বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Evidence Act, 1872

মোট প্রশ্ন১,৬৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Evidence Act, 1872

PrepBank · পাতা / ১৭ · ৮০১৯০০ / ১,৬৬৪

৮০১.
কোন ক্ষেত্রে আদালতের মনে হতে পারে যে, দলিলে সংযুক্ত ডিজিটাল স্বাক্ষরটি স্বাক্ষরকারীর ইচ্ছাকৃত ছিল?
  1. সাধারণ ডিজিটাল স্বাক্ষর
  2. নিরাপদ ডিজিটাল স্বাক্ষর
  3. অস্বাক্ষরিত দলিল
  4. অজানা উৎসের দলিল
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৮৫B(২)(ক) অনুযায়ী, যদি কোনো Secure Digital Signature (নিরাপদ ডিজিটাল স্বাক্ষর) কোনো ডিজিটাল রেকর্ডে যুক্ত থাকে, তাহলে: "The Court shall presume, unless the contrary is proved, that (a) the secure digital signature is affixed by the subscriber with the intention of signing or approving the digital record."
অর্থাৎ, আদালত ধারণা (Presume) করবে যে: স্বাক্ষরকারী নিজেই ইচ্ছাকৃতভাবে স্বাক্ষর করেছেন বা অনুমোদন দিয়েছেন।

- অর্থাৎ ধারা ৮৫খ (2)(a) অনুসারে, যদি এটি নিরাপদ ডিজিটাল স্বাক্ষর হয়, তবে আদালত ধরে নেবে যে স্বাক্ষরকারী তা নিজের ইচ্ছায় যুক্ত করেছে।

৮০২.
ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ সম্পর্কে অনুমান এটি সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার বিধান?
  1. ৮৫ক
  2. ৮৫খ
  3. ৮৫গ
  4. ৮৮ক
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৮৫গ ধারার বিধান: ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ সম্পর্কে অনুমান:- বিপরীত কিছু প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত আদালত অবশ্যই অনুমান করবে যে, গ্রাহকের যে সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই করা হয়নি তা ব্যতীত ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের উল্লেখিত তথ্য সঠিক, যদি সনদটি গ্রাহক দ্বারা গৃহিত হয়।
---------------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 85C. Presumption as to Digital Signature Certificates:
- The Court shall presume, unless contrary is proved, that the information listed in a Digital Signature Certificate is correct, except for information specified as subscriber information which has not been verified, if the certificate was accepted by the subscriber.
৮০৩.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার বিধান অনুযায়ী, আদালতের নিকট যে কোনো সত্য যা আদালত স্বীকার করতে পারে, তা প্রমাণ করতে হবে না?
  1. ৫৪ ধারার
  2. ৫৬ ধারার
  3. ৫৭ ধারার
  4. ৫৮ ধারার
ব্যাখ্যা

→ সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ধারায় বলা হয়েছে যে, আদালত যে সমস্ত তথ্য বিচারিকভাবে অবগত বা স্বীকার করে থাকে, সেই তথ্যগুলো প্রমাণ করতে হবে না। এর মানে হলো, আদালত যে তথ্যগুলি সাধারণভাবে জানে, সেগুলোর জন্য প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।

সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ধারা:
- যে কোন সত্য, যা আদালত বিচারিকভাবে অবগত বা স্বীকার করে, তা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
------------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section: 56. Fact judicially noticeable need not be proved:
- No fact of which the Court will take judicial notice need be proved

৮০৪.
নিম্নোক্ত কোন বিষয়ে সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে অভিযোগ করা যায় না?
  1. সাক্ষী বিশ্বাসের অযোগ্য
  2. সাক্ষী ঘুষ গ্রহণ করেছে
  3. সাক্ষী দুশ্চরিত্রা
  4. সাক্ষীর সাক্ষ্য অসামঞ্জস্যপূর্ণ
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইন (সংশোধন), ২০২২ এর ১৫৫ ধারা অনুযায়ী বর্তমানে সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে অভিযোগ করা যায় তিনটি উপায়ে। যথা:-
(i) সাক্ষী যে বিশ্বাসের অযোগ্য তা ব্যক্তিদের সাক্ষ্য দ্বারা;
(ii) সাক্ষীকে যে ঘুষ দেওয়া হয়েছে বা সাক্ষী যে ঘুষের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে, অথবা অন্যকোন দুর্নীতিমূলক প্রলোভনের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে তা প্রমাণ করে;
(iii) বর্তমান সাক্ষের সাথে পূর্বে প্রদত্ত সাক্ষের অসামঞ্জসতা প্রমাণ করে।

♦অর্থাৎ সাক্ষী দুশ্চরিত্রা এই বিষয়ে সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে অভিযোগ করা যায় না।
৮০৫.
সাক্ষ্য আইনের ৩১ ধারার বিধান মতে, কোন বিষয়ে স্বীকৃতি সেই বিষয়ের -
  1. চূড়ান্ত প্রমাণ
  2. চূড়ান্ত প্রমাণ নয়
  3. অপরিবর্তনীয় নথি
  4. একমাত্র সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৩১ ধারার বিধান: স্বীকৃতি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, কিন্তু প্রতিবন্ধক হতে পারে: 
কোন বিষয়ে স্বীকৃতি সেই বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। কিন্তু এই আইনে অতঃপর বর্ণিত বিধানসমূহ অনুসারে এগুলি প্রতিবন্ধক হিসেবে কার্যকর হতে পারে।
 
Section 31: Admissions not conclusive proof, but may stop:
Admissions are not conclusive proof of the matters admitted but they may operate as estoppels under the provisions hereinafter contained.
৮০৬.
সাক্ষ্য আইনের বিধান অনুসারে 'Estoppel' নীতি কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. ঘটনাভিত্তিক প্রশ্নে
  2. আইনগত প্রশ্নে
  3. দেওয়ানি মামলায়
  4. উল্লিখিত সবক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১৫ এর অধীনে Estoppel (স্বকার্যজনিত প্রতিবন্ধকতা) শুধুমাত্র ঘটনাভিত্তিক প্রশ্নে (question of fact) প্রযোজ্য। এটি আইনগত প্রশ্নে (question of law) কখনোই প্রযোজ্য হয় না।
- অর্থাৎ Estoppel কেবল ঘটনা বিষয়ক প্রশ্নে প্রযোজ্য; আইনগত অধিকার বা বিধান বিষয়ে এটি প্রযোজ্য নয়।

- Estoppel (স্বকার্যজনিত প্রতিবন্ধকতা) হলো এমন একটি নীতি, যা কাউকে তার পূর্বে প্রদত্ত ঘোষণা, কাজ বা কার্যবিরতির পরিপন্থী কথা বলার বা দাবি করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যদি সেই পূর্ববর্তী আচরণ বা কথার ভিত্তিতে অন্য ব্যক্তি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে।

⇒ তবে এই নীতির প্রযোজ্যতা কিছু নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ:
- ঘটনাভিত্তিক প্রশ্নে (Questions of fact): যেমন, কে কী বলেছিল, কে কী কাজ করেছিল, কোনো জমি কার দখলে ছিল ইত্যাদি।
- দেওয়ানি মামলায় (Civil cases): বিশেষত অধিকার ও মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে।

⇒ আইনগত প্রশ্নে (Questions of law):
- যদি কোনো ব্যক্তি কোনো আইনগত অধিকার সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা দেয় বা স্বীকার করে, তবুও Estoppel এর মাধ্যমে সে তার প্রকৃত আইনি অধিকার হারাবে না।
- অর্থাৎ আইন বিষয়ে ভুল বক্তব্য বা বিশ্বাস কাউকে তার আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে না।

উদাহরণ:
যদি কেউ ভুল করে বলে যে তার কোনো জমির উপর মালিকানা নেই, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে আইন অনুযায়ী মালিক হয়, তাহলে পরে সে তার মালিকানা দাবি করলেও Estoppel তার বিরুদ্ধে কার্যকর হবে না — কারণ এটি আইনের প্রশ্ন।

৮০৭.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯৯ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি একটি দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তন করার সমঝোতা প্রদর্শন করতে পারে?
  1. আইনজীবী
  2. শুধুমাত্র দলিলের পক্ষ
  3. দলিলের কোন পক্ষের প্রতিনিধিগণ
  4. তৃতীয় পক্ষ যারা দলিলের শর্তকে প্রভাবিত করে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯৯ দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তন করার সমঝোতা প্রদর্শন কারী:
- যেসব ব্যক্তি একটি দলিলের পক্ষ নন, অথবা তাদের স্বার্থের প্রতিনিধিরা, তারা কোনো সমসাময়িক সমঝোতার প্রমাণ দিতে পারেন যা দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তন করে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯৯ অনুযায়ী, দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তন করার কোনো সমঝোতা প্রদর্শন করতে পারে এমন ব্যক্তি হলো তৃতীয় পক্ষ, যারা দলিলের শর্তকে প্রভাবিত করতে পারে এবং তাদের স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি দলিলের পক্ষ না, কিংবা তাদের প্রতিনিধিরা, তারা সেই দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তন করার সমঝোতা প্রদর্শন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো সমঝোতা দুটি পক্ষের মধ্যে হয় এবং এটি অন্য কোনো পক্ষের স্বার্থকে প্রভাবিত করে, তবে সে তৃতীয় পক্ষও এটি প্রমাণ করতে পারে।

⇒ উদাহরণ: যদি A এবং B কোনো লিখিত চুক্তি করেন এবং তাদের মধ্যে মৌখিকভাবে কিছু শর্ত পরিবর্তিত হয়, তবে C, যদি তার স্বার্থ প্রভাবিত হয়, সে এই পরিবর্তনের প্রমাণ দিতে পারে।
------------- 
⇒ The Evidence Act, 1872- Section- 99. Who may give evidence of agreement varying terms of document:
Persons who are not parties to a document, or their representatives in interest, may give evidence of any facts tending to show a contemporaneous agreement varying the terms of the document.

Illustration:
A and B make a contract in writing that B shall sell A certain cotton, to be paid for on delivery. At the same time they make an oral agreement that three months' credit shall be given to A. This could not be shown as between A and B, but it might be shown by C, if it affected his interests.
৮০৮.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদের পর সর্বোচ্চ কত দিনের মধ্যে জন্মানো সন্তানকে বৈধ ধরা যেতে পারে?
  1. ১৮০ দিন
  2. ২৮০ দিন
  3. ৩৮০ দিন
  4. ৪৮০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১২- বিবাহকালে জন্ম শিশুর বৈধতার চূড়ান্ত প্রমাণ:
যে কোনো ব্যক্তি তার মাতার বৈধ বিবাহ চলাকালীন জন্মগ্রহণ করেছে, অথবা বিবাহবিচ্ছেদের ২৮০ দিনের (প্রায় দুইশত আশি দিন) মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছে, এবং মাতা এই সময়ের মধ্যে বিবাহিত ছিলেন না, সেই ব্যক্তিকে সেই বিবাহিত পিতার বৈধ সন্তান হিসেবে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ধরা হবে, যদি কেউ প্রমাণ করতে না পারে যে, সন্তান জন্ম নেওয়ার সময় পিতামাতার মধ্যে কোনো মিলনের সুযোগ ছিল না, অর্থাৎ সন্তানটি জন্মগ্রহণের সময় মাতার পিতার সাথে কোনো শারীরিক সংস্পর্শ সম্ভব হয়নি।

সহজভাবে বলতে গেলে:
বৈধ বিবাহ চলাকালীন জন্ম → সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ।
বিবাহবিচ্ছেদের পর ২৮০ দিনের মধ্যে জন্ম → সন্তানও বৈধ, যদি মাতা নতুন কোনো বিবাহ না করেছে।

৮০৯.
প্রাথমিক সাক্ষের বিধান সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ৫৩ ধারায়
  2. ৫৫ ধারায়
  3. ৬২ ধারায়
  4. ৫৯ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬২ শুরু হয়েছে প্রাথমিক সাক্ষ্যের সংজ্ঞায়নের মাধ্যমে। ‘Primary Evidence means the document itself produced for the inspection of the court.
♦ প্রাথমিক সাক্ষ্য বলতে বোঝায়, এমন মূল দলিল; যা পরিদর্শনের [inspection) জন্য আদালতের নিকট উপস্থাপন করা হয়েছে।" একবাক্যে বললে: স্বয়ং মূল দলিলই হচ্ছে প্রাথমিক সাক্ষ্য। অর্থাৎ 'মূল দলিল আদালতের নিকট উপস্থাপন করাকে প্রাথমিক সাক্ষ্য বলে।
৮১০.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৫৬ অনুসারে, আদালত কী পরিস্থিতিতে সাক্ষীকে অন্যান্য পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারে?
  1. যখন তা অপ্রাসঙ্গিক
  2. যখন সাক্ষী উপস্থিত থাকে
  3. যখন সাক্ষী অস্বীকার করে
  4. যখন তা সমর্থনমূলক হতে পারে
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৫৬ অনুযায়ী, যদি কোনো সাক্ষী গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রাসঙ্গিক বিষয়ের বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন, তবে তার সাক্ষ্যকে সমর্থন করার জন্য তাকে সেই সময় বা স্থান সংক্রান্ত অন্যান্য পর্যবেক্ষণ সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে— শর্ত হলো, আদালতের মত অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ যদি প্রমাণ করা হয়, তাহলে তা সাক্ষীর মূল সাক্ষ্যকে সমর্থন করে।
- মূল বিষয়: ধারা ১৫৬ সাক্ষীর সাক্ষ্যকে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ করার উপায় হিসেবে অনুসঙ্গ তথ্য প্রমাণের সুযোগ দেয়।

⇒অর্থাৎ ধারা ১৫৬ অনুযায়ী:  আদালত সাক্ষীকে এমন কোনো বিষয় সম্পর্কেও প্রশ্ন করতে পারে— যা সাক্ষীর মূল সাক্ষ্যকে সমর্থন করে, যদিও সেটি ঘটনার মূল বিষয়ের বাইরে।
- তাই সঠিক উত্তর: ঘ) যখন তা সমর্থনমূলক হতে পারে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৫৬ – প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সাক্ষ্য সমর্থনের জন্য প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের অনুমোদন:
- যখন কোনো সাক্ষী, যার সাক্ষ্য সমর্থন করার উদ্দেশ্য রয়েছে, কোনো প্রাসঙ্গিক বিষয়ের বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করে, তখন আদালতের মতে যদি মনে হয় যে, সে সময় বা স্থানের আশপাশে সে যে অন্যান্য পরিস্থিতি লক্ষ্য করেছে তা প্রমাণিত হলে তার প্রদত্ত সাক্ষ্যকে সমর্থন করবে, তাহলে তাকে সেই অন্যান্য পরিস্থিতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে।

⇒ The Evidence Act, 1872 Section-156. Questions tending to corroborate evidence of relevant fact admissible:
 When a witness whom it is intended to corroborate gives evidence of any relevant fact, he may be questioned as to any other circumstances which he observed at or near to the time or place at which such relevant fact occurred, if the Court is of opinion that such circumstances, if proved, would corroborate the testimony of the witness as to the relevant fact which he testifies. 
Illustration:
A, an accomplice, gives an account of a robbery in which he took part. He describes various incidents unconnected with the robbery which occurred on his way to and from the place where it was committed. 
Independent evidence of these facts may be given in order to corroborate his evidence as to the robbery itself.

৮১১.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৩-এ 'আদালত' বলতে কাকে বোঝায়?
  1. বিচারক
  2. ম্যাজিস্ট্রেট
  3. সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) উল্লিখিত সবগুলো।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৩-এ 'আদালত' শব্দের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, "আদালত" বলতে বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্যান্য ব্যক্তি যারা আইনত সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষমতা রাখেন, তাদেরকে বোঝায়। এর মধ্যে বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট এবং সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি সকলেই অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া, সালিস (Arbitrator) আদালতের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই, সঠিক উত্তর হচ্ছে ঘ) উল্লিখিত সবগুলো, কারণ আদালত বলতে শুধু বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেটই নয়, সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষমতাসম্পন্ন অন্য যে কেউ, তারাও আদালতের অন্তর্ভুক্ত।

- Section 3, Interpretation clause- "Court" includes all Judges and Magistrates and all persons, except arbitrators, legally authorized to take evidence.

৮১২.
Section 47A of The Evidence Act, 1872 is primarily concerned with:
  1. Opinion as to Handwriting
  2. Opinion as to Existence of right or custom
  3. Opinion as to Digital Signature
  4. Opinion as to physical or forensic evidence
ব্যাখ্যা

Section- 47A of The Evidence Act, 1872- Opinion as to digital signature where relevant:
When the Court has to form an opinion as to the digital signature of any person, the opinion of the Certifying Authority which has issued the Digital Signature Certificate is a relevant fact.

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৪৭ক: ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্পর্কে মতামত যেখানে প্রাসঙ্গিক-
যখন আদালতের কোন ব্যক্তির ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্পর্কে মতামত গঠন করা প্রয়োজন হয়, তখন যেই ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রস্তুতকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ ইস্যু করেছে, তার মতামত প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে গণ্য হবে।

৮১৩.
“Facts admitted need not be proved” বিধানটি the Evidence Act, 1872 এর কত ধারায় বর্ণিত হয়েছে?
  1. ধারা ৫৬
  2. ধারা ৫৭
  3. ধারা ৫৮
  4. ধারা ৫৯
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইনের ৫৮ ধারার বিধান অনুযায়ী স্বীকৃত ঘটনা সমূহ প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
♦৫৮ ধারামতে মোকদ্দমার পক্ষ বা তাদের প্রতিনিধি যে সকল বিষয় বা ঘটনা মোকদ্দমার শুনানীর সময় বা মোকদ্দমার শুনানীর পূর্বে লিখিত আকারে স্বীকার করতে সম্মত হয়েছে অথবা প্লিডিংসের (Pleadings) মাধ্যমে স্বীকার করেছে, সে সকল বিষয় প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
♦সাক্ষ্য আইনের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সকল প্রাসঙ্গিক বিষয় বা বিচার্য বিষয় সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হয়। তবে আদালতে তিন ধরনের বিষয় প্রমান করার প্রয়োজন হয় না। যথা- অনুমিত বিষয়াদি (Presumption), জুডিশিয়াল নোটিশ এবং স্বীকৃতি (Admission)।
৮১৪.
প্রাথমিক সাক্ষ্য বলতে বুঝায় এমন দলিল যাহা পরিদর্শনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে-
  1. আইনজীবীর নিকট
  2. সরকারি কর্মকর্তার নিকট
  3. তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট
  4. আদালতের নিকট
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারায় প্রাথমিক সাক্ষ্যের বিধান রয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারা অনুসারে মূল দলিল সরাসরি আদালতে উপস্থাপন করাকে প্রাথমিক সাক্ষ্য বা Primary evidence বলে। এছাড়া নিম্নলিখিত সাক্ষ্যগুলোও প্রাথমিক সাক্ষ্য বলে গণ্য হবে-

i) সাক্ষ্য আইনের ৬২ ও ৯১ ধারা অনুযায়ী লিখিত দলিলের ক্ষেত্রে দলিলের বিষয়বস্তু সম্পর্কে খোদ দলিলটিই প্রাথমিক সাক্ষ্য।

ii) একটি দলিল কয়েক খন্ডে সম্পাদিত হলে, প্রত্যেক খন্ডই একে অন্যের প্রাথমিক সাক্ষ্য।

iii) যখন কোন দলিল প্রতিলিপিসহ সম্পাদিত হয় (executed in counterpart), তখন প্রত্যেকটি প্রতিলিপি সম্পাদনকারীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক সাক্ষ্য।

iv) যেক্ষেত্রে কিছু সংখ্যক দলিল মুদ্রণ, লিথোগ্রাফি বা ফটোগ্রাফির মাধ্যমে একই পদ্ধতিতে হয়, সেক্ষেত্রে প্রত্যেকটি অন্যগুলির প্রাথমিক সাক্ষ্য। কিন্তু মূল দলিলের নকল হলে, তা মূল দলিলের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সাক্ষ্য হবেনা যেমন- এক ব্যক্তির দখলে এমন কতগুলি প্রচার পত্র (placards) আছে বলে দেখান হল, যার সবগুলি একটি মূল দলিল হতে একই সময়ে মুদ্রিত হয়েছে। প্রচার পত্রগুলির যে কোন একটি অপর একটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রথম শ্রেণীর সাক্ষ্য, কিন্তু সেগুলির একটিও মূল প্রচার পত্রের বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রথম শ্রেণীর সাক্ষ্য নয়।

⇒ মৌখিক সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সাক্ষ্য- সাক্ষী নিজে দেখে-শুনে বা অনুভব করে যে সাক্ষ্য দেয় তা প্রাথমিক সাক্ষ্য। তার নিকট থেকে অন্য জন শুনে সাক্ষ্য দিলে তা হয় মাধ্যমিক (Secondary) বা পরোক্ষ তথা জনশ্রুতি সাক্ষ্য।
৮১৫.
আদালতে মামলার একটি পক্ষ নিজের সাক্ষীকে কোন বিষয়ে ইঙ্গিতপূর্ব প্রশ্ন (Leading question) করতে পার?
  1. যে কোন বিষয়ে
  2. স্বীকৃত বিষয়ে
  3. তর্কিত বিষয়ে
  4. বিশেষজ্ঞ মতামত বিষয়ে
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ১৪১ ধারার বিধান হলো ইঙ্গিতবাহী প্রশ্নঃ প্রশ্নকারী প্রশ্নের যে উত্তর আশা বা ইচ্ছা করেন, প্রশ্নের মধ্যেই তার ইঙ্গিত দেওয়া হলে তাকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বলা হয়।
♦ যে প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর থাকে, তাকে নির্দেশক প্রশ্ন বা ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বা Leading question বলে। সাধারণত হ্যা অথবা না ব্যাজেই এ ধরণের প্রশ্নের উত্তর দেয়া যায়। ♦ অর্থাৎ নির্দেশক প্রশ্ন বা Leading question তাই যার মধ্যে উক্ত প্রশ্নের উত্তরের ইঙ্গিত থাকে।
♦ সাক্ষ্য আইনের ১৪২ ধারা বিধান ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন যখন অবশ্যই করা যাবে না (When they must not be asked) : বিরুদ্ধ পক্ষ যদি আপত্তি করেন, তবে জবানবন্দী ও পুনঃজবানবন্দী গ্রহণকালে আদালতের অনুমতি ব্যতীত ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা যাবে না।

♦ যেসকল বিষয় ভূমিকামূলক অথবা বিতর্কিহীন অথবা যেসব বিষয় পূর্বেই যথেষ্টরূপে প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত মনে করেন, সে সকল বিষয় সম্পর্কে আদালত অবশ্যই ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করার অনুমতি দিবেন।
৮১৬.
নিচের কোনটি সাক্ষ্য আইন অনুসারে এস্টপেলের (Estoppel) আবশ্যক উপাদান নয়?
  1. আদালতের পূর্ব অনুমোদন
  2. পরস্পরবিরোধী দাবি উত্থাপন
  3. ঘোষণা বা কাজের মাধ্যমে অন্যকে বিশ্বাস করানো
  4. বিশ্বাসের ভিত্তিতে অন্য পক্ষের অবস্থার পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
⇒ সঠিক উত্তর: ক) আদালতের পূর্ব অনুমোদন।
⇒ Estoppel বা স্বকার্যজনিত প্রতিবন্ধকতা হলো সাক্ষ্য আইনের এমন একটি নীতি যার মাধ্যমে কেউ পূর্বে কোনো ঘোষণার মাধ্যমে অন্যকে বিশ্বাস করিয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করালে, পরবর্তীতে সেই পূর্ব ঘোষণাকে অস্বীকার করতে পারে না।
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১১৫ অনুযায়ী Estoppel কার্যকর হওয়ার জন্য যে উপাদানগুলো থাকতে হয় তা হলো:
Estoppel-এর আবশ্যক উপাদানসমূহ:
১. ঘোষণা, কাজ বা কার্যবিরতি:
- প্রথম ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধি এমন কোনো ঘোষণা বা কাজ করেন যা দেখে বা শুনে অন্য ব্যক্তি কোনো বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে।
২. বিশ্বাস সৃষ্টি:
- ঐ ঘোষণা বা কার্য থেকে অন্য পক্ষ বিশ্বাস করে যে বিষয়টি সত্য।
৩. পরস্পরবিরোধী দাবি:
- পরে প্রথম ব্যক্তি সেই পূর্ব ঘোষণার বিপরীত কোনো দাবি করেন।
৪. বিশ্বাসের ভিত্তিতে অবস্থার পরিবর্তন:
- দ্বিতীয় ব্যক্তি সেই বিশ্বাসে ভিত্তি করে তার অবস্থার পরিবর্তন করেন বা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

⇒ “আদালতের পূর্ব অনুমোদন” Estoppel কার্যকর করার জন্য আবশ্যক কোনো উপাদান নয়।
এটি সম্পূর্ণভাবে পক্ষগণের মধ্যে সংঘটিত ঘোষণার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, এবং আদালতের অনুমোদন বা অনুমতি এই প্রক্রিয়ায় পূর্বশর্ত নয়।
৮১৭.
সাক্ষ্য আইনের ১২৩ ধারায় কোন ধরনের তথ্য প্রকাশের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ব্যক্তিগত রেকর্ড
  2. প্রকাশিত সরকারি রেকর্ড
  3. অপ্রকাশিত সরকারি রেকর্ড
  4. বৈদেশিক রেকর্ড
ব্যাখ্যা
• Section 123- Evidence as to affairs of State:
No one shall be permitted to give any evidence derived from unpublished official records relating to any affairs of State, except with the permission of the officer at the head of the department concerned, who shall give or withhold such permission as he thinks fit.

কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় বিষয়াবলী সম্পর্কিত অপ্রকাশিত সরকারি রেকর্ড থেকে প্রাপ্ত কোনো প্রমাণ দেওয়ার অনুমতি পাবেন না, সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান কর্মকর্তার অনুমতি ব্যতীত। তিনি যথাযথ মনে করলে এই অনুমতি দিতে বা না দিতে পারবেন।
৮১৮.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে দলিলের মৌখিক বিবরণ কখন মাধ্যমিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয়?
  1. যখন দলিলটি আদালতে দাখিল করা হয়
  2. যখন বিবরণ প্রদানকারী ব্যক্তি দলিল সম্পর্কে শুনেছেন
  3. যখন বিবরণ প্রদানকারী ব্যক্তি নিজে দলিলটি দেখেছেন
  4. যখন বিবরণ প্রদানকারী ব্যক্তি অনুমান ভিত্তিক মতামত দেন
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: যখন বিবরণ প্রদানকারী ব্যক্তি নিজে দলিলটি দেখেছেন। 
- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ৬৩(৫) ধারা অনুসারে, দলিলের মৌখিক বিবরণ তখনই মাধ্যমিক সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়, যদি বিবরণ প্রদানকারী ব্যক্তি নিজে দলিলটি প্রত্যক্ষভাবে দেখেন। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি দলিলের মূল কপি দেখেছেন এবং তার ভিত্তিতে মৌখিক বিবরণ দিচ্ছেন, কেবল তার সাক্ষ্যই মাধ্যমিক সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ৬৩ ধারায় মাধ্যমিক সাক্ষ্য (Secondary Evidence) সম্পর্কিত বিধানাবলি রয়েছে।
এই ধারায় বলা হয়েছে:
১. এই আইনে বর্ণিত বিধানমতে প্রদত্ত সার্টিফাইডকৃত অনুলিপি;
২. যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মূল থেকে তৈরিকৃত অনুলিপি যা নিজেই অনুলিপির নির্ভুলতা নিশ্চিত করে এবং সেই অনুলিপির সাথে তুলনাকৃত অন্যান্য অনুলিপি;
৩. মূল থেকে তৈরিকৃত বা মূলের সাথে তুলনাকৃত অনুলিপি;
৪. দলিলের মূল অংশবিশেষ যা যারা এটি সম্পাদন করেনি তাদের বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য;
৫. কোন দলিলের বিষয়বস্তুর মৌখিক বিবরণ যা দেয় এমন কেউ যিনি নিজে এটি দেখেছেন।
-----------
⇒ The Evidence Act, 1872 section 63. Secondary evidence:
-"Secondary evidence means and includes, among other things-
(1) Certified copies given under the provisions hereinafter contained;
(2) Copies made from the original by mechanical processes which in themselves insure the accuracy of the copy, and copies compared with such copies;
(3) Copies made from or compared with the original;
(4) Counterparts of documents as against the parties who did not execute them;
(5) Oral accounts of the contents of a document given by some person who has himself perceived it."
৮১৯.
সাক্ষ্য আইনের ১৭ ধারার বিধান কী?
  1. প্রমাণের দায়
  2. মৃত্যুকালীন ঘোষণার
  3. ডিজিটাল রেকর্ড
  4. স্বীকৃতি
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ এর ১৭ ধারায় স্বীকৃতি বা স্বীকারোক্তির সংজ্ঞা দেয়া আছে: স্বীকৃতি হইতেছে মৌখিক বা লিখিত উক্তি যা বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তের সূচনা করে এবং যাহা পরে বর্নিত ব্যক্তিদের মধ্যে কেহ বর্নিত পরিস্থিতি তে করে।

♦ সাক্ষ্য আইন ১৭ ধারার বিধান স্বীকৃতির সংজ্ঞা: স্বীকৃতি হচ্ছে মৌখিক বা দালিলিক বিবৃতি অথবা ডিজিটাল রেকর্ড যা বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক ঘটনা প্রসঙ্গে কোনো অনুমানের ইঙ্গিত দেয়, এবং যা এ আইনের পরবর্তীতে বর্ণিত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যে কেউ কর্তৃক প্রদত্ত হয়।
৮২০.
সাক্ষ্য আইনের ৪৭ক ধারা অনুসারে, ডিজিটাল সিগনেচার সার্টিফিকেট ইস্যুকারী সার্টিফাইং অথরিটির মতামত কী হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. চূড়ান্ত প্রমাণ
  2. প্রাসঙ্গিক ঘটনা
  3. অপ্রাসঙ্গিক তথ্য
  4. শুধুমাত্র মৌখিক সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) প্রাসঙ্গিক ঘটনা।
সাক্ষ্য আইনের ৪৭ক ধারা অনুসারে, আদালত যখন কোনো ব্যক্তির ডিজিটাল সিগনেচার সম্পর্কে মতামত গঠন করতে চায়, তখন সার্টিফাইং অথরিটি (Certifying Authority)-এর মতামত একটি প্রাসঙ্গিক ঘটনা (Relevant Fact) হিসেবে বিবেচিত হয়। সার্টিফাইং অথরিটি হলো সেই প্রতিষ্ঠান যা ডিজিটাল সিগনেচার সার্টিফিকেট ইস্যু করে এবং ডিজিটাল সিগনেচারের সত্যতা ও বৈধতা যাচাই করে।
অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ৪৭ক ধারার মতে, ডিজিটাল সিগনেচার সার্টিফিকেট ইস্যুকারী সার্টিফাইং অথরিটির মতামত একটি প্রাসঙ্গিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি আদালতকে সাহায্য করে ডিজিটাল স্বাক্ষরের বৈধতা সম্পর্কে মতামত গঠন করতে, তবে এটি চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয় না।
----------
⇒ The Evidence Act, 1872: Section- 47A. Opinion as to digital signature where relevant:
When the Court has to form an opinion as to the digital signature of any person, the opinion of the Certifying Authority which has issued the Digital Signature Certificate is a relevant fact.
৮২১.
নিম্নের কোন দলিলটি মাধ্যমিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয়?
  1. মূল বিক্রয় দলিল
  2. মূল বন্ধকী দলিল
  3. মূল বিক্রয় দলিলের ফটোগ্রাফ
  4. মূল বিক্রয় দলিলের খসড়া
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারায় মাধ্যমিক সাক্ষ্যের বিধান রয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারা অনুসারে মূল দলিল আদালতে হাজির না করে মূল দলিলের প্রতিলিপি বা অনুলিপি আদালতে উপস্থাপন করাকে মাধ্যমিক সাক্ষ্য বা Secondary Evidence বলে।

♦ সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারার বিধান মাধ্যমিক সাক্ষ্যঃ- মাধ্যমিক সাক্ষ্য অর্থ এবং তাহার অন্তর্ভূক্ত হয়ঃ
(১) বর্ণিত বিধানবলী অনুসারে প্রদত্ত জাবেদা নকল;
(২) মূল দলিল হইতে এইরুপ যান্ত্রিক উপায়ে প্ৰস্তুত নকল, যাহাতে নকলের নির্ভুলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় এবং এইরুপ নকলের সহিত মিলাইয়া লওয়া অন্য নকল;
(৩) মূল দলিল হইতে প্রস্তুত করা অথবা মূল দলিলের সহিত মিলাইয়া লওয়া নকল;
(৪) কোন দলিলের প্রতিলিপি যে পক্ষ উক্ত দলিল সম্পাদন করে নাই, তাহার বিরুদ্ধে উহা ব্যবহারের ক্ষেত্রে;
(৫) যে ব্যক্তি নিজের কোন দলিল দেখিয়াছে, তাহার দেওয়া উক্ত দলিলের বিসয় বস্তু সম্পর্কে মৌক্ষিক বিবরণ।

উদাহরণঃ
(ক) একটি মূল দলিলের সহিত উহার ফটোগ্রাফ মিলাইয়া দেখা না হইয়া থাকিলেও যদি প্রমাণ করা হয় যে, ফটোগ্রাফটি যে দলিলের ফটোগ্রাফ, তাহাই মূল দলিল; তবে উক্ত ফটোগ্রাফ উক্ত মূল দলিলের মাধ্যমিক সাক্ষ্য বলিয়া গণ্য হইবে।

♦ অর্থাৎ মূল বিক্রয় দলিলের ফটোগ্রাফ মাধ্যমিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয়।
৮২২.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১২৬ ধারায় কাদের মধ্যকার তথ্য আদান-প্রদানের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. স্বামী এবং স্ত্রীর
  2. আইনজীবী এবং তার মক্কেলের
  3. বিচারক এবং আইনজীবীর
  4. আইন উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১২৬ ধারায় আইনজীবী এবং তার মক্কেলের মধ্যকার তথ্য আদান-প্রদানের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই ধারা অনুযায়ী, একজন আইনজীবী তার মক্কেলের অনুমতি ব্যতীত নিম্নলিখিত তথ্যগুলি প্রকাশ করতে বাধ্য থাকবেন না:
১. তার নিযুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে মক্কেল বা মক্কেলের প্রতিনিধি থেকে প্রাপ্ত যে কোনো তথ্য বা যোগাযোগ।
২. তার নিযুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে যে কোনো দলিলের বিষয়বস্তু বা অবস্থা যার সাথে তিনি পরিচিত হয়েছেন।
৩. তার নিযুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি যে কোনো পরামর্শ তার মক্কেলকে দিয়েছেন।

এই ধারার উদ্দেশ্য হলো- আইনজীবী ও মক্কেলের মধ্যে বিশ্বাস ও গোপনীয়তা রক্ষা করা যাতে মক্কেল নিঃসংকোচে তথ্য প্রদান করতে পারেন।
৮২৩.
সাক্ষ্য আইনের ৪৭ ধারায় হস্তলিপি সম্বন্ধে অভিমত _________।
  1. প্রাসঙ্গিক
  2. অপ্রাসঙ্গিক
  3. অনুমিত
  4. চূড়ান্ত প্রমাণ
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৪৭ ধারা- হস্তলিপি সম্বন্ধে অভিমত যেক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক:
একটি দলিল কোন ব্যক্তির দ্বারা লিখিত অথবা স্বাক্ষরিত হয়েছে সে সম্বন্ধে আদালতকে যখন কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয়, তখন যে ব্যক্তির দ্বারা এটা লিখিত অথবা স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সে ব্যক্তির দ্বারা এটা লিখিত বা স্বাক্ষরিত হচ্ছে বা হয়নি এ মর্মে উক্ত ব্যক্তির হস্তলিপির সঙ্গে পরিচিত কোন ব্যক্তির অভিমত প্রাসঙ্গিক পরিগণিত।

ব্যাখ্যা- এক ব্যক্তি যেক্ষেত্রে অন্য এক ব্যক্তিকে লিখতে দেখেছে অথবা যেক্ষেত্রে সে ব্যক্তির নিকট প্রেরিত নিজের লেখার বা নিজ কর্তৃত্বে লিখিত কোন নথির উত্তরে তার নিকট হতে তার দ্বারা লিখিত বলে প্রতীয়মান নথি পেয়েছে প্রতীয়মান কাগজপত্র বরাবর তার নিকট দাখিল হয়ে আসছে, সেক্ষেত্রে প্রথমোক্ত ব্যক্তির শেষোক্ত ব্যক্তির হস্তলিপির সঙ্গে পরিচিত বলে ধরা হয়।

⇒ উক্ত ধারামতে, একজন ব্যক্তির অভিমত অন্য ব্যক্তির হস্তলিপি বা হাতের লেখা প্রমাণের ক্ষেত্রে তখন প্রাসঙ্গিক হবে, যখন কোন ব্যক্তি-
- অপর ব্যক্তিকে লিখতে দেখেছে;
- অপর ব্যক্তির লিখিত কোন দলিল পেয়েছে;
- স্বাভাবিক কাজকর্ম হিসেবে যে ব্যক্তি অপর ব্যক্তির হাতের লেখার সাথে পরিচিত হয়েছে।
৮২৪.
কোন ব্যক্তির মৃত্যুকালীন ঘোষণা Dying declaration তার কোন বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য?
  1. মৃত্যুর কারণ
  2. সম্পত্তি দান
  3. পরিচয়
  4. বিবাহ
ব্যাখ্যা
♦ Evidence Act  এর ধারা-৩২(১) এর বিধান মৃত্যুকালীন ঘোষণা (Dying declaration)- সাক্ষ্য আইনে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বলতে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিকে বোঝায়। ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ৩২(১) ধারা মোতাবেক কোন ব্যক্তি মৃত্যুর সম্মুখীন হয়ে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে যে বিবৃতি প্রদান করেন, তাকে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বা dying declaration বলা হয়। মৃত্যুকালীন ঘোষণা সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারার আওতায় সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
♦মৃত্যুকালীন ঘোষণা [Dying Declaration); কোনো ব্যক্তি তার মৃত্যুর পূর্বে তার  মৃত্যুর কারণ,  মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা যে সকল ঘটনার ফলে মৃত্যু হয়েছে সে সম্পর্কিত লিখিত বা মৌখিক ঘোষণা/বিবৃতি প্রদান করে, তাকেই মৃত্যুকালীন ঘোষণা বলে। 
♦মৃত্যুকালীন ঘোষণা করা যায়: ১. লিখিত ভাবে ২. ইশারায় ৩. মৌখিকভাবে।
♦মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রযোজ্য: দেওয়ানি মোকদ্দমা ও ফৌজদারি মামলা উভয়ক্ষেত্রেই
♦মৃত্যুকালীন ঘোষণা করা যায় যার নিকট: যেকোনো ব্যক্তির নিকট বা সামনে; যেমন: ডাক্তার, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট।
♦মৃত্যুকালীন ঘোষণা সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করার আগে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে- ঘোষণা প্রদানকারী মৃত [১০৪ ধারার বিধান]।
♦মৃত্যুকালীন ঘোষণা গ্রহণযোগ্য হবে না: মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রদানকারী মৃত্যুবরণ না করলে [বেঁচে থাকলে]; উক্ত ঘোষণা- সাক্ষ্যগত মূল্য হারাবে। তবে ধারা ১৪৫, ১৫৭ অনুযায়ী সমর্থনমূলক সাক্ষ্য [Dying Recognition] হিসাবে ব্যবহার করা যাবে।
৮২৫.
'আদালতের আদেশে সমন দেওয়া হলে সাক্ষীকে তার দখলস্থ নথি বা দলিলগুলি আদালতে হাজির করতে বাধ্য হবে।'- The Evidence Act, 1872 এর কত ধারায় এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে?
  1. ১৫২ ধারায়
  2. ১৬২ ধারায়
  3. ১৬১ ধারায়
  4. ১৬৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
• যদি সাক্ষীকে দলিল দাখিলের জন্য সমন দেওয়া হয় এবং সেই দলিল সাক্ষীর দখলে থাকে, তাহলে সেই সাক্ষী দলিলটি আদালতে হাজির করতে বাধ্য থাকবেন।

The Evidence Act, 1872 এর ১৬২ ধারা এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়। এই ধারা অনুসারে,
আদালতের আদেশে সমন দেওয়া হলে সাক্ষীকে তার দখলস্থ নথি বা দলিলগুলি আদালতে হাজির করতে হবে। দলিলের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে কোনো আপত্তি থাকলে তা পরবর্তীতে বিবেচনা করা হবে।

যদি কোনো সাক্ষী আদালতের সমনকে অমান্য করেন এবং দলিল হাজির না করেন, তাহলে তিনি আদালতের অবমাননার দায়ে দণ্ডিত হতে পারেন। সুতরাং, দলিলের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে যেকোনো আপত্তি থাকলেও, সাক্ষীকে আদালতের সমন অনুসারে দলিল হাজির করতে হবে।
৮২৬.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর কোন ধারা দুষ্কর্মে সহযোগীর সাক্ষ্য সম্পর্কিত?
  1. ধারা ১৩১
  2. ধারা ১৩২
  3. ধারা ১৩৩
  4. ধারা ১৩৪
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৩৩ (Section 133)-এ স্পষ্টভাবে বিধান করা হয়েছে যে, দুষ্কর্মের সহযোগী (accomplice) একজন আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উপযুক্ত সাক্ষী (competent witness) বলে গণ্য হবে। এছাড়া, তার অসমর্থিত (uncorroborated) সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আসামিকে সাজা দেওয়া হলেও কেবলমাত্র এই কারণে সাজা বেআইনি হবে না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারার বিধান দুষ্কর্মে সহযোগী: দুষ্কর্মের সহযোগী আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বলিয়া গণ্য হইবেন। দুষ্কর্মের সহযোগীর অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আসামিকে সাজা দেওয়া হইলে কেবল সেই কারণেই উক্ত সাজা বেআইনি হইবে না।

⇒ ১৩৩ ধারা অনুযায়ী একজন দুষ্কর্মের সহযোগী অন্যান্য সহযোগী আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার যোগ্য এবং এর উপর ভিত্তি করে শাস্তি দেওয়া হলে বেআইনি হবে না।
-----------
⇒ The Evidence Act, 1872- Section-133. Accomplice: An accomplice shall be a competent witness against an accused person, and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.

৮২৭.
সাক্ষ্য আইনের ৮৯ক ধারা অনুযায়ী আদালত কোন পরিস্থিতিতে শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণকে সেই ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত বলে অনুমান করতে পারে যার কাছ থেকে এটি সংগ্রহ করা হয়েছে?
  1. যখন উভয় পক্ষ একমত হয়
  2. প্রতিকূল প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত
  3. যখন উক্ত প্রমাণ লিখিত আকারে থাকে
  4. আদালত প্রমাণটি প্রত্যাখ্যান না করা পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৮৯ক ধারার বিধান : শারীরিক বা ফরেনসিক সাক্ষ্য হিসাবে অনুমান:
- আদালত অনুমান করতে পারে যদি না বিপরীত প্রমাণিত হয় যে, শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণগুলি সেই ব্যক্তির অন্তর্গত বা তৈরি করা হয়েছে যার কাছ থেকে এটি সংগ্রহ করা হয়েছে।

- অর্থাৎ আদালত প্রতিকূল প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত অনুমান করতে পারে যে শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সেই ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত, অথবা সেই ব্যক্তির দ্বারা সৃষ্টি, যাঁর কাছ থেকে উক্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

সাক্ষ্য আইনের ৮৯ক ধারায় বলছে, যদি কোনো শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয় এবং দাবি করা হয় যে এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, তাহলে আদালত সেই প্রমাণটি ওই ব্যক্তির বলে ধরে নেবে, যতক্ষণ না তার বিপরীত কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। অর্থাৎ, আদালত প্রাথমিকভাবে প্রমাণটির সত্যতা স্বীকার করবে, তবে যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে এটি ভুল বা ভিন্ন, তখন সেই তথ্য গ্রহণ করা হবে।
------------------------------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section-89A: Presumption as to physical or forensic evidence:
-The Court may presume unless contrary is proved that the physical or forensic evidence belongs to or is created by that person from whom it purports to have been collected.
৮২৮.
বোবা ব্যক্তি আদালতে কীভাবে সাক্ষ্য দিতে পারেন?
  1. লিখে
  2. ইশারায়
  3. সাক্ষী হিসেবে অযোগ্য হবেন
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
The Evidence Act, 1872 এর ১১৯ ধারা অনুযায়ী, বোবা ব্যক্তি আদালতে প্রকাশ্যে লিখে বা ইশারায় সাক্ষ্য দিতে পারবেন।

এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কোনো সাক্ষী বধির বা বোবা হন এবং সে লিখতে বা ইশারা করতে পারেন, তাহলে তাকে লিখিত বা ইশারার মাধ্যমে সাক্ষ্য দিতে দেওয়া যেতে পারে।
সুতরাং, একজন বোবা সাক্ষীকে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে:

লিখিত সাক্ষ্য:
বোবা ব্যক্তি তার সাক্ষ্য লিখিতভাবে দিতে পারবেন। তিনি প্রত্যেক প্রশ্নের উত্তর লিখবেন এবং সেই লিখিত উত্তরগুলি আদালতে পাঠ করা হবে।

ইশারার মাধ্যমে সাক্ষ্য:
বোবা ব্যক্তি ইশারা করে তার সাক্ষ্য দিতে পারবেন। একজন দোভাষী তার ইশারাগুলি অনুবাদ করবেন এবং সেই অনুবাদগুলি আদালতে পাঠ করা হবে।
৮২৯.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারা অনুসারে আদালত আক্রমণাত্মক প্রশ্ন করতে নিষিদ্ধ করবে?
  1. ১৫০ ধারা
  2. ১৫১ ধারা
  3. ১৫২ ধারা
  4. ১৫৩ ধারা
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১৫২ ধারা অনুসারে,
আদালত এমন কোনো প্রশ্ন করতে নিষেধ করবে, যা তার দৃষ্টিতে কাউকে অপমান বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, অথবা যা প্রশ্ন হিসাবে যথাযথ হলেও, তার ভাষা বা উপস্থাপন অপ্রয়োজনীয়ভাবে আক্রমণাত্মক বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়।

Section 152- Questions intended to insult or annoy:
The Court shall forbid any question which appears to it to be intended to insult or annoy, or which, though proper in itself, appears to the Court needlessly offensive in form.
৮৩০.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারাবলে একজন স্বাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা যেতে পারে?
  1. ১৫২ধারা
  2. ১৫৪ ধারা
  3. ১৫৬ ধারা
  4. ১৬১ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারায় সুস্পষ্টভাবে বৈরী সাক্ষী বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। বৈরী সাক্ষী হলো এমন একজন সাক্ষী যে, সে যে উপায়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে তা থেকে বোঝা যায় যে, সে আদালতের নিকট সত্য বলতে ইচ্ছা প্রকাশ করছে না। বৈরী সাক্ষী বলতে মিথ্যুক সাক্ষী বোঝায় না। সাক্ষী যে সাক্ষ্য দিচ্ছে তা থেকে সাক্ষীর বৈরীতা বুঝতে হবে। বিষয়টি হলো যখন যে পক্ষ কোন সাক্ষীকে আহ্বান করে বা ডাকে, সেই পক্ষ উক্ত সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ যখন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করে, তখন সাক্ষীর নিকট যে প্রশ্ন করা হয় তখন সে উক্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করতে পারে বা বৈরী হতে পারে। সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ এমন ধরণের সাক্ষীকে বৈরী সাক্ষী হিসাবে ঘোষণা করতে পারে।

- The Evidence Act, 1872 এর ১৫৪ ধারা অনুযায়ী বৈরী বা প্রতিকূল সাক্ষী সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সাক্ষী আহবানকারী পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে এ রকম সাক্ষীকে সে সকল প্রশ্ন করতে পারবে যে সকল প্রশ্ন বিরুদ্ধ পক্ষ জেরায় করতে পারে।

যেমনঃ মামলার অভিযোগকারী পক্ষ A -কে সাক্ষী হিসাবে তলব করলো। সাধারণত A অভিযোগকারীর পক্ষে সাক্ষ্য দিবে। কিন্তু A ইচ্ছাকৃতভাবে অভিযোগকারীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করলো। এই ক্ষেত্রে A -কে বৈরী সাক্ষ্য হিসাবে ঘোষণা করা যেতে পারে।

- অর্থাৎ The Evidence Act, 1872 এর ১৫৪ ধারা বৈরী সাক্ষী সম্পর্কিত বিধান আছে।
৮৩১.
According to Evidence Act 1872,Evidence may be given of-
  1. any fact
  2. relevant fact
  3. facts in issue
  4. Both B and C
ব্যাখ্যা

According to Section 5 of the  Evidence Act 1872,Evidence may be given of-facts in issue and relevant fact.

সাক্ষ্য আইন ১৮৭২,ধারা ৫: বিচার্য ঘটনা ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইবে : কোনো দেওয়ানি মামলা বা কার্যক্রমে বিচার্য প্রত্যেক ঘটনার এবং এই আইনে অতঃপর যেই সকল ঘটনাকে প্রাসঙ্গিক বলিয়া গণ্য করা হইয়াছে তাহার অস্তিত্ব বা অস্তিত্বহীনতা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইতে পারে, এবং ইহা ভিন্ন অন্য কোনো ঘটনা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইবে না।
উদাহরণসমূহ:
(ক) খ-এর মৃত্যু ঘটাইবার ইচ্ছা লইয়া লাঠি দ্বারা পিটাইয়া তাহাকে হত্যা করিবার অপরাধে ক অভিযুক্ত হইল।
ক-কর্তৃক খ-কে লাঠি দ্বারা প্রহার;
উক্তরূপ প্রহারের ফলে ক কর্তৃক খ-এর মৃত্যু ঘটানো;
ক কর্তৃক খ-এর মৃত্যু ঘটাইবার ইচ্ছা।
(খ) দেওয়ানি মামলার বাদী যে মুচলেকার উপর নির্ভর করে, তাহা সে সঙ্গে লইয়া আসে নাই, তবে মামলার প্রথম শুনানিতে উহা উপস্থাপন করিবার জন্য তাহার নিকট প্রস্তুতি রাখিয়াছে। উহা উপস্থাপন করা সম্পর্কে দেওয়ানি কার্যবিধিতে যেইরূপ বিধান আছে, তাহা ভিন্ন অন্য কোনো পন্থায় সেই মামলার পরবর্তী কোনো পর্যায়ে উক্ত মুচলেকা উপস্থাপন বা উহাতে উল্লিখিত বিষয় প্রমাণ করিতে পারিবে না।
------------------------------
The Evidence Act 1872, Section 5,Evidence may be given of facts in issue and relevant fact: Evidence may be given in any suit or proceeding of the existence or non-existence of every fact in issue and of such other fact as are hereinafter declared to be relevant, and of no others.
Explanation.-This section shall not enable any person to give evidence of a fact which he is disentitled to prove by any provision of the law for the time being in force relating to Civil Procedure.
Illustrations
(a) A is tried for the murder of B by beating him with a club with the intention of causing his death.
At A's trial the following facts are in issue:-
A's beating B with the club;
A's causing B's death by such beating;
A's intention to cause B's death.
(b) A suitor does not bring with him, and have in readiness for production at the first hearing of the case, a bond on which he relies. This section does not enable him to produce the bond or prove its contents at a subsequent stage of the proceedings, otherwise than in accordance with the conditions prescribed by the Code of Civil Procedure.

৮৩২.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুযায়ী জজ ও ম্যাজিস্ট্রেটকে তার নিজস্ব কার্যসম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না?
  1. ধারা ১২০
  2. ধারা ১২১
  3. ধারা ১১৮
  4. ধারা ১২৫
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১২১ ধারা অনুযায়ী, জজ বা ম্যাজিস্ট্রেটকে তাদের নিজস্ব বিচারিক কার্য সম্পর্কে বা বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আদালতে জানা কোনো তথ্য সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যায় না, যদি না আদালতের বিশেষ আদেশ থাকে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২১ ধারার বিধান: জজ ও ম্যাজিস্ট্রেটগণ [Judges and Magistrates]:
জজ এবং ম্যাজিস্ট্রেট যোগ্য সাক্ষী এবং তারা ইচ্ছা করলে সাক্ষ্য দিতে পারে। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট এবং জজ হিসাবে সম্পাদন করেছে এমন কোন কার্যসম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে তাদের বাধ্য করা যাবে না। কারণ ১২১ ধারায় জজ ও ম্যাজিস্ট্রেটকে কতিপয় বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

⇒ ১২১ ধারা অনুযায়ী জজ ও ম্যাজিস্ট্রেটগণ যে আদালতের অধীন, সেই আদালতের বিশেষ আদেশ ব্যতীত নিম্নলিখিত ২টি বিষয়ে কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে তাকে বাধ্য করা যাবে নাঃ
১. জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে উক্ত আদালতে তার নিজস্ব কোনো কার্য সম্পর্কে; বা
২. যে কোনো কিছু যা বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে সে আদালতে জানতে পারে।

⇒ যে ক্ষেত্রে জজ বা ম্যাজিস্ট্রেটকে বাধ্য করা যায়:
জজ এবং ম্যাজিস্ট্রেটকে আদালতে তার নিজস্ব কার্য ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে তাকে জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য করা যেতে পারে বা উক্ত পদের কর্তব্য পালনের সময় যে সব ঘটনা তার উপস্থিতিতে ঘটেছে, সেই গুলি সম্পর্কে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন আদালতে জজ বা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে খুন সংঘটিত হয়, সেই ক্ষেত্রে উক্ত খুন সম্পর্কে যেকোন প্রশ্নের উত্তর দিতে উক্ত জজ বা ম্যাজিস্ট্রেটকে বাধ্য করা যেতে পারে।
---------------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section-121. Judges and Magistrates:
No Judge or Magistrate shall, except upon the special order of some Court to which he is subordinate, be compelled to answer any questions as to his own conduct in Court as such Judge and Magistrate, or as to anything which came to his knowledge in Court as such Judge or Magistrate: but he may be examined as to other matters which occurred in his presence whilst he was so acting.

Illustrations:
(a) A, on his trial before the Court of Session, says that a deposition was improperly taken by B, the Magistrate. B cannot be compelled to answer questions as to this, except upon the special order of a superior Court.
(b) A is accused before the Court of Session of having given false evidence before B, a Magistrate. B cannot be asked what A said, except upon the special order of the superior Court.
(c) A is accused before the Court of Session of attempting to murder a police-officer whilst on his trail before B, a Sessions Judge. B may be examined as to what occurred.

৮৩৩.
The Evidence Act 1872 এর ১৩৭ ধারা অনুযায়ী কোনটি প্রথমে হয়?
  1. জেরা
  2. পূনঃ জবানবন্দী
  3. জবানবন্দী
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- The Evidence Act 1872 এর ১৩৭ ধারা অনুযায়ী জবানবন্দী, জেরা, পূনঃ জবানবন্দী এই ক্রম অনুসারে হয়।
- যে পক্ষ সাক্ষী হাজির করে সেই পক্ষ যখন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে তখন তা জবানবন্দী হিসেবে গণ্য হয়, বিরুদ্ধ পক্ষ যখন সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তা জেরা হিসেবে গণ্য হয়।
- কোন সাক্ষীকে জেরা করার পর সাক্ষী উপস্থিতকারী পক্ষ যখন নিজের সাক্ষীকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করে তখন তা পূনঃ জবানবন্দী হিসেবে গণ্য হয়।
৮৩৪.
'ধারা ৫২, ৫৩, ৫৪ ও ৫৫-এ "চরিত্র" বলতে খ্যাতি (reputation) ও স্বভাব (disposition) উভয়কেই বোঝায়'- এই সংজ্ঞা সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার ব্যাখ্যায় দেওয়া আছে?
  1. ৫০ ধারায়
  2. ৫২ ধারায়
  3. ৫৪ ধারায়
  4. ৫৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫৫: ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে চরিত্রের প্রাসঙ্গিকতা:
দেওয়ানি মামলায়, কোনো ব্যক্তির চরিত্র এমন হতে পারে যা তার প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণকে প্রভাবিত করতে পারে, এবং এ সংক্রান্ত বিষয়টি প্রাসঙ্গিক।

ব্যাখ্যা: ধারা ৫২, ৫৩, ৫৪ ও ৫৫-এ "চরিত্র" বলতে খ্যাতি (reputation) ও স্বভাব (disposition) উভয়কেই বোঝায়। তবে, ৫৪ ধারায় নির্দিষ্ট যে ব্যতিক্রম রয়েছে তা ছাড়া, শুধুমাত্র সাধারণ খ্যাতি ও সাধারণ স্বভাব সম্পর্কিত সাক্ষ্য দেওয়া যাবে, বিশেষ কোনো কার্য বা আচরণের মাধ্যমে প্রমাণিত খ্যাতি বা স্বভাবের সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না।
৮৩৫.
Which of the following is the examination of a witness by the adverse party?
  1. Cross-examination
  2. Re-examination
  3. Examination-in-chief
  4. Preliminary examination
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৭ ধারায় জবানবন্দি (Examination in Chief), জেরা (Cross Examination), এবং পুনঃজবানবন্দি (Re-examination) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
→ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief]: যে পক্ষ সাক্ষীকে হাজির করে সেই পক্ষ যখন সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তখন তাকে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief] বলে।
⇒জেরা [Cross Examination]: বিরুদ্ধ পক্ষ যখন সেই সাক্ষীকে প্রশ্ন করে, তখন তাকে জেরা বলে [Cross Examination] বলে।
→ পুন: জবানবন্দি [Re-examination]: জেরার পর সাক্ষী উপস্থিতকারী পক্ষ যদি আবার সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তবে তাকে পুন: জবানবন্দি (Re- examination) বলে।

⇒ ধারা ১৩৮: সাক্ষ্য গ্রহণের ক্রম [Order of Examination]:
সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারায় সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, জেরা এবং পুন:জবানবন্দি গ্রহণ করা যায়। ১৩৮ ধারায় সাক্ষ্য গ্রহণের ৩টি ক্রম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ক্রম হলো সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, দ্বিতীয় ক্রম হলো সাক্ষীর আহ্বানকারী পক্ষের বিরোধী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীকে জেরা (ইচ্ছা করলে করতে পারে) এবং তারপর সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক পুন: জবানবন্দি (যদি পক্ষদ্বয় ইচ্ছা করে) করা হয়।
-------------------------
The Evidence Act, 1872 section 137:
→ Examination-in-chief: The examination of a witness by the party who calls him shall be called his examination-in-chief.
→ Cross-examination: The examination of a witness by the adverse party shall be called his cross-examination.
→ Re-examination: The examination of a witness, subsequent to the cross-examination by the party who called him, shall be called his re-examination.

The Evidence Act, 1872 section 138. Order of examinations:
Witnesses shall be first examined-in-chief, then (if the adverse party so desires) cross-examined, then (if the party calling him so desires) re-examined. 
The examination and cross-examination must relate to relevant facts but the cross-examination need not be confined to the facts to which the witness testified on his examination-in-chief.
৮৩৬.
'Plea of alibi' প্রমাণের দায়িত্ব কার?
  1. ফরিয়াদির
  2. পুলিশের
  3. সাক্ষীর
  4. আসামির
ব্যাখ্যা
যখন কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তখন সে Plea of alibi দিয়ে দাবি করতে পারে যে সে অপরাধের সময় অন্য কোথাও উপস্থিত ছিল এবং সুতরাং অপরাধে জড়িত থাকতে পারে না। 'Plea of alibi' হল একটি আইনগত জবাব, যা কোনো অপরাধীকে নিজেকে দোষমুক্ত প্রমাণ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ হল "অন্যত্র উপস্থিতি"। এটি হল একটি বিশেষ প্রকৃতির অপরাধমুক্তির প্রমাণ যেখানে প্রসিকিউটরদের দাবিকৃত অপরাধের স্থান ও সময়ে অপরাধীর অনুপস্থিতি প্রমাণিত হয়। সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১ অনুসারে, অপরাধের স্থান ও সময়ে অপরাধীর অনুপস্থিতি প্রমাণ করা হলে, তা ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ,
যদি কাউকে খুনের অভিযোগ আনা হয়, তাহলে সে Plea of alibi দিয়ে দাবি করতে পারে যে সে খুনের সময় অন্য কোথাও ছিল এবং তার অনুপস্থিতির প্রমাণ দেখাতে পারে। এটি তাকে দোষী সাব্যস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।

সাক্ষ্য আইনের ১০৩ ধারামতে অপরাধ সংঘটনকালে আসামী অন্যত্র অবস্থানের দাবি করলে উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণ তাকেই উপস্থাপন করতে হয়। অর্থাৎ, অন্যত্র থাকার অজুহাত বা Plea of Alibi প্রমাণের ভার অভিযুক্ত ব্যক্তির উপর বর্তায়।
৮৩৭.
প্রাথমিক সাক্ষ্য বলতে বুঝায় এমন দলিল যাহা পরিদর্শনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে-
  1. সরকারি কর্মকর্তার নিকট
  2. আইনজীবীর নিকট
  3. তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট
  4. আদালতের নিকট
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারায় প্রাথমিক সাক্ষ্যের বিধান রয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারা অনুসারে মূল দলিল সরাসরি আদালতে উপস্থাপন করাকে প্রাথমিক সাক্ষ্য বা Primary evidence বলে। এছাড়া নিম্নলিখিত সাক্ষ্যগুলোও প্রাথমিক সাক্ষ্য বলে গণ্য হবে-

i) সাক্ষ্য আইনের ৬২ ও ৯১ ধারা অনুযায়ী লিখিত দলিলের ক্ষেত্রে দলিলের বিষয়বস্তু সম্পর্কে খোদ দলিলটিই প্রাথমিক সাক্ষ্য।

ii) একটি দলিল কয়েক খন্ডে সম্পাদিত হলে, প্রত্যেক খন্ডই একে অন্যের প্রাথমিক সাক্ষ্য ।

iii) যখন কোন দলিল প্রতিলিপিসহ সম্পাদিত হয় (executed in counterpart), তখন প্রত্যেকটি প্রতিলিপি সম্পাদনকারীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক সাক্ষ্য।

iv) যেক্ষেত্রে কিছু সংখ্যক দলিল মুদ্রণ, লিথোগ্রাফি বা ফটোগ্রাফির মাধ্যমে একই পদ্ধতিতে হয়, সেক্ষেত্রে প্রত্যেকটি অন্যগুলির প্রাথমিক সাক্ষ্য। কিন্তু মূল দলিলের নকল হলে, তা মূল দলিলের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সাক্ষ্য হবেনা যেমন- এক ব্যক্তির দখলে এমন কতগুলি প্রচার পত্র (placards) আছে বলে দেখান হল, যার সবগুলি একটি মূল দলিল হতে একই সময়ে মুদ্রিত হয়েছে। প্রচার পত্রগুলির যে কোন একটি অপর একটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রথম শ্রেণীর সাক্ষ্য, কিন্তু সেগুলির একটিও মূল প্রচার পত্রের বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রথম শ্রেণীর সাক্ষ্য নয়।

♦ মৌখিক সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সাক্ষ্য- সাক্ষী নিজে দেখে-শুনে বা অনুভব করে যে সাক্ষ্য দেয় তা প্রাথমিক সাক্ষ্য। তার নিকট থেকে অন্য জন শুনে সাক্ষ্য দিলে তা হয় মাধ্যমিক (Secondary) বা পরোক্ষ তথা জনশ্রুতি সাক্ষ্য ।
৮৩৮.
এস্টোপেলের বা Estoppel নীতি সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় আছে?
  1. ১১০
  2. ১১১
  3. ১১৫
  4. ১২০
ব্যাখ্যা
এস্টোপেল বিষয়ে ১১৫ ধারায় বলা হয়েছে। সাক্ষ্য আইনে estoppel শব্দটি বহুল পরিচিত। সাধারণতঃ স্বকার্যজনিত বাধা বা Estoppel হচ্ছে যা একবার স্বীকার করে নেয়া হয় তা পরবর্তীতে অস্বীকার করার বাধা। অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের যে নীতি কোন ব্যক্তিকে তার পূর্বে প্রদত্ত কোন বক্তব্যকে পরবর্তীতে অস্বীকার করতে বিরত রাখে তা Estoppel বা প্রতিবন্ধক বা স্বকার্যজনিত বাধা নামে পরিচিত। মূলতঃ কোন ব্যক্তির পরস্পর বিরোধী বক্তব্য গ্রহণীয় নয়, এটাই এস্টপলের মূলনীতি

সাক্ষ্য আইনের ১১৫ ধারায় বলা হয়েছে যখন কোন ব্যক্তি তার ঘোষনা, কাজ বা কার্যবিরতি দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য ব্যক্তিকে কোন বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করিয়েছেন এবং সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে উক্ত ব্যক্তিকে কোন কাজ করতে বলেছেন, তখন উক্ত ব্যক্তি বা তার মধ্যে অথবা তাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে কোন মামলায় প্রথমোক্ত ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধি তার পূর্বে প্রদত্ত ঘোষণা, কার্য বা কার্য বিরতির বিষয়টি অস্বীকার করতে পারবে না”।
৮৩৯.
নিচের কোনটি সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৩৫ ধারায় সাক্ষ্য হিসেবে প্রাসঙ্গিক হবে না?
  1. জমির খতিয়ান
  2. ব্যক্তিগত ডায়েরি
  3. জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেকর্ড
  4. জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য
ব্যাখ্যা
সরকারি বা ডিজিটাল রেকর্ডে সংরক্ষিত তথ্যের প্রাসঙ্গিকতা (সাক্ষ্য আইন, ধারা ৩৫):
যেকোনো সরকারি বা অন্যান্য অফিসিয়াল বই, রেজিস্টার, রেকর্ড বা ডিজিটাল রেকর্ডে সংরক্ষিত তথ্য, যা সরকারি কর্মচারী তার দায়িত্ব পালনকালে অথবা আইন দ্বারা নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ব্যক্তি লিপিবদ্ধ করেছেন, তা প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে গণ্য হবে।

সহজ ভাষায়:
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৩৫ ধারা অনুযায়ী, সরকারি বা ডিজিটাল রেকর্ড তখনই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে যখন তা কোনো সরকারি কর্মচারী কর্তৃক তাঁর দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়।

প্রাসঙ্গিক রেকর্ড:
- জমির খতিয়ান (সরকারি রেকর্ড)।
- জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেকর্ড (সরকারি রেকর্ড)।
- জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য (সরকারি সংরক্ষিত তথ্য)।

অপ্রাসঙ্গিক:
ব্যক্তিগত ডায়েরি (এটি ব্যক্তিগত নথি এবং কোনো সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ নয়, তাই এটি প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য নয়)।
৮৪০.
একই কার্যের অংশ হিসেবে থাকা ঘটনাসমূহের প্রাসঙ্গিকতা সংক্রান্ত বিধান The Evidence Act, 1872 এর কোন ধারায় বর্ণিত হয়েছে?
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬-এ "একই কার্যক্রমের অংশ" (part of same transaction) সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে, যে সব ঘটনা সরাসরি বিচার্য বিষয় নয়, কিন্তু এগুলি বিচার্য বিষয়ের সাথে এমনভাবে জড়িত, যে দুটি ঘটনাই একত্রে একই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গণ্য হতে পারে, সেগুলি প্রাসঙ্গিক হবে।
অর্থাৎ, যদি দুটি ঘটনা একে অপরের সাথে সম্পর্কিত হয় এবং একে অপরের ধারাবাহিকতা বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা হিসেবে ঘটিত হয়, তবে সেগুলি Res Gestae নীতির আওতায় প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে। এটি ঘটতে পারে একই সময়ে বা বিভিন্ন সময়ে এবং বিভিন্ন স্থানে, তবুও সেগুলি একে অপরের সাথে সম্পর্কিত থাকে।
- এই ধারা Res Gestae বা 'একই কার্যক্রমের অংশ' নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে এবং আইনের অনুসারে, এসব সম্পর্কিত ঘটনা প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
⇒ The Evidence Act, 1872 এর ধারা ৬ অনুযায়ী, যে সমস্ত ঘটনা মূল ঘটনার অংশ হিসেবে ঘটেছে, তবে সেগুলো সরাসরি মামলা বা বিতর্কের বিষয় না হলেও, সেগুলো প্রাসঙ্গিক হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি এমন ঘটনা যা একটি বৃহত্তর ঘটনার অংশ, এবং এটি মামলার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হতে পারে, যদিও সেই ঘটনা তৎকালীন বিতর্কের প্রধান বিষয় নয়।
------------
⇒The Evidence Act, 1872, Section 6. Relevancy of facts forming part of same transaction:
Facts which, though not in issue, are so connected with a fact in issue as to form part of the same transaction, are relevant, whether they occurred at the same time and place or at different times and places.
৮৪১.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ সম্পর্কে অনুমান কী হবে?
  1. May presume
  2. Shall presume
  3. Conclusive proof
  4. None of the above
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৮৫গ ধারার বিধান ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ সম্পর্কে অনুমান:- বিপরীত কিছু প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত আদালত অবশ্যই অনুমান করবে যে, গ্রাহকের যে সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই করা হয়নি তা ব্যতীত ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের উল্লেখিত তথ্য সঠিক, যদি সনদটি গ্রাহক দ্বারা গৃহিত হয়। 
⇒ গ্রাহকের তথ্য হিসেবে নির্ধারিত তথ্য যাচাই করা না হলে তা সঠিক বলে আদালত অনুমান করবে না।
------------------------
⇒ Section 85C Presumption as to Digital Signature Certificates.- The Court shall presume, unless contrary is proved, that the information listed in a Digital Signature Certificate is correct, except for information specified as subscriber information which has not been verified, if the certificate was accepted by the subscriber.
৮৪২.
'ক' তার হিসাবের খাতায় 'খ' এর নিকট ১০০০ টাকা পাওনার কথা লিখেছে এবং কোর্টে তা উপস্থাপন করেছে। 'ক' কি কেবল খাতা দেখিয়েই প্রমাণ করতে পারবে যে, 'খ' এর নিকট তার টাকা পাওনা?
  1. হ্যাঁ, কারণ এটা তার ব্যবসার হিসাব
  2. হ্যাঁ, যদি খাতা নোটারী পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত হয়
  3. হ্যাঁ, আদালতের রায় অনুযায়ী যদি তা প্রমাণিত হয়
  4. না, কারণ হিসাবের খাতা একক সাক্ষ্য হিসেবে যথেষ্ট নয়
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৩৪ ধারা অনুযায়ী, ব্যবসায়িক কারণে হিসেবের খাতায় যা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তা প্রাসঙ্গিক প্রমাণ হিসাবে গণ্য। ৩৪ ধারা অনুযায়ী ব্যবসা প্রসঙ্গে নিয়মিত যে হিসেবের খাতা রাখা হয়, উক্ত খাতায় লিখিত কোন কিছুতে যখন এমন বিষয়ের উল্লেখ থাকে, যে বিষয়ে অনুসন্ধান করা আদালতের কর্তব্য, তখন হিসাবের খাতায় লিপিবদ্ধ বিষয় প্রাসঙ্গিক। কিন্তু কেবলমাত্র এরূপ বিবৃতি কারও উপর দায় আরোপ করার জন্য যথেষ্ট সাক্ষ্য বলে বিবেচিত হবে না।

যেমন-
'ক' ১০০০ টাকার দাবিতে 'খ' এর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়ের করল। 'খ' এর নিকট তার উক্ত টাকা পাওনা আছে, এটি প্রমাণ করার জন্য ক তার খাতায় লেখা হিসাব দেখাল। এক্ষেত্রে খাতায় লেখা হিসাবগুলো প্রাসঙ্গিক। কিন্তু যদি অন্য কোন সাক্ষ্য না থাকে, তবে 'খ' এর দেনা প্রমাণ করার জন্য এটি যথেষ্ট নয়।
৮৪৩.
মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞের মতামতের রিপোর্টকে কী বলে -
  1. সুরতহাল
  2. বিশেষজ্ঞের মতামত
  3. ময়নাতদন্ত
  4. মৃত্যু রিপোর্ট
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ১৭৪(৩) মতে- মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞের (ডাক্তারের) মতামতের রিপোর্টকে বলা হয় ময়নাতদন্ত এবং তদন্ত কর্মকর্তার রিপোর্টকে বলা হয় সুরতহাল রিপোর্ট।
৮৪৪.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় ডিজিটাল স্বাক্ষরের সত্যাখ্যানের প্রমাণ প্রসঙ্গ বিধান আছে?
  1. ৭৩ক ধারায়
  2. ৭৩খ ধারায়
  3. ৬৫ক ধারায়
  4. ৬৭ক ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৩ক ধারার বিধান ডিজিটাল স্বাক্ষরের সত্যাখ্যানের প্রমাণ প্রসঙ্গ: যার দ্বারা ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সংযুক্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়, ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সেই ব্যক্তির কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য আদালত নির্দেশ দিতে পারে যে-
(ক) সেই ব্যক্তি বা নিয়ন্ত্রক বা প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ দাখিল করতে,
(খ) অন্য কোন ব্যক্তিকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের গণতালিকায় আবেদন করতে এবং সেই কথিত ডিজিটাল স্বাক্ষর যাচাই করতে।

ব্যাখ্যা: এখানে "নিয়ন্ত্রক" অর্থ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর ধারা ১৮ (১) এর অধীনে নিযুক্ত নিয়ন্ত্রক।
-------------------
⇒The Evidence Act  1872, Section-73A. Proof as to verification of digital signature:
- In order to ascertain whether a digital signature is that of the person by whom it purports to have been affixed, the Court may direct-
(a) that person or the Controller or the Certifying Authority to produce the Digital Signature Certificate;
(b) any other person to apply the public key listed in the Digital Signature Certificate and verify the digital signature purported to have been affixed by that person.

Explanation.- For the purpose of this section, "Controller" means the Controller appointed under sub-section (1) of section 18 of the Information and Communication Technology Act, 2006 (Act No. 39 of 2006).
৮৪৫.
দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করা যায়-
  1. শুধু প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা
  2. শুধু মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা
  3. শুধু প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য দ্বারা
  4. প্রাথমিক বা মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা- দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ:
দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করা যেতে পারে প্রাথমিক সাক্ষ্য অথবা মাধ্যমিক সাক্ষ্য এর মাধ্যমে।

⇒ The Evidence Act, 1872- Section 61 - Proof of contents of documents:
The contents of documents may be proved either by primary or by secondary evidence.

৮৪৬.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৭ক অনুযায়ী, ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রমাণ করতে কী প্রমাণ করতে হবে?
  1. এটি কম্পিউটারে তৈরি হয়েছে
  2. এটি আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে
  3. এটি হাতে লেখা স্বাক্ষরের অনুলিপি
  4. এটি সাবস্ক্রাইবারের ডিজিটাল স্বাক্ষর
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ধারা ৬৭ক অনুযায়ী:
যদি কোনো ডিজিটাল রেকর্ডে কারো ডিজিটাল স্বাক্ষর থাকার দাবি করা হয়, তাহলে এই বিষয়টি প্রমাণ করতে হবে যে এটি সত্যিই উক্ত সাবস্ক্রাইবারের ডিজিটাল স্বাক্ষর।
তবে, যদি এটি একটি secure digital signature হয়, তখন আলাদাভাবে প্রমাণের প্রয়োজন নেই।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৭ক (67A) অনুযায়ী, ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রমাণের বিষয়ে বলা আছে:
"Except in the case of a secure digital signature, if the digital signature of any subscriber is alleged to have been affixed to a digital record, the fact that such digital signature is the digital signature of the subscriber must be proved."
অর্থাৎ, যদি কোনো ডিজিটাল রেকর্ডে কোনো সাবস্ক্রাইবারের (subscriber) ডিজিটাল স্বাক্ষর সংযুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়, তবে এটি প্রমাণ করতে হবে যে সেই ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সত্যিই সেই সাবস্ক্রাইবারের। তবে, এটি "সুরক্ষিত ডিজিটাল স্বাক্ষর" (secure digital signature) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
৮৪৭.
The Evidence Act, 1872 এর কত ধারায় 'An accomplice shall be a competent witness against an accused person'-সংক্রান্ত বিধানটি বর্ণিত আছে?
  1. ১৩১ ধারায়
  2. ১৩২ ধারায়
  3. ১৩৩ ধারায়
  4. ১৩৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ The Evidence Act, 1872 Section 133. Accomplice:
- An accomplice shall be a competent witness against an accused person; and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.
---------
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারার বিধান: দুষ্কর্মের সহযোগীঃ-আসামীর বিরুদ্ধে দুষ্কর্মের সহযোগী সাক্ষ্য দেয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বলে পরিগণিত হবেন। আসামীকে দুষ্কর্মের সহযোগীর অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা দেয়া হলে শুধুমাত্র সে কারণে ঐ সাজা বেআইনি হবে না।
৮৪৮.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় Res judicata নীতির প্রতিফলন ঘটেছে?
  1. ৩৯ ধারা 
  2. ৪০ ধারা 
  3. ৪৫ ধারা 
  4. ৪৭ ধারা 
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারায় দেওয়ানী কার্যবিধির Res judicata নীতির প্রতিফলন ঘটেছে। সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৪০ অনুযায়ী যে কোনো পূর্ববর্তী রায়, আদেশ বা ডিক্রি, যা আইন অনুযায়ী একটি নতুন মামলা বা বিচার আরম্ভে বাধা সৃষ্টি করে, তা আদালতের কাছে প্রাসঙ্গিক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

⇒ সাক্ষ্য আইনে ১৮৭২,৪০ ধারা,দ্বিতীয় মোকদ্দমা বা বিচার বন্ধ করার জন্য পূর্ববর্তী রায় প্রাসঙ্গিক: যে রায়, আদেশ বা ডিক্রি আদালতকে আইনত অন্য একটি মামলাকে বিচারার্থে গ্রহণ করতে বা এর বিচার করতে বাধা দেয়, সেই রায় বা আদেশ বা ডিক্রির অস্তিত্ব তখনই প্রাসঙ্গিক বিষয়, যখন প্রশ্ন উঠে যে, উক্ত মোকদ্দমা বিচারার্থে গ্রহণ করা বা এর বিচার করা সেই আদালতের পক্ষে উচিত
কি না।
-------------------------------------------------
⇒ The Evidence Act, 1872- Section 40. Previous judgments relevant to bar a second suit or trial: The existence of any judgment, order or decree which by law prevents any Court from taking cognizance of a suit or holding a trial, is a relevant fact when the question is whether such Court ought to take cognizance of such suit or to hold such trial.

৮৪৯.
The Evidence Act, 1872-এর 162 ধারা অনুযায়ী, আদালতের সমন পাওয়ার পর সাক্ষী কী করতে বাধ্য?
  1. দলিল গোপন রাখতে
  2. আদালতে দলিল হাজির করতে
  3. মৌখিক সাক্ষ্য প্রদান করতে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
The Evidence Act, 1872 এর ১৬২ ধারা এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়। এই ধারা অনুসারে,
আদালতের আদেশে সমন দেওয়া হলে সাক্ষীকে তার দখলস্থ নথি বা দলিলগুলি আদালতে হাজির করতে হবে। দলিলের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে কোনো আপত্তি থাকলে তা পরবর্তীতে বিবেচনা করা হবে।

যদি কোনো সাক্ষী আদালতের সমনকে অমান্য করেন এবং দলিল হাজির না করেন, তাহলে তিনি আদালতের অবমাননার দায়ে দণ্ডিত হতে পারেন। সুতরাং, দলিলের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে যেকোনো আপত্তি থাকলেও, সাক্ষীকে আদালতের সমন অনুসারে দলিল হাজির করতে হবে।

The Evidence Act, 1872-Section-162. Production of documents:
A witness summoned to produce a document shall, if it is in his possession or power, bring it to Court, notwithstanding any objection which there may be to its production or to its admissibility. The validity of any such objection shall be decided on by the Court. 

The Court, if it sees fit, may inspect the document, unless it refers to matters of State, or take other evidence to enable it to determine on its admissibility.

Translation of documents:
If for such a purpose it is necessary to cause any document to be translated, the Court may, if it thinks fit, direct the translator to keep the contents secret, unless the document is to be given in evidence: and, if the interpreter disobeys such direction, he shall be held to have committed an offence under section 166 of the Penal Code.
৮৫০.
'ক' 'খ'-এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে ইচ্ছুক। সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারামতে এক্ষেত্রে 'ক'-এর কী প্রমাণ করতে হবে?
  1. 'খ'-এর ঘোষণা
  2. 'খ'-এর মৃত্যু
  3. ঘোষণাটি মৃত্যুকালীন সময়ে ছিল
  4. 'ক' এর কাছে যে বক্তব্য দিয়েছে তা প্রমাণ করতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারামতে একটি সাক্ষ্যকে আদালতের নিকট গ্রহণযোগ্য করাতে যদি কোন ঘটনা প্রমানের প্রয়োজন হয়, তাহলে যে পক্ষ সাক্ষ্যকে গ্রহণযোগ্য করাতে চায় তাকেই উক্ত ঘটনা প্রমান করতে হবে।
⇒ যেমন- 'B' একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। 'A', 'B'-এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে চায়। সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারামতে এখানে 'A'-কে অবশ্যই 'B'-এর মৃত্যু প্রমাণ করতে হবে; কেননা মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রাসঙ্গিক এবং গ্রহণযোগ্য হবে যদি ঘোষণাকারী মৃত হয়। অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণাটির গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করছে ঘোষণাকারী মৃত কিনা সেই তথ্যের উপর। আর ঘোষণাকারী মৃত কিনা তা প্রমাণের ভার সেই ব্যক্তির উপর বর্তাবে যে মৃত্যুকালীন ঘোষণা সাক্ষ হিসাবে দিতে চায়। যেহেতু এখানে 'A', 'B'-এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে চায় সুতরাং মৃত্যুকালীন ঘোষণাকে গ্রহণযোগ করার জন্য, 'B'-এর মৃত্যু সংক্রান্ত প্রমাণ দাখিলের দায়ভার 'A',-এর উপর বর্তাবে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারার বিধান যে ঘটনা সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য করার জন্য প্রমাণ করতে হবে তা প্রমাণের দায়িত্ব:- যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি অন্য কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে পারে, তজ্জন্য বিষয় প্রমাণ করা আবশ্যক, সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদানে ইচ্ছুক তার উপর উপরেবর্ণিত বিষয় প্রমাণের দায়িত্ব ন্যস্ত।

⇒ উদাহরণ:
(ক) 'ক' 'খ'-এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে ইচ্ছুক। এক্ষেত্রে অবশ্যই 'খ'-এর মৃত্যু 'ক'-এর প্রমাণ করতে হবে।
(খ) একটি হারিয়ে যাওয়া দলিলের প্রসঙ্গের মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা 'ক' প্রমাণ করতে ইচ্ছুক। দলিলাটি যে হারিয়ে গিয়েছে, অবশ্যই তা 'ক'-এর প্রমাণ করতে হবে।
--------------------
Section-104. Burden of proving fact to be proved to make evidence admissible: The burden of proving any fact necessary to be proved in order to enable any person to give evidence of any other fact is on the person who wishes to give such evidence.
(a) A wishes to prove a dying declaration by B. A must prove B's death. 
(b) A wishes to prove, by secondary evidence, the contents of a lost document. A must prove that the document has been lost.
৮৫১.
সাক্ষ্য আইনের ৬৮ ধারা অনুযায়ী, যে দলিল প্রত্যায়নের প্রয়োজন, তা প্রমাণ করতে কমপক্ষে কত জন প্রত্যয়নকারী সাক্ষীর প্রয়োজন হয়?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৪ জন
ব্যাখ্যা

আইনে যদি কোন দলিল প্রত্যয়নের বিধান থাকে, তবে তাহা প্রমানে সাক্ষ্য আইনের ৬৮ ধারা অনুযায়ী কমপক্ষে একজন প্রত্যয়নকারী সাক্ষী ডাকতে হবে।

সাক্ষ্য আইন ১৮৭২,ধারা ৬৮: যে দলিল প্রত্যয়িত করা আইনগত আবশ্যক, তাহা সম্পাদনের প্রমাণ [Proof of execution of document required by law to be attested]: কোনো দলিল প্রত্যয়িত করা যদি আইনত প্রয়োজনীয় হয় [If a document is required by law to be attested], তবে প্রত্যয়নকারী জীবিত থাকিলে এবং আদালতের এখতিয়ারের আওতাধীন হইলে এবং সাক্ষ্য দিতে সমর্থ হইলে, সেই দলিলের সম্পাদন প্রমাণ করিবার জন্য অন্তত:পক্ষে একজন প্রত্যয়নকারী সাক্ষী তলব না করা পর্যন্ত দলিলটি সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাইবে না।
তবে, উইল ছাড়া অন্য কোনো দলিল যদি ১৯০৮ সনের রেজিস্ট্রিকরণ আইনের বিধান অনুযায়ী রেজিস্ট্রি করা হইয়া থাকে এবং যে লোক কর্তৃক উহা সম্পাদিত বলিয়া কথিত হয়, সেই লোক কর্তৃক উহা সম্পাদনের কথা যদি নির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করা না হয়, তবে সেই দলিলের সম্পাদন প্রমাণ করিবার জন্য কোনো প্রত্যয়নকারী সাক্ষীকে তলব করা প্রয়োজন হইবে না।

The Evidence Act 1872, Section 68, Proof of execution of document required by law to be attested: If a document is required by law to be attested, it shall not be used as evidence until one attesting witness at least has been called for the purpose of proving its execution, if there be an attesting witness alive, and subject to the process of the Court and capable of giving evidence:
Provided that it shall not be necessary to call an attesting witness in proof of the execution of any document, not being a will, which has been registered in accordance with the provisions of the Registration Act, 1908, unless its execution by the person by whom it purports to have been executed is specifically denied.

৮৫২.
দেওয়ানি মামলায় কোনো পক্ষের স্বামী বা স্ত্রী 'যোগ্য সাক্ষী' হওয়ার বিধান কী?
  1. শুধুমাত্র পক্ষের স্ত্রী যোগ্য সাক্ষী হবে
  2. শুধুমাত্র পক্ষের স্বামী যোগ্য সাক্ষী হবে
  3. স্বামী বা স্ত্রী উভয়ে যোগ্য সাক্ষী হবে
  4. স্বামী বা স্ত্রী কেউ যোগ্য সাক্ষী হবে না
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ১২০ ধারা- দেওয়ানী মামলার পক্ষগণ এবং তাদের স্ত্রী বা স্বামী ফৌজদারী মামলার বিচারাধীন ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী:
সকল দেওয়ানী মামলায় পক্ষগণ এবং কোন পক্ষের স্বামী বা স্ত্রী অবশ্যই যোগ্য সাক্ষী হবে। কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলায় সেই ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী যোগ্য সাক্ষী হবে।

Section 120: Parties to civil suit, and their wives or husbands Husband or wife of person under criminal trial:
In all civil proceedings the parties to the suit, and the husband or wife of any party to the suit, shall be competent witnesses. In criminal proceedings against any person, the husband or wife of such person, respectively, shall be a competent witness.
৮৫৩.
The Evidence Act, 1872 এর কোন ধারায় সাক্ষীর যোগ্যতা সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ১০৭
  2. ১২০
  3. ৯১
  4. ১০১
ব্যাখ্যা
• ধারা: ১২০ মতে দেওয়ানি মোকদ্দমার পক্ষগণ এবং তাদের স্ত্রীগণ বা স্বামীগণ ফৌজদারি মামলার বিচারাধীন ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী।

• সকল দেওয়ানি কার্যধারার পক্ষগণ এবং কোন পক্ষের স্বামী বা স্ত্রী অবশ্যই যোগ্য সাক্ষী হবে। কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যধারায় সেই ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী যোগ্য সাক্ষী হবেন ।

• ফৌজদারি মামলায় স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে পারে তবে পক্ষে নয়। অন্যদিকে দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের পক্ষে বা বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে পারে।
৮৫৪.
ত্রিশ বছরের পুরাতন দলিল বিষয়ে অনুমান গ্রহণের বিধান The Evidence Act, 1877 এর কোন ধারায়?
  1. ৯০ ধারা
  2. ৮৮ ধারা
  3. ৮০ ধারা
  4. ৮৬ ধারা
ব্যাখ্যা
• ধারা ৯০ অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরনো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক মনে করবে যদি দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হয় এবং আদালতের দৃষ্টিতে সঠিক হেফাজত হতে দলিলটি আদালতে দাখিল করা হয়।

সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারায় বলা হয়েছে ৩০ বছরের পুরানো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক বলে মনে করবে যদি দলিলটি সঠিক ব্যক্তির দখল থেকে আসে। ৯০ ধারার অনুমান শুধুমাত্র মূল দলিলের জন্য। কোন প্রত্যয়িত কপি বা জাবেদা নকলের জন্য নয়। এ ধারার বিধানের অনুযায়ী-
১. দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হতে হবে।
২. দলিলটি সঠিক ব্যক্তির হেফাজত হতে আদালতে দাখিল করতে হবে।

৯০ ধারা: ত্রিশ বৎসরের পুরাতন দলিল সম্পর্কে অনুমান
যখন কোন দলিল ত্রিশ বৎসরের পুরাতন বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় বা প্রমাণ করা হয় এবং তাহা সংশ্লিষ্ট মকদ্দমায় যে পক্ষের হেফাজতে থাকা সঙ্গত বলিয়া আদালত মনে করেন, সেই পক্ষের হেফাজত হইতে উহা আদালতে দাখিল করা হয়; তখন আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, সেই দলিলে স্বাক্ষর এবং অন্যান্য সকল অংশ যে ব্যক্তির হস্তাক্ষ বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয়, তাহা সেই ব্যক্তিরই হস্তাক্ষর এবং যেখানে দলিলটি সম্পাদিত বা প্রত্যায়িত, সেখানে আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, যে ব্যক্তির দ্বারা উহা সম্পাদিত ও সত্যায়িত বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় সেই ব্যক্তির দ্বারা উহা যথাবিহিতরূপে সম্পাদিত ও সত্যায়িত হইয়াছে।

Section 90: Presumption as to documents thirty years old:
Where any document, purporting or proved to be thirty years old, is produced from any custody which the Court in the particular case considers proper, the Court may presume that the signature and every other part of such document, which purports to be in the handwriting of any particular person, is in that person's handwriting, and, in the case of a document executed or attested, that it was duly executed and attested by the persons by whom it purports to be executed and attested. 
 
Explanation- Documents are said to be in proper custody if they are in the place in which, and under the care of the person with whom, they would naturally be; but no custody is improper if it is proved to have had a legitimate origin, or if the circumstances of the particular case are such as to render such an origin probable.
৮৫৫.
Under Section 53, the fact that the accused is of good character is considered:
  1. Irrelevant
  2. Relevant evidence
  3. Conclusive proof of innocence
  4. Presumptive evidence of innocence
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৫৩ ধারামতে,
ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির ভাল চরিত্র বা সচ্চরিত্র প্রাসঙ্গিক।

Section 53 ⇒ In criminal proceedings the fact that the person accused is of a good character is relevant.
৮৫৬.
The Evidence Act,1872 এর ৭৪ ধারা অনুযায়ী নিম্নের কোন দলিলটি Public Document নয়?
  1. সার্টিফাইড কপি অব রেজিস্টার্ড পাওয়ার অব এটর্নি
  2. তদন্তকালে পুলিশের দিনপঞ্জী
  3. গ্রেফতারী পরোয়ানা
  4. কমনওয়েলথ সচিবালয়ের দাপ্তরিক পত্র
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৭৪ থেকে ৭৮ ধারায় সরকারী দলিল সংক্রান্ত বিধানসমূহ আলোচনা করা হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশের দলিলগুলোকে সাক্ষ্য আইন মতে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

১. সরকারী দলিল (Public Document); এবং
২. বেসরকারী/ব্যক্তিগত দলিল (Private Document)।

ধারা ৭৪: সরকারী দলিল (Public Document)-
সরকারীভাবে রক্ষিত দলিলকে সরকারী দলিল বা Public document বলে। কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ যেমন-সংসদের আইন, সরকারি সংস্থা বা ট্রাইবুনাল সমূহের নথিপত্র অর্থাৎ দেশী বিদেশী আইন, বিচার বা শাসন বিভাগীয় কোন কর্মচারীর কার্যাবলির লিখিত বিবরণ ও নথিপত্রকে সরকারী দলিল বা Public Document বলে।

অন্যভাবে বলা যায়, সরকারী দলিল বলতে সেই সমস্ত দলিলকে বোঝায় যে সমস্ত দলিল কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের সরকারী প্রতিষ্ঠানে বা ট্রাইব্যুনালের এবং বাংলাদেশের কোন অংশের বা কমনওয়েলথের বা বিদেশে সরকারী অফিসার, আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কার্যাবলী বা কাজের লিপিবদ্ধ বিবরণকে অন্তর্ভুক্ত করে।

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২- এর ৭৪ ধারা অনুসারে,
১. যে সমস্ত দলিল-
(ক) কোনো সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের,
(খ) সরকারি প্রতিষ্ঠান বা ট্রাইব্যুনালের,
(গ) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের কোনো অংশের বা বিদেশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয়, শাসন বিভাগীয় কোনো অফিসারের কার্য,

২. সরকারিভাবে রক্ষিত ব্যক্তিগত দলিল (আদালতের আরজি ও লিখিত জবাব, রায়, রেজিস্ট্রিকৃত দলিল) ইত্যাদি Public Document।

অর্থাৎ (খ) অপশনে প্রদত্ত তদন্তকালে পুলিশের দিনপঞ্জি Public Document নয়।
৮৫৭.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৮৫গ অনুসারে, ডিজিটাল স্বাক্ষর সার্টিফিকেট সম্পর্কিত আদালতের অনুমান কী?
  1. সার্টিফিকেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল
  2. সব তথ্য যাচাই করতে হবে
  3. শুধুমাত্র যাচাইকৃত তথ্য সঠিক
  4. শুধুমাত্র সরকারি সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৮৫গ অনুযায়ী, ডিজিটাল স্বাক্ষর সার্টিফিকেট সম্পর্কিত আদালতের অনুমান হচ্ছে—যদি স্বাক্ষর সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য হয়, তবে আদালত ধরে নেয় যে সার্টিফিকেটে উল্লেখিত তথ্য সঠিক। তবে, সাবস্ক্রাইবার তথ্য (যা যাচাই করা হয়নি) তার ব্যতিক্রম হিসাবে বিবেচিত হয়। অর্থাৎ, সার্টিফিকেটের মধ্যে যা যাচাইকৃত তথ্য আছে তা সঠিক হিসেবে গণ্য করা হবে, যদি না বিপরীত প্রমাণিত হয়।
- এই কারণে, অপশন গ) "শুধুমাত্র যাচাইকৃত তথ্য সঠিক" সঠিক উত্তর।

⇒  সাক্ষ্য আইন, ধারা ৮৫গ (Section 85C of the Evidence Act) অনুযায়ী বলা হয়েছে:
"The Court shall presume, unless contrary is proved, that the information listed in a Digital Signature Certificate is correct, except for information specified as subscriber information which has not been verified, if the certificate was accepted by the subscriber."

- অর্থাৎ, আদালত ধরে নেবে যে ডিজিটাল স্বাক্ষর সার্টিফিকেটে উল্লিখিত তথ্যসমূহ সঠিক, যদি তা ব্যবহারকারী (subscriber) গ্রহণ করে থাকে — তবে এই অনুমান যাচাইকৃত তথ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যেসব তথ্য গ্রাহক সম্পর্কিত এবং যাচাইকৃত নয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে আদালত এমন অনুমান করবে না।
৮৫৮.
ধারা ১৫৭ অনুসারে, প্রাসঙ্গিক বিবৃতি কাকে প্রদান করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে?
  1. অভিযুক্ত ব্যক্তিকে
  2. অভিযোগকারীকে
  3. যেকোনো সরকারি কর্মচারীকে
  4. তদন্তে নিযুক্ত আইনত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ১৫৭ ধারা:
"কোন সাক্ষীর সাক্ষ্যকে সমর্থন করার জন্য, ঐ একই বিষয়ে উক্ত সাক্ষী কর্তৃক পূর্বে প্রদত্ত যে কোন বিবৃতি, যা ঘটনা ঘটার সময় বা প্রায় সময়ে, অথবা ঘটনা তদন্তে আইনত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রদত্ত হয়েছিল, তা প্রমাণ করা যেতে পারে।"

[In order to corroborate the testimony of a witness, any former statement made by such witness relating to the same fact at or about the time when the fact took place, or before any authority legally competent to investigate the fact, may be proved.]
৮৫৯.
সাক্ষ্য আইনের ১০৮ ধারা অনুযায়ী একজন ব্যক্তিকে মৃত বলে কবে ধরে নেওয়া হয়?
  1. ৭ বছর ধরে খবর না পাওয়া গেলে।
  2. ১০ বছর ধরে খবর না পাওয়া গেলে।
  3. ১২ বছর ধরে খবর না পাওয়া গেলে।
  4. কোনো সময়সীমা নির্ধারিত নেই।
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৮ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তির গত ৭ বছরের মধ্যে কোনো খোঁজ না পাওয়া যায় এবং স্বাভাবিক অবস্থায় যারা তার খবর পাওয়ার কথা তারা যদি কোনো খবর না পায়, তবে আদালত সেই ব্যক্তিকে মৃত বলে অনুমান করতে পারে। তবে, যদি কেউ সেই ব্যক্তিকে জীবিত বলে দাবি করে, তাহলে তার প্রমাণের দায়িত্ব দাবিদারের ওপর বর্তাবে।

 ⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৮ ধারা অনুযায়ী-
আদালত কোন ব্যক্তিকে মৃত অনুমান করতে বাধ্য যদি বিগত ৭ বৎসর যাবৎ তার কোন খবর পাওয়া না যায় এমন ব্যক্তিকে যে জীবিত দাবী করে, তাকেই প্রমাণ করতে হবে উক্ত ব্যক্তি জীবিত।
-----------------
⇒ The Evidence Act,1872: Section 108:  Burden of proving that person is alive who has not been heard of for seven years:
Provided that when the question is whether a man is alive or dead, and it is proved that he has not been heard of for seven years by those who would naturally have heard of him if he had been alive, the burden of proving that he is alive is shifted to the person who affirms it.
৮৬০.
সাধারণ প্রথা বা অধিকারের অস্তিত্ব সম্বন্ধে কাদের অভিমত আদালতে গ্রহণযোগ্য?
  1. স্থানীয় নেতা
  2. স্থানীয় আদালত
  3. সরকারি কর্মকর্তার
  4. যাদের পক্ষে তা জানা স্বাভাবিক
ব্যাখ্যা
• ধারা ৪৮- অধিকার অথবা প্রথার অস্তিত্ব সম্বন্ধে অভিমত যখন প্রাসঙ্গিক:
কোন সাধারণ প্রথা অথবা অধিকারের অস্তিত্ব সম্পর্কে যেক্ষেত্রে আদালতকে কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত প্রথা বা অধিকারের অস্তিত্ব থাকলে যে সমস্ত ব্যক্তির পক্ষে তা জানা স্বাভাবিক, এর অস্তিত্ব সম্বন্ধে তার অভিমত প্রাসঙ্গিক।

ব্যাখ্যাঃ "সাধারণ প্রথা অথবা অধিকার" কথাটি বলতে যথেষ্ঠ সংখ্যক ব্যক্তির একটি শ্রেণীর ভিতর সাধারণভাবে প্রচলিত প্রথা বা অধিকারও বুঝায়।

উদাহরণ-
কোন একটি গ্রামের অধিবাসীদের নির্ধারিত কোন একটি কূপের পানির ব্যবহার করার অধিকার থাকলে, তা এ ধারার অর্থ অনুযায়ী সাধারণ অধিকার বলে বিবেচিত হবে।
৮৬১.
সাক্ষ্য আইনের ১২২ ধারায় যোগাযোগ বা পত্রালাপ প্রকাশে বাধ্য করা যাবে না।
  1. স্বামী কে
  2. স্ত্রীকে
  3. স্বামী এবং স্ত্রীকে
  4. আসামিকে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২২ ধারার বিধান: বিবাহ বজায় থাকাকালীন বার্তা:

কোন ব্যক্তি যিনি বিবাহিত বা যাহার সহিত বিবাহ হইয়াছে, বিবাহ বজায় থাকাকালে সেই ব্যক্তির সহিত তাহার স্ত্রী বা স্বামীর বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করিতে সেই ব্যক্তিকে বাধ্য করা যাইবে না; বার্তা প্রদানকারীর বা তাহার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির সম্মতি ব্যতীত বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করিবার অনুমতিও তাহাকে দেওয়া যাইবে না, তবে বিবাহিত ব্যক্তিদ্বয়ের মধ্যে কোন দেওয়ানী মামলায় অথবা তাহাদের একজনের বিরুদ্ধে কোন অপরাধ করিবার দায়ে অপরজন ফৌজদারীতে সোর্পদ থাকিলে সেইক্ষেত্রে বার্তার বিষয় প্রকাশ করিতে দেওয়া যাইবে। 
--------------
⇒ Communications during marriage:
Section 122. No person who is or has been married shall be compelled to disclose any communication made to him during marriage by any person to whom he is or has been married: nor shall he be permitted to disclose any such communication, unless the person who made it, or his representative in interest, consents, except in suits between married persons, or proceedings in which one married person is prosecuted for any crime committed against the other.
৮৬২.
সাক্ষ্য আইনের ৫৫ ধারা কোন ধরণের মামলায় প্রযোজ্য?
  1. দেওয়ানি মামলা
  2. ফৌজদারি মামলা
  3. উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য
  4. শুধুমাত্র চুক্তিভিত্তিক মামলা
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৫ ধারার বিধান: ক্ষতিপূরণ নির্ধারনের ক্ষেত্রে চরিত্রের প্রভাব-
দেওয়ানি মোকদ্দমায় যদি কোনো ব্যক্তির চরিত্র এমন হয় যা তার প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণকে প্রভাবিত করতে পারে, তাহলে সেই চরিত্র সংক্রান্ত তথ্য প্রাসঙ্গিক (relevant) হবে।

⇒ Section 55. Character as affecting damages:
 In civil cases the fact that the character of any person is such as to affect the amount of damages which he ought to receive, is relevant. 
 
Explanation.– In sections 52, 53, 54 and 55, the word "character" includes both reputation and disposition; but, except as provided in section 54, evidence may be given only of general reputation and general disposition, and not of particular acts by which reputation or disposition were shown.
৮৬৩.
সাক্ষ্য আইনের ১০৮ ধারায় আদালত নিম্মলিখিত কোন ধরনের অনুমান করতে পারে
  1. জীবিত এর অনুমান
  2. মৃত অনুমান
  3. বৈধতার অনুমান
  4. সম্পর্কের অনুমান
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইনের ১০৮ ধারায় আদালত কোন ব্যক্তিকে মৃত অনুমান করতে বাধ্য যদি বিগত ৭ বৎসর যাবৎ তার কোন খবর পাওয়া না যায়। এমন ব্যক্তিকে যে জীবিত দাবী করে তাকেই প্রমাণ করতে হবে উক্ত ব্যক্তি জীবিত।
৮৬৪.
৩০ বছরের পুরাতন দলিলের সম্পাদন সঠিক ধরে নেওয়া যেতে পারে যদি তা উপস্থিত হয়
  1. একজন আইনজীবীর নিকট হতে
  2. যে কোন হেফাজত হতে
  3. উপযুক্ত হেফাজত হতে
  4. একজন বিচারকের নিকট হতে
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারা অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরানো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয় বস্তুকে আদালত সঠিক বলে মনে করতে পারে আবার নাও করতে পারে। ৯০ ধারায় বলা হয়েছে ৩০ বছরের পুরানো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক বলে মনে করবে যদি দলিলটি সঠিক ব্যক্তির দখল থেকে আসে।

♦ সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারার বিধান ত্রিশ বৎসরের পুরাতন দলিল সম্পর্কে অনুমানঃ
যখন কোন দলিল ত্রিশ বৎসরের পুরাতন বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় বা প্রমাণ করা হয় এবং তাহা সংশ্লিষ্ট মকদ্দমায় যে পক্ষের হেফাজতে থাকা সঙ্গত বলিয়া আদালত মনে করেন, সেই পক্ষের হেফাজত হইতে উহা আদালতে দাখিল করা হয়; তখন আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, সেই দলিলে স্বাক্ষর এবং অন্যান্য সকল অংশ যে ব্যক্তির হস্তাক্ষ বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয়, তাহা সেই ব্যক্তিরই হস্তাক্ষর এবং যেখানে দলিলটি সম্পাদিত বা প্রত্যায়িত, সেখানে আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, যে ব্যক্তির দ্বারা উহা সম্পাদিত ও সত্যায়িত বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় সেই ব্যক্তির দ্বারা উহা যথাবিহিতরূপে সম্পাদিত ও সত্যায়িত হইয়াছে।

ব্যাখ্যাঃ দলিল যেস্থানে ও যে ব্যক্তির হেফাজতে থাকা স্বাভাবিক, যদি উহা সেই স্থানে এবং সেই ব্যক্তির হেফাজতে থাকে, তবে উহা উপযুক্ত হেফাজতে আছে বলিয়া বুঝাইবে। কিন্তু দলিলটি যে হেফাজতে আছে, সেখানে থাকিবার আইন সঙ্গত কারণ আছে বলিয়া যদি প্রমাণিত হয় অথবা সংশ্লিষ্ট মকদ্দমায় ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে অনুরূপ কারণ থাকা সম্ভব বলিয়া যদি বিবেচিত হয়, তবে সেই হেফাজত অনুপযুক্ত বলিয়া গণ্য হইবে না।
এই ব্যাখ্যা ৮১ ধারার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

♦অর্থাৎ ধারা ৯০ অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরনো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক মনে করবে যদি দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হয় এবং আদালতের দৃষ্টিতে সঠিক হেফাজত হতে দলিলটি আদালতে দাখিল করা হয়।
৮৬৫.
'Oral evidence must, in all cases whatever, be direct' বিধানটি সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ এর কত ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ৫৯ ধারা
  2. ৬০ ধারা
  3. ৬১ ধারা
  4. ৬২ ধারা
ব্যাখ্যা

সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ এর ৬০ ধারায় উল্লেখ আছে "Oral evidence must, in all cases whatever, be direct".

সাক্ষ্য আইন ১৮৭২,ধারা ৬০: মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হইতে হইবে: মৌখিক সাক্ষ্য সকল ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রত্যক্ষ হইতে হইবে, অর্থাৎ-
সাক্ষ্যে উল্লিখিত ঘটনা যদি দেখা যাইতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলিবে যে, সে উহা দেখিয়াছে তাকেই সাক্ষ্য দিতে হইবে;
সাক্ষ্যে বর্ণিত ঘটনা যদি শোনা যাইতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলিবে যে সে উহা শুনিয়াছে, তাকেই সাক্ষ্য দিতে হইবে;
সাক্ষ্যে বর্ণিত ঘটনা যদি অন্য কোনো ইন্দ্রিয় দ্বারা বা অন্য কোনো উপায়ে উপলব্ধি করা যাইতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলিবে যে, সে উহা সেই ইন্দ্রিয় দ্বারা সেই উপায়ে উপলব্ধি করিয়াছে, তাকেই সাক্ষ্য দিতে হইবে,
সাক্ষ্যে বর্ণিত বিষয় যদি কাহারও অভিমত কিংবা অভিমতের ভিত্তিতে হয়, তবে যে লোক সেই ভিত্তিতে সেই অভিমত পোষণ করে, তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে;
তবে, বিশেষজ্ঞের অভিমত সম্বলিত গ্রন্থ যদি সাধারণভাবে বাজারে বিক্রয় হয়, সেইক্ষেত্রে সেই অভিমত এবং যে যুক্তির উপর প্রতিষ্ঠিত তাহা প্রমাণের জন্য সেই গ্রন্থ উপস্থাপন করা যাইতে পারে, যদি সেই গ্রন্থের প্রণেতার মৃত্যু হইয়া থাকে, অথবা যদি তাহার সন্ধান পাওয়া না যায়;
কিংবা যদি তিনি সাক্ষ্য দিতে অসমর্থ হইয়া থাকেন, অথবা যদি তাঁহাকে সাক্ষী হিসেবে হাজির করিতে এইরূপ বিলম্ব ও ব্যয় হয় যাহা আদালত অযৌক্তিক বলিয়া বিবেচনা করেন;
ইহা ব্যতীত, মৌখিক সাক্ষ্যে যদি দলিল ভিন্ন অপর বস্তুর অস্তিত্ব বা অবস্থা সম্পর্কে উল্লেখ করা হয় তবে আদালত উপযুক্ত মনে করিলে সেই বস্তু আদালতের পরিদর্শনের জন্য হাজির করিবার নির্দেশ দিতে পারেন।
------------------------------------
The Evidence Act 1872, Section 60, Oral evidence must be direct: Oral evidence must, in all cases whatever, be direct; that is to say-
if it refers to a fact which could be seen, it must be the evidence of a witness who says he saw it;
if it refers to a fact which could be heard, it must be the evidence of a witness who says he heard it;
if it refers to a fact which could be perceived by any other sense or in any other manner, it must be the evidence of a witness who says he perceived it by that sense or in that manner;
if it refers to an opinion or to the grounds on which that opinion is held, it must be the evidence of the person who holds that opinion on those grounds:
Provided that the opinions of experts expressed in any treatise commonly offered for sale, and the grounds on which such opinions are held, may be proved by the production of such treatises if the author is dead or cannot be found, or has become incapable of giving evidence, or cannot be called as a witness without an amount of delay or expense which the Court regards as unreasonable:
Provided also that, if oral evidence refers to existence or condition of any material thing other than a document, the Court may, if it thinks fit, require the production of such material thing for its inspection.

৮৬৬.
ন্যায়বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় না হলে ধর্ষণের অপরাধ বা ধর্ষণের মামলায়, দফা ভিক্টিমের সাধারণ অনৈতিক চরিত্র বা পূর্ববর্তী যৌন আচরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যাবে না। বিধানটি The Evidence Act,1872 এর কত ধারায় বলা হয়েছে?
  1. ১৪৬ (১) ধারায় 
  2. ১৪৬ (২) ধারায় 
  3. ১৪৬ (৩) ধারায় 
  4. ১৫৫ (৪) ধারায় 
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪৬ ধারার বিধান জেরায় আইনসঙ্গত প্রশ্ন: যখন সাক্ষীকে জেরা করা হয় তখন ইতিপূর্বে উল্লেখিত প্রশ্নসমূহ ছাড়াও এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে, যা দ্বারা:
১) তার সত্যবাদিতা পরীক্ষা করা যায়।
২) তার পরিচয় ও মর্যাদা জানা যায়, অথবা
৩) তার চরিত্রের প্রতি আঘাত করে তার বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা যায়, যদিও এরূপ প্রশ্নের উত্তরের দ্বারা তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অপরাধের সাথে জড়িত হতে পারে অথবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তার দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির সম্ভাবনা থাকে।
তবে শর্ত থাকে যে, ধর্ষণের অপরাধ বা ধর্ষণের চেষ্টার জন্য একটি মামলায়, দফা (৩) এর অধীনে ভিক্টিমের সাধারণ অনৈতিক চরিত্র বা পূর্ববর্তী যৌন আচরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যাবে না:
আরও শর্ত থাকে যে, এই ধরনের প্রশ্ন শুধুমাত্র আদালতের অনুমতি নিয়েই জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে, যদি এটি ন্যায়বিচারের জন্য আদালতের কাছে প্রয়োজনীয় বলে মনে হয়।
---------------------------------------------------------
⇒ The Evidence Act 1872, Section146, Questions lawful in cross-examination: When a witness is cross-examined, he may, in addition to the questions hereinbefore referred to, be asked any questions which tend -
(1) to test his veracity,
(2) to discover who he is and what is his position in life, or
(3) to shake his credit, by injuring his character, although the answer to such questions might tend directly or indirectly to criminate him or might expose or tend directly or indirectly to expose him to a penalty or forfeiture
Provided that in a prosecution for an offence of rape or attempt to rape, no question under clause (3) can be asked in the cross-examination as to general immoral character or previous sexual behaviour of the victim:
Provided further that such question can only be asked with the permission of the Court, if it appears to the Court necessary for the ends of justice.

৮৬৭.
কোন ধরনের বিবৃতি সাক্ষ্য আইনের ধারা ৩২(৩) এর অধীনে প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হয়?
  1. যা বিবৃতিকারীর স্বার্থের পরিপন্থী
  2. সর্বসাধারণের অধিকার সংক্রান্ত মতামত
  3. পারিবারিক দলিল বা উইল সম্পর্কিত বিবৃতি
  4. কয়েকজনের প্রদত্ত অনুভূতি প্রকাশক বিবৃতি
ব্যাখ্যা
উত্তর: ক) বিবৃতি যা বিবৃতিকারীর স্বার্থের পরিপন্থী।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৩২ অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অক্ষম হয়, তখন তার কিছু নির্দিষ্ট বিবৃতি প্রাসঙ্গিক হতে পারে। এই ধারায় নিম্নলিখিত ৮টি পরিস্থিতি অন্তর্ভুক্ত:
১) মৃত্যুকালীন ঘোষণা (dying declaration) — যখন ব্যক্তি মারা যাওয়ার পূর্বে কোনো ঘটনার সম্পর্কে মন্তব্য করেন।
২) ব্যবসার কার্যক্রমে বিবৃতি (statement made in course of business) — যখন কোনো ব্যক্তি তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে বিবৃতি দেন।
৩) স্বার্থবিরোধী বিবৃতি (statement against interest) — যে বিবৃতি ব্যক্তির নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধে চলে।
৪) জনস্বার্থ বা প্রথা সংক্রান্ত বিবৃতি (opinion as to public right or custom) — যখন কোনো ব্যক্তি সর্বসাধারণের অধিকার বা প্রথা সম্পর্কিত বিবৃতি দেন।
৫) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্পর্কিত বিবৃতি (relates to existence of relationship) — আত্মীয়তার অস্তিত্বের ব্যাপারে বিবৃতি।
৬) পারিবারিক দলিল বা উইলে করা বিবৃতি (statement made in will or deed relating to family affairs) — উইল বা পারিবারিক দলিলে করা বিবৃতি।
৭) লেনদেন সংক্রান্ত দলিলের বিবৃতি- "transaction mentioned in section 13, clause (a)"ধারা ১৩-এর (ক) অংশে উল্লেখিত লেনদেন সংক্রান্ত দলিলের বিবৃতি।
৮) কিছু ব্যক্তির প্রদত্ত বিবৃতি (statement made by several persons) — যখন একাধিক ব্যক্তি একটি বিশেষ বিষয় সম্পর্কে একই মতামত দেন।
-----------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section-32: Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant.
- When it relates to cause of death;
or is made in course of business;
or against interest of maker;
or gives opinion as to public right or custom, or matters of general interest;
or relates to existence of relationship;
or is made in will or deed relating to family affairs;
or in document relating to transaction mentioned in section 13, clause (a);
or is made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question
৮৬৮.
সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে আদালত The Evidence Act, 1872 এর ১৫২ ধারায় কোন ধরনের প্রশ্ন করতে নিষেধ করতে পারেন?
  1. বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে করা প্রশ্ন
  2. উত্যক্ত করার উদ্দেশ্যে করা প্রশ্ন
  3. অপমানিত করার উদ্দেশ্যে করা প্রশ্ন
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১৫২ ধারা অনুসারে,
আদালত যে কোনো প্রশ্ন নিষিদ্ধ করবে যা তার কাছে অপমান বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে মনে হয়, অথবা যা, নিজে যথাযথ হলেও, আদালতের কাছে অনাবশ্যকভাবে আপত্তিকর রূপে প্রতীয়মান হয়।

Section 152- Questions intended to insult or annoy:
The Court shall forbid any question which appears to it to be intended to insult or annoy, or which, though proper in itself, appears to the Court needlessly offensive in form.
৮৬৯.
According to Section 143 of The Evidence Act, 1872, when may leading questions be asked?
  1. During re-examination
  2. During examination-in-chief
  3. During cross-examination
  4. In all stages of examination
ব্যাখ্যা
⇒ Answer: During cross-examination.

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪১ ধারার বিধান ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন: প্রশ্নকারী প্রশ্নের যে উত্তর আশা বা ইচ্ছা করেন, প্রশ্নের মধ্যেই তাহার ইঙ্গিত দেওয়া হলে তাহাকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বলা হয় ৷

- সাক্ষ্য আইনের ১৪২ ধারার বিধান ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন যখন অবশ্যই করা যাইবে নাঃ বিরুদ্ধপক্ষ যদি আপত্তি করেন, তবে জবানবন্দি ও পুনঃজবানবন্দী গ্রহণকালে আদালতের অনুমতি ব্যতীত ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা চলিবে না।
যে-সকল বিষয় ভুমিকামূলক অথবা অবিসংবাদিত অথবা পূর্বেই যথেষ্টরূপে প্রমাণিত হইয়াছে বলিয়া আদালত মনে করেন, সেই সকল বিষয় সম্পর্কে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করিবার অনুমতি আদালত অবশ্যই দিবেন।
- সাক্ষ্য আইনের ১৪৩ ধারার বিধান ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন যখন করা যাইতে পারে: জেরার ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা চলিবে।
--------
⇒ The Evidence Act,1872, Section 141. Leading questions:
Any question suggesting the answer which the person putting it wishes or expects to receive is called a leading question.
⇒ The Evidence Act,1872, Section 142. When they must not be asked:
Leading questions must not, if objected to by the adverse party be asked in an examination-in-chief, or in a re-examination, except with the permission of the Court. 
The Court shall permit leading questions as to matters which are introductory or undisputed, or which have, in its opinion, been already sufficiently proved.
⇒ The Evidence Act,1872, Section 143. When they may be asked:
 Leading questions may be asked in cross-examination.
৮৭০.
একজন আইনজীবী অপমান করার উদ্দেশ্যে সাক্ষীকে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন করে যা মামলার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। এই প্রশ্নটি সাক্ষ্য আইনের ১৫২ ধারা অনুসারে-
  1. গ্রহণযোগ্য
  2. বাধ্যতামূলক
  3. নিষিদ্ধযোগ্য
  4. রেকর্ডে নেওয়া হবে না কিন্তু প্রশ্ন করা যাবে
ব্যাখ্যা
 • সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১৫২ ধারা অনুসারে,
আদালত যে কোনো প্রশ্ন নিষিদ্ধ করবে যা তার কাছে অপমান বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে মনে হয়, অথবা যা, নিজে যথাযথ হলেও, আদালতের কাছে অনাবশ্যকভাবে আপত্তিকর রূপে প্রতীয়মান হয়।

Section 152- Questions intended to insult or annoy:
The Court shall forbid any question which appears to it to be intended to insult or annoy, or which, though proper in itself, appears to the Court needlessly offensive in form.
৮৭১.
কয়টি ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে দলিল সম্পর্কে মাধ্যমিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য করা হয়েছে?
  1. ৫টি
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
♦The Evidence Act, 1872 এর ৬৫ ধারায় বলা হয়েছে ৭টি ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে দলিল সম্পর্কে মাধ্যমিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য করা হয়েছে।
♦মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ করা যাবে যদি-
ক. দলিলটি যার বিপক্ষে প্রমাণ করতে হবে তার আয়ত্তে আছে বা আদালতের সমনের আওতার বাইরে বা সেই ব্যক্তির দখলে আছে যে ব্যক্তি দলিলটি পেশ করতে বাধ্য কিন্তু নোটিশ পাওয়া সত্ত্বেও দাখিল করছে না।
খ. দলিলটি যার বিপক্ষে প্রমাণ করতে হবে সে ব্যক্তি দলিলটির অস্তিত্ব লিখিত ভাবে স্বীকার করে নিয়েছে।
গ. মূল দলিলটি হারিয়ে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে।
ঘ. দলিলটি সহজে স্থানান্তরযোগ্য না হলে ।
ঙ. মূল দলিলটি সরকারী দলিল হলে।
চ. দলিলটির জাবেদা নকল সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহারের নিয়ম থাকলে
ছ. মূল দলিলের পরীক্ষা আদালতের জন্য সুবিধাজনক না হলে।
৮৭২.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী নিম্নের কোন যোগাযোগ বা পত্রালাপ প্রকাশে বাধ্য করা যাবে না?
  1. পুলিশ ও আসামির যোগাযোগ বিষয়বস্তু
  2. স্ত্রী বা স্বামীর বার্তার বিষয়বস্তু
  3. উকিল ও মক্কেলের বার্তার বিষয়বস্তু
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২২ ধারার বিধান: বিবাহ বজায় থাকাকালীন বার্তা: কোন ব্যক্তি যিনি বিবাহিত বা যাহার সহিত বিবাহ হইয়াছে, বিবাহ বজায় থাকাকালে সেই ব্যক্তির সহিত তাহার স্ত্রী বা স্বামীর বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করিতে সেই ব্যক্তিকে বাধ্য করা যাইবে না; বার্তা প্রদানকারীর বা তাহার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির সম্মতি ব্যতীত বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করিবার অনুমতিও তাহাকে দেওয়া যাইবে না, তবে বিবাহিত ব্যক্তিদ্বয়ের মধ্যে কোন দেওয়ানী মামলায় অথবা তাহাদের একজনের বিরুদ্ধে কোন অপরাধ করিবার দায়ে অপরজন ফৌজদারীতে সোর্পদ থাকিলে সেইক্ষেত্রে বার্তার বিষয় প্রকাশ করিতে দেওয়া যাইবে। 
--------------
⇒ Communications during marriage: Section 122. No person who is or has been married shall be compelled to disclose any communication made to him during marriage by any person to whom he is or has been married: nor shall he be permitted to disclose any such communication, unless the person who made it, or his representative in interest, consents, except in suits between married persons, or proceedings in which one married person is prosecuted for any crime committed against the other.
৮৭৩.
The Evidence Act, 1872 এর কোন ধারাটি জেরায় ‘আইনসঙ্গত প্রশ্ন’ সম্পর্কিত?
  1. ১৩৯
  2. ১৪১
  3. ১৪৫
  4. ১৪৬
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ধারা-১৪৬ তে জেরার আইনসঙ্গত প্রশ্নের নিধান আছে- সাক্ষ্য আইনের ১৪৬ ধারামতে নিম্নলিখিত উদ্দ্যেশ্যে জেরা করা যায়। যথা-
আসামীর সত্যবাদিতা, পরিচয় ও মর্যাদা উদঘাটন এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা। 
সাক্ষীর মুখ দিয়ে জেরাকারীর পক্ষে কথা বের করা: এবং
সাক্ষীর বিশ্বাস যোগ্যতা খন্ডন করার মাধ্যমে প্রদত্ত সাক্ষ্যকে বিশ্বাসের অযোগ্য করে তোলার উদ্দ্যেশ্যে জেরা করা যায়।

সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৪৬ঃ জেরায় আইনসঙ্গত প্ৰশ্ন বিধান হল
যখন সাক্ষীকে জেরা করা হয় তখন ইতিপূর্বে উল্লিখিত প্রশ্নসমূহ ব্যতীতও এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যাইতে পারে, যদ্বারাঃ
তাহার সত্যবাদীতা পরীক্ষা করা যায় ।
তাহার পরিচয় ও মর্যাদা জানা যায়, অথবা
তাহার চরিত্রের প্রতি আঘাত করিয়া তাহার বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা যায়,
♦ যদিও প্রশ্নের উত্তরের দ্বারা তিনি বা পরোক্ষভাবে অপরাধের সহিত জড়িত হইতে পারেন অথবা তিনি দন্ড লাভের যোগ্য সাব্যস্ত হইতে পারেন কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাহার দন্ড লাভের যোগ্য সাব্যস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকে।
৮৭৪.
Judicial Notice প্রমাণের প্রয়োজন হয় না সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা মোতাবেক?
  1. ৫৫
  2. ৫৬
  3. ৫৭
  4. ৫৮
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৫৬ অনুসারে- কিছু বিষয় আদালত প্রমাণিত বিবেচনা করেন এগুলো প্রমাণের প্রয়োজন নেই, এই বিষয়গুলিকে বিচারিক অবগতি বা Judicial Notice বলে।

♦অর্থাৎ আদালত যে ঘটনা বিচারিক অবগতিতে নিবেন তা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
৮৭৫.
The Evidence Act, 1872 কোন ধরনের আইন?
  1. Adjective law
  2. Procedural Law
  3. Substantive Law
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন একটি পদ্ধতিগত আইন বা ইংরেজিতে Procedural Law বা Adjective law. এই আইনের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, আদালত মামলার বিচার্য বিষয় প্রমাণের জন্য মামলার কোন পক্ষ কোন কোন বিষয়ের উপর সাক্ষ্য দিতে পারবে, কোনটিতে দিতে পারবে না, কোন সাক্ষ্যগুলো প্রাসঙ্গিক, কোনগুলো অপ্রাসঙ্গিক, গ্রহণযোগ্যতা, সাক্ষ্য সম্পর্কে আদালতের অনুমান, কে প্রমাণ করবে অর্থাৎ প্রমাণের ভার ইত্যাদি। 

⇒ যে আইনে কোন মোকদ্দমা বা মামলার বিচার করার পদ্ধতি অর্থাৎ মামলা দায়ের থেকে শুরু করে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা পর্যন্ত যে সকল আইনী প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিচার করতে হয়, সেই প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি বা নিয়ম যে আইনে উল্লেখ থাকে সেই নিয়ম সংশ্লিষ্ট আইনকে পদ্ধতিগত আইন [Procedural Law or Adjective Law) বলে। যেমন: ফৌজদারি কার্যবিধি, দেওয়ানী কার্যবিধি, তামাদি আইন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
⇒ যে আইন কোন অধিকারকে সংজ্ঞায়িত করে, সৃষ্টি করে এবং অর্পণ করে বা কোন শাস্তিকে সংজ্ঞায়িত করে এবং দায় আরোপ করে সেই আইনকে তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন [Substantive Law] বলে। যেমন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদি।
৮৭৬.
ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ (Digital Signature Certificate) সম্পর্কে অনুমানের বিধান কোন ধারায় আছে? 
  1. ৮৫ক ধারায়
  2. ৮৫খ ধারায়
  3. ৮৫গ ধারায়
  4. ৮৫ঘ ধারায়
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৮৫গ (Section 85C)-ই শুধুমাত্র ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ (Digital Signature Certificate) সম্পর্কে অনুমানের বিধান দেয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৮৫গ ধারার বিধান ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ সম্পর্কে অনুমান:- বিপরীত কিছু প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত আদালত অবশ্যই অনুমান করবে যে, গ্রাহকের যে সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই করা হয়নি তা ব্যতীত ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের উল্লেখিত তথ্য সঠিক, যদি সনদটি গ্রাহক দ্বারা গৃহিত হয়। 
⇒ গ্রাহকের তথ্য হিসেবে নির্ধারিত তথ্য যাচাই করা না হলে তা সঠিক বলে আদালত অনুমান করবে না।
----------
⇒ The Evidence Act,1872, Section 85C Presumption as to Digital Signature Certificates.- The Court shall presume, unless contrary is proved, that the information listed in a Digital Signature Certificate is correct, except for information specified as subscriber information which has not been verified, if the certificate was accepted by the subscriber.

৮৭৭.
ডিজিটাল কমিউনিকেশন এর ক্ষেত্রে কোন ধরনের অনুমান করা হবে?
  1. May
  2. Shall
  3. Conclusive proof
  4. কোন অনুমান করতে হবে না
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইন (সংশোধন), ২০২২ এর ৮৮(ক) ধারা মতে, আদালত অনুমান করতে পারে, যে প্রেরক ডিজিটাল যোগাযোগ বা বার্তা সার্ভারের মাধ্যমে যে প্রাপকের কাছে বার্তাটি সম্বোধন করতে চান তার কম্পিউটারে দেওয়া বার্তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ একটি ডিজিটাল যোগাযোগ সংক্রমণের জন্য ডিজিটাল ডিভাইসের অন্যান্য ফর্মের মধ্যে দেয়া; কিন্তু আদালতে এই ধরনের বার্তা প্রেরিত ব্যক্তিদের হিসাবে কোন অনুমান করবে না।

♦সাক্ষ্য আইন (সংশোধন), ২০২২ এর ৮৮(ক) ধারা (Presumption as to digital communication section 88A . The Court may presume that a digital communication forwarded by the originator through a digital communication or message server to the addressee to whom the message purports to be addressed corresponds with the message as fed into his computer or fed into other forms of digital device for transmission; but the Court shall not make any presumption as to the persons by whom such message was sent.)
৮৭৮.
আইনজীবী কর্তৃক পেশা সম্পর্কিত পত্রালাপ বা যোগাযোগ প্রকাশ করা হতে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে সাক্ষ্য আইনের কত ধারায়?
  1. ধারা ১২৬
  2. ধারা ১২৯
  3. ধারা ১২৫
  4. ধারা ১২৭
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারার বিধান পেশা সম্পর্কিত বার্তা: 
ব্যারিস্টার, এটর্নি বা উকিল মক্কেলের ব্যারিস্টার, এটর্নি বা উকিল হিসাবে কাজ করিবার সময় এবং উদ্দেশ্যে উক্ত মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে তাহার নিকট প্রদত্ত কোন বার্তার বিষয় মক্কেলের অনুমতি ব্যতীত প্রকাশ করিতে অনুমতি পাইবেন না। অথবা বৃত্তিগত কার্য সম্পাদানকালে এবং প্রসঙ্গে মক্কেলের যেই সকল দলিলের সহিত তিনি পরিচিত হইয়াছিলেন, সেইগুলির বিষয়বস্তু বা অবস্থার কোন বিবৃতি দিতে পারিবেন না অথবা তাহার কার্যকালে ও উদ্দেশ্যে মক্কেলকে তিনি যে পরামর্শ দিয়াছেন, তাহা প্রকাশ করিতে পারিবেন না।

⇒ তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলি প্রকাশ হইতে এই ধারার কিছু অব্যাহিত দিবেন না।

(১) বেআইনী উদ্দেশ্যে সাধনকল্পে যে সংবাদ আদান- প্রদান করা হইয়াছে,

(২) ব্যরিস্টার, এটর্নি বা উকিল পেশাগত কার্যে নিযুক্ত থাকিবার সময় তৎকর্তৃক লক্ষিত বিষয় যদ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তাহার নিযুক্তির পরে কোন অপরাধ বা প্রতারণা সংঘটিত হইয়াছে অনুরূপ ঘটনার প্রতি উক্ত ব্যরিস্টার, এটর্নি বা উকিল মনোযোগ তাহার মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে আকৃষ্ট করা হইয়াছিল কিনা তাহা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

⇒ ব্যাখ্যা: এই ধারার বর্ণিত বাধ্যবাধকতা নিযুক্তির অবসান ঘটিবার পরও অব্যাহত থাকে।

⇒ The Evidence Act, 1872 এর ১২৬ ধারা মতে কোন বেআইনি উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা হিসাবে কোন তথ্য প্রকাশ করা হলে এডভোকেট এমন তথ্য প্রকাশ করতে পারে এবং তা গোপন রাখতে বাধ্য না।
৮৭৯.
সাক্ষী আদালতে স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য নোট ব্যবহার করলে প্রতিপক্ষ চাইলে-
  1. শুধু নোট দেখতে পারে
  2. নোট দেখতে ও সাক্ষীকে জেরা করতে পারবে
  3. সাক্ষীর তথ্য বাতিল করতে পারবে
  4. শুধু সাক্ষীকে জেরা করতে পারে
ব্যাখ্যা

ধারা ১৬১: স্মৃতি পুনরুজ্জীবিতের জন্য ব্যবহৃত লেখার বিষয়ে প্রতিপক্ষের অধিকার-
যে লেখাগুলোর উল্লেখ পূর্ববর্তী দুই ধারার অধীনে করা হয়েছে (অর্থাৎ ধারা ১৫৯ ও ১৬০), তা যদি কোনো সাক্ষী স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করতে ব্যবহার করেন, তাহলে প্রতিপক্ষ পক্ষ (adverse party) চাইলে সেই লেখা উত্থাপন ও প্রদর্শন করতে হবে। প্রতিপক্ষ চাইলে উক্ত লেখার বিষয়ে সাক্ষীকে জেরা (cross-examine) করতে পারবে।

৮৮০.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৮৯ক-এর অধীন আদালতের অনুমান কোন সময় বাতিল হয়?
  1. বিচারের শুরুতে
  2. বিপরীত প্রমাণিত হলে
  3. সাক্ষ্য উপস্থাপনের পর
  4. যখন উভয় পক্ষ একমত হয়
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৮৯ক-এর অধীন, শারীরিক বা ফরেনসিক সাক্ষ্যের অনুমান (presumption) প্রাথমিকভাবে সেই ব্যক্তির অন্তর্গত বা তৈরি করা বলে গ্রহণ করা হয় যার কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এই অনুমান বাতিল হয় যখন বিপরীত প্রমাণ (contrary proof) উপস্থাপিত হয়, যেমন সাক্ষ্যটি অন্য কারো বলে প্রমাণিত হলে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৮৯ক ধারার বিধান : শারীরিক বা ফরেনসিক সাক্ষ্য হিসাবে অনুমান:
- আদালত অনুমান করতে পারে যদি না বিপরীত প্রমাণিত হয় যে, শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণগুলি সেই ব্যক্তির অন্তর্গত বা তৈরি করা হয়েছে যার কাছ থেকে এটি সংগ্রহ করা হয়েছে।

- অর্থাৎ আদালত প্রতিকূল প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত অনুমান করতে পারে যে শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সেই ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত, অথবা সেই ব্যক্তির দ্বারা সৃষ্টি, যাঁর কাছ থেকে উক্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
---------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section-89A: Presumption as to physical or forensic evidence:
-The Court may presume unless contrary is proved that the physical or forensic evidence belongs to or is created by that person from whom it purports to have been collected.

৮৮১.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৩৭ অনুযায়ী, জেরা (Cross-examination) কী?
  1. সাক্ষী কর্তৃক নিজেকে প্রশ্ন করা
  2. আদালত কর্তৃক সাক্ষীকে প্রশ্ন করা
  3. বিরুদ্ধ পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীকে প্রশ্ন করা
  4. সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীকে প্রশ্ন করা
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) বিরুদ্ধ পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীকে প্রশ্ন করা।

→ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৩৭ অনুযায়ী, জেরা (Cross-examination) হলো সেই প্রক্রিয়া, যেখানে বিরোধী পক্ষ (যে পক্ষ মামলায় সাক্ষীর বক্তব্যের বিরোধিতা করছে) সাক্ষীকে প্রশ্ন করে। এটি মূলত সাক্ষীর বক্তব্যের সঠিকতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করতে ব্যবহৃত হয়। জেরার মাধ্যমে বিরোধী পক্ষ সাক্ষীর দৃষ্টিভঙ্গির অসঙ্গতি বা ভুল ধরতে পারে, যাতে আদালত সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের আগে তা মূল্যায়ন করতে পারে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৭ ধারায় জবানবন্দি (Examination in Chief), জেরা (Cross Examination), এবং পুনঃজবানবন্দি (Re-examination) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
- সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief]: যে পক্ষ সাক্ষীকে হাজির করে সেই পক্ষ যখন সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তখন তাকে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief] বলে।
- জেরা [Cross Examination]: বিরুদ্ধ পক্ষ যখন সেই সাক্ষীকে প্রশ্ন করে, তখন তাকে জেরা বলে [Cross Examination] বলে।
- পুনঃজবানবন্দি [Re-examination]: জেরার পর সাক্ষী উপস্থিতকারী পক্ষ যদি আবার সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তবে তাকে পুনঃজবানবন্দি (Re- examination) বলে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারার বিধান: সাক্ষ্য গ্রহণের ক্রম [Order of Examination]:
সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারায় সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, জেরা এবং পুনঃজবানবন্দি গ্রহণ করা যায়। ১৩৮ ধারায় সাক্ষ্য গ্রহণের ৩টি ক্রম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ক্রম হলো সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, দ্বিতীয় ক্রম হলো সাক্ষীর আহ্বানকারী পক্ষের বিরোধী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীকে জেরা (ইচ্ছা করলে করতে পারে) এবং তারপর সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক পুনঃজবানবন্দি (যদি পক্ষদ্বয় ইচ্ছা করে) করা হয়।
------------
⇒ The Evidence Act, 1872 section 137:
- Examination-in-chief: The examination of a witness by the party who calls him shall be called his examination-in-chief.
- Cross-examination: The examination of a witness by the adverse party shall be called his cross-examination.
- Re-examination: The examination of a witness, subsequent to the cross-examination by the party who called him, shall be called his re-examination.

⇒ The Evidence Act, 1872 section 138. Order of examinations:
Witnesses shall be first examined-in-chief, then (if the adverse party so desires) cross-examined, then (if the party calling him so desires) re-examined.
The examination and cross-examination must relate to relevant facts but the cross-examination need not be confined to the facts to which the witness testified on his examination-in-chief.
৮৮২.
একটি সশস্ত্র অভুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য A অভিযুক্ত। উক্ত অভ্যুত্থানের সময় X নামক স্থানে জনগণের সম্পত্তি বিনষ্ট করা হয়,Y নামক স্থানে নিরাপত্তা রক্ষীদের এবং অন্যান্য সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করা হয় এবং Z নামক স্থানে সংশোধনাগার ভেঙ্গে অনেক বন্দিকে মুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। A শুধুমাত্র X স্থানে উপস্থিত ছিল কিন্তু Y এবং Z নামক স্থানে উপস্থিত ছিলনা। A এর বিচারের ক্ষেত্রে A এর বিরুদ্ধে-
  1. Y এবং Z নামক স্থানে সংঘটিত ঘটনা প্রাসঙ্গিক হবে না
  2. X নামক স্থানে সংঘটিত ঘটনা প্রাসঙ্গিক হবে কিন্তু Y এবং Z নামক স্থানে সংঘটিত ঘটনা প্রাসঙ্গিক হবে না।
  3. X,Y এবং Z নামক স্থানে সংঘটিত ঘটনা প্রাসঙ্গিক হবে না কারণ A সকল স্থানে উপস্থিত ছিলনা
  4. X,Y এবং Z নামক স্থানে সংঘটিত ঘটনা প্রাসঙ্গিক হবে, যদিও সকল স্থানে উপস্থিত ছিলনা
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইনের ৬ ধারায় এর বিধান আছে। যেহেতু সশস্ত্র অভ্যুত্থানের অংশ হিসাবে X,Y এবং Z নামক স্থানে বিভিন্ন ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তাই A এর বিচারের ক্ষেত্রে A এর বিরুদ্ধে উক্ত সকল ঘটনা একই কার্যের অংশ হিসাবে বা Resgestae নীতি অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক হবে। উক্ত সকল ঘটনার ক্ষেত্রে A উপস্থিত ছিল কিনা বা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিল কিনা তা বিবেচ্য বিষয় না বা উক্ত ঘটনাসমূহ একই স্থানে এবং একই সময়ে সংঘটিত হয়েছে কিনা তা বিবেচ্য বিষয় না।  
৮৮৩.
নিচের কোনটি প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য?
  1. সাক্ষী যে বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় তা সে দেখেনি।
  2. সাক্ষী যে বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় তা সে শোনেনি।
  3. সাক্ষী যে বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় তা সে নিজে বিশ্বস্ত মাধ্যম মারফত জানতে পেরেছে।
  4. কোনটিই নয়।
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইন, ধারা ৬০ অনুযায়ী- মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে অর্থাৎ সাক্ষী যে বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় তা সে নিজে প্রত্যক্ষভাবে দেখতে হবে বা শুনতে হবে বা উপলব্ধি করতে হবে। অন্যের মারফত শোনা ঘটনা এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে না।
৮৮৪.
সাক্ষ্য (সংশোধন) আইন, ২০২২ অনুসারে ডিজিটাল রেকর্ডের সংজ্ঞায় কোনটি অন্তর্ভুক্ত?
  1. ড্রোন ডেটা
  2. হস্তলিখিত দলিল
  3. কাঠের তৈরি ফলক
  4. পাথরে খোদাই করা লেখা
ব্যাখ্যা
⇒ The Evidence (Amendment) Act, 2022 দ্বারা সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩-এ "ডিজিটাল রেকর্ড" বা "ইলেকট্রিক রেকর্ড"-এর নতুন সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে।
এই সংশোধন অনুসারে ডিজিটাল রেকর্ড বলতে বোঝায়—
 ডিজিটাল, ইলেকট্রনিক, বা কম্পিউটার-ভিত্তিক যে কোনো মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ, উৎপাদন, প্রেরণ বা গ্রহণ করা হয়েছে এমন তথ্য বা রেকর্ড।
এতে অন্তর্ভুক্ত:
- ম্যাগনেটিক/ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক/অপটিক্যাল/কম্পিউটার মেমরি
- অডিও, ভিডিও, সিডি/ডিভিডি, মাইক্রোফিল্ম
- সিসিটিভি, মোবাইল ফোনে ধারণকৃত ছবি বা ভিডিও
- ড্রোন ডেটা
- ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ অনুসারে সংজ্ঞায়িত ডিভাইস থেকে সংগৃহীত তথ্য
- ওয়েবসাইট প্রকাশিত গেজেট ইত্যাদি।

⇒ সাক্ষ্য (সংশোধন) আইন, ২০২২ এর ধারা ৩ অনুযায়ী ডিজিটাল রেকর্ডের সংজ্ঞায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত: ড্রোন ডেটা, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোন/কম্পিউটারে সংরক্ষিত ডাটা, ডিজিটাল ডিভাইস (ডিভিডি, হার্ডডিস্ক ইত্যাদি)

অন্যদিকে, খ) হস্তলিখিত দলিল, গ) কাঠের তৈরি ফলক,  ঘ) পাথরে খোদাই করা লেখা →  এগুলো ডিজিটাল রেকর্ডের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত নয়।
৮৮৫.
অচল মুদ্রা বলে জানা সত্ত্বেও প্রতারণামূলকভাবে অন্যকে তা অর্পণের দায়ে ‘ক’- অভিযুক্ত হয়েছে। সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা মতে ইতিপূর্বে ‘ক’-এর এইরূপ অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার ঘটনা বর্তমান বিচারের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হবে?
  1. ১২ ধারা
  2. ১৪ ধারা
  3. ১৫ ধারা
  4. ১৬ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪ ধারার বিধান: মনের বা দেহের অবস্থা বা দৈহিক উপলব্ধির অস্তিত্ব যে সকল বিষয় প্রদর্শন করেঃ
ইচ্ছা, জ্ঞান, সরল বিশ্বাস, অবহেলা হঠকারিতা, কোন ব্যক্তিবিশেষের প্রতি বিদ্বেষ অথবা কল্যাণ কামনার মানসিক অবস্থার অস্তিত্ব যে সকল বিষয় প্রকাশ করে অথবা কোন শারীরিক অবস্থা শারীরিক অনুভূতির অস্তিত্ব প্রকাশ করে, সেগুলো তখনই প্রাসঙ্গিক, যখন উক্তরূপ কোন মানসকি অথবা শারীরিক অবস্থা অথবা শারীরিক অনুভূতির অস্তিত্ব বিচার্য অথবা প্রাসঙ্গিক বিষয় হয়।

ব্যাখ্যা-১: কোন প্রাসঙ্গিক মানসিক অবস্থা প্রকাশ করার নিমিত্তে যে বিষয়টি প্রাসঙ্গিক হয়, তাকে সংশ্লিষ্ট মানসিক অবস্থাটি সাধারণভাবে নয়, নির্ধারিতকোন বিচার্য বিষয় প্রসঙ্গে বিদ্যমান রয়েছে এরূপ প্রকাশ করতে হবে।

ব্যাখ্যা-২: তবে যখন কোন অপরাধে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তির বিচারকালে উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক পূর্বে- কৃত কোন অপরাধ এ ধারা অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক, তখন উক্ত ব্যক্তির পূর্বে দণ্ডিত হওয়াও প্রাসঙ্গিক বিষয়।
৮৮৬.
In criminal proceedings the fact that the person accused is of a ________ is relevant.
  1. Bad character
  2. Criminal character
  3. Good character
  4. Good or bad character
ব্যাখ্যা
♦Criminal Proceeding –এ আসামীর ভালো চরিত্র প্রাসঙ্গিক, খারাপ চরিত্র সাধারণত প্রাসঙ্গিক নয়। তবে যদি ভালো চরিত্র দাবি করা হয় তখন তাঁর চরিত্র ভালো না এই বিষয়ও প্রাসঙ্গিক হয়ে যায়।
♦ ধারা ৫৩ ধারা- In criminal proceedings the fact that the person accused is of a good character is relevant.
৮৮৭.
কোন ফৌজদারী মামলার অভিযুক্ত তার কৃত অপরাধ স্বীকার করে যে বিবৃতি প্রদান করে, তাকে ______ বলা হয়।
  1. Admision
  2. Confession
  3. Primary Evidence
  4. Secondary Evidence
ব্যাখ্যা
কোন ফৌজদারী মামলার অভিযুক্ত তার কৃত অপরাধ স্বীকার করে যে বিবৃতি প্রদান করে, তাকে স্বীকারোক্তি বা Confession বলা হয়।

⇒ অপরাধ স্বীকারের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে স্বীকারোক্তিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়-
i) Inculpatory Confessional Statement; ও
ii) Ex-culpatory Confessional Statement.

⇒ Inculpatory Confessional Statement এর অর্থ হল এমন একটি স্বীকারোক্তি বা বিবৃতি যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্পষ্টভাবে তার নিজের বিরুদ্ধে অপরাধের স্বীকারোক্তি করেন।
⇒ আর অভিযুক্ত নিজেকে অপরাধের সাথে না জড়িয়ে, অন্য কোন ব্যক্তিকে অপরাধের সাথে জড়িয়ে কোন দোষ স্বীকারমূলক বিবৃতি প্রদান করলে তাকে Ex-culpatory Confessional Statement বলা হয়।
৮৮৮.
'ব্যবসায়িক হিসেবের খাতা' সাক্ষ্য আইনে কোন ধারা মোতাবেক সাক্ষ্য হিসেবে প্রাসঙ্গিক?
  1. ৩৪ ধারা
  2. ৩৫ ধারা
  3. ৩৬ ধারা
  4. ৩৭ ধারা
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৩৪ ধারা অনুযায়ী, ব্যবসায়িক কারণে হিসেবের খাতায় যা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তা প্রাসঙ্গিক প্রমাণ হিসাবে গণ্য।
৩৪ ধারা অনুযায়ী ব্যবসা প্রসঙ্গে নিয়মিত যে হিসেবের খাতা রাখা হয়, উক্ত খাতায় লিখিত কোন কিছুতে যখন এমন বিষয়ের উল্লেখ থাকে, যে বিষয়ে অনুসন্ধান করা আদালতের কর্তব্য, তখন হিসাবের খাতায় লিপিবদ্ধ বিষয় প্রাসঙ্গিক। কিন্তু কেবলমাত্র এরূপ বিবৃতি কারও উপর দায় আরোপ করার জন্য যথেষ্ট সাক্ষ্য বলে বিবেচিত হবে না।

যেমন-
'ক' ১০০০ টাকার দাবিতে 'খ' এর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়ের করল। 'খ' এর নিকট তার উক্ত টাকা পাওনা আছে, এটি প্রমাণ করার জন্য ক তার খাতায় লেখা হিসাব দেখাল। এক্ষেত্রে খাতায় লেখা হিসাবগুলো প্রাসঙ্গিক। কিন্তু যদি অন্য কোন সাক্ষ্য না থাকে, তবে 'খ' এর দেনা প্রমাণ করার জন্য এটি যথেষ্ট নয়।

Section 34⇒ Entries in books of account or digital record when relevant:
Entries in books of account or digital record, regularly kept in the course of business, are relevant whenever they refer to a matter into which the Court has to inquire, but such statements shall not alone be sufficient evidence to charge any person with liability.

Illustration-
A sues B for Taka 1,000, and shows entries in his account books showing B to be indebted to him to this amount. The entries are relevant, but are not sufficient, without other evidence, to prove the debt.
৮৮৯.
ফৌজদারী মামলার ক্ষেত্রে প্রমাণের মানদণ্ড হলো-
  1. সন্দেহাতীত প্রমাণ
  2. সম্ভাব্য ভারসাম্যপূর্ণ প্রমাণ
  3. যুক্তি সংগত ভারসাম্যপূর্ণ প্রমাণ
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
⇒ প্রমাণের মান (standard of proof)- একটি মামলায় জয়ী হওয়ার জন্য মামলাটির যতটুকু প্রমাণ করতে হয়, সেই মাপকাঠিকে বলা হয় প্রমাণের মান বা standard of proof। মামলার প্রকৃতির উপর প্রমাণের মান বা standard of proof নির্ভর করে। অর্থাৎ দেওয়ানি মামলায় প্রমাণের মান এক ধরণের এবং ফৌজদারি মামলায় প্রমাণের মান আরেক ধরণের যা নিম্নে আলোচনা করা হল-

⇒ দেওয়ানি মামলায় প্রমাণের মান (Standard of proof in civil case)- একটি দেওয়ানি মোকদ্দমা কতটুকু প্রমাণ করতে হবে তা হল Civil Standard of Proof। দেওয়ানি মামলায় প্রমাণের মানকে যে নীতি দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয় তা হল Balance of Probability বা Preponderence of Evidence.

⇒ যে পক্ষের সাক্ষ্যের মূল্য বেশী সে পক্ষ দেওয়ানি মোকদ্দমায় জয়ী হবে বা প্রতিকার পাবে। অর্থাৎ দেওয়ানি মামলায় প্রমাণের সংখ্যাধিক্য থাকলেই যথেষ্ট অর্থাৎ ১০০টি তথ্যের মধ্যে ৫১টি সত্য (more than 50% truth) হওয়াই যথেষ্ট বা যখন 'মিথ্যার চেয়ে সত্যের সম্ভাবনা বেশী'(more probably true than false) যা সম্ভাব্যতার ভারসাম্য নীতি বা balance of probabilities নামে পরিচিতি।

⇒ ফৌজদারি মামলায় প্রমাণের মান (Standard of proof in criminal case)- ফৌজদারি মামলায় মামলাকারী অভিযুক্ত ব্যক্তির অপরাধ এমনভাবে প্রমাণ করবেন যাতে প্রতিকূল সকল স্বাভাবিক সন্দেহের পরিসমাপ্তি ঘটে যা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত নীতি বা Proved Beyond all reasonable doubts নামে পরিচিতি।
৮৯০.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারা অনুযায়ী সাক্ষী তার স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কোনো কিছু দেখে নিতে পারে?
  1. ১৫৪ ধারা
  2. ১৫৬ ধারা
  3. ১৫৮ ধারা
  4. ১৫৯ ধারা
ব্যাখ্যা
The Evidence Act, 1872 এর ১৫৯ ধারা-স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করা (Refreshing memory):
একজন সাক্ষী, যখন সাক্ষ্য দিচ্ছে, তখন তার স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য নিজে দ্বারা লিপিবদ্ধ কোনো লেখা দেখতে পারে, যদি তা ঘটনার সময় বা ঘটনার পর এত তাড়াতাড়ি লেখা হয়ে থাকে যে আদালত মনে করে ঘটনার স্মৃতি তখনও তাজা ছিল।

সাক্ষী অন্য কোনো ব্যক্তির দ্বারা লেখা এমন কোনো লেখাও দেখতে পারে এবং তা পড়ে যদি সাক্ষী জানে যে লেখা সঠিক ছিল।

Section 159- Refreshing memory:
A witness may, while under examination, refresh his memory by referring to any writing made by himself at the time of the transaction concerning which he is questioned, or so soon afterwards that the Court considers it likely that the transaction was at that time fresh in his memory. 
 
The witness may also refer to any such writing made by any other person, and read by the witness within the time aforesaid, if when he read it he knew it to be correct.
৮৯১.
কোন স্বাক্ষীকে জেরা করার উদ্দেশ্য হচ্ছে-
  1. তার ব্যক্তিত্বের ধরার পরীক্ষা
  2. ভিন্ন দাবী প্রতিষ্ঠা করা
  3. তর্কিত বিষয়ে সত্য উদঘাটন
  4. তার মর্যাদা পরীক্ষা
ব্যাখ্যা
♦জেরার সংজ্ঞা (Cross- Examination)- আহবানকারী পক্ষের সাক্ষীকে বিরুদ্ধ পক্ষ সাক্ষ্য গ্রহন করলে তাকে বলা হয় জেরা। অন্যভাবে বলা যায়, কোন সাক্ষী যে পক্ষের সাক্ষ্য দিতে আদালতে আসে, সে পক্ষের জিজ্ঞাসাবাদের পর বিপরীত পক্ষ যে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাই জেরা বা Cross- Examination হিসেবে পরিচিত।
সাক্ষ্য আইনের ১৩৯, ১৪০, ১৪৩, ১৪৫, ১৪৬ ও ১৪৭ ধারায় জেরার বিধান রয়েছে।
সাক্ষ্য আইনের ১৪৬ ধারামতে নিম্নলিখিত উদ্দ্যেশ্যে জেরা করা যায়। যথা-
i) আসামীর সত্যবাদিতা, পরিচয় ও মর্যাদা উদ্ঘাটন এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা;
ii) বিরুদ্ধ পক্ষের সাক্ষীর সাক্ষ্যকে নস্যাৎ বা দুর্বল করা;
iii) সাক্ষীর মুখ দিয়ে জেরাকারীর পক্ষে কথা বের করা; এবং
iv) সাক্ষীর বিশ্বাস যোগ্যতা খন্ডন করার মাধ্যমে প্রদত্ত সাক্ষ্যকে বিশ্বাসের অযোগ্য করে তোলার উদ্দ্যেশ্যে জেরা করা যায়।
v) তর্কিত বিষয়ে সত্য উদঘাটন করাও জেরার উদ্দ্যেশ্যে।
৮৯২.
Res Gestae সাক্ষ্য কীভাবে প্রমাণিত হয়?
  1. স্বাক্ষরের মাধ্যমে
  2. সাক্ষী দ্বারা কথা বলার মাধ্যমে
  3. আক্রমণকারী ব্যক্তির বক্তব্য দিয়ে
  4. ঘটনার সময় বা পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য বা আচরণে
ব্যাখ্যা
⇒ Res Gestae বা 'একই কার্যের অংশ'- Res Gestae (রেস গেস্টাই) অর্থ হলো একই কাজের অংশ বিশেষ বা একই Transaction এ সংগঠিত অনেকগুলো ঘটনা।
- অর্থাৎ কোন একটি কাজ করতে গিয়ে উক্ত কাজের ধারাবাহিকতায় অন্য যে-সব কাজ করা হয় বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা তা ঐ একই কাজের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে Res Gestae বলে পরিচিত।
- সাক্ষ্য আইনের ৬ থেকে ৯ এবং ১৪ ধারায় Res Gestae (রেস গেস্টাই) নীতির বিধান রয়েছে।
- Res Gestae হলো এমন এক প্রকার সাক্ষ্য যা কোনো ঘটনার সঙ্গে এত নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত থাকে যে, তার প্রকৃতি ও কারণ বুঝতে সাহায্য করে। এই ধরনের সাক্ষ্য মূলত সেই ঘটনা বা আচরণের অংশ হয় যা ঘটনার সময় বা ঘটনার খুব শিগগির পরে স্বাভাবিকভাবে ঘটে।
- Res Gestae সাক্ষ্য প্রমাণিত হয় ঘটনার সময় বা পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য বা আচরণ দ্বারা, যার মাধ্যমে আদালত ঘটনাটির প্রকৃতি এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিকতা বোঝে।
৮৯৩.
সাক্ষ্য আইনের ১৩৭ ধারায় নিম্নের কোনটির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. Examination in Chief
  2. Cross Examination
  3. Re-examination
  4. উল্লিখিত সবগুলোর
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১৩৭ ধারায় জবানবন্দি (Examination in Chief), জেরা (Cross Examination), এবং পুনঃজবানবন্দি (Re-examination) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief]-
যে পক্ষ সাক্ষীকে হাজির করে সেই পক্ষ যখন সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তখন তাকে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief] বলে।

জেরা [Cross Examination]-
বিরুদ্ধ পক্ষ যখন সেই সাক্ষীকে প্রশ্ন করে, তখন তাকে জেরা বলে [Cross Examination] বলে।

পুন: জবানবন্দি [Re-examination]-
জেরার পর সাক্ষী উপস্থিতকারী পক্ষ যদি আবার সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তবে তাকে পুন: জবানবন্দি (Re- examination) বলে।
৮৯৪.
নিজ সাক্ষীকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যাবে না এই নীতি ব্যতিক্রম The Evidence Act, 1872 এর কোন ধারায় বর্ণিত আছে?
  1. ১৫৪
  2. ১৫৬
  3. ১৫২
  4. ১৫১
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারায় সুস্পষ্টভাবে বৈরী সাক্ষী বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। বৈরী সাক্ষী হলো এমন একজন সাক্ষী যে, সে যে উপায়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে তা থেকে বোঝা যায় যে, সে আদালতের নিকট সত্য বলতে ইচ্ছা প্রকাশ করছে না। বৈরী সাক্ষী বলতে মিথ্যুক সাক্ষী বোঝায় না। সাক্ষী যে সাক্ষ্য দিচ্ছে তা থেকে সাক্ষীর বৈরীতা বুঝতে হবে। বিষয়টি হলো যখন যে পক্ষ কোন সাক্ষীকে আহ্বান করে বা ডাকে, সেই পক্ষ উক্ত সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ যখন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করে, তখন সাক্ষীর নিকট যে প্রশ্ন করা হয় তখন সে উক্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করতে পারে বা বৈরী হতে পারে। সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ এমন ধরণের সাক্ষীকে বৈরী সাক্ষী হিসাবে ঘোষণা করতে পারে।

- ১৫৪ ধারার বক্তব্য অনুযায়ী- বিরুদ্ধ পক্ষ জেরায় যেসব প্রশ্ন করতে পারে, সেসব প্রশ্ন যদি কোন পক্ষ নিজের সাক্ষীকে করার অনুমতি চায়, আদালত তা করার অনুমতি দিতে পারে। এরূপ সাক্ষীকে বৈরী/প্রতিকূল সাক্ষী (Hostile witness) বলে ।

অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারার অধীন নিজ সাক্ষীকে জেরা করা যায়।

এরূপ ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। আর আদালত অনুমতি দিবে কিনা তা আদালতের বিবেচনামূলক।
৮৯৫.
Judicial Confession হলো-
  1. ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক লিপিবদ্ধ আসামীর দোষ স্বীকার
  2. পুলিশের নিকট দোষ স্বীকার
  3. অভিযোগকারীর নিকট দোষ স্বীকার
  4. জনগণের নিকট দোষ স্বীকার
ব্যাখ্যা
⇒ স্বীকারোক্তি বা দোষ স্বীকার (Confession)- কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের দোষ স্বীকার করে যে বক্তব্য দেয়, তাকে স্বীকারোক্তি বা দোষ স্বীকার (Confession) বলে। ল্যাটিন প্রবচন nemo tenetur seipsum accusare এর বাংলা অর্থ হল কোন ব্যক্তিকে নিজেকে অপরাধী সাব্যস্ত করতে বাধ্য করা যায় না। সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারাতেও বলা হয়েছে "কোন ব্যক্তিকে দোষ স্বীকার করতে বাধ্য করা হলে তা অপ্রাসঙ্গিক হবে।"

⇒ সুতরাং কোন আসামী যদি ক্ষমতাবান ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট কোন প্রকার ভয় ভীতি প্রদর্শন, প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতি ব্যতীত স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করে, তবে তাকে স্বীকারোক্তি বা Confession বলা হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ২৪ থেকে ৩০, ৮০, ১১৪ (বি), ১৩৩; ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪, ৩৬৪, ৩৩৭ ধারা: দন্ডবিধির ৩৩০, ৩৪৮ ধারা এবং সংবিধানের ৩৫(২) অনুচ্ছেদে Confession বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
৮৯৬.
সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারায় কার অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে সাজা দেয়া হলে, কেবলমাত্র সেই কারণেই উক্ত সাজা বেআইনী হইবে না?
  1. বৈরি সাক্ষীর
  2. নাবালক সাক্ষীর
  3. দুষ্কর্মের সহযোগীর
  4. স্বামী বা স্ত্রীর
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারা- দুষ্কর্মে সহযোগী:
দুষ্কর্মের সহযোগী অভিযুক্তরবিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বলিয়া গন্য হইবেন। দুষ্কর্মের সহযোগীর অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে সাজা দেওয়া হইলে, কেবলমাত্র সেই কারণেই উক্ত সাজা বেআইনী হইবে না।

Section-133. Accomplice:
An accomplice shall be a competent witness against an accused person; and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.
৮৯৭.
যে ব্যক্তি চুরির কিছুক্ষণ পরেই চুরির মালামাল নিজের দখলে রাখে এবং উক্ত দখলের উপযুক্ত কারণ দেখাতে না পারে, সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আদালত কী অনুমান করতে পারে?
  1. সেই ব্যক্তি নিজেই চোর
  2. সেই ব্যক্তি না জেনেশুনে চুরির মাল গ্রহণ করেছে
  3. চুরির মাল গ্রহণ করতে কেউ তাকে বাধ্য করেছে
  4. মালগুলো চুরির সেই বিষয়ে ব্যক্তি অবগত নয়
ব্যাখ্যা
• ধারা ১১৪: আদালত কিছু তথ্যের অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে-
আদালত প্রকৃতি এবং মানবিক আচরণের সাধারণ গতিপ্রকৃতি, সরকারি ও বেসরকারি কার্যাবলীর সাপেক্ষে বিশেষ মামলার তথ্যগুলি বিবেচনা করে, যে কোনো তথ্য বা ঘটনার অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে যা আদালতের মতে সম্ভবত ঘটেছে।

আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুমান করতে পারে -
(ক) যে ব্যক্তি চুরির কিছুক্ষণ পরেই চুরি মালামাল দখলে রাখে, সে নিজেই চোর অথবা জেনেশুনে চুরির মাল গ্রহণ করেছে, যদি না সে তার দখলের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে;
(খ) যে ব্যক্তি অপরাধের সহযোগী, সে অবিশ্বাসযোগ্য, যদি না তার সাক্ষ্যের মূল বিষয়গুলি অন্য কোনো প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হয়;
(গ) একটি হুন্ডি স্বীকৃত বা অনুমোদিত হয়েছে প্রাপ্য মূল্যের বিনিময়ে;

(ঘ) যেকোনো বস্তু বা অবস্থা যা এমন সময়সীমার মধ্যে দেখা গেছে যে সময়সীমার মধ্যে এরকম বস্তু বা অবস্থা সাধারণত লুপ্ত হয়ে যায় না, তা এখনও বিদ্যমান রয়েছে;
(ঙ) বিচারিক এবং সরকারি কার্যাবলী নিয়মানুসারে সম্পাদিত হয়েছে;
(চ) বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক নিয়মানুসারে কার্যক্রম পালিত হয়েছে;

(ছ) যে প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব ছিল কিন্তু করা হয়নি, তা উপস্থাপিত হলে যে ব্যক্তি তা প্রমাণ করতে অস্বীকার করেছেন তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(জ) কোনো ব্যক্তি যদি আইনসম্মতভাবে বাধ্য না হয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে, তাহলে মনে করা হবে উত্তরটি তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(ঝ) কোনো দায়বদ্ধকারী দলিল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে থাকলে, মনে করা হবে দায়িত্বটি পরিশোধিত হয়েছে।
তবে বিশেষ মামলার ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলি প্রযোজ্য কিনা তা বিবেচনা করার সময় আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলিও বিবেচনা করবে।
৮৯৮.
সাক্ষ্য আইন মোট কতটি ভাগে বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ একটি প্রক্রিয়াগত (Procedural/Adjective) আইন, যা বিচার ব্যবস্থায় প্রমাণ বিধান সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করে।
- এই আইনটি মোট ৩টি ভাগে (Part) বিভক্ত।
- প্রতিটি ভাগে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা সাক্ষ্যগ্রহণের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করে।

- এই ৩টি ভাগ হলো:
Part I – Relevancy of Facts (তথ্যের প্রাসঙ্গিকতা):
→ এখানে বলা হয়েছে কোন কোন তথ্য আদালতে প্রাসঙ্গিক হিসেবে বিবেচিত হবে।
Part II – On Proof (প্রমাণ সংক্রান্ত বিধান):
→ কীভাবে প্রাসঙ্গিক তথ্য আদালতে প্রমাণ করতে হবে, তার পদ্ধতি ও বিধান এখানে রয়েছে।
Part III – Production and Effect of Evidence (সাক্ষ্য উপস্থাপন ও তার কার্যকারিতা):
→ সাক্ষ্য উপস্থাপনের নিয়ম এবং তা বিচারকের উপর কী প্রভাব ফেলবে, সেটি বর্ণনা করা হয়েছে।

অর্থাৎ সাক্ষ্য আইন মোট ৩টি ভাগে বিভক্ত, যার মাধ্যমে আদালতে তথ্যের প্রাসঙ্গিকতা, প্রমাণের নিয়ম এবং সাক্ষ্যের কার্যকারিতা নির্ধারিত হয়।
৮৯৯.
বিশেষজ্ঞের রিপোর্টের অনুলিপি ধারা ৪৫ক(১) অনুযায়ী কাকে প্রদান করতে হবে?
  1. অভিযোগকারী পক্ষকে
  2. মামলার সকল পক্ষকে
  3. মামলার সকল সাক্ষীকে
  4. মামলার সকল পক্ষ এবং সাক্ষীকে
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারা- শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত:

(১) আদালতের অনুমতি ব্যতীত একজন সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না, যদি না তার রিপোর্টের একটি অনুলিপি, উপ-ধারা (২) অনুসারে সমস্ত পক্ষকে দেওয়া না হয়।
(২) একজন বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন আদালতের কাছে পাঠানো হবে এবং সেই পক্ষের কাছে নয় যার পক্ষে তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।
 
অর্থাৎ শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কোন সাক্ষ্য দিতে-
১. আদালতের অনুমতি গ্রহণ করবে;
২. তার বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন বা মতামতের কপি সকল পক্ষকে সরবরাহ করবে;
৩. আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।
৯০০.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুযায়ী একজন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা যায়?
  1. ধারা ১৪২
  2. ধারা ১৬৭
  3. ধারা ১৩২
  4. ধারা ১৫৪
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৫৪-এর বিধান হলো: আদালতের বিবেচনাধীন ক্ষমতা অনুযায়ী (at the discretion of the Court) যে পক্ষ সাক্ষীকে উপস্থাপন করেছে, সেই পক্ষই তার নিজের সাক্ষীকে বৈরী (hostile) ঘোষণা করে জেরা (cross-examine) করতে পারে। তাই সঠিক উত্তর ঘ) ধারা ১৫৪।

⇒ বৈরী সাক্ষী (Hostile Witness) হলো সেই সাক্ষী যাকে কোনো পক্ষ (বাদী বা বিবাদী) আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উপস্থাপন করে, কিন্তু সে যদি নিজের পক্ষের বিরুদ্ধে বা প্রতিপক্ষের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে, তাহলে তাকে বৈরী সাক্ষী হিসেবে গণ্য করা হয়।
- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৫৪ অনুযায়ী, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ তার নিজের সাক্ষীকে জেরা করতে পারে যদি সাক্ষী বৈরী হয়ে যায়। সাধারণত, জেরা করার অধিকার প্রতিপক্ষের থাকে, তবে যদি আদালত মনে করে যে একজন সাক্ষী ইচ্ছাকৃতভাবে বিপরীতমুখী বক্তব্য দিচ্ছে, তবে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষও তাকে জেরা করতে পারে।

 কখন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা হয়?
১) যখন সাক্ষী তার নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়।
২) যখন সাক্ষী প্রতিপক্ষের পক্ষে কথা বলে।
৩) যখন সাক্ষী তার আগের দেওয়া বক্তব্য থেকে সরে আসে বা বিপরীত কথা বলে।

উদাহরণ:
- একজন সাক্ষী যদি পুলিশের সামনে একরকম বক্তব্য দেয়, কিন্তু আদালতে এসে তার বিপরীত কথা বলে, তাহলে সে বৈরী সাক্ষী বলে গণ্য হতে পারে।

⇒ অর্থাৎ যদি একজন সাক্ষী তার পক্ষের বিরুদ্ধে কথা বলে অথবা প্রতিপক্ষের পক্ষে কথা বলে, তাহলে তাকে বৈরী সাক্ষী বলা হয় এবং সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে জেরা করতে পারে।
- এটি আদালতের বিবেচনার বিষয় যে সাক্ষী সত্যিই বৈরী কি না।