বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১৩৪ / ৩৫৪ · ১৩,৩০১১৩,৪০০ / ৩৫,৭১৩

১৩,৩০১.
‘স্বয়ং’ কোন ধরনের সর্বনাম পদের উদাহরণ?
  1. নির্দেশক সর্বনাম
  2. পারস্পারিক সর্বনাম
  3. আত্মবাচক সর্বনাম
  4. সাপেক্ষ সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম পদ:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে।
যেমন- আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম:
 কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: 
অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়।
যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম:
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: 
ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: 
নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৩০২.
‘তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।' - এখানে 'হায় হায়' কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. অনুভূতি
  2. ভাবের গভীরতা
  3. আধিক্য
  4. সামান্য
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:

​- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান।
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- অনুভূতি বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।

১৩,৩০৩.
দ্বন্দ্ব সমাসে 'দ্বন্দ্ব' শব্দের অর্থ হল-
  1. ক) যুদ্ধ
  2. খ) জোড়া
  3. গ) সমোচ্চারিত
  4. ঘ) যুক্ত
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে বলা হয় দ্বন্দ্ব সমাস।
- যেমনছেলে ও মেয়ে = ছেলেমেয়ে, স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক ইত্যাদি
- দ্বন্দ্ব মানে জোড়া।
- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বােঝানাের জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযােজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৩০৪.
নিচের কোন শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেনি?
  1. স্বাগত
  2. অদ্যাপিও
  3. বিবিধপ্রকার
  4. অশ্রূধারা
ব্যাখ্যা
স্বাগত - শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেনি।

অন্যদিকে,
• সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি - অদ্যাপিও, বিবিধপ্রকার, অশ্রূধারা।
এদের শুদ্ধ প্রয়োগ - অদ্যাপি/অদ্যও, বিবিধ, অশ্রুধারা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৩০৫.
সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. উপনদী
  2. উপগ্রহ
  3. উপশহর
  4. উপকণ্ঠ
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে: রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
- কূলের সমীপে = উপকূল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- বনের সদৃশ = উপবন,
- শহরের সদৃশ = উপশহর।

ক্ষুদ্র অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- উপনদী,
- উপগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৩০৬.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) চন্দ্ৰ
  2. খ) ঈমান
  3. গ) আলমারি
  4. ঘ) চশমা
ব্যাখ্যা
• তৎসম শব্দ:
- সংস্কৃত শব্দ যদি অপরিবর্তিতরূপে হুবহু বাংলায় ব্যবহৃত হয় তাহলে সেই শব্দকে তৎসম শব্দ বলে।
- 'তৎসম' অর্থ তার (তৎ) সমান (সম)। এখানে 'তার' অর্থ সংস্কৃতের।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'চন্দ্র'- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 

• নিচে তৎসম শব্দের উদাহরণ হলো:
- চন্দ্র, সূর্য, আকাশ, মনুষ্য, হস্ত, পদ, মস্তক, চক্ষু, কর্ণ, বৃক্ষ, স্বামী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'ঈমান'- আরবি শব্দ।
'আলমারি'- পর্তুগিজ শব্দ।
'চশমা'- ফারসি শব্দ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৩০৭.
'ময়ূর' শব্দের সমার্থক শব্দ -
  1. কেশরী
  2. আশীবিষ
  3. কেকী
  4. উরগ
ব্যাখ্যা
'ময়ূর' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কলাপী , কেকী , শিখী , শিখণ্ডী , বর্হী , বর্হিণ।

অন্যদিকে,
'সাপ' শব্দের সমার্থক শব্দ - আশীবিষ, উরগ
'সিংহ' শব্দের সমার্থক শব্দ - কেশরী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৩০৮.
‘আনত’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বিনীত
  2. অবনত
  3. নত
  4. অবিনত
ব্যাখ্যা
• ‘আনত’ বিশেষণ পদ।
‘আনত’ শব্দের অর্থ:
- প্রণত;
- নম্র;
- বিনীত;
- অবনত;
- ঈষৎ নত।

অন্যদিকে,
• ‘অবিনত’ বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
‘অবিনত’ শব্দের অর্থ:
- বিনয়হীন ব্যক্তি;
- অবিনয়ী,
- উদ্ধত।

• সুতরাং ‘আনত’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - অবিনত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৩০৯.
ভাব বিশেষণ কয় প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

ভাব বিশেষণ:
- যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাকে ভাব বিশেষণ বলে।
- ভাব বিশেষণ ৪ প্রকার

যথা:
১. ক্রিয়া বিশেষণ,
২. বিশেষণের বিশেষণ,
৩. অব্যয়ের বিশেষণ ও
৪. বাক্যের বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণ:
- যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব,কাল বা রূপ নির্দেশ করে,তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যথা:
ক্রিয়া সংঘটনের ভাব: ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কাল: পরে একবার এসো।

বিশেষণের বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন-
নাম-বিশেষনের বিশেষণ:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

অব্যয়ের বিশেষণ:
- যে ভাব বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে,তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যেমন -
- ধিক তারে শত ধিক নির্লজ্জ যে জন ।

বাক্যের বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করে,তাকে বাক্যের বিশেষণ বলে।
যেমন:
- দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,৩১০.
‘আছো তুমি জগৎ মাঝারে’ । এখানে ‘মাঝারে’ শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. মধ্যে
  2. সঙ্গে
  3. ব্যাপ্তি
  4. বাইরে
ব্যাখ্যা

• 'আছ তুমি প্রভু, জগৎ মাঝারে।'
- এখানে 'মাঝারে' শব্দটি 'ব্যাপ্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ? - এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,৩১১.
বাক্যে অবস্থিত ক্রিয়ার কার্যের সঙ্গে বিশেষ সম্বন্ধযুক্ত পদ ই হলো _____?
  1. ক) বাক্য 
  2. খ) বাচ্য
  3. গ) পদ
  4. ঘ) উক্তি
ব্যাখ্যা
বাচ্য:
'বাচ্য' বাংলা ব্যাকরণে বহুল পরিচিত একটি পরিভাষা। ইংরেজি Voice শব্দের বাংলা পরিভাষা হলো বাচ্য। বাক্যে অবস্থিত ক্রিয়ার কার্যের সঙ্গে বিশেষ সম্বন্ধযুক্ত পদকে বাচ্য বলা হয়।

- বাচ্য হলো বাক্যের প্রকাশভঙ্গির স্বরূপ নির্ধারক পাঠ। তাই বাক্যের বিভিন্ন ধানের প্রকাশভঙ্গিকে বাচা বলা যায়।
যেমন-
- হেরা ফুটবল খেলতে পারে না।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৩,৩১২.
'ময়ূর' শব্দের সমার্থক শব্দ -
  1. শিখণ্ডী
  2. মৃগরাজ
  3. কেশরী
  4. পশুরাজ
ব্যাখ্যা
'ময়ূর' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কলাপী , কেকী , শিখী , শিখণ্ডী , বর্হী , বর্হিণ।

অন্যদিকে:
'সিংহ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কেশরী, পশুরাজ, মৃগেন্দ্র, মৃগরাজ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৩১৩.
সংস্কৃত উপসর্গ কোনগুলো?
  1. ক) আব, ইতি, পাতি
  2. খ) আড়, কদ, রাম
  3. গ) প্র, পরা, অপ
  4. ঘ) অঘা, অজ, অনা
ব্যাখ্যা
প্র, পরা, অপ হলো সংস্কৃত উপসর্গ। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত উপসর্গ বিশটি। এগুলো হলোঃ আ, অপ, অব, অতি, অধি, অপি, অনু, উপ, উৎ, নি, নির, প্র, পরা, সম, দুর, বি, সু, পরি এবং প্রতি।
বাংলা উপসর্গ হলো ২১টি৷ যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু এবং হা।
(সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
১৩,৩১৪.
কোন শব্দটির শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. অধীনস্ত
  2. সৌন্দর্যতা
  3. বিলাসবহুল
  4. প্রসারতা
ব্যাখ্যা

• 'বিলাসবহুল' — শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
এর অর্থ - আমোদ-প্রমোদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাযুক্ত।

অন্য অপশনের অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ হলো:
সৌন্দর্যতা - সৌন্দর্য,
প্রসারতা - প্রসার,
অধীনস্ত - অধীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,৩১৫.
নিচের কোন শব্দটির উৎস ফারসি নয়?
  1. খোয়াব
  2. চশমা
  3. দাঙ্গা
  4. চেহারা
ব্যাখ্যা

• ফারসি শব্দ নয় - দাঙ্গা। 
- এটি একটি হিন্দি ভাষার শব্দ। 

অন্যদিকে,
ফারসি শব্দ - খোয়াব, চশমা, চেহারা।

কিছু ফারসি শব্দ:
- দরদি,
- দরবার,
- দারোগা,
- দারোয়ান,
- ফসলি,
- রোজ  ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩,৩১৬.
‘হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে’ বাক্যটিতে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা জনিত
  2. খ) আসত্তি জনিত
  3. গ) বাহুল্য জনিত
  4. ঘ) যোগ্যতা জনিত
ব্যাখ্যা
‘হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে’ বাক্যটি কবিতায় মানা হলেও গদ্যে যোগ্যতাহীন বলে বিবেচিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,৩১৭.
যেখানে মাছিও প্রবেশ করতে পারে না - তাকে এক কথায় কি বলে?
  1. ক) নির্মক্ষিক
  2. খ) তমোহা
  3. গ) ভাগাড়
  4. ঘ) তুলট
ব্যাখ্যা
নির্মক্ষিক - মক্ষিকার অভাব; মশা মাছি থেকে মুক্ত; জনপ্রাণীহীন; নির্জন।
- অর্থাৎ, যেখানে মাছিও প্রবেশ করতে পারে না - তাকে এক কথায় “নির্মক্ষিক” বলে।

উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
১৩,৩১৮.
"যা সহজে দমন কর যায় না" এর এক কথায়?
  1. দুর্গম
  2. দুস্তর
  3. দুর্দম
  4. দুর্মর
ব্যাখ্যা
• "যা সহজে দমন করা যায় না" এর এক কথায় – দুর্দম।

অন্যদিকে,
যাহাতে সহজে গমন করা যায় না - দুর্গম।
যাহা সহজে উত্তীর্ণ হওয়া যায় না - দুস্তর।
যা সহজে মরে না- দুর্মর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৩১৯.
'খণ্ড প্রলয়' বাগ্‌ধারাটির অর্থ -
  1. ভূমিকা
  2. অবাস্তব কল্পনা
  3. কাণ্ডজ্ঞানহীন
  4. তুমুল কাণ্ড
ব্যাখ্যা
• 'খণ্ড প্রলয়' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - তুমুল কাণ্ড / ভীষণ ব্যাপার।
 
অন্যদিকে,
- 'আকাশ কুসুম' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অবাস্তব কল্পনা।
- 'গৌরচন্দ্রিকা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - ভূমিকা।
- 'গোঁয়ার গোবিন্দ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - কাণ্ডজ্ঞানহীন।
 
উৎস: 
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৩২০.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
  2. তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।
  3. সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
  4. তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য: তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।

তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতিশীল / উন্নয়নশীল দেশ।

অশুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

অশুদ্ধ বাক্য: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,৩২১.
নাসিক্য ব্যঞ্জনের উদাহরণ কোনটি?
ব্যাখ্যা
• নাসিক্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে। মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

অন্যদিকে,
• উম্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলোকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে। সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ। উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলোকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) - এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলোর মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শ্বাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতো আওয়াজ হয়।

• তাড়িত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূ্র্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
যেমন: 'বাড়ি, মূঢ়' প্রভৃতি শব্দের 'ড়, ঢ়' তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনি

• পার্শ্বিক ব্যঞ্জন:
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে। লাল শব্দে 'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৩২২.
ব্যাকরণের কোন শাখায় ‘বাচ্য’ এবং ‘উক্তি’ আলোচনা করা হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. বাক্যতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্যের গঠন ও ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়।

• আলোচ্য বিষয়সমূহ:

- বাক্যের নির্মাণ ও গঠনরীতি;
- পদের বিন্যাস ও বর্গ;
- বাচ্য পরিবর্তন, উক্তি রূপান্তর;
- কারক বিশ্লেষণ,যোগ্যতা;
- বাক্য উপাদানের লোপ;
- যতিচিহ্ন ব্যবহারের নীতি;

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৩,৩২৩.
সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ নির্ণয় করুন -
  1. নৈ + অক = নায়ক
  2. তৎ + জাতীয় = তজ্জাতীয়
  3. উদ্‌ + ডীয়মান = উড্ডীয়মান
  4. ষৎ + মাস = ষন্মাস
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।

যেমন:
- নৈ + অক = নায়ক,
- পো + অন = পবন,
- পো + ইত্র = পবিত্র,
- গো + আদি = গবাদি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদের শুদ্ধরূপ:
- তদ্ + জাতীয় = তজ্জাতীয়,
- উৎ + ডীয়মান = উড্ডীয়মান,
- ষট্ + মাস = ষন্মাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৩,৩২৪.
ষ-ত্ব বিধানের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. জিনিষ
  2. অগ্নিষাৎ
  3. মাষ্টার
  4. বিষম
ব্যাখ্যা

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়।
যেমন - অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট. স্টেশন, ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না।
যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,৩২৫.
'আমি বাড়ি গিয়ে দেখলাম, সবার খাওয়া হয়ে গেছে।' - বাক্যে কোন ধরনের অধীন খণ্ডবাক্য ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্যস্থানীয়
  2. ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয়
  3. উপসর্গগত
  4. বিশেষণস্থানীয়
ব্যাখ্যা
বিশেষ্যস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য স্বাধীন খণ্ডবাক্যের যেকোনো পদের অধীন থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে।

যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে দেখলাম, সবার খাওয়া হয়ে গেছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৩,৩২৬.
'প্রবিষ্ট' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. নির্দিষ্ট
  2. প্রস্থিত
  3. বিরত
  4. নিবিষ্ট
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'প্রবিষ্ট' এর বিপরীত শব্দ — 'প্রস্থিত'।

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'প্রবিষ্ট' শব্দের অর্থ- প্রবেশ করেছে এমন।

অন্যদিকে,
'প্রস্থিত' শব্দের অর্থ- চলে গেছে এমন।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ:
'অনুরক্ত' - বিরক্ত, 
'অনুমেয়' - অননুমেয়, 
'নিয়ত'-  বিরত, 
'প্রবিষ্ট' - প্রস্থিত, 
'দরদি'- নির্দয়, 
'উদ্ধত' -বিনীত, 
'উগ্র' -মৃদু / সৌম্য, 
'ঔদ্ধত্য' -বিনয়। 

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ
১৩,৩২৭.
'সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।

যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য,
- ভিক্ষার অভাব = দুর্ভিক্ষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৩২৮.
Waste not, want not এর সঠিক অনুবাদ কোনটি?
  1. ক) অপচয় করলে অভাবে পড়তে হয়
  2. খ) অপচয় অভাবের মূল কারণ
  3. গ) অপচয় করোনা অভাবও হবে না
  4. ঘ) অভাব থেকে বাঁচার জন্য অপচয় রোধ জরুরী
ব্যাখ্যা
- Waste not, want not এটি একটি প্রবাদবাক্য
- এর অর্থ 'অপচয় করোনা অভাবও হবে না'

এছাড়াও আরও কিছু প্রবাদবাক্য-  
• To be too ambitious in one’s plans; beggars on horseback will ride to the devil.— কাঙালের ঘোড়া রোগ।
• To break a butterfly on a wheel.— মশা মারতে কামান দাগা।
• To err is human.— মানুষ মাত্রই মতিভ্রম হয় / “মুনিনাঞ্চ মতিভ্রমঃ “।
• To kill two birds with one stone. — এক ঢিলে দুই পাখি মারা।
• To make a mountain of a molehill. — তিলকে তাল বানানো।
• To put the cart before the horse. — ঘোড়ার আগে গাড়ি জোড়া / নিয়মের বাইরে কাজ করা।
• To the pure all things are pure. — আপনি ভাল তো জগৎ ভাল।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৩২৯.
নিম্মের কোন শব্দগুচ্ছটির সবগুলোই সমার্থক?
  1. ক) মহীধর, ক্ষিতিধর, পয়োধর।
  2. খ) পাবক, সমীর, অনিল
  3. গ) বিটপী, বনানী, কান্তার
  4. ঘ) ভুজঙ্গ, অহি, নাগ
ব্যাখ্যা
- 'পর্বত' শব্দের সমার্থক শব্দ: মহীধর, ক্ষিতিধর,মোদিনীধর, অবনীধর, ধরাধর, বসুধাধর ইত্যাদি। 
- 'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ: জলধর, পয়োধর, অম্বুধর, নীরধর ইত্যাদি।
- 'অগ্নি' শব্দের সমার্থক শব্দ: অনল, বহ্নি, পাবক, হুতাশন ইত্যাদি।
- 'বায়ু' শব্দের সমার্থক শব্দ: পবন, বাতাস, হাওয়া, বাত, সমীর, মরুত, অনিল ইত্যাদি।
- 'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ: তরু, দ্রুম, শাখী, পাদপ, মহীরুহ, উদ্ভিদ্, অটবি, বিটপী, পর্ণী, গাছপালা, পল্লবী ইত্যাদি।
- 'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ: জঙ্গল, অটবি, কানন, বিপিন, গহন, কুঞ্জ, কান্তার, উপবন, বনানী ইত্যাদি।
- 'সাপ' শব্দের সমার্থক শব্দ: ভুজঙ্গ, অহি, উরগ, পন্নগ, কুণ্ডলী, নাগ, ফণী, আশীবিষ, বিষধর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৩,৩৩০.
'ঢাকাই' শব্দের 'আই' প্রত্যয় কোন অৰ্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) মালিক অর্থে
  2. খ) ভাব অর্থে
  3. গ) জাত অর্থে
  4. ঘ) বৃত্তি অর্থে
ব্যাখ্যা
আই-প্রত্যয়:
(ক) ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে :
বড়+আই=বড়াই,
চড়া +আই=চড়াই। 

(খ) আদরার্থে :
কানু+আই= কানাই,
নিম+আই= নিমাই।

(গ) স্ত্রী বা পুরুষবাচক শব্দের বিপরীত বােঝাতে :
বােন+আই= বােনাই,
ননদ-নন্দাই,
জেঠা-জেঠাই (মা)।

(ঘ) সমগুণবাচক বিশেষ্য গঠনে :
মিঠা +আই-মিঠাই।

(ঙ) জাত অর্থে :
ঢাকা+আই=ঢাকাই (জামদানি),
পাবনা-পাবনাই (শাড়ি)।

(চ) বিশেষণ গঠনে :
চোর-চোরাই (মাল),
মােগল-মােগলাই (পরােটা)।

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
 
১৩,৩৩১.
কোনটি দ্বিগু সমাস?
  1. দশগজি
  2. চৌচালা
  3. দুআনি
  4. দশানন
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন:
- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন, 
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ,
- পঞ্চ ঋষির সমাহার = পঞ্চর্ষি,
- দু আনার সমাহার = দুআনি ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে,
- দশ আনন আছে যার = দশানন, চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা এবং দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি - সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩৩২.
'অভ্যুত্থান' শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ কোনটি?
  1. থ্ + ত
  2. ত্ + থ
  3. হ্ + থ
  4. ত্ + ত
ব্যাখ্যা
ত্ + থ = ত্থ
- উত্থান,
- উত্থিত,
- অভ্যুত্থান
 
আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- ক্ষ = ক + ষ,
- হ্ম = হ + ম,
- জ্ঞ = জ + ঞ,
- ষ্ণ = ষ + ণ।

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯]
১৩,৩৩৩.
কোনটি সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. গৃহ + ঊর্ধ্ব = গৃহোর্দ্ধ
  2. গৃহো + ঊর্ধ্ব = গৃহোর্দ্ধ
  3. গৃহ + উর্ধ্ব = গৃহোর্দ্ধ
  4. গৃহ + ঊধ্ব = গৃহোর্দ্ধ
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা উ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়; ও-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।

যেমন:
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়,
- যথা + উচিত = যথোচিত,
- গৃহ + ঊর্ধ্ব = গৃহোর্দ্ধ,
- গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,৩৩৪.
'মানী' লোকের বেলায় বহুবচনে কী লগ্নক ব্যবহৃত হয়?
  1. গণ
  2. রা
  3. সব
  4. গুলি
ব্যাখ্যা

• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে '-গণ,' '-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', ’বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন
• গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ।
• বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ
• মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী
• বর্গ – পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২৫)।

১৩,৩৩৫.
'ঘুমন্ত শিশু' এখানে 'ঘুমন্ত' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  2. ভাববাচক বিশেষণ
  3. গুণবাচক বিশেষণ
  4. নির্দিষ্টতাবাচক
ব্যাখ্যা

 • 'ঘুমন্ত শিশু' এখানে 'ঘুমন্ত' অবস্থাবাচক  বিশেষণ।

অবস্থাবাচক বিশেষণ:

- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খরব।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
- এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।

গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

নির্দিষ্টতাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

১৩,৩৩৬.
কোলনের ক্ষেত্রে সাধারণত কতক্ষণ থামতে হয়?
  1. ১ সেকেন্ড
  2. ১ বলতে যে সময় প্রয়োজন 
  3. ১ বলার দিগুণ সময় 
  4. থামার প্রয়োজন নেই 
ব্যাখ্যা

সাধারণ বাক্যবিন্যাসে  দৃষ্টান্তচ্ছেদ বা কোলনের পর সংক্ষিপ্ত বিরতি রাখা হয়, যা প্রায় ১ সেকেন্ডের সমান।
-------------------
• কোলন (:) –
- কোলন (:) বাংলা ব্যাকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ যতিচিহ্ন।
- এটি পূর্ণ বাক্যের পর উদাহরণ, তালিকা, ব্যাখ্যা, উদ্ধৃতি বা সংলাপ এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
- এটি সাধারণত ‘অর্থাৎ’, ‘যেমন’ বা ‘নিচে দেওয়া হলো’—এই ধরনের ভাব প্রকাশ করে।
- কোলনের আগে থাকা বাক্য অবশ্যই পূর্ণ বা স্বাধীন বাক্য হতে হবে।

কোলনের প্রধান ব্যবহারসমূহ:

• উদাহরণ বা তালিকা দেখাতে:
- উদাহরণ:
- “আমাদের ক্লাসে তিনজন প্রধান শিক্ষক আছেন: মিস্টার রহমান, মিসেস দত্ত ও মিস্টার চৌধুরী।”
- “আমার প্রিয় ফল: আম, কলা, আনারস।”

• ব্যাখ্যা বা কারণ বোঝাতে:
- উদাহরণ:
- “তার বক্তব্য স্পষ্ট: আমাদের সবাইকে সাহায্য করতে হবে।”

• উদ্ধৃতি বা সংলাপের আগে:
- উদাহরণ: সুমি বলল: “আজকে আমি স্কুলে যাব না।”

• নাটকের সংলাপ:
- রাহুল: তুমি কোথায় যাচ্ছ?
- সুমি: বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে যাচ্ছি।

• শিরোনাম ও উপশিরোনাম আলাদা করতে:
- উদাহরণ:
- “বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস: একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয়।”

• সময় নির্দেশ করতে:
- উদাহরণ: ০৮:৪৫। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৩,৩৩৭.
কোন যুক্তবর্ণের গঠনটি শুদ্ধ?
  1. ক্ + ন = ক্ম
  2. ষ্‌ + ঞ = ষ্ণ
  3. ক্ + ত = ক্ত
  4. হ্‌ + ন = হ্ণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ যুক্তবর্ণ- ক্ + ত = ক্ত। 

এরূপ গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলো-
- ক্ম = (ক্+ম),
- ষ্ণ = (ষ্‌ + ণ),
- ক্ষ = (ক্+ষ),
- ক্ষ্ম = (ক্ + ষ +ম),
- হ্ণ  = (হ্ + ণ),
- ক্স = (ক্ + স)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ -সংস্করণ)।
১৩,৩৩৮.
নিচের কোনটি কর্মবাচ্য?
  1. আমরা কঠোর পরিশ্রম করি
  2. চিঠিটা পড়া হয়েছে
  3. ছেলেটি ছবি আঁকে
  4. কোথা থেকে আসা হলো
ব্যাখ্যা

• কর্মবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
- চিঠিটা পড়া হয়েছে।
- তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
- চিঠিটা পড়া হয়েছে।

অন্যদিকে,
কর্তৃবাচ্য:
- দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে। 
- হালাকু খাঁ বাগদাদ ধ্বংস করেন। 
- একটি গান কর।
- আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
- ছেলেটি ছবি আঁকে।

• ভাববাচ্য
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন –
- আমার যাওয়া হলো না ।
- কোথা থেকে আসা হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,৩৩৯.
'কন্যা' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় -
  1. ভার্যা
  2. আত্মজা
  3. তনয়া
  4. দুহিতা
ব্যাখ্যা
'কন্যা' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- মেয়ে, দুহিতা, আত্মজা, নন্দিনী, তনয়া, পুত্রী, ঝি।

অন্যদিকে,
'স্ত্রী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- পত্নী, ভার্যা, সহধর্মিণী, অর্ধাঙ্গিনী, দারা, জায়া, বধূ, বউ, বিবি, বেগম, গৃহিণী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩,৩৪০.
'গায়ক' - শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গে + অক
  2. গো + অক
  3. গৌ + অক
  4. গৈ + অক
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।

যেমন:
- শে + অন = শয়ন,
- নৈ + অক = নায়ক,
- গৈ + অক = গায়ক,
- পো + অন = পবন,
- পো + ইত্র = পবিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,৩৪১.
'বিষাদসিন্ধু' কোন সমাস সাধিত শব্দ?
  1. ক) মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস
  2. খ) উপমান কর্মধারয় সমাস
  3. গ) উপমিত কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) রূপক কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
⇒ যেসকল কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লােপ পায়। এগুলাে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় নামে পরিচিত।
যেমন –
- ঘি মাখানাে ভাত = ঘিভাত
- হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি
- ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই
- বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা

⇒ যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস
হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন –
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

⇒ যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন –
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ
এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।

যেসকল কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলােকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন –
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩,৩৪২.
'পুণ্যবান' শব্দের শুদ্ধ নারীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. পুণ্যবতিনী
  2. পুণ্যমতী
  3. পুণ্যবতী
  4. পুণ্যশীলা
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয় যোগে:
নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়। এ রকম কয়েকটি প্রত্যয়ের প্রয়োগ দেখানো হলো:

• বতী প্রত্যয়: গুণবান-গুণবতী, পুণ্যবান-পুণ্যবতী।

এরূপ-
• ইনী প্রত্যয়: বিজয়ী-বিজয়িনী, যোগী-যোগিনী, তেজস্বী-তেজস্বিনী।
• ঈ প্রত্যয়: কিশোর-কিশোরী, নর-নারী, সুন্দর-সুন্দরী।
• মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, শ্রীমান-শ্রীমতী।

অন্যদিকে, 
• পুণ্যশীল - পুণ্যশীলা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১- সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৩৪৩.
প্রশ্ন নং ১ - ৬: শব্দের সঠিক বানান নির্ণয় করুনঃ
  1. আশ্বস্ত
  2. আশ্বস্থ
  3. আস্বস্ত
  4. আস্বস্থ
  5. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: আশ্বস্ত (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- আশ্বাস বা ভরসাপ্রাপ্ত,
- আশঙ্কামুক্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৩৪৪.
গঠন অনুযায়ী বাক্য কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা

গঠন অনুযায়ী বাক্য তিন প্রকার:
(১) সরল বাক্য,
(২) মিশ্র বা জটিল বাক্য,
(৩) যৌগিক বাক্য।

১. সরল বাক্য:
একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
 যেমন- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।

২. জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
 যেমন- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

৩. যৌগিক বাক্য:
এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
 যেমন- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

১৩,৩৪৫.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. কুলাটা নারীকে বর্জন কর
  2. কুলটা নারীকে বর্জন কর
  3. কূলাটা নারীকে বর্জন কর
  4. কূলটা নারীকে বর্জন কর
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য - কুলটা নারীকে বর্জন কর
এখানে সবগুলো শব্দই শুদ্ধ হওয়ায় বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
অন্যান্য বাক্যগুলোতে 'কুলটা' বানান ভুল লিখায়, অন্যান্য বাক্যগুলো অশুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৩৪৬.
'নকশা > নশকা' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. বিষমীভবন
  2. ব্যঞ্জনবিকৃতি
  3. ধ্বনি বিপর্যয়
  4. অন্তর্হতি
ব্যাখ্যা
• 'নকশা > নশকা' - ধ্বনি বিপর্যয় এর উদাহরণ।   

• ধ্বনি বিপর্যয়:
উচ্চারণের সময় আগের ধ্বনি পরে গেলে ও পরের ধ্বনি আগে চলে আসলে ধ্বনি বিপর্যয় ঘটে।
তলোয়ার > তরোয়াল,
পিশাচ > পিচাশ, 
রিক্সা > রিস্কা, 
লাফ > ফাল। 

• ব্যঞ্জনবিকৃতি: 
শব্দের মধ্যে কোন ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যদি নতুন কোন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জনবিকৃতি বলে।
কবাট > কপাট 
ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

 • বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
শরীর > শরীল
লাল > নাল
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন: ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাদিয়া > আলাদা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৩৪৭.
নিচের কোনটি স্বরভক্তি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. দিশ্ > দিশা
  2. সত্য > সইত্য
  3. স্টেশন > ইস্টিশন
  4. হর্ষ > হরষ
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে।
- একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
- অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ; বস্‌তি > বসতি ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার >শুক্কুরবার ইত্যাদি।
- এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক > পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
- ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'স্টেশন > ইস্টিশন' আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
- 'দিশ্ > দিশা' অন্ত্যস্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
- 'সত্য > সইত্য' অপিনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৩৪৮.
নিচের কোন নির্দেশক সর্বনামের সাথে বসতে পারে?
  1. -টি
  2. -খানা
  3. -খানি
  4. -টুকু
ব্যাখ্যা

-টা, -টি:
- বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা, -টি নির্দেশক বসে।
- এর দুটি রূপান্তর: -টো ও -টে । যেমন: বাড়িটা, ছেলেটা, এটা, সেটা, আমারটা, কিছুটা, একটা, সারাটা, করাটা; দিনটি, মেয়েটি, একটি, কয়েকটি, আরেকটি; দুটো; তিনটে ইত্যাদি।

-খানা, -খানি:
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে -খানা, -খানি নির্দেশক বসে। যেমন: ব্যাপারখানা, ভাবখানা, একখানা, আধখানা, মুখখানি, অনেকখানি ইত্যাদি।
- যেসব ক্ষেত্রে -টা বা  -টি বসে, সেসব ক্ষেত্রে -খানা বা -খানি বসতে পারে। যেমন: বাড়িটা বা বাড়িটি না বলে বাড়িখানা বা বাড়িখানিও বলা যায়।

 টুকু
- টুকু নির্দেশক দিয়ে কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায়।
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়। এর রূপভেদ: -টু বা -টুক।
যেমন: সাবানটুকু, হাসিটুকু, শরবতটুকু, এতটুকু, সময়টুকু, একটু, আধটু, যতটুক, ততটুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম - দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।

১৩,৩৪৯.
'কথায় কথায়' কোন প্রকার শব্দ দ্বিত্ব?
  1. ক) অনুকার
  2. খ) ধ্বন্যাত্মক
  3. গ) সমার্থক
  4. ঘ) পুনরাবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
- শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের:
১.অনুকার দ্বিত্ব
২.ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
৩.পুনরাবৃত্তদ্বিত্ব

• অনুকার দ্বিত্ব: পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরনে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
 যেমন: ঝাল-টাল, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্রাপার, বুঝে-সুঝে, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, অঙ্কটঙ্ক, আমটাম ।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব: কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয় , সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে। যেমন: টুং টুং, ঠুকঠুক, শোঁ শোঁ, খক খক, দুম দুম ।

•পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব: পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৩৫০.
‘যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম’। -এটি কোন জাতীয় বাক্য?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) মৌলিক বাক্য
  4. ঘ) মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• মিশ্র বা জটিল বাক্য: কোন কোন বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অর্থাৎ কর্তা ও সমাপিকা ক্রিয়া ছাড়া এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকতে পারে। এ অপ্রধান খণ্ডাংশ মূল বাক্যেরই অংশ। এ ধরনের বাক্যকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

উল্লেখিত, ‘যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম’।-  বাক্যটি মিশ্র বা জটিল বাক্য। বাকিগুলো যৌগিক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৩৫১.
শুদ্ধ বানান -
  1. নাসিক্যভবন
  2. নাসিক্যীভবন
  3. নাসিক্যিভবন
  4. নাসীক্যীভবন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'নাসিক্যীভবন'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- কোনো শব্দের নাসিক্যব্যঞ্জন লুপ্ত হওয়ার ফলে পূর্ববর্তী স্বরের অনুনাসিকত্ব লাভ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৩৫২.
কোনটি অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. কয়েক
  2. অবধি
  3. আপন
  4. আস্তে
ব্যাখ্যা

• অবধি - অনুসর্গের উদাহরণ।

• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'আপন' বিশেষ্য  ও বিশেষণ উভয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- 'কয়েক' বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- 'আস্তে'  ক্রিয়া বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১৩,৩৫৩.
সুলিখিত পত্র অনেক সময় কিসের মর্যাদা লাভ করে?
  1. ক) ঐতিহাসিক
  2. খ) সামাজিক
  3. গ) সাংস্কৃতিক
  4. ঘ) সাহিত্যিক
ব্যাখ্যা
• যোগাযোগ এবং ভাব বিনিময়ের জন্য একসময় চিঠি ছিল অপরিহার্য মাধ্যম।
- কাগজ আবিষ্কারের আগে মানুষ গাছের পাতায়, ছালে, চামড়ায় এবং ধাতব পাতে লিখত।
- পাতায় লিখত বলেই এর নাম পত্র। সুন্দর, শুদ্ধ চিঠির মাধ্যমে মানুষের শিক্ষা, বুদ্ধিমত্তা, রুচি ও ব্যক্তিত্ব এর প্রকাশ ঘটে।
- সুলিখিত পত্র অনেক সময় সাহিত্যিক মর্যাদা লাভ করে। যেমন : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছিন্নপত্র।
১৩,৩৫৪.
'বজ্জাত' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বৎ + জাত
  2. বদ্‌ + জাত
  3. বঃ + জাত
  4. বজ + জাত
ব্যাখ্যা
• 'বজ্জাত' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ 'বদ্‌ + জাত'।

• ত্ ও দ্‌-এরপর জ্ ও ঝ থাকলে ত্ ও দ্‌-এর স্থানে জ্ হয়।
যেমন-
- ত্ + জ = জ্জ;  সৎ+ জন = সজ্জন।
- দ্‌ + জ = জ্জ;  বিপদ্‌ + জাল = বিপজ্জাল।
- ত্‌ + ঝ =জ্ঝ;  কুৎ + ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা।
এরূপ - উজ্জ্বল, তজ্জন্য, যাবজ্জীবন, জগজ্জীবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৩৫৫.
'Envoy' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ক্ষণস্থায়ী
  2. মহামারী
  3. দূত
  4. পরিবর্ধক
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'Envoy' এর বাংলা পরিভাষা - দূত।

উল্লেখ্য, 
- 'Messenger' এর বাংলা পরিভাষা - বার্তাবহ / সংবাদ-বাহক / দূত।
- 'Ambassador' এর বাংলা পরিভাষা - রাষ্ট্রদূত।

অন্যদিকে,
- 'Ephimeral' এর বাংলা পরিভাষা - ক্ষণস্থায়ী, 
- 'Epidemic' এর বাংলা পরিভাষা - মহামারী,
- 'Enlarger' এর বাংলা পরিভাষা - পরিবর্ধক।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
১৩,৩৫৬.
মরি তো মরব। - এ বাক্যে ‘তো’ কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. পদাণু
  2. স্থানবাচক
  3. কালবাচক
  4. ধরনবাচক
ব্যাখ্যা
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
- বা: কখনাে বা দেখা হবে।
- না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালাে লাগবে।
- তাে: মরি তাে মরব

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৩৫৭.
কোনটি সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) সামি ঘুমায়।
  2. খ) ইকবাল ভাত খাচ্ছে।
  3. গ) রাতুল খেলে।
  4. ঘ) জাহিদ যাবে।
ব্যাখ্যা
• বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার:

• সকর্মক ক্রিয়া:

- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে ৷
যেমন সে বই পড়ছে। ইকবাল ভাত খাচ্ছে। বাক্যগুলোতে ‘পড়ছে’ ও 'খাচ্ছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'বই' ও 'ভাত' ক্রিয়ার কর্ম।

• অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন – সামি ঘুমায়, রাতুল খেলে, জাহিদ যাবে। কারণ এই বাক্যগুলোতে কোনো কৰ্ম নেই ৷

এছাড়াও,
• দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে ।
যেমন – শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। এই বাক্যে ‘দিলেন’ একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
‘কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (‘বই’), আর ‘কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (‘ছাত্রকে’)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
১৩,৩৫৮.
নিচের কোনটি 'অপিনিহিতি' ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয়?
  1. সত্য  > সইত্য
  2. আজি > আইজ
  3. স্কুল> ইস্কুল
  4. চারি > চাইর
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতি: 
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন: 
- সত্য  > সইত্য,
- আজি > আইজ,
- চারি > চাইর,
- সাধু > সাউধ,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'স্কুল> ইস্কুল'  আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩৫৯.
সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে কোনটিতে?
  1. দোসরা
  2. উনিশতম
  3. তেরো
  4. ত্রয়োদশী
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে।
যেমন -
- প্রথমা, দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী, অষ্টমী, নবমী, দশমী, ত্রয়োদশী, ষোড়শী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'দোসরা' তারিখ পূরণবাচক শব্দ।
- সাধারণ পূরণবাচক যোগে - উনিশতম।
- 'তেরো' ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৩৬০.
‘অনা’ প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) খেলনা
  2. খ) কাঁদনা
  3. গ) ঝরনা
  4. ঘ) রাঁধনা
ব্যাখ্যা
অনা প্রত্যয় সাধিত শব্দ √খেল + অনা = খেলনা, √দুল্ +অনা = দোলনা। ‘না’ প্রত্যয় সাধিত শব্দঃ √কাঁদ্ + না = কাঁদনা, √রাঁধ্ + না = রাঁধনা, √ঝর্ + না = ঝরনা।
রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ–নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই।
১৩,৩৬১.
কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করুন : ছাদ থেকে চাঁদ দেখা যায় ।
  1. ক) কর্মে সপ্তমী
  2. খ) করণে শূণ্য
  3. গ) অপাদানে সপ্তমী
  4. ঘ) অধিকরণে পঞ্চমী
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া সম্পাদনের সময় বা কাল বা আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
যেমনঃ 
ছাদ থেকে চাঁদ দেখা যায়।
- হতে, থেকে, চেয়ে - পঞ্চমী বিভক্তি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৩৬২.
'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক নয় কোনটি?
  1. মহীরুহ
  2. পাদপ
  3. মহীধর
  4. দ্রুম
ব্যাখ্যা
'মহীধর' শব্দের অর্থ 'পর্বত'

'পর্বত' শব্দের সমার্থক শব্দ = মহীধর, পাহাড়, গিরি, অচল, শৈল, ভূধর, অদ্রি, শিখরী, শৃঙ্গী, শৃঙ্গধর, মহীধ্র, ভূভৃৎ, নগ।
'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ = গাছ, পাদপ, তরু, বিটপী, দ্রুম, মহীরুহ, শাখী, শৃঙ্গী, পণী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩৬৩.
"শিশুটি খেলা করে।" - নিম্নরেখ অংশটুকু কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. কর্তৃকারকে শূন্য
  4. অপাদানে শূন্য
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
- শিশুটি খেলা করে। 
এখানে, 'ক্রিয়াকে কী দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'খেলা'।
সুতরাং, 'খেলা' এখানে কর্ম কারক। এবং এর সাথে শূন্য বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ )।
১৩,৩৬৪.
‘উপসাগর’ শব্দে ‘উপ’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক্ষুদ্র
  2. সামীপ্য
  3. ব্যাপ্তি
  4. সদৃশ
ব্যাখ্যা
• ক্ষুদ্র অর্থে ‘উপ’ তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ: উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।

-----------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৩,৩৬৫.
তদ্ধিত প্রত্যেয়যোগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. হাতল
  2. ফুলেল
  3. মুখর
  4. লিখিত
ব্যাখ্যা

অপশন বিশ্লেষণ:
ক) হাতল → তদ্ধিত প্রত্যয় (হাত + ল → যন্ত্র/অঙ্গ নির্দেশক)।
খ) ফুলেল → তদ্ধিত প্রত্যয় (ফুল + এল → সুশোভিত)।
গ) মুখর → তদ্ধিত প্রত্যয় (মুখ + র → ধ্বনিসম্পন্ন)।
ঘ) লিখিত → কৃদন্ত শব্দ (√ লিখ্ + ত = লিখিত → ক্রিয়াধাতু থেকে কৃত প্রত্যয়ে গঠিত)

সুতরাং, সঠিক উত্তর: ঘ) লিখিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,৩৬৬.
’শকুনি মামা' অর্থ কী?
  1. কুৎসিত মামা
  2. সৎ মামা
  3. পাতানো মা
  4. কুচক্রী লোক
ব্যাখ্যা
শকুনি মামা - এর অর্থ - কুচক্রী লোক বা অনিষ্টকর আত্মীয়।
উদাহরণ: শকুনি মামাদের কাছ থেকে যত দূরে থাকবে ততই মঙ্গল।

কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
'হস্তিমূর্খ' বাগধারাটির অর্থ - নিরেট মূর্খ
'দুধের মাছি' বাগধারাটির অর্থ - সুসময়ের বন্ধু
'গোঁফ খেজুরে' বাগধারাটির অর্থ - অত্যন্ত অলস
'কংস মামা' বাগধারাটির অর্থ - নির্মম আত্মীয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৩৬৭.
শব্দমূলের অপর এক নাম কী?
  1. ধাতু
  2. প্রকৃতি
  3. প্রত্যয়
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা
এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি শব্দের মূল অংশকে শব্দমূল বলে।
- শব্দমূলের এক নাম প্রকৃতি।
- প্রকৃতি দুই ধরনের: নামপ্রকৃতি ও ক্রিয়াপ্রকৃতি।
- ক্রিয়াপ্রকৃতির অন্য নাম ধাতু।
- নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
- নামপ্রকৃতির উদাহরণ: মা, গাছ, শির, লতা ইত্যাদি। ধাতুর উদাহরণ: ক, যা, চল, ধৃ ইত্যাদি।
- নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলাের নাম উপসর্গ ও প্রত্যয়।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২১ সংস্করণ)।
১৩,৩৬৮.
‘বাস্তুহারা’ কোন সমাস নিষ্পন্ন শব্দ?
  1. ক) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  2. খ) উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  4. ঘ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  5. ঙ) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা

কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন : জলে চড়ে যা - জলচর ; জল দেয় যে - জলদ ; পঙ্কে জন্মে যা - পঙ্কজ।

কৃদন্ত পদ: কৃৎ প্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলে।
যেমন : √চর্‌ > চর (বিচরণ করা অর্থে) ; √ধর্‌ > ধর (ধরা অর্থে)

উপপদ: কোন শব্দকে বিশ্লেষণ করলে যদি একটি পৃথক শব্দ, এরপর ধাতু, এরপর প্রত্যয় পাওয়া যায় (শব্দ + ধাতু + প্রত্যয়) এবং সেই প্রত্যয়টি হয় কৃৎ প্রত্যয় তাহলে প্রাপ্ত বিশিষ্ট শব্দকে উপপদ বলা হয়।
যেমন : বাস্তুহারা = বাস্তু + √হার্‌ + আ ; খেচর = খ + √চর্‌ + অ।

সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১৩,৩৬৯.
‘Assonance ‘ এর বাংলা পরিভাষা কী?
  1. ক) অনুপ্রাস
  2. খ) স্বরানুপ্রাস
  3. গ) বিদ্রুপ
  4. ঘ) সম্বোধন অলঙ্কার
ব্যাখ্যা
Assonance এর বাংলা পরিভাষা হল স্বরানুপ্রাস। Alliteration – অনুপ্রাস, Irony- বিদ্রুপ, Apostrophe- সম্বোধন অলঙ্কার। রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- সৌমিত্র শেখর। শীকর বাংলা প্রশ্ন পাঠ- মোহসীনা নাজিলা।
১৩,৩৭০.
"বিড়ালের আড়াই পা" বাগ্‌ধারাটির অর্থ-
  1.  আনন্দ প্রকাশ করা
  2. ক্ষণস্থায়ী রাগ
  3. ভান করা
  4. অতিরিক্ত চালবাজি
ব্যাখ্যা

• বিড়ালের আড়াই পা - ক্ষণস্থায়ী রাগ।
বাক্য গঠন: তাঁর কাছে যেতে ভয় পাচ্ছ কেন? তাঁর রাগ তো বিড়ালের আড়াই পা।

অন্যদিকে,
• বগল বাজানো - আনন্দ প্রকাশ করা।
বাক্য গঠন: পরকে বিপদে পড়তে দেখলে বগল বাজিয়ো না। 

• ‘ভেক ধরা’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - ভান করা।
বাক্য গঠন: কোনো কাজ ভালো ভাবে না পারলেও সে ভেক ধরে যে সব পারে।

• ‘ফোঁপর দালালি' বাগধারাটির অর্থ- অতিরিক্ত চালবাজি।
বাক্য গঠন: সবসময় ফোঁপর দালালি করাই মোহিতের অভ্যাস। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ,বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,৩৭১.
ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ কোনটি ?
  1. তৃতীয়
  2. প্রথম
  3. আধ
  4. ছয়
ব্যাখ্যা
• সংখ্যাবাচক শব্দ:
যেসব শব্দ দিয়ে সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে সংখ্যাবাচক শব্দ বলে।

• সংখ্যাশব্দ দুই রকমের।
যথা:
১. ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ: একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলোকে ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
যেমন- ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট) ইত্যাদি।

২. পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ: পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ দিয়ে কোন সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়। যেমন- ‘এক’ সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ‘প্রথম’, ‘প্রথমা’, ‘পহেলা’ ইত্যাদি। পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ তিন ধরণের হয়:

- সাধারণ পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ.....দ্বাদশ ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক: পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আধ, সাড়ে পোয়া, দেড়, আড়াই তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৩৭২.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. নিমরাজি
  2. উপহার
  3. স্টেশন
  4. জগতে
ব্যাখ্যা
• জগৎ (বিশেষ্য পদ),
অর্থ: ভুবন, বিশ্ব, পৃথিবী।

• 'জগৎ' শব্দে 'এ' সপ্তমী বিভক্তিযুক্ত হয়ে গঠিত শব্দ 'জগতে'।

---------------
• বিভক্তি:
যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
বাংলা শব্দে বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা:
• প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: শূণ্য, অ।
• দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
• তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
• চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
• ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
• সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং অভিগম্য অভিধান।
১৩,৩৭৩.
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √দীপ্য + মান = দীপ্যমান
  2. √বিদ্য + মান = বিদ্যমান
  3. √বর্ত + মান = বর্তমান
  4. √যজ্ + মান = যজমান
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় -মান (শানচ্)
ঘটমান অর্থে-
- √বৃৎ + মান = বর্তমান,
- √যজ্ + মান = যজমান,
- √বিদ্‌ + মান বিদ্যমান,
- √দীপ্ + মান = - দীপ্যমান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৩৭৪.
'সরোবর' শব্দের অর্থ -
  1. রাস্তা
  2. বাগান
  3. জলাশয়
  4. চন্দ্র
ব্যাখ্যা
• 'সরোবর' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- জলাশয়,
- পুষ্করিণী,
- পুকুর,
- দিঘী,
- জলাধার,
- জলা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৩,৩৭৫.
কোন দুটি অঘোষ ধ্বনি?
  1. ঝ, গ
  2. ছ, শ
  3. ন, র
  4. ভ, ম
ব্যাখ্যা
• ছ, শ - দুটি অঘোষ ধ্বনি।

ঘােষ ব্যঞ্জন:

যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি। যথা:
ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি, যথা:
প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ, হ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
১৩,৩৭৬.
'সাইরেন বেজে উঠল।' - বাক্যটিতে কোন ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
  1. নাম ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- সে পাস করে গেল।
- সাইরেন বেজে উঠল

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৩,৩৭৭.
বিশেষণ বর্গের উদাহরণ রয়েছে কোনটিতে?
  1. সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।
  2. অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
  3. আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।
  4. সে লিখছে আর হাসছে। 
ব্যাখ্যা

• বিশেষণবর্গ:
- বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।

যেমন:
- আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।
- ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।
- পোকায় খাওয়া কাঠ দিয়ে আসবাব বানানো ঠিক নয়।

অন্যদিকে,
ক্রিয়াবর্গ:
- বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গতৈরি করে।
যেমন:
- সে লিখছে আর হাসছে।

বিশেষ্যবর্গ:
- বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন 
- আমার ভাই পড়তে বসেছে।
- অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।

ক্রিয়া বিশষেণ-বর্গ: যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন,
সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৩,৩৭৮.
যোগরুঢ় শব্দ কোনটি?
  1. ক) গায়ক
  2. খ) জলধি
  3. গ) গবেষণা
  4. ঘ) গোলাপ
ব্যাখ্যা
• সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতি বিশেষ'।
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই পঙ্কজ একটি যোগরূঢ় শব্দ।

গায়ক = যৌগিক শব্দ 
গবেষণা = রূঢ়ি শব্দ
গোলাপ = মৌলিক শব্দ 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৩৭৯.
নিচের কোন বাক্যে অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) মহারাজ সভাগৃহে প্রবেশ করিলেন।
  2. খ) বাড়ির মালিক যে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল, তা নয়।
  3. গ) তারা একত্রে গমন করলো।
  4. ঘ) সূর্যের উদয় হয়েছে।
ব্যাখ্যা

মহারাজ সভাগৃহে প্রবেশ করিলেন।
বাড়ির মালিক যে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল, তা নয়।
সূর্যের উদয় হয়েছে।
বাক্যগুলি সম্পূর্ন সঠিক।

তারা একত্রে গমন করলো। বাক্যটি সঠিক নয়।
শুদ্ধ রূপঃ তারা একত্র গমন করলো।

উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,৩৮০.
‘ধুয়া ধরা' বাগধারার প্রকৃত অর্থ কি?
  1. ক) বৃথা চেষ্টা করা
  2. খ) বজায় থাকা
  3. গ) বাজে অভ্যাস ধরা
  4. ঘ) আবদার বা ছুতো করা
ব্যাখ্যা
• ধুয়া 
[ধুয়া, ধূয়া, ধুয়ো](বিশেষ্য)
অর্থ:
১ গানের যে অংশ দোহারগণ বার বার গায়; chorus (গানের ধুয়া)। 
২ (আলঙ্কারিক) যে উক্তি বার বার করা হয় (তাদের একই ধুয়া)। 
আবদার; ছল; ছুতা (ধুয়া ধরা)। 
ধুয়া তোলা (ক্রিয়া) ছল করা; অছিলা করা। 
ধুয়া ধরা (ক্রিয়া) ধুয়া তোলা; গানের ধুয়া ধরা। 

উৎস: অভিগম্য অভিধান।
১৩,৩৮১.
অশুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √নাচ্ + অন = নাচন
  2. √দুল্ + অনা = দোলনা
  3. √খেল্ + অনা = খেলনা
  4. √কৃ + অন = করণীয়
ব্যাখ্যা
• 'করণীয়' শব্দটির শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় — √কৃ + অনীয়। 
------------------- 
• প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার।
যথা:
১.কৃৎ প্রত্যয় এবং
২.তদ্ধিত প্রত্যয়।

• কৃৎ প্রত্যয়:
ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য।

বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে।
যথা:
বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
√কাঁদ্ + অন = কাঁদন, √নাচ্ + অন = নাচন, √দুল্ + অনা = দোলনা, √খেল্ + অনা = খেলনা।

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
ধাতুর সঙ্গে যেসব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন: 
√নৈ + অক = নায়ক, √গৈ + অক = গায়ক, √কৃ + অনীয় = করণীয়, √রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৩৮২.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) অপশ্রূতি
  2. খ) অপশ্রুতী
  3. গ) অপ্রোশ্রুতি
  4. ঘ) অপশ্রুতি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - অপশ্রুতি
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [অপ+√শ্রু+তি]
অর্থ: স্বর ধ্বনির পরিবর্তনসংক্রান্ত গুণ বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৩৮৩.
নিচের কোনটি একপদী ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ?
  1. ভয়ে ভয়ে
  2. গুনগুনিয়ে
  3. যায় যায়
  4. চুপি চুপি
ব্যাখ্যা

• গুনগুনিয়ে - একপদী ক্রিয়াবিশেষণ এর উদাহরণ। 

ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
- বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৩,৩৮৪.
‘অকালপক্ব’ কোন জাতীয় সমাস?
  1. ক) অলুক তৎপুরুষ
  2. খ) ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. গ) সপ্তমী তৎপুরুষ
  4. ঘ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বুঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসে সপ্তমী বিভক্তি লোপ পায়। ভূতপূর্ব, অশ্রুতপূর্ব, অকালপক্ব, কৃষিপ্রধান, ঘরপোড়া, গালভরা ইত্যাদি হলো সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৩,৩৮৫.
Q 6-10 শব্দের অর্থ নির্ণয় করুন: কিরীট
  1. কীট পতঙ্গ
  2. ছুরি
  3. তলোয়ার
  4. মুকুট
ব্যাখ্যা
• কিরীট (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: 
- মুকুট,
- শিরভূষণ,
- পাগড়ি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,৩৮৬.
'জাগরূক' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃত প্রত্যয় কোনটি?
  1. জাগৃ + ঊক 
  2. জাগর + উক
  3. জাগৃ + উক
  4. জাগ্র + ঊক
ব্যাখ্যা

• উক/ঊক- সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
- ভু + উক = (ভৌ + উক) ভাবুক,
- জাগৃ + ঊক = (জাগর + ঊক) জাগরূক।

এরূপ কিছু সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় হলো-
• ক্ত-প্রত্যয় ('ক্' ইৎ 'ত' থাকে): √জ্ঞা + ক্ত (জ্ঞা+ত) = জ্ঞাত, খ্যা + ক্ত = খ্যাত।
• তব্য: √কৃ + তব্য =  কর্তব্য, দা + তব্য = দাতব্য, পঠ + তব্য = পঠিতব্য।
• ইন্ প্রত্যয় (ইন)-ঈ-কার হয়): √শ্রম্ + ইন্ = শ্রমী।
• অল্-প্রত্যয় (ল ইৎ, অ থাকে): জি + অল্ = জয়, ক্ষি + অল্ = ক্ষয়। এরূপ-ভয়, নিচয়, বিনয়, ভেদ,বিলয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৩,৩৮৭.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছের প্রতিটিই ‘পৃথিবী’ শব্দের সমার্থক?
  1. মহী, মেদিনী, পাথার
  2. জলধি, সিন্ধু, ক্ষিতি
  3. ভূধর, ভুবন, পৃথ্বী
  4. বসুধা, অবনী, ধরিত্রী
ব্যাখ্যা

বসুধা, অবনী, ধরিত্রী - শব্দগুচ্ছের প্রতিটিই ‘পৃথিবী’ শব্দের সমার্থক 

'পৃথিবী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- জগৎ, ভুবন, সংসার, বিশ্ব, ধরা, ধরণী, ধরিত্রী, বসুমতী, বসুন্ধরা, পৃথ্বী, দুনিয়া, ভূ, ভূমণ্ডল, মর্ত্য, বসুধা, অবনী, মহী, মেদিনী, ক্ষিতি।

অন্যদিকে,
'পাহাড়' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- পর্বত, ভূধর, অচল, অদ্রি ইত্যাদি।

'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ:
-সাগর, সিন্ধু, সায়র, দরিয়া, জলধি, অকূল, পাথার, বারিধি, রত্নাকর, নীলাম্বু, পয়োধি ইত্যাদি।

'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- জলদ, জলধর, নীরদ, বারিদ, ঘন, জীমূত, অভ্র, অম্বুবাহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,৩৮৮.
'বাতাস' এর সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. সমীর
  2. মারুত
  3. অগ্নিসখ
  4. মহি
ব্যাখ্যা
• 'বাতাস' এর সমার্থক শব্দ:
- বায়ু, পবন, সমীর, সমীরণ, গন্ধবহ/গন্ধবাহ, অনিল, মারুত, বাত, বায়, আশুগ, পবমান, সদাগতি, নভঃশ্বাস, শব্দবহ, অগ্নিসখ, জগতায়ু, জগৎপ্রাণ, মাতরিশ্বা, জগদ্বল, ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
• 'পৃথিবী’ শব্দের সমার্থক শব্দ - মহি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৩৮৯.
‘পলাতক দাসে দাও স্বাধীনতা’ - এখানে ‘দাসে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে সপ্তমী
  2. কর্মে সপ্তমী
  3. অধিকরণে পঞ্চমী
  4. সম্প্রদানে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• ‘পলাতক দাসে দাও স্বাধীনতা’ - এখানে ‘দাসে’ সম্প্রদানে কারকে সপ্তমী বিভক্তি

সম্প্রদান কারক:

- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক।
- দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে।
- তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্পদান কারক হয় না।
যেমন: 
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও। (সম্প্রদানে ৪র্থী)।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর। (সম্প্রদানে সপ্তমী)।
- সমিতিতে চাঁদা দাও। (সম্প্রদানে সপ্তমী)।
- অন্ধজনে দেহ আলাে। (সম্প্রদানে সপ্তমী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৩৯০.
'তেষ্টায় বুকটা ফেটে গেল।' এখানে 'তেষ্টায়' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
- 'করণ' শব্দের অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের উপকরণ বা উপায়কে বলা হয় করণ কারক।
- অন্যভাবে বলা যায়, কর্তা যে পদের সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বলা হয় করণ কারক।
- ক্রিয়াপদকে কিসের দ্বারা, কিসের সাহায্যে বা কী উপায়ে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে করণ কারক পাওয়া যায়।

যেমন:
- সুজলা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ-কলম)
- জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়। (উপায়-সাধনায়)
- অহংকারে পতন ঘটে।

এরূপ-
- তেষ্টায় বুকটা ফেটে গেল।
[প্রশ্নে প্রদত্ত বাক্যের ক্রিয়াকে কিসের কারণে বা দ্বারা? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'তেষ্টায়'। অতএব 'তেষ্টায়' করণ কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৩৯১.
'প্র যে হার' ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. কর্মধারায় সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা
• প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যথা:
- প্র যে হার = প্রহার;
- অতি (অতিক্রান্ত) মাত্রা = অতিমাত্র; 
- উৎ (ত্যক্ত) বাসু = উদ্বাস্থ;
- উৎ (উৎক্রান্ত) বেলা = উদ্বেল;
- উৎ যে শ্বাস = উচ্ছ্বাস;
- উৎ (উন্নত) কণ্ঠিত = উৎকণ্ঠিত;
- প্র (প্রকৃষ্ট) গতি = প্রগতি;
- প্র (প্রকৃষ্ট) ভাত = প্রভাত;
- প্রতি যে হিংসা = প্রতিহিংসা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৩৯২.
সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস নয় কোনটি? 
  1. মৃগশিশু
  2. জলমগ্ন 
  3. উপলখণ্ড
  4. জীবনসঞ্চার 
ব্যাখ্যা

সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস নয়- জলমগ্ন।  
----------------------- 
• ষষ্ঠী তৎপুরুষ বা সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস:
- ষষ্ঠী তৎপুরুষ বা হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তি (য, এর) লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রধানভাবে প্রকাশ পায়।
- এটি মূলত সম্বন্ধ পদ তৈরি করে।
- এই সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের মধ্যে যৌক্তিক বা সম্পর্কসূচক অর্থ থাকে।

- উদাহরণস্বরূপ:
চা-বাগান = চায়ের বাগান,
রাজহংস = হংসের রাজা,
মৃগশিশু = মৃগের শিশু, 
উপলখণ্ড = উপলের খণ্ড, 
জীবনসঞ্চার = জীবনের সঞ্চার, 
কবিগুরু = কবিদের গুরু, 
গৃহকর্ত্রী = গৃহের কর্ত্রী, 
মার্তণ্ডপ্রায় = মার্তণ্ডের প্রায়, 
পুষ্পসৌরভ = পুষ্পের সৌরভ, 
পূর্বাহ্ণ = অহ্নের পূর্বভাগ, 
বনস্পতি = বনের পতি, 
গণতন্ত্র = জনগণের তন্ত্র, 
রাজদণ্ড = রাজের দণ্ড, 
রাজপথ = পথের রাজা, 
পুষ্পাঞ্জলি = পুষ্পের অঞ্জলি, 
পৌরসভা = পৌরদের সভা।
-----------------------
অন্যদিকে,
জলমগ্ন (জলে মগ্ন) সপ্তমী তৎপুরুষ বা অধিকরণ তৎপুরুষ সমাস। 

- সপ্তমী তৎপুরুষ বা অধিকরণ তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (যেমন – এ, য়, তে) লোপ পেয়ে সমাস গঠিত হয়।
- এই সমাসের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, পূর্বপদকে “কোথায়, কখন, কীসে দ্বারা” প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যাবে তাই সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস। 
- উদাহরণস্বরূপ:
- গাছপাকা = গাছে পাকা,
- মাথাব্যথা = মাথায় ব্যথা,
- বনভোজন = বনে ভোজন,
- রথারোহণ = রথে আহোরণ,
- তমাসাচ্ছন্ন = তমসায় আচ্ছন্ন,
- সলিলসমাধি = সলিলে সমাধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩,৩৯৩.
"ঋ’, ‘র’, ‘ষ’- এর পর ‘ণ’ হয়।" নিচের কোন শব্দে এ বিধান কার্যকর হয়েছে?
  1. কল্যাণ
  2. বিষ্ণু
  3. ভাণ
  4. বেণু
ব্যাখ্যা
• 'বিষ্ণু' - শব্দে ঋ-কার ও র-এর পর ‘ণ’ হয়' এই বিধান এর ব্যবহার হয়েছে। 

• ণ-ত্ব বিধান অনুসারে,
ঋ, র, ষ -- এই তিন বর্ণের পরে 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ঋণ, তৃণ, ঘৃণা, ঘূর্ণন, মরণ, ব্যাকরণ, কৃষ্ণ, বিষ্ণু, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়।
যেমন:
পুন্য, লাবণ্য, কল্যাণ, আপণ, গৌণ, ভাণ, শাণ, চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৩৯৪.
ফলাযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. কর্জ
  2. লিপ্সা
  3. অম্লজান
  4. ফর্ম
ব্যাখ্যা
• ফলাযুক্ত শব্দ- অম্লজান। 
- এখানে 'ল' ফলা যুক্ত হয়েছে।
----------------- 
• অনুবর্ণ:
- ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ।
- অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

• ফলা:
- ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে।
বাংলা বর্ণমালায় ফলা বর্ণ ৬টি।
যেমন:
- ন-ফলা,
- ব-ফলা,
- ম-ফলা,
- য-ফলা,
- র- ফলা,
- ল-ফলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৩৯৫.
নিচের কোনটি ধ্বনি পরিবর্তন বিষমীভবনের উদাহরণ?
  1. ক) দেশি > দিশি
  2. খ) কবাট > কপাট
  3. গ) লাল > নাল
  4. ঘ) স্কুল > ইস্কুল
ব্যাখ্যা
'লাল > নাল'- বিষমীভবনের উদাহরণ। 

বিষমীভবন
 দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন- লাল > নাল, শরীর > শরীল। 

তাছাড়া,
স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর ঘরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন – দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

আদি স্বরাগম:
উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে বলে আদি স্বরাগম।
যেমন- স্কুল > ইস্কুল

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোন কোন সময় ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমনঃ কবাট > কপাট, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।  
১৩,৩৯৬.
'মানুষ'-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক লগ্নক কোনটি?
  1. ক) জন
  2. খ) খানা
  3. গ) টুকু
  4. ঘ) টি
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক:
- যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন-টা, টি, খানা, -খানি, -জন, -টুকু।

নিচে কয়েকটি নির্দেশকের প্রয়োগ দেখানো হলো ।

• -টা, -টি
- বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা, টি নির্দেশক বসে। এর দুটি রূপান্তর: -টো ও -টে।
- যেমন - বাড়িটা, ছেলেটা, এটা, সেটা, আমারটা, কিছুটা, একটা, সারাটা, করাটা; দিনটি, মেয়েটি, একটি, কয়েকটি, আরেকটি; দুটো; তিনটে ইত্যাদি।

• -খানা, -খানি
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে খানা, খানি নির্দেশক বসে। যেমন -
- ব্যাপারখানা, ভাবখানা, একখানা, আধখানা, মুখখানি, অনেকখানি ইত্যাদি।
যেসব ক্ষেত্রে -টা বা -টি বসে, সেসব ক্ষেত্রে -খানা বা -খানি বসতে পারে। যেমন, বাড়িটা বা বাড়িটি না বলে বাড়িখানা বা বাড়িখানিও বলা যায়।

• -জন
- শুধু মানুষের বেলায় -জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়
যেমন- বিজ্ঞজন, লোকজন, অনেকজন, কয়জন, এতজন, পণ্ডিতজন।
- সংখ্যার সঙ্গেও -জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়। যেমন - একজন রাজা, দুজন ডাক্তার ইত্যাদি।
- অধিক সংখ্যার বেলায় ‘জন' নির্দেশকটি সংখ্যা পরে আলাদা শব্দের মতো বসে। যেমন - পাঁচ জন, পঁচিশ জন, ৪৫ জন ইত্যাদি।

• -টুকু
- টুকু নির্দেশক দিয়ে কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায়।
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়। এর রূপভেদ -টু বা -টুক।
যেমন: সাবানটুকু, হাসিটুকু, শরবতটুকু, এতটুকু, সময়টুকু, একটু আধটু, যতটুক, ততটুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
১৩,৩৯৭.
‘গবেষণা’ শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গো+ষণা
  2. গো + এষণা
  3. গ+ষণা
  4. গব+এষণা
ব্যাখ্যা
- এটি স্বরসন্ধি সাধিত শব্দ।
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্‌ ও আব্‌ হয়।
যেমন:
• নে + অন = নয়ন,
• নৈ + অক = নায়ক,
• পৌ + অক = পাবক,
• গো + এষণা = গবেষণা,
• পো + ইত্র = পবিত্র,
• নৌ + ইক = নাবিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৩,৩৯৮.
উচ্চরণস্থান অনুযায়ী মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি হচ্ছে-
  1. খ, ঘ
  2. ছ, ঝ
  3. ঠ, ঢ
  4. দ, থ
ব্যাখ্যা
• যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চরণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সগেুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।

উচ্চরণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
- ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন - প, ফ, ব, ভ।
- দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন - ত, থ, দ, ধ।
- মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন - ট, ঠ, ড, ঢ।
- তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন - চ, ছ, জ, ঝ।
- কন্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন - ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ,নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,৩৯৯.
তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে?- এখানে 'না'-এর ব্যবহার কি অর্থে?
  1. না-বাচক
  2. হ্যাঁ-বাচক
  3. প্রশ্নবোধক
  4. বিস্ময়সূচক
ব্যাখ্যা
• তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে?- এখানে 'না'- প্রশ্নাত্মক/প্রশ্নবোধন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর:

নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে প্রশ্নাত্মক বাক্যটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যার সবচেয়ে কাছাকাছি সম্ভাব্য উত্তর হবে নির্দেশাত্মক বাক্যটি।

• সূত্র: নির্দেশাত্মক বাক্য হ্যাঁ-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে না-বাচক, নির্দেশাত্মক বাক্য না-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে হ্যাঁ-বাচক। প্রথমটির ক্ষেত্রে বিধেয় ক্রিয়ার সঙ্গে নঞর্থক শব্দ যোগ করতে হয়, দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে নঞর্থক শব্দ বর্জন করে 'আর' প্রভৃতি বাক্যালঙ্কার শব্দের আগমন ঘটাতে হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: দেশপ্রেমিককে সবাই ভালোবাসে।
• প্রশ্নাত্মক: দেশপ্রেমিককে কে না ভালোবাসে?

তেমনই,
• নির্দেশাত্মক: তুমি বলেছিলে আগামীকাল আসবে।
• প্রশ্নাত্মক: তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে?

• সূত্র: রূপান্তরিত বাক্যে প্রয়োজনমতো 'কে', 'কি', 'কোথায়' ইত্যাদি প্রশ্নাত্মক শব্দ এবং প্রশ্ন (?) চিহ্ন বসাতে
হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: কেউ মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে না।
• প্রশ্নাত্মক: কেউ কি মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,৪০০.
কোনটি সাধিত শব্দ?
  1. মা
  2. দরদি
  3. লাল
  4. ভাত
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ - দরদি

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
যথা:
→ চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ),
→ নীলাকাশ (নীল যে আকাশ),
→ ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি),
→ চলন্ত (চল্ + অন্ত),
→ প্রশাসন (প্র + শাসন),
→ গরমিল (গর + মিল), 
দরদি (দরদ + ই) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বাকিগুলো মৌলিক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।