বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১৬৩ / ৩৫৪ · ১৬,২০১১৬,৩০০ / ৩৫,৭১৩

১৬,২০১.
'খন্ড প্রলয়' বাগধারাটির অর্থ কী?
  1. দুর্লভ বস্তু
  2. তুমুল কান্ড
  3. কদাচিৎ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'খণ্ড প্রলয়' বাগধারাটির অর্থ - তুমুল কাণ্ড বা ভীষণ ব্যাপার।

অন্যদিকে,
- 'অমাবস্যার চাঁদ' বাগধারার অর্থ- দুর্লভ বস্তু বা বিরল বস্তু।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
- 'অন্ধের যষ্টি' বাগধারাটির অর্থ- একমাত্র অবলম্বন।
- 'আঁধার ঘরের মানিক' বাগধারটির অর্থ- অত্যন্ত প্রিয়জন।
- 'ইঁচড়ে পাকা' বাগধারাটির অর্থ- অকালপক্ক।
- আষাঢ়ে গল্প বাগধারার অর্থ- আজগুবি কাহিনি।
- 'অগ্নি পরীক্ষা' বাগধারাটির অর্থ- কঠিন পরীক্ষা।
- 'অদৃষ্টের পরিহাস' বাগধারাটির অর্থ- ভাগ্যের নিষ্ঠুরতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।

১৬,২০২.
‘ঠিক যেন তোর মতো, তোর নামে নাম।’ বাক্যটিতে কি ধরনের বিশেষণের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বিশেষণের বিশেষণ
  2. খ) বিশেষ্যের বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) অব্যয়ের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে। যথা-
ধিক্ তারে, শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন।
ঠিক যেন তোর মতো, তোর নামে নাম।
তুমি তো প্রায় পাগলের মতো দৌড়াচ্ছ।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১৬,২০৩.
মুখ-গহ্বরের কোন অংশে জিভের অবস্থান?
  1. ক) উপরে
  2. খ) সামনে
  3. গ) পেছনে
  4. ঘ) নিচে
ব্যাখ্যা
• জিভ:
- মুখগহ্বরের নিচের অংশে জিভের অবস্থান।
- বাগযন্ত্রের মধ্যে জিভ সবচেয়ে সচল ও সক্রিয় প্রত্যঙ্গ।
- জিভের উচ্চতা, সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান এবং মুখগহ্বরের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে জিভের স্পর্শের প্রকৃতি অনুযায়ী ধ্বনির বৈচিত্র্য তৈরি হয়।

এছাড়াও,
• আলজিভ:
- মুখগহ্বরের কোমল তালুর পিছনে ঝুলন্ত মাংসপিণ্ডের নাম 'আলজিভ'।
- ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে কোমল তালুর সঙ্গে আলজিভ নিচে নেমে এলে বাতাস মুখ দিয়ে পুরোপুরি বের না হয়ে খানিকটা নাক দিয়ে বের হয়। এর ফলে নাসিক্য ধ্বনি তৈরি হয় ।

• তালু:
- মুখবিবরের ছাদকে বলা হয় তালু।
- তালুর দুটি অংশ - কোমল তালু ও শক্ত তালু।
- অনুনাসিক স্বরধ্বনি উচ্চারণে কোমল তালু নিচে নামে।
- কোমল তালু ও জিভমূলের স্পর্শে কণ্ঠ্যধ্বনি উচ্চারিত হয়।
- দন্তমূলের শুরু থেকে কোমল তালু পর্যন্ত বিস্তৃত অংশকে বলা হয় শক্ততালু।

• মূর্ধা:
- শক্ত তালু ও উপরের পাটির দাঁতের মধ্যবর্তী উত্তল মূর্ধা বলে।
- কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ মূর্ধাকে স্পর্শ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
১৬,২০৪.
বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ঝলক
  2. বড়াই
  3. লাজুক
  4. ঘরামি
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ামূলকে বলা হয় ধাতু, আর ধাতুর সঙ্গে পুরুষ ও কালবাচক বিভক্তি যোগ করে গঠন করা হয় ক্রিয়াপদ।
ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখনক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।

যেমন- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়)= চলন (বিশেষ্য পদ)। 

• কৎ ’অক’ প্রত্যয় যোগে সাধিত শব্দ:

√মুড় + অক = মোড়ক।
√ঝল্ + অক = ঝলক।

অন্যদিকে, 
---------------
• শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন:
লাজুক =  লাজ + উক;
বড়াই = বড়+আই;
ঘরামি = ঘর+আমি।

'লাজ' 'বড়' ও 'ঘর' শব্দগুলোর পরে যথাক্রমে 'উক', 'আই' ও 'আমি' (প্রত্যয়) যোগ করে নতুন শব্দ গঠিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
১৬,২০৫.
'Vibration' শব্দের বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ক) বাতায়িত
  2. খ) স্পন্দন
  3. গ) ভবঘুরে
  4. ঘ) বায়ুচলন
ব্যাখ্যা
'Vibration' শব্দের বাংলা পরিভাষা- স্পন্দন
Ventilated শব্দের বাংলা পরিভাষা- বাতায়িত।
Ventilation শব্দের বাংলা পরিভাষা- বায়ুচলন।
Vagrant  শব্দের বাংলা পরিভাষা- ভবঘুরে।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:
Whirling/ Rotation শব্দের বাংলা পরিভাষা- ঘূর্ণায়মান।
Valuation শব্দের বাংলা পরিভাষা- মাননির্ণয়/ মূল্যনির্ধারণ। 
Variable শব্দের বাংলা পরিভাষা- অসম/ চল/ পরিবর্তনীয়। 
Venation শব্দের বাংলা পরিভাষা- শিরাবিন্যাস। 
Verification শব্দের বাংলা পরিভাষা- প্রতিপাদন। 


উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা। 
১৬,২০৬.
বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মানুসারে কোনটি শুদ্ধ?
  1. খেয়ালী ও সরকারি
  2. মিতালি ও শাড়ি
  3. রূপালী ও কিংবদন্তি
  4. হেঁয়ালী ও তরকারি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মানুসারে শুদ্ধ - মিতালি ও শাড়ি

বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- তৎসম শব্দগুলো সংস্কৃতের যথাযথ বানানে লিখতে হবে। তবে, যে-সব বানানে মূল সংস্কৃত ই-কার ও ঈ- কার এবং উ-কার ও উ-কার উভয়ই শুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করেছে, সে বানানগুলোতে শুধু ই-কার এবং উ- কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
- সংস্কৃতে পদবী ও পদবি দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে বাংলায় 'পদবি' গৃহীত হবে।
- সংস্কৃতে ঊষা ও উষা দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে 'উষা' গৃহীত হবে।
এ-রকম আরো উদাহরণ: কিংবদন্তি, শ্রেণি, খঞ্জনি, চিৎকার, ধমনি, ধূলি, পঞ্জি, ভঙ্গি, মঞ্জুরি, মসি, লহরি, সরণি, সূচি, উর্ণা ইত্যাদি।

- অতৎসম অর্থাৎ নিজস্ব (অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি ইত্যাদি) ও বিদেশি শব্দে সর্বদা ঈ-কার এবং ঊ-কার বর্জিত হবে।
যেমন: তরকারি, মুলা, দিঘি, সরকারি, শাড়ি, পশমি, ইমান, কুরান, নিচু, ভুখা ইত্যাদি।

- '-আলি' প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার হবে।
যেমন: সোনালী হবে না, হবে সোনালি; মিতালী হবে না, হবে মিতালি
অনুরূপভাবে - বর্ণালি, খেয়ালি, রূপালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,২০৭.
'বার্ষিক' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) বর্ষ + ষ্ণিক
  2. খ) ব + ষ্ণিক
  3. গ) বরষ + ইক
  4. ঘ) বর্ষা + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা
ষ্ণিক (ইক) প্রত্যয়যােগে সম্বন্ধ অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠিত হয়। যেমন-বর্ষ + ষ্ণিক = বার্ষিক, সাহিত্য + ষ্ণিক = সাহিত্যিক, বেদ + ষ্ণিক = বৈদিক, বিজ্ঞান + ষ্ণিক = বৈজ্ঞানিক, সমুদ্র + ষ্ণিক = সামুদ্রিক।
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা
১৬,২০৮.
‘প্রকাশ’ শব্দে প্র উপসর্গ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) আধিক্য
  2. খ) গতি
  3. গ) প্রকৃষ্ট
  4. ঘ) খ্যাতি
ব্যাখ্যা
‘প্রকাশ’ শব্দে প্র উপসর্গ গতি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
এরূপ: প্রবেশ, প্রদান ইত্যাদি।  

আধিক্য অর্থে প্র উপসর্গের ব্যবহার হলো: প্রগাঢ়। গতি অর্থে প্রবেশ, প্রস্থান, প্রচার ও প্রবাহ। খ্যাতি অর্থে প্রশংসা, প্রসিদ্ধ ইত্যাদি।

(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি : ড. হায়াৎ মাহমুদ)
১৬,২০৯.
বাংলা ব্যাকরণ প্রথম যে ভাষায় লেখা হয় -
  1. ক) ইংরেজি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) পোর্তগিজ
ব্যাখ্যা
- ম্যানোয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁউ পোর্তগিজ ভাষায় রচিত Vocabulario em Idioma Bengalla E Portugues (1743) গ্রন্থের একটা অধ্যায়ে পুর্তগিজ ভাষায় প্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেন।
- কিন্তু সেটা কোনো গ্রন্থ ছিল না, একটা অধ্যায় ছিল মাত্র।

- বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ লেখেন এন বি (নাথায়িল ব্রাসি) হ্যালহেড। এটি ইংরেজিতে লেখা হয়।
- এই বইয়ের নাম ছিল - A Grammar of the Bengal Language (1778)।

- আর বাংলা ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ প্রথম লেখেন রাজা রামমোহন রায়।
- এই বইয়ের নাম ছিল ‘গোড়ীয় ব্যাকরণ’ (১৮৩৩)।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি।
১৬,২১০.
‘ছটফটানি’ অর্থে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. অকটবিকট
  2. ডাকাবুকো
  3. আগুনে ঘি ঢালা
  4. অঙ্কুশ-তাড়না
ব্যাখ্যা
• ‘অকটবিকট’ বাগ্‌ধারার অর্থ - ছটফটানি।

অন্যদিকে,
• ‘আগুনে ঘি ঢালা’ বাগধারার অর্থ - রাগ বাড়ানো।
• ‘ডাকাবুকো’ বাগ্‌ধারার অর্থ - নির্ভীক।
• ‘অঙ্কুশ-তাড়না’ বাগ্‌ধারার অর্থ - অন্তর্গত আঘাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,২১১.
‘কাঁজি ভক্ষণ নামে গোয়ালা’ বাগধারাটির প্রকৃত অর্থ কি?
  1. ক) অলস ব্যাক্তি
  2. খ) ছিঁচকাঁদুনে
  3. গ) বাকপয়াটু
  4. ঘ) হতভাগ্য
ব্যাখ্যা

কাঁজি ভক্ষণ নামে গোয়ালা = হতভাগ্য।
উদাহরণ - গফুর জমি চাষ করে কী হবে, কাঁজি ভক্ষণ নামে গোয়ালার মতো সে ধান যায় জমিদারের গোয়ালায়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৬,২১২.
নিচের কোন শব্দে ব-ফলার উচ্চারণ নেই?
  1. অশ্ব
  2. ত্বক
  3. পক্ব
  4. বিশ্বাস
ব্যাখ্যা
• 'ত্বক' শব্দে ব-ফলার উচ্চারণ নেই।

ব:
 'ব' বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ব]। তবে ফলা হিসেবে এই বর্ণের উচ্চারণে স্বাতন্ত্র্য আছে।

শব্দের আদিতে ব-ফলার উচ্চারণ হয় না
যেমন - 
- ত্বক [তক্],
- শ্বশুর [শোশুর্],
- স্বাধীন [শাধিন্]।

• শব্দের মধ্যে বা শেষে ব-ফলা যুক্ত হলে সেই ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়।
যেমন - 
- অশ্ব [অশ্শো‌],
- বিশ্বাস [বিশ্শা‌শ্],
- পক্ব [পক্‌কো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬,২১৩.
’কলম্ব' শব্দের প্রতিশব্দ কি?
  1. তীর
  2. কদম
  3. সমুদ্র
  4. ঢেউ
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,


 অভিগম্য অভিধান অনুসারে,
 

• কলম্ব (বিশেষ্য পদ), 

- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- বাণ, তীর/তির, শর। 
- কদম্ব/কদম গাছ। 
- শাকের ডাঁটা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং অভিগম্য অভিধান। 

১৬,২১৪.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. ক) ঈশিত্ব
  2. খ) ন্যূনাধিক
  3. গ) শিরশ্ছেদ
  4. ঘ) অংশীত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ- অংশীত
• শুদ্ধ- অংশিত
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়- √অন্শ্+ত
অর্থ: ভিন্ন ভিন্ন ভাগে বিভক্ত, বিভাজিত।

ঈশিত্ব, ন্যূনাধিক ও শিরশ্ছেদ শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,২১৫.
পূরণবাচক সংখ্যাবাচক শব্দ কয় রকমের?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সংখ্যাশব্দ:
যেসব শব্দ দিয়ে সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে সংখ্যাবাচক শব্দ বা সংখ্যাশব্দ বলে। এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয় প্রভৃতি সংখ্যাশব্দ এগুলো এখানে কথায় লেখা হয়েছে।
- আবার বিশেষ কিছু বর্ণ বা সংকেত দিয়ে এগুলো প্রকাশ করা যায়, যথা: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ প্রভৃতি সংখ্যাশব্দ এগুলো এখানে অঙ্কে বা সংখ্যাবর্ণে লেখা হয়েছে। দূরত্ব, দৈর্ঘ্য, আয়তন, খণ্ড, তাপমাত্রা ইত্যাদি পরিমাপের ক্ষেত্রে সংখ্যাশব্দের ব্যাপক ব্যবহার হয়।

সংখ্যাশব্দ দুই রকমের:
১. ক্রমবাচক ও
২. পূরণবাচক।

• ক্রমবাচক: এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ।
• পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম।

পূরণবাচক শব্দ ৩ প্রকার।
যথা:
- সাধারণ পূরণবাচক
- তারিখ পূরণবাচক ও
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৬,২১৬.
'নয়-ছয়' বাগ্‌ধারা অর্থ কী?
  1. তুচ্ছ জ্ঞান করা
  2. অপচয়
  3. বিবেচনা করা
  4. অবজ্ঞা করা
ব্যাখ্যা

• 'নয়-ছয়' বাগ্‌ধারা অর্থ - অপচয়/বিশৃঙ্খল অবস্থা।

অন্যদিকে,
• 'নকড়া ছকড়া করা' অর্থ- তুচ্ছ জ্ঞান করা।
• 'খতিয়ে দেখা' অর্থ- বিবেচনা করা।
• 'নাক সিটকানো' অর্থ- অবজ্ঞা করা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬,২১৭.
'বসন্তের কোকিল' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. অত্যধিক সুবিধে
  2. ক্ষণস্থায়ী
  3. সুসময়ের বন্ধু
  4.  ভণ্ড
ব্যাখ্যা

• 'বসন্তের কোকিল' বাগ্‌ধারার অর্থ- সুসময়ের বন্ধু। 

অন্যদিকে, 
• 'পদ্মপাতায় জল' অর্থ - ক্ষণস্থায়ী। 
• 'পোয়া বারো' অর্থ - অত্যধিক সুবিধে। 
• 'বকধার্মিক' অর্থ - ভণ্ড। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬,২১৮.
'লা, গর, বাজে' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. ফারসি
  2. বাংলা
  3. সংস্কৃত
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।

যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
উর্দু উপসর্গ: হর।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,২১৯.
’নদীমাতৃক’ কোন প্রকার সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যথা-
বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার বহুব্রীহি।
এখানে 'বহু' কিংবা 'ব্রীহি' কোনোটিরই অর্থের প্রাধান্য নেই, যার বহু ধান আছে এমন লোককে বোঝাচ্ছে।

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদে মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে 'ক' যুক্ত হয়।
যেমন:
নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক,
বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার =  বিপত্নীক।
এরূপ-
- সস্ত্রীক, অপুত্রক ইত্যাদি।

• কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন
নীল যে পদ্ম =  নীলপদ্ম।
শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
কাঁচা অথচ মিঠা =  কাঁচামিঠা।

• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়। যেমন বিপদকে আপন্ন বিপদাপন্ন।

• দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন-
তাল ও তমাল = তাল-তমাল,
দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম।
এখানে তাল ও তমাল এবং দোয়াত ও কলম প্রতিটি পদেরই অর্থের প্রাধান্য সমস্ত পদে রক্ষিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১৬,২২০.
"তাঁর বয়স বেড়েছে, কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি।" এটি কোন বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. মিশ্র বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা জটিল বাক্য মিলিত হয়ে যখন একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
যেমন:
তিনি অর্থশালী কিন্তু শিক্ষিত নন।
হিমেল নিয়মিত পড়াশোনা করে, তাই সে প্রথম হয়।
তাঁর বয়স বেড়েছে, কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি।


• যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো ও, এবং, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি, সুতরাং, অতএব, যেহেতু, যেন প্রভৃতি অব্যয়যোগে সংযুক্ত থাকে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৬,২২১.
‘ধিক্ তারে, শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন’—এ বাক্যে ‘ধিক্‌, শত ধিক্’ কোন বিশেষণের উদাহরণ?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) বাক্যের বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়ের বিশেষণ
  4. ঘ) বিশেষণীয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা

অব্যয়ের বিশেষণঃ
যে ভাব - বিশেষণ অব্যয় পদ বা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষায়িত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যেমন, ধিক্‌ তারে, শত ধিক্‌ নির্লজ্জ যে জন।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)

১৬,২২২.
'অত্যধিক' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. অত্যা+অধিক
  2. অত্য + ধিক
  3. অতি + অধিক
  4. অতি+ধিক
ব্যাখ্যা
• 'অত্যধিক' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - 'অতি + অধিক'। 

• সন্ধির নিয়ম: 
ই-কার বা ঈ-কার পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে সন্ধির বেলায় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে য-ফলা লেখা হয়।
এই নিয়মে গঠিত সন্ধি:
• অতি + অন্ত = অত্যন্ত
• ইতি + আদি = ইত্যাদি
• প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ
• নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,২২৩.
তিনি বললেন যে বইটা তাঁর দরকার। - বাক্যটি কীসের উদাহরণ?
  1. পরোক্ষ উক্তির
  2. কর্তৃবাচ্যের
  3. প্রত্যক্ষ উক্তির
  4. কর্মবাচ্যের
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষ উক্তি:
- যে বাক্যের সাহায্যে বক্তার কথা সরাসরি বর্ণনা করা হয় তাকে বলা হয় প্রত্যক্ষ উক্তি।
যেমন:
- ইব্রাহীম বলল, 'আমি কাজটি শেষ করতে পারিনি'।
- এ বাক্যের বক্তা হলো ইব্রাহীম। ইব্রাহীমের কথাই এখানে সরাসরি বর্ণনা করা হয়েছে।
- অতএব এটি হলো প্রত্যক্ষ উক্তির উদাহরণ।

পরোক্ষ উক্তি:
- যে বাক্যে বক্তার বক্তব্য সরাসরি বর্ণনা করা হয় না, অন্যের দ্বারা বর্ণনা করা হয় সে উক্তিকে বলা হয় পরোক্ষ উক্তি।
যেমন:
- তিনি বললেন যে, বইটা তার দরকার।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬,২২৪.
'বেঙ্‌ + আচি = বেঙাচি' - এটি কোন প্রকার প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

যেমন:
বেঙ্‌ + আচি = বেঙাচি,
শীত + অল = শীতল,
ঘাম + আচি = ঘামাচি,
তল + আনি = তলানি,
নাক + আনি = নাকানি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১৬,২২৫.
বাংলা ভাষায় স্পর্শধ্বনি রয়েছে -
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ২৫
ব্যাখ্যা

ক থেকে ম পর্যন্ত পাঁচটি বর্গে মোট পঁচিশটি ধ্বনি।
- এসব ধ্বনি উচ্চারণে জিহ্বার সঙ্গে অন্য বাগযন্ত্রের কোন কোন অংশের কিংবা ওষ্ঠের সঙ্গে অধরের স্পর্শ ঘটে।
অর্থাৎ এদের উচ্চারণে বাক্‌প্রত্যঙ্গের কোথাও না কোথাও ফুসফুসতাড়িত বাতাস বাঁধা পেয়ে বেরিয়ে যায়।
বাঁধা পেয়ে স্পষ্ঠ হয় বলে এগুলোকে বলে স্পর্শ ধ্বনি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬,২২৬.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. হাঙ্গেরী
  2. মালদ্বীপ
  3. শ্রীলঙ্কা
  4. গ্রিস
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: হাঙ্গেরী।
• শুদ্ধ বানান: হাঙ্গেরি।

• নিয়ম:

যে কোন দেশ, জাতি ও ভাষার নাম লিখতে ই/ঈ কার দেয়ার প্রশ্ন এলে তাতে ই-কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন-
• দেশ: গ্রিস, হাঙ্গেরি, ইতালি ইত্যাদি।
[ব্যতিক্রম- মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা]
• জাতি: বাঙালি, জার্মানি, পর্তুগিজ, তুর্কি ইত্যাদি।
• ভাষা: হিন্দি, আরবি, ফারসি ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলা ভাষাও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি অভিধান।
১৬,২২৭.
কোন বস্তুর সংখ্যা বা পরিমাণ বোঝাতে কোন পদ ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সংখ্যাবাচক বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়া পদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
১৬,২২৮.
কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. ক) মিঠুর কোনো ভৌগোলিক জ্ঞান নেই
  2. খ) হিমালয় পর্বত দুর্লঙ্ঘনীয়
  3. গ) গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ো না
  4. ঘ) স্বাক্ষর লোক মাত্রই শিক্ষিত নয়
ব্যাখ্যা
সঠিক বাক্যটি হচ্ছে - মিঠুর কোনো ভৌগোলিক জ্ঞান নেই। অন্য তিনটি বাক্যের শুদ্ধ রূপ - হিমালয় পর্বত দুর্লঙ্ঘ্য, গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ো না, সাক্ষর লোক মাত্রই শিক্ষিত নয়।
১৬,২২৯.
'যিনি ভালো ব্যাকরণ জানেন' তিনি হলেন-
  1. ব্যাকরণ বিশেষজ্ঞ
  2. ব্যাকরণবিদ
  3. বৈয়াকরণ
  4. বৈয়াকরণিক
ব্যাখ্যা
'ব্যাকরণ জানেন যিনি' তাকে এক কথায় বলে = বৈয়াকরণ।

কিছু এক কথায় প্রকাশ:
- 'যা আঘাত পায়নি' - অনাহত।
- 'যা আহুত হয় নি' - অনাহুত।
- 'যে সকল অত্যাচারই সয়ে যায়' - সর্বংসহা।
- 'বেশি কথা বলে যে' - বাচাল।
- ‘বচনে কুশল’ - বাগ্মী।
- 'বাক্যের দ্বারা কৃতকলহ' - বচসা।
- 'হাতির গর্জন' - বৃংহিত।
- 'নূপুরের ধ্বনি' - নিক্বণ।
- 'হরিণের চামড়া' - অজিন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,২৩০.
'বেলে মাটি' - কোন প্রকার বিশেষণ?
  1. গুণবাচক
  2. উপাদানবাচক
  3. বর্ণবাচক
  4. অবস্থাবাচক
ব্যাখ্যা

বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

• উপাদানবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন -
- বেলে মাটি
- পাথুরে মূর্তি।
- মেটে কলসি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

১৬,২৩১.
কোন বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়?
  1. প-বর্গীয়
  2. ত-বর্গীয়
  3. ক-বর্গীয়
  4. ট-বর্গীয়
ব্যাখ্যা
'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লণ্ঠন, কান্ড ইত্যাদি।
• ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি য, য়, ব, হ,ং  এবং ক-বর্গীয় প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প্ + অ+), লক্ষণ (ক্+ + অ + ণ)। এরূপ রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৬,২৩২.
কোন কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে?
  1. কর্মকারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে

যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,২৩৩.
জলে স্থলে কী সমাস?
  1. সমার্থক দ্বন্দ্ব
  2. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
  3. অলুক দ্বন্দ্ব
  4. একশেষ দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
• অলুক দ্বন্দ:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনাে সমস্যমান পদের বিভক্তি লােপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে,
- জলে ও স্থলে = জলে-স্থলে,
- দেশে ও বিদেশে = দেশে-বিদেশে,
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,২৩৪.
সন্ধির অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) অন্বয়
  2. খ) মন্বন্তর
  3. গ) পশ্বাধম
  4. ঘ) স্বচ্ছ
ব্যাখ্যা
'উ' বা 'ঊ' ধ্বনির সঙ্গে অন্য স্বরধ্বনি মিললে উ বা ঊ–র জায়গায় ব–ফলা হয় এবং পরের স্বরধ্বনির চিহ্ন বানানে আগের ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়৷
যেমন- উ + অ = ব্ + অ = ব:
অনু + অয় = অন্বয়
পশু + অধম = পশ্বধম
মনু + অন্তর = মন্বন্তর
সু + অচ্ছ = স্বচ্ছ
সু + অল্প = স্বল্প
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,২৩৫.
'বরনারী' শব্দের অর্থ কী?
  1. সুন্দরী নারী
  2. বিবাহের পাত্রী
  3. পরোপকারী ব্যক্তি
  4. বিপদজনক ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
• বরনারী (স্ত্রীলিঙ্গ)
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয়: বর+নারী। 

অর্থ: 
- সুন্দরী নারী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,২৩৬.
ঋ, র, ষ - এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয় - এই নিয়ম অনুসারে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ব্রাহ্মণ
  2. ভাষণ
  3. রুক্সিণী
  4. কৃপণ
ব্যাখ্যা

• ঋ, র, ষ - এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন:
- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ, ব্যাকরণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ঋ, র, ষ - এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য়, ব, হ, ং এবং ক - বর্গীয় ও প - বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্‌, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ণ,) এরূপ- রুক্সিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬,২৩৭.
পড়া শেষে খেলতে যাবো- এই বাক্যে কোন লক্ষণ প্রকাশিত?
  1. ক) স্পৃহা
  2. খ) আসক্তি
  3. গ) অভ্যাস
  4. ঘ) অভিপ্রায়
ব্যাখ্যা

‘ইতে’> ‘তে’ বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহারে ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা বা অভিপ্রায় অর্থ প্রকাশ সূচক বাক্য হলো ''পড়া শেষে খেলতে যাবো'', “আমি এখন যেতে চাই” ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬,২৩৮.
এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে মিলে যে বাক্য হয় তাকে কী বাক্য বলে?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

সরল বাক্য: একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন,
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।

জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

যৌগিক বাক্য: এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন-
- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৬,২৩৯.
কোথায় ‘ণ-ত্ব’ বিধান খাটেনা?
  1. ‘ট’ বর্গীয় ধ্বনির আগে
  2. ঋ, র, ষ-বর্ণের পরে 
  3. প্র, পরা, পরি, নির— উপসর্গগুলোর পর
  4. সমাসবদ্ধ শব্দে
ব্যাখ্যা

‘ণ-ত্ব’ বিধান খাটেনা- সমাসবদ্ধ পদে।
- সমাসবদ্ধ শব্দে দুইপদেরই অর্থের প্রাধান্য থাকলে ণ-ত্ব বিধান খাটে না।
- যেমন-
- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
-------------------------
অন্যদিকে,
- বাংলা ব্যাকরণের ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী, ট-বর্গীয় ধ্বনির (ট, ঠ, ড, ঢ) পূর্বে যদি দন্ত্য ন ধ্বনি থাকে এবং ওই দন্ত্য ন সহযোগে যদি যুক্তবর্ণ তৈরি হয় তা হলে তা সর্বদা মূর্ধন্য ণ-এ রূপান্তরিত হয়।

- ঋ, র, ষ - এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। 

- প্র, পরা, পরি, নির— উপসর্গগুলোর পর মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৬,২৪০.
‘ঘ’ কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. ঘােষ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
  2. অঘোষ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
  3. ঘােষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
  4. অঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘ঘ’ ঘােষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘােষ ও অঘোষ।

• ঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

• অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।


---------------------------
• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।

• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

• মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
১৬,২৪১.
নিচের কোনটি ‘ক’ বর্গীয় বর্ণ?
  1. ক) ন
  2. খ) ফ
  3. গ) ঙ
  4. ঘ) ঞ
ব্যাখ্যা
⇒ ধ্বনি নির্দেশক চিহ্নকে বলা হয় বর্ণ। বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ সংখ্যা ৫০ টি।
- স্বরবর্ণ ১১টি ও
- ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

• ক-ম পর্যন্ত ২৫ টি বর্ণকে স্পর্শ বা বর্গীয় বর্ণ বলে। যথা:
- ক বর্গীয় বর্ণ: ক, খ, গ, ঘ,
- চ বর্গীয় বর্ণ: চ, ছ, জ, ঝ,
- ট বর্গীয় বর্ণ: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ।
- ত বর্গীয় বর্ণ: ত, থ, দ, ধ,
- প বর্গীয় বর্ণ: প, , ব, ভ, ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি।
১৬,২৪২.
'শিকেয় তোলা' বাগধারাটির অর্থ -
  1. ক) মুলতবি রাখা
  2. খ) সর্বনাশ করা
  3. গ) বিগড়ে দেওয়া
  4. ঘ) গোপন করা
ব্যাখ্যা

শিকেয় তোলা (ক্রিয়া) (আলঙ্কারিক) - অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত বা মুলতবি রাখা।
যেমনঃ
- এসব শিকেয় তুলে রাখো।

সোর্সঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

১৬,২৪৩.
নিচের কোন গুলো মূর্ধন্য ব্যঞ্জন ধ্বনির উদাহরণ?
  1. ক) ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ়
  2. খ) ক, খ, গ, ঘ, ঙ
  3. গ) ন, র, ল, স
  4. ঘ) চ, ছ, জ, ঝ, শ
ব্যাখ্যা
• দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেমন ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
- (ক, খ, গ, ঘ, ঙ) এগুলো কন্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
- (ন, র, ল, স) এগুলো দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
- (চ, ছ, জ, ঝ, শ) হলো তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৬,২৪৪.
'অনুশোচনা' শব্দে 'অনু' শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পশ্চাৎ
  2. সাদৃশ্য
  3. পৌনঃপুন
  4. সঙ্গে 
ব্যাখ্যা

• অনু উপসর্গ: 
- পশ্চাৎ - অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
- সাদৃশ্য - অনুবাদ, অনুরূপ, অনুকার।
- পৌনঃপুন - অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
- সঙ্গে - অনুকূল, অনুকম্পা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৬,২৪৫.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. বাঁশি
  2. মা
  3. তৈল
  4. জলধি
ব্যাখ্যা

• মৌলিক শব্দ - মা

অন্যদিকে,
রূঢ়ি শব্দ:
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়।
যোগরূঢ় শব্দ - জলধি

মৌলিক শব্দ:
- যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গোটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনো অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘোড়া, উট, বউ, গোলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬,২৪৬.
নিম্নের কোনটি অপরগুলো থেকে ভিন্ন?
  1. ক) কচুবনের কালাচাঁদ
  2. খ) আমড়া কাঠের ঢেঁকি
  3. গ) অকাল কুষ্মান্ড
  4. ঘ) কাঁঠালের আমসত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• কাঁঠালের আমসত্ত্ব বাগ্‌ধারার অর্থ = অসম্ভব বস্তু।

অন্যদিকে, 
'অকাল কুষ্মান্ড', 'আমড়া কাঠের ঢেঁকি', 'কচুবনের কালাচাঁদ' বাগধারার অর্থ = অপদার্থ।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারাঃ
- কূপমুন্ডক = সীমাবদ্ধ জ্ঞান।
- ডাকাবুকো = নির্ভীক।
- কাকভূষণ্ডী - দীর্ঘজীবী।
- পায়া ভারি - অহঙ্কার।
- কানকাটা - বেহায়া।
- বকধার্মিক - ভণ্ড।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,২৪৭.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. ক) বাঁশি
  2. খ) মা
  3. গ) তৈল
  4. ঘ) জলধি
ব্যাখ্যা

যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন : মা, বউ, লতা, গাছ, পাখি, ফুল ইত্যাদি। 

• সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে। - যেমনঃ
- জলধিঃ 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
• যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গ যগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি বলে।
- যেমনঃ হস্তী = হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আচে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
এছাড়াও সন্দেশ, প্রবীণ, তৈল, বাঁশি, গবেষণা, হস্তী ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দ।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬,২৪৮.
‘ঘন’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. নদী
  2. মেঘ
  3. বাতাস
  4. সমুদ্র
ব্যাখ্যা
• 'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
জলদ, বারিদ, নীরদ, ঘন, অভ্র, পয়োদ, পয়োধর ইত্যাদি।

------------------
অন্যদিকে,
• 'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
নদ, নদনদী, তটিনী, প্রবাহিণী, তরঙ্গিনী, শৈবালিনী, স্রোতস্বিনী, স্রোতস্বতী, নির্ঝরণী, গাঙ, সরিৎ, সমুদ্রকান্তা, সমুদ্রদয়িতা, স্রোতবহা, মন্দাকিনী, স্রোতোবহ, কল্লোলিনী।

• সমুদ্র শব্দের সমার্থক শব্দগুলো হলো:
অর্ণব, জলধি, উদধি, পয়োধি, পয়োনিধি, তোয়ধি, পারাবার, সাগর, সিন্ধু, বারিধি, বারীশ, রত্নাকর, সায়র, অকূল, রত্নাকর ইত্যাদি।

• 'বাতাস’ শব্দের কিছু সমার্থক শব্দ:
বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, প্রভঞ্জন।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,২৪৯.
কারখানা, কারসাজি, কারচুপি প্রভৃতি শব্দের 'কার্‌' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) স্থান
  2. খ) অধীন
  3. গ) সহিত
  4. ঘ) কাজ
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কাজ অর্থে ‘কার্‌’ উপসর্গের ব্যবহার- কারখানা, কারসাজি, কারচুপি, কারবার, কারদানি।
১৬,২৫০.
হাতে হাতে এ কাজের ফল পাবেন। এখানে ‘হাতে হাতে’ কী অর্থ বুঝায়?
  1. ক) অবিলম্বে
  2. খ) ভিক্ষা করা
  3. গ) হস্তান্তর
  4. ঘ) প্রভাব
ব্যাখ্যা
হাতে হাতে এ কাজের ফল পাবেন। এখানে ‘হাতে হাতে’ দ্বারা অবিলম্বে বুঝানো হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
১৬,২৫১.
'অগ্নিশর্মা' বাগ্‌ধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. সুচতুর ব্যক্তি
  2. কঠিন পরীক্ষা
  3. নিরতিশয় ক্রুদ্ধ
  4. ভীষণ বিপদ
ব্যাখ্যা
• 'অগ্নিশর্মা' বাগ্‌ধারার অর্থ - নিরতিশয় ক্রুদ্ধ। 

অন্যদিকে, 
- অগাধ জলের মাছ - সুচতুর ব্যক্তি। 
- অগ্নিপরীক্ষা - কঠিন পরীক্ষা। 
- অকূল পাথার - ভীষণ বিপদ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অ নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)
১৬,২৫২.
'ক্ষুন্নিবৃত্তি' - এর শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি
  2. ক্ষুৎ + নিবৃত্তি
  3. ক্ষুত্‌ + নিবৃত্তি
  4. ক্ষুদ্ + নিবৃত্তি
  5. ক্ষুধা + নিবৃত্তি
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- আগে ৎ বা দ্‌ এবং ন্‌ / ম্‌ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে 'ন্‌' হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়। কিন্তু, ৎ / দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ / দ্ সন্ধিতে 'ল্‌' হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।

যেমন:
- উৎ + নীত = উন্নীত,
- ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি,
- তদ্‌ + মাত্র = তন্মাত্র,
- উৎ + লাস = উল্লাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬,২৫৩.
'হাল' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. হরদম
  2. অস্থাবর
  3. সাবেক
  4. বহাল
ব্যাখ্যা
• 'হাল' শব্দের অর্থ: অবস্থা; দশা, বর্তমান কাল, বর্তমান; উপস্থিত; আধুনিক; চলতি। 
• 'সাবেক' শব্দের অর্থ: পূর্ববর্তী; আগেকার; পূর্বতন।

• 'হাল' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - সাবেক। 

অন্যদিকে,
• হরদম - হঠাৎ।
• স্থাবর - অস্থাবর।
• 'বহাল' শব্দের অর্থ- নিযুক্ত, অটুট, স্থায়ী। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২- সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি অভিধান।
১৬,২৫৪.
নিচের কোন শব্দে "এ" ধ্বনির উচ্চারণ স্বাভাবিক?
  1. বেলা
  2. কেন
  3. এক
  4. কেক
ব্যাখ্যা
এ-এর দু রকম উচ্চারণ হয়:

স্বাভাবিক (এ-এর মতো):
- একটি (এক্‌টি ), কেক (কেক্‌), কেটলি (কেট্লি), মেয়ে (মেয়ে), বেগুন (বেগুন্‌), মেষ (মেশ্)। 

সংবৃত বা পরিবর্তিত (অ্যা-এর মতো):
এক (অ্যাক্), খেলা (খ্যালা), বেলা (ব্যালা), কেন (ক্যানো), যেন (য্যানো)।

বর্ণের উচ্চারণ:
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মূল ধ্বনিকে প্রকাশ করার জন্য রয়েছে ৫০টি মূল বর্ণ।
- এর মধ্যে অধিকাংশ বর্ণের উচ্চারণ মূল ধ্বনির অনুরূপ।
- কয়েকটি বর্ণের একাধিক উচ্চারণ রয়েছে।
- আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক বর্ণের উচ্চারণ অভিন্ন।
- ধ্বনিগুলাে দিয়ে শব্দ তৈরি হওয়ার সময়ে পাশের ধ্বনির প্রভাবে বর্ণের উচ্চারণ অনেক সময়ে বদলে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৬,২৫৫.
He is out of luck এর অর্থ কী?
  1. ক) সে ভাগ্য হারিয়েছে
  2. খ) সে ভাগ্যহারা
  3. গ) তার পোড়া কপাল 
  4. ঘ) সে ভাগ্যের বাইরে.
ব্যাখ্যা
He is out of luck এর অর্থ তার পোড়া কপাল
১৬,২৫৬.
বাংলা ব্যকরণে সন্ধির মূল সুবিধা হল:
  1. ক) সরল লেখ্যরুপ প্রদান
  2. খ) সহজে উচ্চারণ
  3. গ) শব্দের অলংকার বৃদ্ধি
  4. ঘ) ধ্বনিগত মাধুর্য সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
সন্ধি
- সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন৷
- সন্ধি শব্দ গঠনেরও একটি উপায়।
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।

সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণি।
১৬,২৫৭.
'আদিত্য' কী ধরণের শব্দ?
  1. রূঢ়ি শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. যোগরূঢ় শব্দ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন -
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতিবিশেষ'।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- আদিত্য: ব্যুৎপত্তিগত অর্থ অদিতির পুত্র বা সকল দেবতা। কিন্তু আদিত্য মানে সূর্য।

উৎস:
১. বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ সংস্করণ]।
২. ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৬,২৫৮.
'সোণে ভরিতী করুণা নাবী।
রুপা থুই নাহিক ঠাবী।' এখানে 'নাবী' শব্দের অর্থ-
  1. ক) নৌকা
  2. খ) প্রিয়জন
  3. গ) নাবিক
  4. ঘ) নারী
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমির অভিধান অনুসারে
• নাবি/নাবী [বাংলা শব্দ]
অর্থ: নৌবহর; যথাসময়ের পরে জাত।

---------------------

- প্রশ্নে প্রদত্ত পংক্তির রচয়িতা হলেন: কম্বলাম্বরপাদ।
- তিনি চর্যাপদের একজন কবি ছিলেন।
- কবি তাঁর ধনসম্পদের কথা বলতে গিয়ে এই লাইনটি রচনা করেন।

সোণে ভরিতী করুণা নাবী।
রুপা থুই নাহিক ঠাবী।
- এটি দ্বারা কবি বুঝিয়েছেন, আমার করুণা নামের নৌকা সোনায় সোনায় ভ'রে গেছে। সেখানে আর রুপো রাখার তিল পরিমাণে জায়গা নেই৷ 
• এখানে 'নাবী' শব্দ দ্বারা নৌকা কে বুঝানো হয়েছে।
এ কথা পড়ার সাথে সাথে মনে পড়ে যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী'র বিখ্যাত সেই পংক্তিগুলো,
যেখানে কবি বলেছেন:

ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই ছোট সে তরী,
আমার সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,২৫৯.
সহচর শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. চলা-ফেরা
  2. মাসি-পিসি
  3. স্বর্গ-নরক
  4. পোকা-মাকড়
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেক সমস্যমান পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে দ্বন্দ্ব সমাস:
 যেমন:
• দয়া-মায়া,
• কাপড়-চোপড়,
পোকা-মাকড়,
• দয়া-মায়া,
• ধূতি-চাদর ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
• 'চলা-ফেরা' দুটি ক্রিয়াযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস। 
• 'স্বর্গ-নরক' বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস। 
• 'মাসি-পিসি' মিলনার্থক' শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,২৬০.
কোনটি বহুব্রীহি সমাস?
  1. মাথায়পাগড়ি
  2. প্রতিদিন
  3. খেয়াঘাট
  4. চন্দ্রমুখ
ব্যাখ্যা
• 'মাথায় পাগড়ি যার - মাথায়পাগড়ি' - অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। 
-------------------- 
• অলুক বহুব্রীহি: 
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব পদের বিভক্তির লোপ হয়না তাই অলুক বহুব্রীহি সমাস।
যেমন:
গায়ে এসে পড়ে যে - গায়ে পড়া। 
মাথায় পাগড়ি যার - মাথায়পাগড়ি। 

অন্যদিকে, 
• দিন দিন = প্রতিদিন; অব্যয়ীভাব সমাস।
• খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট; তৎপুরুষ সমাস।
• চন্দ্রমুখ; কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,২৬১.
কোনটি 'চুল' শব্দের সমার্থক নয়?
  1. ক) সবিতা
  2. খ) চিকুর
  3. গ) কুন্তল
  4. ঘ) অলক
ব্যাখ্যা
চুল শব্দের সমার্থক শব্দ - অলক, কুন্তল, কেশ, চিকুর, কবরী ইত্যাদি।
সবিতা শব্দের সমার্থক শব্দ - সূর্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬,২৬২.
কোনটি নিত্য সমাস?
  1. করপল্লব
  2. কালচক্র
  3. কালান্তর
  4. কালসিন্ধু
ব্যাখ্যা
• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। শুধু সমস্তপদের ব্যাখ্যা দিতে হয়।
যেমন:
অন্য কাল = কালান্তর;
অন্য গৃহ = গৃহান্তর;
অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর;
ঈষৎ ঘোলা = ঘোলাটে;
কেবল চড়া = চড়ামাত্র;
এক জন = জনৈক;
কেবল তা = তন্মাত্র;
কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র;
সারা দিন = দিনভর;
অন্য দেশারা = দেশান্তর;
অন্য দ্বীপ = দ্বীপান্তর;
অন্য ভাষা = ভাষান্তর। 

- সমস্তপদের শেষে 'অন্তর' থাকলে ব্যাসবাক্যে 'অন্য' হবে। যেমন: দেশান্তর = অন্য দেশ।
- সমস্তপদের শেষে 'মাত্র/খানা' থাকলে ব্যাসবাক্যে 'কেবল' হবে। যেমন: শয়নমাত্র = কেবল শয়ন।

অন্যদিকে, 
• কর পল্লবের ন্যায় = করপল্লব; উপমিত কর্মধারায় সমাস। 
• কাল রূপ চক্র = কালচক্র; কাল রূপ সিন্ধু = কালসিন্ধু; রূপক কর্মধারায় সমাস। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
১৬,২৬৩.
নিচের কোন শব্দে মূর্ধন্য ‘ষ’ এর অপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. কিষমিশ
  2. ষাণ্মাসিক
  3. বিষয়ী
  4. কষাকষি
ব্যাখ্যা
⇒ বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো ‘ষ’ লেখা যাবে না।
যেমন: 
- ফটোষ্ট্যাট হবে না, সঠিক বানান হবে ফটোস্ট্যাট।
তেমনইভাবে ষ্টেশন, ষ্ট্রিট ও কিষমিশ লিখলে ভুল হবে, সঠিক বানান হবে স্টেশন, স্ট্রিট এবং কিশমিশ।

অন্যদিকে,
কষাকষি, ষাণ্মাসিক ও বিষয়ী শব্দগুলোতে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহার শুদ্ধ।

=============
⇒ ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,২৬৪.
দ্বিস্বরধ্বনি বর্ণ কোনটি?
ব্যাখ্যা
• দ্বিস্বরধ্বনি:
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়। যেমন 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে। 

• বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ।
- ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই্‌]।
- একইভাবে ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্‌]।

অন্যদিকে,
'ঞ' ও 'ঝ' ব্যঞ্জনধ্বনি এবং 'উ' স্বরবর্ণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৬,২৬৫.
'উদ্ভাসিত' এর বিপরীত শব্দ-
  1. উচ্ছ্বাসিত
  2. আলোকিত
  3. ম্রিয়মান
  4. ক্ষীয়মান
ব্যাখ্যা
'উদ্ভাসিত' এর বিপরীত শব্দ- ম্রিয়মান 

আরও কিছু শব্দের বিপরীত রূপ-
- উন্মুখ - বিমুখ
- উত্তপ্ত - শীতল
- উদ্ধৃত - ঘাটতি 
- ঊর্ধতন - অধস্তন 
- ঐজ্জ্বল্য - ম্লানিমা
- ঔদ্ধত - বিনয়

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬,২৬৬.
কোনটি পর্তুগিজ শব্দ?
  1. কুর্নিশ
  2. তোপ
  3. আচার
  4. চাকু
  5. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• পর্তুগিজ শব্দ - আচার
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- তেল মসলা সহযোগে তৈরি কাঁচা আম জলপাই প্রভৃতি ফলের মুখ রোচক স্বাদবর্ধক টক-মিষ্ট-ঝাল খাদ্যবস্তু।

অন্যদিকে,
- কুর্নিশ, তোপ এবং চাকু - শব্দগুলো তুর্কি ভাষা হতে আগত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৬,২৬৭.
কোন শব্দটি ফারসি ভাষা হতে আগত?
  1. খতিয়ান
  2. গোরস্থান
  3. খতম
  4. কালিমা
ব্যাখ্যা
• 'গোরস্থান' শব্দটি ফারসি ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- যে স্থানে মৃতদেহ সমাহিত করা হয়,
- কবরস্থান।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত শব্দ - কালিমা।
আরবি শব্দ - খতম।
হিন্দি শব্দ - খতিয়ান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,২৬৮.
'সৌভাগ্য’ শব্দটির সঠিক প্রকৃত ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. সুভোগ + ষ্ণ্য
  2. সুভাগ + ষ্ণ
  3. সুভগ + ষ্ণ্য
  4. সু + ভাগ্য
ব্যাখ্যা
• 'সৌভাগ্য' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - সুভগ + ষ্ণ্য।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের সাধারণ সূত্র:
- দুটি শব্দের দ্বারা গঠিত সমাসবদ্ধ শব্দের অথবা উপসর্গযুক্ত শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে উপসর্গসহ শব্দের বা শব্দ দুটির মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়।
যথা -
- পরলোক + ষ্ণিক = পারলৌকিক।
- সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য।
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক।
- সর্বভূমি + ষ্ণ = সার্বভৌম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৬,২৬৯.
শব্দের শেষে দ্বিস্বর থাকলে কোন বিভক্তি হয়?
  1. ক) -র
  2. খ) -এর
  3. গ) -য়ের
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে দ্বিস্বর থাকলে '-য়ের' বিভক্তি হয়।

যেমন - ভাইয়ের, লাউয়ের, মৌয়ের ইত্যাদি ।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( নবম-দশম শ্রেণি )
১৬,২৭০.
‘অ+অ=আ’ এই নিয়মে সাধিত সন্ধি কোনটি?
  1. ক) হিমালয়
  2. খ) নরাধম
  3. গ) যথার্থ
  4. ঘ) বিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির সন্ধি হলে তাকে বলে স্বরসন্ধি।

‘অ/আ’ এরপরে ‘অ/আ’ থাকলে উভয়ে মিলে ‘আ’ হয় এবং তা প্রথম ‘অ/আ’-র আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
অ+অ = আঃ
নর+অধম = নরাধম।
প্রাণ + আধিক = প্রাণোধিক।
হিম+অচল = হিমাচল।
হস্ত+অন্তর = হস্তান্তর।
হিত+অহিত = হিতাহিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)

১৬,২৭১.
'মিতা রিতার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে আছে।' - বাক্যে 'আড়চোখ' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. তৎসম
  3. ফারসি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
• 'মিতা রিতার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে আছে।' বাক্যে 'আড়চোখ' শব্দটি খাঁটি বাংলা 'আড়' উপসর্গযোগে গঠিত।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,২৭২.
সংস্কৃত উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. আড়নয়নে
  2. পাতিলেবু
  3. গরমিল
  4. পরাজয়
  5. দরপত্তনী
ব্যাখ্যা
• ‘পরা’ সংস্কৃত উপসর্গটি বিপরীত অর্থে-  পরাজয় ও পরাভাব শব্দদ্বয় গঠিত।

অন্যদিকে,
• অভাব অর্থে ‘গর’ আরবি উপসর্গযোগে অন্যান্য শব্দ - গরহাজির, গররাজি, গরমিল।
• ক্ষুদ্র অর্থে বাংলা উপসর্গ ‘পাতি’ যোগে গঠিত- পাতিলেবু।
• বক্র অর্থে বাংলা উপসর্গ ‘পাতি’ যোগে গঠিত- আড়নয়নে, আড়চোখে।
• অমধ্যস্থ অর্থে ফারসি উপসর্গ ‘দর্’ যোগে গঠিত- দরপত্তনী, পরপাট্টা, দরদালান।

--------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬,২৭৩.
নিচের কোনটি যুগ্মরীতির দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. ছি ছি
  2. জারিজুরি
  3. ডেকে ডেকে
  4. কে কে
ব্যাখ্যা
• যুগ্মরীতিতে দ্বিরুক্ত শব্দের গঠন:
- একই শব্দ ঈষৎ পরিবর্তন করে দ্বিরুক্ত শব্দ গঠনের রীতিকে বলে যুগ্মরীতি। যুগ্মরীতিতে দ্বিরুক্ত গঠনের কয়েকটি নিয়ম রয়েছে।
যেমন-
•. শব্দের আদি স্বরের পরিবর্তন করে:
- চুপচাপ, মিটমাট, জারিজুরি

• শব্দের অন্ত্যস্বরের পরিবর্তন করে:
- মারামারি, হাতাহাতি, সরাসরি, জেদাজেদি।

• দ্বিতীয়বার ব্যবহারের সময় ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তনে:
- ছটফট, নিশপিশ, ভাতটাত।

অন্যদিকে,
- অব্যয়ের দ্বিরুক্ত শব্দ = ছি ছি।
- ক্রিয়া দ্বিরুক্ত শব্দ = ডেকে ডেকে।
- সর্বনাম দ্বিরুক্ত শব্দ = কে কে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১৬,২৭৪.
'পুলক' এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. কিরণ
  2. আনন্দ
  3. আগুন
  4. ফুল
ব্যাখ্যা
• পুলক (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- রোমাঞ্চ শিহরন;
- কম্পন;
- আনন্দ;
- হর্ষ।

'আনন্দ' এর সমার্থক শব্দ:
খুশি, আমোদ, মজা, পুলক, হর্ষ, আহ্লাদ, স্ফুর্তি, সন্তোষ, পরিতোষ, প্রমোদ, উল্লাস, উচ্ছ্বাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,২৭৫.
সঠিক বানান গুচ্ছ কোনটি?
  1. অধ্যাত্ম, অকালপক্ব, উল্বণ
  2. ষড়ৈশ্বর, কৃশ, ঈষৎ,
  3. ষড়্ভূজ, আষাড়, কষ্ট
  4. ঊর্মি, উলূক, গোধুম
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
সঠিক বানান গুচ্ছ- অধ্যাত্ম,অকালপক্ব,উল্বণ।

অন্যদিকে,
• ’ষড়ৈশ্বর’ শব্দের শুদ্ধরূপ- ষড়ৈশ্বর্য।
- ষড়ৈশ্বর্য শড়োইশশোরজো। [স. ষট্ ঐশ্বর্য] বি. একসঙ্গে ছয়টি গুণ (প্রভুত্ব পরাক্রম যশ সম্পদ জ্ঞান ও বৈরাগ্য)।

• ’গোধুম’ শব্দের শুদ্ধরূপ- গোধূম।
- গোধূম /গোধুম্ [স. গুধ+উম] বি. নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে উৎপন্ন হয় এমন ধানজাতীয় শস্যবিশেষ যা গুঁড়ো করে আটা ময়দা সুজি প্রভৃতি খাদ্যবস্তু পাওয়া যায়, গম।

• ’ষড়্ভূজ’ শব্দের শুদ্ধরূপ- ষড়্ভুজ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,২৭৬.
উইলিয়াম কেরি কত সালে বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন?
  1. ১৮০১ সালে
  2. ১৮০৭ সালে
  3. ১৮১৭ সালে
  4. ১৭৮৮ সালে
ব্যাখ্যা

• প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়। এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ। তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন।

• এরপর ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।
- বইটির নাম ‘এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।

• ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এবং ১৮২৬ সালে রামমোহন রায় ইংরেজি ভাষায় আরো দুটি উল্লেখযোগ্য বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

• উইলিয়াম কেরির ইংরেজি ভাষায় রচিত বাংলা ব্যাকরণ 'A Grammar of the Bengalee Language' (১৮০১)। ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে জন রবিনসন এই গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ প্রকাশ করেন।

• ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রামমোহন রায়ের ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১) এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,২৭৭.
'Pamphlet' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. শব্দার্থপঞ্জি
  2. জ্ঞাপনপত্র
  3. পুস্তিকা
  4. প্রচারপত্র
ব্যাখ্যা

• 'Pamphlet' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ - পুস্তিকা।

অন্যদিক, 
• 'Glossary' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ- টীকাপুঞ্জ; শব্দার্থপঞ্জি। 
• 'Hand out' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ- জ্ঞাপনপত্র।
• 'Hand-bill' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ- ইশতেহার বা প্রচারপত্র।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং অভিগম্য অভিধান।

১৬,২৭৮.
চলিত ভাষার শব্দ কোনটি?
  1. হস্ত
  2. মস্তক
  3. ধোয়া
  4. ঘৃত
ব্যাখ্যা

• চলিত ভাষার - ধোয়া।

চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:

১. চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদের রূপ সংক্ষিপ্ত। যেমন: করেছি, গিয়েছি। 
২. চলিত ভাষায় সর্বনাম পদের রূপ সংক্ষিপ্ত। যেমন: তারা, তাদের। 
৩. চলিত ভাষায় অনুসর্গের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: হতে, দিয়ে। 
৪. চলিত ভাষায় তদ্ভব, অর্ধ-তৎসম, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার বেশি। যেমন: হাত, মাথা, ঘি, ধোয়া। 
৫. চলিত ভাষার উচ্চারণ হালকা ও গতিশীল। 
৬. চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল। 
৭. চলিত ভাষা চটুল, জীবন্ত ও লোকায়ত।

অন্যদিকে,
সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
১. সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদের রূপ পূর্ণাঙ্গ। যেমন: করিয়াছি, গিয়াছি। 
২. সাধু ভাষায় সর্বনাম পদের রূপ পূর্ণাঙ্গ। যেমন: তাহার, তাহারা, তাহাদের। 
৩. সাধু ভাষায় অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: হইতে, দিয়া। 
৪. সাধু ভাষায় তৎসম শব্দের (সংস্কৃত শব্দ) প্রয়োগ বেশি। যেমন: হস্ত, মস্তক, ঘৃত, ধৌত। 
৫. সাধু ভাষার উচ্চারণ গুরুগম্ভীর। 
৬. সাধু ভাষা সুনির্ধারিত ব্যাকরণের অনুসারী। এর কাঠামো সাধারণত অপরিবর্তনীয়। 
৭. সাধু ভাষা বক্তৃতা ও নাট্য সংলাপের অনুপযোগী।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১৬,২৭৯.
নিচের কোনটি সম্মুখ স্বরধ্বনি?
  1. [ও]
  2. [ই]
  3. [অ]
  4. [উ]
ব্যাখ্যা
সম্মুখ স্বরধ্বনি:
- সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
যেমন:
- [ই], [এ], [অ্যা] সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে:
মধ্য স্বরধ্বনি:
- মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

পশ্চাৎ স্বরধ্বনি:
- পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬,২৮০.
'সিদ্ধান্ত আবেগ'- এর প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) আরে! তুমি আবার কখন এলে?
  2. খ) ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
  3. গ) যাকগে, ওসব কথা থাক।
  4. ঘ) বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
ব্যাখ্যা
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- বাহ, চমৎকার লিখেছ।

⇒ বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- উহ! কি বিপদে পরা গেল।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আরে! তুমি আবার কখন এলে?

⇒ করূণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আহা! বেচারার কত কষ্ট।

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।

⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৬,২৮১.
ঝম্‌ ঝম্‌ করে বৃষ্টি পড়ছে। বাক্যে 'বৃষ্টি পড়ছে' কোন ক্রিয়ার অন্তর্গত?
  1. ক) মিশ্র ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) নামধাতুর ক্রিয়া
  4. ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
মিশ্র ক্রিয়া
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে, তাকে মিশ্র ক্রিয়া বলে।

যেমন–

বিশেষ্যের (পরে) : আমরা তাজমহল দর্শন করলাম; এখন গোল্লায় যাও। 
ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের পরে : ঝম্‌ ঝম্‌ করে বৃষ্টি পড়ছে।  

এছাড়াও-

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে একটি সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। 
যেমন:
নিরন্তরতা অর্থে: তিনি বলতে লাগলেন।
অনুমোদন অর্থে: এখন যেতে পার। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,২৮২.
‘যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।’-এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- সে যে কোথায়, তা আমার জানা নেই। 
- যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১৬,২৮৩.
"গৃহের কর্তা = গৃহকর্তা" - কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাস?
  1. দ্বিতীয়া 
  2. তৃতীয়া 
  3.  ষষ্ঠী 
  4. পঞ্চমী
ব্যাখ্যা

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
• ছাগীর দুগ্ধ - ছাগদুগ্ধ;
• গৃহের কর্তা - গৃহকর্তা;
• অশ্বের পদ - অশ্বপদ;
• চায়ের বাগান = চাবাগান;
• রাজার পুত্র = রাজপুত্র;
• খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬,২৮৪.
‘দূতাবাস’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. বাংলা
  2. ফারসি
  3. সংস্কৃত
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
• দূতাবাস,
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় =[দূত+আবাস]
অর্থ: রাষ্ট্রদূতের কার্যালয় বা বাসভবন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,২৮৫.
নিচের কোনটি নিত্য সমাস?
  1. শান্তশিষ্ট
  2. বিরানব্বই
  3. নীলপদ্ম
  4. বউভাত
ব্যাখ্যা

নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।

যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- অন্য যুগ = যুগান্তর ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
বহুব্রীহি সমাস: - বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত
কর্মধারয় সমাস: - নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

১৬,২৮৬.
'পুষ্প' শব্দটির পর কোন বহুবচনবোধক শব্দটি বসবে?
  1. চয়
  2. রাশি
  3. রাজি
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
‘পুষ্প’ শব্দের বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
• চয়: পুষ্পচয়, বুধচয়।
• রাশি: পুষ্পরাশি, পত্ররাশি।
• রাজি: পুষ্পরাজি, বৃক্ষরাজি, গ্রন্থরাজি।
• নিচয়: পুষ্পনিচয়, বুধনিচয়।
• গুচ্ছ: পুষ্পগুচ্ছ, কেশগুচ্ছ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,২৮৭.
শুদ্ধ বানান -
  1. মরুদ্যান
  2. ভবিষ্যৎবানী
  3. বিভিষিকা
  4. শাশুড়ি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - শাশুড়ি
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
-  স্বামী বা স্ত্রীর মাতা বা তৎস্থানীয়া নারী, শ্বশু।

অন্যদিকে,
বিভিষিকা – বিভীষিকা, 
ভবিষ্যৎবানী – ভবিষ্যদ্‌বাণী, 
মরুদ্যান – মরূদ্যান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা একাডেমি।
১৬,২৮৮.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) নিপিড়িত
  2. খ) নীপিড়িত
  3. গ) নিপীড়িত
  4. ঘ) নিপীড়ীত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
নিপীড়িত (বিশেষণ)

- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- নির্যাতিত।
- নিগৃহীত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬,২৮৯.
'সাগর' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. অর্ণব
  2. উদধি
  3. নৃপতি
  4. বারীন্দ্র
ব্যাখ্যা
⇒ 'সাগর' শব্দের সমার্থক শব্দ: সমুদ্র, রত্নাকর, জলধি, সিন্ধু, বারিধি, বারীশ, উদধি, অর্ণব, অম্বুধি, তোয়নিধি, বারীশ, পয়োধি, পারাবার, জলনিধি, নীলাম্বু, পাথার, পয়োনিধি, জলধর, অম্বুনিধি, বারীন্দ্র ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
⇒ 'ভূপতি' এর সমার্থক শব্দ সমূহ: প্রভু, শাসক, মালিক, পতি, কান্ত, রাজা, নৃপতি, ভূপতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,২৯০.
ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. কমা
  2. ড্যাশ 
  3. সেমিকোলন
  4. দাঁড়ি 
ব্যাখ্যা

• কমা (,) এর ব্যবহার:
- বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।

- পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।

- সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।

- জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।

- কোন বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।' তুমি বললে, 'আমি কালকে আবার আসবো।'

- মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।
- ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কমা বসে। যেমন-৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।
- ডিগ্রী পদবি লেখার সময় কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম, এ, পি-এইচ,ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।

১৬,২৯১.
‘পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।’ - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ড
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যথা:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।

অন্যদিকে,
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা:
• আশ্রিত বাক্য:
- যে পরিশ্রম করে,
- সে যে অপরাধ করেছে,

• প্রধান খণ্ডবাক্য
- সে-ই সুখ লাভ করে।
- তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য:
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,২৯২.
বাংলা ভাষার মূল উৎস কী?
  1. সংস্কৃত
  2. আর্যভাষা
  3. পালি ভাষা
  4. ব্রাহ্ম ভাষা
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:
পৃথিবীর ভাষাগুলো ইন্দো ইউরোপীয়, চিনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশিয় প্রভৃতি ভাষা পরিবারে ভাগ করা যায়।
- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষাগােষ্ঠীর সদস্য।
- ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষার শাখা ২ টি। যথা: কেন্তুম ও শতম।
- ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষাগােষ্ঠীর শতম শাখা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি। কেন্তুম শাখার সাথে বাংলা ভাষার কোনো সম্পর্ক নেই।

- ভারতে আর্য জাতির আগমন ঘটে আনুমানিক ১৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে। তাদের ভাষা ছিল মূল আর্যভাষা। বৈদিক ভাষা এর প্রাচীনতম র‌ূপ। বাংলা ভাষার মূল উৎস আর্যভাষা বা বৈদিক ভাষা।
- বেদের ভাষাকেও বৈদিক ভাষা বলা হয়। বৈদিক ভাষার সংস্কারজাত নতুন ভাষাই সংস্কৃত ভাষা।
- ভাষা হিসেবে সংস্কৃত শব্দটির উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় মহাকাব্য রামায়ণে।

- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।
- ধ্রুপদী ভাষা সংস্কৃতি ও পালির সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৬,২৯৩.
কোনটি ভিন্নার্থক শব্দ-
  1. ক) অরি
  2. খ) অহি
  3. গ) বৈরী
  4. ঘ) রিপু
ব্যাখ্যা

অহি এখানে ভিন্নার্থক শব্দ। অহি শব্দের অর্থ সাপ।
- অহি এর সমার্থক শব্দ গুলি হল:সর্প, অহি, ভুজঙ্গ, ফণী, নাগ, ভুজগ, ভুজঙ্গম, আশীবিষ, উরগ, কুণ্ডলী, বিষধর, পন্নগ, দ্বিজিহ্ব, ফণাধর ।
- শত্রু শব্দের সমার্থক শব্দ :অরি, দুশমন, অমিত্র, অবন্ধু, বিরোধী, বৈরী, রিপু, প্রতিপক্ষ, অরাতি।

উৎস : ভাষা শিক্ষা ( হায়াৎ মামুদ)

১৬,২৯৪.
নিচের কোনটি মধ্য স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. সত্য > সইত্য
  2. পোখত্‌ > পোক্ত
  3. শ্লোক > শোলক
  4. স্টেশন > ইস্টিশন
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে।
- একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
- অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার >শুক্কুরবার ইত্যাদি।
- এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক > পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
- ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- 'স্টেশন > ইস্টিশন' আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
- 'পোখত্‌ > পোক্ত' অন্ত্যস্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
- 'সত্য > সইত্য' অপিনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬,২৯৫.
সমাসবদ্ধ শব্দ 'আমরণ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. সুপসুপা
  4. অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়।  তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।

অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- শ্রীর অভাব = বিশ্রী;
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- দানের বিপরীত = প্রতিদান;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন;
- ঈষৎ নত = আনত;
- অন্য মত = মতান্তর;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ;
- একটি লোক = লোকটি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,২৯৬.
”Referendum”-শব্দের বাংলা পরিভাষা কী?
  1. মূল্যজ্ঞাপন
  2. প্রাসঙ্গিক
  3. গণভোট
  4. হস্তলিপি
ব্যাখ্যা

• ”Referendum”-শব্দের বাংলা পরিভাষা- গণভোট।

অন্যদিকে,
- Relevant- প্রাসঙ্গিক।
- Quotation-মূল্যজ্ঞাপন।
- Script- হস্তলিপি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা। 

১৬,২৯৭.
'দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।' এর জটিল রূপ কোনটি?
  1. যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।
  2. তুমি দোষ কর, তাহলে শাস্তি পাবে।
  3. দোষ করলে শাস্তি পাবে।
  4. দোষ করেছে, তাই সে শাস্তি পাবে।
ব্যাখ্যা
'দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।' এর জটিল রূপ- 'যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।'

যৌগিক-বাক্য থেকে মিশ্র বা জটিল বাক্যে রূপান্তর:

যৌগিক বাক্য থেকে মিশ্র বা জটিল বাক্যে রূপান্তর করছে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে-
সূত্র: ক। যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত যোজক বাদ দিতে হবে।
সূত্র: খ। নিরপেক্ষ খণ্ডবাক্যগুলোর মধ্যে একটিকে প্রধান রেখে অন্যান্য নিরপেক্ষ খণ্ডবাক্যকে অপ্রধান খণ্ডবাক্যে পরিণত করতে হবে।
সূত্র : গ। যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত স্বনির্ভর বা স্বাধীন খণ্ডবাক্যগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্বনির্ভর খণ্ডবাক্যটি জটিলবাক্যে প্রধান খন্ড বাক্য হয় এবং অপর স্বনির্ভর খণ্ডবাক্য অপ্রধান খন্ডবাক্যে পরিণত হয়।
সূত্র: ঘ। সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বা নিত্যসম্বন্ধীয় অব্যয় ব্যবহার করে বাক্যের অর্থ ও সমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

কতিপয় দৃষ্টান্ত:
যৌগিক: বেলা যায়, কিন্তু গন্তব্যের খোঁজ নেই এখনো।
জটিল: যদিও বেলা যায়, তবু গন্তব্যের খোঁজ নেই এখনো।
যৌগিক: মনোযোগ দিয়ে পড়, তবে পাশ করতে পারবে।
জটিল: যদি মনোযোগ দিয়ে পড়, তবে পাশ করতে পারবে।
যৌগিক: তোমার কথা রসাল বটে, কিন্তু তাতে মন ভরে না।
জটিল: যদিও তোমার কথা রসাল, তবু তাতে মন ভরে না।
যৌগিক: ছেলেরা আনন্দিত হলো এবং দ্রুতবেগে চলে গেল।
জটিল: ছেলেরা যখন আনন্দিত হলো, তখন দ্রুতবেগে চলে গেল।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬,২৯৮.
নিম্নে কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. হাতল
  2. পানসা
  3. ফুলেল 
  4. লাল
ব্যাখ্যা

মৌলিক শব্দ = লাল।

• গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা:
- মৌলিক শব্দ ও
- সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
⇒ যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সম্পূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভা চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘােড়া, উট, বউ, গােলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
⇒ যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ, সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।
শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- পানসা, ফুলেল ও হাতল ইত্যাদি সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬,২৯৯.
'ক্ষুদ্র জাতীয় বকের শ্রেণী' এর এক কথায় প্রকাশ-
  1. করতল
  2. বলাকা
  3. নুড়ি
  4. উপাঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষুদ্র জাতীয় বকের শ্রেণী' এর এক কথায় প্রকাশ- 'বলাকা'।

অন্য অপশনে,
'হাতের তালু' এর এক কথায় প্রকাশ - 'করতল'। 
'ক্ষুদ্র প্রস্তরখণ্ড' এর এক কথায় প্রকাশ - 'নুড়ি'।
'ক্ষুদ্র অঙ্গ' এর এক কথায় প্রকাশ - 'উপাঙ্গ'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩০০.
নীচের কোন শব্দদ্বয় একই অর্থ প্রকাশ করে?
  1. ষণ্ড, বৃষ
  2. অভেদ, নির্জন
  3. দম্ভ, বলবান
  4. খগ, চামড়া
ব্যাখ্যা
ষাঁড় শব্দের সমার্থক হচ্ছে - ষণ্ড, বৃষ, বলদ, বৃষভ ইত্যাদি।

- অন্যান্য অপশন গুলো -
 
• একতা শব্দের সমার্থক হচ্ছে - অভেদ, ঐক্য, মিল।
• একান্ত শব্দের সমার্থক হচ্ছে - নির্জন, বিশেষ, নিজস্ব।
• ওজস্বী শব্দের সমার্থক হচ্ছে - বলবান, তেজস্বী, পরাক্রমশালী।
• দম্ভ শব্দের সমার্থক হচ্ছে - দেমাগ, বড়াই, উগ্র।
• আবরণ শব্দের সমার্থক হচ্ছে - চামড়া, খোলক, ছাল।
• খগ শব্দের সমার্থক হচ্ছে - খেচর, পাখি, বিহগ।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ