বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Evidence Act, 1872

মোট প্রশ্ন১,৬৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Evidence Act, 1872

PrepBank · পাতা / ১৭ · ২০১৩০০ / ১,৬৬৪

২০১.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৫ক অনুযায়ী ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের রিপোর্টে কোনটি থাকা উচিত নয়?
  1. পরীক্ষার তারিখ
  2. বিশেষজ্ঞের স্বাক্ষর
  3. ব্যবহৃত প্রযুক্তির বিবরণ
  4. বিশেষজ্ঞের ব্যক্তিগত মত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) বিশেষজ্ঞের ব্যক্তিগত মত।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৫ক অনুযায়ী, একজন ফরেনসিক বা শারীরিক বিশেষজ্ঞের কাজ হলো আদালতকে সহায়তা করা নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক তথ্য দিয়ে। তাই তার রিপোর্টে থাকা উচিত: কোন পরীক্ষাগুলো করা হয়েছে (ব্যবহৃত প্রযুক্তির বিবরণ), সেগুলোর ফলাফল, পরীক্ষার তারিখ ও সময়, নিজস্ব স্বাক্ষর।

কিন্তু ব্যক্তিগত মতামত বা পক্ষপাতদুষ্ট মত রাখা সম্পূর্ণ অনুচিত, কারণ এটি রিপোর্টের নিরপেক্ষতা নষ্ট করে। বিশেষজ্ঞ কেবল তথ্য-ভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ দিতে পারেন, পক্ষপাতহীনভাবে।


⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারার বিধান শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত:
(১) আদালতের অনুমতি ব্যতীত একজন সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না যদি না তার রিপোর্টের একটি অনুলিপি, উপ-ধারা (২) অনুসারে সমস্ত পক্ষকে দেওয়া না হয়।
(২) একজন বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন আদালতের কাছে পাঠানো হবে এবং সেই পক্ষের কাছে নয় যার পক্ষে তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।
---------------
⇒ The Evidence Act, 1872- Section 45A: Opinion of experts on physical or forensic evidence.-
(1) Except by leave of the Court a witness shall not testify as an expert on physical or forensic unless a copy of his report has, pursuant to sub-section (2), been given to all the parties.
(2) An expert’s report shall be addressed to the Court and not to the party on whose behalf he is examined and he shall owe a duty to help the Court.

২০২.
সাক্ষ্য আইনের ১৩ ধারার শিরোনাম হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. Facts relevant when right or custom is in question
  2. Facts which are the occasion cause or effect of facts in issue
  3. Motive, preparation and previous or subsequent conduct
  4. Things said or done by conspirator in reference to common design
ব্যাখ্যা
Section 13- Facts relevant when right or custom is in question:
Where the question is as to the existence of any right of custom, the following facts are relevant:–
(a) any transaction by which the right or custom in question was created, claimed, modified, recognized, asserted or denied, or which was inconsistent with its existence;
(b) particular instances in which the right or custom was claimed, recognized or exercised, or in which its exercise was disputed, asserted or departed from.

Illustration-
The question is whether A has a right to a fishery. A deed conferring the fishery on A's ancestors, a mortgage of the fishery by A's father, a subsequent grant of the fishery by A's father, irreconcilable with the mortgage, particular instances in which A's father exercised the right, or in which the exercise of the right was stopped by A's neighbours, are relevant facts.

সাক্ষ্য আইন (ধারা ১৩): অধিকার বা প্রথা সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য:
যখন কোনো অধিকার বা প্রথার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন নিম্নলিখিত তথ্যসমূহ প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে—
(ক) যে কোনো লেনদেন যার মাধ্যমে উক্ত অধিকার বা প্রথা সৃষ্টি, দাবি, পরিবর্তিত, স্বীকৃত, প্রতিষ্ঠিত বা অস্বীকৃত হয়েছে, অথবা যা এর অস্তিত্বের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
(খ) নির্দিষ্ট ঘটনা যেখানে উক্ত অধিকার বা প্রথা দাবি, স্বীকৃত বা প্রয়োগ করা হয়েছিল, অথবা যেখানে এর প্রয়োগ বিতর্কিত, প্রতিষ্ঠিত বা পরিত্যাগ করা হয়েছিল।
২০৩.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বিচারক সাক্ষীকে কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারেন?
  1. ধারা ১৬৪
  2. ধারা ১৬৫
  3. ধারা ১৬৬
  4. ধারা ১৬৭
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইনের ১৬৫ ধারার অধীন প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে যথাযথ প্রমাণ পেতে আদালত কোন সাক্ষীকে প্রশ্ন করতে পারেন।
২০৪.
মামলার কোনো বিষয় প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সাক্ষীর প্রয়োজন হবে না- এটি The Evidence Act, 1872 এর কোন ধারার বিধান?
  1. ১৩৩
  2. ১৩৪
  3. ১৪৫
  4. ১৩৫
ব্যাখ্যা
⇒ The Evidence Act, 1872 এর ধারা ১৩৪ অনুযায়ী, মামলার কোনো বিষয় প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সাক্ষীর প্রয়োজন হবে না।
- এটি প্রতিষ্ঠিত করে যে, একটি মামলার কোনো বিষয় প্রমাণের জন্য সাক্ষীর সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং সাক্ষীর গুণগত মান এবং প্রমাণের সত্যতা প্রধান বিষয়।
এই ধারায় বলা হয়েছে: "No particular number of witnesses shall in any case be required for the proof of any fact."
অর্থাৎ, এক বা একাধিক সাক্ষী দ্বারা মামলার প্রমাণ সম্ভব হতে পারে এবং সংখ্যার চেয়ে সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সাক্ষ্যের সঠিকতা বেশি গুরুত্ব পায়।

- তাহলে, ধারা ১৩৪ হল সঠিক উত্তর।
২০৫.
কোনো ব্যক্তি যদি আইনসম্মতভাবে বাধ্য না হয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে, তাহলে আদালত কী অনুমান করতে পারে?
  1. উত্তরটি উক্ত ব্যক্তির পক্ষে অনুকূল হতো
  2. উত্তরটি আদালতে প্রকাশ করার যোগ্য নয়
  3. উক্ত ব্যক্তি আদালত অবমাননাকারী
  4. উত্তরটি উক্ত ব্যক্তির পক্ষে অনুকূল হতো না
ব্যাখ্যা
ধারা ১১৪: আদালত কিছু তথ্যের অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে-
আদালত প্রকৃতি এবং মানবিক আচরণের সাধারণ গতিপ্রকৃতি, সরকারি ও বেসরকারি কার্যাবলীর সাপেক্ষে বিশেষ মামলার তথ্যগুলি বিবেচনা করে, যে কোনো তথ্য বা ঘটনার অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে যা আদালতের মতে সম্ভবত ঘটেছে।

আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুমান করতে পারে -
(ক) যে ব্যক্তি চুরির কিছুক্ষণ পরেই চুরি মালামাল দখলে রাখে, সে নিজেই চোর অথবা জেনেশুনে চুরি মাল গ্রহণ করেছে, যদি না সে তার দখলের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে;
(খ) যে ব্যক্তি অপরাধের সহযোগী, সে অবিশ্বাসযোগ্য, যদি না তার সাক্ষ্যের মূল বিষয়গুলি অন্য কোনো প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হয়;
(গ) একটি হুন্ডি স্বীকৃত বা অনুমোদিত হয়েছে প্রাপ্য মূল্যের বিনিময়ে;

(ঘ) যেকোনো বস্তু বা অবস্থা যা এমন সময়সীমার মধ্যে দেখা গেছে যে সময়সীমার মধ্যে এরকম বস্তু বা অবস্থা সাধারণত লুপ্ত হয়ে যায় না, তা এখনও বিদ্যমান রয়েছে;
(ঙ) বিচারিক এবং সরকারি কার্যাবলী নিয়মানুসারে সম্পাদিত হয়েছে;
(চ) বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক নিয়মানুসারে কার্যক্রম পালিত হয়েছে;

(ছ) যে প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব ছিল কিন্তু করা হয়নি, তা উপস্থাপিত হলে যে ব্যক্তি তা প্রমাণ করতে অস্বীকার করেছেন তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(জ) কোনো ব্যক্তি যদি আইনসম্মতভাবে বাধ্য না হয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে, তাহলে মনে করা হবে উত্তরটি তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(ঝ) কোনো দায়বদ্ধকারী দলিল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে থাকলে, মনে করা হবে দায়িত্বটি পরিশোধিত হয়েছে।
তবে বিশেষ মামলার ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলি প্রযোজ্য কিনা তা বিবেচনা করার সময় আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলিও বিবেচনা করবে।
২০৬.
The Evidence Act, 1872 এর ২৪ ধারা অনুযায়ী The Penal Code, 1860 'Confession' caused by ________ is irrelevant in criminal proceeding.
  1. Inducement
  2. Threat
  3. Promise
  4. সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ ধারা ২৪ অনুযায়ী অভিযুক্ত কর্তৃক প্রদত্ত অপরাধমূলক স্বীকারোক্তি ফৌজদারী কার্যধারায় অপ্রাসঙ্গিক, যদি আদালতের নিকট মন হয় যে, অপরাধমূলক স্বীকারোক্তি প্ররোচনা [inducement], হুমকি [threat] বা প্রতিশ্রুতি [promise] দ্বারা গ্রহণ করা হয়েছে।
২০৭.
Res Gestae বক্তব্য কোন অবস্থায় গ্রহণযোগ্য নয়?
  1. স্বতঃস্ফূর্ত হলে
  2. পূর্বপরিকল্পিত হলে
  3. বাহ্যিক চাপবিহীন হলে
  4. ঘটনার সাথে সম্পর্কিত হলে
ব্যাখ্যা

⇒ রেস গেস্তে (Res Gestae) বিবৃতি সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬-এর অধীনে গ্রহণযোগ্য হয় যখন এটি ঘটনার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত, স্বতঃস্ফূর্ত, এবং ঘটনার সমসাময়িক বা তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয়। এই বিবৃতি হিয়ারসে (hearsay) নিয়মের ব্যতিক্রম হিসেবে গ্রহণযোগ্য, কারণ এটি সাধারণত নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। তবে, রেস গেস্তে বিবৃতি গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়, এবং এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো বিবৃতিটি পূর্বপরিকল্পিত বা পরিকল্পিতভাবে দেওয়া যাবে না।

অপশন গুলির বিশ্লেষণ:
ক) স্বতঃস্ফূর্ত হলে: রেস গেস্তে বিবৃতির একটি প্রধান শর্ত হলো এটি স্বতঃস্ফূর্ত হতে হবে। অর্থাৎ, বিবৃতিটি ঘটনার সময় বা তাৎক্ষণিকভাবে, কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা চিন্তাভাবনা ছাড়াই দেওয়া হয়। সুতরাং, স্বতঃস্ফূর্ত হলে বিবৃতি গ্রহণযোগ্য হয়, এটি অগ্রহণযোগ্যতার কারণ নয়।
খ) পূর্বপরিকল্পিত হলে: রেস গেস্তে বিবৃতি গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য এটি অবশ্যই স্বতঃস্ফূর্ত হতে হবে এবং বিবৃতিদাতার মিথ্যা বলার বা তথ্য বিকৃত করার সুযোগ থাকতে পারবে না। যদি বিবৃতিটি পূর্বপরিকল্পিত বা চিন্তাভাবনা করে দেওয়া হয়, তবে এটি রেস গেস্তের মানদণ্ড পূরণ করে না, কারণ এতে মিথ্যা বা বানোয়াট তথ্য থাকার সম্ভাবনা থাকে। ফলে, পূর্বপরিকল্পিত বিবৃতি রেস গেস্তে হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
গ) বাহ্যিক চাপবিহীন হলে: রেস গেস্তে বিবৃতি বাহ্যিক চাপ, প্রভাব বা জবরদস্তি ছাড়া দেওয়া হতে হবে। যদি বিবৃতিটি বাহ্যিক চাপবিহীন হয়, তবে এটি নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয় এবং গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। সুতরাং, বাহ্যিক চাপবিহীন হওয়া অগ্রহণযোগ্যতার কারণ নয়।
ঘ) ঘটনার সাথে সম্পর্কিত হলে: রেস গেস্তে বিবৃতির আরেকটি শর্ত হলো এটি অবশ্যই ঘটনার সাথে সম্পর্কিত হতে হবে এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট, পরিস্থিতি বা আবেগ বোঝাতে সহায়ক হতে হবে। ঘটনার সাথে সম্পর্কিত হওয়া বিবৃতির গ্রহণযোগ্যতার জন্য অপরিহার্য, তাই এটি অগ্রহণযোগ্যতার কারণ নয়।

প্রেক্ষাপট: রেস গেস্তে বিবৃতি সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬-এর অধীনে গ্রহণযোগ্য হয় যখন এটি ঘটনার সাথে সময় ও পরিস্থিতির দিক থেকে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হয় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেওয়া হয়।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তি দুর্ঘটনার পরপরই বলেন, “সে আমাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে!” এটি রেস গেস্তে হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কিন্তু যদি একই ব্যক্তি ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর পরিকল্পিতভাবে বা চিন্তাভাবনা করে বিবৃতি দেন, তবে তা রেস গেস্তে হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না, কারণ এতে মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য থাকার সম্ভাবনা থাকে।

অর্থাৎ রেস গেস্তে বিবৃতি তখনই গ্রহণযোগ্য নয় যখন এটি পূর্বপরিকল্পিত বা চিন্তাভাবনা করে দেওয়া হয়, কারণ এটি স্বতঃস্ফূর্ততা ও নির্ভরযোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করে না। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো খ) পূর্বপরিকল্পিত হলে।

২০৮.
'ক' কে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত 'খ' দাবি করে যে আত্মরক্ষার্থে সে এই কাজটি করেছে, অনুরুপ অবস্থা প্রমাণের দায়িত্ব কার উপর ন্যস্ত?
  1. 'ক'-এর উপর,
  2. 'খ'-এর উপর,
  3. 'ক' ও 'খ' উভয়ের উপরে,
  4. পাবলিক প্রসিকিউটর এর উপর,
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৫ ধারার বিধান: আসামীর মোকদ্দমা যে ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়ে তা প্রমানের দায়িত্বঃ- কোন অপরাধে কোন ব্যক্তি অভিযুক্ত হলে মোকদ্দমাটি যাতে দণ্ডবিধিতে বর্ণিত কোন বিশেষ ব্যতিক্রম বা এর অন্য কোন অংশে বর্ণিত কোন শর্তের মধ্যে পড়তে পারে, এরূপ কোন পরিস্থিতির অস্তিত্ব প্রমাণ করার দায়িত্ব অভিযুক্ত ব্যক্তির অর্পিত থাকে এবং এ রূপ ক্ষেত্রে অবশ্যই আদালত অনুরূপ পরিস্থিতি অনুপস্থিত বলে ধরে নিবেন।

⇒ উদাহরণ

⇒ (ক) হত্যার দায়ে অভিযুক্ত 'ক' নালিশ করে যে; মানসিক অপ্রকৃতিস্থতার কারণে সে তার কৃতকার্যের বিষয় জ্ঞাত ছিল না 'ক'-এর উপর এটা প্রমাণের দায়িত্ব ন্যস্ত।

⇒ (খ) হত্যার দায়ে অভিযুক্ত 'ক' নালিশ করে যে, আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সে গুরুতর ও আকস্মিক উস্কানির কারণে হারিয়ে ফেলেছিল। 'ক'-এর উপর এটা প্রমাণের দায়িত্ব ন্যস্ত। বিশেষভাবে যে ঘটনা কারও অবগতির মধ্যে রয়েছে।
২০৯.
Execution of a 30 years old document may be presumed to be correct , if it is-
  1. Produced from a Lawyer
  2. Produced from any custody
  3. Produced from a proper custody
  4. Produced from a Judge
ব্যাখ্যা
⇒ ধারা ৯০ অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরনো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক মনে করবে যদি দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হয় এবং আদালতের দৃষ্টিতে সঠিক হেফাজত হতে দলিলটি আদালতে দাখিল করা হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারা অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরানো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয় বস্তুকে আদালত সঠিক বলে মনে করতে পারে আবার নাও করতে পারে। ৯০ ধারায় বলা হয়েছে ৩০ বছরের পুরানো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক বলে মনে করবে যদি দলিলটি সঠিক ব্যক্তির দখল থেকে আসে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারার বিধান ত্রিশ বৎসরের পুরাতন দলিল সম্পর্কে অনুমান:
যখন কোন দলিল ত্রিশ বৎসরের পুরাতন বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় বা প্রমাণ করা হয় এবং তাহা সংশ্লিষ্ট মকদ্দমায় যে পক্ষের হেফাজতে থাকা সঙ্গত বলিয়া আদালত মনে করেন, সেই পক্ষের হেফাজত হইতে উহা আদালতে দাখিল করা হয়; তখন আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, সেই দলিলে স্বাক্ষর এবং অন্যান্য সকল অংশ যে ব্যক্তির হস্তাক্ষ বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয়, তাহা সেই ব্যক্তিরই হস্তাক্ষর এবং যেখানে দলিলটি সম্পাদিত বা প্রত্যায়িত, সেখানে আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, যে ব্যক্তির দ্বারা উহা সম্পাদিত ও সত্যায়িত বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় সেই ব্যক্তির দ্বারা উহা যথাবিহিতরূপে সম্পাদিত ও সত্যায়িত হইয়াছে।

⇒ ব্যাখ্যা: দলিল যেস্থানে ও যে ব্যক্তির হেফাজতে থাকা স্বাভাবিক, যদি উহা সেই স্থানে এবং সেই ব্যক্তির হেফাজতে থাকে, তবে উহা উপযুক্ত হেফাজতে আছে বলিয়া বুঝাইবে। কিন্তু দলিলটি যে হেফাজতে আছে, সেখানে থাকিবার আইন সঙ্গত কারণ আছে বলিয়া যদি প্রমাণিত হয় অথবা সংশ্লিষ্ট মকদ্দমায় ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে অনুরূপ কারণ থাকা সম্ভব বলিয়া যদি বিবেচিত হয়, তবে সেই হেফাজত অনুপযুক্ত বলিয়া গণ্য হইবে না।
এই ব্যাখ্যা ৮১ ধারার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

⇒ অর্থাৎ ধারা ৯০ অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরনো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক মনে করবে যদি দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হয় এবং আদালতের দৃষ্টিতে সঠিক হেফাজত হতে দলিলটি আদালতে দাখিল করা হয়।

-------------------
⇒ Presumption as to documents thirty years old.
Section 90. Where any document, purporting or proved to be thirty years old, is produced from any custody which the Court in the particular case considers proper, the Court may presume that the signature and every other part of such document, which purports to be in the handwriting of any particular person, is in that person's handwriting, and, in the case of a document executed or attested, that it was duly executed and attested by the persons by whom it purports to be executed and attested. 
 
⇒ Explanation.-Documents are said to be in proper custody if they are in the place in which, and under the care of the person with whom, they would naturally be; but no custody is improper if it is proved to have had a legitimate origin, or if the circumstances of the particular case are such as to render such an origin probable. 
 
⇒ This explanation applies also to section 81.
২১০.
The Evidence Act, 1872 অনুযায়ী প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary Evidence) অর্থ _______
  1. আদালতে সরাসরি উপস্থাপিত মৌলিক সাক্ষ্য
  2. আদালতে উপস্থাপিত আসল দলিল
  3. মামলার ঘটনা সম্পর্তিত সাধারণ প্রমাণ
  4. শ্রুত সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারায় প্রাথমিক সাক্ষ্যের বিধান রয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারা অনুসারে মূল দলিল সরাসরি আদালতে উপস্থাপন করাকে প্রাথমিক সাক্ষ্য বা Primary evidence বলে। এছাড়া নিম্নলিখিত সাক্ষ্যগুলোও প্রাথমিক সাক্ষ্য বলে গণ্য হবে-

i) সাক্ষ্য আইনের ৬২ ও ৯১ ধারা অনুযায়ী লিখিত দলিলের ক্ষেত্রে দলিলের বিষয়বস্তু সম্পর্কে খোদ দলিলটিই প্রাথমিক সাক্ষ্য।

ii) একটি দলিল কয়েক খন্ডে সম্পাদিত হলে, প্রত্যেক খন্ডই একে অন্যের প্রাথমিক সাক্ষ্য ।

iii) যখন কোন দলিল প্রতিলিপিসহ সম্পাদিত হয় (executed in counterpart), তখন প্রত্যেকটি প্রতিলিপি সম্পাদনকারীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক সাক্ষ্য।

iv) যেক্ষেত্রে কিছু সংখ্যক দলিল মুদ্রণ, লিথোগ্রাফি বা ফটোগ্রাফির মাধ্যমে একই পদ্ধতিতে হয়, সেক্ষেত্রে প্রত্যেকটি অন্যগুলির প্রাথমিক সাক্ষ্য। কিন্তু মূল দলিলের নকল হলে, তা মূল দলিলের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সাক্ষ্য হবেনা যেমন- এক ব্যক্তির দখলে এমন কতগুলি প্রচার পত্র (placards) আছে বলে দেখান হল, যার সবগুলি একটি মূল দলিল হতে একই সময়ে মুদ্রিত হয়েছে। প্রচার পত্রগুলির যে কোন একটি অপর একটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রথম শ্রেণীর সাক্ষ্য, কিন্তু সেগুলির একটিও মূল প্রচার পত্রের বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রথম শ্রেণীর সাক্ষ্য নয়।

♦ মৌখিক সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সাক্ষ্য- সাক্ষী নিজে দেখে-শুনে বা অনুভব করে যে সাক্ষ্য দেয় তা প্রাথমিক সাক্ষ্য। তার নিকট থেকে অন্য জন শুনে সাক্ষ্য দিলে তা হয় মাধ্যমিক (Secondary) বা পরোক্ষ তথা জনশ্রুতি সাক্ষ্য ।
২১১.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৬৭ অনুযায়ী, কেবলমাত্র ভুলভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জনের কারণে কী করা যাবে না?
  1. আপিল করা যাবে না
  2. সাক্ষীকে জেরা করা যাবে না
  3. আদালতের আদেশ খারিজ করা যাবে না
  4. পুনর্বিচার বা রায় পরিবর্তনের দাবি করা যাবে না
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৬৭ বলছে যদি আদালত ভুলভাবে কোনো সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জন করে, তবুও যদি মামলায় এমন যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকে যার ভিত্তিতে রায় দেওয়া সম্ভব, তাহলে শুধু এই কারণে পুনর্বিচার বা রায় পরিবর্তনের দাবি করা যাবে না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৬৭ ধারামতে:
- আদালত অন্যায়ভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জন করে থাকলে যে সাক্ষ্যের বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে, সেই সাক্ষ্য ছাড়াও যদি এমন সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকে যা দ্বারা আদালতের সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা প্রতিপন্ন হয়, অথবা যে সাক্ষ্য বর্জন করা হয়েছে, তা গ্রহণ করা হলেও আদালতের সিদ্ধান্তে কোন তারতম্য হতো না, তবে কেবলমাত্র অন্যায়ভাবে কোন সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জন করার অজুহাতে কোন মামলার পুনর্বিচার বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন দাবি করা যাবে না। সাক্ষ্য আইনের ১৬৭ ধারার বিধান দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলাতেই সমভাবে প্রযোজ্য।
------------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 167- No new trial for improper admission or rejection of evidence:
The improper admission or rejection of evidence shall not be ground of itself for a new trail or reversal of any decision in any case, if it shall appear to the Court before which such objection is raised that, independently of the evidence objected to and admitted, there was sufficient evidence to justify the decision, or that, if the rejected evidence had been received, it ought not to have varied the decision.
২১২.
দোষ স্বীকার কখন গ্রহণযোগ্য হয় না?
  1. দোষ স্বীকার যদি স্বেচ্ছামূলক হয়
  2. ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দোষ স্বীকারোক্তি
  3. দোষ স্বীকার যদি কোনো ভীতির কারণে হয়
  4. ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশের নিকট দোষ স্বীকারোক্তি
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন, 1872 এর ধারা ২৪ এ দেয়া আছে:

"দোষ স্বীকারোক্তি তখনই গ্রহণযোগ্য হইবে না যখন এইরূপ প্রতীয়মান হইবে যে, ইহা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলক আশ্বাস প্রদান করিয়া আদায় করা হইয়াছে।"

অর্থাৎ, যদি দোষ স্বীকার করানোর জন্য কোনো ভীতি দেখানো হয়, বা মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়, তাহলে সেই স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য হবে না।

অন্যদিকে,
যদি দোষ স্বীকার স্বেচ্ছামূলক এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হয় বা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশের নিকট হয়, তাহলে সেগুলো গ্রহণযোগ্য হবে। তবে প্রমাণিত হলে যে স্বীকারোক্তি ভীতি বা প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে, তখন তা অগ্রহণযোগ্য হবে।
২১৩.
কোন পক্ষ নিজ সাক্ষীকে একবার পরীক্ষা করার পর কোনো কারণে পূণঃপরীক্ষা (Re-examination) করিতে পারে?
  1. পূর্বের বক্তব্য ভুল শোধরানো
  2. পূর্বের বক্তব্য স্পষ্টীকরণ,
  3. কোনো কিছু মিথ্যা প্রমাণ
  4. বিশেষজ্ঞদের মতামতের বিষয়ে
ব্যাখ্যা
⇒  পুনঃজবানবন্দীর সংজ্ঞা (Re-Examination)- জেরার পরে জবানবন্দী গ্রহণকারী পক্ষ পুনরায় যখন জবানবন্দী নেন তখন তাকে পুনঃজবানবন্দী বলে। অর্থাৎ জেরার পর আহবানকারী পক্ষ আবার নিজের সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করলে তাকে বলা হয় পুনঃজবানবন্দি বা Re-Examination।

⇒  পুনঃজবানবন্দীর মূল উদ্দেশ্য হবে জেরার উল্লেখিত সাক্ষ্যের ব্যাখ্যা। অর্থাৎ জেরা প্রসঙ্গে সাক্ষী যে সকল বিষয়ের উল্লেখ করে, পুনঃজবানবন্দীতে সেগুলির ব্যাখ্যা চাইতে হবে।  আদালত অনুমতি দিলে পুনঃজবানবন্দিতে নতুন বিষয়ে সাক্ষীকে জিজ্ঞাসা করা যায়।

⇒ পুনঃ জবানবন্দীর সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে নতুন কোন বিষয়ের অবতারণা করে সাক্ষীকে জিজ্ঞাসা করা হলে, বিরুদ্ধ পক্ষ অধিকতর জেরা বা Further cross-examination করতে পারে।

⇒  সুতরাং আমরা বলতে পারি, কোন পক্ষ নিজের সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করলে তাকে বলা হয় জবানবন্দী, বিরুদ্ধ পক্ষ সাক্ষ্য গ্রহন করলে বলা হয় জেরা; অন্যদিকে নিজের সাক্ষীর পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণ করাকে পুনঃজবানবন্দী বলে। 

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারার বিধান সাক্ষ্য গ্রহণের ক্রম, পুনসাক্ষ্য গ্রহণের নির্দেশ: প্রথমে সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। অতঃপর (বিরুদ্ধে পক্ষ ইচ্ছা করলে) সাক্ষীকে জেরা করা হবে, তৎপর (সাক্ষী হাজিরকারী পক্ষ ইচ্ছা করলে) পুনঃসাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।

⇒ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং জেরা প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্বন্ধে হতে হবে। তবে সাক্ষী তার জবানবন্দিতে যে সমস্ত বিষয় সম্পর্কে জবানবন্দি দিয়েছেন, সে সকল বিষয়ে কেবলমাত্র জেরা করা চলবে এমন নয়।

⇒ সাক্ষী জেরা প্রসঙ্গে যে সকল বিষয়ের উল্লেখ করেন, পুনঃজবানবন্দিতে সেগুলোর ব্যাখ্যা চাইতে হবে, যদি পুনঃজবানবন্দি গ্রহণের সময় আদালতের সম্মতি নিয়ে কোন নূতন বিষয়ের অবতারণা করা হয়, তবে সে সকল বিষয়ে বিরুদ্ধপক্ষ আরো জেরা করতে পারবেন।
--------------
⇒ Order of examinations
Section 138. Witnesses shall be first examined-in-chief, then (if the adverse party so desires) cross-examined, then (if the party calling him so desires) re-examined. 
 
⇒ The examination and cross-examination must relate to relevant facts but the cross-examination need not be confined to the facts to which the witness testified on his examination-in-chief.

⇒ Direction of re-examination

The re-examination shall be directed to the explanation of matters referred to in cross-examination; and, if new matter is, by permission of the Court, introduced in re-examination, the adverse party may further cross-examine upon that matter.
২১৪.
বিশেষজ্ঞদের মতামত আদালতের উপর-
  1. বিবেচনামূলক
  2. নির্দেশনামূলক
  3. উপদেশমূলক
  4. বাধ্যকর
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারার বিধান: বিশেষজ্ঞদের মতামত:-
যখন আদালতকে বিদেশী আইন, বা বিজ্ঞান, শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ বা ডিজিটাল রেকর্ড, বা চারুকলা, বা হাতের লেখা বা আঙ্গুলের ছাপ বা পায়ের ছাপের বা হাতের তালুর ছাপ বা চোখের আইরিসের ছাপ বা টাইপ রাইটিং বা ব্যবসায়িক প্রথা ব্যবহার বা টেকনিক্যাল শব্দ বা ব্যক্তি বা প্রাণীর পরিচয় শনাক্তের প্রশ্নে কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয় তখন বিশেষভাবে দক্ষ ব্যক্তির এই ধরনের বিদেশী আইন, বিজ্ঞান, শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ বা ডিজিটাল রেকর্ড বা চারুকলায় বা হাতের লেখা বা আঙ্গুলের ছাপ, পায়ের ছাপ, হাতের তালুর ছাপ, টাইপ রাইটিং, ব্যবসায়িক প্রথা, টেকনিক্যাল শব্দ বা ব্যক্তি বা প্রাণীর পরিচয় শনাক্তের প্রশ্নে অভিমত অনুরূপ প্রশ্নে প্রাসঙ্গিক বিষয়। এই ধরনের ব্যক্তিদের বিশেষজ্ঞ বলা হয়।

⇒  Expert Opinion আদালতের জন্য বাধ্যকর নয়, এটি আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা। এটি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, কিন্তু অনুসমর্থন প্রকৃতির। অর্থাৎ অন্যান্য সাক্ষ্যের সাথে মিলিয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

-------------------
Opinion of Experts:
Section 45.
 When the Court has to form an opinion upon a point of foreign law, or of science, physical or forensic evidence or digital record, or art, or as to identity of hand writing or finger impression or footprint or palm impression or iris impression or typewriting or usage of trade or technical terms or identity of person or animal, the opinion upon that point of person specially skilled in such foreign law, science, physical or forensic evidence or digital record or art, or in questions as to identity of handwriting or finger impression, footprint, palm impression, typewriting, usage of trade, technical term or identity of person or animal, as the case may be, are relevant facts.

Such persons are called experts.
২১৫.
বিবাদী খ-এর হাতে একটি দলিল আছে, কিন্তু খ উক্ত দলিল আদালতে দাখিল করেনি। অন্যদিকে বাদী ক উক্ত দলিল আদালতে দাখিলের জন্য খ-কে বললেও সে তা দাখিল করেনি। এই দলিলের বিষয়ে আদালত কী অনুমান করতে পারেন?
  1. দলিলটি বিবাদীর বিরুদ্ধে যাবে
  2. দলিল টি বাদীর অনুকূলে যাবে
  3. দলিলটি বিবাদীর অনুকূলে যাবে
  4. দলিলের বিষয়ে আদালত কোনো অনুমান করতে পারবে না।
ব্যাখ্যা
১১৪ ধারার বলা হয়েছে-the Court may presume- that evidence which could be and is not produced would, if produced, be unfavourable to the person who withholds it;

♦ অর্থাৎ, যে পক্ষ কোনো দলিল দাখিলে বাঁধা দিবে উক্ত দলিল তাঁর বিরুদ্ধে যাবে এইমর্মে অনুমান করা যাবে।
২১৬.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় বলা হয়েছে, একটি স্বীকারোক্তি স্বেচ্ছায় প্রদত্ত হলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যদিও পূর্বে তা প্ররোচনার মাধ্যমে আদায় করা হয়েছিল?
  1. ধারা ২৪
  2. ধারা ২৭
  3. ধারা ২৮
  4. ধারা ২৯
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ২৮ অনুযায়ী, “If such a confession as is referred to in section 24 is made after the impression caused by any such inducement, threat or promise has, in the opinion of the Court, been fully removed, it is relevant.”
অর্থাৎ, যদি আদালতের মতামতে ধারা ২৪-এর অধীনে দেওয়া কোনো স্বীকারোক্তির ক্ষেত্রে প্ররোচনা, ভয়, বা প্রতিশ্রুতির প্রভাব সম্পূর্ণরূপে দূর হয়ে যায়, এবং পরে আসামি স্বতঃস্ফূর্তভাবে (স্বেচ্ছায়) সেই স্বীকারোক্তি দেয়, তাহলে সেটি প্রাসঙ্গিক ও গ্রহণযোগ্য হবে।
- ধারা ২৪ বলছে, যদি কোনো স্বীকারোক্তি কোনো কর্তৃপক্ষের (যেমন পুলিশ) প্ররোচনা, ভয় দেখানো, বা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মাধ্যমে আদায় করা হয়, এবং তা আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট হয়, তাহলে সেই স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
- ধারা ২৮ বলছে, যদি আদালতের মতে সেই প্ররোচনা, ভয় বা প্রতিশ্রুতির প্রভাব সম্পূর্ণরূপে দূর হয় এবং আসামি পরে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি প্রদান করে, তাহলে সেই স্বীকারোক্তি প্রাসঙ্গিক (relevant) হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ২৮ বলছে, অর্থাৎ,যদি কোনো স্বীকারোক্তি প্রথমে ভয়, প্ররোচনা বা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে আদায় করা হয়ে থাকে এবং পরে আদালতের মতে সেই ভয় বা প্ররোচনার প্রভাব সম্পূর্ণভাবে দূর হয়, এবং আসামি পরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বীকারোক্তি দেয় — তাহলে সেই স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য (relevant) হতে পারে।
২১৭.
নিম্নের কোন বিষয়টি 'Shall Presume' এর অন্তর্ভুক্ত?
  1. Presumption as to documents thirty years old
  2. Presumption as to digital records five years old
  3. Presumption as to Digital Signature Certificates
  4. Presumption as to physical or forensic evidence
ব্যাখ্যা
⇒ Section 85C Presumption as to Digital Signature Certificates (ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ সম্পর্কে অনুমান) (Shall Presume) 

⇒ Section 89A Presumption as to physical or forensic evidence (শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ হিসাবে অনুমান) (May Presume)

⇒ Section 90 Presumption as to documents thirty years old (৩০ বছরের পুরাতন দলিল সম্পর্কে অনুমান) (May Presume)

⇒ Section 90A Presumption as to digital records five years old (May Presume) পাঁচ বছরের পুরনো ডিজিটাল রেকর্ডের অনুমান) (May Presume)

-----------
⇒ Presumption as to Digital Signature Certificates
Section 85C. The Court shall presume, unless contrary is proved, that the information listed in a Digital Signature Certificate is correct, except for information specified as subscriber information which has not been verified, if the certificate was accepted by the subscriber.]
⇒ Presumption as to physical or forensic evidence:
Section 89A. The Court may presume unless contrary is proved that the physical or forensic evidence belongs to or is created by that person from whom it purports to have been collected.
⇒ Presumption as to documents thirty years old:
Section 90. Where any document, purporting or proved to be thirty years old, is produced from any custody which the Court in the particular case considers proper, the Court may presume that the signature and every other part of such document, which purports to be in the handwriting of any particular person, is in that person's handwriting, and, in the case of a document executed or attested, that it was duly executed and attested by the persons by whom it purports to be executed and attested. 
 
⇒ Explanation.-Documents are said to be in proper custody if they are in the place in which, and under the care of the person with whom, they would naturally be; but no custody is improper if it is proved to have had a legitimate origin, or if the circumstances of the particular case are such as to render such an origin probable. 
 This explanation applies also to section 81. 
 
⇒ Presumption as to digital records five years old:
Section 90A. Where any digital record, purporting or proved to be five years old, is produced from any custody which the Court in the particular case considers proper, the Court may presume that the digital signature which purports to be the digital signature of any particular person was so affixed by him or any person authorized by him in this behalf.

⇒ Explanation.- Digital records are said to be in proper custody if they are in the place in which, and under the care of the person with whom, they naturally be; but no custody is improper if it is proved to have had a legitimate origin, or the circumstances of the particular case are such as to render such an origin probable.
২১৮.
নিচের কোন ধারায় বলা হয়েছে, “একটি দলিল যদি একাধিক অংশে সম্পাদিত হয়, তবে প্রতিটি অংশই প্রাথমিক সাক্ষ্য”?
  1. ধারা ৬১
  2. ধারা ৬২
  3. ধারা ৬৫
  4. ধারা ৬৭
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬২-এ প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary Evidence) সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- এই ধারার Explanation-1 অনুযায়ী: “Where a document is executed in several parts, each part is primary evidence of the document.”
অর্থাৎ, যখন একটি দলিল একাধিক অংশে সম্পাদিত হয় (যেমন: চুক্তির প্রতিলিপি দুই পক্ষের জন্য করা হয়), তখন প্রতিটি অংশই মূল দলিলের মতো প্রাথমিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয়।
- এটাই ধারা ৬২-এর মূল ব্যাখ্যার অংশ।
তাই সঠিক উত্তর: খ) ধারা ৬২। 

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারা অনুসারে প্রাথমিক/মুখ্য সাক্ষ্য: প্রাথমিক সাক্ষ্য অর্থ সংশ্লিষ্ট দলিলটি আদালতে পরিদর্শনের জন্য দাখিল করা।
ব্যাখ্যা-১ কোন দলিল কতিপয় খণ্ডে সম্পাদিত হলে প্রত্যেক খণ্ডই উক্ত দলিলের প্রাথমিক সাক্ষ্য: কোন দলিল যখন প্রতিলিপি (counterpart) সহকারে সম্পাদিত হয়; এবং প্রত্যেকটি প্রতিলিপি পক্ষগণের মধ্যে একজন বা কয়েকজন কর্তৃক সম্পাদিত হয়, তখন প্রত্যেকটি প্রতিলিপি তার সম্পাদনকারী পক্ষের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সাক্ষ্য।
ব্যাখ্যা-২: যে ক্ষেত্রে একাধিক দলিল একই পদ্ধতিতে (uniform process) প্রস্তুত হয়; যথা: মুদ্রণ, লিথোগ্রাফি বা ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, সেই ক্ষেত্রে তার প্রত্যেকটিই অন্যগুলির বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রাথমিক সাক্ষ্য, কিন্তু যে ক্ষেত্রে সেগুলি সবই একটি মূল দলিলের নকল , সেক্ষেত্রে ঐগুলি দলিলটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রাথমিক সাক্ষ্য নয়।
---------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 62- Primary evidence: Primary evidence means the document itself produced for the inspection of the Court.
Explanation 1.- Where a document is executed in several parts, each part is primary evidence of the document.
Where a document is executed in counterpart, each counterpart being executed by one or some of the parties only, each counterpart is primary evidence as against the parties executing it.
Explanation 2.- Where a number of documents are all made by one uniform process, as in the case of printing, lithography or photography, each is primary evidence of the contents of the rest; but, where they are all copies of a common original, they are not primary evidence of the contents of the original.
Illustration
A person is shown to have been in possession of a number of placards, all printed at one time prove one original. Any one of the placards is primary evidence of the contents of any other, but no one of them is primary evidence of the contents of the original.
২১৯.
What type of information is not assumed to be correct in a Digital Signature Certificate?
  1. Date of issue
  2. Verified subscriber information
  3. Information about the certificate authority
  4. Subscriber information that has not been verified
ব্যাখ্যা
⇒ Section 85C- Presumption as to Digital Signature Certificates:
The Court shall presume, unless contrary is proved, that the information listed in a Digital Signature Certificate is correct, except for information specified as subscriber information which has not been verified, if the certificate was accepted by the subscriber.

সাক্ষ্য আইনের ৮৫গ ধারা- ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ সম্পর্কে অনুমান:
বিপরীত কিছু প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত আদালত অবশ্যই অনুমান করবে যে, গ্রাহকের যে সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই করা হয়নি তা ব্যতীত ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের উল্লেখিত তথ্য সঠিক, যদি সনদটি গ্রাহক দ্বারা গৃহিত হয়। গ্রাহকের তথ্য হিসেবে নির্ধারিত তথ্য যাচাই করা না হলে তা সঠিক বলে আদালত অনুমান করবে না।
২২০.
কোন একটি গ্রামের অধিবাসীদের নির্ধারিত কোন একটি কূপের পানির ব্যবহার করার অধিকার থাকলে, তা সাক্ষ্য আইনের ৪৮ ধারার অর্থ অনুযায়ী ____________ বলে বিবেচিত হবে।
  1. সাধারণ অধিকার
  2. ব্যক্তিগত অধিকার
  3. বিশেষ অধিকার
  4. ব্যতিক্রমী অধিকার
ব্যাখ্যা

• সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৮- অধিকার অথবা প্রথার অস্তিত্ব সম্বন্ধে অভিমত যখন প্রাসঙ্গিক:
কোন সাধারণ প্রথা অথবা অধিকারের অস্তিত্ব সম্পর্কে যেক্ষেত্রে আদালতকে কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত প্রথা বা অধিকারের অস্তিত্ব থাকলে যে সমস্ত ব্যক্তির পক্ষে তা জানা স্বাভাবিক, এর অস্তিত্ব সম্বন্ধে তার অভিমত প্রাসঙ্গিক।

ব্যাখ্যাঃ "সাধারণ প্রথা অথবা অধিকার" কথাটি বলতে যথেষ্ঠ সংখ্যক ব্যক্তির একটি শ্রেণীর ভিতর সাধারণভাবে প্রচলিত প্রথা বা অধিকারও বুঝায়।

উদাহরণ
কোন একটি গ্রামের অধিবাসীদের নির্ধারিত কোন একটি কূপের পানির ব্যবহার করার অধিকার থাকলে, তা এ ধারার অর্থ অনুযায়ী সাধারণ অধিকার বলে বিবেচিত হবে।

২২১.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্টের (Impeaching credit of witness) বিধান রয়েছে?
  1. সাক্ষ্য আইনের ১৫০ ধারায়
  2. সাক্ষ্য আইনের ১৫১ ধারায়
  3. সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ ধারায়
  4. সাক্ষ্য আইনের ১৫৭ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন (সংশোধন), ২০২২ এর ১৫৫ ধারা অনুযায়ী বর্তমানে সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে অভিযোগ করা যায় তিনটি উপায়ে। যথা:-
(i) সাক্ষী যে বিশ্বাসের অযোগ্য তা ব্যক্তিদের সাক্ষ্য দ্বারা;
(ii) সাক্ষীকে যে ঘুষ দেওয়া হয়েছে বা সাক্ষী যে ঘুষের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে, অথবা অন্যকোন দুর্নীতিমূলক প্রলোভনের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে তা প্রমাণ করে;
(iii) বর্তমান সাক্ষের সাথে পূর্বে প্রদত্ত সাক্ষের অসামঞ্জসতা প্রমাণ করে।

---------------
⇒ Impeaching credit of witness
Section 155. The credit of a witness may be impeached in the following ways by the adverse party, or, with the consent of the Court, by the party who calls him:-
(1) by the evidence of persons who testify that they, from their knowledge of the witness, believe him to be unworthy of credit;
(2) by proof that the witness has been bribed, or has accepted the offer of a bribe, or has received any other corrupt inducement to give his evidence;
(3) by proof of former statements inconsistent with any part of his evidence which is liable to be contradicted;

⇒ Explanation.–A witness declaring another witness to be unworthy of credit may not, upon his examination-in-chief, give reasons for his belief, but he may be asked his reasons in cross-examination, and the answers which he gives cannot be contradicted, though, if they are false, he may afterwards be charged with giving false evidence.
২২২.
একজন ব্যক্তি জীবিত মর্মে যে দাবী করে তা তাকেই প্রমান করতে হবে, যদি ঐ ব্যক্তির কোন সংবাদ পাওয়া না যায়-
  1. ০৭ বছর যাবৎ
  2. ১০ বছর যাবৎ
  3. ১৫ বছর যাবৎ
  4. ৩০ বছর যাবৎ
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৭ ধারায় বিগত ৩০ বৎসর যাবৎ জীবিত ব্যক্তিকে আদালত জীবিত বলে অনুমান করতে বাধ্য; এক্ষেত্রে যে ব্যক্তি মৃত বলে দাবী করে তাকেই প্রমাণ করতে হবে যে উক্ত ব্যক্তি মৃত।
⇒ অন্যদিকে ১০৮ ধারা অনুযায়ী ৭ বৎসর যাবৎ খবর পাওয়া যায় না এমন ব্যক্তিকে আদালত মৃত অনুমান করতে বাধ্য; এক্ষেত্রে যে ব্যক্তি দাবী করে যে উক্ত ব্যক্তি জীবিত আছে, তাকেই প্রমাণ করতে হবে যে উক্ত ব্যক্তি জীবিত আছে।
-----------
⇒  Section 107 Burden of proving death of person known to have been alive within thirty years:  When the question is whether a man is alive or dead, and it is shown that he was alive within thirty years, the burden of proving that he is dead is on the person who affirms it.
⇒  Section 108 Burden of proving that person is alive who has not been heard of for seven years: Provided that when the question is whether a man is alive or dead, and it is proved that he has not been heard of for seven years by those who would naturally have heard of him if he had been alive, the burden of proving that he is alive is shifted to the person who affirms it.
২২৩.
মামলা প্রমাণের দায়ভার কার উপর?
  1. আদালত
  2. বাদীর
  3. সাক্ষীর
  4. বিবাদীর
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-এর ১০১ ধারা অনুযায়ী,
মামলা প্রমাণ করার দায়িত্ব সর্বদা বাদীপক্ষের ওপর থাকবে। এর মানে হলো, যিনি আদালতকে কোনো বিষয়ের সত্যতা আছে বলে বিশ্বাস করাতে চান, তিনিই তা প্রমাণ করবেন। সুতরাং বিবাদীর প্রতি আনা অভিযোগ বাদীকেই প্রমাণ করতে হবে।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, মামলা চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তির নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার প্রয়োজনীয়তা আছে কি না। আইনে বলা আছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ বলে গণ্য হবেন। তাই মামলার শুরুতে আসামি বা অভিযুক্ত ব্যক্তির নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য সাক্ষ্য উপস্থাপনের প্রয়োজন নেই। মামলা প্রতিষ্ঠা করার সম্পূর্ণ ভার বাদীপক্ষের ওপর বর্তায়। তবে বাদী যদি মামলা প্রমাণের জন্য সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে সক্ষম হন, তখন বাদীর দেওয়া তথ্য-প্রমাণ খণ্ডনের জন্য বিবাদীকে সাক্ষ্যপ্রমাণ দিতে হবে।
২২৪.
'All other documents are private.' এটি সাক্ষ্য আইনের কত ধারার বিধান?
  1. সাক্ষ্য আইন ৭৩ ধারার
  2. সাক্ষ্য আইন ৭১ ধারার
  3. সাক্ষ্য আইন ৭৪ ধারার
  4. সাক্ষ্য আইন ৭৫ ধারার
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৫ ধারার অনুযায়ী বেসরকারি দলিল (Private document)- সরকারি দলিল ব্যতীত সকল দলিলই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত দলিল। কবিতা, উইল, বিক্রয় চুক্তি, দানপত্র, মূল বিক্রয় দলিল, কবলা দলিল, চিঠিপত্র সবই বেসরকারি দলিল বা Private document.

⇒ Private documents

Section 75. All other documents are private.

⇒ Public documents
Section 74. The following documents are public documents:– 
 
(1) documents forming the acts or records of the acts- 
 
(i) of the sovereign authority, 
 
(ii) of official bodies and tribunals, and 
 
(iii) of public officers, legislative, judicial and executive of any part of Bangladesh or of the Commonwealth, or of a foreign country; 
 
(2) public records kept in Bangladesh of private documents.
২২৫.
সাক্ষ্য আইনের ১২২ ধারায় স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যকার নিম্নলিখিত কোন ধরণের যোগাযোগ প্রকাশ করতে স্বামী বা স্ত্রীকে বাধ্য করা যাবে না?
  1. বিবাহ বলবৎ থাকাকালীন কোন যোগাযোগ
  2. স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যকার কোন মামলায়
  3. বিবাহ পূর্বকালীন বা পরবর্তী কালীন যে কোন যোগাযোগ
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ১২০ ধারা অনুযায়ী দেওয়ানী মোকদ্দমায় স্বামী এবং স্ত্রী যোগ্য সাক্ষী এবং ফৌজদারী মামলায় স্বামী এবং স্ত্রী অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যোগ্য সাক্ষী।  তবে ১২২ ধারায় স্বামী এবং স্ত্রীর সাক্ষী হওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়নি বরং স্বামী এবং স্ত্রী কোন ধরণের যোগাযোগ প্রকাশ করতে বাধ্য না, তা ১২২ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।

উক্ত ধারানুযায়ী, বিবাহ বলবৎ থাকাকালে স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে পত্র আলাপ (যোগাযোগ) প্রকাশ করতে তারা বাধ্য না।

কিন্তু নিম্নলিখিত স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে পত্র আলাপ বা যোগাযোগ প্রকাশে কোন পক্ষকে বাধ্য করা যাবে-

১. যখন যে ব্যক্তি এমন যোগাযোগ করেছিল সে বা তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি সম্মতি প্রদান করে এবং

২. বিবাহিত ব্যক্তিদের মধ্যে কোন মামলায় তা ফৌজদারী হোক বা দেওয়ানী হোক যেক্ষেত্রে একজনকে অন্যজনের প্রতি সংঘটিত কোনো অপরাধের জন্য বিচার করা হচ্ছে। যেমন- তালাক মামলায় স্বামী বা স্ত্রী তাদের মধ্যেকার যোগাযোগ প্রকাশ করতে পারে বা তাদের বাধ্য করা যাবে।
২২৬.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৪১ অনুযায়ী, ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন (Leading question) কখন জিজ্ঞাসা করা যাবে?
  1. শুধুমাত্র জেরায়
  2. শুধুমাত্র জবানবন্দিতে
  3. শুধুমাত্র পুনঃজবানবন্দিতে
  4. শুধুমাত্র আদালতের নির্দেশে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) শুধুমাত্র জেরায়।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৪১ অনুযায়ী, ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন (Leading question) সাধারণত জেরা (Cross-examination) পর্বে জিজ্ঞাসা করা যাবে। জেরার সময়, প্রশ্নকারী পক্ষ বিরুদ্ধ পক্ষের সাক্ষীকে এমন প্রশ্ন করতে পারে, যেগুলোর মধ্যে উত্তর দেওয়ার ইঙ্গিত থাকে, অর্থাৎ প্রশ্নটি এমনভাবে করা হয় যাতে সাক্ষী সহজে "হ্যাঁ" বা "না" উত্তর দিতে পারে।
তবে, জবানবন্দি বা পুনঃজবানবন্দি পর্বে সাধারণত ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা নিষিদ্ধ থাকে, কারণ সেই সময় সাক্ষীর বক্তব্য স্পষ্টভাবে শোনা এবং সত্যতা যাচাই করা দরকার, এবং জেরার সময় ইঙ্গিতবাহী প্রশ্নের মাধ্যমে সাক্ষীকে প্রভাবিত করা সম্ভব হতে পারে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪১ ধারার বিধান হলো ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন: প্রশ্নকারী প্রশ্নের যে উত্তর আশা বা ইচ্ছা করেন, প্রশ্নের মধ্যেই তার ইঙ্গিত দেওয়া হলে তাকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বলা হয়।
⇒ যে প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর থাকে, তাকে নির্দেশক প্রশ্ন বা ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বা Leading question বলে। সাধারণত হ্যাঁ অথবা না ব্যাজেই এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেয়া যায়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪৩ ধারার বিধান যখন সেগুলো জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে:
নির্দেশক বা ইঙ্গিতবাহী প্রশ্নসমূহ জেরা (cross-examination) এর সময় জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে।
---------
⇒ The Evidence Act, 1872- Section 141. Leading questions:
- Any question suggesting the answer which the person putting it wishes or expects to receive is called a leading question.

⇒ The Evidence Act, 1872- Section 143.When they may be asked:
- Leading questions may be asked in cross-examination.

২২৭.
'A', 'B'- এর বিরুদ্ধে জমির দখলের একটি রায় পেয়েছে। 'B' এর পুত্র 'C', এর প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে 'A'- কে হত্যা করে। উক্ত খুনের ক্ষেত্রে প্রদত্ত দেওয়ানি রায়ের অস্তিত্ব-
  1. অপ্রাসঙ্গিক
  2. প্রাসঙ্গিক
  3. কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়
  4. ক এবং গ
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৪৩ ধারা অনুযায়ী,
৪০, ৪১ এবং ৪২ ধারায় উল্লিখিত রায়, আদেশ বা নির্দেশনা ব্যতীত অন্য সকল রায়, আদেশ বা নির্দেশনা অপ্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে। তবে যদি এমন রায়, আদেশ বা নির্দেশনার অস্তিত্বই মামলার বিচার্য বিষয় হয়, অথবা এই আইনের অন্য কোনো বিধানে তা প্রাসঙ্গিক হয়, তাহলে তা প্রাসঙ্গিক হিসেবে গৃহীত হবে।

উদাহরণটিতে দেখা যাচ্ছে, A কর্তৃক B'র বিরুদ্ধে জমির দখল নেওয়ার রায়ের অস্তিত্ব প্রাসঙ্গিক কারণ এটি B এর পুত্র C এর A-কে হত্যা করার উদ্দেশ্য দেখায়। অর্থাৎ, এই রায়ের অস্তিত্ব অপরাধের প্রেরণা বা মোটিভকে প্রদর্শন করায় তা প্রাসঙ্গিক বিবেচিত হবে।

Section 43:

Judgments, orders or decrees, other than those mentioned in sections 40, 41 and 42, are irrelevant, unless the existence of such judgment, order or decree is a fact in issue, or is relevant under some other provision of this Act.

Illustration-
(d) A has obtained a decree for the possession of land against B. C, B's son, murders A in consequence. The existence of the judgment is relevant, as showing motive for a crime.
২২৮.
Documents must be proved by primary evidence except in cases hereinafter mentioned. বিধানটি The Evidence Act,1872 এর কত ধারার বিধান?
  1. ৬৫ ধারা
  2. ৬৪ ধারা
  3. ৬৩ ধারা 
  4. ৬২ ধারা
ব্যাখ্যা

উত্তর:৬৪ ধারা

সাক্ষ্য আইনের ৬৪ ধারা, প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ: এই আইনে অতঃপর যে সকল ব্যতিক্রমের উল্লেখ করা হইয়াছে উহা ভিন্ন অন্য সকল ক্ষেত্রে দলিলসমূহ অবশ্যই প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করিতে হইবে।
-----------
Section 64, Proof of documents by primary evidence: Documents must be proved by primary evidence except in the cases hereinafter mentioned.

২২৯.
কোন ধারায় সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষকে নিজের সাক্ষীকে জেরা করার অনুমতি দেয়?
  1. ধারা ১৩৭
  2. ধারা ১৩৮
  3. ধারা ১৫০
  4. ধারা ১৫৪
ব্যাখ্যা
বৈরী সাক্ষীর সংজ্ঞা:
সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারার অধীনে, যখন কোনো সাক্ষী তার নিজ পক্ষের বিপরীতে বক্তব্য প্রদান করে বা বিরোধী পক্ষের সমর্থনে সাক্ষ্য দেয়, তখন সেই সাক্ষীকে বৈরী সাক্ষী বলে ঘোষণা করা হয়। বৈরী সাক্ষীর প্রদত্ত সাক্ষ্যকে বৈরী সাক্ষ্য বলা হয়। সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত আদালতের বিবেচনার উপর নির্ভর করে। সাক্ষীকে তখনই বৈরী ঘোষণা করা হয়, যখন:
- নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করে;
- বিরুদ্ধ পক্ষের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে;
- পূর্বের বক্তব্য থেকে সরে এসে বিপরীত সাক্ষ্য দেয়।

⇒ সাধারণত জেরা করার অধিকার বিরুদ্ধ পক্ষের থাকে, তবে বৈরী সাক্ষীর ক্ষেত্রে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের সাক্ষীকে জেরা করতে পারে। কোনো সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করে জেরা করার জন্য, সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষকে আদালতে আবেদন করতে হয়। আদালত যদি সেই আবেদন মঞ্জুর করে, তবে সাক্ষী বৈরী হিসেবে গণ্য হয়। বৈরী সাক্ষীকে জেরা করার মূল উদ্দেশ্য হলো তার বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা।

উদাহরণস্বরূপ:
ধরা যাক, একজন সাক্ষী মামলার একটি পক্ষের সমর্থনে আদালতে হাজির হয়। কিন্তু সাক্ষী যখন সাক্ষ্য প্রদান শুরু করে, তখন সে এমন বক্তব্য দেয় যা তার নিজপক্ষের স্বার্থের বিরোধিতা করে এবং অপর পক্ষের পক্ষে যায়। এই পরিস্থিতিতে, সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করতে পারে এবং তাকে জেরা করতে পারে।
২৩০.
'বিশেষজ্ঞদের মতামত' এর ক্ষেত্রে নিম্নের কোন বিধান সঠিক?
  1. আদালতের জন্য বাধ্যকর
  2. এটি চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়
  3. অনুসমর্থন প্রকৃতির সাক্ষ্য
  4. পক্ষদ্বয় মানতে বাধ্য
ব্যাখ্যা
• যখন আদালতকে বিদেশী আইন, বা বিজ্ঞান, শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ বা ডিজিটাল রেকর্ড, বা চারুকলা, বা হাতের লেখা বা আঙ্গুলের ছাপ বা পায়ের ছাপের বা হাতের তালুর ছাপ বা চোখের আইরিসের ছাপ বা টাইপ রাইটিং বা ব্যবসায়িক প্রথা ব্যবহার বা টেকনিক্যাল শব্দ বা ব্যক্তি বা প্রাণীর পরিচয় শনাক্তের প্রশ্নে কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয়, তখন এই বিষয়ে বিশেষভাবে দক্ষ ব্যক্তির অভিমত অনুরূপ প্রশ্নে প্রাসঙ্গিক বিষয়। এই ধরনের ব্যক্তিদের বিশেষজ্ঞ বলা হয়।
 
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৫ এবং ৪৫ক ধারায় বিশেষজ্ঞদের মতামত (Expert Opinion) সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। পূর্বে পাঁচটি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের মতামত সাক্ষ্য হিসেবে প্রাসঙ্গিক ছিল। কিন্তু সাক্ষ্য আইন (সংশোধন) ২০২২ এর ফলে ৪৫ ধারাটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। নতুন ৪৫ ধারা অনুসারে, নিম্নলিখিত ১৩টি ক্ষেত্রে বিশারদের মতামত সাক্ষ্য হিসেবে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে-

(i) বিদেশী আইন;
(ii) বিজ্ঞান;
(iii) শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক সাক্ষ্য;
(iv) ডিজিটাল রেকর্ড;

(v) চারুকলা;
(vi) হস্তলিপি বা হাতের লেখা;
(vii) আঙ্গুলের ছাপ বা টিপসহি;
(viii) পায়ের ছাপ;
(ix) তালুর ছাপ;

(x) চোখের কনীনিকার ছাপ;
(xi) টাইপ রাইটিং;
(xii) ট্রেড বা টেকনিকাল অভিব্যক্তির ব্যবহার;
(xiii) ব্যক্তি বা প্রাণীর পরিচিতি।

⇒ Expert Opinion আদালতের জন্য বাধ্যকর নয়, এটি আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা। এটি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, কিন্তু অনুসমর্থন প্রকৃতির। অর্থাৎ অন্যান্য সাক্ষ্যের সাথে মিলিয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
২৩১.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী আদালত কয়ভাবে ডিজিটাল স্বাক্ষর যাচাই করতে পারে?
  1. ২ ভাবে
  2. ৩ ভাবে
  3. ৪ ভাবে
  4. ৫ ভাবে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৩ক ধারার বিধান ডিজিটাল স্বাক্ষরের সত্যাখ্যানের প্রমাণ প্রসঙ্গ: যার দ্বারা ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সংযুক্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়, ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সেই ব্যক্তির কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য আদালত নির্দেশ দিতে পারে যে-
(ক) সেই ব্যক্তি বা নিয়ন্ত্রক বা প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ দাখিল করতে,
(খ) অন্য কোন ব্যক্তিকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের গণতালিকায় আবেদন করতে এবং সেই কথিত ডিজিটাল স্বাক্ষর যাচাই করতে।

ব্যাখ্যা: এখানে "নিয়ন্ত্রক" অর্থ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর ধারা ১৮ (১) এর অধীনে নিযুক্ত নিয়ন্ত্রক।

অর্থাৎ  সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী আদালত দুইভাবে ডিজিটাল স্বাক্ষর যাচাই করতে পারে।
-------------------
⇒ Proof as to verification of digital signature.
Section  73A.  In order to ascertain whether a digital signature is that of the person by whom it purports to have been affixed, the Court may direct-
(a) that person or the Controller or the Certifying Authority to produce the Digital Signature Certificate;
(b) any other person to apply the public key listed in the Digital Signature Certificate and verify the digital signature purported to have been affixed by that person.

Explanation.- For the purpose of this section, "Controller" means the Controller appointed under sub-section (1) of section 18 of the Information and Communication Technology Act, 2006 (Act No. 39 of 2006).
২৩২.
সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা অনুযায়ী, দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করা যায় কোন দুটি সাক্ষ্যের মাধ্যমে?
  1. মৌখিক সাক্ষ্য এবং দালিলিক সাক্ষ্য
  2. প্রাথমিক সাক্ষ্য এবং মাধ্যমিক সাক্ষ্য
  3. প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য এবং পরোক্ষ সাক্ষ্য
  4. কোনো সাক্ষ্য নয়
ব্যাখ্যা
→ সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা অনুযায়ী, দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করতে প্রাথমিক সাক্ষ্য অথবা মাধ্যমিক সাক্ষ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রাথমিক সাক্ষ্য হচ্ছে মূল দলিল, যা সরাসরি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। অন্যদিকে, মাধ্যমিক সাক্ষ্য তখন ব্যবহার করা হয় যখন মূল দলিল আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব না হয়, এবং তখন তার প্রতিলিপি বা অনুলিপি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

- সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারায় বলা হয়েছে, দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করতে প্রাথমিক সাক্ষ্য অথবা মাধ্যমিক সাক্ষ্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
তাই সঠিক উত্তর: খ) প্রাথমিক সাক্ষ্য এবং মাধ্যমিক সাক্ষ্য।

দালিলিক সাক্ষ্য (Documentary Evidence):
দালিলিক সাক্ষ্য বলতে আদালতের পরিদর্শনের জন্য যে সমস্ত দলিল বা লিপিবদ্ধ বস্তু উপস্থাপন করা হয়, তা বোঝানো হয়। সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা অনুসারে, দলিলের বিষয়বস্তু দুই প্রকার দালিলিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করা যেতে পারে:
১. প্রাথমিক সাক্ষ্য; এবং
২. মাধ্যমিক সাক্ষ্য।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা- দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ:
দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করা যেতে পারে প্রাথমিক সাক্ষ্য অথবা মাধ্যমিক সাক্ষ্য এর মাধ্যমে।

⇒ The Evidence Act, 1872- Section 61 - Proof of contents of documents:
The contents of documents may be proved either by primary or by secondary evidence.
২৩৩.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে নিম্নের কোনটি সরকারি দলিল (Public documents)?
  1. উইল
  2. কবলা
  3. চাকরির আবেদন পত্র
  4. আদালতের সমন
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারার বিধান সরকারী দলিল: নিম্নলিখিত দলিলগুলো সরকারী দলিল:
(১) যে সমস্ত দলিল-
(ক) কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের,
(খ) সরকারী প্রতিষ্ঠান বা ট্রাইব্যুনালের এবং
(গ) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের যে কোন স্থানের অথবা বিদেশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কোন অফিসারের কার্য অথবা কার্যের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

(২) বাংলাদেশে সরকারীভাবে রক্ষিত ব্যক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ।
---------
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৫ ধারার বিধান বেসরকারি দলিল (Private document)- সরকারি দলিল ব্যতীত সকল দলিলই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত দলিল। 
⇒ কবিতা, উইল, বিক্রয় চুক্তি, দানপত্র, মূল বিক্রয় দলিল, কবলা দলিল, চিঠিপত্র সবই বেসরকারি দলিল বা Private document.

আদালতের সমন ৭৪(১) ধারার বিধান মতে পাবলিক ডকুমেন্ট। কারণ সমন বিচার বিভাগীয় কাজের অংশ।
২৩৪.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ১৬২ ধারা অনুযায়ী, আদালত কোন পরিস্থিতিতে দলিল পরিদর্শন করতে পারে না?
  1. দলিল ব্যক্তিগত হলে
  2. দলিল ইংরেজিতে লেখা হলে
  3. দলিল অপরাধ সংক্রান্ত হলে
  4. দলিল রাষ্ট্রীয় বিষয় সম্পর্কিত হলে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ১৬২ ধারা অনুযায়ী, যখন কোনো সাক্ষী আদালতের সমনে কোনো দলিল হাজির করতে বাধ্য হন, তখন আদালত চাইলে সেই দলিল নিজেই পরিদর্শন করতে পারে, তবে একটি ব্যতিক্রম রয়েছে,
- যদি দলিলটি রাষ্ট্রীয় বিষয়ে (matters of State) সম্পর্কিত হয়, তাহলে আদালত সেই দলিল পরিদর্শন করতে পারবে না।
- কারণ, রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা বা জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় আদালত নিজে মূল্যায়ন করে না, বরং এর জন্য কিছু বিশেষ বিধান ও সংরক্ষণ রয়েছে।
- এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং গোপনীয় নথির সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়।

⇒ The Evidence Act, 1872-Section-162. Production of documents:
A witness summoned to produce a document shall, if it is in his possession or power, bring it to Court, notwithstanding any objection which there may be to its production or to its admissibility. The validity of any such objection shall be decided on by the Court.
The Court, if it sees fit, may inspect the document, unless it refers to matters of State, or take other evidence to enable it to determine on its admissibility.
Translation of documents:
If for such a purpose it is necessary to cause any document to be translated, the Court may, if it thinks fit, direct the translator to keep the contents secret, unless the document is to be given in evidence: and, if the interpreter disobeys such direction, he shall be held to have committed an offence under section 166 of the Penal Code.
২৩৫.
The Evidence Act, 1872 এর ৬০ ধারানুযায়ী 'Oral evidence must be ________।
  1. Direct
  2. Indirect
  3. Circumstantial
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ The Evidence Act, 1872 এর ধারা ৬০ অনুযায়ী, মৌখিক সাক্ষ্য (oral evidence) সরাসরি (direct) হতে হবে, অর্থাৎ এটি সেই তথ্য হতে হবে যা সাক্ষী নিজে প্রত্যক্ষ করেছে।
- এটি নির্দেশ করে যে, একজন সাক্ষী যেটি প্রত্যক্ষভাবে দেখেছেন বা অভিজ্ঞতা করেছেন, সেই তথ্যই আদালতে উপস্থাপন করা যাবে।
- পরোক্ষ (indirect) বা পরিস্থিতিগত (circumstantial) প্রমাণ যথাযথ মৌখিক সাক্ষ্য হিসেবে গৃহীত হবে না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৯ ধারার বিধান মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা তথ্য প্রমাণ: দলিলের বিষয় বস্তু ব্যতীত সকল তথ্য মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করা যাইতে পারে।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারার বিধান মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হইতে হইবে: মৌখিক সাক্ষ্য সকল ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রত্যক্ষ হইতে হইবে,
অর্থাৎ সাক্ষ্যে উল্লিখিত তথ্য যদি দেখা যাইতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলিবে যে, সে উহা দেখিয়াছে তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।
সাক্ষ্যে উল্লিখিত তথ্য যদি শোনা যাইতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলিবে যে সে উহা শুনিয়াছে, তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।
সাক্ষ্যে উল্লিখিত তথ্য যদি অন্য কোন ইন্দ্রিয় দ্বারা বা অন্য কোন উপায়ে উপলব্ধি করা যাইতে পারে, তবে সে সাক্ষী বলিবে যে সে উহা সেই ইন্দ্রিয় দ্বারা বা সেই উপায়ে উপলব্ধি করিয়াছে, তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।
সাক্ষ্যে উল্লিখিত বিষয় যদি কাহারও অভিমত অথবা অভিমতের ভিত্তি হয়, তবে যে ব্যক্তি সেই ভিত্তিতে সেই অভিমত পোষণ করে তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।
তবে শর্ত এই যে, বিশেষজ্ঞের অভিমত পোষকতার কোন গ্রন্থ যদি সাধারণভাবে বাজাবে বিক্রিয় হয়, সেক্ষেত্রে সেই অভিমত এবং যে যুক্তির উপর উহা প্রতিষ্ঠিত তাহা প্রমাণের জন্য সেই গ্রন্থ উপস্থাপন করা যাইতে পারে, যদি সেই গ্রন্থের প্রণেতার মৃত্যু হইয়া থাকে, অথবা যদি তাহার সন্ধান পাওয়া না যায়, অথবা যদি তিনি সাক্ষ্য দিতে অপারগ হইয়া থাকেন, অথবা যদি তাহাকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করিতে এইরূপ বিলম্ব ও ব্যয় হয় যাহা আদালত অযৌক্তিক বলিয়া বিবেচনা করেন।
ইহা ছাড়া মৌখিক সাক্ষ্যে যদি দলিল ভিন্ন অপর বস্তর অস্তিত্ব বা অবস্থা সম্পর্কে উল্লেখ করা হয় তবে আদালত উপযুক্ত মনে করিলেই সেই বস্তু আদালতের পরিদর্শনের জন্য দাখিল করার নির্দেশ দিতে পারেন।
----------------
⇒ Section 59. Proof of facts by oral evidence.  All facts, except the contents of documents, may be proved by oral evidence.
⇒ Section 60.  Oral evidence must be direct. Oral evidence must, in all cases whatever, be direct; that is to say-
if it refers to a fact which could be seen, it must be the evidence of a witness who says he saw it;
if it refers to a fact which could be heard, it must be the evidence of a witness who says he heard it;
if it refers to a fact which could be perceived by any other sense or in any other manner, it must be the evidence of a witness who says he perceived it by that sense or in that manner;
if it refers to an opinion or to the grounds on which that opinion is held, it must be the evidence of the person who holds that opinion on those grounds:
Provided that the opinions of experts expressed in any treatise commonly offered for sale, and the grounds on which such opinions are held, may be proved by the production of such treatises if the author is dead or cannot be found, or has become incapable of giving evidence, or cannot be called as a witness without an amount of delay or expense which the Court regards as unreasonable:
Provided also that, if oral evidence refers to existence or condition of any material thing other than a document, the Court may, if it thinks fit, require the production of such material thing for its inspection.
২৩৬.
The Evidence Act, 1872 এর ১২৪ ধারার বিধান অনুযায়ী, জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এরকম যোগাযোগ প্রকাশ করতে কোনো ________ বাধ্য করা যাবে না।
  1. রাষ্ট্রকে
  2. সরকারি কর্মকর্তাকে
  3. যেকোনো ব্যক্তিকে
  4. সরকারকে
ব্যাখ্যা
ধারা ১২৪: সরকারি যোগাযোগ:
কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে তাঁর কাছে সরকারি গোপনীয়তায় করা যোগাযোগ প্রকাশ করতে বাধ্য করা যাবে না, যখন তিনি মনে করেন যে এই প্রকাশের ফলে জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

[No public officer shall be compelled to disclose communications made to him in official confidence, when he considers that the public interests would suffer by the disclosure.]
২৩৭.
'ক' পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সময় এমন তথ্য দেয় যার ভিত্তিতে চোরাই মাল উদ্ধার হয়। সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুযায়ী এই অংশ প্রাসঙ্গিক?
  1. ধারা ২৪
  2. ধারা ২৫
  3. ধারা ২৬
  4. ধারা ২৭
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ২৭ অনুযায়ী, "পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে যদি এমন কিছু উদঘাটিত হয় যা ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত, তবে সেই অংশ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য।"
অর্থাৎ, আসামি 'ক' যদি পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় এমন কোনো তথ্য দেয় যার ভিত্তিতে চোরাই মাল উদ্ধার হয় — তবে সেই তথ্য (বা তার প্রাসঙ্গিক অংশ) ধারা ২৭-এর অধীনে প্রাসঙ্গিক ও প্রমাণযোগ্য বলে গণ্য হবে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারা: আসামীর নিকট হতে প্রাপ্ত তথ্য কতটুকু প্রমাণ হতে পারে:
পুলিশ অফিসারের হেফাজতে থাকা কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য হতে প্রাপ্ত কোন তথ্যে, যদি এমন বিষয় উদঘাটিত হয় যা ঘটনার সাথে স্পষ্টরূপে সম্পর্কযুক্ত হয় তবে তা দোষ স্বীকার হোক বা না হোক প্রমাণ করা যেতে পারে।
--------------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section 27: How much of information received from accused may be proved:
Provided that, when any fact is deposed to as discovered in consequence of information received from a person accused of any offence, in the custody of a police officer, so much of such information, whether it amounts to a confession or not, as relates distinctly to the fact thereby discovered, may be proved.
২৩৮.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় সহ-অভিযুক্তদের সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা দেয়া হয়েছে?
  1. ২৭ ধারায়
  2. ৩৩ ধারায়
  3. ৩০ ধারায়
  4. ৩১ ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ৩০- যখন দোষ স্বীকারোক্তি সহ-অভিযুক্তদের [co-accused) বিরুদ্ধে সাক্ষ্যে ব্যবহার করা যায়:

সাক্ষ্য আইনের সাধারণ নিয়ম হলো যে ব্যক্তি দোষ স্বীকারোক্তি প্রদান করে উক্ত দোষ স্বীকারোক্তি তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে অন্যকোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে না। কিন্তু সাক্ষ্য আইনের ৩০ ধারা এই নিয়মের ব্যতিক্রম।

সাক্ষ্য আইনের ৩০ ধারায় বলা হয়েছে- যেখানে একের অধিক ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য যৌথ বিচার করা হচ্ছে, সেখানে কোন একজন অভিযুক্ত নিজেকে সহ অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জড়িয়ে কোন দোষ স্বীকারোক্তি প্রদান করলে, উক্ত স্বীকারোক্তি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হলে তা স্বীকারোক্তি প্রদানকারীসহ অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

শর্তসমূহ:
১. একই অপরাধের জন্য একাধিক ব্যক্তি অভিযুক্ত হতে হবে:
২. উক্ত একই অপরাধের জন্য তাদের যৌথ বিচার (Tried jointly) করা হবে:
৩. উক্ত অভিযুক্তদের মধ্যে কোন একজন অভিযুক্ত নিজেকেসহ অন্যান্য অভিযুক্তকে জড়িয়ে কোন দোষ স্বীকারোক্তি প্রদান করবে;
৪. এমন দোষ স্বীকারোক্তি প্রমাণিত হলে আদালত উক্ত দোষ স্বীকারোক্তি প্রদানকারীসহ অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসাবে আমলে নিতে পারে।
২৩৯.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় দোষ স্বীকারোক্তির (Confession) সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ১৭ থেকে ২০ ধারা
  2. ১৭ থেকে ২৪ ধারা
  3. ২৪ থেকে ৩০ ধারা
  4. ২৩ থেকে ২০ ধারা
ব্যাখ্যা
 • সাক্ষ্য আইনের ২৪ থেকে ৩০ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তির (Confession) বিষয়ে বলা হয়েছে।
দোষ স্বীকারোক্তি (Confession) ২ ধরনের হয়।
(১) বিচারিক দোষ স্বীকারোক্তি (Judicial Confession) এবং
(২) বিচার বহির্ভূত দোষ স্বীকারোক্তি (Judicial Confession) ।

(১)বিচারিক দোষ স্বীকারোক্তি (Judicial Confession) হলো ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ও ৩৬৪ ধারা অনুযায়ী এবং
(২) বিচার বহির্ভূত দোষ স্বীকারোক্তি (Extra-judicial Confession) হল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বাহিরে দোষ স্বীকার।
২৪০.
বর্তমানে বলবৎ সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ সালের কয় নং আইন?
  1. ১নং
  2. ২নং
  3. ৫নং
  4. ৯নং
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর প্রাথমিক তথ্য:

আইন নং: ১৮৭২ সালের ১নং আইন।
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ, ১৮৭২।
কার্যকর: ১ লা সেপ্টেম্বর, ১৮৭২।
ধারা: ১৬৭ টি।
অধ্যায়: ১১টি।

খন্ড: ৩টি
১ম খন্ড: ১ - ৫৫ ধারা - ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা,
২য় খন্ড: ৫৬ - ১০০ ধারা - ঘটনার প্রমাণ,
৩য় খন্ড: ১০১ - ১৬৭ ধারা - সাক্ষ্য উপস্থাপন ও ইহার ফলাফল।
২৪১.
নিচের কোন বিষয়কে সাক্ষ্য আইনের প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে?
  1. প্রস্তুতি
  2. অভিপ্রায়
  3. পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কার্য
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৮ ধারার বিধান: উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি এবং পূর্ববর্তী বা পরবর্তী আচরণ (Motive, preparation and previous subsequent conduct): কোন ঘটনা সংঘটনের উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি, এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আচরণ প্রাসঙ্গিক ব্যা বিবেচিত হবে। কারণ ঘটনা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অভিযুক্তের আচরণ ঘটনা প্রমাণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।
⇒ যে সকল ঘটনা বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অভিপ্রায় (Motive), প্রস্তুতি (Preparation) এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কার্য (Previous or Subsequent Conduct) হিসেবে গণ্য হয়, সে সকল ঘটনাকে সাক্ষ্য আইনের ৮ ধারায় প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৮ ধারায় ৩টি বিষয়কে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে-(i) অভিপ্রায় (Motive) (ii) প্রস্তুতি (Preparation) (iii) পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কার্য (Previous or Subsequent Conduct).
⇒ সাধারণত অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে Motive প্রমাণ করতে হয় না। তবে বাদী যখন Motive দাবী করে ও মামলাটা যদি শুধুমাত্র Circumstantial evidence এর উপর নির্ভর করে তখন Motive প্রমাণ করতে হয়।
----------------
⇒ Motive, preparation and previous or subsequent conduct:
Section 8. Any fact is relevant which shows or constitutes a motive or preparation for any fact in issue or relevant fact. 
 
The conduct of any party, or of any agent to any party, to any suit or proceeding, in reference to such suit or proceeding, or in reference to any fact in issue therein or relevant thereto, and the conduct of any person an offence against whom is the subject of any proceeding, is relevant, if such conduct influences or is influenced by any fact, in issue or relevant fact, and whether it was previous subsequent thereto.
২৪২.
ধারা ৬৪-এর মূল নীতি কোনটি?
  1. দলিলের সত্যতা যাচাই শুধুমাত্র সাক্ষীর উপর নির্ভর করে
  2. দলিল প্রমাণের ক্ষেত্রে মূল দলিল প্রদর্শন করা আবশ্যক
  3. নকল দলিল যথেষ্ট প্রমাণ হিসাবে গ্রহণযোগ্য
  4. দলিল প্রমাণ করতে শুধুমাত্র আদালতের অনুমতি প্রয়োজন
ব্যাখ্যা

• সাক্ষ্য আইনের ৬৪ ধারা- প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ: 
এই আইনে অতঃপর যে সকল ব্যতিক্রমের উল্লেখ করা হইয়াছে উহা ভিন্ন অন্য সকল ক্ষেত্রে দলিলসমূহ অবশ্যই প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করিতে হইবে।

ধারা ৬৪-এর মূল নীতি হলো যে,
কোনো দলিল প্রমাণ করার জন্য মূল দলিল (Primary Evidence / Original Document) প্রদর্শন করা আবশ্যক, ব্যতিক্রম ছাড়া।
এটি আদালতকে দলিলের সত্যতা যাচাইতে সরাসরি সহায়তা করে এবং নকল বা কপি দলিলকে প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য করে না।

২৪৩.
According to Section 64 of the The Evidence Act, 1872- Documents must be proved by __________ except in the cases hereinafter mentioned.
  1. oral evidence
  2. written evidence
  3. direct evidence
  4. primary evidence
ব্যাখ্যা
• প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary Evidence)-
প্রাথমিক সাক্ষ্য হল এমন সাক্ষ্য যা কোনও ঘটনা বা বিষয়ের প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে প্রাপ্ত। প্রাথমিক সাক্ষ্য এক প্রকারের মৌল সাক্ষ্য। কোন বিচার্য বিষয়ে প্রাথমিক সাক্ষ্যের অস্তিত্ব থাকলে সেটাই প্রমাণ করতে হয়। এই ধরনের সাক্ষ্য সাধারণত মৌখিক বা দালিলিক আকারে থাকে।

⇒ Section 64 ⇒ Proof of documents by primary evidence:
Documents must be proved by primary evidence except in the cases hereinafter mentioned.

সাক্ষ্য আইনের ৬৪ ধারা- প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ:
এই আইনে অতঃপর যে সকল ব্যতিক্রমের উল্লেখ করা হইয়াছে উহা ভিন্ন অন্য সকল ক্ষেত্রে দলিলসমূহ অবশ্যই মুখ্য সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করিতে হইবে।
২৪৪.
সাক্ষ্য আইনের ১৬২ ধারার অধীনে আদালত কখন তলবকৃত দলিল পরিদর্শন করতে পারে না?
  1. যদি দলিল প্রাসঙ্গিক না হয়।
  2. যদি দলিল রাষ্ট্রীয় বিষয় সম্পর্কিত হয়।
  3. যদি দলিল ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ করে।
  4. যদি দলিলের বৈধতা নিশ্চিত করা হয়।
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৬২ ধারার অধীনে যদি দলিল রাষ্ট্রীয় বিষয় সম্পর্কিত হয় তখন আদালত তলবকৃত দলিল পরিদর্শন করতে পারে না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৬২ ধারা অনুযায়ী যদি সাক্ষীকে দলিল দাখিলের জন্য সমন দেওয়া হয় এবং সেই দলিল সাক্ষীর দখলে থাকে, তাহলে সেই সাক্ষী দলিলটি আদালতে হাজির করতে বাধ্য থাকবেন।
-আদালতের আদেশে সমন দেওয়া হলে সাক্ষীকে তার দখলস্থ নথি বা দলিলগুলি আদালতে হাজির করতে হবে। দলিলের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে কোনো আপত্তি থাকলে তা পরবর্তীতে বিবেচনা করা হবে।
-যদি কোনো সাক্ষী আদালতের সমনকে অমান্য করেন এবং দলিল হাজির না করেন, তাহলে তিনি আদালতের অবমাননার দায়ে দণ্ডিত হতে পারেন।
-সুতরাং, দলিলের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে যেকোনো আপত্তি থাকলেও, সাক্ষীকে আদালতের সমন অনুসারে দলিল হাজির করতে হবে।

১. দলিল উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা:
যে সাক্ষীকে দলিল উপস্থাপনের জন্য আদালতে তলব করা হয়েছে, তার দখলে বা নিয়ন্ত্রণে থাকা দলিলটি আদালতে নিয়ে আসতে হবে, যদিও তার উপস্থাপন বা গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আপত্তি থাকতে পারে। এই ধরনের আপত্তি আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।

২. আদালতের পরিদর্শনের ক্ষমতা:
আদালত চাইলে দলিলটি পরিদর্শন করতে পারে, তবে যদি তা রাষ্ট্রীয় বিষয় সম্পর্কিত হয়, তাহলে আদালত এ ধরনের দলিল পরিদর্শনে বিরত থাকতে পারে। এছাড়া, আদালত প্রাসঙ্গিকতা নির্ধারণের জন্য অন্য প্রমাণ গ্রহণ করতে পারে।

৩. দলিল অনুবাদ:
যদি দলিল উপস্থাপনের জন্য তা অনুবাদ করা প্রয়োজন হয়, তাহলে আদালত নির্দেশ দিতে পারে যে অনুবাদক বিষয়বস্তু গোপন রাখবেন, যদি দলিলটি সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপন না করা হয়। যদি অনুবাদক এই নির্দেশনা অমান্য করেন, তাহলে তিনি দণ্ডবিধির ১৬৬ ধারার অধীনে অপরাধ করবেন।
----------------------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section-162. Production of documents:
A witness summoned to produce a document shall, if it is in his possession or power, bring it to Court, notwithstanding any objection which there may be to its production or to its admissibility. The validity of any such objection shall be decided on by the Court. 

The Court, if it sees fit, may inspect the document, unless it refers to matters of State, or take other evidence to enable it to determine on its admissibility.

Translation of documents:
If for such a purpose it is necessary to cause any document to be translated, the Court may, if it thinks fit, direct the translator to keep the contents secret, unless the document is to be given in evidence: and, if the interpreter disobeys such direction, he shall be held to have committed an offence under section 166 of the Penal Code.
২৪৫.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৪১ অনুযায়ী, ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন কাকে বলা হয়?
  1. যে প্রশ্নে আদালতের নির্দেশনা থাকে
  2. যে প্রশ্নে প্রশ্নকারী উত্তরের ইঙ্গিত দেয়
  3. যে প্রশ্নে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাওয়া হয়
  4. যে প্রশ্নে উত্তরদাতার মতামত জানতে চাওয়া হয়
ব্যাখ্যা
⇒ যে প্রশ্নে প্রশ্নকারী নিজেই উত্তর কী হবে তা ইঙ্গিতে প্রকাশ করেন, তাকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বলা হয়।
- ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন হল এমন একটি প্রশ্ন যা উত্তরদাতার উত্তরকে প্রভাবিত করে এবং প্রশ্নকারী নিজের প্রত্যাশিত উত্তর ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেন। এটি সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৪১-এ সংজ্ঞায়িত।
- তাই সঠিক উত্তর: খ) যে প্রশ্নে প্রশ্নকারী উত্তরের ইঙ্গিত দেয়।

উদাহরণ:
প্রশ্ন: “তুমি কি দেখেছিলে যে সে ছুরি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল?”
→ এই প্রশ্নে প্রশ্নকারী প্রত্যাশিত উত্তর “হ্যাঁ”– তা ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিচ্ছেন।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪১ ধারার বিধান ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন: প্রশ্নকারী প্রশ্নের যে উত্তর আশা বা ইচ্ছা করেন, প্রশ্নের মধ্যেই তার ইঙ্গিত দেওয়া হলে তাকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বলা হয়।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪২ ধারার বিধান ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন যখন অবশ্যই করা যাবে না: বিরুদ্ধ পক্ষ যদি আপত্তি করেন, তবে জবানবন্দী ও পুনঃজবানবন্দী গ্রহণকালে আদালতের অনুমতি ব্যতীত ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা যাবে না।
যেসকল বিষয় ভূমিকামূলক অথবা বিতর্কিহীন অথবা যেসব বিষয় পূর্বেই যথেষ্টরূপে প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত মনে করেন, সে সকল বিষয় সম্পর্কে আদালত অবশ্যই ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করার অনুমতি দিবেন।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪৩ ধারার বিধান যখন এরূপ প্রশ্ন করা যেতে পারে: জেরাতে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যাবে।
-------
⇒The Evidence Act, 1872-Section 141. Leading questions:
- Any question suggesting the answer which the person putting it wishes or expects to receive is called a leading question.
⇒The Evidence Act, 1872-Section 142.When they must not be asked:
- Leading questions must not, if objected to by the adverse party be asked in an examination-in-chief, or in a re-examination, except with the permission of the Court.
- The Court shall permit leading questions as to matters which are introductory or undisputed, or which have, in its opinion, been already sufficiently proved.
⇒The Evidence Act, 1872- Section 143. When they may be asked:
- Leading questions may be asked in cross-examination.
২৪৬.
The Evidence Act, 1872 এর ৩৩ ধারার অধীন কোন ক্ষেত্রে পূর্বে প্রদত্ত সাক্ষ্য পরবর্তীতে প্রমাণ হিসেবে প্রাসঙ্গিক হতে পারে না?
  1. সাক্ষীর সন্ধান পাওয়া না গেলে
  2. সাক্ষী পরে সাক্ষ্য দিতে অসমর্থ হলে
  3. সাক্ষী নতুন মামলা দায়ের করলে
  4. প্রতিপক্ষ সাক্ষীকে আটকিয়ে রাখলে
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৩: যখন পূর্বে প্রদত্ত সাক্ষ্য পরবর্তীতে মামলায প্রমানের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে:

কোনো মামলায় কেউ আইন অনুসারে সাক্ষ্য দেওয়ার পর যদি তার-
ক) মৃত্যু হয়; বা
খ) সন্ধান পাওয়া না যায়; বা
গ) যে পরে সাক্ষ্য দিতে অসমর্থ হয়ে পড়ে; বা
ঘ) প্রতিপক্ষ তাকে আটকিয়ে রাখে;
ঙ) যুক্তিসংগত কারনে তাকে আদালতে উপস্থিত করা সময় এবং ব্যয়সাপেক্ষ হয়।

অর্থাৎ 'সাক্ষী কর্তৃক নতুন মামলা দায়ের করা'- এই ক্ষেত্রে পূর্বে প্রদত্ত সাক্ষ্য পরবর্তীতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
২৪৭.
একটি মোকদ্দমায় আদালতে এমন প্রশ্ন উঠেছে যে, ‘খ’-এর নিকট থেকে অর্ডার দেওয়া কিছু মাল 'ক'-এর নিকট অর্পিত হয়েছে কি না। সংশ্লিষ্ট মালগুলি পর্যায়ক্রমিকভাবে কতিপয় মধ্যবর্তী ব্যক্তির নিকট অর্পণ করা হয়েছিল। এখানে-
  1. যেকোনো একটি অর্পণ সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রাসঙ্গিক হবে
  2. প্রত্যেকটি অর্পণ সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রদান প্রাসঙ্গিক হবে
  3. এইরূপ পর্যায়ক্রমিক অর্পণের কোনো সাক্ষ্যগত মূল্য নেই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ধারা ৬: একই লেনদেনের অংশ হিসেবে গঠিত ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা-
যে সমস্ত ঘটনা, যদিও মূল বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে মূল বিষয়ের সাথে এমনভাবে সংযুক্ত যে তারা একই লেনদেনের অংশ গঠন করে, সেগুলো প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হবে—সেগুলো একই সময় ও স্থানে হোক বা ভিন্ন সময় ও স্থানে ঘটুক।

উদাহরণ:
(ক) A-এর বিরুদ্ধে B-কে প্রহারের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। মারধরের সময় বা এর ঠিক আগে-পরে A, B বা উপস্থিত ব্যক্তিদের বলা বা করা যেকোনো কিছু এই ঘটনার অংশ হিসেবে প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হবে।

(খ) A-এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার অভিযোগ রয়েছে। এই বিদ্রোহের সময় সম্পত্তি ধ্বংস, সৈন্যদের উপর আক্রমণ এবং কারাগার ভেঙে ফেলার মতো ঘটনা ঘটেছে। A প্রত্যক্ষভাবে সব ঘটনার সাথে যুক্ত না থাকলেও, বিদ্রোহের অংশ হিসেবে এগুলো প্রাসঙ্গিক ঘটনা বলে বিবেচিত হবে।

(গ) A, B-এর বিরুদ্ধে একটি চিঠির মাধ্যমে মানহানির অভিযোগ করেছে। যদি চিঠিটি একটি ধারাবাহিক যোগাযোগের অংশ হয়ে থাকে, তবে মানহানির মূল চিঠি না থাকলেও, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য চিঠিগুলোও প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে।

(ঘ) প্রশ্ন উঠেছে, B-এর কাছ থেকে অর্ডারকৃত পণ্য A-এর কাছে পৌঁছানো হয়েছিল কি না। যদি পণ্যটি একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে ধাপে ধাপে পৌঁছানো হয়ে থাকে, তবে প্রতিটি ধাপে ডেলিভারি হওয়া ঘটনাগুলো প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হবে।
২৪৮.
ফৌজদারী মামলায় আত্মরক্ষামূলক পরিস্থিতির দাবী উঠলে তা প্রমাণের দায়িত্ব কার?
  1. অভিযোগকারীর
  2. রাষ্ট্রের
  3. উক্ত দাবী উপস্থাপনকারীর
  4. ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির
ব্যাখ্যা
♦ The Evidence Act 1872 এর ১০১ ধারা অনুযায়ী  প্রমাণের দায়ভার বলতে বুঝায় যদি কোন ব্যক্তি তার দাবি অনুযায়ী অন্যের বিরুদ্ধে রায় কামনা করে তাহলে উক্ত দাবীকৃত বিষয়ের অস্তিত্ব তাকেই প্রমাণ করতে হয়। এই ধারা অনুযায়ী এই প্রমাণের ভার কখনও পরিবর্তন হয় না।
♦ সাধারণ অর্থে প্রমাণের দায়ভার অর্থ হলো প্রমাণ দাখিলের দায় বা দায়িত্ব। প্রমাণের দায়ভার অর্থ হলো মোকদ্দমার কোনো পক্ষ কর্তৃক আদালতের বিচার্য বিষয় সংশ্লিষ্ট তথ্য বা তথ্যাবলি প্রমাণ করার দায়িত্ব।
♦সাক্ষ্য আইনের ১০১ ধারা থেকে ১১৪ ধারা পর্যন্ত প্রমাণের দায়ভার বা প্রমাণের দায়িত্ব (Burden of proof) সম্পর্কে বলা হয়েছে।
♦কোন ব্যক্তি যখন কোন বিষয়ের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে বাধ্য থাকেন, তখন বলা হয় যে, বিষয়টি প্রমাণ করার দায়িত্ব সেই ব্যক্তির উপর ন্যস্ত। তবে এর ব্যতিক্রম আছে, যেমন- যে বিষয় বিরূদ্ধ পক্ষের ভাল জানা আছে তা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই ।
♦অর্থাৎ ফৌজদারি মামলায় আত্মরক্ষামূলক পরিস্থিতির দাবী উঠলে তা প্রমানের দায়িত্ব উক্ত দাবী উত্থাপনকারীর।
♦সাক্ষ্য আইনের ১০৫ ধারা অনুযায়ী ব্যতিক্রম প্রমাণের ভার সর্বদা দাবীকারী আসামীর উপর বর্তাবে। দণ্ডবিধির ৩০০ ধারায় ৫টি ব্যতিক্রম উল্লেখ আছে যেক্ষেত্রে নিন্দনীয় নরহত্যা খুন বলে গণ্য হবেনা। যদি খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত কোন আসামী দাবী করে যে, তার কার্যটি ৩০০ ধারায় উল্লেখিত কোনো একটি বিশেষ ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়ে, তাহলে তাকেই তা প্রমাণ করতে হবে।
♦ The Penal Code, 1860 এর ৭৬ থেকে ১০৬ ধারার অধীন সাধারণ [General Exceptions] প্রমাণের ভার সর্বদা দাবী উপস্থাপনকারীর।
২৪৯.
সাক্ষ্য আইনের ৩ ধারার অনুযায়ী, নিম্নলিখিত কোন ব্যক্তিকে 'আদালত' হিসেবে গণ্য করা হবে না?
  1. বিচারক
  2. ম্যাজিস্ট্রেট
  3. সালিসকারী
  4. অন্যান্য আইনগত কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনে ৩ ধারা- আদালত:
সাক্ষ্য আইনে 'আদালত' বলতে বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্যান্য ব্যক্তিদের বুঝায় যারা আইনগতভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু সালিসকারী বা সালিসী বিচারক বা Arbitrator আদালত বলে গণ্য হবে না।
২৫০.
একজন মৃত ব্যক্তির আর্থিক বিষয়ে কোনো বিবৃতি গ্রহণযোগ্য হবে যদি উক্ত বিবৃতিটি-
  1. মামলার সাথে অপ্রাসঙ্গিক হয়
  2. ব্যক্তিটির নিজ স্বার্থের অনুকুলে হয়
  3. ব্যক্তিটির নিজ আর্থিক স্বার্থের পরিপন্থি হয়
  4. মামলার প্রতিপক্ষ উক্ত বিবৃতি অস্বীকার করলে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে, আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারণ সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণা (dying declaration);
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি (statement made in course of business);
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরণের মামলার উদ্ভব করতে পারে (statement against interest of maker);
iv) সর্বসাধারণের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত (opinion as to public right or custom, or matters of general interest);
v) পারিবারিক দলিল বা উইল (statement made in will or deed relating to family affairs);
vi) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি (relates to existence of relationship);
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি (Statement made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question).
২৫১.
নিম্নলিখিত কোন বিবৃতিটি সাক্ষ্য আইনের ১৫৭ ধারায় একজন সাক্ষীর সাক্ষ্যকে সমর্থন করতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না?
  1. আদালতে দেওয়া বিবৃতি
  2. ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া বিবৃতি
  3. পুলিশের কাছে দেওয়া বিবৃতি
  4. ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পরে বন্ধুকে দেওয়া বিবৃতি
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ১৫৭ ধারা:
"কোন সাক্ষীর সাক্ষ্যকে সমর্থন করার জন্য, ঐ একই বিষয়ে উক্ত সাক্ষী কর্তৃক পূর্বে প্রদত্ত যে কোন বিবৃতি, যা ঘটনা ঘটার সময় বা প্রায় সময়ে, অথবা ঘটনা তদন্তে আইনত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রদত্ত হয়েছিল, তা প্রমাণ করা যেতে পারে।"

[In order to corroborate the testimony of a witness, any former statement made by such witness relating to the same fact at or about the time when the fact took place, or before any authority legally competent to investigate the fact, may be proved.]

অর্থাৎ 'ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পরে বন্ধুকে দেওয়া বিবৃতি' একজন সাক্ষীর সাক্ষ্যকে সমর্থন করতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না। কারণ এটি ঘটনার সময় বা প্রায় সময়ে দেওয়া হয়নি এবং আইনত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্তৃপক্ষের কাছেও প্রদত্ত হয়নি।
২৫২.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতির প্রাসঙ্গিকতা বিষয়ে বলা আছে?
  1. Section 3
  2. Section 22A
  3. Section 45A
  4. Section 67A
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ২২ক ধারার বিধান: যখন ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক:-দাখিলকৃত ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা নিয়ে কোন প্রশ্ন উত্থাপন না হলে, ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু হিসাবে মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয়।
-----------------------------
⇒ Section 22A: When oral admissions as to contents of digital records are relevant: Oral admissions as to the contents of digital records are not relevant, unless the genuineness of the digital record produced is in question.
২৫৩.
কোনটি Private Document -
  1. মূল বিক্রয় দলিল
  2. খতিয়ান
  3. সিআরপিসি-র ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত বক্তব্য
  4. কোন পক্ষ কর্তৃক দাখিলী আরজি
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারার বিধান সরকারি দলিল নিম্নলিখিত দলিল গুলি সরকারী দলিলঃ

(১) যে সমস্ত দলিল (ক) কোন সাবভৌম কর্তৃপক্ষের, (খ) সরকারী প্রতিষ্ঠান বা ট্রাইব্যুনালের এবং (গ) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের কোন অংশের অথবা বিদেশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কোন অফিসারের কার্য অথবা কার্যের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

(২) বাংলাদেশে সরকারীভাবে রক্ষিত ব্যাক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

♦ সাক্ষ্য আইনের ৭৫ ধারার বিধান বেসরকারী দলিলঃ অন্যান্য যাবতীয় দলিল ব্যাক্তিগত।

♦তাইলে আমরা বলতে পারি যে সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারা অনুযায়ী, খতিয়ান, সি আর পি সি-র ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত বক্তব্য, এবং মামলার কোন পক্ষ কর্তৃক দাখিলী আরজি হলো সরকারী দলিল। কারণ এগুলো সরকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গ্রহণ এবং সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু মূল বিক্রয় দলিল ব্যক্তিগত দলিল কারণ এটা সরকারীভাবে সংরক্ষণ বা তৈরী করা হয় না বরং চুক্তির পক্ষসমূহ এটা তৈরী করে।
২৫৪.
ধারা ৯০-এর অধীনে দলিলটি কত বছরের পুরাতন হতে হবে?
  1. ১০ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ৩০ বছর
  4. ৪০ বছর
ব্যাখ্যা
• ধারা ৯০ অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরনো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক মনে করবে, যদি দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হয় এবং আদালতের দৃষ্টিতে সঠিক হেফাজত হতে দলিলটি আদালতে দাখিল করা হয়।
 
এ ধারার বিধান অনুযায়ী-
১. দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হতে হবে;
২. দলিলটি সঠিক ব্যক্তির হেফাজত হতে আদালতে দাখিল করতে হবে।
 
৯০ ধারা: ত্রিশ বৎসরের পুরাতন দলিল সম্পর্কে অনুমান-
যখন কোন দলিল ত্রিশ বৎসরের পুরাতন বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় বা প্রমাণ করা হয় এবং তাহা সংশ্লিষ্ট মোকদ্দমায় যে পক্ষের হেফাজতে থাকা সঙ্গত বলিয়া আদালত মনে করেন, সেই পক্ষের হেফাজত হইতে উহা আদালতে দাখিল করা হয়; তখন আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, সেই দলিলে স্বাক্ষর এবং অন্যান্য সকল অংশ যে ব্যক্তির হস্তাক্ষ বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয়, তাহা সেই ব্যক্তিরই হস্তাক্ষর এবং যেখানে দলিলটি সম্পাদিত বা প্রত্যায়িত, সেখানে আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, যে ব্যক্তির দ্বারা উহা সম্পাদিত ও সত্যায়িত বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় সেই ব্যক্তির দ্বারা উহা যথাবিহিতরূপে সম্পাদিত ও সত্যায়িত হইয়াছে।
২৫৫.
কখন নিজের সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা হয়?
  1. অসুস্থ হইলে
  2. সাক্ষী হাজির না হইলে
  3. সাক্ষী পূর্বের সাক্ষ্য থেকে সরে এসে বিপরীত সাক্ষ্য দিলে
  4. সাক্ষী উপস্থাপনকারীর পক্ষে সাক্ষ্য দিলে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারায় সুস্পষ্টভাবে বৈরী সাক্ষী বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। বৈরী সাক্ষী হলো এমন একজন সাক্ষী যে, সে যে উপায়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে তা থেকে বোঝা যায় যে, সে আদালতের নিকট সত্য বলতে ইচ্ছা প্রকাশ করছে না। বৈরী সাক্ষী বলতে মিথ্যুক সাক্ষী বোঝায় না। সাক্ষী যে সাক্ষ্য দিচ্ছে তা থেকে সাক্ষীর বৈরীতা বুঝতে হবে। বিষয়টি হলো যখন যে পক্ষ কোন সাক্ষীকে আহ্বান করে বা ডাকে, সেই পক্ষ উক্ত সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ যখন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করে, তখন সাক্ষীর নিকট যে প্রশ্ন করা হয় তখন সে উক্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করতে পারে বা বৈরী হতে পারে। সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ এমন ধরণের সাক্ষীকে বৈরী সাক্ষী হিসাবে ঘোষণা করতে পারে।

⇒ ১৫৪ ধারার বক্তব্য অনুযায়ী- বিরুদ্ধ পক্ষ জেরায় যেসব প্রশ্ন করতে পারে, সেসব প্রশ্ন যদি কোন পক্ষ নিজের সাক্ষীকে করার অনুমতি চায়, আদালত তা করার অনুমতি দিতে পারে। এরূপ সাক্ষীকে বৈরী/প্রতিকূল সাক্ষী (Hostile witness) বলে ।

⇒ বৈরী সাক্ষীকে সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষের জেরা করার অনুমতি দান করা আদালতের বিবেচনার উপর নির্ভর করে। আইনের সাধারণ নীতি অনুযায়ী সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ তার নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে না। কিন্তু সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারার অধীন আদালতের অনুমতি নিয়ে যে পক্ষ সাক্ষী নিয়ে আসে, সে পক্ষ নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে। এ ধরনের সাক্ষী হল বৈরী (Hostile) সাক্ষী।

⇒ সাধারণত জেরা করার উদ্দেশ্য হলো প্রতিপক্ষের সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা। এরূপ কাজ কোন মামলার বিরুদ্ধ পক্ষ করে থাকে, তবে ১৫৪ ধারার অধীন সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের সাক্ষীকে জেরা করে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে।

⇒ যখন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা হয়:
১) সাক্ষী যদি নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়
২) সাক্ষী যদি বিরুদ্ধ পক্ষের সমর্থনে সাক্ষ্য দেয়
৩) সাক্ষী যদি তার পূর্বের সাক্ষ্য থেকে সরে এসে বিপরীত সাক্ষ্য দেয়।

⇒ এরূপ ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ নিজ সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করে জেরা করার জন্য আদালতের অনুমতির জন্য দরখাস্ত/ আবেদন দেয়। আদালত উক্ত আবেদন গ্রহণ করলে সাক্ষী বৈরী হয় এবং নিজপক্ষের অ্যাডভোকেট তাকে জেরা করতে পারে।
২৫৬.
যে ব্যক্তি বারবার একই ধরনের কার্যক্রম করছে, তার মধ্যে সেই কাজটি দুর্ঘটনাক্রমে ঘটেছে কি না, তা প্রমাণের জন্য কোন ধারাটি প্রযোজ্য?
  1. ধারা ১০
  2. ধারা ১৩
  3. ধারা ১৫
  4. ধারা ১২
ব্যাখ্যা
⇒  সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৫ বিশেষভাবে প্রযোজ্য যখন প্রশ্ন উঠে যে কোনো কাজ দুর্ঘটনাক্রমে নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত হয়েছে।
এই ধারা অনুসারে:
যদি কোনো ব্যক্তি বারবার একই ধরনের কার্যক্রম সম্পাদন করে থাকে, যেখানে প্রতিটি ঘটনায় ঐ ব্যক্তি জড়িত ছিল,
তাহলে এই পুনরাবৃত্তিমূলক ঘটনাগুলো প্রমাণ করতে সাহায্য করে যে কাজটি দুর্ঘটনাজনিত নয়, বরং ইচ্ছাকৃত বা একটি নির্দিষ্ট অভিপ্রায়ে করা হয়েছে।

- ধারা ১৫ অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি বারবার একই ধরনের কাজ করে থাকে এবং সেই কাজটি দুর্ঘটনাক্রমে ঘটেছে কিনা, তা প্রমাণের জন্য তার পূর্বের ঘটনার ধারাবাহিকতা প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ,
- যদি একজন ব্যক্তি বারবার তার বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে এবং প্রতিবারই ক্ষতিপূরণ পেয়ে থাকে, তবে এই ঘটনা তার পূর্বের আগুন লাগানো ঘটনাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, যা প্রমাণ করতে সাহায্য করবে যে, আগুনগুলি দুর্ঘটনাক্রমে হয়নি, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে।
২৫৭.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী কোনটি আদালতের বিচারিক দৃষ্টিগোচরে গ্রহণযোগ্য নয়?
  1. ব্যক্তিগত চুক্তির শর্তাবলী
  2. বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা
  3. আদালতের কর্মকর্তা ও তাদের পদ
  4. সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ছুটির দিন
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৫৭ অনুযায়ী, আদালত নিম্নলিখিত তথ্যগুলো বিচারিকভাবে লক্ষণীয় (Judicially Noticeable) হিসেবে গ্রহণ করবে, অর্থাৎ এগুলোর জন্য আলাদা প্রমাণের প্রয়োজন নেই:
- বাংলাদেশের সকল আইন (ধারা ৫৭(১))
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা (ধারা ৫৭(৮))
- আদালতের কর্মকর্তা ও তাদের পদ (ধারা ৫৭(১২))
- সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ছুটির দিন (ধারা ৫৭(৯))
কিন্তু ব্যক্তিগত চুক্তির শর্তাবলী আদালত স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণ করে না, বরং এগুলো প্রমাণ করতে হয়। তাই এটি বিচারিক দৃষ্টিগোচরে গ্রহণযোগ্য নয়।

অতএব, সঠিক উত্তর ক) ব্যক্তিগত চুক্তির শর্তাবলী।
২৫৮.
'Admissions are not conclusive proof  of the matters admitted but they may operate as estoppels under the provisions hereinafter contained.' বিধানটি The Evidence act,1872 এর কোন ধারায় আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ৩০ ধারা 
  2. ৩১ ধারা 
  3. ৩২ ধারা 
  4. ৩৩ ধারা
ব্যাখ্যা

উত্তর: ৩১ ধারা 

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২,ধারা ৩১: স্বীকৃতি চূড়ান্ত প্রমাণ নহে, তবে প্রমাণে বাধা সৃষ্টি করিতে পারে: কোনো বিষয়ে স্বীকৃতিই সেই বিষয় সম্পর্কে চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, তবে এই আইন অতঃপর বর্ণিত বিধানসমূহ অনুসারে উহা স্বীকৃতিজনিত বাধা হিসেবে কার্যকরী হইতে পারে।
------------------------------
The Evidence Act 1872, Section 31, Admissions not conclusive proof, but may be stop: Admissions are not conclusive proof of the matters admitted but they may operate as estoppels under the provisions hereinafter contained.

২৫৯.
বিবাহিত ব্যক্তিদ্বয়ের মধ্যে বিবাহ বলবৎ থাকাকালে কখন তাদের ভেতরের পত্রালাপ সাক্ষ্যের জন্য প্রকাশযোগ্য হয়?
  1. যদি তাদের কেউ মৃত হয়
  2. সম্পত্তি বণ্টনের মামলায়
  3. যদি একজনের কারণে অন্যজন ফৌজদারিতে সোপর্দ হয়ে থাকে 
  4. বর্ণিত সব ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২২ ধারার বিধান: বিবাহ বজায় থাকাকালীন বার্তা:
কোন ব্যক্তি যিনি বিবাহিত বা যাহার সহিত বিবাহ হইয়াছে, বিবাহ বজায় থাকাকালে সেই ব্যক্তির সহিত তাহার স্ত্রী বা স্বামীর বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করিতে সেই ব্যক্তিকে বাধ্য করা যাইবে না; বার্তা প্রদানকারীর বা তাহার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির সম্মতি ব্যতীত বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করিবার অনুমতিও তাহাকে দেওয়া যাইবে না, তবে বিবাহিত ব্যক্তিদ্বয়ের মধ্যে কোন দেওয়ানী মামলায় অথবা তাহাদের একজনের বিরুদ্ধে কোন অপরাধ করিবার দায়ে অপরজন ফৌজদারীতে সোর্পদ থাকিলে সেইক্ষেত্রে বার্তার বিষয় প্রকাশ করিতে দেওয়া যাইবে। 
২৬০.
'ক' একটি বিনষ্ট বা ধ্বংস হওয়া দলিলের বিষয়বস্তু মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমান করতে চায়। 'ক' কে অবশ্যই প্রমন করতে হবে-
  1. দলিলটি বিনষ্ট বা ধ্বংস হয়ে গেছে
  2. দলিলটি নিবন্ধিত
  3. দলিলের বিবরন
  4. দলিলটি হারিয়ে গিয়েছে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারার বিধান যে সকল ক্ষেত্রে দলিল সম্পর্কে মাধ্যমিক সাক্ষ্য দেওয়া যেতে পারে (Cases in which secondary evidence relating to documents may be given): মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ করা যাবে যদি-

i) দলিলটি যার বিপক্ষে প্রমাণ করতে হবে তার আয়ত্তে আছে বা আদালতের সমনের আওতার বাইরে বা সেই ব্যক্তির দখলে আছে যে ব্যক্তি দলিলটি পেশ করতে বাধ্য কিন্তু নোটিশ পাওয়া সত্ত্বেও দাখিল করছে না।

ii) দলিলটি যার বিপক্ষে প্রমাণ করতে হবে সে ব্যক্তি দলিলটির অস্তিত্ব লিখিত ভাবে স্বীকার করে নিয়েছে।

iii) মূল দলিলটি হারিয়ে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে।

iv) দলিলটি সহজে স্থানান্তরযোগ্য না হলে।

v) মূল দলিলটি সরকারী দলিল হলে।

vi) দলিলটির জাবেদা নকল সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহারের নিয়ম থাকলে।

vii) মূল দলিলের পরীক্ষা আদালতের জন্য সুবিধাজনক না হলে।

⇒ অর্থাৎ 'ক' একটি বিনষ্ট বা ধ্বংস হওয়া দলিলের বিষয়বস্তু মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমান করতে চায়। এই ক্ষেত্রে ক' কে অবশ্যই প্রমন করতে হবে দলিলটি বিনষ্ট বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
২৬১.
আদালত কীভাবে ডিজিটাল স্বাক্ষর (Digital Signature) যাচাই করতে পারেন?
  1. সেই ব্যক্তি বা নিয়ন্ত্রক বা প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ দাখিলের আদেশের মাধ্যমে
  2. অন্য কোন ব্যক্তিকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের গণতালিকায় আবেদন করতে এবং সেই কথিত ডিজিটাল স্বাক্ষর যাচাই করতে আদেশের প্রদানের মাধ্যমে
  3. 'জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিল' এর অনুমোদনের মাধ্যমে
  4. 'ক' এবং 'খ' উভই
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৩ক ধারার বিধান ডিজিটাল স্বাক্ষরের সত্যাখ্যানের প্রমাণ প্রসঙ্গ: যার দ্বারা ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সংযুক্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়, ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সেই ব্যক্তির কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য আদালত নির্দেশ দিতে পারে যে-

(ক) সেই ব্যক্তি বা নিয়ন্ত্রক বা প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ দাখিল করতে,

(খ) অন্য কোন ব্যক্তিকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের গণতালিকায় আবেদন করতে এবং সেই কথিত ডিজিটাল স্বাক্ষর যাচাই করতে।

ব্যাখ্যা: এখানে "নিয়ন্ত্রক" অর্থ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর ধারা ১৮ (১) এর অধীনে নিযুক্ত নিয়ন্ত্রক।

-------------------
⇒ Proof as to verification of digital signature.
Section  73A.  In order to ascertain whether a digital signature is that of the person by whom it purports to have been affixed, the Court may direct-

(a) that person or the Controller or the Certifying Authority to produce the Digital Signature Certificate;

(b) any other person to apply the public key listed in the Digital Signature Certificate and verify the digital signature purported to have been affixed by that person.

Explanation.- For the purpose of this section, "Controller" means the Controller appointed under sub-section (1) of section 18 of the Information and Communication Technology Act, 2006 (Act No. 39 of 2006).
২৬২.
B একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। A, B এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে চায়। এখানে A- কে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে-
  1. B এর জীবনকাল
  2. B এর মৃত্যু
  3. B এর অসুস্থতা
  4. B এর হাসপাতাল ত্যাগ
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারার বিধান হচ্ছে: সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য করার জন্য যে ঘটনা প্রমাণ করতে হবে, যিনি সাক্ষ্য দিতে ইচ্ছুক; তা প্রমাণের দায়িত্ব তার উপর। যেমন: মৃত্যুকালীন ঘোষণা।
♦  সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারা অনুযায়ী সাক্ষ্য গ্রহনযোগ্য করার জন্য যে ঘটনা আগে প্রমাণ করা প্রয়োজন, তা অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে । এখানে A, B এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে চায়। মৃত্যুকালীন ঘোষণাকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য, আগে A অবশ্যই Bএর মৃত্যু প্রমাণ করবে।
২৬৩.
The Evidence Act 1872 এর কোন ধারায় সরকারী দলিল সম্পর্কে বলা আছে?
  1. ৭২ ধারা
  2. ৭৩ ধারা
  3. ৭৪ ধারা
  4. ৭৫ ধারা
ব্যাখ্যা
- The Evidence Act 1872 এর ৭৪ ধারা অনুযায়ী সরকারী দলিল বিষয়ে বলা হয়েছে (সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের কার্য্য, ট্রাইবুনালের কার্য্য, ভোটার তালিকা, চার্জ শিট ইত্যাদি)। সাক্ষ্য আইনের ৭৫ ধারায় বেসরকারী দলিল বিষয়ে বলা হয়েছে।
২৬৪.
কোন আইনের মাধ্যমে দ্যা এ্যাভিডেন্স এ্যাক্ট, ১৮৭২ কে চট্টগ্রামের পার্বত্য জেলাসমূহে বলবৎ করা হয়েছে?
  1. পার্বত্য জেলাসমূহ আইন রহিত ও প্রয়োগ এবং বিশেষ বিধান আইন ১৯৮৯
  2. চিটাগাং হিল ট্রাক্টস রেগুলেশন, ১৯০০
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ১৮৯৮
  4. General Clauses Act, 1897 এর ধারা ৫
ব্যাখ্যা
'চিটাগাং হিল ট্রাক্টস রেগুলেশন, ১৯০০' নামক আইনের ৪ ধারা ও তফসীল অনুযায়ী 'দ্যা এ্যাভিডেন্স এ্যাক্ট, ১৮৭২'-কে পার্বত্য জেলাসমূহে বলবৎ করা হয়েছে।

বি.দ্র.: আইনটি BJS পরীক্ষার সিলেবাসে নেই, তাই 'The Evidence Act, 1872'-কে কেন্দ্র করেই আলোচ্য প্রশ্নটি করা হয়েছে বলা যায়।
২৬৫.
The Evidence Act, 1872 এর কোন ক্ষেত্রে আদালত কোন বিষয়কে মিথ্যা প্রমাণের জন্য সাক্ষ্য দিতে দিবেন না?
  1. May presume
  2. Shall presume
  3. Conclusive proof
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪ ধারার মতে অনুমান করতে পারে (May presume): যেখানেই এই আইনের বিধান আছে যে, আদালত কোন বিষয় ধরে নিতে পারেন, সেখানে আদালত হয় সেই বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন; না হয় তা প্রমাণ করার আহ্বান জানাবেন।

⇒ অনুমান করবে (Shall presume): যেখানেই এই আইনের নির্দেশ আছে যে, আদালত কোন বিষয় অবশ্যই ধরে নিবেন, সেখানে উক্ত বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন। 

⇒ চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof): এই আইনে যখন একটি বিষয়কে অপর একটি বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ বলে গণ্য করা হয়, তখন আদালত প্রথমোক্ত বিষয় প্রমাণিত হলে অপর বিষয়ও প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন এবং তা মিথ্যা প্রমাণিত। করার জন্য সাক্ষ্যদানের অনুমতি দিবেন না।

⇒ অনুমান (Presumption) - অনুমান ৩ প্রকার:-
১) অনুমান করতে পারে (May presume): মিথ্যা প্রমানিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত ধরে নিতে পারেন প্রমাণিত।

২) অনুমান করবে (Shall presume): মিথ্যা প্রমানিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত অবশ্যই ধরে নিবেন প্রমানিত।

৩) চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof): একটি বিষয়কে অন্য বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমান হিসেবে ঘোষণা করা, যা অবশ্যই প্রমাণিত এবং অপ্রমাণিত করার জন্য কোন প্রকার সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না।
২৬৬.
বোবা সাক্ষীর সাক্ষ্যের আইনগত গ্রহণযোগ্যতা কী?
  1. মৌখিক সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হবে
  2. দালিলিক সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হবে
  3. কেবল দেওয়ানি মামলায় সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হবে
  4. কেবল গৌণ সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হবে
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১৯ ধারা- বোবা সাক্ষী:
যে সাক্ষী কথা বলিতে অক্ষম, তিনি তাহার বক্তব্য অন্য কোনোভাবে অর্থাৎ লিখিয়া বা ইশারা করিয়া বুঝাইতে পারেন এবং সেইভাবে সাক্ষ্য দিতে পারেন, তবে সেই লেখা বা ইশারা প্রকাশ্য আদালতে লিখিতে বা করিতে হইবে। এইরূপভাবে যে সাক্ষ্য দেওয়া হইবে তাহা মৌখিক সাক্ষ্য বলিয়া গণ্য হইবে।

⇒ The Evidence Act, 1872, Section 119- Dumb witnesses:
A witness who is unable to speak may give his evidence in any other manner in which he can make it intelligible, as by writing or by signs; but such writing must be written and the signs made in open Court. Evidence so given shall be deemed to be oral evidence.

২৬৭.
"When the question is whether any person is owner of anything of which he is shown to be in possession, the burden of proving that he is not the owner is on the person who affirms that he is not the owner."- This provision is laid in ___________ of The Evidence Act, 1872
  1. Section 106
  2. Section 108
  3. Section 110
  4. Section 111
ব্যাখ্যা
Section-110. Burden of proof as to ownership:
When the question is whether any person is owner of anything of which he is shown to be in possession, the burden of proving that he is not the owner is on the person who affirms that he is not the owner.

সাক্ষ্য আইনের ১১০ ধারার বিধান: মালিকানা প্রমানের দায়িত্ব:
যে ব্যক্তির কর্তৃত্বাধীনে কিছু আছে বলে দেখানো হয়, সে ব্যক্তি ঐটার মালিক কিনা এই প্রশ্ন উত্থিত হলে যে ব্যক্তি দাবি করে যে, দখলকারী ব্যক্তি সে জিনিসের মালিক নয়, তবে এটা প্রমাণের দায়িত্ব সে ব্যক্তির উপরই ন্যস্ত হয়।
২৬৮.
In civil cases, character to prove conduct imputed, irrelevant- এটি সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার বিষয়বস্তু?
  1. ৫০ ধারা
  2. ৫২ ধারা
  3. ৫৪ ধারা
  4. ৫৫ ধারা
ব্যাখ্যা

ধারা ৫২: দেওয়ানী মামলায় আচরণ প্রমাণের জন্য চরিত্র অপ্রাসঙ্গিক (In civil cases, character to prove conduct imputed, irrelevant):
দেওয়ানী মামলায় সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির চরিত্র এমন যে তার প্রতি আরোপিত কোনো আচরণকে সম্ভাব্য বা অসম্ভাব্য বলে মনে হয়, এই বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক, তবে ততটুকু ব্যতীত যতটুকু এই চরিত্র অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য থেকে প্রকাশিত হয়।

সহজ ভাষায়:
দেওয়ানী মামলায় কোনো ব্যক্তির চরিত্র কেমন তা দিয়ে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য কিনা তা প্রমাণ করা যাবে না। তবে যদি মামলার অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য থেকে তার চরিত্র সম্পর্কে কিছু জানা যায়, তাহলে সেটি বিবেচনা করা যাবে।

২৬৯.
কোন বিষয়ে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া যায়?
  1. Fact in issue and relevant fact
  2. Admitted Facts
  3. Important facts only
  4. All facts
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইন-এর ৫ ধারায় বলা হয়েছে বিচার্য বিষয় ও এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়া যাবে। এই দুই ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়া যাবে না।
২৭০.
“He who asserts must prove-  এই নীতিটি সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর কোন ধারার সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. ধারা ৯৯
  2. ধারা ১০০
  3. ধারা ১০১
  4. ধারা ১১৪
ব্যাখ্যা

“He who asserts must prove” অর্থাৎ যে দাবি করে, সেই প্রমাণ করবে — এই নীতিটি সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১০১ (Section 101: Burden of Proof) এর মূল ভিত্তি।

এই ধারায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আদালতের নিকট কোনো আইনি অধিকার বা দায়বদ্ধতার বিষয়ে রায় প্রত্যাশা করে, তাকে সেই ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করতে হবে।

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২- ধারা ১০১: প্রমাণের দায়ভার (Burden of Proof):
যে ব্যক্তি আদালতের নিকট এমন কোনো আইনি অধিকার (legal right) বা দায়বদ্ধতা (liability)-এর বিষয়ে রায় প্রত্যাশা করে, যার ভিত্তি কিছু নির্দিষ্ট ঘটনার (facts) অস্তিত্বের ওপর নির্ভরশীল,
তাকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে সেই ঘটনাগুলি সত্য।

যখন কোনো ব্যক্তি কোনো ঘটনার অস্তিত্ব প্রমাণ করতে বাধ্য, তখন বলা হয় যে প্রমাণের দায়ভার (burden of proof) তার উপর বর্তায়।

উদাহরণ (Illustrations):
(a) ‘A’ আদালতের নিকট রায় চায় যে ‘B’ অপরাধ করেছে এবং তাকে শাস্তি দেওয়া হোক। এখানে ‘A’-এর ওপর দায়ভার যে সে প্রমাণ করবে ‘B’ অপরাধ করেছে।

(b) ‘A’ আদালতের নিকট দাবি করে যে সে একটি জমির মালিক, যা বর্তমানে ‘B’-এর দখলে আছে, এবং সেই জমির ওপর তার অধিকারের পক্ষে কিছু ঘটনা সত্য বলে দাবি করে, যা ‘B’ অস্বীকার করে।  এখানে ‘A’-এর ওপর দায়ভার যে সে তার দাবিকৃত ঘটনাগুলি সত্য প্রমাণ করবে।

২৭১.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫৪ এর ব্যাখ্যা-২ অনুযায়ী, পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশ (conviction)-
  1. কখনো প্রাসঙ্গিক নয়
  2. সৎ চরিত্রের প্রমাণ হিসেবে প্রাসঙ্গিক
  3. খারাপ চরিত্রের প্রমাণ হিসেবে প্রাসঙ্গিক
  4. শুধুমাত্র দেওয়ানি মামলায় প্রাসঙ্গিক
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৪ ধারার বিধান: পূর্ববর্তী অসৎ উত্তর প্রদান প্রসঙ্গ ব্যতীত অন্যভাবে প্রাসঙ্গিক নয়:
ফৌজদারি মোকদ্দমায় আসামীর চরিত্র যে খারাপ, এটা প্রাসঙ্গিক বিষয় নয়। তবে তার চরিত্র ভাল এ মর্মে সাক্ষ্য প্রদান করা হলে তার চরিত্র মন্দ এটা প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।

ব্যাখ্যা ১- যেখানে কোনো ব্যক্তির খারাপ চরিত্রই বিচার্য বিষয়, সেখানে এই ধারা প্রযোজ্য নয়।
ব্যাখ্যা ২- পূর্বের দোষী সাব্যস্ত খারাপ চরিত্রের প্রমাণ হিসেবে প্রাসঙ্গিক।


⇒ The Evidence Act, 1872, Section-54. Previous bad character not relevant, except in reply:
In criminal proceedings the fact that the accused person has a bad character is irrelevant, unless evidence has been given that he has a good character, in which case it becomes relevant.
Explanation 1– This section does not apply to cases in which the bad character of any person is itself a fact in issue.
Explanation 2– A previous conviction is relevant as evidence of bad character.

২৭২.
সাক্ষ্য আইনের ৭৩ক ধারায় "নিয়ন্ত্রক" বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
  1. আদালতের কোন প্রযুক্তিবিদ
  2. ডাটাবেজ পরিচালনা কমিটি
  3. ফৌজদারি কার্যবিধির এর অধীনে নিযুক্ত নিয়ন্ত্রক
  4. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর অধীনে নিযুক্ত নিয়ন্ত্রক
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৭৩ক ধারা- ডিজিটাল স্বাক্ষরের সত্যাখ্যানের প্রমাণ প্রসঙ্গ:
যার দ্বারা ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সংযুক্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়, ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সেই ব্যক্তির কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য আদালত নির্দেশ দিতে পারে যে-
(ক) সেই ব্যক্তি বা নিয়ন্ত্রক বা প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ দাখিল করতে,
(খ) অন্য কোন ব্যক্তিকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের গণতালিকায় আবেদন করতে এবং সেই কথিত ডিজিটাল স্বাক্ষর যাচাই করতে।
 
ব্যাখ্যা: এখানে "নিয়ন্ত্রক" অর্থ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর ধারা ১৮ (১) এর অধীনে নিযুক্ত নিয়ন্ত্রক।

Section  73A⇒ Proof as to verification of digital signature:
In order to ascertain whether a digital signature is that of the person by whom it purports to have been affixed, the Court may direct-
(a) that person or the Controller or the Certifying Authority to produce the Digital Signature Certificate;
(b) any other person to apply the public key listed in the Digital Signature Certificate and verify the digital signature purported to have been affixed by that person.
 
Explanation- For the purpose of this section, "Controller" means the Controller appointed under sub-section (1) of section 18 of the Information and Communication Technology Act, 2006 (Act No. 39 of 2006).
২৭৩.
যখন কোনো আদালতকে জনস্বার্থ সম্পর্কিত কোনো ঘটনার অস্তিত্ব সম্পর্কে মতামত গঠন করতে হয়, তখন নিচের কোনটি সাক্ষ্য হিসেবে অপ্রাসঙ্গিক?
  1. সরকারী গেজেটে প্রকাশিত কোন বিজ্ঞপ্তি
  2. যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট কর্তৃক প্রণীত কোনো আইনে বর্ণিত বিবৃতি
  3. সংসদ কতৃর্ক পাশ হওয়া কোন আইনের বিধান
  4. উল্লিখিত সব প্রাসঙ্গিক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: (ঘ) উল্লিখিত সব প্রাসঙ্গিক।

Evidence Act, 1872-এর ধারা ৩৭ অনুসারে-
যখন আদালতকে জনস্বার্থ বা গণ-প্রকৃতিমূলক (public nature) কোনো ঘটনার অস্তিত্ব সম্পর্কে অভিমত গঠন করতে হয়, তখন নিম্নলিখিত উৎসে থাকা বিবৃতিগুলো প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য (relevant evidence) হিসেবে গণ্য হয়-
- যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট কর্তৃক প্রণীত কোনো আইনে (Act of Parliament of the United Kingdom) বর্ণিত বিবৃতি।
- বাংলাদেশের সংসদ কর্তৃক পাশকৃত কোনো আইনে (Act of Parliament) থাকা বিবৃতি।
- সরকারি গেজেট বা বিজ্ঞপ্তিতে (Government Notification) থাকা বিবৃতি।

অতএব, এগুলোর কোনোটিই অপ্রাসঙ্গিক নয়, বরং সবকটিই প্রাসঙ্গিক (relevant)।

২৭৪.
বৈরী সাক্ষী (Hostile Witness) কাকে বলে?
  1. যে সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয় না।
  2. যে সাক্ষী কোনো পক্ষের হয়ে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
  3. যে সাক্ষী তার জবানবন্দিতে নিজের পক্ষের সমর্থনে কথা বলে।
  4. যে সাক্ষী তার নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে বা বিরুদ্ধ পক্ষের সমর্থনে সাক্ষ্য দেয়।
ব্যাখ্যা

→ সঠিক উত্তর: ঘ) যে সাক্ষী তার নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে বা বিরুদ্ধ পক্ষের সমর্থনে সাক্ষ্য দেয়।
বৈরী সাক্ষী (Hostile Witness) হলো সেই সাক্ষী যাকে কোনো পক্ষ (বাদী বা বিবাদী) আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উপস্থাপন করে, কিন্তু সে যদি নিজের পক্ষের বিরুদ্ধে বা প্রতিপক্ষের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে, তাহলে তাকে বৈরী সাক্ষী হিসেবে গণ্য করা হয়।
- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৫৪ অনুযায়ী, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ তার নিজের সাক্ষীকে জেরা করতে পারে যদি সাক্ষী বৈরী হয়ে যায়। সাধারণত, জেরা করার অধিকার প্রতিপক্ষের থাকে, তবে যদি আদালত মনে করে যে একজন সাক্ষী ইচ্ছাকৃতভাবে বিপরীতমুখী বক্তব্য দিচ্ছে, তবে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষও তাকে জেরা করতে পারে।

 কখন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা হয়?
১) যখন সাক্ষী তার নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়।
২) যখন সাক্ষী প্রতিপক্ষের পক্ষে কথা বলে।
৩) যখন সাক্ষী তার আগের দেওয়া বক্তব্য থেকে সরে আসে বা বিপরীত কথা বলে।

উদাহরণ:
- একজন সাক্ষী যদি পুলিশের সামনে একরকম বক্তব্য দেয়, কিন্তু আদালতে এসে তার বিপরীত কথা বলে, তাহলে সে বৈরী সাক্ষী বলে গণ্য হতে পারে।

⇒ অর্থাৎ যদি একজন সাক্ষী তার পক্ষের বিরুদ্ধে কথা বলে অথবা প্রতিপক্ষের পক্ষে কথা বলে, তাহলে তাকে বৈরী সাক্ষী বলা হয় এবং সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে জেরা করতে পারে।
- এটি আদালতের বিবেচনার বিষয় যে সাক্ষী সত্যিই বৈরী কি না।

২৭৫.
নিম্নলিখিত কোনটি সাক্ষ্য আইন অনুসারে একটি "ফ্যাক্ট" (Fact)?
  1. একজন ব্যক্তি একটি শব্দ উচ্চারণ করেছেন
  2. একজন ব্যক্তি কিছু শুনেছেন বা দেখেছেন
  3. একজন ব্যক্তির নির্দিষ্ট একটি মতামত রয়েছে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলো।
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩ অনুযায়ী, "ফ্যাক্ট" বলতে এমন কোনো বিষয় বা ঘটনার অস্তিত্ব বোঝানো হয় যা ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হতে পারে অথবা কোনো ব্যক্তির মানসিক অবস্থা সম্পর্কিত হতে পারে।
এখানে প্রতিটি উদাহরণটি "ফ্যাক্ট" এর অন্তর্ভুক্ত:
১) একজন ব্যক্তি একটি শব্দ উচ্চারণ করেছেন - এটি "ফ্যাক্ট" কারণ এটি একজন ব্যক্তির কার্যকলাপ বা কথাবার্তা যা সত্য প্রমাণিত হতে পারে।
২) একজন ব্যক্তি কিছু শুনেছেন বা দেখেছেন - এটি একটি "ফ্যাক্ট" কারণ এটি অনুভূতি (শোনা বা দেখা) দ্বারা প্রমাণিত কিছু ঘটনা।
৩) একজন ব্যক্তির নির্দিষ্ট একটি মতামত রয়েছে - এটি একটি "ফ্যাক্ট" কারণ এটি একটি মানসিক অবস্থা যা ব্যক্তি নিজে উপলব্ধি করেছেন।

অতএব, উপরের সবগুলোই "ফ্যাক্ট" হিসেবে গণ্য হয়, তাই সঠিক উত্তর "ঘ) উপরের সবগুলো"।

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩ অনুযায়ী, "ফ্যাক্ট" (Fact) এর অর্থ এবং অন্তর্ভুক্ত বিষয়:
(১) কোনো কিছু, অবস্থার অবস্থা, বা সম্পর্ক যা ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হতে পারে;
(২) যে কোনো মানসিক অবস্থা যার প্রতি ব্যক্তি সচেতন।

উদাহরণসমূহ:
(ক) যে কিছু বস্তু একটি নির্দিষ্ট স্থানে একটি নির্দিষ্ট অর্ডারে সাজানো আছে, তা একটি ফ্যাক্ট।
(খ) যে একজন ব্যক্তি কিছু শুনেছেন বা দেখেছেন, তা একটি ফ্যাক্ট।
(গ) যে একজন ব্যক্তি কিছু শব্দ বলেছেন, তা একটি ফ্যাক্ট।
(ঘ) যে একজন ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট মতামত ধারণ করেন, একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে, সৎ বা অসৎ বিশ্বাসে কাজ করেন, অথবা একটি নির্দিষ্ট শব্দ একটি নির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহার করেন, বা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন ছিলেন বা ছিলেন, তা একটি ফ্যাক্ট।
(ঙ) যে একজন ব্যক্তির একটি নির্দিষ্ট খ্যাতি রয়েছে, তা একটি ফ্যাক্ট।
একটি ফ্যাক্ট অন্য একটি ফ্যাক্ট এর সাথে সম্পর্কযুক্ত তখন বলা হয় যখন একটির সাথে অন্যটি সংযুক্ত থাকে, যেভাবে এই আইনে ফ্যাক্টসের প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কিত বিধানে বর্ণিত হয়েছে।
-------------
"Fact" means and includes-
(1) anything, state of things, or relation of things capable of being perceived by the senses;
(2) any mental condition of which any person is conscious.

Illustrations:
(a) That there are certain objects arranged in a certain order in a certain place, is a fact.
(b) That a man heard or saw something, is a fact.
(c) That a man said certain words, is a fact.
(d) That a man holds a certain opinion, has a certain intention, acts in good faith or fraudulently, or uses a particular word in a particular sense, or is or was at a specified time conscious of a    particular sensation, is a fact.
(e) That a man has a certain reputation, is a fact.
One fact is said to be relevant to another when the one is connected with the other in any of the ways referred to in the provisions of this Act relating to the relevancy of facts.
২৭৬.
'A' চুরির দায়ে অভিযুক্ত হলেন। ইতোপূর্বে তিনি চুরির দায়ে দণ্ডিত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। এই ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশ নিম্নের কোন বিষয়রূপে প্রাসঙ্গিক?
  1. খারাপ আচরণরূপে
  2. স্বীকৃত বিষয়রূপে
  3. বিচার্য বিষয়রূপে
  4. আনুষঙ্গিক বিষয়রূপে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৪ ধারার বিধান: পূর্ববর্তী অসৎ উত্তর প্রদান প্রসঙ্গ ব্যতীত অন্যভাবে প্রাসঙ্গিক নয়:-
-ফৌজদারী মোকদ্দমায় আসামীর চরিত্র যে খারাপ, এটা প্রাসঙ্গিক বিষয় নয়। তবে তার চরিত্র ভাল এ মর্মে সাক্ষ্য প্রদান করা হলে তার চরিত্র মন্দ এটা প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।
 
ব্যাখ্যা-১: যে মোকদ্দমায় কোন ব্যক্তির খারাপ চরিত্রই বিচার্য বিষয়, সেক্ষেত্রে অত্র ধারা প্রযোজ্য নয়। 
ব্যাখ্যা-২: সাক্ষ্য হিসাবে খারাপ চরিত্রে পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশ প্রাসঙ্গিক। 
-------------------------
Section-54. Previous bad character not relevant, except in reply:
In criminal proceedings the fact that the accused person has a bad character is irrelevant, unless evidence has been given that he has a good character, in which case it becomes relevant.
Explanation 1. –This section does not apply to cases in which the bad character of any person is itself a fact in issue.
Explanation 2. –A previous conviction is relevant as evidence of bad character.
২৭৭.
সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ধারার বিধান অনুযায়ী বিচারক হিসেবে যে সকল ঘটনা দৃষ্টিগোচরে নিবেন তা ______________।
  1. প্রমাণের প্রয়োজন
  2. প্রমাণের প্রয়োজন নেই
  3. অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে
  4. মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে
ব্যাখ্যা
• জুডিশিয়াল নোটিশ (Judicial Notice)-
যেসব বিষয় আদালত জানেন বা জানেন বলে ধরা হয়, সেগুলোকে জুডিশিয়াল নোটিশ বা বিচারিক দৃষ্টিগোচর বলে। সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ও ৫৭ ধারায় জুডিশিয়াল নোটিশের বিধান রয়েছে।

সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ধারার বিধান অনুযায়ী-
যে সকল ঘটনা আদালত কর্তৃক লক্ষণীয় তা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
(Fact judicially noticeable need not be proved)

তবে জুডিশিয়াল নোটিশ চূড়ান্ত প্রমান নয়, এর বিরূদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করা যায়। অর্থাৎ, জুডিশিয়াল নোটিশের বিষয়গুলো চূড়ান্ত বা অপরিবর্তনীয় প্রমাণ নয়। কোনো পক্ষ চাইলে এর বিপরীতে সাক্ষ্য পেশ করে তা খণ্ডন করতে পারবে। তবে প্রাথমিকভাবে এগুলোকে আলাদাভাবে প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।
২৭৮.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার 'ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্পর্কে মতামত যেখানে প্রাসঙ্গিক' এর বিধান রয়েছে?
  1. সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারার
  2. সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারার
  3. সাক্ষ্য আইনের ৪৭ক ধারার
  4. সাক্ষ্য আইনের ৪৬ক ধারার
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৭ক ধারার বিধান: ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্পর্কে মতামত যেখানে প্রাসঙ্গিক- যখন আদালতকে কোনও ব্যক্তির ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্পর্কে অভিমত তৈরি করতে হয়, তখন ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ জারি করা প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষের মতামত একটি প্রাসঙ্গিক ঘটনা।
⇒ ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্পর্কে অভিমত প্রয়োজন হলে উক্ত স্বাক্ষরের সনদ জারি করা প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষের মতামত প্রাসঙ্গিক হবে।
-----------
⇒The Evidence Act  1872, Section 47A. Opinion as to digital signature where relevant:
 - When the Court has to form an opinion as to the digital signature of any person, the opinion of the Certifying Authority which has issued the Digital Signature Certificate is a relevant fact.
২৭৯.
আইনসম্মতভাবে বাধ্য না হয়ে কোনো ব্যক্তি প্রশ্নের উত্তর না দিলে, আদালত কী অনুমান করতে পারে?
  1. সে নির্দোষ
  2. সে উত্তর জানে না
  3. উত্তরটি তার পক্ষে অনুকূল হতো না
  4. কোনো কিছু অনুমান করবে না
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১১৪ ধারার বিধান: আদালত কিছু তথ্যের অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে-
আদালত প্রকৃতি এবং মানবিক আচরণের সাধারণ গতিপ্রকৃতি, সরকারি ও বেসরকারি কার্যাবলীর সাপেক্ষে বিশেষ মামলার তথ্যগুলি বিবেচনা করে, যে কোনো তথ্য বা ঘটনার অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে যা আদালতের মতে সম্ভবত ঘটেছে। আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুমান করতে পারে -
(ক) যে ব্যক্তি চুরির কিছুক্ষণ পরেই চুরি মালামাল দখলে রাখে, সে নিজেই চোর অথবা জেনেশুনে চুরি মাল গ্রহণ করেছে, যদি না সে তার দখলের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে;
(খ) যে ব্যক্তি অপরাধের সহযোগী, সে অবিশ্বাসযোগ্য, যদি না তার সাক্ষ্যের মূল বিষয়গুলি অন্য কোনো প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হয়;
(গ) একটি হুন্ডি স্বীকৃত বা অনুমোদিত হয়েছে প্রাপ্য মূল্যের বিনিময়ে;

(ঘ) যেকোনো বস্তু বা অবস্থা যা এমন সময়সীমার মধ্যে দেখা গেছে যে সময়সীমার মধ্যে এরকম বস্তু বা অবস্থা সাধারণত লুপ্ত হয়ে যায় না, তা এখনও বিদ্যমান রয়েছে;
(ঙ) বিচারিক এবং সরকারি কার্যাবলী নিয়মানুসারে সম্পাদিত হয়েছে;
(চ) বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক নিয়মানুসারে কার্যক্রম পালিত হয়েছে;

(ছ) যে প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব ছিল কিন্তু করা হয়নি, তা উপস্থাপিত হলে যে ব্যক্তি তা প্রমাণ করতে অস্বীকার করেছেন তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(জ) কোনো ব্যক্তি যদি আইনসম্মতভাবে বাধ্য না হয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে, তাহলে মনে করা হবে উত্তরটি তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(ঝ) কোনো দায়বদ্ধকারী দলিল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে থাকলে, মনে করা হবে দায়িত্বটি পরিশোধিত হয়েছে।
তবে বিশেষ মামলার ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলি প্রযোজ্য কিনা তা বিবেচনা করার সময় আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলিও বিবেচনা করবে।
২৮০.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১৯ কাদের সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়ে আলোচনা করে?
  1. বোবা সাক্ষী
  2. বিদেশি সাক্ষী
  3. নাবালক সাক্ষী
  4. মানসিক ভারসাম্যহীন সাক্ষী
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১৯ বোবা সাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করে। এই ধারায় বলা হয়েছে, যে সাক্ষী কথা বলিতে অক্ষম (বোবা), তিনি তার সাক্ষ্য লিখিত বা ইশারার মাধ্যমে প্রদান করতে পারবেন, তবে এই সাক্ষ্য মৌখিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে এবং এটি প্রকাশ্য আদালতে দিতে হবে।
- অতএব, সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১৯ কেবল বোবা সাক্ষীদের সম্পর্কে আলোচনা করে।
সঠিক উত্তর: ক) বোবা সাক্ষী।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১৯ ধারা- বোবা সাক্ষী:
যে সাক্ষী কথা বলিতে অক্ষম, তিনি তাহার বক্তব্য অন্য কোনোভাবে অর্থাৎ লিখিয়া বা ইশারা করিয়া বুঝাইতে পারেন এবং সেইভাবে সাক্ষ্যদিতে পারেন, তবে সেই লেখা বা ইশারা প্রকাশ্য আদালতে লিখিতে বা করিতে হইবে। এইরূপভাবে যে সাক্ষ্য দেওয়া হইবে তাহা মৌখিক সাক্ষ্য বলিয়া গণ্য হইবে।
--------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 119- Dumb witnesses:
A witness who is unable to speak may give his evidence in any other manner in which he can make it intelligible, as by writing or by signs; but such writing must be written and the signs made in open Court. Evidence so given shall be deemed to be oral evidence.
২৮১.
যেসব ক্ষেত্রে মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ করা যায়, তা উল্লেখ আছে সাক্ষ্য আইনের-
  1. ৬২ ধারায়
  2. ৬৫ ধারায়
  3. ৬৪ ধারায়
  4. ৬১ ধারায়
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন ধারা ৬৪- প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ
এ আইনে অত:পর যে সমস্ত ব্যতিক্রম উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলি ব্যতীত অপর সমস্ত ক্ষেত্রে দলিলসমূহ অবশ্যই প্রথম শ্রেণীর সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করতে হবে।

তবে কোন কোন ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ করা যায়, তা সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারায় বলা হয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারায় ৭টি ব্যতিক্রম ক্ষেত্র উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে মাধ্যমিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য।

⇒ ক্ষেত্রসমূহ নিম্নরূপঃ

ক. দলিলটি যার বিপক্ষে প্রমাণ করতে হবে তার আয়ত্তে আছে বা আদালতের সমনের আওতার বাইরে বা সেই ব্যক্তির দখলে আছে যে ব্যক্তি দলিলটি পেশ করতে বাধ্য কিন্তু নোটিশ পাওয়া সত্ত্বেও দাখিল করছে না;
খ. দলিলটি যার বিপক্ষে প্রমাণ করতে হবে, সে ব্যক্তি দলিলটির অস্তিত্ব লিখিত ভাবে স্বীকার করে নিয়েছে;
গ. মূল দলিলটি হারিয়ে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে;
ঘ. দলিলটি সহজে স্থানান্তরযোগ্য না হলে;
ঙ. মূল দলিলটি সরকারী দলিল হলে;
চ. দলিলটির জাবেদা নকল সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহারের নিয়ম থাকলে;
ছ. মূল দলিলের পরীক্ষা আদালতের জন্য সুবিধাজনক না হলে।
২৮২.
The Evidence Act 1872 এর ১২০ ধারা অনুসারে কোন ধরনের মোকদ্দমায় স্বামী/স্ত্রীর পক্ষে সাক্ষ্য হওয়ার যোগ্য?
  1. ফৌজদারি মামলায়
  2. দেওয়ানি মামলায়
  3. ক ও খ উভয়
  4. কোন মামলায় নয়
ব্যাখ্যা
- The Evidence Act 1872 এর ১২০ ধারা অনুসারে সকল দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বামী/স্ত্রী পক্ষে স্বাক্ষী দিতে পারবে।
- ফৌজদারি মামলায় স্বামী/স্ত্রী যে কেহ যে কারোর বিরুদ্ধে যোগ্য সাক্ষী হতে পারবে, তবে পক্ষে নয়।
২৮৩.
সাক্ষ্য আইনের ৭৩ক ধারা কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ইলেকট্রনিক রেকর্ডের তৈরি
  2. মৌখিক সাক্ষ্যের গ্রহণ
  3. হাতের লেখা স্বাক্ষর যাচাই
  4. ডিজিটাল স্বাক্ষরের সত্যতা প্রমাণ
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৭৩ক সরাসরি ডিজিটাল স্বাক্ষরের সত্যতা প্রমাণ (Proof as to verification of digital signature)-এর সাথে সম্পর্কিত। এই ধারা অনুসারে, আদালত কোনো ডিজিটাল স্বাক্ষরটি প্রকৃতপক্ষে সেই ব্যক্তির কিনা, যার নামে এটি উপস্থাপন করা হয়েছে, তা যাচাই করার জন্য নিম্নলিখিত নির্দেশ দিতে পারেন:
- সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, নিয়ন্ত্রক বা প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ (Digital Signature Certificate) জমা দিতে বলতে পারেন।
- অন্য কোনো ব্যক্তিকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের গণতালিকা (Public Key) ব্যবহার করে উক্ত ডিজিটাল স্বাক্ষরটি যাচাই করতে বলতে পারেন।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ঘ) ডিজিটাল স্বাক্ষরের সত্যতা প্রমাণ।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৩ক ধারার বিধান ডিজিটাল স্বাক্ষরের সত্যাখ্যানের প্রমাণ প্রসঙ্গ: যার দ্বারা ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সংযুক্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়, ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সেই ব্যক্তির কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য আদালত নির্দেশ দিতে পারে যে-
(ক) সেই ব্যক্তি বা নিয়ন্ত্রক বা প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ দাখিল করতে,
(খ) অন্য কোন ব্যক্তিকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের গণতালিকায় আবেদন করতে এবং সেই কথিত ডিজিটাল স্বাক্ষর যাচাই করতে।

ব্যাখ্যা: এখানে "নিয়ন্ত্রক" অর্থ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর ধারা ১৮ (১) এর অধীনে নিযুক্ত নিয়ন্ত্রক।
----------
⇒The Evidence Act  1872, Section-73A. Proof as to verification of digital signature:
- In order to ascertain whether a digital signature is that of the person by whom it purports to have been affixed, the Court may direct-
(a) that person or the Controller or the Certifying Authority to produce the Digital Signature Certificate;
(b) any other person to apply the public key listed in the Digital Signature Certificate and verify the digital signature purported to have been affixed by that person.

Explanation.- For the purpose of this section, "Controller" means the Controller appointed under sub-section (1) of section 18 of the Information and Communication Technology Act, 2006 (Act No. 39 of 2006).

২৮৪.
The Evidence Act,1872 এর কোন ধারায় ডিজিটাল স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই করার বিধান রয়েছে?
  1. ৮৫গ ধারা
  2. ৭৩ক ধারা
  3. ৭৩খ ধারা
  4. ৮৫ক ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ The Evidence Act, 1872-এর ৭৩এ (Section 73A) ধারায় ডিজিটাল স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাইয়ের বিধান রয়েছে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে, আদালত নির্ধারণ করতে পারে কোনো ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রকৃতপক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দ্বারা সংযুক্ত হয়েছে কি না। এর জন্য আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, কন্ট্রোলার বা সার্টিফাইং অথরিটিকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সার্টিফিকেট দাখিল করতে নির্দেশ দিতে পারে অথবা পাবলিক কি (Public Key) প্রয়োগ করে যাচাই করতে পারে।
----------
⇒ The Evidence Act, 1872- section-73A. Proof as to verification of digital signature:
- In order to ascertain whether a digital signature is that of the person by whom it purports to have been affixed, the Court may direct-
(a) that person or the Controller or the Certifying Authority to produce the Digital Signature Certificate;
(b) any other person to apply the public key listed in the Digital Signature Certificate and verify the digital signature purported to have been affixed by that person.

Explanation.- For the purpose of this section, "Controller" means the Controller appointed under sub-section (1) of section 18 of the Information and Communication Technology Act, 2006 (Act No. 39 of 2006).]

২৮৫.
“Oral evidence must, in all cases whatever, be direct” – এই বিধান কোন ধারায় আছে?
  1. ধারা ৫৬
  2. ধারা ৫৯
  3. ধারা ৬০
  4. ধারা ৬২
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬০-এর শিরোনামই হলো “Oral evidence must be direct”। এই ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে: “Oral evidence must, in all cases whatever, be direct” অর্থাৎ মৌখিক সাক্ষ্য সব ক্ষেত্রেই অবশ্যই প্রত্যক্ষ (Direct) হতে হবে – দেখলে “দেখেছি”, শুনলে “শুনেছি”, অনুভব করলে “অনুভব করেছি” বলতে হবে। পরোক্ষ বা শোনা-কথা (hearsay) গ্রহণযোগ্য নয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারার বিধান মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হইতে হইবে: মৌখিক সাক্ষ্য সকল ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রত্যক্ষ হইতে হইবে,
অর্থাৎ সাক্ষ্যে উল্লিখিত তথ্য যদি দেখা যাইতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলিবে যে, সে উহা দেখিয়াছে তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।
সাক্ষ্যে উল্লিখিত তথ্য যদি শোনা যাইতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলিবে যে সে উহা শুনিয়াছে, তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।
সাক্ষ্যে উল্লিখিত তথ্য যদি অন্য কোন ইন্দ্রিয় দ্বারা বা অন্য কোন উপায়ে উপলব্ধি করা যাইতে পারে, তবে সে সাক্ষী বলিবে যে সে উহা সেই ইন্দ্রিয় দ্বারা বা সেই উপায়ে উপলব্ধি করিয়াছে, তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।
সাক্ষ্যে উল্লিখিত বিষয় যদি কাহারও অভিমত অথবা অভিমতের ভিত্তি হয়, তবে যে ব্যক্তি সেই ভিত্তিতে সেই অভিমত পোষণ করে তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।
তবে শর্ত এই যে, বিশেষজ্ঞের অভিমত পোষকতার কোন গ্রন্থ যদি সাধারণভাবে বাজাবে বিক্রিয় হয়, সেক্ষেত্রে সেই অভিমত এবং যে যুক্তির উপর উহা প্রতিষ্ঠিত তাহা প্রমাণের জন্য সেই গ্রন্থ উপস্থাপন করা যাইতে পারে, যদি সেই গ্রন্থের প্রণেতার মৃত্যু হইয়া থাকে, অথবা যদি তাহার সন্ধান পাওয়া না যায়, অথবা যদি তিনি সাক্ষ্য দিতে অপারগ হইয়া থাকেন, অথবা যদি তাহাকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করিতে এইরূপ বিলম্ব ও ব্যয় হয় যাহা আদালত অযৌক্তিক বলিয়া বিবেচনা করেন।
ইহা ছাড়া মৌখিক সাক্ষ্যে যদি দলিল ভিন্ন অপর বস্তর অস্তিত্ব বা অবস্থা সম্পর্কে উল্লেখ করা হয় তবে আদালত উপযুক্ত মনে করিলেই সেই বস্তু আদালতের পরিদর্শনের জন্য দাখিল করার নির্দেশ দিতে পারেন।
-------------
⇒ The Evidence Act,1872: Section-60: Oral evidence must be direct:
- Oral evidence must, in all cases whatever, be direct; that is to say-
if it refers to a fact which could be seen, it must be the evidence of a witness who says he saw it;
if it refers to a fact which could be heard, it must be the evidence of a witness who says he heard it;
if it refers to a fact which could be perceived by any other sense or in any other manner, it must be the evidence of a witness who says he perceived it by that sense or in that manner;
if it refers to an opinion or to the grounds on which that opinion is held, it must be the evidence of the person who holds that opinion on those grounds:
Provided that the opinions of experts expressed in any treatise commonly offered for sale, and the grounds on which such opinions are held, may be proved by the production of such treatises if the author is dead or cannot be found, or has become incapable of giving evidence, or cannot be called as a witness without an amount of delay or expense which the Court regards as unreasonable:
Provided also that, if oral evidence refers to existence or condition of any material thing other than a document, the Court may, if it thinks fit, require the production of such material thing for its inspection.

২৮৬.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১২৬ অনুসারে, একজন উকিল কী প্রকাশ করতে বাধ্য নন?
  1. আদালতের রায়
  2. নিজের আয়ের বিবরণ
  3. মক্কেলের দেওয়া সকল তথ্য
  4. পেশাগত সম্পর্কের সময় প্রাপ্ত গোপনীয় তথ্য
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) পেশাগত সম্পর্কের সময় প্রাপ্ত গোপনীয় তথ্য।
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১২৬ অনুযায়ী:
একজন ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল তাঁর মক্কেলের পক্ষে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময়: মক্কেলের পক্ষ থেকে বা উদ্দেশ্যে প্রাপ্ত বার্তা, মক্কেলকে দেওয়া পরামর্শ, অথবা যে দলিলসমূহের সঙ্গে তিনি পরিচিত হয়েছেন, এসব গোপনীয় তথ্য তিনি মক্কেলের স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া প্রকাশ করতে পারেন না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারার বিধান পেশা সম্পর্কিত বার্তা: ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মক্কেলের ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল হিসাবে কাজ করিবার সময় এবং উদ্দেশ্যে উক্ত মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে তাহার নিকট প্রদত্ত কোন বার্তার বিষয় মক্কেলের অনুমতি ব্যতীত প্রকাশ করিতে অনুমতি পাইবেন না। অথবা বৃত্তিগত কার্য সম্পাদনকালে এবং প্রসঙ্গে মক্কেলের যেই সকল দলিলের সহিত তিনি পরিচিত হইয়াছিলেন, সেইগুলির বিষয়বস্তু বা অবস্থার কোন বিবৃতি দিতে পারিবেন না অথবা তাহার কার্যকালে ও উদ্দেশ্যে মক্কেলকে তিনি যে পরামর্শ দিয়াছেন, তাহা প্রকাশ করিতে পারিবেন না।

তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলি প্রকাশ হইতে এই ধারার কিছু অব্যাহতি দিবেন না।
(১) বেআইনি উদ্দেশ্যে সাধনকল্পে যে সংবাদ আদান- প্রদান করা হইয়াছে,
(২) ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল পেশাগত কার্যে নিযুক্ত থাকবার সময় তৎকর্তৃক লক্ষিত বিষয় যদ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তাহার নিযুক্তির পরে কোন অপরাধ বা প্রতারণা সংঘটিত হইয়াছে অনুরূপ ঘটনার প্রতি উক্ত ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মনোযোগ তাহার মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে আকৃষ্ট করা হইয়াছিল কিনা তাহা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

ব্যাখ্যা: এই ধারার বর্ণিত বাধ্যবাধকতা নিযুক্তির অবসান ঘটিবার পরও অব্যাহত থাকে।
------------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 126 Professional communications:
- No Advocate shall at any time be permitted, unless with his client's express consent, to disclose any communication made to him in the course and for the purpose of his employment as such Advocate by or on behalf of his client, or to state the contents or condition of any document with which he has become acquainted in the course and for the purpose of his professional employment, or to disclose any advice given by him to his client in the course and for the purpose of such employment:

Provided that nothing in this section shall protect from disclosure–
(1) any such communication made in furtherance of any illegal purpose:
(2) any fact observed by any Advocate, in the course of his employment as such, showing that any crime of fraud has been committed since the commencement of his employment.
It is immaterial whether the attention of such Advocate was or was not directed to such fact by or on behalf of his client.

Explanation.– The obligation stated in this section continues after the employment has ceased.
২৮৭.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৮ অনুযায়ী, কোন বিষয়ে অভিমত প্রাসঙ্গিক?
  1. আত্মীয়তার সম্পর্ক
  2. অপরাধের প্রমাণ
  3. আদালতের সিদ্ধান্ত
  4. সাধারণ প্রথা বা অধিকারের অস্তিত্ব
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৪৮ ধারার বিধান অনুযায়ী, যখন আদালত সাধারণ প্রথা বা অধিকারের অস্তিত্ব নির্ধারণ করতে চায়, তখন যেসব ব্যক্তির পক্ষে এই প্রথা বা অধিকার সম্পর্কে জানা স্বাভাবিক, তাদের অভিমত প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হয়।
এই ধারার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, "সাধারণ প্রথা বা অধিকার" বলতে এমন প্রথা বা অধিকার বোঝানো হয়েছে যা যথেষ্ট সংখ্যক ব্যক্তির একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর মধ্যে প্রচলিত।
→ অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৮ অনুযায়ী, সাধারণ প্রথা বা অধিকারের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের অভিমত আদালতের কাছে প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৮ ধারার বিধান- অধিকার অথবা প্রথার অস্তিত্ব সম্বন্ধে অভিমত যখন প্রাসঙ্গিক:
কোন সাধারণ প্রথা অথবা অধিকারের অস্তিত্ব সম্পর্কে যেক্ষেত্রে আদালতকে কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত প্রথা বা অধিকারের অস্তিত্ব থাকলে যে সমস্ত ব্যক্তির পক্ষে তা জানা স্বাভাবিক, এর অস্তিত্ব সম্বন্ধে তার অভিমত প্রাসঙ্গিক।ঃ
ব্যাখ্যা: "সাধারণ প্রথা অথবা অধিকার" কথাটি বলতে যথেষ্ট সংখ্যক ব্যক্তির একটি শ্রেণীর ভিতর সাধারণভাবে প্রচলিত প্রথা বা অধিকারও বুঝায়।
উদাহরণ:
কোন একটি গ্রামের অধিবাসীদের নির্ধারিত কোন একটি কূপের পানির ব্যবহার করার অধিকার থাকলে, তা এ ধারার অর্থ অনুযায়ী সাধারণ অধিকার বলে বিবেচিত হবে।
----------------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 48- Opinion as to existence of right or custom, when relevant:
When the Court has to form an opinion as to the existence of any general custom or right, the opinions, as to the existence of such custom or right, of persons who would be likely to know of its existence if it existed, are relevant.
Explanation- The expression "general custom or right" includes customs or rights common to any considerable class of persons.
Illustration:
The right of the villagers of a particular village to use the water of a particular well is a general right within the meaning of this section.
২৮৮.
একজন ব্যক্তি আঘাত পেয়ে "X আমাকে আঘাত করেছে" বলে কিছুক্ষণ পরেই মারা গেলে, এই বক্তব্যটি ______ হিসাবে গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য হবে।
  1. Res integra
  2. Res Gestae
  3. double jeopardy
  4. None of above
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনে 'Res Gestae' একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। যখন একাধিক ঘটনা অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত এবং একই ঘটনার ধারাবাহিক অংশ হয়, তখন তাদের বক্তব্য বা আচরণকে Res Gestae সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ Res Gestae এর মাধ্যমে এমন কথা বা আচরণকে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করা হয় যা কোনো ঘটনার সময় বা ঘটনার পূর্বে বা পরবর্তীতে বলা বা করা হয়েছিল এবং যা সেই ঘটনার প্রকৃতি ও কারণ বুঝতে সাহায্য করে।

উদাহরণস্বরূপ:
⇒ একজন ব্যক্তি আঘাত পেয়ে "X আমাকে আঘাত করেছে" বলে কিছুক্ষণ পরেই মারা গেলে, এই বক্তব্যটি Res Gestae হিসাবে গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য হবে।
⇒ অপরাধের পর দ্রুত পালিয়ে যাওয়া অপরাধীর বক্তব্য বা আচরণ Res Gestae হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
⇒ দুর্ঘটনার পর অবিলম্বে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন বক্তব্য Res Gestae হিসেবে গৃহীত হতে পারে।

Res Gestae সাক্ষ্যগুলো ঘটনার সঙ্গে এতটাই নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকে যে, তা স্বাভাবিক ও আকস্মিক হয়ে পড়ে এবং মিথ্যা বলার সম্ভাবনা থাকে না। এজন্য আদালত Res Gestae সাক্ষ্যগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেয়। অন্যদিকে, যদি একাধিক ঘটনা পরস্পর খুব অতিরিক্ত পৃথক হয়, তাহলে তাদের বক্তব্য বা আচরণকে Res Gestae সাক্ষ্য বলে গণ্য করা যায় না। একইভাবে, কোনো ঘটনার স্বাতন্ত্র্য বা অপ্রাসঙ্গিকতাও Res Gestae সাক্ষ্য গঠনে সাহায্য করে না।
২৮৯.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা hostile witness সম্পর্কিত?
  1. ধারা ১৩৩
  2. ধারা ১৩৪
  3. ধারা ১৫৪
  4. ধারা ১৫৭
ব্যাখ্যা
Hostile witness:
Hostile witness বলতে এমন একজন সাক্ষীকে বোঝায়, যিনি যিনি তাকে আদালতে ডেকে আনা পক্ষের বিরুদ্ধে বা বিরুদ্ধভাবে সাক্ষ্য দেন — অর্থাৎ যিনি তার পূর্বে দেয়া বয়ান বা প্রত্যাশিত সাক্ষ্যের বিপরীত বক্তব্য দেন এবং আদালতের কাছে অবিশ্বস্ত বা পক্ষদ্বার বিরোধী আচরণকারী হিসেবে প্রতিভাত হন।

আইনগত ভিত্তি:
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৫৪ অনুযায়ী-
আদালত, তার বিবেচনায়, অনুমতি দিলে যে কোনো পক্ষ তার নিজ ডাকা সাক্ষীকে প্রতিকূল (hostile) হিসেবে ঘোষণা করে জেরা (cross-examine) করতে পারে।

⇒ সাক্ষ্য আইনে বৈরী সাক্ষীর কোন সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করা হয়নি। তবে সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারার বিধান মতে স্বীয় সাক্ষীকে বিরুদ্ধ পক্ষের মত জেরা করার বিধান আছে। আদালতের প্রচলিত ভাষায় স্বীয় সাক্ষীকে জেরা করার পুর্বে শত্রু বা বৈরী সাক্ষী বলা হয়। বৈরী সাক্ষীকে জেরা করতে হলে আদালতের অনুমতি নিতে হয়। আদালত যদি মনে করেন যে, আহ্বানকারী পক্ষের প্রতি সাক্ষীর কথাবার্তা শত্রু পক্ষের মত হয়ে গেছে, তাহলে আদালত আহ্বানকারী পক্ষকে বিরুদ্ধ পক্ষের ন্যায় তার নিজ সাক্ষীকে জেরা করার অনুমতি দিতে পারেন। সাক্ষীকে জেরা করতে দেওয়ার অধিকার আদলতের বিবেচনার উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
২৯০.
নিম্নের কোন দলিলটি মাধ্যমিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয়?
  1. মূল বিক্রয় দলিল
  2. মূল বন্ধকী দলিল
  3. মূল বিক্রয় দলিলের ফটোগ্রাফ
  4. মূল বিক্রয় দলিলের খসড়া
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারায় মাধ্যমিক সাক্ষ্যের বিধান রয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারা অনুসারে মূল দলিল আদালতে হাজির না করে মূল দলিলের প্রতিলিপি বা অনুলিপি আদালতে উপস্থাপন করাকে মাধ্যমিক সাক্ষ্য বা Secondary Evidence বলে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারার বিধান মাধ্যমিক সাক্ষ্যঃ- মাধ্যমিক সাক্ষ্য অর্থ এবং তাহার অন্তর্ভূক্ত হয়ঃ
(১) বর্ণিত বিধানবলী অনুসারে প্রদত্ত জাবেদা নকল;
(২) মূল দলিল হইতে এইরুপ যান্ত্রিক উপায়ে প্ৰস্তুত নকল, যাহাতে নকলের নির্ভুলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় এবং এইরুপ নকলের সহিত মিলাইয়া লওয়া অন্য নকল;
(৩) মূল দলিল হইতে প্রস্তুত করা অথবা মূল দলিলের সহিত মিলাইয়া লওয়া নকল;
(৪) কোন দলিলের প্রতিলিপি যে পক্ষ উক্ত দলিল সম্পাদন করে নাই, তাহার বিরুদ্ধে উহা ব্যবহারের ক্ষেত্রে;
(৫) যে ব্যক্তি নিজের কোন দলিল দেখিয়াছে, তাহার দেওয়া উক্ত দলিলের বিসয় বস্তু সম্পর্কে মৌক্ষিক বিবরণ।

উদাহরণঃ
(ক) একটি মূল দলিলের সহিত উহার ফটোগ্রাফ মিলাইয়া দেখা না হইয়া থাকিলেও যদি প্রমাণ করা হয় যে, ফটোগ্রাফটি যে দলিলের ফটোগ্রাফ, তাহাই মূল দলিল; তবে উক্ত ফটোগ্রাফ উক্ত মূল দলিলের মাধ্যমিক সাক্ষ্য বলিয়া গণ্য হইবে।

⇒ অর্থাৎ মূল বিক্রয় দলিলের ফটোগ্রাফ মাধ্যমিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয়।
২৯১.
‘A’ রেলপথে টিকিট ছাড়া ভ্রমণের অভিযোগে অভিযুক্ত। কার ওপর প্রমাণের দায়িত্ব থাকবে যে, তার কাছে টিকিট ছিল?
  1. পুলিশ
  2. আদালত
  3. রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের
  4. অভিযুক্ত ‘A’-এর
ব্যাখ্যা

• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১০৬ ধারা অনুযায়ী,
কোনো বিষয় যখন বিশেষ ভাবে কোনো ব্যক্তির অবগতির মধ্যে থাকে, তখন সেই বিষয় প্রমাণ করার দায়িত্ব তার উপরই ন্যস্ত থাকে। অর্থাৎ, কোনো একটি ঘটনা বা বিষয় যখন নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জানার কথা বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি ব্যতীত অন্যরা জানার কথা নয়, তখন ঐ ব্যক্তির উপরই প্রমাণ করার দায়িত্ব বর্তাবে।

⇒ এই ধারা অনুসারে, 'A'-কেই প্রমাণ দিতে হবে যে, তার কাছে টিকেট ছিল।

২৯২.
ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি কখন প্রাসঙ্গিক হবে?
  1. সর্বদা
  2. যখন আদালত চায়
  3. যখন কোনো পক্ষ স্বীকার করে
  4. যখন ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়
ব্যাখ্যা
• The Evidence (Amendment) Act, 2022 দ্বারা ২২ক ধারাটি নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে। ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক হওয়ার শর্ত ২২ক ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।

২২ক ধারায় বলা হয়েছে,
ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয়, যদি না উত্থাপিত ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
[Oral admissions as to contents of digital records are not relevant, unless the genuineness of the digital record produced is in question].

অর্থাৎ, রেকর্ডের বিশুদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হলেই মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক হবে।
২৯৩.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় প্রদত্ত স্বীকৃতি সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না বলে পক্ষগণের মধ্যে চুক্তি হলে, এ অবস্থায় উক্ত স্বীকৃতি-
  1. প্রাসঙ্গিক হবে
  2. প্রাসঙ্গিক হবে না
  3. পর্যালোচনা করা হবে
  4. কেবলমাত্র বিচারকের অনুমোদনে প্রাসঙ্গিক হবে
ব্যাখ্যা
• ধারা ২৩: দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতি যখন প্রাসঙ্গিক:
দেওয়ানি মোকদ্দমায় কোন স্বীকৃতি যদি এরূপ প্রকাশ্য শর্তাধীন করা হয় যে, ঐ সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না অথবা যদি এরূপ পরিস্থিতিতে করা হয় যে, তা সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না বলে পক্ষগণের মধ্যে চুক্তি হয়েছে বলে আদালত অনুমান করতে পারেন, তবে তা প্রাসঙ্গিক হবে না।
ব্যাখ্যাঃ কোন অ্যাডভোকেট ১২৬ ধারা অনুসারে কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য থাকলে এই ধারার কোন বিধান অনুসারে তিনি সাক্ষ্য দেওয়া হতে অব্যাহতি পাবে না।

⇒ দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয় যদি-
১. স্বীকৃতিটি এই শর্তে করা হয় যে উক্ত স্বীকারোক্তি সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না।
২. সাক্ষ্য না দেয়ার জন্য পক্ষগণের মধ্যে কোন চুক্তি থাকলে।

Section 23: Admissions in civil cases when relevant:
In civil cases no admission is relevant, if it is made either upon an express condition that evidence of it is not to be given, or under circumstances from which the Court can infer that the parties agreed together that evidence of it should not be given.
Explanation.– Nothing in this section shall be taken to exempt any 17[Advocate] from giving evidence of any matter of which he may be compelled to give evidence under section 126.
২৯৪.
বিরুদ্ধ পক্ষ আপত্তি করলে, জবানবন্দী গ্রহণকালে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যাবে কি?
  1. হ্যাঁ
  2. না
  3. আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে করা যাবে
  4. সাক্ষীর অনুমতি সাপেক্ষে করা যাবে
ব্যাখ্যা
• যে প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর থাকে, তাকে নির্দেশক প্রশ্ন বা ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বা 'Leading question' বলে। সাধারণত 'হ্যা' অথবা 'না' এই দুই ভাবে প্রশ্নের উত্তর দেয়া যায়।

১৪২ ধারার বিধান-
বিরুদ্ধ পক্ষ যদি আপত্তি করেন, তবে জবানবন্দী ও পুনঃজবানবন্দী গ্রহণকালে আদালতের অনুমতি ব্যতীত ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা চলিবে না।
[Leading questions must not, if objected to by the adverse party be asked in an examination-in-chief, or in a re-examination, except with the permission of the Court.]

অর্থাৎ, উল্লিখিত ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আদালতের অনুমতিতে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যাবে।
২৯৫.
The Evidence Act, 1872 এর ধারা ৫৬ এর মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. সকল প্রমাণ অবশ্যই আদালতে উপস্থাপন করতে হবে
  2. আদালত শুধুমাত্র সাক্ষীর বক্তব্য গ্রহণ করতে পারে
  3. আদালত কোনো দলিল না থাকলে প্রমাণ গ্রহণ করতে পারবে না
  4. কিছু ঘটনা আদালত নিজেই জানে, তাই তা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
• জুডিশিয়াল নোটিশ (Judicial Notice)-
যেসব বিষয় আদালত জানেন বা জানেন বলে ধরা হয়, সেগুলোকে জুডিশিয়াল নোটিশ বা বিচারিক দৃষ্টিগোচর বলে। সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ও ৫৭ ধারায় জুডিশিয়াল নোটিশের বিধান রয়েছে।

সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ধারার বিধান অনুযায়ী-
যে সকল ঘটনা আদালত কর্তৃক লক্ষণীয় তা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
(Fact judicially noticeable need not be proved)
২৯৬.
সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারার বিধান অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ কাকে সহায়তা করেন?
  1. আদালতকে
  2. পুলিশকে
  3. বাদীকে
  4. বাদী ও বিবাদী উভয়কে
ব্যাখ্যা
 ⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারার বিধান- শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত: -
(১) আদালতের অনুমতি ব্যতীত একজন সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না যদি না তার রিপোর্টের একটি অনুলিপি, উপ-ধারা (২) অনুসারে সমস্ত পক্ষকে দেওয়া না হয়।
(২) একজন বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন আদালতের কাছে পাঠানো হবে এবং সেই পক্ষের কাছে নয় যার পক্ষে তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।

Section 45A: Opinion of experts on physical or forensic evidence.- 
(1) Except by leave of the Court a witness shall not testify as an expert on physical or forensic unless a copy of his report has, pursuant to sub-section (2), been given to all the parties.
(2) An expert’s report shall be addressed to the Court and not to the party on whose behalf he is examined and he shall owe a duty to help the Court.
২৯৭.
'Hearsay evidence is not admissible' এই নীতির ব্যতিক্রম দেখা যায় সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায়?
  1. ২৭ ধারায়
  2. ৩২ ধারায়
  3. ৪৫ ধারায়
  4. ৫৭ ধারায়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩২ “hearsay” প্রমাণকে বিশেষ পরিস্থিতিতে গ্রহণযোগ্য করে, ফলে এটি hearsay নিষিদ্ধ নীতির প্রধান ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচিত হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-

ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারন সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যু কালীন ঘোষনা (dying delaration);
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি (statement made in course of business);
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরনের মামলার উদ্ভব করতে পারে (statement against interest of maker);
iv) সর্বসাধারনের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত (opinion as to public right or custom, or matters of general interest);
v) পারিবারিক দলিল বা উইল (statement made in will or deed relating to family affairs);
vi) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি (relates to existence of relationship);
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি (Statement made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question).
২৯৮.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ২২ক ধারা অনুযায়ী, যদি ডিজিটাল রেকর্ডের সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তখন কী হতে পারে?
  1. স্বীকারোক্তি স্বীকৃত হবে
  2. ডিজিটাল রেকর্ড খারিজ হয়ে যাবে
  3. প্রাথমিক প্রমাণের প্রয়োজন হবে না
  4. মৌখিক স্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) মৌখিক স্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ২২ক ধারার মতে, সাধারণত ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য নয়। তবে, যদি ডিজিটাল রেকর্ডের সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে তার বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি আদালতে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
- মূল প্রমাণের নীতি: সাধারণত কোনো নথিপত্র বা ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু প্রমাণ করার জন্য প্রাথমিক প্রমাণ (primary evidence) প্রয়োজন হয়। ডিজিটাল রেকর্ড নিজেই প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে, মৌখিক স্বীকৃতি নয়।
- গৌণ প্রমাণের ব্যতিক্রম: যদি কোনো পক্ষ আদালতে প্রমাণ করতে চায় যে ডিজিটাল রেকর্ডটি সত্য নয় বা জাল, তাহলে সেই রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
- আদালত যদি মনে করে যে ডিজিটাল রেকর্ডটি সন্দেহজনক বা প্রশ্নবিদ্ধ, তখন মৌখিক স্বীকৃতির মাধ্যমে এর প্রকৃত অবস্থা নির্ণয়ের চেষ্টা করা যেতে পারে।
----------
⇒The Evidence Act, 1872, Section-22A. When oral admissions as to contents of digital records are relevant:
Oral admissions as to the contents of digital records are not relevant, unless the genuineness of the digital record produced is in question.
২৯৯.
সাক্ষ্য আইনের অধীনে "ডিজিটাল রেকর্ড" এর অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. ড্রোন ডাটা
  2. সিসিটিভি রেকর্ড
  3. মৌখিক বক্তব্য
  4. মোবাইল ফোনের তথ্য
ব্যাখ্যা
→ সাক্ষ্য আইনের অধীনে "ডিজিটাল রেকর্ড" বলতে এমন কোনো রেকর্ড বোঝানো হয় যা ম্যাগনেটিক, ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক, অপটিক্যাল, কম্পিউটার মেমোরি, মাইক্রোফিল্ম, ইত্যাদি মাধ্যমে তৈরি বা সংরক্ষিত হয়। এর মধ্যে ড্রোন ডাটা, সিসিটিভি রেকর্ড, এবং মোবাইল ফোনের তথ্য ডিজিটাল রেকর্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয় কারণ এগুলি ডিজিটাল ফরম্যাটে তৈরি এবং সংরক্ষিত।

তবে, মৌখিক বক্তব্য ডিজিটাল রেকর্ডের অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ এটি কোনো ডিজিটাল বা প্রযুক্তিগত মাধ্যমের মাধ্যমে রেকর্ড করা হয় না। মৌখিক বক্তব্য সাধারণত মৌখিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয় এবং তা ওরাল সাক্ষ্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপিত হয়।
- অতএব, সঠিক উত্তর "গ) মৌখিক বক্তব্য"।

“ডিজিটাল রেকর্ড" বা “ইলেকট্রনিক রেকর্ড” মানে হল যেকোনো রেকর্ড, ডেটা বা তথ্য যা ম্যাগনেটিক বা ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক, অপটিক্যাল, কম্পিউটার মেমরি, মাইক্রোফিল্ম, কম্পিউটার দ্বারা তৈরি মাইক্রোফিচে, অডিও, ভিডিও, ডিজিটাল ভার্সেটাইল ডিস্ক (DVD), সিসিটিভি রেকর্ড, ড্রোন ডেটা, সেলফোনের রেকর্ড, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার বা যেকোনো অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস দ্বারা তৈরি, প্রস্তুত, প্রেরিত, প্রাপ্ত বা সংরক্ষিত যা ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন, ২০১৮ (আইন নং ৪৬, ২০১৮) এ সংজ্ঞায়িত হয়েছে।
-----
“Digital record" or “electronic record” means any record, data or information generated, prepared, sent, received or stored in magnetic or electro-magnetic, optical, computer memory, micro film, computer generated micro fiche including audio, video, Digital Versatile Disc or Digital Video Disc (DVD), records of Closed Circuit Television (CCTV), drone data, records from cell phone, hardware, software or any other digital device as defined in Digital Security Act, 2018 (Act No. 46 of 2018)
৩০০.
দখলকারীকে মালিক নয় বলে দাবী করলে প্রমাণ‑দায়িত্ব (burden of proof) কার উপর বর্তায়?
  1. দখলকারীর
  2. আদালতের
  3. যে ব্যক্তি মালিকানা অস্বীকার করছে
  4. উল্লিখিত সকলের
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১১০ ধারার বিধান: মালিকানা প্রমানের দায়িত্ব:
যে ব্যক্তির কর্তৃত্বাধীনে কিছু আছে বলে দেখানো হয়, সে ব্যক্তি ঐটার মালিক কিনা এই প্রশ্ন উত্থিত হলে যে ব্যক্তি দাবি করে যে, দখলকারী ব্যক্তি সে জিনিসের মালিক নয়, তবে এটা প্রমাণের দায়িত্ব সে ব্যক্তির উপরই ন্যস্ত হয়।

Section-110- Burden of proof as to ownership:
When the question is whether any person is owner of anything of which he is shown to be in possession, the burden of proving that he is not the owner is on the person who affirms that he is not the owner.