বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

মোট প্রশ্ন১৫,৪৭০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

PrepBank · পাতা ১১৮ / ১৫৫ · ১১,৭০১১১,৮০০ / ১৫,৪৭০

১১,৭০১.
গৌণ সাক্ষ্যের সংজ্ঞা সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৬৩
  2. ধারা ৬৫
  3. ধারা ৬২
  4. ধারা ৬১
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুযায়ী গৌণ সাক্ষ্য (Secondary Evidence) বলতে বোঝায় এমনসব তথ্য বা কপি, যা মূল দলিল উপস্থিত না থাকলে তার বিকল্প হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
- সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারায় মাধ্যমিক সাক্ষ্যের (Secondary Evidence) বিধান রয়েছে।
-সাক্ষ আইনের ৬৩ ধারা অনুসারে মূল দলিল আদালতে হাজির না করে মূল দলিলের প্রতিলিপি বা অনুলিপি আদালতে উপস্থাপন করার মাধ্যমিক সাক্ষ্য বা Secondary Evidence বলে।
⇒ গৌণ সাক্ষ্য বলিতে নিম্নলিখিতগুলি বুঝায়-
১) এই আইনে অতঃপর বর্ণিত পরবর্তী ৭৬ ধারায় বর্ণিত বিধান অনুসারে প্রদত্ত সহিমোহরকৃত নকল।
২) মূল দলিল হইতে এইরূপ যান্ত্রিক উপায়ে প্রস্তুত নকল, যাহাতে নকলের নির্ভুলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়, এবং এইরূপ নকলের সহিত মিলাইয়া লওয়া অন্য নকল।
৩) মূল দলিল হইতে প্রস্তুত করা অথবা মূল দলিলের সহিত মিলাইয়া লওয়া নকল;
৪) কোন দলিলের প্রতিলিপি যে পক্ষ উক্ত দলিল সম্পাদন করে নাই, তাহার বিরুদ্ধে উহার ব্যবহারের ক্ষেত্রে;
৫) যে ব্যক্তি কোন দলিল দেখিয়াছে, তাহার দেওয়া ঐ দলিলের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক বিবরণ। 
-------------
⇒The Evidence Act, 1872, Section 63. Secondary evidence:
- Secondary evidence means and includes-
(1) certified copies given under the provisions hereinafter contained;
(2) copies made from the original by mechanical processes which in themselves insure the accuracy of the copy, and copies compared with such copies;
(3) copies made from or compared with the original;
(4) counterparts of documents as against the parties who did not execute them;
(5) oral accounts of the contents of a document given by some person who has himself seen it.

১১,৭০২.
মধ্যস্থতার মাধ্যমে প্রদত্ত আপস ডিক্রির কারণে কোন পক্ষ সংক্ষুদ্ধ হলে, তার প্রতিকার নিম্নের কোনটি?
  1. জেলা জজ আদালতে আপিল
  2. যুগ্ম জেলা জজ আদালতে রিভিশন
  3. জেলা জজ আদালতে রিভিশন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ক(১২) ধারা মতে,
মধ্যস্থতার মাধ্যমে আদালত কোন আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন করা যাবে না।

মধ্যস্থতার ফলে ডিক্রি প্রদান- মধ্যস্থতার মাধ্যমে মোকদ্দমাটি আপোষ-মিমাংসা হলে, উক্ত আপোষ প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করবে।
আপোষের উপর ভিত্তি করে ডিক্রি প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত দেওয়ানি কার্যবিধির ২৩ নং আদেশের সোলে ডিক্রির বিধানসমূহ অনুসরণ করবে।
-------------------
- CPC Section 89A(12):
No appeal or revision shall lie against any order or decree passed by the Court in pursuance of settlement between the parties under this section.
১১,৭০৩.
'মামলা ডাকার সময় আদালতে উপস্থিত থাকা আইনজীবীর দায়িত্ব।'- Canons of Professional Conduct and Etiquette এর কোন অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মক্কেলদের প্রতি কর্তব্য
  2. আদালতের প্রতি কর্তব্য
  3. অন্যান্য আইনজীবীদের প্রতি আচরণ
  4. জনসাধারণের প্রতি কর্তব্য
ব্যাখ্যা
Canons of Professional Conduct and Etiquette- এর ৩য় অধ্যায়- আদালতের প্রতি আইনজীবীদের কর্তব্যের সারমর্ম:

১. মর্যাদা ও সুরক্ষা:
- আদালতের মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করা উচিত।
- বিচারকদের বিরুদ্ধে অন্যায় সমালোচনা বা কুৎসা থেকে সুরক্ষা প্রদান করা আইনজীবীদের কর্তব্য। তবে, সঠিক অভিযোগ থাকলে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।

২. সাক্ষীর পরিচয়:
- মামলার জন্য সহায়ক ব্যক্তির সাক্ষ্য সংগ্রহে আইনজীবীকে কোন প্রকার অস্বাভাবিক কার্যকলাপ বা পরামর্শ প্রদান করা উচিত নয়।

৩. সত্যতার প্রতি প্রতিশ্রুতি:
- বিচারক, বিচারিক কর্মকর্তার কাছে ভুল তথ্য উপস্থাপন বা ভুল উদ্ধৃতি দেওয়ার বিরুদ্ধে থাকা উচিত।
- বাতিল হয়ে যাওয়া নজির বা আইন আদালতে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

৪. বিচারকের সাথে আচরণ:
- বিচারকের সাথে ব্যক্তিগতভাবে বা গোপনে মামলার বিষয় আলোচনা থেকে বিরত থাকা উচিত।
- বিচারকের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শন করা এবং বিশেষ সুবিধার জন্য প্রচেষ্টা করা উচিত নয়।

৫. সরকারি আইনজীবীর দায়িত্ব:
- আসামীর শাস্তি নিশ্চিত করার চেয়ে ন্যায়বিচার পর্যবেক্ষণ করা প্রধান দায়িত্ব।
- সত্য গোপন করা বা নির্দোষ সাক্ষীকে না আনা গুরুতর তিরস্কারযোগ্য।

৬. মামলা সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তা:
- বিচারাধীন মামলা পত্রিকায় প্রকাশ করা উচিত নয়।
- মামলার বিষয়বস্তু সম্পর্কে একতরফা মন্তব্য করা উচিত নয়।

৭. বিচারক নিয়োগ:
- রাজনৈতিক বিবেচনার ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া উচিত।
- বিচারক হিসেবে নিয়োগের জন্য যোগ্যতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত।

৮. মামলা ডাকার সময় উপস্থিতি:
- আদালতে উপস্থিত থাকা আইনজীবীর দায়িত্ব।
- উপস্থিত থাকতে না পারলে সন্তোষজনক বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত।

৯. মতামত প্রদান:
- নিজে জড়িত না থাকলে স্বেচ্ছায় মতামত দেওয়া উচিত নয়।
- প্রকাশ্য আদালতে বিজ্ঞ বিচারকের আহ্বানে মতামত প্রদান করা যেতে পারে, তবে নিরপেক্ষভাবে।
১১,৭০৪.
কোনো ব্যক্তি কোনো যুদ্ধবন্দীকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কাজ করতে বাধ্য করলে, উক্ত ব্যক্তি-
  1. কোনো শাস্তি পাবে না
  2. অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে
  3. কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে
  4. অর্থদণ্ড এবং কারাদণ্ড দুটোই পাবে
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৩৭৪ ধারা- বেআইনী শ্রমে বাধ্য করা:

(১) কোনো ব্যক্তি যদি কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রম দান করতে বাধ্য করে, তবে সেই ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

(২) কোনো ব্যক্তি যদি কোনো যুদ্ধবন্দী বা অপর কোন আশ্রিত ব্যক্তিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কার্য করতে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা: এই “যুদ্ধবন্দী" এবং "আশ্রিত ব্যক্তি" অভিব্যক্তিসমূহ যথাক্রমে ১৯৪৯ সনের ১২ই আগষ্ট তারিখের যুদ্ধবন্দীর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত জেনেভা সম্মেলনের-৪ দফা এবং ১৯৪৯ সনের ১২ই আগষ্ট তারিখের যুদ্ধকালে বেসামরিক ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা সম্পর্কিত জেনেভা সম্মেলনের ৪ দফা মোতাবেক তৎসমূহের প্রতি আরোপিত অর্থের অনুরূপ অর্থ দ্যোতক হবে।

Section 374- Unlawful compulsory labour:

(1) Whoever unlawfully compels any person to labour against the will of that person, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.

(2) Whoever compels a prisoner of war or a protected person to serve in the armed forces of Bangladesh shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year.

Explanation- In this section the expressions "prisoner of war" and "protected person" shall have the same meaning as have been assigned to them respectively by Article 4 of the Geneva Convention Relative to the Treatment of Prisoners of War of August 12, 1949, and Article 4 of the Geneva Convention Relative to the Protection of Civilian Persons in Time of War of August 12, 1949.
১১,৭০৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদবলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারী করতে পারেন?
  1. ৪৮
  2. ৬৫
  3. ৯৩
  4. ১৪১
ব্যাখ্যা
• সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় এবং সংসদ অধিবেশনকাল ব্যতীত সময়ে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি আইনের ন্যায় কার্যকর যে আদেশ জারি করেন তা ‘অধ্যাদেশ’ নামে পরিচিত। সংবিধানের ৯৩ নং অনুচ্ছেদ অনুাযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।

অনুচ্ছেদ ৯৩: অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা:

 (১) সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় অথবা উহার অধিবেশনকাল ব্যতীত] কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট আশু ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি উক্ত পরিস্থিতিতে যেরূপ প্রয়োজনীয় বলিয়া মনে করিবেন, সেইরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিতে পারিবেন এবং জারী হইবার সময় হইতে অনুরূপভাবে প্রণীত অধ্যাদেশ সংসদের আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার অধীন কোন অধ্যাদেশে এমন কোন বিধান করা হইবে না,

(ক) যাহা এই সংবিধানের অধীন সংসদের আইন-দ্বারা আইনসঙ্গতভাবে করা যায় না;
(খ) যাহাতে এই সংবিধানের কোন বিধান পরিবর্তিত বা রহিত হইয়া যায়; অথবা
(গ) যাহার দ্বারা পূর্বে প্রণীত কোন অধ্যাদেশের যে কোন বিধানকে অব্যাহতভাবে বলবৎ করা যায়।

(২) এই অনুচ্ছেদের (১) দফার অধীন প্রণীত কোন অধ্যাদেশ জারী হইবার পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে তাহা উপস্থাপিত হইবে এবং ইতঃপূর্বে বাতিল না হইয়া থাকিলে অধ্যাদেশটি অনুরূপভাবে উপস্থাপনের পর ত্রিশ দিন অতিবাহিত হইলে কিংবা অনুরূপ মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পূর্বে তাহা অননুমোদন করিয়া সংসদে প্রস্তাব গৃহীত হইলে অধ্যাদেশটির কার্যকরতা লোপ পাইবে।

(৩) সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থার কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট ব্যবস্থা-গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি এমন অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিতে পারিবেন, যাহাতে সংবিধান-দ্বারা সংযুক্ত তহবিলের উপর কোন ব্যয় দায়যুক্ত হউক বা না হউক, উক্ত তহবিল হইতে সেইরূপ ব্যয়নির্বাহের কর্তৃত্ব প্রদান করা যাইবে এবং অনুরূপভাবে প্রণীত কোন অধ্যাদেশ জারী হইবার সময় হইতে তাহা সংসদের আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হইবে।

(৪) এই অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন জারীকৃত প্রত্যেক অধ্যাদেশ যথাশীঘ্র সংসদে উপস্থাপিত হইবে এবং সংসদ পুনর্গঠিত হইবার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে এই সংবিধানের ৮৭, ৮৯ ও ৯০ অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী প্রয়োজনীয় উপযোগীকরণসহ পালিত হইবে।
১১,৭০৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৩২ ধারার অধীনে, যদি আদালত মনে করে যে কোনো বৈধ অভিযোগ গঠন সম্ভব নয়, তাহলে কী করা হবে?
  1. দণ্ডাদেশ রদ করা হবে
  2. নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে
  3. মামলাটি হাইকোর্টে পাঠানো হবে
  4. অভিযুক্তকে আরও তদন্তের জন্য আটক রাখা হবে
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৩২ ধারার বিধান অনুযায়ী, যদি আপিল আদালত বা হাইকোর্ট বিভাগ মনে করে যে—
অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে গুরুতর ভুল ছিল, এবং মামলার প্রমাণিত তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে কোনো বৈধ অভিযোগ গঠন করা সম্ভব নয়, তাহলে আদালত দণ্ডাদেশ বাতিল বা রদ (quash) করতে পারে।

অর্থাৎ, যদি আদালত নিশ্চিত হয় যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগভাবে কোনো অভিযোগ টেকসই নয়, তবে তাকে সাজা দেওয়া যাবে না, এবং আদালত দণ্ডাদেশ রদ করে তাকে অব্যাহতি দেবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৩২ ধারার বিধান চার্জে কৃত গুরতর ভুলের ফলাফল দেয়া হয়েছে-
১) রিভিশন ক্ষমতা বা সপ্তবিংশ অধ্যায়ে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়ােগকালে আপিল আদালত বা হাইকোর্ট বিভাগ যদি মনে করেন যে, অভিযােগ গঠিত হওয়ায় কিংবা উহাতে ভুল থাকায় কোন অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি তার আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যাপারে বিভ্রান্ত হয়েছে তাহলে উক্ত আদালত যে-রূপ উপযুক্ত মনে করেন, সেইরূপভাবে অভিযােগ গঠন করে নতুন বিচারের নির্দেশ দিবেন।
২) আদালত যদি মনে করেন যে,মােকদ্দমার ঘটনাবলি এইরূপ যে প্রমাণিত তথ্যাবলির ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে কোন বৈধ অভিযােগ প্রণয়ন করা যাবে না,তা হলে দণ্ডাদেশ রদ করে দিবেন।
--------------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 232: Effect of material error:
(1) If any Appellate Court, or the High Court Division in the exercise of its powers of revision or of its powers under Chapter XXVII, is of opinion that any person convicted of an offence was misled in his defence by the absence of a charge or by an error in the charge, it shall direct a new trial to be had upon a charge framed in whatever manner it thinks fit.
(2) If the Court is of opinion that the facts of the case are such that no valid charge could be preferred against the accused in respect of the facts proved, it shall quash the conviction.
১১,৭০৭.
তামাদি আইনে সুনির্দিষ্টভাবে কোন কার্যক্রমের জন্য তামাদির নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ নেই?
  1. দরখাস্ত
  2. আপিল
  3. রিভিউ
  4. রিভিশন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের কোথাও রিভিশনের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ নেই।

- তফসিলে মোকদ্দমা, আপিল এবং আবেদন দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ বলবৎ আছে। তফসিলের ৩টি বিভাগে ৩ ধরনের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে-
১. মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
২. আপিল, রিভিউ দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
৩. বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।

⇒ সাধারণত আদালতে, আপিলের তামাদি মেয়াদকেই রিভিশনের তামাদি হিসেবে গণ্য করা হয়।
- হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের করতে হবে- ৯০ দিনের মধ্যে।
- জেলা জজের নিকট রিভিশন দায়ের করতে হবে- ৩০ দিনের মধ্যে।
১১,৭০৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতিগুলো কীভাবে প্রয়োগ হয়?
  1. আদালতের মাধ্যমে
  2. আইনের ব্যাখ্যার নির্দেশক হিসেবে
  3. রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে
  4. নির্বাহী বিভাগের নির্দেশ অনুসারে
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ৮: মূলনীতিসমূহ:
(১) জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা- এই নীতিসমূহ এবং তৎসহ এই নীতিসমূহ হইতে উদ্ভূত এই ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে৷

(২) এই ভাগে বর্ণিত নীতিসমূহ বাংলাদেশ-পরিচালনার মূলসূত্র হইবে, আইন-প্রণয়নকালে রাষ্ট্র তাহা প্রয়োগ করিবেন, এই সংবিধান ও বাংলাদেশের অন্যান্য আইনের ব্যাখ্যাদানের ক্ষেত্রে তাহা নির্দেশক হইবে এবং তাহা রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কার্যের ভিত্তি হইবে, তবে এই সকল নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হইবে না।

১১,৭০৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারা “Equity sees that as done which ought to be done” – maxim টির  সাথে সম্পর্কিত?
  1. ৬ ধারা 
  2. ৮ ধারা 
  3. ৯ ধারা 
  4. ১২ ধারা 
ব্যাখ্যা

⇒ “Equity sees that as done which ought to be done” ম্যাক্সিমটি Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ১২ এর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। এই ম্যাক্সিমটি ইক্যুইটি বা ন্যায়বিচারের একটি মূলনীতি, যা নির্দেশ করে যে আদালত এমনভাবে বিবেচনা করে যে যা করা উচিত তা ইতোমধ্যে করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে। এটি চুক্তির সুনির্দিষ্ট পালন (specific performance) নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা ধারা ১২ এর প্রধান বিষয়।
⇒ ধারা ১২ চুক্তির সুনির্দিষ্ট পালন (specific performance) নিয়ে আলোচনা করে। এই ধারা অনুসারে, যদি একটি পক্ষ চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ আদালতের মাধ্যমে সেই চুক্তির সুনির্দিষ্ট পালন দাবি করতে পারে।
- এই ম্যাক্সিমটি ধারা ১২ এর সাথে সম্পর্কিত কারণ আদালত ধরে নেয় যে চুক্তির পক্ষগুলো তাদের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে বাধ্য এবং যা করা উচিত তা পূরণ করা হয়েছে বলে বিবেচিত হবে।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো বিক্রেতা সম্পত্তি বিক্রির চুক্তি করে কিন্তু তা পূরণ করতে অস্বীকার করে, তবে ক্রেতা ধারা ১২ এর অধীনে সুনির্দিষ্ট পালনের জন্য মামলা করতে পারে। আদালত এই ক্ষেত্রে এই ম্যাক্সিম অনুসরণ করে চুক্তিটি পূরণ করা উচিত বলে বিবেচনা করে এবং বিক্রেতাকে তা পালনে বাধ্য করে।
- ধারা ১২ এর উপ-ধারাগুলো (১২(খ), ১২(গ), ১২(ঘ)) এই ম্যাক্সিমের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চুক্তির আংশিক পালন বা ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, যেখানে “equity looks to the substance of the contract” এর নীতি প্রযোজ্য।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) ৬ ধারা: Preventive relief (Injunction) সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৫ এর clause (c) অনুযায়ী যে প্রতিকার দেওয়া হয়, তাকে ধারা ৬-এ তাকে “Preventive Relief” (নিবারণমূলক প্রতিকার) বলা হয়েছে।
খ) ৮ ধারা: এই ধারাটি স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আলোচনা করে, যেখানে কোনো ব্যক্তি অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ হলে দখল ফিরিয়ে পেতে পারে। এটি সুনির্দিষ্ট পালন বা এই ম্যাক্সিমের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
গ) ৯ ধারা: এই ধারাটি বলে যে সরকারের বিরুদ্ধে স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করা যাবে না। এটি ম্যাক্সিমের সাথে কোনো সম্পর্ক রাখে না।

⇒ বাংলাদেশে, ধারা ১২ এর অধীনে এই ম্যাক্সিমটি বিশেষ করে স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয়, ইজারা চুক্তি, বা অন্যান্য চুক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, যেখানে ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত প্রতিকার নয়।
অর্থাৎ “Equity sees that as done which ought to be done” ম্যাক্সিমটি ধারা ১২ এর সাথে সম্পর্কিত, কারণ এটি চুক্তির নির্দিষ্ট পালন নিশ্চিত করার জন্য ন্যায়বিচারের নীতি প্রয়োগ করে। এই ধারাটি বাংলাদেশের আদালতে চুক্তি সম্পর্কিত বিরোধে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১১,৭১০.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩৫ক অনুসারে, মিথ্যা বা হয়রানিমূলক দাবির জন্য সর্বোচ্চ কত টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ হতে পারে?
  1. ২০,০০০ টাকা
  2. ৩০,০০০ টাকা
  3. ৫০,০০০ টাকা
  4. ১,০০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ The Code of Civil Procedure (CPC) এর ধারা ৩৫ক: মিথ্যা বা হয়রানিমূলক দাবি বা প্রতিরক্ষার জন্য ক্ষতিপূরণমূলক খরচ:
(১) যদি কোনো মোকদ্দমা বা অন্য কোনো কার্যধারা (যেমনঃ পরিপালন কার্যধারা), যা আপিল নয়, তাতে কোনো পক্ষ কোনো দাবি বা প্রতিরক্ষার (বা তার কোনো অংশের) বিরুদ্ধ অভিযোগ করেন যে, উক্ত দাবি বা প্রতিরক্ষা মিথ্যা বা হয়রানিমূলক, এবং পরবর্তীতে যদি সেই দাবি বা প্রতিরক্ষা আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে বাতিল হয়, তাহলে আদালত, উক্ত দাবি বা প্রতিরক্ষাকে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক বলিয়া ঘোষণার কারণসমূহ লিখিতভাবে উল্লেখ করিয়া, অভিযোগকারী পক্ষকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে খরচ প্রদানের আদেশ দিবে, যা আদালতের আর্থিক এখতিয়ার অতিক্রম না করিয়া, সর্বোচ্চ পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত হইতে পারিবে।
(২) এই ধারায় যাহার বিরুদ্ধে খরচ প্রদানের আদেশ দেওয়া হইবে, সে ব্যক্তি কেবল উক্ত আদেশের কারণে তার দায়িত্বরত কোনো ফৌজদারি দায় হইতে অব্যাহতি পাইবেন না, যদি তিনি মিথ্যা বা হয়রানিমূলক দাবি বা প্রতিরক্ষা প্রদান করেন।
(৩) এই ধারায় প্রদত্ত খরচের পরিমাণ পরবর্তীকালে ক্ষতিপূরণ বা ক্ষতির দাবিতে দায়েরকৃত যেকোনো মোকদ্দমায় বিবেচনায় নেওয়া হইবে, যদি সেই মোকদ্দমা একই মিথ্যা বা হয়রানিমূলক দাবি বা প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত হয়।

⇒ আগে মামলা-মোকদ্দমা অপ্রয়োজনে দায়ের করে হয়রানি করলে আদালত সর্বোচ্চ ২০,০০০/- টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারত। বর্তমানে Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025 এর মাধ্যমে আদালত ৫০,০০০/- টাকা ক্ষতিপূরনের আদেশ দিতে পারবেন।

১১,৭১১.
দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের কত নং আইন?
  1. ৫ নং
  2. ২৫ নং
  3. ৪৫ নং
  4. ৬০ নং
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের ৪৫ নং আইন হিসেবে প্রণীত হয়।

• ১৮৩৩ সালে ভারতের শাসনভার ইংরেজ কোম্পানী হাত হতে ব্রিটিশ রাজ গ্রহণ করার পর ভারতবর্ষের জন্য একটি আইন কমিশন গঠন করেন। ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম আইন কমিশন গঠন করা হয় ১৮৩৪ সালে। প্রথম আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন থমাস ব্যাবিংটন ম্যাকুলে (Lord Macaulay).
প্রথম আইন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যা নিম্নরুপ:-
i) সভাপতি- লর্ড ম্যাকুলে।
ii) সদস্য- মি. ম্যাকলয়েড।
iii) সদস্য- মি. এন্ডারসন।
iv) সদস্য- মি. মিলেট।

এ কমিশন দণ্ডবিধির খসড়া প্রণয়ন করে ১৮৩৭ সালের ১৪ই অক্টোবর ভারতের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড আ্যাকল্যান্ডের নিকট পেশ করেন। যা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি স্যার বার্নেস পিকক এবং অন্যান্য বিচারপতিগণ (যারা ফোর্ট উইলিয়ম লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন)। সতর্কতার সাথে পরীক্ষা করে ১৮৫৬ সালে দণ্ডবিধির খসড়া লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে উপস্থাপিত হয়। ১৮৬০ সালে লেজিসলেটিভ কাউন্সিল আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত খসড়া তৈরী করেন। অতঃপর ভারতে বিদ্যমান বিভিন্ন আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কিছু সংশোধনী করে ১৮৬২ সালের ৬ই অক্টোবর দণ্ডবিধি পাশ হয়। যার নামকরণ করা হয় ১৮৬০ সালের ৪৫ নং আইন, দণ্ডবিধি। এটি একটি মৌলিক আইন হিসেবে পরিচিত, যেখানে অপরাধ ও শাস্তির বিধান রয়েছে। 
১১,৭১২.
প্রতিটি জেলায় সর্বোচ্চ ফৌজদারি আদালতের বিচারক হন
  1. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  2. জেলা জজ
  3. দায়রা জজ
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ১৭ ধারার বিধানঃ নির্বাহী, জুডিশিয়াল এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণের অধীনস্থকরণঃ (১) ১০ ধারায় ও ১২(১) ধারা অনুযায়ী নিযুক্ত সকল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনস্থ হবেন; এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এই কোডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সময়ে সময়ে বিশেষ আদেশ কর্তৃক তাঁর অধীন ম্যাজিস্ট্রেটগণের মধ্যে কাজকর্ম বন্টন করতে পারবেন ।

(২) ১১ ধারা ও ১২(৩) ধারা অনুযায়ী, নিযুক্ত সকল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১৫ ধারা অনুসারে গঠিত সমস্ত বেঞ্চ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-এর অধীন হবেন; তাঁদের মধ্যে কার্যভার বন্টনের জন্য তিনি সময়ে সময়ে উক্ত কোড এবং সরকার কর্তৃক ১৬ ধারা অনুসারে প্রণীত বিধিসমূহের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বিশেষ আদেশ জারি করতে পারবেন।

(৩) অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও বিশেষ মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটসহ ১২(৫) ধারা অনুযায়ী নিযুক্ত সকল মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১৯ ধারা অনুসারে গঠিত বেঞ্চসমূহ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের অধীন হবেন; অনুরূপ ম্যাজিস্ট্রেটগণের ও বেঞ্চসমূহের মধ্যে কার্যভার বন্টনের জন্য তিনি সময়ে সময়ে উক্ত কোড এবং সরকার কর্তৃক ১৬ ধারা অনুযায়ী প্রণীত বিধিসমূহের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বিশেষ আদেশ জারি করতে পারবেন ।

(৪) চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-সহ সকল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ দায়রা জজ-এর অধীন হবেন এবং চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটসহ সকল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ মহানগর দায়রা জজ-এর অধীন হবেন

♦ অর্থাৎ প্রতিটি জেলায় সর্বোচ্চ ফৌজদারী আদালত হলো দায়রা আদালত এবং দায়রা আদালতের বিচারক হলো দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ম দায়রা জজ। অন্যদিকে মহানগর এলাকায় মহানগর দায়রা আদালত হলো সর্বোচ্চ ফৌজদারী আদালত এবং মহানগর দায়রা জজ হলো বিচারক।
১১,৭১৩.
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২৫ অনুযায়ী নারী বা শিশুর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কত?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৫ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২৫(৩) অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি নারী বা অনূর্ধ্ব ১৮ (আঠারো) বছরের শিশুর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং, রিভেঞ্জ পর্ন, সেক্সটর্শন বা শিশু যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত অপরাধ সংঘটন করেন, তাহলে তিনি সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বছর কারাদণ্ডে, বা সর্বোচ্চ ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

⇒ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২৫- যৌন হয়রানি, ব্ল‍্যাকমেইলিং বা অশ্লীল বিষয়বস্তু প্রকাশ সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ড:
(১) যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে অন্য কোনো ব্যক্তিকে ব্ল‍্যাকমেইলিং, বা যৌন হয়রানি, বা রিভেঞ্জ পর্ন, বা ডিজিটাল শিশু যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত উপাদান (চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ ম্যাটেরিয়াল) বা সেক্সটর্শন করিবার অভিপ্রায়ে সৃষ্ট, বা প্রাপ্ত, বা সংরক্ষিত কোনো তথ্য, ভিডিও চিত্র, অডিও ভিজ্যুয়াল চিত্র, স্থির চিত্র, গ্রাফিকস বা অন্য কোনো উপায়ে ধারণকৃত, এডিটকৃত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নির্মিত অথবা এডিটকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য এইরূপ কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচার করেন, বা প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচার করার হুমকি প্রদান করেন, যাহা ক্ষতিকর বা ভীতি প্রদর্শক, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।
(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(৩) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ, কোনো নারী বা অনূর্ধ্ব ১৮ (আঠারো) বৎসরের কোনো শিশুর বিরুদ্ধে সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

ব্যাখ্যা- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘ব্ল‍্যাকমেইলিং’ অর্থ এমন হুমকি বা ভীতি প্রদর্শনকে বুঝাইবে, যাহার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে তাহার গোপনীয় তথ্য প্রকাশের বা ক্ষতি করিবার ভয় দেখাইয়া বেআইনি সুবিধা, সেবা বা চাহিত কোনো কার্য সম্পাদনে বাধ্য করে।

১১,৭১৪.
রিনা এবং অমিত একটি ভূমি লিজ চুক্তি করেন। রিনা চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেন, যা আদালত খারিজ করে দেন। ধারা ২৯ অনুসারে, রিনা কি করতে পারবেন না?
  1. লিজ চুক্তির শর্ত পরিবর্তন
  2. নতুন লিজ চুক্তি সম্পাদন
  3. চুক্তি সংশোধনের মামলা
  4. চুক্তির ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ মামলা
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২৯ অনুসারে,
একটি চুক্তি অথবা তার অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ হয়ে গেলে, তা তেমন চুক্তি বা তার অংশবিশেষ ভঙ্গ করার দায়ে ক্ষতিপূরণের জন্য বাদী কর্তৃক মামলা দায়ের করার অধিকারে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করবে।

Section 29- Bar of suit for breach after dismissal:
The dismissal of a suit for specific performance of a contract or part thereof shall bar the plaintiff's right to sue for compensation for the breach of such contract or part, as the case may be.
১১,৭১৫.
যখন কোন নির্দিষ্ট সমস্যার ক্ষেত্রে একাধিক সমাধান থাকে, তখন ইসলামি আইনজ্ঞরা সর্বাধিক গ্রহণীয় সমাধান গ্রহণ করবে এটা কি নামে পরিচিত?
  1. কিয়াস
  2. ইজমা
  3. ইসতিসলাহ
  4. ইসতিহসান
ব্যাখ্যা
ইসতিহসান: ইসতিহসান অর্থ সমর্থন বা অনুমোদন। এ শব্দটি 'কোরআন এবং হাদিসের ব্যাখ্যা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ইসলামী আইনের অপ্রধান উৎসগুলোর মধ্যে ইমাম আবু হানিফা একেও একটি উৎসরূপে গণ্য করেন।

-কোন নির্দিষ্ট সমস্যার একাধিক সমাধান থাকলে তখন ইসলামী আইনজ্ঞগণ সর্বাধিক গ্রহণীয় যে সমাধান গ্রহণ করেন তা হলো ইসতিহসান।

যখন কতিপয় আইন কোনো ক্ষেত্রে উপস্থাপন করা হয় এবং প্রযোজ্য বলে প্রতীয়মান হয়, তখন দুর্বলভিত্তিক আইনের ওপর দৃঢ়ভিত্তিক আইন প্রাধান্য লাভ করবে এবং সমর্থনীয় বা অনুমোদনযোগ্য হবে, এটাই 'ইসতিহসান। এখানে দুর্বলভিত্তিক আইন বলতে কোরআন ও হাদিসের তুলনায় দুর্বলভিত্তিক 'ইজমা' বা কিয়াসের আইনকে বুঝানো হয়েছে। কোরআন এবং হাদিস হলো দৃঢ়ভিত্তিক আইন। ইসতিহসান দ্বারা কিয়াস প্রত্যাখ্যান এবং যুক্তিযুক্ততার আইনকে সমর্থন করা বুঝায়।

যে নীতির বলে আইনবিদগণ তাদের ব্যক্তিগত বিচার বুদ্ধির ওপর নির্ভর করতে পারেন, সে নীতিকেই হানাফীগণ ইসতিহসান বলে। তাদের মতে কিয়াসভিত্তিক আইন অভ্রান্ত নয়। এমনকি ইজমাকেও অভ্রান্ত বলা যায় না। প্রয়োজনবোধে ঐগুলোর পরিবর্তে স্বাধীন বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করাই ইসতিহসানের মূল মর্ম। হানাফীগণ বলেন যে, ইসতিহসানও এক প্রকার কিয়াস, তবে কিয়াস অপেক্ষা ইসতিহসানের এখতিয়ার ব্যাপক। ইমাম আবু হানিফা এ নীতির প্রতিষ্ঠাতা।

⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি।
১. পবিত্র কোরআন
২. হাদিস
৩. ইজমা
৪. কিয়াস

⇒  অন্যান্য উৎসগুলো হলো
ক. ইসতিহসান [Istihsan]
খ. ইসতিসলাহ [Istislah]
গ. ইসতিদলাল
ঘ. ইজতিহাদ
ঙ. তকলিদ
১১,৭১৬.
ধারা ৩৫২-এর অধীনে সর্বসাধারণ বা কোনো বিশেষ ব্যক্তির আদালতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার আদেশ দিতে পারেন-
  1. পুলিশ কর্মকর্তা
  2. বিচারকারী জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. আদালতের কর্মচারী
  4. সরকারি কৌঁসুলি
ব্যাখ্যা

• ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৩৫২: আদালত উন্মুক্ত থাকবে-
কোন অপরাধের তদন্ত বা বিচারের উদ্দেশ্যে যে স্থানে কোন ফৌজদারী আদালতের অধিবেশন বসে, ঐ স্থানকে উন্মুক্ত আদালত হিসেবে পরিগণিত করতে হবে এবং যে পর্যন্ত সেখানে সুবিধাজনক স্থান সংকুলান হয়, সে পর্যন্ত সেখানে সর্ব সাধারণের প্রবেশাধিকার থাকতে পারেঃ

শর্ত থাকে যে, বিচারকারী জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট সঠিক মর্মে মনে করলে কোন বিশেষ মামলার অনুসন্ধান বা বিচারের যেকোন ধাপে আদেশ প্রদান করতে পারবেন যে, সর্বসাধারণ বা কোন বিশেষ ব্যক্তি আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত কক্ষ বা ভবনে প্রবেশ করতে বা অন্য কোন জায়গায় অবস্থান করতে পারবে না।

Section 352: Courts to be open
The place in which any Criminal Court is held for the purpose of inquiring into or trying any offence shall be deemed an open Court, to which the public generally may have access, so far as the same can conveniently contain them:
Provided that the presiding Judge or Magistrate may, if he thinks fit, order at any stage of any inquiry into, or trial of, any particular case, that the public generally, or any particular person, shall not have access to, or be or remain in, the room or building used by the Court.

১১,৭১৭.
‘B’ মিথ্যাভাবে নিজেকে একজন বিখ্যাত ব্যাংকার হিসেবে পরিচয় দিয়ে ‘Z’-কে প্রতারিত করেছে।দণ্ডবিধির ধারা ৪১৯ অনুসারে সর্বোচ্চ শাস্তি কত?
  1. ১ বছরের কারাদণ্ড
  2. ২ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৫ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪১৬ অনুসারে, ভিন্ন ব্যক্তির পরিচয়ে প্রতারণা (Cheating by Personation) বলতে এমন প্রতারণাকে বোঝায় যেখানে কেউ অন্য কোনো ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রচার করে, বা জেনেশুনে একজন ব্যক্তিকে অন্যের জন্য প্রতিস্থাপন করে, অথবা নিজেকে বা অন্য কাউকে এমন ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে যিনি তিনি বা সেই ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে নন। এখানে, ‘B’ মিথ্যাভাবে নিজেকে একজন বিখ্যাত ব্যাংকার হিসেবে পরিচয় দিয়ে ‘Z’-কে প্রতারিত করেছে, যা ধারা ৪১৬-এর অধীনে ভিন্ন ব্যক্তির পরিচয়ে প্রতারণা।

- ধারা ৪১৯ অনুসারে, ভিন্ন ব্যক্তির পরিচয়ে প্রতারণার শাস্তি হলো ৩ বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকারের কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয়ই। প্রশ্নে শুধুমাত্র প্রতারণার কথা উল্লেখ আছে, কিন্তু সম্পত্তি হস্তান্তরের কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। তাই ধারা ৪১৯ প্রযোজ্য।

⇒ অর্থাৎ ‘B’-এর কাজ ধারা ৪১৬-এর অধীনে ভিন্ন ব্যক্তির পরিচয়ে প্রতারণা হিসেবে গণ্য, এবং ধারা ৪১৯ অনুসারে এর সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয়ই। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো গ) ৩ বছরের কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ৪১৯ ধারার বিধান অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করার শাস্তি:- কোন ব্যক্তি যদি অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করে, তবে উক্ত লোক তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-419. Punishment for cheating by personation:
-Whoever cheats by personation shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.

১১,৭১৮.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে সঠিক হেফাজত হতে ত্রিশ বৎসরের পুরাতন দলিল আদালতে দাখিল করা হলে, দলিল সম্পর্কে আদালতের অনুমানের প্রকৃতি কী হবে?
  1. May presume
  2. Shall presume
  3. Conclusive proof
  4. কোনটি নয়।
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারা অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরনো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক মনে করবে যদি দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হয় এবং আদালতের দৃষ্টিতে সঠিক হেফাজত হতে দলিলটি আদালতে দাখিল করা হয়।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারা অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরানো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয় বস্তুকে আদালত সঠিক বলে মনে করতে পারে আবার নাও করতে পারে। ৯০ ধারায় বলা হয়েছে ৩০ বছরের পুরানো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক বলে মনে করবে যদি দলিলটি সঠিক ব্যক্তির দখল থেকে আসে।
⇒ ৩০ বছরের পুরোনো দলিল সম্পর্কে আদালত May presume করেন। 
 ⇒৯০ ধারার অনুমান শুধুমাত্র মূল দলিলের জন্য। কোন প্রত্যয়িত কপি বা জাবেদা নকলের জন্য নয়।
⇒ এ ধারার বিধানের অনুযায়ী-
১. দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হতে হবে।
২. দলিলটি সঠিক ব্যক্তির হেফাজত হতে আদালতে দাখিল করতে হবে।
------------------
⇒ The Evidence Act,1872: Section 90: Presumption as to documents thirty years old:
-Where any document, purporting or proved to be thirty years old, is produced from any custody which the Court in the particular case considers proper, the Court may presume that the signature and every other part of such document, which purports to be in the handwriting of any particular person, is in that person's handwriting, and, in the case of a document executed or attested, that it was duly executed and attested by the persons by whom it purports to be executed and attested. 
 
⇒ Explanation.-Documents are said to be in proper custody if they are in the place in which, and under the care of the person with whom, they would naturally be; but no custody is improper if it is proved to have had a legitimate origin, or if the circumstances of the particular case are such as to render such an origin probable. 
 This explanation applies also to section 81.
১১,৭১৯.
ধারা ৩৫৯-এর অধীনে কোন বিশেষ প্রশ্ন ও উত্তর লিপিবদ্ধ করার এখতিয়ার নেই-
  1. ম্যাজিস্ট্রেটের
  2. দায়রা জজের
  3. আইনজীবীর
  4. উল্লিখিত কারো নেই
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫৯: সাক্ষ্য লিপিবদ্ধের পদ্ধতি-
(১) ধারা ৩৫৬ বা ৩৫৭ অনুসারে গৃহীত সাক্ষ্য সাধারণত প্রশ্নোত্তর আকারে লিপিবদ্ধ হবে না বরং বিবরণ আকারে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
(২) ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা জজ ইচ্ছা করলে কোন বিশেষ প্রশ্ন ও উত্তর লিপিবদ্ধ করতে বা করাতে পারবেন।

Section 359: Mode of recording evidence-
(1) Evidence taken under section 356 or section 357 shall not ordinarily be taken down in the form of question and answer, but in the form of a narrative.
(2) The Magistrate or Sessions Judge may, in his discretion take down, or cause to be taken down, any particular question and answer.
১১,৭২০.
একজন মুসলমান তার দাফন-কাফনের ব্যয়ভার এবং ঋণ পরিশোধের পর কত শতাংশ সম্পত্তি উইল করতে পারেন?
  1. সম্পূর্ণ অংশ
  2. ১/২ অংশ
  3. ১/৩ অংশ
  4. ১/৪ অংশ
ব্যাখ্যা
• উইল বা অসিয়ত:
কোনো মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষণাই হলো উইল বা অসিয়ত। আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয়সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চূড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায়।

- যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছাপত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে উত্তরদানগ্রহী বলা হয়।
- উইলকারী মৃত্যুর আগে চাইলে উইল পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারেন।
- একজন মুসলমান তার দাফন-কাফনের ব্যয়ভার এবং ঋণ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তির ১/৩ অংশের অধিক উইলের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে পারে না। যদি ১/৩ অংশের অধিক উইল করা হয়, তবে উইলকারীর উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে, অন্যথায় উইল ১/৩ অংশের বেশি কার্যকর হবে না। অর্থাৎ, সম্পত্তির ১/৩ অংশের বেশি উইল করতে আদালত নয়, উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে।
১১,৭২১.
দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুসারে, প্ররোচনা বা অপরাধে সহায়তা কতভাবে হতে পারে?
  1. ২ ভাবে
  2. ৩ ভাবে
  3. ৪ ভাবে
  4. ৫ ভাবে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুসারে, প্ররোচনা বা অপরাধে সহায়তা তিনটি প্রধান উপায়ে হতে পারে:
১) Instigation (প্ররোচনা): কাউকে কোনো অপরাধ করতে উদ্দীপিত করা বা প্ররোচিত করা।
২) Engagement in Conspiracy (ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ): কাউকে বা অন্য কাউকে অপরাধ করার জন্য ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করা।
৩) Aiding (সহায়তা): অপরাধ সংঘটন করতে ইচ্ছাকৃতভাবে সাহায্য করা, যা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে হতে পারে।
- এই তিনটি উপায়ে একজন ব্যক্তি অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা দিতে পারে এবং এসব ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তিরও অপরাধের জন্য দায়িত্ব জড়িত থাকে।

⇒ যে সমস্ত কাজ করলে অপরাধ হয় সেই সমস্ত কাজ করার জন্য প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে কোন ইন্ধন জোগান কিংবা সমর্থন করাকে আইনের ভাষায় প্ররোচনা বা Abetment বলা হয়।
-দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী ৩ ভাবে প্ররোচনা বা অপরাধে সহায়তা অপরাধ হতে পারে।
(i) কাউকে প্ররোচিত করে (instigation)
(ii) ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করে (engagement)
(iii) কার্য বা কার্যবিরতি দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে সাহায্য করে (aiding)
-------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 107: Abetment of a thing: A person abets the doing of a thing, who
Firstly.- Instigates any person to do that thing; or
Secondly.- Engages with one or more other person or persons in any conspiracy for the doing of that thing, if an act or illegal omission takes place in pursuance of that conspiracy, and in order to the doing of that thing; or
Thirdly.- Intentionally aids, by any act or illegal omission, the doing of that thing.

Explanation-1: A person who, by wilful misrepresentation, or by wilful concealment of a material fact which he is bound to disclose, voluntarily causes or procures, or attempts to cause or procure, a thing to be done, is said to instigate the doing of that thing.
১১,৭২২.
যখন কোনো নতুন আইন পূর্ববর্তী আইনকে রহিত বা পুনঃপ্রবর্তন করে এবং যদি স্পষ্ট কোনো ভিন্ন উদ্দেশ্য প্রকাশ না করা থাকে তখন পুরানো আইনের বরাত (reference) কীভাবে গণ্য হবে?
  1. বৈধ হবে না
  2. শুধুমাত্র পুরানো আইনের বরাত হিসেবে গণ্য হবে
  3. নতুন বা পুনঃপ্রবর্তিত আইনের বরাত হিসেবে গণ্য হবে
  4. আদালত সিদ্ধান্ত নিবে
ব্যাখ্যা

The General Clauses Act, 1897 এর ধারা ৮: রহিত আইনের ক্ষেত্রে বরাতের ব্যাখ্যা:
১) যদি এই আইন, বা এই আইনের কার্যকর হওয়ার পরে সংসদে প্রণীত কোনো আইন বা প্রবিধি, কোনো পূর্ববর্তী আইনকে বাতিল ও পুনঃপ্রবর্তন (re-enact) করে, তা পরিবর্তনসহ বা পরিবর্তনবিহীনভাবে হোক, তবে, অন্য কোনো আইন বা কোনো দলিলে যদি সেই বাতিলকৃত ধারা বা বিধানের কথা উল্লেখ থাকে, এবং যদি স্পষ্ট কোনো ভিন্ন উদ্দেশ্য প্রকাশ না করা থাকে, তাহলে সেই উল্লেখ পুনঃপ্রবর্তিত ধারা বা বিধানের বরাত (reference) হিসেবে গণ্য হবে।

১১,৭২৩.
'ক' মামলার বাদী এবং 'গ' মামলার বিবাদী। 'ক' 'গ' এর বিরুদ্ধে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের মামলা করতে চায়। চুক্তিভঙ্গের তারিখ হতে বিবাদী 'গ' উন্মাদ হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. মামলার তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে
  2. 'ক' কে তামাদিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা করতে হবে
  3. 'গ' সুস্থ হওয়ার পর তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে
  4. ক এবং গ
ব্যাখ্যা
The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা মতে যেহেতু 'গ' মামলায় বিবাদী তাই তামাদির আইনের ৬ ধারা 'গ' এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না এবং এই ক্ষেত্রে 'ক'-কে অবশ্যই ১ বৎসরের মধ্যে মামলা করতে হবে। কারণ ৬ ধারায় শুধুমাত্র বাদী সুবিধা পেতে পারে বা বাদীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

• ধারা ৬- আইনগত অপারগতা (Legal Disability)

আইনগত অপারগতা হচ্ছে-
১। নাবালকত্ব (Minor),
২। উন্মাদ (Insane),
৩। জড়বুদ্ধি বা হতবুদ্ধি (Idiot)।

> মােকদ্দমা করার অধিকারী ব্যক্তি যে সময়ে মামলা করার অধিকারী হয়, তখন সে নাবালক বা উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি সম্পন্ন থাকলে, তার মামলা দায়ের করার ও তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে, যে সময় থেকে তার আইনগত অপারগতার অবসান ঘটবে।

> যদি উক্ত ব্যক্তির একটি আইনগত অপারগতা থাকাকালীন সময়ে আরাে একটি অপারগতায় আক্রান্ত হয়, সেক্ষেত্রে দুটি আইনগত অপারগতার অবসান হওয়ার পর তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

> যদি উক্ত ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেইক্ষেত্রে তার আইনানুগ প্রতিনিধি, যদি তার আবার কোন অপারগতা না থাকে, তাহলে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে।
১১,৭২৪.
X, Y-এর বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করে এবং শুনানির জন্য মামলাটি ডাকা হলে কোনো পক্ষই আদালতে উপস্থিত হয়নি। আদালত Order 9, Rule 3 অনুযায়ী মামলাটি খারিজ করে দেয়। এক্ষেত্রে 'X'-
  1. নতুন মামলা দায়ের করতে পারবে
  2. খারিজের আদেশ রদ করার আবেদন করতে পারবে
  3. (ক) বা (খ)
  4. কোনো প্রতিকার পাবে না
ব্যাখ্যা
আদেশ ৯ বিধি-৩: কোন পক্ষই হাজির না হলে মোকদ্দমা খারিজ হবে:
মোকদ্দমার শুনানির জন্য ডাক পড়লে যদি কোন পক্ষই উপস্থিত না হয়, তবে আদালত মোকদ্দমা খারিজের নিমিত্তে আদেশ দান করতে পারবে।

আদেশ ৯ বিধি ৪: বাদী নতুন মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে কিংবা আদালত কোন মোকদ্দমা পুনরায় চালু করতে পারবে:
উপরোক্ত ২ অথবা ৩ বিধি অনুযায়ী মোকদ্দমা খারিজ হলে বাদী (তামাদি আইন সাপেক্ষে) নতুন মোকদ্দমা রুজু করতে পারবে; কিংবা খারিজের আদেশ রদ করার আবেদন করতে পারবে; উক্ত ক্ষেত্রে বাদী যদি আদালতের সন্তুষ্টিক্রমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোর্ট ফি কিংবা সমন জারির ডাক মাশুল (যদি লাগে) দিতে না পারার বা উপস্থিত হতে না পারার যথেষ্ট কারণ দর্শাতে পারে, তবে আদালত মোকদ্দমার খারিজ রদের আদেশ দান করবে এবং মোকদ্দমার কার্যপদ্ধতি পরিচালনার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করবে।

Order 9 Rule 4: Plaintiff may bring fresh suit or Court may restore suit to file:
Where a suit is dismissed under rule 2 or rule 3, the plaintiff may (subject to the law of limitation) bring a fresh suit or he may apply for an order to set the dismissal aside, and if he satisfies the Court that there was sufficient cause for his not paying the court-fee and postal charges (if any) required within the time fixed before the issue of the summons, or for his non- appearance, as the case may be, the Court shall make an order setting aside the dismissal and shall appoint a day for proceeding with the suit.
১১,৭২৫.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীনে মোকদ্দমা দায়েরের জন্য কোর্ট ফি কত?
  1. ১০০ টাকা
  2. ২০০ টাকা
  3. ৫০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৫ অনুসারে, এই আইনের অধীনে কোনো মোকদ্দমা দায়ের করার জন্য ২০০ টাকা কোর্ট ফি প্রদান করতে হবে। এই ফি পরিশোধের মাধ্যমে মোকদ্দমা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর-২৫ ধারার বিধান: কোর্ট ফি: 
- পারিবারিক আদালতে এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার আরজি দাখিল করিতে প্রদেয় কোর্ট ফি হইবে ২০০ (দুইশত) টাকা।
১১,৭২৬.
নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৭৮ক অনুসারে, মূল্য অনূর্ধ্ব পাঁচ লক্ষ টাকা এমন একটি স্থাবর সম্পত্তির 'বিক্রয়-চুক্তি' নিবন্ধনের ফিস কত?
  1. ১০০ টাকা
  2. ২০০ টাকা
  3. ৫০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৭৮ক(ক)(অ) অনুসারে, কোন স্থাবর সম্পত্তির মূল্য অনূর্ধ্ব পাঁচ লক্ষ টাকা হলে, সেই সম্পত্তির বিক্রয়-চুক্তি নিবন্ধনের জন্য প্রদেয় নিবন্ধন ফিস পাঁচশত টাকা (৫০০ টাকা)।

⇒ The Registration Act, 1908 এর ধারা ৭৮ক- বিক্রয়ের চুক্তিপত্র, হেবা এবং বন্ধকী দলিলের নিবন্ধন ফিস:
ধারা ৭৮ বা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন,-
(ক) কোন স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয়-চুক্তির জন্য প্রদেয় নিবন্ধন ফিস্ হইবে-
(অ) উক্ত সম্পত্তির মূল্য অনূর্ধ্ব পাঁচ লক্ষ টাকা হইলে, পাঁচশত টাকা;
(আ) উক্ত সম্পত্তির মূল্য পাঁচ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে কিন্তু অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ লক্ষ টাকা হইলে, এক হাজার টাকা; এবং
(ই) উক্ত সম্পত্তির মূল্য পঞ্চাশ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে হইলে, দুই হাজার টাকা;

(খ) মুসলমানগণের ব্যক্তিগত আইনের (শরীয়াহ) অধীন কোন স্থাবর সম্পত্তির হেবার ঘোষণা নিবন্ধনের জন্য সম্পত্তির মূল্য নির্বিশেষে একশত টাকা ফিস পরিশোধ করিতে হইবে, যদি এইরূপ হেবা স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা ও সন্তান, দাদা-দাদী (নানা-নানী) ও নাতি-নাতনি, সহোদর ভ্রাতা, সহোদর ভগিনী এবং সহোদর ভ্রাতা-সহোদর ভগিনীগণের মধ্যে সৃষ্ট হয়;

(খখ) হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীগণের ব্যক্তিগত আইন অনুসারে স্থাবর সম্পত্তির দান বিষয়ক ঘোষণা, যদি এইরূপ দান তাহাদের ব্যক্তিগত আইনে সমর্থন করে, তাহা হইলে সম্পত্তির মূল্য নির্বিশেষে প্রদেয় নিবন্ধন ফিস একশত টাকা হইবে, যদি উক্ত দান স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা ও সন্তান, পিতামহ-পিতামহী (মাতামহ-মাতামহী) ও পৌত্র-পৌত্রী (দৌহিত্র-দৌহিত্রী), সহোদর ভ্রাতা, সহোদর ভগিনী এবং সহোদর ভ্রাতা-সহোদর ভগিনীগণের মধ্যে সৃষ্ট হয়।

১১,৭২৭.
আদালত যে সকল বিষয় 'Judicial Notice' এ নিতে পারেন তা The Evidence Act, 1872 এর কোন ধারায় বলা হয়েছে?
  1. ৫৭
  2. ৫৬
  3. ৫৮
  4. ৫৯
ব্যাখ্যা
• জুডিশিয়াল নোটিশ (Judicial Notice)- যেসব বিষয় আদালত জানেন বা জানেন বলে ধরা হয়, সেগুলোকে জুডিশিয়াল নোটিশ বা বিচারিক দৃষ্টিগোচর বলে। সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ও ৫৭ ধারায় জুডিশিয়াল নোটিশের বিধান রয়েছে।

সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ধারার বিধান অনুযায়ী জুডিশিয়াল নোটিশ প্রমানের প্রয়োজন নেই (Fact judicially noticeable need not be proved)। তবে জুডিশিয়াল নোটিশ চূড়ান্ত প্রমান নয়, এর বিরূদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করা যায়।

সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে- আদালত কোন কোন বিষয় অবশ্যই বিচারিক দৃষ্টিগোচরে (জুডিশিয়াল নোটিশ) নিবেন।[Facts of which Court must take judicial notice]

৫৭ ধারা অনুযায়ী আদালত নিম্নলিখিত বিষয়ে অবশ্যই জুডিশিয়াল নোটিশ নিবেন-
i) বাংলাদেশের সকল আইন;
ii) সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রনীত যুদ্ধবিধি বা অস্ত্র ও রসদ (articles of war);
iii) সংসদের কার্যসমূহ;
iv) বাংলাদেশের আদালত, নৌ ও সামুদ্রিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত এবং নোটারি পাবলিকের সীলমোহর;
v) সরকারি পদে নিয়োগের গেজেটে উল্লেখিত নাম, পদ, স্বাক্ষর, যোগদানের সময়;
vi) বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত রাষ্ট্র, রাষ্ট্রপ্রধান, জাতীয় পতাকা;
vii) সময় ও ভৌগলিক বিভাগসমুহ, রোজা, ছুটির দিন সমুহ;
viii) বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমানা;
ix) আদালতের সদস্যবৃন্দ ও এ্যাডভোকেটগন;
x) বাংলাদেশের সাথে অপর কোন রাষ্ট্র বা সংগঠনের বিরোধ:
xi) স্থল, জল ও সমুদ্রপথের নিয়মাবলী।

[বিশেষ নোট- সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারায় জুডিশিয়াল নোটিশের অন্তর্গত ১১টি বিষয়ের তালিকা রয়েছে; কিন্তু এই তালিকা স্বয়ং সম্পূর্ন নয়।]
১১,৭২৮.
সরকার দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার প্রদত্ত হয়েছে এমন কোন বেঞ্চকে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার করার ক্ষমতা দিতে পারে ফৌজদারী কার্যবিধির কত ধারার অধীন?
  1. ৩৬
  2. ২৬১
  3. ৩৩
  4. ২৬০
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ২৬১ ধারার বিধান কম ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট বেঞ্চের উপর ক্ষমতা অর্পণঃ সরকার দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা সম্পন্ন কোন ম্যাজিস্ট্রেট-বেঞ্চকে নিম্নে বর্ণিত অপরাধসমূহের সবকয়টির বা যে কোনটির বিচার সংক্ষিপ্ত প্রণালীতে করার ক্ষমতা অর্পণ করতে পারেনঃ–

(ক) দণ্ডবিধির ধারা-২৭৭, ২৭৮, ২৭৯, ২৮৫, ২৮৬, ২৮৯, ২৯০, ২৯২, ২৯৩, ২৯৪, ৩২৩, ৩৩৪, ৩৩৬, ৩৪১, ৩৫২, ৪২৬, ৪৪৭ এবং ৫০৪ এর অধীন অপরাধসমূহ;
(খ) পৌরসভা আইন ও পুলিশ আইনের সংরক্ষণমূলক ধারাসমূহের অপরাধ, যাহা শুধুমাত্র জরি- মানাযোগ্য অথবা জরিমানাসহ বা জরিমানা ব্যতীত ১(এক) মাসের অনধিক মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয়; (গ) পূর্ববর্তী অপরাধসমূহের যেকোনটির সংঘটনে সহায়তা করা;
(ঘ) পূর্ববর্তী অপরাধসমূহের যেকোন একটি করার প্রচেষ্টা করা, যেখানে এরূপ প্রচেষ্টা অপরাধ বলে পরিগণিত হয় ।

♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ২৬০ ধারার বিধান অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার করার ক্ষমতা হলো মেট্রেপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট। কিন্তু ২৬১ ধারার বিধান অনুযায়ী সরকার দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটকে কতিপয় ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার করার ক্ষমতা দিতে পারে।
১১,৭২৯.
কোন মামলার এবেটের আদেশ রদের জন্য মৃত বাদীর বৈধ প্রতিনিধি সরাসরি দরখাস্ত করতে পারে-
  1. ১৫ দিনের মধ্যে
  2. ৩০ দিনের মধ্যে
  3. ৬০ দিনের মধ্যে
  4. ৯০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২২ বিধি-৯ক এর বিধান সরাসরি খারিজ বা বাতিল আদেশ রহিতকরণ (Directly setting aside abatement or dismissal): বাতিল বা খারিজের ৬০ দিনের মধ্যে যদি মৃত বাদীর আইনগত প্রতিনিধি বাতিল বা খারিজের আদেশকে রহিতকরণের জন্য আবেদন করে তাহলে আদালত বিলম্ব এড়ানো ও বিচার ত্বরান্বিত করার জন্য সাক্ষ্য উপস্থাপনের নির্দেশ প্রদান না করে বাতিল বা খারিজ আদেশ সরাসরি রহিত করতে পারেন। এক্ষেত্রে আদালত বাদীকে অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদানের আদেশ দিবেন।
১১,৭৩০.
আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থে বিকল্প পন্থা (Diversion) গ্রহণ করা হলে বিকল্প পন্থার শর্ত প্রতিপালন বিষয়ে লক্ষ্য রাখার দায়িত্ব কার উপর বর্তায়?
  1. শিশুর মাতা-পিতা বা অভিভাবক
  2. প্রবেশন কর্মকর্তা
  3. শিশু আদালত
  4. শিশু বিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) প্রবেশন কর্মকর্তা।

শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪৮(৩) অনুসারে:
যখন শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থে কোনো আইনগত বিরোধ এড়িয়ে Diversion (বিকল্প পন্থা) গ্রহণ করা হয়, তখন সেই বিকল্প শর্তগুলো পালন হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব থাকে প্রবেশন কর্মকর্তার উপর। প্রবেশন কর্মকর্তা শিশুকে ও তার পরিবারকে পরামর্শ, তত্ত্বাবধান ও সহায়তা করে, শর্তাবলীর বাস্তবায়ন সম্পর্কে আদালতকে রিপোর্ট করে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী/সহায়তা নিশ্চিত করে।

শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪৮- বিকল্প পন্থা (diversion):
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুকে গ্রেফতার বা আটকের পর হইতে বিচার কার্যক্রমের যেকোন পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রমের পরিবর্তে, শিশুর পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আর্থিক, নৃতাত্ত্বিক, মনস্তাত্ত্বিক ও শিক্ষাগত পটভূমি বিবেচনাপূর্বক, বিরোধীয় বিষয় মীমাংসাসহ তাহার সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিতকল্পে বিকল্প পন্থা (diversion) গ্রহণ করা যাইবে।

(২) ফৌজদারি কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশুর গ্রেফতারের পর হইতে বিচার কার্যক্রমের যেকোন পর্যায়ে, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, শিশু-আদালত আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়ার পরিবর্তে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির নিমিত্ত বিকল্প পন্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি প্রবেশন কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিতে পারিবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন বিকল্প পন্থা গ্রহণ করা হইলে সংশ্লিষ্ট শিশু, তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বিকল্প পন্থার শর্ত প্রতিপালন করিতেছে কি না প্রবেশন কর্মকর্তা তাহা লক্ষ্য রাখিবেন এবং বিষয়টি, সময় সময়, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, শিশু-আদালতকে অবহিত করিবেন।

(৪) শিশু, তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বিকল্প পন্থার কোন শর্ত ভঙ্গ করিলে প্রবেশন কর্মকর্তা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত আকারে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, শিশু-আদালতকে অবহিত করিবেন।
 
(৫) বিকল্প পন্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(৬) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অধিদপ্তর বিকল্প পন্থা বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ যুগোপযোগী ও বাস্তবায়নযোগ্য কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে।

১১,৭৩১.
ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৩৮২ অনুযায়ী, গর্ভবতী মহিলার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করবে কোন আদালত?
  1. দায়রা আদালত
  2. জেলা আদালত
  3. আপিল বিভাগ
  4. হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৩৮২ অনুযায়ী: "If a woman sentenced to death is found to be pregnant, the High Court Division shall order the execution of the sentence to be postponed, and may, if it thinks fit, commute the sentence to transportation for life."
 - অর্থাৎ, যদি কোনো নারী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন এবং দেখা যায় তিনি গর্ভবতী, তাহলে: হাইকোর্ট বিভাগ অবশ্যই তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার নির্দেশ দিবে; এবং চাইলে, দণ্ডটি আজীবন কারাদণ্ডে (transportation for life) রূপান্তর করতে পারে।
 অতএব, ধারা ৩৮২ অনুযায়ী এই ক্ষমতা কেবল হাইকোর্ট বিভাগের।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮২ অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো নারী যদি গর্ভবতী হিসেবে প্রমাণিত হন, তাহলে: হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার আদেশ দিবে; এবং চাইলে, সেই মৃত্যুদণ্ডকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে (transportation for life) রূপান্তর করতে পারে।
--------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 382. Postponement of capital sentence on pregnant woman:
- If a woman sentenced to death is found to be pregnant, the High Court Division shall order the execution of the sentence to be postponed, and may, if it thinks fit, commute the sentence to transportation for life.
১১,৭৩২.
দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারা অনুসারে পদাধিকারবলে কৃত কাজের জন্য সরকারি কর্মকর্তা গ্রেফতার ও ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি পাবেন?
  1. ৭৭
  2. ৭৯
  3. ৮১
  4. ৮৩
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ৮১ ধারার বিধান: গ্রেফতার ও ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যহতি:
-পদাধিকারবলে কৃত কোন কাজের জন্য সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করা হলে-তাকে ডিক্রি জারি ব্যতীত গ্রেফতার করা বা তার সম্পত্তি ক্রোক করা যাবে না। আদালত তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে রেহাই দিতে পারে।
----------------------- 
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Section-81. Exemption from arrest and personal appearance:
-In a suit instituted against a public officer in respect of any act purporting to be done by him in his official capacity- 
(a) the defendant shall not be liable to arrest nor his property to attachment otherwise than in execution of a decree, and, 
(b) where the Court is satisfied that the defendant cannot absent himself from his duty without detriment to the public service, it shall exempt him from appearing in person.
১১,৭৩৩.
জামিনদার যদি জামিননামাটি বাতিল করার আবেদন করেন, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট কি পদক্ষেপ নেবেন?
  1. জামিনদারকে শাস্তি দেবেন
  2. জামিননামাটি বাতিল করবেন
  3. আসামীকে হাজির করার নির্দেশ দেবেন
  4. খ এবং গ
ব্যাখ্যা
• ধারা ৫০২: জামিনদারের অব্যাহতি:

জামিনদার যেকোন সময় জামিননামাটি সম্পূর্ণ বা আংশিক বাতিল করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আবেদন করতে পারবেন। এরূপ আবেদন প্রাপ্তির পর ম্যাজিস্ট্রেট মুচলেকাটি বাতিল করবেন এবং জামিনে মুক্ত আসামীকে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী করবেন এবং উক্ত জামিনদারকে অব্যাহতি দিবেন। আসামী আদালতে হাজির হলে বা তাকে হাজির করানো হলে আদালত তাকে নতুন জামিনদার সংগ্রহ করতে বলবেন এবং সে যদি জামিনদার সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাকে জেলে প্রেরন করবেন।

Section 502: Discharge of sureties-
(1) All or any sureties for the attendance and appearance of a person released on bail may at any time apply to a Magistrate to discharge the bond, either wholly or so far as relates to the applicants. 
(2) On such application being made, the Magistrate shall issue his warrant of arrest directing that the person so released be brought before him. 
(3) On the appearance of such person pursuant to the warrant, or on his voluntary surrender, the Magistrate shall direct the bond to be discharged either wholly or so far as relates to the applicants, and shall call upon such person to find other sufficient sureties, and, if he fails to do so, may commit him to custody. 
১১,৭৩৪.
আদালত একটি বিক্রয় চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য ডিক্রি প্রদান করেছে, কিন্তু ক্রেতা মূল্য পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৩৫ ধারায়-
  1. চুক্তি রদ করবেন
  2. ক্ষতিপূরণ আদায় করবেন
  3. চুক্তি বৈধ ঘোষণা করতে পারবে
  4. বিক্রয় সম্পন্ন করার জন্য ডিক্রি প্রদান করবেন
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩৫: বিচারপূর্বক যখন রদ করা যায়:
লিখিত চুক্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোন ব্যক্তি তা রদ করার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে এবং আদালত নিম্নোক্ত যেকোন ক্ষেত্রে বিচারপূর্বক চুক্তি রদ করতে পারেন:
(ক) যেখানে চুক্তি বাতিলযোগ্য অথবা বাদী কর্তৃক সমাপনীয়;
(খ) যেখানে আপাতত দৃশ্যমান নয় এমন কারণে চুক্তি অবৈধ এবং বাদীর চেয়ে প্রতিবাদীকেই দোষী করা যায় বেশি;
(গ) যেখানে একটি বিক্রয়চুক্তি বা একটি ইজারা গ্রহণের চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে এবং ক্রেতা ইজারাদার ক্রয়মূল্য বা অপরাপর অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে।

⇒ যখন ক্রেতা বা ইজারাদার বিষয়বস্তুর দখলকারী থাকে এবং আদালত তেমন দখল অন্যায় মনে করেন সেখানে আদালত তাকে তেমন দখলকারী হিসাবে কোন লাভ বা ভাড়া পেয়ে থাকলে তা বিক্রেতা বা ইজারাদাতাকে প্রদানের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।

⇒ একই ক্ষেত্রে আদালত সে মামলায়ই আদেশ কর্তৃক যাতে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছিল, কিন্তু তদমোতাবেক কাজ করা হয়নি, হয় কর্তব্য অবহেলাকারী পক্ষের বেলায় বা অসম্পূর্ণ চুক্তিই মামলার ন্যায়বিচারের আবশ্যকতা মোতাবেক রদ করে দিতে পারেন।

উদাহরণ:
উপধারা-ক এর-
'ক', 'খ'-এর নিকট একটি মাঠ বিক্রয় করল। মাঠের উপর দিয়ে যাতায়াতের অধিকার সম্পর্কে 'ক'-এর সরাসরি ব্যক্তিগত জ্ঞান ছিল, কিন্তু তা সে 'খ'-এর নিকট গোপন রাখল। সে চুক্তি রদ করে নেওয়ার অধিকারী।

উপধারা-খ এর-
একজন অ্যাটর্নি 'ক' তার মক্কেল একজন হিন্দু বিধবা 'খ' কে 'খ' এর পাওনাদারগণের প্রতারণার উদ্দেশ্যে সম্পত্তি তার নামে হস্তান্তর করতে প্ররোচিত করল। এখানে পক্ষসমূহ সমভাবে দোষী নয় এবং 'খ' হস্তান্তরের দলিল রদ করিয়ে নেয়ার অধিকারী।
১১,৭৩৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৬ ধারার বিধান অনুযায়ী, তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার কোনো কার্যক্রম নিচের কোন কারণে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না?
  1. তদন্তে গাফিলতির জন্য
  2. তদন্ত অসম্পূর্ণ থাকার জন্য
  3. তদন্তে পক্ষপাতিত্বের জন্য
  4. কর্মকর্তার তদন্তের ক্ষমতা না থাকার জন্য
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৬ ধারার উপ-ধারা (২) এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, "No proceeding of a police-officer in any such case shall at any stage be called in question on the ground that the case was one which such officer was not empowered under this section to investigate." অর্থাৎ, তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার কোনো কার্যক্রম শুধুমাত্র এই যুক্তিতে কোনো পর্যায়েই চ্যালেঞ্জ বা প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না যে, তিনি ঐ মামলার তদন্ত করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত (Empowered) ছিলেন না।
- অন্যগুলোর (গাফিলতি, অসম্পূর্ণতা, পক্ষপাতিত্ব) জন্য তদন্ত কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ বা চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৬: আমলযোগ্য অপরাধে তদন্ত (Investigation into cognizable cases)
(১) কোনো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়াই এমন কোনো আমলযোগ্য অপরাধের তদন্ত করতে পারবেন, যা সেই থানার এলাকার মধ্যে ঘটে এবং যার বিচার করার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট আদালতের রয়েছে (চ্যাপ্টার XV অনুযায়ী)।
(২) তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার কোনো কার্যক্রমকে এই যুক্তিতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না যে, তিনি ঐ মামলার তদন্তে অধিকারী ছিলেন না।
(৩) ধারা ১৯০ অনুযায়ী ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটও উক্ত ধরনের অপরাধে তদন্তের আদেশ দিতে পারেন।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 156. Investigation into cognizable cases:
(1) Any officer in charge of a police-station may, without the order of a Magistrate, investigate any cognizable case which a Court having jurisdiction over the local area within the limits of such station would have power to inquire into or try under the provisions of Chapter XV relating to the place of inquiry or trial. 
(2) No proceeding of a police-officer in any such case shall at any stage be called in question on the ground that the case was one which such officer was not empowered under this section to investigate. 
(3) Any Magistrate empowered under section 190 may order such and investigation as above mentioned.

১১,৭৩৬.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী "দাবী-সমন্বয় (Set-off)" বলতে কী বোঝায়?
  1. বিবাদীর নতুন মামলা দায়ের
  2. আদালতের রায় পরিবর্তন
  3. মামলা স্থগিত করার আবেদন
  4. বাদীর দাবির বিপরীতে বিবাদীর নিজস্ব দাবি উত্থাপন
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: ঘ) বাদীর দাবির বিপরীতে বিবাদীর নিজস্ব দাবি উত্থাপন।

⇒ দাবী-সমন্বয় (Set-off) হলো দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ -এর Order VIII, Rule 6-এ বর্ণিত একটি আইনি প্রক্রিয়া, যেখানে:
বাদীর দাবির বিপরীতে বিবাদী তার নিজস্ব আইনগতভাবে প্রাপ্য দাবি উত্থাপন করতে পারে।
এটি একই মামলায় উভয় পক্ষের আর্থিক দাবির সমন্বয় করে, যাতে আদালত একই রায়ে উভয় দাবি নিষ্পত্তি করতে পারে।

প্রয়োজনীয় শর্তাবলী:
- দাবী নির্দিষ্ট ও পরিশোধযোগ্য (ascertained money) হতে হবে।
- উভয় পক্ষের দাবি একই বৈশিষ্ট্যের হতে হবে ।
- দাবীর পরিমাণ আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের মধ্যে থাকতে হবে।
উদাহরণ:
বাদী বিবাদীর কাছ থেকে ৫০,০০০ টাকা দাবি করলে, বিবাদী যদি বাদীর কাছ থেকে ৩০,০০০ টাকা পাওনা থাকে, তাহলে সে দাবী-সমন্বয় করে মাত্র ২০,০০০ টাকা দিতে বাধ্য হতে পারে।

- দাবী-সমন্বয় হলো বিবাদীর জন্য একটি সুযোগ, যাতে সে বাদীর দাবি খণ্ডন করার পাশাপাশি নিজের দাবিও আদায় করতে পারে।
১১,৭৩৭.
যদি ধর্ষিত নারী ১২ বছরের কম বয়স্কা হয় এবং ধর্ষণকারীর স্ত্রী হয়, তাহলে ধর্ষণকারী__________দণ্ডিত হবে?
  1. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে
  2. অর্থদণ্ডসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে
  3. ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
♦The Penal Code, 1860 এর ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী কোন পুরুষ কর্তৃক তার স্ত্রীর সাথে যৌন সহবাস ধর্ষণ বলে গণ্য হবে না যদি স্ত্রীর বয়স ১৩ বছরের নিচে না হয়। ৩৭৬ ধারায় বলা হয়েছে ধর্ষিত নারী নিজের স্ত্রী হলে এবং তার বয়স ১২ বছরের নিচে হয় ধর্ষকের শাস্তি হবে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।
১১,৭৩৮.
কালেক্টরকে রিসিভার হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে আদালতকে কোন শর্ত পালন করতে হবে?
  1. সম্পত্তির মালিকের সম্মতি থাকতে হবে
  2. কালেক্টরের সম্মতি থাকতে হবে
  3. সরকারকে কর প্রদান করতে হবে
  4. সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন করতে হবে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৪০ বিধি ৫: যখন কালেক্টরকে রিসিভার নিয়োগ করা যায়:
যেক্ষেত্রে উক্ত সম্পত্তি সরকারকে রাজস্ব প্রদানকারী ভূমি বা উক্ত ভূমির রাজস্ব হস্তান্তরিত বা মুক্ত করা হয়ে থাকে এবং আদালত যদি মনে করেন যে, কালেক্টর কর্তৃক ব্যবস্থপনা চালিত হলে সংশ্লিষ্ট সকলের স্বার্থ রক্ষা হবে, সেক্ষেত্রে আদালত কালেক্টরের সম্মতিক্রমে তাকে উক্ত সম্পত্তির রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।

When Collector may be appointed receiver:
Where the property is land paying revenue to the Government, or land of which the revenue has been assigned or redeemed, and the Court considers that the interest of those concerned will be promoted by the management of the Collector, the Court may, with the consent of the Collector, appoint him to be receiver of such property.
১১,৭৩৯.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়া যাবে না?
  1. বাদীর দখলে বাধা সৃষ্টি না করার জন্য
  2. বাদীর নিজ পদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি না করার জন্য
  3. বাদীর চলাচলের রাস্তায় বাধা সৃষ্টি না করার জন্য
  4. লীজের মেয়াদ অতিক্রান্তের পরও বাদী দখলে বিঘ্ন সৃষ্টি না করার জন্য
ব্যাখ্যা
• কোনো কিছু করা হতে মামলার পক্ষগণকে বিরত রাখা বা মামলা করার পর কোনো পক্ষের করা কাজের জন্য পরিবর্তিত কোনো সম্পত্তিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে ইনজাংশন বা নিষেধাজ্ঞা বলে।

নিষেধাজ্ঞার প্রধানত দুই প্রকার হতে পারে। যথাক্রমে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা। 

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৩ ধারার মতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে তেমন নিরোধ যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোন পর্যায়েই তা মঞ্জুর করা যায় এবং তা দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।

দেওয়ানি কার্যবিধি আদেশ ৩৯, রুল ১ এবং The Specific Relief Act, 1877 এর ৫৩ ধারা অনুযায়ী- মোকদ্দমা বিচারাধীন অবস্থায় যেকোনো সময় আদালত Temporary Injunction প্রদান করতে পারেন, যা পরবর্তী আদেশ বা মোকদ্দমা নিষ্পত্তি না হওয়া অবধি কার্যকর থাকে।।

• উল্লিখিত 'ক' এবং 'খ' অপশনে বাদীর দখলে বাধা সৃষ্টি না করার জন্য অর্থাৎ, দখলের অধিকার এবং বাদীর নিজ পদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি না করার জন্য অর্থাৎ, নিজের পদের দায়িত্ব পালনের অধিকারের ক্ষেত্রে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে।

এছাড়া বাদীর চলাচলের রাস্তায় বাধা সৃষ্টি না করার জন্য অর্থাৎ, রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে বাঁধা না পাওয়ার অধিকার। উল্লেখিত ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা [Discretionary Power] প্রয়োগ করে ৪২ ধারায় স্বত্ব ঘোষণার সাথে অতিরিক্ত প্রতিকার হিসেবে Temporary Injunction দিতে পারেন; যাতে বাদীর অধিকার প্রয়োগে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়।

অপরদিকে,
লীজের মেয়াদ অতিক্রান্তের পরও বাদীর দখলে বিঘ্ন সৃষ্টি না করার জন্য আদালত কোনো আদেশ বা নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে না।
১১,৭৪০.
কোন পরিস্থিতিতে আদালত কালেক্টরকে সম্পত্তির রিসিভার হিসেবে নিয়োগ করতে পারে?
  1. যখন সম্পত্তিটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন
  2. যখন সম্পত্তিটি অব্যবহৃত থাকে
  3. যখন সম্পত্তিটির মূল্যমান অত্যাধিক হয়
  4. যখন সম্পত্তিটি সরকারের রাজস্ব প্রদানকারী জমি
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪০ বিধি ৫-
যখন সম্পত্তিটি সরকারের রাজস্ব প্রদানকারী জমি, অথবা এমন জমি যার রাজস্ব বরাদ্দ বা মুক্ত করা হয়েছে, এবং আদালত মনে করে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বার্থ কালেক্টরের ব্যবস্থাপনায় উন্নত হবে, তখন আদালত কালেক্টরের সম্মতিতে তাকে সেই সম্পত্তির রিসিভার হিসেবে নিয়োগ করতে পারে।

Order 40 Rule 5- When Collector may be appointed receiver:
Where the property is land paying revenue to the Government, or land of which the revenue has been assigned or redeemed, and the Court considers that the interest of those concerned will be promoted by the management of the Collector, the Court may, with the consent of the Collector, appoint him to be receiver of such property.
১১,৭৪১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৬ ধারায় অনুসন্ধানের আদেশ দেয়ার শর্ত কি?
  1. কোন পক্ষের আবেদনক্রমে দিতে হবে
  2. উচ্চতর আদালতের অনুমতি নিতে হবে
  3. অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
ধারা ৪৩৬ (অনুসন্ধানের আদেশ দেয়ার ক্ষমতা)- হাইকোর্ট তার অধীনস্থ কোন আদালতকে বা দায়রা জজ তার অধীনস্থ কোন-

১. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নিজেদের দ্বারা বা
২. তাদের অধীনস্থ কোন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা অধিকতর অনুসন্ধান করার আদেশ দিতে পারে এবং
৩. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিজে অনুসন্ধান করতে পারে বা তার অধীনস্থ কোনো ম্যাজিস্ট্রেটকে অনুসন্ধান করার নির্দেশ দিতে পারে নিম্নলিখিত বিষয়ে-

i. ২০৩ ধারায় খারিজ হয়েছে এমন যেকোন নালিশ বিষয়ে বা
ii. ২০৪ (৩) ধারায় খারিজ করা হয়েছে এমন কোন নালিশ বিষয়ে বা
iii. যে মামলায় কোনো অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে সেই মামলায়। অধিকতর অনুসন্ধানের নির্দেশ দিতে পারবে।

শর্ত থাকে যে, কোন আদালত কোন অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি সম্পর্কে এই ধারার অধীন তদন্তের নির্দেশ দিবেন না, যদি না উক্ত ব্যক্তিকে কেন উক্তরূপ নির্দেশ দেয়া হবে না তার কারণ দর্শাবার সুযোগ দেয়া হয়।

Section 436 (Power to order inquiry)-
On examining any record under section 435 or otherwise, the High Court Division or the Sessions Judge may direct the Chief Metropolitan Magistrate or Chief Judicial Magistrate by himself or by any of the Magistrates subordinate to him to make, and the Chief Metropolitan Magistrate or Chief Judicial Magistrate may himself make, or direct any Sub-ordinate Magistrate to make, further inquiry into any complaint which has been dismissed under section 203 or sub-section (3) of section 204, or into the case of any person accused of an offence who has been discharged: 
 
Provided that no Court shall make any direction under this section for inquiry into the case of any person who has been discharged unless such person has had an opportunity of showing cause why such direction should not be made.
১১,৭৪২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের Preventive relief এর বিধান আছে কত ধারায়?
ব্যাখ্যা
→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারায় প্রতিরোধ বা নিরোধক প্রতিকারের সংজ্ঞা বর্নিত হয়েছে।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারার বিধান: নিরোধক প্রতিকার: ৫ ধারার (গ) উপধারার অধীন মঞ্জুরীকৃত সুনির্দিষ্ট প্রতিকারকে নিরোধক প্রতিকার বলা হয়।
------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Section 6- Preventive relief: Specific relief granted under clause (c) of section 5 is called preventive relief.
১১,৭৪৩.
মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সংবিধানের কত অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রিট দায়ের করে প্রতিকার পাওয়া যায়?
  1. বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৭ অনুচ্ছেদে
  2. বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে
  3. বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদে
  4. বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
⇒ মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী রিট দায়ের করে প্রতিকার পাওয়া যায়। 

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের বিধান:- কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা: 

(১) কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে এই সংবিধানের তৃতীয় ভাগের দ্বারা অর্পিত অধিকারসমূহের যে কোন একটি বলবৎ করিবার জন্য প্রজাতন্ত্রের বিষয়াবলীর সহিত সম্পর্কিত কোন দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিসহ যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে হাইকোর্ট বিভাগ উপযুক্ত নির্দেশাবলী বা আদেশাবলী দান করিতে পারিবেন।

(২) হাইকোর্ট বিভাগের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আইনের দ্বারা অন্য কোন সমফলপ্রদ বিধান করা হয় নাই, তাহা হইলে
(ক) যে কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে-
(অ) প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়াবলীর সহিত সংশ্লিষ্ট যে কোন দায়িত্ব পালনে রত ব্যক্তিকে আইনের দ্বারা অনুমোদিত নয়, এমন কোন কার্য করা হইতে বিরত রাখিবার জন্য কিংবা আইনের দ্বারা তাঁহার করণীয় কার্য করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিয়া, অথবা
(আ) প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়াবলীর সহিত সংশ্লিষ্ট যে কোন দায়িত্ব পালনে রত ব্যক্তির কৃত কোন কার্য বা গৃহীত কোন কার্যধারা আইনসংগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে করা হইয়াছে বা গৃহীত হইয়াছে ও তাঁহার কোন আইনগত কার্যকরতা নাই বলিয়া ঘোষণা করিয়া
উক্ত বিভাগ আদেশদান করিতে পারিবেন; অথবা

(খ) যে কোন ব্যক্তির আবেদনক্রমে-
(অ) আইনসংগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে বা বেআইনী উপায়ে কোন ব্যক্তিকে প্রহরায় আটক রাখা হয় নাই বলিয়া যাহাতে উক্ত বিভাগের নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইতে পারে, সেইজন্য প্রহরায় আটক উক্ত ব্যক্তিকে উক্ত বিভাগের সম্মুখে আনয়নের নির্দেশ প্রদান করিয়া, অথবা
(আ) কোন সরকারি পদে আসীন বা আসীন বলিয়া বিবেচিত কোন ব্যক্তিকে তিনি কোন্ কর্তৃত্ববলে অনুরূপ পদমর্যাদায় অধিষ্ঠানের দাবী করিতেছেন, তাহা প্রদর্শনের নির্দেশ প্রদান করিয়া
উক্ত বিভাগ আদেশদান করিতে পারিবেন।

(৩) উপরি-উক্ত দফাসমূহে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও এই সংবিধানের ৪৭ অনুচেছদ প্রযোজ্য হয়, এইরূপ কোন আইনের ক্ষেত্রে বর্তমান অনুচ্ছেদের অধীন অন্তর্বর্তীকালীন বা অন্য কোন আদেশ দানের ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগের থাকিবে না।

(৪) এই অনুচ্ছেদের (১) দফা কিংবা এই অনুচ্ছেদের (২) দফার (ক) উপ-দফার অধীন কোন আবেদনক্রমে যে ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী আদেশ প্রার্থনা করা হইয়াছে এবং অনুরূপ অর্ন্তবর্তী আদেশ
(ক) যেখানে উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য কোন ব্যবস্থা কিংবা কোন উন্নয়নমূলক কার্যের প্রতিকূলতা বা বাধা সৃষ্টি করিতে পারে; অথবা
(খ) যেখানে অন্য কোনভাবে জনস্বার্থের পক্ষে ক্ষতিকর হইতে পারে সেইখানে অ্যাটর্নি-জেনারেলকে উক্ত আবেদন সম্পর্কে যুক্তিসঙ্গত নোটিশদান এবং অ্যাটর্নি-জেনারেলের (কিংবা এই বিষয়ে তাহার দ্বারা ভারপ্রাপ্ত অন্য কোন এ্যাডভোকেটের) বক্তব্য শ্রবণ না করা পর্যন্ত এবং এই দফার (ক) বা (খ) উপ-দফায় উল্লিখিত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করিবে না বলিয়া হাইকোর্ট বিভাগের নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান না হওয়া পর্যন্ত উক্ত বিভাগ কোন অন্তর্বর্তী আদেশদান করিবেন না।

(৫) প্রসংগের প্রয়োজনে অন্যরূপ না হইলে এই অনুচ্ছেদে ‘‘ব্যক্তি’’ বলিতে সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহ অথবা কোন শৃংখলা-বাহিনী সংক্রান্ত আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল ব্যতীত কিংবা এই সংবিধানের ১১৭ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হয়, এইরূপ কোন ট্রাইব্যুনাল ব্যতীত যে কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল অন্তর্ভুক্ত হইবে।
১১,৭৪৪.
Which one is chronologically correct in case of making demand for 'right to pre-emption'?
  1. talab-i-tamlik>talab-i-ishhad> talab-i-mwasibat
  2. talab-i-mwasibat > talab-i- ishhad> talab-i- tamlik
  3. talab-i-mwasibat> talab-i-tamlik> talab-i-ishhad
  4. talab-i-ishhad> talab-i-mwasibat> talab-i- tamlik
ব্যাখ্যা
শুফা:
কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি শরীক বা প্রতিবেশী হওয়ার কারনে উক্ত সম্পত্তি সর্বাগ্রে ক্রয়ের অধিকারী হয় কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে দূরবর্তী কারো নিকট বিক্রয় করিলে উক্ত শরীক বা প্রতিবেশী অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করিয়া উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করিতে পারেন। মুসিলম আইনে উক্তরূপ ক্রয় অধিকার কে হক শুফা বা শুফার অধিকার বলে।

মুসলিম আইনে নিম্নরূপ ৩ শ্রেনীর ব্যক্তি শুফার অধিকার দাবি করিতে পারে-
১। শাফী ই শরিক বা বিক্রিত ভূমির একজন সহ-শরীক।
২। শাফী ই খালিত বা বিক্রিত ভূমির মাধ্যমে পথ ব্যবহার বা পানি নিষ্কাশনের অধিকারী ব্যক্তি।
৩। শাফী ই জার বা বিক্রিত ভূমির সংলগ্ন ভূমির মালিক।

উপরোক্ত ৩ শ্রেনীর মধ্যে প্রথম শ্রেনী সর্ব প্রথম শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন এবং প্রথম শ্রেনী দাবী না করিলে দ্বিতীয় শ্রেনী শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর মধ্যে কেউ দাবি না করিলে তৃতীয় শ্রেনী শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন। তবে একি শ্রেনী ভুক্ত একাধিক ব্যক্তি দাবি করিলে প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করিতে পারিবেন।শুফার অধিকার শুধুমাত্র বিক্রয় দলিলের ক্ষেত্রে দাবি করা যায়, অন্য কোন ভাবে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দাবি করা যায় না এবং খরিদ্দার যদি অমুসলিম হয় সেক্ষেত্রেওশুফার অধিকার দাবি করা যায় না।

• অগ্রক্রয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করা। যদি এই সকল আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে এবং উপযুক্ত সময়ে পালন করা না হয়, তবে কোন ব্যক্তিই অগ্রক্রয়ের অধিকারী নয়। এই সকল আনুষ্ঠানিকতাগুলো হচ্ছে-

(ক) প্রথম দাবী (তলব-ই-মৌসিবত):
শব্দগত অর্থে তলব-ই-মৌসিবত হলো লাফ দিয়ে দাবী করা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। অগ্রক্রয়কারী ব্যক্তিকে বিক্রয় সম্পূর্ণ হওয়ার সংবাদ পাবার সাথে সাথে অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে নিজের অভিপ্রায় ঘোষণা করতে হবে। এটা মৌখিকভাবে ও করা যেতে পারে আবার লিখিতভাবে ও করা যেতে পারে। প্রথম দাবীর জন্য কোন সাক্ষীর উপস্হিতি অপরিহার্য নয়। সাক্ষীর অনুপস্হিতির কারণে তলব-ই-মৌসিবত অবৈধ হবে না। তবে তলব-ই-মৌসিবত যে যথাযথভাবে এবং যথাসময়ে করা হয়েছিল এই বিষয়ে কিছু প্রমাণ থাকতে হবে।

(খ) দ্বিতীয় দাবী (তলব-ই-ইশাদ):
তলব-ই-ইশাদ অর্থ হলো সাক্ষীর সম্মুখে দাবী করা। তলব-ই-মৌসিবত উত্থাপনের পর এটা দ্বিতীয় পদক্ষেপ এবং এটা প্রথম দাবীরই পুনরাবৃত্তি। তবে দ্বিতীয় দাবী কমপক্ষে দুইজন সাক্ষীর সামনে হতে হবে। এজন্য একে ‘তলব-ই-তকরির’ ও বলা হয়। এটি বিক্রেতা বা ক্রেতাকে সম্বোধন করে প্রকাশ করতে হবে। তবে তাদের কাউকে পাওয়া না গেলে দ্বিতীয় দাবীটি বিক্রিত সম্পত্তিটিকে সম্বোধন করে করতে হবে।

(গ) তৃতীয় দাবী (তলব-ই-তমলিক):
তলব-ই-তমলিক প্রথম দুটি দাবীর পরে তৃতীয় দাবী। প্রথম দুটি দাবীর পর যদি ক্রেতা মেনে নেয় এবং তার নিকট সম্পত্তিটি বিক্রয় করে দেয় তাহলে অগ্রক্রয়ের দাবী বাস্তবায়িত হয়। সেক্ষেত্রে আর কোনো অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই এবং ক্রেতার স্হলে অগ্রক্রয়কারী প্রতিস্হাপিত হয়। কিন্তু যদি প্রথম দুটি দাবীর পর অগ্রক্রয়কারী বিক্রীত সম্পত্তিটি পুনরায় ক্রয় করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার শরনাপন্ন হতে হবে অর্থাৎ আদালতে কোন মামলা দায়ের করতে হবে।
১১,৭৪৫.
A উচ্চ বেতনের চাকরি দিয়ে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে B-কে ৫ লক্ষ টাকা দিতে প্রলব্ধ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত A, B কে বিদেশ পাঠায় না এবং টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে। A কি ধরনের অপরাধ করেছে?
  1. প্রতারণার অপরাধ
  2. সম্পত্তি আত্মসাৎ
  3. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
  4. ক্ষতি সাধন
ব্যাখ্যা
♦এখানে A, দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অধীনে প্রতারণার অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে। ৪২০ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি, প্রতারণা করে এবং তা দ্বারা প্রতারিত ব্যক্তিকে অন্য কোন ব্যক্তির নিকট কোন সম্পত্তি সমর্পণ করতে অথবা কোন মূল্যবান জামানত কিংবা মূল্যবান জামানতে রূপান্তরিত হওয়ার যোগ্য কোন স্বাক্ষরিত বা সীলমোহরকৃত বস্তু প্রস্তুত, পরিবর্তন অথবা সমুদয় অংশ বা অংশবিশেষ বিনাশ করার জন্য অসাধুভাবে প্ররোচিত করে, তাহলে সে ব্যক্তি যে কোন বর্ণনার কারাদন্ডে যার মেয়াদ ৭ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে এবং অর্থদন্ডে দণ্ডনীয় হবে।
১১,৭৪৬.
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পেশাগত আচরণবিধি ও শিষ্টাচার অনুযায়ী রাষ্ট্রপক্ষে নিযুক্ত আইনজীবীর প্রাথমিক দায়িত্ব কী?
  1. আসামিকে দোষী প্রমাণ করা
  2. সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা
  3. সরকারি স্বার্থ রক্ষা করা
  4. উপযুক্ত সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন না করা 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পেশাগত আচরণবিধি ও শিষ্টাচার অনুযায়ী রাষ্ট্রপক্ষে নিযুক্ত আইনজীবীর প্রাথমিক দায়িত্ব সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা।

⇒ Canons of Professional Conduct and Etiquette, Chapter-3,Rule 5 অনুসারে কেবলমাত্র আসামিকে দোষী প্রমাণ করাই রাষ্ট্রপক্ষে নিযুক্ত আইনজীবীর উদ্দেশ্য নয় বরং সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা হলো প্রাথমিক দায়িত্ব।
---------------------------------------------------------
⇒ Canons of Professional Conduct and Etiquette, Chapter-3,Rule: The primary duty of an Advocate engaged in public prosecution is not to convict, but to see that the justice is done. The suppression of facts or the concealing of witnesses capable of establishing the innocence of the accused is highly reprehensible.

১১,৭৪৭.
কোন অ্যাডভোকেট বার কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া একসাথে কত জনের বেশি শিক্ষানবিশ গ্রহণ করবেন না?
  1. ১০
ব্যাখ্যা
⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council Rules-60- "No Advocate shall take more than four pupils at a time without the permission of the Bar Council."

⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972 বিধি-৬০ এর বিধান:
- শিক্ষানবিশ: অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তি হওয়ার পূর্বে কমপক্ষে ১০ বছর নিয়মিত উকালতি করেন এমন একজন অ্যাডভোকেটের অধীনে দরখাস্তকারীকে নিয়মিত কমপক্ষে ৬ মাস শিক্ষানবিশ থাকতে হবে।
- আবেদনপত্রের সাথে ৫টি দেওয়ানি এবং ৫টি ফৌজদারি মোট ১০ টি মামলার লিখিত নোটবুক দাখিল করতে হবে।
- কোন অ্যাডভোকেট বার কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া একসাথে ৪ জনের বেশি শিক্ষানবিশ গ্রহণ করবেন না।
- অ্যাডভোকেটের সাথে শিক্ষানবিশ এর যে চুক্তি হবে তা অ্যাফিডেভিট সহ বার কাউন্সিলের সেক্রেটারির নিকট ৩০ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে।
- কোন অ্যাডভোকেট চুক্তি পত্রে মিথ্যা বিবৃতি বা মিথ্যা সার্টিফিকেট দিলে পেশাগত অসদাচরণের জন্য দায়ী হবেন।
- শিক্ষানবিশ তালিকাভুক্তির আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিলে উক্ত শিক্ষানবিশ ৫ বছরের জন্য অযোগ্য হবেন।
- হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিসের অনুমতির এবং রেজিস্ট্রেশন ৫ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকবে। ৫ বছরের মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় পাশ করতে ব্যর্থ হলে রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যাবে।
- এম.সি.কিউ এবং লিখিত পরীক্ষা এবং হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিস অনুমতির পরীক্ষা সরকারি কলেজে হবে।
১১,৭৪৮.
আদালতের অনুমতি ছাড়া বাদী কোন ক্ষেত্রে আরজির সাথে দাখিল না করা দলিল পরবর্তীতে দাখিল করতে পারবেন?
  1. যেসব দলিল বিবাদীর সাক্ষীকে জেরা করার জন্য দাখিল করা হয়
  2. বিবাদী কর্তৃক উত্থাপিত কোনো বিষয়ের উত্তর প্রদানের জন্য দলিল
  3. যেসব দলিল কেবলমাত্র কোনো সাক্ষীকে তার স্মৃতিশক্তি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য দাখিল করা হয়
  4. উপরের সবগুলো ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒  বাদী আরজির সাথে কি কি কাগজপত্র বা দলিল দাখিল করবে তা দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১৪ থেকে ১৭ বিধি পর্যন্ত আলোচনা করা হয়েছে।
- বাদী যেসব দলিলের উপর ভিত্তি করে মোকদ্দমা দায়ের করে, তা দাখিলকরণ : বাদী যেসব দলিলের উপর ভিত্তি করে মোকদ্দমা দায়ের করে, তা আরজির সাথে দাখিল করতে হবে।বাদী তার দাবির সমর্থন পূর্বক প্রমাণ হিসেবে অন্য কোন দলিলের উপর নির্ভর করলে এবং তা তার হস্তগত বা আওতাধীনে না থাকলে, সে ক্ষেত্রে উক্ত দলিলসমূহের একটি তালিকা প্রস্তুত করবে এবং উক্ত দলিল করি দখলে বা হস্তগত তা উল্লেখ করে আরজির সাথে যুক্ত করবে। (বিধি ১৪,১৫)

- দেওয়ানি কার্যবিধির ৭ নং আদেশের বিধি-১৮ তে আরজি দাখিলের সময় যে সকল দলিল দাখিল করা হয়নি, তার অগ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বলা হয়েছে যে-
আরজির সাথে বাদী যে সকল দলিল দাখিল করেনি, আদালত সে সকল দলিল পরবর্তীতে দাখিলের অনুমতি দিবেনা। বিশেষ প্রেক্ষাপটে আদালত এমন দলিল দাখিলের অনুমতি দিতে পারে।তবে, নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে বাদী আদালতের অনুমতি ছাড়া দলিলসমূহ দাখিল করতে পারবে-
১. যেসব দলিল বিবাদির সাক্ষীকে জেরা করার জন্য দাখিল করা হয় বা
২. বিবাদী কর্তৃক উত্থাপিত কোন বিষয়ের উত্তর প্রদানের জন্য যে সব দলিল আদালতে হাজির করা
৩. যেসব দলিল কেবলমাত্র কোন সাক্ষীকে তার স্মৃতিশক্তি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য দাখিল করা হয়।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order 7 Rule 18: Inadmissibility of document not produced when plaint filed-
(1) A document which ought to be produced in Court by the plaintiff when the plaint is presented, or to be entered in the list to be added or annexed to the plaint, and which is not produced or entered accordingly, shall not, without the leave of the Court, be received in evidence on his behalf at the hearing of the suit
Provided that the Court shall not grant such leave save in exceptional circumstances.
(2) Nothing in this rule applies to documents produced for cross-examination of the defendant's witnesses, or in answer to any case set up by the defendant or handed to a witness merely to refresh his memory.
১১,৭৪৯.
২০২৫ সালের সংশোধনী অনুযায়ী, দেওয়ানি কারাগারে আটক জজমেন্ট-ডেবটরকে মুক্তি দেওয়া হবে যদি তিনি ডিক্রিকৃত অর্থের কমপক্ষে _______  জমা দেন এবং বাকি অর্থ ৬০ দিনের মধ্যে প্রদানের জন্য বন্ড দেন।
  1. ১০ শতাংশ
  2. ২৫ শতাংশ
  3. ৫০ শতাংশ
  4. ৭৫ শতাংশ
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর Order XXI, Rule 30A(4) অনুসারে, ২০২৫ সালের সংশোধনী দ্বারা সন্নিবেশিত বিধান মতে, যদি কোনো বিচারিক দেনাদার (জজমেন্ট-ডেবটর) দেওয়ানি কারাগারে আটক থাকাকালীন ডিক্রিকৃত অর্থের কমপক্ষে ২৫ শতাংশ আদালতে জমা দেন এবং অবশিষ্ট অর্থ ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধের জন্য একটি বন্ড জমা দেন, তাহলে আদালত তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে বাধ্য থাকবে।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) ২৫ শতাংশ।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ২১ আদেশের ৩০ক বিধিতে নতুন সন্নিবেশিত হয়েছে। অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারির জন্য বিশেষ বিধান (Special provisions for execution of decree for money):
(১) এই কোডে যা কিছু অন্তর্ভুক্ত থাকুক না কেন, ডিক্রিধারীর আবেদনের ভিত্তিতে আদালত রায় দেনাদারকে সম্পূর্ণ বা অপরিশোধিত ডিক্রিকৃত অর্থের কোনো অংশের জন্য অনূর্ধ্ব ছয় মাসের জন্য অথবা অর্থ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে ঘটবে, দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখতে পারেন।
(২) এই কোডের অধীনে দেওয়ানি কারাগারে আটক রায় দেনাদারের ভরণপোষণের জন্য ব্যয় সরকার বহন করবে।
(৩) দেওয়ানি কারাগারে আটকের বিধান কোনো নাবালক বা বিকৃতমস্তিষ্ক রায় দেনাদারের ক্ষেত্রে অথবা যিনি কোনো উপযুক্ত আদালত দ্বারা দেউলিয়া (insolvent) ঘোষিত হয়েছেন অথবা যিনি উত্তরাধিকারসূত্রে মূল রায় দেনাদারের উত্তরাধিকারী হিসাবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন, তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
(৪) যদি দেওয়ানি কারাগারে থাকা রায় দেনাদার ৬০ দিনের মধ্যে বাকি অর্থ পরিশোধের জন্য একটি মুচলেকা (bond) সহ ডিক্রিকৃত অর্থের অনূ্যন ২৫% জমা দেন, তাহলে আদালত তাকে মুক্তি দেবেন এবং যদি রায় দেনাদার মুচলেকাতে বর্ণিত শর্ত অনুযায়ী বাকি ডিক্রিকৃত অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তিনি পুনরায় গ্রেপ্তার এবং আরও ছয় মাস পর্যন্ত দেওয়ানি কারাগারে আটক থাকার জন্য দায়ী হবেন।
(৫) যদি কোনো রায় দেনাদার উপ-বিধি (১) বা (৪) এর অধীনে দেওয়ানি কারাগারে সম্পূর্ণ মেয়াদের জন্য আটক থাকেন, তাহলে তাকে একই জারি কার্যধারায় বা একই ডিক্রি থেকে উদ্ভূত অন্য কোনো জারি কার্যধারায় পুনরায় গ্রেপ্তার বা দেওয়ানি কারাগারে আটক করা যাবে না।
(৬) যদি কোনো রায় দেনাদার এই বিধির অধীনে দেওয়ানি আটকের সম্পূর্ণ বা আংশিক মেয়াদের জন্য দেওয়ানি কারাগারে আটক থাকেন, তাহলে তিনি ডিক্রির অপরিশোধিত অর্থ পরিশোধ করা থেকে অব্যাহতি পাবেন না।

১১,৭৫০.
শিক্ষক রেজাল্টসিটে অভিবাবকের স্বাক্ষর নিয়ে জমা দিতে বললে, ইমরান তার বাবার স্বাক্ষর নিজে করে স্কলে রেজাল্টসিট জমা দেয়। ইমরান এর কাজটি দণ্ডবিধি অনুযায়ী-
  1. নকল
  2. প্রতারণা
  3. জালিয়াতি
  4. চুরি
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি ৪৬৪ ধারা অনুযায়ী যে সব কাজ জালিয়াতি বলে গণ্য হবে তা হলো-

(i) কোন ব্যক্তি নিজে যদি এই উদ্দেশ্যে স্বাক্ষর করে যে, তার স্বাক্ষর বা নামটি একই নামের অন্য কোন ব্যক্তির বলে চালিয়ে দেবেন;

(ii) যখন কোন ব্যক্তি অন্য কারো স্বাক্ষর জালিয়াতি করে স্বাক্ষর করে;

(iii) যদি কোন ব্যক্তি কোন বিলে পৃষ্ঠাঙ্কন করে এই উদ্দেশ্যে যে, তা অন্য কেউ করেছে বলে চালিয়ে দেবেন:

(iv) যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির সাথে ষড়যন্ত্র করে তার নামে কোন সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে ইজারা নেয় কিন্তু তার উদ্দেশ্য ছিল মূলত তৃতীয় কোন ব্যক্তিকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা; অথবা

(v) যদি কোন ব্যক্তি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করার উদ্দেশ্যে অন্য কোন ব্যক্তির কাছে সম্পদ গচ্ছিত রাখে এবং সে উদ্দেশ্য কোন প্রমিসরি নোট তৈরি করে।

অর্থাৎ ইমরান তার বাবার স্বাক্ষর নিজে করে স্কলে রেজাল্টসিট জমা দেয় কাজটি জালিয়াতি।
১১,৭৫১.
পারিবারিক আদালত অবমাননার ক্ষেত্রে অনধিক কত টাকা র্অথদণ্ড দেয়া যাবে?
  1. ২০০ টাকা
  2. ১০০ টাকা
  3. ৩০০ টাকা
  4. ৫০০ টাকা
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩

ধারা ২৩- পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা

(১) যদি কোনো ব্যক্তি আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে-
(ক) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেন, বা
(খ) পরিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের কার্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, বা
(গ) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক জিজ্ঞাসিত কোনো প্রশ্নের উত্তর প্রদানে বাধ্য থাকা সত্ত্বেও, উত্তর প্রদানের অস্বীকার করেন, বা
(ঘ) সত্য কথা বলিবার জন্য শপথ গ্রহণ করিতে অথবা পারিবারিক আদালতে বা পারিবারিক আপিল আদালতে তৎকর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষরদান করিতে অস্বীকার করেন,
তাহা হইলে তিনি পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা করিয়াছেন মর্মে গণ্য হইবেন।

(২) উপধারা (১) এর অধীন কৃত অপরাধের ক্ষেত্রে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত উক্তরূপ অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার করিতে পারিবে এবং তাহাকে অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা র্অথদণ্ডে দণ্ডিত করিতে পারিবে।
১১,৭৫২.
মনুষ্য হরণ বা অপহরণ (Kidnapping) কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৫৯ ধারার বিধান  মনুষ্যহরণ:- মনুষ্যহরণ দুই প্রকারের:- বাংলাদেশ হতে মনুষ্যহরণ এবং আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে মনুষ্যহরণ।

Section 359. Kidnapping:-Kidnapping is of two kinds; kidnapping from Bangladesh, and kidnapping from lawful guardianship.

⇒ দণ্ডবিধির ৩৬০ ধারার বিধান  বাংলাদেশ হতে মনুষ্য হরণ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে তার সম্মতি ছাড়াই অথবা তার স্বপক্ষে সম্মতি দানের ক্ষমতাসম্পন্ন অপর কারো সম্মতি ছাড়াই বাংলাদেশের সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেয় বা নিয়ে যায়, তবে উক্ত ব্যক্তি তাকে বাংলাদেশ হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৬১ ধারার বিধান আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে মনুষ্যহরণ:- কোন ব্যক্তি যদি চৌদ্দ বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালককে অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালিকাকে অথবা বিকৃত মস্তিষ্ক কোন ব্যক্তিকে তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই অভিভাবকের রক্ষণাবেক্ষণ হতে নিয়ে যায়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক বা বালিকাকে অথবা অনুরূপ বিকৃতমস্তিষ্ক ব্যক্তিকে আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা:- এই ধারায় "আইনসম্মত অভিভাবক" বলতে অনুরূপ অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা অপর ব্যক্তির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আইনতঃ ভারপ্রাপ্ত যেকোন ব্যক্তিকেও বুঝাবে।

ব্যতিক্রম:- যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে নিজেকে কোন অবৈধ সন্তানের পিতা বলে বিশ্বাস করে অথবা যে ব্যক্তি নিজেকে অনুরূপ শিশুর আইনসম্মত রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতাপ্রাপ্ত বলে সরলমনে বিশ্বাস করে, সে ব্যক্তি কোন অবৈধ বা বেআইনী উদ্দেশ্যে অনুরূপ কাজ না করলে তার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রয়োগযোগ্য হবে না।
-------------------
⇒ Section 360. Kidnapping from Bangladesh:-Whoever conveys any person beyond the limits of Bangladesh without the consent of that person, or of some person legally authorized to consent on behalf of that person, is said to kidnap that person from Bangladesh.

⇒ Section 361. Kidnapping from lawful guardianship: Whoever takes or entices any minor under fourteen years of age if a male, or under sixteen years of age if a female, or any person of unsound mind, out of the keeping of the lawful guardian of such minor or person of unsound mind, without the consent of such guardian, is said to kidnap such minor or person from lawful guardianship. 
Explanation.-The words "lawful guardian" in this section include any person lawfully entrusted with the care or custody of such minor or other person. 
Exception.-This section does not extend to the act of any person who in good faith believes himself to be the father of an illegitimate child, or who in good faith believes himself to be entitled to the lawful custody of such child, unless such act is committed for an immoral or unlawful purpose.
১১,৭৫৩.
দেওয়ানি কার্যধারার কোনো ত্রুটি সংশোধনের জন্য আদালত এখতিয়ার প্রয়োগ করেন The Code of Civil Procedure, 1908 এর-
  1. ১৫১ ধারায়
  2. ১৫২ ধারায়
  3. ১৫৩ ধারায়
  4. ১১৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫৩ ধারার বিধান সংশোধন করার সাধারণ ক্ষমতা: আদালত যে - কোন সময় এবং খরচ সম্পর্কে উপযুক্ত যেকোন শর্ত দিয়ে সংশোধন করতে পারেন, এবং প্রয়োজনীয় যাবতীয় কোন মোকদ্দমার কার্যক্রম সংক্রান্ত যেকোন ভুল ত্রুটি সংশোধন মোকদ্দমার সংশ্লিষ্ট প্রকৃত প্রশ্ন বা বিচার্য বিষয় নির্ধারনের উদ্দেশ্যে করা হবে।

অর্থাৎ আদালত যেকোনো সময় (At any stage), যেকোনো শর্তে, প্রকৃত প্রশ্ন বা বিচার্য বিষয় নির্ধারণের উদ্দেশ্যে, কোন মোকদ্দমার কার্যক্রম সংক্রান্ত যে কোন ভুলত্রুটি সংশোধন করতে পারেন।
----------------
⇒ CPC Section: 153. General power to amend:
The Court may at any time, and on such terms as to costs or otherwise as it thinks fit, amend any defect or error in any proceeding in a suit; and all necessary amendments shall be made for the purpose of determining the real question or issue raised by or depending on such proceeding.
১১,৭৫৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬ ধারা অনুযায়ী কোন পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানো যাবে না?
  1. অভিযুক্ত ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে
  2. অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করতে না চাইলে
  3. অপরাধ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দ্বারা শাস্তিযোগ্য হলে
  4. অপরাধ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দ্বারা শাস্তিযোগ্য না হলে
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬ ধারা- গ্রেফতারের পদ্ধতি:
(১) কথা অথবা কাজের দ্বারা হেফাজতে আত্মসমর্পণ করা না হলে পুলিশ অফিসার অথবা গ্রেফতারকারী অন্য কোন ব্যক্তি গ্রেফতার করার সময় যাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে তার দেহ স্পর্শ বা আটক করবেন।

(২) গ্রেফতারের চেষ্টায় প্রতিরোধ: এরূপ ব্যক্তি যদি বলপূর্বক তাকে গ্রেফতারের চেষ্টায় বাধ্য দেয় অথবা গ্রেফতার এড়াইতে চেষ্টা করে তাহলে উক্ত পুলিশ অফিসার পারবেন ।

(৩) এই ধারায় এরূপ কোন অধিকার দেয়া হয়নি যার ফলে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দ্বারা শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধে অভিযুক্ত নহে এরূপ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানো যেতে পারে।
১১,৭৫৫.
বাদী তার মামলার আরজিতে দীর্ঘ ও অপ্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করেছেন, যা মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করতে পারে। এক্ষেত্রে, দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-৬ বিধি-১৬ এর অধীন আদালতের করণীয় কী?
  1. বাদীর বিরুদ্ধে জরিমানা ধার্য করবেন
  2. বাদীর মামলা খারিজ করবেন
  3. বাদীকে নতুনভাবে আরজি দাখিল করতে বলবেন
  4. অপ্রয়োজনীয় অংশ কর্তন বা সংশোধনের আদেশ দিতে পারেন
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-৬ বিধি-১৬: আরজি জবাবে কর্তন:
মামলার যে কোন পর্যায়ে কোন আরজি জবাবে উল্লিখিত কোন বিষয় অপ্রয়োজনীয় বা কুৎসাজনক হলে অথবা উহার দ্বারা সুষ্ঠু বিচার ক্ষতিগ্রস্ত, বিভ্রান্ত বা বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে, আদালত তা কর্তন করার বা সংশোধন করার আদেশ দিতে পারেন।

Order-6 Rule-16. Striking out pleadings:
The Court may at any stage of the proceedings order to be struck out or amended any matter in any pleading which may be unnecessary or scandalous or which may tend to prejudice, embarrass or delay the fair trial of the suit.
১১,৭৫৬.
আদালত তাৎক্ষণিক রায় ঘোষণা করতে পারে-
  1. মোকদ্দমার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য সমন দেয়া হয়েছে
  2. কোনো পক্ষ যে সকল সাক্ষ্যের উপর নির্ভর করে, তা কারণ ছাড়া দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে
  3. ক এবং খ
  4. পক্ষদ্বয় আবেদন করলে
ব্যাখ্যা
যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য সমন দেওয়া হয়েছে এবং কোন পক্ষ যে সকল সাক্ষ্যের উপর নির্ভর করে সেটা দাখিল করতে কোন কারণ ছাড়া উপস্থিত হতে ব্যর্থ হয়েছে, সেক্ষেত্রে আদালত তাৎক্ষণিক রায় ঘোষণা করতে পারে।

আদেশ ১৫ বিধি ৪ মতে-
যেক্ষেত্রে মোকদ্দমা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য সমন প্রদান করা হয়ে থাকে এবং কোন পক্ষ যে সাক্ষ্যের উপর নির্ভর করে উক্ত সাক্ষ্য দানে যথার্থ কারণ ব্যতীত ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে আদালত তৎক্ষণাৎ মোকদ্দমার রায় ঘোষণা করতে পারেন বা আদালত সঙ্গত মনে করলে- উক্তরূপ বিচার্য বিষয়ের উপর উহার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য প্রয়োজনীয় হতে পারে,এমন সাক্ষ্য দানের জন্য বিচার্য বিষয় প্রণয়ন এবং লিপিবদ্ধ করার পর মোকদ্দমা স্থগিত রাখতে পারে।

[Where the summons has been issued for the final disposal of the suit and either party fails without sufficient cause to produce the evidence on which he relies, the Court may at once pronounce judgment or may if it thinks fit,after framing and recording issues adjourn the suit for the production of such evidence as may be necessary for its decision upon such issues.]
১১,৭৫৭.
The Penal Code, 1860 এর কত ধারায় একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রয়েছে?
  1. ৩০২ ধারার
  2. ৩০৩ ধারার
  3. ৩০৭ ধারার
  4. ৪৩৯ ধারার
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি ৩০৩ ধারার বিধান যাবজ্জীবন কারাবাসে দণ্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক অনুষ্ঠিত খুনের শাস্তি: কোন ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত অবস্থায় খুন করে, তবে সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৩ ধারা অনুযায়ী, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত কোন ব্যক্তি খুন করলে তার শাস্তি একমাত্র মৃত্যুদণ্ড।
------------
⇒ Section 303. Punishment for murder by life-convict: Whoever, being under sentence of imprisonment for life, commits murder, shall be punished with death.
১১,৭৫৮.
Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারা ৫৬ অনুযায়ী, কোন ধরনের ডিক্রি কার্যকরে আটক বা গ্রেফতার করা যাবে না?
  1. বাটোয়ারার ডিক্রি
  2. নিলাম বিক্রির ডিক্রি
  3. অর্থ পরিশোধের ডিক্রি
  4. দখল হস্তান্তরের ডিক্রি
ব্যাখ্যা

Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারা ৫৬- অর্থ পরিশোধের ডিক্রি কার্যকরে নারীদের গ্রেফতার বা আটক নিষিদ্ধ:
এই অধ্যায়ে অন্য যেই কিছুই বলা থাকুক না কেন, আদালত কোনো বৃদ্ধা, দুর্বল, গর্ভবতী বা স্তন্যপান করানো নারীকে অর্থ পরিশোধের ডিক্রি কার্যকরে দেওয়ানি কারাগারে আটক বা গ্রেফতারের আদেশ প্রদান করতে পারবে না।

[Notwithstanding anything in this Part, the Court shall not order the arrest or detention in the civil prison of an old, infirm, pregnant or breast-feeding woman in execution of a decree for the payment of money.]

১১,৭৫৯.
একজন শ্রমিক ১লা জানুয়ারি, ২০২৩ তারিখে তার মজুরী পায়নি। বকেয়া মজুরীর জন্য তাকে কত দিনের মধ্যে মামলা করতে হবে?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৭ অনুসারে,
গৃহ-ভৃত্য, কারিগর বা শ্রমিকের মজুরী বকেয়া হলে তার মামলা করার সময়সীমা হলো ১ বছর। অর্থাৎ শ্রমিকের মজুরী যে তারিখে বকেয়া হবে সে তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে তাকে মামলা করতে হবে।

এক্ষেত্রে তাহলে, তার মজুরীর জন্য মামলা করার তামাদি মেয়াদ শুরু হবে ১লা জানুয়ারি, ২০২৩ থেকে। অর্থাৎ তাকে ৩১শে ডিসেম্বর, ২০২৩ তারিখের মধ্যে মামলা করতে হবে। যদি সে ৩১শে ডিসেম্বর, ২০২৩ পর্যন্ত মামলা না করে, তাহলে তার মামলা করার অধিকার বাতিল হয়ে যাবে।
১১,৭৬০.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৮ বিধি-১২ অনুসারে, কোনটি রায় পূর্বে ক্রোকের আওতাভুক্ত নয়?
  1. কৃষকের কৃষিপণ্য
  2. শিল্পকারখানা
  3. বাড়িঘর
  4. গাড়ি
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৮ বিধি-১২ অনুযায়ী, রায়ের পূর্বে (অর্থাৎ বিচার শেষ হওয়ার আগেই) কৃষক বা কৃষিজাত মালিকের মালিকানাধীন কৃষি উৎপাদন (agricultural produce) ক্রোক করা যাবে না। অর্থাৎ, কৃষকের দখলে থাকা কোনো কৃষিপণ্য (agricultural produce) রায় পূর্বে ক্রোকের আওতাভুক্ত নয়।
অন্যদিকে, খ) শিল্পকারখানা, গ) বাড়িঘর, ঘ) গাড়ি - অন্য শর্ত পূরণ করলে রায়ের পূর্বেও ক্রোকের আওতায় আসতে পারে। কিন্তু কৃষকের কৃষিপণ্য রায়ের পূর্বে ক্রোক করা নিষিদ্ধ।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৮ বিধি-১২: কৃষিজ দ্রব্য রায়ের পূর্বে ক্রোকযোগ্য নয়:
এই আদেশের কোন বিধানই বাদীকে কৃষকের দখলে থাকা কোন কৃষিজ দ্রব্য ক্রোকের জন্য আবেদন করার ক্ষমতা প্রদান করবে বলে বা আদালতকে ক্রোক বা অনুরূপ কৃষিজ দ্রব্য ক্রোকের জন্য হাজির করার আদেশ দানের ক্ষমতা প্রদান করবে বলে গণ্য করা যাবে না।

⇒The Code of Civil Procedure,1908, Order-38 Rule-12: Agricultural produce not attachable before judgment:
Nothing in this Order shall be deemed to authorise the plaintiff to apply for the attachment of any agricultural produce in the possession of an agriculturist, or to empower the Court to order the attachment or production of such produce.

১১,৭৬১.
Canons of Professional Conduct and Etiquette-এর ২য় অধ্যায়ে (আইনজীবীর তার মক্কেলের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য) মোট কতটি বিধি আছে?
  1. ৮টি
  2. ৯টি
  3. ১২টি
  4. ১৪টি
ব্যাখ্যা

• Canons of Professional Conduct and Etiquette- এ মোট ৪টি অধ্যায়ে ৪২টি বিধি আছে।

অধ্যায়সমূহ:
১ম অধ্যায়- আইনজীবীদের পারস্পরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য- ১১ টি বিধি;
২য় অধ্যায়- একজন আইনজীবীর তার মক্কেলের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য- ১৪ টি বিধি;
৩য় অধ্যায়- আদালতের প্রতি দায়িত্ব প্রতি দায়িত্ব- ৯ টি বিধি;
৪র্থ অধ্যায়- জনসাধারনের প্রতি দায়িত্ব- ৮ টি বিধি।

১১,৭৬২.
আদালতের নথিপত্র বা সরকারি রেজিস্ট্রার জাল করার সর্বোচ্চ শাস্তি হলো-
  1. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  4. অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধি ৪৬৬ ধারা মতে  আদালতের নথিপত্র বা সরকারি রেজিস্ট্রার জাল করার শাস্তি হলো অনধিক ৭ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড ।
• দণ্ডবিধির ৪৬৬ ধারায় সরকারি রেজিস্ট্রার বা public register বলতে কোন জন্ম রেজিস্ট্রার, খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান (baptism), বিবাহ কিংবা সমাধিকরণের (burial) রেজিস্ট্রার অথবা কোন সরকারি কর্মচারী কর্তৃক রক্ষিত রেজিস্ট্রার বোঝাবে।
১১,৭৬৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৮ বিধি-১২ অনুসারে, রায়ের পূর্বে কোনটি ক্রোক করা যায় না?
  1. স্থাবর সম্পত্তি
  2. অস্থাবর সম্পত্তি
  3. কৃষি উৎপাদন
  4. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৮ বিধি-১২ অনুযায়ী, রায়ের পূর্বে (অর্থাৎ বিচার শেষ হওয়ার আগেই) কৃষক বা কৃষিজাত মালিকের মালিকানাধীন কৃষি উৎপাদন (agricultural produce) ক্রোক করা যাবে না। এই বিধানটি কৃষকদের অধিকার সুরক্ষার জন্য এবং তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, স্থাবর (immovable) বা অস্থাবর (movable) সম্পত্তি, বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অন্য শর্ত পূরণ করলে রায়ের পূর্বেও ক্রোকের আওতায় আসতে পারে। কিন্তু কৃষি উৎপাদনকে রায়ের পূর্বে ক্রোক করা নিষিদ্ধ।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৮ বিধি-১২: কৃষিজ দ্রব্য রায়ের পূর্বে ক্রোকযোগ্য নয়:
এই আদেশের কোন বিধানই বাদীকে কৃষকের দখলে থাকা কোন কৃষিজ দ্রব্য ক্রোকের জন্য আবেদন করার ক্ষমতা প্রদান করবে বলে বা আদালতকে ক্রোক বা অনুরূপ কৃষিজ দ্রব্য ক্রোকের জন্য হাজির করার আদেশ দানের ক্ষমতা প্রদান করবে বলে গণ্য করা যাবে না।

⇒The Code of Civil Procedure,1908, Order-38 Rule-12.Agricultural produce not attachable before judgment:
Nothing in this Order shall be deemed to authorise the plaintiff to apply for the attachment of any agricultural produce in the possession of an agriculturist, or to empower the Court to order the attachment or production of such produce.
১১,৭৬৪.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৮ বিধি ৪ অনুযায়ী জামানতের পরিমাণ ৫০ টাকার বেশি হলে এবং আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জামানত প্রদান করতে ব্যর্থ হলে, আদালত সর্বোচ্চ কত দিনের কারাদণ্ডাদেশ দিতে পারে?
  1. ৬ মাস
  2. ৬ সপ্তাহ
  3. ৩ মাস
  4. ১ মাস
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৮, বিধি ৪ অনুযায়ী:
যদি বিবাদীকে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জামানত প্রদান করতে ব্যর্থ হন, তাহলে আদালত নিম্নোক্ত শাস্তি প্রদান করতে পারবেন:
১. যদি জামানতের পরিমাণ ৫০ টাকার বেশি হয়, তাহলে বিবাদীকে সর্বোচ্চ ৬ মাসের জন্য দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হবে।
২. আর যদি জামানতের পরিমাণ ৫০ টাকা বা তার কম হয়, তাহলে বিবাদীকে সর্বোচ্চ ৬ সপ্তাহের জন্য দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হবে।

এই বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো বিবাদীকে জামানত প্রদানে বাধ্য করা, যাতে তিনি মামলা থেকে পালিয়ে না যেতে পারেন। দেওয়ানি কারাগারে আটক থাকার মাধ্যমে জামানত প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার জন্য তাকে শাস্তি দেওয়া হয়।
১১,৭৬৫.
পক্ষগণ মধ্যস্থতাকারী নির্বাচন করতে ব্যর্থ হলে আদালত সর্বোচ্চ কত দিনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবেন?
  1. ৭ দিনের মধ্যে
  2. ১০ দিনের মধ্যে
  3. ১৫ দিনের মধ্যে
  4. ২১ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৮৯ক অনুযায়ী, যদি লিখিত জবাব দাখিলের পর আদালত মামলাটি মধ্যস্থতার জন্য পাঠান এবং পক্ষগণ ১০ (দশ) দিনের মধ্যে কোনো মধ্যস্থতাকারী (Mediator) নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আদালত পরবর্তী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে নিজে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবেন।

- অর্থাৎ পক্ষগণ যদি মধ্যস্থতাকারী নির্বাচন করতে না পারে, তাহলে আদালত বাধ্যতামূলকভাবে পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবেন।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 Section: 89A(4) Within ten days from the date of reference under sub-section (1), the parties shall inform the Court in writing whom they have appointed as mediator, and if the parties fail to appoint the mediator during this time, the Court shall, within seven days, appoint a mediator from the panel as mentioned in sub-section (10) and the mediation under this section shall be concluded within 60 (sixty) days from the day on which the Court is so informed, or the dispute or disputes are referred to Legal Aid Officer, or a mediator is appointed by the Court], as the case may be, unless the Court of its own motion or upon a joint prayer of the parties, extends the time for a further period of not exceeding 30 (thirty) days.
১১,৭৬৬.
The Evidence Act 1872 এর কত ধারা অনুযায়ী মিথ্যা সাক্ষী দিলে সাক্ষ্যদানকারীকে দন্ডবিধিতে শাস্তি দেওয়া যায়?
  1. ১৫১ ধারা
  2. ১৫২ ধারা
  3. ১৪৮ ধারা
  4. ১৫৩ ধারা
ব্যাখ্যা
- The Evidence Act 1872 এর ১৫৩ ধারার বিধান মতে সাক্ষীর সত্যবাদিতা পরীক্ষা করার জন্য প্রশ্ন করা যায়। তবে কেউ যদি মিথ্যা সাক্ষী দেয় তাহলে তাকে দন্ডবিধির ১৯৩ ধারা অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া যেতে পারে।
১১,৭৬৭.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, অভিযুক্তকে তার বাড়ি ছাড়া অন্য কোথাও গ্রেপ্তার করলে, কত ঘণ্টার মধ্যে তার পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়কে জানাতে হবে?
  1. ৬ ঘণ্টার মধ্যে
  2. ১২ ঘণ্টার মধ্যে
  3. ২৪ ঘণ্টার মধ্যে
  4. ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৬ক(ঘ)-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: "যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তার বাসস্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, সেখানে গ্রেপ্তারের সময় এবং স্থান এবং হেফাজতের স্থান জানিয়ে, যত দ্রুত সম্ভব কিন্তু গ্রেপ্তারের সময় থেকে বারো ঘণ্টার মধ্যে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি কর্তৃক মনোনীত একজন পরিবারের সদস্য, আত্মীয় বা বন্ধুকে অবহিত করবেন।"
Code of Criminal Procedure (Second Amendment) Ordinance, 2025-এর মাধ্যমে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এ এই ধারা ৪৬ক সন্নিবেশিত করা হয়েছে, যা গ্রেপ্তারের পদ্ধতি ও গ্রেপ্তারকারী অফিসারের কর্তব্য নির্ধারণ করে।
অতএব, সঠিক উত্তর ১২ ঘণ্টা।

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৬ক- গ্রেপ্তার পদ্ধতি এবং গ্রেপ্তারকারী অফিসারের কর্তব্য: কোনো গ্রেপ্তার করার সময়, পুলিশ অফিসার বা অন্য গ্রেপ্তারকারী ব্যক্তি—
(ক) তার নামের একটি সঠিক, দৃশ্যমান এবং স্পষ্ট পরিচিতি বহন করবেন যা সহজে শনাক্তকরণে সহায়তা করবে;
(খ) তার পরিচয় প্রকাশ করবেন এবং যদি দাবি করা হয়, তবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি এবং গ্রেপ্তারের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে তার পরিচয়পত্র দেখাবেন;
(গ) গ্রেপ্তারের একটি স্মারকলিপি (memorandum) প্রস্তুত করবেন যা—
(i) কমপক্ষে একজন সাক্ষী দ্বারা সত্যায়িত হবে, যিনি গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য বা যে এলাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেখানকার একজন গণ্যমান্য বাসিন্দা এবং যদি এই ধরনের কোনো সাক্ষী পাওয়া না যায়, তার কারণ স্মারকলিপিতে লিপিবদ্ধ করতে হবে;
(ii) যদি গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি অসম্মতি না জানান, তবে তার দ্বারা প্রতিস্বাক্ষরিত বা টিপসইযুক্ত হবে;
(ঘ) যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তার বাসস্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, সেখানে গ্রেপ্তারের সময় এবং স্থান এবং হেফাজতের স্থান জানিয়ে, যত দ্রুত সম্ভব কিন্তু গ্রেপ্তারের সময় থেকে বারো ঘণ্টার মধ্যে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি কর্তৃক মনোনীত একজন পরিবারের সদস্য, আত্মীয় বা বন্ধুকে অবহিত করবেন;
(ঙ) যদি গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়, তবে ৪৬ঙ ধারা অনুযায়ী ক্ষেত্রমত একজন মেডিকেল অফিসার বা একজন নিবন্ধিত মেডিকেল প্র্যাকটিশনার দ্বারা ওই ব্যক্তির পরীক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করবেন; উপস্থিত মেডিকেল অফিসার বা প্র্যাকটিশনারের কাছ থেকে একটি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করবেন; এবং এই ধরনের আঘাতের কারণ লিপিবদ্ধ করবেন;
(চ) গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে, যদি তিনি ইচ্ছা পোষণ করেন, তার পছন্দের একজন আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করতে বা তার নিকটতম কোনো আত্মীয়ের সাথে দেখা করার সুযোগ দেবেন, preferably (সম্ভবত) গ্রেপ্তারের বারো ঘণ্টার মধ্যে।
------------ 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 46A. Procedure of arrest and duties of officer making arrest:
- In making an arrest, the police-officer or other person making the same shall-
(a) bear an accurate, visible and clear identification of his name which will facilitate easy identification;
(b) disclose his identity and if demanded, shall show his identity card to the person arrested and to the persons present at the time of arrest;
(c) prepare a memorandum of arrest which shall be-
(i)attested by at least one witness, who is a member of the family of the person arrested or a respectable inhabitant of the locality where the arrest is made and where no such witness is available, the reasons thereof be recorded in the memorandum;
(ii) countersigned or thumb-impressed by the person arrested if not refused by him;
(d) intimate, where the accused is arrested from a place other than his residence, to a family member, relative, or a friend nominated by the person arrested, as soon as practicable but not later than twelve hours from the time of such arrest, notifying the time and place of arrest and the place of custody;
(e) ensure, if any mark of injury is found on the body of the person arrested, the examination and first aid treatment of the person by a medical officer or a registered medical practitioner, as the case may be, in accordance with section 46E; obtain a certificate from the attending medical officer or practitioner; and record the reasons for such injury;
(f) allow the person arrested, if he so desires, to consult a lawyer of his choice or to meet any of his nearest relation, preferably within twelve hours of such arrest.

১১,৭৬৮.
যদি কোনো আসামি উন্মাদ না হয়, কিন্তু বিচার কার্যক্রম বুঝতে না পারে সেক্ষেত্রে আদালত বিচার কার্যক্রম-
  1. স্থগিত করবে
  2. বন্ধ করে দিবে
  3. চালিয়ে যেতে পারবে
  4. সাময়িক মুলতবি ঘোষণা করবে
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪১ ধারা- আসামি কার্যক্রম না বুঝলে বিচার পদ্ধতি:
যদি কোনো আসামি উন্মাদ না হয়, তবে বিচার কার্যক্রম বুঝতে অক্ষম হয়, তাহলেও আদালত তদন্ত বা বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে।

তবে, যদি হাইকোর্ট ডিভিশন ব্যতীত অন্য কোনো আদালত বিচার করে এবং এতে আসামি দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে সেই বিচার কার্যক্রমের সব নথিপত্র এবং মামলার পরিস্থিতির রিপোর্টসহ মামলাটি হাইকোর্ট ডিভিশনে পাঠাতে হবে। এরপর হাইকোর্ট ডিভিশন যেভাবে যথোপযুক্ত মনে করবে, সেই অনুযায়ী আদেশ দেবে।
১১,৭৬৯.
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৫৪৪ ধারায় আদালত সুরক্ষা বা নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে-
  1. নিজ উদ্যোগে
  2. পুলিশের আবেদনমতে
  3. সরকারের নির্দেশমতে
  4. হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ অনুসারে
ব্যাখ্যা

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫৪৪: অভিযোগকারী, সাক্ষী ও ভুক্তভোগীর খরচ এবং সুরক্ষা:
(১) সরকারের কোনো অর্ডার থাকার শর্তে, কোনো ফৌজদারি আদালত যদি মঞ্জুর করে, তবে সরকার পক্ষ থেকে অভিযোগকারী বা সাক্ষীর যুক্তিসঙ্গত খরচ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে, যখন তারা কোনো তদন্ত, বিচার বা এই কোড অনুযায়ী অন্যান্য কার্যক্রমে আদালতে উপস্থিত হন।

(২) কোনো আদালত, কোনো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আবেদন বা নিজ উদ্যোগে, ফৌজদারি প্রক্রিয়ার যেকোনো পর্যায়ে, সেই ধরনের কোনো আদেশ দিতে বা পদক্ষেপ নিতে পারে যা কোনো তথ্যদাতা, অভিযোগকারী, ভুক্তভোগী বা সাক্ষীর সুরক্ষা বা নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়।

১১,৭৭০.
দণ্ডবিধি অনুসারে সাধারণ জালিয়াতির সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ২ বছর কারাদণ্ড 
  2. ৩ বছর কারাদণ্ড
  3. ৫ বছর কারাদণ্ড
  4. ৬ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : ২ বছর কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারায় জালিয়াতি কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারা অনুযায়ী ,কোন ব্যক্তি জালিয়াতি
(Forgery) করেছে বলে গণ্য হবে যদি সে নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যে কোন দলিল বা দলিলের অংশ প্রস্তুত করে;

১. কোনো ব্যক্তি বা জনসাধারণের ক্ষতি সাধন করতে [with intent to cause damage or injury]; বা
২. কোনো দাবি বা অধিকার সমর্থন করতে [to support any claim or title]; বা
৩. কোনো ব্যক্তিকে কোন সম্পত্তি পরিত্যাগ করতে [to cause any person to part with property]; বা
৪. কোনো লোককে প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য চুক্তি সম্পাদনে বাধ্য করতে [to enter into any express or implied contract]; বা
৫. প্রতারণা করার অভিপ্রায়ে বা প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে [with intend to commit fraud or fraud may be committed]।

ধারা ৪৬৫- জালিয়াতির শাস্তি:
যে কোনো ব্যক্তি জালিয়াতি (Forgery) সংঘটিত করে, তাকে নিম্নলিখিত শাস্তি দেওয়া যেতে পারে:
-কারাদণ্ড (Imprisonment) – আইন অনুযায়ী যে কোনো রূপের কারাদণ্ড (rigorous বা simple) হতে পারে, এবং কারাদণ্ডের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে; বা
- অর্থদণ্ড (Fine); বা
- উভয়ই (Both) – কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয়ই প্রযোজ্য হতে পারে।

১১,৭৭১.
তামাদি আইন নিম্নের কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়?
  1. ফৌজদারি মূল মামলার ক্ষেত্রে
  2. এজাহার দায়েরের ক্ষেত্রে
  3. ফৌজদারি আপিল এবং রিভিশনের ক্ষেত্রে
  4. কোনো ধরনের ফৌজদারি মামলায় নয়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ ফৌজদারি মূল মামলা অর্থাৎ এজাহার, এফ আই আর বা অভিযোগ/নালিশ (complaint) দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
- তামাদি আইন দ্বারা ফৌজদারী মামলা বাধাপ্রাপ্ত হয় না।
- তবে ফৌজদারি আপিল, রিভিশন প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন- মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৭ দিন।

অর্থাৎ, তামাদি আইন ফৌজদারি মূল মামলার ক্ষেত্রে সাধারণত প্রয়ােগ হয় না। তবে ফৌজদারি মামলার আপিলের ক্ষেত্রে প্রযােজ্য হয়।
১১,৭৭২.
সম্পূরক চার্জ শীট দেয়া হয় কোন ক্ষেত্রে?
  1. ফরিয়াদির আবেদনক্রমে
  2. অভিযুক্তের আবেদনক্রমে
  3. অধিকতর তদন্তের ক্ষেত্রে
  4. উল্লিখিত কোনো ক্ষেত্রেই নয়
ব্যাখ্যা
• অধিকতর তদন্ত [Further Investigation] এবং সম্পূরক চার্জশীট (Supplementary Charge Sheet)-
 
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৮ ধারায় নিয়োগকৃত পুলিশের উপরস্থ কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ মুলতুবি রেখে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ১৭৩ (২) ধারায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে [may order further investigation]। ১৭৩ (১) ধারার অধীন পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করার পরও পুলিশ ১৭৩ (৩খ) ধারার অধীন অধিকতর তদন্ত করতে পারে (do further investigation)।
 
অধিকতর তদন্ত করে মৌখিক বা দালিলিক অধিকতর সাক্ষ্য পেলে, পুলিশ ১৭৩ (৩খ) ধারায় অধিকতর রিপোর্ট বা সম্পূরক চার্জ শীট [supplementary charge sheet) দাখিল করতে পারে। ১৭৩ ধারার অধীন পুন:তদন্তের (re-investigation) কোন বিধান নেই।
১১,৭৭৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিকে খালাস দিতে পারে?
  1. ধারা ৩৭৪
  2. ধারা ৩৭৭
  3. ধারা ৩৭৬
  4. ধারা ৩৭৮
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৬ ধারানুযায়ী দায়রা আদালত প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রম হাইকোর্ট বিভাগে পেশ করলে হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত মৃত্যুদণ্ড-
⇒ বহাল রাখতে পারেন, বা
⇒ বাতিল করতে পারেন,বা
⇒ অন্য কোন দণ্ড দিতে পারেন,বা
আসামিকে খালাস দিতে পারেন।

তবে, শর্ত এই যে আসামি আপিল করলে আপিলের রায় না হওয়া পর্যন্ত অথবা আপিল না করলে আপিলের জন্য নির্ধারিত সময় পার না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্ট শাস্তির অনুমোদনের আদেশ প্রদান করবে না।

Section 376 (Power of High Court Division to confirm sentence or annul conviction)-
In any case submitted under section 374, 405 the High Court Division- 
(a) may confirm the sentence, or pass any other sentence warranted by law, or 
(b) may annul the conviction, and convict the accused of any offence of which the Sessions Court might have convicted him, or order a new trial on the same or an amended charge, or 
(c) may acquit the accused person: 
Provided that no order of confirmation shall be made under this section until the period allowed for preferring an appeal has expired, or, if an appeal is presented within such period, until such appeal is disposed of.
১১,৭৭৪.
যদি কেউ কাল্পনিক ব্যক্তির রূপ ধারণ করে অন্যদের প্রতারণা করে, তবে তা দণ্ডবিধির ধারা _______ অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
  1. ৪১৪
  2. ৪১৬
  3. ৪২০
  4. ৪২১
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪১৬ ধারা- অপরের রূপ ধারণপূর্বক প্রতারণা:
কোন ব্যক্তি যদি নিজেকে অন্য কোন ব্যক্তি বলে প্রতারণা করে অথবা জ্ঞাতসারে কোন ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে অথবা নিজেকে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে সে নিজে বা সে ব্যক্তি অন্য যে ব্যক্তি নয় সে ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা: যে ব্যক্তির রূপ ধারণ করা হয়েছে সে ব্যক্তি প্রকৃত ব্যক্তি হোক আর কাল্পনিক ব্যক্তি হোক না কেন অপরাধটি অনুষ্ঠিত হবে।

উদাহরণ:
(ক) ক একই নামে একজন বিত্তশালী ব্যাংকার বলে নিজেকে পরিচয় দান করে। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।
(খ) ক নিজেকে খ বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে; খ জনৈক মৃত ব্যক্তি। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।
১১,৭৭৫.
যখন কোন ব্যক্তি বাংলাদেশে নিবন্ধিত কোন জাহাজ বা বিমানে (তা যেখানেই থাকুক না কেন) কোন অপরাধ সংঘটন করে তার বিচার হতে পারে-
  1. হাইকোর্ট বিভাগে
  2. তাকে বাংলাদেশে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানের এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে
  3. দায়রা জজ আদালতে
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৮৮ অনুসারে যখন কোন ব্যক্তি বাংলাদেশে নিবন্ধিত কোন জাহাজ বা বিমানে (তা যেখানে থাকুক না কেন) কোন অপরাধ সংঘটন করে, তখন বাংলাদেশের যে স্থানেই তাকে পাওয়া যাবে সেই স্থানে অপরাধ সংগঠন করেছে হিসাবে ধরে নিয়ে সেই মোতাবেক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
১১,৭৭৬.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৭ বিধি-১০ অনুযায়ী, আদালত কোন পরিস্থিতিতে আরজি ফেরত দিতে পারে?
  1. আদালত যদি মামলার খরচ বেশি মনে করে
  2. আদালত যদি মামলার তথ্য অপ্রতুল মনে করে
  3. আদালত যদি মামলার প্রমাণ অসম্পূর্ণ মনে করে
  4. আদালত যদি মনে করে যে মোকদ্দমার বিচার করার এখতিয়ার নেই
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৭ বিধি-১০ অনুযায়ী, "আদালত যদি মনে করে যে মোকদ্দমার বিচার করার এখতিয়ার নেই" তখন আরজি ফেরত দিতে পারে।
- অর্থাৎ এখতিয়ারবিহীন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করলে,আদালত মোকদ্দমাটি সঠিক আদালতে দায়েরের জন্য ফেরত পাঠাবে।

- দেওয়ানি কার্যবিধির ৭ আদেশের ১০ বিধিতে আরজি ফেরত এবং ৭ আদেশের ১১ বিধিতে আরজি প্রত্যাখ্যান বিষয়ে বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।
- আরজি ফেরত [Return of Plaint] অর্থ হলো এখতিয়ারবিহীন আদালতে আরজি দাখিল করলে, আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দেয়া।

⇒দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৭ বিধি-১০- যদি এমন কোন আদালতে আরজি দাখিল করা হয় যে আদালতে উক্ত মোকদ্দমার বিচার করার আর্থিক বা আঞ্চলিক এখতিয়ার নেই, তখন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে আরজিটি দাখিলের জন্য আদালত ফেরত দিতে পারে। মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে আদালত আরজি ফেরতের আদেশ দিতে পারে।
(২) যখন আরজি ফেরত দেওয়া হয়, বিচারক তার ওপর আরজির দাখিলের এবং ফেরত দেওয়ার তারিখ, দাখিলকারী পক্ষের নাম এবং ফেরত দেওয়ার কারণ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি লিখবেন।
----------------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order-7, Rule-10. Return of plaint:
(1) The plaint shall at any stage of the suit be returned to be presented to the Court in which the suit should have been instituted.
-(2) Procedure on returning plaint:
 On returning a plaint the Judge shall endorse thereon the date of its presentation and return, the name of the party presenting it, and a brief statement of the reasons for returning it.
১১,৭৭৭.
কোনো দলিল কত সময়ের অধিক দাবিবিহীন থাকলে বিনষ্ট করা যায়?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা
ধারা ৮৫- দাবিবিহীন দলিলপত্র বিনষ্টকরণ:
উইল ব্যতীত, অন্য কোন দলিল ২ (দুই) বৎসরের অধিক সময়ের জন্য কোন নিবন্ধন কার্যালয়ে দাবিবিহীন অবস্থায় থাকিলে তাহা বিনষ্ট করা যাইবে।

⇒ এই ধারা কেবল উইল ব্যতীত অন্যান্য দাবিবিহীন দলিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, অন্যান্য রেকর্ডপত্রের ক্ষেত্রে নহে। রেকর্ডপত্রের বিনষ্টকরণ আইন, ১৯১৭ (১৯১৭ সনের ৫নং আইন) এর ৩(২) (গ) ধারার অধীন অন্যান্য সকল রেকর্ডপত্র বিনষ্টকরণ বা ধ্বংসকরণ মহা-পরিদর্শক, নিবন্ধন কর্তৃক প্রণীত বিধিমালা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে।

⇒ নিবন্ধিত দলিলের ক্ষেত্রে, নিবন্ধীকরণের তারিখ হইতে এবং নিবন্ধীকরণে অস্বীকৃতিজ্ঞাপনকৃত দলিলের ক্ষেত্রে, অগ্রাহ্যের আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর সময় গণনা করিতে হইবে।
১১,৭৭৮.
A, Z-এর পকেট কাটার সময় কয়েকজন সঙ্গীকে আশেপাশে দাঁড় করায়, যেন Z টের পেলে তারা তাকে ধরে রাখতে বা বাধা দিতে পারে।  A কত ধারা অনুযায়ী অপরাধ করেছে?
  1. ধারা ৩৮১
  2. ধারা ৩৮২
  3. ধারা ৩৮৩
  4. ধারা ৩৮৪
ব্যাখ্যা

দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860)-এর ধারা ৩৮২– চুরি করার পূর্বে মৃত্যু, আঘাত বা আটকানোর প্রস্তুতি গ্রহণ করে চুরি করা:
যে ব্যক্তি চুরি করে, এবং চুরি করার আগে এমন প্রস্তুতি গ্রহণ করে যার মাধ্যমে- কারো মৃত্যু, আঘাত (hurt), আটক (restraint), অথবা
এই বিষয়গুলির ভয় প্রদর্শন করা যায়- এই উদ্দেশ্যে যে চুরি করা সহজ হবে, বা চুরি শেষে পালাতে সুবিধা হবে, বা চুরি করা সম্পত্তি ধরে রাখা যাবে- তাহলে সে ধারা ৩৮২ অনুযায়ী অপরাধ করেছে।

এই অপরাধের শাস্তি হলো-
১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড (rigorous imprisonment) এবং অর্থদণ্ড (fine)।

Illustrations (উদাহরণ):
(a) A, Z-এর সম্পত্তি চুরি করে। চুরির সময় A-এর পোশাকের নিচে একটি লোডেড পিস্তল ছিল, যা সে প্রস্তুত রেখেছিল যেন Z বাধা দিলে তাকে ভয় দেখাতে বা আঘাত করতে পারে। A ধারা ৩৮২ অনুযায়ী অপরাধ করেছে।

(b) A, Z-এর পকেট কাটার সময় কয়েকজন সঙ্গীকে আশেপাশে দাঁড় করায় যেন Z টের পেলে তারা তাকে ধরে রাখতে বা বাধা দিতে পারে।  A ধারা ৩৮২ অনুযায়ী অপরাধ করেছে।

১১,৭৭৯.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ কত টাকা জরিমানা ধার্য করতে পারেন?
  1. দশ লাখ
  2. পাঁচ লাখ
  3. তিন লাখ
  4. দুই লাখ
ব্যাখ্যা

⇒  ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩২(১)(খ) অনুযায়ী দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের দণ্ড প্রদানের ক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের সংশোধনী অনুযায়ী ধারা ৩২(১)(খ) এর অধীনে দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত  সর্বোচ্চ ৩ (তিন) বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, আইন দ্বারা অনুমোদিত নির্জন কারাবাস-সহ, সর্বোচ্চ ৩,০০,০০০ (তিন লাখ) টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
- সুতরাং, দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করতে পারেন।


⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (The Code of Criminal Procedure, 1898) এর ধারা ৩২ অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটদের দণ্ডাদেশ প্রদানের ক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের সংশোধনী অনুযায়ী জরিমানার সীমা বৃদ্ধি পেয়েছে।
- প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট : সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দিতে পারেন। আইনে অনুমোদিত নির্জন কারাবাস দিতে পারেন। সর্বোচ্চ জরিমানা এখন ৫,০০,০০০ (পাঁচ লাখ) টাকা পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট : সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দিতে পারেন। জরিমানা সর্বোচ্চ ৩,০০,০০০ (তিন লাখ) টাকা পর্যন্ত।
- তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট : সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দিতে পারেন। জরিমানা সর্বোচ্চ ২,০০,০০০ (দুই লাখ) টাকা পর্যন্ত।

(২) যে-কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত আইন দ্বারা যেই সকল দণ্ডদানের ক্ষমতা লাভ করিয়াছেন, সেই সকল দণ্ডের মধ্যে একটির সহিত অপরটি যুক্ত যে-কোনো আইনসংগত দণ্ড দিতে পারেন।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-32.Sentences which Magistrates may pass:
(1) The Courts of Magistrates may pass the following sentences namely :-
(a) Courts of Metropolitan Magistrates and of Magistrates of the first class: Imprisonment for a term not exceeding five years, including such solitary confinement as is authorized by law; Fine not exceeding five lac taka;.
(b) Courts of Magistrates of the second class: Imprisonment for a term not exceeding three years, including such solitary confinement as is authorized by law; Fine not exceeding three lac taka;
(c) Courts of Magistrates of the third class: Imprisonment for a term not exceeding two year; Fine not exceeding two lac taka.
(2)The Court of any Magistrate may pass any lawful sentence, combining any of the sentences which it is authorized by law to pass.

১১,৭৮০.
সাধারণ ব্যতিক্রমের আওতায় পড়লে কোনো ব্যক্তির কৃত অপরাধ –এর ক্ষেত্রে নিম্নের কোনটি সঠিক?
  1. দোষী সাব্যস্ত হলেও শাস্তি হবে না
  2. সে নিরপরাধের মতো খালাস পাবে
  3. খালাস পাবে না, তবে সর্বনিম্ন শাস্তি প্রদান করা হবে
  4. ক+গ সঠিক।
ব্যাখ্যা
♦যে কাজগুলোকে স্বাভাবিকভাবে অপরাধ বলে গণ্য করা হলেও বিশেষ ক্ষেত্রে অপরাধ বলে গণ্য করা হয়না তাকেই সাধারণ ব্যতিক্রম বা General Exception বলে। দন্ডবিধির ৭৬ থেকে ১০৬ ধারায় কিছু সাধারণ ব্যতিক্রমের উল্লেখ রয়েছে। দন্ডবিধির ৭৬ থেকে ১০৬ ধারার আওতাধীন কার্য বা কার্যবিরতিগুলো (acts or omission) স্বাভাবিকভাবে অপরাধ মনে হলেও সেগুলো ফৌজদারি দায় (criminal liability) থেকে মুক্ত; অর্থাৎ ৭৬ থেকে ১০৬ ধারার আওতাধীন কার্যগুলো অপরাধ মনে হলেও অপরাধী কোন শাস্তি পায়না।
♦পেনাল কোডের ৭৬-১০৬ ধারার মধ্যে যে সকল সাধারণ ব্যতিক্রম বর্ণনা করা হয়েছে সেগুলোর কোনো একটির সুযোগ যদি কোনো অভিযুক্ত পায় তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে যে কাজের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে তা আর অপরাধ হিসেবেই গণ্য হবে না। অভিযুক্ত ব্যক্তি এই ক্ষেত্রে নিরপরাধ হিসেবে খালাস পাবে। দোষী সাব্যস্ত করার সুযোগও নাই।
১১,৭৮১.
অনুসন্ধান বা বিচারকালীন সময়ে যদি দেখা যায় একই অপরাধ বিষয়ে নালিশী মামলা ও পুলিশ তদন্ত চলমান, এক্ষেত্রে আদালত কী আদেশ দিতে পারে?
  1. উক্ত কার্যক্রম বাতিল করবেন
  2. উক্ত কার্যক্রম স্থগিত করবেন
  3. তদন্ত কর্মকর্তার নিকট হতে রিপোর্ট তলব করবেন
  4. খ এবং গ
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫ঘ এ একই অপরাধ বিষয়ে নালিশী মামলা ও পুলিশ তদন্ত চলতে থাকলে, তখন যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় তা উল্লেখ করা হয়েছে। নালিশের ভিত্তিতে দায়েরকৃত মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অনুসন্ধান বা বিচারকালীন সময়ে যদি এটা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবগত করা হয় যে- ম্যাজিস্ট্রেট যে অপরাধের বিচার বা অনুসন্ধান শুরু করেছেন উক্ত অপরাধের বিষয়ে পুলিশ কর্তৃক তদন্ত চলমান আছে, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট-

⇒ তার অনুসন্ধান বা বিচার কার্যক্রম স্থগিত করবেন; এবং
তদন্ত পরিচালনাকারী পুলিশ কর্মকর্তার নিকট হতে রিপোর্ট তলব করবেন।

এই ক্ষেত্রে একই আদালত কর্তৃক উভয় মামলা একত্রিত করণ এবং বিচার করা যাবে যেন উভয় মোকদ্দমা পুলিশ রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে দায়ের করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।

• ধারা ২০৫ঘ : একটি অপরাধের বিষয়ে একই সাথে নালিশী মামলা ও পুলিশী তদন্ত চলতে থাকলে অনুসরণীয় পদ্ধতি:

(১) পুলিশ প্রতিবেদন ব্যতিরেকে অন্য কোন উপায়ে দায়েরকৃত মামলার (অতঃপর নালিশী মামলা মর্মে বর্ণিত হবে) তদন্ত বা বিচার চালাকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট তাঁর আদালতে তদন্ত বা বিচারাধীন অপরাধটি সম্পর্কে একটি পুলিশী তদন্ত চলতেছে মর্মে প্রতীয়মান হলে, সেক্ষেত্রে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর দ্বারা পরিচালিত তদন্ত বা বিচারকার্য স্থগিত রাখবেন এবং উক্ত বিষয় সম্পর্কে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিবেদন চাবেন।
 
(২) যেক্ষেত্রে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা ধারা-৭৩ এর বিধানসাপেক্ষে প্রতিবেদন পেশ করেন এবং এরূপ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেট যে ব্যক্তি নালিশী মোকদ্দমার আসামী তার বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নেন, সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট নালিশী মামলা এবং পুলিশ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে দায়েরকৃত মামলার একই সাথে তদন্ত বা বিচার করতে পারবেন যাতে উভয় মামলাই পুলিশ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে দায়ের হয়েছে।
 
(৩) পুলিশ প্রতিবেদনে নালিশী মামলার কোন আসামী জড়িত না হলে, অথবা পুলিশ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেট কোন অপরাধ আমলে গ্রহণ না করলে তিনি যে তদন্ত বা বিচার স্থগিত রেখেছিলেন এই কার্যবিধির বিধান অনুসারে সেই তদন্ত বা বিচারকার্যে অগ্রসর হবেন।
১১,৭৮২.
কোনো প্রার্থী অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির আবেদনে মিথ্যা তথ্য বা বিবৃতি প্রদান করলে তিনি কত বছরের জন্য তালিকাভুক্তি থেকে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন?
  1. ১ বছর 
  2. ৩ বছর 
  3. ২ বছর 
  4. ৫ বছর 
ব্যাখ্যা

উত্তর: ৫ বছর।

The Bangladesh Legal Practitioners & Bar Council Rules, 1972 এর বিধি ৬০(৩):
(i) কোনো আইনজীবী বার কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতিরেকে একসাথে চারজনের বেশি শিক্ষানবিশ নিতে পারবেন না।
(ii) আইনজীবী ও শিক্ষানবিশের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তি থাকতে হবে, যা বার কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে সম্পাদিত হবে। এই চুক্তি সম্পাদনের ৩০ দিনের মধ্যে বার কাউন্সিলের সচিবের নিকট তা দাখিল করতে হবে, সেই সঙ্গে শিক্ষানবিশ কর্তৃক শপথপত্র দাখিল করতে হবে যাতে সে উক্ত চুক্তি সম্পাদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে। যদি তা না করা হয়, তবে পিউপিলেজ চুক্তি গ্রহণযোগ্য হবে না।
[চুক্তির সঙ্গে ৮০০ টাকা নিবন্ধন ফি, আইন ডিগ্রির সত্যায়িত কপি এবং বার কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন ফরম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (যেমন: পিউপিলেজ রেজিস্ট্রেশন ফরম, লিখিত পরীক্ষার ফরম [ফরম-A], পুনরায় অংশগ্রহণের আবেদনপত্র ইত্যাদি) দাখিল করতে হবে, যেগুলো বার কাউন্সিল অফিস থেকে নির্ধারিত ফি দিয়ে সংগ্রহ করতে হবে।
(iii) পিউপিলেজ শুরু হবে চুক্তি সম্পাদনের তারিখ থেকে, তবে কেবল সেই সময় হিসেব করা হবে যখন আইনজীবী প্রকৃতপক্ষে বার-এ প্র্যাকটিস করছিলেন।
শর্তসাপেক্ষে, একজন শিক্ষানবিশ একাধিক আইনজীবীর কাছে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন মোট ছয় মাসের জন্য, যা যথাসম্ভব ধারাবাহিকভাবে হতে হবে।
(iv) যদি কোনো আইনজীবী উক্ত উপনিয়ম অনুযায়ী চুক্তিতে মিথ্যা তথ্য দেন বা উপ-নিয়ম (২)-এর অধীনে মিথ্যা সার্টিফিকেট দেন, তবে তিনি পেশাগত অসদাচরণে (Professional Misconduct) দোষী হবেন।
(v) যদি কোনো প্রার্থী ইচ্ছাকৃতভাবে তার অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেন, তবে তিনি ৫ (পাঁচ) বছরের জন্য তালিকাভুক্তি থেকে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
(vi) হাইকোর্টে প্র্যাকটিসের অনুমতির জন্য এবং অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য প্রার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ৫ (পাঁচ) বছর পর্যন্ত বৈধ থাকবে। যদি প্রার্থী রেজিস্ট্রেশনের ৫ বছরের মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারেন, তবে তার রেজিস্ট্রেশন বাতিল বলে গণ্য হবে।
(vii) অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য ও হাইকোর্টে প্র্যাকটিসের অনুমতির জন্য বার কাউন্সিল কর্তৃক এম.সি.কিউ ও লিখিত পরীক্ষা সরকারি কলেজে অনুষ্ঠিত হবে, যার তত্ত্বাবধানে থাকবেন উক্ত কলেজের অধ্যক্ষ।

১১,৭৮৩.
নিচের কোন ব্যক্তিকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করা যাবে না?
  1. ঘরে চোরাইমাল পাওয়া গিয়েছে এমন ব্যক্তি।
  2. প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি
  3. সশস্ত্র বাহিনী হতে পলায়নকৃত ব্যক্তি
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধি এর ৫৪ ধারা অনুযায়ী- যখন পুলিশ বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারেন এমন ৯ ধরনের ব্যক্তি হলেন
- প্রথম: কোন আমলযোগ্য অপরাধের সাথে জড়িত কোন ব্যক্তি
- দ্বিতীয়: আইনসংগত কারণ ব্যতিত যার নিকট ঘর ভাঙ্গার কোন সরঞ্জাম রয়েছে
- তৃতীয়: এই কার্যবিধি অনুসারে অথবা সরকারের আদেশ দ্বারা যাকে অপরাধী ঘোষণা করা হয়েছে:
- চতুর্থ: চোরাইমাল পাওয়া গেলে
- পঞ্চম: পুলিশ অফিসারকে তার কার্যে বাধাদানকারী ব্যক্তি অথবা যে ব্যক্তি আইনসংগত হেফাজত হতে পলায়ন করেছে অথবা পলায়নের চেষ্টা করে:
- ষষ্ঠ: বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী হতে পলায়নকারী।
- সপ্তম: বাংলাদেশে করা হলে অপরাধ হিসাবে শাস্তিযোগ্য হতো, বাংলাদেশের বাইরে কৃত এরূপ কোন কার্যের সাথে জড়িত ব্যক্তি।
- অষ্টম: কোন মুক্তিপ্রাপ্ত আসামী যে ৫৬৫ ধারার (৩) উপধারা অনুসারে প্রণীত কোন নিয়ম লংঘন করে;
- নবম: যাকে গ্রেফতারের জন্য অন্য কোন পুলিশ অফিসারের নিকট হতে অনুরোধ পাওয়া গেছে।
১১,৭৮৪.
'কোন ব্যক্তির নিজের নাম, স্বাক্ষরও জালিয়াতির সামিল হতে পারে'- দণ্ডবিধির কত ধারায় এই বিধান আছে?
  1. ৪৬০ ধারা
  2. ৪৬২ ধারা
  3. ৪৬৩ ধারা
  4. ৪৬৪ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৬৪ ধারা- মিথ্যা দলিল তৈরি করা (Making a false document):
 নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি মিথ্যা দলিল তৈয়ার করেছে বলে পরিগণিত হয়-

প্রথমত:- যদি কোন ব্যক্তি, যে ব্যক্তি দ্বারা যার প্রদত্ত ক্ষমতা বলে কোন দলিল কিংবা উহার অংশবিশেষ প্রণীত, স্বাক্ষরিত, সীলমোহরযুক্ত বা সম্পাদিত হয় নাই বা যে সময়ে উক্ত দলিল বা উহার অংশবিশেষ প্রণীত, স্বাক্ষরিত, সীলমোহরযুক্ত বা সম্পাদিত হয় নাই বলে সে জানে, অথবা সে দলিলটি বা উহার অংশবিশেষ সে ব্যক্তি দ্বারা বা তৎপ্রদত্ত ক্ষমতা বলে কিংবা সে সময়ে প্রণীত স্বাক্ষরিত, সীলমোহরযুক্ত কিংবা সম্পাদিত হয়েছে বলে বিশ্বাস জন্মাইবার উদ্দেশ্যে অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে এইরূপ দলিল বা অংশবিশেষ প্রণয়ন, স্বাক্ষর, সীলমোহরযুক্ত বা সম্পাদন করে অথবা দলিলটি সম্পাদিত হয়েছে বলে বুঝাবার জন্য কোন চিহ্ন বা প্রতীক স্থাপন করে; অথবা

দ্বিতীয়ত:- কোন দলিল তৎকর্তৃক বা অন্য কোন ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত হওয়ার পরে কোনরূপ আইনসম্মত ছাড়াই অসাধুভাবে অথবা প্রতারণামূলক ভাবে, বাতিলকরণের মাধ্যমে বা অপর কোন উপায়ে দলিলের কোন গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিবর্তন করে; দলিলটি যদি অপরাধী দ্বারা সম্পাদিত না হয়ে অপর কোন ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত হয়ে থাকে, তবে এইরূপ পরিবর্তনের সময়ে সে ব্যক্তি জীবিত থাকুক অথবা পরলোকগত হোক তাতে অপরাধের কোনরূপ তারতম্য হবে না; অথবা

তৃতীয়ত:- কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে এমন কোন ব্যক্তিকে দিয়ে কোন দলিল স্বক্ষরিত, সীলমোহরযুক্ত সম্পাদিত কিংবা পরিবর্তিত করায় যে ব্যক্তি মানসিক অপ্রকৃতিস্থতা কিংবা প্রমত্ততার কারণে অথবা তাকে যেভাবে প্রতারণা করা হয়েছে তার ফলে উক্ত দলিলটির বিষয়বস্তু বা পরিবর্তনের প্রকৃতি সম্পর্কে অবহিত নয় বলে সে জানে।

ব্যাখ্যা ১: কোন ব্যক্তির নিজের নাম, স্বাক্ষরও জালিয়াতির সামিল হতে পারে।


ব্যাখ্যা ২: কোন প্রকৃত ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত হয়েছে বলে বিশ্বাস জন্মাবার অভিপ্রায়ে কাল্পনিক কোন ব্যক্তির নামে দলিল সম্পাদন অথবা কোন মৃত ব্যক্তি জীবদ্দশায় সম্পাদিত করেছিল বলে বিশ্বাস জন্মাবার অভিপ্রায়ে সে মৃত ব্যক্তির নামে দলিল সম্পাদন জালিয়াতি বলে গণ্য হবে।

উদাহরণ-
(ক) ক চ-কে দিয়ে খ-এর প্রতিপক্ষে ১০,০০০ টাকার জন্য একটি লেটার অব ক্রেডিট লিখে নিয়ে পরে ক খ-কে ঠকাবার উদ্দেশ্যে, ১০,০০০-টাকার সাথে একটি শূন্য যোগ করে উহাকে ১,০০,০০০ টাকা করে নেয়, এই অভিপ্রায়ে যে, খ বিশ্বাস করবে যে, চ ঐরূপ লিখেছে। ক জালিয়াতি করেছে।
১১,৭৮৫.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় তৃতীয় পক্ষ কর্তৃক দলিলের শর্ত পরিবর্তনের প্রমাণ দেওয়ার বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৯১
  2. ধারা ৯২
  3. ধারা ৯৯
  4. ধারা ১০০
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯৯ অনুযায়ী, যে ব্যক্তি দলিলের পক্ষ না, অথবা তাদের প্রতিনিধিরা, তারা সেই দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তন করার সমঝোতা প্রদর্শন করতে পারে, যদি এটি তৃতীয় পক্ষের স্বার্থকে প্রভাবিত করে। 

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯৯ অনুযায়ী, দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তন করার কোনো সমঝোতা প্রদর্শন করতে পারে এমন ব্যক্তি হলো তৃতীয় পক্ষ, যারা দলিলের শর্তকে প্রভাবিত করতে পারে এবং তাদের স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি দলিলের পক্ষ না, কিংবা তাদের প্রতিনিধিরা, তারা সেই দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তন করার সমঝোতা প্রদর্শন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো সমঝোতা দুটি পক্ষের মধ্যে হয় এবং এটি অন্য কোনো পক্ষের স্বার্থকে প্রভাবিত করে, তবে সে তৃতীয় পক্ষও এটি প্রমাণ করতে পারে।
উদাহরণ: যদি A এবং B কোনো লিখিত চুক্তি করেন এবং তাদের মধ্যে মৌখিকভাবে কিছু শর্ত পরিবর্তিত হয়, তবে C, যদি তার স্বার্থ প্রভাবিত হয়, সে এই পরিবর্তনের প্রমাণ দিতে পারে।
----------
⇒ The Evidence Act, 1872- Section- 99. Who may give evidence of agreement varying terms of document:
Persons who are not parties to a document, or their representatives in interest, may give evidence of any facts tending to show a contemporaneous agreement varying the terms of the document.
Illustration: A and B make a contract in writing that B shall sell A certain cotton, to be paid for on delivery. At the same time they make an oral agreement that three months' credit shall be given to A. This could not be shown as between A and B, but it might be shown by C, if it affected his interests.

১১,৭৮৬.
The Penal Code, 1860 এর কোন ধারানুযায়ীসাধারণ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সংঘটিত অপরাধের জন্য বেআইনী সমাবেশের প্রত্যেক সদস্য দায়ী হবে?
  1. ১৫২
  2. ১৪২
  3. ১৪৯
  4. ৩৪
ব্যাখ্যা
⇒  দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ১৪৯ অনুযায়ী, যদি কোনো বেআইনি সমাবেশে সাধারণ উদ্দেশ্য পূরণের জন্য অপরাধ সংঘটিত হয়, অথবা এমন কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যা সমাবেশের সদস্যরা জানে, তবে সেই সমাবেশে যোগদানকারী প্রত্যেক সদস্য ওই অপরাধে দায়ী হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৪৯ ধারা- সাধারণ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত অপরাধের জন্য বেআইনি সমাবেশে যোগদানকারী প্রত্যেক ব্যক্তিই অপরাধী সাব্যস্ত হবে:
যদি কোন বেআইনি সমাবেশে যোগদানকারী ব্যক্তি দ্বারা উক্ত বেআইনি সমাবেশে সাধারণ উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়, অথবা উক্ত সাধারণ উদ্দেশ্য পূরণকল্পে যে অপরাধটি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে উক্ত বেআইনি সমাবেশের ব্যক্তিগণ জানত তা অনুষ্ঠিত হয়, তবে উক্ত অপরাধটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়ে উক্ত বেআইনি সমাবেশে যোগদানকারী প্রত্যেক ব্যক্তি উক্ত অপরাধে অপরাধী হবে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 149- Every member of unlawful assembly guilty of offence committed in prosecution of common object:
If an offence is committed by any member of an unlawful assembly in prosecution of the common object of that assembly, or such as the members of that assembly knew to be likely to be committed in prosecution of that object, every person who, at the time of the committing of that offence, is a member of the same assembly, is guilty of that offence.
১১,৭৮৭.
যুগ্ম দায়রা জজ সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে পারে-
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  2. ১০ বছর কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
যুগ্ম দায়রা জজ সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারে।

• ফৌজদারী কার্যবিধির ৩১ ধারার বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট ও দায়রা জজ যেসব দণ্ড দিতে পারেনঃ
(১) হাইকোর্ট বিভাগ আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড দিতে পারেন।
(২) দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড দিতে পারেন; তবে এরূপ কোন মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলে তা হাইকোর্ট ডিভিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে হবে।
(৩) যুগ্ম দায়রা জজ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দশ বৎসরের অধিক কারাদণ্ড ব্যতিরেকে আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড দিতে পারেন।

Section 31: Sentences which High Court Division and Sessions Judges may pass-
(1) The High Court Division may pass any sentence authorized by law.
(2) A Sessions Judge or Additional Sessions Judge may pass any sentence authorized by law; but any sentence of death passed by any such Judge shall be subject to confirmation by the High Court Division.
(3) An Joint Sessions Judge may pass any sentence authorized by law, except a sentence of death or of transportation for a term exceeding ten years or of imprisonment for a term exceeding ten years.
১১,৭৮৮.
সাইবার অপরাধ তদন্তের স্বার্থে কোনো ব্যক্তি কোনো তথ্য প্রদান বা প্রকাশ করলে, উক্ত ব্যক্তির সুরক্ষায় সাইবার নিরাপত্তা আইন,২০২৩ এ কোন ধরনের বিধান দেয়া হয়েছে?
  1. উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়ানি বা ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা যাবে না
  2. উক্ত ব্যক্তির গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে
  3. উক্ত ব্যক্তির গোপনীয়তা লঙ্ঘন করলে কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে
  4. উল্লিখিত সকল বিধান
ব্যাখ্যা
সাইবার নিরাপত্তা আইন,২০২৩

ধারা ৪৬- তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের গোপনীয়তা

(১) তদন্তের স্বার্থে কোনো ব্যক্তি, সত্তা বা সেবা প্রদানকারী কোনো তথ্য প্রদান বা প্রকাশ করিলে উক্ত ব্যক্তি, সত্তা বা সেবা প্রদানকারীর বিরুদ্ধে দেওয়ানি বা ফৌজদারি আইনে অভিযোগ দায়ের করা যাইবে না।

(২) এই আইনের অধীন তদন্তের সহিত সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি, সত্তা বা সেবা প্রদানকারীর তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্যাদির গোপনীয়তা রক্ষা করিবেন।

(৩) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) ও (২) এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে অনুরূপ লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ডে বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
১১,৭৮৯.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী নিচের কোনটি ‘জনশৃঙ্খলা বিরোধী অপরাধ’?
  1. দাঙ্গা
  2. মারামারি
  3. বেআইনি সমাবেশ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধি অনুযায়ী,
দাঙ্গা (Riot), বেআইনি সমাবেশ (Unlawful Assembly) এবং মারামারি (Affray) - সবকটিই জনশৃঙ্খলা বা সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করে, তাই এগুলো ‘জনশৃঙ্খলা বিরোধী অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হয়।

১. বেআইনি সমাবেশ (Unlawful Assembly) – 
যখন পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি কোনো অবৈধ উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়, অথবা বৈধ উদ্দেশ্যে একত্র হলেও সে সমাবেশ পরে অবৈধ রূপ নেয়, তখন তা বেআইনি সমাবেশ হিসেবে গণ্য হয়।

উদ্দেশ্যগুলো হতে পারে:
- সরকার বা আইন-বিরোধী কাজ করা;
- জনসাধারণকে ভীতি প্রদর্শন;
- কোন ব্যক্তি বা সম্পত্তির বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ।

২. দাঙ্গা (Riot) –
যখন বেআইনি সমাবেশে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা বলপ্রয়োগ বা সহিংসতা করে, তখন তা দাঙ্গা হিসেবে গণ্য হয়। উদাহরণ: কোনো রাজনৈতিক মিছিলের সময় লোকজন ভাঙচুর বা লাঠিচার্জ শুরু করলে তা “দাঙ্গা” হতে পারে।

৩. মারামারি (Affray) –
যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি জনসমক্ষে ঝগড়া করে ও জনশৃঙ্খলা নষ্ট করে, তখন তাকে মারামারি (Affray) বলা হয়।
১১,৭৯০.
দোষ স্বীকার কখন গ্রহণযোগ্য হয় না?
  1. দোষ স্বীকার যদি স্বেচ্ছামূলক হয়
  2. দোষ স্বীকার যদি স্বেচ্ছামূলক না হয়
  3. ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দোষ স্বীকারোক্তি
  4. ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশের নিকট দোষ স্বীকারোক্তি
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারা - প্রলোভন, ভীতি বা প্রতিশ্রুতি দ্বারা সৃষ্ট স্বীকারোক্তি, যখন ফৌজদারি কার্যবিধিতে অপ্রাসঙ্গিক: যদি কোনো আসামী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সাথে সম্পর্কিত কোনো প্রলোভন, ভীতি বা প্রতিশ্রুতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে স্বীকারোক্তি প্রদান করেন এবং আদালত মনে করেন যে, এই স্বীকারোক্তি কোনো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আসামীকে লাভ বা ক্ষতি থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানোর জন্য প্রদান করা হয়েছে, তবে সেই স্বীকারোক্তি ফৌজদারি কার্যবিধিতে প্রাসঙ্গিক হবে না।

⇒সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো প্ররোচনা, ভয়ভীতি বা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে দোষ স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
- স্বেচ্ছামূলক দোষ স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য, তবে এটি হতে হবে স্বতঃস্ফূর্ত ও বিনা প্ররোচনায়।
- যদি দোষ স্বীকারোক্তি বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি বা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে নেওয়া হয়, তাহলে তা অগ্রহণযোগ্য।
- ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট স্বেচ্ছামূলক দোষ স্বীকারোক্তি (ধারা ১৬৪, ফৌজদারি কার্যবিধি) গ্রহণযোগ্য, কিন্তু পুলিশের কাছে করা দোষ স্বীকারোক্তি সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয় (ধারা ২৫, সাক্ষ্য আইন)।
- ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশের নিকট করা দোষ স্বীকারোক্তিও গ্রহণযোগ্য (ধারা ২৬, সাক্ষ্য আইন)।
১১,৭৯১.
রাহুল ৭ বছর ধরে নিখোঁজ। তার পরিবার দাবি করে যে, তিনি জীবিত। ১০৮ ধারার অধীনে-
  1. আদালত রাহুলকে জীবিত হিসেবে বিবেচনা করবে
  2. তার পরিবারকে তার জীবিত থাকার প্রমাণ বের করতে হবে
  3. আদালতকে তার জীবিত থাকার প্রমাণ বের করতে হবে
  4. আদালত নতুন তদন্ত শুরু করবে
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১০৮ ধারা অনুযায়ী-
আদালত কোন ব্যক্তিকে মৃত অনুমান করতে বাধ্য যদি বিগত ৭ বৎসর যাবৎ তার কোন খবর পাওয়া না যায়। এমন ব্যক্তিকে যে জীবিত দাবী করে, তাকেই প্রমাণ করতে হবে উক্ত ব্যক্তি জীবিত।

Section 108 ⇒ Burden of proving that person is alive who has not been heard of for seven years:
Provided that when the question is whether a man is alive or dead, and it is proved that he has not been heard of for seven years by those who would naturally have heard of him if he had been alive, the burden of proving that he is alive is shifted to the person who affirms it.
১১,৭৯২.
বেআইনী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে আসা প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা কার নির্দেশ অনুসারে কাজ করবেন ?
  1. শুধু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের
  2. শুধু পুলিশ কমিশনারের
  3. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কমিশনার
  4. সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারের
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩০ ধারা মতে বেআইনী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে আসা প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমিশন প্রাপ্ত বা নন কমিশন প্রাপ্ত কর্মকর্তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ অনুসারে কাজ করবেন।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩১ ধারা মতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে যোগাযোগ করতে না পারলে পরিস্থিতি সাপেক্ষে সেনাবাহিনীর কোন কমিশনপ্রাপ্ত অফিসার সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে বেআইনী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে গ্রেফতার ও আটক করতে  পারেন।

--------------------- 
Duty of officer commanding troops required by Magistrate to disperse assembly
Section 130.(1) When an Executive Magistrate or the Police Commissioner determines to disperse any such assembly by military force, he may require any commissioned or non-commissioned officer in command of any soldiers in the Bangladesh Army to disperse such assembly by military forced, and to arrest and confine such persons forming part of it as the Magistrate or the Police Commissioner may direct, or as it may be necessary to arrest and confine in order to disperse the assembly or to have them punished according to law. 
 
(2) Every such officer shall obey such requisition in such manner as he thinks fit, but in so doing he shall use as little force, and do as little injury to person and property, as may be consistent with dispersing the assembly and arresting and detaining such persons.
১১,৭৯৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২১ক অনুযায়ী, যদি একটি স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি অরেজিস্ট্রিকৃত হয়, তাহলে তা—
  1. ক্ষতিপূরণ প্রদান করা যাবে
  2. সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যাবে
  3. সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যাবে না
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২১ক অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করার জন্য দুটি প্রধান শর্ত পূরণ করতে হয়:
১. চুক্তিটি লিখিত হতে হবে।
২. চুক্তিটি রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর অধীনে নিবন্ধিত (রেজিস্ট্রিকৃত) হতে হবে।
যদি চুক্তিটি অরেজিস্ট্রিকৃত হয়, তাহলে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যাবে না। অর্থাৎ, ধারা ২১ক অনুযায়ী, অরেজিস্ট্রিকৃত স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য নয়।
- এই ধারা ২০০৪ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে যোগ করা হয়েছে এবং এটি ১লা জুলাই ২০০৫ থেকে কার্যকর হয়েছে।
তবে, চুক্তিটি অরেজিস্ট্রিকৃত হলে ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা করা যেতে পারে, কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যাবে না।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো: গ) সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যাবে না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারার বিধান অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য: এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রিয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিস্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা তার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
---------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Section 21A Unregistered contract for sale not specifically enforceable: Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless– 
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof; and 
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.
১১,৭৯৪.
"অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করলে তা তার বিরুদ্ধে প্রমাণ করা যাবে না" এটা The Evidence Act, 1872 এর কোন ধারায় বলা হয়েছে?
  1. সাক্ষ্য আইনের ২৫ ধারায়
  2. সাক্ষ্য আইনের ২৬ ধারায়
  3. সাক্ষ্য আইনের ২৮ ধারায়
  4. সাক্ষ্য আইনের ৩০ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ২৫ ধারার বিধান: পুলিশ অফিসারের নিকট স্বীকারোক্তি প্রমাণ করা যাবে না: যে কোন অপরাধে অভিযুক্ত, পুলিশ অফিসারের নিকট দোষ স্বীকার করলে তা তার বিরুদ্ধে প্রমাণ করা যাবে না।

-----------------------
⇒ Confession to police-officer not to be proved:
Section 25. No confession made to a police-officer shall be proved as against a person accused of any offence.
১১,৭৯৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক মামলা স্থানান্তর সম্পর্কিত বিধান রয়েছে?
  1. ৫২৫
  2. ৫২৬
  3. ৫২৬খ
  4. ৫২৭
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৬ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগের মামলা স্থানান্তরের ক্ষমতা আলোচনা করা হয়েছে।যার উপর ভিত্তি করে মামলা হস্তান্তরের আদেশ দিবেন-
১. নিম্ন আদালতের রিপোর্টের ভিত্তিতে, অথবা
২. মামলার যেকোন পক্ষের আবেদনক্রমে, অথবা
৩. হাইকোর্ট বিভাগ Suo motu এরূপ আদেশ দিতে পারবেন।

⇒ মামলা হস্তান্তরের শর্তসমূহ-
১. অধস্তন কোন ফৌজদারি আদালতে ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষ বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে।
২. কোন অসাধারণ জটিল আইনের প্রশ্ন উদ্ভব হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে।
৩. কোন স্থান বা স্থানের নিকট কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা পরিদর্শন করা উক্ত অপরাধের সন্তোষজনক অনুসন্ধান বা বিচারের জন্য প্রয়োজন হলে।
৪. এই ধারায় প্রদত্ত কোন আদেশে পক্ষসমূহ বা সাক্ষীগনের সাধারণ সুবিধার দিকে নিয়ে যাবে।
৫. ন্যায় উদ্দেশ্যে বা এই কার্যবিধির কোন বিধান অনুসারে এরূপ কোন আদেশ প্রয়োজন হলে
১১,৭৯৬.
কমপক্ষে কত জন ব্যক্তির অংশগ্রহণে দন্ডবিধি অনুযায়ী ডাকাতি সংঘটিত হয়?
  1. ৩ জন
  2. ৪ জন
  3. ৫ জন
  4. ৭ জন
ব্যাখ্যা
♦ প্রত্যেক ডাকাতির ক্ষেত্রে দস্যুতা ( চুরি অথবা বলপূর্বক গ্রহণ) থাকে। কিন্তু দস্যুতা এবং ডাকাতির মধ্যে মূল পার্থক্য হলো সংখ্যাগত। দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারা অনুযায়ী ডাকাতির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন থাকতে হবে।
♦ ডাকাতির সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন। দস্যুতার সদস্য যদি ৫ বা ততোধিক হয় তখন দস্যুতা ডাকাতিতে পরিণত হয়।
১১,৭৯৭.
'জবানবন্দি গ্রহণ এবং জেরা প্রাসঙ্গিক ঘটনা [Relevant Facts] এর সাথে সম্পর্কিত হতে হবে'- সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় এই বিধান উল্লেখ আছে?
  1. ১৩৬ ধারায়
  2. ১৩৭ ধারায়
  3. ১৩৮ ধারায়
  4. ১৩৯ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারার বিধান: সাক্ষ্য গ্রহণের ক্রম [Order of Examination]:
সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারায় সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, জেরা এবং পুনঃজবানবন্দি গ্রহণ করা যায়। ১৩৮ ধারায় সাক্ষ্য গ্রহণের ৩টি ক্রম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ক্রম হলো সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, দ্বিতীয় ক্রম হলো সাক্ষীর আহ্বানকারী পক্ষের বিরোধী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীকে জেরা (ইচ্ছা করলে করতে পারে) এবং তারপর সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক পুনঃজবানবন্দি (যদি পক্ষদ্বয় ইচ্ছা করে) করা হয়।
জবানবন্দি গ্রহণ এবং জেরা প্রাসঙ্গিক ঘটনা [Relevant Facts] এর সাথে সম্পর্কিত হতে হবে, তবে জেরা করার সময় সাক্ষী যে বিষয়গুলো জবানবন্দি গ্রহণ এ বলেছিল, সেই বিষয়গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে না।

Section 138- Order of examinations:
Witnesses shall be first examined-in-chief, then (if the adverse party so desires) cross-examined, then (if the party calling him so desires) re-examined.
The examination and cross-examination must relate to relevant facts but the cross-examination need not be confined to the facts to which the witness testified on his examination-in-chief.
১১,৭৯৮.
হিন্দু বিধবার সম্পত্তির [Widow's Property] ক্ষেত্রে নিম্নের কোন বিধান সঠিক নয়?
  1. শুধুমাত্র জীবন-স্বত্ব অর্জন [Life Interest] করে
  2. সাধারণত চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করতে পারে না
  3. একচ্ছত্র মালিকানা থাকে
  4. কিছু ক্ষেত্রে চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করতে পারে
ব্যাখ্যা
বিধবার সম্পত্তি: [Widow's Property]

কোন হিন্দু স্ত্রী উত্তরাধিকারসূত্রে তার স্বামীর নিকট হতে যে সম্পত্তি অর্জন করে তা বিধবার সম্পত্তি নামে পরিচিত। স্ত্রীধন এবং বিধবার সম্পত্তি এক না। স্ত্রীধনের সাথে বিধবার সম্পত্তির পার্থক্য হলো এই যে বিধবার সম্পত্তি বলতে শুধুমাত্র উত্তরাধিকারসূত্রে কোন নারী যে সম্পত্তি স্বামীর নিকট থেকে পেয়ে থাকে কিন্তু উত্তরাধিকার সম্পত্তি স্ত্রীধনের অন্তর্ভুক্ত না। স্ত্রীধনের উপর মহিলার একচ্ছত্র মালিকানা থাকে এবং সে যেমন প্রয়োজন তেমনভাবে হস্তান্তর করতে পারে। কিন্তু বিধবার সম্পত্তির ক্ষেত্রে নারী শুধুমাত্র সীমিত স্বার্থ অর্জন [Limited Interest] করে বা শুধুমাত্র জীবন-স্বত্ব অর্জন [Life Interest] করে।

অর্থাৎ এমন সম্পত্তির উপর মহিলার কোন একচ্ছত্র মালিকানা থাকে না এবং তিনি এমন সম্পত্তি ইচ্ছানুসারে হস্তান্তর করতে পারে না। বিধবার সম্পত্তি কোন হিন্দু নারী চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করার অধিকারী না হলেও নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে সে চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করতে পারে-

১) ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে;
২) আইনগত প্রয়োজনে;
৩) সম্পত্তির হিতার্থে বা মঙ্গলে।
১১,৭৯৯.
Which of the followings is not a 'Decree'?
  1. Rejection of a plaint
  2. Dismissal for default
  3. Determination of any question within section 144
  4. Both 'B' & 'C'
ব্যাখ্যা
• Section 2(2)-
"decree" means the formal expression of an adjudication which, so far as regards the Court expressing it, conclusively determines the rights of the parties with regard to all or any of the matters in controversy in the suit and may be either preliminary or final. It shall be deemed to include the rejection of a plaint and the determination of any question within section 144,
but shall not include- 
(a) any adjudication from which an appeal lies as an appeal from an order, or 
(b) any order of dismissal for default.

 দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(২) অনুসারে-
ডিক্রি বলতে কোন আদালত কর্তৃক  আনুষ্ঠানিকভাবে ভাবে প্রকাশিত এমন বক্তব্য বুঝায়, যা মোকদ্দমার বিতর্কিত সমগ্র বা যেকোন বিষয় সম্পর্কে পক্ষগণের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে এবং এই “ডিক্রি” প্রাথমিক বা চূড়ান্ত হতে পারে। নিম্নলিখিত বিষয় ডিক্রি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে-
⇒ আদেশ ৭ বিধি ১১ এর অধীন আরজি প্রত্যাখ্যান এবং
⇒ ১৪৪ ধারায় বর্ণিত কোন প্রশ্ন নির্ধারণও ডিক্রি বলে গণ্য হবে।

• তবে নিম্নলিখিত বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত হবে না-
⇒ যে বিচারকৃত রায়ের বিরুদ্ধে কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের মত আপিল করা যায়; অথবা
⇒ কোন ত্রুটির জন্য খারিজের আদেশ।
১১,৮০০.
আইন অনুসারে বাধ্য না হয়ে কোনো ব্যক্তি প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করলে, আদালত কী অনুমান করতে পারে?
  1. উত্তর তার পক্ষে ছিল
  2. উত্তর তার পক্ষে অনুকূল ছিল না
  3. আদালত কোনো অনুমান করতে পারবে না
  4. উত্তর প্রমাণযোগ্য নয়
ব্যাখ্যা

⇒ আইনসম্মত বাধ্যবাধকতা না থাকলে কোনো প্রশ্নের উত্তর অস্বীকার করলে → অনুমান করা যায় উত্তরটি তার পক্ষে হতো না।

সাক্ষ্য আইনের ১১৪ ধারার বিধান: আদালত কিছু তথ্যের অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে-
আদালত প্রকৃতি এবং মানবিক আচরণের সাধারণ গতিপ্রকৃতি, সরকারি ও বেসরকারি কার্যাবলীর সাপেক্ষে বিশেষ মামলার তথ্যগুলি বিবেচনা করে, যে কোনো তথ্য বা ঘটনার অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে যা আদালতের মতে সম্ভবত ঘটেছে। আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুমান করতে পারে -
(ক) যে ব্যক্তি চুরির কিছুক্ষণ পরেই চুরি মালামাল দখলে রাখে, সে নিজেই চোর অথবা জেনেশুনে চুরি মাল গ্রহণ করেছে, যদি না সে তার দখলের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে;
(খ) যে ব্যক্তি অপরাধের সহযোগী, সে অবিশ্বাসযোগ্য, যদি না তার সাক্ষ্যের মূল বিষয়গুলি অন্য কোনো প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হয়;
(গ) একটি হুন্ডি স্বীকৃত বা অনুমোদিত হয়েছে প্রাপ্য মূল্যের বিনিময়ে;

(ঘ) যেকোনো বস্তু বা অবস্থা যা এমন সময়সীমার মধ্যে দেখা গেছে যে সময়সীমার মধ্যে এরকম বস্তু বা অবস্থা সাধারণত লুপ্ত হয়ে যায় না, তা এখনও বিদ্যমান রয়েছে;
(ঙ) বিচারিক এবং সরকারি কার্যাবলী নিয়মানুসারে সম্পাদিত হয়েছে;
(চ) বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক নিয়মানুসারে কার্যক্রম পালিত হয়েছে;

(ছ) যে প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব ছিল কিন্তু করা হয়নি, তা উপস্থাপিত হলে যে ব্যক্তি তা প্রমাণ করতে অস্বীকার করেছেন তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(জ) কোনো ব্যক্তি যদি আইনসম্মতভাবে বাধ্য না হয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে, তাহলে মনে করা হবে উত্তরটি তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(ঝ) কোনো দায়বদ্ধকারী দলিল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে থাকলে, মনে করা হবে দায়িত্বটি পরিশোধিত হয়েছে।
তবে বিশেষ মামলার ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলি প্রযোজ্য কিনা তা বিবেচনা করার সময় আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলিও বিবেচনা করবে।