বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সংবিধান

মোট প্রশ্ন২,৩৩১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সংবিধান

PrepBank · পাতা ১৮ / ২৪ · ১,৭০১১,৮০০ / ২,৩৩১

১,৭০১.
সংবিধান সংস্কার কমিশন কোন শব্দটি ‘প্রজাতন্ত্র’ এর পরিবর্তে ব্যবহারের সুপারিশ করে?
  1. সমাজতন্ত্র
  2. জনতন্ত্র
  3. নাগরিকতন্ত্র
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা
সংবিধান সংস্কার কমিশন:
- ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’ গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
- ৯ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিশন গঠন করা হয়েছে।
- সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

উল্লেখ্য
⇒ নাগরিকতন্ত্র
- কমিশন সুপারিশ করছে যে, সংবিধানের প্রযোজ্য সকল ক্ষেত্রে 'প্রজাতন্ত্র' এবং 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' শব্দগুলোর পরিবর্তে 'নাগরিকতন্ত্র' এবং 'জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ' শব্দগুলো ব্যবহৃত হবে। তবে ইংরেজি সংস্করণে "Republic" ও "People's Republic of Bangladesh" শব্দগুলো থাকছে।

এছাড়াও,
- নাগরিকত্ব 'বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি...' কমিশন এই বিধানটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করছে। সুপারিশ করা হচ্ছে যে, বর্তমান অনুচ্ছেদ ৬(২) নিম্নোক্তভাবে সংশোধন করা হোক "বাংলাদেশের নাগরিকগণ 'বাংলাদেশি' বলে পরিচিত হবেন" হিসেবে প্রতিস্থাপিত হোক।
- সংবিধান বিষয়ক অপরাধ ও সংবিধান সংশোধনের সীমাবদ্ধতা কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ক এবং ৭খ বিলুপ্তির সুপারিশ করছে।

উৎস: i) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ।
ii) সংবিধান সংস্কার কমিশন।
১,৭০২.
'রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি' সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ৫০ নং
  2. ৫১ নং
  3. ৫২ নং
  4. ৫৩ নং
ব্যাখ্যা
নির্বাহী বিভাগ:
অনুচ্ছেদ ৪৮ -  রাষ্ট্রপতি।
অনুচ্ছেদ ৪৯ - ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার।
অনুচ্ছেদ ৫০ - রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ।
অনুচ্ছেদ ৫১ -  রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।
অনুচ্ছেদ ৫২ -  রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের বিষয়টি সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৫৩ - অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
অনুচ্ছেদ ৫৪ - অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার।
অনুচ্ছেদ ৫৫ - মন্ত্রিসভা।
অনুচ্ছেদ ৫৬ - মন্ত্রিগণ।
অনুচ্ছেদ ৫৭ - প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
অনুচ্ছেদ ৫৮ - অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
অনুচ্ছেদ ৫৯ - স্থানীয় শাসন।
অনুচ্ছেদ ৬০ -স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।
অনুচ্ছেদ ৬১ - সর্বাধিনায়কতা
অনুচ্ছেদ ৬২ - প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগে ভর্তি প্রভৃতি
অনুচ্ছেদ ৬৩ - যুদ্ধ
অনুচ্ছেদ ৬৪ - অ্যাটর্ণি জেনারেল

উৎস:  বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭০৩.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে ‘গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতীকরণের ব্যবস্থা’ বিষয়টিকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
  1. অনুচ্ছেদ ১৬
  2. অনুচ্ছেদ ১৭
  3. অনুচ্ছেদ ১৮
  4. অনুচ্ছেদ ১৯
ব্যাখ্যা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ১৬ নং অনুচ্ছেদে ‘গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতীকরণের ব্যবস্থা’ বিষয়টিকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ১৬ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু: গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।
- সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, "নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য দূর করার জন্য গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতায়ন, কৃষি বিপ্লব, এবং কুটির শিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশসহ গ্রামাঞ্চলে আমূল রূপান্তরসাধনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।" 

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ১৯ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : সুযোগের সমতা।
- সংবিধানের ১৮ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।
- সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৭০৪.
সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকের কর্তব্য কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ২১নং অনুচ্ছেদে নাগরিক ও সরকারি করমচারীদের কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকের কর্তব্য ৪টি।
১. আইন মান্য করা
২. নাগরিক দায়িত্ব পালন করা
৩. শৃঙ্খলা রক্ষা করা
৪. জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৭০৫.
খসড়া সংবধিান কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ক) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২
  2. খ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭২
  3. গ) ৮ মে, ১৯৭২
  4. ঘ) ১০ জুন, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
খসড়া সংবধিান কমিটির প্রথম বৈঠক
• গণপরিষদ আদেশ অনুযায়ী খসড়া সংবিধান কমিটি দ্রুত খসড়া সংবিধান প্রণয়নের কাজ শুরু করে। ১৭ এপ্রিল ১৯৭২ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
• ঐ বৈঠকে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে সংবিধান বিষয়ে প্রস্তাব আহবান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
• প্রস্তাব পাঠানোর ঠিকানা কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলি বিল্ডং, তেজগাও,ঢাকা (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কারযালয়)।
• কমিটির ঘােষিত শেষ তারিখের (৮ মে ১৯৭২) মধ্যে কমিটি ৯৮টি সুপারিশমালা লাভ করে।  

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান। 
১,৭০৬.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রিট আবেদন করা যায়?
  1. ১০১
  2. ১০২
  3. ১০৩
  4. ১০৪
ব্যাখ্যা

রিট:
- রিট শব্দটির অর্থ হলো আদালত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঘোষিত আদেশ।
- রিট হল এমন এক আদেশ যার মাধ্যমে আদালত কোন ব্যক্তিকে কোন কাজ করতে বা করা হত বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করে।
- সংক্ষুব্ধ কোন ব্যক্তি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিকার প্রাপ্তির জন্য যে পিটিশন দায়ের করে, তা রিট পিটিশন নামে পরিচিত।
- সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কারো মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে হাইকোর্ট তা বলবত করতে পারে এবং বিচার বিভাগীয় পর্যাচলোনাকে কার্যকর করতে পারে, যা হাইকোর্ট বিভাগের 'রিট এখতিয়ার' নামে পরিচিত।

অন্যদিকে,
• সংবিধানের  ১০১ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে- এই সংবিধান বা অন্য কোন আইনের দ্বারা হাইকোর্ট বিভাগের উপর যেরূপ আদি, আপীল ও অন্যপ্রকার এখতিয়ার ও ক্ষমতা অর্পিত হইয়াছে, উক্ত বিভাগের সেইরূপ এখতিয়ার ও ক্ষমতা থাকিবে।

• ১০৩নং অনুচ্ছেদে- আপীল বিভাগের এখতিয়ার সমূহ বর্ণিত।

• ১০৪নং অনুচ্ছেদে- আপীল বিভাগের পরোয়ানা জারী ও নির্বাহ সম্পর্কিত।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

১,৭০৭.
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার
  2. ন্যায়পাল  নিয়োগ
  3. প্রধান বিচারপতি নিয়োগ
  4. বিচারকের পদের মেয়াদ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ - ৭৭ : ন্যায়পাল 
১. সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ-প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করতে পারবেন।
২. সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালকে কোন মন্ত্রণালয়, সরকারী কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের যে কোন কার্য সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাসহ যেরূপ ক্ষমতা কিংবা যেরকম দায়িত্ব প্রদান করবেন, ন্যায়পাল সেইরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
৩. ন্যায়পাল তার দায়িত্বপালন সম্পর্কে বাৎসরিক রিপোর্ট প্রণয়ন করবেন এবং অনুরূপ রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপিত হবে।

[উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান]
১,৭০৮.
বাংলাদেশ সংবিধানের অঙ্গসজ্জা কার্যক্রমের মূল তত্ত্বাবধায়ক কে ছিলেন?
  1. ড. আনিসুজ্জামান
  2. এ.কে.এম আব্দুর রউফ
  3. জয়নুল আবেদিন
  4. শিল্পী মনোয়ার হোসেন
ব্যাখ্যা
⇒  সংবিধান:
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর হতে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়। 
- বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান হাতে লিখে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছিল।
- হস্তলিখিত সংবিধানের মূল লেখক - এ.কে.এম আব্দুর রউফ। 
- এ কে এম আবদুর রউফ ছিলেন একজন মুক্তিযুদ্ধা।
- হস্তলিখিত সংবিধানের পৃষ্ঠা ছিল ৯৩, তবে স্বাক্ষরসহ ১০৯ পৃষ্ঠা।
- সংবিধানের প্রচ্ছদে শীতলপাটির উপর লেখা হয়েছে 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান'। 
- সংবিধানের অঙ্গসজ্জা কার্যক্রমের মূল তত্ত্বাবদায়ক ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন।
- আওয়ামী লীগ ছাড়া একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য ছিলেন ন্যাপের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
- এই কমিটির প্রধান বা সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধান লেখার পর, এর বাংলা সংস্করণের পর্যালোচনা করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ড. আনিসুজ্জামান, এবং ভাষা বিশেষজ্ঞ হিসেবে সৈয়দ আলী আহসান ও মযহারুল ইসলাম ছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৭০৯.
'গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫'-প্রণয়নের জন্য রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার উৎস হলো সংবিধানের -
  1. অনুচ্ছেদ ১২(২)
  2. অনুচ্ছেদ ৯৩(১)
  3. অনুচ্ছেদ ৫০(১)
  4. অনুচ্ছেদ ১০১(৩)
ব্যাখ্যা

গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫:
- ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে 'গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫'-এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
- জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত কয়েকটি প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে গণভোটের বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত এ অধ্যাদেশ। এটি অধ্যাদেশ নম্বর- ৬৭। 
- গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫, সংবিধানের ৯৩(১) নং অনুচ্ছেদের অধীনে জারি করা হয়েছে।

⇒ জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুসারে গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য আইন প্রণয়নের নির্দেশনা রয়েছে। সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় রয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির কাছে এটি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, আশু ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে, তাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করেন। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে গেলে বা অধিবেশনে না থাকলে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন, যা সংসদের আইনের মতোই কার্যকর। এই অধ্যাদেশ সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে পেশ করা হলে, সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে তা আইনে পরিণত হয় এবং অনুমোদিত না হলে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার (সাধারণত ৩০ দিন) পর এর কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়।

এছাড়া,
- ব্যালট বাক্স বিষয়ে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত, নির্ধারিত এবং সরবরাহকৃত ব্যালট বাক্স ভোটগ্রহণের জন্য ব্যবহার করতে হবে।
- তবে শর্ত থাকে যে, কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সরবরাহকৃত একই ব্যালট বাক্স গণভোটের ব্যালট বাক্স হিসেবে ব্যবহার করার অনুমতি দিতে পারবে।
- রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসার প্রত্যেক প্রিসাইডিং অফিসারকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যালট বাক্স সরবরাহ করবেন।

উৎস: গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫। 

১,৭১০.
সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহিত হয়-
  1. ২৮শে এপ্রিল, ১৯৯৯
  2. ২৭শে মার্চ, ১৯৯৬
  3. ১৭শে এপ্রিল, ১৯৯৬
  4. ২৬শে মার্চ, ১৯৯৭
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী:
-  ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী গৃহিত হয়।
- এর দ্বারা একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান করা হয়, যা একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন হিসেবে কাজ করবে এবং সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সর্বতোভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করবে।

 • সংবিধানে নূতন ২ক পরিচ্ছেদের সন্নিবেশ।
- সংবিধানের চতুর্থ ভাগের ২য় পরিচ্ছেদের পর নিম্নরূপ নূতন পরিচ্ছেদ সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

"২ক পরিচ্ছেদ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার:

৫৮(খ)। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
(১) সংসদ ভাংগিয়া দেওয়ার পর বা মেয়াদ অবসানের কারণে ভংগ হইবার পর যে তারিখে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কার্যভার গ্রহণ করেন সেই তারিখ হইতে সংসদ গঠিত হওয়ার পর নূতন প্রধানমন্ত্রী তাঁহার পদের কার্যভার গ্রহণ করার তারিখ পর্যন্ত মেয়াদে একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকিবে।
(২) নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার যৌথভাবে রাষ্ট্রপতির নিকট দায়ী থাকিবেন।
(৩) (১) দফায় উল্লেখিত মেয়াদে প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা,

৫৮ঘ (১) অনুচ্ছেদের বিধানাবলী সাপেক্ষে, প্রযুক্ত হইবে এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী তৎ-কর্তৃক উহা প্রযুক্ত হইবে। 

উৎস: সংবিধান।

১,৭১১.
বাংলাদেশ সংবিধান কতবার সংশোধন করা হয়েছে? [নভেম্বর,২০২৫]
  1. ১৭ বার
  2. ১৬ বার 
  3. ১৮ বার 
  4. ১৯ বার
ব্যাখ্যা

- সর্বশেষ ২০১৮ সালের সংবিধানের ১৭ তম সংশোধনী গৃহীত হয়।
 - সপ্তদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু সংবিধানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যদের মেয়াদ বৃদ্ধি।

 • সংবিধান সংশোধনী:
 - বাংলাদেশের সংবিধান পরিবর্তনশীল, তবে তা দুষ্পরিবর্তনীয় প্রকৃতির।
 - বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সংবিধানে এ পর্যন্ত ১৭টি সংশোধনী আনা হয়েছে।
 - জাতীয় সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে সংবিধান সংশোধন করা যায়।
 - ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
 - নিম্নে বাংলাদেশে এ যাবৎকাল গৃহীত সংশোধনীসমূহ:
 - ১৯৭৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্যে প্রথম সংশোধনী গৃহীত হয়।
 - দ্বাদশ সংশোধনী দীর্ঘ ১৫ বছরের সামরিক, ছদ্ম সামরিক শাসন হতে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা শুরু করে।
 - জাতীয় সংসদে ১৯৯০ সালের ৬ আগস্ট এ সংশোধনী গ্রহণ করা হয়।

 উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান এবং পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭১২.
বাংলাদেশের সংবিধানে কোন পরিচ্ছেদে ‘প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগ’ সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ৩য় পরিচ্ছেদ
  2. ৪র্থ পরিচ্ছেদ
  3. ৫ম পরিচ্ছেদ
  4. ৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়। 
• সংবিধান কার্যকর হয়: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে। 
• বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে। 
• এতে ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ এবং ১১ টি ভাগ রয়েছে। ৭টি তফসিল রয়েছে।
• সংবিধান সংশোধন হয়েছে মোট ১৭ বার। 

♣♣ 
- সংবিধানের চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগ সম্পর্কে বর্ণিত আছে। 
- ৪র্থ ভাগে পাঁচটি পরিচ্ছেদ বিদ্যমান: 
• ১ম পরিচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতি। 
• ২য় পরিচ্ছেদ: প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা। 
• ৩য় পরিচ্ছেদ: স্থানীয় শাসন। 
• ৪র্থ পরিচ্ছেদ: প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ। 
• ৫ম পরিচ্ছেদ: অ্যাটর্নি-জেনারেল।  

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা, দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৭১৩.
২২ নং অনুচ্ছেদের মূল বিষয়বস্তু কী?
  1. নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ
  2. মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন বাতিল
  3. উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি
  4. আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ২২৷ নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ:
রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হতে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে৷

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা:
- সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদলত 'সুপ্রিম কোর্ট' নামে অভিহিত হবে।
- আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্টে বিভাগ নিয়ে গঠিত এই সুপ্রিম কোর্ট শাসন বিভাগ থেকে কার্যকরভাবে পৃথক থাকবে।
- সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের নির্বাহী অর্থাৎ প্রশাসনিক অঙ্গসমূহ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র কর্তৃক নিশ্চিত করা হবে।

এছাড়া,
- অনুচ্ছেদ ২৩।ক: উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি
- অনুচ্ছেদ ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন
- অনুচ্ছেদ ২৬: মৌলিক অধিকারের সাথে অসমঞ্জস আইন বাতিল

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭১৪.
বাংলাদেশ সংবিধানের মুলনীতি কয়টি?
  1. চারটি
  2. তিনটি
  3. পাঁচটি
  4. সাতটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।

উল্লেখ্য
- ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান , আরিফ খান।
১,৭১৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'সম্পত্তির অধিকার' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৪০
  2. অনুচ্ছেদ ৪১
  3. অনুচ্ছেদ ৪২
  4. অনুচ্ছেদ ৪৩
ব্যাখ্যা
সংবিধানের অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৪০ - পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪১ - ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪২ - সম্পত্তির অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৪৩ - গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ ৪৪ - মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ।
- অনুচ্ছেদ ৪৫ - শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন।
- অনুচ্ছেদ ৪৬ - দায়মুক্তি-বিধানের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৪৭ - কতিপয় আইনের হেফাজত।
- অনুচ্ছেদ ৪৭(ক) - সংবিধানের কতিপয় বিধানের অপ্রযোজ্যতা।
- অনুচ্ছেদ ৪৮ - রাষ্ট্রপতি।
- অনুচ্ছেদ ৪৯ - ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৫০ - রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭১৬.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ- ১
  2. অনুচ্ছেদ- ২
  3. অনুচ্ছেদে- ৪
  4. অনুচ্ছেদ- ৩
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের অনুচ্ছেদ  : 
- অনুচ্ছেদ- ১: প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ- ২: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ- ২(ক): রাষ্ট্রধর্ম।
অনুচ্ছেদ- ৩:  প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা৷
- অনুচ্ছেদে- ৪: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- অনুচ্ছেদে- ৪(ক): জাতির পিতার প্রতিকৃতি।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৭১৭.
বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়নের পিছনে প্রথম পদক্ষেপ ছিল -
  1. বাংলাদেশ অস্থায়ী সংবিধান অধ্যাদেশ জারি
  2. অস্থায়ী প্রতিনিধিত্বমূলক আদেশ জারি
  3. নাগরিক আদেশ জারি
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়ন:
- বাঙালি জাতি রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রাম ও বহু তাজা প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে গঠিত মুজিবনগর সরকার স্বাধীনতার পর ঢাকা স্থানান্তরিত হয়।
- ঢাকায় এসে এ সরকার প্রকৃত শাসনভার গ্রহণ করে।
- প্রবাসী সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডন হয়ে ঢাকায় আসেন।
- তার পরের দিন অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি "বাংলাদেশ অস্থায়ী সংবিধান অধ্যাদেশ" জারি করা হয়।
- এ আদেশ জারিই হল বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম পদক্ষেপ।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশে একটি নতুন ও সময়োপযোগী সংবিধান প্রণীত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭১৮.
’চলাফেরার স্বাধীনতা’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ৩৬ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৩৫ নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৭ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৩৭ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
→ ৩৬ নং অনুচ্ছেদ চলাফেরার স্বাধীনতা কথা বলা হয়েছে।
• চলাফেরার স্বাধীনতা:

- সংবিধানের ৩৬ নং অনুচ্ছেদ জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ- সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা,
- এর যে কোন স্থানে বসবাস ও বসতিস্থাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।

উল্লেখ্য,
- ২৬ নং:মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল;
- ২৭নং: আইনের দৃষ্টিতে সমতা;
- ২৮ নং: ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য;
- ২৯নং:  সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা;
- ৩০নং:  বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ;
- ৩১নং: আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার;
- ৩২নং: জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ;
- ৩৩নং: গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ;
- ৩৪নং: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ;
- ৩৫নং: বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ;
- ৩৬নং: চলাফেরার স্বাধীনতা;
- ৩৭নং:সমাবেশের স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৭১৯.
সংবিধানের চেতনার বিপরীতে সামরিক শাসনকে বৈধতা দিতে কোন তফসিলের অপব্যবহার করা হয়?
  1. দ্বিতীয় তফসিল
  2. তৃতীয় তফসিল
  3. চতুর্থ তফসিল
  4. পঞ্চম তফসিল
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের চেতনার বিপরীতে সামরিক শাসনকে বৈধতা দিতে চতুর্থ তফসিলের অপব্যবহার করা হয়।
• বাংলাদেশে সংবিধান:
- মোট ৭টি তফসিল আছে।
এগুলো হলো- 
- প্রথম তফসিল - অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল - রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বিলুপ্ত)। 
- তৃতীয় তফসিল - শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল- ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী। 
- পঞ্চম তফসিল - বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল - বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল - মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৭২০.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা' কথা বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৪১
  2. অনুচ্ছেদ ৯
  3. অনুচ্ছেদ ৪২
  4. অনুচ্ছেদ ১২
ব্যাখ্যা
১২ নং অনুচ্ছেদে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা কথা বলা হয়েছে।

সংবিধান:
⇒ অনুচ্ছেদ - ১২: ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা,
- ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য,
(ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা,
(খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান,
(গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার,
(ঘ) কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার উপর নিপীড়ন,
বিলোপ করা হইবে।

অন্যদিকে -
- ৪২ নং অনুচ্ছেদ: সম্পত্তির অধিকার।
- ৪১ নং অনুচ্ছেদ ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ৯ নং অনুচ্ছেদে জাতীয়তাবাদের কথা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭২১.
সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশমতে সংসদের নিম্নকক্ষ হবে কত আসন বিশিষ্ট?
  1. ৩০০
  2. ৩৫০
  3. ৪০০
  4. ৫০০
ব্যাখ্যা

সংবিধান সংস্কার কমিশন: 
- এটি গঠিত হয়- ৬ অক্টোবর, ২০২৪।
- এই কমিশনের প্রধান- অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
- এতে মোট সদস্য- ৯ জন।

• উল্লেখযোগ্য সুপারিশসমূহ:
- মূলনীতি: সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র।
- সংসদ: দ্বিকক্ষবিশিষ্ট (নিম্নকক্ষ: ৪০০টি আসন; উচ্চকক্ষ: ১০৫টি আসন)।
- মেয়াদ: ৪ বছর (সরকারের মেয়াদ, সংসদের মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ),
- সংসদীয় প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স: ২১ বছর।

উৎস: সংবিধান সংস্কার কমিশন।

১,৭২২.
বাংলাদেশের প্রথম হস্তলিখিত সংবিধানের মূল পাতা কত ছিল?
  1. ৯৩ পৃষ্ঠা
  2. ৯৯ পৃষ্ঠা
  3. ১০৩ পৃষ্ঠা
  4. ১০৯ পৃষ্ঠা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল আইন বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকরী হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের প্রথম হস্তলিখিত সংবিধানের মূল পাতা ছিল ৯৩ পৃষ্ঠার।
- স্বাক্ষরসহ সংবিধান ছিল ১০৯ পাতার।
- গণপরিষদের ৩৯৯ জন সদস্য হস্তলিখিত মূল সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- গণপরিষদের সদস্যরা হস্তলিখিত মূল সংবিধানের বাংলা ও ইংরেজী লিপিতে স্বাক্ষর করে ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি।

এছাড়াও,
- হস্তলিখিত সংবিধানটির মূল লেখক ছিলেন শিল্পী আব্দুর রউফ।
- সংবিধানটির অঙ্গসজ্জা করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন।
- সংবিধানের প্রচ্ছদে শীতলপাটির উপর লেখা 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান'।

উৎস: ⅰ) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
iii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৭২৩.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা সন্নিবেশিত হয়েছে?
  1. ১১৭ নং
  2. ১১৫ নং
  3. ১১০ নং
  4. ১২০ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৭ নং অনুচ্ছেদের ১ এবং ২ নং অনুচ্ছেদে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা সন্নিবেশিত হয়েছে।

⇒ বিচার বিভাগ:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগে বিচারবিভাগ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ষষ্ঠ ভাগে মোট ৩টি পরিচ্ছদ রয়েছে।
- যথা:
• ১ম পরিচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্ট [অনুচ্ছেদ: ৯৪ - ১১৩];
• ২য় পরিচ্ছেদ: অধস্তন আদালত [অনুচ্ছেদ: ১১৪ থেকে ১১৬];
• ৩য় পরিচ্ছেদ: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল [অনুচ্ছেদ: ১১৭]।

অন্যদিকে,
- ১১০ নং অনুচ্ছেদ: অধস্তন আদালত হইতে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা স্থানান্তর।
- ১১৫ নং অনুচ্ছেদ: অধস্তন আদালতে নিয়োগ।
- ১২০ নং অনুচ্ছেদ: নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭২৪.
বাংলাদেশের আইনসভার নাম কী?
  1. ক) House of the Nations
  2. খ) House of the Nation
  3. গ) National Parliament
  4. ঘ) House of the Parliament
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ (House of the Nation)।
• এটি এক কক্ষবিশিষ্ট।
• জাতীয় সংসদের সদস্য সংখ্যা ৩৫০।
• ৩০০টি আসনে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অন্য ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে।
• নারী সংসদ সদস্যগণ ৩০০ জন সংসদ সদস্য দ্বারা নির্বাচিত হয়ে থাকেন।
• সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ রাজধানীতে অবস্থিত।
• সরকারি বিজ্ঞপত্তি দ্বারা রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহবান করেন।
• অধিবেশন পরিচালনার জন্য স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার নির্বাচন করা হয়।
• স্পীকারের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পীকার দায়িত্ব পালন করেন।

তথ্যসূত্র:- জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

১,৭২৫.
খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি কে ছিলেন?
  1. এম মনসুর আলী
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. তাজউদ্দীন আহমদ
  4. ড. কামাল হোসেন
ব্যাখ্যা
সংবিধান:

- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন। এদিন পরিষদের সামনে সকল প্রস্তাব উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন।
- 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন যোগাযোগ মন্ত্রী এম মনসুর আলী।
- ১৭ এপ্রিল খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। 
- ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহিত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৭২৬.
অ্যাটর্নি জেনারেলের কোথায় বক্তব্য পেশ করার অধিকার আছে?
  1. সংসদে
  2. শুধুমাত্র হাইকোর্টে
  3. শুধুমাত্র আপিল বিভাগে
  4. বাংলাদেশের সকল আদালতে
ব্যাখ্যা
অ্যাটর্নি জেনারেল:
- রাষ্ট্রের প্রধান আইনজীবীকে অ্যাটর্নি জেনারেল বলা হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪ নং অনুচ্ছেদে অ্যাটর্নি জেনারেলের কথা উল্লেখ আছে।

অনুচ্ছেদ ৬৪: অ্যাটর্নি জেনারেল:
(১) সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হইবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দান করিবেন।
(২) অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৩) অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তার বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে।
(৪) রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করবেন।
১,৭২৭.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম পদক্ষেপ?
  1. ক) বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন 
  2. খ) অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি
  3. গ) সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়ন:
- বাঙালি জাতি রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রাম ও বহু তাজা প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে গঠিত মুজিবনগর সরকার স্বাধীনতার পর ঢাকা স্থানান্তরিত হয়।
- ঢাকায় এসে এ সরকার প্রকৃত শাসনভার গ্রহণ করে।
- প্রবাসী সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডন হয়ে ঢাকায় আসেন।
- তার পরের দিন অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি "বাংলাদেশ অস্থায়ী সংবিধান অধ্যাদেশ" জারি করা হয়।
- এ আদেশ জারিই হল বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম পদক্ষেপ।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশে একটি নতুন ও সময়োপযোগী সংবিধান প্রণীত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭২৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ভাগে নির্বাচন সম্পর্কে বলা আছে?
  1. ৫ম 
  2. ৬ষ্ঠ
  3. ৭ম 
  4. ৮ম 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান: 
- বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা।
- জাতীয় ও স্থানীয় সরকার পর্যায়ের সকল নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা তৈরি, ভোটগ্রহণ ত্তত্বাবধান, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা এবং নির্বাচনী অভিযোগ-মোকদ্দমা মীমাংসার লক্ষ্যে নির্বাচনী ট্রাইবুনাল গঠন করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম ভাগে নির্বাচন সম্পর্কে বলা আছে

⇒ সংবিধানের ১২৬ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হবে’।

এছাড়াও,
- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদে ১১৮ এর আওতায় নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৯-এ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৪ নং-এ  নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৭২৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে সরকারী কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে?
  1. ১১৭ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১২৭ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৩৬ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন: 
- বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত এবং যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি নির্বাচন করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে তার প্রতিরূপ সংস্থাসমূহের মতো প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত মানব সম্পদ পরিকল্পনায় উৎকর্ষ সাধনের  পাশাপাশি জনপ্রশাসন ব্যবস্থাপনায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ভূমিকা পালন করছে।
- কর্ম কমিশন দেশব্যাপি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভের উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচন করে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে সরকারী কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। 

উৎস: বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন ওয়েবসাইট। 
বাংলাদেশের সংবিধান। 
১,৭৩০.
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কোন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ছিলেন?
  1. ক) বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল
  2. খ) ন্যাপ (মোজাফফর)
  3. গ) ন্যাপ (ভাসানী)
  4. ঘ) জাতীয় কংগ্রেস
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য সংখ্যা ছিলো ৩৪ জন
- এর মধ্যে একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
- তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ, মোজাফফর) এর সদস্য ছিলেন
- তিনি সংবিধানের মূল কপিতে স্বাক্ষর করেননি
- কমিটির সভাপতি ছিলেন তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন
- একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)

১,৭৩১.
বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনের জন্য মোট সদস্য কত অংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন ?
  1. ক) এক- তৃতীয়াংশ
  2. খ) দুই-তৃতীয়াংশ
  3. গ) তিন-চতুর্থাংশ
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

১৪২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অনূন্য দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরূপ কোন বিলে সম্মতি দানের জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে না ।

১৪২(খ) উপরিউক্ত উপায় কোন বিল গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তাহা উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের ৭ দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতি দান করবেন এবং তিনি তাহা করিতে হইলে উক্ত মেয়েদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতি দান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে ।
উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান

১,৭৩২.
মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে হাইকোর্টে মামলা রজু বা রিট করতে পারবেন কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী?
  1. ৪৪ নং
  2. ৪৮ নং
  3. ৭২ নং
  4. ১০২ নং
ব্যাখ্যা
মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ:
• ৪৪ (১) নং নং অনুচ্ছেদ: এই ভাগে প্রদত্ত অধিকারসমূহ বলবৎ করার জন্য এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা রুজু করিবার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা হলো।

• ৪৪ (২) নং অনুচ্ছেদ: এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোন আদালতকে তাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ঐ সকল বা উহার যে কোন ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করিতে পারিবেন।

উল্লেখ্য,
• কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা:

⇒ অনুচ্ছেদ ১০২ নং: কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা-এর অধীনে বলা হয়েছে যে সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি এই অনুচ্ছেদের অধীন সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে হাইকোর্টে মামলা রজু বা রিট করতে পারবেন।
- সুতরাং, ৪৪ নং অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ বা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে মামলা করার অধিকার প্রদান করা হয়েছে এবং তৃতীয় ভাগের মৌলিক অধিকারসমূহ লঙ্ঘিত হলে ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা দায়ের করা যাবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭৩৩.
যুদ্ধবন্দিদের বিচারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সংবিধানে কততম সংশোধনী আনা হয়েছিল?
  1. প্রথম সংশোধনী
  2. দ্বিতীয় সংশোধনী
  3. তৃতীয় সংশোধনী
  4. চতুর্থ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান সর্বমোট ১৭বার সংশোধন হয়েছে।

⇒ প্রথম সংশোধনী:
- ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সংবিধানে প্রথম সংশোধনী আনা হয়।
- এ সংশোধনীতে বাংলাদশ সংবিধানের ৪৭নং অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করা হয়।
- উক্ত সংশোধনীর মাধ্যমে ৪৭-(ক) নামে একটি নতুন অনুচ্ছেদ সন্নিবেশিত হয়েছে।
- প্রথম সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তু ছিল 'গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনে অন্যান্য অপরাধ' এর বিচার ও শাস্তি অনুমোদন।
- এ সংশোধনীর ফলে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধী ও গণহত্যার অভিযোগে বন্দিদের বিচারের পথ সহজ হয়।

অন্যদিকে,
- ১৯ ৭৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সংসদে গৃহীত সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী ছিল অভ্যন্তরীণ গোলযোগ বা বহিরাক্রমণে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন বাধাগ্রস্ত হলে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার বিধান সম্পর্কিত।
- সংবিধানের সর্বশেষ, অর্থাৎ সপ্তদশ সংশোধনী হয় ২০১৮ সালের ৮ জুলাই। আরও ২৫ বছরের জন্য জাতীয় সংসদের ৫০টি আসন শুধুমাত্র নারীদের জন্য সংরক্ষিত রেখে সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী পাশ করে সংসদ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৭৩৪.
সংবিধানের ১২৮নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. মহা হিসাব-নিরীক্ষক পদের প্রতিষ্ঠা
  2. অস্থায়ী মহা হিসাব-নিরীক্ষক
  3. মহা হিসাব-নিরীক্ষকের কর্মের মেয়াদ
  4. মহা-হিসাব নিরীক্ষকের দায়িত্ব
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১২০ - নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ।
- অনুচ্ছেদ ১২১ - প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।
- অনুচ্ছেদ ১২২ - ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা।
- অনুচ্ছেদ ১২৩ - নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়।
- অনুচ্ছেদ ১২৪ - নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১২৫ - নির্বাচনী আইন ও নির্বাচনের বৈধতা।
- অনুচ্ছেদ ১২৬ - নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সহায়তাদান।
- অনুচ্ছেদ ১২৭ - মহা হিসাব-নিরীক্ষক পদের প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ১২৮ - মহা-হিসাব নিরীক্ষকের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১২৯ - মহা হিসাব-নিরীক্ষকের কর্মের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ১৩০ - অস্থায়ী মহা হিসাব-নিরীক্ষক।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭৩৫.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে 'ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়'?
  1. ৮ম সংশোধনী
  2. ৯ম সংশোধনী
  3. ১০ম সংশোধনী
  4. ১১ম সংশোধনী
ব্যাখ্যা

৮ম সংশোধনী:
- ১৯৮৮ সালে এই সংশোধনী পাশ হয়।
- ১৯৮৯ আপীল বিভাগ হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন সংক্রান্ত ধারাটি অসাংবিধানিক উল্লেখ করে তা অবৈধ বলে রায় প্রদান করে।
- অষ্টম সংবিধান সংশোধন আইন দ্বারা সংবিধানের ২ক, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।
এই সংশোধনী আইনবলে-
১. ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়। 
২. ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়।
৩. সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদে Bengali শব্দটি পরিবর্তন করে Bangla করা হয় এবং Dacca পরিবর্তন করে Dhaka করা হয়। 
৪. সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মাননা, পুরস্কার গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

১,৭৩৬.
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের কথা কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ- ১৭
  2. অনুচ্ছেদ- ১৮(ক)
  3. অনুচ্ছেদ- ২১
  4. অনুচ্ছেদ- ২২
ব্যাখ্যা

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগসমূহ থেকে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণের কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, 
- অনুচ্ছেদ ১৭ নং: অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
- অনুচ্ছেদ ১৮(ক) নং: পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ২১ নং: নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

১,৭৩৭.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ২৯
  2. অনুচ্ছেদ ২৭
  3.  অনুচ্ছেদ ৩১
  4. অনুচ্ছেদ ২৮
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ- ২৯: সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা।
- ২৯ (১) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে।
- (২) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের অযোগ্য হবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাঁহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাবে না।

অন্যদিকে,
• মৌলিক অধিকার: 
- অনুচ্ছেদ- ২৬। মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল।
- অনুচ্ছেদ- ২৭। আইনের দৃষ্টিতে সমতা;
- অনুচ্ছেদ- ২৮। ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য;
- অনুচ্ছেদ- ২৯। সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা;
- অনুচ্ছেদ- ৩০। বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ;
- অনুচ্ছেদ- ৩১। আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৭৩৮.
খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য কে ছিলেন?
  1. ড. কামাল হোসেন
  2. রাজিয়া বানু
  3. সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
  4. আমিরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল আইন বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- হস্তলিখিত সংবিধানটির মূল লেখক ছিলেন শিল্পী আব্দুর রউফ।
- সংবিধানটির অঙ্গসজ্জা করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন। 
- সংবিধানের প্রচ্ছদে শীতলপাটির উপর লেখা 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান'।

উল্লেখ্য,
- গণপরিষদের সদস্যরা হস্তলিখিত মূল সংবিধানের বাংলা ও ইংরেজী লিপিতে স্বাক্ষর করে ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২।
- হস্তলিখিত সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি।
- গণপরিষদের ৩৯৯ জন সদস্য হস্তলিখিত মূল সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
 
উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
         iii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান। 
১,৭৩৯.
সংবিধান অনুযায়ী কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে না, যদি - 
  1. সংসদ ভাঙ্গিয়া যায়
  2. নিজ দল হইতে পদত্যাগ করেন
  3. সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন
  4. উপরের কোনটিই নয়।
ব্যাখ্যা
♣ ৬৭ নং অনুচ্ছেদ: সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া;   
- (১) কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে, যদি
- (ক) তাঁহার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিতে অসমর্থ হন:
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পূর্বে স্পীকার যথার্থ কারণে তাহা বর্ধিত করিতে পারিবেন;
- (খ) সংসদের অনুমতি না লইয়া তিনি একাদিক্রমে নব্বই বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন;
- (গ) সংসদ ভাঙ্গিয়া যায়;
- (ঘ) তিনি এই সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন অযোগ্য হইয়া যান; অথবা
- (ঙ) এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।
- (২) কোন সংসদ-সদস্য স্পীকারের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন, এবং স্পীকার- কিংবা স্পীকারের পদ শূন্য থাকিলে বা অন্য কোন কারণে স্পীকার স্বীয় দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ডেপুটি স্পীকার- যখন উক্ত পত্র প্রাপ্ত হন, তখন হইতে উক্ত সদস্যের আসন শূন্য হইবে।

৭০ নং অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া; 
- কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-
- (ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা
- (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, 
তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না। 

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭৪০.
সংবিধানের কোন ভাগে মূলনীতিসমূহ বর্ণিত হয়েছে?
  1. ক) ১ম
  2. খ) ২য়
  3. গ) ৩য়
  4. ঘ) ৫ম
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ২য় ভাগে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিসমূহ বর্ণিত হয়েছে এবং.২য় ভাগের ৮ম অনুচ্ছেদে ৪ টি মূলনীতির উল্লেখ রয়েছে।
উৎসঃ বাংলাদেশ সংবিধান
১,৭৪১.
কোনটি সরকারি বিল?
  1. ক) সরকারি দলের কোন সংসদ সদস্য কর্তৃক উত্থাপিত বিল
  2. খ) কোন মন্ত্রী কর্তৃক উত্থাপিত বিল
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উত্থাপিত বিল
  4. ঘ) স্পীকার কর্তৃক উত্থাপিত বিল
ব্যাখ্যা
সংসদে মন্ত্রীদের দ্বারা উত্থাপিত বিলকে সরকারি বিল বলে এবং বাকি সংসদ সদস্যদের দ্বারা উত্থাপিত বিলকে বেসরকারি বিল বলা হয়।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৭৪২.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে উপরাষ্ট্রপতি পদ বিলুপ্ত করা হয়?
  1. দশম
  2. দ্বাদশ
  3. ত্রয়োদশ
  4. চতুর্দশ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী-এর মাধ্যমে উপরাষ্ট্রপতি পদ বিলুপ্ত করা হয়। 

সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী:
- ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের সময় সংবিধানে আনা হয়েছিল এবং এর ফলে রাষ্ট্রপতি একটি সাংবিধানিক প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাহী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, সেই সাথে উপ-রাষ্ট্রপতি পদটি অপ্রয়োজনীয় হয়ে বিলুপ্ত হয়। 

⇒ এই সংশোধনী আইন পাস হয় ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট।
- এ সংশোধনীর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।
- ১৯৯১ সালের ৬ই আগস্ট ৩০৭-০ ভোটে এ সংশোধনী বিলটি গৃহীত হয়।

⇒ এ সংশোধনীর প্রধান প্রধান দিক:
(১) সংসদীয় সরকার: দ্বাদশ সংশোধনীর প্রধান দিক হল সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন। এ সংশোধনীর দ্বারা বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়।
(২) নামমাত্র রাষ্ট্রপতি: এ সংশোধনীর দ্বারা বাংলাদেশে একজন নামমাত্র রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। তিনি আইনানুসারে সংসদ সদস্য দ্বারা নির্বাচিত হবেন। তিনি যাবতীয় বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে কাজ করবেন।
(৩) রাষ্ট্রপতির মেয়াদ: এ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ নির্ধারিত হয়। রাষ্ট্রপতি ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। একাধিক্রমে তিনি ১০ বছরের বেশি মেয়াদে ক্ষমতায় থাকবেন না।
(৪) উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ: উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ দ্বাদ্বশ সংশোধনীর একটি উল্লেখযোগ্য দিক। দ্বাদশ সংশোধনীর দ্বারা উপ-রাষ্ট্রপতির পদটি বিলোপ করা হয়। এ সংশোধনীতে বলা হয়, কোন কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে জাতীয় সংসদের স্পীকার অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
(৫) মন্ত্রিসভা গঠন: মন্ত্রিসভা গঠন পদ্ধতি সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর একটি বিশেষ দিক। এ সংশোধনীতে বলা হয় বাংলাদেশ সরকার ব্যবস্থায় একটি মন্ত্রিসভা থাকবে। রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের আস্থাভাজন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করবেন। তিনি হবেন এ মন্ত্রিসভার নেতা।
(৬) গণভোট পদ্ধতি: এ সংশোধনীতে গণভোট পদ্ধতির কথা বলা হয়। দ্বাদশ সংশোধনী দ্বারা কেবল প্রস্তাবনা, সংবিধানের প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ সংক্রান্ত কোন সংশোধনী বিল গণভোট আকারে পেশ করার বিধান রাখা হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৪৩.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ধনিকতন্ত্র
  2. সমাজতন্ত্র
  3. ধর্মনিরপেক্ষতা
  4. জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা
• সংবিধান হল মৌলিক বিধানাবলির  সমন্বয়  একটি গঠনতন্ত্র যার উপর ভিত্তি করে একটি রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।

- বাংলাদেশের সংবিধানের পূর্ণ নাম: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান।
- সংবিধান গণাপরিষদে গৃহীত হয়: ৪ নভেম্বর ১৯৭২।
- বাংলাদেশ সংবিধান কার্যকর হয়- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে।
- সংবিধানের একটি প্রস্তাবনা আছে- বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
- সংবিধানের মূলনীতি- ৪টি।
- সংবিধানের তফসিল- ৭ টি।
- সংবিধানের ভাগ- ১১ টি।
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ- ১৫৩ ‍টি।
• বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি হলো: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৭৪৪.
সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে ড. কামাল হোসেন কোন কোন দেশ সফর করেন?
  1. যুক্তরাজ্য ও ভারত
  2. যুক্তরাজ্য ও জার্মানি
  3. ভারত ও রাশিয়া
  4. যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা
খসড়া সংবিধান প্রস্তুতকরণ:
- বিভিন্ন সুপারিশ ও ব্যাপক আলোচনার পর ১৯৭২ সালের ১০ জুন খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের একটি প্রাথমিক খসড়া অনুমোদন করেন।
- পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সংবিধান সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভের উদ্দেশ্যে কমিটির সভাপতি (আহবায়ক) ড. কামাল হোসেন ভারত ও যুক্তরাজ‍্য সফর করেন।
- সংবিধানের আইনি ভাষা ও কারিগরি বিভিন্ন দিক পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ব্রিটিশ আইনি খসড়া প্রণয়ন বিশেষজ্ঞ জন গাথরিকের পরামর্শ গ্রহণ করা হয়।
- সংবিধানের ভাষাগত সংস্থান ও ব্যাকরণগত ভুলত্রুটি পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির সদস্যরা হলেন: 
→ আহবায়ক - অধ্যাপক আনিসুজ্জামান (তৎকালীন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান)
→ সদস্য - ড. মযহারুল ইসলাম (বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক)
→ সদস্য - সৈয়দ আলী আহসান (তৎকালীন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য)

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান ও উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৭৪৫.
সংবিধান অনুযায়ী কোন নাগরিক বিদেশী রাষ্ট্রের খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করতে হলে কার অনুমতি নিতে হবে?
  1. জাতীয় সংসদের স্পিকার
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3.  রাষ্ট্রপতি
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ৩০: বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ 
- রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন নাগরিক কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নিকট হইতে কোন খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করিবেন না।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৭৪৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে কাস্টিং ভোট (Casting Vote) সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৭৫
  2. অনুচ্ছেদ ৭৬
  3. অনুচ্ছেদ ৭৭
  4. অনুচ্ছেদ ৭৮
ব্যাখ্যা
কাস্টিং ভোট (Casting Vote):
- সংসদে কখনো কখনো কোন বিষয়ে দু পক্ষের হা অথবা না ভোটের সংখ্যা সমান হয়ে যেতে পারে।
- এমন অবস্থায় স্পীকার নিজের ভোট দিয়ে সংসদের অচলাবস্থা দূর করেন।
- অন্যভাবে বলা যায়, কোন বিলের ভোটাভুটিতে যখন পক্ষে বিপক্ষে সমান ভোট পরে, তখন স্পিকার সংসদের সভাপতি হিসেবে তার ভোট প্রয়োগ করেন।
- একে নির্ণায়ক বা কাস্টিং ভোট বলে।
- এ ব্যতীত অন্যকোন ক্ষেত্রে স্পিকার তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না।
- স্পিকারের এই ভোটটিই হলো 'কাস্টিং বা নির্ণায়ক ভোট'।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এর ৭৫ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী:
- ”উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংসদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে, তবে সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্র ব্যতীত সভাপতি (স্পিকার) ভোটদান করবেন না এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তিনি নির্ণায়ক (casting) ভোট প্রদান করবেন।”

অন্যদিকে: 
- অনুচ্ছেদ ৭৬: সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ। 
- অনুচ্ছেদ ৭৭: ন্যায়পাল।
- অনুচ্ছেদ ৭৮: সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি।

সূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭৪৭.
বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার কয়টি ভাগ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

প্রস্তাবনা:
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে। 
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
- ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করে [জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের] মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি। 
- সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হবে।
- আমরা যাহাতে স্বাধীন সত্তায় সমৃদ্ধি লাভ করিতে পারি এবং মানবজাতির প্রগতিশীল আশা-আকাঙ্খার সহিত সঙ্গতি রক্ষা করিয়া আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে পূর্ণ ভূমিকা পালন করিতে পারি, সেইজন্য বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ এই সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ণ রাখা এবং ইহার রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান আমাদের পবিত্র কর্তব্য।
- এতদ্বারা আমাদের এই গণপরিষদে, অদ্য তের শত ঊনআশী বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসের আঠারো তারিখ, মোতাবেক ঊনিশ শত বাহাত্তর খ্রীষ্টাব্দের নভেম্বর মাসের চার তারিখে, আমরা এই সংবিধান রচনা ও বিধিবদ্ধ করিয়া সমবেতভাবে গ্রহণ করিলাম।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৭৪৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গঠন সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ৯৩ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১১৮ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১০৩ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১১৭ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- সংবিধানের ১১৭ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিধান অনুসারে জাতীয় সংসদ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করে থাকে।
- ট্রাইব্যুনাল হলো কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে স্থাপিত আদালত যা সাধারণত জনকল্যাণমূলক এবং নিয়ন্ত্রণমূলক বিভিন্ন কাজের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়। যেমনঃশ্রম আদালত, ভাড়া নিয়ন্ত্রক প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- ৯৩ নং অনুচ্ছেদ : অধ্যাদেশ প্রণয়ন।
- ১০৩ নং অনুচ্ছেদ : আপীল বিভাগের এখতিয়ার। -
- ১১৮ নং অনুচ্ছেদ : নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান। 
১,৭৪৯.
‘গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ’–সংক্রান্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ কোনটি?
  1. ৪৭ (৩) নং
  2. ৫৩ নং
  3. ৫৭ নং
  4. ৬০ নং
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ৪৭(৩) নং অনুচ্ছেদে "গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ" সংক্রান্ত বিষয় আলোচনা করা হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
• সংবিধানের তৃতীয় ভাগের ৪৭ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোন সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য বা অন্য কোন ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি বা সংগঠন কিংবা যুদ্ধবন্দীকে আটক, ফৌজদারীতে সোপর্দ কিংবা দণ্ডদান করার বিধান-সংবলিত কোন আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোন বিধানের সাথে অসমঞ্জস বা তাহার পরিপন্থী, এই কারণে বাতিল বা বেআইনী হিসেবে গণ্য হবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনী হয়েছে বলে গণ্য হবে না ।

অন্যদিকে -
- বাংলাদেশের সংবিধানে ৫৩ নং অনুচ্ছেদে 'অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ' এর কথা বলা হয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৭ নং অনুচ্ছেদ: প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬০ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭৫০.
বাংলাদেশের সংবিধানে বর্তমান পর্যন্ত মোট কতটি সংশোধনী গৃহীত হয়েছে?
  1. ক) ১৬টি
  2. খ) ১৭টি
  3. গ) ১৮টি
  4. ঘ) ১৯টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানে বর্তমান পর্যন্ত মোট ১৭টি সংশোধনী গৃহীত হয়েছে।
এর মধ্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই সংবিধানের প্রথম সংশোধনী গৃহীত হয় এবং সর্বশেষ ১৭তম সংশোধনী গৃহীত হয় ২০১৮ সালের ৮ জুলাই।

(তথ্যসূত্র: আইন মন্ত্রণালয়)
১,৭৫১.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন?
  1. ৯২ নং 
  2. ৯৩ নং 
  3. ৯৪ নং 
  4. ৯৫ নং
ব্যাখ্যা

সুপ্রীম কোর্টের বিচারক নিয়োগ:
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, 
(১) প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করবেন।

(২) কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হলে, এবং (ক) সুপ্রীম কোর্টে অন্যূন দশ বৎসরকাল এ্যাডভোকেট না থাকলে; অথবা
(খ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্যূন দশ বৎসর কোনো বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করে থাঢ়লে; অথবা
(গ) সুপ্রীমকোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলে;তিনি বিচারকপদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না।

(৩) এই অনুচ্ছেদে ‘‘সুপ্রীম কোর্ট’’ বলতে এই সংবিধান প্রবর্তনের পূর্বে যে কোনো সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে আদালত হাইকোর্ট হিসাবে এখতিয়ার প্রয়োগ করেছে, সেই আদালত অন্তর্ভুক্ত হবে।

এছাড়া,
- ৯২ নং অনুচ্ছেদে হিসাব, ঋণ প্রভৃতির উপর ভোট সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ৯৩ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ প্রণয়নের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ৯৪ নং অনুচ্ছেদে সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৭৫২.
বাংলাদেশ সংবিধানে কয়টি মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে?
  1. ১৭টি
  2. ১৮টি
  3. ২১টি
  4. ২২টি
ব্যাখ্যা
সংবিধানে মৌলিক অধিকার:
- সংবিধানে মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ আছে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৬ নং - ৪৭ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগ মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত। সেখানে মোট অনুচ্ছেদ আছে ২২টি।
- এর মধ্যে ১৮টি মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৭ থেকে ৪৪ অনুচ্ছেদে যে ১৮টি অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে, সেগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে মৌলিক অধিকার।
- সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এগুলো আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য। এই অধিকারগুলো ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র প্রতিকার প্রদানে বাধ্য থাকে।
- সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই অধিকারগুলোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো আইন বাতিল বলে গণ্য হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭৫৩.
সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী উত্থাপন করেন করে?
  1. ক) এম মনসুর আলী
  2. খ) ড. কামাল হোসেন
  3. গ) মনোরঞ্জন ধর
  4. ঘ) তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী জাতীয় সংসদে সংবিধানের ৪র্থ সংশেধনী গৃহিত হয়। এটি উত্থাপন করেন তৎকালীন আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর। এর মাধ্যমে দেশে একদলীয় সরকার ব্যবস্থা বাকশাল চালু করা হয় এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। (সূত্রঃ আইন মন্ত্রণালয়)
১,৭৫৪.
সংবিধানের ৮ম সংশোধনী পাশ হয় কবে?
  1. ১৯৮৫ সালে
  2. ১৯৮৬ সালে
  3. ১৯৮৭ সালে
  4. ১৯৮৮ সালে
ব্যাখ্যা
৮ম সংশোধনী:

- সংবিধানের ৮ম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম সংযোজিত করা হয়।
- এছাড়া একই সংশোধনীতে ৩০ নং অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হয় এবং ১০০ নং অনুচ্ছেদে সংশোধন এনে ঢাকার বাহিরে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, যশোর, রংপুর ও সিলেটে হাইকোর্ট বিভাগের একটি করে বেঞ্চ স্থাপন করা হয়।
- ১৯৮৮ সালে এই সংশোধনী পাশ হয়।
- ১৯৮৯ আপীল বিভাগ হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন সংক্রান্ত ধারাটি অসাংবিধানিক উল্লেখ করে তা অবৈধ বলে রায় প্রদান করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৭৫৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে অনুপার্জিত আয় সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ২০ নং
  2. ১৯ নং
  3. ২২ নং
  4. ১৭ নং
ব্যাখ্যা
• ২০ নং অনুচ্ছেদে অনুপার্জিত আয় সম্পর্কে বলা হয়েছে।
• ১৯ নং অনুচ্ছেদে জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
• ১৭ নং অনুচ্ছেদে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার কথা বলা হয়েছে।
• ২২ নং অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৭৫৬.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে আলোচিত হয়েছে?
  1. ক) ৩ নং
  2. খ) ৪ নং
  3. গ) ৫ নং
  4. ঘ) ৬ নং
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৩৷  রাষ্ট্রভাষা
- প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা৷

অনুচ্ছেদ  ৪৷  জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক
(১) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা”র প্রথম দশ চরণ৷ 
(২) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত৷
(৩) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হইতেছে উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তাহার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পর-সংযুক্ত পত্র, তাহার উভয় পার্শ্বে দুইটি করিয়া তারকা৷ 
(৪) উপরি-উক্ত দফাসমূহ-সাপেক্ষে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কিত বিধানাবলী আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
জাতির পিতার প্রতিকৃতি
[ ৪ক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয় এবং সকল সরকারী ও আধা-সরকারী অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের প্রধান ও শাখা কার্যালয়, সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনসমূহে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করিতে হইবে।]

অনুচ্ছেদ ৫৷ রাজধানী
(১) প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা৷ 
(২) রাজধানীর সীমানা আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷

অনুচ্ছেদ ৬।নাগরিকত্ব
 (১) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে। 
(২) বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন।]

সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
১,৭৫৭.
সংবিধানের তৃতীয় তফসিলের বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
  2. শপথ ও ঘোষণা
  3. ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ
  4. স্বাধীনতার ঘোষণা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের তফসিলসমূহ:
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।
• প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
• দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।
• তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
• চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
• পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
• ষষ্ঠ তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণা।
• সপ্তম তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭৫৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ভাগে ‘প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগ’ সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. নির্বাহী বিভাগ
  2. বিচার বিভাগ
  3. আইনসভা
  4. জরুরী বিধানাবলী 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়। 
• সংবিধান কার্যকর হয়: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে। 
• বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে। 
• এতে ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ এবং ১১ টি ভাগ রয়েছে। ৭টি তফসিল রয়েছে।
• সংবিধান সংশোধন হয়েছে মোট ১৭ বার।

- সংবিধানের চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগ সম্পর্কে বর্ণিত আছে। 
- ৪র্থ ভাগে পাঁচটি পরিচ্ছেদ বিদ্যমান: 
• ১ম পরিচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতি। 
• ২য় পরিচ্ছেদ: প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা। 
• ৩য় পরিচ্ছেদ: স্থানীয় শাসন। 
• ৪র্থ পরিচ্ছেদ: প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ। 
• ৫ম পরিচ্ছেদ: অ্যাটর্নি-জেনারেল।  

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৭৫৯.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বিচারকদের অপসারণ সংক্রান্ত বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে?
  1. ক) ৯৪(১) নং অনুচ্ছেদ
  2. খ) ৯৫(২) নং অনুচ্ছেদ
  3. গ) ৯৬(২) নং অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ৯৭ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ৯৬(২) নং অনুচ্ছেদে বিচারকদের অপসারণ বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত ছিলো৷
- ১৯৭৮ সালে সামরিক ফরমান দ্বারা বিচারক অপসারণে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের বিধান করা হয় যা ২০১৪ সালে সংবিধানের ১৬তম সংশোধনী দ্বারা রহিত করে পুনরায় সংসদের হাতে ন্যস্ত করে।
- কিন্তু সুপ্রিমকোর্ট এই বিধানকে অবৈধ ঘোষণা করে বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা পুনরায় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত করে। বর্তমানে বিষয়টি অমিমাংসিত রয়েছে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান এবং আইন মন্ত্রণালয়)
১,৭৬০.
বাংলাদেশ সংবিধান অনুসারে সরকার প্রধান কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. স্পীকার
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. বিচারপতি
ব্যাখ্যা

• শাসন বিভাগ: 
- বাংলাদেশ সরকারের প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- ৫৫ (১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করবেন,
- সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী নিয়ে এই মন্ত্রিসভা গঠিত হবে।
- স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময় নির্বাহী প্রধান পদের পরিবর্তন হয়েছে।
- মুজিবনগর সরকারের সময় সরকার প্রধান ছিল রাষ্ট্রপতি।
- স্বাধীনতা অর্জনের পরেই ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- পরবর্তীতে সামরিক শাসকগণ আবার রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা চালু করেন।
- কিন্তু অবশেষে ১৯৯১ সালে পুনরায় সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন হয়।
- এ ব্যবস্থায় সরকারের কেন্দ্রবিন্দু হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিপরিষদ থাকে যারা সংসদের নিকট দায়বদ্ধ।
- বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ ৫ বছর।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হলেন রাষ্ট্রপতি।
- জাতীয় সংসদের প্রধান হলেন স্পিকার।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৭৬১.
বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রবর্তিত হয় কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. তৃতীয় সংশোধনী
  2. চতুর্থ সংশোধনী
  3. পঞ্চম সংশোধনী
  4. ষষ্ঠ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
পঞ্চম সংশোধনী:
- ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয় পঞ্চম সংশোধনী আইন।
- এই আইন দ্বারা সংবিধানের চতুর্থ তফসিল সংশোধন করা হয় ।
- ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত যে সকল সামরিক বিধি, সংবিধান সংশোধন সহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ জারি করা হয় সেগুলো সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী হিসেবে কাজ করা হয় ।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রবর্তিত হয়।
- এই সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সন্নিবেশিত হয় ।
- রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সংশোধন করায় এই সংশোধনীকে 'First distortion of Constitution' বলা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৭৬২.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে অ্যাটর্নি-জেনারেলের নিয়োগ ও কার্যাবলী সম্পর্কে বিধান রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৬৪
  2. অনুচ্ছেদ ৬৭
  3. অনুচ্ছেদ ৭০
  4. অনুচ্ছেদ ৭৩
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৬৪ - অ্যাটর্নি-জেনারেল।
- অনুচ্ছেদ ৬৫ - সংসদ-প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৬৬ - সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা।
- অনুচ্ছেদ ৬৭ - সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া।
- অনুচ্ছেদ ৬৮ - সংসদ-সদস্যদের [পারিশ্রমিক] প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৬৯ - শপথগ্রহণের পূর্বে আসন গ্রহণ বা ভোট দান করিলে সদস্যের অর্থদণ্ড।
- অনুচ্ছেদ ৭০ - রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া।
- অনুচ্ছেদ ৭১ - দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা।
- অনুচ্ছেদ ৭২ - সংসদের অধিবেশন।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ - সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ক - সংসদ সম্পর্কে মন্ত্রীগণের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৪ - স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৭৬৩.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে 'সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি'-এর কথা বলা হয়েছে? 
  1. ১০ নং
  2. ১২ নং
  3. ১৪ নং
  4. ১৭ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগে ১০ নং অনুচ্ছেদে 'সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের শোষণমুক্ত, ন্যায়সঙ্গত ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যের কথা বলা হয়েছে।
 
অন্যদিকে,
- সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- সংবিধানের ১৪ নং অনুচ্ছেদে 'কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৭৬৪.
বাংলাদেশ সংবিধানে 'বাজেট' শব্দটি কী নামে বর্ণিত রয়েছে?
  1. বার্ষিক আয়-ব্যয়
  2. বার্ষিক আর্থিক বিবরণ
  3. বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি
  4. জাতীয় অর্থনৈতিক প্রতিবেদন
ব্যাখ্যা
বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি:
- বাংলাদেশের সংবিধানে ‘বাজেট’ শব্দটিই নেই।
- সংবিধানের ৮৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে ‘বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি’।
- সংবিধানে বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক অর্থবছর সম্পর্কে উক্ত অর্থবছরের জন্য সরকারের অনুমিত আয় ও ব্যয়-সংবলিত একটি বিবৃতি সংসদে উপস্থাপিত হবে।’ এই বিবৃতিই আসলে বাজেট।

⇒ সংবিধানের অনুচ্ছেদ - ৮৭: বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি
(১) প্রত্যেক অর্থ-বৎসর সম্পর্কে উক্ত বৎসরের জন্য সরকারের অনুমিত আয় ও ব্যয়-সংবলিত একটি বিবৃতি (এই ভাগে "বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি" নামে অভিহিত) সংসদে উপস্থাপিত হবে।
(২) বার্ষিক আর্থিক বিবৃতিতে পৃথক পৃথকভাবে
(ক) এই সংবিধানের অধীন সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়রূপে বর্ণিত ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ, এবং
(খ) সংযুক্ত তহবিল হতে ব্যয় করা হবে, এইরূপ প্রস্তাবিত অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ, প্রদর্শিত হবে এবং অন্যান্য ব্যয় হতে রাজস্ব খাতের ব্যয় পৃথক করে প্রদর্শিত হবে।

উল্লেখ্য,
- সংবিধানে না থাকলেও বাজেট আছে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে।
- বিধির ১১১(১)-এ বার্ষিক আর্থিক বিবৃতিকে ‘বাজেট’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- কার্যপ্রণালি বিধিতে সংসদে বাজেট উপস্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অর্থমন্ত্রীকে।
- বিধির ১১১(২)-এ বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের বিধান সাপেক্ষে অর্থমন্ত্রী যেরূপ উপযোগী মনে করবেন, সেই আকারে বাজেট সংসদে পেশ করবেন।’
- প্রতিবছর জুন মাসে সংসদে বাজেট পেশ করে আসছেন অর্থমন্ত্রীরা। 

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭৬৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না?
  1. ৩৫
  2. ৩৪
  3. ৩০
  4. ৩৬
ব্যাখ্যা

 বাংলাদেশ সংবিধান: 
- অনুচ্ছেদ- ৩৫: বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।
- ৩৫(২) এক অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তিকে একাধিকবার ফৌজদারীতে সোপর্দ ও দণ্ডিত করা যাবে না।
- ৩৫(৪) কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না।

অপরদিকে, 
- সংবিধোনের অনুচ্ছেদ: 
৩০। বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ,
৩১। আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার,
৩২। জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ,
৩৩। গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ,
৩৪। জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ,
৩৫। বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ,
৩৬। চলাফেরার স্বাধীনতা,
৩৭। সমাবেশের স্বাধীনতা,
৩৮। সংগঠনের স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৭৬৬.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে, কাস্টিং ভোট প্রদান করেন -
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. স্পিকার
  4. আইনমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
কাস্টিং ভোট (Casting Vote):
- সংসদে কখনো কখনো কোন বিষয়ে দু পক্ষের হা অথবা না ভোটের সংখ্যা সমান হয়ে যেতে পারে।
- এমন অবস্থায় স্পীকার নিজের ভোট দিয়ে সংসদের অচলাবস্থা দূর করেন।

⇒ অন্যভাবে বলা যায়, কোন বিলের ভোটাভুটিতে যখন পক্ষে বিপক্ষে সমান ভোট পরে, তখন স্পিকার সংসদের সভাপতি হিসেবে তার ভোট প্রয়োগ করেন। একে নির্ণায়ক বা কাস্টিং ভোট বলে।
- এ ব্যতীত অন্যকোন ক্ষেত্রে স্পিকার তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না।
- স্পিকারের এই ভোটটিই হলো 'কাস্টিং বা নির্ণায়ক ভোট'।

উল্লেখ্য,
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এর ৭৫ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী: ”উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংসদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্র ব্যতীত সভাপতি (স্পীকার) ভোটদান করিবেন না এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তিনি নির্ণায়ক (casting) ভোট প্রদান করিবেন।”

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭৬৭.
সংবিধানের অলংকরণ করেন কে?
  1. শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন
  2. একেএম আব্দুর রউফ
  3. আমিনুজ্জামান
  4. মোস্তফা কামাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান: 
- ১৯৭২ সালে প্রণীত হয় বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান।
- মরহুম একেএম আব্দুর রউফ প্রথম এটি হাতে লিখেন।
- এটি মুদ্রিত হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস)।
- মহান সংবিধানের অলংকরণ করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন এবং তাঁর সহকারী হিসেবে কাজ করেন শিল্পী হাশেম খান।
- এতে সহযোগিতা দেন বিজি প্রেসের প্রাক্তন রীডার মরহুম আমিনুজ্জামান।
- প্রথম সংবিধান মুদ্রণে ব্যবহুত যন্ত্রটির নাম Crabtree Double Demy Two Colour, যা আমদানী করা হয় ১৯৫২ সালে এবং এটি মুদ্রণ কাজে ব্যবহৃত হয় ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৫ বছর। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
১,৭৬৮.
জাতীয় সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তির কত দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন আহবান করতে হয়?
  1. ক) ৪৫ দিন
  2. খ) ৬০ দিন
  3. গ) ৯০ দিন
  4. ঘ) ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৭২ নং অনুচ্ছেদের ১ নং দফা অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহবান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন।
- এই বিধান অনুসারে সংসদের এক অধিবেশনের শেষ এবং পরবর্তী অধিবেশনের শুরুর মধ্যে সর্বোচ্চ বিরতি হবে ৬০দিন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৭৬৯.
বর্তমান জাতীয় সংসদ ভবনে প্রথম সংসদ অধিবেশন বসে কবে?
  1. ক) ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২
  2. খ) ১০ জুলাই ১৯৮১
  3. গ) ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২
  4. ঘ) ১৭ ডিসেম্বর ১৯৮২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় সংসদ ভবনে প্রথম সংসদ অধিবেশন বসে ১৯৮২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি।
এই অধিবেশন ছিলো দ্বিতীয় সংসদের অষ্টম ও সর্বশেষ অধিবেশন।
এর আগে তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতো।
জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কান। এটি ২১৫ একর জমির উপর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত।
(সূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট)
১,৭৭০.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে 'পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা' সম্পর্কে বলা আছে?
  1. ৩৮ নং
  2. ৩৯ নং
  3. ৪০ নং
  4. ৪১ নং
ব্যাখ্যা
সংবিধানের তৃতীয় ভাগের গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদসমূহ : 
অনুচ্ছেদ ৩৫ - বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।
অনুচ্ছেদ ৩৭ - সমাবেশের স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৩৮ - সংগঠনের স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৩৯ - চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৪০ - পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৪১ - ধর্মীয় স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৪২ - সম্পত্তির অধিকার।
অনুচ্ছেদ ৪৩ - গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ।
অনুচ্ছেদ ৪৪ - মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ।
অনুচ্ছেদ ৪৫ - শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭৭১.
বিচার করতে গিয়ে উপযুক্ত আইন খুঁজে পাওয়া না গেলে বিচারকগণ কিসের ভিত্তিতে বিচারের রায় প্রদান করেন?
  1. ক) মিডিয়া ট্রায়াল
  2. খ) জনগণের আবেগ
  3. গ) ঐকমত্য
  4. ঘ) বিদেশী আইন
ব্যাখ্যা

সাধারণত আইনের ব্যাখ্যা প্রদান ও প্রয়ােগের দায়িত্ব বিচার বিভাগের ওপর ন্যস্ত থাকে। এছাড়া বিচারকগণ নতুন আইন সংযােজন করে থাকেন।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিচার করতে গিয়ে উপযুক্ত আইন খুঁজে পাওয়া না গেলে বিচারকগণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিচারের রায় প্রদান করেন যা আইন হিসেবে বিবেচিত হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি

১,৭৭২.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি কয়টি?
  1. ১টি
  2. ৪টি
  3. ৭টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
সংবিধান:

- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর ছাড়া ৯৩ পৃষ্ঠা।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর সহ - ১০৯ পৃষ্ঠা।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে। 
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭৭৩.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হাওয়ার নূন্যতম বয়স কত?
  1. ক) ১৮ বছর
  2. খ) ২৫ বছর
  3. গ) ৩০ বছর
  4. ঘ) ৩৫ বছর
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নূন্যতম বয়স ২৫ বছর।
- সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১২২(২) খ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যক্তির ভোটাধিকার প্রাপ্তির নূন্যতম বয়স ১৮ বছর।
- সংবিধানের ১২২(১) অনুচ্ছেদে বলা আছে 'প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটাধিকার- এই নীতির ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।'
- তাই ভোটার হওয়ার নূন্যতম বয়স ১৮ বছর।
- রাষ্ট্রপতি হওয়ার নূন্যতম বয়স ৩৫ বছর

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭৭৪.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৫০
  2. অনুচ্ছেদ ৫১
  3. অনুচ্ছেদ ৫২
  4. অনুচ্ছেদ ৫৩
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
​- অনুচ্ছেদ ৫০ - রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫১ - রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদে ৫২ - রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের বিষয়টি সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ৫৩ - অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৪ - অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৫৫ - মন্ত্রিসভা।
- অনুচ্ছেদ ৫৬ - মন্ত্রিগণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৭ - প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৮ - অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৯ - স্থানীয় শাসন।
- অনুচ্ছেদ ৬০ - স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।

​তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৭৭৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন তফসিলের বিষয়বস্তু বর্তমানে কার্যকর নেই?
  1. প্রথম তফসিল
  2. দ্বিতীয় তফসিল
  3. চতুর্থ তফসিল
  4. সপ্তম তফসিল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের তফসিল:
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানে তফসিল ৭টি। যথা:
• প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন,
• দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত),
• তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা,
• চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী,
• পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ,
• ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা,
• সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উল্লেখ্য,
⇒ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:
- সংবিধানের চতুর্থ সংশােধন আইন, ১৯৭৫ এর ৩০ নং ধারাবলে মূল সংবিধানের এই দ্বিতীয় তফসিলটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
- অর্থাৎ, দ্বিতীয় তফসিল এখন আর কার্যকর নেই।
- ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়। যার নাম দেয়া হয় বাকশাল।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৭৭৬.
পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদেরকে নিয়োগ দেন-
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. স্পিকার
  4. জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা
প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারগণ, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্য, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, অ্যাটর্নি জেনারেল ইত্যাদি পদের নিয়োগ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদান করা হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭৭৭.
কোন জাতীয় সংসদে বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছিল?
  1. ক) একাদশ
  2. খ) নবম
  3. গ) দশম
  4. ঘ) দ্বাদশ
ব্যাখ্যা
- সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- বর্তমান একাদশ জাতীয় সংসদের দশম অধিবেশনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হয়
- মুজিব বর্ষকে উদ্দেশ্য করে এই অধিবেশন আহ্বান করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ।  

উৎস: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।
১,৭৭৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ বলে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন?
  1. ৯৪ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৯৫ (১) নং অনুচ্ছেদ
  3. ৯৬ (১) নং অনুচ্ছেদ
  4. ৯৭ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী -
(১) প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করবেন। 

(২) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হলে, এবং
ক) সুপ্রীম কোর্টে অন্যূন দশ বৎসরকাল এ্যাডভোকেট না থেকে থাকলে; অথবা 
খ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্যূন দশ বৎসর কোন বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করে থাকলে; অথবা
গ) সুপ্রীমকোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থেকে থাকলে;
 তিনি বিচারকপদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন না।

(৩) এই অনুচ্ছেদে ‘সুপ্রীম কোর্ট’ বলতে এই সংবিধান প্রবর্তনের পূর্বে যে কোন সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে আদালত হাইকোর্ট হিসাবে এখতিয়ার প্রয়োগ করিয়াছে, সেই আদালত অন্তর্ভুক্ত হইবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭৭৯.
গণপরিষদের কোন সদস্য সংবিধানের মূলকপিতে স্বাক্ষর প্রদান করেননি?
  1. এম. আব্দুর রহিম
  2. সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
  3. ডা. ক্ষিতিশচন্দ্র মণ্ডল
  4. আসাদুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়। ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যরা চূড়ান্তভাবে গৃহীত সংবিধান কপিতে স্বাক্ষর করেন।

সবার প্রথমে স্বাক্ষর করেন বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমান। তবে গণপরিষদের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
১৯৭২ সালের হাতে লেখা সংবিধান কপিতে মোট ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।
১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
১,৭৮০.
বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগের বিষয়বস্তু কী?
  1. মৌলিক অধিকার
  2. বিচার বিভাগ
  3. নির্বাহী বিভাগ
  4. নির্বাচন
ব্যাখ্যা

সংবিধানের ভাগ:
- প্রথম ভাগ: প্রজাতন্ত্র,
- দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি,
- তৃতীয় ভাগ: মৌলিক অধিকার,
- চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগ: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগ: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগ: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগ: মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগ: বাংলাদেশের কর্মবিভাগ,
- দশম ভাগ: সংবিধান-সংশোধন,
- একাদশ ভাগ: বিবিধ।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৭৮১.
সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কতদিনের মধ্যে সংসদ আহবান করতে হয়?
  1. ১৫ দিন
  2. ২০ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৪৫ দিন
ব্যাখ্যা

সংসদের অধিবেশন:
৭২। (১) সরকারী বিজ্ঞপ্তি-দ্বারা রাষ্ট্রপতি সংসদ আহবান , স্থগিত ও ভঙ্গ করিবেন এবং সংসদ আহবানকালে রাষ্ট্রপতি প্রথম বৈঠকের সময় ও স্থান নির্ধারণ করিবেন:
1[তবে শর্ত থাকে যে,2[১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার (ক) উপ-দফায় উল্লিখিত নব্বই দিন সময় ব্যতীত অন্য সময়ে] সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ষাট দিনের অতিরিক্ত বিরতি থাকিবে না:
তবে আরও শর্ত থাকে যে, এই দফার অধীন তাঁহার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক লিখিতভাবে প্রদত্ত পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন।]
(২) এই অনুচ্ছেদের (১) দফার বিধানাবলী সত্ত্বেও সংসদ-সদস্যদের যে কোন সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হইবার ত্রিশ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহবান করা হইবে।
(৩) রাষ্ট্রপতি পূর্বে ভাঙ্গিয়া না দিয়া থাকিলে প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসর অতিবাহিত হইলে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবে:তবে শর্ত থাকে যে, প্রজাতন্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত থাকিবার কালে সংসদের আইন-দ্বারা অনুরূপ মেয়াদ এককালে অনধিক এক বৎসর বর্ধিত করা যাইতে পারিবে, তবে যুদ্ধ সমাপ্ত হইলে বর্ধিত মেয়াদ কোনক্রমে ছয় মাসের অধিক হইবে না।
(৪) সংসদ ভঙ্গ হইবার পর এবং সংসদের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বে রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, প্রজাতন্ত্র যে যুদ্ধে লিপ্ত রহিয়াছেন, সেই যুদ্ধাবস্থার বিদ্যমানতার জন্য সংসদ পুনরাহবান করা প্রয়োজন, তাহা হইলে যে সংসদ ভাঙ্গিয়া দেওয়া হইয়াছিল, রাষ্ট্রপতি তাহা আহবান করিবেন।3[* * *]
(৫) এই অনুচ্ছেদের (১) দফার বিধানাবলী-সাপেক্ষে কার্যপ্রণালী-বিধি-দ্বারা বা অন্যভাবে সংসদ যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সংসদের বৈঠকসমূহ সেইরূপ সময়ে ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে।

উল্লেখ্য,
- জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
- জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
- অধিবেশনে কোরামের জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৫ নং অনুচ্ছেদে কোরাম সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৭৮২.
বাংলাদেশ সংবিধানে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি কোন অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত হয়েছে?
  1. ১০৩ নং
  2. ১০৮ নং
  3. ১১০ নং
  4. ১১৭ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৭ নং অনুচ্ছেদের ১ এবং ২ নং অনুচ্ছেদে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা সন্নিবেশিত হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগের ৩য় পরিচ্ছেদে 'প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল' সম্পর্কে বলা হয়েছে।

⇒ ১১৭ (১) যা আগে বলা হয়েছে তা সত্ত্বেও, সংসদ আইনের মাধ্যমে নিচের বিষয়গুলোর জন্য এক বা একাধিক প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারে:
- (ক) সংবিধানের নবম ভাগে উল্লেখিত বিষয় এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের চাকরির শর্ত, যেমন জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তি।
- (খ) রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো উদ্যোগ বা সরকারি কর্তৃপক্ষের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা, সেই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ বা কর্তৃপক্ষে চাকরি, কিংবা সরকারের মালিকানাধীন বা পরিচালিত সম্পত্তির ক্রয়, প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও বণ্টন।
- (গ) সংবিধানের ১০২(৩) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত কোনো আইনের বিষয়।

⇒ ১১৭ (২) যদি এই অনুচ্ছেদের অধীনে কোনো প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়, তবে সেই ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের আওতাভুক্ত কোনো বিষয়ে অন্য কোনো আদালত কোনো মামলা গ্রহণ করবে না বা কোনো আদেশ দেবে না। তবে, সংসদ আইনের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা বা সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের ব্যবস্থা করতে পারে।

উল্লেখ্য,
- ষষ্ঠ ভাগে মোট ৩টি পরিচ্ছদ রয়েছে। যথা:
• ১ম পরিচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্ট [অনুচ্ছেদ: ৯৪ - ১১৩];
• ২য় পরিচ্ছেদ: অধস্তন আদালত [অনুচ্ছেদ: ১১৪ থেকে ১১৬];
• ৩য় পরিচ্ছেদ: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল [অনুচ্ছেদ: ১১৭]।

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ১০৩ নং অনুচ্ছেদটি মূলত আপিল বিভাগের এখতিয়ার সংজ্ঞায়িত করে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৮ নং অনুচ্ছেদ সুপ্রিম কোর্টকে "কোর্ট অফ রেকর্ড" হিসাবে সংজ্ঞায়িত করে। 
- ১১০ নং অনুচ্ছেদ: অধস্তন আদালত হইতে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা স্থানান্তর।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭৮৩.
‘খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি’ কতটি বৈঠকের মাধ্যমে প্রাথমিক খসড়া অনুমোদন করে?
  1. ক) ৭০
  2. খ) ৭৪
  3. গ) ৭৮
  4. ঘ) ৮০
ব্যাখ্যা

- প্রধানমন্ত্রীর আদেশক্রমে ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয়।
- গণপরিষদ অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে (১১ এপ্রিল) আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্যের একটা খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি (Draft Constitution Committee) গঠিত হয়।
- ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন কমিটি মোট ৭৪টি বৈঠক মিলিত হয়।
- কমিটি ১৯৭২ সালের ১০ জুন অনুষ্ঠিত সভায় সংবিধানের প্রাথমিক খসড়া অনুমোদন করে।
- খসড়া সংবিধান নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা শেষে ১১ অক্টোবর কমিটির শেষ সভায় সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।
উল্লেখ্য,
- ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধানটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন ড. কামাল হোসেন এবং তা পর্যালোচনা শেষে ৪ নভেম্বর গণপরিষদে অনুমোদিত ও গৃহীত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।

১,৭৮৪.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ বলে নারী-পুরুষে বৈষম্য করার কোনও সুযোগ নেই?
  1. ২৮ (১) অনুচ্ছেদ
  2. ২৮ (২) অনুচ্ছেদ
  3. ২৮ (৩) অনুচ্ছেদ
  4. ২৮ (৪) অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকার অংশে বিশেষ উদ্দেশ্যে মৌলিক অধিকার রহিত করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

⇒ সংবিধানের ২৮ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, বাসস্থান বা পেশাগত কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করা যাবে না।
- সংবিধানের ২৮ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষ সমান অধিকার লাভ করবে।
- সংবিধানের ২৮ (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী- পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাবে না’।
- সংবিধানের ২৮( ৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'নারী ও শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হতে এ অনুচ্ছেদের কোনোকিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করবে না।'

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭৮৫.
বাংলাদেশের সংবিধানে সরকারি কর্ম কমিশনের দায়িত্ব ও কার্যাবলি কোন অনুচ্ছেদে নির্ধারিত হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৩৭
  2. অনুচ্ছেদ ১৩৮
  3. অনুচ্ছেদ ১৩৯
  4. অনুচ্ছেদ ১৪০
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪০ অনুযায়ী সরকারি কর্ম কমিশনের দায়িত্ব নির্ধারিত হয়েছে।

১৪০ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
-  (১) কোন সরকারী কর্ম কমিশনের দায়িত্ব হবে,
(ক) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদানের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিদেরকে মনোনয়নের উদ্দেশ্যে যাচাই ও পরীক্ষা-পরিচালনা,
(খ) এই অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক কোনো বিষয় সম্পর্কে কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হলে কিংবা কমিশনের দায়িত্ব- সংক্রান্ত কোনো বিষয় কমিশনের নিকট প্রেরণ করা হলে সেই সম্বন্ধে রাষ্ট্রপতিকে উপদেশদান; এবং
(গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য দায়িত্বপালন।

(২) সংসদ কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন এবং কোনো কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত কোন প্রবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রসমূহে কোনো কমিশনের সহিত পরামর্শ করবেন :
(ক) প্রজাতন্ত্রের কর্মের জন্য যোগ্যতা ও তাতে নিয়োগের পদ্ধতি সম্পর্কিত বিষয়াদি;
(খ) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদান, উক্ত কর্মের এক শাখা হতে অন্য শাখায় পদোন্নতিদান ও বদলিকরণ এবং অনুরূপ নিয়োগদান, পদোন্নতিদান বা বদলিকরণের জন্য প্রার্থীর উপযোগিতা-নির্ণয় সম্পর্কে অনুসরণীয় নীতিসমূহ;
(গ) অবসর-ভাতার অধিকারসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মের শর্তাবলীকে প্রভাবিত করে, এইরূপ বিষয়াদি; এবং
(ঘ) প্রজাতন্ত্রের কর্মের শৃঙ্খলামূলক বিষয়াদি।

এছাড়াও,
- ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন-প্রতিষ্ঠা,
- ১৩৮ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য-নিয়োগ এবং
- ১৩৯ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যপদের মেয়াদ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৭৮৬.
কোন সংশোধনীর মাধ্যমে 'রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম' ঘোষণা করা হয়?
  1. ৭ম
  2. ৫ম
  3. ৮ম
  4. ১০ম
ব্যাখ্যা
অষ্টম সংশোধনী:
- অষ্টম সংশোধনী আইন ১৯৮৮ সালের ৭ জুন এই সংশোধনী আইন পাস হয়।
- এর দ্বারা সংবিধানের ২, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।
- এই সংশোধনী আইনবলে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়;
- ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়।

অন্যদিকে,
- পঞ্চম সংশোধনী আইন এই সংবিধান আইন জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয় ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল। 
- সপ্তম সংশোধনী আইন ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর এই আইন পাস হয়।
- এই আইন দ্বারা সংবিধানের ৮৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়;
- এর দ্বারা সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের সংশোধন করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১,৭৮৭.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, কোন নামে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে?
  1. বাংলাদেশ সরকার
  2. বাংলাদেশ
  3. বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্র
  4. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ১৪৬: বাংলাদেশের নামে মামলা 
- "বাংলাদেশ"-এই নামে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বা বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইতে পারিবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৭৮৮.
সংবিধানে জরুরি অবস্থা সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ কোনটি?
  1. ১৪০
  2. ১৪১
  3. ১৪২
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

সংবিধানে জরুরি অবস্থা:
- সংবিধানে যুক্ত হয়- ১৯৭৩ সালের দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে।
- সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ- ১৪১(ক), ১৪১(খ), ১৪১(গ)।
- মেয়াদ- সর্বাধিক ১২০ দিন।
- বাংলাদেশে মোট ৫ বার জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে।

• জরুরী বিধানাবলী
- ১৪১ক। জরুরী-অবস্থা ঘোষণা।
- ১৪১খ। জরুরী-অবস্থার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিতকরণ।
- ১৪১গ। জরুরী-অবস্থার সময় মৌলিক অধিকারসমূহ স্থগিতকরণ। 

উল্লেখ্য,
- ১৪০ নং অনুচ্ছেদে কমিশনের দায়িত্ব সম্পর্কে বলা আছে।
- ১৪২ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা আছে।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এস.এস.এইচ.এল., বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

১,৭৮৯.
নিম্নের কোনটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়?
  1. বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন
  2. সরকারি কর্ম কমিশন
  3. রাষ্ট্রপতির কার্যালয়
  4. মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়
ব্যাখ্যা
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়। এটি একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা, যা ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে এটি উচ্চশিক্ষার একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে। 

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান:

- বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় বেশ কয়েকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
- এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ বাংলাদেশ সরকারের আইনি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারের আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
- সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা, পদের মেয়াদ, পদমর্যাদা, পদত্যাগ ও অপসারণ পদ্ধতি এবং দায়িত্ব সংবিধানে সুনির্দিষ্ট ও সুষ্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। এগুলো হলো:
• নির্বাহী বিভাগ বা শাসন বিভাগ (প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও প্রসাশনিক মন্ত্রনালয়),
• আইন বিভাগ (জাতীয় সংসদ),
• বিচার বিভাগ (হাইকোট, সুপ্রীম কোট, অধীনস্থ আদালত ও ট্রাইবুনাল),
• নির্বাচন কমিশন,
• সরকারি কর্ম কমিশন,
• অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়,
• মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৭৯০.
বাংলাদেশ সংবিধানে রাষ্ট্রের ‘মৌলিক আদর্শ' হিসেবে উল্লেখ করা হয় কয়টি স্তম্ভ?
  1. ক) তিনটি
  2. খ) চারটি
  3. গ) পাঁচটি
  4. ঘ) ছয়টি
ব্যাখ্যা
• ১৯৭২ সালে রচিত মূল বাংলাদেশ সংবিধানে উল্লিখিত রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিসমূহ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ২য় ভাগের ৮ম অনুচ্ছেদ থেকে ২৫তম অনুচ্ছেদ পর্যন্ত রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা রয়েছে।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা এই চারটি বিষয়কে রাষ্ট্রের মৌলস্তম্ভ বা ‘মৌলিক আদর্শ' হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
- এতে আরো বলা হয়, অন্যান্য মৌলিক নীতি উপরোক্ত চারটি আদর্শ থেকে উৎসারিত হবে।

১। জাতীয়তবাদ:  ভাষাগত এবং সংক্ষিপ্ত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালি জনগোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে, সেই জনগোষ্ঠীর ঐক্য বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি (অনুঃ ৯)।

২। সমাজতন্ত্র: মানুষের ওপর মানুষের শোষণ থেকে মুক্ত ন্যায়ানুগ সমাজলাভ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হলো রাষ্ট্রের লক্ষ্য (অনুঃ ১০)।

৩। গণতন্ত্র: বাংলাদেশ হবে একটি প্রজাতন্ত্র। এর রাজনৈতিক ব্যবস্থা হবে গণতান্ত্রিক। প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে (অনুঃ ১১)।

৪। ধর্মনিরপেক্ষতা: ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হলো সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতার অবসান, রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা না দেয়া, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মকে ব্যবহার না করা এবং ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বা নিপীড়নের অবসান (অনুঃ ১২)।

সূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
 
১,৭৯১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে “কৃষক ও শ্রমিকের” মুক্তির কথা বলা আছে?
  1. ১৫ অনুচ্ছেদ
  2. ১৪ অনুচ্ছেদ
  3. ১৯ অনুচ্ছেদ
  4. ১৭ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- ১৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে মেহনতী মানুষকে-কৃষক ও শ্রমিককে এবং জনগণের অনগ্রসর অংশসমূহকে সকল প্রকার শোষণ হইতে মুক্তি দান করা।

অন্যদিকে -
- সংবিধানের ১১ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে 'গণতন্ত্র ও মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা'।
- সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে 'নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ'।
- সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে 'সকল নাগরিক আইনের চোখে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭৯২.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে?
  1. ১৯ নং অনুচ্ছেদে
  2. ২৯ নং অনুচ্ছেদে
  3. ২৮ নং অনুচ্ছেদে
  4. ২৭ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- সংবিধানের ১৯ নং অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে।
- ১৯(৩) নং দফায় বলা হয়েছে “জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।”

অন্যদিকে,
- ২৭ নং অনুচ্ছেদ : আইনের দৃষ্টিতে সমতা
- ২৮ নং অনুচ্ছেদ : ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য না করা
- ২৯ নং অনুচ্ছেদ : সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৭৯৩.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. জাতীয়তাবাদ
  2. সমাজতন্ত্র
  3. গণতন্ত্র
  4. প্রজাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
• প্রজাতন্ত্র - বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অন্তর্ভূক্ত নয়। 

• বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি: 
- বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে।
- ৮ নং অনুচ্ছেদে ১ নং দফানুসারে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হলো চারটি।

• এগুলো হলো:
- জাতীয়তাবাদ, 
- সমাজতন্ত্র, 
- গণতন্ত্র ও
- ধর্মনিরপেক্ষতা। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭৯৪.
পিএসসির চেয়ারম্যান ও নির্বাচন কমিশনারবৃন্দের শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. ডেপুটি স্পিকার 
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. রাষ্ট্রপতি 
  4. স্পিকার
ব্যাখ্যা

সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:

• রাষ্ট্রপতি শপথ বাক্য পাঠ করান:
- প্রধানমন্ত্রী।
- প্রধান বিচারপতি।
- মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ।
- স্পিকার।
- ডেপুটি স্পিকার।

• প্রধান বিচারপতি শপথ বাক্য পাঠ করান:
- আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ।
- পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ।
- মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারবৃন্দ।

• স্পিকার শপথবাক্য পাঠ করান:
- রাষ্ট্রপতি।
- সংসদ সদস্যবৃন্দ।

সূত্র - বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৭৯৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুসারে চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত?
  1. ৩২ অনুচ্ছেদ
  2. ৩.৬ অনুচ্ছেদ
  3. ৩৭ অনুচ্ছেদ
  4. ৩৯ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত।

⇒ ৩৯ নং অনুচ্ছেদ:
- (১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হলো।
- (২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংগঠনের প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং
(খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হলো।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৭ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সমাবেশের স্বাধীনতা। ৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে চলাফেরার স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭৯৬.
 সংবিধানের কত তম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের পরিবর্তে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা চালু হয়?
  1. ৮ ম 
  2. ১১ তম
  3. ১২ তম
  4. ১৩ তম
ব্যাখ্যা

• দ্বাদশ সংশোধনী:
- রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পুনরায় প্রবর্তন করা হয় দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।
- ১৯৯১ সালের ৬ই অগাষ্ট সংসদে সংশোধনীটি পাস হয়।

• দ্বাদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু:
১. রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হন।
২. প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী বা সরকার প্রধান হন।
৩. প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

১,৭৯৭.
কোন অনুচ্ছেদ মূলে বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি পরিবর্তনযোগ্য নয়?
  1. অনুচ্ছেদ ৭
  2. অনুচ্ছেদ ৮
  3. অনুচ্ছেদ ৭(ক)
  4. অনুচ্ছেদ ৭(খ)
ব্যাখ্যা

⇒ অনুচ্ছেদ ৭(খ) মূলে বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি পরিবর্তনযোগ্য নয়।
→ অনুচ্ছেদ ৭(খ) সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমুহের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে।]

♦ অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১ - প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ ২ - প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ ৩ - রাষ্ট্রভাষা।
- অনুচ্ছেদ ৪ - জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- অনুচ্ছেদ ৫(১) - অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা।
- অনুচ্ছেদ ৫(২) - অনুযায়ী রাজধানীর সীমানা আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে।
- অনুচ্ছেদ ৬ - নাগরিকত্ব।
- অনুচ্ছেদ ৭ - সংবিধানের প্রাধান্য।
- অনুচ্ছেদ ৭ক। সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ।
- অনুচ্ছেদ ৭খ। সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।
- অনুচ্ছেদ ৮ - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
- অনুচ্ছেদ ৯ - জাতীয়তাবাদ।
- অনুচ্ছেদ ১০ - সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৭৯৮.
সংবিধানের ৩৪ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ
  2. ধর্মীয় স্বাধীনতা
  3. বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ
  4. সংগঠনের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ৩৪ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ।

অন্যদিকে,
সংবিধানের ৪১ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - ধর্মীয় স্বাধীনতা।
সংবিধানের ৩৫ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।
সংবিধানের ৩৮ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - সংগঠনের স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৭৯৯.
সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে 'ন্যায়পাল' নিয়োগের বিধান আছে?
  1. ৭৭ নং
  2. ৮৮ নং
  3. ৬৩ নং
  4. ৮৭(১) নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদে ‘ন্যায়পাল’ পদটির উল্লেখ আছে।

⇒ অনুচ্ছেদ - ৭৭ : ন্যায়পাল:
১. সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ-প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করতে পারবেন।
২. সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালকে কোন মন্ত্রণালয়, সরকারী কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের যে কোন কার্য সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাসহ যেরূপ ক্ষমতা কিংবা যেরকম দায়িত্ব প্রদান করবেন, ন্যায়পাল সেইরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
৩. ন্যায়পাল তার দায়িত্বপালন সম্পর্কে বাৎসরিক রিপোর্ট প্রণয়ন করবেন এবং অনুরূপ রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপিত হবে।

অন্যদিকে -
- ৬৩ নং অনুচ্ছেদ: যুদ্ধ; (১) সংসদের সম্মতি ব্যতীত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাইবে না কিংবা প্রজাতন্ত্র কোন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিবেন না।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৮৮ নং অনুচ্ছেদে 'সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়'-এর উল্লেখ আছে।
- সংবিধানের ৮৭(১) অনুচ্ছেদে বলা আছে 'বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি'।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৮০০.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল' করা হয়?
  1. দ্বাদশ
  2. চতুর্দশ
  3. পঞ্চদশ
  4. সপ্তদশ
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০শে জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন হয় ২০১১ সালের ৩ জুলাই।

⇒ সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- এই সংশোধনীর দ্বারা 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল' করা হয়
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।
- সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।
- আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট জনস্বার্থে পাঁচ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে এই সংশোধনীর বেশ কিছু অংশ বাতিল করেছেন হাইকোর্ট।
- রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের বিধান বাতিল করা হয় যা ভবিষ্যতে কার্যকর হবে।
- ১৪২ অনুচ্ছেদ বাতিল করার মধ্য দিয়ে জনগণের ইচ্ছাকে বাতিল করা হয়েছিল।
- যে কারণে ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপন করা হলো।
- সংশোধনীর বাকি বিষয়গুলো পরবর্তী সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হলো।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।