বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ২৪ / ৩৫৪ · ২,৩০১২,৪০০ / ৩৫,৭১৩

২,৩০১.
নিচের কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থ?
  1. বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  2. ব্যাকরণ কৌমুদী
  3. সরল ভাষাপ্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  4. ব্যাকরণ মঞ্জুরী
ব্যাখ্যা
⇒ ব্যাকরণ কৌমুদী
• 'ব্যাকরণ কৌমুদী' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থ। তিনি মোট চারটি খণ্ডে গ্রন্থটি রচনা করেন। প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৩ সালে, তৃতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৪ সালে এবং চতুর্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৬২ সালে।
• ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’ গ্রন্থটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিখ্যাত বৈয়াকরণিক পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকে অনুবাদ করেন। 

অন্যদিকে,
- ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত ব্যাকরণগ্রন্থ 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' (১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দ)।
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত 'সরল ভাষাপ্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' (১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে)।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হক রচিত ব্যাকরণগ্রন্থ 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' (১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩০২.
‘অংক অভ্যাস কর, পরীক্ষা অভ্যাশে’ - বাক্যে ‘অভ্যাশ’ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) চর্চা
  2. খ) নিকট
  3. গ) আবৃত্তি
  4. ঘ) গুরত্বপূর্ণ
ব্যাখ্যা
বাক্যে ‘অভ্যাশ’ নিকট অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অন্যান্য সমোচ্চারিত শব্দ:

অভ্যাস - চর্চা, শিক্ষা
অভ্যাশ - আবৃত্তি, নিকট

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,৩০৩.
'হেমাঙ্গ' এর স্ত্রীবাচক শব্দ -
  1. হেমাঙ্গিনি
  2. হেমাঙ্গী
  3. হেমাঙ্গা
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• 'হেমাঙ্গ' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - হেমাঙ্গী/ হেমাঙ্গা/ হেমাঙ্গিনি

নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তিত করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়।
যেমন-
আ প্রত্যয়: বৃদ্ধ - বৃদ্ধা, প্রিয় - প্রিয়া
ই প্রত্যয়: দাদা - দাদি, জেঠা - জেঠি ।
ইনি প্রত্যয়: কাঙাল - কাঙালিনি, বাঘ - বাঘিনি।
ইনী প্রত্যয়: বিজয় - বিজয়িনী, তেজস্বী - তেজস্বিনী।
ঈ প্রত্যয়: নার - নারী, কিশোর - কিশোরী।
নি প্রত্যয়: জেলে - জেলেনি, বেদে - বেদেনি।
বতী প্রত্যয়: গুণবান - গুণবতী, পূণ্যবান - পূণ্যবতী।
মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী, শ্রীমান - শ্রীমতী ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩০৪.
'গোঁফ-খেজুরে' এই বাগধারাটির অর্থ কী?
  1. আরামপ্রিয়
  2. উদাসীন
  3. নিতান্ত অলস
  4. পরমুখাপেক্ষী
ব্যাখ্যা
• 'গোঁফ খেজুরে' বাগধারার অর্থ - নিতান্ত অলস।

গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা সমূহ:
- ‘ইঁদুর কপালে’ বাগধারাটির অর্থ - মন্দভাগ্য।
- ‘অদৃষ্টের পরিহাস’ বাগধারাটির অর্থ - ভাগ্যের নিষ্ঠুরতা।
- ‘তামার বিষ’ বাগধারাটির অর্থ - অর্থের কু-প্রভাব।
- ‘ভূষন্ডির কাক’ বাগধারাটির অর্থ - বিচক্ষণ ব্যক্তি/ দীর্ঘজীবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩০৫.
"মাছ ধরা যাক।" এটি কোন বাচ্য?
  1. কর্মকর্তৃবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্তৃবাচ্য 
  4. কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা
বাচ্য:
- বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে বলা হয় 'বাচ্য'।
- বাচ্য প্রধানত তিন প্রকার। যথা:
(১) কর্তৃবাচ্য,
(২) কর্মবাচ্য ও
(৩) ভাববাচ্য।

ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে। কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন -
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
- মাছ ধরা যাক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩০৬.
বিশেষণের সাথে বিশেষ্যের যে সমাস হয় তার নাম কী?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাস:
- বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রধানরূপে প্রাধান্য পায় তাকে 'কর্মধারয়' সমাস বলে। কর্মধারয় সমাসে সাধারণত বিশেষণ পদ আগে বসে।

যেমন:
- ফুলের মতো কুমারী = ফুলকুমারী,
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।

অন্যদিকে,
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।
 যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক।

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।
- জায়া ও পতি = দম্পতি।

তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।
 
উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৩০৭.
'জনতা' শব্দটি ব্যাকরণের কোন নিয়মে গঠিত হয়েছে?
  1. উপসর্গযোগে
  2. প্রত্যয়যোগে
  3. সন্ধিযোগে
  4. সমাসযোগে
  5. বচনের সাহায্যে
ব্যাখ্যা

জনতা (বিশেষ্য):
অর্থঃ
১. অনেক লোকের সমাবেশ।
২. জনসাধারণ (জনতার সংগ্রাম)।
- (তৎসম বা সংস্কৃত) জন+তা (তল্‌)

উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

২,৩০৮.
'প্রচ্ছন্ন' শব্দটির অর্থ কি?
  1. ফর্সা
  2. কুৎসিত
  3. গোপন
  4. অন্ধকার
ব্যাখ্যা

• 'প্রচ্ছন্ন' শব্দের অর্থ - আবৃত, ঢাকা, অব্যক্ত, লুক্কায়িত, গোপন

অন্যদিকে,
- 'ফরসা' শব্দের অর্থ - গৌরবর্ণ, আলোকোজ্জ্বল, নির্মল, মেঘমুক্ত।
- 'কুৎসিত' শব্দের অর্থ - শ্রীহীন, কদাকার, অশ্লীল; জঘন্য।
- 'অন্ধকার' শব্দের অর্থ - আলোর অভাব, আঁধার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৩০৯.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. পো + ইত্র = পবিত্র
  2. উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস
  3. কৃষ্ + তি = কৃষ্টি
  4. পৎ + হতি = পদ্ধতি
ব্যাখ্যা

- ত ও দ এর পর হ থাকলে ত ও দ এর স্থলে দ এবং হ এর স্থলে ধ হয়।
যেমন-
• উৎ + হার = উদ্ধার,
• পদ্ + হতি = পদ্ধতি ইত্যাদি।
- ত ও দ এর পর শ থাকলে ত ও দ- এর স্থলে চ এবং শ- এর স্থলে ছ উচ্চারিত হয়।
যেমন-
• উৎ+ শ্বাস = উচ্ছ্বাস।
- ষ- এর পর ত বা থ থাকলে, যথাক্রমে ত ও থ এর স্থানে ট ও ঠ হয়।
যেমন-
• কৃষ্‌ + তি = কৃষ্টি,
• ষষ্‌ + থ = ষষ্ঠ।
- এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব ও আব হয়।
যেমন-
• পো + ইত্র = পবিত্র,
• গৈ + অক = গায়ক,
• নে + অন = নয়ন,
• নৈ + অক = নায়ক,
• পো + অন = পবন,
• গো + এষণা = গবেষণা,
• নৌ + ইক = নাবিক,
• গো + আদি = গবাদি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৩১০.
শব্দের মধ্যবর্তী দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি পরষ্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে কী বলে?
  1. অন্যোন্য সমীভবন
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. মধ্য স্বরাগম
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের মধ্যবর্তী দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি পরষ্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।

যেমন:
- পিশাচ ˃ পিচাশ,
- লাফ ˃ ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা,
- এক্সিডেন্ট > এস্কিডেন্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩১১.
'অত্যুন্নতি' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) অত্যু + উন্নতি
  2. খ) অতি + উন্নতি
  3. গ) অত্যুৎ + উন্নতি
  4. ঘ) অতীত + উন্নতি
ব্যাখ্যা
• 'অত্যুন্নতি' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ- অতি + উন্নতি

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বরসন্ধির উদাহরণ হল-

অতি + উচ্চ = অত্যুচ্চ।
অপর + অপর = অপরাপর।
অতি + ঐশ্বর্য = অত্যৈশ্বর্য।
অতি + উক্তি = অত্যুক্তি।
অভি + উত্থান = অভ্যুত্থান।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,৩১২.
"Ratification" এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. তেজস্ক্রিয়তা
  2. বিস্তার
  3. অনুসমর্থন
  4. মূল্যজ্ঞাপন
ব্যাখ্যা
• 'Ratification' এর বাংলা পরিভাষা: 'অনুসমর্থন'।

অন্যদিকে,
• 'Radioactive' এর বাংলা পরিভাষা : 'তেজস্ক্রিয়তা'।
• 'Amplitude' এর বাংলা পরিভাষা : বিস্তার'।
• 'Quotation' এর বাংলা পরিভাষা : 'মূল্যজ্ঞাপন'।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩১৩.
'জিলাপি > জিলিপি' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. বিষমীভবন
  2. অন্ত্যস্বরাগম
  3. অপিনিহিতি
  4. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
পূর্ববর্তী ও পরবর্তী স্বরের প্রভাবে মধ্যে অবস্থিত স্বর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী স্বরের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করে। যথা-আগের ও পরের ই স্বরের প্রভাবে মাঝের আ-স্বর ই-স্বরে পরিণত হয়। 
যেমন:
- বিলাতি > বিলিতি,
- ভিখারি > ভিখিরি,
- জিলাপি> জিলিপি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
----------------
• অপিনিহিতি:
শব্দের মধ্যে ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত 'ই' বা 'উ' উচ্চারণের সময় স্বস্থানে উচ্চারিত না হয়ে যে ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত তার অব্যবহিত পূর্বে উচ্চারিত হলে ওই রীতিকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন- আজি > আইজ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি > চাইর, মারি > মাইর ইত্যাদি।  

• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এ রূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন- দিশ > দিশা, পোখত্ > পোক্ত (উচ্চারণ: পোক্তো), বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

• বিষমীভবন:
সমীভবনের বিপরীত রীতি বিষমীভবন। শব্দের মধ্যে পাশাপাশি অবস্থিত সমান দুই ব্যঞ্জনের মধ্যে যেকোনো একটি বদলে গেলে, ধ্বনি-পরিবর্তনের এই রীতিকে বলা হয় বিষমীভবন।
যথা- শরীর > শরীল, নাঙ্গল > লাঙ্গল, লেবু > নেবু, লাল > নাল, তরবার > তরোয়াল ইত্যাদি। বিষমীভবনের ব্যবহার লেখ্য ভাষায় বিরল। প্রধানত মৌখিকে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।
২,৩১৪.
নিচের কোনটি অভিব্যাপক আধারাধিকরণের উদাহরণ?
  1. নদীতে পানি আছে।
  2. আকাশে চাঁদ উঠেছে।
  3. পুকুরে মাছ আছে।
  4. বনে বাঘ আছে।
ব্যাখ্যা
অভিব্যাপক:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে,তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)।
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)।

অন্যদিকে,
ঐকদেশিক:
- বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩১৫.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. পূজনীয়
  2. বিধবা
  3. অরক্ষণীয়া
  4. অসূর্যম্পশ্যা
ব্যাখ্যা

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- পূজনীয়- পূজনীয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা হায়াৎ মামুদ।

২,৩১৬.
প, ফ, ব, ভ, ম কোন প্রকার ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1. ক) দন্ত্য ব্যঞ্জন
  2. খ) তালব্য ব্যঞ্জন
  3. গ) ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  4. ঘ) কন্ঠ্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন ধ্বনির উদাহরণ।

উচ্চারণস্থান অনুযায়ী  ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়:
১. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
২. দন্ত্য ব্যঞ্জন
৩. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
৪. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
৫. তালব্য ব্যঞ্জন
৬. কন্ঠ্য ব্যঞ্জন
৭. কন্ঠনালীয় ব্যঞ্জন

• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন: যেসব ব্যঞ্জনধ্বান উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন-
পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের (প, ফ, ব, ভ, ম) ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন ধ্বনির উাদাহরণ।

উৎস:- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
২,৩১৭.
মৌলিক শব্দ কোনটি?
  1. গরমিল
  2. চলন্ত
  3. প্রশাসন
  4. লাল
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ - লাল

• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, লাল, তিন।

অন্যদিকে,
বাকিগুলো সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩১৮.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. মনঃ + তাপঃ = মনস্তাপ
  2. চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়
  3. নিষঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর
  4. ইতঃ + তত = ইতঃস্তত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়।

• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম / সূত্র:
পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বা ছ্‌ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্; ট্ বা ঠ্‌ থাকলে ষ; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

• সন্ধিজাত শব্দগঠন:
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়। 
- দুঃ + চিন্তা = দুশ্চিন্তা।
- নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্র। 
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ।
- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়। 
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার।
- নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর।
- ইতঃ + তত = ইতস্তত। 
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৩১৯.
কোন ধরণের স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট সবচেয়ে বেশি উন্মুক্ত হয়?
  1. ক) সংবৃত
  2. খ) বিবৃত 
  3. গ) অর্ধ-সংবৃত
  4. ঘ) অর্ধ-বিবৃত
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত
- অর্ধ- সংবৃত
- অর্ধ- বিবৃত
- বিবৃত 

- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে;
- বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ]
২,৩২০.
নিচের কোন বাক্যে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. একটু ঘুরে আসুন না!
  2. গতকাল তিনি ঘুরে গিয়েছেন।
  3. ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
  4. মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
ব্যাখ্যা
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- গতকাল তিনি ঘুরে গিয়েছেন।

অন্যদিকে,
- 'একটু ঘুরে আসুন না!' পদাণু ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ।
- 'ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।' ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ।
- 'মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।' স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩২১.
'সাম্পান' শব্দটির উৎস কোন ভাষা?
  1. তৎসম
  2. দেশি
  3. চীনা
  4. বর্মী
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

- 'সাম্পান' শব্দটির চীনা ভাষা থেকে এসেছে।
• সাম্পান অর্থ: বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মিয়ানমার চীন প্রভৃতি অঞ্চলের নদী ও সমুদ্রের উপকূলে চলাচলকারী দাঁড়বিশিষ্ট ছোটো নৌকো।

• কিছু চীনা শব্দ: 
চা, লিচু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৩২২.
'শৈল' শব্দটির সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. অদ্রি
  2. তপন
  3. গিরি
  4. অচল
ব্যাখ্যা
• 'শৈল' শব্দটির সমার্থক শব্দ নয় - তপন।
- 'তপন' শব্দটির সমার্থক শব্দ - সূর্য। 
 
'পর্বত' শব্দের সমার্থক শব্দ:
-পাহাড়, অদ্রি, ভূধর, গিরি, শৈল, অচল।
 
অন্যদিকে,
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
রবি, তপন, সবিতা, প্রভাকর, দিবাকর, ভাস্কর, দিনেশ, কিরণমালী, দিনমণি, বিভাকর, পূষণ, অংশুমান, অরুন।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩২৩.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি কোন ভাগে বিভক্ত নয়?
  1. কণ্ঠনালীয়
  2. ওষ্ঠ্য
  3. দন্তমূলীয়
  4. তালব্য
ব্যাখ্যা
⇒ উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।
- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) – এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩২৪.
'অদৃষ্টপূর্ব' এর অর্থ কী?
  1. ক) যা পূর্বে কখনো ঘটে নি
  2. খ) যা পূর্বে কখনো দেখা যায় নি
  3. গ) যা পূর্বে কখনো ভাগ্যে ছিল না
  4. ঘ) যা পূর্বে কখনো অনুধাবন লরা যায় নি
ব্যাখ্যা
যা পূর্বে কখনো দেখা যায় নি - অদৃষ্টপূর্ব 

যা কখনো দেখা যায় না - অদৃশ্য 
যা ক্রমশ বর্ধিত হচ্ছে - বর্ধিষ্ণু
যা যুক্তিসঙ্গত নয় - অযৌক্তিক 
যা সহজে লাভ করা যায় - সুলভ 
যা মৃতের মতো - মৃতবৎ
যা সারাদিন পরে থাকা হয় - আটপৌরে
যা পূর্বে ছিল এখন নেই - ভূতপূর্ব  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩২৫.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. বিস্ফোরণ
  2. সুস্মিতা
  3. শুচিস্মিতা
  4. আয়ুস্মান
ব্যাখ্যা
• আয়ুস্মান বানানটি অশুদ্ধ। 
এর শুদ্ধ বানান- 'আয়ুষ্মান'। 

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'আয়ুষ্মান' (বিশেষণ) - 'তৎসম বা সংস্কৃত' শব্দ।  

• 'আয়ুষ্মান' শব্দের অর্থ- 'দীর্ঘজীবী'। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩২৬.
'নয়' শব্দের মধ্যে কোন কোন স্বরধ্বনি আছে?
  1. ক) অ + এ্‌
  2. খ) ও + এ্‌
  3. গ) অ + উ্‌
  4. ঘ) ও + উ্‌
ব্যাখ্যা
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন - 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্] তৈরি হয়েছে।

• দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
- [আই্] = তাই, নাই।
- [এই্] = সেই, নেই।
- [আও্]= যাও, দাও।
- [আএ্] = খায়, যায়।
- [উই্,] = দুই, রুই।
- [অএ্] = নয়, হয়।
- [ওউ্] =মৌ, বউ।
- [ওই্] = কৈ, দই।
- [এউ্] = কেউ, ঘেউ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
২,৩২৭.
অনুসর্গের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. অপেক্ষা, অবধি
  2. সামনে, পিছনে
  3. বলে, কয়ে
  4. বাইরে, বাদে
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।
এই বাক্যে ‘ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ?
এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘-কে’, ‘-র’ ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন -
তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব।
সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩২৮.
বাংলা ভাষায় মৌলিক ধ্বনির সংখ্যা কয়টি?
  1. ১০টি
  2. ৭টি
  3. ৩০টি
  4. ৩৭টি
ব্যাখ্যা

•  বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।

এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
- স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

মৌলিক স্বরধ্বনি:
- বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি।
যেমন:
- ই, এ, অ্যা, আ, অ, ও, উ।

- বাংলা ভাষায় মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনির সংখ্যা ৩০টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৩২৯.
'বাদশাহ্‌' এর প্রতিশব্দ নয় কোনটি?
  1. সম্রাট
  2. ভূপতি
  3. বিভাবরী
  4. নৃপ
ব্যাখ্যা

• 'বাদশাহ্‌' এর প্রতিশব্দ নয়- বিভাবরী।
- 'বিভাবরী' হলো- 'রাত্রি' এর প্রতিশব্দ।

অন্যদিকে,
• 'বাদশাহ্‌' এর প্রতিশব্দ:
- নৃপ; সম্রাট; ভূপতি; মহারাজ; রাজাধিরাজ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

২,৩৩০.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. গেঁজেল
  2. কারিগর
  3. ঘটকালি
  4. ভিখারি
ব্যাখ্যা

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় গঠিত কিছু শব্দ:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- মানান + সই = মানানসই;
- খবর + দার = খবরদার;
- কারি + গর = কারিগর;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

অন্যদিকে,
-------------
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন
• আরি/আরী/আবু-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে: ভিখ + আরি = ভিখারি, শাঁখ-শাঁখারি, বোমা-বোমারু।
• আলি/আলো/আলি/আলী>এল-প্রত্যয়: বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে: দাঁত-দাঁতাল, লাঠি-লাঠিয়াল> লেঠেল, তেজ-তেজাল, ধার-ধারাল, শাঁস-শাঁসাল, জমক-জমকালো, দুধ-দুধাল দুধেল, হিম-হিমেল, চতুর- চতুরালি, ঘটক + আলি = ঘটকালি, সিঁদ-সিঁদেল, গাঁজা + এল = গেঁজেল

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

২,৩৩১.
'তরঙ্গ'এর সমার্থক শব্দ হলো -
  1. ক) ঢেউ
  2. খ) নাগ
  3. গ) কেশরী
  4. ঘ) হরি
ব্যাখ্যা
ঢেউ - ঊর্মি, বীচি, তরঙ্গ, কল্লোল, হিল্লোল, মহোর্মি, মহাতরঙ্গ, জোয়ার।
হস্তী - হাতি, গজ, নাগ, মাতঙ্গ, দ্বিপ, দ্বিরদ।
সিংহ - পশুরাজ, কেশরী, মৃগেন্দ্র, মৃগরাজ, মৃগপতি, হরি।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
২,৩৩২.
'পাওয়ার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ কী?
  1. লিপ্সা
  2. ঈপ্সা
  3. জিগীষা
  4. বুভুক্ষা
ব্যাখ্যা

• 'পাওয়ার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - ঈপ্সা।

অন্যদিকে,
- জয়লাভ করার ইচ্ছা - জিগীষা।
- আহারের স্পৃহা - বুভুক্ষা।
- প্রাপ্তির তীব্র আকাঙ্ক্ষা - লিপ্সা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৩৩৩.
'প্রকৃতি' কোনটির অপর নাম?
  1. ক) ধাতু
  2. খ) প্রত্যয়
  3. গ) বর্গ
  4. ঘ) শব্দমূল
ব্যাখ্যা
এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি শব্দের মূল অংশকে শব্দমূল বলে।
- শব্দমূলের এক নাম প্রকৃতি।
- প্রকৃতি দুই ধরনের: নামপ্রকৃতি ও ক্রিয়াপ্রকৃতি।
- ক্রিয়াপ্রকৃতির অন্য নাম ধাতু।
- নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
- নামপ্রকৃতির উদাহরণ: মা, গাছ, শির, লতা ইত্যাদি। ধাতুর উদাহরণ: ক, যা, চল, ধৃ ইত্যাদি।
- নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলাের নাম উপসর্গ ও প্রত্যয়।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩৩৪.
'জ্বল্‌ জ্বল্‌ করছে যা' কে এককথায় বলে -
  1. জাজল্যমান
  2. জ্বাজল্যমান
  3. জাজ্বল্যমান
  4. জ্বাজ্বল্যমান
ব্যাখ্যা
• 'জ্বল্‌ জ্বল্‌ করছে যা' কে এককথায় বলে - জাজ্বল্যমান

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাক্য সংকোচন:
- 'নষ্ট হওয়া স্বভাব যার’ এর এককথায় প্রকাশ - নশ্বর।
- ‘মায়া (ছল) জানে না যে’ এর এককথায় প্রকাশ - অমায়িক।
- ‘জীবিত থেকেও যে মৃত’ এর এককথায় প্রকাশ - জীবন্মৃত।
- ‘সরোবরে জন্মে যা’ এর এককথায় প্রকাশ - সরোজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৩৫.
নিচের কোনটি সমার্থক নয়?
  1. ক) ঢাকের কাঠি-খয়ের খাঁ
  2. খ) অকাল কুষ্মান্ড-আমড়া কাঠের ঢেঁকি
  3. গ) আটকপালে-ইঁদুর কপালে
  4. ঘ) গোঁফ খেজুরে-কাছাঢিলা
ব্যাখ্যা

- ঢাকের কাঠি - মোসাহেব, চাটুকার, তোষামোদকারী; খয়ের খাঁ - চাটুকার
- আমড়া কাঠের ঢেঁকি - অপদার্থ; অকাল কুষ্মাণ্ড - অপদার্থ
- আটকপালে -হতভাগ্য; ইঁদুর কপালে - মন্দভাগ্য

- গোঁফ খেজুরে - অত্যন্ত অলস; কাছা ঢিলা - অসাবধান


উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমি অভিধান।
২,৩৩৬.
'পাখি ধরার ফাঁদ বা রশি' এর এক কথায় প্রকাশ কী হবে?
  1. পঙ্কজ
  2. বীতংস
  3. কান্তার
  4. কুলপি
ব্যাখ্যা
• 'পাখি ধরার ফাঁদ বা রশি' এর এক কথায় প্রকাশ: 'বীতংস'।

অন্যদিকে,
• 'পঙ্কে জন্মে যা' এর এক কথায় প্রকাশ- 'পঙ্কজ'। 
• 'নিবিড় অরণ্য' এর এক কথায় প্রকাশ- 'কান্তার'। 
• 'নলের আকারে জমানো বরফ' এর এক কথায় প্রকাশ- 'কুলপি'।  

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমির অভিগম্য অভিধান।
২,৩৩৭.
"শরতে শাপলা ফোটে।" - বাক্যে "শরতে" কোন কারক নির্দেশ করে?
  1. কালাধিকরণ
  2. বিষয়াধিকরণ
  3. ভাবাধিকরণ
  4. স্থানাধিকরণ
ব্যাখ্যা
কালাধিকরণ:
- যে কালে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে কালাধিকরণ কারক বলে।

যেমন:
- শরতে শাপলা ফোটে।

অন্যদিকে,
স্থানাধিকরণ:
- যে স্থানে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে স্থানাধিকরণ কারক বলে।

যেমন:
- জলে কুমির থাকে।

ভাবাধিকরণ:
- একটি ক্রিয়া অন্য ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে নির্ভরশীল ক্রিয়াপদটি ভাববাচকে পরিণত হয়ে অধিকরণ হলে, তাকে ভাবাধিকরণ কারক বলে।

যেমন:
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।

বিষয়াধিকরণ:
- কোনো বিষয়ে দক্ষতা বা অক্ষমতা প্রকাশে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হলে, তাকে বিষয়াধিকরণ কারক বলে।

যেমন:
- তিনি ইংরেজিতে ভালো।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২,৩৩৮.
‘পাকড়াও’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ পাক্ + ড়াও
  2. √ পাকড় + আও
  3. √ পাক্ + আও
  4. √ পাকড় + অও
ব্যাখ্যা
• সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: '√ পাকড় + আও'।
- 'পাকড়াও' শব্দটি 'কৃৎ' প্রত্যয়ের উদাহরণ।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়:
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √নন্দি+অন।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √দৃশ্ + অনীয়।
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √দৃশ্‌ + অনীয়'।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৩৯.
৩০। Evacuee শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) উচ্ছেদ
  2. খ) খালি করা
  3. গ) উদ্বাস্তু
  4. ঘ) নির্জন
  5. ঙ) মসৃণ
ব্যাখ্যা
Evacuee শব্দের অর্থ হলো অপসারিত বা স্থানান্তরিত ব্যক্তি অর্থাৎ উদ্বাস্তু বা শরনার্থী। (সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিঙ্গাসা- সৌমিত্র শেখর)
২,৩৪০.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অবমর্ষন
  2. অবমর্শন
  3. অবমর্শণ
  4. অবমর্ষণ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - অবমর্শন
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- অভিনিবেশ, পরামর্শ।
- স্পর্শ, প্রণিধান; অনুচিন্তন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৩৪১.
উৎ, অতি, অব, উপ - কোন ধরণের উপসর্গের উদাহরণ?
  1. ক) বিদেশী উপসর্গ
  2. খ) উপসর্গ স্থানীয় অব্যয়
  3. গ) বাংলা উপসর্গ
  4. ঘ) সংস্কৃত উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• উৎ, অতি, অব, উপ  - সংস্কৃত উপসর্গ।

• উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা- বাংলা উপসর্গ, সংস্কৃত বা  তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশী উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
• বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা

- বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।
- বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩৪২.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?    
  1. ইহার আবশ্যক নাই।
  2. ইহার আবশ্যকতা নাই। 
  3. ইহার আবশ্যকীয় নাই। 
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য- ইহার আবশ্যকতা নাই।
- বাক্যটি শুদ্ধ, কারণ ‘আবশ্যকতা’ একটি বিশেষ্য পদ; এর সঙ্গে ‘নাই’ ব্যবহার করে প্রয়োজনের অভাব সঠিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

-----------------------------
- ইহার আবশ্যক নাই- অশুদ্ধ, কারণ ‘আবশ্যক’ শব্দটি বিশেষণ (যার অর্থ প্রয়োজনীয়), কিন্তু বাক্যে প্রয়োজন বা দরকার বোঝাতে বিশেষ্য দরকার হয়; তাই ‘আবশ্যকতা’ ব্যবহার না করে ‘আবশ্যক’ বসানো পদগত ভুল।

- ইহার আবশ্যকীয় নাই- অশুদ্ধ, কারণ ‘আবশ্যক’ শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর বদলে ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

২,৩৪৩.
কোনটি ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ?
  1. কাঁদনা > কান্না
  2. মারি > মাইর
  3. বাক্‌স > বাস্‌ক
  4. চারি > চাইর
ব্যাখ্যা
ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের শধ্যে দুটো ব্যঞ্জনের পরস্পর স্থান পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।

যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সমীভবন - কাঁদনা > কান্না।
অপিনিহিতি - চারি > চাইর, মারি > মাইর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩৪৪.
অব্যয়ীভাব সমাসের বিপরীত নয় কোনটি?
  1. ক) দ্বিগু
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান, আর এর বিপরীত হলো - দ্বিগু, কর্মধারয়, তৎপুরুষ।
এই সমাসগুলোতে পরপদের অর্থ প্রধান্য পায়।

দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদের অর্থ প্রাধান্য পায়। তাই এটি অব্যয়ীভাব সমাসের বিপরীত নয়।
 
উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ
২,৩৪৫.
'ময়ূরের ডাক' এক কথায় কী বলে?
  1. টঙ্কার
  2. কেকা
  3. শিঞ্জন
  4. কুজন
ব্যাখ্যা

• 'ময়ূরের ডাক' এর এক কথায় প্রকাশ - কেকা

অন্যদিকে, 
- 'ধনুকের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ- 'টঙ্কার'।
- 'অলঙ্কারের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ- শিঞ্জন।
- 'পাখির কলতান' এর এক কথায় প্রকাশ - কুজন, কাকলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৩৪৬.
'Law' শব্দটির আভিধানিক উৎপত্তি টিউটনিক মূল শব্দ -
  1. ক) Lag
  2. খ) Log
  3. গ) Lug
  4. ঘ) Laws
ব্যাখ্যা
• আইনের সাধারণ অর্থ হলাে নিয়ম-কানুন বা বিধি-বিধান।
• ফার্সি ‘আইন’ শব্দটির অর্থ সুনির্দিষ্ট নীতি বা নিয়ম।
• আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Law. ইংরেজি Law শব্দটির আভিধানিক উৎপত্তি টিউটনিক মূল শব্দ ‘Lag' থেকে।
• Law শব্দের অর্থ ‘স্থির’ বা ‘অপরিবর্তনীয়’ এবং সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযােজ্য।
• সমাজের  আইন কানুনও স্থির।

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 
২,৩৪৭.
'শুভ্র' শব্দের অর্থ কী?
  1. দীর্ঘকায়
  2. ফিকে
  3. শ্বেত
  4. অভিজ্ঞ
ব্যাখ্যা

• 'শুভ্র' শব্দের অর্থ - শ্বেত, সাদা, শুক্ল, ধবল।
 
অন্যদিকে,
'প্রাংশু' শব্দের অর্থ- দীর্ঘকায়; উন্নত।
'হালকা' শব্দের অর্থ- ভারী নয় এমন; ফিকে
'প্রাচীন' শব্দের অর্থ- অনাধুনিক, অভিজ্ঞ, বৃদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।

২,৩৪৮.
কোন বাগ্‌ধারাটির ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. জোর-কপাল
  2. লগন চাঁদা
  3. নদের চাঁদ
  4. পোয়া বারো
ব্যাখ্যা
• ‘নদের চাঁদ’ অর্থ - সুন্দর ব্যক্তি অথচ অপদার্থ।

অন্যদিকে,
• 'লগন চাঁদা' অর্থ - ভাগ্যবান। 
• 'জোর-কপাল' অর্থ - সুপ্রসন্ন ভাগ্য। 
• 'পোয়া বারো' অর্থ - পরম সৌভাগ্য।

• সুতরাং, ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত বাগ্‌ধারা- নদের চাঁদ’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।।
২,৩৪৯.
'সীমার মাঝে অসীম তুমি।' - বাক্যটিতে 'মাঝে' কী?
  1. অনুসর্গ
  2. অব্যয়
  3. উপসর্গ
  4. প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• 'সীমার মাঝে অসীম তুমি।' - বাক্যটিতে 'মাঝে' - অনুসর্গ

অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
→ বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
→ সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
→ দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়। 

অনুসর্গের প্রয়োগ:
মাঝে:
- মধ্যে অর্থে - 'সীমার মাঝে অসীম তুমি।'
- একদেশিক অর্থে - এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
- ক্ষণকাল অর্থে - নিমেষ মাঝেই সব শেষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩৫০.
'হাতের তৈরি জিনিস আমার প্রিয়'- বাক্যে ‘হাতের’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. করণে ২য়া
  3. করণে ষষ্ঠী
  4. অপাদানে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে, করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়। 

যেমন:
- হাতের তৈরি জিনিস আমার প্রিয়।
- কি দ্বারা তৈরি? উত্তর: হাত দ্বারা।
-  এবং 'র', 'এর' হচ্ছে ষষ্ঠি বিভক্তি।
- তাই সঠিক উত্তর - গ) করণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২২)
২,৩৫১.
'শাখী' শব্দের অর্থ কী?
  1. অশনি
  2. বজ্র
  3. গাছ
  4. বন
ব্যাখ্যা
• 'শাখী' শব্দের অর্থ - গাছ

'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গাছ, পাদপ, দ্রুম, বনানী, তরু, বিটপী, শাখী, পণী, শৃঙ্গী, শিখরী, মহীরুহ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'বজ্র' শব্দের অর্থ - বাজ, অশনি, কুলিশ।

'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অরণ্য, জঙ্গল, কানন, বনানী, বনবাদাড়, কুঞ্জ, কান্তার, বিপিন, অটবী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩৫২.
সাদৃশ্য অর্থে নিচের কোনটি অব্যয়ীভাব সমাস?
  1. উপকণ্ঠ
  2. উপকূল
  3. উপশহর
  4. অনুক্ষণ
ব্যাখ্যা

অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।যেমন:
• বিপ্‌প্সা (অনু, প্রতি): দিন দিন = প্রতি দিন, ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে, ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ।
• সামীপ্য (উপ): কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ, কূলের সমীপে = উপকূল
• অভাব (নিঃ = নির): আমিষের অভাব = নিরামিষ, ভাবনার অভাব = নির্ভাবনা, জলের অভাব = নির্জল, উৎসাহের অভাব = নিরুৎসাহ।
• পর্যন্ত (আ): সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত = আসমুদ্রহিমাচল, পা থেকে মাথা পর্যন্ত =আপাদমস্তক।
• সাদৃশ্য (উপ): শহরের সদৃশ = উপশহর,
গ্রহের তুল্য = উপগ্রহ, বনের সদৃশ =উপবন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২,৩৫৩.
'Retreat' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ছাঁটাই করা
  2. অবসরগ্রহণ
  3. প্রত্যাহার
  4. পশ্চাদ্‌পসরণ
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• 'Retreat' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ- পশ্চাদ্‌পসরণ। 

অন্যদিকে, 
• 'Retire' অর্থ - অবসর গ্রহণ করা। 
• 'Retirement' অর্থ - অবসরগ্রহণ, অবসর। 
• 'Retract' অর্থ - প্রত্যাহার (বক্তব্য)। 
• 'Retrench' অর্থ - ছাঁটাই করা। 

 উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা। 

২,৩৫৪.
‘দরাজ’ শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. ক) উদার
  2. খ) দৃঢ়
  3. গ) সংকীর্ণ
  4. ঘ) নবীন
ব্যাখ্যা

দরাজ শব্দটির সমার্থক শব্দ হলো - উদার এবং বিপরীত শব্দ - সংকীর্ণ।

আরো কতিপয় বিপরীতার্থক শব্দ
অমৃত - গরল;
নশ্বর - শ্বাশত
একান্ন - পৃথগান্ন;
তির্যক - ঋজু
ধবল - কৃষ্ণ;

২,৩৫৫.
'যুদ্ধের জন্য' ইচ্ছুক' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. যশস্বী
  2. যুবজানি
  3. যুযুৎসু
  4. যুধিষ্টির
ব্যাখ্যা
• 'যুদ্ধের জন্য' ইচ্ছুক' এর এক কথায় প্রকাশ - যুযুৎসু

অন্যদিকে,
- 'যুদ্ধ করার সময় বুদ্ধি স্থির রাখতে পারে এমন' এর এক কথায় প্রকাশ - যুধিষ্টির।
- 'যুবতী জায়া যার' এর এক কথায় প্রকাশ - যুবজানি।
- 'যার যশ আছে' এর এক কথায় প্রকাশ - যশস্বী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩৫৬.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. হৃষিতা বুদ্ধিমান মেয়ে।
  2. তার পানিতে সমাধি হয়েছে।
  3. সময় বড় সংক্ষেপ।
  4. ছেলেটি বংশের মুখে চুনকালি দিল।
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ: ছেলেটি বংশের মাথায় চুনকালি দিল।
শুদ্ধ: ছেলেটি বংশের মুখে চুনকালি দিল।

এরূপ কিছু শুদ্ধ ও অশুদ্ধ বাক্য হলো-
অশুদ্ধ: বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
শুদ্ধ: বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।

অশুদ্ধ: হৃষিতা বুদ্ধিমান মেয়ে।
শুদ্ধ: হৃষিতা বুদ্ধিমতী মেয়ে।

অশুদ্ধ: তার পানিতে সমাধি হয়েছে।
শুদ্ধ: তার সলিল সমাধি হয়েছে। 

অশুদ্ধ: সময় বড় সংক্ষেপ।
শুদ্ধ: সময় বড় সংক্ষিপ্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৩৫৭.
'চতুর' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. ক) দুরন্ত
  2. খ) সচেতন
  3. গ) বোকা
  4. ঘ) চালাক
ব্যাখ্যা
'চতুর' শব্দের অর্থ চালাক যার বিপরীত শব্দ বোকা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩৫৮.
‘উথালপাথাল’ অর্থে কোন বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. উজনপাঁজল
  2. উপোসি ছারপোকা
  3. উড়নপেকে
  4. উলুখাগড়া
ব্যাখ্যা
• ‘উথালপাথাল’ অর্থে ব্যবহৃত বাগধারা হলো - উজলপাঁজল।

অপশনের অন্যান্য বাগধারার অর্থ হলো:
• ‘উড়নপেকে’ বাগধারার অর্থ - অপব্যয়ী।
• ‘উপোসি ছারপোকা’ বাগধারার অর্থ - অভাবগ্রস্ত লোক।
• ‘উলুখাগড়া’ বাগধারার অর্থ - গুরুত্বহীন লোক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৫৯.
আরবি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. বরখাস্ত 
  2. দরদালান 
  3. খাসমহল
  4. কারখানা
ব্যাখ্যা

• 'খাস' আরবি উপসর্গ যোগে 'বিশেষ' অর্থে গঠিত শব্দ- খাসমহল, খাসখবর, খাসকামরা, খাসদরবার। 

অন্যদিকে, 
• ফারসি উপসর্গ বর, দর ও কার যোগে গঠিত শব্দগুলো হলো- বরখাস্ত, দরদালান ও কারখানা।

-------------------
বিদেশি উপসর্গ:

আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
• আরবি উপসর্গ: আম, q লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
• ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
• উর্দু উপসর্গ: হর।
• ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২,৩৬০.
একবচন বাচক নির্দেশক কোনটি?
  1. দাম
  2. গাছি
  3. গ্রাম
  4. মহল
ব্যাখ্যা
গাছি একবচন বাচক নির্দেশক।
যেমন: মালাগাছি।

• একবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
'টি', 'টা', 'খানা', 'খানি' ইত্যাদি নির্দেশক প্রত্যয় 'এক'-এর সঙ্গে যোগ করে, অথবা 'এক' শব্দটিকে ব্যবহার না করেও বিশেষ্যের সঙ্গে টা, টি, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি নির্দেশক প্রত্যয় যোগে একবচন গঠন করা যায়। যেমন:
- একটি ছেলে অথবা ছেলেটি।
- তার গলায় ছিল একখানি হার।

• সমষ্টিবাচক শব্দ যোগে:
- দাম: শৈবালদাম,
- গ্রাম: গুণগ্রাম,
- মহল: মহিলামহল, গুণিমহল।

উৎস: ১। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২। বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩৬১.
ব্যাঞ্জনসন্ধি কখন গঠনের নিয়ম কোনটি?
  1. ক) স্বর+ব্যঞ্জন
  2. খ) ব্যঞ্জন + স্বর
  3. গ) ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি
- স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

সাধারণত, ব্যঞ্জনসন্ধি  তিন নিয়মে হয়: 
১. স্বর+ব্যঞ্জন
২. ব্যঞ্জন + স্বর
৩. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩৬২.
ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) চলন্ত গাড়ি
  2. খ) নীল আকাশ
  3. গ) দ্রুত চল
  4. ঘ) করুণাময় তুমি
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া বিশেষণ : যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যথা -
ক. ক্রিয়া সংঘটনের ভাব : ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
খ. ক্রিয়া সংঘটনের কাল : পরে একবার এসো।



উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

২,৩৬৩.
'পুনর্মিলন' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পূর্ণ+মিলন
  2. পুনঃ+মিলন
  3. পুন+মিলন
  4. পুনরায়+মিলন
ব্যাখ্যা
• 'পুনর্মিলন' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - পুনঃ+মিলন। 
- এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ। 
- এখানে বিসর্গ র’ হয়ে যায়।  

• বিসর্গসন্ধি:
বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:
- বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ + পতন = অধঃপতন, বয়ঃ + সন্ধি = বয়ঃসন্ধি।
- বিসর্গ 'ও' হয়ে যায়: মনঃ + যােগ = মনােযােগ, তিরঃ + ধান = তিরােধান, তপঃ + বন = তপোবন।
- বিসর্গ 'র্‌’ হয়ে যায়: নিঃ + আকার = নিরাকার, পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ।
- বিসর্গ শ্‌ / ষ্‌ / স্‌ হয়: নিঃ + চয় = নিশ্চয়, দুঃ + কর = দুষ্কর, পুরঃ + কার = পুরস্কার।
- কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ + রব = নীরব, নিঃ + রস = নীরস, নিঃ + রােগ = নীরােগ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩৬৪.
'গরীয়ান' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. গরীয়ানী
  2. গরীয়সী
  3. গরিয়াসী
  4. গরিয়ানী
ব্যাখ্যা

• 'গরীয়ান' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - 'গরীয়সী'।

• 'গরীয়ান'  অর্থ:
১) মর্যাদা পূর্ণ, মহান।
২) গুরুতর; বৃহত্তর।
৩) মহার্ঘ।
৪) বিত্তশালী। 

• পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'অত', 'বান', 'মান', 'ঈয়ান' থাকলে 'অতী', 'বতী', 'মতী', 'ঈয়সী' হয়:

যেমন:
- সৎ-সতী, 
- গুণবান-গুণবতী, 
- শ্রীমান-শ্রীমতী, 
- গরীয়ান-গরীয়সী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।

২,৩৬৫.
কোনটি ‘পরাগত স্বরসঙ্গতি’ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. মুলা > মুলো
  2. বিলাতি > বিলিতি
  3. আখো > আখুয়া > এখো
  4. মোজা > মুজো
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন- দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মুলা > মুলো; শিকা > শিকে; তুলা > তুলো।

• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন: আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন: বিলাতি > বিলিতি।

• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন: মোজা > মুজো।

• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
- গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।
- পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন: মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি।
- বিশেষ নিয়মে- উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩৬৬.
'তাৎপর্য' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য পদ
  2. বিশেষণ পদ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• গুণবাচক-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• তাৎপর্য: (বিশেষ্য পদ)
অর্থ:
- গূঢ় অর্থ, মর্মার্থ, ভাবার্থ।
- গুরুত্ব।
-অভিপ্রায়। (বিশেষ্য পদ),

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৩৬৭.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ভস্মীভূত
  2. মনীষী
  3. দুষ্কৃতিকারী
  4. ঋণগ্রহীতা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- দুষ্কৃতিকারী- বানান অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধ বানান- দুষ্কৃতকারী।



অন্যদিকে,
ভস্মীভূত; মনীষী; ঋণগ্রহীতা - বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩৬৮.
‘Epic’ এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. পদ্য
  2. মহাকাব্য
  3. প্রহসন
  4. গদ্য
ব্যাখ্যা
• ‘Epic' এর বাংলা পরিভাষা - মহাকাব্য।

অন্যদিকে,
- ‘Prose’ এর বাংলা পরিভাষা - গদ্য।
- ‘Farce’ এর বাংলা পরিভাষা - প্রহসন।
- ‘Poetry’ এর বাংলা পরিভাষা - পদ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩৬৯.
'কানুন' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ফারসি
  2. উর্দু
  3. আরবি
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
• কানুন। 
- বিশেষ্য পদ,
- এটি আরবি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- আইন।
- বিধিব্যবস্থা।

এরূপ কিছু আরবি ভাষার শব্দ হলো- আদালত, আদাব, আদায়, আমানত, আলিশান। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩৭০.
'তনূর্ধ্ব' এর সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. তনু + ঊর্ধ্ব
  2. তনু + উর্ধ্ব
  3. তনূ + উর্ধ্ব
  4. তনুঃ + উর্ধ্ব
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• প্রথম পদের শেষের হষ-উ বা দীর্ঘ-ঊ ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রষ-উ বা দীর্ঘ-উ ধ্বনির যোগে দীর্ঘ-ঊ হয়। বানানে তা দীর্ঘ-উ-কার হয়ে আগের বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- লঘু + উর্মি = লঘূর্মি,
- তনু + ঊর্ধ্ব = তনূর্ধ্ব,
- বধূ + উক্তি = বধূক্তি,
- বধূ + উৎসব = বধূৎসব,
- বধূ + উচিত = বধূচিত,
- ভূ + উর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব,
- সরযূ + উর্মি = সরযূর্মি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩৭১.
'দুধের মাছি' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. ঘনিষ্ঠতা
  2. ভালো অবস্থায় থাকা
  3. সুসময়ের বন্ধু
  4. চাটুকারিতা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'দুধের মাছি' বাগ্‌ধারার অর্থ - সুসময়ের বন্ধু।
বাক্য- টাকা থাকলে দুধের মাছির অভাব হয় না।

অন্যদিকে, 
• 'দহরম মহরম' অর্থ - ঘনিষ্ঠতা। 
• 'দুধে ভাতে' অর্থ - ভালো অবস্থায় থাকা। 
• 'ধামাধরা' অর্থ - চাটুকারিতা। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৭২.
সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. ক) অদ্যাবধি
  2. খ) দুরাবস্থা
  3. গ) পশ্বধম
  4. ঘ) শীতাতপ
ব্যাখ্যা

- দুরাবস্থার শুদ্ধরূপ দুরবস্থা। এটি সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ।
- বিসর্গ সন্ধি টি হচ্ছে- দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা।

সোর্সঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৩৭৩.
'অপ্রতিভ' শব্দের বিপরীত শব্দ কী?
  1. হতবুদ্ধি
  2. নিষ্প্রভ
  3. চটপটে
  4. শুষ্ক
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'অপ্রতিভ' শব্দের বিপরীত শব্দ - চটপটে

উল্লেখ্য,
'অপ্রতিভ' শব্দের অর্থ - বিব্রত ও লজ্জিত, হতবুদ্ধি, নিষ্প্রভ
'সপ্রতিভ' শব্দের অর্থ - প্রতিভান্বিত, সংকোচহীন; চটপটে, দীপ্তিময়।

অন্যদিকে,
সিক্ত - শুষ্ক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৩৭৪.
'ঙ্ক' কোন কোন বর্ণ নিয়ে গঠিত?
  1. (ণ্‌+ক)
  2. (ন্‌+ক)
  3. (ঙ্‌+ক)
  4. (ম্‌+ক)
ব্যাখ্যা
• 'ঙ্ক' যুক্তবর্ণটি (ঙ্‌ + ক) বর্ণ নিয়ে গঠিত।

• যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলােকে দেখে কখনাে সহজে চেনা যায়, কখনাে সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ্জ, ক্ট, জ্ঝ, ঞ্ঝ, ড্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, ন্স, প্ট, প্ত, ব্জ ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ত (ক্‌+ত), ক্ম (ক্‌+ম), ক্ষ (ক্‌+ষ), ক্ষ্ম (ক্‌+ষ্‌+ম), ক্স (ক্‌+স), গ্ধ (গ্‌+ধ), ঙ্ক (ঙ্‌+ক), জ্ঞ (জ্‌+ঞ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
২,৩৭৫.
নিচের কোনটি বিশেষণ?
  1. অধুনা
  2. অভ্যুত্থান
  3. আকর
  4. আকাল
ব্যাখ্যা

অপশন বিশ্লেষণ:
ক) অধুনা → বর্তমানে / এখন (ক্রিয়া বিশেষণ)।
খ) অভ্যুত্থান → বিদ্রোহ / আন্দোলন (বিশেষ্য)।
গ) আকর → উৎস / ভাণ্ডার (বিশেষ্য)।
ঘ) আকাল → অন্নাভাব / দুর্ভিক্ষ (বিশেষ্য)।

এদের মধ্যে কোনোটি প্রকৃত বিশেষণ নয়।
রিয়েল জবের পরীক্ষা বিধায়, অপশন বিবেচনায় সবচেয়ে কাছাকাছি উত্তর ক) অধুনা নেওয়া হয়েছে, যদিও এটি বিশেষণ নয়, ক্রিয়া বিশেষণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৩৭৬.
তদ্ধিতান্ত শব্দের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ছাত্রী
  2. নারী
  3. প্রাণী
  4. স্থায়ী
ব্যাখ্যা
- তদ্ধিতান্ত শব্দের উদাহরণ নয় - স্থায়ী (√স্থা + ঈ)
- এটি কৃদন্ত শব্দ।

তদ্ধিতান্ত শব্দ:
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।

তদ্ধিতান্ত শব্দের গঠন:
- ছাত্রী = ছাত্র + ঈ,
- নারী = নর + ঈ,
- প্রাণী = প্রাণ + ঈ।
উপরের '-ঈ', '-ঈ', '-ঈ' হলো তদ্ধিত প্রত্যয় এবং ছাত্রী, নারী ও প্রাণী হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩৭৭.
'উন্মীলন' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ​নিম্নমুখী
  2. ​নিমজ্জিত
  3. নিমীলন
  4. উত্তোলন 
ব্যাখ্যা

• 'উন্মীলন' এর বিপরীতার্থক শব্দ - নিমীলন।

• ​'উন্মীলন' অর্থ- বিকাশ, উন্মেষ, উদ্ঘাটন, উন্মোচন।
• '​নিমীলন' অর্থ- চোখের পাতা মুদিতকরণ, সংকোচন, মৃত্যু।

​অন্যদিকে, 
• '​নিম্নমুখী' অর্থ- মুখ নিচের দিকে রয়েছে এমন, নিম্নগামী (বাজার নিম্নমুখী)।
• '​নিমজ্জিত' অর্থ- ডুবে গেছে বা ডোবানো হয়েছে এমন; জলমগ্ন, নিমগ্ন।
• '​উত্তোলন' অর্থ- ঊর্ধ্বে স্থাপন, তোলন, উন্নতকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৩৭৮.
'মুখ তোলা' বাক্যাংশের বিশিষ্ট অর্থ কি?
  1. নিজের মুখ উপরে তোলা
  2. অন্যের মুখ তুলে ধরা
  3. প্রসন্ন হওয়া
  4. নষ্ট করা
ব্যাখ্যা
• ‘মুখ তোলা’ অর্থ - অনুগ্রহ লাভ করা, প্রসন্ন হওয়া
উদাহরণ - খোদা মুখ তুলে চাইলে অবশ্যই ব্যবসায় লাভ হবে।

এমনিভাবে,
মুখ রাখা - সম্মান রক্ষা করা।
মুখ ধরা - মুখের স্বাদ নষ্ট হওয়া।
মুখ বদলানো - স্বাদ বদলানো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩৭৯.
'সর্বাঙ্গীণ' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) সর্ব + অঙ্গীন
  2. খ) সর্বাঙ্গ + ঈন
  3. গ) সর্ব + নীন
  4. ঘ) সর্বঙ্গ + ঈন
ব্যাখ্যা
নীন (ঈন্‌)- প্রত্যয়ঃ
সর্বজন + নীন = সর্বজনীন
কুল + নীন = কুলীন
নব + নীন = নবীন
তেমনিভাবে,
সর্বাঙ্গ + ঈন = সর্বাঙ্গীণ
 
সর্বাঙ্গীণ শব্দের অর্থ পূর্ণাঙ্গ, সম্পূর্ণ। 

উৎস:  নবম-দশম শ্রেণী, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, পৃষ্ঠা নংঃ ৯২; আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,৩৮০.
'কল্কে পাওয়া' এর সঠিক অর্থ কোনটি?
  1. ক) পাত্তা পাওয়া
  2. খ) প্রভাবিত হওয়া
  3. গ) শাস্তি পাওয়া
  4. ঘ) সাধু সাজা
ব্যাখ্যা
'কল্কে পাওয়ার' এর সঠিক অর্থ = পাত্তা পাওয়া
উদাহরণ = ঐ বিদ্যা নিয়ে এখানে কল্কে পাওয়া যাবে না - অন্য চাকরির চেষ্টা কর। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৮১.
সমার্থক অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত বাগ্‌ধারাজোড় নয় কোনটি?
  1. কচু বনের কালাচাঁদ - গোবর গণেশ
  2. ঘন্টাগরুড় - কুমড়ো কাটা বটঠাকুর
  3. রামগরুড়ের ছানা - সাক্ষী গোপাল
  4. কালে ভদ্রে - নমাসে ছমাসে
ব্যাখ্যা
সমার্থক অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত বাগ্‌ধারাজোড় নয়:
• ‘রামগরুড়ের ছানা’ বাগ্‌ধারার অর্থ - গোমড়ামুখো লোক।
• 'সাক্ষী গোপাল' বাগ্‌ধারার অর্থ - নিষ্ক্রিয় দর্শক।

সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত বাগ্‌ধারাগুলো হলো:
• ‘কালে ভদ্রে’ অর্থ - কদাচিৎ।
• ‘নমাসে ছমাসে’ অর্থ - কদাচিৎ।

• ‘ঘন্টাগরুড়’ অর্থ - অকর্মণ্য লোক।
• ‘কুমড়ো কাটা বটঠাকুর’ অর্থ - অকর্মণ্য লোক।

• ‘কচু বনের কালাচাঁদ’ অর্থ - অপদার্থ।
• ‘গোবর গণেশ’ অর্থ - অপদার্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩৮২.
'পঞ্চনদ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. বহুব্রীহি
  3. দ্বিগু
  4. তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
- সমাহার বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
- যেমন- পঞ্চনদ, পঞ্চভূত, পঞ্চবটী, ত্রিভুজ, তেপান্তর ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩৮৩.
‘অভাব’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে কোন উপসর্গটি?
  1. অনাচার
  2. অঝোরে
  3. অকেজো
  4. আধোয়া
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, , আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• 'আ' উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ:
- 'অভাব' অর্থে = আকাঁড়া, আধোয়া, আলুনি।

অন্যদিকে,
- 'অকেজো' শব্দটি 'নিন্দিত' অর্থে 'অ' উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ।
- 'অঝোরে' শব্দটি 'ক্রমাগত অর্থে 'অ' উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ।
- 'অনাচার' শব্দটি 'ছাড়া' অর্থে 'অনা' উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩৮৪.
কোনটি নিম্ন-মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি?
  1. অ্যা
ব্যাখ্যা
[অ্যা] নিম্ন-মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি।

অন্যদিকে,
- [ই] উচ্চ সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- [উ] উচ্চ পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

- [এ]  উচ্চ-মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- [ও]  উচ্চ-মধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

- [অ্যা]  নিম্ন - মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- [অ]  নিম্ন - মধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

- [আ]  নিম্ন মধ্য স্বরধ্বনি।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
২,৩৮৫.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. √ভাস্ + অন্ত = ভাসন্ত
  2. √বাড়ু + অন্ত = বাড়ন্ত
  3. √জিব্‌ + অন্ত = জীবন্ত
  4. √উঠ্‌ + আন্তি = উঠন্তি
ব্যাখ্যা

অন্ত >-অন্তি -উন্তি(প্রত্যয়)

যেমন:
- √ভাস্ + অন্ত = ভাসন্ত;
- √বাড়্‌ + অন্ত = বাড়ন্ত;
- √জীব্‌ + অন্ত = জীবন্ত;
- √উঠ্‌ + অন্তি = উঠন্তি;
এ রকম- উড়ন্ত, চলন্ত, পড়ন্ত, ঝুলন্ত, ডুবন্ত, বাড়ন্ত, ফুটন্ত ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

২,৩৮৬.
নিচের কোনটি ফারসি উপসর্গ সাধিত শব্দ?
  1. আমদরবার
  2. কারখানা
  3. খাসখবর
  4. গরহাজির
ব্যাখ্যা
• 'কারখানা' - শব্দের 'কার' -'ফারসি' উপসর্গ।

• ফারসি উপসর্গের প্রয়োগ:
১) কার (কাজ): কারখানা, কারসাজি, কারচুপি, কারবার, কারদানি।
২) দর্‌ (মধ্যস্থ, অধীন): দরপত্তনী, দরপাট্টা, দরদালান।
৩) না (না): নাচার, নারাজ, নামঞ্জুর, নাখোশ, নালায়েক।
৪) নিম্‌ (আধা): নিমরাজি, নিমখুন।
৫) ফি (প্রতি): ফি-রোজ, ফি-হপ্তা, ফি-বছর, ফি-সন, ফি-মাস।
৬) বদ্‌ (মন্দ): বদমেজাজ, বদরাগী, বদমাশ, বদহজম, বদনাম।
৭) বে (না): বেআদব, বেআক্কেল, বেকসুর, বেকায়দা, বেগতিক, বেতার, বেকার।
৮) বর্‌ (বাইরে, মধ্যে): বরখাস্ত, বরদাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ।
৯) ব্‌ (সহিত): বমাল, বনাম, বকলম।
১০) কম্‌ (স্বল্প): কমজোর, কমবখত।

আরবি উপসর্গের প্রয়োগ: 
উপসর্গ -- যে অর্থে প্রযুক্ত -- উদাহরণ-

ক. আম্ -- সাধারণ -- আমদরবার, আমজনতা, আমমোক্তার।
খ. খাস -- বিশেষ -- খাসমহল, খাসকামরা, খাসখবর।
গ. লা -- না -- লাপাত্তা, লাওয়ারিশ, লাজওয়াব।
ঘ. গর -- অভাব -- গরমিল, গরহাজির, গররাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩৮৭.
অনুসর্গ কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার 
  2. তিন প্রকার 
  3. চার প্রকার 
  4. পাঁচ প্রকার 
ব্যাখ্যা
অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- 
- সাধারণ অনুসর্গ;
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

সাধারণ অনুসর্গ:
 যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন - 
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে : কার কাছে গেলে জানা যাবে?

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: 
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন - 
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও
- দিয়ে: মন দিয়ে পড়ালেখা করা দরকার

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, (নমব-দশম শ্রেণি)
২,৩৮৮.
'চিরসুখী' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বন্দ্ব সমাস
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
'চিরকাল ব্যাপীয় সুখী= চিরসুখী'- ২য়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস :
পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লােপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা : দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন ।

• ব্যাপ্তি অর্থেও দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়। যেমন : চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী = চিরসুখী। এরকম : গা-ঢাকা, রথদেখা, বীজবােনা, ভাঁতরাধা, ছেলে-ভুলানাে (ছড়া), নভেল-পড়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)। 
২,৩৮৯.
'অতিবৃষ্টি' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. অনাবৃষ্টি
  2. অল্প বৃষ্টি
  3. খুব বৃষ্টি
  4. ভারী বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
• ‘অতিবৃষ্টি’ শব্দের বিপরীত শব্দ - অনাবৃষ্টি

কয়েকটি বিপরীত শব্দ হলো:
- অনুগ্রহ = নিগ্রহ।
- অনুজ = অগ্রজ।
- অনুকূল = প্রতিকূল।
- অনির্বাণ = নির্বাণ।
- অধমর্ণ = উত্তমর্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩৯০.
'ভিত ও ভীত' শব্দজোড়ের সঠিক অর্থ কী?
  1. বুনিয়াদ ও শঙ্কিত
  2. ভয় ও সংশয়
  3. মাশুল ও আতঙ্কিত
  4. ভোগ করা ও শঙ্কিত
ব্যাখ্যা
• 'ভিত' শব্দের অর্থ - বুনিয়াদ। 
• 'ভীত' শব্দের অর্থ - শঙ্কিত। 

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দজোড় হলো- 
• ভোজন - আহার। 
• ভজন - আরাধনা। 

• ভুঞ্জন - ভোগ করা। 
• ভঞ্জন - নিবারণ, নিরসন। 

• ভাড়া - মাশুল। 
• ভারা - উচ্চ স্থানে কাজ করার মাচান। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩৯১.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. ইচ্ছা
  2. অনিচ্ছা
  3. ইচ্ছাময়
  4. ঐচ্ছিক
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ - ঐচ্ছিক
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- ইচ্ছানুরূপ,ইচ্ছানুযায়ী।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - ইচ্ছাময়, অনিচ্ছা, ইচ্ছা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৩৯২.
'Intelligence' এর পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) গুপ্তবার্তা
  2. খ) বুদ্ধিবাদ
  3. গ) উদ্‌ঘাটিত
  4. ঘ) গুপ্তবার্তা বিভাগ
ব্যাখ্যা
• Intelligence এর পারভাষিক শব্দ - গুপ্তবার্তা।

• অন্যদিকে: 
- Intellectualism- বুদ্ধিবাদ।
- Disclosed - উদ্‌ঘাটিত।
- Intelligence Branch - গুপ্তবার্তা বিভাগ।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
২,৩৯৩.
'আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।'- এখানে 'সাহসে' কোন কারক?
  1. অপাদান 
  2. করণ 
  3. অধিকরণ 
  4. কর্ম 
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ', 'য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা:
- আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই।
-  কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: বাবা বাড়ি নেই।
• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।
• অধিকরণে অনুসর্গের ব্যবহার: ঘরের মধ্যে কে রে? তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে।

• বৈষয়িক অধিকরণ:
বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমন:
রাকিব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।
আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।
[ বাক্যকে কোন বিষয়ে দুর্জয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সাহসে'। সুতরাং 'সাহসে' অধিকরণ কারক।] 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ -সংস্করণ)।

২,৩৯৪.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছ বিপরীতার্থক নয়?
  1. ক) উত্তরণ - অবতরণ
  2. খ) উত্তমর্ণ - অধমর্ণ
  3. গ) উন্নয়ন - অবনয়ন
  4. ঘ) ইস্তফা - ত্যাগ
ব্যাখ্যা
ইস্তফা - যোগদান
উত্তরণ - অবতরণ
উত্তমর্ণ - অধমর্ণ
উন্নয়ন - অবনয়ন
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
২,৩৯৫.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. ইহার আবশ্যকতা নাই।
  2. ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাকর।
  3. বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।
  4. আবশ্যক ব্যায়ে কার্পণ্যতা করা উচিত নয়।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: আবশ্যক ব্যায়ে কার্পণ্যতা করা উচিত নয়।
শুদ্ধ : আবশ্যক ব্যয়ে কার্পণ্য উচিত নয়।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ: ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাকর।
শুদ্ধ: এটা লজ্জাকর ব্যাপার।
শুদ্ধ: বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।
শুধ: ইহার আবশ্যকতা নাই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩৯৬.
‘নবােঢ়া’ শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) নব + ঊঢ়া
  2. খ) নবঃ + উঢ়া
  3. গ) নবাে + ঊঢ়া
  4. ঘ) নব + উয়া
ব্যাখ্যা
নবোঢ়া: 
নব+ঊঢ়া = নবোঢ়া স্বরসন্ধির উদাহরণ।
অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয় মিলে ও-কার হয়;ও-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।
যেমন -
অ + উ = ও [সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়]
আ + উ = ও [যথা + উচিত = যথোচিত]
অ + ঊ = ও [গৃহ + ঊর্ধ = গৃ্হোর্ধ্ব]
আ + ঊ = ও [গঙগা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি]
এরূপ - নীলোৎপল, চলোর্মি, নবোঢ়া, ফলোদয়, পরোপকার ইত্যাদি।

[নবোঢ়া/নবোঢ়া] (বিশেষ্য) নতুন বিবাহিতা স্ত্রী; নতুন বৌ; নববধূ।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) নব+ঊঢ়া; বহুব্রীহি সমাস}।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম  শ্রেণি ), বাংলা একাডেমি অভিধান।
২,৩৯৭.
বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল-
  1. ক) আকাঙ্খা 
  2. খ) আকাঙ্ক্ষা 
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) আসত্তি
ব্যাখ্যা
-  বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল- যোগ্যতা

আদর্শ বাক্যের জন্যে তিনটি গুণ থাকা থাকা জরুরি।
• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
ছেলেরা খেলে
কাজল নিয়মিত লেখাপড়া

উপরের দু'টি বাক্যই অসম্পূর্ন অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যগুলো এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- ছেলেরা ফুটবল খেলে।
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

• আসত্তি:
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হল-আসত্তি।  
‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’।
 
উপরের বাক্যে পদ সন্নিবেশ ঠিকঠাক না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। বাক্যটি এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। এখন বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন। 

• যোগ্যতা: 
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
‘বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’।

উপরের বাক্যটি ভাব প্রকাশে যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না। তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি-
‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,সৌমিত্র শেখর।
২,৩৯৮.
কোনটি অনুসর্গ?
  1. অপেক্ষা
  2. কর্তৃক
  3. অভিমুখে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

যেমন:
সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
কোন পর্যন্ত পড়েছ? - এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩৯৯.
নিচের কোনটি আরবি শব্দ?
  1. কুলফি
  2. কুমকুম
  3. কুস্তি
  4. কোফতা
ব্যাখ্যা
• ‘কুমকুম’ আরবি শব্দ।

• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
কুমকুম, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর।

অন্যদিকে,
• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
কুলফি, কুস্তি, কোফতা, গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৪০০.
'অরাজক দেশ’ বােঝাতে কোন বাগধারাটি প্রয়ােজন?
  1. ক) মগের মুল্লুক
  2. খ) পুকুর চুরি
  3. গ) বালির বাঁধ
  4. ঘ) ভরাডুবি
ব্যাখ্যা

ভরাডুবি - সর্বনাশ
মগের মুল্লুক - অরাজক দেশ
পুকুর চুরি - বড় ধরনের চুরি
বালির বাঁধ - অস্থায়ী বস্তু
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷