উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৩,৫০২.
'কোর্মা' - কোন ভাষার শব্দ?
ক
আরবি
খ
ফারসি
গ
তুর্কি
ঘ
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, - 'কোর্মা' শব্দটি তুর্কি ভাষা থেকে আগত।
• 'কোর্মা' শব্দের অর্থ: - তুর্কি পদ্ধতিতে দই-সহযোগে অল্প মসলায় রাঁধা মাছ মাংস প্রভৃতি।
• তুর্কি ভাষার আরো কয়েকটি শব্দ হলো: - বাবা, - কোর্মা, - খাতুন, - উজবুক - চাকু, - তোপ, - বাবুর্চি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৫০৩.
'এ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ ঘটেছে কোন শব্দে?
ক
একটা
খ
খেলা
গ
বেলা
ঘ
এলাে
ব্যাখ্যা
এ বর্ণের উচ্চারণ: - এ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [এ] এবং [অ্যা]। - সাধারণ উচ্চারণ [এ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনাে কখনাে [অ্যা] উচ্চারিত হয়। - এ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: একটি [একটি], দেশ [দেশ], এলাে [এলাে]। - এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: একটা [অ্যাক্টা ], বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা]।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩,৫০৪.
‘এ জমিতে সোনা ফলে।’- বাক্যে জমিতে কোন কারক?
ক
অপাদান কারক
খ
করণ কারক
গ
অধিকরণ কারক
ঘ
সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক: ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন- আধার (স্থান): আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।
• অধিকরণ কারকের উদাহরণ - - তিলে তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি। - কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি। - পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি। - বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি। - বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি। - ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি। - কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
প্রদত্ত ‘এ জমিতে সোনা ফলে।’ বাক্যকে কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় জমিতে। সুতরাং ‘জমিতে’ অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫০৫.
'ভূত' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
ক
মানব
খ
মৃত
গ
ভাবী
ঘ
নিখুঁত
ব্যাখ্যা
• ভাবী শব্দের অর্থ:
- ভবিষ্যৎ,
- অনাগত কাল,
- ভবিষ্যতে হবে এমন।
আবার,
ভূত শব্দের অর্থ:
- অতীত,
- বিদ্যমান রয়েছে এমন।
• সুতরাং 'ভূত' শব্দের বিপরীত শব্দ - ভবিষ্যৎ/ভাবী।
অন্যদিকে, ‘খুঁত’ এর বিপরীতার্থক শব্দ - নিখুঁত।
'জীবিত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - মৃত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৫০৬.
কোনটি বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়?
ক
লতানো
খ
চোরাই
গ
পেটুক
ঘ
খবরদার
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়: শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। যেমন: - বিবি + আনা = বিবিয়ানা; - দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা; - মানান + সই = মানানসই; - খবর + দার = খবরদার; - কারি + গর = কারিগর; - গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।
------------------------------ • বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়: সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয়কে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। যেমন: - লতা + আনো = লতানো। - থাল + আ = থালা। - ব্যাঙ + আচি = ব্যাঙাচি। - চোর + আই = চোরাই। - পো + আত = পোয়াত। - পেট + উক = পেটুক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৫০৭.
’সাইরেন বেজে উঠল’ - বাক্যের যৌগিক ক্রিয়াটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে ?
ক
ক) কার্যসমাপ্তি অর্থে
খ
খ) আকস্মিকতা অর্থে
গ
গ) নিরন্তরতা অর্থে
ঘ
ঘ) অনুমোদন অর্থে
ব্যাখ্যা
• ’সাইরেন বেজে উঠল’ আকস্মিকতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। • তাছাড়া-- - নিরন্তরতা অর্থে : তিনি বলতে লাগলেন। - কার্যসমাপ্তি অর্থে : ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল। - অভ্যস্ততা অর্থে : শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে। - অনুমোদন অর্থে : এখন যেতে পার। • এগুলো সব হলো যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৫০৯.
‘অরণ্যে রোদন’ এর পরিবর্তে বাক্যে ‘বনে ক্রন্দন’ ব্যবহার করলে বাক্য তার কোন গুণটি হারাবে?
ক
ক) আকঙ্ক্ষা
খ
খ) যোগ্যতা
গ
গ) আসত্তি
ঘ
ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
বাগধারার অর্থ পরিবর্তন করলে বাক্য তার যোগ্যতা হারায়। উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৫১০.
'বৃক্ষ' শব্দকে বহুবচন করতে কোন লগ্নকটি ব্যবহৃত হয়?
ক
আবলি
খ
সমূহ
গ
মালা
ঘ
সব
ব্যাখ্যা
• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে '-সব', '-সমূহ', '-আবলি', '-মালা' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়। যেমন- - সব = ভাইসব, পাখিসব। - সমূহ = গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ। - আবলি = নিয়মাবলি, রচনাবলি। - মালা = মেঘমালা, পর্বতমালা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২৫)।
১৩,৫১১.
বিশেষ নিয়মে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
ক
শ্রোতা-শ্রোত্রী
খ
সভাপতি-সভানেত্রী
গ
গুণবান-গুণবতী
ঘ
মালেক-মালেকা
ব্যাখ্যা
• বিশেষ নিয়মে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় - মালেক-মালেকা।
বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ: ক) যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে ‘তা’ রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে ‘ত্রী’ হয়। যেমন: - নেতা- নেত্রী, কর্তা-কর্ত্রী, শ্রোতা-শ্রোত্রী, ধাতা-ধাত্রী।
খ) পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়। যথা: - সৎ-সতী, মহৎ-মহতী, গুণবান-গুণবতী, রূপবান-রূপবতী, শ্রীমান-শ্রীমতী, বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, গরীয়ান-গরিয়সী।
গ) কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়। যেমন- - সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রানি, যুবক-যুবতী, শ্বশুর- শ্বশ্রূ, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, স্বামী- ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৫১২.
হরদম শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
ক
হঠাৎ
খ
ব্যর্থ
গ
সমস্ত
ঘ
সর
ব্যাখ্যা
• ‘হরদম’ শব্দের অর্থ: নিয়ত, সর্বদা, অনবরত।
• ‘হরদম’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - হঠাৎ।
আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ: - 'সন্ধি' এর বিপরীত শব্দ- বিবাদ, বিগ্রহ, - 'হৃদ্যতা' এর বিপরীত শব্দ- 'কপটতা', - 'হাজির' এর বিপরীত শব্দ- 'গরহাজির', - 'সরস' এর বিপরীত শব্দ- 'নীরস', - 'মুক্ত' এর বিপরীত শব্দ- 'আবদ্ধ', - 'মুখ্য' এর বিপরীত শব্দ- 'গৌণ'।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২- সংস্করণ); ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি অভিধান।
১৩,৫১৩.
নিচের কোনটি ব্যক্তিবাচক সর্বনাম?
ক
আমি
খ
স্বয়ং
গ
উনি
ঘ
একজন
ব্যাখ্যা
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: - ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। - এই সর্বনাম তিন ধরনের। যথা: → বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি। → শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি। → অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
১৩,৫১৪.
'মারো আর কাটো ও যাবে না।'- এখানে 'আর' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
ক
এবং
খ
অথবা
গ
অধিক
ঘ
এরপর
ব্যাখ্যা
আর /আর্/ (অব্য.): ১. এবং, ও (তুমি আর আমি)। ২. এরপর (আমি আর ওখানে যাচ্ছি না)। ৩. অথবা (মারো আর কাটো ও যাবে না)। ৪. তদুপরি (আর কষ্ট দিয়ে কী লাভ)। ৫. এখন (সেই দিন কি আর আছে)। 6. কাজেই (সেখানে আর যাওয়ার প্রশ্ন ওঠে না)। ৭. আক্ষেপ অবসাদ হতাশা ক্রোধ বিস্ময় বিরক্তি প্রভৃতিবোধক শব্দ (ওর কথা আর বোলো না)।
আর /আর্/ (বিণ.): ১. দ্বিতীয় (এই বিষয়ে ওঁর চেয়ে ভালো শিক্ষক আর নেই)। ২. বিগত (আর বছরে ভালো ফলন হয়েছিল)। ৩. আগামী (আর বুধবারে আমিও যাব)। ৪. অপর , অন্য (আর কেউ জানে না)। ৫. অধিক, এর বেশি (এরপর আর কী বলব)। ৬. অভিন্ন (উনিশ আর বিশ)।
আর /আর্/ (ক্রিবিণ.): ১. ভবিষ্যতে (আর এমন কাজ করো না)। ২. যুগপৎ (দেখি আর অবাক হই)। ৩. পরপর (আমি কেবল যাব আর আসব)। ৪. পক্ষান্তরে (ও খেটে মরছে আর তোমরা বসে আছ)। ৫. অব্যবহিত পরেই (তুমিও গেলে আর বৃষ্টিও থামলো)।
• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত: - উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ]; - উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও]; - নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ]; - নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]। উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।
• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খােলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত: - সংবৃত [ই], [উ]; - অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও]; - অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ]; - বিবৃত: [আ]। সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট বেশি খােলে।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সর্বশেষ সংস্করণ)।
১৩,৫১৮.
অশুদ্ধ সংযুক্তবর্ণ কোনটি?
ক
ক) ণ+চ = ঞ্চ
খ
খ) ক্+ক = ক্ক
গ
গ) ঞ্+ছ = ঞ্ছ
ঘ
ঘ) ন্ + ম = ন্ম
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ যুক্ত বর্ণঃ ঞ্+চ = ঞ্চ ক্+ক = ক্ক ঞ্+ছ = ঞ্ছ ন্ + ম = ন্ম। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৩,৫১৯.
“Clemency” এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
ক
কঠোর শাস্তি
খ
অনুকম্পা
গ
ন্যায়বিচার
ঘ
কম্পন
ব্যাখ্যা
• “Clemency” মানে হলো কাউকে শাস্তি থেকে মুক্তি দেওয়া বা দয়া দেখানো। - “Clemency” এর বাংলা পরিভাষা হচ্ছে- অনুকম্পা বা ক্ষমাশীলতা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫২২.
'শর' শব্দের সঠিক অর্থ কোনটি?
ক
ক) তির
খ
খ) মদন
গ
গ) দুধের সর
ঘ
ঘ) শব্দ
ব্যাখ্যা
শর (বিশেষ্য) - সংস্কৃত শব্দ - প্রকৃতি প্রত্যয় = √শৃ + অ
অর্থ: - তির, বাণ, শায়ক। নলখাগড়া উদ্ভিদ।
অন্যদিকে, • 'সর' শব্দের অর্থ: দুধের সর • 'স্বর' শব্দের অর্থ: শব্দ • 'স্মর' শব্দের অর্থ: মদন
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৩,৫২৩.
‘বিষয়টা অযৌক্তিক' - কোন ধরনের বাক্য?
ক
অস্তিবাচক
খ
প্রশ্নবাচক
গ
অনুজ্ঞাবাচক
ঘ
নেতিবাচক
ব্যাখ্যা
• অস্তিবাচক বাক্য/ হাঁ বাচক বাক্য: যে বাক্যে সমর্থনের মাধ্যমে কোন কিছু বর্ণনা করা হয়, তাকে অস্তিবাচক বাক্য বা হাঁ বাচক বলে। যে বাক্যে হাঁ বাচক শব্দ থাকে, তাকে হাঁ বাচক বা অস্তিবাচক বাক্য বলে। যেমন: - তুমি কালকে আসবে।
• প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্য 'বিষয়টা অযৌক্তিক' - এটি অস্তিবাচক বাক্য। এর নেতিবাচক রূপ - বিষয়টা যৌক্তিক নয়।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫২৪.
'সৌম্য' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
ক
করাল
খ
মনোহর
গ
প্রশান্ত
ঘ
সিক্ত
ব্যাখ্যা
• 'সৌম্য' এর বিপরীতার্থক শব্দ - করাল।
উল্লেখ্য, 'সৌম্য' শব্দের অর্থ - প্রশান্ত, ধীর, স্থির, মনোরম, মনোহর। 'করাল' শব্দের অর্থ - ভীষণ-দর্শন, ভয়ংকর, ভীতিপ্রদ।
অন্যদিকে, সিক্ত - শুষ্ক।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• পরাগত স্বরসঙ্গতি: অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন: আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি।
• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি: আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন: বিলাতি > বিলিতি।
• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি: আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন: মোজা > মুজো।
• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি: - গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি। - পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন: মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি। - বিশেষ নিয়মে- উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৫২৭.
নিম্নের কোনটি ফারসি অনুসর্গের উদাহারণ?
ক
ক) পাশে, বই
খ
খ) বনাম,বাদে
গ
গ) কর্তৃক, বদলে
ঘ
ঘ) অপেক্ষা, অভিমুখ
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ প্রধানত দুই প্রকার। - নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ - ক্রিয়া অনুসর্গ
নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। - সংস্কৃত অনুসর্গ: অপেক্ষা, অভিমুখ, উপরে, কর্তৃক, জন্য, দিকে ইত্যাদি। - বিবর্তিত অনুসর্গ: আগে, কাছে, ছাড়া, তরে, পানে, পাশে, বই, ভেতর, মাঝে, সাথে, সামনে ইত্যাদি। - ফারসি অনুসর্গ: দরুন, বদলে, বনাম,বাদে, বাবদ, বরাবর ইত্যাদি।
উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
১৩,৫২৮.
বাংলা ভাষার বিবর্তনের একেবারে প্রাথমিক স্তর কোনটি?
ক
ইন্দো-ইরানীয়
খ
ভারতীয় আর্য
গ
ইন্দো-ইউরোপীয়
ঘ
প্রাকৃত
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষা: - বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা। - বাংলা ভাষাও ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের সদস্য। - ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে।
• এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করতে হয়েছে, সেগুলো হলো: - ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানীয়→ ভারতীয় আর্য→ প্রাকৃত→ বাংলা। - আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে। - বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৩,৫২৯.
কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ নয়?
ক
সর্বজন + নীন = সর্বজনীন
খ
মিঠা + আই = মিঠাই
গ
নীল + ইমন = নীলিমা
ঘ
কুসুম + ইত = কুসুমিত
ব্যাখ্যা
• ‘আই’ বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ- মিঠা + আই = মিঠাই।
• তদ্ধিত প্রত্যয়: শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়। যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়: ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে । যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়: - তেজঃ + বিন = তেজস্বী, - পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক, - কুসুম + ইত = কুসুমিত, - সর্বজন + নীন = সর্বজনীন, - নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৫৩০.
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে-
ক
অভিশ্রুতি
খ
অপিনিহিতি
গ
সমীভবন
ঘ
স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি: একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। যেমন: - দেশি > দিশি, - বিলাতি > বিলিতি, - মুলা > মুলো ইত্যাদি।
অন্যদিকে, -------------------- • অপিনিহিতি: পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে। যেমন- - আজি > আইজ, - সাধু > সাউধ, - মারি > মাইর ইত্যাদি।
• সমীভবন: শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন। যেমন: - জন্ম > জন্ম; - কাদনা > কান্না ইত্যাদি।
• অভিশ্রুতি: বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি। যেমন: করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে 'কইরিয়া' কিংবা বিপর্যয়ের ফলে 'কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত 'করে'।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৫৩১.
'তার ভাই ঋণ করেছিলো, আর সে তা পরিশোধ করেছে।' কোন ধরনের বাক্য?
ক
জটিল
খ
সরল
গ
যৌগিক
ঘ
মিশ্র
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য: দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
• এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা(, ), সেমিকোলন(;), কোলন(:), ড্যাশ(_) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন: - তিনি ধনী, কিন্তু দাতা নন। - তার ভাই ঋণ করেছিলো, আর সে তা পরিশোধ করেছে। - বিপদ এবং দুঃখ একই সঙ্গে আসে।
------------------ • সরল বাক্য: একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন- - জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে। - পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
• জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়। যেমন- - যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৩,৫৩২.
সাধিত শব্দ কোনটি?
ক
গাছ
খ
চলন্ত
গ
পাখি
ঘ
ফুল
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ - চলন্ত।
• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: ১. মৌলিক শব্দ ও ২. সাধিত শব্দ।
• মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন - গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।
• সাধিত শব্দ: - যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। - উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়। যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।
- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন - ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৫৩৩.
নিম্নের কোনটি বিশেষণ পদ?
ক
বুদ্ধিমান
খ
ঢাকা
গ
রাজশাহী
ঘ
এবং
ব্যাখ্যা
• 'বুদ্ধিমান' - এটি একটি বিশেষণ পদ। - এটি সংস্কৃত শব্দ।
কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্বরের আগমন ঘটে না?
ক
মধ্য স্বরাগম
খ
স্বরভক্তি
গ
বিপ্রকর্ষ
ঘ
অন্তর্হতি
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি: - সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি। যেমন: - রত্ন > রতন, - ধর্ম > ধরম, - প্রীতি > পিরীতি ইত্যাদি।
অন্যদিকে: অন্তর্হতি: - পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে। যেমন: - ফাল্গুন > ফাগুন, - ফলাহার > ফলার, - আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।
অপশন অনুসারে, সঠিক উত্তর: ঘ) অন্তর্হতি। কারণ, এখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে না; ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পায়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৫৪১.
'জাতে মাতাল তালে ঠিক' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ কী?
ক
অক্ষমের অতিরিক্ত প্রত্যাশা
খ
অপরাধের তুলনায় অধিক সাজা
গ
স্বার্থসচেতন
ঘ
অপকর্ম প্রকাশিত হয়ে পড়েই
ব্যাখ্যা
• 'জাতে মাতাল তালে ঠিক' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - স্বার্থসচেতন।
অন্যদিকে, - 'ধর্মের কল বাতাসে নাড়ে’ প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ = অপকর্ম প্রকাশিত হয়ে পড়েই। - 'লঘু পাপে গুরু দণ্ড' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ = অপরাধের তুলনায় অধিক সাজা। - 'গরিবের ঘোড়া রোগ' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ = অক্ষমের অতিরিক্ত প্রত্যাশা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৫৪২.
সেলিম বলল, "বা! কী চমৎকার দৃশ্য"। এর পরোক্ষ উক্তি কোনটি?
ক
সেলিম আনন্দের সাথে বলল যে, বাহ দৃশ্যটি চমৎকার।
খ
সেলিম আনন্দের সাথে বলল যে, দৃশ্যটি চমৎকার।
গ
সেলিম বলল যে, দৃশ্যটি খুব চমৎকার।
ঘ
সেলিম আনন্দের সাথে বলল যে, দৃশ্যটি খুব চমৎকার।
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষ উক্তি সেলিম বলল, "বা! কী চমৎকার দৃশ্য"। পরোক্ষ উক্তি : সেলিম আনন্দের সাথে বলল যে, দৃশ্যটি খুব চমৎকার।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫৪৩.
নিচের কোনটি যৌগিক স্বরধ্বনি?
ক
ক) অ+ই
খ
খ) ঐ
গ
গ) অ+উ
ঘ
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পাশাপাশি দুটো স্বরধ্বনি এক প্রয়াসে ও দ্রুত উচ্চারিত হয়ে যদি একটি যুক্তধ্বনিতে রূপ নেয়, তাকে যৌগিক স্বরধ্বনি বলে। যেমন- অ+ই = ঐ, অ+উ = ঔ বাংলায় এই যৌগিক স্বরধ্বনি দুটোকে পৃথক বর্ণ দিয়ে চিহ্নিত করা হয় (ঐ,ঔ)। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৪৪.
নিচের কোন বিপরীত শব্দজোড় অশুদ্ধ?
ক
ক) ঐহিক – পারত্রিক
খ
খ) উত্তপ্ত -শৈত
গ
গ) আবাহন- বিসর্জন
ঘ
ঘ) ইদানিং – তদানিং
ব্যাখ্যা
উত্তপ্ত- এর বিপরীত শব্দ শীতল। রেফারেন্সঃ ভাষা শিক্ষা- হায়াৎ মামুদ।
১৩,৫৪৫.
"খাসমহল" শব্দের মধ্যে 'খাস' এবং 'মহল' যথাক্রমে-
ক
বিশেষ্য; বিশেষণ
খ
বিশেষণ; বিশেষণ
গ
বিশেষণ; বিশেষ্য
ঘ
বিশেষ্য; বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) বিশেষণ; বিশেষ্য।
-------------- ব্যাখ্যা: "খাসমহল" = খাস + মহল।
বিশ্লেষণ: ১. খাস = বিশেষণ পদ।
অর্থ: বিশেষ, নিজস্ব, রাজকীয়। এটি 'মহল' শব্দটিকে বিশেষিত করছে।
কোন ধরনের মহল? → খাস মহল (বিশেষ মহল)।
২. মহল = বিশেষ্য।
অর্থ: প্রাসাদ, অট্টালিকা, বাসগৃহ। এটি একটি স্থান/বস্তুর নাম।
এমন আরো কিছু শব্দ: লালবাগ = লাল (বিশেষণ) + বাগ (বিশেষ্য) নীলনকশা = নীল (বিশেষণ) + নকশা (বিশেষ্য) খাসকামরা = খাস (বিশেষণ) + কামরা (বিশেষ্য)
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৫৪৬.
'শ্রবণ ও স্রবণ' শব্দের অর্থ কী?
ক
কান ও পাথর
খ
শোনা ও স্বর্ণ
গ
শোনা ও পবিত্র
ঘ
কান ও ক্ষরণ
ব্যাখ্যা
• 'শ্রবণ' শব্দের অর্থ - কান। • 'স্রবণ' শব্দের অর্থ - ক্ষরণ।
অন্যদিকে, • শিল - পাথর। • শীল - চরিত্র।
• শুচি - পবিত্র। • সূচি - তালিকা।
• শোনা - শ্রবণ করা। • সোনা - স্বর্ণ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৫৪৭.
'প্রবাস' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
ক
কুবাস
খ
স্ববাস
গ
নির্বাস
ঘ
স্বদেশ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, • 'প্রবাস' শব্দের বিপরীত শব্দ স্বদেশ। • 'প্রবাস' শব্দের অর্থ: ১। বিদেশে অবস্থান। ২ বিদেশ।
• 'স্বদেশ' শব্দের অর্থ: - নিজের দেশ, জন্মভূমি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৫৪৮.
কোনটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়?
ক
আবলি
খ
পুঞ্জ
গ
গুচ্ছ
ঘ
পাল
ব্যাখ্যা
• 'পাল ও যূথ' শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়। যেমন: - হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে। - রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে।
• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ- - আবলি - পুস্তকাবলি। - গুচ্ছ - কবিতাগুচ্ছ। - পুঞ্জ - মেঘপুঞ্জ। - মালা - পর্বতমালা। - রাজি - তারকারাজি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৫৪৯.
কোন শব্দে ধাতুর সাথে প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
ক
ক) বন্ধ
খ
খ) পঠন
গ
গ) অঙ্ক
ঘ
ঘ) বিগড়
ব্যাখ্যা
• ‘পঠ্’ সংস্কৃত ধাতুর সাথে ‘ন’ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ - পঠন।
অন্যদিকে, - ‘বন্ধ্’ ও ‘অঙ্ক’ সংস্কৃত ধাতুর উদাহরণ। - ‘বিগড়’ নষ্ট হওয়া অর্থে বিদেশি ধাতুর উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৫৫০.
নিচের কোন শব্দে অভাব অর্থে 'বি' উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
ক
ক) বিচরণ
খ
খ) বিফল
গ
গ) বিধৃত
ঘ
ঘ) বিকার
ব্যাখ্যা
বি উপসর্গ: বিশেষ রূপে: - বিধৃত - বিশুদ্ধ - বিজ্ঞান - বিবস্ত্র - বিশুষ্ক
অভাব: - বিনিদ্র - বিবর্ণ - বিশৃঙ্খল - বিফল
গতি: - বিচরণ - বিক্ষেপ
অপ্রকৃতস্থ: বিকার
[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
১৩,৫৫১.
‘বেদেনি’ শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে নরবাচক থেকে নারীবাচক হয়েছে?
ক
ইনি
খ
ই
গ
ইনী
ঘ
নি
ব্যাখ্যা
• নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়। যেমন-
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ, এসএইচসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫৫৬.
“এই পুকুরের পানি ঘোলা” বাক্যে ‘ঘোলা’ শব্দটি কোন প্রকারের বিশেষণ?
ক
ক) গুণবাচক বিশেষণ
খ
খ) অবস্থাবাচক বিশেষণ
গ
গ) নির্দিষ্টবাচক বিশেষণ
ঘ
ঘ) বিধেয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা
বিশেষণ এর শ্রেণিবিভাগ: বর্ণবাচক বিশেষণ - নীল আকাশ, সবুজ ঘাস, লাল ফিতা। গুণবাচক বিশেষণ - চালাক ছেলে, ঠাণ্ডা পানি। অবস্থাবাচক বিশেষণ - চলন্ত ট্রেন, তরল পানি। ক্রমবাচক বিশেষণ - এক টাকা, আট দিন। পূরণবাচক বিশেষণ - তৃতীয় প্রজন্ম, দ্বাদশ অধিবেশন। পরিমানবাচক বিশেষণ - আধা কেজি চাল, অনেক লোক। উপাদানবাচক বিশেষণ - বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি। প্রশ্নবাচক বিশেষণ - কেমন গান? কতক্ষণ সময়? নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ - এই দিনে, সেই সময়। ভাববাচক বিশেষণ - খুব ভালো খবর। ঘোড়াটি বেশ জরে ছুটছে। বিধেয় বিশেষণ - লোকটা পাগল। এই পুকুরের পানি ঘোলা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)
১৩,৫৫৭.
জিহ্বার ডগা দন্তমূলকে দ্রুত আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করলে তাকে কোন ধ্বনি বলে?
ক
পার্শ্বিক ব্যঞ্জন
খ
তাড়নজাত ব্যঞ্জন
গ
কম্পিত ব্যঞ্জন
ঘ
উষ্ম ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
কম্পিত ব্যঞ্জন: - যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে। কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের র কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
অন্যদিকে, পার্শ্বিক ব্যঞ্জন: যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে। লাল শব্দে ল পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
তাড়নজাত ব্যঞ্জনধ্বনি: - তাড়িত ব্যঞ্জন যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মুর্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে। যেমন, - ড়, ঢ় তাড়নজাত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
১৩,৫৫৮.
পদ কত প্রকার?
ক
ক) ৬
খ
খ) ৫
গ
গ) ৭
ঘ
ঘ) ৮
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে পদ বলে। - বাক্যে অন্তর্গত পদ কে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা- ১. বিশেষ্য ২. বিশেষণ ৩. সর্বনাম ও ৪. ক্রিয়া ৫. ক্রিয়াবিশেষণ ৬. অনুসর্গ ৭. যোজক ও ৮. আবেগ
উঃস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)
১৩,৫৫৯.
(কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপ পেয়ে কোন সমাস হয়?
ক
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
খ
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
গ
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
ঘ
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন- - গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি, - আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা, - বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি।
অন্যদিকে, দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস: - পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। যথা: - দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, - বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৫৬০.
লিঙ্গান্তর করতে “নায়ক” শব্দের শেষে কোন প্রত্যয় যুক্ত হয়?
ক
ক) আ
খ
খ) ঈ
গ
গ) ইনি
ঘ
ঘ) ইকা
ব্যাখ্যা
ইকা-প্রত্যয় যোগে যেসব শব্দের শেষে ‘অক্’ রয়েছে সেসব শব্দে 'অক্' স্থলে 'ইকা' হয়। যেমন: বালক-বালিকা, নায়ক- নায়িকা, গায়ক-গায়িকা, সেবক-সেবিকা, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা ইত্যাদি। কিন্তু গণক গণকী, নর্তক-নর্তকী, চাতক-চাতকী, রজক-রজকী (বাংলায়) রজকিনী।
- ক্ষুদ্রার্থে ইকা যোগ হয়। যেমন : নাটক-নাটিকা, মালা-মালিকা, গীত-গীতিকা, পুস্তক-পুস্তিকা ইত্যাদি। (এগুলো স্ত্রী প্রত্যয় নয়, ক্ষুদ্রার্থক প্রত্যয়।)
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৫৬১.
কোনটি যোগরূঢ় শব্দ নয়?
ক
বহুব্রীহি
খ
জলদ
গ
অসুখ
ঘ
বাবুয়ানা
ব্যাখ্যা
যোগরূঢ় শব্দ: - সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে। যেমন: - পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, আদিত্য, জলদ, দশানন, বহুব্রীহি, অসুখ।
অন্যদিকে, যৌগিক শব্দ: যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন - - গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে। - কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত। - বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব। - মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত। - দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি। - চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৬২.
'আইন’ শব্দটি কোন বিদেশি ভাষা থেকে আগত?
ক
আরবি
খ
হিন্দি
গ
ফারসি
ঘ
ফরাসি
ব্যাখ্যা
ফারসি - আ’ঈন শব্দ থেকে বাংলা আইন শব্দটি এসেছে।
এছাড়াও বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কতিপয় ফারসি শব্দঃ ১. ধর্মসংক্রান্ত শব্দঃ খোদা, গুনাহ, দোজখ, নামাজ, বেহেশত, ফেরেশতা, রোজা ইত্যাদি। ২. প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দঃ কারখানা, চশমা, জবানবন্দি, তোশক, দফতর, দঊলত, নালিশ, বাদশাহ, বেগম, মেথর, রসদ ইত্যাদি। ৩. বিবিধঃ আদমি, আমদানি, জানোয়ার, জিন্দা, নমুনা, বদমাশ, রফতানি, হাঙ্গামা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৫৬৩.
'ছেলে কাঁদে'- এখানে 'ছেলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
ক
কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
খ
কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি
গ
কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
ঘ
কর্তৃকারকে দ্বিতীয় বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• কর্তা কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তা কারক।
যেমন:
- টুম্পা বই পড়ে। কে পড়ে?-টুম্পা; 'টুম্পা' কর্তৃকারক।
- মীরা গান গায়।
- মিতা নাচে। (কাজটি যে করে, সেই কর্তৃকারক।)
- অপরের অধীন না হয়ে নিজে ক্রিয়া সম্পাদন করলে তাকে কর্তা বলে। কর্তৃকার নির্ণয়ের জন্যে প্রশ্ন হচ্ছে 'কে'?
যেমন-শিক্ষক পড়াচ্ছেন। কে পড়াচ্ছেন? শিক্ষক। এখানে 'শিক্ষক' কর্তৃকারক।
কর্তা কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথম বা শূন্য বিভক্তি:
- বৃষ্টি পড়ে।
- সাপুড়ে সাপ খেলায়।
- রাজা প্রজা পালন করে। - ছেলে কাঁদে। [বাক্যেকে কে কাঁদে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ছেলে।]
সুতরাং এখানে ‘ছেলে’ কর্তা কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৫৬৫.
অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ পায় কোন ধরনের আবেগ - এর মাধ্যমে?
ক
ক) আতঙ্ক আবেগ
খ
খ) অলংকার আবেগ
গ
গ) সিদ্ধান্ত আবেগ
ঘ
ঘ) প্রশংসা আবেগ
ব্যাখ্যা
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।
নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো: ১. সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়। যেমন- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
২. প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। যেমন- বাহ, চমৎকার লিখেছ।
৩. বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। যেমন- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।
৪. আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। যেমন- উহ! কি বিপদে পরা গেল।
৫. বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। যেমন- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
৬. করূণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। যেমন- আহা! বেচারার কত কষ্ট।
৭. সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যেমন- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
৮. অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। যেমন- যাকগে, ওসব কথা থাক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৫৬৬.
সংস্কারের ইংরেজি পরিভাষা কি ?
ক
ক) Sabotage
খ
খ) Sacrament
গ
গ) Rebate
ঘ
ঘ) prerogative
ব্যাখ্যা
সংস্কারের ইংরেজি পরিভাষা Sacrament। - Rebate অর্থ বার্তা। - Sabotage শব্দের অর্থ অন্তর্ঘাত। -prerogative শব্দের অর্থ বিশেষ অধিকার।
উৎস : বাংলা একাডেমী প্রশাসনিক পরিভাষা)
১৩,৫৬৭.
'বনৌষধি' - শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
ক
বুনো+ ওষধি
খ
বন + ওষুধি
গ
বন + ঔষধি
ঘ
বন + ওষধি
ঙ
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সন্ধির নিয়ম: • অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন: - মহা + ঋষি = মহর্ষি, - শীত + ঋত = শীতার্ত, - জন + এক = জনৈক, - বন + ওষধি = বনৌষধি, - প্রতি + এক = প্ৰত্যেক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৫৬৮.
বাংলা ব্যাকরণে পদ রয়েছে _____ প্রকার।
ক
ক) ৩
খ
খ) ৪
গ
গ) ৫
ঘ
ঘ) ৬
ঙ
ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় পদ প্রধানত ২ প্রকার। যথা নাম ও ক্রিয়া পদ। এর মধ্যে নামপদ ৪ প্রকার। যার কারণে সামগ্রিকভাবে বাংলা ভাষায় পদ ৫ প্রকার। এগুলো হলোঃ বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া এবং অব্যয়। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,৫৬৯.
তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
ক
ক) ঝলক
খ
খ) ছুতার
গ
গ) ঘাটতি
ঘ
ঘ) লাগোয়া
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয় ‘-আর’ যোগে গঠিত শব্দ সমূহঃ কর্ম >কাম + আর = কামার; চর্ম > চাম + আর = চামার; সুতা + আর = সুতার > ছুতার। উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা - ড.হায়াৎ মামুদ
১৩,৫৭০.
"বাতাসা" - কোন ভাষার শব্দ?
ক
তৎসম
খ
দেশি
গ
তদ্ভব
ঘ
হিন্দি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, "বাতাসা" - দেশি ভাষার শব্দ।
• 'বাতাসা' শব্দের অর্থ: - চিনি বা গুড় দিয়ে তৈরি মিষ্ট দ্রব্যবিশেষ।
• দেশি ভাষার কয়েকটি শব্দ হলো: যথা: কুড়ি, পেট, চুলা, চালতা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৫৭১.
‘চিনির বলদ’ কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাস?
ক
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
খ
সপ্তমী তৎপুরুষ
গ
অলুক তৎপুরুষ
ঘ
চতুর্থী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। - তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।
• অলুক তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: - চোখের বালি = চোখের বালি। - সোনার তরী = সোনার তরী। - তেলে ভাজা = তেলেভাজা। - চিনির বলদ = চিনির বলদ ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৭২.
কোন শব্দে বানান জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
ক
কিংবদন্তি
খ
মনকষ্ট
গ
আভ্যন্তর
ঘ
ব্যতীত
ব্যাখ্যা
• মনকষ্ট - শব্দে বানান জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে। - 'মনকষ্ট' শুদ্ধ বানান - মনঃকষ্ট। - এটি একটি বিশেষ্য পদ।
• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: - যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। যেমন- - করে: ভালো করে খেয়ে নাও। - থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়। - দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার। - ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি। - বলে: তুমি সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছি।
• সাধারণ অনুসর্গ: - যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে। যেমন- - উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ। - কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে? - জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি। - দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না। - বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৫৭৪.
কোনটি সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য নয়?
ক
সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর
খ
উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে।
গ
সাধু রীতির বহু সর্বনামে ‘হ’-বৰ্ণ যুক্ত থাকে।
ঘ
তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষা/রীতি: - দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়। - উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে। - সাধু রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
(খ) সাধু রীতির বহু সর্বনামে ‘হ’-বৰ্ণ যুক্ত থাকে, যেমন: - তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, ইত্যাদি।
অন্যদিকে, - চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩,৫৭৫.
লগ্নক কত প্রকার?
ক
২ প্রকার
খ
৩ প্রকার
গ
৪ প্রকার
ঘ
৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
লগ্নক: পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। - লগ্নক চার ধরনের।
বিভক্তি: - ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। - বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। - ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।
নির্দেশক: - যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। - ‘লোকটি’ বা ‘ভালোটুকু’ পদের ‘টি’ বা ‘টুকু’ হলো নির্দেশকের উদাহরণ।
বচন: - যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। - ‘ছেলেরা’ বা ‘বইগুলো’ পদের ‘রা’ বা ‘গুলো’ হলো বচনের উদাহরণ।
বলক: - যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। - ‘তখনই’ বা ‘এখনও’ পদের ‘ই’ বা ‘ও’ হলো বলকের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৫৭৬.
'প্রতিশব্দ' ব্যাকরণের কোন তত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
ক
বাক্যতত্ত্ব
খ
রূপতত্ত্ব
গ
অর্থতত্ত্ব
ঘ
ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়: - ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় বিভক্ত হয় অন্তত চারটি ভাগে। যথা: ১। ধ্বনিতত্ত্ব, ২। রূপতত্ত্ব, ৩। বাক্যতত্ত্ব, ৪। অর্থতত্ত্ব।
অর্থতত্ত্ব: - ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। - একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়। - বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। - এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।
অন্যদিকে: ধ্বনিতত্ত্ব: - ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। - লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত। - ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।
রূপতত্ত্ব: - রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। - এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। - বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
বাক্যতত্ত্ব: - বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। - বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য। - বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়। - এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। - কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২২ সংস্করণ)।
• নিত্য স্ত্রীবাচক তৎসম শব্দ : কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক। এগুলোর পুরুষবাচক শব্দ নেই। যেমন: সতীন, অর্ধাঙ্গিনী, কুলটা, বিধবা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি
অন্যদিকে, - ’চন্দ্রমুখ’ শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - চন্দ্রমুখী, চন্দ্রমুখা। - ’সুনয়ন’ শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - সুনয়না, সুনয়নী। - ’হেমাঙ্গ’ শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - হেমাঙ্গী।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১৩,৫৭৯.
'দুষ্কর' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
ক
পরস্ব
খ
সবল
গ
কাছে
ঘ
সুকর
ব্যাখ্যা
• 'দুষ্কর' এর বিপরীতার্থক শব্দ - সুকর।
উল্লেখ্য, - 'দুষ্কর' শব্দের অর্থ - দুরূহ, দুঃসাধ্য। - 'সুকর' শব্দের অর্থ - সহজে করা যায় এমন।
অন্যদিকে, দূরে - কাছে, দুর্বল - সবল, নিজস্ব - পরস্ব।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৫৮০.
নিচের কোন শব্দটি সাধু ভাষায় ব্যবহারের উপযোগী ?
ক
শুকনো
খ
সাথে
গ
জুতা
ঘ
বুনো
ব্যাখ্যা
- 'জুতা' শব্দটি সাধু ভাষায় ব্যবহারের উপযোগী।
- সাধু রীতিতে 'তৎসম' শব্দের ব্যবহার বেশি হয়।
- বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতায় অনুপযোগী।
- এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৫৮১.
কোনটি বিরোধ যোজক?
ক
বা
খ
না-হয়
গ
তবুও
ঘ
তাই
ব্যাখ্যা
বিরোধ যোজক: - এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন: - তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না।
অন্যদিকে, সাধারণ যোজক: - এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে।
যেমন: - করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।
বিকল্প যোজক: - এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। যেমন: - চা না-হয় কফি খান। লাল বা নীল কলমটা আনো।
সাপেক্ষ যোজক: - এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন: - যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৫৮২.
‘সু’ উপসর্গযোগে গঠিত ‘সুনজর’ শব্দটিতে অর্থের কী ঘটেছে?
ক
সম্প্রসারণ
খ
সংকোচন
গ
সংযোজন
ঘ
কাছে আসা
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ: যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
• নতুন শব্দ তৈরি করা উপসর্গের কাজ। যেমন: - সম্ + বাদ = সংবাদ; - বি + বাদ= বিবাদ।
• উপসর্গের আর একটি কাজ শব্দের অর্থ পরিবর্তন করা। যেমন: - সু + নজর = সুনজর (অর্থের সংকোচন)। - সম্ + পূর্ণ = সম্পূর্ণ (অর্থের সম্প্রসারণ)। - গর + হাজির = গরহাজির (বিপরীত অর্থ)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১৩,৫৮৩.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
ক
উপর্যুক্ত
খ
স্বায়ত্ত্বশাসন
গ
শ্রদ্ধাঞ্জলী
ঘ
দারিদ্রতা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান- উপর্যুক্ত (বিশেষণ): - এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে উপোর্জুক্তো। - এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে উপরি + উক্ত। - এর অর্থ হচ্ছে পূর্বে কথিত বা উল্লেখ করা হয়েছে এমন।
অন্যদিকে, অপশনের বাকি বানানগুলো অশুদ্ধ।
এগুলোর শুদ্ধ বানান - • 'স্বায়ত্ত্বশাসন' এর শুদ্ধ বানান - স্বায়ত্তশাসন। • 'শ্রদ্ধাঞ্জলী' এর শুদ্ধ বানান - শ্রদ্ধাঞ্জলি। • 'দারিদ্রতা' এর শুদ্ধ বানান - দরিদ্রতা।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৩,৫৮৪.
কোন ছন্দের ভাব ললিত মধুর?
ক
অমিত্রাক্ষর
খ
অক্ষরবৃত্ত
গ
মাত্রাবৃত্ত
ঘ
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ মাত্রাবৃত্ত ছন্দ: - এ ছন্দ ধ্বনি-প্রধান। - ছন্দে ছয় মাত্রার পর্বই অধিক। - চার, পাঁচ, সাত, আট মাত্রার পর্বও এ ছন্দে পাওয়া যায়। - এ ছন্দে সাধুভাষা বা সাধু ক্রিয়ার ব্যবহার বেশি হয়। - এ ছন্দে স্বরবৃত্তের মতো ধ্বনি সংকোচন নেই, আছে ধ্বনি বিস্তার। - এ ছন্দের ভাব ললিত মধুর। - এ ছন্দের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য এর গীতিপ্রবণতা বা সুরনিষ্ঠতা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৫৮৫.
প্রগত সমীভবনের উদাহরণ নয় কোনটি?
ক
লগ্ন > লগ্গ
খ
পদ্ম > পদ্দ
গ
সত্য > সচ্চ
ঘ
পক্ব > পক্ক
ব্যাখ্যা
• প্রগত সমীভবন: পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন। যেমন: - চক্র > চক্ক, - পক্ব > পক্ক, - পদ্ম > পদ্দ, - লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।
অন্যদিকে, --------------------- • অন্যোন্য সমীভবন: যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যোন্য সমীভবন। যেমন: - সত্য > সচ্চ, - বিদ্যা > বিজ্জা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৩,৫৮৬.
'চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।' - বাক্যে 'চোরে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
ক
অধিকরণে ৭মী
খ
কর্তায় ৬ষ্ঠী
গ
কর্তায় ৭মী
ঘ
অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক: - বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। - ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।
উৎস: ১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)। ২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উৎস: ১) প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। ২) বাংলা একাডেমি অভিগম্য অভিধান।
১৩,৫৯০.
'জাহাজ' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
ক
ক) পর্তুগিজ
খ
খ) আরবি
গ
গ) ফারসি
ঘ
ঘ) তুর্কি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, জাহাজ (বিশেষ্য) - আরবি শব্দ। অর্থ: - ইঞ্জিনচালিত সমুদ্রগামী বড়ো নৌযান, - অর্ণবপোত। আলংকারিক অর্থ: - বিদ্যার জাহাজ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৫৯১.
'চাকর' শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
ক
ফরাসি
খ
ফারসি
গ
তুর্কি
ঘ
আরবি
ব্যাখ্যা
• 'চাকর' শব্দটি ফারসি ভাষার শব্দ । • ফারসি ভাষার আরো কয়েকটি শব্দ হলো: - কারখানা, - চশমা, - জবানবন্দি, - তোশক, - দফতর, - দরবার, - দোকান, - দস্তখত, - দৌলত, - নালিশ, - বাদশাহ, - বান্দা, - বেগম, - মেথর, - রসদ
উৎসঃ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
উল্লেখ্য, - চাকর শব্দটির উৎস মাধ্যমিক ব্যাকরণ বইয়ে 'তুর্কি' দেওয়া আছে যা প্রকৃতপক্ষে ভুল। - বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে এটি ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ। তাই নিঃসন্দেহে সঠিক উত্তর - ফারসি। তবে অপশনে ফারসি না থাকলে উত্তর 'তুর্কি' হবে।
১৩,৫৯২.
নিচের কোনটি সংস্কৃত শব্দ?
ক
ইমান
খ
ডিঙা
গ
টোপর
ঘ
ধৰ্ম
ব্যাখ্যা
• 'ধৰ্ম' - সংস্কৃত শব্দ। - বিশেষ্য পদ। অর্থ: - ঈশ্বর ও উপাসনাপদ্ধতির বিষয়ে মতবাদ।
অন্যদিকে, - 'ইমান' আরবি ভাষার শব্দ। - 'ডিঙা' বাংলা ভাষার শব্দ। - 'টোপর' দেশি শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৫৯৩.
'ছেলেটার কাঁচা বয়েস।' বাক্যে 'কাঁচা' শব্দটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
ক
অদক্ষ
খ
অল্প জ্ঞান
গ
অপ্রাপ্ত বয়স্ক
ঘ
অপূর্ণ
ব্যাখ্যা
অর্থভেদে বাক্য 'কাঁচা' শব্দের বিভিন্ন প্রয়োগ- • অপূর্ণ অর্থে: কাঁচা ঘুমে জাগিয়ো না। • অদক্ষ অর্থে: ছেলেটার বুদ্ধি কাঁচা। • অপ্রাপ্ত বয়স্ক অর্থে:ছেলেটার কাঁচা বয়েস। • মাটির তৈরি অর্থে: কাঁচা রাস্তায় বর্ষাকালে কাদা হয়। • নতুন করে শুরু করা অর্থে: গুটিটা কাঁচালে কেন? • অল্প জ্ঞান অর্থে: মেয়েটা অঙ্কে কাঁচা। • কালো অর্থে: বৃদ্ধলোকদের চুল কাঁচা থাকে না।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৫৯৪.
'সুপারিশ' কোন শ্রেণির শব্দ?
ক
তৎসম
খ
অর্ধ তৎসম
গ
তদ্ভব
ঘ
বিদেশি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 'সুপারিশ' - বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দ। - এটি ফারসি ভাষার শব্দ।
• 'সুপারিশ' শব্দের অর্থ: - কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা বিষয় প্রভৃতি বিষয় এর অনুকূলে অনুরোধ।
• আরো কিছু ফারসি শব্দ: - আমদানি, জানোয়ার, রোজা, দোকান, নামাজ, চশমা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৫৯৫.
'খাসমহল' কোন প্রকার সমাস?
ক
ক) দ্বন্দ্ব
খ
খ) তৎপুরুষ
গ
গ) কর্মধারয়
ঘ
ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস: বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। ক্ষুধিত-পাষাণ =ক্ষুধিত যে পাষাণ অক্ষয়কীর্তি = অক্ষয় যে কীর্তি অর্ধপথ = অর্ধ যে পথ খাসমহল = খাস যে মহল নবান্ন = নব যে অন্ন
উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াৎ মাহমুদ
১৩,৫৯৬.
‘চোখ দিয়ে পানি পড়ে।’ বাক্যে ‘চোখ’ কোন কারকের উদাহরণ?
ক
অধিকরণ কারক
খ
করণ কারক
গ
অপাদান কারক
ঘ
কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক: যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। - বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।
অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ: - এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। - মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি। - তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। - তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি। - পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। - বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। - লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। - ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে৫মী বিভক্তি।
• প্রশ্নে প্রদত্ত ‘চোখ দিয়ে পানি পড়ে।’ বাক্যকে কি হতে বা কোথা হতে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘চোখ’। সুতরাং ‘চোখ’ অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
ক্রিয়ার পারস্পরিক অর্থে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়। এ সমাসে পূর্বপদে 'আ' এবং পরপদে 'ই' যুক্ত হয়। যেমন: হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি, কানে কানে যে কথা = কানাকানি। এরূপ- চুলাচুলি, কাড়াকাড়ি, গালাগালি, দেখাদেখি, কোলাকুলি, লাঠালাঠি, হাসাহাসি, গুঁতাগুঁতি, ঘুষাঘুষি ইত্যাদি। সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৫৯৮.
এমন কাঁচা কথা বলো না। - বাক্যে ব্যবহৃত ‘কাঁচা’ কী অর্থ প্রকাশ করে?
ক
অপরিপক্ক
খ
অপরিণত
গ
গুরুত্বহীন
ঘ
খাঁটি
ব্যাখ্যা
• এমন কাঁচা কথা বলো না। - এখানে ‘কাঁচা’ শব্দটি গুরুত্বহীন কথা অর্থ বোঝাকে ব্যবহৃত হয়েছে।
অন্যদিকে, • মেয়েটির একেবারেই কাঁচা বয়স। - এখানে ‘কাঁচা’ শব্দটি অপরিণত বয়স বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। • কাঁচা আমগুলো গাছে ঝুলছে।- এখানে ‘কাঁচা’ শব্দটি অপরিপক্ক আম বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। • গহনাটি একেবারেই কাঁচা সোনা দিয়ে তৈরি।- এখানে ‘কাঁচা’ শব্দটি খাঁটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও মোহাম্মদ আমীন (২য় খণ্ড)।
১৩,৫৯৯.
ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে গঠিত শব্দ কোনটি?
ক
গৌণ
খ
সমর্পণ
গ
কল্যাণ
ঘ
স্থাণু
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান: বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
• ণ-ত্ব-বিধানের নিয়ম: ১. ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, ঘৃণা, অরণ্য, বর্ণ, চূর্ণ, পাষাণ, কৃষাণ ইত্যাদি। ২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে সংযুক্ত আকারে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য ‘ণ’ যুক্ত হয়। যেমন-কণ্টক, ঘণ্টান, অকুণ্ঠ, কাণ্ড, খণ্ড ইত্যাদি।
৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি,য় ব হ ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তারপরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প্ + অ + ণ্), লক্ষণ (ক্ + ষ্ + অ + ন্)। এরূপ- তর্পণ, বর্ষণ, সমর্পণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
৪. পরি, প্র, নির-এ তিনটি উপসর্গের পর ণ-ত্ব বিধি অনুসারে ন-ধ্বনি লিখতে মূর্ধন্য ণ হয়। যেমন- পরিণত, পরিবহণ, প্রমাণ, প্রবণ, পরিণয়, প্রণত। ব্যতিক্রম: পরিনির্বাণ, নির্নিমেষ, প্রনষ্ট, পরিবহন বানানও শুদ্ধ।
৫. উত্তর, পর, পার, রবীন্দ্র, চন্দ্র, নার শব্দের পরে ‘অয়ন’/‘আয়ন’ প্রত্যয় হলে দন্ত্য ন পাল্টে মূর্ধন্য ণ হয়। যেমন- উত্তর + অয়ন = উত্তরায়ণ, পর + অয়ন = পরায়ণ, রবীন্দ্র + অয়ন = রবীন্দ্রায়ণ, চন্দ্র + অয়ন = চন্দ্রায়ণ, নর + অয়ন = নারায়ণ ইত্যাদি।
• ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়: • সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না, এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন' হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।
• বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ লেখার প্রয়োজন হয় না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬০০.
কোন ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত?
ক
ক) কথ্য ভাষা
খ
খ) সাধু ভাষা
গ
গ) চলিত ভাষা
ঘ
ঘ) আঞ্চলিক ভাষা
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষা বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ; এর নবীন ও বর্তমানে বহুল প্রচলিত রূপটি হলো চলিত। - সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের এবং চলিত ভাষা সর্বসাধারণের জীবন-ঘনিষ্ঠ। ভাষার এই দ্বিধারিক প্রপঞ্চকে বলা হয় দ্বি-ভাষারীতি। - সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত। এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি। এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির রূপ মৌখিক ভাষার রূপ অপেক্ষা পূর্ণতর। - সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট। - এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
অপরদিকে, - বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে -চলিতরীতি/চলনরীতি। - চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রুপ লাভ করে। - চলিত ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।