বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

মোট প্রশ্ন১৫,৪৭০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

PrepBank · পাতা ১২৪ / ১৫৫ · ১২,৩০১১২,৪০০ / ১৫,৪৭০

১২,৩০১.
নিম্নের কোন আদেশটি আপিলযোগ্য?
  1. ২১ নং আদেশের ৬০ নং বিধি অনুসারে প্রদত্ত আদেশ
  2. ৮ নং আদেশের ১০ নং বিধি অনুসারে প্রদত্ত আদেশ
  3. ১০ নং আদেশের ৭ নং বিধি অনুসারে প্রদত্ত আদেশ
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
⇒ আপিলযোগ্য আদেশ:
সাধারণত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলে না, তবে আদেশটি যদি আপিলযোগ্য আদেশ হয় তাহলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়। যে সকল আদেশ আপিলযোগ্য, সে সকল আদেশ সম্পর্কে Order 43 এ বিধান রয়েছে। আদেশ ৪৩ এ মোট ২৫টি আপীলযোগ্য আদেশ (Appealable Order) রয়েছে।

উক্ত আপিলযোগ্য আদেশের তালিকায় আদেশ-৮ বিধি-১০, আদেশ-২১ বিধি-৬০ অনুসারে প্রদত্ত আদেশ আছে। কিন্তু আদেশ ১০ বিধি-৭ অনুসারে প্রদত্ত আদেশ তালিকায় নেই।

- এই ২৫ প্রকারের আদেশ ব্যতীত দেওয়ানী আদালতের অপরাপর আদেশ-এর বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ নেই, সেখানে রিভিশন করার বিধান আছে।
১২,৩০২.
জামিনঅযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে ১৬ বছর বয়সের নিম্নের শিশুকে জামিন দিতে আদালতের ক্ষমতা-
  1. বিবেচনামূলক
  2. নির্দেশনামূলক
  3. আদেশসূচক
  4. বাধ্যতামূলক
ব্যাখ্যা
ধারা ৪৯৭- জামিনঅযোগ্য অপরাধের মামলার ক্ষেত্রে জামিন

জামিনযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন মঞ্জুরের সুযোগ আছে কিন্তু এমন সুযোগ সীমিত। ৪৯৭ ধারায় বলা হয়েছে, জামিনঅযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু মুক্তি দেয়া হবেনা যদি বিশ্বাস করার যুক্তিযুক্ত কারণ থাকে যে, সে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন শান্তিযোগ্য কোন অপরাধে দোষী।
৪৯৭ ধারায় may শব্দটি ব্যবহার করায়, এই ধারার অধীন জামিন অযোগ্য অপরাধে জামিন পাওয়া অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনগত অধিকার না বরং জামিন অযোগ্য অপরাধে জামিন দেওয়া আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা (Discretionary Power)। আদালত ইচ্ছা করলে জামিন দিতে পারে আবার নাও দিতে পারে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডণীয় কোন অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন না দেওয়া আদালতের জন্য আদেশসূচক (Imperative)।

তবে জামিনঅযোগ্য বা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধের ক্ষেত্রে কতিপয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদালত অভিযুক্তকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে-
⇒ যদি তার বয়স ১৬ বৎসরের নিচে হয়; বা
⇒ সে একজন নারী হয়; বা
⇒ সে যদি অসুস্থ বা পীড়িত হয়।
১২,৩০৩.
আদেশ ৯ বিধি ৮ মামলার শুনানীর কোন পরিস্থিতির সাথে সম্পর্কিত?
  1. বাদী ও বিবাদী উভয় অনুপস্থিত
  2. কেবল বিবাদী উপস্থিত, বাদী অনুপস্থিত
  3. কেবল বাদী উপস্থিত, বিবাদী অনুপস্থিত
  4. বাদী ও বিবাদী উভয় উপস্থিত
ব্যাখ্যা

আদেশ ৯ বিধি ৮: যেখানে বিবাদী উপস্থিত থাকে কিন্তু বাদী অনুপস্থিত থাকে:
যখন মামলাটি শুনানির জন্য ডাকলে বিবাদী উপস্থিত থাকে কিন্তু বাদী উপস্থিত থাকে না, তখন আদালত মামলা খারিজ করার আদেশ দেবে।
কিন্তু, যদি বিবাদী বাদীর দাবি বা তার কোনো অংশ স্বীকার করে, তাহলে স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আদালত বিবাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রি জারি করবে, এবং দাবির যেই অংশ স্বীকার করা হয়নি, সেই অংশের জন্য মামলা খারিজ করবে।

১২,৩০৪.
মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে আদালত কোন পক্ষকে অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি পেশ করার আদেশ দিতে পারে?
  1. বাদী পক্ষকে
  2. বিবাদী পক্ষকে
  3. মোকদ্দমার বাইরে ৩য় কোনো পক্ষকে
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ আদেশের ৯ বিধি অনুযায়ী আদালত প্রয়োজন মনে করলে, যেকোনো সময় যেকোনো পক্ষকে লিখিত বিবৃতি বা অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি পেশের আদেশ দিতে পারে এবং তা পেশ করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিবে। আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত পক্ষ লিখিত বিবৃতি পেশ করতে ব্যর্থ হলে, ১০ বিধি অনুযায়ী আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা [pronounce judgment] করতে পারে বা মোকদ্দমার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো আদেশ দিতে পারে।

• প্রতিকার:
১০ বিধির নিয়মটি শুধুমাত্র প্রযোজ্য যখন ৯ বিধির অধীন বিবাদী আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হয় এবং উক্ত ব্যর্থতার কারণে আদালত রায় ঘোষণা করে আদেশ দিলে। ১০ বিধির অধীন রায় ঘোষণার আদেশ (An order pronouncing judgment) হলো (আপীলযোগ্য আদেশ) তাই এর বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে।
১২,৩০৫.
ফৌজদারী কার্যবিধি অনুসারে হেবিয়াস কর্পাস সংক্রান্ত নির্দেশনার ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. বেসরকারী হেফাজতে বেআইনি ভাবে আটককৃত কোন ব্যক্তির মুক্তি প্রদানের ।
  2. কারাগারে আটক কোন বন্দি কে সাক্ষী হিসাবে আদালতে হাজিরের।
  3. কোন বন্দি কে বিচারের জন্য এক হেফাজত থেকে অন্য হেফাজতে প্রেরণ করার।
  4. নিবর্তনমূলক আটক আইনে আটক ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করার
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯১ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগ উপরের উল্লেখিত অপশন ক, খ, গ এর ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে কিন্তু নিবর্তনমূলক আটক আইনে আটক ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করার আদেশ দিতে পারে না। এইক্ষেত্রে সংবিধানের ১০২ (২)খ (অ) অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রতিকার পাওয়া যায়।
১২,৩০৬.
দেওয়ানী কার্যবিধির কত নং আদেশে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমার উল্লেখ আছে?
  1. আদেশ ১ এর ৭ বিধিতে
  2. আদেশ ২ এর ৫ বিধিতে
  3. আদেশ ১ এর ৮ বিধিতে
  4. আদেশ ২ এর ৬ বিধিতে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ১নং আদেশের ৮ নং বিধিতে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা [Representative suit] এর বিধান রয়েছে।

• সাধারণত মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে স্বার্থসংশ্লিস্ট সকল ব্যক্তিকে উক্ত মোকদ্দমায় বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত হতে হয়। কিন্তু ১নং আদেশের ৮ নং বিধির আওতায় প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা এই নিয়মের ব্যতিক্রম। অর্থাৎ ১নং আদেশের ৮ নং বিধিমতে, যেক্ষেত্রে কোন মামলায় বহু সংখ্যক লোকের একই রূপ স্বার্থ (same interest) থাকলে, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতিক্রমে সকলের পক্ষে এক বা একাধিক ব্যক্তি মামলা দায়ের করতে পারে।এই এক বা একাধিক ব্যক্তি অন্যান্য সকলকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই ধরনের মোকদ্দমাকে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা Representative suit বলা হয়।

• প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমায় আদালতের অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক।

Order 1 Rule 8: One person may sue or defend on behalf of all in same interest-

1) Where there are numerous persons having the same interest in one suit, one or more of such persons may, with the permission of the Cour sue or be sued, or may defend, in such suit, on behalf of or for the benefit of all persons so interested. But the Court shall in such case give, at the plantiffs expense, notice of the institution of the suit to all such personal either by person service or, where from the number of persons or any other cause such service is not reasonably practicable, by public advertisement as the Court in each case may direct

2) Any person on whose behalf or for whose benefit a suit is instituted or defended under sub-rule (1) may apply to the Court to be made a party to such suit.
১২,৩০৭.
'ম' চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের জন্য আদালতে মামলা করেন, কিন্তু আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়। এই পরিস্থিতিতে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২৯ অনুযায়ী 'ম' পরবর্তীতে-
  1. ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারবেন
  2. ফৌজদারি মামলা করতে পারবেন
  3. ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারবেন না
  4. পুনরায় সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের জন্য মামলা করতে পারবেন
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২৯ অনুসারে,
একটি চুক্তি অথবা তার অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ হয়ে গেলে, তা তেমন চুক্তি বা তার অংশবিশেষ ভঙ্গ করার দায়ে ক্ষতিপূরণের জন্য বাদী কর্তৃক মামলা দায়ের করার অধিকারে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করবে

Section 29- Bar of suit for breach after dismissal:
The dismissal of a suit for specific performance of a contract or part thereof shall bar the plaintiff's right to sue for compensation for the breach of such contract or part, as the case may be.
১২,৩০৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫২ ধারার অধীনে আদালত কখন ভুল সংশোধন করতে পারে?
  1. যে কোনো সময়
  2. ডিক্রি কার্যকর হওয়ার আগে
  3. ডিক্রির তারিখের ৩০ দিনের মধ্যে
  4. আপিল দাখিলের আগে
ব্যাখ্যা

দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫২ ধারা- রায়, ডিক্রি বা আদেশসমূহের সংশোধন:
রায়, ডিক্রি বা আদেশে করণিক বা গাণিতিক ভুল অথবা কোন আকস্মিক ভ্রান্তি বা বিচ্যুতির কারণে তথায় কোন ভুল থাকলে যে কোন সময় আদালত নিজস্ব উদ্যোগে কিংবা কোন পক্ষের আবেদনে তা শুদ্ধ করতে পারে।

Section 152- Amendment of judgments, decrees or orders:
Clerical or arithmetical mistakes in judgments, decrees or orders or errors arising therein from any accidental slip or omission may at any time be corrected by the Court either of its own motion or on the application of any of the parties.

১২,৩০৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুসারে নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক নয়?
  1. আইনটি রেজিস্ট্রেশন আইনকে প্রভাবিত করবে না
  2. আইনটি দণ্ডমূলক ব্যবস্থার জন্য প্রয়োগযোগ্য নয়
  3. আইনটি আর্থিক ক্ষতিপূরণ ছাড়া সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করে না
  4. আইনটি কোনো সম্মতিকে [agreement] কার্যকরের আওতায় নিয়ে আসতে পারবে না
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ৪ মতে,যদি না এই আইনে কোথাও অন্যরূপে সুস্পষ্টভাবে বিধিবদ্ধ থাকে, তবে এই আইনে কোন কিছুকেই এরূপ গণ্য করা হবে না, যাতে
(ক) চুক্তি নয়, এমন কোন অঙ্গীকারের ব্যাপারে প্রতিকারের কোন অধিকার প্রদান করা হয়;
(খ) কোন ব্যক্তিকে কোন প্রতিকারের অধিকার হতে বঞ্চিত করা হয়, শুধু নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ছাড়া, যা সে কোন চুক্তির অধীনে পেতে পারত; অথবা
(গ) দলিলসমূহের উপর রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রয়োগকে প্রভাবিত করা হয়।
 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ৭ মতে  শুধু দণ্ডমূলক আইন কার্যকর করার উদ্দেশ্যে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা হয় না।

'আইনটি আর্থিক ক্ষতিপূরণ ছাড়া সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করে না'- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুসারে এই বক্তব্যটি সঠিক নয়। 

-যদিও 
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫(ঘ) ধারা অনুযায়ী আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করা যায় কিন্তু সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যায় না।
১২,৩১০.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর কোন ধারা অনুযায়ী দেওয়ানী প্রকৃতির মামলা সম্পত্তি বা পদের অধিকার সংক্রান্ত হয়?
  1. ধারা ৬
  2. ধারা ৯
  3. ধারা ১৫
  4. ধারা ২০
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৯ অনুযায়ী বলা হয়েছে:
“The Courts shall (subject to the provisions herein contained) have jurisdiction to try all suits of a civil nature excepting suits of which their cognizance is either expressly or impliedly barred.”
এবং এই ধারার ব্যাখ্যা (Explanation) অংশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
A suit in which the right to property or to an office is contested is a suit of a civil nature, notwithstanding that such right may depend entirely on the decision of questions as to religious rites or ceremonies.”
-অর্থাৎ, যদি কোনো মামলা সম্পত্তি বা কোনো পদ (যেমন– মন্দিরের সেবায়েত, মসজিদের ইমাম) নিয়ে হয়ে থাকে, এবং সে অধিকার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হয়, তবুও সেটি “দেওয়ানি প্রকৃতির মামলা” হিসেবে গণ্য হবে এবং আদালত সেই মামলা গ্রহণ করতে পারবে।

সুতরাং, দেওয়ানী প্রকৃতির মামলা সম্পত্তি বা পদের অধিকার সংক্রান্ত হয় - এমন বিষয়ে দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৯ প্রযোজ্য।
১২,৩১১.
A নির্দিষ্ট দিনে চট্টগ্রামে একটি অপরাধ করেছে কিনা তা নির্ধারণে, Plea of alibi নীতি অনুসারে কোন তথ্যটি প্রাসঙ্গিক হবে?
  1. A একজন সৎ ব্যক্তি
  2. A ঐ দিন ঢাকায় ছিল
  3. A এর কোনো শত্রু নেই
  4. A অতীতে কখনো অপরাধ করেনি
ব্যাখ্যা
⇒ 'Plea of alibi' হল একটি আইনগত জবাব, যা কোনো অপরাধীকে নিজেকে দোষমুক্ত প্রমাণ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ হল "অন্যত্র উপস্থিতি"। এটি হল একটি বিশেষ প্রকৃতির অপরাধমুক্তির প্রমাণ যেখানে প্রসিকিউটরদের দাবিকৃত অপরাধের স্থান ও সময়ে অপরাধীর অনুপস্থিতি প্রমাণিত হয়। সাক্ষ্য আইনের ১১ ধারায় Plea of Alibi-কে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১ অনুসারে, অপরাধের স্থান ও সময়ে অপরাধীর অনুপস্থিতি প্রমাণ করা হলে, তা ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করতে পারে।

সাক্ষ্য আইন, ধারা ১১:
যে ঘটনা সাধারণত প্রাসঙ্গিক নয়, তা তখনই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে—
- যদি এটি কোনো মূল বিতর্কিত বা প্রাসঙ্গিক ঘটনার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হয়।
- যদি এটি এককভাবে বা অন্যান্য ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে কোনো মূল বিতর্কিত বা প্রাসঙ্গিক ঘটনার অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বকে অত্যন্ত সম্ভাব্য বা অসম্ভাব্য করে তোলে।

উদাহরণ:
(ক) প্রশ্ন উঠেছে, A নির্দিষ্ট দিনে চট্টগ্রামে কোনো অপরাধ করেছে কিনা।
যদি প্রমাণিত হয় যে ওই দিনে A ঢাকায় ছিল, তাহলে এটি একটি প্রাসঙ্গিক ঘটনা।
এছাড়াও, যদি দেখা যায় যে অপরাধ সংঘটনের সময় A এমন একটি স্থানে ছিল, যেখান থেকে অপরাধস্থলে পৌঁছানো অত্যন্ত অসম্ভব, তবে সেটিও প্রাসঙ্গিক হবে।

(খ) প্রশ্ন উঠেছে, A কোনো অপরাধ করেছে কিনা।
পরিস্থিতি এমন যে, অপরাধটি হয় A, B, C অথবা D—এদের মধ্যে কেউ করেছে।
যে কোনো ঘটনা যা প্রমাণ করে যে অপরাধটি B, C বা D করেনি এবং অপরাধী শুধুমাত্র A হতে পারে, তা প্রাসঙ্গিক হবে।
১২,৩১২.
'A marriage between Hindus, which is otherwise valid, shall not be invalid by reason only of belonging to the same gotra.' - কোন আইনে এই বিধান রয়েছে?
  1. The Hindu Women Marriage Act,1856
  2. The Hindu Marriage Disabilities Removal Act,1946
  3. The Hindu Widow's Re- Marriage Act,1856
  4. The Hindu Women Marriage Ceremonies Act,1856
ব্যাখ্যা

The Hindu Marriage Disabilities Removal Act, 1946 - Section 2: একই গোত্র, প্রবর বা জাতির উপ-বিভাগের মধ্যে বিবাহ:
হিন্দু আইন, হিন্দু প্রথা বা ব্যবহার অনুযায়ী কোনো বিধান থাকলেও, যদি বিবাহটি অন্যভাবে বৈধ হয়, তা কেবল নিম্নলিখিত কারণে অগ্রহণযোগ্য হবে না:
(ক) উভয় পক্ষ একই গোত্র বা প্রবর এর অন্তর্ভুক্ত।
(খ) উভয় পক্ষ একই জাতির বিভিন্ন উপ-বিভাগের অন্তর্গত।

অর্থাৎ:
যদি হিন্দু বিবাহের অন্যান্য বৈধ শর্ত পূরণ হয়, তবে শুধুমাত্র একই গোত্র/প্রবর বা একই জাতির উপ-বিভাগের পার্থক্য বিবাহকে অবৈধ করতে পারবে না।

১২,৩১৩.
'A' is charged with theft. It appears that he committed the offence of criminal breach of trust, or that of receiving stolen goods. He may be convicted of-
  1. Only theft
  2. receiving stolen goods
  3. criminal breach of trust
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ২৩৭ ধারায় কোন ব্যক্তিকে এক অপরাধে চার্জ করে, অন্য অপরাধে দণ্ডিত করা যেতে পারে।

ধারা ২৩৭ এ বলা আছে-
২৩৬ ধারায় উল্লিখিত ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে যে অপরাধের জন্য চার্জ করা হয়,সাক্ষ্য- প্রমাণে যদি দেখা যায় সে ভিন্ন অপরাধ করেছে এবং এই ভিন্ন অপরাধের জন্য তাহাকে উক্ত ধারা অনুসারে চার্জ করা যেতো,তা হলে যে অপরাধ সে করেছে বলে প্রমাণিত হয় তার জন্য চার্জ গঠন করা না হলেও দণ্ডিত করা যাবে।

উদহারণ- 'ক' এর বিরুদ্ধে চুরির অপরাধে চার্জ গঠন করা হল। কিন্তু দেখা গেল যে, সে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেছে বা চোরাইমাল গ্রহণ করেছে। উক্ত অপরাধে চার্জ গঠন করা না হলেও, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ বা চোরাইমাল গ্রহণের দায়ে তাকে দণ্ডিত করা যাবে।

Section 237: When a person is charged with one offence, he can be convicted of another-
If, in the case mentioned in section 236, the accused is charged with one offence, and it appears in evidence that he committed a different offence for which he might have been charged under the provisions of that section, he may be convicted of the offence which he is shown to have committed, although he was not charged with it.

Illustration-
A is charged with theft. It appears that he committed the offence of criminal breach of trust, or that of receiving stolen goods. He may be convicted of criminal breach of trust or of receiving stolen goods (as the case may be) though he was not charged with such offence.
১২,৩১৪.
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের অধীনে অপরাধ সংঘটনে সহযোগী (abettor) এর শাস্তির বিধান কী?
  1. শুধুমাত্র অর্থদণ্ড
  2. সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড
  3. সংশ্লিষ্ট অপরাধের অর্ধেক দণ্ড
  4. সংশ্লিষ্ট অপরাধের সমপরিমাণ দণ্ড
ব্যাখ্যা
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ধারা ৮: অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র বা প্রচেষ্টা চালানোর দণ্ড:
(১) কোন ব্যক্তি মানব পাচার অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা প্রদান করিয়া, ষড়যন্ত্র করিয়া এবং প্রচেষ্টা চালাইয়া অথবা সজ্ঞানে কোন মানব পাচার অপরাধ সংঘটন বা সংঘটিত করিবার সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তাহার সম্পত্তি ব্যবহার করিবার অনুমতি প্রদান করিয়া অথবা কোন দলিল-দস্তাবেজ গ্রহণ, বাতিল, গোপন, অপসারণ, ধ্বংস বা তাহার স্বত্ত্ব গ্রহণ করিয়া নিজেকে উক্ত অপরাধের সহিত জড়িত করিলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর এবং অন্যূন ৩ (তিন) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন। 
 
(২) কোন ব্যক্তি এই আইনের আওতাধীন কোন অপরাধ সংঘটনে সহযোগী (abettor) হইলে উক্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য ধার্যকৃত দণ্ডের সমপরিমাণ দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
১২,৩১৫.
মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনী সমাবেশে যোগদান করলে সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৬ মাস কারাদণ্ড
  2. ১ বছর কারাদণ্ড
  3. ২ বছর কারাদণ্ড
  4. ৩ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা মতে মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনি সমাবেশের শাস্তি হিসেবে অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দন্ডের বিধান রয়েছে।

- দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারার বিধান মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বে-আইনী সমাবেশে যোগদান করা :- কোন ব্যক্তি যদি মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অথবা যে বস্তু অপরাধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে মৃত্যু ঘটতে পারে তা কর্তৃক সজ্জিত হয়ে কোন বেআইনী সমাবেশে যোগদান করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
------------------------------------
- Section 144. Joining unlawful assembly armed with deadly weapon:- Whoever, being armed with any deadly weapon, or with anything which, used as a weapon of offence, is likely to cause death, is a member of an unlawful assembly, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
১২,৩১৬.
যদি কোনো পক্ষ আদালতকে অনুরোধ করে কোনো বিষয় বিচারিকভাবে দৃষ্টিগোচর করার জন্য, তাহলে আদালত কী করতে পারে?
  1. অবশ্যই তা মানতে হবে
  2. শুধুমাত্র মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারে
  3. অস্বীকার করতে পারবে না
  4. প্রয়োজন মনে করলে বই বা দলিল চাইতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২–এর ধারা ৫৭ অনুসারে, আদালত যখন কোনো বিষয় বিচারিকভাবে দৃষ্টিগোচর (judicial notice) করার জন্য একটি অনুরোধ গ্রহণ করে, তখন আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে সেটি গ্রহণযোগ্য কিনা। যদি আদালত মনে করে, তাহলে বিষয়টি বিচারিকভাবে দৃষ্টিগোচর করার জন্য প্রয়োজনীয় বই বা দলিল চেয়ে নিতে পারে।

ধারা ৫৭ (অন্যথা কিছু না বলা হলে) বলে যে, আদালত প্রাসঙ্গিক বই বা দলিল দেখতে পারে যদি কোনো পক্ষ আদালতকে সেই বিষয়টি বিচারিকভাবে গ্রহণের জন্য অনুরোধ করে। অর্থাৎ, আদালত যদি প্রয়োজন মনে করে তবে বই বা দলিল চাইতে পারে যা সে বিষয়ের প্রমাণ করতে সহায়ক হতে পারে।

তবে ক) অবশ্যই তা মানতে হবে বা গ) অস্বীকার করতে পারবে না এই ধরনের ধারণা সঠিক নয়, কারণ আদালত তার বিচারিক বিবেচনা অনুযায়ী বিষয়টি গ্রহণ বা অস্বীকার করতে পারে।

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৫৭-এর শেষ অংশ অনুযায়ী:
"If the Court is called upon by any person to take judicial notice of any fact, it may refuse to do so unless and until such person produces any such book or document as it may consider necessary to enable it to do so."
অর্থাৎ, যদি কোনো পক্ষ আদালতকে কোনো বিষয় বিচারিকভাবে লক্ষণীয় (Judicial Notice) হিসেবে গ্রহণ করার অনুরোধ করে, তাহলে আদালত:
- প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট বই বা দলিল দাখিল করার নির্দেশ দিতে পারে,
- এবং তা না দিলে অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
১২,৩১৭.
কোন বিবাহিতা মুসলমান নারী ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলে অথবা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মে দীক্ষা গ্রহন করলে-
  1. তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটবে
  2. ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের অধীন মামলা করতে পারবে না
  3. ক ও খ উভয়
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ধারা ৪ এ বিবাহিতা মুসলমান নারী ধর্মান্তরের ফল দেয়া হয়েছে।

বলা হয়েছে-
কোন বিবাহিতা মুসলমান নারী ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলে অথবা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মে দীক্ষা গ্রহন করলে উক্ত কারনে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটবে না। তবে, অবশ্য এই জাতীয় ধর্ম ত্যাগ বা অন্য ধর্ম গ্রহণের পর সেই নারী ২ ধারায় বর্ণিত অন্য কোন কারনে তার বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি গ্রহণের অধিকারিণী হইবেন।
তাছাড়া, অত্র ধারার ব্যবস্থাবলী ঐ নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যে কোন ধর্ম হইতে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিল এবং বর্তমানে স্বীয় পুরাতন ধর্মে পুনরায় দীক্ষা গ্রহণ করেছে।

Section 4: Effect of conversion to another faith
The renunciation of Islam by a married Muslim woman or her conversion to a faith other than Islam shall not by itself operate to dissolve her marriage: Provided that after such renunciation, or conversion, the woman shall be entitled to obtain a decree for the dissolution of her marriage on any of the grounds mentioned in section 2: 
Provided further that the provisions of this section shall not apply to a woman converted to Islam from some other faith who re-embraces her former faith.
১২,৩১৮.
দণ্ডবিধির অধীনে কোন শাস্তি বৈধ নয়?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত
  3. নির্জন কারাবাস
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বিনাশ্রম
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি অনুসারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বিনাশ্রম বৈধ শাস্তি নয়।

⇒  দণ্ডবিধি মূলত দণ্ড সম্পর্কিত আইন, দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় শাস্তির প্রকারভেদ রয়েছে।
- ৫৩ ধারায় পাঁচ প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে। যথা:
      (i)  মৃত্যুদণ্ড (Death penalty)
      (ii) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life)
      (iii) কারাদণ্ড(Imprisonment) দুই প্রকার:
           ক) সশ্রম( Rigorous, that is,  with hard labour) এবং
           খ) বিনাশ্রম (Simple)
      (iv) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (forfeiture of property)
      (v) অর্থদণ্ড (fine)
- ব্যাখ্যা: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদায় সশ্রম কারাদণ্ড হবে।

- দণ্ডবিধির ধারা ৫৩ তে বিধান আছে যে, কারাদণ্ড ২ প্রকারের- সশ্রম ও  বিনাশ্রম। 
- Section-53 Explanation.-In the punishment of imprisonment for life, the imprisonment shall be rigorous.
১২,৩১৯.
As a result of 'A' punching 'B' in the face, 'B' loses a tooth. According to the Penal Code, the offense committed by 'A' is -
  1. Simple hurt
  2. Grievous hurt
  3. Attempt to murder
  4. Voluntarily causing hurt
ব্যাখ্যা
⇒ The Penal Code, 1860 এর ৩২০ ধারা অনুযায়ী ৮ শ্রেণির আঘাতকে গুরুতর আঘাত বলা হয়েছে। যথা:
(i) পুরুষত্বহীনকরণ
(ii) স্থায়ীভাবে চোখের দৃষ্টি রহিতকরণ
(iii) স্থায়ীভাবে কানের শ্রুতিশক্তি রহিতকরণ
(iv) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন
(v) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির স্থায়ী ক্ষতিকরণ
(vi) মাথা বা মুখমন্ডলের স্থায়ী বিকৃতি
(vii) হাড় বা দাঁত ভাঙ্গা 
(viii) কোন ব্যক্তিকে ২০ পর্যন্ত তীব্র যন্ত্রণা দেয় এমন আঘাত।

⇒ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার বিধান গুরুতর আঘাত:- শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই "গুরুতর" বলে পরিগণিত করা যায়:-
প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।
দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।
তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।
চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।
পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংস করণ বা চিরতরে খর্ব করণ।
ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।
সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।
অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।
-------------------------- 
⇒ The Penal Code, 1860, Section 320: Grievous hurt:
The following kinds of hurt only are designated as "grievous":- 
Firstly.-Emasculation. 
Secondly.-Permanent privation of the sight of either eye. 
Thirdly.-Permanent privation of the hearing of either ear. 
Fourthly.-Privation of any member or joint. 
Fifthly.-Destruction or permanent impairing of the powers of any member or joint. 
Sixthly.-Permanent disfiguration of the head or face. 
Seventhly.-Fracture or dislocation of a bone or tooth. 
Eighthly.-Any hurt which endangers life or which causes the sufferer to be during the space of twenty days in severe bodily pain, or unable to follow his ordinary pursuits.
১২,৩২০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫৯ ধারার সাক্ষ্য লিপিবদ্ধের পদ্ধতি অনুযায়ী গৃহীত সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ হবে-
  1. সারমর্ম আকারে
  2. প্রশ্নোত্তর আকারে
  3. বিবরণ আকারে
  4. সংক্ষিপ্ত আকারে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫৯ ধারার বিধান: সাক্ষ্য লিপিবদ্ধের পদ্ধতি:
(১) ধারা ৩৫৬ বা ৩৫৭ অনুসারে গৃহীত সাক্ষ্য সাধারণত প্রশ্নোত্তর আকারে লিপিবদ্ধ হবে না বরং বিবরণ আকারে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
(২) ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা জজ ইচ্ছা করলে কোন বিশেষ প্রশ্ন ও উত্তর লিপিবদ্ধ করতে বা করাতে পারবেন।
-----------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 359: Mode of recording evidence:
(1) Evidence taken under section 356 or section 357 shall not ordinarily be taken down in the form of question and answer, but in the form of a narrative.
(2) The Magistrate or Sessions Judge may, in his discretion take down, or cause to be taken down, any particular question and answer.
১২,৩২১.
কোন বিচারপতি 'Anwar Hossain Chowdhury vs. Bangladesh (1989)' মামলার মূল রায় লিখেছেন?
  1. বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ
  2. বিচারপতি এম.এইচ রহমান
  3. এ.টি.এম আফজাল
  4. বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
৮ম সংশোধনী মামলা:
 
মামলার পূর্ণ নাম: Anwar Hossain Chowdhury vs. Bangladesh (1989) [41 DLR (AD) 165]
অন্য নাম: '৮ম সংশোধনী মামলা বা, 8th Amendment Case.
রায় ঘোষণা: ১৯৮৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ এ মামলার রায় ঘোষণা করে। আপিল বিভাগের ৩:১ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় উক্ত সংশোধনী বাতিল বলে ঘোষিত হয়। এই মামলার মাধ্যমে বাংলাদেশে basic structure of the Constitution নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
 
মামলার বিচারক: এই মামলায় আপিল বিভাগের ৪ জন বিচারপতি বিচারক ছিলেন।
Author Judge: বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী; মূল রায় লিখেছেন।

Assenting Judges:
(i) বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ এবং
(ii) বিচারপতি এম.এইচ রহমান, Author Judge -এর সাথে একমত পোষণ করেন বলে এই মামলার 'একমত পোষণকারী বিচারক' বলে পরিচিত।
 
Dissenting Judge: বিচারপতি এটিএম আফজাল ভিন্নমত পোষণ করে রায় দিয়েছিলেন বলে তিনি এই মামলার 'ভিন্নমত পোষণকারী বিচারক' বলে পরিচিত।
১২,৩২২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৫ ধারায় অধীনস্থ আদালতের মামলার নথি পর্যালোচনাকালীন হাইকোর্ট বিভাগ-
  1. আসামিকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে
  2. দণ্ড কার্যকর স্থগিত করতে পারে
  3. আসামিকে নিজ মুচলেকায় মুক্তি দিতে পারে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে
ব্যাখ্যা
ধারা ৪৩৫ (নিম্ন আদালতের নথি তলবের ক্ষমতা)-

ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৩৫ (১) ধারায় হাইকোর্ট বিভাগ এবং দায়রা জজ অধীনস্থ কোন ফৌজদারী আদালতের কোনো মামলার নথি তলব করতে পারে বা মামলার কোন কার্যক্রম পরীক্ষা করতে পারে। অধীনস্থ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত বা লিপিবদ্ধকৃত কোন দণ্ড বা আদেশের নির্ভুলতা, বৈধতা বা যৌক্তিকতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হতে; বা অধীনস্থ আদালতের মামলার কার্যক্রম রীতিসম্মত কিনা সে সম্পর্কে সন্তুষ্ট হতে উক্ত নথি পর্যালোচনা থাকাকালীন সময়ের জন্য হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা কোনো দণ্ড কার্যকর করা স্থগিতের আদেশ দিতে পারে; এবং যদি অভিযুক্ত আটক থাকে, তাহলে তাকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে বা আসামীর নিজ মুচলেকায় জামিন দিতে পারে।

Section 435 (Power to call for records of inferior Courts)-
(1) The High Court Division or any Sessions Judge, may call for and examine the record of any proceeding before any inferior Criminal Court situate within the local limits of its or his jurisdiction for the purpose of satisfying itself or himself as to the correctness, legality or propriety of any finding, sentence or order recorded or passed, and as to the regularity of any proceedings of such inferior Court and may, when calling for such record, direct that the execution of any sentence be suspended and, if the accused is in confinement, that he be released on bail or on his own bond pending the examination of the record. 
Explanation-All Magistrates, whether Executive or Judicial,] shall be deemed to be inferior to the Sessions Judge for the purposes of this sub-section
১২,৩২৩.
"Nothing in this section shall take away the right of pre-emption conferred on any person by Muhammadan Law." Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 এর কত ধারার বিধান?
  1. 24(8)
  2. 24(10)
  3. 24(9)
  4. 24(7)
ব্যাখ্যা
Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 Section 24 Power of the co-sharer or the immediate landlord of transferor to purchase:

- Section 24(10) Nothing in this section shall take away the right of pre-emption conferred on any person by Muhammadan Law.


-এটি Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 এর 24(10) ধারার বিধান।
১২,৩২৪.
নিম্নলিখিত কোন ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ বর্ধিতকরণ সংক্রান্ত ৫ ধারার বিধান প্রযোজ্য নয়?
  1. রিভিশন
  2. আপীল
  3. রিভিউ
  4. মূল মোকদমা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী, বিলম্ব মওকুফ (Condonation of Delay) বা তামাদির মেয়াদ বর্ধিতকরণ একাধিক বিশেষ ক্ষেত্রে করা যায়, কিন্তু মূল মোকদমা (Original Suit) এর ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।

→ তামাদি আইন, ১৯০৮ – ধারা ৫ অনুযায়ী বিধান প্রযোজ্য ক্ষেত্রসমূহ:
ধারা ৫ অনুসারে, বিলম্ব মওকুফ করার বিধান নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য:
রিভিশন (Revision) – যদি কোনো রিভিশন দরখাস্তের সময়সীমা শেষ হয়ে যায়, তবে যথাযথ কারণ দেখিয়ে বিলম্ব মওকুফ করা যায়।
আপীল (Appeal) – আপিল করার সময়সীমা শেষ হলে, আদালত বিলম্ব মওকুফ করতে পারে।
রিভিউ (Review) – রিভিউ দরখাস্তের তামাদি উত্তীর্ণ হলে, যথাযথ কারণ দেখিয়ে বিলম্ব মওকুফ করা যেতে পারে।

তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান যেখানে প্রযোজ্য নয়:
মূল মোকদমা (Original Suit) এর ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ধারা ৫ প্রযোজ্য নয়, অর্থাৎ, মূল মামলায় তামাদির মেয়াদ বর্ধিত করা যাবে না।

মূল মোকদমার ক্ষেত্রে সময়সীমা উত্তীর্ণ হলে সাধারণত পুনরায় আবেদন বা মামলা করা সম্ভব হয় না।
- উদাহরণস্বরূপ, স্বত্ব ঘোষণার মামলা, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা অগ্রক্রয় সংক্রান্ত মামলা ইত্যাদির ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ শেষ হলে, আদালত সাধারণত বিলম্ব মওকুফের সুযোগ দেয় না।

অর্থাৎ তামাদি আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী, আপিল, রিভিশন, রিভিউ ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিলম্ব মওকুফ করা যেতে পারে, তবে মূল মোকদমায় এটি প্রযোজ্য নয়।
১২,৩২৫.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর কত ধারায় ডোপ টেস্ট (Dope Test) এর বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ২০ (৪)
  2. ধারা ২২ (৪)
  3. ধারা ২৪ (৪)
  4. ধারা ২৬ (৪)
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ধারা ২৪ (৪)।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ২৪: দেহ তল্লাশির জন্য বিশেষ পরীক্ষা:

(১) এই আইনের অধীন কোনো তদন্ত অথবা তল্লাশি পরিচালনাকালে কোনো অফিসারের যদি ইহা বিশ্বাস করিবার যথেষ্ট কারণ থাকে যে কোনো ব্যক্তি তাহার শরীরের কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গে মাদকদ্রব্য লুকাইয়া রাখিয়াছেন, তাহা হইলে, অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, তিনি তাহাকে তাহার শরীরের এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম, এন্ডোসকপি, কোলনস্কপি কিংবা রক্ত ও মলমূত্রসহ অন্য যে-কোনো প্রকার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিবার নিমিত্তে নিজেকে সমর্পণ করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন এবং উক্ত নির্দেশ অমান্য করিলে নির্দেশ প্রদানকারী অফিসার তাহাকে নির্দেশ পালনে বাধ্য করিবার জন্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে। 

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান অনুসারে পরীক্ষার পর কোনো ব্যক্তির অঙ্গপ্রত্যঙ্গে যদি কোনো মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি সনাক্ত হয়, তাহা হইলে তাহাকে প্রযোজ্যক্ষেত্রে ধারা ৩৬ এর সারণির ক্রমিক নম্বর ৬ হইতে ১১ কিংবা ১৩ হইতে ২০ এর বিধান অনুযায়ী দণ্ডিত মাদকদ্রব্য অপরাধের জন্য গ্রেফতার করা যাইবে। 

(৩) উপ-ধারা (১) এর বিধান অনুসারে পরীক্ষার পর যদি কোনো ব্যক্তি কর্তৃক কোনো মাদকদ্রব্য গ্রহণের, সেবনের, ব্যবহারের অথবা প্রয়োগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় এবং উহা যদি ধারা ৯ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (গ) কিংবা উপ-ধারা (২) এর দফা (গ) কিংবা ধারা ১০ এর (চ) এর বিধান লঙ্ঘনকারী হয় তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তিকে ধারা ৩৬ এর সারণি ক্রমিক নম্বর ১৬, ২১, ২৫, ২৯ অথবা ৩১ অনুসারে শাস্তিযোগ্য মাদকদ্রব্য অপরাধের জন্য গ্রেপ্তার করা যাইবে। 

(৪) মাদকাসক্ত ব্যক্তি শনাক্ত করিবার প্রয়োজনে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ডোপ টেস্ট (Dope Test) করা যাইবে। ডোপ টেস্ট (Dope Test) পজেটিভ হইলে ধারা ৩৬(৪) অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।
১২,৩২৬.
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনিত অভিযােগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে, আদালত অভিযােগকারীকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশের পাশাপাশি অনধিক কত দিনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন?
  1. ১ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ৬ মাস
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৫০ অনুসারে,
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনিত অভিযােগ মিথ্যা এবং তুচ্ছ বা বিরক্তিকর হলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে অব্যাহতি প্রদান করবেন এবং সংবাদ দাতা বা অভিযােগকারিকে কারণ দর্শাতে বলবেন যে, কেন তার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরনের আদেশ দেয়া হবে না।

⇒ ফরিয়াদি/সংবাদ দাতা/অভিযােগকারীর কারণ দর্শানোর পর ম্যাজিস্ট্রেট যদি সন্তুষ্ট হন, অভিযােগটি মিথ্যা, তুচ্ছ বা বিরক্তিকর তাহলে ফরিয়াদিকে অনধিক ১০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বাবদ অভিযুক্তকে প্রদান করার আদেশ দিতে পারেন। এমনকি ক্ষতিপূরণ আদেশ ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দিতে পারেন যে, ক্ষতিপূরণ প্রদানকারী ব্যক্তি অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ডে বা অনধিক ৩০০০ টাকা অর্থদন্ডে দণ্ডিত হবেন। তবে তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট এই ক্ষেত্রে অনধিক ৫০০ টাকা ক্ষতিপূরনের আদেশ দিতে পারেন।

⇒ ফরিয়াদি সংবাদদাতা ক্ষতিপূরণ প্রদানে ব্যর্থ হলে ৩০ দিন পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

⇒ দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষতিপূরনের আদেশের বিরুদ্ধে বা অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেট ১০০ টাকার বেশি ক্ষতিপূরনের আদেশের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরন সম্পর্কে আপিল দায়ের করা যাবে।
১২,৩২৭.
সরকারি দলিলপত্র আদালতে প্রাসঙ্গিক হয় কোন ধারা মতে?
  1. সাক্ষ্য আইন ৭৪ ধারা
  2. সাক্ষ্য আইন ৭৩ ধারা
  3. সাক্ষ্য আইন ৭২ ধারা
  4. সাক্ষ্য আইন ৭১ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারার অনুযায়ী সরকারি দলিলপত্র আদালতে প্রাসঙ্গিক করা হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারার বিধান সরকারী দলিল: নিম্নলিখিত দলিলগুলো সরকারী দলিল:

(১) যে সমস্ত দলিল-

(ক) কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের,

(খ) সরকারী প্রতিষ্ঠান বা ট্রাইব্যুনালের এবং

(গ) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের যে কোন স্থানের অথবা বিদেশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কোন অফিসারের কার্য অথবা কার্যের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

(২) বাংলাদেশে সরকারীভাবে রক্ষিত ব্যক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

----------------
⇒ Public documents:

Section 74. The following documents are public documents:– 
 
(1) documents forming the acts or records of the acts- 
 
(i) of the sovereign authority, 
 
(ii) of official bodies and tribunals, and 
 
(iii) of public officers, legislative, judicial and executive of any part of Bangladesh or of the Commonwealth, or of a foreign country; 
 
(2) public records kept in Bangladesh of private documents.
১২,৩২৮.
`X’ `Y’ এর বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের দায়ে ক্ষতিপূরনের মামলা করেছে। আদালত মোকদ্দমাটি `Y’ এর পক্ষে রায় দেয়। পরবর্তীতে `X’ পুনরায় একই বিষয় নিয়ে `Y’ এর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করেন। আদালত `X’ এর মোকদ্দমাটি?
  1. স্থগিত করবে
  2. আমলে নিবে
  3. খারিজ করবে
  4. ডিক্রী দিবে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ১১ ধারায় বলা হয়েছে আদালত এমন কোন মোকদ্দমার বিচার করবেন না যা পূর্ববর্তী কোন মোকদ্দমার একই পক্ষগণের মধ্যে চূড়ান্তভাবে সমাপ্ত হয়েছে।
• এটি হলো Res Judicata (দোবারা দোষ)। `X’ এর দায়ের করা ১ম মোকদ্দমাটি চূড়ান্ত ভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে তাই `Y’ এর বিরুদ্ধে পরবর্তী মোকদ্দমাটি খারিজ করবে।  এই নীতি আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
• এই নীতি আরো পাওয়া যায়- সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারা, ফৌঃ কাঃ বিঃ ৪০৩ ধারা, সংবিধানের ৩৫ (২) অনুচ্ছেদ।
১২,৩২৯.
The jurisdiction to decree specific performance is __________.
  1. Mandatory
  2. Discretionary
  3. Arbitrary
  4. None
ব্যাখ্যা
⇒ Section 22 Discretion as to decreeing specific performance: The jurisdiction to decree specific performance is discretionary, and the Court is not bound to grant such relief merely because it is lawful to do so; but the discretion of the Court is not arbitrary but sound and reasonable, guided by judicial principles and capable of correction by a Court of appeal. 
The following are cases in which the Court may properly exercise a discretion not to decree specific performance:- 
i) Where the circumstances under which the contract is made are such as to give the plaintiff an unfair advantage over the defendant, though there may be no fraud or misrepresen-tation on the plaintiff's part.
ii) Where the performance of the contract would involve some hardship on the defendant which he did not foresee, whereas its non-performance would involve no such hardship on the plaintiff.
iii) Where the plaintiff has done substantial acts or suffered losses in consequence of a contract capable of specific performance.
-----------------
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার (Specific Relief) বলতে ঐ সকল প্রতিকারকে বোঝায় যা কোন ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের বিধান মোতাবেক সুনির্দিষ্টভাবে পাওয়ার অধিকারী। 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার সমূহ কেউ অধিকারবলে দাবী করতে পারবেন না; ইহা আদালতের ইচ্ছার(discretion) উপর নির্ভর করে থাকে। এই সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা বা নামঞ্জুর করা আদালতের ইচ্ছাধীন বা সুবিবেচনামূলক ক্ষমতা (Discretionary Power)।আইনটির ২২ ধারা আদালতকে এই ক্ষমতা অর্পণ করেছে। অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানে আদালতকে আইন দ্বারা বাধ্য করা যায়না। পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালত ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। তবে আদালতের এই ইচ্ছাধীন বা সুবিবেচনামূলক ক্ষমতা অবশ্যই স্বেচ্ছাচারীতামূলক হবে না বরং ন্যায় বিচার সহায়ক হবে।
১২,৩৩০.
তামাদি আইনে বিভিন্ন দরখাস্ত দায়েরের তামাদির মেয়াদ প্রথম তফশিলের কোথায় উল্লেখ আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৫১ থেকে ১৮৩
  2. অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩
  3. অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৮৩
  4. অনুচ্ছেদ ১৫৫ থেকে ১৮৩
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে ৩টি বিভাগ উল্লেখ করা হয়েছে। এই ৩টি বিভাগে ৩ ধরনের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম বিভাগ (First Division)
মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]
- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯ পর্যন্ত।

দ্বিতীয় বিভাগ (Second Division)
আপিল দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]
- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭ পর্যন্ত।

তৃতীয় বিভাগ (Third Division)
বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]
- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩ পর্যন্ত।
১২,৩৩১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৩ ধারা অনুযায়ী অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকতে পারে?
  1. একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত 
  2. আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত
  3. অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত 
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা৫৩,অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হইল এইরূপ নিষেধাজ্ঞা যাহা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোনো সময় ইহা মঞ্জুর করা  যাইবে, এবং দেওয়ানি কার্যবিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে।
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা - কেবল শুনানির পর এবং মামলার গুণাগুণের উপর ভিত্তি করিয়া প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যাইবে: ইহার মাধ্যমে বিবাদিকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ, অথবা এমন একটি কাজ করা হইতে বিরত থাকিবার নির্দেশ দেওয়া হয় যাহা বাদির অধিকারের বিপরীতে হইবে।
------------
The Specific Relief Act,1877, Temporary injunctions Perpetual injunctions: Temporary injunctions are such as are to continue until a specified time, or until the further order of the Court. They may be granted at any period of a suit, and are regulated by the Code of Civil Procedure.
A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit: the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.

১২,৩৩২.
একটি সম্পত্তির নিলাম বিক্রয়ের কার্যক্রম একজন অ্যাডভোকেট কোনো পক্ষকে প্রতিনিধিত্ব করলে তিনি-
  1. সম্পত্তিটি নিজে ক্রয় করতে পারবেন
  2. সম্পত্তিটি বেনামিতে ক্রয় করতে পারবেন
  3. পারিতোষিকের পরিবর্তে সম্পত্তিটি ক্রয় করতে পারবেন
  4. সম্পত্তিটি বা তার কোনো অংশ কোনোভাবেই ক্রয় করতে পারবেন না
ব্যাখ্যা
⇒ Cannons of Professional Conduct and Etiquette এর ২য় অধ্যায়ে মক্কেলের প্রতি এ্যাডভোকেটের দায়িত্ব সম্পর্কিত বিধি-৫ মতে একজন আইনজীবী নিজের পরিচালনাধীন মামলার সংশ্লিষ্ট উইল, ইচ্ছাপত্র (Probate), বন্ধক বন্ধ (Forclosure) বা বিচারিক নিলাম ইত্যাদি পদ্ধতিতে ক্রেতা হতে পারবে না।

- বিধি-৫: একজন আইনজীবী কোন উইল কিংবা ঋণের জন্য বন্ধককৃত কিংবা বিচারিক রায়ে নিলামকৃত সম্পত্তি নিজ নামে কিংবা বেনামে ক্রয় কিংবা পারিশ্রমিকের পরিবর্তে উক্ত সমুদয় সম্পত্তি কিংবা আংশিক সম্পত্তি গ্রহন করিতে পারিবেন না, যদি তিনি উক্ত সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলার কোন পক্ষের আইনজীবী হিসাবে মামলা পরিচালনায় অংশগ্রহন করিয়া থাকেন।
----------------------------
CHAPTER-II
CONDUCT WITH REGARD TO CLIENTS:
- Rule-5. An Advocate shall not himself or in benami purchase any property at a probate, foreclosure or judicial sale in an auction or proceeding in which such Advocate appears for a party nor shall he accept the whole or part of the property, in respect of which he had been engaged to conduct the case, in lieu of his remuneration, or as a reward or bounty.
১২,৩৩৩.
চার্জে গুরুতর ভুলের কারনে দণ্ডিত ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যাপারে বিভ্রান্ত হলে আদালত কি আদেশ দিবেন?
  1. মামলা বাতিলের
  2. নতুন বিচারের
  3. আপিলের
  4. চার্জ সংশোধনের
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৩২ এ চার্জে কৃত গুরতর ভুলের ফলাফল দেয়া হয়েছে-

১) রিভিশন ক্ষমতা বা সপ্তবিংশ অধ্যায়ে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়ােগকালে আপিল আদালত বা হাইকোর্ট বিভাগ যদি মনে করেন যে, অভিযােগ গঠিত হওয়ায় কিংবা উহাতে ভুল থাকায় কোন অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি তার আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যাপারে বিভ্রান্ত হয়েছে তা হলে উক্ত আদালত যেইরূপ উপযুক্ত মনে করেন, সেইরূপভাবে অভিযােগ গঠন করে নতুন বিচারের নির্দেশ দিবেন।

২) আদালত যদি মনে করেন যে,মােকদ্দমার ঘটনাবলী এইরূপ যে প্রমাণিত তথ্যাবলীর ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে কোন বৈধ অভিযােগ প্রণয়ন করা যাবে না,তা হলে দণ্ডাদেশ রদ করে দিবেন।

• উদাহরণ-
দণ্ডবিধির ১৯৬ ধারার অপরাধের দায়ে ক-কে এমন একটি অভিযােগের ভিত্তিতে দণ্ডিত করা হলাে।যাতে উল্লেখ করা হয় নাই যে, যে সাক্ষ্য সে অসৎ ভাবে সত্য বা প্রকৃত বলে ব্যবহার করেছে বা ব্যবহারের চেষ্টা করেছে,তাকে সে মিথ্যা বা বানােয়াট বলে জানিত।আদালত যদি মনে করেন যে,ক-এর অনুরূপ জ্ঞান থাকা সম্ভব ছিল এবং অভিযােগে তার অনুরূপ জ্ঞান সম্পর্কিত বিবৃতি থাকায় সে তার আত্মপক্ষ সমর্থনে বিভ্রান্ত হয়েছে তা হলে সংশােধিত অভিযােগের ভিত্তিতে নতুন বিচারের নির্দেশ দিবেন;কিন্তু কার্যক্রম হতে যদি প্রতীয়মান হয় যে,ক-এর অনুরূপ জ্ঞান থাকা সম্ভব ছিল না,তা হলে আদালতে দণ্ডাদেশ রদ করে দিবেন।
১২,৩৩৪.
'ক' কিছু ঋণের জন্য 'খ'- এর নিকট কিছু অলংকার বন্ধক রাখে। 'খ' সেগুলি বিক্রি করার অধিকারী হওয়ার আগেই বিক্রি করে। 'ক' ঋণের অর্থ পরিশোধ না করেই, অলঙ্কারাদির দখলের জন্য 'খ'-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এক্ষেত্রে-
  1. 'ক' দখলের অধিকারী নয় বিধায় মামলা খারিজ হবে
  2. দখলের অধিকারী হিসেবে 'ক' এর মামলা চলমান থাকবে
  3. মালিক হিসেবে 'ক' এর মামলা চলমান থাকবে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত প্রশ্নটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১০ ধারার উদাহরণ (খ) এর অনুরূপ। ১০ ধারার বিধান অনুযায়ী, মামলা অবশ্যই খারিজ হবে কারণ 'ক' সেগুলির দখলের অধিকারী নয়।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-১০ ধারা: সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির পুনরুদ্ধার:

সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানি কার্যবিধিতে নির্ধারিত পন্থায় তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।
ব্যাখ্যা- ১: এই ধারা অনুসারে একজন জিম্মাদার যার জন্য জিম্মাদার নিযুক্ত হয়েছে সে ব্যক্তির হিতকর স্বার্থে নিয়োগ করার অধিকার রয়েছে এমন অস্থাবর সম্পত্তির দখল পাওয়ার জন্য মামলা রুজু করতে পারে।
ব্যাখ্যা- ২: সম্পত্তির বর্তমান দখলের জন্য অস্থায়ী বা বিশেষ অধিকারকেই এই ধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত মামলাকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট।

উদাহরণ:
(ক) 'ক', 'খ'-কে সারাজীবনের জন্য জমি উইল করে দেয় এবং 'গ'-কে পরবর্তী অধিকারী নির্দেশ করে। 'ক' মারা গেল। 'খ' জমিতে প্রবেশ করে কিন্তু 'গ', 'খ'-এর সম্মতি ছাড়াই স্বত্ব-সম্পর্কিত দলিলসমূহ হস্তগত করে। 'খ', 'গ'-এর নিকট হতে সেগুলি পুনরুদ্ধার করতে পারে।

(খ) 'ক' কিছু ঋণের জন্য 'খ'-এর নিকট কিছু অলংকার বন্ধক রাখে। 'খ' সেগুলি বিক্রয় করার অধিকারী হওয়ার আগেই বিক্রয় করে। 'ক' ঋণের অর্থ পরিশোধ না করেই অলঙ্কারাদির দখলের জন্য 'খ'-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলা অবশ্যই খারিজ হবে। কারণ 'ক' সেগুলির দখলের অধিকারী নয়, তার যতটুকু অধিকার তা হচ্ছে অলঙ্কারসমূহের নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।


(গ) 'ক', 'খ' কর্তৃক তার নিকট লিখিত একটি চিঠি পেল। 'খ', 'ক'-এর সম্মতি ছাড়াই উক্ত চিঠি ফিরিয়ে দিল। উক্ত চিঠিতে 'ক'-এর এমন এক স্বত্ব রয়েছে, যা তাকে 'খ'-এর নিকট হতে পুনরুদ্ধার করার অধিকারী করে।

(ঘ) 'ক', 'খ'-এর নিকট নিরাপদ সংরক্ষণের জন্য বই এবং কাগজপত্র জমা রাখে। 'খ' সেগুলি হারিয়ে ফেলল এবং 'গ' সেগুলি পেল, কিন্তু 'খ' যখন চুক্তি আইনের ১৬৮ ধারা অনুসারে 'গ'-এর যদি কোন অধিকার জন্মে থাকে তবে তৎসাপেক্ষে 'গ'-এর নিকট হতে পুনরুদ্ধার করতে পারে।

(ঙ) গুদামরক্ষক 'ক'-এর দায়িত্ব ছিল 'খ'-এর নিকট কিছু মাল অর্পণ করায় যা 'ক'- এর দখল হতে 'খ' নিয়ে গেছে। 'ক', 'খ'-এর বিরুদ্ধে উক্ত মালামালের জন্য মামলা দায়ের করতে পারে।
১২,৩৩৫.
ম্যাজিস্ট্রেট কোন ধরনের মামলার ক্ষেত্রে রায় ঘোষণা না করে কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারেন না?
  1. নালিশী মামলা
  2. নালিশ ব্যতীত অন্যান্য মামলা
  3. এফআইআর দ্বারা দায়েরকৃত মামলা
  4. জিআর মামলা
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৯ নালিশ ব্যতীত অন্যান্য মামলার যেকোন পর্যায়ে কোন রায় ঘোষণা না করে, কার্যক্রম বন্ধের ক্ষমতা দিয়েছে।
• অর্থাৎ ম্যাজিস্ট্রেট নালিশী মামলার ক্ষেত্রে রায় ঘোষণা না করে কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারেন না।

উল্লেখ আছে, নালিশ ব্যতিরেকে অন্যভাবে দায়ের করা যে কোন মোকদ্দমায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অথবা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর অনুমতি পূর্বে নিয়ে অন্য যেকোনো জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার যে কোন পর্যায়ে বেকসুর খালাস অথবা দণ্ডের কোন রায় ঘোষণা না করে, কার্যবাহ বন্ধ করে দিতে পারেন এবং অতঃপর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মুক্তি (Release) দিতে পারবেন।
In any case instituted otherwise than upon complaint, [a Metropolitan Magistrate], a Magistrate of the first class, or with the previous sanction of the [Chief Judicial Magistrate, any other Judicial Magistrate] may for reasons to be recorded by him, stop the proceedings at any stage without pronouncing any judgment either of acquittal or conviction, and may thereupon release the accused.

• দায়রা আদালতের এরূপ কোন ক্ষমতা নেই।
• Complaint case এর ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য নয়।
১২,৩৩৬.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৩২ আদেশের অধীনে নাবালকের পক্ষে কে মামলা দায়ের করতে পারে?
  1. আদালত
  2. আসন্ন বন্ধু
  3. নাবালক নিজে
  4. নাবালক যে ব্যক্তিকে নির্ধারন করে
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ৩২ আদেশে নাবালক এবং বিকৃত মস্তিক সম্পন্ন ব্যক্তি কিভাবে মামলা করবে বা তার পক্ষে কিভাবে মামলা দায়ের করা যায় তা আলোচনা করা হয়েছে। নাবালক কর্তৃক প্রত্যেক মামলা তার নামে আসন্ন বন্ধু [Next friend) কর্তৃক দায়ের করতে হবে [৩২ আদেশের বিধি-১]। যদি বিবাদী নাবালক হয় তাহলে উপযুক্ত যেকোন ব্যক্তিকে আদালত বিবাদীর অভিভাবক হিসাবে নিয়োগ দিতে পারে (বিধি-৩)।

সাবালক এবং সুস্থ মস্তিকসম্পন্ন যে কোন ব্যক্তি নাবালকের পক্ষে আসন্ন বন্ধু হতে পারে বা বিবাদীর অভিভাবক হতে পারে। তবে হলো শর্ত হলো তার স্বার্থ নাবালকের স্বার্থের পরিপন্থী হবেনা এবং সে মামলার বাদী এবং বিবাদী হবেনা। যেক্ষেত্রে নাবালক আসন্ন বন্ধু ছাড়া মোকদ্দমা দায়ের করে সেক্ষেত্রে মোকদ্দমাটি রক্ষণীয় নয়।নাবালকের পক্ষে কোন মামলা আসন্ন বন্ধু ছাড়া দায়ের করা হলে বিবাদী দরখাস্ত করতে পারে আরজিটি খরচাসহ নথি থেকে অপসারণের জন্য। [৩২ আদেশের বিধি-২]
১২,৩৩৭.
কে বার কাউন্সিল নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করেন?
  1. সরকার
  2. নির্বাচন কমিশন
  3. বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান
  4. বার কাউন্সিলের সিনিয়র সদস্য
ব্যাখ্যা
⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972 এর ৩ বিধিতে বলা হয়েছে-
বার কাউন্সিলের নির্বাচনের সর্বনিম্ন ৪৫ দিন পূর্বে, বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্বাচনের তফশিল প্রকাশ করবে।
------------------
Rules-3: The Chairman shall at least 45 days before the election of the Bar Council, publish a programme of the election of members of the Bar Council in the official Gazett specifying -
(a) the date not being a day within ten days of th Notification by which proposals for election are to be delivered at the office of the Bar Council;
(b) the date for the scrutiny of such proposals;
(c) the date or dates on which voting shall take place;
(d) the date by which objections to election shall be filed;
(e) the date on which objection shall be taken up for the time by the Election Petition Committee at the office the Bar Council;
১২,৩৩৮.
‘চ’, ‘ম’ এর বিরুদ্ধে তাদের পিতার সম্পত্তি বাটোয়ারার মোকদ্দমা দায়ের করতে চায়। বিরোধীয় সম্পত্তির মূল্য ২৩,০০,০০০/- টাকা, তাহলে ‘চ’ কে ‘ম’ এর বিরুদ্ধে কোন আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে?
  1. সহকারী জজ আদালতে
  2. যুগ্ন জেলা জজ আদালতে
  3. অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে
  4. সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫ ধারায় বলা হয়েছে যে, আর্থিক ও আঞ্চলিক এখতিয়ার সম্পন্ন সর্বনিম্ন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।

• The Civil Court Act,1887 এর ২০২১ সালের সংশোধনী অনুসারে, দেওয়ানি আদালতে আর্থিক এখতিয়ার-
⇒ সহকারী জজের আদালতে (The Court of Assistant Judge ) = ১৫ লক্ষ পর্যন্ত;
⇒ সিনিয়র সহকারী জজের আদালতে (The Court of Senior Assistant Judge) = ২৫ লক্ষ পর্যন্ত;
⇒ যুগ্ম জেলা জজের আদালতে (The Court of Joint District Judge) = ২৫ লক্ষ এর উপরে।

অর্থাৎ, মোকদম্মার মূল্যমান ২৩,০০,০০০/- টাকা হওয়ায়, অত্র মোকদম্মাটি সিনিয়র সহকারী জজের আদালতে দায়ের করতে হবে।
১২,৩৩৯.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৫৮ ধারা অনুযায়ী, ৫০ টাকার বেশি অর্থের ডিক্রির ক্ষেত্রে দেনাদারকে সর্বোচ্চ কতদিন দেওয়ানী জেলে আটক রাখা যায়?
  1. ১ বছর
  2. ৬ মাস
  3. ৩ মাস
  4. ৬ সপ্তাহ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৫৮ ধারা অনুযায়ী: যদি ডিক্রি অর্থ পরিশোধের জন্য হয় এবং ওই অর্থের পরিমাণ ৫০ টাকার বেশি হয়, তবে ডিক্রি-দায়িক (judgment-debtor) কে সর্বোচ্চ ৬ মাস দেওয়ানী জেলে আটক রাখা যাবে।
আর যদি অর্থের পরিমাণ ৫০ টাকার কম হয়, তবে তাকে সর্বোচ্চ ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত আটক রাখা যাবে।
 এই ধারা অনুযায়ী একজন রায়সিদ্ধ দেনাদার মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় তাকে একই ডিক্রির জন্য গ্রেফতার করা যাবে না।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৫৮ ধারার বিধান আটক ও মুক্তি:
 ৫০ টাকার বেশি পরিশোধের ডিক্রির ক্ষেত্রে ৬ মাসের বেশি দেওয়ানি জেলে আটক রাখা যাবে না; এবং
 ৫০ টাকার কম হলে সে ক্ষেত্রে ৬ সপ্তাহের বেশি আটক রাখা যাবে না।
 যে ডিক্রি জারিতে ডিক্রি দায়িক আটক থেকে মুক্তি পেয়েছেন, সেই বিষয়ে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা যাবে না।
-------- 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section 58. Detention and release:
(1) Every person detained in the civil prison in execution of a decree shall be so detained,- 
(a) where the decree is for the payment of a sum of money exceeding fifty Taka, for a period of six months, and, 
(b) in any other case for a period of six weeks: 
Provided that he shall be released from such detention before the expiration of the said period of six months or six weeks, as the case may be,- 
(i) on the amount mentioned in the warrant for his detention being paid to the officer in charge of the civil prison, or 
(ii) on the decree against him being otherwise fully satisfied, or 
(iii) on the request of the person on whose application he has been so detained, or 
(iv) on the omission by the person, on whose application he has been so detained, to pay subsistence allowance: 
Provided, also, that he shall not be released from such detention under clause (ii) or clause (iii), without the order of the Court. 
(2) A judgment-debtor released from detention under this section shall not merely by reason of his release be discharged from his debt, but he shall not be liable to be re-arrested under the decree in execution of which he was detained in the civil prison.
১২,৩৪০.
আদেশ ১৮ বিধি ১৮ অনুযায়ী, কোন সম্পত্তি বা বস্তু সম্পর্কে কোন প্রশ্নের উদ্ভব হলে, আদালত তা পরিদর্শন করতে পারে:
  1. কেবল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে
  2. কেবল মামলার রায়ের আগে
  3. মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে
  4. মোকদ্দমার শুরুতে
ব্যাখ্যা
আদেশ ১৮ বিধি- ১৮: আদালত কর্তৃক পরিদর্শনের ক্ষমতা:
মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে কোন সম্পত্তি বা বস্তু সম্পর্কে কোন প্রশ্নের উদ্ভব হলে, আদালত তা পরিদর্শন করতে পারেন।

Order 18 Rule 18: Power of court to inspect:
The Court may at any stage of a suit inspect any property or thing concerning which any question may arise.
১২,৩৪১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন কোন ধরনের প্রতিকারের বিপরীতে কাজ করে?
  1. আর্থিক ক্ষতিপূরণের
  2. স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার
  3. ঘোষণামূলক ডিক্রির
  4. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো আর্থিক ক্ষতিপূরণ (Damages) এর পরিবর্তে সরাসরি ও সুনির্দিষ্টভাবে অধিকার বাস্তবায়ন করা। যেমন: চুক্তি ভঙ্গের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র টাকা ক্ষতিপূরণ না দিয়ে আদালত নির্দিষ্ট পারফরমেন্স (Specific Performance) এর আদেশ দিতে পারেন।
- সম্পত্তি অবৈধ দখল থেকে মুক্তির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণ না দিয়ে সম্পত্তি ফেরত আদেশ দেওয়া যায়।
অর্থাৎ, এই আইন আর্থিক ক্ষতিপূরণ-এর বিকল্প (বিপরীতে) বা প্রতিযোগী প্রতিকার হিসেবে কাজ করে, যেখানে মূল লক্ষ্য ব্যক্তির প্রকৃত অধিকার পুনরুদ্ধার করা।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন (Specific Relief Act) এমন একটি আইন যা মূলত দেওয়ানি মামলাগুলির ক্ষেত্রে বিশেষ প্রতিকার বা সাহায্য প্রদান করে। এর মাধ্যমে আদালত একটি নির্দিষ্ট শাস্তির পরিবর্তে, ব্যক্তির অধিকার বা দাবির সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। "সুনির্দিষ্ট প্রতিকার" বলতে এমন প্রতিকার বোঝানো হয় যা শুধুমাত্র সঠিক এবং নির্দিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে বিচার করা হয়, যেমন সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া, বিশেষ পারফরমেন্সের আদেশ, বা কোনও চুক্তির কার্যকরী বাস্তবায়ন।
- এটি মূলত আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, বরং এমন প্রতিকার যা কিছু নির্দিষ্ট দাবি বা অধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে দেয়। এর মধ্যে থাকে:
→ নির্দিষ্ট পারফরমেন্স
→ চুক্তির বাস্তবায়ন
→ কোনো সম্পত্তি বা প্রপার্টি ফেরত নেওয়া
→ অবৈধ দখল থেকে অবমুক্তি ইত্যাদি
অর্থাৎ, এটি দেওয়ানি মামলার প্রতিকার, যা সাধারাণত একটি ন্যায্যতা বা সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।

প্রস্তাবনা:
যেহেতু কিছু নির্দিষ্ট ধরনের দেওয়ানি মামলায় সুনির্দিষ্ট প্রতিকার সম্পর্কিত আইন নির্ধারণ এবং সংশোধন করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়; তাই এটি নিম্নরূপ প্রবর্তিত হলো:-
--------
Preamble:
WHEREAS it is expedient to define and amend the law relating to certain kinds of specific relief obtainable in civil suits; It is hereby enacted as follows:

১২,৩৪২.
রফিক একজন ব্যবসায়ী। তিনি একটি গ্রাহকের কাছ থেকে ৫০০ টাকার একটি নোট গ্রহণ করেন। পরে তিনি জানতে পারেন যে, এটি একটি জাল নোট। এরপরও তিনি সেটি প্রতারণামূলকভাবে অন্য এক ব্যবসায়ীর কাছে দেন। রফিকের বিরুদ্ধে কোন ধারায় মামলা হতে পারে?
  1. দণ্ডবিধির ২৩৮ ধারা
  2. দণ্ডবিধির ২৪০ ধারা
  3. দণ্ডবিধির ২৪২ ধারা
  4. দণ্ডবিধির ২৪৫ ধারা
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ২৪০ ধারা- বাংলাদেশের মুদ্রা জাল বলে জানা সত্ত্বেও দখলের পর উহা হস্তান্তর করা:
কোন ব্যক্তি যদি তার কাছে বাংলাদেশের যে জাল মুদ্রা রয়েছে, তা লাভের পর উহা যে বাংলাদেশের মুদ্রার জাল তা জানা সত্ত্বেও, প্রতারণামূলকভাবে বা তদ্বারা প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে উহা কোন ব্যক্তিকে হস্তান্তর করে বা কোন ব্যক্তিকে উহা গ্রহণে বাধ্য করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

Section 240- Delivery of Bangladesh coin possessed with knowledge that it is counterfeit:
 Whoever, having and counterfeit coin, which is a counterfeit of Bangladesh coin, and which at the time when he became possessed of it, he knew to be a counterfeit of Bangladesh coin, fraudulently or with intent that fraud may be committed, delivers the same to any person, or attempts to induce any person to receive it, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
১২,৩৪৩.
হিন্দু আইনের কোন স্কুলটি আসাম ও বাংলায় প্রাধান্য পায়?
  1. মিতাক্ষরা
  2. দায়ভাগ
  3. বেনারস
  4. মিথিলা
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনের দুটি প্রধান স্কুল হলো মিতাক্ষরা এবং দায়ভাগ। দায়ভাগ স্কুল জিমুতবাহনের রচিত দায়ভাগ গ্রন্থের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এটি আসাম ও বাংলায় প্রাধান্য পায়। এই স্কুলটি উত্তরাধিকার নীতিতে আধ্যাত্মিক উপকার বা ধর্মীয় কার্যকারিতা (Doctrine of Oblations) এর উপর জোর দেয়। এতে পুত্রদের জন্মগত সম্পত্তির অধিকার নেই, এবং পরিবারের নারীরাও সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, কোনো সহ-উত্তরাধিকারী (coparcener) নিঃসন্তান মারা গেলে, তার বিধবা স্ত্রী তার অংশের উত্তরাধিকারী হতে পারেন এবং নিজের অধিকারে সম্পত্তি বিভাজনের দাবি করতে পারেন।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) মিতাক্ষরা: মিতাক্ষরা স্কুল বিজ্ঞানেশ্বরের মিতাক্ষরা নামক যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতির ভাষ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এটি ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলে (আসাম ও বাংলা ব্যতীত) প্রাধান্য পায়। এটি উত্তরাধিকারে রক্তের সম্পর্কের নৈকট্য (Principle of Propinquity) এর উপর নির্ভর করে।
গ) বেনারস: বেনারস (বানারস) মিতাক্ষরা স্কুলের একটি উপ-স্কুল, যা উত্তর ভারতের বেশিরভাগ অঞ্চলে (গ্রামীণ পাঞ্জাব ব্যতীত) প্রচলিত। এটি আসাম ও বাংলায় প্রাধান্য পায় না।
ঘ) মিথিলা: মিথিলা মিতাক্ষরা স্কুলের আরেকটি উপ-স্কুল, যা তিরহুত এবং উত্তর বিহারের কিছু জেলায় প্রচলিত। এটি আসাম ও বাংলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
অর্থাৎ দায়ভাগ স্কুল আসাম এবং বাংলায় প্রাধান্য পায়, কারণ এটি এই অঞ্চলের স্থানীয় আইনি ও সামাজিক প্রথার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই সঠিক উত্তর হলো খ) দায়ভাগ।

১২,৩৪৪.
তামাদি আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী, বিবাদীর বিদেশে অবস্থানের সময়টুকু-
  1. তামাদি মেয়াদের সাথে যুক্ত হবে
  2. তামাদির মেয়াদ গণনা থেকে বাদ যাবে
  3. দেশে আসার পর প্রথম থেকে পুনরায় তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে
  4. দ্বিগুণ হিসেবে তামাদি মেয়াদের সাথে যুক্ত হবে
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী,
বাদীর যখন মামলা করার অধিকার জন্মায় তখন যদি বিবাদী উক্ত সময়ে সরকারের কার্যের অংশ হিসাবে দেশের বাইরে থাকে, বিবাদী যতদিন বিদেশে থাকবে ততদিন তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে। তাই বলা যায় যে, বিবাদীর বিদেশে অবস্থানের সময়টুকু তামাদি থেকে বাদ যাবে।

Section 13: Exclusion of time of defendant’s absence from Bangladesh and certain other territories-
In computing the period of limitation prescribed for any suit, the time during which the defendant has been absent from Bangladesh and from the territories beyond Bangladesh under the administration of the Government shall be excluded.
১২,৩৪৫.
নিম্নের কোন ব্যক্তি সাক্ষ্য দেওয়ার যোগ্য নয়?
  1. প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি
  2. বিকৃত মস্তিক ব্যক্তি যে প্রশ্নের ধরণ বুঝতে পারে ।
  3. অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু
  4. বিকৃত মস্তিক ব্যক্তি আদালতের মতে যে প্রশ্নের যুক্তিযুক্ত উত্তর দিতে অক্ষম
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ১১৮ ধারা অনুযায়ী শিশু বা পাগল বা মানসিক রোগী সাক্ষ্য দেওয়ার যোগ্য। কোন মানসিক রোগী যোগ্য সাক্ষী হবে যদি সে এমন কোনো মানসিক অবস্থায় থাকে যখন সে তার নিকট জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন বুঝতে বা তার যুক্তি সংগত উত্তর দিতে সক্ষম, সেই ক্ষেত্রে উক্ত মানসিক রোগী যোগ্য সাক্ষী হবে।
১২,৩৪৬.
"ইজতিহাদ" শব্দটির আভিধানিক অর্থ কী?
  1. আনুগত্য করা
  2. আইন প্রণয়ন করা
  3. কুরআনের ব্যাখ্যা করা 
  4. পূর্ণ প্রচেষ্টার সাথে চেষ্টা করা
ব্যাখ্যা

⇒ "ইজতিহাদ" শব্দটি আরবি মূল "জেহেদা (جهد)" থেকে উদ্ভূত, যার আভিধানিক অর্থ হলো "পূর্ণ প্রচেষ্টা বা কঠোর পরিশ্রম করা।" আল্লামা আব্দুল আলীম সিদ্দিকীর লেখা অনুসারে, এটি ইসলামী আইনের পরিভাষায় বোঝায় কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ভিন্ন ভিন্ন আইনি ব্যাখ্যার মধ্যে সঠিকটি নির্বাচন করার চেষ্টা এবং নতুন পরিস্থিতির জন্য নতুন রায় প্রণয়নের প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় একজন মুজতাহিদ কুরআন, হাদিস, এবং অন্যান্য ইসলামী বিজ্ঞানের গভীর জ্ঞানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) আনুগত্য করা: এটি তাকলিদের ধারণার সাথে সম্পর্কিত, যা ইজতিহাদের বিপরীত। তাকলিদ মানে কোনো ইমাম বা আইনি কর্তৃপক্ষের অনুসরণ করা, যেখানে ইজতিহাদ স্বাধীনভাবে চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া।
খ) আইন প্রণয়ন করা: ইজতিহাদ আইন প্রণয়ন নয়, বরং বিদ্যমান কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আইনের ব্যাখ্যা বা প্রয়োগ। নতুন আইন তৈরি করা ইসলামী শরিয়াহর পরিপন্থী।
গ) কুরআনের ব্যাখ্যা করা: ইজতিহাদ শুধু কুরআনের ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি কুরআন, হাদিস এবং অন্যান্য ইসলামী বিজ্ঞানের সমন্বয়ে নতুন সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া।

অর্থাৎ "ইজতিহাদ" এর আভিধানিক অর্থ হলো "পূর্ণ প্রচেষ্টার সাথে চেষ্টা করা," যা ইসলামী আইনের প্রেক্ষাপটে গভীর জ্ঞান ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে শরিয়াহভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে নির্দেশ করে।

[The word 'Ijtihad' has been derived from the root JHD, and literally means "striving with full exertion." In Islamic legal terminology, it denotes an attempt to choose, in the light of the Qur'an and the Sunnah, between two or more differing legal interpretations and to deduce, from the Qur'an and the Sunnah, any new rulings in order to address new legal situations. One who performs "Ijtihad" is called "Mujtahid"]

তথ্যসূত্র: IJTIHAD AND MUJTAHID by Allama Abdul Aleem Siddiqui. [লিঙ্ক]

১২,৩৪৭.
A একজন দোকানদার। সে পণ্য বিক্রয়ের জন্য দোকানের বাইরে ফুটপাতে পণ্য রেখেছে এবং সেখানে অস্থায়ীভাবে একটি ছাউনি নির্মাণ করেছে। সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী উক্ত ছাউনি ভেঙ্গে দিয়ে ফুটপাত হতে উক্ত পণ্যসমূহ জব্দ করেছে। A ৩ মাস পর উক্ত ফুটপাতের দখল উদ্ধারের জন্য সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার মোকদ্দমা দায়ের করে। মোকদ্দমাটি বারিত হবে যেহেতু-
  1. মোকদ্দমাটি সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে
  2. মোকদ্দমাটি নির্ধারিত সময়ের পর দায়ের করা হয়েছে
  3. ফুটপাতের উপর যেহেতু তার কোন স্বত্ব নাই
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারায় সরকারের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা চলে না।
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারায় বলা আছেঃ যথাযথ আইগত পন্থা ব্যতিরেকে যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তবে সে অথবা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে, যদিও তেমন মামলায় অপর কোন স্বত্ব খাড়া করা হতে পারে, তথাপিও।
♦এই ধারার কোন কিছুই তেমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠা এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার জন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা দায়েরের পথে প্রতিবন্ধকতা হবে না ।
♦এই ধারা অনুসারে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না।
♦এই ধারা অনুসারে দায়েরকৃত মামলার প্রদত্ত কোন ডিক্রী বা আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপীল করা যাবে না, অথবা তেমন কোন আদেশ বা ডিক্রী পুনর্বিবেচনার কোন অনুমতি প্রদান করা হবে না।
১২,৩৪৮.
মামলার কোন পর্যায়ে পাবলিক প্রসিকিউটর অভিযোগ প্রত্যাহার করলে আসামিকে "অব্যাহতি" দেওয়া হয়?
  1. রায় ঘোষণার পর
  2. সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে
  3. অভিযোগ প্রণয়নের পূর্বে
  4. অভিযোগ প্রণয়নের পর
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ৪৯৪: মামলা প্রত্যাহারের ফল-
পাবলিক প্রসিকিউটর রায় ঘোষণার পূর্বে আদালতের অনুমতি নিয়ে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত মামলা সাধারণভাবে বা যে সকল অপরাধে তার বিচার হচ্ছে, তার যেকোন এক বা একাধিক অপরাধ প্রত্যাহার করতে পারবেন এবং উক্ত প্রত্যাহারের দরুন-
(ক) অভিযোগ প্রণয়নের পূর্বে তা করা হলে উক্ত এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দান করতে হবে; এবং
(খ) অভিযোগ প্রণয়নের পর তা করা হলে বা এই বিধির অধীন কোন অভিযোগ প্রণয়ন প্রয়োজন না হলে, উক্ত এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে অভিযুক্তকে খালাস দিতে হবে।

Section 494: Effect of withdrawal from prosecution-
Any Public Prosecutor may, with the consent of the Court, before the judgment is pronounced, withdraw from the prosecution of any person either generally or in respect of any one or more of the offences for which he is tried; and upon such withdrawal-
(a) if it is made before a charge has been framed, the accused shall be discharged in respect of such offence or offences;
(b) if it is made after a charge has been framed, or when under Code no charge is required, he shall be acquitted in respect of such offence or offences.
১২,৩৪৯.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ১৬২ ধারা অনুসারে, কোনটি সঠিক?
  1. আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো নথি হাজির করা যাবে না
  2. সাক্ষী আপত্তি জানালে দলিল আদালতে হাজির করার প্রয়োজন নেই
  3. আপত্তি থাকলে আদালত স্বয়ংক্রিয়ভাবে দলিল বাতিল ঘোষণা করবে
  4. সমনপ্রাপ্ত সাক্ষীকে তার দখলস্থ দলিল আদালতে হাজির করতে হবে
ব্যাখ্যা
The Evidence Act, 1872 এর ১৬২ ধারা অনুসারে,
আদালতের আদেশে সমন দেওয়া হলে সাক্ষীকে তার দখলস্থ নথি বা দলিলগুলি আদালতে হাজির করতে হবে। দলিলের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে কোনো আপত্তি থাকলে তা পরবর্তীতে বিবেচনা করা হবে।

যদি কোনো সাক্ষী আদালতের সমনকে অমান্য করেন এবং দলিল হাজির না করেন, তাহলে তিনি আদালতের অবমাননার দায়ে দণ্ডিত হতে পারেন। সুতরাং, দলিলের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে যেকোনো আপত্তি থাকলেও, সাক্ষীকে আদালতের সমন অনুসারে দলিল হাজির করতে হবে।

Section-162. Production of documents:
A witness summoned to produce a document shall, if it is in his possession or power, bring it to Court, notwithstanding any objection which there may be to its production or to its admissibility. The validity of any such objection shall be decided on by the Court. 

The Court, if it sees fit, may inspect the document, unless it refers to matters of State, or take other evidence to enable it to determine on its admissibility.

Translation of documents:
If for such a purpose it is necessary to cause any document to be translated, the Court may, if it thinks fit, direct the translator to keep the contents secret, unless the document is to be given in evidence: and, if the interpreter disobeys such direction, he shall be held to have committed an offence under section 166 of the Penal Code.
১২,৩৫০.
বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মধ্যস্থতা পদ্ধতিতে তৃতীয় পক্ষ কী ভূমিকা পালন করে?
  1. রায় প্রদান করে
  2. মামলা পরিচালনা করে
  3. পক্ষগণের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়
  4. আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা আনতে সাহায্য করে
ব্যাখ্যা

• বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির নিম্ন বর্ণিত পন্থা রয়েছে-
- আলাপ-আলোচনা (Negotiation);
- মধ্যস্থতা (Mediation);
- সালিশী (Arbitration)।

১. আলাপ-আলোচনা [Negotiation]-
এমন একটি পদ্ধতি যেখানেই কোন বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে বিরোধের দুই পক্ষই যখন তৃতীয় পক্ষের সাহায্য ছাড়াই একটি সুবিধাজনক পরিণতির দিকে পৌঁছে বা একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে সমাধান করে থাকে। আলাপ-আলোচনার [Negotiation] মাধ্যমে শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ২১০(২) ২১০(৩) উপধারায় বলা আছে।

২. মধ্যস্থতা কার্যক্রম [Mediation]-
এ পদ্ধতিতে কোন বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে নিরপেক্ষ তৃতীয় কোন পক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিযুক্ত করা হয় এবং কোন পক্ষের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে আলাপ- আলোচনার মাধ্যমে দুটি পক্ষকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা হয়। দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯[ক] এবং অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ২২ ধারাতে মধ্যস্থতা বিষয়ে বলা হয়েছে।

৩. সালিশ প্রক্রিয়া [Arbitration]-
সালিশ [Arbitration] প্রক্রিয়াটি অনেকটা মধ্যস্থতা পদ্ধতির অনুরূপ। এ কারণেই সালিশ কার্যক্রম [Arbitration] কে মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উন্নত সংস্করণ বলে মনে করা হয়। কেননা মধ্যস্থতা কার্যক্রমে মধ্যস্থতাকারী বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে পক্ষগণের উপর কোন পন্থা চাপিয়ে দিতে পারেন কিন্তু সালিশ কার্যক্রমের সালিশকারী (Conciliator) পক্ষগণের ওপর রায় চাপিয়ে দিতে পারে। এ ধরনের রায়কে রোয়েদাদ [Award] বলা হয়। সালিশ [Arbitration] প্রক্রিয়াটি সালিশ আইন-২০০১ দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ আইনের ২১০ ধারায় বিরোধ সালিসীর (Conciliation) মাধ্যমে নিষ্পত্তি কথা বলা হয়েছে।

১২,৩৫১.
'খ' একজন যুদ্ধবন্দীকে জোরপূর্বক সামরিক কাজে বাধ্য করে। দণ্ডবিধির ৩৭৪ ধারার অধীনে এর সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৬ মাস কারাদণ্ড
  2. ১ বছর কারাদণ্ড
  3. ২ বছর কারাদণ্ড
  4. ৩ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৪ ধারা- বেআইনী শ্রমে বাধ্য করা:
(১) কোন ব্যক্তি যদি কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রম দান করতে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

(২) কোন ব্যক্তি যদি কোন যুদ্ধবন্দী বা অপর কোন আশ্রিত ব্যক্তিকে বাংলাদেশ সশ্রম বাহিনীতে কার্য করতে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা:- এই “যুদ্ধবন্দী" এবং "আশ্রিত ব্যক্তি" অভিব্যক্তিসমূহ যথাক্রমে ১৯৪৯ সনের ১২ই আগষ্ট তারিখের যুদ্ধবন্দীর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত জেনেভা সম্মেলনের-৪ দফা এবং ১৯৪৯ সনের ১২ই আগষ্ট তারিখের যুদ্ধকালে বেসামরিক ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা সম্পর্কিত জেনেভা সম্মেলনের ৪ দফা মোতাবেক তৎসমূহের প্রতি আরোপিত অর্থের অনুরূপ অর্থ দ্যোতক হবে।
১২,৩৫২.
নতুন কোনো বাদী বা বিবাদীকে পক্ষভুক্ত করলে মামলাটি তার ক্ষেত্রে দায়ের হয়েছে বলে গণ্য হবে-
  1. মামলার মূল দাখিল তারিখে
  2. পক্ষভুক্তির তারিখে
  3. নোটিশ প্রদানের তারিখে
  4. আদালতের নির্দেশের তারিখে
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের ধারা ২২ এর বিধান নতুন বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করার ফলাফল:-
(১) যেক্ষেত্রে মামলা দায়ের করার পর নতুন কোনো বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করা হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি যেই তারিখে অনুরূপ পক্ষভুক্ত হয়েছে, তার জন্য মামলাটি সেই তারিখে দায়ের করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।

(২) যেক্ষেত্রে মামলা মুলতবি থাকাকালে স্বত্বার্পণ বা কোনো স্বত্ব হস্তান্তরের কারণে কাউকে পক্ষভুক্ত বা স্থলাভিষিক্ত করা হয় অথবা যেক্ষেত্রে বাদীকে বিবাদী কিংবা বিবাদীকে বাদীতে রূপান্তরিত করা হয়, সেক্ষেত্রে (১) উপধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না।

১২,৩৫৩.
'A' সিভিল সার্ভিসে রয়েছে বলে মিথ্যা ভান করে ইচ্ছাকৃতভাবে 'X'-কে বঞ্চনা করে এবং তাকে ধারে সম্পত্তি দিতে X-কে অসাধুভাবে প্ররোচিত করে। অথচ এই সম্পত্তির মূল্য প্রদানের ইচ্ছা 'A' এর নাই। এই ক্ষেত্রে 'A' কী অপরাধ করেছে?
  1. দস্যুতা
  2. প্রতারণা
  3. বলপূর্বক গ্রহণ
  4. অপরাধমূলক আত্মসাৎ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারার বিধান প্রতারণা:
- যদি কেউ কোন ব্যক্তিকে ছলনা করে প্রবঞ্চনামূলকভাবে বা অসাধুভাবে সে ব্যক্তিকে অন্য কাউকে কোন সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা কোন ব্যক্তির কোন সম্পত্তি রেখে দেওয়াতে সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনুরূপ প্রতারিত ব্যক্তিকে এমন কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে প্ররোচিত করে যে কাজ সে ব্যক্তি অনুরূপভাবে প্রতারিত না হলে করত না বা করা হতে বিরত থাকত না এবং যে কাজ করার বা করা হতে বিরত থাকার ফলে তার দেহের, মনের খ্যাতির বা সম্পত্তির দিক হতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তবে অনুরূপ ছলনাকারী প্রতারণা করেছে বলে গণ্য হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation):- অসাধুভাবে তথ্য গোপন করা এই ধারার তাৎপর্যাধীনে ছলনা বলে পরিগণিত হবে।

উদাহরণ:
(ক) ক সিভিল সার্ভিসে রয়েছে বলে মিথ্যা ভান করে ইচ্ছাকৃতভাবে চ-কে বঞ্চনা করে এবং তাকে ধারে সম্পত্তি দিতে চ-কে অসাধুভাবে প্ররোচিত করে। অথচ এই সম্পত্তির মূল্য প্রদানের ইচ্ছা তার নাই। ক প্রতারণা করেছে।

(খ) কোন পণ্যের উপর কোন নকল মার্ক দিয়ে ক ইচ্ছাকৃতভাবে চ-কে প্রবঞ্চনামূলক এইরূপ বিশ্বাস করায় যে, পণ্যটি কোন প্রসিদ্ধ প্রস্তুতকারকের তৈরি। এইভাবে ক চ-কে সে পণ্যটি ক্রয় করতে ও উহার জন্য মূল্য প্রদান করতে প্ররোচিত করে। ক প্রতারণা করেছে।
(গ) ক চ-কে কোন দ্রব্যের একটি মিথ্যা নমুনা দেখিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে চ-কে প্রবঞ্চনামূলকভাবে এইরূপ বিশ্বাস করায় যে দ্রব্যটি নমুনার অনুরূপ। এইভাবে সে অসাধুভাবে চ-কে সে দ্রব্যটি ক্রয় করতে ও উহার মূল্য প্রদান করতে প্ররোচিত করে। ক প্রতারণা করেছে।
(ঘ) ক কোন দ্রব্যের মূল্যস্বরূপ এমন কোন সংস্থার নামে একটি বিল দেয় যেখানে সে টাকা রাখে এবং ক জানে যে বিলটি প্রত্যাখ্যাত হবে। এইভাবে সে চ-কে ইচ্ছাকৃত ভাবে প্রবঞ্চনায় ফেলে তাকে অসাধুভাবে দ্রব্যটি প্রদানে প্ররোচিত করে। দ্রব্যটির মূল্য প্রদানের ইচ্ছা তার নাই। ক প্রতারণা করেছে।
(ঙ) ক যেসব দ্রব্য হীরা নয় বলে জানে সে সব দ্রব্যকে হীরা বলে বর্ণনা দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে চ-কে প্রবঞ্চনা করে এবং এইভাবে অসাধু উপায়ে চ-কে টাকা ধার দিতে প্ররোচিত করে । ক প্রতারণা করেছে।
১২,৩৫৪.
দণ্ডবিধির অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীকে ক্ষতিসাধনের হুমকি দেওয়ার শাস্তি কী হতে পারে?
  1. সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড
  2. সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড
  3. সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড
  4. সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১৮৯ ধারা অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীকে বা তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে ক্ষতিসাধনের হুমকি দেওয়ার শাস্তি হতে পারে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড, বা উভয়ই।
- সঠিক উত্তর: খ) সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ১৮৯ ধারার বিধান সরকারি কর্মচারীকে ক্ষতিসাধনের হুমকি:- কোন সরকারি কর্মচারী হিসেবে তার সরকারি কর্তব্য সম্পাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন কাজ করতে প্রবৃত্ত করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন কাজ করা হতে বিরত হওয়ার বা করতে বিলম্ব করার জন্য বাধ্য করার উদ্দেশ্যে, কোন ব্যক্তি যদি উক্ত সরকারি কর্মচারীকে অথবা অন্য যে কোন ব্যক্তির সাথে উক্ত সরকারি কর্মচারীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট, সে অন্য ব্যক্তিকে ক্ষতিসাধনের হুমকি প্রদর্শন করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 189. Threat of injury to public servant:- Whoever holds out any threat of injury to any public servant, or to any person in whom he believes that public servant to be interested, for the purpose of inducing that public servant to do any act, or to forbear or delay to do any act, connected with the exercise of the public functions of such public servant, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

১২,৩৫৫.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় প্রমাণিত (proved), মিথ্যা প্রমাণিত (disproved) এবং অপ্রমাণিত (not to be proved) এর সংজ্ঞা রয়েছে?
  1. সাক্ষ্য আইনের ২ ধারায়
  2. সাক্ষ্য আইনের ৩ ধারায়
  3. সাক্ষ্য আইনের ৪ ধারায়
  4. সাক্ষ্য আইনের ৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩ ধারায় কতিপয় শব্দের ব্যাখ্যা রয়েছে যার, ঐ গুলাতে প্রমাণিত (proved), মিথ্যা প্রমাণিত (disproved) এবং অপ্রমাণিত (not to be proved) এর সংজ্ঞা রয়েছে।

⇒ প্রমাণিত (proved):
কোন ঘটনা তখনই প্রমাণিত বলা হয় যখন আদালত এর উপর আনীত বিষয়সমূহ বিবেচনা করে ঘাটনাটির অস্তিত্ব আছে বলে হয় বিশ্বাস করেন অথবা এর অস্তিত্ব এতই সম্ভব বিবেচনা করেন যে, একজন বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন মানুষ বিশেষ ক্ষেত্রের পরিস্থিতি বিবেচনা করে এর অস্তিত্ব অনুমান করতে পারেন। 

⇒ মিথ্যা প্রমানিত (disproved): কোন ঘটনা তখনই মিথ্যা প্রমাণিত বলা হয় যখন আদালত এর উপর আনীত বিষয়সমূহ বিবেচনা করে ঘটনাটির অস্তিত্ব নেই বলে বিশ্বাস করেন অথবা এর অস্তিত্বহীনতা এতই সম্ভব বিবেচনা করেন যে, একজন বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন মানুষ বিশেষ ক্ষেত্রের পরিস্থিতি বিবেচনা করে এর অস্তিত্ব নেই বলে অনুমান করতে পারেন।

⇒ অপ্রমাণিত (not to be proved): কোন ঘটনা তখনই অপ্রমাণিত বলা হয় যখন তা প্রমাণিত বা মিথ্যা প্রমাণিত কোনটিই হয় না। (A fact is said not to be proved when it is neither proved nor disproved).

----------------
The Evidence Act,1872: Section 3- Interpretation-clause:
⇒ A fact is said to be proved when, after considering the matters before it, the Court either believes it to exist, or considers its existence so probable that a prudent man ought, under the circumstances of the particular case, to act upon the supposition that it exists.

⇒ A fact is said to be disproved when, after considering the matters before it, the Court either believes that it does not exist, or considers its non-existence so probable that a prudent man ought, under the circumstances of the particular case, to act upon the supposition that it does not exist.

⇒ A fact is said not to be proved when it is neither proved nor disproved.
১২,৩৫৬.
স্থাবর সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশে ক্ষতিপূরণের মামলার তামাদিকাল কত?
  1. ৬ বছর
  2. ২ বছর
  3. ১ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৩৯ অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ (trespass) করার জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ হল ৩ বছর।
- অর্থাৎ, যদি কেউ অন্যের স্থাবর সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ করে এবং এর ফলে কোনো ক্ষতি হয়, তাহলে অনধিকার প্রবেশের তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা দায়ের করতে হবে।
১২,৩৫৭.
একটি মামলা বর্তমানে জেলা আদালতে বিচারাধীন। হাইকোর্ট বিভাগ কী করতে পারে?
  1. মামলাটি প্রত্যাহার করে নিজে বিচার করতে পারে
  2. মামলাটি অন্য কোনো উপযুক্ত আদালতে স্থানান্তর করতে পারে
  3. মামলাটি পূর্ববর্তী আদালতে ফেরত পাঠাতে পারে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• The Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারা ২৪- স্থানান্তর ও প্রত্যাহারের সাধারণ ক্ষমতা:
(১) মামলার যে কোন পক্ষের আবেদনক্রমে, সকলপক্ষকে নোটিশ দিয়া এবং তাদের কারো বক্তব্য শুনার ইচ্ছা করলে তা শ্রবণ করে অথবা কোন নোটিশ না দিয়া স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে হাইকোর্ট বিভাগ অথবা জেলা আদালত যেকোনো স্তরে -
ক) তার সম্মুখে বিচারাধীন কোন মামলা, আপীল বা অন্যান্য কার্যক্রম তার অধীনস্থ এবং ইহা বিচার করার এখতিয়ারসম্পন্ন কোন আদালতে বিচার বা নিস্পত্তির জন্য স্থানান্তরিত করতে পারেন, অথবা

খ) তার অধীনস্থ কোন আদালত হতে কোন মামলা, আপীল বা অন্যান্য কার্যক্রম প্রত্যাহার করতে পারেন, এবং
১. ইহার বিচার বা নিস্পত্তি করতে পারেন, অথবা
২. ইহার বিচার বা নিম্পত্তি করার উপযুক্ত কোন আদালতে বিচার বা নিস্পত্তির জন্যে স্থানান্তর করতে পারেন, অথবা
৩. যে আদালত হতে উহা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, সেই আদালতে বিচার বা নিস্পত্তির জন্য প্রেরণ করতে পারেন।
১২,৩৫৮.
শিশু আইন, ২০১৩ এর অধীন সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন কে দাখিল করবেন?
  1. শিশুকল্যাণ বোর্ড
  2. শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা
  3. প্রবেশন কর্মকর্তা
  4. সমাজসেবা কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা
শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৩১: সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন-
(১) আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুকে শিশু-আদালতে হাজির করিবার অনধিক ২১ (একুশ) দিনের মধ্যে প্রবেশন কর্মকর্তা, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, শিশু-আদালতে একটি সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করিবেন এবং উহার অনুলিপি নিকটস্থ বোর্ড-এ ও অধিদপ্তরে দাখিল করিবেন। 

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক শিশুর পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আর্থিক, মনস্তাত্ত্বিক, নৃতাত্ত্বিক ও শিক্ষাগত যোগ্যতা, পটভূমি এবং কোন্ অবস্থায় ও এলাকায় সে বসবাস করে এবং কোন্ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে, ইত্যাদির বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত থাকিবে। 

(৩) প্রবেশন কর্মকর্তার সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনসহ শিশু সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিবেদন গোপনীয় বলিয়া গণ্য হইবে।
১২,৩৫৯.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ২৪ অনুযায়ী, কোন ধরনের স্বীকারোক্তি অগ্রহণযোগ্য?
  1. পুলিশের কাছে করা স্বীকারোক্তি
  2. স্বেচ্ছামূলক স্বীকারোক্তি
  3. ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে করা স্বীকারোক্তি
  4. ভীতি, প্রলোভন বা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে আদায়কৃত স্বীকারোক্তি
ব্যাখ্যা
→ সাক্ষ্য আইনের ধারা ২৪ অনুযায়ী, যে স্বীকারোক্তি ভীতি, প্রলোভন, বা প্রতিশ্রুতি দ্বারা আদায় করা হয়, সেটি আদালতে অগ্রহণযোগ্য হবে। যদি স্বীকারোক্তি এমনভাবে আদায় করা হয় যা আসামীর উপর অবৈধ চাপ সৃষ্টি করে, যেমন ভয় দেখানো বা মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া, তবে তা আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রহণযোগ্য নয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারায় দেয়া আছে:
"দোষ স্বীকারোক্তি তখনই গ্রহণযোগ্য হইবে না যখন এইরূপ প্রতীয়মান হইবে যে, ইহা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলক আশ্বাস প্রদান করিয়া আদায় করা হইয়াছে।"
অর্থাৎ, যদি দোষ স্বীকার করানোর জন্য কোনো ভীতি দেখানো হয়, বা মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়, তাহলে সেই স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য হবে না।
অন্যদিকে,
যদি দোষ স্বীকার স্বেচ্ছামূলক এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হয় বা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশের নিকট হয়, তাহলে সেগুলো গ্রহণযোগ্য হবে। তবে প্রমাণিত হলে যে স্বীকারোক্তি ভীতি বা প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে, তখন তা অগ্রহণযোগ্য হবে।

সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারা - প্রলোভন, ভীতি বা প্রতিশ্রুতি দ্বারা সৃষ্ট স্বীকারোক্তি, যখন ফৌজদারি কার্যবিধিতে অপ্রাসঙ্গিক:
যদি কোনো আসামী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সাথে সম্পর্কিত কোনো প্রলোভন, ভীতি বা প্রতিশ্রুতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে স্বীকারোক্তি প্রদান করেন এবং আদালত মনে করেন যে, এই স্বীকারোক্তি কোনো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আসামীকে লাভ বা ক্ষতি থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানোর জন্য প্রদান করা হয়েছে, তবে সেই স্বীকারোক্তি ফৌজদারি কার্যবিধিতে প্রাসঙ্গিক হবে না।
--------------------
⇒ The Evidence Act, 1872 section 24. Confession caused by inducement, threat or promise, when irrelevant in criminal proceeding:
A confession made by an accused person is irrelevant in a criminal proceeding, if the making of the confession appears to the Court to have been caused by any inducement, threat or promise having reference to the charge against the accused person, proceeding from a person in authority and sufficient, in the opinion of the Court, to give the accused person grounds which would appear to him reasonable for supposing that by making it he would gain any advantage or avoid any evil of a temporal nature in reference to the proceedings against him.
১২,৩৬০.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ______-এ ডিজিটাল রেকর্ড সম্পর্কিত মৌখিক স্বীকৃতির বিষয় উল্লেখ আছে।
  1. ২২ক 
  2. ৪৫ক 
  3. ৪৭ক 
  4. ৬৫ক
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ২২ক (Section 22A) এ স্পষ্টভাবে বলা আছে: “যখন ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক হবে না – যদি না ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা/সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে।”
- অর্থাৎ সাধারণত কেউ মুখে বলল যে “এই অডিও/ভিডিও/চ্যাটে আমি এটা বলেছি” – এই মৌখিক স্বীকৃতি আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে না, যদি না ডিজিটাল রেকর্ডটির সত্যতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ২২ক ধারার বিধান: যখন ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক:-দাখিলকৃত ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা নিয়ে কোন প্রশ্ন উত্থাপন না হলে, ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু হিসাবে মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয়।
----------
⇒The Evidence Act, 1872- Section 22A: When oral admissions as to contents of digital records are relevant: Oral admissions as to the contents of digital records are not relevant, unless the genuineness of the digital record produced is in question.

১২,৩৬১.
তামাদি আইনের ৫ ধারায় তামাদি মওকুফের জন্য আবেদন মঞ্জুর করা আদালতের জন্য কী ধরনের?
  1. বাধ্যতামূলক
  2. আদেশসূচক
  3. স্বেচ্ছাধীন
  4. নির্দেশনামূলক
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী ৫টি ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর আদালতকে যথেষ্ট কারণ (sufficient cause) দেখিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারলে, আদালত বিলম্ব মওকুফ করতে পারে। একে Condonation of delay বা বিলম্ব মওকুফ করা বলে।

১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান নিম্নোক্ত ৫টি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য -
i) আপিল (Appeal);
ii) আপিল করার অনুমতি দরখাস্ত (Leave to appeal);
iii) রায়ের পুনর্বিচার দরখাস্ত (Revision);
iv) রায়ের পুনরীক্ষণের দরখাস্ত (Review);
v) অন্য কোন দরখাস্তে ( Any other application)।

১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান প্রযোজ্য নয়-
১. বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে।
২. মূল মামলার ক্ষেত্রে। যেমন- স্বত্ব ঘোষণা, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, অগ্রক্রয়ের মোকদ্দমা ইত্যাদি।

তামাদি আইনের ৫ ধারায় তামাদি মওকুফের জন্য আবেদন মঞ্জুর করা আদালতের স্বেচ্ছাধীন।
১২,৩৬২.
দণ্ডবিধির ১২১ ধারায় কোন কাজটি দণ্ডনীয়?
  1. রাষ্ট্রের আইন অমান্য করা
  2. দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা
  3. সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অংশ নেওয়া
  4. জনগণের অধিকার হরণ করা
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ১২১ ধারায় বলা হয়েছে,
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বা যুদ্ধ ঘোষণার উদ্যোগ বা যুদ্ধ ঘোষণায় সহায়তা করলে সেই ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

Section 121- Waging or attempting to wage war, or abeting waging of war, against Bangladesh:
Whoever wages war against Bangladesh, or attempts to wage such war, or abets the waging of such war, shall be punished with death, or imprisonment for life, and shall also be liable to fine.
১২,৩৬৩.
The Penal Code, 1860 এর কোন ধারার অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদন্ড হবে না?
  1. ৩০৩
  2. ৩০৭
  3. ৩৬৪
  4. ৩৯৬
ব্যাখ্যা
♦The Penal Code, 1860 এর ৩৬৪ ধারা মতে খুন করিবার উদ্দেশ্যে মনুষ্য হরণ কিংবা অপহরণ কোন ব্যক্তি যদি কাউকে খুন করার জন্য অপহরণ করে অথবা তাকে এমনভাবে রাখার জন্য অপহরণ করে যাতে তার খুন হওয়ার আশংকা দেখা দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে। অর্থাৎ এই ধারার অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদন্ড হবে না।
♦তবে মৃত্যুদন্ডযোগ্য অপরাধের জন্য ১০টি ধারা রয়েছে। সেগুলো হলো ১২১, ১৩২, ১৯৪, ৩০২, ৩০৩, ৩০৫, ৩০৭, ৩২৬ক, ৩৬৪ক, ৩৯৬।
১২,৩৬৪.
“Due Process of Law” ধারণাটি সর্বপ্রথম কোন সনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়?
  1. Bill of Rights 1689
  2. Magna Carta 1215
  3. US Constitution 1787
  4. French Declaration 1789
ব্যাখ্যা

⇒ "Due Process of Law" বা "যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া" ধারণাটির মূল উৎস হলো ম্যাগনা কার্টা (Magna Carta), ১২১৫। এটি ইংল্যান্ডের রাজা জনের সাথে বিদ্রোহী ব্যারনদের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক সনদ। ইংল্যান্ডের রাজা জন কর্তৃক স্বাক্ষরিত এই সনদ ম্যাগনা কার্টার ধারা ৩৯ (Clause 39) এ বলা হয়েছে:
"No free man shall be seized or imprisoned, or stripped of his rights or possessions, or outlawed or exiled, or deprived of his standing in any other way, nor will we proceed with force against him, or send others to do so, except by the lawful judgment of his equals or by the law of the land."
- এখানে "by the law of the land" (ভূমির আইন অনুযায়ী) বাক্যাংশটিই হলো "Due Process of Law" ধারণার প্রাথমিক রূপ। এর অর্থ হলো, রাজা বা সরকার কোনো ব্যক্তিকে স্বেচ্ছাচারীভাবে গ্রেপ্তার, কারাদণ্ড বা তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে না; এর জন্য দেশের প্রতিষ্ঠিত আইন অনুসরণ করা আবশ্যক।
- ১৭শ শতকে বিখ্যাত ইংরেজ আইনবিদ স্যার এডওয়ার্ড কোক (Sir Edward Coke) "law of the land" শব্দটিকে "Due Process of Law" হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তার এই ব্যাখ্যা ইংরেজ আইনে এবং পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনি ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ৫ম ও ১৪তম সংশোধনীতে এই ধারণাটি সরাসরি "Due Process of Law" শব্দে স্থান পায়।

অন্যান্য  অপশনগুলোর:
ক) Bill of Rights 1689: এটি ইংল্যান্ডের রাজতন্ত্রের ক্ষমতা সীমিত করে এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রতি গুরুত্বারোপ করলেও "Due Process" ধারণার উৎস নয়। এটি ম্যাগনা কার্টার দেওয়া অধিকারগুলোকে আরও শক্তিশালী করে।
গ) US Constitution 1787: মার্কিন সংবিধানে "Due Process of Law" ধারণাটি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, কিন্তু এটি সর্বপ্রথম উল্লেখিত হয়নি। এটি ম্যাগনা কার্টা থেকে ধারণাটি গ্রহণ করেছে।
ঘ) French Declaration 1789: এটি মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, তবে এটি অ্যাংলো-আমেরিকান আইনি ঐতিহ্যের "Due Process of Law" ধারণার বাইরে।
সুতরাং, "Due Process of Law" ধারণার সর্বপ্রথম এবং মৌলিক উল্লেখ পাওয়া যায় ম্যাগনা কার্টা, ১২১৫-এ (Magna Carta 1215)।

১২,৩৬৫.
'চুক্তিভঙ্গের প্রতি মুহূর্তেই নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হতে থাকে' এটি তামাদি আইনের কত ধারার বিধান-
  1. ২১ ধারার
  2. ২২ ধারার
  3. ২৩ ধারার
  4. ২৫ ধারার
ব্যাখ্যা
♦The Limitation Act, 1908 এর ২৩ ধারার বিধান অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় করাঃ

যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেইক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নূতন করিয়া তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইতে শুরু করে।

 ♦এমন অনেক চুক্তি রহিয়াছে, যাহা ভঙ্গ হইলে প্রতি মুহূর্তে নালিশের কারণ উদ্ভব হইতে পারে। চুক্তি বহির্ভূত এমন অনেক লোকসান রহিয়াছে, যাহা প্রতিমুহূর্তে নালিশের কারণের উদ্ভব ঘটায়। এইসব ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ প্রতি মুহূর্তে বৃদ্ধি পায়।
১২,৩৬৬.
দণ্ডিত হওয়ার ক্ষেত্র ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে শান্তি রক্ষার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা অন্য কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কত দিনের জন্য মুচলেকার আদেশ দিতে পারে?
  1. ২ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারা মতে যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি শান্তি ভঙ্গ করতে পারে বা সর্বসাধারণের প্রশান্তি বিনষ্ট করতে পারে, সেক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা অন্য কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত ব্যক্তিকে অনধিক ১ বছর সময়ের জন্য শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকার আদেশ দিতে পারে।

♦ অর্থাৎ ১০৭ ধারামতে দণ্ডিত হওয়ার ক্ষেত্র ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে শান্তি রক্ষার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা অন্য কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক ১ বছর সময়ের জন্য মুচলেকার আদেশ দিতে পারে।

♦ শান্তিভঙ্গ বা প্রশান্তি বিনষ্ট হওয়ার আশংকা কোন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের স্থানীয় এখতিয়ারের সীমার মধ্যে না হলে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ব্যতীত অন্য কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ১০৭ ধারার অধীন মুচলেকার আদেশ দিতে পারবে না।

♦ যে ম্যাজিস্ট্রেটের ১০৭ ধারার অধীন কাজ করার ক্ষমতা নাই, তিনি যদি যুক্তিসংগতভাবে মনে করেন যে, কোন ব্যক্তি শান্তিভঙ্গ করতে পারে বা সর্বসাধারণের শান্তি বিনষ্ট করতে পারে এবং উক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা ব্যতীত উক্ত শান্তিভঙ্গ রোধ করা যায় না, তাহলে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট কারণ লিপিবদ্ধ করে তাকে গ্রেফতারের জন্য পরোয়ানা প্রদান করে উক্ত ব্যক্তিকে ক্ষমতাবান কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করতে পারবেন।
১২,৩৬৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশসমূহ (Orders) কত নং তফসিলে উল্লেখ আছে?
  1. ২য়
  2. ৩য়
  3. ১ম
  4. ৫ম
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধিতে মোট ৫১ টি আদেশ(Order) আছে। আদেশসমূহ ১ম তফসিলে উল্লেখ আছে

• দেওয়ানি কার্যবিধিতে বর্তমানে মোট ১৫৮ টি ধারা এবং ৩টি তফসিল  বলবৎ আছে। তফসিলসমূহ (Schedules]-

প্রথম তফসিল: আদেশ ও বিধিসমূহ [Orders and Rules] 
দ্বিতীয় তফসিল: বাতিল
তৃতীয় তফসিল: কালেক্টর কর্তৃক ডিক্রি জারি
চতুর্থ তফসিল: সংশোধিত আইনসমূহ
পঞ্চম তফসিল: বাতিল
১২,৩৬৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৯ বিধি-১৩ক অনুযায়ী, একতরফা ডিক্রি রদের আবেদনের জন্য সর্বোচ্চ কত টাকা খরচ প্রদান করতে হবে?
  1. ১০০০ টাকা
  2. ২০০০ টাকা
  3. ৩০০০ টাকা
  4. ৫০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ আদেশ ৯, বিধি ১৩ক: সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ/বাতিল (Directly setting-aside exparte decree)-
বিচার ত্বরান্বিত ও বিলম্ব দূর করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির ৯নং আদেশের ১৩ক বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরুদ্ধে সরাসরি রদের আবেদন করতে পারবে। সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের জন্য বিবাদীকে নিম্নলিখিত ২টি শর্ত পূরণ করতে হবে-
i) ৩০ দিনের মধ্যে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের আবেদন করতে হবে; এবং
ii) অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদান করতে হবে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, আদেশ-৯ বিধি-১৩ক: সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ/বাতিল:
(১) বিধি-১৩ বা অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, আদালত বিলম্ব এড়ানোর এবং নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে বিবাদীকে বিধি-১৩ অনুযায়ী যথেষ্ট কারণ প্রমাণের জন্য সাক্ষ্য উপস্থাপনের প্রয়োজন ছাড়াই সরাসরি ডিক্রি রদ করতে পারবে, তবে আদালত বিবাদীকে অনধিক তিন হাজার টাকা খরচ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবে:
শর্ত থাকে যে, আদালত এই বিধির অধীনে ডিক্রি রদ করবে না, যদি না বিবাদী, যিনি আদালতে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দাখিল করেছেন, ডিক্রি জারির তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ডিক্রি রদের জন্য একটি আবেদনপত্র, অফিডেভিট সহ, আদালতে জমা দেন।
আরও শর্ত থাকে যে, একই বিবাদীর পক্ষ থেকে এই বিধির অধীনে একাধিকবার ডিক্রি রদ করা যাবে না।
(২) উপ-বিধি (১) অনুযায়ী একতরফা ডিক্রি রদের আদেশ জারি হওয়ার সাথে সাথে আদালত বাদীকে এ বিষয়ে নোটিশ প্রদান করবে, এবং এর খরচ বিবাদী বহন করবে।
------------- 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order 9 Rule 13A: Directly setting aside ex parte decree-
(1) Notwithstanding anything contained in rule 13 or any other law, the Court may, in order to avoid delay and expedite disposal, directly set aside the decree without requiring the defendant to adduce evidence to satisfy it about sufficient causes as required under rule 13 but requiring him to pay such cost not exceeding three thousand take as it may deem appropriate and determine:
that the decree under this rule shall not be set aside unless an application, supported by affidavit, praying for setting aside the decree is made the Court within thirty days of the date on which the decree is passed by the defendant who appeared and filed written statement:
Provided further that no decree shall be set aside more than once under this rule at the instance of the same defendant.
2) As soon as an order under sub-rule (1) is made setting aside an ex parte decree, the Court shall cause notice thereof to be served at the cost of the defendant upon the plaintiff.
১২,৩৬৯.
Doctrine of Cy-près প্রয়োগের শর্ত কী?
  1. রাষ্ট্র ওয়াকফের আয় ব্যবহার করতে চাইলে
  2. ওয়াকফের প্রতিষ্ঠাতা মৃত্যুর আগে নির্দেশ না দিলে
  3. ওয়াকফ প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন সম্পত্তি প্রয়োজন হলে
  4. ওয়াকফ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি অর্জন সম্ভব না হলে
ব্যাখ্যা

Doctrine of Cy-pres শব্দটি ফরাসি থেকে এসেছে, যার অর্থ "as near as possible"। এটি ইসলামী আইন এবং বিশেষত ওয়াকফের (Waqf) ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুসলিম আইনে এই নীতি ব্যবহৃত হয় যখন ওয়াকফ প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্দেশ্য কোনো কারণে অর্জন করা সম্ভব হয় না। তখন সেই উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শরিয়াহ সম্মত একটি বিকল্প উদ্দেশ্য পূরণ করা হয়।

Doctrine of Cy-pres-এর মূল বৈশিষ্ট্য
মূল উদ্দেশ্যের পরিবর্তে নিকটবর্তী উদ্দেশ্য:
ওয়াকফের উদ্দেশ্য যদি কার্যকর করা সম্ভব না হয়, তবে এই নীতির মাধ্যমে ওয়াকফের আয়ের ব্যবহার এমন কোনো উদ্দেশ্যে করা হয় যা মূল উদ্দেশ্যের খুব কাছাকাছি।

শরিয়াহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ:
বিকল্প উদ্দেশ্য অবশ্যই ইসলামী শরিয়াহর বিধান অনুযায়ী হতে হবে। কোনো অশরিয়াহ কাজে এটি ব্যবহার করা যাবে না।

নিরপেক্ষ এবং সুবিবেচনা:
এই নীতির প্রয়োগ তখনই হয় যখন ওয়াকফের প্রতিষ্ঠাতার ইচ্ছা পূরণ করা পুরোপুরি সম্ভব নয় এবং সেই ইচ্ছার পরিবর্তে অন্য একটি যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প খুঁজে বের করতে হয়।

১২,৩৭০.
আদেশ ৯, বিধি ৯ক এর বিধান মতে সরাসরি খারিজ আদেশ রদ বা বাতিল করতে কত বার আবেদন করতে পারবে?
  1. ১ বার
  2. ২ বার
  3. ৩ বার
  4. নির্ধারিত সংখ্যা নেই
ব্যাখ্যা
♦ আদেশ-৯, বিধি-৯ক: সরাসরি খারিজ আদেশ রদ বা বাতিল (Directly setting-aside dismissal )- বিলম্ব এড়ানো ও বিচার তরান্বিত করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ নং আদেশের ৯ক বিধিমতে বাদী উক্ত খারিজ আদেশের বিরূদ্ধে সরাসরি রদ বা বাতিলের আবেদন করতে পারবে, তবে শর্ত-
 খারিজ আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে সরাসরি খারিজ আদেশ রদ বা বাতিলের আবেদন করতে হবে; এবং অনধিক ১০০০ টাকা খরচ প্রদান করতে হবে।
♦ সরাসরি খারিজ রদের আদেশ একবারের বেশি হবে না।
১২,৩৭১.
কোন আইনে মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রীকে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে?
  1. স্ত্রী অধিকার আইন, ১৯৪৭
  2. সম্পত্তি অধিকার আইন, ১৯৫৭
  3. উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫
  4. সম্পত্তিতে হিন্দু মহিলার অধিকার আইন, ১৯৩৭
ব্যাখ্যা
সম্পত্তিতে হিন্দু মহিলার অধিকার আইন, ১৯৩৭ এর ধারা ৩- সম্পত্তির উত্তরাধিকার হস্তান্তর:
(১) হিন্দু আইনের দায়ভাগ মতবাদের অনুসারী কোন হিন্দু ব্যক্তি উইল সম্পাদন ব্যতীত কোন প্রকার সম্পত্তি রাখিয়া মৃত্যুবরণ করিলে এবং হিন্দু আইনের অন্যান্য মতবাদের বা প্রথা আইনের অনুসারী কোন হিন্দু ব্যক্তি স্বতন্ত্র সম্পত্তি রাখিয়া উইল সম্পাদন ব্যতীত মৃত্যুবরণ করিলে, তাহার বিধবা স্ত্রী, বা একাধিক বিধবা স্ত্রী থাকিলে সকল বিধবা স্ত্রী একত্রে, তিনি উইল সম্পাদন ব্যতীত যে সম্পত্তি রাখিয়া মৃত্যুবরণ করিয়াছেন সেই সম্পত্তিতে, উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, একজন পুত্রের অনুরূপ অংশের অধিকারী হইবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, কোন মৃত পুত্রের কোন পুত্র জীবিত না থাকিলে, উক্ত মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রীও একজন পুত্রের অনুরূপ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবেন, এবং উক্ত মৃত পুত্রের পুত্র বা পুত্রের পুত্র জীবিত থাকিলে উক্ত পুত্রের পুত্রের অনুরূপ সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হইবেন:

আরও শর্ত থাকে যে, কোন মৃত পুত্রের মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রীর ক্ষেত্রেও, প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সহকারে, একই বিধান প্রযোজ্য হইবে।

(২) দায়ভাগ মতবাদ ব্যতীত হিন্দু আইনের অন্য কোন মতবাদের অনুসারী বা কোন প্রথা আইনের অনুসারী কোন হিন্দু ব্যক্তি যৌথ পরিবারে কোন স্বত্ব রাখিয়া মৃত্যুবরণ করিলে, সম্পত্তিতে তাহার নিজের যে স্বত্ব ছিল তাহার বিধবা স্ত্রীরও, উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, সেই একই স্বত্ব থাকিবে।

(৩) এই ধারার বিধান অনুসারে কোন সম্পত্তিতে হিন্দু বিধবার স্বত্ব সৃষ্টি হইলে, তাহা হিন্দু মহিলার সম্পত্তি নামে একটি সীমিত স্বত্ব হইবে, তবে শর্ত থাকে যে, তাহারও একজন পুরুষ মালিকের অনুরূপ সম্পত্তি বন্টনের দাবী করিবার অধিকার থাকিবে।

(৪) প্রথা বা উত্তরাধিকারের অন্যান্য বিধান বা উক্ত সম্পত্তিতে প্রযোজ্য দানের শর্তাবলী অনুসারে যে সম্পত্তিতে কেবল একজনই উত্তরাধিকারী হইবে বা উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫ (১৯২৫ সনের ৩৯ নং আইন) প্রযোজ্য হইবে, সেই সম্পত্তির ক্ষেত্রে এই ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে না।
১২,৩৭২.
যদি এখতিয়ারসম্পন্ন একাধিক আদালত বিভিন্ন আপিল আদালতের অধীন হয়, তবে দেওয়ানি কার্যবিধির ২২ ধারার অধীনে মোকদ্দমা স্থানান্তরের আবেদন কোথায় পেশ করতে হবে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগে
  2. যেকোন জেলা জজ আদালতে
  3. যেকোন আপিল আদালতে
  4. বর্ণিত সকল আদালতে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২২ থেকে ২৪ পর্যন্ত মোকদ্দমা স্থানান্তরের বিধান রয়েছে। ধারা ২২ এ কোন মোকদ্দমা একের অধিক আদালতে দায়েরযোগ্য হলে, তা স্থানান্তরের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। উক্ত ধারায় শুধুমাত্র বিবাদী অপর পক্ষকে নোটিশ দিয়ে প্রথম সম্ভাব্য সুযোগে (At the earliest possible opportunity) অপর একটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করতে পারবে।


• ধারা ২৩ (কোন আদালতে আবেদন করতে হবে)-
১) যখন এখতিয়ারসম্পন্ন একাধিক আদালত একই আপিল আদালতের অধীন হয়, তখন উক্ত আপিল আদালতে ২২ ধারানুযায়ী আবেদন পেশ করতে হবে।
২) যখন অনুরূপ আদালতসমূহ বিভিন্ন আপিল আদালতের আওতাধীনে হয় তখন হাইকোর্ট ডিভিশনে আবেদন পেশ করতে হবে।

১২,৩৭৩.
সরকারি কর্মচারীর দ্বারা আইনগতভাবে প্রদত্ত সমন জারি এড়াবার উদ্দেশ্যে আত্মগোপন করলে তার শাস্তি নিচের কোনটি হতে পারে?
  1. ১ মাস পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড
  2. ১ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  3. ৩ মাস পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড
  4. ৩ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
সমন বা অন্যান্য কার্যক্রম থেকে বাঁচার জন্য আত্মগোপন (ধারা ১৭২):
যে কেউ কোনো সরকারি কর্মচারীর দ্বারা আইনগতভাবে প্রদত্ত সমন, নোটিশ বা আদেশ গ্রহণ এড়ানোর জন্য আত্মগোপন করেন, তিনি দণ্ডনীয় হবেন।

শাস্তি:
সাধারণ ক্ষেত্রে:
- এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা
- পাঁচ শত টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা
- উভয় দণ্ড একসঙ্গে।

যদি সমন, নোটিশ বা আদেশ ব্যক্তিগতভাবে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য দেওয়া হয়, অথবা কোনো নথি উপস্থাপনের জন্য দেওয়া হয়,
তবে শাস্তি হবে—
- ছয় মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা
- এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা
- উভয় দণ্ড একসঙ্গে।
১২,৩৭৪.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী কে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য উপযুক্ত নয়?
  1. বোবা
  2. অল্পবয়স্ক বুদ্ধিমান বালক
  3. বার্ধক্যের কারণে প্রশ্ন বুঝতে অক্ষম
  4. এমন বিকৃত মস্তিষ্কের ব্যক্তি যিনি প্রশ্ন বুঝতে ও উত্তর দানে সক্ষম
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১৮ ধারা অনুসারে, কোন ব্যক্তি সাক্ষ্য দানে যোগ্য কিনা সেটা নির্ভর করে, তার নিকট জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের যুক্তিযুক্ত উত্তর প্রদানে সে সক্ষম কিনা, বিকৃত মস্তিক ব্যক্তি যিনি প্রশ্ন বুঝতে ও উত্তর দানে সক্ষম অল্প বয়স্ক বুদ্ধিমান বালক সাক্ষ্য প্রদানে উপযুক্ত এবং বোবা ব্যক্তি ১১৯ ধারা অনুসারে সাক্ষ্য দানে যোগ্য। । বার্ধক্যের কারণে প্রশ্ন বুঝতে অক্ষম ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদানের উপযুক্ত না। কিন্তু কোন ব্যক্তি বয়স্ক হওয়ার পরও যদি তার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের যুক্তিযুক্ত উত্তর প্রদানে সক্ষম হয়, তাহলে সেও সাক্ষ্য প্রদানে উপযুক্ত।

⇒ অর্থাৎ বার্ধক্যের কারণে প্রশ্ন বুঝতে অক্ষম ব্যক্তি  সাক্ষ্য প্রদানের জন্য উপযুক্ত নয়।
১২,৩৭৫.
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২ এর ৩৬ আদেশের বিধান মোতাবেক কতদিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৪৫ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
শাস্তি বিধানের বিরুদ্ধে প্রতিকারের বিধান:
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২ এর ৩৬ আদেশের বিধান মোতাবেক কোন অ্যাডভোকেটের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল আদেশ দিলে এবং উক্ত আদেশে সংক্ষুব্ধ হলে, অনুরূপ আদেশ প্রাপ্তির দিন হতে নব্বই (৯০) দিনের মধ্যে উক্ত সংক্ষুব্ধ অ্যাডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে পারবেন।
- অনুরূপ আপিল হাই কোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ কর্তৃক শ্রবণ করতে হবে এবং ঐ বেঞ্চের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972 অনুচ্ছেদ ৩৬ অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে হবে।
-এই আপিল বার কাউন্সিল নিজে অথবা অভিযুক্ত আইনজীবী স্বেচ্ছায় করতে পারেন।
----------------------------
⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972: Article-36. (1) Any person aggrieved by an order of a Tribunal under Article 34 may, within ninety days from the date of the communication of the order to him, prefer an appeal to the High Court.
(2) Every such appeal shall be heard by a Division Bench of the High Court which may pass such order thereon as it may deem fit and the order of the High Court shall be final.
১২,৩৭৬.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২৩ বিধি ৩ এর অধীন যদি আপস বা চুক্তির মাধ্যমে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে মিটমাট হয়, তবে আদালত কী করবে?
  1. মোকদ্দমা স্থগিত রাখবে
  2. মোকদ্দমা পুনরায় ফেরত পাঠাবে
  3. তদনুসারে ডিক্রি প্রদান করবে
  4. পক্ষগণকে পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ডাকবে
ব্যাখ্যা
মোকদ্দমা-আপস:
দেওয়ানী কার্যবিধির ২৩ আদেশের ৩ বিধিতে সোলে বা মোকদ্দমা-আপস [Compromise of suit] বা আপস ডিক্রি [compromise decree] এর বিধান রয়েছে । এই বিধির অধীন আদালতকে পক্ষগণের মধ্যকার কোন আইনসম্মত চুক্তি বা আপস মীমাংসার মাধ্যমে কোন মোকদ্দমা সম্পূর্ণ বা আংশিক সম্বনয় করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং আদালত উক্ত চুক্তি বা আপস অনুযায়ী ডিক্রি প্রদান করতে পারে।

শর্তসমূহ-
১. পক্ষগণের মধ্যে আইনসম্মত চুক্তি বা আপস থাকতে হবে;
২. উক্ত চুক্তি বা আপস বা সন্তোষসাধন দ্বারা মোকদ্দমা যুক্তিসংগতভাবে সামগ্রিক বা আংশিকভাবে মিটমাট হয়েছে বা মামলার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিবাদী সামগ্রিক বা আংশিকভাবে বাদীর সন্তুষ্টি সাধন করেছে;
৩. আদালত এমন চুক্তি, আপস বা সন্তুষ্টিসাধন লিপিবদ্ধ করবে এবং তদনুসারে একটি ডিক্রি দান করবে যা সোলে বা আপস ডিক্রি নামে পরিচিত।

প্রতিকার-
দেওয়ানী কার্যবিধির ৯৬ (৩) ধারা অনুযায়ী সোলে বা আপস ডিক্রি বা সম্মতিসূচক ডিক্রির বিরুদ্ধে কোন আপীল করা যায় না। সুতরাং এই ডিক্রির বিরুদ্ধে রিভিশন করা যাবে। কিন্তু ৮৯ক ধারার অধীন মধ্যস্থতার মাধ্যমে পক্ষগণের মধ্যে মীমাংসা অনুযায়ী আদালত যে ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করে, উক্ত ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল বা রিভিশন কোনটি করা যায় না।
১২,৩৭৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির _______ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক এবং ________ ধারায় দায়রা আদালত কর্তৃক অভিযুক্তকে অব্যাহতি প্রদানের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
  1. ২৪২, ২৬৫ক
  2. ২৪১ক, ২৬৫গ
  3. ২৪৩, ২৬৫ঘ
  4. ২৪১খ, ২৬৫গ
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ক ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অভিযুক্তকে অব্যাহতি এবং ২৬৫গ ধারায় দায়রা আদালত কর্তৃক অভিযুক্তকে অব্যাহতি প্রদানের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

• ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং দায়রা আদালতে ফৌজদারি মামলার বিচার করা হয়। আদালত অভিযুক্তকে অব্যাহতি,চার্জ গঠন,খালাস বা শাস্তি প্রদানের আদেশ দিয়ে থাকে।ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার সম্পর্কে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ থেকে ২৫০ ধারা পর্যন্ত বর্ণনা করা হয়েছে এবং ধারা ২৬৫ক-২৬৫জ তে দায়রা আদালত কর্তৃক বিচার সম্পর্কে বিধান রয়েছে।

• ফৌজদারি মামলার বিচার শুরুর পূর্বে ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪১ক ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বা ২৬৫গ ধারায় দায়রা আদালত চার্জ গঠনের শুনানীর জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করে। উক্ত চার্জ গঠনের শুনানীর সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে অব্যাহতির আবেদন করতে পারে। চার্জ গঠনের শুনানী এবং অব্যাহতির আবেদনের শুনানী একই দিনে হতে হবে।

আদালত মামলার নথি ও দাখিলকৃত কাগজপত্র আমলে নিয়ে যদি এই মত পোষণ করেন যে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন, তাহলে চার্জ গঠন না করে তথা চার্জ গঠনের পূর্বে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিতে পারেন।
১২,৩৭৮.
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১ অনুযায়ী, নাগরিকদের দায়িত্বের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. শৃঙ্খলা রক্ষা
  2. জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা
  3. জনগণের সেবা করা
  4. সংবিধান ও আইন মান্য করা
ব্যাখ্যা

উত্তর: গ) জনগণের সেবা করা।

​অনুচ্ছেদ ২১: নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য
(১) সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।
(২) সকল সময়ে জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।

Article 21: Duties of citizens and of public servants
(1) It is the duty of every citizen to observe the Constitution and the laws, to maintain discipline, to perform public duties and to protect public property.
(2) Every person in the service of the Republic has a duty to strive at all times to serve the people.

১২,৩৭৯.
In which section of the Specific Relief Act is the provision for "The effect of dismissing a Suit for Specific Performance" found?
  1. 27
  2. 28
  3. 29
  4. 30
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৯ ধারার সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ করার ফলাফল বা 'The effect of dismissing a Suit for Specific Performance' এর বিধান আছে। 

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ২৯ অনুসারে, একটি চুক্তি অথবা তার অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ হয়ে গেলে তা তেমন চুক্তি বা তার অংশবিশেষ ভঙ্গ করার দায়ে ক্ষতিপূরণের জন্য বাদী কর্তৃক মামলা দায়ের করার অধিকারে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করবে।
------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section-29. Bar of suit for breach after dismissal:
-The dismissal of a suit for specific performance of a contract or part thereof shall bar the plaintiff's right to sue for compensation for the breach of such contract or part, as the case may be.
১২,৩৮০.
আদালত কর্তৃক গৃহীত জবানবন্দীর সারমর্ম লিখিত হবে-
  1. বিচারক কর্তৃক
  2. পক্ষদ্বয়ের আইনজীবীদের কর্তৃক
  3. আদালতের অফিসার কর্তৃক
  4. বাদী পক্ষের আইনজীবী কর্তৃক
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১০ এ আদালত কর্তৃক পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ [Examination of Parties by the Court] এর বিধান রয়েছে।

• আদেশ ১০(১) অনুযায়ী, মোকদ্দমা প্রথম শুনানীর সময় মোকদ্দমার পক্ষগণের মধ্যেকার প্রকৃত বিরোধ নির্ধারণ করার জন্য এবং পক্ষগণ বিষয়গুলো স্বীকার করে কি/ করে না তা নির্ধারণ করার জন্য আদালত পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে এবং ১০ (২) বিধি অনুযায়ী পক্ষগণ বা তাদের সঙ্গীদের মৌখিক জবানবন্দি (oral examination) নিতে পারে।

বিধি-৩ঃ জবানবন্দির সারমর্ম লিখিত হতে হবে-
জবানবন্দির সারমর্ম বিচারক কর্তৃক লিখিত হবে এবং তা নথির অংশে পরিণত হবে।
[Rule.-3: Substance of examination to be written-
The substance of the examination shall be reduced to writing by the Judge, and shall form part of the record]
১২,৩৮১.
দণ্ডবিধি ৬৮ ধারা অনুযায়ী অর্থদণ্ড পুরোপুরি পরিশোধ করলে কারাদণ্ডের কী হবে?
  1. কারাদণ্ড শেষ হবে
  2. কারাদণ্ড বহাল থাকবে
  3. কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে
  4. কারাদণ্ড আংশিকভাবে শেষ হবে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি ৬৮ ধারা অনুযায়ী অর্থদণ্ড পুরোপুরি পরিশোধ করলে কারাদণ্ড শেষ হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৬৮ ধারার বিধান অর্থদণ্ড আদায়ে কারামুক্তি:- যে অর্থদণ্ড অনাদায়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে অর্থদণ্ড প্রদত্ত হলে অথবা আইনগত কার্যক্রমের মাধ্যমে আদায়ীকৃত হলে আসামীর কারামুক্তি হবে। 
অর্থাৎ অর্থদণ্ড সম্পূর্ণ পরিশোধিত হলে অর্থদণ্ড অনাদায়ে যে কারাদণ্ড দেওয়া আছে তা সমাপ্ত হবে।
-------------------------------
⇒ Section 68. Imprisonment to terminate on payment of fine:- The imprisonment which is imposed in default of payment of a fine shall terminate whenever that fine is either paid or levied by process of law.
১২,৩৮২.
'চ' সহ পাঁচ ব্যক্তি 'ছ'-কে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পিত দিন, তারিখ ও সময়ে তারা সকলে মিলে 'ছ' কে হত্যা করে। 'চ' সহ উক্ত পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৩০২ ধারার সাথে নিম্নের কোন ধারাটি প্রাসঙ্গিক?
  1. ১৩৪
  2. ৩৪
  3. ১২০-এ
  4. ১১৪
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৩৪ ধারামতে যখন কতিপয় ব্যক্তি (২ বা ততোধিক) দ্বারা সকলের একই অভিপ্রায় পূরণকল্পে (in furtherance of Common Intention) কোন অপরাধমূলক কার্য সম্পাদিত হয় তখন প্রত্যেকে যৌথভাবে দায়ী হবে যেন নিজে কাজটি করেছে।

⇒ অভিন্ন অভিপ্রায় ফৌজদারি আইনের একটা নীতি, যেটা দিয়ে যৌথভাবে অভিযুক্ত করা যায়। অভিন্ন অভিপ্রায় মৌলিক/স্বতন্ত্র অপরাধ নয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪ ধারা অনুযায়ী যখন একই অভিপ্রায় পূরণকল্পে একাধিক ব্যক্তি কোন অপরাধমূলক কাজ সম্পাদন করে তখন তাদের প্রত্যেকে উক্ত কাজের জন্য এমনভাবে দায়ী হবেন যেন প্রত্যেকে আলাদাভাবে কাজটি সম্পাদন করেছে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪ ধারার অধীনে সাধারণ অভিপ্রায় প্রমাণ করার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয় সমূহ গুরুত্বপূর্ণ:
ⅰ) কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক অপরাধমূলক কাজ সম্পাদিত হবে;
ii) তাদের প্রত্যেকের সাধারণ অভিপ্রায় এবং পূর্ব পরিকল্পনা ছিল উক্ত অপরাধ সংঘটন করা; এবং
iii) অভিপ্রায়কে সফল করার জন্য অপরাধ সংঘটনে অংশগ্রহণ।

⇒ কোনো ব্যক্তিকে ৩৪ ধারায় দায়ী করতে হলে এ ধারার যেকোনো একটি উপাদান থাকতে হবে। ৩৪ ধারার শাস্তি হবে মূল অপরাধের শাস্তি। 

৩৪ ধারার মূলনীতি প্রয়োগ করে ৩০২ ধারার অধীনে Common Intention এর জন্য দায়ী করে শাস্তি দেওয়া যাবে। অর্থাৎ, ৩০২ ধারার সাথে ৩৪ ধারাটি প্রাসঙ্গিক।
১২,৩৮৩.
মোকদ্দমা দায়েরের অধিকারী ব্যক্তির অধিকারটি সৃষ্টি হওয়ার আগেই মৃত্যু হলে, সেই ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধির ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ গণনা কখন থেকে শুরু হবে?
  1. ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখ থেকে
  2. আইনগত প্রতিনিধির যোগ্যতা সম্পন্ন হওয়ার সময় থেকে
  3. আইনগত প্রতিনিধির ইচ্ছানুযায়ী সময় থেকে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• The Limitation Act, 1908 এর ১৭ ধারা (অধিকার অর্জনের পূর্বে মৃত্যুর ফলাফল) অনুযায়ী-

কোন ব্যক্তি জীবিত থাকলে মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের অধিকারী হত কিন্তু অধিকারটি সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে সেই ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি ঐ মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়ের করার যোগ্যতা সম্পন্ন হওয়ার সময় থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা হবে। একইভাবে কারো বিরুদ্ধে অধিকার সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে তার আইনগত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনগত যোগ্যতা সাপেক্ষে উক্ত মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের তামাদি গণনা হবে।

এই ধারার ব্যতিক্রম হলো অগ্রক্রয়, স্থাবর সম্পত্তির দখলের মোকদ্দমা এবং বংশগত পদের মোকদ্দমা।

Section 17- Effect of death before right to sue accrues

(1) Where a person, who would, if he were living, have a right to institute a suit or make an application, dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased capable of instituting or making such suit or application. 
 
(2) Where person against whom, if he were living, a right to institute a suit or make an application would have accrued dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased against whom the plaintiff may institute or make such suit or application. 
 
(3) Nothing in sub-sections (1) and (2) applied to suits to enforce rights of pre-emption or to suits for the possession of immoveable property or of an hereditary office.
১২,৩৮৪.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে কোন আদালত ''আদি আমলী আদালত (As a court of original jurisdiction)'' হিসেবে সব মামলা আমলে নিতে পারেন না?
  1. চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  2. চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  3. দায়রা আদালত
  4. প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৩ ধারা অনুযায়ী, আদি আমলী আদালত হিসাবে (As a court of original jurisdiction), দায়রা আদালত সব মামলা আমলে নিতে পারে না।
- মামলা আমলে নেওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে দায়রা কোর্টে পাঠানোর পর ১৯৩ (১) ধারা অনুযায়ী দায়রা জজ অপরাধ বিচারার্থে আমলে নিতে পারে।তাছাড়া অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ম দায়রা জজ এমন অপরাধের বিচার করতে পারে যখন-
১. সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা বিচারের নির্দেশ দিলে বা
২. দায়রা জজ অপরাধটি বিচারের জন্য তাদেরকে অর্পণ করলে। [ধারা ১৯৩ (২)]

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৩ ধারার বিধান দায়রা আদালত কর্তৃক অপরাধসমূহ আমলে নেয়া:
(১) এই কার্যবিধি অথবা সমকালে কার্যকর থাকা অন্য কোন আইন দ্বারা ব্যক্তভাবে ভিন্নরূপ কোন বিধান দেওয়া থাকিলে তা ব্যতিরেকে, কোন দায়রা আদালত আদিম অধিক্ষেত্রের আদালতরূপে কোন অপরাধকে আমলে নিবেন না, যদি না, এই কার্যবিধি মতে কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিষয়টি উহার নিকট প্রেরিত না হয়।

(২) সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ কর্তৃক যেসব মামলা বিচারের নির্দেশ দিবেন অথবা কোন দায়রা বিভাগের জজ সাধারণ বা বিশেষ আদেশ কর্তৃক যেসব মামলা বিচারের জন্য হস্তান্তর করবেন, অতিরিক্ত ও যুগ্ম দায়রা জজগণ শুধুমাত্র সেসব মামলার বিচার করবেন।

অন্যদিকে,
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ ধারার বিধান: ম্যাজিষ্ট্রেটগণ কর্তৃক অপরাধসমূহ আমলে লওয়া:
(১) অতঃপর বিহিত ব্যতিক্রম ব্যতীত কোন চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট এবং উপধারা-(২) বা (৩) এর বিধান অনুসারে এ ব্যাপারে বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য যে কোন ম্যাজিস্ট্রেট যে কোন অপরাধ আমলে নিতে পারেন-
(ক) যে তথ্যাবলী ঐরূপ অপরাধ গঠন করেছে তদ্বিষয়ক অভিযোগ প্রাপ্তির পর;
(খ) এরূপ তথ্যাবলী সম্বন্ধীয় পুলিশী রিপোর্টের ভিত্তিতে;
(গ) পুলিশ অফিসার ভিন্ন অন্য যে কোন ব্যক্তির নিকট হতে প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে, অথবা তার নিজের এরূপ জ্ঞানের ভিত্তিতে, যে এরূপ অপরাধ সম্পাদিত হয়েছে।
১২,৩৮৫.
দায়রা আদালত কখন খালাস বা দণ্ডের রায় (Judgment of acquittal or conviction) প্রদান করবেন?
  1. মামলার শেষে
  2. আইনের প্রশ্ন শ্রবণের পর
  3. যুক্তিতর্ক শ্রবণের পর
  4. খ এবং গ
ব্যাখ্যা
• আইনের প্রশ্ন এবং যুক্তিতর্ক শ্রবণের পর দায়রা আদালত খালাস বা দণ্ডের রায় প্রদান করবেন।

• ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং দায়রা আদালতে ফৌজদারি মামলার বিচার করা হয়।আদালত অভিযুক্তকে অব্যাহতি, চার্জ গঠন, খালাস বা শাস্তি প্রদানের আদেশ দিয়ে থাকে।ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার সম্পর্কে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ থেকে ২৫০ ধারা পর্যন্ত বর্ণনা করা হয়েছে এবং ধারা ২৬৫ক-২৬৫জ তে দায়রা আদালত কর্তৃক বিচার সম্পর্কে বিধান রয়েছে।

ধারা ২৬৫ঞ তে দায়রা আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের বিধান দেয়া আছে-
আসামি পক্ষের সাক্ষীদের পরীক্ষা গ্রহণ করার পর প্রসিকিউটর তার বক্তব্যের সারসংক্ষেপ পেশ করবেন এবং আসামি বা তার আইনজীবী তার উত্তর প্রদানে অধিকারী হবেন:শর্ত এই যে,যেক্ষেত্রে আসামির আইনজীবী আইনগত কোন প্রশ্ন উত্থাপন করেন,এরূপ আইনগত প্রশ্নের ক্ষেত্রে প্রসিকিউটর আদালতের অনুমতিক্রমে তার বক্তব্য পেশ করতে পারবেন।

ধারা ২৬৫ট এর অধীন,আইনের প্রশ্ন এবং যুক্তিতর্ক শ্রবণের পর দায়রা আদালত খালাস বা দন্ডের রায় (Judgment of acquittal or conviction) প্রদান করবেন।
১২,৩৮৬.
“Equity imputes an intention to fulfill an obligation” – maxim টি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারার সাথে সম্পর্কিত?
  1. ধারা ৯
  2. ধারা ১১
  3. ধারা ১২
  4. ধারা ১৫
ব্যাখ্যা

⇒ “Equity imputes an intention to fulfill an obligation” – এই ম্যাক্সিমটি Specific Relief Act 1877 এর ধারা ১২ এর সাথে সম্পর্কিত। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো: গ) ধারা ১২।

- “Equity imputes an intention to fulfill an obligation” ম্যাক্সিমটি ইক্যুইটি বা ন্যায়বিচারের একটি মূলনীতি, যা নির্দেশ করে যে আদালত ধরে নেয় যে একটি চুক্তির পক্ষগুলো তাদের বাধ্যবাধকতা পূরণ করার অভিপ্রায় রাখে। এই ম্যাক্সিমটি Specific Relief Act 1877-এর ধারা ১২ এর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত, যেখানে চুক্তির নির্দিষ্ট পালন (Specific Performance of Contracts) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ধারা ১২ এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
- ধারা ১২ এর অধীনে বলা হয়েছে যে, যদি একটি চুক্তির একটি পক্ষ তার বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে অন্য পক্ষ আদালতের মাধ্যমে সেই চুক্তির নির্দিষ্ট পালন দাবি করতে পারে। এই ধারাটি ন্যায়বিচারের নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে, যেখানে আদালত ধরে নেয় যে চুক্তির পক্ষগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ইচ্ছুক ছিল এবং এই অভিপ্রায়কে সমর্থন করার জন্য আদালত তাদের বাধ্য করতে পারে।
- এই ম্যাক্সিমটি বিশেষভাবে ধারা ১২ এর সাথে সম্পর্কিত কারণ এটি বলে যে আদালত চুক্তির পক্ষগুলোর অভিপ্রায়কে গুরুত্ব দেয় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চুক্তির পালন বাধ্যতামূলক করতে পারে। এটি ইক্যুইটির নীতি “equity sees that as done which ought to be done” এর সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ধারা ১২ এর আলোচনায় উল্লেখিত।
- উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তি একটি সম্পত্তি বিক্রির চুক্তি করে কিন্তু পরে তা পূরণ করতে অস্বীকার করে, তবে ক্রেতা ধারা ১২ এর অধীনে আদালতে নির্দিষ্ট পালনের জন্য মামলা করতে পারে। আদালত এখানে ধরে নেবে যে বিক্রেতার চুক্তি পূরণের অভিপ্রায় ছিল এবং ন্যায়বিচারের জন্য তাকে তা পূরণে বাধ্য করবে।

অন্যান্য অপশনের ব্যাখ্যা:
ধারা ৯: এই ধারাটি অচল সম্পত্তির দখল সম্পর্কিত এবং বলে যে মালিক সরকারের বিরুদ্ধে দখলের জন্য মামলা করতে পারে না। এটি ম্যাক্সিমের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
ধারা ১১: এই ধারাটি চলমান সম্পত্তির দায়-দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করে, যেখানে দখলকারী ব্যক্তি মালিক নয়। এটি নির্দিষ্ট পালন বা ইক্যুইটির অভিপ্রায়ের সাথে সম্পর্কিত নয়।
ধারা ১৫: এই ধারাটি চুক্তির বড় অংশ অপূর্ণ থাকলে নির্দিষ্ট পালনের বিষয়ে আলোচনা করে। এটি ম্যাক্সিমের সাথে সরাসরি যুক্ত নয়, কারণ এটি প্রধানত অপূর্ণ অংশের পরিমাণ নিয়ে কাজ করে।

- “Equity imputes an intention to fulfill an obligation” ম্যাক্সিমটি ধারা ১২ এর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত কারণ এটি চুক্তির নির্দিষ্ট পালনের ক্ষেত্রে আদালতের ন্যায়বিচারমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। এই ধারাটি নিশ্চিত করে যে চুক্তির পক্ষগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে বাধ্য থাকে এবং আদালত ন্যায়বিচারের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করে।

১২,৩৮৭.
'A previous conviction is relevant as evidence of bad character'- সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় বলা আছে?
  1. ৫২ ধারায়
  2. ৫৩ ধারায়
  3. ৫৪ ধারায়
  4. ৫৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
Section 54:
In criminal proceedings the fact that the accused person has a bad character is irrelevant, unless evidence has been given that he has a good character, in which case it becomes relevant.
Explanation 1- This section does not apply to cases in which the bad character of any person is itself a fact in issue.
Explanation 2- A previous conviction is relevant as evidence of bad character.

ধারা ৫৪:
ফৌজদারী মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির খারাপ চরিত্র অপ্রাসঙ্গিক, যদি না তার ভালো চরিত্র সম্পর্কে প্রমাণ দেওয়া হয়, যার ফলে তার খারাপ চরিত্র প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
ব্যাখ্যা ১- যেখানে কোনো ব্যক্তির খারাপ চরিত্রই বিচার্য বিষয়, সেখানে এই ধারা প্রযোজ্য নয়।
ব্যাখ্যা ২- পূর্বের দোষী সাব্যস্ত খারাপ চরিত্রের প্রমাণ হিসেবে প্রাসঙ্গিক।

→ এই ধারার অর্থ হলো,
ফৌজদারী মামলায় অভিযুক্তের খারাপ চরিত্র বিচারে গৃহীত হবে না, যদি না তিনি নিজের ভালো চরিত্রের প্রমাণ দেন। যদি তিনি ভালো চরিত্রের দাবি করেন, তাহলে তার খারাপ চরিত্র বিচার্য হবে। তবে যেখানে কাউকে খারাপ চরিত্রের অভিযোগ আনা হচ্ছে, সেখানে এই ধারা প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ খারাপ চরিত্রটাই মামলার মূল বিষয়বস্তু। পূর্বের দোষী সাব্যস্ত খারাপ চরিত্রের প্রমাণ হিসাবে গৃহীত হবে।
১২,৩৮৮.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৭০-এ কার আপীল করার অনুমতির বিষয়ে বলা হয়েছে?
  1. নিঃস্ব ব্যক্তির
  2. পাগলের
  3. অক্ষম ব্যক্তির
  4. যে কোন ব্যক্তির
ব্যাখ্যা
♠ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৭০-এ নিঃস্ব ব্যক্তির আপিল করার অনুমতির বিষয়ে বলা হয়েছে। 
১২,৩৮৯.
চুক্তি বাস্তবায়নের (Specific Performance) মামলা করার সময়সীমা কত?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুযায়ী: "চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ (Specific Performance of Contract) সম্পর্কিত মামলা দায়ের করার তামাদি সময়সীমা ১ বছর, এবং এই সময়সীমা গণনা শুরু হবে যেদিন বাদীর সেই বলবৎকরণ চাওয়ার অধিকার উদ্ভব হয় সেই তারিখ থেকে।"
- তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুসারে, চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের (Specific Performance) মামলার তামাদি মেয়াদ ১ বছর।
- এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় চুক্তিভঙ্গের তারিখ থেকে।

- অর্থাৎ লিমিটেশন অ্যাক্ট, ১৯০৮-এর আর্টিকেল ১১৩ অনুসারে, চুক্তি বাস্তবায়নের (Specific Performance) মামলার জন্য লিমিটেশন পিরিয়ড হলো ১ বছর।

১২,৩৯০.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় "অপথে গৃহে প্রবেশ" (House-breaking)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৪৪৩
  2. ধারা ৪৪৫
  3. ধারা ৪৪২
  4. ধারা ৪৪৪
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৪৪৫ ধারায় অপথে গৃহে প্রবেশের বিধান রয়েছে। ৪৪৫ ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিত ৬টি উপায়ে কোন গৃহে প্রবেশ করলে বা গৃহ থেকে বের হলে তা অপথে গৃহে প্রবেশ বা House breaking বলে গণ্য হবে। যথা-
i) বন্ধ দরজা বা পথ খুলে (Opening any passage fastended for );
ii) তালা খুলে বা ভেঙে (Opening or breaking lock);
iii) নতুন পথ তৈরি করে (Passage made by him);
iv) আক্রমন বা বলপ্রয়োগের ভয় দেখিয়ে (Using criminal force);
v) আটকানো কোন কিছুকে খুলে বা অন্যভাবে মুক্ত করে অস্বাভাবিক পন্থায় ভিতরে প্রবেশ করা বা নির্গমন হওয়া; অথবা
vi) প্রবেশ বা প্রস্থানের জন্য নয় এমন পথ দিয়ে গৃহে প্রবেশ করলে অপথে গৃহ প্রবেশ (house breaking) এর অপরাধ হবে।

অর্থাৎ দণ্ডবিধির ধারা ৪৪৫-এ "অপথে গৃহে প্রবেশ" (House-breaking)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই ধারায় বর্ণিত ৬টি বিশেষ পদ্ধতিতে গৃহে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে তা House-breaking বলে গণ্য হবে।
-------------------------------
⇒The Penal Code, 1860- Section- 445: House-breaking: A person is said to commit “house-breaking" who commits house-trespass if he effects his entrance into the house or any part of it in any of the six ways hereinafter described; or if, being in the house or any part of it for the purpose of committing an offence, or, having committed an offence therein, he quits the house or any part of it in any of such six ways, that is to say:
Firstly.-If he enters or quits through a passage made by himself, or by any abettor of the house-trespass, in order to the committing of the house-trespass.
Secondly.-If he enters or quits through any passage not intended by any person, other than himself or an abettor of the offence, for human entrance; or through any passage to which he has obtained access by scaling or climbing over any wall or building.
Thirdly.-If he enters or quits through any passage which he or any abettor of the house-trespass has opened, in order to the committing of the house-trespass by any means by which that passage was not intended by the occupier of the house to be opened.
Fourthly.-If he enters or quits by opening any lock in order to the committing of the house-trespass, or in order to the quitting of the house after a house-trespass.
Fifthly.-If he effects his entrance or departure by using criminal force or committing an assault, or by threatening any person with assault.
Sixthly.-If he enters or quits by any passage which he knows to have been fastened against such entrance or departure, and to have been unfastened by himself or by an abettor of the house-trespass.
Explanation.- Any out-house or building occupied with a house, and between which and such house there is an immediate internal communication, is part of the house within the meaning of this section.

১২,৩৯১.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর প্রথম তপশিল অনুযায়ী নিচের কোনটি 'খ' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. তাঁড়ি, পঁচুই, ইত্যাদি
  2. গাঁজা গাছ ও ভাং গাছ
  3. অপিয়াম পপি গাছের বীজ
  4. কোকা গাছ ও কোকা পাতা
ব্যাখ্যা

⇒ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর প্রথম তপশিল অনুযায়ী মাদকদ্রব্যগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে: 'ক', 'খ', এবং 'গ'। প্রতিটি শ্রেণির মাদকদ্রব্যের সংজ্ঞা এবং অন্তর্ভুক্ত পদার্থগুলো সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণিত।
⇒ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর প্রথম তপশিল অনুযায়ী, 'খ' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো গাঁজা গাছ, ভাং গাছ, তাদের শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুল, এবং এগুলোর সাথে প্রস্তুতকৃত নেশা বা আসক্তি সৃষ্টিকারী পদার্থ।

প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে:
ক) তাঁড়ি, পঁচুই, ইত্যাদি: এটি 'গ' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত।
খ) গাঁজা গাছ ও ভাং গাছ: এটি 'খ' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত।
গ) অপিয়াম পপি গাছের বীজ: এটি 'ক' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত।
ঘ) কোকা গাছ ও কোকা পাতা: এটি 'ক' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত।
সঠিক উত্তর: খ) গাঁজা গাছ ও ভাং গাছ।

১২,৩৯২.
'Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit' - বিধানটি The Specific Relief Act, 1877 এর কোন ধারায় বর্ণিত হয়েছে?
  1. ৪২
  2. ৫৪
ব্যাখ্যা
Section 42:

Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying, or interested to deny, his title to such character or right, and the Court may in its discretion make therein a declaration that he is so entitled, and the plaintiff need not in such suit ask for any further relief: Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so. 

Explanation - A trustee of property is a "person interested to deny" a title adverse to the title of some one who is not in existence, and for whom, if in existence, he would be a trustee.

ধারা ৪২- ঘোষনামূলক মোকদ্দমা (Declaration suit)  

মর্যাদা বা অধিকার ঘোষনা সম্পর্কে আদালতের ইচ্ছাধীন বিবেচনামূলক ক্ষমতা অথবা আনুষঙ্গিক প্রতিকারের জন্য এই মামলা করা হয়। সহজভাবে বলা যায় যেকোন ব্যক্তির আইন সঙ্গত পরিচয়, মর্যাদা বা কোন সম্পত্তিতে তার কোন অধিকার যদি থাকে, অপর কোন ব্যক্তি তা অস্বীকার করে বা করতে চায়, তখন সেই ব্যক্তি তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই মামলা করতে পারে। আদালত সেই অনুযায়ী প্রতিকার দিবে। এটিই ঘোষনামূলক মোকদ্দমা।

⇒ এই মোকদ্দমার জন্য নির্দিষ্ট ৩০০ টাকা কোর্ট ফী দিতে হবে।
⇒ এই মোকদ্দমায় আনুষঙ্গিক প্রতিকার চাইতে হয়।
⇒ যখন কোন বাদী আনুষঙ্গিক প্রতিকার না চায়, তাহলে আদালত তার কোনো প্রতিকার মঞ্জুর করে না।
১২,৩৯৩.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারা অনুযায়ী, সরকারি কাগজপত্রের জাবেদা নকল ঐ কাগজের প্রমাণ হিসাবে আদালতে দাখিল করা যাবে?
  1. ৭২ ধারা
  2. ৭৫ ধারা
  3. ৭৩ ধারা
  4. ৭৭ ধারা
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৭৭ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো আনুষ্ঠানিক বা সরকারি কাগজপত্রের নকল তৈরি করা হয়, তাহলে সেই নকল কাগজকে মূল কাগজের প্রমাণ হিসাবে আদালতে দাখিল করা যাবে।

সাক্ষ্য আইনের ৭৭ ধারা:
"অনুরূপ জাবেদা নকল সর্বসাধারণের যে দলিলের নকল বা যে দলিলের অংশ বিশেষের নকল বলে বুঝতে দেয়া হয়, সে দলিলের বা তার অংশ বিশেষের বিষয়বস্তুর প্রমাণ স্বরূপ তা উপস্থাপন করা যেতে পারে।"
[Such certified copies may be produced in proof of the contents of the public documents or parts of the public documents of which they purport to be copies.]

এই ধারার মূল বিষয়বস্তু হলো:
১. একটি দলিলের অনুমোদিত/জাবেদা নকলকে সেই মূল দলিলের প্রতিনিধিত্বকারী হিসাবে গণ্য করা হয়।
২. এই নকল মূল দলিলের সম্পূর্ণ নকল হতে পারে অথবা আংশিক নকল হতে পারে।
৩. এই অনুমোদিত/জাবেদা নকল দলিলকে আদালতে মূল দলিলের বিষয়বস্তুর প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ করা হবে।

সহজ কথায়,
এই ধারা অনুসারে যেকোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানের জারি করা দলিলের অনুমোদিত/জাবেদা নকলকে মূল দলিলের প্রতিনিধি হিসাবে আদালতে গ্রহণ করা হবে। এটি আদালতের প্রক্রিয়াকে সহজতর করে।
১২,৩৯৪.
The Limitation Act, 1908-এর ২৩ ধারা অনুসারে অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় সংঘটিত হলে তামাদির গণনা কখন শুরু হয়?
  1. আদালতে মামলা দায়েরের দিন থেকে
  2. ক্ষতিপূরণের দাবি উত্থাপনের দিন থেকে
  3. চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় সংঘটনের প্রথম দিন থেকে
  4. অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন প্রতিটি মুহূর্তে
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908-এর ২৩ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো অবিরাম চুক্তিভঙ্গ (Continuing Breach of Contract) বা অবিরাম অন্যায় (Continuing Wrong) সংঘটিত হয়, তাহলে তামাদির মেয়াদ প্রতিটি মুহূর্তে নতুন করে শুরু হয়, যতক্ষণ না ওই চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় বন্ধ হয়।

উদাহরণ:
- পরিবেশ দূষণ (Pollution Cases):
যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে কোনো নদী বা বায়ু দূষণ করছে, তবে প্রতিদিনই নতুন করে অন্যায় সংঘটিত হচ্ছে।
ফলে তামাদির গণনা প্রতিদিন নতুন করে শুরু হবে, যতক্ষণ না দূষণ বন্ধ হয়।

অর্থাৎ যতদিন অন্যায় চলতে থাকবে, ততদিন তামাদির গণনা চলবে এবং নতুন করে মামলা দায়েরের সুযোগ থাকবে।

⇒ The Limitation Act, 1908 এর ২৩ ধারার বিধান অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় করা:
- যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নূতন করিয়া তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইতে শুরু করে।
- এমন অনেক চুক্তি রহিয়াছে, যাহা ভঙ্গ হইলে প্রতি মুহূর্তে নালিশের কারণ উদ্ভব হইতে পারে। চুক্তি বহির্ভূত এমন অনেক লোকসান রহিয়াছে, যাহা প্রতিমুহূর্তে নালিশের কারণের উদ্ভব ঘটায়। এইসব ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ প্রতি মুহূর্তে বৃদ্ধি পায়।
----------
⇒ The Limitation Act, 1908: Section-23: Continuing breaches and wrongs:
In the case of a continuing breach of contract and in the case of a continuing wrong independent of contract, a fresh period of limitation begins to run at every moment of the time during which the breach or the wrong, as the case may be, continues.
১২,৩৯৫.
সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারার বিধান কী?
  1. Opinion of third persons
  2. Opinion of Experts
  3. Opinion as to handwriting, when relevant
  4. Dying declaration
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারার বিধান: বিশেষজ্ঞদের মতামত (Expert Opinion):-
যখন আদালতকে বিদেশী আইন, বা বিজ্ঞান, শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ বা ডিজিটাল রেকর্ড, বা চারুকলা, বা হাতের লেখা বা আঙ্গুলের ছাপ বা পায়ের ছাপের বা হাতের তালুর ছাপ বা চোখের আইরিসের ছাপ বা টাইপ রাইটিং বা ব্যবসায়িক প্রথা ব্যবহার বা টেকনিক্যাল শব্দ বা ব্যক্তি বা প্রাণীর পরিচয় শনাক্তের প্রশ্নে কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয় তখন বিশেষভাবে দক্ষ ব্যক্তির এই ধরনের বিদেশী আইন, বিজ্ঞান, শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ বা ডিজিটাল রেকর্ড বা চারুকলায় বা হাতের লেখা বা আঙ্গুলের ছাপ, পায়ের ছাপ, হাতের তালুর ছাপ, টাইপ রাইটিং, ব্যবসায়িক প্রথা, টেকনিক্যাল শব্দ বা ব্যক্তি বা প্রাণীর পরিচয় শনাক্তের প্রশ্নে অভিমত অনুরূপ প্রশ্নে প্রাসঙ্গিক বিষয়। এই ধরনের ব্যক্তিদের বিশেষজ্ঞ বলা হয়।

⇒  Expert Opinion আদালতের জন্য বাধ্যকর নয়, এটি আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা। এটি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, কিন্তু অনুসমর্থন প্রকৃতির। অর্থাৎ অন্যান্য সাক্ষ্যের সাথে মিলিয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
-------------------
⇒ Opinion of Experts:
Section 45.  When the Court has to form an opinion upon a point of foreign law, or of science, physical or forensic evidence or digital record, or art, or as to identity of hand writing or finger impression or footprint or palm impression or iris impression or typewriting or usage of trade or technical terms or identity of person or animal, the opinion upon that point of person specially skilled in such foreign law, science, physical or forensic evidence or digital record or art, or in questions as to identity of handwriting or finger impression, footprint, palm impression, typewriting, usage of trade, technical term or identity of person or animal, as the case may be, are relevant facts.
Such persons are called experts.
১২,৩৯৬.
“আকস্মিক ও মারাত্মক প্ররোচনায় আত্ম-সংযম হারিয়ে কারো মৃত্যু ঘটানো” দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার কোন ব্যতিক্রমের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ব্যতিক্রম-১
  2. ব্যতিক্রম-২
  3. ব্যতিক্রম-৩
  4. ব্যতিক্রম-৪
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩০০-এ বর্ণিত ব্যতিক্রম-১-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যখন: আকস্মিক ও মারাত্মক প্ররোচনা (Grave and Sudden Provocation) এর ফলে অপরাধী আত্মসংযম হারিয়ে ফেলে (Deprived of Self-Control) এবং সেই অবস্থায় প্ররোচনাদানকারীকে হত্যা করে অথবা দুর্ঘটনাবশত অন্য কাউকে হত্যা করে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার ব্যতিক্রম-১ (Exception 1) বলছে:
“Culpable homicide is not murder if the offender, whilst deprived of the power of self-control by grave and sudden provocation, causes the death…”
 অর্থাৎ,যদি কেউ  আকস্মিক (sudden) এবং মারাত্মক (grave) প্ররোচনায়, আত্ম-সংযম হারিয়ে, প্ররোচক ব্যক্তি অথবা ভুলক্রমে অন্য কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করে, তবে এটি খুন নয়, বরং শাস্তিযোগ্য নরহত্যা।

⇒ ব্যতিক্রম-১ এর মূল শর্তাবলী:
- প্ররোচনা অপরাধী নিজে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তৈরি করেনি
- প্ররোচনা আইনসম্মত কার্যক্রম (যেমন পুলিশের গ্রেফতার) বা সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের ফলে সৃষ্ট নয়
- প্ররোচনা আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের ফলে সৃষ্ট নয়

সুতরাং, "আকস্মিক ও মারাত্মক প্ররোচনায় আত্ম-সংযম হারিয়ে কারো মৃত্যু ঘটানো" ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ব্যতিক্রম হল ব্যতিক্রম-১ (ক)।

উদাহরণ:
যদি কেউ হঠাৎ করে তার স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সাথে অবৈধ সম্পর্কে দেখে ফেলে এবং উত্তেজিত হয়ে তাকে হত্যা করে, তাহলে এটি ব্যতিক্রম-১ এর আওতায় পড়তে পারে (যদি আদালত প্ররোচনাকে যথেষ্ট মারাত্মক ও আকস্মিক বলে স্বীকৃতি দেয়)। কারণ এটি grave and sudden provocation।
১২,৩৯৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন বিধানে আপিলযোগ্য আদেশগুলির তালিকা আছে?
  1. ৯৬ ধারা
  2. আদেশ ৪৩ বিধি ১
  3. ১০৬ ধারা
  4. আদেশ ৪১ বিধি ১
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ বিধি ১ তে আপিলযোগ্য আদেশগুলির তালিকা আছে। সাধারণত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল চলে না তবে আদেশ ৪৩ বিধি ১ তে মোট ২৫ টি আদেশ উল্লেখ আছে যেগুলার বিরুদ্ধে আপীল চলে।
১২,৩৯৮.
দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুযায়ী সরল বিশ্বাসে কৃত যোগাযোগ (Communication made in good faith) এর ফলে কোন ব্যক্তির ক্ষতি সাধন হলে সেটা কোন অপরাধ বলে গণ্য হবে না?
  1. দণ্ডবিধির ৯০ ধারা
  2. দণ্ডবিধির ৯২ ধারা
  3. দণ্ডবিধির ৯৩ ধারা
  4. দণ্ডবিধির ৯৫ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৯৩ ধারার বিধান সদবিশ্বাসে কৃত যোগাযোগ:
 কোন ব্যক্তির মঙ্গলার্থে আন্তরিক সদিচ্ছাক্রমে কৃত যোগাযোগ বা খবর প্রদান, উক্ত খবর প্রদানের ফলে উক্ত ব্যক্তির কোন প্রকার ক্ষতি হওয়ার দরুণ অপরাধ হবে না।

♦ উদাহরণ
ক একজন সার্জন। তিনি আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে জনৈক রোগীকে তার এই মত জানান যে, সে বাঁচবে না। ইহাতে মর্মান্তিক আঘাত প্রাপ্তির ফলে রোগীটির মৃত্যু হয়। কএর কাজটি অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না, যদিও তিনি জানতেন যে, তার এইরূপ মত দেওয়ার ফলে রেগিটির মৃত্যু ঘটতে পারে।

------------------------------------
♦ Communication made in good faith
Section 93. No communication made in good faith is an offence by reason of any harm to the person to whom it is made, if it is made for the benefit of that person. 
 
♦ Illustration 
A, a surgeon, in good faith, communicates to a patient his opinion that he cannot live. The patient dies in consequence of the shock. A has committed no offence, though he knew it to be likely that the communication might cause the patient's death.
১২,৩৯৯.
চুক্তি আইন অনুসারে চুক্তি সম্পাদনে অযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে নিম্নলিখিত কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. নাবালক
  2. মানসিক অসুস্থ ব্যক্তি
  3. নিজ আইনে অযোগ্য ব্যক্তি
  4. কোন মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি
ব্যাখ্যা

⇒ চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১১ অনুসারে, চুক্তি সম্পাদনে যোগ্যতার জন্য তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। একজন ব্যক্তি চুক্তি করার যোগ্য যদি তিনি:
১) নিজ আইনে সাবালক হন,
২) সুস্থ মনের অধিকারী হন, এবং
৩) কোনো আইন দ্বারা চুক্তি করার জন্য অযোগ্য ঘোষিত না হন।
অতএব, চুক্তি সম্পাদনে অযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন:
- নাবালক (যারা নিজ আইনে সাবালক নন, সাধারণত ১৮ বছরের কম বয়সী),
- মানসিক অসুস্থ ব্যক্তি (যারা সুস্থ মনের অধিকারী নন, অর্থাৎ যারা চুক্তির প্রকৃতি ও ফলাফল বুঝতে অক্ষম),
- নিজ আইনে অযোগ্য ব্যক্তি (যেমন, দেউলিয়া ব্যক্তি বা কোনো আইন দ্বারা চুক্তি করতে নিষিদ্ধ ব্যক্তি)।
⇒ কোন মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি চুক্তি সম্পাদনে অযোগ্যতার জন্য ধারা ১১-এর অধীনে বিবেচিত হয় না। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলায় অভিযোগ থাকা তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুক্তি করার অযোগ্য করে না, যদি না তিনি উপরোক্ত শর্তগুলোর কোনোটি লঙ্ঘন করেন (যেমন, নাবালক, মানসিক অসুস্থ, বা আইন দ্বারা অযোগ্য)।

⇒ চুক্তি করার অযোগ্য ব্যক্তি:
চুক্তি আইনের ১১ ধারা অনুসারে বলা যায় তিন ধরনের ব্যক্তি চুক্তি করা জন্য অযোগ্য। এ ব্যক্তিরা হলেন:
১। নাবালক,
২। অসুস্থ মনের অধিকারী বা মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি এবং
৩। নিজ আইনে অযোগ্য ব্যক্তি।
পূর্বে বলা হয়েছে ব্যক্তি বলতে প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম ব্যক্তি উভয়কে বোঝানো হয়েছে। কৃত্রিম ব্যক্তি যদি আইন অনুসারে গঠিত ও নিবন্ধিত না হয় তাহলে চুক্তি সম্পাদনে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
------ 
⇒ The Contract Act, 1872 Section 11. Who are competent to contract
Every person is competent to contract who is of the age of majority according to the law to which he is subject, and who is of sound mind, and is not disqualified from contracting by any law to which he is subject.

১২,৪০০.
The Specific Relief Act,1877 এর ২২ ধারার বিধান মতে কয়টি বিশেষ ক্ষেত্র বিবেচনায় আদালত বিবাদীকে Solatium এর আদেশ দিতে পারে?
  1. ৩ 
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২২: সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের ডিক্রি প্রদানের ক্ষেত্রে ইচ্ছাধীন ক্ষমতা- সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে ডিক্রি প্রদানের এখতিয়ার আদালতের ইচ্ছাধীন, এবং আদালত এইরূপ প্রতিকার মঞ্জুর করিতে বাধ্য নহে শুধু এই কারণে যে, ইহা করা আইনসঙ্গত; কিন্তু আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা স্বেচ্ছাচারিতা নহে বরং বিচক্ষণ, যুক্তিসঙ্গত হইবে, এবং বিচারকার্যাবলির মূলনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে এবং আপিল আদালতের মাধ্যমে সংশোধনযোগ্য হইবে।
নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে আদালত সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের ডিক্রি প্রদান না করিবার বিষয়ে ইচ্ছাধীন ক্ষমতা
যথাযথভাবে প্রয়োগ করিতে পারিবে: 
১। যেক্ষেত্রে এইরূপ পরিস্থিতিতে চুক্তি সম্পন্ন করা হয় যে, উহা বাদিকে বিবাদির উপর একটি অন্যায় সুবিধা প্রদান করিয়াছে, যদিও সেইখানে বাদিপক্ষ হইতে কোনো প্রতারণা বা মিথ্যা বর্ণনা নাই।
২। যেক্ষেত্রে চুক্তির কার্য সম্পাদন বিবাদিকে কিছু কষ্টের মধ্যে ফেলিবে, যাহা তিনি পূর্বে বুঝিতে পারেন নাই, অপরদিকে ইহার কার্য সম্পাদন না করিলে বাদিকে উহা তেমন কোনো কষ্টের মধ্যে ফেলিবে না।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section-22: Discretion as to decreeing specific performance: The jurisdiction to decree specific performance is discretionary, and the Court is not bound to grant such relief merely because it is lawful to do so; but the discretion of the Court is not arbitrary but sound and reasonable, guided by judicial principles and capable of correction by a Court of appeal.
The following are cases in which the Court may properly exercise a discretion not to decree specific performance:-
I. Where the circumstances under which the contract is made are such as to give the plaintiff an unfair advantage over the defendant, though there may be no fraud or misrepresentation on the plaintiff's part.
II. Where the performance of the contract would involve some hardship on the defendant which he did not foresee, whereas its non-performance would involve no such hardship on the plaintiff.