বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১২৫ / ৩৫৪ · ১২,৪০১১২,৫০০ / ৩৫,৭১৩

১২,৪০১.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) বিয়ে পাগলা
  2. খ) মামা বাড়ি
  3. গ) রাজপথ
  4. ঘ) তেলেভাজা
ব্যাখ্যা
সমসমান পদের বিভক্তি ও সন্নিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
কিছু তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণঃ
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়ে পাগলা
- পথের রাজা = রাজপথ
অলুক তৎপুরুষ সমাসঃ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ সমাস।
যেমনঃ
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি 

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ,সংস্করণ ২০২১]
১২,৪০২.
'ঙ'-এর ক্ষেত্রে কোন উচ্চারণটি সঠিক?
  1. উঁয়ো
  2. উয়ঁ
  3. উমা
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• ঙ [উয়োঁ, উঁয়]:
- পঞ্চম ব্যঞ্জনবর্ণ এবং ক-বর্গের পঞ্চম বর্ণ।
- ‘উয়ঁ’, ‘উঁয়ো’ বা ‘উমা’; উঁঅ রূপে উচ্চারিত হয়। 
- এর উচ্চারণ স্থান নাসিকা।
- এটি ঘোষ পশ্চাত্তালুজাত নাসিক্য ব্যঞ্জন ধ্বনি। 
- এর উচ্চারণ হুবহু ‍অনুস্বারের মতো।

উৎস: অভিগম্য অভিধান; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২,৪০৩.
তারিখবাচক শব্দ কোনটি?
  1. তেহাই
  2. দোসরা
  3. চৌথ
  4. সোয়া
ব্যাখ্যা

• তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), ছয়ই (৬ই)।

- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়। বাকি গুলো বাংলার নিজস্ব নিয়মে গঠিত।

অন্যদিকে,
------------------
সাধারণ পূরণবাচক শব্দ: প্রথম।
ভগ্নাংশ পূরণবাচক শব্দ: পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১২,৪০৪.
কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. মিশুক
  2. মায়াবী
  3. নিন্দক
  4. চড়ক
ব্যাখ্যা

কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে। কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন -
- √চড়্‌ + ক = চড়ক,
- √নিন্দ্‌ + অক = নিন্দক,
- √মিশ + উক = মিশুক।

অন্যদিকে,
- কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় - মায়া + বইন = মায়াবী। এটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১২,৪০৫.
'ডাকবার্তা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমিত কর্মধারায় সমাস
  2. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. অলুক তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্ত পদে লোপ পায়, তবে তাকে বলা হয় মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস।
যেমন:
• গজের ন্যায় আনন যার = গজানন।
• মৃগের ন্যায় লোচন যার = মৃগলোচনা
• বিড়ালের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী।
• হাতে খড়ি দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।
• ডাকের মাধ্যমে প্রেরিত বার্তা = ডাকবার্তা। 
• দুধ মিশ্রিত ভাত = দুধ-ভাত। 
• ধর্মবিহিত কর্ম = ধর্মকর্ম। 
• প্রাণ হারানোর ভয় = প্রাণভয়। 
• গায়ে হলুদ দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়েহলুদ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
১২,৪০৬.
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ডাকাত
  2. লাল
  3. কাকা
  4. ঝড়
ব্যাখ্যা

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১২,৪০৭.
'চিনে জোঁক' বাগধারাটি কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. ভূমিকা না রাখা
  2. নষ্ট হওয়া
  3. কিছুই না
  4. নাছোড়বান্দা
ব্যাখ্যা
• 'চিনে জোঁক' বাগধারার অর্থ হচ্ছে - নাছোড়বান্দা।

অন্যদিকে:
- 'ঘোড়ার ডিম' বাগধারার অর্থ - কিছুই না।
- 'চুলোয় যাওয়া' বাগধারার অর্থ - নষ্ট হওয়া।
- 'চোখ বুঁজে থাকা' বাগধারার অর্থ - ভূমিকা না রাখা।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
১২,৪০৮.
‘মুক্ত’ এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. আবদ্ধ
  2. বন্ধন
  3. বাহির
  4. বিরক্ত
ব্যাখ্যা
• ‘মুক্ত’ এর বিপরীতার্থক শব্দ - আবদ্ধ

অন্যদিকে,
• ‘বন্ধন’ এর বিপরীতার্থক শব্দ - মুক্তি।
• ‘বাহির’ এর বিপরীতার্থক শব্দ - অন্তর।
• 'বিরক্ত’ এর বিপরীতার্থক শব্দ - অনুরক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৪০৯.
'পানি' এর সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) সলিল
  2. খ) উদক
  3. গ) জলদ
  4. ঘ) অম্বু
ব্যাখ্যা
'পানি' এর সমার্থক শব্দ নয়- 'জলদ'
- 'জলদ' হচ্ছে 'মেঘ' এর সমার্থক শব্দ। 

'পানি' এর আরো কিছু সমার্থক শব্দ 
- সলিল,
- অম্বু,
- উদক, 
- জীবন,
- নীর,
- বারি,
- অপ্‌,
-তোয়। 

মেঘ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- জলদ;
- জলধর;
- জীমূত;
- বারিদ;
- নীরদ;
- পায়োদ;
- ঘন;
- অম্বুদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২,৪১০.
শুদ্ধ বানানটি চিহ্নত করুন।
  1. ক) ইতিমধ্যে
  2. খ) ইদানিং
  3. গ) ইতোঃমধ্যে
  4. ঘ) ইতোমধ্যে
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমী অভিধান অনুসারে ‘ইতোমধ্যে' বানানটি সঠিক।
ইদানীং (অব্যয়, ক্রিয়া, বিশেষ্য) - আজকাল; সম্প্রতি; অধুনা।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান

১২,৪১১.
জগতে অসম্ভব বলে কিছু নেই- গঠন অনুসারে এটি কোন বাক্য?
  1. জটিল
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. মিশ্র
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি কর্তা বা উদ্দেশ্য ও একটি সমাপিকা ক্রিয়া বা বিধেয় থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- খোকন বই পড়ছে।
- আমি বহু কষ্টে সাঁতার শিখেছি।
- জগতে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

অন্যদিকে,
জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি স্বাধীন বাক্য এবং এক বা একাধিক অধীন বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন:
- যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
- কোথাও পথ না পেয়ে তোমার কাছে এসেছি।
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করে আছি।

যৌগিক বাক্য:
দুই বা তার অধিক সরল বা জটিল বাক্য মিলিত হয়ে যদি একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তবে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
যেমন:
- ছেলেটি গরিব কিন্তু মেধাবী।
- দুঃখ এবং বিপদ এক সাথে আসে।
- এতক্ষণ অপেক্ষা করলাম কিন্তু গাড়ি পেলাম না।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২,৪১২.
'কার মাথায় হাত বুলিয়েছ'-এখানে 'মাথা' শব্দের অর্থ?
  1. স্বভাব নষ্ট করা
  2. স্পর্ধা বাড়া
  3. ফাঁকি দেওয়া
  4. কোনো উপায়ে কাজ হাসিল করা
ব্যাখ্যা
• 'কার মাথায় হাত বুলিয়েছ' - এখানে 'মাথা' শব্দটি ‘ফাঁকি দেওয়া’ অর্থ প্রকাশ করে।

একই শব্দের ভিন্নার্থক প্রয়োগ:
• মাথা ধরা (মাথায় যন্ত্রণা হওয়া) - ওষুধ খেয়ে রুগির মাথা ধরা কমেছে।
• মাথা পাতা (সম্মত হওয়া) - এ কাজে আমি মাথা পাততে পারি না।
• মাথা আসা ( বোধগম্য হওয়া) - অঙ্কটি কিছুতেই আমার মাথায় আসছে না।
• মাথা খাওয়া (নষ্ট করা) - অতি আদর দিয়ে ছেলেটার মাথা খেয়ো না।
• মাথা ঠেকান (প্রণাম করা) - ও আমার দেশের মাটি, তোমার তরে ঠেকাই মাথা৷
• মাথায় উঠা (প্রশয় পাওয়ার) - আদর পেয়ে ছেলেটা মাথায় উঠে যাচ্ছে।
• মাথা গরম করা (চটিয়া যাওয়া) - এত অল্পে ছেলেটা মাথায় উঠে যাচ্ছে।
• চোখের মাথা খাওয়া (অন্ধ হওয়া) - চোখের মাথা না খেলে কেউ এমন কাজ করতে পারে?
• মাথার দিব্যি (শপথ) - মাথার দিব্যি, দয়া করে এ কাজ করো না।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪১৩.
'মস্যাধার' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মস্যা + ধার
  2. মসি + আধার
  3. মসী + ধার
  4. মসী + আধার
ব্যাখ্যা
• 'মস্যাধার' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: মসী + আধার।

'মস্যাধার' শব্দটির সন্ধির নিয়ম
ই-কার বা ঈ-কারের পর ই বা ঈ ভিন্ন অন্য কোনো স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য-ফলা হয়, য-ফলা পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়। 
[ ঈ + আ = য্‌ + আ]
যেমন,
মসী+আধার=মস্যাধার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,৪১৪.
পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ কোনটি?
  1. কামরা
  2. কোর্মা
  3. কার্পেট
  4. কুপন
  5. খ ও ঘ
ব্যাখ্যা
• পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
আনারস, গির্জা, পেয়ারা, পেঁপে, চাবি, গুদাম, গামলা, পাউরুটি, পাদরি, কামরা, বালতি, বোতল, জানালা, বোতাম, তোয়ালে।

অন্যদিকে,
• তুর্কি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, বেগম, বাবা।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু ফরাসি শব্দ:
কার্নিশ, কার্ট্রিজ, কার্পেট, কার্বুরেটর, কুপন, টেলিগ্রাম, টেলিগ্রাফ, টেলিফোন, টয়লেট, টুর্নামেন্ট, ডিপো, ফসিল, লিস্ট, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,৪১৫.
নিচের কোনটি আরবি শব্দ?
  1. ফরমান
  2. আইন
  3. কানুন
  4. জিন্দা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'কানুন' আরবি শব্দ।


অন্যদিকে,
জিন্দা, আইন, ফরমান ফারসি শব্দ।

• কিছু  আরবি শব্দ:
- আল্লাহ, ইসলাম, ইমান, অজুহাত, আদালত, বাকি, ওযু, কোরবানী, কিয়ামত, জান্নাত, জাহান্নাম ,তসবি, হজ, যাকাত, হালাল, হারাম, কানুন, খবর, তারিখ, মৌলবি, উকিল ইত্যাদি।

• কিছু ফারসি শব্দ;
সেতার, গুনাহ, পরহেজগার, দরগা, চশমা, খানা, জায়নামাজ, নামায ,রোজা, আইন, সালিশ, নালিশ, বাদশাহ, সুপারিশ, সর্দি, শিরোনাম, হাঙ্গামা, ফরমান, ফরিয়াদ , বান্দা , শাদি আমদানি ,সবজি , রসিদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,৪১৬.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করাই বড় কথা।
  2. হস্তীটি অপরিসীম স্থুল।
  3. কালীদাস বিখ্যাত কবি।
  4. শশীভূষণ কি আসে নাই?
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করাই বড় কথা।

তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: কালীদাস বিখ্যাত কবি।
শুদ্ধ বাক্য: কালিদাস বিখ্যাত কবি।

অশুদ্ধ বাক্য: হস্তীটি অপরিসীম স্থুল।
শুদ্ধ বাক্য: হস্তীটি অত্যন্ত স্থূল।

অশুদ্ধ বাক্য: শশীভূষণ কি আসে নাই?
শুদ্ধ বাক্য: শশিভূষণ কি আসে নাই?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৪১৭.
সঠিক বানান নির্ণয় করুন:
  1. দেদিপ্যমান
  2. দেদিপ্যমাণ
  3. দেদীপ্যমাণ
  4. দেদীপ্যমান
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'দেদীপ্যমান'।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- অত্যন্ত উজ্জ্বল বা দীপ্তিময় দেখাচ্ছে এমন;
- অতিশয় দীপ্তিশীল;
- জাজ্বল্যমান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,৪১৮.
'বায়বীয়' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. বায়ু + বীয়
  2. বায়ু + ইয়
  3. বায়ু + নীয়
  4. বায়ু + ষ্ণীয়
ব্যাখ্যা
• নীয় (ঈয়) -প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে
- জল + নীয় = জলীয়,
- বায়ু + নীয় = বায়বীয়,
- বর্ষ + নীয় = বর্ষীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১২,৪১৯.
মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন। - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. করণ
  3. কর্তা
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়। 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার :

প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি -
- ছাত্ররা বল খেলে। 
- ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে।

তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি, দিয়া বিভক্তি: 
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

সপ্তমী বিভক্তি বা এ বিভক্তি, তে বিভক্তি, য় বিভক্তি :
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে। 
- শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।

১২,৪২০.
এক কথায় প্রকাশ কর 'বলবার ইচ্ছা' 
  1. বুভুক্ষা
  2. বিবক্ষা
  3. জিগীষা
  4. জুগুপ্সা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'বলবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বিবক্ষা।

অন্যদিকে,
- 'ভোজন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বুভুক্ষা।
- 'জয় করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জিগীষা।
- 'নিন্দা করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জুগুপ্সা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২,৪২১.
মুখচ্ছবি শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কী?
  1. ক) মুখ + চ্ছবি
  2. খ) মুখ + ছবি
  3. গ) মুক + ছবি
  4. ঘ) মুক + চ্ছবি
ব্যাখ্যা
সন্ধিবদ্ধ শব্দে চ্ছ থাকলে বিচ্ছেদের সময় চ্ছ = ছ।
যেমন :
একচ্ছত্র = এক + ছত্র
পরিচ্ছেদ = পরি + ছেদ
প্রতিচ্ছবি = প্রতি + ছবি
মুখচ্ছবি = মুখ + ছবি 
অনুচ্ছেদ = অনু + ছেদ 
অঙ্গচ্ছেদ = অঙ্গ + ছেদ
আচ্ছন্ন = আ + ছন্ন
আচ্ছাদন = আ + ছাদন
আলোকচ্ছটা = আলোক + ছটা

উৎস : নবম—দশম শ্রেণির নতুন ব্যাকরণ বই, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ ও হায়াৎ মামুদের ভাষা—শিক্ষা।
১২,৪২২.
'আঁধার ঘরের মানিক' বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. বড় বেশি বাড়াবাড়ি
  2. অমিতব্যয়ী
  3. আকাঙ্ক্ষিত বস্তু
  4. অত্যন্ত প্রিয়জন
ব্যাখ্যা
• 'আঁধার ঘরের মানিক' বাগ্‌ধারার অর্থ - অত্যন্ত প্রিয়জন

অন্যদিকে,
- 'উড়নচণ্ডী' বাগ্‌ধারার অর্থ - অমিতব্যয়ী।
- 'ঈদের চাঁদ' বাগ্‌ধারার অর্থ - আকাঙ্ক্ষিত বস্তু। 
- 'আঠারো আনা' বাগ্‌ধারার অর্থ - বড় বেশি বাড়াবাড়ি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,৪২৩.
Comparative শব্দটির পরিভাষা হলো-
  1. ক) সাম্যবাদ
  2. খ) তুলনামূলক
  3. গ) প্রতিযোগিতা
  4. ঘ) খেসারত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি প্রণীত অভিগম্য অভিধান অনুসারে Comparative শব্দের পরিভাষা - তুলনামূলক।
১২,৪২৪.
'আলমারি' কোন দেশি শব্দ?
  1. আরবি
  2. পর্তুগিজ
  3. হিন্দি
  4. তুর্কি
ব্যাখ্যা

• 'আলমারি' শব্দটি 'পর্তুগিজ' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

কিছু পর্তুগিজ শব্দ:
- আনারস,
- আলপিন,
- পাউরুটি,
- গির্জা,
- গুদাম,
- চাবি,
- পাউরুটি,
- বালতি ইত্যাদি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

১২,৪২৫.
”রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়”- বাক্যে ”খাওয়ায়” কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. সংযোগ ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন;
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায় ।

- এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১২,৪২৬.
'প্রস্রবণ' শব্দের অর্থ-
  1. ক) নদী
  2. খ) হ্রদ
  3. গ) ঝরনা
  4. ঘ) খাল
ব্যাখ্যা
উৎস; ঝরনা; প্রস্রবণ; নির্ঝর; ফোয়ারা।

উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান
১২,৪২৭.
'উপভোগ' শব্দে 'উপ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সামীপ্য অর্থে
  2. সম্যক অর্থে
  3. সদৃশ অর্থে
  4. বিশেষ অর্থে
ব্যাখ্যা
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

• বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার-
- সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ।
- সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
- ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
- বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২,৪২৮.
"দারোগা" শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় প্রচলিত হয়েছে?
  1. পর্তুগিজ
  2. তুর্কি
  3. চিনা
  4. ফরাসী
ব্যাখ্যা

• মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে - 'দারোগা' তুর্কি ভাষার শব্দ।

• দারোগা (বিশেষ্য) অর্থ : 
থানার অধ্যক্ষ বা ভারপ্রাপ্ত কর্মচারী; পুলিশের ইন্সপেক্টর বা সাবইন্সপেক্টর।

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
দারোগা - ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ।

• মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বইয়ের কয়েকটি বিদেশি শব্দের উৎস সম্পর্কিত ‘ভুল বা বিভ্রাট’ নিয়ে আলোচনা ও সমাধান সংক্রান্ত বিস্তারিত জানতে নিচের লিংক দুটি দেখুন।
লিংক-১
লিংক-২

১২,৪২৯.
অনুনাসিক স্বরধ্বনি নয় কোনটি?
  1. ওঁ
  2. ঈঁ
  3. উঁ
  4. আঁ
ব্যাখ্যা
• অনুনাসিক স্বরধ্বনি নয়- ঈঁ।
- ঈ সংস্কৃত দীর্ঘস্বর এবং এর উচ্চারণ-স্থান তালু।

• অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়। এর ফলে ধ্বনিগুলো অনুনাসিক হয়ে যায়। স্বরধ্বনির এই অনুনাসিকতা বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।
• অনুনাসিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [অঁ], [ওঁ], [উঁ]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
১২,৪৩০.
জিভের অবস্থান অনুযায়ী ‘অ’ কোন ধরনের স্বরধ্বনি?
  1. সম্মুখ-মধ্য স্বরধ্বনি
  2. মধ্য স্বরধ্বনি
  3. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
  4. সম্মুখ স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন প্রকার।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি,
২. মধ্য স্বরধ্বনি ও
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

• সম্মুখ স্বরধ্বনি: সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- যেমন: [ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

• মধ্য স্বরধ্বনি: মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়। [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১২,৪৩১.
নিচের কোন শব্দটিতে অপপ্রয়োগ জনিত ভুল রয়েছে?
  1. ক) একত্র
  2. খ) আয়ত্তাধীন
  3. গ) সস্ত্রীক
  4. ঘ) সকল বন্যার্তকে
ব্যাখ্যা
- আয়ত্তাধীন শব্দে অপপ্রয়োগ জনিত ভুল রয়েছে।
- আয়ত্ত শব্দের অর্থই অধীন।
- তাই আয়ত্তের পর অধীন ব্যবহার বাহুল্য‌।

অন্যদিকে,
- সস্ত্রীক, একত্র, সকল বন্যার্তকে - এগুলো সঠিক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,৪৩২.
‘গুরুভক্তি’ কোন ধরনের সমাস?
  1. ক) অলুক তৎপুরুষ
  2. খ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
  3. গ) উপপদ তৎপুরুষ
  4. ঘ) চতুর্থী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, রে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমনঃ বিয়ের জন্য পাগল - বিয়েপাগল,
গুরুকে ভক্তি - গুরুভক্তি,
বিদ্যার জন্য আলয় - বিদ্যালয়।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

১২,৪৩৩.
‘ষড়ঋতু’ শব্দটি কোন নিয়মে সন্ধি হয়েছে?
  1. স্বরে - ব্যঞ্জনে
  2. ব্যঞ্জনে - স্বরে
  3. ব্যঞ্জনে - ব্যঞ্জনে
  4. বিসর্গ - ব্যঞ্জনে
ব্যাখ্যা

• ‘ষড়ঋতু’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: ষট্ + ঋতু = ষড়ঋতু।
- এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ। "ব্যঞ্জনে - স্বরে" নিয়মে গঠিত হয়েছে।

ব্যঞ্জন ও স্বরধ্বনি যোগে গঠিত ব্যঞ্জনসন্ধির কিছু উদাহরণ হলো:
• প্রাক্ + উক্ত = প্রাগুক্ত।
• ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।
• অচ্ + অন্ত = অজন্ত।
• ষট্ + অঙ্গ = ষড়ঙ্গ।
• ষট্ + ঋতু = ষড়ঋতু।
• ষট্ + ঐশ্বর্য = ষড়ৈশ্বর্য।
• ষট্ + আনন = ষড়ন।
• সৎ+ অর্থক = সদর্থক।
• সৎ + ইচ্ছা = সদিচ্ছা।
• মৃৎ + অঙ্গ = মৃদঙ্গ।
• অপ্ + অগ্নি = অবগ্নি।
• অপ্ + ইন্ধন = অবিন্ধন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২,৪৩৪.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. বাঁশি 
  2. ভাত 
  3. মিতালি 
  4.  সংসদ
ব্যাখ্যা

গঠন অনুসারে শব্দ দুই প্রকার। যথা:
• মৌলিক শব্দ:

যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গাছ, পাখি, ফুল, হাত, ভাত, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন:
- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ, সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
'বাঁশি' রূঢি শব্দ।
'মিতালি' যৌগিক শব্দ।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।

১২,৪৩৫.
'প্রত্যুষ' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) অবক্র
  2. খ) ঊষা
  3. গ) সলিল
  4. ঘ) অম্বর
ব্যাখ্যা
• প্রত্যুষ শব্দের সমার্থক শব্দ ‘ঊষা’
‘ঊষা’ শব্দের আরো কিছু সমার্থক শব্দ হলো: প্রভাত, ভোর, সকাল, ভোরবেলা, প্রতঃকাল, অরুণোদয়।

অন্যদিকে,
‘আকাশ’ এর প্রতিশব্দ: অম্বর, গগন,নভঃ, ব্যোম, দ্যুলোক, শূন্যলোক।
‘পানি’ এর প্রতিশব্দ: সলিল, জল, বারি, অম্বু, অপ্, নীর, উদক, উদ, পয়, অম্ভ, তােয়া, বারুণ, জীবন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,৪৩৬.
চপল শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) ঠাণ্ডা
  2. খ) রাশভারী
  3. গ) চালাক
  4. ঘ) সরল
ব্যাখ্যা

চপল শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ হচ্ছে গম্ভীর বা রাশভারী।
রাশভারী শব্দের অর্থ হচ্ছে অত্যন্ত গম্ভীর।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু শব্দজোড়ঃ
অগ্রজ - অনুজ
অধমর্ণ - উত্তমর্ণ
ঈদৃশ - তাদৃশ
উত্তর - দক্ষিণ
খেদ - অখেদ/হর্ষ।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি ডিকশনারী।

১২,৪৩৭.
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. দর্শনমাত্র
  2. কালসাপ
  3. নীলকন্ঠ
  4. ত্রিনয়ন 
ব্যাখ্যা

নীলকণ্ঠ সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো তৃতীয় অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন - নদীমাতৃক (নদী মাতা যার) ,
- সবান্ধব: বান্ধবসহ বর্তমান,
- বিপত্নীক: বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার,
- নীলবসনা: নীল বসন যার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

• বহুব্রীহি সমাস আট প্রকার-
- সমানাধিকরণ,
- ব্যাধিকরণ,
- মধ্যপদলোপী,
- প্রত্যয়ান্ত,
- ব্যতিহার,
- নঞর্থক,
- সংখ্যাবাচক এবং
- অলুক। 
-------------------------------------------
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
- নীলকন্ঠ সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ।
- কারণ, নীলকণ্ঠ: নীল (বিশেষণ) কণ্ঠ (বিশেষ্য) যার = শিব (অন্য পদ)। 
- সমানাধিকরণ বহুব্রীহির কিছু উদাহরণ-
- হতশ্রী: হত (বিশেষণ) হয়েছে শ্রী (বিশেষ্য) যার = শ্রীহীন (অন্য পদ)।
- শশাঙ্ক: শশ (বিশেষণ) অঙ্ক (বিশেষ্য) যার = চাঁদ (অন্য পদ)।
-------------------------------------------------
অন্যদিকে,
• নিত্য সমাস: 
যে সমাসে সমস্যমান পদ গুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে। 
যেমন-
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- কাল তুল্য সাপ = কালসাপ,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর ইত্যাদি।

• ত্রিনয়ন সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। 

- যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হয় তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
- যেমন:
- বহু ব্রীহি যার = বহুব্রীহি;
- ত্রিনয়ন যার = ত্রিনয়ন;
- দশানন যার = দশানন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১২,৪৩৮.
'আশীর্বাদ' শব্দটি গঠিত হয়েছে-
  1. উপসর্গ দ্বারা
  2. প্রত্যয় দ্বারা
  3. সমাস দ্বারা
  4. সন্ধি দ্বারা
ব্যাখ্যা

• 'আশীর্বাদ' শব্দটি গঠিত হয়েছে- সন্ধি দ্বারা। 
• 'আশীর্বাদ' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - আশীঃ + বাদ।  
------------ 
• 'আশীর্বাদ' শব্দের অর্থ: 
- কল্যাণ প্রার্থনা; শুভেচ্ছা।
------------- 

• সন্ধির নিয়ম:
অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পর পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়।
যেমন:
- দুঃ + যােগ = দুর্যোগ, 
- নিঃ + আকার = নিরাকার,
- আবিঃ+ভাব = আবির্ভাব, 
- আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), অষ্টম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ।

১২,৪৩৯.
'পারলৌকিক' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. পারত্রিক
  2. ইরিত্রিক
  3. দুল্যোকিক
  4. ঐহিক
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'পারত্রিক' শব্দের অর্থ: 
পারলৌকিক, পরলোকসম্বন্ধীয়।

• 'ঐহিক' শব্দের অর্থ:
১. ইহলোকের, এই জন্মের। ২. ইহলোকবিষয়ক।

• তাই 'পারত্রিক' এর বিপরীত শব্দ 'ঐহিক'।  

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২,৪৪০.
'খদ্দর' শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. তুর্কি
  2. মুণ্ডারী
  3. পর্তুগিজ
  4. দেশি
ব্যাখ্যা
• 'খদ্দর'
- এটি একটি দেশি শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- চরকায় কাটা কার্পাস সুতোর মোটা কাপড়।

কিছু দেশি শব্দ:
- ডিঙা,
- ডাব,
- পান্তা,
- চুড়ি ইত্যাদি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১২,৪৪১.
তিনি গতকাল কলেজে যাননি। - কোন কালের উদাহরণ?
  1. ক) সাধারণ অতীত
  2. খ) সাধারণ বর্তমান
  3. গ) পুরাঘটিত অতীত
  4. ঘ) পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা

নেই, নাই, নি, শব্দ যোগে অতীত কালের ক্রিয়ায় সাধারণ বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
আমি কখনো এরূপ দৃশ্য দেখি নাই।
তিনি গতকাল কলেজে যাননি।
সে গতকাল হাটে যায়নি।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

১২,৪৪২.
'কুন্তল' শব্দের প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. অন্ধকার 
  2. চুল
  3. চক্ষু
  4. ঢেউ
ব্যাখ্যা


• 'চুল' এর প্রতিশব্দ:
- কেশ,
- অলক,
- চিকুর,
- কুন্তল,
- কবরী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১২,৪৪৩.
'ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' কার রচনা?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  2. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থের রচয়িতা- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- ১৯৩৬ সালে কলকাতার রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ, (ওডিবিএল, ১৯২৬)।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ,
- ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- পশ্চিমের যাত্রী,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৪৪৪.
'শাশ্বত' শব্দের অর্থ কী?
  1. পরিবর্তনশীল
  2. অনিত্য
  3. ক্ষণস্থায়ী
  4. চিরন্তন
ব্যাখ্যা
• 'শাশ্বত' শব্দের অর্থ - নিত্য, অবিনশ্বর; চিরন্তন

অন্যদিকে,
'পরিবর্তনশীল' শব্দের অর্থ - পরিবর্তিত হচ্ছে এমন, পরিবর্তনের স্বভাববিশিষ্ট, পরিবর্তনযোগ্য।
'অনিত্য' শব্দের অর্থ - অস্থায়ী, ক্ষণস্থায়ী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,৪৪৫.
সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) আবাস - প্রবাস
  2. খ) সমষ্টি - ব্যষ্টি
  3. গ) সুকৃত - নিষ্কৃত
  4. ঘ) সুবহ - দুবহ
ব্যাখ্যা
সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ = সমষ্টি - ব্যষ্টি 
অন্যদিকে, 
সুকৃত - দুষ্কৃত 
সুবহ - দুর্বহ 
স্ববাস - প্রবাস 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,৪৪৬.
“যে পরিশ্রম করে সে-ই সুখ লাভ করে।” কী ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. সাধিত বাক্য
  4. জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখনতখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
আশ্রিত বাক্য - প্রধান বাক্য।
- যে পরিশ্রম করে - সে-ই সুখ লাভ করে।
- যেখানে বাঘের ভয় - সেখানে সন্ধ্যা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণে)।
১২,৪৪৭.
'তোমার দ্বারা ভ্রমণে যাওয়া হবে না।' কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

'তোমার দ্বারা ভ্রমণে যাওয়া হবে না।' ভাববাচ্যের উদাহরণ।

• ভাববাচ্য :

যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত
হয়। যেমন—
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না।
- আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না।

অন্যদিকে,

• কর্তৃবাচ্য :
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন— ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয় ।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়। যথা— শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান। রোগী পথ্য সেবন করে।

• কর্মবাচ্য :
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।

- কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়।
যথা – আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
চোরটা ধরা পড়েছে।

- কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে।
যথা- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

১২,৪৪৮.
'শত্রুকে জয় করেন যিনি' এর এক কথায় প্রকাশ কোনটি? 
  1. শত্রুঘ্ন
  2. শত্রুজীত
  3. পরঞ্জয়
  4. নির্ভীক
ব্যাখ্যা
• 'শত্রুকে জয় করেন যিনি' এক কথায় প্রকাশ - পরঞ্জয়।

এরূপকিছু এক কথায় প্রকাশ-
- ‘শত্রুকে ধ্বংস করে যে’ এর এককথায় প্রকাশ - শত্রুঘ্ন।
- ‘অরিকে (শত্রুকে) দমন করে যে' এর এককথায় প্রকাশ - অরিন্দম।
- 'ইন্দ্রিয়কে জয় করেন যিনি' এক কথায় প্রকাশ - জিতেন্দ্রিয়।
- 'ভয় নেই যার' এর এক কথায় প্রকাশ - নির্ভীক।

উৎস:
- বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান;
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৪৪৯.
নিচের কোনটি তারিখ পূরণবাচক শব্দ?
  1. একাদশী
  2. প্রথমা
  3. ত্রিশে
  4. চতুর্থী
ব্যাখ্যা
• তারিখ পূরণবাচক শব্দ: ত্রিশে।

---------------------
• পূরণবাচক:
পূরণবাচক সংখ্যা দিয়ে যেকোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।

পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ ৩ প্রকার। যথা:
• সাধারণ পূরণবাচক,
• তারিখ পূরণবাচক,
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থান নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি। এদের সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায় যেমন- ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।
- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ(১১শ) ও এগারোতম(১১তম), দ্বাদশ(১২ শ) ও বারোতম(১২তম) ইত্যাদি।
- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক শব্দে শুধু তম প্রত্যয় যোগ করা হয়।
- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচক শব্দে নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন - প্রথমা(১মা), দ্বিতীয়া(২য়া), তৃতীয়া(৩য়া), চতুর্থী, একাদশী(১১শী), দ্বাদশী(১২শী), ত্রয়োদশী(১৩শী) ইত্যাদি।

• তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন: আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২,৪৫০.
কোনটি নাম ধাতু?
  1. খা
  2. কর
  3. ঘুমা
  4. ছাড়
ব্যাখ্যা
নাম ধাতু:
- বিশেষ্য, বিশেষণ এবং অনুকার অব্যয়ের পরে ‘আ’ প্রত্যয় যোগ করে যে নতুন ধাতুটি গঠিত হয় তা-ই নাম ধাতু।
যেমন
- সে ঘুমাচ্ছে। 'ঘুম' থেকে নাম ধাতু ‘ঘুমা'। 'ধমক্‌’ থেকে নাম ধাতু ‘ধমকা’ । যেমন আমাকে ধমকিও না।

অন্যদিকে,
সংযোগমূলক ধাতু:
• বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর, দে, পা, খা, হ, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয়, তা-ই সংযোগমূলক ধাতু।
• যেমন – যোগ (বিশেষ্য পদ) + কর্ (ধাতু) - ‘যোগ কর’ (সংযোগমূলক ধাতু)।
• ভয় কর্‌, লজ্জা কর্‌, জলদি কর্‌;
• বড় হ, ছোট হ, ভালো হ;
• উত্ত্র দে, টাকা দে;
• সাঁতার কাট্‌, জিভ কাট্‌ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২,৪৫১.
'বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক খুব ভালো ব্যাট করলেন।' - বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত অতীত
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. সাধারণ অতীত
  4. ঘটমান অতীত
ব্যাখ্যা

সাধারণ অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে সাধারণভাবে সংঘটিত হয়েছে, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।

যেমন:
- তিনি খুলনা থেকে এলেন।
- বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক খুব ভালো ব্যাট করলেন।
- আমি খেলা দেখে এলাম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১২,৪৫২.
কোনটি চলিত ভাষার শব্দ?
  1. হস্তী
  2. কান
  3. মৎস্য
  4. দন্ত
ব্যাখ্যা

• চলিত ভাষার শব্দ - কান
- এর সাধুরূপ - কর্ণ।

• বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:

সাধু-চলিত:
→ অগ্নি - আগুন,
→ চন্দ্র - চাঁদ,
→ দন্ত - দাঁত,
→ পক্ষী - পাখি,
→ ব্যাঘ্র - বাঘ,
→ মৎস্য - মাছ,
→ হস্তী - হাতি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১২,৪৫৩.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. শ্রাবণ
  2. ভ্রাতৃত্ত্ব
  3. হিতৈষণা
  4. জ্যোৎস্না
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'ভ্রাতৃত্ত্ব' এর শুদ্ধ বানানটি হবে- 'ভ্রাতৃত্ব'।   

'ভ্রাতৃত্ব' (বিশেষ্য)': 

- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = ভ্রাতৃ+ত্ব। 
অর্থ: ভাই এর সম্পর্ক, ভাই ভাই ভাব। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১২,৪৫৪.
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি হলো -
  1. ক) দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা।
  2. খ) মনস্‌ + ঈষা = মনীষা।
  3. গ) সম্‌ + গত = সংগত।
  4. ঘ) রত্ন + আকর = রত্নাকর।
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- কতগুলাে সন্ধি কোনাে নিয়মে সাধিত হয় না বা সূত্র অনুসরণ করে না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন-
কুল + অটা = কুলটা (সূত্র অনুসারে কুলাটা হওয়ার কথা)।
গো + অক্ষ = গবাক্ষ (সূত্র অনুসারে গবাক্ষ হওয়ার কথা)।
মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড
শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।
মনস্‌ + ঈষা = মনীষা।

অন্যদিকে,
রত্ন + আকর = রত্নাকর- হচ্ছে স্বরসন্ধির উদাহরণ।
সম্‌ + গত = সংগত - হচ্ছে ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।
দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা - হচ্ছে বিসর্গসন্ধির উদাহরণ।

উৎস:
১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৪৫৫.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. হ্ + ঋ = হৃ
  2. হ্ + ণ = হ্ন
  3. হ্ + ঊ - হু
  4. হ্ + ন = হ্ণ
ব্যাখ্যা
• একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
-  এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম:
১. স্বচ্ছ ও
২. অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ণ্ঠ, ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: 
ক্ত = (ক্ + ত), 
ক্ম = (ক্ +ম), 
ক্ষ = (ক্ +ষ), 
ক্ষ্ম = (ক্ + ষ্ +ম),
ক্স = (ক্ + স), 
গু = (গ্ + উ),
গ্ধ = (গ্ + ধ), 
ঙ্গ = (ঙ্ + গ), 
জ্ঞ = (জ্ + ঞ), 
ঞ্চ = (ঞ্ + চ), 
ঞ্জ = (ঞ্ +জ), 
ষ্ণ = (ষ্ + ণ)
হু = (হ্ + উ), 
হৃ = (হ্ + ঋ), 
হ্ন = (হ্ + ন), 
হ্ণ = (হ্ + ণ),
হ্ম = (হ্ +ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
১২,৪৫৬.
'আক্কেল গুড়ুম' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. স্তম্ভিত
  2. ইতস্তত করা
  3. নির্বুদ্ধিতার দণ্ড
  4. শত্রুতা
ব্যাখ্যা
• 'আক্কেল গুড়ুম' বাগ্‌ধারার অর্থ - হতবুদ্ধি, স্তম্ভিত

অন্যদিকে,
আদায় কাঁচকলায় - শত্রুতা।
আক্কেল সেলামি - নির্বুদ্ধিতার দণ্ড।
আমতা আমতা করা - ইতস্তত করা, দ্বিধা করা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২,৪৫৭.
"রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।" - এখানে 'রাজার' কোন কারক?
  1. কর্মকারক 
  2. করণকারক 
  3. অপাদান কারক 
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা

• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘-র’, '-এর’, '-য়ের’, ‘-কার’, ‘-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
- রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১২,৪৫৮.
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. যতিচিহ্ন
  2. সর্বনাম
  3. শব্দ গঠন
  4. বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা
ব্যাখ্যা

অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলে।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে, 
রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - শব্দ গঠন, সর্বনাম।
বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - যতিচিহ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১২,৪৫৯.
নিচের কোনটি বিষমীভবনের উদাহরণ?
  1. ক) শরীর> শরীল 
  2. খ) ফলাহার> ফলার
  3. গ) জন্ম>জম্ম 
  4. ঘ) কবাট> কপাট
ব্যাখ্যা
শরীর> শরীল বিষমীভবনের উদাহরণ। 
বিষমীভবন: দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমন- লাল> নাল 

অন্তর্হতি: পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন: ফাল্গুন>ফাগুন, ফলাহার> ফলার, আলাদিয়া> আলাদা ইত্যাদি। 

সমীভবন: দুটো ধ্বনির একে অপরের প্রভাবে অল্প বিস্তর সমতা লাভ করাকে বলে সমীভবন।
উদাহরণঃ- জন্ম > জম্ম, তৎহিত > তদ্ধিত।

ব্যঞ্জন বিকৃতি: শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
উদাহরণঃ- কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা।


উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৪৬০.
'ফলক' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ফল + ক
  2. ফলা + ক
  3. ফাল + ক
  4. ফুল + ক
ব্যাখ্যা
• 'ফলক' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয়: ফলা + ক
- এটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয়, প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় ৩ প্রকার। যথা:
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১২,৪৬১.
'মেঘ' শব্দের বহুবচন কী?
  1. ক) মেঘে মেঘে
  2. খ) মেঘময়
  3. গ) মেঘসমূহ
  4. ঘ) মেঘমালা
ব্যাখ্যা
বচন:
- বচন ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- কেবল বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন:
- সব - ভাইসব, পাখিসব। 
- সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ। 
- আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
- মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২,৪৬২.
'বিষবৃক্ষ' বাগ্‌ধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. প্রতিবন্ধক
  2. অনিষ্টকারী
  3. অদৃশ্য বস্তু
  4. নষ্ট করা
ব্যাখ্যা

• 'বিষবৃক্ষ' অর্থ - অনিষ্টকারী। 
বাক্য- চোরের ছেলে বাটপাড় হয়েছে-বিষবৃক্ষের ফল আর কী হবে? 

অন্যদিকে, 
• 'পথের কাঁটা' অর্থ - প্রতিবন্ধক। 
• 'ডুমুরের ফুল' অর্থ -  অদৃশ্য বস্তু। 
• 'মাথা খাওয়' অর্থ -  নষ্ট করা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২,৪৬৩.
'অনুরণন' কোন সমাস? 
  1. অব্যয়ীভাব সমাস 
  2. নিত্য সমাস 
  3. বহুব্রীহি সমাস 
  4. প্রাদি সমাস 
ব্যাখ্যা
• অনুরণন = পশ্চাৎ রণন অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। 
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
যেমন -
• বিপ্‌প্সা (অনু, প্রতি):
- দিন দিন = প্রতি দিন,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
- ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা। 
১২,৪৬৪.
'ন্ধ' যুক্তবর্ণটি গঠিত হয়েছে -
  1. ন্‌ + ধ
  2. ন্‌ + দ
  3. ণ + ধ
  4. ধ + ন্‌
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'ন্ধ' যুক্তবর্ণটি গঠিত হয়েছে - ন্‌ + ধ

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- ঙ্ + গ = ঙ্গ,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ঋ = হৃ,
- হ্ + ন = হ্ন,
- হ্ + ম = হ্ম,
- ণ্ + ড = ণ্ড,
- ত + র = ত্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১২,৪৬৫.
'গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না'। - বাক্যটিতে কি ধরনের ভুল প্রয়োগ রয়েছে?
  1. প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল
  2. বাহুল্যজনিত ভুল
  3. বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল
  4. দুর্বোধ্য শব্দ প্রয়োগজনিত ভুল
ব্যাখ্যা

সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
যেমন- 'গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না' -বাক্যটিতে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
সঠিক বাক্যটি হবে - 'ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না'।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

১২,৪৬৬.
কোন কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়?
  1. করণ
  2. অধিকরণ
  3. অপাদান
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।

যেমন: 
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- কুকর্মে বিরত হও।

অন্যদিকে, 
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত -'এ', –'য়', -'য়ে', -তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- বাবা বাড়িতে আছেন।

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি  অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।

কর্মকারক: 
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৪৬৭.
একটি বাক্যের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অংশ হলো -
  1. ক) কর্তা
  2. খ) ক্রিয়া
  3. গ) কর্ম
  4. ঘ) ভাব
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াপদ একটি বাক্যের অপরিহার্য অংশ, এটা ছাড়া মনের ভাব সম্পূর্ণরুপে প্রকাশ করা যায় না। তবে কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য থাকতে পারে৷ যেমন- ইনি আমার ভাই (হন)। [সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী]
১২,৪৬৮.
'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।' বাক্যের জটিল রূপ কোনটি?
  1. কার্যে ক্ষতি হইতেছে না, তাই তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।
  2. কার্যে ক্ষতি হইলো না, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।
  3. যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
• সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থওমূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে-

• সূত্র: বাক্য পরিবর্তিত হলেও মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন:
- সরল: 'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
- জটিল: 'ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'

• সূত্র: সরল বাক্যের উদ্দেশ্য বা কর্তা ও বিধেয় বা সমাপিকা ক্রিয়াকে পরিবর্তন না করে সাধারণত জটিল বাক্যের প্রধান খণ্ডবাক্যটি গঠিত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হয়।
যেমন:
- সরল: 'তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা হওয়া সত্ত্বেও তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'
- জটিল: 'যদিও তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা, তথাপি তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'

• সূত্র: সরল বাক্যের বাকি অংশ বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্যে পরিণত হয়।
যেমন:
- সরল: 'ভূস্বামী স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করিলে প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'
- জটিল: 'ভূস্বামী যখন স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করেন, তখন প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'

• সূত্র: প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্য সাপেক্ষ সর্বনাম (যা, তা) কিংবা যোজক শব্দ (যদি, তবে) দ্বারা যুক্ত হয়।
যেমন:
- সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
- জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'

- সরল: 'কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করাই তাহার একমাত্র প্রয়োজন।'
- জটিল: 'যাহা তাঁহার একমাত্র প্রয়োজন, তাহা হইল কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করা।'

সরল বাক্যকে জটিল বাক্যতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কতিপয় যোজক ও সর্বনাম:
• সাপেক্ষ যোজক: বটে-কিন্তু, যেই-সেই, বরঞ্চ-তথাপি, হয়-নয়, এত-যে, যেমন-তেমন, একে-তায়, যদি-তবু। তাহলে, এরূপ-যে-সে, যত-তত, যাই-তাই ইত্যাদিকে সাপেক্ষ যোজক বলে।

• সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল এক প্রকার সংযোগমূলক সর্বনামই সাপেক্ষ সর্বনাম। যেমন: যে-সে, যিনি-তিনি, যা-তা, যার-তার, যতক্ষণ-ততক্ষণ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,৪৬৯.
কোনটি কর্তাবাচ্য নয়?
  1. শরতে শিউলি ফোটে।
  2. কোথা থেকে আসা হলো।
  3. ঝরণা ছবি আঁকে।
  4. আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
ব্যাখ্যা
• কর্তাবাচ্য নয় -  কোথা থেকে আসা হলো। 

কর্তাবাচ্য:

- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন:
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
- শরতে শিউলি ফোটে।
- ঝরণা ছবি আঁকে।

অন্যদিকে, 
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
- কোথা থেকে আসা হলো।
- একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২,৪৭০.
লিঙ্গ ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. রূপতত্ত্ব
  2. ধ্বনিতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• 'লিঙ্গ' ব্যাকরণের 'শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব' অংশের আলোচ্য বিষয়।

• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, প্রত্যয়, শব্দগঠন, পদপরিচয়, ক্রিয়া, লিঙ্গ, পুরুষ, বচন ইত্যাদি রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

উৎস:
১. মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি [২০২২ সংস্করণ]।
১২,৪৭১.
Accede শব্দের পরিভাষা কী?
  1. ক) প্রতিরক্ষা
  2. খ) যোগ দেয়া
  3. গ) দাতা
  4. ঘ) ধোকা
ব্যাখ্যা

Accede শব্দের পরিভাষা হল যোগ দেয়া।
- Defense শব্দের অর্থ হলো প্রতিরক্ষা।
- Donor শব্দের অর্থ দাতা ।
- Deception শব্দের অর্থ ধোকা বা প্রতারণা ।

উৎস : বাংলা একাডেমী প্রশাসনিক পরিভাষা

১২,৪৭২.
"আজ যদি পারি, একবার সেখানে যাব।" - বাক্যে কী ধরনের অব্যয়ের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে। তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
যেমন-

১. তিনি এত পরিশ্রম করেন যে তার স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে।
২. আজ যদি (শর্ত বাচক) পারি, একবার সেখানে যাব।
৩. এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

• "আজ যদি পারি, একবার সেখানে যাব।" - এখানে 'যদি'- অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়।

অন্যদিকে,
• সংযোজক অব্যয়:
- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং।
যেমন: তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে।

• বিয়োজক অব্যয় - বা, অথবা, নতুবা, নয়তো।

• সংকোচক অব্যয় - অথচ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১২,৪৭৩.
নিচের কোনটি পশ্চাৎ স্বরধ্বনি?
  1. অ্যা
  2. আ 
ব্যাখ্যা

• জিভের অগ্রপশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী বাংলা স্বরধ্বনির শ্রেণিবিভাগ:
স্বরধ্বনি উচ্চারণে জিভের যে অংশ সক্রিয় থাকে, সেই অংশের ভূমিকা অনুযায়ী স্বরধ্বনি বিচার করা হয়। সে-অনুযায়ী স্বরধ্বনিগুলো তিন শ্রেণিতে বিভক্ত। যথা:
১. সম্মুখ (front),
2. মধ্য (central) ও
3. পশ্চাৎ (back) ধ্বনি হিসেবে গণ্য হয়।

• সম্মুখ স্বরধ্বনি: জিভের সামনের অংশটি এগিয়ে আসায় যে স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারিত হয়, সেগুলো সম্মুখ স্বরধ্বনি। বাংলা 'ই, এ, অ্যা' এ-জাতীয় স্বরধ্বনি।

• মধ্য বা কেন্দ্রীয় স্বরধ্বনি: জিভ সামনে বা পেছনে না সরে অর্থাৎ.. মধ্যবর্তী বা স্বাভাবিক অবস্থায় থেকে যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারিত হয়, সেগুলো হলো মধ্য বা কেন্দ্রীয় স্বরধ্বনি। বাংলা 'আ' ধ্বনি এ শ্রেণির।

• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণে জিভ পিছিয়ে যায় অর্থাৎ পশ্চাৎ অংশ সক্রিয় হয়। এ জাতীয় স্বরধ্বনিগুলো হলো- অ, ও, উ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২,৪৭৪.
"আস্তৃত" শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. অনাস্থা
  2. অনাস্তৃত
  3. অনালস্য
  4. অনাস্বাদিত
ব্যাখ্যা
• "আস্তৃত" শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - অনাস্তৃত

অন্যদিকে,
- 'আস্থা' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - অনাস্থা।
- 'আলস্য' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - অনালস্য।
- 'আস্বাদিত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - অনাস্বাদিত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,৪৭৫.
‘দুষ্প্রাচ্য’ শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) দু+প্রাচ্য
  2. খ) দুশ+প্রাচ্য
  3. গ) দুঃ+প্রাচ্য
  4. ঘ) দৃ+প্রাচ্য
ব্যাখ্যা

দুষ্প্রাচ্য শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ দুঃ+প্রাচ্য।
এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
বিসর্গের(ঃ) সঙ্গে স্বরধ্বনি বা ব্যাঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
সুত্র: ই/উ ধ্বনির সঙ্গে বিসর্গ এবং ক, খ, প, ফ থাকলে বিসর্গ স্থলে ষ হয়।
একই সূত্রের আরও কিছু উদাহরণ- নিঃ+কাম=নিষ্কাম, চতুঃ+কোণ=চতুষ্কোণ। 


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, অষ্টম শ্রেণি।

১২,৪৭৬.
নিচের কোনটি পুংলিঙ্গ?
  1. ব্যঙ্গমী
  2. ভবানী
  3. সম্রাজ্ঞী
  4. মনুষ্য
ব্যাখ্যা
⇒ ‘মনুষ্য’ পুরুষবাচক শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ হলো - মনুষী।

⇒ কিছু পুরুষবাচক শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
ভব - ভবানী।
সম্রাট - সম্রাজ্ঞী।
ব্যঙ্গমা - ব্যঙ্গমী।

==========
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে -
ক) পুংলিঙ্গ,
খ) স্ত্রীলিঙ্গ,
গ) ক্লীবলিঙ্গ ও
ঘ) উভয়লিঙ্গ।

⇒ পুংলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বােঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
এসব নামবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গােয়ালা, কিশাের, প্রবীণ ইত্যাদি।

⇒ স্ত্রীলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বােঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে। এসব স্ত্রীবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশােরী, প্রবীণা ইত্যাদি।

⇒ ক্লীবলিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনােটিই বােঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ। এসব শব্দের উদাহরণ হলাে- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

⇒ উভয় লিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বােঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ। উভয়লিঙ্গের উদাহরণ হলাে- শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৪৭৭.
কোন শব্দটি বানান সঠিক?
  1. ক) দোষণীয়
  2. খ) দূষণীয়
  3. গ) দুষনীয়
  4. ঘ) দোষনীয়
ব্যাখ্যা
দূষণীয় (দুষোনিয়ো)
- [স. √দূষি + আনীয়]
- বিশেষণ
অর্থ - দোষযুক্ত, নিন্দনীয়, দূষ্য। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১২,৪৭৮.
মৌলিক শব্দ কোনটি?
  1. হস্তী 
  2. গরু
  3. পাঠক 
  4. বহন
ব্যাখ্যা

• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গোটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনো অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন-
মা, পা, ঘোড়া, উট, বউ, গোলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা, গরু ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
হস্তী- রূঢ়ি শব্দ।
পাঠক, বহন- যৌগিক শব্দ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৪৭৯.
‘চিতল’ শব্দে কয়টি অক্ষর আছে?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৫ টি
ব্যাখ্যা

বর্ণঃ ভাষার ধ্বনিকে লিখিতরূপ দানের জন্য যে প্রতীক ব্যবহার করা হয় তাকে বর্ণ বা হরফ বলে।
অক্ষরঃ অল্প প্রয়াসে যে ধ্বনি বা ধ্বনি গুচ্ছ একবারে উচ্চারিত হয় তাকে অক্ষর বলে।
এর ইংরেজি পরিভাষা সিলেবল, তাই একে শব্দাংশ ও বলা হয়। এক বা একাধিক বর্ণ নিয়ে একটি অক্ষর তৈরী হয়।
‘চিতল’ শব্দে ২টি অক্ষর আছে। (চিত্‌ + অল্‌)
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।

১২,৪৮০.
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচনা করেন কে?
  1. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  2. ম্যানুয়েল দ্য আসসুম্পসাঁও
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণ:
- প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়। এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ। 
- ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ। তাঁর বইটির নাম ‘এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এবং ১৮২৬ সালে রামমোহন রায় ইংরেজি ভাষায় আরো দুটি উল্লেখযোগ্য বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রামমোহন রায়ের ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
১২,৪৮১.
'চপলা' শব্দের সমার্থক শব্দ -
  1. উৎপল
  2. মহীরুহ
  3. ক্ষণপ্রভা
  4. অভ্র
ব্যাখ্যা
• 'চপলা' শব্দের সমার্থক শব্দ - ক্ষণপ্রভা

‘বিদ্যুৎ’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- তড়িৎ, বিজলি, বিজুরি, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, দামিনী, চপলা।

অন্যদিকে,
'পদ্ম' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, কুবলয়, শতদল, অরবিন্দ, রাজীব, নলিনী, সরোজ।

'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গাছ, পাদপ, দ্রুম, বনানী, তরু, বিটপী, শাখী, পণী, শৃঙ্গী, শিখরী, মহীরুহ ইত্যাদি।

'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- জলদ, জলধর, নীরদ, বারিদ, ঘন, জীমূত, অভ্র, অম্বুবাহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,৪৮২.
”ইতি” উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. অভাব
  2. অস্পষ্টতা
  3. পুরনো
  4. বিক্ষিপ্ত
ব্যাখ্যা

”ইতি” উপসর্গটি ’পুরনো’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

- ’ইতি’ একটি বাংলা উপসর্গ।

’ইতি’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’পুরনো" অর্থে- ইতিকথা, ইতিহাস ।
• ’এ বা এর’ অর্থে- ইতিকর্তব্য, ইতিপূর্বে।

উল্লেখ্য,
• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি ।
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।

১২,৪৮৩.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) চাঁদ
  2. খ) ভবন
  3. গ) বালতি
  4. ঘ) হরতাল
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'ভবন'- তৎসম শব্দ। 
- 'ভবন' শব্দের অর্থ- আলয়, গৃহ, বাসস্থান। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,৪৮৪.
'আশী' শব্দের অর্থ-
  1. ক) আগমন করি
  2. খ) ৮০ সংখ্যা
  3. গ) সাপের বিষদাঁত
  4. ঘ) অনুরাগ
ব্যাখ্যা
- 'আশী' শব্দের অর্থ হচ্ছে সাপের বিষদাঁত

• অন্যান্য সমোচ্চারিত শব্দ:
- আশি = ৮০ সংখ্যা।
- আসি = আগমন করি।
- আশী = সাপের বিষদাঁত।
- আসক্তি = অনুরাগ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
১২,৪৮৫.
নিচের কোন বাক্যে পদাণু ক্রিয়াবিশেষণের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. একটু ঘুরে আসুন না, ভালাে লাগবে।
  2. তাকে কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।
  3. ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
  4. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
ব্যাখ্যা
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
- বা: কখনাে বা দেখা হবে।
- না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালাে লাগবে।
- তাে: মরি তাে মরব।

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন: 
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২,৪৮৬.
নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) গীতি
  2. খ) বুদ্ধি
  3. গ) শক্তি
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ হলো- গীতি = √গৈ + ক্তি, বুদ্ধি = √বুদ্ + ক্তি, সিদ্ধি = √সিধ্ + ক্তি, শক্তি = √শক্ + ক্তি। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১২,৪৮৭.
‘সংখ্যাবাচক’ শব্দের সাথে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে কী সমাস বলে?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) দ্বিগু
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
সংখ্যাবাচক’ শব্দের সাথে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে 'দ্বিগু' সমাস বলে। 

দ্বিগু' সমাস
- সমাহার ( সমষ্টি ) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সাথে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে 'দ্বিগু' সমাস বলে। 
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২,৪৮৮.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. সামুদ্রক
  2. সামুদ্রিক
  3. সামুদ্রকবিদ্যা
  4. সমুদ্রতট
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ - সামুদ্রিক
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- সমুদ্রবিষয়ক।
- সমুদ্রে জাত (সামুদ্রিক মাছ)।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - সামুদ্রক, সামুদ্রকবিদ্যা, সমুদ্রতট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২,৪৮৯.
দর্শনের ইচ্ছা -
  1. দিদৃক্ষা
  2. দিদৃক্ষু
  3. লিপ্সা
  4. বিবক্ষা
ব্যাখ্যা
- দিদৃক্ষা = দর্শনের ইচ্ছা/দেখার ইচ্ছা।
- দিদৃক্ষু = দেখতে ইচ্ছুক যে।
- লিপ্সা = লাভ করার ইচ্ছা/প্রবল বাসনাযুক্ত
- বিবক্ষা = বলবার বাসনা/বলবার ইচ্ছা
১২,৪৯০.
তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. দুর্ঘটনা
  2. সরব
  3. ভরপুর
  4. পাতিলেবু
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গের সংখ্যা ২০টি। এগুলো তৎসম শব্দ বা ধাতুর আগে যুক্ত হয়।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির্, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।

• দুর্ (দুঃ) তৎসম উপসর্গ:
• মন্দ অর্থে: দুর্ভাগ্য, দুর্দশা, দুর্নাম, দুরাত্মা, দুর্ঘটনা, দুর্জন, দুর্বৃত্ত, দুশ্চরিত্র।
• কষ্টসাধ্য অর্থে: দুর্লভ, দুর্গম, দুরূহ, দুর্জয়, দুর্নিবার, দুর্বোধ্য, দুর্ভেদ্য।

অন্যদিকে, 
সরব, ভরপুর ও পাতিলেবু খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'স, ভর, পাতি' যোগে গঠিত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২,৪৯১.
'পিপাসিত' এর বিশেষ্য পদ কোনটি?
  1. পিপাসু
  2. পিপাসা
  3. পিয়াসী
  4. পিপাসী
ব্যাখ্যা
• 'পিপাসিত' শব্দটি বিশেষণ পদ।- শব্দের অর্থ - পিপাসাযুক্ত, তৃষ্ণার্ত।
- 'পিপাসিত' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ - পিপাসিতা।
 
উল্লেখ্য,
• 'পিপাসিত' এর বিশেষ্য পদ 'পিপাসা'। 

অন্যদিকে,
- পিপাসী এবং পিপাসু বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,৪৯২.
'বাবা' শব্দটির উৎপত্তি কোন ভাষা থেকে?
  1. পর্তুগিজ
  2. সংস্কৃত
  3. ফারসি
  4. তুর্কি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'বাবা' একটি তুর্কি শব্দ।

• কিছু তুর্কি শব্দ:
- চাকু, তোপ, চাকর, দারোগা, কুলি, বাবুর্চি, কোর্মা, খাতুন, বেগম, লাশ, উজবুক, কাঁচি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১২,৪৯৩.
'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ নয়-
  1. ক) স্রোতস্বিনী
  2. খ) তটিনী
  3. গ) স্রোতস্বতী
  4. ঘ) ভূধর
ব্যাখ্যা

• 'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দঃ
- স্রোতস্বিনী,
- তটিনী,
- স্রোতস্বতী,
- শৈবলিনী,
- সরিৎ,
- প্রবাহিণী,
- তরঙ্গিণী ইত্যাদি।
• পাহাড় বা পর্বতের সমার্থক শব্দ ভূধর।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৪৯৪.
'রাশি রাশি ভারা ভারা ধান কাটা হলো সারা'- এখানে 'রাশি রাশি'-
  1. সাপেক্ষ সর্বনাম
  2. নির্ধারক বিশেষণ
  3. অনুকার অব্যয়
  4. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• সাধারণত একের বেশি কোনাে কিছুকে বােঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহার করা হয়, যাকে নির্ধারক বিশেষণ বলে।

এখানে বিশেষ্য ‘ধান’ এর নির্ধারক বিশেষণ ‘রাশি রাশি' 'ভারা ভারা'।

‘রাশি রাশি' বলতে 'অনেক' এবং 'ভারা ভারা' বলতে 'বােঝা' বােঝায়।

উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 
১২,৪৯৫.
‘নদীটি উত্তরমুখে প্রবাহিত'- এখানে মুখ কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. ক) মর্যাদা
  2. খ) প্রত্যঙ্গ বিশেষ
  3. গ) দিক
  4. ঘ) তিরস্কার
ব্যাখ্যা

‘নদীটি উত্তরমুখে প্রবাহিত'-
এখানে “মুখ” মোহনা (নদীর ‍মুখ) বা দিক নির্দেশ করে।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

১২,৪৯৬.
‘নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি’ বাক্যে ‘নিশীথে’ কোন পদ?
  1. বিশেষণের বিশেষণ
  2. বিশেষ্যের বিশেষণ
  3. বিশেষ্য
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
•  ‘নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি’ বাক্যে ‘নিশীথে’ বিশেষণ পদ।

• নাম বিশেষণ: 
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। যথা -

বিশেষ্যের বিশেষণ:
- সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?
- নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।

সর্বনামের বিশেষণ:
- সে রূপবান ও গুণবান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

• একই পদের বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে প্রয়োগ বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন -
বিশেষণ রূপে - নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি ।
বিশেষ্য রূপে - গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

বিশেষণ রূপে - ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন ।
বিশেষ্য রূপে - আপন ভালো সবাই চায় ৷

বিশেষণ রূপে - মন্দ কথা বলতে নেই ।
বিশেষ্য রূপে - এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

বিশেষণ রূপে - তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক ।
বিশেষ্য রূপে - পুণ্যে মতি হোক ।

বিশেষণ রূপে - শীতকালে কুয়াশা পড়ে
বিশেষ্য রূপে - শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার ।

বিশেষণ রূপে - সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্য রূপে - এ এক বিরাট সত্য

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১২,৪৯৭.
’মর, পাপিষ্ঠ’ বাক্যটিতে রয়েছে-
  1. বিধান
  2. বিরক্তি
  3. অভিশাপ
  4. সাপেক্ষ
ব্যাখ্যা
• ’মর, পাপিষ্ঠ’ বাক্যটিতে অভিশাপ অর্থ প্রকাশ পেয়েছে।
- বাক্যটি বর্তমান কালের অনুজ্ঞা সূচক বাক্য।

• বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
 - আদেশ অর্থে: কাজটি করে ফেল। তোমরা এখন যাও।
-  উপদেশ অর্থে : সত্য গোপন করো না। কড়া রোদে ঘোরাফেরা করিস না। 'পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা।'
- অনুরোধ অর্থে : আমার কাজটা এখন কর। অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।
- প্রার্থনা অর্থে : আমার দরখাস্তটা পড়ুন।
- অভিশাপ অর্থে: মর, পাপিষ্ঠ।

• অনুজ্ঞা:

- আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
১২,৪৯৮.
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. গ্রাহী
  2. বেড়ি
  3. মিশাল
  4. ভাজি
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ:
• ক্ত-প্রত্যয়:
- √খ্যা + ক্ত (খ্যা + ত) = খ্যাত।
- √গম্ + ক্ত (গম্ + ত) = গত।
- √জ্ঞা + ক্ত (জ্ঞা + ত) = জ্ঞাত।

• ণিন-প্রত্যয়:
(ণ ইৎ, ইন্‌ থাকে, ইন্ 'ঈ'-কার হয়):
- √গ্রহ + ণিন = গ্রাহী,
- √পা + ণিন = পায়ী।

এরূপ-কারী, দ্রোহী, সত্যবাদী, ভাবী, স্থায়ী, গামী। কিন্তু 'ণিন' যুক্ত হলে 'হন' ধাতুর স্থলে 'ঘাত' হয়। যথা

অন্যদিকে,
-----------------
বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
• আল-প্রত্যয়:
- মাত্ + আল = মাতাল,
- মিশ্ + আল = মিশাল।

• ই-প্রত্যয়:
বিশেষ্য গঠনে 'ই' প্রত্যয় প্রযুক্ত হয়।
যথা-
- ভাজ্ + ই = ভাজি,
- বেড় + ই = বেড়ি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১২,৪৯৯.
'সত্য' শব্দটির শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) শোত্যত
  2. খ) শত্য
  3. গ) সোততো
  4. ঘ) শোত্‌তো
ব্যাখ্যা
• ‘সত্য’ শব্দের শুদ্ধ উচ্চরণ (শোত্‌তো)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = সৎ+য

অর্থ: মিথ্যা নয়, প্রকৃত, বাস্তব, চির-কালীন, নিত্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২,৫০০.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. সস্ত্রিক
  2. স্বস্ত্রিক
  3. সস্ত্রীক
  4. স্বস্ত্রীক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - সস্ত্রীক
- শব্দটি বিশেষণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: স্ত্রী-সহ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।