বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

মোট প্রশ্ন১৫,৪৭০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

PrepBank · পাতা ৮৫ / ১৫৫ · ৮,৪০১৮,৫০০ / ১৫,৪৭০

৮,৪০১.
Judicial Confession হলো-
  1. ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক লিপিবদ্ধ আসামীর দোষ স্বীকার
  2. পুলিশের নিকট দোষ স্বীকার
  3. অভিযোগকারীর নিকট দোষ স্বীকার
  4. জনগণের নিকট দোষ স্বীকার
ব্যাখ্যা
⇒ স্বীকারোক্তি বা দোষ স্বীকার (Confession)- কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের দোষ স্বীকার করে যে বক্তব্য দেয়, তাকে স্বীকারোক্তি বা দোষ স্বীকার (Confession) বলে। ল্যাটিন প্রবচন nemo tenetur seipsum accusare এর বাংলা অর্থ হল কোন ব্যক্তিকে নিজেকে অপরাধী সাব্যস্ত করতে বাধ্য করা যায় না। সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারাতেও বলা হয়েছে "কোন ব্যক্তিকে দোষ স্বীকার করতে বাধ্য করা হলে তা অপ্রাসঙ্গিক হবে।"

⇒ সুতরাং কোন আসামী যদি ক্ষমতাবান ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট কোন প্রকার ভয় ভীতি প্রদর্শন, প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতি ব্যতীত স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করে, তবে তাকে স্বীকারোক্তি বা Confession বলা হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ২৪ থেকে ৩০, ৮০, ১১৪ (বি), ১৩৩; ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪, ৩৬৪, ৩৩৭ ধারা: দন্ডবিধির ৩৩০, ৩৪৮ ধারা এবং সংবিধানের ৩৫(২) অনুচ্ছেদে Confession বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
৮,৪০২.
বাংলাদেশের নাগরিক কোন ব্যক্তি সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা অর্জন করবেন কত বছর বয়সে?
  1. ১৮ বছর
  2. ২১ বছর
  3. ২৫ বছর
  4. ৩৫ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের বিধান: সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা:

(১) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হইলে এবং তাঁহার বয়স পঁচিশ বৎসর পূর্ণ হইলে এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত বিধান-সাপেক্ষে তিনি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন।

(২) কোন ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি

(ক) কোন উপযুক্ত আদালত তাঁহাকে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা করেন;
(খ) তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন;
(গ) তিনি কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন;
(ঘ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত হইয়া থাকেন;
(চ) আইনের দ্বারা পদাধিকারীকে অযোগ্য ঘোষণা করিতেছে না, এমন পদ ব্যতীত তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন; অথবা
(ছ) তিনি কোন আইনের দ্বারা বা অধীন অনুরূপ নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হন।

(২ক) এই অনুচ্ছেদের (২) দফার (গ) উপ-দফা তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হইয়া কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করিলে এবং পরবর্তীতে উক্ত ব্যক্তি-
(ক) দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে, বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করিলে; কিংবা
(খ) অন্য ক্ষেত্রে, পুনরায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করিলে-
এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে তিনি বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন না।
 
(৩) এই অনুচেছদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে কোন ব্যক্তি কেবল রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপ-মন্ত্রী হইবার কারণে প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত বলিয়া গণ্য হইবেন না।

(৪) কোন সংসদ-সদস্য তাঁহার নির্বাচনের পর এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত অযোগ্যতার অধীন হইয়াছেন কি না কিংবা এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে কি না, সে সম্পর্কে কোন বিতর্ক দেখা দিলে শুনানী ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের নিকট প্রেরিত হইবে এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।

(৫) এই অনুচ্ছেদের (৪) দফার বিধানাবলী যাহাতে পূর্ণ কার্যকরতা লাভ করিতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতাদানের জন্য সংসদ যেরূপ প্রয়োজন বোধ করিবেন, আইনের দ্বারা সেইরূপ বিধান করিতে পারিবেন।
৮,৪০৩.
সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারায় কার অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে সাজা দেয়া হলে, কেবলমাত্র সেই কারণেই উক্ত সাজা বেআইনী হইবে না?
  1. বৈরি সাক্ষীর
  2. নাবালক সাক্ষীর
  3. দুষ্কর্মের সহযোগীর
  4. স্বামী বা স্ত্রীর
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারা- দুষ্কর্মে সহযোগী:
দুষ্কর্মের সহযোগী অভিযুক্তরবিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বলিয়া গন্য হইবেন। দুষ্কর্মের সহযোগীর অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে সাজা দেওয়া হইলে, কেবলমাত্র সেই কারণেই উক্ত সাজা বেআইনী হইবে না।

Section-133. Accomplice:
An accomplice shall be a competent witness against an accused person; and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.
৮,৪০৪.
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি বা অস্ত্র সম্পর্কে আদালত কোনটি করতে পারেন?
  1. পুলিশকে হস্তান্তরের নির্দেশ দিতে পারে
  2. রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে পারে
  3. মালিককে ফেরত দেওয়ার আদেশ দিতে পারে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ধারা ৭: অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, অস্ত্র, ইত্যাদি:
আদালত উপযুক্ত বিবেচনা করিলে, কোন অপরাধ সংঘটনের জন্য ব্যবহৃত কোন যন্ত্রপাতি, অস্ত্র বা যানবাহন, এবং উক্ত অপরাধের দ্বারা সংগৃহীত অর্থ, মালামাল বা সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তির বা উহার বৈধ মালিক বা দখলদারের নিকট ফেরত দিবার আদেশ দিতে পারিবে৷
৮,৪০৫.
গ্রেফতারী পরোয়ানা অনুযায়ী আটককৃত ব্যক্তিকে কত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে?
  1. ২৪ ঘণ্টার মধ্যে
  2. ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে
  3. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে
  4. অনাবশ্যক বিলম্ব ছাড়া
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ধারায় বিনা গ্রেফতারী পরোয়ানায় আটককৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এবং ৮১ ধারায় গ্রেফতারী পরোয়ানা অনুযায়ী আটককৃত ব্যক্তিকে অনাবশ্যক বিলম্ব ছাড়া আদালতে হাজির করতে হবে।
 
• ধারা ৮১- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব আদালতে উপস্থিত করতে হবে:
গ্রেফতারী পরোয়ানা কার্যকর করছেন এমন পুলিশ অফিসার অথবা অন্য কোন ব্যক্তি (জামিন বিষয়ে ৭৬ ধারার বিধানের প্রেক্ষিতে) অনাবশ্যক বিলম্ব ব্যতিরেকেই গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে সেই আদালতে হাজির করবেন, যেখানে হাজির করতে তিনি আইনতঃ বাধ্য।
 
Section 81: Person arrested to be brought before Court without delay-
The police- officer or other person executing a warrant of arrest shall (subject to the provisions of section 76 as to security) without unnecessary delay bring the person arrested before the Court before which he is required by law to produce such person.
৮,৪০৬.
সাইবার স্পেসে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক তথ্য প্রকাশের অপরাধের অর্থদণ্ড সর্বাধিক কত হতে পারে?
  1. ১ লক্ষ টাকা
  2. ৫ লক্ষ টাকা
  3. ১০ লক্ষ টাকা
  4. ২০ লক্ষ টাকা
ব্যাখ্যা

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ধারা ২৬: সাইবার স্পেসে ধর্মীয় বা জাতিগত বিষয়ে সহিংসতা, ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক তথ্য প্রকাশ, ইত্যাদির অপরাধ ও দণ্ড:
(১) যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে বা ছদ্ম পরিচয়ে নিজের বা অন্যের আইডিতে অবৈধ প্রবেশ করিয়া এমন কোনো কিছু সাইবার স্পেসে প্রকাশ বা প্রচার করেন বা করান, যাহা ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক ঘৃণামূলক বা জাতিগত বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং যাহা সহিংসতা তৈরি বা উদ্বেগ সৃষ্টি করে বা বিশৃঙ্খলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা করে, তাহা হইলে অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

৮,৪০৭.
চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর কার অনুমোদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়া হয়?
  1. পুলিশ সুপার
  2. ম্যাজিস্ট্রেট
  3. পাবলিক প্রসিকিউটর
  4. তদন্তকারী অফিসার
ব্যাখ্যা

→ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

পুলিশ রিপোর্ট বা প্রতিবেদন:

- মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা আদালতের নিকট যে প্রতিবেদন দাখিল করেন, তাকে পুলিশ রিপোর্ট বলা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩-তে পুলিশ রিপোর্ট সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
পুলিশ রিপোর্ট সাধারণত দুই প্রকার—
১) চার্জশিট (Charge Sheet):
- যদি প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, তাকে চার্জশিট বলে। এর ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যান।
২️) চূড়ান্ত প্রতিবেদন (Final Report): 
- যদি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা বা পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া না যায়, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, তাকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন বলা হয়। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে মামলা থেকে অব্যাহতি (Discharge) দেন।

৮,৪০৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৯ক ধারা অনুযায়ী, সরকার কোন প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করার সময় কী করতে পারবেন?
  1. সরকারি গেজেটে নোটিফিকেশন জারি করতে পারবেন
  2. অভিমতের ভিত্তি বিবৃতি দিতে পারবেন
  3. পুলিশ অফিসারকে তল্লাশি করার নির্দেশ দিতে পারবেন
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবকটি।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৯ক ধারা অনুযায়ী, সরকার যখন কোন প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে, তখন তাদের তিনটি কাজ করতে হয়:
- সরকারি গেজেটে নোটিফিকেশন জারি করতে হবে, যাতে সরকার প্রকাশনাটি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে এবং এর কারণ উল্লেখ করে।
- অভিমতের ভিত্তি বিবৃতি দিতে হবে, অর্থাৎ সরকার কেন এই প্রকাশনাটি বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করছে, তার বিস্তারিত কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।
- পুলিশ অফিসারকে তল্লাশি করার নির্দেশ দিতে হবে, যাতে পুলিশের পক্ষ থেকে বাজেয়াপ্তকৃত প্রকাশনাগুলি খুঁজে এবং উদ্ধার করা যায়।
এই তিনটি পদক্ষেপ একসাথে গ্রহণ করার মাধ্যমে সরকার বাজেয়াপ্তকৃত প্রকাশনাগুলি উদ্ধারের জন্য কার্যক্রম শুরু করে।


⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৯ক ধারার বিধান: কতকগুলি প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করা হলো বলে ঘোষণা করার ও উহার জন্য তল্লাশি পরোয়ানা দিবার ক্ষমতা:
(১) যেক্ষেত্রে সরকারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, কোন সংবাদপত্রে বা গ্রন্থে বা কোন দলিলে, তা যেখানেই মুদ্রিত হোক না কেন, নিম্নে বর্ণিত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে-
(ক) কোন বিষয়বস্তু, যার প্রকাশনা দণ্ডবিধি (১৮৬০ সনের ৪৫নং আইন)-এর ধারা-১২৩এ অথবা ১২৪এ অথবা ১৫৩এ অথবা ২৯২ অথবা ২৯৫এ অথবা ৫০৫ অথবা ৫০৫এ মতে দণ্ডনীয়,
(খ) কোন বিষয়বস্তু যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, সরকারের প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পীকার, অথবা বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির জন্য মানহানিকর, অথবা
(গ) এরূপ কোন বিষয়বস্তু রয়েছে যা অত্যন্ত শিষ্ঠাচারহীন বা অশ্লীল অথবা কুৎসিত, অথবা
(ঘ) কোন কথা, বা দৃষ্টিগোচর আচরণ, যা কোন ব্যক্তিকে বা কোন শ্রেণীর ব্যক্তিবর্গকে আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনে উত্তেজিত করে বা করতে পারে,

সেক্ষেত্রে সরকার, সরকারি গেজেট গেজেট নোটিফিকেশন কর্তৃক, উহার অভিমতের ভিত্তি বিবৃতি করে, অনুরূপ বিষয়বস্তু, কথা বা দৃষ্টিগোচর আচরণ সম্বলিত গ্রন্থ অথবা অন্য কোন প্রকার দলিল সরকারে বাজেয়াপ্ত বলে ঘোষণা করতে পারবেন, এবং অতঃপর যে কোন পুলিশ অফিসার বাংলাদেশের যে স্থানে পরিদৃষ্ট হোক না কেন, সে স্থানেই তা আটক করতে পারবেন এবং যে কোন ম্যাজিস্ট্রেট পরোয়ানা জারি দ্বারা সাব-ইন্সপেক্টর-এর চেয়ে নিম্নের পদাধিকারী নহেন এরূপ যে কোন পুলিশ অফিসারকে ক্ষমতা দিতে পারবেন এরূপ সকল প্রাঙ্গণে তল্লাশি করার, যেখানে উক্ত গ্রন্থ বা অন্য কোন দলিলের যেকোনো সংখ্যা খুঁজে পাওয়া যাবে অথবা পাওয়া যাবার সংগত সন্দেহ করা যেতে পারে।

(২) উপধারা (১) এ "সংবাদপত্র", "গ্রন্থ" এবং "দলিল" শব্দগুলো মুদ্রণালয় ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধীকরণ) আইন, ১৯৭৩ (১৯৭৩ সনের ২৩নং আইন)-এ যে অর্থ দেয়া আছে, সেই একই অর্থ বহন করবে।
৮,৪০৯.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১৩৭ অনুসারে, দেওয়ানী আদালতের কার্যভাষা নির্ধারণ করার বা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কে নিতে পারে?
  1. সরকার
  2. সুপ্রিম কোর্ট
  3. সংশ্লিষ্ট আদালত
  4. আইন মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১৩৭ অনুযায়ী, দেওয়ানী আদালতের কার্যভাষা নির্ধারণ বা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করতে পারে।
- ধারা ১৩৭-এর মূল বিষয়বস্তু:
১৩৭(১): দেওয়ানী কার্যবিধি কার্যকর হওয়ার সময় যে ভাষা কোনো অধস্তন আদালতের কার্যভাষা ছিল, সেটিই কার্যকর থাকবে, যতক্ষণ না সরকার অন্য কোনো নির্দেশনা প্রদান করে।
১৩৭(২): সরকার নির্ধারণ করতে পারে কোন ভাষায় দেওয়ানী আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং আদালতে ব্যবহৃত আবেদন ও অন্যান্য নথি কোন ভাষায় লেখা হবে।
১৩৭(৩): আদালতে কোনো নথি ইংরেজিতে লেখা যেতে পারে, তবে যদি কোনো পক্ষ বা তার আইনজীবী ইংরেজি ভাষা বুঝতে না পারেন, তাহলে তার অনুরোধে আদালতের ভাষায় অনুবাদ সরবরাহ করতে হবে। 

অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৩৭ ধারার মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, সরকারই দেওয়ানী আদালতের কার্যভাষা নির্ধারণ ও পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দেশনা দিতে পারে।
--------------- 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section- 137. Language of subordinate Courts:
(1) The language which, on the commencement of this Code, is the language of any Court subordinate to the High Court Division shall continue to be the language of such subordinate Court until the Government otherwise directs. 
(2) The Government may declare what shall be the language of any such Court and in what character applications to and proceedings in such Courts shall be written. 
(3) Where this Code requires or allows anything other than the recording of evidence to be done in writing in any such Court, such writing may be in English; but if any party or his pleader is unacquainted with English a translation into the language of the Court shall, at his request, be supplied to him; and the Court shall make such order as it thinks fit in respect of the payment of the costs of such translation.
৮,৪১০.
ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারায় দায়রা জজ অপরাধ আমলে নিতে পারেন?
  1. ১৯৩ ধারায়
  2. ১৯০ ধারায়
  3. ১৯৫ ধারায়
  4. ১৯৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৩ ধারায় দায়রা আদালতকে অপরাধ আমলে নেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

• অপরাধ আমলে নেওয়া অর্থ আদালত কর্তৃক কোন অপরাধ বিচারের জন্য গ্রহণ করা।কোন অপরাধ সংঘটিত হলে আদালতে অথবা থানায় অপরাধের অভিযোগ করা যায়।আদালত অপরাধের অভিযোগ পাওয়ার পর তা বিচারের জন্য গ্রহণ করবেন অথবা খারিজ বা ফেরত দিবেন।যদি তিনি গ্রহণ করে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেন তখন তাকে অপরাধ আমলে নেয়া বলে।

• ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৩ ধারামতে,
দায়রা আদালতের সরাসরি মামলা আমলে নেয়ার এখতিয়ার নেই,ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নেয়ার পর দায়রা আদালতে প্রেরণ করলে দায়রা আদালত বিচারার্থে অপরাধ আমলে নিতে পারেন।অর্থাৎ দায়রা আদালত মূল এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত নয়,তবে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ২০৫(গ) ধারায় মামলা পাঠানো হলেই কেবল উক্ত মামলা দায়রা জজ আমলে নিয়ে বিচার করতে পারেন।

এই ধারার অধীন অতিরিক্ত দায়রা জজ বা যুগ্ম দায়রা জজ ও অপরাধ আমলে নিতে পারেন।নিম্নলিখিত ২টি ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দায়রা জজ বা যুগ্ম দায়রা জজ অপরাধ আমলে নিতে পারে । যথা-
i) সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা বিচারের নির্দেশ দিলে; অথবা
ii) দায়রা জজ বিচারের জন্য অতিরিক্ত দায়রা জজ বা যুগ্ম দায়রা জজকে অর্পণ করলে।
৮,৪১১.
‘A’ এর নিকট প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র এবং মামলার বিষয় বস্তু ছাড়া কত টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকলে, ‘A’ কে নিঃস্ব ব্যক্তি বলে গণ্য করা হবে?
  1. ৫,০০ টাকা
  2. ১,০০০ টাকা
  3. ৩,০০০ টাকা
  4. ৫,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৩ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মোকদ্দমা  দায়ের করতে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি দিতে অক্ষম বা যে ক্ষেত্রে কোন কোর্ট ফি নির্ধারন থাকে না সেক্ষেত্রে তার প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র এবং মামলার বিষয়বস্তু ছাড়া ৫০০০ টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকলে উক্ত ব্যক্তি নিঃস্ব হিসেবে গণ্য হবে।
⇒ নিঃস্ব ব্যক্তি হিসেবে মামলা করার অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে।
⇒ তবে আবেদন প্রত্যাখ্যান হবে যদি আবেদনের ২ মাস পূর্বে প্রতারনামূলক সম্পত্তি হস্তান্তর করে।

অর্থাৎ ‘A’ এর নিকট প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র এবং মামলার বিষয় বস্তু ছাড়া ৫,০০০ টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকলে, ‘A’ কে নিঃস্ব ব্যক্তি বলে গণ্য করা হবে।
৮,৪১২.
ধারা ৪৯৮ অনুসারে জামিনের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত কী নির্দেশ দিতে পারেন?
  1. শুধু জামিন মঞ্জুর করার
  2. শুধু জামানত হ্রাস করার
  3. জামিনের আবেদন বাতিলের
  4. জামিন মঞ্জুর করা বা জামানত হ্রাস করা
ব্যাখ্যা
• আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮):
আটক হবার বা গ্রেফতারের সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যক্তিকে গ্রেফতার হওয়ার পূর্বেই জামিন মঞ্জুর করাকে আগাম জামিন বলে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার বিধানমতে আদালত যেকোন ক্ষেত্রে যেকোন ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করতে পারে, যাকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশের গ্রেফতার করার সম্ভাবনা রয়েছে।

৪৯৮ ধারার বিধানমতে নিম্নোক্ত আদালত আগাম জামিন মঞ্জুর করতে পারে:
১. হাইকোর্ট বিভাগ;
২. দায়রা আদালত।

তাছাড়া এই ধারা অনুসারে,
হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত যেকোন ক্ষেত্রে যেকোন ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করার বা পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দাবিকৃত জামানত হ্রাস করার নির্দেশ দিতে পারেন।

Section 498: Power to direct admission to bail or reduction of bail:
The amount of every bond executed under this Chapter shall be fixed with due regard to the circumstances of the case, and shall not be excessive; and the High Court Division or Court of Session may, in any case, whether there be an appeal on conviction or not, direct that any person be admitted to bail, or that the bail required by a police-officer or Magistrate be reduced.
৮,৪১৩.
'ক'  কতিপয় সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখলে আছে। 'খ' দাবী করে যে 'খ' উক্ত সম্পত্তির মালিক এবং এই কারণে 'ক' উক্ত সম্পত্তি খ-কে অর্পণ করা আবশ্যক । এই ক্ষেত্রে 'ক' এর নিম্নলিখিত কোন প্রতিকারটি সঠিক?
  1. ঘোষণামূলক মামলা দায়ের
  2. দখল উদ্ধারের মামলা
  3. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা
  4. চুক্তি বলব এর মামলা
ব্যাখ্যা
♦ 'খ'  দাবী করছে যে সে উক্ত সম্পত্তির মালিক তাই এখানে 'খ' সম্পত্তিতে 'ক' এর মালিকানা অস্বীকার করছে। এই ক্ষেত্রে 'ক' যে উক্ত সম্পত্তির মালিক এমন ঘোষণা চেয়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে। এই ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করলে হবে কারণ বাদী ক সম্পত্তির দখলে আছে।

♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক বিধান রয়েছে । কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে। ~

♦ সুতরাং শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্ত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে। ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে।
♦ অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree ) বলে।
৮,৪১৪.
'ক' কতিপয় সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখলে আছে। 'খ' দাবি করে যে 'খ' উক্ত সম্পত্তির মালিক এবং এই কারণে 'ক' উক্ত সম্পত্তি খ-কে অর্পণ করা আবশ্যক। এক্ষেত্রে 'ক' কত দিনের মধ্যে ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক বিধান রয়েছে । কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মোকদ্দমা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মোকদ্দমা বা 'Declaratory Sui't বা 'Suit for Declaration' বলে।
 
তামাদি আইনে ঘোষণামূলক মোকদ্দমার কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। এই আইনের ১২০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যে-সকল মামলার জন্য তামাদির মেয়াদ উল্লেখ নাই সেগুলো সাধারণত ৬ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হয়।
-ঘোষণামূলক মামলার প্রকৃত কারণ উদ্ভব হওয়ার সময় হতে ৬ বছরের মধ্যে ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে হবে।
৮,৪১৫.
দণ্ডবিধির ২৩০ ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিতগুলোর মধ্যে কোনটি 'মুদ্রা' হিসেবে গণ্য হবে?
  1. কড়ি (কাউরি)
  2. পদক (মেডেল)
  3. ফরুখাবাদী টাকা
  4. স্ট্যাম্পবিহীন তামার টুকরো
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ২৩০ ধারায় "মুদ্রা" বলতে সরকার বা সার্বভৌম শক্তির ক্ষমতায় স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতব দ্রব্যকে বোঝানো হয়েছে, যা অর্থরূপে ব্যবহৃত হয় বা হওয়ার জন্য তৈরি। "বাংলাদেশি মুদ্রা" হিসেবে এমনকি ব্যবহার বন্ধ হয়ে গেলেও এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে তা মুদ্রা গণ্য হয়। উদাহরণ (e) অনুসারে, "ফরুখাবাদ" টাকা পূর্বে ভারত সরকারের কর্তৃত্বে অর্থরূপে ব্যবহৃত হয়েছে, তাই এটি বাংলাদেশি মুদ্রা হিসেবে গণ্য। অন্য অপশনগুলো (কড়ি, মেডেল, স্ট্যাম্পবিহীন তামার টুকরো) স্ট্যাম্পযুক্ত বা ইস্যুকৃত নয়, তাই মুদ্রা নয়।
অতএব, সঠিক উত্তর: গ) ফরুখাবাদী টাকা।

⇒ দণ্ডবিধির ২৩০ ধারার বিধান: 'মুদ্রার' সংজ্ঞা:- বর্তমানে অর্থরূপে ব্যবহৃত এবং অনুরূপে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য কোন রাষ্ট্রে বা সার্বভৌম শক্তির ক্ষমতাধীনে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতব দ্রব্যকে মুদ্রা বলে।
- বাংলাদেশি মুদ্রা:- বাংলাদেশি মুদ্রা বলতে বাংলাদেশের সরকারের ক্ষমতাধীন অর্থরূপে ব্যবহারের জন্য স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতবদ্রব্য বুঝাবে; এবং অর্থরূপে, ব্যবহার রহিত হওয়া সত্ত্বেও এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যাবলীর দিক হতে অনুরূপভাবে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতবদ্রব্য বাংলাদেশি মুদ্রা বলে পরিচিত হবে।
উদাহরণ:
(ক) কড়ি (কাউরি) মুদ্রা নয়।
(খ) স্ট্যাম্পবিহীন তামার টুকরো, যদিও তা অর্থরূপে ব্যবহৃত হয়, মুদ্রা নয়।
(গ) মেডেল মুদ্রা নয়, কারণ সেগুলো অর্থরূপে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয় না।
(ঘ) কোম্পানির টাকা নামে পরিচিত মুদ্রা রানির মুদ্রা।
(ঙ) "ফরুখাবাদ" টাকা, যা পূর্বে ভারত সরকারের কর্তৃত্বে অর্থরূপে ব্যবহৃত হতো, তা বাংলাদেশি মুদ্রা হিসেবেই গণ্য হবে, যদিও তা এখন আর ব্যবহৃত হয় না।
---------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 230. “Coin” defined Bangladesh coin:
- Coin is metal used for the time being as money, and stamped and issued by the authority of some State or Sovereign Power in order to be so used.
- Bangladesh coin is metal stamped and issued by the authority of the Government in order to be used as money; and metal which has been so stamped and issued shall continue to be Bangladesh coin for the purposes of this Chapter, notwithstanding that it may have ceased to be used as money.

Illustrations:
(a) Cowries are not coin.
(b) Lumps of unstamped copper, though used as money, are not coin.
(c) Medals are not coin, inasmuch as they are not intended to be used as money.
(d) The coin denominated as the Company's taka is the Queen's coin.
(e) The "Farukhabad" taka, which was formerly used as money under the authority of the Government of India, is Bangladesh coin although it is no longer so used.

৮,৪১৬.
ধারা ৫৪০ক(৩) অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদন শুনানির তারিখ পর্যন্ত অভিযুক্তের উপস্থিতি মওকুফ করা যাবে যদি-
  1. তিনি অসুস্থ হন
  2. তিনি পলাতক থাকেন
  3. তিনি আদালতে হাজির হন
  4. তিনি জামিনে থাকেন
ব্যাখ্যা

ধারা ৫৪০ক: "নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে তদন্ত ও বিচার পরিচালনার বিধান":
(১) এই কোডের অধীনে তদন্ত বা বিচারের যে কোনো পর্যায়ে  যদি বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট, কারণ লিপিবদ্ধ করে সন্তুষ্ট হন যে, অভিযুক্তদের মধ্যে যে কেউ বা একাধিক জন আদালতে উপস্থিত থাকার জন্য অক্ষম, তবে তিনি, যদি ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি [একজন আইনজীবী] দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করেন, তার উপস্থিতি মওকুফ করতে পারেন এবং তার অনুপস্থিতিতে ওই তদন্ত বা বিচার পরিচালনা করতে পারেন, এবং পরবর্তী যে কোনো পর্যায়ে ওই অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত উপস্থিতি নির্দেশ দিতে পারেন।

(২) যদি এই ধরনের কোনো মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি [একজন আইনজীবী] দ্বারা প্রতিনিধিত্ব না করেন, অথবা যদি বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট তার ব্যক্তিগত উপস্থিতি প্রয়োজনীয় মনে করেন, তবে তিনি উপযুক্ত মনে করলে এবং কারণ লিপিবদ্ধ করে, ওই তদন্ত বা বিচার মুলতবি করতে পারেন, অথবা ওই অভিযুক্ত ব্যক্তির মামলা আলাদাভাবে গ্রহণ বা বিচার করার আদেশ দিতে পারেন।

(৩) এই কোডের অধীনে তদন্তের পর্যায়ে, বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট লিখিতভাবে কারণ লিপিবদ্ধ করে, যে অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিনে আছেন এবং একজন আইনজীবী দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করছেন, তদন্ত প্রতিবেদন শুনানির জন্য নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত তার ব্যক্তিগত উপস্থিতি মওকুফ করতে পারেন।

৮,৪১৭.
গ্রেফতার করার সময় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানো যাবে, যদি উক্ত ব্যক্তি-
  1. আমলযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হয়
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হয়
  3. মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হয়
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধি ৪৬ ধারা: গ্রেপ্তারের পদ্ধতি
৪৬(১) ধারা:
যদি কথাবার্তা বা কাজের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়, তাহলে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির দেহ স্পর্শ করতে পারবে না।

৪৬(২) ধারা:
যদি কোনো ব্যক্তি গ্রেপ্তার হতে বাধা দেন বা গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করেন, তবে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে আইনি পন্থা অবলম্বন করতে পারবে।

৪৬(৩) ধারা:
যদি ব্যক্তিটি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত না হয়, তবে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানো যাবে না।

Section 46: Arrest how made-
(1) In making an arrest the police-officer or other person making the same shall actually touch or confine the body of the person to be arrested, unless there be a submission to the custody by word or action.
(2) If such person forcibly resists the endeavor to arrest him, or attempts to evade the arrest, such police-officer or other person may use all means necessary to effect the arrest. 
(3) Nothing in this section gives a right to cause the death of a person who is not accused of an offence punishable with death or with transportation for life.
৮,৪১৮.
'আদালত চুক্তির আংশিক কার্য সম্পাদনের আদেশ দিতে পারবে না'- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারা এই সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম?
  1. ৯ থেকে ১২ ধারা
  2. ১৪ থেকে ১৬ ধারা
  3. ১৮ থেকে ২১ ধারা
  4. ৩১ থেকে ৩৩ ধারা
ব্যাখ্যা
আংশিক চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন (Specific Performance of part of contract):

চুক্তির সম্পূর্ণ অংশের যেমন সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করা যায় ঠিক তেমনি কোন কোন ক্ষেত্রে চুক্তির অংশ বিশেষেরও সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করা যায়। সাধারণত আইন অনুসারে একটি চুক্তিকে অবিভাজ্য বলে ধরে নেয়া হয়। সুতরাং যদি সম্পূর্ণ চুক্তিটির কার্য সম্পাদন সম্ভব না হয়, তাহলে আদালত চুক্তিটি সম্পাদনে কাউকেও বাধ্য করতে পারবে না অর্থাৎ আদালত চুক্তির আংশিক কার্য সম্পাদনের আদেশ দিতে পারবে না।
কিন্তু সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ থেকে ১৬ ধারায় বর্ণিত বিধানগুলি এই সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম। এই তিনটি ধারায় বর্ণিত অবস্থাতে একটি চুক্তির অংশ বিশেষের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনে বাধ্য করা যায়। ১৪,১৫ ও ১৬ ধারা ব্যতীত অন্য কোন ক্ষেত্রে আদালত কোন চুক্তির আংশিক সম্পাদনের নির্দেশ দিতে পারবে না।
৮,৪১৯.
দণ্ডবিধির কত ধারায় "ক্ষতি" (Mischief)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৪১৫ 
  2. ধারা ৪২৫
  3. ধারা ৪২৭
  4. ধারা ৪৩১
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর ধারা ৪২৫–এ "ক্ষতি" (Mischief)–এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি জনসাধারণের বা কারও অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে জানে যে তার কাজের ফলে অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট হতে পারে, এমন কোনো কাজ করে যার ফলে কোনো সম্পত্তি ধ্বংস, বিনষ্ট বা অবস্থান পরিবর্তিত হয়, এবং এর ফলে সম্পত্তির মূল্য, প্রয়োজনীয়তা বা কার্যকারিতা নষ্ট হয় বা হ্রাস পায়, তবে তা "ক্ষতি" বলে গণ্য হবে।
শাস্তি: সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড।
-  তাই সঠিক উত্তর হলো: খ) ধারা ৪২৫।

⇒ দণ্ডবিধির ৪২৫ ধারার বিধান ক্ষতি বা অনিষ্ট:- কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও কোন সম্পত্তি ধ্বংস বা বিনষ্ট করে, অথবা কোন সম্পত্তিতে বা উহার অবস্থানে এমন কোন পরিবর্তন সাধন করে, যার ফলে উহার মূল্য বা আবশ্যকতা বিনষ্ট হয় বা হ্রাস প্রাপ্ত হয়, বা উহা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি 'ক্ষতি' সাধন করেছে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা-১: ক্ষতি অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য অপরাধীর ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা বিনষ্ট সম্পত্তির মালিকের ক্ষতি বা লোকসান করার ইচ্ছা থাকা প্রয়োজন নয়। কোন সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের উদ্দেশ্য থাকলে অথবা সম্পত্তির অনুরূপ ক্ষতিসাধন কর্তৃক কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের আশঙ্কা রয়েছে জানা সত্ত্বেও সম্পত্তিটির ক্ষতিসাধন করলে অপরাধটি সংঘটিত হবে, যে সম্পত্তিটির অনুরূপ ক্ষতিসাধন করা হল, সে সম্পত্তিটি অনুরূপে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সম্পত্তি হোক আর নাই হোক।
ব্যাখ্যা-২: যে ব্যক্তি কাজ সংঘটন করল সে ব্যক্তির নিজের বা মিলিতভাবে সে ব্যক্তির ও অন্যান্য ব্যক্তির সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে অনুষ্ঠিত কাজ কর্তৃক ক্ষতি সাধিত হতে পারে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 425. Mischief:
Whoever, with intent to cause, or knowing that he is likely to cause, wrongful loss or damage to the public or to any person, causes the destruction of any property, or any such change in any property or in the situation thereof as destroys or diminishes its value or utility, or affects it injuriously, commits "mischief".
Explanation-1: It is not essential to the offence of mischief that the offender should intend to cause loss or damage to the owner of the property injured or destroyed. It is sufficient if he intends to cause, or knows that he is likely to cause, wrongful loss or damage to any person by injuring any property, whether it belongs to that person or not.
Explanation-2: Mischief may be committed by an act affecting property belonging to the person who commits the act, or to that person and others jointly.

৮,৪২০.
রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন অফিসে কত বছর পর্যন্ত দাবি না করা ডকুমেন্ট অক্ষত রাখা বাধ্যতামূলক?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৮৫ (Section 85) অনুযায়ী:
“Documents (other than wills) remaining unclaimed in any registration office for a period exceeding two years may be destroyed.”
অর্থাৎ, উইল ব্যতীত অন্য যেকোনো দলিল যদি ২ বছরের বেশি সময় ধরে রেজিস্ট্রেশন অফিসে অনাদায়ী (unclaimed) অবস্থায় থাকে, তাহলে তা ধ্বংস (destroy) করা যেতে পারে।
তবে এর মানে এই নয় যে ২ বছর পরই সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস করা হবে—এটা হলো সর্বনিম্ন সংরক্ষণকাল, এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে তা নষ্ট করতে পারেন।

→ অতএব, ধারা ৮৫ অনুযায়ী, উইল ছাড়া অন্য ডকুমেন্ট ২ বছরের বেশি অদাবিকৃত থাকলে ধ্বংস করা যেতে পারে।
৮,৪২১.
যে ব্যক্তি চুরির কিছুক্ষণ পরেই চুরির মালামাল নিজের দখলে রাখে এবং উক্ত দখলের উপযুক্ত কারণ দেখাতে না পারে, সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আদালত কী অনুমান করতে পারে?
  1. সেই ব্যক্তি নিজেই চোর
  2. সেই ব্যক্তি না জেনেশুনে চুরির মাল গ্রহণ করেছে
  3. চুরির মাল গ্রহণ করতে কেউ তাকে বাধ্য করেছে
  4. মালগুলো চুরির সেই বিষয়ে ব্যক্তি অবগত নয়
ব্যাখ্যা
• ধারা ১১৪: আদালত কিছু তথ্যের অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে-
আদালত প্রকৃতি এবং মানবিক আচরণের সাধারণ গতিপ্রকৃতি, সরকারি ও বেসরকারি কার্যাবলীর সাপেক্ষে বিশেষ মামলার তথ্যগুলি বিবেচনা করে, যে কোনো তথ্য বা ঘটনার অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে যা আদালতের মতে সম্ভবত ঘটেছে।

আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুমান করতে পারে -
(ক) যে ব্যক্তি চুরির কিছুক্ষণ পরেই চুরি মালামাল দখলে রাখে, সে নিজেই চোর অথবা জেনেশুনে চুরির মাল গ্রহণ করেছে, যদি না সে তার দখলের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে;
(খ) যে ব্যক্তি অপরাধের সহযোগী, সে অবিশ্বাসযোগ্য, যদি না তার সাক্ষ্যের মূল বিষয়গুলি অন্য কোনো প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হয়;
(গ) একটি হুন্ডি স্বীকৃত বা অনুমোদিত হয়েছে প্রাপ্য মূল্যের বিনিময়ে;

(ঘ) যেকোনো বস্তু বা অবস্থা যা এমন সময়সীমার মধ্যে দেখা গেছে যে সময়সীমার মধ্যে এরকম বস্তু বা অবস্থা সাধারণত লুপ্ত হয়ে যায় না, তা এখনও বিদ্যমান রয়েছে;
(ঙ) বিচারিক এবং সরকারি কার্যাবলী নিয়মানুসারে সম্পাদিত হয়েছে;
(চ) বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক নিয়মানুসারে কার্যক্রম পালিত হয়েছে;

(ছ) যে প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব ছিল কিন্তু করা হয়নি, তা উপস্থাপিত হলে যে ব্যক্তি তা প্রমাণ করতে অস্বীকার করেছেন তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(জ) কোনো ব্যক্তি যদি আইনসম্মতভাবে বাধ্য না হয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে, তাহলে মনে করা হবে উত্তরটি তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(ঝ) কোনো দায়বদ্ধকারী দলিল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে থাকলে, মনে করা হবে দায়িত্বটি পরিশোধিত হয়েছে।
তবে বিশেষ মামলার ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলি প্রযোজ্য কিনা তা বিবেচনা করার সময় আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলিও বিবেচনা করবে।
৮,৪২২.
সাক্ষ্য আইন মোট কতটি ভাগে বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ একটি প্রক্রিয়াগত (Procedural/Adjective) আইন, যা বিচার ব্যবস্থায় প্রমাণ বিধান সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করে।
- এই আইনটি মোট ৩টি ভাগে (Part) বিভক্ত।
- প্রতিটি ভাগে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা সাক্ষ্যগ্রহণের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করে।

- এই ৩টি ভাগ হলো:
Part I – Relevancy of Facts (তথ্যের প্রাসঙ্গিকতা):
→ এখানে বলা হয়েছে কোন কোন তথ্য আদালতে প্রাসঙ্গিক হিসেবে বিবেচিত হবে।
Part II – On Proof (প্রমাণ সংক্রান্ত বিধান):
→ কীভাবে প্রাসঙ্গিক তথ্য আদালতে প্রমাণ করতে হবে, তার পদ্ধতি ও বিধান এখানে রয়েছে।
Part III – Production and Effect of Evidence (সাক্ষ্য উপস্থাপন ও তার কার্যকারিতা):
→ সাক্ষ্য উপস্থাপনের নিয়ম এবং তা বিচারকের উপর কী প্রভাব ফেলবে, সেটি বর্ণনা করা হয়েছে।

অর্থাৎ সাক্ষ্য আইন মোট ৩টি ভাগে বিভক্ত, যার মাধ্যমে আদালতে তথ্যের প্রাসঙ্গিকতা, প্রমাণের নিয়ম এবং সাক্ষ্যের কার্যকারিতা নির্ধারিত হয়।
৮,৪২৩.
তামাদি আইনের ১৯ ধারায় লিখিত দায় স্বীকারের ফলাফল কি?
  1. তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে
  2. নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে
  3. তামাদির মেয়াদ থেকে লিখিত দায় স্বীকারের মেয়াদ বাদ যাবে
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ১৯ ধারায় লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। কোন মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য আইন দ্বারা নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই অপর পক্ষ যদি উক্ত মামলার বা দরখাস্তের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের মাধ্যমে দায় স্বীকার করে নেয় সেক্ষেত্রে উত্তরুপ স্বীকৃতি স্বাক্ষরিত হওয়ার দিন থেকে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে

তামাদি আইনের ১৯ ধারার শর্তসমূহ নিম্নরূপ-
⇒ লিখিত হতে হবে
⇒ উক্ত পক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে
⇒ অবশ্যই তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই করতে হবে
⇒ উক্ত স্বীকৃতি অবশ্যই সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে হবে।

Section 19: Effect of acknowledgement in writing-
(1) Where, before the expiration of the period prescribed for a suit or application in respect of any property or right, an acknowledgement of liability in respect of such property or right has been made in writing signed by the party against whom such property or right is claimed, or by some person through whom he derives title or liability, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the acknowledgement was so signed. 
 
(2) Where the writing containing the acknowledgement is undated, oral evidence may be given of the time when it was signed; but, subject to the provisions of the Evidence Act, 1872, oral evidence of its contents shall not be received. 
 
Explanation I- For the purposes of this section an acknowledgement may be sufficient though it omits to specify the exact nature of the property or right, or avers that the time for payment, delivery, performance or enjoyment has not yet come, or is accompanied by a refusal to pay, deliver, perform or permit to enjoy, or is coupled with a claim to a set-off, or is addressed to a person other than the person entitled to the property or right. 
Explanation II- For the purposes of this section, “signed” means signed either personally or by an agent duly authorized in this behalf. 
Explanation III- For the purposes of this section an application for the execution of a decree or order is an application respect of a right.
৮,৪২৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারার বিধান অনুযায়ী সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন কোন ব্যক্তি বা অধীনস্থ কোন কর্মকর্তাকে অর্পিত ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে পারবে?
  1. ৪১ ধারার
  2. ৪২ ধারার
  3. ৩৩ ধারার
  4. ৩৭ ধারার
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১ ধারার বিধান ক্ষমতাদি প্রত্যাহরকরণঃ (১) সরকার এই কার্যবিধি অনুসারে কোন ব্যক্তি বা ইহার অধীনস্থ কোন অফিসারকে অর্পিত সকল বা যে কোন ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে পারবেনঃ

শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে উক্তরূপ ক্ষমতা অর্পণ এই কার্যবিধি অনুসারে হয় সেক্ষেত্রে এই বিষয়ে হাইকোর্ট ডিভিশনের সাথে আলোচনা করতে হবে। এ ধরণের প্রত্যাহার সেই আদালতের সাথে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে।

(২) যেক্ষেত্রে কোন ক্ষমতা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত হয়, সেক্ষেত্রে তা সেভাবে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রত্যায়িত হতে পারবে।

♦ অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১ ধারার বিধান অনুযায়ী সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন কোন ব্যক্তি বা অধীনস্থ কোন কর্মকর্তাকে অর্পিত ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে পারবে।
-------------------------------------------------------------------------
♦ section 41. Withdrawal of powers: (1) The Government may withdraw all or any of the powers conferred under this Code on any person by it or by any officer subordinate to it:

Provided that where the conferring of a power is, under this code, required to be made in consultation with the High Court Division, the withdrawal thereof shall be made in consultation with that Court.

(2) Any powers conferred by the Chief Judicial Magistrate or the District Magistrate may be withdrawn by the chief Judicial Magistrate or the District Magistrate respectively.
৮,৪২৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির _____ এর মাঝে রিসিভারের দায়িত্ব (Duties of Receiver) সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।
  1. আদেশ-৪০, বিধি-২
  2. আদেশ-৪০, বিধি-৩
  3. আদেশ-৩২, বিধি-৭
  4. আদেশ-২৬, বিধি-১৭
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৪০, বিধি-৩ এ রিসিভারের দায়িত্বসমূহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। এতে বলা হয়েছে যে, রিসিভারকে সম্পত্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে আদালত নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে, আদালতের নির্ধারিত সময় ও ফরম্যাটে হিসাব দাখিল করতে হবে, আদালতের নির্দেশমতো অর্থ পরিশোধ করতে হবে এবং ইচ্ছাকৃত ত্রুটি বা গুরুতর অবহেলার কারণে সম্পত্তির যেকোনো ক্ষতির জন্য দায়ী হতে হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৪০, বিধি-৩. রিসিভারের দায়িত্ব:
নিয়োগকৃত প্রতিটি রিসিভারকে—
(ক) সম্পত্তি বাবদ যা কিছু গ্রহণ করবে তার যথাযথ হিসাব প্রদানের জন্য আদালত যেরূপ নিরাপত্তা (যদি প্রয়োজন হয়) নির্ধারণ করে তা প্রদান করতে হবে;
(খ) আদালত যে সময় ও ফরম্যাট নির্ধারণ করবে সেই অনুযায়ী হিসাব দাখিল করতে হবে;
(গ) আদালত যে পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে বলবে তা প্রদান করতে হবে; এবং
(ঘ) তার ইচ্ছাকৃত ত্রুটি বা গুরুতর অবহেলার কারণে সম্পত্তির যেকোনো ক্ষতির জন্য দায়ী থাকবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 Order XL, Rule-3. Duties of Receiver:
Every receiver so appointed shall—
(a) furnish such security (if any) as the Court thinks fit, duly to account for what he shall receive in respect of the property;
(b) submit his accounts at such periods and in such form as the Court directs;
(c) pay the amount due from him as the Court directs; and
(d) be responsible for any loss occasioned to the property by his wilful default or gross negligence.
৮,৪২৬.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশ অনুসারে নিষেধাজ্ঞার আদেশ লঙ্ঘন করলে আদালত কী ব্যবস্থা নিতে পারে?
  1. অভিযুক্তের সম্পত্তি জব্দ করতে পারে।
  2. অভিযুক্তকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখতে পারে।
  3. ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সম্পত্তি বিক্রি করতে পারে।
  4. উপরের সবগুলো।
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯, বিধি ২ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করে বা আদেশের শর্ত লঙ্ঘন করে, তাহলে আদালত নিম্নলিখিত ব্যবস্থা নিতে পারে:
১. সম্পত্তি জব্দ (Attachment of Property):
বিধি ২(৩) অনুসারে, আদেশ অমান্যকারী ব্যক্তির সম্পত্তি জব্দ করার আদেশ দিতে পারে আদালত।

২. কারাদণ্ড (Civil Imprisonment):
আদেশ ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দিতে পারে আদালত।

৩. ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সম্পত্তি বিক্রি:
যদি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের পরও এক বছরের মধ্যে আদেশ পালন না হয়, তবে জব্দ করা সম্পত্তি বিক্রি করে তার অর্থ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে।

আদেশ ৩৯ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ লঙ্ঘন করলে আদালত – ১) সম্পত্তি জব্দ করতে পারে, ২) ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দিতে পারে, এবং ৩) প্রয়োজন হলে সম্পত্তি বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ দিতে পারে।
তাই সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলো।
৮,৪২৭.
বিশেষজ্ঞের রিপোর্টের অনুলিপি ধারা ৪৫ক(১) অনুযায়ী কাকে প্রদান করতে হবে?
  1. অভিযোগকারী পক্ষকে
  2. মামলার সকল পক্ষকে
  3. মামলার সকল সাক্ষীকে
  4. মামলার সকল পক্ষ এবং সাক্ষীকে
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারা- শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত:

(১) আদালতের অনুমতি ব্যতীত একজন সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না, যদি না তার রিপোর্টের একটি অনুলিপি, উপ-ধারা (২) অনুসারে সমস্ত পক্ষকে দেওয়া না হয়।
(২) একজন বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন আদালতের কাছে পাঠানো হবে এবং সেই পক্ষের কাছে নয় যার পক্ষে তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।
 
অর্থাৎ শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কোন সাক্ষ্য দিতে-
১. আদালতের অনুমতি গ্রহণ করবে;
২. তার বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন বা মতামতের কপি সকল পক্ষকে সরবরাহ করবে;
৩. আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।
৮,৪২৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় দেওয়ানি মোকদ্দমায় আদেশের বিরূদ্ধে আপিলের বিধান আছে?
  1. ৯৬ ধারায়
  2. ১০৪ ধারায়
  3. ১০৭ ধারায়
  4. ৯৭ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒  দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ১০৪ ধারায় বলা হয়েছে যে, যে ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে সেই ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোন আদেশ হতে আপীল চলবেনা।
- কোন কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে তার বর্ণনা আছে আদেশ ৪৩ তে।
- দেওয়ানী কার্যবিধির ১০৪ ধারায় এবং ৪৩ আদেশে আপীলযোগ্য আদেশ  এর তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে।
- দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ যদি ১০৪ ধারায় বা ৪৩ আদেশে উল্লেখিত কোন আপীলযোগ্য আদেশ হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আপীল করা যায়।
--------------------------------
⇒ CPC Section-104. Orders from which appeal lies.
(1) An appeal shall lie from the following orders, and save as otherwise expressly provided in the body of this Code or by any law for the time being in force, from no other orders:
(ff) an order under section 35A;
(g) an order under section 95; 
(h) an order under any of the provisions of this Code imposing a fine or directing the arrest or detention in the civil prison of any person except where such arrest or detention is in execution of a decree; 
(i) any order made under rules from which an appeal is expressly allowed by rules: 
 
Provided that no appeal shall lie against any order specified in clause (ff) save on the ground that no order, or an order for the payment of a less amount, ought to have been made. 
 
(2) No appeal shall lie from any order passed in appeal under this section.
৮,৪২৯.
শিশু আইনে প্রদত্ত সময়সীমার মধ্যে শিশু আদালতে বিচারকার্য সম্পন্ন না করলে এবং বিচার্য অভিযোগ লঘু প্রকৃতির হলে,অভিযুক্ত শিশুর ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে?
  1. পুনরায় অভিযোগ গঠন হবে
  2. অব্যাহতি পাবে
  3. খালাস পাবে
  4. মুক্তি পাবে
ব্যাখ্যা
শিশু আইন,২০১৩

ধারা ৩২- বিচার সমাপ্তির সময়সীমা
 
(১) ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশু-আদালত উক্ত আদালতে শিশুর প্রথম উপস্থিত হইবার তারিখ হইতে ৩৬০ (তিনশত ষাট) দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করিবে। 

(২) কোন যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তব কারণে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করা সম্ভব না হইলে শিশু-আদালত, উক্ত কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, সংশ্লিষ্ট বিচারকার্য সম্পন্নের সময়সীমা আরও ৬০ (ষাট) দিন বর্ধিত করিতে পারিবে। 

(৩) শিশু-আদালতে বিচার আরম্ভ হইবার পর হইতে, বিচার কার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যতদূর সম্ভব, একাদিক্রমে উহার কার্যক্রম প্রত্যেক কার্যদিবসে বিনা বিরতিতে চলিতে থাকিবে। 

(৪) উপ-ধারা (১) ও (২) এ বর্ণিত সময়ের মধ্যে বিচার কার্য সম্পন্ন করা না হইলে সংশ্লিষ্ট শিশু, হত্যা, ধর্ষণ, দস্যুতা, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা বা অন্য কোন জঘন্য, ঘৃণ্য বা গুরুতর অপরাধের দায়ে দায়েরকৃত মামলা ব্যতীত, শিশু-আদালতের বিবেচনায় তাহার বিরুদ্ধে আনীত লঘু মাত্রার অভিযোগ হইতে অব্যাহতি পাইবে এবং একই অপরাধের জন্য তাহার বিরু্দ্ধে অন্য কোন বিচার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা যাইবে না: 

তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট মামলায় কোন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অভিযুক্ত থাকিলে তাহার মামলা অব্যাহত থাকিবে।
৮,৪৩০.
ফৌজদারি কার্যবিধিতে অনধিক কত বছরের ব্যক্তিদের কিশোর ধরা হয়?
  1. অনধিক ১৮ বছরের
  2. অনধিক ১৬ বছরের
  3. অনধিক ১৫ বছরের
  4. অনধিক ২১ বছরের
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধি ২৯খ ধারা-
কোন ব্যক্তি মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দন্ডনীয় অপরাধ ব্যতিরেকে অপর যে কোন অপরাধ করলে এবং তাকে আদালতে উপস্থিত হবার বা তাকে হাজির করার তারিখে তার বয়স ১৫ (পনের) বৎসরের নীচে হলে তার বিচার যে কোন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট করতে পারবেন অথবা তরুণ অপরাধীদের হেফাজত, বিচার এবং শাস্তি দেবার জন্য বলবৎ আইন কর্তৃক বা অধীনে সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিষ্ট্রেট, এবং এরূপ আইনের দ্বারা আরোপিত সকল বা যেকোন ক্ষমতা প্রয়োগ করবার জন্য উহার দ্বারা বা অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত যেকোন ম্যাজিস্ট্রেট করতে পারবেন।

Section 29B: Jurisdiction in the case of juveniles-
Any offence, other than one punishable with death or transportation for life, committed by any person who at the date when he appears or is brought before the Court is under the age of fifteen years, may be tried by Chief Judicial Magistrate or the Chief Metropolitan Magistrate, or by any Magistrate specially empowered by the Government to exercise the powers conferred by or under any law providing for the custody, trial or punishment of youthful offenders, by any Magistrate empowered by or under such law to exercise all or any of the powers conferred thereby.
৮,৪৩১.
ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলের কোন কলামে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করা হয়?
  1. ১ম কলাম
  2. ২য় কলাম
  3. ৩য় কলাম
  4. ৪র্থ কলাম
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলের ১ম কলাম-এ দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করা হয়।
- প্রথম কলামে পেনাল কোডের অধীন সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ উল্লেখ করা হয়, যা অপরাধের ধরন এবং শাস্তির বিধান বর্ণনা করে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলে মোট ৮টি কলাম রয়েছে। 
দ্বিতীয় তফসিল- (Second Schedule)
১ম কলাম- পেনাল কোডের অধীন ধারাসমূহ।
২য় কলাম- অপরাধ।
৩য় কলাম- পরোয়ানা ছাড়া পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে কি পারে না অর্থাৎ আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ।
৪র্থ কলাম- প্রথমেই সমন বা ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হবে কিনা।
৫ম কলাম- অপরাধটি জামিনযোগ্য নাকি জামিন-অযোগ্য।
৬ষ্ঠ কলাম- অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য (Compoundable) কিনা।
৭ম কলাম- দণ্ডবিধির অধীন উল্লিখিত শাস্তি।
৮ম কলাম- যে আদালত কর্তৃক অপরাধটি বিচারযোগ্য।
৮,৪৩২.
নিঃস্ব হিসেবে আপিল করার অনুমতির জন্য আবেদনের তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের ১৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে নিঃসম্বল হিসাবে আপিল করার অনুমতির দরখাস্ত (for leave to appeal as pauper) দাখিলের তামাদির মেয়াদ ৩০ দিন।
- তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ ১৭০ অনুসারে, নিঃস্ব (pauper) হিসেবে আপীল করার অনুমতির জন্য আবেদন দাখিলের তামাদি মেয়াদ হলো ৩০ দিন। এই সময়সীমা গণনা শুরু হয় সেই ডিক্রি বা আদেশের তারিখ থেকে, যার বিরুদ্ধে আপীল করা হবে।

৮,৪৩৩.
আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত কোন আপত্তি সর্বপ্রথম কোথায় উত্থাপন করতে হবে ?
  1. যে আদালতে প্রথমে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়
  2. জেলা জজের নিকট
  3. আপিল আদালতে
  4. ক বা গ
ব্যাখ্যা
• ধারা-২১ (এখতিয়ারে আপত্তি)-

যে আদালতে প্রথমে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়, সেই আদালতে প্রথম সম্ভাব্য সুযোগ এবং বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করার সময় বা পূর্বে আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত কোন আপত্তি থাকলে তা উত্থাপন করতে হবে। যদি তা না করা হয় এবং ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্য ব্যাহত না হলে কোন আপীল বা রিভিশন আদালত মামলা দায়ের স্থান সম্পর্কে কোন আপত্তি গ্রহণ করবে না।
কিন্তু ন্যায় বিচার ব্যাহত হলে এবং ন্যায় বিচারের স্বার্থে, আপীল বা রিভিশনের সময় আদালত এখতিয়ার সংক্রান্ত আপত্তি গ্রহণ করতে পারে।

Sec.-21: Objections to jurisdiction-
No objection as to the place of suing shall be allowed by any appellate or revisional Court unless such objection was taken in the Court of first instance at the earliest possible opportunity and in all cases where issues are settled at or before such settlement, and unless there has been a consequent failure of justice.
৮,৪৩৪.
দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ম দায়রা জজ কে নিয়োগ করতে পারেন?
  1. সুপ্রিম কোর্ট
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. সরকার
ব্যাখ্যা
⇒ দায়রা আদালতের শ্রেণীবিভাগ- ফৌজদারি কার্যবিধির ৯ ধারামতে দায়রা আদালতে তিন ধরণের বিচারক থাকে। যথা-
ⅰ) দায়রা জজ (Sessions Judge);
ii) অতিরিক্ত দায়রা জজ (Additional Sessions Judge);
iii) যুগ্ম দায়রা জজ (Joint Sessions Judge)।

ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা-৯(৩ক): দায়রা আদালতের বিচারক নিয়োগ- সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দ্বারা প্রনীত বিধি সাপেক্ষে দায়রা আদালতের বিচারকগণকে অর্থাৎ দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ ও যুগ্ম দায়রা জজকে জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হয়।

⇒অর্থাৎ দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ম দায়রা জজ রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করতে পারেন।
-------------------------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section 9: Court of Sessions:
(1) The Government shall establish a Court of Session for every sessions division, and appoint a judge of such Court ; and the Court of Session for  Metropolitan Area shall be called the Metropolitan Court of Session.

(2) The Government may, by general or special order in the official Gazette, direct at what place or places the Court of Session shall hold its sitting; but, until such order is made, the Courts of Session shall hold their sittings as heretofore. 
(3) The Government may also appoint Additional Sessions Judges and Assistant Sessions Judges to exercise jurisdiction in one or more such Courts. 

 (3A) The members of the Bangladesh Judicial Service shall be appointed as Sessions Judge, Additional Sessions Judge and Joint Sessions Judge in accordance with the rules framed by the President under the proviso to Article 133 of the constitution to exercise jurisdiction in one or more of such areas.

(4) A Sessions Judge of one sessions division may be appointed by the Government to be also an Additional Sessions Judge of another division, and in such case he may sit for the disposal of cases at such place or places in either division as the Government may direct. 
(5) All Courts of Session existing when this Code comes into force shall be deemed to have been established under this Act.
৮,৪৩৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১৫, বিধি-১ অনুসারে পক্ষগণ বিরোধী না হলে আদালত কী করবে?
  1. প্রমাণ গ্রহণ করবে
  2. মামলা স্থগিত করবে
  3. পক্ষকে নোটিশ জারি করবে
  4. তৎক্ষণাৎ রায় ঘোষণা করবে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১৫, বিধি-১ এ বলা হয়েছে- যদি মামলার প্রথম শুনানির দিনে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, পক্ষগণ (বাদী ও বিবাদী) আইনগত বা তথ্যগত কোনো প্রশ্নে বিরোধী নয়, অর্থাৎ তারা কোনো বিষয়ে বিতর্ক করছে না, তাহলে আদালত প্রমাণ গ্রহণ, সাক্ষ্যগ্রহণ বা আরও শুনানির প্রয়োজনীয়তা ব্যতিরেকে তৎক্ষণাৎ রায় দিতে পারে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ORDER-XV এর Rule-1 অনুসারে, প্রথম শুনানিতে যদি পক্ষগণ কোন প্রশ্নে বিরোধী না হন, তাহলে আদালত তৎক্ষণাৎ রায় ঘোষণা করতে পারেন। এটি তখন ঘটে যখন পক্ষগণ কোন আইনগত বা তথ্যগত প্রশ্নে বিরোধী না হন এবং তাদের মধ্যে কোনো বিতর্ক নেই।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- ORDER-XV, Rule-1 :Parties not at issue.
- Where at the first hearing of a suit it appears that the parties are not at issue on any question of law or of fact, the Court may at once pronounce judgment.
৮,৪৩৬.
ধারা-১২৩ এর অধীন গঠিত বিধি প্রণয়ন কমিটিতে মোট কতজন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক থাকবে?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৪ জন
ব্যাখ্যা
• ধারা-১২৩ অনুযায়ী, সর্বমোট ৬ জন সদস্য নিয়ে বিধি প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়। সদস্যগণ হলো-
ক. সুপ্রীম কোর্টের তিন (৩) জন বিচারক নিয়ে যাদের মধ্যে একজন সর্বনিম্ন (৩ বছর জেলা জজ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছে;
খ. উক্ত আদালতে অ্যাডভোকেট হিসাবে প্রাক্টিস করছে এমন ২ জন অ্যাডভোকেট;
গ. হাইকোর্ট বিভাগের অধীনস্থ দেওয়ানী আদালতের একজন বিচারক।

• সদস্যগণের নিয়োগ:
এই কমিটির সদস্যরা প্রধান বিচারপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হবে এবং তিনি উক্ত কমিটির সভাপতি মনোনীত করবে এবং সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দিবে।এই কমিটির প্রত্যেক সদস্য প্রধান বিচারপতি কর্তৃক উল্লেখিত মেয়াদ পর্যন্ত পদে বহাল থাকবে।
৮,৪৩৭.
একজন আদিবাসী রায়ত তার জমি উইলের মাধ্যমে আদিবাসী নয়, এমন কোনো ব্যক্তির কাছে কীভাবে হস্তান্তর করতে পারে?
  1. ভূমি ট্রাইব্যুনালের অনুমতি সাপেক্ষে
  2. নিজের গোষ্ঠি প্রধানের অনুমতি সাপেক্ষে
  3. রাজস্ব কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে
  4. কোনরকম অনুমতি ছাড়া হস্তান্তর করতে পারে
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ এবং প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর ৯৭ ধারায় আদিবাসীদের ভূমি হস্তান্তরে বাধানিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
 
৯৭(২) ধারায় বলা হয়েছে,
আদিবাসী রায়ত কর্তৃক কোন হোল্ডিং বা উহার কোন অংশে তার অধিকার হস্তান্তর বৈধ হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না এমন হস্তান্তর করা হয়, অন্যকোন স্থায়ীভাবে বসবাসরত আদিবাসীর নিকট। অর্থাৎ আদিবাসীরা আদিবাসীদের কাছে জমি বিক্রি বা অন্য কোনভাবে হস্তান্তর করতে চাইলে অনুমতি ছাড়াই তা করতে পারে।
 
৯৭(৩) ধারায় বলা হয়েছে,
যদি কোন আদিবাসী রায়ত হোল্ডিং বা হোল্ডিং-এর কোন অংশ ব্যক্তিগত বিক্রয়, দান বা উইলের মাধ্যমে এমন কোন ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করতে চাই যে আদিবাসী না, সে রেভিনিউ কর্মকর্তা বা রাজস্ব কর্মকর্তার নিকট অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারে এবং রাজস্ব কর্মকর্তা এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারে। ৯৭ (৩) ধারায় উল্লেখিত এমন ধরণের জমি হস্তান্তর অবশ্যই নিবন্ধিত দলিল) যারা সম্পাদিত হতে হবে। অর্থাৎ অআদিবাসীরা আদিবাসীদের নিকট হতে ভূমি ক্রয় বা দান বা উইল গ্রহণ করতে চাইলে, অবশ্যই রাজস্ব কর্মকর্তা বা স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি)র কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।
 
উল্লেখ্য, ৯৭ ধারায় উল্লেখিত বিধান লঙ্ঘনপূর্বক কোন ভূমি হস্তান্তর করলে উক্ত হস্তান্তর বাতিল বলে গণ্য হবে (ধারা ৯৭(৭))।
৮,৪৩৮.
কোন ক্ষেত্রে ডিক্রির নকল গ্রহণের সময় তামাদির মেয়াদ গণনা থেকে বাদ দিতে হবে?
  1. শুধুমাত্র আপিলের ক্ষেত্রে
  2. শুধুমাত্র পুনরীক্ষণের ক্ষেত্রে
  3. ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে
  4. আপিল ও পুনরীক্ষণ উভয়ের ক্ষেত্রেই
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ১২ ধারা- আইনানুগ কার্যধারায় যেই পরিমাণ সময় গণনা হইতে বাদ দিতে হইবে:
(১) কোন মামলা আপীল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেইদিন হইতে উক্ত মেয়াদ গণনা করিতে হইবে সেই দিন বাদ দিতে হইবে।

(২) কোন আপীল, আপীলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেই রায় সম্পর্কে অভিযোগ করা হইবে তাহা যেইদিন ঘোষণা করা হইয়াছে সেইদিন এবং যে ডিক্রী, দন্ডাদেশ বা আদেশ সম্পর্কে আপীল করা হইবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হইবে, তাহার নকল গ্রহণ করিতে যেইসময় আবশ্যক, তাহা বাদ দিতে হইবে।

(৩) যেইক্ষেত্রে ডিক্রী সম্পর্কে আপীল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রী যে রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত সেই রায়ের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহাও বাদ দিতে হইবে।

(৪) কোন রোয়েদাদ নাকচ করিবার দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, রোয়েদাদের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহা বাদ দিতে হইবে।
৮,৪৩৯.
'ক', 'গ'- এর বিনা সম্মতিতে একটি কুকুরকে 'গ'-এর প্রতি ঝাঁপিয়ে পড়তে লেলিয়ে দেয়। এইক্ষেত্রে 'ক', 'গ'-কে জখম, ভীত ও বিরক্ত করার ইচ্ছা থাকলে সে 'গ'-এর প্রতি __________ করেছে বলে পরিগণিত হবে।
  1. আক্রমণ
  2. আঘাত
  3. অপরাধজনক বল প্রয়ােগ
  4. দস্যুতা
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৫০- অপরাধজনক বলপ্রয়ােগ:
কোন লােক যদি কোন অপরাধ সংঘটন করার উদ্দেশ্যে কোন লােকের প্রতি ঐ লােকের বিনা সম্মতিতে বলপ্রয়ােগ করে, বা এরূপ বল প্রয়ােগের সাহায্যে যে লােকের প্রতি বল প্রয়ােগ করা হয় সে লােকের জখম ভীতি বা বিরক্তি উদ্ভব করার অভিপ্রায়ে, বা সে লােকের ক্ষতি, ভীতি বা বিরক্তি উদ্ভব করার আশংকা আছে জেনে, তার বিনা সম্মতিতে তার প্রতি বল প্রয়ােগ করে, সে লােক ঐ অপর লােককে অপরাধজনক বলপ্রয়ােগ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

উদহারণ:
'ক', 'গ'- এর বিনা সম্মতিতে একটি কুকুরকে 'গ'-এর প্রতি ঝাঁপিয়ে পড়তে লেলিয়ে দেয়। এইক্ষেত্রে 'ক', 'গ'-কে জখম, ভীত ও বিরক্ত করার ইচ্ছা থাকলে সে 'গ'-এর প্রতি অপরাধজনক বল প্রয়ােগ করেছে বলে পরিগণিত হবে।
৮,৪৪০.
অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবৎ করার মামলার তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হয়-
  1. ক্রেতার দখল গ্রহণের দিন থেকে
  2. বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রিকরণের দিন থেকে
  3. ক্রেতার আদালতে উপস্থিতির দিন থেকে
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
• অনুচ্ছেদ ১০- অগ্রক্রয়ের অধিকার [Right to pre-emption] বলবৎ এর মামলা:

তামাদি- ১ বছর।

সময় গণনা শুরু- যখন ক্রেতা যে বিক্রয়ের‌ বিরুদ্ধে মামলা করা হবে সেই বিক্রিত সমস্ত সম্পত্তিতে প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণ করে বা যে ক্ষেত্রে বিক্রয়ের বিষয়বস্তু প্রত্যক্ষ দখল স্বীকার করে না, সেক্ষেত্রে বিক্রয় দলিল যখন রেজিস্ট্রিকৃত হয়।

⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে অগ্রক্রয়ের (preemption) অধিকার কার্যকরের মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ১ বছর। এই মেয়াদ শুরু হবে যখন ক্রেতা যে বিক্রয়ের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে সেই বিকৃত সমস্ত সম্পত্তিতে প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণ করে বা যে ক্ষেত্রে বিক্রয়ের বিষয়বস্তু প্রত্যক্ষ দখল স্বীকার করেন না, সেক্ষেত্রে বিক্রয় দলিল যখন রেজিস্ট্রিকৃত হয় তখন থেকে। অর্থাৎ, ক্রেতার দখল গ্রহণ অথবা দখল সম্ভব না হলে বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার দিন থেকে ১ বছরের মধ্যে অগ্রক্রয়ের (pre-emption) অধিকার কার্যকরের মামলা দায়ের করতে হবে।
৮,৪৪১.
যদি একটি চুক্তির একটি বড় অংশ অপূর্ণ থাকে বা ক্ষতিপূরণ দ্বারা প্রতিস্থাপন সম্ভব না হয়, তাহলে আদালত কখন যেটুকু সম্ভব সেই অংশের জন্য চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিতে পারে?
  1. বাদী পক্ষ বাকী অংশের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করলে
  2. বাদী পক্ষ বাকী অংশের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি না করলে
  3. বাদী পক্ষ বাকি অংশের বাস্তবায়নের দাবি না করলে
  4. খ এবং গ
ব্যাখ্যা
ধারা ১৫:
যদি একটি চুক্তির কোনো পক্ষ তার দায়িত্বের সবটুকু পালন করতে না পারে এবং যেই অংশটুকু অপূর্ণ থাকবে, সেটি চুক্তির একটি বড় অংশ হয় অথবা অর্থ প্রতিস্থাপন সম্ভব না হয়, তাহলে সেই পক্ষ সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নের জন্য রায় পাওয়ার যোগ্য নয়। তবে অন্য পক্ষের মামলায়, আদালত বিলম্বকারী পক্ষকে যেটুকু সম্ভব তাই সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার নির্দেশ দিতে পারে, যদি বাদী পক্ষ আরো কোনো বাস্তবায়নের দাবি না করে এবং বিবাদী পক্ষের বিলম্বের কারণে হওয়া ক্ষতি বা ক্ষয়ের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি না করে।

[Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, and the part which must be left unperformed forms a considerable portion of the whole, or does not admit compensation in money, he is not entitled to obtain a decree for specific performance. But the Court may, at the suit of the other party, direct the party in default to perform specifically so much of his part of the contract as he can perform, provided that the plaintiff relinquishes all claim to further performance, and all right to compensation either for the deficiency, or for the loss or damage sustained by him through the default of the defendant.]

এই নীতি অনুসারে,
যদি একটি চুক্তির একটি বড় অংশ অপূর্ণ থাকে বা ক্ষতিপূরণ দ্বারা প্রতিস্থাপন সম্ভব না হয়, তাহলে আদালত পুরোপুরি সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নের রায় দিতে পারবে না। কারণ এক্ষেত্রে পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবে আদালত যেটুকু সম্ভব, সেইটুকুর জন্য সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিতে পারে, যদি বাদী পক্ষ বাকী অংশের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি না করে এবং আরো কোনো বাস্তবায়নের দাবি না করে। অর্থাৎ বাদীকে সীমিত বাস্তবায়নই গ্রহণ করতে হবে।
৮,৪৪২.
Representative Suit-এর ক্ষেত্রে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকলকে কার খরচে নোটিশ দেওয়া হয়?
  1. আদালতের
  2. বাদীর
  3. বিবাদীর
  4. নিজ নিজ খরচে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১ নং আদেশের ৮ নং বিধিতে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা (Representative Suit) এর বিধান রয়েছে। যদি অনেক ব্যক্তির একই স্বার্থ থাকে, তবে আদালতের অনুমতিক্রমে, এক বা একাধিক ব্যক্তি সকলের পক্ষে মামলা করতে পারে। এভাবে তারা অন্যান্যদের প্রতিনিধিত্ব করে। 

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১ বিধি ৮ এর বিধান: একই ব্যক্তি একই স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষে মামলা করতে বা আত্মপক্ষ সমৰ্থন করতে পারে:
(১) যেক্ষেত্রে কোন মামলায় বহু সংখ্যক লোকের একই রূপ স্বার্থ নিহিত থাকে, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতিক্রমে এরূপ এক বা একাধিক ব্যক্তি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির পক্ষে বা উপকারার্থে এরূপ মামলা করতে বা মামলায় বিবাদী হতে বা অভিযোগের জবাব দিতে পারে। কিন্তু এরূপ ক্ষেত্রে আদালত বাদীর খরচায় অনুরূপ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকলকে মামলা দায়ের সম্পর্কে ব্যক্তিগত জারীর মাধ্যমে নোটিশ প্রদান করবেন। যেক্ষেত্রে লোকের সংখ্যাধিক্যের বা অন্য কোন কারণে এরূপ নোটিশজারী যুক্তসঙ্গতভাবে উপযোগী না হয়, গণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে, প্রত্যেকক্ষেত্রে আদালত যে ভাবেই নির্দেশ দেন।

(২) উপ-বিধি (১) অনুসারে যে কোন ব্যক্তি যাদের পক্ষে বা উপকারার্থ কোন মামলা দায়ের করা হয়েছে বা অভিযোগের জবাব দেয়া হয়েছে, এরূপ মামলায় পক্ষ হওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করতে পারে।

৮,৪৪৩.
রেজিস্ট্রার কোনো দলিল নিবন্ধন করতে অস্বীকৃতি জানালে, এর প্রতিকার কী?
  1. হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের
  2. দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা দায়ের
  3. হাইকোর্ট বিভাগে পিটিশন দায়ের
  4. কোনো প্রতিকার নেই
ব্যাখ্যা
• The Registration Act, 1908 এর ৭৭ ধারা: রেজিস্ট্রার কর্তৃক অগ্রাহ্যের আদেশের ক্ষেত্রে মামলা:
(১) যেক্ষেত্রে রেজিস্ট্রার ধারা ৭২ বা ধারা ৭৬ এর অধীন দলিল নিবন্ধনের জন্য আদেশ প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন, সেইক্ষেত্রে উক্ত দলিলের কোন গ্রহীতা, তাহার প্রতিনিধি, মনোনীত ব্যক্তি বা এজেন্ট উক্ত অগ্রাহ্যের আদেশ প্রদানের পর ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে যে দেওয়ানি আদালতের আদি এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে অবস্থিত কার্যালয়ে দলিলটি নিবন্ধনের জন্য দাখিল করা হইয়াছিল, সেই কার্যালয়ে দলিলটি নিবন্ধিত হওয়ার নির্দেশ-সংবলিত ডিক্রি লাভের উদ্দেশ্যে উক্ত আদালতে মামলা দায়ের করিতে পারিবেন, যদি এইরূপ ডিক্রি প্রদানের পর ত্রিশ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য দলিলটি যথাযথরূপে দাখিল করা হয়।

তবে শর্ত থাকে যে, মামলা দায়ের করিতে ব্যর্থতা বা এই ধারার অধীন দায়েরকৃত মামলার খারিজ হইয়া যাওয়া, পক্ষকে অন্য কোন প্রতিকার পাওয়ার অধিকার হইতে বঞ্চিত করিবে না, যাহা তিনি অনিবন্ধিত দলিলের ভিত্তিতে পাইতে পারিতেন।

(২) প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ ধারা ৭৫ এর উপ-ধারা (২) ও (৩) এ বর্ণিত বিধানাবলি এইরূপ কোন ডিক্রি অনুসারে নিবন্ধনের জন্য দাখিলকৃত সকল দলিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে, এবং, এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, দলিলটি উক্তরূপ মামলায় সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হইবে।

Section 77- Suit in case of order of refusal by Registrar: 
(1) Where the Registrar refuses to order the document to be registered, under section 72 or section 76, any person claiming under such document, or his representative, assign or agent, may, within thirty days after the making of the order of refusal, institute in the Civil Court, within the local limits of whose original jurisdiction is situate the office in which the document is sought to be registered, a suit far a decree directing the document to be registered in such office if it be duly presented for registration within thirty days after the passing of such decree: 
Provided that failure to file a suit or the dismissal of a suit filed under this section shall not disentitle a party to any other remedy to which he may be entitled, on the basis of the unregistered document. 
 
(2) The provisions contained in sub-sections (2) and (3) of section 75 shall, mutatis mutandis, apply to all documents presented for registration in accordance with any such decree, and, notwithstanding anything contained in this Act, the document shall be receivable in evidence in such suit.
৮,৪৪৪.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী লিখিত জবাব দাখিলের জন্য সর্বাধিক সময়সীমা কত?
  1. এক মাস
  2. দুই মাস
  3. তিন মাস
  4. ছয় মাস
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর অর্ডার ৮, ধারা ১ অনুযায়ী, লিখিত জবাব দাখিলের জন্য সর্বাধিক সময়সীমা হল দুই মাস।
এটি আদালতের অনুমতি বা অন্য কোন ব্যতিক্রম না থাকলে, বিবাদী প্রথম শুনানির সময় বা তার পূর্বে বা আদালতের অনুমতিক্রমে অনধিক দুই মাসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে পারেন।
তবে, আদালত বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সময়সীমা বৃদ্ধি করতে পারেন বা শর্ত সাপেক্ষে দাখিলের অনুমতি দিতে পারেন।

⇒ বিবাদীর সমন প্রাপ্তির পর ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হবে। ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দাখিলে ব্যর্থ হলে, আদালত আরো ৩০ কার্যদিবস পর্যন্ত সময় দিতে পারে। লিখিত জবাব দাখিলের জন্য বিবাদী সর্বমোট ৬০ কার্যদিবস পর্যন্ত সময় পেতে পারেন।

⇒ বিবাদী যদি ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মামলাটি একতরফা নিষ্পত্তি হবে। বিবাদী লিখিত জবাব দাখিলে ব্যর্থ হয়ার কারণে একতরফা নিষ্পত্তি করলে আপিল করা যাবে।

⇒ সাক্ষ্য হিসাবে দাবির সমর্থনে ব্যবহারের জন্য বিবাদীর দখলে থাকা দলিলসমূহ লিখিত জবাব পেশ করার সময় আদালতে হাজির করবেন এবং তখন দলিলগুলো লিখিত জবাবের সাথে নথিভুক্ত করবেন। তবে উক্ত দলিল দখলে না থাকলে, সেক্ষেত্রে লিখিত বিবৃতির সাথে দলিলাদির তালিকা অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং উক্ত দলিলসমূহ কার দখলে আছে তা বর্ণনা করবেন। এরুপ দলিলসমূহ লিখিত জবাব দাখিলের সময় তালিকাভুক্ত না করলে পরবর্তীতে আদালতের অনুমতি ছাড়া সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হবে না।

৮,৪৪৫.
The Code of Civil Procedure, Section 22 অনুসারে, কোন পক্ষ স্থানান্তরের জন্য আবেদন করতে পারে?
  1. বাদী
  2. আদালত
  3. বিবাদী
  4. দুই পক্ষের সম্মতি থাকলে সাক্ষী
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ২২ থেকে ২৪ পর্যন্ত মোকদ্দমা স্থানান্তরের বিধান রয়েছে।
- ধারা ২২ এ যে মোকদ্দমাটি একের অধিক আদালতে দায়েরযোগ্য তা স্থানান্তরের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
এ ধারায় শুধুমাত্র বিবাদী মোকদ্দমা স্থানান্তরের আবেদন করতে পারে যদি মোকদ্দমাটি দুই বা ততোধিক আদালতের যে কোন একটিতে দায়েরযোগ্য হয় এবং তার মধ্যে যে কোন একটি আদালতে দায়ের করা হয়।

- যখন আবেদন করতে পারে: যে কোন বিবাদী অপর পক্ষকে নোটিশ দিয়ে প্রথম সম্ভাব্য সুযোগে এবং যে ক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় নির্ধারণ হয়ে গেছে, সেই ক্ষেত্রে বিচার্য বিষয় নির্ধারণের সময় বা তার পূর্বে অপর একটি আদালতে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করতে পারবে। আদালত এইরুপ আবেদন পাওয়ার পর অপর পক্ষের আপত্তি (যদি থাকে) শ্রবণ করে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতসমূহের কোনটিতে মামলা অগ্রসর হবে তা স্থির করবে।
----------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section 22: Power to transfer suits which may be instituted in more than one Court-
Where a suit may be instituted in any one of two or more Courts and is instituted in one of such Courts, any defendant, after notice to the other parties, may, at the earliest possible opportunity and in all cases where issue are settled at or before such settlement, apply to have the suit transferred to another Court and the Court to which such application is made, after considering the objections the other parties (if any), shall determine which of the several 31 Courts having jurisdiction the suit shall proceed.
৮,৪৪৬.
তামাদি আইনের ২০ ধারা প্রযোজ্য হবে-
  1. ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে
  2. সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রে
  3. ক এবং খ উভয়
  4. উপরের কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ২০ ধারামতে কোন দেনা তামাদি হবার পূর্বেই যদি দেনাদার দেনার স্বীকৃতিস্বরূপ কোন অর্থ পাওনাদারকে দিয়ে থাকে তাহলে, সেক্ষেত্রে যে তারিখ উক্ত অর্থ প্রদান করা হয়েছিল সে তারিখ হতেই তামাদির সময়সীমা নতুনভাবে হিসাব করতে হবে।

সুতরাং ২০ ধারা অনুযায়ী-
ঋণ বা দেনার ক্ষেত্রে তামাদির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই আংশিকভাবে কোন ঋণ বা সুদ পরিশোধ করলে, উক্ত অর্থ প্রদানের তারিখ থেকে নতুন করে তামাদির সময় শুরু হয়। অর্থাৎ কোন দেনা আংশিক পরিশোধ করলে পরিশোধের তারিখ হতে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে।তবে এই ক্ষেত্রে দেনা পরিশোধ অবশ্যই লিখিত এবং স্বাক্ষরিত হতে হবে।

Section 20: Effect of payment on account of debt as of interest on legacy-

(1) Where payment on account of a debt or of interest on a legacy is made before the expiration of the prescribed period by the person liable to pay the debt or legacy, or by his duly authorized agent, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the payment was made: 
 
Provided that, save in the case of a payment of interest made before the 1st day of January, 1928, an acknowledgment of the payment appears in the handwriting of, or in a writing signed by the person making the payment.
৮,৪৪৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৫ ধারা অনুযায়ী সমন জারির মাধ্যমে তলবকৃত ব্যক্তিগণ-
  1. সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য
  2. উপস্থিত থাকতে বাধ্য
  3. উপস্থিত থাকতে বাধ্য নন
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
•ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৫ ধারা পুলিশকে কতিপয় ব্যক্তিবর্গকে সমন করার ক্ষমতা প্রদান করেছে-

(১) ধারা-১৭৪ মতে অগ্রসর হতেছেন এরূপ পুলিশ কর্মকর্তা লিখিত আদেশ দ্বারা কথিত তদন্তের প্রয়োজনে দুই বা ততোধিক ব্যক্তিকে এবং যিনি ঘটনার তথ্যাবলীর সহিত পরিচিত বলে মনে হয় এরূপ না কোন ব্যক্তিকে,সমন করতে পারেন এবং এরূপে সমনপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তি হাজিরা দিতে এবং যে সব প্রশ্নের উত্তর তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী অভিযোগ আনয়ন করতে বা তাকে দণ্ডিত করতে বা তার অধিকার হরণ করতে চাইতে পারে এরূপ প্রশ্ন ব্যতীত যাবতীয় প্রশ্নের সত্য উত্তর প্রদান করতে বাধ্য।
(২) তথ্যাদি যদি এরূপ আমলযোগ্য অপরাধ প্রকাশ না করে যাতে ধারা-১৭০ প্রযোজ্য,তাহলে পুলিশ অফিসার ঐরূপ ব্যক্তিবর্গকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দিতে অনুরোধ করবেন না।

[Power to Summon Persons]
(1) A police-officer proceeding under section 174 may, by order in writing summon two or more persons as aforesaid for the purpose of the said investigation, and any other person who appears to be acquainted with the facts of the case. Every person so summoned shall be bound to attend and to answer truly all questions other than questions the answers to which would have a tendency to expose him to a criminal charge, or to a penalty or forfeiture. 
(2) If the facts do not disclose a cognizable offence to which section 170 applies, such persons shall not be required by the police-officer to attend a Magistrate's Court.

অর্থাৎ সমন জারির মাধ্যমে তলবকৃত ব্যক্তিগণ হাজিরা দিতে বাধ্য কিন্তু সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নয়।
৮,৪৪৮.
জেলা কালেক্টরের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে-
  1. হাইকোর্টে
  2. ভূমি মন্ত্রণালয়ে
  3. ভূমি প্রশাসন বোর্ডে
  4. বিভাগীয় কমিশনারের কাছে
ব্যাখ্যা
ধারা ১৪৭: আপিল (Appeals):
এই অংশে বা এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধিমালায় আপিল সংক্রান্ত যেকোনো বিশেষ বিধানের অধীন থাকা সাপেক্ষে, এই অংশের অধীন রাজস্ব কর্মকর্তার দ্বারা গৃহীত প্রতিটি মূল বা আপিল আদেশের বিরুদ্ধে নিম্নরূপভাবে আপিল করা যাবে—

(ক) যদি আদেশ কোনো কালেক্টরের অধীনস্থ রাজস্ব কর্মকর্তা দ্বারা প্রদান করা হয়ে থাকে, তবে আপিল করা যাবে জেলা কালেক্টরের কাছে;

(ক)(১) যদি আদেশ জেলা কালেক্টর দ্বারা প্রদান করা হয়ে থাকে, তবে আপিল করা যাবে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে;

(গ) যদি আদেশ বিভাগীয় কমিশনার দ্বারা প্রদান করা হয়ে থাকে, তবে আপিল করা যাবে ভূমি প্রশাসন বোর্ড (Board of Land Administration)-এর কাছে।
৮,৪৪৯.
Marz-ul-Maut বলতে কী বোঝায়? 
  1. মৃত্যুর পর সম্পত্তি হস্তান্তর
  2. মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা
  3. মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া হুকুম
  4. মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে রোগ
ব্যাখ্যা

⇒ "মরজ-উল-মউত" (Marz-ul-Maut) একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ "মৃত্যুর অসুস্থতা" (death illness)। এটি এমন একটি শারীরিক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে ব্যক্তির পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই কম এবং মৃত্যু নিকটবর্তী। এই অবস্থায় কোনো ব্যক্তি যে হিবা (গিফট) বা উইল করে, তা মৃত্যুশয্যা লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং শরিয়া আইনের নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে বিতরণ করা হয়। এই সংজ্ঞাটি Fatima Bibee v. Ahmad Baksh (1904) মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে মরজ-উল-মউত হলো এমন রোগ যা ব্যক্তির মনে মৃত্যুর আশঙ্কা সৃষ্টি করে।
⇒ Fatima Bibee v. Ahmad Baksh, (1904):
-The Calcutta High Court held in this case that Marz-ul-Maut is death illness, or the patient is suffering from such disease which induces in the person suffering and a belief that death would be caused thereby.

⇒ অর্থাৎ মরজ-উল-মউত শব্দের অর্থ হলো মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা। তাই সঠিক উত্তর হলো খ) মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা।

৮,৪৫০.
স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার জন্য চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য কখন আদালতে জমা দিতে হয়?
  1. চুক্তি স্বাক্ষরের পর
  2. সম্পত্তির হস্তান্তরের সময়
  3. মোকদ্দমা রুজুর সময়
  4. রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারা- অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য:
এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রিয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের নিবন্ধন আইনের অধীন নিবন্ধিত হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা তার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।

Section 21A- Unregistered contract for sale not specifically enforceable:
Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless–
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof; and
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.
৮,৪৫১.
আইনানুগ অভিভাবকের নিকট হতে কত বছরের ছেলে বা মেয়েকে তাদের অভিভাবকের সম্মতি ব্যতীত অন্যত্র নিয়ে গেলে তা মনুষ্য হরণ হবে বিবেচিত হবে?
  1. ১৪ ও ১৮ বছর
  2. ১৪ ও ১৬ বছর
  3. ১২ ও ১৬ বছর
  4. ৯ ও ১২ বছর
ব্যাখ্যা
• দন্ডবিধির ৩৬১ ধারায় আইনগত অভিভাবকের নিকট থেকে মনুষ্যহরণের বিধান রয়েছে।
• ১৪ বছরের কম বয়স্ক কোন পুরুষ বা ১৬ বছরের কম বয়স্ক কোন নারী বা কোন অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তিকে আইনগত অভিভাবকের সম্মতি ব্যতীত তার তত্ত্বাবধান থেকে অন্যত্র নিয়ে গেলে তা আইনগত অভিভাবকের নিকট থেকে মনুষ্যহরণ বলে গণ্য হবে।
• বাংলাদেশ থেকে মনুষ্যহরণের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কোন বয়সের ব্যক্তিকে বাংলাদেশের বাহিরে নিয়ে যাওয়া বোঝায়।
৮,৪৫২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৪ ধারায় আদালত কখন পেশ করা দলিল বা বস্তু বাজেয়াপ্ত করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র অভিযুক্তের অনুরোধে
  2. অভিযোগকারীর অনুরোধে
  3. আদালত নিজে উপযুক্ত মনে করলে
  4. তদন্তকারী কর্মকর্তার অনুরোধে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৪ ধারা- পেশকৃত দলিলসমূহ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাঃ
যেকোনো আদালত, উপযুক্ত বিবেচনা করলে, এই কোড অনুসারে ইহার সমক্ষে পেশ করা যে কোন দলিল বা বস্তু বাজেয়াপ্ত করতে পারেন।
 
Section 104- Power to impound document, etc, produced:
Any Court may, if it thinks fit, impound any document or thing produced before it under this Code.
৮,৪৫৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৪ বিধি ৪ অনুযায়ী, আদালত সর্বাধিক কত দিনের জন্য বিচার্য বিষয় নির্ধারণ মুলতবি রাখতে পারে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৪ বিধি-৪- আদালত বিচার্য বিষয় প্রণয়নের পূর্বে সাক্ষীকে পরীক্ষা গ্রহণ বা দলিল পরিদর্শন করতে পারেন:
যদি আদালতের মতামত হয় যে, কোনো ব্যক্তি যার উপস্থিতি আদালতে নেই অথবা কোনো নথি যা মামলায় উপস্থাপন করা হয়নি তা পরীক্ষা করা ব্যতীত বিচার্য বিষয় (issues) যথাযথভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়, তবে আদালত বিচার্য বিষয় নির্ধারণের কাজ সর্বোচ্চ পনেরো (১৫) দিনের জন্য মুলতবি রাখতে পারে।
এছাড়াও, আদালত (তৎকালীন প্রচলিত কোনো আইনের বিধান সাপেক্ষে) যার কাছে সেই ব্যক্তি বা দলিল আছে, তাকে সমন বা অন্য কোনো পদ্ধতির মাধ্যমে হাজির করতে বা দলিল পেশ করতে বাধ্য করতে পারে।

৮,৪৫৪.
বাংলাদেশের আইনানুযায়ী, উইল বা ইচ্ছাপত্রের মাধ্যমে একজন হিন্দু নাবালক ও তার সম্পত্তির অভিভাবক নিয়োগ করতে পারবেন-
  1. পিতা
  2. মাতা
  3. আদালত
  4. পিতা এবং মাতা উভয়
ব্যাখ্যা
হিন্দু আইন ও অভিভাবকত্ব:
প্রাচীন হিন্দু আইনে একজনের ভালমন্দ বুঝার বয়স হলেই তাকে সাবালক বলে গণ্য করা হতো। দায়ভাগা মতে, একজনের বয়স ১৫ হলে ও মিতাক্ষরা মতে ১৬ বছর হলে সাবালক হয়। তবে ১৮৭৫ সালে "ভারতীয় সাবালকত্ব আইন" পাস হওয়ার পর থেকে কোন নারী বা পুরুষ ১৮ বছর পূর্ণ হলে সাবালক বলে গণ্য হয়। এ আইন বাংলাদেশে প্রযোজ্য। এ আইনে উল্লেখ আছে যে, হিন্দু ও মুসলিমদের ক্ষেত্রে বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ এবং দত্তক ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে এ আইন সমভাবে প্রযোজ্য হবে। হিন্দু আইনে অভিভাবকত্ব বলতে বুঝায়, নাবালকের জীবন ও বিষয়-সম্পত্তির নিরাপত্তা পরিচালনার দায়িত্ব আইনসম্মতভাবে পালন করাই হচ্ছে অভিভাবকত্ব।

হিন্দু আইন অনুযায়ী কিছু আইনগত ব্যাখ্যা নিম্নে তুলে ধরা হলঃ
- হিন্দু আইনে পিতা একমাত্র প্রকৃত ও স্বাভাবিক অভিভাবক এবং পিতার জীবিত অবস্থায় অন্য কেউ অভিভাবক হতে পারে না।

- পিতা যদি জীবিত থাকেন তবে সে যে কোন বয়সের নাবালকের দায়িত্ব ও অভিভাকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন ও তার অভিভাকত্বই মাতার চাইতে উর্ধ্বে থাকবে। তবে পিতা যদি দ্বিতীয় বিয়েতে আবদ্ধ হন সেক্ষেত্রে মাতা তার নাবালিকা কন্যার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন।

- যদি পিতা অনুপস্থিত বা অবর্তমান থাকে তবে মাতা তার নাবালিকা কন্যার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন।

- বাংলাদেশের আইনানুযায়ী হিন্দু বাবাই শুধুমাত্র উইল বা ইচ্ছাপত্রের মাধ্যমে একজন নাবালক ও তার সম্পত্তির অভিভাবক নিয়োগ করতে পারবেন। কিন্তু, একজন মা তার নাবালক সন্তানের অভিভাবক নিয়োগ করতে পারবেন না। তবে আদালত অনেক সময় একজন মায়ের ইচ্ছাকে সম্মান প্রদান করতে পারেন।

- মা তার অভিভাবকত্ব হারান যদি তিনি ধর্মান্তরিত হন।

- হিন্দু আইনে দত্তক নেবার আইনগত অধিকার আছে। দত্তক গ্রহণের পর নাবালক দত্তক পুত্রের অভিভাবকত্ব তার স্বাভাবিক পিতা-মাতার নিকট হতে দত্তক পিতা-মাতার নিকট বর্তায়। একজন দত্তক সন্তান প্রকৃত সন্তানের সমপরিমাণ সুযোগ-সুবিধা লাভ করবে।
৮,৪৫৫.
নিম্নের কোনটি গুরুতর আঘাত নয়?
  1. পুরুষত্বহীন করণ
  2. দুই কর্ণের যে কোন কোনটির শ্রবণশক্তি রহিতকরণ
  3. আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দশ দিন মেয়াদের জন্য তীব্র যন্ত্রণা দান করে
  4. যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্টসাধন
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার বিধান গুরুতর আঘাত:- শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই "গুরুতর" বলে পরিগণিত করা যায়:-
প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।
দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।
তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।
চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।
পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংস করণ বা চিরতরে খর্ব করণ।
ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।
সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।
অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।
-----------
⇒ Grievous hurt:
Section 320. The following kinds of hurt only are designated as "grievous":- 
Firstly.-Emasculation. 
Secondly.-Permanent privation of the sight of either eye. 
Thirdly.-Permanent privation of the hearing of either ear. 
Fourthly.-Privation of any member or joint. 
Fifthly.-Destruction or permanent impairing of the powers of any member or joint. 
Sixthly.-Permanent disfiguration of the head or face. 
Seventhly.-Fracture or dislocation of a bone or tooth. 
Eighthly.-Any hurt which endangers life or which causes the sufferer to be during the space of twenty days in severe bodily pain, or unable to follow his ordinary pursuits.
৮,৪৫৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৮ ধারা কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তি।
  2. বাংলাদেশের বাইরে কৃত অপরাধের বিচার।
  3. আদালতের আপিল প্রক্রিয়া।
  4. সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ।
ব্যাখ্যা
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৮৮ তে বাংলাদেশের বাইরে কৃত অপরাধের দায়দায়িত্ব সম্পর্কে বলা আছে।
- এই ধারা অনুসারে, যখন বাংলাদেশের কোন নাগরিক বাংলাদেশের সীমানার বাইরে কোন স্থানে কোন অপরাধ করে;অথবা যখন কোন ব্যক্তি বাংলাদেশে রেজিস্ট্রিকৃত কোন জাহাজ বা উড়োজাহাজে টা যেখানেই থাকুক না কেন, কোন অপরাধ করে ;তখন বাংলাদেশের যে স্থানেই তাকে পাওয়া যাবে সেই স্থানে অপরাধ সংঘটন করেছে বলে ধরে নিয়ে সেই মোতাবেক বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- এই সকল অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৮ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪ ধারা একত্রে মিলিয়ে পড়তে হয়। দণ্ডবিধির ৪ ধারায় রাষ্ট্রীয় অধিক্ষেত্রের বাইরে দণ্ডবিধির ব্যাপ্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে।
------------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-188. Liability for offences committed outside Bangladesh:
When a citizen of Bangladesh commits an offence at any place without and beyond the limits of Bangladesh, or 
When any person commits an offence on any ship or aircraft registered in Bangladesh wherever it may be, 
he may be dealt with in respect of such offence as if it had been committed at any place within Bangladesh at which he may be found:
Political Agents to certify fitness of inquiry into charge
Provided that notwithstanding anything in any of the preceding sections of this Chapter no charge as to any such offence shall be inquired into in Bangladesh except with the sanction of the Government: 
Provided, also, that any proceedings taken against any person under this section which would be a bar to subsequent proceedings against such person for the same offence if such offence had been committed in Bangladesh shall be a bar to further proceedings against him under the Extradition Act, 1974, in respect of the same offence in any territory beyond the limits of Bangladesh.
৮,৪৫৭.
যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মহিলার শাড়ি টান দেয় যাতে তার শালীনতাহানি ঘটে, তাহলে এটি দণ্ডবিধির কোন ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য?
  1. ধারা ৩৫২
  2. ধারা ৩৫২ক
  3. ধারা ৩৫৪
  4. ধারা ৩৫৪ক
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মহিলার উপর আক্রমণ বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে এবং তার শালীনতায় আঘাত দেয়ার উদ্দেশ্যে বা জ্ঞানসহকারে এটি করে, তাহলে তাকে শাস্তি প্রদান করা হয়।
- যেহেতু মহিলার শাড়ি টান দেয়ার মাধ্যমে তার শালীনতায় আঘাত করা হচ্ছে, এটি ধারা ৩৫৪ এর অধীনে শাস্তিযোগ্য, যার শাস্তি সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় হতে পারে।
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি: কোনো নারীর উপর আক্রমণ (assault) বা অপরাধমূলক বল (criminal force) প্রয়োগ করে উদ্দেশ্য বা জ্ঞানসহকারে যে এতে তার শালীনতায় আঘাত (outrage modesty) পড়বে, তাহলে অপরাধী সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। কারাদণ্ড (সশ্রম বা বিনাশ্রম) অথবা জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি একসাথে প্রযোজ্য।
------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 354. Assault or criminal force to woman with intent to outage her modesty:
Whoever assaults or uses criminal force to any woman, intending to outrage or knowing it to be likely that he will thereby outrage her modesty, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
৮,৪৫৮.
আপিলযোগ্য ডিক্রির অনুলিপি নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপন করা যাবে:
  1. যেকোনো সময়
  2. আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর
  3. ডিক্রি ঘোষণার দিন থেকে ৩ মাসের মধ্যে
  4. আপিল চূড়ান্ত হওয়ার দিন থেকে ৩ মাসের মধ্যে
ব্যাখ্যা
The Registration Act, 1908- ধারা ২৩: দলিল উপস্থাপনের সময়সীমা
ধারা ২৪, ২৫ ও ২৬-এ বর্ণিত বিধান সাপেক্ষে, কোনো দলিল (উইল ব্যতীত) নিবন্ধনের জন্য গৃহীত হবে না যদি না তা যথাযথ কর্মকর্তার নিকট উপস্থাপন করা হয় সম্পাদনের তারিখ হতে তিন মাসের মধ্যে।

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ডিক্রি বা আদেশের অনুলিপি নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপন করা যাবে:
- যদি তা আপিলযোগ্য না হয়, তাহলে উক্ত ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের দিন থেকে তিন মাসের মধ্যে;
- আর যদি তা আপিলযোগ্য হয়, তাহলে যখন তা চূড়ান্ত (final) হয়, সেই দিন থেকে তিন মাসের মধ্যে।
৮,৪৫৯.
দেওয়ানী কার্যবিধিতে মূল ডিক্রি হতে আপিলের বিধান আছে-
  1. আদেশ ৪০
  2. আদেশ ৪১
  3. আদেশ ৪৪
  4. আদেশ ৪৩
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪১  এর মাঝে মূল ডিক্রী হতে আপীল বিষয় বিধান আছে।
⇒ আদেশ ৪১-৪৫ এবং ধারা ৯৬-১১২ পর্যন্ত আপীল সংক্রান্ত বিধান আছে।
 
আপীল (Appeal)- মোকদ্দমার কোন পক্ষ বিচারিক আদালতের (Trial court) সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে উক্ত সিদ্ধান্ত বাতিল বা সংশোধনের জন্য ঐ সিদ্ধান্তের বিরূদ্ধে উচ্চ আদালতে যে আবেদন করে, তাকে আপীল বলে।
- আপীল হলো সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির মামলার রায় অনুমোদনযোগ্য কিনা তা পুনরায় নির্ধারণের জন্য নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালতে প্রেরণের অধিকার।
- অর্থাৎ আপীল হলো উচ্চ আদালত কর্তৃক নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিচারিক পুনঃমূল্যায়ন।
 
দেওয়ানী কার্যবিধির ৯৬ থেকে ১১২ ধারা পর্যন্ত দেওয়ানী মোকদ্দমার ক্ষেত্রে আপীলের বিধান উল্লেখ রয়েছে। নিম্নে দেওয়ানী মোকদ্দমার ক্ষেত্রে আপীলের বিধানসমূহ আলোচনা করা হলো-
ⅰ) মূল ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল: ধারা-৯৬ থেকে ৯৯, আদেশ-৪১;
ii) আদেশের বিরুদ্ধে আপিল: ধারা-১০৪ থেকে ১০৬, আদেশ-৪৩;
iii) আপীলের সাধারণ বিধানমসূহ: ধারা-১০৭ থেকে ১০৮;
iv) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল: ধারা-১০৯ থেকে ১১২; এবং
v) নিঃস্ব ব্যক্তির আপিল: আদেশ-৪৪।
৮,৪৬০.
যদি কোনো ব্যক্তি জোরপূর্বক তার জমি থেকে উচ্ছেদ হয়, তাহলে সে কত দিনের মধ্যে স্বত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে?
  1. ৬ মাস
  2. ১২ মাস
  3. ১২ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
→ উত্তর হবে গ) ১২ বছর।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৮ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি তার জমি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ হয়, তাহলে সে বেদখল হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ১২ বছরের মধ্যে স্বত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারথা
অর্থাৎ, তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুযায়ী, দখলের তারিখ থেকে ১২ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৮ অনুযায়ী,
সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি তা দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে নির্ধারিত পন্থায় পুনরুদ্ধার করতে পারে।

এক্ষেত্রে,
- বাদীকে স্বত্ব প্রমাণ করতে হবে;
- বেদখল হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ১২ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা করতে হবে;
- সরকার বাদী হলে ৬০ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে। (অনুচ্ছেদ-১৪৯)

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮: অনুচ্ছেদ ১৪২- যখন বাদী স্থাবর সম্পত্তির দখলে, তখন বাদী বেদখল হলে অথবা বাদী তার দখল ত্যাগ করলে, সেই সম্পত্তির দখল লাভের জন্য দখলের তারিখ হতে ১২ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হয়।
৮,৪৬১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২য় তফসিলের কোন কলামে 'আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ' সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ৩য়
  2. ৫ম
  3. ৭ম
  4. ৮ম
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৫টি তফসিল আছে। তার মধ্যে ২য় তফসিলটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ২য় তফসিলে মোট ৮টি কলাম রয়েছে, যা নিম্নরূপ-

• দ্বিতীয় তফসিল- (Second Schedule)

১ম কলাম- দণ্ডবিধির অধীন ধারাসমূহ;
২য় কলাম- অপরাধ;
৩য় কলাম- পরোয়ানা ছাড়া পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে কি,পারে না অর্থাৎ আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ;
৪র্থ কলাম- প্রথমেই সমন বা ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হবে কিনা;
৫ম কলাম- অপরাধটি জামিনযোগ্য নাকি জামিন-অযোগ্য;
৬ষ্ঠ কলাম- অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য (Compoundable) কিনা;
৭ম কলাম- দণ্ডবিধির অধীন উল্লিখিত শাস্তি;
৮ম কলাম- যে আদালত কর্তৃক অপরাধটি বিচারযোগ্য।
৮,৪৬২.
বাংলাদেশের মুদ্রা জাল করার শাস্তি কী?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  2. ১ বছরের কারাদণ্ড
  3. অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড
  4. ৬ মাসের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
- ২৩২ ধারা মতে বাংলাদেশের মুদ্রা জাল করার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
- কড়িসমূহ, স্ট্যাম্পবিহীন তাম্রখন্ড এবং পদকসমূহ মুদ্রা বলে গণ্য হবে না।
৮,৪৬৩.
মুসলিম আইনের সবচেয়ে উদার মতবাদ কোনটি?
  1. মালিকি
  2. হানাফি
  3. শাফেয়ি
  4. হাম্বলি
ব্যাখ্যা
মুসলিম আইনের চার প্রধান মতবাদ (Schools of Islamic Law):
মুসলিম আইনকে চারটি প্রধান সুন্নি মতবাদে বিভক্ত করা হয়েছে। এই মতবাদগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগে, এবং প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট ইমামের অনুসৃত পদ্ধতি ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।

হানাফি মতবাদ (Hanafi School)
- প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম আবু হানিফা (৭০২–৭৭২ খ্রিস্টাব্দ)।
- কুরআন ও হাদিসের পাশাপাশি ইজতিহাদ (ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ) এবং রায় ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেয়।
- হানাফি মতবাদ মুসলিম আইনের সবচেয়ে উদার ও সহনশীল।
- স্থানীয় প্রথা ও রীতিনীতি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

মালিকি মতবাদ (Maliki School)
- প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম মালিক ইবনে আনাস (৭১১–৭৯৫ খ্রিস্টাব্দ)।
- মদিনার মানুষের প্রথা এবং প্রাথমিক মুসলিম সমাজের রীতিনীতিকে আইনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- কুরআন ও হাদিস প্রধান উৎস, তবে মদিনার ঐতিহ্য এবং ইজমাও বিবেচ্য।

শাফেয়ি মতবাদ (Shafi'i School)
- ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফেয়ি (৭৬৭–৮২০ খ্রিস্টাব্দ)।
- কুরআন ও হাদিসকে প্রধান উৎস হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- ইজমা (মুসলিম সমাজের ঐক্যমত) এবং কিয়াস (যুক্তিগত বিশ্লেষণ) ব্যবহারের উপর জোর দেয়।

হাম্বলি মতবাদ (Hanbali School)

- ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (৭৮০–৮৫৫ খ্রিস্টাব্দ)।
- এটি সবচেয়ে রক্ষণশীল সুন্নি মতবাদ।
- কুরআন ও হাদিস ছাড়া অন্য কোনো উৎসকে খুব কম গ্রহণ করে।
৮,৪৬৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫১৭ অনুযায়ী, কোনো আদালত কোনো সম্পত্তি নিষ্পত্তির আদেশ দিলে, সাধারণত কত দিন পর্যন্ত সেই আদেশ কার্যকর করা যাবে না?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ১ মাস
  4. ৩ মাস
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫১৭(৩) অনুযায়ী, আদালত যদি কোনো সম্পত্তি ধ্বংস, বাজেয়াপ্তি বা হস্তান্তরের আদেশ দেয়, তবে সেই আদেশ এক মাস পর্যন্ত কার্যকর করা যাবে না, অথবা যদি আপিল দাখিল করা হয়, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদেশ কার্যকর হবে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫১৭- যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা হস্তান্তরের আদেশ:
(১) কোন ফৌজদারি আদালতে কোন ইনকোয়ারি বা বিচার শেষ হবার উপর উক্ত আদালতে পেশকৃত বা উহার হেফাজতে রক্ষিত কোন সম্পত্তি বা দলিল, যা সম্পর্কে কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বা যা কোন অপরাধ করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়, ধ্বংস, বাজেয়াপ্ত বা যে ব্যক্তি উহার দখল দাবি করে তাকে প্রদান বা অন্য কোনভাবে উহার বিহিত ব্যবস্থা করার জন্য আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন, সেরকম আদেশ প্রদান করতে পারবেন।
(২) যেক্ষেত্রে হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত এরূপ আদেশ দিবেন এবং সুবিধাজনকভাবে নিজস্ব অফিসার কর্তৃক উক্ত সম্পত্তি উহার অধিকারী ব্যক্তিকে অর্পণ করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে উক্ত আদালত এ মর্মে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন যে, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত আদেশ বলবৎ করবেন।
(৩) এই ধারার অধীন আদেশ প্রদান করা হলে তা সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি গৃহপালিত পশু বা দ্রুত ও স্বাভাবিক ক্ষয়শীল না হলে, এবং উপধারা-(৪) এ বর্ণিত বিধান মতে না হলে ১ (এক) মাসের জন্য কার্যকর করা যাবে না অথবা যেক্ষেত্রে আপিল পেশ করা হয়, সেক্ষেত্রে আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর করা যাবে না।
(৪) যে ব্যক্তি কোন সম্পত্তি দখলের অধিকারী মর্মে দাবী করে সে ব্যক্তি আদালতের সন্তুষ্টি বিধানপূর্বক জামিনদারসহ বা ব্যতীত এ মর্মে একটি মুচলেকা সম্পাদন করে যে, এই ধারার অধীন প্রদত্ত আদেশ আপিলে সংশোধিত বা বাতিল হলে সে উক্ত সম্পত্তি আদালতে অর্পণ করবে, সেক্ষেত্রে এই ধারার কোন বিধান উপধারা-(১) অনুসারে আদালত কর্তৃক উক্ত ব্যক্তিকে সম্পত্তি দেয়ার ব্যাপারে কোন বাধার সৃষ্টি করবে মর্মে মনে করা যাবে না।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 517. Order for disposal of property regarding which offence committed:
(1) When an inquiry or a trial in any Criminal Court is concluded, the Court may make such order as it thinks fit for the disposal by destruction, confiscation, or delivery to any person claiming to be entitled to possession thereof or otherwise of any property or document produced before it or in its custody or regarding which any offence appears to have been committed, or which has been used for the commission of any offence. 
(2) When High Court Division or a Court of Session makes such order and cannot through its own officers conveniently deliver the property to the person entitled thereto, such Court may direct that the order be carried into effect by the Chief Metropolitan Magistrate or District Magistrate. 
(3) When an order is made under this section such order shall not, except where the property is livestock or subject to speedy and natural decay, and save as provided by sub-section (4), be carried out for one month, or, when an appeal is presented, until such appeal has been disposed of. 
(4) Nothing in this section shall be deemed to prohibit any Court from delivering any property under the provisions of sub-section (1) to any person claiming to be entitled to the possession thereof, on his executing a bond with or without sureties to the satisfaction of the Court, engaging to restore such property to the Court if the order made under this section is modified or set aside on appeal.
Explanation- In this section the term "property" includes in the case of property regarding which an offence appears to have been committed, not only such property as has been originally in the possession or under the control of any party, but also any property into or for which the same may have been converted or exchanged, and anything acquired by such conversion or exchange, whether immediately or otherwise.

৮,৪৬৫.
সংসদ আইনের দ্বারা কোন ধরনের ব্যক্তিদের দায়মুক্ত করতে পারে?
  1. প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোন ব্যক্তির
  2. জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের প্রয়োজনে যে ব্যক্তি কোন কার্য করে
  3. অনগ্রসর নাগরিকদের
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
• ৪৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে দায়মুক্তি-বিধান সংবলিত কোন আইন সংবিধানের তৃতীয় ভাগের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হলেও, উক্ত আইনের বৈধতা বা অসাংবিধানিকতা চ্যালেঞ্জ করা যাবেনা। যে সকল ব্যক্তির জন্য দায়মুক্তি-বিধান প্রণয়ন করতে পারেঃ

⇒ প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোন ব্যক্তি বা
⇒ অন্য কোন ব্যক্তি যে জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের প্রয়োজনে; কিংবা
⇒ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে কোন অঞ্চলে শৃঙ্খলা-রক্ষা বা পুনর্বহালের প্রয়োজনে কোন কার্য করে।

সংসদ আইনের দ্বারা উল্লেখিত ব্যক্তিকে দায়মুক্ত করতে পারবে কিংবা ঐ অঞ্চলে প্রদত্ত কোন দণ্ডাদেশ, দণ্ডও বা বাজেয়াপ্তির আদেশকে কিংবা অন্য কোন কার্যকে বৈধ করে নিতে পারবে। এমন আইন সংবিধানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে এই কারণে অসাংবিধানিক হবে না।

অনুচ্ছেদ ৪৬: দায়মুক্তি-বিধানের ক্ষমতা

এই ভাগের পূর্ববর্ণিত বিধানাবলীতে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোন ব্যক্তি বা অন্য কোন ব্যক্তি জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের প্রয়োজনে কিংবা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে কোন অঞ্চলে শৃঙ্খলা-রক্ষা বা পুনর্বহালের প্রয়োজনে কোন কার্য করিয়া থাকিলে সংসদ আইনের দ্বারা সেই ব্যক্তিকে দায়মুক্ত করিতে পারিবেন কিংবা ঐ অঞ্চলে প্রদত্ত কোন দণ্ডাদেশ, দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির আদেশকে কিংবা অন্য কোন কার্যকে বৈধ করিয়া লইতে পারিবেন।

Article 46: Power to provide indemnity
Notwithstanding anything in the foregoing provisions of this Part, Parliament may by law make provision for indemnifying any person in the service of the Republic or any other person in respect of any act done by him in connection with the national liberation struggle or the maintenance or restoration of order in any area in Bangladesh or validate any sentence passed, punishment inflicted, forfeiture ordered, or other act done in any such area.
৮,৪৬৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৩৯খ অনুসারে, কে সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারেন?
  1. পুলিশ কর্মকর্তা
  2. পাবলিক প্রসিকিউটর
  3. যে কোনো জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট
  4. শুধুমাত্র হাইকোর্টের বিচারক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) যে কোনো জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৩৯খ (Section 539B of the CrPC, 1898) অনুযায়ী যে কোনো জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত, বিচার বা অন্য কোনো কার্যধারার যেকোনো পর্যায়ে, পক্ষসমূহকে নোটিশ দিয়ে, অপরাধ সংঘটিত স্থান বা প্রাসঙ্গিক কোনো স্থান যথাযথভাবে সাক্ষ্য উপলব্ধি করার স্বার্থে পরিদর্শন করতে পারেন। তাঁরা পরিদর্শনের সময় দেখা প্রাসঙ্গিক তথ্যসমূহ স্মারকলিপি আকারে লিপিবদ্ধ করবেন, যা মামলার রেকর্ডের অংশ হয়ে যাবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৩৯খ- সরেজমিনে পরিদর্শন:-
১) কোন তদন্ত, বিচার বা অন্য কার্যধারার যে কোন পর্যায়ে কোন জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট পক্ষসমূহকে নোটিশ দিয়ে যে স্থানে কোন অপরাধ করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ আনীত হয়েছে সে স্থান কিংবা উক্ত তদন্ত বা বিচারে প্রদত্ত কোন সাক্ষ্য যথাযথভাবে উপলব্ধি করার জন্য প্রয়োজন বলে মনে করলে অন্য কোন স্থান সফর ও পরিদর্শন করতে পারবেন, ও অনাবশ্যক বিলম্ব ছাড়াই উক্ত পরিদর্শন বা সফরে দৃষ্ট কোন প্রাসঙ্গিক ঘটনা সম্পর্কে একটি স্মারকলিপি তৈরি করবেন।
২) উক্ত স্মারকলিপি মামলার নথির অংশ হবে। পাবলিক প্রসিকিউটর বা ফরিয়াদি কিংবা অভিযুক্ত চাইলে উহার একটি নকল তাকে বিনা মূল্যে সরবরাহ করতে হবে।
------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 539B: Local inspection:-
(1) Any Judge or Magistrate may at any stage of any inquiry, trial or other proceeding, after due notice to the parties, visit and inspect any place in which an offence is alleged to have been committed, or any other place which it is in his opinion necessary to view for the purpose of property appreciating the evidence given at such inquiry or trial, and shall without unnecessary delay record a memorandum of any relevant facts observed at such inspection.
(2) Such memorandum shall form part of the record of the If the Public Prosecutor, complainant or accused so desires, a copy of the memorandum shall be furnished to him free of cost:

৮,৪৬৭.
'P', একজন সরকারি কর্মচারী, আইনানুগ দায়িত্ব পালনের সময় সরল মনে 'Q' এর মৃত্যু ঘটায়। এটি খুন হিসেবে গণ্য হবে না দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার কোন ব্যতিক্রমের কারণে?
  1. ব্যতিক্রম-২
  2. ব্যতিক্রম-৩
  3. ব্যতিক্রম-৪
  4. ব্যতিক্রম-৫
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩০০ এর ব্যতিক্রম ৩ (Exception 3) অনুযায়ী:
যদি কোনো সরকারি কর্মচারী বা তার সহকারী, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়, আইনানুগ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে, কিন্তু সরল মনে বিশ্বাস করে যে তিনি তার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছেন — এবং এই প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে, কিন্তু কোনো রকম দুরভিসন্ধি ছাড়াই, তবে তা খুন নয়।
→ উদাহরণ: 'P' যদি একজন পুলিশ অফিসার হন এবং তিনি কোনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে গিয়ে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করেন, যার ফলে 'Q' এর মৃত্যু ঘটে — তবে যদি প্রমাণ হয় P "সরল মনে" তার কর্তব্য পালন করছিলেন, তাহলে এটি খুন হবে না, বরং culpable homicide not amounting to murder হিসেবে গণ্য হবে।
→ সঠিক উত্তর: খ) ব্যতিক্রম-৩।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান খুন:- খুনের সবক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্দেশ করা হয়েছে। সে সকল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের জন্যই করা হয়ে থাকে, অথবা
দ্বিতীয়ত, যদি কার্যটি কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে দৈহিক আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, যে আঘাতের ফলে যে ব্যক্তিকে আঘাত দেওয়া হল, সে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে, অথবা
তৃতীয়ত, যদি কোন ব্যক্তিকে দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কার্যটি করা হয় এবং যদি যে দৈহিক আঘাত দেওয়ার অভিসন্ধি করা হয়েছে, সে আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়, অথবা
চতুর্থত, যদি যে ব্যক্তি কার্যটি অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তি জানে যে, কার্যটি এমন আশু বিপজ্জনক যে, ইহার দরুণ খুব সম্ভব মৃত্যু ঘটবে, অথবা ইহার দরুণ অবশ্যই এমন দৈহিক আঘাত ঘটবে, যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাবার বা অনুরূপ দৈহিক আঘাত ঘটাবার ঝুঁকি গ্রহণের অপর কোন অজুহাত ব্যতিরেকে অনুরূপ কার্য করে।

যেক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে না:
⇒ ব্যতিক্রম ১:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনার ফলে অপরাধী আত্ম-সংযমশক্তি হারাইয়া ফেলে এবং যে ব্যক্তি প্ররোচনা দান করেছে, সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় অথবা ভুলক্রমে বা দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।
উপরোক্ত ব্যতিক্রমটি নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে:-
প্রথমত, প্ররোচনাটি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করার বা তার ক্ষতি সাধনের অজুহাতস্বরূপ অপরাধী কর্তৃক স্বয়ং প্রার্থীত বা প্ররোচিত হতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, উক্ত প্ররোচনাটি আইনানুসারে কৃত কোন কার্য দ্বারা বা কোন সরকারী কর্মচারীর সরকারী কর্মচারী হিসেবে যথাযোগ্য ক্ষমতাবলীর আইনসম্মত প্রয়োগসঞ্জাত হতে পারবে না।
তৃতীয়ত, প্ররোচনা আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের আইনসম্মত প্রয়োগক্রমে সম্পাদিত কোন কার্য পালন হতে পারবে না।
ব্যাখ্যা:- প্ররোচনাটি এমন মারাত্মক ও আকস্মিক ছিল কিনা, যার ফলে অপরাধটি খুনের শামিল হবে না, তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন।
⇒ ব্যতিক্রম ২:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধী সরল মনে তার আত্মরক্ষার অথবা সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগক্রমে তাকে আইন প্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং যার বিরুদ্ধে সে এই অধিকার প্রয়োগ করে, কোনরূপ পূর্ব-পরিকল্পনা ব্যতীত অথবা অনুরূপ অধিকার রক্ষার জন্য যতটুকু ক্ষতিসাধন করা আবশ্যক, তদপেক্ষা বেশি ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা ব্যতিরেকে, তার মৃত্যু ঘটায়।
⇒ ব্যতিক্রম ৩:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি দোষী একজন সরকারী কর্মচারী হিসেবে অথবা সরকারী কর্মচারীর সহায়তাকারী হিসেবে তাকে প্রদত্ত আইনানুগ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং এমন একটি কাজ সম্পাদন করে মত্যু ঘটায়, যা সে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য আবশ্যকীয় ও আইনসম্মত বলে সরল মনে বিশ্বাস করে এবং সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে তার প্রতি কোনরূপ দুরভিসন্ধি ছাড়াই কার্যটি করে।
⇒ ব্যতিক্রম ৪ :- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধটি কোন আকস্মিক বিবাদের সময় আকস্মিক উত্তেজনার কারণে কোনরূপ পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই সংঘটিত হয় এবং অপরাধী কোন অন্যায় সুযোগ গ্রহণ না করে থাকে অথবা নিষ্ঠুরভাবে বা অস্বাভাবিকভাবে কার্য না করে থাকে।
ব্যাখ্যা:- এইরূপ ক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রথম উস্কানি দেয় বা প্রথম আঘাত করে, তা আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়।
⇒ ব্যতিক্রম ৫:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি সে ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে ব্যক্তি আঠারো বৎসরের উর্ধ্ব বয়স্ক হলে স্বেচ্ছায় স্বীয় সম্মতিক্রমে মৃত্যুবরণ করে বা মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করে।
৮,৪৬৮.
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২৮(১) অনুযায়ী, মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ দায়েরের শাস্তি কী?
  1. সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড
  2. সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড
  3. সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড
  4. মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২৮(১) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের অভিপ্রায়ে এবং ন্যায্য বা আইনানুগ কারণ না জানিয়েও এই অধ্যাদেশের অধীন মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেন, তাহলে তিনি "মূল অপরাধটির জন্য যে দণ্ড নির্ধারিত রহিয়াছে সেই দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন"। অর্থাৎ, মিথ্যা মামলা দায়েরের অপরাধের জন্য মূল অপরাধের সমান শাস্তি প্রযোজ্য হবে।

⇒ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২৮: মিথ্যা মামলা, অভিযোগ দায়ের, ইত্যাদির অপরাধ ও দণ্ড:
(১) যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের অভিপ্রায়ে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অধ্যাদেশের অন্য কোনো ধারার অধীন মামলা বা অভিযোগ দায়ের করিবার জন্য ন্যায্য বা আইনানুগ কারণ না জানিয়াও মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেন বা করান, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য মামলা বা অভিযোগ দায়েরকারী ব্যক্তি এবং যিনি অভিযোগ দায়ের করাইয়াছেন উক্ত ব্যক্তি মূল অপরাধটির জন্য যে দণ্ড নির্ধারিত রহিয়াছে সেই দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) যদি কোনো ব্যক্তি এই অধ্যাদেশের অধীন একাধিক ধারায় মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেন, তাহা হইলে উক্ত ধারাসমূহে বর্ণিত অপরাধসমূহের মধ্যে মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে যাহার পরিমাণ বেশি হয় উহাকেই দণ্ডের পরিমাণ হিসাবে নির্ধারণ করা যাইবে।(৩) ট্রাইব্যুনাল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তদ্‌কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বা স্বপ্রণোদিত হইয়া এই ধারার অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ ও মামলার বিচার করিতে পারিবে।

৮,৪৬৯.
'House-trespass' শব্দটি দণ্ডবিধির কোন ধারায় সংজ্ঞায়িত?
  1. ধারা ৪৪১
  2. ধারা ৪৪২
  3. ধারা ৪৪৪
  4. ধারা ৪৩৮
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৮৬০ এর ৪৪২ ধারায় "অনধিকার গৃহে প্রবেশ" বা House-trespass অপরাধটির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে মানুষের বাসস্থান, উপাসনালয় বা সম্পত্তি সংরক্ষণের স্থানে প্রবেশ বা অবস্থান করে, তবে এটি অনধিকার গৃহে প্রবেশ হিসেবে গণ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৪২ ধারার বিধান অনধিকার গৃহে প্রবেশ:- কোন ব্যক্তি যদি মানুষের আবাসস্থল হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে, তাঁবুতে বা জলযানে অথবা উপাসনালয় হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে অথবা সম্পত্তি হেফাজতের স্থান হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে প্রবেশ করে বা সেখানে অবস্থান করে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ সংঘটন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি 'অনধিকার গৃহে প্রবেশ' অপরাধটি করেছে বলে গণ্য হয়।
ব্যাখ্যা:- অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশকারীর দেহের কোন অংশের প্রবেশই গৃহে অনধিকার প্রবেশ অপরাধ প্রতিদানের পক্ষে যথেষ্ট।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 442- House-trespass:- Whoever commits criminal trespass by entering into or remaining in any building, tent or vessel used as a human dwelling or any building used as a place for worship, or as a place for the custody of property, is said to commit "house-trespass".
Explanation: -The introduction of any part of the criminal trespasser's body is entering sufficient to constitute house-trespass.
৮,৪৭০.
কোন আইনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের প্রচলিত আইনগুলো বাংলাদেশে প্রযোজ্য হবে মর্মে বিধান করা হয়?
  1. The Laws Continuance Enforcement Order, 1971
  2. The Laws Continuance Ordinance 1971
  3. The Act and Ordinance Enforcement Order, 1971
  4. The Laws Enforcement Order, 1971
ব্যাখ্যা
⇒ ১৯৭১ সালের ১০শে এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র [Proclamation of Independence] জারি করার পরে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি তথা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেশে বিদ্যমান সকল আইনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার জন্য ১৯৭১ সালের ১০শে এপ্রিল 'The Laws Continuance Enforcement Order, 1971 - আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ, ১৯৭১' প্রণয়ন করেন। এবং এই আইনটিকে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা (retrospective effect) দিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়েছে বলে ঘোষণা করেন।
৮,৪৭১.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুযায়ী একজন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা যায়?
  1. ধারা ১৪২
  2. ধারা ১৬৭
  3. ধারা ১৩২
  4. ধারা ১৫৪
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৫৪-এর বিধান হলো: আদালতের বিবেচনাধীন ক্ষমতা অনুযায়ী (at the discretion of the Court) যে পক্ষ সাক্ষীকে উপস্থাপন করেছে, সেই পক্ষই তার নিজের সাক্ষীকে বৈরী (hostile) ঘোষণা করে জেরা (cross-examine) করতে পারে। তাই সঠিক উত্তর ঘ) ধারা ১৫৪।

⇒ বৈরী সাক্ষী (Hostile Witness) হলো সেই সাক্ষী যাকে কোনো পক্ষ (বাদী বা বিবাদী) আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উপস্থাপন করে, কিন্তু সে যদি নিজের পক্ষের বিরুদ্ধে বা প্রতিপক্ষের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে, তাহলে তাকে বৈরী সাক্ষী হিসেবে গণ্য করা হয়।
- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৫৪ অনুযায়ী, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ তার নিজের সাক্ষীকে জেরা করতে পারে যদি সাক্ষী বৈরী হয়ে যায়। সাধারণত, জেরা করার অধিকার প্রতিপক্ষের থাকে, তবে যদি আদালত মনে করে যে একজন সাক্ষী ইচ্ছাকৃতভাবে বিপরীতমুখী বক্তব্য দিচ্ছে, তবে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষও তাকে জেরা করতে পারে।

 কখন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা হয়?
১) যখন সাক্ষী তার নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়।
২) যখন সাক্ষী প্রতিপক্ষের পক্ষে কথা বলে।
৩) যখন সাক্ষী তার আগের দেওয়া বক্তব্য থেকে সরে আসে বা বিপরীত কথা বলে।

উদাহরণ:
- একজন সাক্ষী যদি পুলিশের সামনে একরকম বক্তব্য দেয়, কিন্তু আদালতে এসে তার বিপরীত কথা বলে, তাহলে সে বৈরী সাক্ষী বলে গণ্য হতে পারে।

⇒ অর্থাৎ যদি একজন সাক্ষী তার পক্ষের বিরুদ্ধে কথা বলে অথবা প্রতিপক্ষের পক্ষে কথা বলে, তাহলে তাকে বৈরী সাক্ষী বলা হয় এবং সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে জেরা করতে পারে।
- এটি আদালতের বিবেচনার বিষয় যে সাক্ষী সত্যিই বৈরী কি না।

৮,৪৭২.
নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা আদালতের কোন ধরনের ক্ষমতা?
  1. ইচ্ছাধীন ক্ষমতা
  2. বাধ্যতামূলক ক্ষমতা
  3. উচ্চ আদালতের নির্দেশনামূলে প্রাপ্ত ক্ষমতা
  4. স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারা- নিরোধমূলক প্রতিকার যেভাবে মঞ্জুর করা হয়:
আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়।

⇒ প্রতিরোধমূলক/ নিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয় আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে। আদালত নিম্নোক্ত ২ ভাবে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারেন-
১) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary injunctions) জারির মাধ্যমে; বা
২) চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual injunctions) জারীর মাধ্যমে।

৮,৪৭৩.
চেক ডিজঅনার মামলার ক্ষেত্রে বর্তমানে কোন আদালতকে বিচার করার এখতিয়ার দেয়া হয়েছে?
  1. অতিরিক্ত দায়রা জজ
  2. জেলা জজ
  3. দায়রা জজ
  4. যুগ্ম দায়রা জজ
ব্যাখ্যা
⇒ ১৮৮১ সালের হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের ১৪১(গ) ধারা অনুযায়ী, চেক ডিজঅনার এর মামলার বিচার করতে পারে দায়রা আদালত। অর্থাৎ Sessions Judge, Additional Sessions Judge & Joint Sessions Judge উনারা সবাই এরূপ মামলার বিচার করতে পারেন এবং এতদিন পর্যন্ত করে আসছেন।
- তবে সম্প্রতি হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে বলা হয়েছে- এখন থেকে চেক ডিজঅনার এর মামলার বিচার করতে পারবে শুধুমাত্র যুগ্ম দায়রা জজ [Joint Sessions Judge]।

উচ্চ আদালত এ রায়ে উল্লেখ করেন-

''চেক ডিজঅনার মামলা শুধুমাত্র যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে শুনানি হবে এবং যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে দায়রা জজ আদালতেই আপীল করতে হবে। আগে চেক ডিজঅনারের মামলা দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ম দায়রা জজ আদালত শুনানি করতো। এক্ষেত্রে দায়রা জজ ও অতিরিক্ত দায়রা জজ বিচার করলে বিচারপ্রার্থীকে চেকের মামলায় আপীল করতে আসতে হতো হাইকোর্টে বিভাগে।

এই বিধানটি বৈষম্যমূলক যাহা বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ এবং ৩১ এর সাথে সাংঘর্ষিক। রায়ের নির্দেশনা মতে ১৩৮ ধারার চেকের মামলার বিচার কেবলমাত্র যুগ্ম দায়রা জজ আদালত করতে পারবে। দায়রা জজ অথবা অতিরিক্ত দায়রা জজ চেকের মামলার বিচার করতে পারবে না।''
৮,৪৭৪.
'হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধী জামাকাপড় পরিবর্তন করেছিল এবং পালিয়ে গিয়েছিল।' সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় উক্ত কার্য প্রাসঙ্গিক?
  1. ৯ ধারায়
  2. ৮ ধারায়
  3. ১১ ধারায়
  4. ১০ ধারায়
ব্যাখ্যা
• The Evidence Act, 1872 এর ৮ ধারায় বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অভিপ্রায় (Motive), প্রস্তুতি (Preparation) এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কার্য (Previous or Subsequent Conduct) কে প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য করা হয়েছে-

ধারা ৮: মোটিভ, প্রস্তুতি এবং পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কার্যক্রম-
যে কোন সত্য যার কারণে বা যার প্রতিক্রিয়ায় কোন ঘটনা ঘটেছে বা ঘটে, অথবা যার উদ্দেশ্য থেকে বা যার প্রতিক্রিয়ায় কোন ঘটনা ঘটে, তা প্রাসঙ্গিক, যদি সেই উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি বা পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কার্যক্রম প্রাসঙ্গিক ঘটনা হয়।

উদাহরণ:
A একটি অপরাধ সংঘটিত করার জন্য B এর বাড়িতে গিয়েছিল। A এর বাড়ি থেকে B এর বাড়ি পর্যন্ত তার যাত্রাপথ এবং B এর বাড়িতে তার কার্যকলাপ প্রাসঙ্গিক।
A এর খুনের আগে এবং পরে B এর আচরণ প্রাসঙ্গিক।
যদি A এর অপরাধ করার উদ্দেশ্য প্রমাণ করতে হয়, তাহলে সেই উদ্দেশ্যের সকল প্রস্তুতি প্রাসঙ্গিক।

পরবর্তী কার্য (Subsequent Conduct):
অপরাধের পর অপরাধীর আচরণ যেমন পলাতক অবস্থা, সন্দেহজনক কাজ, মিথ্যা বক্তব্য প্রদান ইত্যাদি।
যেমন:
ক) হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধী পালিয়ে গিয়েছিল এবং জামাকাপড় পরিবর্তন করেছিল।
খ) অপরাধের পর অপরাধী তার ছদ্মনাম ব্যবহার করে অন্যত্র পালিয়ে গিয়েছিল।
৮,৪৭৫.
দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৩ ধারার বিধান কী?
  1. REFERENCE
  2. REVIEW
  3. REVISION
  4. APPEALS
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৩ ধারায় রেফারেন্সের (Reference) বিধান রয়েছে। ১১৩ ধারার বিধান অনুযায়ী যে কোন আদালত কোন মামলা হাইকোর্ট বিভাগের অভিমত গ্রহণের জন্য প্রেরণ করতে পারেন এবং হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত মামলা সম্পর্কে উপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারবেন।

⇒ CPC section 113. Reference of High Court Division:

 Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, any Court may state a case and refer the same for the opinion of the High Court Division, and the High Court Division may make such order thereon as it thinks fit.
৮,৪৭৬.
ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ধারা ২৪৫ অনুসারে আসামীকে নির্দোষ সাব্যস্ত করার পর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন?
  1. দণ্ডাদেশ প্রদান করবেন
  2. জামিন প্রদান করবেন
  3. খালাস আদেশ প্রদান করবেন
  4. পুনরায় শুনানি করবেন
ব্যাখ্যা
ধারা ২৪৫: খালাস (acquittal)-
ম্যাজিস্ট্রেট ২৪৪ ধারার উল্লেখিত সাক্ষ্য, স্বত:প্রবৃত্ত হয়ে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ এবং আসামীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আসামীকে নির্দোষ বলে সাব্যস্ত করলে খালাস আদেশ প্রদান করবেন।

[If the Magistrate upon taking the evidence referred to in section 244 and such further evidence (if any) as he may, of his own motion, cause to be produced, and (if he thinks fit) examining the accused, finds the accused not guilty, he shall record an order of acquittal.]
৮,৪৭৭.
চোরাই মাল কেউ অসাধুভাবে গ্রহণ করলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড 
  3. ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

• চোরাই মাল (Stolen Property):
দণ্ডবিধির ৪১০ ধারা অনুযায়ী- যে সম্পত্তির দখল চুরি বা জোরপূর্বক আদায় বা দস্যুতার ফলে হস্তান্তরিত হয়েছে এবং যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে বা অপরাধমূলকভাবে বিশ্বাসভঙ্গ করা হয়েছে, সে সম্পত্তিকে “চোরাই সম্পত্তি” বলে গণ্য করতে হবে। অর্থাৎ, যে সম্পত্তি নিম্নোক্ত উপায়ে অর্জিত হয়েছে তাকে "চোরাই সম্পত্তি" বলে গণ্য করা হবে:
১. চুরি করে অর্জিত সম্পত্তি;
২. জোরপূর্বক আত্মসাৎ করে অর্জিত সম্পত্তি;
৩. দস্যুতা করে আনীত সম্পত্তি;
৪. অপরাধমূলক উপায়ে অর্জিত সম্পত্তি;
৫. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে অর্জিত সম্পত্তি।

শাস্তি:
দণ্ডবিধির ৪১১ ধারা অনুসারে, যে ব্যক্তি চোরাই মাল গ্রহণ করে, সেই ব্যক্তি ৩ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

৮,৪৭৮.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর কোন বিধানটি নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত নয়?
  1. Order XXXIX, rule 1 & 2
  2. Order XXXIX, rule 5 (A)
  3. Section 94(c)
  4. Section 94(e)
ব্যাখ্যা
♦প্রশ্নটির অপশন বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় যে দেওয়ানী কার্যবিধির,
(ক) Order XXXIX, Rule 1 & 2:- আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে।
(খ) Order- XXXIX, Rule 5 (A):-  অপরপক্ষের শুনানি ব্যতীত অন্তর্বর্তী বা অস্থায়ীনিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া যাবে না।
(গ) Section 94 (c):- ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য যাতে ব্যাহত না হয় সে জন্য আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে এবং কেউ তা অমান্য করলে দোষী ব্যক্তিকে দেওয়ানি কারাগারে আটক এবং তার সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম বিক্রয়ের আদেশ প্রদান করতে পারে।|
(ঘ) Section 94(e):- আদালতের কাছে যেরূপ ন্যায্য ও সুবিধাজনক মনে হয়; সেরূপ অন্তবর্তীকালীন আদেশ (Interlocutory Order) জারি করতে পারে ।
♦অর্থাৎ The Code of Civil Procedure, 1908 এর Section 94(E) [Interlocutory Order]  বিধানটি নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত নয়.
♦দেওয়ানি আদালতের অতিরিক্ত কার্যক্রম: CPC'র ৯৪ ধারায় Supplementary Proceeding বা অতিরিক্ত কার্যক্রম সম্পর্কে বলা আছে। ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য যেন ব্যাহত না হয় সে জন্য আদালত ক্ষেত্রবিশেষে নিম্নোক্ত আদেশ দিতে পারে। ৯৪ ধারা মোতাবেক -
a) দেওয়ানি কারাগারে পাঠানোর আদেশ ।
b) সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ ।
c) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ ।
d) Receiver নিয়োগের আদেশ ।
e) আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করবে সেরূপ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ [Interlocutory Order]
৮,৪৭৯.
'ক' চন্দ্রসূর্য, আকাশ-বাতাসকে সাক্ষী রেখে 'খ' কে বিয়ে করেন। 'ক' জানে যে এটা মিথ্যা বিবাহের অনুষ্ঠান হয়েছে কিন্তু সে 'খ'কে বিশ্বাস করায় যে নিজে 'খ'এর স্বামী। 'খ'ও 'ক'কে স্বামী হিসেবে বিশ্বাস করে। এই ক্ষেত্রে 'ক' দণ্ডবিধির কত ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন?
  1. দণ্ডবিধির ৪৯৫ ধারায়
  2. দণ্ডবিধির ৪৯৬ ধারায়
  3. দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায়
  4. দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৬ ধারার বিধান আইনসম্মত বিবাহ সম্পাদন ছাড়াই প্রতারণামূলক ভাবে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা:- কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলক উদ্দেশ্য নিয়ে সে আইনতঃ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে না জানা সত্ত্বেও বিবাহের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
-------------
⇒ Section 496. Marriage ceremony fraudulently gone through without lawful marriage:- Whoever, dishonestly or with a fraudulent intention, goes through the ceremony of being married, knowing that he is not thereby lawfully married, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.
৮,৪৮০.
যদি কোনো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী গর্ভবতী হন, তবে আদালত কোন বিকল্প সাজা দিতে পারেন?
  1. অর্থদণ্ড
  2. ১০ বছর কারাদণ্ড
  3. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  4. ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

ধারা ৩৮২ অনুসারে,
মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কোন স্ত্রীলোক গর্ভবতী রয়েছে বলে দেখা গেলে, হাইকোর্ট বিভাগ দণ্ড কার্যকরীকরণ স্থগিত রাখার আদেশ দিবেন অথবা উপযুক্ত মনে করলে দণ্ড হ্রাসকরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারবেন।

Section 382- Postponement of capital sentence on pregnant woman
If a woman sentenced to death is found to be pregnant, the High Court Division shall order the execution of the sentence to be postponed, and may, if it thinks fit, commute the sentence to transportation for life.

৮,৪৮১.
যে ব্যক্তি অন্যের মাল খুঁজে পান এবং নিজের হেফাজতে নেন, তিনি কার মতো দায়িত্বে থাকেন?
  1. সাক্ষী
  2. বিক্রেতা
  3. জিম্মাদার
  4. মালিক
ব্যাখ্যা
The Contract Act, 1872 এর ধারা ৭১: Responsibility of Finder of Goods (খোয়া যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধারকারীর দায়িত্ব)-
যে ব্যক্তি অন্য কারো মালামাল খুঁজে পান এবং তা নিজের হেফাজতে নেন, তিনি একজন জিম্মাদারের (Bailee) মতো একই দায়িত্বের অধীন হন। অর্থাৎ, তিনি সেই মাল নিরাপদে রক্ষা করবেন এবং যথাযথভাবে মালিককে ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

[A person who finds goods belonging to another and takes them into his custody, is subject to the same responsibility as a bailee.]
৮,৪৮২.
'A', 'B'-এর নিকট ২৫ শতক জমি বিক্রি করার নিমিত্তে চুক্তিপত্র করে কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ৭ শতক জমি হস্তান্তর করতে অসমর্থ হয়, এক্ষেত্রে চুক্তিটি-
  1. সম্পাদন করা যাবে
  2. সম্পাদন করা যাবে না
  3. সম্পাদন করা যাবে কিন্তু অসম্পাদিত অংশের ক্ষতিপূরণ পাবে
  4. সম্পাদন করা যাবে কিন্তু অসম্পাদিত অংশের ক্ষতিপূরণ পাবে না
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারার বিধান:
কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটুকু পালন করতে সমর্থ হয় এবং ক্ষুদ্রতর অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য হয়; তাহলে আদালত চুক্তিভুক্ত যে কোন এক পক্ষের মামলা দায়েরক্রমে বৃহত্তর অংশটি সুনির্দিষ্টিভাবে সম্পাদনের, এবং ক্ষুদ্রতর অংশটির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন।
 
⇒ সুতরাং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারামতে কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে, আদালত ঐ চুক্তির সম্পাদনযোগ্য বৃহত্তর অংশের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আদেশ এবং বাকী অংশের জন্য ক্ষতিপূরণের আদেশ দিবে।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী কোনো চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে উক্ত চুক্তি সম্পাদন করা যাবে।

- এখানে চুক্তির সম্পাদিত অংশ ১৮ শতক তথা বড় এবং অসম্পাদিত অংশ ৭ শতক তথা ছোট, তাই চুক্তিটি সম্পাদন করা যাবে এবং অসম্পাদিত অংশের জন্য B-কে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
----------------------------------
SR Act-Section-14.Specific performance of part of contract where part unperformed is small:
Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, but the part which must be left unperformed bears only a small proportion to the whole in value, and admits of compensation in money, the Court may, at the suit of either party, direct the specific performance of so much of the contract as can be performed, and award compensation in money for the deficiency.
 
Illustrations
(a) A contracts to sell B a piece of land consisting of 100 bighas. It turns out that 98 bighas of the land belong to A, and the two remaining bighas to a stranger, who refuses to part with them. The two bighas are not necessary for the use or enjoyment of the 98 bighas, nor so important for such use of enjoyment that the loss of them may not be made good in money. A may be directed at the suit of B to convey to B the 98 bighas and to make compensation to him for not conveying the two remaining bighas; or B may be directed, at the suit of A, to pay to A, on receiving the conveyance and possession of the land, the stipulated purchase-money less a sum awarded as compensation for the deficiency.
 
(b) In a contract for the sale and purchase of a house and lands for two lakhs of Taka, it is agreed that part of the furniture should be taken at a valuation. The court may direct specific performance of the contract notwithstanding the parties are unable to agree as to the valuation of the furniture, and may either have the furniture valued in the suit and include it in the decree for specific performance, or may confine its decree to the house.
৮,৪৮৩.
একটি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যায় না, যখন-
  1. চুক্তিটির সম্পাদন পক্ষগণের ব্যক্তিগত যোগ্যতার উপর নির্ভরশীল।
  2. চুক্তিটির প্রকৃত ক্ষতি নিরুপনের কোন মাপকাঠি থাকে না।
  3. চুক্তিটির আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা পর্যাপ্ত প্রতিকার হয় না।
  4. চুক্তিটির আর্থিক ক্ষতিপূরন পাওয়া যায় না।
ব্যাখ্যা
♦২১ ধারা অনুযায়ী- ৮ ক্ষেত্রে চুক্তি কার্যকর/বলবৎ করা যায় না:
১). যে চুক্তি সম্পাদন না করলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা পর্যাপ্ত প্রতিকার হয়।
২). যে চুক্তি সুক্ষ্ম ও জটিল শর্ত দ্বারা গঠিত বা ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল [যেমন: গল্প-উপন্যাস রচনা, অভিনয়, ব্যক্তিগত সেবা দেওয়া, বিবাহ করা সংক্রান্ত চুক্তি।]। 
৩). যে চুক্তির শর্ত আদালত যুক্তিসংগতভাবে নির্ণয় করতে পারে না।
৪). যে চুক্তি তার প্রকৃতির (Nature) কারণেই বাতিলযোগ্য [Revocable বা যে চুক্তি প্রকৃতিগতভাবেই প্রত্যহারযোগ্য]।
৫). জিম্মাদার/ট্রাস্টি কর্তৃক ক্ষমতা/চুক্তি বর্হিভূত চুক্তি। 
৬). কোম্পানির পক্ষে বা কর্মকর্তা কর্তৃক ক্ষমতা/চুক্তি বর্হিভূত চুক্তি। 
৭). যে চুক্তি পালনে শুরু করার তারিখ হতে ৩ বছরের বেশি সময় লাগে। 
৮) যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগেই বিষয়বস্তু বিলুপ্ত হয়েছে। মনে রাখুন, চুক্তিতে Arbitration Clause থাকলে চুক্তি কার্যকর করা যাবে না।

♦যে চুক্তির সম্পাদন পক্ষগণের ব্যক্তিগত যোগ্যতার উপর নির্ভরশীল, সেই চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যায় না।
৮,৪৮৪.
মোকদ্দমার সামগ্রিক বা আংশিকভাবে স্বীকৃতির উপর আদালত কখন রায় প্রদান করবেন?
  1. মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে
  2. স্বীকৃতির বিষয়ে কোন পক্ষের আবেদেনের প্রেক্ষিতে
  3. আদালত সঙ্গত মনে করলে
  4. 'ক', 'খ' ও 'গ'-এ বর্ণিত উল্লেখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১২ বিধি ৬ এ (Judgment on admissions) এর বিধান রয়েছে।

• আদেশ ১২ বিধি-৬ (স্বীকারোক্তির উপর রায়)-
যখন আরজি জবাবে কিংবা অন্যপ্রকারে কোন ঘটনা সম্পর্কে স্বীকারোক্তি করা হয়েছে তদক্ষেত্রে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে যে কোন পক্ষ আদালতে এ মর্মে আবেদন করতে পারে যে, পক্ষগণের মধ্যে অন্য কোন প্রশ্ন নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা না করে, উপরের স্বীকারোক্তি যতদূর তার পক্ষে হয়েছে, সে পর্যন্ত রায় কিংবা আদেশ দান করা হোক এবং আদালত অনুরূপ আবেদনক্রমে যেরূপ সঙ্গত মনে করতে পারে, সেরূপ রায় কিংবা আদেশ দিতে পারে।

[Rule-6: Judgment on admissions —
Any party may, at any stage of a suit, where admissions of fact have been made, either on the pleadings or otherwise, apply to the Court for such judgment or order as upon admissions he may be entitled to, without waiting for the determination of any other question between the parties: and the Court may upon such application make such order or give such judgment, as the Court may think just.]্য 
৮,৪৮৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার সংজ্ঞা দেওয়া আছে?
  1. ৫২ ও ৫৩
  2. ৫৩
  3. ৫৫ ও ৫৬
  4. ৫৭
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫৩ ধারার বিধান:
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে তেমন নিরোধ যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোনো পর্যায়েই তা মঞ্জুর করা যায় এবং তা দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।
 
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
- চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবল মাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারাই মঞ্জুর করা যায়। এর মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ হতে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়। যা বাদীর অধিকারের বিপরীত হতে পারে।
----------------
SR Act: Section-53. Temporary injunctions, Perpetual injunctions:
Temporary injunctions are such as are to continue until a specified time, or until the further order of the Court. They may be granted at any period of a suit, and are regulated by the Code of Civil Procedure.
 
A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit: the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.
৮,৪৮৬.
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর অধীন মিথ্যা মামলা দায়েরের শাস্তি কী?
  1. সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড
  2. সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা
  3. মূল অপরাধটির জন্য নির্ধারিত দণ্ড
  4. মূল অপরাধটির জন্য নির্ধারিত দণ্ডের অর্ধেক
ব্যাখ্যা
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২৮: মিথ্যা মামলা, অভিযোগ দায়ের, ইত্যাদির অপরাধ ও দণ্ড:
(১) যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের অভিপ্রায়ে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অধ্যাদেশের অন্য কোনো ধারার অধীন মামলা বা অভিযোগ দায়ের করিবার জন্য ন্যায্য বা আইনানুগ কারণ না জানিয়াও মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেন বা করান, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য মামলা বা অভিযোগ দায়েরকারী ব্যক্তি এবং যিনি অভিযোগ দায়ের করাইয়াছেন উক্ত ব্যক্তি মূল অপরাধটির জন্য যে দণ্ড নির্ধারিত রহিয়াছে সেই দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি এই অধ্যাদেশের অধীন একাধিক ধারায় মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেন, তাহা হইলে উক্ত ধারাসমূহে বর্ণিত অপরাধসমূহের মধ্যে মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে যাহার পরিমাণ বেশি হয় উহাকেই দণ্ডের পরিমাণ হিসাবে নির্ধারণ করা যাইবে।

(৩) ট্রাইব্যুনাল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তদ্‌কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বা স্বপ্রণোদিত হইয়া এই ধারার অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ ও মামলার বিচার করিতে পারিবে।
৮,৪৮৭.
কোন আদালত ১৫ লক্ষ টাকার বেশি নয় এমন মোকদ্দমা গ্রহণের এখতিয়ার রাখে?
  1. জেলা জজ আদালত
  2. সহকারী জজ আদালত
  3. যুগ্ম-জেলা জজ আদালত
  4. সিনিয়র সহকারী জজ আদালত
ব্যাখ্যা
⇒ আর্থিক এখতিয়ার (Pecuniary Jurisdiction) নির্ধারণ করে কোন আদালত কত টাকার মামলা গ্রহণ করতে পারবে।
⇒ The Civil Courts (Amendment) Act, 2021 অনুযায়ী:
→ সহকারী জজ আদালত: ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
→ সিনিয়র সহকারী জজ আদালত: ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
→ যুগ্ম জেলা জজ আদালত: সীমাহীন (unlimited)।
→ তাই, ১৫ লক্ষ টাকার বেশি নয় এমন (≤১৫ লক্ষ) মোকদ্দমা সহকারী জজ আদালত গ্রহণ করতে পারে।
→ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৫ অনুযায়ী, মামলাটি সর্বনিম্ন যােগ্যতাসম্পন্ন আদালতে দায়ের করতে হবে।
- সহকারী জজ আদালতই সর্বনিম্ন স্তরের আদালত যার এখতিয়ার ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।

→ অতএব, ১৫ লক্ষ টাকার বেশি নয় এমন মোকদ্দমা দায়েরের এখতিয়ার একমাত্র সহকারী জজ আদালতের রয়েছে।
৮,৪৮৮.
কোনটি মধ্যবর্তী মুনাফা (mesne profit) হিসাবে গণ্য হবে?
  1. 'চ' নিজের জমিতে বাড়ি তৈরি করে ভাড়া দিলে
  2. 'চ', 'ছ' এর সম্পত্তি অবৈধ দখল করে সেখানে বাড়ি বানিয়ে ভাড়া দিলে
  3. 'চ', 'ছ' এর সম্পত্তি অন্যায়ভাবে দখল করে তা হতে লাভ পেলে
  4. খ এবং গ
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত ক্ষেত্রে অপশন 'গ' সকল শর্ত পূরণ করে বিধায় তা মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে গণ্য হবে।
 
• ধারা ২(১২) অনুসারে,
বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো, সুদসহ উক্ত মুনাফা কে মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে।
 
• ব্যতিক্রমঃ
বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে গণ্য হবে না।

উক্ত ব্যতিক্রমের কারণে অপশন (খ) উত্তর হবে না, কারণ অবৈধ দখল করলেও তিনি বাড়ি বানিয়ে অর্থাৎ সম্পত্তির উন্নয়ন করে উক্ত মুনাফা লাভ করেছেন। তাই তা মধ্যবর্তী মুনাফা বলে গণ্য হবে না।

Section 2(12)-
"mesne profits" of property means those profits which the person in wrongful possession of such property actually received or might with ordinary diligence have received therefrom, together with interest on such profits but shall not include profits due to improvements made by the person in wrongful possession:
৮,৪৮৯.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী সম্পত্তি প্রতিরক্ষার জন্য কয়টি ক্ষেত্রে আক্রমণকারীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়?
  1. ২টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১০৩ ধারামতে সম্পত্তি প্রতিরক্ষার জন্য ৪টি ক্ষেত্রে আক্রমণকারীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়। যথা-
i) দস্যুতা (Robbery)
ii) রাত্রি বেলায় অপথে গৃহে প্রবেশ (House-breaking by night);
iii) বাসগৃহে বা কোন সম্পত্তি রাখার স্থানে অগ্নি সংযোগ (Mischief by fire committed on any building, tent or vessel, used as a human dwelling); এবং
iv) গুরুতর আঘাত বা মৃত্যুর আশঙ্কাযুক্ত চুরি, ক্ষতি বা অনধিকার গৃহে প্রবেশ (Theft, mischief or house - trespass, under such circumstances as may reasonably cause apprehension of death or grievous hurt)।
---------------------
⇒ দণ্ডবিধির ১০৩ :- যেক্ষেত্রে সম্পত্তি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত আত্নরক্ষার অধিকার মৃত্যু ঘটাইবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়:
- সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার ৯৯ ধারায় আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে স্বেচ্ছাকৃতভাবে অপরাধকারীর মৃত্যু সংঘটন বা তার অপর কোনরূপ ক্ষতিসাধন পর্যন্ত প্রয়োগযোগ্য হবে, যদি যে অপরাধটি করার বা করার চেষ্টার বিরুদ্ধে এই অধিকার প্রয়োগ আবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে সে অপরাধটি নিম্নবর্ণিত বিভিন্ন প্রকৃতির মধ্যে যে কোন এক ধরনের হয়, যথা:-
প্রথমত (First): দস্যুতা;
দ্বিতীয়ত (Secondly): রাত্রিবেলা ঘর ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করা:
তৃতীয়ত (Thirdly): কোন গৃহ, তাবু বা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে ক্ষতি সাধন, যদি গৃহটি, তাবুটি বা যানবাহনটি মানুষের বাসস্থান হিসেবে অথবা সম্পত্তি রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়;
চতুর্থত (Fourthly): চুরি, অনিষ্টকারিতা, অথবা গৃহে অনধিকার প্রবেশ, যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে, সংশ্লিষ্ট আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি প্রয়োগ না করলে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত অনিবার্য বলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই আশঙ্কার উদ্ভব হয়।
---------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section-103: When the right of private defence of property extends to causing death:
The right of private defence of property extends, under the restrictions mentioned in section 99, to the voluntary causing of death or of any other harm to the wrong-doer, if the offence, the committing of which, or the attempting to commit which, occasions the exercise of the right, be an offence of any of the descriptions hereinafter enumerated, namely:-
Firstly.-Robbery;
Secondly.-House-breaking by night;
Thirdly.-Mischief by fire committed on any building, tent or vessel, which building, tent or vessel is used as a human dwelling or as a place for the custody of property;
Fourthly.-Theft, mischief or house-trespass, under such circumstances as may reasonably cause apprehension that death or grievous hurt will be the consequence, if such right of private defence is not exercised;
৮,৪৯০.
The Evidence : Act, 1872 অনুযায়ী নিম্নের কোনটি সঠিক নয়?
  1. মানচিত্র একটি দলিল
  2. মুদ্রিত বই একটি দলিল
  3. ব্যঙ্গচিত্র দলিল নয়।
  4. বে-সরকারি দপ্তরের হিসাব বই একটি দলিল
ব্যাখ্যা
♦ The Evidence : Act, 1872 এরে ধারা ৩ মতে দলিল (Document)- দলিল বা Document বলতে কোন পদার্থের উপর অক্ষর, সংখ্যা বা চিহ্নের (letters, figures or marks) সাহায্যে প্রকাশিত বা বর্ণিত কোন বিষয়কে বোঝায়।
♦ সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী যে কোন লিখনই দলিল বলে গণ্য হয়। মুদ্রিত, লিথোগ্রাফ বা ফটোগ্রাফকৃত যে কোন কথাও দলিল বলে গণ্য হবে (Words printed, lithographed or photographed are documents)।
♦ কোন মানচিত্র বা নকশা, কোন ধাতু খন্ড বা প্রস্তর খন্ডের উপর খোদাইকৃত কোন বিষয় অথবা কোন ব্যঙ্গচিত্র (caricature) দলিল বলে গণ্য হবে।
৮,৪৯১.
আদেশ-১৮ বিধি-২০ অনুযায়ী, কোন আদালত চূড়ান্ত শুনানির জন্য দৈনন্দিন কার্যতালিকায় সর্বোচ্চ কতটি মোকদ্দমা নির্ধারণ করতে পারবে?
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ১০টি
  4. ১৫টি
ব্যাখ্যা
⇒ আদেশ-১৮ বিধি-২০ অনুযায়ী, আদালত চূড়ান্ত শ্রবণের জন্য দৈনন্দিন কার্যতালিকায় সর্বোচ্চ ৫টি মোকদ্দমা নির্ধারণ করতে পারবে। এর মধ্যে ২টি "পার্ট-হিয়ার্ড" (অংশিক শুনানী করা) মোকদ্দমা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এটি আদালতের কার্যক্রমে একটি সীমাবদ্ধতা তৈরি করে যাতে আদালত কার্যক্রমে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে এবং প্রতিটি মামলার শুনানি যথাযথভাবে পরিচালিত হতে পারে।

⇒ আদেশ-১৮ বিধি-২০:-
কোন আদালত চূড়ান্ত শ্রবণ কার্যের নিমিত্তে দৈনন্দিন কার্যতালিকায় আংশিক শ্রবণীয় মোকদ্দমাসহ পাঁচটির অধিক মোকদ্দমা এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে একশতটির অধিক মোকদ্দমা নির্ধারণ করবে না; এবং নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত পর্যায়ের মোকদ্দমার সংখ্যা সত্তরটির নিম্নে নেমে আসলে সাধারণত দাখিল করা তারিখের উপর ভিত্তি করে আদালত চূড়ান্ত পর্যায়ে আরও মোকদ্দমা আনার ব্যবস্থা করতে পারবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন আদালতে শ্রবণ কার্যের নিমিত্তে তৈরীকৃত মোকদ্দমার সংখ্যা উপযুক্ত মতে নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট না হলে যথোপযুক্ত পদ্ধতিতে নির্ধারণ করার বিবেচনামূলক ক্ষমতা আদালতের থাকবে।
-----------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-18 Rule-20: Fixation of suits in the daily cause list, etc:
-The court shall not fix more than five suits including two part-heard suits, in the daily cause list for peremptory hearing and more than one hundred suits in the peremptory stage, and when upon disposal, the total number of suits in the peremptory stage comes down to less than seventy, the Court shall then bring in more suit in the peremptory stage, generally in the order of dates of institution of suits:
Provided that if in any Court, the number of suits made ready for hearing is not sufficient for fixation in the manner as aforesaid, it shall be in the discretion of the Court to make the fixation in a reasonable manner.
৮,৪৯২.
_____________ রাষ্ট্রীয় বিষয়াদি সংক্রান্ত অপ্রকাশিত সরকারি দলিলপত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সাক্ষ্য প্রদান করা যাবে না।
  1. আদালতের অনুমতি ছাড়া
  2. তথ্য প্রমাণ যথেষ্ট না হলে
  3. তদন্ত কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া
  4. সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান অফিসারের অনুমতি ছাড়া
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১২৩ ধারা: রাষ্ট্রীয় বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য:
কাউকেও রাষ্ট্রীয় বিষয়াদি সংক্রান্ত অপ্রকাশিত সরকারী দলিলপত্র হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান অফিসারের অনুমতি ব্যতীত সাক্ষ্য দেয়ার অনুমতি প্রদান করা যাবে না। যেই মত উক্ত অফিসার উপযুক্ত বিবেচনা করবেন, সেই মত দিবেন বা দেয়া হতে বিরত থাকবেন।

অর্থাৎ, রাষ্ট্রীয় বিষয় সম্পর্কে অপ্রকাশিত সরকারি দলিলপত্র (unpublished official records) থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া কাউকে সাক্ষ্য প্রদানে বাধ্য করা যাবে না। এক্ষেত্রে প্রধান কর্মকর্তা অনুমতি দিতে পারেন আবার নাও পারেন।

Section 123- Evidence as to affairs of State:
No one shall be permitted to give any evidence derived from unpublished official records relating to any affairs of State, except with the permission of the officer at the head of the department concerned, who shall give or withhold such permission as he thinks fit.
৮,৪৯৩.
দণ্ডবিধির ৪৪ ধারার অধীনে "ক্ষতি" বলতে কী বোঝায়?
  1. শারীরিক ক্ষতি
  2. মানসিক ক্ষতি
  3. সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতি
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৪৪ ধারা- ক্ষতি:
যদি কোনো ব্যক্তির দেহ, মন, সুনাম বা সম্পত্তিতে অবৈধভাবে কোনরূপ ক্ষতিসাধন করা হয়, তবে তাকে 'ক্ষতি' বলে।

Section 44-“Injury”:
The word "injury" denotes any harm whatever illegally caused to any person, in body, mind, reputation or property.
৮,৪৯৪.
গণ-উৎপাত প্রতিরোধে নিষেধাজ্ঞার মামলা রুজুর জন্য কার অনুমতি লাগে?
  1. প্রধান বিচারপতির
  2. রাষ্ট্রপতির
  3. এটর্নি জেনারেলের
  4. প্রধানমন্ত্রীর
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৯১ ধারায় বলা হয়েছে যে, এটর্নি জেনারেল বা দুই বা ততোধিক ব্যক্তি লিখিত অনুমতি নিয়ে গণ-উৎপাত প্রতিরোধে নিষেধাজ্ঞার মামলা করবেন ।
⇒বিশেষ কোন ক্ষতি না হয়ে থাকলেও এই মামলা করা যাবে। তবে এটর্নি জেনারেল ছাড়া অন্য কেহ মামলা করতে হলে এটর্ণি জেনারেলের লিখিত ‍অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
৮,৪৯৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩২ ধারা অনুসারে চুক্তি সংশোধনের জন্য আদালত কোন বিষয়ে অনুমান করে?
  1. চুক্তির তারিখ
  2. সাক্ষীদের সংখ্যা
  3. পক্ষসমূহের অভিপ্রায়
  4. পক্ষসমূহের আর্থিক অবস্থা
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩২ ধারার শিরোনাম ও বিষয়বস্তুই হলো "পক্ষসমূহের অভিপ্রায় সম্পর্কে অনুমান" (Presumption as to intent of parties)।
- ধারাটিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে: লিখিত চুক্তি সংশোধনের জন্য আদালতকে নিশ্চিত হতে হবে যে, চুক্তির সকল পক্ষের উদ্দেশ্য (অভিপ্রায়) ছিল একটি সুষম ও সুবিচারমূলক (equitable and conscientious) চুক্তি সম্পাদন করা।
সুতরাং, আদালত চুক্তি সংশোধন করার সময় পক্ষগুলোর মূল অভিপ্রায় কী ছিল তা যাচাই করে, চুক্তির তারিখ, সাক্ষীর সংখ্যা বা পক্ষগুলোর আর্থিক অবস্থা নয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩২ ধারার বিধান: পক্ষসমূহের অভিপ্রায় সম্পর্কে অনুমান:
- লিখিত চুক্তি সংশোধন করবার উদ্দেশ্যে আদালত অবশ্যই নিশ্চিত হবেন যে, চুক্তির সকল পক্ষের উদ্দেশ্য হচ্ছে সুষম ও সুবিচারমূলক চুক্তি সম্পাদন করা।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 Section:-32. Presumption as to intent of parties:
- For the purpose of rectifying a contract in writing, the Court must be satisfied that all the parties thereto intended to make an equitable and conscientious agreement.

৮,৪৯৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির ২২ আদেশের অধীনে কোন মোকদ্দমা খারিজ হলে, উক্ত আদেশের বিধি ৯ অনুসারে একই কার্যকারণে-
  1. আবেদন ছাড়াই নতুন মোকদ্দমা রুজু করা যাবে
  2. কোনো ভাবেই নতুন মোকদ্দমা রুজু করা যাবে না
  3. বাদীর আবেদনক্রমে নতুন মোকদ্দমা রুজু করা যাবে
  4. বিবাদীর আবেদনক্রমে নতুন মোকদ্দমা রুজু করা যাবে
ব্যাখ্যা
আদেশ ২২ বিধি ৯: বিলুপ্তি কিংবা খারিজের ফলাফল:
১) যেক্ষেত্রে কোন মোকদ্দমা এই আদেশের অধীনে বিলুপ্তি বা খারিজ হয়, সেক্ষেত্রে মোকদ্দমার একই কার্যকারণে নতুন কোন মোকদ্দমা রুজু করা যাবে না।

২) বাদী কিংবা মৃত বাদীর বৈধ প্রতিনিধি হিসাবে দাবীদার ব্যক্তি বা অসচ্ছলতা বাদীর ক্ষেত্রে স্বত্বনিয়োগী বা রিসিভার বিলুপ্ত বা খারিজ রদ করার আদেশের জন্য আবেদন করতে পারে এবং যদি এটি প্রমাণিত হয় যে, সে মোকদ্দমা পরিচালনা পর্যাপ্ত কারণে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল তবে আদালত মোকদ্দমার খরচাদি সম্পর্কে তার বিবেচনায় এরূপ শর্তাধীনে বা অন্য কোনভাবে বিলুপ্ত বা খারিজ রদ করবে।

৩) উপবিধি (২) এর অধীনে আবেদন পত্রের ক্ষেত্রে ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৪ এবং ৫ ধারার বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে।

Rule.-9: Effect of abatement or dismissal-
1) Where a suit abates or is dismissed under this Order, no fresh suit shall be brought on the same cause of action.

2) The plaintiff or the person claiming to be the legal representative of a deceased plaintiff or the assignee or the receiver in the case of an insolvent plaintiff may apply for an order to set aside the abatement or dismissal; and if it is proved that he was prevented by any sufficient cause from continuing the suit, the Court shall set aside the abatement or dismissal upon such terms as tocosts or otherwise as it thinks fit.

3) The provisions of sections 4 and 5 of the Limitation Act, 1908 shallapply to application under sub-rule (2).
৮,৪৯৭.
বর্তমানে প্রচলিত ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ সালে কত নং আইন?
  1. ১ নং
  2. ৫ নং
  3. ৯ নং
  4. ৪৫ নং
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ সালের ৫ নং আইন।
-ফৌজদারী কার্যবিধি হলো প্রধানত একটি পদ্ধতিগত আইন। কারণ এই আইনে ফৌজদারী আদালতের গঠন এবং ক্ষমতা থেকে শুরু করে, অভিযোগ দায়ের, আসামী গ্রেফতার, মামলার তদন্ত, মামলা আমলে নেওয়া, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্য গ্রহণ, রায়, রায়ের বিরুদ্ধে আপীল ইত্যাদি সংক্রান্ত সকল নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে।
- ১৮৬১ সালে সর্ব প্রথম ফৌজদারী কার্যবিধি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক পাস করা হয়।
-পরবর্তীতে ১৮৭২ এবং ১৮৮২ সালে ফৌজদারী কার্যবিধি সংস্কার করে, ভারতীয় ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রেসিডেন্সি শহরে বিচারিক ক্ষমতা দেয়া হয়।
- ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ সালে পুনরায় সংস্কার করে কার্যকর করা হয়। এই আইনটি ১৮৯৮ সালের পহেলা জুলাই হতে কার্যকর করা হয়।
- অর্থাৎ বর্তমানে প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধিটি প্রণয়ন করা হয় (পাস/গৃহীত হয়) ১৮৯৮ সালের ২২ মার্চ এবং কার্যকর হয় ১৮৯৮ সালের ১ জুলাই। ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ সালের ৫ নং আইন।

এছাড়াও,
-দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ (১৯০৮ সালের ৫নং আইন)
-সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ (১৮৭৭ সালের ১নং আইন)
- দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (১৮৬০ সালের ৪৫ নং আইন)
- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ (১৮৭২ সালের ১নং আইন)
- তামাদি আইন, ১৯০৮ (১৯০৮ সালের ৯নং আইন)
৮,৪৯৮.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী কোন ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি ব্যতীত ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যাবে?
  1. জবানবন্দী গ্রহণকালে
  2. লিখিত সাক্ষ্য গ্রহণকালে
  3. পুনঃজবানবন্দী গ্রহণকালে
  4. জেরা কালে
ব্যাখ্যা
⇒ যে প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর থাকে, তাকে নির্দেশক প্রশ্ন বা ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বা Leading question বলে। সাধারণত 'হ্যা' অথবা 'না' এই দুই  ভাবে প্রশ্নের উত্তর দেয়া যায়।
- সাক্ষ্য আইনের ১৪৩ ধারার বিধান- জেরার ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা চলিবে।

- সাক্ষ্য আইনের ১৪২ ধারার বিধান-
বিরুদ্ধ পক্ষ যদি আপত্তি করেন, তবে জবানবন্দী ও পুনঃজবানবন্দী গ্রহণকালে আদালতের অনুমতি ব্যতীত ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা চলিবে না।
---------------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section-140. Witnesses to character:
Witnesses to character may be cross-examined and re-examined.

⇒ The Evidence Act, 1872-Section- 141.Leading questions:
 Any question suggesting the answer which the person putting it wishes or expects to receive is called a leading question.

⇒ The Evidence Act, 1872-Section-142.When they must not be asked
 Leading questions must not, if objected to by the adverse party be asked in an examination-in-chief, or in a re-examination, except with the permission of the Court. 
 
The Court shall permit leading questions as to matters which are introductory or undisputed, or which have, in its opinion, been already sufficiently proved.

⇒ The Evidence Act, 1872-Section-143.  When they may be asked:
-Leading questions may be asked in cross-examination.
৮,৪৯৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৭ নং আদেশ অনুযায়ী, মুলতবির জন্য খরচ কত হতে পারে?
  1. সর্বনিম্ন ৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা
  2. সর্বনিম্ন ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা
  3. সর্বনিম্ন ১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১৫০০ টাকা
  4. সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৭ নং আদেশের অধীনে মুলতবি বা Adjournment সম্পর্কিত কিছু নিয়ম রয়েছে। যখন কোনো পক্ষ শুনানিতে উপস্থিত না হতে পারে বা অন্য কোনো কারণে শুনানি স্থগিত করতে চায়, তখন আদালত মুলতবি বা Adjournment মঞ্জুর করতে পারে।

→ মুলতবির আবেদন করার জন্য আদালত খরচ নির্ধারণ করে। এই খরচের পরিমাণ, আইন অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা হতে পারে।

- এই খরচ আদালত কর্তৃক নির্ধারিত হয় এবং তা মুলতবি মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে এক ধরনের শাস্তি বা প্রেরণা হিসেবে কাজ করে, যাতে পক্ষগুলি মাত্রাতিরিক্ত সময়ের জন্য মামলার শুনানি স্থগিত না করে।
৮,৫০০.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে উল্লেখিত সর্বোচ্চ তামাদির মেয়াদ নিম্নের কোন অনুচ্ছেদে দেয়া আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৪৭
  2. অনুচ্ছেদ ১৪৮
  3. অনুচ্ছেদ ১৪৯
  4. উল্লিখিত সবগুলোয়
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে উল্লেখিত সর্বোচ্চ তামাদির মেয়াদ হলো ৬০ বছর এবং সর্বনিম্ন তামাদির মেয়াদ হলো ৭দিন। সর্বোচ্চ তামাদির মেয়াদ ১৪৭ থেকে ১৪৯ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে।

অনুচ্ছেদ ১৪৭- রেহেন উদ্ধারের অধিকার নাশ [Foreclosure] বা বিক্রয়ের [Sale] জন্য রেহেন গ্রহীতা কর্তৃক মামলা দায়েরের সময়সীমা,
রেহেন ঋণ যখন পরিশোধযোগ্য হয় সেই সময় থেকে- ৬০ বছর।

অনুচ্ছেদ ১৪৮-বন্ধকী স্থাবর সম্পত্তি খালাস করার জন্য বা দখল পুনরুদ্ধারের [redeem] জন্য বন্ধক গ্রহীতার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সময়সীমা, যখন সম্পত্তি খালাস করার বা দখল পুনরুদ্ধার করার অধিকার উদ্ভব হয় সেই সময় থেকে- ৬০ বছর।

অনুচ্ছেদ ১৪৯-সুপ্রীম কোর্টের মূল এখতিয়ারাধীন মামলা ব্যতীত সরকার কর্তৃক সরকারের পক্ষে দায়েরকৃত কোন মামলার তামাদি-৬০ বছর।