বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা / ৩৫৪ · ১০১২০০ / ৩৫,৭১৩

১০১.
বাংলা ভাষায় কোন স্বরধ্বনি উচ্চারণকালে জিহ্বা উচ্চ অবস্থানে থাকে?
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষায় 'উ' স্বরধ্বনিটি উচ্চারণকালে জিহ্বা উচ্চ অবস্থানে থাকে। 

• স্বরধ্বনির উচ্চারণ বিধি:
- উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।

উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত। 
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - এ, ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।

আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি - ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।

বিশেষ তথ্য:

- ই এবং ঈ-ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা এগিয়ে আসে এবং উচ্চে অগ্রতালুর কঠিনাংশের কাছাকাছি পৌছে।
- ই, ঈ এ (অ) ধ্বনির উচ্চারণে জিহবা এগিয়ে সম্মুখভাগে দাঁতের দিকে আসে বলে এগুলোকে বলা হয় সম্মুখ ধ্বনি।

- উ এবং ঊ-ধ্বনি উচ্চারণে জিহ্বা পিছিয়ে আসে এবং পশ্চাৎ তালুর কোমল অংশের কাছাকাছি ওঠে।
- উ, ঊ ও অ-ধ্বনির উচ্চারণে জিহবা পিছিয়ে আসে বলে এগুলোকে পশ্চাৎ স্বরধ্বনি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০২.
কোন যতিচিহ্নে 'এক বলার দ্বিগুণ সময়' থামতে হয়?
  1. পাদচ্ছেদ
  2. কোলন ড্যাস
  3. অর্ধচ্ছেদ
  4. কোলন
ব্যাখ্যা
বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:

সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়

অন্যদিকে,
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- এক সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১০৩.
'মজুরি' শব্দের সঠিক ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) Salary
  2. খ) Income
  3. গ) Wages
  4. ঘ) Earn
ব্যাখ্যা
Wages = মজুরি
Salary = বেতন
Income = আয়
Earn = উপার্জন 

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
১০৪.
নিচের কোন শব্দে সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. অনটন
  2. পৃথকন্ন
  3. অদ্যাবধি
  4. বিপদুদ্ধার
ব্যাখ্যা
পৃথকন্ন - শব্দে সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি ঘটেছে। 
- 'পৃথকন্ন' শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - পৃথগন্ন
- শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ - পৃথক্ + অন্ন = পৃথগন্ন।

অন্যদিকে,
বিপদুদ্ধার,
অদ্যাবধি,
অনটন।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০৫.
পঙ্কে জন্মে যা -
  1. ক) পঙ্কজ
  2. খ) পাঙ্ক
  3. গ) পঙ্কিল
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'পঙ্কে জন্মে যা' এর এক কথায় প্রকাশ- 'পঙ্কজ'।
 
আরো কিছু এক কথায় প্রকাশ:  
- 'পান করার যোগ্য নয়' এর এক কথায় প্রকাশ- 'অপেয়'। 
- 'পুরাকালের বিষয় যিনি জানেন' এর এক কথায় প্রকাশ - 'পুরাতাত্ত্বিক'। 
- 'পড়ার উপযুক্ত' এর এক কথায় প্রকাশ-পঠিতব্য। 
- 'পাওয়ার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- ঈপ্সা,
- 'জয় করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- জিগীষা,
- 'ভোজন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- বুভুক্ষা, - 'লাভ করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- লিপ্সা,
- 'দেখবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- দিদৃক্ষা,
- 'প্রবেশ করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- বিবিক্ষা,
- 'বলার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- বিবক্ষা,
- 'মুক্তি লাভে/পেতে ইচ্ছুক এর এক কথায় প্রকাশ- মুমুক্ষা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০৬.
বাক্যে হাইফেন ( - ) এরপর কতক্ষণ থামতে হয়?
  1. ১ সেকেন্ড
  2. 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময়
  3. থামার প্রয়োজন নেই
  4. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
ব্যাখ্যা

যতিচিহ্নের বিরতি-কাল-পরিমাণ:
- দাঁড়ি চিহ্নের বিরামের কাল - ১ সেকেন্ড।
- কমা বা পাদচ্ছেদ এবং উদ্ধরণ চিহ্ন থাকলে - 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
- হাইফেন ( - ) বিরামের সময় - থাকার প্রয়োজন নেই।
- বিস্ময়চিহ্ন ( ! ) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- দাঁড়ি ( । ) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- কোলন ( : ) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- কোলন ড্যাশ ( :- ) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০৭.
'সবলকে সমীহ ও দুর্বলের প্রতি নির্মম' অর্থে কোন প্রবাদ-প্রবচনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা
  2. খ) যম-জামাই-ভাগনা তিন নয় আপনা
  3. গ) রাখে আল্লাহ্‌ মারে কে
  4. ঘ) মারে ঠাকুর না মারে কুকুর
ব্যাখ্যা
'সবলকে সমীহ ও দুর্বলের প্রতি নির্মম' অর্থে ব্যবহৃত প্রবাদ-প্রবচন = মারে ঠাকুর না মারে কুকুর। 

অন্যান্য প্রবাদ প্রবচন ও এর অর্থ- 
মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা = মর্মান্তিক আঘাতের উপর আঘাত। 
যম-জামাই-ভাগনা তিন নয় আপনা = রক্তসূত্রে আত্মীয় না হলে আপন হয় না। 
রাখে আল্লাহ্‌ মারে কে = বিধি প্রসন্ন হলে বিপদ এড়ানো যায়। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১০৮.
'চর্মকার' শব্দের তদ্ভবরূপ কোনটি?
  1. ক) চম্মআর
  2. খ) চামার
  3. গ) চর্মাকার
  4. ঘ) চর্মাআর
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের তদ্ভবরূপ হচ্ছে চামার
- এটি একটি বিবর্তিত সংস্কৃত শব্দ।
- প্রচলিত ব্যাকরণে এগুলোকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ।

• তদ্ভব শব্দ: 
- এটি একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ 'তৎ' অর্থাৎ 'তা থেকে উৎপন্ন'।
- যেমন: সংস্কৃত 'চন্দ্র' প্রাকৃতে হয়েছে 'চান্দ', আর বাংলায় হয়েছে 'চাঁদ'।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
১০৯.
'কুম্ভকার' কোন সমাস?
  1. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  2. উপপদ তৎপুরুষ
  3. ব্যধিকরণ বহুব্রীহি 
  4. অলুক দ্বন্দ্ব 
ব্যাখ্যা

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
উপপদ তৎপুরুষ সমাস: কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: অগ্রে গমন করে যে = অগ্রগামী। এখানে 'গামী'র স্বতন্ত্র প্রয়োগ নেই। অগ্রে গামী বললে চলবে না, ব্যাসবাক্য হবে 'অগ্রে গমন করে যে'। 

এরূপ- 
- ধামা ধরে যে = ধামাধরা; 
- ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা ইত্যাদি।

কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দের আগে উপসর্গ ছাড়া অন্য পদ থাকলে তাকে উপপদ বলে। অথবা, যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কোনো পদ বিশ্লেষণ করলে যদি প্রথমে একটি পদ, তারপর একটি ধাতু এবং শেষে একটি প্রত্যয় পাওয়া যায়, তাহলে প্রথম পদটিকে বলে উপপদ।
যেমন:
- কুম্ভকার- কুম্ভ +√কৃ+অ- এখানে 'কুম্ভ' উপপদ। কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার; উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

১১০.
‘Nebula’ এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. উল্কা
  2. কক্ষ
  3. ছায়াপথ
  4. নীহারিকা
ব্যাখ্যা
• ‘Nebula’ এর বাংলা পরিভাষা - নীহারিকা

অন্যদিকে, 
• ‘Meteor’ এর বাংলা পরিভাষা - উল্কা।
• ‘Orbit’ এর বাংলা পরিভাষা - কক্ষ।
• ‘Galaxy’ এর বাংলা পরিভাষা - ছায়াপথ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
১১১.
নিচের যে ভাষাগুচ্ছ একই পরিবারভুক্ত নয়-
  1. ক) বাংলা, ভোজপুরিয়া, মগহি
  2. খ) আসামি, তামিল, ওড়িয়া
  3. গ) হিন্দি, গুজরাটি, মারাঠি
  4. ঘ) পাঞ্জাবি, বাংলা, মারাঠি
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভাষাবংশের নাম ইন্দো -ইউরোপীয় ভাষাবংশ ।
'ইন্দো' মানে ইন্ডিয়া থেকে শুরু করে ইউরোপ পর্যন্ত অঞ্চলের অধিকাংশ ভাষা এই ভাষাবংশের অন্তর্গত ।
ইন্দো ইউরোপীয় ভাষাবংশ (৫০০০ খ্রিস্টপূর্ব) এর দুটি প্রধান শাখা ।
যথাঃ
কেতম ।
শতম ।
শতম ভাষা বিভিন্ন ভাবে ঘুরে এসে পোছায় গৌড় অপভ্রংশ(৪০০ - ৬০০ খ্রি.)যা থেকে পরে বাংলা ভাষা পাওয়া যায় ।
গৌড় অপভ্রংশ থেকে পাওয়া যায় তিনটি ভিন্ন ভাষা ।
বিহারি ।
প্রাচীন উড়িয়া ।
বঙ্গ-কামরূপি ।
আর বঙ্গ - কামরূপি ভাষা থেকে এসেছে বাংলা ও অসমিয়া ভাষা ।

সুতরাং বলা যায় আসামি, তামিল ও ওড়িয়া একই ভাষা গুচ্ছের নয় ।

উৎস: ব্যবহারিক ব্যকরণ (তারিক মনজুর, সহযোগী অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।)
১১২.
'বিভব' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বিদ্যুৎ
  2. সম্পদ
  3. দিবস
  4. তনু
ব্যাখ্যা

- 'বিভব' শব্দের সমার্থক শব্দ অর্থ, বিত্ত, সম্পদ, ধন ইত্যাদি।
- দিন শব্দের সমার্থক শব্দ দিবস।
- তনু শব্দের সমার্থক শব্দ শরীর।
- বিদ্যুৎ শব্দের সমার্থক শব্দ ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১১৩.
নতুন পোষাক পড়ে সালমান পোষ্ট অফিসে গেল। - বাক্যটির নিম্নরেখ পদে মূর্ধন্য 'ষ' এর ব্যবহার -
  1. দুটোই অশুদ্ধ
  2. দুটোই শুদ্ধ
  3. প্রথমটি অশুদ্ধ, দ্বিতীয়টি শুদ্ধ
  4. প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• নতুন পোষাক পড়ে সালমান পোষ্ট অফিসে গেল। - বাক্যটির নিম্নরেখ পদে মূর্ধন্য 'ষ' দুটোই অশুদ্ধ।

• আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না।
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- যেসব তৎসম শব্দে 'ষ' রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ষ'-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১১৪.
'ভাজা মাছ' কোন বিশেষণ?
  1. ক) রূপবাচক
  2. খ) অংশবাচক
  3. গ) অবস্থাবাচক
  4. ঘ) গুণবাচক
ব্যাখ্যা
বিশেষণের প্রকারভেদ
⇒ বিশেষণ পদকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- নাম বিশেষণ এবং
ভাব বিশেষণ

 ⇒ নাম বিশেষণকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- বিশেষ্যের বিশেষণ এবং
সর্বনামের বিশেষণ।

⇒ ভাব বিশেষণকে আবার চার ভাগে ভাগ করা যায়
যথা- ক্রিয়া বিশেষণ, বিশেষণের বিশেষণ, অব্যয়ের বিশেষণ এবং বাক্যের বিশেষণ।

নাম বিশেষণ : যে বিশেষণ পদ কোনাে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। যথা-
বিশেষ্যের বিশেষণ : সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালবাসে ?
সর্বনামের বিশেষণ : সে রূপবান ও গুণবান।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ: নাম বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
⇒ রূপবাচক : কালাে মেঘ, নীল আকাশ, সবুজ মাঠ।
⇒ গুণবাচক : দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া, চৌকস লোেক।
⇒ অবস্থাবাচক : মােটা মেয়ে, রােগা ছেলে, তাজা মাছ (অনুরূপভাবে, ভাজা মাছ) , খোঁড়া পা।
⇒ সংখ্যাবাচক : শ টাকা, হাজার লােক, দশ দশা।
⇒ ক্রমবাচক : পঞ্চাশ পৃষ্ঠা, অষ্টম শ্রেণি, প্রথমা কন্যা। |
⇒ পরিমাণবাচক : এক কেজি চিনি, তিন কিলােমিটার রাস্তা, বিঘাটেক জমি, দশ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ।
⇒ অংশবাচক : ষােল আনা দখল, সিকি পথ, অর্ধেক সম্পত্তি।
⇒ উপাদানবাচক : কাঠের জানালা, পাথরের মূর্তি, বেলে মাটি, মেটে কলসি।
⇒ প্রশ্নবাচক : কেমন অবস্থা? কতদূর পথ? 
 ⇒ নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক : এই মেয়ে, ষােলই ডিসেম্বর ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৫.
‘কোমল’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ঝাঁঝালো
  2. তেজি
  3. কর্কশ
  4. কর্কট
ব্যাখ্যা
• কোমল শব্দের অর্থ: নরম, ললিত, মধুর, মৃদু।
• কর্কশ শব্দের অর্থ: অমসৃণ, নীরশ, শ্রীহীন, কঠিন।

• সুতরাং ‘কোমল’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - কর্কশ।

এছাড়া,
• কর্কট বিশেষ্য পদ,
অর্থ:
- দেহে জীবকোষের নিয়ন্ত্রণহীন বৃদ্ধিজনিত দুরারোগ্য ব্যাধি,
- ক্যানসার। 

• ঝাঁঝালো বিশেষণ পদ,
অর্থ: প্রখর তেজযুক্ত, উগ্র গন্ধ বা স্বাদবিশিষ্ট।

এরূপ কয়েকটি বিপরীতার্থক শব্দ হলো:
• ‘উৎসাহ’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - নিরুৎসাহ।
• ‘শান্তি‘ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - উৎকণ্ঠা।
• ‘তেজি’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - নিস্তেজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১৬.
'মিলামিশা > মেলামেশা' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  2. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  3. চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি
  4. অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
- পাঁচধরনের স্বরসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়।
যেমন:
- প্রগত,
- পরাগত,
- মধ্যগত,
- অন্যোন্য,
- চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি।

চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
- গিলা > গেলা,
- মিলামিশা > মেলামেশা,
- মিঠা > মিঠে,
- ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।
- পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়।
 যেমন:
- মুড়া > মুড়ো,
- চুলা > চুলো ইত্যাদি।
বিশেষ নিয়মে:
- উড়ুনি > উড়নি,
- এখনি > এখুনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
১১৭.
ব্যঞ্জন ধ্বনির সংক্ষিপ্ত রূপকে বলা হয়-
  1. রেফ
  2. হসন্ত
  3. কার
  4. ফলা
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যঞ্জনধ্বনির সংক্ষিপ্ত রূপকে ফলা বলা হয়। 

• ফলা:
- যখন কোনো স্বরবর্ণ বা ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হতে গিয়ে ব্যঞ্জনবর্ণের মূল আকৃতি ছোট হয়ে যায়, তখন সেই সংক্ষিপ্ত রূপটিই ফলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণে মোট ছয় ধরনের ফলা রয়েছে :
- ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র-ফলা এবং ল-ফলা।
- ফলার ব্যবহার:
• ন/ণ-ফলা: কৃষ্ণ;
• ব-ফলা: বিশ্ব, সম্বল;
• ম-ফলা: আত্মা;
• য-ফলা: বিদ্যালয়;
• র-ফলা: প্রথম, শ্রেণি।

অন্যদিকে, 
• র-এর একটি বিশেষ অনুবর্ণ হলো রেফ, যা সাধারণত যুক্তব্যঞ্জনের শুরুতে ব্যবহৃত হয়, 
- যেমন বর্ণ, কর্ম ইত্যাদি।
• হসন্ত বাংলা লিপির একটি বিশেষ চিহ্ন ( ‌্ ),
- এটি ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত স্বরধ্বনি অপসারণ করে ব্যঞ্জনটির উচ্চারণকে সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়।
• বাংলা ব্যাকরণে ‘কার’ বলতে স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে বোঝানো হয়।
- এগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তার উচ্চারণে পরিবর্তন আনে। যেমন— আ-কার, ই-কার ইত্যাদি।
------------------------------
উল্লেখ্য, 
• ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপকে বলা হয় অনুবর্ণ। 
- অনুবর্ণ তিন ধরনের হয় : ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

• বর্ণসংক্ষেপ হলো সেই রূপ যা যুক্তবর্ণ গঠনের সুবিধার্থে বর্ণের আকার সংক্ষিপ্ত করে তৈরি হয়।
- বাংলা ভাষায় ভ, দ, ন, ম, ষ, স প্রভৃতি বর্ণ প্রায়ই এইভাবে সংক্ষেপিত রূপে ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া ৎ বর্ণটি ত-এর একটি সংক্ষিপ্ত রূপ হলেও বাংলা বর্ণমালায় এটি স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১১৮.
কোন শব্দটি প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) রাশি
  2. খ) রাজি
  3. গ) পুঞ্জ
  4. ঘ) যূথ
ব্যাখ্যা
পাল ও যূথ কেবল জন্তুর (প্রাণিবাচক) শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়। যেমন: গরুর পাল, হস্তিযূথ। রাশি, রাজি, পুঞ্জ - অপ্রাণিবাচক শব্দের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১১৯.
‘আমার কথা হয়তো মনে পড়ে থাকবে।’- বাক্যটিতে কোন কালের ক্রিয়া পরিলক্ষিত?
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল
  2. ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল
  3. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল
  4. ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়া ভবিষ্যতে সংঘটিত হবে তার কালকে ভবিষ্যৎ কাল বলে। ভবিষ্যৎ কালের চারটি রূপ রয়েছে। যথা:
১. সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল
২. ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল
৩. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল
৪. ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা

• পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল:
ভবিষ্যৎ কালে কোনো ক্রিয়া সংঘটিত হবে এবং শেষ হয়ে থাকবে, এরূপ বোঝালে তার কালকে পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমার কথা হয়তো মনে পড়ে থাকবে।
- মুহূর্ত গুলো হয়তো মনে পড়ে থাকবে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১২০.
‘কথাচ্ছলে’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. কথাঃ + ছলে
  2. কথা + ছলে
  3. কথা + চ্ছলে
  4. কথার + ছলে
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি,
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি,
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।

• স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়।
যথা-
• অ + ছ = চ্ছ; মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি।
• আ + ছ = চ্ছ; কথা + ছলে = কথাচ্ছলে।
• ই + ছ = চ্ছ; পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।

এরূপ - একচ্ছত্র, বিচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, অঙ্গচ্ছেদ, আলোকচ্ছটা, প্রতিচ্ছবি, প্রচ্ছদ, আচ্ছাদন, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২১.
“কানাকানি” কোন সমাস?
  1. ব্যতিহার বহুব্রীহি
  2. সমানাধিকার বহুব্রীহি
  3. পদলোপী কর্মধারয়
  4. অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
“কানাকানি” হচ্ছে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস।
- পারস্পরিক ক্রিয়ায় কোনো অবস্থা তৈরি হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়। 
- হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি,
- কানে কানে যে কথা = কানাকানি।

• অন্যান্য অপশন:
সমানাধিকার বহুব্রীহি

- পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকার বহুব্রীহি বলে।
• উদাহরণ
- এক গোঁ যার = একগুঁয়ে,
- লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে।

পদলোপী বহুব্রীহি
- যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে।
• উদাহরণ
- চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি,
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।

অলুক বহুব্রীহি
- যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
• উদাহরণ
- গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া,
- কানে খাটো যে = কানেখাটো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
১২২.
''বিশ্ববিখ্যাত সাহিত্যিকরা ঐন্দ্রজালিক শক্তিসম্পন্ন লেখনী দ্বারা অমরতার সঙ্গীত রচনা করেন।'' বাক্যটি __ বাক্য।
  1. ক) যৌগিক
  2. খ) জটিল
  3. গ) মিশ্র
  4. ঘ) সরল
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন-
বিশ্ববিখ্যাত সাহিত্যিকরা ঐন্দ্রজালিক শক্তিসম্পন্ন লেখনী দ্বারা অমরতার সঙ্গীত রচনা করেন।
মহারাজ শুদ্ধোদনের পুত্র শাক্যসিংহ যৌবনে সংসার ত্যাগ করেন।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৩.
‘Farce' শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. মহাকাব্য
  2. উপন্যাস
  3. প্রহসন
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• ‘Farce' শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - প্রহসন।

অন্যদিকে,
• ‘Novel' শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - উপন্যাস।
• ‘Epic' শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - মহাকাব্য।
• ‘Essay' শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - প্রবন্ধ।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
১২৪.
'বহিষ্কৃত' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বহিঃ + ইস্কৃত
  2. বহিঃ + কৃত
  3. বহিঃ + ষ্কৃত
  4. বহি + কৃত
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশু ধ্বনি (ষ) হয়।

যেমন:
- নমঃ + কার = নমস্কার,
- পদঃ + খলন = পদস্খলন,
- নিঃ + কর = নিষ্কর, 
- দুঃ + কর = দুষ্কর,
- বহিঃ + কৃত = বহিষ্কৃত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২৫.
‘নৌবাহিনী’ শব্দের সঠিক প্রকৃত প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) নৌ+√বাহ্+ইনী
  2. খ) √নৌ+বাহ্+ইন
  3. গ) নৌ+√বহ্+ইন্+ঈ
  4. ঘ) √নৌ+বহ্+ঈনী
ব্যাখ্যা
• নৌবাহিনী (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ ।
- প্রকৃত প্রত্যয় = [নৌ+√বহ্+ইন্+ঈ]
অর্থ: জলযুদ্ধে নিয়োজিত নৌসেনাবাহিনী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২৬.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. জনতা
  2. দর্শন
  3. সৎ
  4. সততা
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ পদ - সৎ
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- সত্য, উত্তম, শুভ, সাধু।

অন্যদিকে,
 বিশেষ্য পদ - সততা, দর্শন, জনতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২৭.
'গণ্ডগ্রাম' বাগধারাটির অর্থ-
  1. বড় গ্রাম
  2. আশায় নৈরাশ্য
  3. কাণ্ডজ্ঞানহীন  
  4. অনভিজ্ঞ
ব্যাখ্যা
• 'গণ্ডগ্রাম' বাগধারাটির অর্থ- 'বড় গ্রাম'।
বাক্য গঠন: রহিমদের বাড়ি উত্তরবঙ্গের এক গণ্ডগ্রামে। 

অন্যদিকে,
গুড়ে বালি বাগধারাটির অর্থ- আশায় নৈরাশ্য।
গোঁয়ার গোবিন্দ বাগধারাটির অর্থ:  কাণ্ডজ্ঞানহীন।
কেবলা হাকিম বাগধারাটির অর্থ: 'অনভিজ্ঞ'।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
 
১২৮.
'ভাগিনেয়' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ভগিনী + এয়
  2. ভগিনি + ঞয়
  3. ভগিনী + ইয়
  4. ভগিনি + এয়
ব্যাখ্যা
• এয় (ষ্ণেয়)- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
জাত বা উৎপন্ন এবং পরায়ণ অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
• ভগিনী + এয় = ভাগিনেয়,
• অগ্নি + এয় = আগ্নেয়,
• গঙ্গা + এয় = গাঙ্গেয়,
• রাধা + এয় = রাধেয়;
• অতিথি + এয় = আতিথেয় ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২৯.
শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন। - বাক্যে 'ছাত্র' শব্দটি কোন কর্তা?
  1. মুখ্য কর্তা
  2. প্রযোজক কর্তা
  3. প্রযোজ্য কর্তা
  4. ব্যতিহার কর্তা
ব্যাখ্যা
• শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন। - বাক্যে 'ছাত্র' শব্দটি প্রযোজ্য কর্তা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন -
→ খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
→ মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

• কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকারের হয়ে থাকে। যথা:
১. মুখ্য কর্তা, 
২. প্রযোজক কর্তা,
৩. প্রযোজ্য কর্তা,
৪. ব্যতিহার কর্তা।

প্রযোজক কর্তা:
মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
যেমন -
- শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন

প্রযোজ্য কর্তা:
মূল কর্তার করণীয় কার্য যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়।
যেমন -
- শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।
এ বাক্যে 'ছাত্র' প্রযোজ্য কর্তা।

তদ্রুপ - রাখাল (প্রযোজক) গরুকে (প্রযোজ্য কর্তা) ঘাস খাওয়ায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩০.
‘আত্মহত্যা’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. খ) তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. গ) চতুর্থী তৎপুরুষ
  4. ঘ) পঞ্চমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে দ্বিতীয় বিভক্তি (কে) লোপ পেয়ে যে তৎপরুষ হয় তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। 
যেমন:
রথদেখা = রথকে দেখা,
বীজবোন = বীজকে বোনা। 

দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ :
- শরনিক্ষেপ = শরকে নিক্ষেপ
- ভাতরাঁধা = ভাতকে রাঁধা
- ছেলে-ভুলানো = ছেলেকে ভুলানো ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৩১.
'টীকাভাষ্য' কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।

যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা;
- জন ও মানব = জনমানব;
- কাঁচা ও পাকা = কাঁচাপাকা;
- কীর্তি ও খ্যাতি = কীর্তি-খ্যাতি
- কুশ ও লব = কুশীলব;
- ক্রীড়া ও কৌতুক = ক্রীড়াকৌতুক; 
- ক্ষত ও বিক্ষত = ক্ষতবিক্ষত;
- টীকা ও ভাষ্য = টীকাভাষ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩২.
অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু সমাসকে কোন সমাসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) অব্যয়ীভাব
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাসকে অনেক ব্যাকরণবিদ কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আবার কেউ কেউ কর্মধারয়কেও তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করেন। এদিক থেকে সমাস মূলত চারটি: দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, অব্যয়ীভাব।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণী]
১৩৩.
'কাল সন্ধ্যায় আমরা টেলিভিশনে খেলা দেখছিলাম।' - কোন ধরনের অতীত কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. ঘটমান অতীত
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা

ঘটমান অতীত কাল:
- অতীতে কোনো কাজ চলছিল এবং তখনও কাজটি শেষ হয়নি; এরূপ অর্থে ঘটমান অতীত ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় আমরা টেলিভিশনে খেলা দেখছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১৩৪.
কোন সরল বাক্যে ক্রিয়াপদ উপস্থিত নয়?
  1. ক) যতদিন জীবিত থাকব, ততদিন এ ঋণ স্বীকার করব।
  2. খ) আমরা তিন ভাইবোন।
  3. গ) আজীবন এ ঋণ স্বীকার করব।
  4. ঘ) সে কাল আসবে এবং আমি যাব।
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

সরল বাক্য: একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন,
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে।
যেমন,
- আমরা তিন ভাইবোন।

বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়।
যেমন,
- তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে বাজারের দিকে গেলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৫.
পত্র শব্দটির আভিধানিক বা ব্যবহারিক অর্থ কী?
  1. ক) যোগাযোগ
  2. খ) বিনিময়
  3. গ) চিহ্ন বা স্মারক
  4. ঘ) সংযোগ
ব্যাখ্যা
পত্র শব্দটির আভিধানিক বা ব্যবহারিক অর্থ- 'চিহ্ন বা স্মারক' 

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
- পত্র (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ
- আভিধানিক অর্থ- চিহ্ন বা স্মারক, চিঠি, লিপি, দলিল ইত্যাদি।
- প্রকৃতি-প্রত্যয়=√পত+ত্র

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩৬.
"ভৌগলিক' এবং 'অধঃগতি" বানান লিখতে অনেকেই ভূল করে।" - এ বাক্যে কয়টি অশুদ্ধ বানান রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• "ভৌগলিক' এবং 'অধঃগতি' বানান লিখতে অনেকেই ভূল করে।" - এ বাক্যে ৩টি বানান অশুদ্ধ।

বিশ্লেষণ: 
ভৌগলিক: এটি অশুদ্ধ। সঠিক বানান হলো - ভৌগোলিক।
অধঃগতি: এটি অশুদ্ধ। সঠিক বানান হলো - অধোগতি।
ভূল: এটি অশুদ্ধ। সঠিক বানান হলো - ভুল।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩৭.
‘কবিগুরু’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. সমার্থক দ্বন্দ্ব
  2. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  3. অলুক বহুব্রীহি
  4. সপ্তমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
⇒ তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

⇒ ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির চিহ্ন (র, এর) লােপ পায় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- কবিদের গুরু = কবিগুরু।
- ধানের ক্ষেত = ধানক্ষেত।
- চায়ের বাগান = চাবাগান।
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র।
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।
- দেশের সেবা = দেশসেবা।
- দিল্লীর ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর।
- ছবির ঘর = ছবিঘর।
- বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা।
- মৃগীর শিশু = মৃগশিশু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩৮.
'তদবধি' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তদ্‌ + অবধি 
  2. তৎ + অবধি 
  3. তধ্ + অবধি 
  4. তদ্‌ + বধি 
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম (ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি):
ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্‌, জ্, ড্ (ড়), দ্‌, ব্‌ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত।
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।
- ষট্ + আনন = ষড়ানন।
- তৎ + অবধি = তদবধি।
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৩৯.
'দরদালান' শব্দের 'দর' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিপরীত অর্থে
  2. ভিন্ন অর্থে
  3. মধ্যস্থ অর্থে
  4. নিকট অর্থে
ব্যাখ্যা
• 'দরদালান' শব্দের 'দর' উপসর্গটি মধ্যস্থ অর্থে  ব্যবহৃত হয়েছে।   

উপসর্গ: 
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
যেমন: অভিযোগ= অভি+যোগ, বেতার= বে+তার ইত্যাদি। 
- উপসর্গের নিজের কোনো অর্থ নেই।
- কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে কিংবা অর্থের পরিবর্তনে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- সুতরাং বলা যায়, উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্ত অর্থ দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে।
-------------------
• কিছু ফারসি উপসর্গের ব্যবহার: 
কার - কাজ অর্থে - কারখানা, কারসাজি, কারচুপি, কারবার, কারদানি।
দর - মধ্যস্থ, অধীন অর্থে - দরপত্তনি, দরপাট্টা, দরদালান। 
না - না অর্থে - নাচার, নারাজ, নাখোশ। 
নিম - আধা অর্থে - নিমরাজি।
ফি - প্রতি অর্থে - ফি-রোজ, ফি-বছর। 
বদ - মন্দ অর্থে - বদমেজাজ, বদহজম, বদনাম।
বে - না অর্থে - বেতার, বেকার, বেআদব।
বর - বাইরে, মধ্যে অর্থে - বরখাস্ত, বরখেলাপ। 
ব - সহিত অর্থে - বকলম। 
কম - স্বল্প অর্থে -কমজোর, কমবখত।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪০.
বাক্যে স্বাধীন পদ রূপে ব্যবহৃত হয় -
  1. অনুসর্গ
  2. উপসর্গ
  3. প্রত্যয়
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
→ বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
→ সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
→ দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪১.
'ধ্বনি দিয়ে আট বাঁধা শব্দই ভাষার ইট' -- এ ''ইট'' কে বাংলা ভাষায় কি বলে?
  1. ক) কথা
  2. খ) ব্যাকরন
  3. গ) বর্ণ
  4. ঘ) বাক্য
ব্যাখ্যা
ভাষার মূল উপাদান হলাে ধ্বনি। এক-এক রকম ধ্বনিসমষ্টি নিয়ে এক-একটি ভাষা এবং নানা দেশের নানা ধ্বনিমূলের সমষ্টি নানান ভাষা।
যেমন—বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মান, রাশিয়া ইত্যাদি নানা দেশে নানান ভাষা প্রচলিত।
বাংলা ভাষায় সাধারণত তিন শ্রেণির ধ্বনির উপস্থিতি লক্ষ করা যায় : স্বরধ্বনি, অর্ধ-স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, "কোনাে ভাষার উচ্চারিত শব্দকে (word-কে) বিশ্লেষণ করিলে, আমরা কতকগুলি ধ্বনি (sound) পাই।"
ড. হুমায়ুন আজাদ বলেছেন, "প্রতিটি মানব-ভাষায় থাকে একগুচ্ছ ধ্বনি, সাধারণত বারােটির বেশি ও ষাটটির কম। কোনাে ভাষায়ই নেই অসংখ্য বা বিপুল সংখ্যক ধ্বনি। ওই মুষ্টিমেয় ধ্বনির বিভিন্ন বিন্যাসে গড়ে ওঠে ভাষার বিপুল পরিমাণ শব্দ। প্রতিটি ভাষার নিজস্ব ধ্বনিরাশির প্রত্যেকটির যেমন থাকে তাৎপর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য, তেমনি ওই ধ্বনিরাশি পরস্পরের সঙ্গে সহাবস্থান করে সুশৃঙ্খল ধ্বনিতাত্ত্বিক নিয়মকানুন মেনে। অর্থাৎ প্রত্যেক ভাষার রয়েছে ধ্বনিশৃঙ্খলা বা ধ্বনিসংগঠন।"

কোঠাবাড়ির প্রধান মসলা ইট, তার পরে চুন সুরকির নানা বাঁধন।
ধ্বনি দিয়ে আঁট বাঁধা শব্দই ভাষার ইট, বাংলায় তাকে বলি "কথা"।
নানারকম শব্দচিহ্নের গ্রন্থি দিয়ে কথাগুলােকে গেঁথে গেঁথে হয় ভাষা।

মাটির তাল নিয়ে চাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কুমাের গড়ে তােলে হাঁড়ি কুঁড়ি, নানা খেলনা, নানা মূর্তি। মানুষ সেই রকম গলার আওয়াজটাকে ঠোঁটে, দাঁতে, জিভে টাকরায়, নাকের ছিদ্রে ঘুরিয়ে ধ্বনির পুঞ্জ গড়ে তুলেছে। মানুষের মনের ঝোঁক হৃদয়ের আবেগ সেই গুলােকে ঠেলা দিয়ে দিয়ে নানা আকার দিচ্ছে। এভাবেই নানা ধ্বনির সমন্বয়ে কথার সৃষ্টি।
দোয়েল কোকিলরাও ধ্বনি দিয়ে ভাব প্রকাশ করে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা।

১৪২.
‘সত্যের সহিত মিথ্যার দ্বন্দ্ব রহিয়াছে। এই দ্বন্দ্বে পরিশেষে সত্যই বিজয়ী হয়’। এই উক্তিটি কোন রীতিতে লিখিত?
  1. ক) চলিত রীতে
  2. খ) সাধু রীতি
  3. গ) মিশ্র রীতি
  4. ঘ) বিদেশি রীতি
ব্যাখ্যা
• সাধু রীতি: 
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।
ঙ) সাধু রীতির বহু সর্বনামে 'হ'-বর্ণ যুক্ত থাকে, যেমন- তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ ইত্যাদি।

• চলিত রীতি: 
(ক) চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে।
(খ) এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
(গ) চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী ।
(ঘ) সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।
-----------------------
• সাধু ও চলিত রীতির কিছু উদাহরণ-
সাধু ------------ চলিত।
দেন নি -------- দেননি।
পার হইয়া ----- পেরিয়ে।
পড়িল ---------- পড়ল/পড়লো।
করিয়া ----------- করে।
পূর্বেই------------- আগেই। ইত্যাদি।
--------------------------------- 
• ‘সত্যের সহিত মিথ্যার দ্বন্দ্ব রহিয়াছে। এই দ্বন্দ্বে পরিশেষে সত্যই বিজয়ী হয়’। 
এই বাক্যে সহিত, রহিয়াছে, এই শব্দগুলো সাধুরীতিতে লেখা আছে।
তাই বলতে পারি, বাক্যটি সাধুরীতিতে রচিত। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১৪৩.
ধ্বনি উৎপাদনের মূল উৎস কোনটি?
  1. ফুসফুস
  2. কণ্ঠনালী
  3. নাসিকা
  4. মুখ
ব্যাখ্যা
ধ্বনি:
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একক ধ্বনি। কোনো ভাষার উচ্চারিত শব্দকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে তার যে অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম অংশ পাওয়া যায়, তা-ই ধ্বনি। মানুষের বাগ্‌যন্ত্রের সহায়তায় উচ্চারিত ধ্বনি থেকেই ভাষার সৃষ্টি।
- ধ্বনি নির্গত হয় মুখ দিয়ে। ধ্বনি উৎপাদনে মুখ, নাসিকা, কণ্ঠ প্রভৃতি বাক্-প্রত্যঙ্গ ব্যবহৃত হলেও ধ্বনি উৎপাদনের মূল উৎস হলো ফুসফুস। ফুসফুসের সাহায্যে আমরা শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করি। ফুসফুস থেকে বাতাস বেরিয়ে আসার সময় বিভিন্ন বাক্-প্রত্যঙ্গের সংস্পর্শে আসে।
- ফুসফুস থেকে বাতাস স্বরযন্ত্রের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় মুখের বিভিন্ন জায়গায় ঘষা খায়। এই ঘর্ষণের ফলে মুখে নানা ধরনের ধ্বনির সৃষ্টি হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৪৪.
নিচের কোনটি বিদেশি অব্যয় শব্দ?
  1. যথা
  2. খুব
  3. আর
  4. আবার
ব্যাখ্যা

অব্যয় পদ:
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বদ্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
- বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে- বাংলা অব্যয় শব্দ, তৎসম অব্যয় শব্দ এবং বিদেশি অব্যয় শব্দ।

১. বাংলা অব্যয় শব্দ: আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।

২. তৎসম অব্যয় শব্দ: যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি। 'এবং' ও 'সুতরাং' তৎসম শব্দ হলেও বাংলায় এগুলোর অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে। সংস্কৃতে 'এবং' শব্দের অর্থ এমন, আর 'সুতরাং' অর্থ অত্যন্ত, অবশ্য। কিন্তু এবং = ও (বাংলা), সুতরাং = অতএব (বাংলা)।

৩. বিদেশি অব্যয় শব্দ: আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৪৫.
বাংলা ব্যাকরণে কোন অংশে সমাস আলোচিত হয়?
  1. ক) অর্থতত্ত্ব
  2. খ) বাক্যতত্ত্ব
  3. গ) শব্দতত্ত্ব
  4. ঘ) ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণে রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব অংশে সমাস আলোচিত হয়।
- ব্যাকরণে শব্দ বা পদের আলোচনাকে বলে রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব।
- শব্দ গঠনে তিনটি প্রক্রিয়া সংযোজন, বিয়োজন ও অর্থ পরিবর্তন।
- এ তিনটির মধ্যে সমাস হলো সংযোজন প্রক্রিয়ার অন্তর্গত।
- সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপণ, মিলন ও একাধিক পদের একপদীকরণ।
- বাংলা ব্যাকরণে রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব অংশে যেগুলো আলোচিত হয় : 
- সমাস
- কারক
- বচন
- পুরুষ
- লিঙ্গ
- পদপরিচয়
- উপসর্গ
- প্রত্যয়
- শব্দগঠন। 

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম) : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৬.
মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ কোনটি?
  1. আবলি
  2. দাম
  3. রাজি
  4. মণ্ডলী
ব্যাখ্যা
উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
• গণ: দেবগণ, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
• বৃন্দ: সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী: শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
• বর্গ: পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:
আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি। যেমন -গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৪৭.
'চ, ছ, জ' কোন ধরনের ব্যঞ্জন?
  1. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
  2. তালব্য ব্যঞ্জন
  3. দন্ত্য ব্যঞ্জন
  4. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভে ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১৪৮.
'শিক্ষক' শব্দকে বহুবচন করার সময় কোন লগ্নকটি যুক্ত করা হয়?
  1. ক) গণ
  2. খ) বর্গ
  3. গ) বৃন্দ
  4. ঘ) মণ্ডলী
ব্যাখ্যা
বচন: 
- 'মানী' পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘গণ', ‘বৃন্দ', ‘মণ্ডলী', ‘বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়। 
যেমন – 
• গণ– সদস্যগণ, সচিবগণ। 
• বৃন্দ– দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ। 
• মণ্ডলী– সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী। 
• বর্গ– পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ। 

- অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে। 
যেমন - 
• বাজারে লোক কম। 
• মৌমাছি মৌচাক বানায়। 
• সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪৯.
'পায়াভারি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. অলস
  2. অহংকার
  3. অভিজ্ঞ
  4. দালালী
ব্যাখ্যা
• 'পায়াভারি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অহংকার।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- পটল তোলা - মারা যাওয়া। 
- ধর্মের ষাঁড় - স্বেচ্ছাচারী ব্যক্তি/অপদার্থ/অকর্মণ্য। 
- নাড়াবুনে - মূর্খ। 
- নিমরাজি - আংশিক স্বীকার করা। 
- ন মাসে ছ মাসে - কালে-ভদ্রে। 
- নদের চাঁদ - সুন্দর ব্যক্তি অথচ অপদার্থ। 
- ননীর পুতুল - শ্রমবিমুখ। 
- ন কড়া ছ কড়া - হেলাফেলা। 
- ধামাধরা - চাটুকারিতা/তোষামোদকারী। 
- ধর্মের ষাঁড় - স্বেচ্ছাচারী ব্যক্তি/অপদার্থ/অকর্মণ্য। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫০.
‘নন্দিত-নিন্দিত’ কীসের উদাহরণ?
  1. প্রতিশব্দ
  2. বিপরীত শব্দ
  3. সমার্থক শব্দ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- ‘নন্দিত নিন্দিত’ বিপরীতার্থক শব্দের উদাহরণ।
- 'নন্দিত' এর বিপরীতার্থক শব্দ = নিন্দিত।

কিছু বিপরীতার্থক শব্দযুগল সমূহ- 
- হলাহল-সুধা/ অমৃত।
- হর্ষ/হরিষ - বিষাদ।
- প্রসন্ন - বিষণ্ণ।
- সন্নিকৃষ্ট - বিপ্রকৃষ্ট। 
- সন্ধি - বিগ্রহ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫১.
‘ইরা’ শব্দের অর্থ কোনটি?
  1. ক) হাতি
  2. খ) জল
  3. গ) সখা
  4. ঘ) ইচ্ছা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• ইরা (সংস্কৃত শব্দ)
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = [√ই+র+আ (টাপ্)]
অর্থ: পৃথিবী, বাণী, জল, পানি, অন্ন. সুরা।
১৫২.
​'কড় কড়' কোন অব্যয়?​
  1. অনুকার
  2. অনুসর্গ
  3. অনস্বয়ী
  4. সমুচ্চয়ী
ব্যাখ্যা
অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয় সেগুলোকে অনুকার অব্যয় বলে।

যথা:
বজ্রের ধ্বনি: কড় কড়,
বৃষ্টির তুমুল শব্দ: ঝম ঝম,
শুষ্ক পাতার শব্দ: মর মর,
বাতাসের গতি: শন শন,
কোকিলের রব: কুহু কুহু,
বৃষ্টি পড়ার শব্দ: টাপুর টুপুর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫৩.
'এরা অন্য জাতের মানুষ।' - এ বাক্যের প্রশ্নবাচক রূপ কোনটি?
  1. ক) এরা কোন জাতের মানুষ?
  2. খ) আপনি কি জানেন, এরা কোন জাতের মানুষ?
  3. গ) এরা ভিন্ন গ্রহের মানুষ?
  4. ঘ) এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?
ব্যাখ্যা
'এরা অন্য জাতের মানুষ।' - বাক্যের প্রশ্নবাচক রূপ-
'এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?'

অস্তিবাচক বাক্যকে প্রশ্নবাচক বাক্যে রূপান্তরের সূত্র :
১. মৌলিক বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে বাক্য পরিবর্তন করতে হয় ।
২. কর্তার পরে প্রশ্নবাচক অব্যয় ব্যবহার করতে হয়।
৩. ক্রিয়ার পরে নঞর্থক অব্যয় ব্যবহার করতে হয়।
৪. বাক্য শেষে প্রশ্নবােধক জিজ্ঞাসা চিহ্ন (?) ব্যবহার করতে হয়
যেমন: অস্তিবাচক : ফুলকে সকলেই ভালােবাসে।
প্রশ্নবাচক : ফুলকে কি সকলেই ভালােবাসে না?
অস্তিবাচক ; শৈশবে তার বাবা মারা যান।
প্রশ্নবাচক : শৈশবে কি তার বাবা মারা যাননি?
অস্তিবাচক : বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
প্রশ্নবাচক : বাংলাদেশ কি একটি উন্নয়নশীল দেশ নয়?

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৪.
ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. অধ্যাপিকা
  2. গীতিকা
  3. বালিকা
  4. নায়িকা
ব্যাখ্যা

• 'গীতিকা' - ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ।

​অন্যদিকে,
​বালিকা, নায়িকা, অধ্যাপিকা- ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক নয়।

• ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ। 
- নাটক - নাটিকা;
- মালা - মালিকা;
- গীত - গীতিকা;
- পুস্তক - পুস্তিকা।
(এগুলো স্ত্রী প্রত্যয় নয়, ক্ষুদ্রার্থক প্রত্যয়।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫৫.
কোন কারকের ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. কর্তা কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘র’, -এর’, -য়ের’, ‘কার’, ‘কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
- আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
- তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতাে মাইলের পর মাইল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫৬.
‘রাত্রির মধ্যভাগ’ এক কথায় কী বলে?
  1. পররাত্র
  2. ত্রিযামা
  3. মহানিশা
  4. সৌপ্তিক
ব্যাখ্যা
• ‘রাত্রির মধ্যভাগ’ এক কথায় বলে - মহানিশা।

এরূপ গুরুত্বপূর্ণ কিছু এক কথায় প্রকাশ হলো:
• রাত্রির পূর্বভাগ - পূর্বরাত্র।
• রাত্রির শেষভাগ - পররাত্র।
• রাত্রির তিনভাগ একসাথে - ত্রিযামা।
• রাত্রিকালীন যুদ্ধ - সৌপ্তিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫৭.
'গরমিল' কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• গরমিল = মিলের অভাব - অব্যয়ীভাব সমাস।

• অব্যয়ীভাব সমাস:

- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- জানু পর্যন্ত লম্বিত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় 'আ') = আজানুলম্বিত (বাহু),
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৫৮.
'শ্যামল' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. উজ্জ্বল
  2. সরস
  3. গৌরাঙ্গ
  4. সুশ্রী
ব্যাখ্যা

• 'শ্যামল' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ- গৌরাঙ্গ।

অন্যদিকে,
--------------
মলিন - উজ্জ্বল।
সুশ্রী - কুশ্রী/বিশ্রী।
সরস - নীরস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫৯.
নিচের কোনটি চলিত ভাষার শব্দ?
  1. তথাপি
  2. নইলে
  3. অদ্যাপি
  4. নতুবা
ব্যাখ্যা

• চলিত ভাষার শব্দ- নইলে। 

• সাধু ও চলিত রীতির কিছু শব্দের পার্থক্য নিচে দেখানো হলো-
সাধু - চলিত:
অদ্য - আজ,
অদ্যাপি - আজও,
কদাচ - কখনো,
তথাপি - তবুও,
নচেৎ - নইলে,
নতুবা - নইলে,
যদ্যপি - যদিও। 

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৬০.
"গদাইলশকরি চাল" বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. তুমুল কাণ্ড
  2. পরিপাটি
  3. অতি ধীর গতি
  4. অন্ধ অনুকরণ
ব্যাখ্যা
• 'গদাইলশকরি চাল' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - আলসেমি  / অতি ধীর গতি।

অন্যদিকে,
- ‘খণ্ড প্রলয়’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - তুমুল কাণ্ড।
- ‘কেতাদুরস্ত’ বাগধারাটির অর্থ - পরিপাটি।
- 'গড্ডলিকা প্রবাহ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অন্ধ অনুকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) , বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬১.
'অসি' শব্দের অর্থ কী?
  1. ঝড়
  2. তলোয়ার
  3. ঢেউ
  4. যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• 'অসি' শব্দের অর্থ - তলোয়ার, তরবারি, কৃপাণ, অস্ত্রবল।

অন্যদিকে,
'ঢেউ' শব্দের অর্থ - ঊর্মি, তরঙ্গ, লহর, লহরী।
'যুদ্ধ' শব্দের অর্থ - আহব, রণ, সমর।
'ঝড়' শব্দের অর্থ - ঝটিকা, প্রভঞ্জন, ঝঞ্ঝা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৬২.
উচ্চারণস্থান অনুসারে ওষ্ঠ্য ধ্বনি কোনটি?
ব্যাখ্যা
• ওষ্ঠ্য ধ্বনি:
যে ধ্বনির উচ্চারণে দুটি ঠোঁট পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বাতাসের নির্গম-পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে ওষ্ঠ্য (bilabials) ধ্বনি বলা হয়। প্, ফ্, ব্‌ , ভ্‌ , ম্ হলো ওষ্ঠ্য ধ্বনি।

যেমন:
- তাপ,
- লাফ,
- ডাব,
- সভা,
- নাম।

অন্যদিকে, 
• দন্তমূলীয় ধ্বনি:
জিভের ডগা ওপরের পাটি দাঁতের মূলকে স্পর্শ করে বাতাসের নির্গম-পথে বাধা সৃষ্টি করলে দন্তমূলীয় (alveolar) ধ্বনিগুলো উচ্চারিত হয়।

- ন, র, ল দন্তমূলীয় ধ্বনি।
যেমন: মান, বার, লাল। দন্ত্য-ন ধ্বনি উচ্চারণে কোনোক্রমেই দাঁতের স্পর্শ নেই। 'কান' শব্দ উচ্চারণ করলেই তা বুঝতে পারি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬৩.
'গজনীরাজ' কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• 'গজনীরাজ' = গজনীর রাজা- ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। 

• তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ পায় তাকে বলা হয় ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- চায়ের বাগান = চাবাগান;
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র;
-খেয়ার ঘাট খেয়াঘাট;
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ;
- দেশের সেবা = দেশসেবা;
- দিল্লীর ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর;
- পাটের ক্ষেত = পাটক্ষেত;
- ছবির ঘর = ছবিঘর;
- বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা;
- মৃগীর শিশু = মৃগশিশু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৬৪.
ধাতু কয় প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
- বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে। এসকল ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
- ধাতু ৩ প্রকার।

যথা:
১. মৌলিক ধাতু
২. সাধিত ধাতু ও
৩. যৌগিক সংযোগমূলক ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬৫.
”সনদ” শব্দটি কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. উর্দু
  4. তুর্কি
ব্যাখ্যা

• সনদ (আরবি ভাষার শব্দ), 
- শব্দটি বিশেষ্য পদ। 
অর্থ:
- দলিল, প্রমাণপত্র। 
- কোন পাঠক্রম সমাপানান্তে প্রদত্ত উপাধিপত্র। 

আরবি ভাষার আরো কিছু শব্দ হলো:
এলাকা, এলাহি, কয়েদ, কসাই, কসরত, খারাবি, খারাপ, খারিজ, খাসমহল, খাসলত, তুফান, তকদির, ময়না, মুমিন, মুনিব, মুনশি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৬৬.
উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি? 
  1. সংবাদ
  2. বুদ্ধিমান
  3. পরিপূর্ণ
  4. দুরতিক্রম্য
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত মান্ (মৎ, মতুপ) প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ- বুদ্ধি + মান্ = বুদ্ধিমান।
• সংবাদ, পরিপূর্ণ ও দুরতিক্রম্য শব্দগুলো সম, পরি, দুর তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিতশব্দ। 

-----------------
• তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।

তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬৭.
কোনটি সমার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. দুধেভাতে
  2. কোলেপিঠে
  3. ধূতিচাদর
  4. মাতাপিতা
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেক সমস্যমান পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে দ্বন্দ্ব সমাস:
যেমন:
• দয়া ও মায়া = দয়া-মায়া;
• কাপড় ও চোপড় = কাপড়-চোপড়;
• পোকা ও মাকড় = পোকা-মাকড়;
• ধূতি ও চাদর = ধূতি-চাদর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অলুক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি লুপ্ত না হয়ে সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে তাকে অলুক হন্দু বলে।
যেমন:
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে;
- দুধে ও ভাতে = দুধেভাতে ইত্যাদি।

• সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সম্মন্ধ বোঝায় তাকে সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- দম্ (জায়া) ও পতি = দম্পতি,
- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬৮.
নাসিক্য ব্যঞ্জন টি চিহ্নিত করুন।
  1. ক) স
  2. খ) ম
  3. গ) হ
  4. ঘ) শ
ব্যাখ্যা

নাসিক্য ব্যঞ্জনঃ
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে। মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ও ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

উষ্ম ব্যঞ্জনঃ
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাকপ্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে,
সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে। সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।


উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

১৬৯.
নিচের কোনটি অর্ধ-তৎসম শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) গতর
  2. খ) কৃষ্ণ
  3. গ) কানু
  4. ঘ) ঘরনি
ব্যাখ্যা
• 'গতর' শব্দটি অর্ধ-তৎসম শব্দ।

• তৎসম শব্দ: যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে হুবহু বাংলা ভাষায় এসেছে তাদের তৎসম শব্দ বলে। যেমন- গাত্র, গৃহিনী, কৃষ্ণ, চন্দ্র।

• অর্ধ-তৎসম শব্দ: যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে অনেকটা পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় এসেছে তাদের অর্ধ-তৎসম শব্দ
বলে। যেমন- গতর, কেষ্ট, গিন্নি, চন্দ।

• তদ্ভবশব্দ: যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় এসেছে তাদের তদ্ভব শব্দ বলে। যেমন- গা, কানু, ঘরনি, চাঁদ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৭০.
এক কথায় প্রকাশ করুন: 'জয়ের জন্য উৎসব'-
  1. বিজয়জয়ন্তী
  2. জয়ন্তী
  3. জয়ান্তী
  4. বিজয় উৎসব
ব্যাখ্যা

• 'জয়ের জন্য যে উৎসব' এক কথায় প্রকাশ - জয়ন্তী।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ:
- একাদিক্রমে পঁচিশ বছর পূর্তিতে যে উৎসব - রজত জয়ন্তী। 
- পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে যে উৎসব - সুবর্ণ জয়ন্তী। 
- ষাট বছর পূর্তিতে যে উৎসব - হীরক জয়ন্তী। 
- পঁচাত্তর বছর পূর্তিতে যে উৎসব হয় - প্লাটিনাম জয়ন্তী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৭১.
নিচের কোনটি নঞ্ তৎপুরুষ সমাস নয়?
  1. ক) অলৌকিক
  2. খ) অবিশ্বাস
  3. গ) অজ্ঞান
  4. ঘ) অকাল
ব্যাখ্যা
ন লৌকিক = অলৌকিক, নয় বিশ্বাস =অবিশ্বাস, ন কাল = অকাল, (নঞ্ তৎপুরুষ সমাস) নেই জ্ঞান যার =অজ্ঞান( নঞ বহুব্রীহি সমাস)। রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
১৭২.
নিচের কোনটি জাতি-বিশেষ্য?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. হাবিব
  3. ছাগল
  4. বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।

যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য - বাংলাদেশ, হাবিব, গীতাঞ্জলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৭৩.
বার্মিজ শব্দ কোনগুলো?
  1. ক) চা, চিনি
  2. খ) চাকর, দারোগা
  3. গ) রিক্সা, হারিকিরি
  4. ঘ) ফুঙ্গি, লুঙ্গি
ব্যাখ্যা
লুঙ্গি, ফুঙ্গি বার্মিজ (মায়ানমার) শব্দ।
চা, চিনি– চিনা শব্দ।
চাকর, দারোগা– তুর্কি শব্দ।
রিক্সা, হারিকিরি–জাপানি শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী
১৭৪.
যে সব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে সেগুলোকে কী বলে?
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) বচন
  3. গ) বলক
  4. ঘ) নির্দেশক
ব্যাখ্যা
পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।
লগ্নক চার ধরনের

বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যে সব শব্দাংশ যুক্ত থাকতে সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
বিভক্তি দুই প্রকার। ক্রিয়া বিভক্তি ও কারক বিভক্তি

নির্দেশক:
যে সব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' না 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন:
যে শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বুঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
'তখনই' বা 'এখনই' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ

প্রত্যয় :
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১]
 
১৭৫.
‘ন্ধ' শব্দের যুক্তাক্ষরটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে?
  1. ন্‌ + থ
  2. ন্‌ + ব
  3. ন্ + ধ
  4. ন্‌ + ক
ব্যাখ্যা
• ‘ন্ধ' শব্দের যুক্তাক্ষরটি "ন্ + ধ" বর্ণের সমন্বয়ে। 

শব্দ গঠন:
- বন্ধন,
- বন্ধ,
- অন্ধকার,
- প্রবন্ধ।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- ঙ্ + গ = ঙ্গ,
- ন্ + ধ = ন্ধ,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ঋ = হৃ,
- হ্ + ন = হ্ন,
- হ্ + ম = হ্ম,
- ণ্ + ড = ণ্ড ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৭৬.
'মুরগ > মুরোগ > মোরগ' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রুতি 
  2. বিপ্রকর্ষ 
  3. আদি স্বরাগম 
  4. সম্প্রকর্ষ 
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
• অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ; বস্তি > বসতি ইত্যাদি।
• ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
• উ- মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার > শুকুরবার ইত্যাদি।
• এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক> পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
• ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি

অন্যদিকে, 
• অভিশ্রুতি:
অপিনিহিতির প্রভাবজাত ই কিংবা উ-ধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে মিলে শব্দের পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে। বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষায় যেমন অপিনিহিতির প্রাচুর্য, পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক কথ্যভাষা ও মান্যচলিত ভাষায় তেমনি অনেক অভিশ্রুতি শব্দ লক্ষ করা যায়।
যেমন: মানিয়া > মাইন্যা > মেনে। 

• আদি স্বরাগম:
ধ্বনি পরিবর্তনের ফলে মূল শব্দের আদিতে স্বরধ্বনির আগমন ঘটাকে আদি স্বরাগম বলে।
যেমন- স্কুল > ইস্কুল, স্ত্রী > ইস্ত্রী। 

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন- বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৭৭.
'মুচলেকা' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. তুর্কি
  4. পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'মুচলেকা' তুর্কি ভাষা হতে আগত শব্দ।

• কিছু তুর্কি শব্দ:

- চাকু, চাকর, কুলি, বাবুর্চি, কোর্মা, খাতুন, বেগম, লাশ, উজবুক, কাঁচি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৭৮.
‘অনুরোধ করা’ অর্থে ধরা’র রীতিসিদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোথায়?
  1. ক) ম্যাও ধরা
  2. খ) হাতে-পায়ে ধরা
  3. গ) গলা ধরা
  4. ঘ) গোঁ ধরা
ব্যাখ্যা

ম্যাও ধরা  - দায়িত্ব নেওয়া
হাতে-পায়ে ধরা - অনুরোধ করা
গলা ধরা - কণ্ঠ রুদ্ধ হওয়া
গোঁ ধরা - একগুয়েমি করা

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭৯.
প্রেম শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) প্রিয় + অ
  2. খ) প্রিয় + মন
  3. গ) প্রিয় + ইমন
  4. ঘ) প্রে + ইমন
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে ইমা থাকলে ইমন হবে। 

প্রদত্ত শব্দ - প্রকৃতি ও প্রত্যয়
মহিমা = মহৎ + ইমন    
নীলিমা = নীল + ইমন
লঘিমা = লঘু + ইমন
রক্তিমা = রক্ত + ইমন
দ্রাঘিমা = দীর্ঘ + ইমন
গরিমা = গুরু + ইমন
লালিমা = লাল + ইমন        
ব্যতিক্রম : প্রেম = প্রিয় + ইমন

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
১৮০.
পূর্বধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে, তাকে কী বলে?
  1. অপিনিহিতি
  2. অন্যোন্য সমীভবন
  3. পরাগত সমীভবন
  4. প্রগত সমীভবন
ব্যাখ্যা
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।

যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক।

অন্যদিকে,
পরাগত সমীভবন:
- পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন কে পরাগত সমীভবন বলে।

যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত >তদ্ধিত।

অন্যোন্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অনন্যান্য সমীভবন।

যেমন:
- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ।
- সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

অপিনিহিতি:
- পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৮১.
'আ' কখনো অ্যা এর মতো উচ্চারিত হয়, যেমন-
  1. ক) কাতুকুতু
  2. খ) জ্ঞান
  3. গ) একা
  4. ঘ) রাত
ব্যাখ্যা
- [আ] জ্ঞ এর সঙ্গে থাকলে অ্যা এর মতো উচ্চারিত হয়।
যেমন: জ্ঞান [গ্যাঁন], জ্ঞাত [গ্যাঁতো], জ্ঞাপন [গ্যাঁপন্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি। (সংস্করণ-২০২১)
১৮২.
বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) পরিবর্তন
  2. খ) উপদেশ
  3. গ) কদাকার
  4. ঘ) অতিপ্রাকৃত
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ ৩ প্রকার। যথাঃ
- বাংলা উপসর্গ,
- তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশী উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১টি। যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
• তৎসম উপসর্গ ২০টি। যথাঃ প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• 'কদাকার' শব্দের 'কদ্‌' উপসর্গটি বাংলা উপসর্গ। 
বাকিগুলো তৎসম উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮৩.
‘মধুর’ এ পদের বিশেষণ রূপটি হল-
  1. মাধুরী
  2. মধুরতা
  3. মধুময়
  4. মধুতা
ব্যাখ্যা
• 'মধুময়'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
এর অর্থ:
- মধুপূর্ণ,
- মধুমাখা।

অন্যদিকে,
- 'মাধুরী' বিশেষ্য পদ।
- 'মধুরতা' বিশেষ্য পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৮৪.
খাঁটি বাংলা উপসর্গ কোনটি?
  1. উপ
  2. সম
  3. অনা
  4. আম
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।

১৮৫.
'অন্যমনা' শব্দে কয়টি অক্ষর রয়েছে?
  1. দুইটি
  2. তিনটি 
  3. চারটি
  4. পাঁচটি 
ব্যাখ্যা

• 'অন্যমনা' শব্দের উচ্চারণ হলো: ওন্‌নোমোনা।
- উচ্চারণে অক্ষর বিভাজন:
- অন্যমনা শব্দটিকে অক্ষর হিসেবে ভাগ করলে চারটি অক্ষর হয়। যথা: অ + ন্য + ম + না = ৪ অক্ষর।

---------------------
• অক্ষর:

এর ইংরেজি নাম syllable. অল্প প্রয়াসে যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ একবারে উচ্চারিত হয় তাকে অক্ষর বলে। তাই একে শব্দাংশ ও বলা হয়।
অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা-
- মুক্তাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- ক/লা)
- বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- দিন, রাত)
যেমন: 'বিশ্ববিদ্যালয়' শব্দে ৫টি অক্ষর রয়েছে (বি + শ্ব  + বি + দ্যা  + লয়)।

উৎস: বাংলা একাডেমি,  আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৮৬.
'আল-' কোন ধরনের প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
  2. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• 'আল-' বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ:

যেমন:
- √মাত্ + আল= মাতাল,
- √মিশ্ + আল= মিশাল।

এরূপ কিছু বাংলা কৃৎ প্রত্যয় হলো-
 অন্, আ, অনা, অনি, অন্ত, অক, আ, আই, আও, আন, আরি, ই, ইয়া > ইয়ে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৮৭.
'ছাত্ররা বল খেলে।'- বাক্যে 'বল' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
'করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়। যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- ছাত্ররা বল খেলে।
[কী দ্বারা খেলে? উত্তর পাওয়া যায়  বল দ্বারা।]

- ঘোড়াকে 'চাবুক' মার।

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।

• সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
জ্ঞানে বিমল আনন্দ হয়।

• তে বিভক্তি: লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
• য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ -সংস্করণ)।
১৮৮.
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. আশীবিষ
  2. কথাসর্বস্ব
  3. বীণাপাণি
  4. হৃতসর্বস্ব
ব্যাখ্যা
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের দৃষ্টান্ত - হৃতসর্বস্ব

সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদে বিশেষণ ও পরপদে বিশেষ্য থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন -
- হৃতসর্বস্ব = হৃত হয়েছে সর্বস্ব যার,
- খোশমেজাজ = খোশ মেজাজ যার,
- হতশ্রী = হত হয়েছে শ্রী যার,
- নীলকণ্ঠ = নীল কণ্ঠ যার,
- পক্বকেশ = পক্ব কেশ যার।

অন্যদিকে,
• ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস - আশীবিষ, কথাসর্বস্ব, বীণাপাণি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮৯.
'উৎক্ষিপ্ত' শব্দে 'উৎ' উপসর্গ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিশ্চয়তা
  2. প্রস্তুতি
  3. ক্ষিপ্রতা
  4. উর্ধ্বমুখিতা
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত উপসর্গ 'উৎ' উপসর্গের ব্যবহার:
- 'উর্ধ্বমুখিতা' অর্থে = উদ্যম, উন্নতি, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৯০.
'বেটাইম' শব্দটি গঠিত হয়েছে -
  1. ক) ফারসি ও ইংরেজি শব্দে
  2. খ) ফরাসি ও ইংরেজি শব্দে
  3. গ) ফারসি ও ফরাসি শব্দে
  4. ঘ) ফারসি ও হিন্দি শব্দে
ব্যাখ্যা
বে ফারসি উপসর্গ এবং টাইম ইংরেজি শব্দ। অর্থাৎ ফারসি উপসর্গ এবং ইংরেজি শব্দের সমন্বয়ে বেটাইম শব্দটি গঠিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯১.
সভয়ে লোকটি বলল, বাঘ এসেছে। এখানে ‘সভয়ে’ শব্দটি কোন বিশেষণের উদাহরণ?
  1. ক) বিশেষ্যর বিশেষণ
  2. খ) ক্রিয়া বিশেষণ
  3. গ) বিশেষণের বিশেষণ
  4. ঘ) নাম বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া বিশেষণঃ যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব,কাল বা রূপ নির্দেশ করে,তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যেমন -
ক্রিয়া সংঘটনের ভাবঃ ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কালঃ পরে একবার এসো।


সভয়ে লোকটি বলল, বাঘ এসেছে। এখানে ‘সভয়ে’ শব্দটি ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ। 


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি সংস্করণ -২০১৯
১৯২.
'অনুক্ষণ' কোন অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস?
  1. বিরোধ
  2. সামীপ্য
  3. বিপ্‌সা
  4. ঈষৎ
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
যেমন -
বিপ্‌সা (অনু, প্রতি) অর্থে:
- দিন দিন = প্রতি দিন,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
- ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯৩.
‘ক্ম’ যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ক্ + ন
  2. ক্ + স
  3. ক্ + ম
  4. ক্ + ণ
ব্যাখ্যা
• ‘ক্ম’ যুক্তবর্ণটি ক্ ও ম বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত।

--------------------
• যুক্তবর্ণ:

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ন্ড, ম্ফ, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ণ্ঠ, ড্ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, জ, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ব্ধ (ব্ +ধ),
ক্ত (ক্ + ত),
ক্ম (ক্ + ম),
ক্ষ (ক্ + ষ),
ক্ষ্ম (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স (ক্ + স),
ণ্ড (ণ্ + ড),
গ্ধ (গ্ + ধ),
ঙ্গ (ঙ্ + গ),
জ্ঞ (জ্ + ঞ),
ঞ্চ (ঞ্ + চ),
ঞ্জ (ঞ্ + জ),
ষ্ণ (ষ্ + ণ),
হু (হ্ + উ),
হৃ (হ্ + ঋ),
হ্ন (হ্ + ন),
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৯৪.
কোনটি পদের অংশ নয়?
  1. উপসর্গ
  2. বিভক্তি
  3. বচন
  4. বলক
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
বাক্যের মধ্যে পদগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
পদের অংশ
- বিভক্তি,
- নির্দেশক,
- বচন,
- বলক

শব্দের অংশ
- উপসর্গ ও
- প্রত্যয়

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১]
১৯৫.
'অপ'- উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. সংকীর্ণতা
  2. নিকৃষ্ট
  3. অপারগতা
  4. হীনতা
ব্যাখ্যা

• 'অপ' একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

'অপ' উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়:
'বিপরীত" অর্থে- অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
'নিকৃষ্ট' অর্থে- অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
'স্থানান্তর' অর্থে- অপসারণ, অপহরণ, অপনোদন।
'বিকৃত' অর্থে- অপমৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

১৯৬.
ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয় কত বছর আগে?
  1. প্রায় তিন হাজার বছর আগে
  2. প্রায় এক হাজার বছর আগে
  3. প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে
  4. প্রায় দুই হাজার বছর আগে
ব্যাখ্যা
•  প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়।
• ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে।
• বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ।
• অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়।
• সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)। 
১৯৭.
'প্রাণপ্রিয়' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  2. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  3. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
- সাধারণত পুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহীত, নিয়ত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, চালানাে, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরস্পরের ফলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন-
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত,
- প্রাণের চেয়ে অধিক = প্রাণাধিক,
- সত্য থেকে ভ্রষ্ট = সত্যভ্রষ্ট,
- প্রাণের চেয়ে প্রিয় = প্রাণপ্রিয়,
- জেল থেকে মুক্ত= জেলমুক্ত,
- জেল থেকে খালাস = জেলখালাস,
- পণ হতে মুক্তি = পণমুক্তি,
- আগা থেকে গােড়া = আগাগােড়া,
- পদ থেকে চ্যুত = পদচ্যুত প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯৮.
"আশির" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. আশি + র
  2. আশি + ইর
  3. আ + শির
  4. আশি + এর
ব্যাখ্যা
• "আশির" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ - আশি + এর।

স্বরসন্ধি:

- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনি মিলে যে সন্ধি হয় তাকে স্বরসন্ধি বলে।
- সন্ধিতে দুটি সন্নিহিত স্বরের একটির লোপ হয়।
যেমন-
অ + এ = এ (অ লোপ):
যেমন: শত + এক = শতেক। এরূপ – কতেক। 

আ + আ = আ (আ লোপ):
যেমন – শাঁখা + আরি = শাঁখারি। এরূপ রূপা + আলি = রূপালি।

আ + উ = উ (আ লোপ):
যেমন – মিথ্যা + উক = মিথ্যুক। এরূপ – হিংসুক, নিন্দুক ইত্যাদি।

ই + এ = ই (এ লোপ):
যেমন- কুড়ি + এক = কুড়িক। এরূপ – ধনিক, গুটিক ইত্যাদি।
- আশি + এর = আশির (এ লোপ)। এরূপ নদীর (নদী +এর)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯৯.
কোনটি বক্তা পক্ষের সর্বনামের দৃষ্টান্ত?
  1. তুমি
  2. তোমরা
  3. আপনাকে
  4. আমাদের
ব্যাখ্যা
• ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:

♦ বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
♦ শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
♦ অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: 
• সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে), 
• মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও
• ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ, ও)।

----------------------------
• সর্বনাম পদ:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। যেমন- "শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।" দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে। বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

সর্বনামকে নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম,
২. আত্মবাচক সর্বনাম,
৩. নির্দেশক সর্বনাম,
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম,
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম,
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম,
৭. পারস্পরিক সর্বনাম,
৮. সকলবাচক সর্বনাম,
৯. অন্যবাচক সর্বনাম।

- তবে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির পুরাতন সংস্করণ অনুসারে সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২০০.
'টুপ ভুজঙ্গ' বাগ্‌ধারার 'ভুজঙ্গ' শব্দের অর্থ কী?
  1. সাপ
  2. ভ্রমর 
  3. কোকিল 
  4. মশা 
ব্যাখ্যা

• ভুজঙ্গ (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- সাপ, সর্প। 

 স্ত্রীবাচক শব্দ- ভুজঙ্গী।

উল্লেখ্য, 
• 'টুপ ভুজঙ্গ' বাগধারার অর্থ- (নেশাগ্রস্ত)
• বাক্য-বেটা টুপ ভুজঙ্গ, এ পাড়ায় মাতলামি করতে এসো না।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।