বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

মোট প্রশ্ন১৫,৪৭০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

PrepBank · পাতা ৬২ / ১৫৫ · ৬,১০১৬,২০০ / ১৫,৪৭০

৬,১০১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারা অনুযায়ী "সাধারণ নাগরিক" (private person) কোন ধরনের অপরাধে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবেন?
  1. জামিনযোগ্য ও আমলযোগ্য অপরাধ
  2. জামিন অযোগ্য ও আমলঅযোগ্য অপরাধ
  3. জামিন অযোগ্য ও আমলযোগ্য অপরাধ
  4. উল্লিখিত সকল অপরাধে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৫৯ ধারা অনুযায়ী, সাধারণ নাগরিক শুধুমাত্র সেই ধরনের অপরাধে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবেন যেগুলো জামিন অযোগ্য (অর্থাৎ জামিন পাওয়া যায় না) এবং আমলযোগ্য (অর্থাৎ পুলিশ তদন্তের যোগ্য, মামলা নেওয়ার যোগ্য)।
- জামিন অযোগ্য (Non-bailable): যে অপরাধে জামিন পাওয়ার অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেই, আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভর করে।
- আমলযোগ্য (Cognizable): যে অপরাধে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়া গ্রেপ্তার করতে পারে এবং তদন্ত করতে পারে।
- Proclaimed offender: আইনত ঘোষিত অপরাধী।
অতএব, ধারা ৫৯ অনুসারে, সাধারণ নাগরিক জামিন অযোগ্য ও আমলযোগ্য অপরাধ বা ঘোষিত অপরাধী (proclaimed offender)-কে গ্রেপ্তার করতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারার বিধান সাধারণ নাগরিক কর্তৃক গ্রেফতার এবং এই ধরনের গ্রেফতারের পরবর্তী কার্যপ্রণালি:
(১) যে কোন সাধারণ নাগরিক তাঁর মতে জামিন অযোগ্য ও আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনকারীকে অথবা অপরাধী মর্মে ঘোষিত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারেন এবং অনাবশ্যক বিলম্ব না করে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে পুলিশ অফিসারের কাছে হস্তান্তর করবেন অথবা পুলিশ অফিসারের অনুপস্থিতিতে তাকে নিকটস্থ থানায় হেফাজতে নিয়ে যাবেন বা নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করবেন।
(২) এই ধরনের ব্যক্তি ৫৪ ধারার বিধানসাপেক্ষ বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকলে একজন পুলিশ অফিসার পুনরায় তাকে গ্রেফতার করবেন।
(৩) সে আমল-অযোগ্য অপরাধ করেছে মর্মে বিশ্বাস করার কারণ থাকলে এবং পুলিশ অফিসারের দাবিকে সে নিজের নাম ও বাসস্থান প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলে অথবা যদি এরূপ নাম ও বাসস্থান দেয় যা উক্ত অফিসারের মিথ্যা রূপে বিশ্বাস করবার কারণ ঘটে, সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে ৫৭ ধারার বিধান সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সে কোন অপরাধ করেছে মর্মে বিশ্বাস করবার মত পর্যাপ্ত কারণ না থাকলে তাকে সাথে সাথে ছেড়ে দিতে হবে।
----------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-59: Arrest by private persons and procedure on such arrest:
(1) Any private person may arrest any person who in his view commits a non-bailable and cognizable offence, or any proclaimed offender, and without unnecessary delay, shall make over any person so arrested to a police-officer, or, in the absence of a police-officer, take such person or cause him to be taken in custody to the nearest police-station. 
(2) If there is reason to believe that such person comes under the provisions of section 54, a police-officer shall re-arrest him. 
(3) If there is reason to believe that he has committed a non-cognizable offence, and he refuses on the demand of a police-officer to give his name and residence, or gives a name or residence which such officer has reason to believe to be false, he shall be dealt with under the provisions of section 57. If there is no sufficient reason to believe that he has committed any offence, he shall be at once released.

৬,১০২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার অধীনে কোন আদালত জামিন মঞ্জুর বা জামিনের পরিমাণ হ্রাস করার নির্দেশ দিতে পারেন?
  1. শুধুমাত্র দায়রা আদালত
  2. ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ও দায়রা আদালত
  3. হাইকোর্ট ডিভিশন ও ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট
  4. হাইকোর্ট ডিভিশন ও দায়রা আদালত
ব্যাখ্যা
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার অধীনে হাইকোর্ট ডিভিশন ও দায়রা আদালত জামিন মঞ্জুর বা জামিনের পরিমাণ হ্রাস করার নির্দেশ দিতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার বিধান: জামিন মঞ্জুর করার এবং অর্থের পরিমাণ হ্রাস করার ক্ষমতা:
- এই অধ্যায়ের অধীন সম্পাদিত প্রত্যেকটি বন্ডের অর্থের পরিমাণ মামলার পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক নির্ধারণ করতে হবে এবং তা অত্যধিক হবে না, এবং দণ্ডের পর আপিল থাকুক আর না থাকুক, হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত যে-কোনো ক্ষেত্রে যেকোনো ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করার বা পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দাবিকৃত জামিন হ্রাস করার নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।
--------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 498: Power to direct admission to bail or reduction of bail:
- The amount of every bond executed under this Chapter shall be fixed with due regard to the circumstances of the case, and shall not be excessive; and the High Court Division or Court of Session may, in any case, whether there be an appeal on conviction or not, direct that any person be admitted to bail, or that the bail required by a police-officer or Magistrate be reduced.
৬,১০৩.
অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের জবাব শুনানীর সময়ের কমপক্ষে কত দিন পূর্বে বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর দাখিল করবেন?
  1. ২ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ২১ দিন
  4. ১৫ দিন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২-এর ৪৬ বিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের জবাব দিতে পারবেন এবং উহার ২ কপি শুনানীর সময়ের কমপক্ষে ৭ দিন পূর্বে বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর দাখিল করবেন। সচিব শুনানীর কমপক্ষে দুই দিন পূর্বে তা অভিযোগকারী এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে সরবরাহ করবেন।
-------------
⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council Rules, 1972. Rule- 46: The advocate concerned shall be entitled to file a reply to the allegations against him whether or not he has already filed a reply before the Bar Council.
-He shall deliver such reply along with two copies to the Secretary at least seven days before the date of hearing fixed by the Tribunal and the Secretary shall deliver the copies to the Attorney General and the complainant at least two days before such d hearing.
৬,১০৪.
Mesne Profits-এর মধ্যে সাধারণত কোন বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকে?
  1. শুধু সুদ
  2. শুধু ফসল
  3. সুদসহ মুনাফা
  4. শুধু মুনাফা
ব্যাখ্যা

⇒The Code of Civil Procedure, 1908-এর ধারা ২(১২) অনুসারে,
বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো, সুদসহ উক্ত মুনাফা কে মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে।

ব্যতিক্রম:-
বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে গণ্য হবে না।

৬,১০৫.
নিচের কোনটি চোরাই সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. দস্যুতা করে আনীত সম্পত্তি
  2. জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি
  3. জোরপূর্বক আত্মসাৎ করে অর্জিত সম্পত্তি
  4. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে অর্জিত সম্পত্তি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি।

• চোরাই মাল (Stolen Property): দণ্ডবিধির ৪১০ ধারা অনুযায়ী-
যে সম্পত্তির দখল চুরি, জোরপূর্বক আদায় (extortion) অথবা দস্যুতা (robbery) দ্বারা হস্তান্তরিত হয়েছে, এবং যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে অথবা যার ক্ষেত্রে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ সংঘটিত হয়েছে, সেই সম্পত্তিকে “চোরাই সম্পত্তি” বলে গণ্য করা হবে- চুরি, আত্মসাৎ বা বিশ্বাসভঙ্গ বাংলাদেশের ভেতরে বা বাইরে যেখানেই সংঘটিত হোক না কেন।

তবে, যদি উক্ত সম্পত্তি পরবর্তীতে আইনসিদ্ধভাবে অধিকারপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির দখলে আসে, তাহলে সেই মুহূর্ত থেকে উক্ত সম্পত্তি আর চোরাই সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে না।

⇒ জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি দণ্ডবিধির ৪১০ ধারার সংজ্ঞা অনুযায়ী “চোরাই সম্পত্তি” হিসেবে গণ্য হয় না।

শাস্তি:
দণ্ডবিধির ৪১১ ধারা অনুসারে, যে ব্যক্তি চোরাই মাল গ্রহণ করে, সেই ব্যক্তি ৩ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

৬,১০৬.
দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার মামলার আসামী দাবি করে যে, আসামীর কাজ সাধারণ ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়ে। উক্ত দাবি প্রমাণের দায়িত্ব আসামীর সাক্ষ্য আইনের কত ধারার বিধান?
  1. ১০২ ধারার
  2. ৯৬ ধারার
  3. ১০৩ ধারার
  4. ১০৫ ধারার
ব্যাখ্যা
♦ যে কাজগুলোকে স্বাভাবিকভাবে অপরাধ বলে গণ্য করা হলেও বিশেষ ক্ষেত্রে অপরাধ বলে গণ্য করা হয়না তাকেই সাধারণ ব্যতিক্রম বা General Exception বলে। দন্ডবিধির ৭৬ থেকে ১০৬ ধারায় কিছু সাধারণ ব্যতিক্রমের উল্লেখ রয়েছে। দন্ডবিধির ৭৬ থেকে ১০৬ ধারার আওতাধীন কার্য বা কার্যবিরতিগুলো (acts or omission) স্বাভাবিকভাবে অপরাধ মনে হলেও সেগুলো ফৌজদারি দায় (criminal liability) থেকে মুক্ত; অর্থাৎ ৭৬ থেকে ১০৬ ধারার আওতাধীন কার্যগুলো অপরাধ মনে হলেও অপরাধী কোন শাস্তি পায়না। 
♦ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১০৫ মতে- কোন ব্যক্তি কোন অপরাধে অভিযুক্ত হলে মামলাটি যাতে দন্ডবিধিতে বর্ণিত সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহের মধ্যে পড়তে পারে, অথবা দন্ডবিধিতে বর্ণিত কোন বিশেষ ব্যতিক্রম বা উহার অপর কোন অংশে বর্ণিত কোন শর্তের মধ্যে পড়তে পারে বা উক্ত অপরাধ সম্পর্কিত অপর কোন আইনে বর্ণিত কোন শর্তের মধ্যে পড়তে পারে, এইরূপ কোন পরিস্থিতির অস্তিত্ব প্রমাণ করার দায়িত্ব অভিযুক্ত ব্যক্তির উপর ন্যস্ত থাকে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে আদালত অনুরূপ পরিস্থিতি অনুপস্থিত বলে অবশ্যই ধরে নিবেন।
♦সাক্ষ্য আইনের ১০৫ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি দণ্ডবিধির অধীন উল্লেখিত দণ্ডের সাধারণ ব্যতিক্রম দাবী করে, তাহলে সে যে দণ্ডবিধির অধীন বর্ণিত সাধারণ ব্যতিক্রমের অধীন পড়ে তা তাকেই প্রমাণ করতে হবে।
♦ সাক্ষ্য আইনের ১০৫ ধারামতে দন্ডবিধির সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ সহ যে কোন ব্যতিক্রম প্রমানের দায়িত্ব আসামীর।
৬,১০৭.
দণ্ডবিধি অনুসারে কোন আসামীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার পরও উক্ত আসামী খালাস পেলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি কী হবে?
  1. শুধু অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  4. অনধিক ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির  ১৯৪ ধারা মতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবনের ২ ধরনের শাস্তি হতে পারে। যথা-
(i) কোন আসামীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার পরও অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য সৃষ্টি করার পরও উক্ত আসামীর মৃত্যুদন্ড না হলে বা আসামী খালাস পেলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

(ii) মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের ফলে কোন নির্দোষ লোকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
-----------------------------------
⇒ দণ্ডবিধির ১৯৪ ধারার বিধান মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্যদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করা :- কোন ব্যক্তি যদি মিথ্যা সাক্ষ্যদান করে বা তৈরি করে এবং তদ্বারা কাউকে বর্তমানে বলবৎ কোন আইনবলে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যেই তা করে থাকে কিংবা তার এইরূপ মিথ্যা সাক্ষ্য দান বা তৈরি করার ফলে কাউকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দণ্ডিত করা হতে পারে জেনেই যদিও তা করে থাকে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে; তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

⇒ যদি তার ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত হয় এবং সাজা বলবৎ হয়:- যদি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যের ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি সাজাপ্রাপ্ত হয় ও সাজা বলবৎ হয়, তবে যে ব্যক্তি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যদান করেছে, সে ব্যক্তি হয় মৃত্যুদণ্ডে, না হয় এই ধরায় ইতোপূর্বে বর্ণিত সাজায় সাজাপ্রাপ্ত হবে।ঃ
______________________________________________________
⇒ The Penal Code, 1860, Section 194: Giving or fabricating false evidence with intent to procure conviction of capital offence; if innocent person be thereby convicted and executed
⇒  Whoever gives or fabricates false evidence, intending thereby to cause, or knowing it to be likely that he will thereby cause, any person to be convicted of an offence which is capital by any law for the time being in force, shall be punished with imprisonment for life, or with rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine; 
⇒ and if an innocent person be convicted and executed in consequence of such false evidence, the person who gives such false evidence shall be punished either with death or the punishment herein before described.
৬,১০৮.
একটি বাড়ি ও জমি ২০ লাখ টাকায় ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য দুই পক্ষ চুক্তি করে, যেখানে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কিছু আসবাবপত্রের মূল্য পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু পরবর্তীতে দুই পক্ষ আসবাবপত্রের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে একমত হতে ব্যর্থ হয়। এমন পরিস্থিতিতে-
  1. চুক্তিটি বাতিল বলে গণ্য হবে
  2. চুক্তিটির কোনো কার্য সম্পাদন সম্ভব নয়
  3. মূল্য নির্ধারণ পর্যন্ত চুক্তিটি স্থগিত থাকবে
  4. শুধু বাড়ি ও জমির ব্যাপারে কার্যসম্পাদনের আদেশ দিতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারামতে-
কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে, আদালত ঐ চুক্তির সম্পাদনযোগ্য বৃহত্তর অংশের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের আদেশ এবং বাকী অসম্পাদিত অংশের জন্য ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারার বিধান:
কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটুকু পালন করতে সমর্থ হয় এবং ক্ষুদ্রতর অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য হয়; তাহলে আদালত চুক্তিভুক্ত যে কোন এক পক্ষের মামলা দায়েরক্রমে বৃহত্তর অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের, এবং ক্ষুদ্রতর অংশটির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন।

Section 14: Specific performance of part of contract where part unperformed is small:
Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, but the part which must be left unperformed bears only a small proportion to the whole in value, and admits of compensation in money, the Court may, at the suit of either party, direct the specific performance of so much of the contract as can be performed, and award compensation in money for the deficiency.
৬,১০৯.
তামাদি আইন কখন থেকে কার্যকর হয়?
  1. ১৮০৯ সালের ১লা জানুয়ারি
  2. ১৯০৮ সালের ১লা জানুয়ারি
  3. ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারি
  4. ১৯১০ সালের ১লা জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
⇒ বর্তমানে প্রচলিত তামাদি আইনটি ৭ আগস্ট ১৯০৮ সালে প্রণয়ন করা হয় (পাস/গৃহীত হয়), যা তামাদি আইন ১৯০৮ নামে পরিচিত।
- তামাদি আইন ১৯০৮ সালের ৯ নং আইন।
- এটি ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।
- বর্তমানে তামাদি আইনের ২৯টি ধারা এবং ১টি তফশিল বলবৎ আছে।
- তফসিলে মোকদ্দমা, আপিল এবং আবেদন দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ বলবৎ আছে।

- তফসিলের ৩টি বিভাগে ৩ ধরনের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে-
i. মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
ii. আপিল দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
iii. বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।
৬,১১০.
জহির একজন মুদি দোকানি। সে তার পাশের দোকানে চোরাইমাল আছে জানতে পেরেও এই দোকানিকে আটক করে এবং পরবর্তীতে পুলিশে সোপর্দ করে। ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা তার এই কাজকে সমর্থন করে?
  1. ৫৬
  2. ৫৭
  3. ৫৯
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮, ধারা-৫৯ (বেসরকারী লোক কর্তৃক গ্রেফতার ও এইরূপ ক্ষেত্রে পদ্ধতি) অনুযায়ী- যে কোন সাধারণ নাগরিক তার মতে জামিন অযোগ্য ও আমলযোগ্য অপরাধ সংগঠনকারীকে অথবা অপরাধী বলে ঘোষিত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারেন এবং অনাবশ্যক বিলম্ব না করে পুলিশ অফিসারের নিকট দিবেন অথবা পুলিশ অফিসারের অনুপস্থিতিতে ক্ষেত্রে নিকটস্থ থানার হেফাজতে নিয়ে যাবেন অথবা নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করবেন।
৬,১১১.
The golden rule of interpretation is _________ of the literal rule.
  1. expansion
  2. opposite
  3. exception
  4. replacement
ব্যাখ্যা
The Golden Rule of Interpretation of Statutes-
গোল্ডেন রুল ইন্টারপ্রিটেশন হল লিটারাল রুলের একটি সম্প্রসারণ (expansion) বা বিস্তৃতি, যা বিচারকদের কঠোরভাবে শব্দের আক্ষরিক অর্থ থেকে সরে আসতে অনুমতি দেয় যাতে হাস্যকর ফলাফল প্রতিরোধ করা যায়। এই রুল বিচারককে শব্দের সাধারণ অর্থ থেকে বিচ্যুত হতে দেয় যদি এর ব্যাখ্যা অযৌক্তিক ফলাফলে পৌঁছায়।

গোল্ডেন রুল, লিটারাল রুল এবং মিসচিফ রুলের মধ্যে একটি সমঝোতা প্রদান করে। এটি সাধারণত শব্দগুলিকে তাদের সাধারণ এবং সরল অর্থে ব্যাখ্যা করে, তবে যখন শব্দের আক্ষরিক অর্থ অনুসরণ করলে আইন প্রণেতাদের উদ্দেশ্যের বিরুদ্ধে গিয়ে অযৌক্তিক ফলাফল হয়, তখন বিচ্যুতি গ্রহণের সুযোগ প্রদান করে।

গোল্ডেন রুলটি সংকীর্ণ এবং বিস্তৃতভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
সংকীর্ণ পদ্ধতিতে, বিচারক এই রুলটি প্রয়োগ করেন যখন আইনে ব্যবহৃত শব্দটি অস্পষ্ট হয়, অর্থাৎ এর একাধিক সম্ভাব্য অর্থ রয়েছে। তখন বিচারককে সেই অর্থের মধ্যে থেকে মামলার প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে উপযুক্ত অর্থটি নির্বাচন করতে হয়।

বিস্তৃত পদ্ধতিতে, গোল্ডেন রুল সাধারণত তখন ব্যবহার করা হয় যখন একটি শব্দের একমাত্র আক্ষরিক অর্থ রয়েছে, কিন্তু সেই অর্থটি ব্যবহার করলে হাস্যকর ফলাফল হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, আদালত শব্দটির ব্যাখ্যা পরিবর্তন করতে পারে যাতে এমন অযৌক্তিক ফলাফল এড়ানো যায়।
৬,১১২.
তামাদি আইন,১৯০৮ কোন ধরনের আইন?
  1. তত্ত্বগত আইন
  2. পদ্ধতিগত আইন
  3. মূল আইন
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
তামাদি আইন,১৯০৮ হচ্ছে পদ্ধতিগত আইন।

তত্ত্বগত আইন (Substantive Law):
যে আইনসমূহ অধিকার ও কর্তব্যকে সজ্ঞায়িত বা সন্নিবেশিত করে বা কোন অপরাধ কে সজ্ঞায়িত করে ও তার শাস্তির পরিমান উল্লেখ করে, তাই তত্ত্বগত আইন বা মূল আইন। যেমনঃ চুক্তি আইন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদি।

পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law):
তত্ত্বগত আইনগুলোতে যে অধিকার, কর্তব্য ও শাস্তিসমূহ উল্লেখ থাকে সেগুলো যে প্রক্রিয়া বা পদ্ধতির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়, সেই প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি যে আইনসমূহে উল্লেখ থাকে তাই পদ্ধতিগত আইন। যেমনঃ ফৌজদারি কার্যবিধি, তামাদি আইন, দেওয়ানি কার্যবিধি ইত্যাদি।
৬,১১৩.
একজন ব্যক্তি যদি নিজেকে একজন প্রখ্যাত রাজনৈতিক নেতা বলে পরিচয় দেয় এবং রাজনৈতিক সহায়তা লাভের চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির কত ধারার অধীন অভিযোগ আনা যাবে?
  1. ৪০৬
  2. ৪১৬
  3. ৪২৬
  4. ৪৩৬
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৪১৬ ধারা- অপরের রূপ ধারণপূর্বক প্রতারণা:
কোন ব্যক্তি যদি নিজেকে অন্য কোন ব্যক্তি বলে প্রতারণা করে অথবা জ্ঞাতসারে কোন ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে অথবা নিজেকে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে সে নিজে বা সে ব্যক্তি অন্য যে ব্যক্তি নয় সে ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা (Explanation):
যে ব্যক্তির রূপ ধারণ করা হয়েছে সে ব্যক্তি প্রকৃত ব্যক্তি হোক আর কাল্পনিক ব্যক্তি হোক না কেন অপরাধটি অনুষ্ঠিত হবে।

উদাহরণসমূহ:
(ক) 'ক' একই নামে একজন বিত্তশালী ব্যাংকার বলে নিজেকে পরিচয় দান করে। 'ক' অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।
(খ) 'ক' নিজেকে 'খ' বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে, 'খ' জনৈক মৃত ব্যক্তি। 'ক' অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।
৬,১১৪.
চুরির অপরাধের শাস্তি কী?
  1. সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড
  2. ন্যূনতম ২ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  3. সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড বা উভয়
  4. সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারার বিধান- চুরি করার সাজা:
কোন ব্যক্তি যদি চুরি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

Section 379- Punishment for theft:
Whoever commits theft shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.
৬,১১৫.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুসারে ৩০ বছর যাবৎ জীবিত ব্যক্তিকে জীবিত বলে অনুমান করা হয়?
  1. ধারা ১০৬
  2. ধারা ১০৭
  3. ধারা ১০৮
  4. ধারা ১০৯
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১০৭ অনুসারে— যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো ব্যক্তি বিগত ৩০ বছরের মধ্যে জীবিত ছিলেন, তাহলে আদালত তাকে জীবিত বলে অনুমান করতে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি দাবি করে যে তিনি মৃত, তার ওপরই মৃত্যুর প্রমাণের ভার বর্তায়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৭ ধারায় বিগত ৩০ বৎসর যাবৎ জীবিত ব্যক্তিকে আদালত জীবিত বলে অনুমান করতে বাধ্য; এক্ষেত্রে যে ব্যক্তি মৃত বলে দাবী করে তাকেই প্রমাণ করতে হবে যে উক্ত ব্যক্তি মৃত।
-----------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 107: Burden of proving death of person known to have been alive within thirty years:  When the question is whether a man is alive or dead, and it is shown that he was alive within thirty years, the burden of proving that he is dead is on the person who affirms it.

৬,১১৬.
"অসাধু উদ্দেশ্যে" (Dishonestly) কোনো কাজ করা বলতে কী বোঝায়, তা সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে কোন ধারায়?
  1. দণ্ডবিধির ২৩ ধারা
  2. দণ্ডবিধির ২৪ ধারা
  3. দণ্ডবিধির ২৫ ধারা
  4. দণ্ডবিধির ২৬ ধারা
ব্যাখ্যা
উত্তর:খ) দণ্ডবিধির ২৪ ধারা।
⇒ The Penal Code, 1860-এর ২৪ ধারা অনুযায়ী, "অসাধু উদ্দেশ্যে" (Dishonestly) বলতে বোঝায়—
যে কেউ যদি অবৈধভাবে অন্যের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে বা অন্যকে অবৈধভাবে লাভবান করার উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করে, তবে সেটিকে অসাধু উদ্দেশ্যে করা কাজ হিসেবে গণ্য করা হবে।
--------
⇒ The Penal Code, 1860- Sections-24. “Dishonestly”:
- Whoever does anything with the intention of causing wrongful gain to one person or wrongful loss to another person, is said to do that thing "dishonestly".
৬,১১৭.
আদেশ ৪০, বিধি ৫ অনুযায়ী আদালত কাকে রিসিভার হিসেবে নিয়োগ করতে পারেন?
  1. যেকোনো ব্যক্তিকে
  2. কালেক্টরকে
  3. যেকোনো সরকারী কর্মকর্তাকে
  4. মামলার কোন পক্ষকে
ব্যাখ্যা

আদেশ ৪০ বিধি ৫: যখন কালেক্টরকে রিসিভার নিয়োগ করা যায়:
যেক্ষেত্রে উক্ত সম্পত্তি সরকারকে রাজস্ব প্রদানকারী ভূমি বা উক্ত ভূমির রাজস্ব হস্তান্তরিত বা মুক্ত করা হয়ে থাকে এবং আদালত যদি মনে করেন যে, কালেক্টর কর্তৃক ব্যবস্থপনা চালিত হলে সংশ্লিষ্ট সকলের স্বার্থ রক্ষা হবে, সেক্ষেত্রে আদালত কালেক্টরের সম্মতিক্রমে তাকে উক্ত সম্পত্তির রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।

৬,১১৮.
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর ধারা ১৪৭ অনুযায়ী, জেলার কালেক্টর কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে কার নিকট?
  1. জেলা জজ
  2. বিভাগীয় কমিশনার
  3. ভূমি প্রশাসন বোর্ড
  4. হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা

⇒ The State Acquisition and Tenancy Act 1950 এর ১৪৭ ধারার বিধান আপিল: 
- এই ভাগ বা এই আইনের অধীন প্রণীত বিধিমালাতে আপিলের বিশেষ বিধানসাপেক্ষে, এই ভাগের অধীন রাজস্ব কর্মকর্তার প্রত্যেক মূল বা আপিল আদেশের বিরুদ্ধে নিম্নরূপভাবে আপিল করা যাইবে, যথা:
(ক) কালেক্টরের অধস্তন রাজস্ব কর্মকর্তা কর্তৃক আদেশ প্রদান করা হইলে, কালেক্টরের নিকট;
(কক) বিভাগের মধ্যে জেলার কালেক্টর কর্তৃক আদেশ প্রদান করা হইলে, বিভাগীয় কমিশনারের নিকট; এবং
(গ) বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক আদেশ প্রদান করা হইলে, ভূমি প্রশাসন বোর্ডএর নিকট

The State Acquisition and Tenancy Act 1950 এর ১৪৮ ধারার বিধান আপিল: আপিলের জন্য তামাদির মেয়াদ:
- ধারা ১৪৭ অনুযায়ী আপিলের জন্য তামাদির মেয়াদ যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয় সেই আদেশের তারিখ হইতে চলিতে থাকিবে এবং উহা নিম্নরূপ হইবে, অর্থাৎ-
       (ক) কালেক্টরের নিকট আপিল__________ত্রিশ দিন।
       (খ) বিভাগীয় কমিশনারের নিকট আপিল________ষাট দিন। 
       (খখ) ভূমি প্রশাসন বোর্ড এর নিকট আপিল___________নব্বই দিন।

-----------
⇒ The State Acquisition and Tenancy Act 1950 Section 147. Appeals:
-Subject to any special provisions for appeal made in this Part or in any rules made under this Act, an appeal shall lie from every original or appellate order made under any of the provisions of this Part by a Revenue-officer as follows, namely:- 
(a) to the Collector, when the order is made by a Revenue-officer subordinate to the Collector; 
(aa) to the Commissioner of the division, when the order is made by the Collector of a district within the division; and
(c) to the Board of Land Administration, when the order is made by the Commissioner of a division.

⇒ The State Acquisition and Tenancy Act 1950 Section 148. Limitation for appeals:
The period of limitation for an appeal under section 147 shall run from the date of the order appealed against and shall be as follows, that is to say- 
(a) when the appeal lies to the Collector ................... thirty days. 
(b) when the appeal lies to the Commissioner of a division ............ sixty days.
(bb) when the appeal lies to the Board of Land Administration ........................ ninety days.

৬,১১৯.
অসচ্ছল ব্যক্তির বার্ষিক গড় আয় অনধিক কত হলে সুপ্রীম কোর্টে আইনগত সহায়তা পাওয়ার যোগ্য হবে?
  1. ৫০,০০০ টাকা
  2. ১,০০,০০০ টাকা
  3. ১,৫০,০০০ টাকা
  4. ২,০০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
• আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায় সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ ব্যক্তিগণকে আইনগত সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা 'আইনগত সহায়তা প্রদান নীতিমালা, ২০১৪ নামে' নীতিমালা প্রণয়ন করে।

উক্ত নীতিমালার অনুচ্ছেদ ২ অনুযায়ী, এই নীতিমালার অধীন নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ আইনগত সহায়তা পাবার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন-

⇒ অসচ্ছল বা আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তির বার্ষিক গড় আয় অনধিক ১,৫০,০০০ টাকা (সুপ্রীম কোর্টে আইনগত সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে ) এবং অন্যান্য আদালতের ক্ষেত্রে ১,০০,০০০ টাকা।
⇒ কর্মে অক্ষম, আংশিক কর্মক্ষম, কর্মহীন কোন ব্যক্তি;
⇒ অক্ষম কোন মুক্তিযোদ্ধার বাৎসরিক আয় অনধিক ১,৫০,০০০ টাকা; এবং
⇒ কোন শ্রমিক যার বার্ষিক গড় আয় অনধিক ১,০০,০০০ টাকা।
৬,১২০.
A, যিনি নাবালক অবস্থায় একটি মিরাস আদায়ের অধিকার (right to sue for a legacy) অর্জন করেছেন, সেই অধিকার অর্জনের ১১ বছর পরে সাবালক হন। তামাদি আইনের ধারা ৬ এবং ৮ অনুযায়ী সে অতিরিক্ত কত সময় পাবে?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর 
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা

তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১২৩:
- কোন উইলদাতা (Testator) দ্বারা মিরাস বা অঙ্গীকারকৃত অংশের  জন্য মামলা বা উত্তরাধিকারীর (Intestate) সম্পত্তির বিতরণযোগ্য অংশের জন্য মামলা (legacy or for a share of a residue bequeathed)

মেয়াদকাল (Period of limitation): ১২ বছর।
মেয়াদকালের গণনার সময় (Time from which period begins to run): যখন মিরাস বা অংশ প্রদানের জন্য যোগ্য বা পাওয়ার যোগ্য হয়।

তামাদি আইনের ৮ ধারার বিধান: বিশেষ ব্যতিক্রম:
৬ অথবা ৭ ধারার কোন কিছুই অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবতের মামলায় প্রযোজ্য নহে। যেই মেয়াদের মধ্যে মামলা অবশ্যই দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করিতে হইবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপারগতার অবসানে বা মৃত্যুর পর তাহা উক্ত ধারাদ্বয়ের কোন কিছুই তিন বৎসরের অধিক বর্ধিত করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।

উদাহরণ:
(ক) (A), যিনি নাবালক অবস্থায় একটি মিরাস আদায়ের অধিকার অর্জন করেছেন, সেই অধিকার অর্জনের ১১ বছর পরে সাবালক হন। সাধারণ আইন অনুযায়ী, এই সময়ে তার মাত্র ১ বছরের অবশিষ্ট সময় থাকে মামলা করার জন্য। কিন্তু তামাদি আইনের ধারা ৬ এবং ৮ অনুযায়ী তাকে ২ বছর অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে। এর ফলে মোট ৩ বছর সময় পাবেন সাবালক হওয়ার দিন থেকে মামলা দায়ের করার জন্য।

৬,১২১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৫ ধারার বিধান সাপেক্ষে সকল নির্বাহী বা জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটগণ কার অধস্তন বলে গণ্য হবে?
  1. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট
  2. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট
  3. দায়রা জজ
  4. জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট
ব্যাখ্যা
ধারা ৪৩৫ (নিম্ন আদালতের নথি তলবের ক্ষমতা)-

ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৩৫ (১) ধারায় হাইকোর্ট বিভাগ এবং দায়রা জজ অধীনস্থ কোন ফৌজদারী আদালতের কোনো মামলার নথি তলব করতে পারে বা মামলার কোন কার্যক্রম পরীক্ষা করতে পারে। অধীনস্থ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত বা লিপিবদ্ধকৃত কোন দণ্ড বা আদেশের নির্ভুলতা, বৈধতা বা যৌক্তিকতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হতে; বা অধীনস্থ আদালতের মামলার কার্যক্রম রীতিসম্মত কিনা সে সম্পর্কে সন্তুষ্ট হতে উক্ত নথি পর্যালোচনা থাকাকালীন সময়ের জন্য হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত কোনো দণ্ড কার্যকর করা স্থগিতের আদেশ দিতে পারে; এবং যদি অভিযুক্ত আটক থাকে, তাহলে তাকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে বা আসামীর নিজ মুচলেকায় জামিন দিতে পারে।

সেই সাথে উক্ত ধারার ব্যাখায় বলা হয়েছে, এই ধারার উদ্দেশ্যে পূরণকল্পে নির্বাহী কিংবা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, যা-ই হোক, সকল ম্যাজিস্ট্রেট দায়রা জজের অধঃস্তন হিসাবে পরিগণিত হবে।

Section 435- Power to call for records of inferior Courts

(1) The High Court Division or any Sessions Judge, may call for and examine the record of any proceeding before any inferior Criminal Court situate within the local limits of its or his jurisdiction for the purpose of satisfying itself or himself as to the correctness, legality or propriety of any finding, sentence or order recorded or passed, and as to the regularity of any proceedings of such inferior Court and may, when calling for such record, direct that the execution of any sentence be suspended and, if the accused is in confinement, that he be released on bail or on his own bond pending the examination of the record. 
 
Explanation-All Magistrates, whether Executive or Judicial, shall be deemed to be inferior to the Sessions Judge for the purposes of this sub-section
৬,১২২.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীনে মোকদ্দমা দায়েরের জন্য আরজিতে কী কী তথ্য উল্লেখ করতে হবে?
  1. বাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান
  2. বিবাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান
  3. মোকদ্দমার কারণ সংক্রান্ত তথ্য
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৬(৪) অনুসারে, মোকদ্দমা দায়েরের জন্য আরজিতে নিম্নলিখিত তথ্য উল্লেখ করতে হবে:
- বাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান (ক)
- বিবাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান (খ)
- মোকদ্দমার কারণ সংক্রান্ত তথ্য (গ)
- আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত তথ্য
- বাদীর প্রার্থীত প্রতিকার
- মোকদ্দমার কারণ যেস্থানে ও তারিখে উদ্ভূত হয়েছে তার বিবরণ
- বাদী বা বিবাদী নাবালক বা অপ্রকৃতিস্থ হলে তৎসংশ্লিষ্ট বিবরণী
এই সমস্ত তথ্য আরজিতে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক, যাতে আদালত মোকদ্দমার বিষয়বস্তু ও পক্ষগণের পরিচয় স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে এবং যথাযথভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারে। তাই উপরের সবগুলো তথ্য (ক, খ, গ) আরজিতে উল্লেখ করতে হবে।
৬,১২৩.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯২ এর কোন Proviso অনুযায়ী প্রতারণা প্রমাণ করা যায়?
  1. Proviso-1
  2. Proviso-2
  3. Proviso-3
  4. Proviso-4
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯২ বলছে, যখন কোনো চুক্তি, অনুদান বা সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত বিষয় লিখিত দলিল আকারে প্রমাণ করা হয়, তখন সাধারণভাবে কোনো মৌখিক চুক্তি বা বক্তব্য দ্বারা সেই দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তন, সংযোজন বা বিয়োজন করা যাবে না।
তবে, এর কিছু ব্যতিক্রম আছে যেগুলো প্রভিসো (Provisos) আকারে ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯২ এর Proviso-1 অনুযায়ী, যেকোনো তথ্য প্রমাণ করা যেতে পারে যা কোনো দলিলকে অবৈধ করে বা যা কোনো ব্যক্তিকে সেই সম্পর্কে কোনো ডিক্রি বা আদেশ পাওয়ার অধিকার দেয়। এর মধ্যে প্রতারণা, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, অবৈধতা, যথাযথ সম্পাদনের অভাব, চুক্তিকারী পক্ষের সক্ষমতার অভাব, বিবেচনার অভাব বা ব্যর্থতা, অথবা তথ্য বা আইনের ভুল অন্তর্ভুক্ত।

- সুতরাং, একটি দলিলের ক্ষেত্রে প্রতারণা প্রমাণ করতে হলে Proviso-1 ব্যবহার করতে হবে।

- Proviso-1
"Any fact may be proved which would invalidate any document, or which would entitle any person to any decree or order relating thereto; such as fraud, intimidation, illegality, want of due execution, want of capacity in any contracting party, want or failure of consideration, or mistake in fact or law."
- অর্থাৎ, প্রতারণা (fraud), ভয়ভীতি, বেআইনি বিষয়, বৈধতা না থাকা ইত্যাদি কোনো কারণে যদি দলিলটি অবৈধ হয়, তা প্রমাণ করা মৌখিক সাক্ষ্যে সম্ভব — এবং এই ব্যতিক্রম অনুমোদন করে Proviso-1।
৬,১২৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩২ বিধি-১৪ অনুযায়ী, নাবালক বাদী কী কারণে তার নেক্সট ফ্রেন্ডের মাধ্যমে রুজুকৃত মোকদ্দমা খারিজ করতে পারে?
  1. মামলার শিরোনাম ভুল
  2. কোনো কারণ ছাড়াই
  3. অযৌক্তিক বা অসংগত
  4. অত্যধিক সময় নেওয়া
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩২ বিধি-১৪ অনুযায়ী, একটি নাবালক বাদী সাবালক হওয়ার পর আবেদন করতে পারে যে, তার নেক্সট ফ্রেন্ড কর্তৃক তার নামে রুজুকৃত মোকদ্দমা অযৌক্তিক বা অসংগত কারণে খারিজ করা হোক। এর মানে হল, যদি নাবালক বাদী মনে করে যে, তার নামে রুজুকৃত মামলা যুক্তিসংগত বা আইনি কারণে সঠিক নয়, তবে সে আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করতে পারে।

- দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)-এর আদেশ-৩২, বিধি-১৪(১) অনুসারে, নাবালক বাদী সাবালকত্ব প্রাপ্তির পর তার নামে নেক্সট ফ্রেন্ড (Next Friend) দ্বারা রুজুকৃত মোকদ্দমা খারিজের আবেদন করতে পারবে শুধুমাত্র নিম্নলিখিত কারণে: মোকদ্দমাটি অযৌক্তিক (Unreasonable) বা অনুচিত (Improper) হলে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩২ বিধি-১৪: অযৌক্তিক বা অনুচিত মোকদ্দমা:
১) কোন নাবালক একমাত্র বাদি হলে সাবালকত্ব প্রাপ্ত হয়ে এ মর্মে আবেদন করতে পারে যে, তার নেক্সট ফ্রেন্ড কর্তৃক তার নামে রুজুকৃত মোকদ্দমা অযৌক্তিক বা অসংগত হওয়ার কারণে খারিজ হবে।
২) সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের উপর আবেদনের নোটিশ জারি করতে হবে এবং উক্ত অসংগত কারণ সম্পর্কে সন্তুষ্ট হয়ে আদালত আবেদন মঞ্জুর করতে পারে এবং আবেদনপত্র ও মোকদ্দমার ব্যাপারে কোন কিছু সম্পর্কে সকল পক্ষ বরাবর খরচাদি পরিশোধের জন্য নেক্সট ফ্রেন্ডকে আদেশ দিতে পারে বা আদালত উপযুক্ত মনে করে অন্য কোন উপযুক্ত নির্দেশ দিতে পারে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-32 Rule-14:
(1)A minor, upon attaining majority, may, if he is the sole plaintiff, apply for the dismissal of a suit instituted in his name by his next friend on the grounds that it was unreasonable or improper.
(2)Notice of the application shall be served on all the parties concerned. Upon being satisfied of the unreasonableness or impropriety of the suit, the Court may grant the application and order the next friend to pay the costs of all parties regarding the application and anything done in the suit, or make such other order as it deems appropriate.
৬,১২৫.
স্বীকৃতি বিষয়ে সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় বর্ণিত হয়েছে?
  1. ১৯ থেকে ২১ ধারায়
  2. ১৭ থেকে ২০ ধারায়
  3. ২৪ থেকে ২৫ ধারায়
  4. ২২ থেকে ৩০ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ স্বীকৃতির সংজ্ঞা (Defintion of Admission)- সাক্ষ্য আইনের ১৭ ধারায় স্বীকৃতির সংজ্ঞা রয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ১৭ ধারামতে মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি যা মামলার বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্তের সূচনা করে, তাকে স্বীকৃতি বা admission বলে।

সাক্ষ্য আইনের ১৭ থেকে ৩১ ধারা এবং দেওয়ানি কার্যবিধির ১২ নং আদেশে স্বীকৃতি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান রয়েছে।

-----------
⇒ Admission defined:
Section 17. An admission is a statement, oral or documentary or contained in digital record, which suggests any inference as to any fact in issue or relevant fact, and which is made by any of the persons, and under the circumstances, hereinafter mentioned.
৬,১২৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় সাক্ষী কী ধরনের জবানবন্দি দিতে বাধ্য নয়?
  1. ব্যক্তিগত মতামত
  2. তদন্তকারীর সমস্ত প্রশ্ন
  3. মামলার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য
  4. এমন প্রশ্ন যার উত্তর তাকে অপরাধে অভিযুক্ত করতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬০ থেকে ১৬২ এ পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী তলব, সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং উহার ব্যবহার সম্পর্কে বিধান রয়েছে। ১৬০ ধারায় তদন্তকারী পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী তলব করা, ১৬১ ধারায় তদন্তকারী পুলিশ কর্তৃক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং উক্ত জবানবন্দির ব্যবহার সম্পর্কে ১৬২ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায়- তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মামলার ঘটনার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ের সাথে পরিচিত ব্যক্তির মৌখিক জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে। তার নিকট জিজ্ঞাসিত মামলা সম্পর্কিত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে সে বাধ্য থাকবে কিন্তু যে প্রশ্নের জবাব উক্ত সাক্ষীকে ফৌজদারী অভিযোগে দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির দিকে টেনে নিতে পারে, সেই সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে সাক্ষী বাধ্য নয়।
--------------------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-161: Examination of witnesses by police:
(1) Any police-officer making an investigation under this Chapter or any police-officer not below such rank as the Government may, by general or special order, prescribe in this behalf, acting on the requisition of such officer may examine orally any person supposed to be acquainted with the facts and circumstances of the case. 
 
(2) Such person shall be bound to answer all questions relating to such case put to him by such officer, other than questions the answers to which would have a tendency to expose him to a criminal charge or to a penalty or forfeiture. 
 
(3) The police-officer may reduce into writing any statement made to him in the course of an examination under this section, and if he does so he shall make a separate record of the statement, of each such person whose statement he records.
৬,১২৭.
বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার মোকদ্দমা দায়ের তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ৬ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা/ Mandatory Injunction-

কোন ব্যক্তি কোন কাজ করতে আইনগত ভাবে বাধ্য থাকা শর্তেও তা করা থেকে বিরত থাকলে আদালত তাকে কাজটি সম্পাদন করতে বাধ্য করে তথা কোন বাধ্যবাধকতা ভঙ্গ রোধ করার জন্য নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে যে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে তা বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা নামে পরিচিত। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৫ ধারায় এই সম্পর্কে বলা হয়েছে।

বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে সে যে কাজ করতে বাধ্য তাকে তা করতে আদেশ দেয়া হয়। সে জন্য ৫৫ ধারার বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা আদালতে প্রার্থনা করা হলে আদালত তার বিবেচনামূলক স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে সন্তুষ্টচিত্তে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে মঞ্জুর করে থাকেন।

যেক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ সম্পর্কে তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলে কোন বিধান নাই, সেক্ষেত্রে অনুচ্ছেদ ১২০ অনুসারে সেই মামলার তামাদির মেয়াদ মামলা করার অধিকার যখন উদ্ভব হয় সেই সময় থেকে ৬ বছর। তামাদি আইনে বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার মামলা দায়েরের তামাদির সুনির্দিষ্ট বিধান নেই।

অর্থাৎ বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ হবে ৬ বছর।
৬,১২৮.
The Civil Courts Act, 1887 এর ধারা ৩৭(১) অনুযায়ী, মুসলিম ব্যক্তিদের মধ্যে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত কীসের ভিত্তিতে নেওয়া হবে?
  1. পারিবারিক আইন
  2. হিন্দু আইন
  3. মুসলিম আইন
  4. উত্তরাধিকার আইন
ব্যাখ্যা

⇒ The Civil Courts Act,1887 আইনের ৩৭ ধারায় কতিপয় বিষয়ে রাষ্ট্রীয় আইন নয় বরং হিন্দু এবং মুসলিমদের ধর্মীয় আইনের বিধানকে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
⇒ The Civil Courts Act, 1887-এর ধারা ৩৭(১) অনুসারে, কোনো মামলা বা কার্যক্রমে যদি উত্তরাধিকার (Succession), বিবাহ (Marriage), জাতি (Caste), বা ধর্মীয় প্রথা ও প্রতিষ্ঠান (Religious Usage or Institution) সংক্রান্ত কোনো প্রশ্নের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে পক্ষগুলোর ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগ করা হয়। বিশেষ করে:
- যদি পক্ষগুলো মুসলিম হয়, তবে মুসলিম আইন প্রয়োগ করা হবে।
- যদি পক্ষগুলো হিন্দু হয়, তবে হিন্দু আইন প্রয়োগ করা হবে।

সুতরাং প্রশ্নে যেহেতু বলা হয়েছে “মুসলিম ব্যক্তিদের মধ্যে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে” → সিদ্ধান্ত হবে শুধুমাত্র মুসলিম আইনের ভিত্তিতে। সঠিক উত্তর: গ) মুসলিম আইন।
----------
⇒ The Civil Courts Act,1887, Section 37- Certain decisions to be according to local law:
(1) Where in any suit or other proceeding it is necessary for a Civil Court to decide any question regarding succession, inheritance, marriage or caste, or any religious usage or institution, the Muslim law in cases where the parties are Muslim, and the Hindu law in cases where the parties are Hindus, shall form the rule of decision except in so far as such law has, by legislative enactment, been altered or abolished.
(2) In cases not provided for by sub-section (1) or by any other law for the time being in force, the Court shall act according to justice, equity and good conscience.

৬,১২৯.
দু'টি পৃথক মামলায় ভিন্ন দু'জন বাদী একই বিবাদীর বিরুদ্ধে একই সম্পত্তির ব্যাপারে একই স্বত্ব দাবি করলে নিম্নের কোন কার্যক্রম গ্রহণ সঠিক হবে?
  1. দুটি মামলায় বিচার একত্রে চলবে
  2. দুটি মামলার বিচার পৃথক কোর্টে চলবে
  3. দুটি মামলার মধ্যে পরের মামলাটি স্থগিত হবে
  4. দুটি মামলার বিচার একই কোর্টে পাশাপাশি চলবে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ১০ ধারার রেস-সাবজুডিস নীতি প্রয়োগ করে আদালত যেমন পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমাটি স্থগিত করতে পারে। সেই সাথে, ১৫১ ধারার সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করে আদালত একই পক্ষসমূহের মধ্যে বিভিন্ন মোকদ্দমা একত্রিকরণ করার আদেশ দিতে পারে যে ক্ষেত্রে বিচার্য বিষয় প্রকৃতিগতভাবে একই।

দু'টি পৃথক মামলায় ভিন্ন দু'জন বাদী একই বিবাদীর বিরুদ্ধে একই সম্পত্তির ব্যাপারে একই স্বত্ব দাবী করলে, ১০ ধারার রেস-সাবজুডিস নীতি অনুযায়ী পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমার বিচার স্থগিত থাকার কথা। কিন্তু যেহেতু ১০ ধারার উদ্দেশ্য হলো বিরোধপূর্ণ সিদ্ধান্ত পরিহার করা, তাই যথাযথ মোকদ্দমার ক্ষেত্রে উভয় মোকদ্দমা একত্রিকরণ করে বিচার করার আদেশ আদালত দিতে পারে।

তাই দুইটি মোকদ্দমার বিচার একত্রে (Analogous Hearing) চলতে ১৫১ ধারায় আবেদন করা যায়।
৬,১৩০.
দণ্ডবিধির ৪২ ধারা অনুযায়ী 'স্থানীয় আইন' কাকে বলা হয়?
  1. শুধুমাত্র শহর এলাকায় প্রযোজ্য আইন
  2. বাংলাদেশের সমস্ত অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য আইন
  3. শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য আইন
  4. শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য আইন
ব্যাখ্যা
ধারা ৪২- স্থানীয় আইন (Local law) :

কেবলমাত্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরস্থ এলাকাসমূহের কোন বিশেষ অংশের ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য আইনকে স্থানীয় আইন বলে।
A "local law" is a law applicable only to a particular part of the territories comprised in Bangladesh.
৬,১৩১.
Penal Code, 1860 এর ধারা ৪৪৯ অনুযায়ী, কোন ধরনের অনধিকার প্রবেশ শাস্তিযোগ্য?
  1. সাধারণ চুরি করার জন্য প্রবেশ
  2. মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে প্রবেশ
  3. সাধারণ কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে প্রবেশ
  4. সম্পত্তি ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে প্রবেশ
ব্যাখ্যা

দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860) এর ধারা ৪৪৯ – মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ সংঘটনের জন্য গৃহে অনধিকার প্রবেশ:
যে ব্যক্তি কোনো ঘর, গৃহ বা ভবনে অনধিকার প্রবেশ করে, সেই প্রবেশের উদ্দেশ্য থাকে কোনো মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ (offence punishable with death) সংঘটন করা, তাকে এই ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে।

শাস্তি
- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life) অথবা
- সশ্রম কারাদণ্ড (Rigorous imprisonment) সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত, এবং
- অর্থদণ্ড (Fine) প্রযোজ্য।

৬,১৩২.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে সরকারকে রাজস্ব প্রদানকারী ভূমির ক্ষেত্রে আদালত কাকে রিসিভার হিসেবে নিয়োগ করতে পারেন?
  1. ভূমি কর্মকর্তা
  2. থানা নির্বাহী অফিসারকে
  3. কালেক্টরকে
  4. জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪০ বিধি ৫ অনুযায়ী যে ক্ষেত্রে সরকারকে রাজস্ব দেওয়া হয় সেই সব ভূমির জন্য কালেক্টরকে রিসিভার নিয়োগ করতে পারে। 
⇒ রিসিভার নিয়োগ, অধিকার ও কর্তব্য নিয়ন্ত্রন হয় দেওয়ানী কার্যবিধি আনুসারে।
⇒ আদালত রিসিভারের পারিশ্রমিক কি পরিমাণ নির্ধারন করবে এটা আদালতের ইচ্ছাধীন।
-----------------
CPC Order-40 Rule-5.When Collector may be appointed receiver:
Where the property is land paying revenue to the Government, or land of which the revenue has been assigned or redeemed, and the Court considers that the interest of those concerned will be promoted by the management of the Collector, the Court may, with the consent of the Collector, appoint him to be receiver of such property.
৬,১৩৩.
বসতঘরে চুরির অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা কি?
  1. ৫ বছরের কারাদন্ড ও জরিমানা
  2. ৩ বছরের কারাদন্ড ও জরিমানা
  3. ৭ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও জরিমানা
  4. ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও জরিমানা
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৩৮০ ধারার বিধান বাসগৃহ ইত্যাদিতে চুরি করা:- কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন গৃহ, তাঁবু জলযানে চুরি করে যে গৃহ তাঁবু বা জলযান মানুষের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয় অথবা সম্পত্তি হেফাজতের জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

যেহেতু সশ্রম কারাদণ্ড বিনাশ্রম কারাদণ্ড থেকে কঠিন এজন্য সর্বোচ্চ কারাদণ্ড হিসেবে অপশন 'ঘ' (৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও জরিমানা)  নির্বাচন করা হয়েছে।
৬,১৩৪.
আদালত কয় ভাবে 'Preventive relief' মঞ্জুর করতে পারে?
  1. দুই ভাবে
  2. তিন ভাবে
  3. চার ভাবে
  4. পাঁচ ভাবে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারার বিধান- নিরোধমূলক প্রতিকার যেভাবে মঞ্জুর করা হয়:
আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়।
 
আদালত নিম্নোক্ত ২ ভাবে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারেন-
১) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary injunctions) জারির মাধ্যমে বা
২) চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual injunctions) জারির মাধ্যমে।
-------------------------
⇒ Section 52- Preventive relief how granted:
Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual. 
৬,১৩৫.
প্রথম জরিপ খতিয়ান কোনটি?
  1. বি. এস খতিয়ান
  2. আর. এস খতিয়ান
  3. সি. এস খতিয়ান
  4. এস. এ খতিয়ান
ব্যাখ্যা
• মূলত জমির মালিকানা স্বত্ব রক্ষা ও রাজস্ব আদায়ের জন্য জরিপ বিভাগ কর্তৃক প্রতিটি মৌজার জমির এক বা একাধিক মালিকের নাম, পিতা বা স্বামীর নাম, ঠিকানা, দাগ নম্বর, ভূমির পরিমাণ, হিস্যা(অংশ), খাজনা ইত্যাদি বিবরণসহ যে ভূমি স্বত্ব প্রস্তুত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে।

- বাংলাদেশে সাধারণত ৪ ধরনের খতিয়ান রয়েছে।
 যথা-
১. সি. এস খতিয়ান
২. এস. এ খতিয়ান
৩. আর. এস খতিয়ান
৪. বি. এস খতিয়ান / সিটি জরিপ

সি. এস খতিয়ান: 
১৯৪০ সালে ব্রিটিশ সরকার জরিপ করে যে খতিয়ান তৈরি করে তাকে সি. এস খতিয়ান বলা হয়। আমাদের দেশে এটিই প্রাথমিক খতিয়ান হিসাবে বিবেচিত।

এস. এ খতিয়ান:
পাকিস্তান আমলে ১৯৫০ সালে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের চতুর্থ অধ্যায় এর ১৭ হতে ৩১ দ্বারা মতে ১৯৫৬-৬০ সালের দিকে যে খতিয়ান তৈরি করা হয় তাকে এস. এ (State Acquision) খতিয়ান বলে।

আর. এস খতিয়ান:
বাংলাদেশ সরকার পূর্বের তৈরিকৃত খতিয়ানের ভুল ত্রুটি সংশোধন করার জন্য নতুনভাবে উদ্যোগ নিয়ে যে খতিয়ান প্রস্তুত করেন তা আর. এস(Renisional Survey)খতিয়ান নামে পরিচিত।

বি. এস খতিয়ান / সিটি জরিপ:
১৯৯৮-৯৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত চলমান জরিপকে বি. এস খতিয়ান বা সিটি জরিপ বলে। এই খতিয়ান প্রস্তুতের কার্যক্রম এখনো চলছে।
৬,১৩৬.
সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এর অধীন সর্বোচ্চ অর্থদণ্ডের পরিমান কত?
  1. ৫০ লক্ষ টাকা
  2. ১ কোটি টাকা
  3. ৫ কোটি টাকা
  4. ৩ কোটি টাকা
ব্যাখ্যা
সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৩৯ নং আইন) দ্বারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন,২০১৮ রহিত করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বেশ কয়েকটি ধারা সংশোধন করে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ নামে নতুন একটি আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পূর্বের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২টি ধারা বাতিল করে নতুন আইনে ৬০টি ধারা করা হয়। ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত বৈঠকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ‘সাইবার নিরাপত্তা বিল-২০২৩’ পাস হয়।

উল্লেখ্য যে, এ আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ধারা ২৭ এবং ৩২ তে এই শাস্তির বিধান রয়েছে।
---------------------------------------
ধারা ২৭: সাইবার সন্ত্রাসী কার্য সংঘটনের অপরাধ ও দণ্ড


(১) যদি কোনো ব্যক্তি-

(ক) রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা এবং জনগণ বা উহার কোনো অংশের মধ্যে ভয়ভীতি সঞ্চার করিবার অভিপ্রায়ে কোনো কম্পিউটার বা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে বৈধ প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন বা বে- আইনি প্রবেশ করেন বা করান;

(খ) কোনো ডিজিটাল ডিভাইসে এইরূপ দূষণ সৃষ্টি করেন বা ম্যালওয়্যার প্রবেশ করান যাহার ফলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে বা গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হন বা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়; বা

(গ) জনসাধারণের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ ও সেবা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসসাধন করেন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর উপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করেন; বা (ঘ) ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে কোনো কম্পিউটার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক, সংরক্ষিত কোনো তথ্য-উপাত্ত বা কম্পিউটার ডাটাবেইজে প্রবেশ বা অনুপ্রবেশ করেন বা এইরূপ কোনো সংরক্ষিত তথ্য-উপাত্ত বা কম্পিউটার ডাটাবেইজে প্রবেশ করেন যাহা বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্রের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বা জনশৃঙ্খলা পরিপন্থি কোনো কাজে ব্যবহৃত হইতে পারে অথবা বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্র বা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সুবিধার্থে ব্যবহার করা হইতে পারে,

তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে সাইবার সন্ত্রাস অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

ধারা ৩২: হ্যাকিং সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ড
যদি কোনো ব্যক্তি হ্যাকিং করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

ব্যাখ্যা-এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “হ্যাকিং” অর্থ-
(ক) কম্পিউটার তথ্য ভাণ্ডারের কোনো তথ্য চুরি, বিনাশ, বাতিল, পরিবর্তন বা উহার মূল্য বা উপযোগিতা হ্রাসকরণ বা অন্য কোনোভাবে ক্ষতিসাধন; বা
(খ) নিজ মালিকানা বা দখলবিহীন কোনো কম্পিউটার, সার্ভার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক সিস্টেমে অবৈধভাবে প্রবেশের মাধ্যমে উহার ক্ষতিসাধন।
৬,১৩৭.
'নির্বাচনকালে অন্যায় প্রভাব (Undue influence at elections)' দণ্ডবিধির কত ধারায় সংজ্ঞায়িত?
  1. ১৭০
  2. ১৭১ক
  3. ১৭১গ
  4. ১৭১ঘ
ব্যাখ্যা
ধারা ১৭১গ: নির্বাচনকালে অন্যায় প্রভাব-
(১) যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বা চেষ্টা করে কোনো নির্বাচনী অধিকারের মুক্ত ব্যবহারকে হস্তক্ষেপ করতে, সে নির্বাচনকালে অন্যায় প্রভাবের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবে।

(২) উপধারা (১)-এর সাধারণ বিধির উপর ক্ষতি না করে, যে ব্যক্তি—
(ক) কোনো প্রার্থী বা ভোটার অথবা প্রার্থী বা ভোটারের সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তিকে কোনো ধরনের ক্ষতির ভয় দেখায়, অথবা
(খ) কোনো প্রার্থী বা ভোটারকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করে বা চেষ্টা করে যে সে বা তার সাথে সম্পর্কিত কেউ ঈশ্বরের অদৃষ্টদোষ বা আধ্যাত্মিক শাস্তির সম্মুখীন হবে,

তাহলে তাকে নির্বাচনী অধিকারের মুক্ত ব্যবহারকে হস্তক্ষেপ হিসাবে গণ্য করা হবে, যেমনটি উপধারা (১)-এ উল্লেখিত।

(৩) সরকারি নীতি বা সরকারি কর্মের প্রতিশ্রুতি, বা কোনো নির্বাচনী অধিকারে হস্তক্ষেপ করার উদ্দেশ্য ছাড়া শুধুমাত্র কোনো আইনগত অধিকার প্রয়োগ করা, এটি এই ধারার অধীনে হস্তক্ষেপ হিসাবে গণ্য হবে না।
৬,১৩৮.
রফিক হাসানকে হেনস্থা করার উদ্দেশ্যে, পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন যে হাসান একটি চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। রফিক জানেন যে হাসান কোনো চুরি করেনি, তবুও তিনি এই মিথ্যা অভিযোগটি দায়ের করেন যাতে হাসানকে আইনি জটিলতায় ফেলা যায়। এই ধরনের কাজের জন্য, রফিক দণ্ডবিধির ______ ধারার অধীনে দোষী সাব্যস্ত হবেন।
  1. ২১১
  2. ৩১১
  3. ৪১১
  4. ১১১
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ২১১ ধারার বিধান- ক্ষতি করিবার উদ্দেশ্যে অপরাধের মিথ্যা অভিযোগ:

কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে ক্ষতিসাধনের জন্য উক্ত অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা রুজু করার বা অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ উত্থাপন করার কোন সংগত বা আইনানুগ যুক্তি নাই বলে জানা সত্ত্বেও উক্ত অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারী মামলা রুজু করে বা অনুরূপ মামলা রুজু করায়, কিংবা উক্ত অন্য ব্যক্তির কোন অপরাধ করেছে বলে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে,
তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হবে, এবং যদি অনুরূপ ফৌজদারি মামলায়, মৃত্যুদণ্ডে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, কিংবা সাত বৎসর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটনের মিথ্যা অভিযোগ রুজু করা হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
৬,১৩৯.
ধারা ২১ অনুযায়ী ‘ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি’ বলতে বোঝায়:
  1. আদালতের নিয়োগকৃত অ্যাডভোকেট
  2. শুধুমাত্র আদালতের নিযুক্ত ব্যক্তিকে
  3. স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিকে
  4. আইনে স্বীকৃত অভিভাবক, কমিটি বা ম্যানেজারকে
ব্যাখ্যা
• ধারা ২১: অক্ষম ব্যক্তির প্রতিনিধি (Agent of person under disability)-
যথাবিহিতরূপে ‘ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি’ বলিতে অপারগতাগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে-
আইন সম্মত অভিভাবক;
কমিটি বা ম্যানেজারকে; অথবা
অনুরূপ অভিভাবক, কমিটি বা ম্যানেজার কর্তৃক স্বীকৃতি স্বাক্ষর করিবার বা অর্থ প্রদান করিবার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বুঝাইবে।
৬,১৪০.
Execution of a 30 years old document may be presumed to be correct , if it is-
  1. Produced from a Lawyer
  2. Produced from a witness
  3. Produced from any custody
  4. Produced from a proper custody
ব্যাখ্যা
⇒ ধারা ৯০ অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরনো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক মনে করবে যদি দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হয় এবং আদালতের দৃষ্টিতে সঠিক হেফাজত হতে দলিলটি আদালতে দাখিল করা হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারা অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরানো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয় বস্তুকে আদালত সঠিক বলে মনে করতে পারে আবার নাও করতে পারে। ৯০ ধারায় বলা হয়েছে ৩০ বছরের পুরানো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক বলে মনে করবে যদি দলিলটি সঠিক ব্যক্তির দখল থেকে আসে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারার বিধান ত্রিশ বৎসরের পুরাতন দলিল সম্পর্কে অনুমান:
যখন কোন দলিল ত্রিশ বৎসরের পুরাতন বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় বা প্রমাণ করা হয় এবং তাহা সংশ্লিষ্ট মকদ্দমায় যে পক্ষের হেফাজতে থাকা সঙ্গত বলিয়া আদালত মনে করেন, সেই পক্ষের হেফাজত হইতে উহা আদালতে দাখিল করা হয়; তখন আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, সেই দলিলে স্বাক্ষর এবং অন্যান্য সকল অংশ যে ব্যক্তির হস্তাক্ষ বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয়, তাহা সেই ব্যক্তিরই হস্তাক্ষর এবং যেখানে দলিলটি সম্পাদিত বা প্রত্যায়িত, সেখানে আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, যে ব্যক্তির দ্বারা উহা সম্পাদিত ও সত্যায়িত বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় সেই ব্যক্তির দ্বারা উহা যথাবিহিতরূপে সম্পাদিত ও সত্যায়িত হইয়াছে।

⇒ ব্যাখ্যা: দলিল যেস্থানে ও যে ব্যক্তির হেফাজতে থাকা স্বাভাবিক, যদি উহা সেই স্থানে এবং সেই ব্যক্তির হেফাজতে থাকে, তবে উহা উপযুক্ত হেফাজতে আছে বলিয়া বুঝাইবে। কিন্তু দলিলটি যে হেফাজতে আছে, সেখানে থাকিবার আইন সঙ্গত কারণ আছে বলিয়া যদি প্রমাণিত হয় অথবা সংশ্লিষ্ট মকদ্দমায় ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে অনুরূপ কারণ থাকা সম্ভব বলিয়া যদি বিবেচিত হয়, তবে সেই হেফাজত অনুপযুক্ত বলিয়া গণ্য হইবে না।
এই ব্যাখ্যা ৮১ ধারার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

অর্থাৎ ধারা ৯০ অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরনো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক মনে করবে যদি দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হয় এবং আদালতের দৃষ্টিতে সঠিক হেফাজত হতে দলিলটি আদালতে দাখিল করা হয়।
-------------------
⇒The Evidence Act  1872, Section 90. Presumption as to documents thirty years old:
Where any document, purporting or proved to be thirty years old, is produced from any custody which the Court in the particular case considers proper, the Court may presume that the signature and every other part of such document, which purports to be in the handwriting of any particular person, is in that person's handwriting, and, in the case of a document executed or attested, that it was duly executed and attested by the persons by whom it purports to be executed and attested. 

⇒ Explanation.-Documents are said to be in proper custody if they are in the place in which, and under the care of the person with whom, they would naturally be; but no custody is improper if it is proved to have had a legitimate origin, or if the circumstances of the particular case are such as to render such an origin probable. 
 
⇒ This explanation applies also to section 81.
৬,১৪১.
X অন্যায়ভাবে Y-এর ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক Y-এর একটি আংটি নদীতে নিক্ষেপ করে। X-এর কৃত অপরাধ হলো-
  1. চুরি
  2. অর্থ আত্মসাৎ
  3. ক্ষতি
  4. জোরপূর্বক সম্পত্তি আদায়
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধি ৪২৫ ধারা অনুযায়ী অন্যের অন্যায় ক্ষতি বা লোকসানের (Wrongful loss or damage) উদ্দেশ্যে কোন সম্পত্তি ধ্বংস বা বিনষ্ট অথবা সম্পত্তির মূল্য/উপযোগীতা হ্রাস বা ক্ষতিগ্রস্ত করাকে অনিষ্ট বা ক্ষতি (mischief) বলে।
৬,১৪২.
দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারা অনুযায়ী চুরির জন্য অপরিহার্য উপাদান কোনটি?
  1. স্থাবর সম্পত্তি
  2. অসাধু উদ্দেশ্য
  3. মালিকের সম্মতি
  4. সাক্ষীর উপস্থিতি
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৭৮ অনুসারে চুরির (Theft) অপরাধ গঠনের জন্য নিম্নলিখিত উপাদানগুলি অপরিহার্য:
১. অসাধু উদ্দেশ্য (Dishonest intention)
২. অস্থাবর সম্পত্তি (Moveable property)
৩. দখলকারীর সম্মতি ব্যতীত (Without consent of the person in possession)
৪. সম্পত্তি স্থানান্তর (Moving the property)

প্রশ্নে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে "অপরিহার্য উপাদান" - এবং এর মধ্যে অসাধু উদ্দেশ্য হলো সর্বাধিক মৌলিক ও অপরিহার্য উপাদান। কারণ, অসাধু উদ্দেশ্য ছাড়া সম্পত্তি নেওয়া হলে তা চুরি হিসেবে গণ্য হয় না (যেমন– ভুলবশত অন্যকারও জিনিস নিয়ে যাওয়া)।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারার বিধান চুরি:- কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ১:- কোন বস্তু যতক্ষণ পর্যন্ত অস্থাবর সম্পত্তি না হওয়া বিধায় মাটির সাথে যুক্ত থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত উহা চুরি করার বস্তু বলে গণ্য হবে না, কিন্তু যে মুহূর্তে উহাকে মাটি হতে বিচ্ছিন্ন করা হয় সে মহূর্তেই উহা চুরি করার বস্তু হওয়ার যোগ্য গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ২:- যে কাজ কর্তৃক (মাটি হতে) বিচ্ছিন্নতা সাধন করা হয়, সে কাজ দ্বারাই স্থানান্তর করা হলে তা চুরি হতে পারে।
ব্যাখ্যা ৩:- কোন ব্যক্তি কোন বস্তুর গতির প্রতিবন্ধক অপসারণ করলে বা উহাকে অপর কোন বন্ধু হতে বিচ্ছিন্ন করলে এবং বাস্তবিকভাবে উহা স্থানান্তর করলে উক্ত বস্তু স্থানান্তর করে বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা ৪:- কোন ব্যক্তি যে কোন উপায়ে কোন পশুকে হাঁটায়, সে লোক সে পশুকে এবং অনুরূপভাবে সৃষ্ট গতির ফলে উক্ত পশু দ্বারা স্থানান্তরিত প্রত্যেক বস্তুকে স্থানান্তর করে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ৫:- সংজ্ঞায় উল্লেখিত সম্মতি প্রকাশ্য অথবা পরোক্ষ হতে পারে: এবং উক্ত সম্মতি দখলকারী ব্যক্তি বা উক্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্য বা পরোক্ষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত হতে পারে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-378. Theft:
-Whoever, intending to take dishonestly any moveable property out of the possession of any person without that person's consent, moves that property in order to such taking, is said to commit theft.
Explanation 1.-A thing so long as it is attached to the earth, not being moveable property, is not the subject of theft; but it becomes capable of being the subject of theft as soon as it is severed from the earth.
Explanation 2.-A moving effected by the same act which effects the severance may be a theft.
Explanation 3.-A person is said to cause a thing to move by removing an obstacle which prevented it from moving or by separating it from any other thing, as well as by actually moving it.
Explanation 4.-A person, who by any means causes an animal to move, is said to move that animal, and to move everything which, in consequence of the motion so caused, is moved by that animal.
Explanation 5.-The consent mentioned in the definition may be express or implied, and may be given either by the person in possession, or by any person having for that purpose authority either express or implied.

৬,১৪৩.
মামুন তার বন্ধুর গুরুতর এবং আকস্মিক প্ররোচনার কারণে ঘুষি মেরে বন্ধুকে আঘাত করে। তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিচের কোনটি হতে পারে?
  1. ১ মাসের কারাদণ্ড 
  2. ২ মাসের কারাদণ্ড
  3. ৩ মাসের কারাদণ্ড
  4. ৬ মাসের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : সর্বোচ্চ ১ মাসের কারাদণ্ড।

দণ্ডবিধির, ১৮৬০ এর ধারা ৩৩৪- প্ররোচনার কারণে স্বেচ্ছায় আঘাত প্রদান:

যে ব্যক্তি গুরুতর এবং আকস্মিক প্ররোচনার কারণে স্বেচ্ছায় আঘাত করে, যদি সে অন্য কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য বা জ্ঞান না থাকে, কেবল সেই ব্যক্তিকে আঘাত করে যে প্ররোচনা দিয়েছে, তবে তাকে এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয়ই দেওয়া যেতে পারে।

৬,১৪৪.
দণ্ডবিধির অধীন কত থেকে কত ধারা পর্যন্ত ফৌজদারী অপরাধের সাধারণ ব্যতিক্রম আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ধারা ৭৬ থেকে ১০০ পর্যন্ত
  2. ধারা ৭৪ থেকে ১০৪ পর্যন্ত
  3. ধারা ৭৬ থেকে ১০৬ পর্যন্ত
  4. ধারা ৯৬ থেকে ১০৬ পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর চতুর্থ অধ্যায় ৭৬ ধারা থেকে ১০৬ ধারা পর্যন্ত সাধারণ ব্যতিক্রম সমূহ বা General exceptions নিয়ে আলোচনা করা হয়।

♦ যে কাজগুলোকে স্বাভাবিকভাবে অপরাধ বলে গণ্য করা হলেও বিশেষ ক্ষেত্রে অপরাধ বলে গণ্য করা হয়না তাকেই সাধারণ ব্যতিক্রম বা General Exception বলে। দন্ডবিধির ৭৬ থেকে ১০৬ ধারায় কিছু সাধারণ ব্যতিক্রমের উল্লেখ রয়েছে। দন্ডবিধির ৭৬ থেকে ১০৬ ধারার আওতাধীন কার্য বা কার্যবিরতিগুলো (acts or omission) স্বাভাবিকভাবে অপরাধ মনে হলেও সেগুলো ফৌজদারি দায় (criminal liability) থেকে মুক্ত; অর্থাৎ ৭৬ থেকে ১০৬ ধারার আওতাধীন কার্যগুলো অপরাধ মনে হলেও অপরাধী কোন শাস্তি পায়না।

♦ পেনাল কোডের ৭৬-১০৬ ধারার মধ্যে যে সকল সাধারণ ব্যতিক্রম বর্ণনা করা হয়েছে সেগুলোর কোনো একটির সুযোগ যদি কোনো অভিযুক্ত পায় তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে যে কাজের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে তা আর অপরাধ হিসেবেই গণ্য হবে না। অভিযুক্ত ব্যক্তি এই ক্ষেত্রে নিরপরাধ হিসেবে খালাস পাবে। দোষী সাব্যস্ত করার সুযোগও নাই।

♦  সাক্ষ্য আইনের ১০৫ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি যদি দাবি করে তার কার্য বা কার্যবিরতি দণ্ডবিধির ৭৬ থেকে ১০৬ ধারায় উল্লেখিত কোন সাধারণ ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়ে, তবে তা প্রমাণের ভার উক্ত ব্যক্তির উপর বর্তায়।
৬,১৪৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২ অনুযায়ী, নিচের কোন ক্ষেত্রে জনসাধারণ সহায়তা করতে বাধ্য নয়?
  1. শান্তিভঙ্গ রোধে
  2. ব্যক্তিগত বিবাদে
  3. গ্রেফতার কার্যক্রমে
  4. সরকারি সম্পত্তি রক্ষায়
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪২ অনুসারে জনসাধারণ শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সহায়তা করতে বাধ্য, কিন্তু ব্যক্তিগত বিবাদে সহায়তা করতে বাধ্য নয়।
- ধারা ৪২-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে জনসাধারণ নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে সহায়তা করতে বাধ্য:
(ক) গ্রেফতার বা পলায়ন প্রতিরোধে।
(খ) শান্তিভঙ্গ দমন বা প্রতিরোধে। 
(গ) রেলপথ, খাল, টেলিগ্রাফ বা সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি প্রতিরোধে।
তবে ব্যক্তিগত বিবাদ এই ধারার আওতাভুক্ত নয়।
- সুতরাং, ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪২ অনুযায়ী ব্যক্তিগত বিবাদে জনসাধারণ সহায়তা করতে বাধ্য নয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২ ধারা অনুসারে জনসাধারণ ২টি ক্ষেত্রে নির্বাহী বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অথবা পুলিশ অফিসারকে সহযোগিতা এবং সাহায্য করতে বাধ্য:
১: গ্রেফতার বা পলায়ন প্রতিরোধ-
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২(ক) মোতাবেক পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট যে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার জন্য আইনগতভাবে ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়েছেন সে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার জন্য বা তার পলায়ন প্রতিরোধের লক্ষ্যে জনসাধারণ সাহায্য করতে বাধ্য থাকবেন।
২: অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা-
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২(খ) তে বলা আছে যে, কোথাও শান্তি ভঙ্গ হলে তা দমন  কিংবা শান্তি ভঙ্গের সম্ভাবনা দেখা দিলে তা প্রতিরোধ অথবা রেলপথ, খাল, টেলিগ্রাফ বা সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিসাধনের  চেষ্টা প্রতিরোধের লক্ষ্যে জনসাধারণ সাহায্য করতে বাধ্য থাকবেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section 42: Public when to assist-
Every person is bound to assist any Magistrate whether Judicial or Executive or police officer reasonably demanding his aid,- 
(a) in the taking or preventing the escape of any other person whom such Magistrate or police-officer is authorized to arrest; 
(b) in the prevention or suppression of a breach of the peace, or in the prevention of any injury attempted to be committed to any railway, canal, telegraph or public property.

৬,১৪৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৪ অনুযায়ী আপিল করার জন্য কোনটি প্রয়োজন?
  1. রাষ্ট্রপতির আদেশ
  2. আদালতের অনুমতি
  3. দণ্ডিত ব্যক্তির আবেদন
  4. ফৌজদারি কার্যবিধি বা অন্য কোনো আইনে আপিলের বিধান
ব্যাখ্যা
⇒ মামলার কোন পক্ষ বিচারিক আদালতের (Trial court) সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে, উক্ত সিদ্ধান্ত বাতিল বা সংশোধনের জন্য ঐ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যে আবেদন করে তাকে আপিল বলে।
-অর্থাৎ আপিল হলো উচ্চ আদালত কর্তৃক নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিচারিক পুনঃমূল্যায়ন।
-ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৪ ধারা হতে ৪৩১ ধারা পর্যন্ত আপিলের বিধি-বিধান বর্ণিত হয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৪ ধারার বিধান: ফৌজদারি মামলায় নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে আপিল করা যায় না:
উক্ত (ফৌজদারি) কার্যবিধিতে বা বর্তমানে বলবৎ অন্য কোন আইনে কোন ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে আপিলের বিধান না থাকলে, সেক্ষেত্রে আপিল করা যায় না।
-------------------------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section-404: Unless otherwise provided, no appeal to lie:
No appeal shall lie from any judgment or order of a Criminal Court except as provided for by this Code or by any other law for the time being in force.
৬,১৪৭.
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর কোন ধারায় সাইবার জুয়ার শাস্তি বর্ণিত আছে?
  1. ধারা ১৯
  2. ধারা ২০
  3. ধারা ২১
  4. ধারা ২২
ব্যাখ্যা

⇒ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২০-এ সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার অপরাধ ও দণ্ড বর্ণিত হয়েছে।

⇒ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২০-সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার অপরাধ ও দণ্ড:
(১) যদি কোনো ব্যক্তি সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার নিমিত্ত কোনো পোর্টাল বা অ্যাপস বা ডিভাইস তৈরি করেন বা পরিচালনা করেন বা জুয়া খেলায় অংশগ্রহণ করেন বা খেলায় সহায়তা বা উৎসাহ প্রদান করেন বা উৎসাহ প্রদানের জন্য বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহণ এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রচার বা বিজ্ঞাপিত করেন তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।
(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

৬,১৪৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫ ধারা অনুসারে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার কোন পদ্ধতিতে প্রদান করা যায় না?
  1. রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
  2. ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের মাধ্যমে।
  3. সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে।
  4. কোনো পক্ষকে তার বাধ্যতামূলক কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে।
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ নং ধারা অনুসারে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার পাঁচটি পদ্ধতিতে প্রদান করা হয়, যার মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান অন্তর্ভুক্ত নয়। এই ধারায় ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত অধিকার নির্ণয় ও ঘোষণার কথা উল্লেখ আছে, কিন্তু সরাসরি ক্ষতিপূরণ প্রদানের কোনো বিধান নেই।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫ ধারা মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা-
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ) রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
---------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section: 5. Specific relief how given:
Specific relief is given-
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant;
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do;
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do;
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or
(e) by appointing a receiver.
৬,১৪৯.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ২৫০(২) ধারানুসারে, ফরিয়াদী 'A' মিথ্যা অভিযোগ করার জন্য দোষী সাব্যস্ত হন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট 'A' কে ক্ষতিপূরণ বাবদ অনধিক কত টাকা প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন?
  1. ১০০০
  2. ২০০০
  3. ৩০০০
  4. ৪০০০
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৫০ অনুসারে,
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনিত অভিযােগ মিথ্যা এবং তুচ্ছ বা বিরক্তিকর হলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে অব্যাহতি প্রদান করবেন এবং সংবাদ দাতা বা অভিযােগকারিকে কারণ দর্শাতে বলবেন যে,কেন তার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরনের আদেশ দেয়া হবে না।

⇒ ফরিয়াদি/সংবাদ দাতা/অভিযােগকারীর কারণ দর্শানোর পর ম্যাজিস্ট্রেট যদি সন্তুষ্ট হন অভিযােগটি মিথ্য,তুচ্ছ বা বিরক্তিকর তাহলে ফরিয়াদিকে অনধিক ১০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বাবদ অভিযুক্তকে প্রদান করার আদেশ দিতে পারেন।
এমনকি ক্ষতিপূরণ আদেশ ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দিতে পারেন যে,ক্ষতিপূরণ প্রদানকারী ব্যক্তি অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ডে বা অনধিক ৩০০০ টাকা অর্থদন্ডে দণ্ডিত হবেন।

তবে তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট এই ক্ষেত্রে অনধিক ৫০০ টাকা ক্ষতিপূরনের আদেশ দিতে পারেন।

অর্থাৎ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট 'A' কে ক্ষতিপূরণ বাবদ অনধিক অনধিক ১০০০ টাকা প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন।

⇒ ফরিয়াদি সংবাদদাতা ক্ষতিপূরণ প্রদানে ব্যর্থ হলে ৩০ দিন পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

⇒ দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষতিপূরনের আদেশের বিরুদ্ধে বা অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেট ১০০ টাকার বেশি ক্ষতিপূরনের আদেশের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরন সম্পর্কে আপিল দায়ের করা যাবে।
৬,১৫০.
What is the provision of Section 9 of The Transfer of Property Act?
  1. Oral transfer
  2. Operation of transfer
  3. Rule against perpetuity
  4. Condition restraining alienation
ব্যাখ্যা
⇒  সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৯ ধারার বিধান: মৌখিক হস্তান্তর:
যে সকল ক্ষেত্রে লিখিত হওয়ার আবশ্যকতা আইন দ্বারা প্রত্যক্ষ ভাবে উল্লেখ করা হয় নাই, সে সকল ক্ষেত্রে লিখিত দলিল ছাড়াই সম্পত্তি হস্তান্তর করা যেতে পারে।
মৌখিক হস্তান্তর (Oral transfer) :
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৯ ধারায় বলা হয়েছে, যেসকল ক্ষেত্রে লিখিত দলিলের আবশ্যকতা আইনে সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয় নাই, সেসকল ক্ষেত্রে লিখিত দলিল ছাড়াই সম্পত্তি হস্তান্তর করা যেতে পারে। রেজিস্ট্রেশন আইন সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের পরিপূরক। সুতরাং যে সকল হস্তান্তরে রেজিস্ট্রেশনের বিধান রয়েছে, তা মৌখিক ভাবে হস্তান্তর করা যায় না। এক্ষেত্রে বলা যায়, যে সকল সম্পত্তির হস্তান্তর লিখিত দলিলের মাধ্যমে হওয়ার প্রয়োজন নেই এবং যে সকল হস্তান্তরের জন্য রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন নেই সে সকল হস্তান্তর মৌখিক ভাবে করা যায়।
------------------------
- Section 9: Oral transfer:
-A transfer of property may be made without writing in every case in which a writing is not expressly required by law.
৬,১৫১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৩৯ক অনুসারে, অ্যাফিডেভিটে বিশ্বাসের ভিত্তিতে উল্লেখিত তথ্যের ক্ষেত্রে কী উল্লেখ করতে হবে?
  1. সরকারি অনুমোদন
  2. শুধুমাত্র সাক্ষীর নাম
  3. আদালতের পূর্বানুমতি
  4. বিশ্বাসের যুক্তিসঙ্গত কারণ
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৩৯ক-এ বলা হয়েছে: "...such facts as he has reasonable ground to believe to be true, and, in the latter case, the deponent shall clearly state the grounds of such belief."
অর্থাৎ অ্যাফিডেভিটে যে তথ্য সাক্ষী নিজে প্রত্যক্ষ করেছেন, তা পৃথকভাবে উল্লেখ করতে হবে, আর যেসব তথ্য তিনি যুক্তিসঙ্গতভাবে সত্য বলে বিশ্বাস করেন, তার ক্ষেত্রেও সেগুলোর বিশ্বাসের ভিত্তি বা যুক্তিসঙ্গত কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
- এটা আদালতকে বুঝতে সাহায্য করে যে, হলফনামায় উল্লেখিত তথ্য অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং যুক্তিসঙ্গত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৩৯ক - সরকারি কর্মচারীর আচরণের প্রমাণে অ্যাফিডেভিট:
(১) এই আইনের অধীনে কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কার্যধারা প্রসঙ্গে কোন আদালতে যদি দরখাস্ত করা হয় এবং উহাতে কোন সরকারি কর্মচারী সম্পর্কে অভিযোগ করা হয় তাহলে দরখাস্তকারী দরখাস্তে বর্ণিত ঘটনাবলি সম্পর্কে উক্তরূপে সাক্ষ্য দেওয়ার আদেশ দিতে পারবেন।
এই ধারার অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগ ব্যতীত অন্য কোন আদালত ব্যবহার্য অ্যাফিডেভিট সম্পর্কে ৫৩০ ধারায় বর্ণিত পদ্ধতিতে বা কোন ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনে শপথ করা যাবে বা উহার সত্যতা ঘোষণা করা যাবে।
এই ধারা অনুসারে অ্যাফিডেভিট সেই সকল ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে ও সেই সকল ঘটনা পৃথকভাবে বর্ণনা করবে যে সকল ঘটনা তার সত্য বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ আছে এবং শেষোক্ত ক্ষেত্রে সাক্ষীকে সেরূপ বিশ্বাসের কারণ স্পষ্টরূপে উল্লেখ করতে হবে।
(২) আদালত অ্যাফিডেভিটের কোন কুৎসাজনক ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয় কেটে দেওয়ার বা সংশোধন করার আদেশ দিতে পারবেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure,1898- Section 539A. Affidavit in proof of conduct of public servant:
(1) When any application is made to any Court in the course of any inquiry, trial or other proceeding under this Code, and allegations are made therein respecting any public servant, the applicant may give evidence of the facts alleged in the application by affidavit, and the Court may, if it thinks fit, order that evidence relating to such facts be so given.
An affidavit to be used before any Court other than High Court Division under this section may be sworn or affirmed in the manner prescribed in section 539, or before any Magistrate. 
Affidavits under this section shall be confined to, and shall state separately, such facts as the deponent is able to prove from his own knowledge and such facts as he has reasonable ground to believe to be true, and, in the latter case, the deponent shall clearly state the grounds of such belief. 
(2) The Court may order any scandalous and irrelevant matter in an affidavit to be struck out or amended.
৬,১৫২.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৭ অনুসারে প্লেইন্ট গৃহীত হলে বাদীকে কতগুলো কপি জমা দিতে হবে?
  1. দুইটি কপি
  2. যত জন বাদী তত কপি
  3. যত জন সাক্ষী তত কপি
  4. যত জন বিবাদী তত কপি
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, Order VII, Rule 9(1)-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে: Procedure of admitting plaint:
(1) The plaintiff shall endorse on the plaint, or annex thereto, a list of the documents (if any) which he has produced along with it; and, if the plaint is admitted, shall present as many copies on plain paper of the plaint as there are defendants, unless the Court by reason of the length of the plaint or the number of the defendants, or for any other sufficient reason, permits him to present a like number of concise statements of the nature of the claim made, or of the relief claimed in the suit, in which case he shall present such statements.

অর্থাৎ প্লেইন্ট অ্যাডমিট (গৃহীত) হলে বাদীকে বিবাদীর সংখ্যার সমান প্লেইন্টের সাধারণ কাগজে কপি (অথবা আদালত অনুমতি দিলে concise statement) জমা দিতে হবে।
সুতরাং উত্তর: ঘ) যত জন বিবাদী তত কপি।

- বিবাদী-ভিত্তিক কপি: কপির সংখ্যা নির্ভর করে বিবাদীর সংখ্যা এর উপর। প্রত্যেক বিবাদীর জন্য আলাদা কপি জমা দিতে হয়।
- শর্তসাপেক্ষ ব্যতিক্রম: Rule 9(1)-এ আরও বলা হয়েছে যে, যদি প্লেইন্ট খুব বড় হয় বা বিবাদীর সংখ্যা অনেক বেশি হয়, তাহলে আদালত বাদীকে সংক্ষিপ্ত দাবির বিবরণ জমা দিতে অনুমতি দিতে পারেন।
- প্রতিটি বিবাদীর কাছে প্লেইন্টের কপি পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই কপিগুলো প্রয়োজন হয়, যাতে বিবাদী বাদীর দাবি সম্পর্কে জানতে পারে এবং তার জবাব দাখিল করতে পারে।

সুতরাং, দেওয়ানি কার্যবিধির Order VII, Rule 9(1) অনুযায়ী প্লেইন্ট গৃহীত হলে বাদীকে যত জন বিবাদী তত কপি জমা দিতে হবে।

৬,১৫৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় অনুসন্ধানের আদেশ প্রদানের ক্ষমতা বর্ণিত হয়েছে?
  1. ধারা ৪৩৪
  2. ধারা ৪৩৫
  3. ধারা ৪৩৬
  4. ধারা ৪৩৭
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৬ অনুযায়ী, হাইকোর্ট বা দায়রা জজ খারিজ হওয়া নালিশ বা অব্যাহতি প্রাপ্ত মামলায় আবার তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন। তবে, তদন্তের আগে অভিযুক্তকে কারণ জানানোর সুযোগ দিতে হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৬ ধারার বিধান অনুসন্ধানের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা:
৪৩৫ ধারা অনুসারে অথবা অন্যভাবে পরীক্ষা করে হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা জজ নির্দেশ দিতে পারবেন যে, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিজে অথবা তার অধস্তন কোন ম্যাজিষ্ট্রেটের দ্বারা ২০৩ ধারা বা ২০৪ ধারার (৩) উপধারা অনুসারে খারিজক্ত যেকোনো নালিশ বা কোন অপরাধে অভিযুক্ত কোন অব্যাহতি প্রাপ্ত ব্যক্তি সম্পর্কে আরও তদন্ত করবেন, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এরূপ তদন্ত করতে পারবেন বা তার অধস্তন কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে এরূপ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবেন।
তবে শর্ত এই যে, কোন আদালত কোন অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি সম্পর্কে এই ধারার অধীন নির্দেশ দিবেন না, যদি না উক্ত ব্যক্তিকে কোন উক্তরূপ আদেশ দেয়া হবে না তার কারণ দর্শানোর সুযোগ দেয়া হয়।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section: 436- Power to order inquiry:
On examining any record under section 435 or otherwise, the High Court Division or the Sessions Judge may direct the Chief Metropolitan Magistrate or Chief Judicial Magistrate by himself or by any of the Magistrates subordinate to him to make, and the Chief Metropolitan Magistrate or Chief Judicial Magistrate may himself make, or direct any Sub-ordinate Magistrate to make, further inquiry into any complaint which has been dismissed under section 203 or sub-section (3) of section 204, or into the case of any person accused of an offence who has been discharged:
Provided that no Court shall make any direction under this section for inquiry into the case of any person who has been discharged unless such person has had an opportunity of showing cause why such direction should not be made.
৬,১৫৪.
দণ্ডবিধির ২৩০ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো মুদ্রা এখন আর প্রচলিত না থাকে, তবে সেটি কীভাবে গণ্য হবে?
  1. এটি অবৈধ বস্তু হিসেবে গণ্য হবে
  2. এটি সরকারি সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে
  3. সেটি এখনো "বাংলাদেশি মুদ্রা" বলে গণ্য হবে
  4. এটি কেবলমাত্র ধাতব বস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২৩০ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো মুদ্রা এখন আর প্রচলিত না থাকে, তবে সেটি এখনো "বাংলাদেশি মুদ্রা" বলে গণ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ২৩০ ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত এবং স্ট্যাম্পযুক্ত ধাতব বস্তু যা একসময় অর্থ হিসেবে ব্যবহৃত হতো, তা অর্থ হিসেবে ব্যবহারের বৈধতা হারালেও "বাংলাদেশি মুদ্রা" হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, যদি কোনো মুদ্রা প্রচলন হারায়, তবুও এটি দণ্ডবিধির অধীনে মুদ্রার সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে।

⇒ উদাহরণ: পুরাতন "ফতেহাবাদ" টাকা, যা একসময় সরকার অনুমোদিত মুদ্রা ছিল, কিন্তু বর্তমানে প্রচলিত নয়—তবুও এটি "বাংলাদেশি মুদ্রা" হিসেবে বিবেচিত হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ২৩০ ধারার বিধান: 'মুদ্রার' সংজ্ঞা:- বর্তমানে অর্থরূপে ব্যবহৃত এবং অনুরূপে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য কোন রাষ্ট্রে বা সার্বভৌম শক্তির ক্ষমতাধীনে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতব দ্রব্যকে মুদ্রা বলে।
- বাংলাদেশি মুদ্রা:- বাংলাদেশি মুদ্রা বলতে বাংলাদেশের সরকারের ক্ষমতাধীন অর্থরূপে ব্যবহারের জন্য স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতবদ্রব্য বুঝাবে; এবং অর্থরূপে, ব্যবহার রহিত হওয়া সত্ত্বেও এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যাবলীর দিক হতে অনুরূপভাবে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতবদ্রব্য বাংলাদেশি মুদ্রা বলে পরিচিত হবে।

উদাহরণ:
(ক) কড়ি (কাউরি) মুদ্রা নয়।
(খ) স্ট্যাম্পবিহীন তামার টুকরো, যদিও তা অর্থরূপে ব্যবহৃত হয়, মুদ্রা নয়।
(গ) মেডেল মুদ্রা নয়, কারণ সেগুলো অর্থরূপে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয় না।
(ঘ) কোম্পানির টাকা নামে পরিচিত মুদ্রা রানির মুদ্রা।
(ঙ) "ফরুখাবাদ" টাকা, যা পূর্বে ভারত সরকারের কর্তৃত্বে অর্থরূপে ব্যবহৃত হতো, তা বাংলাদেশি মুদ্রা হিসেবেই গণ্য হবে, যদিও তা এখন আর ব্যবহৃত হয় না।
---------------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 230. “Coin” defined Bangladesh coin:
- Coin is metal used for the time being as money, and stamped and issued by the authority of some State or Sovereign Power in order to be so used.
- Bangladesh coin is metal stamped and issued by the authority of the Government in order to be used as money; and metal which has been so stamped and issued shall continue to be Bangladesh coin for the purposes of this Chapter, notwithstanding that it may have ceased to be used as money.

Illustrations:
(a) Cowries are not coin.
(b) Lumps of unstamped copper, though used as money, are not coin.
(c) Medals are not coin, inasmuch as they are not intended to be used as money.
(d) The coin denominated as the Company's taka is the Queen's coin.
(e) The "Farukhabad" taka, which was formerly used as money under the authority of the Government of India, is Bangladesh coin although it is no longer so used.
৬,১৫৫.
‘নিয়ন্ত্রিত বিলি (Control Delivery)’ কী?
  1. মাদকদ্রব্য বিদেশে পাঠানোর পদ্ধতি
  2. মাদকদ্রব্য সরাসরি আদালতে জব্দ করার কৌশল
  3. মাদক চালান তৎক্ষণাৎ ধ্বংস করার পদ্ধতি
  4. মাদক চালান প্রক্রিয়ায় যুক্ত অপরাধী সনাক্ত করার তদন্ত কৌশল
ব্যাখ্যা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ ধারা ২(১৫)-
‘নিয়ন্ত্রিত বিলি (Control Delivery)’ অর্থ কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্ত করিবার উদ্দেশ্যে পরিচালিত বিশেষ তদন্ত কৌশল, যাহাতে কোনো মাদকদ্রব্য, উহার উৎসবস্তু, উপাদান অথবা মিশ্রণের বেআইনি অথবা সন্দেহজনক চালানকে তদন্তের ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো আইন প্রায়োগকারী সংস্থার (সরকারের) জ্ঞাতসারে ও তত্ত্বাবধানে শেষ গন্তব্য পর্যন্ত পরিবহন ও বিতরণ অথবা হস্তান্তর করিতে দেওয়া যাহার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত উক্ত মাদকদ্রব্যের উৎস হইতে গন্তব্য পর্যন্ত যাবতীয় কার্যক্রমের সহিত জড়িত সকল অপরাধীকে গ্রেফতার করা যায়।
৬,১৫৬.
Chapter II of the Transfer of Property Act shall not be deemed to effect any rule of:
  1. Parsi law
  2. Christian law
  3. Mohammedan law
  4. none of the above
ব্যাখ্যা

⇒ Transfer of Property Act, 1882 এর Section 2-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: Section 2: Repeal of Acts, Saving: "Chapter II of this Act shall not be deemed to affect any rule of Muhammadan law."
- Chapter II (ধারা ৫ থেকে ৫৩-এ পর্যন্ত) - যেখানে সম্পত্তি হস্তান্তরের সাধারণ নীতি বর্ণিত হয়েছে। এই অধ্যায়ের কোনো বিধান মুসলিম আইনের কোনো নিয়মকে প্রভাবিত করবে না। মুসলিম পারিবারিক আইন ও উত্তরাধিকার আইন এই অধ্যায়ের আওতামুক্ত।
- এটি একটি সেভিং ক্লজ (Saving Clause) যা মুসলিম ব্যক্তিগত আইনকে (Personal Law) সুরক্ষা প্রদান করে। মুসলিম আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিশেষ বিধান যেমন: উইলের ১/৩ অংশ সীমাবদ্ধতা, হিবা (দান) এর বিশেষ নিয়ম, ওয়াকফ প্রতিষ্ঠার বিধান, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিশেষ বিধান। এই সকল বিধান Transfer of Property Act-এর সাধারণ বিধান দ্বারা প্রভাবিত হয়নি।

৬,১৫৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় আদালতকে শুনানীর যেকোন পর্যায়ে সাক্ষী তলবের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে?
  1. ৫৩৭ ধারায়
  2. ৫৪০ ধারায়
  3. ৫৪৩ ধারায়
  4. ৫৪৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৪০- গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সমন করার কিংবা উপস্থিত ব্যক্তির জবানবন্দী গ্রহণ করার ক্ষমতা

এই বিধির অধীন কোন তদন্ত, বিচার বা অন্য কার্যধারার যে কোন ধাপে কোন আদালত যেকোন ব্যক্তিকে সাক্ষী রূপে সমন করতে পারবেন বা সাক্ষী রূপে সমন করা না হলে উপস্থিত যেকোন ব্যক্তির জবানবন্দী গ্রহণ করতে পারবেন, বা ইতোমধ্যে যার জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে তাকে পুনরায় তলব করে পুনরায় জবানবন্দী গ্রহণ করতে পারবেন এবং এরূপ কোন ব্যক্তির সাক্ষ্য আদালতের ন্যায়বিচারের জন্য অত্যাবশ্যক মর্মে প্রতীয়মান হলে, আদালত তাকে সমন করে তার জবানবন্দী গ্রহণ করবেন কিংবা পুনরায় তলব করে পুনরায় তার জবানবন্দী গ্রহণ করতে পারবেন।

Section 540- Power to summon material witness or examine person present
Any Court may, at any stage of any inquiry, trial or other proceeding under this Code, summon any person as a witness, or examine any person in attendance, though not summoned as a witness, or recall and re-examine any person already examined; and the Court shall summon and examine or recall and re-examine any such person if his evidence appears to it essential to the just decision of the case.
৬,১৫৮.
নিচের কোন পরিস্থিতিতে দণ্ডবিধির ৪৪১ ধারা প্রযোজ্য হবে না?
  1. সোহেল তার বন্ধুর জমিতে প্রবেশ করে ফসল চুরি করার উদ্দেশ্যে।
  2. রাকেশ তার প্রতিদ্বন্দ্বীর অফিসে প্রবেশ করে তাকে অপমান করার উদ্দেশ্যে।
  3. ফারুক তার বন্ধুর দোকানে তার অনুমতি নিয়ে কেনাকাটা করতে প্রবেশ করে।
  4. করিম তার প্রতিবেশীর বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে ভীতি প্রদর্শন করার উদ্দেশ্যে।
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৪১ ধারা অনুযায়ী, অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ (Criminal Trespass) তখনই হয়, যখন কেউ অন্য কারো দখলভুক্ত সম্পত্তিতে প্রবেশ করে অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে, অথবা ভীতি প্রদর্শন, অপমান বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে, অথবা কেউ বৈধভাবে প্রবেশের পর বেআইনীভাবে অবস্থান করে একই উদ্দেশ্যে (অপরাধ, ভীতি, অপমান বা বিরক্ত করা)।

প্রতিটি অপশন বিশ্লেষণ:
ক) সোহেল তার বন্ধুর জমিতে প্রবেশ করে ফসল চুরি করার উদ্দেশ্যে। → প্রযোজ্য — কারণ এটি অপরাধ (চুরি) সংঘটনের উদ্দেশ্যে প্রবেশ।
খ) রাকেশ তার প্রতিদ্বন্দ্বীর অফিসে প্রবেশ করে তাকে অপমান করার উদ্দেশ্যে। → প্রযোজ্য — কারণ উদ্দেশ্য হচ্ছে অপমান করা।
গ) ফারুক তার বন্ধুর দোকানে তার অনুমতি নিয়ে কেনাকাটা করতে প্রবেশ করে। → প্রযোজ্য নয় — কারণ এখানে বৈধ অনুমতি রয়েছে, এবং কোনো অপরাধ বা অপমান/ভীতি/বিরক্তির উদ্দেশ্য নেই। এটি স্বাভাবিক ও আইনি প্রবেশ।
ঘ) করিম তার প্রতিবেশীর বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে ভীতি প্রদর্শন করার উদ্দেশ্যে। → প্রযোজ্য — কারণ উদ্দেশ্য হচ্ছে ভীতি প্রদর্শন।

→ অর্থাৎ দণ্ডবিধির ৪৪১ ধারা "গ" (ফারুকের পরিস্থিতি)-এ প্রযোজ্য নয়, কারণ সেটি আইনসম্মত এবং নির্দোষ প্রবেশ।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৪১ ধারার বিধান অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ:
- কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তির দখলভুক্ত সম্পত্তির মধ্যে বা উপরে প্রবেশ করে এবং কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের বা অনুরূপ সম্পত্তি দখলকারী ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শনের, অপমান করার বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ প্রবেশ করে, অথবা, আইনানুগভাবে অনুরূপ সম্পত্তির মধ্যে বা উপরে প্রবেশের পর বেআইনীভাবে সেখানে অবস্থান করে এবং অনুরূপ ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শনের, অপমান করার বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অনুরূপ বে-আইনীভাবে সেখানে অবস্থান করে, তবে উক্ত ব্যক্তি 'অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ' করেছে বলে পরিগণিত হবে।
--------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section-441: Criminal trespass:
- Whoever enters into or upon property in the possession of another with intent to commit an offence or to intimidate, insult or annoy any person in possession of such property. or, having lawfully entered into or upon such property, unlawfully remains there with intent thereby to intimidate insult or annoy any such person, or with intent to commit an offence, is said to commit "criminal trespass".
৬,১৫৯.
‘A’ ‘Z’-এর নৌকার বাঁধন খুলে দেয় যাতে নৌকা ভেসে যায়, এবং এতে ‘Z’ ভয় পায়। দণ্ডবিধি অনুসারে এই অপরাধের নাম কী?
  1. আক্রমণ
  2. সাধারণ বলপ্রয়োগ
  3. অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ
  4. কোনো অপরাধ নয়
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৩৫০ অনুসারে, কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে বলপ্রয়োগ করা, যদি এটি কোনো অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে বা আঘাত, ভয় বা বিরক্তি সৃষ্টির জন্য হয়, তবে তা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ বলে গণ্য হয়। এখানে, ‘A’ ইচ্ছাকৃতভাবে ‘Z’-এর নৌকার বাঁধন খুলে দেয়, যার ফলে নৌকা ভেসে যায় এবং ‘Z’ ভয় পায়। এটি ধারা ৩৫০-এর অধীনে অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৫০ ধারার বিধান অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির উপর সম্মতি ব্যতীত বল প্রয়োগ করে এবং কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ শক্তি প্রয়োগ কর্তৃক, যে ব্যক্তির উপর বল প্রয়োগ করা হল, তার জখম বা ভয় বা বিরক্তি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে অথবা তার শক্তি প্রয়োগের ফলে, যার উপর শক্তি প্রয়োগ করা হল, তার জখম, ভয় বা বিরক্তি উৎপাদিত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি সে অনুরূপ বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়।
উদাহরণ:
(ক) চ নদীতে নোঙ্গর করা একটি নৌকাতে বসে আছে। ক নোঙ্গর তুলে দিল এবং এইভাবে ইচ্ছাপূর্বক নৌকাটিকে নদীতে ভেসে যেতে দিল। এখানে ক ইচ্ছাকৃতভাবে চ-তে গতি সঞ্চার করল, এবং তা করল একটি বস্তুকে এমনভাবে সঞ্চালিত করে, যে বস্তুটি সঞ্চালনের পর কোন ব্যক্তির অন্যকোন কাজ ব্যতীতই উহাতে গতি সঞ্চারিত হয়েছে। সুতরাং ক-ইচ্ছাকৃতভাবে চ-এর উপর বল প্রয়োগ করেছে এবং ক যদি এটা চ-এর সম্মতি ব্যতীত করে থাকে এবং তার উদ্দেশ্য যদি হয় কোন অপরাধ অনুষ্ঠান করা, অথবা সে যদি এইরূপ উদ্দেশ্য নিয়ে বা এইরূপ জানা সত্ত্বেও কার্যটি করে থাকে যে, চ জখম, বিরক্তি বা ভীতিগ্রস্ত হতে পারে, তবে ক চ-এর উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 350: Criminal force:
-Whoever intentionally uses force to any person, without that person's consent, in order to the committing of any offence, or intending by the use of such force to cause, or knowing it to be likely that by the use of such force he will cause injury, fear or annoyance to the person to whom the force is used, is said to use criminal force to that other. 
 
Illustration:
(a) Z is sitting in a moored boat on a river. A unfastens the moorings, and thus intentionally causes the boat to drift down the stream. Here A intentionally causes motion to Z, and he does this by disposing substances in such a manner that the motion is produced without any other action on any person's part. A has therefore intentionally used force to Z; and if he has done so without Z's consent, in order to the committing of any offence, or intending or knowing it to be likely that this use of force will cause injury, fear or annoyance to Z, A has used criminal force to Z. 
 
(b) Z is riding in a chariot. A lashes Z's horses, and thereby causes them to quicken their pace. Here A has caused change of motion to Z by inducing the animals to change their motion. A has therefore used force to Z; and if A has done this without Z's consent, intending or knowing it to be likely that he may thereby injure, frighten or annoy Z, A has used criminal force to Z. 
 
(c) Z is riding in a palanquin. A, intending to rob Z, seizes the pole and stops the palanquin. Here A has caused cessation of motion to Z, and he has done this by his own bodily power. A has therefore used force to Z; and as A has acted thus intentionally, without Z's consent, in order to the commission of an offence. A has used criminal force to Z. 

৬,১৬০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩৯ অনুযায়ী কোন ধরণের দলিল বাতিল বা অকার্যকর ঘোষণা করা যেতে পারে?
  1. শুধুমাত্র অকার্যকর দলিল
  2. শুধুমাত্র বাতিলযোগ্য দলিল
  3. শুধুমাত্র অনিবন্ধিত দলিল
  4. বাতিলযোগ্য বা অকার্যকর দলিল
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩৯: কখন বাতিলকরণ আদেশ করা যেতে পারে:
যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো লিখিত দলিল বাতিলযোগ্য (voidable) বা অকার্যকর (void), এবং যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা আছে যে ওই দলিলটি যদি বহাল থাকে তবে তা তাকে গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন করতে পারে- সে ব্যক্তি আদালতে মামলা করতে পারে যাতে দলিলটিকে অকার্যকর বা বাতিলযোগ্য ঘোষণা করা হয়।

আদালত তার বিবেচনায় যদি মনে করে যে দলিলটি সত্যিই অকার্যকর বা বাতিলযোগ্য, তাহলে আদালত সেটিকে তেমনভাবে ঘোষণা করতে পারে এবং দলিলটি জমা দিয়ে বাতিল করার আদেশ দিতে পারে।

যদি সেই দলিলটি ১৯০৮ সালের নিবন্ধন আইন (Registration Act, 1908) অনুসারে নিবন্ধিত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি অনুলিপি সেই নিবন্ধন অফিসারের কাছে পাঠাবে, যার অফিসে দলিলটি নিবন্ধিত হয়েছে। ঐ অফিসার তার রেকর্ডে সংরক্ষিত দলিলের অনুলিপিতে তার বাতিল হওয়ার বিষয়টি নোট করে রাখবে।

উদাহরণসমূহ (Illustrations):
(ক) A, একটি জাহাজের মালিক, প্রতারণামূলকভাবে জাহাজটিকে সমুদ্রযাত্রার উপযোগী (seaworthy) বলে উপস্থাপন করে B-কে (যিনি বিমাকারী) সেটি বিমা করতে রাজি করান। B এই প্রতারণামূলক বিমা নীতিটি বাতিল করাতে পারেন।

(খ) A তার জমি B-কে হস্তান্তর করে, এবং B মৃত্যুর আগে সেই জমি C-কে উইল করে দেন। B মারা গেলে D জমিটির দখল নেয় এবং একটি জাল দলিল উপস্থাপন করে, যাতে বলা হয়েছে B আসলে D-এর পক্ষে ট্রাস্ট হিসেবে জমিটি নিয়েছিলেন। এই জাল দলিলটি বাতিল করার জন্য C মামলা করতে পারেন।

৬,১৬১.
বার কাউন্সিল সচিবের অনুপস্থিতিতে সচিব এর স্থলে দায়িত্ব পালন করবেন কে?
  1. বার কাউন্সিল সভাপতি 
  2. বার কাউন্সিলের সহ-সভাপতি 
  3. উপ-সচিব
  4. এ্যাটর্ণী জেনারেল
ব্যাখ্যা

The Bangladesh legal practitioners and Bar council rules 1972 এর ৫৫(২) অনুসারে বার কাউন্সিল  সচিব অনুপস্থিত বা ছুটিতে থাকলে উপ সচিব তার স্থলে দায়িত্ব পালন করবেন।

⇒The Bangladesh legal practitioners and Bar council rules 1972,
বিধি ৫৫ মতে বার কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলো সচিব। 
৫৫(১)বার কাউন্সিল সচিব হবেন তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা এবং উপ সচিব হবেন নির্বাহী কর্মকর্তা।
৫৫(২) সচিব অনুপস্থিত বা ছুটিতে থাকলে উপ সচিব তার স্থলে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সচিবের সমস্ত কাজ সম্পন্ন করবেন।
----------------------------------------
The Bangladesh legal practitioners and Bar council rules 1972,
Rules 55:The Secretary shall be the chief executive officer of the Council.
55 (1). The Secretary shall be the supervisory officer and Deputy Secretary shall be the executive officer of the Council.
55(2). In case of absence or leave of the Secretary, the Deputy Secretary shall be in-charge of the Secretary and perform all functions of the Secretary.

৬,১৬২.
পুলিশের নিকট আসামীর স্বীকারোক্তি কোন ক্ষেত্রে সাক্ষ্য হিসাবে আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে?
  1. ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে
  2. নিরপেক্ষ স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে
  3. স্বীকারোক্তি মতে আলামত উদ্ধার
  4. স্বীকারোক্তি স্বেচ্ছামূলক হলে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারার বিধান:  আসামীর নিকট হতে প্রাপ্ত তথ্য কতটুকু প্রমাণ হতে পারে: পুলিশ অফিসারের হেফাজতে থাকা কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য হতে প্রাপ্ত কোন তথ্যে যদি এমন বিষয় উদঘাটিত হয় যা ঘটনার সাথে স্পষ্টরূপে সম্পর্কযুক্ত হয় তবে তা দোষ স্বীকার হোক বা না হোক প্রমাণ করা যেতে পারে।

⇒ অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে পুলিশকে দেওয়া বিবৃতির ভিত্তিতে পুলিশ যদি কোন আলামত উদ্ধার করে, যতটুকু আলামত উদ্ধার হবে তা আদালতে প্রাসঙ্গিক এবং প্রমাণযোগ্য হবে।

⇒ ২৫ ও ২৬ ধারার ব্যতিক্রম বলা আছে ২৭ ধারায়।
৬,১৬৩.
এক রাতে "ক" এর বাসায় চুরি হয়।হিসেব করে দেখা যায়, চুরিকৃত মালের মূল্য ২৫ হাজার টাকা।উক্ত চুরির জন্য "খ" কে আটক করা হয়।"খ" এর বিচার কি সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে করা যাবে?
  1. যাবে
  2. যাবে না
  3. আদালত চাইলে করা যাবে
  4. "খ" এর ইচ্ছানুযায়ী যাবে
ব্যাখ্যা
•"খ" এর বিচার ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে করা যাবে না।কারন উক্ত চুরিকৃত মালের মূল্য ১০ হাজার টাকার অধিক।

• গুরুতর নয় এমন অপরাধ এবং যে অপরাধমূলক কাজের জন্য লঘু শাস্তি হয়, সেই সব অপরাধগুলোর বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে করা যায়।ফৌজদারি কার্যবিধির অধ্যায় ২২ এবং ধারা ২৬০-২৬৫ এ সংক্ষিপ্ত বিচার সম্পর্কে বিধান রয়েছে।ধারা ২৬০ অধীন নিম্নলিখিত ম্যাজিস্ট্রেটগণ সংক্ষিপ্ত বিচার করতে পারেন-

১. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
২. ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা
৩. ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাসম্পন্ন কোন ম্যাজিস্ট্রেট বেঞ্চ। 

• দণ্ডবিধির নিম্নলিখিত অপরাধসমূহের বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে করা হয়-

⇒মৃত্যুদন্ড,যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা ২ বছরের অধিক কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় নয় এরূপ অপরাধ
⇒৩২৩ ধারা অনুসারে আঘাত
⇒৩৭৯,৩৮০ বা ৩৮১ ধারা অনুসারে চুরি,যেক্ষেত্রে চোরাই মালের মূল্য ১০ হাজার টাকার অধিক নয়
⇒৪০৩ ধারা অনুসারে অসৎভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ,৪১১ ধারা অনুসারে চোরাইমাল গ্রহণ বা রাখা,৪০৪ ধারা অনুসারে চোরাইমাল গোপন বা হস্তান্তর করতে সাহায্য করা,যেক্ষেত্রে উক্ত মালের মূল্য ১০ হাজার টাকার অধিক নয়
⇒একই বিধির ৪২৬ ও ৪২৭ ধারা অনুসারে ক্ষতিসাধন,৪৪৭ ধারা অনুসারে অপরাধমূলক অনুপ্রবেশ এবং ৪৪৮ ধারা অনুসারে গৃহে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং ৪৫১,8৫৩,8৫৪,8৫৬ ও ৪৫৭ ধারা অনুসারে অপরাধ
⇒৫০৪ ধারা অনুসারে শান্তিভঙ্গের উস্কানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে অপমান করা এবং ৫০৬ ধারা অনুসারে অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অপরাধ এবং ৫০৯ ও ৫১০ অনুসারে অপরাধসমূহ 
⇒১৭১ ও ১৭১(চ) ধারা অনুসারে কোন নির্বাচনে ঘুষ নেয়ার এবং এক ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি ব্যবহারকরণের অপরাধ;
এবং উপরোক্ত অপরাধসমূহের যেকোন একটি সংঘটনে সহায়তা করা।
৬,১৬৪.
সাক্ষ্য আইনের চূড়ান্ত খসড়া কে প্রস্তুত করেন এবং প্রণয়ন করেন?
  1. স্যার বেথুন
  2. লর্ড কার্জন
  3. স্যার হেনরি ডাফিন
  4. স্যার জেমস ফিটজজেমস স্টিফেন
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ (The Evidence Act, 1872) ভারতীয় উপমহাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law), যা আদালতে তথ্য প্রমাণ গ্রহণ ও তার প্রাসঙ্গিকতা নির্ধারণের নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করে।
→ সর্বপ্রথম খসড়া: ১৮৫০ সালে স্যার হেনরি সামার মেইন একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছিলেন, কিন্তু সেটি ছিল ভারতে ব্যবহারের জন্য অনুপযুক্ত।
→ চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুতকারী: পরবর্তীতে ১৮৭১ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট স্যার জেমস ফিটজজেমস স্টিফেন (Sir James Fitzjames Stephen)-কে এই আইনের চূড়ান্ত খসড়া তৈরির দায়িত্ব দেয়। তিনি সফলভাবে একটি সুসংহত এবং আদালত-উপযোগী আইন প্রণয়ন করেন। 
→ আইন প্রণয়ন ও কার্যকর:
প্রণয়ন: ১৮৭২ সালের ১৫ই মার্চ
কার্যকর: ১৮৭২ সালের ১লা সেপ্টেম্বর
এই আইনটি এতটাই কার্যকর ছিল যে, তা উপমহাদেশের তৎকালীন ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে এখনো কিছু সংশোধনসহ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

→ তাই সঠিক উত্তর: ঘ) স্যার জেমস ফিটজজেমস স্টিফেন, কারণ তিনিই চূড়ান্তভাবে সাক্ষ্য আইনের খসড়া প্রস্তুত করে তা কার্যকর করেন।
৬,১৬৫.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের ধারা ৩ অনুযায়ী আদালত কত প্রকার?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৩ ধারা অনুযায়ী দেওয়ানী আদালত ৫ প্রকার।
১। জেলা জজ
২। অতিঃ জেলা জজ
৩। যুগ্ন জেলা জজ
৪। সিনিঃ সহঃ জজ
৫। সহঃ জজ আদালত
• প্রতিটি জেলায় সর্বোচ্চ দেওয়ানী আদালত হলো জেলা জজ এবং নিম্ন আদালত হলো সহকারী জজ।
• জেলা ও দায়রা জজ একই ব্যক্তি। দেওয়ানী মামলার বিচারের সময় জেলা জজ এবং ফৌজদারী মামলা বিচারের সময় দায়রা জজ নামে পরিচিত।
৬,১৬৬.
কোন দেওয়ানি মামলায় তামাদির বিষয়টি-
  1. ঘটনার প্রশ্ন
  2. আইনের প্রশ্ন
  3. আইন ও ঘটনার মিশ্র প্রশ্ন
  4. আইন ও অধিকারের মিশ্র প্রশ্ন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি মোকদ্দমায় তামাদির বিষয়টি আইন ও ঘটনার মিশ্র প্রশ্ন। আইনে উল্লিখিত কোনো বিষয় দ্বারা যখন কোনো সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হয় বা নির্দিষ্ট হয় তখন তা আইনের প্রশ্ন। আর, আইনে উল্লেখ থাকা বিষয়ের সাথে যখন কোনো প্রাসঙ্গিক ঘটনা দ্বারা আদালতের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত বা নির্দিষ্ট হয় তখন তাকে ঘটনার প্রশ্ন বলে।

যেমন, তামাদি আইনের ৩ ধারায় উল্লেখ আছে যে, নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবার পর মোকদ্দমা, আপিল, দরখাস্ত ইত্যাদি দায়ের করা হলে তা খারিজ হয়ে যাবে। এই খারিজ হয়ে যাবার বিষয়টি সরাসরি আইনের প্রশ্ন। কিন্তু অন্যদিকে ৫ ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, আপিল, রিভিউ, রিভিশন বা অন্য কোনো দরখাস্ত নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পরেও আদালতে তা গৃহীত হতে পারে, যদি আপিলকারী বা দরখাস্তকারী আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে যে, নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে উক্ত আপিল বা দরখাস্ত দাখিল না করার যথেষ্ট যুক্তিসংগত কারণ ছিল।

অর্থাৎ, আপিলকারী বা দরখাস্তকারী অসুস্থতা, ভ্রান্তি, আইনজীবীর ভুল ইত্যাদি ঘটনাগত কারণে নির্ধারিত সময়ের ভেতরে আপিল বা দরখাস্ত দায়ের করতে না পারলে তা নির্ধারিত তামাদির মেয়াদের পরেও গৃহীত হতে পারে। ফলে, এই ৫ ধারায় একটি ঘটনার প্রশ্ন।
তাই বলা হয়- তামাদির বিষয়টি আইন ও ঘটনার মিশ্র প্রশ্ন।
৬,১৬৭.
জীবন রক্ষার ক্ষেত্র ব্যতীত গর্ভবতী নারী ইচ্ছাকৃতভাবে স্বেচ্ছায় গর্ভপাত করলে-
  1. কোন অপরাধ হবে না
  2. নিন্দনীয় নরহত্যা
  3. খুন
  4. অবৈধ গর্ভপাত
ব্যাখ্যা
• ৩১২ ধারা মতে গর্ভবতী নারী স্বামী বা প্রেমিকের সম্মতিতে বা একক সম্মতিতে ইচ্ছাকৃতভাবে স্বেচ্ছায় গর্ভপাত করলে তা অবৈধ গর্ভপাত হিসেবে গণ্য হবে।
৬,১৬৮.
কোন মুসলিম পুরুষ যদি খ্রিস্টান নারীকে বিয়ে করেন, তবে উক্ত বিবাহের আইনগত অবস্থান এবং বিবাহজাত সন্তানটির বৈধতা সম্পর্কে নিম্নের কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. বিবাহ এবং সন্তান উভয় বৈধ
  2. বিবাহ অবৈধ কিন্তু সন্তান বৈধ
  3. বিবাহ বৈধ কিন্তু সন্তান অবৈধ
  4. বিবাহ অনিয়মিত কিন্তু সন্তান বৈধ
ব্যাখ্যা
ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী,
মুসলিম পুরুষ খ্রিস্টান বা ইহুদি নারীর সাথে বিয়ে করতে পারেন এবং এটি বৈধ বিবাহ বলে গণ্য হয়, কারণ ইসলামে "আহলে কিতাব" (খ্রিস্টান এবং ইহুদি) নারীদের সাথে বিয়ে করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো মুসলিম পুরুষ খ্রিস্টান বা ইহুদি নারীকে বিয়ে করেন এবং তাদের মধ্যে কোনো সন্তান জন্ম নেন, তাহলে সেই সন্তান বৈধ হবে। কারণ, ইসলামে বৈধ বিয়ের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া সন্তান স্বীকৃত, এবং এর বৈধতা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হয় না, যতটুকু না সে সন্তান কোনো অন্যায় বা অবৈধ উপায়ে জন্মেছে।

সুতরাং, মুসলিম পুরুষ এবং খ্রিস্টান বা ইহুদি নারীর মধ্যে বিয়ে বৈধ এবং সেই বিবাহ থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানও বৈধ হবে।
৬,১৬৯.
আপিল সংক্ষিপ্ত খারিজের (Summary dismissal) আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত-
  1. উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনতে বাধ্য
  2. আপিলকারি বা তার উকিলের বক্তব্য শুনতে বাধ্য
  3. মামলার নথি তলব করতে বাধ্য
  4. ক এবং গ
ব্যাখ্যা
ধারা ৪২১- আপিলের সংক্ষিপ্ত খারিজ

(১) ধারা ৪১৯ বা ৪২০ এর আওতায় দরখাস্ত ও নকল পাবার পর আপিল আদালত উহা পড়বেন, এবং যদি ইহা বিবেচনা করেন যে, হস্তক্ষেপ করার মত পর্যাপ্ত কারণ নেই, সেক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে আপিল খারিজ করতে পারবেন-

শর্ত থাকে যে, ধারা-৪১৯ এর আওতায় দাখিলকৃত আপিলের ক্ষেত্রে আপিলকারী বা তার উকিলকে বক্তব্য পেশ করার যৌক্তিক সুযোগ না দিয়ে আপিল খারিজ করা যাবে না।

(২) এই ধারার আওতায় আপিল খারিজ করার পূর্বে আদালত মামলার নথি তলব করতে পারবেন, কিন্তু আদালত এরূপ তলব করতে বাধ্য হবেন না ।

Section 421- Summary dismissal of appeal

(1) On receiving the petition and copy under section 419 or section 420, the Appellate Court shall pursue the same, and if it considers that there is no sufficient ground for interfering, it may dismiss the appeal summarily: Provided that no appeal presented under section 419 shall be dismissed unless the appellant or his pleader has had a reasonable opportunity of being heard in support of the same.

(2) Before dismissing an appeal under this section, the Court may call for the record of the case, but shall not be bound to do so.
৬,১৭০.
বেআইনী সমাবেশের (unlawful Assembly) উদ্দেশ্যে ভাড়াকৃত ব্যক্তিকে কেউ আশ্রয় দিলে তার শাস্তি কোন ধারায়?
  1. ১৪৯ ধারায়
  2. ১৫০ ধারায়
  3. ১৫৮ ধারায়
  4. ১৫৭ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ১৫৭ ধারার বধান বেআইনী সমাবেশের জন্য ভাড়া করা ব্যক্তিদের আশ্রয়দান :- কোন ব্যক্তি যদি কোন বেআইনী সমাবেশে যোগদান করার জন্য কোন ব্যক্তিকে ভাড়া করা হয়েছে বা নিযুক্ত করা হয়েছে অথবা অনুরূপ কোন ব্যক্তি অনুরূপ উদ্দেশ্যে ভাড়াটিয়া হতে বা নিযুক্ত হতে যাচ্ছে জানা সত্ত্বেও অনুরূপ ব্যক্তিকে বা অনুরূপ ব্যক্তিদের তার দখলাধীন বা তত্ত্বাবধানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন কোন গৃহে বা বাড়িতে বা স্থানে আশ্রয়দান করে, গ্রহণ করে বা সমাবিষ্ট করে, তবে তাকে ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা হবে।
৬,১৭১.
'নিজের মামলায় নিজেই বিচারক হওয়া যায় না।'- এই নীতির প্রতিফলন ঘটেছে ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায়?
  1. ৪৫৬ ধারায়
  2. ৩৫৮ ধারায়
  3. ৫০৬ ধারায়
  4. ৫৫৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
• 'Principles of natural justice' এর দ্বিতীয় নীতি হচ্ছে- 'nemo judex in causa sua in propria causa বা nemo debet esse judex in propria causa, যার অর্থাৎ নিজের মামলায় নিজেই বিচারক হওয়া যায় না। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৫৬ ধারায় এই নীতির প্রতিফলন ঘটেছে।

৫৫৬ ধারা অনুসারে,
যে মামলায় কোন জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট নিজে একজন পক্ষ বা ব্যক্তিগত ভাবে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট, উর্দ্ধতন আপিল আদালতের অনুমতি ছাড়া উক্ত জজ বা ম্যাজিট্রেট সে মামলার বিচার করবেন না এবং কোন জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট তার নিজের প্রদত্ত রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল শ্রবণ করবেন না।
 
Section 556- Case in which Judge or Magistrate is personally interested-
No Judge or Magistrate shall, except with the permission of the Court to which an appeal lies from his Court, try for trial any case to or in which he is a party, or personally interested, and no Judge or Magistrate shall hear an appeal from any judgment or order passed or make himself.
৬,১৭২.
রিভিশন ক্ষমতাবলে অতিরিক্ত জেলা জজ আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-সম্পর্কিত আদেশ দিলে, উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?
  1. সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে ২য়
  2. সরাসরি জেলা জজ আদালতে ২য় রিভিশন
  3. অনুমতিসাপেক্ষে হাইকোর্ট বিভাগে ২য় রিভিশন
  4. অনুমতিসাপেক্ষে জেলা জজ আদালতে ২য় রিভিশন
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫(৪) ধারায় ২য় রিভিশনের বিধান রয়েছে। এই ধারানুযায়ী,

১১৫(২) ও ১১৫(৩) ধারার অধীনে প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ রিভিশনে আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-সম্পর্কিত বিষয়ে ভুল করে কোন আদেশ দিলে, তার বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতিসাপেক্ষে হাইকোর্ট বিভাগে দ্বিতীয় রিভিশন দায়ের করা যায়।
অর্থাৎ, জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ প্রদত্ত (প্রথম) রিভিশনে আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-সম্পর্কিত বিষয়ে ভুল আদেশ দিলে, হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতি নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগেই দ্বিতীয় রিভিশন করা যাবে।

গুরত্বপূর্ণ তথ্য:
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধিতে Second Appeal নেই তবে, অনুমতিসাপেক্ষে Second Revision করার বিধান আছে।
⇒ দেওয়ানি মোকদ্দমায় Review আছে, ফৌজদারী মামলায় Review নেই।
⇒ ফৌজদারী মামলায় শুধু খালাস [ধারা ৪১৭(১)] ও অপর্যাপ্ত দণ্ডের [ধারা ৪১৭ক] এর ক্ষেত্রে Second Appeal এর বিধান রয়েছে, কিন্তু Second Revision এর নেই।
৬,১৭৩.
What does Section 153A prohibit?
  1. Encouraging cultural exchange
  2. Speaking freely about class differences of citizens
  3. Promoting friendship between classes of citizens
  4. Promoting enmity or hatred between different classes of citizens
ব্যাখ্যা
⇒ The Penal Code, 1860-Section-153A. Promoting enmity between classes:
-Whoever by words, either spoken or written, or by signs, or by visible representations, or otherwise, promotes or attempts to promote feelings of enmity or hatred between different classes of the citizens of Bangladesh, shall be punished with imprisonment which may extend to two years, or with fine, or with both.

Explanation.-It does not amount to an offence within the meaning of this section to point out, without malicious intention and with an honest view to their removal, matters which are producing or have a tendency to produce, feelings of enmity or hatred between different classes of the citizens of Bangladesh.
----------------
⇒ দণ্ডবিধির ১৫৩ক ধারার বিধান বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করা:
- কোন ব্যক্তি যদি কোন উচ্চারিত বা লিখিত কথা কর্তৃক অথবা চিহ্ন কর্তৃক অথবা দৃশ্যমান প্রতীক কর্তৃক অথবা অপর কোনভাবে বাংলাদেশের জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে শত্রুতার মনোভাব বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা:- বাংলাদেশের জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে বৈরিতা বা বিদ্বেষের মনোভাবপ্রসূত, বিষয়ারার বা যেসব বিষয় অনুরূপ বৈরিতা বা বিদ্বেষের মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে হয়, সেসব বিষয় দূরীকরণের সৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে এবং কোনরূপ দুরভিসন্ধিমূলক উদ্দেশ্য ছাড়া তৎসমূহের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তা এই ধারার অর্থ অনুযায়ী অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।
৬,১৭৪.
বর্তমানে তামাদি আইনের কয়টি ধারা বলবৎ আছে?
  1. ৩১ টি
  2. ২৯ টি
  3. ৩২ টি
  4. ২৮ টি
ব্যাখ্যা
• সর্বপ্রথম ১৮৫৯ সালে তামাদি আইন পাশ করা হয়। এই আইনটি ১৮৬২ সালে কার্যকর করা হয়। সর্বশেষ ১৯০৮ সালে পুনরায় তামাদি আইন প্রবর্তন করা হয় যা বর্তমানে বাংলাদেশে প্রযোজ্য। এটা ১৯০৮ সালের ৯নং আইন। আইনটি ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারী হতে কার্যকর হয়। 

বর্তমানে তামাদি আইনের ২৯টি ধারা এবং ১টি তফসিল বলবৎ আছে। ধারাসমূহে তামাদির মেয়াদ গণনার পদ্ধতি যেমন কোন সময় বাদ দিয়ে এবং কোন সময় যোগ করে তামাদি গণনা করতে হবে, তামাদির জন্য নির্ধারিত সময়ের পর মোকদ্দমা দায়ের করলে তার ফলাফল, তামাদির বিলম্ব মওকুফ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং ২৬ থেকে ২৮ ধারা প্রেসক্রিপশন [prescription] ও অর্জন [acquisition] নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
৬,১৭৫.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে ‘প্লিডিংস' অর্থ কি?
  1. এফিডেভিট
  2. আরজি বা জবাব
  3. অভিযোগ
  4. যুক্তিতর্ক
ব্যাখ্যা
♦আদেশ ৬, বিধি ১-এ বলা হয়েছে “Pleading” shall mean Plaint or written statement.
♦ অর্থাৎ দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে ‘প্লিডিংস' অর্থ হল আরজি বা জবাব।
৬,১৭৬.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে নিচের কোনটি দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zabil Arham) এর উদাহরণ?
  1. মা
  2. স্ত্রী
  3. চাচা
  4. কন্যা
ব্যাখ্যা
⇒  মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারীরা তিন শ্রেণিতে বিভক্ত:
১) অংশীদার (Zawil Furud) – যাদের নির্দিষ্ট অংশ কোরআনে নির্ধারিত রয়েছে।
২) অবশিষ্টাংশ ভোগী (Asaba) – যারা অংশীদারদের পরে অবশিষ্ট সম্পত্তি পায়।
৩) দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham) – যারা অংশীদার বা আসাবা নয়, কিন্তু মৃতের আত্মীয়।

⇒ দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham) তাদের বলা হয়, যারা অংশীদার (Zawil Furud) বা আসাবা নয়, তবে মৃতের আত্মীয়।
- চাচা সাধারণত আসাবা হলেও, যদি আসাবা না থাকে, তবে তিনি Zawil Arham হিসেবে উত্তরাধিকার পান।

⇒ প্রত্যেক অপশন বিশ্লেষণ করে পাই:
(ক) মা – মা হলেন নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud)। তিনি সাধারণত মৃত সন্তান রেখে গেলে ১/৬ এবং সন্তান না থাকলে ১/৩ অংশ পান। সুতরাং, তিনি দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ নন।
(খ) স্ত্রী – স্ত্রীও নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud)। স্বামী মারা গেলে তিনি সন্তান থাকলে ১/৮ এবং সন্তান না থাকলে ১/৪ অংশ পান। ফলে, তিনি দূরবর্তী আত্মীয়বর্গের অন্তর্ভুক্ত নন।
(গ) চাচা – চাচা সাধারণত আসাবা হন। তবে, যদি কোনো আসাবা উত্তরাধিকারী না থাকে, তাহলে চাচা দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham) হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। ফলে, এই অপশনটি সঠিক।
(ঘ) কন্যা – কন্যা নির্দিষ্ট অংশীদার (Zawil Furud)। একমাত্র কন্যা থাকলে সে ১/২ পায়, একাধিক কন্যা থাকলে তারা ২/৩ ভাগ করে নেয়। তাই কন্যাও দূরবর্তী আত্মীয়বর্গের অন্তর্ভুক্ত নয়।
৬,১৭৭.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৩৯, বিধি-৫ক অনুসারে যদি মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রার্থী পক্ষের বিপক্ষে যায় এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে বিপক্ষ পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে আদালত কী করতে পারে?
  1. ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেবে
  2. ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেবে
  3. ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেবে
  4. নিষেধাজ্ঞা প্রার্থী পক্ষকে কারাদণ্ড দিতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯, বিধি ৫ক(৪) অনুসারে, যদি মামলার রায় সেই পক্ষের বিপক্ষে যায়, যার অনুরোধে আদালত অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা (ad interim or temporary injunction) দিয়েছিল; এবং দেখা যায়, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বিপক্ষ পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে;
- তাহলে আদালত, মামলার রায় ঘোষণার সময়, বিপক্ষ পক্ষের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণমূলক খরচ (compensatory cost) আদায়ের নির্দেশ দিতে পারে।
- এই ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পরও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, চাইলে আরও ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে, তবে এই ১০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ তখনকার চূড়ান্ত হিসাবের সময় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

- Order XXXIX – Rule 5A: (4) If the suit is ultimately decided against the party at whose instance the ad interim or temporary injunction was granted, and it appears that the other party has suffered loss due to such injunction,
→ The Court shall, while deciding the suit, award compensatory costs not exceeding ten thousand taka in favor of that other party, in addition to any other costs he may be entitled to.
৬,১৭৮.
মুসলিম আইনের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. হাদিস
  2. ইজমা
  3. ইসতিসলাহ
  4. কিয়াস
ব্যাখ্যা
’মুসলিম আইনের প্রধান উৎস চারটি- কোরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস। আরও কিছু বিষয়কেও ইসলামি আইনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেগুলো হলো-

ইজতিহাদ:
ইজতেহাদ অর্থ গবেষণা করা। ইসলামি পরিভাষায় শরিয়তের কোনো নির্দেশ সম্পর্কে সুষ্ঠু জ্ঞানলাভের উদ্দেশ্যে সর্বাঙ্গীণ চেষ্টা ও সমাধানের নাম ইজতেহাদ। সাধারণ লোকের চিন্তাধারায় ইজতেহাদ হয় না। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে কিয়াস প্রয়োগ করে ইজতেহাদ করতে হয়।

ইসতিহসান:
পরবর্তী শতাব্দীতে কোনো বিধান কিয়াসের চাহিদা থেকে পৃথক হলে তাকে ইসতিহসান বলা হতো। ইসতিহসান অর্থ বিচার-বিবেচনায় যা মঙ্গলজনক। কিয়াসের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান কঠিন মনে হলে জনসাধারণের সাহায্যের জন্য ইসতিহসান করা হয়।

ইসতিসলাহ:
ইসতিহসানের থেকে সহজ ইসতিসলাহ। ইসতিসলাহ অর্থ জনকল্যাণ। এটা জনসাধারণের কল্যাণে সমস্যা সমাধানের সহজ মাধ্যম।

ইসতিদলাল:
ইসলামী আইনে যুক্তিনির্ণীত সিদ্ধান্তকে ‘ইসতিদলাল’ বলে। অন্য কথায় কোনো একটি বিষয় হতে যুক্তি-তর্কের সাহায্যে অন্য একটি অনুরূপ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ইসতিদলাল বলে। ইসতিদলালের মাধ্যমে এক নীতি থেকে যুক্তি-তর্কের সাহায্যে অন্য নীতির প্রবর্তন করা হয়।
৬,১৭৯.
আদেশ ৪৮ বিধি ১ এর অধীন কোন প্রক্রিয়া পরিবেশনের ব্যয় কে বহন করবে?
  1. আদালত
  2. বিবাদী
  3. যে পক্ষের পক্ষ থেকে প্রক্রিয়া জারি করা হয়
  4. যে পক্ষের বিপক্ষে প্রক্রিয়া জারি করা হয়
ব্যাখ্যা

আদেশ ৪৮ বিধি ১:
(১) এই বিধির অধীনে জারি করা প্রত্যেকটি প্রক্রিয়া- যার পক্ষ থেকে বা যার স্বার্থে এটি জারি করা হয়েছে, সেই পক্ষের ব্যয়ে পরিবেশিত হবে, যদি না আদালত অন্যভাবে নির্দেশ দেয়।

অর্থাৎ, সাধারণ নিয়ম হলো- যে পক্ষ আদালতে কোনো সমন/নোটিস/প্রক্রিয়া জারি করায়, সেই পক্ষকেই এর খরচ বহন করতে হবে,
যদি আদালত বিশেষ কারণে আলাদা নির্দেশ না দেয়।

(২) এ ধরনের প্রক্রিয়া (সমন, নোটিস বা অন্যান্য আদালত কর্তৃক জারি করা প্রক্রিয়া) পরিবেশনের জন্য যে আদালত-ফি প্রযোজ্য,
তা প্রক্রিয়াটি জারি করার আগে, আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।

৬,১৮০.
যদি কোন অভিযুক্ত ব্যক্তি এইরুপ দাবী উত্থাপন করে যে অপরাধ সংঘটনের সময় সে ঘটনাস্থল হইতে এত দূরে অবস্থান করিয়াছিল যে তাহার পক্ষে এই অপরাধে অংশগ্রহণ সম্ভব নয়, এইরুপ আর্জিকে কি বলা হয়?
  1. Plea of immunity
  2. Plea of Credibility
  3. Plea of Alibi
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ যেসব ঘটনা অন্যভাবে প্রাসঙ্গিক নয়, সেগুলোও ১১ ধারায় প্রাসঙ্গিক হতে পারে যদি সেগুলো বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ হয় অথবা কোনোভাবে বিচার্য বিষয়ের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে অর্থাৎ বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অস্তিত্বহীনতাকে অধিকভাবে সম্ভব বা অসম্ভব করে তুলে। নিম্নোক্ত পাঁচ প্রকারের ঘটনা ১১ ধারায় প্রাসঙ্গিক হতে পারে। যথা-
i) অপরাধ সংঘটনকালে ঘটনাস্থলে আসামীর অনুপস্থিতি (Plea of Alibi) অর্থাৎ যদি দেখা যায় আসামী অপরাধ সংঘটনকালে ঘটনাস্থল হতে বহু দূরে ছিল তাহলে তা প্রাসঙ্গিক হবে;
ii) সন্তান জারজ কি-না এই প্রশ্নে স্ত্রীর নিকট হতে স্বামীর দূরে থাকার ঘটনা;
iii) কথিত মৃত ব্যক্তি জীবিত আছে এমন ঘটনা;
iv) অভিযুক্ত ব্যক্তি খুন করেছে এই প্রশ্নে, অন্য ব্যক্তি খুন করেছে-এরূপ ঘটনা; অথবা
v) অভিযুক্ত ব্যক্তি আঘাত করেছে এ প্রশ্নে, আহত ব্যক্তি নিজে আঘাত (Self-harming) করেছে-এরূপ ঘটনা ১১ ধারায় প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

⇒ Plea of Alibi- সাক্ষ্য আইনের ১১ ধারায় Plea of Alibi-কে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে। Alibi অর্থ হলো অন্যত্র (Elsewhere), আর Plea of Alibi এর আক্ষরিক অর্থ হল অন্যত্র অবস্থানের অজুহাত। এই শব্দটি ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

⇒ ফৌজদারি মামলায় আসামী এই মর্মে আত্মপক্ষ সমর্থন করে যে, অপরাধ সংঘটনকালে সে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না বা যে ঘটনার জন্য কোন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, ঘটনার সময় সে অন্যত্র ছিল। ফলে সে ঐ অপরাধের জন্য দায়ী নয় ।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৩ ধারামতে অপরাধ সংঘটনকালে আসামী অন্যত্র অবস্থানের দাবি করলে উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণ তাকেই উপস্থাপন করতে হয়। অর্থাৎ অন্যত্র থাকার অজুহাত বা Plea of Alibi প্রমাণের ভার অভিযুক্ত ব্যক্তির উপর বর্তায়।
৬,১৮১.
ক নাবালক থাকাকালে একটি মামলা করার অধিকার লাভ করে। এই অধিকার অর্জনের পর নাবালক থাকাকালেই সে উন্মাদ হয়ে যায়। ক এর মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে-
  1. তার নাবালকত্ব অবসান হওয়ার পর 
  2. উন্মাদনা অবসান হওয়ার পর  
  3. তার নাবালকত্ব ও উন্মাদনা উভয় অবসান হওয়ার পর 
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ক এর মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে-তার নাবালকত্ব ও উন্মাদনা উভয় অবসান হওয়ার পর।

⇒ তামাদি আইনের ৬ ধারায় বৈধ অপারগতা (Legal disability) নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেছে। যেখানে বলা আছে, যে সময়ে মামলা কিংবা কার্যব্যবস্থা কিংবা ডিক্রি জারির জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয় সেই সময় উক্ত ব্যক্তি যদি নাবালক, উন্মাদ বা চরম বুদ্ধিহীনতার রোগে ভুগে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে।
- যখন উক্ত ব্যক্তির জীবন হতে অপারগতা অবসান হবে তখন তামাদি মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে। যদি একটি অপারগতা অবসান হবার আগেই আরেকটি অপারগতায় উক্ত ব্যক্তি যদি পতিত হন তবে উভয় অপারগতা শেষ হবার পর তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

তামাদি আইন ১৯০৮, ধারা ৬,বৈধ অপারগতা:
উপধারা-(১) যেইক্ষেত্রে মামলা বা কার্যধারা দায়ের করিবার কিংবা ডিংক্রী জারির জন্য দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সেই সময় নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তাহার উপরোক্ত অপারগতার অবসান হইবার পর, অপারগতা না থাকিলে, প্রথম তফসিলের তৃতীয় স্তম্ভে অথবা ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারায় বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা বা কার্যধারা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।
উপধারা-(২) যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সেই সময় উপরে বর্ণিত যেই কোনো দুইটি অপারগতার অবসান হইবার পূর্বেই সে আরেকটি অপারগতায় পতিত হয়, সেইক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি তাহার উভয় অপারগতার অবসান হইবার পর, অপারগতা না থাকিলে, উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।
উপধারা-(৩) যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তাহার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেইক্ষেত্রে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর অপারগতা না থাকিলে উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে উহা করা যাইতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দাখিল করিতে পারিবে।
উপধারা-(৪) যেইক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি অনুরূপ কোনো অপারগতায় পতিত হয়, সেইক্ষেত্রে (১) ও (২) উপধারায় বিধৃত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে।
---------------------
The Limitation Act 1908, Section-6, Legal disability:
(1) Where a person entitled to institute a suit or proceeding or make an application for the execution of a decree is, at the time from which the period of limitation is to be reckoned, a minor, or insane, or an idiot, he may institute the suit or proceeding or make the application within the same period after the disability has ceased, as would otherwise have been allowed from the time prescribed therefore in the third column of the first schedule or in section 48 of the Code of Civil
Procedure, 1908.
(2) Where such person is, at the time from which the period of limitation is to be reckoned, affected by two such disabilities, or where, before his disability has ceased, he is affected by another disability, he may institute the suit or make the application within the same period, after both disabilities have ceased, as would otherwise have been allowed from the time so prescribed.
(3) Where the disability continues up to the death of such person, his legal representative may institute the suit or make the application within the same period after the death as would otherwise have been allowed from the time so prescribed.
(4) Where such representative is at the date of the death affected by any such disability, the rules contained in sub-sections
(1) and (2) shall apply.

৬,১৮২.
পুলিশী তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া না গেলে দাখিলকৃত রিপোর্টের প্রচলিত নাম-
  1. চার্জ শিট
  2. ফাইনাল রিপোর্ট
  3. রিলিজ রিপোর্ট
  4. ডিসচার্জ রিপোর্ট
ব্যাখ্যা
⇒ পুলিশ রিপোর্ট: পুলিশ অফিসার বা মামলার তদন্তকারী অফিসার মামলার তদন্ত শেষে আদালতের নিকট যে প্রতিবেদন পেশ করে, তাকেই পুলিশ রিপোর্ট বলে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ এ পুলিশ রিপোর্ট সম্পর্কে বিধান রয়েছে।

⇒ সাধারণত পুলিশ রিপোর্ট ২ প্রকার-
১. Charge Sheet ( অভিযোগ পত্র): প্রাথমিক তদন্ত শেষে সত্যতা/প্রমাণ খুঁজে পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, তাকেই Charge Sheet বলে এবং ম্যাজিস্ট্রেট এর ভিত্তিতে মামলায় অগ্রসর হন।

২. Final Report (চূড়ান্ত প্রতিবেদন): প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা/প্রমাণ খুঁজে পাওয়া না গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, তাকেই Final Report বলে এবং এর উপর ভিত্তি করে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি [Discharge] দেন।
৬,১৮৩.
যাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না তা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় আছে?
  1. ২৩ ধারায়
  2. ২৭ ধারায়
  3. ২৪ ধারায়
  4. ২৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৮ ধারামতে যাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না (What parties cannot be compelled to perform)- ভুল তথ্য বা ধারণা তথা প্রতারণার মাধ্যমে কোন চুক্তি হলে, প্রতারণার স্বীকার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঐ চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না।
 
⇒  যাদের অনুকূলে চুক্তি সম্পাদন করা যায় সে সম্পর্কে বলা হয়েছে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৩ ধারায়, অন্যদিকে যাদের অনুকূলে চুক্তি সম্পাদন করা যায় না সে সম্পর্কে বলা হয়েছে ২৪ ধারায়।
⇒  যাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সম্পাদন করা যায় সে সম্পর্কে বলা হয়েছে ২৭ ধারায়, অন্যদিকে যাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সম্পাদন করা যায় না সে সম্পর্কে বলা হয়েছে ২৮ ধারায়।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৮ ধারার বিধান: যে পক্ষগণকে কাজ সম্পাদনে বাধ্য করা যাবে নাঃ নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন চুক্তিবদ্ধ পক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকরী করা যাবে না:
(ক) যদি চুক্তির তারিখে বিরাজমান বিষয়বস্তুর অবস্থার তুলনায় তৎকর্তৃক গৃহীতব্য প্রতিদান এতই অপর্যাপ্ত হয় যে, তা নিজে বা অপরাপর পরিস্থিতির সহযোগে প্রতারণা বা বাদী কর্তৃক অন্যায় সুবিধা গ্রহণের সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়;
(খ) যদি চুক্তির অধীন যে পক্ষ কর্তৃক কাজ সম্পাদন করা কর্তব্য হয়, সেই পক্ষের সম্মতি ভুল বিবরণ (ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত) গোপন চক্রান্ত বা অসদাচরণের মাধ্যমে অর্জন করা হয়ে থাকে বা তেমন পক্ষের এমন কোন আশ্বাস প্রদানের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে, যা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিপূর্ণ করা হয়নি;
(গ) যদি ভুল তথ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বা ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে বা অপ্রত্যাশিতভাবে তার সম্পত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে।
তবে শর্ত থাকে যে, যখন চুক্তিতে ভুলের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের বিধান থাকে তখন তেমন বিধানের আওতার মধ্যে ভুলের জন্য ক্ষতিপূরণ করা যেতে পারে এবং যদি তেমন কার্যকরীকরণ যথাযথ হয় তবে অন্যান্য বিষয়ে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যেতে পারে।
----------------
⇒ Against whom Contracts cannot be specifically enforced:
⇒ Section 28 What parties cannot be compelled to perform:
-Specific performance of a contract cannot be enforced against a party thereto in any of the following cases:- 
(a) if the consideration to be received by him is so grossly inadequate, with reference to the state of things existing at the date of the contract, as to be either by itself or coupled with other circumstances evidence of fraud or of undue advantage taken by the plaintiff; 
(b) if his assent was obtained by the misrepresentation (whether wilful or innocent), concealment, circumvention or unfair practices, of any party to whom performance would become due under the contract, or by a promise of such party which has not been substantially fulfilled; 
(c) if his assent was given under the influence of mistake of fact, misapprehension or surprise: Provided that, when the contract provides for compensation in case of mistake, compensation may be made for a mistake within the scope of such provision, and the contract may be specifically enforced in other respects if proper to be so enforced. 
 
⇒ Illustrations 
to clause (c)- 
A, one of two executors, in the erroneous belief that he had the authority of his co-executor, enters into an agreement for the sale to B of his testator's property. B cannot insist on the sale being completed. 
 
A directs an auctioneer to sell certain land. A afterwards revokes the auctioneer's authority as to 20 bighas of this land, but the auctioneer inadvertently sells the whole to B, who has not notice of the revocation. B cannot enforce specific performance of the agreement.
৬,১৮৪.
“কোন অপরাধে প্রথমে সমন ইস্যু হবে নাকি ওয়ারেন্ট”—এ তথ্য দ্বিতীয় তফসিলের কোন কলামে থাকে?
  1. ২য় কলাম
  2. ৪র্থ কলাম
  3. ৬ষ্ঠ কলাম
  4. ৭ম কলাম
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলের ৪র্থ কলাম-এ উল্লেখ আছে, কোন অপরাধের ক্ষেত্রে প্রথমে সমন (Summons) ইস্যু করা হবে নাকি ওয়ারেন্ট (Warrant) ইস্যু করা হবে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২য় তফসিলের ৮ম কলামে 'যে আদালত কর্তৃক অপরাধটি বিচারযোগ্য' তা উল্লেখ আছে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলে মোট ৮টি কলাম রয়েছে।
-যা নিম্নরূপ-
 -দ্বিতীয় তফসিল- (Second Schedule)
১ম কলাম- পেনাল কোডের অধীন ধারাসমূহ। 
২য় কলাম- অপরাধ। 
৩য় কলাম- পরোয়ানা ছাড়া পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে কি পারে না অর্থাৎ আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ। 
৪র্থ কলাম- প্রথমেই সমন বা ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হবে কিনা। 
৫ম কলাম- অপরাধটি জামিনযোগ্য নাকি জামিন-অযোগ্য। 
৬ষ্ঠ কলাম- অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য (Compoundable) কিনা। 
৭ম কলাম- দন্ডবিধির অধীন উল্লেখিত শাস্তি।
৮ম কলাম- যে আদালত কর্তৃক অপরাধটি বিচারযোগ্য।

৬,১৮৫.
দুর্নীতি দমন কমিশন এর ক্ষেত্রে কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
  1. এটি একটি স্বশাসিত সংস্থা
  2. এটি একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান
  3. সম্পত্তি অর্জনের অধিকার নেই
  4. এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যায়
ব্যাখ্যা
• দেশে দুর্নীতি এবং দুর্নীতিমূলক কার্য প্রতিরোধের লক্ষ্যে দুর্নীতি এবং অন্যান্য সুনির্দিষ্ট অপরাধের অনুসন্ধান এবং তদন্ত পরিচালনার জন্য একটি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধানকল্পে প্রণীত আইন হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪।

ধারা ৩- কমিশন প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি

(১) এই আইন, বলবৎ হইবার পর যতশীঘ্র সম্ভব, সরকার, সরকারী গেজেটে, প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে দুর্নীতি দমন কমিশন নামে একটি কমিশন প্রতিষ্ঠা করিবে।

(২) এই কমিশন একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন হইবে। 

(৩) কমিশন একটি স্বশাসিত সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে, উহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্প ত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং উহা হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উহার নামে উহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
৬,১৮৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৮নং আদেশের বিধি ১২ তে জবানবন্দিগ্রহণ কালে আদালতকে কার আচরণ সম্পর্কে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করার এখতিয়ার দেয়া হয়েছে?
  1. বাদীর
  2. বিবাদীর
  3. সাক্ষীর
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৮নং আদেশের ১২নং বিধিতে সাক্ষীর হাব-ভাব বা আচরণ (demeanour of witness) সম্পর্কে মন্তব্য লিপিবদ্ধ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

বলা হয়েছে যে,
জবানবন্দী প্রদান কালে সাক্ষীর আচরণ সম্পর্কে আদালত গুরুত্বপূর্ণ মনে করলে কোন মন্তব্য লিপিবদ্ধ করতে পারবেন। অর্থাৎ যদি কোনো সাক্ষীর আচরণ মামলার সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় হয়, তখন বিচারক ন্যায় বিচারার্থে উক্ত সাক্ষীর ব্যবহার সম্পর্কে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করতে পারবেন।

• আদেশ ১৮ বিধি ১২-
আদালতে কোন সাক্ষী জবানবন্দি দানকালে তার আচরণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়,এরূপ কোন মন্তব্য লিপিবদ্ধ করতে পারে।
[The Court may record such remarks as it thinks material respecting the demeanour of any witness while under examination.]
৬,১৮৭.
ন্যায়পালের পদটি বাংলাদেশে কীভাবে সৃষ্টি হবে?
  1. সরকারের সিদ্ধান্তে
  2. প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে
  3. রাষ্ট্রপতির আদেশে
  4. সংসদের আইনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের ৭৭(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে, "সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ-প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করিতে পারিবেন।"
- অর্থাৎ ন্যায়পাল পদটি শুধুমাত্র সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের মাধ্যমেই সৃষ্টি হতে পারে।
- এটি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পদ নয়।
- সংবিধানে অনুচ্ছেদ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এখনও ন্যায়পাল আইন পাস হয়নি, তাই এই পদটি এখনও সৃষ্টি হয়নি।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদের বিষয়: ন্যায়পাল:
(১) সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ-প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করিতে পারিবেন। 
(২) সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালকে কোন মন্ত্রণালয়, সরকারী কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের যে কোন কার্য সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাসহ যেরূপ ক্ষমতা কিংবা যেরূপ দায়িত্ব প্রদান করিবেন, ন্যায়পাল সেইরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন। 
(৩) ন্যায়পাল তাঁহার দায়িত্বপালন সম্পর্কে বাৎসরিক রিপোর্ট প্রণয়ন করিবেন এবং অনুরূপ রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপিত হইবে।
------------
 ⇒ Article 77 Ombudsman:
(1) Parliament may, by law, provide for the establishment of the office of Ombudsman. 
(2) The Ombudsman shall exercise such powers and perform such functions as Parliament may, by law, determine, including the power to investigate any action taken by a Ministry, a public officer or a statutory public authority. 
(3) The Ombudsman shall prepare an annual report concerning the discharge of his functions, and such report shall be laid before Parliament.

৬,১৮৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারার অধীনে, যদি দলিলটি নিবন্ধিত হয়, তবে আদালত কী করবে?
  1. দলিলটি পর্যালোচনা করবে
  2. দলিলটির সঠিকতা যাচাই করবে
  3. দলিলটির বাতিলের ডিক্রি নিবন্ধন কর্মকর্তার কাছে পাঠাবে
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: গ) দলিলটির বাতিলের ডিক্রি নিবন্ধন কর্মকর্তার কাছে পাঠাবে।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারার অধীনে, যদি কোনো দলিল নিবন্ধিত হয়ে থাকে এবং আদালত সেই দলিলটি বাতিলের আদেশ দেয়, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সেই কর্মকর্তার কাছে পাঠাবে, যার অফিসে ওই দলিলটি নিবন্ধিত হয়েছিল। নিবন্ধন কর্মকর্তা সেই ডিক্রির কপি তার নিবন্ধন বইতে নোট করবেন, যাতে সেই দলিলের বাতিল হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বইয়ে সংরক্ষিত থাকে।
- এটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের উদ্দেশ্য, যাতে কোনো অবৈধ বা বাতিলযোগ্য দলিলের ক্ষেত্রে প্রতিকার নিশ্চিত করা হয় এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-৩৯ ধারার বিধান: যখন বাতিলের আদেশ প্রদানযোগ্য:
-যেকোনো ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসংগত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল নিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দিলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসাবে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
-যদি দলিল নিবন্ধন আইন অনুসারে নিবন্ধিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সে কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করবেন, যার কার্যালয়ে উক্ত দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে এবং তেমন কর্মকর্তা তার বইতে দলিলের নকলে তার বিলুপ্তির বিষয়াবলি লিপিবদ্ধ করবেন।
-----------------
⇒The Specific Relief Act, 1877-Section-39: When cancellation may be ordered:
-Any person against whom a written instrument is void or voidable, who has reasonable apprehension that such instrument, if left outstanding, may cause him serious injury, may sue to have it adjudged void or viodable; and the Court may, in its discretion, so adjudge it and order it to be delivered up and cancelled.
If the instrument has been registered under the Registration Act, 1908, the Court shall also send a copy of its decree to the officer in whose office the instrument has been so registered; and such officer shall note on the copy of the instrument contained in his books the fact of its cancellation.
৬,১৮৯.
কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক তার দায়িত্ব পালনে কোন অসদাচরণের জন্য দায়ী হলে, সরকার তার নিয়োগ অনধিক কত বছরের জন্য স্থগিত করতে পারে?
  1. ৫ বছরের জন্য
  2. ৩ বছরের জন্য
  3. ১ বছরের জন্য
  4. ২ বছরের জন্য
ব্যাখ্যা
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২: ধারা ১৪- বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা:

সরকারের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে এই মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক তাহার দায়িত্ব পালনে কোন অসদাচরণের জন্য দায়ী অথবা তাহার কর্তব্য পালনে অসমর্থ বা শারীরিকভাবে অক্ষম, তাহা হইলে, সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা, তাহার নিয়োগ অনধিক দুই বৎসরের জন্য স্থগিত বা বাতিল করিতে পারিবে: 
 
তবে শর্ত থাকে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধককে যথাযথ কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান না করিয়া অনুরুপ কোন আদেশ প্রদান করা যাইবে না। 
৬,১৯০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৩২ ধারায় কোন পরিস্থিতিতে নতুন বিচারের নির্দেশ দেওয়া হয়?
  1. সাক্ষী অনুপস্থিত থাকলে
  2. সাক্ষ্য গ্রহণের ভুলের কারণে
  3. আসামি অনুপস্থিত থাকলে
  4. চার্জ গঠনে ভুল থাকলে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৩২ (চার্জে কৃত গুরুতর ভুলের ফলাফল)-
১) রিভিশন ক্ষমতা বা সপ্তবিংশ অধ্যায়ে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়ােগকালে আপিল আদালত বা হাইকোর্ট বিভাগ যদি মনে করেন যে, অভিযােগ গঠিত হওয়ায় কিংবা উহাতে ভুল থাকায় কোন অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি তার আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যাপারে বিভ্রান্ত হয়েছে তা হলে উক্ত আদালত যেইরূপ উপযুক্ত মনে করেন, সেইরূপভাবে অভিযােগ গঠন করে নতুন বিচারের নির্দেশ দিবেন।

২) আদালত যদি মনে করেন যে,মােকদ্দমার ঘটনাবলী এইরূপ যে প্রমাণিত তথ্যাবলীর ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে কোন বৈধ অভিযােগ প্রণয়ন করা যাবে না,তা হলে দণ্ডাদেশ রদ করে দিবেন।

Section- 232: Effect of material error:
(1) If any Appellate Court, or the High Court Division in the exercise of its powers of revision or of its powers under Chapter XXVII, is of opinion that any person convicted of an offence was misled in his defence by the absence of a charge or by an error in the charge, it shall direct a new trial to be had upon a charge framed in whatever manner it thinks fit. 

(2) If the Court is of opinion that the facts of the case are such that no valid charge could be preferred against the accused in respect of the facts proved, it shall quash the conviction.
৬,১৯১.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে "Conclusive proof" এর ক্ষেত্রে আদালত কী করবে?
  1. আরো প্রমাণ চাইবে
  2. সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখবে
  3. বিপরীত সাক্ষ্য গ্রহণ করবে
  4. বিপরীত সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৪ অনুসারে, "Conclusive proof" (চূড়ান্ত প্রমাণ) বলতে এমন প্রমাণ বোঝায় যেখানে একটি তথ্য প্রমাণিত হলে আদালত অন্য তথ্যটিকে প্রমাণিত হিসেবে গ্রহণ করবে এবং এর বিপরীতে কোনো সাক্ষ্য গ্রহণের অনুমতি দেবে না।
অর্থাৎ, চূড়ান্ত প্রমাণের ক্ষেত্রে আদালত বিপরীত সাক্ষ্য বিবেচনা করবে না।
- অন্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
ক) আরো প্রমাণ চাইবে: ভুল, কারণ চূড়ান্ত প্রমাণের ক্ষেত্রে আরো প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।
খ) সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখবে: ভুল, কারণ চূড়ান্ত প্রমাণের ক্ষেত্রে আদালত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, স্থগিত করে না।
গ) বিপরীত সাক্ষ্য গ্রহণ করবে: ভুল, কারণ ধারা ৪ স্পষ্টভাবে বলে যে চূড়ান্ত প্রমাণের ক্ষেত্রে বিপরীত সাক্ষ্য গ্রহণ করা যাবে না।
---------
⇒ The Evidence Act,1872, Section-4-“Conclusive proof”:
- When one fact is declared by this Act to be conclusive proof of another, the Court shall, on proof of the one fact, regard the other as proved, and shall not allow evidence to be given for the purpose of disproving it.

৬,১৯২.
সংবিধানের ৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার ৪টি মূলনীতি হলো-
  1. জাতীয়তাবাদ, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, রাজতন্ত্র, সমাজতন্ত্র
  3. সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, রাজনীতি, ধর্মীয় শাসন
  4. জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ ৮: মূলনীতিসমূহ:
(১) জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা- এই নীতিসমূহ এবং তৎসহ এই নীতিসমূহ হইতে উদ্ভূত এই ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে৷

​(২) এই ভাগে বর্ণিত নীতিসমূহ বাংলাদেশ-পরিচালনার মূলসূত্র হইবে, আইন-প্রণয়নকালে রাষ্ট্র তাহা প্রয়োগ করিবেন, এই সংবিধান ও বাংলাদেশের অন্যান্য আইনের ব্যাখ্যাদানের ক্ষেত্রে তাহা নির্দেশক হইবে এবং তাহা রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কার্যের ভিত্তি হইবে, তবে এই সকল নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হইবে না৷

​⇒ সংবিধানের ৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার ৪টি মূলনীতি হলো-
১. জাতীয়তাবাদ [Nationalism];
২. সমাজতন্ত্র [Socialism];
৩. গণতন্ত্র [Democracy];
৪. ধর্মনিরপেক্ষতা [Secularism]।

৬,১৯৩.
তামাদি আইনের ২৫ ধারায় দলিলে উল্লেখিত সময় গণনার বিধান রয়েছে। তামাদি আইনের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে যাবতীয় দলিল গ্রেগরীয়ান বর্ষপঞ্জী (Gregorian calendar) অনুসারে প্রণীত বলে বিবেচীত হবে।
  1. ৩ টি
  2. ৫ টি
  3. ৬ টি
  4. ২ টি
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ৬ ধারামতে আইনগত অপারগতা বা Legal Disability বলতে ৩টি বিষয়কে বুঝায়। যথা- ১) নাবালকত্ব (minor); ২) উন্মাদ (insane) এবং ৩) জড়বুদ্ধ/নির্বোধ ( idiot)।
♦আইনগত অক্ষমতার বিধানসমূহ কেবলমাত্র বাদীর অক্ষমতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়, বিবাদীর অক্ষমতার ক্ষেত্রে নয়। কেবলমাত্র মূল মামলা ও ডিক্রি জারির দরখাস্তের ক্ষেত্রেই আইনগত অক্ষমতা প্রযোজ্য হয়- অন্য কোন ক্ষেত্রে নয়।
৬,১৯৪.
ডিক্রি দানকারী আদালত নিচের কোন ক্ষমতা প্রয়োগ করেন?
  1. আপিল
  2. রিভিউ
  3. রিভিশন
  4. রেফারেন্স
ব্যাখ্যা
⇒ রিভিউ (Review)- আদালত কর্তৃক কিছু নির্দিষ্ট এবং নির্দেশিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিচার পুনঃনিরীক্ষণকে রিভিউ বলে। বিচার বিভাগীয় প্রত্যেক অঙ্গে রিভিউ সম্ভব। আবেদনকৃত রিভিউ সেই আদালত পর্যালোচনা করবে যে আদালত উক্ত মামলার রায় বা ডিক্রি প্রদান করেছে।
অর্থাৎ যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছে, সেই আদালত কর্তৃক উক্ত ডিক্রি পুনরায় দেখা বা বিচারিক পর্যালোচনাকে রিভিউ বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৪ ধারা এবং ৪৭ নং আদেশে রিভিউ সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।

⇒ আদালতের ডিক্রি বা আদেশ দ্বারা সংক্ষুদ্ধ পক্ষ ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে রিভিউ আবেদন করতে পারে। কখন রিভিউ আবেদন করা যায়: দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৪ ধারার বিধান অনুযায়ী নিম্নলিখিত ৩টি ক্ষেত্রে রিভিউ আবেদন করা যায়-

i) যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা চলে কিন্তু আপিল করা হয় নাই;
ii) যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলেনা; এবং
iii) ক্ষুদ্র বিষয়ক আদালতে রেফারেন্স প্রদত্ত সিদ্ধান্তের বিরূদ্ধে রিভিউ আবেদন করা যায়।

⇒ রিভিউ আবেদনের শর্তসমূহ: দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৭ নং আদেশের ১ নং বিধি অনুযায়ী নিম্নলিখিত ৩টি Ground-এ রিভিউ আবেদন করা যায়-
ⅰ) নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় আবিষ্কার হলে;
ii) মামলার নথিতে ভুল বা স্পষ্টত কোন ভ্রান্তি থাকলে; 
iii) অন্য কোন পর্যাপ্ত কারণে রিভিউ আবেদন করা যায়।
৬,১৯৫.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর কোন ধারায় সাক্ষ্য আইনে ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দ বা বিষয়ের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ২ ধারায়
  2. ৩ ধারায়
  3. ৪ ধারায়
  4. ৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৩ ধারায় এই আইনে ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দ বা বিষয়ের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। এটি "Interpretation clause" নামে পরিচিত, যেখানে "সাক্ষ্য", "প্রমাণ", "প্রাসঙ্গিক তথ্য" ইত্যাদির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

১. আদালত (Court):
এটি বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, যারা আইনত সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষমতা রাখেন। তবে সালিস (Arbitrator) আদালতের অন্তর্ভুক্ত নয়।

২. তথ্য (Fact):
তথ্য বলতে বোঝানো হয়েছে – ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হতে পারে এমন বস্তু, ঘটনা বা অবস্থা। কোন ব্যক্তির মানসিক অবস্থা, যেমন—ইচ্ছা, বিশ্বাস, প্রতারণা বা সৎ উদ্দেশ্য।

৩. প্রাসঙ্গিক তথ্য (Relevant Fact):
যে তথ্য অন্য তথ্যের সাথে সম্পর্কিত এবং মামলার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।

৪. বিচারাধীন তথ্য (Facts in Issue):
যে তথ্যের সত্যতা বা মিথ্যতা আদালতের সামনে প্রমাণ করতে হয়, যা মামলার ফলাফলে প্রভাব ফেলে।

৫. দলিল (Document):
লেখা, চিত্র, মানচিত্র, খোদাই করা শিলালিপি, কার্টুন ইত্যাদি, যা কোনো বিষয় রেকর্ড করতে ব্যবহৃত হয়।

৬. সাক্ষ্য (Evidence):
মৌখিক সাক্ষ্য: আদালতে সাক্ষীর দেওয়া বক্তব্য।
দলিলগত সাক্ষ্য: আদালতে উপস্থাপিত কাগজপত্র বা নথি।
ফরেনসিক সাক্ষ্য: রক্ত, ডিএনএ, আঙুলের ছাপ ইত্যাদি।

৭. প্রমাণ (Proof):
প্রমাণিত (Proved): যখন আদালত কোনো তথ্যকে সত্য বলে ধরে নেয়।
অপ্রমাণিত (Disproved): যখন আদালত কোনো তথ্যকে মিথ্যা বলে ধরে নেয়।
প্রমাণিত নয় (Not Proved): যখন তথ্য প্রমাণ বা অপ্রমাণ – কোনো অবস্থাতেই পৌঁছায় না।
৬,১৯৬.
According to Section 105, who has the burden to prove that the case falls under any general or special exception?
  1. The Police
  2. The Court
  3. The Prosecution
  4. The Accused
ব্যাখ্যা
 Section 105- Burden of proving that case of accused comes within exceptions:
When a person is accused of any offence, the burden of proving the existence of circumstances bringing the case within any of the General Exceptions in the Penal Code, or within any special exception or proviso contained in any other part of the same Code, or in any law defining the offence, is upon him, and the Court shall presume the absence of such circumstances.

• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১০৫ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো আসামী দাবি করে যে তার বিরুদ্ধে মামলাটি দণ্ডবিধির সাধারণ ব্যতিক্রমের আওতাভুক্ত, তাহলে সেই দাবি প্রমাণ করার দায়িত্ব থাকবে আসামী পক্ষের। বলা আছে-
"দণ্ডবিধির সাধারণ ব্যতিক্রম যে সমস্ত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সেই সমস্ত ক্ষেত্রে, উক্ত ব্যতিক্রম প্রযোজ্য এই দাবি করাই যথেষ্ট নয়, বরং এই ব্যতিক্রমের উপস্থিতি প্রমাণ করতে হবে।"

অর্থাৎ, যদি আসামীপক্ষ দাবি করে যে তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি দণ্ডবিধির সাধারণ ব্যতিক্রমের আওতাভুক্ত, তাহলে শুধু দাবি করা যথেষ্ট নয়, বরং তাদেরকে সেই দাবি প্রমাণ করতে হবে। প্রমাণের দায়িত্ব থাকবে আসামীপক্ষের।
৬,১৯৭.
আসামীর অনুপস্থিতিতে অনুসন্ধান ও বিচারের বিধান সম্পর্কিত ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা কত?
  1. ধারা ৫৪০
  2. ধারা ৩৪০
  3. ধারা ৫৪০ক
  4. ধারা ৩৩৯ক
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৪০ক- কিছু কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতে অনুসন্ধান ও বিচারের বিধান

(১) দুই বা ততোধিক অভিযুক্ত আদালতে হাজির থাকলে এই বিধির অধীন অনুসন্ধা বা বিচারের যে কোন পর্যায়ে জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট যদি কোন কারণ বশতঃ সন্তুষ্ট হন যে, অভিযুক্তদের এক বা একাধিক জজ আদালতে হাজির থাকতে অসমর্থ, তাহলে উক্ত কারণ লিপিবদ্ধ করে অভিযুক্তের এডভোকেট হাজির থাকলে অভিযুক্তকে হাজির থেকে মুক্তি দিতে এবং তার অনুপস্থিতিতে অনুসন্ধান বা বিচার চালিয়ে যেতে পারবেন, এবং কার্যধারার পরবর্তী পর্যায়ে উক্ত অভিযুক্তকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির থাকার নির্দেশ দিতে পারবেন।

(২) এরূপ কোন মামলায় অভিযুক্তর এডভোকেট না থাকলে কিংবা জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট যদি অভিযুক্তর হাজিরা প্রয়োজন মনে করেন তাহলে তিনি উপযুক্ত মনে করলে এবং কারণ লিপিবদ্ধ করে অনুসন্ধান বা বিচার মুলতবি রাখতে পারবেন, কিংবা উক্ত অভিযুক্তর মামলা পৃথকভাবে গ্রহণ করার বা বিচারের আদেশ দিতে পারবেন।
৬,১৯৮.
The Evidence Act,1872 এর ১৪ ধারাটি নিচের কোন মানসিক অবস্থার সাথে সম্পৃক্ত নয়?
  1. সদবিশ্বাস (Good faith)
  2. অভিপ্রায় (Intention)
  3. উদ্দেশ্য (Motive)
  4. জ্ঞান (Knowledge)
ব্যাখ্যা
⇒ The Evidence Act, 1872 এর ধারা ১৪ এর আওতায় যেসব মানসিক অবস্থার (state of mind) প্রাসঙ্গিকতা উল্লেখ করা হয়েছে, তা হলো: অভিপ্রায় (intention), জ্ঞান (knowledge), সদবিশ্বাস (good faith), অবহেলা (negligence), দ্রুততা (rashness), শত্রুতা (ill-will), এবং সৌজন্য (good-will)। এই ধারাটি কোনো মানসিক অবস্থা বা শারীরিক অবস্থা/অনুভূতির অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের বিষয়ে আলোচনা করে, যখন সেটি মামলায় প্রশ্নবিদ্ধ বা প্রাসঙ্গিক হয়।

প্রশ্নে দেওয়া অপশনগুলো বিশ্লেষণ করলে:
→ সদবিশ্বাস (Good faith): ধারা ১৪ এর মধ্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে (যেমন, উদাহরণ f, g, h)।
→ অভিপ্রায় (Intention): ধারা ১৪ এর মধ্যে উল্লেখ আছে (যেমন, উদাহরণ e, i, j)।
→ জ্ঞান (Knowledge): ধারা ১৪ এর মধ্যে উল্লেখ আছে (যেমন, উদাহরণ a, b, d)।
→ উদ্দেশ্য (Motive): ধারা ১৪ এর মধ্যে সরাসরি উল্লেখ নেই। উদ্দেশ্য (motive) সাধারণত ধারা ৮ এর আওতায় প্রাসঙ্গিক হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে কোনো কাজের প্রস্তুতি, আচরণ, বা উদ্দেশ্য প্রমাণের জন্য তথ্য প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হয়। ধারা ১৪ এর উদাহরণ বা ব্যাখ্যায় উদ্দেশ্য (motive) সরাসরি কোনো মানসিক অবস্থা হিসেবে উল্লেখিত নয়।
সুতরাং, ধারা ১৪ এর সাথে উদ্দেশ্য (motive) সম্পৃক্ত নয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪ ধারা মতে:যেসব ঘটনা হতে ইচ্ছা, জ্ঞান, সরল বিশ্বাস, অবহেলা, উগ্রতা অথবা কোন ব্যক্তি বিশেষের প্রতি সদিচ্ছা/অসদিচ্ছা (intention, knowledge, good faith, negligence, rashness, ill-will, or good-will towards any particular person) প্রভৃতি মানসিক অবস্থার অস্তিত্ব প্রতীয়মান হয়; অথবা কোন শারীরিক অবস্থা বা শারীরিক অনুভূতির (any state of body or bodily feeling) অস্তিত্ব প্রতীয়মান হয়, সেগুলো তখনই প্রাসঙ্গিক, যখন উক্তরূপ কোন মানসিক বা শারীরিক অবস্থা অথবা শারীরিক অনুভূতির অস্তিত্ব বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক হয়।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪ ধারার বিধান: মনের বা দেহের অবস্থা বা দৈহিক উপলব্ধির অস্তিত্ব যে সকল বিষয় প্রদর্শন করেঃ- ইচ্ছা, জ্ঞান, সরল বিশ্বাস, অবহেলা হঠকারিতা, কোন ব্যক্তিবিশেষের প্রতি বিদ্বেষ অথবা কল্যাণ কামনার মানসিক অবস্থার অস্তিত্ব যে সকল বিষয় প্রকাশ করে অথবা কোন শারীরিক অবস্থা শারীরিক অনুভূতির অস্তিত্ব প্রকাশ করে, সেগুলো তখনই প্রাসঙ্গিক, যখন উক্তরূপ কোন মানসকি অথবা শারীরিক অবস্থা অথবা শারীরিক অনুভূতির অস্তিত্ব বিচার্য অথবা প্রাসঙ্গিক বিষয় হয়।
⇒ ব্যাখ্যা-১: কোন প্রাসঙ্গিক মানসিক অবস্থা প্রকাশ করার নিমিত্তে যে বিষয়টি প্রাসঙ্গিক হয়, তাকে সংশ্লিষ্ট মানসিক অবস্থাটি সাধারণভাবে নয়, নির্ধারিতকোন বিচার্য বিষয় প্রসঙ্গে বিদ্যমান রয়েছে এরূপ প্রকাশ করতে হবে।
⇒ ব্যাখ্যা-২: তবে যখন কোন অপরাধে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তির বিচারকালে উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক পূর্বে- কৃত কোন অপরাধ এ ধারা অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক, তখন উক্ত ব্যক্তির পূর্বে দণ্ডিত হওয়াও প্রাসঙ্গিক বিষয়।
৬,১৯৯.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন এর অধীন স্বামীর নিখোঁজ জনিত কারণে আদালত বিচ্ছেদের ডিক্রি প্রদান করলে, তা কতদিন পর্যন্ত কার্যকর হবে না?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ মাস
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
 
⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;
 
⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
 
⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
 
⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
 
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।

উল্লেখ্য যে, নিরুদ্দেশ জনিত কারণে ডিক্রি প্রদান করা হলে, প্রদত্ত ডিক্রি দানের তারিখ হইতে ৬ মাস কাল কার্যকর হইবে না এবং যদি স্বামী উল্লেখিত সময়ে ব্যক্তিগতভাবে কিংবা কোন ক্ষমতা প্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হইয়া আদালতকে সন্তুষজনক জবাব দেন যে, তিনি দাম্পত্য কর্তব্য পালনে প্রস্তুত আছেন, তবে উক্ত ডিক্রি নাকচ করিয়া দিবেন।
৬,২০০.
'ক' একজন ভিক্ষুক। সে ১০ বছর বয়সী একটি শিশুকে প্রতিদিন তার সঙ্গে রাস্তায় ভিক্ষা করায়। এই কাজের জন্য তার সর্বোচ্চ কী শাস্তি হতে পারে?
  1. ১ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৭ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৭১: “শিশুকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োগের দণ্ড”:
কোন ব্যক্তি যদি কোন শিশুকে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে নিয়োগ করেন বা কোন শিশুর দ্বারা ভিক্ষা করান অথবা শিশুর হেফাজত, তত্ত্বাবধান বা দেখাশুনার দায়িত্বে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি যদি কোন শিশুকে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে নিয়োগদানে প্রশ্রয়দান করেন বা উৎসাহ প্রদান করেন বা ভিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রদান করেন, তাহা হইলে তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।