বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সংবিধান

মোট প্রশ্ন২,৩৩১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সংবিধান

PrepBank · পাতা / ২৪ · ৪০১৫০০ / ২,৩৩১

৪০১.
বাংলাদেশের সংবিধানে কতটি প্রস্তাবনা রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে। 
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালরে ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৪০২.
হস্তলিখিত সংবিধানের মূল লেখক কে?
  1. কামাল হোসেন
  2. এ.কে.এম আব্দুর রশিদ
  3. মোশারফ হোসেন
  4. আবদুর রউফ
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- হস্তলিখিত সংবিধানের মূল লেখক আব্দুর রউফ।
- হস্তলিখিত সংবিধানের অঙ্গসজ্জা কার্যক্রমের মূল তত্বাবধায়ক ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন।
- ১৪ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদের সদস্যগণ হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হস্তলিখিত সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর করেন।
- হস্তলিখিত সংবিধানে ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি। 
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর ছাড়া ৯৩ পৃষ্ঠা।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর সহ - ১০৯ পৃষ্ঠা।
- ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ হতে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

৪০৩.
বাংলাদেশের কোনো নাগরিক কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নিকট থেকে কোন খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করার পূর্বে কার অনুমোদন লাগবে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. স্পিকার
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৩০ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে:
- রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন নাগরিক কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নিকট হতে কোন উপাধি, খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করবেন না।

⇒ অষ্টম সংশোধনী:
- সংসদে উত্থাপন: ১১ মে, ১৯৮৮।
- উত্থাপনকারী: সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।
- সংসদে গৃহীত: ৭ জুন, ১৯৮৮।
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ৯ জুন, ১৯৮৮।

⇒ অষ্টম সংবিধান সংশোধন আইন দ্বারা সংবিধানের ২ক, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।
- এই সংশোধনী আইনবলে-
১. ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়;
২. ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়;
৩. সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদে Bengali শব্দটি পরিবর্তন করে Bangla করা হয় এবং Dacca পরিবর্তন করে Dhaka করা হয়;
৪. সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৪০৪.
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র নারী সদস্য কে ছিলেন?
  1. রাফিয়া বানু
  2. সাজেদা চৌধুরী
  3. রাজিয়া বানু
  4. নুরজাহান মোর্শেদ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।

বাংলাদেশের সংবিধান:

- ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
- ১১ এপ্রিল ১৯৭২, ড. কামাল হোসেনকে আহ্বায়ক করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- এই কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১৭ এপ্রিল।
- দীর্ঘ আলোচনার পর ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে সংবিধানের খসড়া গণপরিষদে উত্থাপন করা হয়।
- পরবর্তীতে, ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।
- সর্বশেষ, ঐতিহাসিকভাবে তা কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত উক্ত খসড়ায় স্বাক্ষর করেননি।
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাদেশের সংবিধান - আরিফ খান।
৪০৫.
সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল-
  1. নারীদের সংরক্ষিত আসন
  2. জরুরি অবস্থা' জারির বিধান করা
  3. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার
  4. বেরুবাড়ি হস্তান্তর
ব্যাখ্যা

• প্রথম সংশোধনী:
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম সংশোধনী গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকরের ৭ মাস পর ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই প্রথম সংশোধনী বিল পাস হয়।
- এই সংশোধন অনুযায়ী গণহত্যা কিংবা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য আইন প্রণয়নের বিধান রাখা হয়।

অপরদিকে,
• দ্বিতীয় সংশোধনী: 
- এই সংশোধনীর দ্বারা দেশে 'জরুরি অবস্থা' জারির বিধান করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এটি পাস হয়।
- এই সংশোধনীতে সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বিনা বিচারে যে কাউকে আটকের বিধান করা হয়।
- মূলত এ সংশোধনীর মাধ্যমে শাসন বিভাগ তথা নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

• তৃতীয় সংশোধনী
- বাংলাদেশ ভারতকে বেরুবাড়ি হস্তান্তর করে।
- এ হস্তান্তরের শর্ত ছিল ভারত দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় যাবার জন্য বাংলাদেশকে তিন বিঘা করিডোর প্রদান করবে।
- ১৯৭৪ সালের ২৮ নভেম্বর জাতীয় সংসদে এ সংশোধনী পাস হয়।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান , আরিফ খান।

৪০৬.
’ন্যায়পাল’ সংবিধানের কত নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত রয়ছে?
  1. ৭০ নং
  2. ৭৫ নং
  3. ৭৭ নং
  4. ৮০ নং
ব্যাখ্যা
• ন্যায়পাল:
- সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল কথা উল্লেখ্য রয়েছে।
- ৭৭(১): সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ-প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করতে পারবেন।
 - ৭৭(২): সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালকে কোন মন্ত্রণালয়,
- সরকারী কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের যে কোন কার্য সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাসহ যেরূপ ক্ষমতা কিংবা যেরূপ দায়িত্ব প্রদান করবে।
- ন্যায়পাল সেইরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
- (৩) ন্যায়পাল তাঁহার দায়িত্বপালন সম্পর্কে বাৎসরিক রিপোর্ট প্রণয়ন করবেন।
- এবং অনুরূপ রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপিত হইবে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
৪০৭.
'সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা' হলো বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনার -
  1. অঙ্গীকার
  2. ঘোষণা
  3. বিধি
  4. উদ্দেশ্য
ব্যাখ্যা
প্রস্তাবনা:

- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)।
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)।
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)।
• ৫ম- গনপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৪০৮.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক -
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. জনগণ
  4. উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ৭ (১) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে।
- সংবিধানের ৭ (২) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সাথে অসমঞ্জস হয়, তা হলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে।
- সংবিধানের ৭ক নং অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ বিষয়ে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ৭খ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য বিষয়ে বলা হয়েছে।
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৪০৯.
জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত পঞ্চাশটি আসন কত বছরের জন্য বহাল রাখা হয়েছে?
  1. ২৫ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ১০ বছর
  4. ১৫ বছর
ব্যাখ্যা
সপ্তদশ সংশোধনী:
- নারী আসন।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন আরও ২৫ বছর বহাল রাখার বিধান আনা হয়েছে।

• ষোড়শ সংশোধনী:
-
বিচারপতি অপসারণ।
-
এই সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনা হয়।
- ২০১৪ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে পাস হয়।
- আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন।
- তবে আপীল বিভাগ ষোড়শ সংশোধনীকে বাতিল ঘোষণা করে অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে ফিরিয়ে নিয়েছিল।
- পরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সাথে আওয়ামী লীগ সরকারের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল।
- আওয়ামী লীগ সরকার আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করে।
- দীর্ঘ সময়ে রিভিউ আবেদনের নিস্পত্তি হয়নি।
- আর এই রিভিউ আবেদন আদালতে নিস্পত্তির অপেক্ষায় থাকলেও বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকার সেই সংশোধনী বহাল রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
৪১০.
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল কোন বিভাগের অধীন?
  1. ক) আইন বিভাগ
  2. খ) বিচার বিভাগ
  3. গ) প্রতিরক্ষা বিভাগ
  4. ঘ) শাসন বিভাগ
ব্যাখ্যা
সুপ্রিমকোর্ট, অধস্তন আদালত এবং প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল নিয়ে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ গঠিত। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল হলো বিশেষ উদ্দেশ্যে স্থাপিত আদালত। যেমনঃ শ্রম আদালত, ভাড়া নিয়ন্ত্রক আদালত। (সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)।
৪১১.
মৌলিক অধিকারের রক্ষক-
  1. বিচার বিভাগ
  2. সংবিধান
  3. ন্যায়পাল
  4. প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
• মৌলিক অধিকার
- নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো রাষ্ট্রের সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকলে তা সাংবিধানিক আইনের মর্যাদা লাভ করে।
- এর ফলে সরকার এ সমস্ত অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। নাগরিকগণ তাদের অধিকার ভোগ করতে কোনো প্রকার সরকারি বাধার সম্মুখীন হয় না।
- তাই সংবিধান মৌলিক অধিকারের রক্ষক।
- মানবাধিকারের উৎস ও রক্ষক জাতিসংঘ।
- মৌলিক অধিকারের উৎস রাষ্ট্রের সংবিধান এবং রক্ষক রাষ্ট্র ও সংবিধান।
- মানবাধিকার একটি আন্তর্জাতিক অধিকার।
- এর পরিধি ব্যাপক ও বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪১২.
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হয় কবে?
  1. ১১ নভেম্বর, ২০০৭
  2. ১ নভেম্বর, ২০০৮
  3. ১ নভেম্বর, ২০০৭
  4. ১ নভেম্বর, ২০০৯
ব্যাখ্যা
- নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে।
- ১৯৯৪ সালে সাবেক জেলা জজ মাজদার হোসেন বিচারবিচাগ পৃথকীকরণের জন্যে হাইকোর্টে রিট করলে আপিল বিভাগ ১৯৯৯ সালে এর চূড়ান্ত রায়ে ১২ দফা নির্দেশনা প্রদান করে।
- এর ভিত্তিতেই ১ নভেম্বর ২০০৭ নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হয়।
- এ দিন সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধি কার্যকরের মাধ্যমে স্বাধীন বিচার বিভাগের যাত্রা শুরু হয়।
- বর্তমানে অধস্তন আদালত সমূহে বিচারক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি জুডিশিয়াল সার্ভিস কাউন্সিল দেখভাল করে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বিবিসি বাংলা। 
৪১৩.
খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্য নয় -
  1. ক) রাজিয়া বানু
  2. খ) ড. কামাল হোসেন
  3. গ) আমীর-উল ইসলাম
  4. ঘ) সুরঞ্জিন সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি
• সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে  আহবায়ক করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
• ৩৪ জন সদস্যের মধ্যে ২৪ জন আইনজীবী, ৪ জন প্রফেসর, ৩ জন সমাজকর্মী ও ১ জন করে ডাক্তার, সাংবাদিক, কৃষিবিদ ছিলেন।
• এই কমিটিতে একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য ছিলেন ন্যাপ (মোজাফফর) থেকে ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচিত সদস্য সুরঞ্জিন সেনগুপ্ত। 
• কমিটিতে ৭ জন গণপরিষদ মহিলা সদস্য থেকে ১ (রাজিয়া বানু) অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সুরঞ্জিন সেনগুপ্ত ছাড়া বাকি সবাই ছিল আওয়ামী লীগের।
• কমিটিকে পরবর্তী ১০ জুনের মধ্যে গণপরিষদে সংবিধানের খসড়া উপস্থাপন করতে বলা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান। 
৪১৪.
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার পুন:প্রবর্তন
  2. জরুরি অবস্থা জারির বিধান
  3. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন
  4. বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী:

- বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে সংবিধানে ষোড়শ সংশোধনী আনা হয় ২০১৪ সালে।
- পরবর্তীতে আদালত পর্যন্ত গড়ালে প্রথমে হাইকোর্ট এবং পরে আপিল বিভাগ এ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতেই ছিল।
- ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু হলে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছ থেকে সরিয়ে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির হাতে নেয়া হয়।
- কিন্তু পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনকালে সংবিধানে পঞ্চম সংশোধনী এনে সে ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে। যার প্রধান হবেন প্রধান বিচারপতি।
- উচ্চ আদালতের কোন বিচারপতি যদি সংবিধান লঙ্ঘন করেন কিংবা অসদাচরণের দায়ে অভিযুক্ত হন, তাহলে তাকে কিভাবে অপসারণ করা হবে এ বিষয়ে ২০১৪ সালে আবার সংবিধানে সংশোধন করে আওয়ামী লীগ।
- তখন এ ষোড়শ সংশোধনীতে বলা হয় বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে থাকবে।
- সংসদে এ সংক্রান্ত বিল পাসের পর ওই বছর সেপ্টেম্বরেই গেজেট প্রকাশ করে সরকার।

⇒ পরবর্তীতে আদালত পর্যন্ত গড়ালে প্রথমে হাইকোর্ট এবং পরে আপিল বিভাগ এ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়।
- রায়ে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭ উপ-অনুচ্ছেদ পুনবর্হাল করা হয়।
- ফলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ফিরে এসেছে।
- এই কাউন্সিল গঠিত হয় প্রধান বিচারপতি ও পরবর্তী জ্যেষ্ঠ দুজন বিচারপতিকে নিয়ে।

⇒ ২০ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা বহাল রেখে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন নিষ্পত্তি করে এই আদেশ দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
- সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণ করা যাবে।
- সংবিধানের এ-সংক্রান্ত ৯৬ অনুচ্ছেদ পুরোটাই পুনর্বহাল করেছেন আপিল বিভাগ।
- সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের ২ থেকে ৮ পর্যন্ত বিধান ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যম বাতিল করা হয়েছিল, এগুলো পুনর্বহাল করেছেন আপিল বিভাগ।

অন্যদিকে,
- দ্বাদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার পুন:প্রবর্তন।
- দ্বিতীয় সংশোধনীর দ্বারা দেশে 'জরুরি অবস্থা' জারির বিধান করা হয়।
- ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে 'নির্দলীয়'-'নিরপেক্ষ' তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল।

উৎস: i) BBC.
ii) ২০ অক্টোবর, ২০২৪, প্রথম আলো।
৪১৫.
সংবিধান কততম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হয়?
  1. দ্বাদশ সংশোধনী
  2. দশম সংশোধনী
  3. একাদশ সংশোধনী
  4. ত্রয়োদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• দ্বাদশ সংশোধনী: 
- শিরোনাম: সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯১
- পাস হয়: ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট।
- বিষয়বস্তু: সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন এবং উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করা।
- ২ জুলাই, ১৯৯১ সালে সংশোধনীটি উত্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
- এর ফলে সংবিধানের ৪৮, ৫৫, ৫৬, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৭০, ৭২. ১০৯, ১১৯, ১২৪, ১৪১ক এবং ১৪২ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।
- একাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৭ বছর পর বাংলাদেশে পুনরায় সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।
- রাষ্ট্রপতি হন রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান।
- প্রধানমন্ত্রী হন রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী।
- মন্ত্রিপরিষদ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ।
- উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটের বিধান।
- সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার কাঠামোতে জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান, বাংলাপিডিয়া ও বিভিন্ন পত্রিকা।

৪১৬.
প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হচ্ছে সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত________ একটি ভরাট বৃত্ত।
  1. লালবর্ণের
  2. গোলাপীবর্ণের
  3. রক্তবর্ণের
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক:

অনুচ্ছেদ ৪:
(১) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত হচ্ছে "আমার সোনার বাংলা"-র প্রথম দশ চরণ।
(২) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হচ্ছে সবুজ ক্ষেত্রের উপরে রক্তবর্ণের একটি গোলাকার চিহ্ন।
(৩) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হচ্ছে উভয় পাশে ধান্যশীর্ষ বিশিষ্ট, জলাভিষিক্ত জাতীয় ফুল শাপলা, যার উপরে রয়েছে তিনটি পারস্পরিক সংযুক্ত পাটের পাতা এবং দুইপাশে দুটি করে তারকা।
(৪) উপরোক্ত বিষয়াবলী সাপেক্ষে, জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কে বিধানাবলী আইন দ্বারা নির্ধারিত হবে।

সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
৪১৭.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে নাগরিকদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. ৩৬নং অনুচ্ছেদে
  2. ৩১নং অনুচ্ছেদে
  3. ২৭নং অনুচ্ছেদে
  4. ২৯নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭নং অনুচ্ছেদে নাগরিকদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে:
- ৩১নং অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং
- ২৯নং অনুচ্ছেদে সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা,
- ৩৬নং অনুচ্ছেদে চলাফেরার স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের সংবিধান।
৪১৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৯৬
  2. অনুচ্ছেদ ৯৭
  3. অনুচ্ছেদ ৯৮
  4. অনুচ্ছেদ ৯৯
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৯০ - নির্দিষ্টকরণ আইন।
- অনুচ্ছেদ ৯১ - সম্পূরক ও অতিরিক্ত মঞ্জুরী।
- অনুচ্ছেদ ৯২ - হিসাব, ঋণ প্রভৃতির উপর ভোট।
- অনুচ্ছেদ ৯৩ - অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৯৪ - সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৯৫ - বিচারক-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৬ - বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৯৭ - অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৮ - সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ।
- অনুচ্ছেদ ৯৯ - অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১০০ - সুপ্রীম কোর্টের আসন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৪১৯.
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের সর্বোচ্চ পদবী –
  1. ক) মন্ত্রিপরিষদ সচিব
  2. খ) মন্ত্রী
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী
  4. ঘ) জ্যেষ্ঠ সচিব
ব্যাখ্যা

- সিভিল সার্ভিসের সর্বোচ্চ পদবী – ক্যাবিনেট সেক্রেটারি বা মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
- যেকোন মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রধান হলেন – মন্ত্রী।

সুত্রঃ Live MCQ স্পেশাল PDF (সিভিল সার্ভিস এবং মুজিব বর্ষ)।
৪২০.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে?
  1. ক) ১২ নং অনুচ্ছেদ
  2. খ) ১৯ নং অনুচ্ছেদ
  3. গ) ২১ নং অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ৪১ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়,
“ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্যে
(ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা,
(খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান,
(গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার,
(ঘ) কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার উপর নিপীড়ন,
বিলোপ করা হইবে।”

অন্যদিকে,
১৯ নং অনুচ্ছেদ : সুযোগের সমতা
২১ নং অনুচ্ছেদ : নাগরিক ও সরকারি কর্মচারিদের কর্তব্য
৪১ নং অনুচ্ছেদ : ধর্মীয় স্বাধীনতা।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
৪২১.
বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের সম্মতি ব্যতীত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না?
  1. ক) ৬৬ নং অনুচ্ছেদ
  2. খ) ৬৩ নং অনুচ্ছেদ
  3. গ) ৬৮ নং অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ৭২ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের সম্মতি ব্যতীত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না কিংবা প্রজাতন্ত্র কোন যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে না। 

• অন্যদিকে: 
- ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা সম্পর্কে। 
- ৬৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সংসদ-সদস্যদের [পারিশ্রমিক] প্রভৃতি সম্পর্কে। 
- ৭২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সংসদের অধিবেশন সম্পর্কে। 

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান। 
৪২২.
সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়সসীমা কত?
  1. ৬০ বছর
  2. ৬৩ বছর
  3. ৬৫ বছর
  4. ৬৭ বছর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬৭ বছর।

• বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৬(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচারকদের পদের মেয়াদ: একজন বিচারপতি ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তার পদে বহাল থাকেন।

প্রধান বিচারপতি:

- দেশের বর্তমান ও ২৬তম প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
- ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে জুবায়ের রহমান চৌধুরী দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

⇒ সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান মহামান্য রাষ্ট্রপতি। প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করেই অন্যান্য বিচারপতি দের নিয়োগ দেয়া হয়।
- প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্যে ন্যূনতম দশ বছর সুপ্রিমকোর্টে অ্যাডভোকেট বা দেশের বিচার বিভাগীয় পদে দশ বছর নিযুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়।
- প্রধান বিচারপতি ৬৭ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন।
- বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বয়সসীমা দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ বছর।

উল্লেখ্য,
- সংবিধান অনুযায়ী বিচারপতিদের অবসরের বয়স ৬৭ বছর। ২৫তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। সে হিসাবে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে তাঁর ৬৭ বছর পূর্ণ হয়েছে।
- সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর জন্ম ১৯৬১ সালের ১৮ মে। সে হিসাবে তাঁর ৬৭ বছর পূর্ণ হবে ২০২৮ সালের ১৭ মে। অর্থাৎ ওই সময়ে তিনি অবসরে যাবেন।

উৎস: i) সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৪২৩.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ২১
  2. অনুচ্ছেদ ২৩(ক)
  3. অনুচ্ছেদ ২৫
  4. অনুচ্ছেদ ১৮(ক)
ব্যাখ্যা

◉ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৩(ক)-এ বলা হয়েছে—
“রাষ্ট্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”

বাংলাদেশের সংবিধান:
- অনুচ্ছেদ ২৩ক: উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি: রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ১৮ক: পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ২১: নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।
- অনুচ্ছেদ ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

৪২৪.
বাংলাদেশের সংবিধান কত তারিখে গণপরিষদে গৃহীত হয় -
  1. ২ অক্টোবর, ১৯৭২
  2. ১১ এপ্রিল, ১৯৭২
  3. ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
  4. ১২ অক্টোবর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
• ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহিত হয়।
• ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যরা চূড়ান্তভাবে গৃহিত সংবিধানের কপিতে স্বাক্ষর করেন।
• ১৯৭২ সালের হাতে লেখা সংবিধান কপিতে মোট ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।
• সবার প্রথমে স্বাক্ষর করেন বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমান।
• তবে গণপরিষদের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
• ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।  

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৪২৫.
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কত সালে সংসদে পাস হয়
  1. ২০১৩ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৭ সালে
  4. ২০১১ সালে
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী:
-  সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ২৫ জুন সংসদে পাস হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা হয়।
- রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা আবারও প্রতিষ্ঠিত হয়।

 • এ সংশোধনীতে আরো যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়:
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল, 
- সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে ৫০-এ উন্নীতকরণ।
- সংবিধানের পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদ ৭-এর স্থলে ৭(১) এবং ৭(খ) যুক্ত করা হয়, যার উদ্দেশ্য অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলের সমাপ্তি ঘটানো।

উৎস: সংবিধান।

৪২৬.
সংবিধানের কোন সংশোধনীতে "রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম" সংযোজিত হয়?
  1. দ্বিতীয় সংশোধনী
  2. চতুর্থ সংশোধনী
  3. অষ্টম সংশোধনী
  4. দশম সংশোধনী
ব্যাখ্যা

অষ্টম সংশোধনী:
- সংসদে উত্থাপন: ১১ মে, ১৯৮৮।
- উত্থাপনকারী: সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।
- সংসদে গৃহীত: ৭ জুন, ১৯৮৮।
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ৯ জুন, ১৯৮৮।

⇒ এ সংশোধনীর মৌলিক বিষয়গুলো হল:
- ইসলাম ধর্মকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা দান,
- হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি বেঞ্চ যথাক্রমে বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর, রংপুর ও সিলেটে স্থাপন করা,
- বাংলাদেশের কোন নাগরিক রাষ্ট্রপতির অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশ থেকে কোন উপাধি গ্রহণ করতে পারবে।
- রাজধানীর বানান Dacca এর পরিবর্তে Dhaka এবং বাংলা ভাষা ইংরেজি Bengali এর পরিবের্ত Bangla গৃহীত হয়।

⇒ কিন্তু এ সংশোধনী হাইকোর্ট বিভাগীয় বেঞ্চ সম্পর্কে দু'জন নাগরিক রীট পিটিশন করেন। তারা দুজন হলেন- আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ও জালাল উদ্দিন। তাদের এ রীট পিটিশনের ফলে ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ৬টি স্থায়ী বেঞ্চ রহিত করা হয়। পরবর্তীতে এটি বাতিল হয়ে যায়।

উৎস: i) BBC.
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২৭.
সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে নিম্নের কোনটি বর্ণিত হয়েছে?
  1. জাতীয় স্মৃতি নিদর্শন
  2. জাতীয় সংস্কৃতি
  3. আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন
  4. নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন বর্ণিত হয়েছে।

অনুচ্ছেদ - ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন,

- জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা,
- অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা,
- আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা,
এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র -

(ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবেন;
(খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবেন; এবং
(গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবেন।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ২২: নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।
- ২৩ নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় সংস্কৃতি।
- ২৪ নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় স্মৃতি নিদর্শন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৪২৮.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকরণের কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) ১১
  2. খ) ১০
  3. গ) ১৩
  4. ঘ) ১৬
ব্যাখ্যা
গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব:
- সংবিধানের ১৬ নং অনুচ্ছেদে গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকরণের কথা বলা হয়েছে।
- নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবন যাত্রার মানের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করিবার উদ্দেশ্যে কৃষিবিপ্লবের বিকাশ, গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতীকরণের ব্যবস্থা, কুটিরশিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ এবং শিক্ষা, যোগাযোগ-ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের আমূল রূপান্তরসাধনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৪২৯.
নিম্নের কোনটি সংবিধানের মূলনীতি? 
  1. অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
  2. মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ
  3. ন্যায়পাল
  4. সমাজতন্ত্র
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- সংবিধানে মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।

⇒ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ২য় অধ্যায়ের ৮ম - ২৫তম অনুচ্ছেদ পর্যন্ত রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিগুলো বর্ণিত হয়েছে। এগুলো হলো:
• জাতীয়তাবাদ:  মূল সংবিধানের ৯নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে জাতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে।'
• সমাজতন্ত্র: মূল সংবিধানের ১০ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'মানুষের উপর মানুষের শোষণের অবসান ঘটিয়ে ন্যায়ানুগ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে শোষণহীন সমাজ কায়েম করা হবে।'
• গণতন্ত্র: সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সমাজজীবন হতে সর্বপ্রকার বৈষম্য দূরীভূত করে নাগরিকদের মৌলিক মানবিক অধিকার এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করা হবে।
• ধর্ম নিরপেক্ষতা: সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোন ধর্মের ব্যবহার, কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির বৈষম্য বা তার উপর উৎপীড়ন করা হবে না।'

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা,, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩০.
’প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা’ সংবিধানের যে অনুচ্ছেদে রয়েছে- 
  1. অনুচ্ছেদ- ৩
  2. অনুচ্ছেদ- ২
  3. অনুচ্ছেদ- ২(ক)
  4. অনুচ্ছেদ- ৪
ব্যাখ্যা

- অনুচ্ছেদ- ৩: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা৷

• সংবিধানের অনুচ্ছেদ : 
- অনুচ্ছেদ- ১: প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ- ২: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ- ২(ক): রাষ্ট্রধর্ম।
→ অনুচ্ছেদ- ৩: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা৷
- অনুচ্ছেদে- ৪: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- অনুচ্ছেদে- ৪(ক): জাতির পিতার প্রতিকৃতি।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৪৩১.
একাধিক আসনে বিজয়ী প্রার্থীগণ কোন আসনে প্রতিনিধিত্ব করতে চান তা কতদিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হয়?
  1. ক) ১৫ দিন
  2. খ) ১০ দিন
  3. গ) ৬০ দিন
  4. ঘ) ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
- কোনো ব্যক্তি একই সময়ে দুই বা ততোধিক নির্বাচনি এলাকার সংসদ সদস্য হবেন না।
- যদি কেউ একই সময়ে দুই বা ততোধিক নির্বাচনি এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তা হলে নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে তিনি কোন নির্বাচনি এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে চান তা নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে। তা না হলে তাঁর সকল আসন শূন্য হবে। 

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৩২.
১৯৭২ সালে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. শাহ আবদুল হামিদ
  2. আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
  3. তাজউদ্দিন আহমদ
  4. মোহাম্মদ উল্ল্যাহ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭২ সালের ২২শে মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সায়িদ চৌধুরী সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ জারি করেন। ৭ এপ্রিল এটির সংশোধনী আদেশ জারি করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল ৪১৪ জন সদস্যের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- এতে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
- ১০ ও ১১ই এপ্রিল এই অধিবেশনের মোট দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনে গণপরিষদের কার্যপ্রণালি বিধি প্রণীত হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
৪৩৩.
বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
  2. বিচার বিভাগ
  3. নির্বাচন
  4. নির্বাহী বিভাগ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।

⇒  সংবিধানের ভাগ:
- প্রথম ভাগ: প্রজাতন্ত্র,
- দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি,
- তৃতীয় ভাগ: মৌলিক অধিকার,
- চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগ: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগ: বিচারবিভাগ,
- সপ্তম ভাগ: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগ: মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম-ক ভাগ: জরুরী বিধানাবলী ও নবম ভাগ: বাংলাদেশের কর্মবিভাগ,
- দশম ভাগ: সংবিধান-সংশোধন,
- একাদশ ভাগ: বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৪৩৪.
সংবিধানের ৭৭নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু -
  1. ন্যায়পাল
  2. সংসদের অধিবেশন
  3. অর্থবিল
  4. আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৭১ - দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা।
- অনুচ্ছেদ ৭২ - সংসদের অধিবেশন।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ - সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ক - সংসদ সম্পর্কে মন্ত্রীগণের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৪ - স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৫ - কার্যপ্রণালী-বিধি, কোরাম প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৭৬ - সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ।
- অনুচ্ছেদ ৭৭ - ন্যায়পাল।
- অনুচ্ছেদ ৭৮ - সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ৭৯ - সংসদ-সচিবালয়।
- অনুচ্ছেদ ৮০ - আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি।
- অনুচ্ছেদ ৮১ - অর্থবিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৪৩৫.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টের আসন সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ৯৫ নং
  2. ৯৮ নং
  3. ১০০ নং
  4. ১০৬ নং
ব্যাখ্যা
সংবিধান:

- অনুচ্ছেদ ৯৫ - বিচারক-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৬ - বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৯৭ - অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৮ - সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ।
- অনুচ্ছেদ ৯৯ - অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১০০ - সুপ্রীম কোর্টের আসন।
- অনুচ্ছেদ ১০১ - হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার।
- অনুচ্ছেদ ১০২ - কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৩৬.
রাষ্ট্র সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবেন। - এটি সংবিধানে কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ - ২৫
  2. অনুচ্ছেদ - ১৬
  3. অনুচ্ছেদ - ১৮
  4. অনুচ্ছেদ - ১৪
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ২৫নং অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

• অনুচ্ছেদ - ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন: 
জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র- 

(ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করিবেন;
(খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করিবেন; এবং
(গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করিবেন৷

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৩৭.
কোন দুটি সংশোধনী তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. ক) দ্বাদশ - পঞ্চদশ
  2. খ) ত্রয়োদশ - পঞ্চদশ
  3. গ) নবম - ত্রয়োদশ
  4. ঘ) পঞ্চদশ - সপ্তদশ
ব্যাখ্যা
• ২৭ মার্চ, ১৯৯৬ সালে ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হয়েছিল।
• ৩০ জুন, ২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৩৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'বিচারক-নিয়োগের' উল্লেখ রয়েছে?
  1. ৯৩ নং অনুচ্ছেদে
  2. ৯৪ নং অনুচ্ছেদে
  3. ৯৫ নং অনুচ্ছেদে
  4. ৯৬ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:

- অনুচ্ছেদ ৯৪ - সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৯৫ - বিচারক-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৬ - বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৯৭ - অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৮ - সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ।
- অনুচ্ছেদ ৯৯ - অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১০০ - সুপ্রীম কোর্টের আসন।
- অনুচ্ছেদ ১০১ - হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার।
- অনুচ্ছেদ ১০২ - কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৩৯.
কোন বিলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের সময়সীমা কত দিন?
  1. ৩ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ১৫ দিন
ব্যাখ্যা
আইন বিভাগে আলোচ্য সময়সূচি:
- পুনর্বিবেচিত বিল রাষ্ট্রপতি ৭ দিনের মধ্যে সম্মতি দিবেন।
- কোনো বিলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের সর্বোচ্চ সময় ১৫ দিন।
- নির্বাচলের পর সংসদের অভিবেশন আহবান করতে হবে ৩০ দিনের মধ্যে।
- অধ্যাদেশকে অধিবেশন শুরু হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন দিতে হবে।
- সংসদের দুই অধিবেশনের মধ্যবর্তী বিরতিকাল সর্বোচ্চ ৬০ দিন।
- সংসদের অনুমতি ব্যতীত ৯০ দিন অনুপস্থিত থাকলে সংসদপদ শূন্য হয়ে যাবে।
- নির্বাচিত হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে শপথ না নিলে সংসদপদ শূন্য হয়ে যাবে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৪৪০.
সংবিধান রচনার জন্য গণপরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা কত জন ছিল?
  1. ৪০১ জন
  2. ৪০৩ জন
  3. ৪১৩ জন
  4. ৪৯৩ জন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম গণপরিষদ:
- সংবিধান রচনার জন্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ 'বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করেন।
- এ আদেশ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকরী বলে ধরে নেয়া হয়।
- এ আদেশ বলে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গণপরিষদ গঠন করা হয়।
- আইনের দৃষ্টিতে অযোগ্য বলে বিবেচিত এমন ব্যক্তিকে গণপরিষদের সদস্য হতে পারতেন না।
- গণপরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ৪০৩ জন।

⇒ ৪০৩ সদস্য বিশিষ্ট গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪১.
সংবিধানের কোন সংশোধনীতে জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়?
  1. ত্রয়োদশ সংশোধনী
  2. একাদশ সংশোধনী
  3. দ্বাদশ সংশোধনী
  4. পঞ্চদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।

পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০শে জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন হয় ২০১১ সালের ৩ জুলাই।
- সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- এই সংশোধনীর দ্বারা 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল' করা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।
- সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে ‘গণভোটের’ বিধান বাদ দিয়েছিল।
- এ ছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানও যুক্ত করা হয়। আগে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে নির্বাচন করার বিধান থাকলেও পঞ্চদশ সংশোধনীতে পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান সংযোজন করা হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

৪৪২.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান-
  1. ক) প্রধানমন্ত্রী 
  2. খ) সংসদ নেতা
  3. গ) স্পিকার 
  4. ঘ) রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান রাষ্ট্রপতি
- বাংলাদেশের সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী।
-জাতীয় সংসদের প্রধান হলেন স্পিকার।
- প্রধান বিচারপতি হলেন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান 'বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট' এর প্রধান।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৪৩.
সংবিধানের কোন ভাগে 'নির্বাচন' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ষষ্ঠ ভাগে
  2. চতুর্থ ভাগে
  3. অষ্টম
  4. সপ্তম ভাগে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।

• সংবিধানের ভাগ:
- প্রথম ভাগ: প্রজাতন্ত্র,
- দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি,
- তৃতীয় ভাগ: মৌলিক অধিকার,
- চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগ: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগ: বিচারবিভাগ,
- সপ্তম ভাগ: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগ: মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম-ক ভাগ: জরুরী বিধানাবলী ও নবম ভাগ: বাংলাদেশের কর্মবিভাগ,
- দশম ভাগ: সংবিধান-সংশোধন,
- একাদশ ভাগ: বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৪৪৪.
গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের স্পিকার কে ছিলেন?
  1. মোহাম্মদ উল্লাহ
  2. আব্দুর রহমান
  3. মোহাম্মদ হানিফ
  4. শাহ আব্দুল হামিদ
ব্যাখ্যা
গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন:
- ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- দেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার মাত্র ১১৬ দিন পর গণপরিষদের এ প্রথম অধিবেশন বসে।
- এ অধিবেশনে গণপরিষদের স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার নির্বাচিত হয়।
- শাহ আব্দুল হামিদ গণপরিষদের প্রথম স্পীকার নির্বাচিত হন।
- তাঁর মৃত্যুর পর নির্বাচিত হন জনাব মোহাম্মদ উল্লাহ।

⇒ এ অধিবেশনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠন করা হয়।
- এটি হল "সংবিধান কমিটি"।
- এ কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন তৎকালীন আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ড. কামাল হোসেন।
- 'গণপরিষদের ৩৪ জন সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত খসড়া প্রণয়ন কমিটি- যার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. কামাল হোসেন'।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে?
  1. ৪নং
  2. ৩নং
  3. ৫নং
  4. ১নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের অনুচ্ছেদ: 
- অনুচ্ছেদ- ১: প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ- ২: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ- ২(ক): রাষ্ট্রধর্ম।
• অনুচ্ছেদ- ৩: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা৷
- অনুচ্ছেদে- ৪: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- অনুচ্ছেদে- ৪(ক): জাতির পিতার প্রতিকৃতি।
- অনুচ্ছেদে- ৫(১) প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা৷ 

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৪৪৬.
কত তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়?
  1. পঞ্চম সংশোধনী
  2. চতুর্থ সংশোধনী
  3. সপ্তম সংশোধনী
  4. ষষ্ঠ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী:
- সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদে পঞ্চম সংশোধনী আইন অনুমোদিত হয়।
- এই আইনের মাধ্যমে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে পরিবর্তন আনা হয়।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত জারি করা সকল সামরিক বিধান, সংবিধান সংশোধন ও বিভিন্ন অধ্যাদেশকে বৈধতা প্রদান করা হয়।
- এই সংশোধনীর ফলে 'বাঙালি' জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে 'বাংলাদেশী' জাতীয়তাবাদকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান

৪৪৭.
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করে কত তারিখ?
  1. ১৯৭২ সালরে ১১ অক্টোবর
  2. ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর
  3. ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর
  4. ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
সংবিধান:

- ১৯৭২ সালরে ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন।
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়। 
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৪৮.
মন্ত্রিসভার সদস্যগণ এককভাবে কার নিকট দায়ী থাকেন?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. জাতীয় সংসদ
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. মন্ত্রিসভা
ব্যাখ্যা
- মন্ত্রিসভার সদস্যগণ একক ও যৌথভাবে জাতীয় সংসদের নিকট দায়ী থাকেন।
- তবে মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাধীন থাকে। মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ, দপ্তর বন্টন, নিয়োগ ও অব্যাহতি প্রভৃতি প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে মন্ত্রিসভাও ভেঙে যায়।
- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা দেশের প্রকৃত শাসক। প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগদান করে থাকেন।
- মন্ত্রিসভার সদস্যগণ জাতীয় সংসদের সদস্যদের থেকে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। তবে মন্ত্রিসভার এক-দশমাংশ সদস্য, সাংসদ নয় এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া যায়।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৪৯.
The parliamentary system of Bangladesh was re-established through which amendment of the constitution?
  1. ক) Eighth
  2. খ) Ninth
  3. গ) Eleventh
  4. ঘ) twelfth
ব্যাখ্যা
দ্বাদশ সংশোধনী
সংসদে উত্থাপন: ২ জুলাই, ১৯৯১
উত্থাপনকারী: আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মির্জা গোলাম হাফিজ
সংসদে গৃহীত: ৬ আগস্ট, ১৯৯১
রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১  

সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধন আইনের সংশোধন মাধ্যমে ১৭ বছর পর বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন ঘটে;
যেখানে-
১. রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হন; 
২. প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী বা সরকার প্রধান হন; 
৩. প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ হয়;
৪. উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ করা হয়, জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান করা হয়।

[উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান]
৪৫০.
বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ জারি করা হয় কবে?
  1. ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি
  2. ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ
  3. ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ
  4. ১৯৭২ সালের ৭ মার্চ
ব্যাখ্যা
গণপরিষদ আদেশ: 
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ জারি করেন।
- আদেশটি ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সাল থেকে কার্যকর হয়।
- এই আদেশ অনুসারে ডিসেম্বর, ১৯৭০ এবং জানুয়ারি, ১৯৭১ সালে নির্বাচিত প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের সদস্যগণ গণপরিষদের সদস্য বলে বিবেচিত হয়।
- মৃত্যু এবং আইনে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার ফলে উভয় পরিষদ মিলে সর্বমোট ৪৬৯ জন সদস্যের স্থলে ৪০৩ জন সদস্য নিয়ে গণপরিষদ গঠিত হয়।
- এই গণপরিষদের উপর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
- গণপরিষদ তার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫১.
প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত________ একটি ভরাট বৃত্ত।
  1. ক) লালবর্ণের
  2. খ) গোলাপীবর্ণের
  3. গ) রক্তবর্ণের
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক:
- অনুচ্ছেদ-৪:
(১) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা”র প্রথম দশ চরণ ৷ 
(২) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত ৷ 
(৩) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হইতেছে উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তাহার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পর-সংযুক্ত পত্র, তাহার উভয় পার্শ্বে দুইটি করিয়া তারকা ৷ 
(৪) উপরি-উক্ত দফাসমূহ-সাপেক্ষে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কিত বিধানাবলী আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে ৷

সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৫২.
সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রীয় উৎপাদন যন্ত্র, উৎপাদন ব্যবস্থা ও বন্টনপ্রণীর মালিকানা কত ধরনের?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
সংবিধানের অনুচ্ছেদ-১৩ঃ মালিকানার নীতি -- “উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদনব্যবস্থা ও বন্টনপ্রণালীসমূহের মালিক বা নিয়ন্ত্রক হইবেন জনগণ এবং এই উদ্দেশ্যে মালিকানা-ব্যবস্থা নিম্নরূপ হইবে:
(ক) রাষ্ট্রীয় মালিকানা, অর্থাৎ অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান প্রধান ক্ষেত্র লইয়া সুষ্ঠু ও গতিশীল রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারী খাত সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রের মালিকানা;
(খ) সমবায়ী মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে সমবায়সমূহের সদস্যদের পক্ষে সমবায়সমূহের মালিকানা; এবং
(গ) ব্যক্তিগত মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যক্তির মালিকানা৷”
৪৫৩.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বাংলাদেশকে ‘‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’’ নামে অভিহিত করা হয়েছে?
  1. ক) অনুচ্ছেদ ০২
  2. খ) অনুচ্ছেদ ০১
  3. গ) অনুচ্ছেদ ০৬
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ ০৩
ব্যাখ্যা
প্রজাতন্ত্রের প্রস্তাবনা
• বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম ভাগে ১নং অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের প্রস্তাবনা রয়েছে।
• এ প্রস্তাবনা অনুযায়ী বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র, যা ‘‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’’ নামে
পরিচিতি। 

অন্যদিকে,
অনুচ্ছেদ ০২ : প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
অনুচ্ছেদ ০৬ : নাগরিকত্ব।
অনুচ্ছেদ ০৩: রাষ্ট্রভাষা।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৫৪.
সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ১৯৮৪
  2. ১৯৮৬
  3. ১৯৮৮
  4. ১৯৮৯
ব্যাখ্যা

• অষ্টম সংশোধনী:
- সংসদে উত্থাপন: ১১ মে, ১৯৮৮।
- উত্থাপনকারী: সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।
- সংসদে গৃহীত: ৭ জুন, ১৯৮৮।
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ৯ জুন, ১৯৮৮।

• এ সংশোধনীর মৌলিক বিষয়গুলো হল:
- ইসলাম ধর্মকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা দান,
- হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি বেঞ্চ যথাক্রমে বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর, রংপুর ও সিলেটে স্থাপন করা,
- বাংলাদেশের কোন নাগরিক রাষ্ট্রপতির অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশ থেকে কোন উপাধি গ্রহণ করতে পারবে।
- রাজধানীর বানান Dacca এর পরিবর্তে Dhaka এবং বাংলা ভাষা ইংরেজি Bengali এর পরিবের্ত Bangla গৃহীত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান ও  বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫৫.
’জরুরী অবস্থা ঘোষণা’ সংবিধানের কতনং অনুচ্ছেদে বর্ণিত?”
  1. ১৪১
  2. ১৪১(ক)
  3. ১৪১(খ)
  4. ১৪৪(গ)
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ১৪১(ক): জরুরী-অবস্থা ঘোষণা
(১) রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এমন জরুরী-অবস্থা বিদ্যমান রহিয়াছে, যাহাতে যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের দ্বারা বাংলাদেশ বা উহার যে কোন অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন, তাহা হইলে তিনি অনধিক একশত কুড়ি দিনের জন্য  জরুরী-অবস্থা ঘোষণা করিতে পারিবে।
 
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ ঘোষণার বৈধতার জন্য ঘোষণার পূর্বেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি-স্বাক্ষর প্রয়োজন হইবে।
 
(২) জরুরী-অবস্থার ঘোষণা 
- (ক) পরবর্তী কোন ঘোষণার দ্বারা প্রত্যাহার করা যাইবে; 
- (খ) সংসদে উপস্থাপিত হইবে; 
- (গ) একশত কুড়ি দিন সময়ের অবসানে কার্যকর থাকিবে না: 
 
- তবে শর্ত থাকে যে, যদি সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় অনুরূপ কোন ঘোষণা জারী করা হয় কিংবা এই দফার (গ) উপ-দফায় বর্ণিত এক শত কুড়ি দিনের মধ্যে সংসদ ভাঙ্গিয়া যায়, তাহা হইলে তাহা পুনর্গঠিত হইবার পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে ত্রিশ দিন অতিবাহিত হইবার পূর্বে ঘোষণাটি অনুমোদন করিয়া সংসদে প্রস্তাব গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত ত্রিশ দিনের অবসানে অথবা একশত কুড়ি দিন সময়ের অবসানে, যাহা আগে ঘটে,] অনুরূপ ঘোষণা কার্যকর থাকিবে না। 
 
(৩) যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের বিপদ আসন্ন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে প্রকৃত যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ সংঘটিত হইবার পূর্বে তিনি অনুরূপ যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের জন্য বাংলাদেশ বা উহার যে কোন অংশের নিরাপত্তা বিপন্ন বলিয়া জরুরী-অবস্থা ঘোষণা করিতে পারিবেন।

অন্যদিকে,
১৪১(খ) অনুচ্ছেদ- ’জরুরী-অবস্থার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিতকরণ’ সম্পর্কিত।
১৪০ অনুচ্ছেদ-  ’বার্ষিক রিপোর্ট’ সংক্রান্ত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

৪৫৬.
'জাতীয় সংবিধান দিবস' পালিত হয় -
  1. ২৩ মার্চ
  2. ১০ এপ্রিল
  3. ৪ নভেম্বর
  4. ১৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।

⇒ ৪ নভেম্বর জাতীয় সংবিধান দিবস।

উল্লেখ্য,
⇒ ৪৩০ সদস্য বিশিষ্ট গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় ।
- ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৫৭.
জরুরি অবস্থা চলাকালীন সময় সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ স্থগিত করা যায় না?
  1. ক) ৪১
  2. খ) ৩৬
  3. গ) ৪০
  4. ঘ) ৪২
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১৪১খ : জরুরী-অবস্থার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিতকরণ
⇨ এই সংবিধানের তৃতীয় ভাগের অন্তর্গত বিধানাবলীর কারণে রাষ্ট্র যে আইন প্রণয়ন ও নির্বাহী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সক্ষম নয়। জরুরী-অবস্থা চলাকালে এই ভাগের পরিপন্থি কোনো আইন প্রণয়নে রাষ্ট্র কোনো বাধার সম্মুখীন হবে না।  
⇨ ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০ ও ৪২ অনুচ্ছেদসমূহের কোন কিছুই আইন-প্রণয়ন ও নির্বাহী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করবে না।
⇨ তবে অনুরূপভাবে প্রণীত কোন আইনের কর্তৃত্বে যা করা হয়েছে বা করা হয়নি, সেগুলো ছাড়া এ জাতীয় আইনের অন্য সবকিছু প্রত্যাহারের পরে অকার্যকর হয়ে যাবে।  
৪১ নং অনুচ্ছেদ : ধর্মীয় স্বাধীনতা। ৪১ নং অনুচ্ছেদ জরুরি অবস্থার সময় স্থগিত করা যায় না।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৫৮.
ঢাকা পৌরসভা কত সালে গঠিত হয়?
  1. ১৬০৮ সালে
  2. ১৮৪০ সালে
  3. ১৮৬৪ সালে
  4. ১৮৬৮ সালে
ব্যাখ্যা

১৮৬৪ সালে ঢাকা পৌরসভা গঠিত হয়।

ঢাকা পৌরসভা:
- বুড়িগঙ্গা নদীতীরে অবস্থিত প্রায় সাতশত বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বন্দর নগরী ঢাকা।
- মোঘল সমাট্র জাহাঙ্গীরের আমলে ১৬০৮ সালে ঢাকায় রাজধানী স্থাপিত হলে বিশ্বব্যাপী এ নগরীর মর্যাদা ও গুরুত্ব বেড়ে যায়।
- ১৮৪০ সালে ‘ঢাকা কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠন করেন।
- ১৮৬৪ সালের ১লা আগষ্ট ঢাকা পৌরসভা স্থাপিত হয়।
- ‘ঢাকা মিউনিসিপ্যাল ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট’ বলে আগস্ট মাসে গঠন করা হয় ‘ঢাকা মিউনিসিপ্যাল কমিটি’।
- ১৮৬৪ সালের পূর্ব পর্যন্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদাধিকার বলে মিউনিসিপ্যালিটির সভাপতি ছিলেন।
- ১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা নগরীকে ৫০টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করে নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকা পৌরসভা গঠন করা হয়।
- ১৯৭৭ সালের ৩১ অক্টোবর কমিশনারদের মাধমে ঢাকা পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন ব্যারিস্টার আবুল হাসনাত।
- ১৯৯০ সালে ঢাকা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের নাম পরিবর্তন করে ঢাকা সিটি করপোরেশন নামকরণ করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪৫৯.
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৬ এর অধীন, রাষ্ট্রপতি কার কাছ থেকে উপদেষ্টামূলক মতামত গ্রহণ করতে পারেন?
  1. অ্যাটর্নি-জেনারেল
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ
  4. সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১০৬- সুপ্রীম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার:
যদি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হয় যে, আইনের এইরূপ কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হইয়াছে বা উত্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দিয়াছে, যাহা এমন ধরনের ও এমন জনগুরুত্বসম্পন্ন যে, সেই সম্পর্কে সুপ্রীম কোর্টের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি প্রশ্নটি আপীল বিভাগের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করিতে পারিবেন এবং উক্ত বিভাগ স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত শুনানীর পর প্রশ্নটি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে স্বীয় মতামত জ্ঞাপন করিতে পারিবেন।

⇒ এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
যদি কোনো সময় রাষ্ট্রপতির মনে হয় যে, এমন কোনো আইনি প্রশ্ন উঠেছে বা উঠতে পারে, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং জনগণের জন্য তা জানা দরকার, তাহলে তিনি সেই প্রশ্নটি সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের কাছে পাঠাতে পারেন।
আপীল বিভাগ তখন সেই প্রশ্নটি নিয়ে বিস্তারিতভাবে শুনানি করবে এবং সবকিছু বিবেচনা করার পর নিজেদের মতামত রাষ্ট্রপতিকে জানাবে।

উল্লেখ্য,
এই মতামতটি পরামর্শমূলক, রাষ্ট্রপতি চাইলে তা মেনে চলতে পারেন, আবার নাও পারেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এটি রাষ্ট্রপতির কাজে আসে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৬০.
ষোড়শ সংশোধনী রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করে কখন?
  1. ক) ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টম্বর
  2. খ) ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টম্বর
  3. গ) ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টম্বর
  4. ঘ) ২০১৮ সালের ৮ জুলাই
ব্যাখ্যা

ষোড়শ সংশোধনী-
- উত্থাপন:২০১৪ সালের ৭ সেপ্টম্বর
- উত্থাপনকারী:এটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক
- গৃহীত: :২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টম্বর
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টম্বর
ষোড়শ সংশোধনীর আলোচ্য বিষয়-
৭২ এর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিধান পাস করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান

৪৬১.
বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম হলো-
  1. বাংলাদেশ
  2. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
  3. বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্র
  4. বাংলাদেশ ইসলামী প্রজাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ'।

সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৬২.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ভাগে 'মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক' সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে?
  1. নবম ভাগ
  2. সপ্তম ভাগ
  3. দশম ভাগ
  4. অষ্টম ভাগ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ভাগ:
- প্রথম ভাগ: প্রজাতন্ত্র,
- দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি,
- তৃতীয় ভাগ: মৌলিক অধিকার,
- চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগ: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগ: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগ: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগ: মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগ: বাংলাদেশের কর্মবিভাগ,
- দশম ভাগ: সংবিধান-সংশোধন,
- একাদশ ভাগ: বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৬৩.
বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকের 'চলাফেরার স্বাধীনতা' কোন অনুচ্ছেদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. ৩৮ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৩৬ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৩৭ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৩৪ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ৩৬: চলাফেরার স্বাধীনতা
জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ- সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা, ইহার যে কোন স্থানে বসবাস ও বসতিস্থাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।

অন্যদিকে,
- ৩৪ অনুচ্ছেদ: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ।
- ৩৭ অনুচ্ছেদ: সমাবেশের স্বাধীনতা।
- ৩৮ অনুচ্ছেদ: সংগঠনের স্বাধীনতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

৪৬৪.
আদালত কর্তৃক বাতিল সংশোধনী কোনটি?
  1. ক) পঞ্চম সংশোধনী
  2. খ) সপ্তম সংশোধনী
  3. গ) ত্রয়োদশ সংশোধনী
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানে বর্তমান পর্যন্ত মোট ১৭টি সংশোধনী আনা হয়
- এর মধ্যে চারটি সংশোধনী হাইকোর্ট কর্তৃক বাতিল ঘোষিত হয়েছে।
- এগুলো হলো:-
- পঞ্চম সংশোধনী (১৯৭৯) : বাতিল (আগস্ট ২০০৫)
- সপ্তম সংশোধনী (১৯৮৬) : বাতিল (আগস্ট ২০১০)
- ত্রয়োদশ সংশোধনী (১৯৯৬) : বাতিল (২০১১)
- ষোড়শ সংশোধনী (২০১৪) : বাতিল (২০১৭)।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৬৫.
সুপ্রিম কোর্টকে উপদেষ্টামূলক মতামত প্রদানের ক্ষমতা সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে? 
  1. ১০১নং
  2. ১০৯নং
  3. ১০৩নং
  4. ১০৬নং
ব্যাখ্যা

• ”সুপ্রীম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার”-সংক্রান্ত বিধান সংবিধানের ১০৬নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে।

⇒ ১০৬নং অনুচ্ছেদ অনুসারে- যদি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হয় যে, আইনের এইরূপ কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হইয়াছে বা উত্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দিয়াছে, যাহা এমন ধরনের ও এমন জনগুরুত্বসম্পন্ন যে, সেই সম্পর্কে সুপ্রীম কোর্টের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি প্রশ্নটি আপীল বিভাগের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করিতে পারিবেন এবং উক্ত বিভাগ স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত শুনানীর পর প্রশ্নটি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে স্বীয় মতামত জ্ঞাপন করিতে পারিবেন।
অন্যদিকে,
⇒ ১০১নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে- হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার।
⇒ ১০৩নং অনুচ্ছেদ বর্ণিত আছে- আপীল বিভাগের এখতিয়ার
⇒ ১০৯নং অনুচ্ছেদ বর্ণিত আছে- আদালতসমূহের উপর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।

৪৬৬.
'রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করিবেন' বিষয়টি বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ক) ৬৫
  2. খ) ৭২
  3. গ) ৭৭
  4. ঘ) ৮৭
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ-৭২: সংসদের অধিবেশন
• ৭২(১) সরকারী বিজ্ঞপ্তি-দ্বারা রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করিবেন এবং সংসদ আহ্বানকালে রাষ্ট্রপতি প্রথম বৈঠকের সময় ও স্থান নির্ধারণ করিবেন।

অন্যদিকে,
অনুচ্ছেদ-৬৫: সংসদ-প্রতিষ্ঠা
অনুচ্ছেদ-৭৭: ন্যায়পাল
অনুচ্ছেদ-৮৭: বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি

সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
৪৬৭.
যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা আছে কার?
  1. ক) সুপ্রিম কোর্টের
  2. খ) সংসদের
  3. গ) রাষ্ট্রপতির
  4. ঘ) স্পিকারের
ব্যাখ্যা

সুপ্রিম কোর্ট ব্যতীত অন্যান্য আদালত প্রতিষ্ঠার জন্য সংসদ আইন প্রণয়ন করতে পারে।
যুদ্ধ ঘােষণা ও আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমােদন করার ক্ষমতাও সংসদের।
স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত বিধি ও প্রবিধান সংসদ প্রণয়ন করে।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি

৪৬৮.
সংবিধানের ৩নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
  1. দেশের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা।
  2. বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।
  3. বাংলা হবে আমাদের রাষ্ট্রভাষা।
  4. প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ৩নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে - প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। 

• সংবিধান:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় - ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৬৯.
’জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ’ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ-৩১ 
  2. অনুচ্ছেদ-৩৫ 
  3. অনুচ্ছেদ-৩২
  4. অনুচ্ছেদ-৩০ 
ব্যাখ্যা

• তৃতীয় ভাগ; মৌলিক অধিকার। 
- অনুচ্ছেদ-৩২ জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ।
- আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হইতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবে না।

• কয়েকটি অনুচ্ছেদ:
- ৩০নং:  বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ;
- ৩১নং: আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার;
- ৩২নং: জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ;
- ৩৫নং: বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ;
- ৩৭নং:সমাবেশের স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৪৭০.
বাংলাদেশে ’খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি’ গঠিত হয় কবে?
  1. ১১ এপ্রিল, ১৯৭২
  2. ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২
  3. ২৩ মার্চ, ১৯৭২
  4. ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' গঠন করা হয়েছিল ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপিত হয়।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর ছাড়া ৯৩ পৃষ্ঠা।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর সহ-১০৯ পৃষ্ঠা।
-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৪৭১.
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ কোন তফসিলে আলোচিত হয়েছে?
  1. ক) পঞ্চম তফসিল
  2. খ) সপ্তম তফসিল
  3. গ) চতুর্থ তফসিল
  4. ঘ) ষষ্ঠ তফসিল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।

প্রথম তফসিল
অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।

দ্বিতীয় তফসিল
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।

তৃতীয় তফসিল
শপথ ও ঘোষণা।

চতুর্থ তফসিল
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।

পঞ্চম তফসিল
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।

ষষ্ঠ তফসিল
স্বাধীনতার ঘোষণা।

সপ্তম তফসিল
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৭২.
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইনটি জাতীয় সংসদে কবে পাস করা হয়?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯৪ সালে
  3. ১৯৯৬ সালে
  4. ২০১১ সালে
ব্যাখ্যা
ত্রয়োদশ সংশোধনী:
- ত্রয়োদশ সংশোধনীর শিরোনাম সংবিধান [ত্রয়োদশ সংশোধন] আইন, ১৯৯৬।
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইনটি জাতীয় সংসদে পাস হয় ২৭ মার্চ, ১৯৯৬ সালে।
- ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।
- ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে আপিল বিভাগ তত্ত্বাবাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সর্ম্পকিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিবিসি নিউজ, ১০ মে ২০১১।
৪৭৩.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগের উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৯৫
  2. অনুচ্ছেদ ৯৬
  3. অনুচ্ছেদ ৯৭
  4. অনুচ্ছেদ ৯৮
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৯০ - নির্দিষ্টকরণ আইন।
- অনুচ্ছেদ ৯১ - সম্পূরক ও অতিরিক্ত মঞ্জুরী।
- অনুচ্ছেদ ৯২ - হিসাব, ঋণ প্রভৃতির উপর ভোট।
- অনুচ্ছেদ ৯৩ - অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৯৪ - সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৯৫ - বিচারক-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৬ - বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৯৭ - অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৮ - সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ।
- অনুচ্ছেদ ৯৯ - অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১০০ - সুপ্রীম কোর্টের আসন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৭৪.
সংবিধান সংস্কার কমিশন কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত সংবিধানের মূলনীতি কোনটি?
  1. মৌলিক অধিকার এবং সাংবিধানিক সুরক্ষা
  2. গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, সাম্য এবং কেন্দ্রীকরণ
  3. সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র
  4. ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র এবং জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা
সংবিধান সংস্কার কমিশন:
- ৯ সদস্য বিশিষ্ট সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

⇒ সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ:
- সংবিধান সংস্কার কমিশন একটি কার্যকর গণতন্ত্র, মৌলিক মানবধিকার সুনিশ্চিতকরণ এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাতটি প্রধান বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছে। সেগুলো যথাক্রমে:
১. ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান আদর্শ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনস্বরূপ সংবিধান ও রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে "সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র" প্রস্তাব,
২. ক্ষমতার প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা,
৩. প্রধানমন্ত্রী পদের একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস,
৪. অন্তবর্তী সরকার কাঠামোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব,
৫. বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ,
৬. শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সুনিশ্চিতকরণ,
৭. মৌলিক অধিকারের আওতা সম্প্রসারণ, সাংবিধানিক সুরক্ষা ও বলবৎযোগ্যতা নিশ্চিতকরণ।

⇒ এছাড়াও,
- সংবিধান কমিশন সুপারিশ করছে যে, সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
- বাংলাদেশের সমাজের বহুত্ববাদী চরিত্রকে ধারণ করে এমন একটি বিধান সংবিধানে যুক্ত করা সমীচীন। সুতরাং, কমিশন নিম্নোক্ত বিধান অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করছে "বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী, বহু-জাতি, বহু-ধর্মী, বহু-ভাষী ও বহু-সংস্কৃতির দেশ যেখানে সকল সম্প্রদাযের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।
- কমিশন সংবিধানের মূলনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র এবং জাতীয়তাবাদ এবং এ সংশ্লিষ্ট সংবিধানের ৮, ৯, ১০ ও ১২ অনুচ্ছেদগুলি বাদ দেয়ার সুপারিশ করছে।

উৎস: i) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ।
ii) সংবিধান সংস্কার কমিশন।
৪৭৫.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে কে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  4. পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
৬৩ নং অনুচ্ছেদ: যুদ্ধ;
- বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি সংসদের সম্মতি নিয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন।

⇒ সংবিধানের ৬৩(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে, সংসদের সম্মতি ছাড়া কোনো যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না বা প্রজাতন্ত্র কোনো যুদ্ধে অংশ নেবে না।
- রাষ্ট্রপতি যুদ্ধ ঘোষণা করেন, তবে তা অবশ্যই জাতীয় সংসদে সম্মতি সাপেক্ষে করতে হবে। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৭৬.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদবলে রাষ্ট্রপতি কারো সাথে কোন পরামর্শ ব্যতিরেখেই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন?
  1. ক) ৪৪ অনুচ্ছেদ
  2. খ) ৪৮ (৩) অনুচ্ছেদ
  3. গ) ৬১ অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ৬৩ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে- এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তাঁহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোন পরামর্শদান করিয়াছেন কি না এবং করিয়া থাকিলে কি পরামর্শ দান করিয়াছেন, কোন আদালত সেই সম্পর্কে কোন প্রশ্নের তদন্ত করিতে পারিবেন না।
[সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান]
৪৭৭.
সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীটি উত্থাপিত হয় কত তারিখ?
  1. ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩ সালে
  2. ১৬ মার্চ ১৯৭৩ সালে
  3. ১৮ সেপ্টম্বর ১৯৭৩ সালে
  4. ৪ নভেম্বর ১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় সংশোধনী:

- দ্বিতীয় সংশোধনীটি উত্থাপিত হয় ১৯৭৩ সালের ১৮ সেপ্টম্বর।
- সংশোধনীটি গৃহীত হয় ১৯৭৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর।
- সংশোধনীটি অনুমোদিত হয় ২২ সেপ্টম্বর ১৯৭৩ সালে।
- 'জরুরি অবস্থা' জারির বিধান সংবিধানের ২য় সংশোধনীতে সন্নিবেশিত হয়েছে।
- সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধন আইন দ্বারা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ বা বহিরাক্রমণে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন বাধাগ্রস্ত হলে 'জরুরি অবস্থা' ঘোষণার বিধান চালু করা হয়।
- এছাড়াও, নিবর্তনমূলক আটক ও জরুরী অবস্থার সময় মৌলিক অধিকার স্থগিতকরণ সংক্রান্ত বিধানসমূহ সংযোজন করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৮.
RPO এর পূর্ণরূপ কী?
  1. ক) Public Reforms Order
  2. খ) Representation of the People Order
  3. গ) Peoples Representation Order
  4. ঘ) Representation of the People Ordinance
ব্যাখ্যা
- RPO এর পূর্ণরূপ হলো Representation of the People Order.
- ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সায়িদ চৌধুরী Representation of the People Order-১৯৭২ বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ জারি করেন।
- এটি নির্বাচন সংক্রান্ত দেশের প্রধান আইন। আরপিও বর্তমান পর্যন্ত ১৭ বার সংশোধিত হয়েছে।
(তথ্যসূত্র: আইন মন্ত্রণালয়)
৪৭৯.
‘সর্বজনীন কল্যাণ সাধনকারী এবং মানুষের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান’ -
  1. ক) পরিবার
  2. খ) সমাজ
  3. গ) রাষ্ট্র
  4. ঘ) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা

আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা রাষ্ট্রকে ‘সর্বজনীন কল্যাণ সাধনকারী এবং মানুষের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
রাষ্ট্র হলাে নাগরিকদের জন্য। নাগরিকের সুখ ও শান্তি বিধান করার জন্য রাষ্ট্রকে অনেক কাজ করতে হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি

৪৮০.
বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগের বিষয়বস্তু কী?
  1. আইনসভা
  2. বিচার বিভাগ
  3. নির্বাহী বিভাগ
  4. মৌলিক অধিকার
ব্যাখ্যা
সংবিধানে মোট ভাগ:
বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১১টি ভাগ রয়েছে:
১. প্রথম ভাগে প্রজাতন্ত্র সম্পর্কে বলা হয়েছে।
২. দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি রয়েছে।
৩. তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত।
৪. চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগ বর্ণিত।
৫. পঞ্চম ভাগে আইনসভা সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
৬. ষষ্ঠ ভাগে বিচার বিভাগ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
৭. সপ্তম ভাগে নির্বাচন ব্যবস্থা বর্ণিত।
৮. অষ্টম ভাগে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বিষয়ক বিধান রয়েছে।
৯. নবম ভাগে বাংলাদেশের কর্মবিভাগ এবং নবম-ক ভাগে জরুরী বিধানাবলী রয়েছে।
১০. দশম ভাগে সংবিধান সংশোধনের নিয়ম উল্লেখিত।
১১. একাদশ ভাগে বিবিধ বিষয় আলোচনা করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৮১.
বাংলাদেশের সংবিধানের ৮৫ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব
  2. নির্দিষ্টকরণ আইন
  3. বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি
  4. সরকারী অর্থের নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদসমূহ:

- অনুচ্ছেদ ৮৩ - সংসদের আইন ব্যতীত করারোপে বাধা।
- অনুচ্ছেদ ৮৪ - সংযুক্ত তহবিল ও প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব।
- অনুচ্ছেদ ৮৫ - সরকারী অর্থের নিয়ন্ত্রণ।
- অনুচ্ছেদ ৮৬ - প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাবে প্রদেয় অর্থ।
- অনুচ্ছেদ ৮৭ - বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৮৮ - সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়।
- অনুচ্ছেদ ৮৯ - বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সম্পর্কিত পদ্ধতি।
- অনুচ্ছেদ ৯০ - নির্দিষ্টকরণ আইন।
- অনুচ্ছেদ ৯১ - সম্পূরক ও অতিরিক্ত মঞ্জুরী।
- অনুচ্ছেদ ৯২ - হিসাব, ঋণ প্রভৃতির উপর ভোট।
- অনুচ্ছেদ ৯৩ - অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৯৪ - সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৯৫ - বিচারক-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৬ - বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৯৭ - অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৮২.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা কথা বর্ণিত হয়েছে?
  1. ২ক
  2. ৪ নং
  3. ৩ নং
  4. ২ নং
ব্যাখ্যা
প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা' সংবিধানের ৩ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।

• বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগ:
- অনুচ্ছেদ ১: প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ ২: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ ২ক: রাষ্ট্রধর্ম।
- অনুচ্ছেদ ৩: রাষ্ট্রভাষা।
- অনুচ্ছেদ ৪: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- অনুচ্ছেদ ৪ক: জাতির পিতার প্রতিকৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৫: রাজধানী।
- অনুচ্ছেদ ৬: নাগরিকত্ব।
- অনুচ্ছেদ ৭: সংবিধানের প্রাধান্য।
- অনুচ্ছেদ ৭ক: সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ।
- অনুচ্ছেদ ৭খ: সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৮৩.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৪৩
  2. অনুচ্ছেদ ১৪৪
  3. অনুচ্ছেদ ১৪৫
  4. অনুচ্ছেদ ১৪৬
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১৪২ - সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৩ - প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৪ - সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫ - চুক্তি ও দলিল।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক) - আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৬ - বাংলাদেশের নামে মামলা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৭ - কতিপয় পদাধিকারীর পারিশ্রমিক প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৮ - পদের শপথ।
- অনুচ্ছেদ ১৪৯ - প্রচলিত আইনের হেফাজত।
- অনুচ্ছেদ ১৫০ - ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- অনুচ্ছেদ ১৫১ - রহিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৫২ - ব্যাখ্যা।
- অনুচ্ছেদ ১৫৩ - প্রবর্তন, উল্লেখ ও নির্ভরযোগ্য পাঠ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৮৪.
কোনো কারণে সংসদ ভেঙে গেলে বা অবলুপ্ত হলে সংবিধান অনুযায়ী কত দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়?
  1. ৪৫ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১২৩ নং অনুচ্ছেদ:
⇒ নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময় -
- (১) রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ অবসানের কারণে উক্ত পদ শূন্য হলে মেয়াদ-সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী নব্বই হতে ষাট দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
- তবে শর্ত থাকে যে, যে সংসদের দ্বারা তিনি নির্বাচিত হয়েছেন সেই সংসদের মেয়াদকালে রাষ্ট্রপতির কার্যকাল শেষ হইলে সংসদের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অনুরূপ শূন্য পদ পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না, এবং অনুরূপ সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের দিন হতে ত্রিশ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির শূন্য পদ পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

- (২) মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হবার পর নব্বই দিনের মধ্যে তা পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

- (৩) সংসদ-সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে
(ক) মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাবার ক্ষেত্রে ভেঙে যাবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে; এবং
(খ) মেয়াদ-অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাণবার ক্ষেত্রে ভেঙে যাবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে।
- তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার (ক) উপ-দফা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিগণ, উক্ত উপ-দফায় উল্লিখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, সংসদ সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করবে না।

- (৪) সংসদ ভেঙে যাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হবার নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত শূন্যপদ পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তবে শর্ত থাকে যে, যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে, কোনো দৈব-দূর্বিপাকের কারণে এই দফার নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয়, তা হলে উক্ত মেয়াদের শেষ দিনের পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৮৫.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান কোন ভাষায় লেখা হয়েছে?
  1. বাংলা
  2. ইংরেজি
  3. বাংলা ও ইংরেজি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান: 
- বাংলাদেশের সংবিধান ২টি ভাষায় রচিত (বাংলা ও ইংরেজি)।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানে মোট ১৫৩ অনুচ্ছেদ রয়েছে ।
- সংবিধান হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন ।
- বাংলাদেশ সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয়।
- এতে ১১ টি ভাগ বা অধ্যায় রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রস্তাবনা দিয়ে শুরু এবং সাতটি তফসিল দিয়ে শেষ হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৮৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং তফসিল বর্তমানে বিলুপ্ত?
  1. প্রথম তফসিল
  2. দ্বিতীয় তফসিল
  3. চতুর্থ তফসিল
  4. ষষ্ঠ তফসিল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় তফসিল বর্তমানে বিলুপ্ত। 

বাংলাদেশের সংবিধান:

- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- সংবিধানের দশম ভাগে ১৪২ নং অনুচ্ছেদে সংবিধান সংশোধন বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।

• সংবিধানের তফসিল:
- বাংলাদেশ সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল সংযোজন করা হয়েছে।

৭টি তফসিল:
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত)।
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী।
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান - আরিফ খান।
৪৮৭.
বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার কোন ভাগে সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখার ঘোষণা রয়েছে?
  1. ২য়
  2. ৩য়
  3. ৪র্থ
  4. ৫ম
ব্যাখ্যা

প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে। 
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)। 
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)। 
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)।
• ৫ম- গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৪৮৮.
‘প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের লক্ষ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. ১৮ (১) নং
  2. ১৯ (১) নং
  3. ১৯ (২) নং
  4. ২০ (১) নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ১৯ (২) নং অনুচ্ছেদে '‘প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের লক্ষ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে’' সম্পর্কে বলা হয়েছে।

⇒ ১৯ নং অনুচ্ছেদ:
- ১৯ (১) সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হবেন।
- ১৯ (২) মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ১৮ (১) নং: জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন এবং বিশেষতঃ আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতীত মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
- অনুচ্ছেদ ২০ (১) নং: কর্ম হইতেছে কর্মক্ষম প্রত্যেক নাগরিকের পক্ষে অধিকার, কর্তব্য ও সম্মানের বিষয়, এবং “প্রত্যেকের নিকট হইতে যোগ্যতানুসারে ও প্রত্যেককে কর্মানুযায়ী”-এই নীতির ভিত্তিতে প্রত্যেকে স্বীয় কর্মের জন্য পারিশ্রমিক লাভ করিবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৮৯.
প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানার কথা বলা হয়েছে সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে? 
  1. অনুচ্ছেদ-৩
  2. অনুচ্ছেদ-২
  3. অনুচ্ছেদ-১
  4. অনুচ্ছেদ-৪
ব্যাখ্যা

- ২ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানার কথা।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ -১: প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ - ৩: রাষ্ট্রভাষা।
- জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক এর কথা ৪ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,
- ৪ক নং অনুচ্ছেদে বলা আছে - জাতির পিতার প্রতিকৃতির কথা।
- ৫ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৪৯০.
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন খসড়া কমিটির প্রথম অধিবেশন বসে-
  1. ১৯৭২ সালের ১৯ এপ্রিল
  2. ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল
  3. ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল
  4. ১৯৭২ সালের ২১ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি সংবিধান প্রয়োজন হয়।
- সংবিধান তৈরির জন্য ১৯৭২ সালে ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়।
- এ খসড়া কমিটির প্রথম অধিবেশন বসে  ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল।
- এ কমিটি অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান তৈরি করে এবং তা গণপরিষদে উত্থাপিত হয়।
- ১৯ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত গণপরিষদে সংবিধানের খসড়া পাঠ করা হয়।
- গণপরিষদে সদস্যগণ পক্ষে-বিপক্ষে মত দেন অবশেষে পরিমার্জিত হয়ে উক্ত সংবিধান ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২   থেকে তা কার্যকর হয়।
- স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ দ্রুততম সময়ে একটি আর্দশ সংবিধান প্রণয়ন করে। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধানের ইতিহাস।
৪৯১.
বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনার কোন ভাগে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
ব্যাখ্যা
প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)।
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)।
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)।
• ৫ম- গনপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৯২.
’অর্থবিল’ সম্পর্কিত বিধানাবলী সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখিত?
  1. ৮০ নং
  2. ৮১(১) নং
  3. ৮৩ নং
  4. ৮০(২) নং
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ৮১ নং অনুচ্ছেদ অর্থবিল সম্পর্কিত।

• অর্থবিল:
৮১(১) এই ভাগে "অর্থবিল" বলিতে কেবল নিম্নলিখিত বিষয়সমূহের সকল বা যে কোন একটি সম্পর্কিত বিধানাবলী-সংবলিত বিল বুঝাইবে:
- কোন কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণ;
- সরকার কর্তৃক ঋণগ্রহণ বা কোন গ্যারান্টিদান, কিংবা সরকারের আর্থিক দায়-দায়িত্ব সম্পর্কিত আইন সংশোধন;
- সংযুক্ত তহবিলের রক্ষণাবেক্ষণ, অনুরূপ তহবিলে অর্থপ্রদান বা অনুরূপ তহবিল হইতে অর্থ দান বা নির্দিষ্টকরণ;
- সংযুক্ত তহবিলের উপর দায় আরোপ কিংবা অনুরূপ কোন দায় রদবদল বা বিলোপ;
- সংযুক্ত তহবিল বা প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব বাবদ অর্থপ্রাপ্তি, কিংবা অনুরূপ অর্থ রক্ষণাবেক্ষণ বা দান, কিংবা সরকারের হিসাব-নিরীক্ষা;
- উপরি-উক্ত উপ-দফাসমূহে নির্ধারিত যে কোন বিষয়ের অধীন কোন আনুষঙ্গিক বিষয়।

৮১(২) কোন জরিমানা বা অন্য অর্থদণ্ড আরোপ বা রদবদল, কিংবা লাইসেন্স-ফি বা কোন কার্যের জন্য ফি বা উসুল আরোপ বা প্রদান কিংবা স্থানীয় উদ্দেশ্যসাধনকল্পে কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কোন কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণের বিধান করা হইয়াছে, কেবল এই কারণে কোন বিল অর্থবিল বলিয়া গণ্য হইবে না।

৮১(৩) রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য তাঁহার নিকট পেশ করিবার সময়ে প্রত্যেক অর্থবিলে স্পীকারের স্বাক্ষরে এই মর্মে একটি সার্টিফিকেটে থাকিবে যে, তাহা একটি অর্থবিল, এবং অনুরূপ সার্টিফিকেট সকল বিষয়ে চূড়ান্ত হইবে এবং সেই সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

অন্যদিকে,
• সংবিধানের ৮০ অনুচ্ছেদ আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি সম্পর্কিত।
- ৮০(০২) সংসদ কর্তৃক কোন বিল গৃহীত হইলে সম্মতির জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিতে হইবে।

• সংবিধানের ৮৩ নং অনুচ্ছেদ, সংসদের আইন ব্যতীত করারোপে বাধা সম্পর্কিত।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৪৯৩.
বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চম ভাগের বিষয়বস্তু-
  1. নির্বাচন
  2. বিচার বিভাগ
  3. নির্বাহী বিভাগ
  4. আইনসভা
ব্যাখ্যা

- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,

• বাংলাদেশ সংবিধান:

- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। যথা:-
- সংবিধানের প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

৪৯৪.
বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের আনা হয় কত সালে?
  1. ২০১৫ সালে
  2. ২০১৪ সালে
  3. ২০১৬ সালে
  4. ২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা
• বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে — ২০১৪ সালে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়।

ষোড়শ সংশোধনী-
- উত্থাপন:২০১৪ সালের ৭ সেপ্টম্বর।
- গৃহীত: :২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টম্বর।
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টম্বর।

ষোড়শ সংশোধনীর আলোচ্য বিষয়-
৭২ এর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিধান পাস করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৯৫.
জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে সংবিধানের-  
  1. ৩১(২) নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৯(৩) নং অনুচ্ছেদে
  3. ২৭(৪) নং অনুচ্ছেদে
  4. ২৮(৪) নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

 বাংলাদেশ সংবিধান:
- দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• অনুচ্ছেদ ১৯: সুযোগের সমতা।
- ১৯। (১) সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হবেন।
- ১৯ (২) মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
- ১৯ (৩) জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৪৯৬.
সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা
  2. চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা
  3. চলাফেরার স্বাধীনতা
  4. সংগঠনের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা।

• চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা সংবলিত অনুচ্ছেদ:
- ৩৯(১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইল।

- ৩৯(২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে

(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং
(খ) সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।

অন্যদিকে,
সংবিধানের ৪০ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।
সংবিধানের ৩৬ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - চলাফেরার স্বাধীনতা।
সংবিধানের ৩৮ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - সংগঠনের স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৪৯৭.
সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশনের সূচনায় প্রতি বছর রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেন কোন অনুচ্ছেদের আলোকে?
  1. ৬৩ নং
  2. ৪৮ নং
  3. ৫৬ নং
  4. ৭৩ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ৭৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী:
- ৭৩ (১) রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দান এবং বাণী প্রেরণ করতে পারবেন।
- ৭৩ (২) সংসদ-সদস্যদের প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশনের সূচনায় এবং প্রত্যেক বৎসর প্রথম অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দান করবেন।
- ৭৩ (৩) রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত ভাষণ শ্রবণ বা প্রেরিত বাণী প্রাপ্তির পর সংসদ উক্ত ভাষণ বা বাণী সম্পর্কে আলোচনা করবেন।

অন্যদিকে,
- ৬৩ নং অনুচ্ছেদ: যুদ্ধ।
- ৪৮ অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতি।
- .৫৬ নং অনুচ্ছেদ: মন্ত্রিগণ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৯৮.
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধান বাংলাদেশের সংবিধানে কততম সংশোধনীর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়?
  1. পঞ্চদশ
  2. চতুর্দশ
  3. দ্বাদশ
  4. একাদশ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী:
- সংবিধান আইন ২০১১ (পঞ্চদশ সংশোধনী) সংসদে পাস হয় ২০১১ সালের ২৫ জুন এবং তা রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করে ৩ জুলাই এই সংশোধনীর মাধ্যমে যে অনুচ্ছেদ ও বিষয়গুলো পরিবর্তিত হয়, সেগুলো হচ্ছে -
১. সংবিধানের প্রস্তাবনায় সংশোধন,
২. ২ক অনুচ্ছেদে পরিমার্জন।
৩. ৪ক অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপন (জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংক্রান্ত)
৪. ৭ক ও ৭খ অনুচ্ছেদের সন্নিবেশ।
৫. সংবিধানের ৮ নং অনুচ্ছেদের সংশোধন (রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সংক্রান্ত)।
৬. সংবিধানের ৯, ১০, ১২ নং অনুচ্ছেদের সংযোজন ও পরিমার্জন।
৭. সংবিধানে ১৮ক অনুচ্ছেদের সন্নিবেশ (পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধান)।
৮. সংবিধানে ২৩ক অনুচ্ছেদের সন্নিবেশ (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্পর্কিত)।
৯. ৪২ নং অনুচ্ছেদের সংশোধন ও ৪৪ নং অনুচ্ছেদের প্রতিস্থাপন।
১০. ৫৮ক অনুচ্ছেদের বিলোপ (তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা)।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট।
৪৯৯.
বর্তমান সংবিধান সংস্কার কমিটির প্রধান- [জানুয়ারি,২০২৬]
  1. অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোমেন
  2. অধ্যাপক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
  3. অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুস
  4. অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ
ব্যাখ্যা

• সংবিধান সংস্কার কমিশন: 
- গঠিত হয়- ৬ অক্টোবর, ২০২৪।
- কমিশনের প্রধান- অধ্যাপক ড.  আলী রীয়াজ।
- মোট সদস্য- ৯ জন।

• উল্লেখযোগ্য সুপারিশসমূহ:
- মূলনীতি: ৫টি (সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র।
- সংসদ: দ্বিকক্ষবিশিষ্ট (নিম্নকক্ষ: ৪০০টি আসন; উচ্চকক্ষ: ১০৫টি আসন)।
- মেয়াদ: ৪ বছর (সরকারের মেয়াদ, সংসদের মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ),
- সংসদীয় প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স: ২১ বছর।

উৎস: সংবিধান সংস্কার কমিশন।

৫০০.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি?
  1. ৭২ নং
  2. ৭২(১) নং
  3. ৭৩ নং
  4. ৭৪ নং
ব্যাখ্যা
•গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ৭২ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি।
- তবে এক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করবেন।
- নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ও নতুন বছরের অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণদান করেন।
- রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদে আলোচনা হয়।
- সময়ে সময়ে রাষ্ট্রপতি সংসদে বাণী প্রেরণ করেন।
- তিনি সংসদ মুলতবি রাখতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে তিনি সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারেন।
- সংবিধানে বর্ণিত কয়েকটি পরিস্থিতিতে যেমন- রাষ্ট্রপতির অভিশংসন এর ক্ষেত্রে স্পিকার সংসদ আহ্বান করতে পারেন।

উল্লেখ্য,
- দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ৩০ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে।
- সংসদীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রপতি প্রতি বছর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন।
- এর আগে, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ২০২৪ সালের প্রথম সংসদ অধিবেশন আহ্বান করেন।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় স্পিকার যথাক্রমে জাতীয় সংসদের নেতা ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) ৩০ জানুয়ারি, ২০২৪, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।