বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

মোট প্রশ্ন১৫,৪৭০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

PrepBank · পাতা ১২৬ / ১৫৫ · ১২,৫০১১২,৬০০ / ১৫,৪৭০

১২,৫০১.
তামাদি আইনের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বংশগত পদ দখল করার জন্য মামলার তামাদি মেয়াদ নির্ধারিত হয়?
  1. অনুচ্ছেদ ১৯
  2. অনুচ্ছেদ ১১৪
  3. অনুচ্ছেদ ১২৪
  4. অনুচ্ছেদ ১৪২
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১২৪ অনুযায়ী, বংশগত পদ দখল করার জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ নির্ধারিত হয়। এই অনুচ্ছেদ অনুসারে, বংশগত পদ দখল করার জন্য মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ১২ বছর। এই মেয়াদ বিবাদী যখন বাদীর প্রতিকূলে পদটি দখল করে সেই তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।

- বংশগত পদ বলতে এমন পদকে বোঝায় যা বংশপরম্পরায় উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হয়, যেমন জমিদারি, পুরোহিত পদ ইত্যাদি।
- পদ দখল বলতে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক বংশগত পদটি অন্যায়ভাবে দখল করা বা অধিকার লঙ্ঘন করা বোঝায়।

সুতরাং, সঠিক উত্তর গ) অনুচ্ছেদ ১২৪।
১২,৫০২.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সরকারি নিয়োগে সমতার সুযোগের কথা বলা হয়েছে?
  1. ১৮ অনুচ্ছেদে
  2. ১৯ অনুচ্ছেদে
  3. ২৮ অনুচ্ছেদে
  4. ২৯ অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ২৯ (সরকারি নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা):
(১) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে।

(২) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাঁহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।

(৩) এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই-
(ক) নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশ যাহাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তাঁহাদের অনুকূলে বিশেষ বিধান-প্রণয়ন করা হইতে,
(খ) কোন ধর্মীয় বা উপ-সম্প্রদায়ভুক্ত প্রতিষ্ঠানে উক্ত ধর্মাবলম্বী বা উপ-সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তিদের জন্য নিয়োগ সংরক্ষণের বিধান-সংবলিত যে কোন আইন কার্যকর করা হইতে,
(গ) যে শ্রেণীর কর্মের বিশেষ প্রকৃতির জন্য তাহা নারী বা পুরুষের পক্ষে অনুপযোগী বিবেচিত হয়, সেইরূপ যে কোন শ্রেণীর নিয়োগ বা পদ যথাক্রমে পুরুষ বা নারীর জন্য সংরক্ষণ করা হইতে রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।
১২,৫০৩.
নিম্নের কোনটি অসংহত অপরাধ (inchoate crime)?
  1. গণ-উৎপাত
  2. চুরি
  3. ষড়যন্ত্র
  4. সাধারণ জখম
ব্যাখ্যা
⇒ Inchoate crimes, also known as incomplete crimes, are acts taken toward committing a crime or acts that constitute indirect participation in a crime. Although these acts are not themselves crimes, they are illegal because they are conducted in furtherance of a crime, and society wishes to deter individuals from taking such steps. Three primary inchoate crimes are attempt, conspiracy, and aiding and abetting.
------
- অসংহত অপরাধ বা অসম্পূর্ণ অপরাধ (inchoate crime) হলো এমন একটি কার্য  যা সম্পূর্ণ অপরাধকর্ম সৃষ্টি না করলেও এটি ফৌজদারী আইনে তা নিষিদ্ধ। কারণ ওইগুলি পূর্ণ অপরাধের লক্ষ্যে পদক্ষেপস্বরূপ। এই অসম্পূর্ণ অপরাধগুলির অন্তর্ভুক্ত প্ররোচনা [Abetment], প্রচেষ্টা [Attempt], ষড়যন্ত্র [Conspiracy] ইত্যাদি। অর্থাৎ কোন অপরাধের সৃষ্টির কারণ হিসেবে এগুলা কাজ করে।
১২,৫০৪.
চূড়ান্ত পর্যায়ে মোকদ্দমার সংখ্যা ন্যূনতম কয়টি হলে, আদালত অতিরিক্ত মোকদ্দমা আনার ব্যবস্থা করবে?
  1. ৫০ টি
  2. ৭০ টি
  3. ১০০ টি
  4. ৮০ টি
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১৮নং আদেশে মোকদ্দমার শুনানী এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ [Hearing of the Suit and Examination of Witnesses] সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আদেশ ১৮ বিধি ২০-
কোন আদালত চূড়ান্ত শ্রবণ কার্যের নিমিত্তে দৈনন্দিন কার্যতালিকায় আংশিক শ্রবণীয় মোকদ্দমাসহ পাঁচটির অধিক মোকদ্দমা এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে একশতটির অধিক মোকদ্দমা নির্ধারণ করবে না; এবং নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত পর্যায়ের মোকদ্দমার সংখ্যা সত্তরটির নিম্নে নেমে আসলে সাধারণত দাখিল করা তারিখের উপর ভিত্তি করে আদালত চূড়ান্ত পর্যায়ে আরও মোকদ্দমা আনার ব্যবস্থা করতে পারবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন আদালতে শ্রবণ কার্যের নিমিত্তে তৈরীকৃত মোকদ্দমার সংখ্যা উপযুক্ত মতে নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট না হলে যথোপযুক্ত পদ্ধতিতে নির্ধারণ করার বিবেচনামূলক ক্ষমতা আদালতের থাকবে।

[Court shall not fix more than five suits including two part -heard suits, in the daily cause list for peremptory hearing and more than one hundred suits in the peremptory stage, and when upon disposal, the total number of suits in the peremptory stage comes down to less than seventy, the Court shall then bring in more suit in the peremptory stage, generally in the order of dates of institution of suits: 
Provided that if in any Court, the number of suits made ready for hearing is not sufficient for fixation in the manner as aforesaid, it shall be in the discretion of the Court to make the fixation in a reasonable manner.]
১২,৫০৫.
ট্রাইব্যুনালের কোন আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আপিল করতে পারে-
  1. আপিল বিভাগে
  2. হাইকোর্ট বিভাগে
  3. জেলা জজ আদালতে
  4. বার কাউন্সিল আপিল বোর্ডে
ব্যাখ্যা
♦ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972 অনুচ্ছেদ ৩৬ অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে হবে।এই আপিল বার কাউন্সিল নিজে অথবা অভিযুক্ত আইনজীনী স্বেচ্ছায় করতে পারেন।
১২,৫০৬.
আরজি এবং লিখিত জবাব সংশোধনের নীতিসমূহ একই। উক্তিটিঃ-
  1. সত্য
  2. মিথ্যা
  3. আংশিক সত্য
  4. উপরের কোনটি না
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানি কার্যবিধির ৬ আদেশে প্লিডিংস [Pleading]সংক্রান্ত যত নিয়ম আছে তা আরজি এবং লিখিত জবাব উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
♦দেওয়ানি কার্যবিধির যেখানে প্লিডিংস [Pleading] শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে পড়ার সময় আরজি বা লিখিত জবাব উভয় ধরে নিয়ে পড়তে হবে। দেওয়ানি কার্যবিধির  কোথাও বলা হয়নি যে আরজি সংশোধন বা লিখিত জবাব সংশোধন বরং বলা হয়েছে প্লিডিংস [Pleading] সংশোধন।
♦অর্থাৎ প্লিডিংস [Pleading] সংশোধন সংক্রান্ত সকল নিয়ম আরজি বা লিখিত জবাব উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই যদি বাদি আরজি সংশোধন করতে চায়, তাহলে তাকে ৬ আদেশের ১৭ বিধিতে আবেদন করতে হবে আবার বিবাদি লিখিত জবাব সংশোধন করতে চাইলে, তাকেও ৬ আদেশের ১৭ বিধি অনুযায়ী আবেদন করতে হবে।
সুতরাং আরজি এবং লিখিত জবাব সংশোধনের নীতিসমূহ একই উক্তিটিঃ- সত্য।
১২,৫০৭.
স্বীকৃতি [Admission] চূড়ান্ত প্রমাণ নয় কিন্তু প্রমাণের প্রতিবন্ধক [Estoppel] তৈরী করতে পারে। সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় বলা হয়েছে?
  1. সাক্ষ্য আইনের ১৭ ধারায়
  2. সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারায়
  3. সাক্ষ্য আইনের ৩০ ধারায়
  4. সাক্ষ্য আইনের ৩১ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩১ ধারার বিধান: স্বীকৃতি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, কিন্তু প্রতিবন্ধক হতে পারে: 
কোন বিষয়ে স্বীকৃতি সেই বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। কিন্তু এই আইনে অতঃপর বর্ণিত বিধানসমূহ অনুসারে এগুলি প্রতিবন্ধক হিসেবে কার্যকর হতে পারে।

---------------
⇒ Section-31. Admissions not conclusive proof, but may stop: Admissions are not conclusive proof of the matters admitted but they may operate as estoppels under the provisions hereinafter contained.
১২,৫০৮.
দণ্ডবিধির ৪০৭ ধারায় বিশ্বাসভঙ্গকারী ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের মেয়াদ কত?
  1. ১০ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ৫ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৭ ধারা বিশেষভাবে প্রযোজ্য পরিবহনকারী (carrier), ঘাটের মালিক (wharfinger) বা গুদামদার (warehouse-keeper) — এই ধরনের ব্যক্তিদের উপর, যাদের উপর অন্যের সম্পদ সংরক্ষণের জন্য একটি বিশেষ দায়িত্ব অর্পিত থাকে। যদি তারা অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ (criminal breach of trust) করে, তাহলে তারা দণ্ডিত হবে সর্বোচ্চ ৭ (সাত) বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হতে পারে।

⇒দণ্ডবিধির ধারা ৪০৭: পরিবহনকারী, গুদামদার ইত্যাদির দ্বারা বিশ্বাসভঙ্গ:-
যে কেউ, যিনি পরিবহনকারী (carrier), ঘাটের মালিক বা তত্ত্বাবধায়ক (wharfinger), অথবা গুদামদার (warehouse-keeper) হিসেবে কোনো সম্পত্তি সংরক্ষণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হন, এবং সেই সম্পত্তি সম্পর্কে বিশ্বাসভঙ্গ করেন, তিনি সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং তার সাথে অর্থদণ্ডও হতে পারে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section 407- Criminal breach of trust by carrier, etc:
Whoever, being entrusted with property as a carrier, wharfinger or warehouse-keeper, commits criminal breach of trust in respect of such property, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.
১২,৫০৯.
মোকদ্দমার যেকোন পর্যায়ে কোন সম্পত্তি বা বস্তু সম্পর্কে কোন প্রশ্নের উদ্ভব হলে আদালত তা _____ করতে পারেন।
  1. পরিদর্শন
  2. ক্রোক
  3. অনুসন্ধান
  4. তদন্ত
ব্যাখ্যা
• মোকদ্দমার শুনানী (Hearing of suit) অর্থ হলো, আদালতে কোনো মামলার বিচারকার্য যেখানে বিচারক সাক্ষ্য গ্রহণ করে বা যুক্তিতর্ক শোনে ইত্যাদি।
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৮ নং আদেশে মোকদ্দমার শুনানী এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ [Hearing of the Suit and Examination of Witnesses] সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

• আদেশ ১৮ বিধি-১৮ঃ আদালত কর্তৃক পরিদর্শনের ক্ষমতা (Power of court to inspect):

মোকদ্দমার যেকোন পর্যায়ে কোন সম্পত্তি বা বস্তু সম্পর্কে কোন প্রশ্নের উদ্ভব হলে আদালত তা পরিদর্শন করতে পারেন।
[The Court may at any stage of a suit inspect any property or thing concerning which any question may arise.]
১২,৫১০.
The Evidence Act 1872 এর কোন ধারায় দলিল উপস্থাপনের কথা উল্লেখ আছে?
  1. ১৪৯ ধারা
  2. ১৬২ ধারা
  3. ১৬০ ধারা
  4. ১৬১ ধারা
ব্যাখ্যা
- The Evidence Act 1872 এর ১৬২ ধারা মতে সাক্ষীকে দলিল দাখিলের জন্য সমন দেয়া হলে যদি তা সাক্ষীর দখলে থাকে তাহলে দলিল দাখিলের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে যতই আপত্তি থাকুক সে সাক্ষী দলিল আদালতে হাজির করবেন।
১২,৫১১.
দ্রুত বিচার আইনে বিচার পদ্ধতির জন্য ফৌজদারী কার্যবিধির কোন অধ্যায় অনুসরণ করতে বলা হয়েছে?
  1. Chapter IX
  2. Chapter XX
  3. Chapter XXI
  4. Chapter XXII
ব্যাখ্যা
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ধারা ১০-বিচার পদ্ধতি:
(১) আদালত এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে সম্পন্ন করিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে এই আইনে ভিন্নতর কিছু না থাকিলে, ফৌজদারী কার্যবিধির Chapter XXII-তে বর্ণিত পদ্ধতি, যতদূর প্রযোজ্য হয়, অনুসরণ করিবে৷ 
 
(২) এই আইনের অধীন কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি হাতেনাতে পুলিশ কর্তৃক ধৃত হইলে বা অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধৃত হইয়া পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হইলে, পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রাথমিক রিপোর্টসহ তাহাকে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করিবে এবং উহার পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে অপরাধ সম্পর্কে আদালতে রিপোর্ট বা অভিযোগ পেশ করিবে এবং আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান করিয়া উক্তরূপ রিপোর্ট বা অভিযোগ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার কার্য সম্পন্ন করিবে৷ 
 
(৩) অভিযুক্ত ব্যক্তি উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিতভাবে হাতেনাতে ধৃত না হইলে, অপরাধ সংঘটনের পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে ধারা ৯(২) এর অধীন রিপোর্ট বা অভিযোগ দাখিল করিতে হইবে এবং উক্ত রিপোর্ট বা অভিযোগ দায়েরের পরবর্তী ষাট কার্যদিবসের মধ্যে, ধারা ১১ এর বিধান সাপেক্ষে, আদালত বিচার কার্য সম্পন্ন করিব৷ 
 
(৪) উপ-ধারা (২) ও (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিতভাবে ধৃত না হইয়া অন্য কোনভাবে ধৃত হইলে বা আদালতে আত্নসমর্পণ করিলে, উক্ত অপরাধের বিষয়ে, যত দ্রুত সম্ভব, ধারা ৯(২) এর অধীন রিপোর্ট বা অভিযোগ দাখিল করিতে হইবে এবং আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্নপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান করিয়া উক্তরূপ রির্পোট বা অভিযোগ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করিবে।
১২,৫১২.
ফৌজদারি মামলায় বিবাহ বজায় থাকাকালে স্ত্রী বা স্বামীর বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করিতে-
  1. বাধ্য করা যাইবে।
  2. তৃতীয় ব্যক্তিকে বাধ্য করা যাইবে।
  3. বাধ্য করা যাইবে না।
  4. কোনটাই নয়।
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২২ ধারার বিধান: বিবাহ বজায় থাকাকালীন বার্তা: কোন ব্যক্তি যিনি বিবাহিত বা যাহার সহিত বিবাহ হইয়াছে, বিবাহ বজায় থাকাকালে সেই ব্যক্তির সহিত তাহার স্ত্রী বা স্বামীর বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করিতে সেই ব্যক্তিকে বাধ্য করা যাইবে না; বার্তা প্রদানকারীর বা তাহার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির সম্মতি ব্যতীত বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করিবার অনুমতিও তাহাকে দেওয়া যাইবে না, তবে বিবাহিত ব্যক্তিদ্বয়ের মধ্যে কোন দেওয়ানী মামলায় অথবা তাহাদের একজনের বিরুদ্ধে কোন অপরাধ করিবার দায়ে অপরজন ফৌজদারীতে সোর্পদ থাকিলে সেইক্ষেত্রে বার্তার বিষয় প্রকাশ করিতে দেওয়া যাইবে। 
--------------
⇒ Communications during marriage:
Section 122. No person who is or has been married shall be compelled to disclose any communication made to him during marriage by any person to whom he is or has been married: nor shall he be permitted to disclose any such communication, unless the person who made it, or his representative in interest, consents, except in suits between married persons, or proceedings in which one married person is prosecuted for any crime committed against the other.
১২,৫১৩.
ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ habeas corpus প্রকৃতির নির্দেশ জারি করতে পারে?
  1. ৪৯০ ধারা
  2. ৪৯১ ধারা
  3. ৪৯৫ ধারা
  4. ৪৯৬ ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯১ ধারা হাইকোর্ট বিভাগকে “directions of the nature of a habeas corpus” জারির ক্ষমতা প্রদান করে। এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি বেআইনীভাবে বা অযৌক্তিকভাবে সরকারি বা বেসরকারি হেফাজতে আটক থাকে, তবে হাইকোর্ট বিভাগ তাকে মুক্তির নির্দেশ দিতে পারে।
- ধারা ৪৯১ অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগ নিম্নলিখিত নির্দেশসমূহ দিতে পারে:
১) আটক ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ,
২) বেআইনী আটক থেকে মুক্তি,
৩) সাক্ষ্য প্রদানের জন্য বন্দিকে হাজির,
৪) কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের সামনে হাজির,
৫) এক হেফাজত থেকে অন্য হেফাজতে স্থানান্তর।
অর্থাৎ Habeas corpus প্রকৃতির নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগের রয়েছে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯১ ধারার অধীনে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১ ধারার বিধান:
(১) হাইকোর্ট বিভাগ যখনই উপযুক্ত মনে করেন, তখন নির্দেশ দিতে পারবেন যে,
ক) ইহার ফৌজদারী আপীল এখতিয়ারের সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন ব্যক্তি সম্পর্কে আইনানুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে আদালতে হাজির করা হোক;
খ) উপরিউক্ত সীমার মধ্যে সরকারী বা বেসরকারী হেফাজতে বে-আইনীভাবে বা অযৌক্তিকভাবে আটক কোন ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়া হোক;
গ) আদালতের বিবেচনাধীন বা অনুসন্ধানাধীন কোন বিষয়ে সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দী দিবার জন্য উপরিউক্ত সীমার মধ্যে অবস্থিত কোন জেলে আটক কোন বন্দীকে আদালতে হাজির করা হোক;
ঘ) কোন কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের বিবেচনাধীন কোন বিষয় বিচারের জন্য বা সাক্ষী দিবার জন্য উক্তরূপে আটক কোন বন্দীকে উক্ত কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের নিকট হাজির করা হোক;
ঙ) উপরিউক্ত সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন বন্দীকে বিচারের উদ্দেশ্যে এক হেফাজত হতে অন্য হেফাজতে অপসারণ করা হোক; 
(২) মামলার পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সুপ্রীমকোর্ট সময়ে সময়ে এই ধারার অধীন নিয়ম প্রণয়ন করতে পারবেন।
(৩) এই ধারার কোন বিধানই বর্তমান বলবৎ কোন নিবারণমূলক আটক আইনের অধীন আটক ব্যক্তিদের প্রতি প্রযোজ্য নহে।
---------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 491.Power to issue directions of the nature of a habeas corpus:
(1) The High Court Division may, whenever it thinks fit, direct:-
(a) that a person within the limits of its appellate criminal jurisdiction be brought up before the Court to be dealt with according to law;
(b) that a person illegally or improperly detained in public or private custody with such limits be set at liberty;
(c) that a prisoner detained in any jail situate within such limits be brought before the Court to be there examined as a witness in any matter pending or to be inquired into in such Court;
(d) that a prisoner detained as aforesaid be brought before a Court-martial or any Commissioners for trial or to be examined touching any matter pending before such Court-martial or Commissioners respectively;
(e) that a prisoner within such limits be removed from one custody to another for the purpose of trial ; and
(2) The [Supreme Court] may, from time to time, frame rules to regulate the procedure in cases under this section.
(3) Nothing in this section applies to persons detained under any law for the time being in force providing for preventive detention.

১২,৫১৪.
‘C’ তার নিজের স্ত্রী, যিনি ১১ বছর বয়সী, তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৩৭৬ অনুসারে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  2. ২ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  4. কোনো শাস্তি নয়
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৩৭৬ অনুসারে, সাধারণত ধর্ষণের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা। তবে, ধারা ৩৭৫-এর ব্যতিক্রমে উল্লেখ আছে যে, কোনো পুরুষ তার নিজের স্ত্রীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে এবং স্ত্রীর বয়স ১৩ বছরের কম না হলে তা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হয় না। কিন্তু ধারা ৩৭৬-এ আরও উল্লেখ আছে যে, যদি স্ত্রীর বয়স ১২ বছরের কম হয়, তবে এই কাজের জন্য শাস্তি ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা, বা উভয়ই। এখানে, ‘C’-এর স্ত্রীর বয়স ১১ বছর, যা ১২ বছরের কম, তাই ধারা ৩৭৬ অনুসারে সর্বোচ্চ শাস্তি ২ বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা, বা উভয়ই।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারার বিধান ধর্ষণের সাজা:- কোন ব্যক্তি যদি ধর্ষণের অপরাধ করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, যদি না ধর্ষিত স্ত্রীলোকটি তার নিজ স্ত্রী হয় ও বারো বৎসরের কম বয়স্কা না হয়; যদি তদ্রূপ হয়, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 376. Punishment for rape:
- Whoever commits rape shall be punished with imprisonment for life or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine, unless the woman raped is his own wife and is not under twelve years of age, in which case he shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

১২,৫১৫.
সাবিনাকে যৌতুকের জন্য তার স্বামী মারধর করে গুরুতর জখম করে।এ ক্ষেত্রে তার স্বামীর জন্য কোন শাস্তির বিধান রয়েছে?
  1. মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  2. ৩ থেকে ১০ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
  3. ৫ থেকে ১২ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
  4. ৫ থেকে ৭ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০: ধারা ১১: যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ইত্যাদির শাস্তি:
যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন 28[কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম (grievous hurt) করেন বা সাধারণ জখম (simple hurt) করেন] তাহা হইলে উক্ত স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা ব্যক্তি-
(ক) মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;
(কক) মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে বা অনধিক বার বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(খ) মারাত্মক জখম (grievous hurt) করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক বার বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(গ) সাধারণ জখম (simple hurt) করার জন্য অনধিক পাঁচ বৎসর কিন্তু অন্যূন দুই বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
১২,৫১৬.
সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য ব্যক্তি কে?
  1. দৈহিক বা মানসিকভাবে অক্ষম ব্যক্তি
  2. নাবালক বা অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি
  3. ক এবং খ উভয়ে
  4. ক বা খ কেউ নয়
ব্যাখ্যা

সাক্ষ্য আইনের ১১৮ ধারা- যে সাক্ষ্য দিতে পারে:
সকল ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদানের যোগ্য, যদি আদালত মনে না করেন যে, তাহার অল্প বয়স, অতি বৃদ্ধ বয়স, দৈহিক বা মানসিক ব্যাধি বা অনুরূপ অন্য কোন কারণে তাহাদিগকে জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন বুঝিতে বা সেই প্রশ্নে যুক্তিসঙ্গত উত্তর দিতে তাঁহারা অক্ষম।

অর্থাৎ, জিজ্ঞাসাকৃত প্রশ্ন বুঝতে বা তার যুক্তিসঙ্গত উত্তর দিতে অক্ষম না হলে, কোনো ব্যক্তি সাক্ষ্যদানে অযোগ্য হবে না।

ব্যাখ্যা- কোন বিকৃত মস্তিষ্ক ব্যক্তি যদি তাহার মস্তিষ্ক বিকৃতির জন্য তাহাকে জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন বুঝিতে বা উহার যুক্তিসঙ্গত উত্তর দিতে অক্ষম না হয়, তবে সেই ব্যক্তি সাক্ষ্যদানে অযোগ্য হইবে না।

১২,৫১৭.
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে তা নির্ধারণ করেন কে?
  1. সংশ্লিষ্ট আদালত
  2. কারা কর্তৃপক্ষ
  3. সরকার
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৪১- কারাবাসের স্থান নির্দিষ্টকরণের ক্ষমতা

(১) বর্তমানে কার্যকর কোন আইনে ভিন্নরূপ ব্যবস্থা করা না হলে এই বিধির অধীন কারাদণ্ড বা হাজত বাসের নির্দেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে সরকার সে সম্পর্কে নির্দেশ দিতে পারবেন।

(২) দেওয়ানী কারাগারে আটক আসামী কিংবা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফৌজদারী কারাগারে অপসারণ এবং তাদের দেওয়ানী কারাগারে প্রত্যাবর্তনঃ
এই কার্যবিধির অধীন কারাদন্ড বা হাজতবাসের নির্দেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে যদি দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখা হয়, তাহলে কারাদণ্ড বা হাজত বাসের আদেশদানকারী আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত ব্যক্তিকে ফৌজদারী কারাগারে অপসারণ করার নির্দেশ দিতে পারবেন।

(৩) কোন ব্যক্তি উপধারা (২) এর অধীন ফৌজদারী জেলে স্থানান্তরিত হলে তা থেকে মুক্ত হবার পর তাকে পুনরায় দেওয়ানী জেলে প্রেরণ করতে হবে, যদি না-
(ক) ফৌজদারী জেলে স্থানান্তরিত হবার পর তিন বৎসর পার হয়ে থাকে, তিন বৎসর অতিবাহিত হয়ে থাকলে দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-৫৮ এর অধীন সে দেওয়ানী জেল থেকে অব্যাহতি পেয়েছে মর্মে অভিহিত করতে হবে, কিংবা
(খ) যে আদালত তাকে দেওয়ানী জেলে আটকের আদেশ দিয়েছিলেন সেই আদালত ফৌজদারী জেলের ভারপ্রাপ্ত অফিসারকে সার্টিফিকেট দেন যে দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-৫৮ এর অধীন সে অব্যাহতি পাবার অধিকারী।
১২,৫১৮.
কারাদণ্ড নির্দেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে তা নির্ধারণ করেন-
  1. বিচারিক আদালত
  2. হাইকোর্ট বিভাগ
  3. সরকার
  4. কারা কর্তৃপক্ষ
ব্যাখ্যা

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে, তা সরকার নির্ধারণ করেন।

 • ধারা ৫৪১: কারাবাসের স্থান নির্দিষ্টকরণের ক্ষমতা-
(১) বর্তমানে কার্যকর কোন আইনে ভিন্নরূপ ব্যবস্থা করা না হলে এই বিধির অধীন কারাদণ্ড বা হাজত বাসের নির্দেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে সরকার সে সম্পর্কে নির্দেশ দিতে পারবেন।

(২) দেওয়ানী কারাগারে আটক আসামী কিংবা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফৌজদারী কারাগারে অপসারণ এবং তাদের দেওয়ানী কারাগারে প্রত্যাবর্তনঃ
এই কার্যবিধির অধীন কারাদন্ড বা হাজতবাসের নির্দেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে যদি দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখা হয়, তাহলে কারাদণ্ড বা হাজত বাসের আদেশদানকারী আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত ব্যক্তিকে ফৌজদারী কারাগারে অপসারণ করার নির্দেশ দিতে পারবেন।

(৩) কোন ব্যক্তি উপধারা (২) এর অধীন ফৌজদারী জেলে স্থানান্তরিত হলে তা থেকে মুক্ত হবার পর তাকে পুনরায় দেওয়ানী জেলে প্রেরণ করতে হবে, যদি না-
(ক) ফৌজদারী জেলে স্থানান্তরিত হবার পর তিন বৎসর পার হয়ে থাকে, তিন বৎসর অতিবাহিত হয়ে থাকলে দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-৫৮ এর অধীন সে দেওয়ানী জেল থেকে অব্যাহতি পেয়েছে মর্মে অভিহিত করতে হবে, কিংবা
(খ) যে আদালত তাকে দেওয়ানী জেলে আটকের আদেশ দিয়েছিলেন সেই আদালত ফৌজদারী জেলের ভারপ্রাপ্ত অফিসারকে সার্টিফিকেট দেন যে দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-৫৮ এর অধীন সে অব্যাহতি পাবার অধিকারী।

১২,৫১৯.
আদেশ-১৫, বিধি-৩ অনুসারে, কখন আদালত অতিরিক্ত শুনানি স্থগিত রাখতে পারেন?
  1. যখন মামলার পক্ষগণ রায় মেনে নিতে অসম্মত হন
  2. যখন মামলায় নতুন করে সাক্ষী যুক্ত করা হয়
  3. যখন আদালত নতুন করে বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করেন
  4. যখন আদালত মনে করেন যে পর্যাপ্ত প্রমাণ বা যুক্তি উপস্থাপিত হয়নি
ব্যাখ্যা
• আদেশ-১৫, বিধি ৩-
১) যদি মামলার পক্ষদের মধ্যে আইন বা ঘটনার কোনো প্রশ্ন বিচারযোগ্য হয় এবং আদালত আগে থেকেই বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করে থাকে, তবে আদালত যদি মনে করেন যে আরও যুক্তি বা প্রমাণের দরকার নেই এবং তাৎক্ষণিক রায় ঘোষণা করলে কারো প্রতি অবিচার হবে না, তাহলে আদালত সরাসরি বিচার্য বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে রায় দিতে পারেন।

তবে, যদি শুধুমাত্র বিচার্য বিষয় নির্ধারণের জন্য সমন দেওয়া হয়ে থাকে এবং মামলার পক্ষ বা তাদের উকিল উপস্থিত থেকে কোনো আপত্তি না করেন, তাহলে আদালত সেই অনুযায়ী রায় ঘোষণা করতে পারেন।

২) কিন্তু, যদি আদালত মনে করেন যে পর্যাপ্ত প্রমাণ বা যুক্তি উপস্থাপিত হয়নি, তাহলে তিনি মামলার অতিরিক্ত শুনানি স্থগিত রাখতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সাক্ষ্য বা যুক্তি উপস্থাপনের জন্য সময় নির্ধারণ করতে পারেন।
১২,৫২০.
বণ্টনযোগ্য সম্পত্তির মূল্য ১৫ লক্ষ টাকা হলে, নিবন্ধন ফি কত হবে?
  1. ৫০০ টাকা
  2. ৭০০ টাকা
  3. ১২০০ টাকা
  4. ১৮০০ টাকা
ব্যাখ্যা
The Registration Act, 1908 এর ধারা ৭৮খ- বণ্টননামা দলিলের জন্য নিবন্ধন ফিস:
ধারা ৭৮ বা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন; স্থাবর সম্পত্তি বিষয়ক বণ্টননামা দলিলের নিবন্ধন ফিস হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(১) সম্পত্তির মূল্য অনূর্ধ্ব তিন লক্ষ টাকা হইলে, পাঁচশত টাকা;
(২) সম্পত্তির মূল্য তিন লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে এবং অনূর্ধ্ব দশ লক্ষ টাকা হইলে, সাতশত টাকা;
(৩) সম্পত্তির মূল্য দশ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে এবং অনূর্ধ্ব ত্রিশ লক্ষ টাকা হইলে, এক হাজার দুইশত টাকা;
(৪) সম্পত্তির মূল্য ত্রিশ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে এবং অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ লক্ষ টাকা হইলে, এক হাজার আটশত টাকা;
(৫) সম্পত্তির মূল্য পঞ্চাশ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে হইলে, দুই হাজার টাকা।

উল্লেখ্য,
২০০৪ সনে নিবন্ধন (সংশোধনী) আইন (২০০৪ সনের ২৫ নং আইন) প্রবর্তনের পূর্বে বিক্রয়-চুক্তি (বায়নাপত্র) দলিলের নিবন্ধন ঐচ্ছিক ছিল। উক্ত আইন দ্বারা ১ জুলাই ২০০৫ খ্রিঃ তারিখ হইতে বিক্রয়-চুক্তি দলিলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয় এবং উহার নিবন্ধন ফি যুক্তিযুক্ত হারে নির্ধারণ করা হয়।
১২,৫২১.
নিম্নের কোন বিধানটি স্বীকারোক্তি ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রে সঠিক নয়?
  1. স্বীকৃতি শুধু ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
  2. স্বীকারোক্তির ক্ষেত্রে শাস্তি হওয়ার আশঙ্কা থাকে
  3. স্বীকৃতিতে দোষ স্বীকার থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে
  4. সকল স্বীকারোক্তিই স্বীকৃতি এর অন্তর্ভুক্ত কিন্তু সকল স্বীকৃতি স্বীকারোক্তি নয়
ব্যাখ্যা
স্বীকারোক্তি ও স্বীকৃতি:

⇒ কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্বীকার করে বিবৃতি প্রদান করলে তাকে স্বীকারোক্তি বা দোষ স্বীকার বলে; কিন্তু কোন মামলার বিষয়ে কোনো বিবৃতি প্রদান করা হলে, উক্ত বিবৃতি যদি সেই মামলার বিচার্য বিষয় সম্পর্কে ইঙ্গিত বহন করে তাহলে তাকে স্বীকৃতি বলে।
⇒ স্বীকারোক্তি বা দোষ স্বীকার কে ইংরেজিতে confession এবং স্বীকৃতি কে ইংরেজিতে admission বলে।

সকল স্বীকারোক্তি অবশ্যই স্বীকৃতি কিন্তু সকল স্বীকৃতি স্বীকারোক্তি নয়।
⇒ স্বীকারোক্তির ক্ষেত্রে প্রমাণের প্রয়োজন কিন্তু স্বীকৃতির ক্ষেত্রে প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।

স্বীকারোক্তির ক্ষেত্রে শাস্তি হওয়ার আশঙ্কা থাকে কিন্তু স্বীকৃতিতে দোষ স্বীকার না থাকলে শাস্তি হয় না।
স্বীকারোক্তি শুধু ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কিন্তু স্বীকৃতি ফৌজদারি ও দেওয়ানী উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

⇒ স্বীকারোক্তি সংকীর্ণ অর্থে ব্যবহৃত হয় কিন্তু স্বীকৃতি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়।
স্বীকারোক্তিতে অবশ্যই দোষ স্বীকার থাকে কিন্তু স্বীকৃতিতে দোষ স্বীকার থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে।
১২,৫২২.
Provisions relating to 'Discharge of sureties' is provided in-
  1. Section 512
  2. Section 502
  3. Section 514
  4. Section 522
ব্যাখ্যা
• Section 502: Discharge of sureties-
(1) All or any sureties for the attendance and appearance of a person released on bail may at any time apply to a Magistrate to discharge the bond, either wholly or so far as relates to the applicants. 
(2) On such application being made, the Magistrate shall issue his warrant of arrest directing that the person so released be brought before him. 
(3) On the appearance of such person pursuant to the warrant, or on his voluntary surrender, the Magistrate shall direct the bond to be discharged either wholly or so far as relates to the applicants, and shall call upon such person to find other sufficient sureties, and, if he fails to do so, may commit him to custody.

ধারা ৫০২: জামিনদারের অব্যাহতি-
 
জামিনদার যেকোন সময় জামিননামাটি সম্পূর্ণ বা আংশিক বাতিল করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আবেদন করতে পারবেন। এরূপ আবেদন প্রাপ্তির পর ম্যাজিস্ট্রেট মুচলেকাটি বাতিল করবেন এবং জামিনে মুক্ত আসামীকে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী করবেন এবং উক্ত জামিনদারকে অব্যাহতি দিবেন। আসামী আদালতে হাজির হলে বা তাকে হাজির করানো হলে আদালত তাকে নতুন জামিনদার সংগ্রহ করতে বলবেন এবং সে যদি জামিনদার সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাকে জেলে প্রেরন করবেন।
১২,৫২৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির Order-VI, Rule-18 অনুসারে সংশোধনীর আদেশ পাওয়ার পর কত দিনের মধ্যে সংশোধন করতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৪ দিন
  3. ২১ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬, বিধি ১৮ অনুযায়ী: যদি কোনো পক্ষ প্লিডিংস সংশোধনের জন্য আদালতের অনুমতি (order for leave to amend) পায়, এবং আদালত সংশোধনের জন্য কোনো সময় নির্ধারণ না করে, তাহলে আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সংশোধিত প্লিডিংস আদালতে দাখিল করতে হবে।
- যদি নির্ধারিত এই ১৪ দিনের মধ্যে সংশোধন না করা হয়, তাহলে সংশোধনের অনুমতি বাতিল হয়ে যাবে যদি না আদালত সময় বৃদ্ধি করে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৬, বিধি ১৮: আদেশ প্রাপ্তির পর সংশোধনে ব্যর্থতা:
যদি কোন পক্ষ তার প্লিডিংস সংশোধনের জন্য আদালতের অনুমতি আদেশের মাধ্যমে পায় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধন না করে, অথবা আদেশে যদি কোন নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা না থাকে, তবে আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে চৌদ্দ দিনের মধ্যে সংশোধন না করে, তাহা হইলে উক্ত নির্ধারিত সময় বা উক্ত চৌদ্দ দিন অতিবাহিত হইলে সংশোধনের অনুমতি দেওয়া হইবে না; যদি না আদালত সময় বৃদ্ধি করিয়া দেয়।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order VI, Rule 18: Failure to Amend After Order: 
If a party who has obtained an order for leave to amend does not amend accordingly within the time limited for that purpose by the order, or if no time is thereby limited, then within fourteen days from the date of the order, he shall not be permitted to amend after the expiration of such limited time as aforesaid or of such fourteen days, as the case may be, unless the time is extended by the Court.

১২,৫২৪.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় দাঙ্গা দমনের সময় সরকারি কর্মচারীকে আক্রমণ বা বাধাদানের শাস্তির বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ১৫৪
  2. ধারা ১৫২
  3. ধারা ১৫১
  4. ধারা ১৪৯
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ১৫২ অনুযায়ী, যদি কেউ দাঙ্গা বা অবৈধ সমাবেশ দমন করার সময় কোনো সরকারি কর্মচারীকে আক্রমণ করে, হুমকি দেয় বা বাধা দেয়, তাহলে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৫২ ধারার বিধান: দাঙ্গা ইত্যাদি দমনকালে সরকারি কর্মচারীকে আক্রমণ বা বাধাদান করা:- কোন সরকারি কর্মচারী অনুরূপ সরকারি কর্মচারী হিসেবে তাঁর কর্তব্য সম্পাদন উদ্দেশ্যে একটি অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার অথবা দাঙ্গা দমন করার প্রচেষ্টাকালে কোন ব্যক্তি যদি তাকে আক্রমণ করে অথবা আক্রমণ করার হুমকি প্রদর্শন করে, অথবা বাধাদান করে বা বাধাদান করার চেষ্টা করে, অথবা অনুরূপ সরকারি কর্মচারীর প্রতি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে বা করার হুমকি প্রদর্শন করে বা চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
---------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-152- Assaulting or obstructing public servant when suppressing riot, etc.
- Whoever assaults or threatens to assault, or obstructs or attempts to obstruct, any public servant in the discharge of his duty as such public servant, in endeavouring to disperse an unlawful assembly, or to suppress a riot or affray, or uses, or threatens, or attempts to use criminal force to such public servant, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years or with fine, or with both.
১২,৫২৫.
প্রবেশন কর্মকর্তা কত দিনের মধ্যে সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করবেন?
  1. ১০ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ২১ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
শিশু আইন, ২০১৩, ধারা ৩১: সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন:
(১) আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুকে] শিশু-আদালতে হাজির করিবার অনধিক ২১ (একুশ) দিনের মধ্যে প্রবেশন কর্মকর্তা, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, শিশু-আদালতে একটি সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করিবেন এবং উহার অনুলিপি নিকটস্থ বোর্ড-এ ও অধিদপ্তরে দাখিল করিবেন। 

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক শিশুর পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আর্থিক, মনস্তাত্ত্বিক, নৃতাত্ত্বিক ও শিক্ষাগত যোগ্যতা, পটভূমি এবং কোন্ অবস্থায় ও এলাকায় সে বসবাস করে এবং কোন্ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে, ইত্যাদির বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত থাকিবে। 

(৩) প্রবেশন কর্মকর্তার সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনসহ শিশু সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিবেদন গোপনীয় বলিয়া গণ্য হইবে।
১২,৫২৬.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে অর্থের পরিমাণ অনির্দিষ্ট হলে কোন ধরনের "Set-off" দাবি করা যায়?
  1. Fixed Set-off
  2. Legal Set-off
  3. English Set-off
  4. Equitable Set-off
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৮নং আদেশের ৬ নং বিধিতে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফের বিধান রয়েছে। অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদী যদি পূর্বেই বাদীর নিকট কোন পরিমাণ অর্থ পাওনা থাকে তবে বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার জন্য বিবাদী যে আবেদন করে তাকে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ বলে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির Set-off দুই প্রকার যথা:
ক) Legal Set-off [Order VIII, Rule 6],
খ) Equitable Set-off 

যেক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ নির্দিষ্ট, সেক্ষেত্রে Legal Set-off দাবি করা যায়। কিন্তু, যেক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ অনির্দিষ্ট সেক্ষেত্রে Equitable Set-off মঞ্জুর করা যেতে পারে (আদালতের Discretion-এর উপর)।

Equitable Set-off একটি বিশেষ ধরনের প্রতিরক্ষা, যা নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলোতে প্রযোজ্য:
⇒ যখন বাদী ও বিবাদীর মধ্যে পারস্পরিক দাবী-দাওয়া থাকে এবং উভয় দাবীই একই উত্স থেকে উদ্ভূত হয়েছে। অর্থাৎ উভয়ের দাবী একই চুক্তি, লেনদেন বা ঘটনার সাথে জড়িত।
⇒ যখন বিবাদীর দাবী বাদীর দাবীর চেয়ে কম। কারণ যদি বিবাদীর দাবী বেশি হয়, তাহলে বিবাদীকে ক্রস-মামলা দায়ের করতে হবে।
⇒ যখন বিবাদীর দাবী নগদ টাকার নয়, বরং কোন অনিষ্পন্ন কাজের জন্য। যেমন - বাদী যদি বাকি বেতনের দাবী করে আর বিবাদী দাবী করে কিছু অসম্পূর্ণ কাজের জন্য।
⇒ যখন বিবাদীর দাবী সুস্পষ্টভাবে অর্থগত মান নির্ণয় করা সম্ভব নয়। যেমন - ক্ষতিপূরণের চাহিদা ইত্যাদি।
১২,৫২৭.
High Court Judicature at Calcutta স্থাপিত হয় কত সালে?
  1. ১৮৬২
  2. ১৮৬১
  3. ১৮৭০
  4. ১৮৭২
ব্যাখ্যা
High Court Judicature at Calcutta স্থাপিত হয় ১৮৬২ সালে।

- উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ১৭২৬ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কলকাতা শহরে 'মেয়র কোর্ট স্থাপন করে।
- পরে মেয়র কোর্টের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে, ব্রিটিশ রাজ পরিবার ১৭৭৪ সালে The Regulating Act of 1773' এর মাধ্যমে কলকতার ফোর্ট উইলিয়ামে 'সুপ্রীমকোর্ট' প্রতিষ্ঠা করে।
- ১৮৫৮ সালে কোম্পানি বিলুপ্ত করা হলে কলকাতা সুপ্রিম কোর্ট তার প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলে এবং ১৮৬১ সালের ভারতীয় হাইকোর্ট অ্যাক্টের মাধ্যমে এর বিলুপ্তি ঘটে।
- পরে ১ জুলাই ১৮৬২ সালে ফোর্ট উইলিয়ামে একটি হাইকোর্ট স্থাপিত হয়।
- সেই সময় এ হাইকোর্টের নাম ছিল- হাইকোর্ট অব জুডিকেচার।
- ১৮৭২ সালে স্যার বার্নেস পিকক প্রথম প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন।
১২,৫২৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোথায় "কর্মকর্তাগণ কর্তৃক নিলাম ডাকা বা খরিদে বাধা-নিষেধ" এর বিধান আছে?
  1. আদেশ-২১ বিধি-৬৭
  2. আদেশ-২১ বিধি-৬৮
  3. আদেশ-২১ বিধি-৭৩
  4. আদেশ-২১ বিধি-৭৪
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৭৩ এর বিধান কর্মকর্তাগণ কর্তৃক নিলাম ডাকা বা খরিদে বাধা-নিষেধ: কোন নিলাম বিক্রয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন কর্মকর্তা বা ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিলাম ডাকতে পারবে না বা উক্ত বিক্রীত সম্পত্তিতে কোন স্বার্থ অর্জন বা অর্জনের চেষ্টা করতে পারবে না।
--------------------
⇒ Order-21 Rule-73. Restriction on bidding or purchaser by officers:
No officer or other person having any duty to perform in connection with any sale shall, either directly or indirectly, bid for, acquire or attempt to acquire any interest in the property sold.
১২,৫২৯.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর বিধান অনুযায়ী, মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ কত টাকা অর্থদণ্ড ধার্য করতে পারবেন?
  1. ১ লাখ
  2. ২ লাখ
  3. ৩ লাখ
  4. ৫ লাখ
ব্যাখ্যা

The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ৩২: বিভিন্ন শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট যে সাজা দিতে পারবেন:
(১) ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নিম্নলিখিত সাজা দিতে সক্ষম-
(ক) মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত:
- সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, যার মধ্যে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত একাকী বন্দিত্ব (solitary confinement) অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
- সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।

(খ) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত:
- সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, যার মধ্যে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত একাকী বন্দিত্ব অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
- সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।

(গ) তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত:
- সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।
- সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।

(২) যেকোনো ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আইন অনুযায়ী যে কোনো সাজা দিতে পারবে, একাধিক ধরণের সাজা একত্রিত করে।

১২,৫৩০.
"Nemo judex in causa sua" নীতিটি মূলত কোন বিচারিক মূলনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ
  2. ন্যায়বিচারে বিলম্ব
  3. অপরাধের অভিপ্রায়
  4. ন্যায়বিচারের নিরপেক্ষতা
ব্যাখ্যা
Legal Maxim: Nemo judex in causa sua
- Meaning (English): No one should be a judge in his own cause.
- বাংলা অর্থ:"কেউ নিজের মামলার বিচারক হতে পারে না।"

ব্যাখ্যা:
"Nemo judex in causa sua" একটি ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি। এই নীতির মূল লক্ষ্য ন্যায়বিচারে পক্ষপাতিত্ব থেকে বিরত থাকা। যদি কোনো ব্যক্তি নিজে কোনো মামলা বা বিরোধের পক্ষভুক্ত হন, তাহলে সে সেই মামলার বিচার করলে নিরপেক্ষতা থাকবে না। এতে ন্যায়বিচার লঙ্ঘিত হয়।

যদি কোনো বিচারক এমন একটি মামলার বিচার করেন যেখানে তার নিজের স্বার্থ জড়িত থাকে (যেমন: তার আত্মীয়পক্ষ মামলায় জড়িত), তাহলে সেটি "Nemo judex in causa sua" নীতির লঙ্ঘন হবে।
১২,৫৩১.
দণ্ডবিধির কোন ধারাটি ফোর টুয়েন্টি নামে সকলের নিকট পরিচিত?
  1. ৪১৫ ধারা
  2. ৪২০ ধারা
  3. ৪৩০ ধারা
  4. ৪২৫ ধারা
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা হলে ফোর-টুয়েন্টি (Four- Twenty)-  প্রতারনা, ছলনা এবং ভাওতার দ্বারা কাউকে ঠকানো হলে সাধারনভাবে তা ৪২০ ধারার অধীন দণ্ডনীয় হয়।
• ৪২০ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি, প্রতারণা করে এবং তা দ্বারা প্রতারিত ব্যক্তিকে অন্য কোন ব্যক্তির নিকট কোন সম্পত্তি সমর্পণ করতে অথবা কোন মূল্যবান জামানত কিংবা মূল্যবান জামানতে রূপান্তরিত হওয়ার যোগ্য কোন স্বাক্ষরিত বা সীলমোহরকৃত বস্তু প্রস্তুত, পরিবর্তন অথবা সমুদয় অংশ বা অংশবিশেষ বিনাশ করার জন্য অসাধুভাবে প্ররোচিত করে, তাহলে সে ব্যক্তি যে কোন বর্ণনার কারাদণ্ডে যার মেয়াদ ৭ বছর পর্যন্ত হতে পারে এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে। সুতরাং দণ্ডবিধি অনুযায়ী ফোর টুয়েন্টির শাস্তি অনধিক ৭ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
১২,৫৩২.
'ক', 'খ' এর নিকট একটি মাঠ বিক্রয় করে। মাঠটির উপর দিয়ে জনসাধারনের চলাচলের অধিকার ছিল, যা সম্পর্কে 'ক' এর সরাসরি ব্যক্তিগত জ্ঞান ছিল কিন্তু সে সেটা 'খ' এর নিকট হতে গোপন রেখেছিল। এই ক্ষেত্রে-
  1. 'ক' চুক্তিটি রদ করার অধিকারী
  2. ‘খ’ শুধু ক্ষতিপূরণ পাবার অধিকারী
  3. 'খ' চুক্তিটি রদ করার অধিকারী
  4. 'ক' চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যসম্পাদনের অধিকারী
ব্যাখ্যা
- এই ক্ষেত্রে 'খ' সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারার বিধান অনুযায়ী চুক্তিটি রদ করার অধিকারী।

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারার বিধান: বিচারপূর্বক যখন রদ করা যায়-
লিখিত চুক্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোন ব্যক্তি তা রদ করার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে এবং আদালত নিম্নোক্ত যেকোন ক্ষেত্রে বিচারপূর্বক চুক্তি রদ করতে পারেন:
(ক) যেখানে চুক্তি বাতিলযোগ্য অথবা বাদী কর্তৃক সমাপনীয়;
(খ) যেখানে আপাতত দৃশ্যমান নয় এমন কারণে চুক্তি অবৈধ এবং বাদীর চেয়ে প্রতিবাদীকেই দোষী করা যায় বেশি;
(গ) যেখানে একটি বিক্রয়চুক্তি বা একটি ইজারা গ্রহণের চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে এবং ক্রেতা ইজারাদার ক্রয়মূল্য বা অপরাপর অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে।

যখন ক্রেতা বা ইজারাদার বিষয়বস্তুর দখলকারী থাকে এবং আদালত তেমন দখল অন্যায় মনে করেন সেখানে আদালত তাকে তেমন দখলকারী হিসাবে কোন লাভ বা ভাড়া পেয়ে থাকলে তা বিক্রেতা বা ইজারাদাতাকে প্রদানের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।

একই ক্ষেত্রে, আদালত সে মামলায়ই আদেশ কর্তৃক যাতে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছিল, কিন্তু তদমোতাবেক কাজ করা হয়নি, হয় কর্তব্য অবহেলাকারী পক্ষের বেলায় বা অসম্পূর্ণ চুক্তিই মামলার ন্যায়বিচারের আবশ্যকতা মোতাবেক রদ করে দিতে পারেন।
১২,৫৩৩.
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর অধীন অপরাধ বিচারার্থে আমলে গ্রহণের জন্য অনুমোদন প্রয়োজন হবে____
  1. দুর্নীতি দমন কমিশন
  2. বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের
  3. মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের
  4. বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের
ব্যাখ্যা
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ধারা ২৯: বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা:
- সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

⇒ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা ২০১৯ এর 
- বিধি ৫২ এর বিধান আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের অনুমতি প্রদানের ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ।
(১) আইনে উল্লিখিত অপরাধের তদন্ত সমাপ্ত হইবার পর আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের অনুমতি প্রদানের নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ বলিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষেত্রে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ (২০০৪ সনের ৫ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (ঙ) এ সংজ্ঞায়িত কমিশন এবং এই বিধিমালার তফসিলের 'তালিকা-১' এ উল্লিখিত অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থার ক্ষেত্রে, সংস্থার প্রধানকে বুঝাইবে।

(২) মানিলন্ডারিং অপরাধের অভিযোগ তদন্তের পর কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হইলে, বিচার সুপারিশ করিয়া উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়ের করিবার ক্ষেত্রে, আইনের ধারা ১২ অনুযায়ী উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত তদন্তকারী সংস্থার নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ আবশ্যক হইবে এবং এইরূপ অনুমোদনপত্রের একটি কপি আদালতে দাখিল করা না হইলে আদালত অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ করিবে না।

(৩) মানিলন্ডারিং অপরাধ বিষয়ে কোনো অভিযোগ কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সরাসরি আদালতে দায়ের করা যাইবে না:

তবে, শর্ত থাকে যে, যদি কোনো উপযুক্ত আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, অভিযোগকারী উক্ত অপরাধ সংঘটন সংক্রান্ত অভিযোগ কোনো তদন্তকারী সংস্থার কার্যালয়ে করিবার জন্য অনুরোধ করিয়া ব্যর্থ হইয়াছেন, তাহা হইলে আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করিয়া উহা তদন্তের জন্য তদন্তকারী সংস্থাকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৪) কোনো কারণে তদন্ত প্রতিবেদনের সহিত অনুমোদন পত্রের কপি সংযুক্ত করা না হইলে, সংশ্লিষ্ট আদালত তদন্ত প্রতিবেদন পাইবার পর পরই সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধানকে সম্বোধন করিয়া পত্রের মাধ্যমে অনুমোদন চাহিতে পারিবেন।
১২,৫৩৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৫ ধারায় কোন ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে?
  1. আটককৃত সম্পত্তি ধ্বংস করার
  2. আটককৃত সম্পত্তি বিক্রি করার
  3. আটককৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার
  4. আটককৃত সম্পত্তি মালিককে ফেরত দেওয়ার
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২৫ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা রয়েছে দ্রুত ক্ষয়শীল, কম মূল্যের, অথবা মালিকের অনুপস্থিত/অজ্ঞাত অবস্থায় আটককৃত সম্পত্তি বিক্রির নির্দেশ প্রদান করার।
অতএব, এই ধারার মূল ক্ষমতা হলো আটককৃত সম্পত্তি বিক্রি করার ক্ষমতা।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৫ ধারা অনুযায়ী- আটককৃত চোরাই মাল দ্রুত ধ্বংসশীল বা ক্ষয়শীল হলে অথবা উক্ত সম্পত্তি বিক্রয় করা মালিকের জন্য কল্যাণকর হলে অথবা উক্ত সম্পত্তির মূল্য ১০ টাকার কম হলে যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আটকের খবর দেয়া হয়েছে, সেই ম্যাজিস্ট্রেট যে কোন সময় উক্ত সম্পত্তি বিক্রির আদেশ দিতে পারেন।
অর্থাৎ এমন সম্পত্তি দখলের অধিকারী ব্যক্তি যদি অপরিচিত বা অনুপস্থিত থাকে এবং সম্পত্তি দ্রুত ও স্বাভাবিকভাবে ক্ষয়শীল হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট যেকোন সময় তা বিক্রয়ের নির্দেশ দিতে পারেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 525- Power to sell perishable property:
If the person entitled to the possession of such property is unknown or absent and the property is subject to speedy and natural decay, or if the Magistrate to whom its seizure is reported is of opinion that its sale would be for the benefit of the owner, or that the value of such property is less than ten taka the Magistrate may at any time direct it to be sold; and the provisions of sections 523 and 524 shall, as nearly as may be practicable, apply to the net proceeds of such sale.

১২,৫৩৫.
দেওয়ানী মোকদ্দমায় একাধিক বাদী থাকলে কোন একজনকে আদালত মামলাটি প্রত্যাহার করার অনুমিত দিতে পারে।
  1. অন্য বিবাদীর সম্মতিতে
  2. সরকারী কৌসুলীর অনুমতিতে
  3. অন্যান্য বাদীদের সম্মতি ছাড়া 
  4. অন্য বাদীদের সম্মতিতে
ব্যাখ্যা
⇒ মোকদ্দমা দায়ের হওয়ার পর যে কোন সময় বাদী মোকদ্দমা প্রত্যাহার করতে অথবা তার দাবির আংশিক পরিত্যাগ করতে পারবে। এক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
-তবে একাধিক বাদী থাকলে, আদালত অন্যান্য বাদীদের অনুমতি ছাড়া কোন একজন বাদীকে মোকদ্দমা প্রত্যাহার করার অনুমতি দিবেন না।
⇒ যেক্ষেত্রে মোকদ্দমা কোন আনুষ্ঠানিক ত্রুটির কারণে অবশ্যই ব্যর্থ হবে, অথবা নতুনভাবে মোকদ্দমা দায়েরের জন্য অন্যান্য যথেষ্ট কারণ আছে সেক্ষেত্রে আদালত বাদীকে নতুন করে মোকদ্দমা করার অনুমতিসহ উক্ত মোকদ্দমার বিষয় বস্তু বা কোন দাবীর অংশ পরিত্যাগ করার অনুমতি মঞ্জুর করতে পারেন।

⇒ কোন মামলায় একাধিক বাদী থাকলে কোন একজনকে আদালত মামলাটির দাবী প্রত্যাহারের অনুমতি দিতে পারে- অন্য বাদীদের সম্মতিতে।

⇒ জবাদী আদালতের অনুমতি না নিয়ে মোকদ্দমা প্রত্যাহার করলে সে একই কারণে নতুন করে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে না, এবং খরচ প্রদানের জন্য দায়ী হবে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২৩ বিধি-২ এর বিধান প্রথম মোকদ্দমা দ্বারা তামাদি আইন প্রভাবিত হয় না:- পূর্ববর্তী বিধির অধীনে আদালতের অনুমতিক্রমে যদি নূতনভাবে কোন মোকদ্দমা রুজু করা হয়, তবে প্রথম মোকদ্দমাটি রুজু করা না হলে বাদি তামাদি আইন দ্বারা যেরূপ বাধ্য হত, ঠিক একই পদ্ধতিতে বাধ্য হবে।

⇒ Order 23 Rule.-2: Limitation law not affected by first suit:- In any fresh suit instituted on permission granted under the last preceding rule, the plaintiff shall be bound by the law of limitation in the same manner as if the first suit had not been instituted.
১২,৫৩৬.
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর অধীন অপরাধসমূহ-
  1. অ-আমলযোগ্য, আপোষযোগ্য ও অ-জামিনযোগ্য
  2. আমলযোগ্য, অ-আপোষযোগ্য ও জামিনযোগ্য
  3. আমলযোগ্য, আপোষযোগ্য ও জামিনযোগ্য
  4. আমলযোগ্য, অ-আপোষযোগ্য ও অ-জামিনযোগ্য
ব্যাখ্যা
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ১১ ধারার বিধান: অপরাধের আমলযোগ্যতা, অ-আপোষযোগ্যতা ও অ-জামিনযোগ্যতা:
- এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ আমলযোগ্য (Cognizable) , অ-আপোষযোগ্য (Non- compoundable) এবং অ-জামিনযোগ্য (Non-bailable) হইবে।
১২,৫৩৭.
নিম্নের কোনটি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাধারণ ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. শান্তি রক্ষার জন্য জামানত দাবি করার ক্ষমতা
  2. মুচলেকা বাতিল করে জামিনদারকে অব্যাহতি প্রদানের ক্ষমতা
  3. অন্যায়ভাবে আটক ব্যাক্তিকে খুঁজে বের করার তল্লাশি পরোয়ানা জারির ক্ষমতা
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধিতে ২ ধরনের ম্যাজিস্ট্রেট এর কথা উল্লেখ রয়েছে-
⇒ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
⇒ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

• ফৌজদারি কার্যবিধি,১৮৯৮ এর ৩য় তফসিলে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতা উল্লেখ রয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাধারণ ক্ষমতাসমূহ-

৬৪ ধারা
তার উপস্থিতিতে অপরাধকারী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা বা গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া এবং হাজতে প্রেরণ করার ক্ষমতা,

৬৫ ধারা

কোনো অপরাধীকে গ্রেফতার করা, বা নিজের উপস্থিতিতে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়ার ক্ষমতা, যাকে গ্রেফতারের নিমিত্তে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট ওয়ারেন্ট জারি করতে পারে,

৮৩,৮৪ ও ৮৬ ধারা

পরোয়ানা পৃষ্ঠাংকন করা, বা পরোয়ানা অনুসারে গ্রেফতারকৃত কোনো আসামিকে অপসারণের আদেশ দেয়ার ক্ষমতা, 

৯৫(২)ধারা

ডাক বা তার কর্তৃপক্ষের হেফাজতে অবস্থিত দলিলের জন্য তল্লাশির পরোয়ানা জারি এবং উক্ত দলিলাদি বা ব্যক্তিতে আটক করার ক্ষমতা, 

১০০ ধারা

অন্যায়ভাবে আটক ব্যাক্তিকে খুঁজে বের করার জন্য তল্লাশি পরোয়ানা জারির ক্ষমতা,

১০৫ ধারা

যে স্থানে তল্লাশির জন্য তিনি তল্লাশি পরোয়ানা প্রদান করতে উপযুক্ত, এইরূপ কোন স্থানে তার উপস্থিতিতে তল্লাশি আদেশ দানের ক্ষমতা,

১০৭,
১০৯,১১০ ধারা
শান্তি রক্ষার জন্য জামানত দাবি করার ক্ষমতা, সদাচরণের জন্য ভবঘুরে ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের মুচলেকা সম্পাদন এবং জামানত দাবী করার ক্ষমতা, 

১২৬ক ধারা

মুচলেকা বাতিল করে জামিনদারকে অব্যাহতি প্রদানের ক্ষমতা,

১২৭,১২৮,১৩০ ধারা

বেআইনী সমাবেশকে ছত্রভঙ্গ হওয়ার আদেশ দেয়ার ক্ষমতা,ছত্রভঙ্গ করার জন্য অসামরিক বাহিনী এবং সামরিক শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা, 
১৩৩ ধারা
স্থানীয় উৎপাত সম্পর্কে আদেশ দেয়ার ক্ষমতা, 
১৪২ ধারা
আশু ব্যবস্থা হিসাবে, জনসাধারণের উৎপাতের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষমতা ।
১২,৫৩৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় কতিপয় নারীর ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতির বিধান রয়েছে?
  1. ১২৮ ধারা
  2. ১৩০ ধারা
  3. ১৩২ ধারা
  4. ১৩৫ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১৩২ ধারায় বলা হয়েছে যেসব নারীকে দেশের প্রথা অনুযায়ী জনসমক্ষে আনতে বাধ্য করা উচিত নয়, সেই নারীরা ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজিরা থেকে অব্যাহতি পাবেন।
- এই বিধান মূলত "পর্দানশীন নারী" বা ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতির ভিত্তিতে জনসমক্ষে হাজির হওয়া যাদের জন্য সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য, তাদের সুরক্ষার জন্য প্রণীত।
- তবে, এই ধারা নারীদের গ্রেফতার থেকে অব্যাহতি দেয় না, বরং কেবল ব্যক্তিগত হাজিরা (personal appearance) থেকে অব্যাহতি দেয়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৩২ ধারার বিধান: কতিপয় মহিলার ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি:-
১) দেশের প্রথা ও রীতি অনুযায়ী যে সকল মহিলাকে জনসমক্ষে উপস্থিত হওয়ার জন্য বাধ্য করা উচিত নয়, উক্তরূপ মহিলা ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হতে অব্যাহতি পাবে।
২) এই আইন অনুসারে কোন মহিলাকে গ্রেফতারের ব্যাপারে যেক্ষেত্রে কোন নিষিদ্ধতা নেই, সেক্ষেত্রে দেওয়ানি পরোয়ানা জারিতে গ্রেফতার হতে উক্তরূপ মহিলা অব্যাহতি পাবে বলে এখানে উল্লেখিত কোন কিছু হতে বিবেচনা করা যাবে না।
------------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908: Section: 132. Exemption of certain women from personal appearance.
(1) Women who, according to the customs and manners of the country, ought not to be compelled to appear in public shall be exempt from personal appearance in Court. 
(2) Nothing herein contained shall be deemed to exempt such women from arrest in execution of civil process in any case in which the arrest of women is not prohibited by this Code.
১২,৫৩৯.
সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারা অনুসারে, একজন উকিল কখন মক্কেলের বার্তা প্রকাশ করতে পারেন?
  1. আদালতের নির্দেশ ছাড়া
  2. শুধুমাত্র মক্কেলের স্পষ্ট সম্মতি থাকলে
  3. মক্কেলের স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া যেকোনো সময়
  4. পেশাগত কার্য শেষ হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১২৬ অনুযায়ী,
- একজন ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মক্কেলের হয়ে কাজ করার সময় মক্কেলের পক্ষ থেকে বা উদ্দেশ্যে পাওয়া যে কোনো বার্তা, পরামর্শ বা দলিলের তথ্য - গোপন রাখতে বাধ্য, যতক্ষণ না মক্কেল নিজে স্পষ্টভাবে তা প্রকাশে সম্মতি দেন।
 এই ধারার মূল বক্তব্য হলো:
“No Advocate shall… be permitted, unless with his client's express consent, to disclose any communication…”
অর্থাৎ, মক্কেলের স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া কোনো তথ্য প্রকাশ আইনত বৈধ নয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারার বিধান পেশা সম্পর্কিত বার্তা: ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মক্কেলের ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল হিসাবে কাজ করিবার সময় এবং উদ্দেশ্যে উক্ত মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে তাহার নিকট প্রদত্ত কোন বার্তার বিষয় মক্কেলের অনুমতি ব্যতীত প্রকাশ করিতে অনুমতি পাইবেন না। অথবা বৃত্তিগত কার্য সম্পাদনকালে এবং প্রসঙ্গে মক্কেলের যেই সকল দলিলের সহিত তিনি পরিচিত হইয়াছিলেন, সেইগুলির বিষয়বস্তু বা অবস্থার কোন বিবৃতি দিতে পারিবেন না অথবা তাহার কার্যকালে ও উদ্দেশ্যে মক্কেলকে তিনি যে পরামর্শ দিয়াছেন, তাহা প্রকাশ করিতে পারিবেন না।

তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলি প্রকাশ হইতে এই ধারার কিছু অব্যাহতি দিবেন না।
(১) বেআইনি উদ্দেশ্যে সাধনকল্পে যে সংবাদ আদান- প্রদান করা হইয়াছে,
(২) ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল পেশাগত কার্যে নিযুক্ত থাকবার সময় তৎকর্তৃক লক্ষিত বিষয় যদ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তাহার নিযুক্তির পরে কোন অপরাধ বা প্রতারণা সংঘটিত হইয়াছে অনুরূপ ঘটনার প্রতি উক্ত ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মনোযোগ তাহার মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে আকৃষ্ট করা হইয়াছিল কিনা তাহা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

ব্যাখ্যা: এই ধারার বর্ণিত বাধ্যবাধকতা নিযুক্তির অবসান ঘটিবার পরও অব্যাহত থাকে।
------------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 126 Professional communications:
- No Advocate shall at any time be permitted, unless with his client's express consent, to disclose any communication made to him in the course and for the purpose of his employment as such Advocate by or on behalf of his client, or to state the contents or condition of any document with which he has become acquainted in the course and for the purpose of his professional employment, or to disclose any advice given by him to his client in the course and for the purpose of such employment:

Provided that nothing in this section shall protect from disclosure–
(1) any such communication made in furtherance of any illegal purpose:
(2) any fact observed by any Advocate, in the course of his employment as such, showing that any crime of fraud has been committed since the commencement of his employment.
It is immaterial whether the attention of such Advocate was or was not directed to such fact by or on behalf of his client.

Explanation.– The obligation stated in this section continues after the employment has ceased.

১২,৫৪০.
Under Muslim law, what is the status of a gift made to an unborn person?
  1. Valid
  2. Void
  3. Voidable
  4. None of these
ব্যাখ্যা
• দান হলো এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তিকে কোনো প্রকার মূল্য বা প্রতিদান ছাড়া সম্পত্তির তাৎক্ষণিক হস্তান্তর করা হয় যা অপর ব্যক্তি বা তার পক্ষে কেউ গ্রহণ। করে। দান আরবি ভাষায় 'হেবা' নামে পরিচিত। প্রত্যেক সুস্থ সাবালক মুসলিম দান করতে পারে।

একটি দানের আবশ্যিক উপাদানগুলো হলো-
ক. Offer (প্রস্তাব);
খ. Acceptance (গ্রহণ);
গ. Delivery of possession (সম্পত্তির দখল অর্পণ)।

দান বৈধ হওয়ার শর্তাবলি:
- দাতাকে সম্পূর্ণ অধিকার ও সক্ষমতার মালিক হতে হবে।
- গ্রহীতাকে অবশ্যই তখন জীবিত এবং বিদ্যমান (in existence) হতে হবে।
- সম্পত্তি অবশ্যই বিদ্যমান, চিহ্নিত এবং হস্তান্তরযোগ্য হতে হবে।
- দাতা থেকে গ্রহীতার কাছে একটি স্পষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে এবং গ্রহীতা তা গ্রহণ করতে হবে।
- সম্পত্তির দখল প্রকৃতভাবে গ্রহীতার কাছে স্থানান্তর করতে হবে।

ইসলামী আইনের শর্ত অনুযায়ী,
গ্রহীতাকে অবশ্যই তখন জীবিত থাকতে হবে। অনাগত ব্যক্তি এখনও অস্তিত্ব লাভ করেনি, তাই তাকে কিছু প্রদান করা সম্ভব নয়। যেহেতু অনাগত ব্যক্তি এখনও অস্তিত্ব লাভ করেনি, তাই তার পক্ষে দখল গ্রহণ বা তা ব্যবহার করা সম্ভব নয়। অনাগত ব্যক্তিকে আইনগতভাবে কোনো অধিকার দেওয়া সম্ভব নয়। একারণে ইসলামী আইনে অনাগত ব্যক্তিকে দেওয়া উপহার বাতিল (void) হিসেবে গণ্য হয়। এটি সম্পূর্ণ অকার্যকর এবং এর কোনো আইনি বৈধতা নেই।
১২,৫৪১.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ক্রোককৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদনকারীকে কত বছরের মধ্যে আদালতে হাজির হতে হবে?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা
→ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ক্রোককৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদনকারীকে দুই বছরের মধ্যে আদালতে হাজির হতে হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৯ ধারার বিধান- ক্রোককৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধার:
- যার সম্পত্তি ৮৮ ধারার (৭) উপধারা অনুসারে সরকারের এখতিয়ারভুক্ত রয়েছে বা হয়েছে, সে যদি ক্রোক করার তারিখ থেকে ২ (দুই) বৎসরের মধ্যে যে আদালতের আদেশে সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছিল সেই আদালতের বা সেই আদালত যে আদালতের আওতাধীন সেই আদালতে ইচ্ছাকৃতভাবে হাজির হয় বা তাকে গ্রেফতার করে হাজির করানো হয় এবং এ মর্মে প্রমাণ দ্বারা সে উক্ত আদালতের সন্তুষ্টি উৎপাদনপূর্বক প্রমাণ করে যে,
সে পলাতক (ফেরার) ছিল না বা পরোয়ানার নির্বাহ এড়াবার জন্য সে পলায়ন করেনি এবং তিনি হুলিয়া হতে এরূপ জ্ঞানার্জন করেনি যাতে তিনি উহাতে উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে হাজিরা দিতে পারেন, তাহলে ক্রোক সম্পর্কিত সমস্ত খরচ কেটে নিয়ে উক্ত সম্পত্তি বা তা বিক্রয় করা হয়ে থাকলে নিট মূল্য অথবা আংশিকভাবে বিক্রয় করা হয়ে থাকলে নিট মূল্য ও আংশিক সম্পত্তি তাকে অর্পণ করতে হবে।
-------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section-89: Restoration of attached property:
If, within two years from the date of the attachment any person whose property is or has been at the disposal of the Government, under sub-section (7) of section 88, appears voluntarily or is apprehended and brought before the Court by whose order the property was attached, or the Court to which such Court is subordinate, and proves to the satisfaction of such Court that he did not abscond or conceal himself for the purpose of avoiding execution of the warrant, and that he had not such notice of the proclamation as to enable him to attend within the time specified therein, such property, or, if the same has been sold, the nett proceeds of the sale, or, if part only thereof has been sold, the nett proceeds of the sale and the residue of the property, shall, after satisfying thereout all costs incurred in consequence of the attachment, be delivered to him.
১২,৫৪২.
নতুন পক্ষ যোগ করার সময়সীমা গণনায় তামাদি আইনের কোন ধারা প্রযোজ্য?
  1. ধারা ২২
  2. ধারা ২৩
  3. ধারা ২৪
  4. ধারা ২৫
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২২ নতুন বাদী বা বিবাদী যোগ করার সময় তামাদির মেয়াদ গণনার বিষয়ে বিধান প্রদান করে।
- ধারা ২২(১): মামলা দায়েরের পর যদি কোনো নতুন বাদী বা বিবাদী যুক্ত বা প্রতিস্থাপিত হয়, তবে তাদের ক্ষেত্রে মামলাটি সেই তারিখ থেকে দায়ের হয়েছে বলে গণ্য হবে যখন তারা পক্ষ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন।

⇒ তামাদি আইনের ধারা ২২ এর বিধান নতুন বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করার ফলাফল:-
(১) যেক্ষেত্রে মামলা দায়ের করার পর নতুন কোনো বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করা হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি যেই তারিখে অনুরূপ পক্ষভুক্ত হয়েছে, তার জন্য মামলাটি সেই তারিখে দায়ের করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।
(২) যেক্ষেত্রে মামলা মুলতবি থাকাকালে স্বত্বার্পণ বা কোনো স্বত্ব হস্তান্তরের কারণে কাউকে পক্ষভুক্ত বা স্থলাভিষিক্ত করা হয় অথবা যেক্ষেত্রে বাদীকে বিবাদী কিংবা বিবাদীকে বাদীতে রূপান্তরিত করা হয়, সেক্ষেত্রে (১) উপধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না।
-----------
⇒ The Limitation Act:- Section-22: Effect of substituting or adding new plaintiff or defendant:-
(1) Where, after the institution of a suit, a new plaintiff or defendant is substituted or added, the suit shall, as regards him, be deemed to have been instituted when he was so made a party.
(2) Nothing in sub-section (1) shall apply to a case where a party is added or substituted owing to an assignment or devolution of any interest during the pendency of a suit or where a plaintiff is made a defendant or a defendant is made a plaintiff.

১২,৫৪৩.
অনুমান কত প্রকারের হতে পারে?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৪ ধারার মতে- অনুমান (Presumption) ৩ প্রকার:
১) অনুমান করতে পারে (May presume);
২) অনুমান করবে (Shall presume);
৩) চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof)।

অনুমান করতে পারে (May presume):
যেখানেই এই আইনের বিধান আছে যে, আদালত কোন বিষয় ধরে নিতে পারেন, সেখানে আদালত হয় সেই বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন; না হয় তা প্রমাণ করার আহ্বান জানাবেন।

অনুমান করবে (Shall presume):
যেখানেই এই আইনের নির্দেশ আছে যে, আদালত কোন বিষয় অবশ্যই ধরে নিবেন, সেখানে উক্ত বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন।

চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof):
এই আইনে যখন একটি বিষয়কে অপর একটি বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ বলে গণ্য করা হয়, তখন আদালত প্রথমোক্ত বিষয় প্রমাণিত হলে অপর বিষয়ও প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন এবং তা মিথ্যা প্রমাণিত। করার জন্য সাক্ষ্যদানের অনুমতি দিবেন না।
১২,৫৪৪.
বিলম্বজনিত নিবন্ধনের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রার কত গুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত ফি ধার্য করতে পারেন?
  1. ২ গুণ
  2. ৩ গুণ
  3. ৫ গুণ
  4. ১০ গুণ
ব্যাখ্যা
উপস্থাপনে বিলম্ব অনিবার্য হলে গৃহীত ব্যবস্থা (ধারা ২৫, The Registration Act, 1908):
(১) যদি বাংলাদেশে সম্পাদিত কোনো দলিল, অথবা কোনো ডিক্রি বা আদেশের অনুলিপি, নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপিত না হয়, এবং এর পেছনে যদি জরুরি প্রয়োজন বা অনিবার্য দুর্ঘটনার কারণে বিলম্ব ঘটে, তবে এমন ক্ষেত্রে, যদি বিলম্বের সময় চার মাসের বেশি না হয়, তবে রেজিস্ট্রার নির্দেশ দিতে পারেন যে, যথাযথ নিবন্ধন ফি-এর দশগুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত জরিমানা প্রদান সাপেক্ষে, উক্ত দলিলটি নিবন্ধনের জন্য গ্রহণ করা যাবে।

(২) এ ধরণের নির্দেশনার জন্য কোনো আবেদন সাব-রেজিস্ট্রারের নিকট দাখিল করা যেতে পারে, যিনি তাৎক্ষণিকভাবে তা তাঁর ঊর্ধ্বতন রেজিস্ট্রারের নিকট প্রেরণ করবেন।
১২,৫৪৫.
কোনো মুসলিম লোকের যদি একাধিক স্ত্রী থাকে এবং কোনো সন্তান না থাকে, তবে তার মৃত্যুর পর স্ত্রীরা সম্পত্তির কত অংশ পাবেন?
  1. প্রত্যেকে এক-চতুর্থাংশ
  2. সবাই মিলে এক-চতুর্থাংশ
  3. প্রত্যেকে এক-অষ্টমাংশ
  4. সবাই মিলে এক-অষ্টমাংশ
ব্যাখ্যা

মুসলিম স্ত্রীর অংশ:
বাবা, মা, স্বামী, স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা। এ ছয়জনকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না বলে এদেরকে বলা হয় প্রাথমিক বা মৌলিক উত্তরাধিকারী। আর এ ছয় জনের মধ্যে স্ত্রী একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

কোন মুসলিম নারীর স্বামীর মৃত্যু হলে, আর তাদের কোনো সন্তান না থাকলে, তিনি তার স্বামীর সমুদয় সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ পাবেন। যদি এক্ষেত্রে একাধিক স্ত্রী থাকেন তাহলে সবাই মিলেই এক চতুর্থাংশ বা ১/৪ অংশ পাবেন। আর যদি তাদের সন্তান থাকে তাহলে স্ত্রী পাবেন এক-অষ্টমাংশ (১/৮ অংশ বা আট ভাগের এক ভাগ)। এক্ষেত্রেও যদি একাধিক স্ত্রী থাকেন, তাহলে প্রত্যেকে মিলেই এক অষ্টমাংশ পাবেন, এর বেশি নয়।

১২,৫৪৬.
নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি ব্যতীত অন্যান্য ডিক্রি জারির আবেদন কত বছরের মধ্যে করতে হবে?
  1. ৬ বছর
  2. ১০ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ১৫ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারার বিধান- কতিপয় ক্ষেত্রে ডিক্রি জারি বারিত:
 নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি ব্যতীত অন্য কোন ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে আবেদন করা হয়ে থাকলে ঐ একই ডিক্রি জারির জন্য নিম্নলিখিত তারিখ থেকে বার বৎসর পর প্রদত্ত কোন আবেদন অনুযায়ী একই ডিক্রি জারির জন্য আদেশ দেয়া যাবে না-
ক) যে ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়েছে, তার তারিখ; বা
খ) কোন ডিক্রি বা পরবর্তীকালীন আদেশে আবেদনকারীর প্রার্থনামতে কোন নির্ধারিত তারিখে বা কিস্তিতে টাকা পরিশোধ অথবা সম্পত্তি প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হলে, তা লঙ্ঘনের তারিখ।

২) এই ধারার কোন বিধানই-
ক) আবেদনের তারিখের অব্যাবহিত পূর্ববর্তী বার বৎসরের মধ্যে ডিক্রি জারি দেওয়ার ব্যাপারে রায়সিদ্ধ দেনাদার প্রতারণা বা শক্তি প্রয়োগের দ্বারা ডিক্রি জারিতে বাধা সৃষ্টি করে থাকলে উক্ত বার বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পর উপস্থাপিত আবেদন মোতাবেক ডিক্রি জারির আদেশদানে আদালতকে বিরত করবে না; বা
খ) ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৮৩ অনুচ্ছেদের কার্যকারীতাকে সীমাবদ্ধ বা অন্যভাবে প্রভাবিত করবে না।
১২,৫৪৭.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কোন ক্ষেত্রে আসামীর অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ করা যাবে?
  1. যে ক্ষেত্রে আসামি জামিনে মুক্ত আছে
  2. যে ক্ষেত্রে আসামি আগাম জামিন নিয়েছে
  3. যে ক্ষেত্রে আসামি পলাতক এবং গ্রেফতারের সম্ভাবনা নেই
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১২ ধারার বিধান আসামীর অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণ:-
(১) যদি প্রমাণিত হয় যে, আসামী পালিয়েছে এবং তার গ্রেফতারের সম্ভাবনা নেই, সেক্ষেত্রে যে অপরাধ সম্পর্কে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই অপরাধের জন্য তাকে বিচার করার বা বিচারের জন্য প্রেরণ করার ক্ষমতা সম্পন্ন আদালত তার অনুপস্থিতিতে বাদীপক্ষ দ্বারা দাখিলকৃত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দী গ্রহণ করতে ও তা লিপিবদ্ধ করতে পারবেন। এরুপ সাক্ষী মারা গেলে বা সাক্ষ্য দিবার জন্য অযোগ্য হয়ে পড়লে অথবা বিলম্ব, ব্যয় বা অসুবিধা বহন করা মামলার অবস্থায় অযৌক্তিক হয়ে পড়লে প্রদত্ত সাক্ষ্য সে যে অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছে সেই অপরাধের ইনকোয়ারী বা বিচারে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে ।
(২) অপরাধী অজানা হলে সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণ-
যদি প্রতীয়মান হয় যে, কোন অজানা ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ করেছে, তাহলে হাইকোর্ট ডিভিশন নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন যে, কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট এই বিষয়ে ইনকোয়ারী করবেন এবং অপরাধ সম্পর্কে যারা সাক্ষ্য দিতে পারেন তাদেরকে পরীক্ষা করবেন। এরূপ সাক্ষী মারা গেলে বা সাক্ষ্য দিবার অযোগ্য হয়ে পড়লে বা বাংলাদেশের সীমার বাহিরে থাকলে গৃহীত জবানবন্দী পরবর্তীকালে উক্ত অপরাধ অভিযুক্ত যে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে।
-------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-512: Record of evidence in absence of accused:
(1) If it is proved that an person has absconded, and that there is no immediate prospect of arresting him, the Court competent to try such person for the offence complained of may, in his absence, examine the witnesses (if any) produced on behalf of the prosecution, and record their depositions. Any such deposition may be given in evidence against him on the inquiry into, or trial for, the offence with which he is charged, if the deponent is dead or incapable of giving evidence or his attendance cannot be procured without an amount of delay, expense or incon- venience which, under the circumstances of the case, would be unreasonable.

(2) Record of evidence when offender unknown.-
If it appears that an offence punishable with death or transportation has been committed by some person or persons unknown, the High Court Division may direct that any Magistrate of the first class shall hold an inquiry and examine any witnesses who can give evidence concerning the offence. Any depositions so taken may be given in evidence against any person who is subsequently accused of the offence, if the deponent is dead or incapable of giving evidence or beyond the limits of Bangladesh.
১২,৫৪৮.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় অভিন্ন অভিপ্রায়ের কথা বলা হয়েছে?
  1. ১২
  2. ১১
  3. ১০
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইনের ১০ ধারার বিধান অভিন্ন অভিপ্রায় প্রসঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীর কথা বা কাৰ্যঃ দুই বা ততোধিক ব্যাক্তি একযোগে কোন অপরাধ বা নালিশ যোগ্য অন্যায় কার্য করিবার ষড়যন্ত্র করিয়াছে, এইরুপ বিশ্বাস করিবার যদি যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে; তবে তাহাদের যেকোন একজনের উক্তি, ষড়যন্ত্রের ইচ্ছা পোষণ করিবার পর তাহাদের ঐ সাধারণ ইচ্ছা সম্পর্কে তাহাদের মধ্যে যেকোন একজনের কোন কথা কার্য বা লেখা ষড়যন্ত্রকারী বলিয়া মনে করা হইতেছে, এইরুপপ্রত্যেক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক ঘটনা, ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব প্রমাণ করিবার জন্য উহা প্রাসঙ্গিক; তেমনি কোন ব্যাক্তি যে উক্ত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল তাহা প্রমাণ করিবার জন্য উহাও প্রাসঙ্গিক।
১২,৫৪৯.
ফৌজদারি আদালত অবমাননার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কত টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে?
  1. ৫০০ টাকা
  2. ৩০০ টাকা
  3. ২০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারায় আদালত অবমাননার (Contempt of Court) শাস্তি সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
 
• ধারা ৪৮০- অবমাননার কতিপয় ক্ষেত্রে পদ্ধতি-
কোন দেওয়ানী, ফৌজদারী বা রাজস্ব আদালতের দৃষ্টি গোচরে বা উপস্থিতিতে দণ্ডবিধির ধারা-১৭৫, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০ বা ২২৮ এ উল্লেখিত কোন অপরাধ করা হলে উক্ত আদালত অপরাধীকে কারাগারে আটক রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন এবং ঐদিন আদালতের অধিবেশন শেষ হবার পূর্বে যেকোন সময় উপযুক্ত মনে করলে অপরাধটি আমলে নিতে পারবেন এবং অপরাধীকে সর্বোচ্চ ২০০ (দু'শত) টাকা অর্থদণ্ডে এবং যথাশীঘ্র জরিমানার টাকা প্রদান করা না হলে এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন।
 
Section 480: Procedure in certain cases of contempt-
When any such offence as is described in section 175, section 178, section 179, section 180 or section 228 or the Penal Code is committed in the view or presence of any Civil, Criminal or Revenue Court, the Court may cause the offender to be detained in custody and at any time before the rising of the Court on the same day may, if it thinks fit, take cognizance of the offence and sentence the offender to fine not exceeding two hundred taka, and in default of payment, to simple imprisonment for a term which may to one month, unless such fine be sooner paid.
১২,৫৫০.
একটি মামলার দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ২০ লক্ষ টাকা। এটি কোন আদালতে দায়ের করা যেতে পারে?
  1. সহকারী জজ আদালতে
  2. জেলা জজ আদালতে
  3. যুগ্ম জেলা জজ আদালতে
  4. সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭ – ধারা ১৯ : সিনিয়র সহকারী জজ প্রভৃতির এখতিয়ারের পরিসর-
(১) বর্তমানে কার্যকর অন্য কোনো আইনে ভিন্নভাবে উল্লেখ না থাকলে, সিনিয়র সহকারী জজের এখতিয়ার থাকবে এমন সব মামলা যা ২৫ (পঁচিশ) লক্ষ টাকার বেশি নয়, এবং সহকারী জজের এখতিয়ার থাকবে এমন সব মামলা যা ১৫ (পনের) লক্ষ টাকার বেশি নয়।

(২) জেলা জজকে বাধ্যতামূলকভাবে সিভিল কোর্টস (সংশোধন) আইন, ২০২১ কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে যুগ্ম জেলা জজ আদালত বা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন মামলা বা কার্যধারা যথাযথ আদালতে স্থানান্তর করতে হবে।

(৩) উপ-ধারা (২) অনুসারে যদি কোনো মামলা বা কার্যধারা স্থানান্তরিত হয়, তবে তা যে স্তর থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে সেই স্তর থেকেই শুরু হবে।

⇒ দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭–এর ধারা ১৯(১) স্পষ্টভাবে বলেছে:
“সিনিয়র সহকারী জজের এখতিয়ার থাকবে এমন সব মামলা যা ২৫ লক্ষ টাকার বেশি নয়, এবং সহকারী জজের এখতিয়ার থাকবে এমন সব মামলা যা ১৫ লক্ষ টাকার বেশি নয়।”

যেহেতু ২০ লক্ষ টাকা ১৫ লক্ষের বেশি কিন্তু ২৫ লক্ষের কম, তাই এটি সহকারী জজের নয়, বরং সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত হবে।

১২,৫৫১.
কোন Judicial Proceeding এ ইচ্ছাকৃত ভাবে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের শাস্তির বিধান বর্ণিত হয়েছে The Penal Code 1860 এর Section-
  1. ১৯১ ধারায়
  2. ১৯৩ ধারায়
  3. ১৯৫ ধারায়
  4. ১৯৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারার বিধান মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের যে কোন পর্যায়ে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্যদান ব্যবহার করার জন্য ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে; এবং

-কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে বা তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

♦ ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- সামরিক আদালত (Court-martial) সংঘটিত বিচারও একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম।

♦ ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- কোন আদালতের কোন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পূর্বে আইনের নির্দেশানুগ প্রারম্ভিক তদন্ত ও বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।

♦ ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- কোন আদালত দ্বারা আইনানুসারে নির্দেশিত এবং কোন আদালতের ক্ষমতানুসারে পরিচালিত কোন তদন্ত বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।

♦ উদাহরণ: 
জমির সীমানা অকুস্থলে নির্ণয়কল্পে কোন আদালত দ্বারা প্রেরিত কর্মচারীর বা অফিসারের সম্মুখে সম্পাদিত তদন্তে ক শপথ গ্রহণান্তর এমন একটি বিবৃতি দান করে, যা সে মিথ্যা বলে জানে। যেহেতু উক্ত তদন্তটি একটি বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমেরই একটি পর্যায়, সেহেতু ক মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করেছে বলে অভিহিত হবে।
১২,৫৫২.
নিম্নে কোনটি বিশ্বাস ভঙ্গের উপাদান?
  1. যিনি কোন সম্পদের অধিপত্যের ভার পাইয়াছেন,
  2. অধিপত্যের ভার পাইয়া যিনি অসাধুভাবে আত্মসাৎ করেন,
  3. সম্পদের অধিপত্যের ভার পাইয়া যিনি নিজের ব্যবহারে লাগান, 
  4. 'ক', 'খ' ও 'গ'
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪০৫ ধারার বিধান অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ:- কোন ব্যক্তি যদি কোনভাবে কোন সম্পত্তির বা সম্পত্তি পরিচালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে, অসাধুভাবে সে সম্পত্তি আত্মসাৎ করে বা নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, অথবা অনুরূপ দায়িত্ব যেভাবে নির্বাহিত হত বলে বিহিত আইনে নির্দেশ করা হয়েছে, তা খেলাফ করে সে দায়িত্ব নির্বাহ সম্পর্কে সে প্রকাশ্য বা অনুরূপ যে আইনগত চুক্তি করেছে তা খেলাফ করে সে সম্পত্তি অসাধুভাবে ব্যবহার করে, বা বিলি ব্যবস্থা করে অথবা ইচ্ছাপূর্বক অপর কোন ব্যক্তিকে তা করতে দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি 'অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের' অপরাধ করেছে।
------------
⇒ Criminal breach of trust:
Section 405. Whoever, being in any manner entrusted with property, or with any dominion over property, dishonestly misappropriates or converts to his own use that property, or dishonestly uses or disposes of that property in violation of any direction of law prescribing the mode in which such trust is to be discharged, or of any legal contract, express or implied, which he has made touching the discharge of such trust, or wilfully suffers any other person so to do, commits "criminal breach of trust".
১২,৫৫৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির অধীনে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির (ADR) জন্য কোন পদ্ধতি উল্লেখ রয়েছে? 
  1. আপোষ ও মীমাংসা
  2. মীমাংসা ও সমঝোতা
  3. মধ্যস্থতা ও সালিশী
  4. সমঝোতা ও সালিশী
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীনে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির (Alternative Dispute Resolution - ADR) জন্য দুটি প্রধান পদ্ধতি উল্লেখ রয়েছে:
১) মধ্যস্থতা (Mediation);
২) সালিশী (Arbitration)।

⇒দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক ধারায় মধ্যস্থতার পদ্ধতি সম্পর্কে বলা আছে। এর সাধারন নিয়মসমূহ হল- মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় আদালতকে জানাবে যে, তারা কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে কিনা। যদি তারা নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয় তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে। অর্থাৎ সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে।মধ্যস্থতার ফি পক্ষগণ নির্ধারণ করবে। যদি তারা ব্যর্থ হন তবে আদালত তা নির্ধারণ করে দিবেন এবং সেটা পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হবে।
⇒ মধ্যস্থতাকারী ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করবে। তবে আদালত স্বেচ্ছায় বা পক্ষদ্বয়ের যৌথ আবেদনের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ৩০দিন বাড়াতে পারবে। অর্থাৎ মোট ৯০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করতে হবে।
⇒ সমঝােতা সম্পন্ন হলে, তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি জারী করবে। উক্ত আদেশ বা ডিক্রি জারী করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন চলবে না।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতার এই বিধান অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

১২,৫৫৪.
বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধের তদন্ত বা বিচার কোন শর্তে করা যাবে?
  1. কোনো শর্ত ছাড়া
  2. রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে
  3. সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে
  4. সুপ্রিম কোর্টে আবেদন সাপেক্ষে
ব্যাখ্যা

The Code of Criminal Procedure, 1898 – ধারা ১৮৮ (Liability for offences committed outside Bangladesh): 
যদি- বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বাংলাদেশের সীমার বাইরে কোথাও কোনো অপরাধ করে, অথবা কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নিবন্ধিত জাহাজ বা উড়োজাহাজে (ship or aircraft) যেখানেই থাকুক না কেন, অপরাধ করে, তাহলে তাকে সেই অপরাধের জন্য এমনভাবে বিচার করা যাবে, যেন সে বাংলাদেশের ভেতরে, যেখানে তাকে পাওয়া যায়, সেখানেই অপরাধটি করেছে।

শর্ত (Proviso):
তবে এই অধ্যায়ের পূর্ববর্তী ধারাগুলোর যেকোনো বিধান সত্ত্বেও, এমন কোনো অপরাধের অভিযোগ বাংলাদেশে তদন্ত বা বিচার করা যাবে না সরকারের অনুমোদন (sanction of the Government) ছাড়া।

দ্বিতীয় শর্ত (Second Proviso):
এই ধারার অধীনে যদি কারও বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা কার্যক্রম নেওয়া হয়, এবং যদি তা এমন প্রকৃতির হয় যে, যদি অপরাধটি বাংলাদেশেই সংঘটিত হত তবে সেই কার্যক্রম একই অপরাধে পরবর্তী বিচারকে (subsequent proceedings) বাধা দিত,
তাহলে একই অপরাধে তাকে Extradition Act, 1974 অনুযায়ী বাংলাদেশের বাইরে অন্য কোনো অঞ্চলে পুনরায় বিচার করা যাবে না।

১২,৫৫৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৭৯ ধারায় কার বিরুদ্ধে মামলার বিধান আছে?
  1. সরকার
  2. বিচারক
  3. সরকারি কর্মচারী
  4. বিদেশি রাষ্ট্রদূত
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধি ৭৯ ধারা- সরকার কর্তৃক বা তার বিরুদ্ধে মোকদ্দমা:
সরকার কর্তৃক বা সরকারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মোকদ্দমায় বাদী বা বিবাদী হিসাবে যে কর্তৃত্বের নাম উল্লেখ করতে হবে, তা হচ্ছে বাংলাদেশ

Section 79- Suits by or against the Government:

In a suit by or against the Government the authority to be named as plaintiff or defendant, as the case may be, shall be Bangladesh.
১২,৫৫৬.
He has no authority _______ his sons.
  1. on
  2. to
  3. over
  4. for
ব্যাখ্যা

The correct answer is - গ) over.
Complete sentence: He has no authority over his sons.

Authority over:
- Bangla meaning: আধিপত্য
- Example: He has no authority over his sons.

Other options:
- Authority on (কিছুতে বিশেষজ্ঞ) - Dr. Shahidullah had authority on Bengali language.
- Authority to (ক্ষমতা) - Only the secretary has authority to make payments.
- Authority for (অধিকার) - What is your authority for such a statement?

Source: Advance Learner's Communicative English Grammar & Composition by Chowdhury & Hossain.

১২,৫৫৭.
শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪১ অনুযায়ী, শিশু-আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে কোথায়?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. জেলা জজ আদালত 
  3. দায়রা জজ আদালত
  4. শিশু আপিল আদালত
ব্যাখ্যা

⇒ শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪১(১) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, শিশু-আদালতের আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যাবে। এটি ফৌজদারি কার্যবিধির সাধারণ বিধানকে অগ্রাহ্য করে সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে আপিলের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

⇒ শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪১- আপিল ও পুনর্বিবেচনা:
(১) ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন শিশু-আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে উক্ত আদেশ বা রায় প্রদানের তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যাইবে। 
(২) শিশু-আদালতের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে পুনর্বিবেচনা (Revision) করা যাইবে।
(৩) এই ধারার অধীন আপিল বা, ক্ষেত্রমত, পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করা হইলে উক্ত আবেদনটি দায়েরের তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিতে হইবে।

১২,৫৫৮.
সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা এবং সাক্ষ্য গ্রহণের ক্রম নির্ধারিত হবে-
  1. শুধুমাত্র ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী
  2. সাক্ষীদের নিজের ইচ্ছামত
  3. প্রচলিত দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন অনুযায়ী
  4. উভয় পক্ষের আইনজীবীর ইচ্ছা অনুযায়ী
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন ধারা ১৩৫- সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা ও সাক্ষ্য গ্রহন করার ক্রম:
যে ক্রমানুসারে সাক্ষী হাজির করা ও তাদের সাক্ষ্য গ্রহন করা হবে দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধি সে সম্পর্কে প্রচলিত আইন ও রীতি মােতাবেক তা নির্ধারিত হবে। কোন আইন না থাকলে আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে তা নির্ধারিত হবে।

[The order in which witnesses are produced and examined shall be regulated by the law and practice for the time being relating to civil and criminal procedure respectively, and, in the absence of any such law, by the discretion of the Court.]
১২,৫৫৯.
হিন্দু আইনের কোন উৎসটি "স্মৃতি" হিসেবে পরিচিত?
  1. বেদ
  2. আইন প্রণয়ন
  3. ধর্মীয় শাস্ত্রসমূহ
  4. আদালতের সিদ্ধান্ত
ব্যাখ্যা
⇒ স্মৃতি হলো হিন্দু ধর্মের ধর্মীয় ও সামাজিক বিধানসংবলিত গ্রন্থ, যা প্রাচীন ঋষিরা সংকলন করেছেন।
- এটি মৌখিকভাবে প্রচলিত নিয়ম ও আচার-অনুশাসন লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।
সুতরাং, উল্লিখিত প্রশ্নে স্মৃতি হলো ধর্মীয় শাস্ত্রসমূহ।
- মূল স্মৃতিগুলো হলো:
১) মনুস্মৃতি – প্রাচীনতম ও সর্বাধিক প্রভাবশালী স্মৃতি।
২) যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি – মিতাক্ষরা মতবাদের ভিত্তি।
৩) নারদ স্মৃতি – আইনি ও বিচারসংক্রান্ত বিধান।
৪) পরাশর স্মৃতি – যুগের পরিবর্তন অনুযায়ী বিধানের পরিবর্তন নির্দেশ করে।

অন্য অপশন গুলোর মধ্যে:
- বেদ (Shruti) – এটি হিন্দু ধর্মের মৌলিক ও আদি গ্রন্থ, যা স্মৃতি নয়।
- আইন প্রণয়ন (Statutory Law) – এটি আধুনিক বিধিবদ্ধ আইন, যা স্মৃতি শাস্ত্রের অন্তর্গত নয়।
- আদালতের সিদ্ধান্ত (Judicial Decisions) – এটি হিন্দু আইনের আধুনিক উৎস, কিন্তু স্মৃতি নয়।
১২,৫৬০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারার (গ) উপধারার অধীন মঞ্জুরীকৃত ______ প্রতিকারকে নিরোধক প্রতিকার বলা হয়।
  1. সাধারন
  2. সুনির্দিষ্ট
  3. অতিরিক্ত
  4. অনির্দিষ্ট
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারায় প্রতিরোধ বা নিরোধক প্রতিকারের সংজ্ঞা বর্নিত হয়েছে।

৬ ধারা: নিরোধক প্রতিকার:
৫ ধারার (গ) উপধারার অধীন মঞ্জুরীকৃত সুনির্দিষ্ট প্রতিকারকে নিরোধক প্রতিকার বলা হয়।

Section 6- Preventive relief:
Specific relief granted under clause (c) of section 5 is called preventive relief.
১২,৫৬১.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী সর্বোত্তম সাক্ষ্য কী?
  1. গৌণ সাক্ষ্য
  2. মাধ্যমিক সাক্ষ্য
  3. পরোক্ষ সাক্ষ্য
  4. প্রাথমিক সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুযায়ী সর্বোত্তম সাক্ষ্য (Best Evidence) হলো প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary Evidence)। কারণ, প্রাথমিক সাক্ষ্য মূল দলিল বা নথি যা সরাসরি আদালতে উপস্থাপন করা হয় এবং এতে তথ্য বিকৃতির সম্ভাবনা কম থাকে।
সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারায় প্রাথমিক সাক্ষ্যের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এটি সেই দলিল বা নথি যা আদালতে সরাসরি উপস্থাপিত হয় এবং যা থেকে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়। প্রাথমিক সাক্ষ্য যেহেতু মূল নথি বা প্রত্যক্ষ উপস্থাপিত প্রমাণ, তাই এটিকে সর্বোত্তম সাক্ষ্য বলা হয়।

অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
- (ক) গৌণ সাক্ষ্য: গৌণ সাক্ষ্য বলতে সাধারণত পরোক্ষ সাক্ষ্য বা মাধ্যমিক সাক্ষ্য বোঝায়, যা কোনো ঘটনার প্রত্যক্ষ প্রমাণ নয়, বরং অন্য কোনো উৎস থেকে পাওয়া তথ্য। এটি আদালতে গৃহীত হতে পারে, তবে প্রাথমিক সাক্ষ্যের চেয়ে কম নির্ভরযোগ্য।
- (খ) মাধ্যমিক সাক্ষ্য: মাধ্যমিক সাক্ষ্য (Secondary Evidence) তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন প্রাথমিক সাক্ষ্য আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব হয় না। উদাহরণস্বরূপ, কোনো মূল দলিলের অনুলিপি বা ফটোকপি মাধ্যমিক সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হবে। যেহেতু এটি সরাসরি আদালতে উপস্থাপিত মূল দলিল নয়, তাই এটি সর্বোত্তম সাক্ষ্য নয়।
- (গ) পরোক্ষ সাক্ষ্য: পরোক্ষ সাক্ষ্য (Circumstantial Evidence) হল এমন সাক্ষ্য যা কোনো ঘটনার সরাসরি প্রমাণ দেয় না, বরং ঘটনার পারিপার্শ্বিক প্রমাণ থেকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। এটি সরাসরি প্রমাণ নয়, তাই এটি সর্বোত্তম সাক্ষ্য নয়।

- যেহেতু প্রাথমিক সাক্ষ্যই (Primary Evidence) মূল দলিল বা প্রত্যক্ষ উপস্থাপিত নথি, যা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, তাই সর্বোত্তম সাক্ষ্য হলো প্রাথমিক সাক্ষ্য।
⇒ সঠিক উত্তর: (ঘ) প্রাথমিক সাক্ষ্য। 
১২,৫৬২.
বৈদেশিক চুক্তির ক্ষেত্রে তামাদি আইনের প্রয়োগের বিষয়টি আইনের কত ধারায় আছে?
  1. ০৭
  2. ১০
  3. ১১
  4. ১২
ব্যাখ্যা
♣♣  
• তামাদি আইনের ১১ ধারায় বৈদেশিক চুক্তির ক্ষেত্রে তামাদি আইনের প্রয়োগের বিষয়টি বলা আছে।
• বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশে কোন মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তামাদি আইন প্রযোজ্য হবে।
১২,৫৬৩.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় 'শনাক্তকরণ প্যারেড' নীতি আলোচনা করা হয়েছে?
  1. সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারায়
  2. সাক্ষ্য আইনের ১০ ধারায়
  3. সাক্ষ্য আইনের ১১ ধারায়
  4. সাক্ষ্য আইনের ৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
 ⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারায় শনাক্তকরণ প্যারেড বা Test Identification Parade-কে সাক্ষ্য হিসাবে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারার বিধান: প্রাসঙ্গিক ঘটনার ব্যাখ্যা বা উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ঘটনা (Facts necessary to explain or introduce relevant facts): যে সমস্ত বিষয় বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ইঙ্গিতবহ অনুমানকে সমর্থন বা অপ্রমাণ করে, অথবা বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়কে ব্যাখ্যা করে বা পরিচয় করায়, অথবা কোন ব্যক্তি বা বস্তুর প্রাসঙ্গিক পরিচয় প্রতিষ্ঠা করে, অথবা বিচার্য প্রাসঙ্গিক বিষয়টি ঘটার সময় ও স্থান নির্দেশ করে, অথবা প্রাসঙ্গিক বিষয় ঘটনাকারী ব্যক্তির সম্পর্কে আলোকপাত করে, সেই সময় বিষয়ের যতখানি সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য প্রয়োজন ততখানি প্রাসঙ্গিক।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারায় Test Identification Parade (শনাক্তকরণ প্যারেড) এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে করে এই পদ্ধতির মাধ্যমে সাক্ষী অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত -
১. কোন সম্পত্তি সনাক্ত করতে সক্ষম হয় বা,
২. কোন ব্যক্তি যেমন আসামীকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

⇒ প্রাসঙ্গিক ঘটনা ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করার জন্য যে সকল ঘটনা আবশ্যক সেগুলো প্রাসঙ্গিক। এ মূল ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বা ঐ ঘটনা, তার স্থান, কাল ব্যাখ্যা করতে পারে এমন ঘটনাকে ৯ ধারায় প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।
১২,৫৬৪.
The Contract Act, 1872 কবে থেকে কার্যকর হয়েছে?
  1. ২৫ এপ্রিল, ১৮৭২
  2. ১ সেপ্টেম্বর, ১৮৭২
  3. ১ জানুয়ারি, ১৮৭২
  4. ১৫ আগস্ট, ১৮৭২
ব্যাখ্যা

⇒ The Contract Act, 1872 ইংরেজ শাসনামলে প্রণীত হয়।
- আইনটি ২৫শে এপ্রিল, ১৮৭২ তারিখে পাস (enacted) হয়েছিল।
- তবে আইনটি সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়নি।
- ১লা সেপ্টেম্বর, ১৮৭২ তারিখ থেকে আইনটি কার্যকর হয়।
- বর্তমানে এই আইনটি সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য।
- তাই “২৫ এপ্রিল, ১৮৭২” হলো আইন পাশের তারিখ, আর “১ সেপ্টেম্বর, ১৮৭২” হলো কার্যকর হওয়ার তারিখ।

১২,৫৬৫.
একজন ব্যক্তি হঠাৎ ঝগড়ার উত্তেজনায় (Sudden fight in heat of passion) অন্য একজনকে মেরে ফেললে তা খুন না হয়ে Culpable homicide হিসেবে গণ্য হতে পারে ধারা ৩০০ এর কোন ব্যতিক্রমের আওতায়?
  1. ব্যতিক্রম ২
  2. ব্যতিক্রম ৩
  3. ব্যতিক্রম ৪
  4. ব্যতিক্রম ৫
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩০০-এর ব্যতিক্রম ৪-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দোষপূর্ণ হত্যা (Culpable Homicide) তখন খুন (Murder) হিসেবে গণ্য হবে না, যদি তা নিম্নলিখিত শর্তে ঘটে:
- পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই (without premeditation) হঠাৎ ঝগড়ার উত্তেজনায় (in a sudden fight in the heat of passion) ঘটে।
- ঝগড়াটি হঠাৎ এবং আকস্মিকভাবে (upon a sudden quarrel) শুরু হয়।
- অপরাধী অযাচিত সুবিধা গ্রহণ করেনি (without taking undue advantage)।
- অপরাধী নিষ্ঠুর বা অস্বাভাবিকভাবে (cruel or unusual manner) আচরণ করেনি।
এই ব্যতিক্রমে আরও বলা হয়েছে যে, কে প্রথমে উস্কানি দিয়েছে বা আক্রমণ শুরু করেছে তা বিবেচ্য নয়। অর্থাৎ, ঝগড়ার উৎপত্তি যে কোনো পক্ষ থেকে হতে পারে, কিন্তু যদি উপরের শর্তগুলো পূরণ হয়, তবে তা খুন নয়, বরং দোষপূর্ণ হত্যা হিসেবে বিবেচিত হবে।

উদাহরণ: যদি দুজন ব্যক্তি হঠাৎ ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে এবং উত্তেজনার মুহূর্তে একজন অপরজনকে আঘাত করে মেরে ফেলে, তবে পূর্বপরিকল্পনা না থাকলে এবং অযাচিত সুবিধা বা নিষ্ঠুর আচরণ না থাকলে এটি ধারা ৩০০-এর ব্যতিক্রম ৪-এর আওতায় দোষপূর্ণ হত্যা হিসেবে গণ্য হবে।
------------
⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান খুন:- খুনের যে সবক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্দেশ করা হয়েছে। সে সকল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের জন্যই করা হয়ে থাকে, অথবা

দ্বিতীয়ত, যদি কার্যটি কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে দৈহিক আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, যে আঘাতের ফলে যে ব্যক্তিকে আঘাত দেওয়া হল, সে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে, অথবা

তৃতীয়ত, যদি কোন ব্যক্তিকে দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কার্যটি করা হয় এবং যদি যে দৈহিক আঘাত দেওয়ার অভিসন্ধি করা হয়েছে, সে আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়, অথবা
চতুর্থত, যদি যে ব্যক্তি কার্যটি অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তি জানে যে, কার্যটি এমন আশু বিপজ্জনক যে, ইহার দরুণ খুব সম্ভব মৃত্যু ঘটবে, অথবা ইহার দরুণ অবশ্যই এমন দৈহিক আঘাত ঘটবে, যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাবার বা অনুরূপ দৈহিক আঘাত ঘটাবার ঝুঁকি গ্রহণের অপর কোন অজুহাত ব্যতিরেকে অনুরূপ কার্য করে।
ব্যতিক্রম ১:- যেক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে না :- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনার ফলে অপরাধী আত্ম-সংযমশক্তি হারাইয়া ফেলে এবং যে ব্যক্তি প্ররোচনা দান করেছে, সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় অথবা ভুলক্রমে বা দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।

উপরোক্ত ব্যতিক্রমটি নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে:-
প্রথমত, প্ররোচনাটি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করার বা তার ক্ষতি সাধনের অজুহাতস্বরূপ অপরাধী কর্তৃক স্বয়ং প্রার্থীত বা প্ররোচিত হতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, উক্ত প্ররোচনাটি আইনানুসারে কৃত কোন কার্য দ্বারা বা কোন সরকারী কর্মচারীর সরকারী কর্মচারী হিসেবে যথাযোগ্য ক্ষমতাবলীর আইনসম্মত প্রয়োগসঞ্জাত হতে পারবে না।
তৃতীয়ত, প্ররোচনা আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের আইনসম্মত প্রয়োগক্রমে সম্পাদিত কোন কার্য পালন হতে পারবে না।
ব্যাখ্যা:- প্ররোচনাটি এমন মারাত্মক ও আকস্মিক ছিল কিনা, যার ফলে অপরাধটি খুনের শামিল হবে না, তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন।
ব্যতিক্রম ২:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধী সরল মনে তার আত্মরক্ষার অথবা সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগক্রমে তাকে আইন প্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং যার বিরুদ্ধে সে এই অধিকার প্রয়োগ করে, কোনরূপ পূর্ব-পরিকল্পনা ব্যতীত অথবা অনুরূপ অধিকার রক্ষার জন্য যতটুকু ক্ষতিসাধন করা আবশ্যক, তদপেক্ষা বেশি ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা ব্যতিরেকে, তার মৃত্যু ঘটায়।
ব্যতিক্রম ৩:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি দোষী একজন সরকারী কর্মচারী হিসেবে অথবা সরকারী কর্মচারীর সহায়তাকারী হিসেবে তাকে প্রদত্ত আইনানুগ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং এমন একটি কাজ সম্পাদন করে মত্যু ঘটায়, যা সে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য আবশ্যকীয় ও আইনসম্মত বলে সরল মনে বিশ্বাস করে এবং সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে তার প্রতি কোনরূপ দুরভিসন্ধি ছাড়াই কার্যটি করে।
ব্যতিক্রম ৪:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধটি কোন আকস্মিক বিবাদের সময় আকস্মিক উত্তেজনার কারণে কোনরূপ পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই সংঘটিত হয় এবং অপরাধী কোন অন্যায় সুযোগ গ্রহণ না করে থাকে অথবা নিষ্ঠুরভাবে বা অস্বাভাবিকভাবে কার্য না করে থাকে।
ব্যাখ্যা:- এইরূপ ক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রথম উস্কানি দেয় বা প্রথম আঘাত করে, তা আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়।
ব্যতিক্রম ৫:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি সে ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে ব্যক্তি আঠারো বৎসরের উর্ধ্ব বয়স্ক হলে স্বেচ্ছায় স্বীয় সম্মতিক্রমে মৃত্যুবরণ করে বা মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করে।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 300. Murder:
 Except in the cases hereinafter excepted, culpable homicide is murder, if the act by which the death is caused is done with the intention of causing death, or-
Secondly.- If it is done with the intention of causing such bodily injury as the offender knows to be likely to cause the death of the person to whom the harm is caused, or –
Thirdly.- If it is done with the intention of causing bodily injury to any person and the bodily injury intended to be inflicted is sufficient in the ordinary course of nature to cause death, or –
Fourthly.- If the person committing the act knows that it is so imminently dangerous that it must, in all probability, cause death, or such bodily injury as is likely to cause death, and commits such act without any excuse for incurring the risk of causing death or such injury as aforesaid.
When culpable homicide is not murder
Exception 1.-Culpable homicide is not murder if the offender, whilst deprived of the power of self-control by grave and sudden provocation, causes the death of the person who gave the provocation or cause the death of any other person by mistake or accident.
The above exception is subject to the following provisos:
Firstly.-That the provocation is not sought or voluntarily provoked by the offender as an excuse for killing or doing harm to any person. 
Secondly.-That the provocation is not given by anything done in obedience to the law, or by a public servant in the lawful exercise of the powers of such public servant. 
Thirdly.-That the provocation is not given by anything done in the lawful exercise of the right of private defence. 
Explanation.- Whether the provocation was grave and sudden enough to prevent the offence from amounting to murder is a question of fact.
Exception 2.- Culpable homicide is not murder if the offender, in the exercise in good faith of the right of private defense of person or property, exceeds the powers given to him by law and causes the death of the person against whom he is exercising such right of defense without premeditation, and without any intention of doing more harm than is necessary for the purpose of such defense.
Exception 3.- Culpable homicide is not murder if the offender, being a public servant or aiding a public servant acting for the advancement of public justice, exceeds the powers given to him by law, and causes death by doing an act which he, in good faith, believes to be lawful and necessary for the due discharge of his duty as such public servant and without ill-will towards the person whose death is caused.
Exception 4.-Culpable homicide is not murder if it is committed without premeditation in a sudden fight in the heat of passion upon a sudden quarrel and without the offender's having taken undue advantage or acted in a cruel or unusual manner. 
Explanation.- It is immaterial in such cases which party offers the provocation or commits the first assault.
Exception 5.- Culpable homicide is not murder when the person whose death is caused, being above the age of eighteen years, suffers death or takes the risk of death with his own consent.

১২,৫৬৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২১ক কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. দলিল সংশোধন
  2. রিসিভার নিয়োগ
  3. বিক্রয় চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতা
  4. নিষেধাজ্ঞা প্রদান
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২১ক সরাসরি স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতা-এর সাথে সম্পর্কিত। এই ধারা অনুসারে, কোন স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করার জন্য দুটি শর্ত পূরণ করতে হবে:
১. চুক্তিটি লিখিত এবং রেজিস্ট্রিকৃত হতে হবে।
২. চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মামলা দায়েরের সময় আদালতে জমা দিতে হবে।
- এই ধারার শিরোনামই হলো "অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য"।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারার বিধান অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য: এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রিয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিস্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা তার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Section 21A Unregistered contract for sale not specifically enforceable: Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless– 
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof; and 
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.

১২,৫৬৭.
সামরিক আইন ছাড়াও দণ্ডবিধির ধারা ৫ অনুযায়ী আর কোন ধরনের আইনকে দণ্ডবিধির প্রভাব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে?
  1. আন্তর্জাতিক আইন
  2. বিশেষ বা স্থানীয় আইন
  3. ফৌজদারি কার্যবিধি
  4. সাধারণ ক্ষমার আইন
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৫ অনুযায়ী, দণ্ডবিধি সামরিক আইন ছাড়াও কোনো বিশেষ বা স্থানীয় আইনকে প্রভাবিত করতে পারে না।
⇒ দণ্ডবিধির ধারা-৫: কতিপয় আইন এই আইন দ্বারা প্রভাবিত হবে না: এই আইনের কোনো কিছুই প্রজাতন্ত্রের সামরিক, নৌ বা বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা, সৈনিক, নাবিক বা বিমান সেনাদের বিদ্রোহ ও পলায়নের শাস্তির জন্য প্রণীত কোনো আইনের বিধানাবলি বা কোনো বিশেষ বা স্থানীয় আইনকে বাতিল, পরিবর্তন, স্থগিত বা প্রভাবিত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে না।
অতএব, সামরিক আইনের পাশাপাশি বিশেষ আইন (Special Law) এবং স্থানীয় আইন (Local Law)-ও দণ্ডবিধির প্রভাব থেকে অব্যাহত রয়েছে।

⇒ The Penal Code, 1860, Section-5. Certain laws not to be affected by this Act:
 Nothing in this Act is intended to repeal, vary, suspend, or affect any of the provisions of any Act for punishing mutiny and desertion of officers, soldiers, sailors or airmen in the service of the Republic, or of any special or local law.

১২,৫৬৮.
"Cheating" এর সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কোন ধারায় দেওয়া আছে?
  1. ৪১৫
  2. ৪১৬
  3. ৪১৭
  4. ৪২০
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪১৫-এ "প্রতারণা" (Cheating) এর সংজ্ঞা দেওয়া আছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, যে কেউ কাউকে প্রতারিত করে অসাধুভাবে বা জালিয়াতিমূলকভাবে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে প্ররোচিত করে, বা সম্পত্তি ধরে রাখার সম্মতি দেয়, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কিছু করতে বা না করতে প্ররোচিত করে যা প্রতারিত না হলে সে করত না বা বাদ দিত না, এবং যা শারীরিক, মানসিক, খ্যাতি বা সম্পত্তির ক্ষতি বা সম্ভাব্য ক্ষতি করে, তবে তাকে প্রতারণা করা হয়েছে বলা হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারার বিধান প্রতারণা:- যদি কেউ কোন ব্যক্তিকে ছলনা করে প্রবঞ্চনামূলকভাবে বা অসাধুভাবে সে ব্যক্তিকে অন্য কাউকে কোন সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা কোন ব্যক্তির কোন সম্পত্তি রেখে দেওয়াতে সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনুরূপ প্রতারিত ব্যক্তিকে এমন কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে প্ররোচিত করে যে কাজ সে ব্যক্তি অনুরূপভাবে প্রতারিত না হলে করত না বা করা হতে বিরত থাকত না এবং যে কাজ করার বা করা হতে বিরত থাকার ফলে তার দেহের, মনের খ্যাতির বা সম্পত্তির দিক হতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তবে অনুরূপ ছলনাকারী 'প্রতারণা' করেছে বলে গণ্য হয়।
ব্যাখ্যা:- অসাধুভাবে তথ্য গোপন করা এই ধারার তাৎপর্যাধীনে ছলনা বলে পরিগণিত হবে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 415: Cheating:
- Whoever, by deceiving any person, fraudulently or dishonestly induces the person so deceived to deliver any property to any person, or to consent that any person shall retain any property, or intentionally induces the person so deceived to do or omit to do anything which he would not do or omit if he were not so deceived, and which act or omission causes or is likely to cause damage or harm to that person in body, mind, reputation or property, is said to "cheat".
Explanation:- A dishonest concealment of facts is a deception within the meaning of this section.

১২,৫৬৯.
সর্বপ্রথম ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক ফৌজদারি কার্যবিধি কত সালে পাশ করা হয়?
  1. ১৮৯৮ সালে
  2. ১৮৬১ সালে
  3. ১৮৭২ সালে
  4. ১৯০৮ সালে
ব্যাখ্যা

⇒  ১৮৬১ সালের পূর্বে ব্রিটিশ ভারতে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা বিভিন্ন স্থানীয় প্রথা, রেগুলেশন এবং মুসলিম আইন দ্বারা পরিচালিত হতো। এই ব্যবস্থায় একতা ছিল না।
⇒  ১৮৬১ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি: এটি ছিল ব্রিটিশ ভারত জুড়ে ফৌজদারি পদ্ধতির জন্য প্রণীত প্রথম সমন্বিত এবং সাধারণ আইন বা কোড। এই আইনটি একটি অভিন্ন বিচার ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাইলফলক ছিল।
⇒  পরবর্তী কোডসমূহ: ১৮৬১ সালের আইনটি পরে ১৮৭২, ১৮৮২ এবং অবশেষে ১৮৯৮ সালের কোড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে (বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত) দীর্ঘকাল ধরে মৌলিক আইন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে (যদিও ভারত ১৯৭৩ সালে নতুন আইন করেছে)।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি মূলত একটি পদ্ধতিগত আইন যাকে ইংরেজিতে বলা হয় Adjective law বা Procedural law, সিভিল বা দেওয়ানী মামলায় যেমন দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসরণ করে মামলা মোকদ্দমার প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়, তেমনি সকল প্রকার ক্রিমিনাল মামলাতেও ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করতে হয়, যদি না আইনে ভিন্ন কিছু বলা থাকে।

⇒ ফৌজদারি আদালতের গঠন এবং ক্ষমতা থেকে শুরু করে, অভিযোগ দায়ের, আসামী গ্রেফতার, তদন্ত, মামলা আমলে নেওয়া, অভিযোগ গঠন, অব্যাহতি, সাক্ষ্য গ্রহণ, রায়, খালাস, মুক্তি, রায়ের বিরুদ্ধে আপীল ইত্যাদি সংক্রান্ত সকল বিষয় ফৌজদারি কার্যবিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

⇒ ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক ১৮৬১ সালে সর্ব প্রথম ফৌজদারী কার্যবিধি পাশ করা হয়। যদিও পরবর্তীতে ১৮৭২, ১৮৮২ এবং ১৮৯৮ সালে  সংস্কার করে কার্যকর করা হয়। বর্তমানে প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি আইনটি ১৮৯৮ সালের ১লা জুলাই হতে কার্যকর আছে। 

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধিতে মোট ধারা ৫৬৫ টি এবং মোট তফসিল ছিল ৫টি, যার মধ্যে ১ টি বাতিল করা হয়েছে। যার ফলে ফৌজদারি কার্যবিধিতে বর্তমানে বলবৎ আছে ৪ টি তফসিল।

১২,৫৭০.
কোন ব্যক্তি সাক্ষ্য আইনের ১৮ ধারার অধীনে "Admission" দিতে পারে?
  1. মামলার পক্ষ নিজে
  2. মামলার পক্ষের অনুমোদিত প্রতিনিধি
  3. মামলার ৩য় পক্ষ
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা

ধারা ১৮- কার্যধারার পক্ষ বা তার প্রতিনিধির স্বীকৃতি (Admission):
যেকোনো বিচারিক কার্যধারার পক্ষ (Party to the proceeding) বা তার কোনো প্রতিনিধি (Agent), যাকে আদালত উক্ত পরিস্থিতিতে স্পষ্ট বা পরোক্ষভাবে অনুমোদিত ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করে, তার দ্বারা প্রদত্ত কোনো বক্তব্য (Statement) স্বীকৃতি (Admission) হিসেবে গণ্য হবে।

[Statements made by a party to the proceeding, or by an agent to any such party, whom the Court regards, under the circumstances of the case, as expressly or impliedly authorized by him to make them, are admissions.]

অর্থাৎ, মামলার পক্ষ নিজে বা তার অনুমোদিত প্রতিনিধি যদি কোনো তথ্য স্বীকার করে, তবে তা আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
১২,৫৭১.
কোন মামলায় আদালত চূড়ান্ত শুনানীর পূর্বে যে কোন এক পক্ষের প্রার্থনায় খরচসহ সময় প্রদান করতে পারে অনধিক
  1. ৩ বার
  2. ৬ বার
  3. ৯ বার
  4. ১২ বার
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৭ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে দেওয়ানী মোকদ্দমায় মূলতবির আবেদন করতে হয়। আদালতে সময়ের প্রার্থনা (Time petition) করাই হলো মূলতবীর আবেদন । আদালত মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে (At any stage of the suit) মোকদ্দমার শুনানী মূলতবি রাখতে পারে। চূড়ান্ত শুনানীর আগে (Before Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচ ছাড়া সর্বোচ্চ ৬টি এবং খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি করে মোট ৯টি মূলতবি মঞ্জুর করতে পারে। 
♦ অন্যদিকে চূড়ান্ত শুনানী পর্যায়ে ( At the Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি মূলতবি মঞ্জুর করতে পারে; তবে খরচ ছাড়া আদালত কোন মূলতবি মঞ্জুর করেনা।
♦ মূলতবি খরচ সর্বনিম্ন ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা হতে পারে। মূলতবির আবেদন মঞ্জুর করা বা না করা আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা।
১২,৫৭২.
'ক', 'খ' কে জমি প্রদান করে। 'খ' তা 'গ'-এর নামে উইল করে মারা যায়। এর পর 'ঘ' জমির দখল গ্রহণ করে এবং এ মর্মে একটি জাল দলিল দাখিল করে যে, তার পক্ষে জিম্মাদার হিসাবেই 'খ' কে হস্তান্তর প্রদান করা হয়েছিল। 'গ' কোন ধারার অধীনে জাল দলিলের বাতিলের আদেশ পেতে পারে?
  1. ২১ ধারার
  2. ৩১ ধারার
  3. ৩৩ ধারার
  4. ৩৯ ধারার
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩৯: যখন বাতিলের আদেশ প্রদানযোগ্য:
যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল নিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দিলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসাবে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
যদি দলিল নিবন্ধন আইন অনুসারে নিবন্ধিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সে কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করবেন, যার কার্যালয়ে উক্ত দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে এবং তেমন কর্মকর্তা তার বইতে দলিলের নকলে তার বিলুপ্তির বিষয়াবলী লিপিবদ্ধ করবেন।

(ক) একটি জাহাজের মালিক প্রতারণামূলকভাবে জাহাজটিকে সমুদ্র যাত্রার উপযুক্তমর্মে উল্লেখপূর্বক একজন দায়গ্রাহক 'খ' কে উক্ত জাহাজের বীমা করতে প্রবৃত্ত করে। 'খ' বীমা পলিসির বিলুপ্তি পেতে পারে।

(খ) 'ক', 'খ' কে জমি প্রদান করে। 'খ' তা 'গ'-এর নামে উইল করে মারা যায়। এর পর 'ঘ' জমির দখল গ্রহণ করে এবং এ মর্মে একটি জাল দলিল দাখিল করে যে, তার পক্ষে জিম্মাদার হিসাবেই 'খ' কে হস্তান্তর প্রদান করা হয়েছিল। 'গ' এই জাল দলিলের বাতিলের আদেশ পেতে পারে।

(গ) 'ক' তার জমির, সকল প্রজা উচ্ছেদযোগ্য, এ বিবরণ প্রদান পূর্বক 'খ' এর নিকট জমি বিক্রয় করে। ১৮৭৭ সালের ১লা জানুয়ারী তারিখে একটি দলিলের মাধ্যমে 'খ' এর নিকট তা হস্তান্তর করে। এই তারিখের পরপরই ১৮৭৬ সালের পহেলা অক্টোবরের তারিখ দিয়ে 'ক' প্রতারণামূলকভাবে 'গ' কে উক্ত জমির অংশবিশেষ ইজারা প্রদান করে এবং নিবন্ধন আইন অনুসারে ইজারা নিবন্ধন করা হয়। 'খ' এ ইজারার বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
 
(ঘ) 'ক' একটি জাহাজ 'খ' এর নিকট অর্পণে সম্মত হল। যার জন্য 'খ' কে ৪টি হুণ্ডির মারফত ৩০,০০০ টাকা প্রদান করতে হবে, যা 'ক' গ্রহণ করবে। হুণ্ডিসমূহ প্রণয়ন ও গ্রহণ করা হল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী জাহাজ প্রদান করা হল না। 'ক', 'খ' এর বিরুদ্ধে একটি হণ্ডি প্রসঙ্গে মামলা দায়ের করল। 'খ' সকল হুণ্ডির বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
১২,৫৭৩.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৪৪ প্রযোজ্য?
  1. দেউলিয়াত্ব ঘোষণা
  2. সম্পত্তির মালিকানা
  3. দখল পুনরুদ্ধার
  4. বংশগত পদ রক্ষা
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ : ১৪৪, প্রথম তফসিল, তামাদি আইন-
যদি কারো জমি বা স্থাবর সম্পত্তি অন্য কেউ জবরদখল করে নেয়, সেই দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ (Limitation Period) - ১২ বছর। এই সময় গণনা শুরু হবে যখন প্রতিপক্ষের দখল বাদীর স্বার্থের বিরুদ্ধে (adverse) হয়ে ওঠে।
১২,৫৭৪.
ক, খ-এর নিকট ১০ শতক জমি বিক্রি করার নিমিত্তে চুক্তিপত্র করে কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ২ শতক জমি হস্তান্তর করতে অসমর্থ হয়, এক্ষেত্রে চুক্তিটি-
  1. সম্পাদন করা যাবে না
  2. সম্পাদন করা যাবে
  3. সম্পাদন করা যাবে কিন্তু অসম্পাদিত অংশের ক্ষতিপূরণ পাবে না
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে উক্ত চুক্তি সম্পাদন করা যাবে।
- এখানে চুক্তির সম্পাদিত অংশ ৮ শতক তথা বড় এবং অসম্পাদিত অংশ ২ শতক তথা ছোট, তাই চুক্তিটি সম্পাদন করা যাবে এবং অসম্পাদিত অংশের জন্য খ-কে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
১২,৫৭৫.
'অনধিকার গৃহে প্রবেশ' অপরাধ সংঘটনের জন্য কোনটি যথেষ্ট?
  1. প্রবেশকারীর প্রবেশ করার ইচ্ছা
  2. প্রবেশকারীর সম্পূর্ণ শরীরের প্রবেশ
  3. প্রবেশকারীর অবস্থান করার ইচ্ছা
  4. প্রবেশকারীর দেহের কোনো অংশের প্রবেশ
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৪৪২ ধারা- অনধিকার গৃহে প্রবেশ:
কোনো ব্যক্তি যদি মানুষের আবাসস্থল হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে, তাঁবুতে বা জলযানে অথবা উপাসনালয় হিসাবে ব্যবহৃত কোনো গৃহে অথবা সম্পত্তি হেফাজতের স্থান হিসাবে ব্যবহৃত কোনো গৃহে প্রবেশ করে বা সেখানে অবস্থান করে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ সংঘটন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি 'অনধিকার গৃহে প্রবেশ' অপরাধটি করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা: অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশকারীর দেহের কোনো অংশের প্রবেশই গৃহে অনধিকার প্রবেশ অপরাধ সংঘটনের জন্য যথেষ্ট।

Section 442- House-trespass:
Whoever commits criminal trespass by entering into or remaining in any building, tent or vessel used as a human dwelling or any building used as a place for worship, or as a place for the custody of property, is said to commit "house-trespass".

Explanation: The introduction of any part of the criminal trespasser's body is entering sufficient to constitute house-trespass.
১২,৫৭৬.
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৫২ ধারায় নিচের নীতি প্রতিফলিত হয়েছে?
  1. Doctrine of Election
  2. Doctrine of Lis Pendens
  3. Doctrine of Promissory Estoppel
  4. Doctrine of Marshalling and Contribution
ব্যাখ্যা
⇒ "লিসপেনডেন্স নীতি (The doctrine of lis pendens)" এর মূল কথা হলো- Pendente lite nihil invatur অর্থাৎ মামলা রুজু অবস্থায় নতুন কোনো অবস্থার সৃষ্টি করা উচিত হবে না। এই নীতি সম্পত্তি হস্তান্তর আইন,১৮৮২ এর ৫২ ধারায় প্রতিফলিত হয়েছে।
 
 সম্পত্তি হস্তান্তর আইন,১৮৮২ এর ৫২ ধারা  অনুযায়ী, কোন স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলায় প্রত্যক্ষ ও সুনির্দিষ্টভাবে ঐ সম্পত্তি সংক্রান্ত কোন অধিকারের প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, মামলার কোন পক্ষই আদালতের অনুমতি ছাড়া উক্ত সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারবে না। তবে আদালত অনুমতি দিলে তা হস্তান্তর করা যাবে। মামলা চলাকালীন হস্তান্তর মামলার ফলাফলকে কোনোভাবে প্রভাবিত করবে না বা মামলার কোনো পক্ষকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।
 
Section 52: Transfer of property pending suit relating thereto:
During the pendency in any Court in Bangladesh, of any suit or proceeding which is not collusive and in which any right to immoveable property is directly and specifically in question, the property cannot be transferred or otherwise dealt with by any party to the suit or proceeding so as to affect the rights of any other party thereto under any decree or order which may be made therein, except under the authority of the Court and on such terms as it may impose. 
 
Explanation.-For the purposes of this section, the pendency of a suit or proceeding shall be deemed to commence from the date of the presentation of the plaint or the institution of the proceeding in a Court of competent jurisdiction, and to continue until the suit or proceeding has been disposed of by a final decree or order and complete satisfaction or discharge of such decree or order has been obtained, or has become unobtainable by reason of the expiration of any period of limitation prescribed for the execution thereof by any law for the time being in force.
১২,৫৭৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী পুলিশ সম্পূরক চার্জ শীট [supplementary charge sheet) দাখিল করতে পারে?
  1. ধারা ১৭৩(২খ)
  2. ধারা ১৭৩(৩ক)
  3. ধারা ১৭৩(৩খ)
  4. ধারা ১৭৩(১খ)
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ১৭৩(৩খ) অনুযায়ী, পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট (চার্জ শীট) দাখিল করার পরও অধিকতর তদন্ত (Further Investigation) চালিয়ে গেলে যদি নতুন মৌখিক বা দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে পুলিশ সম্পূরক চার্জ শীট (Supplementary Charge Sheet) ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দাখিল করতে পারে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৮ ধারায় নিয়োগকৃত পুলিশের উপরস্থ কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ মুলতুবি রেখে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ১৭৩ (২) ধারায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে [may order further investigation] ১৭৩ (১) ধারার অধীন পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করার পরও পুলিশ ১৭৩ (৩খ) ধারার অধীন অধিকতর তদন্ত করতে পারে (do further investigation)।
- অধিকতর তদন্ত করে মৌখিক বা দালিলিক অধিকতর সাক্ষ্য পেলে, পুলিশ ১৭৩ (৩খ) ধারায় অধিকতর রিপোর্ট বা সম্পূরক চার্জ শীট [supplementary charge sheet) দাখিল করতে পারে। ১৭৩ ধারার অধীন পুন:তদন্তের (re-investigation) কোন বিধান নেই।
- তথ্য প্রদানকারীর বা থানার ভারপ্রাপ্ত উদ্ধতন কর্মকর্তার আবেদনক্রমে বা ম্যাজিস্ট্রেট তার নিজ উদ্যোগে অধিকর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু আসামীর আবেদনের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে না।
-১৭৩ ধারার অধীন তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করার পর ম্যাজিস্ট্রেট চার্জশীটভুক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিতে পারে এবং যে সকল অভিযুক্তর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে, তাদের অব্যাহতি দিতে পারে। যাদেরকে ম্যাজিস্ট্রেট একবার অব্যাহতি দিলো তাদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের আদেশ দিতে পারে না। বরং ম্যাজিস্ট্রেট ১৯০ ধারায় অপরাধ আমলে নিতে পারে।
-------------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-173: Report of police-officer:
-(3B) Nothing in this section shall be deemed to preclude further investigation in respect of an offence after a report under sub-section (1) has been forwarded to the Magistrate and, whereupon such investigation, the officer in charge of the police-station obtains further evidence, oral or documentary, he shall forward to the Magistrate a further report or reports regarding such evidence in the form prescribed; and the provisions of sub-section (1) to (3A) shall, as far as may be, apply in relation to such report or reports as they apply in relation to a report forwarded under sub-section (1).
১২,৫৭৮.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩৫ অনুযায়ী, কোন ধরনের রেকর্ড প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে গণ্য হবে?
  1. জমির খতিয়ান
  2. ব্যক্তিগত ডায়েরি
  3. ব্যক্তিগত চিঠিপত্র
  4. সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩৫ অনুযায়ী, "যেকোনো সরকারি বা অন্যান্য অফিসিয়াল বই, রেজিস্টার বা রেকর্ড [বা ডিজিটাল রেকর্ড],
যা সরকারি কর্মচারী তাঁর দায়িত্ব পালনকালে অথবা আইন দ্বারা নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ব্যক্তি রক্ষণ করেন,
এবং সেই রেকর্ডে উল্লিখিত কোনো তথ্য যদি কোনো বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক তথ্য হয়—তাহলে তা সাক্ষ্য হিসেবে প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হবে।"
→ সরকারি বা আইনগত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের সময় প্রণীত ও সংরক্ষিত রেকর্ড-ই ধারা ৩৫-এর অধীনে প্রাসঙ্গিক হিসেবে গণ্য হয়।
- অর্থাৎ অপশন ক) জমির খতিয়ান এটি সরকারি রেকর্ড, ভূমি অফিসে সরকারি কর্মচারী কর্তৃক রক্ষণ করা হয়। তাই এটি ধারা ৩৫ অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য।
------
⇒The Evidence Act, 1872, Section- 35.Relevancy of entry in public record 24[or digital record], made in performance of duty:
- An entry in any public or other official book, register or record 25[,or digital record], stating a fact in issue or relevant fact, and made by a public servant in the discharge of his official duty, or by any other person in performance of a duty specially enjoined by the law of the country in which such book, register 26[, record or digital record] is kept, is itself a relevant fact.
১২,৫৭৯.
১লা জুলাই, ২০০৫ তারিখে একটি রেজিষ্ট্রিকৃত চুক্তির অনুকূলে সুনির্দিষ্টভাবে চুক্তি বলবতের জন্য মামলা করার ক্ষেত্রে বাদীকে আরজির সাথে জমা দেওয়া প্রয়োজন-
  1. চুক্তির অবশিষ্ট মূল্যের ২৫%
  2. চুক্তির অবশিষ্ট মূল্যের ৫০%
  3. অবশিষ্ট চুক্তি মূল্য
  4. কোন চুক্তি মূল্য দাখিল অপ্রয়োজনীয়
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief (Amendment)Act, 2004 ধারা 21A(c) অনুযায়ী ২০০৫ সালের ১লা জুলাই থেকে একটি রেজিষ্ট্রিকৃত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবতের জন্য মামলা করার ক্ষেত্রে বাদীকে আরজির সাথে অবশিষ্ট চুক্তি মূল্য জমা দিতে হবে।
♦The Specific Relief Act, এর ধারা ২১ক হচ্ছে অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্যঃএই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিষ্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা উহার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
১২,৫৮০.
শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ কোথায় দাখিল করতে হবে?
  1. থানায় পুলিশের নিকট
  2. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  3. সরাসরি দায়রা আদালতে
  4. হাইকোর্ট বিভাগে
ব্যাখ্যা
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার বিধান:
(১) যখন কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট, বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ রিপোর্ট বা অন্য কোনোভাবে সংবাদ পাইয়া এই মর্মে সন্তুষ্ট হল যে, তার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে জমি বা পানি বা তার সীমানা সম্পর্কে এমন একটি বিরোধ রয়েছে, যা শান্তিভঙ্গ ঘটাতে পারে। তখন তিনি তার এরূপ স্পষ্ট হওয়ার কারণ উল্লেখ করে তার দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বা কুলির মাধ্যমে তার আদালতে হাজির হওয়ার এবং বিরোধের বিষয় বস্তুতে প্রকৃত দখল সম্পর্কে তাদের নিজ নিজ দাবি সম্পর্কে বিবৃতি পেশ করার নির্দেশ দিয়া একটি লিখিত আদেশ দিবেন।
(২) এই ধারার উদ্দেশ্যে জমি বা পানি বলতে দালান, বাজার, ম্যাগার, ফসল বা সম্পত্তির খাজনা বা মুনাফাও বুঝায়।
(৩) ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্দেশক্রমে এরূপ ব্যক্তি ব্যক্তিগণের উপর আদেশের একটি সমন জারির জন্য এই আইনে বর্ণিত পদ্ধতিতে জারি করতে হবে এবং অন্ততপক্ষে একটি নকল সুবিধাজনক স্থানে বা বিরোধের বিষয় বস্তুর নিকটে লটকায়ে জারি করতে হবে।

→ অর্থাৎ স্থাবর সম্পত্তি নিয়ে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করা যায়।
১২,৫৮১.
কোন ব্যক্তি যদি পুলিশ হেফাজতে মারা যান, তবে তদন্তের জন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বপ্রাপ্ত হবে?
  1. শুধুমাত্র জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  2. শুধুমাত্র প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
  3. শুধুমাত্র প্রথম ব দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
  4. যেকোনো নিকটতম ক্ষমতাবান ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৬ ধারা: মৃত্যুর কারণ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ইনকেয়ারী:
(১) কোন ব্যক্তি পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে মারা গেলে সুরতহাল তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাবান নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেট অবশ্যই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত ছাড়াও বা এরূপ তদন্তের পরিবর্তে ইনকোয়ারি করবেন এবং ধারা-১৭৪ এর উপধারা-(১) এর অনুচ্ছেদ-(ক), (খ) ও (গ) এ বর্ণিত অন্যান্য ক্ষেত্রে উক্তরূপে ক্ষমতাবান যে কোন ম্যাজিস্ট্রেট মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক অনুষ্ঠিত তদন্ত ব্যতীতও অথবা এরূপ তদন্তের পরিবর্তে ইনকোয়ারি সম্পন্ন করতে পারবেন এবং তিনি যদি এরূপ সম্পাদন করেন, সেক্ষেত্রে অপরাধ ইনকোয়ারীর বেলায়ও তাঁর যে পরিমাণ ক্ষমতা থাকবে এক্ষেত্রেও তার একই পরিমাণ ক্ষমতা থাকবে। এরূপ ইনকোয়ারি পরিচালনাকালীন সময়ে ম্যাজিস্ট্রেট পরিস্থিতি অনুসারে অতঃপর উল্লিখিত পন্থাসমূহের যে কোন একটি অনুসারে গৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ নথিবদ্ধ করবেন।
 
(২) কবর হতে লাশ তুলার ক্ষমতা: যখনই কোন ম্যাজিস্ট্রেট এরূপ কোন ব্যক্তির লাশ, যাকে ইতঃপূর্বে কবর দেয়া হয়েছে, পরীক্ষা করা যুক্তিযুক্ত মনে করেন তার মৃত্যুর কারণ আবিষ্কার করার জন্য, তখনই ওই ম্যাজিস্ট্রেট ওই লাশটি কবর হতে তোলাইয়া পরীক্ষা করাতে পারবেন।
১২,৫৮২.
দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারা অনুযায়ী, কোন কাজ করলে শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধ সংঘটিত হয়?
  1. মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করা
  2. কোনো কাজ করা, যা মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে জানা থাকে
  3. কোনো কাজের মাধ্যমে দৈহিক আঘাত করা, যা মৃত্যু ঘটাতে পারে
  4. উপরের সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধের শর্তগুলো বর্ণিত হয়েছে, এবং সেখানে যেকোনো কাজের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে কিংবা এমন কাজ যা মৃত্যু ঘটাতে পারে, সে অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য নরহত্যা হতে পারে।
- মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করা (ক):
যদি কোনো ব্যক্তি মৃত্যুর উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করে এবং তার ফলস্বরূপ মৃত্যু ঘটে, তবে সেটা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা হবে। এটি সরাসরি হত্যার উদ্দেশ্যে কাজ করার প্রমাণ।
- কোনো কাজ করা, যা মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে জানা থাকে (খ):
যদি ব্যক্তি জানে যে তার কাজের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটাতে পারে, এবং সে তাতে সজ্ঞানে কাজ করে, তাও শাস্তিযোগ্য নরহত্যা হবে। এখানে অভিপ্রায় বা উদ্দেশ্য থাকলেও, তিনি জানতেন যে তার কাজের ফলস্বরূপ মৃত্যু ঘটতে পারে।
- কোনো কাজের মাধ্যমে দৈহিক আঘাত করা, যা মৃত্যু ঘটাতে পারে (গ):
যদি কোনো ব্যক্তি এমন কাজ করে যা মৃত্যু ঘটাতে পারে, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধ বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ, শরীরের এমন আঘাত করা, যা মৃত্যুর কারণ হতে পারে, সেক্ষেত্রেও অপরাধ হতে পারে।
⇒ এই তিনটি শর্ত পূর্ণ হলে, ব্যক্তিটি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার জন্য দায়ী হতে পারে।

⇒ কোন ব্যক্তি যদি:
- মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্যে কোন কাজ করে এবং তার ফলস্বরূপ মৃত্যু ঘটে,
- যে কাজের মাধ্যমে দৈহিক জখম হতে পারে এবং সেই জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, এমন কাজ করে এবং তার ফলস্বরূপ মৃত্যু ঘটে,
- যে কাজ মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলে সে জানে, সেই কাজ করে এবং তার ফলে মৃত্যু ঘটে, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারা- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable homicide):
কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজ কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, সে কাজ সম্পাদন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।
- ব্যাখ্যা (Explanation) ১:
যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগছে, তার দৈহিক জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।
- ব্যাখ্যা (Explanation) ২:
যখন দৈহিক আঘাত বা জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে ব্যক্তি অনুরূপ দৈহিক আঘাত বা জখম ঘটায়, সে ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও যথোচিত প্রতিকারের ও সুনিপুণ চিকিৎসার ফলে সে মৃত্যু রোধ করা যেত।
- ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:
মাতৃগর্ভে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়। কিন্তু যদি কোন শিশুর (দেহের) কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে ভূমিষ্ঠ না হয়ে থাকে।
১২,৫৮৩.
কোনো ব্যক্তির মৃত্যুকালে তার সম্পত্তি তার চাকর বা কর্মচারী কর্তৃক অসাধুভাবে আত্মসাৎকরণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিচের কোনটি?
  1. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড 
  4.  ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪০৪ – মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি অসাধুভাবে আত্মসাৎ:
যে ব্যক্তি অঅসাধুভাবে (dishonestly) মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সময় তার দখলে থাকা সম্পত্তি নিজের ব্যবহারের জন্য নেয় বা পরিণত করে,
যা তখন কোনো আইনসিদ্ধ অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তির দখলে যায়নি, তাকে শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে।

শাস্তি:
- কারাদণ্ড (Imprisonment) – সর্বোচ্চ ৩ বছর, এবং
- অর্থদণ্ড (Fine) প্রযোজ্য।

বিশেষ নিয়ম:
যদি অপরাধী ওই মৃত ব্যক্তির ক্লার্ক বা চাকর হিসেবে কাজ করত, তবে কারাদণ্ড সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

১২,৫৮৪.
দণ্ডবিধির ৪২৬ ধারার অধীন অনিষ্টসাধন (Mischief) এর শাস্তি হতে পারে-
  1. ৩ মাস পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাবাস অর্থদণ্ডসহ বা উভয়
  2. ৬ মাস পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাবাস অর্থদণ্ডসহ বা উভয়
  3. ১ বৎসর পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাবাস অর্থদণ্ডসহ বা উভয়
  4. ৩ বৎসর পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাবাস অর্থদণ্ডসহ বা উভয়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪২৬ ধারার অধীন অনিষ্টসাধন (Mischief) এর শাস্তি হতে পারে ৩ মাস পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাবাস অর্থদণ্ডসহ বা উভয়।
--------------------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section- 426: Punishment for mischief: Whoever commits mischief shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three months, or with fine, or with both.
১২,৫৮৫.
সজল ও মিনা ২০১৫ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ২০১৭ সালের নভেম্বরে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। ২০১৮ সালের ১লা জানুয়ারি মিনার একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে। এক্ষেত্রে শিশুটি সজলের বৈধ সন্তান হিসেবে-
  1. চূড়ান্তভাবে গণ্য হবে
  2. অনুমান করা যেতে পারে
  3. অনুমান করা যেতে পারে না
  4. আদালত কোনো অনুমান করবে না
ব্যাখ্যা

সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারা: সন্তানের জন্মই বিবাহ স্থির থাকাকালে এর বৈধতার চূড়ান্ত প্রমাণ-

কোন ব্যক্তির মাতার সঙ্গে এক ব্যক্তির আইনসঙ্গত বিবাহ কায়েম থাকাকালে অথবা বিবাহবিচ্ছেদের পর দুইশত আশি দিনের ভিতর তার মাতা অবিবাহিতা থাকাকালে যদি তার জন্ম হয় ও যদি এটা দেখান না হয় যে, ঐ ব্যক্তি যখন মাতৃগর্ভে এসে থাকতে অনুরূপ কোন সময়ে বিবাহিত পক্ষদ্বয়ের মধ্যে মিলনের পথ উন্মুক্ত ছিল, তাহলে সে যে জন্মেছে এ প্রসঙ্গ দ্বারা অবশ্যই চূড়ান্ত ভাবে প্রমাণিত হবে যে, সে সে ব্যক্তির বৈধ সন্তান।
 
Section 112: Birth during marriage conclusive proof of legitimacy-
The fact that any person was born during the continuance of a valid marriage between his mother and any man, or within two hundred and eighty days after its dissolution, the mother remaining unmarried, shall be conclusive proof that he is the legitimate son of that man, unless it can be shown that the parties to the marriage had no access to each other at any time when he could have been begotten.

এক্ষেত্রে, শিশুটি জন্মগ্রহণ করেছে মিনার বিবাহবিচ্ছেদের ২৮০ দিনের মধ্যে এবং প্রমাণও নেই যে গর্ভধারণের সময় সজল ও মিনার মিলন সম্ভব ছিল না। সুতরাং সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারা মোতাবেক, শিশুটি সজলের বৈধ সন্তান বলেই চূড়ান্তভাবে গণ্য হবে।
১২,৫৮৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৪ ধারা অনুসারে, ম্যাজিস্ট্রেট কখন অভিযুক্তকে দণ্ডিত না করার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবেন?
  1. অভিযুক্ত স্বীকারোক্তি করলে
  2. অভিযুক্ত স্বীকারোক্তি না করলে
  3. অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার পর
  4. অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হলে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৪ ধারায় বলা হয়েছে, যদি ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে দণ্ডিত না করেন বা অভিযুক্ত স্বীকারোক্তি না করেন, তখন ম্যাজিস্ট্রেট ফরিয়াদির (যদি থাকে) বক্তব্য শুনবেন এবং বাদী পক্ষের সমর্থনে প্রদত্ত সমস্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন।
- এরপর, অভিযুক্তের বক্তব্যও শুনবেন এবং আত্মপক্ষ সমর্থনে তার প্রদত্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন। এর পর ম্যাজিস্ট্রেট উপযুক্ত মনে করলে সাক্ষীদের সমন ইস্যু করার জন্য নির্দেশ দিতে পারেন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
এটি নির্দেশ করে যে, অভিযুক্ত যদি স্বীকারোক্তি না করেন, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট মামলার শুনানি অব্যাহত রাখবেন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করবেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৪ ধারা অনুযায়ী-
(১) ম্যাজিস্ট্রেট যদি পূর্ববর্তী ধারা(২৪৩) অনুসারে অভিযুক্তকে দণ্ডিত না করেন বা অভিযুক্ত যদি উক্তরূপে স্বীকারোক্তি না করে,তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট ফরিয়াদির(যদি থাকে) বক্তব্য শুনবেন এবং বাদী পক্ষের সমর্থনে প্রদত্ত সমস্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন এবং অভিযুক্তের বক্তব্যও শুনবেন এবং আত্মপক্ষ সমর্থনে তার প্রদত্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন।তবে শর্ত থাকে যে,কোনো আদালত যখন নালিশ করে তখন ম্যাজিস্ট্রেট ফরিয়াদি হিসাবে কারো বক্তব্য শুনতে বাধ্য হবেন না।
(২) ম্যাজিস্ট্রেট যদি উপযুক্ত মনে করেন,তাহলে ফরিয়াদি বা আসামির আবেদনক্রমে কোন সাক্ষীর প্রতি হাজির হওয়ার বা কোন দলিল বা কোনো জিনিস হাজির করার নির্দেশ দিয়ে সমন ইস্যু করতে পারবেন।
(৩) এরূপ আবেদনের ভিত্তিতে কোন সাক্ষীর প্রতি সমন দেওয়ার পূর্বে ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ দিতে পারবেন যে, বিচারের উদ্দেশ্যে হাজির হওয়ার জন্য তার যুক্তিসংগত খরচ আদালতে জমা দিতে হবে।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-244. Procedure when no such admission is made:
(1) If the Magistrate does not convict the accused under the preceding section or if the accused does not make such admission, the Magistrate shall proceed to hear the complainant (if any), and take all such evidence as may be produced in support of the prosecution, and also to hear the accused and take all such evidence as he produces in his defence:
Provided that the Magistrate shall not be bound to hear any person as complainant in any case in which the complaint has been made by a Court.
(2) The Magistrate may, if he thinks fit, on the application of the complainant or accused, issue a summons to any witness directed him to attend or to produce any document or other thing.
(3) The Magistrate may, before summoning any witness on such application, require that his reasonable expenses, incurred in attending for the purposes of the trial, be deposited in Court.
১২,৫৮৭.
বার কাউন্সিল নির্বাচনের জন্য চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্বাচনের কত দিন পূর্বে তফসিল প্রকাশ করতে হয়?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৪৫ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা

বার কাউন্সিল নির্বাচনের জন্য চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্বাচনেরর ৪৫ দিন পূর্বে তফসিল প্রকাশ করতে হয়।

The Bangladesh Legal Practitioners & Bar Council Rules, 1972 এর বিধি ৩:
চেয়ারম্যানকে বার কাউন্সিল নির্বাচনের অন্তত ৪৫ দিন পূর্বে সরকারি গেজেটে নির্বাচনের একটি তফসিল প্রকাশ করতে হবে, যাতে বার কাউন্সিলের সদস্যদের নির্বাচনের জন্য নিচের বিষয়গুলো উল্লেখ থাকবে-
(ক) প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্ধারিত তারিখ, যা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১০ দিনের মধ্যে হবে না এবং প্রস্তাব বার কাউন্সিলের অফিসে জমা দিতে হবে;
(খ) উক্ত প্রস্তাবগুলোর যাচাই-বাছাই (scrutiny) করার তারিখ;
(গ) ভোটগ্রহণের তারিখ বা তারিখসমূহ;
(ঘ) নির্বাচনের বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিলের শেষ তারিখ;
(ঙ) বার কাউন্সিলের অফিসে নির্বাচন পিটিশন কমিটি কর্তৃক প্রথমবারের মতো উক্ত আপত্তি গ্রহণের তারিখ।
------------------------------------

The Chairman shall at least 45 days before the election , publish a programme of the election members of the Bar Council in the official Gazette specifying -
(a) the date not being a day within ten days of t Notification by which proposals for election are to I delivered at the office of the Bar Council;
(b) the date for the scrutiny of such proposals;
(c) the date or dates on which voting shall take place;
(d) the date by which objections to election shall be filed;
(e) the date on which objection shall be taken up for the fi time by the Election Petition Committee at the office the Bar Council;

১২,৫৮৮.
দণ্ডবিধির ৮০ ধারায় কোন ধরনের কাজকে "অপরাধ নয়" বলে গণ্য করা হয়েছে?
  1. সতর্কতা ছাড়া করা কাজ
  2. আইন ভঙ্গকারী কাজ
  3. অপরাধমূলক উদ্দেশ্য সহ কাজ
  4. সতর্কতা ও যত্নসহকারে দুর্ঘটনাজনিত কাজ
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৮০ ধারার বিধান- আইনানুগ কাজ সম্পাদনকালে বিপত্তি বা দুর্ঘটনা:
কোন আইনানুগ কাজ আইনানুগ পদ্ধতিতে আইনানুগ উপায়ে যথোপযুক্ত সতর্কতা ও যত্নসহকারে সম্পাদন করাকালে কোন অপরাধমূলক উদ্দেশ্য বা অবগতি ছাড়া দুর্ঘটনা বা দুর্ভাগ্যক্রমে অনুষ্ঠিত কোন কিছুই অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।

উদাহরণ: ‘ক’ একটি কুঠার নিয়ে কাজ করছে, হঠাৎ তা কুঠারের মাথাটি খুলে গিয়ে উড়ে যায় এবং সন্নিকটে দণ্ডায়মান এক ব্যক্তিকে নিহত করে। এক্ষেত্রে যদি ‘ক’ এর পক্ষে যথাযথ সতর্কতার অভাব না থেকে থাকে, তাহলে তার কাজ মার্জনীয় হবে এবং অপরাধ হবে না।

Section 80- Accident in doing a lawful act:
Nothing is an offence which is done by accident or misfortune, and without any criminal intention or knowledge in the doing of a lawful act in a lawful manner by lawful means and with proper care and caution.

Illustration: A is at work with a hatchet; the head flies off and kills a man who is standing by. Here if there was no want of proper caution on the part of A, his act is excusable and not an offence.
১২,৫৮৯.
The breach of a contract to transfer immovable property cannot be adequately relieved by compensation in money” বিধানটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোথায় বলা আছে? 
  1. ধারা ২৩
  2. ধারা ১২
  3. ধারা ২৯
  4. ধারা ২১
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ১২ অনুসারে,এ অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, তবে যে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে ঃ

(ক) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্তহয়;

(খ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না;

(গ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না; অথবা

(ঘ) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।

ব্যাখ্যা : যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত এটা অবশ্যই ধরে নিবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার তেমন ভাবে করা যায়।


--------------------------------------------------------------
Explanation
- Unless and until the contrary is proved, the Court shall presume that the breach of a contract to transfer immoveable property cannot be adequately relieved by compensation in money, and that the breach of a contract to transfer moveable property can be thus relieved.
১২,৫৯০.
A conviction based solely on the testimony of an accomplice is-
  1. illegal
  2. invalid
  3. valid
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৩৩ অনুযায়ী:
“An accomplice shall be a competent witness against an accused person; and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.”

ধারা ১৩৩ বলছে: যদি একজন দুষ্কর্মের সহযোগী (accomplice) আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন এবং সেই সাক্ষ্য কোনো অতিরিক্ত প্রমাণ ছাড়া (i.e., uncorroborated) হয়, তবুও শুধু এই কারণে আদালতের দেওয়া সাজা বেআইনী (illegal) বলা যাবে না।

আদালত যদি একমাত্র সহযোগীর সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে, সেটা আইনত valid বা বৈধ। যদিও বাস্তবে আদালত সাধারণত corroboration (অর্থাৎ, অন্য কোনো প্রমাণ বা সাক্ষ্যের মাধ্যমে সমর্থন) খোঁজে - কারণ accomplice-এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকতে পারে। কিন্তু আইনগতভাবে আদালত একা সেই সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই সাজা দিতে পারে।
১২,৫৯১.
দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারার বিধান অনুসারে চুরির অপরাধ গঠনের জন্য কী প্রয়োজন?
  1. অসাধু উদ্দেশ্য
  2. সম্পত্তি স্থানান্তর
  3. মালিকের সম্মতি না থাকা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৭৮-এর অধীন, চুরির (theft) অপরাধ গঠনের জন্য তিনটি মূল উপাদান প্রয়োজন: (১) অসাধু উদ্দেশ্য (dishonest intention) দিয়ে অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করা, (২) সম্পত্তির স্থানান্তর (moving the property), এবং (৩) দখলকারী বা মালিকের সম্মতি না থাকা (without consent)। এই তিনটির সমন্বয়ে চুরির অপরাধ সম্পূর্ণ হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারার বিধান চুরি:- কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ১:- কোন বস্তু যতক্ষণ পর্যন্ত অস্থাবর সম্পত্তি না হওয়া বিধায় মাটির সাথে যুক্ত থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত উহা চুরি করার বস্তু বলে গণ্য হবে না, কিন্তু যে মুহূর্তে উহাকে মাটি হতে বিচ্ছিন্ন করা হয় সে মুহূর্তেই উহা চুরি করার বস্তু হওয়ার যোগ্য গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ২:- যে কাজ কর্তৃক (মাটি হতে) বিচ্ছিন্নতা সাধন করা হয়, সে কাজ দ্বারাই স্থানান্তর করা হলে তা চুরি হতে পারে।
ব্যাখ্যা ৩:- কোন ব্যক্তি কোন বস্তুর গতির প্রতিবন্ধক অপসারণ করলে বা উহাকে অপর কোন বন্ধু হতে বিচ্ছিন্ন করলে এবং বাস্তবিকভাবে উহা স্থানান্তর করলে উক্ত বস্তু স্থানান্তর করে বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা ৪:- কোন ব্যক্তি যে কোন উপায়ে কোন পশুকে হাঁটায়, সে লোক সে পশুকে এবং অনুরূপভাবে সৃষ্ট গতির ফলে উক্ত পশু দ্বারা স্থানান্তরিত প্রত্যেক বস্তুকে স্থানান্তর করে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ৫:- সংজ্ঞায় উল্লিখিত সম্মতি প্রকাশ্য অথবা পরোক্ষ হতে পারে: এবং উক্ত সম্মতি দখলকারী ব্যক্তি বা উক্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্য বা পরোক্ষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত হতে পারে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 378: Theft:
- Whoever, intending to take dishonestly any moveable property out of the possession of any person without that person's consent, moves that property in order to such taking, is said to commit theft.
Explanation 1.- A thing so long as it is attached to the earth, not being moveable property, is not the subject of theft; but it becomes capable of being the subject of theft as soon as it is severed from the earth.
Explanation 2.- A moving effected by the same act which effects the severance may be a theft.
Explanation 3.- A person is said to cause a thing to move by removing an obstacle which prevented it from moving or by separating it from any other thing, as well as by actually moving it.
Explanation 4.- A person, who by any means causes an animal to move, is said to move that animal, and to move everything which, in consequence of the motion so caused, is moved by that animal.
Explanation 5.- The consent mentioned in the definition may be express or implied, and may be given either by the person in possession, or by any person having for that purpose authority either express or implied.

১২,৫৯২.
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, সন্তান যদি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ দিতে ব্যর্থ হন, তবে অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বাধিক কারাদণ্ড কী হতে পারে?
  1. ২ মাসের কারাদণ্ড
  2. ৩ মাসের কারাদণ্ড
  3. ৪ মাসের কারাদণ্ড
  4. ৬ মাসের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ এর ধারা ৫(১) অনুসারে, যদি কোনো সন্তান এই আইনের অধীন পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সে অনূর্ধ্ব ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ড হতে পারে।

অর্থাৎ: প্রথম শাস্তি: অর্থদণ্ড (সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা)।
অর্থদণ্ড না দিলে বিকল্প শাস্তি: কারাদণ্ড (সর্বোচ্চ ৩ মাস)।
সুতরাং, এই আইনে সর্বাধিক কারাদণ্ডের মেয়াদ ৩ মাস।

⇒ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ এর ধারা-৫: পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করিবার দণ্ড:
(১) কোন সন্তান কর্তৃক ধারা ৩ এর যে কোন উপ-ধারার বিধান কিংবা ধারা ৪ এর বিধান লংঘন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবে; বা উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবে। 
(২) কোন সন্তানের স্ত্রী, বা ক্ষেত্রমত, স্বামী কিংবা পুত্র-কন্যা বা অন্য কোন নিকট আত্নীয় ব্যক্তি— 
 (ক) পিতা-মাতার বা দাদা-দাদীর বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণ প্রদানে বাধা প্রদান করিলে; বা 
(খ) পিতা-মাতার বা দাদা-দাদীর বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণ প্রদানে অসহযোগিতা করিলে— 
 তিনি উক্তরূপ অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করিয়াছে গণ্যে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

১২,৫৯৩.
দণ্ডবিধির, ১৮৬০ এর ধারা ৩৩৪-এর অধীনে অপরাধ সংঘটিত হতে হলে নিম্নের কোনটি অবশ্যই থাকতে হবে?
  1. মারাত্মক আঘাত
  2. কোনো অস্ত্রের ব্যবহার
  3. ইচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টা
  4. গুরুতর ও আকস্মিক প্ররোচনা
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির, ১৮৬০ এর ধারা ৩৩৪- প্ররোচনার কারণে স্বেচ্ছায় আঘাত প্রদান:
যে ব্যক্তি গুরুতর এবং আকস্মিক প্ররোচনার কারণে স্বেচ্ছায় আঘাত করে, যদি সে অন্য কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য বা জ্ঞান না থাকে, কেবল সেই ব্যক্তিকে আঘাত করে যে প্ররোচনা দিয়েছে, তবে তাকে এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয়ই দেওয়া যেতে পারে।

তাই, দণ্ডবিধির, ১৮৬০ এর ধারা ৩৩৪-এর অধীনে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অপরিহার্য উপাদান হলো: গুরুতর ও আকস্মিক প্ররোচনা।
১২,৫৯৪.
ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪৬ক অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে কখন আইনজীবীর সাথে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে?
  1. ১২ ঘণ্টার মধ্যে
  2. ২৪ ঘণ্টার মধ্যে
  3. ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে
  4. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে
ব্যাখ্যা

উত্তর: খ) ১২ ঘণ্টার মধ্যে।

ধারা ৪৬ক- গ্রেপ্তার পদ্ধতি এবং গ্রেপ্তারকারী অফিসারের কর্তব্য: 

যে পুলিশ কর্মকর্তা বা ব্যক্তি কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করবেন, তাকে-
(ক) নিজের নাম ও পরিচয় স্পষ্টভাবে বহন করতে হবে, যাতে সহজে শনাক্ত করা যায়।

(খ) নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে, এবং চাইলে পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।

(গ) একটি গ্রেপ্তার স্মারক (memorandum of arrest) প্রস্তুত করতে হবে, যা-
(i) কমপক্ষে একজন সাক্ষী (অভিযুক্তের পরিবারের সদস্য বা স্থানীয় সম্মানিত ব্যক্তি) দ্বারা স্বাক্ষরিত হতে হবে;
(ii) গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপ থাকতে হবে (যদি তিনি অস্বীকার না করেন)।

(ঘ) অভিযুক্তকে যদি বাড়ির বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, তবে তার পরিবারের সদস্য/আত্মীয়/মনোনীত বন্ধুকে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের সময়, স্থান ও হেফাজতের জায়গা জানাতে হবে।

(ঙ) যদি অভিযুক্তের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকে, তবে ডাক্তারের পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে, ডাক্তারের সনদ সংগ্রহ করতে হবে, এবং আঘাতের কারণ লিখে রাখতে হবে।

(চ) গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে চাইলে আইনজীবীর সাথে দেখা করার বা আত্মীয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ দিতে হবে, অগ্রাধিকারভিত্তিতে ১২ ঘণ্টার মধ্যে।

১২,৫৯৫.
মোকদ্দমার অ্যাবেটমেন্ট আদেশ সরাসরি বাতিলের জন্য আদালত একজন দরখাস্তকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কত টাকা খরচ পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারেন?
  1. ৫০০ টাকা
  2. ১০০০ টাকা
  3. ২০০০ টাকা
  4. ৩০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-২২, বিধি-৯ক এর বিধান সরাসরি খারিজ বা বাতিল আদেশ রহিতকরণ: বাতিল বা খারিজের ৬০ দিনের মধ্যে যদি মৃত বাদীর আইনগত প্রতিনিধি বাতিল বা খারিজের আদেশকে রহিতকরণের জন্য আবেদন করে তাহলে আদালত বিলম্ব এড়ানো ও বিচার ত্বরান্বিত করার জন্য সাক্ষ্য উপস্থাপনের নির্দেশ প্রদান না করে বাতিল বা খারিজ আদেশ সরাসরি রহিত করতে পারেন। এক্ষেত্রে আদালত বাদীকে অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদানের আদেশ দিবেন।
------------------
⇒ Order-22 Rule-9A.Directly setting aside abatement or dismissal:
Notwithstanding anything contained in rule 9 or any other law, where the legal representative of a deceased plaintiff or the assignee or the receiver of any insolvent plaintiff files an application for setting aside abatement or dismissal made under this Order, within sixty days of abatement or dismissal, the Court may, in order to avoid delay and expedite disposal, set aside the abatement or dismissal without requiring the applicant to adduce evidence to prove sufficient cause as required under rule 9, but requiring him to pay such cost not exceeding three thousand taka as the Court may deem appropriate.
১২,৫৯৬.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে “Res Judicata” শব্দের অর্থ কী?
  1. অসম্পূর্ণ বিষয়
  2. অকার্যকর বিষয়
  3. বিচারাধীন বিষয়
  4. নিষ্পত্তিকৃত বিষয়
ব্যাখ্যা

⇒ "Res Judicata" একটি ল্যাটিন শব্দগুচ্ছ, যার আক্ষরিক অর্থ "a matter judged" বা "নিষ্পত্তিকৃত বিষয়"।
-  Res Judicata হলো একটি আইনি নীতি যা বলে, একটি মামলা যখন চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে, তখন একই ইস্যু, একই কারণ, এবং একই পক্ষদের নিয়ে সেই মামলা আবার উঠানো যাবে না। তাই এটিকে "নিষ্পত্তিকৃত বিষয়" বলা হয়। অর্থাৎ দেওয়ানি কার্যবিধির Res Judicata নীতির মূল উদ্দেশ্য আদালতের একই বিষয়ে পুনরায় বিচার নিষিদ্ধ করা।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারায় দোবারা দোষ নীতিটি [Res Judicata] আলোচনা করা হয়েছে। রেস জুডিকাটা নীতির মূল কথা হলো এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত কোন বিচারিত বিষয়কে পরবর্তীতে পুনরায় বিচার করা যাবেনা। এই নীতির মূল কথা হলো, একবার নিষ্পত্তিকৃত কোন মোকদ্দমা, পুনরায় বিচারযোগ্য নয়।
→ Res Judicata নীতি আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক, এটি মানা আদালতের দায়িত্ব।

Res Judicata (দোবারা দোষ) কার্যকর হওয়ার শর্তসমূহ:
→ দুইটি মামলা থাকতে হবে:
একটি মামলা আগে নিষ্পত্তি হয়ে থাকতে হবে।
অন্যটি পরবর্তীতে দায়েরকৃত হতে হবে।
→ উভয় মামলার বিষয়বস্তু একই হতে হবে:
আগের মামলায় যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, নতুন মামলাতেও সেই একই বিষয় থাকতে হবে।
→ পক্ষগণ একই হতে হবে:
পরবর্তী মামলা যারা করেছে, তারা আগের মামলার পক্ষ হতে হবে।
অথবা তারা তাদের পক্ষের হয়ে মামলা করেছে।
→একই বিষয়ে পূর্বেও মামলা করা হয়েছে:
পূর্ববর্তী মামলার পক্ষগণ একই বিষয় নিয়ে মামলা করেছিল।
→ আগের মামলাটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত নিষ্পত্তি করেছে:
যে আদালত আগের মামলা নিষ্পত্তি করেছে, তার বিচার করার ক্ষমতা (এখতিয়ার) থাকতে হবে।

১২,৫৯৭.
'ক' নিজেকে 'খ' বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে; 'খ' জনৈক মৃত ব্যক্তি। 'ক' এর অপরাধ?
  1. Cheating
  2. Cheating by personation
  3. Dishonestly misappropriation of property
  4. Criminal breach of trust
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪১৬ ধারার বিধান: অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা:- কোন ব্যক্তি যদি নিজেকে অন্য কোন ব্যক্তি বলে প্রতারণা করে অথবা জ্ঞাতসারে কোন ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে অথবা নিজেকে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে সে নিজে বা সে ব্যক্তি অন্য যে ব্যক্তি নয় সে ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা:- যে ব্যক্তির রূপ ধারণ করা হয়েছে সে ব্যক্তি প্রকৃত ব্যক্তি হোক আর কাল্পনিক ব্যক্তি হোক না কেন অপরাধটি অনুষ্ঠিত হবে।

⇒ উদাহরণসমূহ:
(ক) ক একই নামে একজন বিত্তশালী ব্যাংকার বলে নিজেকে পরিচয় দান করে। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।দ
(খ) ক নিজেকে খ বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে; খ জনৈক মৃত ব্যক্তি। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।
----------------
Cheating by personation
416. A person is said to "cheat by personation" if he cheats by pretending to be some other person, or by knowingly substituting one person for another, or representing that he or any other person is a person other than he or such other person really is. 
Explanation.-The offence is committed whether the individual personated is a real or imaginary person. 
Illustrations 
(a) A cheats by pretending to be a certain rich banker of the same name. A cheats by personation. 
(b) A cheats by pretending to be B, a person who is deceased. A cheats by personation.
১২,৫৯৮.
কোন ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের ডিক্রি দিবে না আদালত?
  1. বাদী অনুচিত সুবিধা পেলে
  2. বিবাদীর উপর তা কষ্টকর হলে
  3. বাদী যেক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত মোতাবকে উল্লেখযোগ্য কাজ করে ফেলেছেন
  4. ক+খ
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন-এর অধীনে চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদন সম্ভব হলেও আদালত চাইলে তাঁর বিবেচনাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে ডিক্রি নাও দিতে পারেন। আবার চুক্তির বাস্তবায়ন –এর শর্ত (২১ ধারার বিধান মোতাবেক) উপস্থিত না থাকলেও আদালত একটি ক্ষেত্রে ডিক্রি দিতে পারবেন। এই বিষয়ে নীতি প্রদান করা হয়েছে ২২ ধারায়।
১২,৫৯৯.
The Penal Code, 18760 এর ধারা -৪৯৯ এ বর্ণিত মানহানির সংজ্ঞার কয়টি ব্যতিক্রমের উল্লেক্ষ আছে?
  1. ১০
ব্যাখ্যা
♦ পেনাল কোড-এর ৪৯৯ ধারায় মানহানি বা defamation এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে এবং সেখানে মোট ১০ টি ব্যতিক্রম সাপেক্ষে এই অপরাধ সংঘটনের কথা বলা আছে।
♦ ৪৯৯ ধারায় ১০টি  ব্যতিক্রম নিচে দেয়া হল-
১) জনস্বার্থে বা জনগণের কল্যাণের জন্য কারো প্রতি সত্য-দোষারোপ করা হলে তা মানহানি হবে না।
২) জনগণের প্রতি সরকারি কর্মচারীর আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৩) কোন জনসমস্যা/গণসমস্যা সম্পর্কে কোন ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৪) কোন আদালতের কার্য বিবরণীর রিপোর্ট প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৫) আদালত কর্তৃক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এমন কোন ফৌজদারি বা দেওয়ানি মোকদ্দমার দোষ, গুণ বা সাক্ষী বা সাক্ষ্যের সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৬) কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার জনগণের উপর ন্যস্ত করা হলে তখন এ বিষয়ে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়। যেমন- কোন ব্যক্তি কোন বই প্রকাশ করলে বা প্রকাশ্য স্থানে বক্তৃতা দিলে তখন তা বিচার করার জন্য জনগণের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
৭) অন্যের উপর আইনসম্মতভাবে ক্ষমতা রয়েছে এমন ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে কোন নিন্দা করলে তা মানহানি হবে না।
৮) ক্ষমতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তির নিকট সৎ বিশ্বাসে অভিমত দেয়া হলে তা মানহানি বলে গণ্য হবে না। যেমন- পুলিশের কাছে কারো ব্যাপারে অভিযোগ করা ।
৯) কোন ব্যক্তি নিজের বা অন্যের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বা জনস্বার্থে সৎ বিশ্বাসে কোন দোষারোপ করলে তা মানহানি নয়।
১০) জনকল্যাণে সৎ বিশ্বাসে কোন ব্যক্তিকে সতর্ক করে কিছু বলা হলে তা মানহানি হবে না ।

♦ শান্তি: ধারা ৫০০ অনুযায়ী, মানহানি অপরাধের শাস্তি- ২ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়।
১২,৬০০.
আপিলের পিটিশন কে দাখিল করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র আপিলকারী
  2. শুধুমাত্র উকিল
  3. আপিলকারী বা তার উকিল
  4. আদালতের ক্লার্ক
ব্যাখ্যা
• ধারা ৪১৯: আপিলের দরখাস্ত:
প্রত্যেকটি আপিল দায়ের করতে হবে পিটিশন বা দরখাস্ত আকারে। আপিলের পিটিশন আপিলকারী বা তার উকিল দাখিল করবে। যে রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হচ্ছে তার কপি আপিলের পিটিশনের সাথে দাখিল করতে হবে।

Section 419- Petition of appeal:
Every appeal shall be made in the form of a petition in writing presented by the appellant or his pleader, and every such petition shall (unless the Court to which it is presented otherwise directs) be accompanied by a copy of the judgment or order appealed against.