বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

মোট প্রশ্ন১৫,৪৭০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

PrepBank · পাতা ৫৮ / ১৫৫ · ৫,৭০১৫,৮০০ / ১৫,৪৭০

৫,৭০১.
একটি দেওয়ানি মোকদ্দমার সমন বিনা জারিতে ফেরত আসার ৩০ দিনের মধ্যে বাদী নতুন করে সমন পাঠানোর পদক্ষেপ না নিলে আদালত কী সিদ্ধান্ত নিবে?
  1. বাদীকে নোটিশ দেবে
  2. মোকদ্দমাটি স্থগিত করে রাখবে
  3. মোকদ্দমাটি খারিজ করার আদেশ দেবে
  4. বাদীকে আদালতে হাজির হবার জন্য সমন পাঠাবে
ব্যাখ্যা

দেওয়ানী কার্যবিধি, আদেশ-৯, বিধি-৫:
(১) বিবাদীকে কিংবা কতিপয় বিবাদীর কোনো একজনের প্রতি সমন দেওয়ার পর যদি তা জারি না হয়ে ফেরত আসে, এবং আদালতের যে কর্মচারী সাধারণত সমন জারির বিষয়ে আদালতের কাছে প্রত্যয়ন করেন, তিনি আদালতে উক্ত সমন জারি না হওয়ার প্রত্যয়নপত্রসহ তা ফেরত দেওয়ার পর এক মাসের মধ্যে বাদী যদি নতুন সমন দেওয়ার জন্য আবেদন না করেন, তাহলে আদালত অনুরূপ বিবাদীর বিরুদ্ধে মোকদ্দমাটি খারিজের আদেশ দেবে। তবে, যদি উক্ত এক মাসের মধ্যে বাদী নিম্নলিখিত যে কোনো কারণ দর্শিয়ে আদালতকে এ মর্মে সন্তুষ্ট করতে পারেন—
ক) যে বিবাদীর উপর সমন জারি হয়নি, বাদী যথাসাধ্য সকল চেষ্টা করেও সেই বিবাদীর ঠিকানা আবিষ্কার করতে ব্যর্থ হয়েছে; অথবা
খ) উক্ত বিবাদী পরোয়ানা জারি এড়িয়ে চলছেন; অথবা
গ) সময়ের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কোনো যৌক্তিক কারণ রয়েছে, তাহলে আদালত নতুন সমন দেওয়ার আবেদনের সময়ের মেয়াদ উপযুক্ত মনে করে বৃদ্ধি করতে পারবে।

(২) অনুরূপ ক্ষেত্রে বাদী (তামাদি আইন সাপেক্ষে) নতুন মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন।

৫,৭০২.
মৃত্যুকালীন ঘোষণা সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করার আগে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে-
  1. ঘোষণা প্রদানকারী সত্য বলেছে
  2. ঘোষণা প্রদানকারী মৃত
  3. ম্যাজিস্ট্রেট এর কাছে দেয়া হয়েছে
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বলতে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিকে বোঝায়। ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ৩২(১) ধারা মোতাবেক কোন ব্যক্তি মৃত্যুর সম্মুখীন হয়ে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে যে বিবৃতি প্রদান করেন, তাকে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বা dying declaration বলা হয়। মৃত্যুকালীন ঘোষণা সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারার আওতায় সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য। 
- 'Dying Declaration' বা মৃত্যুকালীন বিবৃতি যেকোনো ব্যক্তির নিকট বা সামনে করা যায়।
 
⇒  সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-
 
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারন সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যু কালীন ঘোষনা;
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি;
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরনের মামলার উদ্ভব করতে পারে;
iv) সর্বসাধারনের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত;
ⅴ) পারিবারিক দলিল বা উইল;
vi) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি;
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি;

মৃত্যুকালীন ঘোষণা করা যায়: ১. লিখিত ভাবে ২. ইশারায় ৩. মৌখিকভাবে।
মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রযোজ্য: দেওয়ানি মোকদ্দমা ও ফৌজদারি মামলা উভয় ক্ষেত্রেই।
মৃত্যুকালীন ঘোষণা করা যায় যার নিকট: যেকোনো ব্যক্তির নিকট বা সামনে; যেমন: ডাক্তার, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট।
মৃত্যুকালীন ঘোষণা সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করার আগে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে- ঘোষণা প্রদানকারী মৃত [১০৪ ধারার বিধান]।
 
মৃত্যুকালীন ঘোষণা গ্রহণযোগ্য হবে না: মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রদানকারী মৃত্যুবরণ না করলে [বেঁচে থাকলে]; উক্ত ঘোষণা- সাক্ষ্যগত মূল্য হারাবে। তবে ধারা ১৪৫, ১৫৭ অনুযায়ী সমর্থনমূলক সাক্ষ্য [Dying Recognition] হিসাবে ব্যবহার করা যাবে।
৫,৭০৩.
সাক্ষীর আচরণ বা মামলার ফলাফল নিয়ে মতামত দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার কোন ব্যতিক্রমে মানহানি নয়?
  1. চতুর্থ ব্যতিক্রম
  2. পঞ্চম ব্যতিক্রম
  3. ষষ্ঠ ব্যতিক্রম
  4. সপ্তম ব্যতিক্রম
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার বিধান মানহানি:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বা তার খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট হবে বলে জানা সত্ত্বেও বা তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কথিত বা পঠিত হওয়ার জন্য অভিপ্রেত কথা বা চিহ্ন কর্তৃক বা দৃশ্যমান কল্পমূর্তির সাহায্যে সে ব্যক্তি সম্পর্কিত কোন নিন্দাবাদ প্রণয়ন বা প্রকাশ করে, তবে নিম্নে নির্দেশিত ব্যতিক্রমসমূহ ছাড়াই অন্যান্য ক্ষেত্রে, সে ব্যক্তি উক্ত অন্য ব্যক্তির মানহানি করে বলে পরিগণিত হয়।
ব্যাখ্যা ১:- যে মৃত ব্যক্তির জীবনকালে তার সম্পর্কে কোন নিন্দা করা হলে তার মানহানি ঘটত, সে মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে অনুরূপ কোন নিন্দাবাদ এবং সে মৃত ব্যক্তির পরিবার-পরিজনের বা অন্যান্য কাছে আত্মীয়ের মনকে পীড়িত করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ নিন্দাবাদ করা, মানহানি বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা ২:- কোন কোম্পানি বা সংঘ বা ব্যক্তিসমাবেশ সম্পর্কে সমষ্টিগতভাবে কোন নিন্দাবাদ করা মানহানি বলে পরিগণিত হতে পারে।
ব্যাখ্যা ৩:- বিকল্পরূপে বা বিদ্রূপাত্মকরূপে ব্যক্ত কোন নিন্দাবাদ মানহানির সামিল হতে পারে।
ব্যাখ্যা ৪:- কোন ব্যক্তি সম্পর্কে কোন নিন্দাবাদ প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে অন্যান্য ব্যক্তির দৃষ্টিতে সে ব্যক্তির নৈতিক বা বুদ্ধিগত চরিত্র হেয় না করলে, অথবা তার বর্ণ বা সম্প্রদায় কিংবা তার পেশার দিক হতে সে ব্যক্তির চরিত্রকে হেয় না করলে, অথবা সে ব্যক্তির প্রসিদ্ধি ক্ষুন্ন না করলে, অথবা তার দেহ বীভৎস বা ঘৃণা অবস্থায় বা যে অবস্থা সাধারণভাবে অরুচির বলে গণ্য, সে অবস্থায় রয়েছে বলে বিশ্বাস সৃষ্টি না করলে, সে ব্যক্তি সম্পর্কে উক্ত নিন্দাবাদ তার খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করে নাই বলে পরিগণিত হয়।
 দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় (মানহানি) ৪টি ব্যাখ্যা আছে।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানি বা defamation এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে এবং সেখানে মোট ১০ টি ব্যতিক্রম সাপেক্ষে এই অপরাধ সংঘটনের কথা বলা আছে।
⇒ ৪৯৯ ধারায় ১০টি  ব্যতিক্রম নিচে দেয়া হল-

১) জনস্বার্থে বা জনগণের কল্যাণের জন্য কারো প্রতি সত্য-দোষারোপ করা হলে তা মানহানি হবে না।
২) জনগণের প্রতি সরকারি কর্মচারীর আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৩) কোন জনসমস্যা/গণসমস্যা সম্পর্কে কোন ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৪) কোন আদালতের কার্য বিবরণীর রিপোর্ট প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৫) আদালত কর্তৃক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এমন কোন ফৌজদারি বা দেওয়ানি মোকদ্দমার দোষ, গুণ বা সাক্ষী বা সাক্ষ্যের সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৬) কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার জনগণের উপর ন্যস্ত করা হলে তখন এ বিষয়ে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়। যেমন- কোন ব্যক্তি কোন বই প্রকাশ করলে বা প্রকাশ্য স্থানে বক্তৃতা দিলে তখন তা বিচার করার জন্য জনগণের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
৭) অন্যের উপর আইনসম্মতভাবে ক্ষমতা রয়েছে এমন ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে কোন নিন্দা করলে তা মানহানি হবে না।
৮) ক্ষমতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তির নিকট সৎ বিশ্বাসে অভিমত দেয়া হলে তা মানহানি বলে গণ্য হবে না। যেমন- পুলিশের কাছে কারো ব্যাপারে অভিযোগ করা ।
৯) কোন ব্যক্তি নিজের বা অন্যের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বা জনস্বার্থে সৎ বিশ্বাসে কোন দোষারোপ করলে তা মানহানি নয়।
১০) জনকল্যাণে সৎ বিশ্বাসে কোন ব্যক্তিকে সতর্ক করে কিছু বলা হলে তা মানহানি হবে না ।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানির ১০ টি ব্যতিক্রম (Exception) রয়েছে অর্থাৎ এই ১০ টি ক্ষেত্রে কোন মানহানিকর উক্তি বা তথ্য প্রকাশ করা হলেও মানহানির অপরাধ হবেনা।

⇒ শান্তি: ধারা ৫০০ অনুযায়ী, মানহানি অপরাধের শাস্তি- ২ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়।
৫,৭০৪.
দণ্ডবিধির কত ধারা ব্যভিচার (Adultery) সম্পর্কিত?
  1. ৪৯৫ ধারা
  2. ৪৯৬ ধারা
  3. ৪৯৭ ধারা
  4. ৪৯৮ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারার বিধান ব্যভিচার :- কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তির স্ত্রী অথবা যাকে সে অন্য কোন ব্যক্তির স্ত্রী বলে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ আছে এমন কোন ব্যক্তির সাথে উক্ত অন্য ব্যক্তির সম্মতি ও সমর্থন ছাড়া এইরূপ যৌন সঙ্গম করে যা নারী ধর্ষণের সামিল নয়, তবে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের অপরাধের জন্য দোষী হবে এবং তাকে ৫ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে। অনুরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রী ব্যক্তিটি দুষ্কর্মের সহায়তাকারী হিসেবে দণ্ডিত হবে না।
--------------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 497. Adultery:- Whoever has sexual intercourse with a person who is and whom he knows or has reason to believe to be the wife of another man, without the consent or connivance of that man, such sexual intercourse not amounting to the offence of rape, is guilty of the offence of adultery, and shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to five years, or with fine, or with both. In such case the wife shall not be punishable as an abettor.
৫,৭০৫.
What is the meaning of the legal maxim "Vox populi"?
  1. Law of the land
  2. Rule by law
  3. Majority opinion
  4. Equal justice under law
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) Majority opinion.
⇒ "Vox populi" একটি ল্যাটিন ম্যাক্সিম, যার অর্থ "জনগণের কণ্ঠস্বর" বা "জনগণের মতামত" (Voice of the people or majority opinion)।
- এটি সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হয়, যেখানে কোনো বিষয়ে জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- গণতন্ত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, কারণ এতে জনগণের ইচ্ছাই নীতিনির্ধারণে মুখ্য বিবেচ্য হয়।

উদাহরণস্বরূপ,
কোনো জাতীয় সিদ্ধান্তে জনগণের মতামত বা গণভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তা vox populi হিসেবে বিবেচিত হয়।
এটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন করে।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
ক) Law of the land – এর মানে "দেশের প্রচলিত আইন", যা ভিন্ন ধারণা।
খ) Rule by law – আইন দ্বারা শাসন, তবে এটি ব্যক্তির স্বাধীন মতামতের প্রতিফলন নয়।
ঘ) Equal justice under law – আইনের দৃষ্টিতে সমতা, এটি ন্যায়বিচারের ধারণা বোঝায়, কিন্তু vox populi নয়।
৫,৭০৬.
মুসলিম আইনের ২য় প্রধান উৎস কোনটি?
  1. হাদিস
  2. ইজমা
  3. কোরআন
  4. কিয়াস
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি-
১. পবিত্র কোরআন;
২. হাদিস;
৩. ইজমা;
৪. কিয়াস।

কোরআন-
ইসলামী শরিয়তের ভিত্তি চারটি প্রধান উৎসের উপর স্থাপিত, যার মধ্যে সর্বপ্রথম এবং সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ উৎস হলো কোরআনুল কারিম। এটি মুসলিমদের জীবন পরিচালনার জন্য আল্লাহ প্রদত্ত চূড়ান্ত নির্দেশিকা এবং ইসলামী আইনের মূল ভিত্তি। কোরআনের প্রতিটি বাণী চূড়ান্ত, অকাট্য এবং প্রশ্নাতীত। এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বরং ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

আইনের দ্বিতীয় উৎস হাদিস:
হাদিস অর্থ কথা বা বাণী। ইসলামী শরিয়তের দ্বিতীয় মানদণ্ড সুন্নাহ বা হাদিস। কারণ কোরআন  হলো মূল, আর সুন্নাহ বা হাদিসের ব্যাখ্যা। পবিত্র কোরআনে সব বিষয়ের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা রয়েছে, আর সুন্নাহ বা হাদিসে রয়েছে ওইসব বিষয়ের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। শরিয়তের পরিভাষায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুখ নিঃসৃত বাণী, রাসুল হিসাবে তাঁর সম্পাদিত কাজ এবং সাহাবায়ে কেরামের শরিয়ত সম্পর্কিত এমন সব কথা ও কাজÑ রাসুলুল্লাহ (সা.) যার প্রতিবাদ করেননি বা নীরব থেকে এর প্রতি মৌন সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন, তাই হাদিস। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ‌ তায়ালা শরিয়তের সব আদেশ-নিষেধ, বিধিবিধান বর্ণনা করেছেন। এতে শরিয়তের আহকাম, মূলনীতি ও নির্দেশাবলী অতি সংক্ষেপে বিবৃত হয়েছে।

আর এ সংক্ষিপ্ত নির্দেশগুলোকে কার্যকরী করার জন্য হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দিতেন। যেমন, পবিত্র কোরআনে সালাত কায়েম করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কয় ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে, প্রতি ওয়াক্তে কত রাকাত পড়তে হবে এবং কীভাবে পড়তে হবে এর বিস্তারিত বর্ণনা কোরআনে নেই। তেমনিভাবে রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদির নিয়মকানুনের বিস্তারিত বর্ণনা কোরআনে নেই। আল্লাহ‌র হুকুম অনুসারে রাসুলুল্লাহ (সা.) এগুলোর যেসব নিয়মকানুন বর্ণনা করেছেন তাই হাদিস হিসেবে গণ্য।

ইজমা:
ইসলামের আইনে তৃতীয় উৎস ইজমা। কোনো বিশেষ যুগে কোনো বিশেষ প্রশ্নে মুসলিম আইনজ্ঞদের ঐকমত্যকে আইনের পরিভাষায় ইজমা বলে। এর দুটি তাৎপর্য রয়েছে। 
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মৃত্যুর পর মুসলিম রাষ্ট্রের বিস্তৃতির ফলে নবোদ্ভূত অনেক সমস্যা দেখা যায়, যা কোরআন-হাদিস নিয়ে সমাধা হয় না। ফলে মুসলিম সমাজ কোরআন হাদিসের শিক্ষার ভিত্তিতে স্বাধীন চিন্তায় ইজমার প্রয়োজন অনুভব করে। ইজমা তিনটি উপায়ে নির্ধারিত হয়—কথা, কাজ ও নীরবতায়।

কিয়াস: 
কিয়াস ইসলামি আইনের চতুর্থ উৎস। চিন্তার মাধ্যমে নতুন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া হলো কিয়াস। যে প্রশ্নে কোরআন-হাদিস নিশ্চুপ এবং ইজমাতেও সমাধান নেই, সেই প্রশ্নের সমাধানকল্পে সব সুন্নি মাজহাব যে উৎসের আশ্রয় গ্রহণ করেন, তাকে কিয়াস বলা হয়।
৫,৭০৭.
একই মৌজায় A-এর মালিকানায় ৮ শতক এবং B ও C-এর মালিকানায় ৪ শতক জমি আছে। তারা ২ শতক জমি D-কে হস্তান্তর করে কিন্তু কার অংশ থেকে বিক্রি হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলা নেই। এক্ষেত্রে A-এর কতটুকু অংশ হন্তান্তর হবে?
  1. আধা শতক
  2. ১ শতক
  3. ২ শতক
  4. কোনো অংশ যাবে না
ব্যাখ্যা
ধারা ৪৭: সহ-মালিকদের দ্বারা যৌথ সম্পত্তির অংশ হস্তান্তর:
যখন একাধিক সহ-মালিক (co-owners) কোনো স্থাবর সম্পত্তির অংশ হস্তান্তর করেন, কিন্তু তারা নির্দিষ্ট করে বলেন না যে হস্তান্তরটি কার অংশ থেকে কার্যকর হবে, তখন-
- যদি তাদের অংশ সমান হয়, তবে হস্তান্তর সমভাবে কার্যকর হবে।
- আর যদি তাদের অংশ অসমান হয়, তবে হস্তান্তর অনুপাতে কার্যকর হবে।

উদাহরণ:
A-এর মালিকানায় ৮ আনা, B ও C-এর প্রত্যেকের ৪ আনা করে মালিকানা রয়েছে মৌজা উলিপুরে। তারা মিলে D-কে ২ আনা জমি বিক্রি করলো, কিন্তু বলেনি কার অংশ থেকে বিক্রি হলো। তখন, হস্তান্তর কার্যকর করতে:
- A-এর অংশ থেকে ১ আনা,
- B ও C-এর প্রত্যেকে আধা আনা করে দেবে।
৫,৭০৮.
কোন ক্ষেত্রে ৫৯ ধারার অধীনে মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য?
  1. শুধু দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করার ক্ষেত্রে
  2. শুধুমাত্র ইলেকট্রনিক রেকর্ড প্রমাণ করার ক্ষেত্রে
  3. দলিলের বিষয়বস্তু এবং ইলেকট্রনিক রেকর্ড উভয় প্রমাণ করার ক্ষেত্রে
  4. দলিলের বিষয়বস্তু ও ইলেকট্রনিক রেকর্ড ছাড়া অন্য কিছু প্রমাণ করার ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ৫৯ এবং ৬০ ধারায় মৌখিক সাক্ষ্যের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

৫৯ ধারায় বলা হয়েছে:
"All facts, except the contents of documents or electronic records, may be proved by oral evidence."
অর্থাৎ, দলিল বা ইলেকট্রনিক রেকর্ডের বিষয়বস্তু ছাড়া অন্য সব তথ্য মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রমাণ করা যাবে।

৬০ ধারায় বলা হয়েছে:
"Oral evidence must, in all cases whatsoever, be direct."
অর্থাৎ, যেকোনো ক্ষেত্রেই মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে।

সুতরাং, উপরোক্ত এই দুই ধারায় মৌখিক সাক্ষ্যকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং তার প্রকৃতি ও পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু বিষয় যেমন দলিলের বিষয়বস্তু ছাড়া অন্য যেকোনো ঘটনা মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রমাণযোগ্য। এছাড়াও মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই সরাসরি হতে হবে। এসব নিয়মাবলী ৫৯ এবং ৬০ ধারায় বর্ণিত হয়েছে।
৫,৭০৯.
'যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তা বাজেয়াপ্ত বা অর্পণের মাধ্যমে হস্তান্তরের আদেশ দিতে পারে- ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায়?
  1. ধারা ৫১৫
  2. ধারা ৫১৭
  3. ধারা ৫১৮
  4. ধারা ৫২৭
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১৭ ধারা অনুযায়ী কোন অপরাধে যে সম্পত্তি বা দলিল বিষয়ে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে বলে আদালত মনে করে, অনুসন্ধান বা বিচার শেষ হওয়ার পর আদালত উক্ত সম্পত্তি বা দলিল ধ্বংস, বাজেয়াপ্ত বা অর্পণের মাধ্যমে হস্তান্তরের আদেশ দিতে পারে।

ধারা ৫১৭ (যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা হস্তান্তরের আদেশ)-

(১) কোন ফৌজদারী আদালতে কোন ইনকোয়ারী বা বিচার শেষ হবার উপর উক্ত আদালতে পেশকৃত বা উহার হেফাজতে রক্ষিত কোন সম্পত্তি বা দলিল, যা সম্পর্কে কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বা যা কোন অপরাধ করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়, ধ্বংস, বাজেয়াপ্ত বা যে ব্যক্তি উহার দখল দাবী করে তাকে প্রদান বা অন্য কোনভাবে উহার বিহিত ব্যবস্থা করার জন্য আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন, সেরুপ আদেশ প্রদান করতে পারবেন।

(২) যেক্ষেত্রে হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত এরূপ আদেশ দিবেন এবং সুবিধা- জনকভাবে নিজস্ব অফিসার কর্তৃক উক্ত সম্পত্তি উহার অধিকারী ব্যক্তিকে অর্পণ করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে উক্ত আদালত এ মর্মে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন যে, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত আদেশ বলবৎ করবেন।

(৩) এই ধারার অধীন আদেশ প্রদান করা হলে তা সংশিষ্ট সম্পত্তি গৃহপালিত পশু বা দ্রুত ও স্বাভাবিক ক্ষয়শীল না হলে, এবং উপধারা-(৪) এ বর্ণিত বিধান মতে না হলে ১ (এক) মাসের জন্য কার্যকর করা যাবে না অথবা যেক্ষেত্রে আপীল পেশ করা হয়, সেক্ষেত্রে আপীলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর করা যাবে না।

(৪) যে ব্যক্তি কোন সম্পত্তি দখলের অধিকারী মর্মে দাবী করে সে ব্যক্তি আদালতের সন্তুষ্টি বিধানপূর্বক জামিনদারসহ বা ব্যতীত এমর্মে একটি মুচলেকা সম্পাদন করে যে, এই ধারার অধীন প্রদত্ত আদেশ আপীলে সংশোধিত বা বাতিল হলে সে উক্ত সম্পত্তি আদালতে অর্পণ করবে, সেক্ষেত্রে এই ধারার কোন বিধান উপধারা-(১) অনুসারে আদালত কর্তৃক উক্ত ব্যক্তিকে সম্পত্তি দেয়ার ব্যাপারে কোন বাধার সৃষ্টি করবে মর্মে মনে করা যাবে না।
৫,৭১০.
শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪৪(১) অনুসারে, কত বছর বয়সের নিচের কোনো শিশুকে কোন অবস্থাতেই গ্রেফতার বা আটক রাখা যাবে না?
  1. সাত বৎসরের নিম্নে
  2. নয় বৎসরের নিম্নে
  3. বার বৎসরের নিম্নে
  4. ষোল বৎসরের নিম্নে
ব্যাখ্যা

⇒ শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪৪(১) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: "৯ (নয়) বৎসরের নিম্নের কোন শিশুকে কোন অবস্থাতেই গ্রেফতার করা বা, ক্ষেত্রমত, আটক রাখা যাইবে না।"
সুতরাং, ৯ বছর বয়সের নিচের কোনো শিশুকে আইনত গ্রেফতার বা আটক রাখার কোনো বিধান এই আইনে নেই।

⇒ শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪৪: গ্রেফতার, ইত্যাদি:
(১) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ৯ (নয়) বৎসরের নিম্নের কোন শিশুকে কোন অবস্থাতেই গ্রেফতার করা বা, ক্ষেত্রমত, আটক রাখা যাইবে না।
(২) অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শিশুকে নিবর্তনমূলক আটকাদেশ সংক্রান্ত কোন আইনের অধীন গ্রেফতার বা আটক করা যাইবে না।
(৩) শিশুকে গ্রেফতার করিবার পর গ্রেফতারকারী পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতারের কারণ, স্থান, অভিযোগের বিষয়বস্ত্ত, ইত্যাদি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন এবং প্রাথমিকভাবে তাহার বয়স নির্ধারণ করিয়া নথিতে লিপিবদ্ধ করিবেন : 
 তবে শর্ত থাকে যে, গ্রেফতার করিবার পর কোন শিশুকে হাতকড়া বা কোমরে দড়ি বা রশি লাগানো যাইবে না।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা, উক্ত সনদের অবর্তমানে স্কুল সার্টিফিকেট বা স্কুলে ভর্তির সময় প্রদত্ত তারিখসহ প্রাসঙ্গিক দলিলাদি উদ্‌ঘাটনপূর্বক যাচাই-বাছাই করিয়া তাহার বয়স লিপিবদ্ধ করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন শিশু কিন্তু সম্ভাব্য সকল চেষ্টা করিয়াও দালিলিক প্রমাণ দ্বারা তাহা নিশ্চিত হওয়া যায় না, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিকে এই আইনের বিধান অনুযায়ী শিশু হিসাবে গণ্য করিতে হইবে।
(৫) সংশ্লিষ্ট থানায় শিশুর জন্য উপযোগী কোন নিরাপদ স্থান না থাকিলে গ্রেফতারের পর হইতে আদালতে হাজির না করা সময় পর্যন্ত শিশুকে নিরাপদ স্থানে আটক রাখিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, নিরাপদ স্থানে আটক রাখিবার ক্ষেত্রে শিশুকে প্রাপ্তবয়স্ক বা ইতোমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হইয়াছেন এইরূপ কোন শিশু বা অপরাধী এবং আইনের সংস্পর্শে আসা কোন শিশুর সহিত একত্রে রাখা যাইবে না।

৫,৭১১.
"Ex post facto" means:
  1. Before the event
  2. Without legal effect
  3. By prior agreement
  4. Out of the aftermath
ব্যাখ্যা

→ The correct answer is: b) Out of the aftermath.
• "Ex post facto" is a Latin phrase that literally means "from after the fact" or "out of the aftermath."
In legal contexts, particularly criminal law, it refers to:
'A law that retroactively changes the legal consequences of actions that were committed before the enactment of the law.'

→ "Out of the aftermath" accurately reflects the Latin roots — “ex” (out of) + “post” (after) + “facto” (the fact).
- It implies something that comes after an act, especially a law that is applied retroactively.

Example in law:
- If a law is passed today that makes a certain act committed last year a crime, and someone is prosecuted for doing it before the law existed, that would be an ex post facto law — and it's generally unconstitutional in criminal law.

• বাংলাদেশ সংবিধান অনুচ্ছেদে ৩৫: অপরাধ ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ:
- অপরাধ ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ: অনুচ্ছেদে ৩৫(১) এর বিধান হচ্ছে- অপরাধ করার সময় বলবৎ কার্যকর ছিল, এমন আইন ব্যতীত অন্য আইনে দণ্ড দেওয়া যাবে না। এ নীতিটাই Ex Post Facto Laws (ভূতাপেক্ষ আইন)।
- অর্থাৎ অপরাধ সংঘটনকালে বলবৎ আইনে যে শাস্তি ছিল তার অধিক বা ভিন্ন কোনো আইনে শাস্তি দেওয়া যাবে না বা নতুন আইন প্রণয়ন করে ভিন্নতর/তার অধিক শাস্তি দেওয়া যাবে না।
-যেমন- ১৯৯০ সালে কাউসার সাহেবের যে অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন সাজা হতো ২০২১ সালে নতুন আইন করে সে একই অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে না।
Ex post facto laws (ভূতাপেক্ষ আইন) এর বিরুদ্ধে সংবিধানের ৩৫(১) অনুচ্ছেদে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। সংবিধানে এ সম্পর্কে বলা থাকলেও এটি ফৌজদারি আইনের সাথে সম্পর্কিত।
- কারণ ফৌজদারি আইনের ক্ষেত্রে Retrospective Effect (ভূতাপেক্ষ প্রভাব) দেওয়া যায় না। যেহেতু সংবিধানে সরাসরি এই আইন সম্পর্কিত বিধান রয়েছে তাই অধিকতর গ্রহণযোগ্য হিসেবে 'সাংবিধানিক আইন' কে উত্তর হিসেবে নেয়া হয়েছে।

৫,৭১২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৫ ধারার (২) উপধারা অনুসারে মামলা পরিচালনাকারী অফিসারের কী ক্ষমতা রয়েছে?
  1. জবানবন্দি গ্রহণের ক্ষমতা
  2. তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতা
  3. মামলা প্রত্যাহারের ক্ষমতা
  4. আসামীকে জামিন দেওয়ার ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৫ ধারার (২) উপধারা অনুসারে, মামলা পরিচালনাকারী অফিসারের ধারা-৪৯৪-এ উল্লিখিত মামলা প্রত্যাহারের ক্ষমতা রয়েছে, এবং প্রত্যাহৃত মামলার ক্ষেত্রে উক্ত ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৫- সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনার অনুমতি:
(১) কোন মামলার ইনকোয়ারি বা বিচারকারী ম্যাজিস্ট্রেট সরকার কর্তৃক এতদ্‌বিষয় নির্ধারিত পদের নিম্নপদস্থ কোন পুলিশ অফিসার ব্যতীত অন্য যেকোনো ব্যক্তিকে বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনার অনুমতি প্রদান করতে পারবেন, কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল, সরকারি সলিসিটর, পাবলিক প্রসিকিউটর অথবা সরকার কর্তৃক এই বিষয়ে সাধারণ বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন অফিসার ব্যতীত কোন ব্যক্তি উক্ত অনুমতি ব্যতিরেকে বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনার অধিকারী হবে না।
(২) মামলা প্রত্যাহারের ব্যাপারে এরূপ অফিসারের ধারা-৪৯৪ এ উল্লিখিত ক্ষমতা থাকবে এবং তাঁর প্রত্যাহৃত মামলার ক্ষেত্রে উক্ত ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে।
(৩) বাদীপক্ষের মামলা পরিচালনাকারী কোন ব্যক্তিতা ব্যক্তিগতভাবে বা কোন অ্যাডভোকেট কর্তৃক এরূপ করতে পারবেন।
(৪) যে অপরাধের জন্য আসামীর বিচার চলছে সেই অপরাধের কোন তদন্তে অংশ গ্রহণ করে থাকলে কোন পুলিশ অফিসারকে বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনার অনুমতি প্রদান করা হবে না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 495- Permission to conduct prosecution:
(1) Any Magistrate inquiring into or trying any case may permit the prosecution to be conducted by any person other than an officer of police below the rank to be prescribed by the Government in this behalf but no person, other than the Attorney-General, Government Solicitor, Public Prosecutor or other officer generally or specially empowered by the Government in this behalf, shall be entitled to do so without such permission.
(2) Any such officer shall have the like power of withdrawing the prosecution as is provided by section 494, and the provisions of that section shall apply to any withdrawal by such officer.
(3) Any person conducting the prosecution may do so personally or by a pleader.
(4) An officer of police shall not be permitted to conduct the prosecution if he has taken any part in the investigation into the offence with respect to which the accused is being prosecuted.

৫,৭১৩.
“কোনো একজন আইনজীবী পরস্পরবিরোধী স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করবেন না।”- এটি কার এর প্রতি একজন আইনজীবীর আচরণ সম্পর্কিত নীতি?
  1. মক্কেল
  2. সাধারণ জনগণ
  3. আদালত
  4. অন্যান্য আইনজীবী
ব্যাখ্যা

CANONS OF PROFESSIONAL CONDUCT AND ETIQUETTEE- অধ্যায়- ২ [মক্কেলগণের প্রতি আচরণ]:

১. কোনো একজন আইনজীবী তাঁর মক্কেলের সম্পত্তি বা মামলায় জড়িত সম্পত্তি বা স্বার্থের প্রতি আসক্ত হইবেন না।

২. কোনো একজন আইনজীবী তাঁর মক্কেল বা পূর্ববর্তী মক্কেলের কোনো বিষয়ে নিযুক্তি হেতু বা অন্য কোনো কারণে, গোপনীয় তথ্য জেনে থাকলে তিনি তদ্বিষয়ে আইনগত সহায়তা দানের জন্য তাঁর মক্কেল বা পূর্ববর্তী মক্কেলের বিরুদ্ধে নিয়োগ লাভ করবেন না। অবশ্য যেক্ষেত্রে কোনো একজন আইনজীবী যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যক্তি কতৃর্ক নিযুক্তি হননি এবং এরূপ নিযুক্তি লাভের জন্য সেবাগত ফি নিননি সেক্ষেত্রে তিনি এরূপ ব্যক্তির স্বাার্থের প্রতিকূলে নিযুক্তির লাভে বারিত নন।

৩. যেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধ পক্ষের সাথে বা বিরোধীয় বিষয়বস্তুতে কোনো একজন আইনজীবীর সম্পর্ক থাকে, সেক্ষেত্রে তা প্রথমে ব্যক্ত না করে তিনি উক্ত ব্যক্তির পক্ষে পেশাগত নিযুক্তি গ্রহণ করবেন না।

৪. কোনো একজন আইনজীবী পরস্পরবিরোধী স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করবেন না।

৫. কোনো একজন আইনজীবী স্ব—নামে বা বেনামে কোনো সম্পত্তি ইচ্ছাপত্র কতৃর্ক, বন্ধক উদ্ধার কতৃর্ক বা আদালত—এর নিলাম কিনবেন না। তিনি কোনো একটি পক্ষের যে সম্পত্তির জন্য আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলা পরিচালনা করিয়াছেন সে কাজের পারিশ্রমিক, পুরস্কার বা দান হিসেবে উক্ত সম্পত্তি পুরোপুরি বা অংশবিশেষ গ্রহণ করবেন না।

৬. কোনো একজন আইনজীবী তাঁর নিজের সম্পত্তির সাথে মক্কেলের সম্পত্তি একত্রিত করে ফেলবেন না এবং যদি তিনি মক্কেলের অর্থ বা সম্পদ পেয়ে থাকেন বা রিসিভ করে থাকেন, তাহলে তা অতি তাড়াতাড়ি উক্ত মক্কেলকে জানিয়ে দিবেন।

৭. কোনো একজন আইনজীবী যে পর্যন্ত না একজন পরামর্শক নিযুক্তি না হবেন সে পর্যন্ত কোনো মামলার বাদী বা আসামি পক্ষে মামলা সম্পর্কে উপদেশ দেওয়া আরম্ভ করবেন না। অবশ্য যেক্ষেত্রে কোনো পক্ষের সাথে বা বিষয়বস্তুর সাথে তার সম্পর্ক এরূপ হয় যে তার পদক্ষেপ নেওয়া উচিত সেক্ষেত্রে তিনি তা করতে পারেন।

৮. কোনো একজন আইনজীবী তাঁর পেশাগত ক্ষমতায় কোনো আইন লংঘনের জন্য পরামর্শ দিবেন না। আইন বলবৎ নিন মর্মে সরল বিশ্বাসে পরামর্শ প্রদান করলে অত্র বিধি প্রযোজ্য হবে না।

৯. একজন আসামির অপরাধ সম্পর্কিত বিষয়ে কোনো আইনজীবীর ব্যক্তিগতভাবে জানা হতে সৃষ্ট মতামত বা বিশ্বাস যা—ই হোক না কেন তিনি উক্ত আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনে মামলা চালানোর অধিকার রাখেন। অন্যদিকে, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যিনি কেবলমাত্র পরিস্থিতির শিকার তার পক্ষে আইনজীবী রূপে মামলা চালানোর জন্য অস্বীকৃতি জ্ঞাপনও করতে পারেন। যদি আসামি পক্ষে মামলা চালানোর এরূপ দায়িত্ব গ্রহণ করে তাহলে কোনো একজন আইনজীবী ন্যায়ানুগ ও সম্মানজনকভাবে দেশের আইন কতৃর্ক অনুমোদিত সকল উপায়ে তার আত্মপক্ষ সমর্থন করতে বাধ্য এজন্য যে, কোনো ব্যক্তিকেই আইনের সঠিক প্রক্রিয়া ব্যতিরেকে তার জীবন বা স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

১০. ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইনজীবীগণ এরূপ কোনো প্রকার দাবি করবেন না যেন তাদের পরামর্শ ও সেবার চেয়ে অতিরিক্ত হয় অথবা তার অবমূল্যায়ন হয়।

১১. আইনজীবী তার মক্কেলের সাথে ফি বা পারিশ্রমিক সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো বিরোধ সেই পর্যন্ত পরিহার করে চলবেন যে পর্যন্ত তিনি তার বিবেচনায় তার সেবার জন্য যৌক্তিকভাবে পাওয়ার অধিকার রাখেন। মক্কেলের কোনো প্রকার আইন সম্পর্কিত বিষয়ে মামলার কেবলমাত্র অন্যায়, অপচাপ বা প্রবঞ্চনা প্রতিহতের চেষ্টা করতে হবে।

১২. কোনো একজন আইনজীবী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লোকগ্রাহ্য এরূপ কোনো হানিকর কোনো ঘটনাই কার্যকরভাবে উদ্ভূত বা পালিত হতে পারে না এবং প্রত্যাখ্যাত হইতে পারে না কেননা উক্ত পেশা জনসাধারণের উচ্চ ধারণা ও বিশ্বাস থেকে যা সঠিক দায়িত্ব পালন দ্বারা অর্জন করা হয়েছে।

১৩. যখন কোনো একজন আইনজীবী, আনুষ্ঠানিক বিষয় যেমন কোনো দলিলের প্রত্যয়ন বা জিম্মাদারী বা রীতিসিদ্ধ বিষয়ের সাক্ষী ব্যতিরেকে তার মক্কেলের পক্ষে সাক্ষী হন, তখন সে মামলার বিচার পরিচালনার দায়িত্ব অন্য আইনজীবীর উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। ন্যায়বিচারের জন্য অপরিহার্যতা দায়িত্ব অন্য আইনজীবীর উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। ন্যায়বিচারের জন্য অপরিহার্যতা ব্যতিরেকে কোনো আইনজীবী তার মক্কেলের জন্য সাক্ষ্য প্রদান থেকে বিরত থাকবেন।

১৪. সচরাচর কোনো বিষয়ে যা বিচার ক্ষেত্রে মামলার গুণাগুণকে বারিত করে না, নতুবা মক্কেলের অধিকারের উল্লে­খযোগ্য ক্ষতিকারক রূপে নহে যথা, প্রতিপক্ষের আইনজীবীকে মামলা চালানোর তাগিদ দেওয়া যেক্ষেত্রে তিনি কোনো বিষয়ে শোকার্ত বা অসুস্থ থাকেন; প্রতিপক্ষের আইনজীবীর ক্ষতিকারক কোনো এক বিশেষ তারিখে মামলা চালানোর তাগিদ দেওয়া যেক্ষেত্রে অন্য তারিখে মামলা চালালে, কোনো ক্ষতির কারণ ছিলো না, বর্ধিত কোনো সময়ে লিখিত বর্ণনা পেশে রাজীনামা প্রদান করা, যুক্তিতর্ক পেশ ইত্যাদির ক্ষেত্রে আইনজীবীকে তার স্ব—বিবেক অনুযায়ী বুদ্ধি খাটানোর সুযোগ প্রদান করতে হবে। উক্ত রকমের বিষয়ে মক্কেলের এরূপ দাবি করার সুযোগ থাকবে না যে, তার আইনজীবী হবেন কিংবা তিনি তার সুবিচার ও আদর্শের প্রতিকুলে কাজ করবেন।

৫,৭১৪.
'A' একটি সরু রাস্তার মুখে দাঁড়িয়ে 'Z'-কে বাধা দেয়, যার ফলে 'Z' ওই পথে বাজারে যেতে পারে না। 'Z' যেদিক দিয়ে এসেছে, সেদিকে ফিরে যেতে পারে। দণ্ডবিধি অনুসারে 'A'-এর অপরাধ কী?
  1. Assault
  2. Criminal force 
  3. Wrongful restraint
  4. Wrongful confinement
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৩৯ অনুযায়ী "অবৈধ বাধাদান" (Wrongful Restraint) এর অপরাধ প্রমাণের জন্য ইচ্ছাকৃত বাধা প্রদান (voluntarily obstructs) অপরিহার্য। অপরাধটির মূল উপাদানগুলি হলো:
১. ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ব্যক্তিকে বাধা দেওয়া।
২. বাধাটি এমন হতে হবে যাতে ব্যক্তিটি যে দিকে যাওয়ার আইনগত অধিকার রাখে, সে দিকে অগ্রসর হতে না পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৩৯ ধারা- অবৈধ বাধা (Wrongful restraint): যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে ইচ্ছাপূর্বক এমনভাবে বাধাদান করে যার ফলে উক্ত ব্যক্তির যেদিকে যাবার অধিকার রয়েছে, এমন কোন দিকে উক্ত ব্যক্তির যাবার পথ রুদ্ধ হয়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাধাদান করেছে বলে পরিগণিত হয়।
- ব্যতিক্রম: যদি কোন লোক স্থলে বা জলে কোন বেসরকারি পথে বাধা দেওয়ার আইনসম্মত অধিকার তার রয়েছে বলে সরল মনে বিশ্বাসবশতঃ উক্ত পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, তবে তার কাজ এই ধারার অর্থের আওতায় অপরাধ হবে না।

- উদাহরণ: যে পথ অতিক্রম করার অধিকার চ-এর রয়েছে, সে পথে ক বিঘ্ন সৃষ্টি করে। ক সরল মনে বিশ্বাস করে না যে, পথটি রোধ করার অধিকার তার রয়েছে। ক-এর পথ রোধের ফলে চ পথ অতিক্রম করতে অসমর্থ হয়। ক অবৈধভাবে চ-কে বাধাদান করেছে।

⇒ The Penal Code, 1860-Section 339- Wrongful restraint:
Whoever voluntarily obstructs any person so as to prevent that person from proceeding in any direction in which that person has a right to proceed, is said wrongfully to restrain that person.
- Exception: The obstruction of a private way over land or water which a person in good faith believes himself to have a lawful right to obstruct, is not an offence within the meaning of this section.
Illustration: 
- A obstructs a path along which Z has a right to pass, A not believing in good faith that he has a right to stop the path. Z is thereby prevented from passing. A wrongfully restrains Z.

৫,৭১৫.
যদি কোনো আসামি একই বিচারে একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে পর্যায়ক্রমিক সাজার (consecutive sentences) ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের মেয়াদ কত?
  1. ১০ বছর
  2. ১২ বছর
  3. ১৪ বছর
  4. ২০ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৩৫(২)(ক) অনুসারে, একই বিচারে একাধিক অপরাধের জন্য প্রদত্ত পর্যায়ক্রমিক (consecutive) কারাদণ্ডের মোট মেয়াদ কোনো অবস্থাতেই ১৪ বছরের বেশি হবে না। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো গ) ১৪ বছর।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ ধারার বিধান একই বিচারে কতিপয় অপরাধে দোষী সাব্যস্তের ক্ষেত্রে দণ্ডের সর্বোচ্চ মেয়াদ:
(১) যখন কোন ব্যক্তি একই বিচারে দুই বা ততোধিক অপরাধের জন্য দণ্ডিত হলে দণ্ডবিধির ৭১ ধারার ব্যবস্থা সাপেক্ষে আদালত উক্ত বিভিন্ন অপরাধের জন্য নির্ধারিত ও আদালতের ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত শাস্তি প্রদান করতে পারেন; এরূপ শান্তি কারাদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলে আদালত যদি একই সাথে চলবে মর্মে নির্দেশ প্রদান না করেন, তাহলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী একটির পর অপরটি চলবে।
(২) আদালত একটিমাত্র অপরাধের জন্য যে শাস্তি দিতে পারেন, তারচেয়ে একাধিক দণ্ড পরপর চলবার ক্ষেত্রে মোট শাস্তির পরিমাণ যদি অধিক হয়, তখন কেবল ইহার জন্য উক্ত আদালতকে বিচারের জন্য অপরাধীকে উচ্চতর আদালতে পাঠাতে হবে না:
তবে শর্ত থাকে যে,
(ক) দণ্ডের সর্বোচ্চ মেয়াদ: কোনোভাবেই এরূপ ব্যক্তিকে চৌদ্দ বৎসরের অধিক কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে না।
(খ) কোন ম্যাজিস্ট্রেট যদি এরকমের মামলার বিচার করেন, তাহলে মোট শাস্তির পরিমাণ উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট তার সাধারণ এখতিয়ারে যে শাস্তি প্রদান করতে পারেন তার দ্বিগুণের বেশি হবে না।
(৩) আপিলের উদ্দেশ্যে এই ধারার বিধান অনুসারে একই বিচারে বিভিন্ন অপরাধের জন্য প্রদত্ত পর পর চলার একাধিক দণ্ডের মোট পরিমাণকে একটিমাত্র দণ্ড মর্মে ধারে নিতে হবে।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section-35. Sentence in cases of conviction of several offences at one trial Maximum term of punishment:
(1) When a person is convicted at one trial of two or more offences, the Court may, subject to the provisions of section 71 of the Penal Code sentence him, for such offences, to the several punishments prescribed therefor which such Court is competent to inflict; such punishments, when consisting of imprisonment or transportation to commence the one after the expiration of the other in such order as the Court may direct, unless the Court directs that such punishments shall run concurrently.

(2) In the case of consecutive sentences, it shall not be necessary for the Court, by reason only of the aggregate punishment for the several offences being in excess of the punishment which it is competent to inflict on conviction of a single offence, to send the offender for trial before a higher Court:
Provided as follows:-
(a) in no case shall such person be sentenced to imprisonment for a longer period than fourteen years;
(b) if the case is tried by a Magistrate , the aggregate punishment shall not exceed twice the amount of punishment which he is, in the exercise of his ordinary jurisdiction, competent to inflict.
(3) For the purpose of appeal, the aggregate of consecutive sentences passed under this section in case of convictions for several offences at one trial shall be deemed to be a single sentence.

৫,৭১৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারার বিধান অনুযায়ী সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিগণ পদাধিকার বলে সমগ্র বাংলাদেশের 'জাস্টিসেস অব দি পিস' বলে গণ্য হবেন?
  1. ২২
  2. ২৫
  3. ২৭
  4. ৩১
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ থেকে ২৫ ধারায় জাস্টিসেস অব দি পিসের বিধান রয়েছে যা নিম্নরূপ-
-ধারা-২২: মফস্বলের জন্য জাস্টিস অব দি পিস (Justice of the peace for the mafassal)- সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের দ্বারা বাংলাদেশের যে কোন উপযুক্ত নাগরিককে কোন স্থানীয় এলাকার জন্য জাস্টিস অব দি পিস হিসাবে নিয়োগ দিতে পারে।

- ধারা-২৫: পদাধিকার বলে জাস্টিস অব দি পিস (Ex-officio Justices of the Peace)- ২৫ ধারার বিধান অনুযায়ী সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিগণ পদাধিকার বলে সমগ্র বাংলাদেশের জাস্টিসেস অব দি পিস বলে গণ্য হবেন এবং দায়রা জজ, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ পদাধিকার বলে নিজ নিজ এলাকার জন্য জাস্টিসেস অব দি পিস হবেন। 
- সুপ্রিম কোর্টের বিচারকগণ সারা বাংলাদেশের যে কোন স্থানে বিচার গ্রহণ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আদেশ দিতে পারেন।
--------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 22. Justice of the peace for the mafassal:
The Government] may, by notification in the official Gazette, appoint such persons resident within Bangladesh and not being the subjects of any foreign State as it thinks fit to be Justices of the Peace within and for the local area mentioned in such notification.

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-25: Ex-officio Justices of the Peace:
In virtue of their respective offices, the Judges of the Supreme Court  are Justices of the Peace within and for of the whole of Bangladesh, Sessions Judges, Chief Judicial Magistrate and Metropolitan Magistrates are Justices of the Peace within their respective jurisdictions.
৫,৭১৭.
অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন (Criminal Intimidation) এর সংজ্ঞা উল্লেখ আছে কত ধারায়?
  1. ৪৯৮ ধারা
  2. ৪৯৬ ধারা
  3. ৫০১ ধারা
  4. ৫০৩ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৫০৩ ধারার বিধান অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করা:- কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তিকে তার দেহের, খ্যাতির বা সম্পত্তির অথবা সে ব্যক্তি যার সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এমন কোন লোকের দেহের বা খ্যাতির ক্ষতি বা হানি করার ভীতি প্রদর্শন করে এবং সে ব্যক্তির ভয় সরকারের উদ্দেশ্যে অথবা সে ব্যক্তিকে হুমকি হতে বাঁচার জন্য সে আইনতঃ যা করতে বাধ্য নয়, তাকে তা করতে বাধ্য করায়, অথবা সে আইনত যা করার ক্ষমতা সম্পন্ন, তাকে তা করা হতে বিরত থাকতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ ভীতি প্রদর্শন করে, তবে সে ব্যক্তি অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করেছে।

ব্যাখ্যা:- ভীতি প্রদর্শিত ব্যক্তির স্বার্থ নিহিত আছে এমন কোন মৃত ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করার ভীতি প্রদর্শন এই ধারার আওতাধীন হবে।  

⇒ উদাহরণঃ
ক খ-কে একটি দেওয়ানী মামলা পরিচালনা করা হতে বিরত করার জন্য খ-এর বাড়ি পুড়ে ফেলার ভীতি প্রদর্শন করে, ক অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের দায়ে অপরাধী হবে।
------------
⇒ Section 503. Criminal Intimidation:- Whoever threatens another with any injury to his person, reputation or property, or to the person or reputation of any one in whom that person is interested, with intent to cause alarm to that person, or to cause that person to do any act which he is not legally bound to do, or to omit to do any act which that person is legally entitled to do, as the means of avoiding the execution of such threat, commits criminal intimidation.
Explanation:- A threat to injure the reputation of any deceased person in whom the person threatened is interested, is within this sect on.

⇒ Illustration:
A, for the purpose of inducing B to desist from prosecuting a civil suit, threatens to burn B's house. A is guilty of criminal intimidation.
৫,৭১৮.
হাইকোর্ট কর্তৃক আদি এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত রায়ের পুনরীক্ষণের [Review] জন্য দরখাস্ত দাখিলের মেয়াদ কত দিন?
  1. ৩০ দিন
  2. ২০ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ১৫ দিন
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১৬২

হাইকোর্ট কর্তৃক আদি এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত রায়ের পুনরীক্ষণের [Review] জন্য দরখাস্ত
তামাদি- ২০ দিন
সময় গণনা শুরু- ডিক্রি বা আদেশের তারিখ।
৫,৭১৯.
"আঘাত" (Hurt)-এর সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কোন ধারায় দেওয়া আছে?
  1. ধারা ৩১৯
  2. ধারা ৩২০
  3. ধারা ৩২১
  4. ধারা ৩২২
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ধারা ৩১৯ অনুযায়ী, “Hurt” বা আঘাত বলতে বোঝায় যে কেউ অন্য ব্যক্তির দৈহিক যন্ত্রণা (bodily pain), ব্যাধি (disease) বা অপরাগতা (infirmity) সৃষ্টি করে।
- এটি Hurt-এর মূল ও প্রাথমিক সংজ্ঞা, যা পরবর্তী ধারা ৩২০ (Grievous Hurt) এবং ৩২১ (Voluntarily Causing Hurt)–এর জন্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
⇒ এখানে তিনটি মূল উপাদানকে “আঘাত” হিসেবে গণ্য করা হয়:
- দৈহিক যন্ত্রণা (bodily pain)
- ব্যাধি (disease)
- অপারগতা (infirmity)
অতএব, ধারা ৩১৯-ই ‘Hurt’ বা ‘আঘাত’-এর মূল সংজ্ঞা প্রদান করে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩১৯ ধারার বিধান: আঘাত:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির দৈহিক যন্ত্রণা, ব্যাধি বা অপরাগতা ঘটায়, তবে উক্ত ব্যক্তি আঘাত করেছে বলে পরিগণিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860, Section 319. Hurt:- Whoever causes bodily pain, disease or infirmity to any person is said to cause hurt.

৫,৭২০.
শিশু আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী কোন ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত শিশুকে পুলিশ জামিন দিতে পারে?
  1. জামিনযোগ্য
  2. জামিনঅযোগ্য
  3. ক বা খ উভয় ক্ষেত্রে
  4. কোনো ক্ষেত্রেই পারবে না
ব্যাখ্যা
ধারা ৫২- জামিন, ইত্যাদি:
(১) ফৌজদারি কার্যবিধিসহ বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইন বা এই আইনের অন্য কোন বিধানে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শিশুকে গ্রেফতার করিবার পর এই আইনের অধীন মুক্তি প্রদান বা বিকল্প পন্থায় প্রেরণ করা অথবা তাৎক্ষণিকভাবে আদালতে হাজির করা সম্ভবপর না হইলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা শিশুটিকে, ক্ষেত্রমত, তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বা প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে শর্ত ও জামানত সাপেক্ষে, অথবা, শর্ত ও জামানত ব্যতীত জামিনে মুক্তি প্রদান করিতে পারিবেন। 
 
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন শিশুকে জামিনে মুক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধ জামিনযোগ্য বা জামিন অযোগ্য কি না তাহা শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বিবেচনায় লইবেন না। 
 
(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অপরাধের প্রকৃতি গুরুতর বা ঘৃণ্য প্রকৃতির হইলে বা জামিন প্রদান করা হইলে উহা শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থের পরিপন্থী হইলে বা জামিন প্রদান করা হইলে সংশ্লিষ্ট শিশু কোন কুখ্যাত অপরাধীর সাহচর্য লাভ করিতে পারে বা নৈতিক বিপদের সম্মুখীন হইতে পারে বা জামিন প্রদান করা হইলে ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হইবার আশঙ্কা থাকিলে শিশু বিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট শিশুকে জামিন বা মুক্তি প্রদান করিবেন না। 
 
(৪) গ্রেফতারকৃত শিশুকে উপ-ধারা (৩) এর অধীন জামিনে মুক্তি প্রদান করা না হইলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা, গ্রেফতারের পর আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ সময় ব্যতীত, ২৪ (চবিবশ) ঘন্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিশুকে নিকটস্থ শিশু-আদালতে হাজির করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন। 
 
(৫) থানা হইতে জামিনপ্রাপ্ত হয় নাই এমন কোন শিশুকে শিশু-আদালতে উপস্থাপন করা হইলে শিশু-আদালত তাহাকে জামিন প্রদান করিবে বা নিরাপদ স্থানে বা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখিবার আদেশ প্রদান করিবে।
৫,৭২১.
দস্যুতার সদস্য যদি পাঁচ বা ততোধিক হয় তখন দস্যুতা __________ বলে পরিণত হয়।
  1. দাঙ্গা
  2. ডাকাতি
  3. দলীয় দস্যুতা
  4. বেআইনী সমাবেশ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারা মতে যখন ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলিত হয়ে একইসাথে কোন দস্যুতা সংঘটন করে, তখন সেই দস্যুতা ডাকাতি বলে গণ্য হবে।
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারা অনুযায়ী চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তা দস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে।

⇒ দস্যুতার সর্বনিম্ন সদস্য ১ জন এবং সর্বোচ্চ সদস্য ৪ জন। অন্যদিকে ডাকাতির সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন। দস্যুতার সদস্য যদি ৫ বা ততোধিক হয় তখন দস্যুতা ডাকাতিতে পরিণত হয়।
⇒ দণ্ডবিধির ১৪১ ধারায় বেআইনী সমাবেশের বিধান রয়েছে। পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি জনসাধারণের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কোন সমাবেশ করলে তাকে বেআইনী সমাবেশ বা Unlawful Assembly বলে।
⇒ দণ্ডবিধির ১৪৬ ধারায় বলা হয়েছে বেআইনি সমাবেশ কর্তৃক বা এর কোনো সদস্য কর্তৃক বলপ্রয়োগ করা  হলে বা সহিংসতা (force or violence) করা হলে তখন সমাবেশের সকল সদস্য দাঙ্গা করেছে মর্মে বলা হবে। অর্থাৎ দাঙ্গার সদস্যও পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি হবে।
৫,৭২২.
শিশু আইনের অধীন শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে রাখার মেয়াদ হবে-
  1. ৭ দিনের জন্য
  2. ৩০ দিনের জন্য
  3. ১৫ দিনের জন্য
  4. যথাসম্ভব স্বল্পতম সময়ের জন্য
ব্যাখ্যা
ধারা ২৬: শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা-

১. শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে রাখার বিষয়টি সর্বশেষ পন্থা হিসাবে বিবেচনা করতে হবে, যার মেয়াদ হবে যথাসম্ভব স্বল্পতম সময়ের জন্য।

২. সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরাপদ হেফাজতে রক্ষিত শিশুকে বিকল্পপন্থায় পরিচালনার জন্য প্রেরণ করতে হবে।

৩. শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা একান্ত প্রয়োজন হলে শিশু-আদালত, সংশ্লিষ্ট শিশুকে উক্ত আদালত হতে যুক্তিসঙ্গত দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করার জন্য আদেশ প্রদান করবে: তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার অধীন কোন শিশুকে প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করা হলে উক্ত প্রতিষ্ঠানে অবস্থানকারী অধিক বয়স্ক শিশুদের হতে প্রেরিত শিশুকে পৃথক করে রাখতে হবে।
৫,৭২৩.
অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. দেহ
  2. খ্যাতি
  3. সম্পত্তি
  4. ক বা খ বা গ
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৫০৩ ধারা: অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করা-
কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তিকে তার দেহের, খ্যাতির বা সম্পত্তির অথবা সে ব্যক্তি যার সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এমন কোন লোকের দেহের বা খ্যাতির ক্ষতি বা হানি করার ভীতি প্রদর্শন করে এবং সে ব্যক্তির ভয় সরকারের উদ্দেশ্যে অথবা সে ব্যক্তিকে হুমকি হতে বাঁচার জন্য সে আইনতঃ যা করতে বাধ্য নয়, তাকে তা করতে বাধ্য করায়, অথবা সে আইনত যা করার ক্ষমতা সম্পন্ন, তাকে তা করা হতে বিরত থাকতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ ভীতি প্রদর্শন করে, তবে সে ব্যক্তি অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করেছে।

ব্যাখ্যা: ভীতি প্রদর্শিত ব্যক্তির স্বার্থ নিহিত আছে এমন কোন মৃত ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করার ভীতি প্রদর্শন এই ধারার আওতাধীন হবে।

উদাহরণঃ
ক খ-কে একটি দেওয়ানী মামলা পরিচালনা করা হতে বিরত করার জন্য খ-এর বাড়ি পুড়ে ফেলার ভীতি প্রদর্শন করে, ক অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের দায়ে অপরাধী হবে।
৫,৭২৪.
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহের সর্বাধিনায়কতা কোন ব্যক্তির উপর ন্যস্ত?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রতিরক্ষা মন্ত্রী
  4. সেনাবাহিনী প্রধান
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬১ অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহের সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত হয়েছে। এর অর্থ হলো, রাষ্ট্রপতি হলেন বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী (সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী) এর সর্বোচ্চ কমান্ডার। তবে বাস্তবে প্রতিরক্ষা বিষয়ক কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী সর্বাধিনায়কতার দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির উপর অর্পিত।

অর্থাৎ সংবিধানের এই বিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাংবিধানিক প্রধান হলেও প্রতিদিনের কার্যক্রম এবং নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার পরামর্শ গ্রহণ করেন। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কার্যাবলীর বাস্তবায়ন মূলত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সামরিক বাহিনীর প্রধানরা করেন।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ- ৬১ সর্বাধিনায়কতা:
- বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহের সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত হইবে এবং আইনের দ্বারা তাহার প্রয়োগ নিয়ন্ত্রিত হইবে।
৫,৭২৫.
A দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারা অনুযায়ী স্বেচ্ছামূলক গুরুতর জখমের করার দায়ে অপরাধী। মামলাটি যে ৩৩৫ ধারায় উল্লেখিত পরিস্থিতির অধীনে পড়ে , তা প্রমাণ করার দায়িত্ব _____।
  1. A এর উপর বর্তায়
  2. আদালতের উপর বর্তায়
  3. সরকারের উপর বর্তায়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦উত্তেজনা দিয়ে স্বেচ্ছামূলকভাবে মারাত্মক জখম করা ৩৩৫ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ৩৩৫ ধারার বিধান ৩২৫ এর অধীন স্বেচ্ছামূলক গুরুতর জখমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। এটা প্রযোজ্য হবে না তা প্রমাণের ভার A এর উপর বর্তায়।
৫,৭২৬.
নিম্নলিখিত কোন শর্ত পূরণ হলে আদালত একটি দলিল বাতিলের আদেশ দিতে পারেন?
  1. বাদী উক্ত দলিলের পক্ষ হলে
  2. যদি দলিলটি বাদীর জন্য ক্ষতিকর হয়
  3. দলিল যদি রেজিস্ট্রেশন আইন অনুসারে রেজিস্ট্রিকৃত হয়
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারার অধীনে যে কোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত দলিল বাতিল বা বাতিলযোগ্য হলে এবং তা গুরুতর ক্ষতির কারণ হলে, উক্ত দলিল বাতিলের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারে।
সুতরাং দলিল বাতিলের মামলায় বাদীকে উক্ত দলিলের পক্ষ হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই এবং দলিল রেজিস্ট্রেশন আইন অনুসারে রেজিস্ট্রিকৃত হওয়ারও প্রয়োজন নেই।
অর্থাৎ যদি দলিলটি বাদীর বা যে কোন ব্যক্তি জন্য ক্ষতিকর হয় তা হলে তিনি উক্ত দলিল বাতিলের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারে।
---------------
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারার বিধান: যখন বাতিলের আদেশ প্রদানযোগ্য:
যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল নিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দিলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসাবে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
যদি দলিল নিবন্ধন আইন অনুসারে নিবন্ধিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সে কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করবেন, যার কার্যালয়ে উক্ত দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে এবং তেমন কর্মকর্তা তার বইতে দলিলের নকলে তার বিলুপ্তির বিষয়াবলী লিপিবদ্ধ করবেন।
 
(ক) একটি জাহাজের মালিক প্রতারণামূলকভাবে জাহাজটিকে সমুদ্র যাত্রার উপযুক্তমর্মে উল্লেখপূর্বক একজন দায়গ্রাহক 'খ' কে উক্ত জাহাজের বীমা করতে প্রবৃত্ত করে। 'খ' বীমা পলিসির বিলুপ্তি পেতে পারে।
(খ) 'ক', 'খ' কে জমি প্রদান করে। 'খ' তা 'গ'-এর নামে উইল করে মারা যায়। এর পর 'ঘ' জমির দখল গ্রহণ করে এবং এ মর্মে একটি জাল দলিল দাখিল করে যে, তার পক্ষে জিম্মাদার হিসাবেই 'খ' কে হস্তান্তর প্রদান করা হয়েছিল। 'গ' এই জাল দলিলের বিলুপ্তি পেতে পারে।

(গ) 'ক' তার জমির, সকল প্রজা উচ্ছেদযোগ্য, এ বিবরণ প্রদান পূর্বক 'খ' এর নিকট জমি বিক্রয় করে। ১৮৭৭ সালের ১লা জানুয়ারী তারিখে একটি দলিলের মাধ্যমে 'খ' এর নিকট তা হস্তান্তর করে। এই তারিখের পরপরই ১৮৭৬ সালের পহেলা অক্টোবরের তারিখ দিয়ে 'ক' প্রতারণামূলকভাবে 'গ' কে উক্ত জমির অংশবিশেষ ইজারা প্রদান করে এবং নিবন্ধন আইন অনুসারে ইজারা নিবন্ধন করা হয়। 'খ' এ ইজারার বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
 
(ঘ) 'ক' একটি জাহাজ 'খ' এর নিকট অর্পণে সম্মত হল। যার জন্য 'খ' কে ৪টি হুণ্ডির মারফত ৩০,০০০ টাকা প্রদান করতে হবে, যা 'ক' গ্রহণ করবে। হুণ্ডিসমূহ প্রণয়ন ও গ্রহণ করা হল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী জাহাজ প্রদান করা হল না। 'ক', 'খ' এর বিরুদ্ধে একটি হণ্ডি প্রসঙ্গে মামলা দায়ের করল। 'খ' সকল হুণ্ডির বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
----------------------
SR Act- Section-39. When cancellation may be ordered:
Any person against whom a written instrument is void or voidable, who has reasonable apprehension that such instrument, if left outstanding, may cause him serious injury, may sue to have it adjudged void or viodable; and the Court may, in its discretion, so adjudge it and order it to be delivered up and cancelled.
If the instrument has been registered under the Registration Act, 1908, the Court shall also send a copy of its decree to the officer in whose office the instrument has been so registered; and such officer shall note on the copy of the instrument contained in his books the fact of its cancellation.
 
Illustrations
(a) A, the owner of a ship by fraudulently representing her to be seaworthy, induces B, an underwriter, to insure her. B may obtain the cancellation of the policy.
(b) A conveys land to B, who bequeaths it to C and dies. Thereupon D gets possession of the land and produces a forged instrument stating that the conveyance was made to B in trust for him. C may obtain the cancellation of the forged instrument.
 
(c) A, representing that the tenants on his land were all at will, sells it to B, and conveys it to him by an instrument, dated the 1st January, 1877. Soon after that day, A fraudulently grants to C a lease of part of the lands, dated the 1st October, 1876, and procures the lease to be registered under the Indian Registration Act. B may obtain the cancellation of this lease.
 
(d) A agrees to sell and deliver a ship to B, to be paid for by B's acceptances of four bills of exchange, for sums amounting to taka 30,000, to be drawn by A on B. The bills are drawn and accepted, but the ship is not delivered according to the agreement. A sues B on one of the bills. B may obtain the cancellation of all the bills.
৫,৭২৭.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ অনুযায়ী Mesne Profits কী?
  1. ইজারা থেকে প্রাপ্ত মুনাফা
  2. সম্পত্তির উন্নয়নজনিত মুনাফা
  3. সরকারি রাজস্ব থেকে প্রাপ্ত মুনাফা
  4. অবৈধ অধিকারে আয়কৃত মুনাফা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২(১২) অনুসারে, "মধ্যবর্তী মুনাফা" (Mesne Profits) বলতে এমন সম্পত্তির লাভকে বোঝায় যা অবৈধভাবে (wrongful possession) দখলে থাকা ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে প্রাপ্ত করেছে বা সাধারণ পরিশ্রম (ordinary diligence) করে প্রাপ্ত করতে পারত, সেইসাথে এই লাভের উপর সুদ সহ। তবে, এতে অবৈধ দখলকারীর দ্বারা করা উন্নয়নজনিত (improvements) লাভ অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি সাধারণত অবৈধ দখলকারীকে সম্পত্তির মালিকের কাছে লাভ ফেরত দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ২(১২) ধারা অনুসারে, বেআইনিভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনিভাবে দখলদার ব্যক্তি সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো, সুদসহ উক্ত মুনাফা কে মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে।
ব্যতিক্রম: বেআইনিভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে গণ্য হবে না ।
---------- 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 Section 2(12)- "mesne profits" of property means those profits which the person in wrongful possession of such property actually received or might with ordinary diligence have received therefrom, together with interest on such profits but shall not include profits due to improvements made by the person in wrongful possession. 

৫,৭২৮.
"Trial de-novo" বলতে কী বোঝায়?
  1. তদন্ত শুরু করা
  2. সাক্ষ্যগ্রহণ বন্ধ রাখা
  3. নতুন করে বিচার শুরু করা
  4. আপিল আবেদন দায়ের করা
ব্যাখ্যা
"Trial de-novo" বলতে বোঝায় "নতুন করে বিচার শুরু করা"।

⇒ "De-novo" শব্দটি ল্যাটিন ভাষার, যার অর্থ হলো "from the beginning" বা "আবার নতুন করে"। সুতরাং, "Trial de-novo" মানে হলো, পূর্বে যে বিচার কার্যক্রম বা সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ করা হয়েছিল তা উপেক্ষা করে একেবারে শুরু থেকে আবার নতুন করে পুরো বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা।

উদাহরণ:
যদি কোনো আদালতে বিচার চলাকালীন বিচারক বদলানো হয়, তবে নতুন বিচারক চাইলে মামলাটি "trial de-novo" হিসাবে শুরু করতে পারেন — অর্থাৎ আগের রেকর্ড বাদ দিয়ে আবার নতুনভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ ও বিচার শুরু করতে পারেন।

The Special Powers Act, 1974 এর ধারা ৩১: নতুনভাবে পুনঃবিচারের উপর নিষেধাজ্ঞা (Bar on trial de-novo):
বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, যদি ভিন্নভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে- এমন কোনো সাক্ষীকে পুনরায় হাজির করানো বা পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে না, যার সাক্ষ্য ইতোমধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে; বা পূর্বে গৃহীত কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে বাধ্য থাকবে না; বরং,
ট্রাইব্যুনাল পূর্বে গৃহীত বা রেকর্ডকৃত সাক্ষ্য ও প্রমাণের উপর ভিত্তি করে বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে এবং মামলা যেই পর্যায়ে রয়েছে, সেই পর্যায় থেকেই বিচার চালিয়ে যেতে পারবে।
৫,৭২৯.
‘মানহানি’ বিষয়টি দণ্ডবিধির কোন অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত?
  1. বিংশ অধ্যায়
  2. একবিংশ অধ্যায়
  3. ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
  4. ষোড়শ অধ্যায়
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুসারে, ‘মানহানি (Defamation)’ সংক্রান্ত বিধানসমূহ একবিংশ অধ্যায় (Chapter XXI)-এ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- এই অধ্যায়ের শিরোনাম: "Of Defamation"
- এটি শুরু হয় ধারা ৪৯৯ (Section 499) থেকে এবং শেষ হয় ধারা ৫০২(Section 502)-এ।

⇒ মানহানির সংজ্ঞা (Section 499): "যদি কোন ব্যক্তি কথায়, লেখা বা ইঙ্গিতে অন্য কোনো ব্যক্তির সুনামহানি ঘটায় বা এমন কিছু প্রকাশ করে যার ফলে সেই ব্যক্তির সামাজিক, পেশাগত বা নৈতিক অবস্থান ক্ষুণ্ণ হয়, তবে সেটি ‘মানহানি’ হিসেবে গণ্য হবে।"
- তবে এই ধারায় ১০টি ব্যতিক্রম (Exceptions) রয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু অবস্থায় মানহানি বলে গণ্য হবে না।

গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ও বিষয়বস্তু:
দ্বিতীয় অধ্যায়: সাধারণ ব্যাখ্যা (ধারা ৬-৫২-ক) – অপরাধ সংজ্ঞায়নের মূল শব্দাবলি।
তৃতীয় অধ্যায়: শাস্তি (ধারা ৫৩-৭৫) – মৃত্যুদণ্ড, কারাদণ্ড, জরিমানা প্রভৃতি।
চতুর্থ অধ্যায়: সাধারণ ব্যতিক্রম (ধারা ৭৬-১০৬) – আত্মরক্ষা, ভুল ইত্যাদি কারণে দায়মুক্তি।
পঞ্চম অধ্যায়: অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা (ধারা ১০৭-১২০)।
পঞ্চম-ক অধ্যায়: অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (ধারা ১২০-ক থেকে ১২০-খ)।
ষষ্ঠ অধ্যায়: রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ (ধারা ১২১-১৩০) – রাষ্ট্রদ্রোহ, যুদ্ধঘোষণা ইত্যাদি।
নবম অধ্যায়: সরকারি কর্মকর্তাদের অপরাধ (ধারা ১৬১-১৭১) ।
নবম-ক অধ্যায়: নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ (ধারা ১৭১-ক থেকে ১৭১-ঝ)।
ষোড়শ অধ্যায়: মানবদেহের বিরুদ্ধে অপরাধ (ধারা ২৯৯-৩৭৭) – হত্যা, আহত করা, ধর্ষণ ইত্যাদি।
সপ্তদশ অধ্যায়: সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ (ধারা ৩৭৮-৪৬২খ) – চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা।
বিংশ অধ্যায়: বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধ (ধারা ৪৯৩-৪৯৮) – বহুবিবাহ, বৈবাহিক প্রতারণা।
একবিংশ অধ্যায়: মানহানি (ধারা ৪৯৯-৫০২) – মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।

৫,৭৩০.
তামাদি আইনের ১৭ ধারা প্রযোজ্য নয় -
  1. মূল মামলায়
  2. অন্যের মামলায়
  3. অগ্রক্রয়ের মামলায়
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
♣♣ 
• কোন মামলা দায়ের করার অধিকার জন্মানোর পূর্বে বাদী মারা গেলে তার বৈধ প্রতিনিধিরা মামলা করতে পারবে; 
• এক্ষেত্রে অন্যান্য মামলা বৈধ প্রতিনিধিরা দায়ের করতে পারলেও অগ্রক্রয়ের মামলা কোন ব্যক্তির বৈধ প্রতিনিধিরা দায়ের করতে পারে না।
• তাই বলা হয়েছে অগ্রক্রয়ের মামলার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ১৭ ধারা প্রযোজ্য নয়। 
৫,৭৩১.
আদেশ ১৮ বিধি ২০ অনুযায়ী- চূড়ান্ত পর্যায়ে মোকদ্দমার সংখ্যা সত্তরের নিচে নামলে, শুনানির জন্য আদালত নতুন মোকদ্দমা কীভাবে নির্ধারণ করবে?
  1. প্রমাণের ভিত্তিতে
  2. আইনজীবীর পরামর্শে
  3. আবেদনকারীর পছন্দ অনুযায়ী
  4. দাখিল করা তারিখের ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা
আদেশ ১৮ বিধি ২০:
কোন আদালত চূড়ান্ত শ্রবণ কার্যের নিমিত্তে দৈনন্দিন কার্যতালিকায় আংশিক শ্রবণীয় মোকদ্দমাসহ পাঁচটির অধিক মোকদ্দমা এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে একশতটির অধিক মোকদ্দমা নির্ধারণ করবে না; এবং নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত পর্যায়ের মোকদ্দমার সংখ্যা সত্তরটির নিম্নে নেমে আসলে সাধারণত দাখিল করা তারিখের উপর ভিত্তি করে আদালত চূড়ান্ত পর্যায়ে আরও মোকদ্দমা আনার ব্যবস্থা করতে পারবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন আদালতে শ্রবণ কার্যের নিমিত্তে তৈরীকৃত মোকদ্দমার সংখ্যা উপযুক্ত মতে নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট না হলে যথোপযুক্ত পদ্ধতিতে নির্ধারণ করার বিবেচনামূলক ক্ষমতা আদালতের থাকবে।

Order-18 Rule-20: Fixation of suits in the daily cause list, etc:
The court shall not fix more than five suits including two part-heard suits, in the daily cause list for peremptory hearing and more than one hundred suits in the peremptory stage, and when upon disposal, the total number of suits in the peremptory stage comes down to less than seventy, the Court shall then bring in more suit in the peremptory stage, generally in the order of dates of institution of suits: 
Provided that if in any Court, the number of suits made ready for hearing is not sufficient for fixation in the manner as aforesaid, it shall be in the discretion of the Court to make the fixation in a reasonable manner.
৫,৭৩২.
কোন আইনের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার করা যায়?
  1. দেওয়ানি কার্যবিধি
  2. সম্পত্তি হস্তান্তর আইন
  3. চুক্তি আইন
  4. দলিল নিবন্ধন আইন
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-১০ ধারা: সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির পুনরুদ্ধার:
সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানি কার্যবিধিতে নির্ধারিত পন্থায় তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।

ব্যাখ্যা- ১:
এই ধারা অনুসারে, একজন জিম্মাদার যার জন্য জিম্মাদার নিযুক্ত হয়েছে, সে ব্যক্তির হিতকর স্বার্থে নিয়োগ করার অধিকার রয়েছে এমন অস্থাবর সম্পত্তির দখল পাওয়ার জন্য মামলা রুজু করতে পারে।

ব্যাখ্যা- ২:
সম্পত্তির বর্তমান দখলের জন্য অস্থায়ী বা বিশেষ অধিকারকেই এই ধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত মামলাকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট।

Section 10- Recovery of specific moveable property:
A person entitled to the possession of specific moveable property may recover the same in the manner prescribed bythe Code of Civil Procedure.
 
Explanation 1- A trustee may sue under this section for the possession of property to the beneficial interest in which the person for whom he is trustee is entitled.
Explanation 2- A special or temporary right to the present possession of property is sufficient to support a suit under this section.
৫,৭৩৩.
কোন প্রকার বন্ধকের ক্ষেত্রে বন্ধকতাদার ঋণ পরিশোধের কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না-
  1. Usufructuary Mortgage
  2. English Mortgage
  3. Mortgage by Conditional Sale
  4. Mortgage against Immovable Property
ব্যাখ্যা
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৫৮ ধারায় ৬ ধরনের বন্ধকের মধ্যে 'খাইখালাসি বন্ধক' ( Unufructuary Mortgage) - এর ক্ষেত্রে বন্ধকদাতার ঋণ পরিশোধের কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না। এই বন্ধকে বন্ধক গ্রহীতা বন্ধককৃত সম্পদ একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে ভোগ করে এবং মেয়াদ শেষে বন্ধকদাতাকে ফেরত দেয়।

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৫৮(ঘ) ধারা অনুসারে, যখন দাতা কোনো গ্রহীতাকে বন্ধকি সম্পত্তির দখল অর্পণ করেন, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দখল দিতে নিজেকে বাধ্য করেন; এবং বন্ধকির টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত দখল রাখার অনুমতি দেন, এবং এরকম সম্পত্তি থেকে উদ্ভূত খাজনা ও লাভ বা এরকম খাজনা বা লাভের অংশবিশেষ গ্রহণের অনুমতি দেন, এবং তা বন্ধকি টাকার সুদ বা বন্ধকি টাকা পরিশোধের জন্য বা তার আংশিক সুদ পরিশোধের জন্য এবং আংশিক বন্ধকি টাকা পরিশোধের জন্য ব্যয় করতে অনুমতি দেন, তখন তাকে ‘খাইখালাসি বন্ধক’ বলে।
৫,৭৩৪.
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৫ ধারায় কোন ধরনের জমির ভাড়া নির্ধারণের বিধান আছে?
  1. খাস জমি
  2. বন্দোবস্ত জমি
  3. ফসলি জমি
  4. করাতল জমি
ব্যাখ্যা
The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ধারা ৫: ভাড়াগ্রহীতাদের খাস জমির ভাড়া নির্ধারণ:
যত শীঘ্র সম্ভব ধারা ৩(১) উপধারায় উল্লেখিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর, রাজস্ব কর্মকর্তা উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত সমস্ত ভাড়াগ্রহীতার খাস দখলে থাকা জমির প্রতিটি খণ্ডের ভাড়া নির্ধারণ করবেন। এই নির্ধারণ ধারা ২৩, ২৪, ২৫, ২৫ক, ২৬, ২৭ এবং ২৮-এ বর্ণিত নীতিমালা অনুযায়ী করতে হবে, এবং এসব জমি সেই এস্টেট, তালুক, তনুর, হোল্ডিং বা টেনান্সির অন্তর্ভুক্ত হবে যার সাথে উক্ত বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কিত।
৫,৭৩৫.
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না-
  1. দেওয়ানি কার্যবিধির ২৫ ধারার ক্ষেত্রে
  2. চুক্তি আইনের ২৫ ধারা প্রয়োগের ক্ষেত্রে
  3. দেওয়ানি কার্যবিধির ৫৪ ধারার ক্ষেত্রে
  4. চুক্তি আইনের ৫৬ ধারা প্রয়োগের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ - ধারা ২৯: সংরক্ষণ (Savings):
(১) এই আইনের কোনো কিছুই ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ধারা ২৫-কে প্রভাবিত করবে না।

(২) যদি কোনো বিশেষ আইন কোনো মোকদ্দমা, আপিল বা আবেদনের জন্য তামাদির একটি ভিন্ন মেয়াদ নির্ধারণ করে, যা প্রথম তফসিলে উল্লিখিত মেয়াদ থেকে আলাদা, তাহলে ধারা ৩-এর বিধান প্রযোজ্য হবে, যেন সেই মেয়াদ প্রথম তফসিলে উল্লিখিত হয়েছে। এবং কোনো বিশেষ আইন দ্বারা নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ নির্ধারণের জন্য:

(ক) ধারা ৪, ধারা ৯ থেকে ১৮ এবং ধারা ২২-এর বিধানগুলো কেবল সেই পরিমাণে প্রযোজ্য হবে, যতটুকু সেই বিশেষ আইন দ্বারা স্পষ্টভাবে বাতিল করা হয়নি; এবং
(খ) এই আইনের অন্যান্য বিধানগুলো প্রযোজ্য হবে না।

(৩) এই আইনের কোনো কিছুই ডিভোর্স আইন (Divorce Act) এর অধীনে দায়েরকৃত মোকদ্দমাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।


(৪) ধারা ২৬ এবং ২৭, এবং ধারা ২-এ উল্লিখিত "সুবিধা" (easement)-এর সংজ্ঞা, ১৮৮২ সালের সুবিধা আইন (Easements Act, 1882) যে অঞ্চলে প্রযোজ্য, সেই অঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

৫,৭৩৬.
নিম্নের কোনটি সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩২(৫)-এর অধীনে প্রাসঙ্গিক?
  1. অপরাধের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য
  2. ব্যবসায়িক নথিপত্রে লেখা তথ্য
  3. পারিবারিক সম্পর্কের অস্তিত্ব সম্পর্কিত বিবৃতি
  4. আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যক্তির মৌখিক স্বীকারোক্তি
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩২(৫) অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তি মৃত হন বা সাক্ষ্য প্রদান করতে সক্ষম না হন, তখন তার করা কোনো বিবৃতি পারিবারিক সম্পর্কের অস্তিত্ব সম্পর্কিত হলে তা প্রাসঙ্গিক এবং আদালতে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। এই ধরনের বিবৃতি সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সম্পর্ক বা তাদের পারিবারিক পরিস্থিতি সম্পর্কে হয়।

ধারা ৩২(৫) বিশেষত পারিবারিক সম্পর্কের অস্তিত্ব সম্পর্কিত বিবৃতি (যেমন: মাতৃত্ব, পিতৃত্ব, ভাইবোনের সম্পর্ক) কে প্রাসঙ্গিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। যেমন: কোনো ব্যক্তি তার পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে কোনো বিষয়ের ব্যাপারে লিখিত বা মৌখিক বিবৃতি দিয়ে থাকলে, এবং যদি সে ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদান করতে সক্ষম না হয় (যেমন: মৃত্যুর কারণে), তবে তার পূর্বের বিবৃতিটি আদালতে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

অন্য অপশনগুলির ব্যাখ্যা:
ক) অপরাধের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য: অপরাধের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য সরাসরি ঘটনাটি দেখার মাধ্যমে প্রাপ্ত সাক্ষ্য হয়, যা ধারা ৩২-এর আওতায় নয়।
খ) ব্যবসায়িক নথিপত্রে লেখা তথ্য: এটি ধারা ৩২(২) অনুযায়ী ব্যবসায়িক বিবৃতি হিসেবে প্রাসঙ্গিক হতে পারে, তবে এটি ৩২(৫)-এর আওতায় আসে না।
ঘ) আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যক্তির মৌখিক স্বীকারোক্তি: মৌখিক স্বীকারোক্তি সাধারণত ধারা ৩২(৩) বা ধারা ৩২(৪) অনুসারে প্রাসঙ্গিক হতে পারে, তবে এটি ৩২(৫)-এর আওতায় নয়।
-----------
The Evidence Act, 1872: Section-32(5) or relates to existence of relationship;
 When the statement relates to the existence of any relationship by blood, marriage or adoption between person as to whose relationship by blood, marriage or adoption the person making the statement had special means of knowledge, and when the statement was made before the question in dispute was raised.
৫,৭৩৭.
No Court shall make any such declaration where the ________, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so.
  1. court
  2. parties
  3. plaintiff
  4. defendant
ব্যাখ্যা
Section 42: Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying, or interested to deny, his title to such character or right, and the Court may in its discretion make therein a declaration that he is so entitled, and the plaintiff need not in such suit ask for any further relief: Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so.

ঘোষনামূলক মোকদ্দমা (Declaration suit):
মর্যাদা বা অধিকার ঘোষনা সম্পর্কে আদালতের ইচ্ছাধীন বিবেচনামূলক ক্ষমতা অথবা আনুষঙ্গিক প্রতিকারের জন্য এই মামলা করা হয়। সহজভাবে বলা যায়, যেকোন ব্যক্তির আইন সঙ্গত পরিচয়, মর্যাদা বা কোন সম্পত্তিতে তার কোন অধিকার যদি থাকে, অপর কোন ব্যক্তি তা অস্বীকার করে বা করতে চায়, তখন সেই ব্যক্তি তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই মামলা করতে পারে। আদালত সেই অনুযায়ী প্রতিকার দিবে। এটিই ঘোষনামূলক মোকদ্দমা।
⇒ এই মোকদ্দমায় আনুষঙ্গিক প্রতিকার চাইতে হয়।
⇒ যখন কোন বাদী আনুষঙ্গিক প্রতিকার না চায়, তাহলে আদালত তার কোনো প্রতিকার মঞ্জুর করে না।
৫,৭৩৮.
একটি দেওয়ানী আদালত কোন ক্ষেত্রে তার বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না?
  1. দলিল সংশোধনের ক্ষেত্রে
  2. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে
  3. সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে
  4. প্রতিরোধমূলক প্রতিকারের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ বিবেচনামূলক ক্ষমতা বা Discretionary power বলতে আদালতের এমন ক্ষমতাকে বোঝায় যা আদালত তার ইচ্ছা অনুযায়ী প্রয়োগ করতে পারে এবং এই ক্ষেত্রে কোন আদেশ প্রদান করতে আদালত বাধ্য নয়; অর্থাৎ আদালত সন্তুষ্ট হলে কোন আদেশ প্রদান করতে পারে আবার নাও পারে। বিচারকের বিবেচনামূলক ক্ষমতা অবশ্যই আইন ও ন্যায়সঙ্গতভাবে নিজের অধিকারের সীমার মধ্যে থেকে প্রয়োগ করতে হবে। বিবেচনামূলক ক্ষমতা যথেচ্ছা বা খুশিমত ব্যবহার করা যায় না।
 
⇒ যে সকল সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন (ধারা-১২);
ii) দলিল সংশোধন, বাতিল, এবং রদ (ধারা ৩১-৩৯);
iii) ঘোষণামূলক ডিক্রি বা ঘোষণামূলক প্রতিকার (ধারা ৪২-৪৩);
iv) রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ (ধারা-৪৪);
v) প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (ধারা-৫২); এবং
vi) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (ধারা-৫৩ থেকে ৫৫)
 
⇒ যে সকল সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না। যথা-
i) সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার (ধারা-৮); এবং
ii) স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার (ধারা-৯)।
 
⇒ যেহেতুে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ও ৯ ধারার আওতায় প্রতিকারগুলো পাওয়া পক্ষগণের অধিকার, তাই ৮ ও ৯ ধারার আওতায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার ও অর্পণের ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না।
⇒ উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ও ৯ ধারার আওতায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার ও অর্পণের ক্ষেত্র ব্যতীত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের আওতায় অন্যান্য প্রতিকারের ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
৫,৭৩৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারা অনুযায়ী সরকার কোন দণ্ডিত আসামীর দণ্ড পরিবর্তন/হ্রাস করতে পারে?
  1. ধারা ৪০২
  2. ধারা ৪০১
  3. ধারা ৪০৩
  4. ধারা ৪০৪
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০২ ধারায় সরকার দণ্ড হ্রাস বা পরিবর্তন (Commutation) করে অন্য কোন দণ্ড দিতে পারে। ৪০২ ধারায় সরকার মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাবাস ও সশ্রম কারাবাসকে বিনাশ্রম কারাবাসে হ্রাস করতে পারে।যেমন মৃত্যুদণ্ড হ্রাস করে ১০ বৎসর করতে পারে বা ১০ বৎসরের দণ্ড হ্রাস করে ৭ বৎসর করতে পারে।

ধারা ৪০২- সাজা রদ বদলের ক্ষমতা

(১) সরকার দণ্ড প্রাপ্ত ব্যক্তির বিনা সম্মতিতে নিম্নে বর্ণিত যে কোন দণ্ড রদবদল করে ইহার পরে উল্লেখিত যেকোন দণ্ড দিতে পারবেন-মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, আসামী যে সময়ের জন্য সাজাপ্রাপ্ত হতে পারত তার অনধিক সময়ের জন্য সশ্রম কারাদণ্ড, অনুরূপ মেয়াদের জন্য বিনাশ্রম কারাদণ্ড, জরিমানা।
(২) এই ধারার কোন কিছুই দণ্ডবিধির ধারা-৫৪ বা ৫৫ এর বিধানাবলীকে প্রভাবিত করবে না।

Section 402- Power to commute punishment

(1) The Government may, without the consent of the person sentenced, commute any one of the following sentences for any other mentioned after it:-death, transportation, rigorous imprisonment for a term not exceeding that to which he might have been sentenced, simple imprisonment for a like term, fine. 
(2) Nothing in this section shall affect the provisions of section 54 or section 55 of the Penal Code.
৫,৭৪০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারা অনুযায়ী, নিম্নলিখিত কোন ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না?
  1. বিচারাধীন কার্যধারা স্থগিত করার জন্য
  2. ফৌজদারি কার্যধারা স্থগিত করার জন্য
  3. সরকারি দপ্তরের কার্যে হস্তক্ষেপ করার জন্য
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারায় উল্লিখিত ১১টি ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না। এর মধ্যে বিচারাধীন কার্যধারা স্থগিত করা, ফৌজদারি কার্যধারা স্থগিত করা এবং সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উত্তর: ঘ) সবগুলো

⇒ কোন কোন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যায় না তা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে।
-সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারামতে নিম্নলিখিত ১১টি ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না। যথা-
i) বিচারাধীন কার্যধারা স্থগিত;
ii) অধীন নয় এরূপ আদালতের কার্যধারা স্থগিত;
iii) আইন প্রণয়নকারী সংস্থার নিকট আবেদনে বাধা;
iv) সরকারি দপ্তর বা বিদেশি সরকারের কার্যে হস্তক্ষেপ;
v) ফৌজদারি কার্যধারা স্থগিত;
vi) অবলবৎযোগ্য চুক্তিভঙ্গ নিরোধের প্রশ্নে
vii) উৎপাত (nuisance) নয় এমন কাজ নিরোধের জন্য;
viii) বাদীর মৌন সম্মতির প্রশ্নে;
ix) অন্য কোন পদ্ধতিতে একই প্রতিকারের ক্ষেত্রে;
x) বাদীর আচরণ আদালতের সাহায্য পেতে বঞ্চিত করলে; অথবা
xi) মামলার বিষয়বস্তুতে বাদীর কোনো স্বার্থ না থাকলে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না।
------------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section-56. Injunction when refused:- An injunction cannot be granted-
(a) to stay a judicial proceeding pending at the institution of the suit in which the injunction is sought, unless such restraint is necessary to prevent a multiplicity of proceedings;
(b) to stay proceedings in a Court not subordinate to that from which the injunction is sought;
(c) to restraint persons from applying to any legislative body;
(d) to interfere with the public duties of any department of the Government, or with the sovereign acts of Foreign Government;
(e) to stay proceedings in any criminal matter;
(f) to prevent the breach of a contract the performance of which would not be specifically enforced;
(g) to prevent, on the ground of nuisance, an act of which it is not reasonably clear that it will be a nuisance;
(h) to prevent a continuing breach in which the applicant has acquiesced;
(i) when equally efficacious relief can certainly be obtained by any other usual mode of proceeding except in case of breach of trust;
(j) when the conduct of the applicant on his agents has been such as to disentitle him to the assistance of the Court;
(k) where the applicant has no personal interest in the matter.
৫,৭৪১.
কোনটি 'অনধিকার গৃহপ্রবেশ' অপরাধ সংঘটনের একটি শর্ত?
  1. বৈধ অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করা
  2. শারীরিকভাবে ক্ষতি করা
  3. অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ থাকা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অনধিকার গৃহপ্রবেশ [House Trespass]:
দণ্ডবিধির ৪৪২ ধারা অনুযায়ী মনুষ্য বসবাসের স্থান, দালান, তাবু, বা উপাসনার স্থান হিসাবে ব্যবহার করা হয় বা সম্পত্তি সংরক্ষণের স্থান হিসাবে ব্যবহার করা হয় এমন স্থানে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ করা হলে তাকে অনধিকার গৃহপ্রবেশ বলে।

অনধিকার গৃহপ্রবেশের শর্তসমূহ:
১. অবশ্যই অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ থাকতে হবে;
২. অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশটি কোন মনুষ্য বসবাসের স্থান, দালান, তাবু, বা উপাসনার স্থান হিসাবে ব্যবহার করা হয় বা সম্পত্তি সংরক্ষণের স্থান হিসাবে ব্যবহার করা হয় এমন স্থানে হতে হবে।

শাস্তি:
৪৪৮ ধারা অনুযায়ী অনধিকার গৃহপ্রবেশের শাস্তি যেকোন বর্ণনার কারাবাস যা ১ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডসহ যা ১০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

Section 442- House-trespass:
Whoever commits criminal trespass by entering into or remaining in any building, tent or vessel used as a human dwelling or any building used as a place for worship, or as a place for the custody of property, is said to commit "house-trespass".
Explanation: The introduction of any part of the criminal trespasser's body is entering sufficient to constitute house-trespass.

Punishment for house-trespass (Section 448):
Whoever commits house-trespass shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year, or with fine which may extend to one thousand taka, or with both.
৫,৭৪২.
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ এবং প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর ১৪৩(খ) ধারার বিষয়বস্তু কী?
  1. Maintenance of the record-of-rights
  2. Correction of the Record of Rights upon inheritance
  3. Procedure for Correction of the Record-of-Rights
  4. Revision of the record-of-rights
ব্যাখ্যা
• Section 143B: Correction of the Record-of Rights upon inheritance:

(1) Person acquiring immovable property by inheritance according to their respective personal laws shall amicably effect partition of the property among them after the death propositus. After such partition, an instrument of partition shall be prepared and signed by all the concerned parties and shall be registered under the Registration Act, 1908.

(2) Upon presentation of the instrument of partition prepared, signed and registered under sub-section (1), the Revenue-officer shall revise the Khatian in accordance therewith.

ধারা ১৪৩(খ)- উত্তরাধিকারের উপর ভিত্তি করে খতিয়ান সংশোধন:
 
উত্তরাধিকারের উপর ভিত্তি করে খতিয়ান সংশোধনের বিধান ১৪৩খ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে। কোন ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার উত্তরাধিকারীরা তাদের ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী তাদের মধ্যে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্ধুত্বপূর্ণভাবে বণ্টন করবে। এমন বণ্টনের পর, একটি বন্টননামা তৈরী করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে এবং রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর অধীন নিবন্ধন করতে হবে। এমন স্বাক্ষরিত এবং নিবন্ধিত বণ্টননামা উপস্থাপন করলে রাজস্ব কর্মকর্তা বন্টননামা অনুযায়ী খতিয়ান সংশোধন করবে।
৫,৭৪৩.
দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার ব্যতিক্রমসমূহের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. জনস্বার্থে সত্য-দোষারোপ করা
  2. সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা
  3. ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে নিন্দা করা
  4. আদালতের কার্য বিবরণীর রিপোর্ট প্রকাশ করা
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে নিন্দা করা।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার বিধান মানহানি:-
কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বা তার খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট হবে বলে জানা সত্ত্বেও বা তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কথিত বা পঠিত হওয়ার জন্য অভিপ্রেত কথা বা চিহ্ন কর্তৃক বা দৃশ্যমান কল্পমূর্তির সাহায্যে সে ব্যক্তি সম্পর্কিত কোন নিন্দাবাদ প্রণয়ন বা প্রকাশ করে, তবে নিম্নে নির্দেশিত ব্যতিক্রমসমূহ ছাড়াই অন্যান্য ক্ষেত্রে, সে ব্যক্তি উক্ত অন্য ব্যক্তির মানহানি করে বলে পরিগণিত হয়।
ব্যাখ্যা ১:- যে মৃত ব্যক্তির জীবনকালে তার সম্পর্কে কোন নিন্দা করা হলে তার মানহানি ঘটত, সে মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে অনুরূপ কোন নিন্দাবাদ এবং সে মৃত ব্যক্তির পরিবার-পরিজনের বা অন্যান্য কাছে আত্মীয়ের মনকে পীড়িত করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ নিন্দাবাদ করা, মানহানি বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা ২:- কোন কোম্পানি বা সংঘ বা ব্যক্তিসমাবেশ সম্পর্কে সমষ্টিগতভাবে কোন নিন্দাবাদ করা মানহানি বলে পরিগণিত হতে পারে।
ব্যাখ্যা ৩:- বিকল্পরূপে বা বিদ্রূপাত্মকরূপে ব্যক্ত কোন নিন্দাবাদ মানহানির সামিল হতে পারে।
ব্যাখ্যা ৪:- কোন ব্যক্তি সম্পর্কে কোন নিন্দাবাদ প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে অন্যান্য ব্যক্তির দৃষ্টিতে সে ব্যক্তির নৈতিক বা বুদ্ধিগত চরিত্র হেয় না করলে, অথবা তার বর্ণ বা সম্প্রদায় কিংবা তার পেশার দিক হতে সে ব্যক্তির চরিত্রকে হেয় না করলে, অথবা সে ব্যক্তির প্রসিদ্ধি ক্ষুন্ন না করলে, অথবা তার দেহ বীভৎস বা ঘৃণা অবস্থায় বা যে অবস্থা সাধারণভাবে অরুচির বলে গণ্য, সে অবস্থায় রয়েছে বলে বিশ্বাস সৃষ্টি না করলে, সে ব্যক্তি সম্পর্কে উক্ত নিন্দাবাদ তার খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করে নাই বলে পরিগণিত হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানি বা defamation এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে এবং সেখানে মোট ১০ টি ব্যতিক্রম সাপেক্ষে এই অপরাধ সংঘটনের কথা বলা আছে।
⇒ ৪৯৯ ধারায় ১০টি ব্যতিক্রম নিচে দেওয়া হল-
১) জনস্বার্থে বা জনগণের কল্যাণের জন্য কারো প্রতি সত্য-দোষারোপ করা হলে তা মানহানি হবে না।
২) জনগণের প্রতি সরকারি কর্মচারীর আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৩) কোন জনসমস্যা/গণসমস্যা সম্পর্কে কোন ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৪) কোন আদালতের কার্য বিবরণীর রিপোর্ট প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৫) আদালত কর্তৃক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এমন কোন ফৌজদারি বা দেওয়ানি মোকদ্দমার দোষ, গুণ বা সাক্ষী বা সাক্ষ্যের সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৬) কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার জনগণের উপর ন্যস্ত করা হলে তখন এ বিষয়ে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়। যেমন- কোন ব্যক্তি কোন বই প্রকাশ করলে বা প্রকাশ্য স্থানে বক্তৃতা দিলে তখন তা বিচার করার জন্য জনগণের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
৭) অন্যের উপর আইনসম্মতভাবে ক্ষমতা রয়েছে এমন ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে কোন নিন্দা করলে তা মানহানি হবে না।
৮) ক্ষমতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তির নিকট সৎ বিশ্বাসে অভিমত দেয়া হলে তা মানহানি বলে গণ্য হবে না। যেমন- পুলিশের কাছে কারো ব্যাপারে অভিযোগ করা ।
৯) কোন ব্যক্তি নিজের বা অন্যের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বা জনস্বার্থে সৎ বিশ্বাসে কোন দোষারোপ করলে তা মানহানি নয়।
১০) জনকল্যাণে সৎ বিশ্বাসে কোন ব্যক্তিকে সতর্ক করে কিছু বলা হলে তা মানহানি হবে না ।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানির ১০ টি ব্যতিক্রম (Exception) রয়েছে অর্থাৎ এই ১০ টি ক্ষেত্রে কোন মানহানিকর উক্তি বা তথ্য প্রকাশ করা হলেও মানহানির অপরাধ হবেনা।

⇒ শান্তি: ধারা ৫০০ অনুযায়ী, মানহানি অপরাধের শাস্তি- ২ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়।
৫,৭৪৪.
একজন ডাক্তার রোগীকে জানালেন যে তার মৃত্যু আসন্ন। রোগী শোকে মারা গেল। দণ্ডবিধি অনুসারে ডাক্তারের বিরুদ্ধে কী করা হবে?
  1. তিনি দোষী সাব্যস্ত হবেন
  2. তিনি নির্দোষ হবেন
  3. তাকে জরিমানা দিতে হবে
  4. তার বিরুদ্ধে হত্যার মামলা হবে
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৯৩ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি কারও মঙ্গলার্থে সৎ উদ্দেশ্যে কোনো তথ্য জানিয়ে দেন এবং এতে কোনো ক্ষতি হয়, তবে এটি অপরাধ বলে গণ্য হবে না। ডাক্তারের উদ্দেশ্য যদি রোগীকে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করা হয় এবং এটি যদি তিনি সৎ উদ্দেশ্যে ও মঙ্গলের জন্য করেন, তাহলে এটি অপরাধ হবে না, যদিও রোগী এতে শোকে মারা যান।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৯৩ অনুসারে, সদিচ্ছায় (good faith) এবং ব্যক্তির মঙ্গলের জন্য প্রদত্ত কোনো তথ্য বা পরামর্শ যদি কোনো ক্ষতির কারণ হয়, তাহলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
- এই ক্ষেত্রে, ডাক্তার সদিচ্ছায় রোগীকে তার আসন্ন মৃত্যুর বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
- রোগীর মৃত্যু শোকে হলেও ডাক্তারের উদ্দেশ্য ছিল রোগীকে সতর্ক করা বা প্রস্তুত করা, যা কল্যাণকর।
তাই, দণ্ডবিধি অনুযায়ী ডাক্তার নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

⇒ ধারা ৯৩-এর উদাহরণে (Illustration) বলা হয়েছে:
"A, a surgeon, in good faith, communicates to a patient his opinion that he cannot live. The patient dies in consequence of the shock. A has committed no offence."
(একজন ডাক্তার সদিচ্ছায় রোগীকে জানান যে সে বাঁচবে না। রোগী শোকে মারা গেলেও ডাক্তার কোনো অপরাধ করেননি।)
সুতরাং, ডাক্তার নির্দোষ।
৫,৭৪৫.
গ্রেফতার-পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে Memorandum of Arrest প্রস্তুতের নির্দেশনা ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় প্রদান করা হয়েছে? 
  1. ৪৬ক ধারায়
  2. ৪৬গ ধারায়
  3. ৬৫ক ধারায়
  4. ৬৭ক ধারায়
ব্যাখ্যা

⇒ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪৬ক-এ Memorandum of Arrest (গ্রেপ্তার স্মারক) প্রস্তুতের বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
- ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮,(Act No. V of 1898)-এর SCHEDULE V-এ নতুন Form IA, যা "গ্রেপ্তার স্মারক" (Memorandum of Arrest) নামে পরিচিত, ধারা ৪৬ক (Section 46A)-এর অধীনে উল্লেখিত হয়েছে। এই ফর্মটি গ্রেপ্তারের সময় এবং স্থানে প্রস্তুত করতে হয় এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির সাথে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতে পাঠাতে হয়। ফর্মটির উদ্দেশ্য হলো গ্রেপ্তারের বিস্তারিত তথ্য (যেমন গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, গ্রেপ্তারের কারণ, শারীরিক অবস্থা, পরিবারকে অবহিত করার তথ্য) রেকর্ড করা, যাতে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮,-এর SCHEDULE V-তে নতুন Form IA সন্নিবেশিত হয়েছে যা "MEMORANDUM OF ARREST" নামে পরিচিত এবং এটি ধারা 46A অনুসারে প্রস্তুত করতে হবে। এই ফর্মে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম, পিতার নাম, স্বামীর নাম (যদি থাকে), ঠিকানা ও বয়স
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির NID/পাসপোর্ট/জন্ম নিবন্ধন নম্বর (যদি থাকে)
- গ্রেফতারের স্থান
- গ্রেফতারের তারিখ ও সময়
- গ্রেফতারের কারণ (সম্পর্কিত আইন ও ধারা উল্লেখসহ)
- নিশ্চয়তা প্রদানকারী/অভিযোগকারীর নাম ও ঠিকানা (যদি থাকে)
- মামলা/জিডি নম্বর
- গ্রেফতারের পরিপত্র নম্বর ও তারিখ (যদি প্রযোজ্য হয়)
- গ্রেফতারের সময় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা
- শরীরে কোন আঘাতের কারণ থাকলে তা উল্লেখ
- উপস্থিত নিবন্ধিত চিকিৎসকের নাম ও শংসাপত্র (যদি আঘাতপ্রাপ্ত হয় তাহলে এর একটি কপি সংযুক্ত করতে হবে)
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য/আত্মীয়/বন্ধু/প্রতিবেশীকে জানানো হয়েছে কিনা - হ্যাঁ/না
- গ্রেফতারের তথ্য জানানো ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা
- তথ্য প্রাপ্ত ব্যক্তির যোগাযোগ নম্বর
- সেই আদালতের নাম যেখানে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে তোলা হবে
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপ (যদি অস্বীকার না করে)
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য বা স্থানীয় সম্মানিত ব্যক্তির স্বাক্ষর (যদি না পাওয়া যায় তবে কারণ উল্লেখ করতে হবে)
- গ্রেফতার কর্মকর্তার নাম, পদবী, আইডি নম্বর ও স্বাক্ষরও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

নির্দেশনা:
এই মেমো গ্রেফতারের সময় ও স্থানে প্রস্তুত করা হবে এবং গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির সাথে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতে পাঠাতে হবে। আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের শংসাপত্র ও মুক্তির দলিল সংযুক্ত করতে হবে। মেমো এর একটি কপি মামলার ডায়েরিতে সংরক্ষণ করতে হবে ভবিষ্যৎ ব্যবহারের জন্য।

৫,৭৪৬.
A একটি জমির জন্য B এর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়ের করে। জমিটি B এর দখলে করে আছে। A দাবি করে যে B এর পিতা C উইল করে ঐ জমি A কে দিয়ে গেছে। এখানে প্রমাণের দায়িত্ব-
  1. C এর উপর
  2. A এর উপর
  3. B এর উপর
  4. A ও B এর উভয় উপর
ব্যাখ্যা
♦যেহেতু জমিটি B এর দখলে আছে, সেহেতু এই মামলায় কোন পক্ষ সাক্ষ্য না দিলে B জমির দখল বজায় রাখার অধিকারী হবে এবং A মামলায় পরাজিত হবে। ১০২ ধারা অনুযায়ী কোন মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ  দাখিল না করলে যে পক্ষ পরাজিত হবে, প্রমাণের ভার সেই পক্ষের উপর বর্তাবে। তাই এই ক্ষেত্রে প্রমাণের দায়িত্ব A এর উপর ন্যাস্ত।
৫,৭৪৭.
অবৈধ সমাবেশের কোনো সদস্য যদি সম্মিলিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বলপ্রয়োগ বা সহিংসতা করে, তাহলে তা কী বলে গণ্য হবে?
  1. হরতাল
  2. দাঙ্গা
  3. ডাকাতি
  4. মারামারি
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৪৬ থেকে ১৪৮ ধারা "দাঙ্গা" (Riot)-এর সংজ্ঞা ও শাস্তি নির্ধারণ করে। ১৪৬ ধারা অনুযায়ী, ৫ জন বা তার বেশি লোক যদি অবৈধভাবে একত্রিত হয়ে সামূহিক উদ্দেশ্যে বলপ্রয়োগ বা সহিংসতা করে, তাহলে তা দাঙ্গা হিসেবে গণ্য হয়। অবৈধ সমাবেশ বলতে এমন একটি জমায়েতকে বোঝায় যা আইন দ্বারা নিষিদ্ধ বা শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা সৃষ্টি করে।

ধারা ১৪৬ (Rioting):
"Whenever force or violence is used by an unlawful assembly, or by any member thereof, in prosecution of the common object of such assembly, every member of such assembly is guilty of the offence of rioting."
- অর্থাৎ, যদি অবৈধ সমাবেশের কোনো সদস্য সম্মিলিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য বলপ্রয়োগ বা সহিংসতা করে, তবে তা “দাঙ্গা” (Rioting) হিসেবে গণ্য হবে।

- দাঙ্গার শাস্তি: দাঙ্গার অপরাধে অংশগ্রহণকারীদের ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় শাস্তি হতে পারে (১৪৭ ধারা)। নেতৃত্বদানকারীদের শাস্তি আরও কঠোর (১৪৮ ধারা)।

৫,৭৪৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৩ ধারাটি একই আইনের কোন ধারাকে প্রভাবিত করবে না?
  1. ১৮২ ধারা
  2. ১৮৮ ধারা
  3. ২৬৬ ধারা
  4. ৩৬৬ ধারা
ব্যাখ্যা
ধারা ৪০৩: একবার দণ্ডিত বা খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য পুনরায় বিচার করা যাবে না

(১) যে ব্যক্তি কোনো আদালতের আইনি অধিকারভুক্ত বিচারাধীন কোন অপরাধে একবার বিচারিত হয়ে দণ্ডিত বা খালাস প্রাপ্ত হয়েছে, তার এই দণ্ড বা খালাস প্রযোজ্য থাকা অবস্থায়, তাকে একই অপরাধের জন্য আবার বিচার করা যাবে না, এবং একে বাদ দিয়ে যে কোনো অপরাধের জন্যও বিচার করা যাবে না, যা তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের সাথে সম্পর্কিত হতে পারত, যা ধারা ২৩৬ অনুযায়ী পৃথক অভিযোগের মাধ্যমে করা যেত, অথবা যা সে ধারা ২৩৭ অনুযায়ী দণ্ডিত হতে পারত।

(২) যে ব্যক্তি কোনো অপরাধে খালাস বা দণ্ডিত হয়েছে, তাকে পরবর্তীতে অন্য কোনো আলাদা অপরাধের জন্য বিচার করা যেতে পারে, যদি সেই অপরাধটি তার পূর্ববর্তী বিচারাধীন মামলায় ধারা ২৩৫(১) অনুযায়ী আলাদা অভিযোগ হিসেবে তার বিরুদ্ধে আনা হতে পারত।

(৩) যে ব্যক্তি কোনো অপরাধে দণ্ডিত হয়েছে এবং সে অপরাধের ফলে কোনো অন্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যা তার প্রথম দণ্ডিত অপরাধ থেকে পৃথক ছিল, তাকে পরবর্তীতে সেই অপরাধের জন্য বিচার করা যেতে পারে, যদি অপরাধের ফলাফল তখন ঘটেনি বা আদালত জানত না যে তা ঘটেছে।

(৪) যে ব্যক্তি কোনো অপরাধে খালাস বা দণ্ডিত হয়েছে এবং সে অপরাধটি যে কোনো কাজ দ্বারা সংঘটিত হয়েছিল, তাকে সেই একই কাজ দ্বারা সংঘটিত অন্য কোনো অপরাধের জন্য পরবর্তীতে অভিযোগ আনা এবং বিচার করা যেতে পারে, যদি প্রথমে বিচারকারী আদালত সেই অপরাধের বিচার করার জন্য যোগ্য না ছিল।

(৫) এই ধারায় কোনো কিছুই General Clauses Act, ১৮৯৭ এর ধারা ২৬ বা এই কোডের ধারা ১৮৮ এর বিধানকে প্রভাবিত করবে না।
৫,৭৪৯.
কোনো দেওয়ানি মোকদ্দমা একের অধিক আদালতে দায়েরযোগ্য হলে এবং অনুরূপ আদালতসমূহ একই আপিল আদালতের অধীন হলে, কোন আদালতে মোকদ্দমা স্থানান্তরের আবেদন করতে হয়?
  1. উক্ত আপিল আদালতে
  2. হাইকোর্ট বিভাগে
  3. বিচারিক আদালতে
  4. যেকোনো মোকদ্দমা দায়েরযোগ্য আদালতে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২২ থেকে ২৪ পর্যন্ত মোকদ্দমা স্থানান্তরের বিধান রয়েছে। ধারা ২২ এ কোন মোকদ্দমা একের অধিক আদালতে দায়েরযোগ্য হলে, তা স্থানান্তরের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। উক্ত ধারায় শুধুমাত্র বিবাদী অপর পক্ষকে নোটিশ দিয়ে প্রথম সম্ভাব্য সুযোগে (At the earliest possible opportunity) অপর একটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করতে পারবে।

• ধারা ২৩ (কোন আদালতে আবেদন করতে হবে)-
১) যখন এখতিয়ারসম্পন্ন একাধিক আদালত একই আপিল আদালতের অধীন হয়, তখন উক্ত আপিল আদালতে ২২ ধারানুযায়ী আবেদন পেশ করতে হবে।
২) যখন অনুরূপ আদালতসমূহ বিভিন্ন আপিল আদালতের আওতাধীনে হয় তখন হাইকোর্ট ডিভিশনে আবেদন পেশ করতে হবে।

Sec.-23: To what Court application lies-
1) Where the several Courts having jurisdiction are subordinate to the same Appellate Court, an application under section 22 shall be made to the Appellate Court.
2) Where such Courts are subordinate to different Appellate Courts the application shall be made to the High Court Division.
৫,৭৫০.
নিঃস্ব ব্যক্তির আপিলের ক্ষেত্রে নিঃস্বতা সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতা কার?
  1. শুধু ট্রায়াল কোর্ট
  2. শুধু আপিল আদালত
  3. শুধুমাত্র ডিক্রি প্রদানকারী আদালত
  4. আপিল আদালত বা ডিক্রি প্রদানকারী আদালত
ব্যাখ্যা

আদেশ ৪৪ বিধি-২: নিঃস্বতা সম্বন্ধে তদন্ত:
আবেদনকারীকে নিঃস্বতা সম্পর্কে আপিল আদালত স্বয়ং অথবা যে আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আদালতের আদেশক্রমে আপিল করা হয়েছে, সেই আদালত তদন্ত করতে পারবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, আবেদনকারী যদি যে আদালতের ডিক্রি হতে আপিল করা হয় সে আদালতে নিঃস্ব ব্যক্তি হিসাবে মোকদ্দমা বা আপিল করার অনুমতি পেয়ে থাকে, তাহলে আপিল আদালত অনুরূপ তদন্তের নির্দেশ দিতে কারণ না দেখলে তার নিঃস্বতা সম্পর্কে পুনরায় তদন্ত করার প্রয়োজন হবে না।

৫,৭৫১.
Mischief Rule এর মূল লক্ষ্য কী?
  1. সংবিধানের সীমা নির্ধারণ
  2. আইন প্রণেতাদের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করা
  3. বিচারকদের ক্ষমতা বাড়ানো
  4. কঠোরভাবে আইনের ভাষাগত ব্যাখ্যা দেওয়া
ব্যাখ্যা
The Mischief Rule of Interpretation of Statutes-
Mischief Rule বিধি ব্যাখ্যার একটি পদ্ধতি, যা আইন প্রণেতাদের উদ্দেশ্য নির্ধারণের উপর গুরুত্ব দেয়। এটি যুক্তরাজ্যে ১৬ শতকে উদ্ভূত এবং Heydon's Case এ প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে বলা হয় যে, কোনো আইন ব্যাখ্যা করার প্রধান উদ্দেশ্য হল “অপরাধ এবং ত্রুটি” সনাক্ত করা, যেগুলি আইন প্রণয়নকারী কর্তৃপক্ষ সংশোধন করতে চেয়েছিল এবং একটি কার্যকরী প্রতিকার প্রদান করা। এই রুলটি মূলত এ প্রশ্নের উত্তর দেয়: পূর্ববর্তী আইন কী সমস্যা সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছিল, যার কারণে এই নতুন আইন প্রণীত হয়েছে।

Heydon's Case (1584) 3 CO REP এর মধ্যে আইন ব্যাখ্যা করার জন্য চারটি বিষয় উল্লেখ করা হয়:
- আইন প্রণীত হওয়ার পূর্বে সাধারণ আইন (Common Law) কী ছিল?
- "অপরাধ এবং ত্রুটি" কী ছিল, যা সাধারণ আইন সমাধান করেনি?
- সংসদ কী প্রতিকার প্রদান করার উদ্দেশ্যে আইন প্রণয়ন করেছিল?
- প্রতিকারটির পেছনে আসল কারণ কী ছিল?

এই রুলের ব্যবহার বিচারকদের জন্য অধিক নমনীয়তা প্রদান করে, যাতে তারা আইন প্রণেতাদের উদ্দেশ্যকে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারেন, বর্ননামূলক এবং স্বর্ণিম রুলের মতো কঠোরভাবে বাধ্য না হয়ে। তবে, এই রুলের বিরুদ্ধে সমালোচনা রয়েছে, কারণ এটি আইনের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে এবং নির্বাচনহীন বিচারকদের কাছে অস্বাভাবিকভাবে অধিক ক্ষমতা দিতে পারে, যা গণতান্ত্রিকভাবে ভুল বলে মনে করা হয়। তদুপরি, এটি পুরনো বলে মনে করা হয় কারণ বর্তমানে সাধারণ আইন আর আইনের প্রধান উৎস নয়।
৫,৭৫২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারার বিধান কী?
  1. Principles of rectification
  2. Presumption as to intent of parties
  3. When instrument may be rectified
  4. Specific enforcement of rectified contract
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৩১ ধারার বিধান মতে দলিল সংশোধনের আদেশ দেওয়া যায় যখন প্রতারণা বা পারস্পরিক বা উভয়পক্ষের ভুলের কারণে যদি দলিলের পক্ষদের সঠিক অভিপ্রায় প্রকাশ না পায়।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৩১ ধারার বিধান-
যখন দলিল সংশোধন করা যেতে পারে যখন প্রতারণার মাধ্যমে বা পক্ষগণের পারস্পরিক ভুলের জন্য কোন লিখিত চুক্তি বা অন্য কোন লিখিত দলিল প্রকৃত অর্থে তাদের উদ্দেশ্য প্রকাশ করে না, তখন যেকোনো পক্ষ অথবা তাদের স্বার্থ- সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দলিলটি সংশোধিত করে নেওয়ার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত যদি এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত দেখতে পান যে, দলিল প্রণয়নের সময় প্রতারণা অথবা ভুল করা হয়েছে এবং তা কার্যকর করবার ক্ষেত্রে পক্ষগণের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিরূপণ করতে সক্ষম হয়, তাহলে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে যতদূর পর্যন্ত তৃতীয় ব্যক্তি কর্তৃক সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময়ে অর্জিত অধিকারে হস্তক্ষেপ না করেই করা যায়, ততদূর পর্যন্ত দলিল সংশোধন করতে পারেন - যাতে দলিলের এই উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে সক্ষম হয়।
 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী ২ ধরনের দলিল সংশোধন করা যায়-
i) লিখিত দলিল ও
ii) লিখিত চুক্তি।
 
⇒ ৩ কারণে দলিল সংশোধন করা যায়-
(১) দলিলের কোন পক্ষ প্রতারণা করলে;
(২) উভয় পক্ষে ভুল;
(৩) দলিলের উদ্দেশ্য ব্যক্ত না হলে।
 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারার অধীন দলিল সংশোধনের প্রতিকার শুধুমাত্র লিখিত চুক্তি সংশোধনের ক্ষেত্রে  বা অন্য যেকোনো লিখিত দলিল সংশোধনের ক্ষেত্রে  প্রযোজ্য হবে। দলিল সংশোধন করা আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (Discretionary Power)। চুক্তি বা দলিলের পক্ষগণ বা তাদের প্রতিনিধিরা দলিল সংশোধনের জন্য মামলা করতে পারে।
--------------
⇒ SR Act-Section-31. When instrument may be rectified:
-When, through fraud or a mutual mistake of the parties, a contract or other instrument in writing does not truly express their intention, either party, or his representative in interest, may institute a suit to have the instrument rectified; and if the Court find it clearly proved that there has been fraud or mistake in framing the instrument, and ascertain the real intention of the parties in executing the same, the Court may in its discretion rectify the instrument so as to express that intention, so far as this can be done without prejudice to rights acquired by third persons in good faith and for value.
৫,৭৫৩.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৪৭ বিধি-৭ অনুসারে, রিভিউ আবেদন প্রত্যাখ্যানের আদেশের বিরুদ্ধে কী করা যায়?
  1. আপিল দাখিল করা যায়
  2. রিভিশন দাখিল করা যায়
  3. নতুন রিভিউ আবেদন করা যায়
  4. কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায় না
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার ৪৭, বিধি ৭ এর বিধান অনুসারে, রিভিউ আবেদন প্রত্যাখ্যানের আদেশ আপিলযোগ্য নয়, তবে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি এর বিরুদ্ধে রিভিশন দাখিল করতে পারেন। এর বিপরীতে, যদি রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করা হয়, তবে সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দাখিল করা যায়।
- ৪৭ আদেশ ৪ বিধি এর বিধান যেক্ষেত্রে আবেদনপত্র অগ্রাহ্য হয়: আদালত যদি মনে করেন রিভিউ এর যথেষ্ট কারণ আছে তাহলে তা মঞ্জুর করতে এবং যদি মনে করেন যথেষ্ট কারণ নেই তাহলে তা না-মঞ্জুর করতে পারেন।
- ৪৭ আদেশ ৭ বিধি এর বিধান প্রত্যাখ্যানের আদেশ আপিলযোগ্য নয় ; আবেদন মঞ্জুর করার আদেশে আপত্তি: রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করলে তার বিরুদ্ধে আপিল চলে তবে রিভিউ আবেদন না মঞ্জুর করলে রিভিশন চলবে।

- দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১১৫ এর অধীনে, কোনো আদালতের আদেশে যদি এখতিয়ারের অপব্যবহার বা আইনগত ভ্রান্তি থাকে, তবে উচ্চতর আদালতে রিভিশন দাখিল করা যায়। রিভিউ আবেদন প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে, যদি আবেদনকারী মনে করেন যে আদালত ভুলভাবে আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে বা বিধি ১ বা বিধি ৪ এর শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে তারা রিভিশনের মাধ্যমে উচ্চতর আদালতে (যেমন, হাইকোর্ট বিভাগ) এর প্রতিকার চাইতে পারেন।

- রিভিউ আবেদন প্রত্যাখ্যানের আদেশ: রিভিউ আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলে সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না। তবে, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১১৫ এর অধীনে উচ্চতর আদালতে রিভিশন দাখিল করতে পারেন, যদি তারা প্রমাণ করতে পারেন যে আদালতের আদেশে আইনগত ভ্রান্তি বা এখতিয়ারের অপব্যবহার হয়েছে।
- রিভিউ আবেদন মঞ্জুরের আদেশ: যদি রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করা হয়, তবে সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দাখিল করা যায়, বিশেষ করে যদি আবেদন মঞ্জুর অর্ডার ৪৭, বিধি ১ বা বিধি ৪ এর বিধান লঙ্ঘন করে দেওয়া হয়। এই আপিল সাধারণত উচ্চতর আদালতে দাখিল করা হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়।
৫,৭৫৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ধারায় কী বলা হয়েছে?
  1. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির জামিন দেওয়া যাবে
  2. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখা যাবে না
  3. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ৭২ ঘণ্টা আটক রাখা যাবে
  4. ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিচার করতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ধারা-গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে চব্বিশ ঘন্টার বেশী সময় আটক রাখা যাবে না:
কোন পুলিশ অফিসার বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারকৃত কোন ব্যক্তিকে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যৌক্তিক সময়ের চাইতে অধিক কাল আটক রাখবেন না এবং ১৬৭ ধারার বিধান অনুসারে কোন ম্যাজিষ্ট্রেটের বিশেষ আদেশ না থাকলে এরূপ আটকের সময় গ্রেফতারের স্থান হতে ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে যাবার সময় বাদ দিয়ে ২৪ (চব্বিশ) ঘন্টার বেশী হবে না।
 
Section 61- Person arrested not to be detained more than twenty-four hours:
No police-officer shall detain in custody a person arrested without warrant for a longer period than under all the circumstances of the case is reasonable, and such period shall not, in the absence of a special order of a Magistrate under section 167, exceed twenty-four hours exclusive of the time necessary for the journey from the place of arrest to the Magistrate's Court.
৫,৭৫৫.
The General Clauses Act, 1897 এর কোন ধারায় “একই অপরাধের জন্য দুইবার শাস্তি দেওয়া যাবে না” বিধান আছে?
  1. ধারা ১৬
  2. ধারা ১৮
  3. ধারা ২৬
  4. ধারা ২৭
ব্যাখ্যা

⇒ The General Clauses Act, 1897 এর ধারা ২৬–এ বলা হয়েছে, যদি কোনো কার্য বা বিচ্যুতি দুই বা ততোধিক আইনের অধীনে শাস্তিযোগ্য হয়, তবে অপরাধীকে যে কোনো এক আইনের অধীনে অভিযুক্ত করা যাবে।
- একই অপরাধের জন্য দুইবার শাস্তি দেওয়া যাবে না, যা Doctrine of Double Jeopardy–এর প্রতিফলন।

⇒ The General Clauses Act, 1897 এর ২৬ ধারার বিধান: দুই বা ততোধিক আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে বিধান:
যেক্ষেত্রে কোন কার্য বা বিচ্যুতি দুই বা ততোধিক আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হয়, সেই ক্ষেত্রে অপরাধীকে ঐ আইন সমূহের সকল বা যে কোন একটির অধীন অভিযুক্ত এবং শান্তি প্রদান করা যাবে, কিন্তু একই অপরাধের জন্য দুইবার শান্তি প্রদান করা যাবে না।
দোবারা সাজা নীতিটি আরো কয়েকটি আইনে বর্ণিত আছে। যথা:
-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(২);
- ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪০৩;
- দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ১১;
- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৪০; এবং
- ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮ এর ধারা ৮।
----------------
⇒ The General Clauses Act, 1897, Section 26. Provision as to offences punishable under two or more enactments:
- Where an act or omission constitutes an offence under two or more enactments, then the offender shall be liable to be prosecuted and punished under either or any of those enactments, but shall not be liable to be punished twice for the same offence.

৫,৭৫৬.
'Special law prevails over general law' এই নীতি দণ্ডবিধির কোন ধারায় প্রকাশ পেয়েছে?
  1. ২ ধারা
  2. ৩ ধারা
  3. ৪ ধারা
  4. ৫ ধারা
ব্যাখ্যা

The Penal Code, 1860 এর ধারা ৫: এই আইনে কিছু বিশেষ আইন প্রভাবিত হবে না:
এই আইনের কোনো কিছুই এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না যে, তা প্রজাতন্ত্রের (রাষ্ট্রের) সেনা, নৌ বা বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা, সৈনিক, নাবিক বা বিমানকর্মীদের বিদ্রোহ (mutiny) বা পলায়ন (desertion) সম্পর্কিত শাস্তির জন্য প্রণীত কোনো আইনকে রদ, পরিবর্তন, স্থগিত বা প্রভাবিত করবে।

এছাড়াও, কোনো বিশেষ বা স্থানীয় আইন এই আইনের দ্বারা প্রভাবিত হবে না

৫,৭৫৭.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ৪৫ক ধারার অধীনে বিশেষজ্ঞের রিপোর্টের অনুলিপি কার কাছে প্রদান করতে হবে?
  1. মামলার সকল পক্ষকে
  2. শুধুমাত্র বাদী পক্ষকে
  3. শুধুমাত্র অভিযুক্ত পক্ষকে
  4. শুধু যার পক্ষে তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে সেই পক্ষকে
ব্যাখ্যা

 ⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারার বিধান- শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত: -
(১) আদালতের অনুমতি ব্যতীত একজন সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না যদি না তার রিপোর্টের একটি অনুলিপি, উপ-ধারা (২) অনুসারে সমস্ত পক্ষকে দেওয়া না হয়।

(২) একজন বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন আদালতের কাছে পাঠানো হবে এবং সেই পক্ষের কাছে নয় যার পক্ষে তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।

৫,৭৫৮.
সাক্ষী সমন অমান্য করলে কি ব্যবস্থা নেয়া যাবে?
  1. শুধুমাত্র গ্রেফতারি পরোয়ানা 
  2. গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং ক্রোকাদেশ
  3. শুধুমাত্র ক্রোকাদেশ
  4. শুধুমাত্র জরিমানা
ব্যাখ্যা
♦ আদেশ ১৬ বিধি-১০ মোতাবেক সাক্ষী সমন অমান্য করলে:

ক) আদালত উক্ত সাক্ষীর প্রতি হুলিয়া জারি করতে পারবেন। হুলিয়ার একটি কপি তার বাসগৃহে বা প্রকাশ্য স্থানে ঝুলিয়ে দিতে হবে।

খ) গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং আদালত চাইলে সম্পত্তি ক্রোকাদেশ দিতে পারেন।

♦তবে স্বল্প এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত স্থাবর সম্পত্তি  ক্রোকের কোন আদেশ দিতে পারবেন না।
৫,৭৫৯.
ধারা ৩৫৬ বা ৩৫৭ অনুসারে গৃহীত সাক্ষ্য কীভাবে লিপিবদ্ধ করা হবে?
  1. প্রশ্নোত্তর আকারে
  2. বিবরণ আকারে
  3. সংক্ষিপ্ত আকারে
  4. সারমর্ম আকারে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫৯: ধারা ৩৫৬ বা ৩৫৭ অনুসারে গৃহীত সাক্ষ্য লিপিবদ্ধের পদ্ধতি:
(১) ধারা ৩৫৬ বা ৩৫৭ অনুসারে গৃহীত সাক্ষ্য সাধারণত প্রশ্নোত্তর আকারে লিপিবদ্ধ হবে না বরং বিবরণ আকারে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
(২) ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা জজ ইচ্ছা করলে কোন বিশেষ প্রশ্ন ও উত্তর লিপিবদ্ধ করতে বা করাতে পারবেন।

Section 359: Mode of recording evidence:
(1) Evidence taken under section 356 or section 357 shall not ordinarily be taken down in the form of question and answer, but in the form of a narrative.
(2) The Magistrate or Sessions Judge may, in his discretion take down, or cause to be taken down, any particular question and answer.
৫,৭৬০.
ফৌজদারি কার্যবিধি 1898 এর Section 167 অনুযায়ী, রিমান্ডে পাঠানোর আগে ম্যাজিস্ট্রেট কী নির্দেশ দিতে পারেন?
  1. জামিন দিতে 
  2. আদালতে হাজির করতে
  3. চিকিৎসক দ্বারা পরীক্ষা করতে
  4. মামলা প্রত্যাহার করতে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮, (Act No. V of 1898)-এর ধারা ১৬৭-এর সংশোধিত রূপে, বিশেষত দ্বিতীয় সংশোধনী অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর অধীনে, ধারা ১৬৭(২ক) (Section 167(2A)) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ হেফাজতে আটকের (রিমান্ড) অনুমোদন দেওয়ার আগে নির্দেশ দিতে পারেন যে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক দ্বারা পরীক্ষা করা হবে। এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা যাচাই করা এবং পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ প্রতিরোধ করা। যদি হেফাজতের সময় নির্যাতনের অভিযোগ উঠে বা শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, তবে ম্যাজিস্ট্রেট আবারও চিকিৎসা পরীক্ষার নির্দেশ দিতে পারেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারেন।
- অর্থাৎ  ধারা ১৬৭(২ক) অনুসারে, রিমান্ডে পাঠানোর আগে ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ দিতে পারেন যে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক দ্বারা পরীক্ষা করা হবে।
-------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section-167 (2A) A Magistrate authorizing the detention of an accused person in police custody under sub-section (2), may order that the accused be examined by a medical officer of nearest government hospital before he is handed over to such custody; and upon expiry of the period of police custody, the accused shall be produced before the Magistrate without unnecessary delay; and if, upon such production, there appears to be any mark of injury on the body of the person accused, or the accused alleges that he has been subjected to torture during such custody, the Magistrate shall direct that the accused be examined by a medical officer of the nearest government hospital and where the medical report reveals that the accused has been subjected to torture during police custody, the Magistrate shall proceed in accordance with law.

৫,৭৬১.
যে কোনো ঘটনা যা আদালতকে মামলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে সহায়তা করে, সেগুলোকে সাক্ষ্য আইনের _____ ধারা অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক হিসেবে গণ্য করা হবে।
  1. ১৩
  2. ১২
  3. ১৬
  4. ১৫
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী,
যে কোনো ঘটনা যা আদালতকে মামলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে সহায়তা করে, সেগুলোকে প্রাসঙ্গিক হিসেবে গণ্য করা হবে।

কিছু প্রাসঙ্গিক ঘটনার উদাহরণ:
১. ক্ষতির প্রকৃতি ও আকার সম্পর্কিত ঘটনা (শারীরিক ক্ষতি, আর্থিক ক্ষতি ইত্যাদি);
২. ক্ষতিগ্রস্থের আর্থিক অবস্থা বুঝতে সাহায্যকারী ঘটনা (আয়, খরচ ইত্যাদি);
৩. দায়ী পক্ষের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কিত ঘটনা;

৪. দায়িত্বের প্রকৃতি ও কারণ বুঝতে সাহায্যকারী ঘটনা;
৫. ক্ষতির ফলাফল সম্পর্কিত ঘটনা (শারীরিক/মানসিক অসুস্থতা ইত্যাদি);
৬. ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পর্কিত ঘটনা।

সুতরাং ১২ ধারার লক্ষ্য হলো ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে যে কোনো প্রাসঙ্গিক ঘটনাকে গ্রহণ করা যাতে আদালতকে সহায়তা করা যায়। প্রাসঙ্গিকতার মূল লক্ষ্য হল যথাযথ ক্ষতিপূরণ নির্ণয়।
৫,৭৬২.
‘ক’ জানত তার স্বামী খুন করেছে। সে তাকে শাস্তি থেকে রক্ষা করার জন্য লুকিয়ে রাখে। এই অবস্থায় ‘ক’ সর্বোচ্চ কী শাস্তি পেতে পারে?
  1. ৬ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  3. কোনো দণ্ড হবে না
  4. ৬ মাসের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ২১২ ধারায় বলা হয়েছে— অপরাধীকে আশ্রয় দিলে বা লুকিয়ে রাখলে শাস্তি হবে। কিন্তু যদি অপরাধীকে তার স্বামী বা স্ত্রী আশ্রয় দেয় বা লুকিয়ে রাখে, তাহলে এ ধারা প্রযোজ্য হবে না।

⇒ দণ্ডবিধির ২১২ ধারায় অপরাধীকে আশ্রয় বা লুকিয়ে রাখার জন্য শাস্তির বিধান আছে। তবে, যদি দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী তাকে আশ্রয় দেন, তবে তারা ২১২ ধারায় দণ্ডিত হবেন না।
যদি দোষী ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে আশ্রয়দাতা পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যাবজ্জীবন বা দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে, দণ্ডিতের জন্য শাস্তি তিন বছর পর্যন্ত। দশ বছরের নিচে এক বছর পর্যন্ত দণ্ডনীয় অপরাধে দণ্ডিত হলে, দণ্ডের সর্বাধিক মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড হতে পারে।
এই ধারার 'অপরাধ' বলতে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় যে কোনো কাজ বোঝানো হয়েছে, যা বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত হলেও দণ্ডনীয় হবে। তবে, দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী যদি তাকে আশ্রয় দেন, তাহলে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না। 

- দণ্ডবিধির ২১২ ধারার বিধান দোষী ব্যক্তিকে আশ্রয় দান করা:- কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দোষী বলে জ্ঞাত করা থাকা সত্ত্বেও অথবা সে দোষী বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তাকে আইনের সাজা হতে বাঁচাবার উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখে বা আশ্রয়দান করে, সেক্ষেত্রে-
দোষী ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:
- যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
দোষী ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:
- যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে কিংবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
যদি অপরাধটি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় এবং দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় না হয়, তবে সে ব্যক্তি সেই অপরাধটির জন্য বিহিত প্রকারের কারাদণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

অত্র ধারার 'অপরাধ' বলতে বাংলাদেশের মধ্যে যে কাজ অনুষ্ঠিত হলে তা ৩০২, ৩০৪, ৩৮২, ৩৯২, ৩৯৩, ৩৯৪, ৩৯৫, ৩৯৬, ৩৯৭, ৩৯৮, ৩৯৯, ৪০২, ৪৩৫, ৪৩৬, ৪৪৯, ৪৫০, ৪৫৭, ৪৫৮, ৪৫৯ এবং ৪৬০ ধারায় যে কোনটি অনুযায়ী দণ্ডনীয় হত, তা বাংলাদেশের বাইরে যেকোন স্থানে অনুষ্ঠিত হলে তাকেও বুঝাবে এবং অনুরূপ যেকোন কাজ যেন অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই সংঘটনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, এমনভাবেই দণ্ডনীয় বলে পরিগণিত হবে।

⇒ ব্যতিক্রম:- দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অনুরূপ আশ্রয়দান করলে বা লুকিয়ে রাখলে তখন এই বিধান প্রয়োগযোগ্য হবে না।
--------
⇒ Exception. This provision shall not extend to any case in which the harbour or concealment is by the husband or wife of the offender.

৫,৭৬৩.
শুনানীর দিন বাদী ক” আদালতে হাজির হতে পারিনি। আদালত মোকদ্দমাটি খারিজ করে দিয়েছে। এই ক্ষেত্রে বাদী নিম্ম লিখিত কোন পদক্ষেপ নিতে পারে?
  1. নতুন করে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে
  2. আপীল করতে পারে
  3. খারিজ আদেশ বাতিলের আবেদন করতে পারবে
  4. রিভিউ আবেদন করতে পারে
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ নং আদেশের ৮ নং বিধিমতে শুনানির দিন বাদী হাজির না হওয়ার কারণে আদালত মামলা খারিজের আদেশ প্রদান করলে, বাদী উক্ত বিষয়ে নতুন করে মামলা দায়ের করতে পারবে না।
♦খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার- শুনানির দিন বাদী হাজির না হওয়ার কারণে আদালত মামলা খারিজের আদেশ প্রদান করলে, বাদী উক্ত খারিজ আদেশের বিরূদ্ধে ২ ধরনের প্রতিকার পেতে পারে। যথা-
i) খারিজ আদেশ রদ বা বাতিল; অথবা ii) সরাসরি খারিজ আদেশ রদ বা বাতিল ।
i) আদেশ-৯, বিধি-৯: খারিজ আদেশ রদ বা বাতিল (Set-aside dismissal)- শুনানির দিন বাদী হাজির না হওয়ার কারণে আদালত মামলা খারিজের আদেশ প্রদান করলে বাদী ৯ নং আদেশের ৯ নং বিধিমতে মোকদ্দমা শ্রবণের সন্তোষজনক কারণ দর্শাতে পারলে উক্ত খারিজ আদেশ রদ বা বাতিলের জন্য আবেদন করতে পারবে।
♦ii) আদেশ-৯, বিধি-৯ক: সরাসরি খারিজ আদেশ রদ বা বাতিল (Directly setting-aside dismissal )- বিলম্ব এড়ানো ও বিচার তরান্বিত করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ নং আদেশের ৯ক বিধিমতে বাদী উক্ত খারিজ আদেশের বিরূদ্ধে সরাসরি রদ বা বাতিলের আবেদন করতে পারবে, তবে শর্ত-
 খারিজ আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে সরাসরি খারিজ আদেশ রদ বা বাতিলের আবেদন করতে হবে; এবং
 অনধিক ১০০০ টাকা খরচ প্রদান করতে হবে। সরাসরি খারিজ রদের আদেশ একবারের বেশি হবে না।
♦অর্থাৎ যেক্ষেত্রে বাদী হাজির হয়না সেক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমাটি খারিজের আদেশ দিলে উক্ত বাদী নতুন মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে না কিন্তু বাদী খারিজ আদেশ বাতিলের জন্য আবেদন রুজু করতে পারবে।
৫,৭৬৪.
দলিল উপস্থাপনের জন্য ডাকা ব্যক্তিকে কখন জেরা করা যেতে পারে?
  1. কখনোই নয়
  2. দলিল জমা দেওয়ার পরপর
  3. যখন তাকে সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়
  4. যখন সে সাক্ষ্য দিতে ইচ্ছুক হয়
ব্যাখ্যা

The Evidence Act, 1872 এর ধারা ১৩৯ – দলিল উপস্থাপনের জন্য ডাকা ব্যক্তির জেরা:
কোন ব্যক্তি যদি কেবলমাত্র কোনো দলিল উপস্থাপন করার জন্য সমনপ্রাপ্ত হয়ে হাজির হন, তাহলে তিনি শুধুমাত্র সেই দলিলটি উপস্থাপন করার কারণে সাক্ষী হিসেবে গণ্য হন না, এবং তাকে জেরা (cross-examination) করা যাবে না — যতক্ষণ পর্যন্ত না তাকে সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়।

৫,৭৬৫.
দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারা কোন অপরাধের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ধর্ষণ
  2. ব্যভিচার
  3. নারী পাচার
  4. যৌন হয়রানি
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৮৬০-এর ৪৯৭ ধারা "ব্যভিচার" (Adultery) সংক্রান্ত। এই ধারায় বলা হয়েছে যদি কোনো পুরুষ অপর কোনো ব্যক্তির স্ত্রীর সাথে,
→ তার স্বামীর সম্মতি বা সমর্থন ছাড়া যৌন সঙ্গম করে
→ এবং তা ধর্ষণের পর্যায়ে না পড়ে,
→ তবে এটি ব্যভিচার হিসেবে গণ্য হবে।
এই অপরাধের শাস্তি:৫ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড।
- মেয়েটিকে (স্ত্রীকে) এই অপরাধে সহায়তাকারী হিসেবে দণ্ডিত করা যাবে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারার বিধান ব্যভিচার:
-কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তির স্ত্রী অথবা যাকে সে অন্য কোন ব্যক্তির স্ত্রী বলে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ আছে এমন কোন ব্যক্তির সাথে উক্ত অন্য ব্যক্তির সম্মতি ও সমর্থন ছাড়া এইরূপ যৌন সঙ্গম করে যা নারী ধর্ষণের সামিল নয়, তবে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের অপরাধের জন্য দোষী হবে এবং তাকে ৫ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে।
- অনুরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রী ব্যক্তিটি দুষ্কর্মের সহায়তাকারী হিসেবে দণ্ডিত হবে না।
-------------
⇒The Penal Code, 1860, Section 497. Adultery:- Whoever has sexual intercourse with a person who is and whom he knows or has reason to believe to be the wife of another man, without the consent or connivance of that man, such sexual intercourse not amounting to the offence of rape, is guilty of the offence of adultery, and shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to five years, or with fine, or with both.
In such case the wife shall not be punishable as an abettor.
৫,৭৬৬.
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ ভঙ্গ করা হলে ভঙ্গকারীকে সর্বোচ্চ কতদিন Civil prison এ রাখার আদেশ দেয়া যেতে পারে?
  1. ২ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ৪ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩৯ বিধি ২ অনুযায়ী 
⇒ যদি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হয়, অথবা কোন শর্ত ভঙ্গ করা হয় তবে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরকারী আদালত দোষী ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দিতে পারেন, এবং উক্ত ব্যক্তিকে অনধিক ৬ মাস মেয়াদের জন্য  ( Civil prison ) দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখারও নির্দেশ দিতে পারেন।
⇒ চুক্তিভঙ্গ বা অন্য কোন প্রকার ক্ষতি করা থেকে বিবাদীকে বিরত রাখার জন্য মোকদ্দমা শুরুর পর যেকোন সময়, রায়ের পূর্বে বা পরে আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারে। 
⇒ এরূপ কোন ক্রোক ১ বছরের অধিক বলবৎ থাকবে না, উক্ত সময়ের পরও যদি অবাধ্যতা বা চুক্তি লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে, তাহলে সম্পত্তি নিলামে বিক্রয় করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে আদালত উপযুক্ত পরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে পারে। 
-----------------------
CPC-Order-39 Rule-2.Injunction to restrain repetition or continuance of breach:
(1) In any suit for restraining the defendant from committing a breach of contract or other injury of any kind, whether compensation is claimed in the suit or not, the plaintiff may, at any time after the commencement of the suit, and either before or after judgment, apply to the Court for a temporary injunction to restrain the defendant from committing the breach of contract or injury complained of, or any breach of contract or injury of a like kind arising out of the same contract or relating to the same property or right.
(2) The Court may by order grant such injunction, on such terms, as to the duration of the injunction, keeping an account, giving security or otherwise, as the Court thinks fit.
(3) In case of disobedience, or of breach of any such terms, the Court granting an injunction may order the property of the person guilty of such disobedience or breach to be attached, and may also order such person to be detained in the civil prison for a term not exceeding six months, unless in the meantime the Court directs his release.
(4) No attachment under this rule shall remain in force for more than one year, at the end of which time, if the disobedience or breach continues, the property attached may be sold, and out of the proceeds the Court may award such compensation as it thinks fit, and shall pay the balance, if any, to the party entitled thereto.
৫,৭৬৭.
সালিসি কাউন্সিল দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দিলে প্রথম স্ত্রীর প্রতিকার-
  1. পারিবারিক আদালতে আপীল করা
  2. পারিবারিক আদালতে রিভিশন করা
  3. সহকারী জজের নিকট আপীল করা
  4. সহকারী জজের নিকট রিভিশন করা
ব্যাখ্যা
The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৬ ধারার বিধান: বহুবিবাহ:
১) কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সে সালিশী কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না বা ঐরূপ অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ অনুষ্ঠিত হলে তা The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত হবে না।

২) অনুমতির দরখাস্ত নির্ধারিত ফি সহ চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করতে হবে ও তাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমানে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেয়া হয়েছে কিনা তার উল্লেখ থাকতে হবে।

৩) দরখাস্ত গ্রহণ করার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করলে সেক্ষেত্রে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন।

৪) উক্ত দরখাস্তে বিবেচনা করার সময় সালিশি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোন পক্ষ নির্দিষ্ট ফি প্রদানক্রমে সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার (Revision) জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে পারে; তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ও কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

৫) কোন লোক যদি সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে-
ক) বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের তলবী ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে। উক্ত টাকা উক্তরুপে পরিশোধ না করা হলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হবে: এবং
 খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এর শান্তি- অনধিক ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা অনধিক ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয়দণ্ড।
-----------
⇒ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 Section 6. Polygamy:
(1) No man, during the subsistence of an existing marriage, shall, except with the previous permission in writing of the Arbitration Council, contract another marriage, nor shall any such marriage contracted without such permission be registered under the Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 (LII of 1974). 

(2) An application for permission under sub-section (1) shall be submitted to the Chairman in the prescribed manner, together with the prescribed fee, and shall state the reasons for the proposed marriage, and whether the consent of the existing wife or wives has been obtained thereto.

(3) On receipt of the application under sub-section (2), the Chairman shall ask the applicant and his existing wife or wives each to nominate a representative, and the Arbitration Council so constituted may, if satisfied that the proposed marriage is necessary and just, grant, subject to such conditions, if any, as may be deemed fit, the permission applied for. 

(4) In deciding the application the Arbitration Council shall record its reasons for the decision, and any party may, in the prescribed manner, within the prescribed period, and on payment of the prescribed fee, prefer an application for revision  to the Assistant Judge concerned and his decision shall be final and shall not be called in question in any Court. 

(5) Any man who contracts another marriage without the permission of the Arbitration Council shall- 
(a) pay immediately the entire amount of the dower, whether prompt or deferred, due to the existing wife or wives, which amount, if not so paid, shall be recoverable as arrears of land revenue; and 
(b) on conviction upon complaint be punishable with simple imprisonment which may extend to one year, or with fine which may extend to ten thousand taka, or with both.
৫,৭৬৮.
বিবাহিত ব্যক্তিদ্বয়ের মধ্যে বিবাহ বলবৎ থাকাকালে কখন তাদের ভেতরের পত্রালাপ সাক্ষ্যের জন্য প্রকাশযোগ্য হয়?
  1. যদি তাদের কেউ মৃত হয়
  2. পক্ষদ্বয়ের আইনজীবী আবেদন করলে
  3. পরস্পরের ভেতরে কোনো দেওয়ানি মামলায়
  4. বর্ণিত কোনো ক্ষেত্রেই নয়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১২২ ধারা: বিবাহ বজায় থাকাকালীন বার্তা:
কোন ব্যক্তি যিনি বিবাহিত বা যাহার সহিত বিবাহ হইয়াছে, বিবাহ বজায় থাকাকালে সেই ব্যক্তির সহিত তাহার স্ত্রী বা স্বামীর বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করিতে সেই ব্যক্তিকে বাধ্য করা যাইবে না; বার্তা প্রদানকারীর বা তাহার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির সম্মতি ব্যতীত বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করিবার অনুমতিও তাহাকে দেওয়া যাইবে না, তবে বিবাহিত ব্যক্তিদ্বয়ের মধ্যে কোন দেওয়ানী মামলায় অথবা তাহাদের একজনের বিরুদ্ধে কোন অপরাধ করিবার দায়ে অপরজন ফৌজদারীতে সোর্পদ থাকিলে সেইক্ষেত্রে বার্তার বিষয় প্রকাশ করিতে দেওয়া যাইবে।

Section 122⇒ Communications during marriage:
No person who is or has been married shall be compelled to disclose any communication made to him during marriage by any person to whom he is or has been married: nor shall he be permitted to disclose any such communication, unless the person who made it, or his representative in interest, consents, except in suits between married persons, or proceedings in which one married person is prosecuted for any crime committed against the other.
৫,৭৬৯.
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার কারণে, আদালত কি কি আদেশ দিতে পারে?
  1. সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ৬ মাসের জেল
  2. ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা
  3. সম্পত্তি ক্রোক ও ৬ মাসের দেওয়ানী জেল
  4. ৬ মাসের দেওয়ানী জেল
ব্যাখ্যা
• অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ৩৯ আদেশের ২(৩) বিধির অধীন মামলা করা যায় এবং নিষেধাজ্ঞার আদেশ অমান্য করলে, আদালত উক্ত ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশ দিতে পারে এবং উক্ত ব্যক্তিকে অনধিক ৬ মাসের দেওয়ানী কারাবাসে আটকের আদেশ দিতে পারে অথবা উভয়।

দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি-২: লংঘনের পুনরাবৃত্তি বা ধারাবাহিকতা রোধক্রমে নিষেধাজ্ঞা-

১) বিবাদিকে চুক্তি লঙ্ঘন বা অন্য কোন প্রকার অনিষ্ট করা থেকে বিরত রাখার মোকদ্দমায় ক্ষতিপূরণ দাবী করা হয়ে থাকুক বা না থাকুক, মোকদ্দমা শুরু হওয়ার পর যে কোন সময় এবং রায়ের পূর্বে বা পরে বাদি অভিযোগে আনীত চুক্তি লঙ্ঘন বা অনিষ্ট করা থেকে কিংবা একই চুক্তি থেকে উদ্ভূত অথবা একই সম্পত্তি বা অধিকারের সাথে সম্পর্কিত কোন চুক্তি লঙ্ঘন বা অনিষ্ট করা থেকে বিবাদিকে বিরত রাখার জন্য আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারে।

২) নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ, হিসাব রক্ষণ, জামানত প্রদান অথবা অন্য প্রকারে আদালত উপযুক্ত মনে করে এরূপ শর্ত সাপেক্ষে অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করে আদেশ প্রদান করতে পারে।

৩) যদি অমান্য করা হয় কিংবা অনুরূপ কোন শর্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরকারী আদালত অনুরূপ অমান্য করা বা লঙ্ঘন করার জন্য দোষী ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দিতে পারে এবং অনুরূপ ব্যক্তিকে অনধিক ছয় মাস মেয়াদের জন্য দেওয়ানি জেলে আটক রাখতেও নির্দেশ দিতে পারে, যদি না আদালত ইতোমধ্যে তার মুক্তির আদেশ প্রদান করে থাকে।

৪) এই বিধির অধীনে কোন ক্রোক এক বৎসরের অধিক বলবৎ থাকবে না এবং উক্ত সময়ের পরও যদি অমান্য বা লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে তবে ক্রোকী সম্পত্তি বিক্রয় করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে আদালত উপযুক্ত মনে করে এরূপ খেসারতের আদেশ প্রদান করতে পারে এবং অবশিষ্ট অর্থ, যদি থাকে, তাতে অধিকারী পক্ষকে প্রদান করবে।
৫,৭৭০.
সাক্ষ্য আইনের ৩০ ধারা প্রযোজ্য হতে হলে অভিযুক্তদের কী শর্ত থাকতে হবে?
  1. যৌথভাবে বিচারাধীন হতে হবে
  2. পৃথক বিচারের মুখোমুখি হতে হবে
  3. আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হতে হবে
  4. একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত হতে হবে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩০- যখন দোষ স্বীকারোক্তি সহ-অভিযুক্তদের [co-accused) বিরুদ্ধে সাক্ষ্যে ব্যবহার করা যায়:
সাক্ষ্য আইনের সাধারণ নিয়ম হলো যে ব্যক্তি দোষ স্বীকারোক্তি প্রদান করে উক্ত দোষ স্বীকারোক্তি তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে অন্যকোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে না। কিন্তু সাক্ষ্য আইনের ৩০ ধারা এই নিয়মের ব্যতিক্রম।

সাক্ষ্য আইনের ৩০ ধারায় বলা হয়েছে-
যেখানে একের অধিক ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য যৌথ বিচার করা হচ্ছে, সেখানে কোন একজন অভিযুক্ত নিজেকে সহ অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জড়িয়ে কোন দোষ স্বীকারোক্তি প্রদান করলে, উক্ত স্বীকারোক্তি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হলে তা স্বীকারোক্তি প্রদানকারীসহ অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

শর্তসমূহ:
১. একই অপরাধের জন্য একাধিক ব্যক্তি অভিযুক্ত হতে হবে;
২. উক্ত একই অপরাধের জন্য তাদের যৌথ বিচার (Tried jointly) করা হবে;
৩. উক্ত অভিযুক্তদের মধ্যে কোন একজন অভিযুক্ত নিজেকেসহ অন্যান্য অভিযুক্তকে জড়িয়ে কোন দোষ স্বীকারোক্তি প্রদান করবে;
৪. এমন দোষ স্বীকারোক্তি প্রমাণিত হলে আদালত উক্ত দোষ স্বীকারোক্তি প্রদানকারীসহ অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসাবে আমলে নিতে পারে।
৫,৭৭১.
ফৌজদারি কার্যবিধি ৫০২ ধারা অনুযায়ী জামিনদার জামিননামা বাতিলের আবেদন করলে ম্যাজিস্ট্রেটের কর্তব্য-
  1. মুচলেকা বাতিল করবেন
  2. জামিনদারকে দায়মুক্তি দেবেন
  3. আসামীকে হাজির করার জন্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী করবেন
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০২ ধারার বিধান: জামিনদারের অব্যাহতি:
-জামিনদার যেকোন সময় জামিননামাটি সম্পূর্ণ বা আংশিক বাতিল করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আবেদন করতে পারবেন। এরূপ আবেদন প্রাপ্তির পর ম্যাজিস্ট্রেট মুচলেকাটি বাতিল করবেন এবং জামিনে মুক্ত আসামীকে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী করবেন এবং উক্ত জামিনদারকে অব্যাহতি দিবেন। আসামী আদালতে হাজির হলে বা তাকে হাজির করানো হলে আদালত তাকে নতুন জামিনদার সংগ্রহ করতে বলবেন এবং সে যদি জামিনদার সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাকে জেলে প্রেরন করবেন।

 - জামিনদারের অধিকার:
জামিনদার যে কোন সময় জামিননামা থেকে মুক্তি চাইতে পারেন, এই মুক্তি পূর্ণ বা আংশিক উভয়ই হতে পারে, এজন্য তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে হবে।
-ম্যাজিস্ট্রেটের কর্তব্য:
জামিনদারের আবেদন পেলে তিনি তিনটি কাজ করবেন: ক) মুচলেকা বাতিল করবেন খ) আসামীকে হাজির করার জন্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী করবেন গ) জামিনদারকে দায়মুক্তি দেবেন।
- আসামীর ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রক্রিয়া:
আসামী দুইভাবে আদালতে আসতে পারে: ক) নিজে হাজির হয়ে খ) গ্রেফতার হয়ে
- আদালতের পদক্ষেপ:
আসামীকে নতুন জামিনদার খুঁজতে নির্দেশ দেবেন, দুটি সম্ভাব্য ফলাফল: ক) নতুন জামিনদার পেলে: জামিনে মুক্তি খ) জামিনদার না পেলে: কারাগারে প্রেরণ
----------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 502: Discharge of sureties-
(1) All or any sureties for the attendance and appearance of a person released on bail may at any time apply to a Magistrate to discharge the bond, either wholly or so far as relates to the applicants. 
(2) On such application being made, the Magistrate shall issue his warrant of arrest directing that the person so released be brought before him. 
(3) On the appearance of such person pursuant to the warrant, or on his voluntary surrender, the Magistrate shall direct the bond to be discharged either wholly or so far as relates to the applicants, and shall call upon such person to find other sufficient sureties, and, if he fails to do so, may commit him to custody.
৫,৭৭২.
'ক', 'খ' কে এই শর্তে একটি খামার ইজারা দিলো যে, 'খ' প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মাইল হাঁটবে। উক্ত ইজারা-
  1. বাতিল
  2. বৈধ
  3. বাতিলযোগ্য
  4. আদালত অনুমতি দিলে বৈধ
ব্যাখ্যা

The Transfer of Property Act, 1882 এর ধারা ২৫- শর্তসহ হস্তান্তর:
যখন হস্তান্তরের মাধ্যমে একটি স্বার্থ সৃষ্টি করা হইয়া থাকে এবং উক্ত স্বার্থ এমন শর্তের উপর নির্ভরশীল করা হয় যাহা পালন করা অসম্ভব, বা আইনত নিষিদ্ধ বা এইরূপ প্রকৃতির যে, যদি তাহা পালন করিতে দেওয়া হয়, তাহা হইলে কোনো আইন ভঙ্গ হইবে বা অন্য কাহারও শরীর বা সম্পত্তির সহিত সংশ্লিষ্ট বা শরীর বা সম্পত্তির পক্ষে অনিষ্টকর, বা আদালত উহাকে নৈতিক বা জনস্বার্থের বিরোধী বলিয়া গণ্য করিবেন, সেইক্ষেত্রে উক্ত স্বার্থ কার্যকর হইবে না।

উদাহরণ-
(ক) 'ক', 'খ' কে এই শর্তে একটি খামার ইজারা দিল যে, 'খ' প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মাইল হাঁটিবে। উক্ত ইজারা বাতিল হইবে।
(খ) 'ক', 'খ' কে এই শর্তে ৫০০ টাকা প্রদান করিল যে, 'খ' 'ক' এর মেয়ে 'গ' কে বিবাহ করিবে। কিন্তু আসলে উক্ত সময়ে 'গ' মারা গিয়েছে। উক্ত হস্তান্তর বাতিল হইবে।
(গ) 'ক', 'খ' কে এই শর্তে পাঁচশত টাকা প্রদান করিল যে, 'খ' 'গ' কে খুন করিবে। এই হস্তান্তর বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে।
(ঘ) 'ক', তাহার ভাইজি 'গ' কে এই শর্তে ৫০০ টাকা প্রদান করিল যে, 'গ' তাহার স্বামীকে ত্যাগ করিবে। এইরূপ হস্তান্তর বাতিল হইবে।

৫,৭৭৩.
রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর কোন ধারা অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন অফিসার প্রাসঙ্গিক ব্যক্তি বা সাক্ষীকে তলব করার জন্য আদালত বা কর্মকর্তার সাহায্য নিতে পারেন?
  1. ধারা ৩৫
  2. ধারা ৩৬
  3. ধারা ৩৭
  4. ধারা ৩৮
ব্যাখ্যা
⇒ রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৩৬ এ নিম্নোক্ত বিধান রয়েছে:
তলব করার ক্ষমতা:
- যদি কোনো ব্যক্তি রেজিস্ট্রিকৃত ডকুমেন্টের জন্য কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি বা সাক্ষ্য প্রয়োজন মনে করেন
- রেজিস্ট্রার অফিসার তার বিবেচনায় সরকার কর্তৃক নির্দেশিত কোনো কর্মকর্তা বা আদালতকে সমন জারির জন্য অনুরোধ করতে পারেন
সমন প্রক্রিয়া:
- সমনে ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে বা কর্তৃত্বপ্রাপ্ত এজেন্টের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে
- সমনে একটি নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করতে হবে
প্রয়োগ ক্ষেত্র:
- এই ধারা মূলত ডকুমেন্ট রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় সাক্ষী বা দলিল সম্পাদনকারীকে তলব করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
- এটি একটি বিচক্ষণতামূলক (discretionary) ক্ষমতা - রেজিস্ট্রার বাধ্য নন

⇒ রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৩৬ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি রেজিস্ট্রেশন অফিসে একটি ডকুমেন্ট নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপন করে বা তার অধীনে অন্য কোনো দাবী করে এবং উক্ত ডকুমেন্টের নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য কোনো ব্যক্তি বা সাক্ষীর উপস্থিতি প্রয়োজন হয়, তবে রেজিস্ট্রেশন অফিসার সেই ব্যক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট আদালত বা কর্মকর্তার সাহায্য নিতে পারেন। এই সাহায্যের মাধ্যমে একটি তলবনামা (summons) জারি করা হয়, যা সেই ব্যক্তিকে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়, সেটা হয়তো তাকে ব্যক্তিগতভাবে বা তাঁর প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হতে হতে পারে।

এটি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যাতে কোনো বৈধতা সমস্যা তৈরি না হয় এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষী বা ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে ডকুমেন্টের সঠিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
৫,৭৭৪.
নিম্নের কোন পরিস্থিতিতে আদালত চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবেন না?
  1. যেখানে অধিকার লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয়
  2. যেখানে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে বাদী সম্পূর্ণ প্রতিকার পেতে পারেন
  3. যেখানে বিচারিক কার্যধারার জটিলতা কমানোর জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন
  4. যেখানে অধিকার লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের মানদণ্ড নেই
ব্যাখ্যা
⇒ চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual Injunction) সাধারণত তখনই আদালত মঞ্জুর করেন যখন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ প্রতিকার (adequate relief) পান না। এটি Specific Relief Act, 1877-এর ধারা 54 অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

 যদি আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হয়:
- আদালত চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা সাধারণত তখনই দেন যখন বাদীর অধিকার লঙ্ঘনের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কেবল অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।
- যদি বাদী সম্পূর্ণ প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমেই পেতে পারেন, তবে নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন হয় না।

অন্যান্য  অপশন বিশ্লেষণ:
-(ক) যেখানে অধিকার লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয় – এই পরিস্থিতিতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যেতে পারে, কারণ ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয়।
- (গ) যেখানে বিচারিক কার্যধারার জটিলতা কমানোর জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন – আদালত বিচারিক জটিলতা কমানোর স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন, যদি এটি ন্যায়সঙ্গত হয়।
-(ঘ) যেখানে অধিকার লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের মানদণ্ড নেই – যদি ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব না হয়, তবে আদালত নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন।

অর্থাৎ যদি আর্থিক ক্ষতিপূরণই বাদীর জন্য যথেষ্ট প্রতিকার হয়, তবে আদালত চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবেন না। তাই (খ) সঠিক উত্তর।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারা অনুসারে, যখন বিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকার অথবা সম্পত্তির ভোগ করার অধিকারে অন্যায় ভাবে হস্তক্ষেপ করে অথবা হস্তক্ষেপ করার হুমকি প্রদান করে তখন আদালত নিম্ন বর্ণিত পাঁচটি ক্ষেত্রে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:
১। যেখানে বিবাদী বাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার।
২। যেখানে অধিকার লঙ্ঘনের কারণে সংঘটিত বাস্তব সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই।
৩। যেখানে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত অধিকার পাওয়া যাবে না।
৪। যেখানে এমন সম্ভাবনা থাকে যে অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।
৫। যেখানে বিচার বিভাগীয় কার্যধারায় জটিলতা নিবারণের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজনীয়।

⇒ The Specific Relief Act, 1877: Section- 54 Perpetual injunctions when granted:
Subject to the other provisions contained in, or referred to by, this Chapter, a perpetual injunction may be granted to prevent the breach of an obligation existing in favour of the applicant, whether expressly or by implication.
When such obligation arises from contract, the Court shall be guided by the rules and provisions contained in Chapter II of this Act.
When the defendant invades or threatens to invade the plaintiff's right to, or enjoyment of, property, the Court may grant a perpetual injunction in the following cases (namely):-
(a) where the defendant is trustee of the property for the plaintiff;
(b) where there exists no standard for ascertaining the actual damage caused, or likely to be caused, by the invasion;
(c) where the invasion is such that pecuniary compensation would not afford adequate relief;
(d) where it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the invasion;
(e) where the injunction is necessary to prevent a multiplicity of judicial proceedings.

Explanation - For the purpose of this section a trademark is property.
৫,৭৭৫.
ধারা ১১৫(৪) অনুসারে পুনর্বিবেচনার (revision) আবেদনের জন্য কী প্রয়োজন?
  1. জেলা জজ আদালতের অনুমতি
  2. হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতি
  3. পক্ষদ্বয়ের সম্মতি
  4. আবেদনকারীর খরচ পরিশোধ করে
ব্যাখ্যা

The Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারা ১১৫(৪):
জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ, যথাযথ ক্ষেত্রে, উপ-ধারা (২) বা (৩)-এর অধীনে প্রদত্ত আদেশের পুনর্বিবেচনার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করা যাবে। তবে, হাইকোর্ট বিভাগ পুনর্বিবেচনার অনুমতি দেবে যদি এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নের ভুলের কারণে ভ্রান্তিপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যা ন্যায়বিচারের ব্যর্থতার কারণ হয়। হাইকোর্ট বিভাগ মামলা বা কার্যক্রমে যে আদেশ উপযুক্ত মনে করবে তা প্রদান করতে পারে।

⇒ Section 115(4)- An application to the High Court Division for revision of an order of the District Judge or, Additional District Judge, as the case may be, made under sub-section (2) or (3) shall lie, where the High Court Division grants leave for revision on an error of an important question of law resulting in erroneous decision occasioning failure of justice, and the High Court Division may make such order in the suit or proceeding as it thinks fit.

৫,৭৭৬.
“অসুস্থ, রোগাক্রান্ত বা দৈহিকভাবে অপারগ ব্যক্তিকে আঘাত করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তা নরহত্যা বলে গণ্য হবে”—এটি দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারার কোন ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ব্যাখ্যা–১
  2. ব্যাখ্যা–২
  3. ব্যাখ্যা–৩
  4. ব্যাখ্যা–৪
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ২৯৯ ধারার ব্যাখ্যা-১-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে: “যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগতেছে, তার দৈহিক জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।”
- অতএব, একজন মুমূর্ষু, গুরুতর অসুস্থ বা দুর্বল ব্যক্তিকে আঘাত করে তার মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করলে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে গণ্য হবে – এই বিধানটি শুধুমাত্র ব্যাখ্যা-১-এর অন্তর্ভুক্ত।

⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারার বিধান শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable homicide):- কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজ কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, সে কাজ সম্পাদন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।

- ব্যাখ্যা (Explanation)-১:- যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগতেছে, তার দৈহিক জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।

- ব্যাখ্যা (Explanation)-২:- যখন দৈহিক আঘাত বা জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে ব্যক্তি অনুরূপ দৈহিক আঘাত বা জখম ঘটায়, সে ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও যথোচিত প্রতিকারের ও সুনিপুণ চিকিৎসার ফলে সে মৃত্যু রোধ করা যেত।

- ব্যাখ্যা (Explanation)-৩:- মাতৃগর্ভে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়। কিন্তু যদি কোন শিশুর (দেহের) কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে ভুমিষ্ঠ না হয়ে থাকে।

৫,৭৭৭.
ধারা ৩৯৯ অনুযায়ী, কোন বয়সের কিশোর অপরাধীকে চরিত্র সংশোধনী প্রতিষ্ঠানে রাখা হবে?
  1. ২১ বছরের কম
  2. ১৮ বছরের কম
  3. ১৬ বছরের কম
  4. ১৫ বছরের কম
ব্যাখ্যা

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৯ ধারা- কিশোর অপরাধীকে চরিত্র সংশোধনী প্রতিষ্ঠানে আটক রাখা:
(১) যখন কোন ফৌজদারী আদালত পনের বৎসরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তিকে কোন অপরাধের জন্য কারাদণ্ড দেন, তখন উক্ত আদালত নির্দেশ দিবেন যে, উক্ত ব্যক্তিকে ফৌজদারী জেলে বন্দী না করে আটকের উপযুক্ত স্থানে সরকার কর্তৃক স্থাপিত সংশোধনাগারে আটক রাখতে হবে যেখানে উপযুক্ত শৃংখলা ও কোন দরকারী শিল্পের কোন শাখায় শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে অথবা তাকে কোন ব্যক্তি কর্তৃক পরিচালিত অনুরূপ প্রতিষ্ঠানে আটক রাখতে হবে, যে ব্যক্তি আটক ব্যক্তিদের শৃংখলা ও শিক্ষার জন্য সরকার কর্তৃক প্রণীত নিয়মাবলী অনুসরণ করতে ইচ্ছুক।

(২) এই ধারার অধীন সকল ব্যক্তির প্রতি উক্তরূপ নির্ধারিত নিয়মাবলী প্রযোজ্য হবে।

৫,৭৭৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারায় নিচের কোন পরিস্থিতিতে চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়?
  1. চুক্তিটি অছি বা জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হলে
  2. চুক্তিভঙ্গের ফলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ অপর্যাপ্ত হলে
  3. চুক্তিভঙ্গের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি নির্ণয়ের মানদণ্ড না থাকলে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা মতে, নিম্নলিখিত ৪টি ক্ষেত্রে কোন চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়: যথা-

ক) চুক্তিটি অছি বা জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হলে (when the act agreed to be done is in the performance, wholly or partly, of a trust);
খ) চুক্তিভঙ্গের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি নির্ণয়ের মানদন্ড না থাকলে (when there exists no standard for ascertaining the actual damage caused by non-performance of the act agreed to be done);
গ) চুক্তিভঙ্গের ফলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ অপর্যাপ্ত হলে (when the act agreed to be done is such that pecuniary compensation for its non-performance would not afford adequate relief); এবং
ঘ) চুক্তিভঙ্গের ফলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে (when it is probable that pecuniary compensationcannot be got for the non-performance of the act agreed to be done)- চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়।
৫,৭৭৯.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর Order XXXVIII এর বিধান কী?
  1. রিসিভার নিয়োগ
  2. কমিশন নিয়োগ
  3. ট্রাস্টি কর্তৃক মামলা
  4. রায়ের পূর্বে সম্পত্তি ক্রোক ও আটক
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩৮ এর বিধান হলো রায়ের পূর্বে সম্পত্তির ক্রোক ও আটক করা।
⇒ অনেক সময় রায় প্রদানের পূর্বেই বিবাদীকে গ্রেফতার করার প্রয়োজন হতে পারে এবং সম্পত্তি ক্রোক করার প্রয়োজন হতে পারে যেন বাদীর প্রতিকারে কোন বিলম্ব না হয়।
⇒  আদেশ ৩৮ অনুযায়ী ২ ধরনের আদেশ হতে পারে-
১) রায়ের পূর্বে গ্রেফতার,
২) রায়ের পূর্বে সম্পত্তির ক্রোক।
৫,৭৮০.
সুপ্রীমকোর্টের 'রুল মেকিং পাওয়ার' সম্পর্কে দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় বিধান আছে?
  1. ১২১
  2. ১২২
  3. ১২৩
  4. ১২৬
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১২২ অনুসারে- দেওয়ানি কার্যবিধির ১২২ ধারা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট তার নিজের ও অধঃস্তন আদালতের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে রুল তৈরি, সংযোজন, পরিবর্তন ও বাতিল করতে পারেন।
৫,৭৮১.
হাইকোর্ট বিভাগে আপিলে প্রদত্ত ডিক্রি কোন আদালত জারি করেন?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. জেলা আদালত
  3. ডিক্রী প্রদানকারী আদালত
  4. মামলার বিষয়বস্তু যে আদালতের সীমানায় ঐ আদালতে
ব্যাখ্যা
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ২১ বিধি-১০ এর বিধান জারির আবেদন (Application for execution): ডিক্রিদার ডিক্রিটি জারি করতে চাইলে ডিক্রি প্রদানকারী আদালত বা ডিক্রি জারির জন্য যে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে সেই আদালতে আবেদন করবেন।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-৩৮ এর বিধান যে আদালত কর্তৃক ডিক্রি জারি করা যায়: যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছেন, ঐ আদালত বা যে আদালতে তা জারির জন্য প্রেরিত হয়েছে, ঐ আদালত ডিক্রি জারি করতে পারে।

⇒ জারিকারক আদালত (executing court)- কোন কোন আদালত ডিক্রি জারি করতে পারেন তা দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৮ ধারা থেকে ৪৬ ধারায় বলা হয়েছে। ৩৮ ধারায় বলা হয়েছে যে, যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছেন, সেই আদালত অথবা যে আদালতে ডিক্রিটি জারির জন্য প্রেরিত হয়েছে, সেই আদালত ডিক্রি জারি করতে পারেন।

⇒ ডিক্রি জারির কাজ সর্বদা বিচারিক আদালত (Trial court) করে থাকে, এমনকি কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে কোন আপিল বা রিভিশন করা হলে, উক্ত আপিল বা রিভিশনে প্রদত্ত ডিক্রির ক্ষেত্রেও মূল আদালত অর্থাৎ বিচারিক আদালতই (Trial court) ডিক্রি জারি করবে।

⇒ ডিক্রিজারি সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি (objection) ডিক্রি জারিকারক আদালতই (executing court) নিষ্পত্তি করবে (all questions arising between the parties to the suit, relating to execution, discharge or satisfaction of the decree have to be decided by the executing court)।

⇒ An executing court can't modify the terms of the decree.
⇒ Executing court cannot question the legality, correctness or validity of the decree.
⇒  Executing court cannot go into the question whether decree has been obtained by fraud.
৫,৭৮২.
তামাদি আইন অনুযায়ী নতুনভাবে পক্ষভুক্ত বিবাদীর জন্য কোন তারিখে মামলার দায়ের হয়েছে বলে গণ্য করতে হবে?
  1. যেদিন বিবাদী স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলো
  2. যেদিন মূল মামলাটি দায়ের করা হয়েছিলো
  3. যেদিন স্থলাভিষিক্তের জন্য আবেদন করা হয়েছিলো
  4. যেদিন মামলার সমন প্রেরণ করা হয়েছিলো
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ধারা ২২ এ নতুন কোন বাদী বা বিবাদীকে স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করার ফলাফল সম্পর্কে বলা আছে।

যেক্ষেত্রে মামলা দায়ের করার পর নতুন কোন বাদী বা বিবাদীকে পক্ষভুক্ত করা হয় বা কারও স্থলাভিষিক্ত করা হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির জন্য পক্ষভুক্তির তারিখেই মামলাটি করা হয়েছে বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ উল্লিখিত প্রশ্নে সঠিক উত্তর 'যেদিন বিবাদী স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলো' সেই  তারিখে মামলার দায়ের হয়েছে বলে গণ্য করতে হবে।

তবে, যেক্ষেত্রে মামলা স্থগিত থাকার সময় স্বত্বাপণ কিংবা কোন স্বত্ব হস্তান্তরের কারণে কাউকে পক্ষভুক্ত কিংবা স্থলাভিষিক্ত করা হয় বা যেক্ষেত্রে বাদীকে বিবাদীতে কিংবা বিবাদীকে বাদীতে রূপান্তরিত করা হয় সেক্ষেত্রে ১ উপধারার কোন কিছুই প্রয়োগযোগ্য হবে না।
-----------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 22: Effect of substituting or adding new plaintiff or defendant:
(1) Where, after the institution of a suit, a new plaintiff or defendant is substituted or added, the suit shall, as regards him, be deemed to have been instituted when he was so made a party. 
(2) Nothing in sub-section (1) shall apply to a case where a party is added or substituted owing to an assignment or devolution of any interest during the pendency of a suit or where a plaintiff is made a defendant or a defendant is made a plaintiff.
৫,৭৮৩.
দণ্ডবিধির ১৪৫ ধারা অনুসারে, বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ পাওয়া সত্ত্বেও তাতে অংশগ্রহণ করলে সর্বোচ্চ কত বছর কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৪৫ ধারা অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি বেআইনি সমাবেশে যোগ দেয় বা তাতে অবস্থান করে এবং আইনসম্মতভাবে সমাবেশটি ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে সেই ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে।
এই অপরাধের জন্য শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড প্রদান করা যেতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৪৫ ধারা: বেআইনি সমাবেশকে ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানা সত্ত্বেও উহাতে যোগদান করা অথবা উহাতে থেকে যাওয়া:
কোন বেআইনি সমাবেশকে আইন-নির্দেশিত পদ্ধতিতে ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি উক্ত বেআইনি সমাবেশে যোগদান করলে বা উক্ত বেআইনি সমাবেশে থাকলে, তাকে দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে।
---------- 
⇒ The Penal Code, 1860- Section 145- Joining or continuing in unlawful assembly, knowing it has been commanded to disperse:
Whoever joins or continues in an unlawful assembly, knowing that such unlawful assembly has been commanded in the manner prescribed by law to disperse, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
৫,৭৮৪.
সাক্ষ্য আইনের ৫ ধারায় কত প্রকার ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়া যায়?
  1. ১ প্রকার
  2. ২ প্রকার
  3. ৩ প্রকার
  4. ৪ প্রকার
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৫ ধারার বিধান অনুযায়ী- 'বিচার্য ঘটনা ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা'- এই দুই ধরনের ঘটনা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইতে পারে।

⇒ কোন মামলায় বা কার্যক্রমে বিচার্য প্রত্যেক বিষয়ের এবং এই আইনের অতঃপর যে সকল বিষয় প্রাসঙ্গিক বলিয়া ঘোষিত হইয়াছে তাহাদের অস্তিত্ব বা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইতে পারে। ইহা ভিন্ন অন্য কোন বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইবে না।
ব্যাখ্যাঃ দেওয়ানী কার্যবিধি সম্পর্কে বর্তমান প্রচলিত কোন আইন অনুসারে কোন ব্যাক্তি যে বিষয় প্রমাণ করার অধিকার নহে, এই ধারা অনুসারে সেই ব্যাক্তি সেই বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে পারে না।

Section 5⇒ Evidence may be given of facts in issue and relevant facts:
Evidence may be given in any suit or proceeding of the existence or non-existence of every fact in issue and of such other fact as are hereinafter declared to be relevant, and of no others.
Explanation.-This section shall not enable any person to give evidence of a fact which he is disentitled to prove by any provision of the law for the time being in force relating to Civil Procedure.
৫,৭৮৫.
দণ্ডবিধির ৮৩ ধারা অনুসারে, ৯ থেকে ১২ বছর বয়সের শিশুর ক্ষেত্রে কী বিবেচনা করা হয়?
  1. শিশুটির আর্থিক অবস্থা
  2. শিশুটির শারীরিক অবস্থা
  3. শিশুটির পরিবারের অবস্থা
  4. শিশুটির মানসিক পরিপক্কতা
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৮৩ ধারা অনুসারে, ৯ থেকে ১২ বছর বয়সের শিশুর ক্ষেত্রে মানসিক পরিপক্কতা বিবেচনা করা হয়।
- এই ধারায় বলা হয়েছে, ৯ থেকে ১২ বছরের মধ্যে যেসব শিশু তাদের মানসিক পরিপক্কতা অর্জন করেনি, অর্থাৎ তারা তাদের কর্মের প্রকৃতি এবং পরিণতি বিচার করতে অক্ষম, তাদের কার্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
অর্থাৎ, এই বয়সের শিশু যদি তার কাজের প্রকৃতি বা পরিণতি সম্পর্কে সচেতন না থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে না।
----------
⇒ The Penal Code, 1860- Sections- 84. Act of a person of unsound mind:
Nothing is an offence which is done by a person who, at the time of doing it, by reason of unsoundness of mind, is incapable of knowing the nature of the act, or that he is doing what is either wrong or contrary to law.
৫,৭৮৬.
নিম্ন বর্ণিত কোন বিষয়টি নির্ধারণের জন্য আরজিতে দেওয়ানী মামলার মূল্যমান দেখানো হয়?
  1. আদালতের এখতিয়ার
  2. প্রসেস ফি
  3. কোর্ট ফী
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
♦ আরজিতে কোন কোন বিষয় উল্লেখ করতে হবে তা দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং অর্ডারের ১ নং বিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে। দেওয়ানী আদালতের এখতিয়ার নির্ধারন করার জন্য আরজিতে দেওয়ানী মামলার মূল্যমান দেখানো হয়। যেমন, যদি আরজিতে উল্লেখ করা হয়, মোকদ্দমার মূল্যমান ৫লক্ষ টাকা, তাহলে  সহকারী জজের নিকট মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। তাছাড়া কোর্ট ফী নির্ধারণের জন্যও আরজিতে দেওয়ানী মামলার মূল্যমান দেখানো হয়। 
৫,৭৮৭.
তামাদি আইনের কোন ধারায় তঞ্চকতা বা প্রতারণার কথা বলা আছে?
  1. ১৬ ধারায়
  2. ১৮ ধারায়
  3. ২০ ধারায়
  4. ২৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ১৮ ধারার বিধান প্রতারণার ফলাফলঃ যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি একটা মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করিবার অধিকারী হয়, কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে তাহাকে সেই অধিকারের বিষয় অথবা যেই স্বত্বের উপর উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত করিবার জন্য যেই দলিল প্রয়োজনীয়, তাহা প্রতারণা করিয়া তাহার নিকট হইতে গোপন রাখা হইয়াছে, সেই সকল ক্ষেত্রে-

(ক) প্রতারণার জন্য দোষী ব্যক্তির বা তাহার সহযোগীর বিরুদ্ধে, অথবা
(খ) যেই ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময় ভিন্ন অন্য প্রকারে উক্ত দোষী ব্যক্তির মাধ্যমে স্বত্বদাবি করে, তাহার বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেইদিন প্রতারণার কথা জানিতে পারে, সেইদিন হইতে অথবা দলিল গোপন করা হইয়া থাকিলে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেইদিন হইতে অথবা দলিল গোপন করা হইয়া থাকিলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেইদিন দলিলটি উপস্থাপন করিতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে উহা উপস্থাপন করিবার জন্য বাধ্য করিতে পারে, সেইদিন হইতে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে।
৫,৭৮৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির ১২৩ ধারা অনুযায়ী, বিধি কমিটিতে সুপ্রিম কোর্টের কতজন বিচারপতি অন্তর্ভুক্ত থাকেন?
  1. ১ জন
  2. ৩ জন
  3. ৪ জন
  4. ২ জন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১২৩ ধারা অনুযায়ী, বিধি কমিটি গঠিত হবে ৬ সদস্যের, ৩ জন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, ২ জন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, ১ জন হাইকোর্টের অধস্তন দেওয়ানী আদালতের বিচারক। সদস্যদের নিয়োগ দিবেন প্রধান বিচারপতি।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১২৩ ধারায় বিধি কমিটি গঠনের নিয়ম ও কাঠামো:
এই কমিটিকে "বিধি কমিটি" বলা হয়। এটি ১২২ ধারায় উল্লিখিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য গঠিত হয়।
কমিটিতে থাকে:
- ৩ জন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি (তাদের একজন অন্তত ৩ বছর জেলা জজ ছিলেন)।
- ২ জন অ্যাডভোকেট (যারা সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস করেন)।
- ১ জন দেওয়ানি আদালতের বিচারক (যিনি হাইকোর্ট ডিভিশনের অধীনস্থ)।
প্রধান বিচারপতির ভূমিকা:
সদস্যদের নিয়োগ করেন প্রধান বিচারপতি।
তিনি একজনকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করেন।
প্রধান বিচারপতি নিজে সদস্য হতে চাইলে, অন্য বিচারকদের সংখ্যা কমে দুজন হয় এবং তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
সদস্যদের মেয়াদ নির্ধারণ করেন প্রধান বিচারপতি।
কোনো সদস্য অবসর, মৃত্যু বা অক্ষম হলে, তার স্থানে নতুন সদস্য নিয়োগ করেন প্রধান বিচারপতি।
কমিটির জন্য একজন সচিব নিয়োগ করেন প্রধান বিচারপতি।
-------------------------
→ The Code of Civil Procedure, 1908 Section-123: Constitution of Rule Committees:
(1) A Committee, to be called the Rule Committee, shall be constituted 90[for the purpose] referred to in section 122. 
(2) Such Committee shall consist of the following persons, namely:- 
(a) three Judges of the Supreme Court, one of whom at least has served as a District Judge for three years; 
(b) two advocates parctising in that Court; and 
(c) a Judge of a Civil Court subordinate to the High Court Division.
(3) The members of  such Committee shall be appointed by the Chief Justice, who shall also nominate one of their number to be president: 
Provided that, if the Chief Justice elects to be himself a member of the Committee, the number of other Judges appointed to be members shall be two, and the Chief Justice shall be the President of the Committee. 
(4) Each member of such committee shall hold office for such period as may be prescribed by the Chief Justice in this behalf; and whenever any member retires, resigns, dies or becomes incapable of acting as a member of the Committee, the said Chief Justice may appoint another person to be a member in his stead. 
(5) There shall be a Secretary to such Committee, who shall be appointed by the Chief Justice and shall receive such remuneration as may be provided in this behalf by the Government.
৫,৭৮৯.
আইনগত সহায়তার কোন আবেদন জেলা কমিটি বা বিশেষ কমিটি কর্তৃক অগ্রাহ্য হলে, তার বিরুদ্ধে আপীল করতে হবে-
  1. সুপ্রীম কোর্ট কমিটির নিকট
  2. হাইকোর্ট বিভাগে
  3. জাতীয় পরিচালনা বোর্ডের নিকট
  4. আপীল বিভাগে
ব্যাখ্যা
• আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০

ধারা ১৬ তে বলা আছে-

'আইনগত সহায়তার জন্য সকল আবেদন সুপ্রীম কোর্ট কমিটি, জেলা কমিটি বা বিশেষ কমিটির নিকট পেশ করতে হবে।'

উল্লেখ্য, কোন আবেদন জেলা কমিটি বা বিশেষ কমিটি কর্তৃক অগ্রাহ্য হলে তা মঞ্জুরের জন্য সংক্ষুদ্ধ বিচারপ্রার্থী উক্তরুপ সিদ্ধান্তের তারিখ হতে ৬০ দিনের মধ্যে জাতীয় পরিচালনা বোর্ডের নিকট আপীল পেশ করবে এবং এই ব্যাপারে বোর্ডের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
৫,৭৯০.
সাক্ষ্য আইনের ১৬৫ ধারা অনুযায়ী বিচারক উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য যে কোন সাক্ষীকে কখন প্রশ্ন করতে পারেন?
  1. রায় প্রদানের সময়
  2. সাক্ষ্য গ্রহণের সময়
  3. মামলার যে কোন সময়
  4. বিচার্য বিষয় গঠনের সময়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৬৫ ধারার বিধান: বিচারক কর্তৃক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার বা কিছু দাখিল করার আদেশ প্রদানের ক্ষমতা:-
বিচারক প্রাসঙ্গিক ঘটনা উদঘাটন করার জন্য অথবা উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য যে কোন সাক্ষীকে যে কোন সময় যে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারবেন, অথবা প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিক ঘটনা সম্পর্কে পক্ষগণকে যে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারবেন এবং যে কোন দলিল বা বস্তু উপস্থাপন করার আদেশ দিতে পারবেন।

- এখানে বিচারক একজন আইনজীবী ও তদন্তকারীর ভূমিকা পালন করেন। তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন অনুসারে যে সকল ঘটনা প্রাসঙ্গিক ও যথারীতি প্রমাণিত বলে ঘোষিত হবে, তার ভিত্তিতেই মামলার রায় দান করতে হবে।

⇒ পক্ষগণ বা তাদের প্রতিনিধিগণ বিচারকের কোন প্রশ্ন বা আদেশ সম্পর্কে কোন আপত্তি করতে পারবে না। অনুরূপ কোন প্রশ্নের উত্তরে সাক্ষী যা বলবে ঐ সম্পর্কে আদালতের অনুমতি ব্যতীত সাক্ষীকে কোন জেরা করতেও পারবে না।
⇒ ১৬৫ ধারার ক্ষমতা আদালতের সহজাত ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত।
⇒ ১৬৫ ধারার ক্ষমতাবলে উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য আদালত মামলার পক্ষ বা সাক্ষী অথবা কোন ব্যক্তিকে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে পারে।

অর্থাৎ বিচারকের এই ক্ষমতা আইন অনুযায়ী বিভিন্ন প্রমাণিত এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য আবিষ্কার বা সঠিকভাবে প্রমাণ করার জন্য যে কোনো সাক্ষী বা পক্ষের কাছে যে কোনো সময়, যে কোনো প্রশ্ন করার অনুমতি দেয়। বিচারক প্রশ্নগুলি যেকোনো আকারে এবং প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিক যে কোনো বিষয় সম্পর্কে করতে পারেন। এছাড়াও, বিচারক যেকোনো দলিল বা জিনিসের উত্পাদন করতে আদেশ দিতে পারেন।

এই প্রসঙ্গে, পক্ষগুলোর বা তাদের এজেন্টদের জন্য এই প্রশ্ন বা আদেশের বিরুদ্ধে আপত্তি করার অধিকার নেই। তাছাড়া, আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো সাক্ষীকে তার উত্তরের ভিত্তিতে জেরা করারও অধিকার নেই।
-----------------------------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section-165: Judge’s power to put questions or order production:
The Judge may, in order to discover or to obtain proper proof of relevant facts, ask any question he pleases, in any form, at any time, of any witness, or of the parties about any fact relevant or irrelevant; and may order the production of any document or thing: and neither the parties nor their agents shall be entitled to make any objection to any such question or order, nor, without the leave of the Court, to cross-examine any witness upon any answer given in reply to any such question: 
 
Provided that the judgment must be based upon facts declared by this Act to be relevant, and duly proved: 
Provided also that this section shall not authorize any Judge to compel any witness to answer any question or to produce any document which such witness would be entitled to refuse to 
answer or produce under sections 121 to 131, both inclusive, if the question were asked or the document were called for by the adverse party; nor shall the Judge ask any question which it would be improper for any other person to ask under section 148 or 149; nor shall he dispense with primary evidence of any document, except in the cases herein- before excepted.
৫,৭৯১.
'সরল মনে অপরাধী তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগকালে আইনপ্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে কেউকে হত্যা করলে, উক্ত হত্যা খুন হিসেবে গণ্য হবে না।'- কত ধারায় বলা হয়েছে?
  1. ২৯৯
  2. ৩০০
  3. ৩০১
  4. ৩০৪
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান খুন:

ব্যতিক্রম ১: যেক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে না :- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনার ফলে অপরাধী আত্ম-সংযমশক্তি হারাইয়া ফেলে এবং যে ব্যক্তি প্ররোচনা দান করেছে, সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় অথবা ভুলক্রমে বা দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।

ব্যতিক্রম ২: শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধী সরল মনে তার আত্মরক্ষার অথবা সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগক্রমে তাকে আইন প্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং যার বিরুদ্ধে সে এই অধিকার প্রয়োগ করে, কোনরূপ পূর্ব-পরিকল্পনা ব্যতীত অথবা অনুরূপ অধিকার রক্ষার জন্য যতটুকু ক্ষতিসাধন করা আবশ্যক, তদপেক্ষা বেশি ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা ব্যতিরেকে, তার মৃত্যু ঘটায়।

ব্যতিক্রম ৩:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি দোষী একজন সরকারী কর্মচারী হিসেবে অথবা সরকারী কর্মচারীর সহায়তাকারী হিসেবে তাকে প্রদত্ত আইনানুগ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং এমন একটি কাজ সম্পাদন করে মত্যু ঘটায়, যা সে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য আবশ্যকীয় ও আইনসম্মত বলে সরল মনে বিশ্বাস করে এবং সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে তার প্রতি কোনরূপ দুরভিসন্ধি ছাড়াই কার্যটি করে।

ব্যতিক্রম ৪ :- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধটি কোন আকস্মিক বিবাদের সময় আকস্মিক উত্তেজনার কারণে কোনরূপ পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই সংঘটিত হয় এবং অপরাধী কোন অন্যায় সুযোগ গ্রহণ না করে থাকে অথবা নিষ্ঠুরভাবে বা অস্বাভাবিকভাবে কার্য না করে থাকে।
ব্যাখ্যা:- এইরূপ ক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রথম উস্কানি দেয় বা প্রথম আঘাত করে, তা আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়।

ব্যতিক্রম ৫:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি সে ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে ব্যক্তি আঠারো বৎসরের উর্ধ্ব বয়স্ক হলে স্বেচ্ছায় স্বীয় সম্মতিক্রমে মৃত্যুবরণ করে বা মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করে।
৫,৭৯২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ক অনুসারে, কোন পুলিশ অফিসার ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেপ্তার করলে কী করতে বাধ্য?
  1. গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে
  2. লিখিত রিপোর্ট দিতে
  3. ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিতে 
  4. গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতে নিয়ে যেতে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ক অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার হলে পুলিশ অফিসারকে অবশ্যই তাকে গ্রেফতারের কারণ অবহিত করতে হবে। এটি অভিযুক্ত ব্যক্তির মৌলিক অধিকার এবং বেআইনি আটক প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫৪ক-  গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের কারণ জানানো:
যে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা কোনো ব্যক্তিকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করলে, তাকে গ্রেফতার করার সময় গ্রেফতারের কারণ সেই ব্যক্তিকে জানাতে হবে।
-----
⇒ The Code of Criminal Procedure- Section- 54A. Person arrested to be informed of reason of arrest:
- Every police-officer arresting any person without warrant shall, at the time of making arrest, communicate to him the reasons for which he is arrested.

৫,৭৯৩.
সাক্ষ্য আইনের ১১৯ ধারা অনুযায়ী, বোবা সাক্ষী যদি লিখিতভাবে সাক্ষ্য দেন, তবে তা কী সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে?
  1. দালিলিক সাক্ষ্য
  2. মৌখিক সাক্ষ্য
  3. গোপন সাক্ষ্য
  4. প্রকৃত ঘটনা
ব্যাখ্যা

সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১৯ অনুযায়ী, বোবা সাক্ষী যদি লিখিতভাবে বা ইশারার মাধ্যমে সাক্ষ্য দেন, তাহলে তা মৌখিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে, যদিও এটি লিখিত বা ইশারার মাধ্যমে প্রদান করা হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১৯ ধারা- বোবা সাক্ষী: যে সাক্ষী কথা বলিতে অক্ষম, তিনি তাহার বক্তব্য অন্য কোনোভাবে অর্থাৎ লিখিয়া বা ইশারা করিয়া বুঝাইতে পারেন এবং সেইভাবে সাক্ষ্যদিতে পারেন, তবে সেই লেখা বা ইশারা প্রকাশ্য আদালতে লিখিতে বা করিতে হইবে। এইরূপভাবে যে সাক্ষ্য দেওয়া হইবে তাহা মৌখিক সাক্ষ্য বলিয়া গণ্য হইবে।
----------------------------------------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 119- Dumb witnesses: A witness who is unable to speak may give his evidence in any other manner in which he can make it intelligible, as by writing or by signs; but such writing in which he can make it intelligible, as by writing or by signs; but such writing must be written and the signs made in open Court. Evidence so given shall be deemed to be oral evidence.

৫,৭৯৪.
দণ্ডবিধির ধারা ১৭০ অনুসারে, সরকারি কর্মচারীর ভান করে কোনো কাজ করার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১৭০ অনুসারে, যে কেউ জেনেশুনে এমন কোনো সরকারি কর্মচারীর পদে থাকার ভান করে, যে পদে তিনি নেই, অথবা অন্য কোনো ব্যক্তির পদে থাকার ভান করে এবং এই ভান করে কোনো কাজ করেন বা করার চেষ্টা করেন, তিনি যে কোনো ধরনের কারাদণ্ডে সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত, জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

⇒ দণ্ডবিধির ১৭০ ধারার বিধান: ভুয়া সরকারী কর্মচারী বলিয়া পরিচয় দেওয়া:
- কোন ব্যক্তি যদি কোন পদে অধিষ্ঠিত নয় বলে জানা সত্ত্বেও সে পদে অধিষ্ঠিত রয়েছে বলে পরিচয় দেয় অথবা অন্য যে ব্যক্তি যে পদে অধিষ্ঠিত আছে নিজেকে সে পদে অধিষ্ঠিত সে ব্যক্তি বলে ছদ্মবেশ ধারণ করে এবং এইরূপ মিথ্যা ছদ্মবেশ ধারণ করে সে পদের অধিকার বলে কোন কাজ করে বা করতে চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম করাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
--------
⇒ The Penal Code,1860, Section-170: Personating a public servant:
- Whoever pretends to hold any particular office as a public servant, knowing that he does not hold such office or falsely personates any other person holding such office, and in such assumed character does or attempts to do any act under colour of such office, shall be punished with imprisonment of either description, for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

৫,৭৯৫.
কঠোর শাস্তির জন্য ক্ষমতাবান ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মামলা প্রেরণ করা হলে, উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট বিচারের ক্ষেত্রে কোন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন?
  1. পক্ষসমূহের জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারবেন
  2. সাক্ষীকে পুনরায় তলব করতে পারবেন
  3. অতিরিক্ত সাক্ষ্য তলব করতে ও গ্রহণ করতে পারবেন
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৪৯- যেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যাপ্ত কঠোর শাস্তি দিতে পারেন না,তখনকার পদ্ধতিঃ

(১) যেক্ষেত্রে এখতিয়ারবান দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর কোন ম্যাজিস্ট্রেট বাদী ও আসামী পক্ষের সাক্ষ্য শ্রবণের পর এ মর্মে অভিমত প্রকাশ করেন যে, আসামী দোষী, এবং তিনি যে শাস্তি প্রদান করতে পারেন তার চেয়ে আসামীর পৃথক ধরণের বা কঠোর শাস্তি পাওয়া উচিত, অথবা ধারা-১০৬ এর অধীন বন্ড সম্পাদন করা তার উচিত, তাহলে তিনি অভিমতটি লিপিবদ্ধ করবেন এবং তিনি যে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের যিনি অধঃস্তন তার বরাবর মামলাটি দাখিল করতে এবং আসামীকে প্রেরণ করতে পারবেন।

(১এ) যেক্ষেত্রে একাধিক আসামীর বিচার একসাথে সম্পন্ন হয় এবং ম্যাজিস্ট্রেট তাদের যেকোন একজন সম্পর্কে উপধারা-(১) এর অধীন আগানো দরকার মর্মে মনে করেন, সেক্ষেত্রে যেসব আসামীকে তিনি দোষী হিসাবে মনে করেন তাদের সকলকেই চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর প্রেরণ করবেন।

(২) যার বরাবর মামলাটি দাখিল করা হলো সে ম্যাজিস্ট্রেট সঠিক মনে করলে পক্ষসমূহের জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারবেন এবং যারা এই মামলায় পূর্বে সাক্ষ্য প্রদান করেছে, সেসব সাক্ষীকে পুনরায় তলব দিয়ে তাদের জবানবন্দী গ্রহণ করতে পারবেন এবং অতিরিক্ত সাক্ষ্য তলব করতে ও গ্রহণ করতে পারবেন, এবং তিনি আইন অনুসারে যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন, মামলায় সেরূপ রায়, শাস্তি বা আদেশ প্রদান করবেন।

শর্ত থাকে যে, ধারা-৩২ ও ৩৩ এর অধীন তাঁর যে শাস্তি দেবার ক্ষমতা আছে তার চেয়ে কঠোর শাস্তি প্রদান করবেন না।

Section 349 (Procedure when Magistrate cannot pass sentence sufficiently severe)-

(1) Whenever a Magistrate of the second or third class, having jurisdiction, is of opinion, after hearing the evidence for the prosecution and the accused, that the accused is guilty, and that he ought to receive a punishment different in kind from, or more severe than, that which such Magistrate is empowered to inflict, or that he ought to be required to execute a bond under section 106, he may record the opinion and submit his proceedings, and forward the accused, to the [Chief Judicial Magistrate or a Magistrate of the first class empowered in this behalf by the Chief Judicial Magistrate to whom he is subordinate. 
 
(1A) When more accused than one are being tried together and the Magistrate considers it necessary to proceed under sub-section (1) in regard to any of such accused, he shall forward all the accused who are in his opinion guilty to the Chief Judicial Magistrate or a Magistrate of the first class empowered in this behalf by the Chief Judicial Magistrate. 
 
(2) The Magistrate to whom the proceedings are submitted may, if he thinks fit, examine the parties and recall and examine any witness who has already given evidence in the case and may call for and take any further evidence, and shall pass such judgment, sentence or order in the case as he thinks fit, and as is according to law: 
 
Provided that he shall not inflict a punishment more severe than he is empowered to inflict under sections 32 and 33.
৫,৭৯৬.
অসাধুভাবে তথ্য গোপনকরণ নিম্নের কোন বিষয়টির সাথে সম্পর্কিত?
  1. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
  2. অনৈতিক প্রভাব
  3. প্রতারণা
  4. অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎকরণ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারার বিধান প্রতারণা:- যদি কেউ কোন ব্যক্তিকে ছলনা করে প্রবঞ্চনামূলকভাবে বা অসাধুভাবে সে ব্যক্তিকে অন্য কাউকে কোন সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা কোন ব্যক্তির কোন সম্পত্তি রেখে দেওয়াতে সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনুরূপ প্রতারিত ব্যক্তিকে এমন কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে প্ররোচিত করে যে কাজ সে ব্যক্তি অনুরূপভাবে প্রতারিত না হলে করত না বা করা হতে বিরত থাকত না এবং যে কাজ করার বা করা হতে বিরত থাকার ফলে তার দেহের, মনের খ্যাতির বা সম্পত্তির দিক হতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তবে অনুরূপ ছলনাকারী 'প্রতারণা' করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা:- অসাধুভাবে তথ্য গোপন করা এই ধারার তাৎপর্যাধীনে ছলনা বলে পরিগণিত হবে।
------------
Section 415. Cheating
 Whoever, by deceiving any person, fraudulently or dishonestly induces the person so deceived to deliver any property to any person, or to consent that any person shall retain any property, or intentionally induces the person so deceived to do or omit to do anything which he would not do or omit if he were not so deceived, and which act or omission causes or is likely to cause damage or harm to that person in body, mind, reputation or property, is said to "cheat".

Explanation. A dishonest concealment of facts is a deception within the meaning of this section.
৫,৭৯৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৮ ধারা অনুযায়ী, কমিশন কার্যকরীকরণ ও ফেরত দেওয়ার জন্য কত সময়ের জন্য কার্যক্রম মুলতবি রাখা যায়?
  1. এক মাস
  2. ছয় মাস
  3. এক বছর
  4. ন্যায়সংগতভাবে পর্যাপ্ত নির্ধারিত সময়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৮ ধারা অনুযায়ী, যখন ধারা ৫০৩ বা ৫০৬ এর অধীনে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য কমিশন জারি করা হয়, তখন সেই কমিশন কার্যকর এবং ফেরত দেওয়ার জন্য বিচার, অনুসন্ধান বা অন্য কার্যক্রম "ন্যায়সংগতভাবে পর্যাপ্ত নির্ধারিত সময়ের" জন্য মুলতবি রাখা যেতে পারে।
- এখানে কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা (যেমন ১ মাস, ৬ মাস বা ১ বছর) বেঁধে দেওয়া হয়নি। বরং, আদালত মামলার প্রকৃতি ও পরিস্থিতি অনুযায়ী যতটা সময় প্রয়োজন বলে যুক্তিসঙ্গত মনে করে, ততটাই সময় দিতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৮- অনুসন্ধান বা বিচার মুলতবিকরণ:
- সে ক্ষেত্রে ৫০৩ বা ৫০৬ ধারার অধীন কমিশন দেয়া হয়েছে সেক্ষেত্রে উহা কার্যকরীকরণ ও ফেরত দেয়ার জন্য ন্যায়সংগতভাবে পর্যাপ্ত কোন নির্ধারিত সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান, বিচার বা অন্যান্য কার্যক্রম মুলতবি রাখা যাবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 508- Adjournment of inquiry or trial:
In every case in which a commission is issued under section 503 or section 506, the inquiry, trial or other proceeding may be adjourned for a specified time reasonably sufficient for the execution and return of the commission.
৫,৭৯৮.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৩২ অনুযায়ী, কয়টি ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির বিবৃতি প্রাসঙ্গিক?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী,
কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে, আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারণ সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণা (dying declaration);
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি (statement made in course of business);
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরণের মামলার উদ্ভব করতে পারে (statement against interest of maker);
iv) সর্বসাধারণের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত (opinion as to public right or custom, or matters of general interest);
v) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি (relates to existence of relationship);
vi) পারিবারিক দলিল বা উইল (statement made in will or deed relating to family affairs);
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি (Statement made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question).

৫,৭৯৯.
Inquisitorial system এ বিচারক কোন ধরনের ভূমিকা পালন করেন?
  1. সাক্ষীর
  2. আইনজীবীর
  3. অভিযোগকারির
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৬৫ ধারায় Inquisitorial system এর বিধান রয়েছে। 

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৬৫ ধারার বিধান: বিচারক কর্তৃক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার বা কিছু দাখিল করার আদেশ প্রদানের ক্ষমতা- বিচারক প্রাসঙ্গিক ঘটনা উদঘাটন করার জন্য অথবা উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য যে কোন সাক্ষীকে যে কোন সময় যে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারবেন, অথবা প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিক ঘটনা সম্পর্কে পক্ষগণকে যে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারবেন এবং যে কোন দলিল বা বস্তু উপস্থাপন করার আদেশ দিতে পারবেন। এখানে বিচারক একজন আইনজীবী ও তদন্তকারীর ভূমিকা পালন করেন।

তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন অনুসারে যে সকল ঘটনা প্রাসঙ্গিক ও যথারীতি প্রমাণিত বলে ঘোষিত হবে, তার ভিত্তিতেই মামলার রায় দান করতে হবে।

⇒ পক্ষগণ বা তাদের প্রতিনিধিগণ বিচারকের কোন প্রশ্ন বা আদেশ সম্পর্কে কোন আপত্তি করতে পারবে না। অনুরূপ কোন প্রশ্নের উত্তরে সাক্ষী যা বলবে ঐ সম্পর্কে আদালতের অনুমতি ব্যতীত সাক্ষীকে কোন জেরা করতেও পারবে না।

⇒ ১৬৫ ধারার ক্ষমতা আদালতের সহজাত ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত।

⇒ ১৬৫ ধারার ক্ষমতাবলে উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য আদালত মামলার পক্ষ বা সাক্ষী অথবা কোন ব্যক্তিকে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে পারে।
৫,৮০০.
'ক' একটি ঝোপের আড়ালে 'গ' আছে বলে জ্ঞাত আছে। 'খ' এটা জানে না। 'ক', 'গ'- এর মৃত্যু ঘটার আশংকা আছে জেনে 'খ'-কে ঐ ঝোপের প্রতি গুলি ছোঁড়ার জন্য প্রবৃত্ত করে। 'খ' গুলি ছোঁড়ে ও 'গ'-কে হত্যা করে। এক্ষেত্রে-
  1. 'ক' শাস্তিযােগ্য নরহত্যার অপরাধ করেছে
  2. 'খ' শাস্তিযােগ্য নরহত্যার অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে
  3. 'ক' এবং 'খ' কেউ শাস্তিযােগ্য নরহত্যার অপরাধ করে নি
  4. 'ক' এবং 'খ' উভয়ে শাস্তিযােগ্য নরহত্যার অপরাধ করেছে
ব্যাখ্যা
ধারা ২৯৯- শাস্তিযােগ্য নরহত্যা:
কোন লােক যদি কোন কার্যের সাহায্যে মৃত্যু ঘটানাের লক্ষ্য নিয়ে মৃত্যু ঘটায় বা দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটানাের লক্ষ্য নিয়ে কৃত কোন কার্যের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটায় বা যে কার্য মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জ্ঞাত আছে, সে কার্যের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটায়, তা হলে সে লােক শাস্তিযােগ্য নরহত্যার অপরাধ অনুষ্ঠান করেছে বলে পরিগণিত হবে।

উদাহরণ-
ক) ক কোন কুপের মুখে কাণ্ডাদি ও ঘাসের ফরাস পাতে এই উদ্দেশ্যে যে, তাতে মৃত্যু ঘটতে পারে বা তাতে যে মৃত্যু ঘটতে পারে, তা জ্ঞাত হয়েও সে তা করে। খ ঐ স্থান মজবুত বলে বিশ্বাস করে এর উপর দিয়ে চলতে থাকে ও এর ভিতর পড়ে যায় ও‌ নিহত হয়। ক শাস্তিযােগ্য নরহত্যার অপরাধ করেছে।

খ) 'ক' একটি ঝোপের আড়ালে 'গ' আছে বলে জ্ঞাত আছে। 'খ' এটা জানে না। 'ক', 'গ'-র মৃত্যু ঘটায় ইচ্ছায় বা এতে 'গ'-র মৃত্যু ঘটিবার আশংকা আছে জেনে 'খ'-কে ঐ ঝোপের প্রতি গুলি ছোড়ার জন্য প্রবৃত্ত করে। 'খ' গুলি ছোঁড়ে ও 'গ'-কে হত্যা করে। এক্ষেত্রে 'খ' কোন অপরাধের জন্য অপরাধী না হতে পারে, কিন্তু 'ক' শাস্তিযােগ্য নরহত্যার অপরাধ করেছে।

গ) ক একটি মুরগী হত্যা ও চুরি করার উদ্দেশ্যে মুরগিটির প্রতি গুলি ছোঁড়ে, কিন্তু‌ ঝোপের অপর পাশে থাকা ‘খ' গুলি বর্ষণের কারণে মারা যায়, যা 'ক' জানত না। এইক্ষেত্রে যদিও ‘ক’ একটি বেআইনি কার্য করতেছিল, তবুও সে শাস্তিযােগ্য নরহত্যার সংগঠন করেছে বলে পরিগণিত হবে না, কেননা সে খ-কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গুলি ছােড়ে নাই বা এমন কোন কার্য করে মৃত্যু ঘটানাের অভিপ্রায় করে নি, যা মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে তার জানা ছিল।

ব্যাখ্যা ১-
যে লােক অসুস্থতা, ব্যাধি বা দৈহিক বৈকল্যে ভুগছে এরূপ অপর কোন লােককে দৈহিক জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে, তার মৃত্যু ঘটানাের অপরাধ বলে পরিগণিত হবে।

ব্যাখ্যা ২-
যখন দৈহিক জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে লােক এরূপ দৈহিক জখম করে, সে লােক মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে পরিগণিত হবে, যদিও যথােচিত প্রতিকারের ও নিপুন চিকিৎসার আশ্রয় নিলে মৃত্যু নিবারণ করা যেত।

ব্যাখ্যা ৩-
মাতৃগর্ভস্থ কোন শিশুর মৃত্যু ঘটান নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে না । কিন্তু যদি কোন শিশুর দেহের কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তা হলে তা শাস্তিযােগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি যদিও শিশুটি শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে বা সম্পূর্ণ হিসেবে জন্মগ্রহণ না করে থাকে।