বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ১১২ / ৩৫৪ · ১১,১০১১১,২০০ / ৩৫,৭১৩

১১,১০১.
'সংহার' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ-
  1. সং + হার
  2. সম্ + হার
  3. সঙ + হার
  4. সন্+ হার
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।

যেমন:
- সম্‌ + লাপ = সংলাপ,
- সম্‌ + শয় = সংশয়,
- সম্‌ + হার = সংহার,
- স্বয়ম্‌ + বরা = স্বয়ংবরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১০২.
‘গতকল্য’ এর পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. পরদিন
  2. ঐখানে
  3. সেদিন
  4. পূর্বদিন
ব্যাখ্যা
• উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি। যেমন:

• প্রত্যক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
যেমন:
- ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

• পরােক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
যেমন:
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।- এটি পরােক্ষ উক্তি।

প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।
• উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষরূপ:
- এই - সেই।
- ইহা - তাহা।
- এ - সে।
- এখন - তখন।
- আগামীকাল - পরদিন ।
- গতকাল - আগেরদিন।
- আজ - সেদিন।
- ওখানে - ঐখানে।
- গতকল্য - পূর্বদিন।
- এখানে - সেখানে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১১,১০৩.
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. দীপ্তি
  2. অরুণ
  3. বিভা
  4. অংশু
ব্যাখ্যা



• 'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
অর্ক, আফতাব, আদিত্য, মিহির, অরুণ, রবি।

অন্যদিকে,
• 'কিরণ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
ময়ূখ, কর, প্রভা, দীপ্তি, জ্যোতি, অংশু, রশ্মি, আলো, আলোক, বিভা প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,১০৪.
‘দ্রুতগামী’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমান কর্মধারয়
  2. উপপদ তৎপুরুষ
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  4. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ:
কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়  তাকে উপপদ তৎপুরুষ বলে।
যেমন:
- দ্রুত গমন করে যে = দ্রুতগামী;
- গায়ে পড়ে যে = গায়েপড়া;
- জাদু করে যে = জাদুকর;
- শিরো ধার্য যা = শিরোধার্য;
- বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,১০৫.
'পেয়ারা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) হিন্দি
  2. খ) উর্দু
  3. গ) গ্রিস
  4. ঘ) পর্তুগীজ
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ - কপি, কাজু, কামরা, কেদারা, গামলা, গির্জা, গুদাম, চাবি, জানালা, তামাক, তােয়ালে ইত্যাদি।
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১১,১০৬.
ণ-ত্ব বিধানের নিয়মানুসারে গঠিত হয়েছে কোনটি?
  1. কঙ্কণ
  2. কৃপণ
  3. নিক্কণ
  4. বাণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধানের নিয়মানুসারে গঠিত হয়েছে - কৃপণ

ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+ণ্‌), লক্ষণ (ক্+ ষ্‌ + অ + ণ্‌)।
এরূপ - রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

স্বভাবতই 'ণ' হয় এমন কিছু শব্দ:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, কণিকা, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কল্যাণ, বণিক, কঙ্কণ, শোণিত, মণি, স্থাণু , গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু , বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তূণ, কফণি (কনুই), গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,১০৭.
'Agora' শব্দের বাংলা পরিভাষা-
  1. ক) পণ্য
  2. খ) পণ্যাগার
  3. গ) মুদি
  4. ঘ) মুদিখানা
ব্যাখ্যা
Agora
(in ancient Greece) a public open space used for assemblies and markets.
- জন সমাবেশের স্থান; বাজার।

- বাজারে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের সমাবেশ হয়।
- সে হিসেবে পণ্যাগারকে সঠিক উত্তর হিসেবে নেওয়া হয়েছে। 

উৎস: অক্সফোর্ড ডিকশনারি এবং বাংলা একাডেমি অভিধান।
১১,১০৮.
'প্রগতি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বন্দ্ব সমাস
  2. খ) নিত্য সমাস
  3. গ) প্রাদি সমাস
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
• প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি।

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যােগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযােগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন: কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ; 
এছাড়াও উপকূল, উপশহর, উপগ্রহ এসব অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।

• নিত্য সমাস: 
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে।
- শব্দের শেষে ‘মাত্র’ ‘অন্তর’ যুক্ত থাকলে সাধারণত নিত্য সমাস হয়।
যেমন : গৃহান্তর, গ্রামান্তর

• দ্বন্দ্ব সমাস: 
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন-
'সোনা-রূপা' সমস্ত পদের ব্যাসবাক্য সোনা ও রূপা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
১১,১০৯.
নিচের কোনটি 'পিল' শব্দের প্রতিশব্দ?
  1. পাণি
  2. দ্বিরদ
  3. মহিষী
  4. ভূপাল
ব্যাখ্যা

পিল শব্দের অর্থ হাতি, গজ, দ্বিরদ, করী, হস্তী, দন্তী।
- পাণি শব্দের সমার্থক শব্দ হাত, হস্ত, বাহু, ভূজ।
- ভূপতি এর সমার্থক শব্দ সমূহ: প্রভু, শাসক, মালিক, পতি, কান্ত, রাজা, নৃপতি,ভূপতি।
- মহিষী এর সমার্থক শব্দ : রাজ্ঞী, রাজপত্নী, বেগম ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০২০ সংস্করণ)

১১,১১০.
'তন্বী' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তনু + ই
  2. তনু + বী
  3. তনু + ঈ
  4. তম্ + বি
ব্যাখ্যা
• 'তন্বী' শব্দে সন্ধি বিচ্ছেদ- 'তনু + ঈ'।

• সন্ধির নিয়ম: 
উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার ও ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ-এর স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন-
তনু + ঈ = তন্বী,
সু + অল্প = স্বল্প,
সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,১১১.
'ননীর পুতুল' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. নষ্ট হওয়া
  2. ছিপছিপে
  3. শ্রমবিমুখ
  4. নিতান্ত অলস
ব্যাখ্যা
• 'ননীর পুতুল' বাগ্‌ধারার অর্থ- 'শ্রমবিমুখ'।
বাক্যগঠন: ছেলেটাকে একেবারে ননীর পুতুল বানিয়ে রেখেছে, কোনো কাজ করতে দেয় না ৷

অন্যদিকে, 
• 'ডকে ওঠা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ- নষ্ট হওয়া।
• ‘তালপাতার সেপাই' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - ছিপছিপে।
• 'গোঁফ খেজুরে' বাগ্‌ধারাটির অর্থ- নিতান্ত অলস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিঙ্গাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১১২.
বিদেশি উৎস থেকে আগত অব্যয় -
  1. ক) যথা
  2. খ) সদা
  3. গ) শাবাশ
  4. ঘ) অর্থাৎ
ব্যাখ্যা

ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়। বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে--
বাংলা অব্যয়- আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।
তৎসম অব্যয়- যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, বৈদাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি।
বিদেশি অব্যয়- আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

১১,১১৩.
'আড়মোড়া' শব্দে 'আড়' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশিষ্ট
  2. বক্র
  3. আধা
  4. সমূহ
ব্যাখ্যা

'আড়' বাংলা উপসর্গের ব্যবহার:
'বক্র' অর্থে - আড়চোখে, আড়নয়নে। 
'আধা, প্রায়' অর্থে - আড়ক্ষ্যাপা, আড়মোড়া, আড়পাগলা। 
'বিশিষ্ট' অর্থে - আড়কোলা (পাথালিকোলা), আড়গড়া (আস্তাবর), আড়কাঠি। 

বাংলা উপসর্গ:
 - বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১১,১১৪.
‘উপাচার্য’ শব্দটি কোন উপসর্গ?
  1. ক) খাঁটি বাংলা
  2. খ) সংস্কৃত বা তৎসম
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) বিদেশি
ব্যাখ্যা
‘উপাচার্য’ শব্দটি সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ‘উপ’ যোগে গঠিত।

•বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

 সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

•  খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গঃ আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গঃ কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গঃ হর।
- ইংরেজি উপসর্গঃ হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,১১৫.
চন্দ্রবিন্দু (ঁ) এর ব্যবহার দ্বারা বুঝায়--
  1. ক) ধ্বন্যাত্মকতা
  2. খ) অনুনাসিকতা
  3. গ) মৌলিকতা
  4. ঘ) ব্যঞ্জনা
ব্যাখ্যা
অনুনাসিক স্বরধ্বনি
মৌলিক স্বরধ্বনিগুলাে উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে।
- কিন্তু ধ্বনিগুলাে উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়। এর ফলে ধ্বনিগুলাে অনুনাসিক হয়ে যায়।
- স্বরধ্বনির এই অনুনাসিকতা বােঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

মৌলিক স্বরধ্বনি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।
অনুনাসিক স্বরধ্বনি: [ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [আঁ, [ওঁ], [উঁ]
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১১,১১৬.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. ক) জাত
  2. খ) গৈরিক
  3. গ) গাম্ভীর্য
  4. ঘ) উদ্ধত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
• জাত (বিশেষণ)- জন্মেছে এরূপ (নবজাত), উৎপন্ন; সঞ্জাত; উদ্ভূত।

• গাম্ভীর্য' (বিশেষ্য) গম্ভীর ভাব; গম্ভীরতা।

• গৈরিক  (বিশেষ্য)- গিরিমাটি।
তবে, গৈরিক এর বিশেষণ বাচক শব্দের অর্থ- পর্বতে উৎপন্ন।  

• উদ্ধত (বিশেষণ)- দুর্বিনীত; ধৃষ্ট; স্পর্ধিত, দুরন্ত; দুর্দান্ত; উগ্র।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১১,১১৭.
শুদ্ধ বানান নয় কোনটি?
  1. ক) সংশপ্তক
  2. খ) শুশ্রূষা
  3. গ) মুহুর্মুহু
  4. ঘ) মন্ত্রীসভা
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি অনুযায়ী কতিপয় শুদ্ধ বানান হলো-
• শিরশ্ছেদ,
• তিতিক্ষা,
• সংশপ্তক,
• সমীচীন (সংগত, উপযুক্ত, উত্তম),
• মুহুর্মুহু,
• মনীষী,
• শুশ্রূষা,
• ত্রিভুজ,
• পাষাণ,
• মরীচিকা,
• মুমূর্ষু,
• কৃষিজীবী,
• বিকিরণ,
• দধীচি,
• মন্ত্রিসভা,
• মন্ত্রিপরিষদ,
• নিশীথিনী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি।

১১,১১৮.
কোন দ্বিরুক্তিটিতে আধিক্য বোঝায়?
  1. থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে।
  2. লোকটি হাড়ে হাড়ে শিক্ষা পেয়েছে।
  3. ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো।
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• লোকটি হাড়ে হাড়ে শিক্ষা পেয়েছে। - বাক্যে দ্বিরুক্তির আধিক্য বোঝায়।

দ্বিরুক্ত শব্দ:
- বাংলা ভাষায় কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এগুলোকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- কোন শব্দ বা পদ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হয়ে কোন বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
যেমন-
- ‘আমার জ্বর জ্বর লাগছে।’ এখানে ‘জ্বর জ্বর’ দ্বিরুক্ত শব্দটি ঠিক ‘জ্বর’ অর্থ প্রকাশ করছে না। জ্বরের ভাব প্রকাশ করছে।

অন্যদিকে,
- থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে। (কালের বিস্তার)। 
- ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো। (সতর্কতা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,১১৯.
'Practice makes a man perfect' এর সঠিক বঙ্গানুবাদ কোনটি?
  1. কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি।
  2. গাইতে গাইতে গায়েন, বাজাতে বাজাতে বায়েন।
  3. পরিশ্রমই সৌভাগ্যের মূল বা প্রসূতি।
  4. অভ্যাসই স্বভাবে দাঁড়ায়।
ব্যাখ্যা

'Practice makes a man perfect' এর সঠিক বঙ্গানুবাদ - গাইতে গাইতে গায়েন, বাজাতে বাজাতে বায়েন।

অন্যদিকে,
- To get rid of one who has served the purpose এর সঠিক বঙ্গানুবাদ - কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি।
- Diligence is the mother of good luck. এর সঠিক বঙ্গানুবাদ- পরিশ্রমই সৌভাগ্যের মূল বা প্রসূতি।
- Habit is second nature এর বাংলা অনুবাদ: অভ্যাসই স্বভাবে দাঁড়ায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,১২০.
কোন বানানটি শুদ্ধ ?
  1. ক) মাষ্টার
  2. খ) পোশাক
  3. গ) জিনিষ
  4. ঘ) পোষ্ট অফিস
ব্যাখ্যা
• 'ষ-ত্ব' বিধান অনুযায়ী - 
- কেবল তৎসম শব্দেই  'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য। 
- বিদেশি শব্দে 'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য নয়। 
- 'পোষ্ট' ও 'মাষ্টার' শব্দটি ইংরেজি এবং 'পোশাক' ফারসি ভাষার শব্দ, তাই এতে 'ষ'-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হবে না।
- সঠিক বানান - পোস্ট, মাস্টার ও পোশাক।  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১১,১২১.
নিচের কোন বাক্যে পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বুঝেসুঝে কাজ করো।
  2. আমি জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
  3. টং টং করে বেজেই চলেছে।
  4. সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে যাচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• আমি জ্বর জ্বর অনুভব করছি।- বাক্যে ব্যবহৃত জ্বরজ্বর শব্দটি পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব শব্দের উদাহরণ।

অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের:
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

⇒ পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে,
বুঝেসুঝে অনুকার দ্বিত্বশব্দের উদাহরণ।
টং টং ও সাঁ সাঁ ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বশব্দের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১১,১২২.
ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে গঠিত হয়-
  1. নামপদ
  2. ক্রিয়াপদ
  3. বিশেষ্য পদ
  4. বিশেষণ পদ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ামুল বা ধাতুর সাথে বিভক্তি যুক্ত হয়ে গঠিত হয় - ক্রিয়াপদ।

• ক্রিয়া:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
 
• ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন -
পড়্‌ + ই = পড়ি,
পড়্‌ + এ = পড়ে,
পড়্‌ + ছে = পড়ছে,
পড়্‌ + বে = পড়বে 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১১,১২৩.
"সে অত্যন্ত পরিশ্রমী" – এখানে "অত্যন্ত" কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষণীয় বিশেষণ
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন:

• নাম-বিশেষনের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

• ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।

• ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।
এখানে "খুব" হলো ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ, কারণ এটি "দ্রুত" ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করছে।

উপরিউক্ত বাক্যটিতে,
"পরিশ্রমী" হলো একটি নাম-বিশেষণ, যা কোনো ব্যক্তির গুণ প্রকাশ করে।
আবার, "অত্যন্ত" শব্দটি "পরিশ্রমী" বিশেষণটিকে বিশেষিত করছে, অর্থাৎ এটি বিশেষণকে আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করছে।
যেহেতু, যেসব শব্দ বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাদের বিশেষণীয় বিশেষণ বলে। সুতরাং, এ বাক্যে 'অত্যন্ত' বিশেষণের বিশেষণ।

অন্য অপশন:
(ক) বিশেষ্য → "অত্যন্ত" বিশেষ্য নয়, কারণ এটি কোনো বস্তু বা ব্যক্তি নির্দেশ করে না।
(খ) ক্রিয়া → "অত্যন্ত" কোনো কাজ বা কর্ম বোঝাচ্ছে না, তাই এটি ক্রিয়া নয়।
 (ঘ) সর্বনাম → এটি কোনো ব্যক্তি বা বস্তু নির্দেশ করছে না, তাই সর্বনামও নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,১২৪.
নিচের কোনটি অনুনাসিক ধ্বনি?
  1. ক) ঞ
  2. খ) ম
  3. গ) ণ
  4. ঘ) সবকটি
ব্যাখ্যা
ঙ, ঞ, ণ, ন, ম— এগুলোর উচ্চারণকালে মুখবিবরের বাতাস নাক দিয়ে বের হয়ে বলে এগুলোকে নাসিক্য বা অনুনাসিকধ্বনি বলে৷
উৎসঃ বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি৷
১১,১২৫.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অনুকূল্য
  2. আনুকূল্য
  3. আনূকুল্য
  4. অনূকূল্য
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- আনুকূল্য। 
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয়- [অনুকূল + য]
অর্থ:
- পোষকতা; সহায়তা, সাহায্য। 
- দাক্ষিণ্য; অনুগ্রহ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১১,১২৬.
নিচের কোনটি উষ্ম ধ্বনি?
  1. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• উষ্ম ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।

- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) - এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে।
- কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।

১১,১২৭.
'ডুমুরের ফুল' এর সমার্থক বাগ্‌ধারা কোনটি?
  1. আঁধার ঘরের মানিক
  2. রাশভারি
  3. অমাবস্যার চাঁদ
  4. আষাঢ়ে গল্প
ব্যাখ্যা
• 'ডুমুরের ফুল' এর সমার্থক বাগধারা অমাবস্যার চাঁদ। 
- ডুমুরের ফুল ও অমাবস্যার চাঁদ বাগধারার অর্থ দুর্লভ বস্তু বা বিরল বস্তু।

• অন্যদিকে,
- 'আঁধার ঘরের মানিক' বাগধারটির অর্থ অত্যন্ত প্রিয়জন।
- ‘রাশভারি' বাগধারাটির অর্থ 'গম্ভীর'। 
- 'আষাঢ়ে গল্প' বাগধারার অর্থ- আজগুবি কাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।
১১,১২৮.
নিচের কোনটি বাক্যের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. অভিপ্রায়
  2. আসত্তি
  3. যোগ্যতা
  4. আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
• বাক্যের বৈশিষ্ট্য নয় - অভিপ্রায়

ভাষার বিচারে একটি আদর্শ সার্থক বাক্যে ৩টি গুণ থাকা আবশ্যক।
যথা-
১. আকাঙ্ক্ষা,
২. আসত্তি এবং
৩. যোগ্যতা।

আকাঙ্ক্ষা: 
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
- উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি।
- বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

আসত্তি: 
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি। 
উদাহরণ: নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়।
- পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদ্গুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

যোগ্যতা: 
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
উদাহরণ: বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।
- বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না।
- তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- ‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’। 

উৎস:
১) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১২৯.
'দুষ্কৃতী' মূল শব্দের বিপরীত অর্থ -
  1. সুকৃতী
  2. সুকীর্তি
  3. সুকৃতি
  4. সুকীর্তী
ব্যাখ্যা
'দুষ্কৃতী' মূল শব্দের বিপরীত অর্থ - সুকৃতী।
- অপশনের বাকি বানান গুলি ভুল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর
১১,১৩০.
ধ্বনি উৎপাদনের মূল উপকরণ কয়টি?
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

- ধ্বনি উৎপাদনের মূল উপকরণ দুইটি।
- যথাঃ জিহ্বা এবং ওষ্ঠ বা ঠোঁট।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,১৩১.
নিচের কোনটি সাধারণ অতীত?
  1. পড়ছিলাম
  2. গেল
  3. উঠতাম
  4. পৌঁছেছিলাম
ব্যাখ্যা
সাধারণ অতীত:
- অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন -
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল

অন্যদিকে,
ঘটমান অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন -
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম

অন্যদিকে,
পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম। 

নিত্য অতীত:
- অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন -
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১,১৩২.
‘দ্বিতীয় জন’ - এখানে 'দ্বিতীয়' কোন ধরনের সংখ্যাবাচক শব্দ?
  1. তারিখ পূরণবাচক
  2. ভগ্নাংশ পূরণবাচক
  3. ক্রমবাচক শব্দ
  4. সাধারণ পূরণবাচক শব্দ
ব্যাখ্যা
• 'দ্বিতীয়' শব্দটি সাধারণ পূরণবাচক শব্দ।

সংখ্যাবাচক শব্দ মূলত দুই প্রকার।
যথা -
- ক্রমবাচক - এক, দুই, তিন, চার...আট ইত্যাদি।
- পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি।

পূরণবাচক শব্দ আবার ৩ প্রকার।
যথা -
- সাধারণ পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ... নবম ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক - পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক - আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১,১৩৩.
‘পাগলামী’ শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ করলে পাওয়া যায়-
  1. পাগল + লামি
  2. পাগল + মি
  3. পাগল + আমি
  4. পাগলা + মি
ব্যাখ্যা
• ‘পাগলামি’ শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ করলে পাওয়া যায় - পাগল + আমি

স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনি মিলে যে সন্ধি হয় তাকে স্বরসন্ধি বলে।

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন -
- অ + অ = আ ⇒ নর + অধম = নরাধম।
এরূপ - হিমাচল, প্রাণাধিক, হস্তান্তর, হিতাহিত ইত্যাদি।
- অ + আ = আ ⇒ পাগল + আমি = পাগলামি
এরূপ - হিমালয়, দেবালয়, রত্নাকর, সিংহাসন ইত্যাদি।
- আ + অ = আ ⇒ যথা + অর্থ = যথার্থ।
এরূপ - আশাতীত, কথামৃত, মহার্ঘ ইত্যাদি।
- আ + আ = আ ⇒ বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়।
এরূপ - কারাগার, মহাশয়, সদানন্দ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,১৩৪.
অশুদ্ধ বানান -
  1. কৌতূহল
  2. প্রোজ্জল
  3. স্বায়ত্তশাসন
  4. মন্ত্রিসভা
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - প্রোজ্জল
- শুদ্ধ বানান: 'প্রোজ্জ্বল'।

• 'প্রোজ্জ্বল' শব্দের অর্থ:
- বিশেষভাবে উজ্জ্বল।

অন্যদিকে,
- কৌতূহল, স্বায়ত্তশাসন এবং মন্ত্রিসভা - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১,১৩৫.
‘দাবা’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. হিন্দি
  4. গ্রিক
ব্যাখ্যা
• ‘দাবা’ হিন্দি ভাষার শব্দ।

⇒ এরূপ হিন্দি শব্দ হলো:
দেখভাল, দুলকি, দিলরুবা, দাবা, দাপট, দাঙ্গা, দহলা, দশেরা, দরদাম।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,১৩৬.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. স্বায়ত্ত্বশাসন
  2. স্বায়ত্তশাসন
  3. স্বায়ত্বশাসন
  4. সায়ত্ত্বশাসন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'স্বায়ত্তশাসন'- বানানটি সঠিক।
 
• 'স্বায়ত্তশাসন' (বিশেষ্য) শব্দটির অর্থ- 
- স্বজাতীয়দের দ্বারা পরিচালিত শাসন; স্বদেশবাসী কর্তৃক রাজ্যশাসন; স্বশাসন।
যেমন:
- ইউনিয়ন বোর্ড গ্রামের স্বাস্থ্য শিক্ষা যাতায়াত ব্যবস্থা প্রভৃতির উন্নতির তত্ত্বাবধানার্থে গ্রামবাসীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত স্বায়ত্তশাসনমূলক প্রতিষ্ঠান বিশেষ।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১১,১৩৭.
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. সমাস 
  2. সন্ধি
  3. প্রত্যয় 
  4. বাচ্য 
ব্যাখ্যা

• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত। ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়সমূহ হলো-
- ধ্বনি,
- বর্ণ,
- ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি,
- উচ্চারণের স্থান,
- ধ্বনি পরিবর্তন ও লোপ,
- ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
- সন্ধি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• সমাস ও প্রত্যয় রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। 
• বাচ্য বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১১,১৩৮.
'নিন্দনীয়' শব্দের অর্থ কোনটি?
  1. ক) নিন্দার অযোগ্য
  2. খ) নিন্দার যোগ্য
  3. গ) নন্দিত
  4. ঘ) নিন্দিত
ব্যাখ্যা
'অনিন্দ্য' শব্দের অর্থ নিন্দার অযোগ্য। ‘নিন্দনীয়’ শব্দের অর্থ নিন্দার যোগ্য।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান
১১,১৩৯.
[ঋ] বর্ণের উচ্চারণ-
  1. [রি]-এর মতো
  2. [রা]-এর মতো
  3. [রে]-এর মতো
  4. [রৃ]-এর মতো
ব্যাখ্যা
• [ঋ] বর্ণের উচ্চারণ:
ঋ বর্ণের উচ্চারণ [রি]-এর মতো। 

যেমন:
- ঋতু [রিতু],
- ঋণ [রিন্],
- কৃষক [ক্রিশক্],
- দৃশ্য [দ্রিশৃশো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১১,১৪০.
মনের মানুষ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. প্রাদি সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হুয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
মনের মানুষ অলীক ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
অলীক ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসঃ
ঘোড়ার ডিম, মাটির মানুষ, হাতের পাঁচ, মামার বাড়ি, সাপের পা, মনের মানুষ, কলের গান ইত্যাদি।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি

১১,১৪১.
উচ্চারণের সময়ে মুখবিবর উন্মুক্ত থাকে বলে "আ" কে কী ধরনের ধ্বনি বলে? 
  1. হ্রস্বধ্বনি 
  2. সম্মুখ স্বরধ্বনি 
  3. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি 
  4. বিবৃত স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা

• স্বরধ্বনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা- 
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - [ই], [উ]।
২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি - [এ], [ও]।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - [অ্যা], [অ]।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - [আ]।
- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা- 
১. সংবৃত - [ই], [উ]।
২. অর্ধ-সংবৃত - [এ], [ও]।
৩. অর্ধ-বিবৃত - [অ্যা], [অ]।
৪. বিবৃত - [আ]।

- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১১,১৪২.
'এখন বৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতি হবে।' -বাক্যে অসমাপিকা ক্রিয়াটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. কার্যপরম্পরতা বোঝাতে
  2. সম্ভাব্যতা অর্থে
  3. সাপেক্ষতা বোঝাতে
  4. বিধিনিষেধ বোঝাতে
ব্যাখ্যা
'ইলে' > 'লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার কয়েকটি ব্যবহার-
• বিধিনিষেধ বোঝাতে- এখানে ময়লা ফেললে শাস্তি হবে 
• প্রতিফল বোঝাতে- ইট মারলে পিটুনি খেতেই হয়।
• সাপেক্ষতা বোঝাতে --তুমি গেলে আমিও যাব। 
• সম্ভাব্যতা অর্থে - 'এখন বৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতি হবে।'
- প্রশ্ন বা বিস্ময় জ্ঞাপনে -- একবার 'মরলে' কি কেউ ফেরে?
- বিধিনির্দেশ অর্থে- এখানে প্রচারপত্র লাগালে ফৌজদারিতে সোপর্দ হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ। 
১১,১৪৩.
'Obligatory' শব্দটির পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. শপথ গ্রহণ
  2. বাধিত করা
  3. বাধ্যতামূলক
  4. অনুগত
ব্যাখ্যা
• 'Obligatory' শব্দটির পারিভাষিক শব্দ বাধ্যতামূলক।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:
- Act - আইন, 
- Addendum- পরিশিষ্ট, সংযোজন, 
- Adjournment - মুলতবি, 
- Ad-hoc - তদর্থক, 
- Adjustment - সমন্বয়ন, 
- Aeronautics - বিমানবিদ্যা, 
- Aesthetics - নন্দনতত্ত্ব, 
- Affidavit - হলফনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৪৪.
"ক্লিপ >কিলিপ" - এখানে কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. সম্প্রকর্ষ
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. সমীভবন
  4. বিষমীভবন
ব্যাখ্যা
• "ক্লিপ >কিলিপ" - বিপ্রকর্ষ/মধ্য স্বরাগম এর উদাহরণ।
--------------------
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে, একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন-
- অ- রত্ন > রতন, ধর্ম >ধরম, স্বপ্ন >স্বপন, হর্ষ >হরষ ইত্যাদি।
- ই- প্রীতি >পিরীতি, ক্লিপ >কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ- মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক> তুরুক, ভূ >ভুরু ইত্যাদি।
- এ গ্রাম >গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ >সেরেফ ইত্যাদি।
- ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ >মুরোগ >মোরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১১,১৪৫.
'এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।'-বাক্যটি কোন ধরনের বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. বর্তমান অনুজ্ঞা
  2. ঘটমান বর্তমান কাল
  3. পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  4. সাধারণ বর্তমান কাল
ব্যাখ্যা
• বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া দ্বারা বর্তমানের কোনো কাজ করা, অভ্যাস বা চিরসত্য বোঝায় তাকে বর্তমান কাল বলে। বর্তমান কালের চারটি রূপ। যথা:
১. সাধারণ বর্তমান কাল।
২. ঘটমান বর্তমান কাল।
৩. পুরাঘটিত বর্তমান কাল।
৪. বর্তমান অনুজ্ঞা।

সাধারণ বর্তমান কাল: যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তৃণা স্কুলে যায়।
- বর্ণ বই পড়ে।

• ঘটমান বর্তমান কাল: যে ক্রিয়ার কাল শেষ হয়নি, এখনও চলছে এরূপ অর্থ বোঝালে ঘটমান বর্তমান হয়।
যেমন:
- ছন্দা গান গাইছে।
- রাফিন ও রিজন বল খেলছে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অর্থে ঘটমান বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- চিন্তা করো না, কালই আসছি।

• পুরাঘটিত বর্তমান কাল: যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।

• বর্তমান অনুজ্ঞা: বর্তমানে কোনো ক্রিয়া সম্পাদনের আদেশ, উপদেশ, আশীবার্দ, অভিশাপ, অনুরোধ, প্রার্থনা প্রভৃতি বোঝানোর জন্য বর্তমান অনুজ্ঞা ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সকলের মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য বলো।
- আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করুন।
- আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দান করুক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১,১৪৬.
কোনটি 'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ?
  1. অরণ্য
  2. সরোজ
  3. পাদপ
  4. শিখরী
ব্যাখ্যা

'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অরণ্য, জঙ্গল, কানন, বনানী, বনবাদাড়, কুঞ্জ, কান্তার, বিপিন, অটবী।

অন্যদিকে,
'পদ্ম' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, কুবলয়, শতদল, অরবিন্দ, রাজীব, নলিনী, সরোজ

'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গাছ, পাদপ, দ্রুম, বনানী, তরু, বিটপী, শাখী, পণী, শৃঙ্গী, শিখরী, মহীরুহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১,১৪৭.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী [ই] এর অবস্থান-
  1. ক) উচ্চ স্বরধ্বনি
  2. খ) উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি
  3. গ) নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি
  4. ঘ) নিম্ন স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।

উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে;
নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
১১,১৪৮.
কোনটি রূপক কর্মধারয় সাধিত শব্দ?
  1. উপকণ্ঠ
  2. বিদ্যাধন
  3. খোশমেজাজ
  4. রাজপথ
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ-
- ভক্তি রূপ সুধা = ভক্তিসুধা;
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

অন্যদিকে,
• কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ (অব্যয়ীভাব সমাস)।
• খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ (বহুব্রীহি সমাস)।
• পথের রাজা = রাজপথ (তৎপুরুষ সমাস)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,১৪৯.
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় শনাক্ত করুন।
  1. ক) ইন্‌
  2. খ) আই
  3. গ) ইয়া
  4. ঘ) আনি
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় - অনট্‌, ঘ্যণ, ইন্‌, ণিন, ইন্‌। বাংলা কৃৎ প্রত্যয় - অন্তঃ, আই, আও, ইয়া, আল, আনি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১১,১৫০.
নিমন্ত্রণ না করা সত্বেও যিনি উপস্থিত এর এক কথায় প্রকাশ-
  1. ক) নীরদ
  2. খ) হীনমন্য
  3. গ) নবোঢ়া
  4. ঘ) অনাহুত
ব্যাখ্যা
নিমন্ত্রণ না করা সত্বেও যিনি উপস্থিত এর এক কথায় প্রকাশ- 'অনাহুত'

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ-
'নৌকা চালায় যে' এর এক কথায় প্রকাশ– নাবিক।
'নৌ বা নৌকা চলাচলের যোগ্য' এর এক কথায় প্রকাশ– নাব্য।
'নিজেকে হীন মনে করে যে' এর এক কথায় প্রকাশ– হীনমন্য
'নিজেকে হত্যা করে যে' এর এক কথায় প্রকাশ– আত্মঘাতী।
'নিজেকে সামলাতে পারে না যে' এর এক কথায় প্রকাশ– অসংযমী।
'নতুন বিবাহিত স্ত্রী' এর এক কথায় প্রকাশ– নবোঢ়া।
'নেই রদ (দাঁত) যার' এর এক কথায় প্রকাশ– নীরদ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১১,১৫১.
‘তেজস্বী’ শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. তেজস + ঈ
  2. তেজঃ + বিন্‌
  3. তেজস + বী
  4. তেজঃ + ই
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য;
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক;
- কুসুম + ইত = কুসুমিত;
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন;
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,১৫২.
পর্তুগিজ ভাষা হতে আগত কোনটি?
  1. বোতাম
  2. কারিগর
  3. রোকড়
  4. মুচলেকা
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'বোতাম' শব্দটি 'পর্তুগিজ' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- জামা পোশাক ব্যাগ প্রভৃতির দুই পাট একত্রবদ্ধ করার চাকতিবিশেষ।


অন্যদিকে, 
- 'কারিগর' ফারসি ভাষার শব্দ।
- 'রোকড়' হিন্দি ভাষার শব্দ। 
- 'মুচলেকা' তুর্কি ভাষার শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১,১৫৩.
সংস্কৃত ‘ক্রী’ ধাতুযোগে সাধিত পদ কোনটি?
  1. অঙ্কিত
  2. ক্রয়
  3. কর্তব্য
  4. কর্তিত
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ‘ক্রী’ ধাতুযোগে সাধিত পদ- ক্রয়।

--------------------------------
• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ধাতু - সাধিত পদ:
কৃ - কুত, কর্তব্য।
কৃৎ - কর্তন, কর্তিত।
কথ্ - কথ্য, কথিত।
অঙ্ক্ - অঙ্কন, অঙ্কিত।
ক্রী - ক্রয়, ক্রীত।
কিন্ - কেনা, কেনাকাটা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,১৫৪.
জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দুই বার উচ্চারণ হয় তাকে কী বলে?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
  3. বিষমীভবন
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
দ্বিত্ব ব্যাঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দুই বার উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যাঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা;
- সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিষমীভবন:
- দুটি সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলা হয়।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল ইত্যাদি।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:

- শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়।
- একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধােবা > ধােপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়।
- এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন:
- বউদিদি> বউদি,
- বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৫৫.
নিচের কোন শব্দটি অশুদ্ধ?
  1. ভূতুড়ে
  2. অদ্ভূত
  3. পুঞ্জীভূত
  4. ভূতপূর্ব
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান- অদ্ভূত। 
- শুদ্ধ রূপ- অদ্ভুত। 



• বানানের নিয়ম:
অদ্ভুত শব্দটি ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে ভূত বানানে ঊ-কার হবে।
যেমন:
- ভূতুড়ে,
- উদ্ভূত,
- ভূতপূর্ব,
- পুঞ্জীভূত,
- ঘনীভূত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১,১৫৬.
'নদ্যম্বু' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নদী + অম্বু
  2. নদ + দম্বু
  3. নদী + ম্বু
  4. নদ + অম্বু
ব্যাখ্যা
• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বাঈ স্থানে 'য' বা য(্য) ফলা হয়।
- য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
 যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত।
- ইতি + আদি = ইত্যাদি।
- অতি + উক্তি = অত্যুক্তি।
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ।
- মসী + আধার = মস্যাধার।
- প্রতি + এক = প্রত্যেক।
- নদী + অম্বু = নদ্যম্বু

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,১৫৭.
'কর্তব্য' এর বিশেষ্য রূপ কোনটি?
  1. ক) কাজ
  2. খ) ক্রিয়া
  3. গ) কার্য
  4. ঘ) করণীয়
ব্যাখ্যা
কর্তব্য (বিশেষণ) 
অর্থ: করণীয়, উচিত। 


কার্য  (বিশেষ্য) 
অর্থ: 
- কাজকর্ম 
- প্রয়োজন, নিমিত্ত
- উপকার, ফল
- শাস্ত্র বিহিত ক্রিয়াকর্ম ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১১,১৫৮.
স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. অনুষঙ্গ
  2. চক্ষুম্মান
  3. উৎকৃষ্ট
  4. ষড়যন্ত্র
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুম্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত  > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি। ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১১,১৫৯.
'নীরদ' শব্দের অর্থ কী?
  1. ধূলিশূন্য
  2. দরদহীন
  3. সমুদ্র
  4. মেঘ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'নীরদ' শব্দের অর্থ — মেঘ, যা জল ধারণ করে।

আবার,
নীরদ শব্দের অন্য একটি অর্থ রয়েছে- দন্তহীন।

অন্যদিকে,
'নীরজ' শব্দের অর্থ — ধূলিশূন্য।
'নীরধি' শব্দের অর্থ — সমুদ্র। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,১৬০.
মধ্যস্বর লোপের উদাহরণ কোনটি?
  1. আজি > আজ
  2. গামোছা > গামছা
  3. সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
  4. আশা > আশ
ব্যাখ্যা
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন:
- বসতি > বস্‌তি,
- জানালা > জন্‌লা ইত্যাদি।

• আদিস্বরলোপ (Aphesis): অলাবু > লাবু > লাউ; উদ্ধার > উধার > ধার।
• মধ্যস্বর লোপ (Syncope): অগুরু > অগ্ৰু; সুবর্ণ > স্বর্ণ, গামোছা > গামছা।
•  অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা > আশ; আজি > আজ; চারি > চার (বাংলা); সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৬১.
'সূর্য' এর প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. সপ্তাংশু
  2. কৃশানু
  3. দিননাথ
  4. ক্ষণপ্রভা
ব্যাখ্যা

• 'সূর্য' এর প্রতিশব্দ দিননাথ ।

• 'সূর্য' এর অন্যান্য প্রতিশব্দ:
রবি, সবিতা, দিবাকর, দিনমনি, দিননাথ, দিবাবসু, অর্ক, ভানু, তপন, ভাস্কর, মার্তণ্ড, অংশু, প্রভাকর, কিরণমালী, অরুণ, মিহির,  দিনপতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'অগ্নি’ শব্দের কিছু প্রতিশব্দ হলো:
আগুন, বহ্নি, বৈশ্বানর, দহন, সর্বভুক, শিখা, হোমাগ্নি, কৃশানু, সর্বশুচি, সপ্তাংশু, বিভাবসু।

• বিদ্যুৎ শব্দের প্রতিশব্দ:
বিজলি, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, চিকুর, চপলা, চঞ্চল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,১৬২.
'অনুশীলন' শব্দটি কোন উপসর্গ দিয়ে গঠিত?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. ফারসি
  3. সংস্কৃত
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা
- 'অনুশীলন' শব্দের 'অনু' উপসর্গটি একটি তৎসম উপসর্গ।
 
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- যেসব উপসর্গ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব উপসর্গকে বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০ টি।
 যেমন:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ। 
 
• 'অনু' উপসর্গ টির ব্যব্যহার:
- পশ্চাত অর্থে = অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
- সাদৃশ্য অর্থে = অনুবাদ, অনুরুপ, অনুকার।
- পৌনঃপুন অর্থে = অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
- সঙ্গে অর্থে = অনুকূল, অনুকম্পা।
 
উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,১৬৩.
বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণ কতটি বর্গে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) তিন
  2. খ) চার
  3. গ) পাঁচ
  4. ঘ) ছয়
ব্যাখ্যা

বাংলায় বর্গীয় ধ্বনি ২৫ টি।
ক থেকে ম পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শধ্বনিকে উচ্চারণের দিক থেকে পাঁচটি গুচ্ছে বা বর্গে ভাগ করা হয়েছে।
প্রতি গুচ্ছের প্রথম ধ্বনিটির নামানুসারে সে গুচ্ছের সবগুলো ধ্বনিকে বলা হয় ঐ বর্গীয় ধ্বনি।

যথাঃ ক বর্গীয় বর্ণঃ ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
চ বর্গীয় বর্ণঃ চ, ছ, জ, ঝ, ঞ।
ট বর্গীয় বর্ণঃ ট, ঠ, ড, ঢ, ণ।
ত বর্গীয় বর্ণঃ ত, থ, দ, ধ, ন।
প বর্গীয় বর্ণঃ প, ফ, ব, ভ, ম।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,১৬৪.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. মন্ত্রীপরিসদ
  2. মন্ত্রিপরিষদ
  3. মন্ত্রিপরিসদ
  4. মন্ত্রীপরিষদ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - মন্ত্রিপরিষদ
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য গঠিত সভা, cabinet।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১,১৬৫.
নিচের কোনটি সাধু ভাষার শব্দ?
  1. বুনো
  2. জুতা
  3. তুলো
  4. মাথা
ব্যাখ্যা
- সাধু ভাষার শব্দ 'জুতা' এর চলিত রূপ - জুতো।

এরূপ আরো কয়েকটি:
- মস্তক (বিশেষ্য) এর চলিত রূপ - মাথা।
- বন্য (বিশেষণ) এর চলিত রূপ - বুনো।
- তুলা (বিশেষ্য) এর চলিত রূপ - তুলো।
- শুষ্ক/শুকনা (বিশেষণ) এর চলিত রূপ - শুকনো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
১১,১৬৬.
'উনপাঁজুরে' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. বিশিষ্ট ব্যক্তি
  2. অপদার্থ
  3. গুরুত্বহীন লোক
  4. ব্যক্তিত্বহীন
ব্যাখ্যা

• 'উনপাঁজুরে' বাগ্‌ধারার অর্থ - দুর্বল ও ব্যক্তিত্বহীন। 

অন্যদিকে, 
• 'কেউকেটা' অর্থ - বিশিষ্ট ব্যক্তি।
• 'ঊনপাঁজরে' অর্থ - অপদার্থ।
• 'উলুখাগড়া' অর্থ- গুরুত্বহীন লোক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,১৬৭.
‘এ পোশাকটি মানায় নি।' এই বাক্যটি— উদাহরণ ।
  1. ক) কর্মবাচ্যের
  2. খ) ভাববাচ্যের
  3. গ) কর্মকর্তৃবাচ্যের
  4. ঘ) কর্তৃবাচ্যের
ব্যাখ্যা
- ‘এ পোশাকটি মানায় নি।' এই বাক্যটি— হলো কর্মকর্তৃবাচ্যের অন্তর্গত।

কর্মকর্তৃবাচ্যে
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন-
কাজটা ভালো দেখায় না।
বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯সংস্করণ)।
১১,১৬৮.
বিচ্ছেদ
  1. বিঃ + ছেদ
  2. বিষ + ছেদ
  3. বি + চ্ছেদ
  4. বিঃ + চ্ছেদ
  5. বি + ছেদ
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম (স্বর + ব্যঞ্জনে সন্ধি):
পূর্বপদের শেষে যদি স্বরধ্বনি থাকে এবং পরপদের প্রথম ধ্বনি ছ হয় তবে দুয়ের সন্ধিতে ছ-ধ্বনি চ্ছ হয়ে যায়। স্বরধ্বনি চ্ছ-এর সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
• প্র + ছদ = প্রচ্ছদ;
• মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি;
• কথা + ছলে = কথাচ্ছলে;
• পরি + চ্ছে = পরিচ্ছেদ;
• বৃক্ষ + ছায়া = বৃক্ষচ্ছায়া;
• এক + ছত্র = একচ্ছত্র;
• বি + ছেদ = বিচ্ছেদ;
• বি + ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন;
• তরু + ছায়া = তরুচ্ছায়া।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১,১৬৯.
অর্থতত্ত্বে আলোচনা করা হয় -
  1. বিশেষণ
  2. শব্দ ও তার উপাদান
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. বিপরীত শব্দ
ব্যাখ্যা
অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১১,১৭০.
যে নারী শিশু সন্তানসহ বিধবা-
  1. ক) বালপুত্রিকা
  2. খ) বারাঙ্গনা
  3. গ) খাণ্ডানী
  4. ঘ) অসূর্যম্পশ্যা
ব্যাখ্যা
বালপুত্রিকা - যে নারী শিশু সন্তানসহ বিধবা। অসূর্যম্পশ্যা - যে নারী সূর্যকে দেখে না৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১১,১৭১.
নীচের কোনটি 'খন্ড কপাল' বাগধারার বিপরীতার্থক?
  1. চাঁদ কপালে
  2. ঘর ভাঙ্গা
  3. গঙ্গা পাওয়া
  4. ডামাডোল
ব্যাখ্যা
• 'খন্ড কপাল' বাগধারাটির অর্থ - দুর্ভাগ্য।
- এর বিপরীতার্থক অর্থ প্রকাশ করে - চাঁদ কপালে - সৌভাগ্যের বিষয়।

- অন্যান্য অপশন গুলো হলো - 

• ঘর ভাঙ্গা বাগধারাটির অর্থ - ঐক্য নষ্ট করা।
• গঙ্গা পাওয়া বাগধারাটির অর্থ - মারা যাওয়া।
• ডামাডোল বাগধারাটির অর্থ - গোলযোগ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর
১১,১৭২.
'অনিল' শব্দের অর্থ কি?
  1. যা নীল নয়
  2. একজন মানুষের নাম
  3. কোকিল
  4. বাতাস
ব্যাখ্যা
• অনিল (বিশেষ্য পদ),
- তৎসম বা সংস্কৃত।
অর্থ:
 -  বায়ু;
- বাতাস।

'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুৎ, প্রভঞ্জন।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,১৭৩.
Fund এর বাংলা পরিভাষা কী?
  1. ক) ত্রাণ
  2. খ) উৎসব
  3. গ) তহবিল
  4. ঘ) ক ও খ দুইটিই
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি প্রণীত অভিগম্য অভিধান অনুসারে - Fund - তহবিল।
১১,১৭৪.
Tenancy শব্দের বাংলা পরিভাষা-
  1. তাবু টানানো
  2. বাড়ির মালিক
  3. স্বাধীনতা
  4. প্রজাস্বত্ব
ব্যাখ্যা

• Tenancy শব্দের বাংলা পরিভাষা- প্রজাস্বত্ব।

গুরুত্বপূর্ণ: পারিভাষিক শব্দ:
- Tenacious - সংসক্ত।
- Tenacity - সংসক্তি।
- Tenancy - প্রজাস্বত্ব।
- Tenancy Act - প্রজাস্বত্ব আইন।
- Tenancy law - প্রজাস্বত্ব আইন।
- Tenant - প্রজা; ভাড়াটে।
- Tenat-at-will-  ইচ্ছাধীন প্রজা।
- Tenant right - প্রজাস্বত্ব।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা- বাংলা একাডেমি।

১১,১৭৫.
‘প্রবীণ’ শব্দটির প্রকৃত অর্থ হওয়ার কথা—
  1. অভিজ্ঞ যিনি
  2. বিদ্বান ব্যক্তি
  3. প্রকৃষ্টভাবে বীণা বাজাতে পারেন যিনি
  4. অনেক বয়স হয়েছে যার
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।

যেমন:
- হস্তী - হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা।
- প্রবীণ - শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন • বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ – শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে 'সংবাদ'। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে 'মিষ্টান্ন বিশেষ'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,১৭৬.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
  1. আমার কথাই প্রমাণিত হয়েছে।
  2. নীরোগ লোক যথার্থ সুখী।
  3. আকণ্ঠ পর্যন্ত ভোজন করলাম।
  4. সকল আলেম আজ উপস্থিত।
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত অপশনগুলোতে 'আকণ্ঠ পর্যন্ত ভোজন করলাম।' বাক্যটি সঠিক নয়।
- এর শুদ্ধ বাক্য হবেঃ 'আকণ্ঠ ভোজন করলাম।' অথবা 'কণ্ঠ পর্যন্ত ভোজন করলাম।'
১১,১৭৭.
'কেতাদুরস্ত' বাগধারাটির অর্থ -
  1. গোড়ায় গলদ
  2. মূর্খ
  3. অপদার্থ
  4. পরিপাটি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'কেতাদুরস্ত' বাগধারাটির অর্থ — পরিপাটি। 
বাক্য গঠন: চালচলন আর পোশাকে সে খুবই কেতাদুরস্ত লোক।

অন্যদিকে, 
• কেঁচোগণ্ডূষ - পুনরায় আরম্ভ করা, 
• গোবর গণেশ - মূর্খ, 
• আমরা কাঠের ঢেকি - অপদার্থ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,১৭৮.
দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. ড্যাশ
  2. কমা
  3. দাঁড়ি
  4. কোলন
ব্যাখ্যা

ড্যাশ (-):
- সাধারণত দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে এবং ব্যাখ্যাযোগ্য বাক্যাংশের আগে-পরে ড্যাশ ব্যবহৃত হয়। 

যেমন: 
- বাংলাদেশ দল জয়লাভ করেছে – বিজয়ের আনন্দে দেশের জনগণ উচ্ছ্বসিত। 
- ঐ লোকটি – যিনি গতকাল এসেছিলেন – তিনি আমার মামা।

অন্যদিকে,
কোলন (:) - বাক্যের প্রথম অংশের কোনো উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা এবং উদাহরণ উপস্থাপনের কাজে কোলন ব্যবহৃত হয়।কমা: - কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
দাঁড়ি - দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১,১৭৯.
ঘােষ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনবর্ণ কোনটি?
  1. ক) ড
  2. খ) ঝ
  3. গ) ঠ
  4. ঘ) ন
ব্যাখ্যা
ঘােষ ব্যঞ্জন
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি। যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, , ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি। যেমন – প, ব, ত, দ, স, ট, , ঢ, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।  

সুতরাং ঘােষ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনবর্ণ 'ড'।

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১১,১৮০.
'ভুঁইফোঁড়' বাগ্‌ধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. বিশিষ্ট ব্যক্তি
  2. অর্বাচীন
  3. সামান্য ব্যাক্তি
  4. তোষামুদে
ব্যাখ্যা
• 'ভুঁইফোঁড়' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অর্বাচীন/ অপরিণত বুদ্ধিসম্পন্ন।

অন্যদিকে,
'চুনোপুঁটি' অর্থ - সামান্য ব্যাক্তি।
'কেউকেটা' অর্থ - বিশিষ্ট ব্যক্তি
‘ঢাকের কাঠি’ অর্থ - তোষামুদে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,১৮১.
নিচের কোনটি অনুসর্গ নয়?
  1. ক) মধ্যে
  2. খ) হতে
  3. গ) অবধি
  4. ঘ) নিম
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অনুসর্গ হলোঃ প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, হতে, থেকে, চেয়ে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
• কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম প্রভৃতি ফারসি উপসর্গ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,১৮২.
'বিপচ্ছায়া' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কী?
  1. বিপচ্ছ + ছায়া
  2. বিপদা + ছায়া
  3. বিপদ + ছায়া
  4. বিপদ + চ্ছয়া
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
- ত্‌ ও দ্‌ এর পর চ্‌ ও ছ্‌-  থাকলে ত্‌ ও দ্‌ স্থানে চ্‌ হয়। 
যেমন:
- উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ। 
- বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া। 
- বিপদ + চয় = বিপচ্চয়। 
- সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা। 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১,১৮৩.
'শিহাব বাড়িটি তৈরি করেছে।' কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তাবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
- যেমন:
- তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
- এবার বাঁশিটি বাজাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১১,১৮৪.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. সমূল
  2. পৌরুষ
  3. দ্বৈততা
  4. স্বাগত
ব্যাখ্যা
• 'দ্বৈততা' - 'অপপ্রয়োগ'।
এটি প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ।
-এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: দ্বৈত।

অন্যদিকে,
- সমূল,
- স্বাগত,
- পৌরুষ,
→ উপরিউক্ত শব্দগুলো প্রয়োগ শুদ্ধ।

• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।

• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,১৮৫.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অভীভুত
  2. অভিভুত
  3. অভীভূত
  4. অভিভূতো
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর কোনোটিই নয়।

• শুদ্ধ বানান - অভিভূত
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ: 
- বিহ্বল।
- ভাবাবিষ্ট।
- পরাভূত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১,১৮৬.
'পঞ্চায়েত' কোন প্রকার বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. জাতিবাচক বিশেষ্য
  2. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  3. ভাববাচক বিশেষ্য
  4. নামবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন-
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন-
- গমন, দর্শন, ভোজন, শয়ন, দেখা, শোনা।

নামবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোন ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান, বা গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নামবাচক বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন-
- নজরুল, ঢাকা, মেঘনা, হিমালয়, গীতাঞ্জলি, ফাল্গুন, বিজু, বৈসাবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১১,১৮৭.
তারিখবাচক শব্দ কোনটি?
  1. উনিশ
  2. একুশে
  3. ১১
  4. নবম
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
তারিখ পূরণবাচক:
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......একুশে (২১শে), ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ - উনিশ এবং ১১।
- সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ - নবম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১১,১৮৮.
অর্থ অনুসারে 'পাঞ্জাবি' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দের অর্থ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে গঠিত হলেও মূল অর্থ প্রকাশ না করে অন্য কোনো অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।

ব্যুৎপত্তি বিশ্লেষণ করে যে শব্দের অর্থ বোঝা যায় না তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন- হস্তী শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: হস্ত + ইন (যার হাত আছে) কিন্তু শব্দটি হাতি নামক একটি বিশেষ প্রাণীকে বোঝাচ্ছে। 

এমনিভাবে, 
• কুশ + অল- (কুশ আহরণকরে যে) কুশল কিন্তু এর ব্যবহারিক অর্থ নিপুণ বা ভালো। 
• বাঁশ + ই- বাঁশি (বাঁশ দিয়ে তৈরি সব বস্তুকে না বুঝিয়ে একটি বিশেষ বাদ্যযন্ত্রকে বোঝাচ্ছে)।
• পাঞ্জাবি- বিশেষ ধরণের জামা; অথচ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ পাঞ্জাবের লোক। 
• সন্দেশ - সংবাদ না বুঝিয়ে বিশেষ ধরনের। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৮৯.
'বুদ্ধিমান' এর বিশেষ্য পদ কোনটি?
  1. বৃদ্ধিত্ব
  2. বুদ্ধিমত্তা
  3. বৃদ্ধি
  4. চাতুর্য
ব্যাখ্যা
বুদ্ধিমত্তা (বিশেষ্য) : 
- ধীশক্তি,
- বুদ্ধিশালিতা, 
- বিজ্ঞতা, 
- মনীষা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি। 
১১,১৯০.
"অনুপ্রবেশ" শব্দটিতে কয়টি উপসর্গ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
• 'অনুপ্রবেশ' শব্দটিতে — ২টি উপসর্গ রয়েছে।

• 'অনুপ্রবেশ' শব্দের উপসর্গ বিশ্লেষণ:
- অনু + প্র।
-------------------- 
উপসর্গ ৩ প্রকার।
যথা-
বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা: 
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ। 

• বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,১৯১.
‘বাতাসে চরে যে’ এক কথায় বলে-
  1. কপোত
  2. খচর
  3. খপোত
  4. খ-ধূপ
ব্যাখ্যা
• ‘বাতাসে চরে যে’ এক কথায় বলে - কপোত।
- ‘কপোত’ শব্দের অর্থ: পায়রা, কবুতর ও শস্যভোজী ডিম্বাজ ছোট পাখি বিশেষ।

অন্যদিকে,
• ‘আকাশে চরে যে’ এক কথায় বলে - খেচর/খচর।
• ‘আকাশে ওড়ে যে বাজি’ এক কথায় বলে - খ-ধূপ।
• ‘খপোত’ শব্দের অর্থ: বাতাসে ভর করে চলে এমন সম আয়তনের বাতাসের চেয়ে ভারী যন্ত্রচালিত যাত্রী বা পন্যবাহী পোত; বিমান, উড়োজাহাজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১,১৯২.
'অসুখ' শব্দটি -
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. উপপদ তৎপুরুষ
  3. নঞ তৎপুরুষ
  4. নঞ বহুবীহি
ব্যাখ্যা
নঞ তৎপুরুষ সমাস:
নাবাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন -
নয় এক = অনেক, 
নয় সুখ = অসুখ,
নয় উচিত = অনুচিত,
নেই বিশ্বাস = অবিশ্বাস,
নাই হায়া = বেহায়া প্রভৃতি।

• এছাড়া সংস্কৃত নঞ অব্যয়ের বাংলা প্রতিরূপ রূপে অ, অন, আনা, গর, বে, বি, ন, না, নি ইত্যাদি এসেছে।
যেমন -
নাই আহার = অনাহার,
নয় জোড় = বিজোড়,
নয় অতি দূর = নাতিদূর ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,১৯৩.
'হাতে-কলমে' কোন সমাস?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব
  2. একশেষ দ্বন্দ্ব
  3. সমার্থক দ্বন্দ্ব
  4. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
অলুক দ্বন্দ্ব:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- দুধে-ভাতে,
- জলে-স্থলে,
- দেশে-বিদেশে,
- হাতে-কলমে।

অন্যদিকে,
একশেষ দ্বন্দ্ব:
- একশেষ শব্দের অর্থ চূড়ান্ত।
- একশেষ শব্দটি দ্বন্দ্ব সমাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- কিছু সমস্ত পদ আছে যেগুলোর সমস্যমান পদগুলো চূড়ান্তভাবে সমস্তপদে মিশে আছে সেসব সমস্তপদকে একশেষ দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন :
- তুমি, সে ও আমি = আমরা।

সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:
- হাট ও বাজার = হাটবাজার।

বিরোধার্থক শব্দযোগে:
- দা-কুমড়া,
- অহি-নকুল।

উৎস:
১)বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১,১৯৪.
"ব্রাহ্মণ" শব্দের 'হ্ম' যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. হ্‌ + ষ 
  2. ক্‌ + ষ 
  3. হ্‌ + ম 
  4. ম্‌ + হ 
ব্যাখ্যা

• "ব্রাহ্মণ" শব্দের 'হ্ম' যুক্তবর্ণটি 'হ্‌ + ম' বর্ণ যোগে গঠিত। 

-----------------
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যে সকল যুক্তবর্ণ দেখলে সহজে চেনা যায় তাদের কে স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ বলে। যে সকল যুক্তবর্ণ দেখলে সহজে চেনা যায় না তাদের কে অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ বলে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ক্ + স = ক্স,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- হ্+ ম = হ্ম,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ষ + ণ= ষ্ণ,
- ক্ + ষ + ম = ক্ষ্ম। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম ও দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।

১১,১৯৫.
"গরিবানা" শব্দটিতে ‘আনা’ কোন ধরনের প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. খাঁটি বাংলা তদ্ধিত
  2. বিদেশি তদ্ধিত
  3. সংস্কৃত তদ্ধিত
  4. সংস্কৃত কৃৎ
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব বিদেশি প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

কতগুলো বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় হলো -
• চি (তবলচি),
• আনা (গরিবানা),
• আনি (বাবুয়ানি),
• ওয়ান (গাড়োয়ান),
• খানা (ছাপাখানা),
• গর (কারিগর),
• দার (চৌকিদার),
• বাজ (চালবাজ),
• সই (মানানসই) ইত্যাদি৷

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
১১,১৯৬.
'শশাঙ্ক' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ-
  1. ক) শশ+ অঙ্ক
  2. খ) শস+ অঙ্ক
  3. গ) শশা+ অঙ্ক
  4. ঘ) শসা+ অঙ্ক
ব্যাখ্যা
অ-কার কিংবা আ-কারেএ পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়। যেমনঃ নর + অধম = নরাধম, শশ + অঙ্ক = শশাঙ্ক ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ (নবম- দশম শ্রেণি) এবং ভাষা শিক্ষা - হায়াৎ মামুদ
১১,১৯৭.
কোনটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়?
  1. মিশুক
  2. নিন্দক
  3. চড়ক
  4. মিথ্যুক
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় - মিথ্যুক = মিথ্যা + উক। এটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন -
→ √চড়্‌ + ক = চড়ক।
→ √নিন্দ্‌ + অক = নিন্দক।
→ √মিশ + উক = মিশুক।
উপরের উদাহরণগুলোতে, 'ক', 'অক' এবং 'উক' হলো কৃৎ-প্রত্যয় এবং 'চড়ক', 'নিন্দক' এবং 'পাঠক' হলো কৃদন্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১,১৯৮.
বাংলা ভাষায় প্রথম ব্যাকরণ রচনা করেন কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) যতীমোহন বাগচী
  3. গ) ব্রাসি হ্যালহেড
  4. ঘ) রাজা রামমোহন
ব্যাখ্যা
- ১৮২৬ সালে রাজা রামমোহন রায় ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন।
- এরপর ১৮৩৩ সালে স্কুল বুক সোসাইটির জন্য ওই গ্রন্থ বাংলা রচনা করেন।
- সেই হিসেবে এই গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ
- এর নাম দেন 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'

 রাজা রামমোহন রায় 

- উপমহাদেশে জাতীয় চেতনার উন্মেষেও রামমোহন রায়ের প্রভূত অবদান ছিল।
- ১৮২৮ সালে রামমোহন ব্রাহ্মসভা (পরবর্তীসময়ে ব্রাহ্মসমাজ) যা বস্ত্তত হিন্দুধর্মের নতুন একটি শাখা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তিনি ১৮২১ সালে রামমোহন সম্বাদ কৌমুদী নামে বাংলা সংবাদপত্র ও ১৮২২ সালে মিরাত-উল-আখবার নামে ফারসি সংবাদপত্র প্রকাশ করেন।

উৎস
: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১৯৯.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) আশীষ
  2. খ) আশিস
  3. গ) আসিশ
  4. ঘ) আষিশ
ব্যাখ্যা
আশিস [আশিশ্]
- (বিশেষ্য)
- আশীর্বাদ; শুভেচ্ছা; দোয়া ।
{সংস্কৃত. আ+√শাস্‌+ক্কিপ্‌}

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, একাডেমি অভিধান।
১১,২০০.
'ছকড়া নকড়া' বাগ্‌ধারাটির অর্থ-
  1. কৌশলে কার্যোদ্ধার
  2. সস্তা দর
  3. অপব্যয়
  4. নষ্ট করা
ব্যাখ্যা
• 'ছকড়া নকড়া' বাগ্‌ধারাটির অর্থ- 'সস্তা দর'।
বাক্য গঠন: ছকড়া নকড়া দামে পুরনো গাড়িটা বিক্রি করে দিলাম।

অন্যদিকে,
- 'ধরি মাছ না ছুঁই পানি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - কৌশলে কার্যোদ্ধার।
- ‘নয় ছয়’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অপব্যয়।
- 'ছিনিমিনি খেলা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - নষ্ট করা।

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।