বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১৩ / ৩৫৪ · ১,২০১১,৩০০ / ৩৫,৭১৩

১,২০১.
বস্তুর ধ্বনির অনুকার বোঝাতে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি হয়েছে কোনটি?
  1. হি হি
  2. হু হু
  3. ঠা ঠা
  4. ট্যা ট্যা
ব্যাখ্যা
• বস্তুর ধ্বনির অনুকার বোঝাতে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি হয়েছে - হু হু (বাতাস প্রবাহের শব্দ)।

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:

- কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরক্ত শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়। যেমন-

মানুষের ধ্বনির অনুকার:
- ভেউ ভেউ – মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি। এরূপ-ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।

জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার:
- ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এরূপ-মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), কুহু কুহু (কোকিলের ডাক), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।

বস্তুর ধ্বনির অনুকার:
- ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ)। এরূপ-মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ঝমঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ), হু হু (বাতাস প্রবাহের শব্দ) ইত্যাদি।

অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার:
- ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)। এরূপ ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), কুট কুট (শরীরে কামড় লাগার মতো অনুভূতি)। অনুরূপভাবে- মিন মিন, পিট পিট, ঝি ঝি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
১,২০২.
‘কমরেড’ শব্দের সঙ্গে কোন দেশ জড়িত?
  1. ক) চীন
  2. খ) জাপান
  3. গ) রাশিয়া
  4. ঘ) ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
কমরেড একটি রুশ শব্দ। 

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,২০৩.
'Malnutrition' এর বাংলা পরিভাষা কী?
  1. মাতৃকী
  2. মাতৃত্ব
  3. বস্তুবাদ
  4. অপুষ্টি
ব্যাখ্যা
•  'Malnutrition' এর বাংলা পরিভাষা - অপুষ্টি

অন্যদিকে,
- 'Materialism' এর বাংলা পরিভাষা - বস্তুবাদ।
- 'Maternity' এর বাংলা পরিভাষা - মাতৃত্ব।
- 'Matron' এর বাংলা পরিভাষা - মাতৃকী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২০৪.
"উড্ডীন" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উদ্‌ + ডীন
  2. উৎ + ডীন
  3. উদ্‌ + ড্ডীন
  4. উৎ + ড্ডয়ন
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনির সন্ধি:

যেমন:
উৎ + চারণ = উচ্চারণ, 
বিপদ্ + চয় = বিপচ্চয়, 
যাবৎ + জীবন = যাবজ্জীবন, 
বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক, 
উৎ + ডীন = উড্ডীন
উৎ + লিখিত = উল্লিখিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,২০৫.
‘কূজন’ শব্দের অর্থ কি?
  1. খারাপ লোক
  2. ছোট লোক
  3. পাখির ডাক
  4. ইতর বিশেষ
ব্যাখ্যা
• 'কূজন'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ। 
- প্রকৃতি - প্রুত্যয়: √ কূজ্‌ + অন।
অর্থ:
- পাখির ডাক,
- কাকলি,
- অব্যক্ত ধ্বনি।

• কুজন অর্থ - মন্দ লোক ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২০৬.
‘ক্ষণদা’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) শর্বরী
  2. খ) সুধাকর
  3. গ) তিমির
  4. ঘ) দিবাকর
ব্যাখ্যা

রাত্রি - নিশা, রজনী, যামিনী, নিশীথিনী, শর্বরী, বিভাবরী, ক্ষণদা
অন্ধকার - আধাঁর, তিমির, তমঃ।
চাঁদ - চন্দ্র, সুধাকর, সোম, বিধু।
পাখি - পক্ষী, বিহগ, পতগ, বিহঙ্গ, খগ, দ্বিজ, খেচর, পক্ষধর, চিড়িয়া, পাখপাখালি।
অর্ক - সূর্য, তপন, আদিত্য, দিবাকর, ভাস্কর, ভানু, মার্তণ্ড, রবি, সবিতা ইত্যাদি।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷

১,২০৭.
"উদয় হওয়া" এটি কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সংযোগ ক্রিয়া
  2. নাম ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।

যেমন:
- গরম করা, গান করা, মার খাওয়া, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
১,২০৮.
'Consciousness' শব্দের বাংলা অর্থ?
  1. সচেতন
  2. সজ্ঞান
  3. চেতনা
  4. বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন
ব্যাখ্যা
• 'Consciousness' শব্দটির বাংলা পরিভাষা - চেতনা।

অন্যদিকে, 
• 'Conscious' অর্থ - সচেতন, সজ্ঞান।
• 'Conscientious' অর্থ - বিবেকবান; বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
১,২০৯.
'কুন্ঠিত' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) কুন্ঠ + ইত
  2. খ) কুন্ঠ + ঈত
  3. গ) কুন্ঠ্‌ + ত
  4. ঘ) কুন্ঠ +ত্‌
ব্যাখ্যা
(ক) ক্ত-প্রত্যয় যুক্ত হলে নিম্নলিখিত ধাতুর অন্ত্যস্বর ‘ই’ কার হয়।
যেমন √পঠ্‌ + ক্ত=(পঠ্‌ + ই + ত) = পঠিত।
এরূপ – লিখিত, বিদিত, বেষ্টিত, চলিত, পতিত, লুণ্ঠিত, ক্ষুধিত, শিক্ষিত ইত্যাদি।

(খ) ক্ত প্রত্যয় যুক্ত হলে, ধাতুর অন্তস্থিত ‘চ’ ও ‘জ’ স্থলে ‘ক’ হয়।
যেমন- √সিচ্+ক্ত-(সিক্+ত) সিক্ত।
এরূপ—√মুচ্+ক্ত=মুক্ত, √ভুজ্‌+ক্ত=ভুক্ত।

'কুন্ঠিত' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় : √কুন্ঠ্ + ত(ক্ত)

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , নবম দশম শ্রেণি, ২০১৯- সংস্করণ]
১,২১০.
অদ্রীশ শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ হবে কোনটি?
  1. ক) অদ্রি + ঈশ
  2. খ) অদ্রী + ইশ
  3. গ) অদ্রি + ইশ
  4. ঘ) অদ্রী + ঈশ
ব্যাখ্যা

ই/ঈ এরপরে ই/ঈ থাকলে উভয়ে মিলে ঈ হয় এবং তা ই/ঈ-র আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
১) ই+ই = ঈ
অতি+ইত = অতীত
গিরি+ইন্দ্র= গিরীন্দ্র
অতি+ইব= অতীব
প্রতি+ইত= প্রতীত
রবি+ইন্দ্র = রবীন্দ্র
২) ই+ঈ = ঈ
পরি+ঈক্ষা = পরীক্ষা
প্রতি+ঈক্ষা= প্রতীক্ষা
৩) ঈ+ই = ঈ
সতী+ইন্দ্র = সতীন্দ্র
মহী+ইন্দ্র = মহীন্দ্র
৪) ঈ+ঈ = ঈ
সতী+ঈশ = সতীশ
ক্ষিতী+ঈশ= ক্ষিতীশ
শ্রী+ঈশ = শ্রীশ
পৃথ্বী+ঈশ = পৃথ্বীশ
দিল্লী+ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২১১.
দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি কোন পদ হয়?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. সর্বনাম
  4. কৃদন্ত 
ব্যাখ্যা

দ্বিগু সমাস: 
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। 
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী, 
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী, 
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী ইত্যাদি।
- এরূপ-অষ্টধাতু, চতুর্ভুজ, চতুরঙ্গ, ত্রিমোহিনী, তেরনদী, পঞ্চভূত, সাতসমুদ্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,২১২.
ভগ্নাংশবাচক সংখ্যাশব্দ কোনটি?
  1. চৌথাই
  2. তেসরা
  3. ছয়ই
  4. দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
• ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ:
পূর্ণসংখ্যার অংশবাচক শব্দকে ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ বলে। পূর্ণসংখ্যার অংশ বোঝাতে বাংলায় নিম্নলিখিত শব্দগুলি ব্যবহার করা হয়।
যথা-
চার ভাগের এক ভাগ = চৌথাই, সিকি, পোয়া।
তিন ভাগের এক ভাগ = তেহাই।
দুই ভাগের এক ভাগ = অর্ধ, আধা, আধ, অর্ধেক, আধেক।

অন্যদিকে,
• তারিখ পূরণবাচক শব্দ- তেসরা, ছয়ই।
• সাধারণ পূরণবাচক শব্দ- দ্বিতীয়া।

 উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড), বাংলা একাডেমি।
১,২১৩.
সমার্থক শব্দ নির্ণয় করুন: 'ময়ূর'
  1. বর্হিণ
  2. উরগ
  3. কেশরী
  4. ভুজঙ্গ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

'ময়ূর' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কলাপী , কেকী , শিখী , শিখণ্ডী , বর্হী , বর্হিণ

অন্যদিকে:
'সাপ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- সৰ্প, অহি, ফণী, নাগ, ভুজগ, ভুজঙ্গ, আশীবিষ, উরগ, বিষধর, পন্নগ।

'সিংহ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কেশরী, পশুরাজ, মৃগেন্দ্র, মৃগরাজ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,২১৪.
'আমি অত্যন্ত দুর্বল, তাই আমি কোনো কাজ করতে পারছি না।'- এই বাক্যের সরল রূপ কী?
  1. আমি অত্যন্ত দুর্বল হইলে কাজ করি না।
  2. আমি দুর্বল, তাই কোনো কাজ করিনি।
  3. আমি দুর্বল এবং আমি অলস, তাই কাজ করছি না।
  4. অত্যন্ত দুর্বলতাবশত আমি কোনো কাজ করতে পারছি না।
ব্যাখ্যা
আমি অত্যন্ত দুর্বল, তাই আমি কোনো কাজ করতে পারছি না।- এই বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য।

• এই বাক্যের সরলরূপ: অত্যন্ত দুর্বলতাবশত আমি কোনো কাজ করতে পারছি না। 

• যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরিত করার নিয়ম:
- বাক্য পরিবর্তন হলেও অর্থের পরিবর্তন হয় না।
- বাক্যটিকে একটি অংশে পরিণত করতে হয়।
- সংযোজক, বিয়োজক ইত্যাদি অব্যয় পদ থাকলে তা বর্জন করতে হয়।
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া।
- তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।
উদাহরণ:
যৌগিক বাক্য: তুমি আসবে এবং আমি যাব।
সরল বাক্য: তুমি এলে আমি যাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২১৫.
'বনৌষধি' শব্দটি সন্ধির কোন সুত্রানুসারে সিদ্ধ হয়?
  1. অ/আ+উ/ঊ = ও
  2. অ/আ+এ/ঐ = ঐ
  3. অ/আ+ও/ঔ = ঔ
  4. ঔ+ অন্য স্বর = আবৃ+স্বর
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধি স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

স্বরসন্ধি গঠনের সুত্র সমূহ:

- সূত্র ১: অ/আ+অ/আ = আ।
যেমন – উত্তর+অধিকার = উত্তরাধিকার, আশা+অতীত = আশাতীত

- সূত্র-২: ই/ঈইঈ = ঈ।
যেমন – অতি+ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয়, পরি+ঈক্ষা = পরীক্ষা

- সূত্র-৩: উ/উ+উ/ঊ = উ।
যেমন – মরু+উদ্যান = মরূদ্যান

- সূত্র-৪: অ/আ+ই/ঈ = এ।
যেমন – শুভ+ইচ্ছা = শুভেচ্ছা

- সূত্র-৫: অ/আ+উ/ঊ = ও।
যেমন – সূর্য+উদয় = সূর্যোদয়

- সূত্র-৬: অ/আ+ঋ = অর্।
যেমন – মহা+ঋষি = মহর্ষি।

- সূত্র-৭: অ/আ+ঋত = আর্।
যেমন – শীত+ঋত = শীতার্ত

- সূত্র-৮: অ/আ+এ/ঐ = ঐ।
যেমন – জন+এক = জনৈক

- সূত্র-৯: অ/আ+ও/ঔ = ঔ।
যেমন – বন+ওষধি = বনৌষধি


- সূত্র-১০: ই/ঈ+অন্য স্বর = য+স্বর।
যেমন – প্রতি+এক = প্রত্যেক

- সূত্র-১১: উ/উ+অন্য স্বর = বু+স্বর।
যেমন – সু+অল্প = স্বল্প

- সূত্র-১২: ঋ+অন্য স্বর = রূস্বর।
যেমন - পিতৃ+আলয় = পিত্রালয়।

- সূত্র-১৩: এ + অন্য ঘর = অ+স্বর।
যেমন – শে+অন = শয়ন

- সূত্র-১৪: ঐ+ অন্য স্বর = আয়ু+স্বর।
যেমন – নৈ+অক = নায়ক

- সূত্র-১৫: ও+ অন্য স্বর = অবৃ+স্বর।
যেমন – গাে+আদি = গবাদি

- সূত্র-১৬: ঔ+ অন্য স্বর = আবৃ+স্বর।
যেমন – নৌ+ইক = নাবিক

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২১৬.
'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. শৈবলিনী
  2. সরিৎ
  3. নির্ঝরণী
  4. সিন্ধু
ব্যাখ্যা
• 'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ নয়- সিন্ধু। 
- 'সিন্ধু'এর সমার্থক শব্দ- সাগর।

• 'নদী' শব্দের কিছু সমার্থক শব্দ:
নদ, নদনদী, গাঙ, স্রোতস্বিনী, তটিনী, স্রোতস্বতী, শৈবলিনী, সরিৎ, প্রবাহিণী, নির্ঝরণী, তরঙ্গিণী, মন্দাকিনী, কল্লোলিনী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মাহমুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২১৭.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. মেঘলা
  2. ঘরোয়া
  3. মাছওয়ালা
  4. একলা
ব্যাখ্যা

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
ওয়ালা > আলা (হিন্দি) : বাড়ি-বাড়িওয়ালা (মালিক অর্থে), দিল্লি-দিল্লিওয়ালা (অধিবাসী অর্থে), মাছ + ওয়ালা = মাছওয়ালা (বৃত্তি অর্থে), দুধ দুধওয়ালা (বৃত্তি অর্থে)।

এরূপ কিছু বিদেশি প্রত্যয় হলো- ওয়ান, আনা, সা, গর, দার, বাজ, বন্দি, সই, পনা। 

অন্যদিকে, 
• উয়া/ওয়া>ও-প্রত্যয়: সম্পর্কিত অর্থে: ঘর + ওয়া =  ঘরোয়া, জল + উয়া = জলুয়াজলো (দুধ)।
• লা-প্রত্যয়: (ক) বিশেষণ গঠনে: মেঘ + লা = মেঘলা, এক + লা = একলা।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২১৮.
'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।'- বাক্যের ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তিটি কোন পদ নির্দেশ করছে?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. বিশেষ্য
  5. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
- কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়। 

• বিভিন্ন পদরূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার:
- বিশেষ্য: বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।
- বিশেষণ: 'নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।'
- ক্রিয়া: কলকলিয়ে উঠল সেথায় নারীর প্রতিবাদ।
- ক্রিয়া বিশেষণ: 'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২১৯.
Quarantine এর সঠিক বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) সঙ্গবিরোধ
  2. খ) সঙ্গরোধ
  3. গ) বিচ্ছিন্নকরণ
  4. ঘ) বিচ্ছিন্নতা
ব্যাখ্যা
Quarantine = সঙ্গরোধ। 
Isolation = বিচ্ছিন্নকরণ, বিচ্ছিন্নতা। 

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
১,২২০.
‘বনিতা’ শব্দের অর্থ -
  1. উপহার
  2. অলঙ্কার
  3. প্রেয়সী
  4. ভূমিকা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
- ‘বনিতা’ শব্দের অর্থ - স্ত্রী, পত্নী, নারী, প্রেয়সী।

অন্যদিকে,
- আভরণ শব্দের অর্থ - অলঙ্কার,
- আভাষ শব্দের অর্থ - ভূমিকা বা আলাপ।
- ‘সওগাত’ শব্দের অর্থ - উপঢৌকন; উপহার।

• আরো কিছু শব্দার্থ: 
- ‘অঙ্গনা’ শব্দের অর্থ - অঙ্গসৌষ্ঠববিশিষ্ট নারী, সুন্দর নারী।
- ‘ললনা’ শব্দের অর্থ - নারী, কান্তা, পত্নী।
- 'আফতাব' শব্দের অর্থ - সূর্য।
- 'বিবর' শব্দের অর্থ - গহ্বর। 
- চূড়া' শব্দের অর্থ - শীর্ষদেশ, শিখর। 
- পর্ণ শব্দের অর্থ - গাছের পাতা; তাম্বুল; পান; ডানা ইত্যাদি।
- পর্ণমোচী শব্দের অর্থ - পত্রঝরা; পত্রমোচী।
- 'সলিল' শব্দের অর্থ - 'জল'।
- 'খগ' শব্দের অর্থ - পাখি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২২১.
নিচের কোনটি বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. সম্‌ + চয় = সঞ্চয়
  2. সম্‌ + তাপ = সন্তাপ
  3. সম্‌ + যম = সংযম
  4. সম্‌ + কার = সংস্কার
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মানুসারে,
- ম্ - এর পর যে কোনো বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্ ধ্বনিটি সেই বর্গের নাসিক্য ধ্বনি হয়।
যেমন -
- ম্ + ক্ = ঙ + ক্‌ ⇒ শম্ + কা =শঙ্কা।
- ম্ + চ্ = ঞ + চ্  ⇒ সম্ + চয় = সঞ্চয়
- ম্ + ত্ = ন্ + ত্  ⇒ সম্ + তাপ = সন্তাপ

- ম্ - এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে, ম্ স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।
যেমন -
- সম্ + যম = সংযম,
- সম্ + লাপ = সংলাপ,
- সম্ + হার = সংহার,
- সম্ + বাদ = সংবাদ,
- সম্ + শয় = সংশয়,
- সম্+ রক্ষণ = সংরক্ষণ,
- সম্ + সার = সংসার।

বিশেষ নিয়মে সাধিত কতগুলো ব্যঞ্জনসান্ধি:
- উৎ + স্থান = উত্থান,
- সম্‌ + কার = সংস্কার,
- উৎ + স্থাপন = উত্থাপন,
- সম্‌ + কৃত = সংস্কৃত,
- পরি + কার = পরিষ্কার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২২২.
'তাজা মাছ', 'খোঁড়া পা' কোন প্রকার বিশেষণ?
  1. ক) রূপবাচক
  2. খ) গুণবাচক
  3. গ) নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক
  4. ঘ) অবস্থাবাচক
ব্যাখ্যা
নাম বিশেষণের প্রকারভেদ: নাম বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-

⇒ রূপবাচক : কালাে মেঘ, নীল আকাশ, সবুজ মাঠ।
⇒ গুণবাচক : দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া, চৌকস লোেক।
অবস্থাবাচক : মােটা মেয়ে, রােগা ছেলে, তাজা মাছ, খোঁড়া পা।
⇒ সংখ্যাবাচক : শ টাকা, হাজার লােক, দশ দশা।
⇒ ক্রমবাচক : পঞ্চাশ পৃষ্ঠা, অষ্টম শ্রেণি, প্রথমা কন্যা। |
⇒ পরিমাণবাচক : এক কেজি চিনি, তিন কিলােমিটার রাস্তা, বিঘাটেক জমি, দশ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ।
⇒ অংশবাচক : ষােল আনা দখল, সিকি পথ, অর্ধেক সম্পত্তি।
⇒ উপাদানবাচক : কাঠের জানালা, পাথরের মূর্তি, বেলে মাটি, মেটে কলসি।
⇒ প্রশ্নবাচক : কেমন অবস্থা? কতদূর পথ? 
⇒ নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক : এই মেয়ে, ষােলই ডিসেম্বর ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২২৩.
‘ণিন’ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. রক্ষণীয়
  2. শ্রবণীয়
  3. আত্মঘাতী
  4. দর্শনীয়
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে ‘ঈ’ থাকলে ‘ণিন’ হবে। যেমন - গ্রাহী, পায়ী, আত্মঘাতী ইত্যাদি। কর্ম ও ভাববাচ্যের ধাতুর পর তব্য ও অনীয় প্রত্যয় যুক্ত হয়। যেমন - √রক্ষ্‌ + অনীয় = রক্ষনীয়; √শ্রব্‌ + অনীয় = শ্রবণীয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী
১,২২৪.
নিম্নে কোনটি থেকে বাংলা ভাষার জন্ম?
  1. প্রাকৃত
  2. কেন্তুম
  3. দ্রাবিড়ীয়
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা। 
- বাংলা ভাষাও ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে।

• এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করতে হয়েছে,
সেগুলো হলো:
- ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানীয়→  ভারতীয় আর্য→ প্রাকৃত→ বাংলা।
- আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে।
- বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।

 উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১,২২৫.
কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি শুদ্ধ?
  1. গঙ্গা + উর্মি = গঙ্গোর্মি
  2. ভূ + ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব
  3. নদ + অম্বু = নদ্যম্বু
  4. প্রতী+ ইক্ষা = প্রতীক্ষা
ব্যাখ্যা
• সূত্র: উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঊ-কার হয়; এই নিয়মে গঠিত। 
যেমন:
- মরু + উদ্যান = মরূদ্যান। 
- বধূ + উৎসব = বধূৎসব।
- ভূ+ ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব।

অন্যদিকে,
• সূত্র: ই/ঈ এরপরে ই/ঈ থাকলে উভয়ে মিলে ঈ হয় এবং তা ই/ঈ-র আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
সুতরাং, ই+ঈ = ঈ;
- পরি+ঈক্ষা = পরীক্ষা।
- প্রতি+ঈক্ষা= প্রতীক্ষা।

• সূত্র: ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য-ফলা হয়। 
যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ,
- নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।

• সূত্র: অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়।
সুতরাং, আ + ঊ = ও ;
- গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,২২৬.
'রাজীব' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. পানি
  2. পদ্ম
  3. মেঘ
  4. বৃক্ষ
ব্যাখ্যা
• রাজীব [বিশেষ্য পদ],
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- পদ্ম,
- কমল।

• 'পদ্ম' শব্দের অন্যান্য সমার্থক শব্দ:
কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, কুবলয়, শতদল, অরবিন্দ, রাজীব, নলিনী, সরোজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২২৭.
'মেঘবরণ' কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ বা ব্যাখ্যানমূলক মধ্যপদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয়, তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখী,
- মৃগের ন্যায় নয়ন যার = মৃগনয়না।

এরকম - ক্ষুরধার, গজানন, মীনাক্ষী, স্বর্ণাভ, পদ্মমুখী, মেঘবরণ, শ্বাপদ, বিড়ালচোখা, হুতুমচোখি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২২৮.
‘সংশয়’ শব্দটির বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. অলস
  2. নিশ্চয়
  3. কর্মঠ
  4. দহন
ব্যাখ্যা
- সংশয় এর বিপরীত শব্দ হবে 'নিশ্চয়'।

সংশয় শব্দের অর্থ-
- সন্দেহ; দ্বিধা; দ্বৈধবোধ (সংশয় চিত্তের দুর্বলতা প্রকাশক)। 
- ভবিষ্যতের ব্যাপারে ভয় (জীবন সংশয়)। 
- এর স্ত্রীলিঙ্গ হবে সংশয়িতা।

উৎস: ভাষাশিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২২৯.
কোনটি নিলীন বর্ণ?
ব্যাখ্যা
'অ' নিলীন বর্ণ:
- ‘অ' কোনো বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে দেখা যায় না।
- কারণ ‘অ’-এর কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ নেই।
- কিন্তু 'অ' ছাড়া বাকি স্বরধ্বনিগুলোর সংক্ষিপ্ত রূপ আছে বলে সেগুলো কোনো বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে দেখা যায়।
যেমন:
- কর = কর্ + অ (‘অ') দেখা যায় না।
- করা = কর্ + আ (‘আ’ দেখা যায়।
- অর্থাৎ ‘অ’ অন্য বর্ণের সঙ্গে লুকিয়ে থাকতে পারে বা নিঃশেষে লীন হয়ে থাকতে পারে বলে নিলীন বর্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৩০.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. প্রনয়িণী
  2. প্রণয়নী
  3. প্রণয়িনী
  4. প্রণয়নি
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
 শুদ্ধ বানান - প্রণয়িনী।

- এটি প্রণয়ী এর স্ত্রীবাচক শব্দ।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,২৩১.
'আসমুদ্র' শব্দটির 'আ' কোন উপসর্গ?
  1. আরবি
  2. বাংলা
  3. ফারসি
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
• 'আসমুদ্র' শব্দটির 'আ' - সংস্কৃত উপসর্গ
- 'আসমুদ্র' শব্দটির 'আ' পর্যন্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

পর্যন্ত অর্থে ব্যবহৃত আরো কিছু শব্দ:
- আকণ্ঠ,
- আমরণ।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৩২.
নিচের কোনটি কর্মবাচ্যের উদাহরণ?
  1. দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে। 
  2. চিঠিটা পড়া হয়েছে।
  3. হালাকু খাঁ বাগদাদ ধ্বংস করেন। 
  4. একটি গান কর।
ব্যাখ্যা

• কর্মবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
- চিঠিটা পড়া হয়েছে।
- তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
কর্তৃবাচ্য:
- দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে। 
- হালাকু খাঁ বাগদাদ ধ্বংস করেন। 
- একটি গান কর। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১,২৩৩.
‘সন্দেশ’ শব্দের প্রত্যয়গত অর্থ কী?
  1. মিষ্টান্ন বিশেষ
  2. সংবাদ
  3. চিঠি
  4. জ্ঞানার্জন
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।

যেমন:
- 'হস্তী' - হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- 'গবেষণা' (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা।
- 'প্রবীণ' - শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন • বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- 'সন্দেশ' - শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থ - 'সংবাদ'। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে 'মিষ্টান্ন বিশেষ'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৩৪.
'বাবুয়ানি' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কি?
  1. ক) বাবু+ইনি
  2. খ) বাবুয়া+এনি
  3. গ) বাবু+আনি
  4. ঘ) বাবুয়া+ইনি
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে- বাবু+আনি = বাবুয়ানি।

 আনি প্রত্যয় যোগে আরো কয়েকটি শব্দ হচ্ছে-
• প্রদত্ত শব্দ -- প্রকৃতি ও প্রত্যয়
- জ্বালানি --- জ্বাল্‌+আনি।
- ঝাঁকানি --- ঝাঁক্‌+আনি।
- শুনানি ---- শুন্‌+আনি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৩৫.
পিতৃ + আলয় =পিত্রালয় - কোন সূত্রে সিদ্ধ?
  1. ক) ই/ঈ + ই/ঈ =ঈ
  2. খ) অ/আ + ই/ঈ =এ
  3. গ) ঋ+অন্য স্বর = র্‌ + স্বর
  4. ঘ) উ/ঊ + অন্য স্বর =ব্‌ + স্বর
ব্যাখ্যা
• সূত্র: ঋ+অন্য স্বর = র্‌ + স্বর।
যেমন- পিতৃ+আলয় = পিত্রালয়

স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
- স্বরসন্ধি গঠনের সুত্র সমূহ:

• অ/আ+অ/আ = আ। যেমন- উত্তর+অধিকার = উত্তরাধিকার, আশা+অতীত = আশাতীত।
• ই/ঈ + ই/ঈ = ঈ। যেমন- অতি+ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয়, পরি+ঈক্ষা = পরীক্ষা।
• উ/উ + উ/ঊ = উ। যেমন- মরু+উদ্যান = মরূদ্যান।
• উ/ঊ + অন্য স্বর =ব্‌ + স্বর। যেমন- সু+অল্প = স্বল্প।
• অ/আ + ই/ঈ = এ। যেমন- শুভ+ইচ্ছা = শুভেচ্ছা
• অ/আ+ঋ = অর্। যেমন- মহা+ঋষি = মহর্ষি।
• ঐ+ অন্য স্বর = আয়্‌+স্বর। যেমন- নৈ+অক = নায়ক।
• ও + অন্য স্বর = অব্‌+স্বর। যেমন- গাে+আদি = গবাদি
• ঔ + অন্য স্বর = আব্‌+স্বর। যেমন- নৌ+ইক = নাবিক

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২৩৬.
'আঁটি' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. বিরল
  2. শাঁস
  3. সসীম
  4. পরিশ্রমী
ব্যাখ্যা

• 'আঁটি' এর বিপরীত শব্দ - শাঁস।

উল্লেখ্য,
• 'আঁটি' শব্দের অর্থ- ফলের মধ্যকার বীজ বা বিচি।
• শাঁস শব্দের অর্থ- ফলাদির ভিতরের নরম অংশ, সার পদার্থ।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ:
- অধমর্ণ - উত্তমর্ণ, 
- অর্থ - অনর্থ, 
- অনির্বাণ - নির্বাণ, 
- অধিত্যকা - উপত্যকা, 
- অবিরল - বিরল, 
- অসীম - সসীম, 
- অধম - উত্তম, 
- অলস - পরিশ্রমী, 
- অর্বাচীন - প্রাচীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।

১,২৩৭.
মৌলিক ধাতুর সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে সাধিত হয় -
  1. সংযোগমূলক ধাতু
  2. সংস্কৃত ধাতু
  3. অজ্ঞাতমূল ধাতু
  4. কর্মবাচ্যের ধাতু
ব্যাখ্যা
• গঠনরীতি ও অর্থের দিক থেকে সাধিত ধাতু তিন শ্রেণিতে বিভক্ত। যথা:
ক. নাম ধাতু,
খ. প্রযোজক (ণিজন্ত) ধাতু,
(গ) কর্মবাচ্যের ধাতু।

• কর্মবাচ্যের ধাতু:
- মৌলিক ধাতুর সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে কর্মবাচ্যের ধাতু সাধিত হয়।
- এটি বাক্যমধ্যস্থ কর্মপদের অনুসারী ক্রিয়ার ধাতু।
যথা -
→ দেখ্‌ + আ = দেখা; কাজটি ভালো দেখায় না।
→ হার্ + আ = হারা; 'যা কিছু হারায় গিন্নী বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর।'
- 'কর্মবাচ্যের ধাতু' বলে আলাদা নামকরণের প্রয়োজন নেই। কারণ, এটি প্রযোজক ধাতুরই অন্তর্ভুক্ত।
যেমন - 'দেখায়' এবং 'হারায়' প্রযোজক ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৩৮.
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে বলে-
  1. ক) কর্মকর্তৃবাচ্য
  2. খ) ভাববাচ্য
  3. গ) কর্মবাচ্য
  4. ঘ) কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে বলা হয় ‘বাচ্য’।
বাচ্য প্রধানত তিন প্রকার :
(১) কর্তৃবাচ্য (২) কর্মবাচ্য ও (৩) ভাববাচ্য।
কর্তৃবাচ্য : যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে
যেমন— ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয় ।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়। যথা— শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান। রোগী পথ্য সেবন করে।

কর্মবাচ্য : যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
- কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়।
যথা – আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
চোরটা ধরা পড়েছে।
- কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে।
যথা- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

ভাববাচ্য : যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত
হয়। যেমন—
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না।
- আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২৩৯.
'আদি ও আধি' শব্দদ্বয় কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. মূল ও মনঃকষ্ট
  2. মূল ও প্রবল ঝড়
  3. মূল ও বর্ষণ
  4. মূল ও অর্ধেক
ব্যাখ্যা
সমোচ্চারিত শব্দের অর্থগুলো হলো-
আদি - মূল। 
আধি - মনঃকষ্ট। 
আঁধি -প্রবল ঝড়। 

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমোচ্চারিত শব্দ হলো-
আষাঢ় - মাসের নাম। 
আসার - বর্ষণ। 

আশা - ভরসা। 
আসা - আগমন। 

আপন - নিজ। 
আপণ - দোকান। 

আবাস - বাসস্থান। 
আভাস - ইঙ্গিত। 
আভাষ - আলাপ, ভূমিকা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
১,২৪০.
Anaptyxis শব্দের সঠিক অর্থ কোনটি?
  1. ক) আদি স্বরাগম
  2. খ) মধ্য স্বরাগম
  3. গ) অন্ত স্বরাগম
  4. ঘ) অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
Anaptyxis অর্থ মধ্যস্বরাগম । Prothesis- আদি স্বরাগম, Apothesis- অন্ত স্বরাগম, Apenthesis- অপিনিহিতি। রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম -দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
১,২৪১.
সঠিক সমার্থক শব্দজোড় কোনটি?
  1. ক) অলয়, অবয়ব
  2. খ) শুচি, পাবক
  3. গ) মূঢ়, মূর্ছিত
  4. ঘ) নগন্য, বাহ
ব্যাখ্যা
সঠিক সমার্থক শব্দজোড় হচ্ছে :
“আগুন” এর সমর্থক শব্দ :  শিখিন, শুচি, অনল, বহ্নি, সর্বভুক, পাবক, হুতাশন, জ্বলন, শিখাবৎ, বায়ুসখ, হুতভুক, অনিলসখ।

অন্যান্য শব্দের সমার্থক হচ্ছে:
“অশ্ব” এর সমর্থক শব্দ - বাহ, ঘোড়া, ঘোটক, বাজী, তুরঙ্গম, তুরগ, বাহনশ্রেষ্ঠ, হ্রেষী, বামী।
“অল্প”  এর সমর্থক শব্দ - নগণ্য, কম, সামান্য, কিয়ৎ, একটু, অনধিক, অবহুল।
“অজ্ঞ”  এর সমর্থক শব্দ - মূঢ়, মুর্খ, নির্বোধ, অশিক্ষিত, জ্ঞানহীন, বেকুব, নিরক্ষর, অবিদ্বান, অপ্রজ্ঞা।
‘অচেতন”  এর সমর্থক শব্দ - মূর্ছিত, আচ্ছন্ন, অসাড়, চেতনাশূন্য, সংজ্ঞাহীন, হেহুঁশ।
“অক্ষয়”  এর সমর্থক শব্দ - চিরন্তন, অলয়, অনশ্বর, ক্ষয়হীন, অমর, চিরায়ু, স্থায়ী, নাশহীন, অব্যয়।
“অঙ্গ”  এর সমর্থক শব্দ - বপু, দেহ, শরীর, অবয়ব, তনু, গতর, কাঠামো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৪২.
'ভব্য' এর বিপরীতার্থক শব্দ কী?
  1. মার্জিতবুচি
  2. অভবিতব্য
  3. কল্যাণকর
  4. অভদ্র
ব্যাখ্যা

• 'ভব্য' এর বিপরীতার্থক শব্দ - অভদ্র।

উল্লেখ্য,
'ভব্য' শব্দের অর্থ - মার্জিতবুচি; শান্ত, সৎ, কল্যাণকর
‘অভব্য’ শব্দের অর্থ - অশিষ্ট, অভদ্র, গোঁয়ার, অভব্যতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।

১,২৪৩.
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ কোনটি?
  1. উপরে
  2. দিয়ে
  3. কাছে
  4. দ্বারা
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
• করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
• ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
• বলে: তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।

সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
উপরে: মাথার উপরে নিল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ ও ২০২১ সংস্করণ)।

১,২৪৪.
একাধিক শব্দের সমন্বয়ে অর্থের ধারাবাহিকতায় কী তৈরি হয়?
  1. বাক্য
  2. শব্দ
  3. ধ্বনি
  4. ভাষা
ব্যাখ্যা
ভাষা:
- যেকোনো ধ্বনি বা আওয়াজই ভাষা নয়। সেখানে অর্থ এবং অর্থের ধারাবাহিকতা থাকা চাই। 
- ধ্বনির অর্থপূর্ণ মিলনে গঠিত হয় শব্দ। 
- আর একাধিক শব্দের সমন্বয়ে অর্থের ধারাবাহিকতায় তৈরি হয় বাক্য।
- পশু-পাখির ডাক ও মানুষের ভাষার মধ্যে পার্থক্য এখানেই। মানুষ একের পর এক অর্থবোধক শব্দ জুড়ে বাক্য তৈরি করে। 
- বাক্যের পর বাক্য সাজিয়ে একের মনের ভাব অন্যের কাছে প্রকাশ করে। এই ক্ষমতা পশু-পাখির মধ্যে নেই। 
- পশু-পাখি নানা আওয়াজ করে ঠিকই, কিন্তু তা ভাষার ধ্বনি, শব্দ ও বাক্যের মতো কোনো বিষয় বা ধারণাকে ধারাবাহিকভাবে স্পষ্ট করতে পারে না। সে জন্য পশু-পাখির ডাক ভাষা নয়।
 
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,২৪৫.
পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ কোনটি?
  1. বাবুর্চি
  2. বেগম
  3. বাবা
  4. বালতি
ব্যাখ্যা
• পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
আনারস, গির্জা, পেয়ারা, পেঁপে, সালোয়ার, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি, পাদরি, কামরা, বোতল, জানালা, বোতাম, তুরুপ, তোয়ালে।

অন্যদিকে,
• তুর্কি ভাষার শব্দ হলো:
কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, বেগম, বাবা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৪৬.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. ক) কবি + য = কাব্য
  2. খ) সম + য = সাম্য
  3. গ) মধুর + য = মাধুর্য
  4. ঘ) সভা + য = সভ্য
ব্যাখ্যা
‘য’ প্রত্যয় যুক্ত হলে প্রাতিপাদিকের অন্তে স্থিত অ, আ, ই, এবং ঈ - এর লোপ হয়।
যথা - সম্ + য = সাম্য, কবি + য = কাব্য, মধুর + য = মাধুর্য্য।
কিন্তু, সভা + য = সভ্য (সাভ্য নয়) এটি ব্যতিক্রম।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী
১,২৪৭.
ইংরেজি উপসর্গ নয় কোনটি?
  1. সাব
  2. হাফ
  3. ফুল
  4. ফি
ব্যাখ্যা
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৪৮.
'যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে' – বাক্যটির যৌগিক বাক্যরূপ কোনটি?
  1. ক) বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
  2. খ) বিপদের পরপরই দুঃখ আসে।
  3. গ) আগে বিপদ তারপর দুঃখও আসে।
  4. ঘ) বিপদ তারপর দুঃখ আসে।
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের যৌগিক বাক্যরূপ হচ্ছে বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে

• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্য:
- জটিল বাক্যের সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজক বাদ দিয়ে যৌগিক বাক্য তৈরি করতে হয়।
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।
যেমন:
জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে ।

জটিল বাক্য: যদি নিয়মিত সাঁতার কাটো, তবে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে ।
যৌগিক বাক্য: নিয়মিত সাঁতার কাটো, স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১,২৪৯.
'মনীষা' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মনস্‌ + ইষা
  2. মন্‌ + ঈষা
  3. মনঃ + ঈষা
  4. মনস্ + ঈষা
ব্যাখ্যা
• কতগুলো সন্ধি নিপাতনে সিদ্ধ হয়:
- আ+ চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোম্পদ,
- বন্ + পতি = বনস্পতি,  
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- তৎ+ কর = তস্কর,
- পর্ + পর = পরস্পর,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ, 
- এক্ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৫০.
'ঝিকে মেরে বৌকে শিখানো' এ বাক্যে 'ঝিকে' পদটি-
  1. কর্তায় ৪র্থী
  2. কর্মে ২য়া
  3. করণে ৪র্থী
  4. অধিকরণে ২য়া
ব্যাখ্যা
• কারক:
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
ডাক্তার ডাক।
শিক্ষককে জানাও।
ঝিকে মেরে বৌকে শিখানো - কর্মে ২য়া

• কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৫১.
নিচের কোন বাক্যটি অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ করছে?
  1. ক) সে একটু হাসুক
  2. খ) তার মঙ্গল হোক
  3. গ) সদা সত্য কথা বলবে
  4. ঘ) পরিশ্রম করলে সফল হবে
ব্যাখ্যা

আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়। ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা-
আদেশ : সদা সত্য কথা বলবে।
সূত্র- এসএসসি বাংলা দ্বিতীয় পত্র(উন্মুক্ত)।

১,২৫২.
ক্ষুদ্র অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. ক) উপবন
  2. খ) উপগ্রহ
  3. গ) উপশহর
  4. ঘ) উপকূল
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হলো উপগ্রহ। অন্যদিকে উপশহর ও উপবন সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস। উপকূল ও উপকণ্ঠ সমীপ্যে অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস। পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তাহলে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,২৫৩.
এ, ও কোন ধরণের স্বরধ্বনি?
  1. ক) নিম্ন মধ্য স্বরধ্বনি
  2. খ) উচ্চ স্বরধ্বনি
  3. গ) উচ্চ মধ্য স্বরধ্বনি
  4. ঘ) নিম্ন স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত :
- উচ্চ স্বরধ্বনি:- ই, উ
- উচ্চ মধ্য স্বরধ্বনি:-এ ,ও
- নিম্ন মধ্য স্বরধ্বনি:- অ্যা, অ
- নিম্ন স্বরধ্বনি:- আ

- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ উপরে ওঠে
- নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।


[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ]
 
১,২৫৪.
কোনটি ভিন্নার্থক স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. নাটিকা
  2. মালিকা
  3. গীতিকা
  4. বালিকা
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ। 
• নাটক - নাটিকা, 
• মালা - মালিকা, 
• গীত - গীতিকা, 
• পুস্তক - পুস্তিকা।

অন্যদিকে,
'বালিকা' শব্দটি স্ত্রীবাচক, যার পুরুষবাচক রূপ হলো 'বালক'। এখানে 'ক্ষুদ্রার্থে' প্রত্যয় যুক্ত হয়নি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৫৫.
কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না। - এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য
  2. খ) ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য
  3. গ) কার্যকারণাত্মক বাক্য
  4. ঘ) সংশয়সূচক বা সন্দেহদ্যোতক বাক্য
ব্যাখ্যা
যদি কোনো বাক্যে ক্রিয়া নিষ্পত্তি কোনো বিশেষ শর্তের অধীনে হয়, তাহলে তাকে কার্যকারণাত্মক বাক্য বলে। যেমন : 
- কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না। 
- মন দিয়ে না পড়লে পাশ করা যায় না। 

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
১,২৫৬.
কোন দুটি ঘোষ ব্যঞ্জন?
  1. ফ, ত
  2. স, ট
  3. ছ, শ
  4. ম, দ
ব্যাখ্যা
ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অন্যদিকে,
অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৫৭.
‘গিন্নি’ কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. ক) দেশি
  2. খ) বিদেশি
  3. গ) তদ্ভব
  4. ঘ) অর্ধ - তৎসম
ব্যাখ্যা
• অর্ধ-তৎসম শব্দ:
বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত হয়ে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলা হয়।
- তৎসম মানে সংস্কৃত৷ আর অর্ধ-তৎসম অর্থ আধা সংস্কৃত।
উদাহরণ:
বোষ্টম, জ্যোছনা, গিন্নি, কুচ্ছিত, ছেরাদ্দ— এ শব্দগুলো যথাক্রমে সংস্কৃত বৈষ্ণব, জ্যোৎস্না, গৃহিণী, কুৎসিত, শ্রাদ্ধ থেকে আগত।

 মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) বইয়ে অর্ধ-তৎসম কে শব্দের শ্রেনিবিভাগ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৫৮.
'নদের চাঁদ' বাগধারাটির অর্থ কী?
  1. অতি আকাঙ্ক্ষিত বস্তু
  2. অহমিকাপূর্ণ নির্গুণ ব্যক্তি
  3. অদৃষ্টের পরিহাস
  4. বিশেষ সম্মানিত ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
• 'নদের চাঁদ' বাগধারাটির অর্থ: অহমিকাপূর্ণ নির্গুণ ব্যক্তি। 
বাক্য গঠন: তুমি ত নদের চাঁদ, তোমাকে দিয়ে কোন কাজ হবেনা। 

উল্লেখ্য, 
• ‘নদের চাঁদ’ বাগধারাটির অর্থ - সুন্দর ব্যক্তি অথচ অপদার্থ'' হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। 
-----------------
• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা নিচে দেওয়া হলো:
অদৃষ্টের পরিহাস বাগধারাটির অর্থ- ভাগ্যের বিড়ম্বনা।
ইতর বিশেষ বাগধারাটির অর্থ-পার্থক্য বা প্রভেদ।
এলাহি কাণ্ড বাগধারাটির অর্থ- বিরাট আয়োজন। কংস মামা- নির্মম আত্মীয়।
গৌরচন্দ্রিকা বাগধারাটির অর্থ- ভূমিকা।
ঠোঁট কাঁটা বাগধারাটির অর্থ- বেহায়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
১,২৫৯.
'ধৃষ্ট’ এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. শ্লথ
  2. নম্র
  3. অজ্ঞেয়
  4. বিলম্ব
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘ধৃষ্ট’ এর বিপরীতার্থক শব্দ - নম্র।
উল্লেখ্য,
• ‘ধৃষ্ট’ (বিশেষণ) শব্দের অর্থ - উদ্ধত, লম্পট।

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিপরীতার্থক শব্দ হলো:
- ‘জ্ঞেয়’ এর বিপরীতার্থক শব্দ - অজ্ঞেয়।
- ‘পণ্ড’ এর বিপরীতার্থক শব্দ - সফল।
- ‘ত্বরিত’ এর বিপরীতার্থক শব্দ - শ্লথ।
- ‘রিক্ত’ এর বিপরীতার্থক শব্দ - পূর্ণ।
- ‘আশু’ এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিলম্ব।
- ‘উর্ধ্ব’ এর বিপরীতার্থক শব্দ - অধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ১৯ সংস্করণ)।
১,২৬০.
‘অতীন্দ্র’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অতী + ইন্দ্র
  2. অতি + ইন্দ্র
  3. অতী + ঈন্দ্র
  4. অতিন + ইন্দ্র
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
• সূত্র: ই + ই = ঈ:
- অতি + ইত = অতীত,
- অভি + ইষ্ট= অভীষ্ট,
- প্রতি + ইতি = প্রতীতি,
- অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

• সূত্র: ই + ঈ = ঈ:
- গিরি + ঈশ = গিরীশ,
- অধি+ ঈশ্বর = অধীশ্বর,
- ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ,
- অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৬১.
'জলে-স্থলে' কোন সমাস?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব
  2. একশেষ দ্বন্দ্ব
  3. সমার্থক দ্বন্দ্ব
  4. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
অলুক দ্বন্দ্ব:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- দুধে-ভাতে,
- জলে-স্থলে,
- দেশে-বিদেশে,
- হাতে-কলমে। 

• তিন বা বহু পদে দ্বন্দ্ব সমাস হলে তাকে বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- সাহেব-বিবি-গোলাম,
- হাত- পা-নাক-মুখ-চোখ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৬২.
'ঔষধি থেকে উৎপন্ন' এর বাক্য সংকোচন কোনটি?
  1. ঔষধালয়
  2. পথ্য
  3. ওষধি
  4. ঔষধ
ব্যাখ্যা

• 'ঔষধি থেকে উৎপন্ন' এর এক কথায় প্রকাশ - ঔষধ।

অন্যদিকে,
- 'ঔষুধের বিপণি' এর এক কথায় প্রকাশ - ঔষধালয়।
- 'ঔষধের আনুষঙ্গিক সেব্য' এর এক কথায় প্রকাশ - পথ্য।
- 'একবার ফল দিয়েই মারা যায় এমন উদ্ভিদ' এর এক কথায় প্রকাশ - ওষধি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,২৬৩.
'ফল' কোন লিঙ্গ?
  1. স্ত্রী লিঙ্গ
  2. পুং লিঙ্গ
  3. ক্লীব লিঙ্গ
  4. উভয় লিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'ফল' ক্লীব লিঙ্গ।

• লিঙ্গ:

- ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ চিহ্ন।
- এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো লিঙ্গ+অ = লিঙ্গ।
- লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণীবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায়, তাকে লিঙ্গ বলে।
- বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:

১. পুং লিঙ্গ:
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বোঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
যেমন- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গোয়ালা, কিশোর, প্রবীণ ইত্যাদি।

২. স্ত্রী লিঙ্গ:
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বোঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে।
যেমন- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশোরী, প্রবীণা ইত্যাদি।

৩. ক্লীব লিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনোটিই বোঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ।
যেমন- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

ঘ) উভয় লিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বোঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ।
যেমন- শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬৪.
বিধুর
  1. কঠিন
  2. জ্ঞানী
  3. কাতর
  4. বলিষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• 'বিধুর'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষণ পদ।
অর্থ:
- কাতর
- ভারাক্রান্ত।

অন্যদিকে,
• 'কঠিন'
- বিশেষণ পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- শক্ত;
- দৃঢ়;
- অনমনীয়।

• 'জ্ঞানী'
- বিশেষণ পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- জ্ঞানসম্পন্ন।

• 'বলিষ্ঠ'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষণ পদ।
অর্থ:
-  অত্যন্ত বলযুক্ত;
- শক্তিমান;
- সবল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও অভিগম্য অভিধান।
১,২৬৫.
'অপোগণ্ড' শব্দের অর্থ-
  1. ক) ঋণী
  2. খ) অপদার্থ
  3. গ) সম্প্রীতি
  4. ঘ) উৎকণ্ঠা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা বানান অভিধান অনুসারে, 
অপোগণ্ড (বিশেষ্য) শব্দের অর্থ-
- অপদার্থ,
- অল্পবয়স্ক;
- নাবালক,
- অযোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা বানান অভিধান। 
১,২৬৬.
বাংলা বর্নমালায় মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ৭
  2. খ) ৮
  3. গ) ১১
  4. ঘ) ১০
ব্যাখ্যা
বাংলা বর্ণমালায় বর্ণসংখ্যা  ৫০টি-( স্বরবর্ণ ১১ টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি) - ৫০টি। 
- তন্মধ্যে মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি
- অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮ টি এবং
- পূর্ণমাত্রার বর্ণ ৩২ টি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৬৭.
উপমিত কর্মধারয় সমাস নয় কোনটি?
  1. জয়ধ্বনি
  2. বদ্বীপ
  3. নয়নপদ্ম
  4. সিংহপুরুষ
ব্যাখ্যা
• উপমিত কর্মধারয়:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম,
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- ব-এর মতো দ্বীপ = বদ্বীপ,
- প্রাণের মতো প্রিয় = প্রাণপ্রিয় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- জয় সূচক ধ্বনি = জয়ধ্বনি।

এরকম: অষ্টাদশ, ইগলপাখি, উটপাখি, উল্কাপিন্ড, খড়িমাটি, পদ্মানদী, কলিযুগ, কাঠফলক ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৬৮.
কোন কালের ক্ষেত্রে অনুজ্ঞা হয় না?
  1. অতীত কালে
  2. বর্তমান কালে
  3. ভবিষ্যৎ কালে
  4. ঘটমান ভবিষ্যৎ কালে
ব্যাখ্যা
• অতীত কালে অনুজ্ঞা হয় না।

• ক্রিয়ার কাল ৩ প্রকার।
- বর্তমান কাল,
- অতীত কাল,
- ভবিষ্যৎ কাল।

• বর্তমান কাল ৪ প্রকার -
- সাধারন বর্তমান,
- ঘটমান বর্তমান,
- পুরাঘটিত বর্তমান,
- অনুজ্ঞা বর্তমান।

• অতীত কাল ৪ প্রকার -
- সাধারন অতীত,
- ঘটমান অতীত,
- পুরাঘটিত অতীত,
- নিত্য অতীত।

• ভবিষ্যৎ কাল ৪ প্রকার -
- সাধারন ভবিষ্যৎ,
- ঘটমান ভবিষ্যৎ,
- পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ,
- অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৬৯.
ই-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. উঠতি
  2. বাড়তি
  3. ভাজি
  4. ঘাটতি
ব্যাখ্যা
ই-প্রত্যয়:
- বিশেষ্য গঠনে 'ই' প্রত্যয় প্রযুক্ত হয়।

যেমন:
- √ভাজ্ + ই = ভাজি,
- √বেড় + ই = বেড়ি।

অন্যদিকে,
তি-প্রত্যয়:
- বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে 'তি' প্রত্যয় হয়।

যেমন
- √ঘাট্ + তি = ঘাটতি,
- √বাড় + তি = বাড়তি।
এরূপ – কাটতি, উঠতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৭০.
সারাংশ বা সারমর্ম সাধারণত কয়টি অনুচ্ছেদে লিখতে হয়?
  1. ক) একটি
  2. খ) দুটি
  3. গ) তিনটি
  4. ঘ) চারটি
ব্যাখ্যা
• গদ্যরচনার অন্তর্নিহিত বক্তব্যকে সংক্ষেপে লেখার নাম সারাংশ, আর কাব্যভাষায় লেখা কোনো রচনার মূলভাবকে সংক্ষেপে লেখার নাম সারমর্ম।

সারাংশ ও সারমর্ম লেখার কিছু নিয়ম হলো:

- প্রদত্ত রচনার বিবরণ ও ভাবকে অনুসরণ করে সারাংশ ও সারমর্ম লিখতে হয়।
- অনধিক চার বাক্য বা চল্লিশ শব্দের মধ্যে সারাংশ ও সারমর্ম সীমিত রাখা দরকার।
- প্রদত্ত রচনার মূল কথা যাতে সারাংশ ও সারমর্মে বাদ না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়।
 -সারমর্ম বা সারাংশ লেখার সময়ে উদাহরণ, উদ্ধৃতি, পরিসংখ্যান, তথ্য-উপাত্ত ইত্যাদি পুরোপুরি বাদ দিতে হয়।
- সারাংশ ও সারমর্মের ভাষায় কোনো ধরনের কাব্যধর্মিতা রাখা যায় না। ভাষা হতে হয় দ্ব্যর্থহীন ও আবেগবর্জিত।
- সারাংশ ও সারমর্মে পুনরাবৃত্তি পুরোপুরি বর্জনীয়।
- সারাংশ বা সারমর্ম লেখার সময়ে নিজস্ব বক্তব্য, মন্তব্য বা মত প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৭১.
কোনটি সন্ধিজাত শব্দ?
  1. ক) উন্মনা
  2. খ) দখিনা হাওয়া
  3. গ) মিনতি
  4. ঘ) ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
উন্মনা শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ হচ্ছে - উৎ+মনস্।
আবার এটি বহুব্রীহি সমাসেরও উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
১,২৭২.
'সৈনিক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়-
  1. সেনা + এক
  2. সেনা + ইক
  3. সৈন্য + এক
  4. সৈন্য + ইক
ব্যাখ্যা
• সৈনিক (বিশেষ্য):
- সংস্কৃত শব্দ। 
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় — সেনা + ইক। 

• শব্দের অর্থ :
- সিপাহি, 
- যোদ্ধা, 
- সেনাসদস্য, 
- সশস্ত্র প্রহরী। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,২৭৩.
'নিমেষ মাঝেই সব শেষ।' - বাক্যে 'মাঝে' অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. মধ্যে
  2. একদেশিক
  3. ক্ষণকাল
  4. ব্যাপ্তি
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অর্থে অনুসর্গের প্রয়োগ:

'মধ্যে' অর্থে - 'সীমার মাঝে অসীম তুমি'।
'একদেশিক' অর্থে - এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
'ক্ষণকাল' অর্থে - নিমেষ মাঝেই সব শেষ।
'ব্যাপ্তি' অর্থে - আছো তুমি জগৎ মাঝারে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৭৪.
'জমক' শব্দের অর্থ কী?
  1. সমারোহ
  2. জোড়া
  3. পাকা
  4. শক্তি
ব্যাখ্যা
• 'জমক' শব্দের অর্থ - 'সমারোহ'। 

অন্যদিকে,
• 'যমক' শব্দের অর্থ - 'জোড়া'।  
• 'ঝানু' শব্দের অর্থ - 'পাকা'। 
• 'জোর' শব্দের অর্থ - 'শক্তি'। 
============== 
• শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায়।

• কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
• জমক - সমারোহ ।
• যমক - জোড়া ।
• জলা - জলাশয়।
• জ্বলা - পোড়া।
• জাম - ফলবিশেষ।
• যাম - প্রহর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৭৫.
কোন দু’টি স্বরের মিলিত ধ্বনিতে 'ঐ' ধ্বনির সৃষ্টি হয়?
  1. ও এবং ই
  2. এ এবং ই
  3. অ এবং ই
  4. উ এবং ই
ব্যাখ্যা

দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন - লাউ শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

• দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্‌]: তাই, নাই। 
[এই্‌]: সেই, নেই। 
[আও্‌]: যাও, দাও। 
[আএ্‌]: খায়, যায়। 

- বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ। 
- ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি ই]।
- ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।

১,২৭৬.
'অধিকতর'- এর সঠিক উচ্চারণ -
  1. অধিকোতরো
  2. ওধিকতর
  3. ওধিকোতরো
  4. অধিকতরও
ব্যাখ্যা
• ‘অধিকতর’ একটি তৎসম শব্দ, এবং বাংলা ব্যাকরণের শুদ্ধ উচ্চারণরীতি অনুযায়ী, যখন ‘তর’ (তৎসম বিশেষণসূচক প্রত্যয়) শব্দের শেষে যুক্ত হয়, তখন অনেক সময় তা ‘তোরো’ রূপে উচ্চারিত হয়।

• অধিকতর → এর সঠিক উচ্চারণ হয়: ওধিকোতরো।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৭৭.
‘কুয়োর ব্যাঙ’ বাগ্‌ধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. চাটুকার
  2. খুব অলস
  3. খুব চালাক
  4. সংকীর্ণমনা লোক
ব্যাখ্যা
• ‘কুয়োর ব্যাঙ’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - সংকীর্ণমনা লোক।

অন্যদিকে,
• ‘গোঁফ খেঁজুরে’ অর্থ - খুব অলস।
• ‘খয়ের খাঁ’ অর্থ - চাটুকার।
• ‘গভীর জলের মাছ’ অর্থ - খুব চালাক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১,২৭৮.
'উদ্ধরণ চিহ্ন' ব্যবহারে বিরতির সময় কত?
  1. এক উচ্চারণে যে সময় লাগে
  2. এক সেকেন্ড
  3. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  4. থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
• যতি বা ছেদচিহ্ন:
বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝার জন্য বাক্যের মধ্যে বা বাক্যের সমাপ্তিতে কিংবা বাক্যে আবেগ (হর্ষ, বিষাদ), জিজ্ঞাসা ইত্যাদি প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে বাক্য-গঠনে যেভাবে বিরতি দিতে হয় এবং লেখার সময় বাক্যের মধ্যে তা দেখানোর জন্য যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তা-ই যতি বা ছেদচিহ্ন।

নিচে বিভিন্ন প্রকার যতিচিহ্নের নাম, আকৃতি এবং তাদের বিরতি কালের পরিমাণ নির্দেশিত হলো:
• কমা (,) ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
• সেমিকোলন (;) ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
• দাঁড়ি (পূর্ণচ্ছেদ) (।) এক সেকেন্ড।
• প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?) এক সেকেন্ড।
• বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন (!) এক সেকেন্ড।
• কোলন (:) এক সেকেন্ড।
• কোলন ড্যাস (:-) এক সেকেন্ড।
• হাইফেন (-) থামার প্রয়োজন নেই।
• ইলেক বা লোপ চিহ্ন থামার প্রয়োজন নেই।
• উদ্ধরণ চিহ্ন (" ") 'এক' উচ্চারণে যে সময় লাগে।
• ব্র্যাকেট (বন্ধনী-চিহ্ন) '(), [], {}' থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
১,২৭৯.
"ছাগলে কী না খায়।" - বাক্যে 'ছাগলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে শূন্য
  2. কর্তায় ৭মী
  3. করণে ২য়া
  4. কর্তায় ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

প্রথমা বিভক্তি: শিহাব বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: শিমুলকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বিভক্তি: নজরুল কর্তৃক অগ্নিবীণা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: আমার খাওয়া হয় নি।
সপ্তমী বিভক্তি: ছাগলে কী না খায়

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,২৮০.
"অন্তরঙ্গ" শব্দটি কোন সন্ধির নিয়মে গঠিত?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা

 • "অন্তরঙ্গ" শব্দটি বিসর্গসন্ধির নিয়মে গঠিত।

• সন্ধির নিয়ম:
- অন্তঃ, পুনঃ, প্রাতঃ (অন্তর্, পুনর্, প্রাতর্) ইত্যাদির পর স্বরধ্বনি থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ র হয়ে পরবর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
অন্তঃ + অঙ্গ = অন্তরঙ্গ,
পুনঃ +অধিকার = পুনরধিকার,
প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ,
অন্তঃ + আত্মা = অন্তরাত্মা,
অন্তঃ + ইত = অন্তরিত,
অন্তঃ + ইন্দ্রিয় = অন্তরিন্দ্রিয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,২৮১.
"সুখে থেকো, এই দোয়া করি।"- নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3. করণকারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক: 
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

প্রদত্ত বাক্যটি - 
"সুখে থেকো, এই দোয়া করি।

• উল্লিখিত বাক্যটিতে ক্রিয়াকে (করি) 'কী' বা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'দোয়া'। 
অর্থাৎ,
বাক্যে 'দোয়া' একটি কর্মকারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।"
১,২৮২.
নিচের কোন এক কথায় প্রকাশটি সঠিক নয়?
  1. ক) যা উচ্চারণ করা যায় না = দুরুচ্চার্য।
  2. খ) যা অপনয়ন (দূর) করা যায় না = অনপনেয়।
  3. গ) যা পূর্বে কখনো হয় নি = অভূতপূর্ব।
  4. ঘ) যা পূর্বে দেখা যায় নি = অদৃষ্টপূর্ব।
ব্যাখ্যা

যা উচ্চারণ করা যায় না = অনুচ্চার্য।
যা উচ্চারণ করা কঠিন = দুরুচ্চার্য।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশঃ
যা অপনয়ন (দূর) করা যায় না = অনপনেয়।
যা অপনয়ন (দূর) করা কষ্টকর = দূরপনেয়।
যা পূর্বে দেখা যায় নি = অদৃষ্টপূর।
যা পূর্বে ছিল এখন নেই = ভূতপূর্ব।
যা পূর্বে কখনো হয় নি = অভূতপূর্ব।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)

১,২৮৩.
'নাস্তি' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. আস্থা
  2. অনস্তি
  3. অস্তি
  4. সস্তি
ব্যাখ্যা
• ‘নাস্তি’ অর্থ: সত্তাহীনতা; অনস্তিত্ব।
• ‘অস্তি’ অর্থ: সত্তা; অস্তিত্ব।

সুতরাং,
• ‘নাস্তি’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - অস্তি।

অন্যদিকে,
• আস্থা অর্থ: বিশ্বাস, ভরসা, নিষ্ঠা। 
• সস্তি ও অনস্তি শব্দদ্বয় অশুদ্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২- সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৮৪.
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. চুকচুক
  2. সুড়সুড়
  3. গুনগুন
  4. চুপচাপ
ব্যাখ্যা

• চুপচাপ - অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ।

-----------------
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- যেমন: ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ।
- কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়।
- ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।
- যেমন: সাঁ করে তির ছুটে যায়, সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে যাচ্ছে, সাঁ সাঁ সাঁ করে অসংখ্য তির চারদিকে ছুটে গেল।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ বিভিন্নভাবে হতে পারে।
যেমন, 
১। মানুষের বিভিন্ন ধ্বনির অনুকরণের সাহায্যে : ভেউ ভেউ করে কাঁদা, ট্যাট্যা করে কাঁদা, হা হা করে হাসা, ঠাঠা করে হাসা ইত্যাদি
২। জীব-জন্তুর ধ্বনিকে অনুকরণ করে : মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ডাক), গুনগুন (মৌমাছির ডাক) ইত্যাদি।
৩। কোন বস্তুর ধ্বনির অনুকরণে : ঝমঝম (বৃষ্টির শব্দ), চুকচুক (দুধ খাবার শব্দ) মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ইত্যাদি।
৪। অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির শব্দ : চিকচিক, ঝিকমিক, কুটকুট, ম্যাজম্যাজ, ঘিনঘিন, ঘ্যানঘ্যান, সুড়সুড়, চিনচিন, ছমছম ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।

১,২৮৫.
“কলসটি কানায় কানায় পূর্ণ”- “কলসটি” কোন কারকে কোন বিভক্তি
  1. ক) অপাদানে সপ্তমী
  2. খ) স্থানাধিকরণে সপ্তমী
  3. গ) আধারাধিকরণে সপ্তমী
  4. ঘ) কালাধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারকের প্রকারভেদ
অধিকরণ কারক তিন প্রকার।
যথা-
১. কালাধিকরণ,
২. আধারাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।

কালাধিকরণঃ
যে কালে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে কালাধিকরণ কারক বলে। উদাহরণ-
শরতে শাপলা ফোটে।
সকালে সে চলে যাবে।
প্রভাতে উঠিল রবি লোহিত বরণ।

ভাবাধিকরণঃ
যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে। ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ‘ভাবে সপ্তমী’ বলা হয়। যেমন-
সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।
হাসিতে মুক্তা ঝরে।
জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ।

আধারাধিকরণঃ
আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়। এটি তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:- ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।

১. ঐকদেশিকঃ
বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)

সামীপ্য(নৈকট্য) অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়। যেমন-
ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে। (ঘাটের কাছে)
‘দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে। (দুয়ারের কাছে)
রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।

২. অভিব্যাপকঃ
উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)
নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)
কলসটি কানায় কানায় পূর্ণ। (কলসের সম্পূর্ণ অংশ জুড়ে আছে) 

৩. বৈষয়িকঃ
বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়। যেমন-
রাকিব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।
আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৮৬.
'না' শব্দটি?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• না (অব্যয় পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- ক্রিয়ার অঘটন বা নিষেধ (এখন যেয়ো না)।
- অভাব (না আছে বিদ্যা না আছে বুদ্ধি)। 
- অনুরোধ বা অনুজ্ঞা (আমায় করতে দাও না)। আধিক্য (কত না ধন এ জগতে)।
- প্রশ্ন বা সন্দেহ (খাবে না?)।
- বিকল্প (কোনো না কোনো)।
- বিনা (না বুঝে কারে তুমি ভাসালে আঁখিজলে। রবীন্দ্র.)
 
অন্যদিকে,
• না অব্যয় পদ হিসেবে নঞর্থক বাংলা উপসর্গবিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।
 
আবার, 
• না বিশেষ্য পদ হিসেবে অঞ্চলিক ভাষায় নৌকা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- না নিয়ে গেল বোয়াল-মাছে।
 
তবে ‘না’ শব্দের বহুল ব্যবহার হয় অব্যয় পদ হিসেবেই। তাই অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে অপশন ‘ঘ’ অব্যয় পদ গ্রহণ করা হয়েছে।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৮৭.
’সাম্যবাদ’ কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• 'সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ' কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ। 

কর্মধারয় সমাস:
- কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে - কর্ম + ধৃ + ণিচ + আ = কর্মধারয়।
- এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে।
- অর্থাৎ যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন -
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- যা কাঁচা তাই পাকা = কাঁচাপাকা ইত্যাদি।

মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন -
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৮৮.
কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. কর্তব্য
  2. দাতব্য
  3. জ্ঞাত
  4. কুসুমিত
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
⇒ ‘ত’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হলো-
• √মুচ্ + ত = মুক্ত;
• √জ্ঞা +ত = জ্ঞাত

⇒ ‘তব্য’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
• √দা + তব্য = দাতব্য;
• √কৃ + তব্য = কর্তব্য

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৮৯.
'গুণহীনের ব্যর্থ আস্ফালন'- অর্থটি কোন প্রবাদে ব্যক্ত হয়েছে?
  1. উলুবনে মুক্তা ছড়ানো
  2. আসলে মুষল নেই ও ঢেকি ঘরে চাদোয়া
  3. অসারের তর্জন-গর্জন সার
  4. কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন
ব্যাখ্যা
• "গুণহীনের ব্যর্থ আস্ফালন" প্রবাদটির অর্থ - অসারের তর্জন-গর্জন সার।

অন্যদিকে,'
- 'উলুবনে মুক্তা ছড়ানো।' অর্থ - অপাত্রে দান বিফলে যায়।
- 'আসলে মুষল নেই ও ঢেকি ঘরে চাদোয়া' অর্থ - গুরুত্বপূর্ণ কাজে মন না দিয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ কাজে মন দেয়া।
- 'কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন' অর্থ - অযোগ্যের বিপরীত নামকরণ। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১,২৯০.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) উচ্ছাস
  3. গ) উপযোগিতা
  4. ঘ) আবিষ্কার
ব্যাখ্যা

-‘উচ্ছাস’ এর শুদ্ধ বানান ‘উচ্ছ্বাস’ । 
- কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ শুদ্ধ বানান 
- গীতাঞ্জলি 
- পিপীলিকা 
- দরিদ্রতা 
- নিশীথিনী 
- পুরস্কার 

[উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মাহমুদ]

১,২৯১.
'অর্থী' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. প্রার্থী
  2. প্রত্যয়ী
  3. প্রত্যর্থী
  4. প্রত্যক্ষী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'অর্থী' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ- প্রত্যর্থী। 

• 'অর্থী' শব্দের অর্থ- প্রার্থনাকারী, যাচক (শুভার্থী); অভিলাষী, ধনবান, বিত্তশালী, বাদী, অভিযোগকারী।
• 'প্রত্যর্থী' শব্দের অর্থ-  প্রতিবাদী, আসামি, শত্রু, প্রতিপক্ষ।

অন্যদিকে, 
'প্রত্যয়ী' শব্দের অর্থ- বিশ্বাসী; বিশ্বাসকারী।
'প্রত্যক্ষী' শব্দের অর্থ- প্রত্যক্ষ করে এমন, প্রত্যক্ষকারী I

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৯২.
'যা বিনা যত্নে উৎপন্ন হয়েছে’ এর বাক্য সংকোচন কোনটি?
  1. ক) অযত্নলব্ধ
  2. খ) অযত্নসম্ভূত
  3. গ) অযত্নযাত
  4. ঘ) অনায়াসলব্ধ
ব্যাখ্যা
যা বিনা আয়াসে লাভ করা যায়- অনায়াসলভ্য
যা বিনা যত্নে উৎপন্ন হয়েছে- অযত্নসম্ভূত
যা বিনা যত্নে লাভ করা হয়েছে- অযত্নলব্ধ।
১,২৯৩.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. সমুহ
  2. অপাংক্তেয়
  3. মরুদ্যান
  4. আদ্যাক্ষর
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'আদ্যাক্ষর' - বানানটি শুদ্ধ।

• 'আদ্যাক্ষর' শব্দের অর্থ:
- প্রথম অক্ষর।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বানান,
• সমুহ - সমূহ,  
• অপাংক্তেয় - অপাঙ্‌ক্তেয়,
• মরুদ্যান - মরূদ্যান।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৯৪.
'গণপ্রজাতন্ত্রী' উৎস বিবেচনায় কোন ভাষার শব্দ?
  1. দেশি
  2. ফারসি
  3. তৎসম
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
• 'গণপ্রজাতন্ত্রী'
- তৎসম / সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষণ পদ।
অর্থ:
- জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদ্বারা শাসিত।

কিছু তৎসম শব্দ:
- চন্দ্র,
- সূর্য,
- আকাশ,
- হস্ত,
- পদ,
- মস্তক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৯৫.
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয়- 
  1. বিভক্তি
  2. পদ
  3. প্রত্যয়
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

পদ:
- বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে৷
- অন্যভাবে, শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।

• বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
- বিশেষ্য,
- সর্বনাম,
- বিশেষণ,
- ক্রিয়া,
- ক্রিয়াবিশেষণ,
- অনুসর্গ,
- যােজক,
- আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,২৯৬.
নিচের শব্দটির প্রতিশব্দ নির্ণয় করুন।
কুজ্ঝটিকা:
  1. কুয়াশা
  2. অনুকার
  3. প্রভাকর
  4. শৈল
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'কুজ্ঝটিকা' শব্দের প্রতিশব্দ - কুয়াশা, কুহেলিকা, নভোরজ, নীহার।

অন্যদিকে,
‘অনুকার’ শব্দের অর্থ - অনুকরণ, সদৃশীকরণ।
'প্রভাকর' শব্দের অর্থ - সূর্য।
'শৈল' শব্দের অর্থ - শিলাজাত (শৈলগিরি), শিলাসম্বন্ধীয়, পর্বতসংক্রান্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,২৯৭.
‘যা বারবার দুলছে’ -এর সঠিক বাক্য সংকোচন কী?
  1. দুল্যমান
  2. দোদুল্যমান
  3. দোলায়মান
  4. ঝুলন্ত
ব্যাখ্যা
• 'যা বারবার দুলছে' এর বাক্য সংকোচন - দোদুল্যমান

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাক্য সংকোচন:
যা দীপ্তি পাচ্ছে = দেদীপ্যমান,
যা বলা হচ্ছে = বক্ষ্যমাণ,
যা উপলব্ধি করা যাচ্ছে = উপলভ্যমান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৯৮.
কোনটি অপিনিহিতির উদাহরণ?
  1. মারি > মাইর
  2. বিলাতি > বিলিতি
  3. বলিয়া > বলে
  4. হাটুয়া > হেটো
ব্যাখ্যা

অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন -
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন-
করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে 'কইরিয়া' কিংবা বিপর্যয়ের ফলে 'কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত 'করে'।
এরূপ -
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২৯৯.
নিচের কোনটি তৎপুরুষ সমাস?
  1. মাতৃহত্যা
  2. ঊর্ণনাভ
  3. দশানন
  4. মেঘনাদ
ব্যাখ্যা
• মাতাকে হত্যা = মাতৃহত্যা ২য়া তৎপুরুষ সমাস।

• তৎপুরুষ সমাস:
-  সমসমান পদের বিভক্তি ও সন্নিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা,
- পথের রাজা = রাজপথ,
- জীবনে আনন্দ = জীবনানন্দইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- ঊর্ণনাভ =ঊর্ণ নাভিতে যার। 
- দশানন = 'দশ আনন যাহার। 
- মেঘনাদ = 'মেঘের মত নাদ যার ।
- বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৩০০.
'গায়ে-হলুদ' কোন ধরনের বহুব্রীহি সমাস?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. অলুক বহুব্রীহি
  3. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  4. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

• অলুক বহুব্রীহি সমাস: 
পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয় তাকে অলুক বহুব্রীহি সমান বলে।
যেমন: 
- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায় পাগড়ি,
- গায়ে হলুদ দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়ে-হলুদ।

এরকম: কথায় পটু, মাথায় ছাতা, চশমা-নাকে, মুখে-মধু, হাতেখড়ি, পায়ে-বেড়ি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।