বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১৩৩ / ৩৫৪ · ১৩,২০১১৩,৩০০ / ৩৫,৭১৩

১৩,২০১.
‘রাজ্ঞী’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. রাজ্ + ঞী
  2. রাজ্ঞ + নী
  3. রাগ্ + জ্ঞী
  4. রাজ্ + নী
ব্যাখ্যা
⇒ সূত্র: চ্ ও জ্-এর পরে নাসিক্য ধ্বনি তাবল্য হয়।
যেমন:
• জ্ + ন = জ্ + ঞ্; যজ্ + ন = যজ্ঞ।
• চ্ + ন = চ্ + ঞ; যাচ্ + না = যাচ্ঞা, রাজ্ + নী = রাজ্ঞী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,২০২.
’সচ্চিন্তা’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সৎ + চিন্তা
  2. সত + চিন্তা
  3. সম্ + চিন্তা
  4. সৎ + চ্চিত
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি
 
ত্ ও দ্‌-এর পর চ্ ও ছ থাকলে ত্ ও দৃ স্থানে চ্ হয়। যেমন-

- সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা।
- উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ।
- বিপদ + চয় = বিপচ্চয়।
- বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া।

এরূপ – উচ্চারণ, শরচ্চন্দ্র, সচ্চরিত্র, তচ্ছবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,২০৩.
নিচের কোনটি গুণবাচক বিশেষণ?
  1. দীনতা
  2. দয়া
  3. চালাক
  4. ধৈর্য
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে।
- ঠান্ডা পানি।
[উপরের উদাহরণগুলোতে ‘চালাক’ ও ‘ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।]

অন্যদিকে,
• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

------------------
• বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।

শব্দটি কীভাবে গঠিত, কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে এবং বাক্যের মধ্যে বিশেষণের অবস্থান কোথায় এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যেমন:
- বর্ণবাচক বিশেষণ,
- গুণবাচক বিশেষণ,
- অবস্থানবাচক বিশেষণ,
- ক্রমবাচক বিশেষণ,
- পূরণবাচক বিশেষণ,
- পরিমাণবাচক বিশেষণ,
- উপাদানবাচক বিশেষণ,
- প্রশ্নবাচক বিশেষণ,
- নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ,
- ভাববাচক বিশেষণ,
- বিধেয় বিশেষণ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১৩,২০৪.
কোন শব্দে কম্পিত ব্যঞ্জন আছে?
  1. হাতি
  2. বাড়ি
  3. গাঢ়
  4. কর
ব্যাখ্যা

কম্পিত ব্যঞ্জন:
- বযে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের র কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৩,২০৫.
‘নয় দুয়ারে দুয়ারে না ঘুরে এবার সংসারী হও’ বাক্যটিতে কী ধরনের অশুদ্ধি আছে?
  1. ক) বিভক্তি জনিত
  2. খ) বচন জনিত
  3. গ) বাগধারা জনিত
  4. ঘ) দ্বিরুক্তি জনিত
  5. ঙ) বানান জনিত
ব্যাখ্যা

‘নয় দুয়ারে দুয়ারে না ঘুরে এবার সংসারী হও’ বাক্যটিতে বাগধারা জনিত অশুদ্ধি আছে।
শুদ্ধ বাক্য হবে - নয়-দুয়ারি হয়ে না ঘুরে এবার সংসারী হও।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

১৩,২০৬.
শব্দের মূলকে কি বলে?
  1. ধাতু
  2. প্রকৃতি
  3. প্রত্যয়
  4. পদ
ব্যাখ্যা
শব্দের মূলকে — প্রকৃতি বলে।

• প্রকৃতি:
- শব্দের যে অংশকে আর কোনো ক্ষুদ্রতর অংশে বিভক্ত করা যায় না তাকে প্রকৃতি বলে।

- প্রকৃতি দুই প্রকার-

• নাম প্রকৃতি:
- নাম পদের মূল অংশকে  বলে নাম প্রকৃতি।
যেমন- সেনা +ষ্ণিক = সৈনিক এখানে 'সেনা' নাম প্রকৃতি।

• ক্রিয়া প্রকৃতি:
- ক্রিয়া পদের মূল অংশকে বলে ক্রিয়া প্রকৃতি।
যেমন: √চল্‌ +অন্ত = চলন্ত এখানে চল ক্রিয়া প্রকৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,২০৭.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করব।
  2. কাব্যটির উৎকর্ষ প্রশংসনীয়।
  3. বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধশালী দেশ।
  4. তাকে সপরিবার দাওয়াত কর।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধশালী দেশ।
শুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধিশালী দেশ।

অন্যদিকে,
- তাকে সপরিবার দাওয়াত কর।
- কাব্যটির উৎকর্ষ প্রশংসনীয়।
- শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করব।
উপরের বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,২০৮.
'লেখক' শব্দের মূল ধাতু কোনটি?
  1. লেখ্‌
  2. লেখ
  3. লিখ্‌
  4. লেখা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) লিখ্‌।

ব্যাখ্যা:
'লেখক' শব্দের গঠন বিশ্লেষণ:
-√লিখ্ (মূল ধাতু) + অক (প্রত্যয়) = লেখক।

অন্যান্য উদাহরণ:
- √গৃহ্ + অক = গ্রাহক
- √নী + অক = নায়ক।
- √কৃ + অক = কারক।
 
উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,২০৯.
নিম্নের কোন বাক্যে একবচন ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পাখিরা আকাশে উড়ছে।
  2. মা রান্না করছেন।
  3. ছাত্ররা শিক্ষককে শ্রদ্ধা করে।
  4. বইগুলো টেবিলে রাখা আছে।
ব্যাখ্যা
• বচন:
- বচন হলো সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার। যথা- একবচন ও বহুবচন।
- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

একবচন শব্দের উদাহরণ:
• শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।
• বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?
• ছেলেটি মাঠে খেলছে।
• গাছটি সুন্দর ফুলে সাজানো।
• মা রান্না করছেন।
• সে একটি বই পড়ছে।

বহুবচন শব্দের উদাহরণ:
পাখিরা আকাশে উড়ছে।
• আমরা একসঙ্গে ছবি আঁকছি।
• বইগুলো টেবিলে রাখা আছে।
ছাত্ররা শিক্ষককে শ্রদ্ধা করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ সংস্করণ]।
১৩,২১০.
"কুম্ভীরাশ্রু" শব্দের অর্থ কী?
  1. অসম্পূর্ণ গোসল
  2. মায়াকন্না
  3. অসম্ভব ব্যাপার 
  4. উভয় সংকট 
ব্যাখ্যা

• ‘কুম্ভীরাশ্রু’ শব্দের অর্থ - মায়াকন্না।
বাক্য গঠন: কুম্ভীরাশ্রু করে লাভ নেই, চুরি করার অপরাধে চোরকে জেলে যেতে হবে।

অন্যদিকে,
কাকস্নান - অসম্পূর্ণ গোসল;
কুমিরের সন্নিপাত- অসম্ভব ব্যাপার ;
জলে কুমীর ডাঙ্গায় বাঘ - উভয় সংকট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ভাষাশিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩,২১১.
‘রঞ্জন’ শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ কোনটি?
  1. জ + ঞ
  2. ন +জ
  3. ঞ + জ
  4. ন + ঞ
ব্যাখ্যা
• ‘রঞ্জন’ শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ: 'ঞ+জ'। 
ঞ + জ = ঞ্জ,
যেমন- রঞ্জন, গঞ্জ, কুঞ্জ ইত্যাদি।
----------------------
যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, আবার কখনো সহজে চেনা যায় না।
- যুক্তবর্ণ দুই রকম।
যথা- স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ট, জ্জ, জ্ব, ড্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, দ্ম, ষ্ঠ, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ব্দ ইত্যাদি। 

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ত (ক্+ত), ক্ম (ক্+ম), ক্র (ক্‌+র), ক্ষ (ক্+ষ), ক্ষ্ম (ক্+ষ্+ম), ক্স (ক্‌+স), গু (গ্‌+উ), ন্ধ (গ্‌+ধ), ঙ্ক (ঙ্+ক), ঙ্গ (ঙ্+গ), জ্ঞ (জ্‌+ঞ), ঞ্চ (ঞ্‌+চ), ঞ্ছ (ঞ্‌+ছ), ঞ্জ (ঞ্‌+জ), ট্ট (ট্+ট), ত্ত (ত্+ত), খ (ত্+থ), ত্র (ত্+ত্র), দ্ধ (দ্‌+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্‌+ধ), ভ্র (ভ্+র), ভ্রূ (ভ্+র্+উ), রু (র্+উ), রূ (র্‌+ঊ), শু (শ্+উ), ষ্ণ (ষ্+ণ), হু (হ্+উ), হৃ (হ্+ঋ), হ্ন (হ্+ন), হ্ম (হ্+ম) ইত্যাদি।
--------------------- 
গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
ক্ + র = ক্র
ক্ + ষ = ক্ষ
ক্ + স = ক্স
গ্ + উ = গু
গ্ + ধ = গ্ধ
ঙ্ + ক = ঙ্ক
ঙ্ + গ = ঙ্গ
ঞ্ + জ = ঞ্জ
ঞ্ + চ = ঞ্চ
ঞ্ + ছ = ঞ্ছ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১৩,২১২.
নিচের কোনটিতে অপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) কৃপণতা
  2. খ) দরিদ্রতা
  3. গ) অলস্যতা
  4. ঘ) উৎকৃষ্টতা
ব্যাখ্যা
• ‘তা’ এবং ‘ত্ব’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ বা ‘ত্ব’ যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন- অলস্য ‍বিশেষ্য শব্দ এর সাথে আবারও তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে অলস্যতা হলে শব্দটি অশুদ্ধ হয়। 

অশুদ্ধ শব্দের শদ্ধরূপ দেয়া হলো:
• অশুদ্ধ - অলস্যতা
• শুদ্ধ -অলসতা 
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় - অলস+তা
অর্থ: কুঁড়েমি, জড়তা, শ্রমবিমুখতা।
--------------------

• শুদ্ধ- কৃপণতা
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়- কৃপণ+তা
অর্থ: ব্যয়কুন্ঠতা, অনুদারতা, কঞ্জুসি।

• শুদ্ধ - দরিদ্রতা
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় - দরিদ্র+তা
অর্থ: দারিদ্রর‌্য।

• শুদ্ধ - উৎকৃষ্টতা
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় - উৎ+√কৃষ্+তা
অর্থ: উওম, শ্রেষ্ঠ, উন্নত ।

উৎস:  ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও আধুনিক বাংলা একাডেমির অভিধান।
১৩,২১৩.
‘গুণবান’ শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. গুণবতি
  2. গুণমতী
  3. গুণবতী
  4. গুণী
ব্যাখ্যা
• নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তিত করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়।
যেমন-
• আ প্রত্যয় যোগে:
- বৃদ্ধ - বৃদ্ধা;
- প্রিয় - প্রিয়া।

• ই প্রত্যয় যোগে:
- দাদা - দাদি,
- জেঠা - জেঠি।

• ইনি প্রত্যয় যোগে:
- কাঙাল - কাঙালিনি,
- বাঘ - বাঘিনি।

• ইনী প্রত্যয় যোগে:
- বিজয় - বিজয়িনী,
- তেজস্বী - তেজস্বিনী।

• ঈ প্রত্যয় যোগে:
- নার - নারী,
- কিশোর - কিশোরী।

• নি প্রত্যয় যোগে:
- জেলে - জেলেনি,
- বেদে - বেদেনি।

• বতী প্রত্যয় যোগে:
- গুণবান - গুণবতী,
- পূণ্যবান - পূণ্যবতী।

• মতী প্রত্যয় যোগে:
- বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী,
- শ্রীমান - শ্রীমতী ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,২১৪.
‘বাক্য সংকোচন’ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. বাক্যতত্ত্ব
  2. ধ্বনিতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• বাক্য সংকোচনের মাধ্যমে বাক্যের অর্থ নির্ণয় করা হয়। সুতরাং ‘বাক্য সংকোচন’ ব্যাকরণের অর্থতত্ত্ব অংশের আলোচ্য বিষয়।

--------------------
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে ৪ টি ভাগে ভাগ করা হয়:
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব,
- বাক্যতত্ত্ব,
- অর্থতত্ত্ব।

• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে। এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যের নির্মান ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• অর্থতত্ত্ব:
ব্যকরণের এই অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বাগর্থও বলে। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,২১৫.
‘লাশ’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. তুর্কি
  2. ওলন্দাজ
  3. পর্তুগিজ
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা
• ‘লাশ’
- তুর্কি শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- শব, মরদেহ।

• কিছু তুর্কি শব্দ:
- কলগি,
- চাকু,
- বাবা,
- বাবুর্চি,
- মুচলেকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,২১৬.
‘রশ্মি’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. পিঙ্গল
  2. অংশু
  3. পাবক
  4. বহ্নি
ব্যাখ্যা
• রশ্মি এর সমার্থক শব্দ:
আভা, কিরণ, আলোক, প্রভা, বিভা, অংশু ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে,
• 'অগ্নি/আগুন' এর সামর্থক শব্দ:
অনল, বহ্নি, হুতাশন, কৃশানু, পাবক, দহন, সর্বভুক, পিঙ্গল, হিমারতি, বায়ুসখা ইত্যাদি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,২১৭.
কোনটি যৌগিক বাক্য?
  1. ক) তুমি আমার বাড়িতে না আসলে আমি অখুশি হব
  2. খ) তুমি আমার বাড়িতে আসলে আমি খুশি হব
  3. গ) তুমি আমার বাড়িতে এস, আমি খুশি হব
  4. ঘ) তুমি যদি আমার বাড়িতে আস আমি খুশি হব
ব্যাখ্যা
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যেমনঃ তার বয়স হয়েছে, কিন্তু বুদ্ধি হয়নি।
এখানে, 'তুমি আমার বাড়িতে এস, আমি খুশি হব' বাক্যটিতে কোন যোজক উল্লেখ নেই কারণ অনেক সময় সাধারণ কথাবার্তায় যোজক নাও ব্যবহৃত হতে পারে। এখানে বাক্যটি যৌগিক কারণ এ বাক্যগুলো জটিল বাক্যের মত একটি আরেকটির উপর নির্ভর করে না।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
১৩,২১৮.
‘মরি মরি! কি সুন্দর প্রভাতের রূপ!’ উক্ত বাক্যে ‘মরি মরি!’ কী প্রকাশ করছে?
  1. ক) স্বীকৃতি
  2. খ) উচ্ছ্বাস
  3. গ) যন্ত্রণা
  4. ঘ) বিরক্তি
ব্যাখ্যা
যে সকল অব্যয় অন্য পদের সঙ্গে সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। ‘মরি মরি! কি সুন্দর প্রভাতের রূপ!’ বাক্যে ‘মরি মরি!’ অনন্বয়ী অব্যয়টি উচ্ছ্বাস প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৩,২১৯.
'তারা তোমাদের ভোলেনি।’ - কোন প্রকার বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  2. আবেগবাচক বাক্য
  3. প্রশ্নবাচক বাক্য
  4. বিবৃতিবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• ‘তারা তোমাদের ভোলেনি।’ - বিবৃতিবাচক বাক্য

 • বাক্য:
- এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে।
- এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
যেমন -
→ সজল ও লতা বই পড়ে।
এটি একটি বাক্য। পাঁচটি শব্দ দিয়ে গঠিত এই বাক্যে বক্তার মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশিত হয়েছে।

বিবৃতিবাচক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন -
→ আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
তারা তোমাদের ভোলেনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,২২০.
'তিলে তৈল আছে' বাক্যে আধারাধিকরণের কোন প্রকার বোঝানো হয়েছে? 
  1. ঐকদেশিক
  2. অভিব্যাপক
  3. বৈষয়িক
  4. সামীপ্য
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - খ) অভিব্যাপক

আধারাধিকরণ:
- আধারাধিকরণ হলো সেই ধরনের অধিকরণ যা কোনো স্থানের, বস্তু বা বিষয়ের অবস্থান, বিস্তৃতি বা গুণাবলীর সঙ্গে সম্পর্কিত।

আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক,
৩. বৈষয়িক। 

১. ঐকদেশিক:
- বিশাল স্থানের কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
- উদাহরণ:
  পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের কোনো এক স্থানে),
  বনে বাঘ আছে। (বনের কোনো এক অংশে),
  আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে),
- সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়।
  ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে।
  দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে।
  রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।

২. অভিব্যাপক:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
- উদাহরণ:
  তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী),
  নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)। 

৩. বৈষয়িক:
- বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক আধারাধিকরণ হয়।
- উদাহরণ:
  আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)। 

১৩,২২১.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) চামার
  2. খ) বহূ
  3. গ) ডাগর
  4. ঘ) বৎস
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দ: জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী, বৈষ্ণব, কুৎসিত, চন্দ্র, ভবন, ধর্ম, মনুষ্য, পাত্র, নক্ষত্র, ক্ষুধা, সূর্য, পদ্ম, ক্ষমা, অন্ন, নিমন্ত্রণ, চন্দ্র, স্বামী, পত্র, খাদ্য, বৎস, অস্তি, অদ্য, অর্ধ, ইন্দ্রাগার, উপাধ্যায়, ঊষ্ণাপন, করোতি, কথয়তি, কার্য, গৃহ, চক্র, চর্মকার, বধূ, ভক্ত, মিথ্যা, লবণ, হস্ত, স্তম্ভ ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা(ড. সৌমিত্র শেখর)]
১৩,২২২.
খ্রিষ্টপূর্ব কোন শতকে এবং কার শাসনামলে উপমহাদেশে আর্য ভাষার প্রাচীনতম বর্ণমালার সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে, অশোকের শাসনামলে
  2. খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকে, চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের শাসনামলে
  3. খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকে, সমুদ্রগুপ্তের শাসনামলে
  4. খ্রিষ্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতকে, ধর্মপালের শাসনামলে
ব্যাখ্যা
বাংলা লিপির সৃষ্টি:
- এই উপমহাদেশে আর্য ভাষার প্রাচীনতম যে বর্ণমালার সন্ধান পাওয়া যায় তা খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের, অশোকের অনুশাসনের সময়ের।
- বগুড়ার মহাস্থানগড়ে যে লিপি পাওয়া গেছে উভয় প্রাপ্ত লিপির সাদৃশ্য আছে। এই লিপিকে ব্রাহ্মী লিপি বলে।
- ব্রাহ্মী লিপি কুষাণ ও গুপ্ত রাজাদের আমলে পরিবর্তিত হয়ে তিনটি রূপ ধারণ করে। যথা:
১. সারদা (কাশ্মির ও পাঞ্জাবে প্রচলিত রূপ),
২. নাগর (রাজস্থান ও মালব; গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশে প্রচলিত রূপ) ও
৩. কুটিল (ভারতের পূর্বাঞ্চলে প্রচলিত রূপ)।
- বাংলা লিপি ব্রাহ্মী লিপির এই কুটিল রূপ থেকে সৃষ্টি হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,২২৩.
'কত হেরিলাম মনোহর ধাম, কত মনোরম দৃশ্য।' - 'মনোহর ধাম' শব্দের অর্থ কী?
  1. সুন্দর গান
  2. তৃপ্তিদায়ক অবস্থা
  3. সুন্দর
  4. সুন্দর গৃহ
ব্যাখ্যা
• 'কত হেরিলাম মনোহর ধাম, কত মনোরম দৃশ্য।'
- এখানে 'মনোহর' শব্দের অর্থ - সুন্দর। 
এবং 'ধাম' শব্দের অর্থ - গৃহ। 
সুতরাং, 
'মনোহর ধাম' শব্দের অর্থ -  সুন্দর গৃহ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,২২৪.
'বৃক্ষ' এর সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. তরু
  2. শাখী
  3. মহীরুহ
  4. কানন
ব্যাখ্যা
• 'বৃক্ষ' এর সমার্থক শব্দ: 
- গাছ, 
- তরু
- দ্রুম,
- শাখী,
- পাদপ,
- মহীরুহ,
- উদ্ভিদ,
- অটবি,
- বিটপী,
- পর্ণী,
- গাছপালা,
- পল্লবী ইত্যাদি 
   
অপরদিকে,
• 'বন' এর সমার্থক শব্দ: বনানী, কানন ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,২২৫.
কোনটি অন্য পক্ষের সর্বনামের দৃষ্টান্ত?
  1. আমাদের
  2. ওদের
  3. তোমরা
  4. আপনাকে
ব্যাখ্যা
• অন্য পক্ষের সর্বনামের উদাহরণ হলো: ওদের।

• ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:
 
• বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
• শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
• অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।
 
শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: 
• সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে), 
• মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও
• ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ, ও)।
 
----------------------------
• সর্বনাম পদ:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। যেমন- "শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।" দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে। বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।
 
সর্বনামকে নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম,
২. আত্মবাচক সর্বনাম,
৩. নির্দেশক সর্বনাম,
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম,
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম,
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম,
৭. পারস্পরিক সর্বনাম,
৮. সকলবাচক সর্বনাম,
৯. অন্যবাচক সর্বনাম।
 
- তবে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির পুরাতন সংস্করণ অনুসারে সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,২২৬.
শুধু প্রাণির বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক কোনটি?
  1. যূথ
  2. রাশি
  3. গুচ্ছ
  4. দাম
ব্যাখ্যা
• শুধু প্রাণির বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক - যূথ।
যেমন:
- হস্তিযূথ
মাঠের ফসল নষ্ট করছে।

অন্যদিকে,
• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
আবলি- পুস্তকাবলি।
গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
নিকর- কমলনিকর।
পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ।
মালা- পর্বতমালা।
রাজি- তারকারাজি।
রাশি- বালিরাশি।
নিচয়- কুসুমনিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,২২৭.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. সুকেশা
  2. সুকেশী
  3. সুকেশীনী
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - সুকেশা, সুকেশী (ক + খ)।
- 'সুকেশা, সুকেশী' শব্দদ্বয় বিশেষণ।
- দুটিই সংস্কৃত শব্দ।
- 'সুকেশা, সুকেশী' অর্থ: সুন্দর কেশবিশিষ্ট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,২২৮.
'সবটুকু ওষুধই খেয়ে ফেলো।' - এখানে 'সবটুকু' শব্দের 'টুকু' কী?
  1. অনুসর্গ
  2. অব্যয়
  3. প্রত্যয়
  4. পদাশ্রিত নির্দেশক
ব্যাখ্যা
• 'সবটুকু' শব্দে - 'টুকু' হলো পদাশ্রিত নির্দেশক। এটি সাধারণত অল্প পরিমাণ অংশ নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়।

• পদাশ্রিত নির্দেশক পদ বা শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে তার অর্থকে সীমাবদ্ধ বা বিশেষভাবে নির্দেশ করে।

• টাক, টুক, টুকু, টো ইত্যাদি পদাশ্রিত নির্দেশক নির্দিষ্টতা ও অনির্দিষ্টতা উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- পোয়াটাক দুধ দাও (অনির্দিষ্টতা)।
- সবটুকু ওষুধই খেয়ে ফেলো (নির্দিষ্টতা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৩,২২৯.
সারমর্ম বা সারাংশ লেখার সময়ে প্রত্যক্ষ উক্তি-
  1. বর্জনীয়
  2. প্রাসঙ্গিক
  3. গ্রহনীয়
  4. সীমিত রাখা দরকার
ব্যাখ্যা
• সারাংশ ও সারমর্ম:
- সাধারণত গদ্যরচনার অন্তর্নিহিত বক্তব্যকে সংক্ষেপে লেখার নাম সারাংশ, আর কাব্যভাষায় লেখা কোনো রচনার মূলভাবকে সংক্ষেপে লেখার নাম সারমর্ম।
- সারাংশকে সারসংক্ষেপ এবং সারমর্মকে মর্মার্থও বলা হয়ে থাকে।
- একটি বিষয় সম্পর্কে সংক্ষেপে ধারণা পেতে সারাংশ ও সারমর্ম বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

• সারাংশ ও সারমর্ম লেখার কিছু নিয়ম:
ক. প্রদত্ত রচনার বিবরণ ও ভাবকে অনুসরণ করে সারাংশ ও সারমর্ম লিখতে হয়।
খ. অনধিক চার বাক্য বা চল্লিশ শব্দের মধ্যে সারাংশ ও সারমর্ম সীমিত রাখা দরকার।
গ. প্রদত্ত রচনার মূল কথা যাতে সারাংশ ও সারমর্মে বাদ না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়।
ঘ. সারাংশ বা সারমর্ম লেখার সময়ে উদাহরণ, উদ্ধৃতি, পরিসংখ্যান, তথ্য-উপাত্ত ইত্যাদি পুরোপুরি বাদ দিতে হয়।
ত. সারাংশ ও সারমর্মের ভাষায় কোনো ধরনের কাব্যধর্মিতা রাখা যায় না। ভাষা হতে হয় দ্ব্যর্থহীন ও আবেগবর্জিত।
চ. সারাংশ ও সারমর্মে পুনরাবৃত্তি পুরোপুরি বর্জনীয়। সারাংশে প্রত্যক্ষ উক্তি বর্জন করতে হবে। 
ছ. সারাংশ বা সারমর্ম লেখার সময়ে নিজস্ব বক্তব্য, মন্তব্য বা মত প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,২৩০.
নিয়ম অনুসারে সন্ধি হয় না কোনটির?
  1. পাবক
  2. গবাক্ষ
  3. বঙ্গ
  4. যতীন্দ্র
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
- কতগুলো সন্ধি এই নিয়মের অনুসরণ করে হয় না। সেগুলোকে নিপাতনেসিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন:
- কুল+অটা = কুলটা (সূত্র অনুসারে কুলাটা হওয়ার কথা)।
- গাে+অক্ষ = গবাক্ষ (সূত্র অনুসারে গবক্ষ হওয়ার কথা) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- পৌ + অক = পাবক;
- বি + অঙ্গ = বঙ্গ;
- যতি + ইন্দ্র = যতীন্দ্র।
উপর্যুক্ত শব্দগুলো স্বরসন্ধির নিয়ম অনুসারে গঠিত হয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ ও ১৯ সংস্করণ)।
১৩,২৩১.
'কন্যা' শব্দের প্রতিশব্দ কোনটি? 
  1. ললিত 
  2. দীপ্তি 
  3. দুহিতা 
  4. তপস্বী 
ব্যাখ্যা

• 'কন্যা' শব্দের সমার্থক শব্দ - দুহিতা।

 অন্যদিকে,
- ললিত অর্থ-  সুন্দর, চারু, মনোরম
- দীপ্তি অর্থ - প্রভা, আলোক।
- তপস্বী  অর্থ - সন্ন্যাসী, ঋষি।

• 'কন্যা' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- মেয়ে, দুহিতা, আত্মজা, নন্দিনী, তনয়া, পুত্রী, ঝি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১৩,২৩২.
নিচের কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. নিরভিমান
  2. অহর্নিশ
  3. উপরোক্ত
  4. নির্দোষ
ব্যাখ্যা
• 'উপরোক্ত' শব্দের শুদ্ধরূপ - উপর্যুক্ত / উপরিউক্ত।
- এটি সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ।
- এটি একটি বিসর্গ সন্ধি।

অন্যদিকে,
নিরভিমান; অহর্নিশ; নির্দোষ - শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,২৩৩.
সংস্কৃত শব্দ নয় কোনটি?
  1. সূর্য
  2. গৃহ
  3. চন্দ্রিমা 
  4. আদিত্য
ব্যাখ্যা

• 'চন্দ্রিমা' অর্ধ-তৎসম শব্দ। 
- শব্দটি সংস্কৃত 'চন্দ্রমাঃ' শব্দ থেকে বিকৃত হয়ে অর্ধ-তৎসম শব্দ 'চন্দ্রিমা' হয়েছে। 


• কিছু সংস্কৃত শব্দ:
সূর্য, চন্দ্র, জল, গৃহ, মৃত্তিকা, রাম, রাবণ, পুত্র, মাতা, পিতা, জননী, দেব, দেবী, দর্শন, বয়ন, গমন, রাত্রি, দিবা, সৌর্য, বীর্য, কৃতিত্ব, আদিত্য, নারায়ণ, বৃক্ষ, পশু, লতা, নর, নারী, বেদ, বেদান্ত, উপনিষদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩,২৩৪.
'দুগ্ধ' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √দুধ্ + তৃ
  2. খ) দুধ + ধ
  3. গ) √দুহ্ + তৃ
  4. ঘ) √দুহ্ + ত
ব্যাখ্যা
√দুহ্‌ + ত (ক্ত) = দুগ্ধ হলো সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ৷
এরূপ- √কৃ + ত = কৃত, √জন + ত = জাত, √সৃজ্ + ত = সৃষ্ট, √বচ্ + ত = উক্ত৷
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ
১৩,২৩৫.
স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ হয়েছে নিচের কোন শব্দে? 
  1. ব্রাহ্মণ
  2. বাণিজ্য
  3. লক্ষণ
  4. কৃপণ
ব্যাখ্যা

• 'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য য় বহং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+), লক্ষণ (ক্+অ+ ণ)। এরূপ রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়। যথা: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ,  শোণিত,  মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী। 

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না। যেমন: হিন্দি শব্দ- ঠান্ডা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩,২৩৬.
ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ আছে কোন বাক্যে?
  1. ভালো করে কাজ কর।
  2. তোমার কাছে এসেছি।
  3. আমার পক্ষে এটা সম্ভব নয়।
  4. সে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় এসেছে।
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ- ভালো করে কাজ কর।
- এই বাক্যে করে হলো ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। করে শব্দটি কর্‌ ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত।

অন্যদিকে,
খ) তোমার কাছে এসেছি।
"কাছে" = সাধারণ অনুসর্গ।

গ) আমার পক্ষে এটা সম্ভব নয়।
- "পক্ষে" = সাধারণ নির্দেশক অনুসর্গ।

ঘ) সে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় এসেছে।
- "জন্য" = সাধারণ অনুসর্গ।

-অনুসর্গকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- সাধারণ অনুসর্গ ও ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। 
-----------------
• সাধারণ অনুসর্গ: 
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে। 
যেমন:
- আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে? 
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। 
- যেমন: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি;
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি,
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২২)।
১৩,২৩৭.
'আকস্মিক' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. সাময়িক
  2. আবাহন
  3. চিরন্তন
  4. উন্মীলিত
ব্যাখ্যা

• 'আকস্মিক' এর বিপরীত শব্দ - চিরন্তন।

অন্যদিকে,
• 'বিসর্জন' এর বিপরীত শব্দ - আবাহন।
• 'সাময়িক' এর বিপরীত শব্দ - চিরায়ত।
• 'নির্মীলিত' এর বিপরীত শব্দ- 'উন্মীলিত'।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,২৩৮.
‘সূর্য’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. তপন
  2. অকূল
  3. অভ্র
  4. অচল
ব্যাখ্যা
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- রবি, তপন, ভানু, ভাস্কর, আদিত্য, সবিতা, প্রভাকর, দিবাকর, বিভাবসু, দিনমণি, মার্তণ্ড, অংশুমালী, অরুণ।

অন্যদিকে, 
- ‘অচল’ শব্দের সমার্থক শব্দ - পর্বত।
- ‘অকূল’ শব্দের সমার্থক শব্দ - সমুদ্র।
- ‘অভ্র’ শব্দের সমার্থক শব্দ - মেঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩,২৩৯.
‘আক্কেলমন্ত’ বাগধারাটির অর্থ কী?
  1. ক) বিবেচনা করে এমন
  2. খ) বেখাপ্পা
  3. গ) হতভাগ্য
  4. ঘ) দুর্বল ছেলে
ব্যাখ্যা
‘আক্কেলমন্ত’ বাগধারাটির অর্থ হচ্ছে বিবেচনা করে এমন, সুবিচারপূর্ণ
- বাক্য গঠন: আক্কেলমন্ত লোকের উপর ভরসা করা যায়।

• অন্যান্য অপশনের বাগধারা ও অর্থ:
আখাম্বা (বেখাপ্পা) - লোকটা একটা আখাম্বা বাঁশ নিয়ে লাফিয়ে পড়ল।
আটকপালে (হতভাগ্য) - আমার মতো আটকপালের ভাগ্যে কি ওই চাকরি জুটবে?
আটাশে ছেলে (দুর্বল ছেলে) - সে তো আর আটাশে ছেলে নয় যে তোমাকে ভয় পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,২৪০.
নিচের বাক্যটিতে কয়টি বিরাম চিহ্ন বসবে?
গ্রীষ্ম বর্ষা শরৎ হেমন্ত শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ
  1. ক) ৮টি
  2. খ) ৯টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৭টি
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত বাক্যে ৬টি বিরাম চিহ্ন বসেছে। 
কমা (,): কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন :গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত - বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।

নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
সুজন, দেখ তাে কে এসেছে।
কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তাে পাপ।”

উৎস: নবম - দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)
১৩,২৪১.
'ময়ূর' শব্দের সমার্থক শব্দ - 
  1. উরগ
  2. বর্হী
  3. ভুজগ
  4. মৃগেন্দ্র
ব্যাখ্যা

'ময়ূর' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কলাপী, কেকী, শিখী , শিখণ্ডী, বর্হী, বর্হিণ।

অন্যদিকে, 
'সাপ' শব্দের সমার্থক শব্দ: 
- সৰ্প, অহি, ফণী, নাগ, ভুজগ, ভুজঙ্গ, আশীবিষ, উরগ, বিষধর, পন্নগ।

'সিংহ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কেশরী, পশুরাজ, মৃগেন্দ্র, মৃগরাজ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,২৪২.
‘কদবেল’ শব্দে ব্যবহৃত ‘কদ’ উপসর্গটি কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. কম
  2. নিন্দিত
  3. আধা
  4. উত্তম
ব্যাখ্যা
• কদ উপসর্গটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
- এটি নিন্দিত অর্থে- কদবেল, কদাকার এবং কদর্য শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে।

=============
⇒ উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

•বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,২৪৩.
কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. বিড়ালচোখী
  2. গণতন্ত্র
  3. হাসিমুখ
  4. স্মৃতিসৌধ
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস - বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১৩,২৪৪.
বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব এর উদাহরণ কোনটি?
  1. টকমিষ্টি
  2. জমা-খরচ
  3. সাদাকালাে
  4. ছেলেবুড়াে
ব্যাখ্যা

• বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব :
অর্থের দিক থেকে যে দ্বন্দ্ব পরস্পরের মধ্যে বিরােধ তৈরি করে তাকে বলা হয় বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব।
যেমন- ভালােমন্দ, সাদাকালাে, দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক, দেবদানব, ধনীগরিব ইত্যাদি।

• বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব :

- যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বিরােধী ভাব বা অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- যেমন- ভালােমন্দ, দিনরাত, টকমিষ্টি, দেশেবিদেশে, ছেলেবুড়াে, আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, লাভ-লােকসান ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,২৪৫.
’মৃতের মতো অবস্থা যার’ এর বাক্য সংকোচন কী?
  1. মুমূর্ষু
  2. আজন্ম
  3. মরমর
  4. জীবনস্মৃত
ব্যাখ্যা
’মৃতের মতো অবস্থা যার’ এক কথায় প্রকাশ =  মুমূর্ষু।
---------------
অন্যদিকে,
- ’জীবিত থেকেও যে মৃত’ এক কথায় প্রকাশ = জীবনস্মৃত
- ’জন্ম থেকে আরম্ভ করে‘ এক কথায় প্রকাশ = আজন্ম।

• মরমর /বিশেষণ পদ/ মরণাপন্ন; মুমূর্ষু; মৃতপ্রায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১৩,২৪৬.
‘উইয়ের ঢিবি’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) ঊর্ণনাভ
  2. খ) বাল্মীক
  3. গ) লূতা
  4. ঘ) বাল্মীকি
ব্যাখ্যা
বাল্মীক [বাল্‌মিক্‌]
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [বল্মীক+অ(অণ্‌)]
অর্থ/সমার্থক শব্দ : উইয়ের ঢিবি/ উইপোকার ঢিবি।

• বাল্মীকি [বাল্‌মিকি]
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [বল্মীক+অ(অণ্‌)+ই(ইঞ্‌)]
 অর্থ/সমার্থক শব্দ: সংস্কৃত রামায়ণ রচয়িতা কবি ও মুনি; আদিকবি।

• ঊর্ণনাভ, ঊর্ণনাভি (বিশেষ্য): মাকড়সা (ঊর্ণনাভ জাল বুনে চলে-আহসান হাবীব)।
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [√ঊর্ণ+অহমিয়া(অচ্‌) = ঊর্ণ+নাভি; বহুব্রীহি সমাস]
অর্থ/সমার্থক : মাকড়সা, লূতা ইত্যাদি।

উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।।
১৩,২৪৭.
নিচের কোন বিশেষ-বিশেষণ জোড় শুদ্ধ নয়?
  1. জরা-জীর্ণ
  2. চুরি-চোরাই
  3. জগৎ-জাগতিক
  4. ঢাল-ঢিলে
ব্যাখ্যা

[প্রশ্নে বানান ভুল আছে। প্রশ্নটি হতো- নিচের কোন বিশেষ্য-বিশেষণ জোড় শুদ্ধ নয়?]

⇒ অশুদ্ধ বিশেষ্য-বিশেষণ জোড় - ঢাল-ঢিলে।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• ঢাল (বিশেষ্য),
- এটি হিন্দি শব্দ।
- অর্থ: ঢালু জমি, অস্ত্রাঘাত থেকে রক্ষার জন্য ব্যবহৃত চামড়া পুরু বর্ম।
- ঢাল এর বিশেষণ রূপ হচ্ছে ঢালু।

• ঢিলা শব্দটি বাক্যে বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এটি বাংলা শব্দ।
অর্থ: শিথিলতা, অলস, শিথিল।
- ঢিলা শব্দের বিশেষণ রূপ হচ্ছে ঢিলে।

অন্যদিকে,
• জরা (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- জরা শব্দের অর্থ: বৃদ্ধ, স্থবিরতা, বার্ধক্য।
- জরা শব্দের বিশেষণ: জীর্ণ।

• জগৎ (বিশেষ্য,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- যার অর্থ: ভুবন, বিশ্ব, পৃথিবী, সমাজ।
- জগৎ শব্দের বিশেষণ: জাগতিক।

• চুরি (বিশেষ্য),
- এটি তদ্ভব শব্দ।
- যার অর্থ: না বলে পরদ্রব্য হরণ, চৌর্য, গোপনে আত্মসাৎকরণ।
- চুরি শব্দের বিশেষণ: চোরাই।

১৩,২৪৮.
'দাতা' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. দাত্রা
  2. দাত্রী
  3. দাহত্রী
  4. ধাত্রী
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'দাতা' শব্দের অর্থ:
- যে ব্যক্তি দান করে; দানকারী; বদান্য।

- 'দাত্রী' — দাতার স্ত্রীবাচক শব্দ।

• 'দাতা' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ 'গ্রহীতা'।

অন্যদিকে,
'ধাত্রী' অর্থ- গর্ভধারিণী; মাতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১৩,২৪৯.
‘পদ্মা’ কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. বস্তু-বিশেষ্য
  2. সমষ্টি-বিশেষ্য
  3. জাতি-বিশেষ্য
  4. নাম-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,২৫০.
বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. খানম
  2. জেনানা
  3. মালেকা
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ:
- যেসব স্ত্রীবাচক শব্দ বিদেশি ভাষা থেকে আগত তাদের কে বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
যেমন-
- খান - খানম,
- মরদ - জেনানা,
- মালেক - মালেকা,
- মুহতারিম - মুহাতারিমা,
- সুলতান - সুলতানা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ)।
১৩,২৫১.
'ডাকাবুকো' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. একগুঁয়ে
  2. চাটুকারিতা
  3. দুরন্ত
  4. ভন্ডসাধু
ব্যাখ্যা
'ডাকাবুকো' বাগ্‌ধারাটির অর্থ দুরন্ত

অন্যদিকে,
- ঠ্যাটা = একগুঁয়ে ।
- ধামাধরা = চাটুকারিতা।
- বিড়াল তপস্বী = ভণ্ড সাধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,২৫২.
'উচ্চ' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. পতন
  2. অস্ত
  3. নীচ
  4. নামা
ব্যাখ্যা
• 'উচ্চ' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - নীচ। 

অন্যদিকে, 
• উত্থান - পতন। 
• উদয় - অস্ত। 
• ওঠা - নামা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,২৫৩.
তৎসম শব্দ নিচের কোনটি? 
  1. পাত্র
  2. হস্ত
  3. চন্দ্র
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

তৎসম শব্দ:
-যেসব শব্দ পরিবর্তন ছাড়াই সংস্কৃত থেকে বাংলায় সরাসরি এসেছে সেগুলোকে 'তৎসম শব্দ' বলে।
- কিছু তৎসম শব্দ:
- চন্দ্র,
- সূর্য,
- নক্ষত্র,
- হস্ত,
- ভবন,
- ধর্ম,
- পাত্র,
- মনুষ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩,২৫৪.
'কারক' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• 'কারক বিশ্লেষণ' ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্ব অংশের আলোচ্য বিষয়।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য। তাছাড়া, বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।

১৩,২৫৫.
'আমাকে যত খুশি সাজা দিও।' - বাক্যে 'আমাকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া
  2. কর্মকারকে দ্বিতীয়া
  3. করণে দ্বিতীয়া
  4. অপাদানে দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
→ বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি:
- তাকে বল।
- আমাকে যত খুশি সাজা দিও
- 'রে' বিভক্তি: 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা'।

(গ) ষষ্ঠী বা 'র' বিভক্তি: তোমার দেখা পেলাম না।

(ঘ) সপ্তমীর 'এ' বিভক্তি: 'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' (বীপ্সায়)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,২৫৬.
জটিল বাক্যে রূপান্তর করুন: 'জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।'
  1. যেসব লোক জ্ঞানী, তারা সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
  2. যে জ্ঞানী সেই সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
  3. জ্ঞানী লোক মাত্রই সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
  4. জ্ঞানী লোক তাই সকলে শ্রদ্ধা করে।
ব্যাখ্যা
• 'জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।' - বাক্যের জটিল রূপ: যেসব লোক জ্ঞানী, তারা সকলের শ্রদ্ধার পাত্র

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য রূপান্তরের নিয়ম:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি তবে, যেহেতু সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন -
সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,২৫৭.
'একাদশ' কোন বাচক শব্দ?
  1. ক) পরিমাণবাচক
  2. খ) পূরণবাচক
  3. গ) তারিখবাচক
  4. ঘ) গণনাবাচক
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত 'একাদশ' শব্দটি হলো 'পূরণবাচক'।

পূরণবাচক বা ক্রমবাচক সংখ্যা

প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম.... একাদশ, দ্বাদশ ইত্যাদি হলো পূরণবাচক বা ক্রমবাচক সংখ্যা।
অঙ্কবাচক সংখ্যা
১, ২, ৩... ১১, ১২, ১৩ ইত্যাদি হলো অঙ্কবাচক সংখ্যা।
পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যা 
এক, দুই....... এগার, বার ইত্যাদি হলো পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যা।
তারিখবাচক সংখ্যা
পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি হলো তারিখবাচক সংখ্যা।

• বাংলা ভাষায় তারিখবাচক সংখ্যাগুলোর প্রথম তিনটি হিন্দি ভাষা থেকে এসেছে।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
১৩,২৫৮.
Apartheid শব্দের বাংলা পরিভাষা হলো-
  1. ক) স্বজনপ্রীতি
  2. খ) দুর্ভিক্ষ
  3. গ) বর্ণবৈষম্য
  4. ঘ) দারিদ্র্য
ব্যাখ্যা
Apartheid শব্দের বাংলা পরিভাষা হলো বর্ণবৈষম্য বা বর্ণবাদ নীতি। অন্যদিকে Poverty, Famine এবং Nepotism এর বাংলা পরিভাষা হলো যথাক্রমে দারিদ্র্য, দুর্ভিক্ষ এবং স্বজনপ্রীতি।
(সূত্রঃ প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন এবং বাংলা একাডেমি ডিকশনারি)
১৩,২৫৯.
'সামান্য ইঙ্গিত' কোন বাগধারা দিয়ে বোঝানো হয়েছে?
  1. হারহদ্দ
  2. ঘুণাক্ষর
  3. দক্ষিণ হস্ত
  4. ঘোল খাওয়ানো
ব্যাখ্যা
ঘুণাক্ষর বাগধারাটির অর্থ সামান্য ইঙ্গিত। 
উদাহরণ: এমনভাবে কাজটা করবে যেন ঘুণাক্ষরেও কেউ জানতে না পারে। 
- 'ঘোল খাওয়ানো' বাগধারাটির অর্থ জব্দ করা।
- 'দক্ষিণ হস্ত' বাগধারাটির অর্থ প্রধান সহযোগী। 
-  'হারহদ্দ' বাগধারাটির অর্থ সবকিছ।
উৎস: ভাষা -শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ
১৩,২৬০.
‘বিশেষ্য ও সর্বনাম’ ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ক) বাক্যতত্ত্ব
  2. খ) অর্থতত্ত্ব
  3. গ) ধ্বনিতত্ত্ব
  4. ঘ) রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
⇒ ‘বিশেষ্য ও সর্বনাম’ ব্যাকরণের রূপতত্ত্বে আলোচিত হয়।

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, সমাস, প্রত্যয়, পুরুষ রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। 
 
অর্থতত্ত্ব: 
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়, 
- বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে ।

ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
১৩,২৬১.
'ঘচাঘচ' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দের দৃষ্টান্ত?
  1. ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত
  2. পদাত্মক দ্বিরুক্ত
  3. অনুকার দ্বিরুক্ত
  4. পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্ত
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরক্ত শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়।
যেমন-
১. মানুষের ধ্বনির অনুকার: ভেউ ভেউ – মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি। এরূপ-ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।

২. জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এরূপ-মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), কুহু কুহু (কোকিলের ডাক), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।

৩. বস্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ)। এরূপ-মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ঝমঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ), হু হু (বাতাস প্রবাহের শব্দ) ইত্যাদি।

৪. অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার: ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)। এরূপ ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), কুট কুট (শরীরে কামড় লাগার মতো অনুভূতি)। অনুরূপভাবে- মিন মিন, পিট পিট, ঝি ঝি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

১৩,২৬২.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. গণাগোষ্ঠী
  2. গণগোষ্ঠি
  3. গনগোষ্ঠি
  4. গনাগোষ্ঠী
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - গনাগোষ্ঠী,
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [গনা+স. গোষ্ঠী],
অর্থ: সমস্ত আত্মীয়স্বজন, গোষ্ঠীবর্গ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩,২৬৩.
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময় বায়ু কোথা থেকে বের হয়? 
  1. মুখগহ্বর থেকে
  2. নাসিকা থেকে
  3. ধ্বনিদ্বার থেকে কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি
  4. তালু থেকে
ব্যাখ্যা

• বাংলা বর্ণমালায় — ১টি কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনি রয়েছে।
যেমন,
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনি - হ।

• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
যেমন, 
- 'হাতি' শব্দের 'হ' কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৩,২৬৪.
'মা আছে বলে তাঁর- বাক্যটিতে কীসের অভাব রয়েছে?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. আসক্তি
  4. যোগ্যতা
  5. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।

কতগুলো পদের সমষ্টিতে বাক্য গঠিত হলেও যে কোনো পদসমষ্টিই বাক্য নয়।
বাক্যের বিভিন্ন পদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বা অন্বয় থাকা আবশ্যক।
এ ছাড়াও বাক্যের অন্তর্গত বিভিন্ন পদ দ্বারা মিলিতভাবে একটি অখণ্ড ভাব পূর্ণ রূপে প্রকাশিত হওয়া প্রয়োজন, তবেই তা বাক্য হবে।

ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই।
যেমন-
(১) আকাঙ্ক্ষা
(২) আসত্তি এবং
(৩) যোগ্যতা

১. আকাঙ্ক্ষা:
বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন
'মা আছে বলে তাঁর’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায়: 'মা আছে বলে তাঁর কোন সমস্যা নাই। এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

২. আসত্তি: মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
যেমন
কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত।
লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি। মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
যেমন-
কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

৩. যোগ্যতা:
বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
যেমন বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।
এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।
কিন্তু 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।'
বললে বাক্যটি ভাবপ্রকাশের যোগ্যতা হারাবে।
কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১৩,২৬৫.
বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় -
  1. ক) মেসোবিরতিতে
  2. খ) ট্রপোবিরতিতে
  3. গ) স্ট্র্যাটোবিরতিতে
  4. ঘ) আয়নমন্ডলে
ব্যাখ্যা
• আয়নমন্ডল মূলত মেসোমন্ডলের ঊর্ধ্বাংশ থেকে তাপমন্ডলের নিম্নাংশ (৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটার) পর্যন্ত সম্প্রসারিত।
আয়নমন্ডলে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে আসে।

অন্যদিকে, 
• বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষারপাত, শিশির, কুয়াশা ইত্যাদি সকল কিছুই ট্রপোমণ্ডলে সংঘটিত হয়।
• আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে। সাধারণত জেট বিমানগুলো এই স্তর দিয়ে চলাফেরা করতে পারে কারণ ঝড়বৃষ্টি থাকে না।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৬৬.
'কর্তব্য' শব্দের সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) কর+ তব্য
  2. খ) √কৃ+ তব্য
  3. গ) কৃৎ + তব্য
  4. ঘ) কৃ+ অব্য
ব্যাখ্যা
'কর্তব্য' শব্দের সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় -√কৃ+ তব্য
- এটি একটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- এর শুদ্ধ উচ্চারণ: কর্‌তোব্‌বো।
- 'কর্তব্য' অর্থ: করণীয় বা উচিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,২৬৭.
নিচের কোনটি শব্দদ্বিত্বের প্রকার নয়?
  1. ক) অনুকার দ্বিত্ব
  2. খ) ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. গ) পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. ঘ) পদ দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত হয়ে দুইবার ব্যবহৃত হওয়া শব্দকে শব্দদ্বিত্ব বলে।

• শব্দ দ্বিত্ব তিন প্রকার। যথা: 
- অনুকার  দ্বিত্ব।
- ধ্বন্যাত্মক  দ্বিত্ব।
- পুনরাবৃত্ত  দ্বিত্ব।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, (নতুন সংস্করণ) নবম ও দশম শ্রেণি।
১৩,২৬৮.
'নাতিশীতোষ্ণ’ শব্দটি কোন ধরনের সমাস
  1. নঞ তৎপুরুষ সমাস  
  2. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  3. নঞ বহুব্রীহি সমাস
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

• 'নাতিশীতোষ্ণ’ শব্দটি নঞ তৎপুরুষ সমাস। 
-----------------------
• নঞ তৎপুরুষ সমাস:
- নঞ তৎপুরুষ সমাস হলো এমন তৎপুরুষ সমাস যেখানে পূর্বপদে না-বাচক অব্যয় (যেমন: অ, অনা, বে, বি, না, নি, গর) থাকে এবং পরপদের অর্থ প্রধান হয়ে প্রকাশ পায়।
- এটি সাধারণত অবিমূর্ত বা অদৃশ্য বস্তু, ভাব, গুণ বা ধর্ম বোঝায়।

- নঞ তৎপুরুষ সমাসের নিয়ম:
- পূর্বপদ = না-বাচক অব্যয়;
- পরপদ = বিশেষ্য বা বিশেষণ;
- অর্থ প্রধান = পরপদ;
- বোঝানো বস্তু = অবিমূর্ত, যেমন: সত্য, মিথ্যা, বিশ্বাস, ক্ষত, খ্যাত, মঞ্জুর, সুখ ইত্যাদি

- উদাহরণসমূহ:
- অবিশ্বাস → নয় বিশ্বাস,
- অক্ষত → নয় ক্ষত,
- নাতিদীর্ঘ → নয় অতি দীর্ঘ,
- অনিষ্ট → ন ইষ্ট,
- অসময় → ন সময়,
- অনুর্বর → ন উর্বর,
- অসহযোগ → ন সহযোগ,
- অকাল → ন কাল,
- অসুর → ন সুর,
- বেসরকারি → ন সরকারি,
- নামঞ্জুর → নয় মঞ্জুর,
- গরমিল → নাই মিল,
- অনাচার → ন আচার,
- নাতিশীতোষ্ণ → ন অতি শীতোষ্ণ,
- অনশন → ন অশন,
- অনাবশ্যক → নয় আবশ্যক।
-------------------------
অন্যদিকে,

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হলো সেই সমাস যেখানে পূর্বপদের দ্বিতীয় বিভক্তি (যেমন—কে, রে) বিলীন হয়ে যায়; 
- এবং পরপদের অর্থই মূলভাবে প্রকাশ পায়।
- উদাহরণ:
- ‘বিপদকে আপন্ন’ → ‘বিপদাপন্ন’; এখানে ‘কে’ বিভক্তি বিলীন হওয়ায় এটি দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাস।

• নঞ্ বহুব্রীহি সমাস:
- নঞ্ বহুব্রীহি সমাস সেই সমাস, যেখানে পূর্বপদে না-বাচক অব্যয় (যেমন: ন, না, নেই, নাই, অ, আ) এবং পরপদে বিশেষ্য থাকে, এবং পুরো সমাসের অর্থ মূলত অন্য কোনো বস্তু বা গুণকে নির্দেশ করে।
- সাধারণত এই সমাসে  ব্যাসবাক্যে ‘যার’, ‘যাতে’ ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ:
- অজ্ঞান = নেই জ্ঞান যার,
- নির্বোধ = নেই বোধ যার,

 উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 

১৩,২৬৯.
কোন শব্দটিতে উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হয়?
  1. ধামাচাপা
  2. গুরুভক্তি
  3. বিষাদসিন্ধু
  4. উপকণ্ঠ
ব্যাখ্যা

• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

অন্যদিকে,
‘গুরুভক্তি’ চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস। এর ব্যাসবাক্য হচ্ছে - গুড়ুকে ভক্তি = গুরুভক্তি।
‘ধামাচাপা’ তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস। এর ব্যাসবাক্য হচ্ছে - ধামা দ্বারা চাপা = ধামাচাপা।
‘উপকণ্ঠ’ অব্যয়ীভাব সমাস। এর ব্যাসবাক্য হচ্ছে - কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ও ভাষা শিক্ষা,ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,২৭০.
"সে মোটা বটে, কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।" - বাক্যটির সরল রূপ কোনটি?
  1. মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।
  2. সে মোটা অথচ তার গায়ে শক্তি নেই।
  3. মোটা কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।
  4. সে মোটা এবং তার গায়ে শক্তি নেই।
ব্যাখ্যা
যৌগিক থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।

যেমন:
যৌগিক বাক্য: সে মোটা বটে, কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।
সরল বাক্য: মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,২৭১.
প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. কোলন
  2. উদ্ধারচিহ্ন
  3. সেমিকোলন
  4. বন্ধনী চিহ্ন
ব্যাখ্যা

উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি
- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
→ রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
→ কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

• বাক্যের অর্থ-সঙ্গতি রক্ষার জন্য সর্বনামের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন -
প্রত্যক্ষ উক্তি: সাজ্জাদ বলল, "আমার ভাই আজই ঢাকা যাচ্ছেন।"
পরোক্ষ উক্তি: সাজ্জাদ বলল যে, তার ভাই সেদিনই ঢাকা যাচ্ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

১৩,২৭২.
’গতকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে।’ এর ইংরেজি অনুবাদ হলো-
  1. It has been raining for yesterday.
  2. It has been raining since yesterday.
  3. It had been raining since yesterday.
  4. It had been raining for yesterday.
ব্যাখ্যা
’গতকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে’ এর ইংরেজি অনুবাদ: It has been raining since yesterday.
----------------------
• কিছু গুরত্বপূর্ণ প্রবাদ বাক্যের অনুবাদ:
- The grapes are sour এর বাংলা অনুবাদ: আঙুর ফল টক।
- All covet, all lost. এর বাংলা অনুবাদ: অতি লোভে তাঁতি নষ্ট।
- Empty vessels sound much এর বাংলা অনুবাদ: অসারের তর্জন গর্জনই সার।
- Grasp all , lose all এর বাংলা অনুবাদ: অতি লোভে তাঁতি নষ্ট।
- Habit is second nature এর বাংলা অনুবাদ: অভ্যাসই স্বভাবে দাঁড়ায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,২৭৩.
ক্রিয়াপদের সাথে সম্পর্কযুক্ত পদকে কী বলা হয়?
  1. সমাস
  2. কারক
  3. সন্ধি
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
⇒ কারক: কারক শব্দের অর্থ - যা ক্রিয়া সম্পাদন করে।
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।

বাংলা ব্যাকরণে কারক ছয় প্রকার:
১. কর্তৃ কারক,
২. কর্ম কারক,
৩. করণ কারক,
৪.সম্বন্ধ/ সম্প্রদান কারক,
৫. অপাদান কারক,
৬. অধিকরণ কারক।

অন্যদিকে,
⇒ বিশেষণ পদ:

যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।

বিশেষণ পদকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যথা-
১. নাম বিশেষণ।
২. ভাব বিশেষণ।

⇒ সমাস:
সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ। অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের ক্রিয়াকে সমাস বলে।
যেমন:
- দেশের সেবা = দেশসেবা।
- বই ও পুস্তক = বইপুস্তক।

⇒ সন্ধি: পাশাপাশি দ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। সন্ধি তিন প্রকার। যথা:
- স্বরসন্ধি,
- ব্যাঞ্জনসন্ধি ও
- বিসর্গসন্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১৩,২৭৪.
"ব্যাঙের সর্দি" বাগ্‌ধারার সমার্থক কোনটি?
  1. ভিজে বিড়াল
  2. বাঘের দুধ
  3. কুয়োর ব্যাঙ
  4. কৈ মাছের প্রাণ
ব্যাখ্যা
ব্যাঙের সর্দি বাগ্‌ধারার সমার্থক হচ্ছে বাঘের দুধ।
- ব্যাঙের সর্দি (অসম্ভব বন্ধু)-দশ বছর যে জেল খাটল তাকে দেখাচ্ছ জেলের ভয়, ব্যাঙের আবার সর্দি?
- বাঘের দুধ (অসম্ভব বস্তু): টাকায় কী না হয়? বাঘের দুধ মেলে।

• অন্যান্য অপশন:
- ভিজে বিড়াল (কপট ব্যক্তি): সাবধান, আমাদের চারদিকে ভিজে বিড়ালের অভাব নেই।
- কুয়োর ব্যাঙ (সংকীর্ণমনা লোক): ও রকম কুয়োর ব্যাঙ দিয়ে নতুন কিছু করা যাবে না।
- কৈ মাছের প্রাণ (যা সহজে মরে না): শত প্রতিকূল পরিবেশেও এরা কৈ মাছের প্রাণ হয়ে বাঁচে।

উৎস:
১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
২। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,২৭৫.
নিচের কোন শব্দটি সন্ধির বিশেষ নিয়মে সাধিত হয়ে গঠিত?
  1. ক) আশ্চর্য
  2. খ) গোষ্পদ
  3. গ) সংবিধান
  4. ঘ) সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত = সম্‌ + কৃত
এটি একটি বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধির উদাহরণ।

‘সংবিধান’ শব্দটি সন্ধির সাধারণ নিয়মে গঠিত।
বর্গীয় ওষ্ঠ্য নাসিক্য ধ্বনি (ম) -এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি (য, র, ল, ব) ইত্যাদি থাকলে ওষ্ঠ্য নাসিক্য ধ্বনি ‘ম’ স্থানে অনুস্বার ( ং) হয়।
যেমন -
- সম্‌ + যম = সংযম
- সম্‌ + রক্ষণ = সংরক্ষণ
- সম্‌ + লাপ = সংলাপ
- সম্‌ + বাদ = সংবাদ
তেমনিভাবে, সম্‌ + বিধান = সংবিধান।

অন্যদিকে,
- আশ্চর্য = আ + চর্য
- গোষ্পদ = গো + পদ
এই দুটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,২৭৬.
'দ্বিতীয়' কোন ধরনের সংখ্যাবাচক শব্দ?
  1. ক্রমবাচক
  2. ভগ্নাংশ পূরণবাচক
  3. তারিখ পূরণবাচক
  4. সাধারণ পূরণবাচক
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'দ্বিতীয়' শব্দটি সাধারণ পূরণবাচক শব্দ।

সংখ্যাবাচক শব্দ মূলত দুই প্রকার।
যথা - 
- ক্রমবাচক - এক, দুই, তিন, চার...আট ইত্যাদি।
- পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি।

পূরণবাচক শব্দ আবার ৩ প্রকার।
যথা -
- সাধারণ পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ... নবম ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক - পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক - আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৩,২৭৭.
কোনটি স্বরভক্তির উদাহরণ?
  1. ক) বিলিতি
  2. খ) পিরীতি
  3. গ) বসতি 
  4. ঘ) জানালা
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা মুকুতা, তুর্ক » তুরুক, ক্রু » ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও – শ্লোক » শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,২৭৮.
নিচের কোন বাক্যটি প্রয়ােগগত দিক থেকে শুদ্ধ?
  1. আমি কারও সাতেও নেই, সতেরােতেও নেই।
  2. আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত।
  3. তার দু'চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল।
  4. সারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলাম ।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: তার দু'চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল।

অন্যান্য বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ -
• অশুদ্ধ বাক্য: আমি কারও সাতেও নেই, সতেরােতেও নেই।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি কারও সাতেও নেই, পাঁচেও নেই।

• অশুদ্ধ বাক্য: আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত। 
• শুদ্ধ বাক্য: আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত। 

• অশুদ্ধ বাক্য: সারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলাম । 
• শুদ্ধ বাক্য: সারা জীবন ভূতের বেগার খেটে মরলাম ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,২৭৯.
'লিপ্সা' বলতে কী বোঝায়?
  1. লাভ করার ইচ্ছা
  2. দেখবার ইচ্ছা
  3. ভোজন করার ইচ্ছা
  4. বলবার ইচ্ছা
ব্যাখ্যা

• 'লাভ করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - লিপ্সা

অন্যদিকে, 
- বলবার ইচ্ছা - বিবক্ষা।
- ভোজন করার ইচ্ছা - বুভুক্ষা।
- দেখবার ইচ্ছা - দিদৃক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩,২৮০.
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম কত প্রকার?
  1. ৩ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ৬ প্রকার
  4. ৮ প্রকার
ব্যাখ্যা
সর্বনাম:
- বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
যেমন - নজরুল ভালো ছেলে। সে নিয়মিত স্কুলে যায়।
দ্বিতিয় বাক্যের ‘সে’ প্রথম বাক্যের ‘নজরুল’- এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে।
- এই সর্বনাম তিন ধরনের।
যথা:

• বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।

• শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।

• অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,২৮১.
'ঝানু' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. সাধু
  2. আনাড়ি
  3. ঠুনকো
  4. ঠগ
ব্যাখ্যা
• 'ঝানু' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - আনাড়ি। 

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ হলো-
ঝুনা - কাঁচা/কচি। 
ঝটিতি - বিলম্ব। 
ঝলমলে - মিটমিটে/ম্যাড়মেড়ে। 
ঝঞ্ঝাট - নির্ঝঞ্ঝাট। 
ঝাল - মিষ্টি। 
ঠকা- জেতা। 
ঠান্ডা - গরম। 
ঠুনকো - মজবুত। 
ঠগ - সাধু।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
১৩,২৮২.
স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ ব্যবহৃত হয়েছে কোন শব্দে?
  1. স্পষ্ট
  2. কৃষক
  3. কলুষ
  4. বর্ষণ
ব্যাখ্যা
• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ভূষণ, দ্বেষ রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,২৮৩.
'এঁটোপাত না যায় স্বর্গে' প্রবাদটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে? 
  1. জন্মগত অভ্যাস পরিত্যাগ করা দুঃসাধ্য
  2. এক পক্ষ বিবাদ সৃষ্টি করে না
  3. পরমুখাপেক্ষীর সমৃদ্ধি সম্ভব হয় না
  4. স্বজন বা সগোত্রের প্রতি অনুরাগ
ব্যাখ্যা

• 'এঁটোপাত না যায় স্বর্গে' অর্থ- পরমুখাপেক্ষীর সমৃদ্ধি সম্ভব হয় না। 
বাক্য: মালিকের দয়ায় চাকরি পেয়েছ, আবার ধরনা দিচ্ছ পদোন্নতির জন্যে— এঁটোপাত না যায় স্বর্গে।

অন্যদিকে, 
• 'এক হাতে তালি বাজে না' অর্থ - এক পক্ষ বিবাদ সৃষ্টি করে না।
• 'রং যায় না ধুলে স্বভাব যায় না মনে' অর্থ - জন্মগত অভ্যাস পরিত্যাগ করা দুঃসাধ্য। 
• 'কাকের মাংস কাকে খায় না' অর্থ - স্বজন বা সগোত্রের প্রতি অনুরাগ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ  মামুদ।

১৩,২৮৪.
নিম্নের কোনটি অন্ত্যযতি নয়?
  1. ক) বিন্দু (.)
  2. খ) প্রশ্নচিহ্ন (?)
  3. গ) বিস্ময়চিহ্ন (!)
  4. ঘ) দুই দাঁড়ি (।।)
ব্যাখ্যা
প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, 
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হল: ১৬ টি। 
ক, অন্ত্যযতি
১. দাড়ি (।)
২. প্রশ্নচিহ্ন (?)
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!)
৪. দুই দাঁড়ি (।।) 

খ. অভ্যন্তর যতি
৫. কমা (,)
৬. সেমিকোলন (;) 
৭. হাইফেন (-) 
৮. ড্যাশ (-)
৯. কোলন (:) 
১০. কোলন-ড্যাশ (:-)
১১. বিন্দু (.)

গ. অন্যান্য যতি 
১২. ঊর্ধ্বকমা (')
১৩. ত্রিবিন্দু (...) 
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”)
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})) 
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)
১৩,২৮৫.
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় নয়?
  1. বাগ্‌ধারা
  2. বাচ্য
  3. বিপরীত শব্দ
  4. শব্দজোড়
ব্যাখ্যা
• অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় নয় - বাচ্য
- এটি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. ধ্বনিতত্ত্ব,
২. রূপতত্ত্ব,
৩. বাক্যতত্ত্ব ও
৪. অর্থতত্ত্ব।

অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,২৮৬.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিক শব্দ কোনটি?
  1. মনুষ্য + ত্ব = মনুষ্যত্ব
  2. রাষ্ট্র + ঈয় = রাষ্ট্রীয়
  3. জল + ঈয় = জলীয়
  4. সেবা + আইত = সেবাইত
ব্যাখ্যা
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

আইত > আত্ :
- সেবা + আইত = সেবাইত,

- সঙ্গ + আইত = সাঙ্গাইত>সাঙ্গাত।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

ঈয় (ষ্ণীয়, ছ):
- জল + ঈয় = জলীয়
- আত্মন্ + ঈয় = আত্মীয়।
- মানব + ঈয় = মানবীয়।
- রাষ্ট্র + ঈয় = রাষ্ট্রীয়

ত্ব:
- মাতৃ + ত্ব = মাতৃত্ব, 
- মনুষ্য + ত্ব = মনুষ্যত্ব, 
- ভ্রাতৃ + ত্ব = ভ্রাতৃত্ব।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৩,২৮৭.
"কুটুম্ব ˃ কুটুম" কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রতি
  2. সম্প্রকর্ষ
  3. বিষমীভবন
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

যেমন:
- আটমেসে ˃ আটাসে,
- কুটুম্ব ˃ কুটুম,
- জানালা ˃ জান্লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৩,২৮৮.
'একজন ফটোগ্রাফওয়ালা ডেকে আনো।' - এখানে 'ফটোগ্রাফওয়ালা' কোন কারক?
  1. কর্তা কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।
যেমন:
- সে রােজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করাে।
- একজন ফটোগ্রাফওয়ালা ডেকে আনো।

- কাব্যভাষায় কর্মকারকে ‘রে বিভক্তি হয়।
যেমন –
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মাের প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
১৩,২৮৯.
‘হাত-ভারি' বাগধারটির অর্থ কী?
  1. ক) দাতা
  2. খ) কম খরচে
  3. গ) দরিদ্র
  4. ঘ) কৃপন
ব্যাখ্যা
• 'হাত-ভারি' বাগধারার অর্থ কৃপণ।

আরও কিছু বাগ্‌ধারা এবং এর অর্থ- 
- 'হাত ধরা' বাগধারার অর্থ বশীভূত।
- 'হাড় হাভাতে' বাগধারার অর্থ হতভাগ্য,
- 'হাল ছাড়া' বাগধারার অর্থ হতাশ হওয়া।
- 'হাত পাকান' বাগধারার অর্থ দক্ষতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,২৯০.
"টেলিস্কোপ" শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. পর্তুগিজ
  2. ইংরেজি
  3. ফরাসি
  4. ইতালিয়ান
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• "টেলিস্কোপ" শব্দটি "ইতালিয়ান" ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- দূরের জিনিস বড়ো করে দেখা যায় এমন পরকলাযুক্ত সরঞ্জাম-বিশেষ, দুরবিন, telescope।

কিছু ইতালিয়ান শব্দ:
- টেলিস্কোপ, ওলকপি, ডিসকাউন্ট, ম্যাজেন্টা, সনেট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩,২৯১.
তালব্য বর্ণ কোনগুলো?
  1. ফ, ভ
  2. শ, য
  3. ড়, ঢ়
  4. ল,স
ব্যাখ্যা
তালব্য বর্ণ হচ্ছে:
- চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ, য, য়।

অন্যদিকে:
- ফ, ভ - ওষ্ঠ্য বর্ণ। 
- ড়, ঢ় - দন্তমূলীয়।
- ল,স  - দন্ত্য বর্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,২৯২.
'তাম্বূল' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) পান
  2. খ) ঠোঁট
  3. গ) লাল
  4. ঘ) বচন
ব্যাখ্যা
'তাম্বূল' শব্দের অর্থ = পান 

তাম্বূল (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √তম্‌+ঊল 
অর্থ: পান, নাগলতা, নাগবল্লী, নাগবল্লরী

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৩,২৯৩.
ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে, কোন বানানটি শুদ্ধ? 
  1. মাষ্টার
  2. পোষ্ট
  3. সংস্কার
  4. পোষাক
ব্যাখ্যা
• 'সংস্কার' - সংস্কৃত শব্দ। এটি শুদ্ধ বানান।

• 'ষ-ত্ব' বিধান: 
- কেবল তৎসম শব্দেই 'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য। 
- ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুযায়ী শুদ্ধ বানান- সংস্কার। 

অন্যদিকে, 
- বিদেশি শব্দে 'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য নয়। 
- 'পোষ্ট' ও 'মাষ্টার' শব্দটি ইংরেজি এবং 'পোশাক' ফারসি ভাষার শব্দ, তাই এতে 'ষ'-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হবে না। 
- সঠিক বানান - পোস্ট, মাস্টার ও পোশাক। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩,২৯৪.
নিচের কোনটি বিসর্গ সন্ধিসাধিত শব্দ নয়?
  1. ক) শঙ্কা
  2. খ) শিরশ্ছেদ
  3. গ) দুস্থ
  4. ঘ) নিশ্চয়
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জন সন্ধিসাধিত শব্দ হচ্ছে ‘শঙ্কা’
সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ: শম্ + কা = শঙ্কা।

অন্যদিকে,
বিসর্গ সন্ধির নিয়মে গঠিত শব্দ হলো:
দুঃ + থ = দুস্থ।
শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ।
নিঃ + চয় = নিশ্চয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,২৯৫.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ঘূর্ণন
  2. ঘূন্যমাণ
  3. ঘৃর্ণিত
  4. ঘূর্নায়মাণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: ঘূর্ণন (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- সঠিক প্রকৃত-প্রত্যয় = (√ঘূর্ণ্ + অন),
যার অর্থ: অনবরত আবর্তন, চক্রগতি।

অন্যদিকে,
• শুদ্ধ বানান: ঘূর্ণায়মান (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
যার অর্থ: ঘুরছে এমন।

• শুদ্ধ বানান: ঘৃণিত (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
যার অর্থ: ঘৃণা করা হয়েছে এমন, অবজ্ঞাত, অবহেলিত।

• শুদ্ধ বানান: ঘূর্ণ্যমান (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
যার অর্থ: ঘোরানো হচ্ছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩,২৯৬.
”অহনের অপর অংশ” একথায় প্রকাশ কী হবে?
  1. পূর্বাহ্ণ
  2. অপরাহ্ণ
  3. মধ্যাহ্ন
  4. অহহ্ণা
ব্যাখ্যা
”অহনের অপর অংশ” একথায় প্রকাশ = অপরাহ্ণ।

অন্যদিকে,
- ”অহনের পূর্বাংশ” একথায় প্রকাশ = পূর্বাহ্ণ।
- ”অহনের মধ্য অংশ” একথায় প্রকাশ = মধ্যাহ্ন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩,২৯৭.
অপিনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. গাছুয়া > গাউছ্যা
  2. করিয়া > কইর‍্যা > করে
  3. হাটুয়া > হাউট্যা > হেটো
  4. শুনিয়া > শুইন্যা > শুনে
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি (Apenthesis):
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:

• ই-ধ্বনির অপিনিহিতি: আজি আইজ, রাতি রাইত, রাখিয়া > রাইখ্যা, চলিয়া > চইলা, গাঁটি > গাঁইট, মাটিয়া > মাইট্যা, গাঁতি > গাঁইতি, ভাসিয়া > ভাইস্যা, জালিয়া > জাইল্যা, চারি > চাইর ইত্যাদি।

• উ-ধ্বনির অপিনিহিতি: মাছুয়া > মাউছ্যা, গাছুয়া > গাউছ্যা, চালু > চাউল, হাটুয়া > হাউট্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
-----------------
• অভিশ্রুতি:
অভিশ্রুতি অপিনিহিতির পরবর্তী পর্যায়। কথ্য বা চলিত বাংলায় অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতি-জনিত কারণে ধ্বনি পরিবর্তনের অনেক নিদর্শন আছে।
অপিনিহিতির 'ই' বা 'উ' পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে একপ্রকার সন্ধিতে মিলিত হলে এবং তার প্রভাবে পরবর্তী ঘরের সঙ্গতি বা বিকৃতি ঘটলে, তাকে বলা হয় অভিশ্রুতি।
যেমন:
- রাখিয়া > রাইখা (অপিনিহিতি) রেখে (অভিশ্রুতি)।

অপিনিহিতির 'ই' ও পূর্ববর্তী 'আ' এই দুই স্বর মিলিত হয়ে সন্ধির ফলে 'এ' হয়েছে। অভিশ্রুতি-জনিত পূর্ববর্তী 'এ' ষরের প্রভাবে পরবর্তী 'আ'-'এ' হয়ে স্বরের সঙ্গতি রক্ষা করেছে।

এ রূপ- করিয়া > কইর‍্যা > করে; শুনিয়া > শুইন্যা > শুনে; বলিয়া > বইল্যা > বলে; হাটুয়া > হাউট্যা > হেটো, মাছুয়া > মাউছ্যা > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৩,২৯৮.
'আষাঢ়ে মেঘ আসার নামে'- এ বাক্যে 'আসার' শব্দের অর্থ কি?
  1. জলধারা
  2. জলকণা
  3. জলধর
  4. জলঝড়
ব্যাখ্যা
প্রায়-সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ:

আষাঢ়- বাংলা মাসের নাম।

আসার- জলকণা, বৃষ্টি, প্রবল বৃষ্টিপাত, প্রবল বর্ষণ।

জলধারা- জলস্রোত, বারিধারা।

জলধর- সাগর, বারীন্দ্র, জলনিধি, বারিশ, জলধি, মেঘ।
১৩,২৯৯.
'প্রসন্ন' এর বিপরীতার্থক শব্দ-
  1. বিপন্ন
  2. প্রকাশিত
  3. প্রতিপন্ন
  4. বিষণ্ন
ব্যাখ্যা

• 'প্রসন্ন' এর বিপরীত শব্দ 'বিষণ্ন'।

• প্রসন্ন (বিশেষণ)  অর্থ: সন্তুষ্ট; সদয় ; নির্মল, পবিত্র।

• বিষণ্ন (বিশেষণ) অর্থ:
১) দুঃখিত; দুঃখপ্রাপ্ত; ক্ষুণ্ন।
২) ম্লান; মলিন (একাকী বিষণ্ন তরুচ্ছায়ে-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।
৩) বিষাদযুক্ত; অপ্রসন্ন।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান এবং ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১৩,৩০০.
‘ইতিমধ্যে’ এর সঠিকরূপ কোনটি?
  1. ক) ইতিঃমধ্যে
  2. খ) ইতোঃমধ্যে
  3. গ) ইতোমধ্যে
  4. ঘ) ইতঃমধ্যে
ব্যাখ্যা
‘ইতিমধ্যে’ এর সঠিকরূপ ইতোমধ্যে। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।