বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

স্বরসন্ধি

মোট প্রশ্ন৪৩৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

স্বরসন্ধি

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৪৩৪

২০১.
'অত্যধিক' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. অত্যা+অধিক
  2. অত্য + ধিক
  3. অতি + অধিক
  4. অতি+ধিক
ব্যাখ্যা
• 'অত্যধিক' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - 'অতি + অধিক'। 

• সন্ধির নিয়ম: 
ই-কার বা ঈ-কার পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে সন্ধির বেলায় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে য-ফলা লেখা হয়।
এই নিয়মে গঠিত সন্ধি:
• অতি + অন্ত = অত্যন্ত
• ইতি + আদি = ইত্যাদি
• প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ
• নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০২.
'গবাদি' - এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গব + আদি
  2. গো + আদি
  3. গবা + অদি
  4. গো + অদি
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।

যেমন-
- নে + অন = নয়ন,
- শে + অন = শয়ন,
- নৈ + অক = নায়ক,
- গৈ + অক = গায়ক,
- পো + অন = পবন,
- লো + অন = লবণ,
- গো + আদি = গবাদি,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২০৩.
'কথোপকথন' শব্দটি কোন সন্ধির নিয়মে গঠিত?
  1. স্বরসন্ধি
  2. বিসর্গ সন্ধি
  3. ব্যঞ্জন সন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হয়-উ ধ্বনি বা দীর্ঘ-ঊ ধ্বনির যোগে ও-ধ্বনি হয়। বানানে তা ও- কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

• অ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):  
- সর্ব + উচ্চ = সর্বোচ্চ;
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়;
- দীর্ঘ + উচ্চারণ = দীর্ঘোচ্চারণ;
- প্রশ্ন + উত্তর = প্রশ্নোত্তরায়। 

• অ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- নব + উঢ়া = নবোঢ়া;
- সর্ব+ ঊর্ধ্ব = সর্বোর্ধ্ব ইত্যাদি।

• আ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- যথা + উচিত = যথোচিত;
- কথা + উপকথন = কথোপকথন;
- যথা + উপযুক্ত = যথোপযুক্ত ইত্যাদি।

• আ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- গঙ্গা + উর্মি = গঙ্গোর্মি;
- মহা + উর্মি = মহোের্মি;
- মহা + ঊর্ধ্ব = মহোর্ধ্ব ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২০৪.
কোনটি বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. উত্থান
  2. উদ্ভব
  3. উদ্যম
  4. উদ্যোগ
ব্যাখ্যা
• বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি - উত্থান

• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মানুসারে,
ব্যঞ্জন ধ্বনিসমূহের যে কোনো বর্গের অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনির পর যে কোনো বর্গের ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ তালব্য ধ্বনি, (য > জ), ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ ধ্বনি (ব), ঘোষ কম্পনজাত দন্তমূলীয় ধ্বনি (র) কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি (ব) থাকলে প্রথম অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি ঘোষ অল্পপ্রাণরূপে উচ্চারিত হয়।
যথা:
- ক্+দ = গ্‌ + দ ⇒ বাক্ + দান = বাগদান।
- ট্ + য = ড়্‌ + য ⇒ ষট্ + যন্ত্র = ষড়যন্ত্র।
- ত্‌ + ঘ = দ্‌+ ঘ ⇒ উৎ + ঘাটন = উদ্‌ঘাটন।
- ত্ + য = দ্‌ + য ⇒ উৎ + যোগ = উদ্যোগ; উৎ + যম = উদ্যম; উৎ + ভব = উদ্ভব
- ত্ + ব = দ্‌ + ব ⇒ উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন।
- ত্ + র = দ্‌ + র ⇒ তৎ + রূপ = তদ্রূপ।

এরূপ - দিগ্বিজয়, উদ্‌গার, উদ্‌গিরণ, বাগ্‌জাল, সদ্‌গুরু, বাগ্দে‌বী ইত্যাদি।

বিশেষ নিয়মে সাধিত কতগুলো ব্যঞ্জনসন্ধি:
- উৎ + স্থান = উত্থান,
- সম্‌ + কার = সংস্কার,
- উৎ + স্থাপন = উত্থাপন,
- সম্‌ + কৃত = সংস্কৃত,
- পরি + কার = পরিষ্কার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০৫.
কোন শব্দটি 'ই + ই = ঈ' নিয়মে সাধিত সন্ধি?
  1. গিরীশ
  2. অতীত
  3. অধীশ্বর
  4. শচীন্দ্র
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির যোগে দীর্ঘ-ঈ হয়।
বানানে তা দীর্ঘ-ঈ-কার হয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

• সূত্র: ই + ই = ঈ:
- অতি + ইত = অতীত,
- অভি + ইষ্ট= অভীষ্ট,
- প্রতি + ইতি = প্রতীতি,
- অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

• সূত্র: ই + ঈ = ঈ:
- গিরি + ঈশ = গিরীশ,
- অধি+ ঈশ্বর = অধীশ্বর,
- ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ,
- অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা।

• সূত্র: ঈ + ই = ঈ:
- শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র,
- যোগী + ইন্দ্র = যোগীন্দ্র,
- সুধী + ইন্দ্র = সুধীন্দ্র,
- ফণী + ইন্দ্র = ফণীন্দ্র।

• সূত্র: ঈ + ঈ = ঈ:
- সতী + ঈশ = সতীশ,
- শ্রী + ঈশ = শ্রীশ,
- মহী + ঈশ্বর = মহীশ্বর,
- ফণী + ঈশ্বর = ফণীশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ২য় পত্র ,এস এসসি প্রোগাম,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০৬.
'মহেশ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মহ + ঈশ
  2. মহা + ইশ
  3. মহ + ইশ
  4. মহা + ঈশ
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- অ + ই = এ; শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা। 
- আ + ই = এ; যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।
- অ + ঈ = এ; পরম + ঈশ = পরমেশ।
- আ + ঈ = এ; মহা + ঈশ = মহেশ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

২০৭.
শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তৎ + শক্তি = তচ্ছক্তি
  2. দুর্ + যােগ = দুর্যোগ
  3. প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ
  4. পৎ + হতি = পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ: প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ।

-------------
• সন্ধি:
পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। অন্য কথায়, সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।

• নিয়ম:
ই বা ঈ ধ্বনির পর যদি অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে ই/ঈ এর জায়গায় য হয়।
যেমন:
- অতি + অধিক = অত্যধিক,
- আদি + অন্ত = আদ্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- অতি + আচার = অত্যাচার,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ।

• নিয়ম:
ত ও দ এর পর শ থাকলে ত ও দ- এর স্থলে চ এবং শ- এর স্থলে ছ উচ্চারিত হয়। যেমন:
- উৎ+ শ্বাস = উচ্ছ্বাস।
- তদ্ + শক্তি = তচ্ছক্তি।
- পদ্ + হতি = পদ্ধতি।
- তদ্ + হিত = তদ্ধিত।

• নিয়ম:
অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পর পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়।
যেমন-
দুঃ + যােগ = দুর্যোগ,
নিঃ + আকার = নিরাকার।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি।
২০৮.
"গবাদি" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গব + আদি
  2. গোঃ + আদি
  3. গৌ + আদি
  4. গো + আদি
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।

যেমন:
- গৈ + অক = গায়ক,
- পো + অন = পবন,
- লো + অন = লবণ,
- গো + আদি = গবাদি,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০৯.
'মহৈশ্বর্য' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কী হবে?
  1. মহা + ঐশর্য
  2. মহা + ঐশ্বর্য
  3. মহ + ঐশ্বর্য
  4. মহা + ঔশ্বর্য
ব্যাখ্যা
• মহা + ঔশ্বর্য =মহৈশ্বর্য; স্বরসন্ধির উদাহরণ। 

• সূত্র:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঐ-কার হয়; ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন-
- অ + এ = ঐ;  জন + এক = জনৈক।
- আ + এ = ঐ; সদা + এব = সদৈব।
- অ + ঐ = ঐ; মত + ঐক্য = মতৈক্য।
- আ + ঐ = ঐ; মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২১০.
'স্বাধীনতা' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সু + অধীনতা
  2. স + অধীনতা
  3. শ + অধীনতা
  4. স্ব + অধীনতা
ব্যাখ্যা
• ‘স্বাধীনতা’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - স্ব + অধীনতা। 

সন্ধির নিয়ম:
- উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়। যেমন-
অনু + এষণ = অন্বেষণ,
তনু + ঈ = তন্বী,
অনু + ইত = অন্বিত,
স্ব + অধীন = স্বাধীন,
স্ব + ইচ্ছা = স্বেচ্ছা,
সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২১১.
'স্বল্প' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. স্ব + অল্প
  2. স্‌ + অল্প
  3. সু + অল্প
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
উ-কার কিংবা উ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
অনু + এষণ = অন্বেষণ,
সু + অল্প = স্বল্প, 
তনু + ঈ = তন্বী,
অনু + ইত = অন্বিত,
সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২১২.
'নরাধম' - শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নর + আধম
  2. নরঃ + অধম
  3. নর + অধম
  4. নরা + আধম
ব্যাখ্যা

স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের নাম স্বরসন্ধি। অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- নর + অধম = নরাধম,
- হিম + আলয় = হিমালয়,
- যথা + অর্থ = যথার্থ,
- বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়,
- কথা + অমৃত = কথামৃত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২১৩.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি অশুদ্ধ?
  1. মহ + অর্ঘ = মহার্ঘ
  2. হত + আশ = হতাশ
  3. ত্বরা + অন্বিত = ত্বরান্বিত
  4. স্ব + অধীন = স্বাধীন
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয় এবং এই আ-কার পূর্ব বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়।

সূত্র: অ + অ = আ:
• নব + অন্ন = নবান্ন;
• স্ব + অধীন = স্বাধীন;
• প্রাণ + অধিক = প্রাণাধিক;
• হত + আশ = হতাশ;
• সূর্য + অস্ত = সূর্যাস্ত।

সূত্র: আ + অ = আ:
• আশা + অতীত = আশাতীত;
• মহা + অর্ঘ = মহার্ঘ;
• ত্বরা + অন্বিত = ত্বরান্বিত;
• যথা + অযথ = যথাযথ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২১৪.
'সূর্যোদয়' - শব্দটি কোন নিয়মে গঠিত?
  1. ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মে 
  2. স্বরসন্ধির নিয়মে 
  3. বিসর্গসন্ধির নিয়মে 
  4. স্বর+ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মে 
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত সন্ধি:
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হয়-উ ধ্বনি বা দীর্ঘ-ঊ ধ্বনির যোগে ও-ধ্বনি হয়। বানানে তা ও- কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

যেমন:
সূত্র- অ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- সর্ব + উচ্চ = সর্বোচ্চ;
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়;
- দীর্ঘ + উচ্চারণ = দীর্ঘোচ্চারণ;
- প্রশ্ন + উত্তর = প্রশ্নোত্তর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১৫.
'হিতৈষী' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. হিত + ঋষি
  2. হিত + এষী
  3. হিতো + এষা
  4. হিতৈ + এষী
ব্যাখ্যা
• 'হিতৈষী' এর সন্ধি বিচ্ছেদ — 'হিত + এষী'। 

• সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঐ-কার হয়।
- ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন, 
- হিতৈষী = হিত + এষী,
- মত + ঐক্য = মতৈক্য,
- সর্বৈব = সর্ব + এব, 
- হিতৈষণা = হিত + এষণা, 
- অতুলৈশ্বর্য = অতুল + ঐশ্বর্য, 
- একৈক = এক + এক, 
- তথৈব = তথা + এব। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা - হায়াৎ মামুদ।
২১৬.
‘শীতার্ত’ শব্দটির সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শীত + ঋত
  2. শীত + আর্ত
  3. শীত + হৃত
  4. শীত + ঝৃত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) শীত + ঋত

সন্ধি:
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- বাংলা ভাষায় উপসর্গ, প্রত্যয় ও সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে।

সন্ধি তিন প্রকার:
- স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি ও বিসর্গসন্ধি।
- 'সূর্যোদয়' শব্দটির সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ হচ্ছে সূর্য + উদয়। 'সূর্যোদয়' শব্দটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।

স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
- যেমন:
  - শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা,
  - সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়,
  - মহা + ঋষি = মহর্ষি,
  - শীত + ঋত = শীতার্ত,
  - জন + এক = জনৈক,
  - বন + ওষধি = বনৌষধি,
  - প্রতি + এক = প্রত্যেক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২১৭.
'ধর্মাধর্ম' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ধর্ম + ধর্ম
  2. ধর্মঃ + ধর্ম
  3. ধর্ম + অধর্ম
  4. ধর্মা + ধর্ম
ব্যাখ্যা
• 'ধর্মাধর্ম' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - ধর্ম + অধর্ম

স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন -
- অ + অ = আ; ধর্ম + অধর্ম = ধর্মাধর্ম
এরূপ - নরাধম, হিমাচল, প্রাণাধিক, হস্তান্তর, হিতাহিত ইত্যাদি।

- অ + আ = আ; হিম + আলয় = হিমালয়।
এরূপ - দেবালয়, রত্নাকর, সিংহাসন ইত্যাদি।

- আ + অ = আ; যথা + অর্থ = যথার্থ।
এরূপ - আশাতীত, কথামৃত, মহার্ঘ ইত্যাদি।

- আ + আ = আ; বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়।
এরূপ - কারাগার, মহাশয়, সদানন্দ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১৮.
‘রক্তোষ্ঠ’ শব্দটি কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. বিসর্গ সন্ধি
  2. স্বরসন্ধি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  4. ব্যঞ্জন সন্ধি
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
- কতগুলো সন্ধি এই নিয়মের অনুসরণ করে হয় না। সেগুলোকে নিপাতনেসিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন:
- কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়);
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়);
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়);
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ;
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড;
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১৯.
"বৃক্ষচ্ছায়া" শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বৃক্ষঃ + ছায়া
  2. বৃক্ষ + ছায়া
  3. বৃক্ষ + চ্ছায়া
  4. বৃক্ষঃ + চ্ছায়া
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• স্বরধ্বনির পরে ছ্‌ থাকলে ছ্‌ স্থানে চ্ছ হয়। 
 
যেমন:
→ স্ব + ছন্দ = স্বচ্ছন্দ, 
→ প্র + ছদ = প্রচ্ছদ, 
বৃক্ষ + ছায়া = বৃক্ষচ্ছায়া
→ কথা + ছলে = কথাচ্ছলে, 
→ পরীক্ষা + ছলে = পরীক্ষাচ্ছলে, 
→ প্রতি + ছবি = প্রতিচ্ছবি ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২২০.
‘রক্তোষ্ঠ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. রক্ত+ উষ্ঠ
  2. রক্ত + ওষ্ঠ
  3. র + ওষ্ঠ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘রক্তোষ্ঠ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - রক্ত + ওষ্ঠ। 

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি: 
- কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
 
• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ:
- অন্য + অন্য = অন্যান্য,
- কুল + অটা = কুলটা,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- স্ব + ঈর = স্বৈর,
- গো + ইন্দ্ৰ = গবেন্দ্র,
- গো + ঈশ্বর = গবেশ্বর,
- অক্ষ + ঊহিণী = অক্ষৌহিণী,
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ,
- সীমন + অত = সীমন্ত,
- শার + অঙ্গ = শারঙ্গ,
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২১.
'অ + এ = ঐ' নিয়মে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. তথৈবচ
  2. মহৈশ্বর্য
  3. সদৈব
  4. হিতৈষী
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত শব্দ:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয় মিলে ঐ-কার হয়; ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:

• অ + এ = ঐ:
জন + এক = জনৈক;
হিত + এষী = হিতৈষী

• আ + এ =ঐ:
সদা + এব = সদৈব।
তথা + এবচ = তথৈবচ।

• আ + ঐ = ঐ:
মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য;
মহা + ঐক্য = মহৈক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২২২.
'তৃষ্ণার্ত' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. তৃষ্ণা + রিত
  2. তৃষ্ণা + ঋত
  3. তৃষ্ণা + ঋতো
  4. তৃষ্ণা + আর্ত
ব্যাখ্যা
• 'তৃষ্ণার্ত' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - তৃষ্ণা + ঋত।

• সূত্র:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর 'ঋত'-শব্দ থাকলে (অ, আ+ঋ) উভয় মিলে 'আর' হয় এবং বানানে পূর্ববর্তী বর্ণে আ ও পরবর্তী বর্ণে রেফ লেখা হয়। যেমন-
- অ+ঋ = আর; শীত + ঋত = শীতার্ত।
- আ + ঋ = আর; তৃষ্ণা + ঋত = তৃষ্ণার্ত।
- এরূপ- ভয়ার্ত, ক্ষুধার্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২২৩.
"শীতার্ত" শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শীত + তার্ত
  2. শীত + ঋত
  3. শীত + আর্ত
  4. শীত + ঋর্ত
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর 'ঋত'-শব্দ থাকলে (অ, আ+ঋ) উভয় মিলে 'আর' হয় এবং বানানে পূর্ববর্তী বর্ণে আ ও পরবর্তী বর্ণে রেফ লেখা হয়।
যেমন:
• অ + ঋ = আর; শীত + ঋত = শীতার্ত।
• আ + ঋ = আর; তৃষ্ণা + ঋত = তৃষ্ণার্ত।

এরূপ-ভয়ার্ত, ক্ষুধার্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২৪.
'গবেষণা' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গব + এষণা
  2. গৌ + এষণা
  3. গো + এষণা 
  4. গবে + এষণা
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।

যেমন:
- পৌ + অক = পাবক,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র,
- নৌ + ইক = নাবিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।

২২৫.
'প্রচ্ছদ' কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. স্বর + স্বর
  2. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
  3. স্বর + ব্যঞ্জন
  4. ব্যঞ্জন + স্বর
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি,
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি,
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।

স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়।
যথা-
- অ + ছ = চ্ছ; মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি, প্র + ছদ = প্রচ্ছদ
- আ + ছ = চ্ছ; কথা + ছলে = কথাচ্ছলে।
- ই + ছ = চ্ছ; পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।
এরূপ - একচ্ছত্র, বিচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, অঙ্গচ্ছেদ, আলোকচ্ছটা, প্রতিচ্ছবি, আচ্ছাদন, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২৬.
'গায়ক' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গায় + অক
  2. গৌ + অক
  3. গো + অক
  4. গৈ + অক
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।

যেমন:
- নৈ + অক = নায়ক,
- গৈ + অক = গায়ক,
- পো + অন = পবন,
- গো + আদি = গবাদি,
- পো + ইত্র = পবিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২৭.
"গঙ্গোর্মি" - শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গঙ্গা + ঊর্মি
  2. গঙ্গ + উর্মি
  3. গঙ্গ + ঊর্মি
  4. গঙ্কা + ঊর্মি
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা উ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়; ও-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।

যেমন:
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়,
- যথা + উচিত = যথোচিত,
- গৃহ + ঊর্ধ্ব = গৃহোর্দ্ধ,
- গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২২৮.
'গৃহোর্ধ্ব' কোন ধরনের সন্ধির দৃষ্টান্ত?
  1. স্বরসন্ধি
  2. বিসর্গসন্ধি
  3. ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
- 'গৃহোর্ধ্ব' শব্দের সঠিক সান্ধি বিচ্ছেদ - গৃহ + ঊর্ধ্ব।
- এটি তৎসম স্বরসন্ধির উদাহরণ।

সন্ধির নিয়ম:
- অ- কার কিংবা আ- কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও- কার হয়, ও- কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।
যেমন:
- যথা + উচিত = যথোচিত;
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়;
- গৃহ + ঊর্ধ্ব = গৃহোর্ধ্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২৯.
'আশাতীত' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. আশ + অতীত
  2. আশাঃ +অতীত
  3. আ + শাতীত
  4. আশা + অতীত
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আকারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন
• অ + অ = আ:
- নর + অধম = নরাধম।
এরূপ-হিমাচল, প্রাণাধিক, হস্তান্তর, হিতাহিত ইত্যাদি।

• অ + আ = আ:
- হিম + আলয় = হিমালয়।
এরূপ - দেবালয়, রত্নাকর, সিংহাসন ইত্যাদি।

• আ + অ = আ:
- যথা + অর্থ = যথার্থ,
- আশা + অতীত = আশাতীত।
এরূপ কথামৃত, মহার্ঘ ইত্যাদি।

• আ + আ = আ:
- বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়।
এরূপ- কারাগার, মহাশয়, সদানন্দ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩০.
'তন্বী' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তণু + ই
  2. তনু + ঈ
  3. তনু + ই
  4. তণু + ঈ
ব্যাখ্যা
• 'তন্বী' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ-  তনু + ঈ।

 সূত্র:
• উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার ও ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন-
- উ + অ = ব + অ; সু + অল্প = স্বল্প।
- উ + আ = ব + আ; সু + আগত স্বাগত।
- উ + ই = ব + ই;  অনু + ইত = অন্বিত।
- উ + ঈ= ব + ঈ; তনু + ঈ = তন্বী।
- উ + এ = ব + এ;  অনু + এষণ অন্বেষণ।
এরূপ- পশ্বধম, পশ্বাচার, অন্বয়, মন্বন্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৩১.
"ইত্যাদি" শব্দটি কোন সন্ধির নিয়মে গঠিত?
  1. স্বর
  2. ব্যঞ্জন
  3. বিসর্গ
  4. নিপাতনে সিন্ধ
ব্যাখ্যা

• "ইত্যাদি" শব্দটি 'স্বরসন্ধির' নিয়মে গঠিত।

সন্ধির নিয়ম:

- ই-কার বা ঈ-কারের পর ই বা ঈ ভিন্ন অন্য কোনো স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য-ফলা হয়, য-ফলা পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৩২.
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ কোনটি?
  1. তস্কর
  2. গোষ্পদ
  3. মার্তণ্ড
  4. আশ্চর্য
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ - মার্তণ্ড।

অন্যদিকে,
বাকিগুলো নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

• স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ:
- অন্য + অন্য = অন্যান্য,
- কুল + অটা = কুলটা,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- স্ব + ঈর = স্বৈর,
- গো + ইন্দ্ৰ = গবেন্দ্র,
- গো + ঈশ্বর = গবেশ্বর,
- অক্ষ + ঊহিণী = অক্ষৌহিণী,
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ,
- সীমন + অত = সীমন্ত,
- শার + অঙ্গ = শারঙ্গ,
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩৩.
কোনটি সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র
  2. সতী + ইশ = সতীশ
  3. পরি + ইক্ষা = পরীক্ষা
  4. অতি + ঈত = অতীত
ব্যাখ্যা

• সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ - সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র

সন্ধির নিয়ম:

• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়। দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।

যেমন:
- অতি + ইত = অতীত,
- পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা,
- সতী + ঈশ = সতীশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৩৪.
”জনৈক” শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1.  জন + ঐক 
  2.  জন্য + ওক 
  3.  জনৈ + এক 
  4.  জন + এক 
ব্যাখ্যা

”জনৈক” শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ =  জন + এক ।

• কিছু গুরত্বপূর্ণ  স্বরসন্ধির উদাহরণ:
মরু + উদ্যান = মরূদ্যান;
শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা;
সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়;
মহা + ঋষি = মহর্ষি;
শীত + ঋত = শীতার্ত;
জন + এক = জনৈক;
বন + ওষধি বনৌষধি;
প্রতি + এক = প্রত্যেক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)

২৩৫.
কোনটি ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. নাতি + বৌ = নাতবৌ
  2. মা + এর = মায়ের
  3. কুড়ি + এক = কুড়িক
  4. রুপা + আলি = রুপালি
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

যেমন:
- নাতি + বৌ = নাতবৌ,
- উৎ + চারণ = উচ্চারণ, 
- চার + টি = চাট্টি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- স্বরসন্ধির উদাহরণ:
রুপা + আলি = রুপালি, 
কুড়ি + এক = কুড়িক, 
মা + এর = মায়ের।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৩৬.
"সোনা + আলি = সোনালি" এটি কোন প্রকার সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. ব্যঞ্জনসন্ধি
  2. স্বরসন্ধি
  3. বিসর্গ সন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয়, তাকে স্বরসন্ধি বলে।

যেমন:
- রুপা + আলি = রুপালি, 
- কুড়ি + এক = কুড়িক, 
- মা + এর = মায়ের,
- সোনা + আলি = সোনালি
- মিথ্যা + উক = মিথ্যুক, 
- নদী + এর = নদীর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৩৭.
'ভাত্রুপদেশ' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. ভাতৃ + উপদেশ
  2. ভ্রাতা + উপদেশ
  3. ভাত্রা + উপদেশ
  4. ভাতা + উপদেশ
ব্যাখ্যা
• 'ভাত্রুপদেশ' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - ভাতৃ + উপদেশ

স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

• প্রথম পদের শেষে ঋ-ধ্বনি এবং দ্বিতীয় পদের প্রথম ঋ ছাড়া অন্য কোনো স্বরধ্বনি থাকলে আগের ঋ-ধ্বনি 'র' হয় এবং বানানে তা 'র-ফলা' হয়ে আগের বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়। পরের স্বরধ্বনি সাধারণত উচ্চারণে অপরিবর্তিত থাকে এবং 'র-ফলা'র সঙ্গে জুড়ে যায়। 
যেমন - 
- ঋ + অ = র্‌ + অ ; পিতৃ + অর্থে = পিত্রর্থে।
- ঋ + আ = র্‌ + আ ; পিতৃ + আলয় = পিত্রালয়।
- ঋ + ই = র্‌ + ই ; পিতৃ + ইচ্ছা = পিত্রিচ্ছা।
- ঋ + উ = র্‌ + উ; ভাতৃ + উপদেশ = ভাত্রুপদেশ। 
- ঋ + এ = র্‌ + এ ; ভাতৃ + এষণা = ভ্রাত্রেষণা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩৮.
'রাজর্ষি' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. রাজ + ঋষি
  2. রাজ + অর্ষি
  3. রাজা + ঋষি
  4. রাজ্‌ + অর্ষ
ব্যাখ্যা
• 'রাজর্ষি' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: রাজা + ঋষি।

• সন্ধির নিয়ম: 
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ঋ-কার থাকলে উভয়ে মিলে 'অর' হয় এবং তা রেফ রূপে পরবর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন-
রাজা + ঋষি = রাজর্ষি,
মহা + ঋষি = মহর্ষি,
উত্তম + ঋণ = উত্তমর্ণ,
অধম + ঋণ = অধমর্ণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩৯.
'একোন' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. এক + অন
  2. এক + উন
  3. এক + ঊনা
  4. একো + ন
ব্যাখ্যা
• 'একোন' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - এক + উন

স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা উ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়; ও-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।
যেমন -
→ অ + উ = ও; সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়।
→ আ + উ = ও; যথা + উচিত = যথোচিত; এক + উন= একোন।
→ অ + ঊ = ও; গৃহ + ঊর্ধ্ব = গৃহোর্ধ্ব, 
→ আ + ঊ = ও; গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি।
এরূপ - নীলোৎপল, চলোর্মি, মহোৎসব, নবোঢ়া, ফলোদয়, যথোপযুক্ত, হিতোপদেশ, পরোপকার, প্রশ্নোত্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪০.
'পরমেশ' - শব্দটি কোন সন্ধিতে গঠিত?
  1. স্বর
  2. ব্যঞ্জন
  3. বিসর্গ
  4. নিপাতনে সিদ্ধ
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা, 
- পরম + ঈশ = পরমেশ,
- মহা + ঈশ = মহেশ,
- যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৪১.
নিচের কোন সন্ধিবিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. প্রঃ + উঢ় = প্রৌঢ়
  2. প্রৌ + উঢ় = প্রৌঢ়
  3. প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়
  4. প্র + উঢ় = প্রৌঢ়
ব্যাখ্যা
• প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ় সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ।
এটি একটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ।

• কয়েকটি  নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ:
- কুল+অটা  = কুলটা।
- গো+অক্ষ = গবাক্ষ।
- গো+পদ = গোষ্পদ।
- এক+দশ = একাদশ।
- বৃহৎ+পতি  = বৃহস্পতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
২৪২.
অশুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নরা + অধম = নরাধম
  2. হিম + আলয় = হিমালয়
  3. যথা + অর্থ = যথার্থ
  4. বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- নরা + অধম = নরাধম। 
- শুদ্ধ: নর + অধম = নরাধম।

----------------
• স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত সন্ধি:

 অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-

• নর + অধম = নরাধম। এরূপ-হিতাহিত, হিমাচল, হস্তান্তর, প্রণাধিক ইত্যাদি।
• হিম + আলয় = হিমালয়। এরূপ-সিংহাসন, দেবালয়, রত্নাকর ইত্যাদি।
• যথা + অর্থ = যথার্থ। এরূপ-মহার্ঘ, আশাতীত, কথামৃত ইত্যাদি।
• বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়। এরূপ- মহাশয়, সদানন্দ, কারাগার ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৩.
"পৃথিবী + ঈশ্বর = পৃথিবীশ্বর" এটি কোন ধরনের সন্ধি?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গ সন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
• "পৃথিবী + ঈশ্বর = পৃথিবীশ্বর" এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।

ই, ঈ ধ্বনির সন্ধি:
যেমন:
- রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র,
- অধি + ঈশ্বর = অধীশ্বর, 
- মহী + ইন্দ্র = মহীন্দ্র, 
- পৃথিবী + ঈশ্বর = পৃথিবীশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৪৪.
'আশ্চর্য' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. আঃ + চর্য
  2. আস্‌ + চর্য
  3. আ + চর্য
  4. আঃ + চার্য
ব্যাখ্যা

• 'আশ্চর্য' একটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি। এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে-  আ + চর্য।

• আরো কিছু নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি হলো-
- মনীষা = মনস্‌ + ঈষা,
- বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি,
- আশ্চর্য = আ + চর্য,
- পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি,
- তস্কর = তৎ + কর,
- বনস্পতি = বন্‌ + পতি,
- পরস্পর = পর্‌ + পর,
- একাদশ = এক্‌ + দশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ)।

২৪৫.
'স্বাগত' কোন ধরনের সন্ধি সাধিত শব্দ?
  1. ব্যঞ্জন সন্ধি 
  2. স্বরসন্ধি
  3. বিসর্গ সন্ধি 
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
উ-কার কিংবা উ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
- অনু + এষণ = অন্বেষণ,
- সু + অল্প = স্বল্প, 
- তনু + ঈ = তন্বী,
- অনু + ইত = অন্বিত,
- সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৪৬.
সন্ধি বিচ্ছেদ করুন: 'নরাধম' -
  1. নর + আধম
  2. নর + অধম
  3. নর + ধম
  4. নরধ + ম
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনি মিলে যে সন্ধি হয় তাকে স্বরসন্ধি বলে।

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন -
- অ + অ = আ ⇒ নর + অধম = নরাধম।
এরূপ - হিমাচল, প্রাণাধিক, হস্তান্তর, হিতাহিত ইত্যাদি।
- অ + আ = আ ⇒ হিম + আলয় = হিমালয়।
এরূপ - দেবালয়, রত্নাকর, সিংহাসন ইত্যাদি।
- আ + অ = আ ⇒ যথা + অর্থ = যথার্থ।
এরূপ - আশাতীত, কথামৃত, মহার্ঘ ইত্যাদি।
- আ + আ = আ ⇒ বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়।
এরূপ - কারাগার, মহাশয়, সদানন্দ ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪৭.
'মরূদ্যান' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ-
  1. মরূ + উদ্যান
  2. মরূ + দ্যান
  3. মরু + উদ্যান
  4. মরূ + ঊদ্যান
ব্যাখ্যা

• 'মরূদ্যান' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ 'মরু + উদ্যান'। 
- এটি স্বরসন্ধি।

সূত্র:
- উ-কার কিংবা উ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে উ-কার হয়;
- উ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জন ধ্বনির সাথে যুক্ত হয়।
যেমন-
- উ+ উ = ঊ; মরু + উদ্যান = মরূদ্যান।
- উ+ ঊ = ঊ; বহু + ঊর্ধ্ব = বহূর্ধ্ব।
- ঊ+ উ = ঊ; বধূ + উৎসব = বধূৎসব।
- ঊ+ ঊ = ঊ; ভূ + ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৪৮.
'সতীশ' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি হবে?
  1. সতী + ঈশ
  2. সতি + ঈশ
  3. সতী + ইশ
  4. সতি + ইশ
ব্যাখ্যা

 • ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়।
দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।

যেমন- 
• ই+ ই = ঈ;  অতি + ইত = অতীত।
• ই+ঈ= ঈ;  পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা।
• ঈ+ ই = ঈ;  সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র।
• ঈ+ঈ= ঈ ;  সতী + ঈশ = সতীশ।
এরূপ- গিরীন্দ্র, ক্ষিতীশ, মহীন্দ্র, শ্রীশ, পৃথ্বীশ, অতীব, প্রতীক্ষা, প্রতীত, রবীন্দ্র, দিল্লীশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৪৯.
'স্বাধীন' শব্দটির সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. স্বা + ধীন
  2. স্ব + অধীন
  3. স্বা + অধীন
  4. স্ব + আধীন
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'স্বাধীন' শব্দটির সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হবে-  স্ব + অধীন।

স্বরসন্ধি নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
• অ+অ= আ; 
- নর+ অধম =নরাধম। এরূপ-হিমাচল, প্রাণাধিক, হস্তান্তর, হিতাহিত ইত্যাদি।
• অ + আ = আ; 
- হিম + আলয় = হিমালয়। এরূপ দেবালয়, রত্নাকর, সিংহাসন ইত্যাদি।
• আ+ অ = আ; 
- যথা + অর্থ = যথার্থ। এরূপ আশাতীত, কথামৃত, মহার্ঘ ইত্যাদি।
• আ + আ = আ; 
- বিদ্যা+আলয় = বিদ্যালয়। এরূপ কারাগার, মহাশয়, সদানন্দ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯- সংস্করণ।
২৫০.
কোনটি অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. চিত্ত + ওদার্য = চিত্তৌদার্য
  2. মহা + ঔষধ = মহৌষধ
  3. জল + ওকা = জলৌকা
  4. মহা + ওষধি = মহৌষধি
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ - চিত্ত + ওদার্য = চিত্তৌদার্য
এর শুদ্ধরূপ - চিত্ত + ঔদার্য = চিত্তৌদার্য।

অ/আ, ও/ঔ ধ্বনির সন্ধি:


যেমন:
জল + ওকা = জলৌকা, 
মহা + ওষধি = মহৌষধি,
মহা + ঔষধ = মহৌষধ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৫১.
 ’সূর্যোদয়’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1.  সূর্য + ঊদয়
  2.  সূর্য + উদয
  3.  সূর্য + ঊদয
  4.  সূর্য + উদয়
ব্যাখ্যা

’সূযোদয়’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = সূর্য+উদয় =(সূর্যোদয়)।
- এটি একটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।

উল্লেখ্য,
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
যেমন-
- অতি + ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয়,
- পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা;
- মরু + উদ্যান  = মরূদ্যান;
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা;
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়;
- মহা + ঋষি = মহর্ষি;
- শীত + ঋত = শীতার্ত;
- জন + এক  = জনৈক;
- বন + ওষধি = বনৌষধি;

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৫২.
'মহৈশ্বর্য' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মহৎ + ঐশ্বর্য
  2. মোহ + ঐশ্বর্য
  3. মহ + ঐশ্বর্য
  4. মহা + ঐশ্বর্য
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়মে:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয় মিলে ঐ-কার হয়; ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
• অ + এ = ঐ;
- জন + এক = জনৈক;
- হিত + এষী = হিতৈষী।

• আ + এ =ঐ;
- সদা + এব = সদৈব।
- তথা + এবচ = তথৈবচ।

• আ + ঐ = ঐ;
- মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য;
- মহা + ঐক্য = মহৈক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫৩.
'মহৌষধি' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মহা + ওষধি
  2. মহা + ঔষধি
  3. মহাঃ + ওষধি
  4. মহাঃ + ঔষধি
ব্যাখ্যা

'মহৌষধি' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ-'মহা + ওষধি'।
- এটি স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত।
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়; ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।

যেমন-
- অ + ও = ঔ →  বন + ওষধি = বনৌষধি।
- আ + ও = ঔ → মহা + ওষধি = মহৌষধি।
- অ + ঔ = ঔ → পরম + ঔষধ = পরমৌষধ।
- আ + ঔ = ঔ →  মহা +  ঔষধ = মহৌষধ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৫৪.
'রত্নাকর' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ-
  1. রত্না + কর
  2. রত্ন + কর
  3. রত্না + আকার
  4. রত্ন + আকর
ব্যাখ্যা

'রত্নাকর' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ- রত্ন + আকর।
• স্বরসন্ধির নিয়মে ‘রত্ন’ এর শেষ ‘অ’ এবং ‘আকর’ এর প্রথম ‘আ’ ধ্বনির মিলনে আ-কার উৎপন্ন হয়েছে।

♦ স্বরসন্ধি:
- দুটি শব্দের মধ্যে প্রথম শব্দের শেষ স্বর এবং দ্বিতীয় শব্দের প্রথম স্বর মিলিত হয়ে একটি নতুন স্বরধ্বনি তৈরি করে।
• স্বরসন্ধির কিছু নিয়ম ও উদাহরণ:
• অ + অ = আ।
- উদাহরণ:
- নর + অধম = নরাধম,
- উত্তরাধিকার = উত্তর + অধিকা্‌
- হিমাচল = হিম + অচল,
- প্রাণাধিক = প্রাণ + অধিক, ইত্যাদি।

• অ + আ = আ।
- উদাহরণ:
- হিমালয়: হিম + আলয় = হিমালয়,
- দেবালয়: দেব + আলয় = দেবা লয়,
- রত্ন + আকর = রত্নাকর,
- সিংহাসন = সিংহ + আসন, ইত্যাদি।

• আ + অ = আ।
- উদাহরণ:
- যথা + অর্থ = যথার্থ,
- আশাতীত =আশা + অতীত,
- কথামৃত = কথা + অমৃত,
- মহার্ঘ = মহা + অর্ঘ, ইত্যাদি।

• আ + আ = আ।
- উদাহরণ:
- বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়,
- কারাগার = কারা + আগার,
- মহাশয় =মহা + আশয়,
- সদানন্দ = সদা + আনন্দ, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৫৫.
"প্রত্যুষ" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রতি + ঊষ
  2. প্রতি + উষ
  3. প্রতিঃ + ঊষ
  4. প্রতু + ঊষ
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- ই বা ঈ ধ্বনির পর যদি অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে ই/ঈ এর জায়গায় 'য' বা 'য-ফলা' হয়।

যেমন:
- অতি + অধিক = অত্যধিক,
- আদি + অন্ত = আদ্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- অতি + আচার = অত্যাচার,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ

উৎস: ভাশা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৫৬.
'গবাদি' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গো + আবাদি
  2. গো + আদি
  3. গ + আবাদি
  4. গব + আদি
ব্যাখ্যা

 সন্ধির নিয়ম:
- এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়। যেমন:
- শে + অন = শয়ন,
- নৈ + অক = নায়ক,
- গৈ + অক = গায়ক,
- গো + আদি = গবাদি,
- পো + ইত্র = পবিত্র ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)

২৫৭.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মৃন্ + ময় = মৃন্ময়
  2. অভি + ইষ্ট = অভীষ্ট
  3. বিদ্ + ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন
  4. পরিঃ + ছদ = পরিচ্ছদ
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
সূত্র: ই + ই = ঈ:
- অতি + ইত = অতীত,
- অভি + ইষ্ট = অভীষ্ট,
- প্রতি + ইতি = প্রতীতি,
- অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম:
আগে ৎ, দ্‌, ধ্‌ এবং পরে ন্‌ / ম্‌ থাকলে ৎ, দ্‌ বা ধ্‌ স্থানে ন্‌ হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি;
- ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি;
- রাধ্‌ + না = রান্না;
- তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র;
- সৎ + মার্গ = সন্মার্গ;
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়।

• স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ‘ছ’ থাকলে তা দ্বিত্ব হয়, অর্থাৎ ‘ছ’-র বদলে ‘চ্ছ’ হয়।
যেমন:
- পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।
- বি + ছেদ = বিচ্ছেদ।
- বি + ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫৮.
'মহেশ' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মহা + ইশ
  2. ম + ঈশ
  3. মহ + ইয়েস
  4. মহা + ঈশ
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা, 
- পরম + ঈশ = পরমেশ,
- মহা + ঈশ = মহেশ,
- যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৫৯.
মহৈশ্বর্য' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মহ + ঔশ্বর্য
  2. মহা + ঔশ্বর্য
  3. মহ + ঐশ্বর্য
  4. মহা + ঐশ্বর্য
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়মে:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয় মিলে ঐ-কার হয়; ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
• অ + এ = ঐ;
- জন + এক = জনৈক;
- হিত + এষী = হিতৈষী।

• আ + এ =ঐ;
- সদা + এব = সদৈব।
- তথা + এবচ = তথৈবচ।

• আ + ঐ = ঐ;
- মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য;
- মহা + ঐক্য = মহৈক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৬০.
‘সদা + এব’ এর সঠিক সন্ধি হলো -
  1. সর্বৈব
  2. সদৈব
  3. সর্বত্র
  4. সর্বদা
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• অ-কার কিংবা অ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কারের থাকলে উভয় মিলে ঐ-কার হয়, ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
- জন + এক = জনৈক,
- সদা + এব = সদৈব,
- মত + ঐক্য = মতৈক্য,
- মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য,
- তথা + এবচ = তথৈবচ ইত্যাদি।
- পতৎ + অঞ্চলি = পতঞ্চলি,
- অন্তঃ + লীন = অন্তর্লীন,
- ষট্‌ + আনন = ষড়ানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ব্যকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ )।
২৬১.
'উত্তরাধিকার' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উত্তর + অধিকার
  2. উত্তরা + অধিকার
  3. উত্তর + আধিকার
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• অ/আ + অ/আ = আ।
যেমন: উত্তর + অধিকার = উত্তরাধিকার, আশা + অতীত = আশাতীত।

• অ/আ + ই/ঈ = এ। সূত্রযোগে সন্ধি বিচ্ছেদ ঘটেছে 'শুভেচ্ছা' শব্দে।
যেমন: শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা

• অ/আ + উ/ঊ = ও; সূত্রযোগে সন্ধি বিচ্ছেদ ঘটেছে 'সূর্যোদয়' শব্দে।
যেমন: সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়

• অ/আ + ও/ঔ = ঔ।
যেমন: বন + ওষধি = বনৌষধি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
২৬২.
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. গো + অক্ষ = গবাক্ষ
  2. পৌ + অক = পাবক
  3. বি + অঙ্গ = বঙ্গ
  4. যতি + ইন্দ্র = যতীন্দ্র
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
- কতগুলো সন্ধি এই নিয়মের অনুসরণ করে হয় না। সেগুলোকে নিপাতনেসিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন:
- কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়)। 
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়)। 
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়)। 
- অন্য + অন্য = অন্যান্য। 
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড। 
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন। 

----------
অন্যদিকে,
পৌ + অক = পাবক। 
বি + অঙ্গ = বঙ্গ। 
যতি + ইন্দ্র = যতীন্দ্র। 
উপর্যুক্ত শব্দগুলো স্বরসন্ধির নিয়ম অনুসারে গঠিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৬৩.
'সদৈব' - শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সদা + ঐব
  2. সদ + এব
  3. সদা + এব
  4. সদ + ঐব
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঐ-কার হয়; ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।

যেমন:
- সদা + এব = সদৈব,
- জন + এক = জনৈক,
- মত + ঐক্য = মতৈক্য,
- মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৬৪.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. সতী + ঈন্দ্র = সতীন্দ্র
  2. সতী + ঈশ = সতীশ
  3. পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা
  4. অতি + ইত = অতীত
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ - সতী + ঈন্দ্র = সতীন্দ্র
- এর শুদ্ধরূপ - সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র।

সন্ধির নিয়ম:
- ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়। দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।

যেমন:
- অতি + ইত = অতীত, 
- পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা,
- সতী + ঈশ = সতীশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৬৫.
কোনটির নিয়ম অনুসারে সন্ধি হয় না?
  1. প্রৌঢ়
  2. যতীন্দ্র
  3. বঙ্গ
  4. পাবক
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
- কতগুলো সন্ধি এই নিয়মের অনুসরণ করে হয় না। সেগুলোকে নিপাতনেসিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন:
- কুল + অটা = কুলটা,
- গাে + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- পৌ + অক = পাবক,
- বি + অঙ্গ = বঙ্গ,
- যতি + ইন্দ্র = যতীন্দ্র।
উপর্যুক্ত শব্দগুলো স্বরসন্ধির নিয়ম অনুসারে গঠিত হয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২৬৬.
’গৃহোর্ধ্ব’ শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গহ + ঊর্ধ্ব
  2. গর্হ + উধ্ব
  3. গৃহ + ঊর্ধ্ব
  4. গৃহ + উর্ধ্ব
ব্যাখ্যা
•  অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা উ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়; ও-কার পূর্ববর্তী
ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।

যেমন-
অ+উ=ও , সূর্য + উদয় =  সূর্যোদয়।
আ+ উ = ও,  যথা + উচিত = যথোচিত।
অ+ উ = ও,  গৃহ + ঊর্ধ্ব = গৃহোর্ধ্ব।
আ+ উ = ও,  গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
২৬৭.
নিচের কোন্ সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. নে + অন = নয়ন
  2. রাজ্‌ + নী = রাজ্ঞী
  3. তদ্‌ + রূপ = তদ্রূপ
  4. তদ্‌ + কাল = তৎকাল
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ: তদ্‌ + রূপ = তদ্রূপ।
শুদ্ধরূপ: তৎ + রূপ = তদ্রূপ।

• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মানুসারে-
ব্যঞ্জন ধ্বনিসমূহের যে কোনো বর্গের অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনির পর যে কোনো বর্গের ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ তালব্য ধ্বনি, (য > জ), ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ ধ্বনি (ব), ঘোষ কম্পনজাত দন্তমূলীয় ধ্বনি (র) কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি (ব) থাকলে প্রথম অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি ঘোষ অল্পপ্রাণরূপে উচ্চারিত হয়।
যথা:
- ক্ + দ = গ্‌ + দ; বাক্ + দান = বাগদান।
- ট্ + য = ড়্‌ + য; ষট্ + যন্ত্র = ষড়যন্ত্র।
- ত্‌ + ঘ = দ্‌+ ঘ; উৎ + ঘাটন = উদ্‌ঘাটন।
- ত্ + য = দ্‌ + য; উৎ + যোগ = উদ্যোগ।
- ত্ + ব = দ্‌ + ব; উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন।
- ত্ + র = দ্‌ + র; তৎ + রূপ = তদ্রূপ।

এরূপ- দিগ্বিজয়, উদ্যম, উদ্‌গার, উদ্‌গিরণ, উদ্ভব, বাগ্‌জাল, সদ্‌গুরু, বাগ্দে‌বী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• স্বরসন্ধির নিয়মানুসারে-
এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।
যেমন-
নে + অন = নয়ন,
শে + অন = শয়ন,
নৈ + অক = নায়ক,
গৈ + অক = গায়ক।

• ব্যঞ্জসন্ধির নিয়মানুসারে-
ব্যঞ্জসন্ধিতে চ্‌ ও জ্‌ এর পর নাসিক্য ধ্বনি তালব্য হয়।
যেমন:
যাচ্‌ + না = যাচ্ঞা।
রাজ্‌ + নী = রাজ্ঞী।
যজ্‌ + ন = যজ্ঞ।

• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মানুসারে-
দ্ ও ধ্‌ এর পরে ক, চ, ট, ত, প, খ, ছ, ঠ, থ, ফ থাকলে দ্ ও ধ্‌ স্থলে অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি হয়।
যেমন -
- দ্‌ > ত্; তদ্‌ + কাল = তৎকাল।
- ধ্‌ > ত্; ক্ষুধ্‌ + পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।

এরূপ- হৃৎকম্প, তৎপর, তত্ত্ব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)
২৬৮.
কোন শব্দটি 'অ + ই = এ' নিয়মে সাধিত সন্ধি?
  1. মহেশ
  2. পূর্ণেন্দু
  3. পরমেশ
  4. যথেষ্ট
ব্যাখ্যা
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয় মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
অ + ই = এ; পূর্ণ + ইন্দু = পূর্ণেন্দু।
অ + ই = এ; শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
আ + ই = এ; যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।
অ + ঈ = এ; পরম + ঈশ= পরমেশ।
আ + ঈ = এ; মহা + ঈশ = মহেশ।

এরূপ- রমেশ. নরেন্দ্র, নরেশ, স্বেচ্ছা, শ্রবণেন্দ্রিয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র ,এস এসসি প্রোগাম,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬৯.
‘নর্তকী’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নৃর্ত + কী
  2. নৃর্তক + ঈ
  3. নর্ত + কী
  4. নর্তক + ঈ
ব্যাখ্যা
• ‘নর্তকী’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- নর্তক + ঈ।

স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
• সূত্র: ই + ই = ঈ:
- অতি + ইত = অতীত,
- অভি + ইষ্ট= অভীষ্ট,
- প্রতি + ইতি = প্রতীতি,
- অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

• সূত্র: ই + ঈ = ঈ:
- গিরি + ঈশ = গিরীশ,
- অধি+ ঈশ্বর = অধীশ্বর,
- ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ,
- অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭০.
'ভাষাচার্য' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ভাষা + অচার্য
  2. ভাষা + চার্য
  3. ভাষা + আচার্য
  4. ভাষ + আচার্য
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির যোগে আ-ধ্বনি হয়। বানানে তা আ-কার রূপে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভাষা + আচার্য = ভাষাচার্য,
- হত + আশ = হতাশ,
- স্ব + আয়ত্ত = স্বায়ত্ত
- মহা + অর্থ = মহার্ঘ,
- আশা + অতীত = আশাতীত,
- মহা + আশয় = মহাশয়,
- কারা + আগার = কারাগার,
- ব্যথা + আতুর = ব্যথাতুর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭১.
‘যথার্থ’ শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কী?
  1. যথা + অর্থ 
  2. যথা + আর্থ
  3. যথঃ + অর্থ
  4. যথ + আর্থ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ক) যথা + অর্থ 

স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।

স্বরসন্ধির উদাহরণ:
১. অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয় এবং পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
- অ + অ = আ → নর + অধম = নরাধম। এরূপ: হিমাচল, প্রাণাধিক, হস্তান্তর, হিতাহিত।
- অ + আ = আ → হিম + আলয় = হিমালয়। এরূপ: দেবালয়, রত্নাকর, সিংহাসন।
- আ + অ = আ → যথা + অর্থ = যথার্থ। এরূপ: আশাতীত, কথামৃত, মহার্ঘ।
- আ + আ = আ → বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়। এরূপ: কারাগার, মহাশয়, সদানন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

২৭২.
'ভ্রাত্রেষণা' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ভাতা + এষণা
  2. ভ্রাত + এষণা
  3. ভ্রাতা + এষণা
  4. ভাতৃ + এষণা
ব্যাখ্যা
• 'ভ্রাত্রেষণা' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - ভাতৃ + এষণা

স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

• প্রথম পদের শেষে ঋ-ধ্বনি এবং দ্বিতীয় পদের প্রথম ঋ ছাড়া অন্য কোনো স্বরধ্বনি থাকলে আগের ঋ-ধ্বনি 'র' হয় এবং বানানে তা 'র-ফলা' হয়ে আগের বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়। পরের স্বরধ্বনি সাধারণত উচ্চারণে অপরিবর্তিত থাকে এবং 'র-ফলা'র সঙ্গে জুড়ে যায়। 
যেমন - 
- ঋ + অ = র্‌ + অ ; পিতৃ + অর্থে = পিত্রর্থে।
- ঋ + আ = র্‌ + আ ; পিতৃ + আলয় = পিত্রালয়।
- ঋ + ই = র্‌ + ই ; পিতৃ + ইচ্ছা = পিত্রিচ্ছা।
- ঋ + এ = র্‌ + এ ; ভাতৃ + এষণা = ভ্রাত্রেষণা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭৩.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ?
  1. গবাক্ষ
  2. শুদ্ধোদন
  3. কুলটা 
  4. একাদশ
ব্যাখ্যা

• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

• নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- আ + পদ = আস্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক + দশ = একাদশ,
- হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোনো নিয়মে সাধিত হয় না বা সূত্র অনুসরণ করে না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন:
- কুল + অটা = কুলটা (সূত্র অনুসারে কুলাটা হওয়ার কথা)।
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ (সূত্র অনুসারে গবাক্ষ হওয়ার কথা)।
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড, 
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৭৪.
সন্ধি সাধিত শব্দ 'নাবিক' কোন ধরনের সন্ধির দৃষ্টান্ত?
  1. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গসন্ধি
  4. স্বরসন্ধি
ব্যাখ্যা
- ‘নাবিক ’ শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ হচ্ছে - নৌ + ইক = নাবিক।
- নৌ + ইক = নাবিক এটি স্বরসন্ধি সাধিত শব্দ।

• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্‌ ও আব্‌ হয়।
যেমন:
- পৌ + অক = পাবক,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র,
- নৌ + ইক = নাবিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
২৭৫.
‘গো+আদি = গবাদি’ কোন সূত্রে সিদ্ধ সন্ধি?
  1. ও + অন্য স্বর = আব্ + স্বর
  2. ও + অন্য স্বর = অব্ + স্বর
  3. ঔ + অন্য স্বর = অব্ + স্বর
  4. ও + অন্য স্বর = আব্স্ব + র
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধি: 
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
→ এ + অন্য স্বর = অয়্‌ + স্বর। যেমন- শে + অন = শয়ন, 
→ ঐ + অন্য স্বর = আয়্‌ + স্বর। যেমন- নৈ + অক = নায়ক, 
ও + অন্য স্বর = অব্+ স্বর। যেমন- গো + আদি = গবাদি
→ ঔ + অন্য স্বর = আব্ + স্বর। যেমন- নৌ + ইক = নাবিক।
 
- কিছু স্বরসন্ধি সূত্র অনুসরণ করে না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন:
- কুল+অটা = কুলটা (সূত্র অনুসারে কুলাটা হওয়ার কথা)।
- গো+অক্ষ = গবাক্ষ (সূত্র অনুসারে গবক্ষ হওয়ার কথা) ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৭৬.
"মহৌৎসুক্য' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মহা + ওৎসুক্য
  2. মহ + ঔৎসুক্য
  3. মহা + ঔৎসুক্য
  4. মহঃ + ঔৎসুক্য
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
• প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম ও-ধ্বনি বা ঔ-ধ্বনির যোগে ঔ-ধ্বনি হয়। বানানে তা ঔ-কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

যেমন:
আ + ঔ = ঔ:
মহা + ঔৎসুক্য = মহৌৎসুক্য,
মহা + ঔদার্য = মহৌদার্য,
মহা + ঔদাস্য = মহৌদাস্য ইত্যাদি।

অ + ঔ = ঔ:
পরম + ঔষধ = পরমৌষধ,
চিত্ত + ঔদার্য = চিত্তৌদার্য,
দিব্য + ঔষধ = দিব্যৌষধ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৭৭.
'অন্বেষণ' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অন্বে + ষণ
  2. অনে + এষণ
  3. অণু + এষণ
  4. অনু + এষণ
ব্যাখ্যা

• 'অন্বেষণ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = অনু + এষণ, ( উ + এ = ব + এ)।
- এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ। 

সন্ধির নিয়ম: 
- উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন-
অনু + এষণ = অন্বেষণ,
( উ + এ = ব + এ)

- সু + অল্প = স্বল্প
- তনু + ঈ = তন্বী,
- অনু + ইত = অন্বিত,
- সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

২৭৮.
'পরমেশ' এর শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পরম + ঈশ 
  2. পরঃ + মেশ
  3. পরমঃ + ঈশ 
  4. পরম + ইশ 
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
- অ + ই = এ; শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা। 
- আ + ই = এ; যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।
- অ + ঈ = এ; পরম + ঈশ = পরমেশ।
- আ + ঈ = এ;  মহা + ঈশ = মহেশ।

এরূপ- ঢাকেশ্বরী, পূর্ণেন্দু, শ্রবণেন্দ্রিয়, সেচ্ছা, রমেশ, নরেন্দ্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)

২৭৯.
'সর্বোর্ধ্ব' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সর্বো + ঊর্ধ্ব
  2. সর্ব + ঊধ্ব
  3. সর্ব + ঊর্ধ্ব
  4. সর্ব + উর্ধ্ব
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত সন্ধি:
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হয়-উ ধ্বনি বা দীর্ঘ-ঊ ধ্বনির যোগে ও-ধ্বনি হয়। বানানে তা ও- কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন-

• অ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- সর্ব + উচ্চ = সর্বোচ্চ;
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়;
- দীর্ঘ + উচ্চারণ = দীর্ঘোচ্চারণ;
- প্রশ্ন + উত্তর = প্রশ্নোত্তর।

• অ + ঊ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- নব + ঊঢ়া = নবোঢ়া;
- সর্ব + ঊর্ধ্ব = সর্বোর্ধ্ব।

• আ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- যথা + উচিত = যথোচিত;
- কথা + উপকথন = কথোপকথন;
- যথা + উপযুক্ত = যথোপযুক্ত ইত্যাদি।

• আ + ঊ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি;
- মহা + ঊর্মি = মহাের্মি;
- মহা + ঊর্ধ্ব = মহোর্ধ্ব ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮০.
নিচের কোনটি স্বরসন্ধির উদাহরণ? 
  1. সচ্চরিত্র 
  2. উজ্জ্বল 
  3. চলচ্চিত্র 
  4. সদানন্দ
ব্যাখ্যা

স্বরসন্ধি:
- দুটি শব্দের মধ্যে প্রথম শব্দের শেষ স্বর এবং দ্বিতীয় শব্দের প্রথম স্বর মিলিত হয়ে একটি নতুন স্বরধ্বনি তৈরি করে।
- সদানন্দ = সদা + আনন্দ- স্বরসন্ধির উদাহরণ। 

• স্বরসন্ধির কিছু নিয়ম ও উদাহরণ:
• অ + অ = আ।
- উদাহরণ:
- নর + অধম = নরাধম,
- উত্তরাধিকার = উত্তর + অধিকা্‌
- হিমাচল = হিম + অচল,
- প্রাণাধিক = প্রাণ + অধিক, ইত্যাদি।

• অ + আ = আ।
- উদাহরণ:
- হিমালয়: হিম + আলয় = হিমালয়,
- দেবালয়: দেব + আলয় = দেবা লয়,
- রত্ন + আকর = রত্নাকর,
- সিংহাসন = সিংহ + আসন, ইত্যাদি।

• আ + অ = আ।
- উদাহরণ:
- যথা + অর্থ = যথার্থ,
- আশাতীত =আশা + অতীত,
- কথামৃত = কথা + অমৃত,
- মহার্ঘ = মহা + অর্ঘ, ইত্যাদি।

• আ + আ = আ।
- উদাহরণ:
- সদানন্দ = সদা + আনন্দ,
- বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়,
- কারাগার = কারা + আগার,
- মহাশয় =মহা + আশয়, ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- সচ্চরিত্র = সৎ+ চরিত্র, উজ্জ্বল = উৎ + জল, এবং চলচ্চিত্র = চলৎ + চিত্র- ব্যঞ্জন ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ। 

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ; 
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৮১.
'নরাধম' শব্দটি স্বরধ্বনির কোন নিয়মে গঠিত হয়েছে? 
  1. অ + আ = আ
  2. আ + আ = আ
  3. আ + অ = আ
  4. অ + অ = আ
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধি: 
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের নাম স্বরসন্ধি। 
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। 
যেমন- 
• অ + অ = আ ⇒ নর + অধম = নরাধম ।
এরূপ-
হিতাহিত (হিত + অহিত), হিমাচল, হস্তান্তর, প্রণাধিক ইত্যাদি। 
• অ + আ = আ ⇒ হিম + আলয় = হিমালয়। এরূপ-সিংহাসন, দেবালয়, রত্নাকর ইত্যাদি। 
• আ + অ = আ ⇒ যথা + অর্থ = যথার্থ। এরূপ-মহার্ঘ, আশাতীত, কথামৃত ইত্যাদি। 
• আ + আ = আ ⇒ বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়। এরূপ- মহাশয়, সদানন্দ, কারাগার ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮২.
'আবির্ভাব' শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. বিভক্তি দ্বারা
  2. সন্ধি দ্বারা
  3. প্রত্যয় দ্বারা
  4. সমাস দ্বারা
ব্যাখ্যা
• 'আবির্ভাব' শব্দটি গঠিত হয়েছে- সন্ধি দ্বারা। 
------------ 
• 'আবির্ভাব' শব্দের অর্থ:
- উদয়; প্রকাশ,
- অধিষ্ঠান; অবতরণ।
------------- 
• 'আবির্ভাব' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - আবিঃ+ভাব।  

• সন্ধির নিয়ম:
অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পর পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়।
যেমন:
- দুঃ + যােগ = দুর্যোগ, 
- নিঃ + আকার = নিরাকার,
- আবিঃ+ভাব = আবির্ভাব, 
- আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), অষ্টম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ।
২৮৩.
'অন্বিত' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অন্ব + ইত
  2. অনু + নিত
  3. অনু + ইত
  4. অন্ব + নিত
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
উ-ধ্বনি বা ঊ-ধ্বনির পরে অন্য স্বরধ্বনি থাকলে উ অথবা ঊ-ধ্বনির জায়গায় ব-ফলা হয় এবং পরের স্বরধ্বনির চিহ্ন আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- অনু + অয় = অন্বয়,
- মনু + অন্তর = মন্বন্তর,
- সু + আগত = স্বাগত,
- পশু + আচার = পশ্বাচার,
- অনু + ইত = অন্বিত,
- অনু + ঈক্ষা = অন্বীক্ষা,
- তনু + ঈ = তন্বী,
- গুরু + ঈ = গুর্বী।
- অনু + এষণ = অন্বেষণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮৪.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. সদা + শয় = সদাশয়
  2. সদ + আশয় = সদাশয়
  3. সৎ + আশয় = সদাশয়
  4. সদা + আশয় = সদাশয়
ব্যাখ্যা
• 'সদাশয়' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ- 'সৎ + আশয়'।
----------------
• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ:
বন + পতি = বনস্পতি,
আ + চর্য = আশ্চর্য,
গো + পদ = গোস্পদ,
পর + পর = পরস্পর,
ষট্ + দশ = ষোড়শ,
এক + দশ = একাদশ,
পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
২৮৫.
"ফনীন্দ্র" শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ফনী + ঈন্দ্র
  2. ফনী + ইন্দ্র
  3. ফনি + ইন্দ্র
  4. ফনা + ইন্দ্র
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির সাথে স্বরসন্ধির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।

স্বরসন্ধিযোগে গঠিত শব্দ-
• অ + অ = আ; নর + অধম = নরাধম।
• ঈ + ই = ঈ; ফনী + ইন্দ্র = ফনীন্দ্র।
• আ + অ = আ; আশা+ অতীত = আশাতীত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮৬.
'যথেষ্ট' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. যথঃ + ইষ্ট
  2. যথে + ইষ্ট
  3. যথেঃ + ইষ্ট 
  4. যথা + ইষ্ট 
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা,
- পরম + ঈশ = পরমেশ,
- মহা + ঈশ = মহেশ,
- যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৮৭.
'অতীত' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অতি + ইত
  2. অত + ইত
  3. অতী + ইত
  4. অ + তীত
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
ই- কার কিংবা ঈ-কারের পর ই- কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়। দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
- ই + ই = ঈ; অতি + ইত = অতীত। 
- ই + ঈ = ঈ; পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৮৮.
'স্বাগত' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ নির্ণয় করুন-
  1. স্ব + আগত
  2. সু + আগত
  3. সুঃ + গত
  4. স্বঃ + আগত
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন-
- অনু + এষণ = অন্বেষণ,
- সু + অল্প = স্বল্প
- তনু + ঈ = তন্বী,
- অনু + ইত = অন্বিত,
- সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৮৯.
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি কোনটি?
  1. দুরাত্মা
  2. তন্মধ্যে
  3. ক্ষুন্নিবৃত্তি
  4. মার্তণ্ড
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
- কতগুলো সন্ধি এই নিয়মের অনুসরণ করে হয় না। সেগুলোকে নিপাতনেসিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন:
- কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়);
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়);
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়);
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ;
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড;
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

অন্যদিকে,
• বিসর্গ সন্ধি:
পূর্বপদের শেষে যদি অ/আা ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনির পর বিসর্গ (র-জাত) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি স্বরধ্বনি থাকে তবে সন্ধির ফলে বিসর্গ র্‌ হয়ে যায় এবং পরের স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
• উঃ + আ = উ + রা:
- দুঃ + আত্মা = দুরাত্মা,
- দুঃ + আশা = দুরাশা।

• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম:
আগে ৎ, দ্‌, ধ্‌ এবং পরে ন্‌ / ম্‌ থাকলে ৎ, দ্‌ বা ধ্‌ স্থানে ন্‌ হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি;
- ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি;
- রাধ্‌ + না = রান্না;
- তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র;
- সৎ + মার্গ = সন্মার্গ;
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়।

• ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। যেমন:
• চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র;  
• বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক;
• বাক্ + দান = বাগ্দান;
• তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯০.
'কথামৃত' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কী?
  1. কথা + অমৃত
  2. কথা + মৃত
  3. কথামৃ + ইত
  4. কথাঃ + মৃত
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের নাম স্বরসন্ধি। অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- হিম + আলয় = হিমালয়,
- যথা + অর্থ = যথার্থ,
- বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়,
- কথা + অমৃত = কথামৃত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯১.
'শীতার্ত' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শীত + অর্ত
  2. শীত + রিত
  3. শীত + আর্ত
  4. শীত + ঋত
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা,
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়,
- মহা + ঋষি = মহর্ষি,
- শীত + ঋত = শীতার্ত,
- জন + এক = জনৈক,
- বন + ওষধি = বনৌষধি,
- প্রতি + এক = প্ৰত্যেক।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৯২.
"আ + উ = ও"- সন্ধি বিচ্ছেদের এই নিয়মে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. দীর্ঘোচ্চারণ
  2. কথোপকথন
  3. গঙ্গোর্মি
  4. নবোঢ়া
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হয়-উ ধ্বনি বা দীর্ঘ-ঊ ধ্বনির যোগে ও-ধ্বনি হয়। বানানে তা ও- কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

অ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
সর্ব + উচ্চ = সর্বোচ্চ;
সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়;
দীর্ঘ + উচ্চারণ = দীর্ঘোচ্চারণ;
প্রশ্ন + উত্তর = প্রশ্নোত্তরায়।

অ + ঊ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
নব + ঊঢ়া = নবোঢ়া;
সর্ব+ ঊর্ধ্ব = সর্বোর্ধ্ব ইত্যাদি।

আ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
যথা + উচিত = যথোচিত;
কথা + উপকথন = কথোপকথন;
যথা + উপযুক্ত = যথোপযুক্ত ইত্যাদি।

আ + ঊ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি;
মহা + ঊর্মি = মহোর্মি;
মহা + ঊর্ধ্ব = মহোর্ধ্ব ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৯৩.
আ + অ = আ; সন্ধির নিয়মে গঠিত শব্দ-
  1. আশাতীত
  2. কারাগার
  3. স্বাধীন
  4. সিংহাসন
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধি:
স্বরসন্ধির সাথে স্বরসন্ধির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।

• নিয়ম: অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
• আ + আ = আ;
- বিদ্যা+আলায় = বিদ্যালয়।
- মহা + আশয় = মহাশয়।
- কারা + আগার = কারাগার।

• অ + আ = আ;
- হিম + আলয় = হিমালয়।
- সিংহ + আসন = সিংহাসন।
- দণ্ড + আদেশ = দণ্ডাদেশ।
- হত + আশ = হতাশ।

• আ + অ = আ;
- যথা + অর্থ = যথার্থ।
- মহা + অর্ঘ = মহার্ঘ।
- আশা + অতীত = আশাতীত।
- যথা + অযথ = যথাযথ।

• অ + অ = আ;
- নর + অধম = নরাধম।
- নব + অন্ন = নবান্ন।
- স্ব + অধীন = স্বাধীন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৪.
'ইত্যাদি' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ইত + আদি
  2. ইতি + আদি
  3. ইত্যা + আদি
  4. ইত্য + আদি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর (অবা আ) থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য-ফলা হয়।

যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ,
- নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২৯৫.
"অ + ঔ = ঔ" সন্ধির নিয়মের সঠিক উদাহরণ কোনটি?
  1. মহা + ঔদাস্য = মহোউদাস্য
  2. পরম + ঔষধ = পরমৌষধ
  3. মহা + ঔৎসুক্য = মহৌৎসুক্য
  4. চিত্ত + ওদার্য = চিত্তৌদার্য
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম ও-ধ্বনি বা ঔ-ধ্বনির যোগে ঔ-ধ্বনি হয়। বানানে তা ঔ-কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

যেমন:
আ + ঔ = ঔ:
মহা + ঔৎসুক্য = মহৌৎসুক্য,
মহা + ঔদার্য = মহৌদার্য,
মহা + ঔদাস্য = মহৌদাস্য ইত্যাদি।

অ + ঔ = ঔ:
পরম + ঔষধ = পরমৌষধ,
চিত্ত + ঔদার্য = চিত্তৌদার্য,
দিব্য + ঔষধ = দিব্যৌষধ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৯৬.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি?
  1. সম্‌+ লাপ= সংলাপ
  2. পর + পর = পরস্পর
  3. বাক্ + দান = বাগদান
  4. সম + সার = সংসার
ব্যাখ্যা

• পর + পর = পরস্পর -  নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি।

 • নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
গো+ইন্দ্র = গবেন্দ্র,
গো+অক্ষ = গবাক্ষ,
প্র+এষণ = প্রেষণ,
কুল+অটা = কুলটা,
পর+পর = পরস্পর,
অন্য + অন্য = অন্যান্য।

অন্য অপশনে, নিয়ম সাধিত সন্ধি হয়েছে।
• সন্ধির নিয়ম: 
ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার ( ং) হয়।  
যেমন,
সম্‌ + লাপ= সংলাপ, 
সম্‌ + সার= সংসার, 
সম্‌ + রক্ষন= সংরক্ষণ। 

• বাক্ + দান = বাগদান (এখানে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।

২৯৭.
স্বরসন্ধির নিয়মে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. পো + ইত্র = পবিত্র
  2. গৈ + এষণা = গবেষণা
  3. নৌ + ইক = নাবিক
  4. ভৌ + উক = ভাবুক
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়মে অশুদ্ধ: গৈ + এষণা = গবেষণা।
• সন্ধিটির শুদ্ধরূপ: গো + এষণা।

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
এ, ঐ, ও, ঔ এরপরে অন্য কোন স্বরধ্বনি আসলে ‘এ’ এর জায়গায় ‘অয়’, ‘ঐ’ এর জায়গায় ‘আয়’, ‘ও’ এর জায়গায় ‘অব’ এবং ‘ঔ’ এর জায়গায় ‘আব’ হয়।
যেমন:
- গায়ক - গৈ + অক;
- নায়ক - নৈ + অক;
- নাবিক - নৌ + ইক;
- ভাবুক - ভৌ + উক;
- পবিত্র - পো + ইত্র;
- গবাদি - গো + আদি;
- গবেষণা - গো + এষণা।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯৮.
'কথামৃত' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. কথা + অমৃত
  2. কথাঃ + অমৃত
  3. কথা + মৃত
  4. কথাঃ + মৃত
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- নর + অধম = নরাধম,
- হিম + আলয় = হিমালয়,
- যথা + অর্থ = যথার্থ,
- বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়,
- কথা + অমৃত = কথামৃত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯৯.
'রত্নাকর' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ-
  1. রত্না + কর
  2. রত্ন + কর
  3. রত্না + আকার
  4. রত্ন + আকর
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
• অ + অ = আ নিয়মে:
- নর + অধম = নরাধম,
- হস্ত + অন্তর = হস্তান্তর।
এরূপ- হিমাচল, প্রাণাধিক, হিতাহিত ইত্যাদি।

• অ + আ = আ নিয়মে:
- হিম + আলয় = হিমালয়।
- রত্ন + আকর = রত্নাকর।
এরূপ- দেবালয়, রত্নাকর, সিংহাসন ইত্যাদি।

• আ + অ = আ নিয়মে:
- যথা + অর্থ = যথার্থ।
এরূপ- আশাতীত, কথামৃত, মহার্ঘ ইত্যাদি।

• আ + আ = আ নিয়মে:
- বিদ্যা+ আলয় = বিদ্যালয়।
এরূপ- কারাগার, মহাশয়, সদানন্দ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩০০.
"স্বেচ্ছা" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. স্বে + চ্ছা
  2. স্ + ইচ্ছা
  3. স্ব + ইচ্ছা
  4. স্বঃ + ইচ্ছা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
অ/আ, ই/ঈ ধ্বনির সন্ধি:

অ/আ + ই/ঈ = এ
যেমন:
- স্ব + ইচ্ছা = স্বেচ্ছা,
- অপ + ঈক্ষা = অপেক্ষা,
- যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।