ব্যাখ্যা
যেমন:
• জ্ + ন = জ্ + ঞ্; যজ্ + ন = যজ্ঞ।
• চ্ + ন = চ্ + ঞ; যাচ্ + না = যাচ্ঞা, রাজ্ + নী = রাজ্ঞী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১৩৩ / ৩৫৪ · ১৩,২০১–১৩,৩০০ / ৩৫,৭১৩
• ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি
ত্ ও দ্-এর পর চ্ ও ছ থাকলে ত্ ও দৃ স্থানে চ্ হয়। যেমন-
- সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা।
- উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ।
- বিপদ + চয় = বিপচ্চয়।
- বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া।
এরূপ – উচ্চারণ, শরচ্চন্দ্র, সচ্চরিত্র, তচ্ছবি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
কম্পিত ব্যঞ্জন:
- বযে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের র কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
অন্যদিকে,
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
‘নয় দুয়ারে দুয়ারে না ঘুরে এবার সংসারী হও’ বাক্যটিতে বাগধারা জনিত অশুদ্ধি আছে।
শুদ্ধ বাক্য হবে - নয়-দুয়ারি হয়ে না ঘুরে এবার সংসারী হও।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
সঠিক উত্তর - গ) লিখ্।
ব্যাখ্যা:
'লেখক' শব্দের গঠন বিশ্লেষণ:
-√লিখ্ (মূল ধাতু) + অক (প্রত্যয়) = লেখক।
অন্যান্য উদাহরণ:
- √গৃহ্ + অক = গ্রাহক
- √নী + অক = নায়ক।
- √কৃ + অক = কারক।
উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• ‘কুম্ভীরাশ্রু’ শব্দের অর্থ - মায়াকন্না।
বাক্য গঠন: কুম্ভীরাশ্রু করে লাভ নেই, চুরি করার অপরাধে চোরকে জেলে যেতে হবে।
অন্যদিকে,
কাকস্নান - অসম্পূর্ণ গোসল;
কুমিরের সন্নিপাত- অসম্ভব ব্যাপার ;
জলে কুমীর ডাঙ্গায় বাঘ - উভয় সংকট।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ভাষাশিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
সঠিক উত্তর - খ) অভিব্যাপক
আধারাধিকরণ:
- আধারাধিকরণ হলো সেই ধরনের অধিকরণ যা কোনো স্থানের, বস্তু বা বিষয়ের অবস্থান, বিস্তৃতি বা গুণাবলীর সঙ্গে সম্পর্কিত।
আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক,
৩. বৈষয়িক।
১. ঐকদেশিক:
- বিশাল স্থানের কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
- উদাহরণ:
পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের কোনো এক স্থানে),
বনে বাঘ আছে। (বনের কোনো এক অংশে),
আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে),
- সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়।
ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে।
দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে।
রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।
২. অভিব্যাপক:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
- উদাহরণ:
তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী),
নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)।
৩. বৈষয়িক:
- বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক আধারাধিকরণ হয়।
- উদাহরণ:
আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।
• 'কন্যা' শব্দের সমার্থক শব্দ - দুহিতা।
অন্যদিকে,
- ললিত অর্থ- সুন্দর, চারু, মনোরম
- দীপ্তি অর্থ - প্রভা, আলোক।
- তপস্বী অর্থ - সন্ন্যাসী, ঋষি।
• 'কন্যা' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- মেয়ে, দুহিতা, আত্মজা, নন্দিনী, তনয়া, পুত্রী, ঝি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'চন্দ্রিমা' অর্ধ-তৎসম শব্দ।
- শব্দটি সংস্কৃত 'চন্দ্রমাঃ' শব্দ থেকে বিকৃত হয়ে অর্ধ-তৎসম শব্দ 'চন্দ্রিমা' হয়েছে।
• কিছু সংস্কৃত শব্দ:
সূর্য, চন্দ্র, জল, গৃহ, মৃত্তিকা, রাম, রাবণ, পুত্র, মাতা, পিতা, জননী, দেব, দেবী, দর্শন, বয়ন, গমন, রাত্রি, দিবা, সৌর্য, বীর্য, কৃতিত্ব, আদিত্য, নারায়ণ, বৃক্ষ, পশু, লতা, নর, নারী, বেদ, বেদান্ত, উপনিষদ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য য় বহং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+), লক্ষণ (ক্+অ+ ণ)। এরূপ রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়। যথা: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী।
যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না। যেমন: হিন্দি শব্দ- ঠান্ডা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• 'আকস্মিক' এর বিপরীত শব্দ - চিরন্তন।
অন্যদিকে,
• 'বিসর্জন' এর বিপরীত শব্দ - আবাহন।
• 'সাময়িক' এর বিপরীত শব্দ - চিরায়ত।
• 'নির্মীলিত' এর বিপরীত শব্দ- 'উন্মীলিত'।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
'ময়ূর' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কলাপী, কেকী, শিখী , শিখণ্ডী, বর্হী, বর্হিণ।
অন্যদিকে,
'সাপ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- সৰ্প, অহি, ফণী, নাগ, ভুজগ, ভুজঙ্গ, আশীবিষ, উরগ, বিষধর, পন্নগ।
'সিংহ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কেশরী, পশুরাজ, মৃগেন্দ্র, মৃগরাজ।
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব :
অর্থের দিক থেকে যে দ্বন্দ্ব পরস্পরের মধ্যে বিরােধ তৈরি করে তাকে বলা হয় বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব।
যেমন- ভালােমন্দ, সাদাকালাে, দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক, দেবদানব, ধনীগরিব ইত্যাদি।
• বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব :
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বিরােধী ভাব বা অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- যেমন- ভালােমন্দ, দিনরাত, টকমিষ্টি, দেশেবিদেশে, ছেলেবুড়াে, আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, লাভ-লােকসান ইত্যাদি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
[প্রশ্নে বানান ভুল আছে। প্রশ্নটি হতো- নিচের কোন বিশেষ্য-বিশেষণ জোড় শুদ্ধ নয়?]
⇒ অশুদ্ধ বিশেষ্য-বিশেষণ জোড় - ঢাল-ঢিলে।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• ঢাল (বিশেষ্য),
- এটি হিন্দি শব্দ।
- অর্থ: ঢালু জমি, অস্ত্রাঘাত থেকে রক্ষার জন্য ব্যবহৃত চামড়া পুরু বর্ম।
- ঢাল এর বিশেষণ রূপ হচ্ছে ঢালু।
• ঢিলা শব্দটি বাক্যে বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এটি বাংলা শব্দ।
অর্থ: শিথিলতা, অলস, শিথিল।
- ঢিলা শব্দের বিশেষণ রূপ হচ্ছে ঢিলে।
অন্যদিকে,
• জরা (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- জরা শব্দের অর্থ: বৃদ্ধ, স্থবিরতা, বার্ধক্য।
- জরা শব্দের বিশেষণ: জীর্ণ।
• জগৎ (বিশেষ্য,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- যার অর্থ: ভুবন, বিশ্ব, পৃথিবী, সমাজ।
- জগৎ শব্দের বিশেষণ: জাগতিক।
• চুরি (বিশেষ্য),
- এটি তদ্ভব শব্দ।
- যার অর্থ: না বলে পরদ্রব্য হরণ, চৌর্য, গোপনে আত্মসাৎকরণ।
- চুরি শব্দের বিশেষণ: চোরাই।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'দাতা' শব্দের অর্থ:
- যে ব্যক্তি দান করে; দানকারী; বদান্য।
- 'দাত্রী' — দাতার স্ত্রীবাচক শব্দ।
• 'দাতা' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ 'গ্রহীতা'।
অন্যদিকে,
'ধাত্রী' অর্থ- গর্ভধারিণী; মাতা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
তৎসম শব্দ:
-যেসব শব্দ পরিবর্তন ছাড়াই সংস্কৃত থেকে বাংলায় সরাসরি এসেছে সেগুলোকে 'তৎসম শব্দ' বলে।
- কিছু তৎসম শব্দ:
- চন্দ্র,
- সূর্য,
- নক্ষত্র,
- হস্ত,
- ভবন,
- ধর্ম,
- পাত্র,
- মনুষ্য ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'কারক বিশ্লেষণ' ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্ব অংশের আলোচ্য বিষয়।
• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য। তাছাড়া, বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরক্ত শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়।
যেমন-
১. মানুষের ধ্বনির অনুকার: ভেউ ভেউ – মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি। এরূপ-ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।
২. জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এরূপ-মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), কুহু কুহু (কোকিলের ডাক), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।
৩. বস্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ)। এরূপ-মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ঝমঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ), হু হু (বাতাস প্রবাহের শব্দ) ইত্যাদি।
৪. অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার: ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)। এরূপ ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), কুট কুট (শরীরে কামড় লাগার মতো অনুভূতি)। অনুরূপভাবে- মিন মিন, পিট পিট, ঝি ঝি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• শুদ্ধ বানান - গনাগোষ্ঠী,
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [গনা+স. গোষ্ঠী],
অর্থ: সমস্ত আত্মীয়স্বজন, গোষ্ঠীবর্গ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বাংলা বর্ণমালায় — ১টি কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনি রয়েছে।
যেমন,
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনি - হ।
• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
যেমন,
- 'হাতি' শব্দের 'হ' কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• 'নাতিশীতোষ্ণ’ শব্দটি নঞ তৎপুরুষ সমাস।
-----------------------
• নঞ তৎপুরুষ সমাস:
- নঞ তৎপুরুষ সমাস হলো এমন তৎপুরুষ সমাস যেখানে পূর্বপদে না-বাচক অব্যয় (যেমন: অ, অনা, বে, বি, না, নি, গর) থাকে এবং পরপদের অর্থ প্রধান হয়ে প্রকাশ পায়।
- এটি সাধারণত অবিমূর্ত বা অদৃশ্য বস্তু, ভাব, গুণ বা ধর্ম বোঝায়।
- নঞ তৎপুরুষ সমাসের নিয়ম:
- পূর্বপদ = না-বাচক অব্যয়;
- পরপদ = বিশেষ্য বা বিশেষণ;
- অর্থ প্রধান = পরপদ;
- বোঝানো বস্তু = অবিমূর্ত, যেমন: সত্য, মিথ্যা, বিশ্বাস, ক্ষত, খ্যাত, মঞ্জুর, সুখ ইত্যাদি
- উদাহরণসমূহ:
- অবিশ্বাস → নয় বিশ্বাস,
- অক্ষত → নয় ক্ষত,
- নাতিদীর্ঘ → নয় অতি দীর্ঘ,
- অনিষ্ট → ন ইষ্ট,
- অসময় → ন সময়,
- অনুর্বর → ন উর্বর,
- অসহযোগ → ন সহযোগ,
- অকাল → ন কাল,
- অসুর → ন সুর,
- বেসরকারি → ন সরকারি,
- নামঞ্জুর → নয় মঞ্জুর,
- গরমিল → নাই মিল,
- অনাচার → ন আচার,
- নাতিশীতোষ্ণ → ন অতি শীতোষ্ণ,
- অনশন → ন অশন,
- অনাবশ্যক → নয় আবশ্যক।
-------------------------
অন্যদিকে,
• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হলো সেই সমাস যেখানে পূর্বপদের দ্বিতীয় বিভক্তি (যেমন—কে, রে) বিলীন হয়ে যায়;
- এবং পরপদের অর্থই মূলভাবে প্রকাশ পায়।
- উদাহরণ:
- ‘বিপদকে আপন্ন’ → ‘বিপদাপন্ন’; এখানে ‘কে’ বিভক্তি বিলীন হওয়ায় এটি দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাস।
• নঞ্ বহুব্রীহি সমাস:
- নঞ্ বহুব্রীহি সমাস সেই সমাস, যেখানে পূর্বপদে না-বাচক অব্যয় (যেমন: ন, না, নেই, নাই, অ, আ) এবং পরপদে বিশেষ্য থাকে, এবং পুরো সমাসের অর্থ মূলত অন্য কোনো বস্তু বা গুণকে নির্দেশ করে।
- সাধারণত এই সমাসে ব্যাসবাক্যে ‘যার’, ‘যাতে’ ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ:
- অজ্ঞান = নেই জ্ঞান যার,
- নির্বোধ = নেই বোধ যার,
উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।
অন্যদিকে,
‘গুরুভক্তি’ চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস। এর ব্যাসবাক্য হচ্ছে - গুড়ুকে ভক্তি = গুরুভক্তি।
‘ধামাচাপা’ তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস। এর ব্যাসবাক্য হচ্ছে - ধামা দ্বারা চাপা = ধামাচাপা।
‘উপকণ্ঠ’ অব্যয়ীভাব সমাস। এর ব্যাসবাক্য হচ্ছে - কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ও ভাষা শিক্ষা,ড. হায়াৎ মামুদ।
উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি
- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
→ রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
→ কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”
• বাক্যের অর্থ-সঙ্গতি রক্ষার জন্য সর্বনামের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন -
প্রত্যক্ষ উক্তি: সাজ্জাদ বলল, "আমার ভাই আজই ঢাকা যাচ্ছেন।"
পরোক্ষ উক্তি: সাজ্জাদ বলল যে, তার ভাই সেদিনই ঢাকা যাচ্ছিলেন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
সংস্কৃত = সম্ + কৃত
এটি একটি বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধির উদাহরণ।
‘সংবিধান’ শব্দটি সন্ধির সাধারণ নিয়মে গঠিত।
বর্গীয় ওষ্ঠ্য নাসিক্য ধ্বনি (ম) -এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি (য, র, ল, ব) ইত্যাদি থাকলে ওষ্ঠ্য নাসিক্য ধ্বনি ‘ম’ স্থানে অনুস্বার ( ং) হয়।
যেমন -
- সম্ + যম = সংযম
- সম্ + রক্ষণ = সংরক্ষণ
- সম্ + লাপ = সংলাপ
- সম্ + বাদ = সংবাদ
তেমনিভাবে, সম্ + বিধান = সংবিধান।
অন্যদিকে,
- আশ্চর্য = আ + চর্য
- গোষ্পদ = গো + পদ
এই দুটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
• 'দ্বিতীয়' শব্দটি সাধারণ পূরণবাচক শব্দ।
সংখ্যাবাচক শব্দ মূলত দুই প্রকার।
যথা -
- ক্রমবাচক - এক, দুই, তিন, চার...আট ইত্যাদি।
- পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি।
পূরণবাচক শব্দ আবার ৩ প্রকার।
যথা -
- সাধারণ পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ... নবম ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক - পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক - আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• 'লাভ করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - লিপ্সা।
অন্যদিকে,
- বলবার ইচ্ছা - বিবক্ষা।
- ভোজন করার ইচ্ছা - বুভুক্ষা।
- দেখবার ইচ্ছা - দিদৃক্ষা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'এঁটোপাত না যায় স্বর্গে' অর্থ- পরমুখাপেক্ষীর সমৃদ্ধি সম্ভব হয় না।
বাক্য: মালিকের দয়ায় চাকরি পেয়েছ, আবার ধরনা দিচ্ছ পদোন্নতির জন্যে— এঁটোপাত না যায় স্বর্গে।
অন্যদিকে,
• 'এক হাতে তালি বাজে না' অর্থ - এক পক্ষ বিবাদ সৃষ্টি করে না।
• 'রং যায় না ধুলে স্বভাব যায় না মনে' অর্থ - জন্মগত অভ্যাস পরিত্যাগ করা দুঃসাধ্য।
• 'কাকের মাংস কাকে খায় না' অর্থ - স্বজন বা সগোত্রের প্রতি অনুরাগ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• "টেলিস্কোপ" শব্দটি "ইতালিয়ান" ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- দূরের জিনিস বড়ো করে দেখা যায় এমন পরকলাযুক্ত সরঞ্জাম-বিশেষ, দুরবিন, telescope।
কিছু ইতালিয়ান শব্দ:
- টেলিস্কোপ, ওলকপি, ডিসকাউন্ট, ম্যাজেন্টা, সনেট ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'প্রসন্ন' এর বিপরীত শব্দ 'বিষণ্ন'।
• প্রসন্ন (বিশেষণ) অর্থ: সন্তুষ্ট; সদয় ; নির্মল, পবিত্র।
• বিষণ্ন (বিশেষণ) অর্থ:
১) দুঃখিত; দুঃখপ্রাপ্ত; ক্ষুণ্ন।
২) ম্লান; মলিন (একাকী বিষণ্ন তরুচ্ছায়ে-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।
৩) বিষাদযুক্ত; অপ্রসন্ন।
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান এবং ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।