বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

মোট প্রশ্ন১৫,৪৭০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

PrepBank · পাতা ২৫ / ১৫৫ · ২,৪০১২,৫০০ / ১৫,৪৭০

২,৪০১.
A voidable contract is enforceable by law:
  1. compulsorily
  2. at the option of all parties
  3. only if it is in writing
  4. at the option of one or more parties, but not others
ব্যাখ্যা

The Contract Act, 1872: ধারা ২(ঝ)-
“যে চুক্তি এক বা একাধিক পক্ষের ইচ্ছানুসারে আইনত বলবৎ করা যায়, কিন্তু অপর পক্ষ বা পক্ষসমূহের ইচ্ছানুসারে নয়, তাকে বাতিলযোগ্য চুক্তি (Voidable Contract) বলা হয়।”

[An agreement which is enforceable by law at the option of one or more of the parties thereto, but not at the option of the other or others, is a voidable contract]

২,৪০২.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী অপর্যাপ্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে কত দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান রয়েছে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৩ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
⇒  ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭ক ধারার বিধান অপর্যাপ্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল:-
(১) কোন আদালতের বিচারে প্রদত্ত দণ্ডাদেশের ক্ষেত্রে দণ্ডাদেশের অপর্যাপ্ততার কারণে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল দায়েরের জন্য সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরকে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।

(২) আদালতে বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে একজন ফরিয়াদী দণ্ডাদেশের অপর্যাপ্ততাহেতু আপিল আদালতে আপিল দায়ের করতে পারবেন:
শর্ত থাকে যে, দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৬০ (ষাট) দিন পার হবার পর এই উপ-ধারার অধীন আপিল আদালত কর্তৃক কোন আপিল গৃহীত হবে না।

(৩) দণ্ডের অপর্যাপ্ততা হেতু কোন আপিল রুজু করা হলে আপিল আদালত দণ্ড বাড়ানোর বিরুদ্ধে কারণ দর্শাবার জন্য আসামীকে যৌক্তিক সুযোগ না দিয়ে দণ্ড বাড়াবেন না এবং কারণ দর্শাবার সময় আসামী তার খালাস প্রাপ্তি বা দণ্ড কমানোর জন্য আবেদন করতে পারবেন।
----------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 417A: Appeal against inadequacy of sentence:
(1) The Government may, in any case of conviction on a trial held by any court, direct the Public Prosecutor to present an appeal to the High Court Division against the sentence on the ground of its inadequacy.

(2) A complainant may, in any case of conviction on a trial held by any Court, present an appeal to the Appellate Court against the sentence on the ground of its inadequacy:
Provided that no appeal under this sub-section shall be entertained by the Appellate Court after the expiry of sixty days from the date of conviction.

(3) When an appeal has been filed against the sentence on the ground of its inadequacy, the Appellate Court shall not enhance the sentence except after giving to the accused a reasonable opportunity of showing cause against such enhancement and while showing cause, the accused may plead for his acquittal or for the reduction of the sentence.
২,৪০৩.
The Code of Civil Procedure, 1908-এর আদেশ ৩৭-এর বিধি-১ অনুসারে এই আদেশ কোন আদালতে প্রযোজ্য?
  1. সব ধরনের দেওয়ানি আদালতে
  2. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  3. হাইকোর্ট ডিভিশন এবং জেলা আদালতে
  4. যুগ্ম জেলা জজ আদালত ও মুনসেফ আদালতে
ব্যাখ্যা

⇒  The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৭ (ORDER 37) এর বিধি-১ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, হস্তান্তরযোগ্য দলিলের উপর সংক্ষিপ্ত কার্যপদ্ধতি শুধুমাত্র হাইকোর্ট ডিভিশন এবং জেলা আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অন্য কোনো নিম্ন বা বিশেষ আদালতের জন্য এই বিশেষ পদ্ধতি প্রযোজ্য নয়।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৭: হস্তান্তরযোগ্য দলিলের উপর সংক্ষিপ্ত কর্মপদ্ধতি।
বিধি-১: আদেশের প্রয়োগ। এই আদেশ শুধুমাত্র হাইকোর্ট ডিভিশন এবং জেলা আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
---------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর ORDER-37:-SUMMARY PROCEDURE ON NEGOTIABLE INSTRUMENTS:
Rule-1: Application of Order. This Order shall apply only to the High Court Division and to the District Court.

২,৪০৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর কোন ধারায় কোন কোন চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না তা উল্লেখ আছে?
  1. ধারা ১২
  2. ধারা ২১
  3. ধারা ২৫
  4. ধারা ২৭
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২১-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে কোন কোন চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। এই ধারায় মোট ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যায় না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারার বিধান অনুযায়ী নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না:
১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে।
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে।
৩) চুক্তির শর্তাবলি নির্ণয় করা না গেলে।
৪) চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য হলে।
৫) চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে।
৬) বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানি কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি।
৭) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে।
৮) যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে (a contract the performance of which involves the performance of a continuous duty extending over a longer period than three years from its date)
- যে চুক্তির কার্য সম্পাদন করতে হলে চুক্তির কার্য শুরু করার তারিখ হতে তিন বছরেরও অধিক সময় পর্যন্ত ক্রমাগত কাজ করতে হয়, ঐ চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না।
----------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 21. Contracts not specifically enforceable:
The following contracts cannot be specifically enforced:–
(a) a contract for the non-performance of which compensation in money is an adequate relief;
(b) a contract which runs into such minute or numerous details, or which is so dependent on the personal qualifications or volition of the parties, or otherwise from its nature is such, that the Court cannot enforce specific performance of its material terms;
(c) a contract the terms of which the Court cannot find with reasonable certainty;
(d) a contract which is in its nature revocable;
(e) a contract made by trustees either in excess of their powers or in breach of their trust;
(f) a contract made by or on behalf of a corporation or public company created for special purposes, or by the promoters of such company, which is in excess of its powers;
(g) a contract the performance of which involves the performance of a continuous duty extending over a longer period than three years from its date;
(h) a contract of which a material part of the subject- matter, supposed by both parties to exist, has, before it has been made, ceased to exist.
And, save as provided by the Arbitration Act, 1940, no contract to refer present or future differences to arbitration shall be specifically enforced; but if any person who has made such a contract other than an arbitration agreement to which the provisions of the said Act apply and has refused to perform it sues in respect of any subject which he has contracted to refer, the existence of such contract shall bar the suit.

২,৪০৫.
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করার ক্ষেত্রে কোন সংস্থা সময়ে সময়ে বিধি প্রণয়ন করতে পারে?
  1. সুপ্রিম কোর্ট
  2. জাতীয় সংসদ
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. আইন মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১০৯ অনুসারে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল সম্পর্কিত বিধান সাপেক্ষে, সুপ্রিম কোর্ট নিজেই সময়ে সময়ে আপিলের নিয়মাবলী বা বিধি প্রণয়ন করতে পারে। এটি আপিলের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন হাইকোর্ট বিভাগের রায় বা চূড়ান্ত আদেশ থেকে আপিলের ক্ষেত্রসমূহ। অন্যান্য অপশনগুলো (জাতীয় সংসদ: আইন প্রণয়ন করে; হাইকোর্ট: নিম্নস্তরের আপিল; আইন মন্ত্রণালয়: আইনি পরামর্শ দেয়) এই নির্দিষ্ট ক্ষমতার অধিকারী নয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১০৯ ধারার বিধান: সুপ্রিম কোর্টে যখন আপিল করা চলবে:
দেশের আদালতসমূহের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্ট সময়ে সময়ে যে সমস্ত বিধি প্রণয়ন করবেন, তৎসাপেক্ষে এবং এই আইনের বিধানসাপেক্ষে আপিল বিভাগের নিকট নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আপিল করা চলবে-
ক) হাইকোর্ট বিভাগ বা চূড়ান্ত আপিল এখতিয়ারসম্পন্ন অন্য কোন আদালত কর্তৃক আপিলে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি অথবা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে;
খ) হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক এর মূল দেওয়ানি এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে; এবং
গ) অতঃপর বর্ণিত বিধানানুসারে কোন মোকদ্দমা আপিল বিভাগের নিকট আপিলের যোগ্য বলে সুপারিশ করা হলে তদ্রূপ মোকদ্দমায় প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে।
-----------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section: 109. When appeals lie to the Supreme Court.
- Subject to such rules as may, from time to time, be made by the Supreme Court regarding appeals from the Courts of Bangladesh, and to the provisions hereinafter contained, an appeal shall lie to the Appellate Division.
(a) from any Judgment, decree or final order passed on appeal by the High Court Division or by any other Court of final appellate jurisdiction; 
(b) from any Judgment, decree or final order passed by the High Court Division in the exercise of original civil jurisdiction; and 
(c) from any Judgment, decree or final order, when the case, as hereinafter provided, is certified to be a fit one for appeal to the Appellate Division.

২,৪০৬.
আরজিতে মামলার কারণ উল্লেখ না থাকলে কী হবে?
  1. আরজি ফেরত
  2. আরজি নাকচ
  3. মামলা খারিজ
  4. মামলা চলবে
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১১ অনুযায়ী- আরজিতে মামলার কারণ উল্লেখ না থাকলে আদালত আরিজ নাকচ করবেন। ভুল আদালতে আরজি পেশ করলে আদালত আরজি ফেরত দেয়। আরজি খারিজ ও মামলা খারিজ একই বিষয় নয়। উল্লেখ্য যে, আরজি খারিজ বা নাকচ হলেও নির্দিষ্ট ত্রুটি সংশোধন করে পুনরায় আরজি পেশ করা যায়। শুনানীর দিন পক্ষগণের অনুপস্থিতির কারণে বা সমন জারি না হওয়ার কারণে মামলা খারিজ হতে পারে।
২,৪০৭.
সাধারণ ফৌজদারী মামলায় আইনগত ভুল (Mistake of law) ফৌজদারী দায় হতে অব্যাহতি পাওয়ার কোন অজুহাত হতে পারে না কিন্তু ঘটনাগত ভুল (Mistake of fact) হতে পারে। উক্তিটি-
  1. আংশিক সত্য
  2. মিথ্যা
  3. সত্য
  4. কোনটাই নয়
ব্যাখ্যা
- ৭৬ এবং ৭৯ ধারায় ঘটনাগত অজ্ঞতার ভুল ফৌজদারী দায় হতে অব্যাহতির পাওয়ার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে কিন্তু আইনের অজ্ঞতা ফৌজদারী দায় হতে অব্যাহতির কোন অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
- Ignorance of fact is excusable but ignorance of law is not excusable.
২,৪০৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৩৩ ধারা কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না?
  1. ২৩৪,২৩৫,২৩৭ ও ২৩৯
  2. ২৩৪,২৩৫,২৩৬
  3. ২৩৪,২৩৫,২৩৬ ও ২৩৯
  4. ২৩৪,২৩৫,২৩৬ ও ২৩৮
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৩৩ তে প্রত্যেকটি সুস্পষ্ট আলাদা অপরাধের জন্য পৃথক অভিযোগ গঠনের বিধান রয়েছে।

এই ধারা অনুসারে, ২৩৪, ২৩৫, ২৩৬ ও ২৩৯ ধারায় উল্লেখিত ক্ষেত্র ব্যতীত কোন ব্যক্তি কোন অপরাধে অভিযুক্ত হলে প্রত্যেকটি সুস্পষ্ট অপরাধের জন্য একটি পৃথক অভিযোগ হবে এবং এরূপ প্রত্যেকটি অভিযোগের বিচার পৃথকভাবে হবে।
[For every distinct offence of which any person is accused there shall be a separate charge and every such charge shall be tried separately, except in the cases mentioned in sections 234, 235,236 and 239.]
২,৪০৯.
যে পক্ষকে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনে বাধ্য করা যায় না, তা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় বলা হয়েছে?
  1. ২১ ধারায়
  2. ২৫ ধারায়
  3. ২৮ ধারায়
  4. ৩০ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৮ ধারামতে যাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না (What parties cannot be compelled to perform)- ভুল তথ্য বা ধারনা তথা প্রতারণার মাধ্যমে কোন চুক্তি হলে, প্রতারনার স্বীকার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঐ চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না।
⇒  যাদের অনুকূলে চুক্তি সম্পাদন করা যায় সে সম্পর্কে বলা হয়েছে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৩ ধারায়, অন্যদিকে যাদের অনুকূলে চুক্তি সম্পাদন করা যায় না সে সম্পর্কে বলা হয়েছে ২৪ ধারায়।
⇒  যাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সম্পাদন করা যায় সে সম্পর্কে বলা হয়েছে ২৭ ধারায়, অন্যদিকে যাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সম্পাদন করা যায় না সে সম্পর্কে বলা হয়েছে ২৮ ধারায়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৮ ধারার বিধান: যে পক্ষগণকে কাজ সম্পাদনে বাধ্য করা যাবে না: নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন চুক্তিবদ্ধ পক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকরী করা যাবে না:
(ক) যদি চুক্তির তারিখে বিরাজমান বিষয়বস্তুর অবস্থার তুলনায় তৎকর্তৃক গৃহীতব্য প্রতিদান এতই অপর্যাপ্ত হয় যে, তা নিজে বা অপরাপর পরিস্থিতির সহযোগে প্রতারণা বা বাদী কর্তৃক অন্যায় সুবিধা গ্রহণের সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়;
(খ) যদি চুক্তির অধীন যে পক্ষ কর্তৃক কাজ সম্পাদন করা কর্তব্য হয়, সেই পক্ষের সম্মতি ভুল বিবরণ (ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত) গোপন চক্রান্ত বা অসদাচরণের মাধ্যমে অর্জন করা হয়ে থাকে বা তেমন পক্ষের এমন কোন আশ্বাস প্রদানের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে, যা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিপূর্ণ করা হয়নি;
(গ) যদি ভুল তথ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বা ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে বা অপ্রত্যাশিতভাবে তার সম্পত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে।
তবে শর্ত থাকে যে, যখন চুক্তিতে ভুলের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের বিধান থাকে তখন তেমন বিধানের আওতার মধ্যে ভুলের জন্য ক্ষতিপূরণ করা যেতে পারে এবং যদি তেমন কার্যকরীকরণ যথাযথ হয় তবে অন্যান্য বিষয়ে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যেতে পারে।
----------------
⇒ Section 28: Against whom Contracts cannot be specifically enforced:
 What parties cannot be compelled to perform: Specific performance of a contract cannot be enforced against a party thereto in any of the following cases:- 
(a) if the consideration to be received by him is so grossly inadequate, with reference to the state of things existing at the date of the contract, as to be either by itself or coupled with other circumstances evidence of fraud or of undue advantage taken by the plaintiff; 
(b) if his assent was obtained by the misrepresentation (whether wilful or innocent), concealment, circumvention or unfair practices, of any party to whom performance would become due under the contract, or by a promise of such party which has not been substantially fulfilled; 
(c) if his assent was given under the influence of mistake of fact, misapprehension or surprise: Provided that, when the contract provides for compensation in case of mistake, compensation may be made for a mistake within the scope of such provision, and the contract may be specifically enforced in other respects if proper to be so enforced. 
⇒ Illustrations 
to clause (c)- 
A, one of two executors, in the erroneous belief that he had the authority of his co-executor, enters into an agreement for the sale to B of his testator's property. B cannot insist on the sale being completed. 
A directs an auctioneer to sell certain land. A afterwards revokes the auctioneer's authority as to 20 bighas of this land, but the auctioneer inadvertently sells the whole to B, who has not notice of the revocation. B cannot enforce specific performance of the agreement.
২,৪১০.
জি.আর. মামলায় খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপীল না করলে সংবাদদাতার প্রতিকার হচ্ছে-
  1. আপীল
  2. রিভিউ
  3. রিভিশন
  4. রেফারেন্স
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ অনুযায়ী পুলিশকে আমলযোগ্য এবং আমলঅযোগ্য উভয় ধরণের মামলা বা অপরাধ সংঘটনের সংবাদ প্রদান করা যায়। পুলিশকে আমলযোগ্য অপরাধের [Cognizable offence] সংবাদ দিলে, তা পুলিশ ১৫৪ ধারা অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করে। এই ধারায় দায়েরকৃত মামলা এফআইআর কেস (FIR case) বা পুলিশ কেস (Police Case) বা জি.আর (G.R) কেইস নামে পরিচিত। এই মামলার ক্ষেত্রে ১৫৬(১) ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই পুলিশ তদন্ত শুরু করতে পারে এবং ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করতে পারে।
ফৌজদারি মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ/পাবলিক প্রসিকিউটর দুই বার আপিল করতে পারেন। অর্থাৎ, ১ম বার মূল মামলার বিরুদ্ধে, ২য় বার আপিলের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন।
কিন্তু পাবলিক প্রসিকিউটর/রাষ্ট্রপক্ষ ১ম আপিল না করলে GR মূল মামলায় প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী/সংবাদদাতা রিভিশন করতে পারে।

- অর্থাৎ GR মূল মামলায় প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ/পাবলিক প্রসিকিউটর আপিল না করলে অভিযোগকারী/সংবাদদাতা ৪৩৯ ধারায় হাইকোর্টে বা ৪৩৯এ ধারায় দায়রা জজ আদালতে রিভিশন করতে পারে।
২,৪১১.
বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী, সরকার কত দিনের মধ্যে আটক আদেশের তারিখ হতে আটকের কারণ উপদেষ্টা বোর্ডের নিকট পেশ করবে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
• ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৯ ধারায় সরকার উপদেষ্টা বোর্ড গঠন করতে পারে। উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য সংখ্যা হবে ৩ জন। ২ জন এমন ব্যক্তি হবে যিনি হাইকোর্টের বিচারপতি ছিল বা আছেন বা তিনি বিচারপতি নিযুক্ত হওয়ার যোগ্য এবং অপর ব্যক্তি হবে বাংলাদেশ সরকারের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা। যিনি হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন বা আছেন বা তিনি বিচারপতি নিযুক্ত হওয়ার যোগ্য এমন ব্যক্তিকে সরকার উক্ত বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করবেন।

ধারা ১০ অনুযায়ী,
আটকের তারিখ হতে ১২০ দিনের মধ্যে সরকার আটকের কারণ উপদেষ্টা বোর্ডের নিকট পেশ করবে। ক্ষতিকর কার্য হতে বিরত রাখতে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীন সরকার কোন ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১২০ দিন আটক রাখতে পারে। ১২০ দিনের অতিরিক্ত আটক রাখতে হলে উপদেষ্টা বোর্ডের মতামত অনুযায়ী রাখতে হবে। আটকের তারিখ হতে ১৭০ দিনের মধ্যে উপদেষ্টা বোর্ড ইহার রিপোর্ট সরকারের নিকট দাখিল করবে।

Section 10: Reference to Advisory Board-
In every case where a detention order has been made under this Act, the Government shall, within one hundred and twenty days from the date of detention under the order, place before the Advisory Board constituted under section 9 the grounds on which the order has been made and the representation, if any, made by the person affected by the order.
২,৪১২.
'A' এবং 'B' এর মধ্যে একটি চুক্তি অনুযায়ী 'A', 'B' কে কিছু রেলওয়ে শেয়ার বিক্রি করতে সম্মত হয়। 'A' চুক্তি সম্পাদন করতে অস্বীকার করলে 'B' এর কী অধিকার আছে?
  1. চুক্তি বাতিল করা
  2. A কে শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা
  3. A কে শেয়ারগুলি হস্তান্তর করতে বাধ্য করা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারার অধীনে, যদি কোনো চুক্তির লঙ্ঘনের ফলে ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট প্রতিকার না হয় এবং চুক্তির বস্তু সীমিত বা অনন্য হয়, তবে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন আদেশ দিতে পারে।
উক্ত চুক্তির ক্ষেত্রে রেলওয়ে শেয়ার একটি সীমিত এবং বিশেষ ধরনের সম্পত্তি, যা বাজারে সবসময় সহজলভ্য নাও হতে পারে। সেই কারণে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যথেষ্ট প্রতিকার নয়, বরং আদালত 'A' কে শেয়ার হস্তান্তর করতে বাধ্য করতে পারে।

- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২(গ) ধারা:
"যখন চুক্তির লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট প্রতিকার নয়, তখন চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।"

- উদাহরণ (আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী):
একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক রেলওয়ে শেয়ারের চুক্তিতে, 'A' চুক্তি লঙ্ঘন করলে 'B' আদালতের মাধ্যমে বাধ্য করতে পারে, কারণ শেয়ারগুলোর বাজারমূল্য পরিবর্তনশীল এবং সবসময় পাওয়া যায় না।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা- যে-সব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদায়যোগ্য:
যদি এ অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, তবে যে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে:
(ক) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হয়;
(খ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না;
(গ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না; অথবা
(ঘ) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।

ব্যাখ্যা: যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত এটা অবশ্যই ধরে নিবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার তেমনভাবে করা যায়।
----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Sections-12. Cases in which specific performance enforceable:
Except as otherwise provided in this Chapter, the specific performance of any contract may in the discretion of the Court be enforced- 
(a) when the act agreed to be done is in the performance, wholly or partly, of a trust; 
(b) when 4[there] exists no standard for ascertaining the actual damage caused by non-performance of the act agreed to be done; 
(c) when the act agreed to be done is such that pecuniary compensation for its non-performance would not afford adequate relief; or 
(d) when it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the non-performance of the act agreed to be done. 
 
Explanation - Unless and until the contrary is proved, the Court shall presume that the breach of a contract to transfer immoveable property cannot be adequately relieved by compensation in money, and that the breach of a contract to transfer moveable property can be thus relieved.
২,৪১৩.
Which article of the Bangladesh Constitution ensures the independence of judicial officers?
  1. Article 116
  2. Article 116A
  3. Article 117
  4. Article 118
ব্যাখ্যা
Article 116A- Judicial officers to be independent in the exercise of their functions:
Subject to provisions of the Constitution, all persons employed in the judicial service and all magistrates shall be independent in the exercise of their judicial functions.

অনুচ্ছেদ ১১৬ক- বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন:
 এই সংবিধানের বিধানাবলী সাপেক্ষে বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিগণ এবং ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন।
২,৪১৪.
‘D’ নিয়মিতভাবে চুরি হওয়া সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় করে, জেনে যে সেগুলো চুরি হয়েছে। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর বিধান অনুসারে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  3. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪১৩ অনুসারে, যে কেউ নিয়মিতভাবে চুরি হওয়া সম্পত্তি জেনে বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও ক্রয়-বিক্রয় করে, তার শাস্তি হলো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকারের কারাদণ্ড এবং জরিমানা। এখানে, ‘D’ নিয়মিতভাবে চুরি হওয়া সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় করেছে, জেনে যে সেগুলো চুরি হয়েছে, যা ধারা ৪১৩-এর অধীনে অপরাধ। সুতরাং, সর্বোচ্চ শাস্তি হলো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
সুতরাং, ধারা ৪১৩ অনুসারে ‘D’-এর অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ৪১৩ ধারার বিধান অভ্যাসগতভাবে চোরাই সম্পত্তির বেচাকেনা করা:- কোন ব্যক্তি যদি যে সম্পত্তি চোরাই বলে সে জানে বা তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, অভ্যাসগতভাবে বরাবর সে সম্পত্তির বেচাকেনা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।
-------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 413. Habitually dealing in stolen property:- Whoever habitually receives or deals in property which he knows or has reason to believe to be stolen property, shall be punished with imprisonment for life, or with imprison - ment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.

২,৪১৫.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ১৪৪ ধারার ক্ষমতাবলে আদেশ প্রদান করতে পারেন ________।
  1. জাস্টিস অফ দ্য পিস
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  4. প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
 ♦ আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কারো আবেদনের প্রেক্ষিতে অথবা নিজে স্বত্বঃপ্রণোদিত হয়ে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে-

i) আইনানুগভাবে কর্মরত কোন ব্যক্তির প্রতি বাধা, বিরক্তি বা ক্ষতির আশংকা;
ii) মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তা বিপন্ন হবার আশংক;
iii) উৎপাত বা জনসাধারনের শান্তিভঙ্গের আশংকা;
iv) দাঙ্গা বা মারামারির আশংকা;  এবং
v) আগু প্রতিরোধ ও দ্রুত প্রতিকার প্রয়োজন হলে।  

♦১৪৪ ধারার আদেশ সাধারণত সর্বোচ্চ ২ মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকে; তবে সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তি দ্বারা ১৪৪ ধারার আদেশকে ২ মাসের অধিক সময় পর্যন্ত বলবৎ রাখতে পারে।‌

♦১৪৪ (৪) ধারামতে কোন ম্যাজিস্ট্রেট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আবেদনক্রমে ১৪৪ ধারার আওতায় তার নিজের বা তার অধীনস্ত কোন ম্যাজিস্ট্রেট বা তার পূর্ববর্তী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারেন।‌

♦১৪৪ ধারা মেট্রোপলিটন এলাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবেনা। তবে মেট্রোপলিটন এলাকায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে।

♦ ১৪৪ ধারার আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা জজের নিকট রিভিশন করা যাবে।
২,৪১৬.
দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুযায়ী “Fraudulently” শব্দটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে?
  1. ধারা ২৪
  2. ধারা ২৫
  3. ধারা ২৬
  4. ধারা ২৮
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধিতে “Fraudulently” (প্রতারণাপূর্বক) শব্দটির ব্যাখ্যা ধারা ২৫-এ দেওয়া আছে। ধারা ২৫-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি "প্রতারণাপূর্বক" কোনো কাজ করবে বলে গণ্য হবে, যখন সে সেই কাজটি প্রতারণার অভিপ্রায় (intent to defraud) সহকারে সম্পাদন করে। শুধুমাত্র ক্ষতি বা মিথ্যা বর্ণনা দেওয়া যথেষ্ট নয়; এর জন্য সুনির্দিষ্টভাবে প্রতারণার উদ্দেশ্য থাকতে হবে।

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ - ধারা ২৫: "প্রতারণাপূর্বক" (Fraudulently)-
যদি কোন ব্যক্তি কোন কাজ প্রতারণার অভিপ্রায়ে করে, তবে এবং কেবলমাত্র তখনই সেই ব্যক্তি উক্ত কাজটি ‘প্রতারণাপূর্বক’ করেছে বলে গণ্য হবে।
---------
⇒ The penal Code,1860: Section- 25. “Fraudulently":
A person is said to do a thing fraudulently if he does that thing with intent to defraud but not otherwise.

২,৪১৭.
বৈরী সাক্ষী (Hostile Witness) কাকে বলে?
  1. যে সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয় না।
  2. যে সাক্ষী কোনো পক্ষের হয়ে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
  3. যে সাক্ষী তার জবানবন্দিতে নিজের পক্ষের সমর্থনে কথা বলে।
  4. যে সাক্ষী তার নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে বা বিরুদ্ধ পক্ষের সমর্থনে সাক্ষ্য দেয়।
ব্যাখ্যা

→ সঠিক উত্তর: ঘ) যে সাক্ষী তার নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে বা বিরুদ্ধ পক্ষের সমর্থনে সাক্ষ্য দেয়।
বৈরী সাক্ষী (Hostile Witness) হলো সেই সাক্ষী যাকে কোনো পক্ষ (বাদী বা বিবাদী) আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উপস্থাপন করে, কিন্তু সে যদি নিজের পক্ষের বিরুদ্ধে বা প্রতিপক্ষের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে, তাহলে তাকে বৈরী সাক্ষী হিসেবে গণ্য করা হয়।
- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৫৪ অনুযায়ী, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ তার নিজের সাক্ষীকে জেরা করতে পারে যদি সাক্ষী বৈরী হয়ে যায়। সাধারণত, জেরা করার অধিকার প্রতিপক্ষের থাকে, তবে যদি আদালত মনে করে যে একজন সাক্ষী ইচ্ছাকৃতভাবে বিপরীতমুখী বক্তব্য দিচ্ছে, তবে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষও তাকে জেরা করতে পারে।

 কখন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা হয়?
১) যখন সাক্ষী তার নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়।
২) যখন সাক্ষী প্রতিপক্ষের পক্ষে কথা বলে।
৩) যখন সাক্ষী তার আগের দেওয়া বক্তব্য থেকে সরে আসে বা বিপরীত কথা বলে।

উদাহরণ:
- একজন সাক্ষী যদি পুলিশের সামনে একরকম বক্তব্য দেয়, কিন্তু আদালতে এসে তার বিপরীত কথা বলে, তাহলে সে বৈরী সাক্ষী বলে গণ্য হতে পারে।

⇒ অর্থাৎ যদি একজন সাক্ষী তার পক্ষের বিরুদ্ধে কথা বলে অথবা প্রতিপক্ষের পক্ষে কথা বলে, তাহলে তাকে বৈরী সাক্ষী বলা হয় এবং সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে জেরা করতে পারে।
- এটি আদালতের বিবেচনার বিষয় যে সাক্ষী সত্যিই বৈরী কি না।

২,৪১৮.
কোন ক্ষেত্রে বাদীপক্ষকে ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে Order-VII, rule-11 এ আরজি প্রত্যাখ্যান করা যায়?
  1. প্রার্থিত প্রতিকারের মূল্যায়ন কম করা হলে
  2. আরজিতে মামলার কারণ উল্লেখ না থাকলে
  3. মামলার আরজি কার্টিজ পেপারে উপস্থাপন না করলে
  4. আরজির সাথে প্রত্যেক বিবাদীর জন্য সমন ও আরজির কপি না দিলে
ব্যাখ্যা
♦আরজিতে মামলার কারণ উল্লেখ না থাকলে, আদালত আরজি সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি আরজি প্রত্যাখ্যান করতে পারে। আরজিতে প্রার্থিত প্রতিকারের মূল্যমান কম করা হলে বা প্রয়োজনের তুলনায় কম মূল্যের স্ট্যাম্পযুক্ত কাগজে আরজি লেখা হলে বা আরজির সাথে প্রত্যেক বিবাদীর জন্য সমন ও আরজির কপি না দিলে, আদালত উক্ত ক্ষেত্রে সরাসরি আরজি প্রত্যাখ্যানের আদেশ দিবে না বরং প্রার্থিত প্রতিকারের মূল্যমান সংশোধন করতে, আরজি প্রয়োজনীয় কার্টিজ পেপারে উপস্থাপন করার জন্য এবং প্রয়োজনীয় সমন ও আরজির কপি সরবরাহ করার জন্য ২১ দিন সময় দিবে। যদি উক্ত ২১ দিনের মধ্যে বাদী এমন আদেশ পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে আদালত আরজি প্রত্যাখ্যান করবে।

♦আরজি প্রত্যাখ্যানের আদেশ ডিক্রি হিসেবে গণ্য হবে। [ধারা-২(২)] ~ আরজি নাকচ / প্রত্যাখ্যানের কারণ ৪টি:

১) মোকদ্দমার কারণ উল্লেখ না করলে (Cause of action)

২) দাবিকৃত প্রতিকারের মূল্য কম দেয়া হলে (undervalued)

৩) অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্প পেপারে লিখা হলে (insufficiency stamped)

৪) মোকদ্দমাটি আইন/তামাদিতে বারিত হলে (Barred by law)

দাবিকৃত প্রতিকারের মূল্য কম দেখালে বা অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্পের ক্ষেত্রে আদালত তা সংশোধনের জন্য অনধিক ২১ দিন সময় দিতে পারে।
২,৪১৯.
বর্তমানে তামাদি আইনে কতটি ধারা ও তফসিল বলবৎ আছে?
  1. ২৯টি ধারা এবং ২টি তফসিল
  2. ৩০টি ধারা এবং ১টি তফসিল
  3. ২৯টি ধারা এবং ১টি তফসিল
  4. ৩১টি ধারা এবং ১টি তফসিল
ব্যাখ্যা
⇒ বর্তমানে তামাদি আইন, ১৯০৮ (The Limitation Act, 1908) অনুযায়ী:
- ২৯টি ধারা বলবৎ আছে।
- ১টি তফসিল বলবৎ আছে।
অতএব, বর্তমানে ১৯০৮ সালের তামাদি আইনে মোট ২৯টি ধারা এবং ১টি তফসিল বলবৎ আছে।

আইনের তফসিল (১টি):
এই তফসিলে মোকদ্দমা, আপিল এবং আবেদন দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।
তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে, যেখানে তিন ধরনের বিষয়ের তামাদি মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে— 
- মোকদ্দমা দায়েরের তামাদি মেয়াদ: অনুচ্ছেদ ১-১৪৯।
- আপিল দায়েরের তামাদি মেয়াদ: অনুচ্ছেদ ১৫০-১৫৭।
- দরখাস্ত দায়েরের তামাদি মেয়াদ: অনুচ্ছেদ ১৫৮-১৮৩।
২,৪২০.
কোন আদালত স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারে না?
  1. আপিল বিভাগ
  2. সহকারী জজ আদালত
  3. স্মল কজ কোর্ট
  4. জেলা জজ আদালত
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৮২ মতে কোন কোন আদালত বিক্রয় করার আদেশ প্রদান করতে পারে: স্মল কজ কোর্ট ব্যতীত অন্য যে কোন আদালত ডিক্রি জারিতে স্থাবর সম্পত্তির নিলাম বিক্রয়ের আদেশ প্রদান করতে পারে।
- সুতরাং স্মল কজ কোর্ট ডিক্রি জারিতে স্থাবর সম্পত্তির নিলাম বিক্রয়ের আদেশ প্রদান করতে পারে না।
-------------------
Order-21 Rule-82. What Courts may order sales:
- Sales of immovable property in execution of decrees may be ordered by any Court other than a Court of Small Causes.
২,৪২১.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে কোন রিটের জন্য যে কোনো ব্যক্তি আবেদন করতে পারেন?
  1. Writ of Mandamus
  2. Writ of Quo Warranto
  3. Writ of Certiorari
  4. Writ of Prohibition
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (২)(খ) ধারায় উল্লিখিত Writ of Quo Warranto (কারণ দর্শাও রিট) এবং Writ of Habeas Corpus-এর জন্য যে কোনো ব্যক্তি (কোনো সংক্ষুদ্ধতা ছাড়াই) আবেদন করতে পারেন। এটি পাবলিক অফিসারের অধিকার বা যোগ্যতার বৈধতা যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- অন্যান্য অপশনগুলো (Certiorari, Prohibition, Mandamus) ১০২(২)(ক) ধারার অধীনে পড়ে, যেখানে শুধুমাত্র সংক্ষুদ্ধ বা প্রভাবিত ব্যক্তি আবেদন করতে পারেন।

• রিট [Writ]:
আদালত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঘোষিত বা প্রচারিত বিধান বা আদেশ। এমন আদেশের মাধ্যমে আদালত কোন ব্যক্তিকে কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করে। রিট এর উৎপত্তি হলো ব্রিটিশ আইন ব্যবস্থায়। প্রাথমিকভাবে রিট মূলত রাজকীয় অধিকার [prerogrative writ or royal writ] নামে পরিচিত ছিল কারণ একমাত্র রাজা বা রাণী রিট জারি করার অধিকারী ছিল।

রিটের প্রকারভেদ: সংবিধানে ৫ প্রকার রিট উল্লেখ করা হয়েছে-
⇒ ১০২ এর ২(ক) তে ৩টি রিট উল্লেখ করা হয়েছে, (শুধুমাত্র সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি আবেদন করতে পারে)-
• ১০২(২) (ক) (অ) প্রতিষেধক বা নিষেধাজ্ঞামূলক রিট [Writ of Prohibition];
• ১০২(২) (ক) (অ) পরমাদেশ বা হুকুম জারী রিট [Writ of Mandamus];
• ১০২(২) (ক) (আ) উৎপ্রেষণ রীট [Writ of Certiorari]।

⇒ ১০২ এর ২(খ) তে ২টি রিট উল্লেখ করা হয়েছে, (যে কোন ব্যক্তি আবেদন করতে পারে)-
• ১০২(২) (খ) (অ) বন্দী হাজির রিট [Writ of Habeas Corpus] এবং
• ১০২(২) (খ) (আ) কারণ দর্শাও রিট [Writ of Quo Warranto]।

২,৪২২.
যদি সমন জারি না হয়ে ফেরত আসে, আদেশ-৯, বিধি-৫ অনুযায়ী বাদীকে কত দিনের মধ্যে নতুন সমনের জন্য আবেদন করতে হবে?
  1. ৭ দিনের মধ্যে
  2. ১৫ দিনের মধ্যে
  3. ১ মাসের মধ্যে
  4. ৩ মাসের মধ্যে
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধি, আদেশ-৯, বিধি-৫:
(১) বিবাদীকে কিংবা কতিপয় বিবাদীর কোনো একজনের প্রতি সমন দেওয়ার পর যদি তা জারি না হয়ে ফেরত আসে, এবং আদালতের যে কর্মচারী সাধারণত সমন জারির বিষয়ে আদালতের কাছে প্রত্যয়ন করেন, তিনি আদালতে উক্ত সমন জারি না হওয়ার প্রত্যয়নপত্রসহ তা ফেরত দেওয়ার পর এক মাসের মধ্যে বাদী যদি নতুন সমন দেওয়ার জন্য আবেদন না করেন, তাহলে আদালত অনুরূপ বিবাদীর বিরুদ্ধে মোকদ্দমাটি খারিজের আদেশ দেবে। তবে, যদি উক্ত এক মাসের মধ্যে বাদী নিম্নলিখিত যে কোনো কারণ দর্শিয়ে আদালতকে এ মর্মে সন্তুষ্ট করতে পারেন—

ক) যে বিবাদীর উপর সমন জারি হয়নি, বাদী যথাসাধ্য সকল চেষ্টা করেও সেই বিবাদীর ঠিকানা আবিষ্কার করতে ব্যর্থ হয়েছে; অথবা
খ) উক্ত বিবাদী পরোয়ানা জারি এড়িয়ে চলছেন; অথবা
গ) সময়ের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কোনো যৌক্তিক কারণ রয়েছে, তাহলে আদালত নতুন সমন দেওয়ার আবেদনের সময়ের মেয়াদ উপযুক্ত মনে করে বৃদ্ধি করতে পারবে।

(২) অনুরূপ ক্ষেত্রে বাদী (তামাদি আইন সাপেক্ষে) নতুন মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন।
২,৪২৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৫ক ধারার অনুযায়ী সমন অনুযায়ী সাক্ষী হাজির না হলে আদালত সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ কত টাকা অর্থদণ্ড দিতে পারেন?
  1. ১০০
  2. ২০০
  3. ২৫০
  4. ৫০০
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৫ক ধারায় দেয়া আছে-
- সমন জারির পরও কোন সাক্ষী বৈধ কারণ ব্যতীত ফৌজদারি আদালতে হাজির হতে অবহেলা বা অস্বীকার করলে, যে আদালতের নিকট উক্ত সাক্ষী হাজির হতে বাধ্য সেই আদালত কারণ দর্শাবার সুযোগ দিয়ে অনধিক দুইশত পঞ্চাশ টাকা জরিমানা করবে। এক্ষেত্রে আদালত যতদূর সম্ভব সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতি অনুসরণ করবেন।
-------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 485A- Summary procedure for punishment for non-attendance by a witness in obedience to summons:
(1) If any witness being summoned to appear before a Criminal Court is legally bound to appear at a certain place and time in obedience to the summons and without just excuse neglects or refuses to attend at that place or time or departs from the place where he has to attend before the time at which it is lawful for him to depart, and the Court before which the witness is to appear is satisfied that it is expedient in the interests of justice that such a witness should be tried summarily, the Court, may take cognizance of the offence and after given the offender an opportunity of showing cause why he should not be punished under this section, sentence him to fine not exceeding Taka two hundred and fifty.
(2) In every such case the Court shall follow, as nearly as may be practicable, the procedure prescribed for summary trials.
২,৪২৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় মৃত্যুদণ্ড সাজা প্রাপ্ত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান বর্ণিত আছে?
  1. ৩৬৮
  2. ৩৬৯
  3. ৩৭১
  4. ৩৭২
ব্যাখ্যা
⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারার বিধান: কোন ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হলে, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখে তা কার্যকর করা হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারার বিধান: (১) কোন ব্যক্তিকে মৃত্যু দণ্ডাদেশ দেয়া হলে দণ্ডাদেশে নির্দেশ থাকবে যে, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে তার গলায় ফাঁসি দিয়া ঝুলিয়ে রাখতে হবে।
(২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিকে কোথায় প্রেরণ করিতে হইবে তাহার উল্লেখ থাকিবে না।
⇒ CrPC-Section-368: Sentence of death:
(1) When any person is sentenced to death, the sentence shall direct that he be hanged by the neck till he is dead.
Sentence of transportation (2) No sentence of transportation shall specify the place to which the person sentenced is to be transported.
২,৪২৫.
দেওয়ানি আদালতসমূহকে ________ প্রদত্ত নির্দিষ্ট আকার ও আকৃতির একটি সীলমোহর ব্যবহার করতে হবে।
  1. আইন
  2. সরকার
  3. বিচারক
  4. হাইকোর্ট
ব্যাখ্যা
Section 16 of The Civil Courts Act, 1887-
Every Civil Court under this Act shall use a seal of such form and dimensions as are prescribed by the Government.
⇒ এই আইনের অধীন প্রত্যেক দেওয়ানী আদালতকে সরকার প্রদত্ত নির্দিষ্ট আকার ও আকৃতির একটি সীলমোহর ব্যবহার করতে হবে।

• এই বিধানটি দেওয়ানী আদালতগুলোর জন্য একটি আনুষ্ঠানিক সীলমোহর ব্যবহারের বিষয়ে নির্দেশিকা প্রদান করে। এর উদ্দেশ্য হল সকল দেওয়ানী আদালতের জন্য একটি নির্দিষ্ট মানের সীলমোহর ব্যবহারকে বাধ্যতামূলক করা।

"সরকার প্রদত্ত" অংশটি বোঝায় যে, সীলমোহরের আকার ও আকৃতি সরকারের দ্বারা নির্ধারিত হবে। আদালতগুলোকে নিজেদের ইচ্ছামত সীলমোহর ব্যবহার করার অনুমতি থাকবে না।
"নির্দিষ্ট আকার ও আকৃতি" অংশটি বোঝায় যে, সীলমোহরের আকৃতি ও আকার সুনির্দিষ্ট হবে। অর্থাৎ সরকার দ্বারা নির্ধারিত মাপদণ্ড থাকবে যা অনুসরণ করতে হবে।

এই বিধানটি প্রধানত আদালতগুলোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও স্বীকৃত মানের সীলমোহর ব্যবহারের নিশ্চয়তা প্রদান করে। এটি আনুষ্ঠানিকতাকে বজায় রাখতে এবং আদালতের নথিপত্রগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়।
২,৪২৬.
X নিজেকে মৃত Y হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে। X এর কি অপরাধ হলো-
  1. ক্ষতি
  2. প্রতারণা
  3. প্রবঞ্চনা
  4. ছদ্মবেশে প্রবঞ্চনা
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৪১৬ ধারার বিধান অপরের রূপ ধারণপূর্বক প্রতারণাঃ কোন ব্যক্তি যদি নিজেকে অন্য কোন ব্যক্তি বলে প্রতারণা করে অথবা জ্ঞাতসারে কোন ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে অথবা নিজেকে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে সে নিজে বা সে ব্যক্তি অন্য যে ব্যক্তি নয় সে ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা (Explanation):-
যে ব্যক্তির রূপ ধারণ করা হয়েছে সে ব্যক্তি প্রকৃত ব্যক্তি হোক আর কাল্পনিক ব্যক্তি হোক না কেন অপরাধটি অনুষ্ঠিত হবে।

♦উদাহরণসমূহঃ
(ক) ক একই নামে একজন বিত্তশালী ব্যাংকার বলে নিজেকে পরিচয় দান করে। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।

(খ) ক নিজেকে খ বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে, খ জনৈক মৃত ব্যক্তি। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।

♦অর্থাৎ প্রতারণার উদ্দেশ্যে অন্যের পরিচয়ে নিজেকে উপস্থিত করলে তাকে ছদ্মবেশী প্রতারণা বা Cheating by personation বলে।

♦ ৪১৯ ধারায় cheating by personation এর শাস্তি বর্ণিত আছে যা অনধিক ৩ বৎসর কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ড।
২,৪২৭.
দণ্ডবিধির ৩৬১ ধারা অনুযায়ী, কোন বয়সী নাবালিকাকে আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে মনুষ্যহরণের অপরাধের আওতায় আনা হয়?
  1. ১৪ বছরের কম
  2. ১৬ বছরের কম
  3. ১৮ বছরের কম
  4. ২১ বছরের কম
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৬১ অনুসারে, ষোল বৎসরের কম বয়সী কোনো নাবালিকাকে তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ হতে নিয়ে গেলে তা আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে মনুষ্যহরণ হিসেবে গণ্য হবে। ছেলেদের ক্ষেত্রে এই বয়সসীমা চৌদ্দ বছর।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৬১ ধারার বিধান আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে মনুষ্যহরণ:- কোন ব্যক্তি যদি চৌদ্দ বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালককে অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালিকাকে অথবা বিকৃত মস্তিষ্ক কোন ব্যক্তিকে তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই অভিভাবকের রক্ষণাবেক্ষণ হতে নিয়ে যায়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক বা বালিকাকে অথবা অনুরূপ বিকৃতমস্তিষ্ক ব্যক্তিকে আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।
ব্যাখ্যা:- এই ধারায় "আইনসম্মত অভিভাবক" বলতে অনুরূপ অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা অপর ব্যক্তির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আইনতঃ ভারপ্রাপ্ত যেকোন ব্যক্তিকেও বুঝাবে।
ব্যতিক্রম:- যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে নিজেকে কোন অবৈধ সন্তানের পিতা বলে বিশ্বাস করে অথবা যে ব্যক্তি নিজেকে অনুরূপ শিশুর আইনসম্মত রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতাপ্রাপ্ত বলে সরলমনে বিশ্বাস করে, সে ব্যক্তি কোন অবৈধ বা বেআইনী উদ্দেশ্যে অনুরূপ কাজ না করলে তার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রয়োগযোগ্য হবে না।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860-  Section 361. Kidnapping from lawful guardianship: Whoever takes or entices any minor under fourteen years of age if a male, or under sixteen years of age if a female, or any person of unsound mind, out of the keeping of the lawful guardian of such minor or person of unsound mind, without the consent of such guardian, is said to kidnap such minor or person from lawful guardianship.
Explanation.-The words "lawful guardian" in this section include any person lawfully entrusted with the care or custody of such minor or other person.
Exception.-This section does not extend to the act of any person who in good faith believes himself to be the father of an illegitimate child, or who in good faith believes himself to be entitled to the lawful custody of such child, unless such act is committed for an immoral or unlawful purpose.

২,৪২৮.
কখন পারস্পরিক দায়শোধের আবেদন করার ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন?
  1. মোকদ্দমা দায়েরের আগে
  2. মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর সময়
  3. মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর পর
  4. মোকদ্দমা সমাপ্তির পর
ব্যাখ্যা
• পারস্পরিক দায়শোধ [Set off]:
পারস্পরিক দায়শোধ বা দাবী সম্বনয় অর্থ হলো একটি দাবীর বিরুদ্ধে অন্য একটি দাবী উত্থাপন করা। অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় এমন অনেক ক্ষেত্র থাকে যেখানে বাদী ও বিবাদী প্রত্যেকে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অর্থ দাবী করতে পারে বা উভয় পক্ষ একে অপারের নিকট পাওনা দাবী করতে পারে। উক্ত ক্ষেত্রে উভয়ের পাওনা সম্বনয় করার প্রশ্ন ওঠে। দেওয়ানী কার্যবিধিতে ২ ধরণের পারস্পরিক দায়শোধ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
১. আইনানুগ পারস্পরিক দায় শোধ [legal set off];
২. ন্যায়সঙ্গত দাবী সম্বনয় [Equitable set off].

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ আদেশের ৬ বিধির অধীন বিবাদী পারস্পরিক দায় শোধের আবেদন করতে পারে। বিবাদী বাদীর বিরুদ্ধে পারস্পরিক দায় শোধের বা সমন্বয়ের আবেদন করতে পারে অর্থের মামলায়। অর্থাৎ বাদী যদি বিবাদীর বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের মামলা করে, তবে বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার জন্য বিবাদী লিখিত আবেদন করতে পারে। আদালতের অনুমতি ছাড়া, মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর সময়, বিবাদী যে ঋণের জন্য পারস্পরিক দায়শোধ বা Set off দাবী করছে সেই ঋণের বা পাওনা টাকার বিবরণ সম্বলিত একটি লিখিত বিবৃতি দাখিল করতে পারবে। তবে আদালত অনুমতি দিলে প্রথম শুনানীর পরও Set off এর আবেদন করা যাবে।
২,৪২৯.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর কোন ধারায় তালাকের বিধান বর্ণিত হয়েছে?
  1. ধারা ৫
  2. ধারা ৬
  3. ধারা ৭
  4. ধারা ৮
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৭-এ তালাকের বিধান বর্ণিত হয়েছে। এই ধারায় তালাক উচ্চারণের পর লিখিত নোটিশ প্রদান, সালিশী কাউন্সিল গঠন, ৯০ দিনের অপেক্ষা মেয়াদ, গর্ভবতী স্ত্রীর ক্ষেত্রে গর্ভকালের বিবেচনা এবং পুনর্বিবাহের বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৭ ধারার বিধান: তালাক (Talaq):
১) কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে ইচ্ছা করলে সে কোন প্রকারেই হোক তালাক উচ্চারন করার পরেই সে তালাক দিয়েছে বলে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানাবে এবং তার স্ত্রীকেও একটি কপি পাঠাবে।
২) উপর্যুক্ত বিধান লঙ্ঘনের শান্তি- ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
৩) অন্য কোনভাবে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে কোন তালাক প্রত্যাহার না করা হলে চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরিত নোটিশের তারিখ হতে ৯০ দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৪) নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের ভিতরে চেয়ারম্যান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুনর্মিলন স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করবেন ও এই কাউন্সিল পুনর্মিলন ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
৫) তালাক প্রদানের সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে ৩নং উপধারায় উল্লিখিত মেয়াদ বা গর্ভকাল এই দুই এর মধ্যে যা পরে শেষ হবে, তা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৬) এই ধারা অনুযায়ী কার্যকর তালাক দ্বারা যার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে সেই স্ত্রীর তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সাথে মধ্যবর্তী বিবাহ ছাড়া তার পূর্বের স্বামীর সঙ্গে পুনর্বিবাহে কোনো বাধা থাকবে না, যদি না বিবাহবিচ্ছেদ তৃতীয়বারের মত কার্যকর হয়ে থাকে।

⇒ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961, Section-7. Talaq:
(1) Any man who wishes to divorce his wife shall, as soon as may be after the pronouncement of talaq in any form whatsoever, give the Chairman notice in writing of his having done so, and shall supply a copy thereof to the wife.
(2) Whoever contravenes the provisions of sub-section (1) shall be punishable with simple imprisonment for term which may extend to one year or with fine which may extend to ten thousand taka or with both.
(3) Save as provided in sub-section (5), a talaq unless revoked earlier, expressly or otherwise, shall not be effective until the expiration of ninety days from the day on which notice under sub-section (1) is delivered to the Chairman. 
(4) Within thirty days of the receipt of notice under sub-section (1), the Chairman shall constitute an Arbitration Council for the purpose of bringing about a reconciliation between the parties, and the Arbitration Council shall take all steps necessary to bring about such reconciliation.
(5) If the wife be pregnant at the time talaq is pronounced, talaq shall not be effective until the period mentioned in sub-section (3) or the pregnancy, whichever be later, ends.
(6) Nothing shall debar a wife whose marriage has been terminated by talaq effective under this section from re-marrying the same husband, without an intervening marriage with a third-person, unless such termination is for the third time so effective.

২,৪৩০.
An agreement that restrains the marriage of a major person is:
  1. Valid
  2. Void
  3. Voidable
  4. Enforceable with conditions
ব্যাখ্যা
Section 26 of the Contract Act: Agreement in Restraint of Marriage is Void:
"Every agreement in restraint of the marriage of any person, other than a minor, is void."

- নাবালক ব্যতীত, কোনো ব্যক্তির বিবাহের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী প্রতিটি সম্মতি বাতিল।
২,৪৩১.
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর অধীন তদন্ত বা বিচার কার্যে মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে সর্বনিম্ন কত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা

উত্তর: খ) ২ বছর।

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ধারা ২৮গ- মিথ্যা তথ্য প্রদানের দণ্ড:
(১) মিথ্যা জানিয়া বা তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হইয়া কোন ব্যক্তি ভিত্তিহীন কোন তথ্য, যে তথ্যের ভিত্তিতে এই আইনের অধীন তদন্ত বা বিচার কার্য পরিচালিত হইবার সম্ভাবনা থাকে, প্রদান করিলে তিনি মিথ্যা তথ্য প্রদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।

(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন মিথ্যা তথ্য প্রদান করিলে তিনি এই ধারার অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অন্যূন ২ (দুই) বৎসর বা অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
 
(৩) তথ্য প্রদানকারী কমিশনের বা সরকারি কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী হইলে এবং তিনি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন মিথ্যা তথ্য প্রদান করিলে তাহার বিরুদ্ধে উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত দণ্ড প্রদান করা হইবে।]

২,৪৩২.
ফৌজদারি সমন জারী করার জন্য প্রধান শর্ত কী?
  1. বিচারকের মৌখিক নির্দেশ
  2. স্থানীয় থানার অনুমোদন
  3. মামলার সাক্ষীর স্বাক্ষর
  4. লিখিত ফরমে বিচারকের স্বাক্ষর এবং সীলমোহর
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৮ ধারা- সমনের ফরম:
(১) কোন আদালত কর্তৃক এই কার্যবিধির বিধান অনুসারে প্রদত্ত প্রত্যেকটি সমন লিখিতভাবে ও দুই কপিতে দিতে হবে এবং উক্ত আদালতের বিচারক বা সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক সময়ে সময়ে প্রণীত বিধি কর্তৃক নির্দেশিত অন্য কোন অফিসার দ্বারা স্বাক্ষরিত ও সীলমোহরকৃত হবে।

(২) সমন জারিকারক: এরূপ সমন কোন পুলিশ অফিসার কর্তৃক অথবা এতদ্দুদ্দেশ্যে সরকার দ্বারা প্রণীত বিধি সাপেক্ষে সমন প্রদানকারী আদালতের কোন অফিসার কর্তৃক অথবা কোন সরকারী কর্মচারী কর্তৃক জারী হবে।
২,৪৩৩.
'Nemo debet bis puniri pro uno delicto'- উক্ত নীতিটি The General Clauses Act,1897 এর কত ধারায় প্রতিফলিত হয়েছে?
  1. ১৮ ধারায়
  2. ২১ ধারায়
  3. ২৫ ধারায়
  4. ২৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
• 'Doctrine of double jeopardy' বা 'দোবারা সাজা মতবাদ' যে নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত তা হলো:
Nemo debet bis puniri pro uno delicto.
যার অর্থ- 'No one shall be punished twice for one fault. অর্থাৎ 'একই অপরাধের জন্য দু'বার শাস্তি দেয়া যায় না।'

জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের ২৬ ধারায় বলা আছে-
Where an act or omission constitutes an offence under two or more enactments, then the offender shall be liable to be prosecuted and punished under either or any of those enactments, but shall not be liable to be punished twice for the same. 

- 'যখন কোন কার্য বা কার্য বিচ্যুতি দু'টি আইনে অপরাধ হিসেবে পরিগণিত হয় তখন একই অপরাধের কারণে অপরাধীকে দু'বার শাস্তি দেয়া যাবে না যদিও উভয় আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়ে থাকে।'

জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের ২৬ ধারার উপর বিশদ আলোচনাকালে বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুল করিম আরও উল্লেখ করেন যে, বর্ণিত অপরাধের কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাধারণ আইনে (general law) এবং বিশেষ আইনে (special law) দু'টি মামলা চলমান থাকলে আইন ব্যাখ্যার সূত্র এবং বিশেষ আইনে 'non-obstante clause' থাকার কারণে সাধারণ আইনের অধীনে দায়েরকৃত মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং বিশেষ আইনের অধীনে রুজুকৃত মামলাটির বিচার কার্যক্রম চালু থাকবে।
২,৪৩৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির ORDER-XXVI, Rule-9 অনুযায়ী স্থানীয় তদন্তের জন্য কমিশন প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা কত?
  1. এক মাস
  2. দুই মাস
  3. তিন মাস
  4. ছয় মাস
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির Order XXVI, Rule 9 অনুযায়ী, আদালত যদি স্থানীয় তদন্ত প্রয়োজন মনে করে (যেমন: সম্পত্তির বাজারমূল্য নির্ধারণ, অন্তবর্তীকালীন মুনাফা, খেসারত ইত্যাদি), তবে আদালত কমিশনের মাধ্যমে একজন কমিশনার নিযুক্ত করতে পারেন।
- এই কমিশনারকে আদালত "অনধিক তিন মাসের মধ্যে" প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিতে পারেন।
তবে আদালতের বিবেচনায় যদি যথার্থ কারণ থাকে এবং কমিশনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়, তাহলে আদালত সময় বৃদ্ধি করতেও পারেন।

⇒The Code of Civil Procedure,1908, Order-26, Rule-9: Commissions to make local investigations:
- In any suit in which the Court deems a local investigation to be requisite or proper for the purpose of elucidating any matter in dispute, or of ascertaining the market-value of any property, or the amount or any mesne profits or damages or annual net profits, the Court may issue a commission to such person as it thinks fit directing him to make such investigation and to report thereon to the Court within such time not exceeding three months as may be fixed by the Court
Provided that the Court may, on the prayer of the Commissioner and on sufficient cause being shown, extend the time.
২,৪৩৫.
কোনটির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি 'চোরাই মাল' হিসেবে গণ্য হবে না?
  1. দস্যুতা
  2. বলপূর্বক গ্রহণ
  3. প্রতারণা
  4. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
ব্যাখ্যা
চোরাইমাল [Stolen Property]:
৪১০ ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিত ৫টি উপায়ে কোন সম্পত্তির দখল হস্তান্তর বা গ্রহণ করা হলে উক্ত সম্পত্তি চোরাই মাল বলে গণ্য হবে-
১. চুরি,
২. বলপূর্বক গ্রহণ,
৩. দস্যুতা,
৪. অপরাধমূলক আত্মসাৎ,
৫. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ।

প্রতারণা বা ডাকাতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি চোরাই মাল বলে গণ্য হবে না। যদি চোরাই মাল দখলের অধিকারী ব্যক্তির নিকট চলে আসে, তাহলে উক্ত সম্পত্তি আর চোরাই মাল বলে গণ্য হবে না।

Section 410- Stolen property:
Property, the possession whereof has been transferred by theft, or by extortion, or by robbery, and property which has been criminally misappropriated or in respect of which criminal breach of trust has been committed, is designated as "stolen property," whether the transfer has been made, or the misappropriation or breach of trust has been committed, within or without Bangladesh. But, if such property subsequently comes into the possession of a person legally entitled to the possession thereof, it then ceases to be stolen property.
২,৪৩৬.
দণ্ডবিধির ১৭১ক ধারা অনুযায়ী, 'নির্বাচনী অধিকার' বলতে কী বোঝায়?
  1. ভোট দেওয়ার অধিকার
  2. প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানো বা না দাঁড়ানোর অধিকার
  3. ভোট দেওয়া বা ভোটদান থেকে বিরত থাকার অধিকার
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ১৭১ক ধারার (খ) উপধারা অনুযায়ী, "নির্বাচনী অধিকার" বলতে বোঝানো হয়েছে—
- প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানোর অধিকার
- প্রার্থী না হওয়ার অধিকার
- প্রার্থী হওয়ার পর মনোনয়ন প্রত্যাহারের অধিকার
- ভোট দেওয়ার অধিকার
- ভোটদান থেকে বিরত থাকার অধিকার
→ অতএব, উল্লিখিত প্রশ্নে 'উপরের সবগুলো ' সঠিক।

⇒ দণ্ডবিধির ১৭১ক ধারার বিধান 'নির্বাচন প্রার্থী' 'নির্বাচনী অধিকার' কথা দুইটির সংজ্ঞা :- এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যসমূহের পরিপ্রেক্ষিতে- (ক) 'নির্বাচন প্রার্থী' বলতে কোন নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত ব্যক্তিকে বুঝাবে এবং যে ব্যক্তি কোন নির্বাচনের জল্পনা-কল্পনা চলাকালে উহাতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রতিভাত করেন সে ব্যক্তিকেও বুঝাবে। তবে সে ব্যক্তিকে পরে অনুরূপ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হতে হবে;
(খ) নির্বাচনী অধিকার' বলতে কোন ব্যক্তির কোন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াবার অথবা না দাঁড়াবার অথবা প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে নাম প্রত্যাহার করার অথবা ভোট দেওয়ার অথবা ভোটদান হতে বিরত থাকার অধিকার বুঝায়।
------------------------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section-171A- “Candidate”, “Electoral right” defined:
- For the purposes of this Chapter -
- (a) "candidate" means a person who has been nominated as a candidate at any election and includes a person who, when an election is in contemplation, holds himself out as a prospective candidate thereat; provided that he is subsequently nominated as a candidate at such election;
- (b) "electoral right" means the right of a person to stand, or not to stand as, or to withdraw from being, a candidate or to vote or refrain from voting at an election.
২,৪৩৭.
“Clients, not advocates, are the litigants”- এই মূলনীতির মূল শিক্ষা কী?
  1. মক্কেল আইনজীবীর মতো জ্ঞানী নন
  2. আইনজীবীগণ মক্কেলের আত্মীয় হতে পারবেন না
  3. আইনজীবীদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব মামলায় প্রভাব ফেলতে পারবে
  4. মক্কেলের স্বার্থের জন্য আইনজীবীদের পারস্পরিক স্বার্থ নষ্ট করা যাবে না
ব্যাখ্যা
⇒ Cannons of Professional Conduct and Etiquette, এর অধ্যায় ১, রুল ৭ অনুযায়ী ‘আইনজীবী নয়; মেক্কেলগণই মামলার ব্যক্তি’।
- Conduct with regard to other advocates-এর ৭ নং দফায় এই মূলনীতি বলা হয়েছে। মামলা বা দ্বন্দ্ব হলো মক্কেলদের মধ্যে।

- সুতরাং মক্কেলদের দ্বন্দ্ব যেমন আইনজীবীদের পারস্পরিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না তেমনি আইনজীবীদের পারস্পরিক ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব মক্কেলের মামলাকে প্রভাবিত করবে না। এটিই পেশার পেশাদারিত্ব।

- বিধি-৭: মোকদ্দমাকারী মক্কেল, আইনজীবী নহেন। মক্কেলগনের মধ্যে বিদ্যমান তিক্ত সম্পর্ক আইনজীবীদের পারস্পরিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করিবে না, এমনকি প্রতিপক্ষের মক্কেলের প্রতিও নেতিবাচক প্রভাব ফেলিবে না। আইনজীবীদেরকে পারস্পরিক সংঘাত এড়াইয়া চলিতে হইবে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে এক পক্ষের আইনজীবী অপর পক্ষের আইনজীবীর ব্যক্তিগত স্বভাব বা বৈশিষ্ট্যের প্রতি বিদ্রূপাত্মক কোন ইঙ্গিত করিতে পারিবেন না। মামলা দীর্ঘায়িত করিতে পারে কিংবা অশোভনীয় কলহের সৃষ্টি করিতে পারে এমন ধরনের কথোপকথন আইনজীবীদের অবশ্যই সতর্কতার সহিত পরিহার করিতে হইবে।
----------------------------
- Rule-7: Clients, not Advocates, are the litigants. Whatever may be the ill feeling existing between clients, it should not be allowed to influence Advocates in their conduct and demeanour toward each other or toward the parties in the case. All personal clashes between Advocates should be scrupulously avoided, in the trial of a cause it is indecent to allude to the personal history or the personal peculiarities and idiosyncrasies of Advocates appearing on the other side. Personal colloquies between Advocates which cause delay and promote unseemly wrangling should be carefully avoided.
২,৪৩৮.
কোন বেআইনি উদ্দেশ্যে কোন মহিলা অপহৃত হয়েছে বা আটক রয়েছে এমন নালিশের ভিত্তিতে উক্ত মহিলাকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন __________।
  1. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. পুলিশ অফিসার
  4. ক এবং খ উভই
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Criminal Procedure, 1898, এর ৫৫২ ধারার বিধান অপহৃতা নারী প্রত্যার্পণে বাধ্য করার ক্ষমতাঃ কোন বে-আইনী উদ্দেশ্যে কোন স্ত্রীলোককে কিংবা ষোল বৎসরের নিম্ন বয়স্ক কোন বালিকাকে অপহরণ করা হয়েছে বা বে-আইনীভাবে আটক রাখা হয়েছে মর্মে কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর শপথ পূর্বক নালিশ করা হলে তিনি সে স্ত্রীলোককে অবিলম্বে মুক্তি দিবার বা উক্ত বালিকাকে অবিলম্বে তার স্বামী, মাতা পিতা, অভিভাবক বা তার আইন সংগত হেফাজতের অধিকারী অন্য কোন ব্যক্তির নিকট প্রত্যর্পণের আদেশ দিতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ করে এই আদেশ পালনে বাধ্য করতে পারবেন।
২,৪৩৯.
সহকারী জজের ডিক্রীর বিরুদ্ধে জেলা জজের নিকট আপীল দায়েরের জন্য তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ২০ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৭ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ The Civil Courts Act, 1887 এর ধারা ২১(২) অনুযায়ী, সহকারী জজের ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজের নিকট আপীল দায়ের করতে হয়।
- এতে তামাদির মেয়াদ হিসেবে ৩০ দিন নির্ধারিত রয়েছে, যা তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৫২ অনুসারে জেলা জজের আদালতে আপীলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
- তামাদি মেয়াদ: ৩০ দিন।
- সময়সীমা গণনা: যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা হচ্ছে, তার তারিখ থেকে গণনা শুরু হবে।

অর্থাৎ সহকারী জজের ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজের আদালতে আপীল করার জন্য তামাদির মেয়াদ ৩০ দিন।
২,৪৪০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩২ক ধারার বিধান 'এই অধ্যায়ের বিধানসমূহ মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রযোজ্য হবে না'। এখানে 'এই অধ্যায়' বলতে বুঝানো হয়েছে-
  1. Unlawful Assemblies
  2. Apprehended danger
  3. Disputes as to Immovable Property
  4. Public Nuisances
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০ম অধ্যায়ের বিধান গণ-উৎপাত [PUBLIC NUISANCES].

 ♦
ধারা ১৩২ক তে এই অধ্যায়ের বলতে গণ-উৎপাত [PUBLIC NUISANCES] অধ্যায়কে বুঝানো হয়ছে।
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩২ক ধারার বিধান প্রয়োগঃ এই অধ্যায়ের বিধানসমূহ মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রযোজ্য হবে না।

-----------------------------
♦ CHAPTER X -PUBLIC NUISANCES:
Section 132A. Application: The provisions of this Chapter shall not apply to a Metropolitan Area.
২,৪৪১.
অ্যাডভোকেট হওয়ার অযোগ্যতা বার কাউন্সিল অর্ডারের কোন অনুচ্ছেদে আছে?
  1. ২৭
  2. ২৭ (৩)
  3. ২৮
  4. ২৭ (৪)
ব্যাখ্যা
♣ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972 অনুচ্ছেদ ২৭ (৩) অনুযায়ী অ্যাডভোকেট হওয়ার অযোগ্যতার কথা উল্লেখ আছে।
২,৪৪২.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় "বেআইনি সমাবেশ" (Unlawful assembly)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ১৪০
  2. ধারা ১৪১
  3. ধারা ১৪২
  4. ধারা ১৪৩
ব্যাখ্যা

→ দণ্ডবিধির ১৪১ ধারা অনুযায়ী, পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি যদি একটি নির্দিষ্ট অবৈধ উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়, তবে সেটিকে "বেআইনি সমাবেশ"(Unlawful assembly) বলা হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১৪১ অনুযায়ী, পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি একত্রিত হলে এবং তাদের সাধারণ উদ্দেশ্য যদি ঐ সকল উদ্দেশ্য অনুযায়ী হয়, তবে তা "বেআইনি সমাবেশ" হিসেবে চিহ্নিত হয়। এই উদ্দেশ্যগুলির মধ্যে সরকার বা আইনসভাকে অঘোষিতভাবে অধিকারহীন করা, আইনগত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা, বা অন্য কোন অপরাধমূলক কাজ সংঘটিত করা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৪১ ধারার বিধান বেআইনি সমাবেশ:- পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশকে 'বেআইনি সমাবেশ' সেক্ষেত্রেই বলা হয়, যেক্ষেত্রে উক্ত সমাবেশের ব্যক্তিদের সাধারণ লক্ষ্য হয়-
প্রথম:- বাংলাদেশের সরকার বা আইনসভাকে অথবা কোন সরকারি কর্মচারীকে অনুরূপ কর্মচারীর আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগের সময় অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ অথবা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের হুমকি কর্তৃক ভীতি প্রদর্শন করা; কিংবা
দ্বিতীয়:- কোন আইনের অথবা কোন আইনগত ব্যবস্থার কার্যকরকরণে বাধা সৃষ্টি করা; কিংবা
তৃতীয়:- কোন ব্যক্তির দুষ্কর্ম বা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ অথবা অন্যবিধ অপরাধ অনুষ্ঠিত করা; কিংবা
চতুর্থ:- কোন ব্যক্তির প্রতি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের হুমকি প্রদর্শন করে কোন সম্পত্তির দখল গ্রহণ করা, অথবা কোন ব্যক্তিকে পথের অধিকার ভোগ হতে বঞ্চিত করা অথবা জল ব্যবহারের অধিকার হতে বঞ্চিত করা অথবা তাকে তার দখলে অবস্থিত অপর কোন অশরীরী অধিকার থেকে বঞ্চিত করা অথবা কোন অধিকার বা কল্পিত অধিকার প্রতিষ্ঠা করা; কিংবা
পঞ্চম:- অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগের হুমকি প্রদর্শন করে কোন ব্যক্তিকে সে আইনত বাধ্য নয় এমন একটি কার্য সম্পাদনে বাধ্য করা অথবা যে কার্যটি করতে সে আইনত বাধ্য বা অধিকারী তা সম্পাদন হতে বিরত করা।
ব্যাখ্যা:- যে সমাবেশ, সমাবিষ্ট হওয়াকালে বেআইনি ছিল না তা পরে বেআইনি সমাবেশ হতে পারে।
----------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-141. Unlawful assembly:
- An assembly of five or more persons is designated an "unlawful assembly," if the common object of the persons composing that assembly is:
First.-To overawe by criminal force, or show of criminal force, Government or Legislature, or any public servant in the exercise of the lawful power of such public servant; or
Second.-To resist the execution of any law, or of any legal process; or
Third.- To commit any mischief or criminal trespass, or other offence; or
Fourth.-By means of criminal force, or show of criminal force, to any person to take or obtain possession of any property, or to deprive any person of the enjoyment of a right of way, or of the use of water or other incorporeal right of which he is in possession or enjoyment, or to enforce any right or supposed right; or
Fifth.-By means of criminal force, or show of criminal force, to compel any person to do what he is not legally bound to do, or to omit to do what he is legally entitled to do.
Explanation. -An assembly which was not unlawful when it assembled, may subsequently become an unlawful assembly.

২,৪৪৩.
তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার দিন আদালত বন্ধ থাকলে এর প্রতিকার কী?
  1. আদালত খোলার পরবর্তী যেকোনো সময় মামলা দায়ের করা যাবে
  2. বন্ধের আগের দিনই মামলা, আপিল বা দরখাস্ত দায়ের করতে হবে
  3. আদালত খোলার পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে
  4. আদালত পুনরায় খোলার দিন মামলা, আপিল বা দরখাস্ত দায়ের করতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদির  আইনের ৪ ধারার বিধান- আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে:
-যেক্ষেত্রে কোন আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় কোন মামলা, আপিল বা আবেদনের জন্য তামাদির নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আদালত যেদিন খুলবে সেদিন উক্ত মামলা, আপিল বা আবেদন দাখিল করা যাবে।
------------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 4- Where Court is closed when period expires:
-Where the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application expires on a day when the Court is closed, the suit, appeal or application may be instituted, preferred or made on the day that the Court re-opens.
২,৪৪৪.
নিম্নলিখিত কোনটি সাক্ষ্য আইন অনুসারে একটি "ফ্যাক্ট" (Fact)?
  1. একজন ব্যক্তি একটি শব্দ উচ্চারণ করেছেন
  2. একজন ব্যক্তি কিছু শুনেছেন বা দেখেছেন
  3. একজন ব্যক্তির নির্দিষ্ট একটি মতামত রয়েছে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলো।
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩ অনুযায়ী, "ফ্যাক্ট" বলতে এমন কোনো বিষয় বা ঘটনার অস্তিত্ব বোঝানো হয় যা ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হতে পারে অথবা কোনো ব্যক্তির মানসিক অবস্থা সম্পর্কিত হতে পারে।
এখানে প্রতিটি উদাহরণটি "ফ্যাক্ট" এর অন্তর্ভুক্ত:
১) একজন ব্যক্তি একটি শব্দ উচ্চারণ করেছেন - এটি "ফ্যাক্ট" কারণ এটি একজন ব্যক্তির কার্যকলাপ বা কথাবার্তা যা সত্য প্রমাণিত হতে পারে।
২) একজন ব্যক্তি কিছু শুনেছেন বা দেখেছেন - এটি একটি "ফ্যাক্ট" কারণ এটি অনুভূতি (শোনা বা দেখা) দ্বারা প্রমাণিত কিছু ঘটনা।
৩) একজন ব্যক্তির নির্দিষ্ট একটি মতামত রয়েছে - এটি একটি "ফ্যাক্ট" কারণ এটি একটি মানসিক অবস্থা যা ব্যক্তি নিজে উপলব্ধি করেছেন।

অতএব, উপরের সবগুলোই "ফ্যাক্ট" হিসেবে গণ্য হয়, তাই সঠিক উত্তর "ঘ) উপরের সবগুলো"।

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩ অনুযায়ী, "ফ্যাক্ট" (Fact) এর অর্থ এবং অন্তর্ভুক্ত বিষয়:
(১) কোনো কিছু, অবস্থার অবস্থা, বা সম্পর্ক যা ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হতে পারে;
(২) যে কোনো মানসিক অবস্থা যার প্রতি ব্যক্তি সচেতন।

উদাহরণসমূহ:
(ক) যে কিছু বস্তু একটি নির্দিষ্ট স্থানে একটি নির্দিষ্ট অর্ডারে সাজানো আছে, তা একটি ফ্যাক্ট।
(খ) যে একজন ব্যক্তি কিছু শুনেছেন বা দেখেছেন, তা একটি ফ্যাক্ট।
(গ) যে একজন ব্যক্তি কিছু শব্দ বলেছেন, তা একটি ফ্যাক্ট।
(ঘ) যে একজন ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট মতামত ধারণ করেন, একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে, সৎ বা অসৎ বিশ্বাসে কাজ করেন, অথবা একটি নির্দিষ্ট শব্দ একটি নির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহার করেন, বা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন ছিলেন বা ছিলেন, তা একটি ফ্যাক্ট।
(ঙ) যে একজন ব্যক্তির একটি নির্দিষ্ট খ্যাতি রয়েছে, তা একটি ফ্যাক্ট।
একটি ফ্যাক্ট অন্য একটি ফ্যাক্ট এর সাথে সম্পর্কযুক্ত তখন বলা হয় যখন একটির সাথে অন্যটি সংযুক্ত থাকে, যেভাবে এই আইনে ফ্যাক্টসের প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কিত বিধানে বর্ণিত হয়েছে।
-------------
"Fact" means and includes-
(1) anything, state of things, or relation of things capable of being perceived by the senses;
(2) any mental condition of which any person is conscious.

Illustrations:
(a) That there are certain objects arranged in a certain order in a certain place, is a fact.
(b) That a man heard or saw something, is a fact.
(c) That a man said certain words, is a fact.
(d) That a man holds a certain opinion, has a certain intention, acts in good faith or fraudulently, or uses a particular word in a particular sense, or is or was at a specified time conscious of a    particular sensation, is a fact.
(e) That a man has a certain reputation, is a fact.
One fact is said to be relevant to another when the one is connected with the other in any of the ways referred to in the provisions of this Act relating to the relevancy of facts.
২,৪৪৫.
'Condonation of delay' নীতি তামাদি আইনের কোন ধার‍ার সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. ধারা ৩
  2. ধারা ৬
  3. ধারা ৫
  4. ধারা ৮
ব্যাখ্যা
• 'Condonation of delay' নীতি তামাদি আইনের ৫ ধারার সাথে সংশ্লিষ্ট।

• তামাদি আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী ৫টি ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর আদালতকে যথেষ্ট কারণ (sufficient cause) দেখিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারলে, আদালত বিলম্ব মওকুফ করতে পারে। একে Condonation of delay বা বিলম্ব মওকুফ করা বলে।

১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান নিম্নোক্ত ৫টি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য -
i) আপিল (Appeal);
ii) আপিল করার অনুমতি দরখাস্ত (Leave to appeal);
iii) রায়ের পুনর্বিচার দরখাস্ত (Revision);
iv) রায়ের পুনরীক্ষণের দরখাস্ত (Review);
v) অন্য কোন দরখাস্তে ( Any other application)।

১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান প্রযোজ্য নয়-
১. বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে।
২. মূল মামলার ক্ষেত্রে। যেমন- স্বত্ব ঘোষণা, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, অগ্রক্রয়ের মোকদ্দমা ইত্যাদি।

Section 5: Extension of period in certain cases
Any appeal or application for a revision or a review of judgment or for leave to appeal or any other application to which this section may be made applicable by or under any enactment for the time being in force may be admitted after the period of limitation prescribed therefor, when the appellant or applicant satisfies the Court that he had sufficient cause for not preferring the appeal or making the application within such period. 
 
Explanation - The fact that the appellant or applicant was misled by any order, practice or judgment of the High Court Division in ascertaining or computing the prescribed period of limitation may be sufficient cause within the meaning of this section.
২,৪৪৬.
জালিয়াতির সাজা দণ্ডবিধির কোন ধারায় দেওয়া আছে?
  1. ৪৬৩ ধারা
  2. ৪৬৫ ধারা
  3. ৪৬৪ ধারা
  4. ৪৬১ ধারা
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধি ৪৬৪ ধারা অনুযায়ী, যে সব কাজ জালিয়াতি বলে গণ্য হবে তা হলো-
(i) কোন ব্যক্তি নিজে যদি এই উদ্দেশ্যে স্বাক্ষর করে যে, তার স্বাক্ষর বা নামটি একই নামের অন্য কোন ব্যক্তির বলে চালিয়ে দেবেন;
(ii) যখন কোন ব্যক্তি অন্য কারো স্বাক্ষর জালিয়াতি করে স্বাক্ষর করে;
(iii) যদি কোন ব্যক্তি কোন বিলে পৃষ্ঠাঙ্কন করে এই উদ্দেশ্যে যে, তা অন্য কেউ করেছে বলে চালিয়ে দেবেন:
(iv) যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির সাথে ষড়যন্ত্র করে তার নামে কোন সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে ইজারা নেয় কিন্তু তার উদ্দেশ্য ছিল মূলত তৃতীয় কোন ব্যক্তিকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা; অথবা
(v) যদি কোন ব্যক্তি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করার উদ্দেশ্যে অন্য কোন ব্যক্তির কাছে সম্পদ গচ্ছিত রাখে এবং সে উদ্দেশ্য কোন প্রমিসরি নোট তৈরি করে।

- কোনো ব্যক্তির নিজের নাম স্বাক্ষরও জালিয়াতির সামিল হতে পারে। নিজের নামে স্বাক্ষর করলেই জালিয়াতি হবে বিষয়টা এমন নয়। বরং নিজের নাম স্বাক্ষর জালিয়াতি হতে পারে যদি স্বাক্ষরটা দ্বারা কোন মিথ্যা দলিল তৈরী করা হয়, কোন অধিকার দাবী করতে, কোন ব্যক্তিকে ক্ষতি করতে বা প্রতারণা করতে ইত্যাদি।

দণ্ডবিধির ৪৬৫ ধারায় জালিয়াতির শাস্তি বর্ণিত আছে, যা সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
২,৪৪৭.
দণ্ডবিধিতে কত প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে?
  1. ৩ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ৫ প্রকার
  4. ৬ প্রকার
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধিতে ৫ প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে।

- দণ্ডবিধি মূলত দণ্ড সম্পর্কিত আইন, দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় শাস্তির প্রকারভেদ রয়েছে।
- ৫৩ ধারায় পাঁচ প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে।
যথা:
      (i)  মৃত্যুদণ্ড (Death penalty)
      (ii) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life)
      (iii) কারাদণ্ড(Imprisonment) দুই প্রকার:
           ক) সশ্রম( Rigorous, that is,  with hard labour) এবং
           খ) বিনাশ্রম (Simple)
      (iv) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (forfeiture of property)
      (v) অর্থদণ্ড (fine)

- দণ্ডবিধির ধারা ৫৩ তে বিধান আছে যে, কারাদণ্ড ২ প্রকারের- সশ্রম ও  বিনাশ্রম। 
- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদায় সশ্রম কারাদণ্ড হবে।
---------------------------------------------------
⇒ Section 53: Punishments:
 The punishments to which offenders are liable under the provisions of this Code are,- 
Firstly,- Death;
Secondly,- Imprisonment for life;
Thirdly,-[Omitted by the Criminal Law (Extinction of Discriminatory Privileges) Act 1949 (Act No. II of 1950]. 
Fourthly,-Imprisonment, which is of two descriptions, namely:- 
(1) Rigorous, that is, with hard labour; 
(2) Simple; 
Fifthly,- Forfeiture of property; 
Sixthly,- Fine. 

-Explanation.-In the punishment of imprisonment for life, the imprisonment shall be rigorous.
২,৪৪৮.
The Penal Code, 1860 অনুযায়ী আত্মহত্যার সহায়তাকরণের অপরাধের সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কত বছর?
  1. ৩ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৭ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারার বিধান আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান:- কোন ব্যক্তি যদি আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান করবে, উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
-------------------------------
⇒The Penal Code, 1860: Section 306 Abetment of suicide:- If any person commits suicide, whoever abets the commission of such suicide, shall be punished with imprisonment either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
২,৪৪৯.
'A' চুরির দায়ে অভিযুক্ত হলেন। ইতোপূর্বে তিনি চুরির দায়ে দণ্ডিত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। এই ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশ নিম্নের কোন বিষয়রূপে প্রাসঙ্গিক?
  1. খারাপ আচরণরূপে
  2. স্বীকৃত বিষয়রূপে
  3. বিচার্য বিষয়রূপে
  4. আনুষঙ্গিক বিষয়রূপে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৪ ধারার বিধান: পূর্ববর্তী অসৎ উত্তর প্রদান প্রসঙ্গ ব্যতীত অন্যভাবে প্রাসঙ্গিক নয়:-
-ফৌজদারী মোকদ্দমায় আসামীর চরিত্র যে খারাপ, এটা প্রাসঙ্গিক বিষয় নয়। তবে তার চরিত্র ভাল এ মর্মে সাক্ষ্য প্রদান করা হলে তার চরিত্র মন্দ এটা প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।
 
ব্যাখ্যা-১: যে মোকদ্দমায় কোন ব্যক্তির খারাপ চরিত্রই বিচার্য বিষয়, সেক্ষেত্রে অত্র ধারা প্রযোজ্য নয়। 
ব্যাখ্যা-২: সাক্ষ্য হিসাবে খারাপ চরিত্রে পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশ প্রাসঙ্গিক। 
-------------------------
Section-54. Previous bad character not relevant, except in reply:
In criminal proceedings the fact that the accused person has a bad character is irrelevant, unless evidence has been given that he has a good character, in which case it becomes relevant.
Explanation 1. –This section does not apply to cases in which the bad character of any person is itself a fact in issue.
Explanation 2. –A previous conviction is relevant as evidence of bad character.
২,৪৫০.
সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ধারার বিধান অনুযায়ী বিচারক হিসেবে যে সকল ঘটনা দৃষ্টিগোচরে নিবেন তা ______________।
  1. প্রমাণের প্রয়োজন
  2. প্রমাণের প্রয়োজন নেই
  3. অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে
  4. মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে
ব্যাখ্যা
• জুডিশিয়াল নোটিশ (Judicial Notice)-
যেসব বিষয় আদালত জানেন বা জানেন বলে ধরা হয়, সেগুলোকে জুডিশিয়াল নোটিশ বা বিচারিক দৃষ্টিগোচর বলে। সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ও ৫৭ ধারায় জুডিশিয়াল নোটিশের বিধান রয়েছে।

সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ধারার বিধান অনুযায়ী-
যে সকল ঘটনা আদালত কর্তৃক লক্ষণীয় তা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
(Fact judicially noticeable need not be proved)

তবে জুডিশিয়াল নোটিশ চূড়ান্ত প্রমান নয়, এর বিরূদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করা যায়। অর্থাৎ, জুডিশিয়াল নোটিশের বিষয়গুলো চূড়ান্ত বা অপরিবর্তনীয় প্রমাণ নয়। কোনো পক্ষ চাইলে এর বিপরীতে সাক্ষ্য পেশ করে তা খণ্ডন করতে পারবে। তবে প্রাথমিকভাবে এগুলোকে আলাদাভাবে প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।
২,৪৫১.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার 'ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্পর্কে মতামত যেখানে প্রাসঙ্গিক' এর বিধান রয়েছে?
  1. সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারার
  2. সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারার
  3. সাক্ষ্য আইনের ৪৭ক ধারার
  4. সাক্ষ্য আইনের ৪৬ক ধারার
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৭ক ধারার বিধান: ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্পর্কে মতামত যেখানে প্রাসঙ্গিক- যখন আদালতকে কোনও ব্যক্তির ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্পর্কে অভিমত তৈরি করতে হয়, তখন ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ জারি করা প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষের মতামত একটি প্রাসঙ্গিক ঘটনা।
⇒ ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্পর্কে অভিমত প্রয়োজন হলে উক্ত স্বাক্ষরের সনদ জারি করা প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষের মতামত প্রাসঙ্গিক হবে।
-----------
⇒The Evidence Act  1872, Section 47A. Opinion as to digital signature where relevant:
 - When the Court has to form an opinion as to the digital signature of any person, the opinion of the Certifying Authority which has issued the Digital Signature Certificate is a relevant fact.
২,৪৫২.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন বিধি অনুযায়ী আদালত পক্ষগণের সহযোগীদের(companion of party) মৌখিক জবানবন্দি নিতে পারে?
  1. আদেশ ১০ বিধি ৪
  2. আদেশ ১০ বিধি ১
  3. আদেশ ১০ বিধি ২
  4. আদেশ ১০ বিধি ৫
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১০ এ আদালত কর্তৃক পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ [Examination of Parties by the Court] এর বিধান রয়েছে।
আদেশ ১০(১) অনুযায়ী, মোকদ্দমা প্রথম শুনানীর সময় মোকদ্দমার পক্ষগণের মধ্যেকার প্রকৃত বিরোধ নির্ধারণ করার জন্য এবং পক্ষগণ বিষয়গুলো স্বীকার করে কি/ করে না তা নির্ধারণ করার জন্য আদালত পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে এবং ১০ (২) বিধি অনুযায়ী পক্ষগণ বা তাদের সহযোগীদের মৌখিক জবানবন্দি (oral examination) নিতে পারে।

• আদেশ ১০ বিধি ২ (পক্ষ বা পক্ষগণের সহযোগীর মৌখিক জবানবন্দি)-
মোকদ্দমার প্রথম শুনানিতে বা পরবর্তী কোন শুনানিতে স্বয়ং হাজির কোন পক্ষ কিংবা আদালতে উপস্থিত কেউ কিংবা পক্ষ বা পক্ষের উকিলের সাথে অবস্থানরত এমন কোন ব্যক্তি মোকদ্দমা সম্বন্ধে যদি কোন প্রয়োজনীয় প্রশ্নের উত্তর প্রদানে সক্ষম হয়, তাহলে মৌখিকভাবে তার জবানবন্দি আদালত কর্তৃক গ্রহণ করা যাবে এবং উক্তরূপ জবানবন্দি গ্রহণ করার সময়ে আদালত যদি সঙ্গত মনে করেন, তাহলে যে কোন পক্ষের সুপারিশ অনুযায়ী প্রশ্ন জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।

Order 10 Rule 2: Oral examination of party or companion of party-
At the first hearing of the suit, or at any subsequent hearing, any party appearing in person or present in Court, or any person able to answer any material questions relating to the suit by whom such party or his pleader is accompanied, may examined orally by the Court; and the Court may, if it thinks fit, put in the course of such examination questions suggested by either party.
২,৪৫৩.
দণ্ডবিধির ৩৩০ ধারা অনুযায়ী, স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত প্রদান করে স্বীকারোক্তি আদায়ের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  3. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৩০ অনুযায়ী, কেউ যদি স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত প্রদান করে কাউকে স্বীকারোক্তি দিতে বা সম্পত্তি/জামানত ফেরত দিতে বাধ্য করে, তবে তার শাস্তি হতে পারে, সর্বাধিক ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
- অর্থাৎ, এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড হতে পারে এবং অর্থদণ্ডও দেওয়া যেতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৩০ ধারার বিধান: ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায় বা সম্পত্তি প্রত্যর্পণ করতে বাধ্য করার জন্যে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত প্রদান করা:- যে ব্যক্তি, কোন ব্যক্তির বা সে ব্যক্তির সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্য কারো নিকট থেকে যে স্বীকারোক্তির বা তথ্যদানের ফলে কোন অপরাধ বা অসদাচরণ সম্পর্কে সন্ধান পাওয়া যেতে পারে, সে স্বীকারোক্তি বা তথ্য আদায় করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে ব্যক্তিকে বা সে ব্যক্তির সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্য কারো নিকট থেকে যে স্বীকারোক্তির বা তথ্যদানের ফলে কোন অপরাধ বা অসদাচরণের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে, সে স্বীকারোক্তি বা তথ্য আদায় করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে ব্যক্তিকে বা সে ব্যক্তির সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য কাউকে কোন সম্পত্তি বা জামানত প্রত্যর্পণ করতে বা প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা করে দিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে, অথবা কোন দাবী পূরণে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অথবা যে তথ্য দানের ফলে কোন সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত পুনরুদ্ধার হতে পারে সে তথ্যদানে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে উক্ত ব্যক্তিকে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করে, তবে উক্ত আঘাতকারী সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
উদাহরণ:
(অ) ক জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা। সে চ-কে কোন অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য করার জন্য পীড়ন করে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবে।
(আ) ক জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা। কোন জায়গায় অপহৃত দ্রব্য লুকিয়ে রাখা হয়েছে সে তথ্যদানে বাধ্য করার জন্য সে চ-কে পীড়ন করে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবে।
-----------
⇒ The Penal Code,1860, Section 330. Voluntarily causing hurt to extort confession, or to compel restoration of property:
Whoever voluntarily causes hurt, for the purpose of extorting from the sufferer or any person interested in the sufferer, any confession or any information which may lead to the detection of an offence or misconduct, or for the purpose of constraining the sufferer or any person interested in the sufferer to restore or to cause the restoration of any property or valuable security or to satisfy any claim or demand, or to give information which may lead to the restoration of any property or valuable security, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine. 

Illustrations:
(a) A, a police-officer, tortures Z in order to induce Z to confess that he committed a crime. A is guilty of an offence under this section. 
(a) A, a police-officer, tortures B to induce him to point out where certain stolen property is deposited. A is guilty of an offence under this section. 
(b) A, a revenue officer, tortures Z in order to compel him to pay certain arrears of revenue due from Z. A is guilty of an offence under this section. 
(c) A, a zamindar, tortures a raiyat in order to compel him to pay his rent. A is guilty of an offence under this section.

২,৪৫৪.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুযায়ী, চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের (Specific Performance) মামলার তামাদি কাল কত বছর?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুযায়ী: "চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ (Specific Performance of Contract) সম্পর্কিত মামলা দায়ের করার তামাদি সময়সীমা ১ বছর, এবং এই সময়সীমা গণনা শুরু হবে যেদিন বাদীর সেই বলবৎকরণ চাওয়ার অধিকার উদ্ভব হয় সেই তারিখ থেকে।"
- তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুসারে, চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের (Specific Performance) মামলার তামাদি মেয়াদ ১ বছর।
- এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় চুক্তিভঙ্গের তারিখ থেকে।
২,৪৫৫.
আবশ্যকীয় সম্পূরক প্রতিকার (Further Relief) না চাইলে The Specific Relief Act, 1877 এর কোন ধারার মামলা ব্যর্থ হয়?
  1. ৩৯
  2. ৪২
  3. ৪৪
  4. ৫৩
ব্যাখ্যা
♦ The Specific Relief Act, 1877 এর ৪২ ধারার বলা আছে এরূপ ঘোষণার প্রতিবন্ধকতা: তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে বাদী শুধু স্বত্বের ঘোষণা ছাড়া আরও প্রতিকার পেতে সমর্থ অথচ তা করা হতে বিরত থাকেন সেক্ষেত্রে আদালত ঐরূপ কোন ঘোষণা প্রদান করবেন না ।
(Bar to such declaration: Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do SO)
♦ দেওয়ানি মামলায় মূল প্রতিকার থেকে সরাসরি সৃষ্ট প্রতিকারকে আনুষঙ্গিক প্রতিকার বলে। অর্থাৎ কোন মোকদ্দমায় মূল প্রতিকারের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য যে প্রতিকার দাবী করা হয়, তাকে আনুষঙ্গিক প্রতিকার বা Consequential relief বলে।
♦ ঘোষণামূলক মামলায় আনুষঙ্গিক প্রতিকার চাওয়া কী বাধ্যতামূলক- বাদী যদি আনুষঙ্গিক প্রতিকার পাওয়ার অধিকারী হয়, তাহলে ঘোষণামূলক মামলায় আনুষঙ্গিক প্রতিকার প্রার্থনা করা বাধ্যতামূলক।
♦ আনুষঙ্গিক প্রতিকার থাকার পরও বাদী মামলায় আনুষঙ্গিক প্রতিকার ছাড়া শুধুমাত্র ঘোষণামূলক ডিক্রির জন্য আবেদন করলে, আদালত মামলাটি খারিজ না করে ঘোষনাটি প্রত্যাখান করবে।
২,৪৫৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারা অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেটগণ ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ের জন্য কবর হতে লাশ উত্তোলনের আদেশ দিতে পারেন?
  1. ১৭৬(১)
  2. ১৭৬(২)
  3. ১৭৪(১)
  4. ১৭৫
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৬ ধারা অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেট নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে অনুসন্ধান করতে পারে:
 -যখন কোন ব্যক্তি পুলিশ কাস্টডিতে বা হেফাজতে মৃত্যুবরণ করে বা
- ধারা ১৭৪(আত্মহত্যা,কোন ব্যক্তি/ প্রাণী/ যন্ত্র দ্বারা বা দুর্ঘটনায় নিহত, বা ধারায় উল্লেখিত অন্য কোন সন্দেহজনক কারণে কোন ব্যক্তির মৃত্যু হলে)
- এই অনুসন্ধান করবে ১৭৪ (৫) ধারায় সুরতহাল করতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্টেট তথা-
-জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অথবা 
-সরকার বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৬ ধারার উপধারা (২) অনুসারে , উল্লেখিত ম্যাজিস্ট্রেটগণ ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ের জন্য কবর হতে লাশ উত্তোলনের [disinter corpses] আদেশ দিতে পারেন।
--------------------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898-Section-176: Inquiry by Magistrate into cause of death:
(1) When any person dies while in the custody of the police, the nearest Magistrate empowered to hold inquests shall, and, in any other case mentioned in section 174, clauses (a), (b) and (c) of sub-section (1), any Magistrate so empowered may hold an inquiry into the cause of death either instead of, or in addition to, the investigation held by the police-officer, and if he does so, he shall have all the powers in conducting it which he would have in holding an inquiry into an offence. The Magistrate holding such an inquiry shall record the evidence taken by him in connection therewith in any of the manners hereinafter prescribed according to the circumstances of the case.
Power to disinter corpses
(2) Whenever such Magistrate considers it expedient to make an examination of the dead body of any person who has been already interred, in order to discover the cause of his death, the Magistrate may, cause the body to be disinterred and examined.
২,৪৫৭.
সংসদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারী গেজেটে প্রকাশের কত দিনের মধ্যে, নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর বিধান সংবিধানে রয়েছে?
  1. ৫ দিনের মধ্যে
  2. ৩ দিনের মধ্যে
  3. ৭ দিনের মধ্যে
  4. ১৫ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১৪৮: পদের শপথ

(১) তৃতীয় তফসিলে উল্লিখিত যে কোন পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তি কার্যভারগ্রহণের পূর্বে উক্ত তফসিল-অনুযায়ী শপথগ্রহণ বা ঘোষণা (এই অনুচ্ছেদে "শপথ" বলিয়া অভিহিত) করিবেন এবং অনুরূপ শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিবেন।

(২) এই সংবিধানের অধীন নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির নিকট শপথগ্রহণ আবশ্যক হইলে অনুরূপ ব্যক্তি যেরূপ ব্যক্তি ও স্থান নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ ব্যক্তির নিকট সেইরূপ স্থানে শপথগ্রহণ করা যাইবে।

(২)(ক) ১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন অনুষ্ঠিত সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন ব্যক্তি যে কোন কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হইলে বা না করিলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করিবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই ইহার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।

(৩) এই সংবিধানের অধীন যে ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তির পক্ষে কার্যভার গ্রহণের পূর্বে শপথগ্রহণ আবশ্যক, সেই ক্ষেত্রে শপথগ্রহণের অব্যবহিত পর তিনি কার্যভার গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।

Article 148: Oaths of office

(1) A person elected or appointed to any office mentioned in the Third Schedule shall before entering upon the office make and subscribe an oath or affirmation (in this article referred to as “an oath”) in accordance with that Schedule. 
 
(2) Where under this Constitution an oath is required to be administered by a specified person, it may be administered by such other person and at such place as may be designated by that person. 
 
(2A) If, within three days next after publication through official Gazette of the result of a general election of members of Parliament under clause (3) of article 123, the person specified under the Constitution for the purpose or such other person designated by that person for the purpose, is unable to, or does not, administer oath to the newly elected members of Parliament, on any account, the Chief Election Commissioner shall administer such oath within three days next thereafter, as if, he is the person specified under the Constitution for the purpose.

(3) Where under this Constitution a person is required to make an oath before he enters upon an office he shall be deemed to have entered upon the office immediately after he makes the oath.
২,৪৫৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৯গ ধারা অনুসারে বিশেষ বেঞ্চ কতজন বিচারপতি নিয়ে গঠিত?
  1. ২ জন
  2. ৩ জন
  3. ৫ জন
  4. ৭ জন
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৯৯গ অনুসারে, হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ বেঞ্চ (Special Bench) তিনজন বিচারপতি নিয়ে গঠিত হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৯গ ধারার বিধান: বিশেষ বেঞ্চে শুনানী: 
তিনজন বিচারপতি নিয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন-এর বিশেষ বেঞ্চ এরূপের প্রত্যেকটি আবেদন শুনবেন এবং সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 99C: Hearing by Special Bench: Every such application shall be heard and determined by a Special Bench of the High Court Division composed of three Judges.  

২,৪৫৯.
যে ভূমিতে বেআইনী সমাবেশ বা দাঙ্গা অনুষ্ঠিত হয়, তাহার মালিক বা দখলকারের দায় সম্পর্কিত দন্ডবিধির ধারা কত?
  1. ১৫১ ধারায়
  2. ১৫২ ধারায়
  3. ১৫৩ ধারায়
  4. ১৫৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ১৫৪ ধারার বিধান যে ভূমির উপর বেআইনী সমাবেশ সংঘটিত হয় সে ভূমির মালিক বা দখলকার:- কোন বেআইনী সমাবেশ বা দাঙ্গা সংঘটিত হলে যে ভূমি বা জমির উপর অনুরূপ বেআইনী সমাবেশ বা দাঙ্গা অনুষ্টিত হয় উহার মালিক বা দখলকার এবং উহাতে কোন স্বত্বের অধিকারী বা দাবীদার যেকোন ব্যক্তি নিম্নোক্ত অবস্থায় অনধিক এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে-

-যদি সে বা তার প্রতিনিধি বা তার ম্যানেজার অনুরূপ অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে বা হচ্ছে জানা সত্ত্বেও অথবা অনুরূপ অপরাধ অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তার বা তাদের সাধ্যমত যথাশীঘ্র নিকটতম থানার প্রধান অফিসারকে অবহিত না করে; এবং অপরাধটি অচিরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে তার বা তাদের বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও উহা প্রতিরোধ করার জন্য তার বা তাদের আয়ত্তাধীন সকল আইনসম্মত উপায় অবলম্বন না করে; এবং অপরাধটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় বেআইনী সমাবেশ বা বা দাঙ্গা ছত্রভঙ্গ করার বা দমন করার জন্য তার বা তাদের আয়ত্তাধীন সকল আইনসম্মত উপায় অবলম্বন না করে।
২,৪৬০.
একজন ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে চলমান একটি ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করতে আদালতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। এক্ষেত্রে আদালত-
  1. নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে
  2. নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না
  3. আবেদনকারীকে জরিমানা করবে
  4. আবেদনকারীর বিরুদ্ধে নতুন দেওয়ানি মামলা দায়ের করবে
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারা অনুযায়ী ১১ টি ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না। ক্ষেত্রগুলো নিম্নরূপ:

১। বিচার বিভাগীয় কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য।
২। কোন অধীনস্থ আদালতের কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য।
৩। কোন ব্যক্তিকে আইন প্রণয়ন বিষয়ক কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা থেকে বিরত রাখার জন্য।
৪। সরকারের কোন বিভাগের সরকারি কর্তব্যে বা বিদেশি সরকারের কোন কাজে হস্তক্ষেপ করার জন্য
৫। কোন ফৌজদারি বিষয়ে কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য।
৬। কোন চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করা যায় না তেমন চুক্তি ভঙ্গ নিরোধের উদ্দেশ্যে।
৭। উৎপাত নয় এমন কাজ নিরোধ করার জন্য।
৮। বাদীর সম্মতি আছে এমন ক্রমাগত লঙ্ঘন নিরোধের জন্য।
৯। যখন জিম্মা ভঙ্গের প্রতিকার অন্য কোন সাধারণ কার্যধারার মাধ্যমে পাওয়া যায়।
১০। যখন আবেদনকারীর আবেদন এমন যে তা তাকে আদালতে সাহায্য থেকে বঞ্চিত করে।
১১। যেখানে মামলার বিষয়বস্তুতে আবেদনকারীর কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।

⇒ Section 56 Injunction when refused: An injunction cannot be granted- 
(a) to stay a judicial proceeding pending at the institution of the suit in which the injunction is sought, unless such restraint is necessary to prevent a multiplicity of proceedings; 
(b) to stay proceedings in a Court not subordinate to that from which the injunction is sought; 
(c) to restraint persons from applying to any legislative body; 
(d) to interfere with the public duties of any department of the Government, or with the sovereign acts of Foreign Government; 
(e) to stay proceedings in any criminal matter; 
(f) to prevent the breach of a contract the performance of which would not be specifically enforced; 
(g) to prevent, on the ground of nuisance, an act of which it is not reasonably clear that it will be a nuisance; 
(h) to prevent a continuing breach in which the applicant has acquiesced; 
(i) when equally efficacious relief can certainly be obtained by any other usual mode of proceeding except in case of breach of trust; 
(j) when the conduct of the applicant on his agents has been such as to disentitle him to the assistance of the Court; 
(k) where the applicant has no personal interest in the matter.
২,৪৬১.
কোনটি অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা (mesne profit) হিসাবে গণ্য হবে না?
  1. X, L এর সম্পত্তি অন্যায়ভাবে দখল করে তা হতে লাভ পেল
  2. অনুপ্রবেশকারী X, L এর বাড়ি দাবি করে ও ভাড়া সংগ্রহ করে
  3. X, L এর সম্পত্তি অবৈধ দখল করে সেখানে বাড়ি বানিয়ে ভাড়া দিল
  4. X অনুমতি ছাড়া L এর জমিতে চাষ করে লাভ পেল
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ২(১২) ধারা অনুসারে, মধ্যবর্তী মুনাফা বা Mesne Profit হলো যে মুনাফা বা উপকার যা কোন ব্যক্তি অন্য কারো সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে থাকাকালীন সময়ে লাভ করেছে। এটি সাধারণত ভাড়া বা মুনাফার রূপে হয়। যখন একজনের দখলদারি অকারণে অপর কেউ তার সম্পত্তি হতে বঞ্চিত হয়ে থাকে, তখন দখলদার ক্ষতিপূরণের রূপে মধ্যবর্তী মুনাফা পরিশোধ করতে বাধ্য থাকে।
♦তবে বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা | Mesne Profits) বলে গণ্য হবে না,
♦প্রশ্নের অপশন (গ)-তে বলা হয়েছে, X, L এর সম্পত্তি অবৈধ দখল করে সেখানে বাড়ি বানিয়ে ভাড়া দিল। এই ক্ষেত্রে X, I. এর সম্পত্তিতে বাড়ি বানিয়ে উন্নয়ন করেছে এবং উক্ত উন্নয়ন হতে ভাড়া বাবদ মুনাফা করছে। যেহেতু X. L এর সম্পত্তিতে বাড়ি বানিয়ে উন্নয়ন করেছে, সেহেতু সেখান থেকে ভাড়া বাবদ যে মুনাফা গ্রহণ করেছে, সেই মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা | Mesne Profits] বলে গণ্য হবে না। 
২,৪৬২.
তামাদি আইন ১৯০৮ কবে কার্যকর করা হয়?
  1. ১লা জানুয়ারী ১৯০৮
  2. ৭ আগস্ট ১৯০৮
  3. ১লা জানুয়ারী ১৯০৯
  4. ৭ আগস্ট ১৯০৯
ব্যাখ্যা
♦বর্তমানে প্রচলিত তামাদি আইনটি ৭ আগস্ট ১৯০৮ সালে প্রণয়ন করা হয় (পাস/গৃহীত হয়), যা তামাদি আইন ১৯০৮নামে পরিচিত।
♦এটি ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে কার্যকর হয়। তামাদি আইন ১৯০৮ সালের ৯ নং আইন। সর্বশেষ ২০০৪ সালে তামাদি আইন সংশোধন করা হয়।
♦তামাদি আইন একটি পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law)।
২,৪৬৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৫৩ অনুযায়ী আদালত কী সংশোধন করতে পারেন?
  1. সাক্ষ্য প্রমাণ বাদ দিতে
  2. পক্ষগণের আইনজ্ঞান
  3. মামলার কার্য ধারার ত্রুটি
  4. বিচারকের অপারগতা
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) মামলার কার্য ধারার ত্রুটি।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৫৩ অনুযায়ী, আদালত যেকোনো সময়, যেকোনো মামলার কার্যধারায় ত্রুটি বা ভুল সংশোধন করতে পারেন, যেন মামলার প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণ ও বিচার সম্ভব হয়।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫৩ ধারায় আদালতের দেওয়ানি মামলার কার্য ধারার ত্রুটি সংশোধন করার ক্ষমতা রয়েছে। ১৫৩ ধারামতে আদালত যে কোন সময় মোকদ্দমার কোন প্রকৃত প্রশ্ন বা বিচার্য বিষয় নির্ধারনের জন্য মামলার কার্য ধারার ত্রুটি (any defect or error in any proceeding in a suit) সংশোধন করতে পারেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৫৩ বলছে আদালত যেকোনো সময়, এবং যেমন শর্তে প্রয়োজন মনে করে, একটি মোকদ্দমার কার্যধারায় কোনো ভুল বা ত্রুটি সংশোধন করতে পারে। এই সংশোধনটি মামলার প্রকৃত প্রশ্ন বা বিচার্য বিষয় নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় হলে তা করা হবে।
---------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Section-153. General power to amend:
-The Court may at any time, and on such terms as to costs or otherwise as it thinks fit, amend any defect or error in any proceeding in a suit; and all necessary amendments shall be made for the purpose of determining the real question or issue raised by or depending on such proceeding.
২,৪৬৪.
আইনসম্মতভাবে বাধ্য না হয়ে কোনো ব্যক্তি প্রশ্নের উত্তর না দিলে, আদালত কী অনুমান করতে পারে?
  1. সে নির্দোষ
  2. সে উত্তর জানে না
  3. উত্তরটি তার পক্ষে অনুকূল হতো না
  4. কোনো কিছু অনুমান করবে না
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১১৪ ধারার বিধান: আদালত কিছু তথ্যের অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে-
আদালত প্রকৃতি এবং মানবিক আচরণের সাধারণ গতিপ্রকৃতি, সরকারি ও বেসরকারি কার্যাবলীর সাপেক্ষে বিশেষ মামলার তথ্যগুলি বিবেচনা করে, যে কোনো তথ্য বা ঘটনার অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে যা আদালতের মতে সম্ভবত ঘটেছে। আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুমান করতে পারে -
(ক) যে ব্যক্তি চুরির কিছুক্ষণ পরেই চুরি মালামাল দখলে রাখে, সে নিজেই চোর অথবা জেনেশুনে চুরি মাল গ্রহণ করেছে, যদি না সে তার দখলের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে;
(খ) যে ব্যক্তি অপরাধের সহযোগী, সে অবিশ্বাসযোগ্য, যদি না তার সাক্ষ্যের মূল বিষয়গুলি অন্য কোনো প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হয়;
(গ) একটি হুন্ডি স্বীকৃত বা অনুমোদিত হয়েছে প্রাপ্য মূল্যের বিনিময়ে;

(ঘ) যেকোনো বস্তু বা অবস্থা যা এমন সময়সীমার মধ্যে দেখা গেছে যে সময়সীমার মধ্যে এরকম বস্তু বা অবস্থা সাধারণত লুপ্ত হয়ে যায় না, তা এখনও বিদ্যমান রয়েছে;
(ঙ) বিচারিক এবং সরকারি কার্যাবলী নিয়মানুসারে সম্পাদিত হয়েছে;
(চ) বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক নিয়মানুসারে কার্যক্রম পালিত হয়েছে;

(ছ) যে প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব ছিল কিন্তু করা হয়নি, তা উপস্থাপিত হলে যে ব্যক্তি তা প্রমাণ করতে অস্বীকার করেছেন তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(জ) কোনো ব্যক্তি যদি আইনসম্মতভাবে বাধ্য না হয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে, তাহলে মনে করা হবে উত্তরটি তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(ঝ) কোনো দায়বদ্ধকারী দলিল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে থাকলে, মনে করা হবে দায়িত্বটি পরিশোধিত হয়েছে।
তবে বিশেষ মামলার ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলি প্রযোজ্য কিনা তা বিবেচনা করার সময় আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলিও বিবেচনা করবে।
২,৪৬৫.
তামাদি আইনের ৫ ধারায় বিলম্ব মওকুফের ক্ষেত্রে আদালত নিম্মলিখিত কোন বিষয়টি বিবেচনায় নিবে
  1. শুধুমাত্র বিলম্ব কতটা দীর্ঘ
  2. বিলম্বের কারণের ব্যাখ্যা এবং বিলম্বের পরিধি
  3. বিলম্বের ব্যপ্তি কোন বিষয় না বরং বিলম্বের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা
  4. উপরের কোনটি না
ব্যাখ্যা
♦তামাদি সময়সীমা কত দিনের বিলম্ব তা মূল বিবেচ্য বিষয় না বরং প্রতিটি দিনের বিলম্বের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।
♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারা মতে কোন আপীলকারী বা দরখাস্তকারী যদি প্রমান করতে পারেন যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেও কোন আপীল , রিভিউ বা রিভিশন করতে না পারার পর্যাপ্ত কারণ ছিল মর্মে আদালতকে সন্তোষ্ট করতে পারে সে ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে তখন এই ব্যবস্থাকেই আইনের ভাষায় বিলম্ব মৌকুফ বলে। বিলম্ব মৌকুফের ক্ষেত্রে দুইটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণঃ ১) পর্যাপ্ত কারণ ২) আদালতকে সন্তুষ্টি করণ।
২,৪৬৬.
কেবল অপরপক্ষকে হয়রানির লক্ষ্যে কোনো পক্ষ একটি দেওয়ানি মামলা করতে ইচ্ছুক। এক্ষেত্রে একজন অ্যাডভোকেট-
  1. মামলাটি পরিচালনা করবেন
  2. মামলাটি পরিচালনা করতে অস্বীকার করবেন
  3. আদালতের অনুমতি নিয়ে মামলাটি গ্রহণ করবেন
  4. বিরুদ্ধ পক্ষের অ্যাডভোকেটকে সাহায্য করবেন
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: মামলাটি পরিচালনা করতে অস্বীকার করবেন।

• "Canons of Professional Conduct and Etiquette" এর অধ্যায় ৪- জনসাধারণের প্রতি আইনজীবীদের আচরণ
বিধি ১:
কাউকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে আক্রোশের বশবর্তী হইয়া কিংবা মামলার কার্যক্রম বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে বাদী কিংবা আসামী পক্ষে কোন মামলা পরিচালনা করার জন্য একজন আইনজীবী নিয়োজিত হইবেন না। এমনকি অনুরূপ উদ্দেশ্যে কোন আপিল দায়েরের দায়িত্ব ও নিবেন না।

[An Advocate shall not accept employment to prosecute or defend a case out of spite or for the purposing of harassing anyone or delaying any matter nor shall he take or prosecute an appeal willfully motivated to harass any one or delay any matter.]
২,৪৬৭.
ভাড়ার মাধ্যমে ভোগদখলীয় বাড়ি স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দান করার পরও স্বামী ভাড়া উত্তোলন করতে থাকলে মুসলিম আইনে দানটি _____ গণ্য হবে।
  1. বাতিল
  2. অসম্পূর্ণ
  3. অকার্যকর
  4. বৈধ
ব্যাখ্যা
- যে ক্ষেত্রে কোন স্থাবর সম্পত্তি দান করার সময় দাতা ও গ্রহীতা উভয়ে সেই সম্পত্তিতে বসবাস করে, সে ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে দখল গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। 
- সে ক্ষেত্রে দাতার দানকৃত সম্পত্তির যাবতীয় স্বত্বাধিকার ত্যাগ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করলেই দান সম্পূর্ণ হবে। 
- স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে স্থাবর সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে উপরিউক্ত বিধানটি প্রযোজ্য হবে। 
- সম্পত্তিটি তাদের যৌথ বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হোক বা ভাড়া দেওয়া হোক, দানের পরে স্বামী উক্ত সম্পত্তিতে বসবাস করুক বা ভাড়ার টাকা আদায় করুন, দানটি বৈধ।
- কারণ ধরে নেওয়া হবে যে, স্বামী স্ত্রীর পক্ষেই ভাড়া আদায় করছে।

- ভাড়ার মাধ্যমে ভোগদখলীয় বাড়ি স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দান করার পরও স্বামী ভাড়া উত্তোলন করতে থাকলে মুসলিম আইনে দানটি  বৈধ গণ্য হবে।
২,৪৬৮.
দণ্ডবিধির ৩৫৯ ধারা অনুসারে মনুষ্যহরণ বা অপহরণ কত প্রকার?
  1. ১ প্রকার
  2. ২ প্রকার
  3. ৩ প্রকার
  4. ৪ প্রকার 
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩৫৯ ধারা মতে মনুষ্যহরণ বা অপহরণ ২ প্রকার।
যথা:
(i) বাংলাদেশ থেকে মনুষ্যহরণ;
(ii) আইনগত অভিভাবকের নিকট হতে মনুষ্যহরণ।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৬০ ধারার বিধান বাংলাদেশ হতে মনুষ্য হরণ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে তার সম্মতি ছাড়াই অথবা তার স্বপক্ষে সম্মতি দানের ক্ষমতাসম্পন্ন অপর কারো সম্মতি ছাড়াই বাংলাদেশের সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেয় বা নিয়ে যায়, তবে উক্ত ব্যক্তি তাকে বাংলাদেশ হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৬১ ধারার বিধান আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে মনুষ্যহরণ:- কোন ব্যক্তি যদি চৌদ্দ বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালককে অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালিকাকে অথবা বিকৃত মস্তিষ্ক কোন ব্যক্তিকে তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই অভিভাবকের রক্ষণাবেক্ষণ হতে নিয়ে যায়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক বা বালিকাকে অথবা অনুরূপ বিকৃতমস্তিষ্ক ব্যক্তিকে আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

২,৪৬৯.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১৯ কাদের সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়ে আলোচনা করে?
  1. বোবা সাক্ষী
  2. বিদেশি সাক্ষী
  3. নাবালক সাক্ষী
  4. মানসিক ভারসাম্যহীন সাক্ষী
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১৯ বোবা সাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করে। এই ধারায় বলা হয়েছে, যে সাক্ষী কথা বলিতে অক্ষম (বোবা), তিনি তার সাক্ষ্য লিখিত বা ইশারার মাধ্যমে প্রদান করতে পারবেন, তবে এই সাক্ষ্য মৌখিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে এবং এটি প্রকাশ্য আদালতে দিতে হবে।
- অতএব, সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১৯ কেবল বোবা সাক্ষীদের সম্পর্কে আলোচনা করে।
সঠিক উত্তর: ক) বোবা সাক্ষী।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১৯ ধারা- বোবা সাক্ষী:
যে সাক্ষী কথা বলিতে অক্ষম, তিনি তাহার বক্তব্য অন্য কোনোভাবে অর্থাৎ লিখিয়া বা ইশারা করিয়া বুঝাইতে পারেন এবং সেইভাবে সাক্ষ্যদিতে পারেন, তবে সেই লেখা বা ইশারা প্রকাশ্য আদালতে লিখিতে বা করিতে হইবে। এইরূপভাবে যে সাক্ষ্য দেওয়া হইবে তাহা মৌখিক সাক্ষ্য বলিয়া গণ্য হইবে।
--------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 119- Dumb witnesses:
A witness who is unable to speak may give his evidence in any other manner in which he can make it intelligible, as by writing or by signs; but such writing must be written and the signs made in open Court. Evidence so given shall be deemed to be oral evidence.
২,৪৭০.
সংবিধানের কত অনুচ্ছেদের বিধি সাপেক্ষে দায়রা আদালতের বিচারকগণকে নিয়োগ দেয়া হয়?
  1. ১১৬ অনুচ্ছেদ
  2. ১৩৩ অনুচ্ছেদ
  3. ১৩০ অনুচ্ছেদ
  4. ১১৪ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৯ ধারামতে দায়রা আদালতে তিন ধরণের বিচারক থাকে। যথা-

ⅰ) দায়রা জজ (Sessions Judge);
ii) অতিরিক্ত দায়রা জজ (Additional Sessions Judge);
iii) যুগ্ম দায়রা জজ (Joint Sessions Judge)।
 
• ধারা-৯(৩ক): দায়রা আদালতের বিচারক নিয়োগ-
সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দ্বারা প্রনীত বিধি সাপেক্ষে দায়রা আদালতের বিচারকগণকে অর্থাৎ দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ ও যুগ্ম দায়রা জজকে জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হয়।
 
Section 9: Court of Sessions:
(3A) The members of the Bangladesh Judicial Service shall be appointed as Sessions Judge, Additional Sessions Judge and Joint Sessions Judge in accordance with the rules framed by the President under the proviso to Article 133 of the constitution to exercise jurisdiction in one or more of such areas.
২,৪৭১.
না চলানো হেতু খারিজ হওয়া আপিল পুনরায় গ্রহণের নিমিত্ত দরখাস্ত আনয়নের তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৩০ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ২০ দিন
ব্যাখ্যা
♦ The Limitation Act, 1908 এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১৬৮ এর বিধান না চলানো হেতু খারিজ হওয়া আপিল পুনরায় গ্রহণের নিমিত্ত দরখাস্ত আনয়নের তামাদির মেয়াদ ৩০ দিন।
২,৪৭২.
চার্জ গঠন না করার কারণে কোন শাস্তি বা দণ্ড অবৈধ হবে না যদি না ন্যায় বিচার ব্যর্থ হয়। ফৌজদারী কার্যবিধির কত ধারায় বলা হয়েছে?
  1. ধারা ৫৩৫
  2. ধারা ৫৩০
  3. ধারা ৫৩১
  4. ধারা ৫৩২
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৫৩৫ মতে- কেবল মাত্র অভিযোগ প্রণয়ন করা হয়নি বলেই ঘোষিত বা প্রদত্ত কোন অভিমত বা দণ্ডাদেশ অবৈধ বলে গণ্য করা হবে না, যদি না আপীল বা রিভিশন মনে করেন যে, উহার ফলে প্রকৃত পক্ষে ন্যায় বিচার ব্যাহত হয়েছে।
২,৪৭৩.
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর কত ধারায় ইলেকট্রনিক তথ্য প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতার বিধান আছে?
  1. ২৫ ধারা
  2. ২৭ ধারা
  3. ৩০ ধারা
  4. ৩২ ধারা
ব্যাখ্যা
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ৩০ ধারা: ইলেকট্রনিক তথ্য প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা:
অডিও ভিস্যুয়াল যন্ত্র বা কোন ইলেকট্রনিক যোগাযোগের মাধ্যমে ধারণকৃত সাক্ষ্য প্রমাণ ট্রাইব্যুনালের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য (admissible) হইবে।
২,৪৭৪.
সরকার বা সরকারি কর্মকর্তা বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার জন্য কতদিন আগে নোটিশ পাঠানো বাধ্যতামূলক?
  1. ১ মাস
  2. ২ মাস
  3. ৩ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ৮০ ধারা অনুযায়ী, সরকার বা সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার আগে ২ মাসের নোটিশ পাঠানো বাধ্যতামূলক। এই নোটিশে মামলার কারণ, বাদীর নাম, বাসস্থানের বিবরণ এবং দাবিকৃত প্রতিকার উল্লেখ করতে হবে। এই নোটিশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর পর দুই মাস অপেক্ষা করতে হবে, তারপর মামলা দায়ের করা যাবে।
- এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো সরকার বা সরকারি কর্মকর্তাকে মামলার বিষয়ে সচেতন করা এবং সম্ভাব্য বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ দেওয়া। যদি মামলা নোটিশ ছাড়াই দায়ের করা হয়, তাহলে আদালত সরকারকে লিখিত জবাব দাখিলের জন্য ৩ মাস সময় দেবে, তবে বাদী মামলার খরচ পাবে না যদি দুই মাসের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি হয় বা সরকার বাদীর দাবি মেনে নেয়।

- সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো খ) ২ মাস।
২,৪৭৫.
বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে দখলদার ব্যক্তি যে মুনাফা লাভ করে, সুদসহ উক্ত মুনাফা কে দেওয়ানি কার্যবিধিতে__________ বলে।
  1. Gross Profits
  2. Mesne Profits
  3. Monthly Profits
  4. Unwanted Profits
ব্যাখ্যা
• ধারা ২(১২) অনুসারে,
বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো, সুদসহ উক্ত মুনাফা কে মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে।

• ব্যতিক্রম-
বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে গণ্য হবে না ।

Section 2(12)-
"mesne profits" of property means those profits which the person in wrongful possession of such property actually received or might with ordinary diligence have received therefrom, together with interest on such profits but shall not include profits due to improvements made by the person in wrongful possession:
২,৪৭৬.
'Factum valet' নীতি পরিশুদ্ধ করে-
  1. নির্দেশসূচক বিধান অমান্যকরণ
  2. মৌলিক নীতি অমান্যকরণ
  3. লেনদেনের উপাদান অমান্যকরণ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ Quod fieri non debet factum valet (বিধিমত যা অকর্তব্য, তা করা হলে বিধিসম্মত বলে ধরা হয়) এই প্রবচনের উপর ভিত্তি করে factum valet মতবাদের উৎপত্তি হয়েছে। ফ্যাকটাম ভ্যালেট হিন্দু দায়ভাগা আইনের একটি নীতি। হিন্দু আইনে এই মতবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ হিসেবে পরিচিত। যে কাজ করা উচিৎ নয় বা করা হয়েছে, তাকে বৈধ হিসেবে গণ্য করার নীতি ‘factum valet’ নামে পরিচিত।

আইনের বিধানগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়-
- নির্দেশাত্মক বিধান (Directory provision of law), 
- অবশ্য পালনীয় বিধান (mandatory provision of law) বলা হয়।

অবশ্য পালনীয় বিধান অমান্য করলে সেই কাজটি বেআইনী বলে গণ্য হবে এবং অন্য কোন সূত্র প্রয়োগ করে তা বৈধ করা যায় না। তবে আইনের সুপারিশমূলক/নির্দেশাত্মক বিধান উপেক্ষা করেও কোন একটি কাজ করা হলে, এরূপ কৃত কার্যকে আইনতঃ সিদ্ধ বলে গ্রহণ করাকে ফ্যাকটাম ভ্যালেট নীতি বলা হয়। অর্থাৎ ‘directory’ নির্দেশের পরিপন্থী কাজ অনুচিত হলেও উক্ত কাজকে সরাসরি বেআইনী বলা যায় না। হিন্দু আইনে অনুরূপ কাজ factum valet নীতি অনুযায়ী বৈধ করা যায়।

যেমন- হিন্দু ধর্ম মতে অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া কোন বিয়ে হতে পারে না। কিন্তু অনুরূপ বিধান লংঘন করে কোন বিয়ে হয়ে গেলে তা ফ্যাকটাম ভ্যালেট নীতি অনুযায়ী বৈধ গণ্য হয়ে থাকে। একইভাবে শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে কোন ব্যক্তি তার একমাত্র সন্তানকে দত্তক দিতে পারেন না। কিন্তু ঐ বিধি উপক্ষো করে যদি কেউ তার একমাত্র পুত্রকে দত্তক দিয়েই ফেলেন তাহলে তা অসিদ্ধ বলে বিবেচিত হয় না। তবে উভয়ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করতে হয়। এছাড়াও ফ্যাক্টাম ভ্যালেট নীতির কারণে এক বা একাধিক স্ত্রী থাকা সত্তেও একজন হিন্দু পুনরায় বিবাহ করতে পারে।
২,৪৭৭.
যেসব ক্ষেত্রে মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ করা যায়, তা উল্লেখ আছে সাক্ষ্য আইনের-
  1. ৬২ ধারায়
  2. ৬৫ ধারায়
  3. ৬৪ ধারায়
  4. ৬১ ধারায়
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন ধারা ৬৪- প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ
এ আইনে অত:পর যে সমস্ত ব্যতিক্রম উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলি ব্যতীত অপর সমস্ত ক্ষেত্রে দলিলসমূহ অবশ্যই প্রথম শ্রেণীর সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করতে হবে।

তবে কোন কোন ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ করা যায়, তা সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারায় বলা হয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারায় ৭টি ব্যতিক্রম ক্ষেত্র উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে মাধ্যমিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য।

⇒ ক্ষেত্রসমূহ নিম্নরূপঃ

ক. দলিলটি যার বিপক্ষে প্রমাণ করতে হবে তার আয়ত্তে আছে বা আদালতের সমনের আওতার বাইরে বা সেই ব্যক্তির দখলে আছে যে ব্যক্তি দলিলটি পেশ করতে বাধ্য কিন্তু নোটিশ পাওয়া সত্ত্বেও দাখিল করছে না;
খ. দলিলটি যার বিপক্ষে প্রমাণ করতে হবে, সে ব্যক্তি দলিলটির অস্তিত্ব লিখিত ভাবে স্বীকার করে নিয়েছে;
গ. মূল দলিলটি হারিয়ে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে;
ঘ. দলিলটি সহজে স্থানান্তরযোগ্য না হলে;
ঙ. মূল দলিলটি সরকারী দলিল হলে;
চ. দলিলটির জাবেদা নকল সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহারের নিয়ম থাকলে;
ছ. মূল দলিলের পরীক্ষা আদালতের জন্য সুবিধাজনক না হলে।
২,৪৭৮.
অর্থের পরিমাণ অনির্দিষ্ট হলে কোন ধরনের "Set-off" দাবি করা যায়?
  1. Legal Set-off
  2. Fixed Set-off
  3. Equitable Set-off
  4. Specified Set-off
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ৮নং আদেশের ৬ নং বিধিতে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফের বিধান রয়েছে। অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদী যদি পূর্বেই বাদীর নিকট কোন পরিমাণ অর্থ পাওনা থাকে তবে বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার জন্য বিবাদী যে আবেদন করে তাকে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ বলে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির Set-off দুই প্রকার যথা:
ক) Legal Set-off [Order VIII, Rule 6],
খ) Equitable Set-off [Order XX, Rule 19(3)]

যেক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ নির্দিষ্ট, সেক্ষেত্রে Legal Set-off দাবি করা যায়। কিন্তু, যেক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ অনির্দিষ্ট সেক্ষেত্রে Equitable Set-off মঞ্জুর করা যেতে পারে (আদালতের Discretion-এর উপর)।

Equitable Set-off একটি বিশেষ ধরনের প্রতিরক্ষা, যা নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলোতে প্রযোজ্য:
⇒ যখন বাদী ও বিবাদীর মধ্যে পারস্পরিক দাবী-দাওয়া থাকে এবং উভয় দাবীই একই উত্স থেকে উদ্ভূত হয়েছে। অর্থাৎ উভয়ের দাবী একই চুক্তি, লেনদেন বা ঘটনার সাথে জড়িত।
⇒ যখন বিবাদীর দাবী বাদীর দাবীর চেয়ে কম। কারণ যদি বিবাদীর দাবী বেশি হয়, তাহলে বিবাদীকে ক্রস-মামলা দায়ের করতে হবে।
⇒ যখন বিবাদীর দাবী নগদ টাকার নয়, বরং কোন অনিষ্পন্ন কাজের জন্য। যেমন - বাদী যদি বাকি বেতনের দাবী করে আর বিবাদী দাবী করে কিছু অসম্পূর্ণ কাজের জন্য।
⇒ যখন বিবাদীর দাবী সুস্পষ্টভাবে অর্থগত মান নির্ণয় করা সম্ভব নয়। যেমন - ক্ষতিপূরণের চাহিদা ইত্যাদি।
২,৪৭৯.
স্থাবর সম্পত্তি বিষয়ক প্রতিকার বা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার উদ্দেশ্যে মোকদ্দমা দায়ের করা হলে এবং যদি বিবাদীর উপর ব্যক্তিগতভাবে সমন জারি করা না যায়, তাহলে কী করা যেতে পারে?
  1. মামলা খারিজ করা যাবে
  2. আদালত সমন জারি বন্ধ করবে
  3. বিবাদীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা যাবে
  4. সম্পত্তির দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধির উপর সমন জারি করা যাবে
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৫ বিধি ১৪ অনুসারে,
স্থাবর সম্পত্তি বিষয়ক কোন প্রতিকার বা এর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোন মোকদ্দমা দায়ের করা হয়, যদি বিবাদীর উপর ব্যক্তিগতভাবে সমন জারি করা না যায় এবং যদি বিবাদীর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি সমন গ্রহণের জন্য না থাকে, তাহলে সম্পত্তির দায়িত্বে থাকা বিবাদীর যে কোন প্রতিনিধির উপর সমন জারি করা যাবে।

Service on agent in charge in suits for immovable property:
Where in a suit to obtain relief respecting, or compensation for wrong to, immovable property, service cannot be made on the defendant in person, and the defendant has no agent empowered to accept the service, it may be made on any agent of the defendant in charge of the property.
২,৪৮০.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৪, বিধি-১ অনুযায়ী বিবাদি কখন আদালতে টাকা জমা দিতে পারে?
  1. শুধুমাত্র আপিল পর্যায়ে
  2. চূড়ান্ত শুনানির সময়
  3. মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে
  4. মোকদ্দমা দায়েরের আগে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৪, বিধি-১ অনুযায়ী, বিবাদি ঋণ বা ক্ষতিপূরণ আদায়ের মোকদ্দমায় তার বিবেচনায় দাবীর সম্পূর্ণ পরিমাণ অর্থ আদালতে জমা দিতে পারে।
- এই জমা প্রদানের সুযোগ মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে পাওয়া যায়, অর্থাৎ মোকদ্দমা দায়েরের পর থেকে শুরু করে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত যে কোন সময় বিবাদি এই জমা প্রদান করতে পারে।

→ সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো গ) মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে।

⇒ Order-24 Rule-1. Deposit by defendant of amount in satisfaction of claim:
- The defendant in any suit to recover a debt or damages may, at any stage of the suit, deposit in Court such sum of money as he considers a satisfaction in full of the claim.
২,৪৮১.
মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হবে-
  1. যুগ্ম দায়রা জজ
  2. অতিরিক্ত দায়রা জজ
  3. জেলা জজ
  4. সিনিয়র সহকারী জজ
ব্যাখ্যা
⇒ মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ২১ ধারার বিধান: মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন:
 (১) এই আইনের অধীন অপরাধসমূহের দ্রুত বিচারের উদ্দেশ্যে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারকের সমন্বয়ে যেকোন জেলায় মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল গঠিত না হওয়া পর্যন্ত, সরকার প্রত্যেক জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালকে উক্ত জেলার মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল হিসাবে নিয়োগ (assign) বা ক্ষমতায়িত করিতে পারিবে।
(৩) এই আইনের অধীন অপরাধসমূহের বিচার কেবল এই আইনের অধীন গঠিত ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য হইবে।
(৪) যে আঞ্চলিক অধিক্ষেত্রে কোন অপরাধ বা উহার অংশবিশেষ সংঘটিত হইয়াছে অথবা মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিকে যে অঞ্চল হইতে উদ্ধার করা হইয়াছে বা তিনি যে অঞ্চলের অধিবাসী সেই আঞ্চলিক অধিক্ষেত্রের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ট্রাইব্যুনাল উক্ত অপরাধের বিচার করিতে পারিবে।
(৫) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার বাহিরে বাংলাদেশী কোন নাগরিক বা কোম্পানী অথবা স্বভাবতঃ বাংলাদেশে আবাসী (habitually resident in Bangladesh) এমন কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটন করিলে, তিনি যেই ট্রাইব্যুনালে আঞ্চলিক অধিক্ষেত্রের অধিবাসী ছিলেন অথবা কোম্পানীর ক্ষেত্রে উক্ত কোম্পানীর নিবন্ধিত অফিস (registered office) যে আঞ্চলিক অধিক্ষেত্রে ছিল, সেই ট্রাইব্যুনাল উক্ত অপরাধের বিচার করিতে পারিবে।
২,৪৮২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারা অনুসারে, আদালত অবমাননার অপরাধীকে জরিমানা না দিলে কী শাস্তি পেতে পারে?
  1. ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  2. ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  3. ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। 

→ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারা অনুযায়ী: যদি দণ্ডবিধির ধারা ১৭৫, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০ বা ২২৮ এ বর্ণিত কোনো অপরাধ আদালতের সম্মুখে বা উপস্থিতিতে সংঘটিত হয়, তবে: সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি, ফৌজদারি বা রাজস্ব আদালত অপরাধীকে দ্রুত বিচার করে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা জরিমানা দিতে পারে, এবং জরিমানা না দিলে সর্বোচ্চ ১ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিতে পারে।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারার বিধান:- অবমাননার কতিপয় ক্ষেত্রে পদ্ধতি:
কোন দেওয়ানী, ফৌজদারি বা রাজস্ব আদালতের দৃষ্টি গোচরে বা উপস্থিতিতে দণ্ডবিধির ধারা-১৭৫, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০ বা ২২৮ এ উল্লিখিত কোন অপরাধ করা হলে উক্ত আদালত অপরাধীকে কারাগারে আটক রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন এবং ঐদিন আদালতের অধিবেশন শেষ হওয়ার পূর্বে যেকোনো সময় উপযুক্ত মনে করলে অপরাধটি আমলে নিতে পারবেন এবং অপরাধীকে সর্বোচ্চ ২০০ (দু'শত) টাকা অর্থদণ্ডে এবং যথাশীঘ্র জরিমানার টাকা প্রদান করা না হলে এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন।
---------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section - 480: Procedure in certain cases of contempt:
-When any such offence as is described in section 175, section 178, section 179, section 180 or section 228 or the Penal Code is committed in the view or presence of any Civil, Criminal or Revenue Court, the Court may cause the offender to be detained in custody and at any time before the rising of the Court on the same day may, if it thinks fit, take cognizance of the offence and sentence the offender to fine not exceeding two hundred taka, and in default of payment, to simple imprisonment for a term which may to one month, unless such fine be sooner paid.

২,৪৮৩.
বিধবার সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায় না, তবে কোন ক্ষেত্রে হস্তান্তর করা যায়?
  1. ধর্মীয় উদ্দেশ্যে
  2. যেকোনো প্রয়োজনে
  3. ব্যক্তিগত প্রয়োজনে
  4. পরিবারের অনুমতিতে
ব্যাখ্যা
→ বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার কোনো একচ্ছত্র মালিকানা নেই, এবং তিনি ইচ্ছামতো তা বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারেন না।
- অর্থাৎ বিধবার সম্পত্তি সাধারণত হস্তান্তর করা যায় না, তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে, যেমন ধর্মীয় উদ্দেশ্যে, বিধবার সম্পত্তি হস্তান্তর করা যেতে পারে।
- এছাড়া, আইনগত প্রয়োজনে এবং সম্পত্তির হিতার্থে বা মঙ্গলে তা হস্তান্তর করা সম্ভব।
-তবে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বা পরিবারের অনুমতিতে বিধবার সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায় না।
২,৪৮৪.
A একটি জমির বৈধ দখলে আছে। প্রতিবেশী গ্রামবাসী উক্ত সম্পত্তির উপর দিয়ে চলাচলের অধিকার দাবী করে। A মামলা করতে পারে-
  1. অগ্রক্রয়ের
  2. ক্ষতিপূরণের
  3. ঘোষণার
  4. বন্টনের
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।

♦ শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।

♦ ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে। অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে,তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) বলে।

♦ অর্থাৎ কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা কোন সম্পত্তিতে তার অধিকার যখন অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অস্বীকার করা হয়, তখন আইনানুগ পরিচয়ের অধিকারী ব্যক্তি বা সম্পত্তিতে অধিকারী ব্যক্তি আদালতের নিকট তার আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার যে অধিকার আছে এই মর্মে ঘোষণা চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।

♦যেহেতু A একটি জমির বৈধ দখলে আছে। প্রতিবেশি গ্রামবাসী উক্ত সম্পত্তির উপর দিয়ে চলাচলের অধিকার দাবী করে জমিতে A এর বৈধ দখলকে অস্বীকার করছে। এই ক্ষেত্রে উক্ত জমিতে A এর যে বৈধ অধিকার আছে তার ঘোষণা চেয়ে A দেওয়ানী আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
২,৪৮৫.
কয় ক্ষেত্রে পুলিশ আদালতের গ্রেফতারি পরওয়ানা ব্যতীত কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারে?
  1. ৬ ক্ষেত্রে
  2. ৭ ক্ষেত্রে
  3. ৮ ক্ষেত্রে
  4. ৯ ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ৯ টি ক্ষেত্রে বিনা পরওয়ানায় গ্রেফতারের বিধান আছে।

♦ পুলিশ ৯ প্রকার ব্যক্তিকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারে:-

১. কোন আমলযোগ্য অপরাধের সাথে জড়িত আছে মর্মে সন্দেহ হলে (Cognizable Offence)

২. ঘর ভাঙ্গার সরঞ্জাম পেলে (Implement of House breaking )

৩. অপরাধী ঘোষিত হলে (Proclaimed offender)

৪. চোরাই মাল পাওয়া গেলে (Stolen property )

৫. পুলিশ অফিসারের কাজে বাধা দিলে, আইনসঙ্গত হেফাজত থেকে পলায়নের চেষ্টা বা পলায়ন করলে (Obstructs)

৬. সশস্ত্র বাহিনী হতে পলায়ন করলে (Deserter from Armed forces)

৭. বাংলাদেশের বাইরে বাংলাদেশের আইনে আমলযোগ্য অপরাধ করলে (Out of BD act committed)

৮. মুক্তিপ্রাপ্ত আসামি ৫৬৫(৩) ধারা ভঙ্গ করলে (Released Convict )

৯. যাকে গ্রেফতারের জন্য অনুরোধ রয়েছে (Requisition of arrest) ।
২,৪৮৬.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৬৯ অনুসারে, কোন নিলাম বিক্রয় কত দিনের বেশি মেয়াদের জন্য মুলতুবি রাখা হলে নতুন করে ঘোষণা (proclamation) দিতে হবে?
  1. ৭ দিনের
  2. ১০ দিনের
  3. ৩০ দিনের
  4. ৬০ দিনের
ব্যাখ্যা
Order 21, Rule 69 - বিক্রয় স্থগিত বা বন্ধ করার বিধান:
(১) আদালত তার বিবেচনায়, নির্ধারিত কোনো দিন ও সময়ে নিলাম (বিক্রয়) স্থগিত (adjourn) করতে পারে। এবং যে কর্মকর্তা নিলাম পরিচালনা করছেন, তিনি তার নিজের বিবেচনায় নিলাম স্থগিত করতে পারেন, তবে এর জন্য তাকে স্থগিত করার কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
শর্ত: যদি বিক্রয়টি আদালতের চত্বরে বা আদালতের সীমার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে আদালতের অনুমতি ব্যতীত নিলাম স্থগিত করা যাবে না।

(২) যদি উপ-নিয়ম (১) অনুযায়ী বিক্রয় ৩০ দিনের বেশি সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়, তবে রুল ৬৭ অনুযায়ী নতুন করে ঘোষণা (proclamation) দিতে হবে- তবে শর্ত এই যে, যদি দায়গ্রস্ত ব্যক্তি (judgment-debtor) এই পুনঃ ঘোষণার প্রয়োজন মাফ করে দেন (consent to waive), তাহলে তা প্রযোজ্য হবে না।

(৩) প্রতিটি বিক্রয় তৎক্ষণাৎ বন্ধ করে দেওয়া হবে, যদি:
- নিলাম চূড়ান্ত হওয়ার আগে,
- ঋণ ও খরচ (বিক্রয়ের খরচসহ) পরিশোধ করা হয়, বা
- নিলাম পরিচালনাকারী কর্মকর্তার সন্তুষ্টির জন্য প্রমাণ দেওয়া হয় যে, উক্ত অর্থ আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে— যে আদালত বিক্রয়ের আদেশ দিয়েছিল।
২,৪৮৭.
The Evidence Act 1872 এর ১২০ ধারা অনুসারে কোন ধরনের মোকদ্দমায় স্বামী/স্ত্রীর পক্ষে সাক্ষ্য হওয়ার যোগ্য?
  1. ফৌজদারি মামলায়
  2. দেওয়ানি মামলায়
  3. ক ও খ উভয়
  4. কোন মামলায় নয়
ব্যাখ্যা
- The Evidence Act 1872 এর ১২০ ধারা অনুসারে সকল দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বামী/স্ত্রী পক্ষে স্বাক্ষী দিতে পারবে।
- ফৌজদারি মামলায় স্বামী/স্ত্রী যে কেহ যে কারোর বিরুদ্ধে যোগ্য সাক্ষী হতে পারবে, তবে পক্ষে নয়।
২,৪৮৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে?
  1. ২৩
  2. ২৩ক
  3. ২৪
  4. ২৫
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদ: উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি:
রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

অন্যদিকে,
- ২৩ নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় সংস্কৃতি। 
- ২৪ নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি।
- ২৫ নং অনুচ্ছেদ : আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।
২,৪৮৯.
আইনের অধীন জারীকৃত প্রজ্ঞাপন, আদেশ, পরিকল্পনা, বিধি, ফরম বা উপ-আইনের ব্যবহৃত শব্দগুলোর অর্থ কীভাবে নির্ধারিত হবে?
  1. উপ-আইন কর্তৃক
  2. প্রজ্ঞাপন ও আদেশের দ্বারা
  3. সংসদের গেজেটের মাধ্যমে
  4. আইনে ব্যবহৃত অভিব্যক্তির সমার্থক হবে
ব্যাখ্যা
The General Clauses Act, 1897 এর ২০ ধারা: আইনের অধীন জারীকৃত আদেশ, ইত্যাদি ব্যাখ্যা:
- যে ক্ষেত্রে সংসদের কোন আইন বা প্রবিধিতে কোন প্রজ্ঞাপন, আদেশ, পরিকল্প, বিধি, ফরম বা উপ-আইন জারীর কোন ক্ষমতা অর্পণ করা হয়, সেই ক্ষেত্রে এই আইন প্রবর্তনের পরে প্রণীত, অনুরূপ প্রজ্ঞাপন, আদেশ, পরিকল্প, বিধি, ফরম বা উপ-আইনে ব্যবহৃত অভিব্যক্তিসমূহের অর্থ অনুরূপ ক্ষমতা অর্পণকারী আইনে ব্যবহৃত অভিব্যক্তির সমার্থক হবে।

ধারা ২০ এর মূল উদ্দেশ্য হল যে,
সংসদের আইন বা প্রবিধি অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন বা আদেশে ব্যবহৃত শব্দ ও অভিব্যক্তির অর্থ সংশ্লিষ্ট আইন বা প্রবিধির অভিব্যক্তির সমার্থক হবে। অর্থাৎ, যখন কোনো আইন বা প্রবিধি জারি করা হয়, তখন সেখানে ব্যবহৃত শব্দের ব্যাখ্যা সেই আইন বা প্রবিধি এবং এর দ্বারা অর্পিত ক্ষমতার আলোকে বোঝা হবে।

Section-20 Construction of orders, etc., issued under enactments: 
Where, by any Act of Parliament or Regulation, a power to issue any notification, order, scheme, rule, form or bye-law is conferred, then expressions used in the notification, order, scheme, rule, form or bye-law, if it is made after the commencement of this Act, shall, unless there is anything repugnant in the subject or context, have the same respective meanings as in the Act or Regulation conferring the power.
২,৪৯০.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৮ বিধি-৪ অনুযায়ী সর্বোচ্চ কতদিন দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা যাবে?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৮ বিধি-৪ অনুসারে, যদি বিবাদী জামানত দিতে ব্যর্থ হয় বা নতুন জামানত দিতে ব্যর্থ হয়, আদালত তাকে দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখতে পারে যতদিন পর্যন্ত মামলার রায় না আসে অথবা মামলা সম্পর্কিত ডিক্রি না মিটানো হয়। তবে এই আটকের সর্বোচ্চ সময় ৬ মাস।
তাছাড়া, যদি মামলার বিষয়বস্তু বা দাবির মূল্য পঞ্চাশ টাকার নিচে হয়, তখন আটকের সর্বোচ্চ সময় ৬ সপ্তাহ। এছাড়া, যদি বিবাদী পরবর্তীতে জামানত দেয় বা আদেশ মেনে চলে, তাহলে তাকে জেলে আটকে রাখা যাবে না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৮ বিধি ৪: যেক্ষেত্রে বিবাদী জামানত দিতে বা নতুন জামানত দিতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে কার্যপদ্ধতি:
যেক্ষেত্রে বিবাদী ২ বা ৩ বিধির অধীনে কোন আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমায় সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বা যেক্ষেত্রে বিবাদির বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদত্ত হয়েছে,সেক্ষেত্রে ডিক্রি না মিটানো অবধি তাকে দেওয়ানি জেলে সোপর্দ করতে পারে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই বিধির অধীনে কোন ব্যক্তিকে ছয় মাসের অধিক মেয়াদের জন্য জেলে আটক রাখা চলবে না, অথবা মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর মূল্য পঞ্চাশ টাকার অনূর্ধ্ব হলে সেক্ষেত্রে ছয় সপ্তাহের অধিক মেয়াদের জন্য:
তবে আরো শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তি অনুরূপ আদেশ পালন করার পর তাকে এই বিধির অধীনে জেলে আটক রাখা যাবে না।

⇒The Code of Civil Procedure,1908, Order 38 Rule 4: Procedure where defendant fails to furnish security or find fresh security:
Where the defendant fails to comply with any order under rule 2 or rule 3, the Court may commit him to the civil prison until the decision of the suit or, where a decree is passed against the defendant, until the decree has been satisfied:
Provided that no person shall be detained in prison under this rule in any case for a longer period than six months nor for period a longer than six weeks when the amount or value of the subject-matter of the suit does not exceed fifty Taka:
Provided also that no person shall be detained in prison under this rule after he has complied with such order.
২,৪৯১.
"____________" includes every inquiry other than a trial conducted under this Code by a Magistrate or Court.
  1. inquiry
  2. investigation
  3. complaint
  4. judicial proceeding
ব্যাখ্যা
⇒ According to The Code of Criminal Procedure,1898 -Section 4(k):- "inquiry" includes every inquiry other than a trial conducted under this Code by a Magistrate or Court.

⇒ ফৌজদারি প্রক্রিয়ায়, "বিচার" ব্যতীত অন্যান্য কাজগুলি ইনকোয়ারি বা তদন্তের অন্তর্ভুক্ত হয়। "বিচার" হল আদালতের মূল কার্যক্রম যেখানে বিচারক সরাসরি জড়িত থাকেন এবং পক্ষদ্বয়ের যুক্তি শুনে ও প্রমাণ বিচার করে রায় দেন।

⇒ Other Options:
-Section 4(H) "complaint" means the allegation made orally or in writing to a Magistrate, with a view to his taking action under this Code, that some person whether known or unknown, has committed an offence, but it does not include the report of a police-officer:
-Section 4(L) "investigation" includes all the proceedings under this Code for the Collection of evidence conducted by a police-officer or by any person (other than a Magistrate) who is authorised by Magistrate in this behalf: 
-Section 4(M) "judicial proceeding" includes any proceeding in the course of which evidence is or may be legally taken on oath:
২,৪৯২.
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে "প্রত্যায়িত” দলিলের ক্ষেত্রে কয়জন সাক্ষী দ্বারা প্রত্যায়ন করা বোঝায়?
  1. সর্বনিম্ন একজন
  2. সর্বোচ্চ দুইজন
  3. সর্বনিম্ন দুইজন
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
ধারা ৩:

"প্রত্যায়িত” দলিলের ক্ষেত্রে প্রত্যায়িত বলতে বুঝায় এবং সব সময় বুঝানো হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে যে, দুই বা ততোধিক সাক্ষী প্রত্যায়ন করেছে এবং তাদের প্রত্যেকে সম্পাদনকারীকে দলিলে স্বাক্ষর করতে বা স্বাক্ষর চিহ্ন দিতে দেখেছে, অথবা সম্পাদনকারীর উপস্থিতিতে ও নির্দেশে অপর কোন ব্যক্তিকে দলিলে স্বাক্ষর করতে দেখেছে অথবা সম্পাদনকারীর নিকট হতে তার স্বাক্ষর বা স্বাক্ষর চিহ্ন অথবা এরূপ অপর কোন ব্যক্তির দস্তখত সম্পর্কে ব্যক্তিগত স্বীকৃতি লাভ করেছে এবং যারা সকলে সম্পাদনকারীর উপস্থিতিতে দলিলে দস্তখত করেছে; কিন্তু এরূপ সাক্ষীদের একজনের অধিক একই সময়ে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই; এবং কোন বিশেষ ধরণের প্রত্যায়নেরও প্রয়োজন নেই।

Section 3:
“attested”, in relation to an instrument, means and shall be deemed always to have meant attested by two or more witnesses each of whom has seen the executant sign or affix his mark to the instrument, or has seen some other person sign the instrument in the presence and by the direction of the executant, or has received from the executant a personal acknowledgement of his signature or mark, or of the signature of such other person, and each of whom has signed the instrument in the presence of the executant; but it shall not be necessary that more than one of such witnesses shall have been present at the same time, and no particular form of attestation shall be necessary:
২,৪৯৩.
দণ্ডবিধির বিধান অনুসারে দস্যুতার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৭ বছর কারাদণ্ড
  2. ১০ বছর কারাদণ্ড
  3. ১৪ বছর কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারামতে দস্যুতার শাস্তি (Punishment for robbery)- অনধিক ১০ বৎসর 'সশ্রম' কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড। তবে দস্যুতার অপরাধ সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময় সংঘটিত হলে দস্যুতার শাস্তি ১৪ বৎসর পর্যন্ত 'সশ্রম' কারাদণ্ড হতে পারে।
অর্থাৎ The Penal Code, 1860 অনুসারে দস্যুতার সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বৎসর 'সশ্রম' কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারার বিধান দস্যুতার সাজা:- কোন ব্যক্তি যদি দস্যুতা সংঘটন করে তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে। এবং যদি সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময় রাজপথে দস্যুতা অনুষ্ঠিত হয়, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে।
--------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 392. Punishment for robbery:- Whoever commits robbery shall be punished with rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine; and, if the robbery be committed on the highway between sunset and sunrise, the imprisonment may be extended to fourteen years.
২,৪৯৪.
হেবার তৃতীয় শর্ত কী?
  1. গ্রহণ
  2. ইজাব
  3. দলিল নিবন্ধন
  4. দখল প্রদান
ব্যাখ্যা

• দান বা হেবা:
মুসলিম আইনে হেবা একটি বিশেষ চুক্তি, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায়, কোনো প্রকার বিনিময় বা প্রতিদান ছাড়া, নিজের সম্পত্তি অন্য ব্যক্তিকে হস্তান্তর করে। এটি মূলত একটি দান বা উপহার, যা স্থাবর (যেমন জমি, বাড়ি) এবং অস্থাবর (যেমন টাকা, গহনা) – উভয় প্রকার সম্পত্তির ক্ষেত্রেই করা যায়।

ইসলামী শরীয়তের আলোকে হেবা একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি। এখানে তিনটি শর্ত অপরিহার্যভাবে পূরণ করতে হয়:
- দানকারীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা (Ijab);
- গ্রহীতার পক্ষ থেকে গ্রহণ (Qabul);
- হস্তান্তরকৃত সম্পত্তির দখল (Delivery of possession)।

হেবার বৈশিষ্ট্য:
- এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং কোনো প্রকার জবরদস্তি বা প্রতারণা ছাড়া হতে হবে।কোনো প্রকার প্রতিদান বা বিনিময় ছাড়া সম্পত্তি দান করা হয়।
- দাতা (যিনি হেবা দেন) অবশ্যই হেবা দেওয়ার বৈধ মালিক হতে হবে।দাতা অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন এবং হেবা দেওয়ার মতো বৈধ মালিক হতে হবে।
- গ্রহীতা (যিনি হেবা পান) অবশ্যই হেবা গ্রহণ করবেন—গ্রহণ না করলে হেবা কার্যকর হবে না।গ্রহীতা জীবিত ব্যক্তি হতে হবে। নবজাতক বা অক্ষম ব্যক্তির পক্ষেও বৈধ অভিভাবক হেবা গ্রহণ করতে পারেন।
- হেবা কোনো শর্তসাপেক্ষ হলে, সেই শর্ত ইসলামে বৈধ হতে হবে।
- হেবা কার্যকর হওয়ার পর সাধারণত তা ফেরত নেওয়া যায় না। একবার বৈধভাবে হেবা সম্পন্ন হলে সাধারণত তা দাতা ফেরত নিতে পারেন না।

কে হেবা দিতে পারে (দাতা /Donor):
প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে – নাবালক (অপ্রাপ্তবয়স্ক) ব্যক্তি বৈধভাবে হেবা দিতে পারে না।
সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হতে হবে – মানসিকভাবে অক্ষম বা পাগল ব্যক্তি হেবা দিতে পারবে না।
সম্পত্তির বৈধ মালিক হতে হবে – দাতা তার নিজস্ব মালিকানাধীন সম্পত্তিই কেবল হেবা দিতে পারবেন।
স্বেচ্ছায় হতে হবে – জবরদস্তি, চাপ, প্রতারণা বা হুমকি দিয়ে দেওয়া হেবা বৈধ নয়।

২,৪৯৫.
অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের উদ্দেশ্য কী হতে পারে?
  1. সম্পত্তি দখলকারী ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শন
  2. সম্পত্তি দখলকারী ব্যক্তিকে অপমান করা
  3. সম্পত্তি দখলকারী ব্যক্তিকে বিরক্ত করা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৪৪১ ধারা- অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ:
কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তির দখলভুক্ত সম্পত্তির মধ্যে বা উপরে প্রবেশ করে এবং কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের বা অনুরূপ সম্পত্তি দখলকারী ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শনের, অপমান করার বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ প্রবেশ করে, অথবা, আইনানুগভাবে অনুরূপ সম্পত্তির মধ্যে বা উপরে প্রবেশের পর বেআইনীভাবে সেখানে অবস্থান করে এবং অনুরূপ ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শনের, অপমান করার বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অনুরূপ বে-আইনীভাবে সেখানে অবস্থান করে, তবে উক্ত ব্যক্তি 'অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ' করেছে বলে পরিগণিত হবে।

Section 441: Criminal trespass:
Whoever enters into or upon property in the possession of another with intent to commit an offence or to intimidate, insult or annoy any person in possession of such property. or, having lawfully entered into or upon such property, unlawfully remains there with intent thereby to intimidate insult or annoy any such person, or with intent to commit an offence, is said to commit "criminal trespass".
২,৪৯৬.
পেনাল কোডে কত ধরণের গুরুতর জখমের কথা উল্লেখ রয়েছে?
ব্যাখ্যা
♦পেনাল কোডের ধারা ৩২০-এ ৮ ধরণের অপরাধের তালিকা দেওয়া হয়েছে যেগুলো মারাত্মক বা grivious hurt হিসেবে গণ্য হবে।
♦পেনাল কোডের ৩২০ ধারায় ৮ ধরণের গুরুতর জখমের উল্লেখ রয়েছে। যথাঃ
(i) পুরুষত্বহীনকরণ
(ii) স্থায়ীভাবে চোখের দৃষ্টি রহিতকরণ
(iii) স্থায়ীভাবে কানের শ্রুতিশক্তি রহিতকরণ
(iv) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন
(v) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির স্থায়ী ক্ষতিকরণ
(vi) মাথা বা মুখমন্ডলের স্থায়ী বিকৃতি
(vii) হাড় বা দাঁত ভাঙ্গা
(viii) কোন ব্যক্তিকে ২০ দিন পর্যন্ত তীব্র যন্ত্রণা দেয় এমন আঘাত।
২,৪৯৭.
বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় কোনটি বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ধর্মীয় স্বাধীনতা
  2. সংবিধানের প্রাধান্য
  3. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
  4. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ন রাখা এবং এর রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করা আমাদের পবিত্র কর্তব্য।

সংবিধানের ভাষ্যে স্পষ্ট উল্লেখ:
"আমরা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করিতেছি যে, আমরা যাহাতে স্বাধীন সত্তায় সমৃদ্ধি লাভ করিতে পারি এবং মানবজাতির প্রগতিশীল আশা-আকাঙ্খার সহিত সঙ্গতি রক্ষা করিয়া আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে পূর্ণ ভূমিকা পালন করিতে পারি, সেইজন্য বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ এই সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ন রাখা এবং ইহার রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান আমাদের পবিত্র কর্তব্য।"

অতএব, "সংবিধানের প্রাধান্য"-ই বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ হিসেবে সংবিধানের প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বাকি অপশন গুলো:
ক) ধর্মীয় স্বাধীনতা: যদিও সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার স্বীকৃতি রয়েছে, তবে এটিকে জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তির মূল উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
গ) রাজনৈতিক স্বাধীনতা: সংবিধানে রাজনৈতিক স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এটি প্রস্তাবনায় জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তির রূপে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখিত নয়।
ঘ) অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: সংবিধানে অর্থনৈতিক সাম্য ও সুবিচারের কথা বলা হলেও, এটিকে সরাসরি জনগণের অভিপ্রায়ের প্রতিফলন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়নি।
২,৪৯৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়?
  1. ৪১৭
  2. ৪১৭ক
  3. ৪০৭ক
  4. ৪১১
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭ক ধারার বিধান অপর্যাপ্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল:-
(১) কোন আদালতের বিচারে প্রদত্ত দণ্ডাদেশের ক্ষেত্রে দণ্ডাদেশের অপর্যাপ্ততার কারণে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল দায়েরের জন্য সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরকে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।
(২) আদালতে বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে একজন ফরিয়াদী দণ্ডাদেশের অপর্যাপ্ততাহেতু আপিল আদালতে আপিল দায়ের করতে পারবেনঃ
শর্ত থাকে যে, দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৬০ (ষাট) দিন পার হবার পর এই উপ-ধারার অধীন আপিল আদালত কর্তৃক কোন আপিল গৃহীত হবে না।
(৩) দণ্ডের অপর্যাপ্ততা হেতু কোন আপিল রুজু করা হলে আপিল আদালত দণ্ড বাড়ানোর বিরুদ্ধে কারণ দর্শাবার জন্য আসামীকে যৌক্তিক সুযোগ না দিয়ে দণ্ড বাড়াবেন না এবং কারণ দর্শাবার সময় আসামী তার খালাস প্রাপ্তি বা দণ্ড কমানোর জন্য আবেদন করতে পারবেন।
---------------------------
CrPC-Section 417A: Appeal against inadequacy of sentence:
(1) The Government may, in any case of conviction on a trial held by any court, direct the Public Prosecutor to present an appeal to the High Court Division against the sentence on the ground of its inadequacy.
(2) A complainant may, in any case of conviction on a trial held by any Court, present an appeal to the Appellate Court against the sentence on the ground of its inadequacy:
Provided that no appeal under this sub-section shall be entertained by the Appellate Court after the expiry of sixty days from the date of conviction.
(3) When an appeal has been filed against the sentence on the ground of its inadequacy, the Appellate Court shall not enhance the sentence except after giving to the accused a reasonable opportunity of showing cause against such enhancement and while showing cause, the accused may plead for his acquittal or for the reduction of the sentence.
২,৪৯৯.
নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ১৪৫ ধারার আদেশ দ্বারা মালিকানা নির্ধারণ হয় না
  2. ১৪৫ ধারার ক্ষমতা হল বাধ্যতামূলক
  3. ১৪৫ ধারার আদেশ ২ মাস বলবৎ থাকে
  4. ১৪৫ ধারার আদেশের কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার অধীন স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার করা যায়।১৪৫ ধারার আদেশ দ্বারা প্রকৃত দখলকারী নির্ধারণ করা হয়, কোন মালিকানা নির্ধারণ করা হয় না।

♦ ১৪৫ ধারার আওতায় প্রাথমিক আদেশের পূর্ববর্তী ২ মাসের মধ্যে কোন ব্যক্তি অবৈধভাবে বেদখল হলে উক্ত দখলচ্যুত ব্যক্তি প্রকৃত দখলদার বলে বিবেচিত হবে। অন্যথায় ১৪৫ ধারার আদেশের তারিখে যে ব্যক্তি প্রকৃত দখলে আছেন তার অনুকূলেই ম্যাজিস্ট্রেট দখলের ঘোষণা দিবেন।

♦ ১৪৫(৪) ধারামতে ম্যাজিস্ট্রেট দখল সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে গিয়ে পক্ষসমূহ ও সাক্ষীদের বক্তব্য শ্রবন ও সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন।

♦ সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তি দ্বারা বৃদ্ধি না করলে ১৪৪ ধারার আদেশ সাধারণত সর্বোচ্চ ২ মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকে; কিন্তু ১৪৫ ধারার আদেশের কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।
♦ যেহেতু ১৪৫ ধারায়  he, shall শব্দাবলী ব্যবহার করা হয়েছে তাই ১৪৫ ধারার ক্ষমতা বাধ্যতামূলক।

♦ প্রশ্নে অপশন (গ) ১৪৫ ধারার আদেশ ২ মাস বলবৎ থাকে তথ্যটি সঠিক নয়।
২,৫০০.
মুসলিম আইনে নিম্নলিখিত কোন বিবাহটি অনিয়মিত বিবাহ?
  1. ইদ্দত পালনকারী মহিলাকে বিবাহ
  2. সাক্ষী ছাড়া বিবাহ
  3. একই সাথে দুই বোনেকে বিবাহ করা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ অনিয়মিত বিবাহের সংজ্ঞা (Definition of irregular marriage):

যে বিবাহ মূলত বে-আইনী নয়, কিন্তু এতে বৈধ বিবাহের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে ঐ বিবাহকে অনিয়মিত বিবাহ বা ফাসিদ বিবাহ বলে। অর্থাৎ যে বিবাহ ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু বাতিল নয় এটিই অনিয়মিত বিবাহ।

যেমন: সাক্ষী ছাড়া বিবাহ, ইদ্দতের মধ্যে বিবাহ, স্ত্রীর বোন বিবাহ করা ইত্যাদি।