বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১৬৬ / ৩৫৪ · ১৬,৫০১১৬,৬০০ / ৩৫,৭১৩

১৬,৫০১.
শুদ্ধ যুক্তবর্ণের গঠন কোনটি?
  1. ত্‌ + ত = ক্ত
  2. হ্‌ + ম = ক্ষ
  3. ক্ + স = ক্স
  4. ঙ্‌ + চ = ঞ্চ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ যুক্তবর্ণের গঠন- ক্ + স = ক্স। 

-----------------
সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না, এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই
রকম। যথা:
১. স্বচ্ছ ও
২. অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক্ট, জ্জ, জ্ব, ণ্ড, ন্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ণ্ঠ, ড্ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ্ফ, শ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ক, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ত = (ক্ + ত),
ক্ম = (ক্ + ম),
ক্ষ = (ক্ + ষ),
ক্ষ্ম = (ক্ + ষ + ম),
ক্স = (ক্ + স),
গু = (গ্‌ + উ),
গ্ধ = (গ্‌ + ধ),
ঙ্গ = (ঙ্‌ + গ),
জ্ঞ = (জ্‌ + ঞ),
ঞ্চ = (ঞ্‌ + চ),
ঞ্জ = (ঞ্‌ + জ),
ষ্ণ = (ষ্‌ + ণ)
হু = (হ্ + উ),
হৃ = (হ্‌  + ঋ),
হ্ন = (হ্ + ন),
হ্ম = (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১৬,৫০২.
'সুচরিত্র' শব্দে ‘সু’- উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ
  2. সম্পূর্ণ
  3. উত্তম
  4. চমৎকার
ব্যাখ্যা
'সুকৌশল' শব্দে 'সু' উপসর্গটি 'চমৎকার' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
'সুচরিত্র' শব্দে 'সু' উপসর্গটি 'উত্তম' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
সুগম, এখানে 'সু' উপসর্গটি 'সহজ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
সুচতুর, এখানে 'সু' উপসর্গটি 'আতিশয্য' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬,৫০৩.
ণত্ব ও ষত্ব বিধান বাংলা ব্যাকরণে কোন অংশের আলোচ্য বিষয়? 
  1. রূপতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়: 
- প্রত্যেক ভাষারই চারটি মৌলিক অংশ থাকে। 
যেমন- 
১. ধ্বনি (Sound), 
২. শব্দ (Word), 
৩. বাক্য (Sentence) এবং 
৪. অর্থ (Meaning)। 

- সব ভাষারই ব্যাকরণে প্রধানত নিম্নলিখিত চারটি বিষয়ের আলোচনা করা হয়। 
যেমন- 
১. ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology), 
২. শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology), 
৩. বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax) এবং 
৪. অর্থতত্ত্ব (Semantics)। 
- এ ছাড়া অভিধানতত্ত্ব (Lexicography), ছন্দ ও অলংকার প্রভৃতিও ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়। 

ধ্বনিতত্ত্ব: 
- মানুষের বাক-প্রত্যঙ্গ অর্থাৎ কণ্ঠনালী, মুখবিবর, জিহ্বা, আল-জিহ্বা, কোমল তালু, শক্ত তালু, দাঁত, মাড়ি, চোয়াল, ঠোঁট ইত্যাদির সাহায্যে উচ্চারিত আওয়াজকে ‘ধ্বনি’ বলা হয়। 
- বাক-প্রত্যঙ্গজাত ধ্বনির সূক্ষ্মতম মৌলিক অংশ বা একককে (Unit) ধ্বনিমূল (phoneme) বলা হয়। 

বর্ণ: 
- বাক-প্রত্যঙ্গজাত প্রত্যেকটি ধ্বনি এককের জন্য প্রত্যেক ভাষারই লেখার সময় এক একটি প্রতীক বা চিহ্ন (Symbol) ব্যবহৃত হয়। 
- বাংলায় এ প্রতীক বা চিহ্নকে বলা হয় বর্ণ (Letter)। 
যেমন-বাংলায় ‘বক’ কথাটির প্রথম ধ্বনিটির প্রতীকরূপে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ব’, ইংরেজিতে সে ধ্বনির জন্য ব্যবহৃত হয় B বা b (বি), আবার আরবি, ফারসি ও উর্দুতে একই ধ্বনির জন্য ব্যবহৃত হয় (বে)। 
- ধ্বনির উচ্চারণপ্রণালী, উচ্চারণের স্থান, ধ্বনির প্রতীক বা বর্ণের বিন্যাস, ধ্বনিসংযোগ বা সন্ধি, ধ্বনির পরিবর্তন ও লোপ, ণত্ব ও ষত্ব বিধান ইত্যাদি বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬,৫০৪.
হওয়া-এর আদিগণ কোনটি?
  1. ক) লওয়া
  2. খ) কোচকা
  3. গ) ফিরা
  4. ঘ) চাহ্
ব্যাখ্যা
‘হওয়া’ শব্দের ধাতু হ (হ্ +অ)। ‘হ’ একাক্ষর ধাতু এবং প্রথম বর্ণ হ্-এর সঙ্গে স্বরবর্ণ ‘অ’ যুক্ত আছে। 
সুতরাং হ-আদিগণের মধ্যে ল-ধাতু (লওয়া) অন্তুর্ভুক্ত। 

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
১৬,৫০৫.
নিচের কোনটি শুদ্ধ? 
  1. হেঁয়ালী
  2. হেয়ালী
  3. হেঁয়ালি
  4. হেয়ালি
ব্যাখ্যা

• বানানের নিয়ম অনুসারে অশুদ্ধ বানান: হেঁয়ালী।
• এর শুদ্ধরূপ: হেঁয়ালি।

নিয়ম:
আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন- সোনালি, মিতালি, বর্ণালি, খেয়ালি, রুপালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

[ তবে ‘সোনালী ব্যাংক’ এর (সোনালী) বানানটি ব্যাংক কর্তৃক এভাবেই নিবন্ধিত। তাই সোনালী ব্যাংক লিখতে সোনালী শব্দটিই ব্যবহৃত হবে। যদিও বানানের নিয়ম অনুসারে (সোনালী) শব্দের সঠিক বানান সোনালি।]

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৬,৫০৬.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. শৌখিন
  2. স্টিমার
  3. শার্ট
  4. ষ্টেশন
ব্যাখ্যা
ষ্টেশন -অশুদ্ধ বানান।
- এর শুদ্ধ বানান হচ্ছে - স্টেশন
 
• বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে 'ষ' ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
যেমন:
- কিশমিশ, নাশতা, পোশাক, স্টিমার, বেহেস্ত, শখ, শয়তান, শরবত, শরম, শহর, শামিয়ানা, শার্ট, শৌখিন।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।
১৬,৫০৭.
‘বালতি’ কোন ভাষা হতে আগত শব্দ?
  1. ক) ফরাসি
  2. খ) তুর্কি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) পোর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
পোর্তুগিজ শব্দ:
আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, চাবি, পাউরুটি, বালতি, পিস্তল, নিলাম, সাবান, বারান্দা, পেরেক, কামরা, কাজু, আতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
১৬,৫০৮.
'হরতাল' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ওলন্দাজ
  2. পর্তুগিজ 
  3. গুজরাটি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা

• 'হরতাল' - 'গুজরাটি' ভাষার শব্দ।

• হরতাল শব্দের অর্থ:
- ধর্মঘট;
- বিক্ষোভ প্রকাশ করার জন্য যানবাহন, হাট-বাজার, দোকান-পাট, অফিস-আদালত ইত্যাদি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ করা।

কিছু শব্দের উৎস:
চীনা শব্দ: চা, চিনি, লুচি।
তুর্কি শব্দ - কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, তুরুক, বেগম, বাবা, বিবি।
ওলন্দাজ শব্দ: ইস্কাপন, টেক্কা, তুরুপ, রুইতন, হরতন (তাসের নাম)৷
ফরাসি শব্দ: কার্তুজ, কুপন, ডিপো, রেস্তোরাঁ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৬,৫০৯.
সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. উপগ্রহ
  2. উপবন
  3. উপকূল
  4. উপকণ্ঠ
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে: রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:

- বনের সদৃশ = উপবন,
- শহরের সদৃশ = উপশহর।

অন্যদিকে,
সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
- কূলের সমীপে = উপকূল ইত্যাদি।

ক্ষুদ্র অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- উপনদী,
- উপগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,৫১০.
'যাদু করে যে =  যাদুকর' এটি কোন সমাস?
  1. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস 
  4. অলুক তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।

যেমন:
- পঙ্কে জন্মে যে = পঙ্কজ,
- যাদু করে যে =  যাদুকর,
- ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ,
- পকেট মারে যে = পকেটমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬,৫১১.
নিম্নের কোন শব্দগঠন প্রক্রিয়াটি সমাস নিষ্পন্ন?
  1. ক) মৌলিক
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) যােগরূঢ়
  4. ঘ) রূঢ়ি
ব্যাখ্যা
• বাগর্থ অনুসারে বাংলা শব্দের শ্রেণিবিভাগ:

যৌগিক শব্দ: প্রতিটি শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ যেমন থাকে তেমনি এর ব্যবহারিক অর্থও থাকে। প্রসঙ্গত বলা যায় যে, একটি শব্দের উৎপত্তি যখন ঘটেছিল তখন তার যে অর্থ ছিল তা-ই হলাে ওই শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ; আর শব্দটি বর্তমানে কোন অর্থে প্রযুক্ত হচ্ছে তা-ই তার ব্যবহারিক অর্থ। যৌগিক শব্দের ক্ষেত্রে এই দুটি অর্থই অভিন্ন থাকবে। অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যেসব শব্দের ব্যবহারিক অর্থ তাদের ব্যুৎপত্তিগত অর্থকেই অনুসরণ করে তাদের যৌগিক শব্দ বলে। যেমন, ‘জীবনী’ শব্দটি গঠিত হয়েছে ‘জীব+ অন+ ঈ' অর্থাৎ ‘জীব’ শব্দ হতে। তাই ‘জীবনী' শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হওয়া উচিত জীব সংশ্লিষ্ট কোনাে অর্থ। আর ‘জীবনী’ শব্দের অর্থ ‘জীবের বেঁচে থাকার বিবরণ'। অর্থাৎ, ‘জীবন’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বজায় থেকেছে। 

রূঢ়ি শব্দ: ব্যুৎপত্তিগত এবং ব্যবহারিক অর্থের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এমন প্রত্যয় বা উপসর্গ যােগে গঠিত শব্দকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন: হস্তী শব্দটির বুৎপত্তিগত অর্থ হাত আছে যার, কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ হাতি।

যােগরূঢ় শব্দ: সমাস নিষ্পন্ন শব্দ যদি ব্যুৎপত্তিগত অর্থ থেকে ভিন্ন কোনাে ব্যবহারিক অর্থ ধারণ করে তবে তাকে যােগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন: পঙ্কজ শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ পঙ্কে জন্মে যে কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ পদ্মফুল। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬,৫১২.
'ধবল' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. গরল
  2. মসৃণ
  3. কৃষ্ণ
  4. অবরোহণ
ব্যাখ্যা
• 'ধবল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - কৃষ্ণ।

অন্যদিকে, 
'অমৃত' - গরল,
'বন্ধুর' - মসৃণ।
'আরোহণ' - অবরোহণ। 

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ: 
'তিক্ত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - মধুর।
'অবিরল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিরল।
'কুটিল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - সরল।
'জীবিত' এর বিপরীতার্থক শব্দ  - মৃত।
'হর্ষ' এর বিপরীতার্থক শব্দ  - বিষাদ।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫১৩.
‘অহ’ শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. ক) সূর্য
  2. খ) রাত্রি
  3. গ) গতি
  4. ঘ) অপর
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
‘অহ’ শব্দের অর্থ- দিবস/ দিন। 

• ‘অহ’ শব্দের বিপরীত শব্দ- 'রাত্রি'। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১৬,৫১৪.
"লাফ > ফাল" - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ধ্বনি বিপর্যয়
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  3. বিষমীভবন
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা

ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের শধ্যে দুটো ব্যঞ্জনের পরস্পর স্থান পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্স > বাস্ক,
- রিকসা > রিস্কা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৬,৫১৫.
বিদেশি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. নিবারণ 
  2. নিদারুণ 
  3. নাচার
  4. নিলাজ 
ব্যাখ্যা

• 'নাচার' শব্দটি 'না' ফারসি উপসর্গ যোগে গঠিত। 

অন্যদিকে, 
-----------------
• 'নিদারুণ' ও 'নিবারণ' তৎসম উপসর্গ 'নি' যোগে গঠিত শব্দ। 
• 'নিলাজ' বাংলা উপসর্গ 'নি' যোগে গঠিত শব্দ। 

-------------------
• উপসর্গ: 

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
১. খাটি বাংলা উপসর্গ, 
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং 
৩. বিদেশি উপসর্গ। 

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: 
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। 
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি। 
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ। 

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ: 
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। 
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি। 
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা। 

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ: 
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। 
- এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়। 
যেমন: 
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের। 
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম। 
- উর্দু-হিন্দি উপসর্গ: হর, হরেক। 
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ। 

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৬,৫১৬.
‘তা’ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) বন্ধুতা
  2. খ) বন্ধুত্ব
  3. গ) ঘনত্ব
  4. ঘ) মহত্ব
ব্যাখ্যা
বন্ধুতা, শত্রুতা এ শব্দগুলো তা প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়েছে। বন্দুত্ব, ঘনত্ব, মহত্ব, গুরুত্ব এ শব্দগুলো গঠিত হয়েছে ত্ব প্রত্যয় যোগে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী
১৬,৫১৭.
নিচের কোন বাগধারা ‘পটল তোলা’ বাগধারার সমার্থক?
  1. ক) ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ
  2. খ) ভবভূতির পথে
  3. গ) ভবলীলা সাঙ্গ
  4. ঘ) পরের ধনে পোদ্দারি
ব্যাখ্যা
- 'পটল তোলা' বাগধারার অর্থ মারা যাওয়া।
অন্যদিকে, ভবলীলা সাঙ্গ বাগধারাটির অর্থ হচ্ছে মারা যাওয়া যা 'পটল তোলা' বাগধারার সমার্থক।

• ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অপচয়জনক ব্যাপার।
• পরের ধনে পোদ্দারি বাগধারাটির অর্থ - অপরের টাকা অথচ নিজের গর্ব প্রকাশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬,৫১৮.
নিত্য স্ত্রী-বাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. সজনী
  2. অরক্ষণীয়া
  3. রজকিনী
  4. কলঙ্কিনী
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রী-বাচক শব্দ নয়- রজকিনী। 
- 'রজক' পরুষবাচক শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ- রজকী, রজকিনী। 

• নিত্য স্ত্রী-বাচক কয়েকটি শব্দ হলো:
সতিন, ডাইনি, বাইজি, শাঁখচুন্নি, শাঁখিনী, সৎমা, এয়ো, দাই, অর্ধাঙ্গিনী, কুলাটা, কলঙ্কিনী, অন্তঃসত্ত্বা, সপত্নী, অসূর্যস্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সধবা, রূপসী, সজনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫১৯.
'বাচ্চা কালে দুঃখের দিন দেখেছি।'- বাক্যে 'বাচ্চা কালে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

• বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আধার (স্থান: আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই।
- কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

• অধিকরণ কারকের উদাহরণ-
- তিলে তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

• 'বাচ্চা কালে দুঃখের দিন দেখেছি'- বাক্যেকে কখন দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পওয়া যায় 'বাচ্চা কালে'। সুতরাং 'বাচ্চা কালে' অধীকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫২০.
'নাড়াবুনে' বাগধারার সঠিক অর্থ কোনটি?
  1. ক) অতি প্রাচীন লোক
  2. খ) অভিজ্ঞ লোক
  3. গ) দক্ষ
  4. ঘ) মূর্খ
ব্যাখ্যা
'নাড়াবুনে' বাগধারাটির অর্থ= মূর্খ 
অর্থ: নাড়াবুনেদের স্বর্গে ধর্মের কথার মূল্য নেই। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫২১.
'ইতরবিশেষ’ বলতে বােঝায়— 
  1. দুর্বৃত্ত
  2. চালাকি 
  3. পার্থক্য
  4. অপদার্থ
ব্যাখ্যা
• ইতরবিশেষ (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ থেকে আগত।
অর্থ:
- সামান্য পার্থক্য।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা ও অর্থ:
• 'গভীর জলের মাছ' অর্থ - অতি চালাক।
• 'ঘটিরাম/অকাল কুষ্মাণ্ড' অর্থ - অপদার্থ।
• 'বকধার্মিক' অর্থ - ভণ্ড।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,৫২২.
কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. তাহার সৌজন্যতায় আমি সুযোগটি পেয়েছি।
  2. তার সৌজন্যে আমি সুযোগটি পেয়েছি।
  3. তার সৌজন্যতায় আমি সুযোগটি পেয়েছি।
  4. তাহার সৌজন্যে আমি সুযোগটি পেয়েছি।
ব্যাখ্যা

সঠিক বাক্য: তার সৌজন্যে আমি সুযোগটি পেয়েছি।

সৌজন্যতা শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে ভুল বানান। এর সঠিক বানান হচ্ছে- সৌজন্য।
• সৌজন্য (বিশেষ্য পদ)
অর্থ: ভদ্রতা, অমায়িকতা, শিষ্ট-ব্যবহার।

অন্যদিকে,
তাহার সৌজন্যে আমি সুযোগটি পেয়েছি।
[কাব্যটিতে সাধু ও চলিত ভাষার ব্যবহারে গুরুচণ্ডালী দোষ রয়েছে।]

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৬,৫২৩.
'Flora' শব্দটির বাংলা পারিভাষিক শব্দ হলো-
  1. ক) প্রাণিকুল
  2. খ) উদ্ভট কাহিনী
  3. গ) পলাতক
  4. ঘ) উদ্ভিদ্‌কুল
ব্যাখ্যা
• 'Flora' শব্দটির বাংলা পারিভাষিক শব্দ হলো- উদ্ভিদ্‌কুল।

• অন্যান্য অপশন:
Fauna - প্রাণিকুল।
Fantasy - উদ্ভট কাহিনী।
Fugitive - পলাতক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫২৪.
'গ্রাম > গেরাম' কিসের উদাহরণ?
  1. আদি স্বরাগম
  2. অন্ত্যস্বরাগম
  3. বিপ্রকর্ষ
  4. স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন -
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই  - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রু > ভুরু ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক > শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,৫২৫.
নিচের কোন পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে?
  1. বাবা
  2. দেবর
  3. মানব
  4. বালক
ব্যাখ্যা

কিছু পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে।যথা-
দেবর-ননদ (দেবরের বোন)/জা (দেবরের স্ত্রী), 
• ভাই-বোন এবং ভাবী (ভাইয়ের স্ত্রী), 
• শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী (শিক্ষিকা) (পেশা অর্থে) এবং শিক্ষকপত্নী (শিক্ষকের স্ত্রী),
• বন্ধু-বান্ধবী (মেয়ে বন্ধু) এবং বন্ধুপত্নী (বন্ধুর স্ত্রী),
• দাদা-দিদি (বড় বোন) এবং বৌদি (দাদার স্ত্রী)।

অন্যদিকে, 
বাবা-মা, বালক-বালিকা, মানব-মানবী। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৬,৫২৬.
'অগস্ত্য যাত্রা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. শেষ বিদায়
  2. প্রথম যাত্রা
  3. তাড়াহুড়ো করে শুরু করা
  4. বিবেচনাহীন
ব্যাখ্যা
• 'অগস্ত্য যাত্রা' অর্থ- শেষ বিদায় বা চিরদিনের জন্য প্রস্থান।

- বাক্য: গণপিটুনি খেয়ে সে গ্রাম থেকে অগস্ত্য যাত্রা করেছে। 

• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
- চুলোয় যাওয়া অর্থ - নষ্ট হওয়া।
- গুড়ে বালি অর্থ - আশায় নৈরাশ্য।
- গোড়ায় গলদ অর্থ শুরুতেই ভুল।
- কৈয় মাছের জান অর্থ যা সহজে মরে না।
- পুটি মাছের প্রাণ অর্থ ছোটো মন।
- তিলকে তাল করা অর্থ ছোটকে বড় করা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,৫২৭.
'তিনি বিশ্বাস অর্জন করেছেন।' এখানে 'অর্জন করা'কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. প্রযোজক ক্রিয়া
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. মিশ্র ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• 'তিনি বিশ্বাস অর্জন করেছেন।' এখানে 'অর্জন করা' এটি একটি মিশ্র ক্রিয়া।
- ক্রিয়াটি [কর্] ধাতুযোগে গঠিত।

মিশ্র ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়, ধর্, মার্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।

যেমন:
দর্শন করা,
প্রীত হওয়া,
গান গাওয়া।
অনুরূপ - অর্জন করা

অন্যদিকে,
• যৌগিক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একটি অসমাপিকা ও একটি সমাপিকা ক্রিয়া মিলে গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, সরে দাঁড়ানাে ইত্যাদি।
প্রশ্নোক্ত বাক্যটিতে কোন অসমাপিকা না থাকায় যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ হিসেবে গণ্য হবেনা।

• প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন : মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম ও দশম শ্রেণি ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৬,৫২৮.
কোনটি প্রাদি সমাসের উদাহরণ?
  1. প্রাণবধ
  2. প্রবচন
  3. প্রভাত
  4. খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যেমন:
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি= প্রগতি'
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত = প্রভাত

অন্যদিকে, 
- প্রাণের বধ = প্রাণবধ, ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬,৫২৯.
নতুন শব্দ গঠনের জন্য কোন ধ্বনিতত্ত্বের প্রয়োজন হয়? 
  1. ণত্ব বিধান 
  2. সন্ধি 
  3. ষত্ব বিধান 
  4. ধ্বনির পরিবর্তন 
ব্যাখ্যা

'সন্ধি':
- 'সন্ধি' শব্দের অর্থ মিলন বা সংযোগ।
- দ্রুত উচ্চারণের ফলে পরস্পর সন্নিহিত দুইটি ধ্বনির মিলনে যে ধ্বনিগত পরিবর্তন হয় তাকেই সন্ধি বলে।
- খুব কাছাকাছি দুটি ধ্বনি দ্রুত উচ্চারণের ফলে কখনো একটি ধ্বনিতে পরিণত হয়;
- কখনো একটি ধ্বনির লোপ হয় বা একটির রূপান্তর হয়;
- এবং কখনো দুটি ধ্বনিই রূপান্তরিত হয়ে নতুন ধ্বনি তৈরি করে, যেমন:
• ধ্বনির মিলন বা রূপান্তর: রবি ইন্দ্র = রবীন্দ্র।
• ধ্বনি-লোপ: চন্দ্র + আলয় = চন্দ্রালয়।
• পূর্বধ্বনির বদল: সত্ + য = সত্য়।
• পরধ্বনির বদল: রাজ্ + নী = রাজ্ঞী। 

• সন্ধির প্রয়োজনীয়তা:
- ধ্বনি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
- নতুন শব্দ গঠনের জন্য অপরিহার্য।
- শব্দের আকার সংক্ষিপ্ত করতে সাহায্য করে।
- ভাষাকে সুন্দর ও সাবলীল করে।
- উচ্চারণ সহজ করে।
- উচ্চারণের সৌন্দর্য, শ্রুতিমাধুর্য ও ভাষার প্রাঞ্জলতা বাড়ায়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬,৫৩০.
কাক ভূষণ্ডির অর্থ কি?
  1. ষড়যন্ত্রকারী
  2. বাকসর্বস্ব
  3. দীর্ঘ প্রতীক্ষমাণ
  4. দীর্ঘায়ু ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
• ‘কাক-ভূষণ্ডি’ এর অর্থ - দীর্ঘায়ু ব্যক্তি।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
• 'কেউকেটা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - তুচ্ছ।
• 'ভূষণ্ডির কাক' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - বিচক্ষণ ব্যক্তি। 
• 'কাঁচা পয়সা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - নগদ উপার্জন।
• 'কেতাদুরস্ত' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - পরিপাটি।
• 'কাঠের পুতুল' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - নির্জীব, অসার।
১৬,৫৩১.
'দুস্থ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি ?
  1. দুঃ + থ 
  2. দুঃ + থঃ
  3. দু + থঃ
  4. দু + থ 
ব্যাখ্যা

দুস্থ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- দুঃ + থ।
- এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।

বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
- পূর্বপদের শেষে বিসর্গ ( ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ বা ছ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ, ট বা ঠ থাকলে ষ ; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

যেমন-
- দুঃ + তর = দুস্তর।
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়।
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ।
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার।
- নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬,৫৩২.
'অর্ণব' ও ‘হিল্লোল’ শব্দ দুইটির সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) অম্বু ও বরুণ
  2. খ) কল্লোল ও সলিল
  3. গ) সরোবরর ও হিন্দোল
  4. ঘ) পয়োধি ও তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

অর্ণব - পয়োধি, বরুণ, পাথার, সমুদ্র, জলধি, দরিয়া, পারাবার, সিন্ধু, সাগর ইত্যাদি।
হিল্লোল - ঊর্মি, বীচি, তরঙ্গ, কল্লোল, ঢেউ, মহোর্মি, মহাতরঙ্গ, জোয়ার।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬,৫৩৩.
উপসর্গ বিষয়ে শুদ্ধ নয় কোনটি?
  1. শব্দের পরে বসে।
  2. নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি হয়।
  3. শব্দের অর্থ পরিবর্তন হয়।
  4. শব্দের অর্থ সম্প্রসারিত হয়।
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। যেমন- অজানা (অ + জানা), বেতার (বে তার) প্রভৃতি শব্দের 'অ', 'বে' হলো উপসর্গ।
- যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না, ধাতু বা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদের উপসর্গ বলা হয়।
- অন্যভাবে বলা যায়, বাংলা ভাষায় যেসব অব্যয়সূচক শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে বিভিন্ন অর্থের সৃষ্টি করে, তাকে উপসর্গ বলে।

উপসর্গ যুক্ত হলে শব্দের পাঁচ ধরণের পরিবর্তন ঘটে:
১. নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি হয়।
২. শব্দের অর্থ সম্প্রসারিত হয়।
৩. শব্দের অর্থ পরিবর্তন হয়।
৪. শব্দের অর্থ পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
৫. শব্দের অর্থের সীমা সংকুচিত হয়।

অন্যদিকে,
-----------------
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করতে সাহায্য করে, তাকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গের কিছু উদাহরণ :
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, - ব্যতীত, জন্য, পর্যন্ত ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,৫৩৪.
'চুল' এর সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. অলক
  2. চিকুর
  3. কুন্তল
  4. নেত্র
ব্যাখ্যা
• 'চুল' শব্দের সমার্থক শব্দ নয়: 'অলক'।  

 • 'চুল' এর সমর্থক শব্দ:
- কেশ,
- অলক,
- চিকুর,
- কুন্তল,
- কবরী।

অন্যদিকে,
• 'চোখ' এর সমার্থক শব্দ:
- চক্ষু, নয়ন, আঁখি, অক্ষি, নেত্র, লোচন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬,৫৩৫.
'সুমন বল খেলে।' এখানে 'বল খেলে'-
  1. বাক্যের উদ্দেশ্য
  2. বাক্যের বিধেয়
  3. উদ্দেশ্যের প্রসারক
  4. বিধেয়ের প্রসারক
ব্যাখ্যা
• বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় এই দুই অংশে ভাগ করা যায়।

• উদ্দেশ্য:
বাক্যে যাকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে।
যেমন- 'সুমন বল খেলে।' এই বাক্যে সুমনকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হচ্ছে। অতএব 'সুমন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

• বিধেয়:
বাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন- 'সুমন বল খেলে।' এই বাক্যে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

বাক্য দীর্ঘতর হলে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশের সঙ্গে নানা ধরনের শব্দ ও বর্গ যুক্ত হতে পারে। উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে এইসব শব্দ ও বর্গ প্রসারিত করে বলে এগুলোর নাম প্রসারক। এছাড়া বিধেয় ক্রিয়ার বিশেষ্য অংশকে বলা হয় পূরক।
যেমন:
- সেলিম সাহেবের ছেলে সুমন গাছতলায় বসে বই পড়ছে।

[এখানে 'সুমন' উদ্দেশ্য, 'সেলিম সাহেবের ছেলে' উদ্দেশ্যের প্রসারক। অন্যদিকে 'পড়ছে' বিধেয়ের ক্রিয়া, 'গাছতলায় বসে' বিধেয়ের প্রসারক এবং 'বই' হলো বিধেয়ের পূরক।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১৬,৫৩৬.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) অঘ্রান
  2. খ) ঝরনা
  3. গ) কল্যাণ
  4. ঘ) গভর্ণর
ব্যাখ্যা
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
অতৎসম শব্দের বানানে 'ণ' ব্যবহার করা হবে না।
যেমন- অঘ্রান, ঝরনা, গভর্নর, হর্ন। 

এখানে 'গভর্ণর' বিদেশি শব্দ। তাই এর শুদ্ধ বানান হবে- 'গভর্নর'। 

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,৫৩৭.
"ওকে দুই কথা শুনিয়ে দিয়েছি।" - এখানে 'কথা' শব্দটি কী নির্দেশ করে?
  1. উক্তি
  2. কাহিনি
  3. পরামর্শ
  4. কটুবাক্য
ব্যাখ্যা

• কথা শব্দটি দিয়ে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করা যায়।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
"ওকে দুই কথা শুনিয়ে দিয়েছি।" - এখানে 'কথা' শব্দটি দিয়ে - "কটুবাক্য" নির্দেশ করে।




উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৬,৫৩৮.
'মান' শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. অভিমান
  2. অপমান
  3. পরিমাপক
  4. দন্ড
ব্যাখ্যা
মান শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ হলো অপমান।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৬,৫৩৯.
'অনিল' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. আকাশ 
  2. আগুন 
  3. বাতাস 
  4. সমুদ্র 
ব্যাখ্যা

• 'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুত, প্রভঞ্জন।



উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৬,৫৪০.
পদ/পদ প্রকরণ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) বাক্যতত্ত্ব
  2. খ) ধ্বনিতত্ত্ব
  3. গ) রূপতত্ত্ব
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
প্রতিটি ভাষারই ৪টি মৌলিক অংশ থাকে-
১. ধ্বনি,
২.শব্দ,
৩. বাক্য ও
৪. অর্থ।

আর তাই সব ভাষার ব্যাকরণই প্রধানত এই ৪টি অংশ নিয়েই আলোচনা করে। অর্থাৎ, ব্যাকরণের বা বাংলা ব্যাকরণের মূল আলোচ্য বিষয়/ অংশ ৪টি-
১. ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology)
২. শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology)
৩. বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax)
৪. অর্থতত্ত্ব (Semantics)

বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম:
- পদ প্রকরণ (শব্দ বাক্যে ব্যবহৃত হলে তখনই সেটাকে পদ বলে। তাই পদ বাক্যের ও পদ প্রকরণ বাক্যতত্ত্বের অন্তর্গত।)
- ক্রিয়াপদ
- কারক ও বিভক্তি (বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের সম্পর্ককে কারক বলে। বাক্যের অন্তর্গত পদ নিয়ে কাজ করে বলে কারকও বাক্যতত্ত্বের অন্তর্গত।)
- কাল
- পুরুষ
- অনুসর্গ
- বাগধারা
- বাচ্য
- উক্তি
- যতি ও ছেদ চিহ্ন (বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে যতি বা ছেদ চিহ্ন ব্যবহার হয়। অর্থাৎ, এরা বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- বাক্যের প্রকারভেদ
- বাক্যে পদ-সংস্থাপনার ক্রম বা পদক্রম

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি।
১৬,৫৪১.
"যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর" এটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. প্রাদি সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধরা সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা,
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন,
- দুঃ যে অবস্থা =  দুরবস্থা,
- যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর,
- যিনি সুস্থ তিনিই সবল = সুস্থসবল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,৫৪২.
কারক’ পড়ায় তারক ঠাকুর। দাগাঙ্কিত শব্দটি কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. সম্প্রদান
  3. কর্তা
  4. করণ
ব্যাখ্যা
• 'কারক' পড়ায় তারক ঠাকুর। - দাগাঙ্কিত শব্দটি কর্ম কারক

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন-
• বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্ম কারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

• 'কারক' পড়ায় তারক ঠাকুর। - বাক্যে 'কারক'কে আশ্রয় করে তারক ঠাকুর ক্রিয়া সম্পন্ন করায়, 'কারক' কর্ম কারক

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,৫৪৩.
সমার্থক শব্দ নির্ণয় করুন: 'সুন্দর' 
  1. রম্য
  2. সিত 
  3. অরঞ্জিত
  4. শুক্ল 
  5. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• ‘সুন্দর' এর সমার্থক শব্দ-
- রম্য, মনোরম, শোভন, মনোহর, সুদৃশ্য, রমণীয়, চারু, কান্ত, ললিত, শ্রীবৃদ্ধি, সুশ্রী ইত্যাদি। 
-------------------- 
অন্যদিকে,
- 'সাদা' শব্দের সমার্থক শব্দ-
- শুভ্র, শ্বেত, ধবল, সফেদ, সিত, অরঞ্জিত, নির্মল, শুক্ল, শুচি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৬,৫৪৪.
সন্ধির ক্ষেত্রে কোনটি মিথ্যা?
  1. সন্ধিতে প্রত্যেক শব্দের অর্থ বজায় থাকে।
  2. সন্ধিতে ধ্বনি লোপ পায় না।
  3. সন্ধিতে পদ থেকে বিভক্তি লোপ পায়না, সংকুচিত হয়।
  4. সন্ধিতে শব্দগুলো ক্রম পরিবর্তিত না হয়ে যুক্ত হয়।
ব্যাখ্যা
• পাশাপাশি ব্যবহৃত দুটি ধ্বনির বা বর্ণের মিলনকে সন্ধি বলে। যেমন- দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত, পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ।
সন্ধির বৈশিষ্ট্য:
- সন্ধিতে প্রত্যেক শব্দের অর্থ বজায় থাকে।
- সন্ধির মিলন মূলত উচ্চারণগত বা ধ্বনির মিলন।
- সন্ধিতে পদ থেকে বিভক্তি লোপ পায় না, সংকুচিত হয়।
- সন্ধিতে শব্দগুলো ক্রম পরিবর্তিত না হয়ে যুক্ত হয়।
- সন্ধি দুই বর্ণের মধ্যে যোগ চিহ্ন (+) ব্যবহার করে দেখাতে হয়।
- সন্ধিতে কয়েকটি পদ মিলে একাকার হয়ে যায়। যেমন- আদি + অন্ত = আদ্যন্ত।
- সন্ধিতে ধ্বনি লোপ পায়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৬,৫৪৫.
পুরাঘটিত বর্তমান কালের উদাহরণ কোনটি?
  1. আমেনা সেখানে বেড়াতে গেল।
  2. সজল সপরিবারে বাড়িতে ফিরেছে।
  3. আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
  4. বাল্যকালে আমরা খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
ব্যাখ্যা

• পুরাঘটিত বর্তমান:
- এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন
• আমি সমস্যার সমাধান করেছি।
• সজল সপরিবারে বাড়িতে ফিরেছে।

• তারা বাড়িতে ফিরেছে।

অন্যদিকে,
- সাধারণ অতীত কালের উদাহরণ= আমেনা সেখানে বেড়াতে গেল।
- পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ= আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- নিত্য অতীত কালের উদাহরণ= খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

১৬,৫৪৬.
কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ কোনগুলো?
  1. কূল, সমূহ, বৃন্দ
  2. আবলি, পুঞ্জ, রাশি
  3. বর্গ, রাজি, মালা
  4. গণ, নিচয়, সকল
ব্যাখ্যা
• কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দগুলো হলো:
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, মালা, রাশি, রাজি, পুঞ্জ
যেমন:
- গ্রন্থাবলি,
- কবিতাগুচ্ছ,
- কুসুমদাম,
- কমলনিকর,
- মেঘকুঞ্জ,
- পর্বতমালা,
- তারকারাজি,
- বালিরাশি।

অন্যদিকে:
• কূল, সমূহ শব্দ গুলো হচ্ছে প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত হয়।
• গণ, বৃন্দ, বর্গ শব্দ গুলো হচ্ছে উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ।
• রাজি, মালা, নিচয়, সকল শব্দ গুলো হচ্ছে সমষ্টিবোধক শব্দে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)
১৬,৫৪৭.
বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয়-
  1. মাগধি
  2. ওড়িয়া
  3. মারাঠি
  4. দ্রাবিড়ীয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষা: 
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
 
• ভাষা পরিবার: 
পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান,ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো  বাংলা ভাষায় ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য। বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।ভাষা
 
• ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে।
- এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করেতে হয়েছে।
সেগুলো হলো:
ইন্দো-ইউরোপীয় - ইন্দো-ইরানীয় - ভারতীয় আর্য - প্রাকৃত - বাংলা।
 
• আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে।
• বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন- ‘চর্যাপদ’।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬,৫৪৮.
নিচের কোন বাক্যে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. তুমি কবে লন্ডন যাচ্ছ?
  2. মেয়ে দুটি ছাদের ওপরে হাঁটছে।
  3. সব বস্তিতেই এখন টিউবওয়েল বসেছে।
  4. ভোর না হতেই পাখির ডাক শোনা গেল।
ব্যাখ্যা
⇒ ক্রিয়া বিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- ভোর না হতেই পাখির ডাক শোনা গেল।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 
- সব বস্তিতেই এখন টিউবওয়েল বসেছে।
- মেয়ে দুটি ছাদের ওপরে হাঁটছে।
- তুমি কবে লন্ডন যাচ্ছ?

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। 
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
- আমি কি যাব? 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
১৬,৫৪৯.
কোনটি নামধাতুর উদাহরণ?
  1. বেতা
  2. করা
  3. নাচা
  4. পড়া
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• নাম ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধন্যাত্মক অব্যয়ের পর ‘আ’ প্রত্যয়যোগে যে সব ধাতু গঠিত হয়, সেগুলোকে নামধাতু বলা হয়।
যেমন:
• সে ঘুমাচ্ছে।- এখানে, 'ঘুম্‌' থেকে নাম ধাতু 'ঘুমা'।
• রাসেল ধমকাচ্ছে।- এখানে 'ধমক্‌' থেকে নাম ধাতু 'ধমকা'।

তেমনিভাবে,
অপশনের 'বেতা' একটি নাম ধাতু। 'বেত্‌' এর সাথে 'আ' প্রত্যয়যুক্ত হয়ে বেতা নাম ধাতু গঠিত হয়েছে।

-------------------------
• সাধিত ধাতু: 
মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম-শব্দের সঙ্গে ‘আ’ প্রত্যয় যোগে সাধিত ধাতু গঠিত হয়। আবার যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করলে এক বা একাধিক প্রত্যয় পাওয়া যায় তাকেও সাধিত ধাতু বলা হয়।
যেমন:
- দেখ্‌ + আ= দেখা।
- পড়্‌ + আ= পড়া।
- বল + আ=বলা।

তেমনিভাবে,
-কর্‌ + আ = করা;
- নাচ্‌ + আ = নাচা;
- পড়্‌ + আ= পড়া।

• সাধিত ধাতু আবার ৩ প্রকার।
যথা:
১. নাম ধাতু,
২. প্রযোজক (নিজন্ত) ধাতু ও
৩. কর্মবাচ্যের ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,৫৫০.
কোন বাক্যটি ক্রিয়ার সাপেক্ষ ভাব প্রকাশ করছে?
  1. অন্যায় কাজ করো না।
  2. তারা বাড়ি যাবে।
  3. বৃষ্টি আসে আসুক।
  4. ভালো করে পড়লে সফল হবে।
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ঘ) ভালো করে পড়লে সফল হবে।

সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

অন্যদিকে, 
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব: যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-সে যাক। যা হয় হোক। সে একটু হাসুক। বৃষ্টি আসে আসুক। তার মঙ্গল হোক।

অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়। যেমন-
ক. আদেশাত্মক: চুপ কর, তুমি কাল যেও।
খ. নিষেধাত্মক: অন্যায় কাজ করো না।

নির্দেশক ভাব: সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়। যথা-
ক. সাধারণ নির্দেশক : আমরা বই পড়ি। তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায় : আপনি কি আসবেন? সে কি গিয়েছিল?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১৬,৫৫১.
কোনটি ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা?
  1. সত্য গোপন করো না।
  2. আমার দরখাস্তটা পড়ুন।
  3. অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।
  4. রোগ হলে ওষুধ খাবে।
ব্যাখ্যা

ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
- আদেশ: সদা সত্য বলবে।
- সম্ভাবনায়: চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
- বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে।
- অনুরোধে: কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)।

অন্যদিকে,
বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
- আদেশ: কাজটি করে ফেল। তোমরা এখন যাও।
- উপদেশ: সত্য গোপন করো না।
- অনুরোধ: অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।
- প্রার্থনা: আমার দরখাস্তটা পড়ুন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬,৫৫২.
'নীলিমা' শব্দটি গঠনে কোন প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ইল
  2. ইমন
  3. বতুপ
ব্যাখ্যা
• নীলিমা = নীল + ইমন; 
'নীলিমা' শব্দটি গঠনে 'ইমন' প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়েছে।
------------------------ 
তদ্ধিত প্রত্যয়: 
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে। 

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিতপ্রত্যয়যুগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। 
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়: 
- তেজঃ + বিন্‌ = তেজস্বী,
- মেধা + বিন্‌ = মেধাবী,
- মায়া + বিন্‌ = মায়াবী,
- যশঃ + বিন্‌ = যশস্বী,
- নীল + ইমন = নীলিমা  ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,৫৫৩.
"মাতুল" - এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মাতুলায়নী
  2. মাতুলানী
  3. মাতুলি
  4. মাতুলিনী
ব্যাখ্যা

• আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:

যেমন:
- বন - বনানী;
- মাতুল - মাতুলানী;
- অরণ্য - অরণ্যানি;
- চৌধুরী - চৌধুরানী;
- শেতাঙ্গ - শেতাঙ্গিনী;
- বেদে - বেদেনী।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৬,৫৫৪.
আমার জ্বর জ্বর লাগছে- ‘জ্বর জ্বর’ শব্দ দুটি অবিকৃতভাবে উচ্চারিত হওয়াকে বলে-
  1. দ্বিরুক্ত শব্দ
  2. সার্থক শব্দ
  3. যুগ্মশব্দ
  4. শব্দদ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
[বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণির নতুন সংস্করণ অনুসারে দ্বিরুক্ত শব্দই শব্দদ্বিত্ব নামে অভিহিত করা হয়েছে।
তবে ৪২তম বিসিএসএর প্রশ্নটি পুরাতন সংস্করণ অনুসারে করা হয়েছে। তাই পুরাতন সংস্করণ অনুসারে অপশন ‘ক’ (দ্বিরুক্ত শব্দ) উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।]

• 'আমার জ্বর জ্বর লাগছে' এখানে 'জ্বর-জ্বর' দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ। 

• শব্দের/পদের দ্বিরুক্তি:
বাক্যে একই পদ বার বার ব্যবহার করাকে বলা হয় পদের দ্বিরুক্তি। বাংলা ভাষায় পদের দ্বিরুক্তির মাধ্যমে নিম্নলিখিত উপায়ে শব্দ গঠন করা হয়। 

• বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি: বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে।
ক) আধিক্য বােঝাতে: রাশি রাশি ধান, থােকা থােকা জাম।
খ) সামান্য বােঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
গ) পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বােঝাতে : তুমি দিন দিন রােগা হয়ে যাচ্ছ। সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে।
ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ বােঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে তাকায়।
ঙ) অনুরূপ বােঝাতে: তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই।
চ) আগ্রহ বােঝাতে: সে মা মা বলে কাঁদছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬,৫৫৫.
নিচের কোন সন্ধি-বিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. ক) নৈ+অক = নায়ক
  2. খ) মহা+ঋর্ষি =মহর্ষি
  3. গ) জন+অক = জনৈক
  4. ঘ) নৌ+বিক = নাবিক
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে: [ঐ+অন্য স্বর = আয়্+স্বর] নৈ+অক = নায়ক

অন্যান্য গুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
[অ/আ+ঋ = অর্] মহা+ঋষি = মহর্ষি।
[ঔ+অন্য স্বর = আব্+স্বর] নৌ+ইক = নাবিক।
[অ/আ+এ/ঐ =ঐ] জন+এক = জনৈক।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬,৫৫৬.
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) কথাসর্বস্ব
  2. খ) হৃতসর্বস্ব
  3. গ) হতশ্রী
  4. ঘ) নীলকণ্ঠ
  5. ঙ) গালাগালি
ব্যাখ্যা
যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্ব বা পর পদ কোনটিই বিশেষণ নয় তাকে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমনঃ কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব। হৃতসর্বস্ব, নীলকন্ঠ ও হতশ্রী সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস। গালাগালি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
১৬,৫৫৭.
কোন বাক্যটিতে নাম-বিশেষণের বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সামান্য একটু দুধ দাও।
  2. বাগানটি অত্যন্ত সুন্দর।
  3. ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
বিশেষণের বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন-

নাম-বিশেষণের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- বাগানটি অত্যন্ত সুন্দর।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
- আজ আবহাওয়া অনেক ভালো।

ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।
- ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,৫৫৮.
চলিত ভাষায় কীসের ব্যবহার রয়েছে?
  1. অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির
  2. অপিনিহিতি ও অসমীকরণের
  3. অভিশ্রুতি ও অন্তর্হতির
  4. অপিনিহিতি ও অন্তর্হতির
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
- চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হায়াৎ মামুদ)।
১৬,৫৫৯.
'ব্রতী' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ব্রতী + ইন্‌
  2. ব্রত + ইন্‌
  3. ব্রত + ঈ
  4. ব্রতী+ ষ্ণ্য
ব্যাখ্যা
• 'ব্রতী' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে — ব্রত + ইন।

• ব্রতী (বিশেষণ):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে ব্রোতি।
- এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে ব্রত+ইন।
- এর অর্থ হচ্ছে ব্রতপালনকারী, ব্রতধারী, পুণ্যকর্মের অনুষ্ঠাতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,৫৬০.
"এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।" - এই বাক্যে 'অতিশয়' কোন পদ?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. বিশেষণীয় বিশেষণ
  3. সর্বনামের বিশেষণ
  4. অব্যয়ের বিশেষণ
ব্যাখ্যা

বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন:
• নাম-বিশেষনের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

• ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।
- ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬,৫৬১.
কোন দুইটি তৎসম উপসর্গ?
  1. অঘা, অজ
  2. ভর, রাম
  3. আড়, আন
  4. অব, নির
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

অন্যদিকে
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,৫৬২.
'কোথায় যাওয়া হয়েছে'? এটি কোন বাক্যের উদাহরন?
  1. ক) ভাববাচ্য
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) কর্তৃবাচ্য
  4. ঘ) কর্তৃকর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে। যেমন - “কোথায় যাওয়া হয়েছে” “আমার খাওয়া হলো না”, “কোথা থেকে আসা হচ্ছে”, “কোথায় থাকা হয়”। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী।
১৬,৫৬৩.
সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়-
  1. একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে।
  2. বাক্যের প্রথম অংশের কোনো উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করার জন্যে।
  3. পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে।
  4. কোনো অংশ বাদ দিতে চাইলে।
ব্যাখ্যা
• সেমিকোলন (;) :
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
• সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
• কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ নয়।
• তিনি পড়েছেন বিজ্ঞান; পেশা ব্যাংকার; আর নেশা সাহিত্যচর্চা।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
১৬,৫৬৪.
'গীতিকবিতা' কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
• 'গীতিকবিতা' এর ব্যাস বাক্য 'গীতি (আত্মগত ভাব ও সুর) সংবলিত যে কবিতা - মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ;
- ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি;
- প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়;
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৬,৫৬৫.
ক্ষুদ্র অর্থে অব্যয়ীভাব হয়েছে কোনটি?
  1. ক) উপপদ
  2. খ) উপভাষা
  3. গ) উপবন
  4. ঘ) উপকথা
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়, তবে থাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। কিছু শব্দের পূর্বপদে উপ থাকলে ক্ষুদ্র অর্থ দেয়।
যেমন:

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৬,৫৬৬.
'খবর' এর প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. সুবাদ
  2. অন্বেষা
  3. সমাচার
  4. বচন
ব্যাখ্যা
• 'খবর' এর প্রতিশব্দ:
- সংবাদ,
- বার্তা,
- তথ্য,
- সমাচার,
- বিবরণ,
- বৃত্তান্ত,
- খোঁজখবর।

অন্যদিকে,
• 'খ্যাতি' এর প্রতিশব্দ: সুবাদ,
• 'সন্ধান' এর প্রতিশব্দ: অন্বেষা,
• 'বচন' এর প্রতিশব্দ: কথা, উক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,৫৬৭.
'কর্বূর' শব্দের অর্থ কী?
  1. দরিদ্র
  2. রাক্ষস
  3. প্রবৃত্তি
  4. পাথর
ব্যাখ্যা
• 'কর্বূর' শব্দের অর্থ - রাক্ষস।
- এটি সংস্কৃত শব্দ থেকে এসেছে এবং বাংলা সাহিত্যে, বিশেষত পৌরাণিক কাহিনী ও গল্পে রাক্ষস বা দানব প্রকৃতির জীবকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
• 'কর্বুর' শব্দের অর্থ - বিচিত্র বর্ণযুক্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,৫৬৮.
'হুলুস্থূল অবস্থা' অর্থে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ডামাডোল
  2. টুপ ভুজঙ্গ
  3. তুর্কি নাচন
  4. ঘু ঘু চরানো
ব্যাখ্যা
কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারার ও অর্থ:
পায়াভারী = অহঙ্কার 
কূপমণ্ডূক = সীমাবদ্ধ জ্ঞান 
ঘোল খাওয়ানো = জব্দ করা 
তুর্কি নাচন = হুলুস্থূল অবস্থা 
ডামাডোল = গোলযোগ 
ঘু ঘু চরানো = সর্বনাশ করা
ঘুনাক্ষর = সামান্য ইঙ্গিত 
চশমখোর = নির্লজ্জ
টুপ ভুজঙ্গ = নেশাগ্রস্ত

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৬,৫৬৯.
নিচের কোনটি ফারসি শব্দ?
  1. আয়াস 
  2. আমিরাত 
  3. আমানত 
  4. আমদানি
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'আমদানি' ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ।


• ফারসি শব্দ:
সেতার, গুনাহ, পরহেজগার, দরগা, চশমা, খানা, জায়নামাজ, নামায, রোজা, আইন, সালিশ, নালিশ, বাদশাহ, সুপারিশ, সর্দি, শিরোনাম, হাঙ্গামা, ফরমান, ফরিয়াদ, বান্দা, শাদি, আমদানি, সবজি, রসিদ।

অন্যদিকে, 
• আয়াস, আমিরাত ও আমানত আরবি ভাষার শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৬,৫৭০.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি?
  1. ক) পরিষ্কার
  2. খ) ষড়ানন
  3. গ) সংস্কার
  4. ঘ) ষোড়শ
  5. ঙ) পরিষ্কৃত
ব্যাখ্যা
কতকগুলো সন্ধি নিপাতনে সিদ্ধ হয়। যেমনঃ আশ্চর্য, গোষ্পদ, বনস্পতি, ষোড়শ, একাদশ ইত্যাদি।
১৬,৫৭১.
নিচের কোনটি প্রশাসনিক আরবি শব্দ?
  1. ক) আকিদা
  2. খ) আমদানি
  3. গ) আদমশুমারি
  4. ঘ) আমলা
ব্যাখ্যা
• আরবি শব্দ:
ক) ধর্মসংক্রান্ত : আল্লাহ, আমানত, আয়াত, আকিদা, আখিরাত, ইবাদত, ওযু, ওয়াজিক, কবর, কালেমা, কোরআন, কিয়ামত, কোরবানি, জাহান্নাম, দুনিয়া, দোয়া, ফরয, মসজিদ, মাদ্রাসা, মুসলিম, মিনার, যাকাত, রসূল, সালাত, সাওম, সুন্নাহ, সীরাত, হারাম, হালাল, হজ্জ, হাওয়া ইত্যাদি।
খ) প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক শব্দ: আইন, আদালত, আলেম, আক্কেল, আমল, আমলা, আমানত, আমির, আসামি, ইন্তেকাল, ইসলাম, ইজ্জত, ঈদ, উকিল, এজলাস, এজাহার, ওয়ারিশ, দোয়াত, কলম, কিতাব, খাজনা, খেসারত, হিসাব, কবুল, কেতাব, খতম, খেয়াল, গায়েব, জনাব, জমায়েত, জরিপ, জরিমানা, জলদি, জলসা, জুলুম, তালাক, দায়রা, দুনিয়া, মসজিদ, ফাজিল, মালিক, মিনার, মোল্লা, হাজত, হুকুম, হেফাজত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আদমশুমারি, আমদানি ফারসি প্রশাসনিক শব্দ।

তথ্যসূত্র: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬,৫৭২.
'দুনিয়া' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. তৎসম
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি  আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'দুনিয়া'- আরবি শব্দ।

• দুনিয়া (বিশেষ্য):
অর্থ:
পৃথিবী, বিশ্ব, ধরা, ধরিত্রী। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু আরবি শব্দ : 
- আদাব, খবর,মসলা, খাজনা, খালাস, জলসা, জেলা, দালাল, আদালত।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি। 
১৬,৫৭৩.
‘করা’ কী ধরনের শব্দ?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
ক্রিয়া থেকে যে বিশেষ্য পাওয়া যায় তাকে ক্রিয়া বিশেষ্য বলে।
অর্থাৎ ক্রিয়ার নামও এক ধরনের বিশেষ্য।
যেমন : পঠন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ (নতুন)
১৬,৫৭৪.
নিচের কোনগুলো বিরোধমূলক যোজক?
  1. কিন্তু, তবু
  2. না-হয়, অথচ
  3. এবং, ও
  4. কারণ, যেহেতু
ব্যাখ্যা

• যোজক শব্দের কাজ একাধিক পদ, খণ্ডবাক্য কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। অর্থ ও সংযোজনের ধরন অনুযায়ী যোজক বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে।
যেমন:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের শব্দশ্রেণি দুটি শব্দ কিংবা বাক্যকল্পকে জুড়ে দেয়। সাধারণ যোজক শব্দ হলো- এবং, ও, আর। যেমন : মিমিয়া আর আলিয়া দু বোন। সুখ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে না। স্কুলে যাও এবং পঠ মন দাও।

• বৈকল্পিক যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক পদ, বা বাক্যকল্প বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। বৈকল্পিক যোজক হলো- বা, না-হয়, অথচ। যেমন- সাদা বা কালো। তিনি হয় রিকশায় না হয় হেঁটে যাবেন। সারাদিন খুঁজলাম, অথচ বইটা পেলাম না।

• বিরোধমূলক যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি বাক্যের সংযোগ ঘটিয়ে দ্বিতীয়টির সাহায্যে প্রথম বাক্যের বিরোধ নির্দেশ করে। বিরোধমূলক যোজক হলো- কিন্তু, তবু। যেমন: তোমাকে চিঠি লিখেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি। এই বৃষ্টি হলো, তবু গরম গেল না।

• কারণবাচক যোজক: এ ধরনের যোজক এমন দুটি বাক্যের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। কারণবাচক যোজক হলো– কারণ, যেহেতু, তাই, অতএব। যেমন: জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ পরিবহন ধর্মঘট। যেহেতু ঠাণ্ডা লেগেছে, তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না। তুমি অপরাধী, অতএব শাস্তি পেতে হবে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের সংযোজক একে অন্যের পরিপুরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। সাপেক্ষ যোজক হলে যথা... তথা, যত .... তত, যখন ... তখন, যেমন তেমন, যেরূপ সেরূপ। যেমন: যত গর্জে তত বর্ষে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬,৫৭৫.
‘পেয়ারা’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) পর্তুগীজ
  2. খ) আরবী
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) গুজরাটি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,  
'পেয়ারা'- 'পর্তুগীজ' ভাষা থেকে আগত শব্দ।

'পেয়ারা' বলতে বোঝায়- ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে চাষ করা হয় এমন মাঝারি আকৃতির চিরহরিৎ উদ্ভিদের অসংখ্য ছোটো বীজবিশিষ্ট গোলাকৃতির ফল। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১৬,৫৭৬.
'শিবরাত্রির সলতে' বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. অহঙ্কার
  2. একমাত্র সন্তান
  3. নির্ভীক
  4. কদাচিৎ
ব্যাখ্যা
• 'শিবরাত্রির সলতে' বাগ্‌ধারার অর্থ - একমাত্র সন্তান বা বংশধর।

অন্যদিকে,
- 'কালে ভদ্রে' বাগধারা টির অর্থ - কদাচিৎ।
- ‘ডাকাবুকো’ বাগধারা টির অর্থ - নির্ভীক।
- ‘পায়া ভারি’ বাগধারা টির অর্থ - অহঙ্কার।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩) বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,৫৭৭.
নিচের কোন বাক্যে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ আছে?
  1. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
  2. মাথার উপরে নিল আকাশ।
  3. তাঁর সাথে কথা বলো না।
  4. ভালো করে খেয়ে নাও।
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ দেয়, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করতে সাহায্য করে, তাকে অনুসর্গ বলে।
অনুসর্গ ২ প্রকার:
- সাধারণ অনুসর্গ
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ 

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
• করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
• ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
• দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
• বলে: তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।

সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
• উপরে: মাথার উপরে নিল আকাশ।
• কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
• দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
• সাথে: তাঁর সাথে কথা বলয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১৬,৫৭৮.
নিচের কোন শব্দটিতে অপ-প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) একত্র
  2. খ) নির্ভরশীল
  3. গ) অধীনস্থ
  4. ঘ) ফলশ্রুতি
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত অপশন গুলোতে অধীনস্থ শব্দটিতে অপ-প্রয়োগ ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে অধীন।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৬,৫৭৯.
যে প্রত্যয় কোনো পদের নির্দিষ্টতা বোঝায়, তাকে কী বলে?
  1. কৃৎ প্রত্যয়
  2. পদাশ্রিত নির্দেশক
  3. উপসর্গ
  4. লিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• পদাশ্রিত নির্দেশক:
- কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো না কোনো পদের আশ্রয়ে বা সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলে।
- বাংলা নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক প্রত্যয় ইংরেজি Definite Article 'The' এর স্থানীয়।
- বচন ভেদে পদাশ্রিত নির্দেশক ভিন্ন হয়।

পদার্শিত নির্দেশকের বচনভেদে প্রয়োগ:
• একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টি, টা, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি।
উদাহরণ: কলমটি, বইটা, বৈঠকখানা, বইখানি, লাঠিগাছা, চুড়িগাছি ইত্যাদি।

• বহুবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি।
উদাহরণ: আমগুলি, ফলগুলো, বিড়ালগুলা প্রভৃতি।

• কোনো সংখ্যা বা পরিমাপের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টে, টুক, টুকু, টুকুন, টো, গোটা ইত্যাদি।
উদাহরণ: তিনটে চাল, ভাতটুকু, পায়েসটুকু, এতটুকুন মেয়ে দুটো ভাত, প্রভৃতি।

• পদাশ্রিত নির্দেশক 'গোটা' শব্দটি বচনবাচক ও সংখ্যাবাচক শব্দের আগে বসে অনির্দিষ্টিতা বোঝায়।
যেমন -
- গোটা দেশটাই গোল্লায় গেছে।
- গোটা দুই আম দাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,৫৮০.
'প্রভাতে সূর্য উঠে'- এখানে 'প্রভাতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তায় সপ্তমী
  2. খ) করণে সপ্তমী
  3. গ) অধিকরণে সপ্তমী
  4. ঘ) উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে।
যেমন,
প্রভাতে সূর্য উঠে।
(এতে 'এ' বিভক্তি থাকায়, এটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি)
শরতে শাপলা ফোটে।
(এতে 'এ' বিভক্তি থাকায়, এটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি)
আজকে নগদ কালকে ধার।
(এতে 'কে' বিভক্তি থাকায়, এটি অধিকরণ কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি)
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬,৫৮১.
নিচের কোনটি কৃদন্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. ভাজি
  2. বিবাহিত
  3. দৈনিক
  4. পাগলামি
ব্যাখ্যা

• কৃদন্ত শব্দ হলো যেসব শব্দ ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সাথে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয়।

অপশন বিশ্লেষণ:

ক) ভাজি-
- √ ভাজ্ (ধাতু) + ই (কৃৎ প্রত্যয়) = ভাজি।
অর্থ: ভাজা জিনিস, শাকসবজি।
এটি কৃদন্ত শব্দ।

খ) বিবাহিত-
- বিবাহ (বিশেষ্য) + ইত (তদ্ধিত প্রত্যয়) = বিবাহিত।
এটি তদ্ধিতান্ত শব্দ (বিশেষ্য থেকে গঠিত)।

গ) দৈনিক-
- দিন (বিশেষ্য) + ইক (তদ্ধিত প্রত্যয়) = দৈনিক।
এটি তদ্ধিতান্ত শব্দ (বিশেষ্য থেকে গঠিত)।

ঘ) পাগলামি-
- পাগল (বিশেষ্য/বিশেষণ) + আমি (তদ্ধিত প্রত্যয়) = পাগলামি।
এটি তদ্ধিতান্ত শব্দ (বিশেষ্য থেকে গঠিত)।

সঠিক উত্তর: ক) ভাজি।

'ভাজি' শব্দটি √ভাজ্ ধাতুর সাথে 'ই' কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত কৃদন্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬,৫৮২.
নিচের কোনটি সংস্কৃত ধাতুর উদাহরণ?
  1. ক্হ
  2. ক্থ
  3. নাচ্
  4. ঘষ্
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
যেমন- বাংলা, সংস্কৃত, বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
- যে-সব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমন - কাট্, কাঁদ, জান, নাচ্, ঘষ্ , কহ্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ধাতু:
- বাংলা ভাষায় যে-সব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন- কৃ, গম্, ধূ, গঠ, স্থা, ক্থ, ইত্যাদি।

• বিদেশাগত ধাতু:
- প্রধানত হিন্দি এবং ক্বচিৎ আরবি-ফারসি ভাষা থেকে যে-সব ধাতু বা ক্রিয়ামূল বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকে বিদেশাগত ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলা হয়।
যেমন: ভিক্ষে মেগে খায়। এ বাক্যে 'মাগ্‌' ধাতু হিন্দি 'মাহু' থেকে আগত। 

উল্লেখ্য,
• মৌলিক ধাতু:
- যে-সব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন-
চল্, পড়, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
১৬,৫৮৩.
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ কোনটি?
  1. হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র
  2. বাক্ + আড়ম্বর = বাগাড়ম্বর
  3. ষট্ + ঐশ্বর্য = ষড়ৈশ্বর্য
  4. শরৎ + ইন্দু = শরদিন্দু
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
এরূপ কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো-
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক + দশ = একাদশ,
- হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• নিয়ম অনুসারে গঠিত ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ-
- বাক্ + আড়ম্বর = বাগাড়ম্বর। 
- ষট্ + ঐশ্বর্য = ষড়ৈশ্বর্য।  
- শরৎ + ইন্দু = শরদিন্দু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,৫৮৪.
'তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ'- বাক্যটিকে জটিল বাক্যে পরিণত করলে হবে -
  1. ক) তুমি চেষ্টা করোনি এবং ব্যর্থ হয়েছ।
  2. খ) তুমি চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছ।
  3. গ) যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
  4. ঘ) তুমি চেষ্টা করিয়া ব্যর্থ হয়েছ।
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের জটিল রূপ হচ্ছে যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য রূপান্তর করার নিয়ম:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১৬,৫৮৫.
কোনটি চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য?
  1. গুরুগম্ভীর ও দুর্বোধ্য
  2. সহজবোধ্য ও সাবলীল
  3. শুধুমাত্র তৎসম শব্দবহুল
  4. শুধুমাত্র আঞ্চলিক শব্দবহুল
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
- চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
- চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
- চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
- চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
- চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল। চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৬,৫৮৬.
'ধোপা' শব্দের শুদ্ধ নারীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ধোপিনী
  2. ধোপানি
  3. ধোপী
  4. ধোপাইন
ব্যাখ্যা
নী/নি -প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ:
• কামার - কামারনী,
• জেলে - জেলেনী,
• কুমার - কুমারনী,
ধোপা -ধোপানি ,
• মজুর - মজুরনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৬,৫৮৭.
কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সরলতা
  2. লঘুত্ব
  3. ধৈর্যতা
  4. বহুলতা
ব্যাখ্যা
• 'ধৈর্যতা' - শব্দটিতে প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে।

• এখানে, 
- 'ধৈর্য' শব্দটি বিশেষ্য।

- কোন বিশেষ্য পদের সাথে আবার তা অথবা ত্ব প্রত্যয় যুক্ত করা হলে, যে শব্দটি হয় তা ভুল। 
- তা, ত্ব প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে। 
তাই,
বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।

অন্যদিকে,
সরলতা, লঘুত্ব, বহুলতা - শব্দগুলোতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।
----------------------------- 
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

• অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
- একত্রিত - একত্র;
- অধীনস্থ - অধীন;
- করিতকর্মী - করিতকর্মা;
- গণ্যনীয় - গণনীয়;
- জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
- ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
- পুজ্য - পূজ্য;
- বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,৫৮৮.
গঠনগত দিক অনুযায়ী বাংলা বাক্য কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. ক) দুই ভাগে
  2. খ) চার ভাগে
  3. গ) তিন ভাগে
  4. ঘ) পাঁচ ভাগে
ব্যাখ্যা
• এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- গঠনগত দিক দিয়ে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

যেমন,
১. সরল বাক্য,
২. জটিল বাক্য,
৩. যৌগিক বাক্য।

সরল বাক্য: একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন- ফারিয়া সকলের জন্য নাস্তা বানিয়েছে।

জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন- যদি তুমি জিততে চাও, তবে শত্রুকে বন্ধু বানিয়ে ফেলো। 

যৌগিক বাক্য: এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন- রহিম রাতে পরটা খায় আর করিম খায় খিচুড়ি।

 তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬,৫৮৯.
‘রাত্রিকালীন যুদ্ধ’ কে এক কথায় কী বলে?
  1. ত্রিযামা
  2. সৌপ্তিক
  3. তমিস্রা
  4. তামসী
ব্যাখ্যা

- ‘রাত্রিকালীন যুদ্ধ’ এক কথায় বলে - সৌপ্তিক।

আরো কিছু গুরুত্বপুর্ণ বাক্য সংকোচন:
- ‘রাত্রির প্রথম ভাগ’ এক কথায় বলে -পূর্বরাত্র।
- ‘রাত্রির মধ্যভাগ’ এক কথায় বলে - মহানিশা। 
- ‘রাত্রির তিনভাগ একত্রে' এক কথায় বলে - ত্রিযামা। 
- ‘ঘোর অন্ধকার রাত্রি’ এক কথায় বলে - তমিস্রা।
- ‘অন্ধকার রাত্রি’ এক কথায় বলে - তামসী।
- ‘কৃষ্ণপক্ষের শেষ তিথি’ এক কথায় বলে - অমাবস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৫৯০.
সাধারণ অনুসর্গ নয় কোনটি?
  1. দ্বারা
  2. ধরে
  3.  জন্য
  4. কাছে
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. সাধারণ অনুসর্গ ও
২. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ:
সাধারণ অনুসর্গ যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলােকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে: হারানাে ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা: এমন কাজ তােমার দ্বারা হবে না।
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬,৫৯১.
'হ্ন' যুক্তবর্ণটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. হ্ + ম
  2. ঞ্ + হ
  3. হ্ + ন
  4. ন্ + হ
ব্যাখ্যা

• 'হ্ন' যুক্তবর্ণটি গঠিত হয়েছে - হ্ + ন = হ্ন

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- হ্ + ম = হ্ম,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ঋ = হৃ,
- হ্ + ন = হ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।

১৬,৫৯২.
কোনটি জিহ্বামূলীয় বর্ণ?
ব্যাখ্যা

উচ্চারণস্থান অনুসারে বর্ণের নাম:

যেমন:
কণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ: অ, আ, ক, খ, গ, ঘ, , হ।
তালব্য বর্ণ: ই, , চ, ছ, জ, ঝ, , য, য়, শ।
ওষ্ঠ্য বর্ণ: উ, উ, প, ফ, ব, ভ, ম।
মূর্ধন্য বর্ণ: , ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ়, ষ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৬,৫৯৩.
লিঙ্গান্তর হয় না কোন শব্দটির?
  1. ডাক্তার
  2. ধোপা
  3. কেরানি
  4. নাপিত
ব্যাখ্যা
কিছু শব্দের লিঙ্গান্তর হয় আর কিছু শব্দের লিঙ্গান্তর হয় না। এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক এবং নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে। যেমন:

নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
কবিরাজ, রাষ্ট্রপতি, সেনাপতি, দলপতি, ঢাকী, কৃতদার, বিচারপতি, পুরোহিত, কেরানি, অকৃতদার, যোদ্ধা।

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
সধবা, রূপসী, সৎমা, অর্ধাঙ্গিনী, শাকচুন্নি, কলঙ্কিনী, অন্তঃসত্ত্বা, অসূর্যস্পশ্যা, ডাইনি, কুলটা, দাই, শাখচুন্নি, বাইজি।
১৬,৫৯৪.
’যা হৃদয় বিদীর্ণ করে’-এর এক কথায় প্রকাশ-
  1. হৃদয়ঙ্গম
  2. হৃতসর্বস্ব
  3. হৃদয়বিদারক
  4. বিদীর্নহৃদয়
ব্যাখ্যা
- ’যা হৃদয় বিদীর্ণ করে’-এর এক কথায় প্রকাশ- হৃদয়বিদারক।

অন্যদিকে,
- ’যা হৃদয় বিদীর্ণ হয়েছে’-এর এক কথায় প্রকাশ- বিদীর্নহৃদয়।
- ’যা হৃদয়ে গমন করে’-এর এক কথায় প্রকাশ- হৃদয়ঙ্গম।
- ’যার সর্বস্ব চুরি গেছে ’-এর এক কথায় প্রকাশ- হৃতসর্বস্ব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,৫৯৫.
‘কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া’ - এ বাক্যে ‘হেতু’ অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. মতো
  2. নিমিত্ত
  3. ন্যায় 
  4. মাঝারে
ব্যাখ্যা

• ‘কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া’ বাক্যে ‘হেতু’ অনুসর্গটি 'নিমিত্ত' অর্থ প্রকাশ করছে।

উল্লেখ্য,
নিমিত্ত শব্দের অর্থ- উপলক্ষ; উদ্দেশ্য; প্রয়োজন।

কিছু অনুসর্গের ব্যবহার: 
• 'বোকার মতো কাজ করো না।'- 'মতো' অনুসর্গটি 'ন্যায়' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• আমার কাছে আর কে আসবে?- 'কাছে' অনুসর্গটি 'নিকট' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• নিমেষ মাঝেই সব শেষ।- 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
• ‘সীমার মাঝে অসীম তুমি।' - 'মধ্যে' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। 
• 'এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।' - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'একদেশিক' অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'আছ তুমি প্রভু, জগৎ মাঝারে।' - 'মাঝারে' অনুসর্গটি 'ব্যাপ্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'সীমার মাঝে অসীম তুমি।' - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'নিমেষ মাঝেই সব শেষ।' - 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬,৫৯৬.
আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে কোন শব্দ জোড়টি শুদ্ধ?
  1. ক) অর্ঘ, অর্ঘ্য
  2. খ) পুত, পূত
  3. গ) নারি, নারী
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
অর্ঘ = মূল্য।
অর্ঘ্য = পূজার অপকরণ। 

পুত = পুত্র, ছেলে, পুত্রসন্তান।
পূত = পবিত্র। 

নারী = স্ত্রীলোক; রমণী; মহিলা।
নারি = পারি না [যারে সইতে নারি, তার চলন বাঁকা]

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৬,৫৯৭.
নিচের কোনটি ঘোষ অল্পপ্রাণ বর্ণ?
  1. ফ 
  2. ড 
ব্যাখ্যা

• 'ড’ - ঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫)।

১৬,৫৯৮.
‘উপকূল’ শব্দে ‘উপ’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সদৃশ
  2. বিপরীত
  3. অপূর্ণ
  4. নিকট
ব্যাখ্যা
• 'উপ' সংস্কৃত উপসর্গের উদাহরণ। 
• নিকট অর্থে 'উপ' সংস্কৃত উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ ‘উপকূল’।

==========
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬,৫৯৯.
নিচের কোনটি অগ্নি শব্দের সমার্থক শব্দ নয়?
  1. ক) অনল
  2. খ) পাবক
  3. গ) প্রভা
  4. ঘ) সর্বভুক
ব্যাখ্যা
• 'অগ্নি/আগুন' এর সামর্থক শব্দ =  অনল, বহ্নি, হুতাশন, কৃশানু পাবক, দহন, সর্বভুক, , পিঙ্গল, হিমারতি, বায়ুসখা, শুচি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
'প্রভা' = দীপ্তি শব্দের সমার্থক শব্দ। 
'প্রভা' শব্দের  অন্যান্য সমার্থক শব্দ = আলোক, আভা, জ্যোতি, ময়ূখ, দ্যুতি, কিরণ, বিভা, অংশু ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরন ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,৬০০.
'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ -
  1. চপলা
  2. বিজুরি
  3. সৌদামিনী
  4. প্রভঞ্জন
ব্যাখ্যা
'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুৎ, প্রভঞ্জন

অন্যদিকে:
'বিদ্যুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- তড়িৎ, বিজলি, বিজুরি, অশনি, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, দামিনী, চপলা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।