বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১৩৯ / ৩৫৪ · ১৩,৮০১১৩,৯০০ / ৩৫,৭১৩

১৩,৮০১.
অনুসর্গ সাধারণত কোথায় বসে?
  1. বাক্যের শেষে
  2. শব্দের পরে
  3. শব্দের মধ্যে
  4. শব্দের পূর্বে
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

যেমন:
- বিনা, তরে, দ্বারা, দিয়ে, পানে, নামে, মত, কাছে, ধরে, নিয়োগ ইত্যাদি।

অনুসর্গকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১) সাধারণ অনুসর্গ ও
২) ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৮০২.
"কীর্তিমানের মৃত্যু নেই।" এই বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. কীর্তিমান হইলে মৃত্যু হয় না।
  2. কীর্তিমান মানেই তার মৃত্যু নেই।
  3. তারা কীর্তিমান, তাই তাদের মৃত্যু নেই।
  4. যারা কীর্তিমান, তাদের মৃত্যু নেই।
ব্যাখ্যা
"কীর্তিমানের মৃত্যু নেই।" এই বাক্যটির জটিল রূপ হবে "যারা কীর্তিমান, তাদের মৃত্যু নেই।"

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোনো অংশকে খন্ডবাক্যে পরিণত করতে হয় এবং উভয়ের সংযোগ বিধানে সম্বন্ধসূচক (যদি, তবে, যে, সে প্রভৃতি) পদের সাহায্যে উক্ত খণ্ডবাক্য ও প্রধান বাক্যটিকে পরস্পর সাপেক্ষ করতে হয়।
যথা:
- সরল বাক্য: ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
-জটিল বাক্য: যারা ভালো ছেলে, তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।

- সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

- সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
- জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৮০৩.
‘বিপদে অধীর হইও না।’- বাক্যে বিপদে কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
  5. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আধার (স্থান): আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই।
- কাল (সময়): সকালে সূর্য উঠবে।

এরূপ-
• ‘বিপদে অধীর হইও না।’
- [বাক্যকে (কখন অধীর হইও না?) দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পওয়া যায় ‘বিপদে’। সুতরাং বিপদে অধীকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

• অধিকরণ কারকের উদাহরণ-
- তিলে তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮০৪.
কোনটি পারিভাষিক শব্দ?
  1. ক) ইনসান
  2. খ) টোপর
  3. গ) বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঘ) ডাক্তারাখানা
ব্যাখ্যা
ইংরেজি 'University' শব্দের পরিভাষিক শব্দ - বিশ্ববিদ্যালয়।
'ইনসান' শব্দটি আরবি ভাষার শব্দ।
'টোপর' -দেশি শব্দ।
'ডাক্তারখানা - বাংলা + ফারসি শব্দ।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা; বাংলা ভাষার ব্যাকরন, নবম-দশম শ্রেনি।
১৩,৮০৫.
'সুন্দরলতা' কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়।
যথা:
১. দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে।
যেমন: যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।

২. দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে।
যেমন: যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।

৩. কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃতন্ত বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়।
যেমন:  আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা।

৪. পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়।
যেমন:
- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা;
- মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।

৫. বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে, 'মহৎ' ও 'মহান' স্থানে 'মহা' হয়।
যেমন:
- মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান;
- মহান যে নবি = মহানবি।

৬. পূর্বপদে 'কু' বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে 'কু' স্থানে 'কৎ' হয়।
যেমন:
- কু যে অর্থ = কদর্থ;
- কু যে আচার = কদাচার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৩,৮০৬.
'লিপ্সা' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. বিরাগ
  2. অভাব
  3. দারিদ্র
  4. স্বচ্ছলতা
ব্যাখ্যা
কিছু বিপরীতার্থক শব্দের উদাহরণ- 
লিপ্সা - বিরাগ 
লগ্ন - চ্যুত 
লেখক - পাঠক 
 রোগ - স্বাস্থ্য 
লব - হর 
লেন - দেন 
শবল - একবর্ণা

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৩,৮০৭.
ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. সেবিকা
  2. মালিকা
  3. একাঙ্গিকা
  4. পুস্তিকা
ব্যাখ্যা

• ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয়- সেবিকা। 

• যেসব শব্দের শেষে 'অক্' রয়েছে সেসব শব্দে 'অক্' স্থলে 'ইকা' হয়। যেমন:
বালক - বালিকা,
নায়ক - নায়িকা,
সেবক - সেবিকা,
অধ্যাপক - অধ্যাপিকা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
--------------------
• ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ করা হয়:
একাঙ্ক - একাঙ্গিকা,
নাটক - নাটিকা,
মালা- মালিকা,
গীত - গীতিকা,
পুস্তক - পুস্তিকা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৩,৮০৮.
নিচের কোনটি উর্দু-হিন্দি উপসর্গ?
  1. হের
  2. হর
  3. কার
  4. হেড
ব্যাখ্যা
• 'হর' - উর্দু-হিন্দি উপসর্গ।
- প্রত্যেক অর্থে - হরহামেশা, হররোজ, হরমাহিনা, হরকিসিম ইত্যাদি।

বিদেশি উপসর্গ:

- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৮০৯.
কোনটি ফারসি উপসর্গ?
  1. হর
  2. কার
  3. আম
  4. গর
ব্যাখ্যা

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,৮১০.
কোনটি স্বরসন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) বাগীশ
  2. খ) চলচ্চিত্র
  3. গ) দিগন্ত
  4. ঘ) অন্বিত
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনে স্বরসন্ধি গঠিত হয়।

সূত্র: উ বা ঊ ধ্বনির পর যদি অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে উ/ঊ এর জাংগায় ব ফলা হয়।
যেমন:
- অনু+ইত = অন্বিত
- তনু+ঈ = তন্বী
- অনু+এষণ = অন্বেষণ
- সু+অচ্ছ = স্বচ্ছ

অন্যদিকে,
স্বরধ্বনির সাথে ব্যঞ্জনধ্বনি, ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে স্বরধ্বনি বা ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
যেমন:
- দিক্+অন্ত = দিগন্ত
- চলৎ+চিত্র = চলচ্চিত্র
- বাক্+ঈশ = বাগীশ

উৎস: প্রমীত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৩,৮১১.
‘কুহক' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) যাদু
  2. খ) মায়া
  3. গ) ময়ূখ
  4. ঘ) রজনী
ব্যাখ্যা
 •'কুহক' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- মায়া,
- ইন্দ্রজাল,
- ভেলকি,
- প্রতারণা,
- ছল,
- ধোঁকা।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮১২.
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন নয় কোনটি?
  1. ক) ন
  2. খ) র
  3. গ) ল
  4. ঘ) ম
ব্যাখ্যা

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
ম ওষ্ঠ ব্যঞ্জন। 
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

১৩,৮১৩.
"চারি > চাইর" — কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. আদি স্বরাগম
  2. অসমীকরণ
  3. মধ্য স্বরাগম
  4. অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা

• অপিনিহিতি: 
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন: 
- সত্য  > সইত্য,
- আজি > আইজ,
- চারি > চাইর,
- সাধু > সাউধ,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,

আদি স্বরাগম:
উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে আদি স্বরাগম বলে।
যেমন:
- স্কুল > ইস্কুল,
- স্টেশন > ইস্টিশন,
- স্পর্ধা > আস্পর্ধা ইত্যাদি।

অসমীকরণ:
একই স্বরধ্বনির পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন:
- টপ + টপ >টপাটপ,
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- ফট + ফট > ফটাফট ইত্যাদি।

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন -
অ – রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ; বস্‌তি > বসতি ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৮১৪.
‘নিয়ত’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বিরক্ত
  2. বিরত
  3. বিনীত
  4. প্রবিষ্ট
ব্যাখ্যা
• 'নিয়ত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিরত।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ:
ব্যক্ত - গূঢ়।
গ্রাহ্য - অগ্রাহ্য।
ধীর - অধীর।
দ্বৈত - অদ্বৈত।
অনুরক্ত - বিরক্ত।
অনুমেয় - অননুমেয়।
প্রবিষ্ট - প্রস্থিত।
দরদি - নির্দয়।
উদ্ধত - বিনীত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১৩,৮১৫.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছটি সমার্থক নয়?
  1. ক) পবন, সমীরণ
  2. খ) গন্ধবহ, প্রভঞ্জন
  3. গ) অহ, দিবা
  4. ঘ) নিশা, আটপ্রহর
ব্যাখ্যা
বাতাস - অনিল, পবন, সমীরণ, মরুৎ, বায়ু, গন্ধবহ, প্রভঞ্জন।
দিন - অহ্ন, দিবস, দিবা, অহ, অষ্টপ্রহর, আটপ্রহর।
রাত্রি - নিশা, রজনী, যামিনী, নিশীথিনী, শর্বরী, বিভাবরী, ক্ষণদা।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
১৩,৮১৬.
'মরুৎ' এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. সমীর
  2. বারিদ
  3. বান
  4. অনুভা
ব্যাখ্যা
'মরুৎ' এর সমার্থক শব্দ:
- বায়ু,
- পবন
- সমীর
- সমীরণ
- অনিল
- মারুত
- বাত
- বায়
- আশুগ
- পবমান
- সদাগতি
- নভঃশ্বাস
- শব্দবহ
- অগ্নিসখ
- জগতায়ু,
- জগৎপ্রাণ,
- মাতরিশ্বা
- জগদ্বল
- গন্ধবহ
- গন্ধবাহ
- বাতাস
- হাওয়া

অন্যদিকে 
'বন্যা' এর সমার্থক শব্দ বান
'মেঘ'  এর সমার্থক শব্দ- বারিদ
'বিদ্যুৎ' এর সমার্থক শব্দ - অনুভা

[উৎস: ভাষা- শিক্ষা , ড.হায়াৎ মামুদ ]
১৩,৮১৭.
‘Contrary’ এর বাংলা পরিভাষা -
  1. বিপরীত
  2. সঙ্কোচন
  3. বৈসাদৃশ্য
  4. প্রতিবাদ
ব্যাখ্যা
• ‘Contrary’ এর বাংলা পরিভাষা - বিপরীত

অন্যদিকে,
- 'Contraction' এর বাংলা পরিভাষা - সঙ্কোচন।
- 'Contrast' এর বাংলা পরিভাষা - বৈসাদৃশ্য।
- 'Contradict' এর বাংলা পরিভাষা - প্রতিবাদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
১৩,৮১৮.
কোনটি তালব্য বর্ণ?
  1. ই 
ব্যাখ্যা
• তালব্য ধ্বনি:
জিভের পাতা উঁচু করে অগ্রতালুর সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের তালব্য ধ্বনি বলা হয়। 
 
'ই' বর্ণ:
- বাংলা স্বরবর্ণমালার তৃতীয় বর্ণ। 
- সংস্কৃতে এটি হ্রস্বস্বর; এর উচ্চারণ-স্থান - তালু।

- স্বরবর্ণের মধ্যে তালব্য বর্ণ হচ্ছে - ই, ঈ।

- ব্যঞ্জণ বর্ণে তালব্য ধ্বনি - চ, ছ, জ, ঝ, ঞ।
• এ, ঐ - কণ্ঠ তালব্য ধ্বনি।
• উ, ঊ - ওষ্ঠ্য ধ্বনি।
• ও, ঔ - কণ্ঠৌষ্ঠ ধ্বনি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৮১৯.
কোন শব্দের সাথে কোনাে বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না?
  1. বিশেষণ 
  2. ক্রিয়া
  3. অব্যয়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• অব্যয় পদ: 
- ন ব্যয় = অব্যয়।
- যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
- অব্যয় শব্দের সাথে কোনাে বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, সেগুলাের একবচন বা বহুবচন হয় না এবং সেগুলাের স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না।

- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনাে বাক্যের শােভা বর্ধন করে, কখনাে একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযােগ বা বিয়ােগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।

বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে-
- বাংলা অব্যয় শব্দ,
- তৎসম অব্যয় শব্দ এবং
- বিদেশি অব্যয় শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,৮২০.
বর্ণচোরা অর্থ-
  1. কপট
  2. ভণ্ড
  3. সংকীর্ণমনা
  4. মূর্খ
ব্যাখ্যা

• 'বর্ণচোরা' বাগ্‌ধারার অর্থ - ভণ্ড।

এরূপ কিছু বাগ্‌ধারা হলো-
• 'ডাকাবুকো' অর্থ- নির্ভীক।
• 'কানকাটা' অর্থ - বেহায়া।
• 'গোবর গণেশ' অর্থ - মূর্খ।
• 'তালকানা' অর্থ- কাণ্ডজ্ঞানহীন।
• 'গোঁফ খেজুরে' অর্থ- অত্যন্ত অলস।
• 'খয়ের খাঁ' অর্থ- তোষামোদকারী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,৮২১.
'কুমেরু' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. উমেরু
  2. সুমেরু
  3. অমেরু
  4. শুমেরু
ব্যাখ্যা

'কুমেরু' এর বিপরীতার্থক শব্দ - সুমেরু

উল্লেখ্য,
'কুমেরু' শব্দের অর্থ - পৃথিবীর নিরক্ষ রেখার দক্ষিণে ৯০০ অক্ষাংশে অবস্থিত অঞ্চল, দক্ষিণমের।
'সুমেরু' শব্দের অর্থ - পুরাণে কল্পিত পর্বতবিশেষ, (বাংলায়) পৃথিবীর উত্তর মেরু, north pole।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩,৮২২.
মিশ্র ক্রিয়ার ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. ক) বিশেষ্যের সাথে বসে
  2. খ) বিশেষণের সাথে বসে
  3. গ) ধ্বন্যাত্নক অব্যয়ের সাথে বসে
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্নক অব্যয়ের ফলে কর, হ, দে, পট, খা, গা, ছাড়, ধর, মার প্রভৃতি ধাতু যোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ যে অর্থ প্রকাশ করে তাকে মিশ্রক্রিয়া বলে।
সুতরাং মিশ্র ক্রিয়ার ক্ষেত্রে  বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্নক অব্যয় সবগুলো সঠিক।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
১৩,৮২৩.
'ঝিনুক' কোন ভাষার শব্দ? 
  1. বাংলা 
  2. অর্ধ-তৎসম 
  3. দেশি 
  4. হিন্দি 
ব্যাখ্যা

• 'ঝিনুক' দেশি ভাষার শব্দ। 

 
• কিছু দেশি শব্দ:
ঢোল, ডিঙি, টোপর, বাখারি, কয়লা, কামড়, চাউল, ঝোল, ডাহা, ঢিল, পয়লা, ডাঁসা, ডাব, ডাঙর, ঢিল, মাঠ, চাটাই, ঝিনুক, শিকড়, কচি, খড়, পেট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩,৮২৪.
'ননীর পুতুল' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. কপট ব্যক্তি
  2. শ্রমবিমুখ
  3. অত্যন্ত গরীব 
  4. ক্ষণস্থায়ী বস্তু
ব্যাখ্যা

• 'ননীর পুতুল' বাগ্‌ধারার অর্থ- শ্রমবিমুখ।
বাক্যগঠন: ছেলেটাকে একেবারে ননীর পুতুল বানিয়ে রেখেছে, কোনো কাজ করতে দেয় না।

এরূপ কিছু বাগ্‌ধারা হলো- 
• 'ডকে ওঠা' অর্থ- নষ্ট হওয়া।
• 'তালপাতার সেপাই' অর্থ- ছিপছিপে।
• 'গোঁফ খেজুরে' অর্থ- নিতান্ত অলস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিঙ্গাসা। 

১৩,৮২৫.
'যে নারী পূর্বে অন্যের স্ত্রী / বাগদত্তা ছিল' তাকে এক কথায় কী বলে?
  1. স্বয়ংবরা
  2. অন্যপূর্বা
  3. অধিবিন্না
  4. অনন্যা
ব্যাখ্যা
• 'যে নারী পূর্বে অন্যের স্ত্রী / বাগদত্তা ছিল = অন্যপূর্বা।

এই সম্পর্কিত কিছু এক কথায় প্রকাশ:
যে নারী প্রিয় কথা বলে - প্রিয়ংবদা। 
যে নারীর পতি নেই, পুত্রও নেই - অবীরা।
যে নারীর হাসি সুন্দর - সুস্মিতা। 
যে নারী বীর সন্তান প্রসব করে - বীরপ্রসূ। 
যে নারী আনন্দ দান করে - বিনোদিনী। 
যে নারী নিজে বর বরণ করে নেয় - স্বয়ংবরা। 
যে নারীর হাসি কুটিলতাবর্জিত - শুচিস্মিতা। 
যে নারীর অসূয়া / হিংসা নাই - অনসূয়া। 
যে নারীর সম্প্রতি বিয়ে হয়েছে - নবোঢ়া। 
যে নারীর কোনো সন্তান হয় না - বন্ধ্যা। 
যে নারী অন্য কারও প্রতি আসক্ত হয় না - অনন্যা। 
যে নারীর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছে - অধিবিন্না।
 যে নারীর সূর্যও মুখ দেখতে পারে না - অসূর্যম্পশ্যা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৮২৬.
'সূর্য' এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. অদ্রি
  2. হিমাংশু
  3. মিহির
  4. অর্ণব
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য' এর সমার্থক শব্দ - মিহির।

‘সূর্য’ শব্দের আরো কিছু সমার্থক শব্দ:
- রবি, তপন, ভাস্কর, আদিত্য, প্রভাকর, দিবাকর, বিভাবসু, অংশুমালী, অরুণ।

অন্যদিকে,
• 'পর্বত' শব্দের সমার্থক শব্দ: অদ্রি।
• 'চাঁদ' শব্দের সমার্থক শব্দ- হিমাংশু।
• ‘সমুদ্র’ শব্দের সমার্থক শব্দ: অর্ণব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩,৮২৭.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অতিষ্ট
  2. অন্যপুর্বা
  3. অচিন্তনীয়
  4. শ্বাশত
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান - অচিন্তনীয়।
অর্থ- অভাবনীয়।

অন্যদিকে,
• 'অতিষ্ট' এর শুদ্ধ বানান- অতিষ্ঠ।
• 'অন্যপুর্বা' এর শুদ্ধ বানান - অন্যপূর্বা।
• শ্বাশত এর শুদ্ধ বানান - শাশ্বত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩,৮২৮.
বিরোধ যোজকের প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।
  2. খ) তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।
  3. গ) চা না-হয় কফি খান।
  4. ঘ) যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
ব্যাখ্যা
• পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে। যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।
বৈশিষ্ট্য অনুযায়ি যোজক কে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

সাধারন যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে। যেমন: করিম রহিম এ কাজটি করেছে।
বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। যেমন: চা না-হয় কফি খান।
বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।
কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৮২৯.
'Arbiter' -এর বাংলা পরিভাষা কী?
  1. অনুমোদন
  2. খুশিমতো
  3. সালিস
  4. উপলব্ধি
ব্যাখ্যা
Arbiter. - এর বাংলা পরিভাষা -সালিস।

অন্যদিকে,
Arbitrary - এর বাংলা পরিভাষা - খুশিমতো।
Approbation - এর বাংলা পরিভাষা - অনুমোদন।
Appreciation - এর বাংলা পরিভাষা - উপলব্ধি।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একডেমি।
১৩,৮৩০.
বিশেষ নিয়মে সাধিত বিসর্গ সন্ধি কোনটি?
  1. ক) মনীষা
  2. খ) বাচস্পতি
  3. গ) আস্পদ
  4. ঘ) অহরহ
ব্যাখ্যা
নবম-দশম শ্রেণির পুরনো বইয়ে বাচস্পতি, আস্পদ ও অহরহ শব্দকে বিশেষ নিয়মে বিসর্গ সন্ধি দেখানো হলেও এবং কোনো কোনো বইয়ে নিপাতনে সিদ্ধ বিসর্গ সন্ধি দেখালেও তা ঠিক নয়।
নবম দশম শ্রেণির নতুন ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ও হায়াত মামুদের বইয়ে এগুলোকে সাধারণ নিয়মে বিশেষ সন্ধি দেখানো হয়েছে। 

তাছাড়াও হায়াৎ মামুদের ভাষা-শিক্ষা গ্রন্থ মনীষা শব্দটিকে বিশেষ নিয়মে সিদ্ধ বিসর্গসন্ধি দেখিয়ে সন্ধিবিচ্ছেদ করা হয়েছে এভাবে,
‘মনীষা’ = মনঃ (মনস্) + ঈষা।
মনীষী শব্দকেও মনঃ (মনস্) + ঈষা + ইন = মনীষী নিপাতনে সিদ্ধ বিসর্গ সন্ধি হিসেবে দেখানো হয়েছে।


উৎস : নবম—দশম শ্রেণির নতুন ব্যাকরণ বই, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ ও হায়াৎ মামুদের ভাষা—শিক্ষা।
১৩,৮৩১.
নিচের কোন গুচ্ছের সবকটি বানানই প্রমিত নিয়ম অনুযায়ী শুদ্ধ?
  1. কিংবদন্তী, শ্রেণী, মঞ্জুরী
  2. কিংবদন্তি, শ্রেণি, মঞ্জুরি
  3. কিংবদন্তী, শ্রেণি, মঞ্জুরী
  4. কিংবদন্তি, শ্রেণী, মঞ্জুরি
ব্যাখ্যা

কিংবদন্তি, শ্রেণি, মঞ্জুরি - গুচ্ছের সবকটি বানানই প্রমিত নিয়ম অনুযায়ী শুদ্ধ

• বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- তৎসম শব্দগুলো সংস্কৃতের যথাযথ বানানে লিখতে হবে।
তবে, যে-সব বানানে মূল সংস্কৃত ই-কার ও ঈ- কার এবং উ-কার ও উ-কার উভয়ই শুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করেছে, সে বানানগুলোতে শুধু ই-কার এবং উ- কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
- সংস্কৃতে পদবী ও পদবি দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে বাংলায় 'পদবি' গৃহীত হবে।
- সংস্কৃতে ঊষা ও উষা দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে 'উষা' গৃহীত হবে।
এ-রকম আরো উদাহরণ: কিংবদন্তি, শ্রেণি, খঞ্জনি, চিৎকার, ধমনি, ধূলি, পঞ্জি, ভঙ্গি, মঞ্জুরি, মসি, লহরি, সরণি, সূচি, উর্ণা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, লাইভ এমসিকিউ লেকচার; ভাষা শিক্ষা- ড.  হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৮৩২.
বাংলা ব্যাকরণ প্রথম প্রকাশিত হয় -
  1. ক) ফারসি ভাষায়
  2. খ) পর্তুগিজ ভাষায়
  3. গ) ইংরেজি ভাষায়
  4. ঘ) ফরাসি ভাষায়
ব্যাখ্যা
• ব্যাকরণ ও বাংলা ব্যাকরণ:
- ব্যাকরণে ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- ব্যাকরণের কাজ হচ্ছে ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ইত্যাদি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভাষার মধ্যকার সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করা।
- যে বিদ্যাশাখায় বাংলা ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি বর্ণনা করা হয় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে।
- প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়।
- এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ।
- তাঁর বাংলা - পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৮৩৩.
ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যাপক অ্যাসকোলি আদি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী থেকে সৃষ্ট ভাষাগুলোকে প্রধান কয় ভাগে ভাগ করেছেন?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
  5. ছয়
ব্যাখ্যা
• ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর শ্রেণিবিভাগ:
ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর প্রাচীন শাখা - ৯টি। আধুনিককালে অনেকে ১০টি বলেও উল্লেখ করেছেন।
আমরা যেহেতু আধুনিক যুগের মানুষ তাই সেহেতু আধুনিক মতকেই স্বীকার করবো।

ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যাপক অ্যাসকোলি আদি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী থেকে সৃষ্ট ভাষাগুলোকে দুটো প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন।
- একটি শতম (Satam) ও অন্যটি কেন্তুম (Centum)।
- কেন্তুম ও শতম এ বিভাজন হয়েছিলো মূলত কণ্ঠবর্ণের উচ্চারণ বৈশিষ্ঠ্য লক্ষ্য করে।
- এ বিভাজনের ফলে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠির অন্তর্ভুক্ত ভাষাগুলোর ভেতর একটি ভৌগোলিক বিভাজনও হয়।
- অ্যাসকোলির ধারণা- কেন্তুম গোষ্ঠীর ভাষাগুলো সব পশ্চিমের আর শতম গোষ্ঠির ভাষাগুলো সব পূর্বের।

• ইন্দো-ইউরোপীয় গোষ্ঠীর বিভিন্ন শাখা-উপশাখা:
ইন্দো-ইউরোপীয় গোষ্ঠীর প্রাচীন শাখা হলো গ্রিক। ইন্দো-ইরানীর শাখার (অর্থাৎ আর্য শাখার)-আবেস্তীয় ও সংস্কৃত। ইতালিক শাখার-ল্যাটিন। জার্মানিক শাখার- গথিক ভাষা। এই গোষ্ঠীর কয়েকটি আধুনিক সমৃদ্ধ ভাষা হলো-

* ইন্দো-ইরানী শাখার: ফারসি, বাংলা, হিন্দি।
* বালতো-স্লাভিক শাখার: রুশীয় (বালটিক্ থেকে এসেছে-লিথুয়ানিয়া ও ল্যাটভিয়ার ভাষা; স্লাভিক্ থেকে এসেছে-সার্বিয়ান, বুলগেরিয়াল, চেক, রাশিয়ান, পোলিশ ইত্যাদি)।
* গ্রিক শাখার: আধুনিক গ্রিক।
* ইতালিক শাখার: ফরাসি, ইতালীয়, স্পেনীয়।
* জার্মানিক শাখার: ইংরেজি, জার্মান।

উৎস: ইন্দো-ইউরোপীয় থেকে বাংলা (বাংলা ভাষার ইতিহাস), রেজাউল ইসলাম।
১৩,৮৩৪.
সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য কোন পদে বেশি?
  1. বিশেষ্য ও ক্রিয়া পদে
  2. বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে
  3. বিশেষ্য ও সর্বনাম পদে
  4. ক্রিয়া ও সর্বনাম পদে
ব্যাখ্যা

সাধু ও চলিত ভাষার প্রধান পার্থক্য হলো ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের ভিন্নতায়।
- সাধুভাষায় পূর্ণ রূপ ব্যবহৃত হয় আর চলিত ভাষায় সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়।
- সাধু ভাষা তৎসম শব্দ বেশি আর চলিত ভাষায় অতৎসম শব্দ বেশি।
---------------------

• চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনে চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার জন্য উপযোগী।

• সাধু ভাষা/রীতি:
- দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে।
- সাধু রীতিতে ক্রিয়াপদ দীর্ঘতর হয়ে থাকে।
- সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।
- সুতরাং, এই দুটি পদের ভিন্নতার জন্যই সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।
- সাধু রীতির বহু সর্বনামে 'হ'-বর্ণ যুক্ত থাকে, যেমন- তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,৮৩৫.
কোন যুক্তবর্ণটি সঠিক?
  1. ষ্ + ণ = জ্ঞ
  2. ষ্ + ণ = ষ্ণ
  3. হ্‌ + থ = ত্থ
  4. হ্ + ম = ষ্ণ
ব্যাখ্যা
গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
ত্ + ত্ = ত্ত
ভ্ + র = ভ্র
ত্ + থ = ত্থ
ষ্ + ণ = ষ্ণ
হ্ + ম =হ্ম
জ্‌ + ঞ =জ্ঞ

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ]
১৩,৮৩৬.
'স্কুলপালানো' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. খ) তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. গ) পঞ্চমী তৎপুরুষ
  4. ঘ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
স্কুলপালানো = স্কুল হতে পালানো পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ৷
পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন - খাঁচাছাড়া, বিলাতফেরত, জেলমুক্ত, ঋণমুক্ত, পরাণপ্রিয় ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম - দশম শ্রেণি
১৩,৮৩৭.
কোন শব্দে সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. বিপদুদ্ধার
  2. অদ্যবধি
  3. অনটন
  4. পৃথগন্ন
ব্যাখ্যা

• সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি - অদ্যবধি
• এর শুদ্ধ প্রয়োগ - অদ্যাবধি। এর সন্ধিবিচ্ছেদ - অদ্য + অবধি।

অন্যদিকে,
- পৃথগন্ন,
- অনটন,
- বিপদুদ্ধার।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,৮৩৮.
নিচের কোনটি স্বচ্ছ যুক্তবর্ণকে নির্দেশ করে?
  1. দ্ধ
  2. স্ক
  3. ন্ধ
  4. ভ্র
ব্যাখ্যা
• যুক্তবর্ণ
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ, ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্গ, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, ম্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্+ধ), ভ্র (ভ্+র) ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেনি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩,৮৩৯.
কোনটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. বিবিয়ানা
  2. বেতানো
  3. চালানো
  4. মুনশিয়ানা
ব্যাখ্যা

• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - চালানো (√চাল্‌ + আনো)

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - বিবিয়ানা (বিবি + আনা)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - বেতানো (বেত + আনো)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - মুনশিয়ানা (মুনশি + আনা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৩,৮৪০.
ঙ, ঞ, ম, ণ, ন এই পাঁচটি ধ্বনিকে বলে-
  1. নাসিক্য ধ্বনি 
  2. অস্তঃস্থ ধ্বনি
  3. উষ্মধ্বনি
  4. অনুনাসিক ধ্বনি
ব্যাখ্যা

• নাসিক্য ধ্বনি: 
ঙ, ঞ, ণ, ন, ম– এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে নাক ও মুখ দিয়ে কিংবা কেবল নাক দিয়ে ফুসফুস-তাড়িত বাতাস বের হয় বলে এদের বলা হয় নাসিক্য ধ্বনি এবং প্রতীকী বর্ণগুলোকে বলা হয় নাসিক্য বর্ণ৷

অন্যদিকে,
• অনুনাসিক ধ্বনি:
' ঁ' চন্দ্রবিন্দু চিহ্ন বা প্রতীকটি পরবর্তী স্বরধ্বনির অনুনাসিকতার দ্যোতনা করে। এজন্য এটিকে অনুনাসিক ধ্বনি এবং প্রতীকটিকে অনুনাসিক প্রতীক বা বর্ণ বলে। যেমন- আঁকা, চাঁদ, বাঁধ, বাঁকা, শাঁস ইত্যাদি।

• অন্তঃস্থ ধ্বনি:
স্পর্শ বা উষ্ম ধ্বনির অন্তরে অর্থাৎ মাঝে আছে বলে য র ল ব-এ ধ্বনিগুলোকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বলা হয় আর বর্ণগুলোকে বলা হয় অন্তঃস্থ বর্ণ।

• উষ্মধ্বনি:
যে ব্যঞ্জনের উচ্চারণে বাতাস মুখবিবরে কোথাও বাধা না পেয়ে কেবল ঘর্ষণপ্রাপ্ত হয় এবং শিশধ্বনির সৃষ্টি করে, সেটি উষ্মধ্বনি। যেমন- আশীষ, শিশি, শিশু ইত্যাদি। শিশ দেয়ার সঙ্গে এর সাদৃশ্য রয়েছে বলে একে শিশধ্বনিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

১৩,৮৪১.
‘পদ্ম’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. কুবলয়
  2. পুলক
  3. পঙ্কজ
  4. উৎপল
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্ম’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয়- পুলক।
- “পুলক” শব্দের অর্থ: আনন্দ, হর্ষ।

• ‘পদ্ম’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, কুবলয়, শতদল, অরবিন্দ, রাজীব, নলিনী, সরোজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৮৪২.
'নির্জল' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• 'নির্জল' = জলের অভাব - অব্যয়ীভাব সমাস।

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিস্সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
যেমন -
- মিলের অভাব = গরমিল,
- জলের অভাব = নির্জল, 
- ভাবনার অভাব = নির্ভাবনা,
- আমিষের অভাব = নিরামিষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৩,৮৪৩.
'আহবান' এর প্রকৃত উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) আওভান
  2. খ) আহ্বান
  3. গ) আহবান
  4. ঘ) আবহান
ব্যাখ্যা
আহবান (আওভান)
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = আ+√হ্বে+অন
অর্থ:
- আমন্ত্রণ, নিমন্ত্রণ। 
- সম্বোধন, ডাক

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৩,৮৪৪.
শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে কী বলা হয়?
  1. বর্ণ
  2. অক্ষর
  3. রূপ
  4. শব্দাংশ
ব্যাখ্যা
• শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে বলা হয় - রূপ।
- এক বা একাধিক ধ্বনির অর্থবোধক সম্মিলনে শব্দ তৈরি হয়।
- রূপ গঠন করে শব্দ।
- সেই জন্য শব্দতত্ত্বকে রূপ্ততত্ত্ব (Morphology) বলা হয়। 

শব্দমূল: 
- এক বা একাধিক শব্দ নিয়ে তৈরি হয় শব্দমূল।
- শব্দমূলের এক নাম প্রকৃতি। 
- নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সাথে উপসর্গ ও প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে। এদের বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যদিকে শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে বলে হয় পদ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩,৮৪৫.
'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত বর্ণগুলোকে কী বর্ণ বলা হয়?
  1. ক) মহাপ্রাণ বর্ণ
  2. খ) ওষ্ঠ্য বর্ণ
  3. গ) স্পর্শ বর্ণ
  4. ঘ) ঘোষ বর্ণ
ব্যাখ্যা
'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত পঁচিশটি বর্ণকে স্পর্শ বর্ণ বলা হয়।

- 'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শধ্বনি কে উচ্চারণ স্থানের দিক থেকে পাঁচটি গুচ্ছে বা বর্গে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রতি গুচ্ছের প্রথম ধ্বনিটির নামানুসারে সে গুচ্ছের সবগুলো ধ্বনিকে বলা হয় ঐ বর্গীয় ধ্বনি।

ক খ গ ঘ ঙ      ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'কণ্ঠ ধ্বনি'       বর্ণ হিসেবে 'ক' বর্গীয়
চ ছ জ ঝ ঞ    ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'তালব্যধ্বনি'    বর্ণ হিসেবে 'চ' বর্গীয়
ট ঠ ড ঢ ণ       ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'মূর্ধন্য ধ্বনি'    বর্ণ হিসেবে 'ট' বর্গীয়
ত থ দ ধ ন       ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'দন্ত্যধ্বনি'       বর্ণ হিসেবে 'ত' বর্গীয়
প ফ ব ভ ম     ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'ওষ্ঠ্য ধ্বনি'      বর্ণ হিসেবে 'প' বর্গীয়

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ]
১৩,৮৪৬.
"গমন করতে পারে যে" এর বাক্য সংকোচন কোনটি?
  1. গাড়োয়ান
  2. তুরগ
  3. জঙ্গম
  4. গেছো
ব্যাখ্যা
• 'গমন করতে পারে যে' এর বাক্য সংকোচন - জঙ্গম।

অন্য অপশন,
- 'গাড়ি চালায় যে' - গাড়োয়ান।
• 'ত্বরিত গমন করতে পারে যে' - তুরগ।
- 'গাছে উঠতে পটু যে' - গেছো।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৪৭.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার দৃষ্টান্ত?
  1. দোষ দেওয়া
  2. মন দেওয়া
  3. এগিয়ে চলা
  4. মার খাওয়া
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মন দেওয়া, দোষ দেওয়া, মার খাওয়া - সংযোগ ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৮৪৮.
'নিশীত রাতে বাজছে বাঁশি।' - বাক্যে 'নিশীত' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা

• 'নিশীত রাতে বাজছে বাঁশি' বাক্যে 'নিশীত' শব্দটি 'বিশেষণ' পদ।

বিশেষণ:
- যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।

যেমন
- সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

তেমনি,
- নিশীত রাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।

১৩,৮৪৯.
'যা সরোবরে জন্মে' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. সর্বস্বান্ত
  2. সর্বজ্ঞ
  3. সহিষ্ণু
  4. সরোজ
ব্যাখ্যা
• 'যা সরোবরে জন্মে' এর এক কথায় প্রকাশ - সরোজ

অন্যদিকে,
যে সহ্য করতে পারে - সহিষ্ণু।
যে সব জানে - সর্বজ্ঞ।
যার সর্বস্ব খোয়া গেছে - সর্বস্বান্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৮৫০.
সন্ধিতে ই/ঈ-এর পরে অ/আ থাকলে উভয়ে মিলে কী হয়?
  1. ও-কার
  2. এ-কার
  3. য-ফলা
  4. ব-ফলা
ব্যাখ্যা
• সন্ধির সূত্র:
ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর  (অ বা আ) থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য-ফলা হয়। 
যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ,
- নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৮৫১.
নিচের কোনগুলো দন্ত্যবর্ণ?
  1. ক খ গ ঘ ঙ
  2. চ ছ জ ঝ ঞ
  3. ত থ ধ দ ন
  4. ট ঠ ড ঢ ণ
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনধ্বনির বর্ণসমূহ            উচ্চারণস্থান অনুযায়ী নাম
ক খ গ ঘ ঙ                             কন্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ
চ ছ জ ঝ ঞ শ য                     তালব্য বর্ণ
ট ঠ ড ঢ ণ ষ র ড় ঢ়                 মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয় বর্ণ
ত থ দ ধ ন ল স                       দন্ত্য বর্ণ
প ফ ব ভ ম                             ওষ্ঠ্য বর্ণ  

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ -সংস্করণ]
১৩,৮৫২.
নিচের কোন বিপরীত শব্দজোড় শুদ্ধ?
  1. ক) ঔদ্ধত্য - গম্ভীর
  2. খ) সরল - সোজা
  3. গ) উচাটন - উত্তাল
  4. ঘ) আকুঞ্চন - প্রসারণ
ব্যাখ্যা

প্রশ্নে সঠিক বিপরীত শব্দজোড় হল আকুঞ্চন - প্রসারণ।
অন্য শব্দজোড়ের সঠিক বিপরীত রূপ হচ্ছে-
ঔদ্ধত্য - বিনয়,
সরল - গরল
উচাটন - প্রশান্ত

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩,৮৫৩.
নিচের কোনটি তদ্ভব শব্দ নয়?
  1. ক) দাঁত
  2. খ) বৃক্ষ
  3. গ) কুমির
  4. ঘ) সাপ
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত প্রশ্নে বৃক্ষ হচ্ছে তৎসম শব্দ।
- অপশনের বাকি শব্দগুলো হচ্ছে- তদ্ভব শব্দ। 

• তদ্ভব শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারে স্বতন্ত্র তাকে বোঝায়।
- যেমন: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত, হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

• তৎসম শব্দ:
- সংস্কৃত ভাষা থেকে সোজাসুজি বাংলায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত তাকে বোঝায়।
- যেমন: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
১৩,৮৫৪.
নিচের কোনটি অনুসর্গ?
  1. কম
  2. সহ
  3. বাজে
  4. সাব
ব্যাখ্যা
অনুসর্গের প্রয়োগ-
• বিনা/বিনে: কর্তৃ কারকের সঙ্গে - তুমি বিনা (বিনে) আমার কে আছে?
• বিনি: করণ কারকের সঙ্গে - বিনি সুতায় গাঁথা মালা।
• বিহনে: উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ?

সহ: সহগামিতা অর্থে - তিনি পুত্রসহ উপস্থিত হলেন।
• সহিত: সমসূত্রে অর্থে - শত্রুর সহিত সন্ধি চাই না।
• সনে: বিরুদ্ধগামিতা অর্থে - 'দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে।'
• সঙ্গে: তুলনায় - মায়ের সঙ্গে এ মেয়ের তুলনা হয় না।

• অবধি : পর্যন্ত অর্থে - সন্ধ্যা অবধি অপেক্ষা করব।

• পরে: স্বল্প বিরতি অর্থে এ ঘটনার পরে আর এখানে থাকা চলে না।
• পর: দীর্ঘ বিরতি অর্থে- শরতের পরে আসে বসন্ত।

অন্যদিকে, 
- আরবি উপসর্গ:আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- ইংরেজি উপসর্গ:হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৩,৮৫৫.
'দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে"- বাক্যে 'বিনা' কোন পদ?
  1. যোজক 
  2. উপসর্গ 
  3. অনুসর্গ 
  4. আবেগ 
ব্যাখ্যা

'দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে"- বাক্যে 'বিনা' অনুসর্গ পদের উদাহরণ। 

-------------------
• অনুসর্গ:

বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
[অনুসর্গগুলো কখনো প্রতিপাদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।]

বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে, যেমন:
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, পর্যন্ত, মতো, নামে, পানে, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়ে, ভিতর, পাছে, চেয়ে ইত্যাদি।

- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক (তৃতীয়া বিভক্তি), হইতে, হতে, চেয়ে (পঞ্চমী বিভক্তি), অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,৮৫৬.
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বক্তব্য জোরালো করে তাকে কী বলে?
  1. প্রত্যয় 
  2. বলক 
  3. নির্দেশক 
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা

বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- 'তখনই' বা 'এখনই' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ

প্রত্যয়:
- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
​- 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।

বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যে সব শব্দাংশ যুক্ত থাকতে সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- ‘করলাম' ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের' পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক:
​- 
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
​- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

​​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪সংস্করণ)।

১৩,৮৫৭.
‘অত্যন্ত’ এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অতি + অন্ত
  2. অতিঃ + অন্ত
  3. অতি + অন্ত্য
  4. অত্য + অন্ত
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে য বা য ( ্য) ফলা হয়।
- য- ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- অতি + উক্তি = অত্যক্তি,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ,
- নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ - ২০১৯)।
১৩,৮৫৮.
"সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল 
  2. জটিল 
  3. যৌগিক 
  4. মিশ্র
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

যৌগক বাক্য গঠনে শর্ত:
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, এক অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন অব্যয়যোগ এক অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, 
যে-সে, যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১৩,৮৫৯.
নিচের কোনটি অলুক বহুব্রীহি নয়?
  1. ক) গায়ে-হলুদ
  2. খ) মুখেভাত
  3. গ) হাতেখড়ি
  4. ঘ) বিড়ালাক্ষী
ব্যাখ্যা
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব ও পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না, তাকে অলুক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন -
- মাথায়পাগড়ি = মাথায় পাগড়ি যার,
- গলায়গামছা = গলায় গামছা যার,
- মুখেভাত = মুখে ভাত দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে,
- হাতেখড়ি = হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে,
- গায়েহলুদ = গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৩,৮৬০.
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে কী বলা হয়?
  1. নামপদ
  2. উপপদ
  3. প্রাতিপদিক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রাতিপদিক:
- ‘লাজ’, ‘বড়’, ‘ঘর’- এ শব্দগুলাের সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় নি।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়।
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া- প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৮৬১.
"সাহসী মানুষ মৃত্যুকে ডরে না।" - বাক্যে ‘ডর্’ কোন প্রকার ধাতু?
  1. সংস্কৃত ধাতু
  2. বাংলা ধাতু
  3. নাম ধাতু
  4. বিদেশি ধাতু 
ব্যাখ্যা

• "সাহসী মানুষ মৃত্যুকে ডরে না।" - বাক্যে ‘ডর্’ বিদেশি ধাতু। এখানে, ডর্ (ভীত হওয়া) অর্থে ব্যবহৃত হয়।

• বিদেশি ধাতু: 
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন:
- আঁট (শক্ত করে বাঁধা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- খাট্ (মেহনত করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- চেঁচ্ (চিৎকার করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- ঝুল্ (দোলা ) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- টান্ (আকর্ষণ) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- ডর্ (ভীত হওয়া) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- ফির্ (পুনরাগমন ও পুনরাবৃত্তি) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- চাহ্ ( প্রার্থনা করা ) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বিগড় (নষ্ট হওয়া) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- ভিজ্ (সিক্ত হওয়া) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- ডাক্ (আহ্বান করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,৮৬২.
প্রত্যয় শব্দের কোথায় বসে?
  1. আগে 
  2. পরে 
  3. আগে ও মাঝে 
  4. মাঝে ও পরে 
ব্যাখ্যা

• প্রত্যয়: 
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলােকে প্রত্যয় বলে।

• কৃৎ প্রত্যয়:
যে-প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
আর কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। (অর্থাৎ যার অন্তে বা শেষে কৃৎ প্রত্যয় আছে) ।
যেমন: পডু + আ = পড়া। এখানে পড়া’ শব্দটি কৃদন্ত শব্দ। কৃৎ প্রত্যয়ে ধাতুর আগে ক্রিয়ামূল বা ধাতুমূল চিহ্ন √ বসে।
- ‘আভাসিত’ শব্দটির প্রত্যয় বিশ্লেষণ: আ + √ ভাসি + ত। 

তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

১৩,৮৬৩.
'পর্বত' এর সমার্থক শব্দ-
  1. প্রস্তর
  2. মেদিনী
  3. গিরি
  4. উপল
ব্যাখ্যা
• 'পর্বত' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- মহীধর, পাহাড়, গিরি, অচল, শৈল, ভূধর, অদ্রি, শিখরী, শৃঙ্গী, শৃঙ্গধর, মহীধ্র, ভূভূৎ, নগ।

অন্যদিকে,
• পৃথিবী: জগৎ, ভুবন, সংসার, বিশ্ব, ধরা, ধরণী, ধরিত্রী, বসুমতী, মর্ত্য, বসুধা, অবনী, মহী, মেদিনী, ক্ষিতি।

• পাথর: পাষাণ, প্রস্তর, শিলা, উপল, অশ্ব, কঙ্কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৮৬৪.
কোনটি জাতি-বিশেষ্য?
  1. জানুয়ারি
  2. সাগর
  3. ইত্তেফাক
  4. হিমালয়
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 

১৩,৮৬৫.
"সুহৃদ; সুবুদ্ধি" কোন ধরনের সমাস?
  1. ব্যধিকরণ বহুব্রীহি
  2. ব্যতিহার বহুব্রীহি
  3. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  4. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

⇒ সমানাধিকরণ বহুব্রীহি:
পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সুন্দর হৃদয় যার = সুহৃদ;
- সু বুদ্ধি যার = সুবুদ্ধি;
- সুন্দর শ্রী যার = সুশ্রী ইত্যাদি।

[এখানে সুন্দর ও ‘সু’ পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য। উভয়ে মিলে এই সমাস গঠিত হয়েছে বলেই একে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলা হয়।]

অন্যদিকে,
ব্যধিকরণ বহুব্রীহি:
বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ বিশেষ্য-বিশেষ্য সংগঠিত হলে এবং এর যেকোনো একটি পদ ব্যাসবাক্যে অধিকরণ সম্পর্ক প্রকাশ করলে তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলা হয়। সংক্ষেপে বলা যায়, পূর্বপদ বিশেষণ না হয়ে অন্যপদ হলে তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বীণা পাণিতে যার= বীণাপাণি।
[এখানে বীণা (বাদ্যযন্ত্র) বা পাণি (হাত) উভয়ই বিশেষ্যপদ।]

⇒ ব্যতিহার বহুব্রীহি:
একই জাতীয় বিশেষ্যপদ পরপর বসে একই কাজের একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া বোঝালে তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি;
[হাত শব্দের পুনঃ ব্যবহার করে একটি কর্মপ্রক্রিয়াকে উপস্থাপন করা হয়েছে।]

তেমনই- কোলাকুলি, চোখাচোখি, ফাটাফাটি, টানাটানি, বকাবকি, হাসাহাসি, লাঠালাঠি, গালাগালি, চুলাচুলি, কানাকানি ইত্যাদি।

⇒ প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
বহুব্রীহি সমাসের পরে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে সমাস তৈরি হয় তাকে প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- এক দিকে চোখ যার = একচোখ + আ = একচোখা,
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখ + ও = ঘরমুখো,
- দুই দিকে যার মন = দো + মন + আ = দোমনা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

১৩,৮৬৬.
'স্বাস্থ্য' কোন প্রকার বিশেষ্য?
  1. গুণবাচক
  2. জাতিবাচক
  3. ভাববাচক
  4. বস্তুবাচক
ব্যাখ্যা

গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। 

যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,৮৬৭.
কোন বাক্যটির ক্রিয়া সকর্মক?
  1. মাখন রায় গানে মজেছে।
  2. মা ভাত রান্না করছেন।
  3. আমি টিফিনে খেয়েছি।
  4. সৌরভ পড়ে।
ব্যাখ্যা
সকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া পদের কর্ম থাকে তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে। বাক্যের ক্রিয়াকে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই কর্মপদ। কর্মযুক্ত ক্রিয়াই সকর্মক ক্রিয়া।
যেমন:
মা ভাত রান্না করছেন।
- এ বাক্যে ক্রিয়াপদ হচ্ছে 'রান্না করছেন'। প্রশ্ন: কী রান্না করছেন? উত্তর: ভাত।
- অতএব 'রান্না করছেন' ক্রিয়া পদটির কর্ম হচ্ছে 'ভাত'। 'রান্না করছেন' সকর্মক ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
সৌরভ পড়ে।
- সৌরভ কী পড়ে? – এ প্রশ্নের উত্তর নেই। অর্থাৎ এ বাক্যে 'পড়ে' ক্রিয়াপদের কোনো কর্ম নেই। তাই 'পড়ে' অকর্মক ক্রিয়া।
অনুরূপ,
মাখন রায় গানে মজেছে।
আমি টিফিনে খেয়েছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৩,৮৬৮.
' যুক্ত' অর্থে কোন শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) যুক্ত
  2. খ) ইতরামি
  3. গ) গেঁয়ো
  4. ঘ) টেকো
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় যোগ করলে শব্দের অর্থ অনেক সময় বদলে যায়- 

- অবজ্ঞা অর্থে: চোর→চোরা। 
- বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা।
- সদৃশ  অর্থে: বাঘ→ বাঘা।
- আগত অর্থে: দখিন → দখিনা।
- আদর অর্থে: কানু → কানাই।
- জাত অর্থে: ঢাকা → ঢাকাই। 
- ভাব অর্থে: ইতর → ইতরামি।
- নিন্দা অর্থে: জেঠা → জেঠামি।
- পেশা অর্থে: ডাক্তার → ডাক্তারি।
- মালিক অর্থে: জমিদার → জমিদারি।
- উপকরণ অর্থে: মাটি → মেটে। 
- নৈপুণ্য অর্থে: না → নেয়ে।
- রোগগ্রস্থ অর্থে: বাত → বেতো।
- যুক্ত অর্থে: টাক  → টেকো।
- সংশ্লিষ্ট অর্থে: গাঁ → গেঁয়ো। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩,৮৬৯.
'খেলা > খ্যালা' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. আদিস্বর লোপ
  2. বিষমীভবন
  3. প্রগত সমীভবন
  4. পরাগত স্বরসঙ্গতি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• পরাগত স্বরসঙ্গতি (Regressive):
পরবর্তী স্বরের প্রভাবে পূর্ববর্তী স্বরের পরিবর্তন তথা অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- আখো > আখুয়া > এখো,
- দেশি > দিশি, শুনা > শুনো,
- লিখা > লেখা,
- দেশি > দিশি,
- খেলা > খ্যালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• আদিস্বর লোপ (Aphesis):
ধ্বনিলোপের ক্ষেত্রে শব্দের প্রথমের স্বরধ্বনির লোপ হলে তাকে আদিস্বর লোপ বলে। যেমন- অলাবু লাবু লাউ, উদ্ধার উধার > ধারইত্যাদি।

• প্রগত সমীভবন (Progressive):
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন। যেমন- পক্ব > পক্ক, চন্দন > চন্নন, গলদা > গল্লা, পদ্ম > পদ্দ, লগ্ন লগ্ন, চক্র> চক্কর, রাজ্য > রাজ্জ ইত্যাদি।

• বিষমীভবন (Dissimilation):
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমন- তরবার > তরোয়াল, লাঙ্গল > নাঙ্গল, শরীর > শরীল, লালা > নাল ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৮৭০.
'চাটুকারকে সবাই অপছন্দ করে।'- বাক্যটিকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলে হয়-
  1. চাটুকারকে সবাই পছন্দ না করে পারে না।
  2. চাটুকারকে সবাই পছন্দ করতে পারে না।
  3. চাটুকারকে কেউ অপছন্দ করে না।
  4. চাটুকারকে কেউ পছন্দ করে না।
ব্যাখ্যা

• অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলেও বাক্যের অর্থ যেনো একই থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখলে বুঝা যায় যে “মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না” বাক্যটি সঠিকভাবে নেতিবাচক রূপ লাভ করেছে।

অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে পরিবর্তনের সূত্র:
১. বাক্যে না, নয়, নহে, নি, নেই, নাহি, নাই ইত্যাদি নঞর্থক অব্যয়যোগে অস্তিবাচক বাক্যের বিধেয় ক্রিয়াকে (সমাপিকা ক্রিয়া) নেতিবাচক করতে হবে।
২. হ্যাঁ-সূচক বাক্যকে না করতে হলে মুল অর্থ পরিবর্তন না করে বাক্য পরিবর্তন করতে হবে।
৩. বাক্যের বিশেষণ পদটিকে বিপরীত শব্দে রূপান্তর করতে হবে।
৪. প্রয়োজন মত বাক্যের অন্য শব্দকে 'না' সূচক বাক্যের প্রয়োগের আওতাভুক্ত করতে হবে।
৫. 'না' বাচক ক্রিয়া ও 'না' বাচক শব্দ বা 'না' বাচক অব্যয় মিলে বাক্যের অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-সূচক ভাবটি বজায় রাখতে হয়।

যেমন:
অস্তিবাচক: চাটুকারকে সবাই অপছন্দ করে।
নেতিবাচক: চাটুকারকে কেউ পছন্দ করে না।

অস্তিবাচক: হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।
নেতিবাচক: হৈমন্তী চুপ না থাকিয়া পারিল না।

অস্তিবাচক: এমন দিনে তারে বলা যায়।
নেতিবাচক: এমন দিনে তারে না বলে পারা যায় না।

অস্তিবাচক: পাখিটা মরল।
নেতিবাচক: পাখিটা বাঁচল না।

অস্তিবাচক: এভাবে সমাজ অচল হয়ে পড়ে।
নেতিবাচক: এভাবে সমাজ চলে না।

অস্তিবাচক: অনুপমার উচিত কাজ হয়েছে।
নেতিবাচক: অনুপমার অনুচিত কাজ হয়নি।

অস্তিবাচক: বাড়িটা তারা দখল করেছে।
নেতিবাচক: বাড়িটা তারা দখল না করে ছাড়েনি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৮৭১.
বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. চামার
  2. ধারালো
  3. মোড়ক
  4. পোষ্টাই
ব্যাখ্যা
• ‘অক’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √ঝল্ + অক = ঝলক;
- √মুড়্ + অক = মোড়ক।

অন্যদিকে,
তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- ধার + আল্ = ধারাল/ ধারালো।
- চাম (চর্ম) + আর = চামার।
- পোষ্টা + আই = পোষ্টাই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৮৭২.
‘উলুখাগড়া’ কাকে বোঝায়?
  1. একগুঁয়ে লোক
  2. গুরুত্বহীন লোক
  3. কাণ্ডজ্ঞানহীন
  4. ধূর্ত লোক
ব্যাখ্যা
• 'উলুখাগড়া' বলতে বোঝায় - গুরুত্বহীন লোক।

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
• 'উনপাঁজুরে' অর্থ - দুর্বল ও ব্যক্তিত্বহীন।
• 'গোঁয়ার গোবিন্দ' অর্থ - কাণ্ডজ্ঞানহীন।
• 'উড়নচণ্ডী' অর্থ - অমিতব্যয়ী। 
• খণ্ড প্রলয় - তুমুল কাণ্ড।
• গড্ডলিকা প্রবাহ - অন্ধ অনুকরণ।
• গদাই লস্করি চাল - আলসেমি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।।
১৩,৮৭৩.
'নির্বিঘ্ন' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কর্মধারয় সমাস
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) অব্যয়ীভাব সমাস
  4. ঘ) নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। 
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।

যেমন:
- নির্বিঘ্ন = বিঘ্নের অভাব, 
- নিরামিষ = আমিষের অভাব, 
- গরমিল = মিলের অভাব,  
- জানু পর্যন্ত লম্বিত ('পর্যন্ত' শব্দের অব্যয় 'আ')= আজানুলম্বিত (বাহু),

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ২য় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববদ্যালয়। 
১৩,৮৭৪.
‘ম’ - কোন ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
  1. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  2. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
  3. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  4. দন্ত্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা

ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরচিত।
 
যেমন: 
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৩,৮৭৫.
'মহাপরিচালক' শব্দটি কোন শ্রেণির ?
  1. তৎসম
  2. তদ্ভব
  3. দেশি
  4. বিদেশি
ব্যাখ্যা
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়; তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি।
- এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তৎসম শব্দ : প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।
-সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩,৮৭৬.
'কাণ্ডজ্ঞানহীন' কোন বাগ্‌ধারা দ্বারা বোঝানো হয়?
  1. উলুখাগড়া
  2. কুমড়ো কাটা বটঠাকুর
  3. গোঁয়ার গোবিন্দ
  4. ঘণ্টাগরুড়
ব্যাখ্যা
• 'কাণ্ডজ্ঞানহীন' 'গোঁয়ার গোবিন্দ' বাগ্‌ধারা দ্বারা বোঝানো হয়।

অন্যদিকে,
• 'উলুখাগড়া' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - গুরুত্বহীন লোক।
• 'কুমড়ো কাটা বটঠাকুর' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অকর্মণ্য লোক।
• 'ঘণ্টাগরুড়' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অকর্মণ্য লোক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৭৭.
'Biennial' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. দ্বিভাজন
  2. দ্বিপাক্ষিক
  3. দ্বিবার্ষিক
  4. দ্বিভাষিক
ব্যাখ্যা

• 'Biennial' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ- দ্বিবার্ষিক। 

অন্যদিকে, 
• 'Bifurcation' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ- দ্বিভাজন। 
• 'Bilateral' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ- দ্বিপাক্ষিক। 
• 'Bilingual' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ- দ্বিভাষিক, দ্বিভাষী। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা। 

১৩,৮৭৮.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. প্রনালি
  2. প্রোজ্জল
  3. কূপমণ্ডূক
  4. প্রনয়ন
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - 'কূপমণ্ডূক'।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- সীমাবদ্ধ জ্ঞানবিশিষ্ট।

অন্যদিকে,
- 'প্রনালি' শব্দের শুদ্ধ বানান - প্রণালি।
- 'প্রোজ্জল' শব্দের শুদ্ধ বানান - প্রোজ্জ্বল।
- 'প্রনয়ন' শব্দের শুদ্ধ বানান - প্রণয়ন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩,৮৭৯.
নিচের কোন শব্দার্থটি সঠিক নয়?
  1. ক) সাক্ষর- অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন
  2. খ) সুরভি- সুবাস
  3. গ) সুচি- তালিকা
  4. ঘ) সন- বৎসর
ব্যাখ্যা
সুচি- তালিকা- শব্দার্থটি সঠিক নয়। 
সুচি শব্দের অর্থ- সুই। 

'সাক্ষর' শব্দের অর্থ- অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন 
আবার, 'স্বাক্ষর' শব্দের অর্থ- 'দস্তখত'

'সুরভি' শব্দের অর্থ-- সুভাস 
আবার, 'সুরভী' শব্দের অর্থ- 'পৃথিবী'

'সন' শব্দের অর্থ- 'বৎসর' 
'শন' শব্দের অর্থ- 'তৃণবিশেষ'

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৮৮০.
বাগ্‌ধারাটির অর্থ নির্ণয় করুন: 'ধরাকে সরা জ্ঞান'
  1. ভান করা
  2. প্রচণ্ড উত্তেজনা
  3. অহংকার করা
  4. দীর্ঘসূত্রিতা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'ধরাকে সরা জ্ঞান' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অহংকার করা।
বাক্য গঠন: তুমি ধরাকে সরা জ্ঞান করে সাধারণ মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করছো।

অন্যদিকে,
• 'সপ্তমে চড়া' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - 'প্রচণ্ড উত্তেজনা'।
• ‘ভেক ধরা’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - ভান করা।
• 'আঠারো মাসে বছর' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - দীর্ঘসূত্রিতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
১৩,৮৮১.
‘সংকীর্ণমনা লোক’ অর্থে কোন বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. খয়ের খাঁ
  2. কুয়োর ব্যাঙ
  3. ছুঁচোর কেত্তন
  4. চিনে জোঁক
ব্যাখ্যা
• ‘কুয়োর ব্যাঙ’ বাগধারার অর্থ - সংকীর্ণমনা লোক।

অন্যদিকে,
- 'গোঁফ খেজুরে' বাগধারার অর্থ - নিতান্তই অলস।
- ‘ছুঁচোর কেত্তন’ বাগধারার অর্থ - অবিরাম কলহ।
- ‘খয়ের খাঁ’ বাগধারার অর্থ - চটুকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৮২.
‘নীরস’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নি + রস
  2. নী + রস
  3. নিঃ + রস
  4. নীঃ + রস
ব্যাখ্যা
• 'নীরস' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - নিঃ + রস।

• 'নীরস' এর সন্ধি বিচ্ছেদের নিয়ম:
ই কিংবা উ ধ্বনির পরের বিসর্গের সাথে ‘র’ এর সন্ধি হলে বিসর্গের লোপ হয় ও বিসর্গের পূর্ববতী হ্রস্ব স্বর দীর্ঘ হয়।
যেমন-
নিঃ + রস = নীরস।
নিঃ + রব = নীরব,
নিঃ + রোগ = নীরোগ,

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৮৮৩.
কোনটি ভগ্নাংশ পূরণবাচক শব্দ?
  1. পোয়া
  2. তেসরা
  3. চতুর্থ
  4. দ্বিতীয়
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• পূরণবাচক শব্দ আবার ৩ প্রকার।

যথা:
- সাধারণ পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ... নবম ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক - পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক - আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৩,৮৮৪.
এককথায় প্রকাশ করুন: ‘যার চক্ষুলজ্জা নেই’ -
  1. চশমখোর
  2. নির্লজ্জ
  3. চাক্ষুষ
  4. চোষ্য
ব্যাখ্যা
⇒ ‘যার চক্ষুলজ্জা নেই’ এক কথায় বলে - চশমখোর।

আরও কিছু এক কথায় প্রকাশ- 
• 'যার কোন অবলম্বন নাই' এক কথায় বলে - নিরবলম্বন।
• 'যার অন্য উপায় নাই' এক কথায় বলে - অনন্যোপায়।
• 'যা আঘাত পায়নি' এর এক কথায় বলে - অনাহত।
• 'যার কোন উপায় নেই'  এক কথায় বলে - নিরুপায়।
• 'যার উপস্থিত বুদ্ধি আছে' এক কথায় বলে - প্রত্যুৎপন্নমতি।
• 'যার কোন কিছুতেই ভয় নেই' এক কথায় বলে - অকুতোভয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৮৮৫.
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সাথে কোন পদের সম্পর্ককে কারক বলে?
  1. ক) বিশেষণ পদের
  2. খ) অব্যয় পদের
  3. গ) নাম পদের
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ পদের
ব্যাখ্যা
কারক শব্দটির অর্থ - যা ক্রিয়া সম্পাদন করে।
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
১৩,৮৮৬.
'মক্ষিকা' এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) মৌমাছি
  2. খ) মাছি
  3. গ) বোলতা
  4. ঘ) ফড়িং
ব্যাখ্যা
'মক্ষিকা' এর সমার্থক শব্দ = মাছি
অন্যদিকে, 
'মৌমাছি' এর সমার্থক শব্দ = মধুমক্ষিকা 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৩,৮৮৭.
'দুশ্চরিত্র' — শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দু + চরিত্র
  2. দুশ্চ + রিত্র
  3. দুঃ + চরিত্র
  4. দুশ্‌ + চরিত্র
ব্যাখ্যা

• 'দুশ্চরিত্র' — শব্দটির এর সন্ধি বিচ্ছেদ — 'দুঃ + চরিত্র'। 

• 'দুশ্চরিত্র'-এর সন্ধি বিচ্ছেদ এর নিয়ম:
আগে বিসর্গ ও পরে চ্ বা ছ্ থাকলে বিসর্গ স্থানে শ্ হয়। শ্ পরের বর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন:
- দুঃ + চরিত্র = দুশ্চরিত্র,  
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়,
- নিঃ + চল = নিশ্চল,
- দুঃ + চিন্তা = দুশ্চিন্তা,
- দুঃ + চেষ্টা = দুশ্চেষ্টা,
- নভঃ + চর = নভশ্চর,
- মনঃ + চক্ষু = মনশ্চক্ষু,
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৩,৮৮৮.
'বেল পাকলে কাকের কী' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ -
  1. রক্তসূত্রে আত্মীয় না হলে আপন হয় না
  2. নির্বোধেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়
  3. ঝামেলার ওপর ঝামেলা
  4. আয়ত্ত বহির্ভূত জিনিসের আকর্ষণ না হওয়া
ব্যাখ্যা
• 'বেল পাকলে কাকের কী' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - আয়ত্ত বহির্ভূত জিনিসের আকর্ষণ না হওয়া

অন্যদিকে,
- 'বোঝার ওপর শাকের আঁটি' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - ঝামেলার ওপর ঝামেলা।
- 'বোকার ফসল পোকায় খায়' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - নির্বোধেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- ‘যম-জামাই-ভাগনা তিন নয় আপনা’ প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - রক্তসূত্রে আত্মীয় না হলে আপন হয় না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৩,৮৮৯.
কয়টি অসম্পূর্ণ ধাতু পাওয়া যায়?
  1. ক) ৪
  2. খ) ৫
  3. গ) ৬
  4. ঘ) ৭
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় কয়েকটি ধাতুর সকল কালের রূপ পাওয়া যায় না সেসব ধাতুকে অসম্পূর্ণ বা পঙ্গু ধাতু বলে।
অসম্পূর্ণ ধাতু ৫ টি। যথা : আ, আছ্, নহ্, বট্, থাক্।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

১৩,৮৯০.
‘যা চিরস্থায়ী নয়' এক কথায় প্রকাশ কী হবে?
  1. ক) অস্থায়ী
  2. খ) ক্ষণিক
  3. গ) নশ্বর
  4. ঘ) শ্বসাহারী
ব্যাখ্যা
এক কথায় প্রকাশ: 
- 'যা চিরস্থায়ী নয়' এক কথায় প্রকাশ- নশ্বর। 

অন্যদিকে, 
- 'যা স্থায়ী নয়' এক কথায় প্রকাশ- অস্থায়ী। 
- 'ক্ষণকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী' এক কথায় প্রকাশ- ক্ষণস্থায়ী। 
- 'স্থায়ী ঠিকানা নেই যার' এক কথায় প্রকাশ- উদ্বাস্তু। 
- 'নষ্ট হওয়া স্বভাব নয় যার' এক কথায় প্রকাশ- অবিনশ্বর। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৩,৮৯১.
দাঁড়ি যতিচিহ্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিরতির সময়কাল কত?
  1. ১ বলার দ্বিগুণ
  2. ১ মিনিট
  3. ১ সেকেন্ড
  4. ১ বলেতে যে সময় প্রয়োজন
ব্যাখ্যা
• দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
- দাঁড়ি যতিচিহ্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিরতির সময়কাল ১ সেকেন্ড।
- বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়।
- অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়। 
যেমন:
- যাও।
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে ।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি আশ্ঢ় বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩,৮৯২.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ নয়-
  1. তেজস্বী
  2. জবানবন্দি
  3. খবরদার
  4. দারোয়ান
ব্যাখ্যা

বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়ের কিছু উদাহরণ হলো:
- ওয়ালা > আলা (হিন্দি): বাড়ি + ওয়ালা = বাড়িওয়ালা (মালিক অর্থে), দিল্লি + ওয়ালা = দিল্লিওয়ালা (অধিবাসী অর্থে), মাছ + ওয়ালা = মাছওয়ালা (বৃত্তি অর্থে), দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা (বৃত্তি অর্থে)।
- ওয়ান>আন (হিন্দি): গাড়ি + আন = গাড়োয়ান, দার + আন = দারোয়ান
- আনা>আনি (হিন্দি): মুনশি + আনা = মুনশিয়ানা, বিবি + আনা = বিবিআনা, হিন্দু + আনি = হিন্দুয়ানি।
- সা (হিন্দি): পানি + সা = পানসা> পানসে, এক + সা = একসা, কাল (কাল) + সা = কালসা>কালসে।
- গর> কর (ফারসি): কারি + গর = কারিগর, বাজি + কর = বাজিকর, সওদা + গর = সওদাগর।
- দার (ফারসি): তাঁবে + দার = তাঁবেদার, খবর + দার = খবরদার, বুটি + দার = বুটিদার, দেনা + দার = দেনাদার, চৌকি + দার = চৌকিদার, পাহারা + দার = পাহারাদার।
- বাজ (দক্ষ অর্থে-ফারসি): কলম + বাজ = কলমবাজ, ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ , ধোঁকা + বাজ = ধোঁকাবাজ, গলা + বাজ + ই = গলাবাজি (বিশেষ্য)।
- বন্দি (বন্দ্-ফারসি): জবান + বন্দি = জবানবন্দি, সারি + বন্দি = সারিবন্দি , নজর + বন্দি = নজরবন্দি।
- 'সই' মতো অর্থে: জুত + সই = জুতসই, মানান + সই = মানানসই, চলন + সই = চলনসই, টেক + সই = টেকসই।
- 'পনা' মতো অর্থে: গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা, বেহায়া + পনা = বেহায়াপনা। 

উল্লেখ্য,
- 'তেজস্বী = তেজঃ + বিন্‌' সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৩,৮৯৩.
নিচের কোনটি পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. সেচনকলস
  2. লোকভয়
  3. পথভ্রষ্ট
  4. ভদ্রেতর
ব্যাখ্যা

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়- সেচনকলস। 
------------------------------- 
• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পঞ্চমী তৎপুরুষ বা অপাদান তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (যেমন – হতে, থেকে, চেয়ে) লোপ পেয়ে সমাস গঠিত হয়।
- এই সমাসে পূর্বপদ “কোথা থেকে, কী থেকে, কার থেকে” ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ করে এবং পরপদ মূল অর্থ বহন করে।
- সাধারণত চ্যুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহীত, বিরত, মুক্ত, ভ্রষ্ট বা পালানো বোঝানো হলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।

- উদাহরণসমূহ:
লোকভয় = লোক হতে ভয়, 
পথভ্রষ্ট = পথ হতে ভ্রষ্ট, 
ভদ্রেতর = ভদ্র হতে ইতর, 
মেঘমুক্ত = মেঘ হতে মুক্ত, 
জেলমুক্ত = জেল হতে মুক্ত, 
ঝণমুক্ত = ঝণ হতে মুক্ত, 
সত্যভ্রষ্ট = সত্য থেকে ভ্রষ্ট, 
রোগমুক্ত = রোগ হতে মুক্ত, 
দলছুট = দল থেকে ছুট, 
বৃক্ষচ্যুত = বৃক্ষ হতে চ্যুত,
লক্ষ্যচ্যুত = লক্ষ্য হতে চ্যুত। 

- টেকনিক:
- পরপদে ‘ভ্রষ্ট’, ‘মুক্ত’, ‘চ্যুত’, ‘ভয়’, ‘ছুট’ বা সমজাতীয় শব্দ থাকলে তা পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
------------------------------- 
অন্যদিকে, 
- সেচনকলস- চতুর্থী তৎপুরুষ বা সম্প্রদান তৎপুরুষ সমাস। 

- চতুর্থী তৎপুরুষ বা সম্প্রদান তৎপুরুষ সমাস:
- চতুর্থী তৎপুরুষ বা সম্প্রদান তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (যেমন – কে, জন্য, নিমিত্ত) লোপ পেয়ে সমাস গঠিত হয়।
- এ ধরনের সমাসে সমস্তপদ দ্বারা পরপদ মূলত পূর্বপদের জন্য বা উদ্দেশ্যে বোঝায়। 

- উদাহরণসমূহ:
সেচনকলস = সেচনের নিমিত্তে কলস,
রান্নাঘর = রান্নার জন্য ঘর,
বসতবাটি = বসতের নিমিত্তে বাটি,
তপোবন = তপের নিমিত্তে বন,
ডাকমাশুল = ডাকের নিমিত্ত মাশুল,
দেশপ্রীতি = দেশের জন্য প্রীতি,
পাঠাগার = পাঠের জন্য আগার,
দেবভক্ত = দেবকে ভক্তি,
ডাকঘর = ডাকের নিমিত্ত ঘর,
মুক্তিযুদ্ধ = মুক্তির জন্য যুদ্ধ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩,৮৯৪.
নিচের কোনটি নিলীন বর্ণ?
ব্যাখ্যা
• যে স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ নাই তাকে নিলীন বর্ণ বলে।
• ‘অ’ বর্ণটির কোন সংক্ষিপ্ত রূপ না থাকায় ‘অ’ বাংলা বর্ণমালার নিলীন বর্ণ।

অন্যদিকে,
আ, ও, উ এর সংক্ষিপ্ত রূপ যথাক্রমে আ-কার, ও-কার এবং উ-কার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৯৫.
শুদ্ধ বানান -
  1. দুষণীয়
  2. জ্বরাজীর্ণ
  3. আধ্যাত্মিক
  4. উপরোক্ত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - আধ্যাত্মিক
- এটি একটি বিশেষণ পদ।

শব্দের অর্থ:
- পারমার্থিক,
- আত্মা থেকে জাত,
- আত্মাসম্বন্ধীয়।

অন্যদিকে,
উপরোক্ত – উপর্যুক্ত, 
জ্বরাজীর্ণ – জরাজীর্ণ, 
দুষণীয় – দূষণীয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা একাডেমি।
১৩,৮৯৬.
বানানের ক্ষেত্রে নিচের কোন নিয়মটি সঠিক?
  1. ক) রেফ এর পর তৎসম ও অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
  2. খ) রেফ এর পর তৎসম ও অতৎসম কোনো শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণে ঈ-কার যুক্ত হবে না।
  3. গ) রেফ এর পর তৎসম ও অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের পর বিসর্গ যুক্ত হবে।
  4. ঘ) রেফ এর পর তৎসম ও অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ হবে।
ব্যাখ্যা
রেফ এর পর তৎসম, অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন:
- কার্য্যালয় হবে না, সঠিক বানান হবে কার্যালয়।
- নির্দ্দিষ্ট হবে না, সঠিক বানান নির্দিষ্ট।
- ধর্ম্মসভা বানানটি ভুল, সঠিক বানান হবে ধর্মসভা।
- তেমনি ভাবে পর্ব্বত হবে না , সঠিক বানান হবে পর্বত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৯৭.
'দরজা' কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. হিন্দি
  4. পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
‘দরজা' শব্দটি 'ফারসি' ভাষা থেকে আগত। 
 
• ‘দরজা' (বিশেষ্য) শব্দের অর্থ- 'দ্বার, দুয়ার, পাট। 

• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।
-----------------------
• ইংরেজি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:
এফিডেভিট, এপ্রিল, এমডি, এয়ারপোর্ট, কনফারেন্স, কফিন, কমিটি, ক্যাবিন, ডজন, ডলফিন, তার্পিন।

• ফরাসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:
এস্টেট, কার্নিশ, কার্টিজ, কার্পেট, কার্বুরেটর, কুপন, ডিপো, ফসিল, লিস্ট, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি

• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:
কলম, খাতা, আসবাব, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত।

• পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ:
- আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি পাদ্রী ইত্যাদি।

• হিন্দি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:
ঝাড়ু, জোখ, জুতা, জুড়ি, তরাই, ঢাকনা, ঝিলমিল, ঝিল, ঝুমকা, চৌপট, চৌপল, চৌতাল, চাঁটি, কুঁজড়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১৩,৮৯৮.
'আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যারগুলোর সমাধান সম্ভব'–বাক্যটিতে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বানান জনিত ভুল
  2. খ) পদক্রম জনিত অশুদ্ধি
  3. গ) বহুবচনের অপপ্রয়োগ
  4. ঘ) বাচ্যজনিত ভুল
ব্যাখ্যা
কোন শব্দকে এক বার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
তাই উল্লিখিত বাক্যে 'সমস্যাগুলোর' না হয়ে 'সমস্যা' হবে।
অর্থাৎ, সঠিক বাক্য- 'আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব'।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৮৯৯.
প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. ক) চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি
  2. খ) অধিক সন্ন্যাসীতে ধ্যান নষ্ট
  3. গ) অবলার মুখ ই বল
  4. ঘ) ঠাকুরঘরে কে? আমি কলা খাই নি
ব্যাখ্যা

- সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
- যেমনঃ 'অধিক সন্ন্যাসীতে ধ্যান নষ্ট' বাক্যটি ভুল৷ এতে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ বাক্যটি হলো- অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট (অতিরিক্ত লোকের খবরদারিতে কাজ পণ্ড)।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩,৯০০.
নিচের কোন ক্ষেত্রে ‘ণ-ত্ব’ বিধান প্রযোজ্য নয়?
  1. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে 
  2. তৎসম শব্দের বানানে
  3. ঋ, র, ষ - এর পরে
  4. সমাসবদ্ধ শব্দে
ব্যাখ্যা

ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।