত লোক; হোমরা-চোমরা।
{(তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ) কৃষ্ণ> কেষ্ট (অর্ধতৎসম)}
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

২,৭৬৫.
'তৎসম' শব্দের ব্যবহার কোন রীতিতে বেশী হয়?
  1. ক) মিশ্র রীতি
  2. খ) চলিত রীতি
  3. গ) সাধু রীতি
  4. ঘ) আঞ্চলিক রীতি
ব্যাখ্যা
সাধু রীতিতে 'তৎসম' শব্দের ব্যবহার বেশি হয়।

সাধু রীতি
- বাংলা লেখ্য সাধু‌ রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতায় অনুপযোগী।
- এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৭৬৬.
বাংলা ভাষার স্বরধ্বানিমূল কয়টি?
  1. সাতটি
  2. নয়টি
  3. দশটি
  4. এগারোটি
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা- 
১. স্বরধ্বনি ও
২. ব্যঞ্জনধ্বনি।

মৌলিক স্বরধ্বনি:
- বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা - ৭টি।
যেমন:
- ই, এ, অ্যা, আ, অ, ও, উ।

- বাংলা ভাষায় মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনির সংখ্যা ৩০টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৭৬৭.
দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।- বাক্যে ‘দুষ্টু’ কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।- বাক্যে ‘দুষ্টু’ শব্দটি ছেলেটিকে বিশেষায়িত করেছে। সুতরাং দুষ্টু বিশেষণ পদ।

• বিশেষণ পদ:

বিশেষণ হলো সেই শব্দশ্রেণি যা অন্য শব্দের অর্থকে বিশাদ বা সীমিত করে শব্দটিকে বিশেষিত করে। বিশেষণ যখন কোনো কিছুর গুণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে তখন বিশেষ্য শব্দের অর্থ বিশাদ হয়। বিশেষণ যখন কোনো কিছুর পরিমাণ, সংখ্যা, সম্বন্ধ ইত্যাদি প্রকাশ করে তখন শব্দের অর্থ সীমিত হয়ে যায়।
যেমন:
- দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।
- অভিজ্ঞ উনিই ব্যাপারটা বুঝবেন।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,৭৬৮.
'পৃথিবী' কোন জাতীয় শব্দ?
  1. তৎসম
  2. দেশি
  3. তদ্ভব
  4. বিদেশি
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দ:
যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সোজাসুজি বাংলায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে, সে সব শব্দকে বলা হয় তৎসম শব্দ।
তৎসম একটি পারিভাষিক শব্দ।
উদাহরণ
- পৃথিবী
- আকাশ
- গ্রহ
- বৃক্ষ

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১।]
 
২,৭৬৯.
অকপট এর প্রতিশব্দ নয় কোনটি?
  1. বাঞ্ছা
  2. সরল
  3. ঋজু
  4. অবক্র
ব্যাখ্যা

• 'অকপট' এর প্রতিশব্দ:
 - সরল; কপটতাহীন; ঋজু (সরল); অবক্র

অর্থ্যাৎ,
• 'অকপট' এর প্রতিশব্দ নয়- 'বাঞ্ছা'।

অন্যদিকে,
• ইচ্ছা শব্দের প্রতিশব্দ:
- বাঞ্ছা, আকাঙ্ক্ষা, আশা, অভিলাষ, প্রার্থনা, চাওয়া, স্পৃহা, অভিপ্রায়, সাধ, অভিরুচি, প্রবৃত্তি, বাসনা, কামনা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।

২,৭৭০.
নিচের কোনটি প্রাদি সমাসের উদাহরণ?
  1. প্রতিহিংসা
  2. স্বপনবিলাসী
  3. কঙ্কালসার
  4. কলুর বলদ
ব্যাখ্যা

প্রতিহিংসা = প্রতি যে হিংসা। এটি একটি প্রাদি সমাসের উদাহরণ।
কঙ্কালসার -বহুব্রীহি সমাস
কলুর-বলদ হচ্ছে অলুক তৎপুরুষ।
স্বপনবিলাসী হচ্ছে উপপদ তৎপুরুষ।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ

২,৭৭১.
বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয় না নিচের কোনটি?
  1. ক) যতিচিহ্ন
  2. খ) কারক
  3. গ) বাক্যের ব্যঞ্জনা
  4. ঘ) বাক্যের উপাদান লোপ
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় ৪টি। 
যথা – ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব ও অর্থতত্ত্ব।

বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে অর্থতত্ত্বে। 

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কিভাবে বিন্যস্ত থাকে বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া বাক্যের রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি এই অংশের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন ইত্যাদি বাক্যতত্ত্ব অংশে আলোচিত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৭৭২.
'কদবেল' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. ক) দেশি উপসর্গ
  2. খ) তৎসম উপসর্গ
  3. গ) বিদেশি উপসর্গ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কদ উপসর্গটি দেশি/বাংলা উপসর্গ।
- কদ উপসর্গটি ‘নিন্দিত’ অর্থে কদবেল, কদাকার এবং কদর্য শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে।

- উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা- বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশী উপসর্গ ।
- বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা। প্র, পরা, অপ, সম, নি,
- তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথা: অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৭৭৩.
'অপ্রতিবিধান' শব্দটিতে কয়টি উপসর্গ রয়েছে?
  1. একটি 
  2. দুইটি 
  3. তিনটি 
  4. চারটি 
ব্যাখ্যা
• 'অপ্রতিবিধান' শব্দটিতে - তিনটি উপসর্গ রয়েছে।

• 'অপ্রতিবিধান' শব্দের উপসর্গ বিশ্লেষণ:
অপ্রতিবিধান = অ + প্রতি + বি।

এখানে,
অ, প্রতি, বি- তিনটি উপসর্গ।

উৎস:
১। ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 
২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
২,৭৭৪.
কোনটি সঠিক?
  1. ক) চলাকালীন সময়ে
  2. খ) চলাকালের সময়ে
  3. গ) চলাকালে
  4. ঘ) চলাকালিন সময়ে
ব্যাখ্যা
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং এর ফলে শব্দ তার যােগ্যতাগুণ হারিয়ে থাকে। যেমন—দেশের সব আলেমগণই এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন। এখানে আলেমগণ বহু বচনবাচক শব্দ। এর সঙ্গে ‘সব’ শব্দটির অতিরিক্ত ব্যবহার বাহুল্য দোষ সৃষ্টি করেছে। চলাকালে মানে কোন একটা সময় বোঝায় এরপরে সময় দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।
২,৭৭৫.
'ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে?' - বাক্যে 'ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে' দ্বিরুক্ত দিয়ে কি প্রকাশ পেয়েছে?
  1. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. স্বল্পকাল স্থায়ী
  4. বিশেষণ রূপে
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবাচক শব্দ:
১. বিশেষণ রূপে: এদিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা। তোমার নেই নেই ভাব গেল না।
২. স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে: দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।
৩. ক্রিয়া বিশেষণ: দেখে দেখে যেও। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে?
৪. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৭৭৬.
নিচের কোনটি উপসর্গের কাজ নয়?
  1. ক) নতুন শব্দ তৈরি করা
  2. খ) শব্দের অর্থ পরিবর্তন করা
  3. গ) অর্থের সম্প্রসারণ করা
  4. ঘ) ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন
ব্যাখ্যা
- উপসর্গের কাজ নয় ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন

• উপসর্গের কাজ:
- নতুন শব্দ তৈরি করা।
- শব্দের অর্থ পরিবর্তন করা।
- অর্থের সম্প্রসারণ করা
যেমন:
সম্+বাদ = সংবাদ।
বি+বাদ = বিবাদ।
উপরের ‘বাদ' শব্দের সঙ্গে 'সম্' এবং 'বি' উপসর্গ যোগ করে নতুন শব্দ ‘সংবাদ' ও ‘বিবাদ' তৈরি হলো।

• উপসর্গের আরো একটি কাজ হচ্ছে শব্দের অর্থ পরিবর্তন করা।
সু+নজর = সুনজর (অর্থের সংকোচন)।
সম্+পূর্ণ = সম্পূর্ণ (অর্থের সম্প্রসারণ)।
গর+হাজির = গরহাজির (বিপরীত অর্থ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
২,৭৭৭.
ইহলোকে যে সামান্য নয়- এর এককথায় কী হবে?
  1. অনন্যসাধারণ
  2. আনন্যসাধারণ
  3. অলোকসামান্য
  4. আলোকসামান্য
ব্যাখ্যা
• 'ইহলোকে যা সামান্য নয়' এর এক কথায়- 'অলোকসামান্য'।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ:  
- ‘যা সাধারণের মধ্যে দেখা যায়না এমন’  - অনন্যসাধারণ।
- 'ইন্দ্রিয়কে জয় করেছে যে' - 'জিতেন্দ্রিয়'।
- 'অগ্রসর হয়ে অভ্যর্থনা' - 'প্রত্যুদ্‌গমন'।
- 'উপস্থিত বুদ্ধি আছে যার' - 'প্রত্যুৎপন্নমতি'। 

উৎস: ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 
২,৭৭৮.
কোনটি অর্ধস্বরধ্বনির অন্তর্ভুক্ত?
  1. [অ]
  2. [এ]
  3. [অ্যাঁ]
  4. [আ]
ব্যাখ্যা
অর্ধস্বরধ্বনি:
- যেসব স্বরধ্বনি পুরােপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলােকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি: [ই], [উ], [এ] এবং [ও]।
- স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনােভাবেই দীর্ঘ করা যায় না।

অন্যদিকে,
- [আ] এবং [অ] হচ্ছে মৌলিক স্বরধ্বনি।
- [অ্যাঁ] হচ্ছে অনুনাসিক স্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৭৭৯.
নিচের কোনটি যৌগিক শব্দ নয়?
  1. ক) কুশল
  2. খ) মধুর
  3. গ) বাবুয়ানা
  4. ঘ) গায়ক
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
গায়ক = গৈ + ণক ( অক) অর্থ গান করে যে
কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ যা করা উচিত
বাবুয়ানা = বাবু + আনা অর্থ বাবুর ভাব
মধুর = মধু + র অর্থ মধুর মত মিষ্টি গুণ যুক্ত
দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ - অর্থ কন্যার পুত্র বা নাতি। 

রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন -
- হস্তী = হস্ত + ইন অর্থ - হস্ত আছে যার কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা ( গো + এষণা) অর্থ গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।  
- কুশল - ব্যুৎপত্তিগত অর্থ যে কুশ আনে প্রচলিত অর্থ মঙ্গল। 
- বাঁশি - বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, সুরের এক বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ -সংস্করণ, ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ ]
২,৭৮০.
নিচের কোনটি বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. মাতা
  2. নয়ন
  3. চলন
  4. দাতব্য
ব্যাখ্যা
চলন = √চল্‌ + অন ; বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- 'চলন' শব্দে  √চল্‌  ধাতুর সাথে 'অন' বাংলা কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- মাতা = √মা + তৃচ; শব্দে 'তৃচ' সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
- নয়ন = √নী + অন; শব্দে 'অন' সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
- দাতব্য = √দা +তব্য; শব্দে 'তব্য' সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৭৮১.
'বিদ্যুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দ -
  1. সমীর
  2. অনিল
  3. পবন
  4. চপলা
ব্যাখ্যা
'বিদ্যুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- তড়িৎ, বিজলি, বিজুরি, অশনি, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, দামিনী, চপলা

অন্যদিকে:
'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুৎ, প্রভঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৭৮২.
কোনটি বাংলা উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ?
  1. অপয়া
  2. অপবাদ
  3. অপমান
  4. অধিকার
ব্যাখ্যা

• বাংলা উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - অপয়া

অন্যদিকে,
- সংস্কৃত উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - অধিকার, অপমান, অপবাদ।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৭৮৩.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অসূর্যম্পর্শা
  2. অসূর্য্যস্পশ্যা
  3. অসূর্যস্পশ্যা
  4. অসূর্যম্পশ্যা
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: অসূর্যম্পশ্যা।
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত থেকে আগত।
অর্থ:
- যে নারীকে সূর্যকিরণও স্পর্শ করেনি এমন,
- অন্তঃপুরবাসিনী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৭৮৪.
‘নাচন’ শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ নাচ + অনা
  2. √ নাচ্ + অন
  3. √ নাচি + অন
  4. √ নাচুন + অ
ব্যাখ্যা

বাংলা কৃৎ প্রত্যয় (অন):
- ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে 'অন' প্রত্যয়ের ব্যবহার হয়।
যেমন:
- √ নাচ্ + অন = নাচন
- √ কাঁদ্ + অন = কাঁদন, 
- √ বাঁধ + অন = বাঁধন, 
- √ চল্ + অন = চলন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৭৮৫.
'কুলটা' শব্দটি কোন সন্ধিতে গঠিত?
  1. স্বর
  2. ব্যঞ্জন
  3. বিসর্গ
  4. নিপাতনে সিদ্ধ
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

যেমন:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৭৮৬.
নিচের কোন দুটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ?
  1. ক) অনা, কদ
  2. খ) পরা, অধি
  3. গ) অজ, অভি
  4. ঘ) অঘা, প্র
ব্যাখ্যা

বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি,পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
বাংলা উপসর্গ সাধারণত বাংলা শব্দের পূর্বেই যুক্ত হয়ে থাকে।

২,৭৮৭.
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে নিচের কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. শব্দজোড় ও বাগ্‌ধারা
  2. কারক বিশ্লেষণ ও যতিচিহ্ন
  3. বিপরীত শব্দ ও প্রতিশব্দ
  4. বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা
ব্যাখ্যা

• অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় নয় - কারক বিশ্লেষণ ও যতিচিহ্ন। এটি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

অর্থতত্ত্ব:

- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,৭৮৮.
”এবার ট্রেনে ওঠা যাক।” কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তাবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্তৃকর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা
• কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

উল্লেখ্য,
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
২,৭৮৯.
'Epidemic' শব্দের পারিভাষিক অর্থ-
  1. ক) বিস্তৃতি
  2. খ) বিশ্বব্যাপী
  3. গ) দুর্ভিক্ষ
  4. ঘ) মহামারী
ব্যাখ্যা
• 'Epidemic' শব্দের পারিভাষিক অর্থ- মহামারী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭৯০.
দ্বন্দ্ব সমাসের ব্যাসবাক্যে সাধারণত কোন অব্যয়গুলো ব্যবহৃত হয়?
  1. যে, যিনি
  2. যার, তার
  3. এবং, ও
  4. ন্যায়, রূপ
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
যেমন:
ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা,।
ছেলে ও মেয়ে = ছেলেমেয়ে,
স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক ইত্যাদি
এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বােঝানাের জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযােজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখাবার জন্য হাইফেন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৭৯১.
বাংলা বর্ণমালা অনুযায়ী কোন ক্রমটি আগে বসে?
  1. শ, ষ, স
  2. য, র, ল
  3. ত, থ, দ
  4. ব, ভ, ম
ব্যাখ্যা
• বাংলা বর্ণমালা:
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- বাংলা বর্ণমালায় মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি। তবে মূল বর্ণের পাশাপাশি বাংলা বর্ণমালায় রয়েছে নানা ধরনের কারবর্ণ, অনুবর্ণ, যুক্তবর্ণ ও সংখ্যাবর্ণ।
- মূল বর্ণগুলো  হচ্ছে- স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণে বিভক্ত।

• স্বরবর্ণ: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ = ১১টি। 

• ব্যঞ্জনবর্ণ:
ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
ট, ঠ, ড, ঢ, ণ,
ত, থ, দ, ধ, ন,
প, ফ, ব, ভ, ম,
য, র, ল,
শ, ষ, স, হ,
ড়, ঢ়, য়,ৎ,
 ং ,ঃ , ঁ মোট ৩৯টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২,৭৯২.
'পানিতে নামো, তবে সাঁতার শিখতে পারবে' - বাক্যটি কোন ধরনের?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
  5. গ ও ঘ
ব্যাখ্যা

পরষ্পর নিরপেক্ষ দুটি বাক্য মিলিত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠিত হয়।
যেমন - এখানে দুটি নিরপেক্ষ বাক্য হলো 'পানিতে নাম 'এবং 'সাঁতার শিখতে পারবে'।
এই দুটি নিরপেক্ষ বাক্য 'তবে' অব্যয় দ্বারা সংযুক্ত হয়েছে।

২,৭৯৩.
'অধর পল্লব' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) তৎপুরুষ
  2. খ) বহুব্রীহি
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয় সমাস: উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
- এই সমাসে সাধারণ ধর্ম উল্লেখ করা থাকে না। অর্থাৎ, উপমান ও উপমিত কর্মধারয়ের মধ্যে যেটিতে সাধারণ ধর্মবাচক পদ থাকবে না, সেটিই উপমিত কর্মধারয় সমাস।
যেমন, 'পুরুষ সিংহের ন্যায় = পুরুষসিংহ'।
এখানে 'পুরুষ'কে 'সিংহ'র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ এখানে 'পুরুষ' উপমেয় আর 'সিংহ' উপমান।
সাধারণ ধর্মের উল্লেখ নেই।
সুতরাং, এটি উপমিত কর্মধারয় সমাস।

যেমন:
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।
কর কমলের ন্যায় = করকমল।
আসন পদ্মের ন্যায় = পদ্মাসন।
অধর পল্লবের ন্যায় = অধরপল্লব। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭৯৪.
'Expulsion' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. প্রাসঙ্গিক
  2. অব্যাহতি
  3. বহিষ্কার
  4. ব্যাপক
ব্যাখ্যা
• 'Expulsion' এর বাংলা পরিভাষা - বহিষ্কার

অন্যদিকে,
- 'Extensive' এর বাংলা পরিভাষা - ব্যাপক।
- 'Exemption' এর বাংলা পরিভাষা - অব্যাহতি।
- 'Perspective' এর বাংলা পরিভাষা - প্রাসঙ্গিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
২,৭৯৫.
'পরীক্ষা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. তৎসম
  2. বাংলা
  3. ফারসি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
• 'পরীক্ষা'
- এটি একটি সংস্কৃত / তৎসম শব্দ।
- এটি বিশেষ্য পদ।

কিছু তৎসম শব্দ:
- চন্দ্র,
- সূর্য,
- নক্ষত্র,
- ভবন,
- ধর্ম,
- পাত্র,
- মনুষ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৭৯৬.
"গ্রাম্যতা" শব্দটি- 
  1. বিশেষ্য 
  2. বিশেষণ 
  3. ক্রিয়া বিশেষণ 
  4. প্রত্যয়ান্ত 
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য পদ:
- কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'গ্রাম্যতা' - বিশেষ্য শব্দ।


উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৭৯৭.
'আমাকে একটি কলম দাও।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. আবেগসূচক
  2. প্রশ্নবোধক
  3. অনুজ্ঞাসূচক
  4. বিবৃতিমূলক
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয় ।

যেমন:
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক ।

উল্লেখ্য,
বিবৃতিমূলক বাক্য - আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম। তারা তোমাদের ভোলেনি।
প্রশ্নবোধক বাক্য - তোমার নাম কী? সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
আবেগসূচক বাক্য - কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকান্ড।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৭৯৮.
‘নীরব’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নির্ + অব
  2. নীঃ + রব
  3. নীর্ + অব
  4. নিঃ + রব
ব্যাখ্যা
• নিয়ম:
র পরে থাকলে র-জাত বিসর্গ লোপ পায় এবং বিসর্গের পূর্ব স্বর দীর্ঘ হয়।
যেমন:
- নিঃ + রব = নীরব।
- নিরঃ + রন্ধ্র = নীরন্ধ্র।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৭৯৯.
"অদৃষ্টপূর্ব" বলতে কী বোঝায়?
  1. যা পূর্বে শোনা যায়নি
  2. যা পূর্বে ছিল এখন নেই
  3. যা পূর্বে কখনো ঘটেনি
  4. যা পূর্বে দেখা যায়নি
ব্যাখ্যা
• 'যা পূর্বে দেখা যায়নি' এর এক কথায় প্রকাশ - অদৃষ্টপূর্ব

অন্যদিকে,
যা পূর্বে কখনো ঘটেনি - অভূতপূর্ব। 
যা পূর্বে ছিল এখন নেই - ভূতপূর্ব। 
যা পূর্বে শোনা যায়নি - অশ্রুতপূর্ব।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৮০০.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ কোনটি?
  1. সুন্দর
  2. মহীয়ান
  3. মহৎ
  4. লম্পট
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
কতগুলো শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না। এদের নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।

• নিত্য পুরুষবাচক কয়েকটি শব্দ হলো:
কবিরাজ, যোদ্ধা, সেনাপতি, দলপতি, ঢাকী, লম্পট, কৃতদার, রাষ্ট্রপতি, বিচারপতি ইত্যাদি।

------------------------
• নিত্য স্ত্রী-বাচক শব্দ:
কতগুলো শব্দের পুরুষবাচক হয় না। এদের নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলা হয়।

• নিত্য স্ত্রী-বাচক কয়েকটি শব্দ হলো:
সতিন, ডাইনি, বাইজি, শাঁখচুন্নি, শাঁখিনী, সত্মা, এয়ো, দাই, অর্ধাঙ্গিনী, কুলটা, কলঙ্কিনী, অন্তঃসত্ত্বা, সপত্নী, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সধবা, রূপসী, সজনী, ধনি ইত্যাদি ।

অন্যদিকে,
সুন্দর - সুন্দরী।
মহীয়ান - মহীয়সী।
মহৎ - মহতী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।