বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সংবিধান

মোট প্রশ্ন২,৩৩১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সংবিধান

PrepBank · পাতা / ২৪ · ৩০১৪০০ / ২,৩৩১

৩০১.
বাংলাদেশের সংবিধানে কত প্রকার মালিকানার কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ 
ব্যাখ্যা

• মালিকানা নীতি:
- বাংলাদেশের সংবিধানে তিন ধরণের মালিকানার কথা বলা আছে।
- সংবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই মালিকানাগুলো হলো:
১. রাষ্ট্রীয় মালিকানা
২. সমবায় মালিকানা
৩. ব্যক্তিগত মালিকানা

• সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে। 
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

৩০২.
বাংলাদেশ সংবিধানের দশম অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়বস্তু কী?
  1. বাংলাদেশের কর্মবিভাগ
  2. নির্বাচন
  3. সংবিধানের সংশোধন
  4. বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:

• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন। 
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৩০৩.
বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার কয়টি মূলনীতির কথা বলা হয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রীয় মূলনীতি:
- ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৮(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি চারটি।
- যথা: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।
- এই নীতিসমূহ এবং তার সঙ্গে এই নীতিসমূহ হতে উদ্ভুত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলে পরিগণিত।

উল্লেখ্য,
- মূল সংবিধানের 'দ্বিতীয় ভাগে' রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি শিরোনামে ৮ থেকে ২৫ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মূলনীতিগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
- এগুলো হলো:
• জাতীয়তাবাদ:
- মূল সংবিধানের ৯নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে জাতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে।'
• সমাজতন্ত্র:
- মূল সংবিধানের ১০ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'মানুষের উপর মানুষের শোষণের অবসান ঘটিয়ে ন্যায়ানুগ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে শোষণহীন সমাজ কায়েম করা হবে।'
• গণতন্ত্র:
- সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সমাজজীবন হতে সর্বপ্রকার বৈষম্য দূরীভূত করে নাগরিকদের মৌলিক মানবিক অধিকার এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করা হবে।
• ধর্ম নিরপেক্ষতা:
- সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোন ধর্মের ব্যবহার, কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির বৈষম্য বা তার উপর উৎপীড়ন করা হবে না।'
 
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩০৪.
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কে নিয়োগ দেন?
  1. ক) রাষ্ট্রপতি
  2. খ) প্রধান বিচারপতি
  3. গ) জাতীয় সংসদ
  4. ঘ) মন্ত্রিপরিষদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৫৫(৩) অনুসারে বলা হয়েছে, 'যে সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্টপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান
৩০৫.
'বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা' সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. ২নং অনুচ্ছেদে
  2. ৩নং অনুচ্ছেদে
  3. ৪নং অনুচ্ছেদে
  4. ৫নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:

- স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের মোট এগারটি ভাগ রয়েছে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৫নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা' সম্পর্কে বর্ণিত আছে।
- অনুচ্ছেদ ১ - প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ ২ - প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ ৩ - রাষ্ট্রভাষা।
- অনুচ্ছেদ ৪ - জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- অনুচ্ছেদ ৫(১) - অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা।
- অনুচ্ছেদ ৫(২) - অনুযায়ী রাজধানীর সীমানা আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে।
- অনুচ্ছেদ ৬ - নাগরিকত্ব।
- অনুচ্ছেদ ৭ - সংবিধানের প্রাধান্য।
- অনুচ্ছেদ ৮ - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৩০৬.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন তার বার্ষিক প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতিকে জমা দেয়?
  1. ১৩৮ নং 
  2. ১৩৯ নং 
  3. ১৪০ নং 
  4. ১৪১ নং 
ব্যাখ্যা

সংবিধানে সরকারি কর্ম কমিশন সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ:
- সংবিধানে সরকারি কর্ম কমিশন সংক্রান্ত ৫ টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
- এগুলো হলো: ১৩৭ - ১৪১ নং।

• বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪১ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন তার বার্ষিক প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতিকে জমা দেয়।

উল্লেখ্য, সংবিধানের ১৪১ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে -
- প্রত্যেক কমিশনকে প্রতি বছর মার্চ মাসের শুরুর দিনে বা তার আগেই, আগের বছরের (৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত) সব কাজকর্মের একটা রিপোর্ট তৈরি করে রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিতে হবে।
(২) এই রিপোর্টের সঙ্গে একটা ছোট নোট (মেমো) থাকবে, যেখানে লেখা থাকবে—
(ক) কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিশনের পরামর্শ মানা হয়নি—সেইসব ক্ষেত্রগুলো কী ছিল এবং কেন মানা হলো না, তার কারণ;
(খ) কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল, কিন্তু করা হয়নি—সেইসব ক্ষেত্রগুলো কী ছিল এবং কেন আলোচনা করা হলো না, তার কারণ;
কমিশন যতটা জানে, ততটা সব লিখে রাখবে।
(৩) যে বছর এই রিপোর্ট রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, সেই বছর ৩১ মার্চের পর সংসদের যে প্রথম বৈঠক হবে, সেখানে রাষ্ট্রপতি এই রিপোর্ট আর সেই নোটটা সংসদে উপস্থাপন করবেন।

অন্যদিকে,
- ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন-প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৩৮ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য-নিয়োগ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৩৯ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যপদের মেয়াদ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৪০ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ওয়েবসাইট।

৩০৭.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৭২
  2. অনুচ্ছেদ ৭৫
  3. অনুচ্ছেদ ৭৭
  4. অনুচ্ছেদ ৭৯
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৭০ - রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া।
- অনুচ্ছেদ ৭১ - দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা।
- অনুচ্ছেদ ৭২ - সংসদের অধিবেশন।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ - সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ক - সংসদ সম্পর্কে মন্ত্রীগণের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৪ - স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৫ - কার্যপ্রণালী-বিধি, কোরাম প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৭৬ - সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ।
- অনুচ্ছেদ ৭৭ - ন্যায়পাল।
- অনুচ্ছেদ ৭৮ - সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ৭৯ - সংসদ-সচিবালয়।
- অনুচ্ছেদ ৮০ - আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৩০৮.
সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য কে ছিলেন?
  1. সুলতানা বেগম
  2. রওশন আরা বাচ্চু
  3. জাহানারা ইমাম
  4. বেগম রাজিয়া বানু
ব্যাখ্যা

সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য:
- খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়: ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- কমিটির মোট সদস্য: ৩৪ জন।
- এই কমিটির প্রধান বা সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।
- আওয়ামী লীগ ছাড়া একমাত্র সদস্য ছিলেন ন্যাপের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
- গণপরিষদের সদস্যগণ হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন: ১৪ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়: ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন: ১১ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপিত হয়: ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

৩০৯.
সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা
  2. কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি
  3. অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
  4. ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগে ১৫ নং অনুচ্ছেদে 'মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা' সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ১৫৷ রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশক্তির ক্রমবৃদ্ধিসাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতিসাধন, যাতে নাগরিকদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্জন নিশ্চিত করা যায়:
(ক) অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা;
(খ) কর্মের অধিকার,
(গ) যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিনোদন ও অবকাশের অধিকার; এবং
(ঘ) সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার৷
 
অন্যদিকে,
- সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- সংবিধানের ১৪ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি।
- সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩১০.
সংবিধান সংস্কার কমিটি উচ্চকক্ষের জন্য কতটি আসনের সুপারিশ করেছে?
  1. ১০০টি
  2. ১০৫টি
  3. ১১০টি
  4. ১১৫টি
ব্যাখ্যা

- নিম্নকক্ষ: ৪০০টি আসন; উচ্চকক্ষ: ১০৫টি আসন। 

• সংবিধান সংস্কার কমিশন: 
- গঠিত হয়- ৬ অক্টোবর, ২০২৪।
- কমিশনের প্রধান- অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
- মোট সদস্য- ৯ জন

• উল্লেখযোগ্য সুপারিশসমূহ:
- মূলনীতি: ৫টি (সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র।
- সংসদ: দ্বিকক্ষবিশিষ্ট (নিম্নকক্ষ: ৪০০টি আসন; উচ্চকক্ষ: ১০৫টি আসন)।
- মেয়াদ: ৪ বছর (সরকারের মেয়াদ, সংসদের মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ),
- সংসদীয় প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স: ২১ বছর।

তথ্যসূত্র: সংবিধান সংস্কার কমিশন। (Link)

৩১১.
বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা কীরূপ?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্রীয়
  2. খ) সংসদীয়
  3. গ) এককেন্দ্রিক
  4. ঘ) খ + গ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা হলো এককেন্দ্রিক এবং সংসদীয়।
এই ব্যবস্থায় দেশে কেবল কেন্দ্রিয় সরকার বিদ্যমান এবং দেশের শাসনভার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার উপর ন্যস্ত।
আইন ও শাসন বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। আইনসভা সরকারের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারি।
(সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩১২.
ড. কামাল হোসেনকে আহবায়ক করে 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' গঠন করা হয় কখন?
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭২
  2. খ) ১৫ এপ্রিল, ১৯৭২
  3. গ) ১১ এপ্রিল, ১৯৭২
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
• ১১ এপ্রিল ১৯৭২ সালে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন। এদিন পরিষদের সামনে সকল প্রস্তাব উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। শুধু 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন যোগাযোগ মন্ত্রী এম মনসুর আলী।
• সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে  আহবায়ক করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
• ১৭ এপ্রিল খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় এবং ১২ই অক্টোবর খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপন করে।
• ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহিত হয়।
• ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন। তবে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
• সবশেষে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।   

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৩১৩.
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের কতটি বিভাগ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

• সুপ্রীম কোর্টে দুটি বিভাগ রয়েছে।
১। হাইকোর্ট বিভাগ
২। আপিল বিভাগ।

• সুপ্রীম কোর্টের গঠন:
- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের নাম সুপ্রীম কোট।
- সুপ্রীম কোর্টের প্রধান হল প্রধান বিচারপতি।
- এ আদালতের দু’টি বিভাগ রয়েছে যথা- হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ।

উল্লেখ্য,
- রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেন।
- প্রধান বিচারপতির পরামর্শে রাষ্ট্রপতি সুপ্রীম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন।
- বাংলাদেশী কোন নাগরিক ১০ বছর এডভোকেট হিসেবে অভিজ্ঞতা থাকলে বা ১০ বছর বিচার বিভাগীয় কোন পদে চাকুরি করলে সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ লাভের যোগ্য বলে বিবেচিত হন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৪.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার রক্ষণ সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ২৭ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৩১ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৩২ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৩৩ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়,
“আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা হইতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবে না।”
অন্যদিকে,
- ২৭ নং অনুচ্ছেদ : আইনের দৃষ্টিতে সমতা
- ৩১ নং অনুচ্ছেদ : আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার
- ৩৩ নং অনুচ্ছেদ : গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
৩১৫.
আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার সম্পর্কে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ৩১ নং
  2. ৩২ নং
  3. ৩৩ নং
  4. ৩৪ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৬ নং অনুচ্ছেদ থেকে ৪৭ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে।
- সংবিধানের ৩১ নং অনুচ্ছেদে, বর্ণিত হয়েছে: আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদে, বর্ণিত হয়েছে: জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ।
- সংবিধানের ৩৩ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে, 'গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ'।
- সংবিধানের ৩৪ নং অনুচ্ছেদে, বর্ণিত হয়েছে: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩১৬.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা' সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ক) ১৯নং অনুচ্ছেদে
  2. খ) ১৭নং অনুচ্ছেদে
  3. গ) ১৮নং অনুচ্ছেদে
  4. ঘ) ১৫নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ সংবিধান:
- বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে ১৭ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র পরিচালনার ‍মূলনীতি হিসেবে 'অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাকে' সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
-  ১৫ নং অনুচ্ছেদ : মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা।
- ১৮ নং অনুচ্ছেদ : জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা
- ১৯ নং অনুচ্ছেদ : সুযোগের সমতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৩১৭.
রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবে। - এটি সংবিধানে কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ - ২৪
  2. অনুচ্ছেদ - ২৫
  3. অনুচ্ছেদ - ২৩ (ক)
  4. অনুচ্ছেদ - ২৩
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ২৫নং অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

• অনুচ্ছেদ - ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন:
জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র-

(ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবে;
(খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবে; এবং
(গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবে৷

অন্যদিকে: 
অনুচ্ছেদ - ২৩: জাতীয় সংস্কৃতি
অনুচ্ছেদ - ২৩ক: উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি
অনুচ্ছেদ - ২৪: জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩১৮.
কোন সংশোধনীর মাধ্যমে 'জাতীয় স্বাধীনতার ঐতিহাসিক যুদ্ধ' এর পরিবর্তে 'জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম' প্রতিস্থাপিত হয়?
  1. ক) সপ্তদশ
  2. খ) এয়োদশ
  3. গ) পঞ্চদশ
  4. ঘ) চতুর্দশ
ব্যাখ্যা
প্রস্তাবনা
আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি;
 
আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল -জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে। 
• ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ''জাতীয় স্বাধীনতার ঐতিহাসিক যুদ্ধ'' এর পরিবর্তে বাহাত্তরের সংবিধানের সাথে মিল রেখে ''জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম'' প্রতিস্থাপিত হয়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩১৯.
বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করা হয়- 
  1. ৩০ নভেম্বর, ২০০৭ সালে 
  2. ৩ নভেম্বর, ২০০৭ সালে 
  3. ১ নভেম্বর, ২০০৭ সালে 
  4. ২৭ নভেম্বর, ২০০৭ সালে 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা:
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম।
- এটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য শেষ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।
- বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত—উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট) এবং অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।
- সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করার নির্দেশনা দেয়া হয়।
- কিন্তু স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা প্রায় ৩৬ বছর পর ১ নভেম্বর ২০০৭ সালে কার্যকর হয়।
- ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধনী) অধ্যাদেশ ২০০৭ জারি করে।
- এই অধ্যাদেশ ২০০৯ সালে আইনে রূপান্তরিত হয়।
- ১ নভেম্বর ২০০৭ থেকে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে শুধুমাত্র বিচারিক দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেন। - একই সময়ে, সিভিল সার্ভিসের প্রশাসনিক বিভাগের কর্মকর্তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শান্তিভঙ্গ প্রতিরোধ, লাইসেন্স প্রদান এবং ফৌজদারি কার্যক্রমে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
- এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্বাধীন বিচার বিভাগের যাত্রা শুরু হয়।

উৎস:
১. পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
২. পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
৩. সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট। 

৩২০.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয় কবে?
  1. ১১ অক্টোবর, ১৯৭২
  2. ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
  3. ১৪ নভেম্বর, ১৯৭২
  4. ১ ডিসেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে। 
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৩২১.
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য সংবিধানের যে সংশোধন বাতিল করতে হবে-
  1. পঞ্চদশ
  2. দ্বাদশ
  3. একাদশ
  4. ত্রয়োদশ
ব্যাখ্যা

⇒ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল।
→ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধন বাতিল করতে হবে।

♦ পঞ্চদশ সংশোধনী:
→ ২০১১ সালের ৩০ জুন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূলনীতিগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
→ রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসাবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।

♦ পঞ্চদশ (১৫তম) সংশোধনী এর বিষয়বস্তু:
• তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল;
• দলীয় সরকারের অধীন মেয়াদ শেষ হবার আগের ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান;
• সংরক্ষিত মহিলা আসন ৪৫ থেকে ৫০ করা;
• ৪৭ এর ৩ অনুচ্ছেদে যুদ্ধাপরাধ বা মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য "অন্য কোন ব্যক্তি, ব্যক্তিসমষ্টি বা সংগঠন" এর বিচার করার বিধান সংযুক্ত করা;
• জরুরী অবস্থার মেয়াদ অনধিক ১২০ দিন করা হয়;
• সংবিধানে নতুন তিনটি তফসিল যুক্ত করা হয়- যথা পঞ্চম, ষষ্ঠ, ও সপ্তম।

⇒ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আংশিক অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
→ বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোট পদ্ধতি বাতিল করে সংবিধানের যে পঞ্চদশ সংশোধনী আনা হয়েছিলো সেটিকে আংশিক বাতিল করেছে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।
→ এই সংশোধনীতে ৫৪টি পরিবর্তন আনা হয়েছিলো।
→ আদালত পঞ্চদশ সংশোধনীর মোট ছয়টি বিধান বাতিল করেছে।

তথ্যসূত্র - ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, বিবিসি বাংলা ও ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, বিবিসি বাংলা।

৩২২.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন গঠনের উল্লেখ আছে?
  1. ১২৭ নং
  2. ১৩৭ নং
  3. ১৩৯ নং
  4. ১৪১ নং
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে 'সরকারি কর্ম কমিশন' গঠনের উল্লেখ করে বলা হয়েছে।

 ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ: কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠা।
- ‘আইনের দ্বারা বাংলাদেশের জন্য এক বা একাধিক সরকারী কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠার বিধান করা যাইবে এবং একজন সভাপতিকে ও আইনের দ্বারা যেরূপ নির্ধারিত হবে, সেরূপ অন্যান্য সদস্যকে নিয়ে প্রত্যেক কমিশন গঠিত হইবে’।

অন্যদিকে,
১২৭। মহা হিসাব-নিরীক্ষক পদের প্রতিষ্ঠা।
১৩৯। সরকারী কর্ম কমিশনের সভাপতি বা অন্য কোন সদস্য পদের মেয়াদ।
১৪১। বার্ষিক রিপোর্ট।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৩২৩.
বাংলাদেশের সংবিধান কী দিয়ে শুরু?
  1. তফসিল
  2. সংশোধনী
  3. প্রস্তাবনা
  4. মূলনীতি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দলিল।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
- এই সংবিধানে ৭টি তফসিলসহ ১১টি ভাগ ও ১টি প্রস্তাবনা আছে।
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রস্তাবনা দিয়ে শুরু
- সংবিধানের প্রস্তাবনার উপরে লেখা আছে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
        ii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান। 
৩২৪.
বাংলাদেশের সংবিধানের কততম অনুচ্ছেদে 'জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার' দেওয়া হয়েছে?
  1. ২৬ নং
  2. ২৮ নং
  3. ৩২ নং
  4. ৩৮ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৬ নং অনুচ্ছেদ থেকে ৪৭ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে।
- সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদে, বর্ণিত হয়েছে: জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ।
• আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না।

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ২৬ নং অনুচ্ছেদে, বর্ণিত হয়েছে: মৌলিক অধিকারের অসমঞ্জস আইন বাতিল।
- সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদে, বর্ণিত হয়েছে: ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।
- সংবিধানের ৩৮ নং অনুচ্ছেদে, বর্ণিত হয়েছে: সংগঠনের স্বাধীনতা। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩২৫.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সংগীত হিসেবে 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গানটি গ্রহন করা হয়েছে?
  1. ৪(১) নং
  2. ৪(২) নং
  3. ৪(৩) নং
  4. ৪(৪) নং
ব্যাখ্যা
৪ নং অনুচ্ছেদ: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক
৪(১): প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত "আমার সোনার বাংলা"র প্রথম দশ চরণ। 
৪(২) ‘প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত।’
৪(৩) নং অনুচ্ছেদে জাতীয় প্রতীকের কথা বলা হয়েছে। 

জাতীয় সংগীত: 
- 'আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি' এই গানটির প্রথম ১০ চরন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গৃহীত।
- ৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে এটিকে জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহন করা হয়।
- ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে সরকারি ভাবে তা গৃহীত হয়।
- এটি প্রথম ১৯০৫ (১৩১২ বঙ্গাব্দ) সালে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এই গানের সুরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং এবং এতে বাউল গগন হরকরার সুরের প্রভাব রয়েছে।
- গানটির ইংরেজি অনুবাদ করেছেন সৈয়দ আলী আহসান

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩২৬.
প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হয় কার নেতৃত্বে?
  1. ক) রাষ্ট্রপতি
  2. খ) ক্যাবিনেট সচিব
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী
  4. ঘ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। এই পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতির নামে দেশের শাসন পরিচালিত হলেও প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারি প্রধানমন্ত্রী।
- তিনি বাংলাদেশের সরকার প্রধান এবং প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা তার নেতৃত্বে প্রযুক্ত হয়।
- মন্ত্রিসভা তার ইচ্ছাধীন থাকে। তার নেতৃত্বেই সংসদে আইন প্রণীত হয়। জরুরি অবস্থার সময় তিনি মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত ছাড়াই যেকোন নির্দেশনা দিতে পারেন।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩২৭.
বাংলাদেশের সংবিধানকে কতটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ১০টি
  2. ১১টি
  3. ১২টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান: 
- বাংলাদেশের সংবিধান লিখিত এবং গ্রন্থীত।
- সংবিধানের ১১টি ভাগ, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ এবং একটি প্রস্তাবনাসহ ৭টি তফসিল রয়েছে।
- সংবিধানে সরকারের তিনটি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ পদের অধিকারী যেমন- রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, অ্যার্টনি জেনারেলসহ অন্যান্যদের ক্ষমতা, কার্যাবলি সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৮.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে 'আন্তর্জাতিক চুক্তি' সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ১৩৯ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৪৪ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৪৫ক নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৪৬ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৫ক নং অনুচ্ছেদে 'আন্তর্জাতিক চুক্তি' সম্পর্কে বলা হয়েছে।

⇒ ১৪৫ক। নং অনুচ্ছেদ:
- বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে, এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট অনুরুপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।

অন্যদিকে,
- ১৩৯ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যপদের মেয়াদ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৪৪ নং অনুচ্ছেদে 'সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৪৬ নং অনুচ্ছেদে 'বাংলাদেশের নামে মামলা' সম্পর্কে বলা হয়েছে। 
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৩২৯.
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয় নিচের কোনটি?
  1. সরকারি কর্ম কমিশন
  2. রাষ্ট্রপতির কার্যালয়
  3. নির্বাচন কমিশন
  4. বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন
ব্যাখ্যা

- বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়। 

• সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ:
- রাষ্ট্রপতির কার্যালয়,
- জাতীয় সংসদ,
- ন্যায়পাল,
- সুপ্রিম কোর্ট,
- প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল,
- নির্বাচন কমিশন,
- মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়,
- সরকারি কর্ম কমিশন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৩৩০.
সংযুক্ত তহবিলের উপর ধার্য ব্যয় বলে উল্লিখিত বিষয়সমূহ সংবিধানের কোন ধারার অন্তর্ভুক্ত-
  1. ৮৪
  2. ৮১
  3. ৮৮
  4. ৮৫
ব্যাখ্যা

৮৮নং অনুচ্ছেদ - সংযুক্ত তহবিলের উপর দায় :

⇒ ৮৮নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয় নিম্নরূপ হইবে:

(ক) রাষ্ট্রপতিকে দেয় পারিশ্রমিক ও তাঁহার দপ্তর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয়;
(খ) (অ) স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার, 
(আ) সুপ্রীম কোর্টের বিচারকগণ,
(ই) মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
(ঈ) নির্বাচন কমিশনারগণ,
(উ) সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্যদিগকে দেয় পারিশ্রমিক;

 (গ) সংসদ, সুপ্রীম কোর্ট, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের দপ্তর, নির্বাচন কমিশন এবং সরকারী কর্ম কমিশনের কর্মচারীদিগকে দেয় পারিশ্রমিকসহ প্রশাসনিক ব্যয়;

 (ঘ) সুদ, পরিশোধ-তহবিলের দায়, মূলধন পরিশোধ বা তাহার ক্রম-পরিশোধ এবং ঋণসংগ্রহ-ব্যপদেশে ও সংযুক্ত তহবিলের জামানতে গৃহীত ঋণের মোচন-সংক্রান্ত অন্যান্য ব্যয়সহ সরকারের ঋণ-সংক্রান্ত সকল দেনার দায়;

 (ঙ) কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রী বা রোয়েদাদ কার্যকর করিবার জন্য প্রয়োজনীয় যে কোন পরিমাণ অর্থ; এবং

 (চ) এই সংবিধান বা সংসদের আইন-দ্বারা অনুরূপ দায়যুক্ত বলিয়া ঘোষিত অন্য যে কোন ব্যয়।

অন্যদিকে,
⇒ ৮৪নং অনুচ্ছেদ - সংযুক্ত তহবিল ও প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব।
- ৮৪ (১) সরকার কর্তৃক প্রাপ্ত সকল রাজস্ব, সরকার কর্তৃক সংগৃহীত সকল ঋণ এবং কোন ঋণ পরিশোধ হইতে সরকার কর্তৃক প্রাপ্ত সকল অর্থ একটি মাত্র তহবিলের অংশে পরিণত হইবে এবং তাহা "সংযুক্ত তহবিল" নামে অভিহিত হইবে। 
- ৮৪ (২) সরকার কর্তৃক বা সরকারের পক্ষে প্রাপ্ত অন্য সকল সরকারী অর্থ প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাবে জমা হইবে।

⇒ ৮১নং অনুচ্ছেদ -অর্থবিল সংক্রান্ত।

⇒ ৮৫নং অনুচ্ছেদ -সরকারী অর্থের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত।
-  সরকারী অর্থের রক্ষণাবেক্ষণ, ক্ষেত্রমত সংযুক্ত তহবিলে অর্থপ্রদান বা তাহা হইতে অর্থ প্রত্যাহার কিংবা প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাবে অর্থপ্রদান বা তাহা হইতে অর্থ প্রত্যাহার এবং উপরি-উক্ত বিষয়সমূহের সহিত সংশ্লিষ্ট বা আনুষঙ্গিক সকল বিষয় সংসদের আইন-দ্বারা এবং অনুরূপ আইনের বিধান না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত বিধিসমূহ-দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে।

উৎস: সংবিধান।

৩৩১.
সংবিধানের তৃতীয় সংশোধনীর বিষয়বস্তু কী?
  1. গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ
  2. সীমানা অন্তর্ভুক্ত ও বহির্ভূতকরণ
  3. সংবিধানের চতুর্থ ভাগের সংশোধন
  4. মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের তৃতীয় সংশোধনী:
- ১৯৭৪ সালের ২৮ নভেম্বর জাতীয় সংসদে এ সংশোধনী পাস হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ ভারতকে বেরুবাড়ি হস্তান্তর করে। 
- এ হস্তান্তরের শর্ত ছিল ভারত দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় যাবার জন্য বাংলাদেশকে তিন বিঘা করিডোর প্রদান করবে। 

সীমানা অন্তর্ভুক্ত ও বহির্ভূতকরণের বিজ্ঞপ্তি-
- চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যবর্তী ভূ-সীমানা নির্ধারণের পর সরকারী গেজেটে বিজ্ঞপ্তি দ্বারা সরকার যে তারিখ বর্ণনা করেন সেই তারিখ হইতে উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিত 'অন্তর্ভুক্ত এলাকা' বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার অংশ হইবে এবং 'বহির্ভূত এলাকা' উহার অংশ হইবে না।

অন্যদিকে,
• সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর বিষয়বস্তু:
- সংবিধানের চতুর্থ ভাগের সংশোধন।
-মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ।

• সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর বিষয়বস্তু:
- গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৩৩২.
'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন কে?
  1. এম মনসুর আলী
  2. ড. কামাল হোসেন
  3. আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. বেগম রাজিয়া বানু
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়: ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- এদিন পরিষদের সামনে সকল প্রস্তাব উত্থাপন করেন: ড. কামাল হোসেন।
- 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন: এম মনসুর আলী।
- খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়: ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়: ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন: ১৪ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
- বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান, বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।
৩৩৩.
সংবিধানের ২৩ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. জাতীয় সংস্কৃতি
  2. জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা
  3. সুযোগের সমতা
  4. মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ২৩ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - জাতীয় সংস্কৃতি।

অন্যদিকে,
’জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ১৮ নং অনুচ্ছেদ।
’সুযোগের সমতা’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ১৯ নং অনুচ্ছেদ।
’মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার কথা’ ১৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৩৩৪.
হস্তলিখিত মূল সংবিধানে গণপরিষদের কতজন সদস্য স্বাক্ষর করেন?
  1. ৪০৩ জন
  2. ৩৯৯ জন
  3. ৩৪৩ জন
  4. ৩০৩ জন
ব্যাখ্যা
সংবিধানে স্বাক্ষর:
- বাংলাদেশের সংবিধান স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
- এটি একটি লিখিত দলিল।
- সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালের ১১ই এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- গণপরিষদের সদস্য ছিল মোট ৪০৩ জন।
- গণপরিষদের ৩৯৯ জন সদস্য হস্তলিখিত মূল সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২ সংবিধানে গণপরিষদ সদস্যদের স্বাক্ষর দান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৩৩৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়?
  1. ১৪০(৩)
  2. ১৩৮(১)
  3. ১৩৫(১)
  4. ১২৫(৪)
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয় — ১৩৮(১) অনুচ্ছেদ।

সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ:

অনুচ্ছেদ: ১৩৮(১)।
বিবরণ: বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী - "প্রত্যেক সরকারী কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন"।
সাম্প্রতিক ঘটনা: সম্প্রতি, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ১৪তম চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন ও ১২ জন সদস্য পদত্যাগ করেছেন।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান, প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৩৩৬.
গণভোটের মাধ্যমে কততম সংশোধনী গৃহিত হয়?
  1. ক) চতুর্থ
  2. খ) অষ্টম
  3. গ) দ্বাদশ
  4. ঘ) ত্রয়োদশ
ব্যাখ্যা
১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদে সংবিধানের ১২তম সংশোধনী গৃহিত হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর এ সংশোধনীর পক্ষে বিপক্ষে গণভোট অনুষ্ঠিত যেখানে সংশোধনীর পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠের রায় পড়ে। এতে ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ রাষ্ট্রপতি এই বিলে স্বাক্ষর করেন। এ সংশোধনীতে সরকার ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়। রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে সর্বময় ক্ষমতা মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত করা হয়৷ (সূত্রঃ আইন মন্ত্রণালয়)
৩৩৭.
’সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে?
  1. ৭ক
  2. ৭খ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান: 
৭ক অনুচ্ছেদ: সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ।

• প্রথম ভাগে রয়েছে: 
১৷ প্রজাতন্ত্র;
২৷ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা;
২ক৷ রাষ্ট্রধর্ম;
৩৷ রাষ্ট্রভাষা;
৪৷ জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক;
৪ক। জাতির পিতার প্রতিকৃতি;
৫৷ রাজধানী;
৬৷ নাগরিকত্ব;
৭৷ সংবিধানের প্রাধান্য;
৭ক। সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ;
৭খ। সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৩৩৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৫নং অনুচ্ছেদে উল্লেখিত নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় -
  1. এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে
  2. দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে
  3. মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে
  4. উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে
ব্যাখ্যা

সংসদে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া:
⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৫ অনুচ্ছেদের বিধান কার্যপ্রণালী-বিধি, কোরাম প্রভৃতি:

- (১) এই সংবিধান-সাপেক্ষে
(ক) সংসদ কর্তৃক প্রণীত কার্যপ্রণালী-বিধি-দ্বারা এবং অনুরূপ বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত কার্যপ্রণালী-বিধি-দ্বারা সংসদের কার্যপ্রণালী নিয়ন্ত্রিত হইবে;
(খ) উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংসদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্র ব্যতীত সভাপতি ভোটদান করিবেন না এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তিনি নির্ণায়ক ভোট প্রদান করিবেন;
(গ) সংসদের কোন সদস্যপদ শূন্য রহিয়াছে, কেবল এই কারণে কিংবা সংসদে উপস্থিত হইবার বা ভোটদানের বা অন্য কোন উপায়ে কার্যধারায় অংশগ্রহণের অধিকার না থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি অনুরূপ কার্য করিয়াছেন, কেবল এই কারণে সংসদের কোন কার্যধারা অবৈধ হইবে না।

- (২) সংসদের বৈঠক চলাকালে কোন সময়ে উপস্থিত সদস্য-সংখ্যা ষাটের কম বলিয়া যদি সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়, তাহা হইলে তিনি অন্যূন ষাট জন সদস্য উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত বৈঠক স্থগিত রাখিবেন কিংবা মুলতবী করিবেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

৩৩৯.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদের উল্লেখ রয়েছে?
  1. ৫১নং অনুচ্ছেদ
  2. ৫৪নং অনুচ্ছেদ
  3. ৫৭নং অনুচ্ছেদ
  4. ৫৯নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৫০ - রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫১ - রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদে ৫২ - রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের বিষয়টি সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ৫৩ - অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৪ - অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৫৫ - মন্ত্রিসভা।
- অনুচ্ছেদ ৫৬ - মন্ত্রিগণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৭ - প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৮ - অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৯ - স্থানীয় শাসন।
- অনুচ্ছেদ ৬০ - স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৪০.
নিচের কোনটি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি নয়?
  1. জাতীয়তাবাদ
  2. সমাজতন্ত্র
  3. ধর্মনিরপেক্ষতা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের ৮-২৫ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।

৮ নং অনুচ্ছেদের ১ নং দফানুসারে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান মূলনীতি হলো চারটি।
এগুলো হলো:
- জাতীয়তাবাদ
- সমাজতন্ত্র
- গণতন্ত্র ও
- ধর্মনিরপেক্ষতা।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
৩৪১.
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গৃহীত হয় সংবিধানের কত নং সশোধনীর মাধমে?
  1. ক) একাদশ সংশোধনী
  2. খ) দ্বাদশ সংশোধনী
  3. গ) ত্রয়োদশ সংশোধনী
  4. ঘ) পঞ্চদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
• ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী গৃহীত হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান সংবিধানে সন্নিবেশ করা হয়।
- ৫৮ খ নং অনুচ্ছেদে এই সংক্রান্ত বিধানটি সংযুক্ত করা হয়েছিল।

- তবে পরবর্তীতে হাইকোর্ট ২০১১ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করলে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হয়।

উৎস: আইন মন্ত্রণালয় এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৩৪২.
সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয় কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. দ্বাদশ 
  2. ত্রয়োদশ
  3. চতুর্দশ
  4. পঞ্চদশ
ব্যাখ্যা

পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০শে জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন হয় ২০১১ সালের ৩ জুলাই।
- সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।

এছাড়াও,
- এই সংশোধনীর দ্বারা 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল' করা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।
- সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে ‘গণভোটের’ বিধান বাদ দিয়েছিল।
- এ ছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানও যুক্ত করা হয়। আগে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে নির্বাচন করার বিধান থাকলেও পঞ্চদশ সংশোধনীতে পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান সংযোজন করা হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

৩৪৩.
সংবিধানের গাইডিং স্টার বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) তফসিল
  2. খ) প্রস্তাবনা
  3. গ) বিভাগ
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
প্রস্তাবনা: সংবিধানের গাইডিং স্টার

প্রস্তাবনা সমগ্র জাতির জন্য একটি দিক নির্দেশনা হিসাবে কাজ করে কারণ প্রস্তাবনাকে সামনে রেখেই দেশের সরকার ও সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংবিধানের কোনো কার্যকরী অংশের বা বাক্যের অস্পষ্টতা দূরীকরণে ব্যাখ্যা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সংবিধানের প্রস্তাবনা। তাই, প্রস্তাবনাকে সংবিধানের গাইডিং স্টার বলা হয়।

প্রস্তাবনা হচ্ছে সংবিধানের দর্পন। এটি সংবিধানের মূল বিষয় সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা প্রদান করে।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৪৪.
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ইংরেজী নাম কী?
  1. Parliament
  2. National Parliament 
  3. Legislature
  4. The House of the Nation
ব্যাখ্যা

⇒ সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ইংরেজী নাম 'The House of the Nation'.
→ সংবিধানের পঞ্চম ভাগে আইনসভার উল্লেখ রয়েছে।
→ সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে।

• জাতীয় সংসদ:
→ জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
→ দেশের সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এ সংসদের ওপর ন্যস্ত।
→ প্রতি নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
→ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে (২০১১) মহিলা আসন সংখ্যা ৫০ করা হয়।
→ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
→ জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
→ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়।
→ জাতীয় সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য কোরাম থাকতে হয়।
→ অধিবেশনে কোরামের জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন।
→ সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
→ ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।

৩৪৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'শিক্ষার অধিকারের' কথা বলা হয়েছে ?
  1. ক) ১৫ নং
  2. খ) ২৮ নং
  3. গ) ১৯ নং
  4. ঘ) ২২ নং
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থাঃ
- ১৫ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশক্তির ক্রমবৃদ্ধিসাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতিসাধন, যাহাতে নাগরিকদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্জন নিশ্চিত করা যায়: 
 
ক) অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা।
 খ) কর্মের অধিকার, অর্থাৎ কর্মের গুণ ও পরিমাণ বিবেচনা করিয়া যুক্তিসঙ্গত মজুরীর বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার অধিকার। 
 গ) যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিনোদন ও অবকাশের অধিকার; এবং 
 ঘ) সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতাপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত আয়ত্তাতীত কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারী সাহায্যলাভের অধিকার।

অন্যদিকে,
- ১৯ নং অনুচ্ছেদ : ‍সুযোগের সমতা।
- ২৮ নং অনুচ্ছেদ : ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।
- ২২ নং অনুচ্ছেদ : নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৪৬.
সংবিধানে প্রস্তাবনার কোন ভাগে সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখার ঘোষণা রয়েছে?
  1. ২য় ভাগে
  2. ৩য় ভাগে
  3. ৪র্থ ভাগে
  4. ৫ম ভাগে
ব্যাখ্যা

প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে। 
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম - গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য় - মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)। 
• ৩য় - শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)। 
• ৪র্থ - সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)। 
• ৫ম - গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৩৪৭.
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন ও বাতিল সংক্রান্ত সংবিধানের সংশোধনী কোনটি?
  1. ত্রয়োদশ সংশোধনী
  2. চতুর্দশ সংশোধনী
  3. পঞ্চদশ সংশোধনী
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
ত্রয়োদশ সংশোধনী: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন
- ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ এ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী জমির উদ্দিন সরকার এই সংশোধনীটি উত্থাপন করেন।
- একজন প্রধান উপদেষ্টা এবং দশ জন উপদেষ্টা নিয়ে এই সরকার গঠিত হতো।

অন্যদিকে,
⇒ পঞ্চদশ সংশোধনী: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল
- এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
- সেখানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থা।
- এই সংশোধনীতে নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার কথা বলা হয়।
- ২০১১ সালের ৩০ জুন এই সংশোধনী আনা হয়।
- পঞ্চদশ সংশোধনী বিলটি তৎকালীন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ সংসদে এনেছিলেন।
- এছাড়াও, রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসাবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয়।
- তবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।

উৎস: ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, BBC.
৩৪৮.
সংবিধানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাক্ষর করেন -
  1. ক) ১২ নভেম্বর, ১৯৭২
  2. খ) ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
  3. গ) ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  4. ঘ) ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে গণপরিষদের সদস্যগণ হাতে লেখা সংবিধানের কপিতে স্বাক্ষর প্রদান করেন।
• সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর করেন - সংসদ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
• তারপর যথাক্রমে - সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং তাজউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষর করেন।
• একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি।
• হস্তলিখিত সংবিধানে মোট ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৩৪৯.
সংবিধানের কোন সংশোধনীতে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়?
  1. ২য় সংশোধনী
  2. ৫ম সংশোধনী
  3. ৮ম সংশোধনী
  4. ১৭তম সংশোধনী
ব্যাখ্যা
৮ম সংশোধনী:
- ১৯৮৮ সালে এই সংশোধনী পাশ হয়।
- ১৯৮৯ আপীল বিভাগ হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন সংক্রান্ত ধারাটি অসাংবিধানিক উল্লেখ করে তা অবৈধ বলে রায় প্রদান করে।
- অষ্টম সংবিধান সংশোধন আইন দ্বারা সংবিধানের ২ক, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।
এই সংশোধনী আইনবলে-
১. ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়।
২. ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়।
৩. সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদে Bengali শব্দটি পরিবর্তন করে Bangla করা হয় এবং Dacca পরিবর্তন করে Dhaka করা হয়।
৪. সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মাননা, পুরস্কার গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।

উল্লেখ্য:
- 'জরুরি অবস্থা' জারির বিধান সংবিধানের ২য় সংশোধনীতে সন্নিবেশিত হয়েছে।
- ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রবর্তিত হয়।
- ১৭তম সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিলো নারীদের জন্যে সংরক্ষিত ৫০টি আসন আরও ২৫ বছরের জন্যে সংরক্ষণ করা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৩৫০.
”আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন” সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখিত?
  1. ২৭নং
  2. ৩১নং
  3. ২৯নং
  4. ২৫নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ২৫নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু- আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।
• সংবিধানের ২৭নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু- আইনের দৃষ্টিতে সমতা।
• সংবিধানের ৩১নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু- আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার।
• সংবিধানের ২৯নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু- সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৩৫১.
ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ বলে?
  1. ৪০নং
  2. ২৪নং
  3. ৪১নং
  4. ১৭নং
ব্যাখ্যা
’ধর্মীয় স্বাধীনতা’ নিশ্চিত করা হয়েছে সংবিধানের ৪১নং অনুচ্ছেদ বলে।

অন্যদিকে,
- ২৪ নং অনুচ্ছেদে, জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন নিদের্শনা সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে।
- ১৭ নং অনুচ্ছেদে ’অবৈতনিক ও বাদ্যতামূলক শিক্ষার’ কথা বলা হয়েছে।
- ৪০ নং অনুচ্ছেদ পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা  বিষয়ক ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৩৫২.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ' এর কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) ৪২ নং
  2. খ) ৪৩ নং
  3. গ) ৪৪ নং
  4. ঘ) ৪৫ নং
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ৪৪নং অনুচ্ছেদে 'মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ' এর কথা বলা হয়েছে'।

সংবিধানের ৪৪নং অনুচ্ছেদ অনুসারে,
৪৪ (১) নং অনুচ্ছেদে বলা আছে,
- এই ভাগে প্রদত্ত অধিকারসমূহ বলবৎ করিবার জন্য এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা রুজু করিবার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা হইল। 
 
• ৪৪ (২) নং অনুচ্ছেদে বলা আছে,
- এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটাইয়া সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোন আদালতকে তাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ঐ সকল বা উহার যে কোন ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করিতে পারিবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৫৩.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'ধর্মীয় স্বাধীনতা'র কথা বর্ণিত আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৪১
  2. অনুচ্ছেদ ৩৮
  3. অনুচ্ছেদ ৬৫ (১)
  4. অনুচ্ছেদ ৪৮(১)
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের তৃতীয় ভাগের অনুচ্ছেদ ৪১ নং অনুযায়ী, 
ধর্মীয় স্বাধীনতা,
১। আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা-সাপেক্ষে,
- প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রয়েছে; 
- প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ-সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রয়েছে। 
২। কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যোগদানকারী কোন ব্যক্তির নিজস্ব ধর্ম-সংক্রান্ত না হলে তাঁকে কোন ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ কিংবা কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাসনায় অংশগ্রহণ বা যোগদান করতে হবে না।

অন্যদিকে -
- অনুচ্ছেদ ৩৮: জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাঢ়বে।
- অনুচ্ছেদ ৬৫ (১):  "জাতীয় সংসদ" নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকবে এবং এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইনপ্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হবে:
- অনুচ্ছেদ ৪৮(১): বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৫৪.
রাষ্ট্রপতি সংবিধান সংশোধনী বিলে ৭ দিনের মধ্যে সম্মতি না দিলে নিচের কোনটি গণ্য হবে?
  1. সম্মতিদান করা হয়েছে বলে গণ্য হবে
  2. সংসদে পুনর্বিবেচনা হবে
  3. স্থগিত হবে
  4. বিলটি বাতিল হবে
ব্যাখ্যা

⇒ রাষ্ট্রপতি সংবিধান সংশোধনী বিলে ৭ দিনের মধ্যে সম্মতি না দিলে বিলটিতে সম্মতিদান করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।

দশম অধ্যায়:
- সংবিধানের দশম অধ্যায়ের বিষয়বস্তু 'সংবিধানের সংশোধন'।
- সংসদের আইন-দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা সংশোধন হতে পারবে।
- সংবিধান সংশোধনী বিলের শিরোনামে 'কোন বিধান সংশোধন করা হবে' স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলে বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা যাবে না।
- সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরূপ কোন বিলে সম্মতিদানের জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে না।
- উপরি-উক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তাহা উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন, এবং তিনি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।

⇒ ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন। 
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৩৫৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে "রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন" বলা হয়েছে?
  1. ২৭ নং
  2. ২৮(১) নং
  3. ২৮(২) নং
  4. ২৯ নং
  5. ৩৪ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮(২) অনুচ্ছেদে "রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন" বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে,

• ২৮(১) নং: কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ন, নারী পুরুষ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না।
• ২৮(২) নং: রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন।
• ২৮(৩) নং: কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাবে না।
• ২৮(৪)  নং: নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যেকোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করবে না ।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ২৭ নং: আইনের দৃষ্টিতে সমতা।
- অনুচ্ছেদ ২৯ নং: সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৪ নং: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৩৫৬.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ভাগে মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ১ম ভাগে
  2. ২য় ভাগে
  3. ৩য় ভাগে
  4. ৪র্থ ভাগে
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- জনগণের মৌলিক অধিকারের উৎস হলো সংবিধান।
- সংবিধান জনগণের মৌলিক অধিকারের রক্ষক।
- সংবিধানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং অধিকারের নিশ্চয়তার বিধান সন্নিবেশিত থাকে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানে তফসিল আছে ৭টি, সংবিধানে মূলনীতি আছে ৪টি, সংবিধানে প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১১টি ভাগ রয়েছে।
- সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ১ম ভাগ: প্রজাতন্ত্র।
- ২য় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
- ৪র্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৫৭.
গণপরিষদের প্রথম ডেপুটি স্পিকার ছিলেন—
  1. শাহ আব্দুল করিম
  2. মোহাম্মদ উল্লাহ
  3. শাহ আব্দুল হামিদ
  4. সফিউল্লাহ চৌধুুরী
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশ গণপরিষদ হল ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক  সংবিধান  অধিবেশন।
- রাষ্ট্রপতি গণপরিষদের আহ্বান করেন-১০  এপ্রিল ১৯৭২।
- গণ পরিষদের খসড়া সংবিধান উত্থাপিত হয় ১২ অক্টোবর ১৯৭২
- গৃহীত হয় -৪ নভেম্বর ১৯৭২।
- কার্যকর হয় -১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২।
- গণপরিষদে খসড়া সংবিধান উত্থাপন করেন- ড. কামাল হোসেন।   
- গণপরিষদের স্পিকার ছিলেন- শাহ আব্দুল হামিদ।
- গণপরিষদের প্রথম ডেপুটি স্পিকার  ছিলেন-মোহাম্মদ উল্লাহ।
- গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন- মাওলানা আব্দুল রশিদ তর্কবাগী।
- সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য ছিলেন-৩৪ জন।
- একমাত্র নারী সদস্য- বেগম রাজিয়া বানু।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র বিরোধী দলের সদস্য ছিলেন- সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫৮.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত থাকে?
  1. ৬৫ নং
  2. ৫৫ (৩) নং
  3. ৯৫ নং
  4. ৪৭ (৩) নং
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত।

আইন বিভাগ:
- জবাবদিহিতা আইন বিভাগের প্রধান কাজ নয়।
- আইন প্রণয়নের ক্ষমতা একমাত্র জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত হওয়ায় বাংলাদেশের সংবিধান কর্তৃক জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও কার্যাবলিকে বিস্তৃত করা হয়েছে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চমভাগে জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আছে।
- সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত।
- বাংলাদেশের আইন সভা সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে।
- দেশের সংবিধান উল্লিখিত দুইটি ক্ষমতাই আইন সভাকে প্রদান করেছে।
- এক্ষেত্রে আইন সভা সংবিধান সংশোধনকল্পে বিভিন্ন সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ ও প্রয়োজনে গণভোটের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আইন বিভাগ এই কাজটি করে থাকে।
- এই বিভাগটি নতুন আইন প্রণয়ন ও পুরাতন আইন বাতিলের ক্ষমতা রাখে।

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি ।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৫ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকে।
- সংবিধানের ৪৭ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোন সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য বা অন্য কোন ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি বা সংগঠন কিংবা যুদ্ধবন্দীকে আটক, ফৌজদারীতে সোপর্দ কিংবা দণ্ডদান করার বিধান-সংবলিত কোন আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোন বিধানের সাথে অসমঞ্জস বা তাহার পরিপন্থী, এই কারণে বাতিল বা বেআইনী হিসেবে গণ্য হবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনী হয়েছে বলে গণ্য হবে না।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
         ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৯.
জাতীয় স্মৃতি নিদর্শন সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ক) ২৯ নং অনুচ্ছেদ
  2. খ) ২৪ নং অনুচ্ছেদ
  3. গ) ১৯ নং অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ২৩ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

২৪ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে - বিশেষ শৈল্পিক কিংবা ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন বা তাৎর্যমণ্ডিত স্মৃতিনিদর্শন, বস্তু বা স্থানসমূহকে বিকৃতি, বিনাশ বা অপসারণ হইতে রক্ষা করিবার জন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷

অন্যদিকে,
২৩৷ রাষ্ট্র জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন এবং জাতীয় ভাষা, সাহিত্য ও শিল্পকলাসমূহের এমন পরিপোষণ ও উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন, যাহাতে সর্বস্তরের জনগণ জাতীয় সংস্কৃতির সমৃদ্ধিতে অবদান রাখিবার ও অংশগ্রহণ করিবার সুযোগ লাভ করিতে পারেন৷
উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি।

২৩ক। রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।]

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান ।

৩৬০.
বাংলাদেশের ১৭ তম অ্যাটর্নি জেনারেল কে? [ডিসেম্বর, ২০২৪]
  1. জনাব মোহাম্মদ অনীক রুশদ হক
  2. জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান
  3. জনাব মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা
  4. জনাব মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ
ব্যাখ্যা
অ্যাটর্নি জেনারেল:
- অ্যাটর্নি জেনারেল হলো বাংলাদেশ সরকারের প্রধান ও মুখ্য আইন পরামর্শক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সরকারের প্রধান আইনজীবী।
- অ্যাটর্নি জেনারেল সাধারণত সুপ্রিম কোর্টের সম্মানীয় জ্যেষ্ঠ আইনজীবীগণের মধ্য থেকে সরকার কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত হন।
- বাংলাদেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান। [ডিসেম্বর, ২০২৪]
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন।

উৎস: i) এটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ওয়েবসাইট।
ii) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৬১.
"সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ" - এই নীতি কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত?
  1. অনুচ্ছেদ ৬
  2. অনুচ্ছেদ ৭
  3. অনুচ্ছেদ ৮
  4. অনুচ্ছেদ ৯
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশের সংবিধানে “সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ” নীতি অনুচ্ছেদ ৭-এ বর্ণিত হয়েছে।

প্রজাতন্ত্র:
- বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম ভাগ: প্রজাতন্ত্র।
- প্রজাতন্ত্র অংশে অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী বলা হয় 'প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ'।

উল্লেখ্য,
- অনুচ্ছেদ ৭ (১) অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে।
- অনুচ্ছেদ ৭ (২) অনুযায়ী জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসম হয়, তা হলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৩৬২.
সংবিধানের সর্বশেষ ১৭ তম সংশোধনি কত তম সংসদে পাশ হয়?
  1. ক) নবম
  2. খ) দশম
  3. গ) একাদশ
  4. ঘ) দ্বাদশ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের সর্বশেষ ১৭ তম সংশোধনি সংসদে পাশ হয় ৮ জুলাই, ২০১৮ তারিখে এবং ২৯ জুলাই ২০১৮ তারিখে রাষ্ট্রপতি বিলটি অনুমোদন করেন। এটি দশম জাতীয় সংদের সময়কালে পাশ হয়।
সূত্রঃ প্রথম আলো।
৩৬৩.
বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি কত সালে প্রথমবার পরিবর্তন করা হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৫ সালে
  3. ১৯৭৮ সালে
  4. ১৯৭৯ সালে
ব্যাখ্যা
•সংবিধানের মূলনীতি
-১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ছিলো চারটি।
যথা-
• জাতীয়তাবাদ
• সমাজতন্ত্র
• গণতন্ত্র ও
• ধর্মনিরপেক্ষতা।
- ১৯৭৯ সালের ৫ এপ্রিল সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার এই চারটি মূলনীতিতে প্রথমবার পরিবর্তন আনা হয়।
- কিন্তু সুপ্রিমকোর্ট ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম সংশোধনীকে বাতিল ঘোষণা করে।
- ফলে ২০১১ সালের ৩ জুলাই জাতীয় সংসদে গৃহিত সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে বাহাত্তরের মূল সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি পুনঃস্থাপন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান এবং বাংলাদেশের সংবিধান (আরিফ খান)।
৩৬৪.
সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে কোন ধরনের ‘অর্থনৈতিক ব্যবস্থা’ চালু আছে?
  1. ক) ইসলামী
  2. খ) সমাজতান্ত্রিক
  3. গ) পুঁজিবাদী
  4. ঘ) মিশ্র অর্থনীতি
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় ভাগ - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি

সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি
১০।মানুষের উপর মানুষের শোষণ হইতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হইবে।

৩৬৫.
কোন সংশোধনীর দ্বারা দেশে 'জরুরি অবস্থা' জারির বিধান করা হয়?
  1. ২য়
  2. ৪র্থ
  3. ৭ম
  4. ৯ম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান সর্বমোট ১৭বার সংশোধন হয়েছে।

⇒ দ্বিতীয় সংশোধনী:
- এই সংশোধনীর দ্বারা দেশে 'জরুরি অবস্থা' জারির বিধান করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এটি পাস হয়।
- এই সংশোধনীতে সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বিনা বিচারে যে কাউকে আটকের বিধান করা হয়।
- মূলত এ সংশোধনীর মাধ্যমে শাসন বিভাগ তথা নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
- এটি সংবিধানের নবম ভাগে সন্নিবেশিত হয়েছে।
- এ সশোধনীর মূল কথা হলো "যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ অথবা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ দ্বারা বাংলাদেশ বা এর যে কোন অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপন্ন হবার আশঙ্কা দেখা দিলে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন।
- এ ধরনের ঘোষণার বৈধতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি-স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে।
- জরুরি অবস্থা ঘোষণা পরবর্তী কোন ঘোষণার দ্বারা প্রত্যাহার করা হবে অথবা জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হবে কিংবা ১২০ দিন অতিবাহিত হবার পূর্বে সংসদের প্রস্তাব দ্বারা অনুমোদিত না হলে তা কার্যকর হবে না।
- জরুরি অবস্থা চলাকালীন নাগরিকদের মৌলিক অধিকার স্থগিত থাকবে।
- এ সংবিধানে আরো উল্লেখ করা হয়, এ জরুরি অবিস্থায় গ্রেফতার ও আটকাদেশ সম্পর্কিত বিধানের অবসান ঘটবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৬৬.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ মৌলিক অধিকারসমূহ বলবৎ করতে মামলা দায়েরের অধিকার নিশ্চিত করেছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৪২(২)
  2. অনুচ্ছেদ ৪৪(১)
  3. অনুচ্ছেদ ৪৪(২)
  4. অনুচ্ছেদ ৪৫(১)
ব্যাখ্যা
মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ:
-সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদের বিধান:মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ:
(১) এই ভাগে প্রদত্ত অধিকারসমূহ বলবৎ করিবার জন্য এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা রুজু করিবার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা হইল। 
(২) এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটাইয়া সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোন আদালতকে তাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ঐ সকল বা উহার যে কোন ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করিতে পারিবেন।

অর্থাৎ বাংলাদেশ সংবিধানের ৪৪(১) অনুচ্ছেদ মৌলিক অধিকারসমূহ বলবৎ করতে মামলা দায়েরের অধিকার নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য, 
- যখন কোন ব্যক্তির মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়, বা লঙ্ঘিত হওয়ার হুমকি থাকে, সে তার উক্ত মৌলিক অধিকার বলবৎ করতে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা দায়ের করতে পারে।
- উক্ত মৌলিক অধিকার বলবৎ করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, আদেশ বা রিট জারি করার ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগ-কে ১০২ অনুচ্ছেদে দেয়া হয়েছে।
- সুতরাং ৪৪ অনুচ্ছেদ মূলত একটি তত্ত্বগত বিধান যেখানে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণের অধিকার দেওয়া হয়েছে।
- অন্যদিকে, ১০২ অনুচ্ছেদ মূলত একটি পদ্ধতিগত বিষয়, যেখানে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণে হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন নির্দেশনা, রিট বা আদেশ প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৬৭.
সংবিধানের ৫৫ (২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কে?
  1. স্পীকার
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. ডেপুটি স্পীকার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
⇒ সংবিধানের ৫৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিসভা -
- ৫৫ (১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করবে, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী নিয়ে এই মন্ত্রিসভা গঠিত হবে।
- ৫৫ (২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হবে।
- ৫৫ (৩) মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকবেন।
- ৫৫ (৪) সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হয়েছে বলে প্রকাশ করা হবে।
- ৫৫ (৫) রাষ্ট্রপতির নামে প্রণীত আদেশসমূহ ও অন্যান্য চুক্তিপত্র কিভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত হবে, রাষ্ট্রপতি তা বিধিসমূহ-দ্বারা নির্ধারণ করবেন এবং অনুরূপভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত কোন আদেশ বা চুক্তিপত্র যথাযথভাবে প্রণীত বা সম্পাদিত হয় নাই বলে তার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
- ৫৫ (৬) রাষ্ট্রপতি সরকারী কার্যাবলী বন্টন ও পরিচালনার জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৬৮.
সংবিধানের শেষ তফসিলে কোনটির উল্লেখ রয়েছে?
  1. আইন কার্যকর
  2. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
  3. শপথ ও ঘোষণা
  4. স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের তফসিল:

- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে আরও ৩টি তফসিল সংযোজন করা হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।
• প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
• দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত ।
• তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
• চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
• পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
• ষষ্ঠ তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণা।
• সপ্তম তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৬৯.
১২৫ নং অনুচ্ছেদ সম্পর্কিত-
  1. ক) ভোটার তালিকায় নাম ভক্তি যোগ্যতা
  2. খ) নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
  3. গ) নির্বাচনী আইন ও নির্বাচনের বৈধতা
  4. ঘ) নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়
ব্যাখ্যা

১২৫ নং অনুচ্ছেদ বলা হয়েছে নির্বাচনী আইন ও নির্বাচনের বৈধতা সম্পর্কে।
- ১২২(২) অনুচ্ছেদে ভোটার তালিকায় নাম ভক্তি যোগ্যতা।
- ১২৪ নং অনুচ্ছেদে নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা 
- এবং ১২৩ নং অনুচ্ছেদে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় এর কথা বলা হয়েছে।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান

৩৭০.
সংসদ অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ার কত দিন পর আবার অধিবেশন ডাকা বাধ্যতামূলক?
  1. ৩০ দিন
  2. ৪৫ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের বিধান: সংসদের অধিবেশন:
(১) সরকারী বিজ্ঞপ্তি-দ্বারা রাষ্ট্রপতি সংসদ আহবান , স্থগিত ও ভঙ্গ করবেন এবং সংসদ আহবানকালে রাষ্ট্রপতি প্রথম বৈঠকের সময় ও স্থান নির্ধারণ করবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, ১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার (ক) উপ-দফায় উল্লিখিত নব্বই দিন সময় ব্যতীত অন্য সময়ে সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ষাট দিনের অতিরিক্ত বিরতি থাকবে না। 

• সংবিধান:

- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় - ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৭১.
গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন কত তারিখ শুরু হয়?
  1. ১০ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে
  2. ২৩ মার্চ, ১৯৭২
  3. ২৩ মে, ১৯৭২
  4. ২৩ অক্টোবর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করা হয় - ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে।
- অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন - শেখ ‍মুজিবুর রহমান।
- গণপরিষদ আদেশ জারি করা হয় - ২৩ মার্চ, ১৯৭২ সালে (আদেশটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় ২৩ মার্চ, ১৯৭২)।
- সংবিধানে স্বাক্ষরের সময় গণপরিষদের মোট সদস্য - ৪০৩ জন।
- গণপরিষদের প্রথম বৈঠক বসে -১০ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশন বসে - ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয় - ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৭২.
প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া রাষ্ট্রপতি কোন কাজটি করেন?
  1. ক) জরুরি অবস্থা জারি
  2. খ) প্রধান বিচারপতি নিয়োগ
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ
  4. ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের শাসন বিভাগের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ব্যক্তি হলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান।
- তবে বাংলাদেশের সংবিধান দ্বারা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অনেক সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
- প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হয়।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও নাগরিকতা , নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭৩.
‘অর্থ বিল’ সম্পর্কিত বিধানাবলি বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. অনুচ্ছেদে-৮৩
  2. অনুচ্ছেদে-৮১
  3. অনুচ্ছেদে-৮২
  4. অনুচ্ছেদে-৮০
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধান: অনুচ্ছেদে-৮১: অর্থবিল।
- ৮১। (১) এই ভাগে "অর্থবিল" বলিতে কেবল নিম্নলিখিত বিষয়সমূহের সকল বা যে কোন একটি সম্পর্কিত বিধানাবলী-সংবলিত বিল বুঝাইবে:
 (ক) কোন কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণ;
 (খ) সরকার কর্তৃক ঋণগ্রহণ বা কোন গ্যারান্টিদান, কিংবা সরকারের আর্থিক দায়-দায়িত্ব সম্পর্কিত আইন সংশোধন;
 (গ) সংযুক্ত তহবিলের রক্ষণাবেক্ষণ, অনুরূপ তহবিলে অর্থপ্রদান বা অনুরূপ তহবিল হতে অর্থ দান বা নির্দিষ্টকরণ;
 (ঘ) সংযুক্ত তহবিলের উপর দায় আরোপ কিংবা অনুরূপ কোন দায় রদবদল বা বিলোপ;
 (ঙ) সংযুক্ত তহবিল বা প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব বাবদ অর্থপ্রাপ্তি, কিংবা অনুরূপ অর্থ রক্ষণাবেক্ষণ বা দান, কিংবা সরকারের হিসাব-নিরীক্ষা;
 (চ) উপরি-উক্ত উপ-দফাসমূহে নির্ধারিত যে কোন বিষয়ের অধীন কোন আনুষঙ্গিক বিষয়।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদে- ৮০। আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি;
- অনুচ্ছেদে- ৮২। আর্থিক ব্যবস্থাবলীর সুপারিশ;
- অনুচ্ছেদে- ৮৩। সংসদের আইন ব্যতীত করারোপে বাধা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৩৭৪.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে কয় ধরণের ‘মালিকানা-ব্যবস্থার’ কথা উল্লেখ আছে? 
  1. ২ ধরণের
  2. ৩ ধরণের
  3. ৪ ধরণের
  4. ৫ ধরণের
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান: 
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়। 
- সংবিধান কার্যকর হয়: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে। 
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।  
- এতে ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ এবং ১১ টি ভাগ রয়েছে। 
- ৭টি তফসিল রয়েছে।

♣ ১৩ নং অনুচ্ছেদ: মালিকানার নীতি;
- উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদনব্যবস্থা ও বন্টনপ্রণালীসমূহের মালিক বা নিয়ন্ত্রক হইবেন জনগণ এবং এই উদ্দেশ্যে মালিকানা-ব্যবস্থা নিম্নরূপ হইবে: 
• (ক) রাষ্ট্রীয় মালিকানা, অর্থাৎ অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান প্রধান ক্ষেত্র লইয়া সুষ্ঠু ও গতিশীল রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারী খাত সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রের মালিকানা;
• (খ) সমবায়ী মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে সমবায়সমূহের সদস্যদের পক্ষে সমবায়সমূহের মালিকানা; এবং
• (গ) ব্যক্তিগত মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যক্তির মালিকানা। 

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা, দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৫.
নিচের কোনটি সাংবিধানিক পদ নয়?
  1. ক) সংসদ সদস্য 
  2. খ) বিভাগীয় কমিশনার
  3. গ) মহা-হিসাব রক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
  4. ঘ) প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
- সংবিধান হলো গ্ণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন। 
 - সাংবিধানিক উপায়ে যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলে।
- সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা, পদের মেয়াদ, পদমর্যাদা, পদত্যাগ ও অপসারণ পদ্ধতি এবং দায়িত্ব সংবিধানে সুনির্দিষ্ট ও সুষ্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে
সাংবিধানিক পদ:- 
• রাষ্ট্রপতি  
• স্পিকার
• প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীগণ 
• ডিপুটি স্পিকার 
• প্রধান বিচারপতি  
• সংসদ সদস্য 
• প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার 
• মহা-হিসাব রক্ষক ও নিয়ন্ত্রক 
• সরকারী কর্ম- কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য ।

উৎস:- জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৭৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের পূর্ণ নাম কী?
  1. ইসলামিক প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান
  2. বাংলাদেশ সংবিধান
  3. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান
  4. প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- সংবিধান হল মৌলিক বিধানাবলির  সমন্বয়  একটি গঠনতন্ত্র যার উপর ভিত্তি করে একটি রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানের পূর্ণ নাম: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান।
- সংবিধান গণাপরিষদে গৃহীত হয়: ৪ নভেম্বর ১৯৭২।
- বাংলাদেশ সংবিধান কার্যকর হয়- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে।
- সংবিধানের একটি প্রস্তাবনা আছে- বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
- সংবিধানের মূলনীতি- ৪টি।
- সংবিধানের তফসিল- ৭ টি।
- সংবিধানের ভাগ- ১১ টি।
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ- ১৫৩ ‍টি।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৩৭৭.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. ৩৯(১) নং
  2. ৩৯(২) নং
  3. ৩৮(১) নং
  4. ৪১(২) নং
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৩৯: চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা:
(১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।
(২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে-
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের এবং
(খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৩৭৮.
সংসদ কর্তৃক কোন বিল গৃহীত হলে সম্মতির জন্য তা কার নিকট পেশ করতে হবে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. স্পিকার
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ - ৮০ : আইন প্রণয়ন পদ্ধতি
- আইনপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে সংসদে আনীত প্রত্যেকটি প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হবে। 
- সংসদ কর্তৃক কোন বিল গৃহীত হলে সম্মতির জন্য তা রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করতে হবে।
- রাষ্ট্রপতির নিকট কোন বিল পেশ করার ১৫ দিনের মধ্যে তিনি তাতে সম্মতিদান করবেন কিংবা অর্থবিল ব্যতীত অন্য কোন বিলের ক্ষেত্রে তার কোন বিশেষ বিধান পুনর্বিবেচনার কিংবা রাষ্ট্রপতি কোন সংশোধনী বিবেচনার অনুরোধ করলে সংসদে ফেরত দিতে পারবেন; এবং
- রাষ্ট্রপতি তা করতে অসমর্থ হলে উক্ত মেয়াদ শেষে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করেছেন বলে গণ্য হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান। 
৩৭৯.
কত সালে সংবিধানের সর্বশেষ সংশোধনী 'সপ্তদশ সংশোধনী' সংসদে গৃহীত হয়?
  1. ক) ২০১৯ সালে
  2. খ) ২০১৭ সালে
  3. গ) ২০১৬ সালে
  4. ঘ) ২০১৮ সালে
ব্যাখ্যা
সপ্তদশ সংশোধনী:
- ২০১৮ সালের ৮ জুলাই পাস হয়।
- উত্থাপনকারী: আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ২৯ জুলাই, ২০১৮।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৮০.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করবেন? 
  1. ১৫ নং
  2. ১৭ নং
  3. ১৮ক নং
  4. ১৯ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১৯ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করবেন।

⇒ ১৯ নং অনুচ্ছেদ:
- ১৯ (১) সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হবেন।
- ১৯ (২) মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
- ১৯ (৩) জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবেন।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদে 'মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
- সংবিধানের ১৮ক নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৩৮১.
সংবিধানের যে ধারায় ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে-
  1. ক) ধারা ৯
  2. খ) ধারা ১০
  3. গ) ধারা ১১
  4. ঘ) ধারা ১২
ব্যাখ্যা

ধারা ১২ তে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে ।
ধারা ১১ তে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলা হয়েছে ।
ধারা ১০ এ সমাজতন্ত্র ও শোষণ মুক্তির কথা বলা হয়েছে।
ধারা ৯ এ জাতীয়তাবাদের কথা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

অনুচ্ছেদ - ১২: ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা
ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য
(ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা,
(খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান,
(গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার,
(ঘ) কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার উপর নিপীড়ন,
বিলোপ করা হইবে।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান

৩৮২.
'প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে'-সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে এর উল্লেখ আছে?
  1. ১১ নং
  2. ১৭ নং
  3. ২১ নং 
  4. ২৭ নং
ব্যাখ্যা

সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদ: গণতন্ত্র ও মানবাধিকার
- প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে৷

⇒ গণতন্ত্র:
- সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
- যেখানে মৌলিক মানবাধিকার, স্বাধীনতার নিশ্চয়তা এবং মানবসত্তার মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে।
- রাষ্ট্রীয় সকল কাজে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
- প্রাপ্তবয়স্কদের সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সরকার নির্বাচিত হবে।
- সমাজজীবন হতে সর্বপ্রকার বৈষম্য দূরীভূত করে নাগরিকদের মৌলিক মানবিক অধিকার এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করা হবে। 

অন্যদিকে -
- ১৭ নং অনুচ্ছেদে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে।
- ২১ নং  অনুচ্ছেদ অনুসারে, বাংলাদেশের নাগরিকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো সংবিধান ও আইন মেনে চলা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা।
- ২৭নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, 'সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) পৌরনীতি, বাংলাদেশের সংবিধান, এস এস সি প্রোগ্রাম।

৩৮৩.
বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগের মৌলিক অধিকার সমূহ বলবৎ করার জন্য কোনো সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি কোন অনুচ্ছেদ বলে আদালতে আবেদন করতে পারে?
  1. ক) ৭
  2. খ) ১১
  3. গ) ১০২
  4. ঘ) ৩১
ব্যাখ্যা
সংবিধানে ৭ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের প্রাধান্যের উল্লেখ আছে
১১ নং অনুচ্ছেদে গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের উল্লেখ
৩১ নং অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারের কথা বলা আছে।
মৌলিক অধিকার সমূহ বলবৎ করার জন্য কোনো সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি ১০২ নং অনুচ্ছেদ বলে আদালতে আবেদন করতে পারেন
১০১ নং অনুচ্ছেদে হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার, ১০৩ নং অনুচ্ছেদে আপীল বিভাগের এখতিয়ার এবং
১০৫ নং অনুচ্ছেদে আপীল বিভাগ কর্তৃক রায় বা আদেশ পুনর্বিবেচনা বিষয়ে বলা হয়েছে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
৩৮৪.
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধান বাংলাদেশের সংবিধানে কততম সংশোধনীর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়?
  1. একাদশ সংশোধনী
  2. দ্বাদশ সংশোধনী
  3. চতুর্দশ সংশোধনী
  4. পঞ্চদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী:
- সংবিধান আইন ২০১১ (পঞ্চদশ সংশোধনী) সংসদে পাস হয় ২০১১ সালের ২৫ জুন এবং তা রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করে ৩ জুলাই এই সংশোধনীর মাধ্যমে যে অনুচ্ছেদ ও বিষয়গুলো পরিবর্তিত হয়, সেগুলো হচ্ছে -
১. সংবিধানের প্রস্তাবনায় সংশোধন,
২. ২ক অনুচ্ছেদে পরিমার্জন।
৩. ৪ক অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপন (জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংক্রান্ত)
৪. ৭ক ও ৭খ অনুচ্ছেদের সন্নিবেশ।
৫. সংবিধানের ৮ নং অনুচ্ছেদের সংশোধন (রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সংক্রান্ত)।
৬. সংবিধানের ৯, ১০, ১২ নং অনুচ্ছেদের সংযোজন ও পরিমার্জন।
৭. সংবিধানে ১৮ক অনুচ্ছেদের সন্নিবেশ (পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধান)।
৮. সংবিধানে ২৩ক অনুচ্ছেদের সন্নিবেশ (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্পর্কিত)।
৯. ৪২ নং অনুচ্ছেদের সংশোধন ও ৪৪ নং অনুচ্ছেদের প্রতিস্থাপন।
১০. ৫৮ক অনুচ্ছেদের বিলোপ (তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা)।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট।
৩৮৫.
রাষ্টপতি নির্বাচন বাংলাদেশের সংবিধানে কততম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
  1. ক) সপ্তম তফসিল
  2. খ) পঞ্চম  তফসিল
  3. গ) চতুর্থ তফসিল
  4. ঘ) দ্বিতীয় তফসিল
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
• ২০১১ সালে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে নতুন করে ৩টি তফসিল যুক্ত করা হয়।
• বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭ টি তফসিল রয়েছে :
- প্রথম তফসিল:- অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল:- রাষ্টপতি নির্বাচন।
- তৃতীয় তফসিল- শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল – ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবালী
- পঞ্চম তফসিল–১৯৭১সালের ৭মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল -১৯৭১সালের ২৫মার্চ মধ্যরাত শেষে অর্থাৎ ২৬মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল- ১০এপ্রিল ১৯৭১ এর মুজিবনগর সরকারের জারিকৃ্ত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ।

উৎস:-  বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৮৬.
খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য কে ছিলেন?
  1. সেলিনা পারভীন
  2. শিরীন বানু মিতিল
  3. হামিদা বেগম
  4. বেগম রাজিয়া বানু
ব্যাখ্যা

সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য:
- ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- এই কমিটির মোট সদস্য ছিল ৩৪ জন।
- আওয়ামী লীগ ছাড়া একমাত্র সদস্য ছিলেন ন্যাপের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
- এই কমিটির প্রধান বা সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

৩৮৭.
মানব জীবনের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা সম্পর্কে বলা আছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ১৫(ঘ)
  2. ১৫(গ)
  3. ১৫(খ)
  4. ১৫(ক)
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
 - সংবিধানের ১৫নং অনুচ্ছেদে মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশক্তির ক্রমবৃদ্ধিসাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতিসাধন, যাহাতে নাগরিকদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্জন নিশ্চিত করা যায়
ক) অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা।
(খ) কর্মের অধিকার, অর্থাৎ কর্মের গুণ ও পরিমাণ বিবেচনা করিয়া যুক্তিসঙ্গত মজুরীর বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার অধিকার;
(গ) যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিনোদন ও অবকাশের অধিকার;
(ঘ) সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতাপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত আয়ত্তাতীত কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারী সাহায্যলাভের অধিকার৷

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৮৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সংসদে পাশ হয় কবে?
  1. ১২ জুলাই, ১৯৭৩ সালে
  2. ১৩ জুলাই, ১৯৭৩ সালে
  3. ১৪ জুলাই, ১৯৭৩ সালে
  4. ১৫ জুলাই, ১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
প্রথম সংশোধনী:
- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী গৃহীত হয় ১৯৭৩ সালে।
- সংসদে উত্তাপিত হয় ১২ জুলাই ১৯৭৩ সালে।
- বিলটি সংসদে পাশ হয় ১৫ জুলাই, ১৯৭৩ সালে।
- প্রথম সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তু ছিল ‘গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বা যুদ্ধাপ আন্তর্জাতিক আইনে অন্যান্য অপরাধ' এর বিচার ও শাস্তি অনুমোদন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৩৮৯.
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হবে’- সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১২০
  2. অনুচ্ছেদ ১২১
  3. অনুচ্ছেদ ১২৪
  4. অনুচ্ছেদ ১২৬
ব্যাখ্যা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৬-এ বর্ণিত আছে যে, "নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হবে"। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনকে তার কাজ সম্পন্ন করতে নির্বাহী বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করা রাষ্ট্রের সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক। 

অনুচ্ছেদ ১২৬: নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সহায়তাদান:
- নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ১২৪: নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা: এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে সংসদ আইনের দ্বারা নির্বাচনী এলাকার সীমা নির্ধারণ, ভোটার-তালিকা প্রস্তুতকরণ, নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং সংসদের যথাযথ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়সহ সংসদের নির্বাচন-সংক্রান্ত বা নির্বাচনের সহিত সম্পর্কিত সকল বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করিতে পারিবেন।

- অনুচ্ছেদ ১২০: নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ: এই ভাগের অধীন নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালনের জন্য যেরূপ কর্মচারীর প্রয়োজন হইবে, নির্বাচন কমিশন অনুরোধ করিলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনকে সেইরূপ কর্মচারী প্রদানের ব্যবস্থা করিবেন।

- অনুচ্ছেদ ১২১: প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা: সংসদের নির্বাচনের জন্য প্রত্যেক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকার একটি করিয়া ভোটার-তালিকা থাকিবে এবং ধর্ম, জাত, বর্ণ ও নারী-পুরুষভেদের ভিত্তিতে ভোটারদের বিন্যস্ত করিয়া কোন বিশেষ ভোটার-তালিকা প্রণয়ন করা যাইবে না।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান। 

৩৯০.
বাংলাদেশ সংবিধানের কততম সংশোধনীর মাধ্যমে দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের বিধান করা হয়েছিল?
  1. দ্বাদশ সংশোধনী
  2. ত্রয়োদশ সংশোধনী
  3. ষোড়শ সংশোধনী
  4. পঞ্চদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন, ২০১১: 
২০১১ সালে বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়, যা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে।
এর মূল বিষয়বস্তুগুলো হলো:
 
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল;
দলীয় সরকারের অধীন মেয়াদ শেষ হবার আগের ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান।

⇒ সংরক্ষিত মহিলা আসন ৪৫ থেকে ৫০ করা:
৪৭ এর ৩ অনুচ্ছেদে যুদ্ধাপরাধ বা মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য "অন্য কোন ব্যক্তি, ব্যক্তিসমষ্টি বা সংগঠন" এর বিচার করার বিধান সংযুক্ত করা।

⇒ জরুরি অবস্থার মেয়াদ:
জরুরী অবস্থার মেয়াদ অনধিক ১২০ দিন করা হয়।

⇒ নতুন তফসিল সংযোজন:
সংবিধানে নতুন তিনটি তফসিল যুক্ত করা হয়- যথা পঞ্চম, ষষ্ঠ, ও সপ্তম।

উৎস:
বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান। 

৩৯১.
সংবিধানের সপ্তম তফসিলের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ
  2. খ) বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা
  3. গ) মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র
  4. ঘ) রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
ব্যাখ্যা
২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে নতুন করে ৩টি তফসিল (৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম তফসিল) যুক্ত করা হয়।
এর মধ্যে,
৫ম তফসিল - ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষণ।
৬ষ্ঠ তফসিল - ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা
৭ম তফসিল - ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
দ্বিতীয় তফসিল – রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বিলুপ্ত)।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
৩৯২.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত?
  1. ১৫
  2. ২৭
  3. ৩৭
  4. ৩৯
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত।

⇒ ৩৯ নং অনুচ্ছেদ:
- (১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হলো।
- (২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংগঠনের প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং
(খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হলো।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগে ১৫ নং অনুচ্ছেদে 'মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৭ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সমাবেশের স্বাধীনতা। ৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৯৩.
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয় ১৯৭২ সালের -
  1. ১১ এপ্রিল
  2. ১২ অক্টোবর
  3. ১১ জানুয়ারি
  4. ২২ মার্চ
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- সংবিধানে তফসিল রয়েছে - ৭ টি।
- সংবিধানে অনুচ্ছেদ রয়েছে - ১৫৩ টি।
- মূলনীতি রয়েছে - ৪ টি।
- সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয় - ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান রচনা কমিটির প্রধান - ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য সংখ্যা ছিল - ৩৪ জন।
- একমাত্র মহিলা সদস্য ছিল - বেগম রাজিয়া বানু।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য - সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত।
- খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপন করে - ১২ অক্টোবর, ১৯৭২

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৯৪.
পিএসসির সদস্যবৃন্দকে শপথ পড়ান কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. জনপ্রশাসন মন্ত্রী
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:
রাষ্ট্রপতি যাদের শপথ বাক্য পাঠ করান:
• প্রধানমন্ত্রী   
• মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ
• স্পিকার     
• ডেপুটি স্পিকার
• প্রধান বিচারপতি

স্পীকার যাদের শপথবাক্য পাঠ করান: 
• রাষ্ট্রপতি    
• সংসদ সদস্যবৃন্দ

প্রধান বিচারপতি যাদের শপথ বাক্য করান:
• আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ
পিএসসির সদস্যবৃন্দ
• মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
• নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।
৩৯৫.
রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দলিল কোনটি?
  1. ক) ফৌজদারি কার্যবিধি
  2. খ) পেনাল কোড
  3. গ) সংবিধান
  4. ঘ) দেওয়ানি বিধি
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দলিল হলো সংবিধান। এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ৭(২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ''জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্য হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে।'' অর্থাৎ সংবিধানের আলোকেই প্রচলিত অন্যান্য আইন তৈরি হবে।
(সূত্রঃ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং বাংলাদেশ সংবিধান)
৩৯৬.
তথ্য অধিকার আইন কোন সালে চালু হয়?
  1. ক) ২০১২
  2. খ) ২০০৫
  3. গ) ২০০২
  4. ঘ) ২০০৯
ব্যাখ্যা
- তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী  এপ্রিল ৬, ২০০৯ তথ্য অধিকার আইন প্রণিত হয়।
- তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত আইন। 
- যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা নাগরিকগণের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত এবং তথ্য প্রাপ্তির অধিকার  চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ; এবং যেহেতু জনগণ প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক ও জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।
- জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা হলে সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারী ও বিদেশী অর্থায়নে সৃষ্ট বা পরিচালিত বেসরকারী সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে, দুর্নীতি হ্রাস পাবে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- যেহেতু সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারী ও বিদেশী অর্থায়নে সৃষ্ট বা পরিচালিত বেসরকারী সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার   লক্ষ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়।

উৎস:- বাংলাদেশ সংবিধান।
৩৯৭.
"প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ"  সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে এটি উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ৬ নং
  2. ৭ নং
  3. ১১ নং
  4. ১৩ নং
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ৭ (১) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য,
- সংবিধানের ৭ (২) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সাথে অসমঞ্জস হয়, তা হলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে।
- সংবিধানের ৭ক নং অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ বিষয়ে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ৭খ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য বিষয়ে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ৬ নং অনুচ্ছেদ: নাগরিকের নাগরিকত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ১১ নং অনুচ্ছেদে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৩ নং অনুচ্ছেদে মালিকানার নীতি সম্পর্কে বলা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

৩৯৮.
উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতির কথা বলা হয়েছে কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ক) ২২
  2. খ) ২৩
  3. গ) ২৩(ক)
  4. ঘ) ২৪
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ – ২৩(ক) : উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি
রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

[উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান]
৩৯৯.
বাক্-স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?
  1. অনুচ্ছেদ ৩৮
  2. অনুচ্ছেদ ৩৯
  3. অনুচ্ছেদ ৪৯
  4. অনুচ্ছেদ ৫৯
ব্যাখ্যা
• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের বিধান চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা
(১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইল।
(২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের এবং (খ) সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার, নিশ্চয়তা দান করা হইল।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান। 
৪০০.
What is article 14 of the Bangladesh Constitution?
  1. Emancipation of peasants and workers
  2. Secularism and freedom of religion
  3. Free and compulsory education
  4. Protection and improvement of environment and biodiversity
  5. Socialism and freedom from exploitation
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগে ১৪ নং অনুচ্ছেদে 'কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
 
উল্লেখ্য,
- ১৪ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হবে মেহনতী মানুষকে-কৃষক ও শ্রমিককে-এবং জনগণের অনগ্রসর অংশসমূহকে সকল প্রকার শোষণ হতে মুক্তি দান করা। 
 
অন্যদিকে,
- সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- সংবিধানের ১০ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি।
- সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
- সংবিধানের ১৮ক নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।