বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১৬৪ / ৩৫৪ · ১৬,৩০১১৬,৪০০ / ৩৫,৭১৩

১৬,৩০১.
পুত্রের নিকট মাতার পত্রের সম্বোধন কোনটি হবে?
  1. ক) পাকজনাবেষু
  2. খ) শ্রদ্ধাস্পদ
  3. গ) পাকজনাব
  4. ঘ) স্নেহাস্পদ
ব্যাখ্যা

- স্নেহাস্পদ অর্থ স্নেহের পাত্র, স্নেহভাজন৷ পত্র লিখার সময় এটি কনিষ্ঠজনকে সম্বোধন করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়৷
- অপরদিকে, পাকজনাবেষু; শ্রদ্ধাস্পদ গুরুজনকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়৷

সুতরাং বলা যায় পুত্রের নিকট মাতার পত্রের সম্বোধন হবে স্নেহাস্পদ যা অপশন (ঘ) তে আছে।

উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷

১৬,৩০২.
‘হরিণের চামড়ার আসন’ এর বাক্য সংকোচন কোনটি?
  1. ক) অজিনাসন
  2. খ) কৃত্তি
  3. গ) অজিন
  4. ঘ) নির্মোক
ব্যাখ্যা
• হরিণের চামড়ার আসন - অজিনাসন

• কয়েকটি বাক্য সংকোচন:
- হরিণের চামড়া: অজিন।
- বাঘের চামড়া: কৃত্তি।
- সাপের চামড়া: নির্মোক।
- হাতির শাবক: করভ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,৩০৩.
‘ক্ষতি’ -এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. অনুকূল
  2. ব্যবসা
  3. সামান্য
  4. ফায়দা
ব্যাখ্যা
• ‘ক্ষতি’ শব্দের অর্থ - লোকসান; হানি; অপচয়, অর্থনাশ; অনিষ্ট; ক্ষয়।
• ‘ফায়দা’ শব্দের অর্থ - লাভ; সুফল; উপকার; সুবিধা; সুযোগ।

• শব্দের অর্থানুসারে, 'ক্ষতি' এর বিপরীতার্থক শব্দ - ফায়দা

আরো কিছু বিপরীতার্থক শব্দ:
- 'চিন্ময়' শব্দের বিপরীতর্থক শব্দ = অচেতন / জড়।
- 'গ্রহীতা' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ = দাতা।
- 'অমৃত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ = গরল।
- 'গ্রহণ' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ = বর্জন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,৩০৪.
'Apparatus' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. নাকচকরণ
  2. সরঞ্জাম
  3. চুক্তি
  4. সঙ্কট
ব্যাখ্যা
• 'Apparatus' এর বাংলা পরিভাষা: 'সরঞ্জাম'।

অন্যদিকে, 
Annulment এর বাংলা পরিভাষা:- 'নাকচকরণ'। 
Covenant এর বাংলা পরিভাষা:- চুক্তি।
Crisis এর বাংলা পরিভাষা:- 'সঙ্কট'। 

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি। 
১৬,৩০৫.
ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী কোনটি অশুদ্ধ?
  1. চিকীর্ষা
  2. ভূমিষাৎ
  3. অভিষেক
  4. বর্ষণ
ব্যাখ্যা
ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী অশুদ্ধ - ভূমিষাৎ। 

‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:

১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে স হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,৩০৬.
যেসব পদের সমন্বয়ে সমাস হয় তাকে কী বলে?
  1. ক) সমস্তপদ
  2. খ) সমস্যমান পদ
  3. গ) পূর্বপদ
  4. ঘ) উভয়পদ
ব্যাখ্যা
সমাসের জন্য প্রয়োজনীয় কয়েকটি সংজ্ঞা:
ব্যাসবাক্য: যে বাক্যাংশ থেকে সমাসের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে বলা হয় ব্যাসবাক্য। একে সমাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়।

সমস্ত পদ: ব্যাসবাক্য থেকে সমাসের মাধ্যমে যে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে বলা হয় সমস্ত পদ।

সমস্যমান পদ: ব্যাসবাক্যের যে সব শব্দ সমস্ত পদে অন্তর্গত থাকে, সমস্ত পদের সেই সব শব্দকে সমস্যমান পদ বলে। অর্থাৎ যেসব পদের সমন্বয়ে সমাস হয় তাকে  সমস্যমান পদ  বলে।

পূর্বপদ: সমস্ত পদের প্রথম অংশ/ শব্দকে পূর্বপদ বলে। অর্থাৎ, সমস্ত পদের প্রথম সমস্যমান পদই পূর্বপদ।

পরপদ / উত্তরপদ: সমস্ত পদের শেষ অংশ / শব্দকে পরপদ / উত্তরপদ বলে। অর্থাৎ, সমস্ত পদের শেষ সমস্যমান পদই পরপদ।

যেমন, সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
এখানে ব্যাসবাক্য হলো- ‘সিংহ চিহ্নিত আসন’।
আর সমস্ত পদ হলো ‘সিংহাসন’। সমস্যমান পদ হলো ‘সিংহ’ আর ‘আসন’। এদের মধ্যে ‘সিংহ’ পূর্বপদ, আর ‘আসন’ পরপদ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬,৩০৭.
ষ-ত্ব বিধানের ক্ষেত্রে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদে 'ষ' হয়
  2. উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়
  3. ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স 'ষ' হয়
  4. ঋ'এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধানের ক্ষেত্রে অশুদ্ধ- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদে 'ষ' হয়। 
• শুদ্ধ তথ্যয়- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

---------------------
• ষ ব্যবহারের নিয়ম:

১. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স 'ষ' হয়।
যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

২. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

৩. ঋ'এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
৪. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ ইত্যাদি।

৫. র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়। যথা: পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা: পুরস্কার।
৬. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়। যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি। 

৭. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

'ষ' এর ব্যবহার প্রযোজ্য নয় যেসব ক্ষেত্রে-
• বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। যেমন জিনিস, পোশাক, -মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬,৩০৮.
'লাঠি' ও 'চাউল' শব্দ দুটি-
  1. দেশি শব্দ
  2. তদ্ভব শব্দ
  3. বিদেশি শব্দ
  4. তৎসম শব্দ
ব্যাখ্যা
• 'লাঠি' ও 'চাউল' শব্দ দুটি দেশি শব্দ। 
----------------- 
• দেশি শব্দ:
- বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের ব্যবহৃত শব্দসমূহকে বাংলা ভাষায় বলা হয় দেশি শব্দ।
- বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের সংস্কৃতির কিছু কিছু শব্দ আর্যদের প্রভাবে পরিবর্তিত না হয়ে অবিকৃতভাবে বাংলা ভাষায় রক্ষিত আছে, এসব শব্দকে বলা হয় দেশি শব্দ ।
----------- 
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী,
চাউল (বিশেষ্য)
- দেশি শব্দ।
অর্থ:
- চাল,
- তণ্ডুল।
- ধানের খোসা ছাড়িয়ে আহৃত শস্য (বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবাসীর অন্যতম প্রধান খাদ্যশস্য।
-----------
• 'লাঠি' - দেশি শব্দ। 
শব্দের অর্থ: যষ্টি; অপেক্ষাকৃত কম মোটা বা ছোট দণ্ডবিশেষ; লগুড়।

তবে, 
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
লাঠি শব্দটি তদ্ভব, কারণ সংস্কৃত - যস্টি> (প্রাকৃত) লাট্‌ঠি>লাঠি। 
--------------- 
প্রশ্নটি সম্ভবত মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়) বই থেকে করা হয়েছে, তাই বই অনুসারে লাঠি শব্দটির সঠিক উত্তর দেশি হিসেবে নেয়া হয়েছে। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬,৩০৯.
"Disputant" এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. অযোগ্যতা
  2. স্বাতন্ত্র্য
  3. বিবাদি
  4. সামঞ্জস্য
ব্যাখ্যা
• "Disputant" এর বাংলা পরিভাষা - 'বিবাদি'।

অন্যদিকে, 
Disqualification - অযোগ্যতা,
Distinction - স্বাতন্ত্র্য,
Harmony - সামঞ্জস্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
১৬,৩১০.
Penny wise pound _____ .
  1. ক) callous
  2. খ) foolish
  3. গ) rich
  4. ঘ) poor
ব্যাখ্যা
Penny-wise, pound-foolish.
তুলনীয় পিছন দিয়ে হাতি যাক, কিন্তু সামনে দিয়ে সুচও গলতে পারে না এমন / বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো।

Source: Live MCQ Lecture
১৬,৩১১.
'শতদল' শব্দের অর্থ:
  1. বিরাট
  2. পদ্ম
  3. নদী
  4. জল
ব্যাখ্যা
• 'শতদল' শব্দের অর্থ - পদ্ম

‘পদ্ম’ শব্দের সমার্থক শব্দ:

- কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, কুবলয়, শতদল, অরবিন্দ, রাজীব, নলিনী, সরোজ।

অন্যদিকে,
'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- নদ, নদনদী, তটিনী, প্রবাহিণী, তরঙ্গিনী, শৈবালিনী, স্রোতস্বিনী ইত্যাদি।

‘পানি’ শব্দের আরো কিছু সমার্থক শব্দ:
- জল, সলিল, নীর, পয়ঃ, অপ, উদক, জীবন, অম্বু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড.. হায়াৎ মামুদ।
১৬,৩১২.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি ?
  1. ক) বিপদ হতে সতর্ক থাকিও।
  2. খ) ব্যাকুলিত চিত্তে আমি তাকে দেখতে পেলাম।
  3. গ) মাদকাশক্তি ভালো নয়।
  4. ঘ) তাহার সৌজন্যেতায় মুগ্ধ হয়েছি।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপ- 
- ব্যাকুল চিত্তে আমি তাকে দেখতে পেলাম। 
- মাদকাসক্তি ভালো নয়।
- তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬,৩১৩.
‘ছ, ঝ, শ’- উচ্চারণস্থান অনুযায়ী কোন ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1. দন্ত্য ব্যঞ্জন
  2. তালব্য ব্যঞ্জন
  3. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  4. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন: চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনিগুলো হলো- ক, খ, গ, ঘ, ঙ।

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬,৩১৪.
ব্রাহ্মী লিপির রূপ নয় কোনটি?
  1. সারদা
  2. বোড়ো
  3. নাগর
  4. কুটিল
ব্যাখ্যা
• ব্রাহ্মী লিপির রূপ নয়- বোড়ো। 

• বাংলা লিপির উৎপত্তি ও বিকাশ:

প্রায় আড়াই বছর আগে উপমহদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়। ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির পরিবর্তিত রূপ। অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুর প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়। সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো।

• বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে ব্রাহ্মী লিপি থেকে।
- তাই বাংলা বর্ণমালার উৎস ব্রাহ্মী লিপি। 

• ব্রাহ্মী লিপির তিনটি রূপ রয়েছে।
- সারদা,
- নাগর ও
- কুটিল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩১৫.
'এখন তবে আসি।' - বাক্যটি কোন বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. ঘটমান
  2. সাধারণ
  3. পুরাঘটিত
  4. অনুজ্ঞা
ব্যাখ্যা

সাধারণ বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।

যেমন:
- সে ভাত খায়।
- আমি বাড়ি যাই।

সাধারণ বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
(১) অনুমতি প্রার্থনায় (ভবিষ্যৎ কালের অর্থে): এখন তবে আসি।
(২) প্রাচীন লেখকের উদ্ধৃতি দিতে (অতীত কালের অর্থে): চণ্ডীদাস বলেন, 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'
(৩) বর্ণিত বিষয় প্রত্যক্ষীভূত করতে (অতীতের স্থলে): আমি দেখেছি, বাচ্চাটি রোজ রাতে কাঁদে।
( ৪) 'নেই', 'নাই' বা 'নি' শব্দযোগে অতীত কালের ক্রিয়ায়: তিনি গতকাল হাটে যাননি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬,৩১৬.
পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে কী বলে?
  1. স্বরলোপ
  2. অপিনিহিতি
  3. অন্তর্হতি
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতি:
- পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।

অন্যদিকে,
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ - দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।
ব্যঞ্জনচ্যুতি - পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়।
অন্তর্হতি- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৬,৩১৭.
‘অলাতচক্র’ শব্দের অর্থ কী?
  1. শত্রুদল
  2. অগ্নিবলয়
  3. মুক্তিবাহিনী
  4. জলন্ত কয়লা
ব্যাখ্যা
• অলাতচক্র (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- জ্বলন্ত বস্তুকে চক্রাকারে ঘোরালে যে অগ্নিবলয় দেখা যায়।
- বহ্নিবলয়।

অন্যদিকে,
• ‘অলাত’ শব্দের অর্থ: জ্বলন্ত কয়লা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,৩১৮.
’উগ্র’ এর বিপরীত শব্দ-
  1. ক) অনুগ্র
  2. খ) সৌম্য
  3. গ) ধীর
  4. ঘ) স্থির
ব্যাখ্যা
’উগ্র’ এর বিপরীত শব্দ- মৃদু / সৌম্য 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ:
'অনুরক্ত' এর বিপরীত শব্দ - বিরক্ত
'উদ্ধত' এর বিপরীত শব্দ-বিনীত 
'সৌম্য' শব্দের বিপরীত শব্দ -'উগ্র'
'অনুমেয়' এর বিপরীত শব্দ - অননুমেয় 
'নিয়ত' এর বিপরীত শব্দ -  বিরত 
'প্রবিষ্ট' এর বিপরীত শব্দ - প্রস্থিত 
'দরদি' এর বিপরীত শব্দ-নির্দয় 
'ঔদ্ধত্য' এর বিপরীত শব্দ-বিনয় 

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ
১৬,৩১৯.
"ধর্ম > ধরম" - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. বিপ্রকর্ষ
  2. অপিনিহিতি
  3. আদি স্বরাগম
  4. অন্ত্যস্বরাগম
ব্যাখ্যা

বিপ্রকর্ষ, মধ্যস্বরাগম বা স্বরভক্তি:
- মাঝে মাঝে উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি এলে তাকে মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি বলে।

যেমন:
- রত্ন > রতন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- গ্রাম > গেরাম,
- ধর্ম > ধরম,
- শ্লোক > শোলোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৬,৩২০.
‘পিত্রিচ্ছা’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) পিত্রি + ইচ্ছা
  2. খ) পিতার + ইচ্ছা
  3. গ) পিতা + ইচ্ছা
  4. ঘ) পিতৃ + ইচ্ছা
ব্যাখ্যা
• সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: পিতৃ + ইচ্ছা = পিত্রিচ্ছা।

সূত্র: ঋ ধ্বনির পর যদি ঋ না থেকে অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে ঋ এর জায়গায় র হয়। র ফা পূর্ব বর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন:
- পিতৃ + অর্থ = পিত্রর্থ।
- পিতৃ + ইচ্ছা = পিত্রিচ্ছা।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৬,৩২১.
'Custom' শব্দের বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. শুল্ক
  2. রাজস্বনীতি
  3. অভ্যাস
  4. আইন
ব্যাখ্যা

• ‘Custom' শব্দের পারিভাষিক অর্থ - প্রথা, অভ্যাস, সামাজিক রীতিনীতি।

অন্যদিকে,
- ‘Customs’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ - শুল্ক বিভাগ।
- ‘Act’ এর পারিভাষিক শব্দ - আইন।
- ‘Duty’ এর পারিভাষিক শব্দ - শুল্ক।

উৎস: প্রসাশসিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।

১৬,৩২২.
'ট, ঠ, ড' কোন ধরনের স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন?
  1. কণ্ঠ স্পৃষ্ট
  2. মূর্ধা স্পষ্ট
  3. ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
  4. দন্ত স্পৃষ্ট
ব্যাখ্যা

• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।
যথা:
ফল, থলে, ঠাণ্ডা, ছুরি, খেলা শব্দের ফ, থ, ঠ, ছ, খ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী এগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
মূর্ধা স্পষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১৬,৩২৩.
'দালান' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) ফারসি
  2. খ) ফরাসি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) হিন্দি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
দালান (বিশেষ্য):
- ফারসি শব্দ।
অর্থ:
- ইটের তৈরি গৃহ; পাকা বাড়ি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,৩২৪.
'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক - 
  1. পয়োধি
  2. সবিতা
  3. সৌদামিনী
  4. বিজুরি
ব্যাখ্যা

'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক:
- সাগর, সিন্ধু, সায়র, দরিয়া, জলধি, অকূল, পাথার, বারিধি, রত্নাকর, নীলাম্বু, পয়োধি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- রবি, তপন, ভানু, ভাস্কর, আদিত্য, সবিতা, প্রভাকর, দিবাকর, বিভাবসু, দিনমণি, মার্তণ্ড, অংশুমালী, অরুণ।

'বিদ্যুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- তড়িৎ, বিজলি, বিজুরি, অশনি, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, দামিনী, চপলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৬,৩২৫.
'নিশ্চেষ্ট' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) দুশ্চেষ্ট
  2. খ) দুর্ভাগ্য
  3. গ) দুর্লভ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সচেষ্ট শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ হলো নিশ্চেষ্ট। দুর্ভাগ্য শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ হলো সৌভাগ্য।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান
১৬,৩২৬.
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. রঙিন
  2. ভাঙা
  3. রঙ 
  4. বাঙালি
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান- রঙ। 

​• বানানের নিয়ম:

শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার (ং) ব্যবহৃত হবে।
যেমন: গাং, ঢং, পালং, রং, রাং, সং।

• তবে অনুস্বারের সঙ্গে স্বর যুক্ত হলে ঙ হবে।
যেমন: বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের।

- ব্যতিক্রম: বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দে অনুস্বার থাকবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৬,৩২৭.
'দুধ থেকে দই হয়।'- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারকে তৃতীয়া
  2. অপাদান কারকে চতুর্থী
  3. অধিকরণ কারকে সপ্তমী
  4. অপাদান কারকে পঞ্চমী
ব্যাখ্যা

দুধ থেকে দই হয়।’ - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।

• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে।-অপাদান কারকে পঞ্চমী। 
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।- অপাদান কারকে পঞ্চমী।
- বিরত: পাপে বিরত হও। - অপাদান কারকে সপ্তমী।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।

১৬,৩২৮.
Misconduct এর সঠিক পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) নিরুদ্দিষ্ট
  2. খ) অপকর্ম
  3. গ) বিভ্রান্তিকর
  4. ঘ) দুশ্চরিত
ব্যাখ্যা
Misconduct এর সঠিক পারিভাষিক শব্দ = দুশ্চরিত 
অন্যদিকে, 
Missing = নিখোঁজ, হারানো, নিরুদ্দিষ্ট
Misleading = বিভ্রান্তিকর 
Misdeed = অপকর্ম 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান
১৬,৩২৯.
'Bond' শব্দের বাংলা পরিভাষা-
  1. ক) জোটবদ্ধ
  2. খ) মুচলেকা
  3. গ) মিত্রশক্তি
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
'Bond' শব্দের বাংলা অর্থ- প্রতিজ্ঞাপত্র, মুচলেকা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩৩০.
কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. তাহাতে
  2. তাদের
  3. ইহারা
  4. তাহার
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষা ও চলিত ভাষায় সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:
সাধু - চলিত:
তাহার-তার, 
→ তাহাদের-তাদের
তাহাতে-তাতে, 
→ তাহারা-তারা, 
→ তাহাকে-তাকে, 
ইহারা-এরা, 
→ ইহাদের-এদের।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৬,৩৩১.
প্রত্যুত্তর কোন অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস?
  1. ক) সামীপ্য
  2. খ) ক্ষুদ্র অর্থে
  3. গ) প্রতিদ্বন্দ্বী
  4. ঘ) অভাব
ব্যাখ্যা
প্রত্যুত্তর, প্রতিপক্ষ হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস। 

- পূর্বপদ অব্যয়ের সাথে পরপদ বিশেষ্যের যে সমাস হয় , তাকে এই অব্যয়ীভাব সমাস বলে। 
- অব্যয়ের অর্থই প্রধান এবং সমস্তপদটি অব্যয়ের ভাবপ্রাপ্ত হয় , তাই এর নাম অব্যয়ীভাব সমাস। 
- 'অব্যয়ীভাব' অর্থ হচ্ছে অব্যয়ের ভাব বর্তমান।  

সূত্র- ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।  
১৬,৩৩২.
'চালান' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √চাল্‌ + আন
  2. √চালা্‌ + আন
  3. √চাল্‌ + অন
  4. √চালো + আন
ব্যাখ্যা
• 'আন'-কৃৎ প্রত্যয়: 
(-আন্) ণিজন্ত ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- √জানা + আন = জানান,
- √মানা + আন = মানান,
- √চালা্‌ + আন = চালান ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,৩৩৩.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি?
  1. অন্যান্য
  2. সীমান্ত
  3. রক্তৌষ্ঠ
  4. বিম্বোষ্ঠ
ব্যাখ্যা

প্রথম পদের শেষের ই-ধ্বনি বা ঈ-ধ্বনি এবং দ্বিতীয় পদের প্রথমে অন্য কোনো স্বরধ্বনি থাকলে ই/ঈ-র জায়গায় য-ফলা হয় এবং পরের স্বরধ্বনির চিহ্ন পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন:
সীমা + অন্ত = সীমান্ত।
অতি + অন্ত = অত্যন্ত,
আদি + অন্ত = আদ্যন্ত ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
সীমন + অত = সীমন্ত; আবার নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ।
অন্যোন্য = অন্য + অন্য
সীমন্ত = সীমন + অন্ত
বিম্বোষ্ঠ = বিম্ব + ওষ্ঠ
রক্তোষ্ঠ = রক্ত + ওষ্ঠ
 
নিয়ম অনুসারে স্বরসন্ধি
অন্যান্য = অন্য + অন্য
সীমান্ত = সীমন + অন্ত
বিম্বৌষ্ঠ = বিম্ব + ওষ্ঠ
রক্তৌষ্ঠ = রক্ত + ওষ্ঠ

উৎস : নবম—দশম শ্রেণির নতুন ব্যাকরণ বই, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ ও হায়াৎ মামুদের ভাষা—শিক্ষা।

১৬,৩৩৪.
'ভিজে বিড়াল' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. অলস ব্যক্তি
  2. কপট ব্যক্তি
  3. বেহায়া ব্যক্তি
  4. গুমরামুখো লোক
ব্যাখ্যা
• 'ভিজে বিড়াল' বাগ্‌ধারাটির অর্থ- কপট ব্যক্তি।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- পায়া ভারি - অহঙ্কার।
- কানকাটা - বেহায়া।
- কূপমুন্ডক = সীমাবদ্ধ জ্ঞান।
- কাকভূষণ্ডী - দীর্ঘজীবী।
- বকধার্মিক - ভণ্ড।
- বুদ্ধির ঢেঁকি -  নির্বোধ।
- তামার বিষ = অর্থের কুপ্রভাব।
- গোঁফ খেজুরে = নিতান্ত অলস।
- একাদশে বৃহস্পতি = সৌভাগ্যের বিষয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,৩৩৫.
সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত নিচের কোনটি দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. ক) তালাচাবি
  2. খ) ছোট-বড়
  3. গ) আসা-যাওয়া
  4. ঘ) চালচলন
ব্যাখ্যা
চালচলন শব্দটি সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ। 

- ছোট-বড়, আসা-যাওয়া হচ্ছে বিপরীতার্থক অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- তালাচাবি  হচ্ছে ভিন্নার্থক শব্দ যোগে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। 
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা। 
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়। 

সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি। 
 
১৬,৩৩৬.
শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
  2. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
  3. সে সম্ভ্রান্তশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  4. অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।

⇒ বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:

বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়। যেমন : আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে -ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়। 

প্রচলিত কিছু অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধরূপ হলো- 

• অশুদ্ধ: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

• অশুদ্ধ: সে সম্ভ্রান্তশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
• শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।

• অশুদ্ধ: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,৩৩৭.
কোনটি সাধুরীতির অব্যয়পদ?
  1. প্রায়ই
  2. তবুও
  3. অদ্য
  4. নইলে
ব্যাখ্যা
অব্যয়পদের রূপের পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
অদ্য - আজ,
→ অদ্যাপি - আজও,
→ কদাচ - কখনো,
→ তথাপি - তবুও,
→ নচেৎ - নইলে,
→ নতুবা - নইলে,
→ প্রায়শ - প্রায়ই,
→ যদ্যপি - যদিও।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৬,৩৩৮.
'Aerial Shoot' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. বিমান শাখা
  2. বিস্তার
  3. বিমান-পরিবহন
  4. বিমানঘাঁটি
ব্যাখ্যা
• 'Aerial Shoot' এর বাংলা পরিভাষা হচ্ছে- বিস্তার।

অন্যদিকে:
- 'Aerial Section' এর বাংলা পরিভাষা হচ্ছে- বিমান শাখা।
- 'Aerial Transport' এর বাংলা পরিভাষা হচ্ছে- বিমান-পরিবহন।
- 'Aerodrome' এর বাংলা পরিভাষা হচ্ছে- বিমানঘাঁটি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
১৬,৩৩৯.
'কুজ্ঝটিকা' শব্দের যুক্তবর্ণটি কোন দুটি বর্ণের সংযােগে গঠিত?
  1. জ্‌ + ঝ
  2. ঝ+ ঝ
  3. ঝ + জ
  4. জ্‌ + জ
ব্যাখ্যা
 'কুজ্ঝটিকা' শব্দের যুক্তবর্ণটি জ্ঝ=  জ্‌ + ঝ

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- ক্ষ = ক + ষ,
- হ্ম = হ + ম,
- ষ্ণ = ষ + ণ।
- ঞ্চ = ঞ্ + চ 
- ঞ্ছ =  ঞ্ + ছ
- ঞ্জ = ঞ্ + জ

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯]
১৬,৩৪০.
বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি। বাক্যে 'ধরে' কোন পদ? 
  1. ক) সর্বনাম
  2. খ) যোজক
  3. গ) অনুসর্গ
  4. ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন - সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না। - এই বাক্যে ছাড়া একটি অনুসর্গ।
  
কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।
যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘কে’ ‘র’, - ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে। 

'বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।' বাক্যে 'ধরে' একটি অনুসর্গ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬,৩৪১.
নিচের কোনটির নিজস্ব কোনো অর্থ নেই?
  1. সমাস
  2. বাক্য
  3. প্রত্যয়
  4. শব্দ
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের নিজস্ব কোন অর্থ নেই।

প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- পঠ্‌ + অক=পাঠক।
- দিন + ইক = দৈনিক।
- দুল্ + অনা = দোলনা।
- কৃ + তব্য = কর্তব্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১ ও ২০১৯)।
১৬,৩৪২.
অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) আমার আহারে রুচি নাই
  2. খ) আগামীকাল বাড়ি যাব
  3. গ) আকাশ মেঘে আচ্ছন্ন
  4. ঘ) কাজে অবসর নিলাম
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

'আগামীকাল বাড়ি যাব' - বাক্যে অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। বাক্যটি ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার কালকে বোঝাচ্ছে। 
কিন্তু এতে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় নি। তাই বাক্যটি = অধিকরণে শূন্য প্রকাশ করে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬,৩৪৩.
কোন শব্দটি উপসর্গযুক্ত?
  1. চালানো
  2. কেষ্টা
  3. সুলভ
  4. হাজিরা
ব্যাখ্যা
• সুলভ - শব্দের 'সু' একটি উপসর্গ।  
- এখানে 'সহজ' অর্থে 'সু' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।  
-------------------- 
অন্য অপশনে,
• 'চালানো - চাল +আনো'; কৃৎ প্রত্যয়সাধিত শব্দ। 
• 'কেষ্টা - কেষ্ট + আ'; 'আ' প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিতান্ত শব্দ।  
• 'হাজিরা' শব্দের সাথে 'আ'  প্রত্যয়যোগে হাজিরা শব্দটি গঠিত হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,৩৪৪.
'বিদ্যুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) দামিনী
  2. খ) সৌদামিনী
  3. গ) শম্পা
  4. ঘ) দারিকা
ব্যাখ্যা
'বিদ্যুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দ: শম্পা, অশনি, তড়িৎ, চপলা, চঞ্চলা, ক্ষণপ্রভা, অনুপ্রভা, সৌদামিনী, দামিনী, বিজলি, অনুপ্রভা ইত্যাদি।

- অন্যদিকে, 'দারিকা' শব্দের অর্থ কন্যা।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।  
১৬,৩৪৫.
কোনটি অনুভূতিজাত কাল্পনিক দ্বিরুক্তি?
  1.  ঝমঝম 
  2. ঝিকিমিকি 
  3. ঘচাঘচ
  4. মড়মড়
ব্যাখ্যা

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
- কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরক্ত শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়।

যেমন:
• মানুষের ধ্বনির অনুকার: ভেউ ভেউ – মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি। এরূপ-ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।
• জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এরূপ-মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), কুহু কুহু (কোকিলের ডাক), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।
• বস্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ)। এরূপ- মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ), ঝমঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ), হু হু (বাতাস প্রবাহের শব্দ) ইত্যাদি।
অনুভূতিজাত কাল্পনিক: ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)। এরূপ- ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), কুট কুট (শরীরে কামড় লাগার মতো অনুভূতি)। অনুরূপভাবে- মিন মিন, পিট পিট, ঝি ঝি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৬,৩৪৬.
'ধর্মের কল' বাগধারাটির অর্থ-
  1. ক) নিচ্ছিন্ত থাকা
  2. খ) ছদ্মবেশী লোক
  3. গ) সত্য
  4. ঘ) ভণ্ডসাধু
ব্যাখ্যা
• 'ধর্মের কল' বাগধারাটির অর্থ- 'সত্য'
বাক্য গঠন: মিথ্যা চিরদিন চাপা থাকেনা, কেননা ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। 

• 'নাকে তেল দিয়ে ঘোমানো' বাগধারাটির অর্থ- 'নিচ্ছিন্ত থাকা' 
বাক্য গঠন: যাও এবার নাকে তেল দিয়ে ঘুমাও। 

• 'নীলবর্ণ শৃগাল' বাগধারাটির অর্থ- 'ছদ্মবেশী লোক' 
বাক্য গঠন: আজিজ থেকে সাবধান, ও হচ্ছে নীলবর্ণ শৃগাল। 

• 'বক ধার্মিক' বাগধারাটির অর্থ- 'ভণ্ডসাধু'
বাক্য গঠন: এদেশে বকধার্মিকের অভাব নেই।  

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৬,৩৪৭.
নিচের কোনটি নিত্য সমাস?
  1. ক) ভালমন্দ
  2. খ) বেয়াদব
  3. গ) পঞ্চনদ
  4. ঘ) দেশান্তর
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। শুধু সমস্তপদের ব্যাখ্যা দিতে হয়।
যেমন: অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর, তুমি আমি ও সে = আমরা, দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।
- তেমনিভাবে, কালসাপ - নিত্য সমাসের উদাহরণ।
- সমস্তপদের শেষে ‘অন্তর’ থাকলে ব্যাসবাক্যে ‘অন্য’ হবে। যেমন: দেশান্তর = অন্য দেশ।
- সমস্তপদের শেষে ‘মাত্র/খানা’ থাকলে ‘কেবল’ হবে। যেমন: শয়নমাত্র = কেবল শয়ন।

- অনুতাপ, প্রবচন, প্রগতি - ইত্যাদি প্রাদি সমাসের উদাহরণ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯)।
১৬,৩৪৮.
'কিছু > কিচ্ছু' - এটি কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. সমীভবন
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. অভিশ্রুতি
  4. দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল,
তেমনিভাবে,
- বড় > বড্ড,
- কিছু > কিচ্ছু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সমীভবন:
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন:
- জন্ম > জম্ম।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়।
- একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
- কবাট > কপাট।

অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
যেমন
- শুনিয়া > শুনে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,৩৪৯.
'গবাদি' - এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গব + আদি
  2. গো + আদি
  3. গবা + অদি
  4. গো + অদি
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।

যেমন-
- নে + অন = নয়ন,
- শে + অন = শয়ন,
- নৈ + অক = নায়ক,
- গৈ + অক = গায়ক,
- পো + অন = পবন,
- লো + অন = লবণ,
- গো + আদি = গবাদি,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬,৩৫০.
কোনটি পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব?
  1. শোঁ শোঁ
  2. কথায় কথায়
  3. ঠুকঠুক
  4. টুং টুং
ব্যাখ্যা
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।

যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর,
- কবি কবি,
- কথায় কথায়

অন্যদিকে:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - টুং টুং, ঠুকঠুক, শোঁ শোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৬,৩৫১.
'দীপ্যমান' শব্দের প্রকতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. √দীপ্য + মান
  2. √দিপ্য + মান
  3. √দীপ + শামচ্
  4. √দীপ্ + শানচ্
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ামূলকে বলা হয় ধাতু, আর ধাতুর সঙ্গে পুরুষ ও কালবাচক বিভক্তি যোগ করে গঠন করা হয় ক্রিয়াপদ।
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি;
- আর ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।

যেমন-
- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।
- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়)=চলন্ত (বিশেষণ পদ)।

• শানচ্-প্রত্যয় ('শ' ও 'চ' ইৎ, 'আন' বিকল্পে 'মান' থাকে):
- √দীপ্ + শানচ্ = দীপ্যমান।
এরূপ – √চল্ + শানচ্ = চলমান। 

• ঘঞ-প্রত্যয় [(কৃদন্ত বিশেষ্য গঠনে), ঘৃ এবং ঞ ইৎ, ‘অ' থাকে]।
যেমন:
- √বস্ + ঘঞ্‌ = বাস,
- √যুজ্ + ঘঞ্‌ = যোগ, 
- √খুদ্ + ঘঞ্‌ = খেদ, 
- √ভিদ্ + ঘঞ্‌ = ভেদ। 

• বিশেষ নিয়ম:
- √পচ্ +ঘঞ্‌ = পাক,
- √শুচ্+ঘঞ্‌ = শোক। 

কিন্তু,
- √নন্দি + অন = নন্দন। এক্ষেত্রে আ যোগে ‘নন্দনা’ হয় না। 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯)।
১৬,৩৫২.
'হক' শব্দের বিপরীতার্থক অর্থ -
  1. চাওয়া
  2. দাবি
  3. পরকীয়
  4. নাহক
ব্যাখ্যা
• 'হক' শব্দের বিপরীতার্থক অর্থ - নাহক

অন্যদিকে, 
- 'স্বকীয়' শব্দের বিপরীতার্থক অর্থ - পরকীয়।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ:
- 'সৌম্য' শব্দের বিপরীত শব্দ - উগ্র।
- 'অনুরক্ত' এর বিপরীত শব্দ - বিরক্ত।
- 'অনুমেয়' এর বিপরীত শব্দ - অননুমেয়।
- 'নিয়ত' এর বিপরীত শব্দ -  বিরত।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,৩৫৩.
"দেশি > দিশি" কোন ধরনের স্বরসঙ্গতি ঘটেছে?
  1. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  2. পরাগত স্বরসঙ্গতি
  3. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  4. অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বরের প্রভাবে শব্দের মধ্যে অপর  স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে প্রভাবকারী স্বরের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করলে , এই রীতিকে বলা হয় স্বরসঙ্গতি। প্রধানত চারটি পদ্ধতিতে স্বরসঙ্গতি হয়ে থাকে। যথা:

প্রগত স্বরসঙ্গতি (Progressive):
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মুলা > মুলাে, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো, মিথ্যা > মিথ্যে, পুত্র > পুত্তুর ।

পরাগত স্বরসঙ্গতি (Regressive):
অন্ত্যস্বরের কারণে আদিস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন-
আখাে > আখুয়া > এখাে, দেশি > দিশি।

মধ্যগত স্বরসঙ্গতি (Mutual):
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি।

অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি (Reciprocal):
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যান্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন – মােজা > মুজো, ধোঁকা > ধুঁকো, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬,৩৫৪.
“অন্তরীপ” - শব্দটি কোন ধরনের সমাসের মাধ্যমে গঠিত?
  1. ক) প্রাদি সমাস
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) দ্বিগু সমাস
  4. ঘ) বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
অন্তর্গত অপ যার = অন্তরীপ। এটি নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস। এরকম আরো উদাহরণঃ দু দিকে অপ যার = দ্বীপ, পন্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পন্ডিতমূর্খ, নরাকারের পশু যে = নরপশু, জীবিত থেকেও মৃত যে = জীবন্মৃত ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৬,৩৫৫.
প্রমিত রীতির সূচনা হয় কত শতকে?
  1. আঠারো শতকে
  2. উনিশ শতকে
  3. বিশ শতকে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রমিত রীতি:
• বিশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ চলিত রীতি সাধু রীতির জায়গা দখল করে। ক্রমে জীবনের সব ক্ষেত্রে সাধু রীতিকে সরিয়ে চলিত রীতি আদর্শ লেখ্য রীতিতে পরিণত হয়। একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় ‘প্রমিত রীতি’। এটি 'মান রীতি’ নামেও পরিচিত। সুতরাং, প্রমিত রীতির সূচনা হয় বিশ শতকে।
• বর্তমান বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ভাষা হিসাবে প্রমিত রীতির লেখ্য বাংলা ভাষার প্রধান রীতিতে পরিণত হয়েছে।

প্রমিত রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর হয়।
- প্রমিত রীতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়। যেমন: তৎসম ‘বৎসর’-ও লেখা যায় আবার তদ্ভব ‘বছর’-ও লেখা যায়।
- প্রমিত রীতিতে কথ্য রীতির বহু শব্দ বর্জনীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৬,৩৫৬.
“নজর লাগা” বাগধারার অর্থ কি?
  1. ক) পছন্দ হওয়া
  2. খ) অশুভ দৃষ্টিতে পড়া
  3. গ) মনে ধরা
  4. ঘ) সুদৃষ্টিতে আসা
ব্যাখ্যা
নজর দেওয়া - কুদৃষ্টি। উদাহরণঃ খাওয়ার সময় নজর দেওয়া ঠিক নয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৬,৩৫৭.
নিম্নের কোনটি 'কন্যা' শব্দের সমার্থক নয়?
  1. ক) সুতা
  2. খ) আত্মজা
  3. গ) বনিতা
  4. ঘ) দুহিতা
ব্যাখ্যা
⇒ 'কন্যা' শব্দের সমার্থক শব্দ- দুহিতা, আত্মজা, তনয়া, সুতা, নন্দিনী, মেয়ে,দুলালী, আত্মসম্ভবা, পুত্রিকা, ঝিউরি, দুলালি, ঝি ইত্যাদি।

⇒ 'পত্নী' শব্দের সমার্থক শব্দ- স্ত্রী, বউ, সহধর্মিণী, অর্ধাঙ্গিনী, দারা কলত্র, অঙ্গনা, বনিতা, ভার্যা, জায়া, দয়িতা, ধর্মপত্নী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ। 
১৬,৩৫৮.
'তেল-নুন-লাকড়ি' কোন ধরনের দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব
  2. একশেষ দ্বন্দ্ব
  3. অলুক দ্বন্দ্ব
  4. বহুপদী দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

• বহুপদী দ্বন্দ্ব:
তিন বা বহু পদ মিলে দ্বন্দ্ব সমাস হলে তাকে বহুপদী দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন-
- তেল, নুন ও লাকড়ি = তেল-নুন-লাকড়ি;
- রূপ, রস, শব্দ, গন্ধ ও স্পর্শ = রূপ-রস-শব্দ-গন্ধ-স্পর্শ।

এ-রকম: পশু-পাখি-কীট-পতঙ্গ, বাল-বৃদ্ধ-বনিতা, চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-তারা, টক-ঝাল-মিষ্টি, সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা-রাত, স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল, নাচ-গান-বাজনা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬,৩৫৯.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষি দিয়েছে।
  2. সুমাইয়া বুদ্ধিমান মেয়ে।
  3. কেবলমাত্র গায়ের জোরে সব কাজ হয় না।
  4. মেয়েটি বিদুষী কিন্তু ঝগড়াটে।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি বিদুষী কিন্তু ঝগড়াটে।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: কেবলমাত্র গায়ের জোরে সব কাজ হয় না।
শুদ্ধ বাক্য: কেবল গায়ের জোরে সব কাজ হয় না।

অশুদ্ধ বাক্য: সুমাইয়া বুদ্ধিমান মেয়ে।
শুদ্ধ বাক্য: সুমাইয়া বুদ্ধিমতী মেয়ে।

অশুদ্ধ বাক্য: সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষি দিয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দিয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,৩৬০.
'গোলাপ' কোন দেশি শব্দ থেকে আগত?
  1. ক) ফারসি
  2. খ) আরবি
  3. গ) ফরাসি
  4. ঘ) ওলান্দাজ
ব্যাখ্যা
গোলাপ (বিশেষ্য) 
- ফারসি শব্দ 
অর্থ - উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে চাষ করা হয় এমন লাল, হলুদ, গোলাপি প্রভৃতি রঙের ঘন পাপড়িযুক্ত সুগন্ধ ফুল বা তার কাঁটাওয়ালা কাণ্ডবিশিষ্ট বহুবর্ষজীবী গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ।   

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৬,৩৬১.
বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি কোনটি?
  1. পুরস্কার
  2. তিরস্কার
  3. পরিষ্কার
  4. আবিষ্কার
ব্যাখ্যা
• বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি - পরিষ্কার

ব্যঞ্জনসন্ধি:
- স্বরে আর ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে আর ব্যঞ্জনে এবং ব্যঞ্জনে আর স্বরে মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- প্রকৃত বাংলা ব্যঞ্জন সন্ধি সমীভবন (Assimilation)-এর নিয়মেই হয়ে থাকে। আর তা-ও মূলত কথ্যরীতিতে সীমাবদ্ধ।

বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি:
- উৎ + স্থান = উত্থান,
- সম্‌ + কার = সংস্কার,
- উৎ + স্থাপন = উত্থাপন,
- সম্‌ + কৃত = সংস্কৃত,
- পরি + কার = পরিষ্কার

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,৩৬২.
'গুজব' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) ফরাসি
  4. ঘ) তুর্কি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
গুজব (বিশেষ্য)
- ফারসি শব্দ।
অর্থ:
- ভিত্তিহীন রটনা,
- জনশ্রুতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,৩৬৩.
সঠিক বিপরীতার্থক শব্দযুগল কোনটি?
  1. ক) বিনীত - আনত
  2. খ) প্রসন্ন - বিষণ্ণ
  3. গ) মতি - সুমতি
  4. ঘ) বিরক্ত - আরক্ত
ব্যাখ্যা
সঠিক বিপরীতার্থ শব্দযুগল- 

প্রসন্ন - বিষণ্ণ, অপ্রসন্ন
প্রফুল্ল - ম্লান, বিষণ্ণ 
প্রাচ্য - প্রাতীচ্য 
বিরক্ত - অনুরক্ত 
বিজেতা - বিজিত 
মধুর - কটু
মতি - দুর্মতি
বিনীত - উদ্ধত

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৬,৩৬৪.
‘লাওয়ারিশ’ শব্দটির আরবি উপসর্গ ‘লা’ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) না
  2. খ) অভাব
  3. গ) নিষেধ
  4. ঘ) বিশেষ
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত প্রশ্নে উল্লেখিত ‘লা’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দটি:
অর্থদ্যোতকতা - না  অর্থ প্রকাশ করছে। 
- এটি একটি আরবি উপসর্গ।
এরকম আরো কিছু শব্দ হলো: - লাজওয়াব, লাখেরাজ, লাওয়ারিশ, লাপাত্তা ইত্যাদি।

• উপসর্গ:
শব্দ বা ধাতুর পূর্বে কতিপয় সুনির্দিষ্ট অব্যয় জাতীয় শব্দাংশ যুক্ত হয়ে সাধিত শব্দের অর্থের পরিবর্তন, সম্প্রসারণ বা সংকোচন ঘটিয়ে থাকে।
এগুলোকে বলা হয় উপসর্গ।

• উপসর্গ তিন প্রকার: 
- সংস্কৃত,
- বাংলা,
- বিদেশি। 

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি - এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
- এর সঙ্গে কিছু বিদেশী উপসর্গও রয়েছে। 
- আরবি বহুল প্রচলিত আরবি উপসর্গ হলো- আম্‌,খাস, লা, গর্‌।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি।
১৬,৩৬৫.
বাংলা ভাষায় তৎসম শব্দের ব্যবহার শতকরা কত ভাগ?
  1. ১৫%
  2. ২৫%
  3. ৩০%
  4. ৪০%
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার শব্দ ভান্ডারে তৎসম শব্দের ব্যবহার শতকরা — ২৫%।

• বাংলা ভাষার শব্দের অনুপাত নির্ণয় করতে গিয়ে ড. মুহাম্মদ এনামুল হক মন্তব্য করেছেন,
"বর্তমান বাংলা ভাষায় শব্দ ব্যবহারে লেখকভেদে তারতম্য ঘটে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, জসীমউদ্‌দীন প্রমুখ শ্রেষ্ঠ লেখকের ভাষা বিশ্লেষণ করলে যে শাব্দিক অনুপাত পাওয়া যায় :

তদ্ভব - ৬০%, 
তৎসম - ২৫%, 
অর্ধ - তৎসম -৫%, 
দেশি - ২%, 
বিদেশি - ৮%। 

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৬,৩৬৬.
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয়-
  1. প্রাতিপদিক
  2. সাধিত শব্দ
  3. নাম প্রকৃতি
  4. ক + গ
ব্যাখ্যা
শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
 লাজুক =  লাজ + উক; 
বড়াই = বড় + আই;
ঘরামি =  ঘর + আমি।

'লাজ' 'বড়' ও 'ঘর' শব্দগুলোর পরে যথাক্রমে 'উক', 'আই' ও 'আমি' (প্রত্যয়) যোগ করে নতুন শব্দ গঠিত হয়েছে।

- 'লাজ' 'বড়' ও 'ঘর'- এ শব্দগুলোর সাথে কোনো শব্দ/বিভক্তি যুক্ত হয় নি। ।
-  বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক।
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতি ও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
১৬,৩৬৭.
কোনটি আরবি উপসর্গের উদাহরণ?
  1. খয়ের
  2. বদ
  3. ভর
  4. অপি
ব্যাখ্যা
• ‘খয়ের’ আরবি উপসর্গের উদাহরণ।

------------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,৩৬৮.
কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. ক) হস্তী
  2. খ) মহাযাত্রা
  3. গ) পঙ্কজ
  4. ঘ) গায়ক
ব্যাখ্যা
-প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে 'হস্তী'- রূঢ়ি শব্দ।

• রূঢ়ি শব্দ:
- যেসব শব্দ গঠনের উপাদান অর্থাৎ প্রকৃতি-প্রত্যয় অনুসারে অর্থ প্রকাশ না করে অন্য কোনো অর্থ প্রকাশ করে সেসব শব্দকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন- 'হস্তী' বলতে এক বিশেষ পশুকে বুঝায়। কিন্তু প্রকৃতি-প্রত্যয় অনুসারে এর অর্থ হচ্ছে হাত আছে যার। অর্থাৎ প্রকৃত অর্থ না বুঝিয়ে অন্য অর্থ বোঝাচ্ছে, তাই এটি রূঢ়ি শব্দ।

• আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।

অন্যদিকে,
গায়ক - যৌগিক শব্দ
মহাযাত্রা ও পঙ্কজ- যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৬,৩৬৯.
'পাতি' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহার করা যায়?
  1. নিম্ন
  2. ক্ষুদ্র
  3. বিপরীত
  4. অভাব
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
যেমন- 
- অজনা = অ + জানা
- অভিযোগ = অভি + যোগ

- উপসর্গের নিজের কোনো অর্থ নেই।
- কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এজন্য বলা হয় - উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্ত অর্থ দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে।

• 'পতি' খাঁটি বাংলা উপসর্গের উদাহরণ। 
• 'পাতি' উপসর্গটি ক্ষুদ্র অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
• যেমন- পাতি + হাঁস = পাতিহাঁস। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,৩৭০.
‘চা- বিস্কুট’ কোন অর্থে দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. ক) প্রায় সমার্থক
  2. খ) মিলনার্থক
  3. গ) সমার্থক
  4. ঘ) বিপরীতার্থক
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব এর অর্থ হল যুগল বা দুই। দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ এবং পরপদ অর্থাৎ উভয়পদের অর্থ সমস্তপদে প্রাধান্য থাকে। চা ও বিস্কুট = চা- বিস্কুট, মা-বাপ, মাসি-পিসি, জ্বিন-পরি - মিলনার্থক শব্দযোগে দ্বন্দ্ব সমাস। রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
১৬,৩৭১.
অনুকার অব্যয় কোনটি?
  1. ক) ছিঃ
  2. খ) নিশ্চয়ই
  3. গ) বটে
  4. ঘ) ঝম ঝম
ব্যাখ্যা

- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয় সেগুলোকে অনুকার অব্যয় বলে।
যথা-
- বজ্রের ধ্বনি - কড় কড়,
- বৃষ্টির তুমুল শব্দ - ঝম ঝম,
- শুষ্ক পাতার শব্দ - মর মর,
- বাতাসের গতি - শন শন,
- কোকিলের রব - কুহু কুহু ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬,৩৭২.
‘Idiom’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. প্রবাদবাক্য
  2. ভাববাদ
  3. বচন
  4. বাগ্‌ধারা
ব্যাখ্যা
• ‘Idiom’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - বাগ্‌ধারা।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ হলো:
• ‘Proverb’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - প্রবাদবাক্য।
• ‘Idealism’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - ভাববাদ।
• ‘Utterance’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - উক্তি/বচন।
• ‘Case Suffix’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - বিভক্তি।
• ‘Case’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - কারক।
• ‘Prepositional prefix /prefix’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - উপসর্গ।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি এবং অভিগম্য অভিধান।
১৬,৩৭৩.
কোনটি বিদেশি ধাতুর উদাহরণ?
  1. ধর্
  2. বুঝ
  3. হাস্
  4. ডর্
  5. দৃশ্
ব্যাখ্যা
• ‘ডর্’ বিদেশি ধাতুর উদাহরণ।

• মৌলিক ধাতু:
যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন: চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্, কিন্, গড়্, ধর্, পড়, রাখ্, শুন্, হাস্, বুঝ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্, বুধ্, স্থা, শ্রু, ধৃ, বন্ধ্, ঘৃষ্, ক্রী ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন: খাট্, আঁট্, চেঁচ্, জম্, ঝুল্, টান্, টুট্, ডর্, ফির্, চাহ্, বিগড়, ভিজ্, ঠেল্, ডাক্, লটক্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,৩৭৪.
যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, তাকে কী বলে?
  1. বিভক্তি
  2. প্রত্যয়
  3. বলক
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- ‘তখনই’ বা ‘এখনও’ পদের ‘ই’ বা ‘ও’ হলো বলকের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
উপসর্গ:
- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- 'পরিচালক' শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।

বিভক্তি:

- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
১৬,৩৭৫.
'মহাতেজে পৃথিবী কম্পিত হইতেছে।' - এখানে 'মহাতেজে' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. অধিকরণ
  3. অপাদান
  4. করণ
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে।
- জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়
- এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না।
- মহাতেজে পৃথিবী কম্পিত হইতেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৬,৩৭৬.
বানানের নিয়ম অনুসারে কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) খেয়ালি
  2. খ) হেঁয়ালি
  3. গ) সোনালী
  4. ঘ) মিতালি
ব্যাখ্যা
• আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন- সোনালি, মিতালি, বর্ণালি, খেয়ালি, রুপালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

[ তবে ‘সোনালী ব্যাংক’ এর (সোনালী) বানানটি ব্যাংক কর্তৃক এভাবেই নিবন্ধিত। তাই সোনালী ব্যাংক লিখতে সোনালী শব্দটিই ব্যবহৃত হবে। যদিও বানানের নিয়ম অনুসারে (সোনালী) শব্দের সঠিক বানান সোনালি।]

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩৭৭.
তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) আগাগোড়া
  2. খ) লালপেড়ে
  3. গ) জমা-খরচ
  4. ঘ) বিজয়-পতাকা
ব্যাখ্যা
• সমসমান পদের বিভক্তি ও সন্নিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। 

• সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা
চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা
রান্নার জন্য ঘর = রান্নাঘর
বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা
গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া
আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া

অন্যদিকে, 
বিজয়-পতাকা = বিজয় নির্দেশক পতাকা; মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
জমা-খরচ = জমা ও খরচ; দ্বন্দ্ব সমাস 
লালপেড়ে = লাল পাড় যে শাড়ির; বহুব্রীহি সমাস। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬,৩৭৮.
"ঝড়" শব্দটিতে কোন কোন ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ আছে?
  1. দন্ত্য এবং তালব্য
  2. তালব্য এবং মূর্ধন্য
  3. মূর্ধন্য এবং দন্তমূলীয়
  4. মূর্ধন্য এবং দন্ত্য
ব্যাখ্যা

• "ঝড়" শব্দটিতে তালব্য ব্যঞ্জন 'ঝ' এবং মূর্ধন্য ব্যঞ্জন 'ড়' এর উদাহরণ আছে।

তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভে ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ,, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৬,৩৭৯.
কেবল উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয় কোনটি?
  1. বর্গ
  2. গুচ্ছ
  3. নিচয়
  4. মালা
ব্যাখ্যা
• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
- গণ- দেবগণ, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
- মন্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
- বর্গ - পন্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ ইত্যাদি।
- বৃন্দ - সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মালা, নিচয়, গুচ্ছ অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৬,৩৮০.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. আজ আমার কনিষ্ঠা বোনের বাগদান অনুষ্ঠান।
  2. লোকটাকে পূর্ণচন্দ্র দিয়ে বিদায় করে দাও।
  3. আমার কথাই শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হলো।
  4. তিনি সস্ত্রীক বেড়াতে গেছেন।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: লোকটাকে পূর্ণচন্দ্র দিয়ে বিদায় করে দাও।
শুদ্ধ: লোকটাকে অর্ধচন্দ্র দিয়ে বিদায় করে দাও।

অন্যদিকে,
- আজ আমার কনিষ্ঠা বোনের বাগদান অনুষ্ঠান।
- তিনি সস্ত্রীক বেড়াতে গেছেন।
- আমার কথাই শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হলো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,৩৮১.
নিচের কোনটি সঠিক বানান?
  1. পাশ্ববর্তী
  2. ইতিমধ্যে
  3. উপক্রমণিকা
  4. অব্যভহিত
ব্যাখ্যা
উপক্রমণিকা ছাড়া বাকি সবগুলো ভুল বানান। 
 
পার্শ্ববর্তী এর অর্থ হচ্ছে পাশে আছে এমন পার্শ্বস্থিত।

উপক্রমণিকা এর অর্থ:
- ভূমিকা, মুখবন্ধ, অব তরণিকা; প্রস্তাবনা।
- আরম্ভ, সূত্রপাত। 

ইতোমধ্যে এর অর্থ হচ্ছে এর মধ্যে।

অব্যবহিত এর অর্থ হচ্ছে ব্যবধানহীন।
 
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি। 
১৬,৩৮২.
‘ক্ষুদ্র জাতীয় বক’ এর সংক্ষেপণ -
  1. বলাক
  2. বাগিচা
  3. বিন্দু
  4. ভাঁড়
ব্যাখ্যা
• ‘ক্ষুদ্র জাতীয় বক’ এর সংক্ষেপণ - বলাক

অন্যদিকে, 
- ‘ক্ষুদ্র বাগান’ এর সংক্ষেপণ - বাগিচা।
-  'ক্ষুদ্র চিহ্ন’ এর সংক্ষেপণ - বিন্দু।
- ‘ক্ষুদ্র মৃৎপাত্র’ এর সংক্ষেপণ - ভাঁড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩৮৩.
'আমন্ত্রিত অতিথি সমভিব্যাহারে মন্ত্রী মহোদয় মঞ্চে আরোহণ করলেন'। এ বাক্যে উপসর্গ আছে
  1. ক) চারটি
  2. খ) ছয়টি
  3. গ) সাতটি
  4. ঘ) আটটি
ব্যাখ্যা
সমভিব্যাহার শব্দে মোট চারটি উপসর্গ আছে - সম্, অভি, বি, আ। 
আমন্ত্রিত শব্দে একটি আ উপসর্গ আছে।
আরোহন শব্দে একটি আ উপসর্গ আছে।
অতিথি শব্দে একটি অ উপসর্গ আছে। 
------------ 
অতএব, উক্ত বাক্যে মোট ৭টি উপসর্গ আছে। 
১৬,৩৮৪.
'কামালের মত এমন বুদ্ধিমতী বালক কেউ কখনো দেখেনি।'
উপরের বাক্যটিতে কি ধরনের ভুল প্রয়োগ রয়েছে?
  1. ক) লিঙ্গ-সঙ্গতিজনিত ভুল
  2. খ) বাহুল্য দোষ
  3. গ) বাচ্যজনিত
  4. ঘ) সন্ধিজনিত
ব্যাখ্যা
'কামালের মত এমন বুদ্ধিমতী বালক কেউ কখনো দেখেনি।' -বাক্যটিতে লিঙ্গ-সঙ্গতিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
কারণ বুদ্ধিমতী হলো স্ত্রীলিঙ্গ। এর পুংলিঙ্গ হলো বুদ্ধিমান।
সঠিক বাক্যটি হবে 'কামালের মত এমন বুদ্ধিমান বালক কেউ কখনো দেখেনি।'
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,৩৮৫.
'অম্বর' এর প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. জল
  2. মেঘ
  3. আকাশ
  4. সমুদ্র 
ব্যাখ্যা

• 'অম্বর' এর প্রতিশব্দ- 'আকাশ'। 

--------------
• আকাশ এর কিছু সমার্থক শব্দ: 
অম্বর, ব্যোম, খ, গগণ, অন্তরিক্ষ, শূণ্যলোক, আসমান, দ্যূলোক, অভ্র, নীলিমা, শূণ্য নভঃ, অনন্ত, সুরপথ, অম্বরতল,খলোক, ইত্যাদি।

• ‘জল’ এর সমার্থক শব্দ:
অম্বু, জীবন, নীর, পানি, সলিল, উদক, বারি, অপ, তোয়, অর্ণঃ।

• 'মেঘ' এর  সমার্থক শব্দ: 
- বারিদ, জলধর, অম্বুদ, পয়োধর, নীরদ, জলদ, জীমূত, তোয়দ, পর্জন্য, পয়োদ, বলাহক, তোয়ধর।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৩৮৬.
’দিগন্ত’ কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. স্বর + স্বর
  2. স্বর + ব্যঞ্জন
  3. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
  4. ব্যঞ্জন + স্বর
ব্যাখ্যা

’দিগন্ত’ শব্দটি (ব্যঞ্জন + স্বর) নিয়মে গঠিত।
যেমন-
- ক/চ/ট/ত/প + স্বর = গ/জ/ড (ড়)/দ/ব।
- যেমন
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত, 
- সৎ + উপায় = সদুপায়

- স্বরধ্বনিগুলো ঘোষবৎ হয়। এখানে ঘোষবৎ স্বরধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী অঘোষ ধ্বনি (ক, চ, ট, ত, প) পরিবর্তিত হয়ে ঘোষধ্বনিতে (গ, জ, ড, দ, ব) পরিণত হয়।

উল্লেখ্য,
- ব্যঞ্জনসন্ধি
- স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

• পরি+ছেদ = পরিচ্ছেদ  (স্বর + ব্যঞ্জন) ।
• চলৎ+চিত্র = চলচ্চিত্র (ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন) ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬,৩৮৭.
'মুখপাত্র' শব্দের অর্থ কী?
  1. ভূমিকা
  2. উপযুক্ত
  3. প্রতিনিধি
  4. আদালতের আদেশ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'মুখপাত্র' শব্দের অর্থ:
- কারো পক্ষে কথা বলার অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তি,
- প্রতিনিধি। 

অন্যদিকে,
'মুখপত্র' শব্দের অর্থ - ভূমিকা, 
 'সমন' শব্দের অর্থ- আদালতের আদেশ, 
'যোগ্য' শব্দের অর্থ- উপযুক্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,৩৮৮.
'তুষারশুভ্র' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমিত কর্মধারয়
  2. উপমান কর্মধারয়
  3. রূপক কর্মধারয়
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
•  তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

• উপমান কর্মধারয় সমাস:

- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- মিশির মত কালো = মিশকালো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৬,৩৮৯.
নিচের কোনটি ভিন্ন?
  1. রামা
  2. বামা
  3. স্ত্রীলোক
  4. অম্বা
ব্যাখ্যা
- রামা, বামা, স্ত্রীলোক - সবগুলো শব্দই সুন্দরী রমনী/নারী শব্দের প্রতিশব্দ।
নারী শব্দের আরো কয়েকটি সমার্থক শব্দ:
- স্ত্রীজাতি
- বনিতা
- ভামিনী
- কান্তা
- সীমন্তিনী
- পত্নী
- অঙ্গনা
- ললনা
- মহিলা
- কামিনী
- রমণী

অন্যদিকে,

অম্বা , অম্বালিকা , অম্বিকা (বিশেষ্য):
১. পুরাণোক্ত তিন ভগিনী : কাশীরাজের জ্যেষ্ঠা কন্যার নাম ‘অম্বা’ দ্বিতীয়ার নাম ‘অম্বিকা’, -ইনি ধৃতরাষ্ট্রের জননী; কনিষ্ঠার নাম ‘অম্বালিকা’ –ইনি পাণ্ডুর জননী।
২. মাতা।
৩. হিন্দুদেবী বিশেষ; দুর্গা।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
১৬,৩৯০.
"স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য" - ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। শব্দ ও পদনির্মাণের বিভিন্ন দিক ব্যাকরণের এই অংশে আলোচিত হয়।
যেমন- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যের নির্মান ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• অর্থতত্ত্ব:
ব্যকরণের এই অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বাগর্থও বলে। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬,৩৯১.
'Enhanced' এর পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) বাড়ানো
  2. খ) বর্ধিত
  3. গ) পরিবর্ধন
  4. ঘ) পরিবর্ধক
ব্যাখ্যা
• 'Enhanced' এর পারিভাষিক শব্দ - বর্ধিত।

এছাড়া,
Enhance - বাড়ানো।
Enlargement - পরিবর্ধন।
Enlarger - পরিবর্ধক।

• আরো কিছু পারিভাষিক শব্দ - 
Moist - আর্দ্র,
Moisten - ভিজানো, আর্দ্র করা,
Morale - মনোবল,
Morgue -শবাগর,
Mortgage - বন্ধক,
Motion - গতি,
Motions - ভেদ, দাস্ত

উৎস : প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
১৬,৩৯২.
মহিলাদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. কল্যাণীয়াষু
  2. কল্যাণীয়েষু
  3. কল্যাণীয়াসু
  4. কল্যাণীয়েসু
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'কল্যাণীয়াসু' বানানটি শুদ্ধ।
- অর্থ: স্নেহভাজন নারীকে লিখিত পত্রের সম্বোদনসূচক পাঠ।
- এর পুরুষবাচক শব্দ কল্যাণীয়েষু।

উল্লেখ্য,
- শ্রদ্ধাভাজনাসু নারীদের সম্বোদনসূচক পাঠ। 
- শ্রদ্ধাভাজনেষু  পুরুষদের সম্বোদনসূচক পাঠ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,৩৯৩.
ফরমান শব্দের অর্থ-
  1. ক) বাণী
  2. খ) সংবাদ
  3. গ) খবর
  4. ঘ) সবকটিই সঠিক
ব্যাখ্যা
ফরমান- খবর, বাণী, সংবাদ। সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩৯৪.
"ফোড়া টনটন করে।" বাক্যে 'টনটন' কোন ধরনের দ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

- অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব তৈরি হয়।
- যেমন: ফোড়া টনটন করে, গা ছমছম করে।

- কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, খুটুর-খুটুর, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথকে, ফুসুর ফুসুর, ভটভট, শোঁ শোঁ, হিস হিস।

- কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২৪ সংস্করণ)।
১৬,৩৯৫.
দ্বিরুক্ত শব্দগুলো কোন ধরনের অর্থ প্রকাশ করে?
  1. বিপরীতার্থক
  2. কালনিরপেক্ষ    
  3. সম্প্রসারিত
  4. নিরর্থক  
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- বাংলা ভাষায় কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এগুলোকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- কোন শব্দ বা পদ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হয়ে কোন বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
যেমন-
- ‘আমার জ্বর জ্বর লাগছে।’ এখানে ‘জ্বর জ্বর’ দ্বিরুক্ত শব্দটি ঠিক ‘জ্বর’ অর্থ প্রকাশ করছে না। জ্বরের ভাব প্রকাশ করছে।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই (২০১৯ সংস্করণ)। 
১৬,৩৯৬.
নিচের কোনটি তদ্ভব শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) মই
  2. খ) জোছনা
  3. গ) পাতা
  4. ঘ) কাগজ
ব্যাখ্যা
পাতা- তদ্ভব শব্দের উদাহরণ।

তদ্ভব শব্দ:
যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ।

- তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ, 'তৎ' (তার) থেকে 'ভব' (উৎপন্ন)।
- যেমন - সংস্কৃত - হস্ত, প্রাকৃত - হথ, তদ্ভব - হাত। সংস্কৃত - চর্মকার, প্রাকৃত - চম্মআর, তদ্ভব - চামার ইত্যাদি।
- একইভাবে সংস্কৃত 'চন্দ্র' শব্দ থেকে 'চাঁদ' শব্দটি উৎপন্ন হয়েছে।
- এই তদ্ভব শব্দগুলােকে খাটি বাংলা শব্দও বলা হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬,৩৯৭.
’সরে দাঁড়ানো’ কোন ধরনের ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. প্রযোজক ক্রিয়া
  3. নামক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- মরে যাওয়া,
- কমে আসা,
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা, উঠে
- পড়া, পেয়ে বসা,
- সরে দাঁড়ানো,
- বেঁধে দেওয়া, বু
- ঝে নেওয়া,
- বলে ফেলা,
- করে তোলা,
- চেপে রাখা, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন
- সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও
খেলছে - এগুলো সরল ক্রিয়া।

• প্রযোজক ক্রিয়া:

কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায় এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

• নামক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা -আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় চমকানো: আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়;
- বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে -আ যুক্ত হয়ে হয় কমা: বাজারে সবজির দাম কমছে না;
- ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে -আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানেছটফটায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৬,৩৯৮.
​নিচের কোন ধ্বনিগুলো স্পৃষ্টধ্বনি?​
  1. ঙ, ঞ, ণ, ন
  2. চ, ছ, জ, ঝ
  3. ক, খ, গ, ঘ
  4. ছ, জ, খ, গ
ব্যাখ্যা
স্পৃষ্টধ্বনি:
- ক-বর্গ এবং প-বর্গের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ধ্বনিগুলোর উচ্চারণকালে মুখবিবরের বিশেষ স্থান স্পৃষ্ট হয় বলে এগুলোকে স্পৃষ্টধ্বনি বলে।

অন্যদিকে,
ঘৃষ্টধ্বনি:
- চ, ছ, জ, ঝ-এই ধ্বনিগুলোর উচ্চারণকালে জিহ্বা বা তালুর স্পর্শের পর পরই উভয়ের মধ্যে বায়ুর ঘর্ষণজাত ধ্বনি সৃষ্টি হয় বলে এগুলোকে ঘৃষ্টধ্বনি বলে।

নাসিক্য বা অনুনাসিকধ্বনি:
- ঙ, ঞ, ণ, ন, ম-এগুলোর উচ্চারণকালে মুখবিবরের বাতাস নাক দিয়ে বের হয় বলে এগুলোকে নাসিক্য বা
অনুনাসিকধ্বনি বলে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৬,৩৯৯.
‘ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘নইলে’ শব্দটি কোন পদের দৃষ্টান্ত?
  1. ক্রিয়াবিশেষণ
  2. আবেগ
  3. ক্রিয়া
  4. যোজক
ব্যাখ্যা
• যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের কিংবা বাক্যের অন্তর্গত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।
যেমন:
- ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।
- এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?

- যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, এবং, নইলে, যেহেতু, অতএব, যদি, যত-তত ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,৪০০.
‘পাদচ্ছেদ’ বলা হয় কোন যতিচিহ্ন কে?
  1. কোলন
  2. দাঁড়ি
  3. সেমিকোলন
  4. কমা
ব্যাখ্যা

• কমা:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ , বর্গ ও অধীনে বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- যেমন:
• গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত- বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
• সুজন, দেখ তোকে আসছে।

দাঁড়ি:
- দাঁড়ি অর্থ  পূর্ণচ্ছেদ।
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
যেমন:
• প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।
• যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

সেমিকোলন:
- সেমিকোলন অর্থ হচ্ছে ‘অর্ধচ্ছেদ’।
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন: 
• সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছব্দ করি।
• কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ না।

কোলন:
- বাক্যের প্রথম অংশের কোনো উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা এবং উদাহরণ উপস্থানের কাজে কোলন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
• ভাষার দুটি রূপ: কথ্য ও লেখ্য।
• সভার সিন্ধান্ত হলো: প্রতি মাসে সব সদস্যকে দশ টাকা করে চাদাঁ দিতে হবে।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।