বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১৫৪ / ৩৫৪ · ১৫,৩০১১৫,৪০০ / ৩৫,৭১৩

১৫,৩০১.
‘জল’ এর সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. অপ্‌
  2. পাণি
  3. তোয়
  4. নীর
ব্যাখ্যা
⇒ ‘জল’ শব্দের সমার্থক শব্দ- জল, নীর, সলিল, পানি, অপ্‌, প্রানদ, তোয়, জীবন ইত্যাদি।  

অন্যদিকে,
- 'হাত' এর সমর্থক শব্দ- হস্ত, কর, বাহু, ভুজ, পাণি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩০২.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছ বিদেশী অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. বহুত, খুব, মারহাবা
  2. খুব, বরং, খাসা
  3. দৈবাৎ, বরং, আবার
  4. পুনশ্চ, মারহাবা, খুব
ব্যাখ্যা
বিদেশি অব্যয় শব্দ:

যেমন:
- আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
তৎসম অব্যয় শব্দ:

যেমন:
- যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি। 'এবং' ও 'সুতরাং' তৎসম শব্দ হলেও বাংলায় এগুলোর অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে। সংস্কৃতে 'এবং' শব্দের অর্থ এমন, আর 'সুতরাং' অর্থ অত্যন্ত, অবশ্য।

বাংলা অব্যয় শব্দ:
- আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,৩০৩.
তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের কোন অংশের ভূমিকা থাকে?​
  1. জিভের পেছনের অংশ নরম তালুর কাছে লেগে থাকে।​
  2. জিভের ডগা দন্তমূলের সঙ্গে লেগে থাকে।
  3. জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে থাকে।
  4. জিভের ডগা শক্ত তালুর কাছে প্রসারিত হয়।
ব্যাখ্যা
তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।

যেমন:
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রর্ভতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫,৩০৪.
নিচের কোনটিতে "সমসূত্রে অর্থে" অনুসর্গের প্রয়োগ হয়েছে?
  1. তিনি পুত্র সহ উপস্থিত হলেন।
  2. শত্রুর সহিত সন্ধি চাইনা।
  3. মায়ের সঙ্গে এই মেয়ের তুলনা হয়না।
  4. দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে।
ব্যাখ্যা

এখানে 'সহ" 'সহিত' 'সঙ্গে' 'সনে' -এগুলা একেক বাক্যে একেক অর্থ প্রকাশ করেছে।
যেমনঃ
 ১. তিনি পুত্র সহ উপস্থিত হলেন। ( সহগামীতা অর্থে )
 ২. শত্রুর সহিত সন্ধি চাইনা। ( সমসূত্রে অর্থে )
 ৩. মায়ের সঙ্গে এই মেয়ের তুলনা হয়না।
 ৪.  দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে। ( বিরুদ্ধগামীতা অর্থে )

 উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

১৫,৩০৫.
'জানুয়ারি' কোন জাতীয় নাম-বিশেষ্য?
  1. ব্যক্তিনাম
  2. স্থাননাম
  3. কালনাম
  4. সৃষ্টিনাম
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও  গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
যেমন - নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

• বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার। যথা:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন - 
ব্যক্তিনাম: হাবিব, জুয়েল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: বাংলাদেশ, ঢাকা, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫,৩০৬.
‘যে নারীর স্বামীও নেই সন্তানও নেই’ এক কথায় বলে-
  1. অবীরা
  2. অনন্যা
  3. বীরাঙ্গনা
  4. শুচিস্মিতা
ব্যাখ্যা
• ‘যে নারীর স্বামীও নেই সন্তানও নেই’ এক কথায় বলে - অবীরা।

নারী সম্পর্কিত কিছু বাক্য সংকোচন:
- ‘যে নারী বীর’ এক কথায় বলে = বীরাঙ্গনা।
- ‘যে নারীর বিয়ে হয়নি’ এক কথায় বলে = অনূঢ়া।
- ‘যে নারী অন্য কারও প্রতি আসক্ত হয়না’ এক কথায় বলে = অনন্যা।
- ‘যে নারী কখনো সূর্যকে দেখে নাই’ এক কথায় বলে = অসূর্যম্পশ্যা।
- ‘যে নারীর হাসি সুন্দর’ এক কথায় বলে = সুস্মিতা/সুহাসিনী।
- ‘যে নারীর হাসি কুটিলতাবর্জিত’ এক কথায় বলে = শুচিস্মিতা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৫,৩০৭.
ভাষার ক্ষুদ্রতম একক কোনটি?
  1. শব্দ
  2. ধ্বনি
  3. বাক্য
  4. অক্ষর
ব্যাখ্যা
• ভাষার ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি

উল্লেখ্য,
- বাক্যের মৌলিক উপাদান/ক্ষুদ্রতম - শব্দ।
- ভাষার মূল উপকরণ/প্রাণ - বাক্য।
- বর্ণ হচ্ছে শব্দের গঠনগত একক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫,৩০৮.
কোন শব্দটি পুত্র শব্দের সমার্থক নয়?
  1. ক) আত্মজ
  2. খ) নন্দন
  3. গ) তনয়
  4. ঘ) শৈলজ
ব্যাখ্যা

পুত্র শব্দের সমার্থক শব্দ ছেলে, সুত, তনয়, নন্দন।
উৎসঃ পৃষ্ঠা নং ১৮৭, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
পুত্র এর সমার্থক শব্দ আত্মজ, দুলাল, নন্দন, তনয়, ছেলে, পোলা, বেটা।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
অন্যদিকে, শৈলজ - শব্দের অর্থ পর্বতজাত; পর্বতীয়।

১৫,৩০৯.
'বক্তব্য'- এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √বক্‌ + অব্য
  2. √বক্‌ +তব্য
  3. √বচ্‌ + তব্য
  4. √বচ্‌ +অব্য
ব্যাখ্যা
'বক্তব্য'- এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় - √ বচ্‌ + তব্য।
এখানে,
- '√ বচ' সংস্কৃত ক্রিয়াপ্রকৃতি এবং 'তব্য' সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি।

- ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
- যেমন- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়)= চলন (বিশেষ্য পদ)।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৫,৩১০.
কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করুন। “ঘোড়াকে চাবুক মার”
  1. ক) কর্তৃকারকে ৩ য়
  2. খ) কর্তৃকারকে শূন্য
  3. গ) করণে শুন্য
  4. ঘ) করণে ৩য়া
ব্যাখ্যা
ঘোড়াকে চাবুক মার - করণে শুন্য। ঘোড়ায় গাড়ি টানে - কর্তায় সপ্তমী। ঘোড়ায় চরিয়া মর্দ হাতিয়া চলিল - অধিকরণে সপ্তমী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩১১.
'You may go farther and fare worse' - এর সঠিক বঙ্গানুবাদ কোনটি?
  1. নিজের সঙ্কট নিজে ডেকে আনা।
  2. খুব তাড়াহুড়ার ফল ভালো হয় না।
  3. অন্যের ভুলে নিজে বিপদে পড়া।
  4. নিজের বর্তমান অবস্থায় সন্তুষ্ট থাকা উচিত।
  5. কোনটিই নয়।
ব্যাখ্যা
You may go farther and fare worse - নিজের বর্তমান অবস্থায় সন্তুষ্ট থাকা উচিত।

উৎসঃ  বাংলা একাডেমী অভিধান।
১৫,৩১২.
'শিরে-সংক্রান্তি' অর্থ কী?
  1. মাথার বোঝা
  2. মহাবিপদ
  3. আসন্ন বিপদ
  4. সামান্য বিপদ 
ব্যাখ্যা

• 'শিরে সংক্রান্তি' বাগ্‌ধারার অর্থ - আসন্ন বিপদ।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- 'অকাল কুষ্মাণ্ড' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অপদার্থ।
- 'অক্ষরে অক্ষরে' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - সম্পূর্নভাবে।
- 'আঠারো মাসে বছর' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - দীর্ঘসূত্রিতা।
- 'আকাশের চাঁদ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - দুর্লভ বস্তু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৩১৩.
‘অনুসর্গ’ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. বাক্যতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• শব্দ ও পদনির্মাণের বিভিন্ন দিক ব্যাকরণের রূপতত্ত্ব অংশে আলোচিত হয়। সুতরাং ‘অনুসর্গ’ ব্যাকরণের রূপতত্ত্ব অংশের আলোচ্য বিষয়।

বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে ৪ টি ভাগে ভাগ করা হয়:
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব,
- বাক্যতত্ত্ব,
- অর্থতত্ত্ব।

• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। শব্দ ও পদনির্মাণের বিভিন্ন দিক ব্যাকরণের এই অংশে আলোচিত হয়।
যেমন- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যের নির্মাণ ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• অর্থতত্ত্ব:
ব্যকরণের এই অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বাগর্থও বলে। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫,৩১৪.
'জেলা' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি 
  2. আরবি 
  3. হিন্দি 
  4. তৎসম 
ব্যাখ্যা
• 'জেলা'
- শব্দটি আরবি ভাষা হতে আগত।
- বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- জেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মচারী, কারাধ্যক্ষ।

কিছু আরবি শব্দ:
- আদাব,
- খবর,
- খাজনা,
- খালাস,
- জলসা,
- দালাল,
- আদালত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,৩১৫.
'সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।' বাক্যটিতে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. উপমার অপপ্রয়োগ
  2. বানানের অপপ্রয়োগ
  3. বিশেষ্যের অপপ্রয়োগ
  4. বহুবচনের অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা

বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
বহু বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে এক বার বহুবচনে প্রশান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
যেমন:
অশুদ্ধ- ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ- ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।

অশুদ্ধ- সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ- সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

অশুদ্ধ- অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
শুদ্ধ- অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.  হায়াৎ মামুদ। 

১৫,৩১৬.
'গণক' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ কী?
  1. গণিকা
  2. গণকা
  3. গণকী
  4. গণকিণী
ব্যাখ্যা

• 'গণক' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ গণকী।

• ঈ-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- সাধারণ অর্থে:
- নিশাচর-নিশাচরী, ভয়ংকর-ভয়ংকরী, রজক-রজকী, কিশোর-কিশোরী, সুন্দর-সুন্দরী, চতুর্দশ-চতুর্দশী, ষোড়শ-ষোড়শী ইত্যাদি।

- জাতি বা শ্রেণিবাচক:
- সিংহ-সিংহী, ব্রাহ্মণ-ব্রাহ্মণী, মানব-মানবী, বৈষ্ণব-বৈষ্ণবী, কুমার-কুমারী, ময়ূর-ময়ূরী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৫,৩১৭.
জটিল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তরের ক্ষেত্রে কোন পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হয়?
  1. যোজক 
  2. সর্বনাম
  3. যতিচিহ্ন 
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
সূত্র ক : আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে।
সূত্র খ: জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
সূত্র গ: সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।

যেমন:
• জটিল বাক্য: যেহেতু সে নিরপরাধ, সেহেতু সে মুক্তি পাবে। 
• যৌগিক বাক্য: সে নিরপরাধ, অতএব সে মুক্তি পাবে। 

• জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে ।

• জটিল: যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
• যৌগিক: সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।

• জটিল: যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।

• জটিল: যদিও তিনি দরিদ্র তথাপি সৎ।
• যৌগিক: তিনি দরিদ্র, কিন্তু সৎ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫,৩১৮.
'পর্বত' এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. কুমুদ
  2. অদ্রি
  3. প্রস্তর
  4. উপল
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'পর্বত' এর সমার্থক শব্দ — 'অদ্রি'।

• 'পর্বত' শব্দের সমার্থক শব্দ: 
- অচল,
- গিরি,
- পাহাড়,
- অদ্রি,
- ভূধর,
- শৈল,
- নগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'পদ্ম' এর সমার্থক শব্দ - 'কুমুদ'।
• 'পাথর' এর সমার্থক শব্দ - 'প্রস্তর', 'উপল'।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩১৯.
নিচের কোনটি গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ? 
  1. গুরুত্ব
  2. ভোজন
  3. পঠন
  4. শয়ন
ব্যাখ্যা

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-----------------
• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১৫,৩২০.
নিচের কোন বাক্যটিতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?  
  1. এই বিষয় প্রমাণ হয়েছে। 
  2. সবিনয় পূর্বক নিবেদন করি।
  3. তোমার সাথে আমার একটি গোপন পরামর্শ আছে।
  4. এই মর্মে প্রত্যায়ন করা যাচ্ছে।
ব্যাখ্যা

এই মর্মে প্রত্যায়ন করা যাচ্ছে- বাক্যটিতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে। 

শুদ্ধ প্রয়োগ:
- ‘প্রত্যায়ন’ শব্দের অর্থ হলো বিশ্বাস বা প্রত্যয় সৃষ্টি করা।
- ‘প্রত্যয়ন’ শব্দের অর্থ হলো প্রত্যয়করণ বা প্রত্যয়িত করা।
- তাই, “এই মর্মে প্রত্যায়ন করা যাচ্ছে” বাক্যটি সঠিক।
- কারণ এর মানে হচ্ছে- কোনো বিষয় সম্পর্কে বিশ্বাস বা প্রত্যয় উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।
- অপরদিকে, “এই মর্মে প্রত্যয়ন করা যাচ্ছে” বাক্যে ‘করা’ শব্দটি দ্বিগুণ ব্যবহার হয়েছে, যা ব্যাকরণগতভাবে অনুচিত।
- অতএব, সঠিক ও উপযুক্ত রূপ হলো “এই মর্মে প্রত্যায়ন করা যাচ্ছে”।

অন্যদিকে,
• “তোমার সাথে আমার একটি গোপন পরামর্শ আছে” বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে ভুল।
- কারণ ‘গোপন’ একটি বিশেষণ, যা সরাসরি ‘পরামর্শ’ বিশেষ্যটির সঙ্গে ব্যবহার করলে অপপ্রয়োগ ঘটে।
- সঠিক রূপ হলো- “তোমার সাথে আমার একটি গোপনীয় পরামর্শ আছে”।
- এখানে বিশেষ্য 'পরামর্শ'-এর সঙ্গে বিশেষণীয় রূপ 'গোপনীয়' ব্যবহার করা হয়েছে । 

• “সবিনয় পূর্বক নিবেদন করি” বাক্যটিও ভুল।
- কারণ ‘সবিনয়’ এবং ‘পূর্বক’ এক অর্থ বহন করে।
- দুটো একসাথে ব্যবহার করলে বাহুল্য দোষ হয়।
- সঠিক রূপ হবে- “বিনয়পূর্বক নিবেদন করি”। 

• “এই বিষয় প্রমাণ হয়েছে” বাক্যটি ভুল।
- কারণ ‘প্রমাণ’ একটি বিশেষ্য, কিন্তু এখানে ‘প্রমাণ হওয়া’ বলে ক্রিয়ার অর্থ বোঝানো হয়েছে।
- এটি বাক্যের গঠন ও পদবিন্যাসের ভুল।
- শুদ্ধ রূপ হলো- “এই বিষয় প্রমাণিত হয়েছে”।
- এখানে ‘প্রমাণিত’ একটি বিশেষণ বা কৃদন্ত পদ হিসেবে ‘এই বিষয়’-কে বিশেষায়িত করছে। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ। 

১৫,৩২১.
‘গঙ্গোর্মি’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. ক) গঙ্গা + উর্মি
  2. খ) গঙ্গা + ঊর্মি
  3. গ) গঙ্গা + ওর্মি
  4. ঘ) গঙ্গোর + আমি
ব্যাখ্যা
অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়। সুতরাং, আ + ঊ = ও ; গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৫,৩২২.
"ও দাদা দাদা বলে ডাকছে।" বাক্যটিতে কোন অর্থে পদের দ্বিরুক্তি ঘটেছে?
  1. ক) ধারাবাহিকতা বােঝাতে
  2. খ) আগ্রহ বােঝাতে
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) পৌনঃপুনিকতা বােঝাতে
ব্যাখ্যা
পদের দ্বিরুক্তি :
বাক্যস্থিত বিভিন্ন পদ কখনও কখনও দুইবার ব্যবহৃত হয়ে অর্থের পরিবর্ধন ঘটিয়ে থাকে।
- পদের দ্বিরুক্তির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলাে এতে বিভক্তি চিহ্ন থাকে এবং ওই বিভক্তি চিহ্নেরও দ্বিরুক্তি ঘটে।
- এক্ষেত্রে, একই পদ অভিন্নভাবে পরপর দুইবার ব্যবহৃত হতে পারে। 
- দুটি পদ সম্পূর্ণ এক না থেকে কখনও দ্বিতীয় পদে সামান্য পরিবর্তন ঘটেও ব্যবহৃত হতে পারে, যদিও সেক্ষেত্রে বিভক্তি চিহ্ন অবশ্যই অপরিবর্তিত থাকবে।
- এছাড়া, ধ্বনিগত সাদৃশ্যপূর্ণ শব্দ কিংবা সমার্থক বা বিপরীতার্থক শব্দে একই বিভক্তি যুক্ত হয়ে এবং পরপর ব্যবহৃত হয়ে পদের দ্বিরুক্তি ঘটতে পারে। 

পদগত দ্বিরুক্তির কিছু উদাহরণ নিম্নরূপ :
⇒ আধিক্য বােঝাতে: রাশি রাশি ধন, ধামা ধামা ধান, ভাল ভাল আম, ছােট ছােট ডাল। 
⇒ সামান্য বােঝাতে : আমার জ্বর জ্বর লাগছে, কবি কবি ভাব, উড়ু উড়ু ভাব।  
⇒ পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বােঝাতে: তুমি দিন দিন রােগা হয়ে যাচ্ছ। 
⇒ ক্রিয়া বিশেষণ: ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে চায়।
⇒ অনুরূপ কিছু বােঝাতে: তার সঙ্গী সাথি কেউ নেই।
⇒ আগ্রহ বােঝাতে: ও দাদা দাদা বলে ডাকছে।
⇒ তীব্রতা বােঝাতে: গরম গরম জিলাপি। নরম নরম হাত।
⇒ সর্বনামের বহুবচন বােঝাতে: সে সে লােক কোথায় গেল? কে কে এল? কেউ কেউ বলে।
⇒ ক্রিয়ার বিশেষণাত্মক ব্যবহার: রােগীর তাে যায় যায় অবস্থা। তােমার নেই নেই ভাব আর গেল না। 
⇒ স্বল্পকাল স্থায়ী বােঝাতে: দেখতে দেখতে আকাশ কালাে হয়ে এল।
⇒ ক্রিয়া বিশেষণ: দেখে দেখে যাও। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে?
⇒ পৌনঃপুনিকতা বােঝাতে: ডেকে ডেকে হয়রান হয়ে গেছি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫,৩২৩.
'ন্ধ' যুক্তবর্ণটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. ন + দ
  2. ন্‌ + ব
  3. ণ্‌ + ধ
  4. ন্‌ + ধ
ব্যাখ্যা
• 'ন্ধ' যুক্তবর্ণটি গঠিত হয়েছে- ন্‌ + ধ।

যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ণ্ + ড = ণ্ড,
- ত + র = ত্র,
- শ্‌ + ঊ = শু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৫,৩২৪.
নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়?
  1. ক) সতীন
  2. খ) এয়ো
  3. গ) কুমারী
  4. ঘ) সধবা
ব্যাখ্যা
কুমারী- নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়। 

• ঈ-প্রত্যয় যোগে বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দ: 
- কুমার- কুমারী
- মানব- মানবী

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে।
যেমন- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি। 

নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে।
যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি। 
১৫,৩২৫.
বাগ্‌ধারা নির্ণয় করুন: 'জবরজং'
  1. এলোমেলো
  2. নষ্ট করা
  3. অবিরাম কলহ
  4. লম্বা জায়গা নেওয়া
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'জবরজং' বাগ্‌ধারার অর্থ - এলোমেলো

অন্যদিকে,
ছাগল টাঙানো - লম্বা জায়গা নেওয়া।
ছুঁচোর কেত্তন - অবিরাম কলহ।
ছিনিমিনি খেলা - নষ্ট করা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৫,৩২৬.
সমাস সাধিত শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. নিরহঙ্কারী
  2. অর্ধরাত্রি
  3. নীরোগী
  4. পিতৃহারা
ব্যাখ্যা
• 'পিতৃহারা' - শব্দটিতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,৩২৭.
কোনটি জটিল বাক্য নয়?
  1. যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
  2. যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
  3. তাদের যে দৃষ্টি তাতে সামান্য বিস্ময়ের ভাব।
  4. তার ভাই ঋণ করেছিল, আর সে তা পরিশোধ করেছে।
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- তাদের যে দৃষ্টি তাতে সামান্য বিস্ময়ের ভাব।

অন্যদিকে,

যৌগিক বাক্য:
- তার ভাই ঋণ করেছিল, আর সে তা পরিশোধ করেছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫,৩২৮.
'কর্দম' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) কাদা+ম
  2. খ) √কর্দ্‌+অম
  3. গ) কাদা+অম
  4. ঘ) √কর্দ্‌+ম
ব্যাখ্যা
কর্দম (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = √কর্দ্‌+অম
অর্থ: 
- কাঁদা, পাঁক
- পাপ, কলুষ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৫,৩২৯.
'অহি-নকুল' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব:
অর্থের দিক থেকে যে দ্বন্দ্ব পরস্পরের মধ্যে বিরোধ তৈরি করে তাকে বলা হয় বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব।
যেমন-
• অহি ও নকুল = অহি-নকুল,
• ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ,
• সাদা ও কালো= সাদাকালো,
• দা ও কুমড়া = দা-কুমড়া,
• স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক,
•দেব ও দানব = দেবদানব,
• ধনী ও গরিব = ধনীগরিব ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫,৩৩০.
নিচের কোন শব্দটি ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. উরগ
  2. পন্নগ
  3. দ্বিরদ
  4. ভুজগ
ব্যাখ্যা
• ‘সাপ' এর অন্যান্য সমার্থক শব্দ: 
সৰ্প, অহি, ফণী, নাগ, ভুজগ, ভুজঙ্গ, আশীবিষ, উরগ, বিষধর, পন্নগ

- 'হাতি' এর সমার্থক শব্দ:
গজ, দ্বিপ, দ্বিরদ, ঐরাবত হস্তী, করী, দন্তী, দন্তাবল, দ্রুমারি, গজ ইত্যাদি।

- দ্বিরদ ছাড়া বাকি তিনটিই সাপ এর সমার্থক শব্দ, তাই এটি বাকি তিনটি থেকে ভিন্ন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
১৫,৩৩১.
তারিখ পূরণবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. পয়লা
  2. দ্বিতীয়া
  3. চৌঠা
  4. আটই
ব্যাখ্যা
• তারিখ পূরণবাচক শব্দ নয়- দ্বিতীয়া।
- ‘দ্বিতীয়া’ সাধারণ পূরণবাচক শব্দ।

------------------------
• পূরণবাচক:

পূরণবাচক সংখ্যা দিয়ে যেকোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।

পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ ৩ প্রকার। যথা:
• সাধারণ পূরণবাচক,
• তারিখ পূরণবাচক,
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থান নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি। এদের সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায় যেমন- ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।
- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ(১১শ) ও এগারোতম(১১তম), দ্বাদশ(১২ শ) ও বারোতম(১২তম) ইত্যাদি।
- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক শব্দে শুধু তম প্রত্যয় যোগ করা হয়।
- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচক শব্দে নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন - প্রথমা(১মা), দ্বিতীয়া(২য়া), তৃতীয়া(৩য়া), চতুর্থী, একাদশী(১১শী), দ্বাদশী(১২শী), ত্রয়োদশী(১৩শী) ইত্যাদি।

• তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন: আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫,৩৩২.
'কানে তোলা' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. প্রশ্রয় দেওয়া
  2. ভুল বুঝানো
  3. ভুল তথ্য দেওয়া
  4. গুরুত্ব দেওয়া
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'কানে তোলা' বাগ্‌ধারার অর্থ 'গুরুত্ব দেওয়া'।
 
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- কেঁচেগণ্ডুষ = নতুন করে আরম্ভ করা। 
- কূপমণ্ডুক = সীমাবদ্ধ জ্ঞান। 
- কলির সন্ধ্যা = মাত্র সূচনা। 
- বিসমিল্লায় গলদ = গোড়ায় ভুল। 
- কাঁঠালের আমসত্ব = অসম্ভব বস্তু। 
- ব্যাঙের সর্দি = অসম্ভব বস্তু। 
- ধোপ-দোরস্ত = বাবুয়ানি। 
- জবরজং = জমকালো কিন্তু বেমানান। 
- পায়া ভারী = অহঙ্কার। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,৩৩৩.
নিচের কোনটি কৃৎ প্রত্যয়?
  1. ক) মাঝি
  2. খ) পঙ্কিল
  3. গ) দুল
  4. ঘ) নীলিমা
ব্যাখ্যা
কৃৎ প্রত্যয়:
যে-প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে। আর কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। (অর্থাৎ যার অন্তে বা শেষে কৃৎ প্রত্যয় আছে) ।
যেমন: পডু + আ = পড়া। এখানে পড়া’ শব্দটি কৃদন্ত শব্দ। কৃৎ প্রত্যয়ে ধাতুর আগে ক্রিয়ামূল বা ধাতুমূল চিহ্ন √ বসে।

মনে রাখতে হবে: 
কৃৎ প্রত্যয়ে প্রদত্ত শব্দ দ্বারা কাজ বোঝাবে। কারণ কৃৎ প্রত্যয়ের শব্দটি গঠিত হয় ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যোগে, আর ধাতু হলো ক্রিয়ার মূল। ‘ক্রিয়া’ দ্বারা কোন কাজ করাকে বোঝায়। যেমন: ‘করা’, চলা, দিয়ে।

কৃৎ প্রত্যয়:
• √ডাক+অ = ডাক
• √ডাক্+আইত = ডাকাইত>ডাকাত
√দুল্+অ = দুল
• √ফির্+অত = ফিরত>ফেরত

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,৩৩৪.
'পাহাড়' শব্দের সমার্থক শব্দ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় নিচের কোনটি?
  1. মহীধর
  2. অটবি
  3. গিরি
  4. শৈল
ব্যাখ্যা
• অটবি- 'পাহাড়' শব্দের সমার্থক শব্দ নয়।
- এটি ‘বৃক্ষ’ শব্দের সমার্থক শব্দ। 
-------------------- 
• 'পাহাড়' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অচল,
- অদ্রি,
- মহীধর,
- গিরি,
- পাহাড়,
- ভূধর,
- শৈল,
- নগ ইত্যাদি।
----------- 
অন্যদিকে, 
• ‘বৃক্ষ’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
গাছ, তরু, দ্রুম, শাখী, পাদপ, মহীরুহ, উদ্ভিদ্, অটবি, বিটপী, পর্ণী, গাছপালা, পল্লবী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৫,৩৩৫.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. অগ্রাধিকার
  2. জ্যোতির্বিদ্যা
  3. আগুন্তুক
  4. আগ্নেয়গিরি
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানান: আগুন্তুক।

শুদ্ধ বানান: আগন্তুক (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- অতিথি,
- অপরিচিত ব্যক্তি,
- নবাগত ব্যক্তি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,৩৩৬.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. চূর্ণবিচুর্ণ
  2. চূর্নবিচূর্ণ
  3. চুর্নবিচুর্ণ
  4. চূর্ণবিচূর্ণ
ব্যাখ্যা

- শুদ্ধ বানান - চূর্ণবিচূর্ণ
- এটি একটি বিশেষণ পদ।

শব্দের অর্থ:
- সম্পূর্ণ চূর্ণিত,
- সম্পূর্ণ বিনষ্ট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৫,৩৩৭.
"স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।" - কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
  4. অনুজ্ঞা বর্তমান
ব্যাখ্যা

• অনুজ্ঞা:
আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয়, তাকে অনুজ্ঞা বলে। যেমন:

বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
• তোমরা কাজ করো।
• রোহান লিখুক।
• মিথ্যা কথা বলো না।
• অঙ্কটা বুঝিয়ে দেবেন?
• আমাকে তুমি রক্ষা করো, প্রভু।
• আদেশ করুন জাহাপনা।

ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
• সব সময় সত্যি বলবে।
• বড় হও, বুঝতে পারবে।
• অসুস্থ হলে ওষুধ খাবে।
• স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫,৩৩৮.
কোনটি আদি স্বরাগম?
  1. ক) রত্ন>রতন
  2. খ) স্ত্রী>ইস্ত্রী
  3. গ) গ্রাম>গেরাম
  4. ঘ) স্নেহ>সিনেহ
ব্যাখ্যা

উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে আদি স্বরাগম বলে।
যেমন- স্কুল > ইস্কুল, স্টেশন ˃ ইস্টিশন, স্পর্ধা ˃ আস্পর্ধা।
স্ত্রী ˃ ইস্ত্রী ও আদি স্বরাগমের উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণী।

১৫,৩৩৯.
কোন বাগ্‌ধারাটি ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. বকধার্মিক
  2. বর্ণচোর
  3. ভুঁইফোড়ঁ
  4. তুলসী বনের বাঘ
  5. বিড়াল তপস্বী
ব্যাখ্যা
• 'ভুঁইফোঁড়' বাগধারাটির অর্থ- 'নতুন আগমন'/ অর্বাচীন'। 
বাক্য গঠন: ভুঁইফোঁড় সাংবাদিকদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে।  

অন্যদিকে,
• 'বক ধার্মিক', 'বিড়াল তপস্বী', 'বর্ণচোরা', 'তুলসী বনের বাঘ' বাগ্‌ধারার অর্থ - ভণ্ড।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,৩৪০.
'ঞ্চ' এর বিশ্লিষ্ট রূপ -
  1. ক) ঞ্ + ছ
  2. খ) ঞ্ + জ
  3. গ) ঞ্ + চ
  4. ঘ) জ্ + ঞ
ব্যাখ্যা
হ্ম = হ্ + ম ( ব্রাহ্মণ, ব্রহ্ম);
জ্ঞ = জ্ + ঞ (জ্ঞান, বিজ্ঞান);
ঞ্জ = ঞ্ + জ (রঞ্জন, শ্রদ্ধাঞ্জলি);
ঞ্ছ = ঞ্ + ছ ( বাঞ্ছিত, বাঞ্ছা);
ঞ্চ = ঞ্ + চ ( সঞ্চয়, পঞ্চম);
ক্ষ = ক্ + ষ (শিক্ষক, ক্ষমা)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী।
১৫,৩৪১.
জানালা > জান্‌লা কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. বিষমীভবন
  2. সমীভবন
  3. ধ্বনি বিপর্যয়
  4. সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন বসতি > বস্তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

ক. আদিস্বরলোপ (Aphesis): যেমন- অলাবু >লাবু >লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।
খ. মধ্যস্বর লোপ (Syncope): সুবর্ণ > স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা >আশ, আজি >আজ, চারি >চার (বাংলা), সন্ধ্যা >সঞঝা > সাঁঝ। (স্বরলোপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৫,৩৪২.
'যৌবন' কোন পদের উদাহরণ?
  1. গুণবাচক বিশেষণ
  2. অব্যয়
  3. গুণবাচক বিশেষ্য
  4. ভাববাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
গুণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে।
- গরম পানি।
- চৌকস লোক।
[ এখানে 'চালাক', 'গরম' ও চৌকস হলো গুণবাচক বিশেষণ।]

ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা-
- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,৩৪৩.
যৌগিক বাক্য সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নির্ভরশীল
  2. সব খণ্ডবাক্য একত্রে একটি মাত্র ভাব প্রকাশ করে
  3. প্রতিটি খণ্ডবাক্য আলাদাভাবে সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করতে পারে
  4. একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য (compound sentence):
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা জটিল বাক্য সংযোজক, সংকোচক, বিয়োজক, ব্যতিরেকাত্মক প্রভৃতি যোজক শব্দ দ্বারা যুক্ত হয়ে যখন একটিমাত্র বাক্য গঠন করে তখন তাকে 'যৌগিক বাক্য' বলে।
যেমন:
- তুমি আস, তবে আমি যাব।(সংযোজক)
- তারা দুজনে আড়ি পেতে ছিল, নইলে চোর ধরা পড়ত না।(ব্যতিরেকাত্মক)
- তার আভাস পেতাম, কিন্তু নাগাল পেতাম না।

• স্মরণ রাখতে হবে-
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, একে অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
-  খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন অব্যয়যোগে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫,৩৪৪.
কোন শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত?
  1. বাড়ি
  2. ডিম
  3. হাত
  4. রাত্রি
ব্যাখ্যা

'রাত্রি' শব্দটি 'সংস্কৃত' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- সূর্যাস্ত থেকে পরবর্তী সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়, রাত, রজনি।

অন্যদিকে,
তদ্ভব শব্দ - হাত, ডিম।
দেশি শব্দ - বাড়ি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৫,৩৪৫.
'নাবিক' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নবৌ +ইক
  2. নৌ + ইক
  3. নৈ + অক
  4. না + বিক
ব্যাখ্যা
• 'নাবিক'-এর সন্ধি-বিচ্ছেদ- 'নৌ + ইক'।     

• 'নাবিক'-এর সন্ধি-বিচ্ছেদ এর নিয়ম: 
এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব ও আব হয়।
যেমন-
গৈ + অক = গায়ক,
নে + অন = নয়ন,
নৈ + অক = নায়ক,
পো + অন = পবন,
গো + এষণা = গবেষণা,
নৌ + ইক = নাবিক,
পো + ইত্র = পবিত্র,
গো + আদি = গবাদি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,৩৪৬.
'সুন্দর ফুল'- এখানে 'সুন্দর' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুন, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে। 
যেমন:
- সুন্দর ফুল। 
- সাদা বাড়ি।
- সুন্দর বাগান।
- চটপটে ছেলে।

[এখানে সাদা, সুন্দর ও চটপটে বিশেষণ পদ।]

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
১৫,৩৪৭.
'প্রাণদ' শব্দের সমার্থক শব্দ-
  1. ক) মেঘ
  2. খ) পানি
  3. গ) নদী
  4. ঘ) অনল
ব্যাখ্যা
'প্রাণদ' শব্দের সমার্থক শব্দ- 'পানি'।

'পানি' শব্দের অন্যান্য সমার্থক শব্দ- জল, নীর, সলিল, পানি, প্রাণদ, তোয়, অম্বু, জীবন ইত্যাদি।
 
অন্য অপশনে,
• 'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ: হলো বারিদ, জীমূত, জলধর, জলদ, পয়োধর, তোয়দ, পয়োদ, নীরদ ইত্যাদি।
• 'আগুন' শব্দের সমার্থক শব্দ: অনল, বহ্নি, হুতাশন, পাবক, বৈশ্বানর, দহন, সর্বভুক, অগ্নি ইত্যাদি।
• 'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ: শৈবলিনী, তরঙ্গিনী, সরিৎ, স্রোতস্বিনী, তটিনী, প্রবাহিনী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মাহমুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩৪৮.
"প্রত্যয়, সমাস বা উপসর্গ" দিয়ে সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. জয়
  2. পরিচালক
  3. পরাগ
  4. বাঘা
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ:
মৌলিক শব্দে প্রত্যয়, বিভক্তি বা উপসর্গ যুক্ত থাকে না। এ শব্দ বিশ্লেষণে কোন অর্থপূর্ণ অংশ থাকে না।  
উদাহরণ- গোলাপ, হাত, পুষ্প, পরাগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সাধিত শব্দ:
‘ফিসফিস’ সাধিত শব্দ। মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে প্রত্যয়, উপসর্গ যোগে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি।
এখানে,
• পরিচালক; উপসর্গ সাধিত শব্দ। ‘পরিচালক’ শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।
• √ জি + অল = জয়; বাঘ + আ = বাঘা; প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম -দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১৫,৩৪৯.
নিচের কোনটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. ক) আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
  2. খ) কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  3. গ) এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।
  4. ঘ) মন দিয়ে পড়ালেখা কর।
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।
-অনুসর্গকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- সাধারণ অনুসর্গ ও ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। 

• সাধারণ অনুসর্গ: 
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে। 
- যেমন: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে? 
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। 
- যেমন: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি;
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি,
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২২)।
১৫,৩৫০.
বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. খ্যাত
  2. গ্রাহী
  3. জিত
  4. দ্রোহী
ব্যাখ্যা
বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়:
• অ-প্রত্যয়:
কেবল ভাববাচ্যে অ-প্রত্যয় যুক্ত হয়।
যেমন:
- √ধর্ + অ = ধর,
- √মার + অ = মার।

আধুনিক বাংলায় অ-প্রত্যয় সর্বত্র উচ্চারিত হয় না।
যেমন:
- √হার্ + অ = হার,
- √জিত্ + অ = জিত।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ:
• ক্ত-প্রত্যয়:
- √খ্যা + ক্ত (খ্যা + ত) = খ্যাত। 
- √গম্ + ক্ত (গম্ + ত) = গত। 
- √জ্ঞা + ক্ত (জ্ঞা + ত) = জ্ঞাত।

• ণিন-প্রত্যয়:
(ণ ইৎ, ইন্ থাকে, ইন্ 'ঈ'-কার হয়):
- √গ্রহ + ণিন = গ্রাহী,
- √পা + ণিন = পায়ী।

এরূপ-কারী, দ্রোহী, সত্যবাদী, ভাবী, স্থায়ী, গামী। কিন্তু 'ণিন' যুক্ত হলে 'হন' ধাতুর স্থলে 'ঘাত' হয়। যথা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৫,৩৫১.
মহাপ্রাণ অঘোষধ্বনি কোনটি?
ব্যাখ্যা

- ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা: ঘােষ ও অঘোষ।

ঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি।
যথা:
ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি,
যথা:
প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ, হ।


- ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথাঃ অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনঃ
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনঃ
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন – ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

সোর্স: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
১৫,৩৫২.
'দেবর্ষি' - শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দে + অর্ষি
  2. দে + ঋষি
  3. দেব + ঋষি
  4. দে + আর্ষি
ব্যাখ্যা

• সন্ধি বিচ্ছেদ:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ঋ-কার থাকলে উভয়ে মিলে 'অর' হয় এবং তা রেফ রূপে পরবর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন-
দেব + ঋষি = দেবর্ষি,
রাজা + ঋষি = রাজর্ষি,
মহা + ঋষি = মহর্ষি,
উত্তম + ঋণ = উত্তমর্ণ,
অধম + ঋণ = অধমর্ণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫,৩৫৩.
কোনটি পুরাঘটিত বর্তমান কাল?
  1. ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।
  2. ছন্দা গান গাইছে।
  3. রাফিন ও রিজন বল খেলছে।
  4. তৃণা স্কুলে যায়।
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।

যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে

অন্যদিকে,
সাধারণ বর্তমান কাল - তৃণা স্কুলে যায়।
ঘটমান বর্তমান কাল - ছন্দা গান গাইছে। রাফিন ও রিজন বল খেলছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,৩৫৪.
'ছাদ থেকে নদী দেখা যায়।' - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণ কারক, তৃতীয়া বিভক্তি
  2. অধিকরণ কারক, সপ্তমী বিভক্তি
  3. অপাদান কারক, পঞ্চমী বিভক্তি
  4. অধিকরণ কারক, পঞ্চমী বিভক্তি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে স্থানে, যে কালে বা যে বিষয়ে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে ক্রিয়ার আধার বলে। ক্রিয়ার আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 

প্রথমা বিভক্তি: আমি আগামীকাল বাড়ি যাব।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: মন আমার নাচেরে আজিকে
তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান দিয়ে ঔষধটা খেয়ে নিও।
পঞ্চমী বিভক্তি: ছাদ থেকে নদী দেখা যায়।
সপ্তমী বিভক্তি: বনে বাঘ থাকে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৫,৩৫৫.
পদক্রম অনুসারে সমন্ধ পদ বাক্যে কোথায় বসে?
  1. বিশেষণের পূর্বে
  2. অব্যয়ের পরে
  3. বিশেষ্যের পূর্বে
  4. ক্রিয়ার পরে
ব্যাখ্যা

- বাক্যে পদ সংস্থাপনার ক্রম অনুসারে, সম্বন্ধ পদ বিশেষ্যের পূর্বে বসে।
যেমন - ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছে।
- তবে কবিতায় ইত্যাদিতে ছন্দের প্রয়োজনে পরেও বসতে পারে।
যেমন - হে আদি জননী সিন্ধু, বসুন্ধরা সন্তান তোমার।

- বিধেয় বিশেষণ সর্বদাই বাক্যের বিশেষ্যের পরে বসে।
যেমন - লোকটি যে জ্ঞানী তাতে সন্দেহ নেই। 

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই।

১৫,৩৫৬.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. বিবিধপ্রকার
  2. যদ্যপি
  3. স্বাস্থ্য
  4. প্রয়োজন
ব্যাখ্যা
• সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি - বিবিধপ্রকার
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - বিবিধ।

অন্যদিকে,
- প্রয়োজন,
- স্বাস্থ্য,
- যদ্যপি।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,৩৫৭.
বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম বাংলা ব্যাকরণের রচয়িতা কে?
  1. ক) মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ
  2. খ) নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  3. গ) উইলিয়াম কেরি
  4. ঘ) রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
• ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রামমোহন রায়ের ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
-  মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়। তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন।
- ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ। বইটির নাম ‘এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এবং ১৮২৬ সালে রামমোহন রায় ইংরেজি ভাষায় আরো দুটি উল্লেখযোগ্য বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫,৩৫৮.
'ত্যাগ' এর ধাতু অংশ হলো-
  1. √ত্যয্‌
  2. √ত্যজ্
  3. √ত্যগ্‌
  4. √ত্যঞ্‌
ব্যাখ্যা
• ঘঞ-প্রত্যয় [(কৃদন্ত বিশেষ্য গঠনে), ঘৃ এবং ঞ ইৎ, 'অ' থাকে]:
- √বস্ + ঘঞ্‌ = বাস,
- √যুজ্ + ঘঞ্‌ = যোগ,
- √ক্রুধ্‌ + ঘঞ্‌ = ক্রোধ,
- √খুদ্‌ + ঘঞ্‌ = খেদ,
- √ভিদ্‌ + ঘঞ্‌ = ভেদ।

বিশেষ নিয়ম: √ত্যজ্ + ঘঞ্‌ = ত্যাগ, √পচ্ + ঘঞ্‌ = পাক, শুচ্ + ঘঞ্‌ = শোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৫,৩৫৯.
'পিতৃধন' শব্দটি কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. তৎপুরুষ
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।
যেমন:
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ,
- রাজার পুত্র রাজপুত্র,
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
১৫,৩৬০.
'শড়া' শব্দের বিপরীত শব্দ কী?
  1. বিপ্রকৃষ্ট
  2. নিশ্চয়
  3. টাটকা
  4. নিরক্ষর
ব্যাখ্যা
• 'শড়া' এর বিপরীত শব্দ - 'টাটকা'।
এখানে,
'শড়া' শব্দের অর্থ - পচা।

অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'সন্নিকৃষ্ট' এর বিপরীত শব্দ - বিপ্রকৃষ্ট।
- 'সংশয়' এর বিপরীত শব্দ - নিশ্চয়।
- 'সাক্ষর' এর বিপরীত শব্দ - নিরক্ষর।

• আরো কিছু বিপরীত শব্দ:
- 'দাতা' এর বিপরীত শব্দ - গ্রহীতা।
- 'ক্ষয়িষ্ণু' এর বিপরীত শব্দ - বর্ধিষ্ণু।
- 'মুক্ত' এর বিপরীত শব্দ - আবদ্ধ।
- 'আকস্মিক' এর বিপরীত শব্দ - চিরন্তন।
- 'ইদানীন্তন' এর বিপরীত শব্দ - তদানীন্তন।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,৩৬১.
'ম্যালেরিয়া' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ইতালিয়ান
  2. ইংরেজি
  3. পর্তুগিজ
  4. ফরাসি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'ম্যালেরিয়া' ইতালিয়ান শব্দ।
• 'ম্যালেরিয়া' অর্থ:
মানবদেহে অ্যানোফিলিস মশাবাহিত জীবাণু সংক্রমণের ফলে পালা করে আসে এমন জ্বর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১৫,৩৬২.
‘হ্ন’ কে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যাবে -
  1. ক) হ + ন
  2. খ) হ + ণ
  3. গ) ন + হ
  4. ঘ) ণ + হ
ব্যাখ্যা

হ + ন = হ্ন
হ + ণ = হ্ণ
হ + ঋ = হৃ
‘ন + হ’ এবং ‘ণ + হ’ এর যুক্ত বর্ণ হয় না।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

১৫,৩৬৩.
কী ভেদে বাংলায় ক্রিয়ার রূপের কোনো পরিবর্তন হয় না?
  1. ক) বচনভেদে
  2. খ) পুরুষভেদে
  3. গ) অর্থভেদে
  4. ঘ) প্রয়োগভেদে
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াপদ: ক্রিয়ামূল অর্থাৎ ধাতুর সঙ্গে কাল সময় ও পুরুষ জ্ঞাপক (ক্রিয়া) বিভক্তিযোগে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
ক. পুরুষভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য দেখা যায়। যেমন: আমি যাই। তুমি যাও। আপনি যান। সে যায়। তিনি যান। (সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে নাম পুরুষ ও মধ্যম পুরুষের রূপ অভিন্ন।)
খ. বচনভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় না। যেমন: আমি (বা আমরা) যাই। তুমি (বা তোমরা) যাও। সে (বা তারা) যায়।
গ. সাধারণ, সম্ভ্রমাত্মক, তুচ্ছার্থকভেদে মধ্যম ও নাম পুরুষের ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় হয়ে থাকে (উত্তম পুরুষের হয় না)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১৫,৩৬৪.
'গৌরব' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √গুর্‌ + ব
  2. খ) √গুর্‌ + অ
  3. গ) গুরু + ব
  4. ঘ) গুরু + অ
ব্যাখ্যা
গৌরব (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ। 
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = গুরু+অ 
অর্থ: 
- গর্ব 
- অহংকার
- মহিমা, কৃপা, করুণা। 
- মর্যাদা, সম্মান। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৫,৩৬৫.
‘ণ’ এর সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) লক্ষণ
  2. খ) ত্রিনয়ণ
  3. গ) নির্ণিমেষ
  4. ঘ) খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
‘ণ’ এর সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে লক্ষণ, রক্ষণ, প্রশিক্ষণ, আমন্ত্রণ ইত্যাদি শব্দে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৫,৩৬৬.
'সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।' - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মকর্তৃবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।

যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,৩৬৭.
‘উন্নয়ন’ - এর সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. উৎ + নয়ন
  2. উন্ন + য়ন
  3. উৎ + য়ন
  4. উৎ + অন
ব্যাখ্যা
⇒ ‘উন্নয়ন’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: উৎ + নয়ন = উন্নয়ন।

এরূপ কিছু শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ:
- উৎ + নতি = উন্নতি;
- উৎ + নত = উন্নত;
- উৎ + নীত = উন্নীত;
- উৎ + যোগ = উদ্যোগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।
১৫,৩৬৮.
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি শব্দের উদহরণ কোনটি?
  1. ঘেউ ঘেউ
  2. ফাঁকে ফাঁকে
  3. থেকে থেকে
  4. হাড়ে হাড়ে
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
- কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরক্ত শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়।
যেমন-
• মানুষের ধ্বনির অনুকার : ভেউ ভেউ – মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি। এরূপ-ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।
• জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এরূপ-মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), কুহু কুহু (কোকিলের ডাক), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।
• অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার: ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)। এরূপ ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), 

এছাড়াও
•বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ:
- ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো। (সতর্কতা)
- ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা। (ভাবের প্রগাঢ়তা)
- থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে। (কালের বিস্তার)
- লোকটা হাড়ে হাড়ে শয়তান। (আধিক্য)
- খাঁচার ফাঁকে ফাঁকে, পরশে মুখে মুখে, নীরবে চোখে চোখে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১৫,৩৬৯.
'মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।'- এটি একটি কী ধরনের বাক্য?
  1. জটিল
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. মিশ্র
ব্যাখ্যা

‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’- এটি একটি জটিল বাক্য।
=================
সাপেক্ষ সর্বনামের বা সাপেক্ষ যোজক ছাড়াও নিম্নের উপায়ে জটিল বাক্য হতে পারে। এই জায়গা অনেক অনেক এবং অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, অবশ্যই অবশ্যই ভালো করে বুঝে নিতে হবে।  

শর্টকাট : সরল বাক্য + ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ + সরল বাক্য = জটিল বাক্য

'মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। - এই উদাহরণটি অনেক বইয়ে সরল বাক্য বা যৌগিক বাক্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। চলুন সরল বাক্যের শর্তগুলো মনে করি।

সরল বাক্যে অবশ্যই একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকবে। আর যৌগিক বাক্যে অবশ্যই অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকবে অথবা দুটি সরল বাক্যের মাঝে অব্যয়ের পরিবর্তে শুধু কমা থাকবে এবং বাক্যগুলো একটা আরেকটার ওপর নির্ভর করবে না, অর্থাৎ স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হবে। 

এবার ওপরের বাক্যটিকে ভেঙে লিখি। 
মা ছিল না - বলে - কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।

‘মা ছিল না।’ এটি একটি সরল বাক্য এবং এখানে সমাপিকা ক্রিয়া (ছিল) আছে। 
‘কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।’ এটিও একটি সরল বাক্য এবং এখানেও সমাপিকা ক্রিয়া (দেয়নি) আছে।   
‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া আছে এবং একাধিক সরল বাক্য পাওয়া গেছে। সুতরাং এটি সরল বাক্য নয়। 

এবার দেখি এটি যৌগিক বাক্য কি না। যৌগিক বাক্যের মূল কথা হলো দুটি সরল বা জটিল বাক্য বাক্য অব্যয় দ্বারা সংযোগ থাকবে অথবা দুটি সরল বাক্যের মাঝে অব্যয়ের পরিবর্তে কমা থাকবে। যোৗগিক বাক্যের সরল বাক্যগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হবে, অর্থাৎ একটি আরেকটির ওপর নির্ভর করবে না। 

‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যের অন্তর্গত ‘মা ছিল না’ এবং ‘কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যের মাঝে কোনো সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয় নেই এবং বাক্য দুটি স্বাধীন নয়, একটি অন্যটির ওপর নির্ভর করছে, এখানে অব্যয়ের পরিবর্তে ‘বলে’ নামক অনুসর্গ আছে, তাই এটি যৌগিক বাক্যের শর্ত পূরণ করতে পারে না। 

এবার তবে জটিল বাক্যের শর্তের দিকে যাই। জটিল বাক্যে একটি বাক্য আরেকটি বাক্যের সঙ্গে সাপেক্ষ অবস্থায় থাকবে। এখানে ‘বলে’ অনুসর্গ দুটি বাক্যকে একটির সঙ্গে আরেকটির সাপেক্ষ অবস্থা সৃষ্টি করেছে। ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি, ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে বসে একটি বাক্যের সঙ্গে আরেকটি বাক্যের নির্ভরশীলতা বা সাপেক্ষ অবস্থা বুঝিয়েছে। যদি ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত  হতো তবে সেটি সরল বাক্য হতো। 

অব্যশই অব্যশই মনে রাখতে হবে : বলে দ্বারা যদি ক্রিয়া না বোঝায় তবে ধরে নিতে হবে সেটি ক্রিয়া হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়নি ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, আর অবশ্যই বাক্যটি জটিল বাক্য হবে। প্রসঙ্গত ক্রিয়াবাচক অনুসর্গগুলো দেখে নেই। 

[ক্রিয়াজাত অনুসর্গ : ক্রিয়া থেকে নির্মিত অনুসর্গকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। এ জাতীয় অনুসর্গ হলো : বলে, করে, থেকে, দিয়ে, ধরে, হতে ইত্যাদি। যেমন : ভালো করে পড়াশুনা করো। মন দিয়ে কাজ করো।]

 > কয়েকটি উদাহরণ লক্ষ করি, যে উদাহরণগুলো প্রতিযোগিতমূলক পরীক্ষায় এসেছে।
 - ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল।’ [৩৩তম বিসিএস]
- মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। [৩২তম বিসিএস]
 - তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
 ====================

বিশেষ দ্রষ্টব্য: জটিল বাক্যের সমার্থক হিসেবে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মিশ্র বাক্য ব্যবহার করেছেন, কিন্তু এটি গ্রহণীয় নয়। কারণ, মিশ্র শব্দটি অনেকাংশে যৌগিক শব্দের সমার্থক হয়ে যায়। তাই পরীক্ষায় জটিল ও মিশ্র থাকলে আর সেটি যদি জটিল বাক্য হয় হবে জটিল উত্তর করবেন।

সূত্র: মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী রচিত নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গ্রন্থ।

১৫,৩৭০.
‘ক্ষমা করতে ইচ্ছুক’ এক কথায় কী বলে?
  1. ক্ষমাপ্রদ
  2. তিতিক্ষু
  3. ক্ষমার্হ
  4. তিতিক্ষা
ব্যাখ্যা

• ‘ক্ষমা করতে ইচ্ছুক’ এক কথায় প্রকাশ - তিতিক্ষু।

আরও কিছু এক কথায় প্রকাশ:
• 'ক্ষমার যোগ্য' এর বাক্য সংকোচন - ক্ষমার্হ।
• ‘ক্ষমা করার ইচ্ছা’ এক কথায় প্রকাশ - তিতিক্ষা।
• ‘প্রশংসার যোগ্য’ এক কথায় প্রকাশ - প্রশংসার্হ।
• ‘স্মরণের যোগ্য’ এক কথায় প্রকাশ - স্মরণার্হ।
• ‘ধন্যবাদের যোগ্য’ এক কথায় প্রকাশ - ধন্যবাদার্হ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫,৩৭১.
কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) মিঠাই
  2. খ) সৌভাগ্য
  3. গ) গণক
  4. ঘ) ঘরোয়া
ব্যাখ্যা
• গণক (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [√গণ্+অক]
অর্থ: গনতকার।

অন্যদিকে,
‘ওয়া’ তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ - ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।
‘ষ্ণ্য’ সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ - সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য।
‘আই’ বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ- মিঠা + আই = মিঠাই।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫,৩৭২.
কোনটি বিমূর্ত বিশেষ্য?
  1. নদী
  2. বই
  3. সৌন্দর্য
  4. কাঁঠাল
ব্যাখ্যা

ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতা অনুসারে সাধারণ বিশেষ্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মূর্ত বিশেষ্য:
যে বিশেষ্যকে স্পর্শ করা যায়, ঘ্রাণ নেওয়া যায় এবং পরিমাপ করা যায় তাকে মূর্ত বিশেষ্য বলে। যেমন- হাত, পা, পানি, গোলাপ, নদী, বই, কাঁঠাল ইত্যাদি।

২. বিমূর্ত বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা অবস্তুগত অবস্থা, মনোগত ভাব বা গুণগত বৈশিষ্ট্য বোঝায় তাকে বিমূর্ত বা ভাববিশেষ্য বলে। যেমন- আনন্দ, দুঃখ, ইচ্ছা, রাগ, সন্দেহ, সাহস, সৌন্দর্য ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৩৭৩.
“নীল যে অম্বর = নীলাম্বর” - কোন সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরঃ কর্মধারয় সমাস।

যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
নীল যে অম্বর = নীলাম্বর।
নীল যে আকাশ = নীলাকাশ।
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
রক্ত যে কমল = রক্তকমল।

অতিরিক্ত আলোচনাঃ
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমনঃ
নীল অম্বর যার = নীলাম্বর।
দশ আনন যার = দশানন।
পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫,৩৭৪.
কোনটির স্ত্রীবাচক শব্দ "আ" প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়?
  1. সিংহ
  2. শূদ্র
  3. নবীন
  4. অরণ্য
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে '-আ' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক করা হয়:
→ অজ-অজা, 
→ আধুনিক-আধুনিকা, 
→ কোকিল-কোকিলা, 
→ চতুর-চতুরা, 
→ চঞ্চল-চঞ্চলা, 
→ নবীন-নবীনা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- '-ঈ' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ - সিংহ-সিংহী। 
- '-আনি'/ 'আনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ - অরণ্য-অরণ্যানী এবং শূদ্র-শূদ্রানী।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৫,৩৭৫.
“কুঁড়ে স্বভাব” কোন বাগধারা দ্বারা বোঝানো হয়?
  1. ক) ঊনপঞ্চাশ বায়ু
  2. খ) আঠারো মাসে বছর
  3. গ) অকাল কুষ্মাণ্ড
  4. ঘ) অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী
ব্যাখ্যা

আঠারো মাসে বছর- কুড়ে স্বভাব/দীর্ঘসূত্রতা।
ঊনপঞ্চাশ বায়ু- পাগলামি।
অকালকুষ্মাণ্ড- অপদার্থ।
অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী- সামান্য বিদ্যা বড়ো ক্ষতিকর, তাতে জ্ঞান জন্মে না অথচ বিদ্বান বলে অহঙ্কার জন্মে।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫,৩৭৬.
উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি কত প্রকার?
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - [ই], [উ]।
২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি - [এ], [ও]।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - [অ্যা], [অ]।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - [আ]।
- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫,৩৭৭.
'গুরুত্ব' কোন ধরনের বিশেষ্য পদ?
  1. জাতি
  2. বস্তু
  3. সমষ্টি
  4. গুণ
ব্যাখ্যা
• 'গুরুত্ব' - গুণ-বিশেষ্য।
-------------------- 
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য ।
---------------------- 
১. নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ।

২. জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

৩. বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন –
ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন –
জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি। 

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
১৫,৩৭৮.
প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. চলা-ফেরা
  2. মাসি-পিসি
  3. স্বর্গ-নরক
  4. দয়া-মায়া
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেক সমস্যমান পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে দ্বন্দ্ব সমাস:
 যেমন:
- দয়া-মায়া,
- কাপড়-চোপড়,
- পোকা-মাকড়,
- দয়া-মায়া,
- ধূতি-চাদর ইত্যাদি। 

অন্যদিকে: 
- 'চলা-ফেরা'- দুটি ক্রিয়াযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস। 
- 'স্বর্গ-নরক'- বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস। 
- 'মাসি-পিসি'- মিলনার্থক' শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,৩৭৯.
'এক থেকে আরম্ভ করে' বাক্যটির সংকোচিত রূপ কী? 
  1. ক) একাদিক্রমে
  2. খ) অধিক
  3. গ) একাধিক
  4. ঘ) বহু
ব্যাখ্যা
একাদিক্রমে (ক্রিয়াবিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়
অর্থ - প্রথম থেকে শুরু করে পরপর, ক্রমানুসারে
       - একনাগাড়ে, নিরন্তর। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৫,৩৮০.
কোন জোড়াটি বিপরীতার্থক?
  1. অপোগণ্ড - গোবর গণেশ
  2. অহিনকুল সম্বন্ধ - দা-কুমড়া
  3. আমড়া কাঠের ঢেঁকি - ঢেঁকির কুমির
  4. এলাহি কাণ্ড - উলুবনে মুক্তো ছড়ান
ব্যাখ্যা
• বিপরীতার্থক জোড়াটি: এলাহি কাণ্ড - উলুবনে মুক্তো ছড়ান; যেখানে, ’এলাহি কাণ্ড' বাগ্‌ধারাটির অর্থ বিরাট আয়োজন এবং ‘উলুবনে মুক্তো ছড়ান’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ বৃথা আয়োজন।

অন্যদিকে, 
- 'অহিনকুল সম্বন্ধ' ও 'দা-কুমড়া' বাগ্‌ধারাটির অর্থ = ভীষণ শত্রুতা।
- 'আমড়া কাঠের ঢেঁকি' ও 'ঢেঁকির কুমির' বাগ্‌ধারাটির অর্থ = অপদার্থ।
- 'অপোগণ্ড' ও 'গোবর গণেশ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ = অকর্মণ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩৮১.
'সুদিন' শব্দের 'সু' কোন উপসর্গ?
  1. বাংলা
  2. ফারসি
  3. আরবি
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
- 'সুদিন' শব্দের 'সু' - বাংলা উপসর্গ।
- 'সুদিন' শব্দের 'সু' উত্তম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• উত্তম অর্থে ব্যবহৃত আরো কিছু শব্দ:
- সুনজর,
- সুখবর,
- সুনাম,
- সুকাজ।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,৩৮২.
'জলচর' শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. পঞ্চমী
  2. ষষ্ঠী
  3. সপ্তমী
  4. উপপদ 
ব্যাখ্যা

উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ,
- পকেট মারে যে = পকেটমার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৫,৩৮৩.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. নমঃ + কার = নমস্কার
  2. পদঃ + খলন = পদস্খলন
  3. দুঃ + ক্রিতি = দুষ্কৃতি
  4. মনঃ + কামনা = মনস্কামনা
ব্যাখ্যা

• বিসর্গ সন্ধির নিয়মানুসারে,
অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশ্ ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন -
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (স্ + ক) ⇒ নমঃ + কার = নমস্কার; পুরঃ + কার = পুরস্কার।
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + খ = = (স্ + খ) ⇒ পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- ই এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ নিঃ + কর = নিষ্কর; বহিঃ + কৃত = বহিষ্কৃত।
- উ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ দুঃ + কর = দুষ্কর; দুঃ + কৃতি = দুষ্কৃতি।

এরূপ - মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, আবিষ্কার, চতুষ্কোণ, বাচস্পতি, ভাস্কর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫,৩৮৪.
নিত্য সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. দর্শনমাত্র
  2. লাঠালাঠি
  3. অনুতাপ
  4. যথারীতি
ব্যাখ্যা
• 'দর্শনমাত্র'- 'নিত্য সমাস'। 

• নিত্য সমাস: 
যে সমাসে সমস্যমান পদ গুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে। 
যেমন-
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- কাল তুল্য সাপ = কালসাপ,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
লাঠালাঠি - ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস।
অনুতাপ- প্রাদি সমাস।
যথারীতি - অব্যয়ীভাব সমাস। 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,৩৮৫.
আসমান কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. পর্তুগিজ
  2. ফরাসি
  3. আরবি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
• আসমান।
- শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে আগত।

• আসমান শব্দের বিশেষ্য - আকাশ।
• আসমান শব্দের বিশেষণ - আসমানি।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো: 

গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,৩৮৬.
বাংলা ভাষার তিনটি মৌলিক অংশ রয়েছে এগুলো কি কি?
  1. ক) ধ্বনি, শব্দ, বর্ণ
  2. খ) শব্দ, সন্ধি, সমাস
  3. গ) ধ্বনি, শব্দ, বাক্য
  4. ঘ) অনুসর্গ, উপসর্গ, শব্দ
ব্যাখ্যা
[প্রশ্নে ভুল আছে। সব ভাষারই চারটি মৌলিক অংশ রয়েছে।]

• বাংলা ব্যাকরণ: যে শাস্ত্রে বাংলা ভাষার নিয়ম-কানুন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করা যায় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে।
প্রত্যেক ভাষারই চারটি মৌলিক অংশ থাকে। যেমন-
১. ধ্বনি (Sound)
২. শব্দ (Word)
৩. বাক্য (Sentence)
৪. অর্থ (Meaning)

 • সব ভাষারই ব্যাকরণে প্রধানত নিম্নলিখিত চারটি বিষয়ের আলোচনা করা হয়।
১. ধ্বনিতত্ব (Phonology)
২. শব্দতত্ব বা রূপতত্ব (Morphology)
৩. বাক্যতত্ব বা পদক্রম (Syntax)
৪. অর্থতত্ব (Semantics)
এ ছাড়া অভিধানতত্ব, ছন্দ ও অলংকার প্রভৃতিও ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫,৩৮৭.
স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্তরূপ কয়টি?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
• স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্তরূপ বা কারবর্ণ:
অ-ভিন্ন স্বরবর্ণগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে সংযুক্ত হলে পূর্ণরূপের বদলে সংক্ষিপ্ত রূপ পরিগ্রহ করে। স্বরবর্ণের এ ধরনের সংক্ষিপ্তরূপকে 'কার' বলে। স্বরবর্ণের 'কার'-চিহ্ন ১০টি।
যথা:
আ-কার (া): মা, বাবা, ঢাকা।
ই-কার (ি) কিনি, চিনি, মিনি।
ঈ-কার (ী): শশী, সীমানা, রীতি।
উ-কার (ু): কুকুর, পুকুর, দুপুর।
ঊ-কার (ূ): ভূত, মূল্য, সূচি।
ঋ-কার (ৃ): কৃষক, তৃণ, পৃথিবী।
এ-কার (ে): চেয়ার, টেবিল, মেয়ে।
ঐ-কার (ৈ): তৈরি, বৈরী, হৈচৈ।
ও-কার (ো ): খোকা, পোকা, বোকা।
ঔ-কার (ৌ): নৌকা, মৌসুমি, পৌষ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫,৩৮৮.
'ঢোসা' এর বিপরীতার্থক শব্দ?
  1. লঘু
  2. হালকা
  3. চোখা
  4. ম্লান
ব্যাখ্যা
• 'ঢোসা' এর বিপরীতার্থক শব্দ - হালকা

অন্যদিকে,
- 'ভোঁতা' এর বিপরীতার্থক শব্দ - চোখা।
- 'ডাগর' এর বিপরীতার্থক শব্দ - ম্লান।
- 'তীব্র' এর বিপরীতার্থক শব্দ - লঘু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩৮৯.
তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অনুতাপ
  2. অনাদর
  3. আনকোরা
  4. অজমূর্খ
ব্যাখ্যা

• 'অনু' তৎসম উপসর্গ যোগে 'পশ্চাৎ' অর্থে গঠিত শব্দ- অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ। 

অন্যদিকে, 
• 'অনা' বাংলা উপসর্গ যোগে 'অভাব' অর্থে গঠিত শব্দ- অনাবৃষ্টি, অনাদর। 
• 'আন' বাংলা উপসর্গ যোগে 'না' অর্থে গঠিত শব্দ- আনকোরা। 
• 'অজ' বাংলা উপসর্গ যোগে 'নিতান্ত (মন্দ)' অর্থে গঠিত শব্দ- অজপাড়াগাঁ, অজমূর্খ, অজপুকুর। 

------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫,৩৯০.
‘Aborigines' এর পরিভাষা কোনটি?
  1. আদিবাসী
  2. ক্ষয়
  3. রদ করা
  4. পলাতক হওয়া
ব্যাখ্যা
'Aborigines' বাংলা এর পরিভাষা - আদিবাসী।

অন্যদিকে,
Abscond - পলাতক হওয়া। 
Abrogate - রদ করা।
Abrasion - ক্ষয়।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা- বাংলা একাডেমি।
১৫,৩৯১.
অর্থ অনুযায়ী শব্দ কত প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৮
ব্যাখ্যা
অর্থ অনুসারে শব্দ ৩ প্রকার। যথা :
১. যৌগিক
২. রূঢ় বা রূঢ়ি
৩. যোগরূঢ়

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,৩৯২.
অযুগ্ম বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে কী বলে? 
  1. একাক্ষর
  2. মুক্তাক্ষর
  3. বদ্ধাক্ষর
  4. মৌলিকাক্ষর 
ব্যাখ্যা

• অক্ষর (Syllable):
বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশের নাম অক্ষর (Syllable)। অক্ষর দু প্রকার।
যথা: মুক্তাক্ষর ও বদ্ধাক্ষর।

• মুক্তাক্ষর:
যখন একটি অক্ষরে একটিই বর্ণ থাকে, তখন তাকে মুক্তাক্ষর বলে। অযুগ্ম  বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে। একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
যেমন: 'ভালোবাসো যদি বলিবে না কেন?'
এখানে (ভা) (লো) (বা) (সো) (য) (দি) (ব) (লি) (বে) (না) (কে) (ন) এই সবগুলোই (১২টি) মুক্তাক্ষর।
মুক্তাক্ষর U চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়।
- মুক্তাক্ষর উচ্চারণের শেষে মুখ খোলা থাকে, ফলে অক্ষর উচ্চারণ করে ও তাকে প্রয়োজন মতো প্রলম্বিত করা চলে।
যেমন: অপরিচিত।

• বদ্ধাক্ষর:
ব্যঞ্জনধ্বনি বা অর্ধস্বরধ্বনির মাধ্যমে যে সব অক্ষরের সমাপ্তি ঘটে তাকে বদ্ধাক্ষর বলে।
বদ্ধ অর্থ্যাৎ যুগ্মাস্বরান্ত বা ব্যঞ্জনান্ত ধ্বনিকে বদ্ধাক্ষর বলে।
যেমন: 'সোম বার দিনরাত হরতাল।
এখানে (সোম) (বার) (দিন) (রাত) (হর) (তাল্) এই সবগুলোই (৬টি) বদ্ধাক্ষর।
বদ্ধাক্ষর (-) চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়।

উৎস: বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৩৯৩.
নিচের কোন বানানটি সঠিক ?
  1. ক) অন্তর্ভূক্ত
  2. খ) পরাভূত
  3. গ) উদ্ভত
  4. ঘ) ভৌগলিক
ব্যাখ্যা
পরাভূত বানানটি সঠিক ।

অশুদ্ধ গুলোর শুদ্ধ রূপ:
• অন্তর্ভূক্ত -অন্তর্ভুক্ত
• উদ্ভত - উদ্ভূত 
• ভৌগলিক - ভৌগোলিক
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,৩৯৪.
কোন ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের আধিক্য থাকে?
  1. ক) মহাপ্রাণ
  2. খ) অল্পপ্রাণ
  3. গ) অঘোষ
  4. ঘ) ঘোষ
ব্যাখ্যা
ধ্বনি: 
উচ্চারণের সময় বাতাসের প্রবাহ অনুযায়ী স্পর্শ ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলোকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা - 
ক. অল্পপ্রাণ: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের স্বল্পতা থাকে, তাকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি। 
যেমন- ক, গ, চ, জ ইত্যাদি। 

খ. মহাপ্রাণ: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে, তাকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি। 
যেমন- খ, ঘ, ছ, ঝ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)। 
১৫,৩৯৫.
'বার্ষিক' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. বর্ষ + ষ্ণিক
  2. বার + ষ্ণিক
  3. ব + ষ্ণিক
  4. বর্ষ + ক
ব্যাখ্যা

সূত্র:
-  দুটি শব্দের দ্বারা গঠিত সমাসবদ্ধ শব্দের অথবা উপসর্গযুক্ত শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে উপসর্গসহ শব্দের বা শব্দ দুটির মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়।
যথা-
- পরলোক + ষ্ণিক = পারলৌকিক।
- সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য।
- পঞ্চভূত+ষ্ণিক=পাঞ্চভৌতিক।
- সর্বভূমি+ ষ্ণ=সার্বভৌম।
• ব্যতিক্রম : 'বর্ষ' শব্দ পরপদ হলে পূর্বপদের সংখ্যাবাচক শব্দের মূল স্বরের বৃদ্ধি হয় না।
- যথা-দ্বিবর্ষ +ষ্ণিক= দ্বিবার্ষিক।
- সংখ্যাবাচক শব্দ না থাকলেও নিয়মমতো মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়।
যেমন – বর্ষ + ষ্ণিক=বার্ষিক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৫,৩৯৬.
কোনটি অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. শুনিয়া > শুনে
  2. ফাল্গুন > ফাগুন
  3. আলাহিদা > আলাদা
  4. ফলাহার > ফলার
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।

যেমন
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- মাছুুয়া > মেছো ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
- ফলাহার > ফলার;
- আলাহিদা > আলাদা;
- ফাল্গুন > ফাগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫,৩৯৭.
'অন্যপুষ্ট' কোন পাখিকে বলা হয়?
  1. কাক
  2. কোকিল
  3. ময়না
  4. কবুতর
ব্যাখ্যা
'কোকিল' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কাকপুষ্ট,
- পরপুষ্ট,
- কলকণ্ঠ,
- পিক,
- পরভৃত,
- বসন্তদূত,
- অন্যপুষ্ট

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৩৯৮.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. কণ্ঠস্থ
  2. পটিয়সী
  3. পীড়াপীড়ি
  4. শুশ্রূষু
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'পটিয়সী' - অশুদ্ধ বানান।

• 'পটিয়সী' এর শুদ্ধ বানান: পটীয়সী।
-----------------------
• 'পটীয়ান' শব্দের অর্থ:
- অত্যন্ত পটু, সুদক্ষ।

• 'পটীয়ান' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - পটীয়সী।

অন্যদিকে,
কণ্ঠস্থ, পীড়াপীড়ি, শুশ্রূষু - বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫,৩৯৯.
আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ কোনটি?
  1. দারোগা
  2. কলম
  3. আসমান
  4. কাগজ
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'কলম' শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত।
অর্থ:
১ কোনো শক্ত দণ্ডের প্রান্তে বল বা নিব সংযুক্ত করে তৈরি লেখনী; ঝরনাকলম।
২ নলখাগড়া পালক প্রভৃতির অগ্রভাগ ত্যারচা করে কেটে তৈরি লেখনী।

• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:

তফসির, তবিয়ত, তম্বি, তরজমা, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর।

অন্যদিকে,
• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো: 
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, দারোয়ান, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৫,৪০০.
সাধু রীতির শব্দ কোনটি?
  1. চাঁদ
  2. কান
  3. আগুন
  4. পক্ষী
ব্যাখ্যা

"পক্ষী" শব্দটি তৎসম এবং সাধু রীতির শব্দ। এটি সাধারণত লেখ্য ভাষায় ব্যবহার হয়। চলিত রীতিতে এর পরিবর্তে "পাখি" শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

কিছু বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
অগ্নি - আগুন,
কর্ণ - কান,
চন্দ্র - চাঁদ,
দন্ত- দাঁত,
পক্ষী - পাখি,
ব্যাঘ্র - বাঘ,
মৎস্য - মাছ,
হস্তী - হাতি।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।