বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সংবিধান

মোট প্রশ্ন২,৩৩১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সংবিধান

PrepBank · পাতা ১৬ / ২৪ · ১,৫০১১,৬০০ / ২,৩৩১

১,৫০১.
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ৪নং
  2. ৩নং
  3. ৫নং
  4. ১নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের অনুচ্ছেদ: 
- অনুচ্ছেদ- ১: প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ- ২: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ- ২(ক): রাষ্ট্রধর্ম।
• অনুচ্ছেদ- ৩: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা৷
- অনুচ্ছেদে- ৪: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- অনুচ্ছেদে- ৪(ক): জাতির পিতার প্রতিকৃতি।
- অনুচ্ছেদে- ৫(১) প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা৷ 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৫০২.
বাংলাদেশের সংবিধান রচনা কমিটির প্রধান কে ছিলেন?
  1. আব্দুর রউফ
  2. রাজিয়া বানু
  3. ড. কামাল হোসেন
  4. সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল আইন বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- রাজিয়া বানু ছিলেন সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য। 
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
- স্বাক্ষরসহ সংবিধান ছিল ১০৯ পাতার।
- হস্তলিখিত সংবিধানটির মূল লেখক ছিলেন শিল্পী আব্দুর রউফ।
- সংবিধানটির অঙ্গসজ্জা করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন। 
- সংবিধানের প্রচ্ছদে শীতলপাটির উপর লেখা 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান'।
- গণপরিষদের সদস্যরা হস্তলিখিত মূল সংবিধানের বাংলা ও ইংরেজী লিপিতে স্বাক্ষর করে ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২।
- হস্তলিখিত সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি।
- গণপরিষদের ৩৯৯ জন সদস্য হস্তলিখিত মূল সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
         iii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৫০৩.
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৮(১) অনুযায়ী, রাষ্ট্র কী কারণে বৈষম্য প্রদর্শন করতে পারবে না?
  1. অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে
  2. শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে
  3. পেশাগত পরিচয়ের কারণে
  4. ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ ভেদাভেদের কারণে
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ২৮- ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য:
(১) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না। 

(২) রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন। 

(৩) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাইবে না। 

(৪) নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫০৪.
নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. নবম
  2. একাদশ
  3. ত্রয়োদশ
  4. পঞ্চদশ
ব্যাখ্যা

ত্রয়োদশ সংশোধনী:
- ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। 
- সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদে খ, গ এবং ঘ ধারা সংযোজনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়।
- এই সংশোধনী মোতাবেক, একজন প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে অনধিক ১০ জন উপদেষ্টার দ্বারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক
সরকারের কথা বলা হয়।
- ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ এ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়।

অন্যদিকে,
• নবম সংশোধনী (জুলাই, ১৯৮৯)।
- জনগণের সরাসরি ভোটে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান করা হয়।
- রাষ্ট্রপতি পদে কোনো ব্যক্তি পর পর দুই মেয়াদের অধিক অধিষ্ঠিত না হতে পারার নিয়ম করা হয়।

• একাদশ সংশোধনী (আগস্ট, ১৯৯১)।
- অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ কর্তৃক প্রয়োগকৃত সকল কার্যক্রম বৈধ করা হয় এবং পুনরায় তাঁর প্রধান বিচারপতি পদে ফিরে যাবার বিধান করা হয়।

• পঞ্চদশ সংশোধনী (জুলাই, ২০১১)।
- তত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করা হয়।
- ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি পুনঃস্থাপন করা হয় এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন ৫০ এ উন্নীত করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫০৫.
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কত সালে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ প্রণয়ন করা হয়েছিলো?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২:
- বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর সংসদ কার্যকর না থাকায় ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ জারি করেছিলেন।
- এটি ছিল ওই বছর রাষ্ট্রপতির ১৫৫ নম্বর আদেশ।
- ১৯৭৩ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে আদেশটি অনুমোদন পায়।
- পরে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদ আরপিও সংশোধনও করেছে।
- বাংলাদেশের সব কয়টি নির্বাচন হয়েছে ১৯৭২ সালে জারি করা রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী।
- এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ নামে পরিচিত।

⇒ বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীতে সংবিধান তৈরির পর নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রথমবারের মতো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ প্রণয়ন করা হয়েছিলো। 
- ২০২৩ সালে সর্বশেষ সংসদে পাশ হয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) আইন ২০২৩।
- নির্বাচনের জন্য দেশের মানুষের গণঅধিকার কোনগুলো এবং এ অধিকার রক্ষায় নির্বাচন কমিশন কী করবে সেটিই বলা হয়েছে আরপিওতে।
- “এর ১৪৫টি ধারার মধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত সব বিষয় বর্ণনা করা আছে।
- এর মাধ্যমে বলা আছে যে কীভাবে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে। 

⇒ ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই বছরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছিলো এ আইনে।
- রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন, প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয় নিরূপণ কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারীকে রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো সে সময়ে সংযোজিত হয়েছে।

⇒ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯১(এ) ধারায় বলা আছে, নির্বাচন কমিশন যদি সন্তুষ্ট হয় যে, নির্বাচনে বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন এবং চাপ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন বিরাজমান অপকর্মের কারণে যুক্তিযুক্ত, ন্যায়সঙ্গত এবং আইনানুগভাবে নির্বাচন পরিচালনা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে না, তাহলে যে কোনো ভোটকেন্দ্র বা সম্পূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনের যে কোনো পর্যায়ে ভোট গ্রহণসহ নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ করতে পারবে।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
ii) বিবিসি।
১,৫০৬.
কোন দুটি সংশোধনীর বিষয়বস্তু বিপরীত?
  1. ক) পঞ্চম ও সপ্তম
  2. খ) চতুর্দশ ও ষোড়শ
  3. গ) চতুর্থ ও দ্বাদশ
  4. ঘ) অষ্টম ও দশম
ব্যাখ্যা
বিষয়বস্তুর দিক দিয়ে সংবিধানের চতুর্থ এবং দ্বাদশ সংশোধনী পরস্পর বিপরীত।
১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
অন্যদিকে, ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
১,৫০৭.
মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের জন্য সংবিধান অনুযায়ী আদালতে যাওয়ার অধিকার রয়েছে কোন অনুচ্ছেদে ?
  1. অনুচ্ছেদ ১০২
  2. অনুচ্ছেদ ১০৩
  3. অনুচ্ছেদ ১০৫
  4. অনুচ্ছেদ ১০৮
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধান: 
- অনুচ্ছেদ: ৪৪: মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ।
- ৪৪ (১) এই ভাগে প্রদত্ত অধিকারসমূহ বলবৎ করিবার জন্য এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা রুজু করিবার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা হইল। 
 - ৪৪ (২) এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটাইয়া সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোন আদালতকে তাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ঐ সকল বা উহার যে কোন ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করিতে পারবেন।

উল্লেখ্য,
- অনুচ্ছেদ ১০৩: আপীল বিভাগের এখতিয়ার।
- অনুচ্ছেদ ১০৫: আপীল বিভাগ কর্তৃক রায় বা আদেশ পুনর্বিবেচনা
- অনুচ্ছেদ ১০৮: "কোর্ট অব রেকর্ড" রূপে সুপ্রীম কোর্ট।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৫০৮.
বাংলাদেশের সংবিধানে কোন ধরনের মালিকানা নীতির উল্লেখ নেই?
  1. ব্যক্তিগত
  2. সমবায়
  3. রাষ্ট্রীয়
  4. গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
মালিকানা নীতি:
- বাংলাদেশ সংবিধানের একটা উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, এখানে তিন ধরনের মালিকানা নীতি স্বীকার করা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এগুলো হচ্ছে-
১. রাষ্ট্রীয় মালিকানা,
২. সমবায় মালিকানা এবং,
৩. ব্যক্তিগত মালিকানা।

⇒ সংবিধানের অনুচ্ছেদ-১৩:
- মালিকানার নীতি- “উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদনব্যবস্থা ও বন্টনপ্রণালীসমূহের মালিক বা নিয়ন্ত্রক হইবেন জনগণ এবং এই উদ্দেশ্যে মালিকানা-ব্যবস্থা নিম্নরূপ হইবে:
(ক) রাষ্ট্রীয় মালিকানা, অর্থাৎ অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান প্রধান ক্ষেত্র লইয়া সুষ্ঠু ও গতিশীল রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারী খাত সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রের মালিকানা;
(খ) সমবায়ী মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে সমবায়সমূহের সদস্যদের পক্ষে সমবায়সমূহের মালিকানা; এবং
(গ) ব্যক্তিগত মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যক্তির মালিকানা৷”

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সংবিধানে গোষ্ঠী ধরনের মালিকানা নীতির উল্লেখ নেই।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫০৯.
নির্বাহী বিভাগের পক্ষে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারিক কর্মকান্ডে প্রধান কুশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন-
  1. ক) অ্যাটর্নি জেনারেল
  2. খ) রাষ্ট্রপতি
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী
  4. ঘ) আইনমন্ত্রী
ব্যাখ্যা

- অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাহী বিভাগের বা সরকারের পক্ষে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারিক কর্মকান্ডে প্রধান কুশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
- অ্যাটর্নি জেনারেল হলো একটি সাংবিধানিক পদ।
- অ্যাটর্নি জেনারেল সরকারকে সংবিধান, সাধারণ আইন, আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইনগত পরামর্শ দেন।
- সরকারের পক্ষে আদালতে উপস্থিত থাকেন।
- বলা যায় অ্যাটর্নি জেনারেল হলো সরকারের আইনগত পরামর্শক।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ সংবিধান। 

১,৫১০.
গণপরিষদের কোন সদস্য বাংলাদেশের হস্তলিখিত মূল সংবিধানে স্বাক্ষর করেননি?
  1. সুরঞ্জিৎ সেন গুপ্ত
  2. মোহাম্মদ আজিজার রহমান
  3. শ্রীমানবেন্দ্র নারায়ন লারমা
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল আইন বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
- বাংলাদেশের প্রথম হস্তলিখিত সংবিধানের মূল পাতা ছিল ৯৩ পৃষ্ঠার।
- স্বাক্ষরসহ সংবিধান ছিল ১০৯ পাতার।
- হস্তলিখিত সংবিধানটির মূল লেখক ছিলেন শিল্পী আব্দুর রউফ।
- সংবিধানটির অঙ্গসজ্জা করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন।
- সংবিধানের প্রচ্ছদে শীতলপাটির উপর লেখা 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান'।

উল্লেখ্য,
- গণপরিষদের সদস্য চিল মোট ৪০৩ জন।
- গণপরিষদের ৩৯৯ জন সদস্য হস্তলিখিত মূল সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২ সংবিধানে গণপরিষদ সদস্যদের স্বাক্ষর দান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৫ তারিখ অনুষ্ঠানের শেষ সময় পর্যন্ত ৪ জন মাননীয় সদস্য- শ্রীমানবেন্দ্র নারায়ন লারমা, শ্রী সুরঞ্জিৎ সেন গুপ্ত, মোহাম্মদ আজিজার রহমান এবং মোহাম্মদ ইব্রাহীম সংবিধানে স্বাক্ষর করেননি।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৫১১.
“জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন,” এটি বাংলাদেশের সংবিধানের কত নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. ২৮(১) নং অনুচ্ছেদে
  2. ২৮(২) নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৯(১) নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৯(৩) নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:  
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়। 
- সংবিধান কার্যকর হয়: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে। 
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে। 
- এতে ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ এবং ১১ টি ভাগ রয়েছে। 
- ৭টি তফসিল রয়েছে।

♣ ১৯ নং অনুচ্ছেদ: সুযোগের সমতা; 
- (১) সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন৷

- (২) মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷

- (৩) জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।

♠♠
২৮ নং অনুচ্ছেদ: ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য;    
- (১) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।
- (২) রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।
- (৩) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাইবে না।
- (৪) নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা, দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১২.
বাংলাদেশের সংবিধানে কয়টি ভাগ বা অধ্যায় আছে?
  1. ১টি
  2. ৪টি
  3. ৭টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫১৩.
বাংলাদেশের সংবিধানে এখন পর্যন্ত কতটি সংশোধনী আনা হয়েছে? 
  1. ১৭
  2. ১৮
  3. ৪৩
ব্যাখ্যা

⇔ সংবিধান সংশোধনী:
- সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ, সংবিধান রচনার লক্ষ্যে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- এই অধিবেশনে ৪৩০ জন সদস্য অংশগ্রহণ করে।
- এদের মধ্যে ৩৪ জনের খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর, খসড়া সংবিধান বিল গণপরিষদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পেশ করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর, সংবিধান গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়।
- ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের সংবিধানে এখন পর্যন্ত ১৭টি সংশোধনী আনা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, 
- সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে সপ্তদশ (১৭তম) সংশোধনী বিল পাস হয়।
- এতে একাদশ সংসদের ৫০টি নারী আসন আগামী ২৫ বছর পর্যন্ত বহাল রাখার বিধান অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫১৪.
বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে রয়েছে?
  1. ধর্মীয় স্বাধীনতা
  2. সমান কাজের জন্য সমান মজুরি
  3. আইনের দৃষ্টিতে সকলের সমতা
  4. ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান: 
- আইনের দৃষ্টিতে সমতা সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদে রয়েছে।
- সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

অন্যদিকে,
- ২৬ নং:মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল;
- ২৭নং: আইনের দৃষ্টিতে সমতা;
- ২৮ নং: ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য;
- ২৯নং:  সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা;
- ৩০নং:  বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ;
- ৩১নং: আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার;
- ৩২নং: জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ;
- ৩৩নং: গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ;
- ৩৪নং: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ;
- ৩৫নং: বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ;
- ৩৬নং: চলাফেরার স্বাধীনতা;
- ৩৭নং:সমাবেশের স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৫১৫.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের উল্লেখ আছে?
  1. ৯১
  2. ৯৩
  3. ৯৬
  4. ৯৭
ব্যাখ্যা
বিচারপতি অপসারণ: সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ক্ষমতা ও দায়িত্ব

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংক্রান্ত কাউন্সিল হচ্ছে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’।
বাংলাদেশ সংবিধানের — ৯৬ অনুচ্ছেদের ৩ নম্বর দফায় বলা আছে,
"একটি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থাকবে, যা এই অনুচ্ছেদে ‘কাউন্সিল’ বলে উল্লিখিত হবে এবং বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারকের মধ্যে পরবর্তী যে দুজন কর্মে প্রবীণ তাঁদের নিয়ে গঠিত হবে।"

গঠন:
• সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠিত হবে প্রধান বিচারপতি এবং পরবর্তী দুজন প্রবীণ বিচারপতি নিয়ে।
• যদি কোনো সদস্য অসামর্থ্য বা অনুপস্থিতির কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তাহলে পরবর্তী প্রবীণ বিচারক তার স্থলাভিষিক্ত হবেন।

দায়িত্ব:
• বিচারকদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন এবং
• বিচারকগণের আচরণ ও সামর্থ্য সংক্রান্তে তদন্ত করা।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৫১৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে কোরাম সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ৬৩নং
  2. ৭৫নং
  3. ৫২নং
  4. ৮১নং
ব্যাখ্যা
কোরাম:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৫নং অনুচ্ছেদে কোরাম সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
- জাতীয় সংসদের বৈঠক চলাকালে কোনো সময়ে উপস্থিত সংসদ সংখ্যা ৬০ জনের কম বলে যদি সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় তাহলে তিনি অনূন্য ৬০ জন সদস্য উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত বৈঠক স্থগিত রাখবেন কিংবা মুলতবি করবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫১৭.
বাংলাদেশের সংবিধানে 'স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র' সংযোজন করা হয় -
  1. ক) ২০০৯ সালে
  2. খ) ২০১০ সালে
  3. গ) ২০১১ সালে
  4. ঘ) ২০১২ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংযোজন করা হয় - ২০১১ সালের ৩রা জুলাই।

• স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:

- সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী দ্বারা সংবিধানের সপ্তম তফসিলে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংযোজন করা হয়।
- পঞ্চদশ সংশোধনী দ্বারা গৃহিত অন্যান্য বিধানাবলির মধ্যে রয়েছে:
- পঞ্চম তফসিলে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ৭ই মার্চের ভাষণ সংযোজন।
- ষষ্ঠ তফসিলে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা সংযোজন।
- বাহাত্তরের মূল সংবিধানের মূলনীতিসমূহ পুনঃস্থাপন।
- ৪ক অনুচ্ছেদ (জাতির পিতার প্রতিকৃতি) সংযোজন।
- ২ক অনুচ্ছেদে (রাষ্ট্রধর্ম) সংশোধন প্রভৃতি।

উৎস: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট।
১,৫১৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে স্থানীয় শাসনের উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৫৭
  2. অনুচ্ছেদ ৫৮
  3. অনুচ্ছেদ ৫৯
  4. অনুচ্ছেদ ৬০
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদসমূহ:
- অনুচ্ছেদ ৫০ - রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫১ - রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদে ৫২ - রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের বিষয়টি সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ৫৩ - অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৪ - অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৫৫ - মন্ত্রিসভা।
- অনুচ্ছেদ ৫৬ - মন্ত্রিগণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৭ - প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৮ - অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৯ - স্থানীয় শাসন।
- অনুচ্ছেদ ৬০ - স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫১৯.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'জরুরী-অবস্থা ঘোষণা' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৪১
  2. অনুচ্ছেদ ১৪২
  3. অনুচ্ছেদ ১৪৩
  4. অনুচ্ছেদ ১৪৪
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১৪১ - বার্ষিক রিপোর্ট।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(ক) - জরুরী-অবস্থা ঘোষণা।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(খ) - জরুরী-অবস্থার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(গ) - জরুরী-অবস্থার সময় মৌলিক অধিকারসমূহ স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪২ - সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৩ - প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৪ - সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫ - চুক্তি ও দলিল।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক) - আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৬ - বাংলাদেশের নামে মামলা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৭ - কতিপয় পদাধিকারীর পারিশ্রমিক প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৮ - পদের শপথ।
- অনুচ্ছেদ ১৪৯ - প্রচলিত আইনের হেফাজত।
- অনুচ্ছেদ ১৫০ - ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫২০.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন?
  1. ৯৩ নং
  2. ৭২(১) নং
  3. ৫৫(৩) নং
  4. ৪৮ (১) নং
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:
- অধ্যাদেশ জারি করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশ সংবিধানে মােট ১১টি ভাগ রয়েছে।
- এর মধ্যে পঞ্চম ভাগে আইনসভা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- পঞ্চম ভাগের ৩য় পরিচ্ছেদের ৯৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।

অন্যদিকে,
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগের -
- ৪৮ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।
- ৫৫(৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকে।
- সংবিধানের ৭২(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫২১.
জাতীয় সংসদে ‘ফ্লোর ক্রসিং’ বলতে কী বোঝানো হয়?
  1. নিজের দলীয় নীতির বিপরীতে ভোট দেওয়া
  2. প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ না নেওয়া
  3. একাদিক্রমে ৯০ দিনের অধিক অনুপস্থিত থাকা
  4. দলীয় চিফ হুইপের নির্দেশ অমান্য করা
ব্যাখ্যা

• ফ্লোর ক্রসিং:
- জাতীয় সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করা বা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলাকে বলা হয় ৷
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে সেই দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান বা সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।

» সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি -
(ক) উক্ত দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা
(খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,
তাহা হলে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হবার অযোগ্য হবেন না। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৫২২.
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ দেয় কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. জাতীয় সংসদ
  3. মন্ত্রীসভা
  4. রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ৫৬ নং অনুচ্ছেদের ২ নং দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগ দান করে থাকেন।
- ৩ নং দফা অনুযায়ী,
যে সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৫২৩.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের আলোকে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি পরিচালিত হয়?
  1. অনুচ্ছেদ ২৫
  2. অনুচ্ছেদ ২২
  3. অনুচ্ছেদ ২৪
  4. অনুচ্ছেদ ৩০
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ২৫(১) আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি।

• দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি। 
•  অনুচ্ছেদ ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি,নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।
- ২৫(১) জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র।
(ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবেন;
(খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবেন; এবং
(গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৫২৪.
নিচের কোনটি মাঠ প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) উপজেলা প্রশাসন
  2. খ) অধিদপ্তর
  3. গ) জেলা প্রশাসন
  4. ঘ) বিভাগীয় প্রশাসন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো দুটো প্রধান স্তরে বিভক্ত। এগুলো হলো: কেন্দ্রিয় প্রশাসন এবং মাঠ প্রশাসন।
মাঠ প্রশাসন বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নিয়ে গঠিত। মাঠ প্রশাসনের কাজ হলো কেন্দ্রিয় প্রশাসন গৃহিত নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।
অন্যদিকে বিভিন্ন অধিদপ্তর, দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, কর্পোরেশন প্রভৃতি কেন্দ্রিয় প্রশাসনের লাইন সংস্থা হিসেবে কাজ করে।
তবে এদের পরিধি জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত থাকতে পারে।
(সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৫২৫.
স্পিকার কোন ক্ষেত্রে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন?
  1. ক) সরকারী বিলে
  2. খ) কোন বিলের পক্ষে-বিপক্ষে সমান ভোট পড়লে
  3. গ) সংবিধান সংশোধনী বিলে
  4. ঘ) বেসরকারি বিলে
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৭৫ (১) দফা অনুযায়ী সংসদে কোন সিদ্ধান্তের পক্ষে-বিপক্ষে সমান ভোট পড়লে কেবল সেক্ষেত্রে স্পিকার বা সংসদের সভাপতি তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। স্পিকার প্রদত্ত ভোটকে কাস্টিং ভোট বা নির্ণায়ক ভোট বলে। এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে স্পিকার ভোটদানে বিরত থাকেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৫২৬.
ইংরেজি বানান Dacca থেকে Dhaka হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭৯
  2. খ) ১৯৮২
  3. গ) ১৯৮৬
  4. ঘ) ১৯৮৮
ব্যাখ্যা
অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশের রাজধানীর নামের ইংরেজি বানান Dacca থেকে Dhaka হয়। 

অষ্টম সংশোধনী:
সংসদে উত্থাপন: ১১ মে, ১৯৮৮
উত্থাপনকারী: সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ
সংসদে গৃহীত: ৭ জুন, ১৯৮৮
রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ৯ জুন, ১৯৮৮
 
অষ্টম সংবিধান সংশোধন আইন দ্বারা সংবিধানের ২ক, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।
এই সংশোধনী আইনবলে-
১. ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়; 
২. ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়;
৩. সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদে Bengali শব্দটি পরিবর্তন করে Bangla করা হয় এবং Dacca পরিবর্তন করে Dhaka করা হয়; 
৪. সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মাননা, পুরস্কার বা অভিধা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫২৭.
বিষয়বস্তুর দিক বিবেচনায় কোন দুটি সংশোধনী পরস্পর বিপরীতধর্মী?
  1. ক) চতুর্থ এবং দ্বাদশ
  2. খ) অষ্টম এবং দ্বাদশ
  3. গ) দশম এবং ষোড়শ
  4. ঘ) চতুর্থ এবং অষ্টম
ব্যাখ্যা
• বিষয়বস্তুর দিক দিয়ে সংবিধানের চতুর্থ এবং দ্বাদশ সংশোধনী পরস্পর বিপরীত
• ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় শাসন পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন পদ্ধতি চালু এবং বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় রাজনীতি প্রবর্তনে। 
অন্যদিকে,
• ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৭ বছর পর বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন ঘটে। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৫২৮.
সংবিধানে ‘প্রজাতন্ত্র’ শব্দের পরিবর্তে সংবিধান সংস্কার কমিশন কোন শব্দ ব্যবহারের সুপারিশ করেছে?
  1. গণতন্ত্র
  2. নাগরিকতন্ত্র
  3. গণপ্রজাতন্ত্রী
  4. জনশাসন
ব্যাখ্যা

সংবিধান সংস্কার কমিশন:
- ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’ গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
- ৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

⇒ সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ:
- সংবিধান সংস্কার কমিশন সংবিধান সংশোধনের জন্য গণভোটের বিধান পুনর্বহালের সুপারিশ করেছে। 
- এছাড়াও, কমিশন সংবিধানের প্রস্তাবনায় জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দিয়ে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। 
- কমিশন সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে।
- বিদ্যমান সংবিধানের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগের অধিকারসমূহ সমন্বিত করে ‘মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা’ নামে একটি একক সনদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আদালতে বলবৎযোগ্য হবে এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অধিকার ও নাগরিক, রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যে বিদ্যমান তারতম্য দূর করবে।
- পাশাপাশি, কমিশন দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রস্তাব করছে, যেখানে একটি নিম্নকক্ষ জাতীয় সংসদ (ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলি) এবং একটি উচ্চকক্ষ (সিনেট) থাকবে এবং এখানে উভয় কক্ষের মেয়াদ হবে চার বছর।
- রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনয়ন এবং রাষ্ট্রীয় অঙ্গ ও প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করার জন্য একটি জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন এবং আইনসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে কিংবা আইনসভা ভেঙে গেলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত, সর্বোচ্চ ৯০ (নব্বই) দিন মেয়াদের একটি অন্তর্বর্তী সরকার নিয়োগের সুপারিশ করেছে।

⇒ নাগরিকতন্ত্র
- কমিশন সুপারিশ করছে যে, সংবিধানের প্রযোজ্য সকল ক্ষেত্রে 'প্রজাতন্ত্র' এবং 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' শব্দগুলোর পরিবর্তে 'নাগরিকতন্ত্র' এবং 'জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ' শব্দগুলো ব্যবহৃত হবে। তবে ইংরেজি সংস্করণে "Republic" ও "People's Republic of Bangladesh" শব্দগুলো থাকছে।

উৎস: i) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ।
ii) সংবিধান সংস্কার কমিশন।

১,৫২৯.
বর্তমান সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, কোন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হয়?
  1. ৫ বছর মেয়াদ অতিবাহিত হলে
  2. সংসদ-সদস্য না থাকলে
  3. রাষ্ট্রপতির নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করলে
  4. খ বা গ উভয় ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ: ৫৭ প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ:
(১) প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে, যদি-
(ক) তিনি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন; অথবা 
(খ) তিনি সংসদ-সদস্য না থাকেন। 
 
(২) সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারালে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন কিংবা সংসদ ভাংগিয়া দিবার জন্য লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দান করিবেন এবং তিনি অনুরূপ পরামর্শদান করিলে রাষ্ট্রপতি, অন্য কোন সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন নহেন এই মর্মে সন্তুষ্ট হইলে, সংসদ ভাংগিয়া দিবেন। 

(৩) প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই অযোগ্য করিবে না।

• উল্লেখ্য,
- ৫৭ অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রীর পদের কোন নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ ৫ বৎসর বা এটা বলা হয় নি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৩০.
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ সংবিধানের কোন ভাগে বর্ণিত হয়েছে?
  1. ১ম ভাগে
  2. ২য় ভাগে
  3. ৩য় ভাগে
  4. ৪র্থ ভাগে
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ২য় অধ্যায়ের ৮ম অনুচ্ছেদ থেকে ২৫তম অনুচ্ছেদ পর্যন্ত রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিগুলো বর্ণিত হয়েছে।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এই চারটি বিষয়কে রাষ্ট্রের স্তম্ভ বা মৌলিক আদর্শ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
- এতে আরো বলা হয়েছে, উপরোক্ত চারটি নীতিসহ ২য় ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলে গণ্য হবে।

• জাতীয়তাবাদ
- ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালী জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছেন, সেই বাঙালী জাতির ঐক্য ও সংহতি হবে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি,(অনুচ্ছেদ ৯)।

• সমাজতন্ত্র
- মানুষের উপর মানুষের শোষণ হতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজ লাভ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হল রাষ্ট্রের লক্ষ্য, (অনুচ্ছেদ ১০)।

• গণতন্ত্র
- প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানব সত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে। প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে, (অনুচ্ছেদ ১১)।

• ধর্মনিরপেক্ষতা
- ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হল সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতা অবসান, রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা না দেওয়া, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মকে ব্যবহার না করা এবং কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ নিপীড়নের অবসান, (অনুচ্ছেদ ১২)।

উৎস:পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩১.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামে কয়টি তারকা থাকে?
  1. ৫ টি
  2. ৪ টি
  3. ৩ টি
  4. ২ টি
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম:
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম হচ্ছে লাল রঙের বৃত্তের মাঝে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র।
- বৃত্তের উপর দিকে লেখা 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নিচে লেখা 'সরকার' এবং বৃত্তের দু'পাশে দু'টি করে মোট চারটি তারকা।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের ডিজাইনার এ. এন. সাহা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৫৩২.
সংবিধানের কততম ভাগে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে?
  1. নবম ভাগ
  2. ষষ্ঠ ভাগ
  3. চতুর্থ ভাগ
  4. সপ্তম ভাগ
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের সপ্তম ভাগে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ রয়েছে।
- সপ্তম ভাগের নিন্মলিখিত অনুচ্ছেদ গুলো রয়েছে যা নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনের সময় পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে।
- ১১৮নং অনুিচ্ছেদে - নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা।
- ১১৯নং অনুিচ্ছেদে-  নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
- ১২০নং অনুিচ্ছেদে-  নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ।
- ১২১নং অনুিচ্ছেদে-  প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।
- ১২২নং অনুিচ্ছেদে-  ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা।
- ১২৩নং অনুিচ্ছেদে-  নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়।
- ১২৪নং অনুিচ্ছেদে- নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা।
- ১২৫নং অনুিচ্ছেদে-  নির্বাচনী আইন ও নির্বাচনের বৈধতা।
- ১২৬নং অনুিচ্ছেদে-  নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সহায়তাদান।

• সংবিধানের ভাগ মোট ১১টি।
• প্রতিটি ভাগে বিভিন্ন বিধান সংবলিত।
- প্রথম ভাগ: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
- তৃতীয় ভাগ: মৌলিক অধিকার;
- চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ;
- পঞ্চম ভাগ: আইনসভা।
- ষষ্ঠ ভাগ: বিচারবিভাগ।
- সপ্তম ভাগ: নির্বাচন;
- অষ্টম ভাগ:মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক;
- নবম ভাগ: বাংলাদেশের কর্মবিভাগ এবং নবম-(ক)জরুরী বিধানাবলী।
- দশম ভাগ: সংবিধান-সংশোধন।
- একাদশ ভাগ: বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৫৩৩.
বাংলাদেশের সুপ্রিমকোর্টের বিভাগ কয়টি?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৫টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ২টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট ২টি বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত।
যথা:
- আপিল বিভাগ এবং
- হাইকোর্ট বিভাগ।

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৩৪.
বাংলাদেশে সিভিল সার্ভিসের (BCS) ক্যাডার কয়টি?
  1. ক) ২৬ টি
  2. খ) ২২ টি
  3. গ) ২১ টি
  4. ঘ) ৫ টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ গেজেটে ১৩ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে প্রকাশিত এস.আর.ও. নম্বর-৩৩৫-আইন/২০১৮ অনুযায়ী বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ইকোনমিক) ক্যাডারকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের সাথে একীভূত করা হয়েছে।
বর্তমানে ক্যাডার সংখ্যা ২৬টি।
সুত্রঃ bpsc.gov.bd
১,৫৩৫.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ ‘সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া’ সম্পর্কিত?
  1. ৬৭ (১) নং
  2. ৬৯ নং
  3. ৬৮ নং
  4. ৭০ (১) নং
ব্যাখ্যা

সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হবে, যদি -
- (ক) তার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করতে অসমর্থ হন: তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হবার পূর্বে স্পীকার যথার্থ কারণে তা বর্ধিত করতে পারবেন;
(খ) সংসদের অনুমতি না নিয়ে তিনি একাদিক্রমে নব্বই বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন;
(গ) সংসদ ভেঙে যায়;
(ঘ) তিনি এই সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন অযোগ্য হয়ে যান; অথবা
(ঙ) এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।
- ৬৭ (২) নং অনুচ্ছেদ- কোন সংসদ-সদস্য স্পীকারের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন, এবং স্পীকার- কিংবা স্পীকারের পদ শূন্য থাকলে বা অন্য কোন কারণে স্পীকার স্বীয় দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে ডেপুটি স্পীকার- যখন উক্ত পত্র প্রাপ্ত হন, তখন হতে উক্ত সদস্যের আসন শূন্য হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৫৩৬.
বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চম ভাগের বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. আইন সভা
  2. বিচার বিভাগ
  3. নির্বাহী বিভাগ
  4. স্থানীয় শাসন
ব্যাখ্যা
→ পঞ্চম ভাগে: আইনসভা।
- এর তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
- যথা: ১ম পরিচ্ছেদ: জাতীয় সংসদ।
- ২য় পরিচ্ছেদ: আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি।
- ৩য় পরিচ্ছেদ: অধ্যাদেশপ্রণয়ন-ক্ষমতা।

• বাংলাদেশ সংবিধান:

- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। যথা:-
- সংবিধানের প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
১,৫৩৭.
প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. ক) স্পীকার
  2. খ) রাষ্ট্রপতি
  3. গ) প্রধান বিচারপতি
  4. ঘ) প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
সংবিধানের তৃতীয় তফসিলের ২ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদেরকে রাষ্ট্রপতি শপথ বাক্য পাঠ করান। এছাড়া স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতিকেও রাষ্ট্রপতি শপথবাক্য পাঠ করান। রাষ্ট্রপতি ও সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার। আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, পিএসসির সদস্যবৃন্দ, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং নির্বাচন কমিশনারদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি।
সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান
১,৫৩৮.
বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় কবে?
  1. ১২ অক্টোবর ১৯৭২
  2. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
  3. ৪ নভেম্বর ১৯৭২
  4. ২৬ মার্চ ১৯৭১
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ গণপরিষদ হল ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক  সংবিধান  অধিবেশন।
- রাষ্ট্রপতি গণপরিষদের আহ্বান করেন-১০  এপ্রিল ১৯৭২।
- গণ পরিষদের খসড়া সংবিধান উত্থাপিত হয় ১২ অক্টোবর ১৯৭২
- গৃহীত হয় -৪ নভেম্বর ১৯৭২।
- কার্যকর হয় -১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২।
- গণপরিষদে খসড়া সংবিধান উত্থাপন করেন- ড. কামাল হোসেন।   
- গণপরিষদের স্পিকার ছিলেন- শাহ আব্দুল হামিদ।
- গণ পরিষদের  ডেপুটি স্পিকার  ছিলেন-মোহাম্মদ উল্লাহ।
- গণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন- মাওলানা আব্দুল রশিদ তর্কবাগী।
- সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য ছিলেন-৩৪ জন।
- একমাত্র নারী সদস্য- বেগম রাজিয়া বানু।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র বিরোধী দলের সদস্য ছিলেন- সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৩৯.
The urgency of rural electrification is described in which Article of Constitution?
  1. ক) 8
  2. খ) 10
  3. গ) 15
  4. ঘ) 16
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১৬: গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব 
নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবন যাত্রার মানের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করিবার উদ্দেশ্যে কৃষিবিপ্লবের বিকাশ, গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতীকরণের ব্যবস্থা, কুটিরশিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ এবং শিক্ষা, যোগাযোগ-ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের আমূল রূপান্তর সাধনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন৷

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ-১৫: মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা।
- ৮ নং অনুচ্ছেদ : মূলনীতিসমূহ।
- ১০ অনুচ্ছেদ : সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৫৪০.
নিচের কোন বিবৃতিটি সঠিক নয়?
  1. বাংলাদেশের সংবিধানের ৪নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীকের কথা উল্লেখ আছে।
  2. বাংলাদেশের সংবিধানের ৬নং অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের রাজধানীর কথা উল্লেখ আছে।
  3. বাংলাদেশের সংবিধানের ২ক অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রধর্মের কথা উল্লেখ আছে।
  4. বাংলাদেশের সংবিধানের ৭নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের প্রাধান্যের কথা উল্লেখ আছে।
ব্যাখ্যা
- "বাংলাদেশের সংবিধানের ৬ নং অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের রাজধানীর কথা উল্লেখ আছে"- বিবৃতিটি সঠিক নয়। 
- সঠিক বিবৃতিটি হবে- ৬ নং অনুচ্ছেদে নাগরিকত্বের কথা উল্লেখ আছে। 

• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের,
- ২নং অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা,
- ২ক অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রধর্ম,
- ৩নং অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা,
- ৪নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক,
- ৫নং অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের রাজধানীর কথা উল্লেখ আছে।
- ৬নং অনুচ্ছেদে নাগরিকত্বের কথা উল্লেখ আছে। 
- ৭নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের প্রাধান্যের কথা উল্লেখ আছে।  

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৪১.
মহা হিসাব নিরীক্ষকের দায়িত্ব সম্পর্কে সংবিধানের অনুচ্ছেদটি হল-
  1. ক) ১২৭
  2. খ) ১২৮
  3. গ) ১২৯
  4. ঘ) ১৩০
ব্যাখ্যা

মহা হিসাব নিরীক্ষকের দায়িত্ব সম্পর্কে সংবিধানের অনুচ্ছেদটি হল ১২৮।
- ১২৭ এ মহা হিসাব নিরীক্ষক পদের প্রতিষ্ঠা।
- ১২৯ এ মহা হিসাব নিরীক্ষকের কর্মের মেয়াদ।
- ১৩০ এ অস্থায়ী মহা হিসাব নিরীক্ষক এর কথা বলা হয়েছে।

উৎস:গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান

১,৫৪২.
জাতীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে নারীর সুযোগ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. ২১(২)
  2. ১৯(৩)
  3. ২২
  4. ২৪
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধান: 
- সুযোগের সমতা ১৯(১) সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হবেন৷
- (২) মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন৷
 - ১৯(৩) জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৫৪৩.
সরকারের অনুমিত আয় ও ব্যয়-সংবলিত বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি কোন অনুচ্ছেদের অধীনে সংসদে পেশ করতে হয়?
  1. ৮৯ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৮৭ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৬৫ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৬৪ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

• ৮৭ নং অনুচ্ছেদ: বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি 
-  (১) প্রত্যেক অর্থ-বৎসর সম্পর্কে উক্ত বৎসরের জন্য সরকারের অনুমিত আয় ও ব্যয়-সংবলিত একটি বিবৃতি (এই ভাগে "বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি" নামে অভিহিত) সংসদে উপস্থাপিত হইবে।
- (২) বার্ষিক আর্থিক বিবৃতিতে পৃথক পৃথকভাবে
- (ক) এই সংবিধানের দ্বারা বা অধীন সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়রূপে বর্ণিত ব্যয়নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ, এবং
- (খ) সংযুক্ত তহবিল হইতে ব্যয় করা হইবে, এইরূপ প্রস্তাবিত অন্যান্য ব্যয়নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদর্শিত হইবে এবং অন্যান্য ব্যয় হইতে রাজস্বখাতের ব্যয় পৃথক করিয়া প্রদর্শিত হইবে।

অন্যদিকে,
৬৪ নং অনুচ্ছেদ হলো অ্যাটর্নি-জেনারেল  সম্পর্কিত।
৬৫ নং অনুচ্ছেদ হলো  সংসদ-প্রতিষ্ঠা।
৮৯ নং অনুচ্ছেদ হলো বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সম্পর্কিত পদ্ধতি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৫৪৪.
সংবিধানের ৩৭ নং অনুচ্ছেদে কী বর্ণিত রয়েছে? 
  1. চলাফেরার স্বাধীনতা
  2. সমাবেশের স্বাধীনতা
  3. সংগঠনের স্বাধীনতা
  4. পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ-৩৭নং: সমাবেশের স্বাধীনতা। 
• সমাবেশের স্বাধীনতা:

- জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ-৩৫। বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ-৩৬। চলাফেরার স্বাধীনতা;
- অনুচ্ছেদ-৩৭। সমাবেশের স্বাধীনতা;
- অনুচ্ছেদ-৩৮। সংগঠনের স্বাধীনতা;
- অনুচ্ছেদ- ৩৯। চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা;
- অনুচ্ছেদ-৪০। পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা;
- অনুচ্ছেদ-৪১। ধর্মীয় স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৫৪৫.
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে কোন দেশের সংবিধান অনুসরণ করা হয়েছে?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. চীন
  4. রাশিয়া
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে অনুসরণ করা হয় ভারত ও যুক্তরাজ্যের সংবিধান।
- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সংবিধান ভারতের।
- পৃথিবীর যে সকল দেশের সংবিধান অলিখিত- স্পেন, নিউজিল্যান্ড, ব্রিটেন, সৌদি আরব ও ইসরায়েল।
- গণপরিষদের সর্বমোট ২১ টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান হাতে লিখে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছিল।
- সংবিধানের হস্তলিপির কাজ করেছেন এ কে এম আবদুর রুউফ ।
- হাতে লেখা বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানের পৃষ্ঠা ছিল ১০৯ ।
- সংবিধানের প্রচ্ছদে শীতলপাটির উপর লেখা হয়েছে 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান'। 

উৎস:- বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৪৬.
বাংলাদেশের একজন ভোটারের সর্বনিম্ন বয়স কত?
  1. ক) ১৬ বছর
  2. খ) ১৮ বছর
  3. গ) ২০ বছর
  4. ঘ) ২১ বছর
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১২২(২) অনুচ্ছেদ বলা হয়েছে - বাংলাদেশের একজন ভোটারের সর্রনিম্ন বয়স ১৮ বছর হতে হবে।
- বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ২৫ বছর,
- ভোটার হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর,
- রাষ্ট্রপতি হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ৩৫ বছর।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৪৭.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবার বয়স সম্পর্কে সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ক) ১৮
  2. খ) ২৫
  3. গ) ৩৫
  4. ঘ) ৪৮
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি-
(ক) পঁয়ত্রিশ বৎসরের কম বয়স্ক হন; অথবা
(খ) সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য না হন; অথবা
(গ) কখনও এই সংবিধানের অধীন অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ হইতে অপসারিত হইয়া থাকেন।

সূত্র: bdlaws.minlaw.gov.bd

১,৫৪৮.
ফ্লোর ক্রসিং (Floor Crossing) সংবিধানের কততম অনুচ্ছেদের আলোচ্য বিষয়?
  1. ২৯ নং
  2. ৭৭ নং
  3. ৭০ নং
  4. ৩৯ নং
ব্যাখ্যা

- কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়াকে ফ্লোর ক্রসিং বলে
- ৭০তম অনুচ্ছেদে ফ্লোর ক্রসিং সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- অনুচ্ছেদ - ৭০: রাজনৈতিক দল হতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরুপে মনোনীত হয়ে কোন ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি-
(ক) উক্ত দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা
(খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,
তাহা হলে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হবার অযোগ্য হবেন না

তথ্যসূত্র:- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৫৪৯.
সংবিধানের কত অনুচ্ছেদ অনুসারে সংবিধান সংশোধন করা হয়?
  1. ১৪৮ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৪৬ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৪৪ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৪২ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানে:
- বাংলাদেশের সংবিধানের দশম ভাগের ১৪২ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
- এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও-
(ক) সংসদের আইন-দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা সংশোধিত হইতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে,

(অ) অনুরূপ সংশোধনীর জন্য আনীত কোন বিলের সম্পূর্ন শিরনামায় এই সংবিধানের কোন বিধান সংশোধন করা হইবে বলিয়া স্পষ্টরূপে উল্লেখ না থাকিলে বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা যাইবে না;
(আ) সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরূপ কোন বিলে সম্মতিদানের জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে না;
(খ) উপরি-উক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তাহা উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন, এবং তিনি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।]

এছাড়াও -
- ১৪৬ নং অনুচ্ছেদে - বাংলাদেশের নামে মামলা।
- ১৪৪ নং অনুচ্ছেদে সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব সম্পর্কে উল্লেখ আছে।
- ১৪৮ নং অনুচ্ছেদ: পদের শপথ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৫৫০.
হাতে লেখা সংবিধানের অঙ্গসজ্জা করেন-
  1. ক) হাশেম খান
  2. খ) আবদুর রউফ
  3. গ) ড. কামাল হোসেন
  4. ঘ) সৈয়দ শাহ আবু সুফি
ব্যাখ্যা
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যরা চূড়ান্তভাবে গৃহীত সংবিধানের কপিতে স্বাক্ষর করেন।
- সবার প্রথমে স্বাক্ষর করেন বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমান।
- তবে গণপরিষদের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
- ১৯৭২ সালের হাতে লেখা সংবিধান কপিতে মোট ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

সংবিধানের-
- সংবিধানের অঙ্গসজ্জার মূল তত্ত্বাধায়ক : জয়নুল আবেদিন
- হস্তলিপিকার : এ কে এম আবদুর রউফ
- অঙ্গসজ্জা : হাশেম খান
- অংকন : জুনাবুল ইসলাম, সমরজিৎ রায় চৌধুরী এবং আবুল বারক আলভী
- চামড়ার কাজ : সৈয়দ শাহ আবু সুফি
- মুদ্রণ : বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়
- নকশী কাঁথা কভার মুদ্রণ : ইস্টার্ন রিগাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ঢাকা।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৫৫১.
অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা'র কথা বলা হয়েছে কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ১৩নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৫নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৬নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৭নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ – অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা: 

রাষ্ট্র—
(ক) একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক ও বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য;
(খ) সমাজের প্রয়োজনের সহিত শিক্ষাকে সঙ্গতিপূর্ণ করিবার জন্য এবং সেই প্রয়োজন সিদ্ধ করিবার উদ্দেশ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদিচ্ছাপ্রণোদিত নাগরিক সৃষ্টির জন্য;
(গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করিবার জন্য— কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

অন্যদেকে: 
- ১৩নং অনুচ্ছেদে মালিকানার নীতি।
- ১৫নং অনুচ্ছেদে মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।
- ১৬নং অনুচ্ছেদে পল্লী বিদ্যুতায়নের কথা বলা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

১,৫৫২.
রাজধানী ছাড়া অন্য কোথাও হাইকোর্ট বিভাগের অধিবেশন আয়োজন করতে হলে কার অনুমতি প্রয়োজন?
  1. আইনমন্ত্রীর
  2. রাষ্ট্রপতির
  3. স্পিকারের
  4. অ্যাটর্নি জেনারেলের
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০০ অনুযায়ী, সুপ্রীম কোর্টের স্থায়ী আসন রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত।
- তবে, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে প্রধান বিচারপতি অন্য যেকোনো স্থান নির্ধারণ করে সেখানে হাইকোর্ট বিভাগের অধিবেশন আয়োজন করতে পারেন।

সুপ্রীম কোর্ট:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের এখতিয়ার বর্ণিত হয়েছে।
- সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপ্রীম কোর্ট গঠিত হবে।
- সুপ্রীম কোর্টের এই দুই বিভাগের পৃথক এখতিয়ার রয়েছে।
- সংবিধান ও সংবিধানের পাশাপাশি দেশের সাধারণ আইন (সংসদ কর্তৃক পাশকৃত আইন) এই এখতিয়ারের উৎস।
- ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
- ২০১৭ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়ে আসছে।
- ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়। 

সূত্র: সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট ও বাংলাদেশ সংবিধান। 

১,৫৫৩.
নিচের কোন ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হতে পারে না?
  1. দেউলিয়া ঘোষিত হলে
  2. বয়স ২৫ এর কম হলে
  3. বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সংবিধান: 
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৬ নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।

• জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা।
- ৬৬ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হলে এবং তার বয়স ২৫ বৎসর পূর্ণ হলে তিনি সংবিধানের ৬৬(২) নং অনুচ্ছেদের বিধানাবলী সাপেক্ষে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হতে পারেন।

• ৬৬(২) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে কোন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হয়:
- উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হলে
- দেউলিয়া ঘোষিত হলে,
- বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন বা বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করলে।
- তবে জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিকদের দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে বা পুনরায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবার যোগ্য বিবেচিত হবেন।
- নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে অন্যূন দুইবছরের জন্যে দণ্ডিত হয়ে মুক্তি লাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত নাহলে
- ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী আদেশের অধীনে দণ্ডিত হলে
- রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৫৫৪.
বাংলাদেশের সংবিধানের কততম সংশোধনী অনুযায়ী নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করার আইন পাস করা হয়?
  1. দ্বাদশ
  2. ত্রয়োদশ
  3. দশম
  4. পঞ্চদশ
ব্যাখ্যা
ত্রয়োদশ সংশোধনী:
- ২৭ মার্চ, ১৯৯৬ ত্রয়োদশ সংশোধনী আনা হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
- নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তিন মাস মেয়াদের 'নির্দলীয়'-'নিরপেক্ষ' তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল।
- একজন প্রধান উপদেষ্টা এবং দশ জন উপদেষ্টা নিয়ে এই সরকার গঠিত হতো।
- উচ্চ আদালতের আদেশে ২০১১ সালে এই সংশোধনীটি বাতিল হয়।

উল্লেখ্য,
- সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪ নং আইন)-এর ২১ ধারাবলে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করা হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) বাংলাদেশের সংবিধান। 
১,৫৫৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে কয়টি পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তির শপথগ্রহণ বা ঘোষণাপত্র পাঠের বিষয় উল্লেখ আছে?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিল: [১৪৮ অনুচ্ছেদ]- শপথ ও ঘোষণা।
- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ৯টি পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তির শপথগ্রহণ বা ঘোষণাপত্র পাঠের বিষয় উল্লেখ আছে।

⇒ সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:
১। রাষ্ট্রপতি [শপথ বাক্য পাঠ করান স্পীকার]।
২। প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতি-মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৩। স্পীকার [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৩। ডেপুটি স্পীকার [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৫। সংসদ সদস্য [শপথ বাক্য পাঠ করান স্পীকার]।
৬। প্রধান বিচারপতি বা বিচারক [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৭। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি]।
৮। মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি।
৯। সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি]।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৫৬.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুসারে, মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকে?
  1. অনুচ্ছেদ ৫৫ (৩)
  2. অনুচ্ছেদ ৬৩ (১)
  3. অনুচ্ছেদ: ৮৩
  4. অনুচ্ছেদ ৮৯ (৩)
ব্যাখ্যা
শাসনসংক্রান্ত ক্ষমতা বা শাসন বিভাগ নিয়ন্ত্রণ:
- জাতীয় সংসদ সার্বভৌম পার্লামেন্ট। সংসদীয় ব্যবস্থায় আইনসভার প্রাধান্য সর্বত্র স্বীকৃত।
- সুতরাং জাতীয় সংসদের অন্যতম কাজ হলো নির্বাহী বিভাগ তথা মন্ত্রিসভাকে নিয়ন্ত্রণ করা।
- এখানে মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকে [অনুচ্ছেদ ৫৫ (৩)]।

⇒  মন্ত্রিসভা যতক্ষণ পর্যন্ত সংসদের আস্থা ভোগ করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমায় অধিষ্ঠিত থাকবেন।
- সংসদে সদস্যগণ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও বিভিন্ন প্রকার প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করে থাকেন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারালে মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়।
- সংসদের প্রধান কাজ হলো সরকারের নীতি ও কার্যকলাপের সমালোচনা করা।
- সরকারি কর্মচারী নিয়োগ ও বরখাস্ত, চুক্তি সম্পাদন ইত্যাদি শাসন সংক্রান্ত কাজে সংসদের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না।
- তবে সংসদের সম্মতি ব্যতীত নির্বাহী বিভাগ যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে না কিংবা বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারে না [অনুচ্ছেদ ৬৩ (১)]।
- সংসদ মুলতবি প্রস্তাব, নিন্দা প্রস্তাব, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও অন্যান্য প্রস্রাবের দ্বারা শাসন বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।

অন্যদিকে,
- সংসদের অনুমতি ও কর্তৃত্ব ব্যতীত কোনো প্রাকর কর আরোপ বা সংগ্রহ করা যাবে না (অনুচ্ছেদ: ৮৩)।
- রাষ্ট্রপতির সুপারিশ ব্যতীত অর্থ ব্যয় সংক্রান্ত কোনো বিল বা মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করা যায় না [অনুচ্ছেদ ৮৯ (৩)]।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৫৭.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময় গণপরিষদের স্পিকার ছিলেন কে?
  1. শাহ আবদুল হামিদ
  2. মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ
  3. মোহাম্মদ উল্লাহ
  4. আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ
ব্যাখ্যা
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর দুপুর বেলায় বাংলাদেশ সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয়। তথন গণপরিষদের স্পিকার ছিলেন মোহাম্মদ উল্লাহ এবং ডেপুটি স্পিকার ছিলেন মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ।
১৪ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে মোহাম্মদ উল্লাহ গৃহীত সংবিধান প্রমাণীকৃত করেন।

১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যগণ এতে স্বাক্ষর করেন। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
১,৫৫৮.
Who appoints the Chief Justice in Bangladesh?
  1. ক) Prime Minister
  2. খ) Parliament
  3. গ) President
  4. ঘ) None
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন।
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শপূর্বক অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগ দেন।
- বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্যে ন্যূনতম দশ বছর সুপ্রিমকোর্টে অ্যাডভোকেট বা দেশের বিচার বিভাগীয় পদে দশ বছর নিযুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৫৫৯.
বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে অর্পণ কর হয় কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. সপ্তদশ সংশোধনী
  2. ত্রয়োদশ সংশোধনী
  3. ষোড়শ সংশোধনী
  4. চতুর্দশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান সর্বমোট ১৭বার সংশোধন হয়েছে। 

ষোড়শ সংশোধনী: উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা আইন প্রণেতাদের হাতে ফিরিয়ে দিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন পাস হয় ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর।

অন্যদিকে -
সপ্তদশ সংশোধনী: ২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারি আনা হয় সপ্তদশ সংশোধনী। এই সংশোধনীতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনের বিধি আরও ২৫ বছর বহাল রাখা হয়।

ত্রয়োদশ সংশোধনী: ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ এ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী জমির উদ্দিন সরকার এই সংশোধনীটি উত্থাপন করেন। এটি ২৬৮-০ ভোটে পাস হয়।

চতুর্দশ সংশোধনী: ২০০৪ সালের ১৬ মে এ সংশোধনী আনা হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩০ থেকে ৪৫ করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ থেকে ৬৭ বছর করা হয়। এছাড়া রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি এবং সরকারি ও আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি বা ছবি প্রদর্শনের বিধান করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৫৬০.
'রাজধানীর সীমানা আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে' সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৫(১)
  2. অনুচ্ছেদ ৫(২)
  3. অনুচ্ছেদ ৬(১)
  4. অনুচ্ছেদ ৬(২)
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:

- স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের মোট এগারটি ভাগ রয়েছে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৫নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা' সম্পর্কে বর্ণিত আছে।
- অনুচ্ছেদ ১ - প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ ২ - প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ ৩ - রাষ্ট্রভাষা।
- অনুচ্ছেদ ৪ - জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- অনুচ্ছেদ ৫(১) - অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা।
- অনুচ্ছেদ ৫(২) - অনুযায়ী রাজধানীর সীমানা আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে।
- অনুচ্ছেদ ৬ - নাগরিকত্ব।
- অনুচ্ছেদ ৭ - সংবিধানের প্রাধান্য।
- অনুচ্ছেদ ৮ - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৬১.
মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে কার সুপারিশ আবশ্যক হয়?
  1. ক) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
  2. খ) অ্যাটর্নী জেনারেল
  3. গ) আইনমন্ত্রী
  4. ঘ) কারোরই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্য সকল ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কর্ম সম্পাদন করে থাকেন। জরুরি অবস্থা জারি, সংসদ অধিবেশন আহবান, স্থগিত বা ভঙ্গ করা, প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত মন্ত্রীসভার অন্যান্য সদস্যের নিয়োগ সকল ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ গ্রহণ করে থাকেন। সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৫৬২.
সংবিধানের প্রস্তাবনায় নিচের কোন বিষয়টি অনুপস্থিত?
  1. ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা
  2. আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুনিশ্চিত করা
  3. সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ণ রাখা নাগরিকের কর্তব্য
  4. সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

প্রস্তাবনা: 
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
- ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণার [জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের] মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি। 
- সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও .
সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হবে।
- আমরা যাহাতে স্বাধীন সত্তায় সমৃদ্ধি লাভ করিতে পারি এবং মানবজাতির প্রগতিশীল আশা-আকাঙ্খার সহিত সঙ্গতি রক্ষা করিয়া আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে পূর্ণ ভূমিকা পালন করিতে পারি, সেইজন্য বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ এই সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ণ রাখা এবং ইহার রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান আমাদের পবিত্র কর্তব্য।
- এতদ্বারা আমাদের এই গণপরিষদে, অদ্য তের শত ঊনআশী বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসের আঠারো তারিখ, মোতাবেক ঊনিশ শত বাহাত্তর খ্রীষ্টাব্দের নভেম্বর মাসের চার তারিখে, আমরা এই সংবিধান রচনা ও বিধিবদ্ধ করিয়া সমবেতভাবে গ্রহণ করিলাম।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৬৩.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের পঞ্চম সংশোধনীর বৈশিষ্ট্য?
  1. বাকশাল গঠন
  2. সামরিক সরকারের যাবতীয় কর্মকান্ডের বৈধতা দান
  3. সামরিক শাসকের অধীনে যে সকল আদেশ জারি হয় তা বৈধতা দান
  4. উপ-রাষ্ট্রপতির পদে থেকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের বিধান নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা
পঞ্চম সংশোধনী:
- বিলটি সংসদে পাশের তারিখ ৬ এপ্রিল, ১৯৭৯।
- পঞ্চম সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা থেকে শুরু করে ৫ এপ্রিল, ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত সামরিক সরকারের যাবতীয় কর্মকান্ডের বৈধতা দান।
 
এছাড়া,
- চতুর্থ সংশোধনী: বাকশাল গঠন,
- ষষ্ঠ সংশোধনী: উপ-রাষ্ট্রপতির পদে থেকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের বিধান নিশ্চিত করা।
- সপ্তম সংশোধনী: সামরিক শাসনের বৈধতা সংক্রান্ত।
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
 
১,৫৬৪.
প্রজাতন্ত্রের হিসাব-রক্ষার আকার ও পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ১২৯নং অনুচ্ছেদ
  2. ১৩০নং অনুচ্ছেদ
  3. ১৩১নং অনুচ্ছেদ
  4. ১৩২নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১২৬ - নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সহায়তাদান।
- অনুচ্ছেদ ১২৭ - মহা হিসাব-নিরীক্ষক পদের প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ১২৮ - মহা-হিসাব নিরীক্ষকের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১২৯ - মহা হিসাব-নিরীক্ষকের কর্মের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ১৩০ - অস্থায়ী মহা হিসাব-নিরীক্ষক।
- অনুচ্ছেদ ১৩১ - প্রজাতন্ত্রের হিসাব-রক্ষার আকার ও পদ্ধতি।
- অনুচ্ছেদ ১৩২ - সংসদে মহা হিসাব-নিরীক্ষকের রিপোর্ট উপস্থাপন।
- অনুচ্ছেদ ১৩৩ - নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলী।
- অনুচ্ছেদ ১৩৪ - কর্মের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ১৩৫ - অসামরিক সরকারী কর্মচারীদের বরখাস্ত প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ১৩৬ - কর্মবিভাগ-পুনর্গঠন।
- অনুচ্ছেদ ১৩৭ - কমিশন-প্রতিষ্ঠা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৬৫.
সংবিধানের সংশোধন অযোগ্য ধারা কোনটি?
  1. ক) ৭৭ নং
  2. খ) ৯৬ নং
  3. গ) ১৪২ নং
  4. ঘ) ১৫০ নং
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৭ (খ) উপ দফা অনুযায়ী সংবিধান প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় ভাগ, নবম (ক) ভাগে বর্ণিত বিধানাবলি সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং ১৫০ নং অনুচ্ছেদ সহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক বিধানবলি সংশোধন অযোগ্য বিবেচিত। (সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৫৬৬.
ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তি সিআরপিসি’র কোন ধারায় রেকর্ড করা হয়?
  1. ১৬৪ ধারা
  2. ৬৪ ধারা
  3. ১৫৪ ধারা
  4. ৫৪ ধারা
ব্যাখ্যা
- ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তি সিআরপিসি’র  ১৬৪ ধারা জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এছাড়াও বিভিন্ন ধারা:
- ৫৪ ধারা বিনা ওয়ারেন্টে পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার করার ক্ষমতা।
- ১৪৪ ধারা মানুষের চলাচল, আচরণ অর্থাৎ মৌলিক কর্মকাণ্ডের উপর নিষেধাজ্ঞা।
- ১৫৪ ধারা ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা।
- ১৭৩ ধারা এই ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়।
- ৪২০ ধারা বাংলাদেশ পেনাল কোডের একটি ধারা যেখানে প্রতারণার জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৬৭.
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তু কী ছিল?
  1. শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি
  2. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল
  3. বিচারপতিদের অভিসংশন ক্ষমতা
  4. ক+খ
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০ জুন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূলনীতিগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসাবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতিও দেওয়া হয়।
- সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয়, তবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখা হয়।
- এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।

অন্যদিকে,
- ষোড়শ সংশোধনী বিচারপতিদের অভিসংশন ক্ষমতা সংক্রান্ত।

উৎস: ১৯ ডিসেম্বর ২০২১,বিবিসি বাংলা ।
১,৫৬৮.
সংবিধানের ৩৭নং অনুচ্ছেদে রয়েছে-
  1. আইনের দৃষ্টিতে সমতা
  2. চলাফেরার স্বাধীনতা
  3. আইনের আশ্রয়-লাভ
  4. সমাবেশের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• ৩৭ নং সমাবেশের স্বাধীনতা  :
- ৩৭ নং অনুচ্ছেদে,  জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়ার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।

• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ:
- ২৬ নং:মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল;
- ২৭নং: আইনের দৃষ্টিতে সমতা;
- ২৮ নং: ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য;
- ২৯নং:  সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা;
- ৩০নং:  বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ;
- ৩১নং: আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার;
- ৩২নং: জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ;
- ৩৩নং: গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ;
- ৩৪নং: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ;
- ৩৫নং: বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ;
- ৩৬নং: চলাফেরার স্বাধীনতা;
- ৩৭নং:সমাবেশের স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
১,৫৬৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের সর্বশেষ সংশোধনী গৃহিত হয় কবে?
  1. ২০১৫ সালে
  2. ২০১৭ সালে
  3. ২০১৮ সালে
  4. ২০২২ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন:
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
- ১৯৭২ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত মোট ১৭ বার বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধিত হয়েছে।
- ১৯৭৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্যে প্রথম সংশোধনী গৃহীত হয়।
- সর্বশেষ ২০১৮ সালে সংবিধানের ১৭তম সংশোধনী গৃহিত হয়।
- সপ্তদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল সংবিধানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যদের মেয়াদ বৃদ্ধি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৫৭০.
প্রজাতন্ত্রের কোন কর্মচারী কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিধানের ক্ষমতা বলে কৃতকর্মের জন্যে দায়মুক্তি লাভ করতে পারেন?
  1. ক) ৪৬ নং
  2. খ) ৪৯ নং
  3. গ) ৮৭ নং
  4. ঘ) ১৪৫ ক
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৪৬ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোন ব্যক্তি জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম বা জনশৃঙ্খলার স্বার্থে কোন কার্য সংঘটন করে থাকলে সংসদ এই অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সেই ব্যক্তিকে দায়মুক্তি প্রদান করতে পারে। ৪৯ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রদর্শনের অধিকার, ৮৭ নং অনুচ্ছেদে বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি বা বাজেট এবং ১৪৫ ক অনুচ্ছেদে আন্তর্জাতিক চুক্তি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৭১.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সর্বদা নিপীড়িত মানুষের ন্যায়সজ্ঞত সংগ্রামকে সমর্থন করার বিষয়ে উল্লেখ আছে?
  1. ২৭ (খ)
  2. ২৮ (খ)
  3. ২৫ (খ)
  4. ২৫ (গ)
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ২৫(গ) নং অনুচ্ছেদে সর্বদা নিপীড়িত মানুষের ন্যায়সজ্ঞত সংগ্রামকে সমর্থন করার বিষয়ে উল্লেখ আছে।

• অনুচ্ছেদ - ২৫:
-
আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র
(ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করিবেন;
(খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করিবেন; এবং
(গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করিবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১,৫৭২.
ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা সংবিধানের কোন ভাগে আলোচিত হয়েছে?
  1. ক) প্রজাতন্ত্র
  2. খ) রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি
  3. গ) মৌলিক অধিকার
  4. ঘ) বিবিধ
ব্যাখ্যা

তৃতীয় ভাগ
মৌলিক অধিকার

৪১। ধর্মীয় স্বাধীনতা

(১) আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা-সাপেক্ষে
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রহিয়াছে;
(খ) প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ-সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রহিয়াছে।
(২) কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যোগদানকারী কোন ব্যক্তির নিজস্ব ধর্ম-সংক্রান্ত না হইলে তাঁহাকে কোন ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ কিংবা কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাসনায় অংশগ্রহণ বা যোগদান করিতে হইবে না।

১,৫৭৩.
বাংলাদেশের সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য কয়টি?
  1. ক) ১০ টি
  2. খ) ১১ টি
  3. গ) ১২ টি
  4. ঘ) ১৪ টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের প্রধানত ১২ টি বৈশিষ্ট্য রয়েছে ।
যথা-
১. প্রজাতন্ত্র
২. রাষ্ট্র পরিচালনার মুলনীতি
৩. মৌলিক অধিকার
৪. সংসদীয় সরকার পদ্ধতি
৫. লিখিত সংবিধান
৬. জনগণের সার্বভৌমত্ব
৭. সংবিধানের সার্বভৌমত্ব
৮. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
৯. দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান
১০. এককেন্দ্রিক রাষ্ট
১১. এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা
১২. আইনের শাসন
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৫৭৪.
সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীটি গৃহীত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় সংশোধনী:
- দ্বিতীয় সংশোধনীটি উত্থাপিত হয় ১৯৭৩ সালের ১৮ সেপ্টম্বর।
- সংশোধনীটি গৃহীত হয় ১৯৭৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর।
- সংশোধনীটি অনুমোদিত হয় ২২ সেপ্টম্বর ১৯৭৩ সালে।
- 'জরুরি অবস্থা' জারির বিধান সংবিধানের ২য় সংশোধনীতে সন্নিবেশিত হয়েছে।
- সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধন আইন দ্বারা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ বা বহিরাক্রমণে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন বাধাগ্রস্ত হলে 'জরুরি অবস্থা' ঘোষণার বিধান চালু করা হয়।
- এছাড়াও, নিবর্তনমূলক আটক ও জরুরী অবস্থার সময় মৌলিক অধিকার স্থগিতকরণ সংক্রান্ত বিধানসমূহ সংযোজন করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৭৫.
বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদকাল কত বছর?
  1. ক) ৪ বছর
  2. খ) ৩ বছর
  3. গ) ৫ বছর
  4. ঘ) ৬ বছর
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮(৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনারদের পদের মেয়াদকাল দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পরবর্তী ৫ বছর দায়িত্ব পালন করবেন।
- বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ৪ জন কমিশনার নিয়ে গঠিত হয়।

• প্রধান নির্বাচন কমিশনার — কাজী হাবিবুল আউয়াল
• নির্বাচন কমিশনার — ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আহসান হাবিব খান (অবঃ)
• নির্বাচন কমিশনার — বেগম রাশেদা সুলতানা
• নির্বাচন কমিশনার — জনাব মোঃ আলমগীর
• নির্বাচন কমিশনার — জনাব মোঃ আনিছুর রহমান

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান এবং নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
১,৫৭৬.
বাংলাদেশে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে "রাজনৈতিক দল" এর সংজ্ঞা দেওয়া আছে?
  1. ১৪৯ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৫০ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৫১ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৫২ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১৫২ নং অনুচ্ছেদ:
- 'রাজনৈতিক দল' বলিতে এমন একটি অধিসঙ্ঘ বা ব্যক্তিসমষ্টি অন্তর্ভুক্ত, যে অধিসঙ্ঘ বা ব্যক্তিসমষ্টি সংসদের অভ্যন্তরে বা বাহিরে স্বাতন্ত্র্যসূচক কোন নামে কার্য করেন এবং কোন রাজনৈতিক মত প্রচারের বা কোন রাজনৈতিক তৎপরতা পরিচালনার উদ্দেশ্যে অন্যান্য অধিসঙ্ঘ হইতে পৃথক কোন অধিসঙ্ঘ হিসাবে নিজদিগকে প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ১৪৯নং অনুচ্ছেদে প্রচলিত আইনের হেফাজত সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৫০ নং অনুচ্ছেদে ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৫১ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন আদেশ রহিতকরণ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৭৭.
রাজধানীর বানান Dacca এর পরিবর্তে Dhaka করা হয় সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. ৪র্থ
  2. ৫ম 
  3. ৬ষ্ঠ
  4. ৮ম
ব্যাখ্যা

অষ্টম সংশোধনী:
- সংসদে উত্থাপন: ১১ মে, ১৯৮৮।
- উত্থাপনকারী: সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।
- সংসদে গৃহীত: ৭ জুন, ১৯৮৮।
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ৯ জুন, ১৯৮৮।

⇒ এ সংশোধনীর মৌলিক বিষয়গুলো হল:
- ইসলাম ধর্মকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা দান,
- হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি বেঞ্চ যথাক্রমে বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর, রংপুর ও সিলেটে স্থাপন করা,
- বাংলাদেশের কোন নাগরিক রাষ্ট্রপতির অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশ থেকে কোন উপাধি গ্রহণ করতে পারবে।
- রাজধানীর বানান Dacca এর পরিবর্তে Dhaka এবং বাংলা ভাষা ইংরেজি Bengali এর পরিবের্ত Bangla গৃহীত হয়।

⇒ কিন্তু এ সংশোধনী হাইকোর্ট বিভাগীয় বেঞ্চ সম্পর্কে দু'জন নাগরিক রীট পিটিশন করেন। তারা দুজন হলেন- আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ও জালাল উদ্দিন। তাদের এ রীট পিটিশনের ফলে ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ৬টি স্থায়ী বেঞ্চ রহিত করা হয়। পরবর্তীতে এটি বাতিল হয়ে যায়।

উৎস: i) BBC.
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৭৮.
সংবিধানের ৫ম সংশোধনী হাইকোর্ট কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত হয় -
  1. ১৯ জুন, ২০০৫
  2. ২৯ জুন, ২০০৫
  3. ১৯ আগস্ট, ২০০৫
  4. ২৯ আগস্ট, ২০০৫
ব্যাখ্যা
পঞ্চম সংশোধনী:
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সংবিধান কার্যকরী হওয়ার পর ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির চারটি মূল স্তম্ভে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। 
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকান্ডের ধারাবাহিকতায় ক্ষমতা দখল করেন জিয়াউর রহমান। 
- এই সামরিক শাসক ১৯৭৯ সালে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের চারটি মূল স্তম্ভের তিনটিতে পরিবর্তন আনেন।
- সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ২৯ আগস্ট, ২০০৫ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে। 
- পরবর্তীতে আপিল বিভাগ ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সালে হাইকোর্ট বিভাগের রায় বহাল রাখে। 

এছাড়া,
- চতুর্থ সংশোধনী বাকশাল গঠন,
- ষষ্ঠ সংশোধনী উপরাষ্ট্রপতির পদে থেকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন এবং
- সপ্তম সংশোধনী সামরিক শাসনের বৈধতা সংক্রান্ত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৭৯.
বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে?
  1. ৩৬ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৩৪ নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৯ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৩১ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
• সংবিধানে মৌলিক অধিকার: 
- অনুচ্ছেদ ৩৪ (১), ৩৪ (২ ক) অনুযায়ী সকল প্রকার জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ।
- এই বিধান কোনভাবে লঙ্ঘিত হলে তা আইনতঃ দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। 
- তবে ফৌজদারি অপরাধের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।

অন্যদিকে, 
- ৩১ নং অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, 
- ২৯ নং অনুচ্ছেদে সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা, 
- ৩৬ নং অনুচ্ছেদে চলাফেরার স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 
১,৫৮০.
জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শন সম্পর্কিত সংবিধানের অনুচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) ২ক নং
  2. খ) ৪ক নং
  3. গ) ৪ নং
  4. ঘ) ৫ নং
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৪ক নং অনুচ্ছেদে সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে অবস্থিত দূতাবাসসমূহে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।
২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ধারাটি সংবিধানে যুক্ত করা হয়।
অন্যদিকে,
- ২ক নং অনুচ্ছেদ : রাষ্ট্রধর্ম
- ৪ নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক
- ৫ নং অনুচ্ছেদ : রাজধানী।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
১,৫৮১.
সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর বিষয়বস্তু কী ছিলো?
  1. জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান
  2. রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা প্রবর্তন
  3. যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিধান সন্নিবেশন
  4. ভারতকে বেরুবাড়ী হস্তান্তর
ব্যাখ্যা
•  প্রথম সংশোধনী
- ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই সংবিধানের প্রথম সংশোধনী গৃহীত হয়।
- এটি উত্থাপন করেন তৎকালীন আইনমন্ত্রী শ্রী মনোরঞ্জন ধর।
- প্রথম সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিলো যুদ্ধাপরাধীসহ গণবিরোধীদের বিচারের বিধান সন্নিবেশন করা।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ৪৭-ক নামে নতুন একটি অনুচ্ছেদ এবং ৪৭ নম্বর অনুচ্ছেদে একটি নতুন দফা যুক্ত করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান এবং আইন মন্ত্রণালয়।
১,৫৮২.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে’ নিয়োগদান করিবেন -  
  1. জাতীয় সংসদ
  2. নির্বাহী বিভাগ 
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. প্রধানমন্ত্রী 
ব্যাখ্যা
১১৮ নং অনুচ্ছেদ: নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা; 

• (১) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া] বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোন আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন।

• (২) একাধিক নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া নির্বাচন কমিশন গঠিত হইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাহার সভাপতিরূপে কার্য করিবেন।

• (৩) এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে কোন নির্বাচন কমিশনারের পদের মেয়াদ তাঁহার কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসরকাল হইবে এবং
- (ক) প্রধান নির্বাচন কমিশনার-পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, এমন কোন ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন না;
- (খ) অন্য কোন নির্বাচন কমিশনার অনুরূপ পদে কর্মাবসানের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনাররূপে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন, তবে অন্য কোনভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন না।

• (৪) নির্বাচন কমিশন দায়িত্বপালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন এবং কেবল এই সংবিধান ও আইনের অধীন হইবেন।
• (৫) সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশনারদের কর্মের শর্তাবলী রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ হইবে;
- তবে শর্ত থাকে যে, সুপ্রীম কোর্টের বিচারক যেরূপ পদ্ধতি ও কারণে অপসারিত হইতে পারেন, সেইরূপ পদ্ধতি ও কারণ ব্যতীত কোন নির্বাচন কমিশনার অপসারিত হইবেন না।
• (৬) কোন নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করিয়া স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৮৩.
বাংলাদেশের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা সংবিধানের কততম সংশোধনীর মাধ্যমে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. দশম
  2. দ্বাদশ
  3. পঞ্চদশ
  4. সপ্তদশ
ব্যাখ্যা

সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী:
- এই সংশোধনী আইন পাস হয় ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট।
- এ সংশোধনীর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।
- ১৯৯১ সালের ৬ই আগস্ট ৩০৭-০ ভোটে এ সংশোধনী বিলটি গৃহীত হয়।

⇒ এ সংশোধনীর বৈশিষ্ট্য:
(১) সংসদীয় সরকার: দ্বাদশ সংশোধনীর প্রধান দিক হল সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন। এ সংশোধনীর দ্বারা বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়।
(২) নামমাত্র রাষ্ট্রপতি: এ সংশোধনীর দ্বারা বাংলাদেশে একজন নামমাত্র রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। তিনি আইনানুসারে সংসদ সদস্য দ্বারা নির্বাচিত হবেন। তিনি যাবতীয় বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে কাজ করবেন।
(৩) রাষ্ট্রপতির মেয়াদ: এ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ নির্ধারিত হয়। রাষ্ট্রপতি ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। একাধিক্রমে তিনি ১০ বছরের বেশি মেয়াদে ক্ষমতায় থাকবেন না।
(৪) উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ: উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ দ্বাদ্বশ সংশোধনীর একটি উল্লেখযোগ্য দিক। দ্বাদশ সংশোধনীর দ্বারা উপ-রাষ্ট্রপতির পদটি বিলোপ করা হয়। এ সংশোধনীতে বলা হয়, কোন কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে জাতীয় সংসদের স্পীকার অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
(৫) মন্ত্রিসভা গঠন: মন্ত্রিসভা গঠন পদ্ধতি সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর একটি বিশেষ দিক। এ সংশোধনীতে বলা হয় বাংলাদেশ সরকার ব্যবস্থায় একটি মন্ত্রিসভা থাকবে। রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের আস্থাভাজন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করবেন। তিনি হবেন এ মন্ত্রিসভার নেতা।
(৬) গণভোট পদ্ধতি: এ সংশোধনীতে গণভোট পদ্ধতির কথা বলা হয়। দ্বাদশ সংশোধনী দ্বারা কেবল প্রস্তাবনা, সংবিধানের প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ সংক্রান্ত কোন সংশোধনী বিল গণভোট আকারে পেশ করার বিধান রাখা হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৮৪.
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পাল্টিয়ে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পুনরায় প্রবর্তন করা হয় সংবিধানের কততম সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. ১০ম
  2. ১১তম
  3. ১২তম
  4. ১৩তম
ব্যাখ্যা

দ্বাদশ সংশোধনী:
- রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পাল্টিয়ে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পুনরায় প্রবর্তন করা হয় দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।
- ১৯৯১ সালের ৬ই অগাষ্ট সংসদে সংশোধনীটি পাস হয়।

দ্বাদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু:
১. রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হন।
২. প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী বা সরকার প্রধান হন।
৩. প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।

১,৫৮৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি জরুরী-অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন?
  1. ১৪১ নং
  2. ১৪২ নং
  3. ১৪৩ নং
  4. ১৪৪ নং
ব্যাখ্যা
জরুরী-অবস্থা ঘোষণা: 
- সংবিধানের ১৪১ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের দ্বারা বাংলাদেশ বা তার অংশবিশেষে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বা অর্থনৈতিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হবার বা সংকটের সম্মুখিন হলে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
- সংবিধানের ১৪১(ক), ১৪১(খ) ও ১৪১(গ) অনুচ্ছেদের আওতায় দেশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবনে হুমকির কারণে জরুরি অবস্থা (সর্বাধিক ১২০ দিনের জন্য) ঘোষিত হতে পারে।
- সংবিধানে জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য ক্ষমতাসীন সরকারকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
- তাই এরূপ পরিস্থিতিতে সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন এবং জনগণের মৌলিক অধিকারসমূহ সাময়িকভাবে স্থগিত বা সীমিত করে দিতে পারেন।

অনুচ্ছেদ অনুযায়ী -
- যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরিণ গোলযোগের দ্বারা বিপদ আসন্ন বলে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হলে প্রকৃত যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন।
- জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হলে ঘোষণার পূর্বেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে।
- রাষ্টপতি তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্ত ব্যতীত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ১৪২ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।
- সংবিধানের ১৪৩ নং অনুচ্ছেদ: প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি। 
- সংবিধানের ১৪৪ নং অনুচ্ছেদ: সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৮৬.
গণ পরিষদের প্রথম ডেপুটি স্পিকার কে ছিলেন?
  1. আব্দুর রউফ
  2. শাহ আব্দুল হামিদ
  3. মোহাম্মদ উল্লাহ
  4. আব্দুল হামিদ খান
ব্যাখ্যা
গণপরিষদ:
-বাংলাদেশ গণপরিষদ হল ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সংবিধান অধিবেশন।
- রাষ্ট্রপতি গণপরিষদের আহ্বান করেন-১০ এপ্রিল ১৯৭২।
- গণপরিষদের স্পিকার ছিলেন- শাহ আব্দুল হামিদ।
- গণ পরিষদের ডেপুটি স্পিকার ছিলেন-মোহাম্মদ উল্লাহ।
- গণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন- মাওলানা আব্দুল রশিদ তর্কবাগী।
- গণ পরিষদের খসড়া সংবিধান উত্থাপিত হয় ১২ অক্টোবর ১৯৭২
- গৃহীত হয় -৪ নভেম্বর অক্টোবর ১৯৭২সালে।
- কার্যকর হয়-১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২সালে।

উল্লেখ্য: সংবিধান দিবস-৪ নভেম্বর ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৫৮৭.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্র নারী, শিশু বা অনগ্রসর নাগরিকদের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান তৈরির ক্ষমতা পায়?
  1. ২৮ (১)
  2. ২৮ (২)
  3. ২৮ (৩)
  4. ২৮ (৪)
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকার অংশে বিশেষ উদ্দেশ্যে মৌলিক অধিকার রহিত করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
- সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'নারী ও শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হতে এ অনুচ্ছেদের কোনোকিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করবে না।'

অন্যদিকে-
- সংবিধানের ২৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, বাসস্থান বা পেশাগত কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করা যাবে না।
- সংবিধানের ২৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষ সমান অধিকার লাভ করবে। 
- সংবিধানের ২৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,  ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী- পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাবে না’।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৮৮.
'বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট' এর প্রধান কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. স্পীকার
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান হলেন- রাষ্ট্রপতি
বাংলাদেশের সরকার প্রধান হলেন- প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় সংসদের প্রধান হলেন- স্পীকার 
প্রধান বিচারপতি হলেন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান 'বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট' এর প্রধান।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৫৮৯.
প্রজাতন্ত্র কোন যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে চাইলে অনুমোদনের প্রয়োজন হয় -
  1. ক) রাষ্ট্রপতির
  2. খ) জাতীয় সংসদের
  3. গ) প্রধানমন্ত্রীর
  4. ঘ) প্রধান বিচারপতির
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৬৩ : যুদ্ধ
(১) সংসদের সম্মতি ব্যতীত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না কিংবা প্রজাতন্ত্র কোন যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করবে না।   

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৯০.
সংসদ বিল রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হলে তিনি তাতে কত দিনের মধ্যে সম্মতি দান করবেন?
  1. ১২
  2. ১৫
ব্যাখ্যা
-সংবিধানের ৮০ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, আইন প্রণয়নের জন্যে সংসদে আনীত প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হয়।
- সংসদ বিল গ্রহণ করলে তা সম্মতির জন্যে রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হয়।
- সংসদ বিল রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হলে তিনি তাতে ১৫ দিনের মধ্যে সম্মতি দান করবেন।
- রাষ্ট্রপতি যদি বিলটি ফেরত পাঠান, তাহলে সংসদ তা গ্রহণ করবে।
- পুনরায় তা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হবে।

এছাড়াও

- তিনি তা ৭ দিনের মধ্যে সম্মতি দান না করলে, তাহলে উক্ত মেয়াদ শেষে তা তিনি বিলটিতে সম্মতি প্রধান করছেন বলে গণ্য কারা হবে।
- বিলটি আিইনে পরিণত হবে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৫৯১.
বাংলাদেশের সংবিধানে কয় ধরনের মালিকানার কথা উল্লেখ আছে?
  1. এক
  2. দুই
  3. তিন
  4. চার
ব্যাখ্যা
মালিকানা নীতি:
- বাংলাদেশ সংবিধানের একটা উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, এখানে তিন ধরনের মালিকানা নীতি স্বীকার করা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এগুলো হচ্ছে -
১. রাষ্ট্রীয় মালিকানা,
২. সমবায় মালিকানা এবং,
৩. ব্যক্তিগত মালিকানা।

⇒ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৩:
- মালিকানার নীতি- “উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদনব্যবস্থা ও বন্টনপ্রণালীসমূহের মালিক বা নিয়ন্ত্রক হইবেন জনগণ এবং এই উদ্দেশ্যে মালিকানা-ব্যবস্থা নিম্নরূপ হইবে:
(ক) রাষ্ট্রীয় মালিকানা, অর্থাৎ অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান প্রধান ক্ষেত্র লইয়া সুষ্ঠু ও গতিশীল রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারী খাত সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রের মালিকানা;
(খ) সমবায়ী মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে সমবায়সমূহের সদস্যদের পক্ষে সমবায়সমূহের মালিকানা; এবং
(গ) ব্যক্তিগত মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যক্তির মালিকানা৷”

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৯২.
কোন সংশোধনীর মাধ্যমে বেরুবাড়ীকে ভারতের নিকট হস্তান্তর করা হয়?
  1. প্রথম সংশোধনী
  2. দ্বিতীয় সংশোধনী
  3. তৃতীয় সংশোধনী
  4. চতুর্থ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের তৃতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে বেরুবাড়ীকে ভারতের নিকট হস্তান্তর করা হয়

তৃতীয় সংশোধনী:

- তৃতীয় সংশোধনীর শিরোনাম: সংবিধান [তৃতীয় সংশোধন) আইন, ১৯৭৪।
- সংসদে পাশের তারিখ ২৮ নভেম্বর, ১৯৭৪।
- তৃতীয় সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় ও সীমান্ত রেখা সংক্রান্ত একটি চুক্তি কার্যকর করা।

বেরুবাড়ি হস্তান্তর: 
- ভারত দক্ষিণ বেরুবাড়ি ইউনিয়ন নং ১২-এর দক্ষিণাংশ এবং সংলগ্ন ছিটমহলগুলি (যার মোট আয়তন প্রায় ২.৬৪ বর্গমাইল) নিজের কাছে রাখবে।
- এর বিনিময়ে বাংলাদেশ দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহলগুলি নিজের কাছে রাখবে।
- ভারত বাংলাদেশকে "তিন বিঘা" এলাকায় ১৭৮ মিটার x ৮৫ মিটার জমি স্থায়ীভাবে লিজ দেবে, যা দহগ্রামকে বাংলাদেশের পাটগ্রাম থানার পানবাড়ি মৌজার সঙ্গে সংযুক্ত করবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৯৩.
'জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক' সম্পর্কে বলা আছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ক) ১ নং
  2. খ) ২ নং
  3. গ) ৩ নং
  4. ঘ) ৪ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
-  ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
- প্রথম ভাগ:
- প্রজাতন্ত্র, 
- জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক,
৪ নং অনুচ্ছেদ:
(১) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা'র প্রথম দশ চরণ।
(২) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত।
(৩) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হইতেছে উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তাহার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পরসংযুক্ত পত্র, তাহার উভয় পার্শ্বে দুইটি করিয়া তারকা।
(৪) উপরি-উক্ত দফাসমূহ-সাপেক্ষে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কিত বিধানাবলী আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৯৪.
সংবিধানের মূলনীতি থেকে কোন শব্দটি বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে?
  1. বহুত্ববাদ
  2. সাম্য
  3. জাতীয়তাবাদ
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা
সংবিধানের মূলনীতি থেকে জাতীয়তাবাদ বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

সংবিধান সংস্কার কমিশন:

- ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’ গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
- ৯ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিশন গঠন করা হয়েছে।
- সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

⇒ সংবিধানের মূলনীতি:
- কমিশন সুপারিশ করছে যে, সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
- বাংলাদেশের সমাজের বহুত্ববাদী চরিত্রকে ধারণ করে এমন একটি বিধান সংবিধানে যুক্ত করা সমীচীন। সুতরাং, কমিশন নিম্নোক্ত বিধান অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করছে "বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী, বহু-জাতি, বহু-ধর্মী, বহু-ভাষী ও বহু-সংস্কৃতির দেশ যেখানে সকল সম্প্রদাযের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।
- কমিশন সংবিধানের মূলনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র এবং জাতীয়তাবাদ এবং এ সংশ্লিষ্ট সংবিধানের ৮, ৯, ১০ ও ১২ অনুচ্ছেদগুলি বাদ দেয়ার সুপারিশ করছে।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৮(১) অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি চারটি। যথা: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।
- সংবিধানের ২য় অধ্যায়ের ৮ম - ২৫তম অনুচ্ছেদ পর্যন্ত রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিগুলো বর্ণিত হয়েছে।
- এই চারটি মূলনীতিকে রাষ্ট্রের স্তম্ভ বা মৌলিক আদর্শ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

উৎস: i) সংবিধান সংস্কার কমিশন।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৯৫.
সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন পরিস্থিতিতে এবং কত সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতি সংসদ আহবান করতে বাধ্য?
  1. নির্বাচনের ২৫ দিনের মধ্যে; প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে
  2. নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে; সরকারী বিজ্ঞপ্তি দ্বারা
  3. নির্বাচনের ৩৫ দিনের মধ্যে; আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে
  4. নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে; প্রধান বিচারপতির পরামর্শে
ব্যাখ্যা

⇔সংসদের অধিবেশন:
• বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শের ভিত্তিতে সংসদ আহ্বান, স্থগিত অথবা ভেঙে দিতে পারেন।
- সংসদ কোথায় এবং কখন বসবে, তা সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি বা নির্ধারিত অন্য কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে ঠিক করা হয়।
- একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার পর ৬০ দিনের বেশি বিরতি রাখা যাবে না; অর্থাৎ সংসদ অধিবেশন সমাপ্তির পর ৬০ দিনের মধ্যে আবার অধিবেশন ডাকতে হবে।
• সংবিধানের ৭২(২) ধারায় বলা আছে, জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সরকারী বিজ্ঞপ্তি দ্বারা সংসদ আহ্বান করা বাধ্যতামূলক।
• এছাড়া, ৭২(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি রাষ্ট্রপতি পূর্বেই সংসদ ভেঙে না দেন, তাহলে প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে ৫ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ ভেঙে যাবে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

১,৫৯৬.
বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে জাতিসংঘের প্রতি সমর্থনের আবশ্যকতা তুলে ধরা হয়েছে?
  1. ক) ১৪১ ক
  2. খ) ৭
  3. গ) ১১
  4. ঘ) ২৫
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ও জাতিসংঘ

- বাংলাদেশ জাতিসংঘের সনদের প্রতি আস্থাশীল।
- বাংলাদেশ একটি শান্তিকামী রাষ্ট্র।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫নং অনুচ্ছেদে জাতিসংঘের প্রতি সমর্থনের আবশ্যকতা তুলে ধরা হয়েছে।
- বাংলাদেশ জাতিসংঘের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতি সবসময় আস্থাশীল এবং সক্রিয়ভাবে সদাসর্বদা কর্মরত।


আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন (অনুচ্ছেদ ২৫)
'জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি।'


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৫৯৭.
সংবিধানের কোন অধ্যায়ে 'সংবিধানের সংশোধন' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ৭ম অধ্যায়
  2. ৮ম অধ্যায়
  3. ৯ম অধ্যায়
  4. ১০ম অধ্যায়
ব্যাখ্যা

দশম অধ্যায়:
- সংবিধানের দশম অধ্যায়ে 'সংবিধানের সংশোধন' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- সংসদের আইন-দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা সংশোধিত হইতে পারিবে।
- অনুরূপ সংশোধনীর জন্য আনীত কোন বিলের সম্পূর্ন শিরনামায় এই সংবিধানের কোন বিধান সংশোধন করা হইবে বলিয়া স্পষ্টরূপে উল্লেখ না থাকিলে বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা যাইবে না।
- সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরূপ কোন বিলে সম্মতিদানের জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে না।
- উপরি-উক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তাহা উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন, এবং তিনি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৫৯৮.
বাংলাদেশ সংবিধানে কয়টি অধ্যায় রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ৪টি
  3. ৭টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানে ১১টি অধ্যায় রয়েছে।

বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন। 
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৫৯৯.
সংবিধান সংস্কার কমিশন সংবিধানের মূলনীতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি থেকে কোন বিষয়গুলো বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে?
  1. সাম্য এবং সামাজিক সুবিচার
  2. ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র এবং জাতীয়তাবাদ
  3. বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র
  4. জাতীয়তাবাদ এবং জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
সংবিধান সংস্কার কমিশন:
- ৯ সদস্য বিশিষ্ট সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

⇒ সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ:
- সংবিধান সংস্কার কমিশন একটি কার্যকর গণতন্ত্র, মৌলিক মানবধিকার সুনিশ্চিতকরণ এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাতটি প্রধান বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছে। সেগুলো যথাক্রমে:
১. ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান আদর্শ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনস্বরূপ সংবিধান ও রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে "সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র" প্রস্তাব,
২. ক্ষমতার প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা,
৩. প্রধানমন্ত্রী পদের একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস,
৪. অন্তবর্তী সরকার কাঠামোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব,
৫. বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ,
৬. শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সুনিশ্চিতকরণ,
৭. মৌলিক অধিকারের আওতা সম্প্রসারণ, সাংবিধানিক সুরক্ষা ও বলবৎযোগ্যতা নিশ্চিতকরণ।

⇒ এছাড়াও,
- সংবিধান কমিশন সুপারিশ করছে যে, সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
- বাংলাদেশের সমাজের বহুত্ববাদী চরিত্রকে ধারণ করে এমন একটি বিধান সংবিধানে যুক্ত করা সমীচীন। সুতরাং, কমিশন নিম্নোক্ত বিধান অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করছে "বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী, বহু-জাতি, বহু-ধর্মী, বহু-ভাষী ও বহু-সংস্কৃতির দেশ যেখানে সকল সম্প্রদাযের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।
- কমিশন সংবিধানের মূলনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র এবং জাতীয়তাবাদ এবং এ সংশ্লিষ্ট সংবিধানের ৮, ৯, ১০ ও ১২ অনুচ্ছেদগুলি বাদ দেয়ার সুপারিশ করছে।

উৎস: i) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ।
ii) সংবিধান সংস্কার কমিশন।
১,৬০০.
গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. ক) মাওলানা আব্দুল হামিদ খান
  2. খ) মাওলানা আব্দুর রশিদ
  3. গ) শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) আবু সাঈদ
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে গণপরিষদ গঠিত হয় যার প্রথম স্পীকার ছিলেন - শাহ আবদুল হামিদ ও ডেপুটি স্পীকার ছিলেন মোহাম্মদউল্লাহ। শাহ আবদুল হামিদ ১ মে, ১৯৭২ সাল পর্যন্ত স্পীকার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন (তখন এই সংসদ 'গণপরিষদ নামেই পরিচিত ছিল)। পরবর্তীতে ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে মোহাম্মদ উল্লাহ কে স্পিকার এবং মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ কে ডেপুটি স্পিকার নিযুক্ত করা হয়।। উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বরের আগে পর্যন্ত সংসদের নাম - 'গণপরিষদ' ছিল। এর প্রথম অধিবেশন বসে - ১০ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে এবং এতে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ।
বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয় এবং তখন থেকে সংসদ 'জাতীয় সংসদ' নামে অভিহিত হয়। ওইদিন থেকেই 'গণপরিষদ' বিলুপ্ত হয়। জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে - ৭ এপ্রিল, ১৯৭৩ সালে এবং তখন এর স্পীকার নির্বাচিত হন - মোহাম্মদউল্লাহ।
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এটা বলা যায় -
** গণপরিষদ/স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদের (গণপরিষদ) - এর প্রথম স্পীকার - শাহ আবদুল হামিদ ও ডেপুটি স্পীকার - মোহাম্মদউল্লাহ।
** জাতীয় সংসদের প্রথম স্পীকার - মোহাম্মদউল্লাহ ও ডেপুটি স্পীকার - মুহম্মদ বায়তুল্লাহ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইটে - প্রথম স্পীকার হিসাবে 'শাহ আবদুল হামিদ' - এর নাম দেওয়া রয়েছে।
উৎসঃ জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট, বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান।