বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

মোট প্রশ্ন১৫,৪৭০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

PrepBank · পাতা ৮৯ / ১৫৫ · ৮,৮০১৮,৯০০ / ১৫,৪৭০

৮,৮০১.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় জুডিসিয়াল নোটিশ (Judicial Notice) সম্পর্কে বিধান আছে?
  1. ৫৬ ধারায়
  2. ৫৭ ধারায়
  3. ৫৮ ধারায়
  4. 'ক' এবং 'খ' উভই
ব্যাখ্যা
⇒ জুডিশিয়াল নোটিশ (Judicial Notice)- যেসব বিষয় আদালত জানেন বা জানেন বলে ধরা হয়, সেগুলোকে জুডিশিয়াল নোটিশ বা বিচারিক দৃষ্টিগোচর বলে। সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ও ৫৭ ধারায় জুডিশিয়াল নোটিশের বিধান রয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ধারার বিধান অনুযায়ী জুডিশিয়াল নোটিশ প্রমানের প্রয়োজন নেই (Fact judicially noticeable need not be proved)। তবে জুডিশিয়াল নোটিশ চূড়ান্ত প্রমান নয়, এর বিরূদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করা যায়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে আদালত কোন কোন বিষয় অবশ্যই বিচারিক দৃষ্টিগোচরে (জুডিশিয়াল নোটিশ) নিবেন।
৫৭ ধারা অনুযায়ী আদালত নিম্নলিখিত বিষয়ে অবশ্যই জুডিশিয়াল নোটিশ নিবেন-
i) বাংলাদেশের সকল আইন;
ii) সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রনীত যুদ্ধবিধি বা অস্ত্র ও রসদ (articles of war);
iii) সংসদের কার্যসমূহঃ
iv) বাংলাদেশের আদালত, নৌ ও সামুদ্রিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত এবং নোটারি পাবলিকের সীলমোহর;
v) সরকারি পদে নিয়োগের গেজেটে উল্লেখিত নাম, পদ, স্বাক্ষর, যোগদানের সময়;
vi) বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত রাষ্ট্র, রাষ্ট্রপ্রধান, জাতীয় পতাকা
vii) সময় ও ভৌগলিক বিভাগসমুহ, রোজা, ছুটির দিন সমুহ;
viii) বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমানা;
ix) আদালতের সদস্যবৃন্দ ও এ্যাডভোকেটগন;
x) বাংলাদেশের সাথে অপর কোন রাষ্ট্র বা সংগঠনের বিরোধ:
xi) স্থল, জল ও সমুদ্রপথের নিয়মাবলী।

[ বিশেষ নোট- সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারায় জুডিশিয়াল নোটিশের অন্তর্গত ১১টি বিষয়ের তালিকা রয়েছে; কিন্তু এই তালিকা স্বয়ং সম্পূর্ন নয়।]
৮,৮০২.
The Evidence Act, 1872 এর ________ ধারায় অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে।
  1. ১০
ব্যাখ্যা
The Evidence Act, 1872 এর ৮ ধারার বিধান বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অভিপ্রায়, প্রস্তুতি এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কার্যসমূহ (Motive, preparation and previous or subsequent conduct)- যে সকল ঘটনা বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অভিপ্রায় (Motive), প্রস্তুতি (Preparation) এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কার্য (Previous or Subsequent Conduct) হিসেবে গণ্য হয়, সে সকল ঘটনাকে সাক্ষ্য আইনের ৮ ধারায় প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।

সাধারণত অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে Motive প্রমাণ করতে হয় না। তবে বাদী যখন Motive দাবী করে ও মামলাটা যদি শুধুমাত্র Circumstantial evidence এর উপর নির্ভর করে তখন Motive প্রমাণ করতে হয়।
৮,৮০৩.
সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারার অনুসারে শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণের উপর একজন বিশেষজ্ঞ সাক্ষীকে সাক্ষ্য দেওয়ার আগে কী প্রয়োজন?
  1. সংশ্লিষ্ট পক্ষের অনুমতি
  2. পুলিশের অনুমোদন
  3. আদালতের অনুমতি
  4. উভয় পক্ষের লিখিত সম্মতি
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারার বিধান শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত:-
(১) আদালতের অনুমতি ব্যতীত, কোনও সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ হিসেবে সাক্ষ্য দিতে পারবে না, যদি না তার প্রতিবেদন, উপ-ধারা (২) অনুযায়ী, সমস্ত পক্ষকে সরবরাহ করা হয়।
(২) একজন বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন আদালতের উদ্দেশ্যে হতে হবে এবং যে পক্ষের পক্ষে তাকে পরীক্ষা করা হচ্ছে তার উদ্দেশ্যে নয়। বিশেষজ্ঞের দায়িত্ব হবে আদালতকে সহায়তা করা।

অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারার অনুসারে শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণের উপর একজন বিশেষজ্ঞ সাক্ষীকে সাক্ষ্য দেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন।
------------------------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section-45A: Opinion of experts on physical or forensic evidence: 
 (1) Except by leave of the Court a witness shall not testify as an expert on physical or forensic unless a copy of his report has, pursuant to sub-section (2), been given to all the parties.
(2) An expert’s report shall be addressed to the Court and not to the party on whose behalf he is examined and he shall owe a duty to help the Court.
৮,৮০৪.
'ক' এর ইউরোপের ভিসা পাওয়ার কথা শুনে ইচ্ছাকৃত ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে 'খ' তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা করে, যার ফলে 'ক' এর ইউরোপ যাওয়া বাতিল হয়ে যায়। 'খ' এর কৃত কাজটি দণ্ডবিধির কোন ধারায় অপরাধ বলে গণ্য হবে?
  1. ২০৯ ধারায়
  2. ২১১ ধারায়
  3. ২১২ ধারায়
  4. ২১৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ২১১ ধারা মতে ক্ষতি সাধনের জন্য মিথ্যা মামলা বা মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের শাস্তির বিধান রয়েছে। অহেতুক কোন ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হলে ২১১ ধারা মতে দুই ধরনের শাস্তি হতে পারে।

(i)  ক্ষতি সাধনের জন্য অহেতুক কোন ফৌজাদারি মামলা দায়ের করলে অনধিক ২ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড 

(ii) যদি উক্তরূপ ফৌজদারি মামলা মৃত্যদণ্ড বা যাবজ্জীবন করাদণ্ড বা ৭ বছর বা তদুর্ধ্ব কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার জন্য হয় তাহলে দোষী ব্যাক্তি অনধিক ৭ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

♦ দণ্ডবিধির ২১১ ধারা বিধান ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে অপরাধ বিষয়ক মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে ক্ষতিসাধনের জন্য উক্ত অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা রুজু করার বা অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ উত্থাপন করার কোন সংগত বা আইনানুগ যুক্তি নাই বলে জানা সত্ত্বেও উক্ত অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারী মামলা রুজু করে বা অনুরূপ মামলা রুজু করায়, কিংবা উক্ত অন্য ব্যক্তির কোন অপরাধ করেছে বলে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;

এবং যদি অনুরূপ ফৌজদারি মামলায়, মৃত্যুদণ্ডে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, কিংবা সাত বৎসর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটনের মিথ্যা অভিযোগ রুজু করা হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
৮,৮০৫.
সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এর অধীন “ট্রাইব্যুনাল” অর্থ ______________ এর অধীন গঠিত সাইবার ট্রাইব্যুনাল।
  1. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬
  2. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮
  3. সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩
  4. ডিজিটাল নিরাপত্তা বিধিমালা, ২০২০
ব্যাখ্যা
• সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এর ধারা ২(ঝ) অনুসারে-

“ট্রাইব্যুনাল” অর্থ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৩৯ নং আইন) এর ধারা ৬৮ এর অধীন গঠিত সাইবার ট্রাইব্যুনাল।


তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর ধারা ৬৮- সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন:

(১) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের দ্রুত ও কার্যকর বিচারের উদ্দেশ্যে, এক বা একাধিক সাইবার ট্রাইব্যুনাল, অতঃপর সময় সময় ট্রাইব্যুনাল বলিয়া উল্লিখিত, গঠন করিতে পারিবে৷

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত সাইবার ট্রাইব্যুনাল সুপ্রীম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে, সরকার কর্তৃক নিযুক্ত একজন দায়রা জজ বা একজন অতিরিক্ত দায়রা জজের সমন্বয়ে গঠিত হইবে; এবং অনুরূপভাবে নিযুক্ত একজন বিচারক “বিচারক, সাইবার ট্রাইব্যুনাল” নামে অভিহিত হইবেন৷
 
(৩) এই ধারার অধীন গঠিত সাইবার ট্রাইব্যুনালকে সমগ্র বাংলাদেশের স্থানীয় অধিক্ষেত্র অথবা এক বা একাধিক দায়রা ডিভিশনের অধিক্ষেত্র প্রদান করা যাইতে পারে; এবং উক্ত ট্রাইব্যুনাল কেবল এই আইনের অধীন অপরাধের মামলার বিচার করিবে৷

(৪) সরকার কর্তৃক পরবর্তীতে গঠিত কোন ট্রাইব্যুনালকে সমগ্র বাংলাদেশের অথবা এক বা একাধিক দায়রা বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত উহার অংশ বিশেষের স্থানীয় অধিক্ষেত্র ন্যস্ত করিবার কারণে ইতঃপূর্বে কোন দায়রা আদালতে এই আইনের অধীন নিস্পন্নাাধীন মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিত, বা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় অধিক্ষেত্রের ট্রাইব্যুনালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলী হইবে না, তবে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, দায়রা আদালতে নিষ্পন্নাধীন এই আইনের অধীন কোন মামলা বিশেষ স্থানীয় অধিক্ষেত্রসম্পন্ন ট্রাইব্যুনালে বদলী করিতে পারিবে৷

(৫) কোন ট্রাইব্যুনাল, ভিন্নরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করিলে, যে সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হইয়াছে উক্ত সাক্ষীর সাক্ষ্য পুনঃগ্রহণ, বা পুনঃশুনানী গ্রহণ করিতে, অথবা উপ-ধারা (৪) এর অধীন গৃহীত কার্যধারা পুনরায় আরম্ভ করিতে বাধ্য থাকিবে না, তবে ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে যে সাক্ষ্য গ্রহণ বা উপস্থাপন করা হইয়াছে উক্ত সাক্ষের ভিত্তিতে কার্য করিতে এবং মামলা যে পর্যায়ে ছিল সেই পর্যায় হইতে বিচারকার্য অব্যাহত রাখিতে পারিবে৷

(৬) সরকার, আদেশ দ্বারা, যে স্থান বা সময় নির্ধারণ করিবে সেই স্থান বা সময়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আসন গ্রহণ করিতে পারিবে এবং উহার কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে৷
৮,৮০৬.
বাদী হিসাবে ‘ক’ ঢাকার আদালতে ‘খ’ এর বিরুদ্ধে স্বত্ব ঘোষনা পূর্বক খাস দখলের প্রার্থনার মামলা করে যে, কিছুদিন পূর্বে বিবাদী ‘খ’ এর লোকজন জোরপূর্বক ‘ক’ কে ভূমি থেকে বেদখল করে। মামলা চূড়ান্ত শুনানীর দিন ‘খ’ অসুস্থ থাকায় কোন পদক্ষেপ নেয় নাই ফলে একতরফা সূত্রে ‘ক’ ডিক্রী পায়। এক তরফা ডিক্রী বাতিলের জন্য আপনি ‘খ’ এর আইনজীবী হিসেবে কি পদক্ষেপ নিবেন?
  1. ৩০ দিনের মধ্যে এক তরফা ডিক্রী রদের আবেদন
  2. আপীল দায়ের
  3. ৯০ দিনের মধ্যে এক তরফা ডিক্রী রদের আবেদন
  4. কোনটি না
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৯ বিধি ১৩ অনুযায়ী বিবাদীর বিরুদ্ধে যদি একতরফা ডিক্রী দেওয়া হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে ৩০ দিনের মধ্যে ডিক্রী রদের আবেদন করার বিষয় বলা আছে।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ নং আদেশের ১৩ নং বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে একতরফা ডিক্রির সিদ্ধান্ত রদ বা বাতিল করার জন্য আবেদন করতে পারবে , যদি প্রমাণিত হয় যে-
i) বিবাদীর প্রতি যথাযথ ভাবে সমন জারি হয়নি।
ii) উপযুক্ত কারণে শুনানীর দিন বিবাদী আদালতে উপস্থিত হতে পারেনি।
⇒বিচার ত্বরান্বিত ও বিলম্ব দূর করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ নং আদেশের ১৩ক বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে সরাসরি রদের আবেদন করতে পারবে। সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের জন্য বিবাদীকে নিম্নলিখিত ২টি শর্ত পূরণ করতে হবে-
১) ৩০ দিনের মধ্যে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের আবেদন করতে হবে; এবং
২) অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদান করতে হবে।
৯ নং আদেশের ১৩ নং বিধিতে একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে, অন্যদিকে ১৩ক বিধিতে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে।
⇒ ঐ সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের আদেশ একবারের বেশি হবে না।

৮,৮০৭.
A একজন মক্কেল, অ্যার্টনী B কে বলে যে, ‘আমি জাল দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তির দখল গ্রহণ করতে চাই যে জন্যে আপনাকে মামলা করতে অনুরোধ করছি’। অ্যার্টনীর সাথে মক্কেলের এমন যোগাযোগ কোন বেআইনি
  1. ১২৬ ধারায় প্রকাশ করা হতে সুরক্ষিত
  2. অ্যাডভোকেট এমন যোগাযোগ প্রকাশ করতে পারে
  3. অ্যাটর্নী এমন যোগাযোগ প্রকাশ করতে পারে না
  4. ক এবং গ উভয়
ব্যাখ্যা
♦The Evidence Act, 1872 এর ১২৬ ধারা মতে কোন বেআইনি উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা হিসাবে কোন তথ্য প্রকাশ করা হলে এডভোকেট এমন তথ্য প্রকাশ করতে পারে এবং তা গোপন রাখতে বাধ্য না।
৮,৮০৮.
X, Y এর নাকে ঘুষি মেরে নাক ভেঙ্গে দেয়। The Penal Code, 1860 এর কোন ধারায় X অপরাধ করেছে?
  1. ৩২৩
  2. ৩২৪
  3. ৩২৫
  4. ৩২৬
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ধারা-৩২২ তে স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দানের সংজ্ঞা (voluntarily causing grievous hurt) - কাউকে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে (intentionally) জেনে গুরুতর আঘাত প্রদান করা হয়, তাহলে তাকে স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দান বলা হয়

♦ যদি কোন লোক প্রকৃতপক্ষে গুরুতর আঘাত দেয় এবং গুরুতর আঘাত দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করে অথবা গুরুতর আঘাত দিতে পারে বলে জানে, তবে সে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দিয়েছে বলে গণ্য হবে। অন্যথায় সে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দিয়েছে বলে গণ্য হবে না

দন্ডবিধির ৩২৫ ধারায় স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাতের শাস্তি হল অনধিক ৭ বৎসর কারাদন্ড এবং অর্থদন্ড।

♦ X, Y এর নাকে ঘুষি মেরে নাক ভেঙ্গে দেয়। The Penal Code, 1860 এর ৩২৫ ধারায় X অপরাধ করেছে

♦ দন্ডবিধির ৩২৫ ধারার একটি ব্যতিক্রম ক্ষেত্র হল ৩৩৪ ধারা; অন্যদিকে ৩২৬ ধারার ব্যতিক্রম হল ৩৩৫ ধারা
৮,৮০৯.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারা মতে আদালত ১১টি বিষয় অবশ্যই দৃষ্টি গোচরে নিবেন?
  1. ৫৬ ধারা
  2. ৫৭ ধারা
  3. ৫৮ ধারা
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
- সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী ১১ টি বিষয় আদালত অবশ্যই বিবেচনা করতে বাধ্য। এই গুলো প্রমাণ করতে হয় না।
৮,৮১০.
‘রহিম’, ‘করিম’-এর কাছে ৫ কাঠা জমি বিক্রি করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। করিম নির্ধারিত তারিখে মূল্য পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় এবং চুক্তি পালন করতে অস্বীকৃতি জানায়। রহিম এরপর চুক্তি অমান্যের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করে এবং ক্ষতিপূরণ পায়। এক্ষেত্রে, রহিম ক্ষতিপূরণ আদায় করার পর-
  1. চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন চাইতে পারবে না
  2. চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন চাইতে পারবে
  3. আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন চাইতে পারবে
  4. স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুক্তি কার্যকর করতে পারবে
ব্যাখ্যা

এখন রহিম আর Specific Performance (জমি হস্তান্তরের আদেশ) চাইতে পারবে না, কারণ সে ইতোমধ্যে ক্ষতিপূরণকে প্রতিকার হিসেবে বেছে নিয়েছে।

ধারা ২৪- প্রতিকারের পথে ব্যক্তি বাধাসমূহ: চুক্তির সুনির্দিষ্ট এমন ব্যক্তির পক্ষে করা যায় না-
ক) যে চুক্তি অমান্যের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে না;
খ) যে নিজ চুক্তির কোন প্রয়ােজনীয় শর্ত অমান্য করে বা শর্ত পালনে ব্যর্থ হয় এবং যদ্বরুণ তার নিজের অংশেরই কার্যসম্পাদন বাকী থাকে;
গ) যে ইতিমধ্যে তার প্রতিকার বেছে নিয়েছে এবং কথিত চুক্তি অমান্যের জন্য ক্ষতিপূরণ পেয়েছে; বা
ঘ) যে চুক্তি আগেই অবগত ছিল যে, তার বিষয়বস্তু (যদিও তা কোন মূল্যবান পণভিত্তিক নয়) বিলিবন্দোবস্ত করা হয়েছিল এবং তখন তা কার্যকরী ছিল।

উপধারা-গ এর-
‘ক’ ‘খ’-এর কাছে একটি বাড়ি সুনির্দিষ্ট শর্তে এবং ভাড়ায় ভাড়া প্রদানে চুক্তিবদ্ধ হয়। 'খ' চুক্তির কার্যসম্পাদনে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। 'ক' ইহার পর 'খ'-এর চুক্তি অমান্যের ক্ষতিপূরণের জন্য মােকদ্দমা রুজু করে এবং ক্ষতিপূরণ লাভ করে। 'ক' চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন কার্যকরী করার অধিকারী হবে না।

৮,৮১১.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮-এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী কয়টি আদালত ডিক্রী জারী করতে পারে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
⇒দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী জারি অর্থ আদালতের প্রকিয়ার মাধ্যমে কোন ডিক্রী বা আদেশ বলবৎ করা যেন ডিক্রীদার ডিক্রীর ফল ভোগ করবে। দুটি আদালত ডিক্রী জারী করবে।
১) যে আদালত ডিক্রী জারী করেছে সে আদালত
২) যে আদালতে ডিক্রী জারী করার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে সে আদালত।

• আদেশ ২১ বিধি-১০ এর বিধান জারির আবেদন: ডিক্রিদার ডিক্রিটি জারি করতে চাইলে ডিক্রি প্রদানকারী আদালত বা ডিক্রি জারির জন্য যে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে সেই আদালতে আবেদন করবেন।
• ডিক্রিজারি সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি ডিক্রি জারিকারক আদালতই নিষ্পত্তি করবে।

• ডিক্রি জারির কাজ সর্বদা বিচারিক আদালত করে থাকে, এমনকি কোন ডিক্রির বিরূদ্ধে উচ্চতর আদালতে কোন আপিল বা রিভিশন করা হলে, উক্ত আপিল বা রিভিশনে প্রদত্ত ডিক্রির ক্ষেত্রেও মূল আদালত অর্থাৎ বিচারিক আদালতই ডিক্রি জারি করবে।
------
⇒ Section 38. Court by which decree may be executed:
A decree may be executed either by the Court which passed it, or by the Court to which it is sent for execution.
৮,৮১২.
ভূমি প্রশাসন বোর্ড এর নিকট ১৪৭ ধারা অনুযায়ী আপিলের জন্য তামাদির মেয়াদ-
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
The State Acquisition and Tenancy Act 1950 এর ১৪৭ ধারার বিধান আপিল: 
- এই ভাগ বা এই আইনের অধীন প্রণীত বিধিমালাতে আপিলের বিশেষ বিধানসাপেক্ষে, এই ভাগের অধীন রাজস্ব কর্মকর্তার প্রত্যেক মূল বা আপিল আদেশের বিরুদ্ধে নিম্নরূপভাবে আপিল করা যাইবে, যথা:
(ক) কালেক্টরের অধস্তন রাজস্ব কর্মকর্তা কর্তৃক আদেশ প্রদান করা হইলে, কালেক্টরের নিকট;
(কক) বিভাগের মধ্যে জেলার কালেক্টর কর্তৃক আদেশ প্রদান করা হইলে, বিভাগীয় কমিশনারের নিকট; এবং
(গ) বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক আদেশ প্রদান করা হইলে, ভূমি প্রশাসন বোর্ডএর নিকট

The State Acquisition and Tenancy Act 1950 এর ১৪৮ ধারার বিধান আপিল: আপিলের জন্য তামাদির মেয়াদ:
- ধারা ১৪৭ অনুযায়ী আপিলের জন্য তামাদির মেয়াদ যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয় সেই আদেশের তারিখ হইতে চলিতে থাকিবে এবং উহা নিম্নরূপ হইবে, অর্থাৎ-
       (ক) কালেক্টরের নিকট আপিল__________ত্রিশ দিন।
       (খ) বিভাগীয় কমিশনারের নিকট আপিল________ষাট দিন। 
       (খখ) ভূমি প্রশাসন বোর্ড এর নিকট আপিল___________নব্বই দিন।

-----------
- Section 147. Appeals:
-Subject to any special provisions for appeal made in this Part or in any rules made under this Act, an appeal shall lie from every original or appellate order made under any of the provisions of this Part by a Revenue-officer as follows, namely:- 
(a) to the Collector, when the order is made by a Revenue-officer subordinate to the Collector; 
(aa) to the Commissioner of the division, when the order is made by the Collector of a district within the division; and
(c) to the Board of Land Administration, when the order is made by the Commissioner of a division.

- Section 148. Limitation for appeals:
The period of limitation for an appeal under section 147 shall run from the date of the order appealed against and shall be as follows, that is to say- 
(a) when the appeal lies to the Collector .............................. thirty days. 
(b) when the appeal lies to the Commissioner of a division ............ sixty days.
(bb) when the appeal lies to the Board of Land Administration ........................ ninety days.
৮,৮১৩.
'Suits on foreign contracts'- তামাদি আইনের কত ধারার বিধান?
  1. ৯ ধারার
  2. ১৩ ধারার
  3. ১১ ধারার
  4. ১০ ধারার
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১১ বৈদেশিক চুক্তির উপর মামলার (Suits on foreign contracts) ক্ষেত্রে তামাদির বিধান উল্লেখ করেছে। উক্ত ধারা অনুযায়ী,

⇒ বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে যেইসব মামলা দায়ের করা হয়, সেগুলি এ আইনে উল্লেখিত তামাদির বিধিসমূহের অধীন।

⇒ বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে বিদেশী কোনো আইনে তামাদি সংক্রান্ত বিধি জবাব স্বরূপ গ্রহণীয় হবে না।
তবে যদি, সেই বিধি অনুসারে চুক্তিটির পরিসমাপ্তি ঘটে থাকে এবং যদি উক্ত বিধি অনুসারে নির্ধারিত সময়কালে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ সেই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে থাকে, সেক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হবে।

Section 11: Suits on foreign contracts
(1) Suits instituted in Bangladesh on contracts entered into in a foreign country are subject to the rules of limitation contained in this Act. 
(2) No foreign rule of limitation shall be a defence to a suit instituted in Bangladesh on a contract entered into in a foreign country, unless the rule has extinguished the contract and the parties were domiciled in such country during the period prescribed by such rule.
৮,৮১৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী পাবলিক প্রসিকিউটর কোনো আদালতে লিখিত অনুমতি ছাড়া হাজির হতে পারেন?
  1. ৪৯৫ ধারা
  2. ৪৯৪ ধারা
  3. ৪৯৩ ধারা
  4. ৪৯২ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪৯৩ অনুযায়ী, পাবলিক প্রসিকিউটর (Public Prosecutor) তাঁর দায়িত্বে থাকা মামলায় লিখিত অনুমতি ছাড়াই আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলা পরিচালনা করতে পারেন।
অর্থাৎ, যদি কোনো মামলার দায়িত্ব পাবলিক প্রসিকিউটরের ওপর থাকে, তাহলে তিনি সংশ্লিষ্ট যেকোনো আদালতে তদন্ত, বিচার বা আপিল চলাকালীন সময়ে স্বয়ং হাজির হয়ে মামলাটি পরিচালনা করতে পারবেন এবং কোনো রকম লিখিত অনুমতির প্রয়োজন হবে না।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৯৩ অনুসারে, পাবলিক প্রসিকিউটর যে মামলায় ভারপ্রাপ্ত হয়েছেন, সেই মামলা যে আদালতে তদন্তাধীন, বিচার বা আপীলাধীন রয়েছে, তিনি সেই আদালতে কোন প্রকার লিখিত কর্তৃত্ব ছাড়াই হাজির হতে ও মামলা পরিচালনা করতে পারবেন, এবং কোন বেসরকারি ব্যক্তি যদি এরূপ কোন মামলার কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট নির্দেশ দিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে নির্দেশাধীন অ্যাডভোকেট উক্ত মামলায় তাঁর নির্দেশাধীন কাজ করবেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 493-Public Prosecutor may plead in all Court in cases under his charge Pleaders privately instructed to be under his direction:
The Public Prosecutor may appear and plead without any written authority before any Court in which any case of which he has charge is under inquiry, trial or appeal, and if any private person instructs a pleader to prosecute in any Court any person in any such case, the Public Prosecutor shall conduct the prosecution, and the pleader so instructed shall act therein, under his directions.
৮,৮১৫.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কোন অপরাধ আপসযোগ্য?
  1. মিথ্যা মামলা দায়ের
  2. নারীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা
  3. যৌতুকের জন্য নারীকে সাধারণ জখম
  4. মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে কোন নারী বা শিশুকে আটক
ব্যাখ্যা
ধারা ১৯- অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ, ইত্যাদি

(১) এই আইনের অধীন সকল অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণীয় হইবে, এবং ধারা ১১ এর দফা (গ) এ উল্লিখিত অপরাধ আপসযোগ্য হইবে।

(২) উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটনে জড়িত মূল এবং প্রত্যক্ষভাবে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হইবে না, যদি-
(ক) তাহাকে মুক্তি দেওয়ার আবেদনের উপর অভিযোগকারী পক্ষকে শুনানীর সুযোগ দেওয়া না হয়; এবং
(খ) তাহার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার যুক্তিসংগত কারণ রহিয়াছে মর্মে ট্রাইব্যুনাল সন্তুষ্ট হন।

(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত কোন ব্যক্তি নারী বা শিশু হইলে কিংবা শারীরিকভাবে অসুস্থ (sick or infirm) হইলে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার কারণে ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হইবে না মর্মে ট্রাইব্যুনাল সন্তুষ্ট হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যাইবে।

(৪) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত ব্যক্তি ব্যতীত এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনের জন্য অভিযুক্ত অন্য কোন ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া ন্যায়সংগত হইবে মর্মে ট্রাইব্যুনাল সন্তুষ্ট হইলে তদ্‌মর্মে কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ট্রাইব্যুনাল জামিনে মুক্তি দিতে পারিবে।

ধারা ১১- যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ইত্যাদির শাস্তি

যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন 15[কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম (grievous hurt) করেন বা সাধারণ জখম (simple hurt) করেন] তাহা হইলে উক্ত স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা ব্যক্তি-

(ক) মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ডে বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উভয় ক্ষেত্রে উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(খ) মারাত্মক জখম (grievous hurt) করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক বার বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(গ) সাধারণ জখম (simple hurt) করার জন্য অনধিক তিন বৎসর কিন্তু অন্যূন এক বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
৮,৮১৬.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে বিকল্প প্রতিকার কী?
  1. দায়িকের সম্পত্তি ক্রোক
  2. দায়িকের সম্পত্তি বিক্রয়
  3. দায়িককে দেওয়ানি কারাগারে আটক
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৩০ এর বিধান:
অর্থ পরিশোধের ডিক্রি: বিকল্প প্রতিকার হিসেবে অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি ডিক্রি দায়িককে দেওয়ানি কারাগারে আটক করে অথবা তার সম্পত্তি ক্রোক এবং নিলাম বিক্রয় করে অথবা উভয় প্রকারেই জারি করা যাবে।
---------------- 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-21: Rule-30- Decree for payment of money:
- Every decree for the payment of money, including a decree for the payment of money as the alternative to some other relief, may be executed by the detention in the civil prison of the judgment-debtor, or by the attachment and sale of his property, or by both.
৮,৮১৭.
আদেশ ১৮, বিধি ১৭ এর অধীনে আদালত কখন সাক্ষীকে পুনরায় ডাকতে পারে?
  1. আপিলের সময়
  2. রায় ঘোষণার পরে
  3. মামলার যেকোনো পর্যায়ে
  4. শুধুমাত্র প্রথম শুনানির দিন
ব্যাখ্যা
আদেশ ১৮ বিধি-১৭: আদালত সাক্ষীকে পুনঃআহ্বান ও জবানবন্দি নিতে পারে:
যে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে, আদালতে উক্ত সাক্ষীকে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে পুনঃ আহ্বান করতে পারে এবং প্রচলিত সাক্ষ্য আইনের বিধান সাপেক্ষে আদালত সঙ্গত মনে করে এরূপ প্রশ্ন তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারে।

Order 18 Rule 17: Court may recall and examine witness:
The Court may at any stage of a suit recall any witness who has been examined and may (subject to the law of evidence for the time being in force) put such questions to him as the Court thinks fit.
৮,৮১৮.
সাক্ষ্য আইনের বিধান অনুযায়ী বোবা ব্যক্তি আদালতে কীভাবে সাক্ষ্য দিতে পারেন?
  1. ইশারায়
  2. প্রকাশ্যে লিখে
  3. 'ক' অথবা 'খ'
  4. সাক্ষী হিসেবে অযোগ্য হবেন
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১৯ ধারা অনুযায়ী, বোবা ব্যক্তি আদালতে প্রকাশ্যে লিখে বা ইশারায় সাক্ষ্য দিতে পারবেন।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১৯ ধারার বিধান বোকা সাক্ষী:
একজন সাক্ষী যিনি কথা বলতে অক্ষম, তিনি যে কোনও অন্য উপায়ে তার সাক্ষ্য প্রদান করতে পারেন যা দ্বারা তিনি তা বোঝানো সম্ভব, যেমন লেখা বা চিহ্নের মাধ্যমে; তবে সেই লেখা আদালতে উন্মুক্তভাবে লেখা উচিত এবং চিহ্নগুলি আদালতে তৈরি করা উচিত। এভাবে প্রদত্ত সাক্ষ্য মৌখিক সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কোনো সাক্ষী বধির বা বোবা হন এবং সে লিখতে বা ইশারা করতে পারেন, তাহলে তাকে লিখিত বা ইশারার মাধ্যমে সাক্ষ্য দিতে দেওয়া যেতে পারে।
সুতরাং, একজন বোবা সাক্ষীকে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে:

লিখিত সাক্ষ্য:
বোবা ব্যক্তি তার সাক্ষ্য লিখিতভাবে দিতে পারবেন। তিনি প্রত্যেক প্রশ্নের উত্তর লিখবেন এবং সেই লিখিত উত্তরগুলি আদালতে পাঠ করা হবে।

ইশারার মাধ্যমে সাক্ষ্য:
বোবা ব্যক্তি ইশারা করে তার সাক্ষ্য দিতে পারবেন। একজন দোভাষী তার ইশারাগুলি অনুবাদ করবেন এবং সেই অনুবাদগুলি আদালতে পাঠ করা হবে।
--------------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section- 119.Dumb witnesses:
-A witness who is unable to speak may give his evidence in any other manner in which he can make it intelligible,  as by writing or by signs; but such writing must be written and the signs made in open Court. Evidence so given shall be deemed to be oral evidence.
৮,৮১৯.
নিচের কোনটি বার কাউন্সিলের দায়িত্ব?
  1. বিচারক নিয়োগ
  2. আইন পাস করা
  3. সুপ্রিম কোর্টের বাজেট তৈরি
  4. আইন শিক্ষার উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর অনুচ্ছেদ-১০: বার কাউন্সিলের কতিপয় কার্যাবলী-
১. অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তি করা এবং এই উদ্দেশ্যে পরীক্ষা নেয়া, সনদ প্রদান, তালিকাভুক্তি থেকে বাদ দেয়া;
২. এরূপ তালিকা প্রণয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা;
৩. অ্যাডভোকেটদের পেশাগত আচার আচরণ ও নৈতিকতা নির্ধারণ করা;
৪. অ্যাডভোকেটদের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগের বিচার ও শাস্তি দেওয়া;
৫. তালিকাভুক্ত অ্যাডভোকেটগণের সুযোগ-সুবিধা ও স্বার্থ রক্ষা করা;
৬. বার কাউন্সিল ফান্ডের ব্যবস্থা করা;
৭. সদস্যদের নির্বাচনের আয়োজন করা;
৮. অনুসরণযোগ্য বিধি প্রণয়ন করা;
৯. আইন শিক্ষার উন্নয়ন করা;
১০. অন্যান্য অনুমোদিত ও সহায়ক যাবতীয় কার্যাবলী সম্পাদন করা।
৮,৮২০.
দণ্ডবিধির ৫৫ ধারা অনুযায়ী, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হ্রাস বা পরিবর্তন করার ক্ষমতা কার রয়েছে?
  1. আদালত
  2. সরকার
  3. রাষ্ট্রপতির
  4. কারা কর্তৃপক্ষ
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৫৫ ধারা অনুযায়ী, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে কমিয়ে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডে রূপান্তর করার ক্ষমতা শুধুমাত্র সরকারের আছে, এবং এজন্য অপরাধীর সম্মতি প্রয়োজন হয় না।

⇒ দণ্ডবিধির ৫৫ ধারার বিধান যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হ্রাস বা পরিবর্তন:- যে সকল মামলার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়, তার প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরকার অপরাধীর সম্মতি ব্যতীতই দণ্ড হ্রাস করে অনূর্ধ্ব ২০ বৎসর মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে পরিবর্তন করতে পারবেন।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 55. Commutation of sentence of imprisonment for life:- In every case in which sentence of imprisonment for life shall have been passed, the Government may, without the consent of the offender, commute the punishment for imprisonment of either description for a term not exceeding twenty years.

৮,৮২১.
Shafi-e- Jar হলো-
  1. সহ অংশীদার
  2. সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক
  3. সম্পত্তির সুবিধাদিতে অংশীদার
  4. স্থাবর সম্পত্তির যৌথ মালিক
ব্যাখ্যা
• মুসলিম আইনে ৩ শ্রেণির ব্যক্তি আছে যারা অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। এই ৩ শ্রেণির ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে না, তারা হলো-
ক. Shafi sharik বা সহ অংশীদার;
খ. Shafi Khalit বা সম্পত্তিতে সংলগ্ন সুবিধাদিতে শরিক; যেমন: Easement সুবিধা;
গ. Shafi Jar বা সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক।
 
Shafi sharik বা সহ অংশীদার:
Shafi Sharik শব্দের অর্থ হল সহ-অংশীদার। যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে কিংবা ক্রয় সূত্রে কোনো স্থাবর সম্পত্তির যৌথ মালিক হয়, তাদের যে কারো অন্যজন বা অন্যান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে অগ্রক্রয়ের অধিকার রয়েছে।
 
Shafi Khalit বা সম্পত্তিতে সংলগ্ন সুবিধাদিতে শরিক:
Shafi Khalit অর্থ হল কোনো সম্পত্তির সুবিধাদিতে শরিক। যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোনো স্থাবর সম্পত্তিতে সুবিধাদির শরিক হয়, তাহলে যেকোনো ব্যক্তি যার সেরকম সুবিধা রয়েছে, অন্যান্য ব্যক্তি যারা সেরকম সুবিধাদি ভোগ করে এর বিরূদ্ধে অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। অর্থাৎ যারা সম্পত্তির সুবিধাদিতে শরিক তারাও অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
 
Shafi Jar বা সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক:
Shafi Jar অর্থ হল সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক। হানাফি আইন অনুসারে বিক্রিত ভূমির সংলগ্ন ভূমির মালিক অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
৮,৮২২.
The Limitation Act, 1908 এর ধারা ১৯ কোন বিষয়ে প্রযোজ্য?
  1. মৌখিক স্বীকারোক্তি
  2. লিখিত স্বীকারোক্তি
  3. আদালতের আদেশ
  4. ক এবং খ উভয় ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ ধারা-১৯: লিখিত স্বীকারোক্তির প্রভাব:
(১) কোনো সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কিত মামলার বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পূর্বে, যদি সেই সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে দায় স্বীকার করে লিখিতভাবে কোনো স্বীকারোক্তি করা হয় এবং তা সেই ব্যক্তির দ্বারা স্বাক্ষরিত হয় যার বিরুদ্ধে দাবি করা হয়েছে, বা এমন কারো দ্বারা স্বাক্ষরিত হয় যার মাধ্যমে সে ব্যক্তি ঐ অধিকার বা দায়িত্ব অর্জন করেছে—তাহলে, ঐ স্বীকারোক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সময় থেকে নতুন করে তামাদি সময় গণনা শুরু হবে।

(২) যদি স্বীকারোক্তিপত্রে তারিখ উল্লেখ না থাকে, তবে তা কখন স্বাক্ষরিত হয়েছে সে বিষয়ে মৌখিক সাক্ষ্য প্রদান করা যাবে; তবে সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর বিধান সাপেক্ষে, সেই স্বীকারোক্তির বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না।

ব্যাখ্যা-১: এই ধারার উদ্দেশ্যে, একটি স্বীকারোক্তি যথেষ্ট বলেই বিবেচিত হবে, যদিও তাতে সম্পত্তি বা অধিকারটির প্রকৃত প্রকৃতি নির্দিষ্ট করে উল্লেখ না থাকে, বা তাতে বলা হয়ে থাকে যে অর্থ প্রদান, প্রদান, সম্পাদন বা ভোগের সময় এখনো আসেনি, কিংবা অর্থ প্রদান, সম্পাদন বা ভোগের অনুমতি দেওয়ার অস্বীকৃতির সাথে যুক্ত থাকে, অথবা তা যদি সেট-অফ দাবির সাথে যুক্ত থাকে, এমনকি যদি তা সম্পত্তি বা অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করেও লেখা হয়।

ব্যাখ্যা-২: এই ধারার উদ্দেশ্যে "স্বাক্ষর" বলতে নিজ হাতে স্বাক্ষর বা যথাযথভাবে অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে স্বাক্ষর বোঝানো হয়।

ব্যাখ্যা-৩: এই ধারার উদ্দেশ্যে, ডিক্রি বা আদেশ কার্যকর করার দরখাস্তকে একটি অধিকার সংক্রান্ত দরখাস্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।

৮,৮২৩.
আদেশ ২১ বিধি-৫৫ এর অধীন কোন পরিস্থিতিতে ক্রোক প্রত্যাহার হয়েছে বলে বিবেচিত হবে?
  1. সম্পত্তি বিক্রি করা হলে
  2. সম্পত্তির মালিক আদালতে উপস্থিত হলে
  3. ডিক্রির টাকা আদালতে জমা করা হলে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আদেশ ২১ বিধি-৫৫: ডিক্রি মিটানোর পর ক্রোক অপসারণ:
যেক্ষেত্রে-
ক) ডিক্রির টাকা মোকদ্দমার খরচ এবং সকল দায়সমূহ এবং সম্পত্তি ক্রোকের খরচা আদালতে জমা করা হয়; অথবা
খ) অন্য উপায়ে আদালতের মাধ্যমে ডিক্রি মিটানো হয় বা আদালতে প্রত্যয়ন করা হয়; অথবা
গ) ডিক্রি রদ বা পরিবর্তন করা হয়, সেক্ষেত্রে ক্রোক প্রত্যাহার হয়েছে বলে বিবেচিত হবে এবং স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে দায়িক ইচ্ছা আলে তার খরচায় ঐ প্রত্যাহারের বিষয় ঘোষণা করা হবে এবং ঘোষণা পত্রের এক প্রন্থ নকল পূবর্তী বিধির নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংযুক্ত করা হবে।

Rule.-55: Removal of attachment after satisfaction of decree:
Where-
a) the amount decreed with costs and all charges and expenses resu-ltingfrom the attachment of any property are paid into Court, or
b) satisfaction of the decree is otherwise made through the Court or certified to the Court, or
c) the decree is set aside or reversed, the attachment shall be deemed to be withdrawn, and, in the case of immovable property, the with drowe shall, if the judgment-debtor so desires, be proclaimed at his expense, and a copy of the proclamation shall be affixed inthe manner prescribed by the last preceding rule.
৮,৮২৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী শব্দ ও অভিব্যক্তি দণ্ডবিধির অর্থ বহন করবে?
  1. ধারা-১
  2. ধারা-২
  3. ধারা-৩
  4. ধারা-৪
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি আইন, ১৮৯৮-এর ধারা ৪(২)-এর শেষ অংশে স্পষ্টভাবে বলা আছে:
- Words to have same meaning as in Penal Code: "all words and expressions used herein and defined in the Penal Code, and not hereinbefore defined, shall be deemed to have the meanings respectively attributed to them by that Code."
অর্থাৎ, "এই সংহিতায় ব্যবহৃত সমস্ত শব্দ ও অভিব্যক্তি, যা দণ্ডবিধিতে সংজ্ঞায়িত হয়েছে এবং এখানে পূর্বে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি, সেগুলি সেই কোড দ্বারা নির্ধারিত অর্থ বহন করবে বলে গণ্য হবে।"

সুতরাং, ফৌজদারী কার্যবিধিতে ব্যবহৃত শব্দ ও অভিব্যক্তির জন্য দণ্ডবিধির সংজ্ঞা প্রযোজ্য হবে তা ধারা-৪ এই নির্ধারণ করা হয়েছে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-4(2)Words referring to acts:
- Words which refer to acts done, extend also to illegal omissions; and

⇒ Words to have same meaning as in Penal Code:
- all words and expressions used herein and defined in the Penal Code, and not hereinbefore defined, shall be deemed to have the meanings respectively attributed to them by that Code.

৮,৮২৫.
আদেশ ৩৫ বিধি-১ অনুসারে, স্বার্থবিহীন মোকদ্দমার আরজিতে কী উল্লেখ করতে হবে?
  1. বিষয়বস্তুতে বাদীর ব্যক্তিগত স্বার্থ
  2. বিষয়বস্তুতে বিবাদীর স্বার্থবিহীন অবস্থান
  3. বাদী ও কোন বিবাদীগণের বিরোধ
  4. বিষয়বস্তুতে বাদীর স্বার্থবিহীন অবস্থান
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- বিষয়বস্তুতে বাদীর স্বার্থবিহীন অবস্থান।

আদেশ ৩৫ বিধি-১: স্বার্থবিহীন মোকদ্দমায় আরজি:

স্বার্থবিহীন ব্যবহার মোকদ্দমায় প্রত্যেক মোকদ্দমার আরজিতে, আরজির জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিবৃতির অতিরিক্ত নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলো বিবৃত করতে হবে-
ক) বাদী মোকদ্দমার বিতর্কিত বিষয়বস্তুতে দায়সমূহের বা মোকদ্দমার ব্যয়াদির জন্য ব্যতীত অন্য কোন স্বার্থ দাবী করে না,
খ) বিবাদীগণ কর্তৃক দাবীসমূহ স্বাতন্ত্র্যভাবে প্রণীত হয়েছে; এবং
গ) যে বাদী ও কোন বিবাদীগণের মধ্যে কোন বিরোধ নেই।

৮,৮২৬.
ফৌজদারি রিভিশনে দায়রা আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ-
  1. চূড়ান্ত
  2. আপিলযোগ্য
  3. হাইকোর্টে রিভিশনযোগ্য
  4. দায়রা আদালতে ২য় বার রিভিশনযোগ্য
ব্যাখ্যা
• রিভিশন হলো নিম্ন আদালতের নথি পরীক্ষা করে উর্দ্ধতন আদালত কর্তৃক ভুলত্রুটি সংশোধন করা। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৫ থেকে এবং ৪৪২ থেকে ৪৪২ক পর্যন্ত রিভিশন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে-
১. হাইকোর্ট বিভাগ;
২. দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ।

• ৪৩৯ক ধারায় দায়রা জজকে রিভিশন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের রিভিশন সংক্রান্ত যে সকল ক্ষমতা আছে, দায়রা জজও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। ৪৩৯ক এর ৩ উপধারায় বলা হয়েছে দায়রা জজের কোন সাধারণ বা বিশেষ আদেশে কোন রিভিশনাল মামলা অতিরিক্ত দায়রা জজের নিকট প্রেরণ করা হলে অতিরিক্ত দায়রা জজ, দায়রা জজের সকল রিভিশনাল এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারবে।

ধারা ৪৩৯ক এর ২ উপধারায় তে দেয়া আছে,
দায়রা জজের নিকট রিভিশন দায়ের করা হলে উক্ত বিষয়ে দায়রা জজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে দ্বিতীয় রিভিশন দায়ের করা যাবে না।

Section 439A: Sessions Judge's powers of revision-
(1) In the case of any proceeding the record of which has been called for by himself or which otherwise comes to his knowledge, the Sessions Judge may exercise all or any of the powers which may be exercised by the High Court Division under section 439.

(2) Where any application for revision is made by or on behalf of any person before the Sessions Judge, the decision of the Sessions Judge thereon in relation to such person shall be final.

(3) An Additional Sessions Judge shall have and may exercise all powers of a Sessions Judge under this Chapter in respect of any case which may be transferred to him under any general or special order of the Sessions Judge.
৮,৮২৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬(৬) অনুযায়ী স্ব-স্ব স্থানীয় এলাকার মধ্যে কারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে?
  1. সকল সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা
  2. জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ কমিশনার
  3. সহকারী কমিশনার এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
ধারা ১০- নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট:
(১) সরকার যে সংখ্যক উপযুক্ত মনে করবেন, প্রত্যেক জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায়, সেই সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ােগ করবে এবং তন্মধ্যে একজনকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে নিয়ােগ করবে।

(২) সরকার কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে নিয়ােগ করতে পারবে এবং এইরূপ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সরকারের নির্দেশানুসারে এই আইন বা বর্তমানে বলবৎ অন্য কোন আইন অনুযায়ি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর সকল ক্ষমতা অথবা যে কোন ক্ষমতা অনুশীলন করতে পারবেন।

(৩) যখনই জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পদ শূন্য হওয়ার পরে কোন অফিসার অস্থায়ীভাবে জেলা প্রশাসনের প্রধান নির্বাহীর স্থলাভিষিক্ত হলে সরকারের আদেশ সাপেক্ষে তিনি এই আইনের অধীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রদত্ত সকল ক্ষমতা প্রয়ােগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।

(৪) সরকার বা সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীনে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সময়ে সময়ে আদেশ দ্বারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্থানীয় কর্ম নির্ধারণ করে দিতে পারবেন, যে ক্ষমতা এই কার্যবিধি দ্বারা অর্পিত হয়েছে এবং যা উপরিউক্ত চিহ্নিতকরণে অন্যভাবে বর্ণিত হয়েছে তা ব্যতীত সকল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার ও ক্ষমতাসমূহ সমগ্র জেলাব্যাপী বিস্তৃত হবে।

(৫) সরকার যদি উপযুক্ত ও প্রয়ােজন মনে করেন তবে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) এ নিয়ােজিত যে কোন ব্যক্তিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে নিয়ােগ দিতে পারেন এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করতে পারেন।

(৬) উপধারা (৪) এর অধীনে স্থানীয় এলাকার সংজ্ঞা সাপেক্ষে, সহকারী কমিশনার, অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার বা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে নিযুক্ত ব্যক্তি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গণ্য হবেন এবং তাদের স্ব-স্ব স্থানীয় এলাকার মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়ােগ করবে।

(৭) এই ধারার কোন কিছুই সরকার কর্তৃক কোন মেট্রোপলিটন এলাকায় বর্তমানে বলবৎ কোন আইনের অধীনে, কোন পুলিশ কমিশনারকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সকল বা যে কোন ক্ষমতা অর্পণে বাধা প্রদান করবে না।
৮,৮২৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৬ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগ দণ্ডাদেশ বহাল রাখার আদেশ দিলে সর্বনিম্ন কত জন বিচারক তা স্বাক্ষর করবে?
ব্যাখ্যা
⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৭ ধারার বিধান-দণ্ডাদেশ বহাল ২ জন বিচারক কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে:
-৩৭৬ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগ যে দণ্ডাদেশ বহাল রেখে বা নতুন যে শাস্তি বা অন্য যে আদেশ দিবে তা সর্বনিম্ন ২ জন বিচারক কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে।
--------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 377- Confirmation of new sentence to be signed by two Judges:
In every case so submitted, the confirmation of the sentence, or any new sentence or order passed by the High Court Division, shall, when such Court consists of two or more judges, be made, passed and signed by at least two of them.
৮,৮২৯.
যদি কোন ব্যক্তি 'অবৈধ বাধার অপরাধে অভিযুক্ত হয়, তাহলে তাকে সর্বোচ্চ কত টাকা জরিমানা করা যায়?
  1. ১০০ টাকা
  2. ৫০০ টাকা
  3. ১০০০ টাকা
  4. ৫০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৩৯ ধারার অধীনে অবৈধ বাধা দানের বিধান আছে। কোন ব্যক্তিকে তার যে দিকে গমনের অধিকার রয়েছে সেই দিকে গমনে বাধা প্রদান করলে তাকে অবৈধ বাধা বলে। কোন ব্যক্তিকে কোন নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধ এলাকার বাহিরে গমনে বাধা প্রদান করাকে অবৈধ আটক বা অবরোধ বলে।
⇒ কিন্তু কোন সংরক্ষিত স্থান বা বেসরকারি স্থান বা জলপথে যেতে বাধা প্রদানের ক্ষেত্রে ৩৩৯ ধারার অবৈধ বাধা প্রযোজ্য হবে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪২ ধারায় অবৈধ আটক বা অবরোধের শাস্তি হিসেবে অনধিক ১ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে।
⇒  Punishment for wrongful confinement:
Section 342. Whoever wrongfully confines any person, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year, or with fine which may extend to one thousand taka, or with both.
৮,৮৩০.
অভিযুক্ত ব্যক্তির উপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ করতে হবে - এটি ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারার বিষয়বস্তু?
  1. ধারা ৩৫৩
  2. ধারা ৩৫৫
  3. ধারা ৩৫৭
  4. ধারা ৩৫৯
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৫৩ - সাক্ষ্য গ্রহণ অভিযুক্ত ব্যক্তির উপস্থিতিতে করা:
যদি অন্যভাবে স্পষ্টভাবে কোনো বিধান না থাকে, তাহলে প্রথম অধ্যায়, অধ্যায় XX, XXII এবং XXIII-এর অধীনে গৃহীত সকল প্রমাণ অভিযুক্ত ব্যক্তির উপস্থিতিতে গ্রহণ করতে হবে। তবে, যদি আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত উপস্থিতি মওকুফ করে, সে ক্ষেত্রে তার আইনজীবীর উপস্থিতিতে প্রমাণ গ্রহণ করা যাবে।

[Except as otherwise expressly provided, all evidence taken under Chapters XX,  XXII and XXIII shall be taken in the presence of the accused, or, when his personal attendance is dispensed with, in presence of his pleader.]
৮,৮৩১.
অধস্তন আদালতে বিচারবিভাগীয় পদে বা বিচার বিভাগীয় দায়িত্বপালনকারী ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগদান করেন কে?
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৫ অনুচ্ছেদের বিধান: অধস্তন আদালতে নিয়োগ:
 বিচারবিভাগীয় পদে বা বিচার বিভাগীয় দায়িত্বপালনকারী ম্যাজিস্ট্রেট পদে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক উক্ত উদেশ্যে প্রণীত বিধিসমূহ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নিয়োগদান করিবেন।

⇒ Article 115. Appointments to subordinate courts:
 Appointments of persons to offices in the judicial service or as magistrates exercising judicial functions shall be made by the President in accordance with rules made by him in that behalf.
৮,৮৩২.
দেওয়ানি কার্যবিধির বিধান অনুসারে, কালেক্টর যখন ধারা ৬৮ এর অধীনে হস্তান্তরকৃত ডিক্রি এক্সিকিউট করেন তখন তাকে কীভাবে গণ্য করা হয়?
  1. বিচারক হিসেবে
  2. রেভিনিউ কর্মকর্তা হিসেবে
  3. এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে
  4. প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৭১ স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, ধারা ৬৮-এর অধীনে কালেক্টরের নিকট হস্তান্তরিত কোনো ডিক্রি কার্যকর করার সময় কালেক্টর এবং তার অধস্তন কর্মকর্তারা বিচারক হিসেবে (acting judicially) কার্যরত বলে গণ্য হবেন।
- এই বিধানের মাধ্যমে আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে যে, ডিক্রি কার্যকর করার এই প্রক্রিয়াটি একটি বিচারিক কার্যক্রম, যা কালেক্টর তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্ব হিসেবে নয় বরং একটি বিচারিক কর্তৃত্ব (judicial authority) প্রয়োগের মাধ্যমে সম্পন্ন করেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৭১ ধারার বিধান কালেক্টরের বিচারক হিসাবে কার্য: 
- উপরিল্লিখিত ৬৮ ধারা অধীনে কালেক্টরের নিকট হস্তান্তরিত ডিক্রি জারি করার প্রাক্কালে কালেক্টর এবং তার অধঃস্তনগণ বিচারক হিসাবে কার্য করতেছে বলে মনে করতে হবে।
-------------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908: Section 71: Collector deemed to be acting judicially:
- In executing a decree transferred to the Collector under section 68 the Collector and his subordinates shall be deemed to be acting judicially.

৮,৮৩৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির অনুসারে শুনানি শেষে আদালত সর্বোচ্চ কত দিনের মধ্যে রায় ঘোষণা করতে বাধ্য?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৪ দিন
  4. ২১ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ বিধি ১ (Order XX Rule 1) অনুসারে, মোকদ্দমার শুনানি শেষ হওয়ার পর আদালত সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে রায় ঘোষণা করতে বাধ্য। বিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: "তৎক্ষণাৎ কিংবা ভবিষ্যত কোন দিনে, যা সাতদিনের বেশি হবে না" (either at once or on some future day, not beyond seven days)।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ বিধি ১:-
মোকদ্দমার শুনানি সমাপ্ত হওয়ার পর আদালতে তৎক্ষণাৎ কিংবা ভবিষ্যত কোন দিনে ,পক্ষগণের বা তাদের উকিলগণের উপর যথাযথ বিজ্ঞপ্তি প্রদান করার পর যা সাতদিনের বেশি হবে না প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষণা করবে।

⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order 20 Rule 1: Judgment when pronounced:-
The Court, after the case has been heard, shall pronounce judgment in open Court, either at once or on some future day, not beyond seven days, of which due notice shall be given to the parties or their pleaders.

৮,৮৩৪.
'ক', 'খ' এর নিকট একটি মাঠ বিক্রয় করে। মাঠটির উপর দিয়ে চলাচলের অধিকার ছিল যা সম্পর্কে 'ক' এর সরাসরি ব্যক্তিগত জ্ঞান ছিল কিন্তু সে সেটা 'খ' এর নিকট হতে গোপন রেখেছিল। এই ক্ষেত্রে-
  1. 'ক' চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করার অধিকারী 
  2. 'খ' চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করার অধিকারী
  3. 'খ' চুক্তিটি রদ করার অধিকারী
  4. ক বা খ যে কোন একটি।
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারার বিধান: বিচারপূর্বক যখন রদ করা যায়। লিখিত চুক্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোন ব্যক্তি তা রদ করার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে এবং আদালত নিম্নোক্ত যেকোন ক্ষেত্রে বিচারপূর্বক চুক্তি রদ করতে পারেন:

(ক) যেখানে চুক্তি বাতিলযোগ্য অথবা বাদী কর্তৃক সমাপনীয়; 
(খ) যেখানে আপাতত দৃশ্যমান নয় এমন কারণে চুক্তি অবৈধ এবং বাদীর চেয়ে প্রতিবাদীকেই দোষী করা যায় বেশি;

(গ) যেখানে একটি বিক্রয়চুক্তি বা একটি ইজারা গ্রহণের চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে এবং ক্রেতা ইজারাদার ক্রয়মূল্য বা অপরাপর অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে।

যখন ক্রেতা বা ইজারাদার বিষয়বস্তুর দখলকারী থাকে এবং আদালত তেমন দখল অন্যায় মনে করেন সেখানে আদালত তাকে তেমন দখলকারী হিসাবে কোন লাভ বা ভাড়া পেয়ে থাকলে তা বিক্রেতা বা ইজারাদাতাকে প্রদানের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।

একই ক্ষেত্রে আদালত সে মামলায়ই আদেশ কর্তৃক যাতে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছিল, কিন্তু তদমোতাবেক কাজ করা হয়নি, হয় কর্তব্য অবহেলাকারী পক্ষের বেলায় বা অসম্পূর্ণ চুক্তিই মামলার ন্যায়বিচারের আবশ্যকতা মোতাবেক রদ করে দিতে পারেন।

⇒  অর্থাৎ ধারা ৩৫-এর বিধান মোতাবেক চুক্তি অবসানের মামলা করতে পারেন। ৩৫ ধারার উদাহরণ (ক) দ্রষ্টব্য। 

⇒ Section 35 When rescission may be adjudged:- Any person interested in a contract in writing may sue to have it rescinded, and such rescission may be adjudged by the Court in any of the following cases, namely:- 
(a) where the contract is viodable or terminable by the plaintiff; 
(b) where the contract is unlawful for causes not apparent on its face, and the defendant is more to blame than the plaintiff; 
(c) where a decree for specific performance of a contract of sale, or of a contract to take a lease, has been made, and the purchaser or lessee makes default in payment of the purchase-money or other sums which the Court has ordered him to pay. 
 
When the purchaser or lessee is in possession of the subject-matter, and the Court finds that such possession is wrongful, the Court may also order him to pay to the vendor or lessor the rents and profits, if any, received by him as such possessor. 

In the same case, the Court may, by order in the suit in which the decree has been made and not complied with, rescind the contract, either so far as regards the party in default, or altogether as the justice of the case may require. 

Illustrations 
to (a)- 
A sells a field to B. There is a right of way over the field of which A has direct personal knowledge, but which he conceals from B. B is entitled to have the contract rescinded.
৮,৮৩৫.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোন ধারায় খোরপোষ ভাতার বিষয়ে বিধান আছে?
  1. ১৪৯ ধারা
  2. ৫০ ধারা
  3. ৫৭ ধারা
  4. ৫৯ ধারা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে যে, খোরপোষ হলো কাউকে দেওয়ানী জেলে আটক রাখলে তার ব্যয়ভার।
• খোরপোষ ভাতা নির্ধারন করবেন সরকার (গোত্র, পদমর্যাদা, জাতীয়তা বিবেচনায় খোরপোষ ভাতা নির্ধারন হবে।
• তবে যার আবেদনের প্রেক্ষিতে কাউকে দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখা হয় তাকে তার ব্যয়ভার বহন করতে হবে।
৮,৮৩৬.
ক” একটি জমির দখলে আছে। খ” দাবি করে ক” উক্ত জমির মালিক না। এখানে ক” যে উক্ত জমির মালিক না তা প্রমাণের দায়িত্ব-
  1. ক” এর উপর
  2. খ” এর উপর
  3. দখলকারীর উপর
  4. মালিকের উপর
ব্যাখ্যা
♦যে ব্যক্তির দখলে কিছু আছে বলে দেখানো আছে, সেই ব্যক্তি উক্ত জিনিসের মালিক কিনা এই প্রশ্ন উঠলে, দখলকারী ব্যক্তি যে মালিক না তা প্রমাণের দায়িত্ব সেই ব্যক্তির উপর বর্তায়, যে ব্যক্তি দাবি করে যে, দখলকারী ব্যক্তি সেই জিনিসের মালিক না। যেহেতু খ” দাবি করে যে, ক” উক্ত জমকির মালিক না, তাই তা প্রমাণের দায়িত্ব খ” এর উপর বর্তায়।
৮,৮৩৭.
যদি দস্যুতা রাতে রাজপথে সংঘটিত হয়, তাহলে সর্বোচ্চ কত বছরের সাজা হতে পারে?
  1. ৭ বছর
  2. ১০ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ১৪ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারার বিধান- দস্যুতার সাজা:
কোন ব্যক্তি যদি দস্যুতা সংঘটন করে তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে। এবং যদি সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময় রাজপথে দস্যুতা অনুষ্ঠিত হয়, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে।
৮,৮৩৮.
Order 13, Rule 7 অনুযায়ী কোন নথি মামলার রেকর্ডের অংশ হবে?
  1. শুধু মূল নথি
  2. আদালতে উপস্থাপিত সব নথি
  3. আদালত যেগুলো প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছে
  4. আদালত যেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে
ব্যাখ্যা

Order 13, Rule 7: গ্রহণযোগ্য (admitted) নথি রেকর্ডে যুক্ত হওয়া:
(১) যে কোনো নথি আদালত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছে (admitted in evidence), অথবা নিয়ম ৫ অনুযায়ী মূল নথির পরিবর্তে যদি কোনো প্রতিলিপি (copy) গ্রহণ করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই নথি বা নথির কপি মামলার রেকর্ডের অংশ হয়ে যাবে।

অর্থাৎ, প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা সব নথিই রেকর্ডে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত থাকে।

(২): যে কোনো নথি আদালত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেনি (not admitted in evidence)-
- তা মামলার রেকর্ডের অংশ হবে না,
- এবং সেই নথি যিনি জমা দিয়েছিলেন তাকে ফেরত দেওয়া হবে।

৮,৮৩৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় নালিশের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণের জন্য অনুসন্ধান বা তদন্তের বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ২০০
  2. ধারা ২০২
  3. ধারা ২০৪
  4. ধারা ২০৫ক
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ধারা ২০২।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২ ধারা অনুযায়ী, কোনো অপরাধের নালিশ পাওয়ার পর যদি ম্যাজিস্ট্রেট উপযুক্ত মনে করেন, তাহলে তিনি নালিশের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণের জন্য নিজে অনুসন্ধান করতে পারেন বা কোনো পুলিশ কর্মকর্তা, তার অধীনস্থ অন্য ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকে অনুসন্ধান বা তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন।
- এটি পরোয়ানা ইস্যুর পূর্ববর্তী পর্যায়ে অনুসন্ধানের জন্য ব্যবহৃত হয়, বিশেষত তখন, যখন ম্যাজিস্ট্রেট নিশ্চিত হতে চান যে অভিযোগটি যথাযথ ও গ্রহণযোগ্য কিনা।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২ ধারার বিধান: পরোয়ানা ইস্যু স্থগিত রাখা (Postponement for issue of process)-
১) কোন ম্যাজিস্ট্রেট যে অপরাধ আমলে নেওয়ার জন্য ক্ষমতাসম্পন্ন সেই অপরাধের নালিশ পাওয়ার পর অথবা ১৯২ ধারার অধীন তা তার নিকট হস্তান্তরিত হওয়ার পর,তিনি যদি উপযুক্ত মনে করেন তাহলে কারণ লিপিবদ্ধ করে যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে নালিশ করা হয়েছে তাকে হাজির হতে বাধ্য করার জন্য সমন বা পরোয়ানা প্রদান স্থগিত রাখতে পারেন এবং নালিশের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে নিজে ঘটনা সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে পারেন, অথবা তিনি যদি তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট না হন তাহলে তার অধীনস্ত অন্য ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন পুলিশ কর্মকর্তা বা তিনি যাকে উপযুক্ত মনে করেন এরূপ অন্যকোনো ব্যক্তিকে এই বিষয় অনুসন্ধান বা তদন্তের নির্দেশ দিবেন।
তবে শর্ত এই যে,যেক্ষেত্রে আদালত নালিশ করেন সেক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে ২০০ ধারার বিধান পালন না করে এরূপ কোন নির্দেশ দেয়া যাবে না।আরও শর্ত এই যে-যেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রতীয়মান হয় যে,যেই অপরাধের জন্য নালিশ করা হয়েছে তা কেবল দায়রা আদালতেই বিচার্য সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে হাজির হতে বাধ্য করার পরোয়ানা স্থগিত রাখতে পারবেন এবং নালিশের সত্যতা ও অসত্যতা নিরূপণের উদ্দেশ্যে এই উপধারায় উল্লিখিত অনুসন্ধান বা তদন্ত করবেন বা করাবেন।
২) এই ধারার অধীন অনুসন্ধান বা তদন্ত যে ব্যক্তি করবেন তিনি যদি ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কর্মকর্তা না হন,তাহলে তিনি এই কার্যবিধি অনুসারে (বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা ছাড়া) কোন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
(২ক) এই ধারার অধীন কোন ঘটনা অনুসন্ধানকারী ম্যাজিস্ট্রেট উপযুক্ত মনে করলে শপথ করিয়ে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারবেন তবে শর্ত এই যে, ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে,যেই অপরাধের জন্য অভিযোগ করা হয়েছে তা কেবল দায়রা আদালতেই বিচার্য,তাহলে তিনি ফরিয়াদীকে তার সকল সাক্ষীদেরকে হাজির করতে বলবেন এবং তাদের শপথ করে সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন।
(২খ) পুলিশ চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করলে ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত রিপোর্ট গ্রহণ করতে এবং অভিযুক্তদেরকে অব্যাহতি দিতে পারবেন।
৮,৮৪০.
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কোন পদে নিযুক্ত ব্যক্তির পরামর্শে সাধারণত তাঁর সকল দায়িত্ব পালন করেন? 
  1. স্পিকার
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. সেনাবাহিনী প্রধান 
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮(৩) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া রাষ্ট্রপতি তাঁর অন্য সকল দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী পালন করেন।
- অতএব, সঠিক উত্তর খ) প্রধানমন্ত্রী।

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮ এর বিধান রাষ্ট্রপতি:
(১) বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন। 
(২) রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করিবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাঁহাকে প্রদত্ত ও তাঁহার উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করিবেন। 
(৩) এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তাঁহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোন পরামর্শদান করিয়াছেন কি না এবং করিয়া থাকিলে কি পরামর্শ দান করিয়াছেন, কোন আদালত সেই সম্পর্কে কোন প্রশ্নের তদন্ত করিতে পারিবেন না।

৮,৮৪১.
তামাদি আইনে ৩০ বছর মেয়াদ কোন ধরনের মামলার জন্য প্রযোজ্য?
  1. ফৌজদারি আপীল
  2. চুক্তিভঙ্গের মামলা
  3. মানহানির ক্ষতিপূরণের মামলা
  4. জমি দখলের মামলা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী, ৩০ বছরের তামাদি মেয়াদ সাধারণত প্রযোজ্য হয় স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত মামলাগুলোর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে:
→ অনুচ্ছেদ ১৪৫ – আমানতী বা বন্ধকী অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের মামলা → ৩০ বছর (সময় গণনা: আমানত রাখা বা বন্ধক দেওয়ার তারিখ থেকে)
→ অনুচ্ছেদ ১৪৬ – বন্ধক গ্রহীতা কর্তৃক জমির দখল পুনরুদ্ধারের মামলা (High Court jurisdiction) → ৩০ বছর (সময় গণনা: বন্ধকী দেনার সর্বশেষ অংশ পরিশোধের তারিখ থেকে)
→ অনুচ্ছেদ ১৪৬ক – স্থানীয় কর্তৃপক্ষের রাস্তা বেদখল হলে পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা → ৩০ বছর (সময় গণনা: বেদখল হওয়ার তারিখ থেকে)

ভুল অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
ক) ফৌজদারি আপীল: তামাদি আইন মূলত দেওয়ানি বিষয়ের জন্য প্রযোজ্য, ফৌজদারি বিষয়ে নয়।
খ) চুক্তিভঙ্গের মামলা: সাধারণত এর তামাদি মেয়াদ ৩ বছর।
গ) মানহানির ক্ষতিপূরণের মামলা: সাধারণত এর তামাদি মেয়াদ ১ বছর।

অর্থাৎ তামাদি আইনে ৩০ বছরের মেয়াদ মূলত জমি বা স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলার জন্য প্রযোজ্য।
- সঠিক উত্তর: ঘ) জমি দখলের মামলা।
৮,৮৪২.
দণ্ডবিধির ১১৫ ধারায়, সহায়তাকারী যদি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে সহায়তা করে এবং অপরাধটি সংঘটিত না হয়, তবে তাকে কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে?
  1. ৩ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  2. ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  3. ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. ১৪ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
→ দণ্ডবিধির ১১৫ ধারার বিধান মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে সহায়তাকরণ,
- যদি অপরাধ ঘটানো না হয়:
কোনো ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ ঘটাতে সহায়তা করে, কিন্তু সেই অপরাধটি ঘটে না, তবে সেই ব্যক্তি ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে। এছাড়াও, তাকে অর্থদণ্ড দেওয়া হতে পারে।

-যদি অপরাধ ঘটে এবং আঘাত হয়:
যদি অপরাধটি সংঘটিত হয় এবং সেই অপরাধের ফলে কোনো ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তবে সহায়তাকারীকে ১৪ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে। তাছাড়া, তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যেতে পারে।
----------------
Section 115: Abetment of offence punishable with death or imprisonment for life- if offence be not committed; if act causing harm be done in consequence:
 Whoever abets the commission of an offence punishable with death or imprisonment for life, shall, if that offence be not committed in consequence of the abetment, and no express provision is made by this Code for the punishment of such abetment, be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine; 
 
and if any act for which the abettor is liable in consequence of the abetment, and which causes hurt to any person, is done, the abettor shall be liable to imprisonment of either description for a term which may extend to fourteen years, and shall also be liable to fine.
৮,৮৪৩.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কোন স্থাবর সম্পত্তি দুই পক্ষের কারো দখলে নাই, সেক্ষেত্রে আদালত কী করবে?
  1. সমভাবে বন্টন করে দিবে
  2. যে কোন পক্ষকে দখল বুঝিয়ে দিবে
  3. বাদী পক্ষকে দখল বুঝিয়ে দিবে
  4. উক্ত সম্পত্তি ক্রোক করবে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৬ ধারা মতে জমি বা পানি নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট যদি প্রকৃত দখলকারী নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তিনি সম্পত্তি ক্রোক বা রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন। 
অর্থাৎ কারো দখলে না থাকলে আদালত  সম্পত্তি ক্রোক বা রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।

-ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৬ ধারার বিধান: বিরোধীয় বিষয় ক্রোক করার ক্ষমতা: ম্যাজিষ্ট্রেট যদি সিদ্ধান্ত নেন যে, পক্ষবৃন্দের কেউই সে সময়ে বিরোধী বিষয়বস্তুতে দখলকার ছিলনা, অথবা তাদের মধ্য থেকে কোন পক্ষ সেই সময়ে উহাতে দখলকার ছিল, সেই সম্পর্কে তিনি নিজে সন্তুষ্ট হতে অপারগ হলে আদালতে পক্ষবৃন্দের অধিকার বা দখল পাইবার অধিকারী ব্যক্তি সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি তা ক্রোক করতে পারবেন:
শর্ত থাকে যে, অনুরূপ উপরে বর্ণিত ম্যাজিস্ট্রেট যদি পরিতুষ্ট হন, বিরোধীয় বিষয় সম্পর্কে আর শান্তিভঙ্গের কোনরূপ সম্ভাবনা নেই, সেক্ষেত্রে তিনি যে কোন সময় ক্রোক বাতিল করতে পারেন।
(২) যেক্ষেত্রে কোন ম্যাজিস্ট্রেট বিরোধীয় বস্তু ক্রোক করেন, সেক্ষেত্রে তিনি যদি সঠিক হিসাবে মনে করেন এবং কোন দেওয়ানী আদালত যদি ইতিপূর্বে বিরোধীয় সম্পত্তির কোন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ না করে থাকেন, সেক্ষেত্রে তিনি উহার জন্য একটি তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করতে পারবেন এবং ম্যাজিস্ট্রেটোর নিয়ন্ত্রণ দ্বারা উক্ত তত্ত্বাবধায়কের দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী নিযুক্ত তত্ত্বাবধায়কের যাবতীয় ক্ষমতা থাকবে:
শর্ত থাকে যে, কোন দেওয়ানী আদালত যদি পরবর্তী ধাপে উক্ত বিরোধীয় সম্পত্তির কোন তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করেন, সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নিযুক্ত তত্ত্বাবধায়ক তাঁর বরাবর দখল অর্পণ করবেন এবং অতঃপর তাকে উক্ত দায়িত্ব থেকে রেহাই দেয়া হবে।
৮,৮৪৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের মামলার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
- তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৩ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ এর ৯ ধারার অধীন স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের মামলা বেদখল হওয়ার দিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে করতে হবে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার বিধান:
-যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে আইনগত পন্থা ছাড়াই স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তাহলে সে বা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করতে পারে। তবে এই ধারার কোন কিছুই এমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার নিমিত্তে কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা রুজু করার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।
-সরকারের ক্ষেত্রে এই ধারার কোনো প্রয়োগযোগ্য নেই।
-আদালত যে আদেশ দিবে তার বিরুদ্ধে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে না।
------------------
SR Act Section-9: Suit by person dispossessed of immoveable property:
If any person is dispossessed without his consent of immoveable property otherwise than in due course of law, he or any person claiming through him may, by suit recover possession thereof, notwithstanding any other title that may be set up in such suit.
Nothing in this section shall bar any person from suing to establish his title to such property and to recover possession thereof.
No suit under this section shall be brought against the Government.
No appeal shall lie from any order or decree passed in any suit instituted under this section, nor shall any review of any such order or decree be allowed.
৮,৮৪৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারায় রয়েছে-
  1. বিধিবদ্ধ প্রতিকার
  2. বাধ্যতামূলক প্রতিকার
  3. নেতিবাচক প্রতিকার
  4. নিরোধমূলক প্রতিকার
ব্যাখ্যা
⇒The Specific Relief Act, 1877 এর ৫২ ধারায় বিধান করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা, স্থায়ী বা অস্থায়ী যারা আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতাবলে নিরোধমূলক প্রতিকার মাঞ্জুর করা হয়।
--------------------------
The Specific Relief Act, 1877 Section 52: Preventive relief how granted:
Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual.
৮,৮৪৬.
যদি কোনো ব্যক্তি মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করে এবং তার ফলে কাউকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু সেই আসামি খালাস পেয়ে যায়, তবে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. শুধু অর্থদণ্ড
  2. ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  3. ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

→ যদি মিথ্যা সাক্ষ্যের কারণে আসামি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত না হয় বা খালাস পায়, তাহলে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন শাস্তি ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।
তাই সঠিক উত্তর "ঘ) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড"।

⇒ দণ্ডবিধির ১৯৪ ধারা মতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবনের ২ ধরনের শাস্তি হতে পারে। যথা-
(i) কোন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার পরও অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য সৃষ্টি করার পরও উক্ত আসামীর মৃত্যুদণ্ড না হলে বা আসামি খালাস পেলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
(ii) মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের ফলে কোন নির্দোষ লোকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৯৪ ধারার বিধান মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্যদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করা :-
- কোন ব্যক্তি যদি মিথ্যা সাক্ষ্যদান করে বা তৈরি করে এবং তদ্বারা কাউকে বর্তমানে বলবৎ কোন আইনবলে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যেই তা করে থাকে কিংবা তার এইরূপ মিথ্যা সাক্ষ্য দান বা তৈরি করার ফলে কাউকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দণ্ডিত করা হতে পারে জেনেই যদিও তা করে থাকে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে; তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।
- যদি তার ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত হয় এবং সাজা বলবৎ হয়:- যদি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যের ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি সাজাপ্রাপ্ত হয় ও সাজা বলবৎ হয়, তবে যে ব্যক্তি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যদান করেছে, সে ব্যক্তি হয় মৃত্যুদণ্ডে, না হয় এই ধরায় ইতঃপূর্বে বর্ণিত সাজায় সাজাপ্রাপ্ত হবে।
______________________
⇒The Penal Code, 1860-Section 194: Giving or fabricating false evidence with intent to procure conviction of capital offence; if innocent person be thereby convicted and executed:
- Whoever gives or fabricates false evidence, intending thereby to cause, or knowing it to be likely that he will thereby cause, any person to be convicted of an offence which is capital by any law for the time being in force, shall be punished with imprisonment for life, or with rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine;
and if an innocent person be convicted and executed in consequence of such false evidence, the person who gives such false evidence shall be punished either with death or the punishment herein before described.

৮,৮৪৭.
দণ্ডবিধির ৪৪৫ ধারায় কয়টি পথে অনধিকার গৃহপ্রবেশকে [House Trespass] অপথে গৃহ প্রবেশ বা সিঁদ কেটে গৃহেপ্রবেশ [House Breaking] বলে উল্লেখ করা হয়েছ?
  1. ৬ টি
  2. ৪ টি
  3. ৩ টি
  4. ৫ টি
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৪৪৫ ধারায় অপথে গৃহে প্রবেশের বিধান রয়েছে। ৪৪৫ ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিত ৬টি উপায়ে কোন গৃহে প্রবেশ করলে বা গৃহ থেকে বের হলে তা অপথে গৃহে প্রবেশ বা House breaking বলে গণ্য হবে। যথা-

i) বন্ধ দরজা বা পথ খুলে (Opening any passage fastended for );
ii) তালা খুলে বা ভেঙ্গে (Opening or breaking lock);

iii) নতুন পথ তৈরি করে (Passage made by him);
iv) আক্রমন বা বলপ্রয়োগের ভয় দেখিয়ে (Using criminal force);

v) আটকানো কোন কিছুকে খুলে বা অন্যভাবে মুক্ত করে অস্বাভাবিক পন্থায় ভিতরে প্রবেশ করা বা নির্গমন হওয়া; অথবা
vi) প্রবেশ বা প্রস্থানের জন্য নয় এমন পথ দিয়ে গৃহে প্রবেশ করলে অপথে গৃহ প্রবেশ (house breaking) এর অপরাধ হবে।
৮,৮৪৮.
Who are considered ex-officio Justices of the Peace for the entire country of Bangladesh?
  1. District Magistrates
  2. Sessions Judges
  3. Judges of the Supreme Court
  4. Chief Judicial Magistrates
ব্যাখ্যা
Section 25- Ex-officio Justices of the Peace:
In virtue of their respective offices, the Judges of the Supreme Court  are Justices of the Peace within and for of the whole of Bangladesh, Sessions Judges, Chief Judicial Magistrate and Metropolitan Magistrates are Justices of the Peace within their respective jurisdictions.

ধারা-২৫: পদাধিকার বলে জাস্টিস অব দি পিস-
সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিগণ পদাধিকার বলে সমগ্র বাংলাদেশের জাস্টিসেস অব দি পিস বলে গণ্য হবেন এবং দায়রা জজ, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ পদাধিকার বলে নিজ নিজ এলাকার জন্য জাস্টিসেস অব দি পিস হবেন। 
৮,৮৪৯.
কোন ব্যক্তি খুন করার বা খুন সহকারে দস্যুতা অনুষ্ঠান বা শিশু অপহরণের উদ্দেশ্যে অভ্যাসগতভাবে এক বা একাধিকব্যক্তির সাথে মেলামেশা করলে; উক্ত ব্যক্তি নিম্ন লিখিত কোন ধরনের অপরাধে অপরাধী হবে-
  1. খুনের উদ্যোগ
  2. শিশু পাচার
  3. ঠগ
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩১০ ধারার বিধান ঠগ:- কোন ব্যক্তি যদি এই আইন পাস হওয়ার পরে কোন সময় খুনের মাধ্যমে বা খুন সহ দস্যুতা সাধন বা শিশু অপহরণের জন্য অপর এক বা একাধিক ব্যক্তির সাথে অভ্যাসগতভাবে সংশ্লিষ্ট হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি একজন ঠগ।
-------------
⇒ Section 310. Thug:- Whoever, at any time after the passing of this Act, shall have been habitually associated with any other or others for the purpose of committing robbery or child-stealing by means of or accompanied with murder, is a thug.
৮,৮৫০.
গুরুতর অসুস্থতার কারণে দায়িককে দেওয়ানী কারাগার থেকে মুক্তির বিধান আছে কোন ধারায়?
  1. ৫৯
  2. ৫৭
  3. ৫৬
  4. ৫৮
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি এর ৫৯ ধারা অনুযায়ী, দেনাদারকে গ্রেফতার করার পর গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে মুক্তি দেওয়ার বিধান আছে। 

দেওয়ানী কার্যবিধি ৫৯ ধারার বিধান- অসুস্থতার দরুন মুক্তি (Release on ground of illness):
১) কোন রায়সিদ্ধ দেনাদারকে গ্রেফতার করার জন্য পরোয়ানা জারির পর যে কোন সময় তার গুরুতর অসুস্থতার কারণে আদালত তা নাকচ করতে পারেন।
২) রায়সিদ্ধ দেনাদারকে গ্রেফতারের পর আদালত যদি মনে করেন যে, স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় ঐ ব্যক্তিকে দেওয়ানি জেলে আটক রাখা চলে না, তাহলে আদালত তাকে মুক্তি দিতে পারবেন।

৩) দেওয়ানি জেলে আটক রায়সিদ্ধ দেনাদার নিম্নলিখিত উপায়ে মুক্তি পেতে পারে-
ক) কোন সংক্রামক বা ক্ষতিকারক রোগের দরুন সরকার তাকে মুক্তি দিতে পারেন; বা
খ) উক্ত ব্যক্তির গুরুতর অসুস্থতার দরুন সোপর্দকারী আদালত বা তা যে আদালতের অধীনস্ত তদ্রূপ কোন আদালত তাকে মুক্তি দিতে পারেন।

৪) এই ধারার অধীনে মুক্তিপ্রাপ্ত রায়সিদ্ধ দেনাদারকে পুনরায় গ্রেফতার করা যেতে পারে, কিন্তু উক্ত ব্যক্তিকে দেওয়ানি জেলে আটক রাখার মোট মেয়াদ গড়ে ৫৮ ধারায় উল্লেখিত মেয়াদের অধিক হবে না।
৮,৮৫১.
The penal code 1860 অনুযায়ী ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষা অধিকার প্রয়োগ করা যায় কতটি ক্ষেত্রে?
  1. দুটি ক্ষেত্রে
  2. তিনটি ক্ষেত্রে
  3. ৪টি ক্ষেত্রে
  4. ছয়টি ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার শরীর ও সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়।
• ৯৭ দ্বারা অনুযায়ী ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা যায়।
(i) অন্যের আক্রমণ হতে নিজের বা অন্যের দেহ রক্ষা করতে।
(ii) নিজের বা অন্যের সম্পত্তি রক্ষা করতে।
৮,৮৫২.
সংবিধানের কত অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিকগন 'বাংলাদেশি' হিসেবে পরিচিত হবেন?
  1. অনুচ্ছেদ ৬(১)
  2. অনুচ্ছেদ ৬(২)
  3. অনুচ্ছেদ ৭(১)
  4. অনুচ্ছেদ ৭(২)
ব্যাখ্যা
• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- 'বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশি বলে পরিচিত হবেন।'

অনুচ্ছেদ ৬: নাগরিকত্ব-
(১) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে। 
(২) বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশি বলিয়া পরিচিত হইবেন।

Article 6: Citizenship-
(1) The citizenship of Bangladesh shall be determined and regulated by law. 
(2) The people of Bangladesh shall be known as Bangalees as a nation and the citizens of Bangladesh shall be known as Bangladeshies.
৮,৮৫৩.
একটি অপরাধ জামিনযোগ্য কি-না তা জানা যাবে-
  1. সিডিউল ১, কলাম ৫ থেকে
  2. সিডিউল ২ কলাম ৫ থেকে
  3. সিডিউল ৩ কলাম ৭ থেকে
  4. সিডিউল ২ কলাম ৮ থেকে
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির সিডিউল-২ এর ৫ নং কলামে অপরাধের জামিনযোগ্যতার বিষয়ে উল্লেখ আছে।
৮,৮৫৪.
The Civil Courts Act, 1887 এর কত ধারায় 'স্থানীয় এখতিয়ারাধীন সকল দেওয়ানী আদালতের উপর জেলা জজের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রন ক্ষমতা' দেয়া হয়েছে?
  1. ৬ ধারায়
  2. ৯ ধারায়
  3. ১২ ধারায়
  4. ১৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
• The Civil Courts Act,1887 অনুযায়ী স্থানীয় এখতিয়ারাধীন সকল দেওয়ানী আদালতের উপর জেলা জজের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রন থাকবে।

ধারা ৯- আদালতের প্রশাসনিক ক্ষমতা:
হাইকোর্ট বিভাগের তত্ত্বাবধানে জেলা জজের তার স্থানীয় সীমানায় অবস্থিত সকল দেওয়ানি আদালতের উপর তার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

Section 9: Administrative control of Courts-
Subject to the superintendence of the High Court Division, the District Judge shall have administrative control over all the Civil Courts under this Act within the local limits of his jurisdiction.
৮,৮৫৫.
জেলা জজ কর্তৃক রিভিশন মামলায় প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ হাইকোর্ট বিভাগে-
  1. সরাসরি রিভিশন দায়ের করতে পারে
  2. অনুমতি সাপেক্ষে রিভিশন দায়ের করতে পারে
  3. আপীল করতে পারে
  4. অনুমতি সাপেক্ষে আপীল করতে পারে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫(৪) ধারায় দ্বিতীয় রিভিশন এর বিধান রয়েছে।

এই ধারানুযায়ী,
১১৫(২) ও ১১৫(৩) ধারার অধীনে প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ রিভিশনে আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-সম্পর্কিত বিষয়ে ভুল করে কোন আদেশ দিলে, তার বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতিসাপেক্ষে হাইকোর্ট বিভাগে দ্বিতীয় রিভিশন দায়ের করা যায়। অর্থাৎ-

জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ প্রদত্ত (প্রথম) রিভিশনে আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-সম্পর্কিত বিষয়ে ভুল আদেশ দিলে, হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতি নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগেই দ্বিতীয় রিভিশন করা যাবে।

গুরত্বপূর্ণ তথ্য:
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধিতে Second Appeal নেই তবে, অনুমতিসাপেক্ষে Second Revision করার বিধান আছে।
⇒ দেওয়ানি মোকদ্দমায় Review আছে, ফৌজদারী মামলায় Review নেই।
⇒ ফৌজদারী মামলায় শুধু খালাস [ধারা ৪১৭(১)] ও অপর্যাপ্ত দণ্ডের [ধারা ৪১৭৩] এর ক্ষেত্রে Second Appeal এর বিধান রয়েছে, কিন্তু Second Revision এর নেই।
৮,৮৫৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৩৯ক অনুসারে, সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণ কীভাবে দেওয়া যায়?
  1. শপথপত্রের মাধ্যমে
  2. পুলিশ রিপোর্টের মাধ্যমে
  3. মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে
  4. কোনো প্রমাণ দেওয়া যায় না
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির (Code of Criminal Procedure) ধারা ৫৩৯ক(১) অনুসারে, যখন কোনো তদন্ত, বিচার বা অন্য কোনো কার্যক্রমের সময় কোনো আদালতে কোনো আবেদন করা হয় এবং তাতে কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তখন আবেদনকারী সেই অভিযোগের তথ্যগুলো শপথপত্রের (affidavit) মাধ্যমে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন। আদালত যদি উপযুক্ত মনে করে, তবে এই তথ্যগুলো শপথপত্রের মাধ্যমে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিতে পারে।

- এছাড়াও, এই ধারায় বলা হয়েছে যে, শপথপত্রে যে তথ্য দেওয়া হবে তা দুই ধরনের হতে পারে: (১) আবেদনকারীর নিজস্ব জ্ঞানের ভিত্তিতে প্রমাণিত তথ্য, এবং (২) যে তথ্য তিনি যুক্তিসঙ্গত কারণে সত্য বলে বিশ্বাস করেন, এবং এই ক্ষেত্রে বিশ্বাসের ভিত্তি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
- ধারা ৫৩৯ক(১) অনুসারে, হাইকোর্ট বিভাগ ছাড়া অন্য আদালতে শপথপত্র ধারা ৫৩৯-এ উল্লিখিত পদ্ধতিতে বা কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে গ্রহণ করা যায়।
- ধারা ৫৩৯ক(২) অনুসারে, আদালত শপথপত্রে থাকা কোনো অপ্রাসঙ্গিক বা কলঙ্কজনক বিষয় মুছে ফেলতে বা সংশোধন করতে পারে।
- এই ধারার উদ্দেশ্য হলো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক এবং নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া।
- অতএব, ধারা ৫৩৯ক অনুসারে, সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণ শপথপত্রের মাধ্যমে দেওয়া যায়।

৮,৮৫৭.
চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ যদি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে পূরণ না করা যায়, তবে আদালত কি করতে পারে?
  1. সুনির্দিষ্ট কাজের আদেশ দিতে পারে
  2. সম্মতিভুক্ত কাজ বাতিল করতে পারে
  3. আনুমানিক আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারে
  4. কোন কিছুই করতে পারে না
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ১২ অনুসারে,
এ অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, তবে যে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে-
(ক) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হয়;
(খ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না;
(গ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না; অথবা
(ঘ) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।

ব্যাখ্যা:
যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত এটা অবশ্যই ধরে নিবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার তেমন ভাবে করা যায়।
৮,৮৫৮.
নিম্নের কোনটি গৌণ সাক্ষ্য নহে?
  1. মূল দলিলের সার্টিফাইড কপি
  2. মুল দলিলের প্রতিলিপি
  3. সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক স্বাক্ষরিত বিক্রয় দলিলের অবিকল নকল
  4. দলিল দেখেছেন এমন ব্যক্তি কর্তৃক উক্ত দলিল সম্পর্কিত মৌখিক সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারা অনুসারে প্রাথমিক/মুখ্য সাক্ষ্য: প্রাথমিক সাক্ষ্য অর্থ সংশ্লিষ্ট দলিলটি আদালতে পরিদর্শনের জন্য দাখিল করা
ব্যাখ্যা-১ কোন দলিল কতিপয় খণ্ডে সম্পাদিত হলে প্রত্যেক খণ্ডই উক্ত দলিলের প্রাথমিক সাক্ষ্য 
কোন দলিল যখন প্রতিলিপি (counterpart) সহকারে সম্পাদিত হয়; এবং প্রত্যেকটি প্রতিলিপি পক্ষগণের মধ্যে একজন বা কয়েকজন কর্তৃক সম্পাদিত হয়, তখন প্রত্যেকটি প্রতিলিপি তার সম্পাদনকারী পক্ষের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সাক্ষ্য।

ব্যাখ্যা-২ঃ যে ক্ষেত্রে একাধিক দলিল একই পদ্ধতিতে (uniform process) প্রস্তুত হয়; যথাঃ মুদ্রণ, লিথোগ্রাফি বা ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, সেই ক্ষেত্রে তার প্রত্যেকটিই অন্যগুলির বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রাথমিক সাক্ষ্য, কিন্তু যে ক্ষেত্রে সেগুলি সবই একটি মূল দলিলের নকল , সেক্ষেত্রে ঐগুলি দলিলটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রাথমিক সাক্ষ্য নয়।

♦ সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারা অনুসারে মাধ্যমিক/গৌণ সাক্ষ্য (Secondary evidence) : মাধ্যমিক সাক্ষ্য অর্থ এবং তার অন্তর্ভুক্ত হলঃ বর্ণিত বিধানবলী অনুসারে প্রদত্ত জাবেদা নকল, মূল দলিল হতে এরূপ যান্ত্রিক উপায়ে প্রস্তুত নকল, যাতে নকলের নির্ভুলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় এবং এরূপ নকলের সাথে মিলিয়ে নেওয়া অন্য নকল; মূল দলিল হতে প্রস্তুত করা অথবা মূল দলিলের সাথে মিলিয়ে নেওয়া নকল কোন দলিলের প্রতিলিপি যে পক্ষ উক্ত দলিল সম্পাদন করে নাই, তার বিরুদ্ধে তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে, যে ব্যক্তি নিজে কোন দলিল দেখেছে, তার দেওয়া উক্ত দলিলের বিষয় বস্তু সম্পর্কে মৌখিক বিবরণ।
 
♦ প্রশ্নে কোনটি গৌণ্য সাক্ষ্য নহে অর্থ কোনটি প্রাথমিক সাক্ষ্য তা জানতে চাওয়া হয়েছে। মূল দলিলের সার্টিফাইড কপি বা জাবেদা নকল, দলিল দেখেছেন এমন ব্যক্তি কর্তৃক স্বাক্ষরিত বিক্রয় দলিলের অবিকল নকল হলো গৌণ সাক্ষ্য বা মাধ্যমিক সাক্ষ্য।
সাক্ষ্য আইনের ৭৬ ধারা অনুসারে, সাব রেজিষ্ট্রার কর্তৃক স্বাক্ষরিত বিক্রয় দলিলের অবিকল নকল বা জাবেদা নকল ৬৩ ধারার (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে মাধ্যমিক সাক্ষ্য।
অন্যদিকে, ৬২ ধারার ব্যাখ্যা-০১ অনুসারে, যখন কোন দলিল প্রতিলিপিসহ [counterparts] সম্পাদিত হয়, সেক্ষেত্রে প্রত্যেকটি প্রতিলিপি এর সম্পাদনকারীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক সাক্ষ্য হবে।
সুতরাং, মূল দলিলের প্রতিলিপি বা মূল দলিলের অনুরূপ কপি প্রস্তুত করা হলে, এবং পক্ষগণ মূল দলিলটিসহ প্রস্তুতকৃত প্রতিলিপি স্বাক্ষর করে সম্পাদন করলে, অনুরূপ প্রতিলিপি প্রাথমিক সাক্ষ্য মর্মে গণ্য হবে।
৮,৮৫৯.
দেবোত্তরের অধীনে যে দেবমূর্তি থাকে, তাকে আইনত কী ধরা হয়?
  1. সেবায়েত
  2. বৈধ সত্ত্বা
  3. সরকারি সম্পত্তি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

দেবত্তোর (Debutter):
মন্দির নির্মাণ করিয়া তাহাতে কোন দেবমূর্তির প্রতিষ্ঠা করতঃ নিয়ত পূজার্চনার ব্যয় নির্বাহের জন্য কোন সম্পত্তি দান করলে তা সাধারণত দেবোত্তর নামে পরিচিত। এই রকম বিগ্রহ বা দেবমূর্তি এক বৈধ সত্ত্বা (Juridical person) এবং তাঁর উদ্দেশ্যে উৎসর্গিত সম্পত্তির তিনি আইনত মালিক।

দেবোত্তর দুই রকমের হইতে পারে। যেমন- যখন কোন পরিবারের কোন ব্যক্তি পারিবারিক গৃহ দেবতার পূজা অর্চনার জন্য কোন সম্পত্তি দান করে যান, তা ব্যক্তিগত অথবা পারিবারিক দেবোত্তর বলা হয়। কারণ তদবস্থায় বিগ্রহের সেবা পূজার দায়িত্ব তাঁর বংশধরগণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। আবার সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে অনুরূপ দান সম্পন্ন হলে তা সার্বজনীন দেবোত্তররূপে পরিগণিত হয়।

৮,৮৬০.
মধ্যবর্তী মুনাফা [Mesne Profits] এর ক্ষেত্রে কোনটি অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে ?
  1. বিবাদীর অন্যায়ভাবে দখল
  2. বিবাদীর অন্যায়ভাবে বা বেআইনী দখল এবং স্বাভাবিকভাবে লাভ
  3. বিবাদীর অন্যায় ভাবে দখল এবং লাভ
  4. অন্যায়ভাবে দখল এবং দখলদার কর্তৃক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(১২) মতে বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তিসাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো, সুদসহ উক্ত মুনাফা কে মধ্যবর্তী মুনাফা [Mesne profits] বলে।
♦ তবে বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা [Mesne Profits] বলে গণ্য হবে না।
♦ সুতরাং মধ্যবর্তী মুনাফা [Mesne Profits] এর ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে  বিবাদীর  বেআইনী দখল এবং স্বাভাবিকভাবে লাভ
৮,৮৬১.
কোনো ব্যক্তি সরকারি আইনগত সহায়তা কর্মসূচির আওতায় কোন ধরনের সেবা গ্রহণের জন্য যোগ্য হবেন?
  1. আইনগত তথ্য সেবা গ্রহণ
  2. আইনগত পরামর্শ গ্রহণ
  3. বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির
  4. উল্লিখিত সকল সেবা
ব্যাখ্যা
• আইনগত সহায়তা প্রদান নীতিমালা, ২০১৪:

অনুচ্ছেদ ৪: তথ্য সেবা গ্রহণ, ইত্যাদি


অনুচ্ছেদ ২ এ বর্ণিত বিধান সত্ত্বেও যে কোন ব্যক্তি, তাহার আর্থিক সামর্থ্য যাই হোক না কেন, সরকারি আইনগত সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত আইনগত তথ্য সেবা গ্রহণ, আইনগত পরামর্শ গ্রহণ কিংবা বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির সেবা গ্রহণের জন্য যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইবেন।
৮,৮৬২.
আরজি ফেরত [Return of Plaint] এর ক্ষেত্রে বিচারক আরজির উপর কি কি উল্লেখ করবে?
  1. আরজি পেশ এবং ফেরতের তারিখ
  2. ফেরতের কারন
  3. দাখিলকারী পক্ষের নাম
  4. ক,খ এবং গ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ আদেশের ১০ বিধিতে আরজি ফেরত এবং ৭ আদেশের ১১ বিধিতে আরজি প্রত্যাখ্যান বিষয়ে বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।

আরজি ফেরত অর্থ হলো এখতিয়ারবিহীন আদালতে আরজি দাখিল করলে, আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দেয়া। যদি এমন কোন আদালতে আরজি দাখিল করা হয় যে আদালতে উক্ত মোকদ্দমার বিচার করার আর্থিক বা আঞ্চলিক এখতিয়ার নেই, তখন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে আরজিটি দাখিলের জন্য আদালত ফেরত দিতে পারে। মোকদ্দমার যেকোন পর্যায়ে আদালত আরজি ফেরতের আদেশ দিতে পারে।

আরজি ফেরত প্রদানের পদ্ধতি- বিচারক আরজি ফেরত প্রদানের সময় উহার উপর;
আরজি পেশ করার ও ফেরত নেয়ার তারিখ,
দাখিলকারক পক্ষের নাম এবং
তা ফেরত নিয়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ লিপিবদ্ধ করবে।  [বিধি ১০(২)]

Order 7 Rule 10(2): Procedure on returning plaint-
On returning a plaint the Judge shall endorse thereon the date of its presentation and return, the name of the party presenting it, and a brief statement of the reasons for returning it. 

• আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার:
১. বাদী আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে পুনরায় দাখিল করতে পারে বা
২.আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করতে পারে। কারণ দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৩ আদেশের ১ (ক) বিধি অনুযায়ী আরজি ফেরতের সিদ্ধান্ত একটি আপীলযোগ্য আদেশ।
৮,৮৬৩.
অভিযুক্তের বন্ড সম্পাদনে অর্থের পরিমাণ কে নির্ধারণ করবে?
  1. পুলিশ
  2. আদালত
  3. ক বা খ
  4. ফরিয়াদি
ব্যাখ্যা
ধারা ৪৯৯- আসামী ও জামিনদারের বন্ড

(১) কোন ব্যক্তিকে জামিনে বা তার নিজের বন্ডে মুক্তি দেয়ার পূর্বে উক্ত ব্যক্তি পুলিশ কর্মকর্তা বা আদালত যেরূপ পর্যাপ্ত মনে করেন সেরূপ পরিমাণ অর্থের জন্য একটি বন্ড সম্পাদন করবে এবং যেক্ষেত্রে তাকে জামিন মুক্তি দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে এক বা একাধিক পর্যাপ্ত জামিনদার এ শর্তে বন্ড সম্পাদন করবে যে, উক্ত ব্যক্তি বন্ডে বর্ণিত সময়ে ও স্থানে হাজির হবে এবং পুলিশ কর্মকর্তা বা আদালত ভিন্নরূপ নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অনুরূপে হাজির হতে হবে।

(২) মামলার জন্য এরূপ প্রয়োজন হলে জামিনে মুক্ত ব্যক্তির জন্য আরও শর্ত থাকবে যে, অভিযোগের জবাব দানের জন্য আহবান করা হলে হাইকোর্ট ডিভিশন, দায়রা আদালত বা অন্য কোন আদালতে তাকে হাজির হতে হবে।

Section 499- Bond of accused and sureties
(1) Before any person is released on bail or released on his own bond, a bond for such sum of money as the police-officer or Court, as the case may be, thinks sufficient shall be executed by such person, and, when he is released on bail, by one or more sufficient sureties conditioned that such person shall attend at the time and place mentioned in the bond, and shall continue so to attend until otherwise directed by the police-officer or Court, as the case may be.

(2) If the case so require, the bond shall also bind the person released on bail to appear when called upon at the High Court Division, Court of Session or other Court to answer the charge.
৮,৮৬৪.
দণ্ডবিধি অনুসারে কয় উপায়ে কোন গৃহে প্রবেশ করলে অপথে গৃহে প্রবেশ বলে গণ্য হবে?
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৪৫ ধারায় অপথে গৃহে প্রবেশের বিধান রয়েছে। ৪৪৫ ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিত ৬টি উপায়ে কোন গৃহে প্রবেশ করলে বা গৃহ থেকে বের হলে তা অপথে গৃহে প্রবেশ বা House breaking বলে গণ্য হবে। যথা-
i) বন্ধ দরজা বা পথ খুলে (Opening any passage fastended for );
ii) তালা খুলে বা ভেঙ্গে (Opening or breaking lock);
iii) নতুন পথ তৈরি করে (Passage made by him);
iv) আক্রমন বা বলপ্রয়োগের ভয় দেখিয়ে (Using criminal force);
v) আটকানো কোন কিছুকে খুলে বা অন্যভাবে মুক্ত করে অস্বাভাবিক পন্থায় ভিতরে প্রবেশ করা বা নির্গমন হওয়া; অথবা
vi) প্রবেশ বা প্রস্থানের জন্য নয় এমন পথ দিয়ে গৃহে প্রবেশ করলে অপথে গৃহ প্রবেশ (house breaking) এর অপরাধ হবে।
----------------
Section 445 House-breaking: A person is said to commit “house-breaking" who commits house-trespass if he effects his entrance into the house or any part of it in any of the six ways hereinafter described; or if, being in the house or any part of it for the purpose of committing an offence, or, having committed an offence therein, he quits the house or any part of it in any of such six ways, that is to say:
Firstly.-If he enters or quits through a passage made by himself, or by any abettor of the house-trespass, in order to the committing of the house-trespass. 
Secondly.-If he enters or quits through any passage not intended by any person, other than himself or an abettor of the offence, for human entrance; or through any passage to which he has obtained access by scaling or climbing over any wall or building. 
Thirdly.-If he enters or quits through any passage which he or any abettor of the house-trespass has opened, in order to the committing of the house-trespass by any means by which that passage was not intended by the occupier of the house to be opened. 
Fourthly.-If he enters or quits by opening any lock in order to the committing of the house-trespass, or in order to the quitting of the house after a house-trespass. 
Fifthly.-If he effects his entrance or departure by using criminal force or committing an assault, or by threatening any person with assault. 
Sixthly.-If he enters or quits by any passage which he knows to have been fastened against such entrance or departure, and to have been unfastened by himself or by an abettor of the house-trespass. 
Explanation.-Any out-house or building occupied with a house, and between which and such house there is an immediate internal communication, is part of the house within the meaning of this section.
৮,৮৬৫.
আদেশ ৩৫ বিধি-২ এর অধীন মোকদ্দমায় দাবীকৃত বস্তু আদালতের হেফাজতে দেয়ার আদেশ দেয়া যেতে পারে-
  1. বাদীকে
  2. বিবাদীকে
  3. সহ-বিবাদীকে
  4. ৩য় কোনো পক্ষকে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৩৫ বিধি-২: দাবীকৃত বস্তু আদালতে জমা প্রদান:
যেক্ষেত্রে দাবীকৃত বস্তু আদালতে প্রদানের বা আদালতের হেফাজতে রাখার যোগ্য হয়, সেক্ষেত্রে মোকদ্দমায় বাদী কোন আদেশের অধিকারী হওয়ার পূর্বে বাদীকে সেটা অনুরূপভাবে প্রদান করতে বা স্থাপন করতে তলব করা যেতে পারে।

Rule.-2: Payment of thing claimed into Court:
Where the thing claimed is capable of being paid into Court or placed in the custody of the the plaintiff may be required to so pay or place it before he can be entitled to any order in the suit.
৮,৮৬৬.
যে সকল ঘটনা বা বিষয় একই কার্যের অংশ সেগুলো __________ নামে পরিচিত।
  1. অন্যত্র থাকার দাবী (Plea of Alibil)
  2. মৃত্যুকালীন ঘোষণা (Dying Declaration)
  3. স্বীকৃতি (Admission)
  4. সংঘটিত ব্যাপার (Res Gestae)
ব্যাখ্যা
♦Res Gestae বা 'একই কার্যের অংশ - Res Gestae (রেস গেস্টাই) অর্থ হলো একই কাজের অংশ বিশেষ বা একই Transaction এ সংগঠিত অনেকগুলো ঘটনা। অর্থাৎ কোন একটি কাজ করতে গিয়ে উক্ত কাজের ধারাবাহিকতায় অন্য যেসব কাজ করা হয় বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা তা ঐ একই কাজের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে Res Gestae বলে পরিচিত।
♦সাক্ষ্য আইনের ৬ ধারায় Res gestae নীতিটি কি সেটা উল্লেখ করা হয়েছে এবং ৭, ৮, ৯ এবং ১৪ ধারায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সংঘটিত ব্যাপার বা Res gestae সেই সকল বিষয়কে বোঝায় যেগুলো একই কার্যের (Same Transaction) অংশ গঠন করে।
৮,৮৬৭.
১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন অনুসারে, স্ত্রী কোন কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারেন?
  1. স্বামী এক বছর নিরুদ্দেশ থাকলে
  2. স্বামী তিন বছর ভরণপোষণ না দিলে
  3. স্বামী এক বছর দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে
  4. স্বামী সাত বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে
ব্যাখ্যা

⇒ The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939-এর ধারা ২(iii)-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে: “that the husband has been sentenced to imprisonment for a period of seven years or upwards” অর্থাৎ স্বামীকে ৭ বছর বা তার বেশি মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হলে স্ত্রী আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারে। তবে প্রভাইডেড ক্লজে বলা আছে যে, সাজা চূড়ান্ত (final) না হওয়া পর্যন্ত ডিক্রি পাস করা যাবে না।
অন্য অপশনগুলো কেন ভুল:
ক) স্বামী এক বছর নিরুদ্দেশ থাকলে → ভুল। নিরুদ্দেশ হতে হবে ৪ বছর (ধারা ২(i))
খ) স্বামী তিন বছর ভরণপোষণ না দিলে → ভুল। ভরণপোষণ না দেওয়া হতে হবে ২ বছর (ধারা ২(ii))
গ) স্বামী এক বছর দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে → ভুল। দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা হতে হবে ৩ বছর (ধারা ২(iv))
সুতরাং একমাত্র সঠিক উত্তর: ঘ) স্বামী সাত বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে।

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যে-সব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
- চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
- দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
- স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
- স্বামী কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
- বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
- স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে;
- বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
- স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
- স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কুরআনে নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
------------
⇒ The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939- Section-2. Grounds for decree for dissolution of marriage:
A woman married under Muslim law shall be entitled to obtain a decree for the dissolution of her marriage on any one or more of the following grounds, namely:- 
(i) that the whereabouts of the husband have not been known for a period of four years; 
(ii) that the husband has neglected or has failed to provide for her maintenance for a period of two years; 
(iia) that the husband has taken an additional wife in contravention of the provisions of the Muslim Family Laws Ordinance, 1961;
(iii) that the husband has been sentenced to imprisonment for a period of seven years or upwards; 
(iv) that the husband has failed to perform, without reasonable cause, his marital obligations for a period of three years; 
(v) that the husband was impotent at the time of the marriage and continues to be so; 
(vi) that the husband has been insane for a period of two years or is suffering from leprosy or a virulent venereal disease; 
(vii) that she, having been given in marriage by her father or other guardian before she attained the age of [eighteen years], repudiated the marriage before attaining the age of [nineteen years]: 
Provided that the marriage has not been consummated; 
(viii) that the husband treats her with cruelty, that is to say,- 
(a) habitually assaults her or makes her life miserable by cruelty of conduct even if such conduct does not amount to physical ill-treatment, or 
(b) associates with women of evil repute or leads an infamous life, or  
(c) attempts to force her to lead an immoral life, or 
(d) disposes of her property or prevents her exercising her legal rights over it, or 
(e) obstructs her in the observance of her religious profession or practice, or 
(f) if he has more wives than one, does not treat her equitably in accordance with the injunctions of the Qoran; 
(ix) on any other ground which is recognised as valid for the dissolution of marriage under Muslim law:
Provided that- 
(a) no decree shall be passed on ground (iii) until the sentence has become final; 
(b) a decree passed on ground (i) shall not take effect for a period of six months from the date of such decree, and if the husband appears either in person or through an authorised agent within that period and satisfies the Court that he is prepared to perform his conjugal duties, the Court shall set aside the said decree; and 
(c) before passing a decree on ground (v) the Court shall, on application by the husband, make an order requiring the husband to satisfy the Court within a period of one year from the date of such order that he has ceased to be impotent, and if the husband so satisfies the Court within such period, no decree shall be passed on the said ground.

৮,৮৬৮.
Peremptory hearing পর্যায়ে আদালত খরচসহ সর্বোচ্চ কয়টি মুলতবি দিতে পারে?
  1. ১টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) ৩টি।

আদেশ ১৭ বিধি ১(৪):
কোডে (Code) যা-ই থাকুক না কেন, মামলার peremptory hearing পর্যায় এবং তার পর থেকে আদালত কোনো পক্ষের আবেদনে মামলার মুলতবি (adjournment) দেবে না।

তবে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে যদি এই উপ-বিধির অধীনে কোনো পক্ষকে মুলতবি দেওয়া হয়, তাহলে আদালত সেই পক্ষকে নির্দেশ দেবে যে,
সে যেন অপর পক্ষকে দুই শত টাকার কম নয় এবং এক হাজার টাকার বেশি নয়—এমন পরিমাণ খরচ (cost) প্রদান করে, আদালত নির্ধারণ করে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে।

এ নির্দেশ অমান্য করলে-
- বাদী (plaintiff) খরচ প্রদান না করলে মামলাটি খারিজ (dismissed) হয়ে যাবে;
- বিবাদী (defendant) খরচ প্রদান না করলে মামলাটি একতরফা (ex parte) হিসেবে নিষ্পত্তিযোগ্য হবে।

উপরোক্ত খরচসহ মুলতবি প্রদান করা হলেও, আদালত কোনো পক্ষকে সর্বোচ্চ তিনটির বেশি মুলতবি দিতে পারবে না।

৮,৮৬৯.
‘একজন আইনজীবী বৈরী সাক্ষী এবং মামলার পক্ষসমূহের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করিবেন।’ - এটি কার প্রতি একজন আইনজীবীর আচরণ?
  1. আদালত
  2. মক্কেল
  3. জনসাধারণ
  4. অন্যান্য আইনজীবী
ব্যাখ্যা
একজন আইনজীবীর জনসাধারণের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য: “Canons of Professional Conduct and Etiquette” অংশের চতুর্থ অধ্যায়ের ১-৮ বিধি অনুযায়ী একজন আইনজীবীর জনগণের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য কী তা উল্লেখ করা হয়েছে-

বিধি ২:
একজন আইনজীবী বৈরী সাক্ষী এবং মামলার পক্ষসমূহের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করিবেন। তিনি কখনই মামলা পরিচালনাকালে অমঙ্গলজনক কিংবা অন্যায় পক্ষপাতিত্ব উৎসাহিত হয় এমন কোন কাজ করিবেন না। পেশাগত দায়িত্ব পালন কালে একজন আইনজীবীর বিবেক ও নীতিবোধ কখনই তাঁহার মক্কেল দ্বারা প্রভাবিত হইবে না। প্রতিপক্ষকে গালিগালাজ করা কিংবা অশালীন ভাষায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করার জন্য আইনজীবীকে প্ররোচিত করার কোন অধিকার মক্কেলের নাই। আইনজীবীর অশালীন বচন ক্ষমার অযোগ্য। মক্কেল নিজে উপস্থাপন করিলে হয়তো উক্ত ভাষা ব্যবহার করিতেন, এইরূপ যুক্তিতে কোন আইনজীবী কর্তৃক আশোভনীয় ভাষা ব্যবহার করা ক্ষমার অযোগ্য। 

[An Advocate should always treat adverse witnesses and parties with fairness and due consideration, and he should never minister to the malevolence or prejudices, of a client in the trial or conduct of a cause. The client cannot be made the keeper of the Advocate's conscience in professional matters. He has no right to demand that his Advocate shall abuse the opposite party or indulge in offensive arguments. Improper speech is not excusable on the ground that it is what the client would say if speaking on his own behalf.]
৮,৮৭০.
'বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল পদাধিকার বলে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হবেন।'- The Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর কত অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৪
  2. অনুচ্ছেদ ৫
  3. অনুচ্ছেদ ৫ক
  4. অনুচ্ছেদ ৬
ব্যাখ্যা

The Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 অনুচ্ছেদ ৬- বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান এর বিষয়ে আলোচনা করা আছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী-

১- বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল পদাধিকার বলে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হবেন।

২- বার কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে ভাইস চেয়ারম্যন নির্বাচিত হবেন।

৩- চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান এর কাজ ও ক্ষমতা এই বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে।

৮,৮৭১.
বন্ধকী স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধারের মেয়াদ তামাদি আইনের কত অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. ১৪৬ অনুচ্ছেদে
  2. ১৪৭ অনুচ্ছেদে
  3. ১৪৮ অনুচ্ছেদে
  4. ১৪৯ অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
• অনুচ্ছেদ ১৪৮:
বন্ধকী স্থাবর সম্পত্তি খালাস করার জন্য বা দখল পুনরুদ্ধারের [redeem] জন্য বন্ধক গ্রহীতার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সময়সীমা-

যখন সম্পত্তি খালাস করার বা দখল পুনরুদ্ধার করার অধিকার উদ্ভব হয় সেই সময় থেকে- ৬০ বছর।
৮,৮৭২.
অভিযুক্ত দাবি করে যে, গুরুতর ও আকস্মিক উস্কানির কারণে আত্মসংযম হারিয়েছিল। এটি প্রমাণের দায়িত্ব-
  1. ভুক্তভোগীর
  2. আদালতের
  3. রাষ্ট্রপক্ষের
  4. অভিযুক্তের
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৫ ধারার বিধান: আসামীর মোকদ্দমা যে ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়ে তা প্রমানের দায়িত্ব:
কোন অপরাধে কোন ব্যক্তি অভিযুক্ত হলে মোকদ্দমাটি যাতে দণ্ডবিধিতে বর্ণিত কোন বিশেষ ব্যতিক্রম বা এর অন্য কোন অংশে বর্ণিত কোন শর্তের মধ্যে পড়তে পারে, এরূপ কোন পরিস্থিতির অস্তিত্ব প্রমাণ করার দায়িত্ব অভিযুক্ত ব্যক্তির অর্পিত থাকে এবং এ রূপ ক্ষেত্রে অবশ্যই আদালত অনুরূপ পরিস্থিতি অনুপস্থিত বলে ধরে নিবেন।

উদাহরণ:
(ক) হত্যার দায়ে অভিযুক্ত 'ক' দাবি করে যে; মানসিক অপ্রকৃতিস্থতার কারণে সে তার কৃতকার্যের বিষয় জ্ঞাত ছিল না 'ক'-এর উপর এটা প্রমাণের দায়িত্ব ন্যস্ত।

(খ) হত্যার দায়ে অভিযুক্ত 'ক' নালিশ করে যে, আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সে গুরুতর ও আকস্মিক উস্কানির কারণে হারিয়ে ফেলেছিল। 'ক'-এর উপর এটা প্রমাণের দায়িত্ব ন্যস্ত। 

৮,৮৭৩.
দণ্ডবিধির ধারা ১০৭ অনুযায়ী, প্ররোচনা (abetment) মোট কতটি উপায়ে সংঘটিত হতে পারে?
  1. ৫টি
  2. ৪টি
  3. ৩টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১০৭ অনুযায়ী "Abetment" বা প্ররোচনা/সহায়তা মূলত ৩টি উপায়ে হয়ে থাকে:
১) প্ররোচনা (Instigation),
২) ষড়যন্ত্র (Conspiracy),
৩) ইচ্ছাকৃত সহায়তা (Intentional aid).

⇒ যে সমস্ত কাজ করলে অপরাধ হয় সেই সমস্ত কাজ করার জন্য প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে কোন ইন্ধন জোগান কিংবা সমর্থন করাকে আইনের ভাষায় প্ররোচনা বা Abetment বলা হয়।
-দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী ৩ ভাবে প্ররোচনা বা অপরাধে সহায়তা অপরাধ হতে পারে।
(i) কাউকে প্ররোচিত করে (instigation)
(ii) ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করে (engagement)
(iii) কার্য বা কার্যবিরতি দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে সাহায্য করে (aiding)
---------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 107: Abetment of a thing: A person abets the doing of a thing, who
Firstly.- Instigates any person to do that thing; or
Secondly.- Engages with one or more other person or persons in any conspiracy for the doing of that thing, if an act or illegal omission takes place in pursuance of that conspiracy, and in order to the doing of that thing; or
Thirdly.- Intentionally aids, by any act or illegal omission, the doing of that thing.
Explanation-1: A person who, by wilful misrepresentation, or by wilful concealment of a material fact which he is bound to disclose, voluntarily causes or procures, or attempts to cause or procure, a thing to be done, is said to instigate the doing of that thing.
৮,৮৭৪.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী Estoppel কোন ধরনের প্রশ্নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. শুধুমাত্র আইনগত প্রশ্ন
  2. শুধুমাত্র ঘটনাভিত্তিক প্রশ্ন
  3. ঘটনাভিত্তিক এবং আইনগত উভয় প্রশ্ন
  4. কোনো প্রশ্নেই প্রযোজ্য নয়
ব্যাখ্যা

⇒ Estoppel (স্বকার্যজনিত প্রতিবন্ধকতা) একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি যা সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১৫ অনুযায়ী প্রযোজ্য। এই নীতি অনুসারে, যদি কেউ কোনো বক্তব্য, আচরণ বা নীরবতার মাধ্যমে অন্যকে একটি ঘটনা বিশ্বাস করাতে সক্ষম হয় এবং সেই ব্যক্তি সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে কোনো কার্য করে, তবে প্রথম ব্যক্তি ভবিষ্যতে তার আগের বক্তব্য বা অবস্থান অস্বীকার করতে পারে না।
⇒  Estoppel কেবল ঘটনা বিষয়ক প্রশ্নে প্রযোজ্য; আইনগত অধিকার বা বিধান বিষয়ে এটি প্রযোজ্য নয়।
- Estoppel (স্বকার্যজনিত প্রতিবন্ধকতা) হলো এমন একটি নীতি, যা কাউকে তার পূর্বে প্রদত্ত ঘোষণা, কাজ বা কার্যবিরতির পরিপন্থী কথা বলার বা দাবি করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যদি সেই পূর্ববর্তী আচরণ বা কথার ভিত্তিতে অন্য ব্যক্তি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে।
⇒ তবে এই নীতির প্রযোজ্যতা কিছু নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ:
- ঘটনাভিত্তিক প্রশ্নে (Questions of fact): যেমন, কে কী বলেছিল, কে কী কাজ করেছিল, কোনো জমি কার দখলে ছিল ইত্যাদি।
- দেওয়ানি মামলায় (Civil cases): বিশেষত অধিকার ও মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে।

⇒ “আইনগত প্রশ্ন” (Questions of Law) - যেমন কার আইনগত অধিকার আছে, আইন কী বলে ইত্যাদি বিষয়ের ক্ষেত্রে Estoppel প্রযোজ্য নয়। কেউ যদি ভুল করে বলে যে তার কোনো অধিকার নেই, তবুও আইনের চোখে যদি তার অধিকার থাকে, সে তা দাবি করতে পারে।

৮,৮৭৫.
বিবাদী প্রশ্নমালার উত্তর দানে ব্যর্থ হলে, আদালত কী ব্যবস্থা নিতে পারে?
  1. বিবাদীর জবাব কর্তন করা হবে
  2. বিবাদীকে জরিমানা করা হবে
  3. মোকদ্দমা স্থগিত করা হবে
  4. বিবাদীকে নতুন সময় দেওয়া হবে
ব্যাখ্যা
• আদেশ-১১, বিধি-২১ (আদেশ অমান্যকরণ)-
যেক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রশ্নমালার উত্তর দানের বা দলিলসমূহের উদ্ঘাটন বা পরিদর্শনের জন্য কোন আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হয়, তদক্ষেত্রে সে যদি বাদী হয় তবে পরিচালনার অভাবে তার মোকদ্দমা খারিজ হওয়ার জন্য সে দায়ী হবে, এবং যদি বিবাদী হয় তবে তার যদি কোন জবাব থাকে, উহা কর্তন হওয়ার নিমিত্তে সে দায়ী হবে এবং সে যেন আত্মপক্ষ সমর্থন করেনি এরূপ পরিস্থিতিতে স্থিত হবে এবং প্রশ্নকারী পক্ষ কিংবা উদঘাটন বা পরিদর্শন প্রার্থনাকারী উক্ত মর্মে আদেশের জন্য আদালতে আবেদন করবে এবং তদনুযায়ী আদালত আদেশ প্রদান করতে পারবে।
৮,৮৭৬.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৬ ধারার বিধান অপ্রযোজ্য?
  1. ডিক্রি জারি
  2. আপিল
  3. মোকদ্দমা দায়ের
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা বিধান হল বৈধ অপারগতা-

(১) যেক্ষেত্রে মামলা বা কার্যধারা দায়ের করার কিংবা ডিক্রি জারির জন্য দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী ব্যক্তি, যেই সময় হতে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে, সেই সময় নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকে, সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তাহার উপরোক্ত অপারগতার অবসান হওয়ার পর, অপারগতা না থাকলে, প্রথম তফসিলের তৃতীয় কলামে অথবা ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারায় বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে যা করতে পারতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা বা কার্যধারা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করতে পারবে।

(২) যেক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে, সেই সময় উপরে বর্ণিত যেই কোনো দুইটি অপারগতার অবসান হওয়ার পূর্বেই সে আরেকটি অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি তাহার উভয় অপারগতার অবসান হওয়ার পর, অপারগতা না থাকলে, উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে তা করতে পারতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করতে পারবে।

(৩) যেক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তাহার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেক্ষেত্রে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর অপারগতা না থাকলে উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে তা করা যেতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দাখিল করতে পারবে।

(৪) যেক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি অনুরূপ কোন অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে (১) ও (২) উপধারায় বিধৃত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে।

অর্থাৎ The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা শুধু মোকদ্দমা, কার্যক্রম কিংবা ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আপিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
৮,৮৭৭.
বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান কার্যকর হয় কবে থেকে?
  1. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  2. ১২ অক্টোবর, ১৯৭২
  3. ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
  4. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
​- ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করা হয়।
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।

৮,৮৭৮.
আদেশ ৪১-এর বিধি ১৯ক অনুযায়ী, কত দিনের মধ্যে পুনঃশুনানির আবেদন করলে প্রমাণ ছাড়াই আপিল পুনঃশুনানি করা যায়?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১, বিধি ১৯ক (Order 41, Rule 19A) অনুযায়ী বলা হয়েছে, যদি আপিল খারিজের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে হলফনামাসহ আবেদন করা হয়, তাহলে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের প্রয়োজন ছাড়াই সরাসরি আপিল পুনঃগ্রহণ করতে পারে।
- এই বিধি অনুযায়ী, যদি কোনো আপিল ডিফল্টের কারণে খারিজ হয়, তবে প্রমাণ প্রদান ছাড়াই পুনঃশুনানির আবেদন করা যাবে,
- শর্ত হলো, আবেদনটি ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হবে এবং আবেদনটির সঙ্গে শপথপত্র (affidavit) দিতে হবে।
- এছাড়া, আবেদন মঞ্জুর হলে আদালত ব্যয়ভার (cost) নির্ধারণ করে তা অন্য পক্ষকে দিতে নির্দেশ দেয়।
- সঠিক উত্তর: খ) ৩০ দিন।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৪১ বিধি-১৯ক এর বিধান আপিল সরাসরি পুনঃগ্রহণ:
- বিলম্ব এড়ানো ও বিচার ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে আপিলকারীকে পর্যাপ্ত কারণ বিষয়ে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য উপস্থাপনের নির্দেশ প্রদান না করেই সরাসরি আপিল পুনঃগ্রহণ করতে পারেন; এজন্য খারিজের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে অ্যাফিডেভিটসহ আবেদন করতে হবে।
- এই বিধির অধীন সর্বোচ্চ ১ বার আপিল পুনঃগ্রহণের আবেদন করা যাবে।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908: Order-41 Rule-19A. Direct readmission of appeal:
(1) Notwithstanding anything contained in rule 19 or any other law, the Court may, in order to avoid delay and expedite disposal, directly re-admit without requiring the appellant to adduce evidence to satisfy it about sufficient causes as required under rule 19:
Provided that the appeal under this rule shall not be readmitted unless an application, supported by affidavit, praying for such re-admission is made to the Court within thirty days of the date on which the appeal is dismissed for default:
Provided further that no appeal shall be re-admitted more than once under this rule.
(2) As soon as an order under sub-rule (1) is made to readmit an appeal, the Court shall cause notice thereof to be served at the cost of the appellant upon the respondent who appeared in the appeal.
৮,৮৭৯.
জনাব 'ক' একজন অত্যন্ত নীতিবান এবং ধার্মিক মানুষ। 'ক' এর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ আদালতে উঠেছে। সেখানে তার আইনজীবী সাক্ষ্য শুনানীর সময় 'ক' এর সচ্চরিত্রের বিস্তারিত তুলে ধরতে চাইলে-
  1. আদালত বাধা প্রদান করবে
  2. বিপক্ষ আইনজীবী তাকে বাধা প্রদান করবে
  3. আদালতের অনুমতি ছাড়া বলা যাবে না
  4. সচ্চরিত্র তুলে ধরতে কোনো বাধা নেই আদালতে
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৫৩ ধারামতে,
ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির ভাল চরিত্র বা সচ্চরিত্র প্রাসঙ্গিক।

তবে ৫৪ ধারা অনুসারে, অভিযুক্তের পূর্বাচারের প্রমাণ গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থাৎ তার আগের অপরাধমূলক কাজকর্ম বা খারাপ চরিত্র প্রমাণ করা যাবে না। অর্থাৎ, ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির সচ্চরিত্র বা ভালচরিত্র তার পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাসঙ্গিক বিষয় হিসেবে গণ্য। এটি আইনগতভাবে স্বীকৃত এবং সাক্ষ্য আইনে ব্যবস্থা রয়েছে। তাই উল্লিখিত ক্ষেত্রে 'ক' এর আইনজীবী কর্তৃক 'ক' এর সচ্চরিত্রের বিস্তারিত তুলে ধরার আইনগত অধিকার রয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।
৮,৮৮০.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ বিধি ২ অনুসারে কাকে কমিশন প্রেরণ করা যেতে পারে?
  1. শুধুমাত্র বাদীকে
  2. শুধুমাত্র বিবাদীকে
  3. যে কোনো সাক্ষীকে
  4. শুধুমাত্র আইনজীবীকে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ বিধি ২: কমিশনের জন্য আদেশ:
আদালত স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে বা মোকদ্দমার কোন পক্ষের বা যাহার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে সে সাক্ষীর শপথপত্র সমর্থিত বা অন্যভাবে কোন আবেদনক্রমে আদালত কোন সাক্ষীকে কমিশন প্রেরণ করার আদেশ প্রদান করতে পারেন।

Order-26 Rule-2- Order for commission:
An order for the issue of a commission for the examination of a witness may be made by the Court either of its own motion or on the application, supported by affidavit or otherwise, of any party to the suit or of the witness to be examined.
৮,৮৮১.
রফিক একজন নিরপরাধ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়, যেন তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এতে দণ্ডবিধির কোন ধারা প্রযোজ্য?
  1. ১৯২ ধারা
  2. ১৯৪ ধারা
  3. ১৯৭ ধারা
  4. ২০১ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৯৪ ধারার বিধান- মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্যদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করা:
কোন ব্যক্তি যদি মিথ্যা সাক্ষ্যদান করে বা তৈরি করে এবং তদ্বারা কাউকে বর্তমানে বলবৎ কোন আইনবলে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যেই তা করে থাকে কিংবা তার এইরূপ মিথ্যা সাক্ষ্য দান বা তৈরি করার ফলে কাউকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দণ্ডিত করা হতে পারে জেনেই যদিও তা করে থাকে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে; তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

⇒ যদি তার ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত হয় এবং সাজা বলবৎ হয়:
যদি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যের ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি সাজাপ্রাপ্ত হয় ও সাজা বলবৎ হয়, তবে যে ব্যক্তি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যদান করেছে, সে ব্যক্তি হয় মৃত্যুদণ্ডে, না হয় এই ধরায় ইতোপূর্বে বর্ণিত সাজায় সাজাপ্রাপ্ত হবে।
৮,৮৮২.
According to Section 45 of the Penal Code, 1860, the term "life" generally refers to the life of which being?
  1. Plants
  2. Animals
  3. Human beings
  4. All living organisms
ব্যাখ্যা
⇒ The Penal Code, 1860: Section 45: 'Life': The word "life" denotes the life of a human being, unless the contrary appears from the context.

⇒ দণ্ডবিধির ৪৫ ধারার বিধান জীবন:- প্রসঙ্গে ভিন্নতর কিছু না বুঝালে 'জীবন' কথাটি কর্তৃক মানুষের জীবন বুঝাবে।
৮,৮৮৩.
তামাদি মেয়াদ শুরু হওয়ার পর যদি ব্যক্তি আইনগত অক্ষম হয়, তবে কী ঘটে?
  1. তামাদি মেয়াদ স্থগিত হয়
  2. তামাদি মেয়াদ অব্যাহত থাকে
  3. মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজ হয়
  4. আদালত নতুন মেয়াদ নির্ধারণ করে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮–এর ধারা ৯ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি মামলা করার অধিকার লাভের সময় আইনগতভাবে সক্ষম থাকে, এবং তামাদি মেয়াদ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে যায়, তাহলে পরে সে ব্যক্তি আইনগত অক্ষম হলেও — তামাদি মেয়াদ চলতে থাকবে, অর্থাৎ স্থগিত হবে না।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section 9: Continuous running of time:
- Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it: 
Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.

- অর্থাৎ একবার তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হলে, পরবর্তীতে যদি কোনো আইনগত অক্ষমতা (যেমন: নাবালকত্ব, উন্মাদ অবস্থা ইত্যাদি) তৈরি হয়, তবুও সময় গণনা বন্ধ হবে না।
৮,৮৮৪.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর Order XVII অনুসারে খরচ প্রদান না করার কারণে কোনো মোকদ্দমা নিষ্পত্তিকৃত হলে নির্ধারিত খরচ প্রদানে মোকদ্দমাটি সরাসরি পুনরুজ্জীবিত করা যায় নিষ্পত্তির ______ দিনের মধ্যে?
  1. ১৫
  2. ৩০
  3. ৪৫
  4. ৬০
ব্যাখ্যা
♦The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ১৭ বিধি ১ (৭) অনুযায়ী মুলতুবির খরচ প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার কারণে যদি ১৭ আদেশের বিধি ১ এর ৩ এবং ৪ উপ-বিধির অধীন কোন মোকদ্দমা খারিজ কিংবা একতরফা নিষ্পত্তি হয়, যে পক্ষের কারণে খারিজ বা একতরফা নিষ্পত্তি হয়েছে সেই পক্ষ খারিজ বা একতরফা নিষ্পত্তির তারিখ হতে ত্রিশ (৩০) দিনের মধ্যে ২০০০ টাকা খরচা জমা দিয়ে মোকদ্দমাটি পুনরায় চালুর জন্য বা পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করলে, আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করতে পারে।
৮,৮৮৫.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী মাধ্যমিক সাক্ষ্য সম্পর্কিত বিধান কোন ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ৬০ ধারা
  2. ৬২ ধারা
  3. ৬৩ ধারা
  4. ৬৬ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ৬৩ ধারায় মাধ্যমিক সাক্ষ্য (Secondary Evidence) সম্পর্কিত বিধানাবলি রয়েছে।
এই ধারায় বলা হয়েছে:
১. এই আইনে বর্ণিত বিধানমতে প্রদত্ত সার্টিফাইডকৃত অনুলিপি;
২. যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মূল থেকে তৈরিকৃত অনুলিপি যা নিজেই অনুলিপির নির্ভুলতা নিশ্চিত করে এবং সেই অনুলিপির সাথে তুলনাকৃত অন্যান্য অনুলিপি;
৩. মূল থেকে তৈরিকৃত বা মূলের সাথে তুলনাকৃত অনুলিপি;
৪. দলিলের মূল অংশবিশেষ যা যারা এটি সম্পাদন করেনি তাদের বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য;
৫. কোন দলিলের বিষয়বস্তুর মৌখিক বিবরণ যা দেয় এমন কেউ যিনি নিজে এটি দেখেছেন।
----------- 
⇒ The Evidence Act, 1872 section 63. Secondary evidence:
-"Secondary evidence means and includes, among other things-
(1) Certified copies given under the provisions hereinafter contained;
(2) Copies made from the original by mechanical processes which in themselves insure the accuracy of the copy, and copies compared with such copies;
(3) Copies made from or compared with the original;
(4) Counterparts of documents as against the parties who did not execute them;
(5) Oral accounts of the contents of a document given by some person who has himself perceived it."
৮,৮৮৬.
জনৈক হিন্দু লোক ‘M’ মারা গেছেন। তাঁর ২ পুত্র এবং স্ত্রী  বেঁচে আছেন। স্ত্রী সম্পত্তির কত অংশ পাবেন?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/৪ অংশ
  4. পুত্রদের দ্বারা বঞ্চিত হবেন
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দুধর্মাবলম্বী কেউ মৃত্যুবরণ করলে নিয়ম অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে সবার আগে তাঁর পুত্র, পুত্রের অনুপস্থিতিতে পৌত্র (পুত্রের পুত্র) এবং পুত্র ও পৌত্রের অনুপস্থিতিতে প্রপ্রৌত্র (পুত্রের পুত্রের পুত্র) সম্পূর্ণ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। কারণ, পুত্র তাঁর পিতার, পৌত্র তাঁর পিতার ও প্রপৌত্র তাঁর পিতা ও পিতামহের প্রতিনিধিত্ব করেন।  সম্পত্তিতে হিন্দু মহিলার অধিকার আইন, ১৯৩৭ অনুসারে বিধবা স্ত্রী তাঁর জীবদ্দশায় মৃত স্বামীর সম্পত্তিতে পুত্রের সমান জীবনস্বত্ব পাবেন।

এখানে 'M' সম্পত্তি মোট তিন অংশে বিভক্ত হবে। সম্পত্তির বণ্টন:
- পুত্র (১) পাবে ১/৩ অংশ।
- পুত্র (২) পাবে ১/৩ অংশ।
- স্ত্রী পাবে ১/৩ অংশ।

৮,৮৮৭.
'Interpleader Suit' এর ক্ষেত্রে আদেশ ৩৫ এর ৪ নম্বর বিধি অনুযায়ী, বাদীকে মামলার পক্ষ থেকে খারিজ করার পর আদালত কি ধরনের আদেশ দিতে পারে?
  1. বাদীর অনুকূলে খরচ প্রদান
  2. বিবাদীর বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়ের
  3. বাদীর সম্পত্তি ক্রোক আদেশ
  4. বাদীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৫নং আদেশের ৪ নম্বর বিধিতে বলা হয়েছে যে,
প্রথম শুনানিতে আদালত এই মর্মে আদেশ দিতে পারেন যে-
ক) মামলার বিষয় বস্তু সম্পর্কে বিবাদীদের প্রতি সকল দায় হতে বাদীকে মুক্তি দেয়া হলো। এরূপ ক্ষেত্রে বাদীর অনুকূলে খরচের ডিক্রী দিয়ে বাদীকে মামলার পক্ষ হতে খারিজ করা হবে। অথবা,
খ) আদালত যদি ন্যায় বিচার ও কার্যের সুবিধার্থে প্রয়োজন মনে করেন, তবে মামলাটির চূড়ান্ত নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সকলকেই পক্ষ হিসেবে ধরতে পারেন।

পক্ষগণের স্বীকারোক্তির ফলে আদালতের পক্ষে উপরিউক্ত রূপ সিদ্ধান্ত প্রদান সম্ভব না হলে আদালত নিম্নরূপ আদেশ দিতে পারবেন- 
(ক) পক্ষগণের মধ্যে এক বা একাধিক বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করা হোক এবং এর বিচার করা হোক ; এবং
(খ) মূল বাদীর পরিবর্তে বা তদুপরি অন্য কোন দাবীদারকে বাদী পক্ষে শামিল করা হোক এবং অতঃপর আদালত সাধারণ পদ্ধতিতে মামলাটির বিচার কার্য চালায়ে যাবেন।
৮,৮৮৮.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ১৪৫ ধারার ক্ষমতা কোন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়?
  1. গণ-উৎপাত
  2. রাজনৈতিক অসন্তোষ
  3. পাবলিক পরীক্ষা কেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষা
  4. ভূমি বিরোধজনিত শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কারোধ
ব্যাখ্যা
- ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার বিধান স্থাবর সম্পত্তি অর্থাৎ জমি বা জলাশয় বা তার সীমানা নিয়ে বিরোধের ফলে শান্তিভঙ্গের আশংকা দেখা দিলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার অধীন আদেশ প্রদান করতে পারে।
- ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার অধীন স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার করা যায়।
- ১৪৫ ধারার আদেশ দ্বারা প্রকৃত দখলকারী নির্ধারণ করা হয়, কোন মালিকানা নির্ধারণ করা হয় না।
-১৪৫ ধারার আওতায় প্রাথমিক আদেশের পূর্ববর্তী ২ মাসের মধ্যে কোন ব্যক্তি অবৈধভাবে বেদখল হলে উক্ত দখলচ্যুত ব্যক্তি প্রকৃত দখলদার বলে বিবেচিত হবে। অন্যথায় ১৪৫ ধারার আদেশের তারিখে যে ব্যক্তি প্রকৃত দখলে আছেন তার অনুকূলেই ম্যাজিস্ট্রেট দখলের ঘোষণা দিবেন।
৮,৮৮৯.
‘E’ রাস্তায় একটি মূল্যবান আংটি পায়, মালিকের খোঁজ না করে তা অবিলম্বে বিক্রি করে দেয়। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর বিধান অনুসারে এই অপরাধের নাম কী?
  1. চুরি
  2. প্রতারণা
  3. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ 
  4. অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪০৩ অনুসারে, কোনো চলমান সম্পত্তি অসাধুভাবে আত্মসাৎ করা বা নিজের ব্যবহারের জন্য রূপান্তর করা অপরাধমূলক সম্পত্তি অপচয় (অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ) হিসেবে গণ্য। ধারা ৪০৩-এর উদাহরণ (f) অনুসারে, ‘E’ রাস্তায় একটি মূল্যবান আংটি পেয়েছে এবং মালিকের খোঁজ না করে তা অবিলম্বে বিক্রি করে দিয়েছে, যা অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ।
সুতরাং, ‘E’-এর কাজ ধারা ৪০৩ অনুসারে অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ।

(f) A finds a valuable ring, not knowing to whom it belongs. A sells it immediately without attempting to discover the owner. A is guilty of an offence under section 403 of The Penal Code, 1860.

⇒ দণ্ডবিধির ৪০৩ ধারার বিধান অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ:
কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে কোন অস্থাবর সম্পত্তি আত্মসাৎ করে অথবা উহা তার নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
ব্যাখ্যা ১:- কিছু সময়ের জন্য একটি অসাধু আত্মসাৎও এই ধারা অনুযায়ী আত্মসাৎ বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা ২:- কোন ব্যক্তি যদি কোন সম্পত্তি কারো দখলে নাই দেখতে পেয়ে সম্পত্তিটি উহার মালিকের স্বপক্ষে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে অথবা মালিককে প্রত্যর্পণের উদ্দেশ্যে উহা নিয়ে যায়, তবে সে অসাধুভাবে উহা নিয়ে গিয়েছে বা আত্মসাৎ করেছে বলে পরিগণিত হবে না এবং কোন অপরাধে অপরাধী হবে না; কিন্তু সে উপরে বর্ণিত অপরাধে অপরাধী হবে যদি সে সম্পত্তিটির মালিককে জানা সত্ত্বেও বা মালিককে খুঁজে বাহির করার উপায় থাকা সত্ত্বেও উহা নিজের কাজে ব্যবহার করে, অথবা যদি সে মালিককে খুঁজে বাহির করার ও তাকে বিজ্ঞাপিত করার জন্য যুক্তিসংগত মাধ্যম অবলম্বনের উদ্দেশ্যে যথোপযুক্ত সময় পর্যন্ত সম্পত্তিটি সংরক্ষণ না করে উহা তার নিজের কাজে ব্যবহার করে।
অনুরূপ ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত মাধ্যম কি এবং যথোপযুক্ত সময় কত দীর্ঘ হবে তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন। সম্পত্তিটি প্রাপকের পক্ষে উহার যথার্থ মালিককে তা জানার বা কোন বিশেষ ব্যক্তি যে উহার মালিক তা জানার আবশ্যক নাই; যদি সে সম্পত্তিটি আত্মসাৎ করার সময় উহা যে তার নয় তা বিশ্বাস করে বা সরল মনে বিশ্বাস করে যে, প্রকৃত মালিককে খুঁজে বাহির করা সম্ভব নয়, তবে তাই যথেষ্ট হবে।

⇒The Penal Code, 1860, Section 403. Dishonestly misappropriation of property:
-Whoever dishonestly misappropriates or converts to his own use any moveable property, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
Explanation-1.-A dishonest misappropriation for a time only is a misappropriation within the meaning of this section. 
Explanation-2.-A person who finds property not in the possession of any other person, and takes such property for the purpose of protecting it for, or of restoring it to, the owner, does not take or misappropriate it dishonestly, and is not guilty of an offence; but he is guilty of the offence above defined, if he appropriates it to his own use, when he knows or has the means of discovering the owner, or before he has used reasonable means to discover and give notice to the owner and has kept the property a reasonable time to enable the owner to claim it. 
What are reasonable means or what is a reasonable time in such a case, is a question of fact. 
It is not necessary that the finder should know who is the owner of the property, or that any particular person is the owner of it, it is sufficient if, at the time of appropriating it, he does not believe it to be his own property, or in good faith believes that the real owner cannot be found.

৮,৮৯০.
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর অধীনে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর কত দিনের মধ্যে গ্রেফতারের সম্ভাবনা না থাকলে, আদালত অনুপস্থিতিতে বিচার করতে পারে?
  1. ৩ দিন
  2. ৫ দিন
  3. ৭ দিন
  4. ১০ দিন
ব্যাখ্যা
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ধারা ১১- আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার:
যদি আদালতের এ মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে,- 
(ক) অভিযুক্ত ব্যক্তি তাহার গ্রেফতার বা তাহাকে বিচারের জন্য সোপর্দকরণ এড়াইবার জন্য পলাতক রহিয়াছেন বা আত্মগোপন করিয়াছেন, এবং 
(খ) গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর সাত দিনের মধ্যে তাহার গ্রেফতারের কোন সম্ভাবনা নাই- 

তাহা হইলে আদালত অন্ততঃ একটি বাংলা দৈনিক খবরের কাগজে প্রজ্ঞাপিত আদেশ দ্বারা আদেশে উল্লিখিত সময় যাহা সাত দিনের বেশী হইবে না, এর মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতে হাজির হইবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে এবং উক্ত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে হাজির হইতে ব্যর্থ হইলে আদালত তাহার অনুপস্থিতিতে বিচার কার্য সম্পন্ন করিতে পারিবে৷
৮,৮৯১.
নিচের কোন ক্ষেত্রে পেনাল কোড অনুযায়ী, শরীরের আত্মরক্ষামূলক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানো যায়?
  1. অপরাধমূলক অনুপ্রবেশ
  2. ইভ টিজিং
  3. অপহরণের অভিপ্রায়ে আঘাত
  4. আঘাত
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ১০০ ধারামতে দেহ বা শরীরকে প্রতিরক্ষার জন্য নিম্নলিখিত ৬টি ক্ষেত্রে আক্রমণকারীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়। যথা-
i) এমন আক্রমন যা মৃত্যু ঘটাতে পারে
ii) এমন আক্রমন যা গুরুতর আঘাত তৈরী করতে পারে
iii) ধর্ষণের ক্ষেত্রে
IV) অপ্রকৃত কাম লালসার ক্ষেত্রে
v) মনুষ্যহরণ বা অপহরণের চেষ্টা করলে
vi) আইনের আশ্রয় নিতে বাধা দিতে অবৈধভাবে আটক করলে
♦অর্থাৎ, অপহরণের অভিপ্রায়ে আঘাত সঠিক উত্তর
৮,৮৯২.
সাক্ষ্য আইনের ১০৮ ধারা অনুযায়ী আদালত নিম্নলিখিত কোন ধরনের অনুমান করতে পারে?
  1. জীবিত থাকার অনুমান
  2. মৃত অনুমান
  3. বৈধতার অনুমান
  4. সম্পর্কের অনুমান
ব্যাখ্যা

সাক্ষ্য আইনের ১০৮ ধারা অনুযায়ী: যে ব্যক্তি সম্পর্কে সাত বছর যাবৎ কোনো খবর পাওয়া যায় নাই সে জীবিত আছে, তাহা প্রমাণের দায়িত্ব: যখন প্রশ্ন হইতেছে, কোনো ব্যক্তি জীবিত বা মৃত এবং প্রতীয়মান হইয়াছে যে, সেই লোক জীবিত থাকিলে স্বাভাবিকভাবে যাহারা তাহার খবর পইত, তাহারা সাত বছর যাবৎ তাহার কোনো খবর নাই, তখন সেই লোক জীবিত বলিয়া যে দাবি করে, উহা প্রমাণ করিবার দায়িত্ব তাহার উপর ন্যস্ত হয়।
অর্থ্যাৎ আদালত কোন ব্যক্তিকে মৃত অনুমান করতে বাধ্য যদি বিগত ৭ বৎসর যাবৎ তার কোন খবর পাওয়া না যায়।
এমন ব্যক্তিকে যে জীবিত দাবী করে, তাকেই প্রমাণ করতে হবে উক্ত ব্যক্তি জীবিত।   
---------
Section 108 → Burden of proving that person is alive who has not been heard of for seven years: Provided that when the question is whether a man is alive or dead, and it is proved that he has not been heard of for seven years by those who would naturally have heard of him if he had been alive, the burden of proving that he is alive is shifted to the person who affirms it.

৮,৮৯৩.
তামাদি আইনের অধীনে কোন অপারগতাকে বৈধ অপারগতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় না?
  1. উন্মাদতা
  2. নাবালকতা
  3. দারিদ্র্যতা
  4. জড়বুদ্ধিতা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা বৈধ অপারগতা (legal disability) হিসেবে গণ্য হয়, যার ফলে তামাদির সময় গণনায় অবকাশ (extension) পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ:
১) উন্মাদতা (Insanity) – ধারা ৬ অনুসারে বৈধ অপারগতা।
২) নাবালকতা (Minority) – ধারা ৬ অনুযায়ী বৈধ অপারগতা।
৩) জড়বুদ্ধিতা (Idiocy or mental infirmity) – এটিও ধারা ৬ অনুযায়ী বৈধ অপারগতা।
কিন্তু দারিদ্র্যতা (Poverty) – এটি আইনি দৃষ্টিতে কোন বৈধ অপারগতা নয়।
একজন ব্যক্তি গরিব হলেও, তা তাকে তামাদি সময় গণনার ক্ষেত্রে বাড়তি সময় দেওয়ার বা আইনি সুরক্ষা পাওয়ার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয় না। আইন বলেছে, আইন অলস বা অসাবধান ব্যক্তিকে সাহায্য করে না, এবং দারিদ্র্যতা এমন কোন অক্ষমতা নয় যা কাউকে মামলা দায়ের করতে বাধা দেয় বলে ধরা হয়।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৬ – যেখানে নাবালকতা, উন্মাদতা, এবং জড়বুদ্ধিতাকে বৈধ অপারগতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

⇒ অর্থাৎ দারিদ্র্যতা কোনো বৈধ অপারগতা নয় কারণ এটি আইনত স্বীকৃত মানসিক বা শারীরিক অক্ষমতার মধ্যে পড়ে না। তাই তামাদির সময় গণনায় এর জন্য বাড়তি সময় পাওয়া যাবে না।
৮,৮৯৪.
A, B এর সাথে এই মর্মে চুক্তি করে যে, সে ১২ মাসের জন্য B এর থিয়েটারে গান গাইবে এবং এই সময়ে সে অন্যত্র জনসম্মুখে গান পরিবেশন করবে না। এক্ষেত্রে-
  1. B চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎ করার ডিক্রি পাওয়ার অধিকারী
  2. অন্যত্র গান গাওয়া হতে A কে বিরত রাখতে B নিষেধাজ্ঞা পেতে পারে
  3. B চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎ করার ডিক্রি পাওয়ার অধিকারী নয়
  4. খ এবং গ
ব্যাখ্যা
The Specific Relief Act, 1877 এর ৫৭ ধারা- নেতিবাচক চুক্তি পালনের নিষেধাজ্ঞাঃ
ধারা ৫৬ এর উপধারা-(চ) এর বিধান সত্ত্বেও যেক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্টভাবে বা ইঙ্গিতবোধকভাবে কতিপয় নির্দিষ্ট কাজ করা এবং কতিপয় নির্দিষ্ট কাজ না করবার সম্মতির সমন্বয়, সেক্ষেত্রে হাঁ-সূচক চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনে বাধ্য করতে আদালত অসমর্থ হলেও সে পরিস্থিতি আদালতকে না সূচক কাজ সম্পাদন সম্বন্ধে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা থেকে নিবারণ করবে না।
তবে শর্ত থাকে যে, বাদী তার যতটুকু অবশ্যপালনীয়, চুক্তির ততটুকু পালনে ব্যর্থ হয় নাই।
 
Section 57- Injunction to perform negative agreement:
Notwithstanding section 56, clause (f), where a contract comprises an affirmative agreement to do a certain act, coupled with a negative agreement, express or implied, not to do a certain act, the circumstance that the Court is unable to compel specific performance of the affirmative agreement shall not preclude it from granting an injunction to perform the negative agreement: provided that the applicant has not failed to perform the contract so far as it is binding on him.

Illustration: A contracts with B to sing for twelve months as B's theatre and not to sing in public elsewhere, B cannot obtain specific performance of the contract to sing, but he is entitled to an injunction restraining A from singing at any other place of public entertainment.

যেমন- A, B এর সাথে এই মর্মে চুক্তি করে যে, সে ১২ মাসের জন্য B এর থিয়েটারে গান গাইবে এবং এই সময়ে সে অন্যত্র জনসম্মুখে গান পরিবেশন করবে না। এই চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎ করার জন্য B ডিক্রি পাওয়ার অধিকারী নয়, কিন্তু A যেন এই সময়ে অন্যত্র জনসম্মুখে গান পরিবেশন না করতে পারে বা তাকে গান গাওয়া হতে বিরত রাখতে B নিষেধাজ্ঞা পেতে পারে।
৮,৮৯৫.
দুর্নীতি দমন কমিশন কতজন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ৩ জন
  2. ৫ জন
  3. ৭ জন
  4. ৯ জন
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ধারা ৫: কমিশন গঠন, ইত্যাদি:
(১) কমিশন তিন জন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত হইবে এবং তাঁহাদের মধ্য হইতে রাষ্ট্রপতি একজনকে চেয়ারম্যান নিয়োগ করিবেন।

(২) শুধুমাত্র কোন কমিশনার পদে শূন্যতা বা গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে কমিশনের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তত্সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
৮,৮৯৬.
"প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র _________।- শব্দগুলো সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. ১১
  2. ১০
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১১: গণতন্ত্র ও মানবাধিকার

প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মুল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

Article 11: Democracy and human rights
The Republic shall be a democracy in which fundamental human rights and freedoms and respect for the dignity and worth of the human person shall be guaranteed, and in which effective participation by the people through their elected representatives in administration at all levels shall be ensured.

• সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদের শুরুতে সুস্পষ্ট করা হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্র হিসাবে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হবে। সংবিধানের অন্যতম মূলনীতি গণতন্ত্র। ১১ অনুচ্ছেদে 'প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র' বিধান করার মাধ্যমে গণতন্ত্র যে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সেটারই প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। সেই সাথে, ১১ অনুচ্ছেদে কতিপয় বিষয়ের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে-

⇒ মৌলিক মানবাধিকার;
⇒ স্বাধীনতা; এবং
⇒ মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ।

অন্যদিকে, ১১ অনুচ্ছেদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসনে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
৮,৮৯৭.
সাক্ষ্য আইনের ১৪ ধারার বিধান অনুযায়ী নিচের কোনটি প্রাসঙ্গিক হতে পারে?
  1. মানসিক অবস্থার অস্তিত্ব
  2. শারীরিক অবস্থার অস্তিত্ব
  3. শারীরিক অনুভূতির অস্তিত্ব
  4. সবগুলো।
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪ ধারা মতে:যেসব ঘটনা হতে ইচ্ছা, জ্ঞান, সরল বিশ্বাস, অবহেলা, উগ্রতা অথবা কোন ব্যক্তি বিশেষের প্রতি সদিচ্ছা/অসদিচ্ছা (intention, knowledge, good faith, negligence, rashness, ill-will, or good-will towards any particular person) প্রভৃতি মানসিক অবস্থার অস্তিত্ব প্রতীয়মান হয়; অথবা কোন শারীরিক অবস্থা বা শারীরিক অনুভূতির (any state of body or bodily feeling) অস্তিত্ব প্রতীয়মান হয়, সেগুলো তখনই প্রাসঙ্গিক, যখন উক্তরূপ কোন মানসিক বা শারীরিক অবস্থা অথবা শারীরিক অনুভূতির অস্তিত্ব বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪ ধারার বিধান: মনের বা দেহের অবস্থা বা দৈহিক উপলব্ধির অস্তিত্ব যে সকল বিষয় প্রদর্শন করেঃ- ইচ্ছা, জ্ঞান, সরল বিশ্বাস, অবহেলা হঠকারিতা, কোন ব্যক্তিবিশেষের প্রতি বিদ্বেষ অথবা কল্যাণ কামনার মানসিক অবস্থার অস্তিত্ব যে সকল বিষয় প্রকাশ করে অথবা কোন শারীরিক অবস্থা শারীরিক অনুভূতির অস্তিত্ব প্রকাশ করে, সেগুলো তখনই প্রাসঙ্গিক, যখন উক্তরূপ কোন মানসকি অথবা শারীরিক অবস্থা অথবা শারীরিক অনুভূতির অস্তিত্ব বিচার্য অথবা প্রাসঙ্গিক বিষয় হয়।

⇒ ব্যাখ্যা-১: কোন প্রাসঙ্গিক মানসিক অবস্থা প্রকাশ করার নিমিত্তে যে বিষয়টি প্রাসঙ্গিক হয়, তাকে সংশ্লিষ্ট মানসিক অবস্থাটি সাধারণভাবে নয়, নির্ধারিতকোন বিচার্য বিষয় প্রসঙ্গে বিদ্যমান রয়েছে এরূপ প্রকাশ করতে হবে।

⇒ ব্যাখ্যা-২: তবে যখন কোন অপরাধে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তির বিচারকালে উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক পূর্বে- কৃত কোন অপরাধ এ ধারা অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক, তখন উক্ত ব্যক্তির পূর্বে দণ্ডিত হওয়াও প্রাসঙ্গিক বিষয়।
৮,৮৯৮.
The Evidence Act, 1872 অনুযায়ী কোনটি সরকারি দলিল নয়?
  1. বিভাগীয় অনুসন্ধানে ম্যাজিট্রেট কর্তৃক লিপিবদ্ধকৃত বিবৃতি
  2. সার্ভে এন্ড সেটেলমেন্ট রিপোর্ট
  3. জন্ম সনদ
  4. আরজি
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ থেকে ৭৮ ধারায় সরকারী দলিল সংক্রান্ত বিধানসমূহ আলোচনা করা হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশের দলিলগুলোকে সাক্ষ্য আইন মতে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. সরকারী দলিল (Public Document); এবং ২. বেসরকারী/ব্যক্তিগত দলিল (Private Document).

♦ ধারা-৭৪: সরকারী দলিল (Public Document)- সরকারীভাবে রক্ষিত দলিলকে সরকারী দলিল বা Public document বলে। কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ যেমন-সংসদের আইন, সরকারি সংস্থা বা ট্রাইবুনাল সমূহের নথিপত্র অর্থাৎ দেশী বিদেশী আইন, বিচার বা শাসন বিভাগীয় কোন কর্মচারীর কার্যাবলির লিখিত বিবরণ ও নথিপত্রকে সরকারী দলিল বা Public Document বলে। অন্যভাবে বলা যায়, সরকারী দলিল বলতে সেই সমস্ত দলিলকে বোঝায় যে সমস্ত দলিল কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের সরকারী প্রতিষ্ঠানে বা ট্রাইব্যুনালের এবং বাংলাদেশের কোন অংশের বা কমনওয়েলথের বা বিদেশে সরকারী অফিসার, আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কার্যাবলী বা কাজের লিপিবদ্ধ বিবরণকে অন্তর্ভুক্ত করে।

♦ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারা মতে নিম্নলিখিত দলিল গুলি সরকারী দলিলঃ
(১) যে সমস্ত দলিল (ক) কোন সাবভৌম কর্তৃপক্ষের, (খ) সরকারী প্রতিষ্ঠান বা ট্রাইব্যুনালের এবং (গ) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের কোন অংশের অথবা বিদেশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কোন অফিসারের কার্য অথবা কার্যের লিপিবদ্ধ বিবরণ।
(২) বাংলাদেশে সরকারীভাবে রক্ষিত ব্যাক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

♦ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারায় সরকারি দলিলের কোনো তালিকা না দিয়ে এর বৈশিষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে। আদালতের ডিক্রি, আদেশ, আরজি তা যখন আদালতে দাখিল করা হয় এবং সমনের আসল এগুলো সবই আদালতের কার্যক্রমের অংশ। সুতরাং এগুলো সবই সরকারি দলিল হিসেবে গণ্য হবে।

♦ ধারা-৭৫: বেসরকারি দলিল (Private document)- সরকারি দলিল ব্যতীত সকল দলিলই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত দলিল । কবিতা, উইল, বিক্রয় চুক্তি, দানপত্র, মূল বিক্রয় দলিল, কবলা দলিল, চিঠিপত্র সবই বেসরকারি দলিল বা Private document.
৮,৮৯৯.
'Oral evidence must be direct.' সাক্ষ্য আইনের কত ধারার বিধান?
  1. ৫৮ ধারার
  2. ৫৯ ধারার
  3. ৬০ ধারার
  4. ৬১ ধারার
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারা অনুযায়ী- মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে অর্থাৎ সাক্ষী যে বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় তা সে নিজে প্রত্যক্ষভাবে দেখতে হবে বা শুনতে হবে বা উপলব্ধি করতে হবে। অন্যের মারফত শোনা ঘটনা এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে না।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৬০ মতে- মৌখিক সাক্ষ্যকে সকল ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে ( oral evidence must be direct)। অথাৎ এটি যদি এমন বিষয় সম্পর্কে হয়, যা দেখা যেতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলবে যে, সে এটি দেখেছে তার সাক্ষ্যই দিতে হবে; এটি যদি এমন বিষয় সম্পর্কে হয় যা শোনা যেতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলে যে, সে এটি শুনেছে, তার সাক্ষ্যই দিতে হবে। অর্থাৎ অন্যের কাছ থেকে শোনা সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।

-------------------
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারা - Oral evidence must be direct.

Section 60. Oral evidence must, in all cases whatever, be direct; that is to say- 
 
if it refers to a fact which could be seen, it must be the evidence of a witness who says he saw it; 
 
if it refers to a fact which could be heard, it must be the evidence of a witness who says he heard it; 
 
if it refers to a fact which could be perceived by any other sense or in any other manner, it must be the evidence of a witness who says he perceived it by that sense or in that manner; 
 
if it refers to an opinion or to the grounds on which that opinion is held, it must be the evidence of the person who holds that opinion on those grounds: 
 
Provided that the opinions of experts expressed in any treatise commonly offered for sale, and the grounds on which such opinions are held, may be proved by the production of such treatises if the author is dead or cannot be found, or has become incapable of giving evidence, or cannot be called as a witness without an amount of delay or expense which the Court regards as unreasonable: 
 
Provided also that, if oral evidence refers to existence or condition of any material thing other than a document, the Court may, if it thinks fit, require the production of such material thing for its inspection.
৮,৯০০.
'Mahr-i-Misl' হলো ______ দেহমোহর।
  1. সুনির্দিষ্ট
  2. উপযুক্ত
  3. আশু
  4. বিলম্বিত
ব্যাখ্যা
⇒ দেনমোহরের প্রকারভেদ: দেনমোহর প্রথমত দুই প্রকার, যথা-
i) নির্ধারিত দেনমোহর বা (Mahr-i-Musamma) (fixed/specified dower)
ii) যথার্থ দেনমোহর বা (Mahr-i-Misl) (Proper dower)

i) নির্ধারিত দেনমোহর বা (Mahr-i-Musamma): বিবাহের সময় বা বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের মধ্যে অথবা তাদের পক্ষে যে দেনমোহর হণ করা হয় তাকে মোহরে মুসাম্মা বা fixed/specified dower বলে।

ii) যথার্থ দেনমোহর বা (Mahr-i-Misl): বিবাহের চুক্তিতে দেনমোহরের পরিমাণ উল্লেখ করা না হলে শরিয়ত অনুযায়ী তা নিরূপিত বলে। গণ্য হবে এবং স্বামীর উপর মোহরে মিসল বা Proper dower বা উপযুক্ত মোহর ওয়াজিব হবে।