বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সংবিধান

মোট প্রশ্ন২,৩৩১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সংবিধান

PrepBank · পাতা ১৯ / ২৪ · ১,৮০১১,৯০০ / ২,৩৩১

১,৮০১.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে পূর্বের ৪ টি তফসিলের সাথে আরও ৩টি তফসিল সংযোজন করা হয়েছে?
  1. ক) চতুর্দশ সংশোধনী
  2. খ) পঞ্চদশ সংশোধনী
  3. গ) ষোড়শ সংশোধনী
  4. ঘ) সপ্তদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

- পঞ্চদশ সংশোধনী
উত্থাপন: ২৫ জুন ২০১১।
উত্থাপনকারী: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমদ উত্থাপন করেন।
গৃহীত: ৩০ জুন ২০১১।
রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ৩ জুলাই ২০১১ সালে।

- এই সংশোধনীর মাধ্যমে পূর্বের ৪টি তফসিলের সাথে আরো নতুন ৩ টি তফসিল যুক্ত করা হয়েছে।
- প্রস্তাবনায় ‘‘বিস্‌মিল্লাহির-রহ্‌মানির রহিম (দয়াময়, পরম দয়ালু, আল্লাহের নামে)’’ এর সাথে ‘পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে’ সংযুক্ত করা হয়।

- ‘‘জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধের’’ শব্দগুলির পরিবর্তে [জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের] প্রতিস্থাপিত।
- ৪ক অনুচ্ছেদ (জাতির পিতার প্রতিকৃতি) প্রতিস্থাপিত হয়।
- এই সংশোধনীর দ্বারা সংবিধান সংশোধনের জন্য গণভোটের বিধানটি বাতিল করা হয়।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রথম আলো রিপোর্ট।

১,৮০২.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে ‘সুপ্রীম কোর্টের আসনের’ কথা বলা হয়েছে?
  1. ৯৭ নং
  2. ৯৮ নং
  3. ৯৯ নং
  4. ১০০ নং
ব্যাখ্যা
সংবিধানের অনুচ্ছেদ:

- অনুচ্ছেদ ৯৪ - সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৯৫ - বিচারক-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৬ - বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৯৭ - অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৮ - সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ।
- অনুচ্ছেদ ৯৯ - অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১০০ - সুপ্রীম কোর্টের আসন।
- অনুচ্ছেদ ১০১ - হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার।
- অনুচ্ছেদ ১০২ - কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮০৩.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ সদস্যদের দ্বারা ‘রাষ্ট্রপতি’ নির্বাচিত হন?
  1. ক) অনুচ্ছেদ ৪৮(১)
  2. খ) অনুচ্ছেদ ৪৮(২)
  3. গ) অনুচ্ছেদ ৪৮(৩)
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ ৪৮(৪)
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৪৮(১) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ সদস্যদের দ্বারা ‘রাষ্ট্রপতি’ নির্বাচিত হন।

• সংবিধান:

- ৪৮(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।

এছাড়াও
- ৪৮(২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির উপরে স্থান লাভ করবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাকে প্রদত্ত ও তার উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করবেন।

- ৪৮(৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোন পরামর্শদান করেছেন কি না এবং করে থাকলে কি পরামর্শ দান করেছেন, কোন আদালত সেই সম্পর্কে কোন প্রশ্নের তদন্ত করতে পারবে না।

- ৪৮(৪) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি-
(ক) পঁয়ত্রিশ বৎসরের কম বয়স্ক হন; অথবা
(খ) সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য না হন; অথবা
(গ) কখনও এই সংবিধানের অধীন অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ হতে অপসারিত হয়ে থাকেন।

- ৪৮(৫) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রীয় নীতি সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখবেন এবং রাষ্ট্রপতি অনুরোধ করলে যেকোন বিষয় মন্ত্রিসভায় বিবেচনার জন্য পেশ করবেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮০৪.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের কথা বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ২৪
  2. অনুচ্ছেদ ২১
  3. অনুচ্ছেদ ২২
  4. অনুচ্ছেদ ২৩
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- বাংলাদেশ সংবিধানের ২২নং অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের কথা বলা হয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদটি বাহাত্তরের মূল সংবিধানের অংশ হলেও তা কার্যকর হয় ২০০৭ সালে। 

অন্যদিকে,
- ২৩নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় সংস্কৃতি। 
- ২১নং অনুচ্ছেদ : নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য।
- ২৪নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় স্মৃতি নিদর্শন।

উৎস:- বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮০৫.
বাংলাদেশের সংবিধানে সিভিল সার্ভেন্টদের কি নামে অভিহিত করা হয়েছে?
  1. ক) সিভিল সার্ভেন্ট
  2. খ) প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা
  3. গ) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তি
  4. ঘ) প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী
ব্যাখ্যা

১৯৭২ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়। সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশকে এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র ঘোষণা করা হয়
তার ফলে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের চাকরির প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায়।
সংবিধানে সিভিল সার্ভিস শব্দটা ব্যবহার করা হয় নি, তবে সকল শ্রেণীর সিভিল সার্ভেন্টকে প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিয়োজিত ব্যক্তি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান

১,৮০৬.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জাতির পিতার প্রতিকৃতি বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে?
  1. ২ক নং অনুচ্ছেদ
  2. ৪ক নং অনুচ্ছেদ
  3. ৪(২) নং অনুচ্ছেদ
  4. ৫ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ৪ক নং অনুচ্ছেদে সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে অবস্থিত দূতাবাসসমূহে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।
- ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ধারাটি সংবিধানে যুক্ত করা হয়।
অন্যদিকে,
- সংবিধানের ২ক অনুচ্ছেদ : রাষ্ট্রধর্ম
- ৪(২) নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় পতাকা এবং
- ৫ নং অনুচ্ছেদ : রাজধানী।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৮০৭.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদটি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সংক্রান্ত?
  1. ক) ৪৭
  2. খ) ৪২
  3. গ) ৩৭
  4. ঘ) ৭০
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের( প্রথম সংশোধন) আইন
- উত্থাপন: ১৯৭৩ সালের ১২ জুলাই
- উত্থাপনকারী: আইনমন্ত্রী ড. কামাল উত্থাপন করেন
- গৃহীত: ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই
 -রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ১৭ জুলাই
- এই সংশোধনীর দ্বারা সংবিধানের ৪৭ নং অনুচ্ছেদের একটি অতিরিক্ত দফা সংযুক্ত করা হয়, যা গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনে অন্যান্য অপরাধের দায়ে যে কোন ব্যক্তির বিচার ও শাস্তি অনুমোদন করে

৪৭(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে -
''এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোন সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য বা অন্য কোন ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি বা সংগঠন]কিংবা যুদ্ধবন্দীকে আটক, ফৌজদারীতে সোপর্দ কিংবা দন্ডদান করিবার বিধান-সংবলিত কোন আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোন বিধানের সহিত অসমঞ্জস বা তাহার পরিপন্থী, এই কারণে বাতিল বা বেআইনী বলিয়া গণ্য হইবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনী হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।''
উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান

১,৮০৮.
সংবিধানের ৬৬নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. যুদ্ধ
  2. অ্যাটর্নি-জেনারেল
  3. সংসদ-প্রতিষ্ঠা
  4. সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৬০ - স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৬১ - সর্বাধিনায়কতা।
- অনুচ্ছেদ ৬২ - প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগে ভর্তি প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৬৩ - যুদ্ধ।
- অনুচ্ছেদ ৬৪ - অ্যাটর্নি-জেনারেল।
- অনুচ্ছেদ ৬৫ - সংসদ-প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৬৬ - সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা।
- অনুচ্ছেদ ৬৭ - সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া।
- অনুচ্ছেদ ৬৮ - সংসদ-সদস্যদের [পারিশ্রমিক] প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৬৯ - শপথগ্রহণের পূর্বে আসন গ্রহণ বা ভোট দান করিলে সদস্যের অর্থদণ্ড।
- অনুচ্ছেদ ৭০ - রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৮০৯.
বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৪র্থ ভাগে কোন বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে?
  1. গনপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা
  2. সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা
  3. শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা
  4. মূলনীতি গ্রহণ
ব্যাখ্যা
প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে।
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)।
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)।
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)।
• ৫ম- গনপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮১০.
গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় কত তারিখ?
  1. ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২
  2. ১২ অক্টোবর, ১৯৭২
  3. ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
  4. ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়: ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়: ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন: ১১ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপিত হয়: ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়: ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদের সদস্যগণ হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেনঃ ১৪ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

১,৮১১.
বাংলাদেশের সংবিধানে জাতীয় সংসদের ইংরেজি নাম কোনটি?
  1. Parliament of Bangladesh
  2. National Parliament
  3. House of the Nation
  4. National Legislature
ব্যাখ্যা

• জাতীয় সংসদের ইংরেজী নাম:
- সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ইংরেজী নাম 'The House of the Nation'.
- সংবিধানের পঞ্চম ভাগে আইনসভার উল্লেখ রয়েছে।
- সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে।

• জাতীয় সংসদ:
→ জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
→ দেশের সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এ সংসদের ওপর ন্যস্ত।
→ প্রতি নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
→ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে (২০১১) মহিলা আসন সংখ্যা ৫০ করা হয়।
→ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
→ জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
→ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়।
→ জাতীয় সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য কোরাম থাকতে হয়।
→ অধিবেশনে কোরামের জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন।
→ সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
→ ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন।

উল্লেখ্য,
- সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তবনায় কমিশন দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ চালু করার জন্য সুপারিশ করেছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৮১২.
সংসদ সদস্যবৃন্দদের শপথবাক্য পাঠ করান কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. স্পিকার
  4. প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা

শপথ বাক্যঃ
• রাষ্ট্রপতি শপথ বাক্য পাঠ করান-
- প্রধানমন্ত্রী। 
- প্রধান বিচারপতি।
- মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ।
- স্পিকার।
- ডেপুটি স্পিকার।
• প্রধান বিচারপতি শপথ বাক্য পাঠ করান-
- আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ।
- পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ।
- মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারবৃন্দ।
• স্পিকার শপথবাক্য পাঠ করান-
- রাষ্ট্রপতি।
- সংসদ সদস্যবৃন্দ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৮১৩.
কোন সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ থেকে ৬৭ বছর করা হয়?
  1. দ্বাদশ
  2. ত্রয়োদশ
  3. চতুর্দশ
  4. পঞ্চদশ
ব্যাখ্যা

চতুর্দশ সংশোধনী: 
- চতুর্দশ সংশোধনী আইন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী আইন ২০০৪ সালের ১৬ মে সংসদে পাস হয়।
- বিভিন্ন বিধান সংবিধানে যুক্ত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৩০ থেকে ৪৫ এ উন্নীত করা হয়, যা পরবর্তী দশ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
- এছাড়াও এই সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরগ্রহণের বয়স ৬৫ থেকে ৬৭-তে বর্ধিত করা হয়।
- এর পাশাপাশি এই সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি তাদের স্ব স্ব কার্যলয়সহ সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে টানানোর ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১,৮১৪.
According to the Constitution, which of the following is not one of the four fundamental principles of state policy?
  1. Nationalism
  2. Socialism
  3. Democracy
  4. Capitalism
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান: 
- বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের অনুচ্ছেদ ৮ এ মূলনীতিসমূহ সম্পর্কে বলা আছে।

• মূলনীতিসমূহ-
- ৮৷ [(১) জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা- এই নীতিসমূহ এবং তৎসহ এই নীতিসমূহ হইতে উদ্ভূত এই ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে।] 
- (২) এই ভাগে বর্ণিত নীতিসমূহ বাংলাদেশ-পরিচালনার মূলসূত্র হইবে, আইন-প্রণয়নকালে রাষ্ট্র তাহা প্রয়োগ করিবেন, এই সংবিধান ও বাংলাদেশের অন্যান্য আইনের ব্যাখ্যাদানের ক্ষেত্রে তাহা নির্দেশক হইবে এবং তাহা রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কার্যের ভিত্তি হইবে, তবে এই সকল নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হইবে না৷
- পুঁজিবাদ (Capitalism) এই চারটি মূলনীতির মধ্যে নেই।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৮১৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'আসন শূন্য হওয়া' নিয়ে বলা হয়েছে?
  1. ৭০ নং
  2. ৭১ নং
  3. ৭২ নং
  4. ৭৩ নং
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া
• কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হয়ে কোন ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি-
(ক) উক্ত দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা
(খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,
- তাহলে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হবার অযোগ্য হবেন না।

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি বিদ্যমান সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন না। তাতে বলা আছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন বা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে।
- এই বিধানে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করেছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন। তাদের প্রস্তাব ছিল, অর্থবিল ছাড়া অন্য যেকোনো বিষয়ে সংসদের নিম্নকক্ষের সদস্যদের নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে।

অন্যদিকে,
- ৭১ নং অনুচ্ছেদ: দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা।
- ৭২ নং অনুচ্ছেদ: সংসদের অধিবেশন।
- ৭৩ নং অনুচ্ছেদ: সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮১৬.
সংবিধানের ১৬ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. মালিকানার নীতি
  2. গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব
  3. পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন
  4. জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ১৬ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।

অন্যদিকে,
’মালিকানার নীতি’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ১৩ নং অনুচ্ছেদ।
’পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ১৮ নং অনুচ্ছেদ।
’জাতীয়তাবাদ’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ৯ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৮১৭.
মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সংবিধানের কোন দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য যে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে নির্দেশ দিতে পারবে?
  1. ক) ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা
  2. খ) ১০২ অনুচ্ছেদের (২) দফা
  3. গ) ১০১ অনুচ্ছেদের (১) দফা
  4. ঘ) ১০১ অনুচ্ছেদের (২) দফা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন সংক্ষুব্ধ ব্যাক্তি মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারবেন।
মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য যে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে নির্দেশ দিতে পারবে। সূত্রঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন বই।
১,৮১৮.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন?
  1. ৭১ (১) নং
  2. ৭২ (১) নং
  3. ৭৩ (১) নং
  4. ৭৪ (১) নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ৭২(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন।
- তবে এক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করবেন।
- নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ও নতুন বছরের অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণদান করেন।
- রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদে আলোচনা হয়।
- সময়ে সময়ে রাষ্ট্রপতি সংসদে বাণী প্রেরণ করেন।
- তিনি সংসদ মুলতবি রাখতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে তিনি সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারেন।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় স্পিকার যথাক্রমে জাতীয় সংসদের নেতা ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- আর চিপ হুইপ সংসদ সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় বিধানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৮১৯.
গণপরিষদে খসড়া সংবিধান উত্থাপন করেন কে?
  1. মাওলানা আব্দুল রশিদ তর্কবাগীশ
  2. ড. কামাল হোসেন
  3. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত 
  4. আব্দুল হামিদ খান
ব্যাখ্যা
গণপরিষদ:
গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে- ১০  এপ্রিল ১৯৭২।
গণ পরিষদের খসড়া সংবিধান উত্থাপিত হয় ১২ অক্টোবর ১৯৭২।
সংবিধান গৃহীত হয়- ৪ নভেম্বর ১৯৭২।
কার্যকর হয় -১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২।
গণপরিষদে খসড়া সংবিধান উত্থাপন করেন- ড. কামাল হোসেন।   
গণপরিষদের স্পিকার ছিলেন- শাহ্ আব্দুল হামিদ।
গণ পরিষদের  ডেপুটি স্পিকার  ছিলেন-মোহাম্মদ উল্লাহ।
গণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন- মাওলানা আব্দুল রশিদ তর্কবাগীশ।
সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য ছিলেন-৩৪ জন
একমাত্র নারী সদস্য- বেগম রাজিয়া বানু।
সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র বিরোধী দলের সদস্য ছিলেন- সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

উল্লেখ্য:
- বাংলাদেশ গণপরিষদ হল ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক  সংবিধান  অধিবেশন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮২০.
আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রেরিত বিলে তিনি কতদিনের মধ্যে স্বাক্ষর বা সম্মতি প্রদান করে থাকেন?
  1. ক) ৩ দিন
  2. খ) ৭ দিন
  3. গ) ১৫ দিন
  4. ঘ) ১৪ দিন
ব্যাখ্যা

সংবিধানের পঞ্চম ভাগে "আইনসভা" অংশের ২য় পরিচ্ছেদে "আইন প্রণয়ন ও অর্থ সংক্রান্ত পদ্ধতি" সম্পর্কে বলা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ - ৮০: আইন প্রণয়ন পদ্ধতি
(১) আইনপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে সংসদে আনীত প্রত্যেকটি প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হইবে।
(২) সংসদ কর্তৃক কোন বিল গৃহীত হইলে সম্মতির জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিতে হইবে।
(৩) রাষ্ট্রপতির নিকট কোন বিল পেশ করিবার পর পনর দিনের মধ্যে তিনি তাহাতে সম্মতিদান করিবেন কিংবা অর্থবিল ব্যতীত অন্য কোন বিলের ক্ষেত্রে বিলটি বা তাহার কোন বিশেষ বিধান পুনর্বিবেচনার কিংবা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্দেশিত কোন সংশোধনী বিবেচনার অনুরোধ জ্ঞাপন করিয়া একটি বার্তাসহ তিনি বিলটি সংসদে ফেরত দিতে পারিবেন; এবং রাষ্ট্রপতি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।]
(৪) রাষ্ট্রপতি যদি বিলটি অনুরূপভাবে সংসদে ফেরত পাঠান, তাহা হইলে সংসদ রাষ্টপতির বার্তাসহ তাহা পুনর্বিবেচনা করিবেন; এবং সংশোধনীসহ বা সংশোধনী ব্যতিরেকে সংসদ পুনরায় বিলটি গ্রহণ করিলে সম্মতির জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে এবং অনুরূপ উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন; এবং রাষ্ট্রপতি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
(৫) সংসদ কর্তৃক গৃহীত বিলটিতে রাষ্ট্রপতি সম্মতিদান করিলে বা তিনি সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইলে তাহা আইনে পরিণত হইবে এবং সংসদের আইন বলিয়া অভিহিত হইবে।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান

অর্থবিলে রাষ্ট্রপতি ৭ দিনের মধ্যে সম্মতি বা স্বাক্ষর প্রদান করেন।

১,৮২১.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে?
  1. ৩৮ নং
  2. ৪১ নং
  3. ৪৮ নং
  4. ৬৫ নং
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের তৃতীয় ভাগের অনুচ্ছেদ ৪১ নং অনুযায়ী, 
ধর্মীয় স্বাধীনতা,
১। আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা-সাপেক্ষে,
- প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রয়েছে
- প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ-সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রয়েছে। 
২। কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যোগদানকারী কোন ব্যক্তির নিজস্ব ধর্ম-সংক্রান্ত না হলে তাঁকে কোন ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ কিংবা কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাসনায় অংশগ্রহণ বা যোগদান করতে হবে না।

অন্যদিকে -
- অনুচ্ছেদ ৩৮: জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।
- অনুচ্ছেদ ৬৫ (১):  "জাতীয় সংসদ" নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকবে এবং এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইনপ্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হবে:
- অনুচ্ছেদ ৪৮(১): বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮২২.
নিচের কোন সংশোধনী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সাথে জড়িত?
  1. ক) দ্বাদশ
  2. খ) ত্রয়োদশ
  3. গ) পঞ্চদশ
  4. ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা
• ২৭ মার্চ, ১৯৯৬ সালে ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হয়েছিল।
• ৩০ জুন, ২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।

অন্যদিকে, 
• দ্বাদশ সংশোধনী - এ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৭ বছর পর দেশে পুনরায় সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং উপরাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করা হয়। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮২৩.
এটর্নি জেনারেলের পদের মেয়াদ-
  1. ক) ৪ বছর
  2. খ) ৫ বছর
  3. গ) ৩ বছর
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
এটর্নি জেনারেল বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইনজীবী। সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্টের বিচারক হবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি এটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দান করেন। তার পদের মেয়াদ রাষ্ট্রপতির ইচ্ছাধীন। তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলেরও সভাপতি। (সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৮২৪.
সংসদ সদস্যরা কোনো প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পর প্রশ্ন সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে যে প্রশ্ন উত্থাপন করে তাকে কি বলে?
  1. Point of Order 
  2. সম্পূরক প্রশ্ন
  3. বুলেটিন 
  4. ক্রসবেঞ্চার
ব্যাখ্যা
- সংসদ সদস্যরা কোনো প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পর প্রশ্ন সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে যে প্রশ্ন উত্থাপন করে তাকে সম্পূরক প্রশ্ন ( Supplementary Question )  
- এক প্রকার আপত্তি । নিয়ম বহির্ভূত কোনো কিছু হলে এর জন্য অনির্ধারিত  আলোচনার দাবি জানানোকে Point of Order বলে ।
- সংসদের প্রত্যেক বৈঠকের কার্যপ্রণালীর সংক্ষিপ্ত বিবরনীকে বুলেটিন বলে । 
- প্রধান রাজনৈতিক দলের বাইরে যেসব সদস্য থাকে তারা ক্রসবেঞ্চার ( Crossbencher ) নামে পরিচিত ।

উৎস:- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
১,৮২৫.
বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংবিধান -
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্রের
  2. খ) রাশিয়ার
  3. গ) ভারতের
  4. ঘ) যুক্তরাজ্যের
ব্যাখ্যা
সংবিধান: 
• বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংবিধান হলো ভারতের।                    
•  এটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা।
•  উচ্চ কক্ষের নাম বিধানসভা নিম্ন কক্ষের নাম লোকসভা।

প্রাসঙ্গিক তথ্য:

• বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে অনুসরণ করা হয় ভারত ও ব্রিটেনের সংবিধান।
• পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সংবিধান- ভারতের আর সবচেয়ে ছোট সংবিধান- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের।
• পৃথিবীর যে সকল দেশের সংবিধান অলিখিত- স্পেন, নিউজিল্যান্ড, ব্রিটেন, সৌদি আরব ও ইসরায়েল।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান ও বিবিসি নিউজ।
১,৮২৬.
হস্তলিখিত সংবিধানের মূল লেখক ছিলেন কে?
  1. ড. কামাল হোসেন
  2. আব্দুর রউফ
  3. অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
  4. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- হস্তলিখিত সংবিধানের মূল লেখক আব্দুর রউফ।
- হস্তলিখিত সংবিধানের অঙ্গসজ্জা কার্যক্রমের মূল তত্বাবধায়ক ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন।
- ১৪ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদের সদস্যগণ হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- হস্তলিখিত সংবিধানে ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি। 
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর ছাড়া ৯৩ পৃষ্ঠা।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর সহ - ১০৯ পৃষ্ঠা।
- ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ হতে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

১,৮২৭.
বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর সহ -
  1. ১০১ পৃষ্ঠা
  2. ১০৩ পৃষ্ঠা
  3. ১০৭ পৃষ্ঠা
  4. ১০৯ পৃষ্ঠা
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' গঠন করা হয়েছিল - ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- ১৯৭২ সালরে ১২ অক্টোবর খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপিত হয়।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর ছাড়া ৯৩ পৃষ্ঠা।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর সহ - ১০৯ পৃষ্ঠা।
-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৮২৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৭নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করতে পারে কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. সংসদ
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. মন্ত্রিপরিষদ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৭নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করতে পারে সংসদ। 

অনুচ্ছেদ ১১৭: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালসমূহ

১. ইতঃপূর্বে যা বলা হয়েছে, তা সত্ত্বেও নিম্নলিখিত ক্ষেত্রসমুহ সম্পর্কে বা ক্ষেত্রসমুহ থেকে উদ্ভূত বিষয়াদির উপর এখতিয়ার প্রয়োগের জন্য সংসদ আইনের দ্বারা এক বা একাধিক প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন-
(ক) নবম ভাগে বর্ণিত বিষয়াদি এবং অর্থদণ্ড বা অন্য দণ্ডসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিদের কর্মের শর্তাবলী;
(খ) যে কোন রাষ্ট্রায়ত্ত উদ্যোগ বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের চালনা ও ব্যবস্থাপনা এবং অনুরূপ উদ্যোগ বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষে কর্মসহ কোন আইনের দ্বারা বা অধীন সরকারের উপর ন্যস্ত বা সরকারের দ্বারা পরিচালিত কোন সম্পত্তির অর্জন, প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও বিলি-ব্যবস্থা;

সূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮২৯.
When was the Constitution of the People's Republic of Bangladesh adopted?
  1. 11 April 1972
  2. 17 April 1972
  3. 19 October 1972
  4. 4 November 1972
  5. 16 December 1972
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয় ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর।

বাংলাদেশের অস্থায়ী সংবিধান:
- ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি সংবিধান প্রয়োজন হয়।
- ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন।
- এ আদেশ অনুযায়ী সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠন, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন ইত্যাদি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 
- ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গণপরিষদ আদেশ জারি করা হয়।
- এ আদেশ বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের প্রথম পদক্ষেপ।
- রাষ্ট্রপতি ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন আহবান ও উদ্বোধন করেন।
 
উল্লেখ্য,
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়।
- এ খসড়া কমিটির প্রথম অধিবেশন বসে ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল।
- ১৯৭২ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত গণপরিষদে সংবিধানের খসড়া পাঠ করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়।
- ১৯৭২ সালের  ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে তা কার্যকর হয়। 
 
উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
         ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩০.
সম্প্রতি হাইকোর্ট সংবিধানের কোন সংশোধনী আংশিক অবৈধ ঘোষণা করে? [মার্চ - ২০২৫]
  1. প্রথম সংশোধনী
  2. পঞ্চম সংশোধনী
  3. অষ্টম সংশোধনী
  4. পঞ্চদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

- সম্প্রতি হাইকোর্ট সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আংশিক অবৈধ ঘোষণা করেছে।
- ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ হয়ে গেছে।
- তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করায় সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- তবে আদালত পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল না করে আংশিক বাতিল ঘোষণা করেছে।
- পাশাপাশি সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনঃপ্রবর্তন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, 
পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০ জুন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূলনীতিগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয়, তবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখা হয়।
- এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।
 
অন্যদিকে: 
- অষ্টম সংশোধনী: ১৯৮৮ সালে গৃহীত এই সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে সংযোজন করা হয়।
- পঞ্চম সংশোধনী: ১৯৭৯ সালে গৃহীত এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের চারটি মূল স্তম্ভের তিনটিতে পরিবর্তন আনা হয়।
- প্রথম সংশোধনী: ১৯৭৩ সালে গৃহীত এই সংশোধনীর মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তির বিধান সংযোজন করা হয়।
 
সূত্র - বিবিসি বাংলা ও দৈনিক ইত্তেফাক।

১,৮৩১.
মেয়াদ অবসানের কারণে জাতীয় সংসদ ভেঙে যাওয়ার কত দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করতে হয়?
  1. ক) মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে
  2. খ) মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে
  3. গ) মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বের ও পরের ১৮০ দিনের মধ্যে
  4. ঘ) মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ১২৩ নং অনুচ্ছেদের ৩ নং দফার ক এবং খ উপদফায় জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে।
- ক উপদফা অনুযায়ী মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাঙ্গার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হয় এবং বিদ্যমান সদস্যদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নবনির্বাচিতরা শপথ গ্রহণ করতে পারবেন না।
- খ উপদফা অনুযায়ী মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্যকোন কারণে সংসদ ভেঙে গেলে ভাঙার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৮৩২.
Which of the following is not a fundamental principle of the constitution of Bangladesh?
  1. Nationalism
  2. Socialism
  3. Supremacy of God
  4. Secularism
  5. Democracy
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রীয় মূলনীতি:
- সংবিধানের ৮(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি চারটি।
- মূল সংবিধানের 'দ্বিতীয় ভাগে' রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি শিরোনামে ৮ থেকে ২৫ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মূলনীতিগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
- চারটি মূলনীতি হলো:
১। জাতীয়তাবাদ,
২। সমাজতন্ত্র,
৩। গণতন্ত্র,
৪। ধর্মনিরপেক্ষতা।
 
জাতীয়তাবাদ:
- মূল সংবিধানের ৯নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে জাতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে।'

সমাজতন্ত্র:
- মূল সংবিধানের ১০নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'মানুষের উপর মানুষের শোষণের অবসান ঘটিয়ে ন্যায়ানুগ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে শোষণহীন সমাজ কায়েম করা হবে।'

গণতন্ত্র:
- সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সমাজজীবন হতে সর্বপ্রকার বৈষম্য দূরীভূত করে নাগরিকদের মৌলিক মানবিক অধিকার এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করা হবে।

ধর্ম নিরপেক্ষতা:
- সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোন ধর্মের ব্যবহার, কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির বৈষম্য বা তার উপর উৎপীড়ন করা হবে না।'
 
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৮৩৩.
কোনটি বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. জনস্বাস্থ্য
  2. গণতন্ত্র
  3. সমাজতন্ত্র
  4. জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের মূলনীতি:

- জনস্বাস্থ্য বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়।
- প্রস্তাবনা এবং অনুচ্ছেদ ৮ অনুযায়ী বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি চারটি।
যথা-
- জাতীয়তাবাদ,
- গণতন্ত্র,
- ধর্মনিরপেক্ষতা ও
- সমাজতন্ত্র
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১১ টি অধ্যায়, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ, ৭ টি তফসিল, ১৩ টি পরিচ্ছেদ আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮৩৪.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে “বাকস্বাধীনতা” নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৪১
  2. অনুচ্ছেদ ৪০
  3. অনুচ্ছেদ ৩৯
  4. অনুচ্ছেদ ৩৮
ব্যাখ্যা
• সংবিধান: 
- ৩৯ (১) অনুচ্ছেদ:  চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা।
- প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা।
- এবং সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা।

এছাড়াও,
৩৩। গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ,
৩৪। জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ,
৩৫। বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ,
৩৬। চলাফেরার স্বাধীনতা,
৩৭। সমাবেশের স্বাধীনতা,
৩৮। সংগঠনের স্বাধীনতা,
৩৯। চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা,
৪০। পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা,
৪১। ধর্মীয় স্বাধীনতা,
৪২। সম্পত্তির অধিকার,
৪৩। গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ,
৪৪। মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ,
৪৫। শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন,
৪৬। দায়মুক্তি-বিধানের ক্ষমতা,
৪৭। কতিপয় আইনের হেফাজত,
৪৭ক। সংবিধানের কতিপয় বিধানের অপ্রযোজ্যতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৮৩৫.
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে কতটি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল?
  1. ২২টি
  2. ৩৪টি
  3. ৪২টি
  4. ৫৪টি
ব্যাখ্যা

পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০শে জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন হয় ২০১১ সালের ৩ জুলাই।
- সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- এই সংশোধনীর দ্বারা 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল' করা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।
- সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে ‘গণভোটের’ বিধান বাদ দিয়েছিল।
- এ ছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানও যুক্ত করা হয়। আগে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে নির্বাচন করার বিধান থাকলেও পঞ্চদশ সংশোধনীতে পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান সংযোজন করা হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

১,৮৩৬.
কোন সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' শব্দটি সংযোজন হয়?
  1. তৃতীয় সংশোধনী
  2. অষ্টম সংশোধনী
  3. পঞ্চম সংশোধনী
  4. চতুর্থ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• পঞ্চম সংশোধনী:
- পঞ্চম সংশোধনী আইন এই সংবিধান আইন জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয় ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল।
 • পঞ্চম সংশোধনী আইনের  বিষয়াবলী: 
- (১) বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংযোজন।
- (২) 'বাঙালি' শব্দটির পরিবর্তে 'বাংলাদেশী'
- (৩) ধর্ম নিরপেক্ষতার পরিবর্তে সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস
- (৪) 'সমাজতন্ত্র' মানে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায় বিচার
- (৫) মন্ত্রিসভার সদস্যগণের চার-পঞ্চমাংশের সংসদ সদস্য হবার বিধান
- (৬) মৌলিক অধিকার বলবৎ করার ব্যাপারে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মামলা রুজু করা
- (৭) সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠন
- (৮) গণভোট ইত্যাদি সংযোজন, পরিবর্তন ও সংশোধন করা হয়।
- এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরে সামরিক সরকার কর্তৃক যেসব বিধিবিধান প্রণয়ন ও
সংবিধানের সংশোধনী আনা হয়েছে, সেগুলো পঞ্চম সংশোধনী আইনে বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ রাজনীতি, এসএসএল , উন্মুক্ত বিশ্বিবিদ্যালয়।

১,৮৩৭.
অনুপার্জিত আয় ভোগের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত বিধান বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে?
  1. ১৭ নং
  2. ১৯ নং
  3. ২০ নং
  4. ২১ নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ২০ নং অনুচ্ছেদ ’অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম’ সংবলিত।

২০(১)- অনুসারে, কর্ম হইতেছে কর্মক্ষম প্রত্যেক নাগরিকের পক্ষে অধিকার, কর্তব্য ও সম্মানের বিষয়, এবং "প্রত্যেকের নিকট হইতে যোগ্যতানুসারে ও প্রত্যেককে কর্মানুযায়ী”-এই নীতির ভিত্তিতে প্রত্যেকে স্বীয় কর্মের জন্য পারিশ্রমিক লাভ করিবেন।

২০(২) অনুসারে, রাষ্ট্র এমন অবস্থাসৃষ্টির চেষ্টা করিবেন, যেখানে সাধারণ নীতি হিসাবে কোন ব্যক্তি অনুপার্জিত আয় ভোগ করিতে সমর্থ হইবেন না এবং যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিমূলক ও কায়িক-সকল প্রকার শ্রম সৃষ্টিধর্মী প্রয়াসের ও মানবিক ব্যক্তিত্বের পূর্ণতর অভিব্যক্তিতে পরিণত হইবে৷।

অন্যদিকে,
১৯৷ সুযোগের সমতা।
১৭৷ অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
২১৷ নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৮৩৮.
অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেন-
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. সুপ্রিম কোর্ট
ব্যাখ্যা
অ্যাটর্নি জেনারেল : অনুচ্ছেদ ৬৪
• রাষ্ট্রের প্রধান আইনজীবীকে অ্যাটর্নি জেনারেল বলা হয়।
• বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪ নং অনুচ্ছেদে অ্যাটর্নি জেনারেলের কথা উল্লেখ আছে।
- ৬৪(১) সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হইবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দান করিবেন।
- ৬৪(২) অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করিবেন।
- ৬৪(৩) অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তার বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে।
- ৬৪(৪) রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করবেন।

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮৩৯.
সংবিধান অনুসারে সর্বোচ্চ কতদিনের জন্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা যায়?
  1. নব্বই দিন
  2. একশত বিশ দিন
  3. একশত আশি দিন
  4. ষাট দিন
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১৪১ক(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ যেকোন গোলযোগের কারণে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি অনধিক ১২০ দিনের জন্যে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
তবে এরূপ ঘোষণার পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি-স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৮৪০.
সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য সংবিধানের কোন তফসিলের অপব্যবহার করা হয়েছে? 
  1. ৫ম তফসিল
  2. ৭ম তফসিল
  3. ৪র্থ তফসিল
  4. ৬ষ্ঠ তফসিল
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের চতুর্থ তফসিল মূলত ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী সংক্রান্ত।
- সংবিধানের মূল চেতনার বিপরীতে সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য চতুর্থ তফসিলের অপব্যবহার করা হয়েছে।

সংবিধানের তফসিল:
- সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি।
- ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ, সংবিধান রচনার লক্ষ্যে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
- বাংলাদেশ সংবিধানে মোট সাতটি তফসিল রয়েছে। এগুলো হলো:
• প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
• দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত)।
• তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
• চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
• পঞ্চম তফসিল: বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ।
• ষষ্ঠ তফসিল: বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা।
• সপ্তম তফসিল: মুজিবনগর সরকার জারি করা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান। 

১,৮৪১.
"কোর্ট অব রেকর্ড" রূপে সুপ্রিম কোর্টের কথা সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণনা আছে?
  1. ৯৪নং
  2. ১১৭নং
  3. ৯৫নং
  4. ১০৮নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ১০৮নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- "কোর্ট অব রেকর্ড" রূপে সুপ্রীম কোর্ট।
• সংবিধানের ৯৪নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে-  সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
• সংবিধানের ৯৫নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে-  বিচারক-নিয়োগ।
• সংবিধানের ১১৭নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে-  প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালসমূহ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৮৪২.
অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করা হয় -
  1. ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর
  2. ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি
  3. ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ
  4. ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের অস্থায়ী সংবিধান:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি সংবিধান প্রয়োজন হয়।
- ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করা হয়।

⇒ এ আদেশ অনুযায়ী সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠন, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন ইত্যাদি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- এই আদেশে গণপরিষদকে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়া হয় নি।
- এ ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগের উপর ন্যস্ত ছিল।
- ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গণপরিষদ আদেশ জারি করা হয়।
- এ আদেশ বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের প্রথম পদক্ষেপ।
- রাষ্ট্রপতি ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন আহবান ও উদ্বোধন করেন।
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়।
- এ খসড়া কমিটির প্রথম অধিবেশন বসে ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল।
- ১৯ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত গণপরিষদে সংবিধানের খসড়া পাঠ করা হয়।
- ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ থেকে তা কার্যকর হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৪৩.
সংবিধানের প্রস্তাবনায় মহান মুক্তিযুদ্ধকে কোন নামে অভিহিত করা হয়েছে?
  1. ক) জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম
  2. খ) জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধ
  3. গ) জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধ
  4. ঘ) মুক্তির জন্য সংগ্রাম
ব্যাখ্যা
প্রস্তাবনা
আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি;
 
আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল -জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে। 
• ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ''জাতীয় স্বাধীনতার ঐতিহাসিক যুদ্ধ'' এর পরিবর্তে বাহাত্তরের সংবিধানের সাথে মিল রেখে ''জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম'' প্রতিস্থাপিত হয়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮৪৪.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'সরকারি কর্ম কমিশন' (PSC) গঠনের উল্লেখ আছে? 
  1. ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৩৫ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৩৮ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৩৪ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ:
- সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে 'সরকারি কর্ম কমিশন' গঠনের উল্লেখ করে বলা হয়েছে ‘আইনের দ্বারা বাংলাদেশের জন্য এক বা একাধিক সরকারী কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠার বিধান করা যাবে এবং একজন সভাপতিকে ও আইনের দ্বারা যেরূপ নির্ধারিত হবে, সেরূপ অন্যান্য সদস্যকে নিয়ে প্রত্যেক কমিশন গঠিত হবে’।

এছাড়াও-
- ১৩৫ নং অনুচ্ছেদ - অসামরিক সরকারি কর্মচারিদের বরখাস্ত প্রভৃতি।
- ১৩৮ নং অনুচ্ছেদ - কর্ম কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ।
- ১৩৯ নং অনুচ্ছেদ - কর্মের মেয়াদ।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮৪৫.
'সংবিধান সংস্কার কমিশন 'এর প্রস্তাব নয় কোনটি?
  1. রাষ্ট্রপতির মেয়াদ চার বছর
  2. একই ব্যক্তি দুবারের বেশি রাষ্ট্রপতি থাকতে পারবেন না
  3. সংসদের ডেপুটি স্পিকার হবে বিরোধী দল থেকে 
  4. প্রধানমন্ত্রী পদে থাকলে দলীয় প্রধান ও সংসদ নেতা হিসেবে থাকতে পারবেন
ব্যাখ্যা

কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব:
- সরকার ও জাতীয় সংসদের মেয়াদ এক বছর কমিয়ে চার বছর করার সুপারিশ করা হয়েছে।
- রাষ্ট্রপতির মেয়াদ রাখতে বলা হয়েছে চার বছর।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন ইলেক্টোরাল কলেজ বা নির্বাচকমণ্ডলীর ভোটের মাধ্যমে।
- একই ব্যক্তি দুবারের বেশি রাষ্ট্রপতি থাকতে পারবেন না বলে সুপারিশ করা হয়েছে।
- প্রধানমন্ত্রী পদে দুই বারের বেশি না থাকা, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স ২১ বছর করা এবং
- সংসদের বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার বানানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
- একজন সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রী পদে থাকলে দলীয় প্রধান ও সংসদ নেতা হিসেবে থাকতে পারবেন না।

উৎস: বিবিসি ও সংবিধান সংস্কার কমিশন।

১,৮৪৬.
বর্তমান সংবিধান সংস্কার কমিটির প্রধান কে? [ জুলাই, ২০২৫]
  1. ড. কামাল হোসেন
  2. শাহদীন মালিক
  3. অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের
  4. অধ্যাপক আলী রীয়াজ
ব্যাখ্যা
সংবিধান সংস্কার কমিশন: 
- গঠিত হয়- ৬ অক্টোবর, ২০২৪।
- কমিশনের প্রধান- অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
- মোট সদস্য- ৯ জন।

• উল্লেখযোগ্য সুপারিশসমূহ:
- মূলনীতি: ৪টি (সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র।
- সংসদ: দ্বিকক্ষবিশিষ্ট (নিম্নকক্ষ: ৪০০টি আসন; উচ্চকক্ষ: ১০৫টি আসন)।
- মেয়াদ: ৪ বছর (সরকারের মেয়াদ, সংসদের মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ),
- সংসদীয় প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স: ২১ বছর।

উৎস: সংবিধান সংস্কার কমিশন।
১,৮৪৭.
সংবিধানের কোন ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বর্ণিত আছে?
  1. প্রথম ভাগ
  2. দ্বিতীয় ভাগ
  3. তৃতীয় ভাগ
  4. চতুর্থ ভাগ
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বর্ণিত হয়েছে। এই অংশে সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদসহ মৌলিক দিক নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত।

বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ আছে।

• সংবিধানের ভাগ:
- প্রথম ভাগ: প্রজাতন্ত্র,
- দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি,
- তৃতীয় ভাগ: মৌলিক অধিকার,
- চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগ: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগ: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগ: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগ: মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগ: বাংলাদেশের কর্মবিভাগ,
- দশম ভাগ: সংবিধান-সংশোধন,
- একাদশ ভাগ: বিবিধ।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৮৪৮.
সংবিধানের চূড়ান্ত কপিতে স্বাক্ষর করেছিলেন-
  1. ক) ৩৯৯ জন
  2. খ) ৪০২ জন
  3. গ) ৪০০ জন
  4. ঘ) ৪০৩ জন
ব্যাখ্যা
১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ তারিখে প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ ও গণপরিষদ সদস্যগণ সংবিধানের হস্তলিখিত ও চূড়ান্ত অনুলিপিতে স্বাক্ষর প্রদান করেন।
হস্তলিখিত সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর করেন – প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্বাক্ষর করেন – যথাক্রমে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দীন আহমদ।

তৎকালীন ৪০৩ জন সদস্যের মধ্যে ৩৯৯ জন সদস্য সংবিধানের চূড়ান্ত কপিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। যে ৪ জন গণপরিষদ সদস্য স্বাক্ষর করেনি তারা হলেন – 
১. আজিজার রহমান
২. সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত – ন্যাপ (মোজাফফর)
৩. জালাল আহমদ
৪. মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা

তাদের মধ্যে একমাত্র সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধান প্রণয়ন কমিটির বিরোধী দলীয় সদস্য ছিলেন।

[উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান]
১,৮৪৯.
’আইনের দৃষ্টিতে সমতা’ বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ২১ নং
  2. ২৭ নং
  3. ২৪ নং
  4. ১৫ নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদ ‘আইনের দৃষ্টিতে সমতা’ সম্পর্কিত।

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।
- সংবিধানের ২৪ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি।
- সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদ ‘মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা’ সম্পর্কিত।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৮৫০.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. ৭ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৭ক নং অনুচ্ছেদ
  3. ৭খ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৮ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ৭খ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
এতে বলা হয়,
“সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমুহের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে।”
অন্যদিকে,
- ৭ নং অনুচ্ছেদ : সংবিধানের প্রাধান্য
- ৭ক নং অনুচ্ছেদ : সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ ইত্যাদি অপরাধ।
- ৮ নং অনুচ্ছেদ : মূলনীতিসমূহ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৮৫১.
১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধানে জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ১৫ টি আসন কত বছর মেয়াদে সংরক্ষিত ছিল?
  1. ক) ৫ বছর
  2. খ) ৯ বছর
  3. গ) ১০ বছর
  4. ঘ) ১৫ বছর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধানে জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য  সংরক্ষিত  ১৫ টি আসন ১০ বছর মেয়াদে সংরক্ষিত ছিল।  
- ১৯৭৯ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০ জন এবং  সংরক্ষণের সময়সীমা ১৫ বছর করা হয়। 
- ১৯৮৮ সালে চতুর্থ জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য কোনো সংরক্ষিত আসন ছিল না।

- ১৯৯০ সালে সংবিধানের দশম সংশোধনীর মাধ্যমে মহিলাদের জন্য  পরবর্তী ১০ বছর মেয়াদে ৩০টি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়। মহিলাদের এই  সংরক্ষিত  আসনের মেয়াদ ২০০১ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ হয়।
- এরপর ২০০৪ সালের ১৭ মে গৃহীত সংবিধান (চতুর্দশ সংশোধন) আইন ২০০৪ অনুযায়ী সংসদে মহিলা সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত আসনের মেয়াদ বৃদ্ধি করে এ সংখ্যা ৪৫-এ উন্নীত করা হয়।
- সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে (২০১১) মহিলা আসন সংখ্যা ৫০ করা হয়।

তথ্যসূত্র:- সংসদ সচিবালয়।
১,৮৫২.
সংবিধানের কোন সংশোধনী দ্বারা Dacca পরিবর্তন করে Dhaka করা হয়?
  1. ৪র্থ
  2. ৮ম
  3. ১১তম
  4. ১৩তম
ব্যাখ্যা
অষ্টম সংশোধনী:
- সংসদে উত্থাপন: ১১ মে, ১৯৮৮।
- উত্থাপনকারী: সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।
- সংসদে গৃহীত: ৭ জুন, ১৯৮৮।
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ৯ জুন, ১৯৮৮।

⇒ অষ্টম সংবিধান সংশোধন আইন দ্বারা সংবিধানের ২ক, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।
- এই সংশোধনী আইনবলে-
১. ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়;
২. ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়;
৩. সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদে Bengali শব্দটি পরিবর্তন করে Bangla করা হয় এবং Dacca পরিবর্তন করে Dhaka করা হয়;
৪. সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মাননা, পুরস্কার বা অভিধা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮৫৩.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনার কয়টি ভাগ রয়েছে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় এবং তা কার্যকর হয় একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর। সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

- এই কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ১৭ এপ্রিল। পরবর্তীতে দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধানটি গণপরিষদে গৃহীত হয় এবং ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যরা এতে স্বাক্ষর করেন। তবে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।

- বাংলাদেশের সংবিধান রচনা ও গৃহীত হওয়ার সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। সেই সময় গণপরিষদের প্রথম স্পিকার ছিলেন শাহ আবদুল হামিদ এবং ডেপুটি স্পিকার ছিলেন মোহাম্মদ উল্লাহ।

সংবিধানের প্রস্তাবনা: 
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।

এগুলো হলো: 

→ ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
→ ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)।
→ ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)।
→ ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)।
→ ৫ম- গনপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা। 

সূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৮৫৪.
সংবিধানের ২৯ নং অনুচ্ছেদে কি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার
  2. ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য
  3. আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন
  4. সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ২৫ - আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।
অনুচ্ছেদ ২৬ - মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল।
অনুচ্ছেদ ২৮ - ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।
অনুচ্ছেদ ২৯ - সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা।
অনুচ্ছেদ ৩০- বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ।
অনুচ্ছেদ ৩১ - আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮৫৫.
"প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা" – কথাটি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১
  2. অনুচ্ছেদ ৩
  3. অনুচ্ছেদ ৫
  4. অনুচ্ছেদ ৭
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের অনুচ্ছেদ - ৩ - এ রাষ্ট্র ভাষার কথা বলা হয়েছে।

অনুচ্ছেদ - ৩: রাষ্ট্রভাষা
- প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা৷

বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগ:
- অনুচ্ছেদ ১: প্রজাতন্ত্র। 
- অনুচ্ছেদ ২: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা। 
- অনুচ্ছেদ ২ক: রাষ্ট্রধর্ম। 
- অনুচ্ছেদ ৩: রাষ্ট্রভাষা। 
- অনুচ্ছেদ ৪: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক। 
- অনুচ্ছেদ ৫: রাজধানী। 
- অনুচ্ছেদ ৬: নাগরিকত্ব। 
- অনুচ্ছেদ ৭: সংবিধানের প্রাধান্য।
- অনুচ্ছেদ ৭ক:সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ। 
- অনুচ্ছেদ ৭খ: সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য। 

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮৫৬.
১১৭ নং অনুচ্ছেদের আলোচ্য বিষয় কী?
  1. ক) নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা
  2. খ) প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালসমূহ
  3. গ) নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব
  4. ঘ) নির্বাচন কমিশনের কর্মচারিগণ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১১৭ : প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালসমূহ
(১) সংসদ আইনের দ্বারা এক বা একাধিক প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে ।
(১৯৮০ সালের প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইনের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের চাকুরি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠিত হবে ।)

- ১১৮ নং অনুচ্ছেদ : নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা
- ১১৯ নং অনুচ্ছেদ : নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব
- ১২০ নং অনুচ্ছেদ : নির্বাচন কমিশনের কর্মচারিগণ।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৮৫৭.
কোন অনুচ্ছেদ বলে বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী পরিবর্তনযোগ্য নয়?
  1. অনুচ্ছেদ ৭
  2. অনুচ্ছেল ৭(ক)
  3. অনুচ্ছেদ ৭(খ)
  4. অনুচ্ছেদ ৮
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ - ৭খ: 
- সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।
• ৭খ অনুচ্ছেদের বিস্তারিত:
সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমুহের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে।

উল্লেখ্য,
- ৭নং অনুচ্ছেদে রয়েছে - সংবিধানের প্রাধান্য।
- ৭ক অনুচ্ছেদে রয়েছে - সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ এবং
- ৮নং অনুচ্ছেদে ''রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ'' উল্লেখিত রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৮৫৮.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স কত?
  1. ক) ২১ বছর
  2. খ) ১৮ বছর
  3. গ) ২৫ বছর
  4. ঘ) ৩৫ বছর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান মতে- 
- বাংলাদেশের একজন ভোটারের সর্রনিম্ন বয়স ১৮ বছর, 
- বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ২৫ বছর,
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ২৫ বছর, 
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ৩৫ বছর। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮৫৯.
সংবিধানের কোন ভাগে নির্বাচনের কথা উল্লেখ আছে?
  1. চতুর্থ
  2. অষ্টম
  3. সপ্তম
  4. নবম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১১টি ভাগ রয়েছে।
- এর মধ্যে প্রথম ভাগে প্রজাতন্ত্র,
- দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি,
- তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার,
- চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে বাংলাদেশের কর্মবিভাগ ও নবম-ক ভাগ জরুরী বিধানাবলী,
- দশম ভাগে সংবিধান সশোধন এবং একাদশ ভাগ বিবিধ।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৮৬০.
“রাষ্ট্র এমন অবস্থাসৃষ্টির চেষ্টা করিবেন, যেখানে সাধারণ নীতি হিসাবে কোন ব্যক্তি অনুপার্জিত আয় ভোগ করিতে সমর্থ হইবেন না এবং যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিমূলক ও কায়িক-সকল প্রকার শ্র্রম সৃষ্টিধর্মী প্রয়াসের ও মানবিক ব্যক্তিত্বের পূর্ণতর অভিব্যক্তিতে পরিণত হইবে৷” –এটি সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে?
  1. ২০(২) নং অনুচ্ছেদ
  2. ২১(১) নং অনুচ্ছেদ
  3. ২১(২) নং অনুচ্ছেদ
  4. ৪০ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ২০ নং অনুচ্ছেদে অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্মের কথা বলা হয়েছে।

২০(১) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “কর্ম হইতেছে কর্মক্ষম প্রত্যেক নাগরিকের পক্ষে অধিকার, কর্তব্য ও সম্মানের বিষয়, এবং “প্রত্যেকের নিকট হইতে যোগ্যতানুসারে ও প্রত্যেককে কর্মানুযায়ী” -এই নীতির ভিত্তিতে প্রত্যেকে স্বীয় কর্মের জন্য পারিশ্রমিক লাভ করিবেন৷”

২০(২) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “রাষ্ট্র এমন অবস্থাসৃষ্টির চেষ্টা করিবেন, যেখানে সাধারণ নীতি হিসাবে কোন ব্যক্তি অনুপার্জিত আয় ভোগ করিতে সমর্থ হইবেন না এবং যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিমূলক ও কায়িক-সকল প্রকার শ্র্রম সৃষ্টিধর্মী প্রয়াসের ও মানবিক ব্যক্তিত্বের পূর্ণতর অভিব্যক্তিতে পরিণত হইবে৷”

অন্যদিকে,
- ২১ নং অনুচ্ছেদ : নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য
- ৪০ নং অনুচ্ছেদ : পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৮৬১.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৮০
  2. অনুচ্ছেদ ৮১
  3. অনুচ্ছেদ ৮২
  4. অনুচ্ছেদ ৮৩
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদসমূহ:
- অনুচ্ছেদ ৮০: আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি।
- অনুচ্ছেদ ৮১: অর্থবিল।
- অনুচ্ছেদ ৮২: আর্থিক ব্যবস্থাবলীর সুপারিশ।
- অনুচ্ছেদ ৮৩: সংসদের আইন ব্যতীত করারোপে বাধা।
- অনুচ্ছেদ ৮৪: সংযুক্ত তহবিল ও প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব।
- অনুচ্ছেদ ৮৫: সরকারী অর্থের নিয়ন্ত্রণ।
- অনুচ্ছেদ ৮৬: প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাবে প্রদেয় অর্থ।
- অনুচ্ছেদ ৮৭: বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৮৮: সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়।
- অনুচ্ছেদ ৮৯: বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সম্পর্কিত পদ্ধতি।
- অনুচ্ছেদ ৯০: নির্দিষ্টকরণ আইন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮৬২.
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৭নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কয়টি সরকারি কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠার বিধান রয়েছে?
  1. সর্বদা একটি
  2. সর্বোচ্চ দুটি
  3. এক বা একাধিক
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা
১৩৭নং অনুচ্ছেদ: সরকারি কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠা: 
- আইনের দ্বারা বাংলাদেশের জন্য এক বা একাধিক সরকারি কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠার বিধান করা যাবে এবং একজন সভাপতিকে ও আইনের দ্বারা যেরূপ নির্ধারিত হবে, সেইরূপ অন্যান্য সদস্যকে নিয়ে প্রত্যেক কমিশন গঠিত হবে।
------------------------ 

বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।

সূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮৬৩.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সুপ্রীম কোর্টকে "কোর্ট অব রেকর্ড" বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ - ১০৯ 
  2. অনুচ্ছেদ - ১১২ 
  3. অনুচ্ছেদ - ১০৮ 
  4. অনুচ্ছেদ - ১১০ 
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮-এ সুপ্রীম কোর্টকে "কোর্ট অব রেকর্ড" হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আদালত অবমাননার জন্য তদন্ত ও দণ্ডাদেশ প্রদানের ক্ষমতাও সুপ্রীম কোর্টের রয়েছে।

অনুচ্ছেদ - ১০৮: "কোর্ট অব রেকর্ড" রূপে সুপ্রীম কোর্ট
সুপ্রীম কোর্ট হবে একটি "কোর্ট অব্ রেকর্ড" এবং এর অবমাননার জন্য তদন্তের আদেশদান বা দণ্ডাদেশ দানের ক্ষমতাসহ আইন-সাপেক্ষে অনুরূপ আদালতের সকল ক্ষমতার অধিকারী থাকবেন।

• সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান বাংলাদেশের মৌলিক ও সর্বোচ্চ আইন।
- সুপ্রিম কোর্ট হলো সংবিধানের ব্যাখাকারক বা অভিভাবক।
- সংবিধান তৈরির জন্য ১৯৭২ সালে ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়।

অন্যদিকে -
- ১০৯নং অনুচ্ছেদ: আদালতসমূহের উপর তত্ত্বাবধায়ন ও নিয়ন্ত্রণ।
- ১১০নং অনুচ্ছেদ: অধস্তন আদালত হইতে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা স্থানান্তর।
- ১১২নং অনুচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্টের সহায়তা।

সূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৮৬৪.
সংবিধানের কততম সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে গণভোটের বিধান পুনরুজ্জীবিত হয়েছে?
  1. ত্রয়োদশ সংশোধনী
  2. একাদশ সংশোধনী
  3. দ্বাদশ সংশোধনী
  4. পঞ্চদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে গণভোটের বিধান পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।

- ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আংশিক অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
- বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
- রায়ে আদালত পঞ্চদশ সংশোধনীর মোট ছয়টি বিধান বাতিল করেছে।
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও গণভোট পদ্ধতি ফিরিয়ে আনা হয় এই রায়ের মাধ্যমে।
- ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান বাতিল করাকে বাতিল করা হয়েছে। সংবিধানের প্রস্তাবনা ও কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধনে গণভোটের বিধান ফিরে আসছে।
- ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ বাতিল ঘোষণা করে হাই কোর্ট।
-  ২৭ নভেম্বর ২০২৫ পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবিতে হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়।

পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০ জুন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূলনীতিগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয়, তবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখা হয়।
- এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।

উৎস: বিবিসি এবং বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৮৬৫.
সংবিধানের ৯৫ তম অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা
  2. বিচারক-নিয়োগ
  3. বিচারকদের পদের মেয়াদ
  4. অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৯০ - নির্দিষ্টকরণ আইন।
- অনুচ্ছেদ ৯১ - সম্পূরক ও অতিরিক্ত মঞ্জুরী।
- অনুচ্ছেদ ৯২ - হিসাব, ঋণ প্রভৃতির উপর ভোট।
- অনুচ্ছেদ ৯৩ - অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৯৪ - সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৯৫ - বিচারক-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৬ - বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৯৭ - অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৮ - সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ।
- অনুচ্ছেদ ৯৯ - অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১০০ - সুপ্রীম কোর্টের আসন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৮৬৬.
সংবিধানের চেতনার বিপরীতে সামরিক শাসনকে বৈধতা দিতে কোন তফসিলের অপব্যবহার করা হয়?
  1. ১ম তফসিল
  2. ২য় তফসিল
  3. ৩য় তফসিল
  4. ৪র্থ তফসিল
ব্যাখ্যা
সংবিধানের চেতনার বিপরীতে সামরিক শাসনকে বৈধতা দিতে ৪র্থ তফসিলের অপব্যবহার করা হয়।

বাংলাদেশের সংবিধানের তফসিল:

- বাংলাদেশের সংবিধানে তফসিল ৭টি।
- যথা:

• প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন,
• দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত),
• তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা,
• চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী,
• পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ,
• ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা,
• সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উল্লেখ্য,
⇒ পঞ্চম সংশোধনী: ১৯৭৯ সাল।
- সামরিক শাসন বৈধকরণ, মূলনীতি পরিবর্তন ও একদলীয়ব্যবস্থার অবসান।
- সামরিক শাসনের মাধ্যমে ১৯৭৫-৭৯ সময়ে দেশ পরিচালনার জন্যে গৃহীত ব্যবস্থাবলীকে অনুমোদন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৮৬৭.
বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি সরকারের পরিবর্তে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা চালু হয় সংবিধানের কত নম্বর সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. ক) ১০
  2. খ) ১১
  3. গ) ১২
  4. ঘ) ১৩
ব্যাখ্যা
- ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট পঞ্চম জাতীয় সংসদে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী পাশ হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়। এতে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।
- এই লক্ষ্যে ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত গণভোটে জনগণ সংশোধনীর পক্ষে সম্মতি দিলে ১৮ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি সংশোধনী বিলে স্বাক্ষর করেন।
- এর আগে ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
১,৮৬৮.
আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন শেখ মুজিবুর রহমান এর পদবী কি ছিল?
  1. ক) সম্পাদক
  2. খ) যুগ্ম সম্পাদক
  3. গ) সহ সভাপতি
  4. ঘ) সভাপতি
ব্যাখ্যা
১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ গঠনে প্রধান সংগঠকদের একজন ছিলেন শেখ মুজিব। বস্তুত জেলে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় নবগঠিত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের (১৯৪৯) যুগ্ম সম্পাদকের তিনটি পদের মধ্যে একটিতে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে শেখ মুজিবের সক্রিয় রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। অপর দুই যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন খোন্দকার মোশতাক আহমদ এবং এ.কে রফিকুল হোসেন। ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
১,৮৬৯.
গণপরিষদের কোন সদস্য সংবিধানের মূলকপিতে স্বাক্ষর প্রদান করেননি?
  1. ক) আডভোকেট সিরাজুল হক
  2. খ) ডা. ক্ষিতিশচন্দ্র মণ্ডল
  3. গ) মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ তারিখে প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ ও গণপরিষদ সদস্যগণ সংবিধানের হস্তলিখিত ও চূড়ান্ত অনুলিপিতে স্বাক্ষর প্রদান করেন।
হস্তলিখিত সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর করেন – প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্বাক্ষর করেন – যথাক্রমে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দীন আহমদ।

তৎকালীন ৪০৩ জন সদস্যের মধ্যে ৩৯৯ জন সদস্য সংবিধানের চূড়ান্ত কপিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। যে ৪ জন গণপরিষদ সদস্য স্বাক্ষর করেনি তারা হলেন – 
১. আজিজার রহমান
২. সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত – ন্যাপ (মোজাফফর)
৩. জালাল আহমদ
৪. মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা

তাদের মধ্যে একমাত্র সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধান প্রণয়ন কমিটির বিরোধী দলীয় সদস্য ছিলেন।

[উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান]
১,৮৭০.
বাংলাদেশের সংবিধান রচনা কমিটিতে আওয়ামী লীগের দলীয় গণপরিষদ সদস্য ছিল-
  1. ক) ৩৪ জন
  2. খ) ৩৩ জন
  3. গ) ৩২ জন
  4. ঘ) ৩১ জন
ব্যাখ্যা

- ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- এই কমিটির মোট সদস্য ছিল ৩৪ জন এবং আওয়ামী লীগের থেকে ছিল ৩৩ জন সদস্য এবং আওয়ামী লীগ ছাড়া ন্যাপের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন।
- এই কমিটির প্রধান বা সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৮৭১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ৫১ নং অনুচ্ছেদে
  2. ৫২ নং অনুচ্ছেদে
  3. ৫৫ নং অনুচ্ছেদে
  4. ৫৭ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৫৭ নং অনুচ্ছেদ: প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ
- সংবিধানের ৪র্থ ভাগের ২য় পরিচ্ছেদে 'প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ' সম্পর্কে বলা হয়েছে।

• ৫৭ (১) নং অনুচ্ছেদ: প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হবে, যদি:
(ক) তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন; অথবা
(খ) তিনি সংসদ-সদস্য না থাকেন।

• ৫৭ (২) নং অনুচ্ছেদ: যদি প্রধানমন্ত্রী সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারান, তবে তিনি: পদত্যাগ করবেন; অথবা সংসদ ভেঙে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে পরামর্শ দেবেন।
যদি তিনি সংসদ ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং রাষ্ট্রপতি সন্তুষ্ট হন যে অন্য কোনো সংসদ-সদস্য সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা পান না, তবে রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেবেন।

• ৫৭ (৩) নং অনুচ্ছেদ: প্রধানমন্ত্রীর পদে নতুন কেউ দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তাঁর পদে থাকতে পারবেন, এবং এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই তাঁকে এই ক্ষেত্রে অযোগ্য করবে না।

অন্যদিকে,
- ৫১ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি,
- ৫২ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতির অভিশংসন।
- ৫৫ নং অনুচ্ছেদ: মন্ত্রিসভা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮৭২.
রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্‌বান করেন সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুসারে?
  1. ক) অনুচ্ছেদ - ৭০
  2. খ) অনুচ্ছেদ - ৭১
  3. গ) অনুচ্ছেদ - ৭২
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ - ৭৩
  5. ঙ) অনুচ্ছেদ - ৭৬
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ - ৭২ঃ সংসদের অধিবেশন
(১) সরকারী বিজ্ঞপ্তি-দ্বারা রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করিবেন এবং সংসদ আহ্বানকালে রাষ্ট্রপতি প্রথম বৈঠকের সময় ও স্থান নির্ধারণ করিবেন:
[তবে শর্ত থাকে2[১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার (ক) উপ-দফায় উল্লিখিত নব্বই দিন সময় ব্যতীত অন্য সময়ে]যে, সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ষাট দিনের অতিরিক্ত বিরতি থাকিবে না:
তবে আরও শর্ত থাকে যে, এই দফার অধীন তাঁহার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক লিখিতভাবে প্রদত্ত পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন।]
(২) এই অনুচ্ছেদের (১) দফার বিধানাবলী সত্ত্বেও সংসদ-সদস্যদের যে কোন সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হইবার ত্রিশ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহ্বান করা হইবে।
(৩) রাষ্ট্রপতি পূর্বে ভাঙ্গিয়া না দিয়া থাকিলে প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসর অতিবাহিত হইলে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রজাতন্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত থাকিবার কালে সংসদের আইন-দ্বারা অনুরূপ মেয়াদ এককালে অনধিক এক বৎসর বর্ধিত করা যাইতে পারিবে, তবে যুদ্ধ সমাপ্ত হইলে বর্ধিত মেয়াদ কোনক্রমে ছয় মাসের অধিক হইবে না।
১,৮৭৩.
গণপরিষদ কর্তৃক সংবিধান গৃহীত হয় কত তারিখে?
  1. ১২ অক্টোবর ১৯৭২
  2. ৪ নভেম্বর ১৯৭২
  3. ১০ এপ্রিল ১৯৭২
  4. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ গণপরিষদ হল ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সংবিধান অধিবেশন।
• রাষ্ট্রপতি গণপরিষদের আহ্বান করেন - ১০ এপ্রিল ১৯৭২।
• গণ পরিষদের খসড়া সংবিধান উত্থাপিত হয়-১২ অক্টোবর ১৯৭২।
• গৃহীত হয় -৪ নভেম্বর ১৯৭২।
• কার্যকর হয় - ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২।
• গণপরিষদে খসড়া সংবিধান উত্থাপন করেন - ড. কামাল হোসেন।
• গণপরিষদের স্পিকার ছিলেন - শাহ আব্দুল হামিদ।
• গণপরিষদের ডেপুটি স্পিকার ছিলেন-মোহাম্মদ উল্লাহ।
• গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন- মাওলানা আব্দুল রশিদ তর্কবাগী।
• সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য ছিলেন - ৩৪ জন।
• একমাত্র নারী সদস্য- বেগম রাজিয়া বানু।
• সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র বিরোধী দলের সদস্য ছিলেন - সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৭৪.
বাংলাদেশের সংবিধান এ পর্যন্ত কতবার সংশোধন করা হয়েছে? 
  1. ১৯ বার
  2. ১৬ বার
  3. ১৫ বার
  4. ১৭ বার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয় ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান সংশোধন হয়েছে ১৭ বার।
- এর মধ্যে চারটি সংশোধনী ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছে।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই সংসদে সংবিধানের ১ম সংশোধনী পাশ হয়।
- সংবিধানের সর্বশেষ, অর্থাৎ সপ্তদশ সংশোধনী হয় ২০১৮ সালের ৮ জুলাই।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান এবং
 দৈনিক ইত্তেফাক।

১,৮৭৫.
কোন সংশোধনী দ্বারা ‘সংসদীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা’ প্রবর্তিত হয়? 
  1. চতুর্থ সংশোধনী
  2. তৃতীয় সংশোধনী
  3. দ্বাদশ সংশোধনী
  4. পঞ্চম সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• চতুর্থ সংশোধনী:
- চতুর্থ সংশোধনী গৃহীত হয় ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি।
- সংসদীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।
- বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্থলে আনা হয় একদলীয় ব্যবস্থা।
- জাতীয় সংসদের কর্তৃক ক্ষমতা খর্ব করা হয়।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অনেকটা খর্ব হয়।
- সুপ্রিম কোর্ট নাগরিকদের মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষা ও প্রয়োগের এখতিয়ার থেকে বঞ্চিত হয়।

অপরদিকে,
• দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন ঘটে;

• তৃতীয় সংশোধনী: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত সংক্রান্ত যে চুক্তি হয়, তৃতীয় সংশোধনীতে তা বৈধ ঘোষণা করা হয়।

• পঞ্চম সংশোধনী:  ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরে সামরিক সরকার কর্তৃক যেসব বিধিবিধান প্রণয়ন ও সংবিধানের সংশোধনী আনা হয়েছে, সেগুলো পঞ্চম সংশোধনী আইনে বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।
- বাংলাদেশের নাগরিকতা 'বাঙালি' থেকে 'বাংলাদেশি' করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

১,৮৭৬.
বাংলাদেশ সংবিধানে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে কোন অনুচ্ছেদের মাধ্যমে?
  1. ৩৯ (১)
  2. ৩৯ (২)
  3. ২৮ (২)
  4. ২৯ (২)
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায় হচ্ছে - মৌলিক অধিকার বিষয়ক।
- এই অধ্যায়ের অন্তর্গত ২৮ (২) অনুচ্ছেদটি নারী-পুরুষের সমতা বিষয়ক।

• অনুচ্ছেদ - ২৮: ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য- 
(১) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।
(২) রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।
(৩) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাইবে না।
(৪) নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

অন্যদিকে,
অনুচ্ছেদ - ২৯ (২): 
কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাঁহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।

অনুচ্ছেদ - ৩৯ (১): 
চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইল।

অনুচ্ছেদ - ৩৯ (২): 
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং
(খ) সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৮৭৭.
'জাতীয় সংস্কৃতি' বিষয়টি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. ক) ২১
  2. খ) ২২
  3. গ) ২৩
  4. ঘ) ২৪
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদ:
অনুচ্ছেদ-১৫৷ মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা
অনুচ্ছেদ-১৬৷ গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব
অনুচ্ছেদ-১৭৷ অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
অনুচ্ছেদ-১৮৷ জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা
অনুচ্ছেদ-১৮ক। পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন
অনুচ্ছেদ-১৯৷ সুযোগের সমতা
অনুচ্ছেদ-২০৷ অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম
অনুচ্ছেদ-২১৷ নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য
অনুচ্ছেদ-২২৷ নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ
অনুচ্ছেদ-২৩৷ জাতীয় সংস্কৃতি
অনুচ্ছেদ-২৩ক। উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি
অনুচ্ছেদ-২৪৷ জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি
অনুচ্ছেদ-২৫৷ আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন

সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮৭৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী (২০১৪) এর মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত করা
  2. বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেওয়া
  3. প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও বিনামূল্য করা
  4. একাদশ সংসদের ৫০টি নারী আসন সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা

• ষোড়শ সংশোধনী:
- ষোড়শ সংশোধনী বাংলাদেশে ২০১৪ সালে পাস হওয়া সংবিধানের একটি সংশোধনী।
- এর মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থেকে পুনরায় জাতীয় সংসদের হাতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।
- সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে এই সংশোধনী কার্যকর করা হয়।
- কিন্তু পরবর্তীতে আপিল বিভাগ এই সংশোধনীর বিরুদ্ধে রায় দিয়ে এটিকে অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করে।
- কারণ, এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি ক্ষুণ্ণ করছিল
- এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী ছিল।
- সংশোধনী বাতিল হওয়ার ফলে অপসারণের ক্ষমতা পুনরায় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে ফিরে আসে।
- এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

অন্যদিকে, 
• ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত করা হয়। 
• ষোলতম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও বিনামূল্য করা হয়। 
• সতেরোতম সংশোধনীর মাধ্যমে একাদশ সংসদের ৫০টি নারী আসন সংরক্ষণ করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান ও প্রথম আলো পত্রিকা। 

১,৮৭৯.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা দেওয়া আছে?
  1. ১৫১ নং
  2. ১৫২ নং
  3. ১৫৩ নং
  4. ১৪৫ নং
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে,

১৫২। (১) বিষয় বা প্রসঙ্গের প্রয়োজনে অন্যরূপ না হইলে এই সংবিধানে,


"রাজনৈতিক দল" বলিতে এমন একটি অধিসঙ্ঘ বা ব্যক্তিসমষ্টি অন্তর্ভুক্ত, যে অধিসঙ্ঘ বা ব্যক্তিসমষ্টি সংসদের অভ্যন্তরে বা বাহিরে স্বাতন্ত্র্যসূচক কোন নামে কার্য করেন এবং কোন রাজনৈতিক মত প্রচারের বা কোন রাজনৈতিক তৎপরতা পরিচালনার উদ্দেশ্যে অন্যান্য অধিসঙ্ঘ হইতে পৃথক কোন অধিসঙ্ঘ হিসাবে নিজদিগকে প্রকাশ করেন;

• সংবিধানের বিভিন্ন টার্মের ব্যাখ্যা ও সংজ্ঞা দেওয়া আছে ১৫২ নং অনুচ্ছদে।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮৮০.
বাংলাদেশে ভােটার হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স কত?
  1. ক) ১৮
  2. খ) ১৯
  3. গ) ২০
  4. ঘ) ২১
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম ভাগে বর্ণিত "নির্বাচন" অধ্যায়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ - ১২২: ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা
(১) প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।
(২) কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার তালিকাভুক্ত হইবার অধিকারী হইবেন, যদি
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হোন;
(খ) তাহার বয়স আঠারো (১৮) বৎসরের কম না হয়;
(গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁহার সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা বহাল না থাকিয়া থাকে;
(ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইবুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হয়ে থাকেন।


উল্লেখ্য,
- জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী সর্বনিম্ন বয়স - ২৫ বছর,
- রাষ্ট্রপতি হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স - ৩৫ বছর।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮৮১.
Oaths and declarations has been included in which schedule of the constitution?
  1. 2nd
  2. 3rd
  3. 4th
  4. 5th
  5. 6th
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের তফসিলসমূহ:
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।
• প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
• দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।
• তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
• চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
• পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
• ষষ্ঠ তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণা।
• সপ্তম তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮৮২.
গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় কবে?
  1. ১১ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে
  2. ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে
  3. ১৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে
  4. ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়: ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়: ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন: ১১ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপিত হয়: ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়: ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদের সদস্যগণ হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেনঃ ১৪ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

১,৮৮৩.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে কাস্টিং ভোট-এর কথা উল্লেখ রয়েছে?
  1. ৭৫ (১) নং
  2. ৭৪ নং
  3. ৭৩ (১) নং
  4. ৭৮ নং
ব্যাখ্যা
কাস্টিং ভোট: (Casting Vote):
- সংসদে কখনো কখনো কোন বিষয়ে দু পক্ষের হা অথবা না ভোটের সংখ্যা সমান হয়ে যেতে পারে।
- এমন অবস্থায় স্পীকার নিজের ভোট দিয়ে সংসদের অচলাবস্থা দূর করেন।
- অন্যভাবে বলা যায়, কোন বিলের ভোটাভুটিতে যখন পক্ষে বিপক্ষে সমান ভোট পরে, তখন স্পিকার সংসদের সভাপতি হিসেবে তার ভোট প্রয়োগ করেন।
- একে নির্ণায়ক বা কাস্টিং ভোট বলে।
- এ ব্যতীত অন্যকোন ক্ষেত্রে স্পিকার তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না।
- স্পীকারের এই ভোটটিই হলো 'কাস্টিং বা নির্ণায়ক ভোট'।

⇒ সংবিধানের পঞ্চম ভাগের ৭৫ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
- সংসদ কর্তৃক প্রণীত কার্যপ্রণালী-বিধি-দ্বারা এবং অনুরূপ বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত কার্যপ্রণালী-বিধি-দ্বারা সংসদের কার্যপ্রণালী নিয়ন্ত্রিত হবে;
- উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংসদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে,
- তবে সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্র ব্যতীত সভাপতি (স্পিকার) ভোটদান করবেন না এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তিনি নির্ণায়ক ভোট (কাস্টিং ভোট) প্রদান করবেন;
- সংসদের কোন সদস্যপদ শূন্য রয়েছে, কেবল এই কারণে কিংবা সংসদে উপস্থিত হবার বা ভোটদানের বা অন্য কোন উপায়ে কার্যধারায় অংশগ্রহণের অধিকার না থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি অনুরূপ কার্য করেছেন, কেবল এই কারণে সংসদের কোন কার্যধারা অবৈধ হবে না।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮৮৪.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ সংশোধন যোগ্য নয়?
  1. ৭ নং
  2. ২৭ নং
  3. ১৫০ নং
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান:
⇒ সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য:
- সংবিধানের ৭(খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক বিধানবলি সংশোধন অযোগ্য বিবেচিত।

এছাড়াও, 
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১৪২ নং অনুচ্ছেদে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কে বলা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনী সংক্রান্ত কোন বিল পাসের জন্যে সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮৮৫.
সংবিধানের তৃতীয় ভাগের অনুচ্ছেদ সমূহ-
  1. ১৬ থেকে ৪৪নং
  2. ২০ থেকে ৪২নং
  3. ২৬ থেকে ৪৭কনং
  4. ২৮ থেকে ৫০নং
ব্যাখ্যা

• তৃতীয় ভাগ: মৌলিক অধিকার।
- ২৬-৪৭ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বিষয়াবলী বর্ণিত রয়েছে।

• বাংলাদেশ সংবিধান:

- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। যথা:-
- সংবিধানের প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৮৮৬.
বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী গৃহীত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭৭ সালে
  2. খ) ১৯৭৫ সালে
  3. গ) ১৯৭৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা
- সাংবিধানিক সংশোধনী-  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে এ পর্যন্ত সতেরটি সংশোধনী আনা হয়েছে।
কয়েকটি সংশোধনী নিম্নরূপ:-
- প্রথম সংশোধনী আইন  ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই সংবিধান (প্রথম সংশোধনী) আইন, ১৯৭৩ গৃহীত হয়। 
ভেম্বর। 
- চতুর্থ সংশোধনী আইন সংবিধান (চতুর্থ সংশোধনী) আইন ১৯৭৫ গৃহীত হয় ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি। 
- পঞ্চম সংশোধনী আইন  এই সংবিধান আইন জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয় ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল। 
- ষষ্ট সংশোধনী আইন ১৯৮১ সালের সংবিধানের ৫১ ও ৬৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ কর্তৃক এই আইন কার্যকর হয়।
- দ্বাদশ সংশোধনী আইন  বাংলাদেশের সাংবিধানিক বিকাশের ইতিহাসে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে খ্যাত এই সংশোধনী আইন পাস হয় ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট। 
- পঞ্চদশ সংশোধনী আইন  সংবিধান আইন ২০১১ (পঞ্চদশ সংশোধনী) পাস হয় ২০১১ সালের ২৫ জুন।
-সর্বশেষ, সপ্তদশ  সংশোধনী আইন  সংবিধান আইন  ২০১৮ (সপ্তদশ সংশোধনী) পাস হয় ২০১৮ সালের ৮ জুলাই।

উৎস:- বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৮৮৭.
'বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র' সংবিধানের কোথায় এর উল্লেখ আছে?
  1. প্রস্তাবনায়
  2. অনুচ্ছেদ ১
  3. অনুচ্ছেদ ৭
  4. অনুচ্ছেদ ৪(২)
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:  
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে যে- বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র, যাহা “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ” নামে পরিচিত হইবে৷

অন্যদিকে, 
- সংবিধানের ৭ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে - সংবিধানের প্রাধান্য।
- সংবিধানের ৪(২) নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে -  প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৮৮৮.
'কোর্ট অব রেকর্ড' রূপে সুপ্রীম কোর্ট সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ১১১ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১১০ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১০৯ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১০৮ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
বিচারবিভাগ:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগে বিচারবিভাগ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ষষ্ঠ ভাগে মোট ৩টি পরিচ্ছদ রয়েছে।
যথা:
• ১ম পরিচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্ট [অনুচ্ছেদ: ৯৪ - ১১৩];
• ২য় পরিচ্ছেদ: অধস্তন আদালত [অনুচ্ছেদ- ১১৪ থেকে ১১৬];
• ৩য় পরিচ্ছেদ: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল [অনুচ্ছেদ: ১১৭]।

১ম পরিচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্ট
সংবিধানের ১০৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে 'কোর্ট অব রেকর্ড' রূপে সুপ্রীম কোর্ট: সুপ্রীম কোর্ট একটি 'কোর্ট অব্ রেকর্ড' হবেন এবং এর অবমাননার জন্য তদন্তের আদেশদান বা দণ্ডাদেশদানের ক্ষমতাসহ আইন-সাপেক্ষে অনুরূপ আদালতের সকল ক্ষমতার অধিকারী থাকিবেন।

অন্যদিকে -
- ১০৯ নং অনুচ্ছেদ: আদালতসমূহের উপর তত্ত্বাবধায়ন ও নিয়ন্ত্রণ।
- ১১০ নং অনুচ্ছেদ: অধস্তন আদালত হইতে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা স্থানান্তর।
- ১১১ নং অনুচ্ছেদ: সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বাধ্যতামূলক।

উৎস:
i) আইন মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮৮৯.
ন্যায়পাল কার সমান ক্ষমতার অধিকারী হবেন?
  1. ক) অ্যাটর্নি জেনারেল
  2. খ) প্রধানমন্ত্রী
  3. গ) সুপ্রিম কোর্টের বিচারক
  4. ঘ) রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
- ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়। 
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ন্যায়পাল পদ সৃষ্টি। 
- জাতীয় সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পাল পদ প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করিতে পারিবেন। 
- ন্যায়পাল সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারকের সমান ক্ষমতার অধিকারী হবেন। 

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৮৯০.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বেকার যুবকের সরকারি সাহায্যলাভের অধিকার রয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ ১৪
  2. অনুচ্ছেদ ১৫
  3. অনুচ্ছেদ ১৬ 
  4. অনুচ্ছেদ ১৮
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ (ঘ) অনুযায়ী বেকার যুবকের সরকারি সাহায্যলাভের অধিকার রয়েছে। 

• সংবিধানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি: 

- সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ (ঘ)  এর আলোকে গৃহীত ও বাস্তবায়ন হয়। 
- এই অনুচ্ছেদটি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্র পরিকল্পিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য মৌলিক প্রয়োজনীয়তা (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা) নিশ্চিত করবে। 
- অনুচ্ছেদটি সামাজিক নিরাপত্তাকে নাগরিকের অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি (যেমন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ইত্যাদি) চালু ও সম্প্রসারণের ভিত্তি প্রদান করেছে।
- 'জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল' এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সকল কার্যক্রম এই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।

• অনুচ্ছেদ ১৫: রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশক্তির ক্রমবৃদ্ধিসাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতিসাধন, যাহাতে নাগরিকদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্জন নিশ্চিত করা যায়:
(ক) অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা;
(খ) কর্মের অধিকার, অর্থাৎ কর্মের গুণ ও পরিমাণ বিবেচনা করিয়া যুক্তিসঙ্গত মজুরীর বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার অধিকার;
(গ) যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিনোদন ও অবকাশের অধিকার; এবং
(ঘ) সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতাপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত আয়ত্তাতীত কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারী সাহায্যলাভের অধিকার৷


অন্যদিকে, 
- অনুচ্ছেদ ১৪ : কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি। 
- অনুচ্ছেদ ১৬ : গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব। 
- অনুচ্ছেদ ১৮ : জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। 

১,৮৯১.
গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে কবে?
  1. ১৯৭২ সালের ১১ মার্চ
  2. ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল
  3. ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল
  4. ১৯৭২ সালের ৩০ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান রচনার ইতিহাস:
- দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের বিজয় অর্জিত হয়।
- পাকিস্তানের শাসন মুক্ত হয়ে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ।
- ১৯৭২ সালের ১০ই এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। 
- ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে একটি সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- কমিটি ছয় মাসের মধ্যে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন করে।
- ১৯৭২ সালের ৩০শে অক্টোবর গণপরিষদে এটি আলোচিত হয়।
- অবশেষে একই বছরের ৪ঠা নভেম্বর গণপরিষদে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৮৯২.
সংসদীয় পরিভাষায় 'ফ্লোর ক্রসিং' এর অর্থ কী?
  1. সংসদের অধিবেশনে না থাকা
  2. নিজ রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া
  3. চিফ হুইপের নির্দেশ অমান্য করা
  4. প্রশ্নোত্তর অধিবেশনে অংশগ্রহণ না করা
ব্যাখ্যা

• ফ্লোর ক্রসিং:
- জাতীয় সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করা কে ‘ফ্লোর ক্রসিং’ বলা হয়। 
- সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে,কোনো ব্যক্তি যদি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করেন বা দল থেকে পদত্যাগ করেন, তবে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।

সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে, সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি-
(ক) উক্ত দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,
তাহা হলে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হবার অযোগ্য হবেন না। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৮৯৩.
"প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে।" বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা আছে?
  1. ২৬ নং
  2. ২৭ নং
  3. ২৮ নং
  4. ২৯ নং
ব্যাখ্যা

- ২৯ নং অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে।
- কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের অযোগ্য হইবেন না;
- কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাবে না।

অন্যদিকে,
- ২৬ নং:মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল;
- ২৭নং: আইনের দৃষ্টিতে সমতা;
- ২৮ নং: ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য;

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

১,৮৯৪.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তি ও ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন?
  1. অনুচ্ছেদ ৯৪
  2. অনুচ্ছেদ ১০৬
  3. অনুচ্ছেদ ১১২
  4. অনুচ্ছেদ ১১৬
  5. অনুচ্ছেদ ১২২
ব্যাখ্যা

বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন:
- সংবিধানের ১১৬ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন। 
- অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিগণ এবং ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৬ নং অনুচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার: যদি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হয় যে, আইনের এমন কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হয় বা উত্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দেয়, যা এমন ধরনের ও এমন জনগুরুত্বসম্পন্ন যে, সেই সম্পর্কে সুপ্রীম কোর্টের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন, তা হইলে তিনি প্রশ্নটি আপীল বিভাগের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করিতে পারবেন এবং উক্ত বিভাগ স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত শুনানীর পর প্রশ্নটি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে স্বীয় মতামত জ্ঞাপন করতে পারবেন।
- ১১২ নং অনুচ্ছেদ" বলতে সাধারণত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদটিকে বোঝায়, যা সুপ্রীম কোর্টের সহায়তা সংক্রান্ত। 
- সংবিধানের ১২২ নং অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হয়েছে, ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৮৯৫.
অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করা হয় কবে?
  1. ১৭ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে
  2. ১৩ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে
  3. ১৫ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে
  4. ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
গণপরিষদ এবং অস্থায়ী সংবিধান সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করা হয় ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে।
- অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন শেখ ‍মুজিবুর রহমান।
- গণপরিষদ আদেশ জারি করা হয় - ২৩ মার্চ, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদ আদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরি।
- সংবিধানে স্বাক্ষরের সময় গণপরিষদের মোট সদস্য - ৪০৩ জন।
- গণপরিষদের প্রথম বৈঠক বসে -১০ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে। ঐদিন গণপরিষদ গঠন করা হয়।
- প্রথম অধিবেশন এর সভাপতি ছিলেন মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ।
- প্রথম স্পিকার ছিলেন শাহ আব্দুল হামিদ।
- প্রথম ডেপুটি স্পিকার ছিলেন মোহাম্মদ উল্লাহ্‌।
- সংবিধান কমিটি গঠন করা হয় ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান কমিটির সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- কমিটির মোট সদস্য ছিলো ৩৪ জন।
- একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য ছিলেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত।
- গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশন বসে - ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয় - ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮৯৬.
বাংদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বল্পমেয়াদি জাতীয় সংসদ কোনটি? 
  1. দ্বিতীয় সংসদ
  2. পঞ্চম সংসদ
  3. ষষ্ঠ সংসদ
  4. সপ্তম সংসদ
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সবচেয়ে স্বল্পকালীন সংসদ হলো ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ।
- ১৯৯৬ সালের ১৯ মার্চ থেকে ৩০শে মার্চ পর্যন্ত এই সংসদের মেয়াদ ছিলো মাত্র ১২ দিন।
- এই সংসদে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী পাশ হয়।
- প্রথম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে কোন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলো না।
- দ্বিতীয় জাতীয় সংসদে প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা(আওয়ামী লীগের আসাদুজ্জামান খান) লক্ষ্য করা যায়।
- সপ্তম সংসদ হলো দেশের প্রথম পূর্ণমেয়াদকালীন সংসদ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

১,৮৯৭.
হাইকোর্ট বিভাগে রীট দাখিল সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) অনুচ্ছেদ ১০১
  2. খ) অনুচ্ছেদ ১০২
  3. গ) অনুচ্ছেদ ১০৩
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ ১০৫
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১০২ (২) দফায় যেকোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি কর্তৃক হাইকোর্ট বিভাগে রীট দাখিল বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।
১০১ নং অনুচ্ছেদে হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার, ১০৩ নং অনুচ্ছেদে আপীল বিভাগের এখতিয়ার এবং ১০৫ নং অনুচ্ছেদে আপীল বিভাগ কর্তৃক রায় বা আদেশ পুনর্বিবেচনা বিষয়ে বলা হয়েছে।

(সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৮৯৮.
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সংবিধানের কত নং সংশোধনীর মাধ্যমে বলবৎ করা হয়?
  1. ক) ১০ নং
  2. খ) ১১ নং
  3. গ) ১৩ নং
  4. ঘ) ১৫ নং
ব্যাখ্যা
ত্রয়োদশ সংশোধনী আইনঃ সংবিধান আইন ১৯৯৬ (ত্রয়োদশ সংশোধনী) পাস হয় ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ। এর দ্বারা একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান করা হয়, যা একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন হিসেবে কাজ করবে এবং সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সর্বতোভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করবে। একজন প্রধান উপদেষ্টা ও অনূর্ধ্ব ১০ জন উপদেষ্টার সমন্বয়ে গঠিতব্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার সমষ্টিগতভাবে রাষ্ট্রপতির নিকট দায়বদ্ধ থাকবে এবং নতুন সংসদ গঠনের পর নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের তারিখে বিলুপ্ত হবে।
কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
[সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
১,৮৯৯.
সংবিধানের কততম সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
  1. চতুর্দশ সংশোধনী
  2. দ্বাদশ সংশোধনী
  3. ত্রয়োদশ সংশোধনী
  4. একাদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী:
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদে খ, গ এবং ঘ ধারা সংযোজনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়।
- এই সংশোধনী মোতাবেক, একজন প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে অনধিক ১০ জন উপদেষ্টার দ্বারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলা হয়।
- ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ এ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়।


"২ক পরিচ্ছেদ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
৫৮(খ) অনুচ্ছেদ অনুসারে,{ বর্তমানে বিলুপ্ত} নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
 - (১) সংসদ ভাংগিয়া দেওয়ার পর বা মেয়াদ অবসানের কারণে ভংগ হইবার পর যে তারিখে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কার্যভার গ্রহণ করেন সেই তারিখ হইতে সংসদ গঠিত হওয়ার পর নূতন প্রধানমন্ত্রী তাঁহার পদের কার্যভার গ্রহণ করার তারিখ পর্যন্ত মেয়াদে একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকিবে।
- (২) নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার যৌথভাবে রাষ্ট্রপতির নিকট দায়ী থাকিবেন।
- (৩) (১) দফায় উল্লেখিত মেয়াদে প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা, ৫৮(ঘ) (১) অনুচ্ছেদের বিধানাবলী সাপেক্ষে, প্রযুক্ত হইবে এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী তৎ-কর্তৃক উহা প্রযুক্ত হইবে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৯০০.
মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ব্যতীত কোন কাজ এককভাবে করতে পারেন?
  1. ক) প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ
  2. খ) প্রধান বিচারপ্রতি নিয়োগ
  3. গ) পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ
  4. ঘ) ক ও খ উভয় সঠিক
ব্যাখ্যা
• মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ব্যতীত প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও প্রধান বিচারপ্রতি নিয়োগ দিতে পারেন। 

• ৪৮(৩) এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তাঁহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন:
 - তবে শর্ত থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোন পরামর্শদান করিয়াছেন কি না এবং করিয়া থাকিলে কি পরামর্শ দান করিয়াছেন, কোন আদালত সেই সম্পর্কে কোন প্রশ্নের তদন্ত করিতে পারিবেন না।

• সংবিধানের ষষ্ঠ অধ্যায়ের "বিচারবিভাগ" অংশের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের বাইরে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ব্যতীত প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন।
অনুচ্ছেদ - ৯৫ : বিচারক নিয়োগ
(১) প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করিয়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করিবেন। 
(২) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হইলে, এবং 
(ক) সুপ্রীম কোর্টে অন্যূন দশ বৎসরকাল এ্যাডভোকেট না থাকিয়া থাকিলে; অথবা 
(খ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্যূন দশ বৎসর কোন বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করিয়া থাকিলে; অথবা 
(গ) সুপ্রীমকোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকিয়া থাকিলে ; 
তিনি বিচারকপদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না। 
(৩) এই অনুচ্ছেদে ‘‘সুপ্রীম কোর্ট’’ বলিতে এই সংবিধান প্রবর্তনের পূর্বে যে কোন সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে আদালত হাইকোর্ট হিসাবে এখতিয়ার প্রয়োগ করিয়াছে, সেই আদালত অন্তর্ভুক্ত হইবে।

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।