ব্যাখ্যা
অন্যদিকে,
- 'হাত' এর সমর্থক শব্দ- হস্ত, কর, বাহু, ভুজ, পাণি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১৫৪ / ৩৫৪ · ১৫,৩০১–১৫,৪০০ / ৩৫,৭১৩
এখানে 'সহ" 'সহিত' 'সঙ্গে' 'সনে' -এগুলা একেক বাক্যে একেক অর্থ প্রকাশ করেছে।
যেমনঃ
১. তিনি পুত্র সহ উপস্থিত হলেন। ( সহগামীতা অর্থে )
২. শত্রুর সহিত সন্ধি চাইনা। ( সমসূত্রে অর্থে )
৩. মায়ের সঙ্গে এই মেয়ের তুলনা হয়না।
৪. দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে। ( বিরুদ্ধগামীতা অর্থে )
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।
পুত্র শব্দের সমার্থক শব্দ ছেলে, সুত, তনয়, নন্দন।
উৎসঃ পৃষ্ঠা নং ১৮৭, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
পুত্র এর সমার্থক শব্দ আত্মজ, দুলাল, নন্দন, তনয়, ছেলে, পোলা, বেটা।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
অন্যদিকে, শৈলজ - শব্দের অর্থ পর্বতজাত; পর্বতীয়।
• 'শিরে সংক্রান্তি' বাগ্ধারার অর্থ - আসন্ন বিপদ।
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্ধারা:
- 'অকাল কুষ্মাণ্ড' বাগ্ধারাটির অর্থ - অপদার্থ।
- 'অক্ষরে অক্ষরে' বাগ্ধারাটির অর্থ - সম্পূর্নভাবে।
- 'আঠারো মাসে বছর' বাগ্ধারাটির অর্থ - দীর্ঘসূত্রিতা।
- 'আকাশের চাঁদ' বাগ্ধারাটির অর্থ - দুর্লভ বস্তু।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
বহু বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে এক বার বহুবচনে প্রশান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
যেমন:
অশুদ্ধ- ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ- ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।
অশুদ্ধ- সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ- সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।
অশুদ্ধ- অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
শুদ্ধ- অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'গণক' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ গণকী।
• ঈ-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- সাধারণ অর্থে:
- নিশাচর-নিশাচরী, ভয়ংকর-ভয়ংকরী, রজক-রজকী, কিশোর-কিশোরী, সুন্দর-সুন্দরী, চতুর্দশ-চতুর্দশী, ষোড়শ-ষোড়শী ইত্যাদি।
- জাতি বা শ্রেণিবাচক:
- সিংহ-সিংহী, ব্রাহ্মণ-ব্রাহ্মণী, মানব-মানবী, বৈষ্ণব-বৈষ্ণবী, কুমার-কুমারী, ময়ূর-ময়ূরী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
সূত্র ক : আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে।
সূত্র খ: জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
সূত্র গ: সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।
যেমন:
• জটিল বাক্য: যেহেতু সে নিরপরাধ, সেহেতু সে মুক্তি পাবে।
• যৌগিক বাক্য: সে নিরপরাধ, অতএব সে মুক্তি পাবে।
• জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে ।
• জটিল: যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
• যৌগিক: সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।
• জটিল: যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।
• জটিল: যদিও তিনি দরিদ্র তথাপি সৎ।
• যৌগিক: তিনি দরিদ্র, কিন্তু সৎ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
-----------------
• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
• এই মর্মে প্রত্যায়ন করা যাচ্ছে- বাক্যটিতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।
• শুদ্ধ প্রয়োগ:
- ‘প্রত্যায়ন’ শব্দের অর্থ হলো বিশ্বাস বা প্রত্যয় সৃষ্টি করা।
- ‘প্রত্যয়ন’ শব্দের অর্থ হলো প্রত্যয়করণ বা প্রত্যয়িত করা।
- তাই, “এই মর্মে প্রত্যায়ন করা যাচ্ছে” বাক্যটি সঠিক।
- কারণ এর মানে হচ্ছে- কোনো বিষয় সম্পর্কে বিশ্বাস বা প্রত্যয় উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।
- অপরদিকে, “এই মর্মে প্রত্যয়ন করা যাচ্ছে” বাক্যে ‘করা’ শব্দটি দ্বিগুণ ব্যবহার হয়েছে, যা ব্যাকরণগতভাবে অনুচিত।
- অতএব, সঠিক ও উপযুক্ত রূপ হলো “এই মর্মে প্রত্যায়ন করা যাচ্ছে”।
অন্যদিকে,
• “তোমার সাথে আমার একটি গোপন পরামর্শ আছে” বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে ভুল।
- কারণ ‘গোপন’ একটি বিশেষণ, যা সরাসরি ‘পরামর্শ’ বিশেষ্যটির সঙ্গে ব্যবহার করলে অপপ্রয়োগ ঘটে।
- সঠিক রূপ হলো- “তোমার সাথে আমার একটি গোপনীয় পরামর্শ আছে”।
- এখানে বিশেষ্য 'পরামর্শ'-এর সঙ্গে বিশেষণীয় রূপ 'গোপনীয়' ব্যবহার করা হয়েছে ।
• “সবিনয় পূর্বক নিবেদন করি” বাক্যটিও ভুল।
- কারণ ‘সবিনয়’ এবং ‘পূর্বক’ এক অর্থ বহন করে।
- দুটো একসাথে ব্যবহার করলে বাহুল্য দোষ হয়।
- সঠিক রূপ হবে- “বিনয়পূর্বক নিবেদন করি”।
• “এই বিষয় প্রমাণ হয়েছে” বাক্যটি ভুল।
- কারণ ‘প্রমাণ’ একটি বিশেষ্য, কিন্তু এখানে ‘প্রমাণ হওয়া’ বলে ক্রিয়ার অর্থ বোঝানো হয়েছে।
- এটি বাক্যের গঠন ও পদবিন্যাসের ভুল।
- শুদ্ধ রূপ হলো- “এই বিষয় প্রমাণিত হয়েছে”।
- এখানে ‘প্রমাণিত’ একটি বিশেষণ বা কৃদন্ত পদ হিসেবে ‘এই বিষয়’-কে বিশেষায়িত করছে।
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
• জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- তাদের যে দৃষ্টি তাতে সামান্য বিস্ময়ের ভাব।
অন্যদিকে,
যৌগিক বাক্য:
- তার ভাই ঋণ করেছিল, আর সে তা পরিশোধ করেছে।
উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
- শুদ্ধ বানান - চূর্ণবিচূর্ণ।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
শব্দের অর্থ:
- সম্পূর্ণ চূর্ণিত,
- সম্পূর্ণ বিনষ্ট।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অনুজ্ঞা:
আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয়, তাকে অনুজ্ঞা বলে। যেমন:
বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
• তোমরা কাজ করো।
• রোহান লিখুক।
• মিথ্যা কথা বলো না।
• অঙ্কটা বুঝিয়ে দেবেন?
• আমাকে তুমি রক্ষা করো, প্রভু।
• আদেশ করুন জাহাপনা।
ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
• সব সময় সত্যি বলবে।
• বড় হও, বুঝতে পারবে।
• অসুস্থ হলে ওষুধ খাবে।
• স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে আদি স্বরাগম বলে।
যেমন- স্কুল > ইস্কুল, স্টেশন ˃ ইস্টিশন, স্পর্ধা ˃ আস্পর্ধা।
স্ত্রী ˃ ইস্ত্রী ও আদি স্বরাগমের উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণী।
যৌগিক বাক্য (compound sentence):
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা জটিল বাক্য সংযোজক, সংকোচক, বিয়োজক, ব্যতিরেকাত্মক প্রভৃতি যোজক শব্দ দ্বারা যুক্ত হয়ে যখন একটিমাত্র বাক্য গঠন করে তখন তাকে 'যৌগিক বাক্য' বলে।
যেমন:
- তুমি আস, তবে আমি যাব।(সংযোজক)
- তারা দুজনে আড়ি পেতে ছিল, নইলে চোর ধরা পড়ত না।(ব্যতিরেকাত্মক)
- তার আভাস পেতাম, কিন্তু নাগাল পেতাম না।
• স্মরণ রাখতে হবে-
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, একে অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন অব্যয়যোগে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'রাত্রি' শব্দটি 'সংস্কৃত' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- সূর্যাস্ত থেকে পরবর্তী সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়, রাত, রজনি।
অন্যদিকে,
তদ্ভব শব্দ - হাত, ডিম।
দেশি শব্দ - বাড়ি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• সন্ধি বিচ্ছেদ:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ঋ-কার থাকলে উভয়ে মিলে 'অর' হয় এবং তা রেফ রূপে পরবর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন-
দেব + ঋষি = দেবর্ষি,
রাজা + ঋষি = রাজর্ষি,
মহা + ঋষি = মহর্ষি,
উত্তম + ঋণ = উত্তমর্ণ,
অধম + ঋণ = অধমর্ণ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
- বাক্যে পদ সংস্থাপনার ক্রম অনুসারে, সম্বন্ধ পদ বিশেষ্যের পূর্বে বসে।
যেমন - ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছে।
- তবে কবিতায় ইত্যাদিতে ছন্দের প্রয়োজনে পরেও বসতে পারে।
যেমন - হে আদি জননী সিন্ধু, বসুন্ধরা সন্তান তোমার।
- বিধেয় বিশেষণ সর্বদাই বাক্যের বিশেষ্যের পরে বসে।
যেমন - লোকটি যে জ্ঞানী তাতে সন্দেহ নেই।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই।
হ + ন = হ্ন
হ + ণ = হ্ণ
হ + ঋ = হৃ
‘ন + হ’ এবং ‘ণ + হ’ এর যুক্ত বর্ণ হয় না।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
ক্রিয়াপদ: ক্রিয়ামূল অর্থাৎ ধাতুর সঙ্গে কাল সময় ও পুরুষ জ্ঞাপক (ক্রিয়া) বিভক্তিযোগে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
ক. পুরুষভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য দেখা যায়। যেমন: আমি যাই। তুমি যাও। আপনি যান। সে যায়। তিনি যান। (সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে নাম পুরুষ ও মধ্যম পুরুষের রূপ অভিন্ন।)
খ. বচনভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় না। যেমন: আমি (বা আমরা) যাই। তুমি (বা তোমরা) যাও। সে (বা তারা) যায়।
গ. সাধারণ, সম্ভ্রমাত্মক, তুচ্ছার্থকভেদে মধ্যম ও নাম পুরুষের ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় হয়ে থাকে (উত্তম পুরুষের হয় না)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’- এটি একটি জটিল বাক্য।
=================
সাপেক্ষ সর্বনামের বা সাপেক্ষ যোজক ছাড়াও নিম্নের উপায়ে জটিল বাক্য হতে পারে। এই জায়গা অনেক অনেক এবং অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, অবশ্যই অবশ্যই ভালো করে বুঝে নিতে হবে।
শর্টকাট : সরল বাক্য + ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ + সরল বাক্য = জটিল বাক্য
'মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। - এই উদাহরণটি অনেক বইয়ে সরল বাক্য বা যৌগিক বাক্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। চলুন সরল বাক্যের শর্তগুলো মনে করি।
সরল বাক্যে অবশ্যই একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকবে। আর যৌগিক বাক্যে অবশ্যই অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকবে অথবা দুটি সরল বাক্যের মাঝে অব্যয়ের পরিবর্তে শুধু কমা থাকবে এবং বাক্যগুলো একটা আরেকটার ওপর নির্ভর করবে না, অর্থাৎ স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হবে।
এবার ওপরের বাক্যটিকে ভেঙে লিখি।
মা ছিল না - বলে - কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।
‘মা ছিল না।’ এটি একটি সরল বাক্য এবং এখানে সমাপিকা ক্রিয়া (ছিল) আছে।
‘কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।’ এটিও একটি সরল বাক্য এবং এখানেও সমাপিকা ক্রিয়া (দেয়নি) আছে।
‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া আছে এবং একাধিক সরল বাক্য পাওয়া গেছে। সুতরাং এটি সরল বাক্য নয়।
এবার দেখি এটি যৌগিক বাক্য কি না। যৌগিক বাক্যের মূল কথা হলো দুটি সরল বা জটিল বাক্য বাক্য অব্যয় দ্বারা সংযোগ থাকবে অথবা দুটি সরল বাক্যের মাঝে অব্যয়ের পরিবর্তে কমা থাকবে। যোৗগিক বাক্যের সরল বাক্যগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হবে, অর্থাৎ একটি আরেকটির ওপর নির্ভর করবে না।
‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যের অন্তর্গত ‘মা ছিল না’ এবং ‘কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যের মাঝে কোনো সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয় নেই এবং বাক্য দুটি স্বাধীন নয়, একটি অন্যটির ওপর নির্ভর করছে, এখানে অব্যয়ের পরিবর্তে ‘বলে’ নামক অনুসর্গ আছে, তাই এটি যৌগিক বাক্যের শর্ত পূরণ করতে পারে না।
এবার তবে জটিল বাক্যের শর্তের দিকে যাই। জটিল বাক্যে একটি বাক্য আরেকটি বাক্যের সঙ্গে সাপেক্ষ অবস্থায় থাকবে। এখানে ‘বলে’ অনুসর্গ দুটি বাক্যকে একটির সঙ্গে আরেকটির সাপেক্ষ অবস্থা সৃষ্টি করেছে। ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি, ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে বসে একটি বাক্যের সঙ্গে আরেকটি বাক্যের নির্ভরশীলতা বা সাপেক্ষ অবস্থা বুঝিয়েছে। যদি ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হতো তবে সেটি সরল বাক্য হতো।
অব্যশই অব্যশই মনে রাখতে হবে : বলে দ্বারা যদি ক্রিয়া না বোঝায় তবে ধরে নিতে হবে সেটি ক্রিয়া হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়নি ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, আর অবশ্যই বাক্যটি জটিল বাক্য হবে। প্রসঙ্গত ক্রিয়াবাচক অনুসর্গগুলো দেখে নেই।
[ক্রিয়াজাত অনুসর্গ : ক্রিয়া থেকে নির্মিত অনুসর্গকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। এ জাতীয় অনুসর্গ হলো : বলে, করে, থেকে, দিয়ে, ধরে, হতে ইত্যাদি। যেমন : ভালো করে পড়াশুনা করো। মন দিয়ে কাজ করো।]
> কয়েকটি উদাহরণ লক্ষ করি, যে উদাহরণগুলো প্রতিযোগিতমূলক পরীক্ষায় এসেছে।
- ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল।’ [৩৩তম বিসিএস]
- মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। [৩২তম বিসিএস]
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
====================
বিশেষ দ্রষ্টব্য: জটিল বাক্যের সমার্থক হিসেবে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মিশ্র বাক্য ব্যবহার করেছেন, কিন্তু এটি গ্রহণীয় নয়। কারণ, মিশ্র শব্দটি অনেকাংশে যৌগিক শব্দের সমার্থক হয়ে যায়। তাই পরীক্ষায় জটিল ও মিশ্র থাকলে আর সেটি যদি জটিল বাক্য হয় হবে জটিল উত্তর করবেন।
সূত্র: মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী রচিত নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গ্রন্থ।
• ‘ক্ষমা করতে ইচ্ছুক’ এক কথায় প্রকাশ - তিতিক্ষু।
আরও কিছু এক কথায় প্রকাশ:
• 'ক্ষমার যোগ্য' এর বাক্য সংকোচন - ক্ষমার্হ।
• ‘ক্ষমা করার ইচ্ছা’ এক কথায় প্রকাশ - তিতিক্ষা।
• ‘প্রশংসার যোগ্য’ এক কথায় প্রকাশ - প্রশংসার্হ।
• ‘স্মরণের যোগ্য’ এক কথায় প্রকাশ - স্মরণার্হ।
• ‘ধন্যবাদের যোগ্য’ এক কথায় প্রকাশ - ধন্যবাদার্হ।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতা অনুসারে সাধারণ বিশেষ্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মূর্ত বিশেষ্য:
যে বিশেষ্যকে স্পর্শ করা যায়, ঘ্রাণ নেওয়া যায় এবং পরিমাপ করা যায় তাকে মূর্ত বিশেষ্য বলে। যেমন- হাত, পা, পানি, গোলাপ, নদী, বই, কাঁঠাল ইত্যাদি।
২. বিমূর্ত বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা অবস্তুগত অবস্থা, মনোগত ভাব বা গুণগত বৈশিষ্ট্য বোঝায় তাকে বিমূর্ত বা ভাববিশেষ্য বলে। যেমন- আনন্দ, দুঃখ, ইচ্ছা, রাগ, সন্দেহ, সাহস, সৌন্দর্য ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
সঠিক উত্তরঃ কর্মধারয় সমাস।
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
নীল যে অম্বর = নীলাম্বর।
নীল যে আকাশ = নীলাকাশ।
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
রক্ত যে কমল = রক্তকমল।
অতিরিক্ত আলোচনাঃ
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমনঃ
নীল অম্বর যার = নীলাম্বর।
দশ আনন যার = দশানন।
পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
আঠারো মাসে বছর- কুড়ে স্বভাব/দীর্ঘসূত্রতা।
ঊনপঞ্চাশ বায়ু- পাগলামি।
অকালকুষ্মাণ্ড- অপদার্থ।
অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী- সামান্য বিদ্যা বড়ো ক্ষতিকর, তাতে জ্ঞান জন্মে না অথচ বিদ্বান বলে অহঙ্কার জন্মে।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ,
- পকেট মারে যে = পকেটমার।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• বিসর্গ সন্ধির নিয়মানুসারে,
অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশ্ ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন -
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (স্ + ক) ⇒ নমঃ + কার = নমস্কার; পুরঃ + কার = পুরস্কার।
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + খ = = (স্ + খ) ⇒ পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- ই এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ নিঃ + কর = নিষ্কর; বহিঃ + কৃত = বহিষ্কৃত।
- উ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ দুঃ + কর = দুষ্কর; দুঃ + কৃতি = দুষ্কৃতি।
এরূপ - মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, আবিষ্কার, চতুষ্কোণ, বাচস্পতি, ভাস্কর ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• 'অনু' তৎসম উপসর্গ যোগে 'পশ্চাৎ' অর্থে গঠিত শব্দ- অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
অন্যদিকে,
• 'অনা' বাংলা উপসর্গ যোগে 'অভাব' অর্থে গঠিত শব্দ- অনাবৃষ্টি, অনাদর।
• 'আন' বাংলা উপসর্গ যোগে 'না' অর্থে গঠিত শব্দ- আনকোরা।
• 'অজ' বাংলা উপসর্গ যোগে 'নিতান্ত (মন্দ)' অর্থে গঠিত শব্দ- অজপাড়াগাঁ, অজমূর্খ, অজপুকুর।
------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
• অক্ষর (Syllable):
বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশের নাম অক্ষর (Syllable)। অক্ষর দু প্রকার।
যথা: মুক্তাক্ষর ও বদ্ধাক্ষর।
• মুক্তাক্ষর:
যখন একটি অক্ষরে একটিই বর্ণ থাকে, তখন তাকে মুক্তাক্ষর বলে। অযুগ্ম বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে। একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
যেমন: 'ভালোবাসো যদি বলিবে না কেন?'
এখানে (ভা) (লো) (বা) (সো) (য) (দি) (ব) (লি) (বে) (না) (কে) (ন) এই সবগুলোই (১২টি) মুক্তাক্ষর।
মুক্তাক্ষর U চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়।
- মুক্তাক্ষর উচ্চারণের শেষে মুখ খোলা থাকে, ফলে অক্ষর উচ্চারণ করে ও তাকে প্রয়োজন মতো প্রলম্বিত করা চলে।
যেমন: অপরিচিত।
• বদ্ধাক্ষর:
ব্যঞ্জনধ্বনি বা অর্ধস্বরধ্বনির মাধ্যমে যে সব অক্ষরের সমাপ্তি ঘটে তাকে বদ্ধাক্ষর বলে।
বদ্ধ অর্থ্যাৎ যুগ্মাস্বরান্ত বা ব্যঞ্জনান্ত ধ্বনিকে বদ্ধাক্ষর বলে।
যেমন: 'সোম বার দিনরাত হরতাল।
এখানে (সোম) (বার) (দিন) (রাত) (হর) (তাল্) এই সবগুলোই (৬টি) বদ্ধাক্ষর।
বদ্ধাক্ষর (-) চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়।
উৎস: বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
সূত্র:
- দুটি শব্দের দ্বারা গঠিত সমাসবদ্ধ শব্দের অথবা উপসর্গযুক্ত শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে উপসর্গসহ শব্দের বা শব্দ দুটির মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়।
যথা-
- পরলোক + ষ্ণিক = পারলৌকিক।
- সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য।
- পঞ্চভূত+ষ্ণিক=পাঞ্চভৌতিক।
- সর্বভূমি+ ষ্ণ=সার্বভৌম।
• ব্যতিক্রম : 'বর্ষ' শব্দ পরপদ হলে পূর্বপদের সংখ্যাবাচক শব্দের মূল স্বরের বৃদ্ধি হয় না।
- যথা-দ্বিবর্ষ +ষ্ণিক= দ্বিবার্ষিক।
- সংখ্যাবাচক শব্দ না থাকলেও নিয়মমতো মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়।
যেমন – বর্ষ + ষ্ণিক=বার্ষিক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'কলম' শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত।
অর্থ:
১ কোনো শক্ত দণ্ডের প্রান্তে বল বা নিব সংযুক্ত করে তৈরি লেখনী; ঝরনাকলম।
২ নলখাগড়া পালক প্রভৃতির অগ্রভাগ ত্যারচা করে কেটে তৈরি লেখনী।
• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
তফসির, তবিয়ত, তম্বি, তরজমা, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর।
অন্যদিকে,
• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, দারোয়ান, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• "পক্ষী" শব্দটি তৎসম এবং সাধু রীতির শব্দ। এটি সাধারণত লেখ্য ভাষায় ব্যবহার হয়। চলিত রীতিতে এর পরিবর্তে "পাখি" শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
কিছু বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
অগ্নি - আগুন,
কর্ণ - কান,
চন্দ্র - চাঁদ,
দন্ত- দাঁত,
পক্ষী - পাখি,
ব্যাঘ্র - বাঘ,
মৎস্য - মাছ,
হস্তী - হাতি।
উৎস: অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।