বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১২৭ / ৩৫৪ · ১২,৬০১১২,৭০০ / ৩৫,৭১৩

১২,৬০১.
'সাপের পাঁচ পা দেখা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ -
  1. উভয়সঙ্কটে পড়া
  2. ভয়ানক
  3. অহংকারের বাড়াবাড়ি
  4. অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘সাপের পাঁচ পা দেখা’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অহংকারের বাড়াবাড়ি।

অন্যদিকে,
• ‘সাপের ছুঁচো গেলা' - উভয়সঙ্কটে পড়া।
• ‘শুয়োরের গোঁ’ অর্থ - ভয়ানক ।
• ‘মেঘ না চাইতে জল’ অর্থ - অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,৬০২.
একটি বাক্যে প্রধানত কয়টি অংশ থাকে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
•প্রতিটি বাক্যে দুটি অংশ থাকে:
১) উদ্দেশ্য ও
২) বিধেয়।

উদ্দেশ্য:
বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে।
যেমন: "খোকা এখন বই পড়ছে" এখানে 'খোকা এখন' উদ্দেশ্য।
• বিধেয়:
উদ্দেশ্য সম্বন্ধে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে।
যেমন: "খোকা এখন বই পড়ছে" এখানে 'বই পড়ছে'  বিধেয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২,৬০৩.
বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন ব্যঞ্জনবর্ণ কয়টি?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৬টি
  3. গ) ৮টি
  4. ঘ) ১০টি
ব্যাখ্যা
• বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ১০ টি।
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি (এ, ঐ, ও, ঔ)।
- ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ) ।

• বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি।
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ)।
- ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

• বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণ মাত্রার বর্ণ ৩২টি।
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৬০৪.
'চাকর' কোন ভাষার শব্দ?
  1. বাংলা 
  2. চীনা 
  3. ফারসি 
  4. আরবি
ব্যাখ্যা

• চাকর।
- ফারসি ভাষার শব্দ। 
- শব্দটি বিশেষ্য পদ। 
অর্থ:
- পরিচারক;
- কর্মচারী।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, দারোয়ান, সাদা, খরগোশ, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২,৬০৫.
নিচের কোনটি 'সাপ' এর সমার্থক শব্দ নয়?
  1. ক) উরগ
  2. খ) কুরঙ্গ
  3. গ) পন্নগ
  4. ঘ) অহি
ব্যাখ্যা
• কুরঙ্গ - 'সাপ' এর সমার্থক শব্দ নয়। 
- এটি হরিণ এর সমর্থক শব্দ। 

• অন্যদিকে: 
- ‘সাপ' এর সমর্থক শব্দ - সৰ্প, অহি, ফণী, নাগ, ভুজগ, ভুজঙ্গ, আশীবিষ, উরগ, বিষধর, পন্নগ

• গুরত্বপূর্ণ কিছু সমার্থক শব্দ: 
- ‘সিংহ' এর সমর্থক শব্দ - কেশরী, পশুরাজ, মৃগেন্দ্র,পারীন্দ্র,মৃগরাজ।
- 'হরিণ' এর সমর্থক শব্দ - মৃগ, কুরঙ্গ, সুনয়ন, সারঙ্গ।
- 'হাত' এর সমর্থক শব্দ- হস্ত, কর, বাহু, ভুজ, পাণি ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১২,৬০৬.
নিচের কোন বাক্যে বানানের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. তাহাকে দেখে অপরিসীম আনন্দ হইল।
  2. মুমূর্ষু রোগীকে শুশ্রূষা করো।
  3. তাহাকে পুরষ্কৃত করা হইল।
  4. সে ক্রোধান্ধ হইয়াছে।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: তাহাকে পুরষ্কৃত করা হইল।
• শুদ্ধ বাক্য: তাহাকে পুরস্কৃত করা হইল।

• বানানের নিয়ম:
বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।

তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি। অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬০৭.
কোনটি স্বরভক্তির উদাহরণ?
  1. ইস্কুল
  2. আইজ
  3. মাইর
  4. শোলোক
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা মুকুতা, তুর্ক » তুরুক, ক্রু » ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও – শ্লোক » শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
আদি স্বরাগম:
ধ্বনি পরিবর্তনের ফলে মূল শব্দের আদিতে স্বরধ্বনির আগমন ঘটাকে আদি স্বরাগম বলে। যেমন -
স্কুল > ইস্কুল,
স্ত্রী > ইস্ত্রী
স্টেশন > ইস্টেশন
স্টিমার > ইস্টিমার ইত্যাদি।

অপিনিহিতি (Apenthesis):
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন,
আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া » রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি > চাইর, মারি > মাইর ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২,৬০৮.
'শশব্যস্ত' এর ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) শশ এবং ব্যস্ত
  2. খ) ব্যস্ত যে শশ
  3. গ) শশের মতাে ব্যস্ত
  4. ঘ) শশ যে ব্যস্ত
ব্যাখ্যা
'শশব্যস্ত' এর ব্যাসবাক্য = শশের মতাে ব্যস্ত

• যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস
হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন –
কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে
শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত
এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১২,৬০৯.
'তুমি ঐখানে কী করছিলে?' এই বাক্যে 'কী' কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• 'তুমি এতক্ষণ করেছ' এই বাক্যে 'কী' প্রশ্নবাচক সর্বনাম পদ।

• প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
যে সর্বনাম দ্বারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রশ্ন করা বুঝায় তাকে প্রশ্নবাচক সর্বনাম বলে।
এ জাতীয় সর্বনাম হলো : কে, কী, কোন, কার, কাকে, কীসে ইত্যাদি।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক সর্বনাম: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক সর্বনাম: ঐ, ঐসব।
৫. সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
[প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন - কী দিয়ে ভাত খায়?]
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক সর্বনাম: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- অব্যয় পদ হিসেব 'কি' লিখতে হয়।
- যেমন:
- তুমি কি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাও?
- তুমি কি বিসিএস পরীক্ষা দিতে চাও?

উৎস: উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১২,৬১০.
'বর্ধমান' এর প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √বর্ধ্ + মান
  2. খ) √বুধ্ + শানচ
  3. গ) √বুদ্ + শানচ
  4. ঘ) √বৃধ্ + শানচ
ব্যাখ্যা
শানচ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দঃ দীপ্যমান, চলমান, বর্ধমান।
১২,৬১১.
Quarterly শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) সাপ্তাহিক
  2. খ) পাক্ষিক
  3. গ) ষান্মাসিক
  4. ঘ) ত্রৈমাসিক
ব্যাখ্যা
quarterly  [কুয়োটালি] (adjective), (adverb)
তিন মাস পরপর ঘটে এমন;
ত্রৈমাসিক:
quarterly payments. □ (noun) ত্রৈমাসিক পত্রিকা।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
১২,৬১২.
‘মেধাবী’ এর প্রকৃতি কোনটি?
  1. ক) মেধা + আবী
  2. খ) মেধা + ইন
  3. গ) মেধা + ঈণ
  4. ঘ) মেধা + বিন্
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন: 
   
ইন,বিন-প্রত্যয়: পুরুষবাচকে প্রথমার একবচবনে ‘ইন’ স্থলে ‘ঈ’ এবং ‘বিন’ স্থলে ‘বী’ হয়। স্ত্রীবাচকে যথাক্রমে ‘ইণী’ ‘বিণী’ হয়। যেমন-
গুণ + ইন = গুণিন > গুণী
সুখ + ইন = সুখিন > সুখী
মেধা + বিন = মেধাবিন > মেধাবী


উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি। ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন
১২,৬১৩.
'অম্বা' শব্দের প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. পিতা
  2. মাতা
  3. আকাশ
  4. পানি
ব্যাখ্যা
• 'অম্বা' শব্দের প্রতিশব্দ - মাতা

• 'অম্বা' শব্দের আরো কিছু প্রতিশব্দ:
- জননী, মা, প্রসূতি, গর্ভধারিণী, জন্মদাতৃ, আম্মা।

অন্যদিকে,
• ‘পিতা’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- জনক, বাপ, তাত, বাবা, জন্মদাতা, আব্বা।

• ‘আকাশ’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- গগন, আসমান, খ, অম্বর, ব্যোম, নভ, অন্তরীক্ষ, দ্যুলোক, নীলিমা।

• ‘পানি’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- জল, সলিল, নীর, পয়ঃ, বারি, অপ, উদক, জীবন, অম্বু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬১৪.
নিপাতনে সিদ্ধ 'ষ' এর ব্যবহার হয়েছে কোনটিতে?
  1. ক) মূমুর্ষু
  2. খ) অনুষঙ্গ
  3. গ) বর্ষণ
  4. ঘ) ভূষণ
ব্যাখ্যা
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ বা নিপাতনে সিদ্ধ 'ষ' এর ব্যবহার হয়।
যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২,৬১৫.
Question (1 to 10) : Circle the correct answer:-
১.বাংলা ভাষা কোন শব্দ দুটি গ্রহণ করেছে চীনা ভাষা হতে?
  1. চাকু, চাকর
  2. খন্দর, হরতাল
  3. চা, চিনি
  4. রিক্সা, রেস্তোরাঁ
ব্যাখ্যা
• চা
- চীনা শব্দ। 
অর্থ: 
- বাংলাদেশ ভারত চীন শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি দেশের পাহাড়ি অঞ্চলের গুল্মজাতীয় উদ্ভিদের (Camellia sinensis) প্রক্রিয়াজাত কচি পাতা।
- ফুটন্ত জলে ওই পাতা সিক্ত করে প্রাপ্তপানীয়বিশেষ।
- চায়ের সঙ্গে পরিবেশিত হালকাআহার্য।

• চিনি 
- অর্ধ তৎসম শব্দ। 
অর্থ: 
- আখ বিট প্রভৃতি উদ্ভিদের নির্যাস থেকে উৎপন্ন কেলাসিত মিষ্ট পদার্থবিশেষ। 

• চাকু (বিশেষ্য)
- তুর্কি শব্দ। 
অর্থ: 
- ভাঁজ করে রাখা যায় এমন ফলাযুক্ত ছুরি।

• চাকর (বিশেষ্য)
- ফারসি শব্দ। 
অর্থ: 
- ভৃত্য; পরিচর্যাকারী; সেবক; পরিচারক। 
- কর্মচারী; নির্দিষ্ট কর্ম সম্পাদনের জন্য নিযুক্ত বেতনভোগী ব্যক্তি। 
- আজ্ঞাবহ; তাঁবেদার।

• হরতাল (বিশেষ্য)
- গুজরাটি শব্দ। 
অর্থ: 
- ধর্মঘট;
- বিক্ষোভ প্রকাশ করার জন্য যানবাহন,
- হাট-বাজার, দোকান-পাট,
- অফিস-আদালত ইত্যাদি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ করা।

• রিকশা 
- জাপানি শব্দ। 
অর্থ: 
- মনুষ্যবাহিত দুই বা তিন চাকার সড়ক্যান। 

• রেস্তোরাঁ (বিশেষ্য)
- ফারসি শব্দ। 
অর্থ: 
- হোটেলবিশেষ;
- চায়ের দোকান।

[বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে চিনি অর্ধ তৎসম শব্দ যা 'শর্করা শব্দ' থেকে উৎপত্তি হয়েছে, কিন্তু ৯ম - ১০ম শ্রেনির ব্যাকরণ বই অনুযায়ী চিনি চীনা শব্দ। তাই অপশনগুলোর মধ্যে অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে চা,চিনি উত্তর নেওয়া হলো।]

সূত্র: বাংলা একাডেমি আধুনিক অভিধান ও অভিগম্য অভিধান। 
১২,৬১৬.
'বর্ণ বই পড়ে।' - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. বর্তমান অনুজ্ঞা
  3. সাধারণ বর্তমান
  4. ঘটমান বর্তমান
ব্যাখ্যা

সাধারণ বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তৃণা স্কুলে যায়।
- বর্ণ বই পড়ে।

অন্যদিকে,
ঘটমান বর্তমান কাল: যে ক্রিয়ার কাল শেষ হয়নি, এখনও চলছে এরূপ অর্থ বোঝালে ঘটমান বর্তমান হয়।
যেমন:
- ছন্দা গান গাইছে।
- রাফিন ও রিজন বল খেলছে।

• পুরাঘটিত বর্তমান কাল: যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।

• বর্তমান অনুজ্ঞা: বর্তমানে কোনো ক্রিয়া সম্পাদনের আদেশ, উপদেশ, আশীবার্দ, অভিশাপ, অনুরোধ, প্রার্থনা প্রভৃতি বোঝানোর জন্য বর্তমান অনুজ্ঞা ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সকলের মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য বলো।
- আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করুন।
- আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দান করুক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১২,৬১৭.
'নৈপুণ্য' অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. মেঠো
  2. নেয়ে
  3. বেতো
  4. চোরা
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় যোগ করলে শব্দের অর্থ অনেক সময় বদলে যায়- 
'না→ নেয়ে' প্রত্যয় সাধিত শব্দটি 'নৈপুণ্য' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
----------------------
• বিভিন্ন অর্থে প্রত্যয় সাধিত কিছু শব্দ:
- যুক্ত অর্থে: টাক  → টেকো।
- ভাব অর্থে: ইতর → ইতরামি।
- নৈপুণ্য অর্থে: না → নেয়ে।
- অবজ্ঞা অর্থে: চোর→চোরা। 
- বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা।
- পেশা অর্থে: ডাক্তার → ডাক্তারি।
- মালিক অর্থে: জমিদার → জমিদারি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১২,৬১৮.
‘ওরা কারা বুনো দল ঢোকে এরি মধ্যে’- বাক্যে ‘ওরা’ কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. অব্যয়
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• ‘ওরা কারা বুনো দল ঢোকে এরি মধ্যে’- বাক্যে ‘ওরা’ সর্বনাম পদের উদাহরণ।

---------------------------
• ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:

ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:

• বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যাদি।
• শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
• অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়:
• সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে),
• মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও
• ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ, ও)।

----------------------------
• সর্বনাম পদ:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। যেমন- "শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।" দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে। বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

সর্বনামকে নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম,
২. আত্মবাচক সর্বনাম,
৩. নির্দেশক সর্বনাম,
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম,
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম,
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম,
৭. পারস্পরিক সর্বনাম,
৮. সকলবাচক সর্বনাম,
৯. অন্যবাচক সর্বনাম।

- তবে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির পুরাতন সংস্করণ অনুসারে সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২,৬১৯.
'কলাভবন' কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

'কলাভবন'= কলার (Art) ভবন। এটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে বলা হয় ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট= খেয়াঘাট,
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ,
- দেশের সেবা = দেশসেবা,
- দিল্লীর ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর,
- পাটের ক্ষেত = পাটক্ষেত,
- ছবির ঘর = ছবিঘর,
- বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা,
- মৃগীর শিশু = মৃগশিশু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৬২০.
কোনটি বিভক্তিযুক্ত অনুসর্গ?
  1. অপেক্ষা
  2. অবধি
  3. বনাম
  4. বাইরে
ব্যাখ্যা

বিভক্তির ভিত্তিতে বাংলা ব্যাকরণের অনুসর্গ গুলোকে বিভক্তিহীন ও বিভক্তিযুক্ত এ দুই অবস্থায় দেখা যায়।
যথা:

• বিভক্তিহীন অনুসর্গ:
কিছু অনুসর্গ গঠনের দিক থেকে বিভক্তিহীন। যেমন: অপেক্ষা, অবধি, কর্তৃক, ছাড়া, দ্বারা, নাগাদ, পর্যন্ত, প্রতি, বিনা, ব্যতীত, মতো। ফারসি অনুসর্গ বিভক্তিহীন : দরুন, বনাম, বরাবর, বাবদ।]

• বিভক্তিযুক্ত অনুসর্গ:
এ জাতীয় অনুসর্গের অধিকাংশই নাম অনুসর্গ '-এ' বিভক্তিযুক্ত।
যেমন: আগে, পরে, কাছে, কারণে, দিকে, নিচে, পাশে, পেছনে, বাইরে, ভেতরে, মধ্যে, মাঝে, সঙ্গে, সাথে, সামনে, সম্মুখে।

- ক্রিয়া অনুসর্গগুলো '-ইয়া জাত-এ' বিভক্তিযুক্ত। যেমন-করে, চেয়ে, থেকে, দিয়ে, লেগে, হতে। কোনে কোনো ফারসি অনুসর্গ 'এ' বিভক্তি যোগে গঠিত। যেমন-বদলে, বাদে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২,৬২১.
বাংলা ভাষার শব্দ সম্ভারকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়?
  1. ক) চারটি
  2. খ) পাঁচটি
  3. গ) দুইটি
  4. ঘ) তিনটি
ব্যাখ্যা
অর্থ অনুসারে শব্দ তিন প্রকার- যৌগিক, রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ, যােগরূঢ় শব্দ। উৎপত্তি অনুসারে শব্দ পাঁচ প্রকার - তৎসম, অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি। গঠন অনুসারে শব্দ দুই প্রকার- মৌলিক শব্দ, সাধিত শব্দ।
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা
১২,৬২২.
নিচের কোনটি বাংলা উপসর্গ?
  1. ক) অনু
  2. খ) অধি
  3. গ) অনা
  4. ঘ) অপ
ব্যাখ্যা
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
যেসব উপসর্গ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব উপসর্গকে বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত উপসর্গ বিশটি।
এগুলাে হলাে- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ। 


বাংলা উপসর্গ:
যেসব অব্যয় জাতীয় শব্দ বা শব্দাংশ বাংলা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য
১. বাংলা উপসর্গগুলােকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ নামে অভিহিত করা হয়।
২. বাংলা ভাষায় কিছু অব্যয় জাতীয় শব্দ স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয় না। |
৩. এগুলাে সাধারণত নাম শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়।
৪. এদের খাটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। বাংলা উপসর্গ একুশটি।
এগুলি হলাে- 
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊনা, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

তৎসম ও খাঁটি বাংলা উভয় উপসর্গে পাওয়া যায় = সু, বি, নি, আ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৬২৩.
"শুধুমাত্র এই কটা টাকা দিলে?" - বাক্যটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. সমাস-ঘটিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. বাহুল্যজনিত
  4. সন্ধিজনিত
ব্যাখ্যা
• "শুধুমাত্র এই কটা টাকা দিলে?" - বাক্যটি 'সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত' কারণে অশুদ্ধ।
- এই বাক্যে শুদ্ধ প্রয়োগ - শুধু/মাত্র এই কটা টাকা দিলে?

• বাংলা বাক্যে বাহুল্যদোষ হয় তখনই, যখন বাক্যে অনর্থক, অপ্রয়োজনীয়, পুনরুক্ত বা অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়, যার ফলে বাক্যটি ভারাক্রান্ত, অপরিষ্কার বা অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ হয়ে পড়ে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,৬২৪.
'সংশয়ে সংকল্প সদা টলে
পাছে লোকে কিছু বলে।' বাক্যে 'পাছে' কোন শ্রেণীর অব্যয়?
  1. অনুকার
  2. সমুচ্চয়ী
  3. অনন্বয়ী
  4. পদান্বয়ী
ব্যাখ্যা

• যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
• প্রদত্ত বাক্যে 'পাছে' অনন্বয়ী অব্যয়।
• এর দ্বারা সম্ভাবনায় অর্থ প্রকাশ পেয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৬২৫.
'ষ্ণ' যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণ দিয়ে তৈরি?
  1. ঞ্‌ + ষ
  2. ষ্‌ + ঞ
  3. ষ্‌ + ণ
  4. ণ্‌ + ষ
ব্যাখ্যা
• 'ষ্ণ' যুক্তবর্ণে ষ্ + ণ দুটি বর্ণ আছে।

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
- ঙ্ + গ = ঙ্গ,
- ন্ + ধ = ন্ধ,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ঋ = হৃ,
- হ্ + ন = হ্ন,
- হ্ + ম = হ্ম,
- ণ্ + ড = ণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১২,৬২৬.
"ভ্রাম্যমাণ" শব্দটিতে কোন প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. মাণ
  2. ষ্ণ
  3. শানচ্‌
ব্যাখ্যা

• 'ভ্রাম্যমাণ' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় - √ ভ্রাম্য + শানচ্‌।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়:
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √ নন্দি+অন।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √ দৃশ্ + অনীয়।
- 'দাপট' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: দাপ + অট।
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় : √ দৃশ্‌ + অনীয়'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১২,৬২৭.
“আট প্রহর” বাগধারাটির অর্থ কি?
  1. ক) সারা দিনরাত
  2. খ) অবেলা
  3. গ) দীর্ঘ সময়
  4. ঘ) শেষ রাত
  5. ঙ) মধ্য দুপুর
ব্যাখ্যা
এক প্রহর = তিন ঘন্টা। আট প্রহর ২৪ ঘন্টা অর্থাৎ সারা দিন-রাত।
১২,৬২৮.
“ঈদৃশ”-এর বিপরীত শব্দ--
  1. ক) সদৃশ
  2. খ) এরকম
  3. গ) তাদৃশ
  4. ঘ) সাদৃশ
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

ঈদৃশ, ঈদৃক্ (বিশেষণ) এর মতো; এরূপ; এতাদৃশ।
তাদৃশ (বিশেষণ) সেইরূপ; তদ্রূপ; সেই প্রকার; তত।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

১২,৬২৯.
ভাষা সৃষ্টির জন্য নিচের কোনটি আবশ্যক?
  1. ক) ফুসফুস
  2. খ) গলনালি
  3. গ) বাগযন্ত্র
  4. ঘ) ঠোঁট
ব্যাখ্যা
- সকল মানুষের ভাষাই বাগযন্ত্রের দ্বারা সৃষ্টি।
- তবুও একই ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টির অর্থ বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হতে পারে।
- মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত বাক সংকেতের সংগঠনকে ভাষা বলা হয়।

বাগযন্ত্রের মধ্যে রয়েছে-

ফুসফুস,
গলনালি,
জিভ,
তালু,
মাড়ি,
দাঁত,
ঠোঁট,
নাক ইত্যাদি।

- উল্লেখিত প্রতিটি বাক প্রত্যঙ্গকে একত্রে বাগযন্ত্র বলে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২,৬৩০.
‘বিজ্ঞাপন’ শব্দের যুক্তবর্ণটি কোন দুটি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. জ্ + ঞ
  2. ঙ্ + গ
  3. ঞ্ + জ
  4. জ্ + ঙ
ব্যাখ্যা
• ‘বিজ্ঞাপন’ শব্দের ‘জ্ঞ’ যুক্তবর্ণটি জ ও ঞ এই দুটি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত।

• যুক্তবর্ণ:

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ণ্ঠ, ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, জ, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: 
ক্ত (ক্ + ত), 
ক্ম (ক্ + ম), 
ক্ষ (ক্ + ষ), 
ক্ষ্ম (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স (ক্ + স), 
গু (গ্ + উ),
গ্ধ (গ্ + ধ), 
ঙ্গ (ঙ্ + গ), 
জ্ঞ (জ্ + ঞ), 
ঞ্চ (ঞ্ + চ), 
ঞ্জ (ঞ্ + জ), 
ষ্ণ (ষ্ + ণ)
হু (হ্ + উ), 
হৃ (হ্ + ঋ), 
হ্ন (হ্ + ন), 
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১২,৬৩১.
'আমরণ' শব্দে 'আ' কোন উপসর্গ?
  1. বাংলা
  2. তৎসম
  3. ফারসি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা

• 'আমরণ' শব্দে 'আ' একটি তৎসম উপসর্গ।
• 'আমরণ' একটি তৎসম শব্দ।
- বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।
- বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়। 

 • উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা- বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশী উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
• তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথাঃ প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ)।

১২,৬৩২.
'সে লাপাত্তা'- এখানে 'লা' উপসর্গটি কোন ভাষার?
  1. ক) আরবী
  2. খ) ফারসি
  3. গ) পর্তুগিজ
  4. ঘ) উর্দু
ব্যাখ্যা
আম, খাস, লা, গর, বাজে, খয়ের ইত্যাদি হলো আরবি উপসর্গ। অর্থাৎ, 'লাপাত্তা' শব্দের 'লা' আরবি ভাষা থেকে এসেছে।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী।
১২,৬৩৩.
নিচের কোনটি ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ?
  1. ধাইমা > দাইমা
  2. মাছুয়া > মেছো
  3. বাক্য > বাইক্য
  4. আজি > আইজ
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধোবা > ধোপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
----------------
• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
যেমন:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন: আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১২,৬৩৪.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. বাল্মিকী
  2. বাল্মীকী
  3. বাল্মিকি
  4. বাল্মীকি
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'বাল্মীকি' বানানটি শুদ্ধ।
- 'বাল্মীকি' একটি সংস্কৃত শব্দ।
- বাল্মীকি = বল্মীক + ই।

অর্থ: রামায়ণের প্রণেতা কবি, আদিকবি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২,৬৩৫.
'নীলকমল' — কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. বহুব্রীহি
  3. কর্মধারয়
  4. তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ-প্রাধান্য থাকবে এবং পূর্বপদটি পরপদের বিশেষণের মত কাজ করবে, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন:
নীল যে কমল = নীলকমল, এখানে পূর্বপদ 'নীল' — পরপদ কমলের বিশেষণ এবং 'নীলকমল' শব্দে কমলের‌ই অর্থ প্রাধান্য। তাই, এটি কর্মধারয় সমাস।

 অন্যদিকে, 
• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর প্রতিটিতেই অর্থ প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- ভাইবোন,
- তালতমাল ইত্যাদি।

তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

১২,৬৩৬.
'ঘরমুখো' কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যথা- বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি।

• প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:

যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি।
যথা-
- এক দিকে চোখ (দৃষ্টি) যার = একচোখা (চোখ+আ),
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো (মুখ+ও),
- নিঃ (নেই) খরচ যার = নি-খরচে (খরচ+এ)।
এরকম দোটানা, দোমনা, একগুঁয়ে, অকেজো, একঘরে, দোনলা, দোতলা, ঊনপাঁজুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১২,৬৩৭.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. দাই
  2. রজকী
  3. দুঃখিনী
  4. সেবিকা
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে।
যেমন: এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, দাই ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
দুঃখী - দুঃখিনী। 
সেবক - সেবিকা।
রজক - রজকী। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১২,৬৩৮.
'Immigrant' - এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ক) অভিবাসী
  2. খ) অভিবাসন
  3. গ) আদিবাসী
  4. ঘ) অবৈধ
ব্যাখ্যা
'Immigrant' - এর বাংলা পরিভাষা - অভিবাসী
এছাড়া,
Immigration - অভিবাসন
Illegal - অবৈধ

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
১২,৬৩৯.
নিচের কোন ধ্বনি-যুগল অঘোষ মহাপ্রাণ?
  1. থ, ধ
  2. ছ, ফ
  3. দ, ব
  4. থ, ন
ব্যাখ্যা

- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে, তাকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি
যেমন - খ, ঘ, ছ, ঝ ইত্যাদি।
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের অল্পতা থাকে থাকে, তাকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি
যেমন - ক, গ, চ, জ ইত্যাদি।
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না, তাকে বলা হয় অঘোষ ধ্বনি
যেমন - ক, খ, চ, ছ ইত্যাদি।
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয়, তাকে বলা হয় ঘোষ ধ্বনি
যেমন - গ, ঘ, জ, ঝ ইত্যাদি।

অঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনিগুলো হচ্ছেঃ
খ, ছ, ঠ, থ, ফ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই।

১২,৬৪০.
বিদেশি উপসর্গ কোনটি?
  1. অনা
  2. অধি
  3. পরি
  4. আম
ব্যাখ্যা

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২,৬৪১.
ব্যঞ্জনধ্বনি বা অর্ধস্বরধ্বনির মাধ্যমে যে সব অক্ষরের সমাপ্তি ঘটে তাকে বলে-
  1. বদ্ধাক্ষর
  2. অযুগ্নাক্ষর
  3. মুক্তাক্ষর
  4. দ্বিঅক্ষর
ব্যাখ্যা
• অক্ষর (Syllable):
বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশের নাম অক্ষর (Syllable)। অক্ষর দু প্রকার। 
যথা:
১. মুক্তাক্ষর ও
২. বদ্ধাক্ষর।

-------------------
• মুক্তাক্ষর:
যখন একটি অক্ষরে একটিই বর্ণ থাকে, তখন তাকে মুক্তাক্ষর বলে। অযুগ্ন বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে। একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
যেমন:
- ‘ভালোবাসো যদি বলিবে না কেন?’
এখানে (ভা) (লো) (বা) (সো) (য) (দি) (ব) (লি) (বে) (না) (কে) (ন) এই সবগুলোই (১২টি) মুক্তাক্ষর। 

- মুক্তাক্ষর U চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়।
- মুক্তাক্ষর উচ্চারণের শেষে মুখ খোলা থাকে, ফলে অক্ষর উচ্চারণ করে ও তাকে প্রয়োজন মতো প্রলম্বিত করা চলে। 
যেমন: অপরিচিত। 

• বদ্ধাক্ষর:
ব্যঞ্জনধ্বনি বা অর্ধস্বরধ্বনির মাধ্যমে যে সব অক্ষরের সমাপ্তি ঘটে তাকে বদ্ধাক্ষর বলে।
বদ্ধ অর্থাৎ যুগ্মস্বরান্ত বা ব্যঞ্জনান্ত ধ্বনিকে বদ্ধাক্ষর বলে। 
যেমন : 'সোম বার দিনরাত হরতাল।
[এখানে (সোম্) (বার্) (দিন্) (রাত) (হর্) (তাল্) এই সবগুলোই (৬টি) বদ্ধাক্ষর।] 

বদ্ধাক্ষর (-) চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়। 

উৎস: বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৪২.
‘গীতাঞ্জলি’ কোন জাতীয় নাম বিশেষ্য?
  1. ক) স্থাননাম
  2. খ) কালনাম
  3. গ) সৃষ্টিনাম
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
- নাম-বিশেষ্য,
- জাতি-বিশেষ্য,
- বস্তু-বিশেষ্য,
- সমষ্টি-বিশেষ্য,
- গুণ-বিশেষ্য,
- ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন –

• ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

• স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।

• কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।

• সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম - দশম শ্রেণি ২০২২ সংস্করণ।
১২,৬৪৩.
নিচের কোন বিপরীতযুগল অশুদ্ধ?
  1. ক) উক্ত - অনুক্ত
  2. খ) কড়ি - কোমল
  3. গ) স্বভাব - চরিত্র
  4. ঘ) কর্মকর্তা -কর্মচারী
ব্যাখ্যা
স্বভাব - চরিত্র অশুদ্ধ ।

- কারন এ দুটি সমর্থক শব্দ ।

গুরত্বপূর্ণ বিপরীতশব্দ সমূহ:
• আঁটি - শাঁস
• ক্ষীণ - পুষ্ট
• কথিত - অকথিত
• কলঙ্ক - সুনাম
• কৃশ - স্থুল

 উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন
১২,৬৪৪.
প্রকৃতি প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. ক) প্রাচ্‌+য = প্রাচ্য
  2. খ) √নন্দ+অন = নন্দন
  3. গ) দিন+এক = দৈনিক
  4. ঘ) √দৃশ্‌ + নীয় = দর্শনীয়
ব্যাখ্যা
• 'প্রাচ্য' শব্দটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ- 
'প্রাচ্য' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রাচ্‌+য। 

• অন্যদিকে,
'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √নন্দি+অন 
'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √দৃশ্‌ + অনীয়
'দৈনিক' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয়: দিন+ইক 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১২,৬৪৫.
নিম্নের কোন শব্দজোড় সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ?
  1. সত্বর - মন্থর
  2. হর্ষ - আহ্লাদ
  3. হৃদতা - ঘৃন্যতা
  4. সন্নিকৃষ্ট - নিকৃষ্ট
ব্যাখ্যা
সত্বর - মন্থর সঠিক বিপরীতার্থক শব্দজোড়।

অন্যান্য অপশনে সঠিক বিপরীতার্থক শব্দজোড়:
হর্ষ - বিষাদ 
সন্নিকৃষ্ট - বিপ্রকৃষ্ট 
হৃদতা - কপটতা

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১২,৬৪৬.
" তার কোন জোরালো রাজনৈতিক আদর্শ নেই।" - কোনটির বাংলা অনুবাদ?
  1. He has no important jobs to do.
  2. He works for both sides.
  3. He has no political axe to grind.
  4. He makes unreasonable demands.
ব্যাখ্যা

• "He has no political axe to grind." এর সঠিক বাংলা অনুবাদ- 
- তার কোন জোরালো রাজনৈতিক আদর্শ নেই।

• Have an axe to grind (idiom):
- English Meaning: to have a strong personal opinion about something that you want people to accept and that is the reason why you do something.
- Bangla Meaning: একটি গোপন, প্রায়শই স্বার্থপর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য থাকা/ ব্যক্তিগত স্বার্থ থাকা/জোরালো আদর্শ।

- More Example: Environmentalists have no political axe to grind - they just want to save the planet.

Source:
1. Cambridge Dictionary.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১২,৬৪৭.
"লোকটি লেফাফা দুরস্ত হলে কী হবে, আসলে মুর্খ।"- এখানে 'লেফাফা দুরস্ত' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. ভণ্ড
  2. কপট ব্যক্তি
  3. বাইরে পরিপাটি
  4. সুযোগ সন্ধানী
ব্যাখ্যা
• "লোকটি লেফাফা দুরস্ত হলে কী হবে, আসলে মুর্খ।"- এখানে 'লেফাফা দুরস্ত' বাগ্‌ধারাটির অর্থ: বাইরে পরিপাটি। 
-------------------------- 
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
লেফাফা (বিশেষ্য)
- আরবি শব্দ।
অর্থ:
- চিঠি প্রভৃতি প্রেরণের জন্য ব্যবহৃত কাগজের তৈরি মোড়ক,
- খাম।
• 'দুরস্ত' শব্দ:
- দুরস্ত (বিশেষণ) যা ফারসি ভাষার শব্দ।
- এর অর্থ হচ্ছে জায়েজ, পরিপাটি, অভ্যস্ত।

• ’লেফাফা দুরস্ত’ বাগধারাটির অর্থ- বাইরে পরিপাটি/ 'বাইরের ঠাট বজায় রেখে চলেন যিনি'। 
বাক্য গঠন: গরিব হলে কী হবে, তাঁর লেফাফা দুরস্ত ভাব আর গেল না। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
১২,৬৪৮.
"দুই রথীর যুদ্ধ" — এক কথায় কী বলা হয়?
  1. দ্বন্দ্বযুদ্ধ
  2. দ্বৈরথ
  3. সমরাঙ্গন
  4. দ্বৈতযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• 'দুই রথীর যুদ্ধ' এর এক কথায় প্রকাশ - দ্বৈরথ

অন্যদিকে,
- 'দুই পঙ্‌ক্তি' এর এক কথায় প্রকাশ - দোসারি।

উল্লেখ্য,
- 'এক সঙ্গে দুইজন পরিবেশন করে এমন' এর এক কথায় প্রকাশ - দ্বৈত।
- 'দুইবার জন্ম হয় যার' এর এক কথায় প্রকাশ - দ্বিজ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২,৬৪৯.
'র' প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিতান্ত শব্দ কোনটি?
  1. ভাস্বর
  2. নম্র
  3. মধুর
  4. স্থাবর
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
• মধুর = মধু + র;  'র' প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিতান্ত শব্দ। 

অন্যদিকে, 
নম্র = √ নম্‌ + র ; 'র' প্রত্যয়যোগে গঠিত কৃদন্ত শব্দ। 
স্থাবর = √ স্থা + বর্‌ ; 'বর' প্রত্যয়যোগে গঠিত কৃদন্ত শব্দ। 
ভাস্বর = √ ভাস্‌+ বর্‌ ; 'বর' প্রত্যয়যোগে গঠিত কৃদন্ত শব্দ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১২,৬৫০.
কোনটি শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি
  2. মহা + ঐশর্য = মহৈশ্বর্য
  3. মত + এক = মতৈক্য
  4. সদা + ঐব = সদৈব
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা উ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়; ও-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।

যেমন:
সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়, 
যথা + উচিত = যথোচিত,
গৃহ + ঊর্ধ্ব = গৃহোর্ধ্ব,
গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি

অন্যদিকে,
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঐ-কার হয়। ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।

যেমন:
- জন + এক = জনৈক, 
- সদা + এব = সদৈব
- মত + ঐক্য = মতৈক্য
- মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২,৬৫১.
অ/আ + অ/আ = আ; সন্ধির নিয়ম সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. আশাতীত
  2. মহৌষধি
  3. সদৈব
  4. সূর্যোদয়
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

• সূত্র: অ / আ + অ / আ = আ।
যেমন -
উত্তর + অধিকার = উত্তরাধিকার,
আশা + অতীত = আশাতীত

অন্যদিকে,
সূত্র: অ / আ + উ / ঊ = ও।
যেমন -
সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়,
গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি।

সূত্র: অ / আ + এ / ঐ = ঐ।
যেমন -
জন + এক = জনৈক,
সদা + এব = সদৈব

সূত্র: অ / আ + ও / ঔ = ঔ।
যেমন -
বন+ঔষধি = বনৌষধি,
মহা + ওষধি = মহৌষধি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১২,৬৫২.
’উন্নাসিক’ শব্দটির অর্থ কী?
  1. দিবা রাত্রি ঘুমায় যে
  2. অবহেলায় দিন কাটায় যে
  3. অবজ্ঞায় নাক উঁচু করে যে
  4. অলসতায় সময় কাটায় যে
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, অনুসারে

’উন্নাসিক’ একটি সংস্কৃত শব্দ।
এটি একটি বিশেষণ পদ।

• শব্দটির অর্থ:

- অবজ্ঞায় নাক উঁচু করে এমন; 
- দাম্ভিক
- সব কিছুকেই তুচ্ছ জ্ঞান করে এমন।
 - খুঁতখুঁতে,
- ঘ্রাণ গ্রহণে আগ্রহী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২,৬৫৩.
বাংলা শব্দগুচ্ছ কোনটি ?
  1. ক) গরিব, নকল, আদাব
  2. খ) কুড়ি, চিমটি, ঠাকুমা
  3. গ) বাজি, তাজা, চাদর
  4. ঘ) বাবা, বেগম, খোকা
ব্যাখ্যা
কুড়ি, চিমটি, ঠাকুমা = বাংলা শব্দ
গরিব, নকল, আদাব = আরবি শব্দ
বাজি, তাজা, চাদর = ফারসি শব্দ
বাবা, বেগম, খোকা = তুর্কি শব্দ

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১২,৬৫৪.
'শৈত্যপ্রবাহ' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. শোই্‌ত্‌তোপ্রোবাহো 
  2. শোই্‌তোপ্রোবাহো 
  3. শোত্‌তোপ্রোবাহ
  4. শোই্‌তোপ্রবাহো 
ব্যাখ্যা

- 'শৈত্যপ্রবাহ' এর সঠিক উচ্চারণ - শোই্‌ত্‌তোপ্রোবাহো।

- ব্যুৎপত্তি: শৈত্য + প্রবাহ
- অর্থ: শীতল বায়ুর প্রবাহ।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২,৬৫৫.
শব্দ গঠন প্রক্রিয়াসমূহের কোনটি শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে?
  1. প্রত্যয়
  2. বচন
  3. উপসর্গ
  4. বলক
  5. গ ও ঘ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় সবচেয়ে বেশি শব্দ গঠন হয় উপসর্গ ও প্রত্যয়ের মাধ্যমে।

• উপসর্গ:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। যেমন- 'পরিচালক' শব্দের 'পরি' অংশ একটি উপসর্গ।

• প্রত্যয়:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে। যেমন- 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়। উপসর্গ ও প্রত্যয় দিয়ে তৈরি শব্দকে সাধিত শব্দ বলা হয়।

• বচন:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। যেমন- 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। যেমন- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৫৬.
‘সিংহ' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. মৃগ
  2. কেশরী
  3. তুরঙ্গম
  4. দ্বিরদ
ব্যাখ্যা
• ‘সিংহ' এর সমার্থক শব্দ: পশুরাজ, কেশরী, মৃগেন্দ্র, মৃগরাজ।

অন্যান্য শব্দগুলোর প্রতিশব্দ বা সমর্থক শব্দ হলো:
• 'হরিণ' এর সমার্থক শব্দ: মৃগ, কুরঙ্গ, সুনয়ন, সারঙ্গ।
• 'হাতি' এর সমার্থক শব্দ: গজ, দ্বিপ, দ্বিরদ, ঐরাবত, হস্তী, করী, দন্তী, দন্তাবল, নগজ ইত্যাদি।
• ‘ঘোড়া’ এর সমর্থক শব্দ: অশ্ব, বাহ, ঘোটক, তুরঙ্গম, তুরগ, হ্রেষী, বামী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,৬৫৭.
'ভয়ে গা ছম ছম করছে।' এখানে 'ছম ছম' কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. অনুভূতি বা ভাব
  2. পৌনঃপুনিকতা
  3. ধ্বনিব্যঞ্জনা
  4. ভাবের গভীরতা
ব্যাখ্যা
অব্যয় পদের দ্বিরুক্তি:
ভাবের গভীরতা বোঝাতে:
- তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- ছি ছি, তুমি কী খারাপ?

পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
বার বার সে কামান গর্জে উঠল।

অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে:
- ভয়ে গা ছম ছম করছে।
- ফোঁড়াটা টন টন করছে।

বিশেষণ বোঝাতে:
- পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি।

ধ্বনিব্যঞ্জনা:
- ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২,৬৫৮.
'মেখলা' শব্দের অর্থ কী?
  1. হালকা শুড়
  2. শরীরের পোশাক
  3. কোমরে পরার গয়না
  4. কাঁধের অলংকার
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• মেখলা (বিশেষ্য):
- কোমরে পরার গয়না; কটিভূষণ, চন্দ্রাহার, গোট ইত্যাদি গয়না। 
- কটিবন্ধ; তরবারির খাপের জন্য বেল্ট।

আরো কিছু শব্দার্থ:
• কান্তা - নারী, 
• সাদন - দূরীকরণ,
• স্বাদন - আস্বাদন,
• স্বাদ -রসগ্রহণ,
• সুভাস - ভালোভাবে আলোকিত,
• সুরতি - আলিঙ্গন,
• ওম- উষ্ণতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৫৯.
'Fabricate' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. প্রতিরূপ
  2. বানানো
  3. বিস্ফোরক
  4. অমিতব্যয়ী
ব্যাখ্যা
• 'Fabricate' এর বাংলা পরিভাষা — 'বানানো'/ মিথ্যা উদ্ভাবন করা।

অন্য অপশনের পারিভাষিক অর্থ:
Facsimile- প্রতিরূপ,  
Explosive - বিস্ফোরক, 
Extravagant - অমিতব্যয়ী। 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
১২,৬৬০.
'যথা ধর্ম তথা জয়।' বাক্যে কোন ধরনের অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বাক্যালঙ্কার
  2. অনন্বয়ী
  3. নিত্য সম্বন্ধীয়
  4. অনুকার
ব্যাখ্যা

• কতগুলো যুগ্মশব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় হিসেবে পরিচিত। যেমনঃ
- যথা-তথা,
- যত-তত,
- যখন-তখন,
- যেমন-তেমন ইত্যাদি।
• কয়েকটি উদাহরণঃ
- যেমন কর্ম তেমন ফল,
- যথা ধর্ম তথা জয়,
- যত গর্জে তত বর্ষে না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৬৬১.
'মণিমঞ্জুষা' - শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. মনিমোঁঞ্জুষা
  2. মণিমোনঞ্জুষা
  3. মোণিঁমোনজুষা
  4. মোনিমোন্জুশা
ব্যাখ্যা
• 'মণিমঞ্জুষা' শব্দের সঠিক উচ্চারণ - মোনিমোন্জুশা
- শব্দটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত

শব্দের অর্থ:
- মণিমাণিক্যের আঁধার,
- রত্নের ঝাপি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,৬৬২.
'সুপ্ত' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √সু + অপ্ত 
  2. √সু + ক্ত
  3. √স্বপ্ + ক্ত
  4. √সুপ্‌  + ক্ত
ব্যাখ্যা

কৃৎ-প্রত্যয়ের বিশেষ নিয়ম:
(ক) ক্ত-প্রত্যয় যুক্ত হলে নিম্নলিখিত ধাতুর অন্ত্যস্বর 'ই' কার হয়। যেমন- √পঠ্‌ + ক্ত (পঠ্‌ + ই + ত) = পঠিত। এরূপ- লিখিত, বিদিত, বেষ্টিত, চলিত, পতিত, লুণ্ঠিত, ক্ষুধিত, শিক্ষিত ইত্যাদি।

(খ) ক্ত প্রত্যয় যুক্ত হলে, ধাতুর অন্তস্থিত 'চ' ও 'জ' স্থলে 'ক' হয়। যেমন- √মুচ্ + ক্ত = মুক্ত, √ভুজ্ + ক্ত = ভুক্ত।

(গ) এ ছাড়া ক্ত প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি-প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো। যেমন- √গম্ + ক্ত = গত, √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত, √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ, √জন্‌ + ক্ত = জাত, √দা + ক্ত = দত্ত, √দিহ্ + ক্ত = দগ্ধ, √বচ্ + ক্ত = উক্ত, √লভ্ + ক্ত = লব্ধ, √স্বপ্ + ক্ত = সুপ্ত, √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট, √হন্‌ + ক্ত = হত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১২,৬৬৩.
নিচের কোন বিপরীতার্থক শব্দযুগল সঠিক নয়?
  1. দার - স্বামী
  2. দর্শক - নির্দেশক
  3. বিন্দু - রাশি
  4. প্রাচ্য - পাশ্চাত্য
ব্যাখ্যা
• 'দর্শক' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ হচ্ছে - প্রদর্শক

অন্যদিকে,
- প্রাচ্য - পাশ্চাত্য,
- বিন্দু - রাশি,
- দার - স্বামী।
এই বিপরীতার্থক শব্দযুগল সঠিক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
১২,৬৬৪.
"লাফ > ফাল" - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. সমীভবন 
  2. ধ্বনি বিপর্যয়
  3. বিষমীভবন 
  4. অন্তর্হতি
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
- এতে দুটি বর্ণের মধ্যে জায়গা পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১২,৬৬৫.
'মন্থর' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. ক) ত্বরিত
  2. খ) প্রফুল্ল
  3. গ) দ্যুলোক
  4. ঘ) সংশ্লেষণ
ব্যাখ্যা
• 'মন্থর' এর বিপরীত শব্দ- 'ত্বরিত'। 

তাছাড়া,
- 'ভাবিত' এর বিপরীত শব্দ- 'প্রফুল্ল'।
- 'ভূলোক' এর বিপরীত শব্দ- 'দ্যুলোক'।
- 'বিশ্লেষণ' এর বিপরীত শব্দ- 'সংশ্লেষণ'। 
 
উৎস: প্রমিত বাংলা বানান-ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৬৬৬.
নিচের কোন বাক্যে প্রবাদ-প্রবচনের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. কত চালে কত ধান।
  2. সারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলাম।
  3. শকুনের দোয়ায় হাতি মরে না।
  4. কাকের মাংস কাকে খায় না।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রয়োগ: কাকের মাংস কাকে খায় না।
- প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ: স্বজন বা সগোত্রের প্রতি অনুরাগ।

অশুদ্ধ প্রবাদগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• কত ধানে কত চাল।
• সারা জীবন ভূতের বেগার খেটে মরলাম।
• শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,৬৬৭.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. সমিচীন
  2. সমীচিন
  3. সমিচিন
  4. সমীচীন
ব্যাখ্যা

- শুদ্ধ বানান - সমীচীন।
- সমীচীন শব্দের অর্থ - সঙ্গত, উচিত,উপযুক্ত,ন্যায় সঙ্গত, যথার্থ ।
- সমীচীন শব্দটি বিশেষণ পদ।
- সমীচীন শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি বাংলায় এসেছে। 

অন্যদিকে, 
- সমিচীন, সমীচিন, সমিচিন- শব্দগুলোর বানান ভুল। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২,৬৬৮.
'বদন' শব্দের অর্থ কী?
  1. উপহার
  2. ঘুষ
  3. উকুন
  4. মুখ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'বদন' শব্দের অর্থ - 'মুখ'/ মুখগহ্বর/ মুখমণ্ডল।

অন্য অপশনে,
- ‘সওগাত’ শব্দের অর্থ - উপঢৌকন; উপহার।
- 'উৎকোচ' শব্দের অর্থ - ঘুষ।
- 'উৎকুন' শব্দের অর্থ - উকুন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২,৬৬৯.
'খেউর গাওয়া' বাগধারাটির অর্থ কী?
  1. গালাগালি করা
  2. প্রলাপ বকা
  3. এক ধরণের গান
  4. প্রশংসা করা
ব্যাখ্যা

• 'খেউর গাওয়া' বাগ্‌ধারাটির অর্থ- গালাগালি করা।
বাক্য গঠন: ভদ্রলোক হলে সে এভাবে খেউর গাইত না।

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা হলো-
• 'কুলোপনা চক্কর' অর্থ- সারহীন আড়ম্বর।
• 'কাষ্ঠ হাসি' অর্থ- কপট হাসি। 
• 'কথায় চিড়ে ভেজা' অর্থ- ফাঁকা বুলিতে কার্যসাধন।
• 'কেঁচে গণ্ডুষ' অর্থ- গোড়া থেকে শুরু।
• 'ঢাকের বাঁয়া' অর্থ- অকেজো। 
• 'চশমখোর' অর্থ- চক্ষুলজ্জাহীন। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৬৭০.
কোনটি কর্মধারয় সমাস নয়?
  1. বেগুন ভাজা
  2. মৃদুমন্দ
  3. লালফুল
  4. গুণমুগ্ধ
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাস —
যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।

উদাহরণ:
বেগুন ভাজা → (ভাজা যে বেগুন);
মৃদুমন্দ → (যা মৃদু তাই মন্দ);
লালফুল → (লাল যে ফুল)।
এগুলো কর্মধারয় সমাস।

কিন্তু —
গুণমুগ্ধ → “গুণে মুগ্ধ” এটি তৎপুরুষ সমাস (বিশেষভাবে সপ্তমী তৎপুরুষ), কর্মধারয় নয়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১২,৬৭১.
'মজুর' - শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. দেশি 
  2. আরবি
  3. তুর্কি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা

• ‘মজুর’ — ফারসি ভাষার শব্দ।

• ‘মজুর’ বলতে বোঝায়:
- কায়িক শ্রম যার পেশা; শ্রমিক।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
কুলফি, কুস্তি, কোফতা, গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২,৬৭২.
‘জঙ্গম’ শব্দের অর্থ -
  1. ক) যুদ্ধের ময়দান
  2. খ) ঘণ অরণ্য
  3. গ) গতিশীল
  4. ঘ) গুপ্ত
ব্যাখ্যা
জঙ্গম (বিশেষণ) - গতিশীল; স্থাবরের বিপরীত; চলমান; সচল।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
১২,৬৭৩.
‘সেলিম সাহেবের ছেলে সুমন গাছতলায় বসে বই পড়ছে।’- এখানে ‘বই’ কী?
  1. বিধেয়ের প্রসারক
  2. বিধেয়ের ক্রিয়া
  3. উদ্দেশ্যের প্রসারক
  4. বিধেয়ের পূরক
ব্যাখ্যা
• বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় এই দুই অংশে ভাগ করা যায়।

• উদ্দেশ্য:
বাক্যে যাকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে।
যেমন- 'সুমন বল খেলে।' এই বাক্যে সুমনকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হচ্ছে। অতএব 'সুমন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

• বিধেয়:
বাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন- 'সুমন বল খেলে।' এই বাক্যে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

বাক্য দীর্ঘতর হলে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশের সঙ্গে নানা ধরনের শব্দ ও বর্গ যুক্ত হতে পারে। উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে এইসব শব্দ ও বর্গ প্রসারিত করে বলে এগুলোর নাম প্রসারক। এছাড়া বিধেয় ক্রিয়ার বিশেষ্য অংশকে বলা হয় পূরক।
যেমন:
- সেলিম সাহেবের ছেলে সুমন গাছতলায় বসে বই পড়ছে।

[এখানে 'সুমন' উদ্দেশ্য, 'সেলিম সাহেবের ছেলে' উদ্দেশ্যের প্রসারক। অন্যদিকে 'পড়ছে' বিধেয়ের ক্রিয়া, 'গাছতলায় বসে' বিধেয়ের প্রসারক এবং 'বই' হলো বিধেয়ের পূরক।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১২,৬৭৪.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. ক) শিহরণ
  2. খ) বিদেহী
  3. গ) ভর্তিচ্ছু
  4. ঘ) দিগ্-দর্শন
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান:
- শিহরন
- বিদেহ
- ভর্তীচ্ছু

উৎস : বাংলা একাডেমি অভিধান।
১২,৬৭৫.
কোন দুটি মহাপ্রাণ ধ্বনি?
  1. খ, ফ
  2. চ, জ
  3. ত, থ
  4. ক, ঘ
ব্যাখ্যা
• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।

যেমন:
- প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।

যেমন:
- ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১২,৬৭৬.
মৃগশিশু শব্দটির ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. মৃগের শিশু
  2. শিশুরুপ মৃগ
  3. মৃগীর শিশু
  4. মৃগ যে শিশু
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- মৃগীর শিশু = মৃগশিশু।
- ধানের ক্ষেত = ধানক্ষেত।
- চায়ের বাগান = চাবাগান।
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র।
- খেয়ার ঘাট= খেয়াঘাট।
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।
- দেশের সেবা = দেশসেবা।
- দিল্লীর ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর।
- ছবির ঘর = ছবিঘর।
- বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯-সংস্করণ); মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৬৭৭.
কোনটি আরবি শব্দ?
  1. হাঙ্গামা
  2. গোয়েন্দা
  3. মোহর
  4. আমির
ব্যাখ্যা
• আরবি শব্দ - আমির
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- বিত্তবান, ধনী, সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি।
- সম্পৎশালী ব্যক্তি, আরব শাসকের উপাধি।

অন্যদিকে,
ফারসি শব্দ - মোহর, গোয়েন্দা এবং হাঙ্গামা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,৬৭৮.
নিচের কোন শব্দে সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. দিবারাত্র
  2. নীরোগী
  3. পিতৃহারা
  4. নিরভিমান
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে ‘নীরোগী’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: নীরোগ।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার= নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ: 
অশুদ্ধ শব্দ ⇒ শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,৬৭৯.
নিচের কোনটি ‘দুলাল' শব্দের সমার্থক শব্দ?
  1. ক) তন্ময়
  2. খ) তপন
  3. গ) নির্ভর
  4. ঘ) আত্মজ
ব্যাখ্যা
নন্দন শব্দের সমার্থক শব্দ – ছেলে, তনয়, সুত, দুলাল, দারক, আত্মজ, পুত।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি
১২,৬৮০.
নিচের যে গুচ্ছে অপ্রমিত বানান রয়েছে
  1. স্বত্ত্ব, কনকাঞ্জলী
  2. ঝঞ্ঝা, অবাঞ্ছিত
  3. পিপীলিকা, ধস্ত
  4. উপর্যুক্ত, ঊর্ধ্ব
ব্যাখ্যা
উত্তর:
ক) স্বত্ত্ব, কনকাঞ্জলী।

ব্যাখ্যা:
ক) স্বত্ত্ব, কনকাঞ্জলী গুচ্ছে অপ্রমিত বানান রয়েছে:

স্বত্ত্ব → প্রমিত বানান "স্বত্ব" (অতিরিক্ত 'ত্' বর্জনীয়)।
কনকাঞ্জলী → প্রমিত বানান "কনকাঞ্জলি" (শব্দের শেষে 'ঈ' নয়, 'ই' হবে)।

অন্যদিকে,
অন্যান্য গুচ্ছের বানান প্রমিত:

খ) ঝঞ্ঝা, অবাঞ্ছিত: উভয় শব্দের বানান সঠিক।
গ) পিপীলিকা, ধস্ত: "পিপীলিকা" ও "ধস্ত" (অর্থ: ধ্বংসপ্রাপ্ত) প্রমিত।
ঘ) উপর্যুক্ত, ঊর্ধ্ব: "উপর্যুক্ত", ও "ঊর্ধ্ব" সঠিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,৬৮১.
মানুষের ভাষা কীসের সাহায্যে সৃষ্টি হয়?
  1. ক) ইঙ্গিতের সাহায্যে
  2. খ) ঠোঁটের সাহায্যে
  3. গ) কণ্ঠের সাহায্যে
  4. ঘ) বাগযন্ত্রের সাহায্যে
ব্যাখ্যা
ভাষার ক্ষুদ্রতম উপাদান ধ্বনি। 
- ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলােকে একত্রে বাগযন্ত্র বলে।
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগযন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। 


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১২,৬৮২.
'যে নারীর হাসি সুন্দর’ — এর বাক্য সংকোচন কোনটি?
  1. শুচিস্মিতা
  2. প্রসন্নমুখী
  3. সুস্মিতা
  4. বিনোদিনী
ব্যাখ্যা
• 'যে নারীর হাসি সুন্দর' - এর বাক্য সংকোচন হলো — সুস্মিতা।

অন্য অপশনগুলো:
ক) শুচিস্মিতা - যে নারীর হাসি পবিত্র/শুচি;
খ) প্রসন্নমুখী - যে নারীর মুখ প্রসন্ন।
ঘ) বিনোদিনী - যে নারী বিনোদন দেয় বা আনন্দদায়িনী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৮৩.
অবস্থাবাচক বিশেষণের উদাহরণ রয়েছে কোন বাক্যে?
  1. তরল পদার্থ
  2. নীল আকাশ
  3. ঠান্ডা পানি
  4. পাথুরে মূর্তি
ব্যাখ্যা
• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ- এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে, 
----------------
• বর্ণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন- নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

• গুণবাচক বিশেষণ: যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি- এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।

• উপাদানবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে। যেমন- বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি এখানে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১২,৬৮৪.
কোনটি 'করপাল' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয়?
  1. কর + √পাল + অ
  2. কর + √পালা + অ
  3. কর + √পালি + অ
  4. কর + √পালী + অ
ব্যাখ্যা
করপাল:
- শব্দটি বিশেষ্য।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = কর + √পালি + অ
- অর্থ: তরবারি, অসি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,৬৮৫.
'চন্দ্রমুখ' শব্দটির ব্যাসবাক্য-
  1. ক) মুখ চন্দ্রের ন্যায়
  2. খ) চন্দ্রের ন্যায় মুখ
  3. গ) চাদের মত মুখ
  4. ঘ) চন্দ্রের মত মুখ
ব্যাখ্যা
'চন্দ্রমুখ' শব্দটির ব্যাসবাক্য হলো মুখ চন্দ্রের ন্যায়। সিংপুরুষ- পুরুষ সিংহের ন্যায়। এদুটি উপমিত কর্মধারয় সমাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১২,৬৮৬.
বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও যুক্ত হয় -
  1. বিভক্তি
  2. নির্দেশক
  3. বচন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সর্বনাম 
- বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।
- যেমন: “শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।” দ্বিতীয় বাক্যের ‘সে’ প্রথম বাক্যের শিমুল’-এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।   

♣ সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ: 
• সর্বনামকে নিচের নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।  
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
- যেমন: আমি, আমরা আমাকে, আমাদের, তুমি, তোমরা, তুই তোরা, আপনি, আপনারা তোমাকে, তোকে, আপনাকে, সে, তারা, তিনি তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি। 
২. আত্মবাচক সর্বনাম: 
- যেমন: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি।  
৩. নির্দেশক সর্বনাম:
- যেমন: এ, এই, এরা, ইনি, ও, ওই, ওরা, উনি।  
৪.অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- যেমন: কেউ, কোথাও, কিছু, একজন ইত্যাদি। 
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
- যেমন: কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।  
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম:
- যেমন: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।  
৭. পারস্পরিক সর্বনাম:
- যেমন: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি। 
৮. সকলবাচক সর্বনাম:
- যেমন: সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত, সব ইত্যাদি।  
৯. অন্যবাচক সর্বনাম:
- যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১২,৬৮৭.
‘শয়ন’ শব্দটি কোন ধরনের বিশেষ্য পদ?
  1. ক) সমষ্টিবাচক
  2. খ) বস্তুবাচক
  3. গ) গুণবাচক
  4. ঘ) ভাববাচক
ব্যাখ্যা

কয়েক ধরনের বিশেষ্য পদঃ
১. গুণবাচক বিশেষ্যঃ মধুরতা, তারল্য, তিক্ততা, সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন ইত্যাদি।
২. ভাববাচকঃ গমন, দর্শন, ভোজন, শয়ন, দেখা, শোনা।
৩. বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচকঃ বই, খাতা, কলম ইত্যাদি।
৪. সমষ্টিবাচক - পঞ্চায়েত, মাহফিল, জনতা, সভা, সমিতি ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণঃ নবম-দশম শ্রেণী

১২,৬৮৮.
'অগ্নিশর্মা' শব্দটি কোন সমাস?
  1. রূপক কর্মধারয় সমাস
  2. উপমিত কর্মধারয়
  3. উপমান কর্মধারয়
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল,
- অগ্নির ন্যায় শর্মা = অগ্নিশর্মা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
উপমিত কর্মধারয়:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ;
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

রূপক কর্মধারয় সমাস:
- কিছু কর্মধারয় নমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয় । এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লোপ পায় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
- ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত,
- হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১২,৬৮৯.
'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ আছে কোন শব্দে?
  1. মৌন
  2. অতনু
  3. গয়না
  4. মৃগ
ব্যাখ্যা
'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
- স্বরবর্ণ অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্], গয়না [গয়্না]।

অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোখো], অদ্য [ওদো], মন [মোন্], মৌন [মৌনো, মৃগ [মৃগো], অতনু [অতোনু]

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২) বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১২,৬৯০.
সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দ কোনটি?
  1. যুবরাজ
  2. মাতাজাতি
  3. সুবুদ্ধি
  4. নিরভিমান
  5. খ ও ঘ
ব্যাখ্যা

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ-কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়।
যেমন- নেই ধন যার = নির্ধন; নেই গুণ যার = নির্গুণ; নেই পাপ যার = নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
পিতাহারা - পিতৃহারা;
যুবরাজা - যুবরাজ;
মহিমামণ্ডিত - মহিমমণ্ডিত;
রাজাগণ - রাজগণ;
মাতাজাতি - মাতৃজাতি; 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি;
নির্দোষী - নির্দোষ;
পিতাহারা - পিতৃহারা;
অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
নিরভিমানী - নিরভিমান;
দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২,৬৯১.
'নিশ্চয়' অর্থে 'নি' উপসর্গের ব্যবহার হয়েছে কোন শব্দে ?
  1. ক) নিদারুন
  2. খ) নিষ্কলুষ
  3. গ) নিদাঘ
  4. ঘ) নিবারণ
ব্যাখ্যা
• 'নি' উপসর্গের ব্যবহার:
- 'নিশ্চয়' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নির্ণয়, নিবারণ।
- 'নিষেধ' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নিবৃত্তি।
- 'আতিশয্য' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নিদাঘ, নিদারুন।
- 'অভাব' অর্থে 'নি' উপসর্গের ব্যবহার - নিষ্কলুষ, নিষ্কাম।
-----------------
আ, সু, বি, নি- এ চারটি উপসর্গ বাংলা এবং তৎসম উভয় উপসর্গের মধ্যে পাওয়া যায়। বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয়, সে শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা, আর সে শব্দটি তৎসম হলে সে উপসর্গটিও তৎসম হয়।
যেমন-
• আকাঠা, সুনজর, বিনামা, নিলাজ বাংলা শব্দ। সুতরাং এই শব্দসমূহের আ, সু, বি, নি হলাে বাংলা উপসর্গ।
• আবার আকণ্ঠ, সুতীক্ষ্ণ, বিপক্ষ ও নিদাঘ তৎসম শব্দ। এখানের আ, সু, বি, নি তৎসম উপসর্গ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,৬৯২.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. ক) মেয়েটি বুদ্ধিমান।
  2. খ) আকণ্ঠ পর্যন্ত ভোজন করলাম।
  3. গ) এ সৌন্দর্য ছেড়ে কোথাও নড়িতে ইচ্ছা হয় না।
  4. ঘ) নৌকা স্রোতে ভাসিয়া চলিয়াছিল।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য =  নৌকা স্রোতে ভাসিয়া চলিয়াছিল

• অন্যান্য অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপ: 
- মেয়েটি বুদ্ধিমতী। 
- আকণ্ঠ ভোজন করলাম। 
- এ সৌন্দর্য ছেড়ে কোথাও যেতে ইচ্ছে হয় না।
১২,৬৯৩.
নিচের কোনটি বিসর্গ সন্ধি নয়?
  1. নিরাকার
  2. প্রাতরাশ
  3. দুরাত্মা
  4. দ্যুলোক
ব্যাখ্যা
• নিরাকার, প্রাতরাশ, দুরাত্মা- এগুলো বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
যেমন- 
নিরাকার = নিঃ + আকার;
প্রাতরাশ = প্রাতঃ + আশ;
দুরাত্মা = দুঃ + আত্মা।

অন্যদিকে,
'দ্যুলোক' নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি।
এর যথার্থ সন্ধিবিচ্ছেদ হলোঃ দিব্ + লোক = দ্যুলোক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১২,৬৯৪.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. আশাঢ়
  2. আষাড়
  3. আষাঢ়
  4. আসাঢ়
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান: আষাঢ় (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- বাংলা বর্ষপঞ্জির তৃতীয় মাস,
- বর্ষাঋতুর প্রথম মাস।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,৬৯৫.
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত কোন শ্রেণির বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃতের অনুরূপ?
  1. দেশি
  2. তৎসম
  3. তদ্ভব
  4. বিদেশি
ব্যাখ্যা
• প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা:
পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।

• সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
১২,৬৯৬.
‘যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে’- বাক্যে ‘নিজেরা নিজেরা’ কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. সাপেক্ষ সর্বনাম
  2. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  3. পারস্পরিক সর্বনাম
  4. আত্মবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
পারস্পরিক সর্বনাম:
- দুই পক্ষের সহযােগিতা বা নির্ভরতা বােঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন –
- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন -
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১ )।
১২,৬৯৭.
কোনটি সাধু ভাষার শব্দ?
  1. দন্ত
  2. বাঘ
  3. কান
  4. হাতি
ব্যাখ্যা

কিছু বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:

সাধু-চলিত:
→ অগ্নি - আগুন,
→ কর্ণ - কান,
→ চন্দ্র - চাঁদ,
দন্ত - দাঁত,
→ পক্ষী - পাখি,
→ ব্যাঘ্র - বাঘ,
→ মৎস্য - মাছ,
→ হস্তী - হাতি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১২,৬৯৮.
‘শাক দিয়ে মাছ ঢেকো না।’- বাক্যে ‘শাক দিয়ে’ কোন কারক?
  1. কর্মে তৃতীয়া
  2. অধিকরণে তৃতীয়া
  3. অপাদানে পঞ্চমী
  4. করণে তৃতীয়া
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- শাক দিয়ে মাছ ঢেকো না।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘শাক’। সুতরাং ‘শাক দিয়ে’ করণ কারকে তৃতীয়া বিভক্তি।]

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে-
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৯৯.
"আ+ ই = এ" - সন্ধি বিচ্ছেদের এই নিয়মে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. স্বেচ্ছা
  2. যথেষ্ট
  3. মহেশ
  4. ঢাকেশ্বরী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
→ অ + ই = এ; স্ব + ইচ্ছা = স্বেচ্ছা।
→ আ+ ই = এ; যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।
→ অ + ঈ = এ; পরম + ঈশ = পরমেশ।
→ আ + ঈ = এ; মহা + ঈশ = মহেশ।
→ আ + ঈ = এ; ঢাকা + ঈশ্বরী = ঢাকেশ্বরী। 
এরূপ,
-পূর্ণেন্দু, শ্রবণেন্দ্রিয়, শুভেচ্ছা, নরেশ, রমেশ, নরেন্দ্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২,৭০০.
'পল্লবগ্রাহী' শব্দের অর্থ -
  1. সুলক্ষণযুক্ত
  2. ভাসা ভাসা জ্ঞান
  3. অত্যন্ত ভীত হওয়া
  4. নাছোড়বান্দা
ব্যাখ্যা
• 'পল্লবগ্রাহী' শব্দের অর্থ:
- বিবিধ বিষয়ে কিছু কিছু জ্ঞান অর্জন করে এমন।
- ভাসা ভাসা জ্ঞান।

অন্যদিকে,
• পয়মন্ত - সুলক্ষণযুক্ত;
• প্রমাদ গোনা- অত্যন্ত ভীত হওয়া;
• বাঘের আড়ই - নাছোড়বান্দা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।