বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Evidence Act, 1872

মোট প্রশ্ন১,৬৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Evidence Act, 1872

PrepBank · পাতা ১৩ / ১৭ · ১,২০১১,৩০০ / ১,৬৬৪

১,২০১.
'A' বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার অভিযোগে অভিযুক্ত। বিদ্রোহে বিভিন্ন জায়গায় সম্পত্তি ধ্বংস, সৈন্যদের উপর আক্রমণ, জেলখানা ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটে — যদিও 'A' সব ঘটনায় নিজে ছিল না। এসব ঘটনা কোন ধারায় প্রাসঙ্গিক?
  1. ধারা ৫
  2. ধারা ৬
  3. ধারা ৭
  4. ধারা ৮
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ধারা ৬।
→ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬ অনুযায়ী, “যে সমস্ত ঘটনা, যদিও তা সরাসরি বিচার্য নয়, কিন্তু বিচার্য ঘটনার সঙ্গে এতটাই সংযুক্ত যে তা একই লেনদেন বা transaction-এর অংশ গঠিত করে, সেগুলো প্রাসঙ্গিক।”
- এই ঘটনায়, যুদ্ধ ঘোষণার (main fact in issue) অংশ হিসেবে একই বিদ্রোহে সম্পত্তি ধ্বংস, সৈন্য আক্রমণ ও জেল ভাঙার মতো ঘটনা — যদিও A সরাসরি উপস্থিত ছিল না — তবুও সেগুলো একই সংঘটিত লেনদেনের অংশ হিসেবে ধারা ৬ অনুসারে প্রাসঙ্গিক।
- এটি হলো ধারা ৬-এর illustration (b) (উদাহরণ খ)-এর সরাসরি প্রয়োগ।

→ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬ অনুসারে, যে বিষয়গুলো সরাসরি বিচার্য নয়, কিন্তু বিচার্য বিষয়ের সাথে এমনভাবে সম্পর্কিত যে তা একই ঘটনার (same transaction) অংশ হিসেবে গণ্য হয়, সেগুলো প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
→ এই ধারা Res Gestae নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত, যার অর্থ হলো—একটি ঘটনার ধারাবাহিকতায় সংঘটিত সকল সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপ বা বিবৃতি, যা মূল ঘটনার অংশ।
১,২০২.
"Estoppel" নিম্নের কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. সত্যতা যাচাই
  2. পূর্ব ঘোষণার অস্বীকৃতিতে বাধা
  3. পূর্ব ঘোষণার অস্বীকৃতির বৈধতা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘Estoppel' বা 'স্বকার্যজনিত বাধা’ শব্দটি একটি আইনি নীতিকে বোঝায়, যা কাউকে কিছু অস্বীকার করতে বা এমন একটি অধিকার জাহির করতে বাধা প্রদান করে যা কিনা তারা পূর্বে বলেছিল বা আইন দ্বারা সম্মত হয়েছিল কিন্তু বর্তমানে পূর্বের কর্মের বিরোধিতা করছে। সহজ ভাষায় বললে, Estoppel (এস্টপেল) বা স্বকার্যজনিত বাধা একজন ব্যক্তিকে অতীতের কোনো কর্ম বা বিবৃতির বিরোধিতা করতে বাধা দেয়। এটি সাধারণ আইনের অংশ এবং অন্য ব্যক্তির কথা বা কাজের অসঙ্গতি দ্বারা মানুষকে অন্যায়ভাবে অবিচার করা থেকে বিরত রাখার জন্য।

সাক্ষ্য আইনের ১১৫ ধারায় বলা হয়েছে যে,
‘যখন কোন ব্যক্তি তার ঘোষণা (declaration), কাজ (act) বা কার্য বিরতি (omission)’র দ্বারা ইচ্ছাকৃত ভাবে অন্য ব্যক্তিকে কোন বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করায় এবং সেই বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করতে বলে, তখন উক্ত ২ পক্ষের মধ্যে কোন মামলায় ১ম পক্ষ তার ঘোষণা (declaration), কাজ (act) বা কার্য বিরতি (omission)’র বিষয়টি অস্বীকার করতে পারবে না।’
১,২০৩.
ধারা ১২২-এর ব্যতিক্রম কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. যেকোনো পারিবারিক ঘটনার ক্ষেত্রে
  2. শুধুমাত্র স্বামী সম্মত হলে
  3. শুধুমাত্র স্ত্রী সম্মত হলে
  4. দম্পতির মধ্যে দেওয়ানী মামলা থাকলে
ব্যাখ্যা

• সাক্ষ্য আইনের ১২২ ধারা: বিবাহ বজায় থাকাকালীন বার্তা:
কোনো ব্যক্তি যিনি বিবাহিত বা যাহার সহিত বিবাহ হইয়াছে, বিবাহ বজায় থাকাকালে সেই ব্যক্তির সহিত তাহার স্ত্রী বা স্বামীর বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করিতে সেই ব্যক্তিকে বাধ্য করা যাইবে না; বার্তা প্রদানকারীর বা তাহার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির সম্মতি ব্যতীত বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করিবার অনুমতিও তাহাকে দেওয়া যাইবে না,
তবে বিবাহিত ব্যক্তিদ্বয়ের মধ্যে কোন দেওয়ানী মামলায় অথবা তাহাদের একজনের বিরুদ্ধে কোন অপরাধ করিবার দায়ে অপরজন ফৌজদারীতে সোর্পদ থাকিলে সেইক্ষেত্রে বার্তার বিষয় প্রকাশ করিতে দেওয়া যাইবে।

১,২০৪.
মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রদানকারী ব্যক্তি বেঁচে গেলে ঐ ঘোষণা কি হবে?
  1. জীবিতকালীন ঘোষণা বলে গণ্য হবে
  2. সাক্ষ্যগত মূল্য হারাবে
  3. সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার হবে তবে ঐ ব্যক্তির  মৃত্যুর পর
  4. আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করে মৃত্যুকালীন ঘোষণা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন।
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা-৩২(১) এর বিধান মৃত্যুকালীন ঘোষণা (Dying declaration)- সাক্ষ্য আইনে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বলতে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিকে বোঝায়। ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ৩২(১) ধারা মোতাবেক কোন ব্যক্তি মৃত্যুর সম্মুখীন হয়ে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে যে বিবৃতি প্রদান করেন, তাকে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বা dying declaration বলা হয়। মৃত্যুকালীন ঘোষণা সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারার আওতায় সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
⇒ মৃত্যুকালীন ঘোষণা [Dying Declaration); কোনো ব্যক্তি তার মৃত্যুর পূর্বে তার  মৃত্যুর কারণ,  মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা যে সকল ঘটনার ফলে মৃত্যু হয়েছে সে সম্পর্কিত লিখিত বা মৌখিক ঘোষণা/বিবৃতি প্রদান করে, তাকেই মৃত্যুকালীন ঘোষণা বলে।
⇒মৃত্যুকালীন ঘোষণা করা যায়: ১. লিখিত ভাবে ২. ইশারায় ৩. মৌখিকভাবে।
⇒মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রযোজ্য: দেওয়ানি মোকদ্দমা ও ফৌজদারি মামলা উভয়ক্ষেত্রেই।
⇒মৃত্যুকালীন ঘোষণা করা যায় যার নিকট: যেকোনো ব্যক্তির নিকট বা সামনে; যেমন: ডাক্তার, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট।
⇒মৃত্যুকালীন ঘোষণা সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করার আগে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে- ঘোষণা প্রদানকারী মৃত [১০৪ ধারার বিধান]।

⇒মৃত্যুকালীন ঘোষণা গ্রহণযোগ্য হবে না: মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রদানকারী মৃত্যুবরণ না করলে [বেঁচে থাকলে]; উক্ত ঘোষণা- সাক্ষ্যগত মূল্য হারাবে। তবে ধারা ১৪৫, ১৫৭ অনুযায়ী সমর্থনমূলক সাক্ষ্য [Dying Recognition] হিসাবে ব্যবহার করা যাবে।
১,২০৫.
একজন দুষ্কর্মে সহযোগী যোগ্য সাক্ষী হবে-
  1. পরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে
  2. খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে
  3. ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির বিরুদ্ধে
  4. সহযোগী আসামির বিরুদ্ধে
ব্যাখ্যা
• ধারা ১৩৩- দুষ্কর্মের সহযোগী:
আসামীর বিরুদ্ধে দুষ্কর্মের সহযোগী সাক্ষ্য দেয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বলে পরিগণিত হবেন। আসামীকে দুষ্কর্মের সহযোগীর অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা দেয়া হলে, শুধুমাত্র সে কারণে ঐ সাজা বেআইনী হবে না।
 
Section 133- Accomplice:
An accomplice shall be a competent witness against an accused person; and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.
১,২০৬.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৭৩খ অনুযায়ী, ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আদালত কাকে হাজির হতে আদেশ দিতে পারে?
  1. শুধুমাত্র চিকিৎসক
  2. শুধুমাত্র আইনজীবী
  3. যাঁর নমুনা প্রয়োজন, তাঁকে
  4. কেবল তদন্তকারী কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৭৩খ(২) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তির রক্ত, বীর্য, চুল, ডিএনএ নমুনা, আঙুলের ছাপ বা অন্য কোনো শারীরিক নমুনার মালিকানা বা উৎপত্তি নিয়ে সন্দেহ থাকে, তাহলে আদালত ওই ব্যক্তিকে হাজির হতে নির্দেশ দিতে পারে।
- এটি ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নমুনা যাচাই করার জন্য প্রয়োজনীয়, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে নমুনাটি প্রকৃতপক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরই কিনা।

অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৭৩খ(২) অনুসারে, ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে (যার নমুনা যেমন - রক্ত, ডিএনএ, আঙুলের ছাপ ইত্যাদি প্রয়োজন) আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিতে পারে।
১,২০৭.
সাক্ষ্য আইনের ১৬৫ ধারার ক্ষমতা সম্পর্কে নিম্নলিখিত কোন বিবৃতি সঠিক?
  1. আদালতের অনুমতি ছাড়া সাক্ষীকে জেরা করা যাবে
  2. বিচারক শুধুমাত্র রায় প্রদানের আগে প্রশ্ন করতে পারেন
  3. এই ধারার ক্ষমতা আদালতের সহজাত ক্ষমতার অন্তর্গত
  4. পক্ষগণ বিচারকের কোন প্রশ্ন বা আদেশ সম্পর্কে আপত্তি করতে পারবে
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ১৬৫ ধারা: বিচারক কর্তৃক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার বা কিছু দাখিল করার আদেশ প্রদানের ক্ষমতা-
বিচারক প্রাসঙ্গিক ঘটনা উদঘাটন করার জন্য অথবা উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য যে কোন সাক্ষীকে যে কোন সময় যে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারবেন, অথবা প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিক ঘটনা সম্পর্কে পক্ষগণকে যে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারবেন এবং যে কোন দলিল বা বস্তু উপস্থাপন করার আদেশ দিতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন অনুসারে যে সকল ঘটনা প্রাসঙ্গিক ও যথারীতি প্রমাণিত বলে ঘোষিত হবে, তার ভিত্তিতেই মামলার রায় দান করতে হবে।

উল্লেখ্য,
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৬৫ ধারায় Inquisitorial system এর বিধান রয়েছে। এখানে বিচারক একজন আইনজীবী ও তদন্তকারীর ভূমিকা পালন করেন।
⇒ পক্ষগণ বা তাদের প্রতিনিধিগণ বিচারকের কোন প্রশ্ন বা আদেশ সম্পর্কে কোন আপত্তি করতে পারবে না। অনুরূপ কোন প্রশ্নের উত্তরে সাক্ষী যা বলবে ঐ সম্পর্কে আদালতের অনুমতি ব্যতীত সাক্ষীকে কোন জেরা করতেও পারবে না।
⇒ এই ধারার ক্ষমতা আদালতের সহজাত ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত।
⇒ এই ধারার ক্ষমতাবলে উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য আদালত মামলার পক্ষ বা সাক্ষী অথবা কোন ব্যক্তিকে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে পারে।
১,২০৮.
Alibi বা অন্যত্র থাকার অজুহাত প্রমাণের দায়ভার সর্বদা অভিযুক্ত ব্যক্তির উপর বর্তাবে। সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় আলোচনা করা হয়েছে?
  1. সাক্ষ্য আইনের ১০২ ধারা
  2. সাক্ষ্য আইনের ১০৩ ধারা
  3. সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারা
  4. সাক্ষ্য আইনের ১০৫ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ ধারা-১০৩ এর বিধান কোন নির্ধারিত বিষয় প্রমাণের দায়িত্বঃ- কোন বিষয়ের অস্তিত্ব যে ব্যক্তি আদালতকে বিশ্বাস করতে চায়, সে প্রসঙ্গের অস্তিত্বে প্রমাণ করার দায়িত্ব সে ব্যক্তির উপর ন্যস্ত, যদি না কোন আইন অনুসারে সে বিষয় প্রমাণের দায়িত্ব কোন ব্যক্তিবিশেষের উপর আরোপিত হয়ে থাকে।

⇒ উদাহরণ
⇒ 'খ'-কে 'ক' চুরির দায়ে ফৌজদারীতে সোপর্দ করে। আদালতকে 'ক' বিশ্বাস করাতে চায় যে, 'গ'-এর নিকট 'খ' চুরির কথা স্বীকার করেছে। অবশ্যই স্বীকৃতি 'ক'-কে প্রমাণ করতে হবে।

⇒ আদালতকে 'খ' বিশ্বাস করাতে চায় যে, সংশ্লিষ্ট সময়কালে সে অন্যত্র ছিল। অবশ্যই এটা তাকে প্রমাণ করতে হবে।

⇒ যেসব ঘটনা অন্যভাবে প্রাসঙ্গিক নয়, সেগুলোও ১১ ধারায় প্রাসঙ্গিক হতে পারে যদি সেগুলো বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ হয় অথবা কোনোভাবে বিচার্য বিষয়ের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে অর্থাৎ বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অস্তিত্বহীনতাকে অধিকভাবে সম্ভব বা অসম্ভব করে তুলে। নিম্নোক্ত পাঁচ প্রকারের ঘটনা ১১ ধারায় প্রাসঙ্গিক হতে পারে। যথা-
i) অপরাধ সংঘটনকালে ঘটনাস্থলে আসামীর অনুপস্থিতি (Plea of Alibi) অর্থাৎ যদি দেখা যায় আসামী অপরাধ সংঘটনকালে ঘটনাস্থল হতে বহু দূরে ছিল তাহলে তা প্রাসঙ্গিক হবে;
ii) সন্তান জারজ কি-না এই প্রশ্নে স্ত্রীর নিকট হতে স্বামীর দূরে থাকার ঘটনা;
iii) কথিত মৃত ব্যক্তি জীবিত আছে এমন ঘটনা;
iv) অভিযুক্ত ব্যক্তি খুন করেছে এই প্রশ্নে, অন্য ব্যক্তি খুন করেছে-এরূপ ঘটনা; অথবা
v) অভিযুক্ত ব্যক্তি আঘাত করেছে এ প্রশ্নে, আহত ব্যক্তি নিজে আঘাত (Self-harming) করেছে-এরূপ ঘটনা ১১ ধারায় প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
⇒ Plea of Alibi- সাক্ষ্য আইনের ১১ ধারায় Plea of Alibi-কে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে। Alibi অর্থ হলো অন্যত্র (Elsewhere), আর Plea of Alibi এর আক্ষরিক অর্থ হল অন্যত্র অবস্থানের অজুহাত। এই শব্দটি ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

⇒ ফৌজদারি মামলায় আসামী এই মর্মে আত্মপক্ষ সমর্থন করে যে, অপরাধ সংঘটনকালে সে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না বা যে ঘটনার জন্য কোন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, ঘটনার সময় সে অন্যত্র ছিল। ফলে সে ঐ অপরাধের জন্য দায়ী নয় ।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৩ ধারামতে অপরাধ সংঘটনকালে আসামী অন্যত্র অবস্থানের দাবি করলে উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণ তাকেই উপস্থাপন করতে হয়। অর্থাৎ অন্যত্র থাকার অজুহাত বা Plea of Alibi প্রমাণের ভার অভিযুক্ত ব্যক্তির উপর বর্তায়।

⇒ বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ কিন্তু আলোচ্য ঘটনার অস্তিত্ব বা অস্তিত্বহীনতাকে সম্ভব বা অসম্মান করে তোলে এমন ঘটনা প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১ ধারায় উদাহরণের মাধ্যমে অপরাধের সময় অন্য কোথাও বা অন্যত্র থাকার অজুহাতকে প্রাসঙ্গিক বলা হয়েছে।

⇒ যখন কোন ব্যক্তি কোন ঘটনা সংঘটনের জন্য অভিযুক্ত হয় এবং সে যদি আদালতে উপস্থাপন করে যে সে অপরাধ সংঘটনের সময় অন্য কোথাও বা অন্যত্র ছিল তখন সে অজুহাতকে Plea of Alibi (Elsewhere) বলে।
১,২০৯.
'মৃত্যুকালীন ঘোষণা' (Dying Declaration) সাক্ষ্য আইনের ধারা ৩২-এর কত নম্বর উপধারায় অন্তর্ভুক্ত?
  1. ৩২(১)
  2. ৩২(২)
  3. ৩২(৩)
  4. ৩২(৪)
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩২(১)-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে: “Section-32. Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant
- Statements, written or verbal, of relevant facts made by a person who is dead, or who cannot be found, or who has become incapable of giving evidence, or whose attendance cannot be procured without an amount of delay or expense which under the circumstances of the case appears to the Court unreasonable, are themselves relevant facts in the following cases:–
When it relates to cause of death;
32(1) When the statement is made by person as to the cause of his death, or as to any of the circumstances of the transaction which resulted in his death, in cases in which the cause of that person's death comes into question. 
Such statements are relevant whether the person who made them was or was not, at the time when they were made, under expectation of death, and whatever may be the nature of the proceeding in which the cause of his death comes into question.”

অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণা (Dying Declaration) এই ৩২(১) উপধারার অধীনেই পড়ে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে, আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারণ সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণা (dying declaration);
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি (statement made in course of business);
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরণের মামলার উদ্ভব করতে পারে (statement against interest of maker);
iv) সর্বসাধারণের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত (opinion as to public right or custom, or matters of general interest);
v) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি (relates to existence of relationship);
vi) পারিবারিক দলিল বা উইল (statement made in will or deed relating to family affairs);
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি (Statement made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question).
-----------
-The Evidence Act, 1872, Section-32: Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant.
- When it relates to cause of death;
or is made in course of business;
or against interest of maker;
or gives opinion as to public right or custom, or matters of general interest;
or relates to existence of relationship;
or is made in will or deed relating to family affairs;
or in document relating to transaction mentioned in section 13, clause (a);
or is made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question

১,২১০.
আত্মীয়তা বা সম্পর্ক বিষয়ে কোনো মৃত ব্যক্তির বিবৃতি নিচে বর্ণিত কোন পরিস্থিতিতে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?
  1. বিরোধ সৃষ্টি হবার মুহূর্তে দেওয়া বিবৃতি
  2. বিরোধ সৃষ্টি হবার পরে দেওয়া বিবৃতি
  3. বিরোধ সৃষ্টি হবার পূর্বে দেওয়া বিবৃতি 
  4. আত্মীয়তা নিয়ে কোনো বিবৃতি আদালতে গ্রহণযোগ্য হয় না
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : বিরোধীয় বিষয়টি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হবার পূর্বে দেওয়া বিবৃতি।

The Evidence Act, 1872 এর ধারা ৩২(৫):
যখন কোনো বিবৃতি (statement) এমন একটি সম্পর্কের অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেমন: রক্তের সম্পর্ক, বিবাহসূত্রে সম্পর্ক, অথবা দত্তক গ্রহণের সম্পর্ক- এবং যিনি ওই বিবৃতিটি দিচ্ছেন, তিনি যদি সেই সম্পর্ক সম্পর্কে জানার বিশেষ উপায় বা জ্ঞান রাখেন, এবং সেই বিবৃতিটি যদি বিবাদ বা মামলার প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়ার আগেই দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই বিবৃতিটি গ্রহণযোগ্য (admissible) প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

১,২১১.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারা অনুযায়ী আদালত ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ সম্পর্কে অনুমান করতে পারে?
  1. ৮৩গ ধারা
  2. ৮৫গ ধারা
  3. ৮৭ক ধারা
  4. ৮৮ ধারা
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৮৫গ ধারা- ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ সম্পর্কে অনুমান:
বিপরীত কিছু প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত আদালত অবশ্যই অনুমান করবে যে, গ্রাহকের যে সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই করা হয়নি তা ব্যতীত ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের উল্লেখিত তথ্য সঠিক, যদি সনদটি গ্রাহক দ্বারা গৃহিত হয়। 
 
⇒ গ্রাহকের তথ্য হিসেবে নির্ধারিত তথ্য যাচাই করা না হলে তা সঠিক বলে আদালত অনুমান করবে না।
 
Section 85C- Presumption as to Digital Signature Certificates.-
The Court shall presume, unless contrary is proved, that the information listed in a Digital Signature Certificate is correct, except for information specified as subscriber information which has not been verified, if the certificate was accepted by the subscriber.
১,২১২.
সাক্ষ্য আইনের Estoppel নীতি কোন বিষয়ে প্রযোজ্য হয় না?
  1. আইন সভা কতৃক প্রণীত আইনের ক্ষেত্রে 
  2. বিধিবদ্ধ আইনের বিরুদ্ধে
  3. ঘটনা বিষয়ক প্রশ্নে
  4. ক ও খ উভয়  ক্ষেত্রে 
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের Estoppel নীতি (প্রতিবন্ধক বা স্বকার্যজনিত বাধা) হলো এমন একটি আইনি নীতি, যা কোনো ব্যক্তিকে তার পূর্বে প্রদত্ত ঘোষণা, কাজ বা কার্য বিরতির বিপরীতে পরবর্তীতে অস্বীকার করতে বাধা দেয়, যদি সেই ঘোষণা বা কাজের উপর ভিত্তি করে অন্য কোনো ব্যক্তি তার অবস্থান পরিবর্তন করে থাকে। Estoppel নীতি প্রযোজ্য হয় ঘটনা বিষয়ক প্রশ্নে (factual matters), অর্থাৎ যেসব ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি তার ইচ্ছাকৃত ঘোষণা, কাজ বা কার্যবিরতির মাধ্যমে অন্য কাউকে কোনো বিষয় সত্য বলে বিশ্বাস করিয়ে তাকে কোনো কাজ করতে প্ররোচিত করে। আইন সভা কতৃক প্রণীত আইনের ক্ষেত্রে বা বিধিবদ্ধ আইনের বিরুদ্ধে এটি প্রযোজ্য হয় না।

সাক্ষ্য আইনে ১৮৭২,ধারা ১১৫, স্বীকৃতির বাধা [Estoppel]: কোনো লোক যখন তাহার ঘোষণা, কার্য বা কার্য হইতে বিরত থাকিবার দ্বারা স্বেচ্ছায় অপর কাহাকেও কোনো কিছু সত্য বলিয়া বিশ্বাস করাইয়াছে বা বিশ্বাস করিতে দিয়াছে এবং সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে কাজ করিতে দিয়াছে, তখন উক্ত দুটি লোকের মধ্যে বা প্রথমোক্ত লোক এবং শেষোক্ত লোকের প্রতিনিধির মধ্যে কোনো মোকদ্দমায় প্রথমোক্ত লোক বা তাহার প্রতিনিধি উক্ত বিষয়ের সত্যতা অস্বীকার করিতে পারিবে না।
----------------------------
The Evidence Act 1872, Section 115, Estoppel: When one person has, by his declaration, act or omission, intentionally caused or permitted another person to believe a thing to be true and to act upon such belief, neither he nor his representative shall be allowed, in any suit or proceeding between himself and such person or his representative, to deny the truth of that thing.

১,২১৩.
৩০ বছরের পুরনো দলিল উপযুক্ত হেফাজত থেকে উপস্থাপন করা হলে, সেটির বিশুদ্ধতা সম্পর্কে আদালতের কী ধরনের অনুমান করতে পারে?
  1. May presume
  2. Shall presume
  3. Conclusive proof
  4. Can presume
ব্যাখ্যা

Evidence Act, 1872 এর ধারা ৯০- ত্রিশ বছর পুরনো দলিল সম্পর্কে অনুমান (Presumption as to documents thirty years old):
যদি কোনো দলিল (document) আদালতে উপস্থাপন করা হয়, যা দেখতে বা প্রমাণ দ্বারা বোঝা যায় যে সেটি ত্রিশ বছর পুরনো,
এবং দলিলটি এমন অভিভাবকত্ব (custody) থেকে উপস্থাপিত হয় যা আদালত নির্দিষ্ট মামলার প্রেক্ষিতে যথাযথ বা উপযুক্ত বলে মনে করে, তাহলে আদালত অনুমান করতে পারে যে (May presume) — দলিলের স্বাক্ষর এবং হাতের লেখা অংশগুলো আসলেই সেই ব্যক্তির নিজের হাতের লেখা; এবং যদি দলিলটি সম্পাদিত (executed) বা সাক্ষ্যযুক্ত (attested) হয়, তাহলে আদালত ধরে নিতে পারে যে এটি যথাযথভাবে সম্পাদিত ও সাক্ষ্যযুক্ত হয়েছে।

ব্যাখ্যা (Explanation):
দলিলকে “উপযুক্ত অভিভাবকত্বে (proper custody)” আছে বলা হবে, যদি তা এমন স্থানে এবং এমন ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে থাকে, যেখানে স্বাভাবিকভাবে সেটি থাকার কথা।
তবে কোনো অভিভাবকত্ব অযথাযথ (improper) ধরা হবে না, যদি দেখা যায় যে সেটি বৈধ উৎস (legitimate origin) থেকে এসেছে,
অথবা মামলার পরিস্থিতি অনুযায়ী বৈধ উৎস থেকে আসা সম্ভাব্য (probable) মনে হয়।

১,২১৪.
Test Identification Parade (TI Parade) এর মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. দলিল যাচাই করা
  2. অপরাধীর স্বীকারোক্তি গ্রহণ করা
  3. সন্দেহভাজন অপরাধীকে শনাক্ত করা
  4. সাক্ষীকে শনাক্ত করা
ব্যাখ্যা
• শনাক্তকরণ প্যারেড বা Test Identification Parade হলো একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সাক্ষীরা একজন অপরাধীকে শনাক্ত করতে সাহায্য করেন।

এই প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
১. একটি গ্রুপ তৈরি করা হয় যেখানে অপরাধী সন্দেহভাজন এবং অন্যান্য কিছু লোকদের রাখা হয়। সকলের বয়স, চেহারা ও পোশাক প্রায় একই ধরনের হয়।
২. সাক্ষীদের এই গ্রুপের সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়।
৩. সাক্ষীদের অনুরোধ করা হয় যে তারা যদি সত্যিকারের অপরাধীকে দেখতে পান তাহলে তাকে শনাক্ত করবেন।
৪. সাক্ষীরা যদি কাউকে শনাক্ত করেন তাহলে সেটাই রেকর্ড করা হয়। আর যদি না করেন তাহলে তাও রেকর্ড করা হয়।

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুসারে শনাক্তকরণ প্যারেড বা টেস্ট আইডেন্টিফিকেশন প্যারেডকে সাক্ষ্য হিসাবে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে। ৯ ধারায় "প্রাসঙ্গিক তথ্য" (Facts Relevant) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে:
"Facts necessary to be proved are those which are...facts which establish their design or conduct, tending to show a particular knowledge or intent of any person."
অর্থাৎ, প্রাসঙ্গিক তথ্যগুলি সেই সব তথ্য যা কোনো ব্যক্তির জ্ঞান বা উদ্দেশ্যমূলক আচরণ প্রমাণ করে।

এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো সাক্ষীদের কাছে একটি বাস্তবিক পরিস্থিতি তৈরি করে দেখানো যাতে তারা নিঃসন্দেহে অপরাধীকে শনাক্ত করতে পারেন। এই প্রক্রিয়াটি বিশেষত চুরি, ডাকাতি, খুন ইত্যাদি মামলায় অপরাধীর পরিচয় নির্ণয়ের জন্য অনুসৃত হয়। আদালতসমূহও শনাক্তকরণ প্যারেডের ফলাফলকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ করে থাকেন।
১,২১৫.
কোনো সাক্ষীকে জেরা করার উদ্দেশ্য কী?
  1. সত্য উদঘাটন করা
  2. সাক্ষ্যকে নস্যাৎ বা দুর্বল করা
  3. বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
জেরার সংজ্ঞা (Cross- Examination):
আহবানকারী পক্ষের সাক্ষীকে বিরুদ্ধ পক্ষ সাক্ষ্য গ্রহন করলে তাকে বলা হয় জেরা। অন্যভাবে বলা যায়, কোন সাক্ষী যে পক্ষের সাক্ষ্য দিতে আদালতে আসে, সে পক্ষের জিজ্ঞাসাবাদের পর বিপরীত পক্ষ যে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাই জেরা বা 'Cross- Examination' হিসেবে পরিচিত। সাক্ষ্য আইনের ১৩৯, ১৪০, ১৪৩, ১৪৫, ১৪৬ ও ১৪৭ ধারায় জেরার বিধান রয়েছে।
 
সাক্ষ্য আইনের ১৪৬ ধারামতে- নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যে জেরা করা যায়। যথা-
i) আসামীর সত্যবাদিতা, পরিচয় ও মর্যাদা উদ্ঘাটন এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা;
ii) বিরুদ্ধ পক্ষের সাক্ষীর সাক্ষ্যকে নস্যাৎ বা দুর্বল করা;
iii) সাক্ষীর মুখ দিয়ে জেরাকারীর পক্ষে কথা বের করা; 
iv) সাক্ষীর বিশ্বাস যোগ্যতা খণ্ডন করার মাধ্যমে প্রদত্ত সাক্ষ্যকে বিশ্বাসের অযোগ্য করে তোলার উদ্দেশ্যে; এবং
v) তর্কিত বিষয়ে সত্য উদঘাটন করাও জেরার উদ্দেশ্য।
১,২১৬.
'A' একটি হারিয়ে যাওয়া দলিলের বিষয়বস্তু মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করতে ইচ্ছুক। 'A' কে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে-
  1. দলিলটি তার দখলে নাই
  2. দলিলটি তার দখলে ছিল
  3. দলিলটি হারিয়ে গেছে
  4. দলিলটি রেজিস্ট্রাট
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারামতে একটি সাক্ষ্যকে আদালতের নিকট গ্রহণযোগ্য করাতে যদি কোন ঘটনা প্রমানের প্রয়োজন হয়, তাহলে যে পক্ষ সাক্ষ্যকে গ্রহণযোগ্য করাতে চায় তাকেই উক্ত ঘটনা প্রমান করতে হবে।

⇒ যেমন- 'B' একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। 'A', 'B'-এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে চায়। সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারামতে এখানে 'A'-কে অবশ্যই 'B'-এর মৃত্যু প্রমাণ করতে হবে; কেননা মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রাসঙ্গিক এবং গ্রহণযোগ্য হবে যদি ঘোষণাকারী মৃত হয়। অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণাটির গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করছে ঘোষণাকারী মৃত কিনা সেই তথ্যের উপর। আর ঘোষণাকারী মৃত কিনা তা প্রমাণের ভার সেই ব্যক্তির উপর বর্তাবে যে মৃত্যুকালীন ঘোষণা সাক্ষ হিসাবে দিতে চায়। যেহেতু এখানে 'A', 'B'-এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে চায় সুতরাং মৃত্যুকালীন ঘোষণাকে গ্রহণযোগ করার জন্য, 'B'-এর মৃত্যু সংক্রান্ত প্রমাণ দাখিলের দায়ভার 'A',-এর উপর বর্তাবে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারার বিধান যে ঘটনা সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য করার জন্য প্রমাণ করতে হবে তা প্রমাণের দায়িত্বঃ- যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি অন্য কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে পারে, তজ্জন্য বিষয় প্রমাণ করা আবশ্যক, সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদানে ইচ্ছুক তার উপর উপরেবর্ণিত বিষয় প্রমাণের দায়িত্ব ন্যস্ত।

⇒ উদাহরণ:

(ক) 'ক' 'খ'-এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে ইচ্ছুক। এক্ষেত্রে অবশ্যই 'খ'-এর মৃত্যু 'ক'-এর প্রমাণ করতে হবে।

(খ) একটি হারিয়ে যাওয়া দলিলের প্রসঙ্গের মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা 'ক' প্রমাণ করতে ইচ্ছুক। দলিলাটি যে হারিয়ে গিয়েছে, অবশ্যই তা 'ক'-এর প্রমাণ করতে হবে।

--------------------
Section-104. Burden of proving fact to be proved to make evidence admissible: The burden of proving any fact necessary to be proved in order to enable any person to give evidence of any other fact is on the person who wishes to give such evidence.

(a) A wishes to prove a dying declaration by B. A must prove B's death.

(b) A wishes to prove, by secondary evidence, the contents of a lost document. A must prove that the document has been lost.
১,২১৭.
নিম্নের কোনটি সাক্ষ্য আইনের ৩১ ধারার মূল ভাব?
  1. স্বীকৃতি  চূড়ান্ত সাক্ষ্য
  2. স্বীকৃতি প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হয় না
  3. স্বীকৃতি কেবল দেওয়ানি মামলায় প্রযোজ্য
  4. স্বীকৃতি প্রমাণের অংশ হতে পারে, তবে এটি চূড়ান্ত নয়
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩১ ধারার বিধান: স্বীকৃতি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, কিন্তু প্রতিবন্ধক হতে পারে: 
কোন বিষয়ে স্বীকৃতি সেই বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। কিন্তু এই আইনে অতঃপর বর্ণিত বিধানসমূহ অনুসারে এগুলি প্রতিবন্ধক হিসেবে কার্যকর হতে পারে।

অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তির স্বীকৃতি আদালতের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ, কিন্তু চূড়ান্ত বা একমাত্র প্রমাণ নয়।
তবে, কিছু ক্ষেত্রে সেই স্বীকৃতি estoppel হিসেবে কাজ করে। মানে, স্বীকারকারী ব্যক্তি পরবর্তীতে নিজের স্বীকারোক্তির বিপরীত কিছু বলতে বা অস্বীকার করতে পারে না।

সুতরাং, ধারাটির মূল ভাব হলো —“স্বীকৃতি প্রমাণের অংশ হতে পারে, তবে এটি চূড়ান্ত নয়।”

১,২১৮.
‘A’ চাইছে হারিয়ে যাওয়া একটি দলিলের বিষয়বস্তু মাধ্যমিক সাক্ষ্য (secondary evidence) দ্বারা প্রমাণ করতে। সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারা অনুসারে তার জন্য কোনটি প্রমাণ করা আবশ্যক?
  1. দলিলটি তার দখলে নেই
  2. দলিলটি হারিয়ে গেছে
  3. দলিলটি তার দখলে ছিল
  4. দলিলটি রেজিস্ট্রার দ্বারা স্বীকৃত
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারামতে একটি সাক্ষ্যকে আদালতের নিকট গ্রহণযোগ্য করাতে যদি কোন ঘটনা প্রমানের প্রয়োজন হয়, তাহলে যে পক্ষ সাক্ষ্যকে গ্রহণযোগ্য করাতে চায় তাকেই উক্ত ঘটনা প্রমান করতে হবে।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারার বিধান যে ঘটনা সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য করার জন্য প্রমাণ করতে হবে তা প্রমাণের দায়িত্ব:- যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি অন্য কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে পারে, তজ্জন্য বিষয় প্রমাণ করা আবশ্যক, সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদানে ইচ্ছুক তার উপর উপরেবর্ণিত বিষয় প্রমাণের দায়িত্ব ন্যস্ত।
উদাহরণ:
(ক) 'ক' 'খ'-এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে ইচ্ছুক। এক্ষেত্রে অবশ্যই 'খ'-এর মৃত্যু 'ক'-এর প্রমাণ করতে হবে।
(খ) 'ক' একটি হারিয়ে যাওয়া দলিলের প্রসঙ্গের মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করতে ইচ্ছুক। দলিলাটি যে হারিয়ে গিয়েছে, অবশ্যই তা 'ক'-এর প্রমাণ করতে হবে।
---------
⇒The Evidence Act, 1872- Section-104. Burden of proving fact to be proved to make evidence admissible: The burden of proving any fact necessary to be proved in order to enable any person to give evidence of any other fact is on the person who wishes to give such evidence.
Illustration:
(a) A wishes to prove a dying declaration by B. A must prove B's death.
(b) A wishes to prove, by secondary evidence, the contents of a lost document. A must prove that the document has been lost.

১,২১৯.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে কোনটি প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য?
  1. সাক্ষী যে বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় তা সে শোনে নি
  2. সাক্ষী যে বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় তা সে দেখেনি
  3. সাক্ষী যে বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় তা নিজে দেখেছে
  4. সাক্ষী যে বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় তা অন্যের মতামত
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য (Direct evidence)-

মৌখিক সাক্ষ্যকে অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে (oral evidence must be direct) অর্থাৎ উপস্থিত সাক্ষী যে বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে তা সে নিজে দেখেছে, শুনেছে বা উপলব্ধি করেছে।

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৬০ মতে-
মৌখিক সাক্ষ্যকে সকল ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে ( oral evidence must be direct)। অর্থাৎ এটি যদি এমন বিষয় সম্পর্কে হয়, যা দেখা যেতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলবে যে, সে এটি দেখেছে তার সাক্ষ্যই দিতে হবে; এটি যদি এমন বিষয় সম্পর্কে হয় যা শোনা যেতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলে যে, সে এটি শুনেছে, তার সাক্ষ্যই দিতে হবে। অর্থাৎ অন্যের কাছ থেকে শোনা সাক্ষ্য প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
১,২২০.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুসারে সাক্ষীকে বৈরি ঘোষনা করা হয়?
  1. ১৫২ ধারায়
  2. ১৫৩ ধারায়
  3. ১৫৪ ধারায়
  4. ১৫৫ ধারায়
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারায় সুস্পষ্টভাবে বৈরী সাক্ষী বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। বৈরী সাক্ষী হলো এমন একজন সাক্ষী যে, সে যে উপায়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে তা থেকে বোঝা যায় যে, সে আদালতের নিকট সত্য বলতে ইচ্ছা প্রকাশ করছে না। বৈরী সাক্ষী বলতে মিথ্যুক সাক্ষী বোঝায় না। সাক্ষী যে সাক্ষ্য দিচ্ছে তা থেকে সাক্ষীর বৈরীতা বুঝতে হবে। বিষয়টি হলো যখন যে পক্ষ কোন সাক্ষীকে আহ্বান করে বা ডাকে, সেই পক্ষ উক্ত সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ যখন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করে, তখন সাক্ষীর নিকট যে প্রশ্ন করা হয় তখন সে উক্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করতে পারে বা বৈরী হতে পারে। সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ এমন ধরণের সাক্ষীকে বৈরী সাক্ষী হিসাবে ঘোষণা করতে পারে।

⇒ ১৫৪ ধারার বক্তব্য অনুযায়ী- বিরুদ্ধ পক্ষ জেরায় যেসব প্রশ্ন করতে পারে, সেসব প্রশ্ন যদি কোন পক্ষ নিজের সাক্ষীকে করার অনুমতি চায়, আদালত তা করার অনুমতি দিতে পারে। এরূপ সাক্ষীকে বৈরী/প্রতিকূল সাক্ষী (Hostile witness) বলে ।

⇒ বৈরী সাক্ষীকে সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষের জেরা করার অনুমতি দান করা আদালতের বিবেচনার উপর নির্ভর করে। আইনের সাধারণ নীতি অনুযায়ী সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ তার নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে না। কিন্তু সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারার অধীন আদালতের অনুমতি নিয়ে যে পক্ষ সাক্ষী নিয়ে আসে, সে পক্ষ নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে। এ ধরনের সাক্ষী হল বৈরী (Hostile) সাক্ষী।

⇒ সাধারণত জেরা করার উদ্দেশ্য হলো প্রতিপক্ষের সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা। এরূপ কাজ কোন মামলার বিরুদ্ধ পক্ষ করে থাকে, তবে ১৫৪ ধারার অধীন সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের সাক্ষীকে জেরা করে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে।

⇒ যখন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা হয়:
১) সাক্ষী যদি নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়
২) সাক্ষী যদি বিরুদ্ধ পক্ষের সমর্থনে সাক্ষ্য দেয়
৩) সাক্ষী যদি তার পূর্বের সাক্ষ্য থেকে সরে এসে বিপরীত সাক্ষ্য দেয়।

⇒ এরূপ ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ নিজ সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করে জেরা করার জন্য আদালতের অনুমতির জন্য দরখাস্ত/ আবেদন দেয়। আদালত উক্ত আবেদন গ্রহণ করলে সাক্ষী বৈরী হয় এবং নিজপক্ষের অ্যাডভোকেট তাকে জেরা করতে পারে।

১,২২১.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৩৩ অনুসারে, দুষ্কর্মের সহযোগী (accomplice) কোন ধরনের সাক্ষী?
  1. অযোগ্য সাক্ষী
  2. উপযুক্ত সাক্ষী
  3. আংশিক‑যোগ্য সাক্ষী
  4. বাদী পক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে যোগ্য সাক্ষী
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৩৩- দুষ্কর্মের সহযোগী:
আসামীর বিরুদ্ধে দুষ্কর্মের সহযোগী সাক্ষ্য দেয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বলে পরিগণিত হবেন। আসামীকে দুষ্কর্মের সহযোগীর অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা দেয়া হলে, শুধুমাত্র সে কারণে ঐ সাজা বেআইনী হবে না।
 
Section 133- Accomplice:
An accomplice shall be a competent witness against an accused person; and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.
১,২২২.
"স্বীকৃতি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, তবে প্রতিবন্ধক হতে পারে"—এই বিষয়টি সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় উল্লিখিত?
  1. ১৭ ধারায়
  2. ২৫ ধারায়
  3. ২৭ ধারায়
  4. ৩১ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ "স্বীকৃতি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, তবে প্রতিবন্ধক হতে পারে"—এই বিষয়টি সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩১-এ উল্লেখিত হয়েছে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে, স্বীকৃতি (admissions) চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, তবে এটি প্রতিবন্ধক (estoppel) হতে পারে। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি যা কিছু স্বীকার করেছে, তা অবশ্যই প্রমাণের চূড়ান্ত পদ্ধতি নয়, তবে যদি তার স্বীকৃতির উপর ভিত্তি করে অন্য কোনো পক্ষ যে কোনো দাবিতে চলে আসে, তবে ওই ব্যক্তি পরে তার স্বীকৃতির বিপরীতে দাঁড়াতে পারবেন না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩১ ধারার বিধান: স্বীকৃতি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, কিন্তু প্রতিবন্ধক হতে পারে:
কোনো বিষয়ে স্বীকৃতি সেই বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। কিন্তু এই আইনে অতঃপর বর্ণিত বিধানসমূহ অনুসারে এগুলি প্রতিবন্ধক হিসেবে কার্যকর হতে পারে।
-------------
⇒ The Evidence Act,1872, Section 31: Admissions not conclusive proof, but may stop:
Admissions are not conclusive proof of the matters admitted but they may operate as estoppels under the provisions hereinafter contained.
১,২২৩.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৩৩ অনুযায়ী কে আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হবেন?
  1. আসামীর আত্মীয়
  2. দুষ্কর্মের সহযোগী
  3. কোনো স্বাধীন সাক্ষী
  4. শুধুমাত্র পুলিশ কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৩৩ অনুযায়ী "An accomplice shall be a competent witness against an accused person; and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice."
- এখানে “Accomplice” বলতে বোঝানো হয়েছে সেই ব্যক্তি, যে অপরাধে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত বা সহায়তা করেছে। যদিও সে নিজেও দোষী, তবুও সে আইনত উপযুক্ত (competent) সাক্ষী হিসেবে গণ্য হয় এবং তার সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আসামিকে দণ্ড দেওয়া আইনসঙ্গত।
- তবে সতর্কতা হিসেবে, আদালত সাধারণত দুষ্কর্মের সহযোগীর সাক্ষ্যের সাথে সমর্থনকারী সাক্ষ্য (corroborative evidence) খোঁজে, যেটা ধারা ১১৪-এর illustration (b) তে উল্লেখ রয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারার বিধান- দুষ্কর্মের সহযোগী:
আসামীর বিরুদ্ধে দুষ্কর্মের সহযোগী সাক্ষ্য দেয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বলে পরিগণিত হবেন। আসামীকে দুষ্কর্মের সহযোগীর অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা দেয়া হলে, শুধুমাত্র সে কারণে ঐ সাজা বেআইনী হবে না।
--------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section-133- Accomplice:
- An accomplice shall be a competent witness against an accused person; and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.

১,২২৪.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় অনুমান (Presumption) এর বিধান আছে?
  1. সাক্ষ্য আইনের ৩ ধারায়
  2. সাক্ষ্য আইনের ৪ ধারায়
  3. সাক্ষ্য আইনের ৫ ধারায়
  4. সাক্ষ্য আইনের ৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪ ধারার বিধান অনুমান করতে পারে (May presume): যেখানেই এই আইনের বিধান আছে যে, আদালত কোন বিষয় ধরে নিতে পারেন, সেখানে আদালত হয় সেই বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন; না হয় তা প্রমাণ করার আহ্বান জানাবেন।

⇒ অনুমান করবে (Shall presume): যেখানেই এই আইনের নির্দেশ আছে যে, আদালত কোন বিষয় অবশ্যই ধরে নিবেন, সেখানে উক্ত বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন।

⇒ চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof): এই আইনে যখন একটি বিষয়কে অপর একটি বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ বলে যোষণ করা হয়, তখন আদালত প্রথমোক্ত বিষয় প্রমাণিত হলে অপর বিষয়ও প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন এবং তা মিথ্যা প্রমাণিত করার জন্য সাক্ষ্যদানের অনুমতি দিবেন না।

⇒ অনুমান (Presumption) - অনুমান ৩ প্রকার:

১) অনুমান করতে পারে (May presume): মিথ্যা প্রমানিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত ধরে নিতে পারেন প্রমাণিত। (ধারা: ৮৬-৮৮, ৯০ এবং ১১৪)

২) অনুমান করবে (Shall presume): মিথ্যা প্রমানিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত অবশ্যই ধরে নিবেন প্রমানিত (ধারা: ৭৯-৮৫, ৮৯ এবং ১০৫)

৩) চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof): একটি বিষয়কে অন্য বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমান হিসেবে ঘোষণা করা, যা অবশ্যই প্রমাণিত এবং অপ্রমাণিত করার জন্য কোন প্রকার সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না। (ধারা: ৪১ ও ১১২)

⇒ May Presume হল কোন বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করতে পারেন অথবা পক্ষগণকে প্রমাণ করার আহবান জানাতে পারেন।

⇒ Shall presume হল কোন বিষয় মিথ্যা প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত আদালত তা অবশ্যই প্রমাণিত বলে ধরে নিবেন।

⇒ যখন একটি বিষয়কে অপর একটি বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive Proof) বলে ঘোষনা করা হয়, তখন আদালত প্রথমোক্ত বিষয় প্রমাণিত হলেই অপর বিষয়ও প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন এবং প্রথমোক্ত বিষয়টি মিথ্যা প্রমাণিত করার জন্য সাক্ষ্য প্রদানের অনুমতি দিবেন না।
১,২২৫.
চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof) সম্পর্কে নিম্নলিখিত কোনটি সঠিক?
  1. মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য সাক্ষ্য প্রদান অনুমোদিত
  2. আদালত বিষয়টি প্রমাণ করার আহ্বান জানাবেন
  3. মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য সাক্ষ্য প্রদান অনুমোদিত নয়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৪ ধারার মতে- অনুমান (Presumption) ৩ প্রকার:
১) অনুমান করতে পারে (May presume);
২) অনুমান করবে (Shall presume);
৩) চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof)।

অনুমান করতে পারে (May presume):
যেখানেই এই আইনের বিধান আছে যে, আদালত কোন বিষয় ধরে নিতে পারেন, সেখানে আদালত হয় সেই বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন; না হয় তা প্রমাণ করার আহ্বান জানাবেন।

অনুমান করবে (Shall presume):
যেখানেই এই আইনের নির্দেশ আছে যে, আদালত কোন বিষয় অবশ্যই ধরে নিবেন, সেখানে উক্ত বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন।

চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof):
এই আইনে যখন একটি বিষয়কে অপর একটি বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ বলে গণ্য করা হয়, তখন আদালত প্রথমোক্ত বিষয় প্রমাণিত হলে অপর বিষয়ও প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন এবং তা মিথ্যা প্রমাণিত করার জন্য সাক্ষ্যদানের অনুমতি দিবেন না।
১,২২৬.
নিম্নের কোন বিষয়ে নিজের সাক্ষীকে ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন (Leading Question) করা যায়?
  1. যে কোন বিষয়
  2. স্বীকৃত বিষয়
  3. তর্কিত বিষয়
  4. বিশেষজ্ঞ মতামত বিষয়
ব্যাখ্যা
• যে প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর থাকে, তাকে নির্দেশক প্রশ্ন বা ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বা Leading question বলে। অর্থাৎ নির্দেশক প্রশ্ন বা Leading question তাই যার মধ্যে উক্ত প্রশ্নের উত্তরের ইঙ্গিত থাকে।

সাক্ষ্য আইনের ১৪২ ধারা বিধান ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন যখন অবশ্যই করা যাবে না (When they must not be asked) :
বিরুদ্ধ পক্ষ যদি আপত্তি করেন, তবে জবানবন্দী ও পুনঃজবানবন্দী গ্রহণকালে আদালতের অনুমতি ব্যতীত ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা যাবে না।

যেসকল বিষয় ভূমিকামূলক অথবা বিতর্কিহীন অথবা যেসব বিষয় পূর্বেই যথেষ্টরূপে প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত মনে করেন, সে সকল বিষয় সম্পর্কে আদালত অবশ্যই ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করার অনুমতি দিবেন।
১,২২৭.
সাক্ষ্য আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী কয় ধরনের ঘটনা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয়া যায়?
  1. ৩ ধরনের
  2. ২ ধরনের
  3. ৪ ধরনের
  4. ৫ ধরনের
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৫ ধারার বিধান অনুযায়ী- 'বিচার্য ঘটনা ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা'- এই দুই ধরনের ঘটনা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইতে পারে।

⇒ কোন মামলায় বা কার্যক্রমে বিচার্য প্রত্যেক বিষয়ের এবং এই আইনের অতঃপর যে সকল বিষয় প্রাসঙ্গিক বলিয়া ঘোষিত হইয়াছে তাহাদের অস্তিত্ব বা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইতে পারে। ইহা ভিন্ন অন্য কোন বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইবে না।
ব্যাখ্যাঃ দেওয়ানী কার্যবিধি সম্পর্কে বর্তমান প্রচলিত কোন আইন অনুসারে কোন ব্যাক্তি যে বিষয় প্রমাণ করার অধিকার নহে, এই ধারা অনুসারে সেই ব্যাক্তি সেই বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে পারে না।

Section 5⇒ Evidence may be given of facts in issue and relevant facts:
Evidence may be given in any suit or proceeding of the existence or non-existence of every fact in issue and of such other fact as are hereinafter declared to be relevant, and of no others.
Explanation.-This section shall not enable any person to give evidence of a fact which he is disentitled to prove by any provision of the law for the time being in force relating to Civil Procedure.
১,২২৮.
'খ', 'ক'- কে একটি অপরাধ করতে দেখেছে, 'খ'-নিজে আদালতে না এসে 'গ' কে এটি বলে। 'গ' আদালতে এসে বলে যে, সে শুনেছে যে 'খ' 'ক'- কে অপরাধ করতে দেখেছে। তাহলে 'গ' এর সাক্ষ্য হবে-
  1. মৌখিক সাক্ষ্য
  2. জনশ্রুত সাক্ষ্য
  3. প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ পরোক্ষ বা জনশ্রুত সাক্ষ্য (indirect/hearsay evidence)- পরোক্ষ বা জনশ্রুত সাক্ষ্য হলো তাই যা আদালতে উপস্থিত সাক্ষী পূর্বে অন্য সাক্ষীর নিকট থেকে শোনাক্রমে প্রদান করে। অর্থাৎ নিজে না দেখে অন্যের কাছ থেকে শুনে যে সাক্ষ্য দেয়া হয়। তাকে পরোক্ষ বা জনশ্রুত সাক্ষ্য বা hearsay evidence বলে। জনশ্রুত সাক্ষ আদালতে গ্রহনযোগ্য নয়।

⇒ এখানে 'খ', 'ক'- কে একটি অপরাধ করতে দেখে তাহলে নিয়ম হলো, 'খ'-নিজে ৬০ ধারার অধীনে আদালতে এসে এ বিষয়ে সাক্ষ্য দেবে। কিন্তু 'খ' না এসে 'গ' এসে বলে যে, সে শুনেছে যে 'খ' 'ক'- কে অপরাধ করতে দেখেছে তাহলে এটি জনশ্রুত সাক্ষ বল্যে গণ্য হবে, যা গ্রহনযোগ্য নয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারার বিধান মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হইতে হইবেঃ মৌখিক সাক্ষ্য সকল ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রত্যক্ষ হইতে হইবে,
অর্থাৎ সাক্ষ্যে উল্লিখিত তথ্য যদি দেখা যাইতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলিবে যে, সে উহা দেখিয়াছে তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।

⇒ সাক্ষ্যে উল্লিখিত তথ্য যদি শোনা যাইতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলিবে যে সে উহা শুনিয়াছে, তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।

⇒ জনশ্রুত সাক্ষ্য (hearsay evidence) ধরনের মৌখিক সাক্ষ্য সাধারণতঃ গ্রহণযোগ্য নয়।
----------------
⇒ Oral evidence must be direct.
Section 60. Oral evidence must, in all cases whatever, be direct; that is to say- 
 
if it refers to a fact which could be seen, it must be the evidence of a witness who says he saw it; 
 
if it refers to a fact which could be heard, it must be the evidence of a witness who says he heard it;
১,২২৯.
সাক্ষ্য আইনের ৭৩খ ধারায় আদালত কোন ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিতে পারে?
  1. যে ব্যক্তি সাক্ষী হতে চায়
  2. শারীরিক সাক্ষ্য যেই ব্যক্তির
  3. যে ব্যক্তি অভিযুক্ত
  4. যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিতে অনিচ্ছুক
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ধারা-৭৩খ: অন্যদের সাথে শারীরিক বা ফরেনসিক সাক্ষ্য তুলনা, স্বীকৃত বা প্রমাণিত:

(১) রক্ত, বীর্য, চুলের নমুনা, ডিএনএ নমুনা, অন্য কোন জৈবিক পদার্থ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা অঙ্গের কোন অংশ, আঙ্গুলের ছাপ, তালুর ছাপ বা চোখের কনীনিকার ছাপ বা পায়ের ছাপ যেই ব্যক্তির কাছ থেকে এটি সংগ্রহ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয় সেই ব্যক্তির কি না তা নিশ্চিত করার জন্য আদালত আদেশ দিতে পারেন যে, এটিকে যেকোন নমুনার সাথে তুলনা করা হবে যা আদালতের সন্তুষ্টির জন্য স্বীকার করা হয়েছে বা প্রমাণিত হয়েছে যে ব্যক্তিটি থেকে এসেছে বা তৈরি করেছে, যদিও সেই রক্ত, বীর্যের নমুনা, চুল, ডিএনএ নমুনা, জৈবিক পদার্থ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা অঙ্গের কোনো অংশ, আঙ্গুলের ছাপ, তালুর ছাপ, চোখের কনীনিকার ছাপ, পায়ের ছাপ বা অন্য কোনো বন্ধু অন্য কোনো উদ্দেশ্যে তৈরি বা প্রমাণিত হয়নি।

(২) যদি এমন কোন দাবি থাকে যে রক্ত, বীর্য, চুল, ডিএনএ নমুনা, অন্য কোন জৈবিক পদার্থ, অঙ্গ বা অঙ্গের কোন অংশ, আঙ্গুলের ছাপ, তালুর ছাপ, চোখের কনীনিকার ছাপ, পায়ের ছাপ যার অন্তর্গত বা তা তৈরি করা হয়েছে যে কোনো ব্যক্তি দ্বারা আদালত সেই ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিতে পারে, যাতে আদালত তুলনা করতে সক্ষম হয়।

(৩) শারীরিক বা ফরেনসিক সাক্ষ্য প্রমাণের সত্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রে, এই আইনের ধারা ৬০ এবং ১৬৫-এর কোন কিছুই আদালতকে তার সনাক্তকরণ সংক্রান্ত অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সহ একটি প্রদর্শনী হিসাবে আদালতে উপস্থাপন করতে বাধা দেবে না।

Section 73B⇒ Comparison of physical or forensic evidence with others, admitted or proved:
(1) In order to ascertain whether a sample of blood, semen, hair, DNA sample, any other biological substance, limbs or any part of limb, finger impression, palm impression or iris impression or foot impression belongs to or is created by that person from whom it purports to have been collected, the Court may order that it be compared with any sample which is admitted or proved to the satisfaction of the Court to have come from or been made by the person, although that sample of blood, semen, hair, DNA sample, biological substance, limbs or any part of limb, finger impression, palm impression, iris impression, foot impression or any other substance has not been produced or proved for any other purpose.

(2) If there is any claim that the sample of blood, semen, hair, DNA sample, any other biological substance, limbs or any part of limb, finger impression, palm impression, iris impression, foot impression belongs to or is created by any person, the Court may direct that person to be present in Court for the purpose of enabling the Court to make that comparison.

(3) In relation to proving the authenticity of physical or forensic evidence, nothing in sections 60 and 165 of this Act, should prevent the Court from seeking its production in Court as an exhibit, along with any other necessary evidence concerning its identification.
১,২৩০.
একটি হারিয়ে যাওয়া দলিলের বিষয়বস্তু মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা 'ক' প্রমাণ করতে ইচ্ছুক। দলিলাটি যে হারিয়ে গিয়েছে, তা কে প্রমাণ করবে?
  1. 'ক'
  2. সাক্ষী
  3. আদালত
  4. দলিলের মালিক
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারা- যে ঘটনা সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য করার জন্য প্রমাণ করতে হবে তা প্রমাণের দায়িত্বঃ
যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি অন্য কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে পারে, তজ্জন্য বিষয় প্রমাণ করা আবশ্যক, সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদানে ইচ্ছুক তার উপর উপরে বর্ণিত বিষয় প্রমাণের দায়িত্ব ন্যস্ত।

উদাহরণ:
(ক) 'ক' 'খ'-এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে ইচ্ছুক। এক্ষেত্রে অবশ্যই 'খ'-এর মৃত্যু 'ক'-এর প্রমাণ করতে হবে।
(খ) একটি হারিয়ে যাওয়া দলিলের প্রসঙ্গের মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা 'ক' প্রমাণ করতে ইচ্ছুক। দলিলাটি যে হারিয়ে গিয়েছে, অবশ্যই তা 'ক'-এর প্রমাণ করতে হবে।

Section-104. Burden of proving fact to be proved to make evidence admissible:
The burden of proving any fact necessary to be proved in order to enable any person to give evidence of any other fact is on the person who wishes to give such evidence.

(a) A wishes to prove a dying declaration by B. A must prove B's death.
(b) A wishes to prove, by secondary evidence, the contents of a lost document. A must prove that the document has been lost.
১,২৩১.
সরকারি দলিলের প্রত্যয়িত কপি কে সরবরাহ করতে পারেন?
  1. যে কোনো ব্যক্তি
  2. শুধুমাত্র আদালতের বিচারক
  3. কোনো বেসরকারি সংস্থা
  4. সরকারি দলিলের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৭৬ অনুসারে —
যে সরকারি কর্মকর্তা কোনো সরকারি দলিলের হেফাজতে আছেন এবং যিনি আইন অনুযায়ী জনগণের অনুরোধে ঐ দলিল প্রদর্শনের অধিকার রাখেন, তিনি ঐ দলিলের প্রত্যয়িত কপি (certified copy) সরবরাহ করতে পারেন।
এই কপি দিতে হলে:
- নির্ধারিত সরকারি ফি জমা দিতে হয়।
- প্রত্যয়িত কপির নিচে লেখা থাকে এটি মূল কাগজের সঠিক অনুলিপি।
- তাতে কর্মকর্তার নাম, পদবি, তারিখ এবং প্রয়োজনে সরকারি সীলমোহর থাকে।
Explanation-এ আরও বলা হয়েছে, যিনি তার দাপ্তরিক দায়িত্বে এসব কপি সরবরাহের ক্ষমতা রাখেন, তাকেই দলিলের হেফাজতকারী হিসেবে গণ্য করা হবে।

- অর্থাৎ প্রত্যয়িত কপি কেবলমাত্র সেই সরকারি কর্মকর্তা দিতে পারেন, যিনি ঐ সরকারি দলিলের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন এবং আইনের অধীনে কপি সরবরাহে ক্ষমতাপ্রাপ্ত।

⇒The Evidence Act, 1872, Section-76. Certified copies of public documents: 
 Every public officer having the custody of a public document, which any person has a right to inspect, shall give that person on demand a copy of it on payment of the legal fees therefor, together with a certificate written at the foot of such copy that it is a true copy of such document or part thereof, as the case may be, and such certificate shall be dated and subscribed by such officer with his name and his official title, and shall be sealed, whenever such officer is authorized by law to make use of a seal, and such copies so certified shall be called certified copies. 
 
Explanation.-Any officer who, by the ordinary course of official duty, is authorized to deliver such copies, shall be deemed to have the custody of such documents within the meaning of this section.

১,২৩২.
বিচারিক ও দাপ্তরিক কার্যাবলী নিয়মিতভাবে সম্পন্ন হয়েছে মর্মে অনুমানের ক্ষমতা আদালতকে প্রদান করা হয়েছে The Evidence Act, 1872 এর ________ ধারায়।
  1. ১০৬
  2. ৫৬
  3. ১১৪
  4. ৫৮
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ (The Evidence Act, 1872)-এর ধারা ১১৪ আদালতকে কিছু অনুমান (presumptions) করার ক্ষমতা প্রদান করে। এই ধারা অনুসারে, আদালত এই মর্মে অনুমান করতে পারে যে বিচারিক ও দাপ্তরিক কার্যাবলী (judicial and official acts) নিয়মিতভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যতক্ষণ না বিপরীত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১৪ ধারার বিধান: আদালত কিছু তথ্যের অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে-
আদালত প্রকৃতি এবং মানবিক আচরণের সাধারণ গতিপ্রকৃতি, সরকারি ও বেসরকারি কার্যাবলীর সাপেক্ষে বিশেষ মামলার তথ্যগুলি বিবেচনা করে, যে কোনো তথ্য বা ঘটনার অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে যা আদালতের মতে সম্ভবত ঘটেছে। আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুমান করতে পারে -
(ক) যে ব্যক্তি চুরির কিছুক্ষণ পরেই চুরি মালামাল দখলে রাখে, সে নিজেই চোর অথবা জেনেশুনে চুরি মাল গ্রহণ করেছে, যদি না সে তার দখলের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে;
(খ) যে ব্যক্তি অপরাধের সহযোগী, সে অবিশ্বাসযোগ্য, যদি না তার সাক্ষ্যের মূল বিষয়গুলি অন্য কোনো প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হয়;
(গ) একটি হুন্ডি স্বীকৃত বা অনুমোদিত হয়েছে প্রাপ্য মূল্যের বিনিময়ে;
(ঘ) যেকোনো বস্তু বা অবস্থা যা এমন সময়সীমার মধ্যে দেখা গেছে যে সময়সীমার মধ্যে এরকম বস্তু বা অবস্থা সাধারণত লুপ্ত হয়ে যায় না, তা এখনও বিদ্যমান রয়েছে;
(ঙ) বিচারিক এবং সরকারি কার্যাবলী নিয়মানুসারে সম্পাদিত হয়েছে;
(চ) বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক নিয়মানুসারে কার্যক্রম পালিত হয়েছে;
(ছ) যে প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব ছিল কিন্তু করা হয়নি, তা উপস্থাপিত হলে যে ব্যক্তি তা প্রমাণ করতে অস্বীকার করেছেন তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(জ) কোনো ব্যক্তি যদি আইনসম্মতভাবে বাধ্য না হয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে, তাহলে মনে করা হবে উত্তরটি তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(ঝ) কোনো দায়বদ্ধকারী দলিল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে থাকলে, মনে করা হবে দায়িত্বটি পরিশোধিত হয়েছে।
তবে বিশেষ মামলার ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলি প্রযোজ্য কিনা তা বিবেচনা করার সময় আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলিও বিবেচনা করবে।

⇒ The Evidence Act, 1872 Section- 114. Court may presume existence of certain facts:
The court may presume the existence of any fact which it thinks likely to have happened, regard being had to the common course of natural events, human conduct and public and private business, in their relation to the facts of the particular case.

Illustrations
The Court may presume –
(a) that a man who is in possession of stolen goods soon after the theft, is either the thief or has received the goods knowing them to be stolen, unless he can account for his possession;
(b) that an accomplice is unworthy of credit, unless he is corroborated in material particulars;
(c) that a bill of exchange, accepted or endorsed, was accepted or endorsed for good consideration;
(d) that a thing or state of things which has been shown to be in existence within a period shorter than that within which such things or states of things usually cease to exist, is still in existence;
(e) that judicial and official acts have been regularly performed;
(f) that the common course of business has been followed in particular cases;
(g) that evidence which could be and is not produced would, if produced, be unfavourable to the person who withholds it;
(h) that, if a man refuses to answer a question which he is not compelled to answer by law, the answer, if given, would be unfavourable to him;
(i) that when a document creating an obligation is in the hands of the obligor, the obligation has been discharged.
But the Court shall also have regard to such facts as the following, in considering whether such maxims do or do not apply to the particular case before it:–
as to illustration (a) –A shop-keeper has in his till a marked Taka soon after it was stolen, and cannot account for its possession specifically, but is continually receiving Taka in the course of his business:
as to illustration (b)–A, a person of the highest character, is tried for causing a men's death by an act of negligence in arranging certain machinery. B, a person of equally good character, who also took part in the arrangement, describes precisely what was done, and admits and explains the common carelessness of A and himself:
as to illustration (b)–a crime is committed by several persons. A, B and C, three of the criminals, are captured on the spot and kept apart from each other. Each gives an account of the crime implicating D, and the accounts corroborate each other in such a manner as to render previous concert highly improbable:
as to illustration (c)–A, the drawer of a bill of exchange, was a man of business. B, the acceptor, was a young and ignorant person, completely under A's influence:
as to illustration (d)–it is proved that a river ran in a certain course five years ago, but it is known that there have been floods since that time which might change its course:
as to illustration (e)–a judicial act, the regularity of which is in question, was performed under exceptional circumstances:
as to illustration (f)–the question is, whether a letter was received. It is shown to have been posted, but the usual course of the post was interrupted by disturbances:
as to illustration (g)–a man refuses to produce document which would bear on a contract of small importance on which he is sued, but which might also injure the feelings and reputation of his family:
as to illustration (h)–a man refuses to answer a question which he is not compelled by law to answer, but the answer to it might cause loss to him in matters unconnected with the matter in relation to which it is asked:
as to illustration (i)–a bond is in possession of the obligor, but the circumstances of the case are such that he may have stolen it.
১,২৩৩.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর কয়টি খন্ড?
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ২টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর প্রাথমিক তথ্য:
 
আইন নং: ১৮৭২ সালের ১নং আইন।
প্রকাশিত : ১৫ মার্চ, ১৮৭২।
কার্যকর : ১ লা সেপ্টেম্বর, ১৮৭২।
ধারা : ১৬৭ টি।
 
খন্ড : ৩টি
১ম খন্ড : ১ - ৫৫ ধারা - ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা,
২য় খন্ড : ৫৬ - ১০০ ধারা - ঘটনার প্রমাণ,
৩য় খন্ড : ১০১ - ১৬৭ ধারা - সাক্ষ্য উপস্থাপন ও ইহার ফলাফল। 
১,২৩৪.
'Dying Declaration' কীভাবে দেয়া যায়?
  1. ইশারায়
  2. লিখিত ভাবে
  3. মৌখিক ভাবে
  4. ক বা খ বা গ
ব্যাখ্যা
• The Evidence Act এর ধারা-৩২(১) এর বিধান মৃত্যুকালীন ঘোষণা (Dying declaration)-
সাক্ষ্য আইনে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বলতে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিকে বোঝায়। ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ৩২(১) ধারা মোতাবেক কোন ব্যক্তি মৃত্যুর সম্মুখীন হয়ে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে যে বিবৃতি প্রদান করেন, তাকে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বা dying declaration বলা হয়। মৃত্যুকালীন ঘোষণা সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারার আওতায় সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

মৃত্যুকালীন ঘোষণা করা যায়: ১. লিখিত ভাবে ২. ইশারায় ৩. মৌখিক ভাবে।
মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রযোজ্য: দেওয়ানি মোকদ্দমা ও ফৌজদারি মামলা উভয় ক্ষেত্রেই।
মৃত্যুকালীন ঘোষণা করা যায় যার নিকট: যেকোনো ব্যক্তির নিকট বা সামনে; যেমন: ডাক্তার, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট।
মৃত্যুকালীন ঘোষণা সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করার আগে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে- ঘোষণা প্রদানকারী মৃত [১০৪ ধারার বিধান]।

মৃত্যুকালীন ঘোষণা গ্রহণযোগ্য হবে না: মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রদানকারী মৃত্যুবরণ না করলে [বেঁচে থাকলে]; উক্ত ঘোষণা- সাক্ষ্যগত মূল্য হারাবে। তবে ধারা ১৪৫, ১৫৭ অনুযায়ী সমর্থনমূলক সাক্ষ্য [Dying Recognition] হিসাবে ব্যবহার করা যাবে।
১,২৩৫.
সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারা অনুসারে, একজন উকিল কোন বিষয়ে মক্কেলের সম্মতি ব্যতীত তথ্য প্রকাশ করতে পারেন?
  1. নিযুক্তির পরে মক্কেল কর্তৃক কোনো অপরাধ বা প্রতারণা সংঘটিত হয়েছে এ বিষয়ে
  2. মক্কেল কতৃক আইনজীবীর নিকট লিখিত কোন পত্রের বিষয়ে 
  3. মক্কেলকে  দেওয়া আইনি পরামর্শ বিষয়ে 
  4. পেশাগত নিযুক্তির সময় আইনজীবী মক্কেলের যে দলিলের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে পেরেছেন
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১২৬ অনুযায়ী,
একজন ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল তাঁর মক্কেলের পক্ষ থেকে বা মক্কেলের উদ্দেশ্যে প্রাপ্ত পেশাগত যোগাযোগের তথ্য গোপন রাখতে বাধ্য, তবে এর দুইটি ব্যতিক্রম রয়েছে:
১. যদি মক্কেলের সঙ্গে যোগাযোগ বেআইনি উদ্দেশ্যে করা হয়।
২. যদি আইনজীবী তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এমন কিছু লক্ষ করেন, যা প্রমাণ করে যে নিযুক্তির পরে কোনো অপরাধ বা প্রতারণা সংঘটিত হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারার বিধান পেশা সম্পর্কিত বার্তা: ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মক্কেলের ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল হিসাবে কাজ করিবার সময় এবং উদ্দেশ্যে উক্ত মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে তাহার নিকট প্রদত্ত কোন বার্তার বিষয় মক্কেলের অনুমতি ব্যতীত প্রকাশ করিতে অনুমতি পাইবেন না। অথবা বৃত্তিগত কার্য সম্পাদনকালে এবং প্রসঙ্গে মক্কেলের যেই সকল দলিলের সহিত তিনি পরিচিত হইয়াছিলেন, সেইগুলির বিষয়বস্তু বা অবস্থার কোন বিবৃতি দিতে পারিবেন না অথবা তাহার কার্যকালে ও উদ্দেশ্যে মক্কেলকে তিনি যে পরামর্শ দিয়াছেন, তাহা প্রকাশ করিতে পারিবেন না।
তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলি প্রকাশ হইতে এই ধারার কিছু অব্যাহতি দিবেন না।
(১) বেআইনি উদ্দেশ্যে সাধনকল্পে যে সংবাদ আদান- প্রদান করা হইয়াছে,
(২) ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল পেশাগত কার্যে নিযুক্ত থাকবার সময় তৎকর্তৃক লক্ষিত বিষয় যদ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তাহার নিযুক্তির পরে কোন অপরাধ বা প্রতারণা সংঘটিত হইয়াছে।
অনুরূপ ঘটনার প্রতি উক্ত ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মনোযোগ তাহার মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে আকৃষ্ট করা হইয়াছিল কিনা তাহা গুরুত্বপূর্ণ নয়।
ব্যাখ্যা: এই ধারার বর্ণিত বাধ্যবাধকতা নিযুক্তির অবসান ঘটিবার পরও অব্যাহত থাকে।
------------
The Evidence Act, 1872, Section 126, Professional communications:
- No Advocate shall at any time be permitted, unless with his client's express consent, to disclose any communication made to him in the course and for the purpose of his employment as such Advocate by or on behalf of his client, or to state the contents or condition of any document with which he has become acquainted in the course and for the purpose of his professional employment, or to disclose any advice given by him to his client in the course and for the purpose of such employment:
Provided that nothing in this section shall protect from disclosure
-(1) any such communication made in furtherance of any illegal purpose:
(2) any fact observed by any Advocate, in the course of his employment as such, showing that any crime of fraud has been committed since the commencement of his employment.
It is immaterial whether the attention of such Advocate was or was not directed to such fact by or on behalf of his client.
Explanation.- The obligation stated in this section continues after the employment has ceased.

১,২৩৬.
সাক্ষ্য আইনের ১৩০ ধারা কোন ধরনের সাক্ষীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. নিজ পক্ষের সাক্ষীদের ক্ষেত্রে
  2. যে সাক্ষী মামলার পক্ষ
  3. যে সাক্ষী মামলার পক্ষ নয়
  4. বিরুদ্ধ পক্ষের সাক্ষীদের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ১৩০ ধারা অনুসারে,
যে সাক্ষী মামলার পক্ষ নয়, তাকে বাধ্য করা যাবে না তার কোনো সম্পত্তির খতিয়ান বা এমন কোনো নথি দেখাতে যা তাকে অপরাধে জড়িত করতে পারে। তবে যদি সেই সাক্ষী লিখিতভাবে রাজি হয়ে থাকে নথিগুলো দেখাতে, তাহলে তাকে দেখাতে হবে।

[No witness who is not a party to a suit shall be compelled to produce his title-deeds to any property or any document in virtue of which he holds any property as pledgee or mortgagee or any document the production of which might tend to criminate him, unless he has agreed in writing to produce them with the person seeking the production of such deeds or some person through whom he claims.]
১,২৩৭.
সাক্ষ্য গ্রহণের ক্রমের সঠিক ধাপ কোনটি?
  1. জেরা → পুনঃজবানবন্দি → জবানবন্দি গ্রহণ
  2. পুনঃজবানবন্দি → জবানবন্দি গ্রহণ → জেরা
  3. জবানবন্দি গ্রহণ → জেরা → পুনঃজবানবন্দি
  4. জেরা → জবানবন্দি গ্রহণ → পুনঃজবানবন্দি
ব্যাখ্যা
ধারা ১৩৮: সাক্ষ্য গ্রহণের ক্রম [Order of Examination]:
সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারায় সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, জেরা এবং পুন:জবানবন্দি গ্রহণ করা যায়। ১৩৮ ধারায় সাক্ষ্য গ্রহণের ৩টি ক্রম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ক্রম হলো সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, দ্বিতীয় ক্রম হলো সাক্ষীর আহ্বানকারী পক্ষের বিরোধী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীকে জেরা (ইচ্ছা করলে করতে পারে) এবং তারপর সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক পুন: জবানবন্দি (যদি পক্ষদ্বয় ইচ্ছা করে) করা হয়।

Order of examinations:
Witnesses shall be first examined-in-chief, then (if the adverse party so desires) cross-examined, then (if the party calling him so desires) re-examined. 
The examination and cross-examination must relate to relevant facts but the cross-examination need not be confined to the facts to which the witness testified on his examination-in-chief.
১,২৩৮.
কোন বিষয়ে আদালত Leading Question করার অনুমতি দিতে পারেন?
  1. Introductory
  2. Controversial
  3. Admitted
  4. Disputed
ব্যাখ্যা
♦১৪২ ধারা অনুযায়ী জবানবন্দি এবং পুনঃজবানবন্দির সময় আদালত ৩টি ক্ষেত্রে Leading Question করার অনুমতি  দিতে পারেন। তা হলো পরিচয়মূলক(Introductory) , অবিতর্কিত কিংবা যথেষ্টরুপে প্রমাণিত।
১,২৩৯.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১২৫ এর অধীন কাদেরকে অপরাধের সংঘটনের তথ্যের উৎস জানাতে বাধ্য করা যাবে না?
  1. যেকোন সরকারি কর্মকর্তা
  2. শুধুমাত্র পুলিশ কর্মকর্তা
  3. শুধুমাত্র ম্যাজিস্ট্রেট
  4. ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ কর্মকর্তা উভয়কে
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ১২৫ ধারা:
কোনো ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কর্মকর্তাকে এই প্রশ্ন করতে বাধ্য করা যাবে না যে তিনি কোনো অপরাধের সংঘটনের তথ্য কোথা থেকে পেয়েছেন, এবং কোনো রাজস্ব কর্মকর্তাকেও এই প্রশ্ন করতে বাধ্য করা যাবে না যে তিনি কোনো রাজস্ব সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য কোথা থেকে পেয়েছেন।

ব্যাখ্যা: এই ধারায় "রাজস্ব কর্মকর্তা" বলতে বোঝানো হয়েছে রাজস্বের যেকোনো শাখায় নিযুক্ত যেকোনো কর্মকর্তাকে।

Section 125: Information as to commission of offences-
No Magistrate or Police-officer shall be compelled to say whence he got any information as to the commission of any offence, and no Revenue-officer shall be compelled to say whence he got any information as to the commission of any offence against the public revenue.
Explanation.–"Revenue-officer" in this section means any officer employed in or about the business of any branch of the public revenue.
১,২৪০.
According to Section 143: Leading questions may be asked in __________.
  1. re-examination
  2. cross-examination
  3. examination-in-chief
  4. all of above
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ১৪১ ধারার বিধান- ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন:
প্রশ্নকারী প্রশ্নের যে উত্তর আশা বা ইচ্ছা করেন, প্রশ্নের মধ্যেই তার ইঙ্গিত দেওয়া হলে তাকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বলা হয়।

অর্থাৎ, যে প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর থাকে, তাকে নির্দেশক প্রশ্ন বা ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বা Leading question বলে।। সাধারণত 'হ্যা' অথবা 'না' এই দুই  ভাবে প্রশ্নের উত্তর দেয়া যায়।
 
১৪২ ধারার বিধান-
বিরুদ্ধ পক্ষ যদি আপত্তি করেন, তবে জবানবন্দী ও পুনঃজবানবন্দী গ্রহণকালে আদালতের অনুমতি ব্যতীত ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা চলিবে না।
 
১৪৩ ধারার বিধান-
জেরার ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা চলিবে।
[Leading questions may be asked in cross-examination.]
১,২৪১.
সাক্ষ্য আইনে 'আদালত' বলতে কাদের বোঝায়?
  1. শুধুমাত্র বিচারক
  2. শুধুমাত্র বিচারক এবং আইনজীবী
  3. সকল জজ, ম্যাজিস্ট্রেট এবং সালিশকারী
  4. সালিশকারী ব্যতীত সকল জজ, ম্যাজিস্ট্রেট এবং সাক্ষ্য গ্রহণে আইনত ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের
ব্যাখ্যা
⇒ ধারা ৩:
আদালত (Court): বলতে সকল জজ, ম্যাজিস্ট্রেট এবং সালিশকারী ব্যতীত সাক্ষ্য গ্রহণে আইনত ক্ষমতাপ্রাপ্ত সকল ব্যক্তিকে অন্তর্ভূক্ত করবে।

Section 3⇒ Interpretation-clause:
"Court" includes all Judges and Magistrates and all persons, except arbitrators, legally authorized to take evidence.
১,২৪২.
জেরা (Cross Examination) কী?
  1. সাক্ষীর নিজস্ব বক্তব্য
  2. বিরোধী পক্ষের প্রশ্ন
  3. আদালতের নিজস্ব প্রশ্ন
  4. সাক্ষী হাজিরকারী পক্ষের প্রশ্ন
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ১৩৭ ধারায় জবানবন্দি (Examination in Chief), জেরা (Cross Examination), এবং পুনঃজবানবন্দি (Re-examination) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
 
সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief]:
যে পক্ষ সাক্ষীকে হাজির করে, সেই পক্ষ যখন সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তখন তাকে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief] বলে।
 
জেরা [Cross Examination]:
বিরুদ্ধ পক্ষ যখন সেই সাক্ষীকে প্রশ্ন করে, তখন তাকে জেরা বলে [Cross Examination] বলে
 
পুন: জবানবন্দি [Re-examination]:
জেরার পর সাক্ষী উপস্থিতকারী পক্ষ যদি আবার সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তবে তাকে পুন: জবানবন্দি (Re- examination) বলে।
১,২৪৩.
নিম্নের কোন বিষয়টি 'Shall Presume' এর অন্তর্ভুক্ত?
  1. Genuineness of Certified Copies
  2. foreign judicial record
  3. telegraphic message
  4. 30 years old document
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের  ৭৯ ধারার বিধান প্রত্যায়িত অনুলিপির শুদ্ধতা সম্পর্কে অনুমানঃ যে দলিলকে কোন সার্টিফিকেট বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় অথবা কোন দলিল প্রত্যায়িত অনুলিপি বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয়, যাহা কোন বিশেষ ঘটনার সাক্ষ্য হিসাবে আইনতঃ গ্রহণযোগ্য বলিয়া ঘোষিত হইয়াছে এবং যাহা সরকারের সীলমোহরকৃত আদালত সেই দলিলকে যথার্থ বলিয়া অনুমান করিবেন।
♦ তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত দলিল সংশ্লিষ্ট আইনে যেইরূপ নির্দেশিত আছে মোটামুটিভাবে সেই আকারে প্রণীত এবং সেই পদ্ধতিতে সম্পাদিত বলিয়া বুঝিতে দিতে হইবে।
♦ আদালত ইহাও সিদ্ধান্ত করিবেন যে, যে অফিসার উক্ত দলিলে স্বাক্ষর বা প্রত্যায়ন করিয়াছেন বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হইয়াছে, সেই অফিসার তাহার সহিকৃত কাগজে যে পদাধিকার দাবি করিয়াছেন, তৎকালে তিনি সেই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
♦The Evidence Act, 1872, Section 79 Presumption as to genuineness of certified copies: The Court shall presume every document purporting to be a certificate, certified copy or other document, which is by law declared to be admissible as evidence of any particular fact and which purports to be duly certified by any officer of the Government to be genuine: Provided that such document is substantially in the form and purports to be executed in the manner directed by law in that behalf.  
♦ The Court shall also presume that any officer by whom any such document purports to be signed or certified, held, when he signed it, the official character which he claims in such paper.
১,২৪৪.
সাক্ষ্য আইনের Res Gestae সাক্ষ্য আদালতে গুরুত্বপূর্ণ কারণ—
  1. এটি শুধুমাত্র লিখিত দলিলে থাকে
  2. এটি ঘটনার অনেক পরে তৈরি করা হয়
  3. এটি ঘটনার স্বাভাবিক ও অবিচ্ছেদ্য অংশ
  4. এটি সবসময় আইনজীবীরা উপস্থাপন করে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) এটি ঘটনার স্বাভাবিক ও অবিচ্ছেদ্য অংশ।

⇒ সাক্ষ্য আইনের Res Gestae সাক্ষ্য আদালতে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি এমন বক্তব্য বা আচরণ যা—
- ঘটনার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত
- ঘটনার সময় বা অব্যবহিত পূর্বে/পরে সংঘটিত হয়
- স্বতঃস্ফূর্ত, প্রাকৃতিক ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, যাতে মিথ্যার সম্ভাবনা কম থাকে
- বিচারক বা আদালতের কাছে এটি ঘটনার প্রকৃতি, উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট বুঝতে সহায়তা করে

তাই, এই ধরনের সাক্ষ্যকে ঘটনার স্বাভাবিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা হয় — ফলে আদালত তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নেয়।

⇒  Res Gestae শব্দটি লাতিন শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ — "ঘটনার অংশ"।
⇒ সাক্ষ্য আইনে (বিশেষ করে ৬ থেকে ৯ ও ১৪ ধারায়) Res Gestae সাক্ষ্য সেই ধরনের তথ্য বা বক্তব্যকে বোঝায়, যা কোনো অপরাধ বা ঘটনার সময় বা অব্যবহিত পূর্বে বা পরে এমনভাবে বলা বা করা হয়েছে যে, তা ঘটনার স্বাভাবিক, আকস্মিক ও অপরিকল্পিত অংশ হয়ে পড়ে।
- এই বক্তব্য বা আচরণগুলো এমন সময় ঘটে, যখন ঘটনার কারণে মানসিক উত্তেজনা বা অবস্থা এতটাই প্রবল থাকে যে, ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলার মতো অবকাশ পায় না।
-এর ফলে, আদালত ধরে নেয় — এই ধরণের বক্তব্যে মিথ্যার আশ্রয় নেয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, তাই তা গ্রহণযোগ্য।
১,২৪৫.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় আইনজীবী ও মক্কেলের মধ্যকার গোপনীয়তা সংরক্ষণের বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ১২২
  2. ধারা ১২৬
  3. ধারা ১২৯
  4. ধারা ১৩২
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১২৬ ধারায় আইনজীবী এবং তার মক্কেলের মধ্যকার তথ্য আদান-প্রদানের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
- সাক্ষ্য আইনের ধারা ১২৬ অনুযায়ী, আইনজীবী তার পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে, মক্কেলের সঙ্গে করা যে কোনো যোগাযোগ বা পরামর্শ গোপন রাখবেন। এই ধারা আইনজীবীকে তার মক্কেলের তথ্য বা পরামর্শ প্রকাশ না করার বাধ্যবাধকতা দেয়, যতক্ষণ না মক্কেল নিজে সেই তথ্য প্রকাশ করতে সম্মতি দেন। তবে এই বিধান কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কার্যকর নয়, যেমন যখন কোনো অবৈধ উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করা হয় বা কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারার বিধান পেশাগত যোগাযোগ:
কোন আইনজীবী তার ক্লায়েন্টের স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া কখনোই নিম্নলিখিত তথ্য প্রকাশ করতে পারবেন না:
(১) তার ক্লায়েন্টের পক্ষ থেকে বা তার ক্লায়েন্টের পক্ষে তার কর্মজীবনের উদ্দেশ্যে তাকে প্রদান করা কোন যোগাযোগ, অথবা
(২) কোন দলিলের বিষয়বস্তু বা অবস্থা, যা তিনি তার পেশাগত কর্মজীবনের চলাকালে জানেন, অথবা
(৩) তার ক্লায়েন্টকে প্রদত্ত কোন পরামর্শ, যা তিনি তার পেশাগত কর্মজীবনে প্রদান করেছেন।
এটি বিধানাবদ্ধ যে, এই ধারা কোন কিছু প্রকাশের থেকে রক্ষা করবে না–
(১) এমন কোন যোগাযোগ যা অবৈধ উদ্দেশ্য সাধনে করা হয়েছে;
(২) কোন ঘটনা যা কোন আইনজীবী তার কর্মজীবনের চলাকালে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং যা তার ক্লায়েন্টের পক্ষ থেকে কোন ধরনের প্রতারণা বা অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।
এটি অসংগঠিত যে, ওই আইনজীবীর দৃষ্টি আকর্ষণ ওই ঘটনা সম্পর্কে তার ক্লায়েন্টের পক্ষ থেকে হয়েছে কিনা।
ব্যাখ্যা: এই ধারা অনুযায়ী, যে বাধ্যবাধকতা জানানো হয়েছে তা কর্মজীবনের সমাপ্তির পরেও অব্যাহত থাকবে।
-------------- 
⇒ The Evidence Act, 1872 section-126. Professional communications:
No Advocate shall at any time be permitted, unless with his client's express consent, to disclose any communication made to him in the course and for the purpose of his employment as such Advocate by or on behalf of his client, or to state the contents or condition of any document with which he has become acquainted in the course and for the purpose of his professional employment, or to disclose any advice given by him to his client in the course and for the purpose of such employment:
Provided that nothing in this section shall protect from disclosure–
(1) any such communication made in furtherance of any illegal purpose:
(2) any fact observed by any Advocate, in the course of his employment as such, showing that any crime of fraud has been committed since the commencement of his employment.
It is immaterial whether the attention of such Advocate was or was not directed to such fact by or on behalf of his client.
Explanation.– The obligation stated in this section continues after the employment has ceased.
১,২৪৬.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৭৪ অনুযায়ী সরকারী দলিল (Public Document) কোনটি?
  1. বিক্রয় চুক্তি
  2. ব্যক্তিগত চিঠি
  3. কবিতা বা উইল
  4. আদালতের রায়
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৭৪ অনুসারে, সরকারী দলিল (Public Document) বলতে সরকারীভাবে রক্ষিত দলিলগুলোকে বোঝায়, যেমন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের আইন, সরকারি সংস্থা বা ট্রাইবুনালের নথিপত্র, বিচার বা শাসন বিভাগের লিখিত রেকর্ড। এর মধ্যে আদালতের রায় অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটি সরকারী রেকর্ডে রক্ষিত হয়। অন্যান্য অপশনগুলো (বিক্রয় চুক্তি, ব্যক্তিগত চিঠি, কবিতা বা উইল) ধারা ৭৫-এর অধীনে বেসরকারী দলিল।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ থেকে ৭৮ ধারায় সরকারী দলিল সংক্রান্ত বিধানসমূহ আলোচনা করা হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশের দলিলগুলোকে সাক্ষ্য আইন মতে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. সরকারী দলিল (Public Document); এবং
২. বেসরকারী/ব্যক্তিগত দলিল (Private Document)।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা-৭৪: সরকারী দলিল (Public Document)- সরকারীভাবে রক্ষিত দলিলকে সরকারী দলিল বা Public document বলে। কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ যেমন-সংসদের আইন, সরকারি সংস্থা বা ট্রাইবুনাল সমূহের নথিপত্র অর্থাৎ দেশী বিদেশী আইন, বিচার বা শাসন বিভাগীয় কোন কর্মচারীর কার্যাবলির লিখিত বিবরণ ও নথিপত্রকে সরকারী দলিল বা Public Document বলে। অন্যভাবে বলা যায়, সরকারী দলিল বলতে সেই সমস্ত দলিলকে বোঝায় যে সমস্ত দলিল কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের সরকারী প্রতিষ্ঠানে বা ট্রাইব্যুনালের এবং বাংলাদেশের কোন অংশের বা কমনওয়েলথের বা বিদেশে সরকারী অফিসার, আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কার্যাবলী বা কাজের লিপিবদ্ধ বিবরণকে অন্তর্ভুক্ত করে।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা-৭৫: বেসরকারি দলিল (Private document)- সরকারি দলিল ব্যতীত সকল দলিলই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত দলিল। কবিতা, উইল, বিক্রয় চুক্তি, দানপত্র, মূল বিক্রয় দলিল, কবলা দলিল, চিঠিপত্র সবই বেসরকারি দলিল বা Private document.

১,২৪৭.
"Testes ponderantur, non numerantur" নীতি সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার সাথে সম্পর্কিত?
  1. ১১৮
  2. ১৩৪
  3. ১৪৬
  4. ১৫৪
ব্যাখ্যা
• "Testes ponderantur, non numerantur" — এই ল্যাটিন বাক্যের অর্থ হলো:
 "সাক্ষীদের ওজন (বিশ্বাসযোগ্যতা) বিবেচ্য, সংখ্যা নয়।" অর্থাৎ, সাক্ষীদের সংখ্যা নয়, বরং তাদের সাক্ষ্যের গুণমানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই নীতিটি সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৩৪-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। (Testes ponderautur, non numerator)- এই প্রবচনটির ইংরেজী প্রতিশব্দ হল- 'witnesses are weighed, not numbered'.- বিচারকালে সাক্ষীর সাক্ষ্যকে ওজন করতে হয়, সাক্ষীর সংখ্যা নির্ধারণ করতে হয় না। যে ঘটনা সম্পর্কে যতজন মানুষ জ্ঞান রাখেন, ততজনই সাক্ষী হওয়া উচিত। সাক্ষীর সংখ্যা কৃত্রিম মানদন্ডে হওয়া উচিৎ নয়। বিচারকালে আদালত সাক্ষীর গুণাগুণ বিচার করেন, সংখ্যা নয়। অর্থাৎ, আদালতে শুধুমাত্র অনেকগুলো সাক্ষীকে উপস্থিত করলেই চলবে না, বরং প্রত্যেক সাক্ষীর সাক্ষ্যের গুরুত্ব, যথার্থতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতাকেই গুরুত্ব দিতে হবে। একজন সত্যবাদী এবং বিশ্বস্ত সাক্ষীর সাক্ষ্য অনেক সাক্ষীর থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সাক্ষ্য আইনের ১৩৪ ধারা অনুযায়ী-
কোন মামলা প্রমাণের জন্য সাক্ষীর সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়; অর্থাৎ একটি মামলার কোন বিষয় প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সাক্ষীর প্রয়োজন নাই। শুধুমাত্র একজন সাক্ষী দ্বারাও মামলা নি:সন্দেহে প্রমাণ করা যায়। এক্ষেত্রে মামলার ধরন অপ্রাসঙ্গিক।
১,২৪৮.
নিম্নের কোনটি পাবলিক দলিল (Public document)?
  1. কবলা দলিল
  2. উইল
  3. আদালতের সমন
  4. মূল বিক্রয় দলিল
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারার বিধান সরকারী দলিল: নিম্নলিখিত দলিলগুলো সরকারী দলিল:

(১) যে সমস্ত দলিল-

(ক) কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের,

(খ) সরকারী প্রতিষ্ঠান বা ট্রাইব্যুনালের এবং

(গ) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের যে কোন স্থানের অথবা বিদেশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কোন অফিসারের কার্য অথবা কার্যের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

(২) বাংলাদেশে সরকারীভাবে রক্ষিত ব্যক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

---------
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৫ ধারার বিধান বেসরকারি দলিল (Private document)- সরকারি দলিল ব্যতীত সকল দলিলই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত দলিল। 

কবিতা, উইল, বিক্রয় চুক্তি, দানপত্র, মূল বিক্রয় দলিল, কবলা দলিল, চিঠিপত্র সবই বেসরকারি দলিল বা Private document.

⇒  আদালতের রায় ৭৪(১) ধারার বিধান মতে পাবলিক ডকুমেন্টস। কারণ রায় বিচার বিভাগীয় কাজের অংশ।
১,২৪৯.
কয়টি ক্ষেত্রে দেওয়ানি মামলায় স্বীকারোক্তি/Admission প্রাসঙ্গিক নয়?
  1. ৪ টি
  2. ১২ টি
  3. ৬ টি
  4. ২ টি
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী ২টি ক্ষেত্রে দেওয়ানি মামলায় স্বীকারোক্তি/ Admission প্রাসঙ্গিক নয়।
যেমন-
(১) স্বীকারোক্তি সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না এমন শর্তে স্বীকারোক্তি দিলে।এবং
(২) স্বীকারোক্তি সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না এই মর্মে কোন চুক্তি থাকলে।
১,২৫০.
Test Identification Parade conducted during investigation is relevant under Section _______ of Evidence Act, 1872.
  1. 6
  2. 8
  3. 9
  4. Both (a) and (b)
ব্যাখ্যা
⇒ T.I.P অর্থ Test Identification Parade. সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারায় শনাক্তকরণ প্যারেড বা Test Identification Parade-কে সাক্ষ্য হিসাবে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারায়, Test Identification Parade (শনাক্তকরণ প্যারেড) এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে করে এই পদ্ধতির মাধ্যমে সাক্ষী অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত -
১. কোন সম্পত্তি সনাক্ত করতে সক্ষম হয় বা,
২. কোন ব্যক্তি যেমন আসামীকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারার বিধান: প্রাসঙ্গিক ঘটনার ব্যাখ্যা বা উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ঘটনা (Facts necessary to explain or introduce relevant facts):
যে সমস্ত বিষয় বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ইঙ্গিতবহ অনুমানকে সমর্থন বা অপ্রমাণ করে, অথবা বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়কে ব্যাখ্যা করে বা পরিচয় করায়, অথবা কোন ব্যক্তি বা বস্তুর প্রাসঙ্গিক পরিচয় প্রতিষ্ঠা করে, অথবা বিচার্য প্রাসঙ্গিক বিষয়টি ঘটার সময় ও স্থান নির্দেশ করে, অথবা প্রাসঙ্গিক বিষয় ঘটনাকারী ব্যক্তির সম্পর্কে আলোকপাত করে, সেই সময় বিষয়ের যতখানি সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য প্রয়োজন ততখানি প্রাসঙ্গিক।

⇒ প্রাসঙ্গিক ঘটনা ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করার জন্য যে সকল ঘটনা আবশ্যক সেগুলো প্রাসঙ্গিক। এ মূল ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বা ঐ ঘটনা, তার স্থান, কাল ব্যাখ্যা করতে পারে এমন ঘটনাকে ৯ ধারায় প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।
১,২৫১.
The Evidence Act, 1872 এর কোন ধারামতে বিচারক নিজ গোচরে আসা কোনো বিষয়ে উর্দ্ধতন আদালতের আদেশ ব্যতীত উত্তর দিতে বাধ্য নন?
  1. ১২১ ধারা
  2. ১২২ ধারা
  3. ১২৩ ধারা
  4. ১২৪ ধারা
ব্যাখ্যা
ধারা ১২১: বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেট-
কোনো বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেটকে তার আদালতের কার্যকালীন আচরণ সম্পর্কে বা তিনি বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আদালতে যা জেনেছেন তার বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করার জন্য বাধ্য করা যাবে না, যদি না তিনি যে আদালতের অধীনস্থ, সেই আদালত বিশেষ আদেশ প্রদান করে।

তবে, তিনি যখন বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন তার সামনে যা ঘটেছে, সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে।

উদাহরণসমূহ:
(ক) A, একটি মামলায় অভিযোগ করে যে, B ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে একটি জবানবন্দি ভুলভাবে নিয়েছেন। এই অবস্থায়, B-কে প্রশ্ন করা যাবে না, যদি না কোনো উচ্চতর আদালত বিশেষভাবে আদেশ দেয়।
(খ) A-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে B ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছে। A কী বলেছিল, তা জানার জন্য B-কে জিজ্ঞাসা করা যাবে না উচ্চ আদালতের বিশেষ আদেশ ছাড়া।
(গ) A অভিযুক্ত যে, সে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় B নামে এক সেশন জজের সামনে এক পুলিশ অফিসারকে হত্যার চেষ্টা করেছে। এই ক্ষেত্রে B সাক্ষ্য দিতে পারবেন, কারণ ঘটনাটি তার সামনে ঘটেছে।
১,২৫২.
A জমির দখল পাওয়ার জন্য B-এর বিরুদ্ধে ডিক্রি পায়। C (B-এর ছেলে) রাগ করে A-কে হত্যা করে। সাক্ষ্য আইনের ৪৩ ধারা অনুযায়ী, এখানে ডিক্রির অস্তিত্ব-
  1. প্রাসঙ্গিক
  2. অপ্রাসঙ্গিক
  3. চূড়ান্ত প্রমাণ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ধারা ৪৩- ৪০ থেকে ৪২ ধারায় উল্লিখিত নয় এমন রায়, আদেশ বা ডিক্রির প্রাসঙ্গিকতা:
যে রায় (judgment), আদেশ (order) বা ডিক্রি (decree) ধারা ৪০, ৪১ ও ৪২–এ বর্ণিত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নয়, সেগুলো সাধারণভাবে অপ্রাসঙ্গিক (irrelevant)- যদি না সেই রায়, আদেশ বা ডিক্রির অস্তিত্ব (existence) নিজেই কোনো মূল বিষয় (fact in issue) হয়, অথবা এই আইন (সাক্ষ্য আইন)-এর অন্য কোনো ধারায় প্রাসঙ্গিক হিসেবে ঘোষিত হয়।

উদাহরণসমূহ (Illustrations):
(a) A ও B আলাদাভাবে C-এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে। A মামলায় জয়ী হয়, কিন্তু সেটি B-এর মামলায় অপ্রাসঙ্গিক,
কারণ দুটি মামলা আলাদা পক্ষের মধ্যে। রায় প্রাসঙ্গিক নয়, কারণ এটি অন্য মামলার জন্য binding নয়।

(b) A, B-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যে সে C-এর (A-এর স্ত্রী) সঙ্গে ব্যভিচার করেছে। B-কে ব্যভিচারের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে C-কে বিগ্যামির অভিযোগে বিচার করা হলে, সে বলে — “আমি কখনও A-এর স্ত্রী ছিলাম না।” B-এর দণ্ডপ্রাপ্তি এখানে C-এর বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক নয়। পূর্বের রায় অন্য অভিযুক্তের জন্য binding নয়।

(c) A, B-এর বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ আনে। B দোষী সাব্যস্ত হয়। পরে A, C-এর বিরুদ্ধে গরু উদ্ধারের মামলা করে (C সেই গরু B-এর কাছ থেকে কিনেছিল)। এক্ষেত্রে B-এর দণ্ডপ্রাপ্তি A ও C-এর মধ্যে মামলায় অপ্রাসঙ্গিক।

(d) A জমির দখল পাওয়ার জন্য B-এর বিরুদ্ধে ডিক্রি পায়। C (B-এর ছেলে) রাগ করে A-কে হত্যা করে। এখানে ডিক্রির অস্তিত্ব প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি হত্যার উদ্দেশ্য (motive) দেখায়।

(e) A চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত এবং বলা হয়েছে যে সে পূর্বে চুরির দণ্ড পেয়েছে। তাহলে পূর্বের দণ্ডাদেশ এখন fact in issue, তাই প্রাসঙ্গিক।

(f) A, B-কে হত্যা করেছে। আগে B, A-এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিল এবং তাতে A দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছিল। এ তথ্য ধারা ৮ অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি হত্যার উদ্দেশ্য (motive) ব্যাখ্যা করে।

১,২৫৩.
সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারায় কোন বিষয় প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে?
  1. পূর্ববর্তী মামলার সাক্ষ্য
  2. পূর্ববর্তী মামলার অভিযোগপত্র
  3. পূর্ববর্তী মামলার রায়
  4. পূর্ববর্তী মামলার এজহার
ব্যাখ্যা
ধারা ৪০- দ্বিতীয় মোকদ্দমার বিচার নিষিদ্ধ করার জন্য পূর্ববর্তী মামলার রায় (Previous Judgment) যখন প্রাসঙ্গিক:

সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারায় দেওয়ানী কার্যবিধির দোবারা দোষ [Res judicata) এবং ফৌজদারী কার্যবিধির দোবারা সাজা (double jeopardy) নীতির প্রতিফলন হয়েছে। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১ ধারার দোবারা দোষ [Res judicata) অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে সমাপ্ত মামলা পুনরায় একই বিষয়ে এবং একই পক্ষদ্বয়ের মধ্যে আদালতে শুরু করা যাবে না। যদি কোন ব্যক্তি এমন মামলা দায়ের করে তাহলে আদালত মামলাটি খারিজ করে দিবে। আবার ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০৩ ধারার দোবারা সাজা বা double jeopardy নীতি অনুযায়ী কোন ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য দুইবার বিচারের সম্মুখীন করা যাবে না।

আপনি যদি দেওয়ানী কার্যবিধির দোবারা দোষ [Res judicata] এবং ফৌজদারী কার্যবিধির দোবারা সাজা [double jeopardy] নীতি অনুযায়ী কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা খারিজ করাতে চান তাহলে আদালতকে দেখতে হবে উক্ত মামলার উপর পূর্ববর্তী কোন রায় আছে কিনা। অর্থাৎ একই বিষয়ের উপর দ্বিতীয় মোকদ্দমা খারিজ করতে পূর্ববর্তী মোকাদ্দমার রায় কে প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসাবে আদালতে দাখিল করতে হবে এবং এই কারণে ৪০ ধারায় পূর্ববর্তী মামলার রায়কে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারা দেওয়ানী এবং ফৌজদারী উভয় মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
১,২৫৪.
কোন পরিস্থিতিতে পূর্বে দেওয়া সাক্ষ্য পরবর্তী মামলা প্রমাণে প্রাসঙ্গিক হতে পারে?
  1. সাক্ষীর মৃত্যু
  2. সাক্ষী নিখোঁজ
  3. সাক্ষী অসুস্থ বা অসমর্থ
  4. উপরোক্ত সকল পরিস্থিতিতে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩৩ ধারার বিধান: যখন পূর্বে প্রদত্ত সাক্ষ্য পরবর্তীতে মামলায় প্রমাণের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে:
কোন মামলায় কেউ আইন অনুসারে সাক্ষ্য দেওয়ার পর যদি তার-
ক) মৃত্যু হয়; বা
খ) সন্ধান পাওয়া না যায়; বা
গ) যে পরে সাক্ষ্য দিতে অসমর্থ হয়ে পড়ে; বা
ঘ) প্রতিপক্ষ তাকে আটকিয়ে রাখে;
ঙ) যুক্তিসংগত কারণে তাকে আদালতে উপস্থিত করা সময় এবং ব্যয়সাপেক্ষ;

তাহলে এই ধরনের সাক্ষীর পূর্বে দেওয়া প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য পরবর্তী পর্যায়ে প্রমাণের জন্য প্রাসঙ্গিক হবে। তবে নিম্নে বর্ণিত ৩টি শর্ত পূরণ করতে হবে-
১। পরবর্তী মামলা একই পক্ষদ্বয়ের মধ্যে অথবা তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের মধ্যে হতে হবে;
২। পূর্বে সাক্ষ্য দেওয়া সাক্ষীকে প্রতিপক্ষ জেরা করার সুযােগ পেতে হবে; এবং
৩। উভয় মামলার বিচার্য বিষয় প্রধানত একই ধরনের হতে হবে।
-------------
⇒ The Evidence Act, 1872 section 33.Relevancy of certain evidence for proving, in subsequent proceeding, the truth of facts therein stated:
 Evidence given by a witness in a judicial proceeding, or before any person authorized by law to take it, is relevant for the purpose of proving, in a subsequent judicial proceeding, or in a later stage of the same judicial proceeding, the truth of the facts which it states, when the witness is dead or cannot be found, or is incapable of giving evidence, or is kept out of the way by the adverse party, or if his presence cannot be obtained without an amount of delay or expense which, under the circumstances of the case, the Court considers unreasonable:

Provided- 
that the proceeding was between the same parties or their representatives in interest; 
that the adverse party in the first proceeding had the right and opportunity to cross-examine; 
that the questions in issue were substantially the same in the first as in the second proceeding. 

Explanation.–A criminal trial or inquiry shall be deemed to be a proceeding between the prosecutor and the accused within the meaning of this section.
১,২৫৫.
বিগত কত বছর যাবত খবর পাওয়া যায় না এমন ব্যক্তিকে আদালত মৃত অনুমান করতে বাধ্য?
  1. ৩ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৭ বছর
  4. ১৪ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৮ ধারা অনুযায়ী-আদালত কোন ব্যক্তিকে মৃত অনুমান করতে বাধ্য যদি বিগত ৭ বৎসর যাবৎ তার কোন খবর পাওয়া না যায়। এমন ব্যক্তিকে যে জীবিত দাবী করে, তাকেই প্রমাণ করতে হবে উক্ত ব্যক্তি জীবিত।
--------------------------
⇒ Section 108: Burden of proving that person is alive who has not been heard of for seven years:
Provided that when the question is whether a man is alive or dead, and it is proved that he has not been heard of for seven years by those who would naturally have heard of him if he had been alive, the burden of proving that he is alive is shifted to the person who affirms it.
১,২৫৬.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৫ক(২) অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন কার কাছে পাঠাতে হবে?
  1. পুলিশের কাছে
  2. আদালতের কাছে
  3. অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে
  4. যে পক্ষ তাকে নিয়োগ করেছে তার কাছে
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৫ক(২) অনুসারে – বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন সরাসরি আদালতের কাছে পাঠাতে হবে, যেকোনো পক্ষের কাছে নয়। এর উদ্দেশ্য হলো বিশেষজ্ঞের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা রক্ষা করা। তিনি আদালতের সহায়ক হিসাবে কাজ করেন।
- সুতরাং, সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৫ক(২) অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন অবশ্যই আদালতের কাছে পাঠাতে হবে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারা- শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত:
(১) আদালতের অনুমতি ব্যতীত একজন সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না যদি না তার রিপোর্টের একটি অনুলিপি, উপ-ধারা (২) অনুসারে সমস্ত পক্ষকে দেওয়া না হয়।
(২) একজন বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন আদালতের কাছে পাঠানো হবে এবং সেই পক্ষের কাছে নয় যার পক্ষে তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।
--------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 45A: Opinion of experts on physical or forensic evidence.-
( 1) Except by leave of the Court a witness shall not testify as an expert on physical or forensic unless a copy of his report has, pursuant to sub-section (2), been given to all the parties.
(2) An expert’s report shall be addressed to the Court and not to the party on whose behalf he is examined and he shall owe a duty to help the Court.

১,২৫৭.
সাক্ষ্য আইনের কোথাও আদালতকে কোন বিষয়কে (May Presume) করতে বললে, আদালত বিষয়টিকে কি বলে অনুমান করতে পারে?
  1. প্রমাণিত
  2. অপ্রমাণিত
  3. অবশ্যই প্রমাণিত
  4. প্রমাণিত এবং অপ্রমাণিত উভয়
ব্যাখ্যা
⇒ অনুমান (Presumption) - অনুমান ৩ প্রকার:

১) অনুমান করতে পারে (May presume): মিথ্যা প্রমানিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত ধরে নিতে পারেন প্রমাণিত। (ধারা: ৮৬-৮৮, ৯০ এবং ১১৪)

২) অনুমান করবে (Shall presume): মিথ্যা প্রমানিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত অবশ্যই ধরে নিবেন প্রমানিত (ধারা: ৭৯-৮৫, ৮৯ এবং ১০৫)

৩) চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof): একটি বিষয়কে অন্য বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমান হিসেবে ঘোষণা করা, যা অবশ্যই প্রমাণিত এবং অপ্রমাণিত করার জন্য কোন প্রকার সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না। (ধারা: ৪১ ও ১১২)

⇒ May Presume হল কোন বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করতে পারেন অথবা পক্ষগণকে প্রমাণ করার আহবান জানাতে পারেন।

⇒ Shall presume হল কোন বিষয় মিথ্যা প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত আদালত তা অবশ্যই প্রমাণিত বলে ধরে নিবেন।

⇒ যখন একটি বিষয়কে অপর একটি বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive Proof) বলে ঘোষনা করা হয়, তখন আদালত প্রথমোক্ত বিষয় প্রমাণিত হলেই অপর বিষয়ও প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন এবং প্রথমোক্ত বিষয়টি মিথ্যা প্রমাণিত করার জন্য সাক্ষ্য প্রদানের অনুমতি দিবেন না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪ ধারার বিধান অনুমান করতে পারে (May presume): যেখানেই এই আইনের বিধান আছে যে, আদালত কোন বিষয় ধরে নিতে পারেন, সেখানে আদালত হয় সেই বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন; না হয় তা প্রমাণ করার আহ্বান জানাবেন।

⇒ অনুমান করবে (Shall presume): যেখানেই এই আইনের নির্দেশ আছে যে, আদালত কোন বিষয় অবশ্যই ধরে নিবেন, সেখানে উক্ত বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন।

⇒ চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof):
এই আইনে যখন একটি বিষয়কে অপর একটি বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ বলে যোষণ করা হয়, তখন আদালত প্রথমোক্ত বিষয় প্রমাণিত হলে অপর বিষয়ও প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন এবং তা মিথ্যা প্রমাণিত করার জন্য সাক্ষ্যদানের অনুমতি দিবেন না।
১,২৫৮.
আদালত কর্তৃক অন্যায়ভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলে, কেবলমাত্র অন্যায়ভাবে কোন সাক্ষ্য গ্রহণ করার অজুহাতে-
  1. পুনর্বিচার করা যাবে
  2. নতুন করে বিচার হবে না
  3. মামলা বাতিল হবে
  4. সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা যাবে
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ১৬৭ ধারায় আদালত কর্তৃক অন্যায়ভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৬৭ ধারামতে,
আদালত অন্যায়ভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জন করে থাকলে যে সাক্ষ্যের বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে, সেই সাক্ষ্য ছাড়াও যদি এমন সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকে যা দ্বারা আদালতের সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা প্রতিপন্ন হয়, অথবা যে সাক্ষ্য বর্জন করা হয়েছে, তা গ্রহণ করা হলেও আদালতের সিদ্ধান্তে কোন তারতম্য হতো না, তবে কেবলমাত্র অন্যায়ভাবে কোন সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জন করার অজুহাতে কোন মামলার পুনর্বিচার বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন দাবি করা যাবে না। সাক্ষ্য আইনের ১৬৭ ধারার বিধান দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলাতেই সমভাবে প্রযোজ্য।

Section 167⇒ No new trial for improper admission or rejection of evidence:
The improper admission or rejection of evidence shall not be ground of itself for a new trail or reversal of any decision in any case, if it shall appear to the Court before which such objection is raised that, independently of the evidence objected to and admitted, there was sufficient evidence to justify the decision, or that, if the rejected evidence had been received, it ought not to have varied the decision.
১,২৫৯.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুসারে আদালত বৈরী সাক্ষীকে জেরা করার অনুমতি দিতে পারেন?
  1. ধারা ১১৯
  2. ধারা ১৫৪
  3. ধারা ১৩২
  4. ধারা ১১২
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৫৪ অনুসারে, যদি কোনো সাক্ষী (বৈরী সাক্ষী) সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষের স্বার্থের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয় বা সত্য বলতে অনিচ্ছুক হয়, তাহলে আদালতের অনুমতি নিয়ে সেই পক্ষ তার নিজের সাক্ষীকে জেরা (cross-examination) করতে পারে। এটি সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা এবং সত্য বের করার উদ্দেশ্যে। আইনের সাধারণ নিয়ম অনুসারে সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ তার নিজের সাক্ষীকে জেরা করতে পারে না, কিন্তু ধারা ১৫৪-এর অধীনে এই ব্যতিক্রম অনুমোদিত।

⇒ ১৫৪ ধারার বক্তব্য অনুযায়ী- বিরুদ্ধ পক্ষ জেরায় যেসব প্রশ্ন করতে পারে, সেসব প্রশ্ন যদি কোন পক্ষ নিজের সাক্ষীকে করার অনুমতি চায়, আদালত তা করার অনুমতি দিতে পারে। এরূপ সাক্ষীকে বৈরী/প্রতিকূল সাক্ষী (Hostile witness) বলে ।

⇒ বৈরী সাক্ষীকে সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষের জেরা করার অনুমতি দান করা আদালতের বিবেচনার উপর নির্ভর করে। আইনের সাধারণ নীতি অনুযায়ী সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ তার নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে না। কিন্তু সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারার অধীন আদালতের অনুমতি নিয়ে যে পক্ষ সাক্ষী নিয়ে আসে, সে পক্ষ নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে। এ ধরনের সাক্ষী হল বৈরী (Hostile) সাক্ষী।

⇒ সাধারণত জেরা করার উদ্দেশ্য হলো প্রতিপক্ষের সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা। এরূপ কাজ কোন মামলার বিরুদ্ধ পক্ষ করে থাকে, তবে ১৫৪ ধারার অধীন সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের সাক্ষীকে জেরা করে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে।

⇒ যখন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা হয়:
১) সাক্ষী যদি নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়
২) সাক্ষী যদি বিরুদ্ধ পক্ষের সমর্থনে সাক্ষ্য দেয়
৩) সাক্ষী যদি তার পূর্বের সাক্ষ্য থেকে সরে এসে বিপরীত সাক্ষ্য দেয়।

⇒ এরূপ ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ নিজ সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করে জেরা করার জন্য আদালতের অনুমতির জন্য দরখাস্ত/ আবেদন দেয়। আদালত উক্ত আবেদন গ্রহণ করলে সাক্ষী বৈরী হয় এবং নিজপক্ষের অ্যাডভোকেট তাকে জেরা করতে পারে।

১,২৬০.
সাক্ষ্য গ্রহণের সঠিক ক্রম কোনটি?
  1. জবানবন্দি, পুন:জবানবন্দি এবং জেরা
  2. জেরা, জবানবন্দি এবং পুন:জবানবন্দি
  3. জবানবন্দি, জেরা এবং পুন:জবানবন্দি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ১৩৭ ধারায় জবানবন্দি (Examination in Chief), জেরা (Cross Examination), এবং পুনঃজবানবন্দি (Re-examination) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief]
যে পক্ষ সাক্ষীকে হাজির করে সেই পক্ষ যখন সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তখন তাকে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief] বলে।

জেরা [Cross Examination]
বিরুদ্ধ পক্ষ যখন সেই সাক্ষীকে প্রশ্ন করে, তখন তাকে জেরা বলে [Cross Examination] বলে।

পুন: জবানবন্দি [Re-examination]
জেরার পর সাক্ষী উপস্থিতকারী পক্ষ যদি আবার সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তবে তাকে পুন: জবানবন্দি (Re- examination) বলে।

ধারা ১৩৮: সাক্ষ্য গ্রহণের ক্রম [Order of Examination]:
সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারায় সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, জেরা এবং পুন:জবানবন্দি গ্রহণ করা যায়। ১৩৮ ধারায় সাক্ষ্য গ্রহণের ৩টি ক্রম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ক্রম হলো সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, দ্বিতীয় ক্রম হলো সাক্ষীর আহ্বানকারী পক্ষের বিরোধী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীকে জেরা (ইচ্ছা করলে করতে পারে) এবং তারপর সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক পুন: জবানবন্দি (যদি পক্ষদ্বয় ইচ্ছা করে) করা হয়।
১,২৬১.
কিভাবে একটি অপ্রত্যায়িত দলিলের সম্পাদন প্রমান করা যায়?
  1. দলিলটি যে লিখেছে তার সাক্ষ্য দ্বারা
  2. বিশেষজ্ঞের মতামত দ্বারা
  3. তর্কিত হস্তলিপির সাথে পরিচিত ব্যক্তির সাক্ষ্য দ্বারা
  4. 'ক' 'খ' 'গ' সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের বিধান মতে: অপ্রত্যায়িত দলিলের সম্পাদন প্রমানের পদ্ধতি (Method of Proof of Execution of documents not requiring attestation)- কোন অপ্রত্যায়িত দলিলের সম্পাদন নিম্নলিখিতভাবে প্রমান করা যায়। যথা-

ⅰ) দলিলটি যে লিখেছে তার সাক্ষ্য দ্বারা;

ii) দলিল লেখক ও স্বাক্ষরকারীর হস্তলিপির সাথে প্রমানিত বা স্বীকৃত হস্তলিপির তুলনা করে ঐ তর্কিত হস্তলিপির সাথে পরিচিত ব্যক্তির সাক্ষ্য কিংবা বিশেষজ্ঞের মতামত দ্বারা অপ্রত্যায়িত দলিলের সম্পাদন প্রমান করা যায়।
১,২৬২.
আইনত প্রত্যায়িত হতে হয় এমন দলিলের সম্পাদন প্রমানের জন্য-
  1. অন্তত একজন প্রত্যয়কারী সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রয়োজন।
  2. কোন প্রত্যয়নকারী সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রয়োজন নেই।
  3. প্রত্যেক প্রত্যয়কারী সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রয়োজন।
  4. কোনটিই নয়।
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬৮ ধারার বিধান যে দলিল সত্যায়িত করা আইনত প্রয়োজন, তা সম্পাদনের প্রমাণ (Proof of execution of document required by law to be attested): 

⇒  যে দলিল আইনে সত্যায়ন করার জন্য নির্দেশিত সেই দলিল প্রমাণ করার জন্য অন্ততপক্ষে একজন সত্যায়নকারী সাক্ষী তলব না করা পর্যন্ত দলিলটি সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না। তবে শর্ত থাকে যে উইল ব্যতীত অন্য কোন দলিল যদি-

⇒  রেজিস্ট্রি করা হয়ে থাকে এবং সম্পাদনকারী যদি সম্পাদনের কথা নির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করা না হয়, তা হলে প্রত্যয়নকারী সাক্ষীকে তলব করা প্রয়োজন হবে না।

-----------------
⇒ Proof of execution of document required by law to be attested:
Section 68. If a document is required by law to be attested, it shall not be used as evidence until one attesting witness at least has been called for the purpose of proving its execution, if there be an attesting witness alive, and subject to the process of the Court and capable of giving evidence: 
 
⇒ Provided that it shall not be necessary to call an attesting witness in proof of the execution of any document, not being a will, which has been registered in accordance with the provisions of the Registration Act, 1908, unless its execution by the person by whom it purports to have been executed is specifically denied.
১,২৬৩.
ধারা ৬০ অনুযায়ী, যদি মৌখিক সাক্ষ্য পরোক্ষ হয়, তবে তা আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে কিনা?
  1. হ্যাঁ, তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে
  2. না, পরোক্ষ সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়
  3. এটি সাক্ষীর উপর নির্ভর করে
  4. শুধুমাত্র প্রাসঙ্গিক তথ্য থাকলে গ্রহণযোগ্য
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ৫৯ এবং ৬০ ধারায় মৌখিক সাক্ষ্যের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

৫৯ ধারায় বলা হয়েছে:
"All facts, except the contents of documents or electronic records, may be proved by oral evidence."
অর্থাৎ, দলিল বা ইলেকট্রনিক রেকর্ডের বিষয়বস্তু ছাড়া অন্য সব তথ্য মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রমাণ করা যাবে।

৬০ ধারায় বলা হয়েছে:
"Oral evidence must, in all cases whatsoever, be direct."
অর্থাৎ, যেকোনো ক্ষেত্রেই মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে।

সুতরাং, উপরোক্ত এই দুই ধারায় মৌখিক সাক্ষ্যকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং তার প্রকৃতি ও পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু বিষয় যেমন দলিলের বিষয়বস্তু ছাড়া অন্য যেকোনো ঘটনা মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রমাণযোগ্য। এছাড়াও মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই সরাসরি হতে হবে। এসব নিয়মাবলী ৫৯ এবং ৬০ ধারায় বর্ণিত হয়েছে।
১,২৬৪.
'Res Gestae' সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হবে-
  1. অপরাধের পর দ্রুত পালিয়ে যাওয়া অপরাধীর বক্তব্য
  2. অপরাধের পর দ্রুত পালিয়ে যাওয়া অপরাধীর আচরণ
  3. দুর্ঘটনার পর অবিলম্বে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন বক্তব্য
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনে 'Res Gestae' একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। যখন একাধিক ঘটনা অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত এবং একই ঘটনার ধারাবাহিক অংশ হয়, তখন তাদের বক্তব্য বা আচরণকে Res Gestae সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ Res Gestae এর মাধ্যমে এমন কথা বা আচরণকে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করা হয় যা কোনো ঘটনার সময় বা ঘটনার পূর্বে বা পরবর্তীতে বলা বা করা হয়েছিল এবং যা সেই ঘটনার প্রকৃতি ও কারণ বুঝতে সাহায্য করে।

উদাহরণস্বরূপ:
⇒ একজন ব্যক্তি আঘাত পেয়ে "X আমাকে আঘাত করেছে" বলে কিছুক্ষণ পরেই মারা গেলে, এই বক্তব্যটি Res Gestae হিসাবে গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য হবে।
⇒ অপরাধের পর দ্রুত পালিয়ে যাওয়া অপরাধীর বক্তব্য বা আচরণ Res Gestae হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
⇒ দুর্ঘটনার পর অবিলম্বে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন বক্তব্য Res Gestae হিসেবে গৃহীত হতে পারে।

Res Gestae সাক্ষ্যগুলো ঘটনার সঙ্গে এতটাই নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকে যে, তা স্বাভাবিক ও আকস্মিক হয়ে পড়ে এবং মিথ্যা বলার সম্ভাবনা থাকে না। এজন্য আদালত Res Gestae সাক্ষ্যগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেয়। অন্যদিকে, যদি একাধিক ঘটনা পরস্পর খুব অতিরিক্ত পৃথক হয়, তাহলে তাদের বক্তব্য বা আচরণকে Res Gestae সাক্ষ্য বলে গণ্য করা যায় না। একইভাবে, কোনো ঘটনার স্বাতন্ত্র্য বা অপ্রাসঙ্গিকতাও Res Gestae সাক্ষ্য গঠনে সাহায্য করে না।
১,২৬৫.
The examination of a witness by the adverse party shall be called-
  1. Examination in Chief
  2. Re-examination
  3. Cross Examination
  4. Further examination
ব্যাখ্যা

ধারা ১৩৭: জবানবন্দি [Examination-in-chief]: যে পক্ষ
কোনো সাক্ষীকে হাজির করিয়াছে, সেই পক্ষ যখন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে, তখন তাহাকে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা বলা হয় [The examination of a witness by the party who calls him shall be called his examination-in-chief.]

জেরা [Cross-examination]: বিরুদ্ধ পক্ষ যখন সেই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে, তখন তাহাকে জেরা করা বলা হয় [The examination of a witness by the adverse party shall be called his cross-examination.]

পুনঃজবানবন্দি [Re-examination]: জেরার পর সাক্ষী উপস্থিতকারী পক্ষ যদি পুনরায় তাহার সাক্ষ্য গ্রহণ করে,
তবে তাহাকে পুনঃজবানবন্দি গ্রহণ করা বলা হয় [The examination of a witness, subsequent to the cross-examination by the party who called him, shall be called his re-examination.]

১,২৬৬.
'দোবারা সাজা নীতি'- সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় প্রতিফলিত হয়েছে?
  1. ২৬ ধারায়
  2. ৪০ ধারায়
  3. ৪৩ ধারায়
  4. ৪২ ধারায়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারায় ২টি নীতির প্রতিফলন হয়েছে। তা হলো:
i) Res-judicata;
ii) Double Jeopardy (দোবারা সাজা নীতি)।

সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারার বিধান: দ্বিতীয় মোকদ্দমা বা বিচার বন্ধ করার জন্য পূর্ববর্তী রায় প্রাসঙ্গিক:
যে রায়, আদেশ বা ডিক্রি আদালতকে আইনত অন্য একটি মামলাকে বিচারার্থে গ্রহণ করতে বা এর বিচার করতে বাধা দেয়, সেই রায় বা আদেশ বা ডিক্রির অস্তিত্ব তখনই প্রাসঙ্গিক বিষয়, যখন প্রশ্ন উঠে যে, উক্ত মোকদ্দমা বিচারার্থে গ্রহণ করা বা এর বিচার করা সেই আদালতের পক্ষে উচিত কি না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারায় যে বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে সেটিকে Judgment in personam (ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) বলে।
⇒ এই ধারানুযায়ী পূর্ববর্তী মামলার রায়, ডিক্রি বা আদেশ পরবর্তী মামলার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হবে।
⇒ এই ধারার বিধান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(২) এবং General Clauses Act, 1897 এর ২৬ ধারার সাথে প্রাসঙ্গিক।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারা দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
১,২৬৭.
গৌণ সাক্ষ্যের সংজ্ঞা সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৬৩
  2. ধারা ৬৫
  3. ধারা ৬২
  4. ধারা ৬১
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুযায়ী গৌণ সাক্ষ্য (Secondary Evidence) বলতে বোঝায় এমনসব তথ্য বা কপি, যা মূল দলিল উপস্থিত না থাকলে তার বিকল্প হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
- সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারায় মাধ্যমিক সাক্ষ্যের (Secondary Evidence) বিধান রয়েছে।
-সাক্ষ আইনের ৬৩ ধারা অনুসারে মূল দলিল আদালতে হাজির না করে মূল দলিলের প্রতিলিপি বা অনুলিপি আদালতে উপস্থাপন করার মাধ্যমিক সাক্ষ্য বা Secondary Evidence বলে।
⇒ গৌণ সাক্ষ্য বলিতে নিম্নলিখিতগুলি বুঝায়-
১) এই আইনে অতঃপর বর্ণিত পরবর্তী ৭৬ ধারায় বর্ণিত বিধান অনুসারে প্রদত্ত সহিমোহরকৃত নকল।
২) মূল দলিল হইতে এইরূপ যান্ত্রিক উপায়ে প্রস্তুত নকল, যাহাতে নকলের নির্ভুলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়, এবং এইরূপ নকলের সহিত মিলাইয়া লওয়া অন্য নকল।
৩) মূল দলিল হইতে প্রস্তুত করা অথবা মূল দলিলের সহিত মিলাইয়া লওয়া নকল;
৪) কোন দলিলের প্রতিলিপি যে পক্ষ উক্ত দলিল সম্পাদন করে নাই, তাহার বিরুদ্ধে উহার ব্যবহারের ক্ষেত্রে;
৫) যে ব্যক্তি কোন দলিল দেখিয়াছে, তাহার দেওয়া ঐ দলিলের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক বিবরণ। 
-------------
⇒The Evidence Act, 1872, Section 63. Secondary evidence:
- Secondary evidence means and includes-
(1) certified copies given under the provisions hereinafter contained;
(2) copies made from the original by mechanical processes which in themselves insure the accuracy of the copy, and copies compared with such copies;
(3) copies made from or compared with the original;
(4) counterparts of documents as against the parties who did not execute them;
(5) oral accounts of the contents of a document given by some person who has himself seen it.

১,২৬৮.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে সঠিক হেফাজত হতে ত্রিশ বৎসরের পুরাতন দলিল আদালতে দাখিল করা হলে, দলিল সম্পর্কে আদালতের অনুমানের প্রকৃতি কী হবে?
  1. May presume
  2. Shall presume
  3. Conclusive proof
  4. কোনটি নয়।
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারা অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরনো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক মনে করবে যদি দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হয় এবং আদালতের দৃষ্টিতে সঠিক হেফাজত হতে দলিলটি আদালতে দাখিল করা হয়।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারা অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরানো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয় বস্তুকে আদালত সঠিক বলে মনে করতে পারে আবার নাও করতে পারে। ৯০ ধারায় বলা হয়েছে ৩০ বছরের পুরানো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক বলে মনে করবে যদি দলিলটি সঠিক ব্যক্তির দখল থেকে আসে।
⇒ ৩০ বছরের পুরোনো দলিল সম্পর্কে আদালত May presume করেন। 
 ⇒৯০ ধারার অনুমান শুধুমাত্র মূল দলিলের জন্য। কোন প্রত্যয়িত কপি বা জাবেদা নকলের জন্য নয়।
⇒ এ ধারার বিধানের অনুযায়ী-
১. দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হতে হবে।
২. দলিলটি সঠিক ব্যক্তির হেফাজত হতে আদালতে দাখিল করতে হবে।
------------------
⇒ The Evidence Act,1872: Section 90: Presumption as to documents thirty years old:
-Where any document, purporting or proved to be thirty years old, is produced from any custody which the Court in the particular case considers proper, the Court may presume that the signature and every other part of such document, which purports to be in the handwriting of any particular person, is in that person's handwriting, and, in the case of a document executed or attested, that it was duly executed and attested by the persons by whom it purports to be executed and attested. 
 
⇒ Explanation.-Documents are said to be in proper custody if they are in the place in which, and under the care of the person with whom, they would naturally be; but no custody is improper if it is proved to have had a legitimate origin, or if the circumstances of the particular case are such as to render such an origin probable. 
 This explanation applies also to section 81.
১,২৬৯.
আদালত যে সকল বিষয় 'Judicial Notice' এ নিতে পারেন তা The Evidence Act, 1872 এর কোন ধারায় বলা হয়েছে?
  1. ৫৭
  2. ৫৬
  3. ৫৮
  4. ৫৯
ব্যাখ্যা
• জুডিশিয়াল নোটিশ (Judicial Notice)- যেসব বিষয় আদালত জানেন বা জানেন বলে ধরা হয়, সেগুলোকে জুডিশিয়াল নোটিশ বা বিচারিক দৃষ্টিগোচর বলে। সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ও ৫৭ ধারায় জুডিশিয়াল নোটিশের বিধান রয়েছে।

সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ধারার বিধান অনুযায়ী জুডিশিয়াল নোটিশ প্রমানের প্রয়োজন নেই (Fact judicially noticeable need not be proved)। তবে জুডিশিয়াল নোটিশ চূড়ান্ত প্রমান নয়, এর বিরূদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করা যায়।

সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে- আদালত কোন কোন বিষয় অবশ্যই বিচারিক দৃষ্টিগোচরে (জুডিশিয়াল নোটিশ) নিবেন।[Facts of which Court must take judicial notice]

৫৭ ধারা অনুযায়ী আদালত নিম্নলিখিত বিষয়ে অবশ্যই জুডিশিয়াল নোটিশ নিবেন-
i) বাংলাদেশের সকল আইন;
ii) সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রনীত যুদ্ধবিধি বা অস্ত্র ও রসদ (articles of war);
iii) সংসদের কার্যসমূহ;
iv) বাংলাদেশের আদালত, নৌ ও সামুদ্রিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত এবং নোটারি পাবলিকের সীলমোহর;
v) সরকারি পদে নিয়োগের গেজেটে উল্লেখিত নাম, পদ, স্বাক্ষর, যোগদানের সময়;
vi) বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত রাষ্ট্র, রাষ্ট্রপ্রধান, জাতীয় পতাকা;
vii) সময় ও ভৌগলিক বিভাগসমুহ, রোজা, ছুটির দিন সমুহ;
viii) বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমানা;
ix) আদালতের সদস্যবৃন্দ ও এ্যাডভোকেটগন;
x) বাংলাদেশের সাথে অপর কোন রাষ্ট্র বা সংগঠনের বিরোধ:
xi) স্থল, জল ও সমুদ্রপথের নিয়মাবলী।

[বিশেষ নোট- সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারায় জুডিশিয়াল নোটিশের অন্তর্গত ১১টি বিষয়ের তালিকা রয়েছে; কিন্তু এই তালিকা স্বয়ং সম্পূর্ন নয়।]
১,২৭০.
The Evidence Act 1872 এর কত ধারা অনুযায়ী মিথ্যা সাক্ষী দিলে সাক্ষ্যদানকারীকে দন্ডবিধিতে শাস্তি দেওয়া যায়?
  1. ১৫১ ধারা
  2. ১৫২ ধারা
  3. ১৪৮ ধারা
  4. ১৫৩ ধারা
ব্যাখ্যা
- The Evidence Act 1872 এর ১৫৩ ধারার বিধান মতে সাক্ষীর সত্যবাদিতা পরীক্ষা করার জন্য প্রশ্ন করা যায়। তবে কেউ যদি মিথ্যা সাক্ষী দেয় তাহলে তাকে দন্ডবিধির ১৯৩ ধারা অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া যেতে পারে।
১,২৭১.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় তৃতীয় পক্ষ কর্তৃক দলিলের শর্ত পরিবর্তনের প্রমাণ দেওয়ার বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৯১
  2. ধারা ৯২
  3. ধারা ৯৯
  4. ধারা ১০০
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯৯ অনুযায়ী, যে ব্যক্তি দলিলের পক্ষ না, অথবা তাদের প্রতিনিধিরা, তারা সেই দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তন করার সমঝোতা প্রদর্শন করতে পারে, যদি এটি তৃতীয় পক্ষের স্বার্থকে প্রভাবিত করে। 

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯৯ অনুযায়ী, দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তন করার কোনো সমঝোতা প্রদর্শন করতে পারে এমন ব্যক্তি হলো তৃতীয় পক্ষ, যারা দলিলের শর্তকে প্রভাবিত করতে পারে এবং তাদের স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি দলিলের পক্ষ না, কিংবা তাদের প্রতিনিধিরা, তারা সেই দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তন করার সমঝোতা প্রদর্শন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো সমঝোতা দুটি পক্ষের মধ্যে হয় এবং এটি অন্য কোনো পক্ষের স্বার্থকে প্রভাবিত করে, তবে সে তৃতীয় পক্ষও এটি প্রমাণ করতে পারে।
উদাহরণ: যদি A এবং B কোনো লিখিত চুক্তি করেন এবং তাদের মধ্যে মৌখিকভাবে কিছু শর্ত পরিবর্তিত হয়, তবে C, যদি তার স্বার্থ প্রভাবিত হয়, সে এই পরিবর্তনের প্রমাণ দিতে পারে।
----------
⇒ The Evidence Act, 1872- Section- 99. Who may give evidence of agreement varying terms of document:
Persons who are not parties to a document, or their representatives in interest, may give evidence of any facts tending to show a contemporaneous agreement varying the terms of the document.
Illustration: A and B make a contract in writing that B shall sell A certain cotton, to be paid for on delivery. At the same time they make an oral agreement that three months' credit shall be given to A. This could not be shown as between A and B, but it might be shown by C, if it affected his interests.

১,২৭২.
দোষ স্বীকার কখন গ্রহণযোগ্য হয় না?
  1. দোষ স্বীকার যদি স্বেচ্ছামূলক হয়
  2. দোষ স্বীকার যদি স্বেচ্ছামূলক না হয়
  3. ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দোষ স্বীকারোক্তি
  4. ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশের নিকট দোষ স্বীকারোক্তি
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারা - প্রলোভন, ভীতি বা প্রতিশ্রুতি দ্বারা সৃষ্ট স্বীকারোক্তি, যখন ফৌজদারি কার্যবিধিতে অপ্রাসঙ্গিক: যদি কোনো আসামী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সাথে সম্পর্কিত কোনো প্রলোভন, ভীতি বা প্রতিশ্রুতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে স্বীকারোক্তি প্রদান করেন এবং আদালত মনে করেন যে, এই স্বীকারোক্তি কোনো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আসামীকে লাভ বা ক্ষতি থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানোর জন্য প্রদান করা হয়েছে, তবে সেই স্বীকারোক্তি ফৌজদারি কার্যবিধিতে প্রাসঙ্গিক হবে না।

⇒সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো প্ররোচনা, ভয়ভীতি বা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে দোষ স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
- স্বেচ্ছামূলক দোষ স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য, তবে এটি হতে হবে স্বতঃস্ফূর্ত ও বিনা প্ররোচনায়।
- যদি দোষ স্বীকারোক্তি বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি বা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে নেওয়া হয়, তাহলে তা অগ্রহণযোগ্য।
- ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট স্বেচ্ছামূলক দোষ স্বীকারোক্তি (ধারা ১৬৪, ফৌজদারি কার্যবিধি) গ্রহণযোগ্য, কিন্তু পুলিশের কাছে করা দোষ স্বীকারোক্তি সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয় (ধারা ২৫, সাক্ষ্য আইন)।
- ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশের নিকট করা দোষ স্বীকারোক্তিও গ্রহণযোগ্য (ধারা ২৬, সাক্ষ্য আইন)।
১,২৭৩.
রাহুল ৭ বছর ধরে নিখোঁজ। তার পরিবার দাবি করে যে, তিনি জীবিত। ১০৮ ধারার অধীনে-
  1. আদালত রাহুলকে জীবিত হিসেবে বিবেচনা করবে
  2. তার পরিবারকে তার জীবিত থাকার প্রমাণ বের করতে হবে
  3. আদালতকে তার জীবিত থাকার প্রমাণ বের করতে হবে
  4. আদালত নতুন তদন্ত শুরু করবে
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১০৮ ধারা অনুযায়ী-
আদালত কোন ব্যক্তিকে মৃত অনুমান করতে বাধ্য যদি বিগত ৭ বৎসর যাবৎ তার কোন খবর পাওয়া না যায়। এমন ব্যক্তিকে যে জীবিত দাবী করে, তাকেই প্রমাণ করতে হবে উক্ত ব্যক্তি জীবিত।

Section 108 ⇒ Burden of proving that person is alive who has not been heard of for seven years:
Provided that when the question is whether a man is alive or dead, and it is proved that he has not been heard of for seven years by those who would naturally have heard of him if he had been alive, the burden of proving that he is alive is shifted to the person who affirms it.
১,২৭৪.
"অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করলে তা তার বিরুদ্ধে প্রমাণ করা যাবে না" এটা The Evidence Act, 1872 এর কোন ধারায় বলা হয়েছে?
  1. সাক্ষ্য আইনের ২৫ ধারায়
  2. সাক্ষ্য আইনের ২৬ ধারায়
  3. সাক্ষ্য আইনের ২৮ ধারায়
  4. সাক্ষ্য আইনের ৩০ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ২৫ ধারার বিধান: পুলিশ অফিসারের নিকট স্বীকারোক্তি প্রমাণ করা যাবে না: যে কোন অপরাধে অভিযুক্ত, পুলিশ অফিসারের নিকট দোষ স্বীকার করলে তা তার বিরুদ্ধে প্রমাণ করা যাবে না।

-----------------------
⇒ Confession to police-officer not to be proved:
Section 25. No confession made to a police-officer shall be proved as against a person accused of any offence.
১,২৭৫.
'জবানবন্দি গ্রহণ এবং জেরা প্রাসঙ্গিক ঘটনা [Relevant Facts] এর সাথে সম্পর্কিত হতে হবে'- সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় এই বিধান উল্লেখ আছে?
  1. ১৩৬ ধারায়
  2. ১৩৭ ধারায়
  3. ১৩৮ ধারায়
  4. ১৩৯ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারার বিধান: সাক্ষ্য গ্রহণের ক্রম [Order of Examination]:
সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারায় সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, জেরা এবং পুনঃজবানবন্দি গ্রহণ করা যায়। ১৩৮ ধারায় সাক্ষ্য গ্রহণের ৩টি ক্রম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ক্রম হলো সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, দ্বিতীয় ক্রম হলো সাক্ষীর আহ্বানকারী পক্ষের বিরোধী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীকে জেরা (ইচ্ছা করলে করতে পারে) এবং তারপর সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক পুনঃজবানবন্দি (যদি পক্ষদ্বয় ইচ্ছা করে) করা হয়।
জবানবন্দি গ্রহণ এবং জেরা প্রাসঙ্গিক ঘটনা [Relevant Facts] এর সাথে সম্পর্কিত হতে হবে, তবে জেরা করার সময় সাক্ষী যে বিষয়গুলো জবানবন্দি গ্রহণ এ বলেছিল, সেই বিষয়গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে না।

Section 138- Order of examinations:
Witnesses shall be first examined-in-chief, then (if the adverse party so desires) cross-examined, then (if the party calling him so desires) re-examined.
The examination and cross-examination must relate to relevant facts but the cross-examination need not be confined to the facts to which the witness testified on his examination-in-chief.
১,২৭৬.
আইন অনুসারে বাধ্য না হয়ে কোনো ব্যক্তি প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করলে, আদালত কী অনুমান করতে পারে?
  1. উত্তর তার পক্ষে ছিল
  2. উত্তর তার পক্ষে অনুকূল ছিল না
  3. আদালত কোনো অনুমান করতে পারবে না
  4. উত্তর প্রমাণযোগ্য নয়
ব্যাখ্যা

⇒ আইনসম্মত বাধ্যবাধকতা না থাকলে কোনো প্রশ্নের উত্তর অস্বীকার করলে → অনুমান করা যায় উত্তরটি তার পক্ষে হতো না।

সাক্ষ্য আইনের ১১৪ ধারার বিধান: আদালত কিছু তথ্যের অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে-
আদালত প্রকৃতি এবং মানবিক আচরণের সাধারণ গতিপ্রকৃতি, সরকারি ও বেসরকারি কার্যাবলীর সাপেক্ষে বিশেষ মামলার তথ্যগুলি বিবেচনা করে, যে কোনো তথ্য বা ঘটনার অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে যা আদালতের মতে সম্ভবত ঘটেছে। আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুমান করতে পারে -
(ক) যে ব্যক্তি চুরির কিছুক্ষণ পরেই চুরি মালামাল দখলে রাখে, সে নিজেই চোর অথবা জেনেশুনে চুরি মাল গ্রহণ করেছে, যদি না সে তার দখলের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে;
(খ) যে ব্যক্তি অপরাধের সহযোগী, সে অবিশ্বাসযোগ্য, যদি না তার সাক্ষ্যের মূল বিষয়গুলি অন্য কোনো প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হয়;
(গ) একটি হুন্ডি স্বীকৃত বা অনুমোদিত হয়েছে প্রাপ্য মূল্যের বিনিময়ে;

(ঘ) যেকোনো বস্তু বা অবস্থা যা এমন সময়সীমার মধ্যে দেখা গেছে যে সময়সীমার মধ্যে এরকম বস্তু বা অবস্থা সাধারণত লুপ্ত হয়ে যায় না, তা এখনও বিদ্যমান রয়েছে;
(ঙ) বিচারিক এবং সরকারি কার্যাবলী নিয়মানুসারে সম্পাদিত হয়েছে;
(চ) বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক নিয়মানুসারে কার্যক্রম পালিত হয়েছে;

(ছ) যে প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব ছিল কিন্তু করা হয়নি, তা উপস্থাপিত হলে যে ব্যক্তি তা প্রমাণ করতে অস্বীকার করেছেন তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(জ) কোনো ব্যক্তি যদি আইনসম্মতভাবে বাধ্য না হয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে, তাহলে মনে করা হবে উত্তরটি তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(ঝ) কোনো দায়বদ্ধকারী দলিল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে থাকলে, মনে করা হবে দায়িত্বটি পরিশোধিত হয়েছে।
তবে বিশেষ মামলার ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলি প্রযোজ্য কিনা তা বিবেচনা করার সময় আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলিও বিবেচনা করবে।

১,২৭৭.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারা অনুযায়ী 'আদালতের আদেশে সমন দেওয়া হলে সাক্ষীকে তার দখলস্থ নথি বা দলিলগুলি আদালতে হাজির করতে বাধ্য হবে।'?
  1. ১৬১ ধারা
  2. ১৬২ ধারা
  3. ১৬৪ ধারা
  4. ১৬৫ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৬২ ধারা অনুযায়ী যদি সাক্ষীকে দলিল দাখিলের জন্য সমন দেওয়া হয় এবং সেই দলিল সাক্ষীর দখলে থাকে, তাহলে সেই সাক্ষী দলিলটি আদালতে হাজির করতে বাধ্য থাকবেন।
-আদালতের আদেশে সমন দেওয়া হলে সাক্ষীকে তার দখলস্থ নথি বা দলিলগুলি আদালতে হাজির করতে হবে। দলিলের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে কোনো আপত্তি থাকলে তা পরবর্তীতে বিবেচনা করা হবে।
-যদি কোনো সাক্ষী আদালতের সমনকে অমান্য করেন এবং দলিল হাজির না করেন, তাহলে তিনি আদালতের অবমাননার দায়ে দণ্ডিত হতে পারেন।
-সুতরাং, দলিলের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে যেকোনো আপত্তি থাকলেও, সাক্ষীকে আদালতের সমন অনুসারে দলিল হাজির করতে হবে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৬২ ধারার বিধান: নথি উপস্থাপন:
যদি কোনো সাক্ষীকে কোনো নথি আদালতে উপস্থাপনের জন্য ডাকা হয়, তবে সেই নথিটি তার অধিকারে বা হেফাজতে থাকলে, তিনি তা আদালতে আনতে বাধ্য থাকবেন, যদিও সেই নথি উপস্থাপন করা বা তা গ্রহণযোগ্য হওয়া নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলেও। আপত্তির বৈধতা আদালতই নির্ধারণ করবে।
আদালত যদি মনে করে, তবে নথিটি পর্যালোচনা করতে পারে, যদি না সেটি রাষ্ট্র সম্পর্কিত কোনো বিষয়বস্তু হয়। এছাড়াও, নথির গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণের জন্য আদালত অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারে।
----------------------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section-162. Production of documents:
A witness summoned to produce a document shall, if it is in his possession or power, bring it to Court, notwithstanding any objection which there may be to its production or to its admissibility. The validity of any such objection shall be decided on by the Court. 
The Court, if it sees fit, may inspect the document, unless it refers to matters of State, or take other evidence to enable it to determine on its admissibility.
১,২৭৮.
পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশ খারাপ চরিত্রের সাক্ষ্য হিসেবে প্রাসঙ্গিক The Evidence Act, 1872 এর কোন ধারানুযায়ী?
  1. ১৫১
  2. ৫৪
  3. ৫৫
  4. ১৫৫
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫৪ অনুযায়ী, পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশ (প্রতিবেদনে বা সাক্ষ্যত বর্ণিত দণ্ডাদেশ) খারাপ চরিত্রের সাক্ষ্য হিসেবে প্রাসঙ্গিক হতে পারে, যা একজন ব্যক্তির খারাপ চরিত্র বা ইতিবাচক চরিত্রের প্রতি সাক্ষ্য প্রদান করতে পারে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৪ ধারার বিধান: পূর্ববর্তী অসৎ উত্তর প্রদান প্রসঙ্গ ব্যতীত অন্যভাবে প্রাসঙ্গিক নয়:-
- ফৌজদারি মোকদ্দমায় আসামীর চরিত্র যে খারাপ, এটা প্রাসঙ্গিক বিষয় নয়। তবে তার চরিত্র ভাল এ মর্মে সাক্ষ্য প্রদান করা হলে তার চরিত্র মন্দ এটা প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।
ব্যাখ্যা-১: যে মোকদ্দমায় কোন ব্যক্তির খারাপ চরিত্রই বিচার্য বিষয়, সেক্ষেত্রে অত্র ধারা প্রযোজ্য নয়। 
ব্যাখ্যা-২: সাক্ষ্য হিসেবে খারাপ চরিত্রে পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশ প্রাসঙ্গিক।
-------------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section-54. Previous bad character not relevant, except in reply:
- In criminal proceedings the fact that the accused person has a bad character is irrelevant, unless evidence has been given that he has a good character, in which case it becomes relevant.
Explanation 1. –This section does not apply to cases in which the bad character of any person is itself a fact in issue.
Explanation 2. –A previous conviction is relevant as evidence of bad character.
১,২৭৯.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় কোন স্বীকৃতি কখন প্রাসঙ্গিক নয়?
  1. যদি এটি প্রকাশ্যে করা হয়
  2. যদি এটি আদালতের আদেশে লেখা হয়
  3. যদি এটি একজন সাক্ষীর মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপিত হয়
  4. যদি এটি এমন শর্তসাপেক্ষে করা হয় যে, এ সম্পর্কে কোনো সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না
ব্যাখ্যা
ধারা ২৩- দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতি যখন প্রাসঙ্গিক (Admissions in civil cases when relevant):
দেওয়ানি মোকদ্দমায় কোন স্বীকৃতি যদি এরূপ প্রকাশ্য শর্তাধীন করা হয় যে, ঐ সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না অথবা যদি এরূপ পরিস্থিতিতে করা হয় যে, তা সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না বলে পক্ষগণের মধ্যে চুক্তি হয়েছে বলে আদালত অনুমান করতে পারেন, তবে তা প্রাসঙ্গিক হবে না।
ব্যাখ্যাঃ কোন অ্যাডভোকেট ১২৬ ধারা অনুসারে কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য থাকলে এই ধারার কোন বিধান অনুসারে তিনি সাক্ষ্য দেওয়া হতে অব্যাহতি পাবে না। 

⇒ অর্থাৎ, দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয় যদি-
১. স্বীকৃতিটি এই শর্তে করা হয় যে উক্ত স্বীকারোক্তি সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না।
২. সাক্ষ্য না দেয়ার জন্য পক্ষগণের মধ্যে কোন চুক্তি থাকলে।

Section 23- Admissions in civil cases when relevant:
In civil cases no admission is relevant, if it is made either upon an express condition that evidence of it is not to be given, or under circumstances from which the Court can infer that the parties agreed together that evidence of it should not be given.

Explanation.–Nothing in this  section shall be taken to exempt any 17[Advocate] from giving evidence of any matter of which he may be compelled to give evidence under section 126.
১,২৮০.
সাক্ষ্য আইনের ৬৫খ ধারা অনুযায়ী ডিজিটাল রেকর্ডের প্রমাণ গ্রহণযোগ্যতার জন্য প্রধান শর্ত কী?
  1. কম্পিউটারটি অব্যাহতভাবে ব্যবহৃত হতে হবে
  2. তথ্য নিয়মিত প্রবেশ করানো হতে হবে
  3. কম্পিউটার সঠিকভাবে কাজ করছে
  4. উপরের সব
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬৫খ ধারা (ধারা 65B) অনুযায়ী, ডিজিটাল রেকর্ড (যেমন ইমেইল, এসএমএস, ভিডিও, অডিও ইত্যাদি) প্রমাণ হিসাবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত প্রধান শর্তগুলি পূরণ করতে হবে:
→ কম্পিউটারটি নির্দিষ্ট সময় ধরে নিয়মিত ব্যবহার হতে হবে (ধারা 65B(2)(a))
ডিজিটাল রেকর্ডটি এমন কম্পিউটার/ডিভাইস থেকে তৈরি হতে হবে যা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে নিয়মিত ব্যবহার করা হয়।
→ তথ্য নিয়মিতভাবে কম্পিউটারে প্রবেশ করানো হতে হবে (ধারা 65B(2)(b))
রেকর্ডকৃত তথ্যটি নিয়মিতভাবে ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কম্পিউটারে ইনপুট করা হয়েছে।
→ কম্পিউটারটি সঠিকভাবে কাজ করছে (ধারা 65B(2)(c))
রেকর্ড তৈরির সময় কম্পিউটারটি সঠিকভাবে কাজ করছিল বা কোনো ত্রুটি থাকলেও তা রেকর্ডের নির্ভুলতাকে প্রভাবিত করেনি।
→ তথ্যটি মূল সোর্স থেকে এসেছে (ধারা 65B(2)(d))
ডিজিটাল রেকর্ডে প্রদর্শিত তথ্যটি সরাসরি বা গণনা/প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে মূল তথ্য থেকে উদ্ভূত।

অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ৬৫খ ধারা অনুযায়ী ডিজিটাল রেকর্ড প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে হলে কম্পিউটারটি নিয়মিত ব্যবহার হওয়া, তথ্য সঠিকভাবে প্রবেশ করা এবং কম্পিউটারটি সঠিকভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
১,২৮১.
নিচের কোনটি সাক্ষ্য আইনের প্রথম খণ্ড (ধারা  ১‑৫৫)‑এর বিষয়বস্তু?
  1. ঘটনার প্রমাণ
  2. ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা
  3. সাক্ষ্য উপস্থাপন
  4. সাক্ষ্যগ্রহণ‑পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর প্রাথমিক তথ্য:
আইন নং: ১৮৭২ সালের ১নং আইন।
প্রকাশিত : ১৫ মার্চ, ১৮৭২।
কার্যকর : ১ লা সেপ্টেম্বর, ১৮৭২।
ধারা : ১৬৭ টি।
 
খণ্ড : ৩টি
১ম খণ্ড : ১ - ৫৫ ধারা - ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা,
২য় খণ্ড : ৫৬ - ১০০ ধারা - ঘটনার প্রমাণ,
৩য় খণ্ড : ১০১ - ১৬৭ ধারা - সাক্ষ্য উপস্থাপন ও ইহার ফলাফল।
১,২৮২.
"আদালতকে 'খ' বিশ্বাস করাতে চায় যে, সংশ্লিষ্ট সময়কালে সে অন্যত্র ছিল। অবশ্যই এটা তাকে প্রমাণ করতে হবে।" এখানে সাক্ষ্য আইনের কোন নীতির প্রতিফলন হয়েছে?
  1. Plea of Alibi
  2. Res Gestae
  3. Admission
  4. Estoppel
ব্যাখ্যা
⇒ ধারা-১০৩ এর বিধান কোন নির্ধারিত বিষয় প্রমাণের দায়িত্বঃ- কোন বিষয়ের অস্তিত্ব যে ব্যক্তি আদালতকে বিশ্বাস করতে চায়, সে প্রসঙ্গের অস্তিত্বে প্রমাণ করার দায়িত্ব সে ব্যক্তির উপর ন্যস্ত, যদি না কোন আইন অনুসারে সে বিষয় প্রমাণের দায়িত্ব কোন ব্যক্তিবিশেষের উপর আরোপিত হয়ে থাকে।

⇒ উদাহরণ
⇒ 'খ'-কে 'ক' চুরির দায়ে ফৌজদারীতে সোপর্দ করে। আদালতকে 'ক' বিশ্বাস করাতে চায় যে, 'গ'-এর নিকট 'খ' চুরির কথা স্বীকার করেছে। অবশ্যই স্বীকৃতি 'ক'-কে প্রমাণ করতে হবে।

⇒ আদালতকে 'খ' বিশ্বাস করাতে চায় যে, সংশ্লিষ্ট সময়কালে সে অন্যত্র ছিল। অবশ্যই এটা তাকে প্রমাণ করতে হবে।

⇒ যেসব ঘটনা অন্যভাবে প্রাসঙ্গিক নয়, সেগুলোও ১১ ধারায় প্রাসঙ্গিক হতে পারে যদি সেগুলো বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ হয় অথবা কোনোভাবে বিচার্য বিষয়ের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে অর্থাৎ বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অস্তিত্বহীনতাকে অধিকভাবে সম্ভব বা অসম্ভব করে তুলে। নিম্নোক্ত পাঁচ প্রকারের ঘটনা ১১ ধারায় প্রাসঙ্গিক হতে পারে। যথা-
i) অপরাধ সংঘটনকালে ঘটনাস্থলে আসামীর অনুপস্থিতি (Plea of Alibi) অর্থাৎ যদি দেখা যায় আসামী অপরাধ সংঘটনকালে ঘটনাস্থল হতে বহু দূরে ছিল তাহলে তা প্রাসঙ্গিক হবে;
ii) সন্তান জারজ কি-না এই প্রশ্নে স্ত্রীর নিকট হতে স্বামীর দূরে থাকার ঘটনা;
iii) কথিত মৃত ব্যক্তি জীবিত আছে এমন ঘটনা;
iv) অভিযুক্ত ব্যক্তি খুন করেছে এই প্রশ্নে, অন্য ব্যক্তি খুন করেছে-এরূপ ঘটনা; অথবা
v) অভিযুক্ত ব্যক্তি আঘাত করেছে এ প্রশ্নে, আহত ব্যক্তি নিজে আঘাত (Self-harming) করেছে-এরূপ ঘটনা ১১ ধারায় প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
⇒ Plea of Alibi- সাক্ষ্য আইনের ১১ ধারায় Plea of Alibi-কে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে। Alibi অর্থ হলো অন্যত্র (Elsewhere), আর Plea of Alibi এর আক্ষরিক অর্থ হল অন্যত্র অবস্থানের অজুহাত। এই শব্দটি ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

⇒ ফৌজদারি মামলায় আসামী এই মর্মে আত্মপক্ষ সমর্থন করে যে, অপরাধ সংঘটনকালে সে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না বা যে ঘটনার জন্য কোন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, ঘটনার সময় সে অন্যত্র ছিল। ফলে সে ঐ অপরাধের জন্য দায়ী নয় ।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৩ ধারামতে অপরাধ সংঘটনকালে আসামী অন্যত্র অবস্থানের দাবি করলে উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণ তাকেই উপস্থাপন করতে হয়। অর্থাৎ অন্যত্র থাকার অজুহাত বা Plea of Alibi প্রমাণের ভার অভিযুক্ত ব্যক্তির উপর বর্তায়।

⇒ বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ কিন্তু আলোচ্য ঘটনার অস্তিত্ব বা অস্তিত্বহীনতাকে সম্ভব বা অসম্মান করে তোলে এমন ঘটনা প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১ ধারায় উদাহরণের মাধ্যমে অপরাধের সময় অন্য কোথাও বা অন্যত্র থাকার অজুহাতকে প্রাসঙ্গিক বলা হয়েছে।

⇒ যখন কোন ব্যক্তি কোন ঘটনা সংঘটনের জন্য অভিযুক্ত হয় এবং সে যদি আদালতে উপস্থাপন করে যে সে অপরাধ সংঘটনের সময় অন্য কোথাও বা অন্যত্র ছিল তখন সে অজুহাতকে Plea of Alibi (Elsewhere) বলে।
১,২৮৩.
প্রতিপক্ষের আইনজীবী কর্তৃক সাক্ষীকে প্রশ্ন করা হলে, তাকে কী বলে?
  1. Examination in Chief
  2. Re-examination
  3. Cross Examination
  4. Further examination
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৭ ধারায় জবানবন্দি (Examination in Chief), জেরা (Cross Examination), এবং পুনঃজবানবন্দি (Re-examination) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

- সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief]:
যে পক্ষ সাক্ষীকে হাজির করে সেই পক্ষ যখন সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তখন তাকে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief] বলে।

- জেরা [Cross Examination]:
বিরুদ্ধ পক্ষ যখন সেই সাক্ষীকে প্রশ্ন করে, তখন তাকে জেরা বলে [Cross Examination] বলে।

- পুনঃজবানবন্দি [Re-examination]:
জেরার পর সাক্ষী উপস্থিতকারী পক্ষ যদি আবার সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তবে তাকে পুনঃজবানবন্দি (Re- examination) বলে।
১,২৮৪.
Oral evidence must, in all cases whatever, be direct- সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার বক্তব্য?
  1. ৫৮
  2. ৫৯
  3. ৬০
  4. ৬১
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারায় মৌখিক সাক্ষ্য প্রত্যক্ষ হতে হবে এই বিধান আছে- অর্থাৎ কোনো ঘটনার চাক্ষুস সাক্ষীকে বলতে হবে সে নিজে দেখেছে, কেউ যদি কোনো ঘটনা শুনে তাকেই বলতে হবে তিনি নিজে শুনেছেন। কিন্তু কেউ যদি বলে ঘটনা ঘটার সময় আমি দেখিনি, কিন্তু যে দেখেছে তাঁর মুখে শুনেছি তবে এই ঘটনার জন্য এই সাক্ষ্য প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য নয়। ৬০ ধারায় এই বিষয়ে বিস্তারিত বলা আছে।
১,২৮৫.
সাক্ষ্য আইনের ৩ ধারায় সাক্ষ্যকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ২ টি ভাগে
  2. ৩ টি ভাগে
  3. ৪ টি ভাগে
  4. ৫ টি ভাগে
ব্যাখ্যা
⇒ ২০২২ সালের সংশোধনী অনুসারে সাক্ষ্য আইনের ৩ ধারায় সাক্ষ্য ৩ প্রকার। যথা:
১) দালিলিক সাক্ষ্য,
২) মৌখিক সাক্ষ্য,
৩) শারীরিক বা ফরেনসিক।

⇒  সাক্ষ্য (Evidence): 'সাক্ষ্য' শব্দের অর্থে অন্তর্ভুক্ত হবে-

(১) বিচার্য বিষয়ের অনুসন্ধানের সাথে সম্পর্কিত যে সকল বিবৃতি দেওয়ার জন্য আদালত অনুমতি দেন বা সাক্ষীর যে সকল বিবৃতি আদালতের প্রয়োজন হয়; এ ধরনের বিবৃতিকে মৌখিক সাক্ষ্য বলে।

(২) যে সকল দলিল আদালতের পরিদর্শনের জন্য উপস্থাপিত করা হয়, এ ধরণের দলিলপত্রকে দালিলিক সাক্ষ্য বলে।

(৩) শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক সাক্ষ্য: রক্ত, বীর্য, চুল, সকল দৈহিক উপাদান, অঙ্গ বা অঙ্গের অংশ, ডিএনএ, আঙ্গুলের ছাপ, তালুর ছাপ, চোখের কনীনিকার ছাপ; এবং পায়ের ছাপ সম্পর্কিত সকল উপাদানসমূহ বা বস্তুসমূহ বা অনুরুপ প্রকৃতির অন্যকোন উপাদান বা বস্তু শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক সাক্ষ্য মর্মে গণ্য হবে যদি এমন উপাদানসমূহ বা বস্তুসমূহ-
i. প্রতিষ্ঠা করে যে কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে; বা
ii. অপরাধ এবং এর ভুক্তভোগীর মধ্যে বা অপরাধ এবং এর অপরাধীর মধ্যেকার কোন সংযোগ বা সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে; এবং 
iii. কোন ঘটনা প্রমাণ করে বা মিথ্যা প্রমাণ করে।
১,২৮৬.
The Evidence Act, 1872 অনুযায়ী মোক্তারনামার সম্পাদন বিষয়ে আদালত ___________।
  1. অবশ্যই অনুমান করবে
  2. চূড়ান্ত প্রমাণিত বিবেচনা করবে
  3. কোনো অনুমান করবে না
  4. অনুমান করতে পারে
ব্যাখ্যা
ধারা: ৮৫ মোক্তারনামা সম্পর্কে অনুমান

মোক্তরনামা বলিয়া যাহা বুঝিতে দেওয়া হয় এবং যাহা কোন নোটারী পাবলিক বা কোন আদালত, জজ, ম্যাজিষ্ট্রেট, কন্সাল বা ভাইস-কন্সাল অথবা সরকারের কোন প্রতিনিধির সম্মুখে সম্পাদিত হইয়াচ্ছে এবং তৎকর্তৃক দৃঢ়ীকৃত হইয়াছে বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয়, তাহা অনুরূপভাবে সম্পাদিত ও দৃঢ়ীকৃত হইয়াছে বলিয়া আদালত অবশ্যই ধরিয়া লইবেন।
১,২৮৭.
‘চরিত্র’ শব্দটির ব্যাখ্যা সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় দেওয়া আছে?
  1. ৫২ ধারায়
  2. ৫৩ ধারায়
  3. ৫৪ ধারায়
  4. ৫৫ ধারায়
ব্যাখ্যা

সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫৫: ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে চরিত্রের প্রাসঙ্গিকতা:
দেওয়ানি মামলায়, কোনো ব্যক্তির চরিত্র এমন হতে পারে যা তার প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণকে প্রভাবিত করতে পারে, এবং এ সংক্রান্ত বিষয়টি প্রাসঙ্গিক।

ব্যাখ্যা: ধারা ৫২, ৫৩, ৫৪ ও ৫৫-এ "চরিত্র" বলতে খ্যাতি (reputation) ও স্বভাব (disposition) উভয়কেই বোঝায়। তবে, ৫৪ ধারায় নির্দিষ্ট যে ব্যতিক্রম রয়েছে তা ছাড়া, শুধুমাত্র সাধারণ খ্যাতি ও সাধারণ স্বভাব সম্পর্কিত সাক্ষ্য দেওয়া যাবে, বিশেষ কোনো কার্য বা আচরণের মাধ্যমে প্রমাণিত খ্যাতি বা স্বভাবের সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না।

⇒ The Evidence Act,1872, Section 55. Character as affecting damages:
In civil cases the fact that the character of any person is such as to affect the amount of damages which he ought to receive, is relevant.

Explanation.–
 In sections 52, 53, 54 and 55, the word "character" includes both reputation and disposition; but, except as provided in section 54, evidence may be given only of general reputation and general disposition, and not of particular acts by which reputation or disposition were shown.

১,২৮৮.
সাক্ষ্য আইনের ৯০ক ধারা অনুযায়ী পাঁচ বছরের পুরনো ডিজিটাল রেকর্ডটি আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে যদি-
  1. সরকারী অফিসে সংরক্ষিত হয়।
  2. এটি অভিযুক্তের কাছ থেকে সংগৃহীত হয়।
  3. এটি প্রমাণিত হয় যে তা যথাযথ হেফাজতে ছিল।
  4. উপরোক্ত কোনটিই নয়।
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯০ক ধারা অনুযায়ী, ৫ বছর পুরনো ডিজিটাল রেকর্ডের প্রমাণ প্রদান করা হলে, আদালত অনুমান করতে পারে যে ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অথবা তার অনুমোদিত কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে সঠিকভাবে যুক্ত হয়েছে। ডিজিটাল রেকর্ড সঠিকভাবে সংরক্ষিত হলে তা বৈধ বলে গণ্য হয়, যদি তা প্রাকৃতিকভাবে সঠিক স্থানে এবং সঠিক ব্যক্তির কাছে থাকে

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯০ক ধারার বিধান পাঁচ বছরের পুরনো ডিজিটাল রেকর্ডের অনুমান:

- যেখানে কোনো ডিজিটাল রেকর্ড, পাঁচ বছরের পুরানো বলে প্রমাণিত এবং যে হেফাজত থেকে দাখিল করা হয় তা বিশেষ ক্ষেত্রে আদালত যথাযথ বিবেচনা করে, আদালত অনুমান করতে পারে যে, ডিজিটাল স্বাক্ষর কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ডিজিটাল স্বাক্ষর হতে পারে যা এই জন্য তার দ্বারা বা তার দ্বারা অনুমোদিত যে কোন ব্যক্তি দ্বারা সংযুক্ত।

ব্যাখ্যা- ডিজিটাল রেকর্ডগুলিকে যথাযথ হেফাজতে আছে বলা হয় যদি সেগুলি সেই জায়গায় থাকে সেখানে, এবং যার তত্ত্বাবধানে স্বাভাবিকভাবেই থাকে; কিন্তু কোন হেফাজত অনুপযুক্ত নয় যদি এটি প্রমাণিত হয় যে এটির একটি বৈধ উৎস ছিল, বা বিশেষ মামলার পরিস্থিতি এমন হয় যে এই জাতীয় উৎসকে সম্ভাব্য গণ্য করা যায়।

উল্লেখ্য যে, 
- পাঁচ বছরের পুরনো ডিজিটাল রেকর্ড সম্পর্কে আদালত may presume ধরে নিবেন।
-  ডিজিটাল রেকর্ডটি সঠিক ব্যক্তির হেফাজত থেকে দাখিল করতে হবে।
- ৯০ ধারার দলিলের মতোই ব্যবহার হবে।
----------
The Evidence Act, 1872 section 90A. Presumption as to digital records five years old:
 Where any digital record, purporting or proved to be five years old, is produced from any custody which the Court in the particular case considers proper, the Court may presume that the digital signature which purports to be the digital signature of any particular person was so affixed by him or any person authorized by him in this behalf.

Explanation.- Digital records are said to be in proper custody if they are in the place in which, and under the care of the person with whom, they naturally be; but no custody is improper if it is proved to have had a legitimate origin, or the circumstances of the particular case are such as to render such an origin probable.
১,২৮৯.
ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি কখন প্রাসঙ্গিক?
  1. সবসময় প্রাসঙ্গিক
  2. যখন পুলিশ অনুমোদন করে
  3. যখন আদালত বিশেষ অনুমতি দেয়
  4. যখন ডিজিটাল রেকর্ডের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ২২ক অনুযায়ী, সাধারণভাবে ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য নয়। তবে, এটি তখনই প্রাসঙ্গিক বা গ্রহণযোগ্য হতে পারে যখন উক্ত ডিজিটাল রেকর্ডের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

- মূল প্রমাণের নীতি: সাধারণত কোনো নথিপত্র বা ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু প্রমাণ করার জন্য প্রাথমিক প্রমাণ (primary evidence) প্রয়োজন হয়। ডিজিটাল রেকর্ড নিজেই প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে, মৌখিক স্বীকৃতি নয়।
- গৌণ প্রমাণের ব্যতিক্রম: যদি কোনো পক্ষ আদালতে প্রমাণ করতে চায় যে ডিজিটাল রেকর্ডটি সত্য নয় বা জাল, তাহলে সেই রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
- আদালত যদি মনে করে যে ডিজিটাল রেকর্ডটি সন্দেহজনক বা প্রশ্নবিদ্ধ, তখন মৌখিক স্বীকৃতির মাধ্যমে এর প্রকৃত অবস্থা নির্ণয়ের চেষ্টা করা যেতে পারে।

→ ডিজিটাল রেকর্ডের সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে, তার বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি আদালতে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
তাই সঠিক উত্তর: ঘ) যখন ডিজিটাল রেকর্ডের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে।
---------- 
⇒The Evidence Act, 1872, Section-22A. When oral admissions as to contents of digital records are relevant:
Oral admissions as to the contents of digital records are not relevant, unless the genuineness of the digital record produced is in question.
১,২৯০.
বোবা সাক্ষীর সাক্ষ্য কী বলে গণ্য হবে?
  1. লিখিত সাক্ষ্য
  2. বোবার সাক্ষ্য
  3. মৌখিক সাক্ষ্য
  4. দালিলিক সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ১১৯ ধারার বিধান বোবা সাক্ষীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ধারা ১১৯ অনুযায়ী- যে সাক্ষী কথা বলতে পারে না, সে যদি লিখে বা ইশারার মাধ্যমে তার বক্তব্য বুঝাতে পারে তাহলে সেই ভাবে সে সাক্ষ্য প্রদান করতে পারবে।

♦ অর্থাৎ সে যোগ্য সাক্ষী। তবে লিখা বা ইশারার মাধ্যমে সাক্ষ্য দেয়ার কাজটি প্রকাশ্যে আদালতের সামনেই করতে হবে। এভাবে বোবার দেয়া সাক্ষী মৌখিক সাক্ষ্য বলে গণ্য হবে।
১,২৯১.
"No confession made to a police-officer shall be proved as against a person accused of any offence" এটি সাক্ষ্য আইনের কত ধারার বিধান?
  1. ২২
  2. ২৩
  3. ২৫
  4. ২৬
ব্যাখ্যা
The Evidence Act, 1872 Section 25. Confession to police-officer not to be proved:
- No confession made to a police-officer shall be proved as against a person accused of any offence.
----------
- সাক্ষ্য আইনের ২৫ ধারা অনুযায়ী কেউ যদি পুলিশের নিকট দোষ স্বীকার করে তাহলে তা গ্রহনযোগ্য হবে না।
১,২৯২.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী, নিম্নলিখিত কোনটি বেসরকারি দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. খতিয়ান
  2. বিক্রয় চুক্তি
  3. আদালতের রায়
  4. সরকারি আদেশ
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৭৫ অনুযায়ী, বেসরকারি দলিল (Private Document) হলো সেইসব দলিল যা সরকারি কর্তৃপক্ষ বা আদালতের কার্যক্রমের অংশ নয়, বরং ব্যক্তিগত বা বেসরকারি উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়। বিক্রয় চুক্তি একটি বেসরকারি দলিল, কারণ এটি সাধারণত ব্যক্তিগত লেনদেনের জন্য তৈরি হয় এবং এর সাথে কোনো সরকারি সংস্থার সংশ্লিষ্টতা থাকে না।
অন্যদিকে:
- খতিয়ান (Land Record) এবং আদালতের রায় সরকারি দলিল হিসেবে গণ্য হয়, কারণ এগুলি সরকারি কর্তৃপক্ষ বা আদালতের নথিপত্র হিসেবে রক্ষিত থাকে।
- সরকারি আদেশ (Government Order) একটি সরকারি দলিল, যা সরকারি সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের দ্বারা জারি করা হয় এবং এটি সরকারী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গণ্য হয়।
অতএব, বিক্রয় চুক্তি হলো একটি বেসরকারি দলিল।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ থেকে ৭৮ ধারায় সরকারী দলিল সংক্রান্ত বিধানসমূহ আলোচনা করা হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশের দলিলগুলোকে সাক্ষ্য আইন মতে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. সরকারী দলিল (Public Document); এবং
২. বেসরকারী/ব্যক্তিগত দলিল (Private Document)।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা-৭৪: সরকারী দলিল (Public Document)- সরকারীভাবে রক্ষিত দলিলকে সরকারী দলিল বা Public document বলে। কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ যেমন-সংসদের আইন, সরকারি সংস্থা বা ট্রাইবুনাল সমূহের নথিপত্র অর্থাৎ দেশী বিদেশী আইন, বিচার বা শাসন বিভাগীয় কোন কর্মচারীর কার্যাবলির লিখিত বিবরণ ও নথিপত্রকে সরকারী দলিল বা Public Document বলে। অন্যভাবে বলা যায়, সরকারী দলিল বলতে সেই সমস্ত দলিলকে বোঝায় যে সমস্ত দলিল কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের সরকারী প্রতিষ্ঠানে বা ট্রাইব্যুনালের এবং বাংলাদেশের কোন অংশের বা কমনওয়েলথের বা বিদেশে সরকারী অফিসার, আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কার্যাবলী বা কাজের লিপিবদ্ধ বিবরণকে অন্তর্ভুক্ত করে।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা-৭৫: বেসরকারি দলিল (Private document)- সরকারি দলিল ব্যতীত সকল দলিলই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত দলিল। কবিতা, উইল, বিক্রয় চুক্তি, দানপত্র, মূল বিক্রয় দলিল, কবলা দলিল, চিঠিপত্র সবই বেসরকারি দলিল বা Private document.
১,২৯৩.
বোবা সাক্ষীর ইশারা বা লিখিত ভাবে প্রদত্ত সাক্ষ্য কী ধরনের সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে?
  1. লিখিত সাক্ষ্য
  2. দলিলগত সাক্ষ্য
  3. মৌখিক সাক্ষ্য
  4. শারীরিক সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১১৯ অনুযায়ী যে সাক্ষী কথা বলিতে অক্ষম (বোবা), তিনি ইশারা বা লিখনের মাধ্যমে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করতে পারেন। তবে তা অবশ্যই প্রকাশ্য আদালতে করতে হবে।
- এইভাবে প্রদত্ত সাক্ষ্যকে আইন অনুযায়ী "মৌখিক সাক্ষ্য" (Oral Evidence) হিসেবে গণ্য করা হয়, যদিও তা মুখে বলা নয়।
- উদ্দেশ্য হলো বক্তব্যটি প্রত্যক্ষভাবে আদালতের সামনে উপস্থাপন করা, যা মৌখিক সাক্ষ্যের প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১৯ ধারা- বোবা সাক্ষী:
যে সাক্ষী কথা বলিতে অক্ষম, তিনি তাহার বক্তব্য অন্য কোনোভাবে অর্থাৎ লিখিয়া বা ইশারা করিয়া বুঝাইতে পারেন এবং সেইভাবে সাক্ষ্যদিতে পারেন, তবে সেই লেখা বা ইশারা প্রকাশ্য আদালতে লিখিতে বা করিতে হইবে। এইরূপভাবে যে সাক্ষ্য দেওয়া হইবে তাহা মৌখিক সাক্ষ্য বলিয়া গণ্য হইবে।
--------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 119- Dumb witnesses:
A witness who is unable to speak may give his evidence in any other manner in which he can make it intelligible, as by writing or by signs; but such writing must be written and the signs made in open Court. Evidence so given shall be deemed to be oral evidence.
১,২৯৪.
“The Court may presume that a bill of exchange, accepted or endorsed, was accepted or endorsed for good consideration” বিধানটি The Evidence Act, 1872 এর কত ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. 114 (b)
  2. 114 (c)
  3. 114 (d)
  4. 114 (e)
ব্যাখ্যা
♦The Evidence Act, 1872 এর ১১৪ ধারার অধীন ৯টি ক্ষেত্রে ঘটনার অস্তিত্ব আদালত অনুমান করতে পারে। 114(c) ধারা অনুযায়ী ‘স্বীকৃত বা পৃষ্ঠাংকিত Bill of exchange উপযুক্ত প্রতিদানের বিনিময়ে স্বীকৃত বা পৃষ্ঠাংকিত হয়েছে’ এমন অনুমান আদালত করতে পারে।
১,২৯৫.
নিম্নলিখিত কোনটি প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের উদাহরণ?
  1. কোনো সাক্ষীর মৌখিক শোনা কথা
  2. কোনো সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন
  3. কোনো ঘটনা প্রত্যক্ষদর্শীর সরাসরি বিবৃতি
  4. কোনো নথির প্রতিলিপি আদালতে উপস্থাপন
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) কোনো ঘটনা প্রত্যক্ষদর্শীর সরাসরি বিবৃতি।

⇒ প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য (Direct Evidence) বলতে বোঝায় যে সাক্ষ্য সরাসরি বিচার্য বিষয়ে প্রভাব ফেলে এবং যার মাধ্যমে আদালত কোনো ঘটনার সত্যতা নির্ধারণ করতে পারে। এটি সাধারণত এমন সাক্ষ্য যা সাক্ষী নিজে প্রত্যক্ষভাবে দেখেছে, শুনেছে বা অনুভব করেছে।
- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৬০ ধারায় প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য অবশ্যই সাক্ষীর ব্যক্তিগত জ্ঞানের ভিত্তিতে হতে হবে এবং গুজব বা শোনা কথা (Hearsay) গ্রহণযোগ্য নয়।

⇒ অন্য অপশন গুলোর বিশ্লেষণ:
(ক) কোনো সাক্ষীর মৌখিক শোনা কথা:
- এটি প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য নয়, বরং পরোক্ষ বা মাধ্যমিক সাক্ষ্য। কারণ, এটি সাক্ষীর নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং অন্য কারও বলা তথ্যের ভিত্তিতে গঠিত। এটি Hearsay Evidence হিসেবে গণ্য হয়, যা সাধারণত আদালতে গ্রহণযোগ্য নয়।
(খ) কোনো সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন:
- সংবাদপত্রের প্রতিবেদন একটি মাধ্যমিক সাক্ষ্য। কারণ, এটি ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীর বিবৃতি নয়, বরং সাংবাদিক বা প্রতিবেদকের তৈরি একটি ডকুমেন্ট, যা বিভিন্ন সূত্র থেকে সংগৃহীত হতে পারে।
(ঘ) কোনো নথির প্রতিলিপি আদালতে উপস্থাপন:
- কোনো নথির প্রতিলিপি প্রাথমিক সাক্ষ্য নয়, বরং মাধ্যমিক সাক্ষ্য। কারণ, এটি মূল দলিল নয়, বরং তার অনুলিপি, যা প্রাথমিক সাক্ষ্যের অনুপস্থিতিতে ব্যবহৃত হথা

⇒ অর্থাৎ কোনো ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তি যদি সরাসরি আদালতে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন, তবে সেটিই প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য।
তাই সঠিক উত্তর: (গ) কোনো ঘটনা প্রত্যক্ষদর্শীর সরাসরি বিবৃতি।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬০ অনুযায়ী, মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে। অর্থাৎ,
যদি এটি এমন একটি বিষয় সম্পর্কে হয় যা দেখা যেতে পারে, তবে সেই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে যে ব্যক্তি বলবে সে এটি দেখেছে;
যদি এটি এমন একটি বিষয় সম্পর্কে হয় যা শোনা যেতে পারে, তবে সেই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে যে ব্যক্তি বলবে সে এটি শুনেছে;
যদি এটি এমন একটি বিষয় সম্পর্কে হয় যা অন্য কোনো অনুভূতি বা পদ্ধতিতে অনুভব করা যেতে পারে, তবে সেই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে যে ব্যক্তি বলবে সে সেই অনুভূতির মাধ্যমে এটি অনুভব করেছে;
যদি এটি কোনো মতামত বা সেই মতামতের ভিত্তি সম্পর্কে হয়, তবে সেই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে যে ব্যক্তি ওই মতামতটি ধারণ করেছে এবং তার ভিত্তি জানে।
এছাড়া, বিশেষজ্ঞদের মতামত যে কোনো বইয়ে প্রকাশিত থাকে, সেটি যদি সাধারণভাবে বিক্রয়ের জন্য পাওয়া যায় এবং সেই লেখক মৃত অথবা পাওয়া না যায়, অথবা সাক্ষ্য দিতে অক্ষম হয়, বা সাক্ষীকে ডাকার জন্য সময় ও খরচ অধিক হয়, তাহলে আদালত সেই বইটির উত্থাপন করার মাধ্যমে সেই মতামত প্রমাণ করতে পারে।
এছাড়া, যদি মৌখিক সাক্ষ্য কোনো পদার্থের অস্তিত্ব বা অবস্থা সম্পর্কে হয়, যা একটি দলিল ছাড়া অন্য কোনো বস্তু, তবে আদালত, যদি তা প্রযোজ্য মনে করে, তখন সেই বস্তুটির পরিদর্শনের জন্য উত্থাপন করতে পারে।
-------------
⇒ The Evidence Act, 1872: Section-60: Oral evidence must be direct:
- Oral evidence must, in all cases whatever, be direct; that is to say-
if it refers to a fact which could be seen, it must be the evidence of a witness who says he saw it;
if it refers to a fact which could be heard, it must be the evidence of a witness who says he heard it;
if it refers to a fact which could be perceived by any other sense or in any other manner, it must be the evidence of a witness who says he perceived it by that sense or in that manner;
if it refers to an opinion or to the grounds on which that opinion is held, it must be the evidence of the person who holds that opinion on those grounds:
Provided that the opinions of experts expressed in any treatise commonly offered for sale, and the grounds on which such opinions are held, may be proved by the production of such treatises if the author is dead or cannot be found, or has become incapable of giving evidence, or cannot be called as a witness without an amount of delay or expense which the Court regards as unreasonable:
Provided also that, if oral evidence refers to existence or condition of any material thing other than a document, the Court may, if it thinks fit, require the production of such material thing for its inspection.
১,২৯৬.
'B' সরাসরি 'A'-কে একটি অপরাধ করতে দেখেছে। 'B' আদালতে সাক্ষ্য দিতে না এসে 'C'-কে এই ঘটনা বলে। এখন 'C' আদালতে এসে বলছে যে, "'B' আমাকে বলেছে যে সে 'A'-কে অপরাধ করতে দেখেছে।" 'C'-এর এই সাক্ষ্য সাক্ষ্য আইন অনুসারে কী হবে?
  1. সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য
  2. সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়
  3. গ্রহণযোগ্যতা আদালতের বিবেচনাধীন
  4. শুধুমাত্র মৌখিক সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৬০ অনুসারে, 'C'-এর এই সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয় কারণ এটি পরোক্ষ বা জনশ্রুত সাক্ষ্য (Hearsay Evidence)।
⇒ পরোক্ষ বা জনশ্রুত সাক্ষ্য (indirect/hearsay evidence)- পরোক্ষ বা জনশ্রুত সাক্ষ্য হলো তাই যা আদালতে উপস্থিত সাক্ষী পূর্বে অন্য সাক্ষীর নিকট থেকে শোনাক্রমে প্রদান করে।
-অর্থাৎ নিজে না দেখে অন্যের কাছ থেকে শুনে যে সাক্ষ্য দেয়া হয়। তাকে পরোক্ষ বা জনশ্রুত সাক্ষ্য বা hearsay evidence বলে। জনশ্রুত সাক্ষ আদালতে গ্রহনযোগ্য নয়।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারার বিধান মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হইতে হইবে মৌখিক সাক্ষ্য সকল ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রত্যক্ষ হইতে হইবে,
অর্থাৎ সাক্ষ্যে উল্লিখিত তথ্য যদি দেখা যাইতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলিবে যে, সে উহা দেখিয়াছে তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।
⇒ সাক্ষ্যে উল্লিখিত তথ্য যদি শোনা যাইতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলিবে যে সে উহা শুনিয়াছে, তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।
⇒ জনশ্রুত সাক্ষ্য (hearsay evidence) ধরনের মৌখিক সাক্ষ্য সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়।
----------------
⇒The Evidence Act, 1872, Section 60. Oral evidence must be direct:
Oral evidence must, in all cases whatever, be direct; that is to say- 
if it refers to a fact which could be seen, it must be the evidence of a witness who says he saw it; 
if it refers to a fact which could be heard, it must be the evidence of a witness who says he heard it;

১,২৯৭.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৭০ অনুযায়ী স্বাক্ষরকারী দলিল স্বীকার করলে, সাক্ষী না থাকলেও তা-
  1. গ্রহণযোগ্য নয়
  2. বাতিল বলে বিবেচিত হবে
  3. প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
ধারা ৭০: স্বাক্ষরিত দলিলের সম্পাদন স্বীকারোক্তি:
"যে ব্যক্তি কোন সাক্ষীকৃত দলিলে স্বাক্ষরের মাধ্যমে নিজে দলিলটি সম্পাদন করেছেন তা যদি স্বীকার করেন, তবে এটি তার বিরুদ্ধে দলিলটির সম্পাদনের জন্য যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে—যদিও আইন অনুযায়ী দলিলটিতে সাক্ষী থাকা আবশ্যক।"

[The admission of a party to an attested document of its execution by himself shall be sufficient proof of its execution as against him, though it be a document required by law to be attested.]
১,২৯৮.
সাক্ষ্য আইন কোন সালের কত নম্বর আইন?
  1. ১৮৭২ সালের ৫নং আইন
  2. ১৯৭২ সালের ১নং আইন
  3. ১৮৭২ সালের ১নং আইন
  4. ১৮৭৩ সালের ৫নং আইন
ব্যাখ্যা
⇒ ১৮৫০ সালে সর্ব প্রথম স্যার হেনরি সামার মেইন সাক্ষ্য আইনের খসড়া বিল তৈরি করলেও তা ভারতে ব্যবহারের অনুপযোগী ছিল। পরবর্তীতে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ১৮৭১ সালে স্যার জেমস স্টিফেনকে (Fitz-James Stephen) সাক্ষ্য আইনের খসড়া প্রস্তুতের দায়িত্ব দেয় এবং স্যার জেমস স্টিফেন ১৮৭১ সালে সাক্ষ্য আইনের খসড়া প্রণয়ন করেন। সুতরাং সাক্ষ্য আইনের খসড়া প্রস্তুতকারী হলো স্যার জেমস স্টিফেন।

 ⇒ স্যার জেমস স্টিফেনকে সাক্ষ্য আইনের জনক বলা হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ সালের ১নং আইন। The Evidence Act, 1872 ( ACT NO. I OF 1872 )

⇒ ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনটি ১১টি অধ্যায়ে (Chapter) বিভক্ত এবং এতে মোট ১৬৭টি ধারা (Section) সন্নিবেশিত রয়েছে। এছাড়াও সাক্ষ্য আইনে ৩টি ভাগ (Part) রয়েছে।
১,২৯৯.
সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারা মতে, আসামীর বিরুদ্ধে দুষ্কর্মের সহযোগী সাক্ষ্য দেয়ার ________ বলে পরিগণিত হবেন।
  1. অযোগ্য ব্যক্তি
  2. উপযুক্ত ব্যক্তি
  3. অনুপযুক্ত ব্যক্তি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ধারা ১৩৩- দুষ্কর্মের সহযোগী:
আসামীর বিরুদ্ধে দুষ্কর্মের সহযোগী সাক্ষ্য দেয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বলে পরিগণিত হবেন। আসামীকে দুষ্কর্মের সহযোগীর অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা দেয়া হলে, শুধুমাত্র সে কারণে ঐ সাজা বেআইনী হবে না।
 
Section 133- Accomplice:
An accomplice shall be a competent witness against an accused person; and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.
১,৩০০.
সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারার অধীন কে বৈরী সাক্ষী (Hostile Witness) ঘোষণা করেন?
  1. সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ
  2. আদালতের বিচারক
  3. আসামী পক্ষের অ্যাডভোকেট
  4. সাক্ষী নিজেই
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ তার সাক্ষীকে পরীক্ষা করলে তা জবানবন্দি বলে গণ্য হয়। এরপর বিরুদ্ধ পক্ষ সেই সাক্ষীকে জেরা করে। তবে ১৫৪ ধারার অধীন যদি সাক্ষী আনয়নকারী পক্ষ তার নিজের সাক্ষীকে আদালতের অনুমতি নিয়ে জেরা করা শুরু করে তখন সেই সাক্ষীকে বৈরী সাক্ষী বলে। বৈরী সাক্ষী যে সাক্ষ্য দেয় সেটা হল বৈরী সাক্ষ্য।

⇒  বৈরী সাক্ষীকে সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষের জেরা করার অনুমতি দান করা আদালতের বিবেচনার উপর নির্ভর করে। আইনের সাধারণ নীতি অনুযায়ী সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ তার নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে না। কিন্তু সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারার অধীন আদালতের অনুমতি নিয়ে যে পক্ষ সাক্ষী নিয়ে আসে, সে পক্ষ নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে। এ ধরনের সাক্ষী হল বৈরী (Hostile) সাক্ষী।

⇒  সাধারণত জেরা করার উদ্দেশ্য হলো প্রতিপক্ষের সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা। এরূপ কাজ কোন মামলার বিরুদ্ধ পক্ষ করে থাকে, তবে ১৫৪ ধারার অধীন সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের সাক্ষীকে জেরা করে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে।

⇒  যখন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা হয়:
১) সাক্ষী যদি নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়
২) সাক্ষী যদি বিরুদ্ধ পক্ষের সমর্থনে সাক্ষ্য দেয়
৩) সাক্ষী যদি তার পূর্বের সাক্ষ্য থেকে সরে এসে বিপরীত সাক্ষ্য দেয়।

⇒  এরূপ ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ নিজ সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করে জেরা করার জন্য আদালতের অনুমতির জন্য দরখাস্ত/ আবেদন দেয়। আদালত উক্ত আবেদন গ্রহণ করলে সাক্ষী বৈরী হয় এবং নিজপক্ষের অ্যাডভোকেট তাকে জেরা করতে পারে।