বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

মোট প্রশ্ন১৫,৪৭০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

PrepBank · পাতা ৩১ / ১৫৫ · ৩,০০১৩,১০০ / ১৫,৪৭০

৩,০০১.
যুদ্ধের কারণে কোন চুক্তি পালন অসম্ভব হয়ে পড়া- কোন Doctrine কে নির্দেশ করে? 
  1. Doctrine of election
  2. Doctrine of Lispendens
  3. Doctrine of frustration
  4. Doctrine of priority
ব্যাখ্যা
• ব্যর্থতা তত্ত্ব (The Doctrime of Frustration): যখন একটি চুক্তির উদ্দেশ্য আর কোনভাবেই সম্পাদন বা বাস্তবায়ন করা যায় না, তখন আদালত চুক্তির পরিসমাপ্তি হয়েছে বলে ঘোষণা দিতে পারে, এরূপ ঘোষণাকে ব্যর্থতার তত্ত্ব বলা হয়।

এ্যানসন (Anson) সকল আইন ব্যবস্থাতেই চুক্তি পালনের নিয়মের পাশা-পাশি চুক্তি অবসানের বিধানও থাকে, যদি অবস্থা বিশেষের পরিবর্তনের ফলে চুক্তির পালন আইনত কিংবা বাস্তবে অসম্ভব হয়।

ব্যর্থতার তত্ত্ব সম্পর্কে বৃটেনের আইন: ১৮৬৩ সালের পূর্বে বৃটিশ Common Law অনুযায়ী চুক্তিতে বিপরীত মর্মে কোন শর্ত না থাকলে চুক্তির সংশিষ্ট পক্ষসমূহ চুক্তি পালনের অসম্ভাব্যতাকে চুক্তির পরিসমাপ্তির কারণ বলে আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারতো না। অর্থাৎ সকল চুক্তি আক্ষরিক অর্থে প্রযোজ্য হতো এবং সকল পক্ষই চুক্তি সম্পাদন করতে সর্বোতভাবে বাধ্য থাকতো।

১৮৬৩ সালের পর ব্যর্থতা তত্ত্বের প্রচলন শুরু হয় এবং এই তত্ত্বানুযায়ী অনেক ক্ষেত্রে আদালত ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিকে রেহাই দেয়। নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে বৃটেনের আদালত চুক্তি নষ্ট হয়েছে বলে রায় দিতে পারে:-

ক) চুক্তির অপরিহার্য বস্তুর বিনাশ হলে;
খ) কোন উদ্দেশ্য অর্জন অসম্ভব হলে;
গ) আইনের পরিবর্তন হলে;
ঘ) পূর্বশর্ত পালনে ব্যর্থ হলে:
ঙ) মৃত্যু বা ব্যক্তিগত ক্ষমতা বিনষ্ট হলে; এবং
চ) যুদ্ধ ঘোষিত হলে।

• ব্যর্থতা তত্ত্বের ভিত্তি (Basis of the Doctrine of Furstration) : বৃটেনের আইন অনুসারে আদালত নিম্নলিখিত অবস্থায় ব্যর্থতা তত্ত্ব প্রয়োগের মাধ্যমে চুক্তির পরিসমাপ্তির নির্দেশ দিয়েছেন :-
১. ধারণামূলক শর্ত: কোন কোন ক্ষেত্রে এই ধারণা করা হয় যে, প্রত্যেক চুক্তি পালিত না হওয়া পর্যন্ত একটি বিশেষ বস্তু বা অবস্থার উপস্থিতি বিদ্যমান থাকা আবশ্যিক বলে মনে করা হয়, ঐ অবস্থার অস্তিত্ব থাকলেই চুক্তি সম্পাদনযোগ্য অন্যথায় নয়। সুতরাং চুক্তি পালনের জন্য উক্ত বস্তু বা অবস্থা বিদ্যমান থাকা অপরিহার্য।
২. চুক্তির ভিত্তি ধ্বংস: যদি চুক্তিভুক্ত পক্ষসমূহের বিনা দোষে যে বস্তু বা অবস্থার উপর ভিত্তি করে চুক্তি সম্পাদন হয়েছিল, সই ভিত্তি বস্তু বা অবস্থা ধ্বংস হয়ে যায়, তবে তা ব্যর্থতা তত্ত্বের আওতায় আসবে।
৩. ন্যায়সঙ্গত সমাধান: চুক্তির গঠন এবং ব্যাখ্যার প্রকৃতি দ্বারা অর্থাৎ চুক্তিতে যদি এমন শর্ত বা অবস্থার উলে-খ থাকে যা ঘটলে চুক্তি বাতিল হবে, সেক্ষেত্রে অন্তর্নিহিত অর্থ দ্বারাই ন্যায়সঙ্গত সমাধান হবে অর্থাৎ চুক্তি বাতিল হবে।
৪. শর্তের পরিবর্তন: যে ক্ষেত্রে আদালত দেখতে পায় যেসব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একটি চুক্তি পালনীয় হবে যেসব অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে এবং এই পরিবর্তনের জন্য কোন পক্ষই দায়ী ছিল না। সেক্ষেত্রে চুক্তি ব্যর্থ হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
৩,০০২.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ২৯গ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ _________ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারেন।
  1. ১০
  2. ১৪
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৩২ ধারা অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাধারণ ক্ষমতাবলে সর্বোচ্চ ৫ বৎসরের কারাদণ্ড দিতে পারে। তবে ২৯গ  ধারায় বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে ৩৩ক ধারা অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ ৭ বৎসরের কারাদণ্ড দিতে পারে।

• ৩৩ক ধারা-
২৯গ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৭ বছরের বেশি কারাদণ্ড দিতে পারবে না। অতএব, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারবেন।

Section 33A: Higher powers of certain Magistrates
The Court of a Magistrate, specially empowered under section 29C, may pass any sentence authorized by law, except a sentence of death or of transportation or imprisonment for a term exceeding seven years.
৩,০০৩.
সাক্ষীকে বিরক্তকর প্রশ্ন করা হতে কে নিষেধ করতে পারে?
  1. সাক্ষী নিজেই
  2. আইনজীবী
  3. আদালত
  4. উল্লিখিত সবাই
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১৫২ ধারা অনুসারে,
যে প্রশ্নটি আদালত মনে করে অপমানজনক বা বিরক্তিকর হতে পারে, অথবা যদিও প্রশ্নটি স্বাভাবিক হতে পারে, তবে আদালত মনে করে যে প্রশ্নটি প্রকারে অবান্তরভাবে আক্রমণাত্মক, তা আদালত নিষিদ্ধ করবে।

Section 152- Questions intended to insult or annoy:
The Court shall forbid any question which appears to it to be intended to insult or annoy, or which, though proper in itself, appears to the Court needlessly offensive in form.
৩,০০৪.
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা ২১ অনুসারে, কীসের ভিত্তিতে ভাড়া নির্ধারণ করা হবে?
  1. বাজারদর অনুযায়ী
  2. জমির মালিকের দাবির ভিত্তিতে
  3. রাজস্ব কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী
  4. আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যায্য ও সঙ্গত হারে
ব্যাখ্যা
ধারা ২১: দখলে রাখা জমির ভাড়া পরিশোধ:
যেসব জমি ধারা ২০ অনুসারে কোনো ভাড়াগ্রহীতা, চাষি রায়ত, চাষি অধিরায়ত বা অকৃষি প্রজা তাদের দখলে রাখেন, সেইসব জমি তাদের কাছে থাকবে এই শর্তে যে, তারা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যায্য ও সঙ্গত ভাড়া প্রদান করবেন।

[All lands, of which a rent-receiver, a cultivating raiyat, a cultivating under-raiyat or a non-agricultural tenant retains possession under section 20, shall be held on payment of such fair and equitable rent as may be determined under the provisions of this Act.]
৩,০০৫.
আদেশ ৩৮ বিধি-১ এর অধীন আদালত কার থেকে হাজিরার জন্য জামানত তলব করতে পারে?
  1. বাদী
  2. বিবাদী
  3. নিলামে ক্রয়কৃত সম্পত্তির ক্রেতা
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
আদেশ ৩৮ বিধি-১: যেক্ষেত্রে বিবাদিকে হাজিরার জন্য জামানত তলব করা যেতে পারে:

যেক্ষেত্রে ১৬ ধারার (ক) হতে (ঘ) দফা পর্যন্ত উল্লেখিত প্রকৃতির মোকদ্দমা ব্যতীত অন্য মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে শপথনামা দ্বারা বা অন্য কোনভাবে আদালত পরিতুষ্ট হয় যে-
ক) বিবাদি বাদিকে বিলম্বিত করার নিমিত্তে বা আদালতের কোন পরোয়ানা এড়ানোর লক্ষ্যে কিংবা তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত হতে পারে এরূপ কোন ডিক্রি জারি ব্যাহত বা বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে-
১. আত্মগোপন করেছে বা আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমা ত্যাগ করেছে; অথবা
২. আত্মগোপন করার বা আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমা ত্যাগ করতে উপক্রম করেছে; বা
৩. তার সম্পত্তি বা এর কোন অংশ হস্তান্তর করেছে বা আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমা হতে অপসারণ করেছে; অথবা

খ) বিবাদি বাংলাদেশ ত্যাগ করার প্রচেষ্টা করেছে, যে অবস্থায় উক্ত মোকদ্দমায় বিবাদির বিরুদ্ধে কোন ডিক্রি প্রদত্ত হলে, তা জারি করার বিষয়ে বাদি বাধাপ্রাপ্ত বা বিলম্বিত হওয়ার যুক্তিযুক্ত সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে; সেক্ষেত্রে আদালত বিবাদিকে গ্রেফতার করতে এবং তার হাজিরার জন্য কেন জামানত দেয়া হবে না তার কারণ দর্শাতে তাকে আদালতে উপস্থিতির জন্য পরোয়ানা দিতে পারবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদি যদি বাদির দাবী পরিতুষ্ট করিতে উপযুক্ত পরিমাণ টাকা অনুরূপ পরোয়ানা জারির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রদান করে, তবে বিবাদিকে গ্রেফতার করা হবে না; এবং মোকদ্দমা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বা আদালত পরবর্তী কোন আদেশ প্রদান না করা পর্যন্ত উক্ত টাকা এদালতে জমা থাকবে।
৩,০০৬.
নিবর্তনমূলক আইনের অধীন গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য-
  1. অনুচ্ছেদ ৩৩(১)
  2. অনুচ্ছেদ ৩৩(২)
  3. অনুচ্ছেদ ৩৩(৪)
  4. উল্লিখিত সকল বিধান
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৩৩: গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ

(১) গ্রেপ্তারকৃত কোন ব্যক্তিকে যথাসম্ভব শীঘ্র গ্রেপ্তারের কারণ জ্ঞাপন না করিয়া প্রহরায় আটক রাখা যাইবে না এবং উক্ত ব্যক্তিকে তাঁহার মনোনীত আইনজীবীর সহিত পরামর্শের ও তাঁহার দ্বারা আত্মপক্ষ-সমর্থনের অধিকার হইতে বঞ্চিত করা যাইবে না।

(২) গ্রেপ্তারকৃত ও প্রহরায় আটক প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে গ্রেপ্তারের চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে (গ্রেপ্তারের স্থান হইতে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আনয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ব্যতিরেকে) হাজির করা হইবে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত তাঁহাকে তদতিরিক্তকাল প্রহরায় আটক রাখা যাইবে না।

(৩) এই অনুচ্ছেদের (১) ও (২) দফার কোন কিছুই সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না,
(ক) যিনি বর্তমান সময়ের জন্য বিদেশী শত্রু; অথবা
(খ) যাঁহাকে নিবর্তনমূলক আটকের বিধান-সংবলিত কোন আইনের অধীন গ্রেপ্তার করা হইয়াছে বা আটক করা হইয়াছে।

(৪) নিবর্তনমূলক আটকের বিধান- সংবলিত কোন আইন কোন ব্যক্তিকে ছয় মাসের অধিক কাল আটক রাখিবার ক্ষমতা প্রদান করিবে না যদি সুপ্রীম কোর্টের বিচারক রহিয়াছেন বা ছিলেন কিংবা সুপ্রীম কোর্টের বিচারকপদে নিয়োগলাভের যোগ্যতা রাখেন, এইরূপ দুইজন এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত একজন প্রবীণ কর্মচারীর সমন্বয়ে গঠিত কোন উপদেষ্টা-পর্ষদ্ উক্ত ছয় মাস অতিবাহিত হইবার পূর্বে তাঁহাকে উপস্থিত হইয়া বক্তব্য পেশ করিবার সুযোগদানের পর রিপোর্ট প্রদান না করিয়া থাকেন যে, পর্ষদের মতে উক্ত ব্যক্তিকে তদতিরিক্ত কাল আটক রাখিবার পর্যাপ্ত কারণ রহিয়াছে।

(৫) নিবর্তনমূলক আটকের বিধান-সংবলিত কোন আইনের অধীন প্রদত্ত আদেশ অনুযায়ী কোন ব্যক্তিকে আটক করা হইলে আদেশদানকারী কর্তৃপক্ষ তাঁহাকে যথাসম্ভব শীঘ্র আদেশদানের কারণ জ্ঞাপন করিবেন এবং উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য-প্রকাশের জন্য তাঁহাকে যত সত্বর সম্ভব সুযোগদান করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, আদেশদানকারী কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় তথ্যাদি-প্রকাশ জনস্বার্থবিরোধী বলিয়া মনে হইলে অনুরূপ কর্তৃপক্ষ তাহা প্রকাশে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিতে পারিবেন।

(৬) উপদেষ্টা-পর্ষদ কর্তৃক এই অনুচ্ছেদের (৪) দফার অধীন তদন্তের জন্য অনুসরণীয় পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নির্ধারণ করিতে পারিবেন।

Article 33: Safeguards as to arrest and detention

(1) No person who is arrested shall be detained in custody without being informed, as soon as may be, of the grounds for such arrest, nor shall he be denied the right to consult and be defended by a legal practitioner of his choice. 
 
(2) Every person who is arrested and detained in custody shall be produced before the nearest magistrate within a period of twenty four hours of such arrest, excluding the time necessary for the journey from the place of arrest to the Court of the magistrate, and no such person shall be detained in custody beyond the said period without the authority of a magistrate. 
 
(3) Nothing in clauses (1) and (2) shall apply to any person– 
(a) who for the time being is an enemy alien; or 
(b) who is arrested or detained under any law providing for preventive detention. 
 
(4) No law providing for preventive detention shall authorise the detention of a person for a period exceeding six months unless an Advisory Board consisting of three persons, of whom two shall be persons who are, or have been, or are qualified to be appointed as, Judges of the Supreme Court and the other shall be a person who is a senior officer in the service of the Republic, has, after affording him an opportunity of being heard in person, reported before the expiration of the said period of six months that there is, in its opinion, sufficient cause for such detention. 
 
(5) When any person is detained in pursuance of an order made under any law providing for preventive detention, the authority making the order shall, as soon as may be, communicate to such person the grounds on which the order has been made, and shall afford him the earliest opportunity of making a representation against the order: 
Provided that the authority making any such order may refuse to disclose facts which such authority considers to be against the public interest to disclose.  

(6) Parliament may by law prescribe the procedure to be followed by an Advisory Board in an inquiry under clause (4).
৩,০০৭.
দণ্ডবিধির ১৬০ ধারা অনুসারে, মারামারির শাস্তির সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের মেয়াদ - 
  1. এক সপ্তাহ
  2. এক মাস
  3. তিন মাস
  4. ছয় মাস
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১৬০ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, মারামারি (Affray) সংঘটনকারী ব্যক্তিকে যেকোনো ধরনের (সশ্রম বা বিনাশ্রম) কারাদণ্ডে এক মাস পর্যন্ত দণ্ডিত করা যাবে, অথবা একশত টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে।
⇒ দণ্ডবিধির ১৫৯ ধারার বিধান মারামারি:
যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন প্রকাশ্য স্থানে মারামরি করে শান্তিভঙ্গ করে, তবে তারা "মারামারি” করেছে বলে পরিগণিত হয়।
⇒ দণ্ডবিধির ১৬০ ধারার বিধান মারামারির শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি মারামারির অপরাধ সংঘটন করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা একশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
--------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-159: Affray:
When two or more persons, by fighting in a public place, disturb the public peace, they are said to "commit an affray".
⇒The Penal Code, 1860-Section-160: Punishment for committing affray:
Whoever commits an affray, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one month, or with fine which may extend to one hundred taka, or with both.

৩,০০৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন তফসিলে মামলা সংক্রান্ত ফরমসমূহ দেয়া আছে?
  1. ৩য় তফসিলে
  2. ১ম তফসিলে
  3. ৫ম তফসিলে
  4. ৪র্থ তফসিলে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধিতে মোট ৫টি তফসিল রয়েছে, যা নিম্নরূপ:

১ম তফসিল (First Schedule)- বাতিল।

২য় তফসিল (Second Schedule)- আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ, জামিনযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য অপরাধ এবং দন্ডবিধির অপরাধসমূহ কোন আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য ইত্যাদি বিষয়সমূহ উল্লেখ রয়েছে।

৩য় তফসিল (Third Schedule)- ম্যাজিস্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতা উল্লেখ রয়েছে।

৪র্থ তফসিল (Fourth Schedule)- ম্যাজিস্ট্রেটগণের উপর আরোপযোগ্য অতিরিক্ত ক্ষমতা উল্লেখ রয়েছে।

৫ম তফসিল (Fifth Schedule)- ফরম সমূহের বিষয়ে বলা রয়েছে।
৩,০০৯.
A খুনের দায়ে অভিযুক্ত। A দাবী করে গুরুতর ও মারাত্বক উস্কানির কারনে আত্ম নিয়ন্ত্রন হারিয়ে সে খুন করে ফেলে। এটা প্রমাণের দায়িত্ব কার?
  1. রাষ্ট্রের
  2. A - এর
  3. A - এর পরিচিত ব্যক্তির
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
- The Evidence Act 1872 এর ১০৫ ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তির  মামলাটি যদি সাধারন ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়ে তা প্রমাণের দায়ভার অভিযুক্ত ব্যক্তির । (দন্ডবিধি আইনের ৭৬-১০৬ ধারায় সাধারণ ব্যতিক্রমের বিষয়ে উল্লেখ আছে)
৩,০১০.
When any fact is especially within the knowledge of any person, the burden of proving that fact is upon him. - এটি সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার বিষয়বস্তু?
  1. ১০২ ধারার
  2. ১০৪ ধারার
  3. ১০৫ ধারার
  4. ১০৬ ধারার
ব্যাখ্যা
Section 106- Burden of proving fact especially within knowledge-
When any fact is especially within the knowledge of any person, the burden of proving that fact is upon him.

Illustrations-
(a) When a person does an act with some intention other than that which the character and circumstances of the act suggest, the burden of proving that intention is upon him.
(b) 'A' is charged with traveling on a railway without a ticket. The burden of proving that he had a ticket is on him.

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১০৬ ধারা অনুযায়ী,
কোনো বিষয় যখন বিশেষ ভাবে কোনো ব্যক্তির অবগতির মধ্যে থাকে, তখন সেই বিষয় প্রমাণ করার দায়িত্ব তার উপরই ন্যস্ত থাকে। অর্থাৎ, কোনো একটি ঘটনা বা বিষয় যখন নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জানার কথা বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি ব্যতীত অন্যরা জানার কথা নয়, তখন ঐ ব্যক্তির উপরই প্রমাণ করার দায়িত্ব বর্তাবে।
৩,০১১.
জনপথে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অপরাধীর উপর কী শাস্তি আরোপিত হতে পারে?
  1. শুধুমাত্র কারাদণ্ড
  2. শুধুমাত্র অর্থদণ্ড
  3. কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড
  4. কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়ই
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৩৮ক ধারা: জনপথে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে বা অশ্বারোহণ করে গুরুতর আঘাত প্রদান করা:
যে ব্যক্তি বেপরোয়া বা অবহেলামূলকভাবে গণপথে গাড়ি চালিয়ে বা অশ্বারোহণ করে কোন ব্যক্তিকে এমন গুরুতর আঘাত করে যাতে মনুষ্যজীবন ও অন্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর মেয়াদ পর্যন্ত কারাদণ্ডে, বা অর্থদণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

Section 338A- Causing grievous hurt by rash driving or riding on a public way:
Whoever causes grievous hurt to any person by driving any vehicle, or riding on any public way so rashly or negligently as to endanger human life, or the personal safety of others, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
৩,০১২.
Who can present the petition of appeal under Section 419 of the Code of Criminal Procedure, 1898?
  1. Only the accused
  2. A police officer
  3. Any family member of the appellant
  4. The appellant or his pleader
ব্যাখ্যা
⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৯ ধারার বিধান: আপিলে দায়েরের পদ্ধতি
প্রত্যেকটি আপিল দায়ের করতে হবে পিটিশন বা দরখাস্ত আকারে। আপিলের পিটিশন আপিলকারী বা তার উকিল দাখিল করবে। যে রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হচ্ছে তার কপি আপিলের পিটিশনের সাথে দাখিল করতে হবে।
----------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 419: Petition of Appeal:
Every appeal shall be made in the form of a petition in writing presented by the appellant or his pleader, and every such petition shall (unless the Court to which it is presented otherwise directs) be accompanied by a copy of the judgment or order appealed against.
৩,০১৩.
The Arms Act,1878 এর 19A ধারার অপরাধের সর্বনিম্ন শাস্তি-
  1. ৭ বছর
  2. ১০ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ১৪ বছর
ব্যাখ্যা
ধারা- ১৯ক: বিশেষ কতকগুলি অস্ত্রের ব্যাপারে ৬,১৩, ১৪ ও ১৫ ধারা ভঙ্গের জন্য

১৯ ধারায় কোনো কিছু থাকা সত্ত্বেও যে কেউ ১৯ ধারায় ক, গ, ঙ অথবা চ দফায় কোনো অপরাধ সংঘটন করিলে, অপরাধ যদি পিস্তল, রিভলবার, রাইফেল, শর্টগান বা অন্য আগ্নেয়াস্ত্র সম্পর্কিত হয়, সে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা অন্য কোনো কঠোর কারাদণ্ডে, যাহার মেয়াদ দশ বছরের কম হইবে না, দণ্ডিত হইবে ।
৩,০১৪.
তামাদি আইনের ১৬ ধারায় তামাদির মেয়াদ গণনা করার সময় কোন সময়কাল বাদ দেয়া হবে?
  1. ডিক্রি জারির সময়
  2. দখল হস্তান্তরের সময়
  3. বিক্রয় চূড়ান্ত হওয়ার সময়কাল
  4. বিক্রয় রদের কার্যধারা চালানোর সময়
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ১৬ ধারা নিলাম বিক্রয় সম্পর্কে বলা আছে-
ডিক্রি জারির বিক্রয়ে ক্রেতা কর্তৃক দখল লাভের জন্য দায়েরকৃত মামলার জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করার সময়, যে সময়কাল ধরে বিক্রয় বাতিলের জন্য কার্যধারা চালানো হয়েছে, সেই সময়কাল বাদ দেওয়া হবে।

Section 16: Exclusion of time during which proceedings to set aside execution-sale are pending-
In computing the period of limitation prescribed for a suit for possession by a purchaser at a sale in execution of a decree, the time during which a proceeding to set aside the sale has been prosecuted shall be excluded.
৩,০১৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৮(১) অনুসারে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আদালতকে কী করতে হবে?
  1. আসামির সম্মতি নিতে হবে
  2. কারণ লিপিবদ্ধ করতে হবে
  3. সরকারের অনুমতি নিতে হবে
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৮(১) অনুযায়ী, আপিল আদালত অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের পূর্বে তার কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করতে বাধ্য।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৮ ধারার বিধান: আপিল আদালত অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করতে বা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন:
(১) এই অধ্যায়ের অধীন কোন আপিল বিবেচনার সময় আপিল আদালত যদি অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ দরকার মর্মে মনে করেন, তাহলে তার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন এবং এই সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারবেন, অথবা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন, অথবা আপিল আদালত যখন হাইকোর্ট ডিভিশন হয়, তখন কোন দায়রা আদালত বা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন ।
(২) দায়রা আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক যখন অতিরিক্ত সাক্ষ্য গৃহীত হয়, ইহা বা তিনি উক্ত সাক্ষ্য সত্যায়নপূর্বক আপিল আদালতে প্রেরণ করবেন, এবং উক্ত আদালত অতঃপর আপিল নিষ্পত্তির দিকে অগ্রসর হবেন।
(৩) আপিল আদালত ভিন্নরূপ নির্দেশ না দিলে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আসামি বা তাহার কৌসুলী উপস্থিত থাকবেন।
(৪) অধ্যায়-২৫ এর বিধান সাপেক্ষে এই ধারার অধীন এমনভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে, যেন তা একটি অনুসন্ধান।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section 428- Appellate Court may take further evidence or direct it to be taken:
(1) In dealing with any appeal under this Chapter, the Appellate Court, if it thinks additional evidence to be necessary, shall record its reasons, and may either take such evidence itself, or direct it to be taken by a Magistrate, or, when the Appellate Court is High Court Division, by a Court of Session or a Magistrate.
(2) When the additional evidence is taken by the Court of Session or the Magistrate, it or he shall certify such evidence to the Appellate Court, and such Court shall thereupon proceed to dispose of the appeal.
(3) Unless the Appellate Court otherwise directs, the accused or his pleader shall be present when the additional evidence is taken.
(4) The taking of evidence under this section shall be subject to the provisions of Chapter XXV, as if it were an inquiry.

৩,০১৬.
"Clear proof of usage will out weigh the written texts of the law"- This statement was made in this case -
  1. Krishnayya v. Narayana, (1909)
  2. Lata Singh v. State of Uttar Pradesh, (2006)
  3. Collector of Madura v. Moottoo Ramalinga (1868)
  4. Danial Latifi and another v. Union of India (2001)
ব্যাখ্যা

• Collector of Madura v. Moottoo Ramalinga Sathupathi, 12 MIA 397 (1868):

ঘটনা (Facts):
রামনাদ জমিদারের (Zamindar) কোনও বৈধ উত্তরাধিকারী না থাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর সম্পত্তি তার স্ত্রী রানি পার্বতীবার্ধিনী-এর নামে চলে আসে। রানি পার্বতীবার্ধিনী তার স্বামীর সপিন্ডদের সম্মতি নিয়ে একটি ছেলে দত্তক গ্রহণ করেন। তবে স্বামীর অনুমতি ছিল না। মাদুরা কালেক্টর জমিদারের মৃত্যুর খবর জানতে পেরে জানিয়ে দেন যে, জমিদারকে কোনও বৈধ উত্তরাধিকারী নেই। ব্রিটিশ আইনের অধীনে, যদি কোনও জমিদার উত্তরাধিকারী ছাড়া মারা যায়, তার স্ত্রী মৃত্যুর পর জমিদারী সরকার দখল করবে। এটি “Doctrine of Lapse” নামে পরিচিত। রানি পার্বতীবার্ধিনীর মৃত্যুর পর, দত্তক ছেলে নিজের অধিকার দাবি করে এবং দত্তকের বৈধতা ঘোষণা করার জন্য মামলা করেন।

মূল সমস্যা (Issues):
একজন বিধবা কি স্বামীর অনুমতি ছাড়াই, শুধুমাত্র সপিন্ডদের সম্মতিতে দত্তক গ্রহণ করতে পারে কি না?

প্রিভি কাউন্সিল (Privy Council)-এর রায়:
- আদালত বিভিন্ন হিন্দু আইন, ঐতিহাসিক সূত্র এবং প্রথার আলোকে বিষয়টি বিবেচনা করেন।
- হিন্দু আইনে প্রথা (Custom) একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
- আদালত উল্লেখ করেন “হিন্দু আইনের অধীনে, স্পষ্ট প্রমাণিত প্রথা হিন্দু আইনের লিখিত ধারা বা স্মৃতি থেকে অধিক প্রাধান্য পায়।”

৩,০১৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৫ ধারা কোন আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. শ্রম আদালত
  2. রাজস্ব আদালত
  3. ফৌজদারি আদালত
  4. স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ৫ ধারা: রাজস্ব আদালতে এই আইনের প্রয়োগ:

১) রাজস্ব আদালতে প্রযোজ্য বিশেষ আইন কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়ে নীরব থাকার ফলে এই আইনের বিধানসমূহ রাজস্ব আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে সরকার, সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তির দ্বারা ঘোষণা করতে পারে যে, উক্ত বিধানসমূহের যে-সকল অংশ এই আইন দ্বারা সুস্পষ্টরূপে প্রযোজ্য করা হয়নি, তা উক্ত আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, অথবা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সংশোধনীসহ প্রযোজ্য হবে।

২) (১) উপধারায় “রাজস্ব আদালত” বলতে ঐ আদালত বুঝায়, কৃষির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ভূমির খাজনা রাজস্ব বা লাভ সম্পর্কিত মোকদ্দমা অথবা অন্যান্য কার্যধারা গ্রহণ করতে কোন আইনের অধীনে এখতিয়ারভুক্ত আদালতকে বুঝায়। তবে এটা দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা কার্যধারার মত অনুরূপ মোকদ্দমা বা কার্যধারাসমূহ বিচার করতে এই আইনের অধীনে মূল এতিয়ারযুক্ত দেওয়ানি আদালতকে অন্তর্ভুক্ত করে না।

Section 5- Application of the Code of Revenue Courts:

(1) Where any Revenue Courts are governed by the provisions of this Code in those matters of procedure upon which any special enactment applicable to them is silent, the Government may, by notification in the official Gazette, declare that any portions of those provisions which are not expressly made applicable by this Code shall not apply to those Courts, or shall only apply to them with such notifications as the Government may prescribe.

(2) "Revenue Court" in sub-section (1) means a Court having jurisdiction under any law to entertain suits or other proceedings relating to the rent, revenue or profits of land used for agricultural purposes, but does not include a Civil Court having original jurisdiction under this Code to try such suits or proceedings as being suits or proceedings of a civil nature.
৩,০১৮.
তামাদি আইনের ৬ ধারায় বর্ণিত বৈধ অপারগতার সুবিধা মামলা দায়েরসহ অন্য কোন ক্ষেত্রে নেওয়া যাবে?
  1. জারির আবেদন
  2. আপিল দায়ের
  3. রিভিশন দায়ের
  4. রিভিউ দায়ের
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৬ ধারায় বর্ণিত আইনগত বা বৈধ অপারগতার সুবিধা ২টি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় ১) মোকদ্দমায় [Suit] এবং ২) ডিক্রি জারির আবেদন [An application for execution of decree] এর ক্ষেত্রে।
৩,০১৯.
কোন চুক্তির কার্যসম্পাদন করতে হলে শুরু করার তারিখ হতে কত বছরের বেশি সময়কাল ক্রমাগত কাজ করে যাওয়ার প্রয়োজন হলে, সেই চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন করা যায় না?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ১ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা-২১: কোন চুক্তিসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না (Contracts not specifically enforceable)- চুক্তির প্রকৃতি অনুসারে কিছু কিছু চুক্তির সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদন করার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়ে থাকেন এবং কিছু কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করে না। যে যে ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আবেদন নামঞ্জুর করতে পারে তা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। কারণ এগুলি সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের যোগ্য নয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-
১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে;
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে;
৩) চুক্তির শর্তাবলী নির্ণয় করা না গেলে;
৪) চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য বা প্রত্যাহারযোগ্য হলে;
৫) চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে;
৬) বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানী কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি;
৭) যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে অথবা; 
৮) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১(৭) ধারামতে তিন বছরের অধিক ক্রমাগত সময়ের প্রশ্নে: যে চুক্তির কার্য সম্পাদন করতে হলে চুক্তির কার্য শুরু করার তারিখ হতে তিন বছরেরও অধিক সময় পর্যন্ত ক্রমাগত কাজ করতে হয়, ঐ চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না।

যেমন- 'ক' ২১ বছরের জন্য কোন রেলপথের এমন একটি নির্দিষ্ট অংশ ভাড়া দেয়ার জন্য 'খ' এর সহিত চুক্তিবদ্ধ হল যে, অংশটি 'ক' কর্তৃক 'খ'-এর থাকবে এবং প্রয়োজনবোধ 'ক' প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন, ইত্যাদি সরবরাহ করবে এবং 'ক' চুক্তির সম্পূর্ণ সময় কালে পুরো রেলপথটিকে ভাল অবস্থায় রাখবে। চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য 'খ' এর আবেদন অবশ্যই না- মঞ্জুর হবে।
----------------------------------------
⇒ Section 21 Contracts not specifically enforceable: The following contracts cannot be specifically enforced:– 

(a) a contract for the non-performance of which compensation in money is an adequate relief; 
(b) a contract which runs into such minute or numerous details, or which is so dependent on the personal qualifications or volition of the parties, or otherwise from its nature is such, that the Court cannot enforce specific performance of its material terms; 
(c) a contract the terms of which the Court cannot find with reasonable certainty; 
(d) a contract which is in its nature revocable; 
(e) a contract made by trustees either in excess of their powers or in breach of their trust; 
(f) a contract made by or on behalf of a corporation or public company created for special purposes, or by the promoters of such company, which is in excess of its powers; 
(g) a contract the performance of which involves the performance of a continuous duty extending over a longer period than three years from its date; 
(h) a contract of which a material part of the subject- matter, supposed by both parties to exist, has, before it has been made, ceased to exist. 

And, save as provided by the Arbitration Act, 1940, no contract to refer present or future differences to arbitration shall be specifically enforced; but if any person who has made such a contract other than an arbitration agreement to which the provisions of the said Act apply and has refused to perform it sues in respect of any subject which he has contracted to refer, the existence of such contract shall bar the suit.
৩,০২০.
দেওয়ানী কার্যবিধির কত বিধির অধীন আদালত বিবাদীকে অতিরিক্ত লিখিত জবাব দাখিলের আদেশ দিতে পারে?
  1. ৮ আদেশের ২ বিধির
  2. ৮ আদেশের ৭ বিধির
  3. ৮ আদেশের ৯ বিধির
  4. ৮ আদেশের ১০ বিধির
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ আদেশের ৯ বিধি অনুযায়ী আদালত প্রয়োজন মনে করলে, যেকোনো সময় যে কোনো পক্ষকে লিখিত বিবৃতি বা অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি পেশের আদেশ দিতে পারে এবং তা পেশ করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিবে। আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত পক্ষ লিখিত বিবৃতি পেশ করতে ব্যর্থ হলে, ১০ বিধি অনুযায়ী আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা [pronounce judgment) করতে পারে বা মোকদ্দমার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো আদেশ দিতে পারে।

• প্রতিকার:

১০ বিধির নিয়মটি শুধুমাত্র প্রযোজ্য যখন ৯ বিধির অধীন বিবাদী আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হয় এবং উক্ত ব্যর্থতার কারণে আদালত রায় ঘোষণা করে আদেশ দিলে। ১০ বিধির অধীন রায় ঘোষণার আদেশ (An order pronouncing judgment) হলো (আপীলযোগ্য আদেশ) তাই এর বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে। 
৩,০২১.
উল্লেখিত কোন আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে?
  1. সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি যে আদালতে আবেদন করে
  2. অতিরিক্ত দায়রা জজ
  3. যুগ্ম দায়রা জজ
  4. উল্লিখিত সকল আদালত
ব্যাখ্যা
• রিভিশন হলো নিম্ন আদালতের নথি পরীক্ষা করে উর্দ্ধতন আদালত কর্তৃক ভুলত্রুটি সংশোধন করা। ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৩৫ থেকে এবং ৪৪২ থেকে ৪৪২ক পর্যন্ত রিভিশন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে-

১. হাইকোর্ট বিভাগ
২. দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ

• ৪৩৯ক ধারায় দায়রা জজকে রিভিশন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের রিভিশন সংক্রান্ত যে সকল ক্ষমতা আছে দায়রা জজও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। ৪৩৯ক এর ৩ উপধারায় বলা হয়েছে দায়রা জজের কোন সাধারণ বা বিশেষ আদেশে কোন রিভিশনাল মামলা অতিরিক্ত দায়রা জজের নিকট প্রেরণ করা হলে অতিরিক্ত দায়রা জজ, দায়রা জজের সকল রিভিশনাল এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারবে।

ধারা ৪৩৯ক এর ২ উপধারায় তে দেয়া আছে, দায়রা জজের নিকট রিভিশন দায়ের করা হলে উক্ত বিষয়ে দায়রা জজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে দ্বিতীয় রিভিশন দায়ের করা যাবে না।

Section 439A- Sessions Judge's powers of revision


(1) In the case of any proceeding the record of which has been called for by himself or which otherwise comes to his knowledge, the Sessions Judge may exercise all or any of the powers which may be exercised by the High Court Division under section 439. 
(2) Where any application for revision is made by or on behalf of any person before the Sessions Judge, the decision of the Sessions Judge thereon in relation to such person shall be final. 
(3) An Additional Sessions Judge shall have and may exercise all powers of a Sessions Judge under this Chapter in respect of any case which may be transferred to him under any general or special order of the Sessions Judge.
৩,০২২.
আসামী পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুপস্থিতিতে প্রদত্ত স্বীকারোক্তির ফলাফল কি?
  1. প্রাসঙ্গিক হইবে
  2. আংশিক প্রাসঙ্গিক ও আংশিক অপ্রাসঙ্গিক হইবে
  3. অপ্রাসঙ্গিক হইবে
  4. চূড়ান্ত প্রমান হিসেবে প্রাসঙ্গিক
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ২৬ ধারামতে পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে আসামীর প্রদত্ত স্বীকারোক্তি তার বিরুদ্ধে প্রমাণ করা যাবে না (Confession by accused while in custody of police not to be proved against him): পুলিশ অফিসারের হেফাজতে থাকাকালে কোন ব্যক্তি দোষ স্বীকার করলে, তা যদি কোন ম্যাজিস্ট্রেটের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে না হয়, তাহলেতা ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ করা যাবে না।

ব্যাখ্যা: এই ধারায় 'ম্যাজিস্ট্রেট' বলতে ম্যাজিস্ট্রেটের কার্য সম্পাদনকারী গ্রামপ্রধানকে বুঝাবে না। তবে গ্রামপ্রধান যদি ১৮৯৮ সালে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকেন, তবে তাকে বুঝাবে।

-----------
⇒ Confession by accused while in custody of police not to be proved against him:
Section 26. No confession made by any person whilst he is in the custody of a police-officer, unless it be made in the immediate presence of a Magistrate, shall be proved as against such person. 
 
⇒ Explanation:– In this section "Magistrate" does not include the head of a village discharging magisterial functions unless such headman is a Magistrate exercising the powers of a Magistrate under the Code of Criminal Procedure,1898.
৩,০২৩.
What does Section 463 of the Penal Code define as forgery?
  1. Altering a document to reflect accurate information
  2. Destroying a legal document to evade law enforcement
  3. Creating a true document with the intention of deceiving someone
  4. Making any false document or part of a document with intent to cause damage or injury
ব্যাখ্যা
⇒ The Penal Code, 1860: Section-463: Forgery: Whoever makes any false document or part of a document, with intent to cause damage or injury, to the public or to any person, or to support any claim or title, or to cause any person to part with property, or to enter into any express or implied contract, or with intend to commit fraud or that fraud may be committed, commits forgery.
-------------------
⇒ দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারায় জালিয়াতির সংজ্ঞা রয়েছে। যে ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির বা জনগণের ক্ষতি বা অনিষ্ট সাধন কিংবা প্রতারণা করার অভিপ্রায়ে কোন মিথ্যা দলিলের অংশ বিশেষ প্রস্তুত করে সে ব্যক্তি জালিয়াত করেছে বলে গণ্য হবে।
৩,০২৪.
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর অতিরাষ্ট্রিক (extraterritorial) প্রয়োগ সম্পর্কিত বিধান কোন ধারায় আছে?
  1. ধারা ৩
  2. ধারা ৪
  3. ধারা ৫
  4. ধারা ৬
ব্যাখ্যা

⇒ মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ধারা ৫-এ এই আইনের অতিরাষ্ট্রিক প্রয়োগ (extraterritorial application) সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।

⇒ মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ধারা ৫-এই আইনের অতিরাষ্ট্রিক (extraterritorial) প্রয়োগ:
(১) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার বাহিরে অথবা বাংলাদেশের কোন জাহাজ বা বিমানে কোন ব্যক্তি বাংলাদেশী কোন নাগরিকের বিরুদ্ধে এই আইনের আওতাধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করিলে এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর হইবে। 
(২) যদি কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের বাহির হইতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অথবা বাংলাদেশের অভ্যন্তর হইতে বাংলাদেশের বাহিরে এই আইনের আওতাধীন কোন অপরাধ সংঘটন করে তাহা হইলে উক্ত অপরাধ ও তাহা সংঘটনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া বাংলাদেশে সংঘটিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত ব্যক্তি ও অপরাধের ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর হইবে।

৩,০২৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৯০ এর অধীন কে নিলাম বিক্রয় রদের আবেদন করতে পারে?
  1. ডিক্রিদার
  2. সম্পত্তির বণ্টনে আনুপাতিক অংশের অধিকারী
  3. নিলাম বিক্রয়ের ফলে যে ব্যক্তির স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়
  4. ক বা খ বা গ
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৯০- অনিয়মতা কিংবা প্রতারণার কারণে নিলাম বিক্রয় রদের আবেদন:

যেক্ষেত্রে কোন স্থাবর সম্পত্তি ডিক্রি জারিতে নিলাম বিক্রয় হয়েছে, সেক্ষেত্রে ডিক্রিদার কিংবা সম্পত্তির বণ্টনে আনুপাতিক অংশের অধিকারী কোন ব্যক্তি অথবা উক্ত নিলাম বিক্রয়ের ফলে যার স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয় ঐ ব্যক্তি নিলাম বিক্রয় রদের জন্য সেটা প্রচার বা পরিচালনার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম বা প্রতারণার অজুহাতে আদালতে আবেদন করতে পারে-
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ অনিয়ম বা তঞ্চকতার কারণে কোন নিলাম বিক্রয় রদ হবে না, যদি না প্রমাণিত তথ্যসমূহের উপর আদালত এ মর্মে পরিতুষ্ট হয় যে, আবেদনকারী উক্ত অনিয়মতা বা তঞ্চকতার অজুহাতে যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

⇒ আইনগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে, নিলাম বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নানা রকম অনিয়ম বা প্রতারণা হতে পারে। এসব অনিয়ম বা প্রতারণার ফলে যাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তারা নিলাম বিক্রয় রদের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে মূল শর্ত হল - আবেদনকারীর স্বার্থ প্রকৃতপক্ষে যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তা পরিষ্কার প্রমাণ দিয়ে আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হবে।

অর্থাৎ, আদালত শুধু দাবি শোনা নিয়ে নিলাম বিক্রয় রদ করবে না। নিলাম বিক্রয়ে প্রকৃত অনিয়ম বা প্রতারণার কারণে যে আবেদনকারীর যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে, সেটা প্রমাণ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন পড়বে নথিপত্র, প্রমাণাদি ইত্যাদি। শুধু দাবি করলেই চলবে না। আদালতকে প্রমাণে সন্তুষ্ট করাটাই প্রাথমিক শর্ত হবে।
৩,০২৬.
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কখন ৩০ বছর ধরা হয়?
  1. অর্থদণ্ড দেওয়ার সময়
  2. দণ্ডবিধির শাস্তির সময়
  3. আমৃত্যু কারাদণ্ডের সময়
  4. দণ্ডের মেয়াদের ভগ্নাংশ হিসাবের সময়
ব্যাখ্যা
→ যদিও প্রাথমিক অর্থে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বলতে আমৃত্যু কারাদণ্ডকে বোঝায়, কিন্তু দণ্ডবিধির ৫৭ ধারামতে দণ্ডের মেয়াদের ভগ্নাংশ হিসাবের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে ৩০ বছর ধরা হয়।
- দণ্ডবিধির ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে যে, দণ্ডের মেয়াদের ভগ্নাংশ হিসাবের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ৩০ বছর কারাদণ্ডের সমান বলে গণ্য হবে।
- সুতরাং দণ্ডবিধির ৫৭ ধারামতে শাস্তির ভগ্নাংশ হিসাব করতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে ৩০ বছর ধরতে হবে।
----------
→ The Penal Code,1860- Section 57: Fractions of terms of punishment:
- In calculating fractions of terms of punishment, imprisonment for life shall be reckoned as equivalent to rigorous imprisonment for thirty years.
 
৩,০২৭.
সিভিল কোর্টস অ্যাক্ট, ১৮৮৭ এর ধারা ৯ অনুযায়ী কে সকল দেওয়ানি আদালতের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ রাখেন?
  1. আইন সচিব
  2. জেলা জজ
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. সরকার
ব্যাখ্যা
⇒ সিভিল কোর্টস অ্যাক্ট, ১৮৮৭ এর ধারা ৯ অনুযায়ী, জেলা জজ তার অধিক্ষেত্রের সকল দেওয়ানি আদালতের উপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ রাখেন। তবে, এটি হাইকোর্ট বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকবে।
অর্থাৎ ৯ ধারা অনুযায়ী, স্থানীয় এখতিয়ারাধীন সকল দেওয়ানী আদালতের উপর জেলা জজের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রন থাকবে।
  
⇒ The Civil Courts Act,1887- Section 9: Administrative control of Courts-
Subject to the superintendence of the High Court Division, the District Judge shall have administrative control over all the Civil Courts under this Act within the local limits of his jurisdiction.
৩,০২৮.
যদি কোনো আইন প্রণীত হওয়ার তারিখে কার্যকর হওয়ার দিন উল্লেখ না থাকে, তবে আইনটি কখন কার্যকর হবে?
  1. আইন পাশ হওয়ার দিন
  2. গেজেটে প্রকাশের দিন
  3. পরবর্তী অর্থবছরের শুরুতে
  4. রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের দিন
ব্যাখ্যা

⇒ জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭ এর ধারা ৫(১) এ স্পষ্টভাবে বলা আছে: যদি কোনো আইন (Act of Parliament)-এ কার্যকর হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না থাকে, তাহলে আইনটি কার্যকর হবে, রাষ্ট্রপতির সম্মতি (assent) পাওয়ার পর যে দিনে অফিসিয়াল গেজেটে প্রকাশিত হয়, সেই দিন থেকে।

⇒ জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এর ধারা ৫(১) অনুসারে, যদি কোনো আইন প্রণীত হওয়ার তারিখে কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট দিন উল্লেখ না থাকে, তবে: বাংলাদেশে প্রণীত আইন সাধারণত গেজেটে প্রকাশের দিন থেকে কার্যকর হয়।
ধারা ৫(৩) অনুযায়ী, আইনটি কার্যকর হওয়ার দিনের আগের দিনের শেষ মুহূর্ত (মধ্যরাত) থেকে কার্যকর বলে গণ্য হয়।
অতএব, সঠিক উত্তর খ) গেজেটে প্রকাশের দিন।

⇒ The General Clauses Act, 1897, Section-5. Coming into operation of enactments:
(1) Where any Act of Parliament is not expressed to come into operation on any particular day, then it shall come into operation,
(a) in the case of an Act of Parliament to which this Act was applicable before the 26th day of March, 1971, on the date on which it receives the assent; and 
(b) in the case of any other Act of Parliament, the day on which the assent is first published in the official Gazette;
(3) Unless the contrary is expressed, an Act of Parliament or Regulation shall be construed as coming into operation immediately on the expiration of the day preceding its commencement.

৩,০২৯.
অধস্তন আদালতে দরখাস্ত ও কার্যধারা কোন ভাষায় লিখিত হবে, তা নির্ধারণ করবে-
  1. হাইকোর্ট
  2. সরকার
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. সংশ্লিষ্ট জেলা জজ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩৭ ধারা: অধস্তন আদালতে ভাষা:
১) এই আইন কার্যকর হওয়ার সময় কোন হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন কোন আদালতে ভাষা যা ছিল, সরকার অন্যভাবে নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেটাই উক্ত অধস্তন আদালতে ভাষা হিসাবে চলতে থাকবে।

২) অনুরূপ আদালতের ভাষা কি হবে এবং কোন রীতিতে অনুরূপ আদালত সমীপে দরখাস্ত এবং আদালতে কার্যধারা লিখিত হবে তা সরকার ঘোষণা করতে পারবে।

৩) যখন অনুরূপ কোন আদালতে সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা ব্যতীত অন্য কিছু লিখিতরূপে নিরূপণ করার জন্য এই আইন আদেশ প্রদান করে বা অনুমতি প্রদান করে, তখন অনুরূপ লিখন ইংরেজীতে হতে পারে; কিন্তু কোন পক্ষ বা তার আইনজীবী যদি ইংরেজীর সঙ্গে অপরিচিত হন, তবে তার অনুরোধে আদালতের ভাষায় উক্ত ইংরেজীর অনুবাদ তাকে সরবরাহ করা হবে, এবং এরূপ ক্ষেত্রে আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন, অনুবাদের খরচ প্রদানের ব্যাপারে সেরূপ আদেশনামা প্রদান করবে।
৩,০৩০.
ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন কারাদণ্ড আদেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে যদি দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হয়, তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে ফৌজদারি কারাগারে অপসারণ করার নির্দেশ কে দিতে পারেন?
  1. সরকার
  2. হাইকোর্ট বিভাগ
  3. আদেশদানকারী আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৪১ (কারাবাসের স্থান নির্দিষ্টকরণের ক্ষমতা)-

(১) বর্তমানে কার্যকর কোন আইনে ভিন্নরূপ ব্যবস্থা করা না হলে এই বিধির অধীন কারাদণ্ড বা হাজত বাসের নির্দেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে সরকার সে সম্পর্কে নির্দেশ দিতে পারবেন।

(২) দেওয়ানি কারাগারে আটক আসামী কিংবা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফৌজদারি কারাগারে অপসারণ এবং তাদের দেওয়ানি কারাগারে প্রত্যাবর্তনঃ
এই কার্যবিধির অধীন কারাদন্ড বা হাজতবাসের নির্দেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে যদি দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হয়, তাহলে কারাদণ্ড বা হাজত বাসের আদেশদানকারী আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত ব্যক্তিকে ফৌজদারি কারাগারে অপসারণ করার নির্দেশ দিতে পারবেন।

(৩) কোন ব্যক্তি উপধারা (২) এর অধীন ফৌজদারি জেলে স্থানান্তরিত হলে তা থেকে মুক্ত হবার পর তাকে পুনরায় দেওয়ানি জেলে প্রেরণ করতে হবে, যদি না-

(ক) ফৌজদারি জেলে স্থানান্তরিত হবার পর তিন বৎসর পার হয়ে থাকে, তিন বৎসর অতিবাহিত হয়ে থাকলে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা-৫৮ এর অধীন সে দেওয়ানি জেল থেকে অব্যাহতি পেয়েছে মর্মে অভিহিত করতে হবে, কিংবা
(খ) যে আদালত তাকে দেওয়ানি জেলে আটকের আদেশ দিয়েছিলেন সেই আদালত ফৌজদারি জেলের ভারপ্রাপ্ত অফিসারকে সার্টিফিকেট দেন যে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা-৫৮ এর অধীন সে অব্যাহতি পাবার অধিকারী।
৩,০৩১.
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৯(২) অনুযায়ী, কোন কারণে বৈষম্য করা যাবে না?
  1. ধর্ম
  2. বর্ণ
  3. জন্মস্থান
  4. উল্লিখিত সকল কারণে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৯- সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা:
​(১) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে।

​​(২) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাঁহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।

​​(৩) এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই-
​(ক) নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশ যাহাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তাঁহাদের অনুকূলে বিশেষ বিধান-প্রণয়ন করা হইতে,
​(খ) কোন ধর্মীয় বা উপ-সম্প্রদায়ভুক্ত প্রতিষ্ঠানে উক্ত ধর্মাবলম্বী বা উপ-সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তিদের জন্য নিয়োগ সংরক্ষণের বিধান-সংবলিত যে কোন আইন কার্যকর করা হইতে,(গ) যে শ্রেণীর কর্মের বিশেষ প্রকৃতির জন্য তাহা নারী বা পুরুষের পক্ষে অনুপযোগী বিবেচিত হয়, সেইরূপ যে কোন শ্রেণীর নিয়োগ বা পদ যথাক্রমে পুরুষ বা নারীর জন্য সংরক্ষণ করা হইতে রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

৩,০৩২.
The Penal Code, 1860 এর কোন ধারায় 'Culpable Homicide' এর উপাদান বর্ণিত হয়েছে?
  1. ২৯৯
  2. ৩০০
  3. ৩০২
  4. ৩০৭
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ২৯৯ ধারায় নিন্দনীয় নরহত্যার সংজ্ঞা (Culpable homicide)- কোন ব্যক্তিকে প্রত্যক্ষভাবে হত্যা না করে এমন কাজ করা যা তার মৃত্যু ঘটায় তাই হলো নিন্দনীয় নরহত্যা বা Culpable homicide।
♦ দন্ডবিধির ২৯৯ ধারামতে নিম্নলিখিত ৩টি ক্ষেত্রে কোন কাজ নিন্দনীয় নরহত্যা বলে গণ্য হবে। যথা-
i) মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্য (with the intention of causing death); অথবা
ii) দৈহিক জখমের উদ্দেশ্যে( with the intention of causing such bodily injury); অথবা
iii) মৃত্যু ঘটতে পারে এরকম জ্ঞান নিয়ে (with the knowledge that he is likely by such act to cause death) কোন কাজ করার ফলে কোন ব্যক্তির মৃত্যু হলে তা নিন্দনীয় নরহত্যা বা Culpable homicide বলে গণ্য হবে।

♦ যেমন- ক একটি কূপের মুখে আড়াআড়িভাবে বাঁশের কঞ্চি পেতে তার উপর ঘাসের পাতা এই উদ্দেশ্যে বিছিয়ে দেয় যাতে কারো মৃত্যু ঘটে অথবা মৃত্যু ঘটতে পারে। চ শক্ত মাটি মনে করে উক্ত ঘাস বিছানো কূপের উপর দিয়ে চলতে গিয়ে কূপের ভিতর পড়ে নিহত হয়। এখানে ক শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বা নিন্দনীয় নরহত্যার অপরাধ করেছে।

♦ অর্থাৎ The Penal Code, 1860 এর ২৯৯ ধারায় 'Culpable Homicide' এর উপাদান বর্ণিত আছে। 
৩,০৩৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৩ এর কত বিধি অনুযায়ী আদালত মোকদ্দমার যেকোন পর্যায়ে অপ্রাসঙ্গিক দলিলাদি অগ্রাহ্য করতে পারে?
  1. বিধি-২
  2. বিধি-৩
  3. বিধি-৪
  4. বিধি-৫
ব্যাখ্যা
আদেশ ১৩ বিধি-৩: অপ্রাসঙ্গিক কিংবা অগ্রহণযোগ্য দলিলাদি অগ্রাহ্য:
মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে আদালত যদি মনে করে যে, কোন একটি দলিল অপ্রাসঙ্গিক কিংবা অন্যভাবে অগ্রহণযোগ্য, তবে অগ্রাহ্যের হেতু রেকর্ডপূর্বক আদালত উক্ত দলিল অগ্রাহ্য করতে পারবে।

Order 13 Rule 3: Rejection of irrelevant or in admissible documents:
The Court may at any stage of the suit reject any document which it considers irrelevant or otherwise inadmissible, recording the grounds of such rejection.
৩,০৩৪.
সাক্ষ্য আইনের বিধানমতে স্বীকৃতি কী হিসাবে ব্যবহার করা যায়?
  1. সাক্ষ্য
  2. প্রতিবন্ধকতা
  3. চূড়ান্ত প্রমাণ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩১ ধারার বিধান: স্বীকৃতি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, কিন্তু প্রতিবন্ধক হতে পারে: 
কোন বিষয়ে স্বীকৃতি সেই বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। কিন্তু এই আইনে অতঃপর বর্ণিত বিধানসমূহ অনুসারে এগুলি প্রতিবন্ধক হিসেবে কার্যকর হতে পারে।
---------------
⇒The Evidence Act  1872, Section-31: Admissions not conclusive proof, but may stop:
- Admissions are not conclusive proof of the matters admitted but they may operate as estoppels under the provisions hereinafter contained.
৩,০৩৫.
যদি কোন ব্যক্তি কোন শিশু বা উন্মাদ ব্যক্তির আত্মহত্যায় সহায়তা করে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি নিম্নলিখিত কোন দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে?
  1. মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ বৎসর কারাদণ্ড 
  2. মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বৎসর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডসহ
  3. মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১২ বৎসর কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ বৎসর কারাদণ্ড 
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৫ ধারার বিধান শিশুর বা উন্মাদ ব্যক্তির আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান:- যদি আঠারো বৎসরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তি, কোন উন্মাদ ব্যক্তি, প্রলাপগ্রস্ত ব্যক্তি, নির্বোধ ব্যক্তি, বা কোন ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি এই আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান করে, সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা অনধিক দশ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
------------
⇒ Abetment of suicide of child or insane person:
Section 305. If any person under eighteen years of age, any insane person, any delirious person, any idiot, or any person in a state of intoxication commits suicide, whoever abets the commission of such suicide shall be punished with death or imprisonment for life, or imprisonment for a term not exceeding ten years, and shall also be liable to fine.
৩,০৩৬.
তামাদি আইনের কোন ধারায় বলা হয়েছে যে আদালত বন্ধ থাকলে সময় গণনায় প্রভাব পড়বে না?
  1. ধারা-৩
  2. ধারা-৪
  3. ধারা-৫
  4. ধারা-৯
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৪ (Section 4 of the Limitation Act, 1908) অনুযায়ী "যদি কোনো মামলার আবেদন বা দরখাস্ত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দায়ের করার কথা থাকে এবং সেই সময়সীমার শেষ দিনটি যদি আদালত বন্ধ থাকে, তবে দরখাস্তটি আদালতের পরবর্তী খোলার দিনেও বৈধভাবে দাখিল করা যাবে।"
- আদালত বন্ধ থাকলে নির্ধারিত সময়সীমার শেষ দিন বাদ যাবে না, বরং পরবর্তী কার্যদিবসে দাখিল বৈধ ধরা হবে।
 অর্থাৎ, আদালত বন্ধ থাকার সময়টি তামাদি গণনায় প্রভাব ফেলবে না।

⇒ তামাদির আইনের ৪ ধারার বিধান- আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে:
-যেক্ষেত্রে কোন আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় কোন মামলা, আপিল বা আবেদনের জন্য তামাদির নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আদালত যেদিন খুলবে সেদিন উক্ত মামলা, আপিল বা আবেদন দাখিল করা যাবে।
------------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 4- Where Court is closed when period expires:
-Where the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application expires on a day when the Court is closed, the suit, appeal or application may be instituted, preferred or made on the day that the Court re-opens.
৩,০৩৭.
চুক্তি আইনের কত ধারায় বলা হয়েছে বাজি সম্পর্কিত সম্মতি বাতিল?
  1. ২৯ ধারায়
  2. ৩০ ধারায়
  3. ৩০ক ধারায়
  4. ৩০খ ধারায়
ব্যাখ্যা
চুক্তি আইনের ৩০ ধারার বিধান বাজি সম্পর্কিত সম্মতি বাতিল:
- বাজি সম্পর্কিত সম্মতি বাতিল এবং
- বাজিতে জেতা হয়েছে এমন কিছু উদ্ধার করার জন্য অথবা কোন খেলা বা অনিশ্চিত ঘটনা যার উপর বাজি ধরা হয়েছে তার ফলাফল আনার উদ্দেশ্যে কারো কাছে গচ্ছিত কোন জিনিস আদায় করার জন্য কোন মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে না।

- ঘোড় দৌড়ের নির্দিষ্ট পুরস্কারের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম- এ ধারা অনুসারে কোন ঘোড় দৌড়ে জয়লাভকারী বা জয়লাভকারীগণকে পুরস্কার হিসাবে ৫০০ টাকা বা তার বেশি কোন মূল্যের কোন প্লেট, পুরস্কার বা কোন অর্থ, চাঁদা বা কোন কিছু দান করার সম্মতি দেয়া হলে তা অবৈধ বলে গণ্য হবে না।

- দণ্ডবিধির ২৯৪ক ধারা প্রভাবিত হবে না: এ ধারার কোন কিছু ঘোড় দৌড় সম্পর্কিত যে লেনদেনের ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ২৯৪ক ধারার বিধানাবলি প্রয়োগযোগ্য সে সকল লেনদেনকে বৈধতা প্রদান করেছে বলে গণ্য হবে না।
-----
Sction 30. Agreements by way of wager void Exceptions in favour of certain prizes for horse-racing. Section 294A of the Penal Code not affected:
 Agreements by way of wager are void; and no suit shall be brought for recovering anything alleged to be own on any wager, or entrusted to any person to abide the result of any game or other uncertain event on which wager is made. 

This section shall not be deemed to render unlawful a subscription, or contribution, or agreement to subscribe or contribute, made or entered into for or toward any plate, prize or sum of money, of the value or amount of five hundred Taka or upwards, to be awarded to the winner or winners of any horse race. 

Nothing in this section shall be deemed to legalize any transaction connected with horse-racing, to which the provisions of section 294A of the Penal Code apply.
৩,০৩৮.
কোন রাজবন্ধী বা যুদ্ধবন্ধীকে হাজত হতে পলায়নে সহায়তা, উদ্ধার, আশ্রয়দান বা লুকিয়ে রাখার শাস্তি-
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  2. মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  3. শুধু মৃত্যুদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন বা অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
• ধারা ১৩০ মতে কোন রাজবন্ধী বা যুদ্ধবন্ধীকে হাজত হতে পলায়নে সহায়তা, উদ্ধার, আশ্রয়দান বা লুকিয়ে রাখার শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন বা অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থন্ডের বিধান আছে।
৩,০৩৯.
দণ্ডবিধির ৩৪ ধারার অধীনে সাধারণ অভিপ্রায় (Common Intention) প্রমাণ করার জন্য কোনটি প্রয়োজন নয়?
  1. একই অভিপ্রায় থাকা।
  2. পূর্ব পরিকল্পনা থাকা।
  3. সকল ব্যক্তি একসঙ্গে উপস্থিত থাকা।
  4. অপরাধমূলক কাজ সম্পাদিত হওয়া।
ব্যাখ্যা

→ উল্লিখিত প্রশ্নে দণ্ডবিধির ৩৪ ধারার অধীনে সাধারণ অভিপ্রায় (Common Intention) প্রমাণ করার জন্য 'সকল ব্যক্তি একসঙ্গে উপস্থিত থাকা' প্রয়োজন নয়।

- দণ্ডবিধির ৩৪ ধারার বিধান কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক একই উদ্দেশ্য সাধানকল্পে কৃত কার্যাবলী:  যখন কতিপয় ব্যক্তি একত্রিত হয়ে তাদের সকলের একই অভিপ্রায় সাধনকল্পে অপরাধমূলক কাজ সম্পাদিত করে, তখন অনুরূপ ব্যক্তিগণের প্রত্যেকেই উক্ত কাজের জন্য এইরূপে দায়ী হবেন যেন উক্ত কাজ উক্ত ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত হয়েছিল।
অর্থাৎ, এক দল ব্যক্তি যদি কোনো অপরাধের পরিকল্পনা করে এবং তা সম্পাদন করে, তবে তাদের সবাইকে ওই অপরাধের জন্য সমান দায়ী করা হবে, যদিও তারা প্রত্যেকে আলাদাভাবে অপরাধটি করতে পারে না।
- তাদের প্রত্যেকে অপরাধের জন্য সমানভাবে দায়ী হবে, কারণ তারা সবাই একসাথে এবং একই উদ্দেশ্যে কাজ করেছে।

→ দণ্ডবিধির ৩৪ ধারায় সাধারণ অভিপ্রায় বা অভিন্ন অভিপ্রায় (Common Intention) এর বিধান রয়েছে:
(i) সাবধান অভিপ্রায় প্রমাণের ক্ষেত্রে কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক অপরাধমূলক কাজ সম্পাদিত হবে।
(ii) তাদের প্রত্যেকের সাধারণ অভিপ্রায় এবং পূর্ব পরিকল্পনা থাকবে উক্ত অপরাধ সংঘটিত করতে।
(iii) অপরাধটি সফল করার জন্য তারা অপরাধে অংশগ্রহণ করবে।

এখানে, সকল ব্যক্তি একসঙ্গে উপস্থিত থাকা এই শর্তটি প্রয়োজন নয়। কারণ, সাধারণ অভিপ্রায় থাকতে হবে, কিন্তু অপরাধ সংঘটিত করতে সকল ব্যক্তি একসাথে উপস্থিত থাকা আবশ্যক নয়। তারা আলাদাভাবে অংশ নিতে পারে, তবে তাদের অভিপ্রায় ও পরিকল্পনা এক হতে হবে।
অতএব,সকল ব্যক্তি একসঙ্গে উপস্থিত থাকা সাধারণ অভিপ্রায় (Common Intention)  প্রমাণের জন্য আবশ্যক নয়।
---------------
- The Penal Code, 1860 Section-34: Acts done by several persons in furtherance of common intention: 
- When a criminal act is done by several persons, in furtherance of the common intention of all, each of such persons is liable for that act in the same manner as if it were done by him alone.

৩,০৪০.
দণ্ডবিধির ১৫৯ ধারার মতে, মারামারি বলতে কী বোঝায়?
  1. কোনো ব্যক্তির ওপর শারীরিক আক্রমণ
  2. আত্মরক্ষার জন্য লড়াই করা
  3. যেকোনো ধরণের শারীরিক সংঘর্ষ
  4. প্রকাশ্য স্থানে জনশান্তি বিঘ্নিত করা
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ১৫৯ ধারার বিধান- মারামারি:
যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন প্রকাশ্য স্থানে মারামরি করে শান্তিভঙ্গ করে, তবে তারা "মারামারি” করেছে বলে পরিগণিত হয়।

Section-159: Affray:
When two or more persons, by fighting in a public place, disturb the public peace, they are said to "commit an affray".
৩,০৪১.
নাবালকের ব্যক্তিগত অভিভাবককে কী বলা হয়?
  1. কাসিম
  2. ওয়ালি
  3. মুফতী
  4. মুতাওয়াল্লি
ব্যাখ্যা
নাবালকের ব্যক্তিগত অভিভাবক (Guardian of a Minor)
ইসলামী শরিয়তে, নাবালক (অর্থাৎ, যে শিশু বা কিশোর আইনগতভাবে পূর্ণবয়সে পৌঁছায়নি) তার নিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম নয় এবং তার ব্যক্তিগত এবং সম্পত্তি সম্পর্কিত বিষয়গুলোর দেখভাল করতে অভিভাবক প্রয়োজন। এই অভিভাবককে "ওয়ালি" বলা হয়।

ওয়ালি (Guardian) - এর ভূমিকা:
ওয়ালি এমন একজন ব্যক্তি, যিনি নাবালকের বা অনাবালকের শারীরিক, মানসিক ও আইনি স্বার্থ রক্ষার জন্য দায়িত্বশীল। ওয়ালি সেই ব্যক্তি, যিনি নাবালক বা মেয়ে বা ছেলের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তার পক্ষ থেকে আইনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সাধারণত, ওয়ালি হিসেবে প্রথমে বাবা বা পরিবারের পুরুষ সদস্যরা নিয়োগ পায়, যদি না তারা জীবিত না থাকেন। এরপর তার পরবর্তী অভিভাবক হিসেবে একজন পুরুষ বা মহিলাকে নিয়োগ করা হয়, যার মাধ্যমে নাবালক বা নাবালিকার স্বার্থ সুরক্ষিত হয়।

ওয়ালি হওয়ার শর্ত:
বয়স ও পরিপক্কতা: ওয়ালি হতে হলে অভিভাবকের অবশ্যই শারীরিক ও মানসিকভাবে পরিপক্ব হতে হবে।
বিশ্বাসযোগ্যতা ও নৈতিকতা: অভিভাবককে সৎ, যোগ্য এবং আইনের প্রতি আনুগত্যশীল হতে হবে।
পরিবারের অভিভাবক: প্রাথমিকভাবে, নাবালকের বাবা বা তার পরিবারের পুরুষ সদস্য ওয়ালি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে, যদি বাবা না থাকেন, তাহলে মায়ের পক্ষ থেকেও অভিভাবক মনোনীত হতে পারেন।

অন্যদিকে,
- কাসিম শব্দের অর্থ হল "ভাগকারী" বা "বিভাগকারী"। ইসলামী আইন বা শরিয়তে এটি সাধারণত "বিতরণকারী" বা "বংশের ভাগ" বুঝানোর জন্য ব্যবহার হয়
- মুতাওয়াল্লি হলো একজন ব্যক্তি, যিনি ইসলামী দান বা ওয়াকফ (Waqf) সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন।
- মুফতী হলো একজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি, যিনি ইসলামী আইন বা শরিয়তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন এবং মুসলিমদের জিজ্ঞাসা বা প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন। 
৩,০৪২.
শিশু আদালত মোট কত দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করবে?
  1. ৩৬০ দিনের মধ্যে
  2. ১২০ দিনের মধ্যে
  3. ৪২০ দিনের মধ্যে
  4. ৯০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
ধারা ৩২- বিচার সমাপ্তির সময়সীমা
 
(১) ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশু-আদালত উক্ত আদালতে শিশুর প্রথম উপস্থিত হইবার তারিখ হইতে ৩৬০ (তিনশত ষাট) দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করিবে। 

(২) কোন যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তব কারণে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করা সম্ভব না হইলে শিশু-আদালত, উক্ত কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, সংশ্লিষ্ট বিচারকার্য সম্পন্নের সময়সীমা আরও ৬০ (ষাট) দিন বর্ধিত করিতে পারিবে। 

(৩) শিশু-আদালতে বিচার আরম্ভ হইবার পর হইতে, বিচার কার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যতদূর সম্ভব, একাদিক্রমে উহার কার্যক্রম প্রত্যেক কার্যদিবসে বিনা বিরতিতে চলিতে থাকিবে। 

(৪) উপ-ধারা (১) ও (২) এ বর্ণিত সময়ের মধ্যে বিচার কার্য সম্পন্ন করা না হইলে সংশ্লিষ্ট শিশু, হত্যা, ধর্ষণ, দস্যুতা, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা বা অন্য কোন জঘন্য, ঘৃণ্য বা গুরুতর অপরাধের দায়ে দায়েরকৃত মামলা ব্যতীত, শিশু-আদালতের বিবেচনায় তাহার বিরুদ্ধে আনীত লঘু মাত্রার অভিযোগ হইতে অব্যাহতি পাইবে এবং একই অপরাধের জন্য তাহার বিরু্দ্ধে অন্য কোন বিচার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা যাইবে না: 
তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট মামলায় কোন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অভিযুক্ত থাকিলে তাহার মামলা অব্যাহত থাকিবে।

অর্থাৎ শিশু আদালত মোট ৪২০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করবে।
৩,০৪৩.
অবিরাম চুক্তিভঙ্গের ফলাফল সম্পর্কে বলা আছে______।
  1. ২১ ধারায়
  2. ২২ ধারায়
  3. ২৩ ধারায়
  4. ৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦The Limitation Act, 1908 এর ২৩ ধারার বিধান অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় করাঃ
 ♦যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেইক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নূতন করিয়া তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইতে শুরু করে।
 ♦এমন অনেক চুক্তি রহিয়াছে, যাহা ভঙ্গ হইলে প্রতি মুহূর্তে নালিশের কারণ উদ্ভব হইতে পারে। চুক্তি বহির্ভূত এমন অনেক লোকসান রহিয়াছে, যাহা প্রতিমুহূর্তে নালিশের কারণের উদ্ভব ঘটায়। এইসব ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ প্রতি মুহূর্তে বৃদ্ধি পায়।
৩,০৪৪.
'এখতিয়ারবিহীন আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে দায়ের করা কার্যধারায় ব্যয়িত সময় তামাদি গণনা হতে বাদ দিতে হবে'- এই বিধান উল্লিখিত কোন কার্যধারার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে?
  1. আপিলের ক্ষেত্রে
  2. রিভিশনের ক্ষেত্রে
  3. 'ক' এবং 'খ' উভয় ক্ষেত্রে
  4. উল্লিখিত কোনো ক্ষেত্রেই নয়
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৪ ধারা অনুযায়ী এখতিয়ারবিহীন আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে দায়ের করা কার্যধারায় ব্যয়িত সময় গণনা হতে বাদ দিতে হবে।

শর্তসমূহ-
১. পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী উভয় মোকদ্দমার কার্যক্রম একই পক্ষগণ কর্তৃক দায়েরকৃত দেওয়ানী কার্যক্রম [Civil Proceedings] হতে হবে।
২. বাদী পূর্ববর্তী মামলার কার্যক্রমটি যথাবিহিত যত্নের সাথে (With due diligence) এবং সরল বিশ্বাসে (good faith) পরিচালনা করেছে।
৩. আদালতের এখতিয়ারগত ত্রুটি বা অনুরুপ কারণে আদালত পূর্ববর্তী কার্যক্রমটি পরিচালনা করতে ক্ষমতাসম্পন্ন ছিল না, তখন এখতিয়ারবিহীন আদালতে উক্ত ব্যয়িত সময় তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে বাদ দিতে হবে।

১৪ ধারা নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে-
১. মূল মোকদ্দমার [Suit) মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে
২. যেকোন আবেদনের (Any application) মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে।

১৪ ধারা আপিল, রিভিশন বা রিভিউ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। অর্থাৎ এখতিয়ারবিহীন আদালতে আপিল দায়ের করলে এবং উক্ত এখতিয়ারবিহীন আদালতে ব্যয়িত সময় বাদ দিয়ে আপিলের তামাদির মেয়াদ গণনা করতে ১৪ ধারায় আবেদন গ্রহণযোগ্য না। এখতিয়ারবিহীন আদালতে আপিল দায়েরের কারণে ব্যয়িত সময় মওকুফের জন্য ৫ ধারায় আবেদন করা যেতে পারে।
৩,০৪৫.
নির্দিষ্ট বর্ণনার কিছু সংখ্যক রেলওয়ের শেয়ার 'ক' বিক্রয় করতে এবং 'খ' ক্রয় করতে চুক্তি করেছে। 'ক' বিক্রয় করতে অস্বীকার করে। এই ক্ষেত্রে 'খ' এর প্রতিকার হতে পারে?
  1. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন
  2. 'খ' এর কোন প্রতিকার নেই
  3. আর্থিক ক্ষতিপূরণ
  4. 'ক' এর ৬ মাসের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা মতে নিম্নলিখিত ৪টি ক্ষেত্রে কোন চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়। যথা-
ক) চুক্তিটি অছি বা জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হলে।
খ) চুক্তিভঙ্গের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি নির্ণয়ের মানদন্ড না থাকলে।
গ) চুক্তিভঙ্গের ফলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ অপর্যাপ্ত হলে।
ঘ) চুক্তিভঙ্গের ফলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভবনা না থাকলে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়।

⇒  খ.গ, এবং ঘ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বলা যায় চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ নির্ণয়ের কোন মানদণ্ড না থাকলে বা পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ না থাকলে বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া না গেলে, আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারে। বিপরীতভাবে বলা যায়, আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত হলে বা নির্ণয় করা গেলে বা পাওয়া গেলে, আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের প্রতিকার দিবেনা বরং ক্ষতিপূরণ প্রতিকার দিবে।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ১২ ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যদিনা এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না ভিন্ন কিছু প্রমাণিত হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আদালত অবশ্যই অনুমান করবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব না, এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার এভাবে করা যায়।

⇒ 'ক' বিশেষ ধরনের নির্দিষ্ট সংখ্যক রেলওয়ে শেয়ার বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয় এবং 'খ' তা ক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। 'ক' বিক্রয় সম্পন্ন করতে অস্বীকার করে শেয়ার বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয় এবং 'খ' তা ক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। 'ক' বিক্রয় সম্পন্ন করতে অস্বীকার করে, 'খ', 'ক'-কে এই চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের বাধ্য করতে পারে, কারণ শেয়ার সংখ্যার দিক হতে সীমাবদ্ধ এবং তা সব সময় বাজারে পাওয়া যাবে না এবং সেগুলির দখল একজন শেয়ার হোল্ডারের মর্যাদা বহন করে, যা অন্য কোনভাবে করা যায় না।
৩,০৪৬.
বাংলাদেশ সংবিধানের ৮৩ অনুচ্ছেদের বিধান-
  1. Money Bills
  2. Recommendation for financial measures
  3. No taxation except by or under Act of Parliament
  4. Regulation of Public moneys
ব্যাখ্যা
⇒ Article 83. No taxation except by or under Act of Parliament:
 No tax shall be levied or collected except by or under the authority of an Act of Parliament.
-----------
⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮৩ বিধান সংসদের আইন ব্যতীত করারোপে বাধা: 
 সংসদের কোন আইনের দ্বারা বা কর্তৃত্ব ব্যতীত কোন কর আরোপ বা সংগ্রহ করা যাইবে না।
৩,০৪৭.
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর অধীনে ঘটিত জাতীয় পরিচালনা বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হইবে-
  1. প্রতি এক মাসে কমপক্ষে একটি
  2. প্রতি দুই মাসে কমপক্ষে একটি
  3. প্রতি তিন মাসে কমপক্ষে একটি
  4. প্রতি ছয় মাসে কমপক্ষে একটি
ব্যাখ্যা
৮ ধারার বিধান: বোর্ডের সভা
 (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেতেগ, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷ 
(২) বোর্ডের সভা উহার চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে: 
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি তিন মাসে বোর্ডের কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে৷

(৩) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে তত্কর্তৃক নির্দেশিত কোন সদস্য বা এইরূপ কোন নির্দেশ না থাকিলে সভায় উপস্থিত সদস্যগণের দ্বারা নির্বাচিত অন্য কোন সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন৷ 
(৪) বোর্ডের সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যুন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মূলতবী সভার তেগত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না৷ 
(৫) বোর্ডের প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার তেগত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী সদস্যের দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের তগমতা থাকিবে৷ 
(৬) শুধুমাত্র কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রম্্নটি থাকার কারণে বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না৷
৩,০৪৮.
তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার দিন আদালত বন্ধ থাকলে এর প্রতিকার কী?
  1. আদালত খোলার পরবর্তী যেকোনো সময় মামলা দায়ের করা যাবে
  2. বন্ধের আগের দিনই মামলা, আপিল বা দরখাস্ত দায়ের করতে হবে
  3. আদালত পুনরায় খোলার দিন মামলা, আপিল বা দরখাস্ত দায়ের করতে হবে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ধারা ৪- আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে
 
যেক্ষেত্রে কোন আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় কোন মামলা, আপিল বা আবেদনের জন্য তামাদির নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আদালত যেদিন খুলবে সেদিন উক্ত মামলা, আপিল বা আবেদন দাখিল করা যাবে।

Section 4- Where Court is closed when period expires
Where the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application expires on a day when the Court is closed, the suit, appeal or application may be instituted, preferred or made on the day that the Court re-opens.
৩,০৪৯.
যে রেহেনে দাতা সম্পত্তির দখল রেহেনগ্রহীতাকে প্রদান করে এবং ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত সেই দখল বজায় রাখে, তাকে কী বলা হয়?
  1. ইংলিশ রেহেন
  2. খাই খালাসী রেহেন
  3. দলিল জমা দেওয়ার রেহেন
  4. শর্তাধীন বিক্রয়ের রেহেন
ব্যাখ্যা
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে ৬ প্রকার রেহেনের উল্লেখ রয়েছে।

ক) সাধারণ রেহেন :
সম্পত্তির দখল হস্তান্তর না করে রেহেনের টাকা ব্যক্তিগতভাবে পরিশােধের দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাকে সাধারণ রেহেন বলে। এখানে শর্ত থাকে চুক্তি মােতাবেক ঋণ গ্রহীতা টাকা পরিশােধ করতে না পারলে ঋণদাতা উক্ত সম্পত্তি বিক্রয় করে তার প্রাপ্য টাকা গ্রহণ করতে পারবে।

(খ) শর্তাধীন বিক্রয়ের মাধ্যমে রেহেন :
যদি কোন সম্পত্তি এই শর্তে বিক্রয় করা হয় যে, নির্দিষ্ট তারিখে টাকা পরিশােধ না করলে বিক্রয় চূড়ান্ত হবে অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে টাকা পরিশােধ করলে বিক্রয় বাতিল হবে তাহলে তাকে শর্তাধীন বিক্রয়ের মাধ্যমে নেহেন বলে।

(গ) খাই খালাসী রেহেন :
দাতা সম্পত্তির দখল গ্রহীতাকে প্রদান করবে, টাকা পরিশােধ না হওয়া পর্যন্ত দখল রাখবে তাকে খাই খালাসী রেহেন বলে।

(ঘ) ইংলিশ রেহেন :
দাতা নির্দিষ্ট তারিখে রেহেনের টাকা পরিশােধের অঙ্গীকার করে সম্পত্তি গ্রহীতার নিকট হস্তান্তর করবে। শর্ত থাকবে নির্দিষ্ট তারিখে টাকা পরিশােধ করলে গ্রহীতা দাতাকে সম্পত্তি ফিরিয়ে দিবে। এটি হলাে ইংলিশ রেহেন।

(ঙ) দলিল জমা দেওয়ার রেহেন :
ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, চট্টগ্রাম শহরে বা সরকারী গেজেট দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোন শহরে কোন ব্যক্তি যখন মহাজন বা তার প্রতিনিধির উপর জামানত সৃষ্টির জন্য দলিল জমা দেয়া হয় তাকে দলিল জমা দেওয়ার রেহেন বলে।

(চ) সংজ্ঞাহীন রেহেন :
যে রেহেন উপরােক্ত কোন রেহেনের অন্তর্ভুক্ত হয় না তাকে সংজ্ঞাহীন রেহেন বলে।
৩,০৫০.
তামাদি আইনের ১১ ধারা অনুসারে, বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির ক্ষেত্রে কোন বিধান প্রযোজ্য হবে?
  1. বিদেশের তামাদি আইন সম্পূর্ণভাবে প্রযোজ্য হবে
  2. বিদেশের তামাদি আইন বাংলাদেশে প্রযোজ্য হবে না
  3. বিদেশের তামাদি আইন কেবল উচ্চ আদালতে প্রযোজ্য হবে
  4. বিদেশের তামাদি আইন শুধুমাত্র বাণিজ্যিক চুক্তিতে প্রযোজ্য হবে
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: (খ) বিদেশের তামাদি আইন বাংলাদেশে প্রযোজ্য হবে না।
⇒ তামাদি আইনের ১১ ধারা (Section 11 of the Limitation Act, 1908) অনুযায়ী, যদি কোনো বিদেশি দেশে সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশে মামলা দায়ের করা হয়, তাহলে বাংলাদেশের তামাদি আইন প্রযোজ্য হবে, বিদেশের নয়।
 উপধারা (১):
বাংলাদেশে দায়ের করা মামলায় তামাদি আইন, ১৯০৮-এর বিধান প্রযোজ্য হবে, এমনকি যদি চুক্তিটি বিদেশে সম্পাদিত হয়ে থাকে। অর্থাৎ, মামলার স্থান (forum) যদি বাংলাদেশ হয়, তবে বাংলাদেশের তামাদি আইন অনুসারে মামলা গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারিত হবে।
 উপধারা (২):
তবে, যদি কোনো বিদেশি তামাদি আইন চুক্তিটিকে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত (extinguish) করে ফেলে, এবং উক্ত চুক্তির পক্ষগণ সেই বিদেশি দেশে বসবাস করতেন ও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মামলা করেননি, তাহলে সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশেও চুক্তিটি অকার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, যদি বিদেশের আইন অনুসারে চুক্তি বাতিল হয়ে যায়, তবে বাংলাদেশেও তা মানা হতে পারে।

অর্থাৎ তামাদি আইনের ১১ ধারা অনুসারে, বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির ক্ষেত্রে মামলা বাংলাদেশে দায়ের হলে বিদেশের তামাদি আইন প্রযোজ্য হবে না, বরং বাংলাদেশের তামাদি আইন প্রযোজ্য হবে।
-----------
⇒ The Limitation Act:- Section- 11. Suits on foreign contracts:
(1) Suits instituted in Bangladesh on contracts entered into in a foreign country are subject to the rules of limitation contained in this Act. 
(2) No foreign rule of limitation shall be a defence to a suit instituted in Bangladesh on a contract entered into in a foreign country, unless the rule has extinguished the contract and the parties were domiciled in such country during the period prescribed by such rule.
৩,০৫১.
তামাদি আইনের ধারা ২২ অনুসারে মামলা চলমান অবস্থায় নতুন বাদী বা বিবাদী পক্ষভুক্ত হলে তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে কী বিবেচিত হবে?
  1. মামলা শেষ হওয়ার তারিখ
  2. মামলা দায়েরের মূল তারিখ
  3. নতুন পক্ষভুক্তির দিনটি মামলা দায়েরের তারিখ হিসেবে
  4. কোনো তামাদি মেয়াদ প্রযোজ্য হবে না
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ধারা ২২ অনুসারে: “যেক্ষেত্রে মামলা দায়ের করার পর নতুন কোনো বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করা হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি যেই তারিখে অনুরূপ পক্ষভুক্ত হয়েছে, তার জন্য মামলাটি সেই তারিখে দায়ের করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।”
- অর্থাৎ, নতুন করে যিনি মামলায় যুক্ত হয়েছেন (বাদী বা বিবাদী হিসেবে), তার বিরুদ্ধে বা পক্ষে তামাদির মেয়াদ গণনার শুরু হবে তার পক্ষভুক্তির দিন থেকে, না যে দিন মূল মামলা দায়ের হয়েছিল।

⇒ তামাদি আইনের ধারা ২২ এর বিধান নতুন বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করার ফলাফল:-
(১) যেক্ষেত্রে মামলা দায়ের করার পর নতুন কোনো বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করা হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি যেই তারিখে অনুরূপ পক্ষভুক্ত হয়েছে, তার জন্য মামলাটি সেই তারিখে দায়ের করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।
(২) যেক্ষেত্রে মামলা মুলতবি থাকাকালে স্বত্বার্পণ বা কোনো স্বত্ব হস্তান্তরের কারণে কাউকে পক্ষভুক্ত বা স্থলাভিষিক্ত করা হয় অথবা যেক্ষেত্রে বাদীকে বিবাদী কিংবা বিবাদীকে বাদীতে রূপান্তরিত করা হয়, সেক্ষেত্রে (১) উপধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না।

⇒ The Limitation Act:- Section-22: Effect of substituting or adding new plaintiff or defendant:-
(1) Where, after the institution of a suit, a new plaintiff or defendant is substituted or added, the suit shall, as regards him, be deemed to have been instituted when he was so made a party.
(2) Nothing in sub-section (1) shall apply to a case where a party is added or substituted owing to an assignment or devolution of any interest during the pendency of a suit or where a plaintiff is made a defendant or a defendant is made a plaintiff.
৩,০৫২.
বন্ধকের মেয়াদে ভূমি হতে চাষাবাদের মাধ্যমে উৎপাদিত শস্য হতে বন্ধকী ঋণ পরিশোধ বলে গণ্য হবে এমন বন্ধক কি নামে পরিচিত?
  1. সাধারণ বন্ধক।
  2. সম্পূর্ণ খাই খালাসী বন্ধক।
  3. নাম বিহীন বন্ধক।
  4. দলিল জমা রাখা বন্ধক।
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ এবং প্রজাস্বত্ব আইনের ২(৬) ধারার বিধান "সম্পূর্ণ খাই-খালাসি বন্ধক” অর্থ কোনো প্রজা কর্তৃক ঋণ হিসাবে গৃহীত অর্থ বা শস্য ফেরত প্রদান করিবার নিশ্চয়তাস্বরূপ কোনো ভূমির দখলাধিকার এই শর্তে হস্থান্তর করা যাহা বন্ধকের মেয়াদে উক্ত ভূমি হইতে প্রাপ্ত মুনাফার মাধ্যমে, সকল সুদসহ, ঋণটি পরিশোধ হইয়াছে মর্মে গণ্য হইবে;
--------------
Section 2(6) “complete usufructuary mortgage” means a transfer by a tenant of the right of possession in any land for the purpose of securing the payment of money or the return of grain advanced or to be advanced by way of loan upon the condition that the loan, with all interests thereon, shall be deemed to be extinguished by the profits arising from the land during the period of the mortgage.
৩,০৫৩.
যে সকল অপরাধে আপসযোগ্য তাঁর তালিকা দেওয়া আছে কোথায়?
  1. ফৌজদারি কার্যবিধির ৫ম সিডিউলে
  2. পেনাল কোড-এর ৩য় সিডিউলে
  3. ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ ধারায়
  4. ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ আপসযোগ্য অপরাধের তালিকা দেওয়া আছে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৩৪৫ ধারায়। আপসযোগ্য অপরাধ ২ প্রকারের হয়।এক প্রকার হলো আদালতের অনুমতি ব্যতীত আপস করা যায়। অপর প্রকার অপরাধ হলো আদালতের অনুমতি সহ আপসযোগ্য।
৩,০৫৪.
দশ বা ততোধিক দিনব্যাপি অবৈধভাবে অবরোধ করে রাখলে সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে-
  1. ১ বছর কারাদণ্ড
  2. ২ বছর কারাদণ্ড
  3. ৩ বছর কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৪ ধারার বিধান দশ বা ততোধিক দিনব্যাপি অবৈধভাবে অবরোধ:- কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দশ বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধভাবে অবরোধ করে রাখে; তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
--------------
⇒ Section 344. Wrongful confinement for ten or more days:- Whoever wrongfully confines any person for ten days, or more, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine.
৩,০৫৫.
পদাধিকার বলে সমগ্র বাংলাদেশের জাস্টিস অব দি পিস-
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. পুলিশের আইজিপি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ২৫ ধারায় ‘পদাধিকার বলে জাস্টিস অব দি পিস' শিরোনামে বলা আছে যে, সমগ্র বাংলাদেশে সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতিগণ এবং দায়রা জজ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট,মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ স্ব স্ব এলাকায় Justice of the Peace থাকবেন।
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর  ২২ ধারা অনুযায়ী মফম্বল এলাকার জন্য সরকার বিদেশি নাগরিক ব্যতীত উপযুক্ত যেকোনো ব্যক্তিকে জাস্টিস অব দি পিস নিয়োগ দিতে পারেন।
⇒ অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের প্রত্যেক বিচারক পদাধিকারবলে সমগ্র বাংলাদেশের জাস্টিস অফ দি পিস। দায়রা বিচারকগণ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ পদাধিকারবলে তাদের অধিক্ষেত্রভুক্ত এলাকার জন্য জাস্টিস অফ দি পিস ।
৩,০৫৬.
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে কোন কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়?
  1. বাদীর ইচ্ছাধীন কাজ
  2. প্রতিবাদীর অধিকারমূলক কাজ
  3. বাদীর অধিকারের অনুকূলের কাজ
  4. বাদীর অধিকারের বিপরীত কাজ
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫৩ ধারার বিধান: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবল মাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারাই মঞ্জুর করা যায়। এর মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ হতে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয় যা বাদীর অধিকারের বিপরীত হতে পারে।

Section 53: Perpetual injunctions:
A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit: the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.
৩,০৫৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির বিধানমতে কত দিনের মধ্যে একজন অভিযোগকারী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪১৭ অনুযায়ী:
- ফরিয়াদি যদি দায়রা আদালতের খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে চায়, তাহলে তাকে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দাখিল করতে হবে।
- যদি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত খালাস আদেশ দেয়, তবে ফরিয়াদি ৬০ দিনের মধ্যে দায়রা আদালতে আপিল করতে পারবে।
- অভিযোগকারী (যে ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করেছে) খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারে।
- পাবলিক প্রসিকিউটর (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ৬ মাসের মধ্যে আপিল করতে পারে।
- অভিযোগকারী বা ফরিয়াদি শুধু একবার মূল মামলার খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে, এরপর তারা দ্বিতীয়বার আপিল করতে পারবে না।
- তবে, যদি আপিল আদালত খালাস আদেশটি প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে ওই আদেশের বিরুদ্ধে ২য় আপিল করা যাবে না, তবে রিভিশন (পুনঃমূল্যায়ন) দাখিল করা যাবথা

অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪১৭ অনুযায়ী ফরিয়াদি কর্তৃক দায়রা আদালতের খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে হবে এবং ফরিয়াদি কর্তৃক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে দায়রা আদালতে আপিল দায়ের করতে হবে।
- খালাস আদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আপিল দায়ের করতে পারে ৬০ দিনের মধ্যে এবং তামাদি আইন ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ ১৫৭ অনুযায়ী পাবলিক প্রসিকিউটর আপিল দায়ের করতে পারে ৬ মাসের মধ্যে।
অভিযোগকারী বা ফরিয়াদি শুধুমাত্র মূল মামলায় প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারে, কিন্তু আপিলে প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে পুনরায় আপিল করতে পারেনা অর্থাৎ ২য় আপিলের সুযোগ নেই।
তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭ (৪) ধারা অনুযায়ী খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আপিল নাকচ বা প্রত্যাখান হলে, উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে ২য় আপিল চলবেনা; তবে রিভিশন দায়ের করা যাবে।
৩,০৫৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৮ আদেশের ৬ বিধির অধীন আদালতের কোন আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির প্রতিকার হতে পারে-
  1. আপিল
  2. রিভিশন
  3. রিভিউ
  4. 'ক' বা 'খ'
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৮ আদেশের ৬ বিধির অধীন আদালত রায়ের পূর্বে ক্রোক আদেশ প্রদান করে এবং এর বিরুদ্ধে আপীল করা যায়।

- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৮ বিধি-৬ এর বিধান কারণ না দর্শানো বা জামানত না দিলে ক্রোক: যেক্ষেত্রে বিবাদী জামানত প্রদান না করার কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হয়, অথবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জামানত প্রদানে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে আদালত উল্লেখিত সম্পত্তি বা এর অংশ ক্রোক করার আদেশ দিতে পারেন।

- আদালতের এরূপ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।
-----------------
CPC Order-38 Rule-6. Attachment where cause not shown or security not furnished:
- (1) where the defendant fails to show cause why he should not furnish security, or fails to furnish the security required, within the time fixed by the Court, the Court may order that the property specified, or such portion thereof as appears sufficient to satisfy any decree which may be passed in the suit, be attached.
- (2) Where the defendant shows such cause or furnishes the required security, and the property specified or any portion of it has been attached, the Court shall order the attachment to be withdrawn, or make such order as it thinks fit.
৩,০৫৯.
'ক' একটি জমির দখলে আছে। 'খ' দাবি করে 'ক’ উক্ত জমির মালিক না । এখানে 'ক' যে উক্ত জমির মালিক না তা প্রমাণের দায়িত্ব কার?
  1. 'ক' এর উপর
  2. দখলকারীর উপর
  3. 'খ' এর উপর
  4. মালিকের উপর
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১০ অনুসারে- যে ব্যক্তির দখলে কিছু আছে বলে দেখানো আছে, সেই ব্যক্তি উক্ত জিনিসের মালিক কিনা এই প্রশ্ন উঠলে, দখলকারী ব্যক্তি যে মালিক না তা প্রমাণের দায়িত্ব সেই ব্যক্তির উপর বর্তায়, যে ব্যক্তি দাবি করে যে, দখলকারী ব্যক্তি সেই জিনিসের মালিক না। যেহেতু 'খ' দাবি করে যে, 'ক উক্ত জমির মালিক না, তাই তা প্রমাণের দায়িত্ব 'খ' এর উপর বর্তায়।
৩,০৬০.
মাসদার হোসেন মামলার Author Judge কে ছিলেন?
  1. Mustafa Kamal J
  2. Latifur Rahman J
  3. Mahmudul Amin Choudhury J
  4. Bimalendu Bikash Roy Choudhury J
ব্যাখ্যা
• বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ মামলা:
সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে উল্লেখিত 'নির্বাহী বিভাগ হতে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ' সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিটি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশনা দিয়েছে Secretary, Ministry of Finance vs Md Masdar Hossain and others মামলায় যা বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ মামলা বা মাসদার হোসেন মামলা নামে পরিচিত। এই রিট দায়ের করে ২২৩ জন যারা ছিল জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা জজ বা অধস্তন বিচারক বা নিম্ন আদালতের অন্যান্য বিচারক। ১৯৯৫ সালে হাইকোর্টে রীটটি দায়ের করা হয় এবং ১৯৯৭ সালের ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগ বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণা করে। সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করলে, আপীল বিভাগ ১৯৯৯ সালের ২রা ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করে।

এই রায়ের প্রধান অংশ তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামাল/ কর্তৃক লিখিত এবং পঠিত হয়েছিল। এবং এই কারণে তাকে এই মামলার Author Judge বলা হয়। ২০০৭ সালের ১লা নভেম্বর ফৌজদারী কার্যবিধি সংশোধন করে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদ সৃষ্টি করে এবং এর মাধ্যমে অধস্তন বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ হতে পৃথক হয়।
৩,০৬১.
নিম্নের কোন অপরাধের শাস্তি শুধু অর্থদণ্ড?
  1. আপ্যায়নের মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণ
  2. অনিষ্ট
  3. অনধিকার গৃহে প্রবেশ
  4. অশ্লীল পুস্তুক বিক্রয়
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ধারা-১৭১(ঙ) বিধান মতে নির্বাচনে ঘুষখোরীর শাস্তি (Punishment of bribery in election)- অনধিক ১ বছর কারাদন্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়।

♦ তবে আপ্যায়ন কর্তৃক ঘুষখোরীর অপরাধ হলে কেবল অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হবে ।

♦ “আপ্যায়ন” বলতে খাদ্য, পানীয়, প্রমোদ বা রসদ আকারে পারিতোষিক কর্তৃক ঘুষখোরী বুঝায় ।
৩,০৬২.
কোন ভাষায় অভিযােগ(Charge) লিখতে হয়?
  1. ইংরেজি
  2. বাংলা
  3. আদালতের ভাষায়
  4. ক বা গ
ব্যাখ্যা
• অভিযােগ (Charge) ইংরেজি বা আদালতের ভাষায় লিখতে হয়।

• ফৌজদারি বিচার কার্যক্রমে চার্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর যা অনুসন্ধান (inquiry) এবং বিচার (trial) কে পৃথক করে।একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি কি ধরণের অপরাধ করেছে এবং কার বিরুদ্ধে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে তা চার্জ হতেই জানা যায়। 

• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২১-২৪০ পর্যন্ত চার্জের গঠন এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিধান রয়েছেচার্জের বিষয়বস্তু ধারা ২২১ এ উল্লেখ করা আছে।একটি চার্জে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো থাকবে-

> অপরাধের নাম
> অপরাধের নির্দিষ্ট নাম না থাকলে,উক্ত অপরাধের সংজ্ঞা সুস্পষ্টভাবে প্রদান করতে হবে
> উক্ত অপরাধ যে আইনে এবং যে ধারার আওতায় পড়ে তা উল্লেখ করতে হবে
> অভিযােগ গঠন হলে ধরে নেয়া হবে অপরাধটি সংঘটিত করার সকল উপাদান বিদ্যমান বা শর্ত পূরণ হয়েছে
> অভিযােগ ইংরেজি বা আদালতের ভাষায় লিখতে হয় 
>পরবর্তী অপরাধের শাস্তি বৃদ্ধি বা ভিন্নধরনের শাস্তি প্রদানের দরকার হলে,অভিযােগে বা চার্জে পূর্ববর্তী দন্ডের ঘটনা,তারিখ ও স্থান উল্লেখ করতে হবে 
> চার্জে আদালত শাস্তিদানের পূর্বে যে কোন সময় পূর্ববর্তী দন্ডের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার আদেশ দিতে পারেন।
৩,০৬৩.
বাংলাদেশে বলবৎ কোনো আইনের বিষয়ে ভুলের কারণে যে কোনো চুক্তি-
  1. বৈধ
  2. অবৈধ
  3. বাতিল
  4. বাতিলযোগ্য
ব্যাখ্যা
Contract Act, 1872- ধারা ২১: আইনের বিষয়ে ভ্রান্তির প্রভাব:
বাংলাদেশে বলবৎ কোনো আইনের বিষয়ে ভুলের কারণে কোনো চুক্তি বাতিলযোগ্য নয়; তবে বাংলাদেশের বাইরে বলবৎ আইনের বিষয়ে ভুল থাকলে, তা বাস্তব বিষয়ের ভুলের মতোই গণ্য হবে।”

উদাহরণ (Illustration):
A এবং B একটি চুক্তি করে এই ভুল বিশ্বাসে যে, একটি নির্দিষ্ট ঋণ ‘বাংলাদেশের দায় সীমাবদ্ধতা আইন (Law of Limitation)’ অনুসারে সময়োত্তীর্ণ হয়েছে। এই ভুলের ভিত্তিতে করা চুক্তিটি বাতিলযোগ্য নয়।
৩,০৬৪.
কোন কাজ দূর্ঘটনামূলক, না ইচ্ছাকৃত - এই প্রশ্নের নির্ধারণে ঘটনাবলী সাক্ষ্য আইনের কোন ধারামতে প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হয়?
  1. ১২ ধারা
  2. ১৩ ধারা
  3. ১৪ ধারা
  4. ১৫ ধারা
ব্যাখ্যা

কোনো কাজ দুর্ঘটনাবশত নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘটিত হয়েছে তা নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক ঘটনা (সাক্ষ্য আইন, ধারা ১৫):
যদি প্রশ্ন ওঠে যে কোনো কাজ দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে নাকি তা ইচ্ছাকৃতভাবে বা নির্দিষ্ট জ্ঞান ও উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছে, তাহলে সেই কাজটি একই ব্যক্তি দ্বারা পূর্বে বা পরে সংঘটিত অনুরূপ ঘটনাগুলোর অংশ হলে তা প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে।

উদাহরণ:
(ক) A তার বাড়িতে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়ে বিমার টাকা দাবি করেছে কিনা, তা প্রশ্নবিদ্ধ।
যদি দেখা যায় যে, A ধারাবাহিকভাবে একাধিক বাড়িতে বসবাস করেছে, প্রতিটি বাড়ি বিমাকৃত ছিল, প্রতিটি বাড়িতে আগুন লেগেছে এবং প্রত্যেকবার A বিমার টাকা পেয়েছে, তাহলে এসব ঘটনা প্রাসঙ্গিক, যা প্রমাণ করতে পারে যে আগুন লাগানো দুর্ঘটনাবশত ছিল না।

(খ) A, B-এর দেনাদারদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের কাজে নিযুক্ত ছিল এবং তার দায়িত্ব ছিল সংগ্রহ করা অর্থ হিসাব বইয়ে লিপিবদ্ধ করা।
একবার সে বইয়ে ভুল এন্ট্রি দেয়, যেখানে প্রকৃত অর্থের তুলনায় কম টাকা গ্রহণ দেখানো হয়।
প্রশ্ন হলো, এন্ট্রিটি ইচ্ছাকৃত নাকি ভুলবশত করা হয়েছে।
যদি দেখা যায়, A একই বইয়ে একাধিকবার ভুল এন্ট্রি দিয়েছে এবং প্রতিবারই এই ভুল তার নিজের পক্ষে গেছে, তাহলে এটি প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে।

(গ) A-কে জাল নোট সরবরাহ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রশ্ন হলো, সে ইচ্ছাকৃতভাবে নাকি ভুলবশত জাল নোট দিয়েছে?
যদি প্রমাণ হয় যে, B-কে জাল নোট দেওয়ার ঠিক আগে বা পরে সে C, D, এবং E-কেও জাল নোট সরবরাহ করেছে, তাহলে এটি প্রমাণ করতে পারে যে ঘটনাটি দুর্ঘটনাবশত ঘটেনি, বরং ইচ্ছাকৃত ছিল।

৩,০৬৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারাটি কত সাল থেকে কার্যকর হয়?
  1. ২০০৩
  2. ২০০৪
  3. ২০০৫
  4. ২০১০
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারা- অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য:
এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রিয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের নিবন্ধন আইনের অধীন নিবন্ধিত হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা তার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।

Section 21A- Unregistered contract for sale not specifically enforceable:
Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless–
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof; and
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারাটি ২০০৪ সালের সংশোধনী দ্বারা সংযুক্ত হয়েছে, যা ১লা জুলাই ২০০৫ থেকে কার্যকর রয়েছে। অর্থাৎ ১লা জুলাই, ২০০৫ সালের পূর্বে সম্পাদিত স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি অরেজিস্ট্রিকৃত বা অনিবন্ধিত হলেও সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যেত, কিন্তু ১লা জুলাই ২০০৫ সালের পর ২১ক ধারার শর্তাবলি পূরণ করতে হবে।
৩,০৬৬.
একজন পুলিশ অফিসার আইন অনুযায়ী তার ক্ষমতার অতিরিক্ত চলে গিয়ে একজন অপরাধীকে গুলি করে হত্যা করেন। তিনি সৎ বিশ্বাসে বিশ্বাস করেন যে তার এই কাজটি তার দায়িত্ব পালনের জন্য আইনসঙ্গত ও প্রয়োজনীয় ছিল। তার অপরাধ খুন নয় বলে গণ্য হবে দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার কোন ব্যতিক্রমের ভিত্তিতে?
  1. ব্যতিক্রম-১
  2. ব্যতিক্রম-২
  3. ব্যতিক্রম-৩
  4. ব্যতিক্রম-৪
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার ব্যতিক্রম-৩ (Exception 3) বিশেষভাবে জনসেবক (Public Servant) বা জনসেবককে সাহায্যকারী ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য, যিনি সৎ বিশ্বাসে (in good faith) আইন দ্বারা প্রদত্ত ক্ষমতার অতিরিক্ত চলে যান এবং এমন কাজ দ্বারা মৃত্যু ঘটান যা তিনি তার কর্তব্য পালনের জন্য আইনসঙ্গত ও প্রয়োজনীয় বলে বিশ্বাস করেন এবং যার মধ্যে মৃত ব্যক্তির প্রতি দুর্ভাবনা (ill-will) থাকে না।
অতএব, এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম-৩ প্রযোজ্য হবে এবং তা খুন (murder) নয়, বরং শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (culpable homicide) বলে গণ্য হবে।

অন্যান্য ব্যতিক্রমগুলো প্রযোজ্য নয়:
- ব্যতিক্রম-১: গুরুতর ও হঠাৎ উত্তেজনা (grave and sudden provocation) সম্পর্কিত।
- ব্যতিক্রম-২: ব্যক্তিগত প্রতিকার (private defence) এর অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে।
- ব্যতিক্রম-৪: হঠাৎ ঝগড়া বা লড়াই (sudden fight) এর ক্ষেত্রে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান খুন:- খুনের সবক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্দেশ করা হয়েছে। সে সকল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের জন্যই করা হয়ে থাকে, অথবা
দ্বিতীয়ত, যদি কার্যটি কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে দৈহিক আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, যে আঘাতের ফলে যে ব্যক্তিকে আঘাত দেওয়া হল, সে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে, অথবা
তৃতীয়ত, যদি কোন ব্যক্তিকে দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কার্যটি করা হয় এবং যদি যে দৈহিক আঘাত দেওয়ার অভিসন্ধি করা হয়েছে, সে আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়, অথবা
চতুর্থত, যদি যে ব্যক্তি কার্যটি অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তি জানে যে, কার্যটি এমন আশু বিপজ্জনক যে, ইহার দরুণ খুব সম্ভব মৃত্যু ঘটবে, অথবা ইহার দরুণ অবশ্যই এমন দৈহিক আঘাত ঘটবে, যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাবার বা অনুরূপ দৈহিক আঘাত ঘটাবার ঝুঁকি গ্রহণের অপর কোন অজুহাত ব্যতিরেকে অনুরূপ কার্য করে।
ব্যতিক্রম ১:- যেক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে নাঃ- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনার ফলে অপরাধী আত্ম-সংযমশক্তি হারাইয়া ফেলে এবং যে ব্যক্তি প্ররোচনা দান করেছে, সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় অথবা ভুলক্রমে বা দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।
উপরোক্ত ব্যতিক্রমটি নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে:-
প্রথমত, প্ররোচনাটি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করার বা তার ক্ষতি সাধনের অজুহাতস্বরূপ অপরাধী কর্তৃক স্বয়ং প্রার্থীত বা প্ররোচিত হতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, উক্ত প্ররোচনাটি আইনানুসারে কৃত কোন কার্য দ্বারা বা কোন সরকারী কর্মচারীর সরকারী কর্মচারী হিসেবে যথাযোগ্য ক্ষমতাবলীর আইনসম্মত প্রয়োগসঞ্জাত হতে পারবে না।
তৃতীয়ত, প্ররোচনা আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের আইনসম্মত প্রয়োগক্রমে সম্পাদিত কোন কার্য পালন হতে পারবে না।
ব্যাখ্যা:- প্ররোচনাটি এমন মারাত্মক ও আকস্মিক ছিল কিনা, যার ফলে অপরাধটি খুনের শামিল হবে না, তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন।
ব্যতিক্রম ২:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধী সরল মনে তার আত্মরক্ষার অথবা সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগক্রমে তাকে আইন প্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং যার বিরুদ্ধে সে এই অধিকার প্রয়োগ করে, কোনরূপ পূর্ব-পরিকল্পনা ব্যতীত অথবা অনুরূপ অধিকার রক্ষার জন্য যতটুকু ক্ষতিসাধন করা আবশ্যক, তদপেক্ষা বেশি ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা ব্যতিরেকে, তার মৃত্যু ঘটায়।
⇒ ব্যতিক্রম ৩:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি দোষী একজন সরকারী কর্মচারী হিসেবে অথবা সরকারী কর্মচারীর সহায়তাকারী হিসেবে তাকে প্রদত্ত আইনানুগ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং এমন একটি কাজ সম্পাদন করে মত্যু ঘটায়, যা সে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য আবশ্যকীয় ও আইনসম্মত বলে সরল মনে বিশ্বাস করে এবং সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে তার প্রতি কোনরূপ দুরভিসন্ধি ছাড়াই কার্যটি করে।
ব্যতিক্রম ৪ :- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধটি কোন আকস্মিক বিবাদের সময় আকস্মিক উত্তেজনার কারণে কোনরূপ পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই সংঘটিত হয় এবং অপরাধী কোন অন্যায় সুযোগ গ্রহণ না করে থাকে অথবা নিষ্ঠুরভাবে বা অস্বাভাবিকভাবে কার্য না করে থাকে।
ব্যাখ্যা:- এইরূপ ক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রথম উস্কানি দেয় বা প্রথম আঘাত করে, তা আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়।
ব্যতিক্রম ৫:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি সে ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে ব্যক্তি আঠারো বৎসরের উর্ধ্ব বয়স্ক হলে স্বেচ্ছায় স্বীয় সম্মতিক্রমে মৃত্যুবরণ করে বা মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করে।

৩,০৬৭.
বোবা সাক্ষী (Dumb Witness) লিখে বা ইশারায় যে সাক্ষ্য দিয়ে থাকে তা কি সাক্ষ্য নামে পরিচিত?
  1. বোবা সাক্ষ্য
  2. মৌখিক সাক্ষ্য
  3. দালিলিক সাক্ষ্য
  4. লিখিত সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১৯ ধারার বিধান বোবা সাক্ষীঃ- কথা বলতে যে সাক্ষী অক্ষম, তিনি তার বক্তব্য অন্য কোনভাবে অর্থাৎ লিখিয়ে বা ইশারা করে বুঝাতে পারেন এবং সেভাবে সাক্ষ্য প্রদান করতে পারেন, তবে সে লেখা অথবা ইশারা প্রকাশ্য আদালতে লিখতে বা ইশারায় করতে হবে। এমনভাবে যে সাক্ষ্য দেয়া হবে তা মৌখিক সাক্ষ্য বলে বিবেচিত হবে।
----------------------
⇒ Dumb witnesses:
Section 119. A witness who is unable to speak may give his evidence in any other manner in which he can make it intelligible,  as by writing or by signs; but such writing must be written and the signs made in open Court. Evidence so given shall be deemed to be oral evidence.
৩,০৬৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির Order XVII, Rule 1(3) অনুযায়ী মামলা মুলতবি সর্বোচ্চ কতবার করা যাবে?
  1. ২ বার
  2. ৪ বার
  3. ৬ বার
  4. ৮ বার
ব্যাখ্যা
⇒ Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025 দ্বারা Order XVII, Rule 1(3) সংশোধন করা হয়েছে।
সংশোধনীর পূর্বে বিধানটি ছিল নিম্নরূপ:
-"The Court may grant not more than six adjournments to a party during the hearing of the suit."

সংশোধনীর পর নতুন বিধান:
- "The Court may grant not more than four adjournments to a party during the hearing of the suit."

সর্বোচ্চ সীমা:
এখন প্রতিটি পক্ষ (বাদী বা বিবাদী) শুনানির সময় সর্বোচ্চ ৪ বার মুলতবি পেতে পারে (পূর্বে ৬ বার ছিল)।
খরচ প্রযোজ্য:
প্রতিটি মুলতবির জন্য আদালত খরচ ধার্য করতে পারে (সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত)।
চূড়ান্ত শুনানিতে সীমাবদ্ধতা:
Peremptory Hearing (চূড়ান্ত শুনানি) পর্যায়ে কোন পক্ষ ৩ বার মুলতবি পেতে পারে, তবে তা খরচসহ (খরচবিহীন নয়)।

সুতরাং, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী সঠিক উত্তর খ) ৪ বার।
৩,০৬৯.
হত্যার দায়ে অভিযুক্ত 'ক' আত্মপক্ষ সমর্থনে বলে যে, মানসিক অপ্রকৃতিস্থতার কারণে সে তার কৃতকার্যের বিষয় জ্ঞাত ছিল না। সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুযায়ী 'ক'-এর উপর তা প্রমাণের দায়িত্ব ন্যস্ত?
  1. ১০৫ ধারা
  2. ১০৯ ধারা
  3. ১১১ ধারা
  4. ১১৬ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৫ ধারার বিধান: আসামীর মোকদ্দমা যে ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়ে তা প্রমানের দায়িত্ব:
কোন অপরাধে কোন ব্যক্তি অভিযুক্ত হলে মোকদ্দমাটি যাতে দণ্ডবিধিতে বর্ণিত কোন বিশেষ ব্যতিক্রম বা এর অন্য কোন অংশে বর্ণিত কোন শর্তের মধ্যে পড়তে পারে, এরূপ কোন পরিস্থিতির অস্তিত্ব প্রমাণ করার দায়িত্ব অভিযুক্ত ব্যক্তির অর্পিত থাকে এবং এ রূপ ক্ষেত্রে অবশ্যই আদালত অনুরূপ পরিস্থিতি অনুপস্থিত বলে ধরে নিবেন।

উদাহরণ:
(ক) হত্যার দায়ে অভিযুক্ত 'ক' নালিশ করে যে; মানসিক অপ্রকৃতিস্থতার কারণে সে তার কৃতকার্যের বিষয় জ্ঞাত ছিল না 'ক'-এর উপর এটা প্রমাণের দায়িত্ব ন্যস্ত।

(খ) হত্যার দায়ে অভিযুক্ত 'ক' নালিশ করে যে, আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সে গুরুতর ও আকস্মিক উস্কানির কারণে হারিয়ে ফেলেছিল। 'ক'-এর উপর এটা প্রমাণের দায়িত্ব ন্যস্ত। বিশেষভাবে যে ঘটনা কারও অবগতির মধ্যে রয়েছে।
৩,০৭০.
দণ্ডবিধির ৩৩৬ ধারার অধীনে অন্যদের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে বিপন্নকারী কার্য সম্পন্নকারীকে সর্বোচ্চ কত টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেওয়া যেতে পারে?
  1. ১০০ টাকা
  2. ২৫০ টাকা
  3. ৫০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৩৬ ধারা- অন্যদের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে বিপন্নকারী কার্য:
যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ করে যা অতিরিক্ত বেপরোয়া বা অবহেলামূলকভাবে করা হয় এবং এতে মানবজীবন বা অন্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন হয়, তাকে তিন মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ দুইশত পঞ্চাশ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

Section 336- Act endangering life or personal safety to others:
Whoever does any act so rashly or negligently as to endanger human life or the personal safety of others, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three months, or with fine which may extend to two hundred and fifty taka, or with both.
৩,০৭১.
সংঘবদ্ধ মানব পাচার অপরাধে অন্যূন কত টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে?
  1. ৫০ হাজার টাকা
  2. ১ লক্ষ টাকা
  3. ২ লক্ষ টাকা
  4. ৫ লক্ষ টাকা
ব্যাখ্যা
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ধারা ৭- সংঘবদ্ধ মানব পাচার অপরাধের দণ্ড:
কোন সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর একাধিক সদস্য গোষ্ঠীর সকল সদস্যের সাধারণ অভিপ্রায় সাধনের উদ্দেশ্যে কোন আর্থিক বা অন্য কোনো বস্ত্তগত বা অবস্ত্তগত মুনাফা অর্জনের নিমিত্ত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটন করিলে উক্ত গোষ্ঠীর প্রত্যেক সদস্য উক্ত অপরাধ সংঘটনের দায়ে অভিযুক্ত হইবে এবং অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা অন্যূন ৭(সাত) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৩,০৭২.
দণ্ডবিধির ধারা ২৫৮ অনুযায়ী, যে ব্যক্তি সরকারী রাজস্বের জন্য ইস্যু করা স্ট্যাম্পের জাল স্ট্যাম্প বিক্রি করে, তাকে কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হতে পারে?
  1. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

→ দণ্ডবিধির ধারা ২৫৮ অনুযায়ী, যে ব্যক্তি সরকারী রাজস্বের জন্য ইস্যু করা স্ট্যাম্পের জাল স্ট্যাম্প বিক্রি করে বা বিক্রির জন্য প্রস্তাব করে, তাকে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ২৫৮: জাল সরকারী স্ট্যাম্প বিক্রি:
যে ব্যক্তি সরকারী রাজস্বের জন্য ইস্যু করা যেকোনো স্ট্যাম্পের জাল স্ট্যাম্প বিক্রি করে বা বিক্রির জন্য প্রস্তাব করে, এবং জানে বা বিশ্বাস করে যে এটি একটি জাল স্ট্যাম্প, তাকে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা দেওয়া হতে পারে।
----------- 
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 258. Sale of counterfeit Government stamp:
 Whoever sells, or offers for sale, any stamp which he knows or has reason to believe to be a counterfeit of any stamp issued by Government for the purpose of revenue, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.

৩,০৭৩.
সুবর্ণগ্রামের মৌজার সর্বনিম্ন মৌজা রেট প্রতি শতকে ৫০,০০০ টাকা। ক ঐ গ্রামের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। ক তাঁর গরিব ও বিধবা প্রতিবেশী খ হতে ৩ শতক জমি প্রতি শতক ৩০,০০০ টাকা দামে খরিদ করার জন্য বায়নানামা দলিল সম্পাদন করেন। কিন্তু খ বিক্রয় দলিল সম্পাদন করে না দেওয়ায় ক চুক্তি প্রবলের মামলা দায়ের করে।
  1. আদালত চুক্তি প্রবলের ডিক্রি দেওয়ার পক্ষে সুবিবেচনা প্রয়োগ করবেন
  2. আদালত চুক্তি প্রবলের ডিক্রি না দেওয়ার জন্য সুবিবেচনা প্রয়োগ করবেন
  3. আদালত অবশ্যই চুক্তি প্রবলের ডিক্রি দিবেন
  4. আদালত মামলা খারিজ করবেন।
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২২ ধারার বিধান সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনে ডিক্রি প্রদানঃ প্রসঙ্গে বিবেচনামূলক ক্ষমতাঃ সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পদানের ব্যাপারে ডিক্রি পদানের এখতিয়ার হচ্ছে ইচ্ছাধীন এবং শুধুমাত্র তা করা আইনসম্মত, এ কারণেই আদালত তেমন প্রতিকার মঞ্জর করতে বাধ্য নয়। কিন্তু আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা স্বেচ্ছাচারিতা নয়, বরং তা হচ্ছে নিখুত ও যুক্তিসঙ্গত, বিচার বিভাগীয় মূলনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং আপীল আদালতের মাধ্যমে সংশোধনযোগ্য ৷
নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে আদালত সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের জন্য ডিক্রি প্রদান না করার ব্যাপারে যথাযথভাবে ইচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেনঃ-
(১) যেখানে এমন পরিস্থিতিতে চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে যে, তা বাদীকে প্রতিবাদীর উপর একটি অন্যায় সুবিধা প্রদান করেছে, যদিও সেখানে বাদীর পক্ষ হতে কোন জালিয়াতি বা ভুল বিবরণ নাও থাকতে পারে।
 (২) যেখানে চুক্তির কার্য সম্পাদন প্রতিবাদীকে অত্যন্ত ক্লেশে জড়িয়ে ফেলবে, যা সে পূর্ণ হতে বুঝতে পারেনি, অপরদিকে, উহার কার্য সম্পাদন না করলে বাদীকে তা তেমন কোন ক্লেশে বিজড়িত করবে না।
 নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য ডিক্রি প্রদানের ব্যাপারে যথাযথভাবে তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।
(৩) যেখানে বাদী সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনযোগ্য চুক্তির উল্লেখযোগ্য কাজ সম্পন্ন করেছে অথবা চুক্তির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
♦ অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২২ ধারায় ২ টি ক্ষেত্রে চুক্তি প্রবলের ডিক্রি না দেওয়ার এবং ১ টি ক্ষেত্রে ডিক্রি দেওয়ার পক্ষে সুবিবেচনা বা discretion প্রয়োগ করার ব্যাপারে বিধান দেওয়া হয়েছে। প্রথম ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে চুক্তিতে বেআইনি কিছু না থাকলেও যদি দেখা যায় যে বাদী বিবাদীর উপর অনুচিত সুবিধা (unfair advantage) নিয়েছে সেই ক্ষেত্রে আদালত চুক্তি প্রবলের ডিক্রি না দেওয়ার পক্ষে বিষয়টি বিবেচনা করবেন। এখানে বাদী প্রভাবশালী প্রতিবেশী ও বিবাদী গরিব বিধবা হওয়ায় অনুচিত সুবিধা নেওয়ার উপাদান পাওয়া যায়। তাই খ সঠিক উত্তর হবে।
৩,০৭৪.
অভিযােগকারী মিথ্যা অভিযােগ করলে এবং আদালত কর্তৃক ক্ষতিপূরণের আদেশ প্রাপ্ত হলে, উক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে-
  1. আদালতকে
  2. অভিযুক্তকে
  3. ক বা খ
  4. ক এবং খ উভয়কে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৫০ অনুসারে,

⇒ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনিত অভিযােগ মিথ্যা এবং তুচ্ছ বা বিরক্তিকর হলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে অব্যাহতি প্রদান করবেন এবং সংবাদ দাতা বা অভিযােগকারিকে কারণ দর্শাতে বলবেন যে,কেন তার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরনের আদেশ দেয়া হবে না।

ফরিয়াদি/সংবাদ দাতা/অভিযােগকারীর কারণ দর্শানোর পর ম্যাজিস্ট্রেট যদি সন্তুষ্ট হন অভিযােগটি মিথ্য,তুচ্ছ বা বিরক্তিকর তাহলে ফরিয়াদিকে অনধিক ১০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বাবদ অভিযুক্তকে প্রদান করার আদেশ দিতে পারেন। এমনকি ক্ষতিপূরণ আদেশ ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দিতে পারেন যে,ক্ষতিপূরণ প্রদানকারী ব্যক্তি অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ডে বা অনধিক ৩০০০ টাকা অর্থদন্ডে দণ্ডিত হবে। তবে তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট এই ক্ষেত্রে অনধিক ৫০০ টাকা ক্ষতিপূরনের আদেশ দিতে পারেন।

⇒ ফরিয়াদি সংবাদদাতা ক্ষতিপূরণ প্রদানে ব্যর্থ হলে ৩০ দিন পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

⇒ দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষতিপূরনের আদেশের বিরুদ্ধে বা অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেট ১০০ টাকার বেশি ক্ষতিপূরনের আদেশের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরন সম্পর্কে আপিল দায়ের করা যাবে।
৩,০৭৫.
যদি হাইকোর্ট বিভাগ দেখে যে একজন দণ্ডিত ব্যক্তিকে আপিল বিভাগে আপিল করার অনুমতি (special leave to appeal) দেওয়া হয়েছে, তবে হাইকোর্ট কী করতে পারে?
  1. আপিল খারিজ করতে পারে
  2. দণ্ড বৃদ্ধি করতে পারে
  3. জামিন বাতিল করতে পারে
  4. দণ্ড স্থগিত করে জামিন দিতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮-এর ধারা ৪২৬(২খ) অনুযায়ী, যদি হাইকোর্ট বিভাগ দেখে যে একজন দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল বিভাগে special leave to appeal পেয়েছেন, তাহলে হাইকোর্ট চাইলে তার দণ্ড স্থগিত করতে পারে এবং সে কারাবন্দি থাকলে জামিনে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দিতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮ এর ধারা ৪২৬: আপিল চলাকালীন দণ্ড স্থগিতকরণ এবং আপিলকারীকে জামিনে মুক্তি:
(১) যখন কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করে এবং সেই আপিল বিচারাধীন থাকে, তখন আপিল আদালত, লিখিতভাবে কারণ উল্লেখ করে, যে দণ্ড বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে তা কার্যকর করা স্থগিত রাখতে পারে এবং যদি সেই ব্যক্তি বন্দী থাকে, তবে তাকে জামিনে বা স্ব-জামিনে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দিতে পারে।
(২) আপিল আদালতের উপর যে ক্ষমতা এই ধারায় আরোপ করা হয়েছে, তা হাইকোর্ট বিভাগও প্রয়োগ করতে পারে, যদি আপিল তার অধীনস্থ কোনো আদালতে দণ্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক করা হয়ে থাকে।
(২ক) যদি কোনো ব্যক্তি ১ (এক) বছরের বেশি নয় এমন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং সেই দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের অধিকার থাকে, এবং যদি দণ্ডিত ব্যক্তি আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারেন যে তিনি আপিল দায়ের করতে চান, তাহলে আদালত আদেশ দিতে পারে যে তাকে এমন একটি সময়ের জন্য জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে যা আপিল দায়ের ও আপিল আদালতের আদেশ প্রাপ্তির জন্য যথেষ্ট মনে করে, এবং যতদিন তিনি জামিনে মুক্ত থাকবেন, ততদিন তার দণ্ড স্থগিত থাকবে বলে গণ্য হবে।
(২খ) যদি হাইকোর্ট বিভাগ সন্তুষ্ট হয় যে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রতি বিশেষ অনুমতি (special leave to appeal) পেয়েছেন, সেই দণ্ড বা আদেশের বিরুদ্ধে যা হাইকোর্ট বিভাগ প্রদান বা বহাল রেখেছে, তবে হাইকোর্ট বিভাগ চাইলে আদেশ দিতে পারে যে, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দণ্ড বা আদেশ স্থগিত থাকবে, এবং যদি ঐ ব্যক্তি কারাবন্দী থাকেন, তাহলে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যাবে।
(৩) যদি আপিলকারী শেষ পর্যন্ত কারাদণ্ড বা পরিবহণে (transportation) দণ্ডিত হন, তাহলে তিনি যে সময় জামিনে মুক্ত ছিলেন, তা সেই দণ্ডের মেয়াদ গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না, অর্থাৎ সে সময় বাদ যাবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 426: Suspension of sentence pending appeal Release of appellant on bail:
(1) Pending any appeal by a convicted person, the Appellate Court may, for reasons to be recorded by it in writing, order that the execution of the sentence or order appealed against be suspended and, also, if he is in confinement, that he be released on bail or on his own bond.
(2) The power conferred by this section on an Appellate Court may be exercised also by the High Court Division in the case of any appeal by a convicted person to a Court subordinate thereto.
(2A) When any person is sentenced to imprisonment for a term not exceeding one year by a Court, and an appeal lies from that sentence, the Court may, if the convicted person satisfies the Court that he intends to present an appeal, order that he be released on bail for a period sufficient in the opinion of the Court to enable him to present the appeal and obtain the orders of the Appellate Court under sub-section (1) and the sentence of imprisonment shall, so long as he is so released on bail, be deemed to be suspended.
(2B) Where High Court Division is satisfied that a convicted person has been granted special leave to appeal to the 2[Appellate Division of the Supreme Court] against any sentence which it has imposed or maintained, it may if it so thinks fit order that pending the appeal the sentence or order appealed against be suspended, and also, if the said person is in confinement, that he be released on bail.
(3) When the appellant is ultimately sentenced to imprisonment, or transportation, the time during which he is so released shall be excluded in computing the term for which he is so sentenced.
৩,০৭৬.
দণ্ডবিধির ৫২ ধারায় সদবিশ্বাসের সংজ্ঞায় কোন বিষয়টি অপরিহার্য বলে উল্লেখ আছে?
  1. সৎ উদ্দেশ্য
  2. আইনজ্ঞের পরামর্শ
  3. ক্ষতি না করার অভিপ্রায়
  4. যথাযথ সতর্কতা ও মনোযোগ
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৫২-এ "সদবিশ্বাস" (Good Faith) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এভাবে:
"কোনো কিছু 'সদবিশ্বাসে' করা হয়েছে বা বিশ্বাস করা হয়েছে বলে গণ্য হবে না, যদি তা যথাযথ সতর্কতা ও মনোযোগ (due care and attention) ব্যতিরেকে সম্পাদিত বা বিশ্বাস করা হয়।"
- এখানে অপরিহার্য মানদণ্ড হলো যথাযথ সতর্কতা ও মনোযোগ। অর্থাৎ, কেবলমাত্র ব্যক্তির সৎ উদ্দেশ্য বা ক্ষতি না করার ইচ্ছা যথেষ্ট নয়; তাকে অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত সতর্কতা ও মনোযোগ সহকারে কাজ করতে হবে। এটি একটি বস্তুনিষ্ঠ (Objective) পরীক্ষা, যা ব্যক্তির আন্তরিকতা নয় বরং তার যুক্তিসঙ্গত আচরণের মানদণ্ডে যাচাই করে।

⇒ দণ্ডবিধির ৫২ ধারায় সদবিশ্বাসের সংজ্ঞা রয়েছে।
- যথাযথ সতর্কতা ও মনোযোগ ব্যতিরেকে সম্পাদিত বা বিশ্বাসকৃত কোন কিছুই 'সদবিশ্বাসে' করা হয়েছে বা বিশ্বাস করা হয়েছে বলে গণ্য হবে না।
- এছাড়া তামাদি আইনের ২(৭) ধারায় সদ্ধিশ্বাস বা Good faith এর বিধান রয়েছে।
---------
⇒ The Penal Code,1860- Section 52:
- “Good faith”: Nothing is said to be done or believed in "good faith" which is done or believed without due care and attention.

৩,০৭৭.
নিচের কোন মামলার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের 'বৈধ অপারগতা' সংক্রান্ত বিধান প্রযোজ্য নয়?
  1. অগ্রক্রয়
  2. স্বত্ব ঘোষণা
  3. বাটোয়ারা
  4. দখল পুনরুদ্ধার
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ৬-৭ ধারায় মামলা করার অধিকার সৃষ্টির সময় বাদী legal disability তে আক্রান্ত থাকলে তখন তামাদির মেয়াদ গণনা বন্ধ রাখার বিধান আছে। কিন্তু তামাদি আইনে ৮ ধারায় বলা আছে এই বিধান অগ্রক্রয়ের আবেদন বা মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

⇒ তামাদি আইনের ৮ ধারার বিধান: বিশেষ ব্যতিক্রম: ৬ অথবা ৭ ধারার কোন কিছুই অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবতের মামলায় প্রযোজ্য নহে। যেই মেয়াদের মধ্যে মামলা অবশ্যই দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করিতে হইবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপারগতার অবসানে বা মৃত্যুর পর তাহা উক্ত ধারাদ্বয়ের কোন কিছুই তিন বৎসরের অধিক বর্ধিত করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।
উদাহরণ:
(ক) ক নাবালক থাকাকালে মিরাস আদায়ের জন্য মামলা করিবার অধিকার লাভ করে। ইহার ১১ বৎসর পর সে সাবালক হয়। সাধারণ আইন অনুসারে ক মামলা দায়ের করিবার জন্য মাত্র অবশিষ্ট এক বৎসর সময় পায়। কিন্তু ৬ ধারা ও অত্র ধারা অনুসারে সে আরও দুই বৎসর অতিরিক্ত সময় পাইবে। অর্থাৎ সাবালক হইবার পর তিন বৎসরের মধ্যে সে মামলা দায়ের করিতে পারিবে।
--------------------
⇒ The Limitation Act:- Section 8: Special exceptions:
- Nothing in section 6 or in section 7 applies to suits to enforce rights of pre-emption or shall be deemed to extend, for more than three years from the cessation of the disability or the death of the person affected thereby, the period within which any suit must be instituted or application made.
৩,০৭৮.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় Estoppel সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ধারা ২৭
  2. ধারা ৫৪
  3. ধারা ৯০
  4. ধারা ১১৫
ব্যাখ্যা

⇒ Estoppel সম্পর্কিত আলোচনা সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১৫-এ করা হয়েছে।

⇒ আইনের ১১৫ ধারায় বলা হয়েছে:
"যখন কোন ব্যক্তি তার ঘোষণা, কাজ বা কার্যবিরতির মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যকে কোনো বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করান এবং সেই বিশ্বাসে সেই ব্যক্তি কিছু কাজ করেন, তখন প্রথম ব্যক্তি (বা তার প্রতিনিধি) সেই বিষয়ের সত্যতা অস্বীকার করতে পারবেন না।"
- এটা মূলত ন্যায়ের নীতি। কোনো ব্যক্তি যদি অন্যকে কোনো ভুল তথ্য দিয়ে প্রভাবিত করেন এবং সেই ভিত্তিতে অন্য ব্যক্তি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তবে পরবর্তীতে সেই প্রথম ব্যক্তি সেই তথ্য অস্বীকার করতে পারবেন না।

উদাহরণ:
ব্যক্তি A ইচ্ছাকৃতভাবে B-কে বিশ্বাস করান যে একটি জমি A-র, এবং B সেই জমি কিনে নেন। পরে যদি A বলেন যে তখন জমি তাঁর ছিল না, তবে তিনি সেটা অস্বীকার করতে পারবেন না।

⇒The Evidence Act, 1872, Section- 115. Estoppel:
When one person has, by his declaration, act or omission, intentionally caused or permitted another person to believe a thing to be true and to act upon such belief, neither he nor his representative shall be allowed, in any suit or proceeding between himself and such person or his representative, to deny the truth of that thing.

Illustration 
A intentionally and falsely leads B to believe that certain land belongs to A, and thereby induces B to buy and pay for it.
The land afterwards becomes the property of A, and A seeks to set aside the sale on the ground that, at the time of the sale, he had no title. He must not be allowed to prove his want of title.

৩,০৭৯.
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন অনুযায়ী কোন ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায় না?
  1. ব্যবহারী স্বত্ব
  2. মামলা করার অধিকার
  3. সম্পত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
• ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী নিম্নের সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায় না :

(ক) উত্তরাধিকার বা অসিয়ত অনুসারে সম্পত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা হস্তান্তর করা যায় না,
(খ) শর্ত লংঘন হলে উক্ত সম্পত্তি প্রকৃত মালিক ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করা যায় না,
(গ) ব্যবহারী স্বত্ব হস্তান্তর করা যায় না,
(ঘ) ভােগ-দখলের অধিকার হস্তান্তর করা যায় না,
(ঙ) ভবিষ্যত ভরণ-পােষণ হস্তান্তর করা যায় না,
(চ) মামলা করার অধিকার হস্তান্তর করা যায় না,
(ছ) সরকারী পদ-পদবী বা বেতন হস্তান্তর করা যায় না,
(জ) বৃত্তি ও পেনশন হস্তান্তর করা যায় না,
(ঝ) প্রকৃতিবিরােধী স্বত্ব বা বেআইনী উদ্দেশ্যে প্রদত্ত স্বত্ব বা আইনত গ্রাহক হতে অক্ষম ব্যক্তিকে কোন কিছু হস্তান্তর করা যায় না,
(ঞ) ভূসম্পত্তির ইজারাদার তাদের স্বার্থ হস্তান্তর করতে পারে না।

Section 6: What may be transferred
Property of any kind may be transferred, except as otherwise provided by this Act or by any other law for the time being in force. 
 
(a) The chance of an heir-apparent succeeding to an estate, the chance of a relation obtaining a legacy on the death of a kinsman, or any other mere possibility of a like nature, cannot be transferred. 
(b) A mere right of re-entry for breach of a condition subsequent cannot be transferred to any one except the owner of the property affected thereby. 
(c) An easement cannot be transferred apart from the dominant heritage. 
(d) An interest in property restricted in its enjoyment to the owner personally cannot be transferred by him. 
(dd) A right to future maintenance, in whatsoever manner arising, secured or determined, cannot be transferred. 
(e) A mere right to sue cannot be transferred. 
(f) A public office cannot be transferred, nor can the salary of a public officer, whether before or after it has become payable. 
(g) Stipends allowed to military, naval, air-force and civil pensioners of the Government and political pensions cannot be transferred. 
 
(h) No transfer can be made (1) in so far as it is opposed to the nature of the interest affected thereby, or (2) for an unlawful object or consideration within the meaning of section 23 of the Contract Act, 1872, or (3) to a person legally disqualified to be transferee. 
 
(i) Nothing in this section shall be deemed to authorise a tenant having an untrasnferable right of occupancy, the farmer of an estate in respect of which default has been made in paying revenue or the lessee of an estate under the management of a Court of Wards, to assign his interest as such tenant, farmer or lessee.
৩,০৮০.
'Contract for sale' এর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে-
  1. দায় সৃষ্টি হয়
  2. স্বত্ব সৃষ্টি হয়
  3. ক ও খ উভয় সৃষ্টি হয়
  4. ক ও খ কোনোটিই সৃষ্টি হয় না
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৪- বিক্রয়ের চুক্তি:
স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের চুক্তি বলতে এই মর্মে চুক্তি বুঝায় যে, ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে নির্ধারিত শর্তে সম্পত্তিটি বিক্রয় হবে। বিক্রয়ের চুক্তির ফলে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে কোন স্বত্ব বা দায় সৃষ্টি হয় না।
 
Contract for sale
A contract for the sale of immoveable property is a contract that a sale of such property shall take place on terms settled between the parities. It does not, of itself, create any interest in or charge on such property.
৩,০৮১.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, নিচের কোন ব্যক্তি উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে?
  1. বৈধ সন্তান
  2. জারজ সন্তান
  3. নাবালক সন্তান
  4. তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তান
ব্যাখ্যা

⇒ যারা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে:
(১) কোনো মুসলিম কোনো অমুসলিমের ওয়ারিশ হবে না এবং কোনো অমুসলিম কোনো মুসলিমের ওয়ারিশ হবে না।
(২) হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশ হবে না। (এ বিধির উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়, কেউ তাড়াতাড়ি উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য যেন কাউকে হত্যা করতে উদ্যত না হয় সেজন্যই এ বিধি প্রণীত হয়েছে।) 
(৩) জারজ সন্তান ওয়ারিশ হবে না।

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, জারজ সন্তান (অর্থাৎ, যিনি অবৈধ সম্পর্কের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছেন) উত্তরাধিকার লাভের অধিকারী হবেন না। মুসলিম আইন অনুসারে, জারজ সন্তান তার বাবা-মায়ের সম্পত্তি থেকে উত্তরাধিকার লাভ করতে পারে না, কারণ তাকে অবৈধ সন্তান হিসেবে গণ্য করা হয়।
এদিকে, বৈধ সন্তান (যে সন্তান বৈধ বিবাহের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছে) অবশ্যই উত্তরাধিকারী হবে। নাবালক সন্তান (অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান) ও উত্তরাধিকার লাভের অধিকারী হয়, তবে তার জন্য সম্পত্তির তত্ত্বাবধান তার অভিভাবক করবে। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তানও উত্তরাধিকার পাবে, কারণ সে বৈধ সম্পর্কের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছে এবং তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তান হিসাবে তার অধিকার থাকে।
সুতরাং, জারজ সন্তান উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

৩,০৮২.
চুক্তি আইনের ২০১ ধারার বিধান কী?
  1. Termination of agency
  2. Termination of sub-agent's authority
  3. Notice of revocation or renunciation
  4. When agent cannot delegate
ব্যাখ্যা
⇒ চুক্তি আইনের ২০১ ধারার বিধান প্রতিনিধিত্বের পরিসমাপ্তি (Termination of agency):
প্রতিনিধিত্বের পরিসমাপ্তি ঘটতে পারে-
- প্রিন্সিপাল তার ক্ষমতা প্রত্যাহার করলে; অথবা
- এজেন্ট তার এজেন্সির কাজ পরিহার করলে; অথবা
- এজেন্সির কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে; অথবা
- প্রিন্সিপাল বা এজেন্টের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে বা অপ্রকৃতিস্থ হলে; অথবা 
- দেনাদারদের প্রতিকারের জন্য প্রিন্সিপাল দেউলিয়া হলে।
-------------
⇒ Section 201. Termination of agency:
 An agency is terminated by the principal revoking his authority; or by the agent renouncing the business of the agency; or by the business of the agency being completed; or by either the principal or agent dying or becoming of unsound mind; or by the principal being adjudicated an insolvent under the provisions of any Act for the time being in force for the relief of insolvent debtors.
৩,০৮৩.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর Order V এর কোন rule এ 'substitute of service' এর বিধান রয়েছে?
  1. ২২
  2. ২০
  3. ১৯
  4. ২১
ব্যাখ্যা
• আরজির মাধ্যমে দাখিলকৃত দেওয়ানী মামলায় বিবাদী পক্ষকে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত যে পত্র বা নোটিশের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়, তাকে সমন বলে। ক্ষেত্র বিশেষে সাক্ষীর প্রতিও সমন জারি করা যায়।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৫ নং আদেশে, ২১ নং আদেশের ২৪ ও ২৫ নম্বর বিধিতে এবং ১৬ নং আদেশের ৮ নম্বর বিধিতে সমন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। 
দেওয়ানী কার্যবিধির ৫ নং আদেশের ২০ বিধিতে বিকল্প বা প্রতিকল্পনরূপে সমন জারির (Substituted Service of Summon) বিধান রয়েছে। ২০ নং বিধি অনুযায়ী-
যেক্ষেত্রে বিবাদী সমন এড়ানোর জন্য আত্মগোপন করেছে অথবা অন্য কোন কারণে সাধারনভাবে সমন জারি করা যায়না, সেক্ষেত্রে বিবাদীর গৃহের বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য অংশে সমনের একটি নকল ঝুলিয়ে জারি করার জন্য আদালত আদেশ দিবেন অথবা বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার আদেশ দিবে যা প্রতিকল্পনরূপে সমন জারি Substituted Service নামে পরিচিত। এই পদ্ধতি ব্যক্তিগতভাবে সমন জারির মতই কার্যকর হবে।

Order 5 Rule 20: Substituted service
(1) Where the Court is satisfied that there is reason to believe that the defendant is keeping out of the way for the purpose of avoiding service, or that for any other reason the summons cannot be served in the ordinary way, the Court shall order the summons to be served by affixing a copy thereof in some conspicuous place in the Court-house, and also upon some conspicuous part of the house (if any) in which the defendant is known to have last resided or carried on business or personally worked for gain, or in such other manner as the Court thinks fit.

(1A) Where the Court under sub-rule (1) pass an order to service the summons by an advertisement in a newspaper, the newspaper shall be a daily newspaper which has circulation in the locality in which the defendant is last known to have actually and voluntarily resided, carried on business or personally worked for gain.

Effect of substituted service-
(2) Service substituted by order of the Court shall be as effectual as if it had been made on the defendant personally.
Where service substituted, time for appearance to be fixed-
(3) Where service is substituted by order of the Court, the Court shall fix such time for the appearance of the defendant as the case may require.
৩,০৮৪.
রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কার পরামর্শে কাজ করবেন?
  1. মন্ত্রিসভার পরামর্শ
  2. প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ
  3. দেশের জনগণের পরামর্শ
  4. রাষ্ট্রপতি নিজের সিদ্ধান্তে
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করবেন।
→ সংবিধানের ৪৮(৩) ধারায় বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন, তবে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে কী পরামর্শ দিয়েছেন, সে বিষয়ে আদালত কোনো প্রশ্নের তদন্ত করতে পারবে না।
- অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতি তার কার্যভার পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শকে মান্য করবেন, তবে মন্ত্রিসভার পরামর্শের আওতায় তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না।
৩,০৮৫.
According to Article 116 of the Constitution of Bangladesh, How is the President supposed to exercise the power of control and discipline over the subordinate judiciary?
  1. Through Parliament
  2. Independently without consultation
  3. In consultation with the Supreme Court
  4. By the Prime Minister’s recommendation
ব্যাখ্যা

⇒ The Constitution of the People‌‌‍’s Republic of Bangladesh -Article 116. Control and discipline of subordinate courts:
The control (including the power of posting, promotion and grant of leave) and discipline of persons employed in the judicial service and magistrates exercising judicial functions shall vest in the President and shall be exercised by him in consultation with the Supreme Court.

 ⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বিধান: অধস্তন আদালতসমূহের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা:
বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচারবিভাগীয় দায়িত্বপালনে রত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল- নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরীসহ) ও শৃংখলাবিধান রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং সুপ্রীম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হইবে।

৩,০৮৬.
প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও শিশু একত্রে অপরাধ করলে, শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ১৫(২) অনুযায়ী-
  1. একসাথে অপরাধ আমলে গ্রহণ করা যাবে
  2.  কেবল শিশুর অপরাধ আমলে নেওয়া যাবে
  3. কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের অপরাধ আমলে নেওয়া যাবে
  4. প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুর অপরাধ পৃথকভাবে আমলে নিতে হবে
ব্যাখ্যা

• শিশু আইন, ২০১৩: ধারা ১৫- পুলিশ রিপোর্ট (investigation report) বা অনুসন্ধান প্রতিবেদন (inquiry report) বা তদন্ত প্রতিবেদন (enquiry report) পৃথকভাবে প্রস্তুত ও আমলে গ্রহণ:

(১) ফৌজদারি কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো অপরাধ সংঘটনে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও শিশু জড়িত থাকিলে, পুলিশ রিপোর্ট (জি.আর মামলার ক্ষেত্রে) বা ক্ষেত্রমত, অনুসন্ধান প্রতিবেদন (সি.আর মামলার ক্ষেত্রে) বা তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুর জন্য পৃথকভাবে প্রস্তুত করিয়া দাখিল করিতে হইবে। 

(২) ফৌজদারি কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও শিশু কর্তৃক একত্রে সংঘটিত কোনো অপরাধ আমলে গ্রহণের ক্ষেত্রে তাহাদের অপরাধ পৃথকভাবে আমলে গ্রহণ করিতে হইবে।

৩,০৮৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৫৪–এর আওতায় কোন অবস্থায় চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন হতে পারে?
  1. মামলা স্থগিত থাকলে
  2. চুক্তি স্বেচ্ছায় বাতিল করা হলে
  3. চুক্তি লঙ্ঘন যা অর্থমূল্য ক্ষতিপূরণ দ্বারা পূরণযোগ্য
  4. চুক্তি লঙ্ঘন যার জন্য অর্থমূল্য ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয়
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ - ধারা ৫৪: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কখন প্রদান করা হয়:
এই অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত বা উল্লিখিত অন্যান্য বিধানাবলির অধীন, আবেদনকারীর অনুকূলে বিদ্যমান কোনো বাধ্যবাধকতা (স্পষ্ট বা অন্তর্নিহিত) লঙ্ঘন রোধ করার জন্য একটি চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা যেতে পারে।
যখন এই বাধ্যবাধকতা চুক্তি থেকে উদ্ভূত হয়, আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত বিধি ও বিধানাবলি দ্বারা পরিচালিত হবে।
যখন বিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকার বা ভোগদখলে হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, আদালত নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে পারে:
(ক) যখন বিবাদী বাদীর জন্য সম্পত্তির ট্রাস্টি হয়;
(খ) লঙ্ঘনের কারণে সৃষ্ট বা সৃষ্টির সম্ভাব্য ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণের কোনো মান (standard) না থাকলে।
(গ) লঙ্ঘন এমন ধরণের যে অর্থমূল্য ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট প্রতিকার দেবে না।
(ঘ) সম্ভব যে অর্থমূল্য ক্ষতিপূরণ লঙ্ঘনের জন্য পাওয়া যাবে না।
(ঙ) একাধিক বিচারিক মামলা এড়ানোর জন্য injunction প্রয়োজন।

ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্যে, ট্রেডমার্ককে সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে।

৩,০৮৮.
'ক' ও 'খ' আনন্দ উপভোগের উদ্দেশ্যে পরস্পরের সঙ্গে তরবারি খেলা খেলতে সম্মতি হয়। তরবারি খেলার সময় 'ক' খেলার স্বাভাবিক নিয়ম মেনে এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে 'খ' আহত করে। এখানে 'ক' কোন ধরনের অপরাধ করেছে?
  1. আঘাত
  2. গুরুতর আঘাত
  3. আঘাতের চেষ্টা
  4. কোন অপরাধ করেনি
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৮৭ ধারা মতে মৃত্যু বা গুরুতর জখম ঘটানোর অভিপ্রায় ব্যতীত কোন কাজ মৃত্যু বা গুরুতর জখম ঘটাতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও ১৮ বছরের বেশি বয়স্ক ব্যক্তির ক্ষতির ঝুঁকি গ্রহণের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্মতি দিয়ে কাজটি করা হলে তা অপরাধ নয়।

• দণ্ডবিধির ৮৭ ধারা- মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত ঘটাইবার জন্য অভিপ্রেত নহে, এবং অনুরূপ সম্ভাবনাপূর্ণ বলিয়া অজ্ঞাত কার্য সম্মতি সহকারে সম্পাদন করা:
মৃত্যু ঘটাবার অথবা গুরুতর আঘাত করার উদ্দেশ্যে সম্পাদিত নয়, অথবা মৃত্যু ঘটাতে পারে বা গুরুতর আঘাত করতে পারে এইরূপ না জেনে সম্পাদিত কোন কাজ করার পর উহাতে কোন ক্ষতি হওয়ার ফলে অপরাধ হবে না; অথবা ১৮ বৎসরের অধিক বয়স্ক কোন ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অনুরূপ কাজের ফল হতে উদ্ভূত ক্ষতি স্বীকার করার সম্মতিদানের পর, তার সম্মতি নিয়ে উক্তরূপ ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা করে কাজটি করার পর তাতে কোনরূপ ক্ষতি হওয়ার ফলে কাজটি অপরাধ হবে না; অথবা যে ব্যক্তি কাজটি করছে, সে ব্যক্তি কাজটি করার ফলে ক্ষতি অনুষ্ঠিত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যে ব্যক্তির ক্ষতি হতে পারে, সে ব্যক্তির ক্ষতির ঝুঁকি স্বীকারে সম্মতিক্রমে কাজটি করার পর তাতে কোনরূপ ক্ষতি হওয়ার ফলে কাজটি অপরাধ হবে না।
৩,০৮৯.
চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ধারা ২২৬ অনুসারে, প্রতিনিধির মাধ্যমে সম্পাদিত চুক্তি কাকে বাধ্য করে?
  1. শুধু প্রতিনিধি
  2. প্রতিনিধির নিয়োগকারী
  3. শুধুমাত্র তৃতীয় পক্ষ
  4. ক ও খ উভয় পক্ষ
ব্যাখ্যা
চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ধারা ২২৬: প্রতিনিধির চুক্তি বলবৎকরণ এবং ফলাফল-
প্রতিনিধির মাধ্যমে সম্পাদিত চুক্তি, এবং প্রতিনিধির মাধ্যমে সম্পাদিত কার্য হইতে উদ্ভুত বাধ্যবাধকতা এমনভাবে বলবৎ হইবে এবং এইরূপ আইনগত ফলাফলের সৃষ্টি হইবে যেন তাহার নিয়োগকারী (principal) স্বয়ং উক্ত চুক্তি ও কার্য সম্পাদন করিয়াছেন।

উদাহরণ-
ক) নিয়োগকারীকে না চিনিয়া, খ-কে ঐ পণ্য বিক্রয়ের প্রতিনিধি মনে করিয়া, ক তাহার নিকট হইতে পণ্য ক্রয় করেন। ক এর নিকট খ এর নিয়োগকারী পণ্যের মূল্য দাবি করিতে পারিবেন এবং নিয়োগকারী কর্তৃক দায়েরকৃত মামলায় ক উক্ত দাবির বিরুদ্ধে খ এর নিকট তাহার নিজের প্রাপ্য অর্থের জন্য পাল্টা দাবি উত্থাপন করিতে পারিবেন না।

(খ) খ এর পক্ষে অর্থ গ্রহণের ক্ষমতা প্রাপ্ত হইয়া খ এর প্রতিনিধি ক, গ এর নিকট হইতে খ এর প্রাপ্য অর্থ গ্রহণ করেন। গ উক্ত অর্থ খ কে প্রদানের পর তাহার দায় হইতে অব্যাহতি লাভ করিবেন।
৩,০৯০.
৭ লক্ষ টাকা মূল্যমানের একটি মামলায় আরজি খারিজের দরখাস্ত প্রত্যাখানের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করা যাবে-
  1. আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগ
  3. জেলা জজ আদালত
  4. বিভাগীয় জজ আদালত
ব্যাখ্যা
♦ আমরা জানি, CPC'র ২(২) ধারা মোতাবেক আরজি খারিজের (Order of Rejection of Plaint) একটি ডিক্রি। তাই, আরজি খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে ৯৬ ধারা মোতাবেক আপিল চলবে। আরজি খারিজের আদেশ দিলে এক্ষেত্রে বাদী সংক্ষুব্ধ হবে। তাই বাদী আপিল দায়ের করতে পারবে।

কিন্তু আলোচ্য প্রশ্নে বলা হয়েছে, আরজি খারিজের দরখাস্ত প্রত্যাখ্যানের আদেশ। অর্থাৎ, উক্ত মোকদ্দমায় বিবাদীপক্ষ আরজি খারিজের জন্য দরখাস্ত দিয়েছে এবং তা প্রত্যাখ্যাত (Rejected) হয়েছে। আরজি খারিজের দরখাস্ত প্রত্যাখ্যান কোনো ডিক্রিও নয়, আপিলযোগ্য আদেশও নয়। সুতরাং ১১৫ ধারা মোতাবেক রিভিশন করা যাবে।

আবার, যেহেতু প্রশ্ন বলা আছে মূল্যমান ৭ লক্ষ টাকা, তাই আমরা বুঝতে পারি, মোকদ্দমাটি সহকারি জজ আদালতের দায়ের হয়েছে। সুতরাং, সহকারি জজ আদালতের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে রিভিশন হবে। কারণ জেলা জজের নিয়ন্ত্রাধীন আদালতসমূহের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন শুধুমাত্র জেলা জজ আদালতেই হবে।

♦ রিভিশন (Revision)- রিভিশন হলো উচ্চতর আদালতের পুনর্বিবেচনামূলক প্রতিকার। উচ্চতর আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত নিম্নতর আদালতের উপর তদারকি ক্ষমতা হলো রিভিশন। দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় মামলার বিচারকার্যে রিভিশন প্রযোজ্য। রিভিশনের ক্ষমতাকে তদারকি ক্ষমতা বা ন্যায়বিচার সম্পন্ন করার ক্ষমতা বা নথিপত্র তলব করার ক্ষমতাও বলে।

♦ ১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে।

♦ দেওয়ানী মামলায় রিভিশনের দায়েরের স্থান-
১) জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে।
২) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে।
৩) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন আদেশের বিরুদ্ধে -জেলা জজ আদালতে।
৩,০৯১.
জরুরী-অবস্থা ঘোষণার ক্ষেত্রে নিম্নের কোন বিধান সঠিক নয়?
  1. পরবর্তী কোন ঘোষণার দ্বারা তা প্রত্যাহার করা যাবে
  2. সংসদে উপস্থাপন করতে হবে না
  3. অনধিক ১২০ দিনের জন্য জারি করা যায়
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১৪১ক: জরুরী-অবস্থা ঘোষণা

(১) রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এমন জরুরী-অবস্থা বিদ্যমান রহিয়াছে, যাহাতে যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের দ্বারা বাংলাদেশ বা উহার যে কোন অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন, তাহা হইলে তিনি অনধিক একশত কুড়ি দিনের জন্য জরুরী-অবস্থা ঘোষণা করিতে পারিবে: তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ ঘোষণার বৈধতার জন্য ঘোষণার পূর্বেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি-স্বাক্ষর প্রয়োজন হইবে।
 
(২) জরুরী-অবস্থার ঘোষণা- 
(ক) পরবর্তী কোন ঘোষণার দ্বারা প্রত্যাহার করা যাইবে; 
(খ) সংসদে উপস্থাপিত হইবে; 
(গ) একশত কুড়ি দিন সময়ের অবসানে কার্যকর থাকিবে না: 
 
তবে শর্ত থাকে যে, যদি সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় অনুরূপ কোন ঘোষণা জারী করা হয় কিংবা এই দফার (গ) উপ-দফায় বর্ণিত এক শত কুড়ি দিনের মধ্যে সংসদ ভাঙ্গিয়া যায়, তাহা হইলে তাহা পুনর্গঠিত হইবার পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে ত্রিশ দিন অতিবাহিত হইবার পূর্বে ঘোষণাটি অনুমোদন করিয়া সংসদে প্রস্তাব গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত ত্রিশ দিনের অবসানে অথবা একশত কুড়ি দিন সময়ের অবসানে, যাহা আগে ঘটে, অনুরূপ ঘোষণা কার্যকর থাকিবে না। 
 
(৩) যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের বিপদ আসন্ন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে, প্রকৃত যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ সংঘটিত হইবার পূর্বে তিনি অনুরূপ যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের জন্য বাংলাদেশ বা উহার যে কোন অংশের নিরাপত্তা বিপন্ন বলিয়া জরুরী-অবস্থা ঘোষণা করিতে পারিবেন।

Article 141A: Proclamation of emergency
(1) If the President is satisfied that a grave emergency exists in which the security or economic life of Bangladesh, or any part thereof, is threatened by war or external aggression or internal disturbance, he may issue a Proclamation of Emergency for one hundred twenty days: Provided that such Proclamation shall require for its validity the prior counter signature of the Prime Minister.
 
(2) A Proclamation of Emergency – 
(a) may be revoked by a subsequent Proclamation; 
(b) shall be laid before Parliament; 
(c) shall cease to operate at the expiration of one hundred and twenty days, unless before the expiration of that period it has been approved by a resolution of Parliament: 

Provided that if any such Proclamation is issued at a time when Parliament stands dissolved or the dissolution of Parliament takes place during the period of one hundred and twenty days referred to in sub clause (c), the Proclamation shall cease to operate at the expiration of thirty days from the date on which Parliament first meets after its re constitution, unless before that expiration of the said period of thirty days a resolution approving the Proclamation has been passed by Parliament or at the expiration of one hundred and twenty days, whichever occurs first.
 
(3) A Proclamation of Emergency declaring that the security of Bangladesh, or any part thereof, is threatened by war or external aggression or by internal disturbance may be made before the actual occurrence of war or any such aggression or disturbance if the President is satisfied that there is imminent danger thereof.
৩,০৯২.
A এক লাখ টাকায় B-কে একটি বাড়ি বিক্রি করার চুক্তি করে এবং পরদিন সাইক্লোনে বাড়িটি ধ্বংস হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে B সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় প্রতিকার পাবে?
  1. ১২
  2. ১৩
  3. ১৪
  4. ১৫
ব্যাখ্যা
→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৩ ধারার বিধান যে চুক্তির বিষয়বস্তু আংশিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছে: চুক্তি আইনের ৫৬ ধারার কোন বিধান সত্ত্বেও চুক্তি সম্পাদনের সময় অস্তিত্ব ছিল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী কার্যসম্পাদনের সময় আংশিকভাবে বিলুপ্ত হবার কারণে চুক্তি অনুযায়ী কার্যসম্পাদন পুরোপুরি অসম্ভব নয়।

উদাহরণ:
(ক) ক, খ-এর নিকট একটি বাড়ি এক লক্ষ টাকায় বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন ঘুর্ণিঝড়ে বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে গেল। এখন ক্রয়মূল্য প্রদানের মাধ্যমে খ-কে চুক্তিতে তার অংশের কার্যসম্পদনে বাধ্য করা যেতে পারে।
(খ) খ কর্তৃক দেয় নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ক, খ- কে সারা জীবনের জন্য বার্ষিক বৃত্তি প্রদানের চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন খ ঘোড়ার পিঠ হতে পড়ে মারা গেল। এখন খ-এর প্রতিনিধিকে উক্ত অর্থ পরিশোধে বাধ্য করা যেতে পারে।
-------------- 
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 13. Contract of which the subject has partially ceased to exist:
Notwithstanding anything contained in section 56 of the Contract Act, a contract is not wholly impossible of performance because a portion of its subject-matter, existing at its date, has ceased to exist at the time of the performance. 
Illustrations 
(a) A contracts to sell a house to B for a lakh of taka. The day after the contract is made the house is destroyed by a cyclone. B may be compelled to perform his part of the contract by paying the purchase money. 
(b) In consideration of a sum of money payable by B, A contracts to grant an annuity to B for B's life. The day after the contract has been made, B is thrown from his horse and killed. B's representative may be compelled to pay the purchase money.
৩,০৯৩.
কোনো রিসিভার আদালতের নির্দেশিত অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে, আদালত কী করতে পারে?
  1. তাকে কারাদণ্ড দেবে
  2. তাকে জরিমানা করবে
  3. তার সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিতে পারে
  4. তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করবে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৪০ বিধি-৪: রিসিভারের দায়িত্ব বলবৎকরণ:
যেক্ষেত্রে রিসিভার-
ক) আদালতের নির্দেশিত সময়ে এবং ফরমে তার হিসাবাদি দাখিল করতে ব্যর্থ হয়, অথবা
খ) তার নিকট থেকে প্রাপ্য টাকা আদালতের নির্দেশ মতে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়, বা
গ) তার ইচ্ছামত বরখেলাপ বা গুরুতর অবহেলার জন্য সম্পত্তির ক্ষতিসাধিত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত তার সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিতে পারে এবং অনুরূপ সম্পত্তি বিক্রয় করতে পারে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ দ্বারা তার নিকট থেকে প্রাপ্য টাকা পরিশোধ করতে বা তার দ্বারা সাধিত অনিষ্টের খেসারত প্রদানে ব্যবহার করতে পারে এবং অবশিষ্ট টাকা (যদি কোন) রিসিভারের নিকট প্রদান করবে।

Enforcement of receiver's duties:
Where a receiver-
a) fails to submit his accounts at such periods and in such form as the Courtdirects, or
b) fails to pay the amount due from him as the Court directs, or
c) occasions loss to the property by his wilful default or gross negligence, the Court may direct his property to be attached and may sell such property, and may apply the proceeds to make good any amount found to be due from him or any loss occasi-oned by him, and shall pay the balance (if any) to the receiver.
৩,০৯৪.
বার কাউন্সিলের প্রথম সভা কাউন্সিল এর মেয়াদ শুরু হওয়ার কতদিনের মধ্যে করতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ১ মাস
  4. ২ মাস
ব্যাখ্যা

⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council rules 1972 এর ২৮ বিধিতে বলা হয়েছে বার কাউন্সিলের মেয়াদ শুরুর তারিখ হতে ১ মাসের মধ্যে প্রথম সভা আয়োজন করতে হবে। বার কাউন্সিলের সম্পাদক প্রথম সভা আহ্বান করবেন।
--------------
⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council rules 1972: Rules-28. The first meeting of a Bar Council shall be held within a month of the commencement of the term of the Bar Council and the Secretary shall convené such meeting. The meeting will be presided over by a member voted to chair.

৩,০৯৫.
হিন্দু আইনে কোনো সম্পত্তি দেবোত্তর হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে কী করতে হবে?
  1. মন্দির নির্মাণ করতে হবে 
  2. শেবাইত নিয়োগ করতে হবে
  3. দেবতার পূজা বা ধর্মীয় কাজে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করতে হবে
  4. আদালতের অনুমতি নিতে হবে 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) দেবতার পূজা বা ধর্মীয় কাজে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করতে হবে। 

⇒ হিন্দু আইনে কোনো সম্পত্তি 'দেবোত্তর' বা 'দেবত্ত্ব' হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে সেই সম্পত্তি স্পষ্টভাবে কোনো দেবতা (যাকে আইনি ব্যক্তি ধরা হয়) বা ধর্মীয় কাজের জন্য স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করতে হবে। এটি একটি 'endowment' (স্থায়ী দান) যা সম্পত্তির মালিকানা দেবতার নামে ন্যস্ত করে এবং তা শুধুমাত্র ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে বলে স্থির করে।

প্রধান বৈশিষ্ট্য:
স্থায়ী উৎসর্গ: সম্পত্তি দেবতার নামে চিরস্থায়ীভাবে দান করতে হবে। এটি আর ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকে না।
ধর্মীয় উদ্দেশ্য: উৎসর্গের একমাত্র উদ্দেশ্য দেবতার পূজা, সেবা বা অন্যান্য ধর্মীয় কাজ হওয়া আবশ্যক।
দলিল বা প্রমাণ: উৎসর্গ সাধারণত একটি 'অর্পণনামা' (Deed of Dedication) বা অন্যান্য লিখিত দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। তবে মৌখিক উৎসর্গও প্রমাণ সাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
শেবাইত নিয়োগ: শেবাইত নিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনাগত পদক্ষেপ, কিন্তু এটি দেবোত্তর হওয়ার প্রাথমিক শর্ত নয়। উৎসর্গ ছাড়া শুধু শেবাইত নিয়োগ করলে সম্পত্তি দেবোত্তর হয় না।

- অর্থাৎ হিন্দু আইনে (বিশেষ করে দেবত্তর বা debutter property-এর ক্ষেত্রে) একটি সম্পত্তি দেবত্ত্ব/দেবোত্তর হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য প্রধান ও অপরিহার্য শর্ত হলো সম্পত্তিটি দেবতার পূজা, সেবা বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ (dedication) করা হয়েছে।
- এটি ছাড়া শুধুমাত্র মন্দির নির্মাণ করা বা শেবাইত নিয়োগ করা দিয়ে দেবত্তর সম্পত্তি সৃষ্টি হয় না।

৩,০৯৬.
মুসলিম ব্যক্তি রফিক প্রথমে নিজের সম্পত্তি তার চাচাতো ভাইর নামে উইল করেছেন। তবে জীবিত অবস্থায় তিনি সেই সম্পত্তি পরে বিক্রি করে দেন। এখন কী হবে?
  1. বিক্রি বাতিল হয়ে যাবে
  2. উইলটি প্রত্যাহৃত হয়ে যাবে
  3. আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে উইল কার্যকর হবে
  4. বিক্রিত অংশের মালিকানা চাচাতো ভাই পাবেন
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনে,
একজন ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় যে সম্পত্তি বিক্রি করতে পারেন, সেটি তার সম্পূর্ণ অধিকার। তবে, যদি তিনি ওই সম্পত্তির কিছু অংশ উইল করেন, তবে ওই উইলটি মৃত্যুর পর কার্যকর হবে। কিন্তু, যদি ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় ওই সম্পত্তি বিক্রি করেন, তাহলে উইলটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রত্যাহৃত হয়ে যাবে, কারণ বিক্রি একটি কার্যকর আইনগত কাজ, যা সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন করে।

কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত। আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চূড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে। যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে খবমধঃবব বা উত্তরদানগ্রহী বলা হয়

⇒ উইলের অপরিহার্য উপাদানগুলো হলো-
ক. যে ব্যক্তি উইল করে তাকে অবশ্যই তার জীবনকালের মধ্যেই উইলের ঘোষণা দিতে হবে। উইলকারীকে অবশ্যই উইল করার যোগ্য হতে হবে।
খ. উইলকারীকে অবশ্যই উইলগ্রহীতার পূর্বে মৃত্যুবরণ করতে হবে। অর্থাৎ উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকরী হয়।
গ. উইলকারী মৃত্যুর পর যার বরাবর উইল করা হয়েছে তাকে অবশ্যই উইলটি গ্রহণ করতে হবে। এ তিনটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একটি উইল কার্যকর হয়।

৩,০৯৭.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারা অনুযায়ী ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পূর্ববর্তী ভাল চরিত্র বা সচ্চরিত্র প্রাসঙ্গিক?
  1. ৫২
  2. ৫৩
  3. ৫৪
  4. ৫৫
ব্যাখ্যা
⇒সাক্ষ্য আইনের ৫৩ ধারামতে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পূর্ববর্তী ভাল চরিত্র বা সচ্চরিত্র প্রাসঙ্গিক।
-সাক্ষ্য আইনের ৫৩ ধারার বিধান ফৌজদারী মোকদ্দমায় পূর্ববর্তী সচ্চরিত প্রাসঙ্গিক:- ফৌজদারী মোকদ্দমার অপরাধী ব্যক্তির চরিত্র যে উত্তম, এটা প্রাসঙ্গিক বিষয়।
--------------------
⇒The Evidence Act,1872: Section 53: In criminal cases, previous good character relevant:
 In criminal proceedings the fact that the person accused is of a good character is relevant.
৩,০৯৮.
'Provisions for completion of investigation'- ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় সংযোজিত করা হয়েছে?
  1. ধারা ১৬৭ক
  2. ধারা ১৭৩ক
  3. ধারা ১৭৩খ
  4. ধারা ১৭৪ক
ব্যাখ্যা

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩খ: তদন্ত সমাপ্তির বিধানাবলী (Provisions for completion of investigation):
(১) এই কোডে যা কিছু অন্তর্ভুক্ত থাকুক না কেন, এই অধ্যায়ের অধীনে প্রতিটি তদন্ত অপরাধ সম্পর্কিত তথ্য প্রাপ্তির তারিখ থেকে ষাট কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

(২) যেখানে যুক্তিসঙ্গত কারণে উপ-ধারা (১)-এ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না, সেখানে তদন্তকারী অফিসার বিলম্বের কারণ কেস ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করবেন, সুনির্দিষ্ট কারণ এবং প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সময় উল্লেখ করে সময় বাড়ানোর জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আবেদন করবেন এবং এই আবেদনের একটি অনুলিপি তদন্ত তদারককারী ঊর্ধ্বতন অফিসারের নিকট পাঠাবেন।

(৩) উপ-ধারা (২)-এর অধীনে করা আবেদনটি বিবেচনার পর, ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দ্বারা, যুক্তিসঙ্গত মনে হলে, তদন্তের জন্য সময় বাড়িয়ে দিতে পারেন এবং তদন্তকারী অফিসার বর্ধিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করবেন।
(৪) যেখানে উপ-ধারা (৩)-এর অধীনে বর্ধিত সময়ের মধ্যেও তদন্ত সম্পন্ন হয় না, সেখানে তদন্তকারী অফিসার ওই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর লিখিতভাবে কারণগুলি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট রিপোর্ট করবেন এবং এর একটি অনুলিপি তদন্ত তদারককারী ঊর্ধ্বতন অফিসারের নিকট পাঠাবেন।

(৫) উপ-ধারা (৪)-এর অধীনে দাখিলকৃত ব্যাখ্যা বিবেচনার পর, অথবা যেখানে তদন্তকারী অফিসার কর্তৃক কোনো ব্যাখ্যা দাখিল করা হয় না, সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট—
(ক) তদন্তটি অন্য কোনো অফিসার দ্বারা পরিচালনার নির্দেশ দিতে পারেন;
(খ) এই ধরনের বিলম্বকে তদন্তকারী অফিসারের অযোগ্যতা বা অসদাচরণ হিসাবে গণ্য করতে পারেন, অফিসারের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে (ACR) তা লিপিবদ্ধ করার ব্যবস্থা করতে পারেন এবং প্রাসঙ্গিক চাকরির বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিতে পারেন।

(৬) যদি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর, নথিতে থাকা উপাদানগুলি বিবেচনা করে আদালত সন্তুষ্ট হন যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে অভিযুক্ত হিসাবে নামভুক্ত কোনো ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসাবে গণ্য করা উচিত, তবে আদালত সেই মর্মে আদেশ দিতে পারেন এবং ওই ব্যক্তি মামলায় সাক্ষী হিসাবে গণ্য হবেন।

(৭) যদি বিচার শেষে আদালত দেখতে পান যে, তদন্তকারী অফিসার অবহেলাবশত বা কোনো ব্যক্তিকে ফৌজদারি দায় থেকে রক্ষা করার অভিপ্রায়ে—
(i) কোনো গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য সংগ্রহ বা বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছেন;
(ii) এমন কোনো ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসাবে গণ্য করেছেন যাকে অভিযুক্ত করা উচিত ছিল; অথবা
(iii) যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কোনো গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে পরীক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন,
আদালত সেই মর্মে একটি সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করতে পারেন, এই ধরনের কাজ বা বাদ পড়াকে অসদাচরণ বা অযোগ্যতা হিসাবে গণ্য করতে পারেন এবং আইন অনুযায়ী অফিসারের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিতে পারেন।

৩,০৯৯.
“The Court shall not direct the specific performance of a part of a contract except in cases under ________.”
  1. Sections 10, 11, 12
  2. Sections 31, 32, 33
  3. Sections 14, 15, 16
  4. Sections 36, 37, 38
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ১৭-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, আদালত চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের আদেশ দেবেন না, যেমন না মামলাটি এই আইনের শেষোক্ত তিনটি ধারা অর্থাৎ ধারা ১৪, ১৫ বা ১৬-এর যেকোনো একটির আওতাভুক্ত হয়।

- বাক্যটির পূর্ণরূপ হলো: "The Court shall not direct the specific performance of a part of a contract except in cases coming under one or other of the three last preceding sections."
- এখানে "the three last preceding sections" বলতে ধারা ১৭-এর ঠিক আগের তিনটি ধারা ১৪, ১৫ ও ১৬-কে বোঝানো হয়েছে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৭ ধারার বিধান: অন্যান্য ক্ষেত্রে চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনে প্রতিবন্ধকতা:-
পূর্ববর্তী তিনটি (১৪,১৫,১৬) ধারায় যে কোনটির আওতাধীন মামলা ছাড়া বা অন্য কোন ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করবেন না।
-----------
⇒The Specific Relief Act, 1877 -Section 17. Bar in other cases of specific performance of part of the contract:
-The Court shall not direct the specific performance of a part of a contract except in cases coming under one or other of the three last preceding sections.

৩,১০০.
'ক', 'খ' এর নিকট একটি গাড়ি এক লক্ষ টাকায় বিক্রয় করতে। চুক্তি সম্পাদনের পরদিন গাড়িটি নষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রে, আদালত কী করতে পারে?
  1. চুক্তি স্থগিত রাখবে
  2. চুক্তি অবৈধ ঘোষণা করবে
  3. 'খ'-কে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিবে
  4. 'খ'- কে তার অংশের কার্যসম্পদনে বাধ্য করতে পারে
ব্যাখ্যা

→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৩ ধারার বিধান- যে চুক্তির বিষয়বস্তু আংশিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছে:
চুক্তি আইনের ৫৬ ধারার কোন বিধান সত্ত্বেও চুক্তি সম্পাদনের সময় অস্তিত্ব ছিল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী কার্যসম্পাদনের সময় আংশিকভাবে বিলুপ্ত হবার কারণে চুক্তি অনুযায়ী কার্যসম্পাদন পুরোপুরি অসম্ভব নয়।

উদাহরণ:
(ক) ক, খ-এর নিকট একটি বাড়ি এক লক্ষ টাকায় বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন ঝড়ে বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে গেল। এখন ক্রয়মূল্য প্রদানের মাধ্যমে খ-কে চুক্তিতে তার অংশের কার্যসম্পদনে বাধ্য করা যেতে পারে।

(খ) খ কর্তৃক দেয় নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ক, খ- কে সারা জীবনের জন্য বার্ষিক বৃত্তি প্রদানের চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন খ ঘোড়ার পিঠ হতে পড়ে মারা গেল। এখন খ-এর প্রতিনিধিকে উক্ত অর্থ পরিশোধে বাধ্য করা যেতে পারে।