বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সংবিধান

মোট প্রশ্ন২,৩৩১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সংবিধান

PrepBank · পাতা / ২৪ · ৭০১৮০০ / ২,৩৩১

৭০১.
সংশোধনের ভিত্তিতে সংবিধান ____ ধরনের।
  1. ক) ৩
  2. খ) ২
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- রাষ্ট্র পরিচালনার হাতিয়ার হলো সংবিধান।
- লেখার ভিত্তিতে সংবিধান দুই ধরনের। 
- যথা:
• লিখিত সংবিধান ও
• অলিখিত সংবিধান।
- সংশোধনের ভিত্তিতে সংবিধান দুই ধরনের।
- যথা:
• সুপরিবর্তনীয় সংবিধান ও
• দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান।

১। সুপরিবর্তনীয় সংবিধান:
- এ সংবিধান সংশোধন বা পরিবর্তন করা অপেক্ষাকৃত সহজ।
- কোন ধরনের জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই এই সংবিধানের কোন নিয়ম বা ধারা সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায়।
- তবে আইনসভার সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হয়। 
- ব্রিটিশ সংবিধান সুপরিবর্তনীয় সংবিধান।
২। দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান:
- যে সংবিধানের কোন নিয়ম বা ধারা সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায় না তাই দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান।
- এটি সংশোধনের জন্য জটিল পদ্ধতি অনুসৃত হয়।
- প্রত্যেক প্রকারের সংবিধানেরই কিছু সুনির্দিষ্ট সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০২.
রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবেন। - এটি সংবিধানে কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ - ১৪
  2. অনুচ্ছেদ - ১৮
  3. অনুচ্ছেদ - ১৬
  4. অনুচ্ছেদ - ২৫
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ২৫নং অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

• অনুচ্ছেদ - ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন: 
জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র- 

(ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করিবেন;
(খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করিবেন; এবং
(গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করিবেন৷

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭০৩.
সংবিধানের কততম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়?
  1. পঞ্চদশ
  2. চতুর্দশ
  3. ত্রয়োদশ
  4. দ্বাদশ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন হয় ২০১১ সালের ৩ জুলাই।

⇒ এই সংশোধনী দ্বারা-
- সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
- জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।
- সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।
৭০৪.
'শপথ ও ঘোষণা' সংবিধানের কত নং তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
  1. প্রথম তফসিল
  2. দ্বিতীয় তফসিল
  3. তৃতীয় তফসিল
  4. চতুর্থ তফসিল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান তফসিল:  
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।

• তফসিলসমূহ-
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৭০৫.
সংবিধানের কোন ভাগে মূলনীতিগুলো বর্ণিত হয়েছে?
  1. প্রথম
  2. চতুর্থ
  3. দ্বিতীয়
  4. তৃতীয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানেও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কতগুলো মৌলিক নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নীতিগুলো রাষ্ট্র শাসনের মূলসূত্র।
- মূল সংবিধানের 'দ্বিতীয় ভাগে' রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি শিরোনামে ৮ থেকে ২৫ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মূলনীতিগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
- সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি হলো:
• জাতীয়তাবাদ,
• সমাজতন্ত্র,
• গণতন্ত্র ও
• ধর্মনিরপেক্ষতা।

এছাড়াও,
⇒ সংবিধানের ভাগ:
- প্রথম ভাগ: প্রজাতন্ত্র,
- দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি,
- তৃতীয় ভাগ: মৌলিক অধিকার,
- চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগ: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগ: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগ: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগ: মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগ: বাংলাদেশের কর্মবিভাগ,
- দশম ভাগ: সংবিধান-সংশোধন,
- একাদশ ভাগ: বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭০৬.
দ্বাদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু নয় কোনটি?
  1. রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হন
  2. প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী বা সরকার প্রধান হন
  3. প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ হয়
  4. সংসদীয় গণতন্ত্রের বদলে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু
ব্যাখ্যা

দ্বাদশ সংশোধনী:
- দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পাল্টিয়ে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পুনরায় প্রবর্তন করা হয়।
- সংসদে সংশোধনীটি পাস হয় ১৯৯১ সালের ৬ই আগষ্ট ।

• দ্বাদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু:
১. রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হন।
২. প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী বা সরকার প্রধান হন।
৩. প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ হয়।

উল্লেখ্য,
- ৪র্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের বদলে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

৭০৭.
How many times the constitution of Bangladesh has been amended?
  1. 14 times
  2. 15 times
  3. 16 times
  4. 17 times
  5. 18 times
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয় ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান সংশোধন হয়েছে ১৭ বার।
- এর মধ্যে চারটি সংশোধনী ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছে।
- সংবিধানের ১৭টি সংশোধনীর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ে ৪ বার, জিয়াউর রহমানের সময় ২ বার, এরশাদের সময় ৪ বার, শেখ হাসিনার সরকারের সময় ৩ বার ও খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে ৪ বার সংবিধান সংশোধন করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই সংসদে সংবিধানের ১ম সংশোধনী পাশ হয়।
- সংবিধানের সর্বশেষ, অর্থাৎ সপ্তদশ সংশোধনী হয় ২০১৮ সালের ৮ জুলাই।
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৭০৮.
According to which article of the constitution a state of emergency can be declared?
  1. 140 A
  2. 140 B
  3. 141 A
  4. 141 B
  5. 142
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১৪০ - কমিশনের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪১ - বার্ষিক রিপোর্ট।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(ক) - জরুরী-অবস্থা ঘোষণা।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(খ) - জরুরী-অবস্থার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(গ) - জরুরী-অবস্থার সময় মৌলিক অধিকারসমূহ স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪২ - সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৩ - প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৪ - সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫ - চুক্তি ও দলিল।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক) - আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৬ - বাংলাদেশের নামে মামলা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৭ - কতিপয় পদাধিকারীর পারিশ্রমিক প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৮ - পদের শপথ।
- অনুচ্ছেদ ১৪৯ - প্রচলিত আইনের হেফাজত।
- অনুচ্ছেদ ১৫০ - ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- অনুচ্ছেদ ১৫১ - রহিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৫২ - ব্যাখ্যা।
- অনুচ্ছেদ ১৫৩ - প্রবর্তন, উল্লেখ ও নির্ভরযোগ্য পাঠ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৭০৯.
বাংলাদেশের সংবিধানে কয়টি মৌলিক চাহিদার কথা বলা হয়েছে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ- ১৫(ক) অনুযায়ী, মৌলিক চাহিদা পাঁচটি।
যথা:
১. অন্ন,
২. বস্ত্র,
৩. বাসস্থান,
৪. শিক্ষা ও
৫. চিকিৎসা।

৭১০.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের বিধান রয়েছে?
  1. ১৪১ নং অনুচ্ছেদ
  2. ১৪২ নং অনুচ্ছেদ
  3. ১৪৩ নং অনুচ্ছেদ
  4. ১৪৪ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪২ নং অনুচ্ছেদে সংবিধান সংশোধনের বিধান উল্লেখ রয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, সংসদের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে অনুমোদিত হলে সংবিধানের কোনো অনুচ্ছেদ সংশোধন, সংযোজন বা রহিত করা যেতে পারে।

অনুচ্ছেদ ১৪২: সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা:
- বাংলাদেশের সংবিধানের দশম ভাগের ১৪২ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
- ১৪২নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই সংবিধানে যা বলা হয়েছে, তা সত্ত্বেও -
- সংসদের আইন-দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা সংশোধিত হতে পারবে:

তবে শর্ত থাকে যে,
- অনুরুপ সংশোধনীর জন্য আনীত কোন বিলের সম্পূর্ন শিরনামায় এই সংবিধানের কোন বিধান সংশোধন করা হক]ব বলে স্পষ্টরুপে উল্লেখ না থাকলে বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা যাবে না;
- সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরুপ কোন বিলে সম্মতিদানের জন্য তা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হবে না;
- উপরি-উক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তা উপস্থাপিত হলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করবেন, এবং তিনি তা করতে অসমর্থ হলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করেছেন বলে গণ্য হবে।

অন্যদিকে, 
- ১৪৩নং অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি, 
- ১৪১নং অনুচ্ছেদে জরুরী বিধানাবলী,
- ১৪৪নং অনুচ্ছেদে সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব সম্পর্কে উল্লেখ আছে।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

৭১১.
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সর্বোচ্চ আইনগত পরামর্শ প্রদান ও প্রধান আইন কর্মকর্তার দায়িত্ব কে পালন করে থাকেন?
  1. অ্যাটর্নি জেনারেল
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. আইন সচিব
  4. আইন উপদেষ্টা
ব্যাখ্যা

• অ্যাটর্নি জেনারেল: 
- অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন পরামর্শক ও প্রধান আইন কর্মকর্তা।
- তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সরকারের প্রধান আইনজীবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সাধারণত জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মধ্য থেকে সরকার তাকে নিয়োগ দেয়। এ পদাধিকারবলে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সভাপতি হন। তাকে যুগ্ম অ্যাটর্নি জেনারেল, উপ অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা সহায়তা করেন।

উল্লেখ্য,
-মো. আসাদুজ্জামান বর্তমানে বাংলাদেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল।
-তিনি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে এই পদে নিয়োগ দিয়েছেন।
- সংবিধানের ৬৪(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতা অনুযায়ী তাকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র: অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ওয়েবসাইট।

৭১২.
নিচের কোনটি রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ ছাড়া করতে পারে?  
  1. জরুরি অবস্থা ঘোষণা
  2. সংসদ অধিবেশন আহ্বান
  3. প্রধান বিচারপতি নিয়োগ
  4. সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রপতি:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগের ৪৮ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, 
- এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তাঁর অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করবেন।
- সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।

- ৫৬(৩): যে সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন।
- ৯৫(১): প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করিয়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করিবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৭১৩.
সপ্তদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু হলো-
  1. ক) পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন পদ্ধতি চালু।
  2. খ) সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যদের মেয়াদ বৃদ্ধি।
  3. গ) বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে দেওয়া হয়।
  4. ঘ) ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়।
ব্যাখ্যা
সপ্তদশ সংশোধনী
সংসদে উত্থাপন: ৮ এপ্রিল, ২০১৮
উত্থাপনকারী: আইনমন্ত্রী আনিসুল হক
সংসদে পাশ/গৃহীত - ৮ জুলাই, ২০১৮
রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ২৯ জুলাই, ২০১৮

সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধন আইন অনুসারে, একাদশ সংসদ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ ১০ বছর থেকে বাড়িয়ে ২৫ বছর করা হয়।
৬৫(৩) নং অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ ২৫ বছর বৃদ্ধি করা হয়।

[উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান]
৭১৪.
সংবিধান সংস্কার কমিশন সংসদীয় প্রার্থী হওয়ার বয়স সুপারিশ করেছে ন্যূনতম কত বছর?
  1. ২৫ বছর
  2. ১৮ বছর
  3. ২১ বছর
  4. ২০ বছর
ব্যাখ্যা
সংবিধান সংস্কার কমিশন: 
- গঠিত হয়- ৬ অক্টোবর, ২০২৪।
- কমিশনের প্রধান- অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
- মোট সদস্য- ৯ জন।

• উল্লেখযোগ্য সুপারিশসমূহ:
- মূলনীতি: ৪টি (সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র।
- সংসদ: দ্বিকক্ষবিশিষ্ট (নিম্নকক্ষ: ৪০০টি আসন; উচ্চকক্ষ: ১০৫টি আসন)।
- মেয়াদ: ৪ বছর (সরকারের মেয়াদ, সংসদের মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ),
- সংসদীয় প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স: ২১ বছর।

উৎস: সংবিধান সংস্কার কমিশন। [লিঙ্ক]
৭১৫.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ‘প্রস্তাবনায়’ বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে কয়টি অঙ্গীকার করা হয়েছে? 
  1. ৫টি
  2. ৪টি
  3. ৩টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা
♣ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে দুইটি অঙ্গীকার করা হয়েছে। 
                                                                          প্রস্তাবনা

- আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া [জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের] মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি;

- আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল -জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে ;

- আমরা আরও অঙ্গীকার করিতেছি যে, আমাদের রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হইবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা- যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে;

- আমরা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করিতেছি যে, আমরা যাহাতে স্বাধীন সত্তায় সমৃদ্ধি লাভ করিতে পারি এবং মানবজাতির প্রগতিশীল আশা-আকাঙ্খার সহিত সঙ্গতি রক্ষা করিয়া আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে পূর্ণ ভূমিকা পালন করিতে পারি, সেইজন্য বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ এই সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ন রাখা এবং ইহার রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান আমাদের পবিত্র কর্তব্য;

- এতদ্বারা আমাদের এই গণপরিষদে, অদ্য তের শত ঊনআশী বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসের আঠারো তারিখ, মোতাবেক ঊনিশ শত বাহাত্তর খ্রীষ্টাব্দের নভেম্বর মাসের চার তারিখে, আমরা এই সংবিধান রচনা ও বিধিবদ্ধ করিয়া সমবেতভাবে গ্রহণ করিলাম।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
৭১৬.
'পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন' সম্পর্কে বলা আছে সংবিধানের-
  1. ক) ২৩ক নং অনুচ্ছেদে
  2. খ) ১৭ নং অনুচ্ছেদে
  3. গ) ১৮ক নং অনুচ্ছেদে
  4. ঘ) ১৮ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের,
- ১৮ক নং অনুচ্ছেদে 'পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন',
- ১৮ নং অনুচ্ছেদে 'জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা',
- ১৭ নং অনুচ্ছেদে 'অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা',
- ২৩ক নং অনুচ্ছেদে 'উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।

৭১৭.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ বলে বাংলাদেশ সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী পরিবর্তনযোগ্য নয়?
  1. অনুচ্ছেদ ৭ (ক)
  2. অনুচ্ছেদ ৭ (খ)
  3. অনুচ্ছেদ ৮
  4. অনুচ্ছেদ ৯
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৭খ:
- সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমুহের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হবে।]

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগ:

- অনুচ্ছেদ ১: প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ ২: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ ২ক: রাষ্ট্রধর্ম।
- অনুচ্ছেদ ৩: রাষ্ট্রভাষা- প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।
- অনুচ্ছেদ ৪: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- অনুচ্ছেদ ৪ক: জাতির পিতার প্রতিকৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৫: রাজধানী।
- অনুচ্ছেদ ৬: নাগরিকত্ব।
- অনুচ্ছেদ ৭: সংবিধানের প্রাধান্য।
- অনুচ্ছেদ ৭ক:সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ।
- অনুচ্ছেদ ৭খ: সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭১৮.
সংসদীয় শাসনব্যবস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে বাংলাদেশের সংবিধানে কোন সংশোধনী পাস করা হয়?
  1. দ্বাদশ
  2. অষ্টম
  3. পঞ্চদশ
  4. একাদশ
ব্যাখ্যা

• দ্বাদশ সংশোধনী:
- এই সংশোধনী আইন পাস হয় ১৮ই সেপ্টেম্বর, ১৯৯১।
- এর দ্বারা সংবিধানের ৪৮, ৫৫, ৫৬, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৭০, ৭২. ১০৯, ১১৯, ১২৪, ১৪১ক এবং ১৪২ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন ঘটে;

অন্যদিকে, 
- অষ্টম সংশোধনী : জুন, ১৯৮৮,  বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং ঢাকার বাইরে হাইকোর্টের ৬টি বেঞ্চ স্থাপন করা হয়।
- একাদশ সংশোধনী ,আগস্ট, ১৯৯১:  অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ কর্তৃক প্রয়োগকৃত সকল কার্যক্রম বৈধ করা হয় এবং পুনরায় তাঁর প্রধান বিচারপতি পদে ফিরে যাবার বিধান করা হয়।

• পঞ্চদশ সংশোধনী: জুলাই, ২০১১, 
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়।
- ১৯৭২ মূল সংবিধানের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি যথা: জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।
- রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখার পাশাপাশি সকল ধর্মচর্চার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।

৭১৯.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৫২
  2. অনুচ্ছেদ ৫৩
  3. অনুচ্ছেদ ৫৪
  4. অনুচ্ছেদ ৫৫
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৫০ - রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫১ - রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদে ৫২ - রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের বিষয়টি সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ৫৩ - অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৪ - অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৫৫ - মন্ত্রিসভা।
- অনুচ্ছেদ ৫৬ - মন্ত্রিগণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৭ - প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৮ - অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৯ - স্থানীয় শাসন।
- অনুচ্ছেদ ৬০ - স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৭২০.
বাংলাদেশের নির্বাচনে ভোটারের নূন্যতম বয়স সীমা কত?
  1. ক) ১৬ বছর
  2. খ) ১৮ বছর
  3. গ) ২০ বছর
  4. ঘ) ২১ বছর
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের নির্বাচনে ভোটারের নূন্যতম বয়স সীমা ১৮ বছর। 

• বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নূন্যতম বয়স ২৫ বছর।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১২২(২) খ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যক্তির ভোটাধিকার প্রাপ্তির নূন্যতম বয়স ১৮ বছর।
- সংবিধানের ১২২(১) অনুচ্ছেদে বলা আছে 'প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটাধিকার- এই নীতির ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।'
- তাই ভোটার হওয়ার নূন্যতম বয়স ১৮ বছর।
- রাষ্ট্রপতি হওয়ার নূন্যতম বয়স ৩৫ বছর।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭২১.
বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়-
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৭১ সালে
  4. ১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা

• সংবিধান:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় - ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
 -গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।

৭২২.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ইংরেজি নাম কী?
  1. ক) পার্লামেন্ট
  2. খ) অ্যাসেম্বলি
  3. গ) হাউজ অব দ্য নেশন
  4. ঘ) ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের আইনসভার নাম - জাতীয় সংসদ।
এর ইংরেজি নাম - House of the Nation।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাধারণ আসন সংখ্যা - ৩০০ এবং সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে ৫০টি।
- সুতরাং এর সর্বমোট আসন - ৩৫০টি।

উৎস: জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট।
৭২৩.
How many principles are in Bangladesh's constitution?
  1. 1
  2. 4
  3. 7
  4. 11
  5. None of them
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৭২৪.
সংবিধানের ৭২নং অনুচ্ছেদ অনুসারে জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন কে?
  1. স্পিকার
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা

• সংসদ অধিবেশন:
- ৭২ (১) নং অনুচ্ছেদে, সরকারী বিজ্ঞপ্তি-দ্বারা রাষ্ট্রপতি সংসদ আহবান , স্থগিত ও ভঙ্গ করবেন করবেন।
- এবং সংসদ আহবানকালে রাষ্ট্রপতি প্রথম বৈঠকের সময়  স্থান নির্ধারণ করবেন।
- (২) এই অনুচ্ছেদের (১) দফার বিধানাবলী সত্ত্বেও সংসদ-সদস্যদের যে কোন সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হবার ত্রিশ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহবান করা হবে।
- (৩) রাষ্ট্রপতি পূর্বে ভাঙ্গিয়া না দিয়া থাকিলে প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসর অতিবাহিত হইলে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাবে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

৭২৫.
সংবিধানের ৩৪নং অনুচ্ছেদের সাথে সম্পর্ক রয়েছে কোনটির? 
  1. সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা
  2. আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার
  3. জবরদস্তি শ্রম
  4. চলাফেরার স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- তফসিল আছে ৭টি।

সংবিধানে মৌলিক অধিকার:
- অনুচ্ছেদ ৩৪ (১), ৩৪ (২ ক) অনুযায়ী সকল প্রকার জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ।
- এই বিধান কোনভাবে লঙ্ঘিত হলে তা আইনতঃ দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।
- তবে ফৌজদারি অপরাধের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।

এছাড়াও,
- ২৯ নং অনুচ্ছেদে সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা,
- ৩১ নং অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার,
- ৩৬ নং অনুচ্ছেদে চলাফেরার স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭২৬.
সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয় কবে?
  1. ১১ এপ্রিল, ১৯৭২
  2. ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২
  3. ১১ অক্টোবর, ১৯৭২
  4. ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়: ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়: ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন: ১১ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপিত হয়: ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়: ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদের সদস্যগণ হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেনঃ ১৪ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

৭২৭.
৫১ নং অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হয়েছে?
  1. ক) রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার
  2. খ) রাষ্ট্রপতির অভিসংশন
  3. গ) রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ
  4. ঘ) রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৫১ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে। এ অনুচ্ছেদ মতে কোন আদালত রাষ্ট্রপতির কার্যভারকালে তার বিরুদ্ধে কোন কার্যধারা বা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে পারবে না। (সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
৭২৮.
রেফারেন্ডাম সংক্রান্ত বিধান সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে?
  1. ৪৮ নং
  2. ১৪২ নং
  3. ৫৬ নং
  4. রেফারেন্ডামের কোন অনুচ্ছেদ নেই
ব্যাখ্যা
গণভোট (Referendum):
- আক্ষরিক অর্থে গণভোট বলতে জনগণের কাছে উপস্থাপিত করা (refer to the people)-কে বোঝায়।
- আইনসভার দ্বারা প্রণীত আইনকে ভোটের মাধ্যমে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করার জন্য জনসাধারণের কাছে উপস্থাপিত করাকে বলে গণভোট (Referendum)।
- অর্থাৎ গণভোট হল এমন এক উপায় বা পদ্ধতি যার মাধ্যমে কোন একটি আইন চূড়ান্তভাবে গৃহীত হওয়ার আগে জনসাধারণের মতামত নেওয়া হয়।
- সংবিধানে গণভোট (Referendum) সংক্রান্ত কোনো অনুচ্ছেদ নেই।

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের ১৪২ নং অনুচ্ছেদে সংবিধান সংশোধনের সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা পদ্ধতি উল্লেখিত রয়েছে।
- সংবিধান সংশোধন বা পরিবর্তন এবং গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নে গণভোটের বিধান রয়েছে, তবে চাইলেই যেকোন বিষয়ে গণভোট করা যায় না।
- সংবিধানের ৮, ৪৮, ৫৬, ১৪২ অনুচ্ছেদ সংশোধন করতে গণভোট প্রয়োজন হবে, তবে অন্য অনুচ্ছেদগুলো সংশোধন করতে এর প্রয়োজন নেই। 

উল্লেখ্য,
- গণভোটের বিধান নিয়ে রায়ে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান যুক্ত করা হয়েছিল।
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই বিধান বাদ দেওয়া হয়।
- এ ছাড়া জনমত বা জন- আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৮, ৪৮ ও ৫৬ অনুচ্ছেদ অসংশোধনযোগ্য ঘোষণা করা হয়, যা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোবিরোধী এবং অসংগতিপূর্ণ। তাই পঞ্চদশ সংশোধনী আইন, ২০১১-এর ৪৭ ধারার মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাতিল করাকে বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদে যুক্ত করা গণভোটের বিধান পুনরুদ্ধার হলো।

উৎস: i) গণভোট আইন, ১৯৯১।
ii) Surendranath Evening College।
৭২৯.
জাতীয় সংসদে কে কাস্টিং ভোট প্রদানের ক্ষমতা সংরক্ষণ করে থাকেন?
  1. স্পীকার
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. বিরোধীদলীয় নেতা
ব্যাখ্যা

⇒ সংসদের কার্যপ্রণালী, কোরাম এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৫ অনুচ্ছেদে সংসদের কার্যপ্রণালী, কোরাম এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিষয়ে বলা হয়েছে:
১. কার্যপ্রণালী-বিধি:
- সংসদ তার কার্যপ্রণালী-বিধি প্রণয়ন করবে। তবে, বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি প্রণীত বিধি অনুযায়ী সংসদের কার্যক্রম চলবে।
২. সিদ্ধান্ত গ্রহণ:
- সংসদে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
- সভাপতি সাধারণত ভোট দেবেন না, তবে সমসংখ্যক ভোট হলে তিনি নির্ণায়ক ভোট (Casting Vote) প্রদান করবেন।
৩. কার্যধারা বৈধতা:
- কোনো সদস্যপদ শূন্য থাকা, বা কোনো ব্যক্তির সংসদে উপস্থিতি বা কার্যধারায় অংশগ্রহণের অধিকার না থাকা সত্ত্বেও, তা সংসদের কার্যধারাকে অবৈধ করবে না।
৪. কোরাম:
- যদি সংসদে উপস্থিত সদস্যের সংখ্যা ৬০-এর কম হয় এবং সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়, তাহলে তিনি বৈঠক স্থগিত বা মুলতবী করবেন, যতক্ষণ না ৬০ জন সদস্য উপস্থিত হন।

⇒ অনুচ্ছেদ ৭৫:- কার্যপ্রণালী-বিধি, কোরাম প্রভৃতি:
(১) এই সংবিধান-সাপেক্ষে
- (খ) উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংসদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে, তবে সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্র ব্যতীত সভাপতি ভোটদান করবেন না কিন্তু সমসংখ্যক ভোট হলে তিনি নির্ণায়ক ভোট (Casting Vote) প্রদান করবেন।

উল্লেখ্য,
⇒ সংসদে সভাপতিত্বকারী ব্যক্তি হলেন স্পিকার।
- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য হলো স্পিকারের সভাপতিত্ব।
- স্পিকার শুধু সভাপতিত্বকারী নন, তিনি পার্লামেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাও।
- তাঁর কর্তৃত্ব সবাই মেনে চলেন ও শ্রদ্ধা করেন।
- স্পিকারকে পার্লামেন্টের অভিভাবক বলা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

৭৩০.
বাংলাদেশের সংবিধানের কয়টি তফসিল রয়েছে?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৭টি
  4. ঘ) ১১টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৩১.
'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' সংবিধানের কততম সংশোধনীতে সন্নিবেশিত হয়?
  1. ৪র্থ
  2. ৫ম
  3. ৬ষ্ঠ
  4. ৭ম
ব্যাখ্যা
পঞ্চম সংশোধনী:

- সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' সন্নিবেশিত হয়।
- ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয় পঞ্চম সংশোধনী আইন।
- এই আইন দ্বারা সংবিধানের চতুর্থ তফসিল সংশোধন করা হয়।
- ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত যে সকল সামরিক বিধি, সংবিধান সংশোধন সহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ জারি করা হয় সেগুলো সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী হিসেবে কাজ করা হয় ।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রবর্তিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৭৩২.
জেনারেল এরশাদের আমলে কোন সংসদে অষ্টম সংশোধনী পাস হয়েছিল?
  1. তৃতীয় সংসদ
  2. চতুর্থ সংসদ
  3. পঞ্চম সংসদ
  4. ষষ্ঠ সংসদ
ব্যাখ্যা

◉ জেনারেল এরশাদ ১৯৮৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত চতুর্থ জাতীয় সংসদে অষ্টম সংশোধনী বিল পাস করান। এই সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয়।

অষ্টম সংশোধনী:
- সংসদে উত্থাপন: ১১ মে, ১৯৮৮।
- উত্থাপনকারী: সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।
- সংসদে গৃহীত: ৭ জুন, ১৯৮৮।
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ৯ জুন, ১৯৮৮।

• এ সংশোধনীর মৌলিক বিষয়গুলো হল:
- ইসলাম ধর্মকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা দান,
- হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি বেঞ্চ যথাক্রমে বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর, রংপুর ও সিলেটে স্থাপন করা,
- বাংলাদেশের কোন নাগরিক রাষ্ট্রপতির অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশ থেকে কোন উপাধি গ্রহণ করতে পারবে।
- রাজধানীর বানান Dacca এর পরিবর্তে Dhaka এবং বাংলা ভাষা ইংরেজি Bengali এর পরিবের্ত Bangla গৃহীত হয়।

উৎস:
১। বাংলাদেশের সংবিধান; 
২। বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩। বিবিসি বাংলা পত্রিকার রিপোর্ট। 

৭৩৩.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'অ্যাটর্নি-জেনারেল' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৬১
  2. অনুচ্ছেদ ৬৪
  3. অনুচ্ছেদ ৬৭
  4. অনুচ্ছেদ ৭০
ব্যাখ্যা
সংবিধানের অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৬০: স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৬১: সর্বাধিনায়কতা।
- অনুচ্ছেদ ৬২: প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগে ভর্তি প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৬৩: যুদ্ধ।
- অনুচ্ছেদ ৬৪: অ্যাটর্নি-জেনারেল।
- অনুচ্ছেদ ৬৫: সংসদ-প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৬৬: সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা।
- অনুচ্ছেদ ৬৭: সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া।
- অনুচ্ছেদ ৬৮: সংসদ-সদস্যদের [পারিশ্রমিক] প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৬৯: শপথগ্রহণের পূর্বে আসন গ্রহণ বা ভোট দান করিলে সদস্যের অর্থদণ্ড।
- অনুচ্ছেদ ৭০: রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৩৪.
'গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব' এর কথা উল্লেখ রয়েছে-
  1. ১৬ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৭ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৮ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৯ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
- অনুচ্ছেদ ১৬ - গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।
- অনুচ্ছেদ ১৭ - অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
- অনুচ্ছেদ ১৮ - জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।
- অনুচ্ছেদ ১৮(ক) - পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ১৯ - সুযোগের সমতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৭৩৫.
নিম্নোক্ত কোন অনুচ্ছেদে 'জরুরি অবস্থার সময় সংবিধানের স্থগিতের কথা বলা হয়েছে? 
  1. ৩৭
  2. ২৭
  3. ৪১
  4. ১৪১
ব্যাখ্যা

সংবিধান - 
সংবিধানের ১৪১(খ) উপ দফায় জরুরি অবস্থার সময় সরকারকে সংবিধানে উল্লিখিত কিছু মৌলিক অধিকার রহিত করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
এগুলো হলো:
- ৩৬ নং অনুচ্ছেদ : চলাফেরার স্বাধীনতা
- ৩৭ নং অনুচ্ছেদ : সমাবেশের স্বাধীনতা
- ৩৮ নং অনুচ্ছেদ : সংগঠনের স্বাধীনতা
- ৩৯ নং স্বাধীনতা : চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা
- ৪০ নং অনুচ্ছেদ : পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা
- ৪২ নং অনুচ্ছেদ : সম্পত্তির অধিকার।

সূত্র -  বাংলাদেশ সংবিধান।

৭৩৬.
বাংলাদেশের নামে মামলা করার বিধান রয়েছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী?
  1. অনুচ্ছেদ-১৫০
  2. অনুচ্ছেদ-১৪৫
  3. অনুচ্ছেদ - ১৪৬
  4. অনুচ্ছেদ-১৪৮
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের অনুচ্ছেদ - ১৪৬: বাংলাদেশের নামে মামলা: 
- 'বাংলাদেশ'-এই নামে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বা বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইতে পারিবে।

অন্যদিকে: 
- অনুচ্ছেদ-১৪৫: চুক্তি ও দলিল, 
- অনুচ্ছেদ-১৪৮: পদের শপথ, 
- অনুচ্ছেদ-১৫০: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী, 

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৩৭.
’বাংলাদেশের নামে মামলা’ কথাটি সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে রয়েছে?
  1. ১৪৩ নং
  2. ১৪৬ নং
  3. ১৫০ নং
  4. ১৩৭ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান: 
 - সংবিধানের ১৪৬ নং অনুচ্ছেদে ’বাংলাদেশের নামে মামলা’ কথাটি বর্ণিত রয়েছে।
- "বাংলাদেশ"- এই নামে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বা বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইতে পারিবে।
-  এটি  একাদশ ভাগে বিবিধ রয়েছে। 

অপরদিকে,
- অনুচ্ছেদে ১৩৭: সরকারী কর্ম কমিশন-প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদে ১৪৩: প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি।
- অনুচ্ছেদে ১৪৪: সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব,
- অনুচ্ছেদে ১৪৫:  চুক্তি ও দলিল,
- অনুচ্ছেদে ১৪৫ক: আন্তর্জাতিক চুক্তি,
- অনুচ্ছেদে১৪৬: বাংলাদেশের নামে মামলা,
- অনুচ্ছেদে ১৪৮: পদের শপথ।
- অনুচ্ছেদে১৫০: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।

 উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৭৩৮.
বাংলাদেশ সংবিধানের প্রস্তাবনা কয়টি?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।

সংবিধানের প্রস্তাবনা:
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।

এগুলো হলো:
→ ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
→ ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)।
→ ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)।
→ ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)।
→ ৫ম- গনপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

সূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান
৭৩৯.
'আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান' সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে এটি বর্ণিত আছে?
  1. ১৭ নং
  2. ১৯ নং
  3. ২১ নং
  4. ২৭ নং
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ২৭ নং: আইনের দৃষ্টিতে সমতা।
- সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
- ১৯ নং অনুচ্ছেদ: সুযোগের সমতা,
- অনুচ্ছেদ ২১ নং: নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৪০.
সংবিধানের সপ্তম ভাগে কোন বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. বিচার বিভাগ
  2. মৌলিক অধিকারসমূহ
  3. মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক
  4. নির্বাচন
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের সপ্তম ভাগে নির্বাচনের কথা রয়েছে।

• বাংলাদেশ সংবিধান:
- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। যথা:-
- প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

৭৪১.
সংবিধান সংস্কার কমিশন সংবিধানের মূলনীতি থেকে কোন শব্দটি বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে?
  1. জাতীয়তাবাদ
  2. বহুত্ববাদ
  3. সাম্য
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

সংবিধান সংস্কার কমিশন:
- ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’ গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
- ৯ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিশন গঠন করা হয়েছে।
- সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

⇒ সংবিধানের মূলনীতি:
- কমিশন সুপারিশ করছে যে, সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

⇒ সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ:
- সংবিধান সংস্কার কমিশন সংবিধান সংশোধনের জন্য গণভোটের বিধান পুনর্বহালের সুপারিশ করেছে। 
- এছাড়াও, কমিশন সংবিধানের প্রস্তাবনায় জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দিয়ে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। 
- কমিশন সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে।
- বিদ্যমান সংবিধানের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগের অধিকারসমূহ সমন্বিত করে ‘মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা’ নামে একটি একক সনদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আদালতে বলবৎযোগ্য হবে এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অধিকার ও নাগরিক, রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যে বিদ্যমান তারতম্য দূর করবে।
- পাশাপাশি, কমিশন দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রস্তাব করছে, যেখানে একটি নিম্নকক্ষ জাতীয় সংসদ (ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলি) এবং একটি উচ্চকক্ষ (সিনেট) থাকবে এবং এখানে উভয় কক্ষের মেয়াদ হবে চার বছর।
- রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনয়ন এবং রাষ্ট্রীয় অঙ্গ ও প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করার জন্য একটি জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন এবং আইনসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে কিংবা আইনসভা ভেঙে গেলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত, সর্বোচ্চ ৯০ (নব্বই) দিন মেয়াদের একটি অন্তর্বর্তী সরকার নিয়োগের সুপারিশ করেছে।

উৎস: i) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ।
ii) সংবিধান সংস্কার কমিশন।

৭৪২.
বাংলাদেশের সংবিধানে কতটি অধ্যায় রয়েছে?
  1. ৮টি
  2. ১০টি
  3. ১১টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা (Preamble), ১১টি অধ্যায়, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ (Articles) ও ৭টি তফসিল (Schedule) সন্নিবেশিত রয়েছে।

সংবিধানের ১১টি ভাগের বিষয়াবলি:
- সংবিধানের প্রথম ভাগে প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ,
- দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশের সংবিধান। 
৭৪৩.
প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি সম্পর্কে বলা আছে -
  1. অনুচ্ছেদ ১৪২
  2. অনুচ্ছেদ ১৪১
  3. অনুচ্ছেদ ১৪৩
  4. অনুচ্ছেদ ১৪৪
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১৪৩: প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি

(১) আইনসঙ্গতভাবে প্রজাতন্ত্রের উপর ন্যস্ত যে কোন ভূমি বা সস্পত্তি ব্যতীত নিম্নলিখিত প্রজাতন্ত্রের উপর ন্যস্ত হইবে: 

(ক) বাংলাদেশের যে কোন ভূমির অন্তঃস্থ সকল খনিজ ও অন্যান্য মূল্যসম্পন্ন সামগ্রী; 
(খ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জলসীমার অন্তর্বর্তী মহাসাগরের অন্তঃস্থ কিংবা বাংলাদেশের মহীসোপানের উপরিস্থ মহাসাগরের অন্তঃস্থ সকল ভূমি, খনিজ ও অন্যান্য মূল্যসম্পন্ন সামগ্রী; এবং 
(গ) বাংলাদেশে অবস্থিত প্রকৃত মালিকবিহীন যে কোন সম্পত্তি। 
 
(২) সংসদ সময়ে সময়ে আইনের দ্বারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জলসীমা ও মহীসোপানের সীমা-নির্ধারণের বিধান করিতে পারিবেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৭৪৪.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'বিচারকের পদের মেয়াদ' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৯৫
  2. অনুচ্ছেদ ৯৬
  3. অনুচ্ছেদ ৯৭
  4. অনুচ্ছেদ ৯৮
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৯৫ - বিচারক-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৬ - বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৯৭ - অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৮ - সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ।
- অনুচ্ছেদ ৯৯ - অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১০০ - সুপ্রীম কোর্টের আসন।
- অনুচ্ছেদ ১০১ - হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার।
- অনুচ্ছেদ ১০২ - কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১০৩ - আপীল বিভাগের এখতিয়ার।
- অনুচ্ছেদ ১০৪ - আপীল বিভাগের পরোয়ানা জারী ও নির্বাহ।
- অনুচ্ছেদ ১০৫ - আপীল বিভাগ কর্তৃক রায় বা আদেশ পুনর্বিবেচনা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৪৫.
বাংলাদেশের সংবিধানে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ আছে -
  1. ক) ১১৮ নং অনুচ্ছেদে
  2. খ) ১১৯ নং অনুচ্ছেদে
  3. গ) ১২১ নং অনুচ্ছেদে
  4. ঘ) ১২২ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সংবিধানের ১২২ নং অনুচ্ছেদঃ
- (১) প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।
- (২) কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার তালিকাভুক্ত হইবার অধিকারী হইবেন, যদি
- (ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হোন
- (খ) তাহার বয়স আঠারো (১৮) বৎসরের কম না হয়;
- (গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁহার সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা বহাল না থাকিয়া থাকে;
- (ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং
- (ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইবুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হয়ে থাকেন।
- জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ২৫ বছর।
- ভোটার হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর।
- রাষ্ট্রপতি হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ৩৫ বছর।

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।

৭৪৬.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়?
  1. ক) ৮
  2. খ) ৬
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৭
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে (৮-২৫) রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি মূলনীতিসমূহ বর্ণনা করা হয়।
 - এই সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮(১) অনুযায়ী জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা- এই নীতিসমূহ এবং তৎসহ এই নীতিসমূহ    হতে উদ্ভূত এই ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলে পরিগণিত হবে।
- এই সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮(২) অনুযায়ী এই ভাগে বর্ণিত নীতিসমূহ বাংলাদেশ-পরিচালনার মূলসূত্র হবে, আইন-প্রণয়নের সময় রাষ্ট্র তা প্রয়োগ করবেন, এই সংবিধান ও বাংলাদেশের অন্যান্য আইনের ব্যাখ্যাদানের ক্ষেত্রে তাহা নির্দেশক হবে এবং তা রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কার্যের ভিত্তি হবে, তবে এই সকল নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হবে না ৷

- অনুচ্ছেদ-৬ নাগরিকতা।
- অনুচ্ছেদ-৫ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।
- অনুচ্ছেদ-৭ সংবিধানের প্রাধান্য।
 
উৎস: - বাংলাদেশ সংবিধান।
৭৪৭.
সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কে অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হবেন?
  1. আপীল বিভাগের বিচারকের মধ্যে যে কোন একজন
  2. রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে যাকে দায়িত্ব দিবেন তিনি
  3. হাইকোর্ট বিভাগের অন্যান্য বিচারকের মধ্যে যিনি কর্মে প্রবীণতম
  4. আপীল বিভাগের অন্যান্য বিচারকের মধ্যে যিনি কর্মে প্রবীণতম
ব্যাখ্যা

অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ:
বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী:
- প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য হলে, বা তিনি অনুপস্থিত, অসুস্থ, বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে রাষ্ট্রপতি সন্তুষ্ট হলে—
- আপীল বিভাগের বিচারকদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে কর্মে প্রবীণ, তিনি অস্থায়ীভাবে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
- নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বা বর্তমান প্রধান বিচারপতি তাঁর দায়িত্ব পুনরায় গ্রহণ না করা পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।

৭৪৮.
বাংলাদেশ সংবিধানের কভার মুদ্রণ করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়
  2. ইস্টার্ন রিগান ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড
  3. সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন
  4. বাংলা একাডেমি
ব্যাখ্যা
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন - নকশ ও অঙ্গসজ্জার মূল তত্ত্বাবধায়ক।
শিল্পী হাসেম খান - নকশ ও অঙ্গসজ্জার সহযোগী।
সৈয়দ শাহ আবু শফি - সংবিধানে চামড়ার কাজ করেন।

উল্লেখ্য,
মুদ্রণ - বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় 
কভার মুদ্রণ - ইস্টার্ন রিগান ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড,ঢাকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৪৯.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করতে হবে, তা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. ৪ (১)
  2. ৪ক
  3. ৫ (১)
  4. ১৭
ব্যাখ্যা
• জাতির পিতার প্রতিকৃতি:
→ ৪ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয় এবং সকল সরকারী ও আধা-সরকারী অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের প্রধান ও শাখা কার্যালয়, সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনসমূহে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করত হবে।

অপরদিকে, 
→ ৪ (১) নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে - জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীকের।
→ ৫ (১) নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে - রাজধানী সর্ম্পকে।
→ ১৭ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে - অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা সর্ম্পকে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৫০.
’অর্থবিল’ সম্পর্কিত বিধানাবলী সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখিত আছে?
  1. ৮৬ নং
  2. ৮১নং
  3. ৮০ নং
  4. ৮৭ নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ৮১ নং অনুচ্ছেদ অর্থবিল সম্পর্কিত।

• অর্থবিল:
৮১(১) এই ভাগে "অর্থবিল" বলিতে কেবল নিম্নলিখিত বিষয়সমূহের সকল বা যে কোন একটি সম্পর্কিত বিধানাবলী-সংবলিত বিল বুঝাইবে:
- কোন কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণ;
- সরকার কর্তৃক ঋণগ্রহণ বা কোন গ্যারান্টিদান, কিংবা সরকারের আর্থিক দায়-দায়িত্ব সম্পর্কিত আইন সংশোধন;
- সংযুক্ত তহবিলের রক্ষণাবেক্ষণ, অনুরূপ তহবিলে অর্থপ্রদান বা অনুরূপ তহবিল হইতে অর্থ দান বা নির্দিষ্টকরণ;
- সংযুক্ত তহবিলের উপর দায় আরোপ কিংবা অনুরূপ কোন দায় রদবদল বা বিলোপ;
- সংযুক্ত তহবিল বা প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব বাবদ অর্থপ্রাপ্তি, কিংবা অনুরূপ অর্থ রক্ষণাবেক্ষণ বা দান, কিংবা সরকারের হিসাব-নিরীক্ষা;
- উপরি-উক্ত উপ-দফাসমূহে নির্ধারিত যে কোন বিষয়ের অধীন কোন আনুষঙ্গিক বিষয়।

৮১(২) কোন জরিমানা বা অন্য অর্থদণ্ড আরোপ বা রদবদল, কিংবা লাইসেন্স-ফি বা কোন কার্যের জন্য ফি বা উসুল আরোপ বা প্রদান কিংবা স্থানীয় উদ্দেশ্যসাধনকল্পে কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কোন কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণের বিধান করা হইয়াছে, কেবল এই কারণে কোন বিল অর্থবিল বলিয়া গণ্য হইবে না।

৮১(৩) রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য তাঁহার নিকট পেশ করিবার সময়ে প্রত্যেক অর্থবিলে স্পীকারের স্বাক্ষরে এই মর্মে একটি সার্টিফিকেটে থাকিবে যে, তাহা একটি অর্থবিল, এবং অনুরূপ সার্টিফিকেট সকল বিষয়ে চূড়ান্ত হইবে এবং সেই সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

অন্যদিকে,
৮০। আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি
৮৬। প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাবে প্রদেয় অর্থ।
৮৭। বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৭৫১.
সংবিধানের কোন ভাগে 'বাংলাদেশের কর্মবিভাগ' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ক) ৭ম
  2. খ) ৮ম
  3. গ) ৯ম
  4. ঘ) ১০ম
ব্যাখ্যা
সংবিধানের নবম ভাগে "বাংলাদেশের কর্মবিভাগ" সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
এই ভাগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ হলো: 
- ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ: কর্ম কমিশনের প্রতিষ্ঠা
- ১৩৮ নং অনুচ্ছেদ: সদস্য-নিয়োগ
- ১৩৯ নং অনুচ্ছেদ: কর্ম কমিশনের সদস্যদের পদের মেয়াদ
- ১৪০ নং অনুচ্ছেদ: কর্ম কমিশনের দায়িত্ব
- ১৪১ নং অনুচ্ছেদ: কর্ম কমিশনের বার্ষিক রিপোর্ট।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান
৭৫২.
বাংলাদেশের সংবিধানে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি কোন অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত হয়েছে?
  1. ১১৩ নং
  2. ১১৪ নং
  3. ১১৬ নং
  4. ১১৭ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৭ নং অনুচ্ছেদের ১ এবং ২ নং অনুচ্ছেদে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা সন্নিবেশিত হয়েছে।

বিচার বিভাগ:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগে বিচারবিভাগ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ষষ্ঠ ভাগে মোট ৩টি পরিচ্ছদ রয়েছে। যথা:
• ১ম পরিচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্ট [অনুচ্ছেদ: ৯৪ - ১১৩];
• ২য় পরিচ্ছেদ: অধস্তন আদালত [অনুচ্ছেদ: ১১৪ থেকে ১১৬];
• ৩য় পরিচ্ছেদ: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল [অনুচ্ছেদ: ১১৭]।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৫৩.
সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. বিচার বিভাগ
  2. আইনসভা
  3. নির্বাহী বিভাগ
  4. মৌলিক অধিকার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন।
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৫৪.
জাতীয় সংসদের কতটি সংশোধনী জাতীয় সংসদের ক্ষমতা, অবস্থান তথা রাষ্ট্র ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা

জাতীয় সংসদের ৩ টি সংশোধনী জাতীয় সংসদের ক্ষমতা, অবস্থান তথা রাষ্ট্র ব্যাবস্থার সঙ্গে সরাসরী সংযুক্ত।
সেগুলো হচ্ছে-

- ৪র্থ সংশোধনী (১৯৭৫ সালে)
- ৫ম সংশোধনী (১৯৭৯ সালে)
- ১২তম সংশোধনী (১৯৯১ সালে)

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি দ্বিতীয় পত্র (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।

৭৫৫.
খসড়া সংবিধান গণপরিষদে কবে উত্থাপিত হয় ?
  1. ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল
  2. ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর
  3. ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর
  4. ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' গঠন করা হয়: ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- এদিন পরিষদের সামনে সকল প্রস্তাব উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন।
- ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপিত হয়।
- ৪ নভেম্বর ১৯৭২ গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২ গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- তবে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

এছাড়াও,
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৭৫৬.
সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ন্যূনতম বয়স কত?
  1. ২২ বছর
  2. ২৫ বছর
  3. ২৮ বছর
  4. ৩০ বছর
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
- পঞ্চম ভাগের ৬৬ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী -
(১) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হলে এবং তাঁর বয়স পঁচিশ বৎসর পূর্ণ হলে বিধান-সাপেক্ষে তিনি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হবার এবং সংসদ-সদস্য থাকার যোগ্য হবেন। 
 
(২) কোন ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হবার এবং সংসদ-সদস্য থাকবার যোগ্য হবেন না, যদি
- কোন উপযুক্ত আদালত তাঁকে অপ্রকৃতিস্থ বলে ঘোষণা করেন,
- তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হবার পর দায় হতে অব্যাহতি লাভ না করে থাকেন;
- তিনি কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন;
- তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হয়ে থাকে;
- তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত হয়ে থাকেন;
- আইনের দ্বারা পদাধিকারীকে অযোগ্য ঘোষণা করতেছে না, এমন পদ ব্যতীত তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন; অথবা
- তিনি কোন আইনের দ্বারা বা অধীন অনুরূপ নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হন।
 
• যেহেতু সংসদের সংখ্যা গরিষ্ঠ দলের সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন, তাই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর।
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৫৭.
সংবিধান রচনা কমিটির বিদেশি আইনজীবী কে ছিলেন?
  1. টমাস হাবস
  2. স্যার টমাস উইলিয়াম
  3. জনাথন হোবস
  4. আই গাথরি
ব্যাখ্যা
সংবিধান রচনার সাথে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ-
কে এম আব্দুল রউফ - হস্ত লিখিত মূল সংবিধানের লেখক।
ড. আনিসুজ্জামান - প্রধান ভাষা বিশেষজ্ঞ।
আই গাথরি - রচনা কমিটির বিদেশি বিশেষজ্ঞ। বৃটিশ আইনজীবী।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন - নকশ ও অঙ্গসজ্জার মূল তত্ত্বাবধায়ক।
শিল্পী হাসেম খান - নকশ ও অঙ্গসজ্জার সহযোগী।
সৈয়দ শাহ আবু শফি - সংবিধানে চামড়ার কাজ করেন।
সদর উদ্দীন আহমেদ - সংবিধানে সর্বশেষ স্বাক্ষরকারী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, সরকারি তথ্য বাতায়ন।
৭৫৮.
ত্রয়োদশ সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তু কী ছিল?
  1. বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদে ফিরিয়ে দেওয়া
  2. ধর্মনিরপেক্ষতা পুনর্বহাল
  3. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন
  4. সংসদীয় আসন বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

ত্রয়োদশ সংশোধনী:
- ত্রয়োদশ সংশোধনীর শিরোনাম সংবিধান [ত্রয়োদশ সংশোধন] আইন, ১৯৯৬।
- সংসদে বিলটি পাশ হয় ২৭ মার্চ, ১৯৯৬।
- ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।
- ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে আপিল বিভাগ তত্ত্বাবাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সর্ম্পকিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেছে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিবিসি নিউজ, ১০ মে ২০১১।

৭৫৯.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ কয়টি আসনে জয় লাভ করেছিল?
  1. ক) ২৮৯ টি
  2. খ) ২৯০ টি
  3. গ) ২৯৩ টি
  4. ঘ) ২৯৭ টি
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৭ মার্চ ১৯৭৩ সালে।
এ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল ১৪টি। এতে আওয়ামীলীগ সবকটি আসনে (৩০০) প্রার্থী মনোনীত করে এবং ২৯৩টি আসন লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
উৎসঃ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট

৭৬০.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন?
  1. ৭২(১)
  2. ৭৩
  3. ৭৩(ক)
  4. ৭৪ 
ব্যাখ্যা

• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের - ৭২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি।
- তবে এক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করবেন।
- নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ও নতুন বছরের অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণদান করেন।
- রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদে আলোচনা হয়।
- সময়ে সময়ে রাষ্ট্রপতি সংসদে বাণী প্রেরণ করেন।
- তিনি সংসদ মুলতবি রাখতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে তিনি সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারেন।
- সংবিধানে বর্ণিত কয়েকটি পরিস্থিতিতে যেমন — রাষ্ট্রপতির অভিশংসন এর ক্ষেত্রে স্পিকার সংসদ আহ্বান করতে পারেন।

অন্যদিকে, 
- অনুচ্ছেদ: ৭৩ - সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী।
- অনুচ্ছেদ: ৭৩(ক) - সংসদ সম্পর্কে মন্ত্রীগণের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ: ৭৪ - স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

৭৬১.
জনগণ সর্বময় ক্ষমতার উৎস- সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. ১০
  2. ১১
  3. ২২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- এই সংবিধানে বাংলাদেশকে 'গণপ্রজাতন্ত্রী' হিসেবে অভিহিত করেছে এবং যার অন্যতম চারটি মূলনীতি হলো গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ।
- এই মূলনীতিগুলো বাংলাদেশের জনগণকে দীর্ঘ মুক্তির সংগ্রামে আত্মত্যাগের প্রতিফলন ঘটায়।
- বাংলাদেশে সংবিধান লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয়। 
- একটি উত্তম সংবিধানে শাসন ব্যবস্থার সুষ্ঠু কিন্তু সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন অপরিহার্য।
- সে দিক থেকে বিচার করলে বাংলাদেশের সংবিধানের ১১টি বিভাগের ১৫৩টি অনুচ্ছেদে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার বণ্টন ও সমন্বয়ের স্পষ্ট দিক-নির্দেশনা রয়েছে। 

উল্লেখ্য,
- সংবিধানের প্রস্তাবনার ৭(১) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে 'প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ;।
- এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে'।

উৎস: বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬২.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ১৩৭
  2. ১৩৮
  3. ১৩৯
  4. ১৪০
ব্যাখ্যা

সংবিধানে সরকারি কর্ম কমিশন সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ:
- সংবিধানে সরকারি কর্ম কমিশন সংক্রান্ত ৫ টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

১৪০ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
-  (১) কোন সরকারী কর্ম কমিশনের দায়িত্ব হবে,
(ক) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদানের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিদেরকে মনোনয়নের উদ্দেশ্যে যাচাই ও পরীক্ষা-পরিচালনা,
(খ) এই অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক কোনো বিষয় সম্পর্কে কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হলে কিংবা কমিশনের দায়িত্ব- সংক্রান্ত কোনো বিষয় কমিশনের নিকট প্রেরণ করা হলে সেই সম্বন্ধে রাষ্ট্রপতিকে উপদেশদান; এবং
(গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য দায়িত্বপালন।

(২) সংসদ কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন এবং কোনো কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত কোন প্রবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রসমূহে কোনো কমিশনের সহিত পরামর্শ করবেন :
(ক) প্রজাতন্ত্রের কর্মের জন্য যোগ্যতা ও তাতে নিয়োগের পদ্ধতি সম্পর্কিত বিষয়াদি;
(খ) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদান, উক্ত কর্মের এক শাখা হতে অন্য শাখায় পদোন্নতিদান ও বদলিকরণ এবং অনুরূপ নিয়োগদান, পদোন্নতিদান বা বদলিকরণের জন্য প্রার্থীর উপযোগিতা-নির্ণয় সম্পর্কে অনুসরণীয় নীতিসমূহ;
(গ) অবসর-ভাতার অধিকারসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মের শর্তাবলীকে প্রভাবিত করে, এইরূপ বিষয়াদি; এবং
(ঘ) প্রজাতন্ত্রের কর্মের শৃঙ্খলামূলক বিষয়াদি।

এছাড়া,
- ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন-প্রতিষ্ঠা,
- ১৩৮ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য-নিয়োগ এবং
- ১৩৯ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যপদের মেয়াদ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৬৩.
সংবিধানের কয়টি ভাগ বা অধ্যায় আছে?
  1. ১টি
  2. ৪টি
  3. ৭টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে। 
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৭৬৪.
সংবিধানের কততম সংশোধনীতে 'Bengali' শব্দটি পরিবর্তন করে 'Bangla' করা হয়?
  1. ৭ম সংশোধনী
  2. ৮ম সংশোধনী
  3. ৯ম সংশোধনী
  4. ১০ম সংশোধনী
ব্যাখ্যা
সংবিধান সংশোধন:
- সময়ের চাহিদা ও প্রয়োজনে জনগণের কল্যাণার্থে সংবিধানের সংশোধন, পরিবর্তন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের দশম ভাগে ১৪২নং অনুচ্ছেদে এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও পদ্ধতির কথা উল্লেখ রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধান এ পর্যন্ত ১৭ বার সংশোধিত হয়েছে।

⇒ অষ্টম সংশোধনী:
- সংসদে উত্থাপন: ১১ মে, ১৯৮৮।
- উত্থাপনকারী: সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।
- সংসদে গৃহীত: ৭ জুন, ১৯৮৮।
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ৯ জুন, ১৯৮৮।

⇒ অষ্টম সংবিধান সংশোধন আইন দ্বারা সংবিধানের ২ক, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।
- এই সংশোধনী আইনবলে-
১. ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়;
২. ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়;
৩. সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদে Bengali শব্দটি পরিবর্তন করে Bangla করা হয় এবং Dacca পরিবর্তন করে Dhaka করা হয়;
৪. সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৬৫.
’সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা’ কত নং অনুচ্ছেদে রয়েছে?
  1. ১৪১ নং
  2. ১৪২ নং
  3. ১৫১ নং
  4. ১৪৭ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সংবিধান:
- ১৪২ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা কথা বলা হয়েছে।

- এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও-
- (ক) সংসদের আইন-দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা সংশোধিত হইতে পারিবেঃ তবে শর্ত থাকে যে,
- (অ) অনুরূপ সংশোধনীর জন্য আনীত কোন বিলের সম্পূর্ন শিরনামায় এই সংবিধানের কোন বিধান সংশোধন করা হইবে বলিয়া স্পষ্টরূপে উল্লেখ না থাকিলে বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা যাবে না;
- (আ) সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরূপ কোন বিলে সম্মতিদানের জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হবে না;
- (খ) উপরি-উক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তাহা উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন, এবং তিনি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ: ১৪১নং -সরকারী কর্ম কমিশনের বার্ষিক রিপোর্ট।
- অনুচ্ছেদ: ১৪৭ নং - কতিপয় পদাধিকারীর পারিশ্রমিক প্রভৃতি।
-  অনুচ্ছেদ: ১৫১ নং- রহিতকরণ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৭৬৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার হওয়ার ন্যূনতম বয়স কত বছর?
  1. ২২ বছর
  2. ২৫ বছর
  3. ৩৩ বছর
  4. ৩৫ বছর
ব্যাখ্যা
স্পিকার:
- সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সভাপতি স্পিকার।
- স্পিকার হলেন জাতীয় সংসদের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
- স্পিকার হওয়ার ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর। 

উল্লেখ্য,
⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
- পঞ্চম ভাগের ৬৬ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী -
(১) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হলে এবং তাঁর বয়স পঁচিশ বছর পূর্ণ হলে বিধান-সাপেক্ষে তিনি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হবার এবং সংসদ-সদস্য থাকার যোগ্য হবেন।
- যেহেতু বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সভাপতি স্পিকার, তাই স্পিকার হওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৬৭.
বাংলাদেশের সংবিধান-
  1. দুষ্পরিবর্তনীয়
  2. সুপরিবর্তনীয়
  3. অপরিবর্তনীয়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সুপরিবর্তনীয় সংবিধান : 
- এ সংবিধান সংশোধন বা পরিবর্তন করা অপেক্ষাকৃত সহজ।
- কোন ধরনের জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই এই সংবিধানের কোন নিয়ম বা ধারা সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায়। তবে আইনসভার সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হয়।
- ব্রিটিশ সংবিধান সুপরিবর্তনীয় সংবিধান।

দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান:
- যে সংবিধানের কোন নিয়ম বা ধারা সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায় না তাই দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান।
- এটি সংশোধনের জন্য জটিল পদ্ধতি অনুসরন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের দুই তৃতীয়াংশের ভোট প্রয়োজন।
- যেমন :- বাংলাদেশ, ভারত।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৬৮.
সংবিধান সংস্কার কমিটি সংসদে উচ্চকক্ষের জন্য কয়টি আসনের সুপরিশ করেছেন?
  1. ১০০টি 
  2. ১০৫টি 
  3. ৩৫০টি
  4. ৪০০টি
ব্যাখ্যা

- নিম্নকক্ষ: ৪০০টি আসন; উচ্চকক্ষ: ১০৫টি আসন। 

• সংবিধান সংস্কার কমিশন: 
- গঠিত হয়- ৬ অক্টোবর, ২০২৪।
- কমিশনের প্রধান- অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
- মোট সদস্য- ৯ জন

• উল্লেখযোগ্য সুপারিশসমূহ:
- মূলনীতি: ৫টি (সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র।
- সংসদ: দ্বিকক্ষবিশিষ্ট (নিম্নকক্ষ: ৪০০টি আসন; উচ্চকক্ষ: ১০৫টি আসন)।
- মেয়াদ: ৪ বছর (সরকারের মেয়াদ, সংসদের মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ),
- সংসদীয় প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স: ২১ বছর।

তথ্যসূত্র: সংবিধান সংস্কার কমিশন। (Link)

৭৬৯.
বাংলাদেশের বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত হয় সংবিধানের যে সংশোধনীতে- 
  1. ষোড়শ
  2. পঞ্চদশ
  3. ত্রয়োদশ
  4. চতুর্দশ
ব্যাখ্যা

• বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা: 
- বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর কার্যকর হয়। মূল সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৬(২)-এ বিচারকদের অপসারণের জন্য পার্লামেন্টের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রেজুলেশন পাসের ব্যবস্থা ছিল। 
- ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু হলে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছ থেকে সরিয়ে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির হাতে নেয়া হয়।
- ১৯৭৯ সালের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এটি পরিবর্তিত হয় এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল চালু করা হয়। এই কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি বিচারক অপসারণ করতে পারতেন। 
- ২০১৪ সালে ষোড়শ সংশোধনী এই পরিবর্তনকে উল্টিয়ে দেয় এবং পার্লামেন্টকে পুনরায় অপসারণের ক্ষমতা প্রদান করে। 
- পরবর্তীতে, ২০১৬ সালের ৫ই মে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন এই সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। ২০১৭ সালে আপিল বিভাগ এই রায় বহাল রাখে। ফলে, সংশোধনীটি বাতিল হয় এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার হয়।

• সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী:
- ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বরে এই সংশোধনী আনা হয়। 
- ষোড়শ সংশোধনীর আলোচ্য বিষয়:  ৭২ এর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিধান পাস করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। এর মধ্য দিয়ে ৪০ বছর পর সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের কাছে ন্যস্ত হয়।

• সংশোধনীর মূল বিধানসমূহ: 
ষোড়শ সংশোধনীটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৬-এ নিম্নলিখিত পরিবর্তন আনে:

- অনুচ্ছেদ ৯৬(১): বিচারপতিরা ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত পদে থাকবেন।
- অনুচ্ছেদ ৯৬(২): বিচারপতিকে অপসারণ করা যাবে শুধুমাত্র প্রমাণিত অসদাচরণ বা অক্ষমতার ভিত্তিতে। এর জন্য পার্লামেন্টের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রেজুলেশন পাস করতে হবে, এবং প্রেসিডেন্ট সেই রেজুলেশন অনুসারে আদেশ দেবেন।
- অনুচ্ছেদ ৯৬(৩): পার্লামেন্ট আইন প্রণয়ন করে রেজুলেশনের প্রক্রিয়া, তদন্ত এবং অসদাচরণ/অক্ষমতার প্রমাণের নিয়ম নির্ধারণ করতে পারবে।
- অনুচ্ছেদ ৯৬(৪): বিচারপতিরা প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারবেন।


তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান এবং বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি।  

৭৭০.
খসড়া সংবিধান প্রণয়ণ কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য কে ছিলেন?
  1. ক) সুজিত চন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) সুরন্জিত সেন গুপ্ত
  3. গ) সুকুমার সেন গুপ্ত
  4. ঘ) শেখর গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালের ১১ই এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- এখানে ৩৪ জনের ভিতর ৩৩ জন ছিলেন আওয়ামী লীগের, আর ১ জন ছিলেন ন্যাপের (সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত)
- সংবিধান লেখার পর এর বাংলা ভাষারূপ পর্যালোচনার জন্য ড. আনিসুজ্জামানকে আহবায়ক, সৈয়দ আলী আহসান এবং মযহারুল ইসলামকে ভাষা বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি কমিটি গঠন করে পর্যালোচনার ভার দেয়া হয়।
- গণপরিষদ ভবন, যা বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন, সেখানে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির বৈঠকে সহযোগিতা করেন ব্রিটিশ আইনসভার খসড়া আইন-প্রণেতা আই গাথরি।
- সংবিধান ছাপাতে ১৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছিলো। শিল্পী হাশেম খান অলংকরণের দায়িত্বে ছিলেন।
- ১৯৪৮ সালে তৈরী ক্র্যাবটি ব্রান্ডের দুটি অফসেট মেশিনে সংবিধানটি ছাপা হয়।
- মূল সংবিধানের কপিটি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

উৎস:- বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৭১.
'সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য' বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং ধারায় বলা হয়েছে? 
  1. ২১ (১) নং
  2. ২১ (২) নং
  3. ২২ নং
  4. ২৩ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের -
- ২১ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, 'নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ২১ (১) নং: সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিকদায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।
- ২১ (২) নং: সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।

উল্লেখ্য,
- ২২ নং অনুচ্ছেদ নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের কথা বলা আছে।
- ২৩ নং অনুচ্ছেদ জাতীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৭৭২.
কততম অনুচ্ছেদ দ্বারা সংবিধানের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে?
  1. ৭ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৯ নং অনুচ্ছেদ
  3. ১১ নং অনুচ্ছেদ
  4. ১৭ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
- ৭ নং অনুচ্ছেদ দ্বারা সংবিধানের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

সংবিধানের প্রাধান্য:

৭৷ (১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে৷ 
 
(২) জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসমঞ্জস হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে৷

৭ক। সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ

৭খ। সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য

- সংবিধানের প্রাধান্য (Supremacy of the Constitution) বলতে বুঝায় সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
- অর্থাৎ অন্য সকল আইন সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
- অন্যথায় আইনের সস্পূর্ণ অংশ বা যতটুকু অংশ অসমঞ্জস্যপূর্ণ ততটুকু অংশ বাতিল বলে বিবেচিত হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান। 
৭৭৩.
ত্রয়োদশ সংশোধনী অনুযায়ী প্রদান উপদেষ্টাসহ তত্ত্ববাধয়ক সরকারের উপদেষ্টা সংখ্যা কতজন হতে পারে-
  1. ১০
  2. ১১
  3. ১৩
ব্যাখ্যা

ত্রয়োদশ সংশোধনী:
- ত্রয়োদশ সংশোধনী আইন সংবিধান আইন,পাস হয় ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ।
- এর দ্বারা একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান করা হয়।
- যা একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন হিসেবে কাজ করবে এবং সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সর্বতোভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করবে।
- একজন প্রধান উপদেষ্টা ও অনূর্ধ্ব ১০ জন উপদেষ্টার সমন্বয়ে গঠিতব্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার সমষ্টিগতভাবে রাষ্ট্রপতির নিকট দায়বদ্ধ থাকবে এবং নতুন সংসদ গঠনের পর নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের তারিখে বিলুপ্ত হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 

৭৭৪.
সংবিধানের চতুর্থ ভাগের বিষয়বস্তু কী?
  1. আইনসভা
  2. মৌলিক অধিকার
  3. নির্বাহী বিভাগ
  4. বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১১টি ভাগের বিষয়াবলি:
- সংবিধানের প্রথম ভাগে প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ,
- দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে আইনসভা ,
- ষষ্ঠ ভাগে বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৫.
সংবিধানে 'প্রজাতন্ত্রের হিসাব রক্ষার আকার ও পদ্ধতি' সম্পর্কে বলা হয়েছে -
  1. ১২৯ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৩০ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৩১ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৩২ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ১৩১ নং অনুচ্ছেদে 'প্রজাতন্ত্রের হিসাব রক্ষার আকার ও পদ্ধতি' সম্পর্কে বলা হয়েছে। 

⇒ ১৩১ নং অনুচ্ছেদ:
- রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে মহা হিসাব-নিরীক্ষক যেমন নির্ধারণ করবেন, তেমন আকার ও পদ্ধতিতে প্রজাতন্ত্রের হিসাব রক্ষিত হবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ১২৯ নং: মহা হিসাব-নিরীক্ষকের কর্মের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ১৩০ নং: অস্থায়ী মহা হিসাব-নিরীক্ষক।
- অনুচ্ছেদ ১৩২ নং: সংসদে মহা হিসাব-নিরীক্ষকের রিপোর্ট উপস্থাপন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৭৬.
সংবিধানে 'অর্থবিল'-এর কথা উল্লেখ আছে-
  1. অনুচ্ছেদ ৭৯
  2. অনুচ্ছেদ ৮০
  3. অনুচ্ছেদ ৮২
  4. অনুচ্ছেদ ৮১
ব্যাখ্যা
- অনুচ্ছেদ ৭৯ - সংসদ-সচিবালয়।
- অনুচ্ছেদ ৮০ - আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি।
- অনুচ্ছেদ ৮১ - অর্থবিল।
- অনুচ্ছেদ ৮২ - আর্থিক ব্যবস্থাবলীর সুপারিশ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৭৭৭.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের পর পর দুই অধিবেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ কত দিন বিরতি থাকে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৪৫ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ:
- জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
- দেশের সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এ সংসদের ওপর ন্যস্ত।
- প্রতি নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।

⇒ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের পর পর দুই অধিবেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ দিন বিরতি থাকে।
- একাধারে কোনো সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে ৯০টি কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে তাহার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।
- রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহবান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন।
- সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহ্বান করা হবে।
- একাধারে কোনো সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে ৯০ টি কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে তাহার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।
- দেশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবনে হুমকির কারণে জরুরি অবস্থা (সর্বাধিক ১২০ দিনের জন্য) ঘোষিত হতে পারে।

⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি।
- সংবিধানে বর্ণিত কয়েকটি পরিস্থিতিতে যেমন রাষ্ট্রপতির অভিশংসন এর ক্ষেত্রে স্পিকার সংসদ আহ্বান করতে পারেন।
- প্রতিবছর সংসদের অন্যূন দুটি অধিবেশন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৭৮.
গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন কত তারিখ শুরু হয়?
  1. ১০ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে
  2. ২৩ মার্চ, ১৯৭২
  3. ২৩ অক্টোবর, ১৯৭২
  4. ২৩ মে, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করা হয় - ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে।
- অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন - শেখ ‍মুজিবুর রহমান।
- গণপরিষদ আদেশ জারি করা হয় - ২৩ মার্চ, ১৯৭২ সালে (আদেশটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় ২৩ মার্চ, ১৯৭২)।
- সংবিধানে স্বাক্ষরের সময় গণপরিষদের মোট সদস্য - ৪০৩ জন।
- গণপরিষদের প্রথম বৈঠক বসে -১০ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশন বসে - ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয় - ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৭৯.
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পাল্টিয়ে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পুনরায় প্রবর্তন করা হয় সংবিধানের কততম সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. ৪র্থ সংশোধনী
  2. পঞ্চম সংশোধনী
  3. দ্বাদশ সংশোধনী
  4. ত্রয়োদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

দ্বাদশ সংশোধনী:
- রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পাল্টিয়ে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পুনরায় প্রবর্তন করা হয় দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।
- ১৯৯১ সালের ৬ই অগাষ্ট সংসদে সংশোধনীটি পাস হয়।

দ্বাদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু:
১. রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হন।
২. প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী বা সরকার প্রধান হন।
৩. প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

৭৮০.
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের মোট সদস্য- 
  1. ক) ৪ জন
  2. খ) ৫ জন
  3. গ) ১০ জন
  4. ঘ) অনির্দিষ্ট
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮ ও ১১৯ নম্বর ধারায় নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। 
- সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে কোনো আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন।
- ১১৮(৩) ধারায় বলা হয়েছে, 'এই সংবিধানের বিধানাবলী সাপেক্ষে কোনো নির্বাচন কমিশনারের পদের মেয়াদ তাহার কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বৎসর কাল হইবে'। 

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৮১.
সংবিধানের কোন সংশোধনীকে “First distortion of Constitution’’ হিসেবে অভিহিত করা হয়?
  1. পঞ্চম সংশোধনী
  2. সপ্তম সংশোধনী
  3. একাদশ সংশোধনী
  4. দশম সংশোধনী
ব্যাখ্যা
• পঞ্চম সংশোধনী:
- ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয় - পঞ্চম সংশোধনী আইন।
- এই আইন দ্বারা সংবিধানের চতুর্থ তফসিল সংশোধন করা হয় ।
- ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত যে সকল সামরিক বিধি, সংবিধান সংশোধন সহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ জারি করা হয় সেগুলো সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী হিসেবে কাজ করা হয় ।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রবর্তিত হয় এবং সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সন্নিবেশিত হয় ।
- পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রথম বারের মতো বাহাত্তরের সংবিধানের মূলনীতি থেকে সরে আসে।
- রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সংশোধন করায় এই সংশোধনীকে 'First distortion of Constitution' বলা হয়।

সূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান - আরিফ খান ও প্রথম আলো প্রতিবেদন।
৭৮২.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নম্বর অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমা সংক্রান্ত বিধান রয়েছে?
  1. ২৭ নং
  2. ৪৯ নং
  3. ৫২ নং
  4. ৫৪ নং
ব্যাখ্যা
• ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার:
→ সংবিধানের ৪৯ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে−কোন দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করিবার এবং যে−কোন দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।
===============
অপরদিকে, 
→ ২৭ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে - আইনের দৃষ্টিতে সমতা সর্ম্পকে।
→ ৫২ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে - রাষ্ট্রপতির অভিশংসন সর্ম্পকে।
→ ৫৪ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে - অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার সর্ম্পকে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদের সংবিধান।
৭৮৩.
জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনে বাধ্য নয় কোন প্রতিষ্ঠান ?
  1. ক) বাংলাদেশের দূতাবাস
  2. খ) ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
  3. গ) সরকারী ও আধা-সরকারী অফিস
  4. ঘ) সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ – ০৪(ক) : জাতির পিতার প্রতিকৃতি
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয় এবং সকল সরকারী ও আধা-সরকারী অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের প্রধান ও শাখা কার্যালয়, সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনসমূহে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান
৭৮৪.
রাষ্ট্রপতি গণপরিষদের আহ্বান করেন-
  1. ১০ এপ্রিল ১৯৭২
  2. ১৭  এপ্রিল ১৯৭২
  3. ৪ নভেম্বর ১৯৭২
  4. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
ব্যাখ্যা
গণপরিষদ:
বাংলাদেশ গণপরিষদ হল ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সংবিধান অধিবেশন।
- রাষ্ট্রপতি গণপরিষদের আহ্বান করেন-১০ এপ্রিল ১৯৭২।
- গণ পরিষদের খসড়া সংবিধান উত্থাপিত হয়১২ অক্টোবর ১৯৭২
- গৃহীত হয় -৪ নভেম্বর অক্টোবর ১৯৭২
- কার্যকর হয়-১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
- গণপরিষদে খসড়া সংবিধান উত্থাপন করেন- ড. কামাল হোসেন।
- গণপরিষদের স্পিকার ছিলেন- শাহ আব্দুল হামিদ।
- গণ পরিষদের ডেপুটি স্পিকার ছিলেন-মোহাম্মদ উল্লাহ।
- গণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন- মাওলানা আব্দুল রশিদ তর্কবাগী।
- সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য ছিলেন-৩৪ জন
- একমাত্র নারী সদস্য- বেগম রাজিয়া বানু।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র বিরোধী দলের সদস্য ছিলেন- সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৭৮৫.
খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন -
  1. ১১ এপ্রিল, ১৯৭২
  2. ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২
  3. ১১ অক্টোবর, ১৯৭২
  4. ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়: ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়: ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন: ১১ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপিত হয়: ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়: ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদের সদস্যগণ হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেনঃ ১৪ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

৭৮৬.
বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বিচারপতিদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা নিয়ে বলা হয়েছে?
  1. ক) ৯১(১)
  2. খ) ৯৬(১)
  3. গ) ৯৬(৪)
  4. ঘ) ৯৮(২)
ব্যাখ্যা

- বর্তমানে সংবিধানের ৯৬(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অবসরগ্রহণের সময়সীমা ৬৭ বছর।
- ১৯৭২ সালের সংবিধানে এই সীমা ছিলো ৬২ বছর।
- ১৯৮৬ সালে সপ্তম সংশোধনীর দ্বারা ৬৫ বছর এবং ২০০৪ সালে ১৪তম সংশোধনী দ্বারা ৬৭ বছর করা হয়।

সোর্সঃ বাংলাদেশের সংবিধান এবং প্রথম আলো।

৭৮৭.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের দুই অধিবেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ কতদিন বিরতি থাকে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৪৫ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের দুই অধিবেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ দিন বিরতি থাকে।

জাতীয় সংসদ:

- জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
- দেশের সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এ সংসদের ওপর ন্যস্ত।
- প্রতি নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
- জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
- জাতীয় সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য কোরাম থাকতে হয়।
- অধিবেশনে কোরামের জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন।

⇒ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের পর পর দুই অধিবেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ দিন বিরতি থাকে।
- একাধারে কোনো সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে ৯০টি কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে তাহার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।
- রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহবান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন।
- সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহ্বান করা হবে।
- একাধারে কোনো সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে ৯০ টি কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে তাহার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।
- দেশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবনে হুমকির কারণে জরুরি অবস্থা (সর্বাধিক ১২০ দিনের জন্য) ঘোষিত হতে পারে।

⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি।
- সংবিধানে বর্ণিত কয়েকটি পরিস্থিতিতে যেমন রাষ্ট্রপতির অভিশংসন এর ক্ষেত্রে স্পিকার সংসদ আহ্বান করতে পারেন।
- প্রতিবছর সংসদের অন্যূন দুটি অধিবেশন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৮৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৫নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু নিচের কোনটি?
  1. বিচারক-নিয়োগ
  2. সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ
  3. অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৯০ - নির্দিষ্টকরণ আইন।
- অনুচ্ছেদ ৯১ - সম্পূরক ও অতিরিক্ত মঞ্জুরী।
- অনুচ্ছেদ ৯২ - হিসাব, ঋণ প্রভৃতির উপর ভোট।
- অনুচ্ছেদ ৯৩ - অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৯৪ - সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৯৫ - বিচারক-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৬ - বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৯৭ - অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৮ - সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ।
- অনুচ্ছেদ ৯৯ - অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১০০ - সুপ্রীম কোর্টের আসন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৮৯.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'বিচারকদের পদের মেয়াদ' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৯৬
  2. অনুচ্ছেদ ৯৭
  3. অনুচ্ছেদ ৯৮
  4. অনুচ্ছেদ ৯৯
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৯০ - নির্দিষ্টকরণ আইন।
- অনুচ্ছেদ ৯১ - সম্পূরক ও অতিরিক্ত মঞ্জুরী।
- অনুচ্ছেদ ৯২ - হিসাব, ঋণ প্রভৃতির উপর ভোট।
- অনুচ্ছেদ ৯৩ - অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৯৪ - সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৯৫ - বিচারক-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৬ - বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৯৭ - অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৮ - সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ।
- অনুচ্ছেদ ৯৯ - অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১০০ - সুপ্রীম কোর্টের আসন।
- অনুচ্ছেদ ১০১ - হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৭৯০.
সংবিধান অনুযায়ী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয় কোনটি? 
  1. সরকারি কর্ম কমিশন
  2. নির্বাচন কমিশন
  3. দুর্নীতি দমন কমিশন
  4. মহাহিসাব নিরীক্ষক
ব্যাখ্যা

- দুর্নীতি দমন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়।

• সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান
- যেসব প্রতিষ্ঠান সংবিধানের সুস্পষ্ট বিধি মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয় তাকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলে।
- বাংলাদেশে এ ধরণের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যা সাংবিধানিক উপায়ে প্রতিষ্ঠিত।
- এরূপ প্রতিষ্ঠান হল-
- এটর্নি জেনারেল
- নির্বাচন কমিশন
- মহাহিসাব নিরীক্ষক
- সরকারি কর্ম কমিশন

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান। [লিঙ্ক]

৭৯১.
তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয় সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. ষষ্ঠদশ সংশোধনী
  2. চতুর্থ সংশোধনী
  3. ত্রয়োদশ সংশোধনী
  4. পঞ্চদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল বাংলাদেশ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।
- পঞ্চদশ সংশোধনী আইন  সংবিধান আইন ২০১১ (পঞ্চদশ সংশোধনী) পাস হয় ২০১১ সালের ২৫ জুন।
- এই সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্টীয় মুলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতিও দেয়া হয়।
 - এই পঞ্চদশ সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়, জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।
- সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্টীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়। 

উৎস:- বাংলাপিডিয়া। 
৭৯২.
বাংলাদেশের সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কোন সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তন করা হয়?
  1. পঞ্চদশ সংশোধনী
  2. ত্রয়োদশ সংশোধনী
  3. দশম সংশোধনী
  4. ষোড়শ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• ত্রয়োদশ সংশোধনী: 
- শিরোনাম: সংবিধান (ত্রয়োদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯৬
- পাস হয়: ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ।
- বিষয়বস্তু: একটি নিরপেক্ষ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করে, যা অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
- সংবিধানে ৫৮(ক), ৫৮(খ), ৫৮(কগ), ৫৮(ঘ), ৫৮(ঙ), এই ৫টি অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়।
-  জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করা হয়। 

উল্লেখ্য,
গত ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। 


তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান ও পত্রিকা।

৭৯৩.
সংবিধানের বাংলা ও ইংরেজি অনুলিপিতে স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ ও গণপরিষদ সদস্যগণ স্বাক্ষর প্রদান করেন-
  1. ক) ১৯৭২ সালরে ১১ অক্টোবর
  2. খ) ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর
  3. গ) ১৯৭২ সালের ১৫ ডিসেম্বর
  4. ঘ) ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
- ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২ স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ ও গণপরিষদ সদস্যগণ সংবিধানের বাংলা ও ইংরেজি অনুলিপিতে (৩৯৯ জন) স্বাক্ষর দান করেন।
- সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
- এরপর স্বাক্ষর করেন সৈয়দ নজরুল ইসলয়াম এবং তাজউদ্দীন আহমদ। 
- তবে একমাত্র বিরােধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধান বইতে স্বাক্ষরদানে বিরত থাকেন।

- ১৯৭২ সালরে ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন। 
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়। 
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান।
৭৯৪.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়?
  1. ১১৬ নং অনুচ্ছেদ
  2. ১১৭ নং অনুচ্ছেদ
  3. ১১৮ নং অনুচ্ছেদ
  4. ১১৯ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম ভাগের ১১৮ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে।

⇒ নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলা হয়ে থাকে।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চার জন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে।
- একাধিক নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের সভাপতিরূপে কাজ করবেন।
- সংবিধানের বিধানবলী সাপেক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কোন নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ তাঁর কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৯ এ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৯৫.
সংবিধানের কোন অধ্যায় ’রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি’ সংবলিত?
  1. প্রথম অধ্যায় 
  2. পঞ্চম অধ্যায়
  3. ষষ্ঠ অধ্যায়
  4. দ্বিতীয় অধ্যায়
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
- প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
- তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার;
- চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
- পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
- ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
- সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন।
- অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
- নবম অধ্যায়  - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ;
- দশম অধ্যায়  - সংবিধানের সংশোধন।
- একাদশ অধ্যায়  - বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৭৯৬.
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য কে?
  1. রাজিয়া বানু
  2. ক্ষিতীশ চন্দ্র
  3. মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম মনজুর
  4. সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা

সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য:
- খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয় ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে ।
- এই কমিটির মোট সদস্য ছিল ৩৪ জন।
- বিরোধী দলীয় একমাত্র সদস্য ছিলেন ন্যাপের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
- এই কমিটির প্রধান বা সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে সংবিধান কার্যকর হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

৭৯৭.
'প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা' কত নং অনুচ্ছেদে বলা আছে?
  1. ৩ নং
  2. ৪ নং
  3. ৫ নং
  4. ৬ নং
ব্যাখ্যা

• ৫) রাজধানী:
(১) প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা৷ 
(২) রাজধানীর সীমানা আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷

উল্লেখ্য,
২৷ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা
২(ক)৷ রাষ্ট্রধর্ম।
৩৷ রাষ্ট্রভাষা।
৪৷ জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
৫৷ রাজধানী।
৬৷ নাগরিকত্ব।
৭৷ সংবিধানের প্রাধান্য।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৭৯৮.
সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নাগরিকদের কোন মৌলিক উপকরণগুলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে?
  1. গণতন্ত্র ও মানবাধিকার
  2. অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসা
  3. অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
  4. জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদ:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এতে নাগরিকদের জন্য নিম্নলিখিত মৌলিক প্রয়োজনসমূহ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে:
- অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা
- কর্মের অধিকার ও ন্যায্য মজুরীর ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা।
- যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিনোদন ও অবকাশের অধিকার।
- সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, যা বেকারত্ব, ব্যাধি, বার্ধক্য, এবং অনুরূপ পরিস্থিতিতে সরকারি সাহায্য লাভের নিশ্চয়তা প্রদান করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৯৯.
বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা ছিল-
  1. ৪৫ টি
  2. ৩০ টি
  3. ১৫ টি
  4. ১০ টি
ব্যাখ্যা

- ১৯৭৩ সালে অর্থাৎ প্রথম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ছিল ১৫টি।
- তখন সংসদের মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩১৫টি।
- ১৯৭৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসন করা হয় ৩০ টি।
- তখন মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩৩০ টি।
- পরবর্তীতে ২০০১ সালে সংরক্ষিত নারী আসন করা হয় ৪৫ টি।
- সর্বশেষ ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন করা হয় ৫০ টি।
- ফলে বর্তমানে জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
উৎসঃ জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

৮০০.
গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের স্পিকার কে ছিলেন?
  1. ক) শাহ আব্দুল হামিদ
  2. খ) মোহাম্মদ করিম উল্লাহ
  3. গ) মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ
  4. ঘ) আব্দুল মালেক উকিল
ব্যাখ্যা
• শাহ আব্দুল হামিদ  ছিলেন বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ।
• গণপরিষদের প্রথম স্পীকার শাহ আব্দুল হামিদ
• কাজের মেয়াদ১০ এপ্রিল ১৯৭২ – ১ মে ১৯৭২।
•  রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
•  প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান।
• ডেপুটি স্পিকার মোহাম্মদ উল্লাহ। 
• ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২-অস্থায়ী সাংবিধানিক আদেশ জারি করেন বঙ্গবন্ধু ।
• ২৩ মার্চ, ১৯৭২ - গণপরিষদের আদেশ জারি করা হয়।
• মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ-প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

উৎস:- বাংলাদেশ সংবিধান।