বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

মোট প্রশ্ন১৫,৪৭০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস (BJS) প্রস্তুতি

PrepBank · পাতা ১০৬ / ১৫৫ · ১০,৫০১১০,৬০০ / ১৫,৪৭০

১০,৫০১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ______ ধারা অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে।
  1. ৫২
  2. ৫৪
  3. ৫৫
  4. ৫৬
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারার বিধানে বলা আছে যে,
বিবাদী যখন বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা ভোগ দখলে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা করার হুমকি দেয়, তখন আদালত ৫টি ক্ষেত্রে বিবাদীর বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করেতে পারে।

(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।

ব্যাখ্যাঃ এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে।
১০,৫০২.
১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী খালাস [Acquittal] আদেশের বিরুদ্ধে কত সময়ের মধ্যে আপিল করতে হবে?
  1. ৩ মাস
  2. ৯০ দিন
  3. ৬ মাস
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের অনুচেছদ- ১৫৭

 ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধি এর অধীন খালাস [Acquittal] আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে- যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে তার তারিখ হতে- ৬ মাস।
১০,৫০৩.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় অশ্লীল ও কুৎসাজনক প্রশ্ন সম্পর্কিত বিধান আছে?
  1. ১৪১
  2. ১৪৯
  3. ১৫১
  4. ১১৫
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৫১ ধারা- অশ্লীল ও কুৎসাজনক প্রশ্ন: যদি কোন প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসাবাদ আদালত অশ্লীল অথবা কেলেঙ্কারীজনক মনে করেন, তবে আদালতের বিচার্য বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রশ্নটির কিছু গুরুত্ব থাকলেও আদালত এর প্রশ্ন নিষিদ্ধ করতে পারেন প্রশ্নটি যদি না বিচার্য বিষয় সম্পর্কিত হয় অথবা বিচার্য বিষয়ের অস্তিত্ব নির্ধারণের জন্য যা জানা প্রয়োজন এমনি বিষয় সম্পর্কিত হয়।
------------------------------------
Section 151- Indecent and scandalous questions: The Court may forbid any questions or inquiries which it regards as indecent or scandalous, although such questions or inquiries may have some bearing on the questions before the Court, unless they relate to facts in issue, or to matters necessary to be known in order to determine whether or not the facts in issue existed.
১০,৫০৪.
কোনো বিচার্য ঘটনার উদ্দেশ্য (motive), প্রস্তুতি (preparation) এবং পূর্ববর্তী বা পরবর্তী আচরণ (conduct) সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার অধীনে প্রাসঙ্গিক?
  1. ধারা ৭
  2. ধারা ৮
  3. ধারা ৯
  4. ধারা ১০
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৮ ধারার বিধান: উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি এবং পূর্ববর্তী বা পরবর্তী আচরণ (Motive, preparation and previous subsequent conduct): কোন ঘটনা সংঘটনের উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি, এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আচরণ প্রাসঙ্গিক ব্যা বিবেচিত হবে। কারণ ঘটনা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অভিযুক্তের আচরণ ঘটনা প্রমাণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।
⇒ যে সকল ঘটনা বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অভিপ্রায় (Motive), প্রস্তুতি (Preparation) এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কার্য (Previous or Subsequent Conduct) হিসেবে গণ্য হয়, সে সকল ঘটনাকে সাক্ষ্য আইনের ৮ ধারায় প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৮ ধারায় ৩টি বিষয়কে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে-(i) অভিপ্রায় (Motive) (ii) প্রস্তুতি (Preparation) (iii) পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কার্য (Previous or Subsequent Conduct).
⇒ সাধারণত অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে Motive প্রমাণ করতে হয় না। তবে বাদী যখন Motive দাবী করে ও মামলাটা যদি শুধুমাত্র Circumstantial evidence এর উপর নির্ভর করে তখন Motive প্রমাণ করতে হয়।
----------
⇒The Evidence Act, 1872, Section 8. Motive, preparation and previous or subsequent conduct:
- Any fact is relevant which shows or constitutes a motive or preparation for any fact in issue or relevant fact. 
- The conduct of any party, or of any agent to any party, to any suit or proceeding, in reference to such suit or proceeding, or in reference to any fact in issue therein or relevant thereto, and the conduct of any person an offence against whom is the subject of any proceeding, is relevant, if such conduct influences or is influenced by any fact, in issue or relevant fact, and whether it was previous subsequent thereto.

১০,৫০৫.
সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারা অনুযায়ী, ব্যারিস্টার বা এটর্নি মক্কেলের পক্ষ থেকে কোন বার্তা প্রকাশ করতে পারবেন না, যদি না-
  1. আদালত নির্দেশ দেয়
  2. মক্কেল তার অনুমতি দেন
  3. মামলাটি নিষ্পত্তি হয়
  4. মক্কেল আদালতে উপস্থিত থাকে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারা- পেশা সম্পর্কিত বার্তা:
ব্যারিস্টার, এটর্নি বা উকিল মক্কেলের ব্যারিস্টার, এটর্নি বা উকিল হিসাবে কাজ করিবার সময় এবং উদ্দেশ্যে উক্ত মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে তাহার নিকট প্রদত্ত কোন বার্তার বিষয় মক্কেলের অনুমতি ব্যতীত প্রকাশ করিতে অনুমতি পাইবেন না।
অথবা বৃত্তিগত কার্য সম্পাদানকালে এবং প্রসঙ্গে মক্কেলের যেই সকল দলিলের সহিত তিনি পরিচিত হইয়াছিলেন, সেইগুলির বিষয়বস্তু বা অবস্থার কোন বিবৃতি দিতে পারিবেন না অথবা তাহার কার্যকালে ও উদ্দেশ্যে মক্কেলকে তিনি যে পরামর্শ দিয়াছেন, তাহা প্রকাশ করিতে পারিবেন না।

⇒ তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলি প্রকাশ হইতে এই ধারার কিছু অব্যাহিত দিবেন না।

(১) বেআইনী উদ্দেশ্যে সাধনকল্পে যে সংবাদ আদান- প্রদান করা হইয়াছে,
(২) ব্যরিস্টার, এটর্নি বা উকিল পেশাগত কার্যে নিযুক্ত থাকিবার সময় তৎকর্তৃক লক্ষিত বিষয় যদ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তাহার নিযুক্তির পরে কোন অপরাধ বা প্রতারণা সংঘটিত হইয়াছে অনুরূপ ঘটনার প্রতি উক্ত ব্যরিস্টার, এটর্নি বা উকিল মনোযোগ তাহার মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে আকৃষ্ট করা হইয়াছিল কিনা তাহা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

ব্যাখ্যা: এই ধারার বর্ণিত বাধ্যবাধকতা নিযুক্তির অবসান ঘটিবার পরও অব্যাহত থাকে।
১০,৫০৬.
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এবং বার কাউন্সিল রুলস অনুযায়ী, অ্যাডভোকেটগণ শপথ গ্রহণ করেন কখন?
  1. বার কাউন্সিলে আবেদন করার সময়
  2. বার অ্যাসোসিয়েশনে যোগদানের সময়
  3. আদালতে প্রথম মামলা পরিচালনার সময়
  4. বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্তির পর সনদ গ্রহণের প্রাক্কালে
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এবং বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২ এর বিধি ৬২(২) অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি বার কাউন্সিলে অ্যাডভোকেট হিসাবে তালিকাভুক্তির পর সনদ (সার্টিফিকেট) গ্রহণের পূর্বে শপথ গ্রহণ করেন। এই শপথের মাধ্যমে অ্যাডভোকেটগণ সংবিধান মেনে চলা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বার কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত শিষ্টাচার সংক্রান্ত বিধি-বিধান মেনে চলার অঙ্গীকার করেন।
→ সুতরাং, বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্তির পর সনদ গ্রহণের প্রাক্কালে (বিকল্প ঘ) শপথ গ্রহণ করা হয়, যা সঠিক উত্তর।

অ্যাডভোকেটের শপথ:
- অ্যাডভোকেটগণ আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকেন। সামাজিক সুবিচার এবং জনগণের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের ভূমিকা অসামান্য। সংবিধান ব্যাখ্যা এবং সংবিধান সুরক্ষার দায়িত্বও তাদের উপর বর্তায়। সংবিধানের প্রাধান্য রক্ষা করা অন্যান্যদের মত অ্যাডভোকেটগণের রয়েছে। অ্যাডভোকেটগণ যাতে সংবিধান মেনে চলেন এবং বার কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত শিষ্টাচার সংক্রান্ত বিধি বিধান মেনে চলেন সে জন্য ১৯৯৯ সনের ৩রা জুন তারিখে প্রকাশিত গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২-এর ৬২(২) বিধি প্রতিস্থাপন করে উহাতে নিম্ন লিখিত শপথ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বার কাউন্সিলে অ্যাডভোকেট হিসাবে তালিকাভুক্তির পর সনদ গ্রহণের প্রাক্কালে অ্যাডভোকেটগণ ঐ শপথ গ্রহণ করে থাকেন।
-------------------
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Rules, 1972-Rule-62(2) The certificate of enrolment shall then be issued to the advocate on his application to the Bar Council through the Bar Association after his admission as a member thereof in such manner and on fulfillment of such conditions as may be decided by the Bar Council upon taking such oath as prescribed.
১০,৫০৭.
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ২৬(১) অনুসারে, কোন ধরনের সুখাধিকার অর্জনের জন্য ৬০ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোগ করতে হবে?
  1. ব্যক্তিগত সম্পত্তির সুখাধিকার
  2. মালিকবিহীন সম্পত্তির অধিকার
  3. বেসরকারি সম্পত্তির অধিকার
  4. সরকারি সম্পত্তির সুখাধিকার
ব্যাখ্যা
⇒ সুখাধিকার হলাে এমন কোন এক ধরনের অধিকার যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্যকোনো ব্যক্তির জমি বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।
সুখাধিকার দুইভাবে অর্জন হতে পারে যথা:
১) প্রেসক্রিপশন এর মাধ্যমে (by prescription);
২) সুখাধিকার অর্জন এর মাধ্যমে (by easement) যখন সুখাধিকারসমূহ অর্জন হয়।

তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী-
যে ক্ষেত্রে কোন দালানে আলাে বা বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার সুখাধিকার হিসাবে এবং অধিকার হিসাবে অব্যাহতভাবে ২০ বছর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ভােগ করা হয়েছে এবং যে ক্ষেত্রে কোন পথ বা জলস্রোত অথবা কোন পানির ব্যবহার অথবা অন্য কোন যে কোন সুখাধিকার (ইতিবাচক, নেতিবাচক যাই হােক না কেন) কোন ব্যক্তি সুখাধিকার ও অধিকার হিসাবে তাতে স্বত্ব দাবি করে অব্যাহতভাবে এবং বিশ (২০) বছর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভােগ করেছে; সেক্ষেত্রে অনুরূপ আলাে বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার পথ জলস্রোত পানির ব্যবহার অথবা অন্য কোন সুখাধিকারর নিরঙ্কুশ ও অলঙ্ঘনীয় অধিকারে পরিণত হবে।

সরকারি কোনো সম্পত্তিতে সুখাধিকার অর্জন করতে হলে উক্ত অধিকার একনাগাড়ে ৬০ বছর নিরবচ্ছিন্ন ভােগ করতে হবে। সরকারি কোন সম্পত্তি ছাড়া অন্যকোনো সম্পত্তিতে সুখাধিকার অর্জন করতে হলে উক্ত জমিতে একনাগাড়ে ২০ বছর পরে ভােগ করতে হবে।
১০,৫০৮.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশি কে করতে পারে?
  1. শালীনতা বজায় রেখে কোন মহিলা
  2. শুধু মহিলা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. শুধু মহিলা দেহ তল্লাশী অফিসার
  4. যে কোন মহিলা পুলিশ
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১ ধারা মতে গ্রেফতারকারী অফিসার অথবা কোন বেসরকারি লোক গ্রেফতার করলে তিনি গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে যার নিকট অর্পণ করেন সেই পুলিশ অফিসার গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির দেহ তল্লাশী করতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র ব্যতীত তার নিকট যা পাওয়া যাবে, তা নিরাপদ হেফাজতে রাখতে পারবেন।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২ ধারায় কোন স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশীর বিধান রয়েছে। ৫২ ধারা অনুযায়ী কোন স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশী করার প্রয়োজন হলে শালীনতার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখে অন্য একজন স্ত্রীলোক দ্বারা তল্লাশী করাতে হবে।

♦ অর্থাৎ শালীনতা বজায় রেখে যেকোন মহিলা স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশি করতে পারে। 
১০,৫০৯.
প্রশ্নমালা সম্পর্কে আপত্তি কীভাবে জানাতে হয়?
  1. লিখিত আবেদনের মাধ্যমে
  2. মৌখিকভাবে আদালতে জানাতে হয়
  3. হলফনামার (Affidavit) মাধ্যমে
  4. আইনজীবীর মাধ্যমে মৌখিক আপত্তি জানাতে হয়
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী উদঘাটন বা আবিষ্কার দুইভাবে হতে পারে।যথা-
১- প্রশ্নের সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by interrogatories) এবং
২- দলিলের সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by documents)।

• প্রশ্নমালার সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by interrogatories) দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে আরজি ও লিখিত জবাবে বর্ণিত তথ্য মামলার প্রকৃতি নির্ণয়ে অপর্যাপ্ত হলে, আদালতের অনুমতি নিয়ে পক্ষগণ মামলার প্রকৃতির বিধায় একে অপরকে প্রশ্নমালা দিয়ে উত্তর গ্রহণের মাধ্যমে কোন তথ্য বা ঘটনা উদঘাটন করতে পারে। বিচার্য বিষয় প্রনয়নের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে প্রশ্নমালা প্রদান করতে হয়। আদালতের অনুমতি ব্যতীত কোন পক্ষ অপর পক্ষকে ১ সেটের বেশি প্রশ্নমালা প্রদান করবে না।

• আদেশ-১১, বিধি-৬:
প্রশ্নমালা সম্পর্কে আপত্তি-প্রশ্নমালা সম্পর্কে কোন আপত্তি (objections) হলফনামার (affidavit) মাধ্যমে করতে হয়।
১০,৫১০.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-১ অনুসারে কয়টি পদ্ধতিতে ডিক্রির টাকা পরিশোধের বিধান আছে?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৫ টি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর আদেশ-২১, বিধি-১: ডিক্রির টাকা পরিশোধ- ২১ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে ডিক্রির টাকা ৩ ভাবে পরিশোধ করা যায়। যথা-
ⅰ) ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে টাকা জমা দিয়ে;
ii) ডিক্রিদারকে আদালতের বাহিরে টাকা দিয়ে; এবং
iii) ডিক্রি প্রদানকারী আদালতের নির্দেশে অন্য উপায়ে ডিক্রির টাকা পরিশোধ করা যায়।
 
⇒ ডিক্রি জারির সংজ্ঞা (Definition of Execution of Decree)- আদালত প্রদত্ত ডিক্রিকে বলবৎ বা বাস্তবায়ন করাকে ডিক্রি জারি বা executuion of decree বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৬ থেকে ৭৪, ১৩৫ক ধারা এবং ২১ নং আদেশের ১ থেকে ১০৩ বিধিসমূহে ডিক্রি জারিকরণ সংক্রান্ত সকল নিয়মাবলি আলোচনা করা হয়েছে।
 
⇒ কোন মোকদ্দমার রায়ে যার পক্ষে ডিক্রি দেয়া হয় তিনি আপনা আপনি ডিক্রির ফল ভোগ করতে পারবেন না। জারিযোগ্য ডিক্রির ক্ষেত্রে তাকে নতুন করে একটি ডিক্রি জারির মামলা করতে হয়। নির্দিষ্ট ফরম পূরণপূর্বক জাবেদা নকল সহ ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে বা যে আদালতে ডিক্রি স্থানান্তর করা হয়েছে সে আদালতে ডিক্রি জারির আবেদন করতে হয়।
 
⇒ডিক্রি জারির পদ্ধতি- দেওয়ানী কার্যবিধির ৫১ ধারামতে ৫টি উপায়ে আদালত ডিক্রি জারি বা ডিক্রি কার্যকর করতে পারে। যথা-
i) সম্পত্তি অর্পণ (by delivery);
ii) ক্রোক ও বিক্রয় (attachment and sale);
iii) দেনাদারকে গ্রেফতার ও কারাগারে আটক;
iv) রিসিভার নিয়োগ; এবং
ⅳ) প্রতিকারের প্রকৃতি অনুযায়ী অন্য কোনো উপায়ে।
-------------------------
Payment under Decree:
CPC Order-21 Rule-1.Modes of paying money under decree:
(1) All money payable under a decree shall be paid as follows, namely:−
(a) into the Court whose duty it is to execute the decree; or
(b) out of Court to the decree-holder; or
(c) otherwise as the Court which made the decree directs.

(2) where any payment is made under clause (a) of subrule (1), notice of such payment shall be given to the decreeholder.
১০,৫১১.
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী বার কাউন্সিলের মেয়াদ কত বছর?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, বার কাউন্সিলের মেয়াদ ৩ বছর। এই মেয়াদ বার কাউন্সিলের সাধারণ নির্বাচনের পরবর্তী ১লা জুলাই থেকে শুরু হয়। মেয়াদ শেষ হলে বার কাউন্সিলের সদস্যগণ তাদের পদ হারান এবং নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সদস্য নির্বাচিত হন।

এই বিধানটি বার কাউন্সিলের কার্যক্রমকে সময়ানুগ ও কার্যকর রাখার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে। বার কাউন্সিলের মেয়াদ ৩ বছর হওয়ায় এটি নিয়মিতভাবে পুনর্গঠিত হয় এবং নতুন সদস্যদের মাধ্যমে আইন পেশার মানোন্নয়ন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখে।
-------
The Bangladesh Legal Practitioner's and Bar Council Order, 1972 (President's Order) Article 4.
- Subject to the provisions of Article 8, the term of the Bar Council be three years beginning on the first day of July following the general elections to the Bar Council; and at the end of each terms the members of the Bar Council shall cease to hold office.
১০,৫১২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২৩ অনুসারে কত শ্রেনীর ব্যক্তি চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন পেতে পারে?
  1. ৪ শ্রেনীর
  2. ৫ শ্রেনীর
  3. ৭ শ্রেনীর
  4. ৮ শ্রেনীর
ব্যাখ্যা

ধারা ২৩- সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন যে পেতে পারে: এই অধ্যায়ে ভিন্নরূপ বিধিবদ্ধ না থাকলে নিম্নোক্ত ৮ শ্রেনীর ব্যক্তি চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন পেতে পারে-
ক) চুক্তির যেকোন পক্ষ;
খ) চুক্তির যেকোন পক্ষের বা স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি; শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে তেমন পক্ষের শিক্ষা, দক্ষতা, স্বচ্ছলতা বা
কোন ব্যক্তিগত গুণাগুণ চুক্তির উল্লেখযোগ্য উপাদান হয় বা যেক্ষেত্রে চুক্তিতে বিধান থাকে যে, তার স্বার্থের স্বত্ব নিয়োগ করা যাবে না, সেক্ষেত্রে তার সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি বা তার প্রধান চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের অধিকারী হবেন না, যদি না চুক্তিতে তার অংশ ইতপূর্বেই সম্পাদিত থাকে।
গ) যেক্ষেত্রে চুক্তি হচ্ছে একটি বিবাহের ব্যাপারে নিষ্পত্তি বা একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার সন্দেহপূর্ণ অধিকারের আপোষ-মীমাংসা, সেক্ষেত্রে চুক্তি অনুসারে হিতকরভাবে অধিকারী যেকোন ব্যক্তি;
ঘ) যেক্ষেত্রে একজন আজীবন প্রজা তার ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগপূর্বক চুক্তিবদ্ধ হয়েছে সেক্ষেত্রে অবশিষ্ট ব্যক্তি;
ঙ) যেক্ষেত্রে চুক্তিপত্র এমন যা সম্পন্ন করা হয়েছিল তার পূর্বাধিকারীর সাথে ও যেক্ষেত্রে তেমন চুক্তিপত্রের লাভউত্তরাধিকারী পাবার অধিকারী, সেক্ষেত্রে অধিকার ভোগের উত্তরাধিকারী;
চ) যেক্ষেত্রে চুক্তি হচ্ছে এমন উত্তরাধিকারী যা থেকে সৃষ্ট মুনাফা লাভের অধিকারী ও তা ভঙ্গহেতু আর্থিক ক্ষতি ভোগ করবে, সেক্ষেত্রে অবশিষ্ট ভাগের উত্তরাধিকারী;
ছ) যেক্ষেত্রে পাবলিক কোম্পানি চুক্তি করে ও তার পর পরই তা অপর একটি পাবলিক কোম্পানির সাথে মিলিত হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে মিলিত হওয়ার কারণে গঠিত নূতন কোম্পানি;
জ) যেক্ষেত্রে একটি পাবলিক কোম্পানির উদ্যোক্তা ব্যক্তিগণ কোম্পানি গঠিত হওয়ার আগেই কোম্পানির প্রয়োজনবশতঃ চুক্তি করে এবং কোম্পানি গঠনের শর্তাবলীতে তেমন চুক্তিকে নির্বিঘ্ন করা হয়, সেক্ষেত্রে কোম্পানি।

১০,৫১৩.
চার্জ গঠনে গুরুতর ভুলের ফলে যদি আসামি আত্মপক্ষ সমর্থনে বিভ্রান্ত হন, তাহলে আদালত-
  1. দণ্ড বৃদ্ধি করতে পারে
  2. মামলা খারিজ করে দিতে পারে
  3. পুনর্বিচারের নির্দেশ দিতে পারে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৩২ ধারার বিধান চার্জে কৃত গুরতর ভুলের ফলাফল দেয়া হয়েছে-
১) রিভিশন ক্ষমতা বা সপ্তবিংশ অধ্যায়ে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়ােগকালে আপিল আদালত বা হাইকোর্ট বিভাগ যদি মনে করেন যে, অভিযােগ গঠিত হওয়ায় কিংবা উহাতে ভুল থাকায় কোন অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি তার আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যাপারে বিভ্রান্ত হয়েছে তা হলে উক্ত আদালত যেইরূপ উপযুক্ত মনে করেন, সেইরূপভাবে অভিযােগ গঠন করে নতুন বিচারের নির্দেশ দিবেন।

২) আদালত যদি মনে করেন যে,মােকদ্দমার ঘটনাবলী এইরূপ যে প্রমাণিত তথ্যাবলীর ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে কোন বৈধ অভিযােগ প্রণয়ন করা যাবে না,তা হলে দণ্ডাদেশ রদ করে দিবেন।
১০,৫১৪.
‘A’ একটি মামলায় দাবি করে যে ‘B’ তাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। ‘A’ মারা যাওয়ার আগে লিখিতভাবে বলে, “ ‘B’ আমার খাবারে বিষ মিশিয়েছে, যার ফলে আমি অসুস্থ হয়েছি।” সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুসারে এই বক্তব্য প্রাসঙ্গিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য?
  1. ধারা ৩২(১)
  2. ধারা ৩২(২)
  3. ধারা ৩২(৩)
  4. ধারা ৩২(৪)
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩২(১) অনুসারে, যে ব্যক্তি মৃত বা সাক্ষ্য দিতে অক্ষম, তার মৃত্যুর কারণ বা সংশ্লিষ্ট ঘটনার পরিস্থিতি সম্পর্কিত লিখিত বা মৌখিক বক্তব্য প্রাসঙ্গিক, যদি মৃত্যুর কারণ মামলায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এখানে ‘A’ মারা যাওয়ার আগে লিখিতভাবে বলেছে, “‘B’ আমার খাবারে বিষ মিশিয়েছে, যার ফলে আমি অসুস্থ হয়েছি,” যা তার মৃত্যুর কারণ বা সংশ্লিষ্ট ঘটনার পরিস্থিতি সম্পর্কিত। তাই এই বক্তব্য ধারা ৩২(১)-এর অধীনে প্রাসঙ্গিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

-The Evidence Act, 1872, Section-32:Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant
- Statements, written or verbal, of relevant facts made by a person who is dead, or who cannot be found, or who has become incapable of giving evidence, or whose attendance cannot be procured without an amount of delay or expense which under the circumstances of the case appears to the Court unreasonable, are themselves relevant facts in the following cases:–
When it relates to cause of death;
(1) When the statement is made by person as to the cause of his death, or as to any of the circumstances of the transaction which resulted in his death, in cases in which the cause of that person's death comes into question. 
Such statements are relevant whether the person who made them was or was not, at the time when they were made, under expectation of death, and whatever may be the nature of the proceeding in which the cause of his death comes into question.

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে, আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারণ সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণা (dying declaration);
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি (statement made in course of business);
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরণের মামলার উদ্ভব করতে পারে (statement against interest of maker);
iv) সর্বসাধারণের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত (opinion as to public right or custom, or matters of general interest);
v) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি (relates to existence of relationship);
vi) পারিবারিক দলিল বা উইল (statement made in will or deed relating to family affairs);
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি (Statement made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question).
-----------
-The Evidence Act, 1872, Section-32: Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant.
- When it relates to cause of death;
or is made in course of business;
or against interest of maker;
or gives opinion as to public right or custom, or matters of general interest;
or relates to existence of relationship;
or is made in will or deed relating to family affairs;
or in document relating to transaction mentioned in section 13, clause (a);
or is made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question

১০,৫১৫.
সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারার সামগ্রিক বিষয়বস্তু কী?
  1. মৃত্যুকালীন ঘোষণা
  2. মৃত বা যে ব্যক্তিকে পাওয়া যাচ্ছে না বা যার সাক্ষ্য নেওয়া যাচ্ছে না এমন ব্যক্তির পূর্বোক্ত বক্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা (relevancy)
  3. স্বীকৃতির গ্রহণযোগ্যতা
  4. দোষ স্বীকারের গ্রহণযোগ্যতা
ব্যাখ্যা
♦ ৩২ ধারায় মৃত্যুকালীন ঘোষণার আলোচনা থাকলেও সামগ্রিকভাবে এই ধারার আলোচ্য বিষয় হলো- Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant অর্থাৎ মৃত বা যে ব্যক্তিকে পাওয়া যাচ্ছে না বা যার সাক্ষ্য নেওয়া যাচ্ছে না এমন ব্যক্তির পূর্বোক্ত বক্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা (relevancy)।
১০,৫১৬.
'বিবাহিতা মুসলমান নারী ধর্মান্তরের ফলাফল' সংক্রান্ত বিধান নিম্নের কোন আইনে দেয়া আছে?
  1. পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩
  2. The Muslim Family Laws Ordinance, 1961
  3. The Dissolution of Muslim Marriages Act,1939
  4. মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯৭৪
ব্যাখ্যা
১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ধারা ৪ এ বিবাহিতা মুসলমান নারী ধর্মান্তরের ফল দেয়া হয়েছে।

বলা হয়েছে-
কোন বিবাহিতা মুসলমান নারী ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলে অথবা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মে দীক্ষা গ্রহন করলে উক্ত কারনে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটবে না। তবে, অবশ্য এই জাতীয় ধর্ম ত্যাগ বা অন্য ধর্ম গ্রহণের পর সেই নারী ২ ধারায় বর্ণিত অন্য কোন কারনে তার বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি গ্রহণের অধিকারিণী হইবেন।
তাছাড়া, অত্র ধারার ব্যবস্থাবলী ঐ নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যে কোন ধর্ম হইতে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিল এবং বর্তমানে স্বীয় পুরাতন ধর্মে পুনরায় দীক্ষা গ্রহণ করেছে।

Section 4: Effect of conversion to another faith
The renunciation of Islam by a married Muslim woman or her conversion to a faith other than Islam shall not by itself operate to dissolve her marriage: Provided that after such renunciation, or conversion, the woman shall be entitled to obtain a decree for the dissolution of her marriage on any of the grounds mentioned in section 2: 
Provided further that the provisions of this section shall not apply to a woman converted to Islam from some other faith who re-embraces her former faith.
১০,৫১৭.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী, বিবাহ সম্পাদনের পর নিবন্ধনের জন্য কত দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রারের কাছে রিপোর্ট করতে হবে?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৪৫ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী, যদি কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার ব্যতীত অন্য কেউ মুসলিম বিবাহ সম্পাদন করেন, তাহলে বর (বরপক্ষ) বিবাহের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে তা রিপোর্ট করতে বাধ্য।
→ ধারা ৫(৪) অনুসারে, যদি কেউ এই আইনের বিধান লঙ্ঘন করে অর্থাৎ ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট না করে, তাহলে তিনি সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, তিন হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
→ সুতরাং, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী, বিবাহ সম্পাদনের পর ৩০ দিনের মধ্যে নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে রিপোর্ট করতে হবে।

⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৫ এর বিধান বিবাহ সম্পাদনের রিপোর্ট ও নিবন্ধন:
(১) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার নিজে বিবাহ সম্পাদন করেন, তাহা হইলে তিনি অবিলম্বে বিবাহ নিবন্ধন করিবেন।
(২) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার অন্য কোন ব্যক্তি বিবাহ সম্পাদন করেন, তাহা হইলে বিবাহের বরকে উক্ত সম্পাদনের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারকে ইহা রিপোর্ট করিতে হইবে। 
(৩) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিকট বিবাহ সম্পাদনের রিপোর্ট করা হয়, তাহা হইলে তিনি অবিলম্বে বিবাহ নিবন্ধন করিবেন।
(৪) এই ধারার কোন বিধান লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা তিন হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
---------
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974-Section 5. Solemnization of a marriage to be reported and registered:
(1) Where a marriage is solemnized by the Nikah Registrar himself, he shall register the marriage at once. 
(2) Where a marriage is solemnized by a person other than the Nikah Registrar, the bridegroom of the marriage shall report it to the concerned Nikah Registrar within thirty days from the date of such solemnization. 
(3) Where solemnization of a marriage is reported to a Nikah Registrar under sub-section (2), he shall register the marriage at once. 
(4) A person who contravenes any provision of this section commits an offence and he shall be liable to be punished with simple imprisonment for a term which may extend to two years or with fine which may extend to three thousand taka, or with both.
১০,৫১৮.
দণ্ডবিধির কত ধারায় খুনের উদ্যোগের (Attempt to murder) এর শাস্তির বিধান আছে?
  1. ২৯৯
  2. ৩০২
  3. ৩০৪
  4. ৩০৭
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারার বিধান খুনের উদ্যোগ:- কোন ব্যক্তি যদি এমন উদ্দেশ্য নিয়ে বা এমন আশঙ্কা জানা সত্ত্বেও এমন অবস্থায় এমন কোন কার্য করে, যার ফলে মৃত্যু ঘটলে সে খুনের দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হবে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, এবং
যদি অনুরূপ কাজের কর্তৃক কোন ব্যক্তিকে আঘাত করা হয়, তবে অপরাধী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা ইতোপূর্বে যে সাজার উলেখ করা হয়েছে, সে দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
⇒ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তির উদ্যোগ:- যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত কোন ব্যক্তি যদি এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধ করে এবং তার ফলে কেউ আহত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।
উদাহরণ:
(অ) ক চ-কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে এমন অবস্থায় গুলি করে, যে অবস্থায় মৃত্যু অনুষ্ঠিত হলে ক খুনের দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হবে। ক এই ধারা বলে দণ্ডিত হবে।
(আ) ক একটি অতি অল্প বয়স্ক শিশুকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে উহাকে মরুভূমিতে রেখে আসে। ইহার ফলে শিশুটির মৃত্যু না হলেও ‘ক’ এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।
(ই) ক, চ কে খুন করার উদ্দেশ্যে একটি বন্দুক ক্রয় করে উহা গুলি ভর্তি করে। এতদূর পর্যন্ত ক অপরাধ করেছে বলে বিবেচনা করা হবে না। ক চ-এর প্রতি গুলি বর্ষণ করে। এইক্ষেত্রে সে এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধ করেছে, এবং এই গুলি বর্ষণের দরুণ যদি সে চ-কে আহত করে থাকে, তবে সে এই ধারার প্রথম অনুচ্ছেদের শেষাংশে নিদিষ্ট দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
(ঈ) ক চ-কে বিষ প্রয়োগ করে খুন করার উদ্দেশ্যে বিষ ক্রয় করে এবং খাদ্যে বিষ মিশ্রিত করে; বিষ মিশ্রিত খাদ্য দ্রব্যটি ক-এর নিকটই রয়েছে। এতদূর পর্যন্ত ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে বলে বিবেচনা করা হবে না। ক বিষ মিশ্রিত খাদ্য দ্রবটি চএর খাবার টেবিলে রাখে অথবা উহা চ-এর খাবার টেবিলে রাখার জন্য চ-এর চাকরকে প্রদান করে । ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।
--------
⇒Section 307: Attempt to murder, Attempts by life-convicts:
 Whoever does any act with such intention or knowledge, and under such circumstances that, if he by that act caused death, he would be guilty of murder, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine; and, if hurt is caused to any person by such act, the offender shall be liable either to imprisonment for life, or to such punishment as is hereinbefore mentioned.
⇒ When any person offending under this section is under sentence of imprisonment for life, he may, if hurt is caused, be punished with death.
Illustration 
(a) A shoots at Z with intention to kill him, under such circumstances that, if death ensued, A would be guilty of murder. A is liable to punishment under this section. 
(b) A with the intention of causing the death of a child of tender years exposes it in a desert place. A has committed the offence defined by this section, though the death of the child does not ensue. 
(c) A, intending to murder Z, buys a gun and loads it. A has not yet committed the offence. A fires the gun at Z. He has committed the offence defined in this section, and, if by such firing he wounds, he is liable to the punishment provided by the latter part of the first paragraph of this section. 
(d) A, intending to murder Z, by poison, purchases poison and mixes the same with food which remains in A's keeping; A has not yet committed the offence in this section. A places the food on Z's table or delivers it to Z's servants to place it on Z's table. A has committed the offence defined in this section.
১০,৫১৯.
অভিযোগ (Complaint) খারিজ করা হয় ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারার বিধান অনুসারে?
  1. ২০১
  2. ২০২
  3. ২০৩
  4. ২০৪
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৩-এ বলা হয়েছে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো কার্যক্রম নেওয়ার মতো কোনো কারণ না দেখলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগ ডিসমিস করতে পারবেন।
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৩ নালিশ খারিজকরণঃ যার নিকট অভিযোগ করা হয়েছে, অথবা যার নিকট তা হস্তান্তর করা হয়েছে, সেই ম্যাজিস্ট্রেট ফরিয়াদী কর্তৃক শপথপূর্বক প্রদত্ত বিবৃতি (যদি থাকে) এবং ২০২ ধারার অধীন অনুসন্ধান বা তদন্তের ফলাফল (যদি থাকে) বিবেচনা করে অগ্রসর হওয়ার মত কোন কারণ না পেলে নালিশটি খারিজ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে সংক্ষেপে তিনি তার এরূপকরার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন।
♦ম্যাজিস্ট্রেট নিম্নের ২ টি বিষয় বিবেচনা করে অগ্রসর হওয়ার কারণ না পেলে নালিশ খারিজ (dismiss) করতে পারেন:
১) ২০০ ধারায় প্রদত্ত অভিযোগকারীর বিবৃতি এবং ২)  ২০২ ধারার অধীন অনুসন্ধান বা তদন্তের ফলাফল।
প্রতিকার-২০৩ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগ বা নালিশ খারিজের আদেশ দিলে তার বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করা যায়।
১০,৫২০.
একজন ব্যক্তি একটি চুরির পরিকল্পনায় সহায়তা করে এবং চুরির সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকে। দণ্ডবিধির ১১৪ ধারার অধীনে তার শাস্তি কী হবে?
  1. কেবল সহযোগী হিসেবে শাস্তি হবে
  2. তার শাস্তি অপরাধের তুলনায় কম হবে
  3. তাকে মূল অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে
  4. সে কোনো শাস্তি পাবে না
ব্যাখ্যা
ধারা ১১৪: অপরাধ সংঘটনের সময় উপস্থিত প্ররোচনাকারী:
যখন কোনো ব্যক্তি, যে অনুপস্থিত থাকলে প্ররোচনাকারী হিসেবে শাস্তি পাওয়ার যোগ্য হতো, সেই ব্যক্তি যদি সেই কাজ বা অপরাধ সংঘটনের সময় উপস্থিত থাকে, যার জন্য সে প্ররোচনার কারণে শাস্তিযোগ্য হতো, তখন তাকে সেই কাজ বা অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে গণ্য করা হবে

Section 114- Abettor present when offence is committed:
Whenever any person, who if absent would be liable to be punished as an abettor, is present when the act or offence for which he would be punishable in consequence of the abetment is committed,he shall be deemed to have committed such act or offence.
১০,৫২১.
আইনানুগ অভিভাবকের নিকট থেকে কত বছরের নাবালক বা নাবালিকার অপহরণ করলে আইনানুগ অভিভাবকত্ব থেকে মনুষ্য হরণ হবে?
  1. ১৪ ও ১৮ বছর
  2. ১৪ ও ১৬ বছর
  3. ১২ ও ১৬ বছর
  4. ১৬ ও ১৮ বছর
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩৬১ ধারার বিধান আইনানুগ অভিভাবকত্ব হইতে মনুষ্যহরণঃ
কোন ব্যক্তি যদি চৌদ্দ বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালককে অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালিকাকে অথবা বিকৃত মস্তিষ্ক কোন ব্যক্তিকে তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই অভিভাবকের রক্ষণাবেক্ষণ হতে নিয়ে যায়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক বা বালিকাকে অথবা অনুরূপ বিকৃতমস্তিষ্ক ব্যক্তিকে আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা (Explanation):-
এই ধারায় আইনসম্মত অভিভাবক বলতে অনুরূপ অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা অপর ব্যক্তির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আইনতঃ ভারপ্রাপ্ত যেকোন ব্যক্তিকেও বুঝাবে।
ব্যতিক্রম (Exception):-
যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে নিজেকে কোন অবৈধ সন্তানের পিতা বলে বিশ্বাস করে অথবা যে ব্যক্তি নিজেকে অনুরূপ শিশুর আইনসম্মত রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতাপ্রাপ্ত বলে সরলমনে বিশ্বাস করে, সে ব্যক্তি কোন অবৈধ বা বেআইনী উদ্দেশ্যে অনুরূপ কাজ না করলে তার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রয়োগযোগ্য হবে না।
১০,৫২২.
'কোনো অপরাধ সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্য বা সংবাদ কোনো পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেট প্রকাশ করতে বাধ্য নয়' - এই বিধানটি The Evidence Act, 1872 এর কোন ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ১২০ ধারা
  2. ১২৩ ধারা
  3. ১২৫ ধারা
  4. ১২৭ ধারা
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ১২৫ ধারা:
কোনো ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কর্মকর্তাকে এই প্রশ্ন করতে বাধ্য করা যাবে না যে তিনি কোনো অপরাধের সংঘটনের তথ্য কোথা থেকে পেয়েছেন, এবং কোনো রাজস্ব কর্মকর্তাকেও এই প্রশ্ন করতে বাধ্য করা যাবে না যে তিনি কোনো রাজস্ব সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য কোথা থেকে পেয়েছেন।
ব্যাখ্যা: এই ধারায় "রাজস্ব কর্মকর্তা" বলতে বোঝানো হয়েছে রাজস্বের যেকোনো শাখায় নিযুক্ত যেকোনো কর্মকর্তাকে।

Section 125: Information as to commission of offences-
No Magistrate or Police-officer shall be compelled to say whence he got any information as to the commission of any offence, and no Revenue-officer shall be compelled to say whence he got any information as to the commission of any offence against the public revenue.
Explanation.–"Revenue-officer" in this section means any officer employed in or about the business of any branch of the public revenue.
১০,৫২৩.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৪১ এর বিধান কি?
  1. রিসিভার
  2. মূল ডিক্রী হতে আপীল
  3. আদেশ হতে আপীল
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪১  এর মাঝে মূল ডিক্রী হতে আপীল বিষয় বিধান আছে।
আদেশ ৪১-৪৫ এবং ধারা ৯৬-১১২ পর্যন্ত আপীল সংক্রান্ত বিধান আছে।
১০,৫২৪.
'ক', 'খ'-এর নিকট একটি বাড়ি এক লক্ষ টাকায় বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন ঘূর্ণিঝড়ে বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে গেল। এক্ষেত্রে 'খ'-কে কীভাবে চুক্তিতে তার অংশের কাজ সম্পাদনে বাধ্য করা যেতে পারে?
  1. ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে
  2. ক্রয়মূল্য প্রদানের মাধ্যমে
  3. ক্রয়মূল্য+ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে
  4. কোনোভাবেই বাধ্য করা যাবে না
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৩ ধারার বিধান:
যে চুক্তির বিষয়বস্তুর আংশিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছে চুক্তি আইনের ৫৬ ধারার কোন বিধান সত্ত্বেও চুক্তি সম্পাদনের সময় অস্তিত্ব ছিল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পাদনের সময় আংশিকভাবে বিলুপ্ত হবার কারণে চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পাদন পুরোপুরি অসম্ভব নয়।

উদাহরণ:
(ক) 'ক', 'খ'-এর নিকট একটি বাড়ি এক লক্ষ টাকায় বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন ঘূর্ণিঝড়ে বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে গেল। এখন ক্রয়মূল্য প্রদানের মাধ্যমে 'খ'-কে চুক্তিতে তার অংশের কাজ সম্পাদনে বাধ্য করা যেতে পারে।

Section-13: Contract of which the subject has partially ceased to exist:
Notwithstanding anything contained in section 56 of the Contract Act, a contract is not wholly impossible of performance because a portion of its subject-matter, existing at its date, has ceased to exist at the time of the performance.

Illustration:
(a) A contracts to sell a house to B for a lakh of taka. The day after the contract is made the house is destroyed by a cyclone. B may be compelled to perform his part of the contract by paying the purchase-money.
১০,৫২৫.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় মানহানির শাস্তি বর্ণিত হয়েছে?
  1. ধারা ৪৯৯
  2. ধারা ৫০০
  3. ধারা ৫০১
  4. ধারা ৫০২
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ৪৯৯ ধারা অনুযায়ী যখন কোন ব্যক্তি সম্পর্কিত কোন কুৎসা রটনা করা হয় যা উক্ত ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করে (harm reputation) তাকে মানহানি বা Defamation বলে। অর্থাৎ কুৎসাজনক কথা বা চিহ্ন দ্বারা বা দৃশ্যমান কল্পমূর্তি প্রকাশের মাধ্যমে মানহানি করা হয়।

-দণ্ডবিধির ৫০০ ধারার অধীন মানহানির [defamation] শাস্তি হল ২ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
অর্থাৎ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৫০০-এ মানহানির (Defamation) শাস্তি বর্ণিত হয়েছে।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 500: Punishment for defamation: 
 -Whoever defames another shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

১০,৫২৬.
সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সরকারী হিসাব কমিটি
  2. নির্বাচন কমিটি
  3. বিশেষ-অধিকার কমিটি
  4. সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধিতে নির্দিষ্ট অন্যান্য স্থায়ী কমিটি
ব্যাখ্যা
⇒ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭৬(১) অনুযায়ী, সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহের মধ্যে নিম্নলিখিত কমিটিগুলো অন্তর্ভুক্ত:
১. সরকারী হিসাব কমিটি (ক),
২. বিশেষ-অধিকার কমিটি (গ), এবং
৩. সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধিতে নির্দিষ্ট অন্যান্য স্থায়ী কমিটি (ঘ)।

এই অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিটি (খ) এর উল্লেখ নেই। তাই, নির্বাচন কমিটি সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়।
অতএব, সঠিক উত্তর হলো: খ) নির্বাচন কমিটি।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ- সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ
(১) সংসদ-সদস্যদের মধ্য হইতে সদস্য লইয়া সংসদ নিম্নলিখিত স্থায়ী কমিটিসমূহ নিয়োগ করিবেন:
(ক) সরকারী হিসাব কমিটি;
(খ) বিশেষ-অধিকার কমিটি; এবং
(গ) সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধিতে নির্দিষ্ট অন্যান্য স্থায়ী কমিটি।
(২) সংসদ এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় উল্লিখিত কমিটিসমূহের অতিরিক্ত অন্যান্য স্থায়ী কমিটি নিয়োগ করিবেন এবং অনুরূপভাবে নিযুক্ত কোন কমিটি এই সংবিধান ও অন্য কোন আইন-সাপেক্ষে
(ক) খসড়া বিল ও অন্যান্য আইনগত প্রস্তাব পরীক্ষা করিতে পারিবেন;
(খ) আইনের বলবৎকরণ পর্যালোচনা এবং অনুরূপ বলবৎকরণের জন্য ব্যবস্থাদি গ্রহণের প্রস্তাব করিতে পারিবেন;
(গ) জনগুরুত্বসম্পন্ন বলিয়া সংসদ কোন বিষয় সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করিলে সেই বিষয়ে কোন মন্ত্রণালয়ের কার্য বা প্রশাসন সম্বন্ধে অনুসন্ধান বা তদন্ত করিতে পারিবেন এবং কোন মন্ত্রণালয়ের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি সংগ্রহের এবং প্রশ্নাদির মৌখিক বা লিখিত উত্তরলাভের ব্যবস্থা করিতে পারিবেন;
(ঘ) সংসদ কর্তৃক অর্পিত যে কোন দায়িত্ব পালন করিতে পারিবেন।
(৩) সংসদ আইনের দ্বারা এই অনুচ্ছেদের অধীন নিযুক্ত কমিটিসমূহকে
(ক) সাক্ষীদের হাজিরা বলবৎ করিবার এবং শপথ, ঘোষণা বা অন্য কোন উপায়ের অধীন করিয়া তাঁহাদের সাক্ষ্যগ্রহণের,
(খ) দলিলপত্র দাখিল করিতে বাধ্য করিবার
ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবেন।
১০,৫২৭.
পারস্পরিক অঙ্গীকারে অবৈধ অংশ থাকলে তার কী প্রভাব হয়?
  1. পুরো চুক্তি বাতিল হয়
  2. পুরো চুক্তি বৈধ হয়
  3. অবৈধ অংশ বৈধ হয়
  4. অবৈধ অংশ বাতিল, বৈধ অংশ কার্যকর থাকে
ব্যাখ্যা
Contract Act, 1872- ধারা ৫৭: পারস্পরিক অঙ্গীকারের কিছু করা বৈধ এবং অন্যান্য কিছু অবৈধ-
যেক্ষেত্রে ব্যক্তিগণ পারস্পরিক প্রথমত এমন কিছু করিবার অঙ্গীকার করেন যাহা বৈধ, এবং দ্বিতীয়ত বিশেষ অবস্থার প্রেক্ষিতে এমন কিছু করিবার অঙ্গীকার করেন যাহা অবৈধ, সেইক্ষেত্রে প্রথম অঙ্গীকারসমূহ একটি চুক্তি, কিন্তু দ্বিতীয়টি বাতিল সম্মতি।

উদাহরণ-
ক ও খ সম্মত হন যে, ক, খ এর নিকট একটি বাড়ি ১০,০০০ টাকায় বিক্রয় করিবেন, কিন্তু খ যদি ইহাকে জুয়ার আড্ডা হিসাবে ব্যবহার করেন তাহা হইলে এইজন্য তিনি ক-কে ৫০,০০০ টাকা দিবেন।
পারস্পরিক অঙ্গীকারসমূহের প্রথমগুচ্ছ, অর্থাৎ, গৃহ বিক্রয় করা এবং তজ্জন্য ১০,০০০ টাকা প্রদান একটি চুক্তি। দ্বিতীয় গুচ্ছটি একটি অবৈধ উদ্দেশ্যে, অর্থাৎ, খ বাড়িটি একটি জুয়ার আড্ডা হিসাবে ব্যবহার করিতে পারেন এবং ইহা একটি বাতিল সম্মতি।
১০,৫২৮.
The Registration Act, 1908 এর ধারা ৭২ বা ৭৬ এর অধীন রেজিস্ট্রার দলিল নিবন্ধনে অস্বীকৃতি জানালে, কত দিনের মধ্যে দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে?
  1.  ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৪৫ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা

উত্তর: খ) ৩০ দিন।

• The Registration Act, 1908 এর ৭৭ ধারা: রেজিস্ট্রার কর্তৃক অগ্রাহ্যের আদেশের ক্ষেত্রে মামলা:
(১) যেক্ষেত্রে রেজিস্ট্রার ধারা ৭২ বা ধারা ৭৬ এর অধীন দলিল নিবন্ধনের জন্য আদেশ প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন, সেইক্ষেত্রে উক্ত দলিলের কোন গ্রহীতা, তাহার প্রতিনিধি, মনোনীত ব্যক্তি বা এজেন্ট উক্ত অগ্রাহ্যের আদেশ প্রদানের পর ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে যে দেওয়ানি আদালতের আদি এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে অবস্থিত কার্যালয়ে দলিলটি নিবন্ধনের জন্য দাখিল করা হইয়াছিল, সেই কার্যালয়ে দলিলটি নিবন্ধিত হওয়ার নির্দেশ-সংবলিত ডিক্রি লাভের উদ্দেশ্যে উক্ত আদালতে মামলা দায়ের করিতে পারিবেন, যদি এইরূপ ডিক্রি প্রদানের পর ত্রিশ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য দলিলটি যথাযথরূপে দাখিল করা হয়।

তবে শর্ত থাকে যে, মামলা দায়ের করিতে ব্যর্থতা বা এই ধারার অধীন দায়েরকৃত মামলার খারিজ হইয়া যাওয়া, পক্ষকে অন্য কোন প্রতিকার পাওয়ার অধিকার হইতে বঞ্চিত করিবে না, যাহা তিনি অনিবন্ধিত দলিলের ভিত্তিতে পাইতে পারিতেন।

(২) প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ ধারা ৭৫ এর উপ-ধারা (২) ও (৩) এ বর্ণিত বিধানাবলি এইরূপ কোন ডিক্রি অনুসারে নিবন্ধনের জন্য দাখিলকৃত সকল দলিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে, এবং, এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, দলিলটি উক্তরূপ মামলায় সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হইবে।

১০,৫২৯.
তামাদি আইনের ৯ ধারা কোন বিষয়ে আলোচনা করে?
  1. তামাদির বিলম্ব মওকুফ
  2. তামাদির গণনার পদ্ধতি
  3. পাওনা আদায়ের নিয়ম
  4. সময়ের অবিরাম চলন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ৯ ধারা "সময়সীমার অবিরাম চলন" (Continuous running of time) এর বিষয়টি আলোচনা করে।
এটি নির্ধারণ করে যে একবার তামাদির সময় গণনা শুরু হলে তা কোনো পরবর্তী অপারগতা বা অক্ষমতায় বন্ধ হবে না। অর্থাৎ, যতদিন না মেয়াদ শেষ হয়, ততদিন সময়ের চলন অব্যাহত থাকবে, তা কোনো ধরনের অসুবিধা বা অক্ষমতা দ্বারা থামানো যাবে না।
তবে একটি ব্যতিক্রম আছে— যদি পাওনাদারের সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেনাদের উপর অর্পিত হয়, তখন তার দায়িত্ব পালনের সময় মোকদ্দমা দায়েরের মেয়াদ স্থগিত থাকবে, অর্থাৎ তামাদির সময় স্থগিত হবে যতক্ষণ না দেনাদারের দায়িত্ব শেষ হয়।

⇒ The Limitation Act, 1908 এর ৯ ধারার বিধান হল একবার তামাদির মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়া শুরু করলে মোকদ্দমা দায়েরে পরবর্তী কোন অপারগতা (Disability) বা অক্ষমতা (Inability) দ্বারা তা বন্ধ হবে না। তবে যেক্ষেত্রে পাওনাদারের সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেনাদের উপর অর্পিত হয়েছে সেক্ষেত্রে তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে দেনার টাকা আদায়ে মোকদ্দমা দায়েরের মেয়াদ অতিবাহিত হওয়া স্থগিত থাকবে।
----------------
⇒ The Limitation Act, 1908- Section 9:- Continuous running of time:
- Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it:
Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.
১০,৫৩০.
কোন ব্যক্তি যদি জানে যে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের কোন ন্যায্য কারণ নেই, তবুও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে, তাহলে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ শাস্তি কত?
  1. ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  2. ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  4. ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর ধারা ৬ অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের অভিপ্রায়ে, জেনেশুনে কোনো ন্যায্য বা আইনানুগ কারণ ছাড়াই তার বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধের মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেন বা করান, তাহলে তিনি অন্যূন দুই বছর এবং অনধিক পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন। এখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।

⇒ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর ধারা ৬-মিথ্যা মামলা, অভিযোগ দায়ের, ইত্যাদির শাস্তি:
যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের অভিপ্রায়ে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ সংঘটনের কোন ন্যায্য বা আইনানুগ কারণ নাই জানিয়াও তাহার বিরুদ্ধে কোন মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেন বা করান, তাহা হইলে প্রথমোক্ত ব্যক্তি অন্যুন দুই বত্সর এবং অনধিক পাঁচ বত্সর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷

১০,৫৩১.
সরকারী কর্মকর্তা বেআইনীভাবে সম্পত্তি কিনলে বা সম্পত্তির জন্যে নিলাম ডাকলে তার শাস্তির বিধান দণ্ডবিধির কত ধারায় বর্ণিত আছে?
  1. দণ্ডবিধির ১৬৭ ধারায়
  2. দণ্ডবিধির ১৬৮ ধারায়
  3. দণ্ডবিধির ১৬৯ ধারায়
  4. দণ্ডবিধির ১৭০ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ১৬৯ ধারার বিধান সরকারী কর্মচারী কর্তৃক বেআইনীভাবে সম্পত্তি ক্রয় বা ক্রয়ের উদ্দেশ্যে দরকষাকষি:- যদি কোন সরকারী কর্মচারী হিসেবে কোন বিশেষ সম্পত্তি ক্রয় বা ক্রয়ের জন্য দরকষাকষি না করতে আইনতঃ বাধ্য থাকা সত্ত্বেও নিজের নামে অথবা অন্য কারো নামে অথবা যুক্তভাবে অথবা অন্যান্যের সাথে অংশ নিয়ে উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করেন বা ক্রয় করার জন্য দরকষাকষি করেন, তবে তিনি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবেন; এবং সম্পত্তিটি ক্রয় করা হয়ে থাকলে তা বাজেয়াপ্ত হবে।

---------------------------
Section 169. Public servant unlawfully buying or bidding for property:- Whoever, being a public servant and being legally bound as such public servant, not to purchase or bid for certain property, purchases or bids for that property, either in his own name or in the name of another, or jointly, or in shares with others, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to two years, or with fine, or with both; and the property, if purchased, shall be confiscated.
১০,৫৩২.
'Estoppel' নীতি প্রযোজ্য হবে-
  1. ঘোষণার ক্ষেত্রে
  2. কাজের ক্ষেত্রে
  3. কার্য বিরতির ক্ষেত্রে
  4. উল্লিখিত সব ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• 'Estoppel' নীতি যার বাংলা অর্থ ‘স্বকার্যজনিত বাধা’।

‘Estoppel' বা 'স্বকার্যজনিত বাধা’ শব্দটি একটি আইনি নীতিকে বোঝায় যা কাউকে কিছু অস্বীকার করতে বা এমন একটি অধিকার জাহির করতে বাধা প্রদান করে যা কিনা তারা পূর্বে বলেছিল বা আইন দ্বারা সম্মত হয়েছিল কিন্তু বর্তমানে পূর্বের কর্মের বিরোধিতা করছে। সহজ ভাষায় বললে, Estoppel (এস্টপেল) বা স্বকার্যজনিত বাধা একজন ব্যক্তিকে অতীতের কোনো কর্ম বা বিবৃতিকে বিরোধিতা করতে বাধা দেয়। এটি সাধারণ আইনের অংশ এবং অন্য ব্যক্তির কথা বা কাজের অসঙ্গতি দ্বারা মানুষকে অন্যায়ভাবে অবিচার করা থেকে বিরত রাখার জন্য।

সাক্ষ্য আইনের ১১৫ ধারায় বলা হয়েছে যে,
‘যখন কোন ব্যক্তি তার ঘোষণা (declaration), কাজ (act) বা কার্য বিরতি (omission)’র দ্বারা ইচ্ছাকৃত ভাবে অন্য ব্যক্তিকে কোন বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করায় এবং সেই বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করতে বলে, তখন উক্ত ২ পক্ষের মধ্যে কোন মামলায় ১ম পক্ষ তার ঘোষণা (declaration), কাজ (act) বা কার্য বিরতি (omission)’র বিষয়টি অস্বীকার করতে পারবে না।’

সাক্ষ্য আইনের এই নীতি শুধুমাত্র দেওয়ানী কার্যক্রমে প্রয়োগ করা হয়। ফৌজদারি কার্যক্রমে Estoppel বা স্বকার্যজনিত বাধার কোন ব্যবহার নেই।
১০,৫৩৩.
হিন্দু আইনে বিবাহকে কী হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. সামাজিক রীতি
  2. দেওয়ানী চুক্তি
  3. আইনি অনুমোদন
  4. ধর্মীয় পবিত্র বন্ধন
ব্যাখ্যা
হিন্দু আইনে বিয়ে (Marriage) হলো একটি "পবিত্র বন্ধন" (Sacrament) - যা শুধু পার্থিব বা আইনি বিষয় নয়, বরং আধ্যাত্মিক, নৈতিক ও ধর্মীয় দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যে কারণে হিন্দু বিবাহ "পবিত্র বন্ধন"-

ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ:
হিন্দু ধর্মে বিবাহ একটি পূজা বা যজ্ঞসদৃশ ধর্মীয় আচার। ‘সপ্তপদী’ (সাতপাক) ও ‘হোমযজ্ঞ’-এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আত্মিক ও ধর্মীয় মিলন ঘটে।

জন্মজন্মান্তরের সম্পর্ক:
বিশ্বাস অনুযায়ী, হিন্দু দম্পতির সম্পর্ক শুধু এই জন্মেই নয়, বরং বহু জন্ম ধরে স্থায়ী। এই বন্ধন মৃত্যুর পরেও থাকে — একে বলা হয় "অবিচ্ছেদ্য (indissoluble)"।

চুক্তির নয়, কর্তব্যের ভিত্তিতে:
মুসলিম আইনে বিবাহ একটি দেওয়ানী চুক্তি (civil contract) হলেও, হিন্দু আইনে বিবাহ মূলত ধর্মীয় কর্তব্য (religious duty) হিসেবে বিবেচিত।

তালাকের সীমিত সুযোগ:
হিন্দু শাস্ত্রে স্বাভাবিকভাবে তালাকের কোনো সুযোগ নেই। পরবর্তীকালে কিছু বিধিবদ্ধ আইন (যেমন ভারতের Hindu Marriage Act, 1955) দ্বারা কিছু ব্যতিক্রম যুক্ত হলেও, বাংলাদেশে এখনো হিন্দুদের জন্য তালাক বৈধ নয়।
১০,৫৩৪.
কোন আইনের সংজ্ঞানুসারে বার কাউন্সিল ট্রাইবুনালের অধীনে প্রত্যেকটি অনুসন্ধান judicial proceeding বলে গণ্য হবে?
  1. সাক্ষ্য আইনের ৩ ধারানুসারে
  2. দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারানুসারে
  3. ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭১ ধারানুসারে
  4. ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারানুসারে
ব্যাখ্যা
The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর অনুচ্ছেদ ৩৫:
(১) উপরে উল্লিখিত যে কোনো তদন্তের জন্য, একটি ট্রাইব্যুনাল নিম্নলিখিত বিষয়ের ক্ষেত্রে ১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধি (Code of Civil Procedure, 1908 - Act V of 1908) অনুসারে একটি আদালতের মতো একই ক্ষমতা ভোগ করবে, যথা:
(ক) যেকোনো ব্যক্তিকে হাজির করানোর জন্য বাধ্য করা,
(খ) নথিপত্র উপস্থাপনে বাধ্য করা,
(গ) সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কমিশন জারি করা।
তবে শর্ত থাকে যে, ট্রাইব্যুনালের পক্ষে কোনো আদালতের সভাপতিকে হাজির হওয়ার জন্য বলা যাবে না, যদি না হাইকোর্ট (বা, ফৌজদারি বা রাজস্ব আদালতের ক্ষেত্রে, সরকার) পূর্বানুমতি দেয়।

(২) এই ধরনের প্রতিটি তদন্ত বাংলাদেশ দণ্ডবিধি (১৮৬০ সালের আইন নং XLV) এর ধারা ১৯৩ ও ২২৮ অনুযায়ী বিচারিক কার্যক্রম (judicial proceeding) হিসেবে গণ্য হবে;
এবং ট্রাইব্যুনালকে ফৌজদারি কার্যবিধি (১৮৯৮ সালের আইন নং V) এর ধারা ৪৮০ ও ৪৮২ অনুসারে দেওয়ানি আদালত (Civil Court) হিসেবে গণ্য করা হবে।

(৩) একজন ব্যক্তিকে হাজির করানো বা নথিপত্র উপস্থাপনে বাধ্য করা অথবা কমিশন জারি করার উদ্দেশ্যে:
(ক) ট্রাইব্যুনালের স্থানীয় এখতিয়ার হবে বার কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত অঞ্চল,
(খ) ট্রাইব্যুনাল, যেখানে বসেছে সেখানে অবস্থিত যে কোনো দেওয়ানি আদালতে, সাক্ষীর উপস্থিতি, নথিপত্র উপস্থাপন, বা কমিশন জারির জন্য সমন বা অন্য কোনো নির্দেশ পাঠাতে পারে।
ঐ দেওয়ানি আদালত এমন নির্দেশ কার্যকর করবে, যেন সেটি নিজের জন্যই জারি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে তা বাধ্যতামূলকভাবে প্রয়োগ করতে পারবে।

(৪) ট্রাইব্যুনালে এই ধরনের তদন্ত সংক্রান্ত কার্যক্রম হবে সিভিল কার্যক্রম (civil proceedings) —
এবং ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইন (Evidence Act, 1872 - Act I of 1872) এর ধারা ১৩২ অনুযায়ী সেই বিধান প্রযোজ্য হবে।
১০,৫৩৫.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮-এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী কয়টি আদালত ডিক্রী জারী করতে পারে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী জারি অর্থ আদালতের প্রকিয়ার মাধ্যমে কোন ডিক্রী বা আদেশ বলবৎ করা যেন ডিক্রীদার ডিক্রীর ফল ভোগ করবে। দুটি আদালত ডিক্রী জারী করবে।
১। যে আদালত ডিক্রী জারী করেছে সে আদালত
২। যে আদালতে ডিক্রী জারী করার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে সে আদালত।

• আদেশ ২১ বিধি-১০ এর বিধান জারির আবেদন: ডিক্রিদার ডিক্রিটি জারি করতে চাইলে ডিক্রি প্রদানকারী আদালত বা ডিক্রি জারির জন্য যে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে সেই আদালতে আবেদন করবেন।
• ডিক্রিজারি সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি ডিক্রি জারিকারক আদালতই নিষ্পত্তি করবে।

• ডিক্রি জারির কাজ সর্বদা বিচারিক আদালত করে থাকে, এমনকি কোন ডিক্রির বিরূদ্ধে উচ্চতর আদালতে কোন আপিল বা রিভিশন করা হলে, উক্ত আপিল বা রিভিশনে প্রদত্ত ডিক্রির ক্ষেত্রেও মূল আদালত অর্থাৎ বিচারিক আদালতই ডিক্রি জারি করবে।
------
• Section 38. Court by which decree may be executed:
A decree may be executed either by the Court which passed it, or by the Court to which it is sent for execution.
১০,৫৩৬.
শিক্ষানবিশ তালিকাভুক্তির আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিলে উক্ত শিক্ষানবিশ কত বছরের জন্য অযোগ্য হবেন?
  1. ২ বছরের
  2. ৩ বছরের
  3. ৫ বছরের
  4. ৭ বছরের
ব্যাখ্যা
⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972 বিধি-৬০ এর বিধান:
-শিক্ষানবিশ: অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তি হওয়ার পূর্বে কমপক্ষে ১০ বছর নিয়মিত উকালতি করেন এমন একজন অ্যাডভোকেটের অধীনে দরখাস্তকারীকে নিয়মিত কমপক্ষে ৬ মাস শিক্ষানবিশ থাকতে হবে।
-আবেদনপত্রের সাথে ৫টি দেওয়ানি এবং ৫টি ফৌজদারি মোট ১০ টি মামলার লিখিত নোটবুক দাখিল করতে হবে।
- কোন অ্যাডভোকেট বার কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া একসাথে ৪ জনের বেশি শিক্ষানবিশ গ্রহণ করবেন না।
- অ্যাডভোকেটের সাথে শিক্ষানবিশ এর যে চুক্তি হবে তা অ্যাফিডেভিট সহ বার কাউন্সিলের সেক্রেটারির নিকট ৩০ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে।
- কোন অ্যাডভোকেট চুক্তি পত্রে মিথ্যা বিবৃতি বা মিথ্যা সার্টিফিকেট দিলে পেশাগত অসদাচরণের জন্য দায়ী হবেন।
- শিক্ষানবিশ তালিকাভুক্তির আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিলে উক্ত শিক্ষানবিশ ৫ বছরের জন্য অযোগ্য হবেন।
- হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিসের অনুমতির এবং রেজিস্ট্রেশন ৫ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকবে। ৫ বছরের মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় পাশ করতে ব্যর্থ হলে রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যাবে।
- এম.সি.কিউ এবং লিখিত পরীক্ষা এবং হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিস অনুমতির পরীক্ষা সরকারি কলেজে হবে।
১০,৫৩৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৯ ধারা অনুযায়ী চুক্তির সুনির্দিষ্ট প্রতিপালনের মোকদ্দমা খারিজ হলে বাদী অবশ্যই বারিত হবে-
  1. ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা করতে
  2. ঘোষণামূলক মোকদ্দমা করতে
  3. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মোকদ্দমা করতে
  4. আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞার মোকদ্দমা করতে
ব্যাখ্যা
⇒  সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ২৯ অনুসারে, একটি চুক্তি অথবা তার অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ হয়ে গেলে তা তেমন চুক্তি বা তার অংশবিশেষ ভঙ্গ করার দায়ে ক্ষতিপূরণের জন্য বাদী কর্তৃক মামলা দায়ের করার অধিকারে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করবে।
------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section-29. Bar of suit for breach after dismissal:
-The dismissal of a suit for specific performance of a contract or part thereof shall bar the plaintiff's right to sue for compensation for the breach of such contract or part, as the case may be.
১০,৫৩৮.
সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের জন্য বিবাদীকে কত টাকা খরচ প্রদান করতে হবে?
  1. অনধিক ১০০০
  2. অনধিক ৩০০০
  3. অনধিক ১৫০০
  4. অনধিক ২০০০
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৯নং আদেশের ১৩নং বিধিতে একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে, অন্যদিকে ১৩ক বিধিতে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে।

আদেশ ৯, বিধি ১৩: একতরফা ডিক্রি রদ / বাতিল (Set aside ex parte decree)- 

দেওয়ানী কার্যবিধির ৯নং আদেশের ১০নং বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে একতরফা ডিক্রির সিদ্ধান্ত রদ বা বাতিল করার জন্য আবেদন করতে পারবে যদি প্রমাণিত হয় যে-
i) বিবাদীর প্রতি যথাযথ ভাবে সমন জারি হয়নি; 
ii) উপযুক্ত কারণে শুনানীর দিন বিবাদী আদালতে উপস্থিত হতে পারে নি।

আদেশ ৯, বিধি ১৩ক: সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ/বাতিল (Directly setting-aside exparte decree)-

বিচার ত্বরান্বিত ও বিলম্ব দূর করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির ৯নং আদেশের ১৩ক বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে সরাসরি রদের আবেদন করতে পারবে। সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের জন্য বিবাদীকে নিম্নলিখিত ২টি শর্ত পূরণ করতে হবে-
i) ৩০ দিনের মধ্যে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের আবেদন করতে হবে; এবং
ii) অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদান করতে হবে।
১০,৫৩৯.
কোন আদালত চূড়ান্ত শুনানির জন্য দৈনন্দিন কার্যতালিকায় সর্বোচ্চ কতটি মোকদ্দমা নির্ধারণ করবেন?
  1. ৫টি
  2. ১০টি
  3. ১৫টি
  4. ৭০টি
ব্যাখ্যা
⇒ কোন আদালত চূড়ান্ত শুনানির জন্য দৈনন্দিন কার্যতালিকায় সর্বোচ্চ ৫টি এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১০০টি মোকদ্দমা নির্ধারণ করবেন।

⇒ মোকদ্দমার শুনানী (Hearing of suit) অর্থ হলো, আদালতে কোনো মামলার বিচারকার্য যেখানে বিচারক সাক্ষ্য গ্রহণ করে বা যুক্তিতর্ক শোনে ইত্যাদি।
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৮ নং আদেশে মোকদ্দমার শুনানী এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ [Hearing of the Suit and Examination of Witnesses] সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
⇒ আদেশ ১৮ বিধি ২০:-
কোন আদালত চূড়ান্ত শ্রবণ কার্যের নিমিত্তে দৈনন্দিন কার্যতালিকায় আংশিক শ্রবণীয় মোকদ্দমাসহ পাঁচটির অধিক মোকদ্দমা এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে একশতটির অধিক মোকদ্দমা নির্ধারণ করবে না; এবং নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত পর্যায়ের মোকদ্দমার সংখ্যা সত্তরটির নিম্নে নেমে আসলে সাধারণত দাখিল করা তারিখের উপর ভিত্তি করে আদালত চূড়ান্ত পর্যায়ে আরও মোকদ্দমা আনার ব্যবস্থা করতে পারবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন আদালতে শ্রবণ কার্যের নিমিত্তে তৈরীকৃত মোকদ্দমার সংখ্যা উপযুক্ত মতে নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট না হলে যথোপযুক্ত পদ্ধতিতে নির্ধারণ করার বিবেচনামূলক ক্ষমতা আদালতের থাকবে।
-----------------------------------
⇒ CPC-Order-18 Rule-20: Fixation of suits in the daily cause list, etc:
-The court shall not fix more than five suits including two part-heard suits, in the daily cause list for peremptory hearing and more than one hundred suits in the peremptory stage, and when upon disposal, the total number of suits in the peremptory stage comes down to less than seventy, the Court shall then bring in more suit in the peremptory stage, generally in the order of dates of institution of suits: 
Provided that if in any Court, the number of suits made ready for hearing is not sufficient for fixation in the manner as aforesaid, it shall be in the discretion of the Court to make the fixation in a reasonable manner.
১০,৫৪০.
The punishment under Section 197 is equivalent to punishment for-
  1. Cheating
  2. Criminal breach of trust
  3. Giving false evidence
  4. Fabricating documents
ব্যাখ্যা

⇒ The Penal Code, 1860, Section 197: Issuing or signing false certificate:
-Whoever issues or signs any certificate required by law to be given or signed, or relating to any fact of which such certificate is by law admissible in evidence, knowing or believing that such certificate is false in any material point, shall be punished in the same manner as if he gave false evidence.

⇒ দণ্ডবিধির ১৯৭ ধারার বিধান- মিথ্যা সার্টিফিকেট ইস্যু করা কিংবা উহাতে স্বাক্ষর করা:
-কোন ব্যক্তি যদি আইনের নির্দেশানুসারে কোন সার্টিফিকেট ইস্যু করে কিংবা উহাতে স্বাক্ষর করে কিংবা যে বিষয়ে আইনানুসারে কোন সার্টিফিকেট সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য, সে বিষয়ে অনুরূপ সার্টিফিকেট দান বা স্বাক্ষর করে এবং সার্টিফিকেটটি কোন বাস্তব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিক হতে মিথ্যা বলে জানা সত্ত্বেও বা অনুরূপভাবে মিথ্যা বলে বিশ্বাস করা সত্ত্বেও অনুরূপভাবে উহা দান বা স্বাক্ষর করে থাকে, তবে সে ব্যক্তি স্বয়ং মিথ্যা সাক্ষ্যদান করলে যেভাবে দণ্ডিত হত, এক্ষেত্রেও সে সেভাবে দণ্ডিত হবে।

১০,৫৪১.
ধারা ৫৫৮ অনুযায়ী আদালতের ভাষা নির্ধারণ করে কে?
  1. সরকার
  2. হাইকোর্ট ডিভিশন
  3. বিচারিক আদালত
  4. এখতিয়ারাধীন দায়রা আদালত
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৫৮ ধারার বিধান আদালতের ভাষা নির্ধারণের ক্ষমতা:
এই বিধির উদ্দেশ্যে ইহার দ্বারা শাসিত অঞ্চলে অবস্থিত প্রত্যেকটি আদালতের ভাষা কি হবে সরকার তা নির্ধারণ করতে পারবেন।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 558- Power to decide language of Courts:
The Government may determine what, for the purposes of this Code, shall be deemed to be the language of each Court within the territories administered by it.

১০,৫৪২.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় সমন অমান্যের জন্য সমনপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালত নিম্নের কোন আদেশ দিতে পারেন না?
  1. গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করতে পারেন
  2. অনধিক এক হাজার টাকা জরিমানা করতে পারেন
  3. তার সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করতে পারেন
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩২ অনুসারে, সমন অমান্যের জন্য যাকে সমন প্রদান করা হয়েছে, আদালত তাকে হাজির হতে বাধ্য করতে নিম্নোক্ত আদেশ গুলো দিতে পারে-

ক) গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করতে পারেন;
খ) তার সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করতে পারেন;
গ) অনধিক পাঁচশত টাকা জরিমানা করতে পারেন;
ঘ) তার হাজিরার জন্য তাকে জামানত দেয়ার আদেশ করতে পারেন ও জামানত না দিলে তাকে জেলে প্ররণ করতে পারেন।

Sec. 32: Penalty for default-
The Court may compel the attendance of any person to whom a summons has been issued under section 30 and for that purpose may-
a) issue a warrant for his arrest;
b) attach and sell his property;
c) impose a fine upon him not exceeding five hundred Taka; 
d) order him to furnish security for his appearance and in default commit to the civil prison.
১০,৫৪৩.
‘A’ অবৈধভাবে ‘Z’-এর ক্ষতি করার ইচ্ছায় তার মালিকানাধীন একটি মূল্যবান জামানত পুড়িয়ে ফেলার মাধ্যমে দণ্ডবিধির অনুযায়ী কী অপরাধ করেছে?
  1. অনিষ্টসাধন
  2. বিশ্বাসভঙ্গ
  3. জালিয়াতি
  4. অবৈধভাবে ক্ষতি করার
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪২৫ ধারার বিধান ক্ষতি বা অনিষ্ট:- কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও কোন সম্পত্তি ধ্বংস বা বিনষ্ট করে, অথবা কোন সম্পত্তিতে বা উহার অবস্থানে এমন কোন পরিবর্তন সাধন করে, যার ফলে উহার মূল্য বা আবশ্যকীয়তা বিনষ্ট হয় বা হ্রাস প্রাপ্ত হয়, বা উহা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি 'ক্ষতি' সাধন করেছে বলে গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা ১:- ক্ষতি অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য অপরাধীর ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা বিনষ্ট সম্পত্তির মালিকের ক্ষতি বা লোকসান করার ইচ্ছা থাকা প্রয়োজন নয়। কোন সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের উদ্দেশ্য থাকলে অথবা সম্পত্তির অনুরূপ ক্ষতিসাধন কর্তৃক কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের আশঙ্কা রয়েছে জানা সত্ত্বেও সম্পত্তিটির ক্ষতিসাধন করলে অপরাধটি সংঘটিত হবে, যে সম্পত্তিটির অনুরূপ ক্ষতিসাধন করা হল, সে সম্পত্তিটি অনুরূপে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সম্পত্তি হোক আর নাই হোক।

ব্যাখ্যা ২:- যে ব্যক্তি কাজ সংঘটন করল সে ব্যক্তির নিজের বা মিলিতভাবে সে ব্যক্তির ও অন্যান্য ব্যক্তির সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে অনুষ্ঠিত কাজ কর্তৃক ক্ষতি সাধিত হতে পারে।
---------------------- 
⇒ The Penal Code, 1860- Section 425. Mischief:
 Whoever, with intent to cause, or knowing that he is likely to cause, wrongful loss or damage to the public or to any person, causes the destruction of any property, or any such change in any property or in the situation thereof as destroys or diminishes its value or utility, or affects it injuriously, commits "mischief".

Explanation 1.-It is not essential to the offence of mischief that the offender should intend to cause loss or damage to the owner of the property injured or destroyed. It is sufficient if he intends to cause, or knows that he is likely to cause, wrongful loss or damage to any person by injuring any property, whether it belongs to that person or not.

Explanation 2.-Mischief may be committed by an act affecting property belonging to the person who commits the act, or to that person and others jointly.

Illustrations:
(a) A voluntarily burns a valuable security belonging to Z intending to cause wrongful loss to Z. A has committed mischief.
১০,৫৪৪.
দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-২১, বিধি-৫১ অনুযায়ী, হস্তান্তরযোগ্য দলিল (Negotiable Instrument) ক্রোক (attachment) কীভাবে করা হবে?
  1. আদালতে জমা না দিয়ে
  2. প্রকৃত দখলের মাধ্যমে
  3. লিখিত নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে
  4. শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তার হেফাজতে রেখে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) প্রকৃত দখলের মাধ্যমে।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-২১, বিধি-৫১ অনুসারে, যেখানে সম্পত্তি একটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল (negotiable instrument), যা আদালতে জমা দেওয়া হয়নি বা কোনো সরকারি কর্মকর্তার হেফাজতে নেই, সেখানে ওই দলিল ক্রোক বা আটকানোর কার্যক্রম প্রকৃত দখলের (actual seizure) মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ দলিলটি সরাসরি দখলে নিয়ে আদালতে নিয়ে আসতে হবে এবং পরবর্তী আদেশ পর্যন্ত আদালতের তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে।
অতএব, দলিল জমা না দেওয়া বা লিখিত নোটিশ দিয়ে ক্রোক করা হবে না, বরং সরাসরি দলিলটি জব্দ করতে হবে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ - আদেশ-২১, বিধি-৫১: হস্তান্তরযোগ্য দলিল (Negotiable Instruments) ক্রোক (Attachment):
যেখানে সম্পত্তি একটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল (negotiable instrument), যা আদালতে জমা দেওয়া হয়নি বা কোনো সরকারি কর্মকর্তার হেফাজতে নেই, সেখানে উক্ত দলিল ক্রোকের (attachment) কার্যক্রম প্রকৃত দখলের (actual seizure) মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে, এবং দলিলটি আদালতে নিয়ে আসা হবে এবং আদালতের পরবর্তী আদেশের অধীন রাখা হবে।

⇒The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21, Rule-51. Attachment of negotiable instruments:
-Where the property is a negotiable instrument not deposited in a Court, nor in the custody of a public officer, the attachment shall be made by actual seizure, and the instrument shall be brought into Court and held subject to further orders of the Court.

১০,৫৪৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারা কী সম্পর্কে?
  1. গ্রেফতারি পরোয়ানার ক্ষমতা
  2. জামিন মঞ্জুর করার ক্ষমতা
  3. বিচার প্রক্রিয়া স্থগিত করার ক্ষমতা
  4. অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়া ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮ হলো: "Power to direct admission to bail or reduction of bail", অর্থাৎ "জামিন মঞ্জুর করার বা জামিনের পরিমাণ হ্রাস করার ক্ষমতা"।
⇒ এই ধারায় বলা হয়েছে: 
- জামিনের অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে মামলার পরিস্থিতি বিবেচনা করে, এবং সেটি অত্যধিক হওয়া উচিত নয়।
- হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত যেকোনো ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করতে পারেন, সেটি সাজা হওয়ার পর আপিল থাকুক বা না থাকুক।
- তারা চাইলে পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নির্ধারিত জামিনের পরিমাণও হ্রাস করার আদেশ দিতে পারেন।
সুতরাং, এই ধারা সরাসরি জামিন মঞ্জুর করার এবং জামিনের শর্ত হ্রাস করার ক্ষমতা সম্পর্কিত।
অন্য কোন বিষয় যেমন গ্রেফতারি পরোয়ানা, বিচার স্থগিত , কিংবা অব্যাহতি- এই ধারা তার সাথে সম্পর্কিত নয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার বিধান: জামিন মঞ্জুর করার এবং অর্থের পরিমাণ হ্রাস করার ক্ষমতা:
- (১) এই অধ্যায়ের অধীন সম্পাদিত প্রত্যেকটি বন্ডের অর্থের পরিমাণ মামলার পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক নির্ধারণ করতে হবে এবং তা অত্যধিক হবে না, এবং দণ্ডের পর আপিল থাকুক আর না থাকুক, হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত যেকোন ক্ষেত্রে যেকোন ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করার বা পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দাবিকৃত জামিন হ্রাস করার নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 498: Power to direct admission to bail or reduction of bail:
- The amount of every bond executed under this Chapter shall be fixed with due regard to the circumstances of the case, and shall not be excessive; and the High Court Division or Court of Session may, in any case, whether there be an appeal on conviction or not, direct that any person be admitted to bail, or that the bail required by a police-officer or Magistrate be reduced.

১০,৫৪৬.
নিম্নে বর্ণিত কোন পরিস্থিতিতে দোষ স্বীকার গ্রহণযোগ্য নয়?
  1. দায়রা জজের কাছে দেয়া দোষ স্বীকারোক্তি
  2. পুলিশ অফিসারের নিকট দেওয়া দোষ স্বীকারোক্তি
  3. পুলিশের কাছে দেয়া দোষ স্বীকার অনুযায়ী আলামত উদ্ধার করলে
  4. ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রদত্ত স্বীকারোক্তি
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ২৫ ধারা: পুলিশ অফিসারের নিকট স্বীকারোক্তি প্রমাণ করা যাবে না:
যে কোন অপরাধে অভিযুক্ত, পুলিশ অফিসারের নিকট দোষ স্বীকার করলে তা তার বিরুদ্ধে প্রমাণ করা যাবে না।

Section 25⇒ Confession to police-officer not to be proved:
No confession made to a police-officer shall be proved as against a person accused of any offence.

তবে ২৭ ধারা অনুযায়ী, আসামীর নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে যদি আলামত উদ্ধার হয়, তাহলে উক্ত স্বীকারোক্তি তার বিরুদ্ধে প্রমাণ করা যেতে পারে। তাছাড়া আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রদত্ত স্বীকারোক্তি সকল ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য অর্থাৎ বিরুদ্ধ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
১০,৫৪৭.
একই জেলার অধীন এক আদালত থেকে অন্য আদালতে মামলা স্থানান্তর করতে হলে কোন আদালতের নিকট আবেদন করতে হবে?
  1. যে আদালতে মামলা দায়ের করা আছে
  2. আপিল আদালতে
  3. যে আদালতে স্থানান্তর করা হবে
  4. হাইকোর্ট বিভাগে
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-২৩ তে মামলা স্থানান্তরের জন্য কোন আদালতে আবেদন করতে হবে তা বলা আছে।

১। যখন এখতিয়ার সম্পন্ন একাধিক আদালত একই আপিল আদালতের অধীন হয়, তখন উক্ত আপিল আদালতে ২২ ধারা অনুসারে আবেদন পেশ করতে হবে।

২। যখন এখতিয়ার সম্পন্ন একাধিক আদালত ভিন্ন ভিন্ন আপিল আদালতের আওতাধীন হয়, তখন হাইকোর্ট ডিভিশনে আবেদন পেশ করতে হয়।

 ♦ দেওয়ানি মামলার আপিল আদালত দুটিঃ

১। জেলা জজ আদালত;
২। হাইকোর্ট বিভাগ;

♦ একই জেলার অধীন এক আদালত থেকে অন্য আদালতে মামলা স্থানান্তর করতে হলে আপিল আদালতের নিকট আবেদন করতে হবে। সেক্ষেত্রে কখনো কখনো জেলা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগে মামলা স্থানান্তরের জন্য আবেদন করতে পারে। কারণ দেওয়ানী মামলার আপিল আদালত হচ্ছে জেলা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগ।
♦ অপরদিকে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় দেওয়ানী আদালতে মামলা স্থানান্তর জন্য আবেদন করতে হবে হাইকোর্ট বিভাগের নিকট।

♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ২২ ধারার বিধান একাধিক আদালতে দায়েরযোগ্য মোকদ্দমা স্থানান্তরের ক্ষমতা: একাধিক আদালতে দায়েরযোগ্য মোকদ্দমা কোন একটি আদালতে দায়ের করা হলে, বিবাদী অন্য একটি আদালতে মোকদ্দমা হস্তান্তর করতে চাইলে নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ করতে হবে-
অপর পক্ষকে নোটিশ দিবে প্রথম সম্ভাব্য সুযোগ ও বিচার্য বিষয় নির্ধারণের সময় বা পূর্বে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করতে হবে । 
আদালত এরূপ আবেদনপত্র পাওয়ার পর অপর পক্ষের আপত্তি (যদি থাকে) শ্রবণ করে কোন আদালতে মামলার বিচার হবে, তা স্থির করবেন।
১০,৫৪৮.
The Transfer of Property Act, 1882 আনুসারে 'Foreclosure' কার অধিকার?
  1. আদালতের
  2. রেহেন গ্রহীতার
  3. সরকারের
  4. রেহেন দাতার
ব্যাখ্যা
ফোরিক্লোসার বা বিক্রয়ের প্রতিকার হলো সম্পত্তির বিরুদ্ধে প্রতিকার এবং ৬৭ ধারায় বন্ধগ্রহীতাকে এই অধিকার দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে বন্ধকগ্রহীতা এই মর্মে মোকদ্দমা দায়ের করে যে বন্ধকী সম্পত্তি উদ্ধার করার বন্ধদাতার অধিকার হরণ করা হোক বা বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রয় করা হোক।

Section 67 of The Transfer of Property Act, 1882 আনুসারে 'Foreclosure' কার অধিকার বন্ধকগ্রহীতার বা রেহেন গ্রহীতার।

Section 67. Right to foreclosure or sale:

In the absence of a contract to the contrary, the mortgagee has at any time after the mortgage-money has become due to him, and before a decree has been made for the redemption of the mortgaged property, or the mortgage-money has been paid or deposited as hereinafter provided, a right to obtain from the Court a decree that the mortgagor shall be absolutely debarred of his right to redeem the property, or a decree that the property be sold. 
A suit to obtain a decree that a mortgagor shall be absolutely debarred of his right to redeem the mortgaged property is called a suit for foreclosure. 
 
Nothing in this section shall be deemed- 
(a) to authorise any mortgagee other than a mortgagee by conditional sale or a mortgagee under an anomalous mortgage by the terms of which he is entitled to foreclose, to institute a suit for foreclosure, or an usufructuary mortgagee as such or a mortgagee by conditional sale as such to institute a suit for sale; or 
(b) to authorise a mortgagor who holds the mortgagee's rights as his trustee or legal representative, and who may sue for a sale of the property, to institute a suit for foreclosure; or 
(c) to authorise the mortgagee of a railway, canal or other work in the maintenance of which the public are interested, to institute a suit for foreclosure or sale; or 
(d) to authorise a person interested in part only of the mortgage-money to institute a suit relating only to a corresponding part of the mortgaged property, unless the mortgagees have, with the consent of the mortgagor, served their interests under the mortgage.
১০,৫৪৯.
যিনি কোন ঘটনা নিজ চোখে দেখিয়াছেন, তাহাকে কি সাক্ষ্য বলা হয়?
  1. জনশ্রুত সাক্ষ্য,
  2. গৌণ সাক্ষ্য,
  3. অবস্থাগত সাক্ষ্য,
  4. প্রত্যক্ষ মৌখিক সাক্ষ্য,
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারার বিধান মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হইতে হইবেঃ মৌখিক সাক্ষ্য সকল ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রত্যক্ষ হইতে হইবে,
অর্থাৎ সাক্ষ্যে উল্লিখিত তথ্য যদি দেখা যাইতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলিবে যে, সে উহা দেখিয়াছে তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।

⇒ সাক্ষ্যে উল্লিখিত তথ্য যদি শোনা যাইতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলিবে যে সে উহা শুনিয়াছে, তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।

⇒ অর্থাৎ যিনি কোন ঘটনা নিজ চোখে দেখিয়াছেন, তাহাকে প্রত্যক্ষ মৌখিক সাক্ষ্য বলা হয়।

----------------
⇒ Oral evidence must be direct.
Section 60. Oral evidence must, in all cases whatever, be direct; that is to say- 
 
if it refers to a fact which could be seen, it must be the evidence of a witness who says he saw it; 
 
if it refers to a fact which could be heard, it must be the evidence of a witness who says he heard it;
১০,৫৫০.
পাবলিক প্রসিকিউটর মামলার প্রত্যাহারের জন্য কার অনুমতি নিবে?
  1. সরকারের
  2. অভিযুক্তের
  3. আদালতের
  4. অভিযোগকারির
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ৪৯৪: মামলা প্রত্যাহারের ফল:

পাবলিক প্রসিকিউটর রায় ঘোষণার পূর্বে আদালতের অনুমতি নিয়ে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত মামলা সাধারণভাবে বা যে সকল অপরাধে তার বিচার হচ্ছে, তার যেকোন এক বা একাধিক অপরাধ প্রত্যাহার করতে পারবেন এবং উক্ত প্রত্যাহারের দরুন-
(ক) অভিযোগ প্রণয়নের পূর্বে তা করা হলে উক্ত এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দান করতে হবে; এবং
(খ) অভিযোগ প্রণয়নের পর তা করা হলে বা এই বিধির অধীন কোন অভিযোগ প্রণয়ন প্রয়োজন না হলে, উক্ত এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে অভিযুক্তকে খালাস দিতে হবে।

Section 494: Effect of withdrawal from prosecution:
Any Public Prosecutor may, with the consent of the Court, before the judgment is pronounced, withdraw from the prosecution of any person either generally or in respect of any one or more of the offences for which he is tried; and upon such withdrawal-
(a) if it is made before a charge has been framed, the accused shall be discharged in respect of such offence or offences;
(b) if it is made after a charge has been framed, or when under Code no charge is required, he shall be acquitted in respect of such offence or offences.
১০,৫৫১.
দণ্ডবিধির ২৬৪ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ জেনে-বুঝে প্রতারণার উদ্দেশ্যে ভুল ওজন যন্ত্র ব্যবহার করে, তবে তার সর্বোচ্চ কী শাস্তি হতে পারে?
  1. ৬ মাসের কারাদণ্ড
  2. ১ বছরের কারাদণ্ড
  3. ২ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৩ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ২৬৪ ধারা অনুযায়ী, কেউ যদি প্রতারণার উদ্দেশ্যে এমন কোনো ওজন যন্ত্র ব্যবহার করে যা সে জানে মিথ্যা বা ভুল, তবে সে সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা জরিমানা, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।
- অর্থাৎ, জেনে-বুঝে প্রতারণামূলকভাবে ভুল যন্ত্র ব্যবহার করা হলে সর্বোচ্চ ১ বছরের সাজা হতে পারে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860-Section- 264. Fraudulent use of false instrument for weighing:
- Whoever fraudulently uses any instrument for weighing which he knows to be false, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.

১০,৫৫২.
Under section 145G of SAT Act, 1950, who has the authority to abolish Land Survey Tribunals?
  1. The Supreme Court
  2. The Government
  3. The Land Commission
  4. The District Judge
ব্যাখ্যা
ধারা ১৪৫ছ: ট্রাইব্যুনাল বিলুপ্ত করার ক্ষমতা-
সরকার, যেকোনো সময় সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করে, ধারা ১৪৫ক এর অধীনে গঠিত ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল এবং ধারা ১৪৫খ এর অধীনে গঠিত ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনাল বিলুপ্ত করতে পারবে।
এবং এ ধরনের বিলুপ্তির সময়, একই প্রজ্ঞাপনে সরকারকে উল্লেখ করতে হবে- যেসব মামলা, আপিল বা অন্যান্য কার্যক্রম ঐ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে, সেগুলো কোন আদালতে স্থানান্তরিত হবে এবং সেই আদালত কর্তৃক তা নিষ্পত্তি করা হবে।

[The Government may, by notification in the official Gazette, at any time, abolish any Land Survey Tribunal established under section 145A and any Land Survey Appellate Tribunal established under section 145B, and while so abolishing, the Government shall, in the same notification, specify the courts where the suits, appeals and other proceedings pending in such Tribunals at the time of such abolition shall be transferred to and be disposed of.]
১০,৫৫৩.
________ হতে ৭ দিনের মধ্যে ডিক্রি প্রণয়ন করতে হবে।
  1. রায় প্রস্তুতের তারিখ
  2. চূড়ান্ত শুনানির তারিখ
  3. রায় ঘোষণার তারিখ
  4. সাক্ষ্য গ্রহণ শেষের তারিখ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ২(২) ধারায় ডিক্রির সংজ্ঞা রয়েছে-
আদালতের এমন কোন আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত যা মোকদ্দমার তর্কিত/বিরোধীয় বিষয় সম্পর্কে পক্ষসমূহের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে তাকে ডিক্রি (Decree) বলে।
• কার্যবিধির ৩৩ ধারা মতে,কোন মোকদ্দমার শুনানীর পর আদালত রায় ঘোষনা করে এবং পরবর্তীতে এই রায়ের ভিত্তিতে ডিক্রি প্রদান করে।
রায় হল ডিক্রির ভিত্তি তাই রায় আগে প্রদান করা হয় এবং ডিক্রি পরে দেয়া হয়।

• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ বিধি ৫ক তে ডিক্রি প্রণয়নের সময় দেয়া হয়েছে। এ বিধিমতে-
''রায় ঘোষণার তারিখ হতে সাত দিনের মধ্যে ডিক্রি প্রণয়ন করতে হবে।''
[The decree shall be drawn up within seven days from the date of pronouncement of the judgment.]
১০,৫৫৪.
অধস্তন আদালতের ভাষা এবং কার্যধারার লিখিত রীতি কে নির্ধারণ করতে পারে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. সরকার
  3. উক্ত আদালতের বিচারক
  4. আদালতের রেজিস্টার
ব্যাখ্যা

উত্তর: খ) সরকার।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩৭ ধারা: অধস্তন আদালতে ভাষা:
১) এই আইন কার্যকর হওয়ার সময় কোন হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন কোন আদালতে ভাষা যা ছিল, সরকার অন্যভাবে নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেটাই উক্ত অধস্তন আদালতে ভাষা হিসাবে চলতে থাকবে।

২) অনুরূপ আদালতের ভাষা কি হবে এবং কোন রীতিতে অনুরূপ আদালত সমীপে দরখাস্ত এবং আদালতে কার্যধারা লিখিত হবে তা সরকার ঘোষণা করতে পারবে।

৩) যখন অনুরূপ কোন আদালতে সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা ব্যতীত অন্য কিছু লিখিতরূপে নিরূপণ করার জন্য এই আইন আদেশ প্রদান করে বা অনুমতি প্রদান করে, তখন অনুরূপ লিখন ইংরেজিতে হতে পারে; কিন্তু কোন পক্ষ বা তার আইনজীবী যদি ইংরেজির সঙ্গে অপরিচিত হন, তবে তার অনুরোধে আদালতের ভাষায় উক্ত ইংরেজির অনুবাদ তাকে সরবরাহ করা হবে, এবং এরূপ ক্ষেত্রে আদালত যে-রূপ উপযুক্ত মনে করেন, অনুবাদের খরচ প্রদানের ব্যাপারে সেরূপ আদেশনামা প্রদান করবে।

১০,৫৫৫.
মৃত ব্যক্তি কোন সন্তান বা পুত্র সন্তানকে না রেখে মৃত্যু বরণ করলে, মৃত ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী মৃত স্বামীর সম্পত্তি-
  1. প্রত্যেকে ১/৪ অংশ করে পাবেন।
  2. সকলে ১/৪ অংশ সমানভাবে ভাগ করে পাবেন।
  3. প্রত্যেকে ১/৮ অংশ করে পাবেন।
  4. সকলে ১/৮ অংশ সমানভাবে ভাগ করে পাবেন।
ব্যাখ্যা

স্ত্রী(Wife): স্বামীর মতো স্ত্রীও কুরআনের প্রাথমিক উত্তরাধিকারী স্ত্রী কখনোই সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হয়না। অনুরূপ অবস্থা তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যে তার স্বামী অবশ্যই মারা যাবে বৈবাহিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকার সময় বা একটি প্রত্যাহারযোগ্য তালাকের ইদ্দত সময়কালে।ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে স্ত্রী মৃত স্বামীর সম্পত্তি থেকে কিছুই পেতনা।

স্ত্রীর  দুটি অবস্থা আছে:

(ক) ১/৪

(খ) ১/৮

(ক) ১/৪ : স্ত্রী শুধুমাত্র একটি শর্ত পূরণ করলে মৃত স্বামীর সম্পত্তির ১/৪ অংশের অধিকারী: মৃত ব্যক্তি কোন সন্তান বা পুত্র সন্তানকে না রেখে মৃত্যু বরণ করলে

(খ) ১/৮ : স্ত্রী শুধুমাত্র একটি শর্ত পূরণ করলে মৃত স্বামীর সম্পত্তির ১/৮ অংশের অধিকারী: মৃত ব্যক্তি কোন সন্তান বা পুত্র সন্তানকে (যত নিচের হউক) রেখে মৃত্যু বরণ করলে

দুই বা ততোধিক স্ত্রী থাকলে বণ্টনের নিয়ম:

-যদি একাধিক স্ত্রী থাকে, তবে তারা একই ভগ্নাংশের অধিকারী হবে, যা তাদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হবে। তাদের সংখ্যার ভিত্তিতে ভাগ বাড়বে না
-অর্থাৎ
মৃত ব্যক্তি কোন সন্তান বা পুত্র সন্তানকে না রেখে মৃত্যু বরণ করলে, মৃত ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী মৃত স্বামীর সম্পত্তি প্রত্যেকে ১/৪ অংশ সমানভাবে ভাগ করে পাবেন।

১০,৫৫৬.
"Wrongful gain" ও "Wrongful loss" সংক্রান্ত সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কোন ধারায় দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ২২
  2. ধারা ২৩
  3. ধারা ২৪
  4. ধারা ২৫
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ২৩-এ “Wrongful gain” ও “Wrongful loss”–এর সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে।
→ Wrongful gain বলতে বোঝায় – এমন কোনো সম্পত্তি অবৈধ উপায়ে অর্জন করা, যার উপর অর্জনকারী ব্যক্তি আইনি অধিকার রাখে না।
→ Wrongful loss হলো – এমন কোনো ব্যক্তি যিনি আইনি অধিকারসহ কোনো সম্পত্তির মালিক, সেই ব্যক্তি যদি অবৈধ উপায়ে উক্ত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হন, সেটিই wrongful loss।

→ অবৈধ লাভ [Wrongful Gain]: অবৈধ লাভ অর্থ হলো বেআইনিভাবে এরূপ সম্পত্তি লাভ করা, যে সম্পত্তিতে লাভকারী ব্যক্তির কোন আইনানুগ অধিকার নেই। যেমন 'ক' একটি ঘড়ি চুরি করলো। উক্ত ঘড়িতে চোর, ক-এর কোনো আইনানুগ অধিকার নেই। সুতরাং ক সম্পত্তিটি অবৈধ লাভ করেছে বলে গণ্য হবে।
→ অবৈধ ক্ষতি [Wrongful Loss]: অবৈধ ক্ষতি হলো বেআইনিভাবে এমন সম্পত্তির ক্ষতি, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত লোকের আইনানুগ অধিকার আছে। A, B এর একটি ঘড়ি চুরি করলো। এখানে B হলো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং উক্ত ঘড়িতে B এর আইনানুগ অধিকার ছিল। সুতরাং চুরির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, B এর অবৈধ ক্ষতি হলো এবং চোর, A অবৈধ লাভ করলো।

⇒ The Penal Code, 1860, Section-23:
→ “Wrongful gain”
 "Wrongful gain" is gain by unlawful means of property to which the person gaining is not legally entitled.
→ “Wrongful loss”
"Wrongful loss" is the loss by unlawful means of property to which the person losing it is legally entitled.
→ Losing wrongfully.
- A person is said to gain wrongfully when such person retains wrongfully, as well as when such person acquires wrongfully.
- A person is said to loss wrongfully when such person is wrongfully kept out of any property, as well as when such person is wrongfully deprived of property.
১০,৫৫৭.
কোনটি হিন্দু আইনের একটি আধুনিক উৎস?
  1. স্মৃতি
  2. বিধিবদ্ধ আইন
  3. মিতাক্ষরা মতবাদ
  4. দায়ভাগ মতবাদ
ব্যাখ্যা
হিন্দু আইনের আধুনিক উৎস:
আধুনিক যুগে হিন্দু আইনের বিকাশে কিছু নতুন উৎস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যেমন—ঃ
- আদালতের সিদ্ধান্ত (Judicial Precedents): বিভিন্ন মামলার বিচারিক সিদ্ধান্ত, যা ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করে।
- বিধিবদ্ধ আইন (Statutory Law): সংসদ কর্তৃক প্রণীত হিন্দু ব্যক্তিগত আইন।
- সুবিচার ও ন্যায়পরায়ণতা (Justice, Equity, and Good Conscience): যেখানে কোনো নির্দিষ্ট বিধান নেই, সেখানে ন্যায়বিচার ও বিবেকবোধের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

⇒ হিন্দু আইনের আধুনিক উৎসগুলোর মধ্যে বিধিবদ্ধ আইন (Statutory Law) অন্যতম।

- আধুনিক সময়ে হিন্দু ব্যক্তিগত আইনের বিভিন্ন দিককে স্পষ্ট ও সুসংগঠিত করার জন্য বিধিবদ্ধ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
-কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধিবদ্ধ আইন হলো—
- Hindu Marriage Act – হিন্দু বিবাহ সম্পর্কিত আইন।
- Hindu Succession Act – হিন্দু উত্তরাধিকার সম্পর্কিত আইন।
- Hindu Adoption and Maintenance Act – দত্তক ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন।
- Hindu Minority and Guardianship Act – হিন্দু নাবালক ও অভিভাবকত্ব সম্পর্কিত আইন।

অন্য অপশন গুলোর মধ্যে:
- মিতাক্ষরা মতবাদ ও দায়ভাগ মতবাদ – হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের দুটি প্রাচীন মতবাদ। এগুলো আধুনিক উৎস নয়।
- স্মৃতি – এটি হিন্দু আইনের একটি প্রাচীন উৎস, আধুনিক নয়।
১০,৫৫৮.
স্বত্ব ঘোষনা সংক্রান্ত মামলা দায়েরের নিমিত্ত তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৩ বছর
  2. ৬ বছর
  3. ১ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যেসকল মামলার জন্য তামাদির মেয়াদ উল্লেখ নাই সেগুলো সাধারণত ৬ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হয়।

♦ স্বত্ব ঘোষনা সংক্রান্ত মামলা দায়েরের নিমিত্ত তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের ১ম তফসিলে সরাসরি উল্লেখ নাই এজন্য এই ক্ষেত্রে ১২০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে।
অর্থাৎ, স্বত্ব ঘোষনা সংক্রান্ত মামলা দায়েরের নিমিত্ত তামাদির মেয়াদ ৬ বছর।
১০,৫৫৯.
তামাদি আইনের ধারা ৬ অনুসারে "বৈধ অপারগতা"-র বিধান প্রযোজ্য কার জন্য?
  1. কেবল বাদীর জন্য
  2. কেবল বিবাদীর জন্য
  3. উভয় পক্ষের জন্য
  4. আদালতের জন্য
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৬ মূলত যেসব ব্যক্তি আইনগত কারণে (যেমন: নাবালকত্ব, উন্মাদতা বা চরম বুদ্ধিহীনতা) অপারগ— তাদের পক্ষে মামলা দায়ের বা কার্যক্রম গ্রহণ বিলম্বিত হলেও, সেই বিলম্ব তামাদি হিসেবে গণ্য হবে না। তবে এই সুবিধাটি শুধুমাত্র বাদীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, অর্থাৎ:
- যিনি মামলা দায়ের, ডিক্রি জারি, বা আবেদন করার অধিকার রাখেন—
যদি তিনি তামাদি সময় শুরু হওয়ার সময় নাবালক, উন্মাদ বা বুদ্ধিহীন হন, তাহলে তার জন্য তামাদি সময় অপারগতা অবসানের পর থেকে গণনা শুরু হবে।

⇒ তামাদি আইনের ৬,৭,৮ এবং ৯ ধারায় আইনগত অপারগতার নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে।
তামাদি আইনের ৬ ধারায় বৈধ অপারগতা (Legal disability) নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেছে।
যেখানে বলা আছে, যে ক্ষেত্রে মামলা কিংবা কার্যব্যবস্থা কিংবা ডিক্রি জারির জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয় সেই সময় উক্ত ব্যক্তি যদি নাবালক, উন্মাদ বা চরম বুদ্ধিহীনতার রোগে ভুগে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে।
- যখন উক্ত ব্যক্তির জীবন হতে অপারগতা অবসান হবে তখন তামাদি মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে। যদি একটি অপারগতা অবসান হবার আগেই আরেকটি অপারগতায় উক্ত ব্যক্তি আক্রান্ত হন তবে দুটি শেষ হবার পর তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে। এর মাঝে যদি উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তাহলে তার আইনগত প্রতিনিধির উপর তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে। তার আইনগত প্রতিনিধি যদি বৈধ অপারগতায় আক্রান্ত থাকেন তবে প্রতিনিধির আইনগত অপারগতা অবসান হবার পর তামাদি মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে।
- তামাদি আইনের ৬ ধারার এই বিধান আপীল, রিভিউ, রিভিশন বা আবেদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। বৈধ অপারগতার বিধান শুধুমাত্র বাদী’র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিবাদী’র জন্য তামাদি আইনে বৈধ অপারগতার বিধান গ্রহণযোগ্য না।
---------
⇒ The Limitation Act:- Section 6. Legal disability:
(1) Where a person entitled to institute a suit or proceeding or make an application for the execution of a decree is, at the time from which the period of limitation is to be reckoned, a minor, or insane, or an idiot, he may institute the suit or proceeding or make the application within the same period after the disability has ceased, as would otherwise have been allowed from the time prescribed therefore in the third column of the first schedule or in section 48 of the Code of Civil Procedure, 1908.
(2) Where such person is, at the time from which the period of limitation is to be reckoned, affected by two such disabilities, or where, before his disability has ceased, he is affected by another disability, he may institute the suit or make the application within the same period, after both disabilities have ceased, as would otherwise have been allowed from the time so prescribed.
(3) Where the disability continues up to the death of such person, his legal representative may institute the suit or make the application within the same period after the death as would otherwise have been allowed from the time so prescribed.
(4) Where such representative is at the date of the death affected by any such disability, the rules contained in sub-sections (1) and (2) shall apply.

Illustrations:
(a) The right to sue for the hire of a boat accrues to A during his minority. He attains majority four years after such accruer. He may institute his suit at any time within the years from the date of his attaining majority.
(b) A right to sue accrues to Z during his minority. After the accruer, but while Z is still a minor, he becomes insane. Time runs against Z from the date when his insainity and minority cease.
(c) A right to sue accrues to X during his minority. X dies before attaining majority, and is succeeded by Y, his minor son. Time runs against Y from the date of his attaining majority.
১০,৫৬০.
কোন স্ত্রীলোককে বেআইনীভাবে আটক রাখা হলে, তাকে অভিভাবকের নিকট প্রত্যর্পণের আদেশ কে দিতে পারেন?
  1. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  2. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  3. ২য় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৫২: অপহৃতা নারী প্রত্যর্পণে বাধ্য করার ক্ষমতা

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট কোন স্ত্রীলোক অথবা ১৬ বছরের নিম্ন বয়স্ক কোন বালিকাকে অপহরণ বা বে-আইনীভাবে আটক রাখার নালিশ করা হলে, উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট সেই স্ত্রীলোককে বা গ্রাহককে অবিলম্বে তার স্বামী, মাতা-পিতা, অথবা তার আইন সংগত অভিভাবকের নিকট প্রত্যর্পণের আদেশ দিতে পারবেন।

Section 552- Power to compel restoration of abducted females
Upon complaint made to a Metropolitan Magistrate or a Magistrate of the first class or District Magistrate on oath of the abduction or unlawful detention of woman, or of a female child under the age of sixteen years, for any unlawful purpose, he may make an order for the immediate restoration of such woman to her liberty, or of such female child to her husband, parent, guardian or other person having the lawful charge of such child, and may compel compliance with such order, using such force as may be necessary.
১০,৫৬১.
'Relevancy of facts forming part of same transaction' সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার বিধান?
  1. সাক্ষ্য আইনের ৫ ধারায়
  2. সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারায়
  3. সাক্ষ্য আইনের ৬ ধারায়
  4. সাক্ষ্য আইনের ১৭ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ ধারা-৬: একই কার্যক্রমের অংশরূপে গণ্য বিষয়সমূহ (Relevancy of facts forming part of same transaction)- "একই কার্যের অংশ যে সমস্ত বিষয় সেগুলোর প্রাসঙ্গিকতা" সম্পর্কে সাক্ষ্য আইনের ৬ ধারায় বলা হয়েছে। যে বিষয়সমূহ বিচার্য বিষয় নয়, কিন্তু এগুলো বিচার্য বিষয়ের সাথে এমনভাবে জড়িত যে, উভয় বিষয়ই একই কার্যক্রমের অংশরূপে গণ্য হতে পারে সেক্ষেত্রে ঐ বিষয়সমূহ একই সময়ে এবং একই স্থানে অথবা বিভিন্ন সময়ে এবং বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হোক না কেন উত্ত বিষয়সমূহ সাক্ষ্য আইনের ৬ ধারামতে প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে। সাক্ষ্য আইনের ৬ ধারা Res Gestae নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত।

⇒ Res Gestae বা 'একই কার্যের অংশ'- Res Gestae (রেস গেস্টাই) অর্থ হলো একই কাজের অংশ বিশেষ বা একই Transaction এ সংগঠিত অনেকগুলো ঘটনা।

⇒ অর্থাৎ কোন একটি কাজ করতে গিয়ে উক্ত কাজের ধারাবাহিকতায় অন্য যেসব কাজ করা হয় বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা তা ঐ একই কাজের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে Res Gestae বলে পরিচিত।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬ থেকে ৯ এবং ১৪ ধারায় Res Gestae (রেস গেস্টাই) নীতির বিধান রয়েছে।
------------
⇒ Relevancy of facts forming part of same transaction:
Section 6. Facts which, though not in issue, are so connected with a fact in issue as to form part of the same transaction, are relevant, whether they occurred at the same time and place or at different times and places.
১০,৫৬২.
সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারার অধীন নিজ পক্ষের সাক্ষীর-
  1. জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়
  2. জেরা করা হয়
  3. পুনঃজবানবন্দি গ্রহণ করা হয়
  4. বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা হয়
ব্যাখ্যা
• যখন যে পক্ষ কোন সাক্ষীকে আহ্বান করে বা ডাকে, সেই পক্ষ উক্ত সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করবে। আইনের সাধারণ নীতি অনুযায়ী সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ তার নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে না। কিন্তু সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারার অধীন আদালতের অনুমতি নিয়ে যে পক্ষ সাক্ষী নিয়ে আসে, সে পক্ষ নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে। এ ধরনের সাক্ষী হল বৈরী (Hostile) সাক্ষী।

⇒ বৈরী সাক্ষীকে সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষের জেরা করার অনুমতি দান করা আদালতের বিবেচনার উপর নির্ভর করে।
 
⇒ সাধারণত জেরা করার উদ্দেশ্য হলো প্রতিপক্ষের সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা। এরূপ কাজ কোন মামলার বিরুদ্ধ পক্ষ করে থাকে, তবে ১৫৪ ধারার অধীন সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের সাক্ষীকে জেরা করে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে।

⇒ যখন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা হয়:
১) সাক্ষী যদি নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়;
২) সাক্ষী যদি বিরুদ্ধ পক্ষের সমর্থনে সাক্ষ্য দেয়;
৩) সাক্ষী যদি তার পূর্বের সাক্ষ্য থেকে সরে এসে বিপরীত সাক্ষ্য দেয়।
 
⇒ এরূপ ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ নিজ সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করে জেরা করার জন্য আদালতের অনুমতির জন্য দরখাস্ত/ আবেদন দেয়। আদালত উক্ত আবেদন গ্রহণ করলে সাক্ষী বৈরী হয় এবং নিজপক্ষের অ্যাডভোকেট তাকে জেরা করতে পারে।
১০,৫৬৩.
Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর Article 8 অনুযায়ী, Ad-hoc Bar Council-এর সদস্য সংখ্যা কত?
  1. ১০ জন
  2. ১২ জন
  3. ১৫ জন
  4. ২০ জন
ব্যাখ্যা
⇒ Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর সংশোধিত Article 8(2) এ বলা হয়েছে:
"...the Government may, by notification in the official Gazette, constitute an Ad-hoc Bar Council consisting of fifteen members..."
অর্থাৎ, Ad-hoc Bar Council-এ মোট সদস্য সংখ্যা হবে ১৫ জন।
এর মধ্যে বাংলাদেশের Attorney-General একজন সদস্য হবেন এবং তিনিই হবেন এই Ad-hoc Bar Council-এর চেয়ারম্যান।

সুতরাং, সঠিক উত্তর: গ) ১৫ জন।

Article- 8. (1) Elections to the Bar Council shall be held so as to conclude on or before the thirty first day of May in the year in which the term of the Bar Council expires.
(2) If the elections to the Bar Council cannot be held within the time specified in clause (1) due to pandemic, epidemic, act of God or for any other unavoidable circumstances as may be determined by the Government from time to time, the Government may, by notification in the official Gazette, constitute an Ad-hoc Bar Council consisting of fifteen members for a term not exceeding one year and this term shall not be further extended.
The Attorney-General for Bangladesh shall be one of the members of the Ad-hoc Bar Council and shall also be its Chairman.
(4) Notwithstanding anything contained in any other provision of this Order, the Ad-hoc Bar Council shall exercise such powers and functions of the Bar Council as specified in this Order and the rules made thereunder.
১০,৫৬৪.
অভিযোগকারী একজন সরকারি কর্মকর্তা (public servant) হন এবং তার ব্যক্তিগত হাজিরা বাধ্যতামূলক না হয়, তাহলে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৭ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট-
  1. তাকে প্রতিনিধির মাধ্যমে হওয়ার জন্য নির্দেশ দিবে
  2. তার মামলা বাতিল করবেন
  3. তার উপস্থিতি মওকুফ করতে পারেন
  4. তার মামলার শুনানি অন্য কোনো দিনে মুলতবি করবে
ব্যাখ্যা

ধারা ২৪৭ – অভিযোগকারীর অনুপস্থিতি:
যদি কোনো মামলা অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা হয়, এবং নির্ধারিত দিনে বা পরে কোনো দিন (যে দিনে শুনানি মুলতবি করা হতে পারে) অভিযুক্তের উপস্থিতির জন্য, অভিযোগকারী হাজির না হন, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেটকে নিম্নরূপ কাজ করতে হবে:

ম্যাজিস্ট্রেট, এতে পূর্বে যা কিছু বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকুক না কেন, অভিযুক্তকে খালাস দেবেন, শুধুমাত্র তখনই ব্যতিক্রম ঘটবে যখন ম্যাজিস্ট্রেট মনে করবেন শুনানি অন্য কোনো দিনে মুলতবি করা উপযুক্ত।

শর্ত:
যদি অভিযোগকারী একজন সরকারি কর্মকর্তা (public servant) হন এবং তার ব্যক্তিগত হাজিরি বাধ্যতামূলক না হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট তার উপস্থিতি মওকুফ করতে পারেন এবং মামলাটি চালিয়ে যেতে পারেন।

১০,৫৬৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ ধারা অনুসারে কোনো দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটকে মামলা আমলে নেবার ক্ষমতা কে অর্পণ করতে পারেন?
  1. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  2. দায়রা জজ 
  3. অতিরিক্ত দায়রা জজ
  4. যুগ্ম দায়রা জজ
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০ এ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধ আমলে নেয়ার বিধান উল্লেখ রয়েছে।কোন কোন ম্যাজিস্ট্রেট,কোন কোন ক্ষেত্রে অপরাধ আমলে নিতে পারে সেই সম্পর্কে বলা হয়েছে।

• এই ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিত ম্যাজিস্ট্রেটগণ অপরাধ আমলে নিতে পারে-

-মহানগর এলাকায়

১. চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
২. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট

-মহানগর এলাকার বাইরে

১. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
২. প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট অথবা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো ম্যাজিস্ট্রেট

• ধারা ১৯০(২) অনুসারে, সরকার এবং এই আদেশ হাইকোর্ট ডিভিশন কর্তৃক প্রদেয় কোন সাধারণ বা বিশেষ আদেশের প্রেক্ষিতে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যেসব অপরাধ বিচার করতে বা বিচারার্থে পাঠাতে পারেন, সেসব অপরাধ যেকোন দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটকে বিচারার্থ গ্রহণ করতে ক্ষমতায়ন করতে পারেন।
১০,৫৬৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারায় আদালত অবমাননার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কত টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে?
  1. ২০০ টাকা
  2. ৩০০ টাকা
  3. ৫০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারায় আদালত অবমাননার (Contempt of Court) শাস্তি সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারার বিধান- অবমাননার কতিপয় ক্ষেত্রে পদ্ধতি-
কোন দেওয়ানী, ফৌজদারী বা রাজস্ব আদালতের দৃষ্টি গোচরে বা উপস্থিতিতে দণ্ডবিধির ধারা-১৭৫, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০ বা ২২৮ এ উল্লেখিত কোন অপরাধ করা হলে উক্ত আদালত অপরাধীকে কারাগারে আটক রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন এবং ঐদিন আদালতের অধিবেশন শেষ হবার পূর্বে যেকোন সময় উপযুক্ত মনে করলে অপরাধটি আমলে নিতে পারবেন এবং অপরাধীকে সর্বোচ্চ ২০০ (দু'শত) টাকা অর্থদণ্ডে এবং যথাশীঘ্র জরিমানার টাকা প্রদান করা না হলে এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন।
 ----------------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-480: Procedure in certain cases of contempt-
When any such offence as is described in section 175, section 178, section 179, section 180 or section 228 or the Penal Code is committed in the view or presence of any Civil, Criminal or Revenue Court, the Court may cause the offender to be detained in custody and at any time before the rising of the Court on the same day may, if it thinks fit, take cognizance of the offence and sentence the offender to fine not exceeding two hundred taka, and in default of payment, to simple imprisonment for a term which may to one month, unless such fine be sooner paid. 
১০,৫৬৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা অনুসারে ‘দখল উদ্ধারের’ মামলার জন্য তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৩ অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৯ এর অধীনে স্থাবর সম্পত্তির দখল উদ্ধারের মামলার জন্য দাখিলের সময়সীমা বা তামাদির মেয়াদ ৬ মাস নির্ধারিত।
অর্থাৎ, দখল হারানোর দিন থেকে ৬ মাসের মধ্যে না করলে মামলা তামাদি হবে।

১০,৫৬৮.
পিতা F তার পুত্র Z কে ৩৩ লক্ষ টাকা মূল্যমানের ১১ শতক অবিভক্ত ভূমির মধ্যে ৫ শতক দানপত্রের মাধ্যমে দান করেন। F এর মৃত্যুর পর তার অপর পুত্র X ও Y দানপত্রটি জাল ও তাতে অন্তর্ভুক্ত ভূমিতে Z স্বত্ব অর্জন করে নাই মর্মে দাবী করেন। এমতাবস্থায়, Z এর প্রতিকার কী?
  1. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের
  2. সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমা দায়ের
  3. দানপত্রটির সুনির্দিষ্ট বলবৎ করার মোকদ্দমা দায়ের
  4. ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।

⇒  শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।

⇒  ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে। অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে,তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) বলে।

⇒ অর্থাৎ কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা কোন সম্পত্তিতে তার অধিকার যখন অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অস্বীকার করা হয়, তখন আইনানুগ পরিচয়ের অধিকারী ব্যক্তি বা সম্পত্তিতে অধিকারী ব্যক্তি আদালতের নিকট তার আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার যে অধিকার আছে এই মর্মে ঘোষণা চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
⇒  এখানে আইনানুগ পরিচয় বলতে আইনসম্মত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তিকে বোঝায়। 

⇒ উল্লেখিত প্রশ্নে এমতাবস্থায়, Z এর প্রতিকার হলো ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের, যার মাধ্যমে Z তার দানপত্রটির অন্তর্ভুক্ত ভূমিতে স্বত্ব অর্জন করতে পারবে।

⇒ ঘোষনামূলক ডিক্রির প্রকৃতি
i) ঘোষনামূলক ডিক্রি দ্বারা নতুন কোন অধিকার সৃষ্টি হয় না বরং বাদীর বিদ্যমান অধিকারকে ঘোষনা করে মাত্র। সুতরাং মামলা করার সময় বাদীর অধিকার বিদ্যমান থাকতে হবে, ভবিষ্যতে কোন অধিকার অর্জন হবে তার জন্য ঘোষনামূলক মামলা করা যায় না।
ii) ঘোষনামূলক মামলায় আদালত বিরোধীয় বস্তুতে আইনগত পরিচয় ও স্বত্বের ঘোষনা করে মাত্র, কিন্তু এই ডিক্রির দ্বারা কোন পক্ষকে কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে আদেশ দেয় না।
iii) ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করা আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা।

⇒  ৪২ ধারার অধীন ঘোষণামূলক ডিক্রি লাভের আবশ্যকীয় শর্তাবলি-
i) বাদী কোন আইনগত পরিচয় অথবা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকারী হবে;
ii) বাদীর আইনগত পরিচয় (legal character) আইনের দ্বারা সৃষ্ট হতে হবে, চুক্তি দ্বারা সৃষ্ট কোন পরিচয় নয়; এবং
iii) বিবাদী কর্তৃক বাদীর আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার বা অস্বীকারের উদ্যোগ গ্রহণ।

⇒  মোকদ্দমা দায়ের:
১. যে আইনগত পরিচয়ের অধিকারী।
২. সম্পত্তিতে স্বত্বের একচ্ছত্র দখলের অধিকারী যার সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
৩. যার পদ, পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
১০,৫৬৯.
যদি কোনো ঋণ ভবিষ্যৎ বা বিদ্যমান কোনো ঋণ সুরক্ষার জন্য হস্তান্তর করা হয়, তবে প্রথমে কোন খাতে অর্থ ব্যবহার করা হবে?
  1. হস্তান্তরকারীর লাভের জন্য
  2. সুদ পরিশোধের জন্য
  3. আদায়ের ব্যয়ের জন্য
  4. পরিশোধিত মূল ঋণের জন্য
ব্যাখ্যা
ধারা ১৩৪: বন্ধক রাখা ঋণ:
যদি কোনো ঋণ ভবিষ্যৎ বা বিদ্যমান কোনো ঋণ সুরক্ষার জন্য হস্তান্তর করা হয়, তবে হস্তান্তরিত ঋণ থেকে প্রাপ্ত অর্থ বা আদায়কৃত অর্থ নিম্নোক্তভাবে ব্যবহৃত হবে:
১. প্রথমে, আদায়ের ব্যয় পরিশোধে,
২. দ্বিতীয়ত, হস্তান্তরের মাধ্যমে যে পরিমাণ অর্থ সুরক্ষিত তা পরিশোধে,
৩. এবং অবশিষ্ট অর্থ (যদি থাকে) হস্তান্তরকারীর বা প্রাপ্য ব্যক্তির হবে।
১০,৫৭০.
নিম্নের কোন ধরনের আইনের উপর দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর কোনো প্রভাব নেই?
  1.  বিশেষ আইন
  2. স্থানীয় আইন
  3. সামরিক বিদ্রোহ ও পরিত্যাগ সংক্রান্ত আইন 
  4.  উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর ধারা ৫ অনুযায়ী এই আইন কোনো বিশেষ আইন, স্থানীয় আইন কিংবা সামরিক বিদ্রোহ ও পরিত্যাগ সংক্রান্ত আইনকে বাতিল, পরিবর্তন বা স্থগিত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত নয়। অর্থাৎ, দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর বিধানগুলো এই তিন ধরনের আইনের উপর কোনো প্রভাব বিস্তার করে না। তাই প্রশ্নে উল্লিখিত অপশন সবগুলোই সঠিক এবং উত্তর হবে “উল্লিখিত সবগুলো”।
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৫ অনুসারে, এই আইন কোনো বিশেষ আইন, স্থানীয় আইন বা সামরিক বিদ্রোহ ও পরিত্যাগ সংক্রান্ত আইনের বিধানকে বাতিল, পরিবর্তন, স্থগিত বা প্রভাবিত করার উদ্দেশ্য রাখে না। 
------
⇒ The Penal Code, 1860- Section: 5. Certain laws not to be affected by this Act:
- Nothing in this Act is intended to repeal, vary, suspend, or affect any of the provisions of any Act for punishing mutiny and desertion of officers, soldiers, sailors or airmen in the service of the Republic, or of any special or local law.

১০,৫৭১.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ২২ক অনুসারে, ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত মৌখিক স্বীকারোক্তি কখন প্রাসঙ্গিক?
  1. সবসময় প্রাসঙ্গিক
  2. যখন আদালত ইচ্ছা করে
  3. যখন ডিজিটাল রেকর্ড হারিয়ে গেছে
  4. যখন ডিজিটাল রেকর্ডের সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ২২ক (22A) অনুসারে, ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত মৌখিক স্বীকারোক্তি তখনই প্রাসঙ্গিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য, যখন ডিজিটাল রেকর্ডের সত্যতা (genuineness) প্রশ্নবিদ্ধ।
- অর্থাৎ, যখন ডিজিটাল রেকর্ডের সত্যতা (genuineness) প্রশ্নবিদ্ধ হয়, কেবলমাত্র তখনই ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত মৌখিক স্বীকারোক্তি প্রাসঙ্গিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ২২ক ধারার বিধান: যখন ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক:-দাখিলকৃত ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা নিয়ে কোন প্রশ্ন উত্থাপন না হলে, ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু হিসাবে মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয়।
-------------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section 22A: When oral admissions as to contents of digital records are relevant: Oral admissions as to the contents of digital records are not relevant, unless the genuineness of the digital record produced is in question.

১০,৫৭২.
নিম্নলিখিত কোন পরিস্থিতিতে অধিকারবলে আপীল বিভাগে আপীল করা যায়?
  1. যখন হাইকোর্ট বিভাগ কোন ব্যক্তিকে যেকোন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে
  2. যখন হাইকোর্ট বিভাগ কোন ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে
  3. যখন হাইকোর্ট বিভাগ কোন মামলার শুনানি করতে অস্বীকৃতি জানায়
  4. যখন হাইকোর্ট বিভাগ কোন ব্যক্তিকে ১০ বছরের অধিক কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১০৩- আপীল বিভাগের এখতিয়ার:
(১) হাইকোর্ট বিভাগের রায়, ডিক্রী, আদেশ বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল শুনানীর ও তাহা নিষ্পত্তির এখতিয়ার আপীল বিভাগের থাকিবে। 
 
(২) হাইকোর্ট বিভাগের রায়, ডিক্রী, আদেশ বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগের নিকট সেই ক্ষেত্রে অধিকারবলে আপীল করা যাইবে, যে ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ-
(ক) এই মর্মে সার্টিফিকেট দান করিবেন যে, মামলাটির সহিত এই সংবিধান-ব্যাখ্যার বিষয়ে আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত রহিয়াছে; অথবা 
(খ) কোন মৃত্যুদণ্ড বহাল করিয়াছেন কিংবা কোন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করিয়াছেন; অথবা
(গ) উক্ত বিভাগের অবমাননার জন্য কোন ব্যক্তিকে দণ্ডদান করিয়াছেন; 
 
এবং সংসদে আইন-দ্বারা যেরূপ বিধান করা হইবে, সেইরূপ অন্যান্য ক্ষেত্রে। 
 
(৩) হাইকোর্ট বিভাগের রায়, ডিক্রী, আদেশ বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে যে মামলায় এই অনুচ্ছেদের (২) দফা প্রযোজ্য নহে, কেবল আপীল বিভাগ আপীলের অনুমতিদান করিলে সেই মামলায় আপীল চলিবে। 
 
(৪) সংসদ আইনের দ্বারা ঘোষণা করিতে পারিবেন যে, এই অনুচ্ছেদের বিধানসমূহ হাইকোর্ট বিভাগের প্রসঙ্গে যেরূপ প্রযোজ্য, অন্য কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রেও তাহা সেইরূপ প্রযোজ্য হইবে।
১০,৫৭৩.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টের বিধি প্রণয়ন ক্ষমতা বর্ণিত হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১০৫
  2. অনুচ্ছেদ ১০৬
  3. অনুচ্ছেদ ১০৭
  4. অনুচ্ছেদ ১০৮
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ ১০৭- সুপ্রীম কোর্টের বিধিপ্রণয়ন-ক্ষমতা:
(১) সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইন-সাপেক্ষে সুপ্রীম কোর্ট রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লইয়া প্রত্যেক বিভাগের এবং অধঃস্তন যে কোন আদালতের রীতি ও পদ্ধতি-নিয়ন্ত্রণের জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করিতে পারিবেন।

(২) সুপ্রীম কোর্ট এই অনুচ্ছেদের (১) দফা এবং এই সংবিধানের ১১৩ ও ১১৬ অনুচ্ছেদের অধীন দায়িত্বসমূহের ভার উক্ত আদালতের কোন একটি বিভাগকে কিংবা এক বা একাধিক বিচারককে অর্পণ করিতে পারিবেন।

(৩) এই অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত বিধিসমূহ-সাপেক্ষে কোন্ কোন্ বিচারককে লইয়া কোন্ বিভাগের কোন্ বেঞ্চ গঠিত হইবে এবং কোন্ কোন্ বিচারক কোন্ উদ্দেশ্যে আসন গ্রহণ করিবেন, তাহা প্রধান বিচারপতি নির্ধারণ করিবেন।

(৪) প্রধান বিচারপতি সুপ্রীম কোর্টের যে কোন বিভাগের কর্মে প্রবীণতম বিচারককে সেই বিভাগে এই অনুচ্ছেদের (৩) দফা কিংবা এই অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত বিধিসমূহ-দ্বারা অর্পিত যে কোন ক্ষমতাপ্রয়োগের ভার প্রদান করিতে পারিবেন।

১০,৫৭৪.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কিত বিধান রয়েছে?
  1. ১১৫ অনুচ্ছেদ
  2. ১১৭ অনুচ্ছেদ
  3. ১১৮ অনুচ্ছেদ
  4. ১১৯ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৭ অনুচ্ছেদে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কিত বিস্তারিত বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদটি সংবিধানের তৃতীয় পরিচ্ছেদ (প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল) এর অধীনে পড়ে।
→ ১১৭ অনুচ্ছেদের মূল বিষয়বস্তু:
১. প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত – সংসদ আইনের দ্বারা এক বা একাধিক প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
২. এই ট্রাইব্যুনালগুলো নিম্নলিখিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে:
- নবম ভাগে বর্ণিত সরকারি কর্মচারীদের চাকরির শর্তাদি।
- রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বা সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম।
১০২(৩) দফার আওতাভুক্ত আইনসংক্রান্ত বিষয়।
৩. ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়ে অন্য আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারবে না, তবে সংসদ চাইলে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বা পুনর্বিবেচনার বিধান করতে পারে।

অতএব, সংবিধানের ১১৭ অনুচ্ছেদ-এ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
- এটি প্রশাসনিক বিচারব্যবস্থা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ব্যবস্থা, যা বিচারব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করে।
১০,৫৭৫.
‘ক’ ‘খ’ এর বিরুদ্ধে ৫০,০০০/- টাকার দাবীতে একটি মোকদ্দমা দায়ের করে। উক্ত মোকদ্দমায় ‘খ’ লিখিত জবাব দিয়ে জবাবে দাবী উত্থাপন করে যে, ‘খ’ ‘ক’ এর নিকট ৪০,০০০/- টাকা পাওয়ান আছে। ‘খ’ এর এই দাবিটি হলো?
  1. পাল্টা দাবী (Counter claim)
  2. পারাস্পরিক দায় শোধ (Set off)
  3. মধ্যস্থতা
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি  আদেশ ৮ এর বিধি ৬ অনুযায়ী পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ (Set off) হলো বিবাদীর বিরুদ্ধে বাদী যখন অর্থ আদায়ের মামলা করে তখন বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার দাবী/আবেদন। সহজ ভাষায়, সেট অফ অর্থ হল কোন দাবীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত আরেকটি দাবী।
⇒ অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদী যদি পূর্বেই বাদীর নিকট কোন পরিমাণ অর্থ পাওনা থাকে তবে বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার জন্য বিবাদী যে আবেদন করে তাকে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ বলে।
⇒সেট অফের আবেদনের সময়- ৮ নং আদেশের ৬ বিধি অনুযায়ী কোন মোকদ্দমার প্রথম শুনানির তারিখেই (at the first hearing of suit) লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে সেট অফের দাবি করতে হয়।
⇒ প্রথম শুনানির পর আদালতে সেট অফের জন্য লিখিত জবাব দাখিল করা যাবে না। তবে আদালত অনুমতি দিলে প্রথম শুনানির পরও Set off এর দাবি করা যায়।
সেট অফের আবেদনের শর্ত- 
i) মোকদ্দমাটি অর্থ আদায়ের মোকদ্দমা হবে।
ii) দাবীকৃত অর্থের পরিমান নির্দিষ্ট হবে।
iii) দাবীকৃত অর্থ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত ও আইনগতভাবে আদায়যোগ্য হবে। অর্থাৎ বিবাদি সেই পরিমান টাকার দাবি সমন্বয় চাইতে পারবে যার পরিমান ঐ বিচারিক আর্থিক এখতিয়ারের সমপরিমান হবে। বিচারিক আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের বেশি হলে সে রকম পরিমাণের টাকার জন্য বিবাদি সেট-অফ দাবি করতে পারবে না।
iv) দাবি-দাওয়ার ক্ষেত্রে বাদী বা বিবাদী উভয়কেই একই চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। অর্থাৎ মামলায় বাদী-বিবাদী একে অন্যের নিকট পাওনাদার বা দেনাদার না হলে সেই মামলায় সেট-অফের দাবি করা যাবে না।
⇒ সেট-অফের মোকদ্দমায় আদালত বাদীর মূল দাবি এবং বিবাদীর সেট অফের ব্যাপারে এক সঙ্গে চূড়ান্ত রায় প্রদান করতে পারেন।
⇒ যদি বাদীর দাবীর চেয়ে বিবাদী দাবী বেশি হয় তাহলে এটি Counter claim


১০,৫৭৬.
মোকদ্দমা দায়েরের পর আরজি ফেরত দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মোকদ্দমার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তখন আপনি কি করবেন?
  1. আরজির সাথে ৫ ধারায় বিলম্ব মওকুফের আবেদন করবেন
  2. আরজির সাথে ৯ ধারায় বিলম্ব মওকুফের আবেদন করবেন
  3. আরজির সাথে ১৪ ধারায় বিলম্ব মওকুফের আবেদন করবেন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦আমাদি আইনের ১৪ ধারা মোকদ্দমার | Suit) মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মোকদ্দমা দায়েরের পর আরজি ফেনাত দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মোকদ্দমার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পূর্ববর্তী আদালতে ব্যয়িত সময় বাদ দিয়ে তামাদির মেয়াদ গণনার জন্য ১৪ ধারায় আবেদন করতে হবে।
১০,৫৭৭.
Land Survey Tribunal এর কোন রায় বা ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে কত দিনের মধ্যে Land Survey Appellate Tribunal এ আপীল করা যায়?
  1. ২ মাসের মধ্যে
  2. ৩ মাসের মধ্যে
  3. ৬ মাসের মধ্যে
  4. ১ মাসের মধ্যে
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহন এবং প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর ১৪৫খ ধারা অনুসারে, সরকার ল্যান্ড সার্ভে আপীলেট ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করতে পারে। ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপীল শুনানীর জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক ল্যান্ড সার্ভে আপীলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারে। 
বিচারক নিয়োগ (ধারা ১৪৫খ (৩):
সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বিচারকগণের মধ্যে হতে কোন ব্যক্তিকে সরকার ল্যান্ড সার্ভে আপীলেট বিচারক নিযুক্ত করবর।

আপীল এখতিয়ার (ধারা ১৪৫খ (৪)]:
শুধুমাত্র ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে ল্যান্ড সার্ভে আপীলো ট্রাইব্যুনালে আপীল দায়ের করা যাবে। ইহা ব্যতীত অন্যকোন আপীল দায়ের করা যাবে না।

আপীল দায়েরের সময়সীমা (ধারা ১৪৫খ (৫)):
Land Survey Tribunal এর কোন রায় বা ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে ৩ মাসের মধ্যে Land Survey Appellate Tribunal এ আপীল করা যায়। ১৪৫খ ধারার (৫) উপ-ধারায় উল্লেখিত ৩ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে আপীল গ্রহণ করা যেতে পারে, যদি আপীল প্রথম ৩ মাসের মধ্যে দায়ের করতে না পারার যথেষ্ট কারণ আপীলকারী দেখাতে পারে।
১০,৫৭৮.
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর কোন ধারায় বলা হয়েছে যে, ভুল দায়রা বিভাগ বা জেলায় বিচার হলেও তা বাতিল হবে না, যদি না ন্যায়বিচারে ব্যর্থতা ঘটে?
  1. ধারা ৫২৯
  2. ধারা ৫৩০
  3. ধারা ৫৩১
  4. ধারা ৫৩৫
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫৩১ অনুযায়ী: কোনো ফৌজদারি আদালতের রায়, আদেশ বা দণ্ড শুধুমাত্র এই কারণে বাতিল হবে না যে বিচার বা তদন্ত ভুল দায়রা বিভাগ, জেলা বা স্থানীয় এলাকায় হয়েছে।
তবে, যদি প্রমাণিত হয় যে এই ভুলের কারণে ন্যায়বিচারে ব্যর্থতা (failure of justice) ঘটেছে, তখনই তা বাতিল হতে পারে।

অর্থাৎ কোনো ফৌজদারি আদালতের রায়, দণ্ড বা আদেশ শুধুমাত্র এই কারণে বাতিল করা হবে না যে তদন্ত, বিচার বা কার্যক্রম ভুল দায়রা বিভাগ, জেলা বা স্থানীয় এলাকায় হয়েছে যতক্ষণ না এই ভুল প্রকৃতপক্ষে ন্যায়বিচারে ব্যর্থতা (failure of justice) ঘটায়।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 531. Proceedings in wrong place:
No finding, sentence or order of any Criminal Court shall be set aside merely on the ground that the inquiry, trial or other proceeding in the course of which it was arrived at or passed, took place in a wrong sessions division, district, or other local area, unless it appears that such error has in fact occasioned a failure of justice.

১০,৫৭৯.
The Code of Criminal Procedure, 1898-এর কোন ধারায় Power to issue directions of the nature of a habeas corpus বর্ণিত হয়েছে?
  1. ৪১৭ ক
  2. ৪৯১
  3. ৪০২
  4. ৪০৩
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯১ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ হেবিয়াস কর্পাস প্রকৃতির নির্দেশ দিতে পারে।
ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯১ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগ direction of the nature of a habeas corpus ইস্যু করতে পারে। যখন কোন ব্যক্তিকে বেআইনীভাব আটক করা হয়, তখন বন্দী হাজির রিট [ writ of habeas corpus] পিটিশন দায়ের করা যায়। যে কোন ব্যক্তি বন্দী হাজির রিট দায়ের করতে পারবে। বন্দী হাজির অর্থ হলো বন্দীকে আদালতে হাজির করা।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১ ধারার বিধানঃ (১) হাইকোর্ট বিভাগ যখনই উপযুক্ত মনে করেন, তখন নির্দেশ দিতে পারবেন যে,
ক) ইহার ফৌজদারী আপীল এখতিয়ারের সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন ব্যক্তি সম্পর্কে আইনানুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে আদালতে হাজির করা হোক;
খ) উপরিউক্ত সীমার মধ্যে সরকারী বা বেসরকারী হেফাজতে বে-আইনীভাবে বা অযৌক্তিকভাবে আটক কোন ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়া হোক;
গ) আদালতের বিবেচনাধীন বা অনুসন্ধানাধীন কোন বিষয়ে সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দী দিবার জন্য উপরিউক্ত সীমার মধ্যে অবস্থিত কোন জেলে আটক কোন বন্দীকে আদালতে হাজির করা হোক;
ঘ) কোন কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের বিবেচনাধীন কোন বিষয় বিচারের জন্য বা সাক্ষী দিবার জন্য উক্তরূপে আটক কোন বন্দীকে উক্ত কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের নিকট হাজির করা হোক;
ঙ) উপরিউক্ত সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন বন্দীকে বিচারের উদ্দেশ্যে এক হেফাজত হতে অন্য হেফাজতে অপসারণ করা হোক; এবং
চ) বাদ দেয়া হয়েছে।
(২) মামলার পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সুপ্রীমকোর্ট সময়ে সময়ে এই ধারার অধীন নিয়ম প্রণয়ন করতে পারবেন।
(৩) এই ধারার কোন বিধানই বর্তমান বলবৎ কোন নিবারণমূলক আটক আইনের অধীন আটক ব্যক্তিদের প্রতি প্রযোজ্য নহে।

অর্থাৎ ৪৯১ ধারামতে হাইকোর্ট বিভাগ নিম্নলিখিত হেবিয়াস কর্পাস প্রকৃতির আদেশ প্রদান করতে পারে, যথা
i) আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোন ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করতে।
ii) বেআইনী বা অযৌক্তিকভাবে সরকারি বা বেসরকারী হেফাজতে আটক ব্যক্তির মুক্তিত
iii) জেলখানা বা কারাগারে আটক কোন ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দী দেয়ার জন্য আদালতে হাজির করতে
iv) কোন কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের নিকট বিচার বা সাক্ষাৎ দেয়ার জন্য হাজির;
v) এক হেফাজত হতে অন্য হেফাজতে বিচারের জন্য কোন বন্দিকে স্থানান্তর।

DIRECTIONS OF THE NATURE OF A Habeas Corpus
Section 491. Power to issue directions of the nature of a habeas corpus
(1) The High Court Division may, whenever it thinks fit, direct:-
(a) that a person within the limits of its appellate criminal jurisdiction be brought up before the Court to be dealt with according to law;
(b) that a person illegally or improperly detained in public or private custody with such limits be set at liberty;
(c) that a prisoner detained in any jail situate within such limits be brought before the Court to be there examined as a witness in any matter pending or to be inquired into in such Court;
(d) that a prisoner detained as aforesaid be brought before a Court-martial or any Commissioners for trial or to be examined touching any matter pending before such Court-martial or Commissioners respectively;
(e) that a prisoner within such limits be removed from one custody to another for the purpose of trial ; and
(2) The [Supreme Court] may, from time to time, frame rules to regulate the procedure in cases under this section.
(3) Nothing in this section applies to persons detained under any law for the time being in force providing for preventive detention.
১০,৫৮০.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫৪ অনুসারে, অভিযুক্ত ব্যক্তির খারাপ চরিত্র সাধারণত:
  1. সর্বদা প্রাসঙ্গিক
  2. কেবলমাত্র সাক্ষীর মাধ্যমে প্রমাণযোগ্য
  3. অপ্রাসঙ্গিক, যদি না ভালো চরিত্রের প্রমাণ দেওয়া হয়
  4. কখনোই আদালতে উপস্থাপনযোগ্য নয়
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫৪:
ফৌজদারী মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির খারাপ চরিত্র অপ্রাসঙ্গিক, যদি না তার ভালো চরিত্র সম্পর্কে প্রমাণ দেওয়া হয়, যার ফলে তার খারাপ চরিত্র প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

ব্যাখ্যা ১- যেখানে কোনো ব্যক্তির খারাপ চরিত্রই বিচার্য বিষয়, সেখানে এই ধারা প্রযোজ্য নয়।
ব্যাখ্যা ২- পূর্বের দোষী সাব্যস্ত খারাপ চরিত্রের প্রমাণ হিসেবে প্রাসঙ্গিক।
১০,৫৮১.
সরকার কার অনুমোদন নিয়ে চিফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেটকে তার অধীনস্থ কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে কোনো মামলা প্রত্যাহারের ক্ষমতা প্রদান করতে পারে?
  1. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  2. মহানগর দায়রা জজ
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২৮(৩):
সরকার হাইকোর্ট বিভাগের (High Court Division)-এর অনুমোদন নিয়ে চিফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে
তার অধীনস্থ কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে কোনো মামলা বা কোনো নির্দিষ্ট ধরনের মামলা প্রত্যাহারের ক্ষমতা প্রদান করতে পারে।

১০,৫৮২.
ফৌজদারি কার্যধারা স্থগিতের জন্য আদালত কোন ধরনের নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে?
  1. অস্থায়ী
  2. চিরস্থায়ী
  3. অন্তর্বর্তীকালীন
  4. কোনোটাই নয়
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারামতে, নিম্নলিখিত ১১টি ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না। যথা-
i) বিচারাধীন কার্যধারা স্থগিত;
ii) অধীনস্ত নয় এরূপ আদালতের কার্যধারা স্থগিত;
iii) আইন প্রনয়নকারী সংস্থার নিকট আবেদনে বাধা;

iv) সরকারী দপ্তর বা বিদেশি সরকারের কার্যে হস্তক্ষেপ;
v) ফৌজদারি কার্যধারা স্থগিত;
vi) অবলবৎযোগ্য চুক্তিভঙ্গ নিরোধের প্রশ্নে;
vii) উৎপাত (nuisance) নয় এমন কাজ নিরোধের জন্য;

viii) বাদীর মৌন সম্মতির প্রশ্নে;
ix) অন্য কোন পদ্ধতিতে একই প্রতিকারের ক্ষেত্রে;
x) বাদীর আচরন আদালতের সাহায্য পেতে বঞ্চিত করলে; অথবা
xi) মামলার বিষয়বস্তুতে বাদীর কোন স্বার্থ না থাকলে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না।
১০,৫৮৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৪ বিধি ২ অনুসারে, যদি মোকদ্দমায় আইনগত ও তথ্যগত উভয় ইস্যু থাকে, তবে আদালত কোনটি প্রথমে বিচার করবে?
  1. তথ্যগত ইস্যু
  2. আইনগত ইস্যু
  3. উভয় ইস্যু একসাথে
  4. পক্ষগণের সম্মতি অনুযায়ী
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ১৪ বিধি ২ অনুসারে, যদি কোনো মোকদ্দমায় আইনগত এবং তথ্যগত উভয় প্রকারের ইস্যু উত্থাপিত হয় এবং আদালত মনে করে যে মোকদ্দমা বা এর কোনো অংশ শুধুমাত্র আইনগত ইস্যুর ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা যায়, তবে আদালত আইনগত ইস্যুগুলো প্রথমে বিচার করবে। এই উদ্দেশ্যে আদালত তথ্যগত ইস্যু নির্ধারণ স্থগিত রাখতে পারে। এটি মোকদ্দমার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার জন্য করা হয়, যদি আইনগত ইস্যু দ্বারা মোকদ্দমা সমাধান করা সম্ভব হয়।
----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-14, Rule-2.Issues of law and of fact: 
Where issues both of law and of fact arise in the same suit, and the Court is of opinion that the case or any part thereof may be disposed of on the issues of law only, it shall try those issues first, and for that purpose may, if it thinks fit, postpone the settlement of the issues of fact until after the issues of law have been determined.

১০,৫৮৪.
সংবাদ মাধ্যমে নির্যাতিতা নারী ও শিশুর পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে অনধিক কত টাকা অর্থদণ্ড দেয়া যেতে পারে?
  1. ৫০,০০০ টাকা
  2. ২,০০,০০ টাকা
  3. ১,০০,০০০ টাকা
  4. ৩,০০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
ধারা ১৪- সংবাদ মাধ্যমে নির্যাতিতা নারী ও শিশুর পরিচয় প্রকাশের ব্যাপারে বাধা-নিষেধ

(১) এই আইনে বর্ণিত অপরাধের শিকার হইয়াছেন এইরূপ নারী বা শিশুর ব্যাপারে সংঘটিত অপরাধ বা তত্সম্পর্কিত আইনগত কার্যধারার সংবাদ বা তথ্য বা নাম-ঠিকানা বা অন্যবিধ তথ্য কোন সংবাদ পত্রে বা অন্য কোন সংবাদ মাধ্যমে এমনভাবে প্রকাশ বা পরিবেশন করা যাইবে যাহাতে উক্ত নারী বা শিশুর পরিচয় প্রকাশ না পায় ।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করা হইলে উক্ত লংঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের প্রত্যেকে অনধিক দুই বৎসর কারাদণ্ডে বা অনূর্ধ্ব এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

Section 14: Prohibition on publishing acquaintance of a woman or a child oppressed, in new media

i. Any news, information or name & address or any other information regarding any offence, under this Act, committed or any legal proceeding thereof, of which a woman or a child is the victim, shall be published or presented as such that the acquaintance of the woman or the child shall be undisclosed.

ii. In case, where the provision under sub-section (і) is infringed, the person or persons liable for such infringement, each shall be punished with imprisonment for either description, which may extend to two years or with fine not exceeding one lac taka or both.
১০,৫৮৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির Section 35B(1) অনুযায়ী, আদালত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন বা লিখিত আপত্তি দাখিল না করলে সর্বোচ্চ কত টাকা খরচ দিতে হবে?
  1. ১,০০০ টাকা
  2. ২,০০০ টাকা
  3. ৩,০০০ টাকা
  4. ৫,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধির Section 35B(1) অনুযায়ী, যদি আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো আবেদন (application) বা লিখিত আপত্তি (written objection) দাখিল না করা হয়, তাহলে পরবর্তীতে সেই আবেদন বা আপত্তি শুনানির জন্য গৃহীত হতে পারে না, যতক্ষণ না দায়ী পক্ষ অপর পক্ষকে সর্বোচ্চ ২,০০০ (দুই হাজার) টাকা খরচ প্রদান করে।
---------- 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 Section- 35B. Cost for delay in making applications, etc., in respect of interlocutory matters.
(1) If at any stage of a suit or proceeding, an application or written objection is not filed within the time fixed by the Court, such application or written objection, as the case may be, shall not be admitted for hearing without payment by that party of such cost to the other party not exceeding two thousand taka.
(2) If after filing of written statement, any party to the suit makes an application in respect of any matter which, in the opinion of the Court, could and ought to have been made earlier, and is likely to delay the main proceeding of the suit, the Court may admit, but shall not hear and dispose of the application, without payment by that party of such cost to the other party not exceeding three thousand taka, as it shall determine and direct, and upon failure to pay the cost, the application shall stand rejected.

১০,৫৮৬.
হাইকোর্ট ডিভিশনের রিভিশনের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোন শর্ত পূরণ না হলে আসামির বিরুদ্ধে আদেশ দেওয়া যাবে না?
  1. মামলার তদন্ত শেষ না হলে
  2. আসামি জামিনে থাকলে
  3. সাক্ষী অনুপস্থিত থাকলে
  4. আসামি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না পেলে
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৯ ধারা – হাইকোর্ট ডিভিশনের রিভিশনের ক্ষমতা:
(১) হাইকোর্ট ডিভিশন, নিজে যে মামলার নথি তলব করেছে, বা যা আদেশের জন্য প্রেরিত হয়েছে, বা যা অন্য কোনওভাবে হাইকোর্ট ডিভিশনের গোচরীভূত হয়েছে—সেই মামলার ক্ষেত্রে, হাইকোর্ট ডিভিশন বিচারিক ক্ষমতাবলে ধারা ৪২৩, ৪২৬, ৪২৭ ও ৪২৮ এ আপীল আদালতকে অথবা ধারা ৪৩৮-এ কোনো আদালতকে প্রদত্ত ক্ষমতার যেকোনোটি প্রয়োগ করতে পারবে এবং দণ্ড বৃদ্ধি করতে পারবে। আর, রিভিশনে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের বিচারকেরা যদি তাঁদের অভিমতে সমানভাবে বিভক্ত হন, তাহলে মামলাটি ধারা ৪২৯ এ উল্লিখিত পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করতে হবে।

(২) আসামি যদি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না পায়- নিজে বা অ্যাডভোকেটের মাধ্যমে- তাহলে এই ধারা অনুসারে তার বিরুদ্ধে কোনো আদেশ দেওয়া যাবে না।

(৩) এই ধারায় সংশ্লিষ্ট দণ্ড যদি কোনো ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদান করা হয়ে থাকে এবং আদালত মনে করেন যে আসামি উক্ত অপরাধ সংঘটন করেছে, তবে সেই অপরাধের জন্য কোনো মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট যে দণ্ড দিতে পারতেন, আদালত তার চেয়ে অধিক দণ্ড দিতে পারবে না।

(৪) এই ধারায় এমন কিছু নেই যা থেকে ধারণা করা যায় যে হাইকোর্ট ডিভিশন খালাসের অভিমতকে দণ্ডের অভিমতে রূপান্তর করতে পারবে অথবা দায়রা জজ কর্তৃক ধারা ৪৩৯ক এর অধীন প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশনে কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারবে।

(৫) যে ক্ষেত্রে এই বিধির অধীন আপীল করা যায়, কিন্তু আপীল দায়ের করা হয়নি—সেই ক্ষেত্রে যে পক্ষ আপীল দায়ের করতে পারত, সেই পক্ষের প্রচেষ্টায় রিভিশনের মাধ্যমে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।

(৬) এই ধারায় যাই বলা থাকুক না কেন, যদি দণ্ডিত ব্যক্তিকে তার দণ্ড কেন বৃদ্ধি করা হবে না, সেই সম্পর্কে উপধারা (২) অনুযায়ী কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হয়, তবে সে তার দণ্ডের বিরুদ্ধেও কারণ দর্শাতে অধিকারী হবে।
১০,৫৮৭.
পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত ধারায় মোট কয়টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ৬টি
  2. ৫টি
  3. ৪টি
  4. ৩টি
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৫ অনুসারে, পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত মোট ৫টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে: (ক) বিবাহ বিচ্ছেদ, (খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, (গ) দেনমোহর, (ঘ) ভরণপোষণ, এবং (ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান। এই ধারা মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে এই বিষয়গুলোর মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার ও নিষ্পত্তির এখতিয়ার প্রদান করে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারার বিধান: পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা:-
(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।

১০,৫৮৮.
এক দেওয়ানি মোকদ্দমায় বিবাদী খরচ প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার কারণে, আদালত আদেশ ১৭ বিধি ৩ এর অধীন মোকদ্দমাটি একতরফা নিষ্পত্তি করে দেয়। বিবাদী কতদিনের মধ্যে মোকদ্দমা পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করতে পারবে?
  1. ১৫ দিনের মধ্যে
  2. ৩০ দিনের মধ্যে
  3. ৬০ দিনের মধ্যে
  4. ৯০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
আদেশ ১৭ বিধি ১(৭): মোকদ্দমার কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত বা পুনরুদ্ধারের আবেদন:
খরচ প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার কারণে যদি ১৭ আদেশের বিধি ১ এর ৩ এবং ৪ এর অধীন কোন মোকদ্দমা খারিজ কিংবা একতরফা নিষ্পত্তি হয়, যে পক্ষের কারণে খারিজ বা একতরফা নিষ্পত্তি হয়েছে সেই পক্ষ খারিজ বা একতরফা নিষ্পত্তির তারিখ হতে ত্রিশ (৩০) দিনের মধ্যে ২০০০ টাকা খরচা জমা দিয়ে মোকদ্দমাটি পুনরায় চালুর জন্য বা পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করলে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করতে পারে। অর্থাৎ ৩০ দিনের মধ্যে ২০০০ টাকা খরচ দিয়ে মোকদ্দমার কার্যক্রমটি পুনর্বহালের আবেদন করতে হবে। অধিকতর কোন কার্যক্রম গ্রহণ ছাড়া মোকদ্দমাটি শুনানীর জন্য পুনরুজ্জীবিত হবে এবং আদালতে জমাকৃত খরচ অন্যপক্ষকে দেওয়া হবে।
১০,৫৮৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩২ বিধি-১ অনুসারে, নাবালকের পক্ষে মামলা কে দায়ের করবেন?
  1. স্বয়ং নাবালক
  2. নেক্সট ফ্রেন্ড 
  3. সরকারি অভিভাবক
  4. আদালতের কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC), আদেশ ৩২, বিধি ১ অনুযায়ী: “Every suit by a minor shall be instituted in his name by a person who in such suit shall be called the next friend of the minor.”
অর্থাৎ, নাবালক (যিনি আইনত মামলা করার যোগ্য নন) যদি কোন দেওয়ানি মামলা করতে চান, তাহলে সেই মামলা তার নিজ নামে, কিন্তু একজন প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে দায়ের করতে হবে, যাকে বলা হয় "নেক্সট ফ্রেন্ড (Next Friend)"। এই ব্যক্তি নাবালকের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এবং তার স্বার্থ রক্ষা করেন।

- নাবালক নিজে মামলা দায়ের করতে পারে না।
- নেক্সট ফ্রেন্ডের মাধ্যমে মামলাটি দায়ের করতে হয়।
- নেক্সট ফ্রেন্ড হতে হবে এমন একজন ব্যক্তি যার স্বার্থ নাবালকের বিপরীত নয়।
- যদি কোন নেক্সট ফ্রেন্ড না থাকে, আদালত বিবাদীর আবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি খারিজ করতে পারে (বিধি ২)।
১০,৫৯০.
তামাদি আইনের বিধান অনুসারে অসাধুভাবে আত্মসাৎ করা অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের মামলার তামাদির মেয়াদ কত বছর?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৪৮ এর বিধান অনুযায়ী, অসাধুভাবে আত্মসাৎকৃত অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা তার জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ হলো ৩ (তিন) বছর।

গুরুত্বপূর্ণ দিক:
- তামাদি মেয়াদ: ৩ বছর
- সময় গণনার সূচনা: সম্পত্তির আসল মালিক যেদিন প্রথমবার জানতে পারেন যে সম্পত্তিটি বর্তমানে কার কাছে রয়েছে সেদিন থেকে।

⇒ প্রযোজ্য ক্ষেত্র: এই বিধানটি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য:
- হারানো সম্পত্তি। 
- চুরি হওয়া সম্পত্তি। 
- অসাধুভাবে আত্মসাৎকৃত (Dishonest Misappropriation) সম্পত্তি। 
- অন্যায়ভাবে আটককৃত সম্পত্তি। 
সুতরাং, অসাধুভাবে আত্মসাৎকৃত অস্থাবর সম্পত্তি ফেরত পেতে বা তার ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা ৩ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।


১০,৫৯১.
বাংলাদেশ আইনজীবী ও বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১১ অনুযায়ী, বার কাউন্সিলের কোন কমিটির সদস্য সংখ্যা ৯ জন?
  1. নির্বাহী কমিটি
  2. আর্থিক কমিটি
  3. আইন শিক্ষা কমিটি
  4. তালিকাভুক্ত কমিটি
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ আইনজীবী ও বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১১(১)(গ) অনুযায়ী: আইন শিক্ষা কমিটি (Legal Education Committee) গঠিত হবে ৯ জন সদস্য নিয়ে—
যার মধ্যে - ৫ জন হবেন বার কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত, এবং ৪ জন হবেন কো-অপ্টেড সদস্য, যাঁরা কাউন্সিলের সদস্য নন, এবং
এই ৪ জন কো-অপ্টেড সদস্যের মধ্যে অন্তত ২ জন হতে হবে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের আইন বিভাগের শিক্ষক।

অন্যদিকে:
নির্বাহী কমিটি ও অর্থ কমিটি – উভয়ের সদস্য সংখ্যা মাত্র ৫ জন (অনুচ্ছেদ ১১(১)(ক) ও (খ) অনুযায়ী)।
"তালিকাভুক্ত কমিটি" নামে কোনো স্থায়ী কমিটি অনুচ্ছেদ ১১-তে উল্লেখ নেই।

⇒ বাংলাদেশ আইনজীবী ও বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২ - অনুচ্ছেদ ১১:
(১) বার কাউন্সিল নিম্নলিখিত স্থায়ী কমিটি গঠন করবে:
(ক) একটি নির্বাহী কমিটি, যা কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত পাঁচজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে;
(খ) একটি অর্থ কমিটি, যা কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত পাঁচজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে;
(গ) একটি আইন শিক্ষা কমিটি, যা নয়জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে—যার মধ্যে পাঁচজন কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন এবং চারজন কাউন্সিল কর্তৃক কো-অপ্টেড (co-opted) হবেন, যারা কাউন্সিলের সদস্য নন। এই চারজনের মধ্যে কমপক্ষে দুজন বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের আইন বিভাগের শিক্ষক হবেন।
(২) উল্লিখিত কমিটিগুলোর ক্ষমতা ও কার্যাবলী যেরূপ নির্ধারণ করা হবে, সেরূপ হবে।
(৩) বার কাউন্সিল এই আদেশের অধীনে তার কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য প্রয়োজন মনে করলে তার সদস্যদের মধ্য থেকে অন্যান্য কমিটি গঠন করতে পারবে।
---------------
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972, Article-11: (1) The Bar Council shall constitute the following standing committees namely:-
(a) an executive committee consisting of five members elected by the Council from amongst its members;
(c) a finance committee consisting of five members elected by the Council from amongst its members;
(d) a legal education committee consisting of nine members-five elected by the Council from amongst its members and four co-opted by the Council from persons other than the members of the Council at least two of whom shall be teachers of law in any university or college in Bangladesh.

(2) The aforesaid committees shall have such powers and functions as may be prescribed.
(3) The Bar Council may constitute from amongst its members such other committees as it may deem necessary for the performance of its functions under this Order.
১০,৫৯২.
স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় চুক্তিতে (Contract for sale) দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য ভিন্নরূপ সময় উল্লেখ না থাকলে তা কত সময়ের মধ্যে কার্যকর হবে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৩ মাস
  3. ৬ মাস
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ The Transfer of Property Act, 1882 এর ৫৪ক ধারার বিধান বিক্রয় চুক্তি নিবন্ধিত হতে হবে, প্রভৃতি:
 হস্তান্তরগ্রহীতা সম্পত্তি বা এর কোন অংশের দখল গ্রহণ করুক বা না করুক, কোন স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি শুধুমাত্র লিখিত দলিল সম্পাদন এবং The Registration Act, 1908 এর আওতায় রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে করা যাবে।
- স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তিতে বিক্রয় দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য যে সময়ের উল্লেখ থাকবে রেজিস্ট্রেশনের তারিখ হতে তা কার্যকর হবে এবং যদি কোন সময় উল্লেখ না থাকে তাহলে এই সময় ৬ মাস ধরে নিতে হবে।
---------------------
⇒ The Transfer of Property Act, 1882 Section 54A. Contract for sale to be registered, etc.

Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, a contract for sale of any immoveable property can be made only by an instrument in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof. 
 
In a contract for sale of any immoveable property, a time, to be effective from the date of registration, shall be mentioned for execution and registration of the instrument of sale, and if no time is mentioned, six months shall be deemed to be the time.
১০,৫৯৩.
নেতিবাচক নিষেধাজ্ঞা অর্জনের ক্ষেত্রে কোনো বাদীকে তার অংশের পালনীয় কাজের-
  1. অন্তত অর্ধেক সম্পন্ন করতে হবে
  2. অন্তত এক চতুর্থাংশ সম্পন্ন করতে হবে
  3. যতটুকু অবশ্যপালনীয়, ততটুকু অংশ সম্পন্ন করতে হবে
  4. ব্যর্থতা থাকলেও তা কোনো প্রভাব তৈরি করবে না
ব্যাখ্যা
The Specific Relief Act, 1877 এর ৫৭ ধারা- নেতিবাচক চুক্তি পালনের নিষেধাজ্ঞাঃ
ধারা ৫৬ এর উপধারা-(চ) এর বিধান সত্ত্বেও যেক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্টভাবে বা ইঙ্গিতবোধকভাবে কতিপয় নির্দিষ্ট কাজ করা এবং কতিপয় নির্দিষ্ট কাজ না করবার সম্মতির সমন্বয়, সেক্ষেত্রে হাঁ-সূচক চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনে বাধ্য করতে আদালত অসমর্থ হলেও সে পরিস্থিতি আদালতকে না সূচক কাজ সম্পাদন সম্বন্ধে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা থেকে নিবারণ করবে না।

তবে শর্ত থাকে যে, বাদী তার যতটুকু অবশ্যপালনীয়, চুক্তির ততটুকু পালনে ব্যর্থ হয় নাই।
১০,৫৯৪.
ট্রাষ্ট সম্পত্তির হিসাবের জন্য মামলা দায়ের করা হলে তা -
  1. তামাদির মেয়াদ হবে ১ বছর
  2. তামাদির মেয়াদ হবে ২ বছর
  3. তামাদির মেয়াদ হবে ৩ বছর
  4. তামাদি দ্বারা বারিত হবে না
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী,
যদি কোনো সম্পত্তি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট হিসেবে কারও কাছে ন্যস্ত (vested) থাকে, তাহলে সেই সম্পত্তির মালিক বা তার আইনি প্রতিনিধি বা অধিকারী (assigns) – যদি তারা বিনিময়ে কোনো মূল্য পরিশোধ না করে থাকেন – তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে তামাদি সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য নয়।

এর অর্থ হলো,
সুনির্দিষ্ট ট্রাস্টভুক্ত সম্পত্তি উদ্ধার বা তার হিসাব চাওয়ার জন্য মামলা দায়েরের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, যেকোনো সময় মামলা করা সম্ভব। তবে, এই বিধান সাধারণ সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, এটি কেবলমাত্র নির্দিষ্ট ট্রাস্টভুক্ত সম্পত্তি ও ধর্মীয় বা দাতব্য ট্রাস্টভুক্ত সম্পত্তি-এর জন্য প্রযোজ্য।
১০,৫৯৫.
তামাদি আইনের ৩ এবং ৫ ধারার মূল পার্থক্য কী?
  1. ৩ ধারা মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ দেয়, ৫ ধারা তা দেয় না
  2. ৫ ধারা মামলা খারিজের নিয়ম এবং ৩ ধারা আপিলের নিয়ম উল্লেখ করে
  3. ৩ ধারা সময়মতো মামলা দায়েরের নিয়ম উল্লেখ করে, ৫ ধারা মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ দেয়
  4. ৩ ধারা মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ দেয়, ৫ ধারা মামলা খারিজের নিয়ম উল্লেখ করে
ব্যাখ্যা
তামাদি আইন ৩ ধারা: মামলা খারিজ:
বাদীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলে আদালত মামলাটি খারিজ করে দিবে, এমনকি যদি বিবাদী তামাদির প্রশ্ন না তোলে।

তামাদি আইন ৫ ধারা:মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ:
কিছু ক্ষেত্রে আদালত মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ দিতে পারে। আপিল, রায় পুনর্বিচার, পুনরীক্ষণ বা দরখাস্ত দাখিলের সময় উত্তীর্ণ হলেও যদি আবেদনকারী আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারেন যে যথেষ্ট কারণ ছিল দেরির জন্য, তবে তা গ্রহণ করা হতে পারে। বাদীকে প্রমাণ করতে হবে বা আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হবে যে, মামলাটি তামাদিতে বারিত নয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দায়ের করা হয়েছে।
১০,৫৯৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের প্রধান কর্তব্যের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত?
  1. আইন মান্য করা
  2. শৃঙ্খলা বজায় রাখা
  3. জনগণের সেবা করা
  4. রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা করা
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের প্রধান কর্তব্যের মধ্যে "জনগণের সেবা করা" অন্তর্ভুক্ত।
→ সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ বলে যে, "সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।" এর মানে হলো, সরকারি কর্মচারীদের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা এবং তাদের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বদা সৎ ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করা।
- এছাড়া, ২১ অনুচ্ছেদে সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্যের মধ্যে আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা করাও অন্তর্ভুক্ত, তবে মূলত "জনগণের সেবা করা" তাদের প্রধান কর্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

→ সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য
(১) সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিকদায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য৷ 
(২) সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য৷
১০,৫৯৭.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ৯খ অনুযায়ী, বিবাহের প্রলোভনে যৌনকর্মের সর্বোচ্চ শাস্তি কত?
  1. ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
  2. ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
  3. ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
  4. ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ৯খ-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সাথে যৌনকর্ম করলে অপরাধী "অনধিক সাত বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে" দণ্ডনীয় হবেন। অর্থাৎ, এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এছাড়াও এই শাস্তির অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেরও বিধান রয়েছে।

⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ৯খ: বিয়ের প্রলোভনের মাধ্যমে যৌনকর্ম করিবার দণ্ড:
যদি কোন ব্যক্তি দৈহিক বলপ্রয়োগ ব্যতীত বিবাহের প্রলোভন দেখাইয়া ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সংগে যৌনকর্ম করেন এবং যদি উক্ত ঘটনার সময় উক্ত ব্যক্তির সহিত উক্ত নারীর আস্থাভাজন সম্পর্ক থাকে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক সাত বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

১০,৫৯৮.
কোন ডিক্রি রিভিশন মামলায় হাইকোর্ট বিভাগে বহাল থাকলে তা জারির জন্য কোন আদালতে দরখাস্ত করতে হয়?
  1. আপিল আদালতে
  2. ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে
  3. হাইকোর্ট বিভাগে
  4. জেলা আদালতে
ব্যাখ্যা
• জারিকারক আদালত (executing court)- কোন কোন আদালত ডিক্রি জারি করতে পারেন তা দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৮ ধারা থেকে ৪৬ ধারায় বলা হয়েছে। ৩৮ ধারায় বলা হয়েছে যে, যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছেন, সেই আদালত অথবা যে আদালতে ডিক্রিটি জারির জন্য প্রেরিত হয়েছে, সেই আদালত ডিক্রি জারি করতে পারেন।
• ডিক্রি জারির কাজ সর্বদা বিচারিক আদালত (Trial court) করে থাকে, এমনকি কোন ডিক্রির বিরূদ্ধে উচ্চতর আদালতে কোন আপিল বা রিভিশন করা হলে, উক্ত আপিল বা রিভিশনে প্রদত্ত ডিক্রির ক্ষেত্রেও মূল আদালত অর্থাৎ বিচারিক আদালতই (Trial court) ডিক্রি জারি করবে।

• আদেশ ২১ বিধি-১০ এর বিধান জারির আবেদন (Application for execution): ডিক্রিদার ডিক্রিটি জারি করতে চাইলে ডিক্রি প্রদানকারী আদালত বা ডিক্রি জারির জন্য যে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে সেই আদালতে আবেদন করবেন।
• ডিক্রিজারি সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি (objection) ডিক্রি জারিকারক আদালতই (executing court) নিষ্পত্তি করবে।
১০,৫৯৯.
ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ পাওয়ার কত দিন পর শুনানির দিন ধার্য করবেন?
  1. ১৫ দিন
  2. ২১ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৭ দিন
ব্যাখ্যা
♦বিধি-৪৫ অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ পাওয়ার ২১ দিন পর শুনানির দিন ধার্য করবেন।

♦ বিধি-৪৯ অনুযায়ী পদাধিকার বলে বার কাউন্সিলের সচিব ট্রাইব্যুনালের সচিব হবেন এবং ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ইস্যুকৃত প্রত্যেকটি নোটিশ জারি করবেন।
১০,৬০০.
এক ব্যক্তি তার পুত্রের দুই কন্যা ও তার একমাত্র আপন বোন রেখে মারা গেল। আপন বোন কী পরিমাণ সম্পত্তি পাবে?
  1. ২/৩ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/২ অংশ
  4. কোন অংশ পাবে না
ব্যাখ্যা
⇒ দুইজন পুত্রের কন্যা সম্মিলিতভাবে ২/৩ অংশ পাবে এবং আপন বোন অবশিষ্টাংশভোগী (Residuary) হিসেবে ১/৩ অংশ পাবে।

⇒ ইসলামী উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, আপন বোন (Full Sister) এর সম্পত্তির অংশ:
আপন বোন সম্পত্তিতে তিনভাবে অংশ পেতে পারে:
১. নির্ধারিত অংশ (Farāidh) হিসেবে: ১/২ অথবা ২/৩ অংশ;
২. অবশিষ্টাংশভোগী (Asabah/Tasib) হিসেবে।

• আপন বোন একক নারী উত্তরাধিকারী হলে এবং নিম্নের কেউ না থাকলে, সে ১/২ অংশ পাবে। শর্তসমূহ:
- সে একজন মাত্র বোন (কোনো সহোদর বোন নেই) এবং
- নিম্নোক্ত কেউ জীবিত থাকবে না:
- মৃত ব্যক্তির সন্তান;
- মৃত ব্যক্তির পুত্রের সন্তান;
- বাবা;
- দাদা;
- আপন ভাই।

• যদি একাধিক (২ বা ততোধিক) আপন বোন থাকে এবং উপরোক্ত সবাই অনুপস্থিত থাকে, তবে তারা সম্মিলিতভাবে ২/৩ অংশ পাবে। শর্ত:
- দুই বা ততোধিক বোন থাকতে হবে;
- উপরোক্ত কেউ জীবিত থাকলে এই অংশ প্রযোজ্য হবে না।

• আপন বোন অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে অংশ পেতে পারে দুইটি প্রধান পরিস্থিতিতে:
১. আপন ভাইয়ের উপস্থিতিতে:
আপন ভাই থাকলে, সে পুরুষ উত্তরাধিকারী হিসেবে অবশিষ্ট অংশ পায়, আর বোন তার সাথে তাসীব হিসেবে অংশ পায়।  বোন ও ভাইয়ের অনুপাতে ভাগ হবে ১:২ হিসেবে (ছেলে:মেয়ে)

২. কন্যাদের উপস্থিতিতে (Exception Rule):
যদি মৃত ব্যক্তির কন্যা বা পুত্রের কন্যা থাকে, এবং তাদের নির্ধারিত অংশ দিয়ে দেওয়ার পর সম্পত্তির কিছু অবশিষ্ট থাকে, তবে আপন বোন সেই অবশিষ্টাংশ পাবে।