বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১৫৫ / ৩৫৪ · ১৫,৪০১১৫,৫০০ / ৩৫,৭১৩

১৫,৪০১.
‘একটা সামান্য কাজও যদি তোমার দ্বারা হত !’ - নিম্নরেখা শব্দটি কোন কারক?
  1. কর্তা কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদন কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক: 
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

- 'নীলু ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।' - নীলু কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।' – কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।

এরূপ বিভক্তি র + অনুসর্গ ‘দ্বারা’ যোগে :
- ‘একটা সামান্য কাজও যদি তোমার দ্বারা হত !’ - এখানে তোমার দ্বারা করণ কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,৪০২.
'এই জমিতে সোনা ফলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি
  2. করণ কারকে ৭মী বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
  4. কর্ম কারকে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• 'এই জমিতে সোনা ফলে' অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।

অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫,৪০৩.
স্বরবর্ণগুলোর কয়টি অর্ধমাত্রার বর্ণ?
  1. ক) ১
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ মোট ১১টি। তার মধ্যে পূর্ণমাত্রার বর্ণ ৬টি, অর্ধমাত্রার বর্ণ ১টি এবং মাত্রাহীন ৪টি বর্ণ রয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৫,৪০৪.
নিচের কোনটি আরবি শব্দ?
  1. তালাশ
  2. তুফান
  3. কিরণ
  4. পর্বত
ব্যাখ্যা
• তুফান- আরবি শব্দ। 

অন্যদিকে, 
তালাশ- তুর্কি শব্দ।
কিরণ, পর্বত- সংস্কৃত শব্দ। 

• কিছু আরবি শব্দ:
- ইবাদত,
- ইনসান,
- এতিম,
- এলাকা,
- এলাহি,
- কয়েদ,
- কসাই,
- খারাবি,
- খারাপ,
- খারিজ,
- তকদির,
- ফসল,
- মজলুম,
- মুসাফির ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,৪০৫.
'আছো তুমি জগৎ মাঝারে।'- এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. মধ্যে
  2. একদেশিক
  3. ক্ষণকাল
  4. ব্যাপ্তি
ব্যাখ্যা

অনুসর্গের প্রয়োগ:
• 'মধ্যে' অর্থে- 'সীমার মাঝে অসীম তুমি'।
• 'একদেশিক' অর্থে- এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
• 'ক্ষণকাল' অর্থে- নিমেষ মাঝেই সব শেষ।
• 'ব্যাপ্তি' অর্থে- আছো তুমি জগৎ মাঝারে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫,৪০৬.
কোনটি অপাদান কারকের উদাহরণ?
  1. ক) গাছ থেকে কাঠ পাই।
  2. খ) শিক্ষককে জানাও।
  3. গ) মা বাড়িতে আছেন।
  4. ঘ) ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উত্স নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন –
- গাছ থেকে কাঠ পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।

অন্যদিকে, 
শিক্ষককে জানাও = কর্ম কারক।
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না = সম্বন্ধ কারক।
বাবা বাড়িতে আছেন = অধিকরণ কারক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫,৪০৭.
পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায় - উক্ত বাক্যে 'পাগলে' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
• কারক: 
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
→ কর্তা কারক,
→ কর্ম কারক,
→ করণ কারক,
→ অপাদান কারক,
→ অধিকরণ কারক ও
→ সম্বন্ধ কারক।

• কর্তা কারক: 
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে।
- বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।
- কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।

যেমন -
- আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
- অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।

- কর্তা কারকে কখনো কখনো -এ বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন
- পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫,৪০৮.
নিচের কোনটি সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস?
  1. অযত্নচয়িত
  2. ক্ষমতাসীন
  3. ক্ষীণজীবী
  4. গৃহস্থ
ব্যাখ্যা
• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু;
- ঊর্ধ্বে আরোহণ = ঊর্ধ্বারোহণ;
- কবিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ = কবিশ্রেষ্ঠ;
- কল্পনাতে বিলাস = কল্পনাবিলাস;
- কোটরে স্থিত = কোটরস্থিত; 
- ক্ষমতায় আসীন = ক্ষমতাসীন;
- ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত = ক্ষমতাধিষ্ঠিত। 

অন্যদিকে,
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
- কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার;
- অযত্নে চয়িত যা = অযত্নচয়িত; 
- কল্পনায় বিলাস করে যে = কল্পনাবিলাসী;
- ক্ষীণভাবে বাঁচে যে = ক্ষীণজীবী;
- গৃহে থাকে যে = গৃহস্থ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,৪০৯.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. দুষ্কৃতকারী
  2. দুষ্কৃতিকারি
  3. দুস্কৃতিকারী
  4. দুষ্কৃতকারি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- দুষ্কৃতকারী - শুদ্ধ বানান।

• দুষ্কৃতকারী (বিশেষণ):
- সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ: 
দুষ্কর্মকারী, অন্যায়কারী, অপরাধী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; অভিগম্য অভিধান।

১৫,৪১০.
‘অবরোধ’ শব্দে ‘অব’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সম্যকভাবে
  2. হীনতা
  3. অধোমুখিতা
  4. অল্পতা
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।

যথা:
-  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ। 

• সম্যকভাবে অর্থে অবরোধ, অবগাহন, অবগত।  
অন্যদিকে: 
- হীনতা অর্থে অবজ্ঞা, অবমাননা।
- নিম্নে/অধোমুখিতা অর্থে অবতরণ, অবরোহণ
- অল্পতা অর্থে অবশেষ, অবসান, অবেলা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,৪১১.
'মেঘ' এর প্রতিশব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) তোয়নিধি
  2. খ) পয়োদ
  3. গ) বলাহক
  4. ঘ) তোয়ধর
ব্যাখ্যা
'তোয়নিধি' = 'সমুদ্র' এর প্রতিশব্দ।
'মেঘ' এর  প্রতিশব্দ = ঘন, বারিদ, জলধর, অম্বুদ, পয়োধর, নীরদ, জলদ, জীমূত, তোয়দ, পর্জন্য, পয়োদ, বলাহক, তোয়ধর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৪১২.
'হরহামেশা' - শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. ফারসি
  2. তৎসম
  3. বাংলা
  4. উর্দু-হিন্দি
ব্যাখ্যা

• 'হরহামেশা' এটি উর্দু-হিন্দি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।
- এখানে 'হর' উপসর্গটি 'প্রত্যেক' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
- এমন আরো কিছু শব্দ: হরমাহিনা, হরকিসিম, হররোজ ইত্যাদি।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি:
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
বাংলা উপসর্গ ২১ টি:
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫,৪১৩.
কোনটি বাংলা উপসর্গের উদাহরণ?
  1. দুর
  2. ভর
  3. অপ
  4. অভি
ব্যাখ্যা

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
অন্যদিকে,
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫,৪১৪.
অঘোষধ্বনি নয় নিচের কোনগুলো?
  1. ড়, ঢ়
  2. ট, ঠ
  3. ত, থ
  4. চ, ছ
ব্যাখ্যা

ধ্বনি কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
- ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্র ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১। ঘোষ।
২। অঘোষ।

• ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি। যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

• অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষধ্বনি বলা হয়। যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২৬)।

১৫,৪১৫.
স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয় কোন শব্দে?
  1. ক) আষাঢ়
  2. খ) উৎকৃষ্ট
  3. গ) দৃষ্টি
  4. ঘ) তৃষ্ণা
ব্যাখ্যা
ঋ ও র-এর পরে ষ হয়।
যেমন: ঋষি, কৃষক (ক+ঋ+ষ+অ+ক), তৃষ্ণা (ত+ঋ+ষ+ণ+আ), উৎকৃষ্ট, বৃষ্টি (ব+ঋ+ষ+ট+ই), দৃষ্টি (দ+ঋ+ষ+ট+ই), কৃষ্টি, সৃষ্টি।

ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
যেমন: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন:  ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫,৪১৬.
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ -
  1. শ্চ
  2. ষ্ণ
  3. ষ্ট
ব্যাখ্যা
যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ, ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্গ, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, ছ, ষ্ট ইত্যাদি।
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্+ধ), ভ্র (ভ্+র), ষ্ণ (ষ্‌ + ণ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
১৫,৪১৭.
বাংলা বর্ণমালায় ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা কয়টি?
  1. ২৫টি
  2. ৩২টি
  3. ৩৮টি
  4. ৩৯টি
ব্যাখ্যা
• ধ্বনিমূল ও ধ্বনির শ্রেণিবিভাগ:
প্রত্যেক ভাষায় ব্যবহৃত ধ্বনিগুলো বিচার করলে কতকগুলো ক্ষুদ্রতম অবিভাজ্য ধ্বনি-একক পাওয়া যায়। এদের বলা হয় ধ্বনিমূল (Phoneme) বা মৌলিক ধ্বনি। ভাষার ধ্বনিমূলগুলোকে প্রধানত দুটো ভাগে ভাগ করা যায়; যথা-১. স্বরধ্বনি, ২. ব্যঞ্জনধ্বনি। বাংলা স্বরধ্বনির লিখিত রূপকে বলে স্বরবর্ণ এবং ব্যঞ্জনধ্বনির লিখিত রূপকে বলে ব্যঞ্জনবর্ণ। বাংলা স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণগুলোকে একত্রে বলে বাংলা বর্ণমালা।

• স্বরবর্ণ: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ। মোট ১১টি। 

• ব্যঞ্জনবর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ত, থ, দ, ধ, ন, প, ফ, ব, ত, ম, য, র, ল, শ, ষ, স, হ, ড়, ঢ়, য়, ং, ৎ, ঃ, ঁ। মোট ৩৯টি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,৪১৮.
'ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন।' বাক্যে 'ভালো' কোন পদ?
  1. সর্বনাম
  2. অব্যয়
  3. বিশেষণ
  4. বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

• যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে।
• প্রদত্ত বাক্যটিতে বাড়ি বিশেষ্য পদ।
• 'ভালো' বাড়িটির গুণ প্রকাশ করেছে।
• তাই বাক্যে ভালো বিশেষণ পদ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫,৪১৯.
’Lease' শব্দের পারিভাষিক শব্দ-
  1. বন্ধক
  2. ইজারা
  3. জামানত
  4. আমানত
ব্যাখ্যা
• ’Lease' এর পারিভাষিক শব্দ - ইজারা।

অন্যদিকে,
• ‘Mortgage’ এর পারিভাষিক শব্দ - বন্ধক।
• ‘Security’ এর পারিভাষিক শব্দ - জামানত।
• ‘Deposit’ এর পারিভাষিক শব্দ - আমানত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
১৫,৪২০.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি নয়?
  1. দ্যুলোক
  2. গবাক্ষ
  3. একাদশ
  4. সংস্কার
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যাঞ্জন সন্ধি: 
ব্যাকরণের সাধারণ বা বিশেষ কোনো নিয়মানুসারেই যখন কোনো কর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না। অথচ তা সংঘটিত হয়, তখন সেই ব্যতিক্রমকে বৈধতা দেয়ার নাম নিপাতনে সিদ্ধ। 

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যাঞ্জন সন্ধির উদাহরণ- 
- আশ্চর্য = আ + চর্য,
- ষোড়শ = ষট্‌ + দশ,
- পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি, 
- একাদশ = এক + দশ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়);
- দ্যুলোক = দিব্‌ + লোক;

- বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি ,
- গোষ্পদ = গো + পদ ,
- বনস্পতি = বন + পতি , 
- পরস্পর = পর + পর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিশেষ নিয়মে সাধিত কতগুলো সন্ধি হচ্ছে-
সম্ + কৃত = সংস্কৃত,
সম্ + কার = সংস্কার,
সম্ + বিধান = সংবিধান,
উৎ + স্থাপন = উত্থাপন ইত্যাদি।

সুতরাং,
- 'সংস্কার'- শব্দটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি নয়।
- 'দ্যুলোক', গবাক্ষ, একাদশ - নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,৪২১.
'বিশ্রী' কোন সমাস?
  1. প্রাদি সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়। তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।

• অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- শ্রীর অভাব = বিশ্রী;
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- দানের বিপরীত = প্রতিদান;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন;
- ঈষৎ নত = আনত;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ;
- একটি লোক = লোকটি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫,৪২২.
‘চপল’ এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. স্তব্ধ
  2. ঠাণ্ডা
  3. গম্ভীর
  4. রাশভারী
ব্যাখ্যা
• ‘চপল’ এর বিপরীতার্থক শব্দ - গম্ভীর

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ:
→ চিরায়ত - সাময়িক।
→ চৌকস - হাঁদা।
→ ব্যষ্টি - সমষ্টি।
→ ভূত - ভবিষ্যৎ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,৪২৩.
'ক্রেতা' এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √ক্রী + তৃ
  2. খ) √ক্রী + তব্য
  3. গ) √ক্রী + তচ
  4. ঘ) √ক্রী + তৃচ
ব্যাখ্যা
'ক্রেতা' এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়- √ক্রী + তৃ
- এটি হচ্ছে কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ।

• কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে যেসব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত সেসব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টিকে কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন-
√চল + অন্ত = চলন্ত।
√পড়ু + আ = পড়ুয়া।
√কৃ + তব্য = কর্তব্য।

উৎস:
১। আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২। প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৫,৪২৪.
কোন বাক্যটি প্রযোজক ক্রিয়া দ্বারা গঠিত?
  1. ক) মাথা ঝিমঝিম করছে
  2. খ) তোমার পরিশ্রমের ফল এসেছে
  3. গ) মা শিশুটিকে হাসান
  4. ঘ) শিশুটি কাঁদে
ব্যাখ্যা
- অপশনে উল্লেখিত বাক্যগুলোর মধ্যে 'মা শিশুটিকে হাসান' হলো প্রযোজক ক্রিয়া দ্বারা গঠিত শব্দ।

প্রযোজক ক্রিয়া:

যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে এটি ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)। যেমনঃ তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন।

প্রযোজক কর্তা : যে ক্রিয়া প্রযোজন করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
প্রযোজ্য কর্তা : যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন : মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। বাক্যে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা, ‘শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি 
১৫,৪২৫.
‘উল্লেখিত’ শব্দটিতে কী ধরণের অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. সমাসজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. সন্ধিজনিত
  4. উপসর্গজনিত
ব্যাখ্যা
• ‘উল্লেখিত’ শব্দটিতে সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
• শুদ্ধ বানান: উল্লিখিত।

⇒ নিয়ম:

 - ত্ ও দ্‌, এর পর ল্‌ থাকলে ত্ ও দ্‌ -এর স্থলে ল উচ্চারিত হয়।
- উল্লিখিত এর সন্ধি বিচ্ছেদ উৎ + লিখিত। তাই উল্লেখিত শব্দটি অশুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫,৪২৬.
নিচের কোন দুটি বাগ্‌ধারা একই অর্থ প্রকাশ করে?
  1. ক) কাঁঠালের আমসত্ত্ব, ব্যাঙের সর্দি
  2. খ) অকাল কুষ্মান্ড, ব্যাঙের সর্দি
  3. গ) কাঁঠালের আমসত্ত্ব , অরন্য রোদন
  4. ঘ) অরন্য রোদন, ব্যাঙের সর্দি
ব্যাখ্যা
• কাঁঠালের আমসত্ত্ব ও ব্যাঙের সর্দি বাগ্‌ধারা দুটির অর্থ অসম্ভব বস্তু। 
• অকাল কুষ্মান্ড বাগধারার অর্থ অপদার্থ,অকেজো।
• অরন্য রোদন বাগধারাটির অর্থ নিষ্ফল আবেদন। 

তথ্যসূত্র:- ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,৪২৭.
"সে খেয়ে আর ঘুমিয়ে কাটাচ্ছে”- কিসের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য বর্গ
  2. বিশেষণ বর্গ
  3. ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
  4. ক্রিয়া বর্গ
ব্যাখ্যা

• "সে খেয়ে আর ঘুমিয়ে কাটাচ্ছে।” - বাক্যটিতে 'খেয়ে আর ঘুমিয়ে' ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ। 
--------------------- 

বাক্যের বর্গ: বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে। বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।

বিশেষ্যবর্গ: বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন,
অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
আমার ভাই পড়তে বসেছে।

বিশেষণবর্গ: বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন-
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।
ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।

ক্রিয়াবিশষেণ-বর্গ:
যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন,
সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।
তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম।

• প্রশ্নের বাক্যটি- 
"সে খেয়ে আর ঘুমিয়ে কাটাচ্ছে।” - এখানে, কর্তা কীভাবে কাজ করছে টা নির্দেশ করছে।

ক্রিয়াবর্গ:
বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন,
সে লিখছে আর  হাসছে।
সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসে পড়লো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৫,৪২৮.
"ই-কারান্ত ও উ-কারান্ত উপসর্গের পরে কিছু ধাতুতে মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়" - নিচের কোন শব্দটি এই নিয়মে গঠিত?  
  1. অনুষঙ্গ
  2. অনুষ্ঠান
  3. অভিষেক
  4. উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধান:
- সংস্কৃত ভাষায় মূর্ধন্য ষ ব্যবহারের নিয়ম আছে।
- সেই কারণে বাংলা ভাষায় যেসব অবিকৃত সংস্কৃত শব্দ ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর বানানেও মূর্ধন্য ষ-এর ব্যবহার প্রচলিত।
- অবিকৃত সংস্কৃত শব্দে কোন নিয়মে মূর্ধন্য ষ লেখা হবে—এই বিধানকেই ষ-ত্ব বিধান বলা হয়।

- বাংলা ভাষায় মূর্ধন্য ষ-এর জন্য আলাদা কোনো বিশেষ উচ্চারণ নেই।
- তাই খাঁটি বাংলা শব্দ ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য ষ ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।

• 'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ই-কারান্ত ও উ-কারান্ত উপসর্গের পরে কিছু ধাতুতে মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন:
- অভি + সেক → অভিষেক,
- অনু + সঙ্গ → অনুষঙ্গ,
- প্রতি + সেধক → প্রতিষেধক,
- অনু + স্থান → অনুষ্ঠান

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৫,৪২৯.
'ছিন্ন হওয়া' অর্থে ধাতুর উদাহরণ কোনটি?
  1. ঝুল্‌
  2. টুট্‌
  3. ফির্‌
  4. বিগড়
ব্যাখ্যা
ধাতু:
- বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে। সেসব ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
- অন্যকথায় ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওযা যায়: (১) ধাতু বা ক্রিয়ামূল এবং (২) ক্রিয়া বিভক্তি।
- ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়া বিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তাই ধাতু।
যেমন -
- 'করে' একটি ক্রিয়াপদ। এতে দুটো অংশ রয়েছে: কর্ +এ; এখানে 'কর্' ধাতু এবং 'এ' বিভক্তি। সুতরাং 'করে' ক্রিয়ার মূল বা ধাতু হলো 'কর্' আর ক্রিয়া বিভক্তি হলো 'এ'। অন্যকথায় 'কর্' ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়ে ‘করে' ক্রিয়াপদটি গঠিত হয়েছে।
- ধাতু তিন প্রকারের। যথা:
১. মৌলিক ধাতু,
২. সাধিত ধাতু এবং
৩. যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু।

• বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
(ক) বাংলা,
(খ) সংস্কৃত এবং
(গ) বিদেশি ধাতু।

বিদেশাগত ধাতু:
- প্রধানত হিন্দি এবং ক্বচিৎ আরবি-ফারসি ভাষা থেকে যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকে বিদেশাগত ধাতু বা ক্রিয়ামুল বলা হয়।
যেমন -
ভিক্ষে মেগে খায়।
- এ বাক্যে 'মাগ্‌' ধাতু হিন্দি 'মাঙ্‌' থেকে আগত।

• এছাড়াও কতগুলো ক্রিয়ামূল রয়েছে যাদের ক্রিয়ামূলের মূল ভাষা নির্ণয় করা কঠিন। এ ধরনের ক্রিয়ামূলকে বলা হয় অজ্ঞাতমূল ধাতু। যেমন -
'হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?’
- এ বাক্যে 'হের' ধাতুটি কোন ভাষা থেকে আগত তা জানা যায় না। তাই এটি অজ্ঞাতমূল ধাতু।

কয়েকটি বিদেশি ধাতুর উদাহরণ:
ধাতুযে অর্থে ব্যবহৃত হয়
ঝুল্ ⇒ দোলা।
টুট্ছিন্ন হওয়া
ফির্ ⇒ পুনরাগমন, পুনরাবৃত্তি।
বিগড় ⇒ নষ্ট হওয়া।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,৪৩০.
গৌরচন্দ্রিকা' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. অত্যন্ত চড়া
  2. মাত্র সূচনা
  3. অযাচিত
  4. ভূমিকা
ব্যাখ্যা

• 'গৌরচন্দ্রিকা' বাগ্‌ধারার অর্থ - ভূমিকা। 

অন্যদিকে, 
• 'গলাকাটা' অর্থ - অত্যন্ত চড়া। 
• 'গায়ে গড়া' অর্থ - অযাচিত। 
• 'কলির সন্ধ্যা' অর্থ - মাত্র সূচনা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫,৪৩১.
নিম্নের কোনটি বিসর্গসন্ধির উদাহরণ নয়?
  1. ক) আশীর্বাদ
  2. খ) পরিচ্ছেদ
  3. গ) পুনর্মিলন
  4. ঘ) নিশ্চয়
ব্যাখ্যা
পরিচ্ছেদ = পরি+ছেদ
এটি একটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ। 

আশীঃ+বাদ = আশীর্বাদ
নিঃ+রস = নীরস
নিঃ+চয় = নিশ্চয়

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫,৪৩২.
কোন বাক্যে ‘ভালো’ বিশেষ্য রূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) ভালো, তাই হোক
  2. খ) তোমার ভালো হোক
  3. গ) পরের ভালো দেখতে পারে না
  4. ঘ) ভালো কথা, তোমার বাড়ি তৈরির কি হলো
ব্যাখ্যা

‘ভালো’ এর বিভিন্ন রূপ-
বিশেষ্য রূপেঃ তোমার ভালো হোক।
বিশেষণ রূপেঃ পরের ভালো দেখতে পারে না।
অব্যয় রূপেঃ ভালো, তাই হোক; ভালো কথা, তোমার বাড়ি তৈরির কি হলো।
সূত্র- অভিগম্য অভিধান, বাংলা একাডেমী।

১৫,৪৩৩.
নিচের কোনটি  স্বরসঙ্গতির উদাহরণ?
  1. মুলা > মুলো
  2. ফলাহার > ফলার
  3. বাক্স > বাস্ক
  4. পিশাচ > পিচাশ
ব্যাখ্যা

• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
--------------------
অন্তর্হতি: পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা > আলাদা।

ধ্বনি বিপর্যয়: শব্দের শধ্যে দুটো ব্যঞ্জনের পরস্পর স্থান পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্স > বাস্ক,
- রিকসা > রিস্কা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৫,৪৩৪.
'নমস্কার' এর সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. নমঃ + কার
  2. নম + কার
  3. নমসঃ + কার
  4. নবঃ + কার
ব্যাখ্যা
• 'নমস্কার' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - নমঃ + কার।
- এটি একটি বিসর্গ সন্ধি।

- অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশু ধ্বনি (ষ) হয়।
 যেমন: 
- নমঃ + কার = নমস্কার।
- পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- নিঃ + কর = নিষ্কর।
- দুঃ + কর = দুষ্কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,৪৩৫.
কোন অর্থে 'অধি' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়?
  1. গ্রহণ
  2. মধ্যে
  3. সদৃশ
  4. সম্যক
ব্যাখ্যা
• 'অধি' উপসর্গটি মধ্যে অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উপসর্গ:
- যেসব শব্দাংশ অন্য শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ।
 
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

বিভিন্ন অর্থে 'অধি' উপসর্গের ব্যবহার:
- কর্তৃত্ব অর্থে = অধিকার।
- মধ্যে অর্থে = অধিবাসী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১৫,৪৩৬.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. গোলাপী
  2. লাল
  3. ভাইয়ে
  4. মাটির
ব্যাখ্যা

মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ভাই, কলা, মাটি।

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ ।
যেমন-
- দেশি, মাটির, বোনের, হাতগুলো, বউটি, গোলাপী, ভাইয়ে ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ -সংস্করণ)।
২) বাংলা ২য় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫,৪৩৭.
‘সমস্ত পদ’ কাকে বলা হয়?
  1. উত্তরপদ
  2. সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদ
  3. সমস্যমান পদ
  4. পূর্বপদ
ব্যাখ্যা
সমাস:
- সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ। অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
- সমাসের প্রক্রিয়ায় সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদটির নাম সমস্ত পদ। সমস্ত পদ বা সমাসবদ্ধ পদটির অন্তর্গত পদগুলোকে সমস্যমান পদ বলে। সমাসযুক্ত পদের প্রথম অংশ (শব্দ)-কে বলা হয় পূর্বপদ এবং পরবর্তী অংশ (শব্দ)-কে বলা হয় উত্তরপদ বা
পরপদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,৪৩৮.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. পূর্ব দিকে সূর্য উদয় হয়।
  2. ইহার আবশ্যক নাই।
  3. গাছটি সমূলে উৎপাটন হয়েছে।
  4. এটি একটি অনুবাদিত গ্রন্থ।
ব্যাখ্যা
• "গাছটি সমূলে উৎপাটন হয়েছে।"- বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বাক্যগুলো হলো:
• পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।
• ইহার আবশ্যকতা নাই।
• এটি একটি অনূদিত গ্রন্থ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৪৩৯.
'উদ্যত' ও 'উদ্ধত' শব্দজোড়ের অর্থ কী?
  1. বিনীত - সচেষ্ট
  2. লক্ষ্য - উল্লিখিত
  3. সন্ধান - বিনীত
  4. সচেষ্ট - অবিনীত
ব্যাখ্যা
• 'উদ্যত' শব্দের অর্থ - সচেষ্ট। 
• 'উদ্ধত' শব্দের অর্থ - অবিনীত। 

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দজোড় হলো-
• উপাদান - উপকরণ। 
• উপাধান - বালিশ। 

• উৎপত - পাখি। 
• উৎপথ - কুপথ। 

• উপযুক্ত - যোগ্য। 
• উপযুক্ত - উল্লিখিত।  

• উদ্দেশ - সন্ধান। 
• উদ্দেশ্য - লক্ষ্য। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,৪৪০.
ষ-ত্ব বিধানে র-ধ্বনির পরে কোন স্বরধ্বনি থাকলে মূর্ধন্য-'ষ' এর স্থলে ‘স’ বসে?
  1. আ, ই
  2. অ, ও
  3. অ, ই
  4. অ, আ
ব্যাখ্যা
ষ ব্যবহারের নিয়ম:
১. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স, ষ হয়।
যেমন - মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

২. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন - অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

৩. 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়।
যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

৪. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়।
যেমন - বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

৫. র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়।
যথা: পরিষ্কার।
কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা: পুরস্কার।

৬. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়।
যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

৭. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

৮. আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না।
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

৯. সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,৪৪১.
‘কাজি’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. ইংরেজি
  2. ফরাসি
  3. আরবি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
• ‘কাজি’ ফারসি শব্দ।
অর্থ: মুসলিম বিবাহের নিবন্ধক।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ইংরেজি শব্দ: অ্যাপ্রন, ইউরো, কেটলি, সিল্ক ইত্যাদি।
• ফরাসি শব্দ: কার্নিশ, টারবাইন, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।
• আরবি শব্দ: আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,৪৪২.
নিম্নরেখ কোন শব্দে করণ কারকে শূন্য বিভক্তি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ঘোড়াকে চাবুক মার
  2. ডাক্তার ডাক
  3. গাড়ি স্টেশন ছেড়েছে
  4. মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- ছাত্ররা বল খেলে।
- ঘোড়াকে 'চাবুক' মার।

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।

• সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- জ্ঞানে বিমল আনন্দ হয়।

• তে বিভক্তি: লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।

• য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
১৫,৪৪৩.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1.  বিন্যস্ত
  2. বিধ্বস্ত
  3. দ্বারস্ত
  4. অস্ত
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ- দ্বারস্ত। 
শুদ্ধরূপ- দ্বারস্থ। 

• স্ত আর স্থ-য়ে গন্ডগোল:

স্ত /স্থ সংক্রান্ত বানান ভুল এড়াবার একটা উপায় আছে। যেসব শব্দে স্থ আছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেসব শব্দ থেকে স্থ বাদ দিলেও অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে। কিন্তু স্ত দিয়ে যেসব শব্দ পাচ্ছি সেখানে স্ত বাদ দিলে অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে না।

উদাহরণগুলো লক্ষ করি:
• স্ত: অভ্যস্ত, অস্ত, আশ্বস্ত, গ্রস্ত (যেমন: বিপদগ্রস্ত) ত্রস্ত, নিরস্ত, ন্যস্ত, পরাস্ত, পর্যুদস্ত, প্রশস্ত, বিধ্বস্ত, বিন্যস্ত, বিপর্যস্ত, বিশ্বস্ত, ব্যতিব্যস্ত, সন্ত্রস্ত সমস্ত, স্বস্তি।

• স্থ: অন্তঃস্থ, অবস্থা, অভ্যন্তরস্থ, কণ্ঠস্থ, গর্ভস্থ, গৃহস্থ, তটস্থ, দুস্থ, দ্বারস্থ, ভূগর্ভস্থ, মধ্যস্থতা, মনস্থ, মুখস্থ, সভাস্থ, সমাধিস্থ, সুস্থ।

উল্লেখ্য, 'অধীনস্থ' ব্যাকরণসম্মত নয় বটে, কিন্তু বর্তমানে সর্বত্র প্রচলিত।

১৫,৪৪৪.
‘মুক্তি‘- এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √মুচ্ + ক্তি
  2. খ) √মুচ্ + তি
  3. গ) √মুক্ + ক্তি
  4. ঘ) √মুক্ + তি
ব্যাখ্যা
‘মুক্তি'  (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √মুচ্‌ +তি
অর্থ: 
- স্বাধীনতা, 
- মোহ অত্যাদি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

‘ক্তি’ একটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। ‘ক্তি’ সংযুক্ত শব্দের শেষে যদি ‘চ/জ’ থাকে তা ‘ক’ হয়ে যায়।
যেমন:
√মুচ্‌ + ক্তি = মুক্তি
√ভজ্‌ + ক্তি = ভক্তি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।


*** আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি এর তথ্য অধিক গ্রহণযোগ্য বলে সেটি সঠিক উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
১৫,৪৪৫.
উক্তি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত কোন পদের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
উক্তি পরিবর্তনের নিয়মসমূহ:
• প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।"
- পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

• অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।"
- পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

- প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।"
- পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

• পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: লিপি বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।"
- পরোক্ষ উক্তি: লিপি বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।

• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।-
যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
- পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২৩ সংস্করণ)।
১৫,৪৪৬.
'ধীরে যে গমন করে' এক কথায় কী বলে?
  1. ধিরগামী
  2. ধীমান
  3. অনুগামী
  4. মন্দগামী
ব্যাখ্যা
• 'ধীরে যে গমন করে' এক কথায় বলে - ধীরগামী, মন্দগামী।

উল্লেখ্য, অপশনে প্রদত্ত 'ধিরগামী' বানানটি অশুদ্ধ। 

অন্যদিকে, 
• ধী (বুদ্ধি) আছে যার- ধীমান।
• ধী-শক্তির অধিকারী- ধীমান।
• পশ্চাতে গমন করে যে - অনুগামী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,৪৪৭.
'সুন্দর বলদ' - এর স্ত্রী লিঙ্গ কী?
  1. সুন্দর গাই
  2. সুন্দরী গাই
  3. সুন্দরী বলদী
  4. সুন্দরী বলদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দের বিশেষণ স্ত্রীবাচক হয় না।
যেমন:
- সুন্দর বলদ-সুন্দর গাই,
- সুন্দর ছেলে-সুন্দর মেয়ে,
- মেজ খুড়ো-মেজ খুড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,৪৪৮.
'যা লাফিয়ে চলে' এর এক কথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. পন্নগ
  2. প্লবগ
  3. প্লবন
  4. প্লবচর
ব্যাখ্যা
• 'যা লাফিয়ে চলে' এর এক কথায় প্রকাশ - প্লবগ। 

অন্য অপশনে,
- 'পা দিয়ে যে চলে না' এর এক কথায় প্রকাশ - পন্নগ।
- ‘প্লবন’ শব্দের অর্থ: ভাসন, সন্তরণ, লাফ দিয়ে গমন।
- ‘প্লবচর’ শব্দের অর্থ: হাঁস ডাহুক প্রভৃতি উভচর পাখি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,৪৪৯.
বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অপয়া
  2. অধিকার
  3. অপমান
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• বাংলা উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - অপয়া।

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - অধিকার, অপমান।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫,৪৫০.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. শোণিত
  2. গৌণ
  3. নির্নিমেষ
  4. পূর্বাহ্ন
ব্যাখ্যা
• 'পূর্বাহ্ন' - শব্দের বানানটি অশুদ্ধ।
কারণ,

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
তৎসম শব্দে 'অপর, পরা, পূর্ব, প্রা' ইত্যাদি উপসর্গের সঙ্গে 'অহ্ন' প্রত্যয় যুক্ত হলে 'অহ্ন' শব্দের 'দন্ত- ন' পরিবর্তিত হয়ে 'মূর্ধন্য- ণ' হয়। 
যেমন,
- অপরাহ্ণ, পরাহ্ণ, প্রাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ ইত্যাদি। 

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে, পূর্বাহ্ন শুদ্ধ নয়, এর শুদ্ধ বানান- 'পূর্বাহ্ণ'।

অন্যদিকে,
শোণিত; গৌণ; নির্নিমেষ - বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৫,৪৫১.
ধর্মসংক্রান্ত আরবি শব্দ কোনটি?
  1. ক) আলেম
  2. খ) ঈদ
  3. গ) নামায
  4. ঘ) কোরবানি
ব্যাখ্যা
ধর্মসংক্রান্ত আরবি শব্দঃ আল্লাহ, ইসলাম, ঈমান, ওযু, কোরবানি, কোরআন, কিয়ামত, জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, যাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল ইত্যাদি। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১৫,৪৫২.
কোনটি বাংলা ভাষার শব্দ?
  1. হাঙ্গামা
  2. হাঁড়ি
  3. কসাই
  4. গ্রহ
ব্যাখ্যা
• 'হাঁড়ি'
- এটি বাংলা ভাষার শব্দ। 
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- রান্নার কাজে ব্যবহৃত মাটির ছোটো পাত্র।

অন্যদিকে,
- 'গ্রহ' - তৎসম শব্দ।
- 'কসাই' - আরবি শব্দ।
- 'হাঙ্গামা' - ফারসি ভাষার শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,৪৫৩.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ঘর + ওয়া = ঘরোয়া
  2. পাগল + আমি = পাগলামি
  3. নীল + ইমন = নীলিমা
  4. দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে ।
যথা:
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
- ফেন + ইল্ = ফনিল;
- সুখ + ইন্ = সুখিন;
- নীল + ইমন = নীলিমা।

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
- থাল + আ = থালা;
- চোর + আই = চোরাই;
- পাগল + আমি = পাগলামি;
- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,৪৫৪.
বাংলা ব্যাকরণ প্রথম কে রচনা করেছিলেন?
  1. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  2. মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ 
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্যাকরণ রচনার ইতিহাস:

প্রথম পর্যায়:
• প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় — ১৭৪৩ সালে।
• এটি পর্তুগিজ ভাষায় রচিত, লেখক ছিলেন — মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ। অর্থ্যাৎ, প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেছিলেন— মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ।
• তিনি তাঁর — বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকাংশ হিসেবে এই ব্যাকরণ রচনা করেন।
 
ইংরেজি ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ:
• ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় — নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত বাংলা ব্যাকরণ।
• নাম: A Grammar of the Bengal Language. এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা ব্যাকরণ।
• ১৮০১ সালে — উইলিয়াম কেরি ইংরেজি ভাষায় রচনা করেন — A Grammar of the Bengalee Language। এর বঙ্গানুবাদ করেন — জন রবিনসন (১৮৪৬)।
 
বাংলা ভাষায় রচিত ব্যাকরণ:
• ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত হয় — রামমোহন রায়ের — ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’।
• এটি বাংলা ভাষায় রচিত — প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
 
উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১)।
- বাংলাপিডিয়া।

১৫,৪৫৫.
ঠিকানা লেখার সময় রাস্তার নামের পর কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. ড্যাশ 
  2. কমা
  3. কোলন
  4. সেমিকোলন 
ব্যাখ্যা

• 'কমা' যতিচিহ্ন:
কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না। কমা চিহ্নের বাংলা নাম পাদচ্ছেদ।

• কমা (,) এর ব্যবহার:

- বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।

- পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।

- সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।

- জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।

- কোন বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।' তুমি বললে, 'আমি কালকে আবার আসবো।'

- মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।

- ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কমা বসে। যেমন-৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।
- ডিগ্রী পদবি লেখার সময় কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম, এ, পি-এইচ,ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫,৪৫৬.
'মুনসেফ' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফরাসি
  2. আরবি
  3. সংস্কৃত
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা
• 'মুনসেফ' 'আরবি' ভাষার শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- নিম্ন দেওয়ানি আদালতের বিচারক।

আরো কিছু আরবি শব্দ:
- বাকি,
- কবুল,
- ওজর,
- মোক্তার,
- হাশর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,৪৫৭.
কোনটিতে বাংলা বর্ণের যথাযথ ক্রম অনুসৃত হয়নি?
  1. ছ, জ, ঝ
  2. ড, ঢ, ণ
  3. ল, য, র
  4. ষ, স, হ
ব্যাখ্যা
• ল, য, র - এখানে বাংলা বর্ণের যথাযথ ক্রম অনুসৃত হয়নি।
এর সঠিক রূপ- য, র, ল।
----------
• বাংলা বর্ণমালা:

- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ।
- এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে।
- ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- বাংলা বর্ণমালায় মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি।
- তবে মূল বর্ণের পাশাপাশি বাংলা বর্ণমালায় রয়েছে নানা ধরনের কারবর্ণ, অনুবর্ণ, যুক্তবর্ণ ও সংখ্যাবর্ণ।
- মূল বর্ণগুলো স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণে বিভক্ত।
- স্বরবর্ণ: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ ও ঔ = ১১টি

ব্যঞ্জনবর্ণ:
ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
ট, ঠ, ড, ঢ, ণ,
ত, থ, দ, ধ, ন,
প, ফ, ব, ভ, ম,
য, র, ল,
শ, ষ, স, হ,
ড়, ঢ়, য়, ৎ,
ং, ঃ, ঁ,= ৩৯টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১৫,৪৫৮.
‘Concordance’ শব্দটির বাংলা পরিভাষা কি?
  1. সংঘাত
  2. সুরসঙ্গতি
  3. নির্ঘন্ট
  4. পরিশিষ্ট
  5. মোহনীয়
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমী প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান অনুসারে,
- Appendix -- পরিশিষ্ট
- Annexe/Annexure -- ক্রোড়পত্র
- Concordance -- নির্ঘন্ট/মিল
- Concord -- সুরসঙ্গতি
- Compliment -- সৌজন্য

১৫,৪৫৯.
'হাটবাজার' শব্দটি কোন দুটি ভাষা থেকে আগত শব্দের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ফারসি ও আরবি
  2. বাংলা ও ফারসি
  3. আরবি ও তুর্কি
  4. তৎসম ও হিন্দি
ব্যাখ্যা
কোনো কোনো সময় দেশি ও বিদেশি শব্দের মিলনে শব্দদৈত্ব সৃষ্টি হয়।
'হাটবাজার' একটি মিশ্র শব্দ

- হাট শব্দটি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ হট্ট> থেকে উৎপন্ন। অর্থ্যাৎ এটি একটি তদ্ভব শব্দ।
আর তদ্ভব শব্দগুলো বাংলা ভাষার নিজস্ব শব্দ হিসাবে বিবেচিত হয়। অর্থ্যাৎ হাট শব্দটি বাংলা শব্দও বটে।
আবার,
- বাজার শব্দটি ফারসি শব্দ থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
'হাটবাজার' শব্দটি তদ্ভব/বাংলা ও ফারসি ভাষার শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।

অপশনে তদ্ভব ও ফারসি থাকলে সেটি সঠিক উত্তর হবে।
এই প্রশ্নের ক্ষেত্রে বাংলা ও ফারসি সঠিক উত্তর।

[উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ]

উল্লেখ্য, মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (২০১৯ সংস্করণে০ হাটবাজার শব্দটি বাংলা - ফারসির সমন্বয়ে গঠিত মিশ্র শব্দ হিসাবে দেখানো হয়েছে।
১৫,৪৬০.
‘ঈ’ প্রত্য়য়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) দুঃখিনী
  2. খ) কিশোরী
  3. গ) শ্বেতাঙ্গিনী
  4. ঘ) ইন্দ্রাণী
ব্যাখ্যা
• ‘ঈ’ প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
কিশোর - কিশোরী
তরুণ - তরুণী,
দেব - দেবী,
কপোত - কপোতী,
বৈষ্ণব - বৈষ্ণবী।

অন্যদিকে,
• ইনী, -নী প্রত্যয় যোগ করে:
দুঃখ - দুঃখিনী,
শ্বেতাঙ্গ - শ্বেতাঙ্গিনী।

• আনী প্রত্যয় যোগ করে:
ইন্দ্র - ইন্দ্রাণী,
শূদ্র - শূদ্রাণী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,৪৬১.
উপমার ভুল প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) এক পৌষে শীত যায় না
  2. খ) আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো
  3. গ) রাহাতকে উপদেশ প্রদান আর অরণ্যে ক্রন্দন একই কথা।
  4. ঘ) দেশের সকল বেসরকারি শিক্ষকগণ তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণে আন্দোলন করছেন।
ব্যাখ্যা
প্রথম বাক্যটি 'এক পৌষে শীত যায় না' বাক্যটি ভুল৷ এতে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ বাক্যটি হলো- এক মাঘে শীত যায় না (বিপদ বা প্রতিকূল অবস্থা সবসময় থাকে না)।

দ্বিতীয় বাক্যটিতে উপমার ভুল প্রয়োগ হয়েছে।
সঠিক বাক্যরূপটি হবে - আমার হৃদয়-ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হলো।

 তৃতীয় বাক্যটিতে বাগধারার অপপ্রয়োগ হয়েছে।
বাক্যটির সঠিক রূপটি হবে - রাহাতকে উপদেশ প্রদান আর অরণ্যে রোদন একই কথা।

চতুর্থ বাক্যে বাহুল্যদোষে দুষ্ট।
বাক্যটির সঠিক রূপ - দেশের সকল বেসরকারি শিক্ষক তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণে আন্দোলন করছেন।
বা, দেশের বেসরকারি শিক্ষকগণ তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণে আন্দোলন করছেন। 

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ।
১৫,৪৬২.
কোন বাগ্‌ধারাটি ভিন্নার্থক?
  1. দা-কুমড়া
  2. আদায় কাঁচকলায়
  3. অহি-নকুল
  4. দহরম মহরম
ব্যাখ্যা
• ভিন্নার্থক বাগ্‌ধারা- দহরম মহরম। কারণ এর অর্থ- ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

অন্যদিকে,
• দা-কুমড়া গ্‌ধারাটির অর্থ (ভীষণ শত্রুতা)
• 'অহি নকুল' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - ভীষণ শত্রুতা। 
• 'আদায় কাঁচকলায়' গ্‌ধারাটির অর্থ - শত্রুতা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,৪৬৩.
'চট্টগ্রাম' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) চটোগ্রাম
  2. খ) চট্‌টোগ্রাম
  3. গ) চট্টোগাম
  4. ঘ) চঠ্‌টোগ্রাম
ব্যাখ্যা
• 'ট্ট' এর উচ্চারণে ট- এর দ্বিত্ব ঘটে। তাই, 'চট্টগ্রাম' এর সঠিক উচ্চারণ- 'চট্‌টোগ্রাম'। 

• আরো কিছু সঠিক উচ্চারণ: 
- 'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'।
- 'কাকলি' এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
- 'প্রণতি' এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
- 'অবগতি' এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি।   

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।  
১৫,৪৬৪.
কোনটি ঠিক?
  1. সমিচীন
  2. সমীচিন
  3. সমিচিন
  4. সমীচীন
ব্যাখ্যা
- অপশনে প্রদত্ত বানান গুলোর মধ্যে শুদ্ধবানান - সমীচীন

সমীচীন (বিশেষণ)
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
এর অর্থ:
- সংগত;
- উপযুক্ত;
- উত্তম;

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৫,৪৬৫.
'অম্বু' শব্দের সমার্থক শব্দ হলো-
  1. অরিন্দম
  2. বপু
  3. বারি
  4. সরিৎ
ব্যাখ্যা
'অম্বু' শব্দের সমার্থক শব্দ: 
- পানি
- জল
- বারি,
- সলিল
- অপ্
- নীর
- উদক
- উদ
- পয়
- অম্ভ,
- তোয়
- বারুণ
- প্রাণদ
- ইরা
- ইলা
- পুষ্কর
- পাথঃ
- সরঃ
- সম্বর
- তামর
- শীতোত্তম
- জীবন

'পদ্ম' এর সমার্থক শব্দ- অরিন্দম
'দেহ' এর সমার্থক শব্দ- বপু
'নদী' এর সমার্থক শব্দ -সরিৎ

[উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ]
১৫,৪৬৬.
তালব্য ব্যঞ্জন কোনটি?
ব্যাখ্যা

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে:
- হাতি শব্দের 'হ' কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৫,৪৬৭.
'অর্পণ' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. ক) গ্রহণ
  2. খ) প্রত্যর্পণ
  3. গ) ক + খ
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
অর্পণ - গ্রহণ/প্রত্যর্পণ।
অনন্ত - অন্ত/সান্ত।
উজ্জ্বল - অনুজ্জ্বল/ম্লান 
উৎকৃষ্ট  - নিকৃষ্ট/অপকৃষ্ট 
উগ্র - সৌম্য/কোমল 
গুপ্ত- ব্যক্ত/প্রকাশিত 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ। 
১৫,৪৬৮.
নিচের কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. আমি পেয়েছি, তাকে পেয়েছি, আমার বুকের রক্তে, চোখের অশ্রুজলে।
  2. আমি তার উদ্দেশ্যে আমার শান্ত স্নিগ্ধ অন্তরের পরিপূর্ণ চিত্তের একটি সশ্রদ্ধ নমস্কার রেখে গেলাম।
  3. আমি যেন শুনতে পাই, সে আমারে সর্বান্তকরণে ক্ষমা করেছে।
  4. ফুলের কাঁটা ভুলে গিয়ে তার উর্ধ্বে ফুলের কথাই যেন সে মনে রাখে।
ব্যাখ্যা
অশ্রু - চোখের পানি; নয়ন জল
তাই ‘অশ্রুজল’ চোখের পানি অথবা কান্না অর্থে ব্যবহার করলে অপপ্রয়োগ হবে।
এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে অশ্রু/চোখের জল।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান
১৫,৪৬৯.
'নিরবকাশ' শব্দটিতে কয়টি উপসর্গ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
• 'নিরবকাশ' শব্দটিতে ২টি উপসর্গ রয়েছে।

• 'নিরবকাশ' শব্দের উপসর্গ বিশ্লেষণ:
- নির্‌ +অব।
-------------------- 
উপসর্গ ৩ প্রকার।
যথা-
বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা: 
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ। 

• বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,৪৭০.
'বজ্জাত' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বজ্‌ + জাত
  2. বজ্ + জত
  3. বত্‌ + জাত
  4. বদ্ + জাত
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- চ-বর্গীয় ধ্বনির আগে যদি ত-বর্গীয় ধ্বনি আসে তাহলে, ত-বর্গীয় ধ্বনি লোপ হয় এবং চ-বর্গীয় ধ্বনির দ্বিত্ব হয়।
- অর্থাৎ ত-বর্গীয় ধ্বনি ও চ-বর্গীয় ধ্বনি পাশাপাশি এলে প্রথমটি লুপ্ত হয়ে পরবর্তী ধ্বনিটি দ্বিত্ব হয়।
যেমন-
- নাত + জামাই = নাজ্জামাই (ত্ + জ=জ্জ),
- বদ্ + জাত = বজ্জাত,
- হাত + ছানি = হাচ্ছানি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫,৪৭১.
'তর্ক > তক্ক' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. হ-কার লোপ
  2. দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. র - কার লোপ
ব্যাখ্যা
র-কার লোপ:
- আধুনিক চলিত বাংলায় অনেক ক্ষেত্রে র-কার লোপ পায় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হয়।
যেমন:
- তর্ক > তক্ক,
- করতে > কত্তে,
- মারল মাল্ল,
- করলাম > কল্লাম।

অন্যদিকে, 
হ-কার লোপ:
- আধুনিক চলিত ভাষায় অনেক সময় দুই স্বরের মাঝামাঝি হ-কারের লোপ হয়।
যেমন-
- পুরোহিত > পুরুত,
- গাহিল > গাইল,
- চাহে > চায়,
- সাধু > সাহু সাউ ইত্যাদি।

দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা।
যেমন-
- পাকা পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:

- শব্দ- মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জনবর্ণ বিকৃতি বলে।
  যেমন:
- কবাট>কপাট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,৪৭২.
কোন সমাসে ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না?
  1. নিত্য সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা

নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।

যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য সাপ = কালসাপ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৪৭৩.
'কোকিল' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) অসূয়া
  2. খ) নিশাকর
  3. গ) তিলক
  4. ঘ) কাকপুষ্ট
ব্যাখ্যা
'কোকিল' শব্দের সমার্থক শব্দ -  কাকপুষ্ট।

• কোকিল শব্দের অন্যান্য সমার্থক শব্দ: 
- অন্যপুষ্ট।
- কলকন্ঠ।
- পরপুষ্ট।
- বসন্তদূত।
- মধুসখা।
- মধুস্বর।
- পরভৃত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৪৭৪.
'জিত' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. জী + ইত
  2. জ + ইত
  3. জিত্‌ +অ
  4. জি + ইত
ব্যাখ্যা
• অ-প্রত্যয়:
- কেবল ভাববাচ্যে অ-প্রত্যয় যুক্ত হয়।
যেমন:
- √ধর্+অ=ধর,
- √মার+অ=মার।
- আধুনিক বাংলায় অ-প্রত্যয় সর্বত্র উচ্চারিত হয় না।
যেমন:
- √হার্ + অ = হার,
- √জিত্ + অ = জিত।
- কোনো কোনো সময় অ-প্রত্যয়যুক্ত কৃদন্ত শব্দের দ্বিত্ব প্রয়োগ হয়।
- যেমন: (আসন্ন সম্ভাব্যতা অর্থে দ্বিত্বপ্রাপ্ত) √কাঁদ্ + অ = কাঁদকাঁদ (চেহারা)।
- এরূপ পড়্‌ + অ =পড়পড়,
- মর্ + অ = মরমর (অবস্থা) ইত্যাদি। কখনো কখনো দ্বিত্বপ্রাপ্ত কৃদন্ত পদে উ-প্রত্যয় হয়।
যেমন:
- ডুব্‌ + উ= ডুবুডুবু।
- উড়্‌ + উ = উড়ুউডু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৫,৪৭৫.
‘বিপদে ধৈর্য ধর।’ কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. আবেগবাচক বাক্য
  3. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  4. বিস্ময়বাধক বাক্য
ব্যাখ্যা
• বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• বিবৃতিবাচক বাক্য:
সাধারণভাবে কোনাে বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলােকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন-
• আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম।
• তারা তােমাদের ভােলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলাে প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন-
• তােমার নাম কী?
• সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
• আমাকে একটি কলম দাও।
• তার মঙ্গল হােক।
• বিপদে ধৈর্য ধর।

• আবেগবাচক বাক্য:
কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
• দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
• অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১৫,৪৭৬.
ভাবাধিকরণে কোন বিভক্তি ধ্রুব? 
  1. ২য়া
  2. ৬ষ্ঠী
  3. ৩য়া
  4. ৭মী
ব্যাখ্যা

• ভাবাধিকরণ কারক:
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ‘ভাবে সপ্তমী’ বলা হয়।
যেমন-
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
= কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৫,৪৭৭.
‘মৃদু’ শব্দের সঠিক বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. ক) ঔদ্ধত্য
  2. খ) কর্কশ
  3. গ) উগ্র
  4. ঘ) সৌম্য
ব্যাখ্যা
গুরুত্বপুর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ:

- 'মৃদু' / 'সৌম্য' - এর বিপরীত শব্দ 'উগ্র'।

-  ‘সদ্ভাব’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - বিরোধ।
- 'ঔদ্ধত্য' এর বিপরীত শব্দ - বিনয়
- ‘সরস’ শব্দের বিপরীতার্থক - নীরস।
- 'কর্কশ' এর বিপরীত শব্দ- কোমল

- ‘সজীব’ শব্দের বিপরীতার্থক - নির্জীব
- ‘সচল’ শব্দের বিপরীতার্থক - অচল
- ‘সমস্ত’ শব্দের বিপরীতার্থক - অংশ
- 'অনুমেয়' এর বিপরীত শব্দ - অননুমেয়। 
- 'নিয়ত' এর বিপরীত শব্দ -  বিরত।
- 'প্রবিষ্ট' এর বিপরীত শব্দ - প্রস্থিত। 
- 'দরদি' এর বিপরীত শব্দ - নির্দয়। 
 
উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫,৪৭৮.
কোন শব্দের প্রত্যয় উপজীবিকা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উমেদারি
  2. জমিদারি
  3. জেলে
  4. দোকানি
ব্যাখ্যা
• উপজীবিকা অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ- 'জেলে'। 

• প্রত্যয়:
- প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
- তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ বদলে যায়।

• ভাব অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ- উমেদার + ই = উমেদারি।
• মালিক অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ- জমিদারি, দোকানি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।  
১৫,৪৭৯.
প্রত্যক্ষ উক্তির ‘গতকাল' পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. পূর্বদিন
  2. আগেরদিন
  3. সেদিন
  4. গতকল্য
ব্যাখ্যা
উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন:
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
→ পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।

প্রত্যক্ষরূপ - পরোক্ষরূপ:
• আগামীকাল - পরদিন,
• এই - সেই,
• ইহা - তাহা,
গতকাল - আগেরদিন,
• আজ - সেদিন,
• গতকল্য - পূর্বদিন,
• এখানে - সেখানে,
• ওখানে - ঐখানে,
• এখন - তখন,
• এ - সে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১৫,৪৮০.
"আমাদের পুকুরে মাছ আছে।" - এখানে "পুকুরে" কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্তৃকারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্মকারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে।

• যেমন - 
- আমাদের পুকুরে মাছ আছে। (কোথায় আছে? পুকুরে) : অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
(কোনো স্থানে কোনো কিছু আছে বোঝালে অধিকরণ কারক হবে।) 

তেমনিভাবে, 
- বনে বাঘ আছে। (কোথায় আছে? বনে) : অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে। (কোথায় বাঁধা আছে? ঘাটে) : অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১৫,৪৮১.
"অস্থিরপঞ্চক" বাগ্‌ধারার অর্থ - 
  1. দুর্লভ বস্তু 
  2. ব্যক্তিত্বহীন 
  3. কঠিন সমস্যা
  4. একটানা খাটুনি 
ব্যাখ্যা

• "অস্থিরপঞ্চক" বাগ্‌ধারার অর্থ - কঠিন সমস্যা।

অন্যদিকে,
• 'আকাশের চাঁদ' বাগ্‌ধারার অর্থ - দুর্লভ বস্তু।
• 'আঁচল ধরে বেড়ানো' বাগ্‌ধারার অর্থ - ব্যক্তিত্বহীন।
• 'কলুর বলদ' বাগ্‌ধারার অর্থ - একটানা খাটুনি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৫,৪৮২.
কোনটি অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ?
  1. হ্ + ন = হ্ন
  2. হ্ + ণ = হৃ
  3. হ্ + উ = হু
  4. হ্ + ম = হ্ম
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ - হ্ + ণ = হৃ
- এর শুদ্ধরূপ - হ্ + ঋ = হৃ।

অন্যদিকে,
- হ্ + ম = হ্ম,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ন = হ্ন।
উপরিউক্ত যুক্তবর্ণগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
১৫,৪৮৩.
কোন বাক্যে প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ আছে?
  1. মণি চিঠি লিখছে।
  2. সে পাস করে গেল।
  3. সাইরেন বেজে উঠল।
  4. সাপুড়ে সাপ খেলায়।
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া অন্যের দ্বারা চালিত হয়, তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
- সাপুড়ে সাপ খেলায়

অন্যদিকে,
যৌগিক ক্রিয়া:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে পাস করে গেল।
- সাইরেন বেজে উঠল।

সকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম থাকে, তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মণি চিঠি লিখছে।
- কাঞ্চন বই পড়ছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৫,৪৮৪.
'ঈক্ষণ' শব্দের অর্থ কী?
  1. উর্মি
  2. অক্ষি
  3. চুল
  4. তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'ঈক্ষণ' শব্দের অর্থ - দৃষ্টি, দর্শন, চক্ষু, অক্ষি, নয়ন।

অন্যদিকে,
- 'উর্মি' শব্দের অর্থ - ঢেউ, তরঙ্গ, বীচি।
- 'কেশ' শব্দের অর্থ - চুল, কুন্তল, অলক, চিকুর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৪৮৫.
‘মহানদী’ শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. মহান যে নদী
  2. মহা যে নদী
  3. মহৎ যে নদী
  4. মহীয়সী যে নদী
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
 যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।
- মহান যে নবী = মহানবী।

* মহানদী এর ব্যাসবাক্য হিসেবে - 'মহতী যে নদী' সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য কিন্তু এটি অপশনে নেই।
অপশন অনুসারে 'মহা যে নদী' ব্যাসবাক্যটিকে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মনে করছি।
মহান ও মহৎ সাধারণত পুংলিঙ্গবাচক শব্দের সাথে ব্যবহৃত হয়। নদী হচ্ছে স্ত্রীবাচক শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,৪৮৬.
উচ্চারণস্থান অনুসারে 'হ' কোন ধরনের ব্যঞ্জন?
  1. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. দন্ত্য ব্যঞ্জন
  3. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  4. কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- 'হাতি' শব্দের 'হ' কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরচিত।
যেমন:
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে স্বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
১৫,৪৮৭.
‘যুদ্ধবিরতি’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
  2. তৃতীয় তৎপুরুষ
  3. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  4. পঞ্চমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
⇒ তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

⇒ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

⇒ পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- যুদ্ধ থেকে বিরতি = যুদ্ধবিরতি।
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু, ঋণমুক্ত ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।।
১৫,৪৮৮.
সর্বভূমি + ষ্ণ = সার্বভৌম এখানে কোন প্রত্যয়ের ব্যবহার হয়েছে?
  1. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বিদেশী তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. নিপাতনে সিদ্ধ
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের সাধারণ সূত্র:
- দুটি শব্দের দ্বারা গঠিত সমাসবদ্ধ শব্দের অথবা উপসর্গযুক্ত শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে উপসর্গসহ শব্দের বা শব্দ দুটির মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়।
যথা -
→ পরলোক + ষ্ণিক = পারলৌকিক।
→ সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য।
→ পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক।
→ সর্বভূমি + ষ্ণ = সার্বভৌম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,৪৮৯.
'চাকর' কোন ভাষার শব্দ?
  1. তুর্কি
  2. ফারসি
  3. পর্তুগিজ
  4. আরবি
ব্যাখ্যা

'চাকর' শব্দটি 'ফারসি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- পরিচারক;
- কর্মচারী।

আরো কিছু ফারসি শব্দ:
- সেতার, মগুনাহ, পরহেজগার, দরগা, চশমা, খানা, জায়নামাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৫,৪৯০.
'Appended' শব্দের বাংলা পরিভাষা -
  1. বর্ণবৈষম্য
  2. প্রকোষ্ঠ
  3. সংলগ্ন
  4. পরিশিষ্ট
ব্যাখ্যা
• 'Appended' শব্দের বাংলা পরিভাষা - সংলগ্ন

অন্যদিকে,
- 'Appendix' শব্দের বাংলা পরিভাষা - পরিশিষ্ট।
- 'Apartheid' শব্দের বাংলা পরিভাষা - বর্ণবৈষম্য।
- 'Apartment' শব্দের বাংলা পরিভাষা - প্রকোষ্ঠ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
১৫,৪৯১.
ষাট বছর পূর্ণ হওয়ার উৎসব কে এক কথায় বলে-
  1. প্লাটিনাম জয়ন্তী
  2. হীরক জয়ন্তী
  3. রজত জয়ন্তী
  4. সুবর্ণ জয়ন্তী
ব্যাখ্যা
• কিছু এক কথায় প্রকাশ: 
- ৫০ বছর পূর্তিতে অনুষ্ঠিত হয়- 'গোল্ডেন জুবলি'/ সুবর্ণ জয়ন্তী।
- ২৫ বছর পূর্তিতে অনুষ্ঠিত হয় রজত জয়ন্তী/ Silver Jubilee।
- ৬০ বছর পূর্তিতে অনুষ্ঠিত হয় হীরক জয়ন্তী/Diamond Jubilee।
- ৭৫ বছর পূর্তিতে অনুষ্ঠিত হয় প্লাটিনাম জয়ন্তী/ Platinum Jubilee।
- ১০০ বছর পূর্তিতে অনুষ্ঠিত হয় শতবর্ষ জয়ন্তী/Centenary jubilee।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১৫,৪৯২.
স্বরধ্বনি+ব্যঞ্জনধ্বনি=ব্যঞ্জনসন্ধি — কোনটি?
  1. ক) পরিচ্ছদ
  2. খ) দিগন্ত
  3. গ) উচ্ছেদ
  4. ঘ) বিপচ্ছায়া
ব্যাখ্যা

যে দুইটি ধ্বনির মিলনে সন্ধি হবে, তাদের একটিও যদি ব্যঞ্জনধ্বনি হয়, তাহলেই সেই সন্ধিকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলা হয়।
ব্যঞ্জনসন্ধি ৩ ভাবে হতে পারে-
- স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।
- ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি
- ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি

স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনিঃ
স্বরধ্বনির পর ‘ছ’ থাকলে তা দ্বিত্ব হয়, অর্থাৎ ‘ছ’-র বদলে ‘চ্ছ’ হয়। যেমন-
ই+ছ = চ্ছ -
পরি+ছদ = পরিচ্ছদ।
বি+ছেদ= বিচ্ছেদ।
বি+ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)

১৫,৪৯৩.
যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলোকে কী বলে?
  1. পূর্ণস্বর
  2. অর্ধস্বর
  3. হ্রস্বস্বর
  4. দীর্ঘস্বর
ব্যাখ্যা

অর্ধস্বরধ্বনি:
- অর্ধস্বরধ্বনি হলো যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি: [ই], [উ], [এ] এবং [ও]।
- অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনোভাবেই দীর্ঘ করা যায় না।
- কিন্তু স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়।

• যেমন-
- 'চাই' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই]। এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।
- একইভাবে 'লাউ' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [উ]। এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [উ] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৬ সংস্করণ)।

১৫,৪৯৪.
‘কাকনিদ্রা’ এর সঠিক অর্থ কোনটি?
  1. ক) অগভীর নিদ্রা
  2. খ) কাকের ন্যায় অল্প নিদ্রা
  3. গ) কপট চিন্তা
  4. ঘ) নিদ্রার ভান করা
ব্যাখ্যা
• কাকনিদ্রা (বিশেষ্য)

অর্থ: 
- অগভীর সতর্ক ঘুম বা অগভীর নিদ্রা। 

সূত্র: বাংলা একাডেমী অভিধান ও অভিগম্য অভিধান, বাংলা একাডেমি। 
১৫,৪৯৫.
'বর্ণ' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. শব্দতত্ত্ব
  2. ধ্বনিতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত। ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়সমূহ হলো-
- ধ্বনি,
- বর্ণ,
- ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি,
- উচ্চারণের স্থান,
- ধ্বনি পরিবর্তন ও লোপ,
- ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
- সন্ধি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১৫,৪৯৬.
কোনটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গ ?
  1. থেকে
  2. কাছে
  3. দ্বারা
  4. জন্যে
ব্যাখ্যা
অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
- সাধারণ অনুসর্গ ও
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

সাধারণ অনুসর্গ- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলা হয়।
যেমন,
উপরে- মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে- কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে- হারানো ঘড়িটার জন্যে অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ- অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন,
করে- ভালো করে খেয়ে নাও।
দিয়ে-মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
ধরে- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
থেকে- ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মানদী পার হতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নমব-দশম শ্রেণি।
১৫,৪৯৭.
'Censure'- এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ক) বিবাচক
  2. খ) অজ্ঞান
  3. গ) তিরস্কার
  4. ঘ) তিরস্কৃত
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি প্রসাশনিক পরিভাষা অনুযায়ী,
- Censure এর অর্থ - তিরস্কার।

এছাড়াও,
• Censured এর অর্থ- তিরস্কৃত।
• Censor এর অর্থ- বিবাচক।
• Censored এর অর্থ- বিবাচিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রসাশনিক পরিভাষা।
১৫,৪৯৮.
'সূর্য' - এর প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. সৌদামিনী
  2. বৈশ্বানর
  3. মার্তণ্ড
  4. শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা

• 'সূর্য' এর প্রতিশব্দ - মার্তণ্ড ।

• 'সূর্য' এর অন্যান্য প্রতিশব্দ:
রবি, সবিতা, দিবাকর, দিনমনি, দিননাথ, দিবাবসু, অর্ক, ভানু, তপন, ভাস্কর, মার্তণ্ড, অংশু, প্রভাকর, কিরণমালী, অরুণ, মিহির,  দিনপতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'অগ্নি’ শব্দের কিছু প্রতিশব্দ হলো:
- আগুন, বহ্নি, বৈশ্বানর, দহন, সর্বভুক, শিখা, হোমাগ্নি, কৃশানু, সর্বশুচি, সপ্তাংশু, বিভাবসু।

• বিদ্যুৎ শব্দের প্রতিশব্দ:
- বিজলি, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, চিকুর, চপলা, চঞ্চল ইত্যাদি।

• 'চাঁদ' এর প্রতিশব্দ:
- সুধাংশু, শশাঙ্ক, বিধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৫,৪৯৯.
কোন শব্দটিতে স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ষ' হয়েছে?
  1. বর্ষা
  2. ভবিষ্যৎ
  3. ঊষা
  4. কৃষক
ব্যাখ্যা
• স্বভাবতই 'ষ' হয়েছে - ঊষা। 
--------------------- 
• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:

১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে স হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,৫০০.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) কৃতিত্ব
  2. খ) প্রণয়িণী
  3. গ) উদীচি
  4. ঘ) স্বাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
•শুদ্ধ বানান = 'কৃতিত্ব' 

• উদীচী (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = উদচ্‌+ঈ
অর্থ: উত্তর দিক

• প্রণয়িনী (বিশেষ্য) শব্দটি 'প্রণয়ী' এর স্ত্রীবাচক শব্দ
'প্রণয়ী' (বিশেষ্য) - সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রণয়+ইন্‌
অর্থ: 
- প্রেমের পাত্র
- অনুরক্ত ব্যক্তি

• স্বাতন্ত্র্য (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = স্বতন্ত্র+য
অর্থ: 
- অন্যের সঙ্গে প্রভেদ
- স্বাধীনতা 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।