বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মীর মশাররফ হোসেন

মোট প্রশ্ন২২৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মীর মশাররফ হোসেন

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ২২৬

১০১.
মীর মশাররফ হােসেনের ‘বিষাদসিন্ধু' একটি -
  1. মহাকাব্য
  2. ইতিহাস গ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. ইতিহাস-আশ্রিত জীবনীগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• বিষাদ সিন্ধু:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।

------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার  হাতেখড়ি হয়।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায়  সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক  কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 

নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু। 

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০২.
লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন কোন লেখক?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয়।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০৩.
মীর মশাররফ হোসেন কোন পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
  3. আজিজননেহার
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০৪.
'বিষাদ-সিন্ধু' কার রচনা?
  1. কায়কোবাদ
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. মোজাম্মেল হক
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
• ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই। 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্টিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত।
- তন্মধ্যে 'মহরম পর্ব্বে' উপক্রমণিকা ও ছাব্বিশটি প্রবাহ, 'উদ্ধার পর্ব্বে' ত্রিশটি প্রবাহ, 'এজিদ-বধ পর্ব্বে' পাঁচটি প্রবাহ ও উপসংহার-অংশ রয়েছে।
- প্রথমত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কাহিনি সাধারণ মুসলিম পাঠকের কাছে এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
- দ্বিতীয়ত 'বিষাদ-সিন্ধু'র জাদুকরী রচনাগুণের জন্যে সাহিত্যরসিকজনের কাছেও গ্রন্থটি আদরণীয়।
- জয়নাবের রূপে বিমোহিত এজিদ এবং এই রূপতৃষ্ণার পরিণামে বহু মানুষের বিপর্যয় ও ধ্বংসের যে কথকতা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রন্থটিকে সর্বজনীন করে তুলেছে।
- 'বিষাদ-সিন্ধু'র কাহিনিতে অ্যান্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট চেতনা মূলত মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকেই মীর মশাররফ হোসেন গ্রহণ করেছেন।

---------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়। 

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০৫.
কোনটি ঠিক?
  1. গো-জীবন (প্রবন্ধগ্রন্থ)
  2. নারীর মূল্য (উপন্যাস)
  3. চার ইয়ারী কথা (প্রবন্ধগ্রন্থ)
  4. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা (উপন্যাস)
ব্যাখ্যা
গো-জীবন:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ
- এটি ১৮৮৯ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
চার ইয়ারী কথা:
- প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ
- এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।

নারীর মূল্য:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ
- এটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।

পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা:
- শওকত ওসমান রচিত নাটক
- এটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০৬.
'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি কয়টি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে?
  1. দুই 
  2. তিন 
  3. চার 
  4. পাঁচ 
ব্যাখ্যা

• ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই। 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্টিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত।
- তন্মধ্যে 'মহরম পর্ব্বে' উপক্রমণিকা ও ছাব্বিশটি প্রবাহ, 'উদ্ধার পর্ব্বে' ত্রিশটি প্রবাহ, 'এজিদ-বধ পর্ব্বে' পাঁচটি প্রবাহ ও উপসংহার-অংশ রয়েছে।
- প্রথমত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কাহিনি সাধারণ মুসলিম পাঠকের কাছে এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
- দ্বিতীয়ত 'বিষাদ-সিন্ধু'র জাদুকরী রচনাগুণের জন্যে সাহিত্যরসিকজনের কাছেও গ্রন্থটি আদরণীয়।
- জয়নাবের রূপে বিমোহিত এজিদ এবং এই রূপতৃষ্ণার পরিণামে বহু মানুষের বিপর্যয় ও ধ্বংসের যে কথকতা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রন্থটিকে সর্বজনীন করে তুলেছে।
- 'বিষাদ-সিন্ধু'র কাহিনিতে অ্যান্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট চেতনা মূলত মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকেই মীর মশাররফ হোসেন গ্রহণ করেছেন।

---------------------------
মীর মশাররফ হোসেন রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়। 

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০৭.
‘বসন্তকুমারী’ নাটকের অপর নাম কী?
  1. রাজদর্পণ
  2. প্রেমগাঁথা
  3. বৃদ্ধস্য তরূণী ভার্যা
  4. সুলতানা রাজার কাহিনি
ব্যাখ্যা
‘বসন্তকুমারী’ নাটক:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম নাট্যকার- মীর মশাররফ হোসেন। বাংলা সাহিত্যের মুসলিম নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক 'বসন্তকুমারী'।
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে ‘বসন্তকুমারী’ নাটক (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র’ পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে ‘বসন্তকুমারী নাটক রচিত।
- নাটকটির অপর নাম ‘বৃদ্ধস্য তরূণী ভার্যা’। ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় নাটক।

মীর মশাররফ হোসেন:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক।
- তিনি ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' (১৮৩১) ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'-র (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০৮.
মীর মশাররফ হোসেন কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৮২৪ সালে
  2. ১৮৪৭ সালে
  3. ১৮৫৮ সালে
  4. ১৮৬৩ সালে
ব্যাখ্যা

 • মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৯.
মীর মশাররফ হোসেন কোন শতকের সাহিত্যিক?
  1. বিশ
  2. সতের
  3. উনিশ
  4. আঠার
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 
 
• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু, 
 
আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ: 
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।
 
• তাঁর অমর কীর্তি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনি বিবৃত হয়েছে। তবে অনেক ঘটনা ও চরিত্র সৃষ্টিতে উপন্যাসসুলভ কল্পনার আশ্রয়ও নেওয়া হয়েছে।
• তাঁর জমিদার দর্পণ নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
• গাজী মিয়ার বস্তানী মীর মশাররফ হোসের আত্মজীবনীমূলক রচনা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১০.
মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক- 
  1. বিষাদ-সিন্ধু
  2. নীলদর্পণ
  3. বসন্তকুমারী
  4. জমীদার দর্পণ
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• 'বসন্তকুমারী' নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে 'বসন্তকুমারী নাটক অন্যতম।
- এ্টি মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র' পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের - মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে 'বসন্তকুমারী নাটক রচিত।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু, 

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী, 
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় নাটক।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' মীর মশাররফ হোসেন রচিত উপন্যাস।
- 'কবর'- মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১১.
উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোকের স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদপান ও পতিতাবৃত্তিকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে-
  1. জমীদার দর্পণ
  2. বসন্তকুমারী
  3. এর উপায় কি
  4. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
ব্যাখ্যা

• 'এর উপায় কি' প্রহসন:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্রহসন।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল-লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন
- স্বামী রাধাকান্ত, স্ত্রী মুক্তকেশী, রক্ষিতা নয়নতারা, ইয়ার মদন প্রমুখ এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র।
- এই প্রহসনে মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয়।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।

নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১২.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক কোনটি?
  1. ভদ্রার্জুন
  2. কুলীন কুলসর্ব্বস্ব
  3. কীর্তিবিলাস
  4. বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

​• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• ​তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

​অন্যদিকে,
​• রামনারায়ণ তর্করত্ম রচিত নাটক: কুলীন কুলসর্ব্বস্ব।
• তারাচরণ শিকদার রচিত নাটক: ভদ্রার্জুন।
• যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত রচিত নাটক: কীর্তিবিলাস।

​​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।

১১৩.
মুসলমান সাহিত্যিক রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস কোনটি?
  1. বিষাদ-সিন্ধু
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. রত্নবতী
  4. বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা
'রত্নবতী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মীর মশাররফ হোসেনের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।
- বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ 'রত্নবতী'। এটি মুসলমান সাহিত্যিক রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস
- লেখকের নাম পৃষ্ঠায় 'কৌতুকাবহ উপন্যাস' বলে উল্লেখ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এটি রূপকথা জাতীয় শিক্ষামূলক একটি দীর্ঘ গল্প।
- রাজকুমার সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে 'ধন বড় না বিদ্যা বড়'- এ বিতর্ক এবং বিতর্কের সমাধানই 'রন্তবতী' এর মূল বিষয়।

উল্লেখ্য,
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল।
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক - বসন্তকুমারী।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত অন্য একটি উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১৪.
মীর মশাররফ হোসেন কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. নারায়ণগঞ্জ
  2. কুষ্টিয়া 
  3. যশোর
  4. মুন্সিগঞ্জ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১৫.
'এর উপায় কি?' প্রহসনের  রচয়িতা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. ফররুখ আহমেদ
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

• 'এর উপায় কী?'- প্রহসন:
- 'এর উপায় কী' প্রহসনটির রচয়িতা 'মীর মশাররফ হোসেন'। 
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৫ সালে এবং দ্বিতীয় প্রকাশ ১৮৯২ সালে।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল- লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন। 

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- রাধাকান্ত,
- মুক্তকেশী,
- নয়নতারা,
- ইয়ার মদন প্রমুখ। 

• মীর মশাররফ হোসেন রচিত সাহিত্যকর্ম: 
নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

প্রহসন:
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু। 

• আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১৬.
মীর মশাররফ হোসেন জন্মগ্রহণ করেন কোন জেলায়?
  1. কুষ্টিয়া
  2. মানিকগঞ্জ
  3. ঢাকা
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- সে ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক 'কাঙাল হরিনাথ' ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১৭.
‘রত্নবতী’ উপন্যাসের মূল বিতর্ক কোনটি?
  1. যুদ্ধ বড় না শান্তি বড়
  2. প্রেম বড় না বিদ্রোহ বড়
  3. ধর্ম বড় না রাজনীতি বড়
  4. ধন বড় না বিদ্যা বড়
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

'রত্নবতী' উপন্যাস: 

- মীর মশাররফ হোসেন রচিত উপন্যাস 'রত্নবতী'।
- এটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়। এটি মুসলিম সাহিত্যিকদের মধ্যে প্রথম কোন গ্রন্থ যা ঐতিহাসিকভাবে মূল্যবান।
- প্রকৃতপক্ষে এটি রূপকথা জাতীয় শিক্ষামূলক একটি দীর্ঘ গল্প।
- রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে 'ধন বড় না বিদ্যা ব' - এ বিতর্ক ও বিতর্কের সমাধানই 'রত্নবতী'র মূল বিষয়।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১১৮.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পর্কে কোন উক্তিটি মিথ্যা?
  1. ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
  2. তিনি ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্রের সমসাময়িক।
  3. তাঁর রচনায় যেমন প্রচুর তৎসম শব্দের ব্যবহার আছে
  4. 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটির প্রথম পর্ব প্রকাশিত হয় ১৮৮৭ সালে।
ব্যাখ্যা

• 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটির প্রথম পর্ব প্রকাশিত হয় ১৮৮৭ সালে।" - এটি ভুল।
- উপন্যাসটির প্রথম পর্ব  - 'মহরম পর্ব্ব' - ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
------------------------- 
• মীর মশাররফ হোসেন:

কুষ্টিয়া জেলার (তৎকালীন নদীয়া) গৌরী নদীর তীরে লাহিনীপাড়া গ্রামে এক সৈয়দ পরিবারে ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে মীর মশাররফ হোসেন জন্মগ্রহন করেন।
- ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সাহিত্য চর্চা শুরু করেন। তাঁর আগে বাংলা গদ্য সাহিত্য চর্চায় উল্লেখযোগ্য কোনো মুসলমান সাহিত্যিকের নাম পাওয়া যায় না। মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্রের সমসাময়িক।
- জমিদার কাচারীর ম্যানেজার হিসেবে তিনি কলিকাতা, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার, ফরিদপুরের পদমদী এবং তাঁর জন্মভূমি কুষ্টিয়াতেই জীবনের অধিকাংশ সময় কাটান।
- মীর মশাররফ হোসেন মূলত সাধুরীতির গদ্যে লিখতেন। ফলে তাঁর রচনায় যেমন প্রচুর তৎসম শব্দের ব্যবহার আছে তেমনি আছে আঞ্চলিক শব্দেরও প্রচুর প্রয়োগ। লেখকের প্রথম উপন্যাস 'রত্নবতী', প্রকাশ কাল ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দ। তাঁর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস 'বিষাদসিন্ধু'। তিন পর্বে ১৮৮৫, ১৮৮৭ এবং ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি — 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই — তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্টিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত।

উৎস: সাহিত্য পাঠ- মাধ্যমিক উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস।

১১৯.
'কুলসুম জীবনী' মীর মশাররফ হোসেন কাকে কেন্দ্র করে লিখেছেন?
  1. তাঁর প্রথম স্ত্রী
  2. তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী
  3. তাঁর বড় বোন
  4. তাঁর মা
ব্যাখ্যা

কুলসুম জীবনী:
- কুলসুম জীবনী গ্রন্থটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয়।
- লেখক 'আমার জীবনীর জীবনী কুলসুম জীবনী' নামে অভিহিত করেছেন।
- এটি মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী বিবি কুলসুমকে কেন্দ্র করে লিখিত যা বিবি কুলসুম সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

 এছাড়াও,
- তাঁর রচিত আরো দুটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হচ্ছে আমার জীবনী ও গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায়  সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক  কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
 
তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।
 
উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।
 
গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
 
আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২০.
নিচের কোনটি মহাকাব্যিক উপন্যাস?
  1. বিষাদ-সিন্ধু
  2. চোখের বালি
  3. পুতুল নাচের ইতিকথা
  4. মৃত্যু-ক্ষুধা
ব্যাখ্যা

যে উপন্যাসের ব্যাপ্তি ও পরিধি মহাকাব্যের মতো বিশাল ও ব্যাপক, যে উপন্যাসে ভাষা ও দ্বন্দ্বে মহাকাব্যের ব্যঞ্জনা থাকে তাকে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলে।
যেমন :
- বিষাদ-সিন্ধু
- ঢোঁড়াই চরিত মানস
 -গোরা
- সংশপ্তক
উৎস : সাহিত্য বিষয়ক সাময়িকী।

১২১.
মীর মশাররফ হোসেনের সাহিত্যজীবনের সূত্রপাত হয় কোন পত্রিকার মাধ্যমে?
  1. গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
  2. হিতকরী
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. আজিজননেহার
ব্যাখ্যা
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা:
• গ্রামবার্তা প্রকাশিকা উনিশ শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসিক পত্রিকা। ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। পরের বছর (১২৭১ বঙ্গাব্দের আষাঢ়) থেকে এটি পাক্ষিক এবং ১৮৭১ সাল (১২৭৮ বঙ্গাব্দের বৈশাখ) থেকে সাপ্তাহিকে পরিণত হয়।

• প্রথমদিকে পত্রিকাটি মুদ্রিত হতো কলকাতার গিরিশ বিদ্যারত্ন প্রেস থেকে; পরে ১৮৬৪ সালে কুমারখালিতে মথুরানাথ যন্ত্র স্থাপিত হলে সেখান থেকে মুদ্রিত হতে থাকে। এ ছাপাখানাটি ১৮৭৩ সালে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়র পিতা মথুরানাথ মৈত্রেয় হরিনাথকে দান করেন।

• গ্রামবার্তা প্রকাশিকায় তৎকালীন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের খ্যাতনামা পন্ডিতরা লিখতেন। রবীন্দ্রনাথের বিভিন্নবিষয়ক প্রবন্ধ, ছড়া ইত্যাদিও এতে প্রকাশিত হতো।

• প্রখ্যাত মুসলিম লেখক মীর মশাররফ হোসেনের সাহিত্যচর্চার হাতেখড়িও হয় এ পত্রিকার মাধ্যমে। তিনি প্রথমে এর একজন মফঃস্বল সাংবাদিক ছিলেন। ছাত্র থাকাকালীন অবস্থায় এ পত্রিকায় তাঁর অনেক লেখা প্রকাশিত হয়। হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। এ পত্রিকার মাধ্যমেই তিনি পরবর্তীকালে মুসলমান রচিত আধুনিক বাংলা সাহিত্যে সমন্বয়ধর্মী ধারার প্রবর্তক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন, যা পরবর্তী সময়ে বহু মুসলিম সাহিত্যিক কর্তৃক অনুসৃত হয়েছে।

এছাড়াও,
• মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর (১৮৩১) সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এবং মশাররফ 'আজিজননেহার' (১৮৭৪) ও 'হিতকরী' (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২২.
উদাসী বাউলের জীবনদর্শনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয় কোন উপন্যাসে?
  1. আমার জীবনী
  2. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. কুলসুম জীবনী
  4. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
ব্যাখ্যা

'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' আত্মজৈবনিক উপন্যাস:
• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস। গাজী মিয়াঁর বস্তানীতে উদাসী বাউলের জীবনদর্শনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

• এটি উপন্যাস জাতীয় রস-রচনা। কর্মজীবননির্ভর আত্মজীবনীমূলক এই রচনায় ব্যঙ্গরসের উপস্থাপন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

• এর প্রথম অংশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়; দ্বিতীয় অংশ পুস্তকাকারে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে মীর রচিত আত্মজীবনী আমার জীবনী-তে এর কিয়দংশ মুদ্রিত হয়। গ্রন্থের প্রচ্ছদপটে গ্রন্থকার হিসেবে মীর মশাররফ হোসেনের নাম মুদ্রিত হয়নি; স্বত্বাধিকারী হিসেবে তাঁর ছদ্মনাম ‘উদাসীন পথিক’ মুদ্রিত হয়েছে।

• এ গ্রন্থে অনেক চরিত্রের সমাবেশ-ঘটেছে, তবে কোনো একটি মূল ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাহিনি ও চরিত্র আবর্তিত বা বিবর্তিত হয়নি। মূলত লেখক ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে তৎকালীন সমাজের অন্যায়-অবিচার, অনাচার-দুর্নীতি, সমাজের মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ও বর্বরোচিত আচরণ চিত্রিত করেছেন।

• সোনাবিবি ও মনিবিবি নামে দুই বিধবা মহিলা ও জমিদারের দ্বন্দ্ব উপন্যাসের মূল ঘটনা। উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা ও স্থানের নামকরণ অভিনব, যেমন- অরাজকপুর, যমদ্বার, নচ্ছারপুর, পয়জারন্নেসা, সবলোট চৌধুরী, ভেড়াকান্ত, জয়ঢাক ইত্যাদি। ভেড়াকান্ত চরিত্রে লেখকের নিজের ছায়াপাত আছে বলে গ্রন্থখানিকে আত্মজৈবনিক রচনা বলে অভিহিত করা হয়। 

• গাজী মিয়াঁর বস্তানীর বিষয় ও অঙ্গসজ্জা সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় লিখেছেন- "গাজী মিয়ার বস্তানী একখানি বিচিত্র সমাজচিত্র, সুশোভিত, সুলিখিত উপন্যাস।"

---------------------
মীর মশাররফ হোসেন রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্ৰহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

উপন্যাস: বিষাদ-সিন্ধু। 

আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'গাজী মিয়ার বস্তানী' গ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

১২৩.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত পত্রিকা-
  1. সওগাত
  2. মোহাম্মদী
  3. আজীজন নেহার
  4. মোসলেম ভারত
ব্যাখ্যা
• 'আজীজন নেহার' পত্রিকা:
- মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত মাসিক 'আজীজন নেহার'। এই পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৪ সালে।

- মুসলমানদের সাহিত্যচর্চার জন্য পত্রিকা প্রকাশ ও সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে পত্রিকাটির যাত্রা শুরু হলেও মুসলমান পরিচালিত পত্রিকার লেখক ও পাঠকের অভাব সহ বিভিন্ন কারণে পত্রিকাটি বেশি দিন চলেনি। মনে করা হয়, মশাররফ হোসেন তাঁর প্রথম স্ত্রীর নামে এই পত্রিকার নামকরণ করেছিলেন।
- এই পত্রিকাটি বিলুপ্ত হলে তিনি 'হিতকরী” (১৮৯০) নামে অন্য একটি স্বল্পায়ু পাক্ষিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে, 
• মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
• ১৯২০ সালে কলকাতা থেকে মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় 'মোসলেম ভারত' মাসিক সাহিত্যপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়।
• ১৯১৮ সালে প্রকাশিত হয় 'সওগাত' পত্রিকা। এর সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২৪.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক কোনটি?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. বসন্তকুমারী
  3. পদ্মাবতী
  4. ভদ্রার্জুন
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- তারাচরণ শিকদার রচিত নাটক- ভদ্রার্জুন।
- মাইকেল মধুসূদন রচিত নাটক- 'পদ্মাবতী', ‘কৃষ্ণকুমারী’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৫.
'এর উপায় কি' প্রহসনের রচিয়তা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
♦ 'এর উপায় কি' প্রহসন:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্রহসন।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল-লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন।
- স্বামী রাধাকান্ত, স্ত্রী মুক্তকেশী, রক্ষিতা নয়নতারা, ইয়ার মদন প্রমুখ এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র।
- এই প্রহসনে মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে।

-------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেনের জন্ম ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায়।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯)।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনি বিবৃত হয়েছে।

এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো-
- বসন্তকুমারী,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- জমীদার দর্পণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২৬.
মীর মশাররফ হোসেন কোন ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন?
  1. গৌড়তটবাসী মশা
  2. গাজী মিয়াঁ
  3. উদাসীন পথিক
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন-
- গৌড়তটবাসী মশা,
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

• 'উদাসীন পথিক' ছদ্মনামে মশাররফ হোসেন তাঁর ব্যক্তিজীবনের পটভূমিতে রচনা করেছেন 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' (১৮৯০)। 
- গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবন নির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনা মিশেল উপন্যাসসূলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা। 

• 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে মশাররফ হোসেন তাঁর কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনী মূলক রচনা 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী'।
- এতে লেখক নিজেকে ভেড়াকান্ত নামে উল্লেখ করেন। 
- এতে বঙ্কিমের 'কমলাকান্তের দপ্তর' -এর প্রভাব পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২৭.
মীর মশাররফ হোসেন ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. মুসাফির
  2. গৌড়তটবাসী মশা 
  3. গাজী মিয়াঁ
  4. উদাসীন পথিক
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয়- মুসাফির।
• ‘মুসাফির’ ছদ্মনামে সৈয়দ মুজতবা আলী লিখতেন।

• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন সেগুলো হলো- 
- গৌড়তটবাসী মশা 
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

----------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৮.
'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' কী ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. নাটক
  3. কবিতা
  4. উপন্যাস
  5. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• গাজী মিয়াঁর বস্তানী:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- এর প্রথম অংশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়; দ্বিতীয় অংশ পুস্তকাকারে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে মীর রচিত আত্মজীবনী আমার জীবনী-তে এর কিয়দংশ মুদ্রিত হয়। গ্রন্থের প্রচ্ছদপটে গ্রন্থকার হিসেবে মীর মশাররফ হোসেনের নাম মুদ্রিত হয়নি; স্বত্বাধিকারী হিসেবে তাঁর ছদ্মনাম ‘উদাসীন পথিক’ মুদ্রিত হয়েছে।

- সোনাবিবি ও মনিবিবি নামে দুই বিধবা মহিলা জমিদারের দ্বন্দ্ব উপন্যাসের মূল ঘটনা।
- উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা ও স্থানের নামকরণ অভিনব, যেমন অরাজকপুর, যমদ্বার, নচ্ছারপুর, পয়জারন্নেসা, সবলোট চৌধুরী, ভেড়াকান্ত, জয়ঢাক ইত্যাদি।
- ভেড়াকান্ত চরিত্রে লেখকের নিজের ছায়াপাত আছে বলে গ্রন্থখানিকে আত্মজৈবনিক রচনা বলে অভিহিত করা হয়। 

---------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৯.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. হিতকরী
  2. ধূমকেতু
  3. সবুজপত্র
  4. বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
"হিতকরী" মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত পত্রিকা।

• হিতকরী পত্রিকা:

- ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর
বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা: ধূমকেতু।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকা: বঙ্গদর্শন।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত পত্রিকা: সবুজপত্র।

----------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক: বসন্তকুমারী, জমীদার দর্পণ, বেহুলা গীতাভিনয়।

• উপন্যাস: বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:  উদাসীন পথিকের মনের কথা, গাজী মিয়াঁর বস্তানী, আমার জীবনী, কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৩০.
'উদাসীন পথিকের মনের কথা' কোন জাতীয় রচনা?
  1. নাটক
  2. কাব্য
  3. প্রহসন
  4. আত্মজৈবনিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

উদাসীন পথিকের মনের কথা:
- 'উদাসীন পথিক' এই ছদ্মনামে মীর মশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে স্বীয় পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- "উদাসীন পথিকের মনের কথা” (১৮৯০) কে প্রকৃতপক্ষে উপন্যাস বা আত্মজীবনীমূলক রচনা এর কোনোটাই বলা যায় না। বরং বলতে হয়, গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবননির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনার মিশেল উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা।
- এতে লেখকের পারিবারিক ইতিবৃত্ত বর্ণনা এবং নিজের মাতা-পিতাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে চিত্রিত হতে দেখা যায়। উদাসীন পথিকের মনের কথায় হিন্দু-মুসলমানের যে মিলন-কামনা আছে, তার গভীর তাৎপর্য স্বীকার করতে হয়।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক। -
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩১.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত গ্রন্থ হচ্ছে-
  1. গাজী মিঁয়ার বস্তানী
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. হুতোম প্যাঁচার নকশা
  4. কলিকাতা কমলালয়
ব্যাখ্যা
• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী':
- 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত
মানুষগুলাের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- লেখক নিজেকে ‘ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।

অন্যদিকে,
• প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ আলালের ঘরের দুলাল।
• 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' গ্রন্থটির রচয়িতা কালীপ্রসন্ন সিংহ।
• 'কলিকাতা কমলালয়' গ্রন্থের রচয়িতা ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। 

---------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩২.
কোন গ্রন্থে মীর মশাররফ হোসেন নিজেকে 'ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন?
  1. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  2. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  3. বিষাদ-সিন্ধু
  4. বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা

গাজী মিয়াঁর বস্তানী:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী মীর মশাররফ হোসেনের কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনীমূলক রচনা, যা ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটিতে লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্বহীন ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন।
- লেখক নিজেকে এখানে 'ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৩৩.
'গাজী মিয়া' মিয়া কার ছদ্মনাম?
  1. ক) প্রমথ চৌধুরী
  2. খ) কাজেম আল কোরায়েশী
  3. গ) ফররুখ আহমদ
  4. ঘ) মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
কিছু উল্লেখযোগ্য লেখকের ছদ্মনাম নিম্নরুপ- 
- মীর মশাররফ হোসেন - গাজী মিয়া
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - ভানুসিংহ
- প্রমথ চৌধুরী - বীরবল
- প্যারীচাঁদ মিত্র - টেকচাঁদ ঠাকুর
- কাজেম আল কোরায়েশী - কায়কোবাদ
- কালী প্রসন্ন সিংহ - হুতোম পেঁচা
- ফররুখ আহমদ - বানভট্ট
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় - বনফুল
- বিমল ঘোষ - মৌমাছি
- রাজশেখর বসু - পরশুরাম
- সমরেশ বসু - কালকূট
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় - নীল লোহিত

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩৪.
উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ কে?
  1. বদরুদ্দীন ওমর
  2. ফররুখ আহমদ
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

তাঁর রচিত প্রহসন: 
- এর উপায় কি?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩৫.
মীর মশাররফ হোসেনের জন্ম কোথায়?
  1. ফরিদপুর
  2. যশোর
  3. কুষ্টিয়া
  4. নড়াইল 
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩৬.
মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় কোন পত্রিকার সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. আজিজননেহার
  3. হিতকরী
  4. সুধাকর
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় ‘সংবাদ প্রভাকর’ ও ‘কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল’ সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকার নাম - সুধাকর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩৭.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বেহুলা গীতাভিনয়
  2. বিষাদ-সিন্ধু
  3. জমিদার দর্পণ
  4. বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা
‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩৮.
মীর মশাররফ হোসেন কী ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেন?
  1. উদাসীন পথিক
  2. বনফুল
  3. দৃষ্টিহীন
  4. সত্যসুন্দর দাস
ব্যাখ্যা

⇒ ‘উদাসীন পথিক' এই ছদ্মনামে মীর মশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে  ’উদাসীন পথিকের মনের কথা’ গ্রন্থটি রচনা করেন।

• উদাসীন পথিকের মনের কথা:

• ‘উদাসীন পথিক' এই ছদ্মনামে মীর মশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে স্বীয় পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
• “উদাসীন পথিকের মনের কথা” (১৮৯০) কে প্রকৃতপক্ষে উপন্যাস বা আত্মজীবনীমূলক রচনা এর কোনোটাই বলা যায় না। বরং বলতে হয়, গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবননির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনার মিশেল উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা।
• এতে লেখকের পারিবারিক ইতিবৃত্ত বর্ণনা এবং নিজের মাতা-পিতাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে চিত্রিত হতে দেখা যায়। উদাসীন পথিকের মনের কথায় হিন্দু-মুসলমানের যে মিলন-কামনা আছে, তার গভীর তাৎপর্য স্বীকার করতে হয়।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক  কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। 
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা - ’বিষাদ-সিন্ধু” (উপন্যাস)

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

অন্যদিকে,
‘বনফুল’ বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম। 
'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন - দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
মোহিতলাল মজুমদার এর ছদ্মনাম - সত্যসুন্দর দাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩৯.
'আমার জীবনী' কার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. বদরুদ্দীন ওমর
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'আমার জীবনী' মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪০.
'হিতকরী' পত্রিকা কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে কত খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

• 'হিতকরী' পত্রিকা:
-'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

---------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক। ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪১.
'উদাসীন পথিকের মনের কথা' আত্মজীবনীটি কার লেখা?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ। -
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবর্তী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মশাররফের প্রথম গদ্যগ্রন্থ রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।

• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু।

•  আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়ার বস্তানী।
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪২.
‘ফাঁস কাগজ’ প্রহসনটি কার রচনা?
  1. সেলিম আল দীন
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• ‘ফাঁস কাগজ’ মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি প্রহসন।

----------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪৩.
'হায়ওয়ান আলী' - চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

'জমিদার দর্পণ' নাটক:
- লেখক-মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক 'জমিদার দর্পণ'।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষন ও হত্যার কাহিনি এর মূল ঘটনা। 
- ‘জমিদার দর্পণ’ উনিশ শতকের কৃষক শ্রেণির জীবনধারার উপর ভিত্তি করে রচিত ঐ শতাব্দের একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত:
- বিষাদ-সিন্ধু।
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১৪৪.
‘এর উপায় কি’ প্রহসনে কোন গ্রন্থের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়?
  1. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  2. একেই কি বলে সভ্যতা
  3. সধবার একাদশী
  4. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা
'এর উপায় কি' প্রহসন:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্রহসন।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল-লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন।
- স্বামী রাধাকান্ত, স্ত্রী মুক্তকেশী, রক্ষিতা নয়নতারা, ইয়ার মদন প্রমুখ এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র।
- এই প্রহসনে মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে।

অন্যদিকে,
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন - বিয়ে পাগলা বুড়ো, সধবার একাদশী।
- মধুসূদন দত্তের প্রহসন - বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- জমীদার দর্পণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪৫.
'উদাসীন পথিকের মনের কথা' গ্রন্থে কোন বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে?
  1. জেলে জীবন
  2. গ্রামীণ জীবন
  3. নীলকরদের অত্যাচারের চিত্র
  4. পথিকদের জীবন
ব্যাখ্যা
- উদাসীন পথিকের মনের কথা (১৮৯০) গ্রন্থে নীলকর অত্যাচারের কাহিনী রূপায়নের সঙ্গে উপন্যাসের বৈশিষ্ঠ্য বিদ্যমান।
- আত্মজীবনীমূলক এই গ্রন্থে সে আমলের নীলকরদের অত্যাচারের চিত্র এবং পরিনতি প্রতিফলিত হয়েছে।
- এ গ্রন্থে মীর মশাররফ 'উদাসীন পথিক' ছদ্মনাম অবলম্বন করেছিলেন।
- সামাজিক শ্রেণি-সংঘাতের বিষয়টি এখানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


অন্যান্য উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু (ঐতিহাসিক নাটক);
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী (আত্মজৈবনিক উপন্যাস)।

নাটক:
- বসন্তকুমারী নাটক
- জমীদার দর্পণ

তাছাড়া,
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী' (বাঙালি মুসলমান রচিত প্রথম উপন্যাস)৷
- তার রচিত একমাত্র প্রহসন : 'এর উপায় কি?'

তথ্যসূত্র:- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস , মাহবুবুল আলম।
১৪৬.
'মুখে অনেকেই টাকা অতি তুচ্ছ,
অর্থ অনর্থের মূল বলিয়া থাকেন' - বিখ্যাত উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. বিষাদ–সিন্ধু
  3. শ্রীকান্ত
  4. নীল-দর্পণ
ব্যাখ্যা
‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয়নি।
- প্রথমত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কাহিনি সাধারণ মুসলিম পাঠকের কাছে এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
- দ্বিতীয়ত 'বিষাদ-সিন্ধু'র জাদুকরী রচনাগুণের জন্যে সাহিত্যরসিকজনের কাছেও গ্রন্থটি আদরণীয়।
- মীর মশাররফ হোসেন বিষাদ–সিন্ধু উপন্যাসে বলেছেন, ‘মুখে অনেকেই টাকা অতি তুচ্ছ, অর্থ অনর্থের মূল বলিয়া থাকেন; কিন্তু জগৎ এমনই ভয়ানক স্থান যে, টাকা না থাকিলে তাহার স্থান কোথাও নাই..'

মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো।
১৪৭.
মীর মশাররফ হোসেনের নাটক কোনটি?
  1. নটির পূজা
  2. বেহুলা গীতাভিনয়
  3. নবীন তপস্বিনী
  4. কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা
• 'বেহুলা গীতাভিনয়' মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি নাটক। 

অন্যদিকে,
• ‘নটীর পূজা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৌদ্ধগ্রন্থ থেকে গৃহীত একটি নাটক।
• 'নবীন তপস্বিনী' নাটকটি রচনা করেছেন দীনবন্ধু মিত্র।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক 'কৃষ্ণকুমারী'।

--------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:

- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪৮.
নিচের কোনটি মীর মোশাররফ এর উপন্যাস নয়?
  1. ক) বিষাদসিন্ধু
  2. খ) উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. গ) তাহমিনা
  4. ঘ) বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা

'বসন্তকুমারী' নাটকের রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন।
জমিদার দর্পণ, বেহুলা গীতাভিনয়, নিয়তি কি অবনতি তাঁর রচিত নাটক।
রত্নবতী, বিষাদসিন্ধু, উদাসীন পথিকের মনের কথা, তাহমিনা, গাজী মিয়ার বস্তানী ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৪৯.
'উদাসীন পথিকের মনের কথা' মীর মশাররফ হোসেন রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসোপম রচনা
  2. প্রবন্ধ
  3. গদ্যগ্রন্থ
  4. প্রহসন
ব্যাখ্যা
উদাসীন পথিকের মনের কথা:
• ‘উদাসীন পথিক' এই ছদ্মনামে মীর মশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে স্বীয় পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
• “উদাসীন পথিকের মনের কথা” (১৮৯০) কে প্রকৃতপক্ষে উপন্যাস বা আত্মজীবনীমূলক রচনা এর কোনোটাই বলা যায় না। বরং বলতে হয়, গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবননির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনার মিশেল উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা।
• এতে লেখকের পারিবারিক ইতিবৃত্ত বর্ণনা এবং নিজের মাতা-পিতাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে চিত্রিত হতে দেখা যায়। উদাসীন পথিকের মনের কথায় হিন্দু-মুসলমানের যে মিলন-কামনা আছে, তার গভীর তাৎপর্য স্বীকার করতে হয়।

--------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়। 

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- নিয়তি কি অবনতি,
- এসলামের জয়,
- রাজিয়া খাতুন,
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসোপম রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১৫০.
মীর মশাররফ হোসেন কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. যশোর
  2. বরিশাল
  3. কুষ্টিয়া
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫১.
'গো জীবন' মীর মশাররফ হোসেনের কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. নাটক 
  2. উপন্যাস 
  3. প্রহসন 
  4. প্রবন্ধ 
ব্যাখ্যা

• 'গো জীবন':
- 'গো জীবন' মীর মশাররফ হোসেনের একটি প্রবন্ধ পুস্তিকা।
- প্রবন্ধটির মূল বক্তব্য হলো, কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে যে কোন কারণেই হোক গো-হত্যা অনুচিত।
- হিন্দু ও মুসলমান এই দুই ধর্মালম্বীদের ঐক্যবদ্ধ করার মানসেই মীর মশাররফ হোসেন এ প্রবন্ধ রচনা করেন। এ গ্রন্থের জন্য লেখককে মামলাতে জড়িয়ে পরতে হয়। অবশেষে মৌলবাদীদের প্রবল চাপের মুখে তিনি প্রবন্ধটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫২.
মীর মশাররফ হোসেন কোন শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ?
  1. অষ্টাদশ শতক
  2. উনিশ শতক
  3. বিশ শতক
  4. একবিংশ শতক
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 
 
• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু, 
 
আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ: 
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।
 
• তাঁর অমর কীর্তি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনি বিবৃত হয়েছে। তবে অনেক ঘটনা ও চরিত্র সৃষ্টিতে উপন্যাসসুলভ কল্পনার আশ্রয়ও নেওয়া হয়েছে।
• তাঁর জমিদার দর্পণ নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
• গাজী মিয়ার বস্তানী মীর মশাররফ হোসের আত্মজীবনীমূলক রচনা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫৩.
মীর মশাররফ হোসেনের জন্মস্থান- 
  1. ঢাকা 
  2. বিক্রমপুর 
  3. কুষ্টিয়া 
  4. যশোর 
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫৪.
মীর মশাররফ হোসেন কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. তাম্বুলখানা
  2. মাঝাইল
  3. কুমারখালি
  4. লাহিনীপাড়া
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন:
- তিনি একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক ছিলেন।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
 
তাছাড়া,
- জসীম উদ্দীন তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফররুখ আহমদ মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫৫.
‘বিষাদসিন্ধু’ একটি-
  1. গবেষণা গ্রন্থ
  2. ধর্মবিষয়ক গ্রন্থ
  3. ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস
  4. আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা
• বিষাদ সিন্ধু:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।

------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার  হাতেখড়ি হয়।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায়  সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক  কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 

নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু। 

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫৬.
নীল অত্যাচারের কাহিনি রয়েছে নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. জমীদার দর্পণ
  2. বিষাদ-সিন্ধু
  3. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  4. গাজী মিয়ার বস্তানী
ব্যাখ্যা
• 'উদাসীন পথিকের মনের কথা':
- 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' মীর মশাররফ হোসেনের গ্রন্থের বিজ্ঞাপনে 'অতি আশ্চর্য্য উপন্যাস' হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।'

- 'ভারতী ও বালক' (বৈশাখ ১২৯৮) পত্রিকায় মন্তব্য করা হয়, 'সমালোচ্য পুস্তকখানি ঠিক উপন্যাস নহে, ইহা উপন্যাসাকারে নীল অত্যাচারের কাহিনীপূর্ণ' রচনা।

- ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় একে 'উপন্যাস' হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। মুনীর চৌধুরীর বিবেচনায় এটি মশাররফের 'আত্মজীবনীমূলক রচনা'।

- অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিমতও অভিন্ন। গ্রন্থটি যে উপন্যাসই সে-সম্পর্কে বক্তব্য পেশ করেছেন ক্ষেত্র গুপ্তও। তবে 'উদাসীন পথিকের মনের কথা'কে যথার্থ উপন্যাস বা নিছক আত্মকথা না বলে একে উপন্যাসের আদলে মশাররফের শ্রুতি ও স্মৃতিনির্ভর বাস্তব ঘটনার আলেখ্য হিসেবে চিহ্নিত করা চলে।

- 'উদাসীন পথিকের মনের কথা'র কাহিনি দুইটি স্বতন্ত্র ধারায় প্রবাহিত। এই কাহিনির একদিকে রয়েছে কুষ্টিয়ার নীলকর টি. আই. কেনীর সঙ্গে সুন্দরপুরের মহিলা জমিদার প্যারীসুন্দরীর দ্বন্দ্ব, নীলচাষের কারণে রায়ত-প্রজার উপর কেনীর অত্যাচার-নিপীড়ন, নীলবিদ্রোহ ও কেনীর পরিণতি।

- কাহিনির দ্বিতীয় ধারাটি গড়ে উঠেছে মশাররফ-জনক মীর মোয়াজ্জম হোসেনের সঙ্গে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী-পতি সা গোলামের তিক্ত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এবং এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে মোয়াজ্জম হোসেনের দাম্পত্যজীবনের ঘটনা।

-----------------
অন্যদিকে,
• 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস। হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা - প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।

• 'জমিদার দর্পণ' নাটকটির রচয়িতা মীর মোশাররফ হোসেন। নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।

• 'গাজী মিয়ার বস্তানী' (১৯০০) মীর মশাররফ হোসেনের কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনীমূলক রচনা। লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষগুলোর নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে। লেখক নিজেকে 'ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।


উৎস: 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' গ্রন্থ; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫৭.
‘কাঙাল হরিনাথ’ কোন লেখকের সাহিত্যগুরু ছিলেন?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায়  সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১৫৮.
প্রথম মুসলিম নাট্যকার কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও গদ্যরচয়িতা৷
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম নাট্যকার 'মীর মশাররফ হোসেন'।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।

• ‘বসন্তকুমারী' (১৮৭৩) নাট্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন- 'মীর মশাররফ হোসেন'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম নাট্যকার রচিত নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৫৯.
'নূরন্নেহার' মীর মশাররফ হোসেনের কোন নাটকের চরিত্র?
  1. জমীদার দর্পণ
  2. টালা অভিনয়
  3. বসন্তকুমারী
  4. বেহুলা গীতাভিনয়
ব্যাখ্যা
জমীদার দর্পণ:
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্থ প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষণ ও হত্যার কাহিনি 'জমীদার দর্পণ' (১৮৭৩)- এর মূল ঘটনা।
- মীর মশাররফ হোসেন লিখেছেন, নাটকটির 'কিছুই সাজানো নয়, অবিকল ছবি তুলে ধরা হয়েছে প্রচলিত সমাজের।
- ওই সময় মুসলিমগণ বাংলা চর্চায় এগিয়ে এসেছে কমই।
- এই পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় নাটকটির প্রশংসা করে লিখেছেন, 'অনেক হিন্দুর প্রণীত বাঙ্গালার অপেক্ষা এই মুসলমান লেখকের বাঙ্গালা পরিশুদ্ধ'।
- নামকরণে দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণে'র প্রভাব যেমন প্রবল, নাটকটির ঘটনাবিন্যাসেও এর কম ছায়া পড়ে নি।

মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬০.
'হিতকরী' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. শেখ আবদুর রহিম
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৬১.
"হায়ওয়ান আলী" চরিত্রটি মীর মশাররফ হোসেন রচিত কোন সাহিত্যকর্মের?
  1. জমিদার দর্পণ
  2. বিষাদ-সিন্ধু
  3. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  4. বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা
'জমিদার দর্পণ' নাটক:
- ‘জমিদার দর্পণ’ মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্থ প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষণ ও হত্যার কাহিনি ‘জমিদার দর্পণ’ (১৮৭৩) - এর মূল ঘটনা।
- লেখক লিখেছে, নাটকটির কিছুই সাজানো নয়, অবিকল ছবি তুলে ধরা হয়েছে প্রচলিত সমাজের।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬২.
মীর মশাররফ হোসেন কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. সাহিত্য পত্রিকা
  2. মোহাম্মদী
  3. হিতকরী
  4. কোহিনূর
ব্যাখ্যা

 মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার (১৮৭৪) ও হিতকরী (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

'হিতকরী' পত্রিকা: 
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। 
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান। 
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

অন্যদিকে,
মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
কোহিনূর - মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১৬৩.
মীর মশাররফ হোসেনের কোন গ্রন্থের উপজীব্য হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ?
  1. গো-জীবন 
  2. ইসলামের জয়
  3. এর উপায় কী
  4. বসন্তকুমারী নাটক
ব্যাখ্যা
• ‘গো জীবন’ গ্রন্থের উপজীব্য হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ। 

• ‘গো জীবন’ প্রবন্ধ:

- ‘গো জীবন’ (১৮৮৯) মীর মশাররফ হোসেনের একটি প্রবন্ধ পুস্তিকা।
- প্রবন্ধটির মূল বক্তব্য হলো, কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে যে কোন কারণেই হোক গো হত্যা অনুচিত।
- হিন্দু ও মুসলমান এই দুই ধর্মালম্বীদের ঐক্যবদ্ধ করার মানসেই মীর মশাররফ হোসেন এ প্রবন্ধ রচনা করেন।
- এ গ্রন্থের জন্য লেখককে মামলাতে জড়িয়ে পরতে হয়।
- অবশেষে মৌলবাদীদের প্রবল চাপের মুখে তিনি প্রবন্ধটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

---------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসোপম রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬৪.
কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন কোন সাহিত্যিক?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. আহসান হাবীব
  3. মীর মোশাররফ হোসেন
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬) কথাসাহিত্যিক। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

• আহসান হাবীব (১৯১৭-১৯৮৫) কবি ও সাংবাদিক। ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) কবি, নাট্যকার, গীতিকার। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬৫.
"রাধাকান্ত এবং নয়নতারা" - কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. সধবার একাদশী
  2. এর উপায় কী
  3. বিয়ে পাগলা বুড়োঁ
  4. মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়
ব্যাখ্যা

'এর উপায় কী' প্রহসন:
- 'এর উপায় কী' প্রহসনটির রচয়িতা 'মীর মশাররফ হোসেন'।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৫ সালে এবং দ্বিতীয় প্রকাশ ১৮৯২ সালে।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল- লেখক এই প্রহস্নে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন।

এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- রাধাকান্ত,
- মুক্তকেশী,
- নয়নতারা,
- ইয়ার মদন প্রমুখ।

উল্লেখ্য,
'সধবার একাদশী' গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।
'বিয়ে পাগলা বুড়ো' গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - নসিরাম, রতা, রাজীব, রাজমণি, কেশব, বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৬৬.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক কোনটি?
  1. ভদ্রার্জুন
  2. উজানে মৃত্যু
  3. জমীদার দর্পণ
  4. বহিপীর
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- তারাচরণ শিকদার রচিত নাটক- ভদ্রার্জুন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক- ‘উজানে মৃত্যু’. ‘বহিপীর’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬৭.
‘বিষাদ-সিন্ধু’র মূল কাহিনি কোন ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রচিত?
  1. পলাশীর যুদ্ধ
  2. বদরের যুদ্ধ
  3. কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ
  4. হোসেন শাহের রাজত্বকাল
ব্যাখ্যা

বিষাদ সিন্ধু:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬৮.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক -
  1. বেহুলা গীতাভিনয়
  2. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  4. কমলে কামিনী
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক - বেহুলা গীতাভিনয়

অন্যদিকে,
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত জীবনীভিত্তিক উপন্যাস - উদাসীন পথিকের মনের কথা।
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত সাহিত্যিক বিষয়ক প্রবন্ধ - গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক কমলে কামিনী - কমলে কামিনী।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয়।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬৯.
মুসলিম নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক-
  1. বসন্তকুমারী
  2. আবু হোসেন
  3. পদ্মাবতী
  4. মালতী মাধব
ব্যাখ্যা
• ‘বসন্তকুমারী’ নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে ‘বসন্তকুমারী’ নাটক (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র’ পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে ‘বসন্তকুমারী নাটক রচিত।
- নাটকটির অপর নাম ‘বৃদ্ধস্য তরূণী ভার্যা’।
- ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় নাটক।

------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- তিনি ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' (১৮৩১) ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'-র (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- মীর মশাররফ হোসেন 'আজীজননেহার' (১৮৭৪) ও 'হিতকরী' (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ হোসেন 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- বাংলা সাহিত্যে মুসলমান রচিত প্রথম উপন্যাস 'রত্নবতী' ও নাটক 'বসন্তকুমারী' তাঁর রচনা।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রত্নবতী,
- বিষাদ-সিন্ধু,
- উদাসীন পথিকের মনের কথা।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

অন্যদিকে,
- জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক ‘অশ্রুমতী’ এবং অনুবাদ নাটক ‘মালতী-মাধব’।
- গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত গীতিনাট্য ‘আবু হোসেন’।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক ‘পদ্মাবতী’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭০.
বিখ্যাত নাটক 'বসন্তকুমারী' কে রচনা করেছেন?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যয়
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'বসন্তকুমারী’ নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে ‘বসন্তকুমারী’ নাটক (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক ।
- বৃদ্ধ রাজা বীরেন্দ্র সিংহ এর যুবতী স্ত্রী রেবতী সপত্নীপুত্র নরেন্দ্র সিংহকে প্রেম নিবেদন করে প্রত্যাখিত হয় এবং ষড়যন্ত্র শুরু হয়।
- এর পরিণামে পুরো রাজ পরিবারটি ধ্বংস হয়ে যায়।
- ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় নাটক।

মীর মশাররফ রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭১.
'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. ফররুখ আহমেদ
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. মীর মশাররফ হোসেন 
ব্যাখ্যা

• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' কাব্যের রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১২) ছিলেন একজন বাঙালি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও মুসলিম সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেনের ছদ্মনাম ছিল ‘গাজী মিয়া’।
- তিনি গো-জীবন নামক প্রবন্ধ রচনা করে মামলায় জড়িয়ে পড়েন।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ (১৮৪৩), পত্রিকার মাধ্যমেই তিনি সাহিত্যজীবনে প্রবেশ করেন - যার সম্পাদক ছিলেন কাঙ্গাল হরিনাথ।

- তাঁর নাটকগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
• 'বসন্তকুমারী' ও
• 'জমিদার দর্পণ'। 

মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক রচনা হচ্ছে গাজী মিয়াঁর বস্তানী। 

- তার রচিত প্রহসন হচ্ছে:
• ফাঁস কাগজ', 
•'ভাই ভাই এইতো চাই', 
• 'এর উপায় কি'।

- তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যকর্ম হলো কারবালার যুদ্ধকে উপজীব্য করে লেখা উপন্যাস 'বিষাদ সিন্ধু' - যার তিন খণ্ড হলো:
• মহররম পর্ব,
• উদ্ধার পর্ব ও
• ইয়াজিদ বধ পর্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

১৭২.
মীর মশাররফ হোসেনের রচনা নয় কোনটি?
  1. একেই কি বলে সভ্যতা
  2. কুলসুম জীবনী
  3. বিষাদ-সিন্ধু
  4. বেহুলা গীতাভিনয়
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেনের রচনা নয় - একেই কি বলে সভ্যতা
- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।

মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

তাঁর রচিত প্রহসন: 
- এর উপায় কি?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭৩.
উপন্যাস আকারে নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনিপূর্ণ রচনা কোনটি?
  1. টালা অভিনয়
  2. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. বিষাদ-সিন্ধু
  4. জমীদার দর্পণ
ব্যাখ্যা
• 'উদাসীন পথিকের মনের কথা':
- 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' মীর মশাররফ হোসেনের গ্রন্থের বিজ্ঞাপনে 'অতি আশ্চর্য্য উপন্যাস' হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।'
- 'ভারতী ও বালক' (বৈশাখ ১২৯৮) পত্রিকায় মন্তব্য করা হয়, 'সমালোচ্য পুস্তকখানি ঠিক উপন্যাস নহে, ইহা উপন্যাসাকারে নীল অত্যাচারের কাহিনীপূর্ণ'।

- ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় একে 'উপন্যাস' হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। মুনীর চৌধুরীর বিবেচনায় এটি মশাররফের 'আত্মজীবনীমূলক রচনা'। অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিমতও অভিন্ন। গ্রন্থটি যে উপন্যাসই সে-সম্পর্কে বক্তব্য পেশ করেছেন ক্ষেত্র গুপ্তও। তবে 'উদাসীন পথিকের মনের কথা'কে যথার্থ উপন্যাস বা নিছক আত্মকথা না বলে একে উপন্যাসের আদলে মশাররফের শ্রুতি ও স্মৃতিনির্ভর বাস্তব ঘটনার আলেখ্য হিসেবে চিহ্নিত করা চলে।

- 'উদাসীন পথিকের মনের কথা'র কাহিনি দুইটি স্বতন্ত্র ধারায় প্রবাহিত। এই কাহিনির একদিকে রয়েছে কুষ্টিয়ার নীলকর টি. আই. কেনীর সঙ্গে সুন্দরপুরের মহিলা জমিদার প্যারীসুন্দরীর দ্বন্দ্ব, নীলচাষের কারণে রায়ত-প্রজার উপর কেনীর অত্যাচার-নিপীড়ন, নীলবিদ্রোহ ও কেনীর পরিণতি। কাহিনির দ্বিতীয় ধারাটি গড়ে উঠেছে মশাররফ-জনক মীর মোয়াজ্জম হোসেনের সঙ্গে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী-পতি সা গোলামের তিক্ত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এবং এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে মোয়াজ্জম হোসেনের দাম্পত্যজীবনের ঘটনা।

অন্যদিকে,
• 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস। হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।

----------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' গ্রন্থ; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭৪.
'বসন্তকুমারী' একটি প্রখ্যাত-
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. একটিও নয়
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• 'বসন্তকুমারী' নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে 'বসন্তকুমারী নাটক অন্যতম।
- এ্টি মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র' পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের - মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে 'বসন্তকুমারী নাটক রচিত।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু, 

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী, 
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৭৫.
‘গাজী মিয়াঁর বস্তানী’ কী ধরনের রচনা?
  1. রোমান্স উপন্যাস
  2. আত্মজীবনীমূলক রচনা 
  3. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  4. সামাজিক উপন্যাস 
ব্যাখ্যা

‘গাজী মিয়াঁর বস্তানী’ একটি আত্মজীবনীমূলক। 

গাজী মিয়াঁর বস্তানী:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী মীর মশাররফ হোসেনের কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনীমূলক রচনা, যা ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটিতে লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্বহীন ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন।
- লেখক নিজেকে এখানে ‘ভেড়াকান্ত’ নামে উল্লেখ করেছেন।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায়।
- ছাত্রাবস্থায় তিনি সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকার মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেছেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী এবং উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

প্রকাশিত রচনা:
- প্রথম উপন্যাস: রত্নবর্তী (১৮৬৯)
- উল্লেখযোগ্য নাটক: বসন্তকুমারী, জমিদার দর্পণ, বেহুলা গীতাভিনয়
- উপন্যাস: বিষাদ-সিন্ধু
- আত্মজীবনীমূলক রচনা: উদাসীন পথিকের মনের কথা, গাজী মিয়াঁর বস্তানী
- অন্যান্য সাহিত্যকর্ম: গোরাই-ব্রিজ বা গৌরী-সেতু

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭৬.
মীর মশাররফ হোসেনের জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. ঝিনাইদহ
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. কুষ্টিয়া
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী' (১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

• তাঁর উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• তাঁর আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭৭.
’এর উপায় কি?’-প্রহসনের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

•”এর উপায় কি?”
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্রহসন।
- উনিশ শতকে নারীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে যে অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল একশ্রেণির লোক -লেখক এই প্রহসনে তা তুলে ধরেন।
- স্বামী রাধাকান্ত, স্ত্রী মুক্তকেশী, রক্ষিতা নয়নতারা, ইয়ার মদন প্রমুখ এ প্রহসনের উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্র ।
- গ্রন্থটির প্রকাশ ঘটে, ১৮৭৫ সালে।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক  কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। 
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা - ’বিষাদ-সিন্ধু” (উপন্যাস)

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭৮.
মীর মোশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) আমার জীবনী
  2. খ) আমার ছেলেবেলা
  3. গ) স্মৃতিতে গাজী মিঞা
  4. ঘ) কাসেম জীবনী
ব্যাখ্যা
প্রথম মুসলিম গদ্য সাহিত্য রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থগুলো হচ্ছে -
- উদাসীন পথিকের মনের কথা
- গাজী মিঞার বস্তানী
- আমার জীবনী
- বিবি কুলসুম জীবনী

আমার জীবনী বার খণ্ডে ১৯০৮ থেকে ১৯১০  খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে প্রকাশিত হয়। 
- গ্রন্থটিতে তাঁর পরিপূর্ণ জীবন কাহিনি বর্ণিত হয়নি। 
- লেখকের জীবনের মাত্র আঠার বছরের ঘটনা ও কার্যক্রম এতে তুলে ধরা হয়েছে। 
- সে বিচারে আত্মজীবনীটি অসমাপ্ত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল এবং আলম বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭৯.
মৌলবাদীদের প্রবল চাপে মীর মশাররফ হোসেন তাঁর কোন গ্রন্থটি প্রত্যাহার করেন?
  1. টালা অভিনয়
  2. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  3. গো জীবন
  4. উদাসীন পথিকের মনের কথা
ব্যাখ্যা
• ‘গো জীবন’ প্রবন্ধ:
- ‘গো জীবন’ (১৮৮৯) মীর মশাররফ হোসেনের একটি প্রবন্ধ পুস্তিকা।
- প্রবন্ধটির মূল বক্তব্য হলো, কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে যে কোন কারণেই হোক গো হত্যা অনুচিত।
- হিন্দু ও মুসলমান এই দুই ধর্মালম্বীদের ঐক্যবদ্ধ করার মানসেই মীর মশাররফ হোসেন এ প্রবন্ধ রচনা করেন।
- এ গ্রন্থের জন্য লেখককে মামলাতে জড়িয়ে পরতে হয়।
- অবশেষে মৌলবাদীদের প্রবল চাপের মুখে তিনি প্রবন্ধটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

---------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮০.
'রত্নবতী' কোন লেখকের প্রথম গ্রন্থ?
  1. কায়কোবাদ
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

'রত্নবতী' উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত উপন্যাস রত্নবর্তী।
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রথম গ্রন্থের নাম হচ্ছে 'রত্নবর্তী'। এটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি মুসলিম সাহিত্যিকদের মধ্যে প্রথম কোন গ্রন্থ যা ঐতিহাসিকভাবে মূল্যবান।
- প্রকৃতপক্ষে এটি রূপকথা জাতীয় শিক্ষামূলক একটি দীর্ঘ গল্প।
- রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে 'ধন বড় না বিদ্যা বড়'- এ বিতর্ক ও বিতর্কের সমাধানই 'রত্নবতী'র মূল বিষয়।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৮১.
মীর মশাররফ হোসেন কত খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৮৬১ সালে
  2. ১৮২০ সালে
  3. ১৮৪৭ সালে
  4. ১৮৭৭ সালে
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৮২.
'উদাসীন পথিকের মনের কথা' -কোন জাতীয় রচনা?
  1. নাটক
  2. কাব্য
  3. আত্মজৈবনিক রচনা
  4. গীতিকবিতার সংকলন
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উদাসীন পথিকের মনের কথা:
• ‘উদাসীন পথিক' এই ছদ্মনামে মীর মশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে স্বীয় পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
• “উদাসীন পথিকের মনের কথা” (১৮৯০) কে প্রকৃতপক্ষে উপন্যাস বা আত্মজীবনীমূলক রচনা এর কোনোটাই বলা যায় না। বরং বলতে হয়, গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবননির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনার মিশেল উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা।
• এতে লেখকের পারিবারিক ইতিবৃত্ত বর্ণনা এবং নিজের মাতা-পিতাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে চিত্রিত হতে দেখা যায়। উদাসীন পথিকের মনের কথায় হিন্দু-মুসলমানের যে মিলন-কামনা আছে, তার গভীর তাৎপর্য স্বীকার করতে হয়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৮৩.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সুধাকর
  2. কোহিনুর
  3. সওগাত
  4. আজিজননেহার
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি ’আজিজননেহার’ ও ’হিতকরী’ নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'মাসিক সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন। 
• 'কোহিনুর' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী।
• 'সুধাকর' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেখ আব্দুর রহিম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৮৪.
‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাসটি কয়টি পর্বে রচিত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

• ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্টিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত।
- তন্মধ্যে 'মহরম পর্ব্বে' উপক্রমণিকা ও ছাব্বিশটি প্রবাহ, 'উদ্ধার পর্ব্বে' ত্রিশটি প্রবাহ, 'এজিদ-বধ পর্ব্বে' পাঁচটি প্রবাহ ও উপসংহার-অংশ রয়েছে।
- প্রথমত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কাহিনি সাধারণ মুসলিম পাঠকের কাছে এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
- দ্বিতীয়ত 'বিষাদ-সিন্ধু'র জাদুকরী রচনাগুণের জন্যে সাহিত্যরসিকজনের কাছেও গ্রন্থটি আদরণীয়।
- জয়নাবের রূপে বিমোহিত এজিদ এবং এই রূপতৃষ্ণার পরিণামে বহু মানুষের বিপর্যয় ও ধ্বংসের যে কথকতা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রন্থটিকে সর্বজনীন করে তুলেছে।
- 'বিষাদ-সিন্ধু'র কাহিনিতে অ্যান্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট চেতনা মূলত মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকেই মীর মশাররফ হোসেন গ্রহণ করেছেন।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৮৫.
'জমিদার দর্পণ' নাটকের অত্যাচারী জমিদার চরিত্রের নাম কী?
  1. মোকাজন মিঞা
  2. হায়ওয়ান আলী
  3. রানাপ্রতাপ সিং
  4. নজিব-উদ-দোলা
ব্যাখ্যা
• জমিদার দর্পণ:
- 'জমিদার দর্পণ' মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষন ও হত্যার কাহিনি এর মূল ঘটনা।
- 'জমিদার দর্পণ' উনিশ শতকের কৃষক শ্রেণির জীবনধারার উপর ভিত্তি করে রচিত ঐ শতাব্দের একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম।

• মীর মোশাররফ হোসেন:
- জন্ম ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায়।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯)
- তাঁর অমর কীর্তি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনী বিবৃত হয়েছে।

এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো-
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- জমিদার দর্পণ,
- টালা অভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৮৬.
সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত নাটক কোনটি?
  1. জমিদার দর্পণ
  2. নবান্ন 
  3. নুরুলদীনের সারা জীবন
  4. গোত্রান্তর
ব্যাখ্যা

'জমিদার দর্পণ' নাটক:
- 'জমিদার দর্পণ' মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।

- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্থ প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষণ ও হত্যার কাহিনি 'জমিদার দর্পণ' (১৮৭৩) - এর মূল ঘটনা।

- লেখক লিখেছে, নাটকটির কিছুই সাজানো নয়, অবিকল ছবি তুলে ধরা হয়েছে প্রচলিত সমাজের।

- নামকরণে দীনবন্ধু মিত্রের 'নীল-দর্পণ' নাটকের প্রভাব যেমন প্রবল, নাটকটির ঘটনা বিন্যাসেও এর ছায়া পড়েছে।

অন্যদিকে, 
• 'নবান্ন' নাটকের রচয়িতা- বিজন ভট্টাচার্য। পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত।

• বিজন ভট্টাচার্যের গোত্রান্তর (১৯৬০) নাটকের বিষয়বস্তু ছিন্নমূল পূর্ববঙ্গবাসীর ভাগ্যবিপর্যয়। 

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত 'নুরুলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যের বিষয়বস্তু ছিলো রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৮৭.
নিচের কোনটি প্রহসন?
  1. ক) জমিদার দর্পণ
  2. খ) বসন্তকুমারী
  3. গ) এর উপায় কি?
  4. ঘ) কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন : ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও গদ্যরচয়িতা৷

- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'৷

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু

নাটক:
- বসন্তকুমারী নাটক
- জমীদার দর্পণ

গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী

তাছাড়া,
- তার রচিত একমাত্র প্রহসন : 'এর উপায় কি?'

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১৮৮.
'উদাসীন পথিকের মনের কথা' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

উদাসীন পথিকের মনের কথা:
- 'উদাসীন পথিক' এই ছদ্মনামে মীর মশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে স্বীয় পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- "উদাসীন পথিকের মনের কথা” (১৮৯০) কে প্রকৃতপক্ষে উপন্যাস বা আত্মজীবনীমূলক রচনা এর কোনোটাই বলা যায় না।
- বরং বলতে হয়, গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবননির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনার মিশেল উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা।
- এতে লেখকের পারিবারিক ইতিবৃত্ত বর্ণনা এবং নিজের মাতা-পিতাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে চিত্রিত হতে দেখা যায়। উদাসীন পথিকের মনের - কথায় হিন্দু-মুসলমানের যে মিলন-কামনা আছে, তার গভীর তাৎপর্য স্বীকার করতে হয়।

মীর মশাররফ হোসেন:
- তিনি ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' (১৮৩১) ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'-র (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৮৯.
'হিতকরী' পত্রিকাটি কোথা থেকে প্রকাশিত হতো?
  1. কুমিল্লার লাহিনীপাড়া
  2. কলকাতার লাহিনীপাড়া
  3. কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া
  4. কুুড়িগ্রামের লাহিনীপাড়া
ব্যাখ্যা
• 'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

-------------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার (১৮৭৪) ও হিতকরী (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৯০.
'উদাসীন পথিক' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন সেগুলো হলো-
গৌড়তটবাসী মশা
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

অন্যদিকে, 
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম হলো হাবু শর্মা। 

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। এগুলো হলো-
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

• সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, 'মানিক' তাঁর ডাকনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৯১.
মীর মশাররফ হোসেনের প্রত্যাহারকৃত প্রবন্ধ কোনটি?
  1. গো জীবন
  2. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  4. জমীদার দর্পণ
ব্যাখ্যা
• ‘গো জীবন’ প্রবন্ধ:
- ‘গো জীবন’ (১৮৮৯) মীর মশাররফ হোসেনের একটি প্রবন্ধ পুস্তিকা।
- প্রবন্ধটির মূল বক্তব্য হলো, কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে যে কোন কারণেই হোক গো হত্যা অনুচিত।
- হিন্দু ও মুসলমান এই দুই ধর্মালম্বীদের ঐক্যবদ্ধ করার মানসেই মীর মশাররফ হোসেন এ প্রবন্ধ রচনা করেন।
- এ গ্রন্থের জন্য লেখককে মামলাতে জড়িয়ে পরতে হয়।
- অবশেষে মৌলবাদীদের প্রবল চাপের মুখে তিনি প্রবন্ধটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

---------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসোপম রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৯২.
'গাজী মিয়া' ছদ্মনাম ছিল-
  1. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের 
  2. কায়কোবাদের 
  3. মীর মশাররফ হোসেনের 
  4. প্রমথ  চৌধুরীর 
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন এর ছদ্মনাম ছিল 'গাজী মিয়া'।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১২) ছিলেন একজন বাঙালি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও মুসলিম সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেনের ছদ্মনাম ছিল- ‘গাজী মিয়া’। 
- 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ (১৮৪৩)- পত্রিকার মাধ্যমেই তিনি সাহিত্যজীবনে প্রবেশ করেন - যার সম্পাদক ছিলেন কাঙ্গাল হরিনাথ।
- সাহিত্যজীবনে তিনি গো-জীবন নামক প্রবন্ধ রচনা করে মামলায় জড়িয়ে পড়েন। 

• তাঁর নাটকগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য- 
- 'বসন্তকুমারী' ও
- 'জমিদার দর্পণ'।

• মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক রচনা হচ্ছে- গাজী মিয়াঁর বস্তানী। 

• তার রচিত প্রহসন হচ্ছে - 
- ফাঁস কাগজ', 
- 'ভাই ভাই এইতো চাই', 
- 'এর উপায় কি'।

• তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যকর্ম হলো কারবালার যুদ্ধকে উপজীব্য করে লেখা উপন্যাস 'বিষাদ সিন্ধু' - যার তিন খণ্ড হলো- 
- মহররম পর্ব,
- উদ্ধার পর্ব ও
- ইয়াজিদ বধ পর্ব।

অন্যদিকে,
• 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের' ছদ্মনাম হলো- বনফুল।
• 'কায়কোবাদ' এর প্রকৃত নাম ছিল- মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- 'কায়কোবাদ' ছিল তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাকে মহাকবি ও বলা হয়। 
- তার লিখা 'মহাশ্মশান' বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত মহাকাব্য।
• 'প্রমথ চৌধুরীর' ছদ্মনাম হলো- বীরবল।
- বাংলা সাহিত্যে তার উপাধি হচ্ছে- চলিত রীতির প্রবর্তক।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

১৯৩.
'হিতকরী' পত্রিকা'র সম্পাদক কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. শেখ আবদুর রহিম
  3. আহমদ ছফা
  4. কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
'হিতকরী' পত্রিকা: 
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। 
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান। 
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

অন্যদিকে, 
- হিতবাদী - কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা।
- শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকার নাম সুধাকর।
- আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকার নাম - স্বদেশ। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৯৪.
'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি কয়টি পর্বে বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৫ টি
  4. ৯ টি
ব্যাখ্যা
• বিষাদ সিন্ধু:
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- ৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-
- হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয়।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।
১৯৫.
'বসন্তকুমারী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• 'বসন্তকুমারী' নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে 'বসন্তকুমারী নাটক অন্যতম।
- এ্টি মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র' পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের - মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে 'বসন্তকুমারী নাটক রচিত।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু, 

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী, 
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৯৬.
'উদাসীন পথিক' ছদ্মনামে আত্মজীবনী রচনা করেন-
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. জসীমউদ্দীন
  4. আবু জাফর শামসুদ্দিন
ব্যাখ্যা
⇒ মীর মশাররফ হোসেন:
• গাজী মিয়াঁ এবং 'উদাসীন পথিক' উভয় ছদ্মনামেই মীর মশাররফ হোসেন সাহিত্য রচনা করেছেন। 

• 'উদাসীন পথিক' ছদ্মনামে মশাররফ হোসেন তাঁর ব্যক্তিজীবনের পটভূমিতে রচনা করেছেন 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' (১৮৯০)। 
- গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবন নির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনা মিশেল উপন্যাসসূলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা। 

• 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে মশাররফ হোসেন তাঁর কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনী মূলক রচনা 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী'।
- এতে লেখক নিজেকে ভেড়াকান্ত নামে উল্লেখ করেন। 
- এতে বঙ্কিমের 'কমলাকান্তের দপ্তর' -এর প্রভাব পাওয়া যায়। 
 
- মীর মশাররফ হোসেনের আরও দুটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ- 
- আমার জীবন (১৯১০),
- কুলসুম জীবনী (১৯১০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯৭.
মীর মশাররফ হোসেনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয় যে ধরনের সাহিত্যকর্ম-
  1. প্রবন্ধ
  2. প্রহসন
  3. ছোটোগল্প
  4. আত্মজীবনীমূলক রচনা
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক সাহিত্যকর্ম নয়- ছোটোগল্প। 

------------------------
•  মীর মশাররফ হোসেন:

- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক। ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক 'কাঙাল হরিনাথ' ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- মীর মশাররফ হোসেন আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফের প্রকাশিত পঁচিশটি গ্রন্থের মধ্যে সপ্তম গ্রন্থ 'সংগীত লহরী- ১ম খণ্ড'। গ্রন্থটি তাঁর রসনন্দিত অনুভবের যত্নময় প্রকাশনা যেন! প্রাঞ্জল, মাধুরীমণ্ডিত এ গ্রন্থের সকল গান। কিন্তু, এগুলোর সুরারোপিত গীত-অবয়ব কালের গর্ভে নিঃশেষিত আজ!
- উদার দৃষ্টিকোণ থেকে ‘গোকুল নির্মূল আশঙ্কা’ প্রবন্ধ লিখে তিনি স্বসমাজ কর্তৃক নিগৃহীত হন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• গানের সংকলন:
- 'সংগীত লহরী- ১ম খণ্ড'। 

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
১৯৮.
"মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে। " - উক্তিটি কার?
  1. আবদুল হাকিম
  2. কাজী আব্দুল ওদুদ 
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. কাজী মোতাহার হোসেন 
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেনের 'আমাদের শিক্ষা 'প্রবন্ধ থেকে - 'মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে।' - উক্তিটি নেওয়া হয়েছে।

-----------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু,

গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১৯৯.
'গাজী মিয়াঁ' কার ছদ্মনাম? 
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. ফররুখ আহমেদ
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২০০.
আধুনিক যুগের কোন কবি মর্সিয়া সাহিত্য রচনা করেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. ফররুখ আহমদ
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

- আধুনিক যুগের দুইজন কবি মর্সিয়া সাহিত্য রচনা করেন।
- তাঁরা হলেন মীর মশাররফ হোসেন ও কায়কোবাদ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।