বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১১৪ / ৩৫৪ · ১১,৩০১১১,৪০০ / ৩৫,৭১৩

১১,৩০১.
‘জুগুপ্সা’ এর অর্থ নিচের কোনটি ?
  1. ক) জানার ইচ্ছা
  2. খ) জয় করার ইচ্ছা
  3. গ) গোপন করার ইচ্ছা
  4. ঘ) ক্ষমা করার ইচ্ছা
ব্যাখ্যা

- জয় করার ইচ্ছা - জিগীষা 
- জানার ইচ্ছা - জিজ্ঞাসা 
- গোপন করার ইচ্ছা -জুগুপ্সা 
- ক্ষমা করার ইচ্ছা - তিতিক্ষা 

[উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মাহমুদ]

১১,৩০২.
ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা আনাে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কোন ক্রিয়া গঠিত হয়?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) সংযোগ ক্রিয়া
  3. গ) যৌগিক ক্রিয়া
  4. ঘ) নাম ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার। 
- সরল ক্রিয়া 
- প্রযোজক ক্রিয়া 
- নাম ক্রিয়া
- সংযোগ ক্রিয়া
- যৌগিক ক্রিয়া

নমিক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা আনাে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন – বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে অনাে যুক্ত হয়ে হয় চমকানাে আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়;
- বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে -আ যুক্ত হয়ে হয় কম: বাজারে সবজির দাম কমছে না;
- ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে আনাে যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১১,৩০৩.
বহুব্রীহি সমাস-
  1. ক) পূর্বপদ প্রধান
  2. খ) পরপদ প্রধান
  3. গ) উভয়
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস সংজ্ঞা:
- বহুব্রীহি শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে বংহ (বুদ্ধি) +উ = বহু; বৃহ +ই = ব্রীহি।
- এর অর্থ বহু ধান আছে যার এমন লােককে বােঝানাে হয়।
- বাংলা ব্যাকরণে এটি সমাসরূপে পরিচিত।
- বহুব্রীহি সমাসের সংজ্ঞায় বলা হয়, যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনাে অর্থ প্রকাশ করে, তাই বহুব্রীহি সমাস।
যেমন- পােড়া কপাল যার = পােড়াকপাল।
এখানে কপাল আক্ষরিক অর্থে আগুনে পুড়ে গেছে এমন কাউকে না বুঝিয়ে মন্দভাগ্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩০৪.
“শশাঙ্ক” শব্দের ব্যাসবাক্য কী হবে?
  1. ক) শশের অঙ্ক
  2. খ) অঙ্কের শশ
  3. গ) অঙ্কে শশ যার
  4. ঘ) শশ অঙ্ক যার
ব্যাখ্যা

যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোন অর্থ বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
শশাঙ্ক একটি বহুব্রীহি সমাস। যার ব্যাসবাক্য হলো - শশ অঙ্ক যার।

সোর্সঃ ভাষা-শিক্ষা, ডক্টর হায়াৎ মামুদ।

১১,৩০৫.
'হইতে, থেকে, চেয়ে' - কোন বিভক্তি?
  1. পঞ্চমী বিভক্তি
  2. দ্বিতীয়া বিভক্তি
  3. প্রথমা বিভক্তি
  4. তৃতীয়া বিভক্তি
ব্যাখ্যা

বিভক্তি:
- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার।

যথা: 
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি:  ০, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি : কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি : দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি : কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে
- ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি:  এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১১,৩০৬.
নিচের যেটি বহুব্রীহি সমাসের দৃষ্টান্ত নয় -
  1. ক) অন্তরীপ
  2. খ) দ্বীপ
  3. গ) অপয়া
  4. ঘ) অনুতাপ
ব্যাখ্যা

অনুতাপ, প্রবচন, পরিভ্রমন ইত্যাদি প্রাদি সমাসের উদাহরণ।
অপয়া, অন্তরীপ, দ্বীপ এগুলো বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।


উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমী অভিধান।
১১,৩০৭.
ডাক্তার সাহেবের হাত যশ ভাল। এ বাক্যে 'হাত' ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বশ অর্থে
  2. খ) অধিকার অর্থে
  3. গ) নিপুনতা অর্থে
  4. ঘ) অভ্যাস অর্থে
ব্যাখ্যা
হাত আভিধানিক বা সাধারণ অর্থ : হস্ত শরীরের একটি অঙ্গ
বিশেষ অর্থ:
১. হাত আসা (অভ্যাস হওয়া/রপ্ত হওয়া) কাজটিতে তার হাত এসেছে। ২. হাত করা (বশীভূত করা) চাকরটাকে হাত করে চোর ঘরে ঢুকেছে।
৩. হাত থাকা (প্রস্তাব)। এ ব্যাপারে আমার হাত নেই।
৪. হাত পাতা (অনুগ্রহ চাওয়া/ভিক্ষা করা)। আমি তার কাছে হাত পাততে পারবাে না।
৫. হাত দেওয়া (কাজ করতে চাওয়া) এক সপ্তাহ ধরে কাজটিতে হাত দিতে পারি না।
৬. হাতটান (চুরির অভ্যাস) হাতটানের জন্য চাকরটাকে বিদায় দেওয়া হয়েছে।
৭. হাত তােলা (প্রহার করা) গরিবের গায়ে হাত তােলা ভাল নয়।
৮. হাত দেখা (ভাগ্য গণনা করা) জ্যোতিষী তার হাত দেখেছে।
৯. হাত যশ (সুখ্যাতি) ডা. রফিকের হাত যশ আছে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩০৮.
কোন সমাসের ব্যাস বাক্য হয় না?
  1. ক) নিত্য সমাস
  2. খ) দ্বন্দ সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

যে সমাসে সমস্যমান পদ গুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমন, অন্য দেশ = দেশান্তর।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।

১১,৩০৯.
ভাব প্রকাশের সম্পূর্ণতা অনুসারে ক্রিয়াকে ২ ভাগে ভাগ করা হয়। সেগুলো হলো -
  1. ক) সর্মক ক্রিয়া ও অকর্মক ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া ও মিশ্র ক্রিয়া
  3. গ) মৌলিক ক্রিয়া ও যৌগিক ক্রিয়া
  4. ঘ) সমাপিকা ক্রিয়া ও অসমাপিকা ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
ভাব প্রকাশের সম্পূর্ণতা অনুসারে ক্রিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
সমাপিকা ক্রিয়া 
অসমাপিকা ক্রিয়া
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১১,৩১০.
'আকাশ' শব্দটির সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) ব্যোম
  2. খ) নভঃ
  3. গ) অম্বর
  4. ঘ) হুতাশন
ব্যাখ্যা
আকাশ শব্দটির সমার্থক শব্দ হলো ব্যোম, নভঃ, অম্বর, গগন ইত্যাদি। হুতাশন শব্দটির সমার্থক শব্দ হলো আগুন, অনল, পাবক ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১১,৩১১.
নিচের কোন শব্দটি ণ-ত্ব বিধানের নিয়মানুসারে গঠিত?
  1. কোণ
  2. গণ
  3. মণ
  4. ঋণ
ব্যাখ্যা

ঋ, র, ষ -এর পর ণ হয়।
- এই নিয়মে ব্যাকরণ শব্দে 'ণ' হয়েছে।

অন্যান্য শব্দগুলোতে স্বভাবতই 'ণ' হয়েছে।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই (২০১৯)

১১,৩১২.
'হাচ্ছানি' শব্দের যথার্থ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) হাত + চানি
  2. খ) হাচ + ছানি
  3. গ) হট্‌ + ছানি
  4. ঘ) হাত + ছানি
ব্যাখ্যা
চ বর্গীয় ধ্বনির আগে যদি ত বর্গীয় ধ্বনি আসে তাহলে, ত বর্গীয় ধ্বনি লোপ হয় এবং চ বর্গীয় ধ্বনীর দ্বিত্ব হয়৷ যেমনঃ নাত + জামাই = নাজ্জামাই, বদ + জাত = বজ্জাত, হাত + ছানি = হাচ্ছানি ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১১,৩১৩.
“দোসরা” তারিখ জ্ঞাপক সংখ্যাটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) উর্দু
  4. ঘ) হিন্দি
ব্যাখ্যা

তারিখবাচক শব্দগুলোর প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থকে ৪ পর্যন্ত (পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা) হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়। বাকি শব্দগুলো বাংলার নিজস্ব ভঙ্গিতে গঠিত।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,৩১৪.
মিহির বললো, “আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।” - বাক্যের পরোক্ষ উক্তি নিচের কোনটি?
  1. মিহির বললো যে, আমার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
  2. মিহির বললো, তার জানামতে সে বাসায় থাকতো।
  3. মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো না।
  4. মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
ব্যাখ্যা
উক্তি পরিবর্তন:
- প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
- অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, “আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।”
পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, “আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১১,৩১৫.
'রত্ন > রতন' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপনিহিতি
  2. আদি স্বরাগম
  3. মধ্যস্বরাগম
  4. অন্ত্যস্বরাগম
ব্যাখ্যা
• 'রত্ন > রতন'- মধ্যস্বরাগম বা 'বিপ্রকর্ষ' এর উদাহরণ।

মধ্যস্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ: 
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্যস্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ।
যেমন : গ্রাম > গেরাম।
আরো কয়েকটি উদাহরণ
- রত্ন > রতন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন ইত্যাদি।
-------------------- 
আদি স্বরাগম:
শব্দের শুরুতে নতুন স্বরধ্বনির আগমন।
যেমন: স্কুল > ইস্কুল, স্টেশন > ইস্টিশন।

অন্ত্যস্বরাগম:
শব্দের শেষে নতুন স্বরধ্বনির আগমন।
যেমন: দিশ্ > দিশা, সত্য > সত্যি।

অপিনিহিতি: 
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন-
- মারি > মাইর, 
- আজি > আইজ, 
- সাধু > সাউধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১১,৩১৬.
‘ঋষির ন্যায়’ এক কথায় বলে-
  1. ঋষিকল্প
  2. দেউলিয়া
  3. অধমর্ণ
  4. উত্তমর্ণ
ব্যাখ্যা
• ‘ঋষির ন্যায়’ এক কথায় বলে - ঋষিকল্প।

অন্যদিকে:
- 'ঋণ নেয় যে’ এক কথায় বলে - অধমর্ণ
- ‘ঋণ দেয় যে’ এক কথায় বলে - উত্তমর্ণ।
- ‘ঋণশোধে অসমর্থ’ এক কথায় - দেউলিয়া।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৩১৭.
'ক্রোড়-ক্রোর' শব্দজোড়টি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. লক্ষসংখ্যক-পত্র
  2. পত্র-দলিল 
  3. দৌড়-টাকা 
  4. কোল-কোটি
ব্যাখ্যা

'ক্রোড়' অর্থ - কোল। 
'ক্রোর'  অর্থ - কোটি। 

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দজোড় হলো-
খড় - তৃণ। 
খর - তীব্র। 

খদ্দর - কাপড়। 
খদ্দের - গ্রাহক। 

খরা - রৌদ্র। 
ক্ষরা - ক্ষরণ। 

খুর - পশুর পায়ের অংশ। 
ক্ষুর - কামানোর অস্ত্র। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)। 

১১,৩১৮.
‘হাতের কনুই থেকে কব্জি পর্যন্ত অংশ’ এক কথায় কী বলে?
  1. করতল
  2. মণিবন্ধ
  3. প্রকোষ্ঠ
  4. অঙ্গুষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• ‘হাতের কনুই থেকে কব্জি পর্যন্ত অংশ’ এক কথায় বলে - প্রকোষ্ঠ।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু এক কথায় প্রকাশ হলো:
• হাতের প্রথম আঙুল (বুড়ো আঙুল) - অঙ্গুষ্ঠ।
• হাতের তালু - করতল।
• হাতের কব্জি - মণিবন্ধ।
• হাতের কব্জি থেকে আঙুলের ডগা পর্যন্ত - পাণি।
• হাতের পঞ্চম আঙুল - কনিষ্ঠা।
• হাতের চতুর্থ আঙুল - অনামিকা।
• হাতের তৃতীয় আঙুল - মধ্যমা।
• হাতের দ্বিতীয় আঙুল - তর্জনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩১৯.
‘ন, ল, স’ এ তিনটি ধ্বনি উচ্চরণ স্থান কোথায়?
  1. ক) জিহ্বামূল
  2. খ) ওষ্ঠ
  3. গ) অগ্রতালু
  4. ঘ) অগ্র দন্তমূল
ব্যাখ্যা
• অগ্র দন্তমূলীয় বর্ণ গুলো হলো: ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স।
• জিহ্বামূলীয় বর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
• অগ্রতালু বা তালব্য বর্ণ: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ, য, য়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৩২০.
'শিখণ্ডিক' শব্দের অর্থ কি?
  1. ময়ূর
  2. মোরগ
  3. কবুতর
  4. কোকিল
  5. খরগোশ
ব্যাখ্যা
- ময়ূরের সমার্থক শব্দ কলাপী, শিখী, শিখণ্ডী, বর্হী।
- শিখণ্ডিক অর্থ মোরগ।
- কবুতরের সমার্থক শব্দ কপোত, নোটন, পায়রা, পারাবত।
- কোকিলের সমার্থক শব্দ অন্যপুষ্ট, কলকণ্ঠ, পিক।
- খরগোশ এর সমার্থক শব্দ শশক।
উৎসঃ বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা অভিধান।
১১,৩২১.
'বাবুর্চি' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি 
  2. পর্তুগিজ 
  3. তুর্কি
  4. হিন্দি 
ব্যাখ্যা


• 'বাবুর্চি' তুর্কি ভাষার শব্দ। 

• কিছু তুর্কি ভাষার শব্দ:
 কুলি, বাবুর্চি, কোর্মা, খাতুন, বেগম, লাশ, উজবুক, কাঁচি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১১,৩২২.
মূর্ধন্য-ণ এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. কণিকা
  2. বাণিজ্য
  3. দুর্ণিবার 
  4. রুক্মিণী
ব্যাখ্যা

• মূর্ধন্য-ণ এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে- দুর্ণিবার শব্দে।  
শুদ্ধরূপ- দুর্নিবার। 

-----------------
• ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার
রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• 'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ- এর পরে স্বরধ্বনি (ষ, য়, ব, হ, ং  এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয়) ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১,৩২৩.
'পাবক' এর সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. পয়ঃ + অক
  2. পৌ + য়ক
  3. পৌ + অক
  4. পৌ + ইক
ব্যাখ্যা
• সন্ধি বিচ্ছেদ:
- এ, ঐ, ও, ঔ- কারের পরে এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্‌, আব্‌ হয়।
যেমন,
- ভৌ + উক = ভাবুক,
- পৌ + অক = পাবক,
- গো + আদি = গবাদি,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র,
- নৌ + ইক = নাবিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৩২৪.
বাংলা একাডেমি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৫৮
  2. ১৯৫৫
  3. ১৯৬১
  4. ১৮৫৫
ব্যাখ্যা

• ১৯৫৫ সালে বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। 

• বাংলা একাডেমি: 
- বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর।
- এদিন ‘বর্ধমান হাউস’-এর সম্মুখস্থ বটতলায় উদ্বোধন-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
- পূর্ববাংলার তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী জনাব আবু হোসেন সরকার ‘উদ্বোধনী ভাষণ’ পাঠ করেন।
- পূর্ববাংলার তদানীন্তন শিক্ষামন্ত্রী জনাব আশরাফ উদ্দীন আহমদ চৌধুরীও অনুষ্ঠানে ভাষণ প্রদান করেন।

সূত্র: বাংলা একাডেমি ওয়েভসাইট। 

১১,৩২৫.
দ্বিগু কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. মনমাঝি
  2. শশব্যস্ত
  3. ত্রিফলা
  4. পদ্মআঁখি
ব্যাখ্যা

• দ্বিগু কর্মধারয় সমাস:
- কিছু  কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যা বাচক হয় তাকে দ্বিগু কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা।
চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা।

অন্যদিকে,

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয় তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলোকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
কাজলের মতো কালো = কাজলকালো।
শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- যাকে তুলনা করা হয় তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয় এগুলকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
পুরুষ সিংহের ন্যায়= সিংহপুরুষ।
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি।

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমান পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু।
মন রূপ মাঝি = মনমাঝি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১১,৩২৬.
নিচের কোন বানানে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ হয়েছে?
  1. দৃষ্টি
  2. দ্বেষ
  3. ঋষি
  4. বর্ষণ
ব্যাখ্যা
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'য' হয়।
যেমন-ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

• 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'য' হয়।
যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

• তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়।
যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১১,৩২৭.
অধীন খণ্ডবাক্য কত রকমের হয়ে থাকে?
ব্যাখ্যা
অধীন খণ্ডবাক্য তিন রকমের:

বিশেষ্যস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:

- যে অধীন খণ্ডবাক্য স্বাধীন খণ্ডবাক্যের যেকোনো পদের অধীন থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে। যেমন: আমি বাড়ি গিয়ে দেখলাম, সবার খাওয়া হয়ে গেছে।

বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য স্বাধীন খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ, অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন: যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে। (অধীন খণ্ডবাক্যটি 'সে-ই' সর্বনামের অবস্থা প্রকাশ করছে)

ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
যে অধীন খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন: 'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।'

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১১,৩২৮.
’পাশ্চাত্য’ শব্দের বিপরীত শব্দ -
  1. ক) প্রতীচ্য
  2. খ) প্রাচ্য
  3. গ) পশ্চিমা
  4. ঘ) পূর্ব-পশ্চিম
ব্যাখ্যা
’পাশ্চাত্য’ শব্দের বিপরীত শব্দ-প্রাচ্য
আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ:
অনুরক্ত- বিরক্ত
অর্বাচীন-প্রাচীন
আসক্ত-বিরক্ত
তস্কর- সাধু
তাপ-শৈত্য
তামসিক- রাজসিক

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩২৯.
অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. অনন্ত
  2. অন্তরীপ
  3. অনুক্ষণ
  4. অনুতাপ
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস - অনুক্ষণ

অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। 
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
যেমন -
• বিপ্‌প্সা (অনু, প্রতি):
- দিন দিন = প্রতি দিন,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
- ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ

অন্যদিকে,
• নঞ্‌ বহুব্রীহি - অনন্ত।
• নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি - অন্তরীপ।
• প্রাদি সমাস - অনুতাপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৩৩০.
নিচের কোনটি সম্বন্ধ কারকের উদাহরণ?
  1. ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
  2. রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
  3. জমি থেকে ফসল পাই।
  4. ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
ব্যাখ্যা
• সম্বন্ধ কারক: 
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে '-র', -এর', '-য়ের', '-কার', '-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
- আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম।
- তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতো মাইলের পর মাইল।

অন্যদিকে,
• রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।-  এটি ’অধিকরণ কারক’।
জমি থেকে ফসল পাই। এটি ’অপাদান কারকের’ উদাহরণ।
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়। এটি ’করণ কারকের’ উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১১,৩৩১.
'Terminology' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. অনুবাদ
  2. বিদেশী ভাষা
  3. পরিভাষা
  4. ভাষাবিদ্যা
ব্যাখ্যা
Terminology এর বাংলা পারিভাষিক অর্থ = পরিভাষা, পারিভাষিক শব্দ। 

অন্যদিকে, 
Translation = অনুবাদ, ভাষান্তর। 
Foreign language = বিদেশী ভাষা।
Linguistics = ভাষাবিদ্যা।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান।
১১,৩৩২.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. কঙ্কাল
  2. ভয়ঙ্কর
  3. লঙ্ঘন
  4. আতঙ্ক
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: ভয়ঙ্কর।
• শুদ্ধরূপ: ভয়ংকর।

• বানানের নিয়ম:
- সন্ধির ক্ষেত্রে ক খ গ ঘ পরে থাকলে পূর্ব পদের অন্তস্থিত ম্ স্থানে অনুস্বার (ং) হবে।
যেমন:
- অহম্ + কার = অহংকার।

• এরূপ- ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম, সংঘটন।

• সন্ধিবদ্ধ না হলে ‘ঙ’ স্থানে ‘ং’ হবে না।
যেমন:
অঙ্ক, অঙ্গ, আকাঙ্ক্ষা, আতঙ্ক, কঙ্কাল, গঙ্গা, বঙ্কিম, বঙ্গ, লঙ্ঘন, শঙ্কা, শৃঙ্খলা, সঙ্গে, সঙ্গী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৩৩৩.
'ঝাড়েবংশে' বাগ্‌ধারাটির অর্থ -
  1. গম্ভীর
  2. প্রচুর
  3. সবসুদ্ধ
  4. পাগলামি
ব্যাখ্যা
• 'ঝাড়েবংশে' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - সবসুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- 'তোলা হাঁড়ি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - গম্ভীর।
- 'চোদ্দবুড়ি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - প্রচুর।
- 'ঊনপঞ্চাশ বায়ু' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - পাগলামি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩৩৪.
নিচের কোন দুটি পর্তুগিজ শব্দ?
  1. চাকু, তোপ
  2. ভবন, আকাশ
  3. আলপিন, আলমারি
  4. হরতন, রুইতন
ব্যাখ্যা
• আলপিন, আলমারি- পর্তুগিজ শব্দ। 

অন্যদিকে, 
• হরতন, রুইতন- ওলন্দাজ শব্দ। 
• ভবন, আকাশ - তৎসম শব্দর
• চাকু, তোপ - তুর্কি শব্দ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১১,৩৩৫.
কোনটি ‘চন্দ্র’ শব্দের প্রতিশব্দ নয়?
  1. অর্ক
  2. শশধর
  3. হিমাংশু
  4. সুধাকর
ব্যাখ্যা
• ‘চন্দ্র’ শব্দের প্রতিশব্দ নয় - অর্ক
- 'সূর্য' শব্দের প্রতিশব্দ - অর্ক।

• ‘চন্দ্রশব্দের আরো কিছু প্রতিশব্দ:
- চাঁদ, সুধাংশু, সুধাকর, শশাঙ্ক, শশধর, শশী, হিমাংশু, বিধু, নিশাকর, সোম, শীতাংশু, সুধানিধি, কলানিধি, হিমকর, ইন্দু, চন্দ্রমা, নিশাপতি, দ্বিজরাজ, নিশাকান্ত, মৃগাঙ্ক, কলাধর, কলাভৃৎ, কুমুদনাথ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩৩৬.
'ভাস্কর’ - এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ভাস + কর
  2. ভাস + অর
  3. ভাস্ + বর
  4. ভাঃ + কর
ব্যাখ্যা
• ‘ভাস্কর’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ: ভাঃ + কর = ভাস্কর।

------------------------------
• বিসর্গ সন্ধি:

সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে পদের অন্তস্থিত র্‌ ও স্‌ অনেক ক্ষেত্রে অঘোষ উষ্মধ্বনি অর্থাৎ হ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় এবং তা বিসর্গ (ঃ) রূপে লেখা হয়।
- র্‌ ও স্‌ বিসর্গ ব্যঞ্জনধ্বনিমালার অন্তর্গত। সে কারণে বিসর্গ সন্ধি ব্যঞ্জনসন্ধির অন্তর্গত।
- বস্তুত বিসর্গ র্‌ এবং স্‌ এর সংক্ষিপ্ত রূপ।

- বিসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. র্‌ - জাত বিসর্গ ও
২. স্‌ - জাত বিসর্গ।
বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্‌ ও স্‌ - এর সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

• কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ:
- বাচঃ + পতি = বাচস্পতি,
- ভাঃ + কর = ভাস্কর,
- অহঃ + নিশা= অহর্নিশ,
- অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৩৩৭.
অনুসর্গ নয় কোনটি?
  1. মাঝে
  2. ব্যতীত
  3. পর্যন্ত
  4. এবং
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ নয়- এবং। 
- 'এবং' যোজক পদের উদাহরণ। 

-----------------
• অনুসর্গ:

বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
[অনুসর্গগুলো কখনো প্রতিপাদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।]

বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে। যেমন-
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, পর্যন্ত, মতো, নামে, পানে, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, ভিতর, পাছে, চেয়ে ইত্যাদি।

[এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক (তৃতীয়া বিভক্তি), হইতে, হতে, চেয়ে (পঞ্চমী বিভক্তি), অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৩৩৮.
অপশ্রুতি কয় প্রকারে হতে পারে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতু বা শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বরের কিছু পরিবর্তন ঘটে, এই পরিবর্তনকে অপশ্রুতি বলে। 
অপশ্রুতি তিনভাবে হতে পারে। যথা : 
— গুণ  
— বৃদ্ধি  
— সম্প্রসারণ।

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১১,৩৩৯.
'Fraudulent' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. জাল 
  2. প্রতারণামূলক
  3. জালিয়াতি
  4. বাজেয়াপ্ত করা
ব্যাখ্যা

• 'Fraudulent' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ- প্রতারণামূলক। 

এরূপ কিছু পারিভাষিক শব্দ হলো- 
'Forfeit' অর্থ- বাজেয়াপ্ত করা, অধিকার খোয়ানো। 
'Forfeiture'  অর্থ- বাজেয়াপ্ত হওয়া, অধিকারহানি। 
'Forged' অর্থ- জাল।  
'Furgery' অর্থ-  জালিয়াতি

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।  

১১,৩৪০.
প-বর্গীয় ধ্বনির উচ্চারণ স্থান কোনটি?
  1. দন্তমূলীয়
  2. কণ্ঠ্য
  3. ওষ্ঠ্য
  4. দন্ত্য
ব্যাখ্যা
• প-বর্গীয় ধ্বনি:
প, ফ, ব, ভ, ম- এই পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে ওষ্ঠের সঙ্গে অধরের স্পর্শ ঘটে। এদের ওষ্ঠ্যধ্বনি বলে।

অন্যদিকে, 
• ক-বর্গীয় ধ্বনি:
ক, খ, গ, ঘ, ঙ- এই পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণ জিহ্বার গোড়ার দিকে নরম তালুর পশ্চাৎ ভাগ স্পর্শ করে। এগুলো জিহ্বামূলীয় বা কণ্ঠ্য স্পর্শধ্বনি।

• ত-বর্গীয় ধ্বনি:
ত, থ, দ, ধ, ন- এই পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সম্মুখে প্রসারিত হয় এবং অগ্রভাগ ওপরের দাঁতের পাটির গোড়ার দিকে স্পর্শ করে। এদের বলা হয় দন্ত্য ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১১,৩৪১.
বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন স্বরবর্ণের সংখ্যা কয়টি? 
  1. দুইটি
  2. চারটি 
  3. ছয়টি 
  4. সাতটি 
ব্যাখ্যা

• বর্ণ প্রকরণ:
ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।

- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি -(এ, ঐ, ও, ঔ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ , ং , ঃ , ঁ )।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৩৪২.
নিচের কোনটি অন্তঃস্থ ধ্বনি নয়?
  1. ক) য
  2. খ) ব
  3. গ) হ
  4. ঘ) সবগুলোই অন্তঃস্থ ধ্বনি
ব্যাখ্যা
স্পর্শ বা উষ্মধ্বনি অন্তরে অর্থাৎ মাঝে আছে বলে য, র, ল, বা - এ ধ্বনিগুলোকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বলা হয় আর বর্ণগুলোকে বলা হয় অন্তঃস্থ বর্ণ। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১১,৩৪৩.
'আগুন' এর সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. হুতাশন
  2. অংশু
  3. বৈশ্বানর
  4. কৃশানু
ব্যাখ্যা

• 'আগুন' এর সমার্থক শব্দ নয়- অংশু।

• অংশু(বিশেষ্য পদ), 
অর্থ: কিরণ, দীপ্তি, রশ্মি।

• 'আগুন' এর সমার্থক শব্দ:
অগ্নি, অনল, বহ্নি, হুতাশন, পাবক, বৈশ্বানর, দহন, সর্বভুক, শিখা, হোমাগ্নি, কৃশানু, সর্বশুচি, সপ্তাংশু, বিভাবসু।

অন্যদকে,
-------------
• 'কিরণ' এর সমার্থক শব্দ:
প্রভা, আলো, বিভা, দীপ্তি, কর, অংশু, রশ্মি, জ্যোতি, আলোক, ময়ূখ, ভাতি, রেশন, রশ্মী, কিরণ, নুর, উদ্ভাস, ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৩৪৪.
‘গঞ্জ’ শব্দের যুক্তাক্ষরটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত হয়?
  1. ক) জ+ঞ
  2. খ) ঞ্+জ
  3. গ) ন+জ
  4. ঘ) ণ+জ
ব্যাখ্যা
কয়েকটি যুক্তবর্ণঃ
ষ্+ণ= ষ্ণ (উষ্ণ), ব্‌+ধ = ব্ধ (ক্ষুব্ধ), ক্+ষ= ক্ষ (ক্ষুধা) এবং ঞ্+জ= ঞ্জ (গঞ্জ)।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণি
১১,৩৪৫.
ব্যঞ্জনসন্ধি কত নিয়মে সম্পন্ন হয়?
  1. ক) এক
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) দুই
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি তিন নিয়মে হয়। যথা:
স্বর + ব্যঞ্জন
ব্যঞ্জন + স্বর
ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন

স্বর + ব্যঞ্জন:
স্বর+ছ = স্বর+চ্ছ। যেমন - কথা + ছলে = কথাচ্ছলে, পরি+ছেদ = পরিচ্ছেদ 
এখানে পূর্ববর্তী স্বরের প্রভাবে পরবর্তী ছ-এর জায়গায় চ্ছ হয়েছে।

ব্যঞ্জন+স্বর:
ক/চ/ট/ত/প+স্বর = গ/জ/ড(ড়)/দ/ব। যেমন - দিক্+অন্ত = দিগন্ত, সৎ+উপায় = সদুপায় স্বরধ্বনিগুলো ঘোষবৎ হয় । এখানে ঘোষবৎ স্বরধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী অঘোষ ধ্বনি (ক, চ, ট, ত, প) পরিবর্তিত হয়ে ঘোষধ্বনিতে (গ, জ, ড, দ, ব) পরিণত হয়।

ব্যঞ্জন+ব্যঞ্জন:
- ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়। যেমন -
- চলৎ+চিত্র = চলচ্চিত্র (এখানে চ-এর প্রভাবে ত হয়েছে চ)
- বিপদ্+জনক = বিপজ্জনক (এখানে জ-এর প্রভাবে দ হয়েছে জ)
- উৎ+লাস = উল্লাস (এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল)
- বাক্+দান = বাগ্দান (এখানে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ)
- তৎ+মধ্যে = তন্মধ্যে (এখানে নাসিক্য ধ্বনি ম-এর প্রভাবে ত হয়েছে ন)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি)
১১,৩৪৬.
'ফলা' বর্ণ নয় কোনটি?
  1. জ-ফলা
  2. ন-ফলা
  3. ব-ফলা
  4. ল-ফলা
ব্যাখ্যা

'ফলা' বর্ণ নয়- জ-ফলা। 

​• অনুবর্ণ:

ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

• ফলা: ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে। বাংলা বর্ণমালায় ৬টি ফলা বর্ণ রয়েছে। যেমন: ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র-ফলা, ল-ফলা।

• রেফ: র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।

• বর্ণসংক্ষেপ: যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়। এগুলো বর্ণসংক্ষেপ। যেমন- ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১১,৩৪৭.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. কাঁচকলা
  2. পবিত্র
  3. যথার্থ 
  4. পতঞ্জলি 
ব্যাখ্যা

• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
- কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
- নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- আ + পদ = আস্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক + দশ = একাদশ,
- হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,

- পবিত্র = পো + ইত্র ( স্বরসন্ধির উদাহরণ)।
- যথা + অর্থ = যথার্থ ( স্বরসন্ধির উদাহরণ)।
- কাঁচা + কলা = কাঁচকলা,( ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১১,৩৪৮.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. √শ্রম্ + ইন্ = শ্রমী
  2. √দৃশ্‌ + নীয় = দর্শনীয়
  3. √গণ্+ঔক =গণক
  4. √নন্দ+অন = নন্দন
ব্যাখ্যা
• ইন্-কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ - √শ্রম্ + ইন্ = শ্রমী।
ইন্- প্রত্যয় (ইন্= ঈ-কার হয়)।

অন্যদিকে,
• 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √নন্দি + অন।
• 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √দৃশ্‌ + অনীয়।
• ‘গণক’ শব্দের সঠিক  প্রকৃত-প্রত্যয় :√গণ্+অক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৩৪৯.
বাংলা একাডেমি প্রকাশিত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯৯৩
  2. খ) ১৯৯৪
  3. গ) ১৯৯৫
  4. ঘ) ১৯৯৬
ব্যাখ্যা
• প্রাচীনকাল থেকেই সংস্কৃত ব্যাকরণের প্রভাবে বাংলা বানানরীতিতে সংস্কৃত শব্দ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।
- কিন্তু, অতৎসম শব্দ অর্থাৎ, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, অর্ধ-তৎসম প্রভৃতি উৎস হতে প্রচুর শব্দ বাংলা ভাষায় প্রবেশ করে।
- ফলে অতৎসম শব্দের বানানে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
- সর্বপ্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বানান সংস্কারের জন্য ১৯৩৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন। ফলে রাজশেখর বসুকে সভাপতি করে “কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বানান-সংস্কার সমিতি” গঠিত হয়। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ঐ সমিতির একজন প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন।
- ১৯৪৭-এ দেশবিভাগ ও ১৯৭১-এ বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে বাংলা বানান নিয়ে নানা সুপারিশ ও নানা প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ১৯৮৮ সালে বাংলা বানানের নিয়ম প্রণয়ন করে।
- এরপর ১৯৯২ সালের এপ্রিলে বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম নির্ধারণের যে উদ্যোগ গৃহীত হয়েছিলো তা ১৯৯৪ সালে চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয়।
- বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রণীত বানানরীতি ও (জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড) প্রবর্তিত বানানরীতির সমন্বয়ে বাংলা একাডেমি প্রমিত বানানরীতি সময়ের দাবি অনুযায়ী যথার্থ।
- ২০০০ সালে এ নিয়মের কিছু সূত্র সংশোধিত হয়। ২০১২ সালে পুনরায় পরিমার্জিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩৫০.
'তাগিদ' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য 
  2. বিশেষণ 
  3. ক্রিয়া 
  4. অব্যয় 
ব্যাখ্যা
• 'তাগিদ' শব্দটি বিশেষ্য পদ।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৩৫১.
‘পাতিহাঁস’ শব্দে ব্যবহৃত ‘পাতি’ কোন উপসর্গ?
  1. আরবি
  2. খাঁটি বাংলা
  3. তৎসম
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
• 'পতি' খাঁটি বাংলা উপসর্গের উদাহরণ। 
• 'পাতি' উপসর্গটি ‘পাতিহাঁস’ শব্দে ছোটো অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
• যেমন- পাতি+হাঁস = পাতিহাঁস। 

==========
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং  মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১১,৩৫২.
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে তাকে বলে-
  1. দ্বিস্বরধ্বনি
  2. যৌগিকধ্বনি
  3. মিশ্রধ্বনি
  4. পূর্ণস্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
• দ্বিস্বরধ্বনি:
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন:
'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্‌]: তাই, নাই,
[এই্‌ ]: সেই, নেই,
[উই্‌]: দুই, রুই,
[ওউ্‌ ]: মৌ, বউ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১১,৩৫৩.
কোনটি তুর্কি শব্দ নয়?
  1. ক) চাকর
  2. খ) দারোগা
  3. গ) তোপ
  4. ঘ) বাড়ি
ব্যাখ্যা
দারোগা, চাকর, চাকু, তোপ ইত্যাদি তুর্কি শব্দ৷ উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১১,৩৫৪.
অশুদ্ধ বানান -
  1. স্টেশন
  2. পুঙ্খানুপূঙ্খ
  3. ধ্যানধারণা
  4. রীতিনীতি
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - পুঙ্খানুপূঙ্খ
- শুদ্ধ বানান - পুঙ্খানুপুঙ্খ
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- তন্নতন্ন, সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম।

অন্যদিকে,
- স্টেশন, 
- ধ্যানধারণা, 
- রীতিনীতি।
শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১,৩৫৫.
‘ঐ’ বর্ণে কোন দুটি ধ্বনির সংমিশ্রণ রয়েছে?
  1. [অ] এবং [ঈ]
  2. [ও] এবং [ঈ]
  3. [ও] এবং [উ]
  4. [ও] এবং [ই]
ব্যাখ্যা
• দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণস্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।

যেমন:
- লাউ শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্‌]: তাই, নাই।
[এই্‌]: সেই, নেই।
[আও্‌]: যাও, দাও।
[আএ্‌]: খায়, যায়।

• ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই্]।
একইভাবে ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১১,৩৫৬.
'প্রাতিস্বিক' শব্দটির অর্থ
  1. স্বকীয়
  2. স্বীয়
  3. স্বোপার্জিত
  4. স্বনির্মিত
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

'প্রাতিস্বিক' শব্দের অর্থ-
- স্বকীয়;
- ব্যক্তিগত; 
- অসামান্য।

আরো কয়েকটি শব্দার্থ:
• চূড়া - ডগা।
• মমতা- আসক্তি।
• ডালা - ঢাকনা।
• 'কৌমুদী' - চাঁদের আলো, জ্যোৎস্না।
• কুমুদ - পদ্ম।
• কুমুদিনী - পদ্মের ঝাড়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৩৫৭.
'Leaflet' এর সঠিক পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) ক্রোড়পত্র
  2. খ) সাময়িক পত্র
  3. গ) ছাড়পত্র
  4. ঘ) প্রচারপত্র
ব্যাখ্যা
Annex = ক্রোড়পত্র 
Magazine = সাময়িক পত্র, পত্রিকা; অস্ত্রাগার, বারুদখানা
Leaflet = প্রচারপত্র
Document = দলিল, দস্তাবেজ, লেখ্য

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
১১,৩৫৮.
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ কোনটি?
  1. চুপচাপ
  2. কুটকুট
  3. ভালো ভালো
  4. জোরে জোরে
ব্যাখ্যা
• 'কুটকুট'- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
গুটিশুটি, চুপচাপ, মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো ইত্যাদি।  

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, চকচক, টসটস।  

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: জ্বর জ্বর, জোরে জোরে, পর পর, ভালো ভালো, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
১১,৩৫৯.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ঙ্ + ক = ঞ্ছ
  2. ঙ্ +গ = ঞ্জ
  3. ক্ + র = ক্র
  4. ক্ + র = ক্ত
ব্যাখ্যা
সঠিক যুক্তবর্ণ হলো: ক্ + র = ক্র

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
- ঙ্ + গ = ঙ্গ
- ঙ্ +ক = ঙ্ক
- ত্ + থ = ত্থ
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- ক্ষ = ক + ষ,
- হ্ম = হ + ম,
- জ্ঞ = জ + ঞ,
- ষ্ণ = ষ + ণ 

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯]
১১,৩৬০.
নিচের কোনটি প্রমিত বানান নয়?
  1. তৃণ
  2. অগ্নিষাৎ
  3. ভাষণ
  4. উষ্ণ
ব্যাখ্যা
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
অগ্নিষাৎ - প্রমিত বানান নয়।

• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। 
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৩৬১.
নিচের কোন বাক্যে যতিচিহ্নের সঠিক প্রয়োগ ঘটেনি?
  1. সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।
  2. ড. মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচডি।
  3. ৬৮-জেল রোড; ঢাকা-১২০০।
  4. সাহেব বললেন, ''ছুটি পাবেন না।''
ব্যাখ্যা

⇒ ৬৮-জেল রোড; ঢাকা-১২০০।- বাক্যে যতিচিহ্নের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।
⇒ যতিচিহ্নের শুদ্ধ প্রয়গে সঠিক বাক্য: ৬৮, জেল রোড, ঢাকা-১২০০।

⇒ ‘কমা’ যতিচিহ্ন:

বাংলায় কোনো কিছু লিখতে গিয়ে যত ধরনের যতিচিহ্ন আমরা ব্যবহার করি তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি কমা (,)। বাক্যের ভেতরের বিরাম-চিহ্ন হলো কমা। বাক্যে ব্যবহৃত কমার ক্ষেত্রে ‘এক’ উচ্চারণ করার সমান সময় থামতে হয়।

অল্প বিরাম বোঝাতে কিছু স্থানে কমা ব্যবহৃত হয়। যথা:
• উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খণ্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে।
যেমন- সাহেব বললেন, ''ছুটি পাবেন না।''

• নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় দেওয়া হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির আগে কমা বসে।
যেমন- ড. মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচডি।

• বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসবে।
যেমন- ৬৮, জেল রোড, ঢাকা-১২০০।

• পরস্পর সমন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে।
যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১,৩৬২.
Q. 6-7: সন্ধি বিচ্ছেদ করুন:
নবান্ন -
  1. নবা + অন্ন
  2. নব + অন্ন
  3. নবীন + অন্ন
  4. নবঃ + অন্ন
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• নবান্ন শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হলো: নব + অন্ন = নবান্ন।
- নবান্ন হলো স্বরসন্ধির উদাহরণ।

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
অ+অ = আ, নব + অন্ন = নবান্ন।
এরূপ- হিমাচল, হিতাহিত, প্রাণাধিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৩৬৩.
বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্ন মোট কয়টি?
  1. ৯ টি
  2. ১০ টি
  3. ১১ টি
  4. ১২ টি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি , নবম-দশম শ্রেণির ২০১৯ সংস্করণ অনুসারে, 
- বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্ন ১২ টি। 
যথা:
- কমা, সেমিকোলন, দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, ড্যাশ, কোলন ড্যাস, হাইফেন, ইলেক ( ' ), উদ্ধরণ চিহ্ন / উদ্ধারচিহ্ন, বন্ধনী। 
----------------------------
---------------------------- 
বিশেষ তথ্য: 
 বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে,
• বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্ন ১৬টি।
যথা:
- কমা,
- সেমিকোলন,
- দাঁড়ি,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- হাইফেন,
- ড্যাশ,
- কোলন,
- উদ্ধৃতি চিহ্ন/উদ্ধারচিহ্ন,
- বন্ধনী,
- বিন্দু,
- ত্রিবিন্দু,
- বিকল্প চিহ্ন,
- ঊর্ধ্বকমা,
- দুই দাঁড়ি,
- কোলন-ড্যাশ।

 বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি , নবম-দশম শ্রেণির ২০২২ সংস্করণ অনুসারে,
• বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্ন ১৩ টি। 
যথা:
- কমা,
- সেমিকোলন,
- দাড়ি,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- হাইফেন
- ড্যাশ,
- কোলন
- উদ্ধরণ চিহ্ন/উদ্ধারচিহ্ন,
- বন্ধনী
- বিন্দু
- ত্রিবিন্দু
- বিকল্প চিহ্ন

আবার ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এর বই অনুসারে,
• বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্নের সংখ্যা ১৭টি।

উল্লেখ্য, বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বই এর তথ্য অধিক গ্রহণযোগ্য। অতএব বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্নের সংখ্যা ১৬টি অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর। 
১১,৩৬৪.
‘উন্নত’ শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ হচ্ছে-
  1. উৎ + নীত
  2. উৎ + নত
  3. উন্নী + ত
  4. উন + নত
ব্যাখ্যা
• 'উন্নত' শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ = উৎ + নত। 
- এটি সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ। 

• আগে ৎ বা দ্‌ এবং ন্‌ / ম্‌ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে 'ন্‌' হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়। কিন্তু, ৎ / দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ / দ্ সন্ধিতে 'ল্‌' হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।
যেমন -
- ৎ + ন্‌ = ন্ন ⇒ উৎ + নত = উন্নত
- দ্‌ + ম্‌ = ন্ম ⇒ তদ্‌ + মাত্র = তন্মাত্র।
- ৎ + ল্‌ = ল্ল ⇒ উৎ + লাস = উল্লাস।

অভিসম্বন্ধ: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৩৬৫.
‘পর্বত’ এর সমার্থক শব্দ নয়-
  1. গিরি
  2. পাহাড়
  3. শৈল
  4. শিলা
ব্যাখ্যা
‘পর্বত’ এর সমার্থক শব্দ:
- পাহাড়,
- অদ্রি, 
- ভূধর,
- গিরি,
- শৈল,
- অচল ইত্যাদি।

‘পাথর’ এর সমার্থক শব্দ:
- পাষাণ,
- প্রস্তুর,
- শিলা,
- উপল,
- অশ্ম,
- শঙ্কর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১,৩৬৬.
নিম্নলিখিত কোন বাক্যে ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ রয়েছে?
  1. ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।
  2. বাগানটি সুন্দর।
  3. বই টেবিলে আছে।
  4. রাস্তা সংকীর্ণ।
ব্যাখ্যা
• বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন:

• নাম-বিশেষনের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।

• ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।
এখানে "খুব" হলো ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ, কারণ এটি "দ্রুত" ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করছে।

অন্যদিকে,
খ) "বাগানটি সুন্দর।"
এখানে "সুন্দর" একটি বিশেষণ (adjective) যা বাগান শব্দটিকে বর্ণনা করছে। এটি কোনো ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নয়, কারণ এটি সরাসরি একটি বিশেষণ। তাই এখানে ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নেই।

গ) "বই টেবিলে আছে।"
এখানে কোনো ক্রিয়া বিশেষণ বা ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নেই।

ঘ) "রাস্তা সংকীর্ণ।"
এখানে "সংকীর্ণ" একটি বিশেষণ (adjective) যা রাস্তা শব্দটিকে বর্ণনা করছে। এটি ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নয়, কারণ এখানে কোনো ক্রিয়া বিশেষণ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৩৬৭.
‘অগ্নি’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. শিখাবৎ
  2. বৈশ্বানর
  3. বিশ্বপা
  4. শাখী
ব্যাখ্যা
• ‘অগ্নি’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয়- ‘শাখী’।

• ‘অগ্নি’ শব্দের সমার্থক শব্দ:

অনল, বহ্নি, পাবক, হুতাশন, বৈশ্বানর, জ্বলন, শিখাবৎ, শিখিন, বায়ুসখা, হুতভুক, শুচি, বিশ্বপা, হিমারাতি, বায়ুসখা, অনিলসখ, সর্বভুক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
গাছ, পাদপ, তরু, বিটপী, দ্রুম, মহীরুহ, শাখী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৩৬৮.
সামীপ্যবাচক সর্বনাম পদ কোনটি?
  1. নিজে
  2. কাহার
  3. যাহারা
  4. ইহারা
ব্যাখ্যা
সর্বনাম পদ: 
- বিশেষ্যর পরিবর্তে যে শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে। 
যেমন- রাহাত ভালো ছেলে, সে নিয়মিত স্কুলে যায়। 
- উপরোক্ত উদাহরণের দ্বিতীয় বাক্যটিতে ‘সে' শব্দটি রাহাতের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই ‘সে’ হলো সর্বনাম পদ। 
- সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ বাক্যে বিভিন্নরূপে সর্বনাম পদের ব্যবহার হয়। 

- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন - 
• ব্যক্তি বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা ইত্যাদি। 
• আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি ইত্যাদি। 
সামীপ্যবাচক: এ, এই, ইহারা, ইনি ইত্যাদি। 
• দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব, সব ইত্যাদি। 
• সাকল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ ইত্যাদি। 
• প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে ইত্যাদি। 
• অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু ইত্যাদি। 
• ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, পরস্পর ইত্যাদি। 
• সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি। 
• অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১১,৩৬৯.
‘অনুকম্পা’ অর্থে কোন শব্দটি সঠিক?
  1. প্রবণতা
  2. দয়া
  3. ক্লেশ
  4. পিল
ব্যাখ্যা

সমার্থক শব্দ:
অনুকম্পা = দয়া, করুণা, কৃপা, মায়া, অনুগ্রহ।
ক্লেশ = দুঃখ, আয়াস, কষ্ট, পরিশ্রম।
পিল = হাতি, হস্তী, দ্বিপ, গজ।
প্রবণতা = ঝোঁক, টান, আকর্ষন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,৩৭০.
'বদনাম' শব্দের 'বদ' কোন ভাষার উপসর্গ?
  1. ক) তৎসম উপসর্গ
  2. খ) বাংলা উপসর্গ
  3. গ) ফারসি উপসর্গ
  4. ঘ) আরবি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
'বদনাম' শব্দের 'বদ' ফারসি ভাষার উপসর্গ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন: 
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু- হিন্দি উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৩৭১.
'সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম ' - বাক্যটিতে কোন কালের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. নিত্যবৃত্ত অতীত
  2. সাধারণ অতীত
  3. ঘটমান অতীত
  4. পুরাঘটিত অতীত
ব্যাখ্যা
ঘটমান অতীত কাল :
অতীত কালে যে কাজ চলছিল। এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার
ঘটমান অতীত কাল হয়। যেমন :
- কাল সান্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

সাধারণ অতীত কাল:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল। যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

নিত্যবৃত্ত অতীত: অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে। যেমন:
আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

পুরাঘটিত অতীত কাল :
যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩৭২.
'আউন্স' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) রুশ
  2. খ) ফরাসি
  3. গ) ইতালীয়
  4. ঘ) ওলন্দাজ
ব্যাখ্যা
- 'আউন্স' ইতালীয় ভাষা হতে আগত শব্দ।

• ইতালীয় ভাষার আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হল:
- অপেরা, পাপারাৎসি, পিৎসা, পিয়ানো, লাসানিয়া, সোপ্রানো ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
১১,৩৭৩.
'পেট' - কোন ভাষার শব্দ?
  1. সংস্কৃত শব্দ
  2. ফারসি শব্দ
  3. দেশি শব্দ
  4. বাংলা শব্দ
ব্যাখ্যা

দেশি শব্দ - পেট
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডের নিম্নস্থ অঙ্গ, উদর, জঠর।

দেশি শব্দ:

- বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।

উদাহরণ:
- কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১,৩৭৪.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. নরপশু
  2. নাহক
  3. নামঞ্জুর
  4. নাবালক
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস:
কোনো নিয়মের অধীন নয়, অথচ বহুব্রীহি সমাস বলে গণ্য।
যেমন -
- অন্তরীপ = অন্তর্গত অপ যার,
- জীবন্মৃত = জীবিত থেকেও যে মৃত,
- দ্বীপ = দুই দিকে অপ যার,
- নরাকারের পশু যে = নরপশু,
- পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূর্খ।

অন্যদিকে,
• নঞ্‌ বহুব্রীহি = নাহক।
• নঞ্‌ তৎপুরুষ = নামঞ্জুর, নাবালক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৩৭৫.
পরপদের অর্থ প্রধান থাকে কোন সমাসে?
  1. কর্মধারয় ও তৎপুরুষ সমাসে
  2. কর্মধারয় ও দ্বন্দ্ব সমাসে
  3. তৎপুরুষ ও দ্বন্দ্ব সমাসে
  4. তৎপুরুষ ও বহুব্রীহি সমাসে
ব্যাখ্যা
• পরপদের অর্থ প্রধান থাকে - কর্মধারয় ও তৎপুরুষ সমাসে।

কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।

তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
যেমন -
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি 'কে' লোপ পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ।
- তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকার: দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, নঞ, উপপদ ও অলুক তৎপুরুষ সমাস।
 
অন্যদিকে, 
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ, উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
- বহুব্রীহি সমাসে কোন পদেরই প্রাধান্য পায় না। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৩৭৬.
অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের শেষে কোন চিহ্ন বসে?
  1. দাঁড়ি
  2. কমা
  3. সেমিকোলন
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা

দাঁড়ি বা পূর্ণছেদ:
- বাংলা ভাষায় দাঁড়ি একটি বহুল ব্যবহৃত যতিচিহ্ন। বাক্যের মধ্যে বক্তব্য সমাপ্ত হলে অথবা অর্থ সম্পূর্ণ হলে দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ বসে।

এর প্রয়োগ ক্ষেত্র হচ্ছে:
- অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- কাল একবার এসো।
- নির্দেশাত্মক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- সব সময় সত্য কথা বলবে।
- পরোক্ষ প্রশ্নের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্নের বদলে দাড়ি ব্যবহার হয়। যেমন- সীমা জানতে চাইল রীমা কবে আসবে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৩৭৭.
'ঘাট' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. সাধারণ
  2. অঘাট
  3. প্রতিঘাত
  4. হাঘাট
ব্যাখ্যা

ঘাট এর বিপরীত শব্দ অঘাট।
- ঘাট এর সমার্থক শব্দ সমস্যা:অপরাধ, অন্যায়, ত্রুটি, দোষ, কমতি, অল্পতা, ন্যূনতা।
- ঘাত এর বিপরীত শব্দ প্রতিঘাত।
- রাজসিক এর বিপরীত শব্দ সাধারণ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা হায়াত মামুদ

১১,৩৭৮.
"সাবধান না হলে বিপদে পড়বে।" - বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. সাবধান না হলে তুমি বিপদকে আমন্ত্রণ জানাবে।
  2. বিপদে পড়বে, কারণ তুমি সাবধান নও।
  3. তুমি সাবধান হও, নয়তো বিপদে পড়বে।
  4. যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন
সরল বাক্য: সাবধান না হলে বিপদে পড়বে।
জটিল বাক্য: যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৩৭৯.
"শাহিন কিংবা রনি এই কাজের জন্য দায়ী।" কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয় 
  2. পদান্বয়ী অব্যয়
  3.  অনন্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• "শাহিন কিংবা রনি এই কাজের জন্য দায়ী।" - সমুচ্চয়ী অব্যয়।

সমুচ্চয়ী অব্যয় :

- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথা: সংযোজক, বিয়োজক এবং সংকোচক।

সংযোজক অব্যয় :
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়। তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।
বিয়োজক অব্যয় :
ক. হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। বাক্যে ‘কিংবা’ বিয়োজক অব্যয়।
খ. আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। ‘কিন্তু’ অব্যয়টি দুটি বাক্যের বিয়োজক। তাছাড়া বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, বিয়োজক অব্যয়।
সংকোচক অব্যয় :
তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

অন্যদিকে,
• অনুসর্গ/ পদান্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
- যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
- অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:  মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

• অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। 
যেমন- ঝম ঝম, গুড় গুড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)

১১,৩৮০.
'বাঘ + আ = বাঘা' শব্দে 'আ' প্রত্যয়টি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বৃহদার্থে
  2. সদৃশ অর্থে
  3. অবজ্ঞার্থে
  4. সমষ্টি অর্থে
ব্যাখ্যা

বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় (আ-প্রত্যয়):
• অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
• বৃহদার্থে: ডিঙি + আ = ডিঙা (সপ্তডিঙা মধুকর)।
• সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা, হাত + আ = হাতা। এরূপ: কাল-কালা (চিকন কালা), কান-কানা।
• 'তাতে আছে' বা 'তার আছে' অর্থে: জল + আ = জলা, গোদ + আ-গোদা। এরূপ- রোগ-রোগা, চাল- চালা, লুন-লুনা>লোনা।
• সমষ্টি অর্থে: বিশ + আ = বিশা, বাইশ + আ = বাইশা (মাসের বাইশা> বাইশে)।
• স্বার্থে: জট + আ = জটা, চোখ + আ = চোখা, চাক + আ = চাকা।
• ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে: হাজির + আ = হাজিরা, চাষ + আ = চাষা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১১,৩৮১.
বাংলায় ভাষায় কয়টি কারবর্ণ রয়েছে?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৭টি
  3. গ) ৯টি
  4. ঘ) ১০টি
ব্যাখ্যা
স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কারবর্ণ বলে। স্বরবর্ণের মােট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলাে হলো:
া,্ি,ী.ু,ূ,ৃ,্ে, ৈ,াে,ৌ।
- কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই। এগুলাে ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়।
- কোনাে ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হসৃচিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি অ আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১১,৩৮২.
উৎসগত দিক দিয়ে শব্দকে কয়টি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে, উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে :
- তৎসম,
- তদ্ভব,
- দেশি ও
- বিদেশি। 

বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খন্ড) গ্রন্থ অনুসারে,
উৎসগত দিক দিয়ে শব্দকে চারটি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো :
-  সংস্কৃত : বাংলা ভাষার উচ্চারণ রীতিতে গৃহীত সংস্কৃত শব্দ—শ্রাদ্ধ, চন্দ্র।
-  প্রাকৃত : বাংলা ভাষার উচ্চারণ রীতিতে গৃহীত প্রাকৃত শব্দ—ছেরাদ্দ, চন্দ, প্রাকৃতায়িত বিভিন্ন ভাষার শব্দ।
-  বাংলা : সংস্কৃত থেকে বিবর্তিত, প্রাকৃত থেকে আগত, পরিবর্তিত সংস্কৃত, প্রাকৃত ইত্যাদি ভাষার শব্দ— সাধ, চাঁদ।
-  বিভিন্ন ভাষার শব্দ: নব্য-ভারতীয় আর্যভাষার শব্দ, বিভিন্ন অনার্য শব্দ, তুর্কি, আরবি, ফারসি, পাের্তুগিজ, ইংরেজি প্রভৃতি ভাষার শব্দ।
১১,৩৮৩.
'বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।' কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত
  2. ঘটমান অতীত
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. নিত্য অতীত
ব্যাখ্যা

• পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

উল্লেখ্য,
 • অতীত কাল:
- অতীতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হতো তাকে অতীত কাল বলে।

• অতীত কাল চার প্রকার:
- সাধারণ অতীত,
- ঘটমান অতীত,
- পুরাঘটিত অতীত 
- নিত্য অতীত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

১১,৩৮৪.
নিচের কোনটি বংশধর অর্থে ‘অ’ প্রত্যয় যোগে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় নয়?
  1. ক) যদু + অ = যাদব
  2. খ) শিব + অ = শৈব
  3. গ) রঘু + রাঘব
  4. ঘ) মনু + অ = মানব
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

- বংশধর অর্থে ‘অ’ প্রত্যয় যোগে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ঃ
যদু + অ = যাদব
রঘু + রাঘব
মনু + অ = মানব
পুত্র + অ = পৌত্র
দুহিতৃ + অ = দৌহিত্র।

- ভক্তি বা উপাসক অর্থেঃ
শিব + অ = শৈব।
শক্তি + অ = শাক্ত।
বুদ্ধ + অ = বৌদ্ধ।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১,৩৮৫.
নিচের বাক্যগুলোর মধ্যে শুদ্ধ বাক্য না কোনটি?
  1. ক) শুধু গায়ের জোরে সব হয় না
  2. খ) যার লাঠি, তার মাটি
  3. গ) বুনো ওল, বাঘা তেঁতুল
  4. ঘ) আবাল্য হতে তিনি কাব্য প্রিয়
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য -
শুধু গায়ের জোরে সব হয় না।
যার লাঠি, তার মাটি।
বুনো ওল, বাঘা তেঁতুল।
বাল্য হতেই তিনি কাব্য প্রিয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১১,৩৮৬.
কোনটি ইংরেজি ভাষার শব্দ?
  1. ডিসকাউন্ট
  2. টুর্নামেন্ট
  3. টেনিস
  4. টারবাইন
ব্যাখ্যা
• ইংরেজি শব্দ:
অ্যাপ্রন, ইউরো, কেটলি, টেলিপ্রিন্টার, টেনিস, সিল্ক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ইতালিয়ান শব্দ:
টেলিস্কোপ, ওলকপি, ডিসকাউন্ট, ম্যাজেন্টা, সনেট ইত্যাদি।

• ফরাসি শব্দ:
কার্নিশ, টারবাইন, রেস্টুরেন্ট, টেলিগ্রাম, টেলিগ্রাফ, টেলিফোন, টয়লেট, টুর্নামেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,৩৮৭.
ক্রিয়ার দ্বিতীয় অংশকে কী বলে?
  1. ধ্বনি
  2. ধাতু
  3. বর্ণ
  4. ক্রিয়াবিভক্তি
ব্যাখ্যা

• ধাতু ও ক্রিয়া বিভক্তি:
- বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে।
- সেসব ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
- অন্যকথায় ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওযা যায়:
(১) ধাতু বা ক্রিয়ামূল 
(২) ক্রিয়া বিভক্তি।
- ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়া বিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তাই ধাতু।
- যেমন 'করে' একটি ক্রিয়াপদ।
- এতে দুটো অংশ রয়েছে: কর্ + এ; এখানে 'কর্' ধাতু এবং 'এ' বিভক্তি। 
- সুতরাং 'করে' ক্রিয়ার মূল বা ধাতু হলো 'কর্' আর ক্রিয়া বিভক্তি হলো 'এ'।
- অন্যকথায় 'কর্' ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়ে 'করে' ক্রিয়াপদটি গঠিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৮সংস্করণ)।

১১,৩৮৮.
নিচের কোন বাগধারা দুটি সমার্থক অর্থ প্রকাশ করে?
  1. উড়োকথা - উড়োচিঠি
  2. কালে ভদ্রে - নমাসে ছমাসে
  3. চিনির পুতুল - চিনির বলদ
  4. কানখড়কে - কানকাটা
ব্যাখ্যা
সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত বাগধারাগুলো হলো:
• ‘কালে ভদ্রে’ বাগধারার অর্থ - কদাচিৎ।
• ‘নমাসে ছমাসে’ বাগধারার অর্থ - কদাচিৎ।

অন্যান্য বাগধারাগুলোর অর্থ হলো:
• ‘উড়ো কথা’ বাগধারার অর্থ - গুজব।
• ‘উড়ো চিঠি’ বাগধারার অর্থ - বেনামি পত্র।

• ‘কানখড়কে’ বাগধারার অর্থ - যার কান খুব সজাগ।
• ‘কানকাটা’ বাগধারার অর্থ - নিলজ্জ।

• ‘চিনির পুতুল’ বাগধারার অর্থ - শ্রমকাতুরে।
• ‘চিনির বলদ’ বাগধারার অর্থ - ভারবাহী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩৮৯.
‘অনেকের মধ্যে এক' এর সঠিক বাক্য সংকোচন হলো -
  1. ক) অনন্য
  2. খ) অসাধারণ
  3. গ) অন্যতম
  4. ঘ) শ্রেষ্ঠ
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অনেকের মধ্যে একজন - অন্যতম
দুয়ের মধ্যে একটি - অন্যতর


[উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।]
১১,৩৯০.
এখনো দেখনি তুমি? এখানে ‘নি’ কী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) না-বাচক ক্রিয়া বিশেষণ
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা

না-বাচক ক্রিয়া বিশেষণঃ
নি-
এখনো দেখ নি তুমি?
ফুল কি ফোটে নি শাখে?
পুষ্পারতি লভে নি কি ঋতুর রাজন? রাখি নি সন্ধান
রহে নি, সে ভুলে নি তো
না-
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?
রচিয়া লহ না আজও গীতি।
ভুলিতে পারি না কোন মতে।
নাই-
শুনি নাই, রাখি নি সন্ধান
নাই হল, না হোক এবারে
করে নাই অর্ঘ্য বিরুন?

১১,৩৯১.
'পেটে খেলে পিঠে সয়' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ কী?
  1. উভয় পক্ষের স্বার্থে জড়িত
  2. মুখে আড়ম্বর
  3. সুবিধে পেতে হলে কষ্ট স্বীকারে অসুবিধে হয় না
  4. সংকোচবশত মনের ইচ্ছে প্রকাশ না করা
ব্যাখ্যা
• 'পেটে খেলে পিঠে সয়' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - সুবিধে পেতে হলে কষ্ট স্বীকারে অসুবিধে হয় না

অন্যদিকে,
- 'পেটে খিদে চোখে লাজ' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - সংকোচবশত মনের ইচ্ছে প্রকাশ না করা।
- 'ফেন দিয়ে ভাত খায় গল্প মারে দই' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - মুখে আড়ম্বর।
- 'বরের ঘরের পিসি কনের ঘরের মাসি' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - উভয় পক্ষের স্বার্থে জড়িত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৩৯২.
বিভক্তিযুক্ত অনুসর্গ কোনটি?
  1. অপেক্ষা
  2. কর্তৃক
  3. সামনে
  4. অবধি
ব্যাখ্যা
• বিভক্তিযুক্ত অনুসর্গের উদাহরণ- সামনে।

--------------------------
• বিভক্তির ভিত্তিতে বাংলা ব্যাকরণের অনুসর্গ গুলোকে বিভক্তিহীন ও বিভক্তিযুক্ত এ দুই অবস্থায় দেখা যায়। যথা:

• বিভক্তিহীন অনুসর্গ:
কিছু অনুসর্গ গঠনের দিক থেকে বিভক্তিহীন। যেমন: অপেক্ষা, অবধি, কর্তৃক, ছাড়া, দ্বারা, নাগাদ, পর্যন্ত, প্রতি, বিনা, ব্যতীত, মতো। ফারসি অনুসর্গ বিভক্তিহীন : দরুন, বনাম, বরাবর, বাবদ।]

• বিভক্তিযুক্ত অনুসর্গ:
এ জাতীয় অনুসর্গের অধিকাংশই নাম অনুসর্গ '-এ' বিভক্তিযুক্ত। যেমন: আগে, পরে, কাছে, কারণে, দিকে, নিচে, পাশে, পেছনে, বাইরে, ভেতরে, মধ্যে, মাঝে, সঙ্গে, সাথে, সামনে, সম্মুখে।

- ক্রিয়া অনুসর্গগুলো '-ইয়া জাত-এ' বিভক্তিযুক্ত। যেমন-করে, চেয়ে, থেকে, দিয়ে, লেগে, হতে। কোনে কোনো ফারসি অনুসর্গ 'এ' বিভক্তি যোগে গঠিত। যেমন-বদলে, বাদে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,৩৯৩.
কোন শব্দটিতে খাঁটি বাংলা উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) আভাস
  2. খ) গরমিল
  3. গ) অজানা
  4. ঘ) বেমালুম
ব্যাখ্যা

খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘অ’ খারাপ বা নিন্দিত অর্থে, না অর্থে এবং ক্রমাগত অর্থে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- অকাজ, অপয়া, অঘাটা, অজানা, অচেনা, অদেখা, অচল, অঝর, অফুরন্ত, অঘোর ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা দ্বিতীয়পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (উন্মুক্ত)।

১১,৩৯৪.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. অহিংস - সহিংস
  2. প্রসন্ন - বিষণ্ণ
  3. দোষী - নির্দোষী
  4. নিষ্পাপ - পাপিনী
ব্যাখ্যা
• 'দোষী-নির্দোষী' এটি অশুদ্ধ।
• শুদ্ধ রূপ হবে: দোষী এর বিপরীত শব্দ - নির্দোষ।

অন্যদিকে,
- প্রসন্ন এর বিপরীত শব্দ - বিষন্ন।
- অহিংস এর বিপরীত শব্দ - সহিংস।
- নিষ্পাপ এর বিপরীত শব্দ - পাপি/পাপিনী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আাধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩৯৫.
'অমাবস্যার চাঁদ'- বাগধারাটির অর্থ কোনটি?
  1. দুর্লভ বস্তু
  2. অকালপক্ব
  3. একমাত্র অবলম্বন
  4. অত্যন্ত প্রিয়জন
ব্যাখ্যা
- 'অমাবস্যার চাঁদ'- বাগধারাটির অর্থ- দুর্ল্ভ বস্তু।
বাক্য গঠন: কি হে, চাকরি পেয়ে একেবারে অমাবস্যার চাঁদ হয়ে গেলে নাকি, তোমার তো দেখাই যায়না।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
- 'অন্ধের যষ্টি' বাগধারাটির অর্থ- একমাত্র অবলম্বন।
- 'আঁধার ঘরের মানিক' বাগধারটির অর্থ অত্যন্ত প্রিয়জন।
- 'ইঁচড়ে পাকা' বাগধারাটির অর্থ- অকালপক্ব।
- অমাবস্যার চাঁদ বাগধারার অর্থ- দুর্লভ বস্তু বা বিরল বস্তু।
- আকাশ কুসুম বাগধারার অর্থ- অবাস্তব কল্পনা।
- আষাঢ়ে গল্প বাগধারার অর্থ- আজগুবি কাহিনি।
- 'অগ্নি পরীক্ষা' বাগধারাটির অর্থ-  কঠিন পরীক্ষা।
- 'অদৃষ্টের পরিহাস' বাগধারাটির অর্থ- ভাগ্যের নিষ্ঠুরতা।

উৎস:
১) ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।
২) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।
১১,৩৯৬.
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে বাতাসের জোর কম থাকে, নিঃশ্বাস জোরে সংযোজিত হয় না সে ব্যঞ্জনগুলোকে বলে?
  1. ক) অল্পপ্রাণ
  2. খ) অধিকপ্রাণ
  3. গ) স্বল্পপ্রাণ
  4. ঘ) মহাপ্রাণ
ব্যাখ্যা

যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় নিঃশ্বাস জোরে সংযোজিত হয় বা ফুসফুস থেকে বের হওয়া বাতাসের জোর বেশি থাকে, তাকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে।
যেমন- খ, ঘ, ছ, ঝ ইত্যাদি।
আর যে ধ্বনিগুলোতে বাতাসের জোর কম থাকে, নিঃশ্বাস জোরে সংযোজিত হয় না, তাদেরকে অল্পপ্রাণ ধ্বনি বলে।
যেমন- ক, গ, চ, জ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,৩৯৭.
খাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ কোনটি?
  1. অধিকার
  2. কদর্য
  3. অপমান
  4. দুদর্শা
ব্যাখ্যা
• বাংলা ‘কদ’ উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - কদর্য

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত ‘অধি’, ‘অপ’, ‘দুর’ উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - অধিকার, অপমান, দুদর্শা।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৩৯৮.
'বিভাবরী' অর্থ -
  1. ক) আলোকস্নাতা
  2. খ) নদী
  3. গ) নারী
  4. ঘ) রাত্রি
ব্যাখ্যা

রাত্রি = নিশা, রজনী, যামিনী, নিশীথিনী, শর্বরী, বিভাবরী, ক্ষণদা।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷

১১,৩৯৯.
উপসর্গ সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. অব্যয়সূচক শব্দাংশ
  2. স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়
  3. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে
  4. শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধন করে
ব্যাখ্যা
• ''স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়'' - বাক্যটি উপসর্গ সম্পর্কে সঠিক নয়।  
------------- 
• উপসর্গ: 
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- অজানা (অ + জানা), বেতার (বে + তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ’, ‘বে’ হলাে উপসর্গ। 
- যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না, ধাতু বা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদের উপসর্গ বলা হয়।
- অন্যভাবে বলা যায়, বাংলা ভাষায় যেসব অব্যয়সূচক শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে বিভিন্ন অর্থের সৃষ্টি করে, তাকে উপসর্গ বলে।

উপসর্গ যুক্ত হলে শব্দের পাঁচ ধরণের পরিবর্তন ঘটে:
১. নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি হয়।
২. শব্দের অর্থ সম্প্রসারিত হয়।
৩. শব্দের অর্থ পরিবর্তন হয়।
৪. শব্দের অর্থ পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
৫. শব্দের অর্থের সীমা সংকুচিত হয়।
----------------- 
অন্যদিকে, 
অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রুপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করতে সাহায্য করে, তাকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গের কিছু উদাহরণ : 
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্য, পর্যন্ত ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,৪০০.
'উপনয়ন' শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. আরবি উপসর্গ
  2. খাঁটি বাংলা উপসর্গ
  3. তৎসম উপসর্গ
  4. ফারসি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।

- তৎসম উপসর্গ বিশটি। যথা-  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

• বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- সামীপ্য অর্থে - উপকূল, উপকণ্ঠ।
- সদৃশ অর্থে - উপদ্বীপ, উপবন।
- ক্ষুদ্র অর্থে - উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
- বিশেষ অর্থে - উপনয়ন, উপভোগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।