বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১৩৭ / ৩৫৪ · ১৩,৬০১১৩,৭০০ / ৩৫,৭১৩

১৩,৬০১.
নিচের কোনটি অব্যয়ের ধরন নয়?
  1. ক) সমুচ্চয়ী
  2. খ) অনন্বয়ী
  3. গ) উপসর্গ
  4. ঘ) অনুকার
ব্যাখ্যা
অব্যয় প্রধানত চার প্রকার। যথা - সমুচ্চয়ী, অনন্বয়ী, অনুসর্গ, অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৩,৬০২.
কোন বাক্যে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. এ কথা প্রমাণ হয়েছে। 
  2. আমি অপমান হয়েছি।
  3. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
  4. তিনি সস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে : তিনি সস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন। 

• বাক্যে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় বাক্য গঠনে ভুল হয়। 
যেমন-
⇒ অশুদ্ধ: তিনি স্বস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।
⇒ শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।

অন্য অপশনে, 
অশুদ্ধ: আমি অপমান হয়েছি।
শুদ্ধ: আমি অপমানিত হয়েছি।

অশুদ্ধ: এ কথা প্রমাণ হয়েছে। 
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।  

অশুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
শুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,৬০৩.
স্বয়ংসিদ্ধ ধাতু কোনটি?
  1. শো
  2. ধমকা
  3. পড়া
  4. দেখা
ব্যাখ্যা

 • মৌলিক ধাতু:
- যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু।
-  একে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয় ৷ 
- যেমন –চল্, পড়, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।

• সাধিত ধাতু:
- মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম - শব্দের সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে।
- যেমন দেখ্ + আ = দেখা, পড়+আ= পড়া, বল+আ=বলা।
- সাধিত ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষসূচক বিভক্তি যুক্ত করে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
- যেমন মা শিশুকে চাঁদ দেখায়। (এখানে দেখ+আ+বর্তমান কালের সাধারণ নামপুরুষের ক্রিয়া বিভক্তি 'য়' = দেখায়)। এরূপ শোনায়, বসায় ইত্যাদি।
গঠনরীতি ও অর্থের দিক থেকে সাধিত ধাতু তিন শ্রেণিতে বিভক্ত:
ক. নাম ধাতু, খ. প্রযোজক (নিজন্ত) ধাতু, (গ) কর্মবাচ্যের ধাতু।

ক. নাম ধাতু: বিশেষ্য, বিশেষণ এবং অনুকার অব্যয়ের পরে 'আ' প্রত্যয় যোগ করে যে নতুন ধাতুটি গঠিত হয় তা-ই নাম ধাতু। যেমন-সে ঘুমাচ্ছে। 'ঘুম্' থেকে নাম ধাতু 'ঘুমা'। 'ধমক্' থেকে নাম ধাতু 'ধমকা'। যেমন আমাকে ধমকিও না।

খ. প্রযোজক ধাতু: মৌলিক ধাতুর পরে প্রেরণার্থ (অপরকে নিয়োজিত করা অর্থে) 'আ' প্রত্যয় যোগ করে প্রযোজক ধাতু বা ণিজন্ত ধাতু গঠিত হয়। যেমন- কর্ + আ করা (এখানে 'করা' একটি ধাতু)। যেমন সে নিজে করে না, আর একজনকে দিয়ে করায়। অনুরূপভাবে- পড়+ আ-পড়া; তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন।

গ. কর্মবাচ্যের ধাতু: মৌলিক ধাতুর সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে কর্মবাচ্যের ধাতু সাধিত হয়। এটি বাক্যমধ্যস্থ কর্মপদের অনুসারী ক্রিয়ার ধাতু। যথা দেখ+ আ-দেখা; কাজটি ভালো দেখায় না। হার্+আ-হারা; 'যা কিছু হারায় গিন্নী বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর।'
'কর্মবাচ্যের ধাতু' বলে আলাদা নামকরণের প্রয়োজন নেই। কারণ, এটি প্রযোজক ধাতুরই অন্তর্ভুক্ত। যেমন-'দেখায়' এবং 'হারায়' প্রযোজক ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৮সংস্করণ)।

১৩,৬০৪.
'প্রত্যয়' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বিস্ময়
  2. নির্ভয়
  3. সংশয়
  4. নিশ্চয়
  5. ক ও গ
ব্যাখ্যা
• 'প্রত্যয়' এর বিপরীতার্থক শব্দ- সংশয়।

• 'প্রত্যয়' শব্দের অর্থ- প্রতীতি, বিশ্বাস, নিশ্চায়ত্মক ধারণা, নিঃসন্দিগ্ধতা।
• 'সংশয়' শব্দের অর্থ - সন্দেহ, দ্বিধা, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তাবোধ।

অন্যদিকে,
'বিস্ময়' -  স্বাভাবিক।
'ভয়' - নির্ভয়।
'দ্বিধা' - নির্দ্বিধা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৬০৫.
‘ব্রজবুলি’ কী ধরনের ভাষা?
  1. প্রাকৃতিক ভাষা
  2. কৃত্রিম ভাষা 
  3. উপভাষা
  4. ব্রজধামের আদি ভাষা
ব্যাখ্যা

‘ব্রজবুলি’ এক ধরনের কৃত্রিম ভাষা। 

ব্রজবুলি
- ব্রজবুলি
একটি কৃত্রিম বা artificial ভাষা।
- এ ভাষায় কেউ কোনো দিন কথা বলে নি।
- মৈথিলি ভাষার সঙ্গে অবহটঠ বা বাংলা ভাষার বিশেষ রূপের সংমিশ্রণে এই কৃত্রিম ভাষা তৈরি করেন কতিপয় লেখক।
- এই ভাষা ব্রজধামের ভাষা নয়। ব্রজধামের ভাষার নাম 'ব্রজভাষা'।
- তবে এই করিছ ভাষায় শ্রীকৃষ্ণের ব্রজলীলা বর্ণিত হওয়ায় তা ব্রজবুলি নামকরণ হয়।

ব্রজবুলির বৈশিষ্ট্য:
- এই ভাষা অভিনদ কোমল, মধুর ও কাব্যিক।
- মৈথিলি ও বাংলার সঙ্গে এখানে বেশ কিছু হিন্দি শব্দের মিশ্রণ আছে।
- এই ভাষা চতুর্দশ শতাব্দীর মৈথিলি কবি বিদ্যাপতির কল্যাণে বাংলায় ব্যাপক প্রচার ও প্রসার লাভ করে।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা এই ভাষায় যেরূপ মোহনীয়ভাবে প্রকাশিত হয়, অন্য ভাষাতে তেমন নয় বলে অনেকে মনে করেন।
- বিদ্যাপতির সঙ্গে মিথিলার কবি উমাপতি উপাধ্যায় এমন কি আধুনিক যুগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পর্যন্ত এই ভাষা ব্যবহার করেন।
- 'ব্রজবুলি' ভাষা হিসেবে প্রচারিত থাকলেও শব্দটির লিখিত ব্যবহার ঈশ্বর গুপ্তের রচনার আগে বাংলায় দেখা যায় না।

ব্রজবুলির উদাহরণ:
- 'গাগরি বারি ঢারি করি পীছল / চলতহি অঙ্গুলি চাপি / মাধব তুয়া অভিসারক লাগি।' - গোবিন্দ্র দা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৬০৬.
নিচের কোন বাক্যে বিশেষণ এর বিশেষণ রয়েছে?
  1. এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত
  2. ধীরে চল
  3. একটু দুধ খাও
  4. পরে একবার এসো
ব্যাখ্যা
- যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন-
- সামান্য একটু দুধ দাও (সামান্য)।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত (অতিশয়)।
- রকেট অতি দ্রুত চলে (অতি) ইত্যাদি শব্দগুলো বিশেষণীয় বিশেষণ।

উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৬০৭.
'খয়ের খা' বাগ্‌ধারা সমর্থক বাগধারা কোনটি?
  1. ঢাকের কাঠি
  2. গোঁয়ার গোবিন্দ
  3. গোবর গণেশ
  4. ঘাটের মড়া
ব্যাখ্যা
'• ঢাকের কাঠি' বাগ্‌ধারাঅর্থ-  মোসাহেব , তোষামুদে ব্যক্তি।
যেমন: 
- তুমি তো বড় সাহেবের ঢাকের কাঠি,তিনি যা বলেন,তুমি তাই বলো।

অন্যদিকে,
• গোবর গণেশ' বাগ্‌ধারার অর্থ - 'গোবর গণেশ ' অর্থ 'নিরেট মূর্খ। 
• গোঁয়ার গোবিন্দ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - নির্বোধ অথচ হঠকারী।
• ঘাটের মড়া বাগ্‌ধারাটির অর্থ -  অতি বৃদ্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১৩,৬০৮.
'কারক' শব্দটির অর্থ?
  1. ক) যা পদকে সম্পাদন করে
  2. খ) যা সমাস সম্পাদন করে
  3. গ) যা ক্রিয়া সম্পাদন করে
  4. ঘ) যা পদ ও সমাসকে সম্পাদন করে
ব্যাখ্যা
• কারক: 
- কারক (কৃ+ণক) শব্দটির অর্থ- যা ক্রিয়া সম্পাদন করে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।

• কারক ছয় প্রকার :
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক, 
- করণ কারক,
- অপাদান কারক, 
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৬০৯.
'ছোটদাদা>ছোটদা' এতে কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. ক) অভিশ্রুতি
  2. খ) ব্যঞ্জন দ্বিত্ব
  3. গ) ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. ঘ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনচ্যুতি:
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়, এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি ।
যেমন:
- বউদিদি>বউদি 
- বড়দাদা>বড়দা
- ছোটদাদা>ছোটদা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৬১০.
‘দলছাড়া’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ৩য়া তৎপুরুষ
  2. ৪র্থী তৎপুরুষ
  3. ৫মী তৎপুরুষ
  4. ৭মী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া,
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ,
- দল থেকে ছাড়া = দলছাড়া,
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৬১১.
নঞ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) পকেটমার
  2. খ) চাবাগান
  3. গ) বেহায়া
  4. ঘ) ভোজন পটু
ব্যাখ্যা
না বাচক নঞ অব্যয় ( না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাঁকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে। 
যেমন:
নয় সুখ = অসুখ
নয় উচিত = অনুচিত 
নেই বিশ্বাস = অবিশ্বাস 
নেই মিল = অমিল 
নেই হায়া = বেহায়া ইত্যাদি। 

পকেট মারে যে = পকেটমার = উপপদ তৎপুরুষ সমাস। 
চায়ের বাগান = চাবাগান = ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
ভোজনে পটু = ভোজন পটু = সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬১২.
নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. Nature
  2. Value
  3. Morality
  4. Liberty
ব্যাখ্যা
অপশনগুলোর অর্থ:
ক) Nature:  প্রকৃতি; নিসর্গ।
খ) Value: উপকারিতা; মূল্য; দাম।
গ) Morality:  সদাচরণ; সদাচরণের মান, মূলসূত্র ইত্যাদি; নৈতিকতা।
ঘ) Liberty: স্বাধীনতা; বন্দিদশা, দাসত্ব, বৈদেশিক শাসন বা নিপীড়ন থেকে মুক্তি; স্ব-ইচ্ছায় কাজকর্ম বা চলাফেরা করার অধিকার।
 
অপশনগুলোর অর্থ বিবেচনা করে দেখা যায়, নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ - Morality.
 
Source: Accessible Dictionary.
১৩,৬১৩.
'পিশাচ ˃ পিচাশ' কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রুতি
  2. ধ্বনি বিপর্যয়
  3. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের শধ্যে দুটো ব্যঞ্জনের পরস্পর স্থান পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।

যেমন:
- পিশাচ ˃ পিচাশ,
- লাফ ˃ ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৬১৪.
ড়, ঢ় কোন প্রকার ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1. ক) মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  2. খ) তালব্য ব্যঞ্জন
  3. গ) দন্ত্য ব্যঞ্জন
  4. ঘ) দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢােল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
১৩,৬১৫.
"ধোপদুরস্ত" বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. কথাসর্বস্ব
  2. বাবুগিরি
  3. তোষামুদে
  4. তুচ্ছ জ্ঞান করা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

 • 'ধোপদুরস্ত' বাগ্‌ধারার অর্থ - বাবুগিরি।

অন্যদিকে,
- 'ধামাধরা' বাগ্‌ধারার অর্থ - তোষামুদে।
- 'নকড়া ছকড়া করা' বাগ্‌ধারার অর্থ - তুচ্ছ জ্ঞান করা।
- 'পথে বসা' বাগ্‌ধারার অর্থ - সর্বস্বান্ত হওয়া।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,৬১৬.
নিচের কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. সিংহাসন
  2. গাছপাকা
  3. মাতাপিতা
  4. রাজপথ
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ্গুলোর প্রতিটিতেই অর্থ প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- ভাইবোন,
- তাল-তমাল,
- ভালোমন্দ,
- মাতাপিতা,
- যাকে-তাকে ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- 'রাজপথ' (পথের রাজা) ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
- 'গাছপাকা' (গাছে পাকা) ৭মী তৎপুরুষ সমাস।
- 'সিংহাসন' (সিংহ চিহ্নিত আসন) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৬১৭.
গুণবাচক বিশেষ্য কোনটি?
  1. জনতা
  2. সৌরভ
  3. ফরাসি
  4. মাটি
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষ্য: 
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা - 
মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা।

গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ:
- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ‘জনতা’ সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
- ‘ফরাসি’ জাতিবাচক বিশেষ্য।
- ‘মাটি’ - বস্তুবাচক বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬১৮.
‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’ - বাক্যটিতে কোন গুণের অভাব রয়েছে?
  1. ক) আসত্তি
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) আসক্তি
  4. ঘ) আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
• ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই।
- যেমন -
-  আকাঙ্ক্ষা,
- আসত্তি এবং
- যোগ্যতা। 

• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
- যেমন ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

২. আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।

- যেমন – কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি। মনোভাব পূর্ণ
ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
যেমন –
কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

৩. যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলকখনের নাম যোগ্যতা।
- যেমন- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। - এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , ৯ম - ১০ম শ্রেণি। 
১৩,৬১৯.
ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যাপক অ্যাসকোলি আদি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী থেকে সৃষ্ট ভাষাগুলোকে কয়টি প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন?
  1. ৯টি
  2. ২টি
  3. ৭টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
• ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর শ্রেণিবিভাগ:
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর প্রাচীন শাখা ৯টি। আধুনিককালে অনেকে ১০টি বলেও উল্লেখ করেছেন। আমরা যেহেতু আধুনিক যুগের মানুষ তাই সেহেতু আধুনিক মতকেই স্বীকার করবো।

- ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যাপক অ্যাসকোলি আদি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী থেকে সৃষ্ট ভাষাগুলোকে দুটো প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন। একটি শতম (Satam) ও অন্যটি কেস্তম (Centum)।
- কেন্তম ও শতম এ বিভাজন হয়েছিলো মূলত কণ্ঠবর্ণের উচ্চারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করে। এ বিভাজনের ফলে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠির অন্তর্ভুক্ত ভাষাগুলোর ভেতর একটি ভৌগোলিক বিভাজনও হয়।

- অ্যাসকোলির ধারণা কেন্তম গোষ্ঠীর ভাষাগুলো সব পশ্চিমের আর শতম গোষ্ঠির ভাষাগুলো সব পূর্বের। বর্তমানকালে হিত্তি বা হিত্তিক (Hittic) ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় গোষ্ঠীর দশম শাখা হিসেবে পরিচিত।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, এশিয়া মাইনরে প্রায় দেড় হাজার খ্রিস্টপূর্বে হিত্তি (হিত্তিক) ভাষা প্রচলিত ছিল। এবং তোখারিক (তুখারিক) ভাষা মধ্য এশিয়ায় খ্রিস্টীয় অষ্টম শতক পর্যন্ত জীবিত ছিল।

- কোনো কোনো পণ্ডিত হিত্তিকে ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষার সমগোত্রীয় এবং সমান স্তরের ভাষা বলে অভিহিত করেছেন। ড. সুকুমার সেন এ মতকে সমর্থন করে হিত্তির হিত্তির মূল ভাষার নাম 'ইন্দো-হিট্টীয়' বলে বলে উল্লেখ উল্লেখ করেছেন। হিত্তি এবং তোখারীয় ভাষা আবিষ্কারের পর ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষা বিভাগের কিছুটা পরিবর্তন ঘটলেও প্রাথমিক দুটি বিভাগ (কেন্তুম্ ও শতম) অস্বীকার করা যায় না। আধুনিক ভাষাতাত্ত্বিকগণ কেন্তুম এবং শতম্ এ দুটি বিভাগকে স্বীকার করেই ভাষার বিভিন্ন শ্রেণিবিন্যাসে নিয়োজিত হয়েছেন। সুতরাং হিত্তি এবং তুখারীয় ভাষা আবিষ্কারের পরেও কেন্তুম ও শতমের নামকরণের গুরুত্ব ও সার্থকতা রয়েছে।




উৎস: ইন্দো-ইউরোপীয় থেকে বাংলা (বাংলা ভাষার ইতিহাস), রেজাউল ইসলাম।
১৩,৬২০.
'সুডৌল' শব্দের কোন প্রকার উপসর্গ ব্যবহার হয়েছে?
  1. বাংলা
  2. ফারসি
  3. আরবি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'সুডৌল' শব্দের 'বাংলা' উপসর্গ ব্যবহার হয়েছে।
- 'সু' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ -সুখবর, সুদিন, সুনজর, সুনাম, সুডৌল।

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৩,৬২১.
’ঘরের শত্রু বিভীষণ’ বাগধারাটির অর্থ-
  1. ক) বন্ধুভাবাপন্ন
  2. খ) শত্রু
  3. গ) রাবণের ভাই
  4. ঘ) যে গৃহবিবাদ করে
ব্যাখ্যা
’ঘরের শত্রু বিভীষণ’ বাগধারাটির অর্থ- অভ্যন্তরীণ শত্রু/যে গৃহবিবাদ করে
উদাহরণ: আত্মীয় স্বজনরাই আমার নামে বদনাম ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে, জান না ঘরের শত্রু বিভীষণ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৬২২.
'ইন্দিবর' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) চাঁদ
  2. খ) নীলপদ্ম
  3. গ) জলাশয়
  4. ঘ) ইন্দ্রদেবের বর
ব্যাখ্যা
ইন্দিবর = নীল বর্ণের পদ্ম বা নীলপদ্ম। 
ইন্দিবর (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = ইন্দি+বর
অর্থ: নীলপদ্ম, নীলোৎপল

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৩,৬২৩.
নিচের কোন বাক্যটি ঘটমান অতীত কালের উদাহরণ?
  1. খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
  2. আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
  3. বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
  4. তারা সেখানে হাটতে গেল।
ব্যাখ্যা

• সাধারণ অতীত:
- অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন-
- তারা সেখানে হাটতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।

• ঘটমান অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন-
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।

• পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন-
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

• নিত্য অতীত:
- অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন-
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
- তারা সাগরের তীরেঝিনুক কুড়াত।
- তিনি রোজ সকালে বাগানে পানি দিতেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

১৩,৬২৪.
'রাখাল' কোন ধরনের শব্দ?
  1. তৎসম
  2. দেশি
  3. আরবি
  4. পাঞ্জাবি
ব্যাখ্যা
• 'রাখাল' দেশি শব্দ।
অর্থ: গবাদিপশু চরানো যার পেশা।

• দেশি শব্দ:
- বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের (যেমন: তামিল, কোল প্রভৃতি) ভাষার কিছু কিছু শব্দ বাংলায় রক্ষিত হয়েছে। এসব শব্দকে 'দেশি শব্দ' বলে।
- অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ধারণ করা যায় না; কিন্তু কোন ভাষা থেকে এসেছে তার হদিস মেলে।

• দেশি ভাষার কয়েকটি শব্দ হলো:
যথা: কুড়ি, পেট, চুলা, চালতা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৬২৫.
কোনটির শেষে স্ত্রীবাচক শব্দ যােগ করে লিঙ্গান্তর করতে হয়?
  1. ক) পুলিশ
  2. খ) কবি
  3. গ) গয়লা
  4. ঘ) কর্মী
ব্যাখ্যা
কতগুলাে শব্দের শেষে পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ যােগ করে পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ গঠন করা হয়।
যেমন :
বােন-পাে-বােন-ঝি,
ঠাকুর-পাে-ঠাকুর-ঝি, ঠাকুর দাদা । ঠাকুরদা-ঠাকুরমা,
গয়লা-গয়লা-বউ,
জেলে-জেলে বউ ইত্যাদি।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি, ২০১৯- সংস্করণ]
১৩,৬২৬.
নিচের কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. ক) বিবিয়ানা
  2. খ) পুষ্পিত
  3. গ) থালা
  4. ঘ) চোরাই
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে। যথা: 

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
থাল + আ = থালা,
চোর + আই = চোরাই।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
অণু + ইক = আণবিক।
পুষ্প + ইত = পুষ্পিত।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা।
বিবি + আনা = বিবিয়ানা।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৩,৬২৭.
'হে বঙ্গ ভান্ডারে তব বিবিধ রতন' কবিতাংশটি কোন ছন্দে লেখা?
  1. মাত্রাবৃত্ত
  2. স্বরবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. লৌকিক ছন্দ
ব্যাখ্যা

হে বঙ্গ ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে অবোধ আমি অবহেলা করি- কবিতার চরণদ্বয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দে বদ্ধস্বর কখনো একমাত্রা এবং কখনো দুই মাত্রা বহন করে। অর্থাৎ পর্বে মাত্রা গণনা রীতি কোথাও স্বরবৃত্তের আবার কোথাও মাত্রাবৃত্তের মতো বাহিত হয়। বদ্ধস্বর যদি শব্দের প্রথমে বা মাঝে থাকে তবে তা  একমাত্রা সুরের তরঙ্গ সৃষ্টি করে। মন্থর বা ধীর লয় বা গতির এ ছন্দ সাধারণত দু্ পর্বের হয় এবং ৬, ৮ ও ১০ মাত্রার পর্বই এ ছন্দে বেশি দেখা যায়।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বঙ্গভাষা’ কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা। কবিতাটির অংশ বিশেষ-
হে বঙ্গ ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে অবোধ আমি অবহেলা করি

মাত্রা বিশ্লেষণ:
হে বঙ্ গ ভান্ ডারে কব / বি বি ধ র তন / = ৮+৬ = ১৪
তা স বে অ বোধ আ মি / অ ব হে লা ক রি / = ৮+৬ = ১৪

কবিতাটিতে যুক্তাক্ষরে একমাএা করে আছে। বদ্ধক্ষার শব্দের শুরুতেও আছে আবার শব্দের শেষেও আছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,৬২৮.
কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) আকণ্ঠ ভোজন ভাল নয়।
  2. খ) সর্ব বিষয়ে বাহুল্য বর্জন করা উচিত।
  3. গ) বিপদগ্রস্তকে সাহায্য কর।
  4. ঘ) তার দুরাবস্থা দেখে দুঃখ হয়।
ব্যাখ্যা

- প্রদত্ত অপশনগুলোতে, 'তার দুরাবস্থা দেখে দুঃখ হয়।' বাক্যটি সন্ধি জনিত ভুল।
- দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা হচ্ছে একটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
- তাই সঠিক বাক্যটি হবে 'তার দুরবস্থা দেখে দুঃখ হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৬২৯.
'Corrigendum' শব্দের বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. নির্ঘণ্ট
  2. সুপারিশ
  3. অধ্যাদেশ
  4. শুদ্ধিপত্র
ব্যাখ্যা
• 'Corrigendum' শব্দের বাংলা পরিভাষা : 'শুদ্ধিপত্র'।

অন্যদিকে, 
• Recommendation এর বাংলা পরিভাষা - সুপারিশ। 
• ‘Index’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক শব্দ - নির্ঘণ্ট, সূচিপত্র।
•  Ordinance এর বাংলা পরিভাষা – অধ্যাদেশ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
১৩,৬৩০.
কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. পদ্মআঁখি
  2. চন্দ্রমুখ
  3. মনমাঝি
  4. কাজলকালো
ব্যাখ্যা

উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন -
কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে
শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত
এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়। 

উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়।
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ
এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)

১৩,৬৩১.
”আমরা কঠোর পরিশ্রম করি” বাক্যটির কর্মবাচ্যরূপ কোনটি?
  1. আমাদের কঠোর পরিশ্রম করা লাগবে।
  2. আমার দ্বারা কঠোর পরিশ্রম হয়।
  3. আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
  4. কঠোর পরিশ্রম আমাদের কাজ।
ব্যাখ্যা
• কর্তাবাচ্য: আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
• কর্মবাচ্য: আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
-----------------------------
• কর্মবাচ্য থেকে কর্তাবাচ্য রূপান্তর:
- কর্মবাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে কর্তার সঙ্গে যুক্ত দ্বারা, দিয়ে,কর্তৃক প্রভৃতি অনুসর্গ বাদ দিতে হয় এবং ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।
যেমন
- কর্মবাচ্য: প্রধানশিক্ষক কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়েছে।
- কর্তাবাচ্য: প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৩,৬৩২.
'গরমিল' শব্দে 'গর' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. হিন্দি
  4. ইংরেজি
ব্যাখ্যা
• 'গরমিল' শব্দে 'গর' আরবি উপসর্গ।

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি – এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
- এর কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
- এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে।
- দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় বেমালুম মিশে গিয়েছে।
- বেমালুম শব্দটিতে 'মালুম' আরবি শব্দ আর 'বে' ফারসি উপসর্গ।

• আরবি উপসর্গ ৪টি। যথা:
- আম্‌: সাধারণ অর্থে - আমদরবার, আমমোক্তার।
- খাস: বিশেষ অর্থে - খাসমহল, খাসখবর।
- লা: না অর্থে - লাজওয়াব, লাখেরাজ।
- গর : অভাব অর্থে - গরমিল, গররাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৩,৬৩৩.
কোনটি দেশি শব্দ?
  1. আনারস
  2. চন্দ্র
  3. কষ্ট
  4. কুলা
ব্যাখ্যা
• কুলা:
- মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২২ সংস্করণ) অনুসারে - এটি একটি দেশিশব্দ।
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে - শব্দটি তদ্ভব (সংস্কৃত থেকে উৎপন্ন) শব্দ।
 
কুলা (বিশেষ্য):
- (তদ্ভব শব্দ - কুল্য > কুলা)
- অর্থ: ধান চাল প্রভৃতি ঝাড়ার জন্য জন্য ব্যবহৃত বাঁশের চাঁচ দিয়ে তৈরি অর্ধবৃত্তাকার ডালাবিশেষ, কুলো।

অন্যদিকে,
• ‘আনারস’ পর্তুগিজ শব্দ।
• ‘চন্দ্র’ সংস্কৃত শব্দ।
• ‘কষ্ট’ সংস্কৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৬৩৪.
'মজুরি' - কোন ভাষা হতে আগত?
  1. তৎসম
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. দেশি
ব্যাখ্যা

• 'মজুরি' - 'ফারসি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- পারিশ্রমিক।

ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:
গ্রেফতার, দারোগা, সাদা, আসমান, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩,৬৩৫.
সন্ধি সাধিত শব্দ, ‘একাদশ’ কোন ধরণের সন্ধির দৃষ্টান্ত?
  1. ক) স্বরস্বন্ধি
  2. খ) নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  3. গ) বিসর্গ সন্ধি
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
’একাদশ’= (এক+দশ ) নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি। 

- কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসরণ করে না। এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ বলে।

এছাড়াও আরো কয়েকটি নিপাতনে সিন্ধ ব্যাঞ্জনসন্ধির উদাহরণ- 
ষট্‌ + দশ = ষোড়শ;
পর্‌ + পর = পরস্পর;
গো + পদ = গোস্পদ।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৬৩৬.
নিচের কোনটি দেশি শব্দ?
  1. হাত
  2. ঝিনুক
  3. পাত্র
  4. উনান
ব্যাখ্যা

• ঝিনুক দেশি শব্দ।

অন্যদিকে,
হাত ও উনান - তদ্ভব শব্দ।
পাত্র - তৎসম শব্দ।

• কিছু দেশি শব্দ:

ঢোল, ডিঙি, টোপর, বাখারি, কয়লা, কামড়, চাউল, ঝোল, ডাহা, ঢিল, পয়লা, ডাঁসা, ডাব, ডাঙর, ঢিল, মাঠ, চাটাই, ঝিনুক, শিকড়, কচি, খড়, পেট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩,৬৩৭.
'নাগরিক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি ?
  1. ক) নগর + এক
  2. খ) নগর + ষ্ণ
  3. গ) নগর + ক
  4. ঘ) নগর + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা
নাগরিক শব্দটি বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ। 
নাগরিক = নগর + ষ্ণিক

ষ্ণিক প্রত্যয়জাত কয়েকটি  শব্দের উদাহরণ- 
⇒ সাহিত্য + ষ্ণিক = সাহিত্যিক
⇒ বেদ + ষ্ণিক = বৈদিক 
⇒ বিজ্ঞান + ষ্ণিক = বৈজ্ঞানিক 
⇒ সমুদ্র  ষ্ণিক = সামুদ্রিক 
⇒ মাস + ষ্ণিক = মাসিক 
⇒ ধর্ম + ষ্ণিক = ধার্মিক 
⇒ সমর + ষ্ণিক = সামরিক 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬৩৮.
'জ্ঞান' শব্দের শুধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. গ্যান্‌
  2. গ্যএন্‌
  3. গ্যাঁন্‌
  4. গ্যঁআন্‌ 
ব্যাখ্যা

• 'আ' বর্ণের উচ্চারণ:
আ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ [আ]: আকাশ [আকাশ], রাত [রাত্], আলো [আলো]।

[আ] জ্ঞ-এর সঙ্গে থাকলে [অ্যা]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
যেমন: জ্ঞান [গ্যাঁন্‌], জ্ঞাত [গ্যাঁতো], জ্ঞাপন [গ্যাঁপোন্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৩,৬৩৯.
নিচের কোন বাক্যটি মিথ্যা?
  1. গদ্য-সাহিত্যে ব্যবহৃত বাঙ্গালা ভাষাকে সাধু ভাষা।
  2. চলিত ভাষা সর্বদাই নতুন নতুন ধ্বনি পরিবর্তন করে।
  3. চলিত ভাষায় স্বরসংগতি ও অভিশ্রুতির প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
  4. জমির দলিলে এখনো সাধু ভাষা দেখতে পাওয়া যায়। 
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

অপশনের সবগুলো উক্তিই সঠিক। তাই, সঠিক উত্তর- কোনোটিই নয়।

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে,
‘সাধারণ গদ্য-সাহিত্যে ব্যবহৃত বাঙ্গালা ভাষাকে সাধু ভাষা বলে।’
এছাড়াও তিনি এ ভাষাকে সমগ্র বঙ্গদেশের সম্পত্তি বলে আখ্যায়িত করেছেন।

চলিত ভাষা সর্বদাই নতুন নতুন ধ্বনি পরিবর্তন করে। কিন্তু সাধু ভাষায় শব্দের রূপান্তর তেমন দেখা যায় না। যেমন, চলিত ভাষায় স্বরসংগতি ও অভিশ্রুতির প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়, কিন্তু সাধু ভাষায় তেমনটা দেখা যায় না। চলিত ভাষা অপেক্ষাকৃত চটুল এবং সাধু ভাষা গম্ভীর; তবে ব্যঙ্গরচনা বা রম্যরচনায় চলিত ভাষার মতো সাধু ভাষারও সফল ব্যবহার হতে পারে। তবে সাধু ভাষায় আছে একধরনের স্বাভাবিক আভিজাত্য ও ঋজুতা। 
- জমির দলিলে এখনো সাধু ভাষা দেখতে পাওয়া যায়। 

উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক রিপোর্ট - "বাংলা ভাষার বিকৃতি আর কত কাল চলবে?"

১৩,৬৪০.
নিচের কোন বাক্যে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
  2. তিনি সস্ত্রীক কলকাতা গিয়েছেন।
  3. এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
  4. আমি অপমান হয়েছি।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে : তিনি সস্ত্রীক কলকাতা গিয়েছেন।
===============
• বাক্যে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় বাক্য গঠনে ভুল হয়। 
যেমন-
------------------ 
অন্য অপশনে, 
অশুদ্ধ: আমি অপমান হয়েছি।
শুদ্ধ: আমি অপমানিত হয়েছি।

ভুল বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে। 
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।  

⇒ অশুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
⇒ শুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৬৪১.
‘সারাটি সকাল তোমার আশায় বসে আছে।’ - এখানে পদাশ্রিত নির্দেশক কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অস্পষ্টতা
  2. অনির্দিষ্টতা
  3. সুনির্দিষ্টতা
  4. নিরর্থকতা
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক: 
- কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো পদের আশ্রয়ে বা পরে সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত অব্যয় বা পদাশ্রিত নির্দেশক বলে।
যেমন:
- টা, টি, খানা, খানি ইত্যাদি।

• নিরর্থকভাবেও - টা টি-র ব্যবহার লক্ষণীয়।
যেমন:
- সারাটি সকাল তোমার আশায় বসে আছে।

• 'গোটা' বচনবাচক শব্দটির আগে বসে এবং খানা, খানি পরে বসে।
- এগুলো নির্দেশক ও অনির্দেশক দুই অর্থেই প্রযোজ্য।
- গোটা শব্দ আগে বসে এবং সংশ্লিষ্ট পদটি নির্দিষ্টতা না বুঝিয়ে অনির্দিষ্টতা বোঝায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৬৪২.
বজ্র শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) দম্বোলি
  2. খ) অশনি
  3. গ) কুলিশ
  4. ঘ) হুতাশন
ব্যাখ্যা
বজ্র শব্দের সমার্থক শব্দ-দম্ভোলি, বাজ, অশনি, কুলিশ ইত্যাদি। অন্যদিকে বিদ্যুৎ তড়িৎ বা বিজলী। আগুন অর্থ অগ্নি। তলোয়ার অর্থ মসী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,৬৪৩.
নিচের বিপরীত শব্দযুগলের মধ্যে অশুদ্ধ -
  1. ক) খাতক-মহাজন
  2. খ) আসমান-জমিন
  3. গ) সিক্ত-রিক্ত
  4. ঘ) স্বপ্ন-বাস্তব
ব্যাখ্যা
সিক্ত অর্থ আর্দ্র, ভেজা।
অন্যদিকে রিক্ত অর্থ শূন্য, খালি সম্বলহীন, নিঃস্ব ইত্যাদি।

- সিক্ত এর বিপরীত শব্দ শুষ্ক
- রিক্ত শব্দের বিপরীত শব্দ - পূর্ণ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৬৪৪.
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে তাকে কোন বাক্য বলে?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) জটিল বাক্য
  4. ঘ) অক্রিয় বাক্য
ব্যাখ্যা

গঠনগত দিক দিয়ে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়: সরল, জটিল ও যৌগিক।

সরল বাক্যঃ একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।

জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন – যদি তােমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলাে।

যৌগিক বাক্য: এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যােজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন - রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়: সক্রিয় বাক্য ও অক্রিয় বাক্য।

সক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলােকে সক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন – আমার মা চাকরি করেন।

অক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলােকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন - তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।
তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়ােগে এগুলাে সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন – 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন' বা 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন'।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

১৩,৬৪৫.
'যা কোথাও উঁচু কোথাও নিচু' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. নীয়মান
  2. বন্ধুর
  3. বর্ধিষ্ণু
  4. অধঃকায়
ব্যাখ্যা
• 'যা কোথাও উঁচু কোথাও নিচু' এর এক কথায় প্রকাশ - বন্ধুর

অন্যদিকে,
- 'যা ক্রমশ বর্ধিত হচ্ছে' এর এক কথায় প্রকাশ - বর্ধিষ্ণু।
- 'কটিদেশ থেকে পদতল পর্যন্ত অংশ' এর এক কথায় প্রকাশ - অধঃকায়।
- 'যা বহন করা হচ্ছে' এর এক কথায় প্রকাশ - নীয়মান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ব্যাকরণব ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৩,৬৪৬.
‘চূর্ণ’ শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √চুর্ণ + ষ্ণিক
  2. √চুর্ + ক্ত
  3. √চুর + না
  4. √চূর্ণ + ই
ব্যাখ্যা

• ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি- প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো।
যেমন:
- √গম্ + ক্ত = গত,
- √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত,
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্‌ + ক্ত = ছিন্ন,
- √জন্‌ + ক্ত = জাত,
- √দা + ক্ত = দত্ত,
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,৬৪৭.
‘ছাদ থেকে পানি পড়ে।’- বাক্যে ‘ছাদ’ কোন কারক?
  1. কর্মকারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
⇒ 'ছাদ থেকে পানি পড়ে।'-বাক্যে পানি ছাদ থেকে বিচ্যুত হচ্ছে তাই ‘ছাদ’ অপাদান কারক আর পানি নিজে নিজে পড়ছে কেউ তাকে ফেলছে না তাই পানি কর্তৃকারক।

• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ -

- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬৪৮.
'সিন্ধু' শব্দটির সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. রত্নাকর
  2. পারাবার
  3. তটিনী
  4. বারিধি
ব্যাখ্যা
তটিনী শব্দটির সমার্থক শব্দ হলো নদী, স্রোতস্বতী, স্রোতস্বিনী ইত্যাদি।
বাকি অপশনগুলো হলো সিন্ধু বা সমুদ্র'র সমার্থক শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৩,৬৪৯.
নিচের কোন শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. মাতৃজনিত
  2. মহিমমণ্ডিত
  3. জ্যোতিরিন্দ্র
  4. অদ্যবধি
ব্যাখ্যা
• সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ - অদ্যবধি। এর শুদ্ধ প্রয়োগ - অদ্যাবধি

অন্যদিকে,
- জ্যোতিরিন্দ্র,
- মহিমমণ্ডিত ,
- মাতৃজনিত।
শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৬৫০.
চলিত রীতির শব্দ নয় কোনটি?
  1. তুলো
  2. জুতা
  3. মাথা
  4. শুকনো
ব্যাখ্যা
• সাধু রীতি:
- বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট। এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
- এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

• চলিত রীতি:
-  চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভকরেছে। এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।

-  চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
- সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

সাধু - চলিত:
• মস্তক - মাথা;
• জুতা - জুতো;
• তুলা - তুলো;
• বন্য - বুনো;
• শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
• তাঁহারা/উঁহারা - তাঁরা/ওঁরা;
• তাহাকে/উহাকে - তাকে/ওকে;
• তাহার/তাঁহার - তার/তাঁর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৩,৬৫১.
নিচের কোনটি বিপরীতার্থক শব্দযুগল নয়?
  1. নির্মল - সমল
  2. বিজন - জনবহুল
  3. নিরক্ষর - স্বাক্ষর
  4. বিপন্নতা - নিরাপত্তা
ব্যাখ্যা
নিরক্ষর  শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ হলো সাক্ষর। 
সাক্ষর  (বিশেষণ)
১ অক্ষরযুক্ত; অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন।
২ অল্পশিক্ষিত; শিক্ষাপ্রাপ্ত; literate।

স্বাক্ষর (বিশেষ্য)
সই; দস্তখত।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) স্ব+অক্ষর}

মূল শব্দ - বিপরীতার্থক শব্দ 
    নির্মল - সমল / পঙ্কিল 
  বিজন - জনবহুল 
 বিপন্নতা - নিরাপত্তা 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৬৫২.
কোনটি ভগ্নাংশ পূরণবাচক সংখ্যা?
  1. ক) ষোড়শী
  2. খ) তেসরা
  3. গ) আড়াই
  4. ঘ) চতুর্দশ
ব্যাখ্যা
সংখ্যাবাচক শব্দ মূলত দুই প্রকার।
যথা: 
• ক্রমবাচক - এক, দুই, তিন, চার...আট ইত্যাদি।
• পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয় তৃতীয় ইত্যাদি।

পূরণবাচক শব্দ আবার ৩ প্রকার।
যথা:
- সাধারণ পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ... নবম, চতুর্দশ ইত্যাদি। সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপ রয়েছে। যেমন- ষোড়শী, একাদশী, সপ্তমী, এয়োদশী ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক: পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৬৫৩.
'গণনার যোগ্য নয় যা' -এককথায় কী বলে?
  1. অগণ্য
  2. নগণ্য
  3. অপরিমিত
  4. অসংখ্য
ব্যাখ্যা

অভিগম্য অভিধান অনুসারে, 
• নগণ্য (বিশেষণ পদ),
অর্থ:
১. গণনীয় নয় এমন।
২. ধর্তব্য নয় এমন; তুচ্ছ; বাজে।
৩. সামান্য (নগণ্য ক্ষতি, নগণ্য লোক)।
৪. গণনার অযোগ্য; শ্রদ্ধার অযোগ্য।

অন্যদিকে, 
---------------
• 'অগণ্য' অর্থ- অসংখ্য, অনেক।
• 'অপরিমিত' অর্থ- সীমা বা সংখ্যা করা যায় না এমন, প্রচুর।
• 'অসংখ্য' অর্থ-  অগণ্য, অগণিত, প্রচুর।

[অপশন অনুসারে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর অপশন (খ) নগণ্য।]

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩,৬৫৪.
"সবিত্রী" শব্দের অর্থ কী?
  1. নিজপত্নী
  2. সূর্য
  3. জননী
  4. সতিন
ব্যাখ্যা
• সবিত্রী (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- জননী;
- প্রসূতি।

অন্যদিকে, 
• স্বপত্নী - নিজপত্নী। 
• সপত্নী - সতিন। 
• সবিতৃ - সূর্য। 

উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৬৫৫.
বাগ্‌যন্ত্রের সবচেয়ে সচল ও সক্রিয় প্রত্যঙ্গ কোনটি?
  1. ক) জিভ
  2. খ) ওষ্ঠ
  3. গ) তালু
  4. ঘ) মূর্ধা
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলােকে একত্রে বাগযন্ত্র বলে।
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগযন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। 

জিভ
- মুখগহ্বরের নিচের অংশে জিভের অবস্থান।
- বাগযন্ত্রের মধ্যে জিভ সবচেয়ে সচল ও সক্রিয় প্রত্যঙ্গ।
- জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং
- মুখগহ্বরের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে জিভের স্পর্শের প্রকৃতি অনুযায়ী ধ্বনির বৈচিত্র্য তৈরি হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৬৫৬.
'মাত্রাদেশ' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মাত্রা + আদেশ
  2. মাতা + আদেশ
  3. মাতৃ + আদেশ
  4. মাত্রা + দেশ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

 সূত্র:
- প্রথম পদের শেষে ঋ-ধ্বনি এবং দ্বিতীয় পদের প্রথম ঋ ছাড়া অন্য কোনো স্বরধ্বনি থাকলে আগের ঋ-ধ্বনি র হয় এবং বানানে তা র-ফলা হয়ে আগের বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়।
- পরের স্বরধ্বনি সাধারণত উচ্চারণে অপরিবর্তিত থাকে এবং র-ফলার সঙ্গে জুড়ে যায়।

উদাহরণ:
- পিতৃ + অনুমতি = পিত্রনুমতি,
- পিতৃ + অর্থে = পিত্রর্থে।
- পিতৃ + আলয় = পিত্রালয়,
- মাতৃ + আদেশ = মাত্রাদেশ।
- পিতৃ + ইচ্ছা = পিত্রিচ্ছা,
- মাতৃ + ইচ্ছা = মাত্রিচ্ছা।
- মাতৃ + উপদেশ = মাত্রুপদেশ,
- পিতৃ + উপদেশ = পিত্রুপদেশ,
- ভাতৃ + উপদেশ = ভাত্রুপদেশ ইত্যাদি।
- ভাতৃ + এষণা = ভ্রাত্রেষণা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১৩,৬৫৭.
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরধ্বনি কোনটি?
  1. ক) কুলটা
  2. খ) অতীন্দ্রিয়
  3. গ) সূর্যোদয়
  4. ঘ) শয়ন
ব্যাখ্যা

কিছু স্বরসন্ধি নিয়ম ছাড়া হয়। সেগুলকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে। 
যেমন: কুলটা = কুল + অটা
গো + অক্ষ = গবাক্ষ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)

১৩,৬৫৮.
'সওগাত' শব্দের অর্থ কী?
  1. উপহার
  2. আহ্বান 
  3. পণ্য 
  4. বার্তা 
ব্যাখ্যা

• সওগাত। 
- তুর্কি ভাষার শব্দ।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- উপহার,
- ভেট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩,৬৫৯.
‘বাঙালি’ কোন লিঙ্গের উদাহরণ?
  1. পুংলিঙ্গ
  2. স্ত্রীলিঙ্গ
  3. উভয়লিঙ্গ
  4. ক্লীবলিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• লিঙ্গ:
লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ। তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, স্ত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে।
লিঙ্গ চার প্রকার। যথা:
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয়লিঙ্গ বাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, গরু, শিশু, সন্তান, বাঙালি।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।

• যেসব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়ই বোঝায় তাদেরকে উভয়লিঙ্গ বলে।
'বাঙালি' শব্দটি দ্বারা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় বাঙালিদেরই বুঝায়, সুতরাং 'বাঙালি' শব্দটি উভয়লিঙ্গ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৩,৬৬০.
'রোগমুক্ত' - শব্দটি কোন সমাস?
  1. অব্যয়ীভাব
  2. বহুব্রীহি 
  3. তৎপুরুষ
  4. কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- পরানের চেয়ে প্রিয় = পরানপ্রিয়, 
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া, 
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত,
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,৬৬১.
‘পানি’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. উর্দু
  2. ফারসি
  3. হিন্দি
  4. তুর্কি
ব্যাখ্যা

হিন্দি ভাষার শব্দগুলো হলো :
- পানি
- ধোলাই
- লাগাতার
- হালুয়া
- ঠান্ডা
উৎস : নবম দশম শ্রেণির ব্যাকরণ (নতুন)

১৩,৬৬২.
'চয়' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. অপচয়
  2. সঞ্চয়
  3. আহরণ
  4. রাশি
ব্যাখ্যা
- 'চয়' এর বিপরীতার্থক শব্দ - অপচয়

উল্লেখ্য,
'চয়' শব্দের অর্থ:
- রাশি,
- আহরণ,
- পুঞ্জ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৬৬৩.
"শন শন" - কোন প্রকার অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. অনুকার অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।

যথা:
বজ্রের ধ্বনি - কড় কড়।
বৃষ্টির তুমুল শব্দ – ঝম ঝম। 
স্রোতের ধ্বনি – কল কল। 
বাতাসের গতি – শন শন
শুষ্ক পাতার শব্দ – মর মর। 
নূপুরের আওয়াজ – রুম ঝুম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৬৬৪.
'ঢক্কা নিনাদ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. শ্রমকাতুরে
  2. অকর্মণ্য
  3. গোপনে কাজ করা
  4. উচ্চ কণ্ঠে ঘোষণা
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'ঢক্কা-নিনাদ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - উচ্চ কণ্ঠে ঘোষণা।
বাক্য গঠন: কাজটা করতে পারবে কি না আরেকবার ভাবো, তারপর ঢক্কা নিনাদ করো।

অন্যদিকে,
• 'ঠুঁটো জগন্নাথ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অকর্মণ্য।
• 'ডুবে ডুবে জল খাওয়া' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - গোপনে কাজ করা।
• 'চিনির পুতুল' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - শ্রমকাতুরে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬৬৫.
'Adolescence' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. নবযুবক
  2. অবলম্বন
  3. নবযৌবন
  4. পরিশোষণ
ব্যাখ্যা
• 'Adolescence' এর বাংলা পরিভাষা - নবযৌবন।

অন্য অপশনের পারিভাষিক অর্থ:
• Adolescent - নবযুবক,
• Adoption - অবলম্বন,  
• Adsorption - পরিশোষণ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
১৩,৬৬৬.
পরাগত স্বরসঙ্গতির উদাহরণ কোনটি?
  1. শিকা > শিকে
  2. উড়ুনি > উড়নি
  3. আখো > আখুয়া > এখো
  4. তুলা > তুলো
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন- দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।

• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি।

• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মোজা > মুজো।

• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
- গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

- পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন- মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি।
- বিশেষ নিয়মে - উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৩,৬৬৭.
'উত্থিত' শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ কোনটি?
  1. ক) থ্ + ত
  2. খ) ত্ + থ
  3. গ) হ্ + থ
  4. ঘ) ত্ + ত
ব্যাখ্যা
উত্থিত শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ
   - ত্ + থ = ত্থ

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- ক্ষ = ক + ষ,
- হ্ম = হ + ম,
- জ্ঞ = জ + ঞ,
- ষ্ণ = ষ + ণ।

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯]
১৩,৬৬৮.
মার্তণ্ড-
  1. স্বর্গ
  2. পৃথিবী
  3. সূর্য
  4. পর্বত
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• মার্তণ্ড (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- সূর্য,
- দিবাকর,
- ভানু,
- তপন,
- প্রভাকর,
- দিনমণি,
- বিবস্বান,
- বিভাবসু,
- মিহির, 
- সবিতা,
- ভাস্কর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৬৬৯.
শুধুমাত্র 'আ' প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরীত শব্দ নয় নিম্নের কোন শব্দটি?
  1. ক) বৃদ্ধা 
  2. খ) বালিকা
  3. গ) জটিলা
  4. ঘ) কুটিলা
ব্যাখ্যা
অ- কারান্ত পুংলিঙ্গের শেষে 'আ' - প্রত্যয় যোগ করে লিঙ্গ পরিবর্তন করতে হয়। 
যেমন- 
জটিল - জটিলা 
কুটিল - কুটিলা 
বৃদ্ধ - বৃদ্ধা 
মহাশয় - মহাশয়া 
শিষ্য - শিষ্যা 
কোকিল - কোকিলা ইত্যাদি 

পুংলিঙ্গ শব্দের শেষে 'অক' থাকলে তা ইকা করে 'আ' - প্রত্যয় যোগ করে লিঙ্গ পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন- 
নায়ক - নায়িকা 
শিক্ষক - শিক্ষিকা 
বাহক - বাহিকা 
চালক - চালিকা 
বালক - বালিকা ইত্যাদি 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬৭০.
ই+ঈ = ঈ - এর উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) সতীশ
  2. খ) পরীক্ষা
  3. গ) অতীত
  4. ঘ) সতীন্দ্র
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সতী+ঈশ=সতীশ, পরি+ঈক্ষা=পরীক্ষা, অতি+ইত=অতীত, সতী+ইন্দ্র=সতীন্দ্র।
১৩,৬৭১.
'একগুঁয়ে' শব্দটি দিয়ে কোন বাগ্‌ধারা প্রকাশ পায়?
  1. টনক নড়া
  2. কেউকেটা
  3. নেই আঁকড়া
  4. রাঘব বোয়াল
ব্যাখ্যা
• 'নেই আঁকড়া' বাগ্‌ধারার অর্থ - একগুঁয়ে

অন্যদিকে,
- 'টনক নড়া' বাগ্‌ধারার অর্থ - খেয়াল হওয়া।
- ‘কেউকেটা’ বাগ্‌ধারার অর্থ - তুচ্ছ।
- ‘রাঘব বোয়াল’ বাগ্‌ধারার অর্থ - সর্বগ্রাসী ব্যক্তি।

উৎস:
১) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬৭২.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) নীহারিকা
  2. খ) ন্যূনতম
  3. গ) কন্টক
  4. ঘ) নির্নিমেষ
ব্যাখ্যা
কন্টক- বানানটি অশুদ্ধ। 
এর সঠিক বানান- কণ্টক।

• বাংলা একাডেমি প্রমিত বানানের নিয়ম অনুসারে,
- তৎসম শব্দে ট, ঠ, ড, ঢ- য়ের পূর্বে যুক্ত নাসিক্যবর্ণ 'ণ' হয়। 
যেমন: কণ্টক, প্রচণ্ড, লুণ্ঠন ইত্যাদি। 

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা বানান অভিধান অনুসারে,
কণ্টক (তৎসম) শব্দের অর্থ- লতাগুল্ম বা গাছের সুচালো অংশ, কাঁটা;

• নীহারিকা (বিশেষ্য) শব্দের অর্থ- 
মহাকাশে অবস্থিত নক্ষত্রপুঞ্জ; আকাশে দৃশ্যমান নক্ষত্রসদৃশ বহুবিস্তৃত বাষ্পীয় পদার্থ;

• ন্যূনতম শব্দের অর্থ- সর্বনিম্ন। 

• নির্নিমেষ (বিশেষণ) শব্দের অর্থ- 
নিমেষহীন; পলকহীন 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানারের নিয়ম।
১৩,৬৭৩.
বিভক্তিহীন নাম-শব্দকে কী বলে?
  1. প্রাতিপাদিক
  2. নাম-পদ
  3. মৌলিক শব্দ
  4. কৃদন্ত শব্দ
ব্যাখ্যা
• প্রাতিপদিক:
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলে প্রাতিপদিক।
যেমন:
- লাজ, বড়, ঘর এ শব্দগুলোর সঙ্গে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি সুতরাং এগুলো প্রাতিপদিক।

- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়। ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি। প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৩,৬৭৪.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. পুরহিত
  2. ত্রহস্পর্শ
  3. অপরাহ্ণ
  4. মহত্ব
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
অপরাহ্ণ- বানানটি শুদ্ধ।

• অন্য অপশনের অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধ বানান:
পুরহিত - পুরোহিত,
ত্রহস্পর্শ - ত্র্যহস্পর্শ, 
মহত্ব - মহত্ত্ব। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১৩,৬৭৫.
যা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে কী বলে?
  1. ক) বিজ্ঞপ্তি
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) অনুজ্ঞা
  4. ঘ) কারক
ব্যাখ্যা
• কারক শব্দটির অর্থ হলো- যা ক্রিয়া সম্পাদন করে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।

• কারক ছয় প্রকার :
- কর্তা কারক
- কর্ম কাবক
- করণ কারক
- অপাদান কারক
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৬৭৬.
নিচের কোনটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ?
  1. নীরোগ
  2. বাক্‌দান
  3. সন্তাপ
  4. একটিও নয়
ব্যাখ্যা

• 'নীরোগ' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ = নিঃ + রোগ। 

• সন্ধি বিচ্ছেদের নিয়ম: 
ই কিংবা উ ধ্বনির পরের বিসর্গের সাথে ‘র’ এর সন্ধি হলে বিসর্গের লোপ হয় ও বিসর্গের পূর্ববতী হ্রস্ব স্বর দীর্ঘ হয়।
যেমন-
নিঃ + রস = নীরস।
নিঃ + রব = নীরব, 
নিঃ + রোগ = নীরোগ।

অন্যদিকে, 
ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ-
- সম্ + তাপ = সন্তাপ (এখানে দন্ত্যধ্বনি ত-এর প্রভাবে ম হয়েছে ন)
- বাক্ + দান = বাগদান (এখানে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১৩,৬৭৭.
'তুমি নয়-ছয় করে টাকাগুলো শেষ করো না'- বাক্যে 'নয়-ছয়' বাগধারাটি কোন ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) অপব্যবহার
  2. খ) অহংকার করা
  3. গ) অসম্ভব বস্তু
  4. ঘ) তোষামোদ
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নে 'নয়-ছয়' বাগধারাটি অপব্যবহার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• বাক্যগঠন: তুমি নয়-ছয় করে টাকাগুলো শেষ করো না।

• অন্যান্য অপশনগুলো:
- ধরাকে সরা জ্ঞান (অহংকার করা): তুমি ধরাকে সরা জ্ঞান করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছ!
- বাঘের দুধ (অসম্ভব বস্তু): টাকায় কী না হয়? বাঘের দুধ মেলে।
- তেল মাখানো (তোষামোদ): সাহেবকে তেল মাখানো লোকের অভাব নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৬৭৮.
'উপ্ত' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. বচ্‌ + ক্ত
  2. বপ্‌ + ক্ত
  3. উপ্‌ + ক্ত
  4. উ + ক্ত
ব্যাখ্যা
'উপ্ত' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় বপ্‌ + ক্ত।

• সূত্র:

- ক্ত প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়।
- √গম্+ক্ত = গত,
- √গ্রন্থ+ক্ত = গ্রথিত,
- √চুর্+ক্ত = চূর্ণ,
- √দা+ক্ত = দত্ত,
- √দহ্+ক্ত = দগ্ধ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৩,৬৭৯.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. শষাঙ্ক
  2. শশাঙ্ক
  3. শসাঙ্ক
  4. শসাংক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - শশাঙ্ক
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ: 
- চন্দ্র, চাঁদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৬৮০.
বাক্যের শেষে কোন যতিচহ্নি বা বিরামচিহ্নগুলো বসে?
  1. দাড়ি, কমা ও প্রশ্নবোধক চিহ্ন
  2. বিস্ময়, দাঁড়ি ও সেমিকোলন চিহ্ন
  3. দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক ও কমা চিহ্ন
  4. দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক ও বিস্ময় চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• বিরাম চিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের শেষে বসে ৩টি যতিচহ্নি বা বিরামচিহ্ন। এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন বলে। এগুলো হলো:
- দাঁড়ি চিহ্ন,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন এবং
- বিস্ময় চিহ্ন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৬৮১.
'বিভাবরী' শব্দের অর্থ কী?
  1. চুল 
  2. চন্দ্র 
  3. সূর্য 
  4. রাত্রি
ব্যাখ্যা



'রাত্রি' শব্দের সমার্থক শব্দ:
রাত, রজনী, নিশি, নিশা, নিশীথ, নিশীথিনী, যামিনী, শর্বরী, বিভাবরী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩,৬৮২.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. পূর্বসূরী
  2. ভন্ডামী
  3. ভৎসনা
  4. ভগ্নোৎসাহ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: ভগ্নোৎসাহ (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: উৎসাহ হারিয়েছে এমন, হতোদ্যম, হতাশ।

অন্যান্য বানানগুলোর শুদ্ধরূপ:
• পূর্বসূরি (বিশেষ্য পদ),
-  এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: অগ্রজ বিদ্বান ব্যক্তি, পূর্বযুগের জ্ঞানী।

• ভণ্ডামি (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: প্রতারণা, ছল, চাতুরী।

• ভর্ৎসনা (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: তিরস্কার, নিন্দা, ধমক, আক্ষেপ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৬৮৩.
'Mint' শব্দের সঠিক পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) থানকুনি
  2. খ) টাকশাল
  3. গ) তুলসি
  4. ঘ) মুদ্রানীতি
ব্যাখ্যা
'Mint' শব্দের সঠিক পারিভাষিক শব্দ = টাকশাল; টাঙ্কশালা।
'Mint' শব্দের আরেকটি অর্থ = পুদিনা। 
'Monetary Policy' শব্দের সঠিক পারিভাষিক শব্দ = মুদ্রানীতি 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান
১৩,৬৮৪.
শুদ্ধ বানানে লেখা হয়েছে কোনটি? 
  1. বীনিবর্তন
  2. বিনিবর্তন
  3. বিনিবর্তণ
  4. বিনীবর্তন
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান : বিনিবর্তন 
এর অর্থ- পুনরায় আগমন বা গমন, বিরতি। 

[উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি]
১৩,৬৮৫.
ওষ্ঠ্য ধ্বনি কোনটি?
  1. ক) ত
  2. খ) ধ
  3. গ) ম
  4. ঘ) ছ
ব্যাখ্যা
উচ্চারণ স্থান অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনি সাত প্রকার। যথা-

জিহ্বামূলীয় ধ্বনি: জিভের মূল বা গোড়ালি উঁচু করে কোমল তালুর সামনের বা মাঝের সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা জিহ্বামূলীয় ধ্বনি বলা হয়। যেমন- ক, খ, গ, ঘ ঙ/ং।

তালব্য ধ্বনি:
জিভের পাতা উঁচু করে অর্থতালুর সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের তালব্য ধ্বনি বলা হয়। যেমন- চ, ছ, জ, ঝ ঞ, শ।

দন্তমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি:
সমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি উপর পাটি দাঁতের গোড়ার সঙ্গে জিভের ডগা একটু উল্টো করে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হ তাদের দন্তমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি বলা হয়। যেমন- ট ঠ ড ঢ ণ ড় ঢ়।

দন্ত ধ্বনি: উপর পাটি দাঁতের সঙ্গে জিভের ডগা লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের দন্ত ধ্বনি বলে। যেমন- ত, থ, দ, ধ।

ওষ্ঠ্য ধ্বনি: উপরের ঠোঁটের সঙ্গে নিচের ঠোঁট লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাদের ওষ্ঠ্য ধ্বনি বলে। যেমন- প, ফ, ব, ভ,

দন্তমূলীয় ধ্বনি: উপর পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে জিভের ডগা লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাদের দন্তমূলীয় ধ্বনি বলে। যেমন- ন, য, র, ল, স।

কন্ঠ্য ধ্বনি: স্বরযন্ত্রের ভেতরে যে দুট স্বরতন্ত্রী আছে তাদের সংকোচনের সাহায্যে বায়ুপথ সংকীর্ণ করে, কিন্তু একেবারে বন্ধ না করে যে ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাকে কন্ঠ্য ধ্বনি বলে। যেমন- হ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৩,৬৮৬.
'জলদ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

• কৃদন্ত পদ: কৃৎ প্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলে।
যেমন: √চর্‌ > চর (বিচরণ করা অর্থে); √ধর্‌ > ধর (ধরা অর্থে)।

• উপপদ: কোন শব্দকে বিশ্লেষণ করলে যদি একটি পৃথক শব্দ, এরপর ধাতু, এরপর প্রত্যয় পাওয়া যায় (শব্দ + ধাতু + প্রত্যয়) এবং সেই প্রত্যয়টি হয় কৃৎ প্রত্যয় তাহলে প্রাপ্ত বিশিষ্ট শব্দকে উপপদ বলা হয়।
যেমন: বাস্তুহারা = বাস্তু + √হার্‌ + আ; খেচর = খ + √চর্‌ + অ।

যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- পকেট মারে যে = পকেটমার।

• এরূপ- সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৩,৬৮৭.
'ক্ষমার যোগ্য'-এর বাক্য সংকোচন-
  1. ক্ষমার্হ
  2. ক্ষমাপ্রার্থী
  3. ক্ষমা
  4. ক্ষমাপ্রদ
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষমার যোগ্য' এর বাক্য সংকোচন - ক্ষমার্হ।

আরও কিছু এক কথায় প্রকাশ:
- ‘ক্ষমা করার ইচ্ছা’ এক কথায় প্রকাশ - তিতিক্ষা।
- ‘ক্ষমা করতে ইচ্ছুক’ এক কথায় প্রকাশ - তিতিক্ষু।
- ‘প্রশংসার যোগ্য’ এক কথায় প্রকাশ - প্রশংসার্হ।
- ‘স্মরণের যোগ্য’ এক কথায় প্রকাশ - স্মরণার্হ।
- ‘ধন্যবাদের যোগ্য’ এক কথায় প্রকাশ - ধন্যবাদার্হ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৬৮৮.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) ভুতপূর্ব
  2. খ) ভুতপুর্ব
  3. গ) ভূতপূর্ব
  4. ঘ) ভুতপর্ব
ব্যাখ্যা
-  এখানে শুদ্ধ বানান হলো 'ভূতপূর্ব'

আরও কিছু শুদ্ধ বানান হলো-
বর্ণচোরা।
মিতব্যয়ী।
কৃতার্থম্মন্য।
ক্রন্দসী ।
আদ্যন্ত।
অনাদি।
অবগাহন।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
১৩,৬৮৯.
'সহজলভ্য' অর্থ প্রকাশ করে নিচের কোনটি?
  1. উলুখাগড়া
  2. ঝাঁকের কৈ
  3. পুঁটি মাছের প্রাণ
  4. উজানের কৈ
ব্যাখ্যা

• 'উজানের কৈ' বাগ্‌ধারার অর্থ - সহজলভ্য।

অন্যদিকে, 
• 'পুঁটি মাছের প্রাণ'  অর্থ - ক্ষীণজীবী লোক।
• 'উলুখাগড়া' অর্থ- গুরুত্বহীন লোক।
• 'ঝাঁকের কৈ' অর্থ - এক দলভুক্ত বা একই স্বভাবের লোক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৬৯০.
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ফেন + ইল্ = ফনিল
  2. চোর + ই = চোরাই
  3. ঘর + য়া = ঘরোয়া
  4. বিবি + অনা = বিবিয়ানা
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
- ফেন + ইল্ = ফনিল;
- সুখ + ইন্ = সুখিন;
- নীল + ইমন = নীলিমা।

অন্যদিকে,
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
- থাল + আ = থালা;
- চোর + আই = চোরাই;
- পাগল + আমি = পাগলামি;
- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,৬৯১.
ছড়ার ছন্দকে কী বলে?
  1. স্বরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. গদ্যছন্দ
ব্যাখ্যা
স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।
- প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট,পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উদাহরণ-
খোকন খোকন/ ডাক পাড়ি
খোকন মোদের/ কার বাড়ি।

অন্যদিকে,
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।

মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে এ ছন্দ“তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'; যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ; বাংলাপিডিয়া; প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
১৩,৬৯২.
সুজন দেখ তো কে এসেছে - বাক্যের মাঝে কোন যতিচিহ্ন বসবে?
  1. ক) কোলন
  2. খ) কমা
  3. গ) সেমিকোলন
  4. ঘ) ড্যাশ
ব্যাখ্যা
বাক্যের মাঝে কমা ( , ) যতিচিহ্ন বসবে।
- বাক্যটি হবে এরূপ - সুজন, দেখ তো কে এসেছে।

• কমা এর ব্যবহার: 
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
- শব্দ, বর্গ, ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন- 
সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
১৩,৬৯৩.
"তিরষ্কার ও ভাস্কর বানান লিখতে অনেকেই ভুল করে।" - এখানে ‘তিরষ্কার’, ‘ভাস্কর’- শব্দ দুটি সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
  1. প্রথমটি সঠিক, দ্বিতীয়টি ভুল
  2. প্রথমটি ভুল, দ্বিতীয়টি সঠিক
  3. দুটোই ভুল
  4. দুটোই সঠিক
ব্যাখ্যা

• "তিরষ্কার ও ভাস্কর বানান লিখতে অনেকেই ভুল করে।" - এখানে ‘তিরষ্কার’, ‘ভাস্কর’- শব্দ দুটির মধ্যে- প্রথমটি ভুল, দ্বিতীয়টি সঠিক।

• র-ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে, তবে তার পরে 'ষ' হয়।
যেমন - পরিষ্কার; তিরস্কার।
কিন্তু, অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে 'স' হয়।
যেমন - পুরস্কার; ভাস্কর।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা বানানের নিয়ম- ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,৬৯৪.
ভাষার মৌলিক অংশ কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

• বাংলা ব্যাকরণ:
যে শাস্ত্রে বাংলা ভাষার নিয়ম-কানুন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করা যায় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে।

• প্রত্যেক ভাষারই চারটি মৌলিক অংশ থাকে।
যেমন-
১. ধ্বনি (Sound),
২. শব্দ (Word),
৩. বাক্য (Sentence),
৪. অর্থ (Meaning),

• সব ভাষারই ব্যাকরণে প্রধানত নিম্নলিখিত চারটি বিষয়ের আলোচনা করা হয়।
১. ধ্বনিতত্ব (Phonology),
২. শব্দতত্ব বা রূপতত্ব (Morphology,
৩. বাক্যতত্ব বা পদক্রম (Syntax),
৪. অর্থতত্ব (Semantics)।

এ ছাড়া অভিধানতত্ব, ছন্দ ও অলংকার প্রভৃতিও ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৩,৬৯৫.
'মক্কেল' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. ফরাসি
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা
মক্কেল (বিশেষ্য)
অর্থ: মামলা-মোকদ্দমায় যে ব্যক্তি উকিলের সাহায্য গ্রহণ করে 
ইহা আরবি ভাষা থেকে আগত। 
 
আরবি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ:
- মকান 
- মকাম 
- মকুফ 
- মকুব 
- মক্কা 
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৬৯৬.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী নিচের কোনটি মূর্ধন্য বর্ণ?
ব্যাখ্যা
• ‘ঋ’ বাংলা ভাষার সপ্তম স্বরবর্ণ।
- এর উচ্চারণ-স্থান মূর্ধা।

অন্যদিকে,
• ঔ [ওউ] উচ্চারণ স্থান কণ্ঠ ও ওষ্ঠ।
• ঈ এটি সংস্কৃত দীর্ঘস্বর এবং এর উচ্চারণ-স্থান তালু।
• অ এর উচ্চারণ-স্থান কণ্ঠ।

================
⇒ উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বিভাজন:
বাকপ্রত্যঙ্গের ঠিক যে জায়গায় বায়ু বাধা পেয়ে ব্যঞ্জনধ্বনি সৃষ্টি করে সেই জায়গাটি হলাে ঐ ব্যঞ্জনের উচ্চারণস্থান।
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়:
১. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
২. দন্ত্য ব্যঞ্জন,
৩. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন,
৪. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন,
৫. তালব্য ব্যঞ্জন,
৬. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
৭. কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন।

⇒ মূর্ধন্য ব্যঞ্জন: 
দত্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্যার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে। তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দম বা জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দণ্ডমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ তাবল্য ব্যঞ্জন: 
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে স্বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে। হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ এবং ২০১৯ সংস্করণ) এবং অভিগম্য অভিধান।
১৩,৬৯৭.
কোনটি ‘নিপাতনে সিদ্ধ’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দ ?
  1. শৈব
  2. সৌর
  3. দৈব
  4. চৈত্র
ব্যাখ্যা
- 'সৌর': ‘নিপাতনে সিদ্ধ’ প্রত্যয় যুক্ত শব্দ। 
নিপাতনে সিদ্ধ: সূর্য + ষ্ণ= সৌর (সাধারণ নিয়মে- সুর+ ষ্ণ (অ)= সৌর হত)। 

- 'শৈব'- শিব+ ষ্ণ (অ)  নিয়মে হয়েছে।
- 'দৈব'- দেব+ ষ্ণ (অ) নিয়মে হয়েছে।
- চৈত্র' শব্দটি -'চিত্র ( একটি নক্ষত্রের নাম) + ষ্ণ নিয়মে হয়েছে।

নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ হলো-

গীতি = √গৈ + ক্তি,
বুদ্ধি = √বুধ্‌ + ক্তি, 
সিদ্ধি = √সিধ্ + ক্তি,
শক্তি = √শক্ + ক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম ও ১০ম শ্রেণি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৬৯৮.
'কানা-ছেলের নাম পদ্মলোচন' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ -
  1. পরিশ্রম না করলে সফলতা আসে না
  2. যজন বা সগোত্রের প্রতি অনুরাগ
  3. কষ্টের ওপর অধিক কষ্ট
  4. অযোগ্যের বিপরীত নামকরণ
ব্যাখ্যা
• 'কানা-ছেলের নাম পদ্মলোচন' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - অযোগ্যের বিপরীত নামকরণ

অন্যদিকে,
- 'কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - কষ্টের ওপর অধিক কষ্ট।
- 'কাকের মাংস কাকে খায় না' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - যজন বা সগোত্রের প্রতি অনুরাগ।
- 'কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - পরিশ্রম না করলে সফলতা আসে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৬৯৯.
’নদ্যম্বু’ শব্দটির সন্ধি-বিচ্ছেদ-
  1. নদ + অম্বু
  2. নদী + অম্বু
  3. নদ + আম্বু
  4. নদী + অম্বূ
ব্যাখ্যা
• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বাঈ স্থানে 'য' বা য (্য) ফলা হয়। য-ফলা
লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন-
নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।
অতি + অন্ত =  অত্যন্ত।
 ইতি + আদি =  ইত্যাদি।
 অতি + উক্তি = অত্যুক্তি।
 প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ।
মসী + আধার = মস্যাধার।
 প্রতি + এক =  প্রত্যেক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১৩,৭০০.
'পালনীয়' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √পাল্‌ + নীয়
  2. √পালন্‌ + নীয়
  3. √পাল্‌ + অনীয়
  4. √পালি্ + নীয়
ব্যাখ্যা



• কৃৎ প্রত্যয়-অনীয়: যোগ্য বা কর্তব্য অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- √কৃ+ অনীয় = করণীয়,
- √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়,
- √পাল্‌ + অনীয় = পালনীয়,
- √শুচ + অনীয় = শোচনীয়,
- √স্মৃ + অনীয় = স্মরণীয়,
- √বৃ + অনীয় = বরণীয়।

এরূপ- মাননীয়, পূজনীয়, পানীয়, গ্রহণীয়, রমণীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।