বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

মোট প্রশ্ন১৫,৪৭০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

PrepBank · পাতা ৪০ / ১৫৫ · ৩,৯০১৪,০০০ / ১৫,৪৭০

৩,৯০১.
দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় Presumption as to foreign judgments এর বিধান আছে?
  1. ১২
  2. ১৩
  3. ১৪
  4. ১৫
ব্যাখ্যা
→ The Code of Civil Procedure, 1908 Section-14. Presumption as to foreign judgments:
- The Court shall presume, upon the production of any document purporting to be a certified copy of a foreign judgment, that such judgment was pronounced by a Court of competent jurisdiction, unless the contrary appears on the record; but such presumption may be displaced by proving want of jurisdiction.

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪ -বিদেশী রায় সম্পর্কে অনুমান:
- বিদেশী রায়ের সত্যায়িত নকল বলে কথিত কোন দলিল আদালতে পেশ করা হলে এবং বিপরীত কোন প্রমাণ না পাওয়া গেলে আদালত ধরে নিবেন যে, রায়টি উপযুক্ত এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতই প্রদান করেছেন কিন্তু উক্ত আদালতের এ ব্যাপারে এখতিয়ার ছিল না বলে প্রমাণিত হলে ঐ রূপ অনুমান উঠায়ে নেয়া হবে।
 
অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪ ধারায় বলা হয়েছে যে, বিদেশি রায় সম্পর্কে অনুমান বিদেশি আদালতের রায়ের সত্যায়িত নকল নথির সাথে পেশ করা হলে বিপরীত কোন প্রমাণ পাওয়া না গেলে তা এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত প্রদান করেছে বলে অনুমিত হবে।
৩,৯০২.
এক হিন্দু ব্যক্তি একজন জীবিত পুত্র, দুইজন কন্যা এবং এক মৃত পুত্রের পুত্র রেখে মারা যান। পুত্রের অংশ-
  1. সম্পূর্ণ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/২ অংশ
  4. ২/৩ অংশ
ব্যাখ্যা
• এখানে, প্রতিনিধিত্বের নীতি অনুযায়ী পুত্র ও মৃত পুত্রের পুত্র সমপরিমাণ সম্পত্তি পাবে। মৃত পুত্রের পুত্র, তার পিতার অংশের প্রতিনিধিত্ব করবে। অর্থাৎ, জীবিত পুত্র এবং মৃত পুত্রের পুত্র ১/২ অংশ করে পাবে।

উল্লেখ্য, হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে-
মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র এবং বিধবা স্ত্রী না থাকলে, কন্যারা উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তি পাবে। তবে সম্পত্তি পেলেও উক্ত সম্পত্তির শুধুমাত্র জীবনস্বত্ব (Life Interest) ভোগ করতে পারবে। মৃত্যুর পর উক্ত সম্পত্তি ছেলে উত্তরাধিকারীর নিকট চলে যাবে।
৩,৯০৩.
দায়রা জজ কীসের ভিত্তিতে মামলা স্থানান্তর করতে পারেন?
  1. নিজস্ব উদ্যোগে
  2. স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষের আবেদন
  3. অধঃস্তন আদালতের রিপাের্টের ভিত্তিতে
  4. ক বা খ বা গ
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ৫২৬খ: দায়রা জজের মামলা হস্তান্তর করার ক্ষমতা:
১) যখন কোন দায়রা জজের নিকট প্রতীয়মান করা হয় যে, ন্যায়বিচারেরর উদ্দেশ্যে এই ধারার অধীন কোন আদেশ দান করা সমীচীন, তখন তিনি তার দায়রা বিভাগাধীন এক ফৌজদারি আদালত হতে অপর ফৌজদারি আদালতে কোন মামলা স্থানান্তর করতে আদেশ দিতে পারেন।

২) দায়রা জজ অধঃস্তন আদালতের রিপাের্টের ভিত্তিতে বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষের কোন আবেদনের ভিত্তিতে বা তার নিজস্ব উদ্যোগে এইরূপ কাজ করতে পারেন।

৩) ৫২৬ ধারার (৪) হতে (১০) উপধারার (উভয় ধারা অন্তর্ভূক্ত) বিধানানুসারে দায়রা জজের নিকট দরখাস্ত করার ব্যাপারে ৫২৬ ধারা (১) উপ-ধারা অনুযায়ি হাইকোর্ট বিভাগে দরখাস্ত করার পদ্ধতি প্রযােজ্য হবে।
৩,৯০৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২২, বিধি-৩(২) অনুসারে, যদি একজন বাদীর মৃত্যুতে আইন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার আইনগত প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করার জন্য আবেদন না করা হয়, তাহলে-
  1. মোকদ্দমাটি স্থগিত থাকবে
  2. সম্পূর্ণ মোকদ্দমা বাতিল হবে
  3. মৃত বাদীর সাপেক্ষে মোকদ্দমাটি বাতিল গণ্য হবে
  4. আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করবে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২২, বিধি-৩(২) এর বিধান: "Where within the time limited by law no application is made under sub-rule (1), the suit shall abate so far as the deceased plaintiff is concerned"
- অর্থাৎ, আইন কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি মৃত বাদীর আইনগত প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করার জন্য আবেদন না করা হয়, তাহলে মৃত বাদীর সাপেক্ষে মোকদ্দমাটি বাতিল (abate) গণ্য হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908: Order-22, Rule-3: Procedure in case of death of one of several plaintiffs or of sole plaintiff:
(1) Where one of two or more plaintiffs dies and the right to sue does not survive to the surviving plaintiff or plaintiffs alone, or a sole plaintiff or sole surviving plaintiff dies and the right to sue survives, the Court, on an application made in that behalf, shall cause the legal representative of the deceased plaintiff to be made a party and shall proceed with the suit.
(2) Where within the time limited by law no application is made under sub-rule (1), the suit shall abate so far as the deceased plaintiff is concerned, and, on the application of the defendant, the Court may award to him the costs which he may have incurred in defending the suit, to be recovered from the estate of the deceased plaintiff.

৩,৯০৫.
'অপরাধের পর অপরাধী তার ছদ্মনাম ব্যবহার করে অন্যত্র পালিয়ে গিয়েছিল।'- সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় এই ঘটনা প্রাসঙ্গিক?
  1. ৭ ধারায়
  2. ৮ ধারায়
  3. ১১ ধারায়
  4. ১৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
• The Evidence Act, 1872 এর ৮ ধারায় বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অভিপ্রায় (Motive), প্রস্তুতি (Preparation) এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কার্য (Previous or Subsequent Conduct) কে প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। কিছু উদাহরণ নিম্নরূপ:

পরবর্তী কার্য (Subsequent Conduct):
অপরাধের পর অপরাধীর আচরণ যেমন পলাতক অবস্থা, সন্দেহজনক কাজ, মিথ্যা বক্তব্য প্রদান ইত্যাদি।
উদাহরণ:
ক) হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধী পালিয়ে গিয়েছিল এবং জামাকাপড় পরিবর্তন করেছিল।
খ) অপরাধের পর অপরাধী তার ছদ্মনাম ব্যবহার করে অন্যত্র পালিয়ে গিয়েছিল।

অভিপ্রায়, প্রস্তুতি এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কার্য মামলার প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসাবে কাজ করে এবং এগুলি ঘটনার প্রকৃতি নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩,৯০৬.
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর কোন ধারা অনুযায়ী ৯ বছরের কম বয়সী শিশু কর্তৃক কৃত কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না?
  1. ধারা ৮৪
  2. ধারা ৮২
  3. ধারা ৮১
  4. ধারা ৮০
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৮২ অনুসারে, ৯ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু দ্বারা করা কাজ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় না, কারণ এই বয়সের শিশুরা সাধারণত তাদের কাজের অপরাধমূলক প্রকৃতি বা পরিণতি বুঝতে সক্ষম হয় না।
----------
⇒ The Penal Code, 1860- Sections- 82. Act of a child under nine years of age:
 - Nothing is an offence which is done by a child under nine years of age.
৩,৯০৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫১ অনুসারে, জব্দকৃত জিনিসপত্রের তালিকা প্রস্তুত করার সময় কার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক?
  1. একজন সাক্ষীর
  2. একজন ম্যাজিস্ট্রেটের
  3. একজন মেডিকেল অফিসারের
  4. গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পরিবারের কোনো সদস্যের
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫১ এর শেষ অংশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো জিনিস জব্দ করা হলে, অফিসার একজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন এবং সম্ভব হলে তার স্বাক্ষর গ্রহণ করবেন।
- সুতরাং, জব্দকৃত জিনিসপত্রের তালিকা প্রস্তুত করার সময় একজন সাক্ষীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫১ - "গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের তল্লাশি" (Search of arrested persons): যখনই কোনো ব্যক্তিকে একজন পুলিশ অফিসার এমন কোনো ওয়ারেন্টের অধীনে গ্রেপ্তার করেন যেখানে জামিনের বিধান নেই, অথবা এমন ওয়ারেন্টের অধীনে গ্রেপ্তার করেন যেখানে জামিনের বিধান আছে কিন্তু গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি জামিন দিতে পারেন না, এবং যখনই কোনো ব্যক্তিকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়, বা কোনো বেসরকারি ব্যক্তি কর্তৃক ওয়ারেন্টের অধীনে গ্রেপ্তার করা হয়, এবং আইনত জামিনে মুক্ত হতে পারেন না, অথবা জামিন দিতে অক্ষম হন, তখন গ্রেপ্তারকারী অফিসার অথবা, যখন গ্রেপ্তার কোনো বেসরকারি ব্যক্তি দ্বারা করা হয়, তখন যে পুলিশ অফিসারের নিকট গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে হস্তান্তর করা হয়, তিনি ওই ব্যক্তিকে তল্লাশি করতে পারেন এবং তার কাছে পাওয়া প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র ব্যতীত অন্যান্য সমস্ত জিনিসপত্র নিরাপদ হেফাজতে রাখতে পারেন ; এবং
যেখানে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো জিনিস জব্দ করা হয়, সেখানে অফিসার একজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন এবং সম্ভব হলে তার স্বাক্ষর গ্রহণ করবেন, এবং এর একটি অনুলিপি গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে বা তার দ্বারা মনোনীত কোনো ব্যক্তিকে সরবরাহ করবেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 51. Search of arrested persons:
Whenever a person is arrested by a police-officer under a warrant which does not provide for the taking of bail, or under a warrant which provides for the taking of bail but the person arrested cannot furnish bail, and Whenever a person is arrested without warrant, or by a private person under a warrant, and cannot legally be admitted to bail, or is unable to furnish bail, the officer making the arrest or, when the arrest is made by a private person, the police-officer to whom he makes over the person arrested, may search such person, and place in safe custody all articles, other than necessary wearing-apparel, found upon him ; and
where any article is seized from the arrested person, the officer shall prepare a list in the presence of a witness and obtain his signature, if practicable, and shall serve a copy thereof to the arrested person or to any person nominated by him.

৩,৯০৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারায় চুক্তি পালনে কয়টি ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতার কথা বলা হয়েছে?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৭টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারায় চুক্তি পালনে ৪টি ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতার কথা বলা হয়েছে। যথা-
⇒ যার পক্ষে ক্ষতিপূরণ আদায় অসম্ভব;
⇒ যে পূর্বে ক্ষতিপূরণ পেয়েছে;
⇒ যে চুক্তি পালনে অক্ষম;
⇒ যে চুক্তির বিষয়বস্তু পূর্বেই নিষ্পত্তি হয়েছে।

Section 24- Personal bars to the relief: Specific performance of a contract cannot be enforced in favour of a person-
(a) who could not recover compensation for its breach;
(b) who has become incapable of performing, or violates, any essential term of the contract that on his part remains to be performed;
(c) who has already chosen his remedy and obtained satisfaction for the alleged breach of contract; or
(d) who, previously to the contract, had notice that a settlement of the subject-matter thereof (though not founded on any valuable consideration) had been made and was then in force.
৩,৯০৯.
একটি দেওয়ানী মোকদ্দমার শুনানীর জন্য নির্ধারিত দিনে বাদী অনুপস্থিত থাকার কারণে আদালত মোকদ্দমাটি খারিজ করে দেয়। বাদী উক্ত খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে খারিজ আদেশটি বাতিলের আবেদন করে। আদালত আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে। এই ক্ষেত্রে বাদী নিম্নোল্লিখিত কোন পদক্ষেপ নিতে পারে?
  1. আপিল
  2. রিভিউ
  3. রিভিশন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
⇒ সাধারণত আদালতের কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না তবে দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ এর বিধি ১ এর মাঝে ২৫ টি আদেশের তালিকা দেওয়া আছে যেগুলোর বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।
অর্থাৎ আইনে স্পষ্ট বিধান না থাকলে, মূল অথবা আপিল এখতিয়ার প্রয়োগকারী আদালত কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না; কিন্তু ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যায়।
-খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে খারিজ আদেশটি বাতিলের আবেদন প্রত্যাখ্যানও একটি আদেশ। দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৩ আদেশ ১ বিধি অনুযায়ী ৯ আদেশের ৯ বিধি অনুসারে মোকদ্দমা খারিজের আদেশ রদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে কোন আদেশ আপিলযোগ্য আদেশ।
⇒দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৩ আদেশ ১ বিধি অনুযায়ী; আদেশ ৯ এর ৯ বিধির অধীন যদি আপিলযোগ্য মোকদ্দমায়, মোকদ্দমা খারিজ আদেশ বাতিলের আবেদন করা হলে এবং আদালত উক্ত আবেদন প্রত্যাখ্যান করে আদেশ প্রদান করলে, উক্ত প্রত্যাখ্যান আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।

⇒দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৯ বিধি-৮ এর বিধান: শুধু বিবাদি হাজির হয়ে থাকলে সেক্ষেত্রে পদ্ধতি:
-যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার শুনানির জন্য ডাক পড়লে বিবাদি হাজির হয়, কিন্তু বাদি হাজির না হয়, সেক্ষেত্রে বিবাদি বাদির দাবি বা উহার অংশ স্বীকার না করলে আদালত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ প্রদান করবেন; কিন্তু বিবাদি যদি বাদির দাবি কিংবা উহার অংশ স্বীকার করে, তাহলে আদালত ঐ অনুপাতে বিবাদির বিরুদ্ধে ডিক্রি দান করবেন, এবং বাদির অবশিষ্ট দাবি সম্পর্কে মোকদ্দমা খারিজ করবে।
⇒দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৯ বিধি-৯ এর বিধান: বাদির ত্রুটির দরুন তার বিরুদ্ধে ডিক্রি হলে নূতন মোকদ্দমা চলবে না:
-১) যেক্ষেত্রে ৮নং বিধি অনুযায়ী কোন মোকদ্দমার সমগ্র বা আংশিক খারিজ করেন, সেক্ষেত্রে উক্ত কারণে বাদি নূতন মোকদ্দমা রুজু করতে পারবে। কিন্তু বাদি মোকদ্দমা খারিজ করার আদেশ রদ করার জন্য দরখাস্ত করতে পারবে, এবং তিনি যদি মোকদ্দমার শ্রবণের জন্য সন্তুষ্টি সহকারে কারণ দর্শাতে পারেন, তবে আদালত খরচাদি সম্পর্কে যথাবিহীত শর্তসাপেক্ষে মোকদ্দমা খারিজ করার আদেশ রদ করবে এবং কার্যপদ্ধতির জন্য তারিখ নির্দিষ্ট করবে।
-২) বাদির দরখাস্ত সম্পর্কে অন্য পক্ষকে নোটিশ প্রদান না করে উক্ত বিধি অনুযায়ী কোন আদেশ প্রদেয় হবে না।
৩,৯১০.
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৮ ধারা কোন বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. আপিলের সময়সীমা
  2. সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন
  3. মামলার মূল বিষয়বস্তু
  4. আদালতের স্থানীয় এখতিয়ার নির্ধারণ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৮ এর বিধান আদালতসমূহের স্থানীয় এখতিয়ার অনিশ্চিত হলে মোকদ্দমা দায়েরের স্থান:
- স্থাবর সম্পত্তি দুই বা ততোধিক আদালতের কোনটির স্থানীয় সীমানার এখতিয়ারে অবস্থিত, সেই সম্পর্কে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে, যে কোন একটি আদালত অনিশ্চয়তার কারণ লিপিবদ্ধ করে মোকদ্দমা গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করতে পারবেন; তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমাটির প্রকৃতি ও মূল্য আদালতের এখতিয়ারের বাহিরে হবে না।
- আপিল বা রিভিশন আদালতে যদি এই মর্মে আপত্তি উত্থাপন করা হয় যে, সম্পত্তিটি যে স্থানে অবস্থিত সেই স্থানের আদালত ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করেনি, তাহলে আপিল বা রিভিশন আদালত আপত্তিটি মঞ্জুর করবেন না, তবে এখতিয়ারের ব্যাপারে অনিশ্চয়তা সম্পর্কে যুক্তিসংগত কারণ থাকলে এবং ন্যায় বিচার ব্যর্থ হলে উক্ত আবেদন মঞ্জুর করতে পারে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৮ অনুযায়ী, যদি কোনো স্থাবর সম্পত্তি দুই বা ততোধিক আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারের সীমানার মধ্যে অবস্থিত হওয়ার কারণে এখতিয়ার সম্পর্কে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়, তাহলে নিম্নলিখিত বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে:
১. মোকদ্দমা দায়েরের স্থান নির্ধারণ:
যদি স্থাবর সম্পত্তিটি দুই বা ততোধিক আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে অবস্থিত হওয়ার কারণে এখতিয়ার সম্পর্কে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়, তাহলে যে কোনো একটি আদালত এই অনিশ্চয়তার কারণ লিপিবদ্ধ করে মোকদ্দমা গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করতে পারবে।
তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমাটির প্রকৃতি ও মূল্য সংশ্লিষ্ট আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে থাকতে হবে।
আদালতের ডিক্রি বা আদেশ এমনভাবে কার্যকর হবে, যেন সম্পত্তিটি আদালতের নিজস্ব স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে অবস্থিত ছিল।
২. আপিল বা রিভিশন আদালতে আপত্তি:
যদি উপধারা (১) অনুযায়ী বিবৃতি রেকর্ড করা না হয় এবং আপিল বা রিভিশন আদালতে এ মর্মে আপত্তি উত্থাপন করা হয় যে, সম্পত্তিটি যে স্থানে অবস্থিত, সেই স্থানের আদালত ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করেনি, তাহলে আপিল বা রিভিশন আদালত এই আপত্তি গ্রহণ করবে না।
তবে যদি আদালতের মতে মোকদ্দমা দায়েরের সময় এখতিয়ার সম্পর্কে অনিশ্চয়তার যুক্তিসংগত কারণ ছিল এবং এর ফলে ন্যায়বিচার ব্যর্থ হয়েছে, তাহলে আপত্তিটি গ্রহণ করা যেতে পারে।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 section- 18. Place of institution of suit where local limits of jurisdiction of Courts are uncertain:
(1) Where it is alleged to be uncertain within the local limits of the jurisdiction of which of two or more Courts any immovable property is situate, any one of those Courts may, if satisfied that there is ground for the alleged uncertainly, record a statement to that effect and thereupon proceed to entertain and dispose of any suit relating to that property, and its decree in the suit shall have the same effect as if the property were situate within the local limits of its jurisdiction:
Provided that the suit is one with respect to which the Court is competent as regards the nature and value of the suit to exercise jurisdiction.

(2) Where a statement has not been recorded under sub-section (1), and an objection is taken before an appellate or revisional Court that a decree or order in a suit relating to such property was made by a Court not having jurisdiction where the property is situate, the appellate or revisional Court shall not allow the objection unless in its opinion there was, at the time of the institution of the suit, no reasonable ground for uncertainly as to the Court having jurisdiction with respect thereto and there has been a consequent failure of justice.
৩,৯১১.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক ধারা অনুযায়ী মধ্যস্থতা মাধ্যমে সমঝোতা হলে আদালত প্রতিবেদন প্রাপ্তির কত দিনের মধ্যে আদেশ বা ডিক্রি জারী করবে?
  1. ৫ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ১৫ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধিতে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির দুটি (২) পন্থা বর্ণিত হয়েছে
১- মধ্যস্থতা (Mediation);
২- সালিশী (Arbitration).
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক ধারায় মধ্যস্থতার পদ্ধতি সম্পর্কে বলা আছে। এর সাধারন নিয়মসমূহ হল-
⇒ মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় আদালতকে জানাবে যে, তারা কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে কিনা। যদি তারা নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয় তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে। অর্থাৎ সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে।
- মধ্যস্থতার ফি পক্ষগণ নির্ধারণ করবে। যদি তারা ব্যর্থ হন তবে আদালত তা নির্ধারণ করে দিবেন এবং সেটা পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হবে।
⇒ মধ্যস্থতাকারী ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করবে। তবে আদালত স্বেচ্ছায় বা পক্ষদ্বয়ের যৌথ আবেদনের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ৩০দিন বাড়াতে পারবে।
অর্থাৎ মোট ৯০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করতে হবে।
⇒ সমঝােতা সম্পন্ন হলে, তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি জারী করবে।
- উক্ত আদেশ বা ডিক্রি জারী করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন চলবে না।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতার এই বিধান অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯খ ধারায় সালিশ বা Arbitration এর বিধান রয়েছে। ৮৯খ ধারা অনুযায়ী দেওয়ানী আদালত কোন বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিরোধীয় বিষয়টি সালিশের নিকট পাঠাতে পারেন এবং এই জন্য মোকদ্দমার পক্ষগণ মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে তা তুলে নেওয়ার জন্য আদালতের নিকট আবেদন করলে আদালত আবেদন মঞ্জুর করবেন এবং মোকদ্দমা তুলে নেওয়ার অনুমতি দিবেন। তারপর সালিশ আইন, ২০০১ অনুযায়ী বিরোধটি নিষ্পত্তি করতে হবে অর্থাৎ কোন বিরোধ সালিশে (Arbitration) পাঠানো হলে তা সালিশ আইন, ২০০১ অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে এই ক্ষেত্রে কোন কারণে সালিশ অনুষ্ঠিত না হলে বা সালিশের রোয়েদাদ প্রদত্ত না হলে উক্ত মোকদ্দমাটি পক্ষগণ পুনঃ দাখিল করতে পারবেন।
----------
The Code of Civil Procedure, 1908 section-89A (5) The Legal Aid Officer or mediator, as the case may be, shall, without violating the confidentiality of the parties to the mediation proceedings, submit to the court a report of result of the mediation proceedings; and if the result is of compromise of the dispute or disputes in the suit, the terms of such compromise shall be reduced into writing in the form of an agreement, bearing signatures or left thumb impressions of the parties as executants, and signatures of the pleaders, if any, and the Legal Aid Officer or mediator, as the case may be, as witnesses; and the Court shall, within seven days from receiving the said report, pass an order or a decree in accordance with relevant provisions of Order XXIII of the Code.
 
(6) When the Court itself mediates, it shall prepare a report and pass an order in the manner to that as stated in sub-section (5).
৩,৯১২.
জরিমানা অনাদায়ে দণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট যে অপরাধের জন্য জরিমানা করেছিল সেই অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তির কত অংশ আরোপ করতে পার?
  1. ব্যর্থতার কারণে আইনে অনুমদিত যে কোন মেয়াদের
  2. ১২ মাস
  3. অপরাধটির জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তির ১/৪ অংশ
  4. ক এবং গ উভয়
ব্যাখ্যা
♦জরিমানা অনাদায়ে দণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট যদি কোন অপরাধের বিচার করার সময় মূল দণ্ডের অংশ হিসেবে সাজা প্রদান করে, সেই ক্ষেত্রে জরিমানা প্রদানে ব্যর্থতার জন্য কারাবাস উক্ত অপারাধের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট যে দণ্ড প্রদান করে তার ১/৪ অংশের বেশী হবে না। এই বিধানটি শুধুমাত্র যেক্ষেত্রে কারাবাসসহ অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়, সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। শুধুমাত্র অর্থদণ্ডের ক্ষেত্রে অনাদায়ী কারাবাসের ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ৬৭ ধারা প্রযোজ্য হবে।
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৩ মতে জরিমানা অনাদায়ে ম্যাজিস্ট্রেটগণের দত্ত প্রদানের ক্ষমতা (Power of Magistrates to sentence to imprisonment in default of fine):জরিমানা অনাদায়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আইনে অনুমোদিত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ড প্রদান করতে পারবেন- তবে শর্ত হলোঃ
(ক) কারাদণ্ডের মেয়াদ এই কার্যবিধি অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতার বাইরে হবে না;
(খ) ম্যাজিস্ট্রেট যে মামলার বিচার করবেন তাতে মূল দণ্ডের অংশ হিসাবে কারাদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকলে জরিমানা অনাদায়ে যে কারাদণ্ড দেওয়া হবে তার মেয়াদ ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত অপরাধের জন্য জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ড হিসাবে ছাড়া অন্যভাবে যে দণ্ড দিতে পারেন তার এক-চতুর্থাংশের বেশি হবে না
♦৩২ ধারা অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেট যে সর্বাধিক মেয়াদের মূল কারাদণ্ড দিতে পারেন তার সাথে এই ধারা অনুসারে প্রদত্ত কারাদণ্ড যোগ করা যেতে পারে।
দণ্ডবিধির ৬৭ ধারা মতে কেবল অর্থদন্ডে দন্ডাই অপরাধের ক্ষেত্রে অর্থদন্ড অনাদায়ে কারাদন্ডঃ
অপরাধটি যদি শুধু অর্থদণ্ড কর্তৃক দণ্ডনীয় হয়, তবে অর্থদণ্ড অনাদায়ের জন্য আদালত যে কারাদণ্ডের আদেশ দিবেন, তা বিনাশ্রম হবে এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ের জন্য আদালত অপরাধীকে যে মেয়াদের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার আদেশ দিবেন, তা নিম্নে নির্দেশিত বিভিন্ন পরিমাণের অধিক হবে না, যথা: অর্থদণ্ডের পরিমাণ পঞ্চাশ টাকার বেশি না হলে, অনূর্ধ্ব দুই মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদে; অর্থদণ্ডের পরিমাণ একশত টাকার অধিক না হলে, অনতিরিক্ত চার মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদ; এবং এতদ্ব্যতীত অপর যে কোন ক্ষেত্রে অনধিক ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদ।
৩,৯১৩.
একটি দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করা যেতে পারে-
  1. প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা
  2. গৌণ সাক্ষ্য দ্বারা
  3. স্বয়ং দলিলটি দ্বারা
  4. উপরের যে কোন একটির দ্বারা
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা অনুযায়ী কোন দলিলের বিষয় বস্তু প্রাথমিক সাক্ষ্য অথবা মাধ্যমিক গৌণ সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করা যেতে পারে । যেহেতু স্বয়ং দলিলটি একটি প্রাথমিক দলিল, তাই কোন দলিলের বিষয়বস্তু প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা, গৌন সাক্ষ্য দ্বারা বা স্বয়ং দলিলটি দ্বারা প্রমাণ করা যেতে পারে।

♦ সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারা অনুসারে প্রাথমিক/মুখ্য সাক্ষ্য: প্রাথমিক সাক্ষ্য অর্থ সংশ্লিষ্ট দলিলটি আদালতে পরিদর্শনের জন্য দাখিল করা
ব্যাখ্যা-১ কোন দলিল কতিপয় খণ্ডে সম্পাদিত হলে প্রত্যেক খণ্ডই উক্ত দলিলের প্রাথমিক সাক্ষ্য 
কোন দলিল যখন প্রতিলিপি (counterpart) সহকারে সম্পাদিত হয়; এবং প্রত্যেকটি প্রতিলিপি পক্ষগণের মধ্যে একজন বা কয়েকজন কর্তৃক সম্পাদিত হয়, তখন প্রত্যেকটি প্রতিলিপি তার সম্পাদনকারী পক্ষের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সাক্ষ্য।

ব্যাখ্যা-২ঃ যে ক্ষেত্রে একাধিক দলিল একই পদ্ধতিতে (uniform process) প্রস্তুত হয়; যথাঃ মুদ্রণ, লিথোগ্রাফি বা ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, সেই ক্ষেত্রে তার প্রত্যেকটিই অন্যগুলির বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রাথমিক সাক্ষ্য, কিন্তু যে ক্ষেত্রে সেগুলি সবই একটি মূল দলিলের নকল , সেক্ষেত্রে ঐগুলি দলিলটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রাথমিক সাক্ষ্য নয়।

♦ সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারা অনুসারে মাধ্যমিক/গৌণ সাক্ষ্য (Secondary evidence): মাধ্যমিক সাক্ষ্য অর্থ এবং তার অন্তর্ভুক্ত হলঃ বর্ণিত বিধানবলী অনুসারে প্রদত্ত জাবেদা নকল, মূল দলিল হতে এরূপ যান্ত্রিক উপায়ে প্রস্তুত নকল, যাতে নকলের নির্ভুলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় এবং এরূপ নকলের সাথে মিলিয়ে নেওয়া অন্য নকল; মূল দলিল হতে প্রস্তুত করা অথবা মূল দলিলের সাথে মিলিয়ে নেওয়া নকল কোন দলিলের প্রতিলিপি যে পক্ষ উক্ত দলিল সম্পাদন করে নাই, তার বিরুদ্ধে তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে, যে ব্যক্তি নিজে কোন দলিল দেখেছে, তার দেওয়া উক্ত দলিলের বিষয় বস্তু সম্পর্কে মৌখিক বিবরণ।
৩,৯১৪.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের কত ধারায় 'Trial in Absentia' এর বিধান আছে?
  1. ১১ ধারায়
  2. ২১ ধারায়
  3. ২৭ ধারায়
  4. ৩১ ধারায়
ব্যাখ্যা
আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার (Trial in absentia): স্বাভাবিকভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার করা বেআইনী, অর্থাৎ আসামীর উপস্থিতিতে বিচার করতে হয়। কিন্তু কতিপয় ক্ষেত্রে আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার করা যায়, যাকে Trial in absentia বলে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯খ, ৫১২ এবং ৫৪০ক ধারায় আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচারের বিধান রয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২১ ধারায় Trial in absentia-এর বিধান রয়েছে।

ধারা ২১- আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার


(১) যদি ট্রাইব্যুনালের এই মর্মে বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে,-

(ক) অভিযুক্ত ব্যক্তি তাহার গ্রেফতার বা তাহাকে বিচারের জন্য সোপর্দকরণ এড়াইবার জন্য পলাতক রহিয়াছে বা আত্মগোপন করিয়াছেন; এবং

(খ) তাহার আশু গ্রেফতারের কোন সম্ভাবনা নাই, তাহা হইলে ট্রাইব্যুনাল অন্তত: দুইটি বাংলা দৈনিক খবরের কাগজে প্রজ্ঞাপিত আদেশ দ্বারা, আদেশে উল্লিখিত সময়, যাহা ত্রিশ দিনের বেশী হইবে না, এর মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারিবে এবং উক্ত সময়ের মধ্যে যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে হাজির হইতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে ট্রাইব্যুনাল তাহার অনুপস্থিতিতে বিচার করিতে পারিবে।

(২) যদি কোন অভিযুক্ত ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে হাজির হইবার পর বা তাহাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার পর বা তাহাকে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক জামিনে মুক্তি দেওয়ার পর পলাতক হন, তাহা হইলে তাহার ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর বিধান প্রযোজ্য হইবে না, এবং সেইক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল, কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তাহার বিচার সম্পন্ন করিতে পারিবে।
৩,৯১৫.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্পর্কে মতামতের প্রাসঙ্গিকতা নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ধারা ৪৫ক
  2. ধারা ৬৫ক
  3. ধারা ৪৭ক
  4. ধারা ৬৫খ
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৪৭ক (Section 47A) অনুযায়ী, যখন আদালতের কারো ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্পর্কে মতামত গঠন প্রয়োজন হয়, তখন ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের মতামতকে প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সাইবার প্রমাণ সংশ্লিষ্ট মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৪৭ক: ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্পর্কে মতামত যেখানে প্রাসঙ্গিক:
যখন আদালতের কোন ব্যক্তির ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্পর্কে মতামত গঠন করা প্রয়োজন হয়, তখন যেই ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রস্তুতকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ ইস্যু করেছে, তার মতামত প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে গণ্য হবে।
------------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 47A. Opinion as to digital signature where relevant:
When the Court has to form an opinion as to the digital signature of any person, the opinion of the Certifying Authority which has issued the Digital Signature Certificate is a relevant fact.
৩,৯১৬.
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ২ ধারায় কোন আইনকে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের উপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে?
  1. মুসলিম আইনকে
  2. হিন্দু আইনকে
  3. বৌদ্ধ আইনকে
  4. উপরের সকল আইনকে
ব্যাখ্যা
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ২ ধারায় মুসলিম আইনকে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের উপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মুসলিম আইন অনুযায়ী- কোন মুসলিম সম্পত্তি হস্তান্তর করলে, সেই হস্তান্তরকে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ২য় অধ্যায়ের বিধানাবলী প্রভাবিত করবে না। অন্যদিকে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৮ম অধ্যায়ে ১২৯ ধারায় বলা হয়েছে, ৮ম অধ্যায়ে দান সম্পর্কিত কোন বিধান মুসলিম আইনের অধীন দানকে প্রভাবিত করবে না।

Section 2: Repeal of Acts Saving of certain enactments, incidents, rights, liabilities, etc.- Nothing herein contained shall be deemed to affect- 

(a) the provisions of any enactment not hereby expressly repealed: 

(b) any terms or incidents of any contract or constitution of property which are consistent with the provisions of this Act, and are allowed by the law for the time being in force: 

(c) any right or liability arising out of a legal relation constituted before this Act comes into force, or any relief in respect of any such right or liability: or 

(d) save as provided by section 57 and Chapter IV of this Act, any transfer by operation of law or by, or in execution of, a decree or order of a Court of competent jurisdiction: and nothing in the second chapter of this Act shall be deemed to affect any rule of Muslim law.
৩,৯১৭.
নাবালকের পক্ষে নেকস্ট ফ্রেন্ড বা অভিভাবক কখন ডিক্রির অধীনে টাকা বা অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করতে পারে?
  1. বিবাদী পক্ষের সম্মতি নিয়ে
  2. নাবালকের অনুমোদন নিয়ে
  3. আদালতের অনুমতি ছাড়া
  4. আদালতের অনুমতি নিয়ে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩২, বিধি ৬(১) অনুযায়ী, মামলার কোনো নেকস্ট ফ্রেন্ড বা অভিভাবক আদালতের অনুমতি ছাড়া নাবালকের পক্ষে—
ক) ডিক্রি বা আদেশের পূর্বে আপোষক্রমে, কিংবা
খ) ডিক্রির অধীনে কোনো টাকা বা অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করতে পারবে না।
- এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো নাবালকের স্বার্থ সংরক্ষণ করা এবং যেন কেউ ব্যক্তিস্বার্থে নাবালকের নামে কোন আপোষ বা অর্থগ্রহণ করতে না পারে। আদালত যাচাই করে উপযুক্ত মনে করলে লিখিত অনুমতি দেয়।
 সুতরাং,নাবালকের পক্ষে ডিক্রির অধীনে টাকা বা সম্পত্তি গ্রহণ শুধুমাত্র আদালতের অনুমতি নিয়েই করা যায়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩২, বিধি-৬ নাবালকের জন্য ডিক্রির অধীনে নেকষ্ট ফেণ্ড বা অভিভাবক কর্তৃক সম্পত্তি গ্রহণ:
(১) মামলার কোন নেকষ্ট ফ্রেণ্ড বা অভিভাবক আদালতের অনুমতি ব্যতিত নাবালকের পক্ষে–
ক) ডিক্রি বা আদেশের পূর্বে আপোষ ক্রমে কিংবা
খ) নাবালকের অনুকূলে প্রদত্ত কোন ডিক্রির অধীনে, কোন টাকা বা অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করবে না।
(২) যেক্ষেত্রে মামলার নেকষ্ট ফ্রেণ্ড বা অভিভাবক উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নাবালকের সম্পত্তির অভিভাবক নিযুক্ত বা ঘোষিত হয়েছে অথবা এভাবে নিযুক্ত বা ঘোষিত হওয়ার পর কোন টাকা বা অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণের অক্ষমতা আদালতের গোচরীভূত থাকে সেক্ষেত্রে আদালত উক্ত ব্যক্তিকে যদি সম্পত্তি গ্রহণের অনুমতি দান করেন, তবে সম্পত্তিটিকে ধ্বংস হতে রক্ষা করার জন্য এবং উহার উপযুক্ত ব্যবহার তজ্জন্য যথেষ্ট হবে।
৩,৯১৮.
মামলা শুনানীর জন্য ডাকা হলে বাদী-বিবাদী উভয়পক্ষ গরহাজির থাকলে-
  1. খারিজ হবে
  2. একতরফা ডিক্রি হবে
  3. আরজি প্রত্যাখ্যান করা হবে
  4. উপরের সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
♦ আদেশ ৯, বিধি-৩। কোনপক্ষই হাজির না হলে মোকদ্দমা খারিজ হবে (Where neither party appears, suit to be dismissed): মোকদ্দমা শুনানির দিন বাদী এবং বিবাদী উভয়পক্ষ অনুপস্থিত থাকলে আদালত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দিতে পারেন।

♦ আদেশ ৯, বিধি ৩ অনুসারে উল্লেখিত অবস্থায় মোকদ্দমা খারিজ বা ডিসমিস হবে। আরজি প্রত্যাখ্যান হওয়ার কারণ আদেশ ৭, বিধি ১১ তে উল্লেখিত আছে। আর, যখন বাদী হাজির ও বিবাদী গরহাজির হয় তখন আরজি প্রত্যাখ্যান করা হয়।
৩,৯১৯.
আদালত কর্তৃক গঠিত অভিযোগ ________ ভাষায় লিখিত হবে।
  1. আসামীর
  2. স্থানীয়
  3. বাংলা
  4. আদালতের
ব্যাখ্যা
চার্জের বিষয়বস্তু (Contents of Charge)

চার্জে কোন বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে তা ফৌজদারি কার্যবিধির ২২১ থেকে ২২৩ ধারায় বলা হয়েছে যা নিম্নরূপ-

i) ধারা-২২১: অপরাধের পরিচিতি (Charge to state offence)- ফৌজদারি কার্যবিধির ২২১ ধারামতে চার্জে অপরাধের নাম, তবে নাম না থাকলে অপরাধের সংজ্ঞা সুস্পষ্টভাবে প্রদান করতে হবে। এছাড়া অপরাধটি কোন আইনের কত ধারার অন্তর্গত তা চার্জে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। চার্জ ইংরেজীতে বা আদালতের ভাষায় লিখতে হয়।

ফৌজদারি কার্যবিধির ২২১ ধারামতে চার্জে অপরাধের বিবরণ থাকতে হবে:
(১) এই কার্যবিধি অনুসারে প্রত্যেক চার্জে আসামী যে অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছে, তার বিবরণ থাকবে ।

(২) অপরাধের সুনির্দিষ্ট নামই যথেষ্ট বিবরণঃ যে আইন কর্তৃক অপরাধটির উদ্ভব হয়েছে, সেখানে উহার কোন নির্দিষ্ট নাম থাকলে চার্জে শুধুমাত্র সে নামেই উহার বিবরণ প্রদান করা যাবে।

(৩) অপরাধের সুনির্দিষ্ট নাম না থাকলে কিভাবে উল্লেখ করতে হবেঃ যে আইন কর্তৃক অপরাধটির উদ্ভব হয়েছে, সেখানে উহার কোন নির্দিষ্ট নাম না থাকলে উহার সংজ্ঞা এরূপভাবে বর্ণিত হতে হবে যেন আসামী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে ।

(৪) যে আইন এবং যে ধারার বিধানমতে অপরাধ সংঘটিত করা হয়েছে মর্মে বর্ণিত হয়েছে, চার্জে তার উল্লেখ করতে হবে।

(৫) চার্জ দ্বারা কি বুঝায়ঃ কোন ক্ষেত্রে চার্জ প্রণীত হলে তা এমর্মে বিবৃত প্রদানের শামিল হয় যে, উক্ত বিশেষ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধটি সংঘটনের জন্য আইনগত যেসব শর্ত বিদ্যমান, তা পূরণ করা হয়েছে ।

(৬) চার্জের ভাষা: চার্জ ইংরেজীতে অথবা আদালতের ভাষায় লিখতে হবে।

(৭) পূর্ববর্তী দণ্ডের বিষয় যেক্ষেত্রে উল্লেখ করতে হবেঃ আসামী পূর্বে কোন অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হবার জন্য পরবর্তী অপরাধের ক্ষেত্রে বর্ধিত দণ্ড বা ভিন্ন প্রকৃতির দণ্ডে দণ্ডনীয় হলে এবং পরবর্তী অপরাধের দণ্ড বৃদ্ধি বা প্রকৃতি পরিবর্তনের জন্য পূর্ববর্তী দণ্ড প্রমাণ করার দরকার হলে, চার্জে পূর্ববর্তী দণ্ডের ঘটনা, তারিখ ও স্থান বর্ণনা করতে হবে। এধরণের বর্ণনা না করা হয়ে থাকলে আদালত দণ্ড দানের পূর্বে যে কোন সময়ে তা যোগ করতে পারেন।
৩,৯২০.
'A' জানতো যে তার স্বামী খুন করেছে। 'A' তার স্বামীকে শাস্তি থেকে বাঁচানোর জন্য লুকিয়ে রাখে। এই ক্ষেত্রে 'A' এর সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ১ বছর কারাদণ্ড
  2. ৬ মাসের কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর কারাদণ্ড
  4. কোন অপরাধ করেনি তাই শাস্তি পাবে না
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২১২ ধারার অধীন অপরাধীকে আশ্রয় দানের জন্য (Harbouring Offender) বা অপরাধীকে লুকিয়ে রাখার জন্য শাস্তির বিধান করা হয়েছে। কিন্তু অপরাধীকে তার স্বামী বা স্ত্রী আশ্রয় দিলে স্বামী বা স্ত্রী ২১২ ধারায় দণ্ডিত হবেনা। অর্থাৎ ২১২ ধারা স্বামী বা স্ত্রীর জন্য প্রযোজ্য হবে না।

⇒  দণ্ডবিধির ২১২ ধারার বিধান দোষী ব্যক্তিকে আশ্রয় দান করা:- কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দোষী বলে জ্ঞাত করা থাকা সত্ত্বেও অথবা সে দোষী বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তাকে আইনের সাজা হতে বাঁচাবার উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখে বা আশ্রয়দান করে, সেক্ষেত্রে-

দোষী ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:- যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

দোষী ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:- যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে কিংবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

যদি অপরাধটি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় এবং দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় না হয়, তবে সে ব্যক্তি সেই অপরাধটির জন্য বিহিত প্রকারের কারাদণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

অত্র ধারার 'অপরাধ' বলতে বাংলাদেশের মধ্যে যে কাজ অনুষ্ঠিত হলে তা ৩০২, ৩০৪, ৩৮২, ৩৯২, ৩৯৩, ৩৯৪, ৩৯৫, ৩৯৬, ৩৯৭, ৩৯৮, ৩৯৯, ৪০২, ৪৩৫, ৪৩৬, ৪৪৯, ৪৫০, ৪৫৭, ৪৫৮, ৪৫৯ এবং ৪৬০ ধারায় যে কোনটি অনুযায়ী দণ্ডনীয় হত, তা বাংলাদেশের বাইরে যেকোন স্থানে অনুষ্ঠিত হলে তাকেও বুঝাবে এবং অনুরূপ যেকোন কাজ যেন অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই সংঘটনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, এমনভাবেই দণ্ডনীয় বলে পরিগণিত হবে।

⇒  ব্যতিক্রম:- দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অনুরূপ আশ্রয়দান করলে বা লুকিয়ে রাখলে তখন এই বিধান প্রয়োগযোগ্য হবে না।
-----------------------
⇒  Exception. This provision shall not extend to any case in which the harbour or concealment is by the husband or wife of the offender.
৩,৯২১.
তামাদি আইনে ‘সুখাধিকার’ সম্পর্কিত ধারাটি কোনটি?
  1. ধারা ২২
  2. ধারা ২৬
  3. ধারা ২৭
  4. ধারা ২৯
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৬ ‘সুখাধিকার’ (Easement) সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। 
এই ধারা অনুযায়ী:
সুখাধিকারের সংজ্ঞা ও অর্জন: সুখাধিকার বলতে এমন অধিকার বোঝায় যা কোনো চুক্তি ছাড়াই উদ্ভূত হয়, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্যের সম্পত্তির কোনো অংশ (যেমন, মাটি, গাছপালা, বা অন্য কিছু) নিজের লাভের জন্য ব্যবহার বা অপসারণ করতে পারে। ধারা ২৬(১) বলে, যদি কেউ শান্তিপূর্ণভাবে, প্রকাশ্যে এবং অধিকার হিসেবে ২০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে আলো, বাতাস, পথ, পানি বা অন্য কোনো সুখাধিকার উপভোগ করে, তবে তা পরম ও অবিচ্ছেদ্য অধিকার হিসেবে গণ্য হবে।
সরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে: ধারা ২৬(২) অনুযায়ী, যদি সুখাধিকার সরকারি সম্পত্তির উপর দাবি করা হয়, তবে ২০ বছরের পরিবর্তে ৬০ বছরের সময় প্রয়োজন।
মামলার সময়সীমা: সুখাধিকার দাবি করার জন্য মামলা দায়ের করতে হলে, ২০ বছরের উপভোগের সময়টি মামলা দায়েরের ২ বছরের মধ্যে শেষ হতে হবে।
- অর্থাৎ তামাদি আইনের ধারা ২৬ সরাসরি ‘সুখাধিকার’ অর্জনের নিয়ম, সময়সীমা এবং শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করে, এবং এটি ব্যক্তিগত ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে সুখাধিকারের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রযোজ্য।

৩,৯২২.
দণ্ডবিধিতে “Public servant” বলতে কত ধরণের ব্যক্তিকে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ৮ ধরণের ব্যক্তিকে
  2. ১০ ধরণের ব্যক্তিকে
  3. ৯ ধরণের ব্যক্তিকে
  4. ১২ ধরণের ব্যক্তিকে
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ২১ ধারায় সরকারি কর্মচারী বা Public Servant সম্পর্কে বলা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী বলতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে বেতনাদিযুক্ত পদে অধিষ্ঠিত বা কর্মরত কোনো ব্যক্তিকে বোঝায়। 'সরকারি কর্মচারী' কারা এর কোনো চূড়ান্ত সংজ্ঞা বা তালিকা নেই।

 ♦ দণ্ডবিধির ২১ ধারায় ১২ ধরণের ব্যক্তিকে সরকারী কর্মচারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

---------------------------
♦  “Public servant”
Section  21. The words "public servant" denote a person falling under any of the descriptions hereinafter following, namely:- 
 
First.-[Omitted by section 2 of the Penal Code (Amendment) Ordinance, 1982 (Ordinance No. X of 1982)]; 
 
Second. Every Commissioned Officer in the Military, Naval or Air Forces of Bangladesh.
 
[Third.- Every Judge including any person empowered by any law to perform, whether by himself or as a member of any body of persons, any adjudicatory function;] 
 
Fourth.- very officer of a Court of Justice whose duty it is, as such officer, to investigate or report on any matter of law or fact, or to make, authenticate, or keep any document, or to take charge or dispose of any property, or to execute any judicial process, or to administer any oath, or to interpret, or to preserve order in the Court; and every person specially authorized by a Court of Justice to perform any of such duties; 
 
Fifth.-Every juryman, assessor, or member of a panchayat assisting a Court of Justice or public servant; 
 
Sixth.-Every arbitrator or other person to whom any cause or matter has been referred for decision or report by any Court of Justice, or by any other competent public authority; 
 
Seventh.-Every person who holds any office by virtue of which he is empowered to place or keep any person in confinement; 
 
Eighth.-Every officer of the Government whose duty it is, as such officer, to prevent offences, to give information of offences, to bring offenders to justice, or to protect the public health, safety or convenience; 
 
Ninth.-Every officer whose duty it is, such officer, to take, receive, keep or expend any property on behalf of the Government, or to make any survey, assessment or contract on behalf of the Government, or to execute any revenue-process, or to investigate, or to report, on any matter affecting the pecuniary interests of the Government, or to make, authenticate or keep any document relating to the pecuniary interest of the Government, or to prevent the infraction of any law for the protection of the pecuniary interests of the Government ; 
 
Tenth.-Every officer whose duty it is, as such officer, to take, receive, keep or expend any property, to make any survey or assessment or to levy any rate or tax for any secular common purpose of any village, town or district, or to make, authenticate or keep any document for the ascertaining of the rights of the people of any village, town or district; 
 
Eleventh.-Every person who holds any office in virtue of which he is empowered to prepare, publish, maintain or revise an electoral roll or to conduct an election or part of an election. 
 
Illustration 
 
A Municipal Commissioner is a public servant. 
 
Twelfth.-Every person- 
 
(a) in the service or pay of the Government or remunerated by the Government by fees or commissions for the performance of any public duty; 
 
(b) in the service or pay of a local authority or of a corporation, body or authority established by or under any law or of a firm or company in which any part of the interest or share capital is held by, or vested in, the Government.
 
Explanation 1.-Persons falling under any of the above descriptions are public servants, whether appointed by the Government or not. 
 
Explanation 2.-Wherever the words "public servant" occur, they shall be understood of every person who is in actual possession of the situation of a public servant, whatever legal defect there may be in his right to hold that situation. 
 
Explanation 3.-The word "election" denotes an election for the purpose of selecting members of any legislative, municipal or other public authority, of whatever character, the method of selection to which is by, or under, any law prescribed as by election.
৩,৯২৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারা অনুযায়ী আদালত কর্তৃক সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের আবেদন খারিজ করা হলে, চুক্তি রদ করার নির্দেশ দেওয়া-
  1. আদালতের পক্ষে অসম্ভব
  2. আদালতের বিবেচনাধীন
  3. আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক
  4. বাদীর সম্মতির উপর নির্ভরশীল
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩৭ অনুযায়ী, আদালত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করতে অস্বীকার করলে চুক্তি রদ (rescission) করার নির্দেশ দিতে পারেন — অর্থাৎ এটি আদালতের বিবেচনাধীন (discretionary) বিষয়, বাধ্যতামূলক নয়।
- সুতরাং, চুক্তি রদের নির্দেশ আদালতের বিবেচনাধীন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারার বিধান- সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মোকদ্দমার বিকল্প হিসাবে রদের আর্জি:
লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মোকদ্দমা রুজুকারী বাদী বিকল্প হিসাবে আবেদন অবহিত করতে পারেন যে, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা না গেলে তা রদ করা হোক এবং বিলুপ্ত হিসাবে ত্যাগ করা হোক; এবং আদালত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে অস্বীকার করলে তা রদ করা এবং সে অনুসারে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।

⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 37- Alternative prayer for rescission in suit for specific performance:
A plaintiff instituting a suit for the specific performance of a contract in writing may pray in the alternative that, if the contract cannot be specifically enforced, it may be rescinded and delivered up to be cancelled; and the Court, if it refuses to enforce the contract specifically, may direct it to be rescinded and delivered up accordingly.

৩,৯২৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারা অনুযায়ী আদালত যে পক্ষকে চুক্তি রদের প্রতিকার মঞ্জুর করে তাকে অপরপক্ষকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিতে পারে?
  1. ৩৫ ধারায়
  2. ৩৬ ধারায়
  3. ৩৭ ধারায়
  4. ৩৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৮ ধারা অনুযায়ী: রদকারী পক্ষের পক্ষ থেকে আদালত প্রয়োজন অনুসারে ন্যায়পরতার দাবি করতে পারেন:
- চুক্তি রদের রায় প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত যে পক্ষকে তেমন প্রতিকার মঞ্জুর করেছেন, সে পক্ষের পক্ষ থেকে অপর পক্ষকে ন্যায়বিচারের প্রয়োজন অনুসারে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন।
------------------------------
⇒ SR Act Section-38. Court may require party rescinding to do equity:
-On adjudging the rescission of a contract, the Court may require the party to whom such relief is granted to make any compensation to the other which justice may require.
৩,৯২৫.
সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারা অনুযায়ী কয়টি ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ করা যায়?
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারার বিধান যে সকল ক্ষেত্রে দলিল সম্পর্কে মাধ্যমিক সাক্ষ্য দেওয়া যেতে পারে:
⇒ কোন কোন ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ করা যায় তা সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারায় বলা হয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারায় ৭টি ব্যতিক্রম ক্ষেত্র উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে মাধ্যমিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য।

⇒ ক্ষেত্রসমূহ নিম্নরূপঃ
১) সংশ্লিষ্ট দলিলটি যার বিরুদ্ধে প্রমাণ করতে হবে, মূল দলিলটি যদি তার দখলে বা কর্তৃত্বাধীনে থাকে।
২) মূল দলিলটি যদি আদালতের সমনের আওতার বাহিরে বা এখতিয়ারের বাহিরে কোন লোকের দখলে থাকে কিংবা এমন কোন লোকের দখলে আছে যে লোক উক্ত দলিলটি উপস্থাপন করতে আইনত বাধ্য কিন্তু ৬৬ ধারার অধীন নোটিশ প্রদানের পরও সে তা উপস্থাপন করেনি।
৩) সংশ্লিষ্ট দলিলটি যার বিরুদ্ধে প্রমাণ করতে হবে সে লোক বা তার কোন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি মূল দলিলের অস্তিত্ব, অবস্থা বা বিষয়বস্তু লিখিতভাবে যদি স্বীকার করে নেয়।
৪) যেক্ষেত্রে মূল দলিলটি বিনষ্ট হয়েছে বা হারিয়ে গেছে কিংবা যৌক্তিক কোন কারণে মূল দলিলটি আদালতে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।
৫) মূল দলিলটি যদি এমন প্রকৃতির হয় যে, সহজে তা স্থানান্তর করা যায়না।
৬) মূল দলিলটি যেক্ষেত্রে ৭৪ ধারার বিধান অনুসারে সরকারি দলিল হয়।
৭) মূল দলিলটি যেক্ষেত্রে এমন যে, উক্ত দলিলের জাবেদা নকল সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহারের আইনত বিধান আছে।
৩,৯২৬.
'Freedom of the press' is guaranteed under ______________ of Bangladesh constitution.
  1. article 39(1)(a)
  2. article 39(1)(b)
  3. article 39(2)(a)
  4. article 39(2)(b)
ব্যাখ্যা

Answer: Article 39(2)(b).

​Article 39: Freedom of thought and conscience, and of speech:

(1) Freedom of thought and conscience is guaranteed.

​(2) Subject to any reasonable restrictions imposed by law in the interests of the security of the State, friendly relations with foreign states, public order, decency or morality, or in relation to contempt of court, defamation or incitement to an offence–
(a) the right of every citizen to freedom of speech and expression; and
(b) freedom of the press, are guaranteed.

​অনুচ্ছেদ ৩৯: চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা:
(১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।

​(২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে-
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং
(খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতার; নিশ্চয়তা দান করা হইল। 

৩,৯২৭.
আদেশ ২১ বিধি ৬৮ অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তি নিলাম বিক্রির পূর্বে সর্বনিম্ন কতদিনের সময় দিতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৪৫ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৬৮ এর বিধান- বিক্রয়ের সময়:
বিক্রয়ের আদেশদানকারী বিচারকের আদালত ভবনে ইশতেহারের নকল লটকিয়ে দেয়ার তারিখ থেকে স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে অন্ততপক্ষে ৩০ দিন এবং অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে ১৫ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত ডিক্রি দায়িকের লিখিত সম্মতি ব্যতীত নিলাম বিক্রয় অনুষ্ঠিত হতে পারবে না।

৩,৯২৮.
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ধারা ২৪ কোন বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. তদন্তের সময়সীমা
  2. রায় ঘোষণার সময়সীমা
  3. বিচারকার্য সম্পন্নের সময়সীমা
  4. অভিযোগ গঠনের সময়সীমা
ব্যাখ্যা

মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ধারা ২৪: বিচারকার্য সম্পন্নের সময়সীমা:
(১) এই আইনের অধীন সংঘটিত কোন অপরাধের অভিযোগ গঠনের ১৮০ (একশত আশি) কার্যদিবসের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল বিচারকার্য সম্পন্ন করিবে। 
 
(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান সত্ত্বেও, উক্ত সময়সীমার মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করিতে ব্যর্থতা বিচারকার্যকে বাতিল করিবে না, কিন্তু, ট্রাইব্যুনাল উক্ত সময়ের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করিতে সমর্থ না হইবার কারণ ব্যাখ্যা করিয়া ১০ (দশ) কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্রতিবেদন প্রেরণ করিবে।

৩,৯২৯.
The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 অনুযায়ী স্বামী কত বৎসর উম্মাদ থাকলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে?
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-

⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
৩,৯৩০.
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ এবং প্রজাস্বত্ব আইনের কত ধারা অনুযায়ী সরকারী খাস ভূমির লিজ অবশ্যই নিবন্ধিত হতে হবে?
  1. ৮১
  2. ৮১ক
  3. ৮১খ
  4. ৮২
ব্যাখ্যা
⇒ রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ এবং প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর ৮১খ ধারার বিধান ইজারা দলিল নিবন্ধন: ধারা ৮১ বা ৮১ক অথবা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি সরকারি খাসজমি ইজারা প্রদানের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বা এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক ইজারা দলিল সম্পাদিত এবং নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১৭ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) এর বিধানানুসারে নিবন্ধিত না হয়, তাহা হইলে এমনকি ইজারা-গ্রহীতার নিকট হইতে সেলামি বা খাজনা গ্রহণ করা হইলেও, কৃষি অথবা অকৃষি কোনো প্রকার প্রজাস্বত্বই সৃষ্টি হইবে না বা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।
----------
Section 81B. Registration of lease deed:
 - Notwithstanding anything contained in sections 81 and 81A or any other law for the time being in force, no agricultural or non-agricultural tenancy shall in law be created or deemed to have been created, even after acceptance of salami and/or rent from the lessee, till a deed of lease has been executed in favour of the lessee by an authority competent to grant lease of Government khas land or any other gazetted officer duly authorised in this behalf and the said lease has been duly registered under the provision of clause (d) of sub-section (1) of section 17 of the Registration Act, 1908.
৩,৯৩১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫২ অনুযায়ী আদালত কক্ষে সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার কীসের উপর নির্ভর করে?
  1. মামলার গুরুত্ব
  2. পুলিশের সুপারিশ
  3. শুধুমাত্র বিচারকের ইচ্ছা
  4. আদালতের সুবিধাজনক ধারণক্ষমতা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫২ অনুযায়ী, আদালত কক্ষে সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার "আদালতের সুবিধাজনক ধারণক্ষমতা" এর উপর নির্ভর করে।
এর মানে হল, আদালত কক্ষটি যতটুকু লোক ধারণ করতে সক্ষম, সাধারণ জনগণ ততটুকু সেখানে প্রবেশ করতে পারবে। এই প্রবেশাধিকার সীমিত হবে যদি কক্ষের ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে যায়।
তবে, বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন, কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে সর্বসাধারণের উপস্থিতি ক্ষতিকর হতে পারে বা মামলার প্রকৃতির কারণে গোপনীয়তা প্রয়োজন, তাহলে তিনি আদেশ দিতে পারেন যে, সেই particular কক্ষে জনসাধারণ প্রবেশ করতে পারবেন না।

অতএব, সঠিক উত্তর হল: ঘ) আদালতের সুবিধাজনক ধারণক্ষমতা।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫২: আদালত উন্মুক্ত থাকবে-
কোন অপরাধের তদন্ত বা বিচারের উদ্দেশ্যে যে স্থানে কোন ফৌজদারি আদালতের অধিবেশন বসে, ঐ স্থানকে উন্মুক্ত আদালত হিসেবে পরিগণিত করতে হবে এবং যে পর্যন্ত সেখানে সুবিধাজনক স্থান সংকুলান হয়, সে পর্যন্ত সেখানে সর্ব সাধারণের প্রবেশাধিকার থাকতে পারেঃ
শর্ত থাকে যে, বিচারকারী জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট সঠিক মর্মে মনে করলে কোন বিশেষ মামলার অনুসন্ধান বা বিচারের যেকোন ধাপে আদেশ প্রদান করতে পারবেন যে, সর্বসাধারণ বা কোন বিশেষ ব্যক্তি আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত কক্ষ বা ভবনে প্রবেশ করতে বা অন্য কোন জায়গায় অবস্থান করতে পারবে না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 352: Courts to be open-
The place in which any Criminal Court is held for the purpose of inquiring into or trying any offence shall be deemed an open Court, to which the public generally may have access, so far as the same can conveniently contain them:
Provided that the presiding Judge or Magistrate may, if he thinks fit, order at any stage of any inquiry into, or trial of, any particular case, that the public generally, or any particular person, shall not have access to, or be or remain in, the room or building used by the Court.
৩,৯৩২.
দণ্ডবিধির ১৯২ ধারার অধীন কার নিকট ব্যবহার করার জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভব বলে গণ্য হবে?
  1. সরকারী কর্মকর্তার নিকট
  2. বিচারিক কার্যক্রমে
  3. সালিসের সম্মুখে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ১৯২ ধারার বিধান: মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবন করা:- কোন ব্যক্তি যদি কোন অবস্থার অস্তিত্ব সৃষ্টি বা উদ্ভাবন করে, অথবা কোন বইতে বা রেকর্ডে মিথ্যা কথা লিপিবদ্ধ করে অথবা মিথ্যা বিবরণ সাক্ষ্য হিসেবে কোন বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমে অথবা সরকারী কর্মচারীর সম্মুখে সরকারী কর্মচারী হিসেবে কোন আইনগত কার্যক্রমে অথবা কোন সালিসের সম্মুখে উত্থাপন করার উদ্দেশ্যেই যদি তা করা হয়ে থাকে এবং অনুরূপ অবস্থা বা মিথ্যা দলিল বা মিথ্যা বিবৃতি যদি এমন প্রকৃতির হয় যে, উক্ত কার্যক্রমে যিনি সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে তাঁর মতামত গঠন করবেন, তিনি উক্ত অবস্থা বা মিথ্যা দলিল বা মিথ্যা বিবৃতিজনিত সাক্ষ্যে প্রভাবিত হয়ে অনুরূপ কার্যক্রমের সাথে গুরুত্বপূর্ণভাবে জড়িত কোন বিষয় সম্পর্কে ভুল ধারণা বা মত পোষণ করবেন, তবে সে ব্যক্তি 'মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করেছে' বলে পরিগণিত হয়।

--------------
♦ Fabricating false evidence:
Section 192. Whoever causes any circumstance to exist or makes any false entry in any book or record, or makes any document containing a false statement, intending that such circumstance, false entry or false statement may appear in evidence in a judicial proceeding, or in a proceeding taken by law before  a public servant as such, or before an arbitrator, and that such  circumstance, false entry or false statement, so appearing in evidence, may cause any person who in such proceeding is to form an opinion upon the evidence, to entertain an erroneous opinion touching any point material to the result of such proceeding, is said "to fabricate the evidence.” 
 
Illustrations- 
(a) A puts jewels into a box belonging to Z, with the intention that they may be found in that box, and that this circumstance may cause Z to be convicted of theft. A has fabricated false evidence. 
 
(b) A makes a false entry in his Shop-book for the purpose of using it as corroborative evidence in a Court of Justice. A has fabricated false evidence. 
 
(c) A, with the intention of causing Z to be convicted of a criminal conspiracy, writes a letter in imitation of Z's handwriting purporting to be addressed to an accomplice in such criminal conspiracy, and puts the letter in a place which he knows that the officers of the Police are likely to search. A has fabricated false evidence.
৩,৯৩৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে কয়টি আদেশাত্মক প্রতিকারের কথা বলা হয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫ ধারা মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা- 
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ)রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।

 ⇒ সুতরাং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারামতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীন মোট ৫ প্রকার সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় যার মধ্যে ৪টি আদেশাত্মক প্রতিকার এবং ১টি নিষেধাত্মক বা নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief)।

 ⇒ ৫ ধারার ক, খ, ঘ এবং ও অনুচ্ছেদের ৪টি প্রতিকার হলো আদেশাত্মক প্রতিকার। অন্যদিকে ৫ ধারার গ অনুচ্ছেদের প্রতিকারটি নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief)

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫(ঘ) ধারার বিধান অনুযায়ী আদলত ক্ষতিপূরণ ব্যতীত অন্য কোনভাবে পক্ষসমূহের অধিকার নির্ধারণ এবং ঘোষণার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার দিতে পারে। অর্থাৎ ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে আদালত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারেনা। সুতরাং আর্থিক ক্ষতিপূরণ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার নয়।
-----------------
⇒ Section 5 Specific relief how given: Specific relief is given- 
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant; 
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do; 
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do; 
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or 
(e) by appointing a receiver.
৩,৯৩৪.
একটি নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া বিদ্যমান থাকলে, সেই কাজটি প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে গণ্য হবে কোন ধারায়?
  1. ধারা ১৮
  2. ধারা ১৫
  3. ধারা ১৬
  4. ধারা ১৭
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৬ অনুসারে, যখন কোনো নির্দিষ্ট কাজ করা হয়েছিল কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে, তখন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া বা রুটিন একটি প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে।

- ধারা ১৬ অনুযায়ী, যদি কোনো নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য একটি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া বিদ্যমান থাকে, তাহলে সেই কাজটি করার প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, যে কাজটি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্বাভাবিকভাবে হওয়ার কথা, তার প্রমাণ সাপেক্ষে সেই কাজের হওয়া বা না হওয়া প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৬ অনুসারে, কোনো কাজ স্বাভাবিক ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া (course of business) অনুযায়ী সম্পাদিত হলে, সেই প্রক্রিয়ার অস্তিত্বই প্রমাণ করে যে কাজটি করা হয়েছিল।

⇒The Evidence Act, 1872, Section- 16. Existence of course of business when relevant:
- When there is a question whether a particular act was done, the existence of any course of business, according to which it naturally would have been done, is a relevant fact.

৩,৯৩৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারা অনুযায়ী যে সম্পত্তি বা দলিল বিষয়ে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে তা বাজেয়াপ্ত করা হয়?
  1. ৫০৩
  2. ৫০৭
  3. ৫১৫
  4. ৫১৭
ব্যাখ্যা
⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১৭ ধারা অনুযায়ী কোন অপরাধে যে সম্পত্তি বা দলিল বিষয়ে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে বলে আদালত মনে করে, অনুসন্ধান বা বিচার শেষ হওয়ার পর আদালত উক্ত সম্পত্তি বা দলিল ধ্বংস, বাজেয়াপ্ত বা অর্পণের মাধ্যমে হস্তান্তরের আদেশ দিতে পারে।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১৭ ধারার বিধান যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা হস্তান্তরের আদেশ:-
(১) কোন ফৌজদারী আদালতে কোন ইনকোয়ারী বা বিচার শেষ হবার উপর উক্ত আদালতে পেশকৃত বা উহার হেফাজতে রক্ষিত কোন সম্পত্তি বা দলিল, যা সম্পর্কে কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বা যা কোন অপরাধ করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়, ধ্বংস, বাজেয়াপ্ত বা যে ব্যক্তি উহার দখল দাবী করে তাকে প্রদান বা অন্য কোনভাবে উহার বিহিত ব্যবস্থা করার জন্য আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন, সেরুপ আদেশ প্রদান করতে পারবেন।
(২) যেক্ষেত্রে হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত এরূপ আদেশ দিবেন এবং সুবিধা- জনকভাবে নিজস্ব অফিসার কর্তৃক উক্ত সম্পত্তি উহার অধিকারী ব্যক্তিকে অর্পণ করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে উক্ত আদালত এ মর্মে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন যে, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত আদেশ বলবৎ করবেন।
(৩) এই ধারার অধীন আদেশ প্রদান করা হলে তা সংশিষ্ট সম্পত্তি গৃহপালিত পশু বা দ্রুত ও স্বাভাবিক ক্ষয়শীল না হলে, এবং উপধারা-(৪) এ বর্ণিত বিধান মতে না হলে ১ (এক) মাসের জন্য কার্যকর করা যাবে না অথবা যেক্ষেত্রে আপীল পেশ করা হয়, সেক্ষেত্রে আপীলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর করা যাবে না।
(৪) যে ব্যক্তি কোন সম্পত্তি দখলের অধিকারী মর্মে দাবী করে সে ব্যক্তি আদালতের সন্তুষ্টি বিধানপূর্বক জামিনদারসহ বা ব্যতীত এমর্মে একটি মুচলেকা সম্পাদন করে যে, এই ধারার অধীন প্রদত্ত আদেশ আপীলে সংশোধিত বা বাতিল হলে সে উক্ত সম্পত্তি আদালতে অর্পণ করবে, সেক্ষেত্রে এই ধারার কোন বিধান উপধারা-(১) অনুসারে আদালত কর্তৃক উক্ত ব্যক্তিকে সম্পত্তি দেয়ার ব্যাপারে কোন বাধার সৃষ্টি করবে মর্মে মনে করা যাবে না।
৩,৯৩৬.
ফৌজদারী কার্যবিধির কত ধারা অনুযায়ী চিকিৎসক সাক্ষীকে তলব করার জন্য আদালত সমন দিতে পারে?
  1. ৫০৯
  2. ৫০৮
  3. ৫১০ক
  4. ৫১১
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৫০৯ মতে- আসামীর উপস্থিতিতে ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক গৃহীত ও প্রত্যায়িত অথবাকমিশনে গৃহীত কোন সিভিল সার্জন বা অন্য কোন চিকিৎসক সাক্ষীর জবান বন্দী তাকে সাক্ষী হিসাবে ডাকা না হলেও এই আইন অনুসারে কোন অনুসন্ধান বিচার বা অন্যকোন কার্যক্রম সাক্ষ্য হিসাবে প্রদান করা যাবে। আদালত উপযুক্ত মনে করলে এরূপ সাক্ষীকে সমন করতে এবং তার জবানবন্দীর বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাকে পরীক্ষা করতে পারবেন।
৩,৯৩৭.
'ক', 'খ' এর বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের মোকদ্দমা দায়ের করে। 'খ' তার লিখিত জবাবে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে। এক্ষেত্রে 'ক' উক্ত ঘটনার সত্যতা স্বীকারের জন্য, মোকদ্দমা শুনানীর তারিখ থেকে কত দিন 'খ' কে পূর্বে নোটিশ প্রদান করতে পারে?
  1. ১০ দিন
  2. ৯ দিন
  3. ৭ দিন
  4. ১৫ দিন
ব্যাখ্যা
মোকদ্দমার কোন পক্ষ অপর পক্ষকে কোন ঘটনার সত্যতা স্বীকারের জন্য, মোকদ্দমা শুনানীর তারিখ থেকে ৯ দিন পূর্বে নোটিশ প্রদান করতে হবে।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ১২ নং আদেশ অনুযায়ী স্বীকারোক্তি তিন (৩) প্রকার-
 
১/ মামলা স্বীকারের নোটিশ [বিধি-১];
২/ দলিল স্বীকার নোটিশ [বিধি-২];
৩/ ঘটনা স্বীকারের জন্য নোটিশ [বিধি ৪]।
 
• আদেশ-১২, বিধি-৪: ঘটনার সত্যতা স্বীকারের জন্য নোটিশ-
 
মোকদ্দমার কোন পক্ষ অপর পক্ষকে কোন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নেওয়ার জন্য মোকদ্দমা শুনানীর তারিখ থেকে ৯ দিন পূর্বে নোটিশ প্রদান করবে এবং নোটিশ প্রদানের ৬ দিনের মধ্যে বা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত পক্ষকে নোটিশের জবাব দিতে হবে।
৩,৯৩৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির ২৬ আদেশের ৪ বিধিতে কয় ধরনের ব্যক্তির ক্ষেত্রে জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশন পাঠানো যেতে পারে বলে উল্লেখ করা আছে?
  1. ৩ ধরনের
  2. ৪ ধরনের
  3. ৫ ধরনের
  4. ৬ ধরনের
ব্যাখ্যা
 • দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ এ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশনের নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ রয়েছে।

আদেশ ২৬ বিধি ৪ অনুসারে, নিম্নোক্ত ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালত কমিশন প্রেরণ করতে পারেন [Persons for whose examination commission my issue]:
i) এমন ব্যক্তি যে আদালতের অধিক্ষেত্রের সীমানার বাইরে বসবাস করে;
ii) সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য নির্ধারিত তারিখের পূর্বে সে ব্যক্তি অধিক্ষেত্রের সীমানার বাইরে চলে যাবে;
iii) প্রজাতন্ত্রের চাকুরিতে নিয়োজিত ব্যক্তি; যার পক্ষে আদালতে উপস্থিত হলে জনস্বার্থের ক্ষতি হতে পারে।
৩,৯৩৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০১(২) অনুযায়ী, মৌখিক নালিশ দায়ের হলে ম্যাজিস্ট্রেট কী করবেন?
  1. নালিশ বাতিল করবেন
  2. নালিশ গ্রহণ করবেন
  3. নালিশকারীকে উপযুক্ত আদালতে প্রেরণ করবেন
  4. নালিশকারীকে লিখিত নালিশ দাখিল করতে বলবেন
ব্যাখ্যা

• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০১ এ এখতিয়ারবিহীন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ দায়েরের ফলাফল সম্পর্কে বলা হয়েছে।

• ধারা ২০১(১)
লিখিত আকারে নালিশের ক্ষেত্রে-
আমলে নেওয়ার এখতিয়ার নেই এমন কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট যদি লিখিত আকারে নালিশ দায়ের করা হয়, তাহলে তিনি উপযুক্ত আদালতে পেশের জন্য নালিশটি ফেরত দিবেন।

ধারা ২০১(২)
মৌখিক নালিশের ক্ষেত্রে-
যদি লিখিত আকারে নালিশ দায়ের না করা হয় অর্থাৎ মৌখিকভাবে নালিশ দায়ের করা হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট নালিশকারীকে উপযুক্ত আদালতে প্রেরণ করবেন।

Section 201: Procedure by Magistrate not competent to take cognizance of the case-
(1) If the complaint has been made in writing to a Magistrate who is not competent to take cognizance of the case, he shall return the complaint for presentation to the proper Court with an endorsement to that effect. 
(2) If the complaint has not been made in writing, such Magistrate shall direct the complainant to the proper Court.

৩,৯৪০.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোন ধারায় আপীল আদালতের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা রয়েছে?
  1. ৯৬ ধারা
  2. ১০৭ ধারা
  3. ১০৪ ধারা
  4. ১০৫ ধারা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ১০৭ ধারায় আপীল আদালতের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা রয়েছে। ১০৭ ধারা  অনুযায়ী আপীল আদালতের ৪টি ক্ষমতা যথাঃ

১। মোকদ্দমা চূড়ান্ত ভাবে নিষ্পত্তি করতে পারে
২। মোকদ্দমা পুনঃ বিচারের জন্য পাঠাতে পরে
৩। বিচার্য বিষয় গঠন এবং তা বিচারের জন্য প্রেরণ
৪। অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ।
৩,৯৪১.
'Mahr-I-Muazzama' অর্থ কী?
  1. উপযুক্ত দেনমোহর
  2. নির্ধারিত দেনমোহর
  3. তাৎক্ষনিক দেনমোহর
  4. বিলম্বিত দেনমোহর
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) নির্ধারিত দেনমোহর।

⇒ দেনমোহরের পরিমাণের ভিত্তিতে (On basis of Amount) মুসলিম আইনে প্রধানত দুই প্রকার দেনমোহরের কথা বলা হয়েছে-

নির্ধারিত দেনমোহর (Specified dower/Mahr-I-Muazzama): 

স্বামী স্ত্রীকে কত পরিমাণ দেনমোহর দিবে তা যদি নির্ধারিত থাকে, তাহলে উক্ত দেনমোহর হলো নির্ধারিত দেনমোহর।

উপযুক্ত দেনমোহর (Unspecified/proper dower/Mahr-I-Misl): 
যদি দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারিত না থাকে, তাহলে যে পরিমাণ দেনমোহর দেওয়া হয়, তাহলো যথার্থ বা উপযুক্ত দেনমোহর। তবে এই পরিমাণটি যুক্তিযুক্ত হবে।

⇒ আবার দেনমোহর প্রদানের সময়ের ভিত্তিতে (On basis of time) নির্ধারিত দেনমোহর (Specified dower) দুই ভাগে ভাগ করা হয়-

তলবী বা চাহিদামাত্র বা তাৎক্ষনিক দেনমোহর (Prompt Dower/Mahr-I-Muajjal):
যে কোন সময় স্ত্রী চাওয়া মাত্রই যে দেনমোহর স্বামী পরিশোধ করতে বাধ্য, তাকে আশু বা তাৎক্ষণিক দেনমোহর [Prompt Dower) বলে। অর্থাৎ স্ত্রী যে কোন সময় তাৎক্ষণিক (Prompt Dower) দাবী করতে পারে। যদি স্ত্রী চাই তবে বিবাহের পরপরই তাৎক্ষণিক দেনমোহর পরিশোধযোগ্য। ১৯৬৬ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের ১০ ধারা অনুসারে 'নিকাহনামায় বা বিবাহের চুক্তিতে দেনমোহর ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি নির্দিষ্টভাবে উল্লেখিত না থাকলে দেনমোহরের সমগ্র অর্থ চাহিবামাত্র প্রদেয় বলে নিতে হবে।'

স্থগিত বা বিলম্বিত দেনমোহর (Deferred Dower/Mahr -I-Muwajjal):
বিবাহ বিচ্ছেদের সময় বা কোন নির্দিষ্ট ঘটনা সাপেক্ষে বিলম্বিত দেনমোহর (Deferred Dower) পরিশোধযোগ্য। Maina Bibi v Chowdhury Wakil Ahmed 52 I.A (1924) p.521 মামলার রায়ে বলা হয়, স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী দেনমোহরের টাকা পরিশোধের জন্য কোন সম্পত্তির দখল বজায় রাখতে পারে এবং এই দখল চালিয়ে যেতে পারে যতদিন পর্যন্ত না দেনমোহরের টাকা পরিশোধিত হয়।

৩,৯৪২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪২ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট কখন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করবেন?
  1. অভিযুক্ত স্বীকারোক্তি করলে
  2. অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার পর
  3. অভিযুক্ত অপরাধ করেছে বলে মনে হলে
  4. অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে
ব্যাখ্যা
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪২ ধারা অনুসারে, যদি ম্যাজিস্ট্রেট মনে করেন যে, অভিযুক্ত অপরাধ করেছে এমন ধারণা করার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে, তবে তিনি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করবেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪২ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট চার্জ গঠন করেন। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার সম্পর্কে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ থেকে ২৫০ ধারা পর্যন্ত বর্ণনা করা হয়েছে। ২৪১ক ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট মামলার নথি ও দাখিলকৃত কাগজপত্র আমলে নিয়ে যদি এই মত পোষণ করেন যে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন তাহলে চার্জ গঠনের আগে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন।
আর যদি অভিযুক্ত অপরাধ করেছে বলে মনে হয়, তবে যে অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে সেই অপরাধ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ২৪২ ধারায় আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করবেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪২ ধারার ধারার বিধান চার্জ গঠন:
যদি উপরোক্ত বিবেচনা ও শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট মনে করেন যে, অভিযুক্ত অপরাধ করেছে এমন ধারণা করার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে, তবে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অপরাধ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করবেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করবেন যে, তিনি এই অপরাধটি করেছেন কিনা।
-------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-242. Charge to be framed:
If, after such consideration and hearing as aforesaid, the Magistrate is of opinion that there is ground for presuming that the accused has committed an offence, the Magistrate shall frame a formal charge relating to the offence of which he is accused and he shall be asked whether he admits that he has committed the offence with which he is charged.
৩,৯৪৩.
২০২১ সালের দেওয়ানি আদালত সংশোধন আইন অনুযায়ী, জেলা জজ আদালতের আপিল এখতিয়ার কত টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে?
  1. ১ কোটি টাকা
  2. ৫ কোটি টাকা
  3. ১০ কোটি টাকা
  4. ২৫ কোটি টাকা
ব্যাখ্যা
• The Civil Courts Act,1887 এর ২১ ধারায় আপিল গ্রহণের ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের সীমার বিধান রয়েছে। ২১ ধারামতে শুধুমাত্র ২টি আদালত আপিলের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) জেলা জজ আদালত এবং
ii) হাইকোর্ট বিভাগ।

• এই আইন সর্বশেষ সংশোধন করা হয় ২০২১ সালে। উক্ত সংশোধনী দ্বারা ১৯ ও ২১ ধারা সংশোধন করা হয় এবং দেওয়ানী আদালতের আর্থিক এখতিয়ার বৃদ্ধি করা হয়। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, জেলা জজ আদালত ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল শুনতে পারেন। অর্থাৎ, জেলা জজ আদালতের আপিল এখতিয়ার ৫,০০০,০০০০ (পাঁচ কোটি) টাকা পর্যন্ত। ৫,০০০,০০০০ (পাঁচ কোটি) টাকার অধিক মূল্যমানের ডিক্রির বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে হবে।
৩,৯৪৪.
মামুন ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পেয়েছে এবং ৭ মার্চ ২০২৪ তারিখে আপিল দায়ের করে। তামাদি আইনের ১৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী-
  1. আপিল গ্রহণযোগ্য হবে
  2. আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না
  3. আপিলের সময়কাল বাড়ানো হবে
  4. আপিলের জন্য নতুন সময় নির্ধারণ করা হবে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৫০ অনুচ্ছেদে মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ আছে।

অনুচ্ছেদ ১৫০ এর বিধান-
দায়রা আদালত কর্তৃক অথবা মূল ফৌজদারি এখতিয়ার প্রয়োগকালে হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে আপিল দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হবে।

১৫০ অনুচ্ছেদ অনুসারে,
মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের মেয়াদ দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৭ দিন। মামুন ৭ মার্চ ২০২৪ তারিখে আপিল দায়ের করাতে, তা আপিলের সময়সীমা অতিক্রম করেছে, তাই আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না।
৩,৯৪৫.
কোন পরিস্থিতিতে একটি দলিল বাতিলের জন্য মামলা দায়েরযোগ্য?
  1. যখন দলিল নিবন্ধিত নয়
  2. যখন দলিলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে
  3. যখন দলিল একপক্ষীয় হয়
  4. যখন দলিল গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩৯: যখন বাতিলের আদেশ প্রদানযোগ্য:
যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল নিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দিলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসাবে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
যদি দলিল নিবন্ধন আইন অনুসারে নিবন্ধিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সে কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করবেন, যার কার্যালয়ে উক্ত দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে এবং তেমন কর্মকর্তা তার বইতে দলিলের নকলে তার বিলুপ্তির বিষয়াবলী লিপিবদ্ধ করবেন।

(ক) একটি জাহাজের মালিক প্রতারণামূলকভাবে জাহাজটিকে সমুদ্র যাত্রার উপযুক্তমর্মে উল্লেখপূর্বক একজন দায়গ্রাহক 'খ' কে উক্ত জাহাজের বীমা করতে প্রবৃত্ত করে। 'খ' বীমা পলিসির বিলুপ্তি পেতে পারে।

(খ) 'ক', 'খ' কে জমি প্রদান করে। 'খ' তা 'গ'-এর নামে উইল করে মারা যায়। এর পর 'ঘ' জমির দখল গ্রহণ করে এবং এ মর্মে একটি জাল দলিল দাখিল করে যে, তার পক্ষে জিম্মাদার হিসাবেই 'খ' কে হস্তান্তর প্রদান করা হয়েছিল। 'গ' এই জাল দলিলের বাতিলের আদেশ পেতে পারে।

(গ) 'ক' তার জমির, সকল প্রজা উচ্ছেদযোগ্য, এ বিবরণ প্রদান পূর্বক 'খ' এর নিকট জমি বিক্রয় করে। ১৮৭৭ সালের ১লা জানুয়ারী তারিখে একটি দলিলের মাধ্যমে 'খ' এর নিকট তা হস্তান্তর করে। এই তারিখের পরপরই ১৮৭৬ সালের পহেলা অক্টোবরের তারিখ দিয়ে 'ক' প্রতারণামূলকভাবে 'গ' কে উক্ত জমির অংশবিশেষ ইজারা প্রদান করে এবং নিবন্ধন আইন অনুসারে ইজারা নিবন্ধন করা হয়। 'খ' এ ইজারার বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
 
(ঘ) 'ক' একটি জাহাজ 'খ' এর নিকট অর্পণে সম্মত হল। যার জন্য 'খ' কে ৪টি হুণ্ডির মারফত ৩০,০০০ টাকা প্রদান করতে হবে, যা 'ক' গ্রহণ করবে। হুণ্ডিসমূহ প্রণয়ন ও গ্রহণ করা হল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী জাহাজ প্রদান করা হল না। 'ক', 'খ' এর বিরুদ্ধে একটি হণ্ডি প্রসঙ্গে মামলা দায়ের করল। 'খ' সকল হুণ্ডির বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
৩,৯৪৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় কার্যক্রম স্থগিত বা মুলতবি রাখার বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৩৩৩
  2. ধারা ৩৪৪
  3. ধারা ৩৫৫
  4. ধারা ৩৬৬
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৪৪- কার্যক্রম স্থগিত বা মুলতবি রাখার ক্ষমতা:
(১) কোন সাক্ষীর অনুপস্থিতি বা অন্য কোন যৌক্তিক কারণে যদি কোন অনুসন্ধান বা বিচার আরম্ভ, স্থগিত রাখা বা মুলতবি রাখা প্রয়োজনীয় বা সংগত হয়ে পড়ে, সেক্ষেত্রে আদালত সঠিক মনে করলে কারণ উল্লেখপূর্বক লিখিত আদেশ দ্বারা যে শর্তে সঠিক মনে করেন সে শর্তে, যে সময়ের জন্য যৌক্তিক মনে করেন সেই সময়ের জন্য সময়ে সময়ে তা স্থগিত বা মুলতবি রাখতে পারবেন এবং আসামী হাজতে থাকলে পরোয়ানা দ্বারা তাকে রিমান্ডে দিতে পারবেনঃ

রিমান্ডঃ শর্ত থাকে যে, এই ধারা অনুসারে, কোন ম্যাজিস্ট্রেট কোন আসামীকে একসঙ্গে ১৫ (পনের) দিনের অধিক মেয়াদের জন্য রিমান্ডে পাঠাতে পারবেন না।

(২) হাইকোর্ট ডিভিশন ব্যতিরেকে অন্য কোন আদালত কর্তৃক এই ধারার অধীন প্রদত্ত প্রত্যেকটি আদেশ লিখিত ও বিচারকারী জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে।

ব্যাখ্যাঃ আসামী অপরাধ করে থাকতে পারে এ মর্মে সন্দেহ সৃষ্টির মত পর্যাপ্ত সাক্ষ্য যদি সংগ্রহ হয়ে থাকে, এবং রিমান্ডের দ্বারা আরও সাক্ষ্য হতে পারে বলে যদি প্রতীয়মান হয়, তাহলে তা আসামীকে রিমান্ডে দিবার একটি যৌক্তিক কারণ হবে।
৩,৯৪৭.
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হিসাবে কোন ব্যক্তির অবস্থান অস্বীকৃত হলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় প্রতিকার পাওয়া সম্ভব?
  1. ৯ ধারায়
  2. ২২ ধারায়
  3. ৪১ ধারায়
  4. ৪২ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।
⇒ শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।

⇒ অর্থাৎ কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা কোন সম্পত্তিতে তার অধিকার যখন অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অস্বীকার করা হয়, তখন আইনানুগ পরিচয়ের অধিকারী ব্যক্তি বা সম্পত্তিতে অধিকারী ব্যক্তি আদালতের নিকট তার আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার যে অধিকার আছে এই মর্মে ঘোষণা চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
 
⇒ ঘোষণামূলক ডিক্রির প্রকৃতি:-
i) ঘোষণামূলক ডিক্রি দ্বারা নতুন কোন অধিকার সৃষ্টি হয় না বরং বাদীর বিদ্যমান অধিকারকে ঘোষণা করে মাত্র। সুতরাং মামলা করার সময় বাদীর অধিকার বিদ্যমান থাকতে হবে, ভবিষ্যতে কোন অধিকার অর্জন হবে তার জন্য ঘোষণামূলক মামলা করা যায় না।
ii) ঘোষণামূলক মামলায় আদালত বিরোধীয় বস্তুতে আইনগত পরিচয় ও স্বত্বের ঘোষণা করে মাত্র, কিন্তু এই ডিক্রির দ্বারা কোন পক্ষকে কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে আদেশ দেয় না।
iii) ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করা আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা।
 অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হিসাবে কোন ব্যক্তির অবস্থান অস্বীকৃত হলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।

⇒ ৪২ ধারার অধীন ঘোষণামূলক ডিক্রি লাভের আবশ্যকীয় শর্তাবলি-
i) বাদী কোন আইনগত পরিচয় অথবা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকারী হবে;
ii) বাদীর আইনগত পরিচয় (legal character) আইনের দ্বারা সৃষ্ট হতে হবে, চুক্তি দ্বারা সৃষ্ট কোন পরিচয় নয়; এবং
iii) বিবাদী কর্তৃক বাদীর আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার বা অস্বীকারের উদ্যোগ গ্রহণ।
 
⇒ মোকদ্দমা দায়ের:
১. যে আইনগত পরিচয়ের অধিকারী।
২. সম্পত্তিতে স্বত্বের একচ্ছত্র দখলের অধিকারী যার সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
৩. যার পদ, পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
--------------
⇒ SR Act:- Section-42. Discretion of Court as to declaration of status or right. Bar to such declaration:
-Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying, or interested to deny, his title to such character or right, and the Court may in its discretion make therein a declaration that he is so entitled, and the plaintiff need not in such suit ask for any further relief:
Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so.
Explanation:- A trustee of property is a "person interested to deny" a title adverse to the title of some one who is not in existence, and for whom, if in existence, he would be a trustee.
Illustrations:
(a) A is lawfully in possession of certain land. The inhabitants of a neighboring village claim a right of way across the land. A may sue for a declaration that they are not entitled to the right so claimed.
৩,৯৪৮.
নিচের কোনটি দোষ স্বীকারোক্তির গ্রহণযোগ্যতার শর্ত নয়?
  1. তা স্বেচ্ছামূলক হতে হবে
  2. তা পুলিশের হেফাজতে হতে হবে
  3. তা ভীতি বা প্রলোভন ছাড়া হতে হবে
  4. তা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হতে হবে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) তা পুলিশের হেফাজতে হতে হবে।
⇒ দোষ স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য যেসব শর্ত পূরণ হতে হয়, তা হল—
স্বেচ্ছামূলক হতে হবে → (ধারা ২৪, সাক্ষ্য আইন): কোনো প্ররোচনা, ভয়ভীতি বা প্রতিশ্রুতি ছাড়া স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেওয়া হলে তা গ্রহণযোগ্য। 
ভীতি, প্রলোভন বা প্রতিশ্রুতি ছাড়া হতে হবে → (ধারা ২৪): অন্যথায়, তা আদালতে অগ্রহণযোগ্য। 
ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হলে গ্রহণযোগ্য হয় → (ধারা ২৬): যদি পুলিশ হেফাজতে থেকে স্বীকারোক্তি দেয়, তবে তা কেবল ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বৈধ হয়। 

কিন্তু "পুলিশের হেফাজতে হতে হবে" — এটি কোনো গ্রহণযোগ্যতার শর্ত নয়, বরং এই অবস্থায় স্বীকারোক্তি সন্দেহজনক বলে বিবেচিত হয় এবং ম্যাজিস্ট্রেট না থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। (ধারা ২৫ ও ২৬, সাক্ষ্য আইন)

অর্থাৎ দোষ স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য হওয়ার শর্ত হচ্ছে: স্বেচ্ছায়, ভয়ভীতি ও প্রলোভন ছাড়া, এবং ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে হতে হবে। পুলিশের হেফাজত কোনো শর্ত নয়, বরং তা হলে স্বীকারোক্তি সাধারণত অগ্রহণযোগ্য।
৩,৯৪৯.
দেওয়ানি কার্যবিধি আদেশ-১১, বিধি-১ অনুযায়ী, মোকদ্দমার পক্ষ আদালতের অনুমতিতে ইস্যু গঠনের তারিখ থেকে কত দিনের মধ্যে Interrogatories পাঠাতে পারবে? 
  1. ৭ দিন 
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ২১ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১১ বিধি-১ (Order XI Rule 1) Discovery by interrogatories:
"In any suit the plaintiff or defendant by leave of the Court may, within ten days from the date of framing of issues, deliver interrogatories in writing..."
অর্থাৎ, মামলার ইস্যু (issues) গঠনের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে বাদী বা বিবাদী আদালতের অনুমতি নিয়ে লিখিত প্রশ্নাবলী (Interrogatories) দিতে পারে।

⇒দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১১, বিধি ১ অনুযায়ী, মামলার কোনো পক্ষ আদালতের অনুমতিতে, ইস্যু গঠনের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে লিখিত প্রশ্নাবলী (Interrogatories) দিতে পারে।

⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order 11 Rule 1: Discovery by interrogatories:
- In any suit the plaintiff or defendant by leave of the Court may, within ten days from the date of framing of issues, deliver interrogatories in writing for the examination of the opposite parties or any one or more of such parties, and such interrogatories when delivered shall have a note at the foot thereof stating which of such interrogatories each of such persons is required to answer: Provided that no party shall deliver more than one set of interrogatories to the same party without an order for that purpose: Provided also that interrogatories which do not relate to any matters in question in the suit shall be deemed irrelevant, notwithstanding that they might be admissible on the oral cross-examination of a witness.

৩,৯৫০.
ল্যাটিন শব্দগুচ্ছ 'Res nullius' অর্থ কী?
  1. A matter judged
  2. Nobody's thing
  3. The thing speaks for itself
  4. A matter not yet decided
ব্যাখ্যা
⇒ Res nullius : শাব্দিক অর্থ- Nobody's thing.
- আইনি প্রসঙ্গে 'res nullius' শব্দটি ব্যবহৃত হয় যখন কোনো ভূখণ্ড, সম্পত্তি বা জিনিসের সুনিদিষ্ট মালিক নেই। এমন কিছু যা কেউ দখল করতে পারে বা মালিকানা করতে পারে।
- অর্থাৎ, 'res nullius' হল এমন কিছু যার কোনও নির্দিষ্ট মালিক নেই এবং যা যেকোনও ব্যক্তি বা সরকার দখল করতে পারে।

⇒"Res nullius" একটি ল্যাটিন শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ  "মালিকহীন সম্পত্তি"। আইনের পরিভাষায়, এটি এমন বস্তু বা সম্পত্তিকে বোঝায় যার উপর কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মালিকানা নেই।
- সাধারণত প্রাকৃতিক সম্পদ, যেমন বন্যপ্রাণী, সমুদ্র, বাতাস, বা মহাকাশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে।
- যেমন, বন্য প্রাণীকে "res nullius" হিসাবে গণ্য করা হয় যতক্ষণ না কেউ তাদের আটক বা দখলে নিয়ে আসে। একবার দখল হয়ে গেলে সেটি ব্যক্তির মালিকানায় পরিণত হয়।

উদাহরণস্বরূপ:
- একটি বনভূমিতে থাকা হরিণ "res nullius" হিসাবে গণ্য হবে। তবে কেউ যদি সেটিকে ধরে ফেলে, তখন সেটির উপর তার মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হবে।
৩,৯৫১.
কোনো চুক্তি বাতিলযোগ্য হলে The Specific Relief Act, 1877 অনুযায়ী আদালত চুক্তিটি ______
  1. সংশোধন করবেন
  2. রদ করবেন
  3. বাতিল করবেন
  4. পক্ষদের ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত দেবেন
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ থেকে ৩৮ ধারায় চুক্তি রদের বিধান রয়েছে ।
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারা অনুযায়ী একটি লিখিত চুক্তিতে স্বার্থ আছে এমন যে কোন ব্যক্তি (Any person interested in a contract) চুক্তিটি রদ করার জন্য মামলা করতে পারে এবং আদালত যে ক্ষেত্রে চুক্তিটি বিচারপূর্ব রদের আদেশ দিতে পারবেন-  তা হল ধারা ৩৫(১) অনুযায়ী চুক্তিটি বাতিল যোগ্য বা বাদী কর্তৃক সমাপনীয় হলে আদালত চুক্তিটি বিচারপূর্ব রদ করতে পারে ।
৩,৯৫২.
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনে মিথ্যা মামলা দায়েরের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  2. ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  3. ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ধারা ৬- মিথ্যা মামলা, অভিযোগ দায়ের, ইত্যাদির শাস্তি:
যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের অভিপ্রায়ে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ সংঘটনের কোন ন্যায্য বা আইনানুগ কারণ নাই জানিয়াও তাহার বিরুদ্ধে কোন মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেন বা করান, তাহা হইলে প্রথমোক্ত ব্যক্তি অন্যুন দুই বছর এবং অনধিক পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷

শাস্তি:
সর্বনিম্ন: ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড;
সর্বোচ্চ: ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড;
অতিরিক্ত: অর্থদণ্ড।
৩,৯৫৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা অনুসারে, স্বত্ব ঘোষণার ক্ষেত্রে ডিক্রি জারির মামলা করার প্রয়োজন হয় না কেন?
  1. এটি আইনত নিষিদ্ধ
  2. এটি বেশি খরচ সাপেক্ষ
  3. আদালত এটি অনুমতি দেয় না
  4. শুধুমাত্র ঘোষণার মাধ্যমেই ডিক্রিদারের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী, স্বত্ব ঘোষণার ক্ষেত্রে ডিক্রি জারি করার প্রয়োজন হয় না কারণ, এই ধরনের মামলায় আদালত কেবলমাত্র অধিকার ঘোষণা করে এবং ডিক্রি জারি না করেই সেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি ব্যক্তি আদালতে মামলা করে এবং নিজের অধিকার বা আইনগত পরিচয় দাবি করে, তাহলে আদালত শুধুমাত্র সেই দাবি স্বীকার করে ঘোষণা দিতে পারেন, তবে ডিক্রি জারির প্রয়োজন পড়ে না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮৭৭, ধারা ৪২: আইনগত পরিচয় বা অধিকার ঘোষণার ক্ষেত্রে আদালতের সুবিবেচনা। এ ধরনের ঘোষণায় নিষেধাজ্ঞা:
যে কোনো ব্যক্তি যিনি কোনো আইনগত পরিচয় বা কোনো সম্পত্তির অধিকারী, তিনি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন যে ব্যক্তি বা যার আগ্রহ তার সেই পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করছে, এবং আদালত তার ইচ্ছাধীনভাবে সেই ব্যক্তির অধিকার ঘোষণা করতে পারে, এবং বাদীকে এই মামলায় কোনো অতিরিক্ত সাহায্য চাওয়ার প্রয়োজন নেই।
যদিও, কোনো আদালত সেই ধরনের ঘোষণা করবে না যেখানে বাদী, যিনি শুধুমাত্র স্বত্বের ঘোষণা চাইতে পারছেন, আরও কোনো সাহায্য চাওয়ার ক্ষমতা থাকার পরও তা করেন না।
ব্যাখ্যা:- সম্পত্তির ট্রাস্টি একটি "ব্যক্তি যার আগ্রহ অস্বীকার করার" অধিকার রয়েছে, যখন কোন অপরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তার অধিকার সংক্রান্ত স্বত্ব রয়েছে, এবং যদি সে ব্যক্তি বর্তমান থাকতো তবে সে একজন ট্রাস্টি হতো।

⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 42. Discretion of Court as to declaration of status or right. Bar to such declaration:
Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying, or interested to deny, his title to such character or right, and the Court may in its discretion make therein a declaration that he is so entitled, and the plaintiff need not in such suit ask for any further relief:
Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so.
Explanation - A trustee of property is a "person interested to deny" a title adverse to the title of some one who is not in existence, and for whom, if in existence, he would be a trustee.
৩,৯৫৪.
রিভিশনের আবেদনের ক্ষেত্রে সেশন জজের সিদ্ধান্ত-
  1. আপিলযোগ্য
  2. চূড়ান্ত 
  3. পুনরায় রিভিশনযোগ্য
  4. হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত 
ব্যাখ্যা

ধারা ৪৩৯ক: সেশন জজের রিভিশন ক্ষমতা:

(১) কোনো বিচার কার্যক্রমের রেকর্ড যা- নিজে সেশন জজ আহ্বান করেছেন, অথবা অন্যভাবে তার নজরে এসেছে, সে ক্ষেত্রে সেশন জজ হাইকোর্ট বিভাগের ধারা ৪৩৯ অনুসারে যেসব ক্ষমতা ব্যবহার করা যায়, তার সব বা যেকোনো ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন।

(২) কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে বা দ্বারা রিভিশনের আবেদন করলে—সেশন জজের সেই বিষয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

(৩) অতিরিক্ত সেশন জজেরও এই অধ্যায়ের অধীনে সেশন জজের সব ক্ষমতা থাকবে এবং প্রয়োগ করতে পারবেন, যদি কোনো মামলা সেশন জজের সাধারণ বা বিশেষ আদেশে তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

৩,৯৫৫.
'পরিবর্তিত চার্জ আসামিকে পড়ে শোনানোর বাধ্যবাধকতা'- ফৌজদারির কার্যবিধির কত ধারায় বর্ণিত আছে?
  1. ২২১ ধারা
  2. ২২৩ ধারা
  3. ২২৫ ধারা
  4. ২২৭ ধারা
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি মামলায় একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি কি ধরণের অপরাধ করেছে এবং কার বিরুদ্ধে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে তা চার্জ হতেই জানা যায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি যে অপরাধ সংগঠিত করেছেন, সেই অভিযোগ চার্জে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং আইনে সেই অপরাধে কোন নির্দিষ্ট নাম থাকলে তাও উল্লেখ করতে হবে।
সুতরাং বলা যায়, চার্জ হলো কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ যার প্রকৃতি সম্পর্কে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাথমিক স্তরে জানার অধিকারী।ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২১-২৪০ পর্যন্ত চার্জের গঠন এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিধান রয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৭ ধারার বিধান-

অভিযোগে অপরাধের বর্ণনা বা অন্য কোন তথ্য পরিবেশনের সময় কোন ভুল হলে বা কোন কিছু বাদ পড়লে রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোন সময় আদালত অভিযোগ পরিবর্তন বা নতুন অভিযোগ করতে পারবেন এবং এরূপ প্রত্যেকটি পরিবর্তন বা সংযোজন অভিযুক্তকে পড়ে শুনাতে হবে এবং বুঝাতে হবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 227: Court may alter charge-
(1) Any Court may alter or add to any charge at any time before judgment is pronounced.
(2) Every such alteration or addition shall be read and explained to the accused.
৩,৯৫৬.
দণ্ডবিধির ৯৩ ধারায় কোন বিষয়ে বিধান দেয়া হয়েছে?
  1. সদবিশ্বাসে কৃত যোগাযোগ
  2. আত্মরক্ষা
  3. অপরাধে প্ররোচনা
  4. আদালতের নির্দেশ পালন
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৯৩ ধারা- বিধান সদবিশ্বাসে কৃত যোগাযোগ:
কোন ব্যক্তির মঙ্গলার্থে আন্তরিক সদিচ্ছাক্রমে কৃত যোগাযোগ বা খবর প্রদান, উক্ত খবর প্রদানের ফলে উক্ত ব্যক্তির কোন প্রকার ক্ষতি হওয়ার দরুণ অপরাধ হবে না।
 
উদাহরণ
'ক' একজন সার্জন। তিনি আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে জনৈক রোগীকে তার এই মত জানান যে, সে বাঁচবে না। ইহাতে মর্মান্তিক আঘাত প্রাপ্তির ফলে রোগীটির মৃত্যু হয়। 'ক' এর কাজটি অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না, যদিও তিনি জানতেন যে, তার এইরূপ মত দেওয়ার ফলে রোগীটির মৃত্যু ঘটতে পারে।

Section 93- Communication made in good faith:
No communication made in good faith is an offence by reason of any harm to the person to whom it is made, if it is made for the benefit of that person.
 
Illustration 
A, a surgeon, in good faith, communicates to a patient his opinion that he cannot live. The patient dies in consequence of the shock. A has committed no offence, though he knew it to be likely that the communication might cause the patient's death.
৩,৯৫৭.
ধারা ১৬২ অনুযায়ী, 'Gratuitous bailment' কখন সমাপ্ত হয়ে যায়?
  1. আদালতের নির্দেশে
  2. যখন চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়
  3. যখন জিম্মাদাতা দেউলিয়া হয়ে যায়
  4. যখন জিম্মাদার বা জিম্মাদাতা মারা যায়
ব্যাখ্যা
ধারা ১৬২: অনাবশ্যিক জমা (gratuitous bailment) মৃত্যু দ্বারা সমাপ্ত হয়
যদি জিম্মা চুক্তি বিনা প্রতিদানে (gratuitous) হয়ে থাকে, তবে জিম্মাদার (Bailor) বা জিম্মাদাতা (Bailee)- যে কোনো একজনের মৃত্যুর ফলে জিম্মা চুক্তি সমাপ্ত হয়ে যায়।
[A gratuitous bailment is terminated by the death either of the bailor or of the bailee.]
৩,৯৫৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় পলাতক কয়েদীর দণ্ড কার্যকরীকরণ সম্পর্কিত বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৩৯৬
  2. ধারা ৩৯৭
  3. ধারা ৩৭৬
  4. ধারা ৩৬৯
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৯৬- পলাতক কয়েদীর দণ্ড কার্যকরীকরণঃ

(১) এই বিধি অনুসারে কোন পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী দপ্রাপ্ত হলে উক্ত দত্ত মৃত্যুদণ্ড, অর্থদণ্ড বা বেত্রদণ্ড হলে ইতোপূর্বে উল্লেখিত বিধান সাপেক্ষে উহা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং কারাদণ্ড হলে নিম্নোক্ত নিয়ম অনুসারে কার্যকর হবে, অর্থাৎ

(২) পালাবার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী যে দণ্ড ভোগ করতেছিল, তার চেয়ে নতুন দণ্ড কঠোরতর হলে দণ্ড অবিলম্বে কার্যকর হবে।

(৩) পায়নের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী যে দণ্ড ভোগ করতেছিল তদাপেক্ষা নতুন দণ্ড কঠোরতর না হলে, পলায়নের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর পূর্বতন দণ্ডের যে পরিমাণ অনতি বাহিত ছিল তার সমপরিমাণ অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করার পর যখন দণ্ড কার্যকর হবে।

ব্যাখ্যাঃ এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে,
(ক) কারাদণ্ড হতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কঠোরতর রূপে মনে করতে হবে;
(খ) নির্জন বাস কারাদতে নির্জনবাস ব্যতীত একই ধরণের কারাদত অপেক্ষা কঠোর হিসাবেমনে করতে হবে: এবং
(গ) সশ্রম কারাদণ্ড নির্জনবাসসহ বা নির্জনবাস ব্যতীত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অপেক্ষা কঠোর হিসাবে মনে করতে হবে।
৩,৯৫৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৬ক অনুসারে ফরিয়াদির কোন ফি আসামিকে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া যায়?
  1. ফরিয়াদির ব্যক্তিগত খরচ
  2. মামলার আইনজীবীর ফি
  3. নালিশ বা জবানবন্দির ফি
  4. আদালতের রক্ষণাবেক্ষণ ফি
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৬ক অনুযায়ী, যদি কোনো আমল অযোগ্য মামলায় আসামি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে আদালত আসামিকে ফরিয়াদিকে নির্দিষ্ট কিছু ফি পরিশোধের আদেশ দিতে পারেন।
এই ফিগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
(ক) নালিশের দরখাস্তে বা ফরিয়াদির জবানবন্দি গ্রহণের জন্য প্রদত্ত ফি।
(খ) ফরিয়াদির সাক্ষী হাজিরা বা আসামির বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির জন্য প্রদত্ত ফি।
এইসব ফি সরকারি খরচ নয়, বরং ফরিয়াদির ব্যক্তিগতভাবে প্রদানকৃত মামলা-সংক্রান্ত খরচ। তাই এগুলো আসামিকে ফেরত দিতে হয়, যদি তিনি দোষী প্রমাণিত হন।
অতএব, ‘নালিশ বা জবানবন্দির ফি’ আসামিকে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪৬ক ধারার বিধান আমল অযোগ্য মামলার ফরিয়াদি কর্তৃক প্রদত্ত কতিপয় ফিস প্রদানের আদেশ:
(১) কোন আদালতে আমল অযোগ্য অপরাধের কোন অভিযোগ করা হলে এবং আসামি সাজাপ্রাপ্ত হলে আদালত উক্ত সাজা ব্যতীতও ফরিয়াদীকে নিম্নে বর্ণিত অর্থদানের জন্য আসামিকে আদেশ দিতে পারবেন-
(ক) নালিশের দরখাস্তে অথবা ফরিয়াদির জবানবন্দির জন্য প্রদত্ত ফি (যদি থাকে ) এবং
(খ) ফরিয়াদি কর্তৃক তার সাক্ষী কিংবা আসামীর উপর পরোয়ানা জারীর জন্য প্রদত্ত ফি এবং আরও আদেশ দিতে পারবেন যে, উক্ত অর্থ পরিশোধ না করিলে অনধিক ত্রিশ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করবে।
(২) রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগের সময় কোন আপিল আদালত বা হাইকোর্ট বিভাগও এই ধারার অধীন আদেশ দিতে পারবেন।
--------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 546A: Order of payment of certain fees paid by the complainant in non-cognizable cases:
(1) Whenever any complaint of a non-cognizable offence is made to a Court, the Court, if it convicts the accused, may in addition to the penalty imposed upon him, order him to pay to the complainant–
(a) the fee (if any) paid on the petition of complaint or for the examination of the complainant, and
(b) any fees paid by the complainant for serving processes on his witnesses or on the accused,
and may further order that, in default of payment, the accused shall suffer simple imprisonment for a period not exceeding thirty days.
(2) An order under this section may also be made by an Appellate Court, or by the High Court Division, when exercising its powers of revision.
৩,৯৬০.
একই বিচারে জাফরুল্লাহকে দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারায় ২ বছর এবং ৩২৫ ধারায় ৪ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। বিচার চলাকালীন সে ১ বছর জেলে ছিলো। তাকে আর কয় বছর জেলে থাকতে হবে?
  1. ৫ বছর
  2. ৬ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা
- ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮, ধারা-৩৫ক মোতাবেক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি জেলহাজতে থাকলে সেক্ষেত্রে কারাদণ্ডের মেয়াদ বাদ দিতে হবে।
- যেহেতু জাফরুল্লাহ এর মোট সাজা ৬ বছর এবং ইতোমধ্যে সে ১ বছর হাজতবাস করে ফেলেছে, তার আরো ৫ বছর জেলে থাকতে হবে।
৩,৯৬১.
The State Acquisition Tenancy Act, 1950 এর ১৪ ধারায় কার নিকট আপিল করার বিধান আছে?
  1. কালেক্টর
  2. হাইকোর্ট
  3. জেলা জজ
  4. রাজস্ব কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা

⇒ The State Acquisition Tenancy Act, 1950 এর ১৪ ধারার বিধান- আপিল:
১১ ধারার (২) উপধারায় কালেক্টরের আদেশে ক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি উক্ত আদেশের তারিখ হইতে ৩০ দিনের মধ্যে উক্ত এলাকার এখতিয়ারবান জেলা জজের নিকট আপিল দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত আপিলে জেলা জজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে ।

Section 14. Appeal:
Any person who is aggrieved by an order of the Collector under sub-section (2) of section 11 or under sub-section (2) of section 13, may prefer an appeal to the District Judge having jurisdiction over the area within thirty days from the date of such order; and the decision of the District Judge having jurisdiction over the area, on such appeal, shall be final.

৩,৯৬২.
সাক্ষ্য আইনের ১৬২ ধারায়, নথি গ্রহণযোগ্যতা বা উপস্থাপনের আপত্তি নির্ধারণ করবে-
  1. সাক্ষী নিজে
  2. আদালত
  3. আইনজীবী
  4. পুলিশ কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৬২ ধারার বিধান: নথি উপস্থাপন:
যদি কোনো সাক্ষীকে কোনো নথি আদালতে উপস্থাপনের জন্য ডাকা হয়, তবে সেই নথিটি তার অধিকারে বা হেফাজতে থাকলে, তিনি তা আদালতে আনতে বাধ্য থাকবেন, যদিও সেই নথি উপস্থাপন করা বা তা গ্রহণযোগ্য হওয়া নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলেও। আপত্তির বৈধতা আদালতই নির্ধারণ করবে।
আদালত যদি মনে করে, তবে নথিটি পর্যালোচনা করতে পারে, যদি না সেটি রাষ্ট্র সম্পর্কিত কোনো বিষয়বস্তু হয়। এছাড়াও, নথির গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণের জন্য আদালত অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারে।

৩,৯৬৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোথায় বলা হয়েছে যে, বিবাদী একাধিক হলে সমন প্রত্যেক বিবাদির উপর জারি করতে হবে?
  1. আদেশ-৫, বিধি-৯ 
  2. আদেশ-৫, বিধি-১১
  3. আদেশ-৫, বিধি-১৫
  4. আদেশ-৫, বিধি-১৯
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৫, বিধি-১১ তে বিবাদী একাধিক হলে সমন প্রত্যেক বিবাদির উপর জারি করার বিধান উল্লেখ রয়েছে।
- মোকদ্দমা যথাযথভাবে রুজু হওয়ার পর নির্ধারিত তারিখে হাজির এবং দাবির সমর্থনে জবাব দানের জন্য মোকদ্দমা রুজুর পাঁচ(৫) কার্যদিবসের মধ্যে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা বিবাদির নিকট সমন প্রেরণ করবে। মোকদ্দমায় এক বা একাধিক বিবাদী থাকতে পারে।
যেক্ষেত্রে একাধিক বিবাদী থাকে সেক্ষেত্রে সমন আদেশ ৫ এর বিধি ১১ নং অনুসারে জারি করতে হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৫ বিধি-১১ এর বিধান: 
অনুরূপ নির্দেশ যদি না থাকে তবে ক্ষেত্রে বিবাদির সংখ্যা বহুসংখ্যক হয়, সেক্ষেত্রে বিবাদিগণের প্রত্যেকের উপর সমন জারি করতে হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-5 Rule-11: Service on several defendants:
- Save as otherwise prescribed, where there are more defendants than one, service of the summons shall be made on each defendant.

৩,৯৬৪.
দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় মিথ্যা তথ্য দিলে সর্বোচ্চ শাস্তি কি?
  1. ৬ মাস কারাদণ্ড
  2. ৩ বছর কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর কারাদণ্ড
  4. ১০ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
• কোন ব্যক্তি মিথ্যা বিবৃতি, মিথ্যা পরিচয়, মিথ্যা নকল, অনুবাদ বা কোন মানচিত্র প্রদান করলে এর শাক্তি- অনধিক ৭ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।

Section 82. Penalty for making false statements, delivering false copies or translations, false personation, and abetment:
 Whoever- 
(a) intentionally makes any false statement, whether on oath or not, and whether it has been recorded or not, before any officer acting in execution of this Act, in any proceeding or enquiry under this Act; or 
(b) intentionally delivers to a registering officer, in any proceeding under section 19 or section 21, a false copy or translation of a document or a false copy of a map or plan; or 
(c) falsely personates another, and in such assumed character presents any document, or makes any admission or statement, or causes any summons or commission to be issued, or does any other act in any proceeding or enquiry under this Act; or 
(d) abets anything made punishable by this Act; 
shall be punishable with imprisonment for a term which may extend to seven years, or with fine or with both.
৩,৯৬৫.
জনগুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের মতামত চাইতে পারেন কে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. জাতীয় সংসদ
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা

⇒ সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি যদি মনে করেন যে কোনো আইনি প্রশ্ন জনগুরুত্বপূর্ণ, তাহলে তিনি সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে উপদেষ্টামূলক মতামতের জন্য উক্ত প্রশ্ন পাঠাতে পারেন।

অনুচ্ছেদ ১০৬- সুপ্রীম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার:

যদি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হয় যে, আইনের এইরূপ কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হইয়াছে বা উত্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দিয়াছে, যাহা এমন ধরনের ও এমন জনগুরুত্বসম্পন্ন যে, সেই সম্পর্কে সুপ্রীম কোর্টের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি প্রশ্নটি আপীল বিভাগের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করিতে পারিবেন এবং উক্ত বিভাগ স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত শুনানীর পর প্রশ্নটি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে স্বীয় মতামত জ্ঞাপন করিতে পারিবেন।

৩,৯৬৬.
চুক্তি ভঙ্গের সার্বজনীন প্রতিকার কোনটি?
  1. চুক্তি রদ
  2. আর্থিক ক্ষতিপূরণ
  3. সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন
  4. নিষেধাজ্ঞা
ব্যাখ্যা
ক্ষতিপূরণ [Compensation]: 
চুক্তিভঙ্গজনিত কারণে ক্ষতিপূরণ বাবদ যে অর্থ পাওয়া যাবে তাকে বলে খেসারত বা অর্থিক ক্ষতিপূরণ। চুক্তি ভঙ্গের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষের যে লোকসান বা ক্ষতি হয়েছে তা আদায়ের জন্য সে অপর পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দিতে পারবে।
 সাধারণ আইন ও ইকুইটি ল চুক্তিভঙ্গের জন্য অর্থিক ক্ষতিপূরণকে প্রধান প্রতিকার বলেছে। 'চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ যদি যথার্থ ও পর্যাপ্ত প্রতিকার হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে অর্থিক ক্ষতিপূরণই প্রথম ও প্রধান প্রতিকার বলে গণ্য হবে। আবার, যে সকল ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন অসম্ভব সে সকল ক্ষেত্রেও ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাবে। অর্থাৎ, অর্থিক ক্ষতিপূরণ বা খেসারত হচ্ছে চুক্তি ভঙ্গের জন্য একটি সার্বজনীন প্রতিকার।
 
Section 73. Compensation for loss or damage caused by breach of contract:

When a contract has been broken, the party who suffers by such breach is entitled to receive, from the party who has broken the contract, compensation for any loss or damagecaused to him thereby, which naturally arose in the usual course of things from such breach, or which the parties knew, when they made the contract, to be likely to result from the breach of it. 
Such compensation is not to be given for any remote and indirect loss or damage sustained by reason of the breach.
৩,৯৬৭.
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এ ‘‘ভিকটিম’’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে মানব পাচার অপরাধের শিকার কোন ব্যক্তির-
  1. আইনগত অভিভাবক
  2. আইনগত উত্তরাধিকারী
  3. ক বা খ
  4. উল্লিখিত কেউ নয়
ব্যাখ্যা
• মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন এবং মানব পাচার অপরাধের শিকার ব্যক্তিবর্গের সুরক্ষা ও অধিকার বাস্তবায়ন ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন হচ্ছে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২।

- ধারা ২(১০)-
‘‘মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি’’ বা ‘‘ভিকটিম’’ অর্থ এই আইনের অধীন সংঘটিত মানব পাচার অপরাধের শিকার কোন ব্যক্তি এবং উক্ত ব্যক্তির আইনগত অভিভাবক বা উত্তরাধিকারীও (legal heirs) ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
৩,৯৬৮.
'mutatis mutandis' অর্থ কী?
  1. পরিবর্তন ছাড়া
  2. প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ
  3. অপরিবর্তনীয় শর্তসমূহ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'mutatis mutandis' একটি ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ হল- "প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ।"

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩০:
এই অধ্যায়ের চুক্তি সম্পর্কিত বিধানগুলি, প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ, পুরস্কার এবং উইল বা কোডিসিলে একটি বিশেষ সেটেলমেন্ট নিষ্পন্ন করার নির্দেশনাসমূহের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
[The provisions of this Chapter as to contracts shall, mutatis mutandis, apply to awards and to directions in a will or codicil to execute a particular settlement.]

অর্থাৎ, চুক্তির যে সকল বিধি-নিয়ম, দ্বিতীয় অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলিকে প্রয়োজনমত পরিবর্তন করে পুরস্কার এবং উইল/কোডিসিলের নির্দেশনাসমূহের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হবে।
৩,৯৬৯.
যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কাজ মৃত্যু ঘটালে তবে তাকে কী অপরাধে অভিযুক্ত করা হবে?
  1. খুন
  2. শাস্তিযোগ্য নরহত্যা
  3. আত্মহত্যার প্ররোচনা
  4. গুরুতর আঘাত দেওয়া
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারার বিধান- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable homicide):

কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজ কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, সে কাজ সম্পাদন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগতেছে, তার দৈহিক জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- যখন দৈহিক আঘাত বা জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে ব্যক্তি অনুরূপ দৈহিক আঘাত বা জখম ঘটায়, সে ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও যথোচিত প্রতিকারের ও সুনিপুণ চিকিৎসার ফলে সে মৃত্যু রোধ করা যেত।

ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- মাতৃগর্ভে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়। কিন্তু যদি কোন শিশুর (দেহের) কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে ভুমিষ্ঠ না হয়ে থাকে।

৩,৯৭০.
Estoppel সম্পর্কে সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় বর্ণিত হইয়াছে?
  1. ৫২-৫৫ ধারায়
  2. ১০১-১১২ ধারায়
  3. ১১৫-১১৭ ধারায়
  4. ২৪-৩০ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১৫, ১১৬ ও ১১৭ ধারায় এস্টপেল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮ ধারায় এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৪৩ ধারায় Estoppel সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
⇒ সাক্ষ্য আইনে estoppel শব্দটি বহুল পরিচিত। সাধারণতঃ স্বকার্যজনিত বাধা বা Estoppel হচ্ছে যা একবার স্বীকার করে নেয়া হয় তা পরবর্তীতে অস্বীকার করার বাধা। অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের যে নীতি কোন ব্যক্তিকে তার পূর্বে প্রদত্ত কোন বক্তব্যকে পরবর্তীতে অস্বীকার করতে বিরত রাখে তা Estoppel বা প্রতিবন্ধক বা স্বকার্যজনিত বাধা নামে পরিচিত। মূলতঃ কোন ব্যক্তির পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য গ্রহণীয় নয়, এটাই এস্টপলের মূলনীতি।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১৫ ধারায় বলা হয়েছে যখন কোন ব্যক্তি তার ঘোষনা, কাজ বা কার্যবিরতি দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য ব্যক্তিকে কোন বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করিয়েছেন এবং সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে উক্ত ব্যক্তিকে কোন কাজ করতে বলেছেন, তখন উক্ত ব্যক্তি বা তার মধ্যে অথবা তাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে কোন মামলায় প্রথমোক্ত ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধি তার পূর্বে প্রদত্ত ঘোষণা, কার্য বা কার্য বিরতির বিষয়টি অস্বীকার করতে পারবে না"।

⇒ প্রতিবন্ধঃ- যেক্ষেত্রে এক ঘোষণা, কার্য বা কার্যবিররিত দ্বারা স্বেচ্ছায় অপর ব্যক্তিকে কিছু সত্য বলে বিশ্বাস করিয়েছেন অতবা বিশ্বাস করতে দিয়েছেন এবং সে বিশ্বাসের ভিত্তিতে কাজ করতে দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে এদের প্রতিনিধিদের মধ্যে কোন মোকদ্দমায় প্রথমোক্ত ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধি উক্ত প্রসঙ্গের সত্যতা অস্বীকার করতে পারবেন না।

Section-115. Estoppel: When one person has, by his declaration, act or omission, intentionally caused or permitted another person to believe a thing to be true and to act upon such belief, neither he nor his representative shall be allowed, in any suit or proceeding between himself and such person or his representative, to deny the truth of that thing.
৩,৯৭১.
সন্তানের জন্ম বৈধ বলে প্রমাণিত হয়, যদি সন্তানের জন্ম হয় বিবাহবিচ্ছেদের:
  1. ৩০ দিনের মধ্যে
  2. ১৮০ দিনের মধ্যে
  3. ২৮০ দিনের মধ্যে
  4. ১ বছরের মধ্যে
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারা: সন্তানের জন্মই বিবাহ স্থির থাকাকালে এর বৈধতার চূড়ান্ত প্রমাণ-
কোন ব্যক্তির মাতার সঙ্গে এক ব্যক্তির আইনসঙ্গত বিবাহ কায়েম থাকাকালে অথবা বিবাহবিচ্ছেদের পর দুইশত আশি দিনের ভিতর তার মাতা অবিবাহিতা থাকাকালে যদি তার জন্ম হয় ও যদি এটা দেখান না হয় যে, ঐ ব্যক্তি যখন মাতৃগর্ভে এসে থাকতে অনুরূপ কোন সময়ে বিবাহিত পক্ষদ্বয়ের মধ্যে মিলনের পথ উন্মুক্ত ছিল, তাহলে সে যে জন্মেছে এ প্রসঙ্গ দ্বারা অবশ্যই চূড়ান্ত ভাবে প্রমাণিত হবে যে, সে সে ব্যক্তির বৈধ সন্তান।
 
Section 112: Birth during marriage conclusive proof of legitimacy-
The fact that any person was born during the continuance of a valid marriage between his mother and any man, or within two hundred and eighty days after its dissolution, the mother remaining unmarried, shall be conclusive proof that he is the legitimate son of that man, unless it can be shown that the parties to the marriage had no access to each other at any time when he could have been begotten.
৩,৯৭২.
'ক', তার বন্ধু 'খ'-কে এইরূপ ভয় দেখায় যে, 'খ' তাকে টাকা না দিলে সে 'খ'- এর ছেলেকে আটকে রাখবে। এইভাবে 'ক','খ'-কে টাকা দিতে বাধ্য করে। 'ক' নিম্নের কোন অপরাধ করেছে?
  1. দস্যুতা
  2. বলপূর্বক গ্রহণ
  3. অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ
  4. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৩৮৩ ধারা- বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়:
 
কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে তার বা অপর কারো জখম হওয়ার ভয়ে অভিভূত করে এবং তদ্বারা অনুরূপ ভয়ে অভিভূত ব্যক্তিকে কোন ব্যক্তির কাছে যেকোন প্রকার দান বা চাঁদা প্রদানের বা কোন সম্পত্তি, মূল্যবান জামানত বা মূল্যবান জামানতে রূপান্তরযোগ্য কোন স্বাক্ষরিত বা সীলমোহরযুক্ত বস্তু অর্পণে অসাধুভাবে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি বল প্রয়োগে 'সম্পত্তি আদায়' করার অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হয়।
 
উদাহরণসমূহ:
(ক) 'ক', 'গ'-কে এইরূপ ভয় দেখায় যে, 'গ' তাকে টাকা না দিলে 'ক', 'গ'- এর বিরুদ্ধে মানহানির কুৎসা রটনা করবে। এইভাবে সে তাকে টাকা দিতে 'গ'-কে বাধ্য করে। 'ক' 'বল প্রয়োগে' সম্পত্তি আদায়' করেছে বলে পরিগণিত হবে।

উল্লিখিত ক্ষেত্রেও 'ক' ভয় দেখিয়ে সম্পত্তি আদায় করেছে। তাই উক্ত অপরাধ 'বলপূর্বক গ্রহণ' হিসেবে গণ্য হবে।
 
বলপূর্বক গ্রহণের শাস্তি:
দণ্ডবিধির ৩৮৪ ধারা মোতাবেক যে ব্যক্তি জোরপূর্বক গ্রহণের অপরাধ করে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
৩,৯৭৩.
আদেশ ৪ বিধি ১ অনুযায়ী কোন আদেশের বিধিসমূহ মোকদ্দমার আরজি প্রণয়নে প্রযোজ্য হবে?
  1. ১ম ও ২য় আদেশ
  2. ৩য় ও ৪র্থ আদেশ
  3. ৫ম ও ৬ষ্ঠ আদেশ
  4. ৬ষ্ঠ ও ৭ম আদেশ
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৪ বিধি ১: মোকদ্দমা আরজি দাখিলের মাধ্যমে দায়ের করতে হবে:

১) আদালত অথবা তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত কর্মকর্তার নিকট, আরজি উপস্থাপন করার মাধ্যমে প্রত্যেকটি মোকদ্দমা দাখিল করতে হবে এবং আরজি সংশ্লিষ্ট যতজন বিবাদী থাকে, ততগুলো আরজির অবিকল নকল অনুরূপ সকল বিবাদীর উপর পরোয়ানা জারি করার জন্য পেশ করতে হবে।
১ক) মোকদ্দমার ক্ষেত্রে পরোয়ানা জারি করার জন্য নির্ধারিত প্রদেয় কোর্ট ফি আরজি দাখিল করার সময় এবং অন্যান্য কার্যক্রমের ক্ষেত্রে যখন সমন ব্যবহার করা হয় তখন পরিশোধ করতে হবে।
১খ) সমনের একটি নকলসহ প্রত্যেক বিবাদীর জন্য সকল বিবাদীর পূর্ণ ও সঠিক ঠিকানা যুক্ত যথোচিত খামে আগাম প্রদত্ত প্রাপ্তি স্বীকারপত্র আরজির সঙ্গে বাদীকে পেশ করতে হবে।

২) ৬ষ্ঠ ও ৭ম আদেশের বিধিসমূহ যতদূর প্রযোজ্য হয়, তদনুসারে প্রত্যেকটি আরজি প্রণয়ন করতে হবে।
৩,৯৭৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯খ ধারার অধীনে অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর পূর্বে নিচের কোনটি অবশ্যই করতে হবে?
  1. পুলিশ রিপোর্ট সংগ্রহ করা
  2. পত্রিকায় দোষ স্বীকারোক্তি প্রকাশ করা
  3. অভিযুক্তের আত্মীয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা
  4. দুটি জাতীয় বাংলা পত্রিকায় হাজিরার আদেশ প্রকাশ করা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯(খ) ধারায় বলা হয়েছে যে, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর পূর্বে তাকে হাজিরার জন্য ব্যাপক প্রচার আছে এমন দুটি জাতীয় দৈনিক বাংলা পত্রিকায় হাজিরার আদেশ প্রকাশ করতে হবে। যদি অভিযুক্ত উল্লিখিত সময়ের মধ্যে হাজির না হন, তবে তার অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু করা যাবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯-খ ধারার বিধান আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার:
(১) যেক্ষেত্রে ৮৭ ও ৮৮ ধারার বিধান পালন করার পর আদালতের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, আসামিকে যাতে গ্রেফতার ও বিচারে সোপর্দ করা না হয় সেজন্য সে পলায়ন করেছে বা আত্মগোপন করেছে এবং তাকে গ্রেফতার করার আশু সম্ভাবনা নাই, সেক্ষেত্রে নালিশি অপরাধ আমলে গ্রহণকারী আদালত বহুল প্রচারিত কমপক্ষে দুইটি বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা উক্ত ব্যক্তিকে আদেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দিবেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত নির্দেশে ব্যর্থ হলে তার অনুপস্থিতিতে তার বিচার অনুষ্ঠিত হবে।
(২) আসামিকে হাজির করার পর কিংবা আসামি হাজির হবার পর অথবা জামিনে মুক্ত হবার পর যেক্ষেত্রে আসামি পলায়ন করে কিংবা হাজির হতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে (১) উপধারায় বর্ণিত পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না এবং নালিশি অপরাধের জন্য এরূপ ব্যক্তির বিচার করতে উপযুক্ত আদালত এরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করে তার অনুপস্থিতিতেই এরূপ ব্যক্তির বিচার করবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 339B: Trial in absentia:
(1) Where after the compliance with the requirements of section 87 and section 88, the Court has reason to believe that an accused person has absconded or concealing himself so that he cannot be arrested and produced for trial and there is no immediate prospect of arresting him, the Court taking cognizance of the offence complained of shall, by order published in at least two national daily Bengali Newspapers having wide circulation, direct such person to appear before it within such period as may be specified in the order, and if such person fails to comply with such direction, he shall be tried in his absence.
(2) Where in a case after the production or appearance of an accused before the Court or his release on bail, the accused person absconds or fails to appear, the procedure as laid down in sub-section (1) shall not apply and the Court competent to try such person for the offence complained of shall, recording its decision so to do, try such person in his absence.
৩,৯৭৫.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী নিচের কোনটি আদালতে প্রমাণের কোনো প্রয়োজন নেই?
  1. রাষ্ট্রপক্ষের দাবি
  2. স্বীকৃত ঘটনা
  3. সাক্ষীর সাক্ষ্য
  4. আইনজীবীর বক্তব্য
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : স্বীকৃত ঘটনা।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৮ ধারার বিধান: স্বীকৃত ঘটনাসমূহ প্রমাণ করার আবশ্যকতা নেই:
মোকদ্দমায় পক্ষগণ বা তার প্রতিনিধিগণ যদি কোন বিষয় মামলার শুনানির সময়কালে স্বীকার করতে সম্মত হয় অথবা শুনানির পূর্বে যদি তারা এটা নিজ হস্তে লিখে স্বীকার করতে সম্মত হয় অথবা উক্ত সময়ে কার্যকর কোন নিয়ম বা পক্ষগণের কোন আরজি-জবাব ইত্যাদি অনুসারে এটা পক্ষগণের দ্বারা স্বীকৃত বলে বিবেচিত হয়, তবে সে ঘটনা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
তবে, নিজের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা অনুযায়ী আদালত কোন স্বীকৃত ঘটনার এবং অন্যবিধ প্রমাণ চাইতে পারেন।

৩,৯৭৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৬ ধারা অনুযায়ী, কোন ধরনের মামলা অবশ্যই সম্পত্তি যেখানে অবস্থিত, সেই আদালতে দায়ের করতে হবে?
  1. ফৌজদারি মামলা
  2. স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মামলা
  3. অস্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মামলা
  4. অস্থাবর ও স্থাবর উভয় সম্পত্তি সম্পর্কিত মামলা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১৬ ধারা অনুযায়ী মোকদ্দমার বিষয়বস্তু যে আদালতের আঞ্চলিক সীমানার মধ্যে অবস্থিত সেই আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। সাধারণত স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত মোকদ্দমা যেমন স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, ভাগ বাটোয়ারা, স্থাবর সম্পত্তির বিনা সংক্রান্ত মামলা, সেই আদালতে দায়ের করাতে হবে, যেখানে উক্ত বিরোধীয় সম্পত্তি অবস্থিত।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৬ ধারার বিধান- বিষয়বস্তু যেখানে অবস্থিত, মামলা সেখানেই দায়ের করতে হবে:
- যে কোন আইনে নির্ধারিত আর্থিক বা অন্যান্য এখতিয়ার সাপেক্ষ -
ক) খাজনা বা মুনাফাসহ বা ব্যতীত স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য,
খ) স্থাবর সম্পত্তি বাটোয়ারা জন্য,
গ) স্থাবর সম্পত্তির বন্ধক বা দায় (charge) উদ্ধারের অধিকার, হরণ, বিক্রয় বা
ঘ) স্থাবর সম্পত্তির অন্য কোনো প্রকার অধিকার বা স্বার্থ নির্ণয়ের জন্য,
ঙ) স্থাবর সম্পত্তির অনিষ্টের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে,
চ) আটক বা ক্রোককৃত অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য -

আনীত মামলাগুলি যে সকল আদালতের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি অবস্থিত, অথবা, ‘গ’ দফায় বর্ণিত মামলার ক্ষেত্রে যে স্থানে মামলার কারণ পূর্ণভাবে অথবা আংশিকভাবে উদ্ভব হয়, সেসব আদালতেই দায়ের করতে হবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী কর্তৃক বা তার পক্ষে দাখিলী কোন স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত প্রতিকার বা উহার অনিষ্টের জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা, প্রার্থতি প্রতিকার যদি সম্পূর্ণরূপে বিবাদির ব্যক্তিগতভাবে আনুগতভাবে আনুগত্যের ফলে লাভ করা যায়, তবে তাহলে যে আদালতের স্থানীয় সীমানার মধ্যে সম্পত্তি অবস্থিত, অথবা (ঙ) দফায় বর্ণিত ক্ষেত্রে যে স্থানে পূর্ণ বা আংশিকভাবে মামলার কারণ উদ্ভব হয়েছে অথবা যে আদালতের স্থানীয় সীমানার মধ্যে প্রকৃত পক্ষে এবং স্বেচ্ছায় বিবাদী বাস করে বা ব্যবসা-বাণিজ্য চালায় বা ব্যক্তিগতভাবে লাভের জন্য কর্ম করে সেই আদালতে দায়ের করা যাবে।
------------
→ The Code of Civil Procedure, 1908- Section-16. Suits to be instituted where subject-matter situate.
Subject to the pecuniary or other limitations prescribed by any law, suits- 
(a) for the recovery of immovable property with or without rent or profits, 
(b) for the partition of immovable property, 
(c) for foreclosure, sale or redemption in the case of a mortgage of or charge upon immovable property, 
(d) for the determination of any other right to or interest in immovable property, 
(e) for compensation for wrong to immovable property, 
(f) for the recovery of movable property actually under distraint or attachment, 
shall be instituted in the Court within the local limits of whose jurisdiction the property is situate, or, in the case of suits referred to in clause (c), at the place where the cause of action has wholly or partly arisen: 
Provided that a suit to obtain relief respecting, or compensation for wrong to, immovable property held by or on behalf of the defendant may, where the relief sought can be entirely obtained through his personal obedience, be instituted either in the Court within the local limits of whose jurisdiction the property is situate, or, in the case of suits referred to in clause (c), at the place where the cause of action has wholly or partly arisen, or in the Court within the local limits of whose jurisdiction the defendant actually and voluntarily resides, or carries on business, or personally works for gain. 
Explanation.-In this section "property' means property situate in Bangladesh.
৩,৯৭৭.
'A' কোন নদীতে নোঙর করা একটি নৌকায় বসে রয়েছে। 'Z' নোঙরের বাধন খুলে দেয় এবং ইচ্ছাকৃতভাবে স্রোতের অনুকূলে ভাসিয়ে দেয় এবং উক্ত কাজের ফলে 'Z' এর মনে ভীতি সৃষ্টি হয়। 'A' এর অপরাধ কী?
  1. অপরাধ করার চেষ্টা করা
  2. বলপ্রয়োগ করা
  3. অপরাধমূলক ক্ষতি করা
  4. অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৫০ ধারার বিধান অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির উপর সম্মতি ব্যতীত বল প্রয়োগ করে এবং কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ শক্তি প্রয়োগ কর্তৃক, যে ব্যক্তির উপর বল প্রয়োগ করা হল, তার জখম বা ভয় বা বিরক্তি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে অথবা তার শক্তি প্রয়োগের ফলে, যার উপর শক্তি প্রয়োগ করা হল, তার জখম, ভয় বা বিরক্তি উৎপাদিত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি সে অনুরূপ বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

উদাহরণ
(ক) চ নদীতে নোঙ্গর করা একটি নৌকাতে বসে আছে। ক নোঙ্গর তুলে দিল এবং এইভাবে ইচ্ছাপূর্বক নৌকাটিকে নদীতে ভেসে যেতে দিল। এখানে ক ইচ্ছাকৃতভাবে চ-তে গতি সঞ্চার করল, এবং তা করল একটি বস্তুকে এমনভাবে সঞ্চালিত করে, যে বস্তুটি সঞ্চালনের পর কোন ব্যক্তির অন্যকোন কাজ ব্যতীতই উহাতে গতি সঞ্চারিত হয়েছে। সুতরাং ক-ইচ্ছাকৃতভাবে চ-এর উপর বল প্রয়োগ করেছে এবং ক যদি এটা চ-এর সম্মতি ব্যতীত করে থাকে এবং তার উদ্দেশ্য যদি হয় কোন অপরাধ অনুষ্ঠান করা, অথবা সে যদি এইরূপ উদ্দেশ্য নিয়ে বা এইরূপ জানা সত্ত্বেও কার্যটি করে থাকে যে, চ জখম, বিরক্তি বা ভীতিগ্রস্ত হতে পারে, তবে ক চ-এর উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে।
-----------
Criminal force:
Section 350. Whoever intentionally uses force to any person, without that person's consent, in order to the committing of any offence, or intending by the use of such force to cause, or knowing it to be likely that by the use of such force he will cause injury, fear or annoyance to the person to whom the force is used, is said to use criminal force to that other. 
 
Illustrations 
(a) Z is sitting in a moored boat on a river. A unfastens the moorings, and thus intentionally causes the boat to drift down the stream. Here A intentionally causes motion to Z, and he does this by disposing substances in such a manner that the motion is produced without any other action on any person's part. A has therefore intentionally used force to Z; and if he has done so without Z's consent, in order to the committing of any offence, or intending or knowing it to be likely that this use of force will cause injury, fear or annoyance to Z, A has used criminal force to Z. 
 
(b) Z is riding in a chariot. A lashes Z's horses, and thereby causes them to quicken their pace. Here A has caused change of motion to Z by inducing the animals to change their motion. A has therefore used force to Z; and if A has done this without Z's consent, intending or knowing it to be likely that he may thereby injure, frighten or annoy Z, A has used criminal force to Z. 
 
(c) Z is riding in a palanquin. A, intending to rob Z, seizes the pole and stops the palanquin. Here A has caused cessation of motion to Z, and he has done this by his own bodily power. A has therefore used force to Z; and as A has acted thus intentionally, without Z's consent, in order to the commission of an offence. A has used criminal force to Z. 
 
(d) A intentionally pushes against Z in the street. Here A has by his own bodily power moved his own person so as to bring it into contact with Z. He has therefore intentionally used force to Z; and if he has done so without Z's consent, intending or knowing it to be likely that he may thereby injure, frighten or annoy Z, he has used criminal force to Z. 
 
(e) A throws a stone, intending or knowing it to be likely that the stone will be thus brought into contact with Z, or with Z's clothes, or with something carried by Z, or that it will strike water, and dash up the water against Z's clothes or something carried by Z. Here, if the throwing of the stone produce the effect of causing any substance to come into contact with Z, or Z's clothes, A has used force to Z; and if he did so without Z's consent, intending thereby to injure, frighten or annoy Z, he has used criminal force to Z. 
 
(f) A intentionally pulls up a woman's veil. Here A intentionally uses force to her, and if he does so without her consent intending or knowing it to be likely that he may thereby injure, frighten or annoy her, he has used criminal force to her. 
 
(g) Z is bathing, A pours into the bath water which he knows to be boiling. Here A intentionally by his own bodily power causes such motion in the boiling water as brings that water into contact with Z, or with other water so situated that such contact must affect Z's sense of feeling: A has therefore intentionally used force to Z; and if he has done this without Z's consent intending or knowing it to be likely that he may thereby cause injury, fear or annoyance to Z, A has used criminal force. 
 
(h) A incites a dog to spring upon Z, without Z's consent. Here, if A intends to cause injury, fear or annoyance to Z, he uses criminal force to Z.
৩,৯৭৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির Order-XXI, Rule-32 প্রধানত কোন ধরনের ডিক্রি কার্যকর করার বিধান প্রদান করে?
  1. দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার
  2. নিষেধাজ্ঞামূলক ডিক্রি
  3. সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন
  4. উল্লিখিত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির Order XXI, Rule 32 প্রধানত তিন ধরনের ডিক্রি কার্যকর করার বিধান প্রদান করে:
১) সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ডিক্রি (Decree for specific performance of a contract)
২) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের ডিক্রি (Decree for restitution of conjugal rights)
৩) নিষেধাজ্ঞামূলক ডিক্রি (Decree for injunction)
- এই বিধি অনুযায়ী, যদি উক্ত ডিক্রির অধীনে দায়িক ইচ্ছাকৃতভাবে আদেশ না মানে, তবে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে তার সম্পত্তি ক্রোক করা যেতে পারে।
- সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন বা নিষেধাজ্ঞার ডিক্রির ক্ষেত্রে তাকে দেওয়ানি কারাগারে আটক, সম্পত্তি ক্রোক, অথবা উভয় পদ্ধতিতে কার্যকর করা যেতে পারে।
অর্থাৎ আদেশ-২১, বিধি-৩২ দাম্পত্য অধিকার, নিষেধাজ্ঞা, এবং সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন—এই তিন ধরনের ডিক্রি কার্যকর করার নিয়ম বলে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৩২ এর বিধান সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার অথবা নিষেধাজ্ঞার জন্য ডিক্রি:
দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য সম্পত্তি ক্রোক, অথবা  চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের বা নিষেধাজ্ঞার ডিক্রির ক্ষেত্রে দেওয়ানি কারাগারে আটক করে বা সম্পত্তি ক্রোক করে বা উভয় প্রকারেই কার্যকর করা যাবে।
যদি কোন কর্পোরেশন হয়, তবে কর্পোরেশনের সম্পত্তি ক্রোক করে অথবা পরিচালকগণকে বা অন্যান্য প্রধান কর্মকর্তাগণকে দেওয়ানি কারাগারে আটক করে বা ক্রোক এবং আটক উভয় প্রকারেই ডিক্রিটি জারি করা যাবে। কোন ক্রোক ১ বছর যাবৎ বলবৎ থাকলে যদি ডিক্রি দায়িক ডিক্রিটি মান্য না করে থাকে এবং ডিক্রিদার ক্রোককৃত সম্পত্তি নিলাম বিক্রয়ের জন্য আবেদন করে থাকে, তবে অনুরূপ সম্পত্তি নিলাম বিক্রয় করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে আদালত ডিক্রিদারকে অর্থ প্রদান করতে পারেন।
---------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21 Rule- 32. Decree for specific performance, for restitution of conjugal rights, or for an injunction:
(1) Where the party against whom a decree for the specific performance of a contract, or for restitution of conjugal rights, or for an injunction, has been passed, has had an opportunity of obeying the decree and has wilfully failed to obey it, the decree may be enforced in the case of a decree for restitution of conjugal rights by the attachment of his property or, in the case of a decree to the specific performance of a contract or for an injunction by his detention in the civil prison, or by the attachment of his property, or by both.
(2) Where the party against whom a decree for specific performance or for an injunction has been passed is a corporation, the decree may be enforced by the attachment of the property of the corporation or, with the leave of the Court, by the detention in the civil prison of the directors or other principal officers thereof, or by both attachment and detention.

৩,৯৭৯.
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ অনুযায়ী হ্যাকিং এর অপরাধের শাস্তি কী?
  1. অনধিক বারো বৎসর এবং অন্যূন পাঁচ বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক দশ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড
  2. অনধিক দশ বৎসর এবং অন্যূন তিন বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড
  3. অনধিক চৌদ্দ বৎসর এবং অন্যূন সাত বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড
  4. সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অনধিক পঞ্চাশ লাখ টাকা অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
• তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩)-এর ৫৪ ধারা অনুযায়ী,
কম্পিউটার বা কম্পিউটার সিস্টেম ইত্যাদির ক্ষতি, অনিষ্ট সাধন যেমন ই-মেইল পাঠানো, ভাইরাস ছড়ানো, সিস্টেমে অনধিকার প্রবেশ বা সিস্টেমের ক্ষতি করা ইত্যাদি অপরাধ অর্থাৎ হ্যাকিং এর সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ৭ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।

৫৬ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এমন কোনো কাজ করেন, যার ফলে কোনো কম্পিউটার রিসোর্সের কোনো তথ্য বিনাশ, বাতিল বা পরিবর্তিত হয় বা এর উপযোগিতা হ্রাস পায় অথবা কোনো কম্পিউটার, সার্ভার, নেটওয়ার্ক বা কোনো ইলেকট্রনিক সিস্টেমে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন, তবে এটি হবে হ্যাকিং অপরাধ, যার শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ৭ বছর কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা।

৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে কোনো মিথ্যা বা অশ্লীল কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয় অথবা রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, তাহলে এগুলো হবে অপরাধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ৭ বছর কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা।

• বর্তমানে এই অপরাধের বিচার 'সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩' এর অধীন করা হয়।

সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩

ধারা ৩২- হ্যাকিং সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ড


যদি কোনো ব্যক্তি হ্যাকিং করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

ব্যাখ্যা-এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “হ্যাকিং” অর্থ-
(ক) কম্পিউটার তথ্য ভাণ্ডারের কোনো তথ্য চুরি, বিনাশ, বাতিল, পরিবর্তন বা উহার মূল্য বা উপযোগিতা হ্রাসকরণ বা অন্য কোনোভাবে ক্ষতিসাধন; বা
(খ) নিজ মালিকানা বা দখলবিহীন কোনো কম্পিউটার, সার্ভার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক সিস্টেমে অবৈধভাবে প্রবেশের মাধ্যমে উহার ক্ষতিসাধন।
৩,৯৮০.
ক-এর বিরুদ্ধে খ-এর স্বর্ণের চেইন চুরির অভিযোগে আদালতে বিচার চলছে। নীচের কোনটি ক-এর বিচারের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক?
  1. সে যে সম্পত্তি চুরি করেছে সেটি অত্যন্ত মূল্যবান
  2. চেইনটির মালিক ‘খ’ নয়
  3. চেইনটি সে গোপনে নাকি প্রকাশ্যে চুরি করেছে?
  4. ক এর আগেও চুরির অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
♦মূলনীতি এই যে, fact in issue ও relevant issue ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়া যায় না। কী বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়া যায় তাঁর বিস্তারিত আছে ৫-৫৫ ধারা পর্যন্ত। ৪১ ধারায় বলা হয়েছে পূর্বোক্ত মামলার রায় কখন প্রাসঙ্গিক হবে। ‘ক’ একই অপরাধে আগেও দণ্ডিত হয়েছে এই বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। উদাহরণ (e) দ্রষ্টব্য।
৩,৯৮১.
The General Clauses Act,1897 এর কত ধারায় "Act of Parliament" কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে?
  1. ৩(২ক) ধারায়
  2. ৩(১ক) ধারায়
  3. ৩(ক) ধারায়
  4. ৩(৪) ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ৩(১ক): সংসদের আইন
"সংসদের আইন" অর্থে সংসদ কর্তৃক প্রণীত কোন আইনকে বুঝাইবে এবং কোন আইন প্রণয়নকারী পরিষদ কর্তৃক অথবা বাংলাদেশে বা ইহার কোন অংশে বলবৎ কোন সাংবিধানিক দলিলের অধীন আইন প্রণয়নের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি কর্তৃক গৃহীত বা প্রণীত যে কোন আইনও ইহার অন্তর্ভূক্ত হইবে।

Section 3(1a) of The General Clauses Act,1897, "Act of Parliament" shall mean-
an Act passed by Parliament and shall include any Act passed or made by any legislature or any person having authority to legislate under any Constitutional instrument and in force in Bangladesh or any portion thereof:
৩,৯৮২.
রাশেদ তার কর্মচারীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রম করতে বাধ্য করে। রাশেদ দণ্ডবিধির কোন ধারা লঙ্ঘন করেছে?
  1. ধারা ৩৬৬
  2. ধারা ৩৭৪
  3. ধারা ৩৭৮
  4. ধারা ৩৮৪
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৭৪ ধারা- বেআইনী শ্রমে বাধ্য করা:
(১) কোনো ব্যক্তি যদি কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রম দান করতে বাধ্য করে, তবে সেই ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

(২) কোনো ব্যক্তি যদি কোন যুদ্ধবন্দী বা অপর কোন আশ্রিত ব্যক্তিকে বাংলাদেশ সশ্রম বাহিনীতে কার্য করতে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা: এই “যুদ্ধবন্দী" এবং "আশ্রিত ব্যক্তি" অভিব্যক্তিসমূহ যথাক্রমে ১৯৪৯ সনের ১২ই আগষ্ট তারিখের যুদ্ধবন্দীর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত জেনেভা সম্মেলনের-৪ দফা এবং ১৯৪৯ সনের ১২ই আগষ্ট তারিখের যুদ্ধকালে বেসামরিক ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা সম্পর্কিত জেনেভা সম্মেলনের ৪ দফা মোতাবেক তৎসমূহের প্রতি আরোপিত অর্থের অনুরূপ অর্থ দ্যোতক হবে।

Section 374- Unlawful compulsory labour:
(1) Whoever unlawfully compels any person to labour against the will of that person, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.

(2) Whoever compels a prisoner of war or a protected person to serve in the armed forces of Bangladesh shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year.

Explanation- In this section the expressions "prisoner of war" and "protected person" shall have the same meaning as have been assigned to them respectively by Article 4 of the Geneva Convention Relative to the Treatment of Prisoners of War of August 12, 1949, and Article 4 of the Geneva Convention Relative to the Protection of Civilian Persons in Time of War of August 12, 1949.
৩,৯৮৩.
‘A’ ইচ্ছাকৃতভাবে ‘Z’-এর দিকে পাথর নিক্ষেপ করে, জেনে যে এটি ‘Z’-কে জখম বা ভীত করতে পারে, এবং ‘Z’-এর সম্মতি ছাড়া এটি করে। ‘A’ দণ্ডবিধির কোন ধারার অধীনে অপরাধী? 
  1. ধারা ৩৫০
  2. ধারা ৩৫১
  3. ধারা ৩৫২
  4. ধারা ৩৫৪
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৩৫০ অনুসারে, কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে বলপ্রয়োগ করা, যদি এটি অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে বা আঘাত, ভয় বা বিরক্তি সৃষ্টির জন্য হয়, তবে তা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ বলে গণ্য হয়। এখানে, ‘A’ ইচ্ছাকৃতভাবে ‘Z’-এর দিকে পাথর নিক্ষেপ করে, জেনে যে এটি ‘Z’-এর শরীর জখম করতে পারে এবং তাকে ভয় দেখাতে পারে। এটি ধারা ৩৫০-এর অধীনে অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ।
- সুতরাং, ‘A’ ধারা ৩৫০-এর অধীনে অপরাধী হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৫০ ধারার বিধান অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির উপর সম্মতি ব্যতীত বল প্রয়োগ করে এবং কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ শক্তি প্রয়োগ কর্তৃক, যে ব্যক্তির উপর বল প্রয়োগ করা হল, তার জখম বা ভয় বা বিরক্তি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে অথবা তার শক্তি প্রয়োগের ফলে, যার উপর শক্তি প্রয়োগ করা হল, তার জখম, ভয় বা বিরক্তি উৎপাদিত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি সে অনুরূপ বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়।
উদাহরণ:
(ক) চ নদীতে নোঙ্গর করা একটি নৌকাতে বসে আছে। ক নোঙ্গর তুলে দিল এবং এইভাবে ইচ্ছাপূর্বক নৌকাটিকে নদীতে ভেসে যেতে দিল। এখানে ক ইচ্ছাকৃতভাবে চ-তে গতি সঞ্চার করল, এবং তা করল একটি বস্তুকে এমনভাবে সঞ্চালিত করে, যে বস্তুটি সঞ্চালনের পর কোন ব্যক্তির অন্যকোন কাজ ব্যতীতই উহাতে গতি সঞ্চারিত হয়েছে। সুতরাং ক-ইচ্ছাকৃতভাবে চ-এর উপর বল প্রয়োগ করেছে এবং ক যদি এটা চ-এর সম্মতি ব্যতীত করে থাকে এবং তার উদ্দেশ্য যদি হয় কোন অপরাধ অনুষ্ঠান করা, অথবা সে যদি এইরূপ উদ্দেশ্য নিয়ে বা এইরূপ জানা সত্ত্বেও কার্যটি করে থাকে যে, চ জখম, বিরক্তি বা ভীতিগ্রস্ত হতে পারে, তবে ক চ-এর উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 350: Criminal force:
-Whoever intentionally uses force to any person, without that person's consent, in order to the committing of any offence, or intending by the use of such force to cause, or knowing it to be likely that by the use of such force he will cause injury, fear or annoyance to the person to whom the force is used, is said to use criminal force to that other. 
 
Illustration:
(a) Z is sitting in a moored boat on a river. A unfastens the moorings, and thus intentionally causes the boat to drift down the stream. Here A intentionally causes motion to Z, and he does this by disposing substances in such a manner that the motion is produced without any other action on any person's part. A has therefore intentionally used force to Z; and if he has done so without Z's consent, in order to the committing of any offence, or intending or knowing it to be likely that this use of force will cause injury, fear or annoyance to Z, A has used criminal force to Z. 
 
(b) Z is riding in a chariot. A lashes Z's horses, and thereby causes them to quicken their pace. Here A has caused change of motion to Z by inducing the animals to change their motion. A has therefore used force to Z; and if A has done this without Z's consent, intending or knowing it to be likely that he may thereby injure, frighten or annoy Z, A has used criminal force to Z. 
 
(c) Z is riding in a palanquin. A, intending to rob Z, seizes the pole and stops the palanquin. Here A has caused cessation of motion to Z, and he has done this by his own bodily power. A has therefore used force to Z; and as A has acted thus intentionally, without Z's consent, in order to the commission of an offence. A has used criminal force to Z. 

৩,৯৮৪.
'ক' একজন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি রাস্তায় চিৎকার করছে, যার কারণে অন্যান্য লোকজন বিরক্ত হচ্ছে। উক্ত কাজ দণ্ডবিধির কত ধারার অধীন অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে?
  1. ৫০৬
  2. ৫০৭
  3. ৫০৯
  4. ৫১০
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৫১০ ধারা অনুযায়ী, নেশাগ্রস্থ ব্যক্তি দ্বারা প্রকাশ্যে অসদাচরণ:
কোন ব্যক্তি যদি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কোন প্রকাশ্য স্থানে গমন করে, বা যে স্থানে প্রবেশ করা তার পক্ষে অনধিকার প্রবেশ, সে স্থানে প্রবেশ করে এবং সে স্থানে এমন আচরণ করে, যার ফলে কারো বিরক্তি ঘটে, তবে সে ব্যক্তি চব্বিশ ঘন্টা পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা দশ টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

Section 510- Misconduct in public by a drunken person:
Whoever, in a state of intoxication appears in any public place, or in any place which it is a trespass in him to enter, and there conducts himself in such a manner as to cause annoyance to any person, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to twenty-four hours, or with fine which may extend to ten taka, or with both.
৩,৯৮৫.
'প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানার অন্তর্ভুক্ত সকল নির্বাহী ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ সুপ্রীম কোর্টের সহায়তা করিবেন' বাংলাদেশের সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে এই বিধান বলা আছে?
  1. বাংলাদেশের সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদে
  2. বাংলাদেশের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদে
  3. বাংলাদেশের সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদে
  4. বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৩ অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
 ⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদের বিধান: সুপ্রীম কোর্টের সহায়তা:
 প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানার অন্তর্ভুক্ত সকল নির্বাহী ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ সুপ্রীম কোর্টের সহায়তা করিবেন।
-----------
⇒ Article 112. Action in aid of Supreme Court:
 All authorities, executive and judicial, in the Republic shall act in aid of the Supreme Court.
৩,৯৮৬.
নিম্নের কোন কার্যটি চুরি (Theft) হিসাবে গণ্য হবে না?
  1. চলাচলের রাস্তায় পড়ে থাকা মূল্যবান আংটি কুড়িয়ে নেওয়া
  2. অপরের জমিতে দণ্ডায়মান গাছ কেটে ফেলা
  3. টোপ দিয়ে অন্যের পোষা প্রাণী নিয়ে যাওয়া
  4. অপরের জমিতে দণ্ডায়মান গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরির বিধান রয়েছে। ৩৭৮ ধারামতে, কোন ব্যক্তির দখল থেকে সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি (Movable property) অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করলে বা সরানো হলে তা চুরি বলে গণ্য হবে। অন্যভাবে বলা যায়, যদি কোন ব্যক্তি কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে সম্পত্তির দখলে থাকা ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে তবে তা চুরি বলে গণ্য হবে।

ধারা ৩৭৮- চুরি:
কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা ১: কোন বস্তু যতক্ষণ পর্যন্ত অস্থাবর সম্পত্তি না হওয়া বিধায় মাটির সাথে যুক্ত থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত উহা চুরি করার বস্তু বলে গণ্য হবে না, কিন্তু যে মুহূর্তে উহাকে মাটি হতে বিচ্ছিন্ন করা হয় সে মুহূর্তেই উহা চুরি করার বস্তু হওয়ার যোগ্য গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা ২: যে কাজ কর্তৃক (মাটি হতে) বিচ্ছিন্নতা সাধন করা হয়, সে কাজ দ্বারাই স্থানান্তর করা হলে তা চুরি হতে পারে।

ব্যাখ্যা ৩: কোন ব্যক্তি কোন বস্তুর গতির প্রতিবন্ধক অপসারণ করলে বা উহাকে অপর কোন বন্ধু হতে বিচ্ছিন্ন করলে এবং বাস্তবিকভাবে উহা স্থানান্তর করলে উক্ত বস্তু স্থানান্তর করে বলে পরিগণিত হবে।

ব্যাখ্যা ৪: কোন ব্যক্তি যে কোন উপায়ে কোন পশুকে হাঁটায়, সে লোক সে পশুকে এবং অনুরূপভাবে সৃষ্ট গতির ফলে উক্ত পশু দ্বারা স্থানান্তরিত প্রত্যেক বস্তুকে স্থানান্তর করে বলে গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা ৫: সংজ্ঞায় উল্লেখিত সম্মতি প্রকাশ্য অথবা পরোক্ষ হতে পারে। এবং উক্ত সম্মতি দখলকারী ব্যক্তি বা উক্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্য বা পরোক্ষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত হতে পারে।

১,২ এবং ৪ নং ব্যাখা অনুসারে, অপশন 'খ', 'গ' এবং 'ঘ' চুরি বলে গণ্য হবে। যেহেতু রাস্তায় পড়ে থাকা আংটির মালিক কে বা প্রকৃত দখলদার কে তা যে ব্যক্তি আংটি কুড়িয়ে নিয়েছে, সে জানে না, তাই সে আংটি টি মালিকের বা প্রকৃত দখলদারের অসম্মতিতে নিয়েছে তা বলা যাবে না। সুতরাং, চলাচলের রাস্তায় পড়ে থাকা মূল্যবান আংটি কুড়িয়ে নেয়া চুরি বলে গণ্য হবে না।
৩,৯৮৭.
নিম্নের কোনটি সমন পাঠানোর সঠিক মাধ্যম নয়?
  1. ফ্যাক্স বার্তা
  2. মোবাইল মেসেজ
  3. ক এবং খ
  4. কুরিয়ার সার্ভিস
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধিতে সমন পাঠানোর উল্লেখিত মাধ্যমসমূহ হলো-
⇒ ডাকযোগে
⇒ ফ্যাক্স
⇒ ই-মেইল
⇒ কুরিয়ার সার্ভিস


• আদেশ ৫ বিধি ৯ (জারির জন্য সমন অর্জন অথবা প্রেরণ) -

(১) যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে, বিবাদি সেটির এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় বসবাস করে, বা সমন গ্রহণ করার ক্ষমতা প্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি বিবাদির পক্ষে যদি এরূপ এলাকার ভিতর বসবাস করে, তবে আদালত অন্য কোনরূপ নির্দেশ না দিলে হয় উপযুক্ত কর্মকর্তার নিকট স্বয়ং জারি করার লক্ষ্যে বা তাদের অধঃস্তন কোন ব্যক্তি দ্বারা অথবা উপ-ধারা (৪) এর বিধান অনুযায়ী জেলা জজ কর্তৃক তালিকাভুক্ত কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সমন অর্পিত বা প্রেরিত হবে।

(২) উপযুক্ত কর্মকর্তা যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করেছে, সেখানকার না হয়ে অন্য কোন আদালতের কর্মকর্তাও হতে পারেন, এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তার নিকট ডাকযোগে বা আদালত যেভাবে নির্দেশ দিতে পারে অনুরূপ অন্য যে কোন উপায়ে প্রেরণ করা যাবে।

(৩) আদালত উপ-বিধি (১) তে বর্ণিত বিধানের অতিরিক্ত হিসেবে বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে বিবাদিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করতে পারে এবং একইসঙ্গে ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে বা ইলেক্ট্রনিক মেইল সার্ভিস এর মাধ্যমে নিজ খরচে সমন প্রেরণের নির্দেশ দিবেন।

(৪) জেলা জজ উপ-বিধি (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কুরিয়ার সার্ভিসের একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন (সময় সময় হালনাগাদসহ) এবং তার প্রশাসনিক অধিক্ষেত্রের সকল দেওয়ানি আদালতসমূহকে তা অবহিত করবেন।

(৫) যখন সমন উপযুক্ত কর্মকর্তা বা কুরিয়ার সার্ভিস এর নিকট প্রেরণ করা হয়, তখন তিনি বা কুরিয়ার সার্ভিস উক্ত সমন প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে বা প্রেরণ করবেন এবং আদালতকে এতদবিষয়ে অবহিত করবেন:তবে শর্ত থাকে যে, যদি উপযুক্ত কর্মকর্তা বা কুরিয়ার সার্ভিস উক্ত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমন প্রেরণে ব্যর্থ হন, তাহলে উক্ত কর্মকর্তা অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং কুরিয়ার ক্ষেত্রে, জেলা জজ উপ-বিধি (৪) অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত তালিকা হতে তা বাদ দিবেন।
৩,৯৮৮.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে 'বৃদ্ধি নীতি' নামে কোন মতবাদ পরিচিত?
  1. রদের মতবাদ
  2. আনসাব মতবাদ
  3. প্রতিনিধিত্ব মতবাদ
  4. আউলের মতবাদ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (শরীয়া) অনুসারে 'বৃদ্ধি নীতি' বা Doctrine of Aul (আউলের মতবাদ) বলতে বোঝায় যখন কোরানিক অংশীদারদের নির্ধারিত অংশ যোগ করলে সম্পত্তির মোট পরিমাণ (১) অতিক্রম করে (যেমন ১৩/১২), তখন অংশীদারদের অংশসমূহকে তাদের অনুপাতে কমিয়ে (যেমন ১২/১৩ করে) যোগফলকে ১-এর সমান করা হয়। এতে কোনো অংশীদারকে বাদ দেওয়া হয় না, শুধু অংশের পরিমাণ সমন্বয় করা হয়।

⇒ আউল শব্দের অর্থ বৃদ্ধি বা increase অংশীদারদের নিজেদের অংশ বন্টনের পরে, যদি মোট পরিমাণ এক না হয়ে এটা অতিক্রম করে তবে সেক্ষেত্রে বৃদ্বির বা আউলের মতবাদ প্রয়োগ হয়।
- অংশগুলো একত্রে যোগ করলে যোগ করলে যোগফলের ভগ্নাংশের 'লব' (numerator ) দ্বারা অংশের মোট সংখ্যা বোঝাবে এবং 'হর' (denomenator) দ্বারা উত্তরাধিকার যোগ্য সম্পত্তির) মোট ভাগ বা টুকরার পরিমাণ বোঝাবে।
- যদি বন্টিত অংশের পরিমাণ ১৩/১২ হয়, তখন ১৩ দ্বারা অংশের সংখ্যা বোঝাবে এবং ১২ দ্বারা সম্পত্তির বিভক্তি বা খন্ডের সংখ্যা বোঝাবে। এক্ষেত্রে সম্পত্তির টুকরা বা খন্ডের চাইতে এতে প্রাপ্য অংশের পরিমাণ বেশী হয়েছে।
- অন্য কথায় অংশীদারদের অংশের পরিমানের চাইতে সম্পত্তি কম। অংশীদারদের স্ব স্ব অংশের কোনরকম পরিবর্তন না করে একে এককরার যে নীতি প্রয়োগ করা হয় তাই আউল নীতি (doctrine of Aul) নামে পরিচিত।
- এই নীতি অনুযায়ী অংশীদারদের অংশসমূহ তাদের অনুপাতে কমিয়ে এদের যোগফল এক করা হয়।

৩,৯৮৯.
'Analogical deduction' মুসলিম আইনের কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. অভিভাবকত্ব
  2. অছিয়ত
  3. উৎস
  4. উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা
'Analogical deduction' বা ‘কিয়াস’ মুসলিম আইনের উৎসগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

মুসলিম আইনের চারটি প্রধান উৎস হলো:
১. কুরআন;
২. হাদিস;
৩. ইজমা (সর্বসম্মত মতামত);
৪. কিয়াস অর্থাৎ 'Analogical deduction'।
যখন কোনো বিষয়ে কুরআন ও হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকে, তখন ইসলামের বিশিষ্ট আইনজ্ঞগণ কিয়াস বা অনুমিতির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে তারা কুরআন ও হাদিসের আলোকে নতুন পরিস্থিতি এবং ঘটনাবলীর বিচার করেন।

অতএব, 'Analogical deduction' বা কিয়াস মুসলিম আইনের উৎসসমূহের অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি মূল উৎসগুলির পাশাপাশি ব্যবহৃত হয় এবং মুসলিম আইনকে আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করেছে।
৩,৯৯০.
নিম্নলিখিত কোনটি "ডকুমেন্ট" (Document) হিসেবে গণ্য হবে না?
  1. একটি ফটোগ্রাফ
  2. একটি মানচিত্র
  3. মৌখিক বক্তব্য
  4. খোদাই করা ধাতব ফলক
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩ অনুসারে, "ডকুমেন্ট" বলতে এমন কোনো বিষয় বোঝানো হয় যা কোনো পদ বা চিহ্ন দ্বারা লেখা, অঙ্কিত বা বর্ণিত হয়ে থাকে, এবং তা রেকর্ড হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এটি ফটোগ্রাফ, মানচিত্র, বা খোদাই করা ধাতব ফলক এর মতো বস্তু হিসেবে গণ্য হয়, কারণ এগুলি তথ্য ধারণ করে এবং সেগুলি ডকুমেন্ট হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা যায়।
তবে, মৌখিক বক্তব্য একটি ডকুমেন্ট হিসেবে গণ্য হয় না, কারণ এটি কোনো লিখিত বা চিহ্নিত রেকর্ড নয়, বরং মৌখিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয়।

- অতএব, সঠিক উত্তর "গ) মৌখিক বক্তব্য"।

"ডকুমেন্ট" মানে হলো কোনো বিষয় যা যেকোনো পদ, চিহ্ন বা অঙ্ক দ্বারা বা এইগুলোর একাধিক মাধ্যমে কোনো পদার্থের ওপর প্রকাশিত বা বর্ণিত হয়, যেটি ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয় বা যা ব্যবহৃত হতে পারে সেই বিষয়টি রেকর্ড করার জন্য। [এবং এতে যেকোনো ডিজিটাল রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত।]

উদাহরণসমূহ:
একটি লেখা একটি ডকুমেন্ট।
শব্দগুলি যা মুদ্রিত, লিথোগ্রাফ বা ফটোগ্রাফ করা হয়েছে তা ডকুমেন্ট।
একটি মানচিত্র বা পরিকল্পনা একটি ডকুমেন্ট।
একটি ধাতব প্লেট বা পাথরের ওপর খোদাই করা লেখা একটি ডকুমেন্ট।
একটি ক্যারিকেচার একটি ডকুমেন্ট।
-----------
 "Document" means any matter expressed or described upon any substance by means of letters, figures or marks, or by more than one of those means, intended to be used, or which may be used, for the purpose of recording that matter and includes any digital record.

Illustrations

A writing is a document:
Words printed, lithographed or photographed are documents:
A map or plan is a document:
An inscription on a metal plate or stone is a document:
A caricature is a document.
৩,৯৯১.
বাংলাদেশে বিভিন্ন শ্রেণীর নাগরিকদের মধ্যে শত্রুতা প্রসারিত করার শাস্তির বিধান করা হয়েছে-
  1. ১৫৩গ ধারায়
  2. ১৫২ ধারায়
  3. ১৫৩ক ধারায়
  4. ১৫৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ১৫৩ক ধারার বিধান বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করা:- কোন ব্যক্তি যদি কোন উচ্চারিত বা লিখিত কথা কর্তৃক অথবা চিহ্ন কর্তৃক অথবা দৃশ্যমান প্রতীক কর্তৃক অথবা অপর কোনভাবে বাংলাদেশের জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে শত্রুতার মনোভাব বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

♦ ব্যাখ্যা:- বাংলাদেশের জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে বৈরিতা বা বিদ্বেষের মনোভাবপ্রসূত, বিষয়ারার বা যেসব বিষয় অনুরূপ বৈরিতা বা বিদ্বেষের মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে হয়, সেসব বিষয় দূরীকরণের সৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে এবং কোনরূপ দুরভিসন্ধিমূলক উদ্দেশ্য ছাড়া তৎসমূহের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তা এই ধারার অর্থ অনুযায়ী অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।
৩,৯৯২.
Code of Civil Procedure-এর কোন ধারায় আদালত 'Compliance Report' দাখিলের নির্দেশ দিতে পারে?
  1. ধারা ৯২
  2. ধারা ৯৩
  3. ধারা ৯৪
  4. ধারা ৯৪ক
ব্যাখ্যা
Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারা ৯৪ক: আদেশ বা ডিক্রি কার্যকরকরণে নির্দেশ:
"কোনো ডিক্রি বা আদেশ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে, আদালত নির্বাহী কর্তৃপক্ষসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসমূহকে আদালত কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তিকে সহায়তা করার জন্য এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকরির প্রতিবেদন (compliance report) দাখিলের নির্দেশ দিতে পারবে।"

94A- Direction in execution of orders, etc
For the purpose of execution of any decree or order, the Court may direct the executive authorities, including law enforcement agencies, to assist any person designated by it and to submit compliance report within the time specified by it.
৩,৯৯৩.
কোনো একটি দলিল ‘ক’-এর উইল কি না তার বিচারে, তর্কিত উইলের তারিখে ‘ক’ এর সম্পত্তি ও তার পরিবারের অবস্থা- সাক্ষ্য হিসেবে কত ধারায় প্রাসঙ্গিক হতে পারে?
  1. ৯ ধারায়
  2. ১০ ধারায়
  3. ১১ ধারায়
  4. ১২ ধারায়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন (ধারা ৯): প্রাসঙ্গিক তথ্য ব্যাখ্যা বা উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য:
যে তথ্যগুলো প্রাসঙ্গিক তথ্য বা বিরোধপূর্ণ বিষয় ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করতে সহায়তা করে, অথবা- কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর পরিচয় নির্ধারণ করে, কোনো ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সময় বা স্থান নির্ধারণ করে, যে পক্ষগুলোর মাধ্যমে ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে, তাদের সম্পর্ক স্পষ্ট করে, সেই সকল তথ্য প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে, যদি তা এই উদ্দেশ্যের জন্য অপরিহার্য হয়।

উদাহরণ:
(ক) প্রশ্ন হলো, একটি নির্দিষ্ট নথি A-এর উইল কিনা।
উইল তৈরির সময় A-এর সম্পত্তি ও পরিবারের অবস্থা প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

(খ) A, B-এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছে। B দাবি করেছে যে অভিযোগ সত্য।
মানহানির সময় A ও B-এর পারস্পরিক সম্পর্ক প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি মূল বিষয়টি বোঝাতে সাহায্য করবে।
কিন্তু A ও B-এর পূর্ববর্তী অপ্রাসঙ্গিক কোনো বিতর্ক প্রাসঙ্গিক নয়, যদি না তা তাদের সম্পর্ককে প্রভাবিত করে থাকে।

(গ) A একটি অপরাধের জন্য অভিযুক্ত।
অপরাধ সংঘটনের পর A-এর আকস্মিকভাবে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রাসঙ্গিক। যদি প্রমাণিত হয় যে জরুরি ব্যবসার কারণে সে চলে গিয়েছিল, তাহলে সেটিও প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ব্যাখ্যা করতে পারে। তবে ব্যবসার বিস্তারিত বিবরণ প্রাসঙ্গিক নয়, যদি না তা প্রমাণ করে যে ব্যবসাটি হঠাৎ ও জরুরি ছিল।
৩,৯৯৪.
The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর কত ধারায় 'প্রজা (tenant)' এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে?
  1. ২(২৭) ধারায়
  2. ২(১৭) ধারায়
  3. ২(১৫) ধারায়
  4. ২(৩০) ধারায়
ব্যাখ্যা
• The State Acquisition and Tenancy Act, 1950

ধারা ২(২৭) প্রজা (tenant): বলতে এমন ব্যক্তিকে বুঝায় যে অপরের অধীনে ভূমি দখল করে আছে ও উক্ত ভূমির জন্য কোন খাজনা প্রদান করতে বাধ্য থাকে। তবে কোন ব্যক্তি যদি সাধারণভাবে প্রচলিত 'আধি', 'বর্গা' বা 'ভাগ' এর অধীনে অপরের জমি এই শর্তে চাষ করে যে অনুরূপ ব্যক্তিকে সে উৎপন্ন ফসলের একটি অংশ প্রদান করবে তবে সে প্রজা নয়। কিন্তু উক্ত ব্যক্তি প্রজা হিসাবে বিবেচিত হবে-

⇒ যদি তার ভূমির মালিক কর্তৃক সম্পাদিত ও গৃহীত কোন দলিল দ্বারা একজন প্রজা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়;
⇒ কোন দেওয়ানি আদালত কর্তৃক উক্ত ব্যক্তিকে যদি প্রজা হিসাবে ঘোষণা দেয়।
৩,৯৯৫.
বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল কিভাবে তার সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করতে পারে?
  1. নিজস্ব উদ্যোগে
  2. কোনো আবেদনের ভিত্তিতে
  3. প্রধান বিচারপতির নির্দেশে
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
⇒ বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা (রিভিউ) করার ক্ষমতা:
অনুচ্ছেদ ৩৪(৮) অনুযায়ী: বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল নিজস্ব উদ্যোগে বা কোনো ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে তার পূর্বের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা (review), পরিবর্তন (vary) বা বাতিল (rescind) করতে পারে।
⇒ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস এবং বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর ৩৪ (৮) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল তার নিজস্ব উদ্যোগে বা কোন আবেদনের প্রেক্ষাপটে তার সিদ্ধান্ত রিভিউ করতে পারে বা পরিবর্তন করতে পারে বা বাতিল করতে পারে।
------------------ 
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council order, 1972 Article-34(8):
The Tribunal may, of its own motion or on application made to it in this behalf, review any order passed under clause (4) or (6) and maintain, vary or rescind the same, as it thinks fit.
৩,৯৯৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫গ অনুযায়ী, মামলাটি দায়রা আদালতে স্থানান্তরিত হলে কাকে অবহিত করতে হয়?
  1. অভিযুক্তকে
  2. আদালতের রেজিস্ট্রারকে
  3. পাবলিক প্রসিকিউটরকে
  4. অভিযোগকারীকে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫গ:
যখন কোনো মামলার সূত্রপাত পুলিশ প্রতিবেদন বা অন্য কোনো উপায়ে হয়, এবং আসামি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হয় বা আনা হয়, তখন যদি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মনে হয় যে উক্ত অপরাধটি এককভাবে দায়রা আদালতে (Court of Session) বিচারযোগ্য, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট নিম্নোক্ত কাজসমূহ করবেন:
(ক) মামলাটি দায়রা আদালতে পাঠাবেন;
(খ) এই বিধি অনুযায়ী জামিন বা রিমান্ড সংক্রান্ত বিধানসমূহ অনুসারে, আসামিকে বিচার চলাকালীন ও বিচারের সমাপ্তি পর্যন্ত হেফাজতে (custody) রাখার আদেশ দিতে পারবেন;
(গ) মামলার নথিপত্র, এবং প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনের জন্য যেসব দলিল ও বস্তু রয়েছে, তা দায়রা আদালতে প্রেরণ করবেন;
(ঘ) মামলাটি দায়রা আদালতে স্থানান্তরের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিকে (Public Prosecutor) অবহিত করবেন।
৩,৯৯৭.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় বলা হয়েছে যে, অপর কারো ক্ষতি প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে ক্ষতি ঘটানোর সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যদি কাজটি সদাশয়ভাবে ও অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছাড়াই করা হয়, তবে তা অপরাধ নয়?
  1. ধারা-৭৯
  2. ধারা-৮০
  3. ধারা-৮১
  4. ধারা-৮২
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ধারা ৮১ বলছে: যদি কেউ অপর কোনো ব্যক্তি বা সম্পত্তির ক্ষতি প্রতিরোধ বা রোধ করার উদ্দেশ্যে, সদাশয়ভাবে (good faith) ও অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছাড়াই, এমন কোনো কাজ করে যার ফলে কিছুটা ক্ষতি হতে পারে—তাহলেও সেটি অপরাধ হবে না, যদি ওই ক্ষতি প্রতিরোধ জরুরি ও তাৎক্ষণিক ছিল বলে প্রমাণিত হয়।

দণ্ডবিধি, ১৮৬০ ধারা ৮১: ক্ষতি ঘটার সম্ভাবনা থাকলেও অপর ক্ষতি প্রতিরোধে ও অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ব্যতীত কাজ করলে তা অপরাধ নয়:
যদি কোনো কাজ এমন জেনে-বুঝেই করা হয় যে, তাতে ক্ষতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও সেই কাজটি কারো প্রতি ক্ষতি সাধনের অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ব্যতীত এবং সদাশয়ভাবে (good faith) করা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সম্পত্তির প্রতি অন্য একটি ক্ষতি প্রতিরোধ বা পরিহারের উদ্দেশ্যে, তাহলে তা মাত্ৰ এই কারণে অপরাধ বলে গণ্য হবে না যে, সেটি ক্ষতির সম্ভাবনা রাখে।ঃ

ব্যাখ্যা: এই ধরনের ক্ষেত্রে, যেই ক্ষতি প্রতিরোধ বা পরিহার করা হচ্ছিল, সেটি কতটা প্রকৃত ও তাৎক্ষণিক ছিল, এবং সেই কারণে ক্ষতি ঘটার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কাজটি করা যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য ছিল কি না, তা বাস্তব প্রশ্ন (question of fact) হিসেবে বিবেচিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860, Section 81: Act likely to cause harm, but done without criminal intent and to prevent other harm:
Nothing is an offence merely by reason of its being done with the knowledge that it is likely to cause harm, if it be done without any criminal intention to cause harm, and in good faith for the purpose of preventing or avoiding other harm to person or property. 
 
Explanation.-It is a question of fact in such a case whether the harm to be prevented or avoided was of such a nature and so imminent as to justify or excuse the risk of doing the act with the knowledge that it was likely to cause harm.
৩,৯৯৮.
নিম্নের কোন রিটের জন্য যে কোনো ব্যক্তি আবেদন করতে পারেন?
  1. Writ of Certiorari
  2. Writ of Prohibition 
  3. Writ of Mandamus
  4. Writ of Quo Warranto
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (২)(খ) ধারায় উল্লিখিত Writ of Quo Warranto (কারণ দর্শাও রিট) এবং Writ of Habeas Corpus-এর জন্য যে কোনো ব্যক্তি (কোনো সংক্ষুদ্ধতা ছাড়াই) আবেদন করতে পারেন। এটি পাবলিক অফিসারের অধিকার বা যোগ্যতার বৈধতা যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যান্য বিকল্পগুলো (Certiorari, Prohibition, Mandamus) ১০২(২)(ক) ধারার অধীনে পড়ে, যেখানে শুধুমাত্র সংক্ষুদ্ধ বা প্রভাবিত ব্যক্তি আবেদন করতে পারেন।

• রিট [Writ]:
আদালত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঘোষিত বা প্রচারিত বিধান বা আদেশ। এমন আদেশের মাধ্যমে আদালত কোন ব্যক্তিকে কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করে। রিট এর উৎপত্তি হলো ব্রিটিশ আইন ব্যবস্থায়। প্রাথমিকভাবে রিট মূলত রাজকীয় অধিকার [prerogrative writ or royal writ] নামে পরিচিত ছিল কারণ একমাত্র রাজা বা রাণী রিট জারি করার অধিকারী ছিল।

রিটের প্রকারভেদ: সংবিধানে ৫ প্রকার রিট উল্লেখ করা হয়েছে-
⇒ ১০২ এর ২(ক) তে ৩টি রিট উল্লেখ করা হয়েছে, (শুধুমাত্র সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি আবেদন করতে পারে)-
• ১০২(২) (ক) (অ) প্রতিষেধক বা নিষেধাজ্ঞামূলক রিট [Writ of Prohibition];
• ১০২(২) (ক) (অ) পরমাদেশ বা হুকুম জারী রিট [Writ of Mandamus];
• ১০২(২) (ক) (আ) উৎপ্রেষণ রীট [Writ of Certiorari]।

⇒ ১০২ এর ২(খ) তে ২টি রিট উল্লেখ করা হয়েছে, (যে কোন ব্যক্তি আবেদন করতে পারে)-
• ১০২(২) (খ) (অ) বন্দী হাজির রিট [Writ of Habeas Corpus] এবং
• ১০২(২) (খ) (আ) কারণ দর্শাও রিট [Writ of Quo Warranto]।

৩,৯৯৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় মেট্রোপলিটন এলাকায় সাক্ষীর ক্ষেত্রে কমিশন নিয়োগের বিধান আছে?
  1. ৫০৩
  2. ৫০৪
  3. ৫০৫
  4. ৫০৬
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৪ ধারার বিধান: মেট্রোপলিটন এলাকায় সাক্ষীর ক্ষেত্রে কমিশন:
(১) সাক্ষী যদি কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের অধিক্ষেত্রের স্থানীয় সীমার মধ্যে অবস্থান করে, সেক্ষেত্রে কমিশন দানকারী ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালত উক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে কমিশন করতে নির্দেশ দিবেন এবং তিনি এরূপভাবে সাক্ষীকে হাজির করে তার সাক্ষ্য এমনভাবে গ্রহণ করবেন যাতে তার নিজের কাছেই মামলাটি পেন্ডিং আছে।

(২) এই ধারার অধীন চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে কমিশন দেয়া হলে তিনি কমিশনে প্রদত্ত যাবতীয় ক্ষমতা ও কর্তব্য তার অধীনস্ত কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের উপর ন্যস্ত করতে পারবেন। 
----------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-504: Commission in case of witness being within a Metropolitan Area:
(1) If the witness is within the local limits of the jurisdiction of any Metropolitan Magistrate, the Magistrate or Court issuing the commission may direct the same to such Metropolitan Magistrate, who thereupon may compel the attendance of, and examine, such witness as if he were a witness in a case pending before himself.
(2) When a commission is issued under this section to the Chief Metropolitan Magistrate, he may delegate his powers and duties under the commission to any Metropolitan Magistrate subordinate to him.
৪,০০০.
তামাদি আইন অনুসারে খালাশ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে -
  1. ৩০ দিনের মধ্যে
  2. ৬০ দিনের মধ্যে
  3. ৬ মাসের মধ্যে
  4. ১ বছরের মধ্যে
ব্যাখ্যা
♣ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৫৭ অনুযায়ী খালাশ আদেশের বিরুদ্ধে ৬ মাসের মধ্যে আপিল করতে হবে।