বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১৩৫ / ৩৫৪ · ১৩,৪০১১৩,৫০০ / ৩৫,৭১৩

১৩,৪০১.
যত গর্জে তত বর্ষে না। - এ বাক্যে কী ধরনের যোজক ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বৈকল্পিক যোজক
  2. খ) বিরোধমূলক যোজক
  3. গ) কারণবাচক যোজক
  4. ঘ) সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
যে যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয় তাকে সাপেক্ষ যোজক বলে।
সাপেক্ষ যোজক হলো : যথা..তথা, যত...তত, যখন...তখন, যেমন... তেমন, যেরূপ...সেরূপ।
যেমন :
যদি যৌতুকের প্রশ্ন ওঠে তবে বিয়েতে রাজি হব না।
যদি তুমি আস তবে আমি যাব।
যদি তুমি আমাকে ভালোবাস তবে আমিও তোমাকে ভালোবাস।
যখন বৃষ্টি শুরু হবে তখন তুমি বারান্দায় এসো।
যেমন তোমার মেধা তেমন তোমার চেহারা।
যত গর্জে তত বর্ষে না।

উৎস : নবম—দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ।
১৩,৪০২.
'আট কপালে' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. বুদ্ধির পরিপক্বতা
  2. হতবুদ্ধি
  3. হতভাগ্য
  4. অত্যন্ত প্রিয়জন
ব্যাখ্যা
• 'আট কপালে' অর্থ - হতভাগ্য।
বাক্য: আট কপালে মেয়েটার প্রথমে স্বামী, তারপর একমাত্র ছেলেটাও মারা গেল।

অন্যদিকে, 
• 'আক্কেল গুড়ুম' অর্থ - হতবুদ্ধি হওয়া।
• 'আঁধার ঘরের মানিক' অর্থ - অত্যন্ত প্রিয়জন। 
• 'আক্কেল দাঁত' - বুদ্ধির পরিপক্বতা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৪০৩.
নিচের কোনটি ভাব বিশেষ্য এর উদাহরণ?
  1. ক) গোলাপ
  2. খ) বাক্স
  3. গ) ইচ্ছা
  4. ঘ) হাত
ব্যাখ্যা
• ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার দিক থেকে সাধারণ বিশেষ্যকে দুটি উপশ্রেণিতে ভাগ করা যায় : 
 
মূর্ত বিশেষ্য: এমন ব্যাক্তি বা বস্তুর নাম বোঝায় যা দেখা যায়, স্পর্শ করা, ঘ্রান নেওয়া কিংবা পরিমাপ করা যায় । যেমন-  গোলাপ, বাক্স, হাত ইত্যাদি।

ভাব বিশেষ্য: নির্বস্তুক অবস্থা, মনোগত ভাব বা গুনগত বৈশিষ্ট্য ইত্যাদির নাম বোঝায়। যেমন-
আনন্দ, ইচ্ছা, শান্তি, ক্ষমা, পাপ, যুক্তি, রাগ ইত্যাদি।

এ শ্রেণীর বিশেষ্যের সঙ্গে বহুবচন প্রয়োগ খুব স্বাভাবিক নয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খন্ড)।
১৩,৪০৪.
'কর্মে ক্লান্তি নেই যার'- এর এক কথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. ক) কর্মঠ
  2. খ) অক্লান্ত
  3. গ) অক্লান্তকর্মা
  4. ঘ) অক্লান্ত কর্মী
ব্যাখ্যা
'কর্মে ক্লান্তি নেই যার' - অক্লান্ত কর্মী।
অক্লান্তকর্মা - পরিশ্রমে/কর্মে ক্লান্ত নয় এমন।
ক্লান্তিহীনভাবে চলে যা - অক্লান্ত / অবিশ্রাম।
কর্ম সম্পাদনে পরিশ্রমী - কর্মঠ।
কোনো কাজের নয় এমন - অকর্মা।
নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে এমন - কর্মন্য।

তথ্যসূত্র:- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৪০৫.
'সার্বভৌম' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) সার্ব + ভৌম
  2. খ) সর্বভূমি + ষ্ণ
  3. গ) সার্বভৌম + ম
  4. ঘ) ষ্ণ + সর্বভূমি
ব্যাখ্যা
সার্বভৌম শব্দটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
দুটি শব্দের দ্বারা গঠিত সমাসবদ্ধ শব্দের অথবা উপসর্গযুক্ত শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে উপসর্গসহ শব্দের বা শব্দ দুটির মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়।
যথা - পরলোক + ষ্ণিক = পারলৌকিক; সুভগ + ষ্য = সৌভাগ্য; সর্বভূমি + ষ্ণ = সার্বভৌম।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
১৩,৪০৬.
অর্ধচন্দ্র:গলাধাক্কা : : গৌরচন্দ্রিকা: ?
  1. ক) পূর্ণচন্দ্র
  2. খ) ভূমিকা
  3. গ) পলায়ণ
  4. ঘ) পক্ষপাত
ব্যাখ্যা
'অর্ধচন্দ্র' বাগ্‌ধারাটির অর্থ: গলাধাক্কা 
'গৌরচন্দ্রিকা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ: ভূমিকা 
উদাহরণ: এত গৌরচন্দ্রিকা না করে আসল কথায় বলে ফেলো। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৪০৭.
'জয় করার ইচ্ছা' - এর বাক্য সংকোচন কোনটি?
  1. জিজীবিষা
  2. জিতেন্দ্রিয়
  3. জুগুপ্সা
  4. জিগীষা
ব্যাখ্যা

• "জয় করার ইচ্ছা" এর বাক্য সংকোচন- 'জিগীষা'। 

অন্যদিকে,
- নিন্দা করার ইচ্ছা' এর বাক্য সংকোচন - জুগুপ্সা।
- 'ইন্দ্রিয়কে জয় করেন যে' এর বাক্য সংকোচন- 'জিতেন্দ্রিয়'।
- জীবিত থাকার ইচ্ছা এর বাক্য সংকোচন- 'জিজীবিষা'। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৩,৪০৮.
Blank Verse অর্থ-
  1. ক) অনুপ্রাস
  2. খ) অমিত্রাক্ষর
  3. গ) পয়ার
  4. ঘ) মহাকাব্য
ব্যাখ্যা
Blank verse - verse without rhyme, especially that which uses iambic pentameters; অমিত্রাক্ষর ছন্দ।
১৩,৪০৯.
কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. বইগুলো সাজিয়ে রাখো।
  2. তার কপালে ভাত নাই।
  3. অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থসমূহ সরিয়ে রাখো।
  4. এমন ভুল আমি করিনা।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: এমন ভুল আমি করিনা।
শুদ্ধ বাক্য: এমন ভুল আমি করি না।

⇒ না, নেই, নয়:
না, নাই, নয় এই নেতিবাচক শব্দ সবসময় পৃথক শব্দ হিসেবে বসবে। কখনো কোনো শব্দের সঙ্গে জুড়ে যাবে না। যেমন- করিনা, যাইনা, যেওনা, লেখেনা ইত্যাদি না হয়ে, হবে- করি না, যাই না, যেও না, লেখে না ইত্যাদি।

কিছু উদাহরণ হলো:
- তার কপালে ভাত নাই।
- আমাকে একা রেখে যেও না।

অন্যদিকে,
⇒ টি, টা, খানা, খানি, গুলি, গুলো, রা, এরা, গণ, বৃন্দ, সমূহ:
• টি, -টা, -খানা, -খানি, -গুলি, -গুলো, -রা, - এরা, গণ, -বৃন্দ, -সমূহ এইগুলো কখনোই আলাদা বসবে না।
আবার একবচন শব্দের সঙ্গে -টি, টা, খানা, খানি, -কিংবা, -গুলি, -গুলো, -রা, -এরা, -গণ, সমূহ যোগ করে যখন বহুবচন করা হবে তখনও শব্দগুলো আলাদা বসবে না।
• আমরা ভুল করে লিখি- বই গুলো, চিঠি গুলো, গ্রন্থ সমূহ ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে এগুলো সবই জোড়া লাগবে; তাই লিখতে হবে বইগুলো, চিঠিগুলো, গ্রন্থসমূহ। কিন্তু সমূহ আনন্দ, সমূহ বিপদ, সমূহ ক্ষতি, সমূহ সর্বনাশ এসব ক্ষেত্রে আলাদা হবে।

কিছু উদাহরণ হলো:
- বইগুলো সাজিয়ে রাখো।
- অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থসমূহ সরিয়ে রাখো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৪১০.
'আমার যাওয়া হয়নি।' - বাক্যে 'আমার' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. কর্তায় তৃতীয়া
  3. কর্তায় ষষ্ঠী
  4. কর্তায় দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
 
কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে।
 
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
 
তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
 
ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
 
সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৪১১.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. উল্লিখিত
  2. স্বীকারোক্তি
  3. দুরাবস্থা
  4. তদনুসারে
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: দুরাবস্থা।

• শুদ্ধ বানান: দুরবস্থা,
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- দুর্দশা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৪১২.
'উপক্ষয়' শব্দটিতে 'উপ' উপসর্গ কোন অর্থে ব্যবহার হয়েছে?
  1. কষ্টসাধ্য অর্থে
  2. অতিশয় অর্থে
  3. উপরে অর্থে
  4. অপকর্ষ অর্থে
ব্যাখ্যা

• উপক্ষয়[উপ+ক্ষয়]:
- অর্থ: ক্ষতি, অপচয়, হানি।
• 'উপ' উপসর্গ 'অপকর্ষ' বা 'অবনতি'  অর্থে ব্যবহার হয়েছে।

অপকর্ষ অর্থ:
১) হীনতা, নিকৃষ্টতা।
২) পতন, অবনতি।

- ’উপ’ একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

’উপ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’সামীপ্য "অর্থে- উপকূল, উপকণ্ঠ ।
• ’সদৃশ’ অর্থে- উপদ্বীপ, উপবন।
• ’ক্ষুদ্র’  অর্থে-  উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা
• ’বিশেষ’ অর্থে- উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ।

১৩,৪১৩.
সংস্কৃত ধাতু নয় কোনটি?
  1. অঙ্ক
  2. দৃশ্
  3. কাদ্
  4. পঠ্‌
ব্যাখ্যা
• মৌলিক ধাতু: 
যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন- কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু: 
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু: 
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৪১৪.
কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ বিষয়ক গ্রন্থ?
  1. ব্যাকরণ মঞ্জুরী
  2. ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  3. বাংলা ভাষার ব্যাকরণ
  4. ব্যাকরণ কৌমুদী
ব্যাখ্যা
'ব্যাকরণ কৌমুদী':
- 'ব্যাকরণ কৌমুদী' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ। তিনি মোট চারটি খণ্ডে গ্রন্থটি রচনা করেন।
- প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৩ সালে, তৃতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৪ সালে এবং চতুর্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৬২ সালে।
- ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’ গ্রন্থটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিখ্যাত বৈয়াকরণিক পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকে অনুবাদ করেন।

অন্যদিকে,
- ড. মুহম্মদ এনামুল হক রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ - ব্যাকরণ মঞ্জুরী।
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ - ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
- মুনীর চৌধুরী রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ - বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪১৫.
নিচের কোন বানান শুদ্ধ নয়-
  1. কর্ণেল
  2. চক্ষুষ্মান
  3. খ্রিষ্টাব্দ
  4. বিপণী
ব্যাখ্যা
• কর্নেল ফরাসি ভাষার শব্দ।

বানানরীতি অনুযায়ী বিদেশি/ অতৎসম শব্দে সবসময়ই দন্ত্য-ন হয়।
তাই 'কর্ণেল' বানানটি অশুদ্ধ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৪১৬.
'আজি > আইজ' - এখানে কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. স্বরসঙ্গতি
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  3. অন্তর্হতি
  4. অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জধব্বনির আগে ই -কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
- চারি > চাইর,
- আজি > আইজ,
- সত্য > সইত্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৪১৭.
'সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. অনুজ্ঞা বর্তমান
  2. সাধারণ বর্তমান
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়ার কাল:
ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে। ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার:
- বর্তমান কাল,
- অতীত কাল,
- ভবিষ্যৎ কাল।

• বর্তমান কাল: বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে।

• বর্তমান কাল চার প্রকার:
- সাধারণ বর্তমান,
- ঘটমান বর্তমান,
- পুরাঘটিত বর্তমান এবং
- অনুজ্ঞা বর্তমান।

• সাধারণ বর্তমান:
যে ক্রিয়া বর্তমান কালে নিয়মিতভাবে ঘটে, তাকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন-
- আমি স্কুলে যাই।
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।

• ঘটমান বর্তমান:
যে ক্রিয়া বর্তমানে চলছে বোঝায়, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।
যেমন-
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

• পুরাঘটিত বর্তমান:
এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন-
- আমি অঙ্কটি করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।

১৩,৪১৮.
'তবু' কোন ধরনের যোজকের উদাহরণ?
  1. বিরোধ যোজক
  2. বিকল্প যোজক
  3. কারণ যোজক
  4. সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
বিরোধ যোজক: 
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। 
যেমন-
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

অন্যদিকে,
কারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন-
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন –
- রহিম করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন -
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৪১৯.
‘ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।’ বাক্যে ‘দ্রুত’ কোন পদ?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া বিশেষণ: 
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।
- তিনি বেড়াতে যাননি।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?
- খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৪২০.
‘উত্তমর্ণ' কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) স্বরসন্ধি
  2. খ) নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি
  3. গ) ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. ঘ) বিসর্গসন্ধি
ব্যাখ্যা
উত্তম + ঋণ= উত্তমর্ণ – স্বরসন্ধি। অ / আ কার এর পর ঋ কার থাকলে উভয় মিলে অর হয় এবং তা রেফ রূপে পরবর্তী বর্ণের লেখা হয়। যেমনঃ অধম+ ঋণ= অধমর্ণ, দেব+ঋষি= দেবর্ষি, সপ্ত+ঋষি= সপ্তর্ষি, মহা+ঋষি=মহর্ষি ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম- দশম শ্রেণির র্বোড বই।
১৩,৪২১.
উচ্চারণের প্রকৃতি অনুযায়ী উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি কোন ভাগে বিভক্ত নয়?
  1. ক) তালব্য
  2. খ) দন্তমূলীয়
  3. গ) ওষ্ঠমূলীয়
  4. ঘ) কণ্ঠনালীয়
ব্যাখ্যা
⇒ উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।
- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) – এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম দ(২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৪২২.
বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অনাসৃষ্টি 
  2. অভিব্যক্তি
  3. অত্যাচার
  4. পরাকাষ্ঠা
ব্যাখ্যা

’অনাসৃষ্টি’ শব্দটি বাংলা উপসর্গ ’অনা’ যোগে গঠিত।

অন্যদিকে,
’অভিব্যক্তি, অত্যাচার, পরাকাষ্ঠ, ’ শব্দগুলো (অভি, অতি, পরা) তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২৫ সালের সংস্করণ)।

১৩,৪২৩.
'অহর্নিশ' কোন সন্ধির দৃষ্টান্ত?
  1. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  2. বিসর্গ সন্ধি
  3. ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. স্বরসন্ধি
ব্যাখ্যা
• 'অহর্নিশ' বিসর্গ সন্ধির দৃষ্টান্ত।

বিসর্গ সন্ধি:
সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে পদের অন্তস্থিত র্‌ ও স্‌ অনেক ক্ষেত্রে অঘোষ উষ্মধ্বনি অর্থাৎ হ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় এবং তা বিসর্গ (ঃ) রূপে লেখা হয়।
- র্‌ ও স্‌ বিসর্গ ব্যঞ্জনধ্বনিমালার অন্তর্গত। সে কারণে বিসর্গ সন্ধি ব্যঞ্জনসন্ধির অন্তর্গত।
- বস্তুত বিসর্গ র্‌ এবং স্‌ এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- বিসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. র্‌ - জাত বিসর্গ ও 
২. স্‌ - জাত বিসর্গ।
বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্‌ ও স্‌ - এর সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ:
- বাচঃ + পতি = বাচস্পতি,
- ভাঃ + কর = ভাস্কর,
- অহঃ + নিশা= অহর্নিশ,
- অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৪২৪.
বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম-
  1. আসত্তি
  2. যোগ্যতা
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল - যোগ্যতা

• আদর্শ বাক্যের জন্যে তিনটি গুণ থাকা থাকা জরুরি।

আকাঙক্ষা:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙক্ষা বলে।
- ছেলেরা খেলে
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া
- উপরের দু'টি বাক্যই অসম্পূর্ন অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যগুলো এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- ছেলেরা ফুটবল খেলে।
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

আসত্তি:
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হল-আসত্তি।
- 'নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া'।
- উপরের বাক্যে পদ সন্নিবেশ ঠিকঠাক না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। বাক্যটি এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। এখন বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

যোগ্যতা:
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
- 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে'।
- উপরের বাক্যটি ভাব প্রকাশে যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না। তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি-'বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে'।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৪২৫.
“মানুষ চাইলেই সব কিছু পায় না, এটাই সত্য”। এই বাক্যে ’সত্য’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষণ
  2. খ) ক্রিয়া বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
- সত্য শব্দটি এই বাক্যের বিষয়, তাই এটি বিশেষ্য।
- কিন্তু যদি বলা হয় ‘সত্য পথে থেকে সত্য কথা বলবে’ তবে সত্য শব্দটা বিশেষণ হত।
- কারণ, সত্য শব্দটা পথ ও কথা শব্দকে বিশেষিত করেছে।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই।
১৩,৪২৬.
কোনটি ইংরেজি শব্দ?
  1. ম্যাগাজিন
  2. ম্যাজেন্টা
  3. ম্যাজম্যাজ
  4. ম্যাজিক
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
ইংরেজি ভাষার শব্দ: ম্যাজিক ।

অন্যদিকে,
- ম্যাজম্যাজ দেশি শব্দ।
অর্থ- শারীরিক অস্বস্তি বা আলস্যের ভাব।
• ফারসি ভাষার শব্দ: ম্যাগাজিন ।
• ইতালী ভাষার শব্দ- ম্যাজেন্টা’ 

উৎস:  বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৪২৭.
ক্রিয়ার কাল ও পদপরিচয় ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. রূপতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব:
- ব্যাকরণে শব্দ বা পদের আলোচনাকে বলে রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব।
• রূপতত্ত্ব  এর আলোচ্য বিষয়:
- শব্দগঠন,
- প্রত্যয়,
- উপসর্গ,
- পদপরিচয়,
- ক্রিয়া,
- লিঙ্গ,
- পুরুষ,
- বচন,
- শব্দ ও ধাতুরূপ,
- সমাস

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৪২৮.
'পৃথিবী' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ভুবন
  2. ধরা
  3. মর্ত্য
  4. নীর
ব্যাখ্যা
'পৃথিবী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
জগৎ, ভুবন, সংসার, বিশ্ব, ধরা, ধরণী, ধরিত্রী, বসুমতী, বসুন্ধরা, পৃথ্বী, দুনিয়া, ভূ, ভূমণ্ডল, মর্ত্য, বসুধা, অবনী, মহী, মেদিনী, ক্ষিতি।

অন্যদিকে, 
• ‘নীর’ শব্দের অর্থ: পানি।

• 'পানি'-এর সমার্থক শব্দ:
জল, নীর, উদক, সলিল, পানি, অপ, প্রানদ, তোয়, জীবন ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৪২৯.
পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির ব্যবহার রয়েছে কোন শব্দে?
  1. হাঙর
  2. মূঢ়
  3. লাল
  4. ঘাস
ব্যাখ্যা
• পার্শ্বিক ব্যঞ্জন:
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে। লাল শব্দে 'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• নাসিক্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে। মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

• উম্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলোকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে। সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ। উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলোকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) - এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলোর মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শ্বাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতো আওয়াজ হয়। যেমন: ঘাস, শসা ইত্যাদি।

• তাড়িত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূ্র্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
যেমন: 'বাড়ি, মূঢ়' প্রভৃতি শব্দের 'ড়, ঢ়' তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৪৩০.
অর্থগত দিক থেকে 'চিকন' কোন প্রকার শব্দ?
  1. ক) যৌগিক শব্দ
  2. খ) মৌলিক শব্দ
  3. গ) রূঢ়ি শব্দ
  4. ঘ) যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
অর্থগত দিক থেকে শব্দ তিন প্রকার‌।
যথা-
- যৌগিক শব্দ,
- রূঢ়ি বা রূঢ় শব্দ ও
- যোগরূঢ় শব্দ।

রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ।

উদাহরণ-
- সন্দেশ - সংবাদ (মূল অর্থ) - মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ)।
- চিকন - চকচকে (মূল অর্থ) - সরু (পরিবর্তিত অর্থ)।
- জ্যাঠামি - জেঠার ভাব (মূল অর্থ) - চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ)।
- প্রবীণ - প্রকৃষ্ট বীণাবাদক (মূল অর্থ) - বয়স্ক ব্যক্তি (পরিবর্তিত অর্থ)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৪৩১.
'জয় করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ-
  1. জিজীবিষা
  2. জিগমিষা
  3. জিগীষা
  4. বিজিগীষা
ব্যাখ্যা

• 'জয় করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জিগীষা।

অন্যদিকে,
- 'গমন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জিগমিষা।
- 'বিজয় লাভের ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বিজিগীষা।
- ‘বাঁচতে ইচ্ছা’ এর এক কথায় প্রকাশ - জিজীবিষা।

• এরূপ আরও কিছু এক কথায় প্রকাশ-
- 'হনন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জিঘাংসা।
- 'নিন্দা করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জুগুপ্সা ।
- 'ভোজন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বুভুক্ষা।
- 'লাভ করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - লিপ্সা।
- 'দেখবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - দিদৃক্ষা।
- 'বলবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বিবক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,৪৩২.
এ জিনিস বেশিদিন টেকে না - এ বাক্যটি কোন বাচ্য?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
• কর্মকর্তৃবাচ্য:
এছাড়াও বাংলায় আরো এক ধরনের প্রকাশভঙ্গির বাক্য দেখা যায়। এ ধরনের বাক্যের বাচ্যকে বলা হয় কর্মকর্তৃবাচ্য।
- এ ধরনের বাক্যে কর্তাপদ উহ্য থাকে, তবে কর্মপদ থাকে। আর ওই কর্মপদই কর্তার কাজ করে।
- অর্থাৎ, যে বাক্যে কর্তা থাকে না, কর্মই কর্তার কাজ করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভাল দেখায় না।
[এখানে কর্তা নেই। এখানে কর্ম হল ‘কাজ’। কিন্তু ‘কাজ’ নিজেই কর্তার মত বাক্যকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।]

- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

• এরূপ, এ জিনিস বেশিদিন টেকে না।- বাক্যটিও  কর্মকর্তৃবাচ্যের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৪৩৩.
স্বভাবতই 'ষ' হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. কৃষক
  2. স্পষ্ট
  3. পৌষ
  4. বর্ষা
ব্যাখ্যা

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
 যথা-
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
------------------
• ঋ’এবং ঋ কারের পর ‘ষ’ হয়। যথা- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়। যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

• তৎসম শব্দে ‘র'-এর পর 'ষ' হয়। যথা- বর্ষা, ঘর্ষণ, বৰ্ষণ, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৩,৪৩৪.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) মাছেরা আকাশে ওড়ে
  2. খ) যদিও সে দরিদ্র, সে চরিত্রবান
  3. গ) যেহেতু সে পড়া শেষ করল, সে ঘুমাতে গেলো
  4. ঘ) আমি বহু কষ্টে পাশ করেছি
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্যসমূহ-
পাখিরা আকাশে ওড়ে।
যদিও সে দরিদ্র, তথাপি সে চরিত্রবান।
যেহেতু সে পড়া শেষ করল, তাই সে ঘুমাতে গেলো।
আমি বহু কষ্টে পাশ করেছি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,৪৩৫.
সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য কোন কোন পদে বেশি?
  1. ক্রিয়া ও সর্বনাম
  2. বিশেষ্য ও বিশেষণ
  3. বিশেষ্য ও ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া ও বিশেষণ
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষা/রীতি:
- দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে।
- সাধু রীতিতে ক্রিয়াপদ দীর্ঘতর হয়ে থাকে।
- সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। সুতরাং, এই দুটি পদের ভিন্নতার জন্যই সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।
- সাধু রীতির বহু সর্বনামে 'হ'-বর্ণ যুক্ত থাকে, যেমন- তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
১৩,৪৩৬.
'ঈ' প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) একাদশী
  2. খ) বাঘিনী
  3. গ) ননদিনী
  4. ঘ) অরণ্যানী
ব্যাখ্যা
'-ঈ' প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ- 
একাদশ - একাদশী
মানব - মানবী
কপোত - কপোতী 
নেতা - নেত্রী 
তাপস - তাপসী ইত্যাদি 

'-আনী' প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ-
অরণ্য - অরণ্যানী 
চাকর - চাকরাণী 
মেথর - মেথরাণী 
শূদ্র - শূদ্রাণী ইত্যাদি 

'-ইনী'প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ-
বাঘ - বাঘিনী
গোয়ালা - গোয়ালিনী
মালী - মালিনী 
পাগল - পাগলিনী ইত্যাদি 

'-নী' প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ-
ননদাই - ননদিনী 
ধোপা - ধোপানী 
নাতি - নাতনী 
জেলে - জেলেনী ইত্যাদি 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৪৩৭.
‘দুষ্কৃতি’ -এর বিপরীতার্থক শব্দ কি?
  1. সৎ
  2. ধার্মিক
  3. সদয়
  4. সুকৃতি
ব্যাখ্যা
• 'দুষ্কৃতি' - এর বিপরীত শব্দ = সুকৃতি

অন্যদিকে,
• 'ধার্মিক' - এর বিপরীত শব্দ = অধার্মিক, পাপিষ্ঠ।
• 'সদয়' - এর বিপরীত শব্দ = নির্দয়।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ:
• তাপ - শৈত্য / নিস্তাপ।
• তিমির - আলোক।
• দৃঢ় - শিথিল।
• দ্যুলোক - ভূলোক।

অভিসম্বন্ধ: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৪৩৮.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অকষ্মাৎ
  2. অকষ্মৎ
  3. আকস্মাৎ
  4. অকস্মাৎ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: অকস্মাৎ। 
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 

অব্যয় পদ, অর্থ- হঠাৎ; সহসা। 
ক্রিয়া পদ, অর্থ- অজানিতভাবে। 
বিশেষণ পদ, অর্থ- কোন কারণ ব্যতীত।  
বিশেষ্য পদ, অর্থ- আকস্মিক প্রাপ্তি বা ঘটনা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৪৩৯.
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. খোশমেজাজ
  2. কথাসর্বস্ব
  3. দোমনা
  4. হৃতসর্বস্ব
ব্যাখ্যা

• ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস: 
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়। 
যেমন:
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ।

অন্যদিকে,
- 'হৃতসর্বস্ব' ও খোশমেজাজ সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
- 'দোমনা' প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

১৩,৪৪০.
নিচের কোনটি অনুবর্ণ নয়?
  1. ফলা
  2. কার
  3. রেফ
  4. বর্ণসংক্ষেপ
ব্যাখ্যা

- 'কার' অনুবর্ণ নয়।

অনুবর্ণ:
- অনুবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম।

• অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে-
- ফলা,
- রেফ, ও
- বর্ণসংক্ষেপ।

অন্যদিকে,
- স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কারবর্ণ বলে।
- স্বরবর্ণের মোট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৬ সংস্করণ)।

১৩,৪৪১.
’রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো’ এই বাক্যে ’বাংলা’ কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপদান কারক
  4. কর্মকারক
ব্যাখ্যা
’রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো’ এই বাক্যে ’বাংলা’ অধিকরণ কারক।

• অধিকরণ কারক:

- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ।
১৩,৪৪২.
বাংলা বর্ণমালায় অন্তঃস্থ বর্ণ কয়টি?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৫ টি
ব্যাখ্যা

বাংলা বর্ণমালায় অন্তঃস্থ বর্ণ চারটি।
য, র, ল, ব – হলাে অন্তঃস্থ বর্ণ। এ সব বর্ণ বাংলা ব্যঞ্জন বর্ণমালা তালিকায় স্পর্শ ও উষ্মবর্ণের মধ্যে স্থান পেয়েছে বলে এদের অন্তঃস্থ বর্ণ বলে।
অন্তঃস্থ 'ব' ধ্বনি উচ্চারিত হয় না।
যেমনঃ বিশ্ব, অশ্ব, চত্বর, ধ্বনি ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,৪৪৩.
'ক্ষুন্নিবৃত্তি' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক্ষুৎ + নিবৃত্তি
  2. ক্ষুধ্‌  + নিবৃত্তি
  3. ক্ষুদ্‌ + নিবৃত্তি
  4. ক্ষুন্‌ + নিবৃত্তি
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম:
আগে ৎ বা দ্‌ এবং পরে ন/ম্ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে ন্‌ হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়। কিন্তু, ৎ/দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ/দ্ সন্ধিতে ল্ হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে ল্ল হয়।

যেমন:
• উৎ + নতি = উন্নতি। 
• জগৎ + নাথ = জগন্নাথ।
• তদ্‌ + নিমিত্ত = তন্নিমিত্ত। 
• তদ্‌ + নিষ্ঠ= তন্নিষ্ঠ।
• ক্ষুধ্‌  + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি।
• মৃৎ + ময় = মৃন্ময়। 
• তদ্‌ + লিখিত = তল্লিখিত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৪৪৪.
'যাহা' শব্দটির চলিত রূপ কোনটি?
  1. যাহারা
  2. যা
  3. যারা
  4. যাকে
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষা ও চলিত ভাষায় সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:
→ তাহারা-তারা, 
→ ইহারা-এরা, 
→ যাহা-যা, 
→ যাহারা-যারা, 
→ যাহাকে-যাকে ইত্যাদি।

সাধু ও চলিত রীতি:

- সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পার্থক্য বাংলাদেশের মানুষ তাদের মনের ভাব প্রকাশের জন্য যে ভাষা ব্যবহার করে, তার নাম বাংলা ভাষা বাংলাদেশের বাইরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ড, বিহার, উড়িষ্যা, ত্রিপুরা, আসামের করিমগঞ্জ ও কাছাড়ের অধিবাসীদের একটি অংশের মাতৃভাষা বাংলা। বস্তুত, দেশ-জাতি-ধর্মনির্বিশেষে বাঙালি জনসমাজে ব্যবহৃত শব্দ নিয়ে বাংলা ভাষা গঠিত। বাংলা ভাষা প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরনো। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের ফলে বাংলা ভাষায় বিভিন্ন রূপের সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, পৃথিবীর সব ভাষাতেই দুটো রূপ দেখা যায়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৩,৪৪৫.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ দোষে দুষ্ট নয়?
  1. গ্রাহ্য
  2. পরিত্যজ্য
  3. সাধ্যায়ত্ত
  4. স্বাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
• অপপ্রয়োগ-দোষে দুষ্ট নয় হচ্ছে - গ্রাহ্য।

অন্যদিকে:
- 'পরিত্যজ্য' শুদ্ধ রূপ হচ্ছে - পরিত্যাজ্য।
- 'সাধ্যায়ত্ত' শুদ্ধ রূপ হচ্ছে - সাধ্য।
- 'স্বাতন্ত্র' শুদ্ধ রূপ হচ্ছে - স্বাতন্ত্র্য। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৪৪৬.
'অজপাড়াগাঁ' শব্দে 'অজ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিক্ষিপ্ত
  2. সম্পূর্ণ
  3. নিতান্ত
  4. অস্পষ্ট
ব্যাখ্যা
• 'অজপাড়াগাঁ' শব্দে 'অজ' উপসর্গটি 'নিতান্ত' বা মন্দ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• 'অজ' উপসর্গটি 'নিতান্ত' (মন্দ) অর্থে ব্যবহৃত কিছু শব্দ:
যেমন-
অজপুকুর, অজমূর্খ, ইত্যাদি।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৪৪৭.
'স্তাবক' - এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. অস্তাবর
  2. নির্লিপ্ত
  3. নিকৃষ্ট
  4. নিন্দুক
ব্যাখ্যা

• 'স্তাবক' এর বিপরীতার্থক শব্দ - নিন্দুক।

উল্লেখ্য,
- 'স্তাবক' শব্দের অর্থ - চাটুকার।

অন্যদিকে,
- 'প্রকৃষ্ট' এর বিপরীত শব্দ - নিকৃষ্ট।
- 'মত্ত' শব্দের বিপরীত শব্দ - নির্লিপ্ত।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ হলো:
- মত্ত = নির্লিপ্ত।
- মৃত = জীবিত।
- সাকার = নিরাকার।
- বিষাদ = প্রসাদ।
- তোয়াজ = তাচ্ছিল্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩,৪৪৮.
'কত ধানে কত চাল' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. হিসাব করে চলা
  2. মনোযোগী হওয়া
  3. নগদ উপার্জন
  4. দীর্ঘসূত্রতা
ব্যাখ্যা

• 'কত ধানে কত চাল' বাগ্‌ধারার অর্থ - হিসাব করে চলা। 
বাক্য: নিজেকে তো আর উপার্জন করতে হয় না, কত ধানে কত চাল হয় বুঝবে কেমন করে।

অন্যদিকে, 
• 'কাঁচা পয়সা' অর্থ - নগদ উপার্জন। 
• 'কান খাড়া করা' অর্থ- মনোযোগী হওয়া। 
• 'আঠার মাসে বছর' অর্থ- দীর্ঘসূত্রতা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১৩,৪৪৯.
পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চারণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনি হিসেবে উচ্চারিত হলে তাকে কী বলে?
  1. মৌলিক স্বরধ্বনি
  2. মূলধ্বনি
  3. যৌগিক স্বরধ্বনি
  4. সমধ্বনি
ব্যাখ্যা
• যৌগিক স্বরধ্বনি:
- পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চারণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনি রূপে উচ্চারিত হয়।
- এরূপে একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর বলে।
- বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ২৫টি। 
 যেমন:
- অ + ই = অই (বই)
- অ+ উ = অউ (বউ)
- অ + এ = অয় (বয়, ময়না) 

- বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক দুটি বর্ণ রয়েছে - ঐ এবং ঔ।
- অন্য যৌগিক স্বরগুলোর চিহ্নস্বরূপ কোনো বর্ণ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০১৯)।
১৩,৪৫০.
পূর্ব পদে উপসর্গ বসে যে সমাস হয়, তাকে বলে-
  1. অলুক সমাস
  2. রূপক সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা
প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎপ্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে প্রাদি সমাস বলে।
যেমন:
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ,
- অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৩,৪৫১.
'গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা।' বাক্যে 'গগনে' কোন কারক?
  1. অপাদান
  2. করণ
  3. অধিকরণ
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই অধিকরণ কারক।
যথা :
- আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই।
- কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

এরূপ- 
- গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা।  
[বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কোথায়?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় গগনে। সুতরাং 'গগনে' অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।।
১৩,৪৫২.
'কুঁড়ি' শব্দের অর্থ কী?
  1. কুল
  2. কায়া
  3. কোরক
  4. কর
ব্যাখ্যা
• 'কুঁড়ি' শব্দের অর্থ:
- কোরক, মুকুল, কলিকা।

অন্যদিকে,
'কুল' শব্দের অর্থ:
- গোত্র, গোষ্ঠী, কৌলীন্য।

'কিরণ' শব্দের অর্থ:
- কর, প্রভা, দীপ্তি, জ্যোতি।

'দেহ' শব্দের অর্থ:
- কায়া, কলেবর, গা, গাত্র, তনু শরীর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৪৫৩.
'যজ্ঞ' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. যাচ্‌ + ঞ
  2. যজ্‌ + ন
  3. যচ্‌ + ন
  4. যচ্‌ + ণ
ব্যাখ্যা

 • 'যজ্ঞ' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - যজ্‌ + ন।

• সন্ধির নিয়ম:
- ব্যঞ্জসন্ধিতে চ্‌ ও জ্‌ এর পর নাসিক্য ধ্বনি তালব্য হয়। 
যেমন:
- যাচ্‌ + না = যাচ্ঞা, 
- রাজ্‌ + নী = রাজ্ঞী, 
- যজ্‌ + ন = যজ্ঞ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৩,৪৫৪.
‘Imperialism’ শব্দের সঠিক পারিভাষিক শব্দ কি?
  1. ক) সামন্তবাদ
  2. খ) ফ্যাসিবাদ
  3. গ) সাম্রাজ্যবাদ
  4. ঘ) সাম্যবাদ
ব্যাখ্যা

Imperialism - সাম্রাজ্যবাদ
Feudalism - সামন্তবাদ
Fascism - ফ্যাসিবাদ
Communism - সাম্যবাদ

উৎসঃ অক্সফোর্ড ডিকশনারি এবং বাংলা একাডেমী অভিধান।

১৩,৪৫৫.
প্রশ্ন 11-13: সন্ধি বিচ্ছেদ করুন:
ঢিলেমি
  1. ঢিলে + আমি
  2. ঢিলা + আমি
  3. ঢিলে + মি
  4. ঢিলা + মি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘ঢিলেমি’ শব্দটি বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় ‘আমি’ যোগে গঠিত। এটি সন্ধি সাধিত শব্দ নয়।
- ঢিলে + আমি = ঢিলেমি।

বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়: আমি / আম / আমো / মি-প্রত্যয়:
• ইতর + আমি = ইতরামি,
• পাগল + আমি = পাগলামি,
• চোর + আমি = চোরামি,
• বাঁদর + আমি = বাঁদরামি,
• ফাজিল + আমো = ফাজলামো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৪৫৬.
‘উদ্বেল’ কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. অব্যয়ীভাব
  3. নিত্য সমাস
  4. বহুব্রীহি
  5. কোনোটিই
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত =  উচ্ছৃঙ্খল।
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে:  রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,৪৫৭.
"প্রত্যন্ত" - শব্দটির সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. প্রোত্‌তোন্‌ত
  2. প্রোত্‌তোন্‌তো
  3. প্রত্‌তোন্‌তো
  4. প্রোত্‌তোতো
ব্যাখ্যা

• "প্রত্যন্ত" শব্দটির সঠিক উচ্চারণ - প্রোত্‌তোন্‌তো
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- প্রান্তবর্তী (প্রত্যন্ত অঞ্চল); সীমান্তের নিকটবর্তী।
- প্রান্তদেশ,সীমান্তবর্তী অঞ্চল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩,৪৫৮.
'সাগর' - কোন প্রকার বিশেষ্য?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. গুণ-বিশেষ্য
  3. জাতি-বিশেষ্য
  4. বস্তু-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৩,৪৫৯.
‘বিস্তারপ্রধান’ নামে অভিহিত করা হয় কোন ছন্দকে?
  1. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
ব্যাখ্যা
• ছন্দ:
কাব্যের গতিসৌন্দর্য বিধায়ক একটি স্বতঃস্ফূর্ত নির্মাণকৌশল। হাজার বছর ধরে বিচিত্র আবেগ, অনুভূতি ও বিষয়ভাবনা দ্বারা পরিপুষ্ট বাংলা কাব্যের গতিময় নান্দনিক সৌন্দর্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কবিরা বহুবিধ ছন্দের নির্মাণ ও বিকাশ সাধন করেছেন।
 
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যে ব্যবহৃত অন্যতম প্রাচীন ছন্দ।
• অক্ষরবৃত্তের প্রভাব থেকে রবীন্দ্রনাথ একে মুক্ত করে এতে এক নতুন রীতি প্রবর্তন করেন, যে কারণে মাত্রাবৃত্তকে কেউ কেউ রবীন্দ্রনাথেরই সৃষ্টি বলে মনে করেন।
• এ ছন্দ চর্যাপদে  প্রথম লক্ষিত হয়। মূলত মাত্রাবৃত্ত একটি সর্বভারতীয় ছন্দ এবং সংস্কৃত ও প্রাকৃতের সময় থেকেই এটি ভারতবর্ষে প্রচলিত।
• বাংলা ভাষায় এটি প্রবেশ করেছে  প্রাকৃত ও  অপভ্রংশ কবিতা এবং সংস্কৃত কাব্য  গীতগোবিন্দম্-এর মাধ্যমে। রবীন্দ্রনাথও স্বীকার করেছেন যে, এ ছন্দের সৃষ্টি হয়েছে সংস্কৃত ছন্দকে বাংলায় ভেঙে নিয়ে।
 
• অন্যান্য বাংলা ছন্দের তুলনায় মাত্রাবৃত্ত একটি দুর্বল ছন্দ; কেননা পর্বদৈর্ঘ্য অনুযায়ী চার, পাঁচ, ছয় বা সাত মাত্রার এ ছন্দে স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল উচ্চারণভঙ্গি ফুটে ওঠে এবং এতে শক্তি বা সুরের স্বাভাবিক প্রকাশ না হয়ে কেবল মাত্রারই প্রাধান্য প্রতিফলিত হয়। এজন্যই এ ছন্দকে মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বলা হয়।
• বাংলা সাহিত্যে এ ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান, বিস্তারপ্রধান, সরল কলামাত্রিক ইত্যাদি নামেও অভিহিত করা হয়।
• চর্যাপদে মাত্রাবৃত্ত ছন্দের প্রথম প্রকাশ পরিলক্ষিত হলেও সেখানে তা একেবারেই সাধারণ ও প্রাথমিক পর্যায়ের। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩,৪৬০.
'পরা' সংস্কৃত উপসর্গটি বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. পরাজয়
  2. পরাকাষ্ঠা
  3. পরাক্রান্ত
  4. পরায়ণ
ব্যাখ্যা
• 'পরা' উপসর্গযোগে আতিশয্য অর্থে- পরাকাষ্ঠা, পরাক্রান্ত, পরায়ণ। 
• 'পরা' উপসর্গযোগে বিপরীত অর্থে- পরাজয়, পরাভব। 

----------------
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)
১৩,৪৬১.
‘ঊনআশি’ শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) বাংলা
  3. গ) বিদেশি
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
• ‘ঊনআশি’ শব্দটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘ঊন’ যোগে গঠিত।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
- খাটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৩,৪৬২.
নিচের কোনটি ধ্বনি পরিবর্তন 'ব্যঞ্জন বিকৃতি' এর উদাহরণ নয়?
  1. ক) কবাট > কপাট
  2. খ) ফাল্গুন > ফাগুন
  3. গ) ধোবা > ধোপা
  4. ঘ) ধাইমা > দাইমা
ব্যাখ্যা
ধ্বনি পরিবর্তন 'ব্যঞ্জন বিকৃতি' এর উদাহরণ- কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা, ধাইমা > দাইমা। 

ব্যঞ্জন বিকৃতি: 
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।

অন্তর্হতি:  
পদের মধ্যে ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমনঃ ফাল্গুন > ফাগুন, আলাহিদা > আলাদা।


উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৪৬৩.
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর। এখানে 'টাপুর টুপুর' কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) ক্রিয়া
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা

অব্যয় পদের দ্বিরুক্তিঃ
১. ভাবের গভীরতা বোঝাতে : সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে : বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
৩. অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে : ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
৪. বিশেষণ বোঝাতে : পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
৫. ধ্বনিব্যঞ্জনা : ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

১৩,৪৬৪.
'প্রায়' অর্থে কোন উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) নালায়েক
  2. খ) নিমখুন
  3. গ) উপগ্রহ
  4. ঘ) আকন্ঠ
ব্যাখ্যা
- 'অপূর্ণ' অর্থে 'না' উপসর্গের ব্যবহার: নালায়েক, নাখোশ।
- 'প্রায়' অর্থে 'নিম' উপসর্গের ব্যবহার: নিমখুন, নিমরাজি।
- 'ক্ষুদ্র' অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার: উপগ্রহ, উপনেতা।
- 'পর্যন্ত' অর্থে 'আ' উপসর্গের ব্যবহার: আকন্ঠ, আসমুদ্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৪৬৫.
বাংলা উপসর্গ নয় কোনটি?
  1. ঊন
  2. আব
  3. ইতি
  4. উৎ
ব্যাখ্যা

• বাংলা উপসর্গ নয়- উৎ। 
- 'উৎ' সংস্কৃত উপসর্গ। 

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, 
--------------------------
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

১৩,৪৬৬.
'কোরবানি' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. পর্তুগিজ
  2. ফরাসি
  3. ফারসি
  4. তুর্কি
  5. আরবি
ব্যাখ্যা


উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৪৬৭.
উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি ?
  1. নালায়েক
  2. সদ্ভাব
  3. গোলাপ
  4. কুদরতি
ব্যাখ্যা
ফারসি ‘না’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ নালায়েক।

অন্যদিকে,
সৎ + ভাব = সদ্ভাব; সন্ধি সাধিত শব্দ।
গোলাপ মৌলিক শব্দ।
• কুদরত + ই = কুদরতি; তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

-----------------------
• উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।+্
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ।
 
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।
 
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
 
• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন, 
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
 
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
১৩,৪৬৮.
কোন যোজক একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) কারণ যোজক
  2. খ) বিকল্প যোজক
  3. গ) সাপেক্ষ যোজক
  4. ঘ) সাধারণ যোজক
ব্যাখ্যা

• সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

• বিকল্প যোজক:
এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন: চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।

• কারণ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

সাধারন যোজক:
এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে। যেমন: করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

১৩,৪৬৯.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়?
  1. ক) চোরা
  2. খ) চালক
  3. গ) পূজক
  4. ঘ) সত্যবাদী
ব্যাখ্যা
• 'চোর + আই = চোরাই' বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়। 

• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে ।
যথা: 
 • সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন - অণু + ইক = আণবিক, পুষ্প + ইত = পুষ্পিত। 

 • বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়: 
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়। 
যেমন - থাল + আ = থালা, চোর + আই = চোরাই

 • বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন- মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা, বিবি + আনা = বিবিয়ানা। 

অন্যদিকে,
√ পূজি + ণক = পূজক;
√ চলি + ণক =চালক;
সত্য + √ বদ + ইন্‌ = সত্যবাদী কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ। 

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৩,৪৭০.
নিচের কোন দ্বিরুক্ত শব্দ যুগ্ণরীতিতে গঠিত ধ্বন্যাত্মক শব্দ?
  1. ক) টপাটপ
  2. খ) ধরাধরি
  3. গ) টাপুর টুপুর
  4. ঘ) ঝনঝনি
ব্যাখ্যা

যুগ্ণরীতিতে গঠিত ধ্বন্যাত্মক শব্দ-
কিচির মিচির (পাখি বা বানরের শব্দ),
টাপুর টুপুর (বৃষ্টি পতনের শব্দ),
হাপুস হুপুস (গোগ্রাসে কিছু খাওয়ার শব্দ)।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।

১৩,৪৭১.
অনুগামিক অর্থে ‘প্র’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে কোন শব্দে?
  1. প্রস্ফুটিত
  2. প্রচলন
  3. প্রসিদ্ধ
  4. প্রশাখা
ব্যাখ্যা
• ধারা-পরম্পরা বা অনুগামিক অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রশাখা, প্রপৌত্র শব্দে।

অন্যদিকে,
• আধিক্য অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রচার, প্রবল, প্রসার, প্রগাঢ় শব্দে।
• খ্যাতি অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রতাপ, প্রসিদ্ধ, প্রভাব শব্দে।
• প্রকৃষ্ট/সম্যক অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রচলন, প্রস্ফুটিত শব্দে।

----------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৪৭২.
‘সিংহাসন’ শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. সিংহের আসান
  2. সিংহ আসন যার
  3. সিংহের আসন যা
  4. সিংহ চিহ্নিত আসন
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ;
- ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি;
- প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়;
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।

এরূপ, সাহিত্যসভা, গোবর গণেশ, সংবাদপত্র ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৪৭৩.
শুদ্ধ বানানগুচ্ছ কোনটি?
  1. ক) দুরাকাঙখা, বাল্মীকী, মূহুর্মুহু
  2. খ) দুর্ভাবনা, মিথস্ক্রিয়া, ব্যভিচার
  3. গ) ত্রিভূজ, প্রনয়ণ, বিমর্ষ
  4. ঘ) শিহরণ, মরুদ্যান, অঞ্জলি
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানগুচ্ছ হলো অপশন (খ)
দুর্ভাবনা - দুশ্চিন্তা; অশুভ আশঙ্কা।
ব্যভিচার - অন্যায় আচরণ৷
মিথস্ক্রিয়া - পারস্পরিক ক্রিয়া

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপঃ
দুরাকাঙ্ক্ষা, বাল্মীকি, মুহুর্মুহু, ত্রিভুজ, প্রণয়ন, মরূদ্যান৷

উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

১৩,৪৭৪.
বিশেষণ পদ কোনটি?
  1. তারুণ্য
  2. দুঃখ
  3. চলন্ত
  4. তিক্ততা 
ব্যাখ্যা



• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ। এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

-------------------------
• গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা- মধুর মিষ্টত্বের গুণ মধুরতা।

গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

১৩,৪৭৫.
'নথ নাড়া' বাগ্‌ধারার অর্থ-
  1. ক্ষোভ প্রকাশ
  2. অহংকার প্রকাশ
  3. সন্তুষ্টি প্রকাশ
  4. আনন্দ প্রকাশ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'নথ নাড়া' বাগ্‌ধারার অর্থ - অহংকার প্রকাশ।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- মেনিমুখো - লাজুক,
- মিছরির ছুরি - মুখে মধু অন্তরে বিষ।
- কথার তুবড়ি - অনর্গল কথা।
- পত্রপাঠ - তৎক্ষণাৎ।
- বিড়ালের আড়াই পা - বেহায়াপনা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৪৭৬.
'গুপ্ত' এর বিপরীত শব্দ- 
  1. অপরিজ্ঞাত
  2. মুক্ত
  3. ব্যক্ত
  4. জাগ্রত
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'গুপ্ত' অর্থ: 
- গূঢ়; লু্ক্কায়িত।
- লুকিয়ে বা গোপন রাখা হয়েছে এমন (গুপ্ত বৃত্তান্ত)।
- অপরিজ্ঞাত; অদৃশ্য।

• ব্যক্ত অর্থ: প্রকাশ পেয়েছে এমন; প্রকাশিত।

• ‘গুপ্ত’ এর বিপরীত শব্দ: ব্যক্ত / প্রকাশিত।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ:
• গোপন - প্রকাশ।
• চড়াই - উৎরাই।
• ঘুমন্ত - জাগ্রত।
• আবদ্ধ  - মুক্ত।
• চিরায়ত - সাময়িক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; অভিগম্য অভিধান।

১৩,৪৭৭.
"সে মোটা বটে, কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।" সরল বাক্যে রূপান্তর করুন -
  1. সে মোটা তার গায়ে শক্তি নেই।
  2. সে মোটা ও তার গায়ে কোনো শক্তি নেই।
  3. সে মোটা এবং শক্তিশালী নয়।
  4. মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।

যেমন:
যৌগিক বাক্য: সে মোটা বটে, কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।
সরল বাক্য: মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।

যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৪৭৮.
'বনৌষধ' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বন + ওষধি
  2. বন + ঔষধ
  3. বন + ওষুধ
  4. বন + ঔষধি
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- বন + ওষধি = বনৌষধি,
- মহা + ঔষধ = মহৌষধ,
- মহা + ওষধি = মহৌষধি,
- বন + ঔষধ = বনৌষধ,
- গঙ্গা + ওঘ = গঙ্গৌঘ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৪৭৯.
'লাজওয়াব' শব্দে ব্যবহৃত 'লা' কোন উপসর্গ?
  1. বাংলা উপসর্গ
  2. সংস্কৃত উপসর্গ
  3. দেশি উপসর্গ
  4. বিদেশি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'লাজওয়াব' শব্দে ব্যবহৃত 'লা' - বিদেশি উপসর্গ
- এটি আরবি উপসর্গ।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি – এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
- এর কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
- এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে।
- দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় বেমালুম মিশে গিয়েছে।
- বেমালুম শব্দটিতে 'মালুম' আরবি শব্দ আর 'বে' ফারসি উপসর্গ।

• আরবি উপসর্গ ৪টি। যথা:
- আম্‌: সাধারণ অর্থে - আমদরবার, আমমোক্তার।
- খাস: বিশেষ অর্থে - খাসমহল, খাসখবর।
- লা: না অর্থে - লাজওয়াব, লাখেরাজ।
- গর্‌: অভাব অর্থে - গরমিল, গররাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৪৮০.
কী প্রয়োগের মাধ্যমে ভাষা প্রাণবন্ত ও বাক্য অধিক ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করতে পারে?
  1. সমাস
  2. কারক
  3. বাগ্‌ধারা
  4. প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
বাগ্‌ধারা:
- বাক্যের বর্গ যখন বাচ্যার্থ বা আক্ষরিক অর্থ ছাপিয়ে বিশেষ কোনো অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে বাগ্‌ধারা বলে।
- বাগ্‌ধারার প্রয়োগে ভাষা প্রাণবন্ত হয় এবং বাক্য অধিক ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করতে পারে।
- বাগ্‌ধারা যেহেতু আক্ষরিক অর্থ ধারণ করে না, সেহেতু বাগ্‌ধারা ঠিক কী অর্থ প্রকাশ করে ভাষা-ব্যবহারকারীকে সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হয়।
- বাগ্‌ধারা এক অর্থে অতীত কালের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঘটনার স্মারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩,৪৮১.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. সর্বাঙ্গীণ
  2. সর্বাঙ্গীন
  3. সর্বাঙ্গিন
  4. সর্ব্বাঙ্গিন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'সর্বাঙ্গীণ'।
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষণ পদ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: সর্বাঙ্গ + ঈন।
 অর্থ:
- সর্বাঙ্গব্যাপী,
- পূর্ণাঙ্গ,
- সম্পূর্ণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৪৮২.
“তোমরা নিজেরা নিজেরা সমস্যাটি মিটিয়ে ফেল।”- 
বাক্যটিতে  “নিজেরা নিজেরা” কোন ধরনের সর্বনাম পদ নির্দেশ করছে? 
  1. সকলবাচক সর্বনাম
  2. পারস্পারিক সর্বনাম
  3. ব্যতিহারিক সর্বনাম
  4. খ + গ 
ব্যাখ্যা

• “তোমরা নিজেরা নিজেরা সমস্যাটি মিটিয়ে ফেল।”—
এখানে “নিজেরা নিজেরা” হলো ব্যতিহারিক বা পারস্পারিক সর্বনাম এর উদাহরণ। 
- ব্যতিহারিক সর্বনাম পারস্পরিকতা বা একাধিক পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
-------------------------------- 
ব্যতিহারিক বা পারস্পারিক সর্বনাম:
- ব্যতিহারিক সর্বনাম হলো সেইসব সর্বনাম, যা দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বা পারস্পরিক ক্রিয়া প্রকাশ করে। 
- অর্থাৎ, এই সর্বনামগুলো ব্যবহার করা হয় তখন, যখন একাধিক ব্যক্তি বা বস্তু একে অপরের প্রতি কোনো কাজ করে বা পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পন্ন করে।
- এগুলো সাধারণত একই শব্দের পুনরাবৃত্তি বা সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে গঠিত হয়।
- যেমন: আপনা-আপনি, নিজে-নিজে, আপসে, পরস্পর। 

- উদাহরণস্বরূপ,
- "পরস্পর না মিলতে পারলে বন্ধুত্ব গড়বে কী করে"? 
- “তারা আপনা-আপনিই সব কাজ করেছে”,
- “তারা পরস্পরকে সাহায্য করে”,
- “শিক্ষার্থীরা নিজে-নিজে খেলা করছে”- এই বাক্যগুলোতে দেখা যায়, কাজটি কেবল একমুখী নয়, বরং পক্ষগুলোর মধ্যে আবর্তিত হয়েছে।
------------------------ 
অন্যদিকে,
সকলবাচক সর্বনাম: 
- সকলবাচক সর্বনাম হচ্ছে বাক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি। 
- যেমন- 
- সবাই গেছে বনে। 
- সকলেই খাবার খেয়েছেন। 
- সকলেই ত্রাণসামগ্রী পেয়েছেন। 
- সবাই সমুদ্রে ঘুরতে যেতে চাচ্ছে। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ। 

১৩,৪৮৩.
প্রতিটি বাক্যের অপরিহার্য দুটি অংশ হলো:
  1. ক) ক্রিয়া ও বিশেষণ
  2. খ) কর্ম ও কর্তা
  3. গ) বিশেষ্য ও বিশেষণ
  4. ঘ) উদ্দেশ্য ও বিধেয়
ব্যাখ্যা
• বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় - এই দুই অংশে ভাগ করা যায়।

উদ্দেশ্য: বাক্যে যাকে উদ্দেশ্য কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে।
যেমন- 'মামুন বল খেলে।'
এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে।
অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

বিধেয়: বাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে।
বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন - 'মামুন বল খেলে।'
এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৪৮৪.
'উধার' শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) মহৎ
  2. খ) সংগীতের নিম্ন সপ্তকের সুর
  3. গ) কর্জ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- 'উধার' শব্দের অর্থ হচ্ছে কর্জ

• প্রায় সমোচ্চারিত শব্দ:
- উদার = মহৎ।
- উদারা = সংগীতের নিম্ন সপ্তকের সুর।
- উধার = কর্জ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৩,৪৮৫.
"ঘুঘু দেখেছ, ঘুঘুর ফাঁদ দেখনি" প্রবাদটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. আনন্দের আড়ালে দুঃখের ইঙ্গিত
  2. বাইরে থেকে দেখে বিচারের ফল ঠিক হয় না
  3. কোনো না কোনোভাবে কার্যসিদ্ধি
  4. সামান্য প্রাপ্তির জন্যে বড় ধরনের দুষ্কর্মে লিপ্ত হওয়া
ব্যাখ্যা
• 'ঘুঘু দেখেছ, ঘুঘুর ফাঁদ দেখনি' প্রবাদের অর্থ - আনন্দের আড়ালে দুঃখের ইঙ্গিত। 

অন্যদিকে, 
• 'চকচক করলেই সোনা হয় না' অর্থ - বাইরে থেকে দেখে বিচারের ফল ঠিক হয় না। 
• 'ধারে না হলে ভারে কাটে' অর্থ - কোনো না কোনোভাবে কার্যসিদ্ধি। 
• 'ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ' অর্থ - সামান্য প্রাপ্তির জন্যে বড় ধরনের দুষ্কর্মে লিপ্ত হওয়া। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৪৮৬.
'জজ-সাহেব' কোন সমাস?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়:
১. দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে। যেমন- যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।
২. দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে। যেমন - যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।
৩. কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃতন্ত বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন – আগে ধোয়া পরে মোছা ধোয়ামোছা।
৪. পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমন- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা, মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।
৫. বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে, 'মহৎ' ও 'মহান' স্থানে 'মহা' হয়। যেমন – মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান, মহান যে নবি = মহানবি।
৬. পূর্বপদে 'কু' বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে 'কু' স্থানে 'কৎ' হয়। যেমন- কু যে অর্থ = কদর্থ, কু যে আচার = কদাচার।
৭. পরপদে 'রাজা' শব্দ থাকলে কর্মধারয় সমাসে 'রাজ' হয়। যেমন মহান যে রাজা = মহারাজ।
৮. বিশেষণ ও বিশেষ্য পদে কর্মধারয় সমাস হলে কখনো কখনো বিশেষণ পরে আসে, বিশেষ্য আগে যায়। যেমন-সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ, অধম যে নর = নরাধম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৩,৪৮৭.
Arbitration শব্দের বাংলা পরারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ছায়াযুদ্ধ
  2. সালিসি
  3. সশস্ত্র আক্রমণ
  4. অস্ত্রাগার
ব্যাখ্যা
• Arbitration শব্দের বাংলা পরারিভাষিক শব্দ - সালিসি।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ  বাংলা পারিভাষিক শব্দ:
- Accused- অভিযুক্ত। 
- Acquittal- খালাস। 
- Adjournment- মুলতবি। 
- Allegation- অভিযোগ। 
- Appeal- উত্তরবিচার প্রার্থনা।
- Bail- জামিন। 
- Capital punishment- মৃত্যুদণ্ড। 
- Census- আদমশুমারি, জনগণনা।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
১৩,৪৮৮.
তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে কী বলে?
  1. দ্ধিতান্ত শব্দ
  2. তদ্ভব শব্দ
  3. কৃদন্ত শব্দ
  4. তদ্ধিতান্ত শব্দ
ব্যাখ্যা
তদ্ধিতান্ত শব্দ:
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
যেমন:
- পঠ্‌+অক=পাঠক।
- দিন+ইক = দৈনিক।
উপরের উদাহরণে, ‘অক' ও ‘ইক’ তদ্ধিত প্রত্যয় এবং ‘শিক্ষক’ ও দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
১৩,৪৮৯.
নিচের কোনটি কালনাম শ্রেণির নাম-বিশেষ্য?
  1. ক) আষাঢ়
  2. খ) হিমালয়
  3. গ) আকাশ
  4. ঘ) পবন
ব্যাখ্যা
নাম বিশেষ্যঃ ব্যক্তি, স্থান, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম বিশেষ্য বলে
যেমন-
ব্যক্তিনামঃ হাবিব, সজল, লতা, পাতা।
স্থাননামঃ ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনামঃ সোমবার, জানুয়ারি, বৈশাখ, রমজান।
সৃষ্টিনামঃ গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (৯ম - ১০ম শ্রেণী) ২০২১ সালের এডিশন।
 
১৩,৪৯০.
'উন্নয়ন' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) উন + নয়ন
  2. খ) উৎ + নয়ন
  3. গ) উন্ন + নয়ন
  4. ঘ) উৎ + অন
ব্যাখ্যা
আগে 'ৎবা দ্' এবং পরে 'ন্ / ম্' থাকলে 'ৎ' বা 'দ্' স্থানে ন্ হয় এবং পরের 'ন'- এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়।
কিন্তু ৎ / দ্ - এর পর 'ল্' থাকলে ৎ / দ্ এর সন্ধিতে 'ল্' হয় এবং 'ল্' পরের 'ল' এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।


ৎ + ন্ = ন্ন               উৎ + নতি = উন্নতি , জগৎ + নাথ = জগন্নাথ
                                এরূপঃ উৎ + নয়ন = উন্নয়ন
দ্ + ন্ = ন্ন               তদ্ + নিমিত্ত = তন্নিমিত্ত ,তদ্ + নিষ্ঠ = তন্নিষ্ঠ
ধ্ + ন্ = ন্ন               ক্ষুধ্ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি।
ৎ + ম্ = ন্ম              মৃৎ + ময় = মৃন্ময় , সৎ + মার্গ = সন্মার্গ
দ্ + ম্ = ন্ম              তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র, তদ্ + মধ্য = তন্মধ্যে
ৎ্ + ল্ = ল্ল               উৎ + লাস = উল্লাস, উৎ + লিখিত = উল্লিখিত
দ্ + ল্ = ল্ল               তদ্ + লিখিত = তল্লিখিত

 [উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।]
১৩,৪৯১.
'Catalogue' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. দূষিত
  2. সংকলন
  3. গ্রন্থতালিকা
  4. প্রচারাভিযান
ব্যাখ্যা
• 'Catalogue' এর বাংলা পরিভাষা - গ্রন্থতালিকা

অন্যদিকে,
- 'Compilation' এর বাংলা পরিভাষা - সংকলন।
- 'Campaign' এর বাংলা পরিভাষা - প্রচারাভিযান।
- 'Polluted' এর বাংলা পরিভাষা - দূষিত।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা- বাংলা একাডেমি।
১৩,৪৯২.
অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. মোটাসোটা
  2. ঘর-টর
  3. গুটিশুটি
  4. কুটুস- কুটুস
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
গুটিশুটি, মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, চকচক, টসটস।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।

১৩,৪৯৩.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার দৃষ্টান্ত?
  1. মন দেওয়া
  2. মরচে ধরা
  3. মরে যাওয়া
  4. মার খাওয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মন দেওয়া, মরচে ধরা, মার খাওয়া = সংযোগ ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৪৯৪.
‘ডেকে ডেকে হয়রান হচ্ছি।'-এ বাক্যে ‘’ডেকে ডেকে’ কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. অসহায়ত্ব
  2. বিরক্তি
  3. কালের বিস্তার
  4. পৌনঃপুনিকতা
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবাচক শব্দের দ্বিরুক্তি:
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।
- বিশেষণ রূপে: এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
- স্বলপকাল স্থায়ী বোঝাতে: দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে গেলো।
- ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: দেখে দেখে যেও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৩,৪৯৫.
শুদ্ধ শব্দগুচ্ছ শনাক্ত করুন-
  1. ভদ্রোচিত, বাঙ্ময়, আয়ুষ্মান
  2. কৃতঘ্ন, দণ্ডস্থান, ক্ষণাঙ্গী
  3. জন্মবার্ষিকী, পরিস্কার, পুরস্কার
  4. ইতোমধ্যে, দারিদ্র্য, উৎকর্ষতা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধ শব্দগুচ্ছ - ভদ্রোচিত, বাঙ্ময়, আয়ুষ্মান।

অন্যদিকে,
- ’উৎকর্ষতা’ শব্দের সঠিকরূপ- উৎকর্ষ।
- ’পরিস্কার’ শব্দের সঠিকরূপ- পরিষ্কার।
- ’ক্ষণাঙ্গী’ শব্দের সঠিকরূপ- ক্ষীণাঙ্গী।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৪৯৬.
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি নয় কোনটি?
  1. ক) অন্যান্য
  2. খ) কুলটা
  3. গ) কিন্তু
  4. ঘ) সীমন্ত
ব্যাখ্যা
অন্য + অন্য = অন্যান্য, কুল + অটা = কুলটা, সীমন + অত = সীমন্ত হলো নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি। অন্যদিকে কিম্ + তু = কিন্তু ব্যঞ্জনসন্ধি। (সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর)
১৩,৪৯৭.
'সুবন্ত' - শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সুব্‌ + অন্ত
  2. সুপ্ + অন্ত
  3. সু + অন্ত
  4. সুত্‌ + অন্ত
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্, জ্, ড্ (ড়), দ্, ব্ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত,
- ষট্ + আনন = ষড়ানন,
- তৎ + অবধি = তদবধি,
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,৪৯৮.
'√চল্ + অন = চলন' এখানে 'অন' হচ্ছে- 
  1. ক্রিয়া প্রকৃতি
  2. কৃৎ-প্রত্যয়
  3. ধাতু 
  4. কৃদন্ত পদ
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়ামূলকে বলা হয় ধাতু, আর ধাতুর সঙ্গে পুরুষ ও কালবাচক বিভক্তি যোগ করে গঠন করা হয় ক্রিয়াপদ। ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন (১) ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর (২) ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
যেমন-
- √চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়)= চলন (বিশেষ্য পদ) । চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়)= চলন্ত (বিশেষণ পদ)৷

‘প্রকৃতি’ কথাটি বোঝানোর জন্য প্রকৃতির আগে √ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। এ প্রকৃতি চিহ্নটি ব্যবহার করলে ‘প্রকৃতি’ শব্দটি লেখার প্রয়োজন হয় না। যেমন –√পড়+ উয়া =পড়ুয়া। √নাচ্+উনে = নাচুনে।

- কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত পদটিকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। যেমন– ওপরের উদাহরণে ‘পড়ুয়া’ ও ‘নাচুনে’ কৃদন্ত পদ
- তৎসম বা সংস্কৃত প্রকৃতির সঙ্গেও অনুরূপভাবে কৃৎ-প্রত্যয় যোগে কৃদন্ত পদ সাধিত হয়। যেমন √গম্+অন=গমন, √কৃ+তব্য=কর্তব্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

১৩,৪৯৯.
‘ঋণমুক্ত’ কোন তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. পঞ্চমী তৎপুরুষ
  2. উপপদ তৎপুরুষ
  3. অলুক তৎপুরুষ
  4. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

⇒ তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

⇒ পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৫০০.
প্রাতিপদিক হচ্ছে-
  1. ক) বিভক্তিহীন নাম শব্দ
  2. খ) তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি
  3. গ) নাম প্রকৃতি
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলে। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে ‘নাম প্রকৃতি’ ও বলা হয়ে থাকে। ধাতু যেমন কৃৎ প্রত্যয়ের প্রকৃতি তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী