ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ - দুর্জ্ঞেয়
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃত প্রত্যয় = [দুঃ+√দম্+অনীয়]
অর্থ: জানা কঠিন এমন, দুরধিগম্য।
• দুর্ধর্ষ, দুর্দশাগ্রস্ত, দুর্ভিক্ষ বানান গুলো শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১৪৬ / ৩৫৪ · ১৪,৫০১–১৪,৬০০ / ৩৫,৭১৩
• 'গরমিল' শব্দের- 'গর' আরবি উপসর্গ।
• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি – এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
- এর কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
- এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে।
- দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় বেমালুম মিশে গিয়েছে।
- বেমালুম শব্দটিতে 'মালুম' আরবি শব্দ আর 'বে' ফারসি উপসর্গ।
• আরবি উপসর্গ ৪টি। যথা:
- আম্: সাধারণ অর্থে - আমদরবার, আমমোক্তার।
- খাস: বিশেষ অর্থে - খাসমহল, খাসখবর।
- লা: না অর্থে - লাজওয়াব, লাখেরাজ।
- গর : অভাব অর্থে - গরমিল, গররাজি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
কর্মকারক ৪ প্রকার।
যথা:
১. সকর্মক ক্রেয়ার কর্ম: নাসিমা ফুল তুলছে।
২. প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম: ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও।
৩. সমধাতুজ কর্ম: খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
৪. উদ্দেশ্য ও বিধেয়: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার দুটি পরস্পর অপেক্ষিত কর্মপদ থাকলে প্রধান কর্মটিকে বলা হয় উদ্দেশ্য কর্ম এবং অপেক্ষিত কর্মটিকে বলা হয় বিধেয় কর্ম। যেমন: দুধকে (উদ্দেশ্য কর্ম) মোরা দুগ্ধ (বিধেয় কর্ম) বলি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
• উৎসগত ভাবে "বাহাদুর" শব্দটি "তুর্কি" ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- কৃতী, বীর; দুঃসাধ্য কর্মসম্পাদনকারী।
- ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া খেতাববিশেষ।
কিছু তুর্কি শব্দ:
- কলগি,
- চাকু,
- বাবা,
- বাবুর্চি,
- মুচলেকা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
সাধু ভাষা/রীতি:
- দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে।
- সাধু রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
(ক) সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর,
যেমন:
- ‘করা' ক্রিয়ার রূপ: করিতেছে, করিয়াছে, করিল, করিলে, করিলাম, করিত, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিব, করিবে, করিতে, করিয়া, করিলে, করিবার।
(খ) সাধু রীতির বহু সর্বনামে ‘হ’-বৰ্ণ যুক্ত থাকে,
যেমন:
- তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
• 'অর্বাচীন’ এর বিপরীত অর্থ হলো- 'প্রাচীন’।
-------------------------------
• বিপরীত শব্দ বা বিপরীতার্থক শব্দ:
- যে শব্দের বা একটি শব্দের সম্পূর্ন বিপরীত অর্থ প্রকাশ পেলে তাকে বিপরীতার্থক শব্দ বা বিপরীত শব্দ বলে।
- অর্বাচীন মানে— নবীন, আধুনিক, নতুন বা অপক্কবুদ্ধিসম্পন্ন।
- আর প্রাচীন অর্থ হলো- অতি পুরাতন, অনেক আগের, সেকেলে বা দীর্ঘকাল ধরে বিদ্যমান।
- অর্বাচীন = প্রাচীন।
------------------------
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ:
অনুসন্ধান — উপেক্ষা,
কৃপণ — বদান্য,
বিলুপ্ত — সংরক্ষিত / উদ্বৃত্ত,
বীর — ভীরু,
সংশয় — প্রত্যয়,
সরু — মোটা,
উর্বর — ঊষর / অনুর্বর,
বিরত — উদ্যত / রত / নিরত,
যুদ্ধ — শান্তি,
আবাহন — বিসর্জন,
কৃত্রিম — অকৃত্রিম / স্বাভাবিক,
আকস্মিক — চিরন্তন,
চঞ্চল — স্থির / নিশ্চল / অবিচল,
অলস — পরিশ্রমী,
ক্ষীয়মান — বর্ধমান,
সৌম্য — উগ্র / করাল,
কৃশ — স্থূল,
পরাস্ত — জয়ী,
কপট — সরল / অকপট,
অসীম — সসীম,
মায়া — নির্মমতা,
অনুরাগ — বিরাগ,
বিষাদ — আনন্দ / হর্ষ,
ভূত — ভবিষ্যৎ,
বিনীত — উদ্ধত / দুর্বিনীত,
ধ্বনি — প্রতিধ্বনি,
অনুগ্রহ — নিগ্রহ,
সরল — কুটিল / জটিল / গরল,
অমৃত — গরল,
আবির্ভাব — তিরোভাব,
জঙ্গম — স্থাবর,
নশ্বর — অবিনশ্বর,
সুন্দর — কুৎসিত,
আপদ — সম্পদ,
আকাশ — পাতাল,
নির্মল — পঙ্কিল / মলিন,
প্রসারণ — সংকোচন,
প্রসন্ন — বিষণ্ণ।
উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• কৃৎ-প্রত্যয় যোগে শব্দ গঠন:
- তৃচ্- প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে) প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।
যেমন-
- √দা + তৃচ্ =√দা+তৃ = দা+তা = দাতা।
- √ মা + তৃচ্ = মাতা,
- √ক্রী + তৃচ্ = ক্রেতা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• 'দাখিল' শব্দটি 'আরবি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- উপস্থাপন, পেশ।
- প্রবেশিকা (দাখিল পরীক্ষা)।
কিছু আরবি শব্দ:
- আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর।
• আলিশান আরবি ভাষা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে 'ইনী' প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক করা হয়।
যেমন:
- তেজস্বী - তেজস্বিনী,
- যশস্বী - যশস্বিনী,
- পয়স্বী - পয়স্বিনী,
- বিজয়ী - বিজয়িনী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
ক. চলিত ভাষা সর্বজনগ্রাহ্য মার্জিত ও গতিশীল ভাষা। তাই এটি মানুষের কথাবার্তা ও লেখার ভাষা হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এটি পরিবর্তনশীল।
খ. এ ভাষারীতি ব্যাকরণের প্রাচীন নিয়মকানুন দিয়ে সর্বদা ব্যাখ্যা করা যায় না।
গ. চলিত ভাষারীতিতে অপেক্ষাকৃত সহজ-সরল শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এটি বেশ সাবলীল, চটুল ও জীবন্ত।
ঘ. বলার ও লেখার ভাষা বলেই এ ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ, নাটকের সংলাপ ও সামাজিক আলাপ-আলোচনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
ঙ. চলিত ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
• "রুবেলের সাথে তাঁর গলায় গলায় ভাব।"- এখানে 'গলায় গলায়' - পদাত্মক দ্বিরুক্তি।
এখানে একই পদ (গলায়) দুইবার পুনরাবৃত্ত হয়েছে, যার ফলে এটি পদাত্মক দ্বিরুক্তি।
• পদাত্মক দ্বিরুক্তি:
বিভক্তিযুক্ত পদ পর পর দুবার ব্যবহৃত হলে তাকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলে। পদাত্মক দ্বিরুক্তি দুইভাবে হতে পার।
যথা-
১. যথাদ্বিরুক্তি,
২. যুগ্মরীতি বা অনুচর-দ্বিরুক্তি।
• পদাত্মক যথাদ্বিরুক্তি:
যেমন:
- জনে জনে আজকে আমি জানিয়ে যাব সব।
অন্যান্য ( হোতে হাতে, হেসে হেসে, চোর চোর ইত্যাদি।)
• পদাত্মক যুগ্নরীতি বা অনুচর দ্বিরুক্তি:
যেমন:
- হাতে-নাতে পড়লে ধরা দলে-বলে জেলে যাবে।
অন্যান্য (আকাশে-বাতাশে, কাপড়-চোপড়, দলে-বলে ইত্যাদি।)
অন্যদিকে,
- রোজ রোজ, দিন দিন শব্দের দ্বিরুক্তি।
- অব্যয়ের দ্বিরুক্তিতে বহুবচন এর উদাহরণ: যখন যখন।
- ঝমঝম, কুটুস- কুটুস - ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• শুদ্ধ বানান - ধাঁধা।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- কৌতূহলোদ্দীপক জটিল প্রশ্ন,
- দিশেহারা ভাব; সংশয়; দৃষ্টিবিভ্রম।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বাক্যের বিশেষণ : কখনো কখনো বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করতে পারে, তখন তাকে বাক্যের বিশেষণ বলে। যেমন : দুভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
অব্যয়ের বিশেষণ : যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে। যেমন: ধিক্ তারে,শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
• বাংলা ভাষায় 'ও' স্বরধ্বনিটি উচ্চারণকালে জিহ্বা উচ্চ-মধ্য অবস্থানে থাকে।
• স্বরধ্বনির উচ্চারণ বিধি:
উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।
উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা-
১. উচ্চ স্বরধ্বনি- ই, উ।
২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি- এ, ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি- অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি- আ।
• আবার, জিভের সম্মুখ পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা-
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি: ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'লাফিয়ে চলে যে' এর এককথায় প্রকাশ - প্লবগ।
অন্যদিকে,
- উরস (বক্ষ) দিয়ে হাটে যে - উরগ।
- পা দিয়ে যে চলেনা - পন্নগ।
- ত্বরিত গমন করতে পারে যে- তুরগ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• শুদ্ধ বানান - ভ্রাতুষ্পুত্র।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- ভাইয়ের ছেলে।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
- তৎসম শব্দের সাথে দেশীয় শব্দ কখনো কখনো গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়। যেমনঃ
- অশুদ্ধঃ গরুর শকট (দেশি + তৎসম)
- শুদ্ধঃ গরুর গাড়ি (দেশি + দেশি)
- অশুদ্ধঃ মড়াদাহ (দেশি + তৎসম)
- শুদ্ধঃ শবদাহ (তৎসম + তৎসম)
- শুদ্ধঃ মড়াপোড়া (দেশি + দেশি)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
- বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'লাউ' সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দ। এটি তদ্ভব শব্দ।
অর্থ: সবজি হিসেবে রেঁধে খাওয়া হয় এমন বড়ো পাতা ও সাদা ফুলবিশিষ্ট লতানে উদ্ভিদের বৃহদাকার লম্বাটে (বা গোলাকৃতি) সবুজ ফল, কদু, অলাবু।।
• কিছু দেশি শব্দ:
- ঢোল, ডিঙি, টোপর, বাখারি, কয়লা, কামড়, চাউল, ঝোল, , ডাহা, ঢিল, পয়লা, ডাঁসা, ডাব, ডাঙর, ঢিল, মাঠ, চাটাই, , ঝিনুক, শিকড়, কচি, খড়, পেট।
উল্লেখ্য,
• 'লাউ' সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দ। এটি তদ্ভব শব্দ। অপশনে 'তদ্ভব' না থাকলে দেশি উত্তর করতে পারেন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'এ এবং ঐ' ধ্বনিরগুলোর সঠিক উচ্চারণস্থান 'কণ্ঠ ও তালু'।
- এবং এই দুইটি বর্ণকে কণ্ঠতালব্য বর্ণ বলা হয়।
অন্যদিকে,
→ "ঋ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ়" ধ্বনিগুলোর সঠিক উচ্চারণস্থান - মূর্ধা।
→ "অ, আ, ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ" ধ্বনিগুলোর সঠিক উচ্চারণস্থান - কণ্ঠ বা জিহ্বামূল।
→ ওষ্ঠ্য বর্ণ: উ, উ, প, ফ, ব, ভ, ম।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
• ‘কিতাব’ - আরবি ভাষার শব্দ।
অর্থ: বই, পুস্তক, গ্রন্থ।
• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
কুমকুম, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর।
অন্যদিকে,
• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
কুলফি, কুস্তি, কোফতা, গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• সাধারণ অতীত:
- অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন-
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
• ঘটমান অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন-
- তারা মাঠে খেলছিল।
• পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন-
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
• নিত্য অতীত:
- অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন-
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
- তিনি রোজ সকালে বাগানে পানি দিতেন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস :
পূর্বপদের তৃতীয়া বিভক্তি (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক এসব তৃতীয়া বিভক্তি।
যেমন: মন দ্বারা গড়া = মনগড়া; শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ, মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা ইত্যাদি।
উন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা-
- এক যারা উন= একোন,
- বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন,
- জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
উ-ধ্বনি বা ঊ ধ্বনির পরে অন্য স্বরধ্বনি থাকলে উ অথবা ঊ-ধ্বনির জায়গায় ব-ফলা হয় এবং পরের স্বরধ্বনির চিহ্ন আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
এই সূত্রের কিছু সন্ধির উদাহরণ হলো:
- সু + আগত = স্বাগত
- অনু + ইত = অন্বিত
- তনু + ঈ = তন্বী
- অনু + অয় = অন্বয়
- অনু + এষণ = অন্বেষণ
[উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ]
যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
• পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিত পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
• রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতিবিশেষ'।
• মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
• জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে,
• জেঠামি- রূঢ়ি শব্দ।
• গায়ক- যৌগিক শব্দ।
• কলস- মৌলিক শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়।
যথা:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- মেধা + বিন = মেধাবী,
- মায়া + বিন = মায়াবী,
- নীল = ইমন = নীলিমা,
- গুরু + অ = গৌরব ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
• বর্ণমালা:
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮ টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ- ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
'পৃথিবী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- জগৎ,
- ভুবন,
- সংসার,
- বিশ্ব,
- ধরা,
- বসুমতী,
- বসুন্ধরা,
- ভূ,
- মর্ত্য,
- মহী,
- মেদিনী,
- ক্ষিতি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়:
- সংস্কৃত বা তৎসম ধাতু বিবর্জিত বাংলা ধাতুর সঙ্গে প্রাকৃত ভাষা থেকে আগত যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
আনি-প্রত্যয়:
- বিশেষ্য গঠনে প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
- √জান্ + আনি = জানানি,
- √শুন্ + আনি = শুনানি,
- √উড় + আনি = উড়ানি,
- √উড় + উনি = উড়ুনি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
সমুচ্চয়ী অব্যয় : যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথাঃ সংযোজক, বিয়োজক এবং সংকোচক।
সংযোজক অব্যয় :
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়। তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।
বিয়োজক অব্যয় :
ক. হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। বাক্যে ‘কিংবা’ বিয়োজক অব্যয়।
খ. আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। ‘কিন্তু’ অব্যয়টি দুটি বাক্যের বিয়োজক। তাছাড়া বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, বিয়োজক অব্যয়।
সংকোচক অব্যয় : তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি।