বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সংবিধান

মোট প্রশ্ন২,৩৩১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সংবিধান

PrepBank · পাতা ১৭ / ২৪ · ১,৬০১১,৭০০ / ২,৩৩১

১,৬০১.
'শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা' হলো বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনার -
  1. অঙ্গীকার
  2. ঘোষণা
  3. বিধি
  4. নীতি
ব্যাখ্যা

প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে। 
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)। 
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)। 
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)। 
• ৫ম- গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৬০২.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে নিম্নের কোনটি একজন নাগরিকের কর্তব্য?
  1. সংবিধান ও আইন মান্য করা
  2. জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা
  3. শৃঙ্খলা রক্ষা করা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, একজন নাগরিকের কর্তব্য হলো -
i. সংবিধান ও আইন মান্য করা;
ii. শৃঙ্খলা রক্ষা করা;
iii. নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং
iv. জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬০৩.
সংবিধানের ৬(২) অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনগণের জাতিগত পরিচয় কী?
  1. বাঙালী
  2. বাংলাদেশী
  3. বাংলা ভাষী
  4. বঙ্গবাসী
ব্যাখ্যা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-
 'বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলে পরিচিত হবেন।'

৬। নাগরিকত্ব:

(১) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে।
(২) বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে "বাঙালী" আর একজন নাগরিক হিসেবে তাঁরা "বাংলাদেশী" নামে পরিচিত হবেন।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

১,৬০৪.
ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল হয় কবে?
  1. ক) ১০ অক্টোবর ১৯৯৬
  2. খ) ১২ নভেম্বর ১৯৯৬
  3. গ) ২২ ডিসেম্বর ১৯৯৬
  4. ঘ) ১৫ জানুয়ারী ১৯৯৮
ব্যাখ্যা
১৯৭৫ সালের ২০ আগস্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন যা ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ১৯৭৯ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে যার ফলশ্রুতিতে বঙ্গবন্ধু'র খুনীদের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়। (সূত্রঃ বাংলাদেশ গেজেট)
১,৬০৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুসারে রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোটদানের ফলে আসন শূন্য ঘোষিত হয়?
  1. ৭০ নং
  2. ৭১ নং
  3. ৭৩ নং
  4. ৭৮ নং
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পরবর্তীতে ঐ দল থেকে পদত্যাগ বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোটদান করলে তার আসন শূন্য ঘোষিত হবে।
(সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৬০৬.
জরুরি অবস্থার সময় মৌলিক অধিকারসমূহ স্থগিতকরণের বিধান কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ১৪১(ক)
  2. ১৪১(খ)
  3. ১৪১(গ)
  4. ১৪২(ক)
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১৩৬ - কর্মবিভাগ-পুনর্গঠন।
- অনুচ্ছেদ ১৩৭ - কমিশন-প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ১৩৮ - সদস্য-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ১৩৯ - পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ১৪০ - কমিশনের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪১ - বার্ষিক রিপোর্ট।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(ক) - জরুরী-অবস্থা ঘোষণা।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(খ) - জরুরী-অবস্থার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(গ) - জরুরী-অবস্থার সময় মৌলিক অধিকারসমূহ স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪২ -  সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৩ - প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৪ - সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫ - চুক্তি ও দলিল।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক) - আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৬ - বাংলাদেশের নামে মামলা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৬০৭.
রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. দশম সংশোধনী
  2. একাদশ সংশোধনী
  3. দ্বাদশ সংশোধনী
  4. ত্রয়োদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
দ্বাদশ সংশোধনী:
- রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পাল্টিয়ে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পুনরায় প্রবর্তন করা হয় দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।
- ১৯৯১ সালের ৬ই অগাষ্ট সংসদে সংশোধনীটি পাস হয়।

দ্বাদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু:
১. রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হন।
২. প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী বা সরকার প্রধান হন।
৩. প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৬০৮.
সরকারি কর্ম কমিশন কত অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রতিষ্ঠা লাভ করে?
  1. অনুচ্ছেদ ১১৭
  2. অনুচ্ছেদ ১১৮
  3. অনুচ্ছেদ ১৩৭
  4. অনুচ্ছেদ ১৩৮
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন: 
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। 

- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত এবং যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি নির্বাচন করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে তার প্রতিরূপ সংস্থাসমূহের মতো প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত মানব সম্পদ পরিকল্পনায় উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি জনপ্রশাসন ব্যবস্থাপনায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ভূমিকা পালন করছে।
- কর্ম কমিশন দেশব্যাপি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভের উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচন করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
বাংলাদেশের সংবিধান। 
১,৬০৯.
বাংলাদেশে বিশেষ ক্ষমতা আইন কত সালে প্রণীত হয়?
  1. ১৯৭৪
  2. ১৯৭৯
  3. ১৯৭৫
  4. ১৯৭৭
ব্যাখ্যা

বিশেষ ক্ষমতা আইন:
- ১৯৭৪ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি জারি করা হয়।
- এর উদ্দেশ্য ছিল বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী কিছু কার্যকলাপ প্রতিহত করা এবং কিছু গুরুতর অপরাধের দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।
- আইনটি নিরাপত্তা আইন ১৯৫২, জননিরাপত্তা অর্ডিন্যান্স ১৯৫৮ এবং বাংলাদেশ তফসিলী অপরাধ (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশ ১৯৭২ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৫০) এর ধারাবাহিকতায় প্রণীত হয়।
- ১৯৯১ সালের সংশোধনীতে আইনটির ১৬, ১৭ ও ১৮ ধারা রদ করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৬১০.
সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর বিষয়বস্তু কী ছিল?
  1. জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান
  2. যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিধান সন্নিবেশন
  3. রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা প্রবর্তন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের প্রথম সংশোধনী:
- বিলটি উত্থাপিত হয় - ১২ জুলাই, ১৯৭৩ সালে।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই সংবিধানের প্রথম সংশোধনী গৃহিত হয়।
- এটি উত্থাপন করেন তৎকালীন আইনমন্ত্রী শ্রী মনোরঞ্জন ধর।
- প্রথম সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিলো - যুদ্ধাপরাধীসহ গণবিরোধীদের বিচারের বিধান সন্নিবেশন করা।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ৪৭-ক নামে নতুন একটি অনুচ্ছেদ এবং ৪৭ নম্বর অনুচ্ছেদে একটি নতুন দফা যুক্ত করা হয়।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৬১১.
প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের বাইরে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ব্যতীত কোন কাজ এককভাবে করতে পারেন?
  1. ক) পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ
  2. খ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ
  3. গ) প্রধান বিচারপতি নিয়োগ
  4. ঘ) অডিটর জেনারেল নিয়োগ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্য সকল ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কর্ম সম্পাদন করে থাকেন।
- জরুরি অবস্থা জারি, সংসদ অধিবেশন আহবান, স্থগিত বা ভঙ্গ করা, প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত মন্ত্রীসভার অন্যান্য সদস্যের নিয়োগ সকল ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ গ্রহণ করে থাকেন।
- সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ অনুসরণে বাধ্য নয়।

সংবিধানের ৪৮(৩), ৫৬(৩) ধারায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার কথা বলা আছে। ৫৬(৩) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানন্ত্রীকে ও ৯৫(১) অনুযায়ী প্রধান বিচারপ্রতি নিয়োগ দিতে পারেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান
১,৬১২.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে মালিকানার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. ৩৮ নং
  2. ৪২ নং
  3. ৪০ নং
  4. ৪১ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান: 
- সংবিধানের ৪২ নং অনুচ্ছেদ সম্পত্তির অধিকার কথা বলা হয়েছে।
- ৪২(১) আইনের দ্বারা আরোপিত বাধা নিষেধ-সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর বা অন্যভাবে বিলি-ব্যবস্থা করিবার অধিকার থাকবে এবং আইনের কর্তৃত্ব ব্যতীত কোন সম্পত্তি বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ, রাষ্ট্রায়ত্ত বা দখল করা যাবে না।

অপরদিকে,
- সংবিধানের:
৩৮। সংগঠনের স্বাধীনতা;
৩৯। চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা;
৪০। পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা;
৪১। ধর্মীয় স্বাধীনতা;
৪২। সম্পত্তির অধিকার;
৪৩। গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ;
৪৪। মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ;
৪৫। শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন;
৪৬। দায়মুক্তি-বিধানের ক্ষমতা;
৪৭। কতিপয় আইনের হেফাজত;
৪৭ক। সংবিধানের কতিপয় বিধানের অপ্রযোজ্যতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৬১৩.
সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৬
  2. অনুচ্ছেদ ৭(ক)
  3. অনুচ্ছেদ ৭(খ)
  4. অনুচ্ছেদ ১৫৩
ব্যাখ্যা

৭(ক): সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ:
[৭ক। (১) কোন ব্যক্তি শক্তি প্রদর্শন বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা অন্য কোন অসাংবিধানিক পন্থায় -
(ক) এই সংবিধান বা ইহার কোন অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে; কিংবা
(খ) এই সংবিধান বা ইহার কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে-
তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে।
(২) কোন ব্যক্তি (১) দফায় বর্ণিত-
(ক) কোন কার্য করিতে সহযোগিতা বা উস্কানি প্রদান করিলে; কিংবা
(খ) কার্য অনুমোদন, মার্জনা, সমর্থন বা অনুসমর্থন করিলে-
তাহার এইরূপ কার্যও একই অপরাধ হইবে।
(৩) এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৬১৪.
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান করা হয় কোন সংশোধনী মাধ্যমে?
  1. দ্বাদশ সংশোধনী 
  2. একাদশ সংশোধনী 
  3. ত্রয়োদশ সংশোধনী 
  4. নবম সংশোধনী 
ব্যাখ্যা

ত্রয়োদশ সংশোধনী:
- ত্রয়োদশ সংশোধনী আইন সংবিধান আইন,পাস হয় ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ।
- এর দ্বারা একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান করা হয়।
- যা একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন হিসেবে কাজ করবে এবং সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সর্বতোভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করবে।
- একজন প্রধান উপদেষ্টা ও অনূর্ধ্ব ১০ জন উপদেষ্টার সমন্বয়ে গঠিতব্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার সমষ্টিগতভাবে রাষ্ট্রপতির নিকট দায়বদ্ধ থাকবে এবং নতুন সংসদ গঠনের পর নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের তারিখে বিলুপ্ত হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

১,৬১৫.
প্রস্তাবনার শীর্ষে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম' সংযুক্ত করা হয় কোন সংশোধনী দ্বারা?
  1. ক) পঞ্চম সংশোধনী
  2. খ) ষষ্ঠ সংশোধনী
  3. গ) সপ্তম সংশোধনী
  4. ঘ) অষ্টম সংশোধনী
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় ৫ টি ভাগ রয়েছে। 
-- ১৯৭৯ সালের ৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী গৃহীত হয়। 
- ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনার শীর্ষে 'বিসমিল্লাহির-রাহমানির রহিম' (দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে) বাক্য সংযুক্ত হয়।
- ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলা তর্জমায় (পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে) সংযোজন করা হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)

১,৬১৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ বলে রাষ্ট্র নারী, শিশু বা অনগ্রসর নাগরিকদের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান তৈরির ক্ষমতা পায়?
  1. ক) ২৫
  2. খ) ২৮
  3. গ) ৪০
  4. ঘ) ৪২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত 'মৌলিক অধিকার' অংশের ক্ষমতা বলে রাষ্ট্র নারী, শিশু বা অনগ্রসর নাগরিকদের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান তৈরির ক্ষমতা পায়।
অনুচ্ছেদ - ২৮ : ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য
(১) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।
(২) রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।
(৩) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাইবে না।
(৪) নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬১৭.
In our National Parliament, whose vote is known as the 'casting vote'?
  1. ক) Prime Minister's vote
  2. খ) President's vote
  3. গ) Chief Whip's vote
  4. ঘ) Speaker's vote
  5. ঙ) None
ব্যাখ্যা
• সংসদে কখনো কখনো কোন বিষয়ে দু পক্ষের হা অথবা না ভোটের সংখ্যা সমান হয়ে যেতে পারে। এমন অবস্থায় স্পীকার নিজের ভোট দিয়ে সংসদের অচলাবস্থা দূর করেন। স্পীকারের এই ভোটটিই হলো 'কাস্টিং বা নির্ণায়ক ভোট'। 

• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এর ৭৫ (১) নং অনুচ্ছেদ:
এই সংবিধান-সাপেক্ষে
(খ) উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংসদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্র ব্যতীত সভাপতি (স্পীকার) ভোটদান করিবেন না এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তিনি নির্ণায়ক (casting) ভোট প্রদান করিবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান
১,৬১৮.
সংবিধানের কোন ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. দ্বিতীয় ভাগে
  2. তৃতীয় ভাগে
  3. পঞ্চম ভাগে
  4. সপ্তম ভাগে
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের বিষয়াদি সন্নিবেশিত হয়েছে নবম ভাগের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে।
- সংবিধানে মোট ভাগ - ১১ টি।

সংবিধানের বিভিন্ন ভাগের আলোচনার বিষয়াদি:
- দ্বিতীয় ভাগের আলোচনার বিষয়াদি - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
- তৃতীয় ভাগের আলোচনার বিষয়াদি - মৌলিক অধিকার।
- পঞ্চম ভাগের আলোচনার বিষয়াদি - আইনসভা।
- সপ্তম ভাগের আলোচনার বিষয়াদি - নির্বাচন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬১৯.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী কোনো আইন বলবৎ থাকবে না?
  1. ২৫ নং অনুচ্ছেদ
  2. ২৬ নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৭ নং অনুচ্ছেদ
  4. ২৮ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার
- সংবিধানে সন্নিবেশিত অধিকারসমূহকে সাংবিধানিক অধিকার বলা যায়। বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৭ থেকে ৪৪ অনুচ্ছেদে যে ১৮টি অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে, সেগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে মৌলিক অধিকার।
- এগুলো প্রকৃতিগতভাবে আইনগত অধিকার এবং সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এগুলো আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য।
- এই অধিকারগুলো ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র প্রতিকার প্রদানে বাধ্য থাকে।

• সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই অধিকারগুলোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো আইন বাতিল বলে গণ্য হবে।
⇒ ২৬ নং অনুচ্ছেদ: মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল
- ২৬। (১) এই ভাগের বিধানাবলীর সহিত অসমঞ্জস সকল প্রচলিত আইন যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, এই সংবিধান-প্রবর্তন হইতে সেই সকল আইনের ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে।
- (২) রাষ্ট্র এই ভাগের কোন বিধানের সহিত অসমঞ্জস কোন আইন প্রণয়ন করিবেন না এবং অনুরূপ কোন আইন প্রণীত হইলে তাহা এই ভাগের কোন বিধানের সহিত যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে।
- [(৩) সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত সংশোধনের ক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই প্রযোজ্য হইবে না।]

উল্লেখ্য,
- মৌলিক অধিকারের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এগুলো নাগরিক ও রাজনৈতিক প্রকৃতির আইনগত অধিকার। এটি স্পষ্ট যে সকল মৌলিক অধিকারই আইনগত অধিকার কিন্তু সকল আইনগত অধিকার মৌলিক অধিকার নয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে ‘রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি’ শিরোনামে রাষ্ট্র অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকারসমূহ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে, যার মধ্যে ১৫(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নাগরিকদের জন্য অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, যা সাধারণভাবে ‘মৌলিক চাহিদা’ হিসেবে পরিচিত।
- সংবিধানের ৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দ্বিতীয় ভাগে বর্ণিত এই অধিকারসমূহ আদালতের মাধ্যমে প্রতিকারযোগ্য নয়। 

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান। 
ii) প্রথম আলো।

১,৬২০.
বাংলাদেশের জাতীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ক) ২৩
  2. খ) ২৩ক
  3. গ) ২৩খ
  4. ঘ) ২৪
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ - ২৩
জাতীয় সংস্কৃতি:
রাষ্ট্র জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন এবং জাতীয় ভাষা, সাহিত্য ও শিল্পকলাসমূহের এমন পরিপোষণ ও উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন, যাহাতে সর্বস্তরের জনগণ জাতীয় সংস্কৃতির সমৃদ্ধিতে অবদান রাখিবার ও অংশগ্রহণ করিবার সুযোগ লাভ করিতে পারেন৷

অনুচ্ছেদ - ২৩ক
• উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি:
রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

সূত্র গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬২১.
সংবিধানের কততম ভাগ জরুরী বিধানাবলী সংবলিত?
  1. চতুর্থ
  2. অষ্টম
  3. পঞ্চম
  4. নবম (ক)
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ভাগ মোট ১১টি।
• প্রতিটি ভাগে বিভিন্ন বিধান সংবলিত।
- প্রথম ভাগ: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
- তৃতীয় ভাগ: মৌলিক অধিকার;
- চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ;
- পঞ্চম ভাগ: আইনসভা।
- ষষ্ঠ ভাগ: বিচারবিভাগ।
- সপ্তম ভাগ: নির্বাচন;
- অষ্টম ভাগ:মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক;
- নবম ভাগ: বাংলাদেশের কর্মবিভাগ এবং নবম-(ক)জরুরী বিধানাবলী।
- দশম ভাগ: সংবিধান-সংশোধন।
- একাদশ ভাগ: বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৬২২.
'অ্যাটর্নি জেনারেল' সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ৬৩ নং
  2. ৬৪ নং
  3. ৬৫ নং
  4. ৬৭ নং
ব্যাখ্যা
অ্যাটর্নি জেনারেল:
- রাষ্ট্রের প্রধান আইনজীবীকে অ্যাটর্নি জেনারেল বলা হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪ নং অনুচ্ছেদে অ্যাটর্নি জেনারেলের কথা উল্লেখ আছে।
- ৬৪(১) সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হইবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দান করিবেন।
- ৬৪(২) অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করিবেন।
- ৬৪(৩) অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তার বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে।
- ৬৪(৪) রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করবেন।

এছাড়া,
অনুচ্ছেদ ৬৩ - যুদ্ধ
অনুচ্ছেদ ৬৫ - সংসদ প্রতিষ্ঠা
অনুচ্ছেদ ৬৭ - সংসদের আসন শূন্য হওয়া

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬২৩.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলাম ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
  1. ২য় সংশোধনী
  2. ৪র্থ সংশোধনী
  3. ৮ম সংশোধনী
  4. ১৩ম সংশোধনী
ব্যাখ্যা

৮ম সংশোধনী:
- ১৯৮৮ সালে এই সংশোধনী পাশ হয়।
- ১৯৮৯ আপীল বিভাগ হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন সংক্রান্ত ধারাটি অসাংবিধানিক উল্লেখ করে তা অবৈধ বলে রায় প্রদান করে।
- অষ্টম সংবিধান সংশোধন আইন দ্বারা সংবিধানের ২ক, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।
এই সংশোধনী আইনবলে-
১. ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়। 
২. ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়।
৩. সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদে Bengali শব্দটি পরিবর্তন করে Bangla করা হয় এবং Dacca পরিবর্তন করে Dhaka করা হয়। 
৪. সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মাননা, পুরস্কার গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

১,৬২৪.
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিলের বিষয়বস্তু কী?
  1. মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র
  2. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
  3. অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন
  4.  শপথ ও ঘোষণা
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সংবিধানে মোট সাতটি তফসিল রয়েছে।
এগুলো হলো:

- প্রথম তফসিল : অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বিলুপ্ত)।
- তৃতীয় তফসিল : শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল : ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী।
- পঞ্চম তফসিল : বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল : বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল : মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে প্রথম চারটি তফসিল ছিলো।
- ২০১১ সালে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে নতুন করে ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম তফসিল যুক্ত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৬২৫.
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি সংবিধানের কোন তফসিলের বিষয়?
  1. দ্বিতীয় তফসিল
  2. চতুর্থ তফসিল
  3. পঞ্চম তফসিল
  4. তৃতীয় তফসিল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান তফসিল:  
- সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।

• প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
• দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।
• তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
• চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
• পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
• ষষ্ঠ তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণা।
• সপ্তম তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৬২৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের Preamble কয়টি?
  1. ক) ১ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৭ টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনা (Preamble) ১ টি। উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬২৭.
বাংলাদেশ সংবিধান হাতে লেখার দায়িত্ব কার ওপর ন্যস্ত ছিল?
  1. হাশেম খান
  2. এ.কে.এম আব্দুর রউফ
  3. কামরুল ইসলাম 
  4. সমরজিৎ রায় চৌধুরী
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ সংবিধান হাতে লেখার দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল- এ.কে.এম আব্দুর রউফ। 

বাংলাদেশ সংবিধান: 
- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে গণপরিষদের সদস্যগণ হাতে লেখা সংবিধানের কপিতে স্বাক্ষর প্রদান করেন।
- বাংলাদেশ সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি।
- হস্তলিখিত সংবিধানে মোট ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।
- হস্তলিখিত সংবিধানের মূল লেখক এ.কে.এম আব্দুর রউফ।

উল্লেখ্য,
- হাশেম খান বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী। তিনি ১৯৯২ সালে একুশে পদক লাভ করেন। 
- কামরুল হাসান "পটুয়া" হিসাবেও পরিচিত।
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

১,৬২৮.
বাংলাদেশের নাগরিকদের পরিচয় কোনটি?
  1. বাঙালী
  2. বাংলা
  3. বাংলাদেশী
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• নাগরিকত্ব:
- বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে। 
 - বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী।
- এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হবে।
- সংবিধানের ৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- সংবিধানে প্রথম ভাগ:
১। প্রজাতন্ত্র;
২। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা;
২ক। রাষ্ট্রধর্ম;
৩। রাষ্ট্রভাষা;
৪। জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক;
৪ক। জাতির পিতার প্রতিকৃতি;
৫। রাজধানী;
৬। নাগরিকত্ব;
৭। সংবিধানের প্রাধান্য;
৭ক। সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ;
৭খ। সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৬২৯.
"প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের-ভিত্তিতে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে" বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে এটি বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ - ১২১
  2. অনুচ্ছেদ - ১২২
  3. অনুচ্ছেদ - ১২৩
  4. অনুচ্ছেদ - ১২৪
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ - ১২২: ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা
১. প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকারের-ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
২. কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার-তালিকাভুক্ত হবার অধিকারী হবেন, যদি -
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন;
(খ) তাঁর বয়স ১৮ বৎসরের কম না হয়;
(গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁর সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ হিসেবে ঘোষণা বহাল না থাকে;
(ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের (দালাল আইন) অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হয়ে থাকেন।

অন্যদিকে: 
- অনুচ্ছেদ - ১২১ : প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।
- অনুচ্ছেদ - ১২৩ : নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়।
- অনুচ্ছেদ - ১২৪ : নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

সূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬৩০.
বাংলাদেশের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে পুনঃপ্রবর্তিত হয়?
  1. দ্বাদশ
  2. অষ্টম
  3. পঞ্চদশ
  4. একাদশ
ব্যাখ্যা

দ্বাদশ সংশোধনী:
- এই সংশোধনী আইন পাস হয় ১৮ই সেপ্টেম্বর, ১৯৯১।
- এর দ্বারা সংবিধানের ৪৮, ৫৫, ৫৬, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৭০, ৭২. ১০৯, ১১৯, ১২৪, ১৪১ক এবং ১৪২ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন ঘটে;

অন্যদিকে, 
- অষ্টম সংশোধনী : জুন, ১৯৮৮,  বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং ঢাকার বাইরে হাইকোর্টের ৬টি বেঞ্চ স্থাপন করা হয়।
- একাদশ সংশোধনী ,আগস্ট, ১৯৯১:  অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ কর্তৃক প্রয়োগকৃত সকল কার্যক্রম বৈধ করা হয় এবং পুনরায় তাঁর প্রধান বিচারপতি পদে ফিরে যাবার বিধান করা হয়।

• পঞ্চদশ সংশোধনী: জুলাই, ২০১১,
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়।
- ১৯৭২ মূল সংবিধানের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি যথা: জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।
- রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখার পাশাপাশি সকল ধর্মচর্চার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৬৩১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৫০
  2. অনুচ্ছেদ ৫১
  3. অনুচ্ছেদ ৫২
  4. অনুচ্ছেদ ৫৩
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৫০ - রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫১ - রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদে ৫২ - রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের বিষয়টি সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ৫৩ - অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৪ - অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৫৫ - মন্ত্রিসভা।
- অনুচ্ছেদ ৫৬ - মন্ত্রিগণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৭ - প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৮ - অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৯ - স্থানীয় শাসন।
- অনুচ্ছেদ ৬০ - স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৬৩২.
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করার বিষয়টি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. ২২নং
  2. ২৫নং
  3. ২০নং
  4. ২১নং
ব্যাখ্যা

• নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ সংক্রান্ত সংবিধানের অনুচ্ছেদ:
⇒ ২২নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হইতে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন৷

• সংবিধানের ২০নং অনুচ্ছেদ - অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম।
• সংবিধানের ২১নং অনুচ্ছেদ - নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য
• সংবিধানের ২৫নং অনুচ্ছেদ - আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৬৩৩.
বাংলাদেশের সর্বশেষ সংশোধনী গৃহীত হয় কবে?
  1. ক) ২০১২
  2. খ) ২০১৫
  3. গ) ২০১৭
  4. ঘ) ২০১৮
ব্যাখ্যা
• এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সংবিধান মোট ১৭ বার সংশোধন হয়েছে।

• সপ্তদশ সংশোধনী
সংসদে উত্থাপন: ৮ এপ্রিল, ২০১৮
উত্থাপনকারী: আইনমন্ত্রী আনিসুল হক
সংসদে পাশ/গৃহীত - ৮ জুলাই, ২০১৮
রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ২৯ জুলাই, ২০১৮

সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধন আইন অনুসারে, একাদশ সংসদ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ ১০ বছর থেকে বাড়িয়ে ২৫ বছর করা হয়।
৬৫(৩) নং অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ ২৫ বছর বৃদ্ধি করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান
১,৬৩৪.
সংবিধানের ৫২ ধারা অনুযায়ী, 'ইমপিচমেন্ট' দ্বারা কাকে অভিশংসন করা হয়?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. আইনমন্ত্রী
  4. স্পীকার
ব্যাখ্যা
সংবিধানের "ইমপিচমেন্ট" (Impeachment) দ্বারা সাধারণত রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা হয়।

রাষ্ট্রপতির অভিশংসন (Impeachment of the President):
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগ নির্বাহী বিভাগের ৫২ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অভিশংসন (Impeachment of the President) সম্পর্কে বলা আছে।

⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগ নির্বাহী বিভাগের ৫২ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অভিশংসন সম্পর্কে বলা আছে।
- ৫২ (১) এই সংবিধান লংঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করা যেতে পারবে; এর জন্য সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে অনুরূপ অভিযোগের বিবরণ লিপিবদ্ধ করে একটি প্রস্তাবের নোটিশ স্পীকারের নিকট প্রদান করতে হবে; স্পীকারের নিকট অনুরূপ নোটিশ প্রদানের দিন হতে চৌদ্দ দিনের পূর্বে বা ত্রিশ দিনের পর এই প্রস্তাব আলোচিত হতে পারবে না; এবং সংসদ অধিবেশনরত না থাকলে স্পীকার অবিলম্বে সংসদ আহবান করবেন।
- ৫২ (২) এই অনুচ্ছেদের অধীন কোন অভিযোগ তদন্তের জন্য সংসদ কর্তৃক নিযুক্ত বা আখ্যায়িত কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের নিকট সংসদ রাষ্ট্রপতির আচরণ গোচর করতে পারবেন।
- ৫২ (৩) অভিযোগ-বিবেচনাকালে রাষ্ট্রপতির উপস্থিত থাকবার এবং প্রতিনিধি-প্রেরণের অধিকার থাকবে।
- ৫২ (৪) অভিযোগ-বিবেচনার পর মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলিয়া ঘোষণা করে সংসদ কোন প্রস্তাব গ্রহণ করলে প্রস্তাব গৃহীত হবার তারিখে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।
- ৫২ (৫) এই সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ-অনুযায়ী স্পীকার কর্তৃক রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব-পালনকালে এই অনুচ্ছেদের বিধানাবলী এই পরিবর্তন-সাপেক্ষে প্রযোজ্য হবে যে, এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় স্পীকারের উল্লেখ ডেপুটি স্পীকারের উল্লেখ বলিয়া গণ্য হবে এবং (৪) দফায় রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইবার উল্লেখ স্পীকারের পদ শূন্য হইবার উল্লেখ বলিয়া গণ্য হবে; এবং (৪) দফায় বর্ণিত কোন প্রস্তাব গৃহীত হলে স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে বিরত হবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬৩৫.
রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ব্যতিরেকে কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে পারেন?
  1. স্পীকার
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. প্রধান নির্বাচন কমিশনার
  4. সরকারী কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগের -
- ৪৮ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।
- ৪৮ (২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাঁকে প্রদত্ত ও তাঁর উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করবেন।
- ৪৮ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তাঁর অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন। 
- ৪৮ (৪) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি -
(ক) ৩৫ বছরের কম বয়স্ক হন; অথবা
(খ) সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য না হন; অথবা
(গ) কখনও এই সংবিধানের অধীন অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ হতে অপসারিত হয়ে থাকেন।
- ৪৮ (৫) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রীয় নীতি সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখবেন এবং রাষ্ট্রপতি অনুরোধ করলে যেকোন বিষয় মন্ত্রিসভায় বিবেচনার জন্য পেশ করবেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬৩৬.
বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিধান পাস করা হয় কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. দশম সংশোধনী
  2. দ্বাদশ সংশোধনী
  3. চতুর্দশ সংশোধনী
  4. ষোড়শ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
ষোড়শ সংশোধনী:

- ষোড়শ সংশোধনী সংসদে উত্থাপন করা হয় ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টম্বর।
- সংশোধনীটি গৃহীত হয় ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টম্বর।
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টম্বর।
- ৭২ এর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিধান পাস করা হয় ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬৩৭.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকারগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে?
  1. ১-৭ অনুচ্ছেদ
  2. ২৬ -৪৭ অনুচ্ছেদ
  3. ৮ -২৫ অনুচ্ছেদ
  4. ৪৮ - ৬৪ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
সংবিধানে মৌলিক অধিকার:
- বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৬ নং অনুচ্ছেদ থেকে ৪৭ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে।

অন্যদিকে- 
- ১-৭ অনুচ্ছেদ: প্রজাতন্ত্র।
- ৮ -২৫ অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
- ৪৮ - ৬৪ অনুচ্ছেদ: নির্বাহী বিভাগ।

উৎস: পৌরনীতি, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৩৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি' সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ১৮ক নং
  2. ২২ নং
  3. ২৩ (ক) নং
  4. ২৪ নং
ব্যাখ্যা
উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ২৩ (ক) অনুচ্ছেদে ‘উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি’ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অন্যদিকে,
- ২২ নং অনুচ্ছেদ : রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগসমূহ থেকে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণের কথা বলা হয়েছে।
- ১৮ক নং অনুচ্ছেদ : পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
- ২৪ নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় স্মৃতি নিদর্শন প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬৩৯.
বাংলাদেশে বিচারপতিদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা কত?
  1. ক) ৫৭ বছর
  2. খ) ৬০ বছর
  3. গ) ৬২ বছর
  4. ঘ) ৬৭ বছর
ব্যাখ্যা

- বর্তমানে সংবিধানের ৯৬(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অবসরগ্রহণের সময়সীমা ৬৭ বছর।
- ১৯৭২ সালের সংবিধানে এই সীমা ছিলো ৬২ বছর।
- ১৯৮৬ সালে সপ্তম সংশোধনীর দ্বারা ৬৫ বছর এবং ২০০৪ সালে ১৪তম সংশোধনী দ্বারা ৬৭ বছর করা হয়।

সোর্সঃ বাংলাদেশের সংবিধান এবং প্রথম আলো।

১,৬৪০.
সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য হতে হলে ন্যূনতম কত বছর রাষ্ট্রীয় কর্মে নিয়োজিত থাকতে হবে?
  1. ১০ বছর
  2. ১৫ বছর
  3. ২০ বছর
  4. ২৫ বছর
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১৩৮- সদস্য-নিয়োগ:
(১) প্রত্যেক সরকারী কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন: 
 
তবে শর্ত থাকে যে, প্রত্যেক কমিশনের যতদূর সম্ভব অর্ধেক (তবে অর্ধেকের কম নহে) সংখ্যক সদস্য এমন ব্যক্তিগণ হইবেন, যাঁহারা কুড়ি বৎসর বা ততোধিককাল বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে কোন সময়ে কার্যরত কোন সরকারের কর্মে কোন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। 
 
(২) সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইন-সাপেক্ষে কোন সরকারী কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যের কর্মের শর্তাবলী রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ হইবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬৪১.
বাংলাদেশের সংবিধানের নবম অধ্যায়ের বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. বিচার বিভাগ
  2. নির্বাচন
  3. বাংলাদেশের কর্মবিভাগ
  4. মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন।
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬৪২.
সকল নাগরিককে আইনের সমান অধিকার প্রদানের বিষয়টি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা আছে?
  1. ২৮ নং অনুচ্ছেদ
  2. ২৯ নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৭ নং অনুচ্ছেদ
  4. ১৯ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

• ২৭ নং অনুচ্ছেদ:
- সংবিধানে বলা হয়েছে, “সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।” অর্থাৎ, আইনের সামনে সকলের সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, 
-১৯ নং অনুচ্ছেদ: নাগরিকদের সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
- ২৮ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধান অনুযায়ী, ধর্ম বা অন্য কোনো কারণে বৈষম্য করা যাবে না।
- ২৯ নং অনুচ্ছেদ: সরকারি নিয়োগ ও সুবিধা প্রাপ্তিতে সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৬৪৩.
বাংলাদেশের সংবিধানের সর্বশেষ অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. রহিতকরণ
  2. প্রবর্তন
  3. ব্যাখ্যা
  4. পদের শপথ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদসমূহ:

- অনুচ্ছেদ ১৪৩ - প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৪ - সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫ - চুক্তি ও দলিল।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক) - আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৬ - বাংলাদেশের নামে মামলা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৭ - কতিপয় পদাধিকারীর পারিশ্রমিক প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৮ - পদের শপথ।
- অনুচ্ছেদ ১৪৯ - প্রচলিত আইনের হেফাজত।
- অনুচ্ছেদ ১৫০ - ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- অনুচ্ছেদ ১৫১ - রহিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৫২ - ব্যাখ্যা।
- অনুচ্ছেদ ১৫৩ - প্রবর্তন, উল্লেখ ও নির্ভরযোগ্য পাঠ।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬৪৪.
বাংলাদেশের কোনো নাগরিক কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নিকট থেকে কোন খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করার পূর্বে কার অনুমোদন লাগবে?
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. স্পীকার
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের কোনো নাগরিক কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নিকট থেকে কোন খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করার পূর্বে রাষ্ট্রপতির  অনুমোদন লাগবে। 

• সংবিধানের ৩০ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: 
- রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন নাগরিক কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নিকট হইতে কোন উপাধি, খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করিবেন না। 

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 
১,৬৪৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্র ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ন, নারী পুরুষ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করবে না?
  1. ২৮ (১) নং
  2. ২৮ (২) নং
  3. ২৮ (৩) নং
  4. ২৮ (৪) নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
⇒ সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে,
- ২৮ (১) নং: কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ন, নারী পুরুষ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না।
- ২৮ (২) নং: রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন।
- ২৮ (৩) নং: কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাবে না।
- ২৮ (৪) নং: নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যেকোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করবে না।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬৪৬.
সংবিধান অনুসারে অধ্যাদেশ জারি করার ক্ষমতা কার উপর ন্যাস্ত?
  1. ক) প্রধানমন্ত্রী
  2. খ) বিচারপতি
  3. গ) স্পিকার
  4. ঘ) রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
• সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় এবং সংসদ অধিবেশনকাল ব্যতীত সময়ে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক আইনের ন্যায় কার্যকর যে আদেশ জারি করেন তা ‘অধ্যাদেশ’ নামে পরিচিত।
• বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করে থাকেন।
• এই অধ্যাদেশ জারির পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটি উপস্থাপন করতে হয় এবং উপস্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ এটি অনুমোদন না করলে ৩০ দিন পর এই অধ্যাদেশ অকার্যকর হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৬৪৭.
’আইনের দৃষ্টিতে সমতা’ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ-২৯
  2. অনুচ্ছেদ-২৬
  3. অনুচ্ছেদ-২৭
  4. অনুচ্ছেদ-২৮
ব্যাখ্যা

- আইনের দৃষ্টিতে সমতা সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদে রয়েছে।
 - সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

 এছাড়াও
 - গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অনুচ্ছেদ:
 - ২৬ নং:মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস্য আইন বাতিল;
 - ২৭নং: আইনের দৃষ্টিতে সমতা;
 - ২৮ নং: ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য;
 - ২৯নং:  সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা;
 
 উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৬৪৮.
সংবিধানের প্রস্তাবনার চতুর্থ ভাগে কী ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা
  2. মূলনীতি গ্রহণ
  3. শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা
  4. সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা
ব্যাখ্যা

প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে। 
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)। 
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)। 
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)। 
• ৫ম- গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৬৪৯.
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত নির্দেশনা সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ২২
  2. ২৩
  3. ২৪
  4. ২৫
ব্যাখ্যা

২৫নং অনুচ্ছেদ: 
- সংবিধানের ২৫নং অনুচ্ছেদে 'আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
• ২৫৷ 1[***] জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র
- (ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করিবেন;
- (খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করিবেন; এবং
- (গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করিবেন৷

অন্যদিকে,
- ২২নং অনুচ্ছেদ: নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।
- ২৩নং অনুচ্ছেদ: জাতীয় সংস্কৃতি।
- ২৪নং অনুচ্ছেদ: জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৬৫০.
সংসদ এবং সংসদ সদস্যদের দায়মুক্তি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে কত নং অনুচ্ছেদে?
  1. ক) ৭৮ নং
  2. খ) ৬৮ নং
  3. গ) ৭৫ নং
  4. ঘ) ৭২ নং
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৭৮ নং অনুচ্ছেদে সংসদের কার্যধারার বৈধতা, সংসদ বা সংসদীয় কমিটিতে সদস্যদের ভোটদান, বক্তব্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে কোন আদালতে কর্তৃক কোন কার্যধারা গ্রহণ থেকে সংসদ ও তার সদস্যদের সুরক্ষার বিধান প্রদান করা হয়েছে। ৬৮ নং অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের পারিশ্রমিক, ৭২ নং অনুচ্ছেদে সংসদের অধিবেশন এবং ৭৫ নং অনুচ্ছেদে কার্যপ্রণালি বিধি, কোরাম প্রভৃতি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। (সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৬৫১.
বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন -
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. আবু সাঈদ চৌধুরী
  3. মোহাম্মদউল্লাহ
  4. আবদুস সাত্তার
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন: আবু সাঈদ চৌধুরী।
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন।
- 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন: এম মনসুর আলী।
- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় ।
- ১৪ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান, বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬৫২.
How many members were in the committee for Drafting the Constitution of Bangladesh?
  1. 30
  2. 33
  3. 34
  4. 38
  5. 42
ব্যাখ্যা
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য:
- খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়: ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- এই কমিটির মোট সদস্য ছিল ৩৪ জন।
- আওয়ামী লীগ ছাড়া একমাত্র সদস্য ছিলেন ন্যাপের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
- এই কমিটির প্রধান বা সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৬৫৩.
সংবিধানের কততম সংশােধনী অনুসারে জাতীয় সংসদ মােট ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত?
  1. ক) চতুর্দশ
  2. খ) পঞ্চদশ
  3. গ) ষোড়শ
  4. ঘ) সপ্তদশ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের আইনসভার নাম 'জাতীয় সংসদ'।
জাতীয় সংসদ আইন বিভাগের একটি প্রধান প্রতিষ্ঠান। সংসদ প্রণীত আইন রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর কার্যকর হয়। আইন বিভাগ সরকারের একটি অংশ।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশােধনী অনুসারে জাতীয় সংসদ মােট ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত। এদের মধ্যে ৩০০ জন সদস্য জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন এবং ৫০ টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত৷
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি

১,৬৫৪.
দ্বাদশ সংশোধনী দ্বারা নিচের কোন পদ বিলুপ্ত করা হয়?
  1. ক) উপ সেনাপতি
  2. খ) উপ প্রতিমন্ত্রী
  3. গ) উপ বিচারপতি
  4. ঘ) উপ রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
দ্বাদশ সংশোধনী:
সংসদে উত্থাপন: ২ জুলাই, ১৯৯১
উত্থাপনকারী: আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মির্জা গোলাম হাফিজ
সংসদে গৃহীত: ৬ আগস্ট, ১৯৯১
রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১  

সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধন আইনের সংশোধন মাধ্যমে ১৭ বছর পর বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন ঘটে;
যেখানে-
১. রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হন; 
২. প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী বা সরকার প্রধান হন; 
৩. প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ হয়;
৪. উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ করা হয়, জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান
১,৬৫৫.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি নয়? 
  1. জাতীয়তাবাদ 
  2. সমাজতন্ত্র 
  3. গণতন্ত্র
  4. উদারতাবাদ
ব্যাখ্যা
♣ ৮ নং অনুচ্ছেদ: মূলনীতিসমূহ;  
- (১) জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা- এই নীতিসমূহ এবং তৎসহ এই নীতিসমূহ হইতে উদ্ভূত এই ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে।

- (২) এই ভাগে বর্ণিত নীতিসমূহ বাংলাদেশ-পরিচালনার মূলসূত্র হইবে, আইন-প্রণয়নকালে রাষ্ট্র তাহা প্রয়োগ করিবেন, এই সংবিধান ও বাংলাদেশের অন্যান্য আইনের ব্যাখ্যাদানের ক্ষেত্রে তাহা নির্দেশক হইবে এবং তাহা রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কার্যের ভিত্তি হইবে, তবে এই সকল নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হইবে না। 

♠♠ 
- ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্পর্কে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (মৌলিক অধিকার) ৪১ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে।   
♦ ৪১ নং অনুচ্ছেদ: ধর্মীয় স্বাধীনতা;  
- (১) আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা-সাপেক্ষে; 
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রহিয়াছে;
(খ) প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ-সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রহিয়াছে।

- (২) কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যোগদানকারী কোন ব্যক্তির নিজস্ব ধর্ম-সংক্রান্ত না হইলে তাঁহাকে কোন ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ কিংবা কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাসনায় অংশগ্রহণ বা যোগদান করিতে হইবে না। 

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬৫৬.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আপীল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হবে?
  1. ৯৪ (১)
  2. ৯৫ (১)
  3. ৯৬ (১)
  4. ৯৭ (১)
ব্যাখ্যা
সুপ্রিম কোর্ট:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার বর্ণিত হয়েছে।
- সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, আপীল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হবে।
- সুপ্রিম কোর্টের এই দুই বিভাগের পৃথক এখতিয়ার রয়েছে।
- সংবিধান ও সংবিধানের পাশাপাশি দেশের সাধারণ আইন (সংসদ কর্তৃক পাশকৃত আইন) এই এখতিয়ারের উৎস।
- ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
- ২০১৭ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়ে আসছে।
- ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়। 

অন্যদিকে -
- সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, 'প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করবেন। 
- সংবিধানের ৯৬ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, 'কোন বিচারক সাতষট্টি বৎসর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকবেন।'

উৎস: i) সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইট।
         ii) ১৮ ডিসেম্বর ২০২১, দৈনিক ইত্তেফাক।
        iii) বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬৫৭.
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলো সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে?
  1. ৬-২২ অনুচ্ছেদ
  2. ৬-২৫ অনুচ্ছেদ
  3. ৮-২৫ অনুচ্ছেদ
  4. ৮-২২ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানেও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কতগুলো মৌলিক নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এ নীতিগুলো রাষ্ট্র শাসনের মূলসূত্র।
- মূল সংবিধানের 'দ্বিতীয় ভাগে' রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি শিরোনামে ৮ থেকে ২৫ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মূলনীতিগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে ।
- সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি হলো: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।

⇒ জাতীয়তাবাদ:
- ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালী জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছেন, সেই বাঙালী জাতির ঐক্য ও সংহতি হবে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি,(অনুচ্ছেদ ৯)।

⇒ সমাজতন্ত্র:
- মানুষের উপর মানুষের শোষণ হতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজ লাভ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হল রাষ্ট্রের লক্ষ্য, (অনুচ্ছেদ ১০)।

⇒ গণতন্ত্র:
- প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানব সত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে। প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে, (অনুচ্ছেদ ১১)।

⇒ ধর্মনিরপেক্ষতা:
- ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হল সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতা অবসান, রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা না দেওয়া, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মকে ব্যবহার না করা এবং কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ নিপীড়নের অবসান, (অনুচ্ছেদ ১২)।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৫৮.
জাতীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় বিধানের দায়িত্ব পালন করেন-
  1. ক) সংসদ নেতা
  2. খ) রাষ্ট্রপতি
  3. গ) চিফ হুইপ
  4. ঘ) স্পিকার
ব্যাখ্যা
- চিপ হুইপ সংসদ সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় বিধানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। 
- সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের নেতা।
- মাননীয় স্পিকার জাতীয় সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৬৫৯.
বাংলাদেশে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হওয়া গণভোটের বিষয়বস্তু কী ছিল?
  1. এরশাদের সমর্থন যাচাই
  2. জিয়াউর রহমানের নিজ শাসনকে বৈধকরণ
  3. দ্বাদশ সংশোধনীর বিষয়ে জনমত যাচাই
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত গণভোট হয়েছে ৩ বার।
- বাংলাদেশের প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৭ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের নিজ শাসনকে বৈধকরণ (প্রশাসনিক)।
- দ্বিতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের ১ মার্চ এরশাদের সমর্থন যাচাই (প্রশাসনিক)।
- তৃতীয় অর্থাৎ সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী বিষয়ে জনগণের মতামত যাচাইয়ের জন্যে দেশে গণভোট অনুষ্ঠিত হয় (একমাত্র সাংবিধানিক )।

- ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে গনভোটের বিধান বাতিল করা হয়।
- গণভোট সংক্রান্ত দুটি অনুচ্ছেদ : ৪৮ এবং ৫৬. তবে বর্তমানে এই অনুচ্ছেদ দুটিতে গণভোটের বিধান আর নেই।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো।
১,৬৬০.
কোন সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানের ২নং অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হয়?
  1. ষষ্ঠ সংশোধনী
  2. পঞ্চম সংশোধনী
  3. চতুর্থ সংশোধনী
  4. তৃতীয় সংশোধনী
ব্যাখ্যা
তৃতীয় সংশোধনী: 
- তৃতীয় সংশোধনী আইন সংবিধান (তৃতীয় সংশোধনী) আইন, ১৯৭৪ বলবৎ হয় ১৯৭৪ সালের ২৮ নভেম্বর।
- এর দ্বারা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কতিপয় ছিটমহল বিনিময় ও সীমান্ত রেখা নির্ধারণের ব্যাপারে একটি চুক্তি কার্যকর করার লক্ষ্যে সংবিধানের ২নং অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হয়।

অন্যদিকে: 
চতুর্থ সংশোধনী:
- ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে সংবিধানের মৌলিক সংশোধন সাধিত হয়।
- সংবিধান (চতুর্থ সংশোধনী) আইন ১৯৭৫ দ্বারা সংসদীয় পদ্ধতি পরিত্যক্ত হয় এবং এক-দলীয় রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতির প্রবর্তন করা হয়।

পঞ্চম সংশোধনী:
- ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয় - পঞ্চম সংশোধনী আইন।
- এই আইন দ্বারা সংবিধানের চতুর্থ তফসিল সংশোধন করা হয় ।
- পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রথম বারের মতো বাহাত্তরের সংবিধানের মূলনীতি থেকে সরে আসে।
- রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সংশোধন করায় এই সংশোধনীকে 'First distortion of Constitution' বলা হয়।

ষষ্ঠ সংশোধনী:
- ষষ্ঠ সংশোধনী আইন ১৯৮১ সালের সংবিধানের ৫১ ও ৬৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ কর্তৃক এই আইন কার্যকর হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
১,৬৬১.
Which part of the constitution of Bangladesh has mentioned religious freedom?
  1. ক) First part
  2. খ) Second part
  3. গ) Third part
  4. ঘ) Fourth part
ব্যাখ্যা
সংবিধান:

- বাংলাদেশের সংবিধানের ৩য় ভাগে ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে।
- জনগণের মৌলিক অধিকারের উৎস হলো সংবিধান। সংবিধান জনগণের মৌলিক অধিকারের রক্ষক।
- সংবিধানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং অধিকারের নিশ্চয়তার বিধান সন্নিবেশিত থাকে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানে তফসিল আছে ৭টি, সংবিধানে মূলনীতি আছে ৪টি, সংবিধানে প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১১টি ভাগ রয়েছে।
- সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৬ থেকে ৪৭ নং অনুচ্ছেদের মধ্যে মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

অপরদিকে,
- দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
- চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ।
- পঞ্চম ভাগ: আইনসভা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬৬২.
বাংলাদেশের সংবিধানের খসড়া প্রথম কবে গণপরিষদে উত্থাপিত হয়?
  1. ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  2. ১২ অক্টোবর, ১৯৭২
  3. ১২ নভেম্বর, ১৯৭২
  4. ১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

সংবিধানের ইতিহাস: 
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আবির্ভূত হয় একটি স্বাধীন দেশ রূপে।
- শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুযায়ি পাকিস্তানী কারাগার থেকে ঢাকা প্রত্যাবর্তন করেন।
- ২৩ মার্চ সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে একটি ৪৩০ সদস্যবিশিষ্ট গণপরিষদ গঠন করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকায় গণপরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এ অধিবেশনে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি সংবিধান কমিটি গঠন করা হয়।
- এ কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তৎকালীন আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ড. কামাল হোসেন।
• ড. কামাল হোসেন ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদে খসড়া বিধান পেশ করেন।
- পরিশেষে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর উক্ত সংবিধান বলবৎ করা হয়। ঐ দিন থেকে গণপরিষদ বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের  রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৬৩.
কোন সালে সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে ঢাকার নাম 'Dacca' পরিবর্তন করে 'Dhaka' করা হয়?
  1. ১৯৮২ সালে
  2. ১৯৮৮ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা
ঢাকার ইতিহাস:
- ১৯৮৮ সালে ঢাকার 'Dacca বানান Dhaka' হয়।
- ব্রিটিশ শাসনামলে বর্তমান রাজধানী ঢাকার নাম ছিল ইংরেজি বানানে ‘Dacca’।
- এই ‘Dacca’ (ডাক্কা) থেকে Dhaka (ঢাকা) নামকরণ করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল এরশাদ।
- তার সরকারের সময় এই পরিবর্তন আনা হয়। 

এছাড়াও,
- সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী সংসদে উত্থাপন হয়: ১১ মে, ১৯৮৮।
- সংসদে গৃহীত হয়: ৭ জুন, ১৯৮৮ এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ৯ জুন, ১৯৮৮।
- অষ্টম সংবিধান সংশোধনী আইনবলে- সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদে Bengali শব্দটি পরিবর্তন করে Bangla করা হয় এবং Dacca পরিবর্তন করে Dhaka করা হয়;

⇒ ইসলাম খাঁর আসলে (১৬১০ সালে) ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থানান্তর করেন। প্রথমবারের মত ঢাকা রাজধানী হওয়ার মর্যাদা লাভ করে। ঢাকের শব্দের ভিত্তিতে জায়গা নির্বাচন হয়েছে বলে নতুন রাজধানীর নাম হয়ে যায় ঢাকা। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৬৪.
সংবিধানের কত অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করবে এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, যন ও বন্য প্রাণীর সরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করবে?
  1. ২৮
  2. ২৫
  3. ২৩ (ক)
  4. ১৮ (ক)
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১৮(ক) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে,
- রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব- বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১৮ক নং অনুচ্ছেদে 'পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন' এর কথা বলা হয়েছে।
 
অন্যদিকে -
- সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদে 'ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য' সম্পর্কে বলা হয়েছে। 
- সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে 'আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ২৩(ক) নং অনুচ্ছেদে 'উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬৬৫.
‘জাতির পিতার প্রতিকৃতি‘র কথা বলা আছে সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে?
  1. ক) ১১
  2. খ) ৪ক
  3. গ) ৬
  4. ঘ) ১৮ক
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- ‘জাতির পিতার প্রতিকৃতি‘র কথা বলা আছে সংবিধানের ৪ক অনুচ্ছেদে।

• ৪ক অনুচ্ছেদ:
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয় এবং সকল সরকারী ও আধা-সরকারী অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের প্রধান ও শাখা কার্যালয়, সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনসমূহে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করতে হবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬৬৬.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ক) ২৭ নং অনুচ্ছেদ
  2. খ) ৩১ নং অনুচ্ছেদ
  3. গ) ৩২ নং অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ৩৩ নং অনুচ্ছেদ 
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা হইতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবে না।”

অন্যদিকে,
- ২৭ নং অনুচ্ছেদ : আইনের দৃষ্টিতে সমতা
- ৩১ নং অনুচ্ছেদ : আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার
- ৩৩ নং অনুচ্ছেদ : গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান)
১,৬৬৭.
নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ সম্পর্কিত সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ?
  1. ২০ নং
  2. ২২ নং
  3. ২৫ নং
  4. ২৬ নং
ব্যাখ্যা

সংবিধানের অনুচ্ছেদঃ 
- ২২ নং অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ সম্পর্কে বলা আছে। 
- অনুচ্ছেদ ২২৷ রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হইতে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন৷

অন্যদিকে,
- ২০ নং অনুচ্ছেদে অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্মের কথা বলা আছে। 
- ২৫ নং অনুচ্ছেদে আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়নের কথা বলা আছে।
- ২৬ নং অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল সম্পর্কে বলা আছে। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৬৬৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সংবিধান সংশোধনের বিধান বর্ণিত আছে?
  1. ১৫৩ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৭০ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৪৮ নং অনুচ্ছেদ
  4. ১৪২ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ ১৪২: সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা:
- বাংলাদেশের সংবিধানের দশম ভাগের ১৪২ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা বর্ণিত আছে।
- ১৪২নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই সংবিধানে যা বলা হয়েছে, তা সত্ত্বেও -
- সংসদের আইন-দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা
সংশোধিত হতে পারবে:

তবে শর্ত থাকে যে,
- অনুরুপ সংশোধনীর জন্য আনীত কোন বিলের সম্পূর্ন শিরনামায় এই সংবিধানের কোন বিধান সংশোধন করা হক] ব বলে স্পষ্টরুপে উল্লেখ না থাকলে বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা যাবে না;
সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরুপ কোন বিলে সম্মতিদানের
জন্য তা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হবে না;
- উপরি-উক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তা উপস্থাপিত হলে
- উপরি-উক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তা উপস্থাপিত হলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করবেন, এবং তিনি তা করতে অসমর্থ হলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করেছেন বলে গণ্য হবে।

অপরদিকে,
- অনুচ্ছেদ ১৫৩ (১) এই সংবিধানকে "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান" বলিয়া উল্লেখ করা হইবে এবং ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখে ইহা বলবৎ হইবে, যাহাকে এই সংবিধানে "সংবিধান-প্রবর্তন" বলিয়া অভিহিত করা হইয়াছে।
- ৪৮ নং অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি কথা বলা হয়েছে।
- ৭০ নং অনুচ্ছেদ:  রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৬৬৯.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সম্পর্কিত পদ্ধতি বর্ণিত আছে?
  1. ৮৭ নং
  2. ৮৮ নং
  3. ৮৯ নং
  4. ১১৭ নং
ব্যাখ্যা
-  সংবিধানের ৮৯ নং অনুচ্ছেদে বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সম্পর্কিত পদ্ধতি কথা বলা হয়েছে।
- ৮৯ (১) সংযুক্ত তহবিলের দায়যুক্ত ব্যয়-সম্পর্কিত বার্ষিক আর্থিক বিবৃতির অংশ সংসদে আলোচনা করা হইবে,
- কিন্তু তাহা ভোটের আওতাভুক্ত হইবে না। 
- (২) অন্যান্য ব্যয়-সম্পর্কিত বার্ষিক আর্থিক বিবৃতির অংশ মঞ্জুরী-দাবীর আকারে সংসদে উপস্থাপিত হইবে এবং কোন মঞ্জুরী-দাবীতে সম্মতিদানের বা সম্মতিদানে অস্বীকৃতির কিংবা মঞ্জুরী-দাবীতে নির্ধারিত অর্থ হ্রাস-সাপেক্ষে তাহাতে সম্মতিদানের ক্ষমতা সংসদের থাকিবে। 
- (৩) রাষ্ট্রপতির সুপারিশ ব্যতীত কোন মঞ্জুরী দাবী করা যাইবে না।

উল্লেখ্য, 
৮৭। বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি।
৮৮। সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়।
৮৯। বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সম্পর্কিত পদ্ধতি।
১১৭। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালসমূহ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান। 
১,৬৭০.
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা সংবিধানের কোন তফসিলে সংযোজন করা হয়েছে?
  1. ক) চতুর্থ তফসিল
  2. খ) পঞ্চম তফসিল
  3. গ) ষষ্ঠ তফসিল
  4. ঘ) সপ্তম তফসিল
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে সংযোজন করা হয়েছে। ২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে নতুন করে ৩টি তফসিল যথা: পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তফসিল যুক্ত করা হয়।
অন্যদিকে,
- ৫ম তফসিল : বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ।
- ৭ম তফসিল : ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
- ৪র্থ তফসিল : ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৬৭১.
সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর বিল পাস হয় কত সালে? 
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

• প্রথম সংশোধনী:
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম সংশোধনী গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকরের ৭ মাস পর ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই প্রথম সংশোধনী বিল পাস হয়।
- এই সংশোধন অনুযায়ী গণহত্যা কিংবা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য আইন প্রণয়নের বিধান রাখা হয়।

অপরদিকে,
- দ্বিতীয় সংশোধনী: 
- এই সংশোধনীর দ্বারা দেশে 'জরুরি অবস্থা' জারির বিধান করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এটি পাস হয়।
- এই সংশোধনীতে সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বিনা বিচারে যে কাউকে আটকের বিধান করা হয়।
- মূলত এ সংশোধনীর মাধ্যমে শাসন বিভাগ তথা নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

• তৃতীয় সংশোধনী
- বাংলাদেশ ভারতকে বেরুবাড়ি হস্তান্তর করে।
- এ হস্তান্তরের শর্ত ছিল ভারত দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় যাবার জন্য বাংলাদেশকে তিন বিঘা করিডোর প্রদান করবে।
- ১৯৭৪ সালের ২৮ নভেম্বর জাতীয় সংসদে এ সংশোধনী পাস হয়।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান , আরিফ খান।

১,৬৭২.
সংসদ আহ্বান করেন কে?
  1. ক) সংসদের সভাপতি
  2. খ) রাষ্ট্রপতি
  3. গ) স্পিকার
  4. ঘ) ক্ষমতাসীন দল
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান করেন।
নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ও নতুন বছরের অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণদান করেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদে আলােচনা হয়। সময়ে সময়ে রাষ্ট্রপতি সংসদে বাণী প্রেরণ করেন। তিনি সংসদ মুলতবি রাখতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে তিনি সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারেন।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি

১,৬৭৩.
সংবিধানের প্রথম তফসিলে কী বর্ণিত হয়েছে?
  1. শপথ ও ঘোষণা
  2. অন্যান্য ‍বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন
  3. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
  4. ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানে মোট সাতটি তফসিল রয়েছে।
এগুলো হলো:
- প্রথম তফসিল : অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন
- দ্বিতীয় তফসিল : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
- তৃতীয় তফসিল : শপথ ও ঘোষণা
- চতুর্থ তফসিল : ক্রান্তিকালিন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
- পঞ্চম তফসিল : বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ৭ই মার্চের ভাষণ
- ষষ্ঠ তফসিল : বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা
- সপ্তম তফসিল : মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৬৭৪.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১১৮
  2. অনুচ্ছেদ ১১৯
  3. অনুচ্ছেদ ১২০
  4. অনুচ্ছেদ ১২১
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১১৫ - অধস্তন আদালতে নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ১১৬ - অধস্তন আদালতসমূহের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা।
- অনুচ্ছেদ ১১৬(ক) - বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন।
- অনুচ্ছেদ ১১৭ - প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালসমূহ।
- অনুচ্ছেদ ১১৮ - নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ১১৯ - নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১২০ - নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ।
- অনুচ্ছেদ ১২১ - প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।
- অনুচ্ছেদ ১২২ - ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা।
- অনুচ্ছেদ ১২৩ - নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়।
- অনুচ্ছেদ ১২৪ - নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১২৫ - নির্বাচনী আইন ও নির্বাচনের বৈধতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৬৭৫.
বাংলাদেশের সংবিধানে সর্বমোট কতবার সংশোধনী আনা হয়েছে? [নভেম্বর, ২০২৫]
  1. ১৫ বার
  2. ১৬ বার
  3. ১৭ বার
  4. ১৮ বার
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালে প্রণীত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৭ বার সংশোধিত হয়েছে।

• বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয় ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান সংশোধন হয়েছে ১৭ বার।
- এর মধ্যে চারটি সংশোধনী ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছে।
- সংবিধানের ১৭টি সংশোধনীর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ে ৪ বার, জিয়াউর রহমানের সময় ২ বার, এরশাদের সময় ৪ বার, শেখ হাসিনার সরকারের সময় ৩ বার ও খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে ৪ বার সংবিধান সংশোধন করা হয়।
-  ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই সংসদে সংবিধানের ১ম সংশোধনী পাশ হয়।
- সংবিধানের সর্বশেষ, অর্থাৎ সপ্তদশ সংশোধনী হয় ২০১৮ সালের ৮ জুলাই।

তথ্যসূত্র:
i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) দৈনিক ইত্তেফাক।

১,৬৭৬.
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয় সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ?
  1. ক) অনুচ্ছেদ - ৩৬
  2. খ) অনুচ্ছেদ - ৩৭
  3. গ) অনুচ্ছেদ - ৩৮খ
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ - ৩৯(২)খ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ - ৩৯ঃ চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা --
“(১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইল।
(২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং
(খ) সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।”
১,৬৭৭.
বাংলাদেশ সংবিধানের সপ্তম ভাগে রয়েছে- 
  1. নির্বাহী বিভাগ
  2. নির্বাচন
  3. কর্ম কমিশন 
  4. বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের সপ্তম ভাগে নির্বাচনের কথা রয়েছে।
- সপ্তম ভাগের গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ সমূহ: 
- অনুচ্ছেদ-১১৮: নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ-১১৯: নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদ-১২১: প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।
- অনুচ্ছেদ-১২২:ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা।


• বাংলাদেশ সংবিধান:
- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। যথা:-
- সংবিধানের প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৬৭৮.
বাংলাদেশের সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয় কবে?
  1. ১৯৭২ সালের ১১ ডিসেম্বর
  2. ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর
  3. ১৯৭২ সালের ১৫ ডিসেম্বর
  4. ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
• ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২ স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ ও গণপরিষদ সদস্যগণ সংবিধানের বাংলা ও ইংরেজি অনুলিপিতে স্বাক্ষর দান করেন।
- সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
- এরপর স্বাক্ষর করেন সৈয়দ নজরুল ইসলয়াম এবং তাজউদ্দীন আহমদ। 
- তবে একমাত্র বিরােধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধান বইতে স্বাক্ষরদানে বিরত থাকেন।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়। 
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়। 

সূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান: আরিফ খান।
১,৬৭৯.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে, বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে?
  1. ৪(১) নং
  2. ৪(৩) নং
  3. ৪(৪) নং
  4. ৪(২) নং
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধানের ৪(১) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা”র প্রথম দশ চরণ৷।
• বাংলাদেশ সংবিধানের ৪(২) নং অনুচ্ছেদে জাতীয় ”পতাকা” সম্পর্কে বলা হয়েছে।
• বাংলাদেশ সংবিধানের ৪(৩) নং অনুচ্ছেদে জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে বলা হয়েছে।
• বাংলাদেশ সংবিধানের ৪(৪) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- উপরি-উক্ত দফাসমূহ-সাপেক্ষে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কিত বিধানাবলী আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৬৮০.
’মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত রয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ-১২ 
  2. অনুচ্ছেদ-১১ 
  3. অনুচ্ছেদ-১৩ 
  4. অনুচ্ছেদ-১০ 
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র ও মানবাধিকার: 
- অনুচ্ছেদ-১১: প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে।
- এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ- ১০। সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি;
- অনুচ্ছেদ-১১৷ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার;
- অনুচ্ছেদ-১২। ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা;
- অনুচ্ছেদ-১৩৷ মালিকানার নীতি। 

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৬৮১.
বাংলাদেশের সংবিধানে কত ধরনের মালিকানার কথা বলা আছে?
  1. এক ধরনের
  2. দুই ধরনের
  3. তিন ধরনের
  4. চার ধরনের
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় - গণপরিষদের মাধ্যমে।
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- সংবিধান কার্যকর হয় - ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।

মালিকানা নীতি:
- বাংলাদেশ সংবিধানে তিন ধরনের মালিকানা নীতি স্বীকার করা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই মালিকানাগুলো হলো:
১. রাষ্ট্রীয় মালিকানা
২. সমবায় মালিকানা
৩. ব্যক্তিগত মালিকানা
  
অনুচ্ছেদ-১৩ অনুযায়ী: 
উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদনব্যবস্থা ও বন্টনপ্রণালীর মালিক বা নিয়ন্ত্রক হবে জনগণ এবং এই উদ্দেশ্যে মালিকানা-ব্যবস্থা তিনভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
- প্রথমত, রাষ্ট্রীয় মালিকানা, এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান প্রধান ক্ষেত্র রাষ্ট্রায়ত্ত করা হবে, যাতে জনগণের পক্ষে রাষ্ট্র মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দ্বিতীয়ত, সমবায় মালিকানা, এই আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে সমবায়ের সদস্যদের পক্ষে মালিকানা প্রতিষ্ঠা করে।
- তৃতীয়ত, ব্যক্তিগত মালিকানা, এখানে আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যক্তির মালিকানা স্বীকৃত হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬৮২.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি গণপরিষদ আদেশ জারি করেন-
  1. ১৯৭২ সালের ২১ মার্চ
  2. ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি
  3. ১৯৭২ সালের ২৩ এপ্রিল
  4. ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ
ব্যাখ্যা

• গণপরিষদ আদেশ:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ জারি করেন।
- এই আদেশ ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সাল থেকে কার্যকর হয়। 
- এই আদেশ অনুসারে ডিসেম্বর, ১৯৭০ এবং জানুয়ারি, ১৯৭১ সালে নির্বাচিত প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের সদস্যগণ গণপরিষদের সদস্য বলে বিবেচিত হয়। 
- মৃত্যু এবং আইনে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার ফলে উভয় পরিষদ মিলে সর্বমোট ৪৬৯ জন সদস্যের স্থলে ৪০৪ জন সদস্য নিয়ে গণপরিষদ গঠিত হয়।
- এই গণপরিষদের উপর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
- গণপরিষদ তার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৮৩.
বাংলাদেশের সংবিধানে 'সরকারি কর্ম কমিশন' সম্পর্কিত আলোচনা কোন ভাগে রয়েছে?
  1. সপ্তম ভাগ
  2. অষ্টম ভাগ
  3. নবম ভাগ
  4. দশম ভাগ
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের নবম ভাগে সরকারি কর্ম কমিশন উল্লেখ রয়েছে।
- অনুচ্ছেদ: ১৩৭ নং, সরকারি কর্ম কমিশন-প্রতিষ্ঠা,
- অনুচ্ছেদ: ১৩৮ নং, সরকারি কর্মকমিশন সদস্য-নিয়োগ,
- অনুচ্ছেদ: ১৩৯ নং, সরকারি কর্ম কমিশন পদের মেয়াদ,
- অনুচ্ছেদ: ১৪০ নং, সরকারি কর্ম কমিশনের দায়িত্ব,
- অনুচ্ছেদ: ১৪১ নং, সরকারি কর্ম কমিশনের বার্ষিক রিপোর্ট,

অপরদিকে,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৬৮৪.
বাংলদেশের কোন ব্যক্তির ভোটাধিকার প্রাপ্তির নূন্যতম বয়স ১৮ বৎসর কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ক) অনুচ্ছেদ - ১২০
  2. খ) অনুচ্ছেদ - ১২১
  3. গ) অনুচ্ছেদ - ১২২
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ - ১২৩
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ - ১২২ : ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা
১. প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকারের-ভিত্তিতে  সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
২. কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার-তালিকাভু্ক্ত হবার অধিকারী হবেন, যদি -
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন;
(খ) তাঁর বয়স ১৮ বৎসরের কম না হয়;
(গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁর সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ হিসেবে ঘোষণা বহাল না থাকে;
(ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের (দালাল আইন) অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হয়ে থাকেন।

[উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান]
১,৬৮৫.
বাংলাদেশ সংবিধানের প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল বিষয়টি কত নং অনুচ্ছেদে সন্নিবেশ করা হয়েছে?
  1. ১১১ নং
  2. ১১৩ নং
  3. ১১৭ নং
  4. ১১৯ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগের ৩য় পরিচ্ছেদে ১১৭ নং অনুচ্ছেদে 'প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল' সম্পর্কে বলা হয়েছে।

⇒ ১১৭ (১) যা আগে বলা হয়েছে তা সত্ত্বেও, সংসদ আইনের মাধ্যমে নিচের বিষয়গুলোর জন্য এক বা একাধিক প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারে:
- (ক) সংবিধানের নবম ভাগে উল্লেখিত বিষয় এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের চাকরির শর্ত, যেমন জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তি।
- (খ) রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো উদ্যোগ বা সরকারি কর্তৃপক্ষের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা, সেই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ বা কর্তৃপক্ষে চাকরি, কিংবা সরকারের মালিকানাধীন বা পরিচালিত সম্পত্তির ক্রয়, প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও বণ্টন।
- (গ) সংবিধানের ১০২(৩) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত কোনো আইনের বিষয়।

⇒ ১১৭ (২) যদি এই অনুচ্ছেদের অধীনে কোনো প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়, তবে সেই ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের আওতাভুক্ত কোনো বিষয়ে অন্য কোনো আদালত কোনো মামলা গ্রহণ করবে না বা কোনো আদেশ দেবে না। তবে, সংসদ আইনের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা বা সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের ব্যবস্থা করতে পারে।

উল্লেখ্য,
- ষষ্ঠ ভাগে মোট ৩টি পরিচ্ছদ রয়েছে। যথা:
১ম পরিচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্ট [অনুচ্ছেদ: ৯৪ - ১১৩];
২য় পরিচ্ছেদ: অধস্তন আদালত [অনুচ্ছেদ: ১১৪ থেকে ১১৬];
৩য় পরিচ্ছেদ: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল [অনুচ্ছেদ: ১১৭]।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৬৮৬.
কোনটি সাংবিধানিক পদ নয়?
  1. চেয়ারম্যান, মানবাধিকার কমিশন
  2. চেয়ারম্যান, পাবলিক সার্ভিস কমিশন
  3. মহা-হিসাব রক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
  4. প্রধান নির্বাচন কমিশনার
ব্যাখ্যা
সাংবিধানিক পদ:
- সংবিধান হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন।
- সাংবিধানিক উপায়ে যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলে।
- সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা, পদের মেয়াদ, পদমর্যাদা, পদত্যাগ ও অপসারণ পদ্ধতি এবং দায়িত্ব সংবিধানে সুনির্দিষ্ট ও সুষ্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
 
সাংবিধানিক পদগুলো হলো:
• রাষ্ট্রপতি,
• স্পিকার,
• প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীগণ,
• ডেপুটি স্পিকার,
• প্রধান বিচারপতি,
• সংসদ সদস্য,
• প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার,
• মহা-হিসাব রক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
• সরকারী কর্ম-কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য।

অন্যদিকে,
- চেয়ারম্যান, মানবাধিকার কমিশন পদটি সাংবিধানিক পদ নয়।
 
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৬৮৭.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের সংবিধানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. ক) লিখিত দলিল
  2. খ) দুষ্পরিবর্তনীয়
  3. গ) সর্বোচ্চ আইন
  4. ঘ) বিপ্লবের মাধ্যমে রচিত
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন।
১৯৭২ সালের ৪ঠা নভেম্বর গণপরিষদে এই সংবিধান গৃহিত হয় এবং কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে।
এই সংবিধান গণপরিষদ সদস্যদের আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ সংবিধানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি একটি লিখিত দলিল এবং দুষ্পরিবর্তনীয়।
(সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৬৮৮.
জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার রক্ষিত রয়েছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ২৭ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৩৪ নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৮ নং অনুছেদে
  4. ৩২ নং অনুছেদে
ব্যাখ্যা
• জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার রক্ষিত রয়েছে সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদে।

এই অনুচ্ছেদে বলা হয়:
'আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা হইতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবে না।'

অন্যদিকে,
- ২৭ নং অনুচ্ছেদ: সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
- ৩৪ নং অনুচ্ছেদ:
(১) সকল প্রকার জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধ; এবং এই বিধান কোনভাবে লঙ্ঘিত হইলে তাহা আইনতঃ দণ্ডনীয় অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই সেই সকল বাধ্যতামূলক শ্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যেখানে
(ক) ফৌজদারী অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তি আইনতঃ দণ্ডভোগ করিতেছেন; অথবা
(খ) জনগণের উদ্দেশ্যসাধনকল্পে আইনের দ্বারা তাহা আবশ্যক হইতেছে।

- ২৮ নং অনুছেদ:
(১) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।
(২) রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।
(৩) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাইবে না।
(৪) নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

উৎস: সংবিধান।
১,৬৮৯.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে কোন ধরনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. বাক-স্বাধীনতা
  2. চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা
  3. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৯নং অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ৩৯(১) নং অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।
- ৩৯(২) নং অনুচ্ছেদে বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।

অনুচ্ছেদ ৩৯: চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা:
(১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।
(২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে-
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং
(খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতার; নিশ্চয়তা দান করা হইল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৬৯০.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান মতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগের মেয়াদকাল-
  1. ৩ বছর
  2. ৪ বছর
  3. ৫ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম ভাগের ১১৮ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে।
- নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলা হয়ে থাকে।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চার জন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে।
- একাধিক নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের সভাপতিরূপে কাজ করবেন।
- সংবিধানের বিধানবলী সাপেক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কোন নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ তাঁর কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
১,৬৯১.
'সমাবেশের স্বাধীনতা' সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ৩৫নং
  2. ৩৭নং
  3. ৩৮নং
  4. ৩৯নং
ব্যাখ্যা
সংবিধানের তৃতীয় ভাগের গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদসমূহ : 
অনুচ্ছেদ ৩৫ - বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।
অনুচ্ছেদ ৩৭ - সমাবেশের স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৩৮ - সংগঠনের স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৩৯ - চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৪০ - পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৪১ - ধর্মীয় স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৪২ - সম্পত্তির অধিকার।
অনুচ্ছেদ ৪৩ - গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ।
অনুচ্ছেদ ৪৪ - মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬৯২.
"প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা" বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ-৭
  2. অনুচ্ছেদ-৫
  3. অনুচ্ছেদ-৩
  4. অনুচ্ছেদ-১৩
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের মোট এগারটি ভাগ রয়েছে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৫নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা' সম্পর্কে বর্ণিত আছে।
- অনুচ্ছেদ ১ - প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ ২ - প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ ৩ - রাষ্ট্রভাষা।
- অনুচ্ছেদ ৪ - জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- অনুচ্ছেদ ৫(১) - অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা।
- অনুচ্ছেদ ৫(২) - অনুযায়ী রাজধানীর সীমানা আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে।
- অনুচ্ছেদ ৬ - নাগরিকত্ব।
- অনুচ্ছেদ ৭ - সংবিধানের প্রাধান্য।
- অনুচ্ছেদ ৮ - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬৯৩.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হবার ন্যূনতম বয়স -
  1. ৩০ বছর
  2. ৩৫ বছর
  3. ৪০ বছর
  4. ৪৫ বছর
ব্যাখ্যা
• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হবার ন্যূনতম বয়স - ৩৫ বছর।

• জাতীয় সংসদ:
- জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইনসভা।
- জাতীয় সংসদ সম্পর্কে নির্দেশনা রয়েছে সংবিধানের পঞ্চম ভাগে।
- আইন অনুসারে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ হল এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা।
- সারাদেশ থেকে নির্বাচিত ৩০০ সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত ৫০ জন নারী সংসদ সদস্য নিয়ে এই জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
- পূর্ণ মেয়াদে প্রতি পাঁচ বছর পর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- প্রচলিত আইন মেনে বাংলাদেশের যেকোন নাগরিক এই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।
- এই সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে একজন প্রার্থীর বয়স ৩৫ বছর হতে হবে।
- প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ২৫ বছর হওয়ার শর্ত দেশের সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত।

রাষ্ট্রপতি:
- সংসদীয় পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকার রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আইন অনুসারে সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন।
- রাষ্ট্রপতি, রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে, রাষ্ট্রের অন্যান্য সকল ব্যক্তির উপর অগ্রাধিকার দেবেন এবং এই সংবিধান এবং অন্য কোন আইন দ্বারা তার উপর অর্পিত ও আরোপিত ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন এবং দায়িত্ব পালন করবেন।
- কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদ বেশি রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হবেন না, পদ পরপর থাকুক বা না থাকুক।
- রাষ্ট্রপতি সংসদের সদস্য হতে পারবেন না, এবং যদি সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হন, তবে তিনি যেদিন রাষ্ট্রপতি হিসাবে তার পদে প্রবেশ করবেন সেদিন সংসদে তার আসন খালি করবেন।
- কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হবেন যদি তার বয়স পঁয়ত্রিশ বছরের কম হয়, সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য না হন।
- এই সংবিধানের অধীনে অভিশংসন মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণ করা হয়ে থাকে।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ-৪৮।
         ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৯৪.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের কতজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ আছে?
  1. ক) ২ জন
  2. খ) ৩ জন
  3. গ) ৪ জন
  4. ঘ) ৫ জন
ব্যাখ্যা

• স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের ৩ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ আছে।
তারা হলেনঃ
- রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও
- অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ম তফসিল।

১,৬৯৫.
'প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা' কোন অনুচ্ছেদের আলোচ্য বিষয়?
  1. ক) অনুচ্ছেদ ১২২
  2. খ) অনুচ্ছেদ ১১৯
  3. গ) অনুচ্ছেদ ১১৮
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ ১২১
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১২১ : প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা
সংসদের নির্বাচনের জন্য প্রত্যেক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকার জন্য একটি করে ভোটার-তালিকা থাকবে এবং ধর্ম, জাত, বর্ণ ও নারী-পুরুষভেদে ভোটারদের বিন্যস্ত করে কোন বিশেষ ভোটার-তালিকা প্রণয়ন করা যাবে না।

অন্যদিকে, 
• অনুচ্ছেদ ১১৮ : নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা।
• অনুচ্ছেদ ১১৯ : নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
• অনুচ্ছেদ ১২২ : ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা।     

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।  
১,৬৯৬.
কোন নামে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে?
  1. ক) বাংলাদেশ সরকার
  2. খ) বাংলাদেশ
  3. গ) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
  4. ঘ) মামলা করা সম্ভব নয়
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের নামে মামলা
১৪৬। "বাংলাদেশ"-এই নামে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বা বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইতে পারিবে।

১,৬৯৭.
‘প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত বিধান বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে আছে?
  1. অনুচ্ছেদ- ১১৬
  2. অনুচ্ছেদ- ১১৭
  3. অনুচ্ছেদ- ১১৮
  4. অনুচ্ছেদ- ১২১
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সংবিধান: 
 - ষষ্ঠ ভাগ: বিচারবিভাগ।
- ৩য় পরিচ্ছেদ: অনুচ্ছেদ-১১৭, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল। 

• প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালসমূহ: 
- অনুচ্ছেদ: ১১৭। (১) ইতঃপূর্বে যাহা বলা হইছে, তাহা সত্ত্বেও নিম্নলিখিত ক্ষেত্রসমুহ সম্পর্কে বা ক্ষেত্রসমুহ হইতে উদ্ভূত বিষয়াদির উপর এখতিয়ার প্রয়োগের জন্য সংসদ আইনের দ্বারা এক বা একাধিক প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠিত করিতে পারবেনঃ

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ- ১১৫। অধস্তন আদালতে নিয়োগ;
- অনুচ্ছেদ-  ১১৬। অধস্তন আদালতসমূহের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা;
- অনুচ্ছেদ- ১১৬ক। বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন।
- অনুচ্ছেদ-  ১১৮। নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা;
- অনুচ্ছেদ- ১১৯। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব;
- অনুচ্ছেদ- ১২০। নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ;
- অনুচ্ছেদ- ১২১। প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা;
- অনুচ্ছেদ- ১২২। ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা;

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৬৯৮.
সংবিধানে মোট অনুচ্ছেদের সংখ্যা কতটি?
  1. ২০০
  2. ১৬০
  3. ১৭৮
  4. ১৫৩
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে;
- মোট অনুচ্ছেদ: ১৫৩ টি।
- সংবিধানে তফসিল: ৭টি,
- সংবিধানে মূলনীতি: ৪টি,
- সংবিধানে প্রস্তাবনা: ১টি।
- সংবিধানে মোট ভাগ: ১১টি।
- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে, যথা:-

উল্লেখ্য,
- প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও,
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৬৯৯.
নিচের কোনটি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতার মাপকাঠি?
  1. ক) সংসদ -সদস্যের নির্বাচনে ভোটার তালিকাভুক্ত হতে হবে
  2. খ) অন্যূন ২৫ বছর বয়স হওয়া
  3. গ) সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দান করলে
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
সংসদ সদস্য হবার যোগ্যতা:-
১।সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ২৫ বছর বয়স্ক বাংলাদেশী যেকোন নাগরিক সংসদ সদস্য হবার যোগ্যতা রাখে।
২।তার নাম সংসদ -সদস্যের নির্বাচনে ভোটার তালিকাভুক্ত হতে হবে।

অযোগ্যতা :-
অপ্রকৃতিস্থ, দেউলিয়া, বিদেশী নাগরিকত্ব অর্জন, কোন অপরাধে দুই বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত নাগরিক সংসদ সদস্য হতে পারবে না।
সংসদ সদস্য পদের আসন শূন্য হওয়ার কারন:-
১।কোন সংসদ সদস্য নিজের ইচ্ছায় পদত্যাগ দাখিল করলে অথবা একাধারে ৯০ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত থাকলে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে।
২। তাছাড়া তিনি যে দল থেকে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে সে দলের বিপক্ষে ভোট দান করলেও তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে। 
৩। নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত  শপথ গ্রহন বা ঘোষণা করতে ও শপথপত্রে বা  ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর দান করতে অসমর্থ হন । তাহলে  তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে।

তথ্যসূত্র:- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭০০.
নারীদের জন্য পঞ্চাশটি আসনের মেয়াদ ২৫ বছর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয় কোন সংশোধনীতে?
  1. ষোড়শ
  2. সপ্তদশ
  3. পঞ্চদশ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
→ সপ্তদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।

• সপ্তদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী সাংসদদের আসনের মেয়াদ পরবর্তী ২৫ বছর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।
- ২০১৮ সালের ৮ জুলাই বিলটি জাতীয় সংসদে পাস হয়।

অপরদিকে,
 - ষোড়শ সংশোধনীর ফলে উচ্চ আদালতের বিচারপতিগণের অভিশংসন প্রক্রিয়াটির জাতীয় সংসদের নিকট অর্পিত হয়।
- পূর্বে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অসদাচরণের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হতো।
- জনস্বার্থ মামলার মাধ্যমে সংশোধনীটি বিচারিক সিদ্ধান্তে বাতিল ঘোষিত হয়েছে।

• পঞ্চদশ সংশোধনী:
- আইন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ২৫ জুন সংসদে পাস হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা হয়।
- রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা আবারও প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ  খান।