বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১৪২ / ৩৫৪ · ১৪,১০১১৪,২০০ / ৩৫,৭১৩

১৪,১০১.
‘চন্দ্র’ শব্দের প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. মহীরুহ
  2. মহীধ্র
  3. মৃগাঙ্ক
  4. মহীধর
ব্যাখ্যা
• চন্দ্র এর অন্য সমর্থক শব্দগুলো হল: চাঁদ, সুধাংশু, সুধাকর, শশাঙ্ক, শশধর, শশী, হিমাংশু, সুধানিধি, মৃগাঙ্ক, নিশাকর, হিমকর ইত্যাদি।

অন্যান্য শব্দের সমার্থক হচ্ছে:  
• 'পর্বত' শব্দের সমার্থক শব্দ: মহীধর, পাহাড়, গিরি, অচল, শৈল, ভূধর, অদ্রি, শিখরী, শৃঙ্গী, শৃঙ্গধর, মহীধ্র, ভূভৃৎ, নগ।
• 'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ: গাছ, পাদপ, তরু, বিটপী, দ্রুম, মহীরুহ, শাখী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,১০২.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. ক) দারিদ্র্য
  2. খ) নীরোগ
  3. গ) যুবরাজ
  4. ঘ) রাজাগণ
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
শব্দটির শুদ্ধরূপ হলো : রাজগণ
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১৪,১০৩.
'ঘণ্টাগরুড়' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. অকর্মণ্য লোক
  2. বাধ্যগত লোক
  3. পরিশ্রমী লোক
  4. নির্দিষ্ট সময়
ব্যাখ্যা
• 'ঘণ্টাগরুড়' বাগ্‌ধারাটির অর্থ: অকর্মণ্য লোক। 

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- ম্যাও ধরা - দায়িত্ব নেওয়া।
- রাবণের চিতা - চির অশান্তি।
- রাম গরুড়ের ছানা - গোমড়ামুখো লোক।
- শিরে-সংক্রান্তি - আসন্ন বিপদ।
- শরতের শিশির - সুসময়ের বন্ধু / ক্ষণস্থায়ী।
- শবরীর প্রতীক্ষা - দীর্ঘকাল ধরে।
- মাছি মারা কেরানি - অবিকল অনুসরণ। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১০৪.
নিচের কোন শব্দটি শুদ্ধ?
  1. ক) ইতিপূর্বে
  2. খ) ইতপূর্বে
  3. গ) ইতোপূর্বে
  4. ঘ) ইতঃপূর্বে
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ শব্দটি হলোঃ
- ইতঃপূর্বে - এর আগে।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

১৪,১০৫.
'বামেতর' শব্দটির অর্থ-
  1. বামচোখ
  2. ডান
  3. ইতর
  4. বাম দিক
ব্যাখ্যা
• বামেতর (বিশেষণ পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- ডান;
- ডাহিন;
- দক্ষিণ।

কবিতায় ব্যবহার: প্রমীলার বামেতর নয়ন নাচিল- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,১০৬.
গৌরব এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. অপমান
  2. অমর্যাদা
  3. লজ্জা
  4. অহংকার
ব্যাখ্যা
• গৌরব -এর বিপরীত শব্দ - অগৌরব।

- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'গৌরব' শব্দটির অর্থ - গর্ব, অহংকার, মর্যাদা ইত্যাদি।

আবার,
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে 'অগৌরব'  শব্দটির অর্থ - অমর্যাদা।

উল্লেখ্য, 
'গৌরব' এর বিপরীত শব্দ হচ্ছে 'অমর্যাদা', যা সম্মান বা মর্যাদার অভাব বা অবমাননাকে বোঝায়।

সুতরাং, বলা যায় গৌরব শব্দের বিপরীত শব্দ - অমর্যাদা, লজ্জা।
-------------------
অন্যদিকে, 
লজ্জা অর্থ: কোনো উক্তি বা কর্ম সম্পাদনের জন্য অস্বস্তিকর মানসিক অবস্থা; গোপন বিষয় প্রকাশিত হয়ে পড়ার সংকোচ, শরম।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,১০৭.
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ কোনটি?
  1. কোথাও
  2. যথাসময়ে
  3. সামনে
  4. কি
ব্যাখ্যা
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,১০৮.
কেবল পুরুষবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) গুরু
  2. খ) কবিরাজ
  3. গ) ঢাকী
  4. ঘ) কৃতদার
  5. ঙ) অকৃতদার
ব্যাখ্যা
গুরু শব্দটি পুরুষ ও স্ত্রীবাচক উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। এরূপ আরো কিছু শব্দ হলো জন, পাখি, শিশু, সন্তান প্রভৃতি। কবিরাজ, ঢাকী, কৃতদার ও অকৃতদার শব্দগুলো কেবল পুরুষবাচক শব্দ। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
১৪,১০৯.
সাধিত ধাতুর প্রকরণ নয় কোনটি?
  1. নাম ধাতু
  2. কর্মবাচ্যের ধাতু
  3. সংযোগমূলক ধাতু
  4. প্রযোজক ধাতু
ব্যাখ্যা
• সাধিত ধাতুর প্রকরণ নয়- সংযোগমূলক ধাতু।
• ক্রিয়া পদের মূল অংশকে ধাতু বলে। ধাতু তিন প্রকার, যথা- মৌলিক ধাতু, সাধিত ধাতু এবং সংযোগমূলক ধাতু।

--------------------
• সাধিত ধাতু:
মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম-শব্দের সঙ্গে ‘আ’ প্রত্যয় যোগে সাধিত ধাতু গঠিত হয়। আবার যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করলে এক বা একাধিক প্রত্যয় পাওয়া যায় তাকেও সাধিত ধাতু বলা হয়।
যেমন:
- দেখ্‌ + আ= দেখা।
- পড় + আ= পড়া।
- বল + আ=বলা।

• সাধিত ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা:
১. নাম ধাতু,
২. প্রযোজক (নিজন্ত) ধাতু ও
৩. কর্মবাচ্যের ধাতু।

• নাম ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও অনুকার অব্যয়ের পর ‘আ’ প্রত্যয়যোগে যে সব ধাতু গঠিত হয়, তা-ই নামধাতু।
যেমন:
- সে ঘুমাচ্ছে।
[বাক্যে ঘুম থেকে নাম ধাতু ‘ঘুমা’ হয়েছে।]

• প্রযোজক ধাতু:
মৌলিক ধাতুর পরে প্রেরণার্থে (অপরকে নিয়োজিত করা অর্থে) 'আ' প্রত্যয় যোগ করে প্রযোজক ধাতু বা ণিজন্ত ধাতু গঠিত হয়।
যেমন: কর্‌ + আ = করা (এখানে 'করা' একটি ধাতু)।
বাক্য: সে নিজে চুরি করে না, অন্যকে দিয়ে করায়।

• কর্মবাচ্যের ধাতু:
মৌলিক ধাতুর সাথে 'আ' প্রত্যয় যোগে কর্মবাচ্যরে ধাতু সাধিত হয়। এটি বাক্যমধ্যস্ত কর্মপদের অনুসারী ক্রিয়ার ধাতু।
যেমন: হার্‌ + আ = হারা;
বাক্য: যা কিছু হারায় গিন্নী বলেন কেষ্টা বেটায় চোর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,১১০.
কোন কোন পদের পুরুষ আছে?
  1. ক) বিশেষ্য, সর্বনাম ও অব্যয়
  2. খ) বিশেষ্য, বিশেষণ ও অব্যয়
  3. গ) বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়া
  4. ঘ) বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

'পুরুষ' একটী পারিভাষিক শব্দ।
- বাংলা ব্যাকরণে কেবলমাত্র বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদেরই পুরুষ আছে।
- বিশেষণ ও অব্যয়ের কোন পুরুষ নাই।

পুরুষ তিন প্রকার।যথা-
উত্তম পুরুষ - আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি
মধ্যম পুরুষ - তুমি, তোমরা, তোমাকে, তোমাদের, আপনি, আপনারা ইত্যাদি মধ্যম পুরুষ।
নাম পুরুষ - সে, তারা, তাহারা, তাদের, তাহাকে, তিনি, তাঁরা ইত্যাদি নাম পুরুষ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।

১৪,১১১.
রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. শব্দের ব্যঞ্জনা
  2. উচ্চারণ-প্রক্রিয়া
  3. উপসর্গ
  4. ধ্বনির বিন্যাস
ব্যাখ্যা
• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে। এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া। উপসর্গ, সমাস, প্রত্যয়, পুরুষও রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

অন্যদিকে,
--------------
• অর্থতত্ত্ব: বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের অর্থতত্ত্ব অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।
• ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৪,১১২.
নিচের কোনটি 'স্ত্রী' শব্দের সমার্থক শব্দ?
  1. ক) দয়িতা
  2. খ) কলত্র
  3. গ) বনিতা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• 'স্ত্রী' শব্দের সমার্থক শব্দ - পত্নী, ভার্যা, অর্ধাঙ্গী, দয়িতা, জায়া, কলত্র, বনিতা, দারা ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র:- ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,১১৩.
এক কথায় প্রকাশ করুন- ‘হাতির ডাক'
  1. ক) অজিন
  2. খ) বৃংহতি
  3. গ) হ্রেষা
  4. ঘ) কেকা
ব্যাখ্যা
‘হাতির ডাক’ এর এক কথায় প্রকাশ - বৃংহতি

কিছু এক কথায় প্রকাশ:
পাখির কলতান - কূজন
ঘোড়ার ডাক - হ্রেষা
বাঘের ডাক - হুংকার
হস্তী রাখার স্থান - বারী/পিলখানা

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,১১৪.
এক কথায় প্রকাশ করুন: জয়ের জন্য যে উৎসব -
  1. বিজয়জয়ন্তী
  2. জয়ন্তী
  3. জয়ান্তী
  4. বিজয় উৎসব
ব্যাখ্যা
• 'জয়ের জন্য যে উৎসব' এক কথায় প্রকাশ - জয়ন্তী

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাক্যসংকোচন:
• একাদিক্রমে পঁচিশ বছর পূর্তিতে যে উৎসব - রজত জয়ন্তী;
• পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে যে উৎসব - সুবর্ণ জয়ন্তী
• ষাট বছর পূর্তিতে যে উৎসব - হীরক জয়ন্তী
• পঁচাত্তর বছর পূর্তিতে যে উৎসব - প্লাটিনাম জয়ন্তী হয়।

উৎস: বাংলা একাডেমী অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,১১৫.
'শ্বাদল' - কোন বাক্যের সংকোচিত রূপ?
  1. ক) শত পাপড়িবিশিষ্ট
  2. খ) ঈষৎ পীত বর্ণ
  3. গ) তৃণাচ্ছাদিত ভূমি
  4. ঘ) নীল বর্ণ পদ্ম
ব্যাখ্যা
তৃণাচ্ছাদিত ভূমি - শ্বাদল।
ঈষৎ পীত বর্ণ - আপীত।
শত পাপড়িবিশিষ্ট - শতদল।
নীল বর্ণ পদ্ম - ইন্দিবর।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,১১৬.
"সাহিত্যসভা" শব্দটি কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. কর্মধারয়
  3. বহুব্রীহি
  4. প্রাদি
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা= সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,১১৭.
'সকল তথ্য পরিগণিত হয়ে নতুন পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।'- এখানে 'পরিগণিত' শব্দের অর্থ কী?
  1. একত্রিত 
  2. বিবেচিত
  3. পর্যালোচনা 
  4. সংগৃহীত
ব্যাখ্যা

• পরিগণিত (বিশেষণ পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- গোনা হয়েছে এমন। 
- বিবেচিত।

প্রশ্নে প্রদত্ত বাক্য- 'সকল তথ্য পরিগণিত হয়ে নতুন পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।'- এখানে 'পরিগণিত' শব্দটি বিবেচিত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং বাক্যটি এমন অর্থ প্রকাশ করেছে - 'সকল তথ্য  বিবেচিত হয়ে নতুন পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।' 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১৪,১১৮.
আরবি থেকে আগত বাংলা শব্দগুচ্ছ কোনটি?
  1. ক) আওয়াজ-নজরানা-ফরমান
  2. খ) কলম-হাকিম-দখল
  3. গ) দরিয়া-আজাদ-সুদ
  4. ঘ) দাম-উর্দি-ভরসা
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে,

কলম (বিশেষ্য)
- আরবি শব্দ
অর্থ:
- কোনো শক্ত দন্ডের প্রান্তে বল বা নিব সংযুক্ত করে তৈরি লেখনী
- ঝরনাকলম
- নলখাগড়া পালক প্রভৃতির অগ্রভাগ ত্যারচা করে কেটে তৈরি লেখনী।
দখল (বিশেষ্য)
- আরবি
অর্থ:
- অধিকার,
- আয়ত্তে,
- আনয়ন,
- ব্যুৎপত্তি,
- জ্ঞান,
- পটুতা।

হাকিম (বিশেষ্য)
- আরবি।
অর্থ:
- বিচারক,
- ইউনানি চিকিৎসক,
- শাসনকর্তা।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৪,১১৯.
“দন্ত স্পৃষ্ট” ব্যঞ্জনের উদাহরণ কোনটি?
  1. ট, ঠ 
  2. ত, থ
  3. চ, ছ
  4. ড, ঢ
ব্যাখ্যা

“দন্ত স্পৃষ্ট” ব্যঞ্জনের উদাহরণ- ত, থ।
- দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময় দাঁতের সঙ্গে জিভের সংস্পর্শে তৈরি হয়।
----------------------
স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: 
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি বাগযন্ত্র পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথ বন্ধ করে, সেগুলোকেই স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জন নামেও পরিচিত।
- প, ব, ট, ঠ, ড, ঢ, ত, থ, দ, ধ, চ, ছ, জ, ঝ, ক, খ, গ, ঘ শব্দের প, ব, ট, ঠ, ড, ঢ, ত, থ, দ, ধ, চ, ছ, জ, ঝ, ক, খ, গ, ঘ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন।

- উচ্চারণের স্থান অনুযায়ী এগুলোকে ওষ্ঠ স্পৃষ্ট, দন্ত স্পৃষ্ট, মূর্ধা স্পৃষ্ট, তালু স্পৃষ্ট এবং কণ্ঠ স্পৃষ্ট—এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা—
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

১৪,১২০.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. নূন্য = নি+উন
  2. নিচেষ্ট = নি + চেষ্ট
  3. নয়ন = ন+অন
  4. তন্মধ্যে = তদ্‌+মধ্যে
ব্যাখ্যা
• তন্মধ্যে = তদ্‌+মধ্যে; সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক। 

• সন্ধির নিয়ম: 
- আগে ৎ বা দ্‌ এবং পরে ৎ + ন/ম্ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে ন্ দ্ + ন হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
- কিন্তু, দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ/দ্ সন্ধিতে ল্ দ্ + ম হয় এবং ল্ পরের ল-এর ৎ+ সঙ্গে মিলে ল্ল হয়।
যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি,
- তদ্‌ + নিমিত্ত = তন্নিমিত্ত,
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়,
- তদ্‌ + মধ্যে = তন্মধ্যে,
- উৎ + লিখিত = উল্লিখিত। 

অন্যদিকে, 
- 'নয়ন' এর শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- 'নে + অন = নয়ন'। 
- 'নিশ্চেষ্ট' এর সন্ধি বিচ্ছেদ: নিঃ + চেষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,১২১.
'তেপান্তর' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. তৎপুরুষ
  3. বহুব্রীহি
  4. দ্বিগু
ব্যাখ্যা
• যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন : 
- তেমাথা = তিন মাথার সমাহার,
- ত্রিফলা = তিন ফলের সমাহার,
- তেপান্তর = তিন প্রান্তরের সমাহার,
- ত্রিপদী = তিন পদের সমাহার,
- ত্রিকাল = তিন কালের সমাহার
- ত্রিলোক = তিন লোকের সমাহার ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৪,১২২.
পুর্ববর্তী শব্দ থেকে উৎপন্ন বোঝাতে কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ( √ )
  2. খ) ( < )
  3. গ) ( > )
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পুর্ববর্তী শব্দ থেকে উৎপন্ন বোঝাতে ( > ) চিহ্ন ব্যবহৃত হয় ।

বিশেষভাবে ব্যাকরণে নিম্ন লিখিত চিহ্নগুলো ব্যবহৃত হয়। 
•  ধাতু বা ক্রিয়ামূল বোঝাতে (√) চিহ্ন : √কৃ+অক = কারক 
• পরবর্তী শব্দ থেকে উৎপন্ন বোঝাতে (<) চিহ্ন হয়। যেমন : সাঁ < গ্রাম। 
• পূর্ববর্তী শব্দ থেকে উৎপন্ন বোঝাতে (>) চিহ্ন হয়। যেমন : স্বর্ণ > সোনা। 
• সম্মানবাচক বা সমস্তবাচক বোঝাতে (=) সমান চিহ্ন হয়। যেমন - পিতা ও মাতা = পিতামাতা

উৎস : মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪,১২৩.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. প্রোসিতভর্তৃকা
  2. ভৌগলিক
  3. শ্রদ্ধাঞ্জলি
  4. সমিচীন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'শ্রদ্ধাঞ্জলি' - শব্দটি সঠিক বানানে লেখা হয়েছে, যা উৎসর্গ বা নিবেদন বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 

অন্যান্য অপশনলিতে বানানগত অশুদ্ধি রয়েছে।
যেমন- 
ক) প্রোসিতভর্তৃকা – এর শুদ্ধ বানান - প্রোষিতভর্তৃকা।
খ) ভৌগলিক – শব্দটির সঠিক রূপ হলো - ভৌগোলিক।
ঘ) সমিচীন – সঠিক বানান হলো - সমীচীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,১২৪.
‘আপনা আপনি’ কোন শ্রেণির সর্বনাম?
  1. সংযোগজ্ঞাপক
  2. অন্যাদিবাচক
  3. ব্যতিহারিক
  4. আত্মবাচক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) ব্যতিহারিক সর্বনাম।

সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা হয়:
- ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক - আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
- আত্মবাচক - স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
- সামীপ্যবাচক - এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
- দূরত্ববাচক - ঐ, ঐসব।
- সাকুল্যবাচক - সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
- প্রশ্নবাচক - কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
- অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক - কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
- ব্যতিহারিক - আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর, ইত্যাদি।
- সংযোগজ্ঞাপক - যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা, ইত্যাদি।
- অন্যাদিবাচক - অন্য, অপর, পর, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১৪,১২৫.
'হৃষ্ট' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. হর্ষ
  2. পুষ্ট
  3. বিষণ্ণ
  4. শীর্ণ
ব্যাখ্যা
• ‘হৃষ্ট’ শব্দের অর্থ: উল্লাস, পুলকিত, রোমাঞ্চিত, প্রফুল্ল, আনন্দ।

• 'হৃষ্ট' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিষণ্ণ।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ:
• হর্ষ - বিষাদ।
• ক্ষীণ - পুষ্ট। 
• শীর্ণ - স্থূল। 
• তিক্ত - মধুর।
• অবিরল - বিরল।
• কুটিল - সরল।
• জীবিত - মৃত।
• অমৃত - গরল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,১২৬.
নিচের কোন শব্দটিতে নিত্য মূর্ধন্য 'ষ' বর্তমান?  
  1. কৃষক
  2. পুরস্কার
  3. ভূষণ
  4. সৃষ্টি
ব্যাখ্যা

নিত্য মূর্ধন্য 'ষ' এর উদাহরণ - 'ভূষণ'।

• কিছু নিত্য মূর্ধন্য 'ষ'এর উদাহরণ:
- ভাষণ, ভূষণ, বিশেষ, আষাঢ়, শেষ, মানুষ, ঔষধ, ষড়ঋতু, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ষ- ত্ব বিধান অনুসারে,
- বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।
- 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৪,১২৭.
কোনটি চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়
  2. চটুল, সরল ও সাবলীল
  3. গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর
  4. সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা
ব্যাখ্যা

• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য - গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর

চলিত ভাষারীতি:

১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা
২. চলিত ভাষা সবসময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৪,১২৮.
বার ও মাসের নামের পর কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. বিন্দু
  2. কোলন
  3. ড্যাস
  4. কমা
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• কমা:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না। কমা চিহ্নের বাংলা নাম পাদচ্ছেদ।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।

• সম্বোধন পদের পরে সাধারণত কমা বসে।
যেমন:
- স্যার, আমাকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে দেবেন?
- রব, এদিকে এসো।

• বাক্যে একাধিক বিশেষ্য কিংবা বিশেষণ পদের বিবৃতি প্রকাশের ক্ষেত্রে কমা বসাতে হয়।
যেমন:
- জনি বুদ্ধিমান, সাহসী ও জ্ঞানী।
- মীম, সানি, হারুন ও রব কক্সবাজার গিয়েছে।

• তারিখ লিখতে বার ও মাসের পরে ‘কমা’ বসে।
যেমন:
- ১৯শে আশ্বিন, বৃহস্পতিবার, ১৪২৫ সালে মীম বান্দরবান জেলায় জন্মগ্রহণ করে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪,১২৯.
কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) জমক+আলো= জমকালো
  2. খ) চরিত্র+ইক=চারিত্রিক
  3. গ) ভাজ্‌+ই = ভাজি
  4. ঘ) সর্বজন+ঈন=সর্বজনীন
ব্যাখ্যা
- কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ ভাজ্‌+ই = ভাজি

• অন্যান্য অপশন:
- জমক+আলো= জমকালো
- চরিত্র+ইক=চারিত্রিক
- সর্বজন+ঈন=সর্বজনীন
উপরের তিনটি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি।
১৪,১৩০.
ক্রিয়াপদের যে অবিভাজ্য অংশ এর অন্তর্নিহিত মূল ভাবটির দ্যোতনা করে তাকে কী বলে?
  1. বিভক্তি
  2. পদ
  3. ধাতু
  4. প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• ধাতুর সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য:
ক্রিয়ার মূল অংশকে বলা হয় ধাতু। 

ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওয়া যায়- একটি ধাতু বা ক্রিয়ামূল অপরটি ক্রিয়াবিভক্তি। ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়াবিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তা-ই হলো ধাতু। অর্থাৎ ক্রিয়ামূলের আরেক নাম ধাতু।

ড. এনামুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, 'ক্রিয়াপদের যে অবিভাজ্য অংশ এর অন্তর্নিহিত মূল ভাবটির দ্যোতনা করে তাকে ধাতু বলে।'
যেমন-
- শাহীন কাজটি করছে।
- আমি কাজটি করছি।
- সে কাজটি করেছিল।

নিচে তিনটি ক্রিয়াপদের ধাতুর রূপ দেখানো হলো:
মূল ক্রিয়া - বিভক্তি - ক্রিয়াপদ:
• কর্ + ছি = করছি। 
• কর্ + ছে = করছে। 
• কর্ + ছিল = করছিল। 

এরকম- ধর, কর, জান, যা, খা, ধো, কাঁদ ইত্যাদি হলো ক্রিয়ামূল বা ধাতু। 

অন্যদিকে, 
• শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে পদ বলে।
• যে বর্ণ বা বর্ণ সমষ্টি ধাতু বা শব্দের পরে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে প্রত্যয় বলে।

• বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের অন্বয় সাধনের জন্য শব্দের সঙ্গে যে সকল বর্ণ যুক্ত হয় তাদের বিভক্তি বলে। যেমন: ছাদে বসে মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। বাক্যটিতে ছাদে (ছাদ+এ বিভক্তি), মা (মা+০ বিভক্তি) শিশুকে (শিশু+কে বিভক্তি), চাঁদ (চাঁদ+০ বিভক্তি) ইত্যাদি পদে বিভিন্ন বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪,১৩১.
‘নিঃস্ব’ কোন ধরনের শব্দ?
  1. ক) মৌলিক
  2. খ) সাধিত
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) রূঢ়ি
ব্যাখ্যা

গঠনগত দিক থেকে শব্দ দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত:
ক. মৌলিক শব্দ ও
খ. সাধিত শব্দ।

ক. মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভাঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন: কলম, বাক্য, পদ্ম, নিঃস্ব, আম, বই ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি৷

১৪,১৩২.
উৎসগতভাবে 'গারদ' শব্দটি কোন ভাষা হতে এসেছে?
  1. ফারসি
  2. ইংরেজি
  3. পর্তুগিজ
  4. তামিল
ব্যাখ্যা
• উৎসগতভাবে 'গারদ' শব্দটি 'ইংরেজি' ভাষা হতে এসেছে।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- জেল, কয়েদ, কারাদণ্ড, কারাগার, জেলখানা, ফাটক।

আরো কিছু ইংরেজি শব্দ:
- কফিন,
- কমিটি,
- ডজন,
- ডলফিন,
- তার্পিন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,১৩৩.
"দুই কান কাটা যার" - ব্যাসবাক্যটি কোন বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত?
  1. প্রত্যয়ান্ত
  2. ব্যাধিকরণ
  3. ব্যতিহার
  4. সমানাধিকরণ
ব্যাখ্যা

ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি।
যথা:
আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব।

• পরপদ কৃদন্ত বিশেষণ হলেও ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন:
- দুই কান কাটা যার = দু কানকাটা,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা,
অনুরূপভাবে - পাতা-চাটা, পাতাছেঁড়া, ধামাধরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৪,১৩৪.
'সন্ন্যাস' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সমঃ + ন্যাস
  2. সম্ + ন্যাস
  3. সৎ + ন্যাস
  4. সদ্‌ + ন্যাস
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- আগে ম্ এবং পরে চ্ থেকে ম্ পর্যন্ত বর্গীয় ধ্বনির যেকোনোটি থাকলে পূর্বপদের ম্ স্থানে পরবর্তী বর্গীয় ধ্বনির পঞ্চম ধ্বনি হয়।

যেমন:
- সম্ + ধি = সন্ধি, 
- সম্ + নিবেশ = সন্নিবেশ, 
- সম্ + ন্যাস = সন্ন্যাস
- সম্ + প্রীতি = সম্প্রীতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৪,১৩৫.
কোনটি সাদৃশ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস নয়?
  1. ক) উপকূল
  2. খ) উপবন
  3. গ) উপগ্রহ
  4. ঘ) উপশহর
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। কূলের সমীপে = উপকূল সামীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস। সাদৃশ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হলোঃ বনের সদৃশ =উপবন, শহরের সদৃশ= উপশহর, গ্রহের তুল্য /সদৃশ= উপগ্রহ। রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণী বোর্ড বই।
১৪,১৩৬.
পূর্বপদে ‘কু’ বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে ‘কু’ এর স্থানে কি হয়?
  1. ক) কো
  2. খ) কৃ
  3. গ) কৎ
  4. ঘ) ক
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে 'কু' বিশেষণ থাকলে এবং পরপদে প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে 'কু' স্থানে 'কৎ' হয়।
যেমন: কু যে অর্থ = কদর্থ ; কু যে আচার = কদাচার।
সূত্র - বাংলা ভাষার ব্যাকরণঃ নবম - দশম শ্রেণির বোর্ড বই।
১৪,১৩৭.
‘মৃগেন্দ্র’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. হরিণ
  2. সিংহ
  3. হাতি
  4. ঘোড়া
ব্যাখ্যা
• ‘সিংহ' এর সমার্থক শব্দ: পশুরাজ, কেশরী, মৃগেন্দ্র, পারীন্দ্র, মৃগরাজ।

অন্যান্য শব্দগুলোর প্রতিশব্দ বা সমর্থক শব্দ হলো:
• 'হরিণ' এর সমার্থক শব্দ: মৃগ, কুরঙ্গ, সুনয়ন, সারঙ্গ।
• 'হাতি' এর সমার্থক শব্দ: গজ, দ্বিপ, দ্বিরদ, ঐরাবত হস্তী, করী, দন্তী, দন্তাবল, নগজ ইত্যাদি।
• ‘ঘোড়া’ এর সমর্থক শব্দ: অশ্ব, বাহ, ঘোটক, তুরঙ্গম, তুরগ, হ্রেষী, বামী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,১৩৮.
'প্রচুর + ষ্ণ্য = প্রাচুর্য' কোন প্রত্যয়?
  1. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  4. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• প্রচুর + ষ্ণ্য = প্রাচুর্য; সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

• ষ্ণ্য (য)সংস্কৃত তদ্ধিত
প্রত্যয়:

(ক) অপত্যার্থে : মনুঃ + ষ্ণ্য = মনুষ্য, জমদগ্নি+ ষ্ণ্য = জামদগ্ন্য।
(খ) ভাবার্থে : সুন্দর+ ষ্ণ্য = সৌন্দর্য, শূর+ ষ্ণ্য = শৌর্য। ধীর+ ষ্ণ্য= ধৈর্য।
(গ) বিশেষণ গঠনে: পর্বত + ষ্ণ্য = পার্বত্য, বেদ+ ষ্ণ্য = বৈদ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৪,১৩৯.
'ঘাড়ের ভূত নামানো' প্রবাদটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. অপ্রাসঙ্গিক কাজ করা
  2. বড় রকমের বিপদ থেকে উদ্ধার লাভ
  3. দুর্বুদ্ধি ত্যাগ করা
  4. ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব থেকে মুক্তি লাভের আকুলতা
ব্যাখ্যা
• 'ঘাড়ের ভূত নামানো' প্রবাদের অর্থ - দুর্বুদ্ধি ত্যাগ করা। 

অন্যদিকে, 
• 'ধান ভানতে শিবের-গীত্র/ধেনো হাটে ওল নামানো' অর্থ - অপ্রাসঙ্গিক কাজ করা। 
• 'ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়া' অর্থ - বড় রকমের বিপদ থেকে উদ্ধার লাভ। 
• 'ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি' অর্থ - ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব থেকে মুক্তি লাভের আকুলতা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,১৪০.
’ময়ঙ্ক’ শব্দের অর্থ কী?
  1. সূর্য
  2. চাঁদ
  3. আলো
  4. চুল
  5. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- ময়ঙ্ক শব্দের অর্থ- চাঁদ।

অন্যদিকে,
• ’ময়ূখ’ শব্দের অর্থ- আলো।
• ’কেশ’ শব্দের অর্থ- চুল।
• ময়ূখমালী শব্দের অর্থ- সূর্য।

উৎম:  বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪,১৪১.
'প্রহেলিকা' শব্দের অর্থ-
  1. দীর্ঘকায়
  2. সৌহার্দ্য
  3. বোঝা কঠিন এমন প্রশ্ন
  4. স্পষ্টত প্রতীয়মান
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'প্রহেলিকা' শব্দের অর্থ-
- 'বোঝা কঠিন এমন প্রশ্ন';
- কূটপ্রশ্ন;
- হেঁয়ালি। 

অন্যদিকে, 
• 'প্রাংশু' শব্দের অর্থ- দীর্ঘকায়;
• 'মৈত্রী' শব্দের অর্থ- সৌহার্দ্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,১৪২.
”ঋতুতে ঋতুতে যজ্ঞ করেন যিনি।”-এক কথায় প্রকাশ কী হবে?
  1. ঋষিকল্প
  2. ঋত্বিক
  3. ঋষিতুল্য
  4. উত্তমর্ণ
ব্যাখ্যা

• ”ঋতুতে ঋতুতে যজ্ঞ করেন যিনি।”-এক কথায় প্রকাশ- ঋত্বিক।

অন্যদিকে,
- ঋষির ন্যায়- ঋষিকল্প।
- ঋণ দেয় যে- উত্তমর্ণ।
- ঋষির তুল্য - ঋষিতুল্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা. ড.হায়াৎ মামুদ।

১৪,১৪৩.
কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস?
  1. ক্ষণস্থায়ী
  2. হাসিমুখ
  3. হাতেখড়ি
  4. অরুণরাঙা
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ক্ষণকাল ব্যাপীয়া স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী, এটি ব্যাপ্তি অর্থে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি, মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস।
- 'অরুণরাঙা' শব্দটি উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,১৪৪.
মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।"- উক্তিটির পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. মিহির বললো, তার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।
  2. মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
  3. মিহির বলে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
  4. মিহির বললো যে, সে জানতো সবুজ সে বাসায় থাকতো।
ব্যাখ্যা
• অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন
• প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।"
• পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

উল্লেখ্য,
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।

• উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

যেমন
- ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।" এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
- ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরোক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৪,১৪৫.
মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন কোনটি?
  1. ত 
ব্যাখ্যা

• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১৪,১৪৬.
কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. বন + ওষধি = বনৌষধি
  2. রাজ + ঋষি = রাজর্ষি
  3. মহা + ঔষধ = মহৌষধ
  4. মহা + ঋষি = মহর্ষি
ব্যাখ্যা

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ঋ-কার থাকলে উভয়ে মিলে 'অর' হয় এবং তা রেফ রূপে পরবর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়। যেমন-
• রাজা + ঋষি = রাজর্ষি,
• মহা + ঋষি = মহর্ষি,
• উত্তম + ঋণ = উত্তমর্ণ,
• অধম + ঋণ = অধমর্ণ ইত্যাদি।

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন-
• মহা + ঔষধ = মহৌষধ,
• মহা + ওষধি = মহৌষধি,
• বন + ওষধি = বনৌষধি,
• পরম + ঔষধ = পরমৌষধ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪,১৪৭.
'Yellow dog' শব্দের পারিভাষিক অর্থ-
  1. হলুদ কুকুর
  2. দুর্বল ব্যক্তি
  3. অসহায় ব্যক্তি
  4. হীন ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
'Yellow dog' শব্দের পারিভাষিক অর্থ হীন ব্যক্তি।
১৪,১৪৮.
'উপকণ্ঠ' শব্দে উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ 
  2. ক্ষুদ্র 
  3. সদৃশ 
  4. সামীপ্য
ব্যাখ্যা

• বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ
→ সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
→ ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
→ বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ।

• তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪,১৪৯.
‘গ্রীষ্মের তাপদাহে জীবন অতিষ্ঠ।’ বাক্যটিতে কিসের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বচনজনিত
  2. খ) গুরুচন্ডালীজনিত
  3. গ) উপমাজনিত
  4. ঘ) সমাসজনিত
ব্যাখ্যা

গুরুচণ্ডালী বলতে বোঝায় তদ্ভব এবং তৎসম শব্দের মিশ্রণ।
এমন হলে বাক্যে অপপ্রয়োগ হয়েছে বলা যায়৷
এদের গুরুচণ্ডালী ভুল গুলো হচ্ছে - গরুর শকট, মড়া দাহ, শব পোড়া, তাপদাহ
গরুর গাড়ি, মরা পোড়া, শবদাহ, দাবদাহ - এরকম হলে গুরুচণ্ডালী দোষ হবে না।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

১৪,১৫০.
‘ইতি’ শব্দের প্রতিশব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) অবসান
  2. খ) বরেণ্য
  3. গ) শেষ
  4. ঘ) বিরাম
ব্যাখ্যা
‘ইতি’ শব্দের প্রতিশব্দ নয়- 'বরেণ্য' 
 
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'বরেণ্য' শব্দের অর্থ- বরণ করার যোগ্য যিনি; শ্রেষ্ঠ; প্রার্থনীয়। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,১৫১.
ভাষার মূল ভিত্তি হচ্ছে - 
  1. বাক্য
  2. ধ্বনি
  3. শব্দ
  4. বর্ণ 
ব্যাখ্যা

ভাষার মূল ভিত্তি - ধ্বনি।
-----------
• ভাষার মূল ভিত্তি:
- ধ্বনি হলো ভাষার মূল ভিত্তি।
- এটি সবচেয়ে ক্ষুদ্র মৌলিক উপাদান, যা মানুষের বাকযন্ত্রের সাহায্যে উৎপন্ন হয়।
- অ, আ, ক, খ ইত্যাদি ধ্বনির সমন্বয়ের মাধ্যমেই অর্থবোধক শব্দ গঠিত হয় এবং সেই শব্দ থেকেই ভাষার কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকে।
- যদিও ধ্বনি ভাষার ক্ষুদ্রতম একক, তবু এককভাবে এর কোনো অর্থ থাকে না।
- অর্থ সৃষ্টি হয় একাধিক ধ্বনি মিলিত হয়ে শব্দ গঠনের মাধ্যমে।
- এই কারণেই ধ্বনিকে ভাষার ‘মূল বীজ’ বলা হয়।
- ধ্বনি নিজে অর্থহীন হলেও শব্দ ও বাক্য গঠনের মাধ্যমে ভাষায় অর্থ সৃষ্টির প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
--------------------------- 
অন্যদিকে,
• বাক্য ভাষার মূল উপকরণ।
• ভাষার মৌলিক উপাদান- শব্দ।
• ধ্বনি নির্দেশক চিহ্ন - বর্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৪,১৫২.
‘নাতিদূর’ কোন সমাস ?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) নঞ বহুব্রীহি
  4. ঘ) নঞ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

নাতিদূর/ অনতিদূর (ন অতিদূর) নঞ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- পরপদের অর্থ প্রাধান্য রেখে নঞ অব্যয়( ন, না, নাই, নেই ইত্যাদি) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকেই নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে।
- উদাহরণ: অক্ষত, অবিশ্বাস্য, বেআইনি, অমিল ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)

১৪,১৫৩.
দুইয়ের মধ্যে অতিশায়ন বুঝাতে কোন শব্দটি ব্যবহার করতে হয়?
  1. ক) কোনটিই নয়
  2. খ) অপেক্ষা
  3. গ) সবচেয়ে
  4. ঘ) সর্বাপেক্ষা
ব্যাখ্যা
বাংলা শব্দের অতিশায়নে দুয়ের মধ্যে তুলনা বুঝাতে চাইতে, চেয়ে, থেকে, হইতে, হতে, অপেক্ষা ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়। অনেকের মধ্যে উপকর্ষ বা অপকর্ষ বুঝাতে মুল বিশেষণের কোন পরিবর্তন হয় না। মূল বিশেষণের পূর্বে সবচাইতে, সবচেয়ে, সব থেকে, সর্বাপেক্ষা প্রভৃতি শব্দ ব্যবহৃত হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৪,১৫৪.
এক কথায় প্রকাশ করুন- 'অক্ষির সমীপে'-
  1. চাক্ষুষ
  2. সমক্ষ
  3. প্রত্যক্ষ
  4. পরোক্ষ
ব্যাখ্যা
• 'অক্ষির সমীপে' কে এককথায় বলে - সমক্ষ।

অন্যদিকে,
- 'চক্ষুর সম্মুখে সংঘটিত' এর এককথায় প্রকাশ - চাক্ষুষ।
- 'অক্ষির অগোচরে' এর এককথায় প্রকাশ - পরোক্ষ।
- 'অক্ষির অভিমুখে' এর এককথায় প্রকাশ - প্রত্যক্ষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,১৫৫.
'সেতার' শব্দের অর্থ কী?
  1. তারকা
  2. বাদ্যযন্ত্র
  3. বিখ্যাত
  4. একাকী
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমী, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- সেতার - অর্থ এক প্রকার বাদ্যযন্ত্রবিশেষ।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ:
- বামেতর - ডান, 
- সায়র - দিঘি, 
- পার্বণ - উৎসব, 
- লেফাফা - মোড়ক, 
- আদিখ্যেতা - ন্যাকামি, 
- চয়ন -  সম্ভার, 
- অর্ঘ - মূল্য,  
- অর্ঘ্য - পূজার উপকরণ।

উৎস: বাংলা একাডেমী, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,১৫৬.
‘পৃথিবী’ শব্দের প্রতিশব্দ নয় কোনটি?
  1. অম্বর
  2. ক্ষিতি
  3. ভূ
  4. মহী
ব্যাখ্যা
• ‘পৃথিবী’ শব্দের প্রতিশব্দ নয় - অম্বর
- এটি 'আকাশ' শব্দের প্রতিশব্দ।

'পৃথিবী’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- জগৎ, ভুবন, সংসার, বিশ্ব, ধরা, ধরণী, ধরিত্রী, বসুমতী, বসুন্ধরা, পৃথ্বী, দুনিয়া, ভূ, ভূমণ্ডল, মর্ত্য, বসুধা, অবনী, মহী, মেদিনী, ক্ষিতি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,১৫৭.
'পণ' শব্দের অর্থ কোনটি?
  1. অঙ্গীকার
  2. আদর্শ
  3. কল্যাণ
  4. চেতনা
ব্যাখ্যা
পণ:
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: অঙ্গীকার, দৃঢ় সংকল্প।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪,১৫৮.
’তেপান্তর’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বিগু
  2. খ) অব্যয়ীভাব
  3. গ) নিত্য সমাস
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন : 
- তেমাথা = তিন মাথার সমাহার,
- ত্রিফলা = তিন ফলের সমাহার,
- তেপান্তর = তিন প্রান্তরের সমাহার,
- ত্রিপদী = তিন পদের সমাহার,
- ত্রিকাল = তিন কালের সমাহার
- ত্রিলোক = তিন লোকের সমাহার ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৪,১৫৯.
নিচের কোন চিহ্ন বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে?
  1. ত্রিবিন্দু
  2. কোলন
  3. সেমিকোলন
  4. দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে। বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়। অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,১৬০.
'বর্গি' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. তৎসম
  2. সিংহলি
  3. বর্মি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা

• বর্গি,
- ফারসি শব্দ।
অর্থ: অষ্টাদেশ শতকের অশ্বারোহী মারাঠি দস্যুসৈন্য।

আবার,
বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে,
• ‘বর্গি’ মারাঠি শব্দ।
 
শব্দের উৎসমূল এর ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের তথ্য অধিক গ্রহণযোগ্য হওয়ায় সঠিক উওর হবে ‘ফারসি’। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

 

১৪,১৬১.
'Ethics' শব্দের সঠিক পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. তথ্যচিত্র
  2. ব্রতকথা 
  3. তথ্যকথা
  4. নীতিশাস্ত্র
ব্যাখ্যা

• 'Ethics' শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ -  নীতিবিদ্যা/ নীতিশাস্ত্র।

অন্যদিকে,
'Vow' অর্থ - ব্রতকথা। 
'Documentary' অর্থ - তথ্যচিত্র।  
'Information' অর্থ - তথ্যকথা। 

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি;  অভিগম্য অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪,১৬২.
’এ ব্যক্তিটি আমার চেনা লোক’- বাক্যে ’চেনা’ কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. অব্যয়
  3. বিশেষণ
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা

’এ ব্যক্তিটি আমার চেনা লোক’- বাক্যে ’চেনা’ বিশেষণ পদ।

• বিশেষণ:

⇒ যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন : সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ। 

⇒ বিশেষণ এর বিভিন্ন প্রকার:
১. বর্ণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ। -
২. গুণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ। -
৩. অবস্থাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।
৪. ক্রমবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে। যেমন এক টাকা, আট দিন এখানে 'এক' ও 'আট' ক্রমবাচক বিশেষণ।
৫. পূরণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান এখানে 'তৃতীয়' ও '৩৪তম' পূরণবাচক বিশেষণ।
৬. পরিমাণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন - আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।
৭. উপাদানবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে। যেমন-বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি এখানে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

১৪,১৬৩.
কোন বাক্যে 'লোক' শব্দটি বহুবচন নির্দেশ করছে?
  1. লোকটি অত্যন্ত ভদ্র। 
  2. ওই লোকটা সবার কাছে প্রিয়।
  3. বাজারে লোক কম।
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন-
- বাজারে লোক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

• বচন:
- বচন হলো সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার:
- একবচন ও বহুবচন।

- একবচন শব্দের উদাহরণ:
- শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।
- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?

- বহুবচন শব্দের উদাহরণ:
- মাঝিরা নৌকা চালায়।
- কলমগুলোর দাম অনেক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২৪ সংস্করণ)।

১৪,১৬৪.
‘চঞ্চল’ এর স্ত্রীলিঙ্গ কী?
  1. চঞ্চলমতি
  2. চঞ্চলময়ী
  3. চঞ্চলা
  4. চঞ্চলবতী
ব্যাখ্যা
চঞ্চল  (বিশেষণ)
অর্থ: 
- অস্থির; চলনশীল; চলমান।
- ছটফটে, চপল; অশান্ত।
- চ্যাকুল; উৎকণ্ঠিত; ব্যগ্র।

স্ত্রীলিঙ্গ:
- চঞ্চলা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ও অভিগম্য অভিধান।
১৪,১৬৫.
কোনটি সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ?
  1. কাল
  2. প্রয়োজন
  3. সময়
  4. সুস্বাগত
ব্যাখ্যা
• সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ - সুস্বাগত
- শুদ্ধ প্রয়োগ - স্বাগত।

অন্যদিকে,
- প্রয়োজন,
- সময়,
- কাল।
উপরিউক্ত শব্দগুলর শুদ্ধ প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,১৬৬.
"স্বয়ংবরা" - শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. স্বয়্‌ + বরা
  2. স্বম + বরা
  3. স্বয়ম্‌ + বরা
  4. স্বয়মঃ + বরা
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম: 
- ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার ( ং) হয়।

যেমন:
- সম্‌ + সার = সংসার,
- সম্‌ + বাদ = সংবাদ,
- সম্‌ + শয় = সংশয়,
- সম্‌ + হার = সংহার,
- স্বয়ম্‌ + বরা = স্বয়ংবরা ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪,১৬৭.
'ভানুমতীর খেল' বাগ্‌ধারাটির অর্থ -
  1. ফটকাবাজি
  2. চোরা কারবারি
  3. জাদুবিদ্যা
  4. অকাজের কাজ
ব্যাখ্যা
• 'ভানুমতীর খেল' অর্থ:
- জাদুবিদ্যা; ভোজবাজি; কুহকবিদ্যা; ভেলকিবাজি।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা
'রামগরুড়ের ছানা' - গোমড়ামুখো লোক। 
• 'লগন চাঁদা' - ভাগ্যবান। 
• 'কালে ভদ্রে' - কদাচিৎ।
• 'ঝিঙেফুল' - আয়ু ফুরিয়ে আসা।  
• 'গয়ংগচ্ছ' - ঢিলেমি।
• 'বুদ্ধির ঢেঁকি' - নির্বোধ লোক।

উৎস: বাংলা একাডেমী অভিধান; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাগধারা বাগবিধি - মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
১৪,১৬৮.
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে কোন ক্রিয়াপদ গঠিত হয়?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. সংযোগ ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তামিম সময়মতো স্টেশনে পৌঁছে গেল।
- সাইরেন বেজে উঠল।
- সে আমার কথা শুনে হেসে উঠল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৪,১৬৯.
শুদ্ধ যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. ঞ্‌ + ব = ঞ্ঝ
  2. হ্ + ম = হ্ম
  3. ষ্‌ + ক = ক্ষ
  4. ক্ + ষ + ন = ক্ষ্ম
ব্যাখ্যা
• একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
যেমন:
- হ্ + ম = হ্ম। 

• 'হ্ম' - সহযোগে গঠিত কয়েকটি শব্দ: ব্রাহ্মণ, ব্রাহ্মনবাড়িয়া, ব্রহ্মপুত্র ইত্যাদি।

-----------------
গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলো:
- ঞ্‌ + ঝ = ঞ্ঝ, 
- ঞ + জ = ঞ্জ,
- ঞ + চ = ঞ্চ,
- ঞ + ছ = ঞ্ছ,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- ক্ + ষ + ম = ক্ষ্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
১৪,১৭০.
নিচের কোন শব্দজোড়া সমার্থক নয়?
  1. স্রোতস্বিনী, তটিনী
  2. পিক , পরভৃত
  3. বীচি, তরঙ্গ
  4. ললাট, অর্ক
ব্যাখ্যা

- ‘উর্মি’ শব্দের সমার্থক শব্দ - লহরী, ঢেউ, বীচি, তরঙ্গ, কল্লোল ইত্যাদি।
- পিক ও পরভৃত - দুটোই 'কোকিল' এর সমার্থক শব্দ।
- তরঙ্গিনী শব্দের সমার্থক শব্দ - নদী, স্রোতস্বিনী, তটিনী, প্রবাহিনী, শৈবালিনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ললাট - 'কপাল' এর সমার্থক শব্দ।
- সূর্য শব্দের সমার্থক- অর্ক ইত্যাদি।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি অভিধান।

১৪,১৭১.
'গোড়া' ও গোঁড়া' শব্দের অর্থ যথাক্রমে -
  1. আদি ও অন্ত
  2. মূল অংশ ও রক্ষণশীল
  3. রক্ষণশীল ও মূল অংশ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• গোড়া (বিশেষ্য),
অর্থ: 
- মূল (গাছের গোড়া, কাজের গোড়া)।
- নৈকট্য; সন্নিধান (দোর-গোড়া)।
- ভিত্তি; ভিত্তিমূল (গোড়া পত্তন করা)।
- আদি; সূত্রপাত (গোড়া থেকে শুরু করা)।

• গোঁড়া(বিশেষণ);
অর্থ: 
- ধর্মমতে অন্ধবিশ্বাসী ও একগুঁয়ে,
- রক্ষণশীল মনোভাবাপন্ন; 
- প্রাচীনপন্থি; 

সূত্র: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও অভিগম্য অভিধান। 
১৪,১৭২.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. ক) মোড়ক
  2. খ) ঝলক
  3. গ) ভিখারি
  4. ঘ) ভয়
ব্যাখ্যা
'আরি' প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিত প্রত্যয়সাধিত শব্দ- 'ভিখারি'।

অন্যান্যগুলো সব কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- √ মুড় + অক = মোড়্‌ক                                                                                           
- √ ঝল্‌ + অক = ঝলক,
- √ভি + অল্‌ = ভয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি। 
১৪,১৭৩.
‘গায়ক’ শব্দটির প্রকৃতি-প্রত্যয় ও ব্যবহারিক অর্থ একই— এটি কোন ধরনের শব্দের উদাহরণ?
  1. রূঢ় শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. তদ্ভব শব্দ
  4. অপভ্রংশ শব্দ 
ব্যাখ্যা

যৌগিক শব্দ: 
যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই, সেসব শব্দকে যৌগিক শব্দ বলে। 
অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গায়ক (মূল শব্দ) - গৈ+অক (শব্দ গঠন অর্থ) - যে গান করে (অর্থ)।
- মধুর = মধু + র; অর্থ - মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

১৪,১৭৪.
কোন উপসর্গটি ভিন্নার্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. প্রতিপক্ষ
  2. প্রতিদ্বন্দ্বী
  3. প্রতিবিম্ব
  4. প্রতিবাগ
ব্যাখ্যা

• প্রতিপক্ষ, প্রতিদ্বন্দ্বী, প্রতিবাদ (প্রশ্নে বানান ভুল) → এখানে “প্রতি-” মূলত বিপরীত/বিরুদ্ধে/বিপক্ষে (opponent/counter/against) অর্থে এসেছে।
• প্রতিবিম্ব → এখানে “প্রতি-” প্রতিফলন/অনুরূপ প্রতিচ্ছবি (reflection/image) অর্থে ব্যবহৃত—এটা “বিরুদ্ধে” অর্থে নয়।

সুতরাং, সঠিক উত্তর গ) প্রতিবিম্ব।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৪,১৭৫.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. ক) ইহার আবশ্যকতা নাই
  2. খ) আবশ্যকীয় ব্যয়ে কার্পণ্য অনুচিত
  3. গ) বিনয়পূর্বক নিবেদন করি।
  4. ঘ) সকল সুধীমন্ডলী উপস্থিত আছেন
ব্যাখ্যা
- 'সকল সুধীমন্ডলী উপস্থিত আছেন' বাক্যটি অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধরূপ হল: সুধীমন্ডলী উপস্থিত আছেন।  

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি।
১৪,১৭৬.
নিচের কোনটি উপসর্গের কাজ নয়?
  1. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়
  2. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে
  3. শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে
  4. শব্দের অর্থবাচকতা তৈরি করা
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না।
এগুলো অন্যে শব্দের আগে বসে।
এর প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়।
যেমন-
নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়,
শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়,
শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে,
শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে এবং
শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।

ভাষায় ব্যবহৃত এসব অব্যয়সূচক শব্দাংশেরই নাম উপসর্গ।
যেমন-
‘পাতি’ একটি বাংলা উপসর্গ। এটি ক্ষুদ্র বা ছোট অর্থে ব্যবহৃত হয়।
'পাতি' যোগে কিছু শব্দঃ পাতিহাঁস, পাতিশিয়াল, পাতিলেবু, পাতকুয়ো ইত্যাদি।

১৪,১৭৭.
কোনটি ‘আকাশ’ এর সমার্থক শব্দ?
  1. নীলাম্বু
  2. বারিধি
  3. সায়র
  4. নীলিমা
ব্যাখ্যা
• 'আকাশ' শব্দের অন্যান্য সমার্থক শব্দ:
গগন, অন্তরিক্ষ, অম্বর, ব্যোম, আসমান, দ্যুলোক, শূন্য, নভঃ, নীলিমা, অনন্ত, সুরপথ, অম্বরতল, খলোক, খগোল, নক্ষত্রলোক, নভোলোক, নভস্থল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ:
জলধি, সাগর, সিন্ধু, সায়র, দরিয়া, অকূল, পাথার, বারিধি, রত্নাকর, নীলাম্বু, পয়োধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪,১৭৮.
‘পরাহ্ন’ শব্দটি কী কারণে অশুদ্ধ? 
  1. বাহুল্যজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. ণত্ব বিধি লঙ্ঘন
  4. সন্ধিজনিত 
ব্যাখ্যা

ণ-ত্ব বিধি লঙ্ঘন করেছে বিধায় ‘পরাহ্ন’ শব্দটি অশুদ্ধ।
----------------------
• ণ-ত্ব বিধান:
- ণ-ত্ব বিধান বাংলা ভাষায় মূর্ধন্য ‘ণ’-এর সঠিক প্রয়োগের নিয়মাবলি নির্দেশ করে।
- ণ-ত্ব বিধান বাংলা ব্যাকরণের সেই নিয়ম যা নির্দেশ করে যে কখন তৎসম (সংস্কৃত থেকে আগত) শব্দে দন্ত্য ‘ন’ পরিবর্তিত হয়ে মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে।
- মূলত এটি তৎসম শব্দের জন্য প্রযোজ্য, কারণ দেশি বা তদ্ভব শব্দে ‘ণ’ ব্যবহার হয় না।
- নিয়ম অনুযায়ী, যদি ঋ, র, ষ বর্ণের পরে দন্ত্য ‘ন’ থাকে, তবে তা ‘ণ’ হয়, যেমন: ঋণ, বর্ণ, ঘৃণা।
- এছাড়া, ঋ, র, ষ এর পরে যদি স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, য, ব, হ বা অনুস্বার থাকে, তবুও ‘ণ’ হয়, যেমন: কৃপণ, নির্বাণ, গ্রহণ।

- প্র, পরা, পূর্ব, অপর- এইগুলার পর অহ্ন শব্দ থাকলে দন্ত্য 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
- যেমন: প্রাহ্ণ, পরাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ, অপরাহ্ণ ইত্যাদি।

- ‘পরাহ্ন'’ শব্দে — প্র, পরা, পূর্ব, অপর- এইগুলার পর অহ্ন শব্দ থাকলে দন্ত্য 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয় — নিয়ম অনুযায়ী ‘পরাহ্ণ' হবে।
- ‘ন' ব্যবহার করায় ‘পরাহ্ন’ শব্দটি ভুল। 
- এর শুদ্ধ রূপ হলো- পরাহ্ণ। 
------------------- 
উল্লেখ্য,
- মধ্যাহ্ন ও সায়াহ্ন শব্দে 'ণ' হবেনা কারণ- এখানে ‘অহ্ন’- 'মধ্য' ও 'সায়' শব্দের পরে আছে। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৪,১৭৯.
'তস্কর' কোন ধরনের সন্ধির উদাহরণ?
  1. স্বরসন্ধি
  2. বিসর্গ সন্ধি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি
ব্যাখ্যা
• তস্কর - নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি

ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি,
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি,
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি: 
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ: 
- বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোস্পদ,
- পর্‌ + পর = পরস্পর,
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- তৎ + কর = তস্কর,
- মনস্‌ + ঈষা = মনীষা,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক্‌ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,১৮০.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দু + যোগ = দুর্যোগ
  2. বসুন্‌ + ধরা = বসুন্ধরা
  3. যশঃ + ইচ্ছা = যশোচ্ছা
  4. হিম্‌ + সা = হিংসা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ - যশঃ + ইচ্ছা = যশোচ্ছা
- এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।

অন্যান্য অপশনগুলোর শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ: 
- দুঃ + যোগ = দুর্যোগ,
- বসুম্‌ + ধরা = বসুন্ধরা,
- হিন্‌ + সা = হিংসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১৮১.
যে বাক্যে একটি মাত্র উদ্দেশ্য ও একটি মাত্র বিধেয় থাকে, তাকে কোন বাক্য বলে?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. খণ্ড বাক্য
  4. জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি মাত্র উদ্দেশ্য ও একটি মাত্র বিধেয় থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন- রহিমা প্রত্যহ বিদ্যালয়ে যায়। বাক্যটিতে 'রহিমা' উদ্দেশ্য এবং 'প্রত্যহ বিদ্যালয়ে যায়' বিধেয়।

অন্যদিকে,
জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

খণ্ডবাক্য:
- একাধিক বাক্য মিলে একটি জটিল বাক্য তৈরি হলে বাক্যের অন্তর্গত প্রতিটি বাক্য যদি স্বাধীন বাক্য না হয়ে অন্য কোনো বাক্যের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে তাকে খণ্ড বাক্য বলে।
যেমন- যদি তুমি আস তাহলে আমি যাব। এখানে 'তুমি আস এবং আমি যাব' বাক্যাংশ দুটি খণ্ড বাক্য।

যৌগিক বাক্য: এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন-
রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,১৮২.
কোনটি ভগ্নাংশ পূরণবাচক সংখ্যা?
  1. আশিতম
  2. তেহাই
  3. বিশ
  4. সাতই
ব্যাখ্যা
ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
- কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন:
- আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'সাতই' তারিখ পূরণবাচক শব্দ।
- তম প্রত্যয় যোগে - আশিতম।
- 'বিশ' ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,১৮৩.
'ইতিপূর্বে' শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. বাংলা
  2. তৎসম
  3. ফারসি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
• বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

'ইতি' উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ:
•  এ বা এর অর্থ- ইতিকর্তব্য, ইতিপূর্বে। 
•  পুরনো অর্থে- ইতিকথা, ইতিহাস।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।
১৪,১৮৪.
ক্রিয়ার কোন কালের কোনো অনুজ্ঞা হয় না?
  1. বর্তমান কালে
  2. ভবিষ্যৎ কালে
  3. অতীত কালে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অতীত কালে অনুজ্ঞা হয় না।
------------
অনুজ্ঞা:
আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয়, তাকে অনুজ্ঞা বলে।

বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
যেমন:
- তোমরা কাজ করো।
- রোহান লিখুক।
- মিথ্যা কথা বলো না।
- অঙ্কটা বুঝিয়ে দেবেন?
- আমাকে তুমি রক্ষা করো, প্রভু।
- আদেশ করুন জাহাপনা।

অন্যদিকে,
ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
যেমন:
- সব সময় সত্যি বলবে।
- বড় হও, বুঝতে পারবে।
- অসুস্থ হলে ওষুধ খাবে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৪,১৮৫.
'আগুন’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. অগ্নি
  2. অনল
  3. আলো
  4. দহন
ব্যাখ্যা
• 'আগুন’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয় - আলো
- এটি 'কিরণ' শব্দের সমার্থক শব্দ।

'আগুন’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অগ্নি, অনল, বহ্নি, হুতাশন, পাবক, বৈশ্বানর, দহন, সর্বভুক, শিখা, হোমাগ্নি, কৃশানু, সর্বশুচি, সপ্তাংশু, বিভাবসু।

উল্লেখ্য, 'কিরণ' শব্দেরও সমার্থক শব্দ 'শিখা' এবং 'সূর্য' শব্দেরও সমার্থক শব্দ 'বিভাবসু'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪,১৮৬.
‘প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।’- কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্মকর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্তাবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তাবাচ্য:  
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
- যেমন:  
• তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
• প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। 
• আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
• একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি। 

- অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে।
যেমন – 
• ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে। 
• শরতে শিউলি ফোটে।  

অন্যদিকে,
কর্মবাচ্য: 
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
- যেমন: 
• পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে। 
• চিঠিটা পড়া হয়েছে । 
• তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে। 
• আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।   
• আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।    

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে। 
- যেমন:  
• আমার যাওয়া হল না। 
• কোথা থেকে আসা হলো।
• এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।   
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১৪,১৮৭.
উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়-
  1. ক) জলচর
  2. খ) পঙ্কজ
  3. গ) অকেশা
  4. ঘ) জলদ
ব্যাখ্যা

• যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে।
• কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস। যেমনঃ
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ ইত্যাদি।
• অকেশা নঞ তৎপুরুষ সমাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪,১৮৮.
"সুন্দর মানুষকে নিজের দিকে টানে” বাক্যটিতে 'সুন্দর' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
যে পদে সাধারণত কোনো ব্যক্তি, বস্তু, জাতি, সমষ্টি, বিষয়, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় বা কোনো কিছুর নাম বোঝায় তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন-
- সুন্দর (বিশেষ্য) মানুষকে নিজের দিকে টানে।
- সুন্দর (বিশেষ্য) মাত্রেরই একটা আকর্ষণ শক্তি আছে।
- সুন্দরের (বিশেষ্য) একটি নিজস্ব আকর্ষণ শক্তি আছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১৮৯.
কোন তত্ত্বে বিশেষ্য, বিশেষণ, এবং ক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. বাক্যতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।

অন্যদিকে,
ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য:
- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে ।
- বাক্যের নির্মান ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪,১৯০.
জাতিবাচক বিশেষ্য কোনটি?
  1. পর্বত
  2. মাটি
  3. পানি
  4. খাতা
ব্যাখ্যা
• জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
------------------
• বস্তুবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
১৪,১৯১.
‘ধীরে ধীরে বায়ু বয়’ বাক্যটিতে কিসের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) বিশেষণের বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়ের বিশেষণ
  4. ঘ) বাক্যের বিশেষণ
ব্যাখ্যা

যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যথা-
ক্রিয়া সংঘঠনের ভাব : ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কাল : পরে একবার এসো।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী]

১৪,১৯২.
'স্বর্গ-নরক' কোন প্রকার দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  2. বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস
  3. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  4. সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• স্বর্গ-নরক - বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস

 • দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে দুই বা বহুপদ মিলে এক পদ এবং প্রত্যেক পদের অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন -
- জায়া ও পতি = জায়াপতি > জম্পতি > দম্পতি।

বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্ব ও পরপদের মধ্যে আপাত বিরোধ আছে বলে মনে হয়, তাকে বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন -
- দা-কুমড়ো,
- অহি-নকুল,
- স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১৯৩.
"তুমি আসবে এবং আমি যাব।" - বাক্যের সরল রূপ কোনটি?
  1. তুমি আসবে আর আমি যাবো।
  2. তুমি এলে আমি যাব।
  3. তুমি যখন আসবে তখন আমি যাবো।
  4. তুমি আসবে এরপর আমি যাবো।
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া।
- তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।
যেমন:
যৌগিক বাক্য: তুমি আসবে এবং আমি যাব।
সরল বাক্য: তুমি এলে আমি যাব।

যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪,১৯৪.
অভিধানে কোন শব্দটি আগে বসবে?
  1. চাঁটি
  2. চাঁদা
  3. চানা
  4. চালা
ব্যাখ্যা
• অভিধানে শব্দগুলো অক্ষরিক ক্রমানুসারে সাজানো হয়।
- অর্থাৎ, প্রথমে শব্দটির প্রথম অক্ষর দিয়ে শ্রেণিবদ্ধ করা হয় এবং তারপর পরবর্তী অক্ষরগুলো আসে।

এখানে,
- সমস্ত শব্দের প্রথম অক্ষর 'চ'।
- তবে পরবর্তী অক্ষরগুলো বিচার করলে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, 'আ' আসে 'আ' এর পরে।
- তাই, আমরা এই শব্দগুলোকে নিম্নোক্ত ক্রমে সাজাতে পারি:

অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ,
ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
ট, ঠ, ড, ঢ, ণ,
ত, থ, দ, ধ, ন,
প, ফ, ব, ভ, ম,
য, র, ল, শ, ষ, স, হ, ড়, ঢ়, য়, ৎ, ং, ঃ, ঁ

- তাই, শব্দগুলি বাংলা বর্ণমালার অনুযায়ী ক্রম হবে -
চাঁটি > চাঁদা > চানা > চালা

সুতরাং, সঠিক উত্তর হবে 'চাঁটি' (ক). এটি অভিধানে অন্য তিনটি শব্দের চেয়ে আগে বসবে।
১৪,১৯৫.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. আদ্যক্ষর
  2. নিক্কন
  3. বিদ্ব্যান
  4. শুশ্রূষা
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
সঠিক বানানটি হলো - শুশ্রূষা।
এর অর্থ হলো - পরিচর্যা, সেবা।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বানান:
• 'আদ্যক্ষর' - আদ্যাক্ষর।
• বিদ্ব্যান - বিদ্বান।
• নিক্কন - নিক্বণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪,১৯৬.
বিদেশাগত ধাতু নয় কোনটি?
  1. চেঁচ্‌
  2. খাট্
  3. ধর্
  4. চাহ্
ব্যাখ্যা

• বিদেশাগত ধাতু:
প্রধানত হিন্দি এবং কৃক্বচিৎ আরবি-ফারসি ভাষা থেকে যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকে বিদেশাগত ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলা হয়। যেমন ভিক্ষে মেগে খায়। এ বাক্যে 'মাগ্‌' ধাতু হিন্দি 'মা' থেকে আগত। এছাড়াও কতগুলো ক্রিয়ামূল রয়েছে যাদের ক্রিয়ামূলের মূল ভাষা নির্ণয় করা কঠিন। এ ধরনের ক্রিয়ামূলকে বলা হয় অজ্ঞাতমূল ধাতু। যেমন- 'হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?'এ বাক্যে 'হের' ধাতুটি কোন ভাষা থেকে আগত তা জানা যায় না। তাই এটি অজ্ঞাতমূল ধাতু।

এখানে কয়েকটি বিদেশি ধাতুর উদাহরণ দেয়া হলো:
আঁট, খাট্, চেঁচ্‌, জম্, ঝুল্, টান, টুট্, ডর্, ফির্, চাহ্, বিগড়, ভিজ্, ঠেল্, ডাক্, লটক্।

অন্যদিকে, 
• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্, কিন্, গড়্, ধর্, পড়, রাখ্, শুন্, হাস্, বুঝ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪,১৯৭.
'বহূর্ধ্ব' - শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বহূ + উর্ধ্ব
  2. বহু + ঊর্ধ্ব
  3. বহু + উর্ধ্ব
  4. বহু + ঊর্দ্ধ
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- উ-কার কিংবা উ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে উ-কার হয়, উ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জন ধ্বনির সাথে যুক্ত হয়। 

যেমন:
- মরু + উদ্যান = মরূদ্যান, 
- বহু + ঊর্ধ্ব = বহূর্ধ্ব,
- বধূ + উৎসব = বধূৎসব,
- ঊ; ভূ + ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৪,১৯৮.
'নকিব' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ক) আরবি
  2. খ) হিন্দি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) তুর্কি
ব্যাখ্যা

নকিব, নকীব
(বিশেষ্য)
১ রাজা প্রভৃতির যশ বা কীর্তি ঘোষণাকারী (নজরুল হলেন নবযুগের নকীব-ছদরুদ্দীন)।
২ ঘোষক; herald (নকীব উষ্ট্রপৃষ্ঠে বসিয়া ভেরী রবে ভূপতিগণের শুভাগমন বার্তা আর ঘোষণা করিতেছে না-মীর মশাররফ হোসেন)।
৩ প্রভুর বা আগন্তুকের পরিচয়দাতা (নকীব সেলামগাহে জানায়-ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর)।
৪ সংবাদবাহক; পেয়াদা।
{(আরবি) নকীব}

১৪,১৯৯.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
আড়, আন, কদ, কু, অনু, পাতি, আব, হা
  1. ক) আন
  2. খ) কু
  3. গ) অনু
  4. ঘ) হা
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় মোট উপসর্গ ২১টি।
যথা- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আর, আন, আব, ইতি, ঊন(ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, স, সা, সু, হা। অন্যদিকে অনু তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪,২০০.
কথাবার্তা, বক্তৃতা ও ভাষণের উপযোগী নয়-
  1. কথ্য ভাষা
  2. চলিত ভাষা
  3. সাধু ভাষা
  4. আঞ্চলিক ভাষা
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

অপরদিকে,
• চলিত ভাষারীতি:
- বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে -চলিতরীতি/ চলনরীতি।
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনে চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার জন্য উপযোগী।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া, অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই।