বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সংবিধান

মোট প্রশ্ন২,৩৩১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সংবিধান

PrepBank · পাতা ১৫ / ২৪ · ১,৪০১১,৫০০ / ২,৩৩১

১,৪০১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ’বাংলাদেশের নাগরিকগণ বাংলাদেশী নামে’ উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদে- ৭ক
  2. অনুচ্ছেদে- ৫
  3. অনুচ্ছেদে- ৬
  4. অনুচ্ছেদ- ১
ব্যাখ্যা
• অনুচ্ছেদে- ৬:
- বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে। 
- বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলে পরিচিত হবেন।

• সংবিধানের অনুচ্ছেদ : 

- অনুচ্ছেদ- ১: প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ- ২: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ- ২(ক): রাষ্ট্রধর্ম।
- অনুচ্ছেদ- ৩: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা৷
- অনুচ্ছেদে- ৪: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- অনুচ্ছেদে- ৪(ক): জাতির পিতার প্রতিকৃতি।
- অনুচ্ছেদে- ৫: রাজধানী।
- অনুচ্ছেদে- ৬: নাগরিকত্ব।
- অনুচ্ছেদে- ৭: সংবিধানের প্রাধান্য।
- অনুচ্ছেদে- ৭ক: সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ।
- অনুচ্ছেদে- ৭খ: সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৪০২.
'নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা' সংবিধানের কোন ভাগে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ক) পঞ্চম
  2. খ) ষষ্ট
  3. গ) সপ্তম
  4. ঘ) অষ্টম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের সপ্তম ভাগে নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। 

- বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চম ভাগ- আইনসভা। 
- বাংলাদেশ সংবিধানের ষষ্ট ভাগ- বিচারবিভাগ। 
- বাংলাদেশ সংবিধানের অষ্টম ভাগ- মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক। 

সূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪০৩.
১৯৭২ সালের সংবিধানের চার মূলনীতি পুনর্বহাল করা হয়েছে সংবিধানের কততম সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. ক) ১৩ তম
  2. খ) ১৪ তম
  3. গ) ১৫ তম
  4. ঘ) ১৬ তম
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৭২'র সংবিধানের মূলনীতি পুনর্বহাল, ৭ই মার্চের ভাষণের সংযুক্তি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যাবস্থা বাতিল করা হয়৷
১,৪০৪.
পঞ্চম, ষষ্ঠ এবং সপ্তম তফসিল যুক্ত করা হয় কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. ক) দ্বাদশ
  2. খ) এয়োদশ
  3. গ) চতুর্দশ
  4. ঘ) পঞ্চদশ
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনী:-
উত্থাপন:২৫ জুন ২০১১.
উত্থাপনকারী:আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমদ উত্থাপন করেন।
গৃহীত: ৩০ জুন ২০১১.
রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ৩ জুলাই ২০১১ সালে।
বিষয়বস্তু-
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে পূর্বের ৪টি তফসিলের সাথে আরো নতুন ৩ টি ( পঞ্চম, ষষ্ঠ এবং সপ্তম ) তফসিল যুক্ত করা হয়েছে।
- ‘‘জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধের’’ শব্দগুলির পরিবর্তে [জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের] প্রতিস্থাপিত।
- প্রস্তাবনায় ‘‘বিস্‌মিল্লাহির-রহ্‌মানির রহিম (দয়াময়, পরম দয়ালু, আল্লাহের নামে)’’ এর সাথে ‘পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে’ সংযুক্ত করা হয়।
-  ৪ক অনুচ্ছেদ (জাতির পিতার প্রতিকৃতি) প্রতিস্থাপিত হয়। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪০৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের ২৫নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) মৌলিক অধিকার
  2. খ) রাজধানী
  3. গ) পররাষ্ট্রনীতি
  4. ঘ) গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত প্রশ্নের উত্তর : পররাষ্ট্র নীতি। 

- সংবিধানের ২৫নং অনুচ্ছেদে পররাষ্ট্রনীতি আন্তর্জাতিক শান্তি,নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- এখানে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তি।

সুত্র : বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪০৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’র কত চরণ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত?
  1. ক) প্রথম চার চরণ
  2. খ) প্রথম আট চরণ
  3. গ) প্রথম দশ চরণ
  4. ঘ) শেষের দশ চরণ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের ১ দফা অনুযায়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ সঙ্গীতের প্রথম দশ চরণ প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত।
(সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৪০৭.
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল আইন কত সালে পাস হয়? 
  1. ২০১৫ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৩ সালে
  4. ২০১১ সালে
ব্যাখ্যা

পঞ্চদশ সংশোধনী আইন: 
- সময়: জুলাই, ২০১১ সালে।
• বিষয়বস্তু:
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়।
- ১৯৭২ মূল সংবিধানের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি যথা: জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।
- রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখার পাশাপাশি সকল ধর্মচর্চার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়।
- জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পঞ্চদশ সংশোধনীর সংশোধনীর কিছু আইন সুপ্রিম কোট অবৈধ ঘোষণা করেছে। 

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

১,৪০৮.
বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিসে মোট ২৬টি ক্যাডারের মধ্যে সাধারণ ক্যাডার কয়টি?
  1. ক) ১৮টি
  2. খ) ১৪টি
  3. গ) ১২টি
  4. ঘ) ৮টি
ব্যাখ্যা

বর্তমানে পাবলিক সার্ভিসের ক্যাডার সংখ্যা – মোট ২৬টি।
২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর ইকোনমিক ক্যাডারকে প্রশাসন ক্যাডারের সাথে একীভূত করা হয়। এর ফলে ক্যাডার সংখ্যা ২৭ থেকে ২৬ – এ পরিণত হয়।
এগুলোর মধ্যে ১৪টি সাধারণ ও ১২টি পেশাগর/কারিগরি ক্যাডার।

সুত্রঃ Live MCQ স্পেশাল PDF (সিভিল সার্ভিস এবং মুজিব বর্ষ)।
১,৪০৯.
নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বাইরে থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা কী নামে পরিচিত?
  1. ক) প্রতিমন্ত্রী
  2. খ) উপমন্ত্রী
  3. গ) টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী
  4. ঘ) ট্যাকনিক্যাল মন্ত্রী
ব্যাখ্যা

- নির্বাচিত সদস্য সংসদ সদস্যদের বাইরে থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত।
- বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যের বাইরে থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যায় এক-দশমাংশ।
- অর্থাৎ ১০ শতাংশ সংসদ সদস্যের বাইরে থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যায়।

তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৪১০.
সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে কতটি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. ১৫টি
  2. ১৮টি
  3. ১৯টি
  4. ২১টি
ব্যাখ্যা

• মৌলিক অধিকার: 
- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৭ থেকে ৪৪ অনুচ্ছেদে যে ১৮টি অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে, সেগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে মৌলিক অধিকার।

- সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এগুলো আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য। এই অধিকারগুলো ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র প্রতিকার প্রদানে বাধ্য থাকে।
- সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই অধিকারগুলোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো আইন বাতিল বলে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য,
- মৌলিক অধিকারগুলো হলো: আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য, সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা, বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ, আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার, জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ, গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ, জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ, বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ, চলাফেরার স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা, পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ, দায়মুক্তি-বিধানের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৪১১.
‘শপথ ও ঘোষণা’ সংবিধানের কোন তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
  1. দ্বিতীয়
  2. তৃতীয়
  3. চতুর্থ
  4. পঞ্চম
ব্যাখ্যা

• 'শপথ ও ঘোষণা' সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে সংযোজন করা হয়েছে।

• বাংলাদেশ সংবিধান:
- বাংলাদেশ সংবিধানে সাতটি তফসিল রয়েছে।
- প্রথম তফসিল - অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল - রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।
- তৃতীয় তফসিল - শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল - ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- পঞ্চম তফসিল - ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল - স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল - স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

১,৪১২.
দেশের ইতিহাসে একমাত্র 'সাংবিধানিক গণভোট' অনুষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৯৮৫ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা

• গণভোট:
- ১৯৯১ সালে সাংবিধানিক গণভোেট তথা দেশের ৩য় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- এর মধ্যে দুটি প্রশাসনিক গণভোট এবং আরেকটি সাংবিধানিক গণভোট।
- প্রথম গণভোট হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালে।
- দ্বিতীয় গণভোট হয় রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৫ সালে।
- সর্বশেষ গণভোট ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

• তৃতীয় গণভোট: 
- গণ আন্দোলনে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদ।
- এর ৩ মাসের মধ্যে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি। 
- ১৬ বছরের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা থেকে প্রধানমন্ত্রীশাসিত সংসদীয় পদ্ধতির (পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি) সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট মধ্যরাতে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদে বিল পাস হয়।

তথ্যসূত্র: গণভোট আইন ১৯৯১ এবং  প্রথম আলো পত্রিকা। (Link)

১,৪১৩.
’জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ’-এটি সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ২২
  2. ৩৪(১)
  3. ৫৫
  4. ৯১(২)
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
→ সংবিধানের ৩৪(১) অনুচ্ছেদে সকল প্রকার জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
→ ৩৪ (১) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সকল প্রকার জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধ; এবং এই বিধান কোনভাবে লঙ্ঘিত হলে তা আইনতঃ দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।
→ (২) এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই সেই সকল বাধ্যতামূলক শ্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যেখানে
→ (ক) ফৌজদারী অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তি আইনতঃ দণ্ডভোগ করিতেছেন; অথবা
→ (খ) জনগণের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে আইনের দ্বারা তাহা আবশ্যক হইতেছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪১৪.
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নির্দেশনাসমূহ বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে?
  1. ২২
  2. ২৫
  3. ৬৩
  4. ৭৭
ব্যাখ্যা

পররাষ্ট্রনীতি:
- বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নির্দেশনা বর্ণিত হয়েছে।
এগুলি হলো:
- জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অপর রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা, এ সকল নীতিই হবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এ সকল নীতির ভিত্তিতে- 
- ১. রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকা এবং সাধারণ ও পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবে; প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবে; এবং সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ বা বর্ণ্যবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবে।
- ২. রাষ্ট্র ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক সংহত, সংরক্ষণ এবং জোরদার করতে সচেষ্ট হবে। 
অন্যদিকে,
- সংবিধানের ৬৩ অনুচ্ছেদে যুদ্ধ-ঘোষণা সংক্রান্ত নীতি উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে সংসদের সম্মতি ব্যতিত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না, কিংবা প্রজাতন্ত্র কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না।
- সংবিধানের ২২নং অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের কথা বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ২২নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল সম্পর্কে বলা আছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।

১,৪১৫.
মন্ত্রিসভা গঠিত হয় সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুসারে?
  1. ক) ৫৫ (১)
  2. খ) ৫৬ (১)
  3. গ) ৫৭
  4. ঘ) ৫৯
ব্যাখ্যা
মন্ত্রিসভা

৫৫। (১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী লইয়া এই মন্ত্রিসভা গঠিত হইবে।

(২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তত্বে এই সংবিধান-অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে।

(৩) মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন।

(৪) সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে।

(৫) রাষ্ট্রপতির নামে প্রণীত আদেশসমূহ ও অন্যান্য চুক্তিপত্র কিরূপে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত হইবে, রাষ্ট্রপতি তাহা বিধিসমূহ-দ্বারা নির্ধারণ করিবেন এবং অনুরূপভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত কোন আদেশ বা চুক্তিপত্র যথাযথভাবে প্রণীত বা সম্পাদিত হয় নাই বলিয়া তাহার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না। 

(৬) রাষ্ট্রপতি সরকারী কার্যাবলী বন্টন ও পরিচালনার জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করিবেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৪১৬.
সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ইংরেজী নাম কী?
  1. Parliament
  2. National Parliament 
  3. Legislature
  4. The House of the Nation
ব্যাখ্যা

⇒ সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ইংরেজী নাম 'The House of the Nation'.
→ সংবিধানের পঞ্চম ভাগে আইনসভার উল্লেখ রয়েছে।
→ সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে।

♦ জাতীয় সংসদ:
→ জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
→ দেশের সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এ সংসদের ওপর ন্যস্ত।
→ প্রতি নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
→ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে (২০১১) মহিলা আসন সংখ্যা ৫০ করা হয়।
→ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
→ জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
→ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়।
→ জাতীয় সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য কোরাম থাকতে হয়।
→ অধিবেশনে কোরামের জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন।
→ সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
→ ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৪১৭.
বাংলাদেশ সংবিধানের কত নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন?
  1. ৯৫
  2. ৯৬
  3. ৯৭
  4. ৯৮
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক:
- সংবিধানের ষষ্ঠভাগে বিচারবিভাগ ও ষষ্ঠভাগের প্রথম পরিচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী -
(১) প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করবেন।

(২) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হলে, এবং
ক) সুপ্রীম কোর্টে অন্যূন দশ বৎসরকাল এ্যাডভোকেট না থেকে থাকলে; অথবা
খ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্যূন দশ বৎসর কোন বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করে থাকলে; অথবা
গ) সুপ্রীমকোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থেকে থাকলে;
তিনি বিচারকপদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন না।

(৩) এই অনুচ্ছেদে ‘সুপ্রীম কোর্ট’ বলতে এই সংবিধান প্রবর্তনের পূর্বে যে কোন সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে আদালত হাইকোর্ট হিসাবে এখতিয়ার প্রয়োগ করিয়াছে, সেই আদালত অন্তর্ভুক্ত হইবে।

এছাড়াও,
- অনুচ্ছেদ ⎯ ৯৬: বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ⎯ ৯৭: অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ⎯ ৯৮: সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪১৮.
বাংলাদেশের সংবিধানে মোট কতটি তফসিল আছে?
  1. ৮টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের মোট ৭ টি তফসিল রয়েছে।

• সংবিধানের তফসিলসমূহ:
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- পঞ্চম তফসিলঃ ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

• বাংলাদেশ সংবিধান:

- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। যথা:-
- সংবিধানের প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

১,৪১৯.
সংবিধানের প্রস্তাবনার ৩য় ভাগে কোন অঙ্গীকার করা হয়েছে?
  1. মূলনীতি গ্রহণ
  2. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা
  3. সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা
  4. শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে। 
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)। 
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)। 
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)। 
• ৫ম- গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৪২০.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ মানুষের জীবন, স্বাধীনতা, দেহ বা সুনাম রক্ষার অধিকার নিশ্চিত করেছে?
  1. ৩১
  2. ৩৩
  3. ৩৬
  4. ৩৭
ব্যাখ্যা
সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ে মৌলিক অধিকার সমূহ বর্ণিত রয়েছে।
এই অধ্যায়ের ৩১ নং অনুচ্ছেদে "আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার" সম্পর্কে বলা হয়েছে।

অনুচ্ছেদ - ৩১: আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার
আইনের আশ্রয়লাভ এবং আইনানুযায়ী ও কেবল আইনানুযায়ী ব্যবহারলাভ যে কোন স্থানে অবস্থানরত প্রত্যেক নাগরিকের এবং সাময়িকভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত অপরাপর ব্যক্তির অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং বিশেষতঃ আইনানুযায়ী ব্যতীত এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে না, যাহাতে কোন ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে।

------------
৩৩ নং অনুচ্ছেদ - গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ
৩৬ নং অনুচ্ছেদ - চলাফেরার স্বাধীনতা
৩৭ নং অনুচ্ছেদ - সমাবেশের স্বাধীনতা

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪২১.
মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধের উল্লেখ রয়েছে সংবিধানের কোন সংশোধনীতে?
  1. ১ম সংশোধনী
  2. ২য় সংশোধনী
  3. ৩য় সংশোধনী
  4. ৪র্থ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
প্রথম সংশোধনী:

- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী গৃহীত হয় ১৯৭৩ সালে।
- সংসদে উত্তাপিত হয় ১২ জুলাই ১৯৭৩ সালে।
- বিলটি সংসদে পাশ হয় ১৫ জুলাই, ১৯৭৩ সালে।
- প্রথম সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তু ছিল ‘গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ আন্তর্জাতিক আইনে অন্যান্য অপরাধ' এর বিচার ও শাস্তি অনুমোদন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৪২২.
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪র্থ অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়বস্তু কী?
  1. নির্বাহী বিভাগ
  2. আইনসভা
  3. মৌলিক অধিকার
  4. নির্বাচন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন। 
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪২৩.
বাংলাদেশের সংবিধানে 'আন্তর্জাতিক চুক্তি' সম্পর্কে বলা হয়েছে -
  1. ১৪৫ক নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৪৪ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৪৬ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৪৮ (১) নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৫ক নং অনুচ্ছেদে 'আন্তর্জাতিক চুক্তি' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
⇒ ১৪৫ক। নং অনুচ্ছেদ:
- বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে, এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট অনুরুপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।

অন্যদিকে,
- ১৪৮ (১) নং অনুচ্ছেদ: তৃতীয় তফসিলে উল্লিখিত যে কোন পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তি কার্যভারগ্রহণের পূর্বে উক্ত তফসিল-অনুযায়ী শপথগ্রহণ বা ঘোষণা (এই অনুচ্ছেদে "শপথ" বলে অভিহিত) করবেন এবং অনুরূপ শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করবেন।
- ১৪৪ নং অনুচ্ছেদে 'সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৪৬ নং অনুচ্ছেদে 'বাংলাদেশের নামে মামলা' সম্পর্কে বলা হয়েছে। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪২৪.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ সম্পর্কিত?
  1. ৪২ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৪৩ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৪৪ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৪৫ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৪ নং অনুচ্ছেদ মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ সম্পর্কিত।
- এটি নাগরিকদের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৭(ক)) প্রদত্ত অধিকারগুলো বলবৎ করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে (অনুচ্ছেদ ১০২(১) অনুযায়ী) আবেদন করার অধিকার নিশ্চিত করে।
- এছাড়াও, এই অধিকার প্রয়োগের জন্য অন্য কোনো আদালতকে ক্ষমতা দিতে সংসদ আইন প্রণয়ন করতে পারে। 
- এই অনুচ্ছেদটি মৌলিক অধিকার প্রয়োগের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে যাওয়ার অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়।

উল্লেখ্য,
• ৪৪ (১) নং অনুচ্ছেদ: এই ভাগে প্রদত্ত অধিকারসমূহ বলবৎ করার জন্য এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা রুজু করিবার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা হলো।
• ৪৪ (২) নং অনুচ্ছেদ: এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোন আদালতকে তাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ঐ সকল বা উহার যে কোন ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করিতে পারিবেন।

এছাড়াও,
• কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা:
- অনুচ্ছেদ ১০২ নং: কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা-এর অধীনে বলা হয়েছে যে সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি এই অনুচ্ছেদের অধীন সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে হাইকোর্টে মামলা রজু বা রিট করতে পারবেন।
- সুতরাং, ৪৪ নং অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ বা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে মামলা করার অধিকার প্রদান করা হয়েছে এবং তৃতীয় ভাগের মৌলিক অধিকারসমূহ লঙ্ঘিত হলে ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা দায়ের করা যাবে।

অন্যদিকে,
- ৪২ নং অনুচ্ছেদ: সম্পত্তির অধিকার।
- ৪৩ নং অনুচ্ছেদ: গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ।
- ৪৫ নং অনুচ্ছেদ: শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৪২৫.
’মহা হিসাব-নিরীক্ষক পদের প্রতিষ্ঠা’ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদে- ১১৮
  2. অনুচ্ছেদে- ১২৭
  3. অনুচ্ছেদে- ৯৪
  4. অনুচ্ছেদে- ৬৪
ব্যাখ্যা

• মহা হিসাব-নিরীক্ষক পদের প্রতিষ্ঠা: 
- অনুচ্ছেদ- ১২৭: (১) বাংলাদেশের একজন মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (অতঃপর "মহা হিসাব-নিরীক্ষক" নামে অভিহিত) থাকবেন এবং তাঁহাকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগদান করবেন। 
 - (২) এই সংবিধান ও সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে মহা হিসাব-নিরীক্ষকের কর্মের শর্তাবলী রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ হইবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ- ১১৮: নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ- ৯৪: সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৪২৬.
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য কোন সংশোধনী করা হয়?
  1. ক) ১ম
  2. খ) ২য়
  3. গ) ৩য়
  4. ঘ) ৪র্থ
ব্যাখ্যা
সংবিধান (প্রথম সংশোধনী) আইন ১৯৭৩ঃ যুদ্ধাপরাধীসহ অন্যান্য মানবতাবিরোধী আপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা ।
১,৪২৭.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ‘সরকারি কর্ম কমিশন‘ (PSC) গঠনের উল্লেখ আছে?
  1. ক) ৩৬ নং অনুচ্ছেদে
  2. খ) ১২৭ নং অনুচ্ছেদে
  3. গ) ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে
  4. ঘ) ১৪০ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে 'সরকারি কর্ম কমিশন' গঠনের উল্লেখ করে বলা হয়েছে ‘আইনের দ্বারা বাংলাদেশের জন্য এক বা একাধিক সরকারী কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠার বিধান করা যাবে এবং একজন সভাপতিকে ও আইনের দ্বারা যেরূপ নির্ধারিত হবে, সেরূপ অন্যান্য সদস্যকে নিয়ে প্রত্যেক কমিশন গঠিত হবে’।

এছাড়াও-
- অনুচ্ছেদ- ৩৬ চলাফেরার স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ- ১২৭ মহা হিসাব-নিরীক্ষক পদের প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ- ১৪০ সরকারি কর্ম কমিশনের দ্বায়িত্ব।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান
১,৪২৮.
'সংবিধান সংস্কার কমিশন ' এর সুপারিশ মতে, উচ্চকক্ষের সংরক্ষিত পাঁচজন সদস্য কে নির্বাচন করবেন?
  1. স্পীকার
  2. নির্বাচন কমিশন প্রধান
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা

• 'সংবিধান সংস্কার কমিশন ' এর সুপারিশ:

উচ্চকক্ষ:
১। উচ্চকক্ষ মোট ১০৫ (একশো পাঁচ) জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে; এর মধ্যে ১০০ জন সদস্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের সংখ্যানুপাতে নির্ধারিত হবেন। রাজনৈতিক দলগুলো সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (Proportional Representation-PR) পদ্ধতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের মনোনয়ের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ (একশো) জন প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে। এই ১০০ (একশো) জন প্রার্থীর মধ্যে কমপক্ষে ৫ জন আইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করবে।
- অবশিষ্ট ৫টি আসন পূরণের জন্য রাষ্ট্রপতি নাগরিকদের মধ্য থেকে (যারা কোনো কক্ষেরই সদস্য ও রাজনৈতিক দলের সদস্য নন) প্রার্থী মনোনীত করবেন।
২। কোনো রাজনৈতিক দলকে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্বের যোগ্য হতে হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১% নিশ্চিত করতে হবে।
৩। উচ্চকক্ষের স্পিকার সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন।
৪। উচ্চকক্ষের একজন ডেপুটি স্পিকার থাকবেন যিনি সরকার দলীয় সদস্য ব্যতিত উচ্চকক্ষের অন্য সকল সদস্যের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন।

উৎস: সংবিধান সংস্কার কমিশন।

১,৪২৯.
হাতে লেখা বাংলাদেশের সংবিধানের কপিতে স্বাক্ষর প্রদান করেন কত জন?
  1. ৩০১
  2. ৩৯৯
  3. ২৯৫
  4. ৪০০
ব্যাখ্যা
- হাতে লেখা সংবিধানের কপিতে স্বাক্ষর প্রদান করেন -.৩৯৯ জন ।
- সংবিধানের হস্তলিপির কাজ করেছেন - এ কে এম আব্দুর রউফ ।
- হাতে লেখা  সংবিধানের পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল - ১০৯।
উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৪৩০.
সংবিধানের প্রস্তাবনার প্রথম ভাগে কী উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. মূলনীতি গ্রহণ
  2. শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা
  3. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা
  4. সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা
ব্যাখ্যা
প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে।

- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)।
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)।
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)।
• ৫ম- গনপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪৩১.
বাংলাদেশের সংবিধানের ৮১নং অনুচ্ছেদে কী নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. অর্থবিল
  2. আইন প্রণয়ন পদ্ধতি
  3. অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা
  4. বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৮১ নং অনুচ্ছেদে 'অর্থবিল' সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

৮১। অর্থবিল:

(১) এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, “অর্থবিল” বলতে সেই সব বিলকে বোঝায়, যেগুলোর মধ্যে কর আরোপ, রদবদল বা মওকুফ, সরকারি ঋণ গ্রহণ বা গ্যারান্টি দেওয়া, সংযুক্ত তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় বা বরাদ্দ, তহবিলের হিসাব-নিকাশ ও সরকারের আর্থিক দায়দায়িত্বের বিষয় থাকে। এ ছাড়া এসব বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো বিষয় থাকলেও সেটি অর্থবিল হিসেবে গণ্য হবে।

(২) কোনো জরিমানা, ফি, উসুল বা স্থানীয় সরকারের কর সংক্রান্ত বিষয় থাকলেই কোনো বিলকে অর্থবিল বলা যাবে না—এই কারণে সেটা অর্থবিল হবে না।

(৩) অর্থবিল রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানোর সময় স্পীকারকে অবশ্যই একটি সনদ দিতে হবে যে, এটি একটি অর্থবিল। এই সনদ চূড়ান্ত হবে, এবং এ বিষয়ে আদালতে কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না।

অন্যদিকে:
- অনুচ্ছেদ ৮০: আইন প্রণয়ন পদ্ধতি।
- অনুচ্ছেদ ৯৩: অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৮৭: বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪৩২.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সংসদের অধিবেশনের উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৭২
  2. অনুচ্ছেদ ৭৪
  3. অনুচ্ছেদ ৭৭
  4. অনুচ্ছেদ ৭৯
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৭১ - দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা।
- অনুচ্ছেদ ৭২ - সংসদের অধিবেশন।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ - সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ক - সংসদ সম্পর্কে মন্ত্রীগণের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৪ - স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৫ - কার্যপ্রণালী-বিধি, কোরাম প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৭৬ - সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ।
- অনুচ্ছেদ ৭৭ - ন্যায়পাল।
- অনুচ্ছেদ ৭৮ - সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ৭৯ - সংসদ-সচিবালয়।
- অনুচ্ছেদ ৮০ - আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৪৩৩.
সংবিধানের সর্বশেষ [মে, ২০২৫] সংশোধনী হয় -
  1. ২০১৮ সালে
  2. ২০১৯ সালে
  3. ২০২১ সালে
  4. ২০২৩ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয় ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।

⇒ সংবিধান সংশোধন হয়েছে ১৭ বার।
- এর মধ্যে চারটি সংশোধনী ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছে।
- সংবিধানের ১৭টি সংশোধনীর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ে ৪ বার, জিয়াউর রহমানের সময় ২ বার, এরশাদের সময় ৪ বার, শেখ হাসিনার সরকারের সময় ৩ বার ও খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে ৪ বার সংবিধান সংশোধন করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই সংসদে সংবিধানের ১ম সংশোধনী পাশ হয়।
- সংবিধানের সর্বশেষ, অর্থাৎ সপ্তদশ সংশোধনী হয় ২০১৮ সালের ৮ জুলাই।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) দৈনিক ইত্তেফাক।
১,৪৩৪.
সর্বশেষ কোন সংশোধনী হাইকোর্ট কর্তৃক বাতিল বলে ঘোষিত হয়েছে?
  1. ক) পঞ্চম সংশোধনী
  2. খ) ষোড়শ সংশোধনী
  3. গ) সপ্তম সংশোধনী
  4. ঘ) ত্রয়োদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানে বর্তমান পর্যন্ত মোট ১৭টি সংশোধনী আনা হয়। এর মধ্যে চারটি সংশোধনী হাইকোর্ট কর্তৃক বাতিল বলে ঘোষিত হয়েছে। এগুলো হলো:
- পঞ্চম সংশোধনী (১৯৭৯) : বাতিল (আগস্ট ২০০৫)
- সপ্তম সংশোধনী (১৯৮৬) : বাতিল (আগস্ট ২০১০)
- ত্রয়োদশ সংশোধনী (১৯৯৬) : বাতিল (২০১১)
- ষোড়শ সংশোধনী (২০১৪) : বাতিল (২০১৭)।
একাদশ, দ্বাদশ, ষোড়শ ও সপ্তদশ সংশোধনী বিরোধীদলের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে সর্বসম্মতিভাবে পাস হয়।

(সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন)
১,৪৩৫.
সংবিধান সংস্কার কমিশন কতটি রাষ্ট্রের মূলনীতি সুপারিশ করেছেন?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৩টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

• সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ:
- সংবিধান সংস্কার কমিশন একটি কার্যকর গণতন্ত্র, মৌলিক মানবধিকার সুনিশ্চিতকরণ এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাতটি প্রধান বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছে।
- সেগুলো যথাক্রমে:
১. ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান আদর্শ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনস্বরূপ সংবিধান ও রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে "সাম্য, মানবিক মর্যাদাসামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র" প্রস্তাব,
২. ক্ষমতার প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা,
৩. প্রধানমন্ত্রী পদের একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস,
৪. অন্তবর্তী সরকার কাঠামোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব,
৫. বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ,
৬. শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সুনিশ্চিতকরণ,
৭. মৌলিক অধিকারের আওতা সম্প্রসারণ, সাংবিধানিক সুরক্ষা ও বলবৎযোগ্যতা নিশ্চিতকরণ।

• সংবিধানের মূলনীতি:
- ৫.১ কমিশন সুপারিশ করছে যে, সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
- ৫.২ বাংলাদেশের সমাজের বহুত্ববাদী চরিত্রকে ধারণ করে এমন একটি বিধান সংবিধানে যুক্ত করা সমীচীন। সুতরাং, কমিশন নিম্নোক্ত বিধান অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করছে "বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী, বহু-জাতি, বহু-ধর্মী, বহু-ভাষী ও বহু-সংস্কৃতির দেশ যেখানে সকল সম্প্রদাযের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।

• রাষ্ট্রের মূলনীতি:
- কমিশন সংবিধানের মূলনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র এবং জাতীযতাবাদ এবং এ সংশ্লিষ্ট সংবিধানের ৮, ৯, ১০ ও ১২ অনুচ্ছেদগুলি বাদ দেয়ার সুপারিশ করছে।

উৎস: i) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ।
ii) সংবিধান সংস্কার কমিশন।

১,৪৩৬.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন
  1. ৪৮ নং
  2. ৬৬ নং
  3. ৭২(১) নং
  4. ৭৬(১) নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ৭২(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন।

⇒ তবে এক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করবেন।
- নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ও নতুন বছরের অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণদান করেন।
- রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদে আলোচনা হয়।
- সময়ে সময়ে রাষ্ট্রপতি সংসদে বাণী প্রেরণ করেন।
- তিনি সংসদ মুলতবি রাখতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে তিনি সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারেন।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় স্পিকার যথাক্রমে জাতীয় সংসদের নেতা ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- আর চিপ হুইপ সংসদ সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় বিধানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৪৩৭.
'পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন' এর কথা বলা হয়েছে -
  1. ১৬ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৮ (১) নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৮ক নং অনুচ্ছেদে
  4. ২১ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১৮(ক) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে,
• দ্বিতীয় ভাগ
• রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
- রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব- বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করবেন।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১৮ক নং অনুচ্ছেদে 'পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন' এর কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে -
- ১৮ (১) নং অনুচ্ছেদ: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।
- ১৬ নং অনুচ্ছেদ: গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।
- ২১ নং অনুচ্ছেদ: নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪৩৮.
বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি কে?
  1. ক) বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ
  2. খ) বিচারপতি মোস্তফা কামাল
  3. গ) বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
  4. ঘ) বিচারপতি কামাল হোসেন
ব্যাখ্যা
বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম দেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি। আর বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ ও বিচারপতি মোস্তফা কামাল যথাক্রমে দেশের ষষ্ঠ ও নবম বিচারপতি।
উৎসঃ আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১,৪৩৯.
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে কোন সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল?
  1. সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা
  2. সামরিক সরকার ব্যবস্থা
  3. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
  4. রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০ জুন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূলনীতিগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয়, তবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখা হয়।
- এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি, পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা প্রশ্নে ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে হাইকোর্ট একটি রুলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেছেন।
- সেই সাথে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে এনেছেন আদালত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান ও প্রথম আলো নিউজ। [link]
১,৪৪০.
সংবিধানের কোন অংশে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি রয়েছে?
  1. দ্বিতীয় অধ্যায়
  2. তৃতীয় অধ্যায়
  3. চতুর্থ অধ্যায়
  4. ষষ্ঠ অধ্যায়
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি: 
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ২য় অধ্যায়ের ৮ম অনুচ্ছেদ থেকে ২৫তম অনুচ্ছেদ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলো বর্ণিত হয়েছে।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এই চারটি বিষয়কে রাষ্ট্রের স্তম্ভ বা মৌলিক আদর্শ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
- এ  চারটি নীতিসহ ২য় ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলে গণ্য হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান। 
১,৪৪১.
জাতীয় সংসদের নেতা কে?
  1. চিফ হুইপ
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. স্পিকার
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদের নেতা হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- তার নেতৃত্বেই জাতীয় সংসদে আইন প্রণীত হয় এবং তার পরামর্শেই রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহবান, স্থগিত ও ভঙ্গ করে থাকেন।
- তিনি বাংলাদেশের সরকার এবং মন্ত্রিসভার প্রধান। তার নেতৃত্বেই সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হয়। এজন্যে তাকে ‘সরকারের স্তম্ভ’ হিসেবে অভিহিত করা।
অন্যদিকে,
- স্পিকার হলেন জাতীয় সংসদের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৪৪২.
সংবিধানের মৌলিক অধিকার শুরু হয় কোন অনুচ্ছেদ থেকে?
  1. ২৬ অনুচ্ছেদে
  2. ২৭ অনুচ্ছেদে
  3. ২৮ অনুচ্ছেদে
  4. ২৯ অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
মৌলিক অধিকার: 
- মৌলিক অধিকার বলতে বোঝায়, রাষ্ট্র প্রদত্ত সেসব সুযোগ-সুবিধা যা নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
- সংবিধানের সংশোধন কিংবা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করা যায় না।
- সংবিধানে মৌলিক অধিকার লিপিবদ্ধ থাকার কারণে এগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকৃত।
- উত্তম সংবিধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে মৌলিক অধিকার সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করা।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকার সম্পর্কিত বিধানসমূহ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে অন্তর্ভুক্ত। এই ভাগের সূচনা অনুচ্ছেদ ২৬ দিয়ে, যেখানে বলা হয়েছে যে, মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী কোনো আইন বৈধ নয় এবং তা বাতিল বলে গণ্য হবে। যদিও অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৭ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারসমূহ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ আছে। সংবিধানের মৌলিক অধিকার শুরু হয় ২৭ নং অনুচ্ছেদ থেকে। 

উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৪৩.
জাতীয় সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দান করাকে কী বলা হয়?
  1. কাস্টিং ভোট
  2. ফ্লোর ক্রসিং
  3. নির্ণায়ক ভোট
  4. ক্রস ভোট
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করা বা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলাকে ফ্লোর ক্রসিং বলা হয়।
বাংলাদেশ সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে সেই দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান বা সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।

অন্যদিকে,
কাস্টিং ভোট বা নির্ণায়ক ভোট হলো স্পিকার প্রদত্ত ভোট।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৪৪৪.
সংবিধানের ২৫নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন
  2. মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল
  3. সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা
  4. বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ২৫ - আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ২৬ - মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল।
- অনুচ্ছেদ ২৮ - ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।
- অনুচ্ছেদ ২৯ - সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা।
- অনুচ্ছেদ ৩০ - বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ।
- অনুচ্ছেদ ৩১ - আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৩২ - জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ ৩৩ - গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ।
- অনুচ্ছেদ ৩৪ - জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ।
- অনুচ্ছেদ ৩৫ - বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৪৪৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতির উল্লেখ আছে কত নাম্বার অনুচ্ছেদে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৯
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৮
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ২য় ভাগে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিসমূহ বর্ণিত হয়েছে এবং.২য় ভাগের ৮ম অনুচ্ছেদে ৪ টি মূলনীতির উল্লেখ রয়েছে। মূলনীতি গুলো হছে - জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা। উৎসঃ বাংলাদেশ সংবিধান
১,৪৪৬.
সংসদের কোরাম সর্বনিম্ন কত জনের উপস্থিতিতে হয়?
  1. ক) ৩০
  2. খ) ৬০
  3. গ) ৮০
  4. ঘ) ৯০
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কোরাম হয় ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৭৫ (২) নং অনুচ্ছেদে কোরামের কথা উল্লেখ আছে।
- ৬০ জন সদস্যের কম সদস্য সংসদে উপস্থিত হলে সংসদ অধিবেশন স্থগিত থাকবে।
- ৬০ সংসদ সদস্য হওয়ার আগ পর্যন্ত অধিবেশন বন্ধ থাকবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান 
১,৪৪৭.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৯২
  2. অনুচ্ছেদ ৯৩
  3. অনুচ্ছেদ ৯৪
  4. অনুচ্ছেদ ৯৫
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৯০ - নির্দিষ্টকরণ আইন।
- অনুচ্ছেদ ৯১ - সম্পূরক ও অতিরিক্ত মঞ্জুরী।
- অনুচ্ছেদ ৯২ - হিসাব, ঋণ প্রভৃতির উপর ভোট।
- অনুচ্ছেদ ৯৩ - অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৯৪ - সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৯৫ - বিচারক-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৬ - বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৯৭ - অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৮ - সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ।
- অনুচ্ছেদ ৯৯ - অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১০০ - সুপ্রীম কোর্টের আসন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৪৪৮.
বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকের 'চলাফেরার স্বাধীনতার' অধিকার কোন অনুচ্ছেদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. ৩৮ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৩৬ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৩৭ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৩৪ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ৩৬: চলাফেরার স্বাধীনতা
জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ- সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা, ইহার যে কোন স্থানে বসবাস ও বসতিস্থাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।

অন্যদিকে,
- ৩৪ অনুচ্ছেদ: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ।
-  ৩৭ অনুচ্ছেদ: সমাবেশের স্বাধীনতা।
- ৩৮ অনুচ্ছেদ: সংগঠনের স্বাধীনতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৪৪৯.
সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. ১৪২
  2. ১২৪
  3. ১১৮
  4. ১০৮
ব্যাখ্যা

১৪২ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা-
- সংবিধানের ১৪২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সংবিধানের কোনো বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের মাধ্যমে সংশোধন করতে পারে।
- তবে এর জন্য কিছু শর্ত রয়েছে-
• প্রথমত, সংশোধনীর বিলের সম্পূর্ণ শিরোনামে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে কোন বিধান সংশোধন করা হবে।
• দ্বিতীয়ত, সংসদের মোট সদস্যসংখ্যার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোট দ্বারা বিল গৃহীত হতে হবে;
- অন্যথায় এটি রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন করা যাবে না। 
• তৃতীয়ত, রাষ্ট্রপতি বিলটি পাসের জন্য সাত দিনের মধ্যে সম্মতি দিতে হবে;
- আর যদি তিনি দেওয়ার ক্ষমতা না রাখেন, তবে সেই সময়সীমা শেষে বিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে।

অন্যদিকে,
• ১২৪ অনুচ্ছেদ — নির্বাচন সম্পর্কিত বিধানপ্রণয়ন:
- সংসদের ১২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ আইনের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পর্কিত বিষয়গুলি নির্ধারণ করতে পারে।
• এর মধ্যে রয়েছে- 
- নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ,
- ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা,
- নির্বাচন পরিচালনা এবং
- সংসদের সঠিক গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিধান প্রণয়ন করা।

• ১০৮ অনুচ্ছেদ — সুপ্রিম কোর্টের কোর্ট অব রেকর্ড স্বরূপ ক্ষমতা:
- সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদ মতে, সুপ্রিম কোর্ট একটি কোর্ট অফ রেকর্ড; তার আদেশ এবং রায় চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে এবং
- কোন বাক্তি  আদালত এর সিদ্ধান্তের অবমাননা করলে সুপ্রিম কোর্ট তদন্ত ও শাস্তিসহ তার সমস্ত সংবিধিবদ্ধ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে ওই বাক্তির বিরুদ্ধে।

• ১১৮ অনুচ্ছেদ — নির্বাচন কমিশন:
- ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে, যার প্রধান হবেন একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং
- সদস্য হিসেবে সর্বোচ্চ চারজন নির্বাচন কমিশনার থাকবেন।

উৎস: Laws Of Bangladesh. 

১,৪৫০.
নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের রক্ষক হচ্ছে-
  1. বিচার বিভাগ
  2. ন্যায়পাল
  3. জাতিসংঘ
  4. সংবিধান
ব্যাখ্যা
- নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো রাষ্ট্রের সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকলে তা সাংবিধানিক আইনের মর্যাদা লাভ করে।
- এর ফলে সরকার এ সমস্ত অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। নাগরিকগণ তাদের অধিকার ভোগ করতে কোনো প্রকার সরকারি বাধার সম্মুখীন হয় না।
- তাই সংবিধান মৌলিক অধিকারের রক্ষক।
- মানবাধিকারের উৎস ও রক্ষক জাতিসংঘ।
- মৌলিক অধিকারের উৎস রাষ্ট্রের সংবিধান এবং রক্ষক রাষ্ট্র ও সংবিধান।
- মানবাধিকার একটি আন্তর্জাতিক অধিকার।
- এর পরিধি ব্যাপক ও বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৪৫১.
সংবিধান অনুসারে, মন্ত্রী ও প্রতি-মন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী 
  3. স্পিকার
  4. ডেপুটি স্পিকার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিল: [১৪৮ অনুচ্ছেদ]
- শপথ ও ঘোষণা।
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ৯টি পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তির শপথগ্রহণ বা ঘোষণাপত্র পাঠের বিষয় উল্লেখ আছে।

⇒ সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:
১। রাষ্ট্রপতি [শপথ বাক্য পাঠ করান স্পীকার]।
২। প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতি-মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৩। স্পীকার [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৩। ডেপুটি স্পীকার [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৫। সংসদ সদস্য [শপথ বাক্য পাঠ করান স্পীকার]।
৬। প্রধান বিচারপতি বা বিচারক [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৭। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি]।
৮। মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি।
৯। সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি]।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৪৫২.
‘আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে সংসদে আনীত প্রত্যেকটি প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হইবে’ - এটি নিচের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে? 
  1. ৭৯ নং অনুচ্ছেদে
  2. ৮০ নং অনুচ্ছেদে
  3. ৮১ নং অনুচ্ছেদে
  4. ৮২ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
♠♠ ৮০ নং অনুচ্ছেদ: আইন প্রণয়ন-পদ্ধতি; 

- (১) আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে সংসদে আনীত প্রত্যেকটি প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হইবে।

- (২) সংসদ কর্তৃক কোন বিল গৃহীত হইলে সম্মতির জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিতে হইবে।

- (৩) রাষ্ট্রপতির নিকট কোন বিল পেশ করিবার পর পনর দিনের মধ্যে তিনি তাহাতে সম্মতিদান করিবেন কিংবা অর্থবিল ব্যতীত অন্য কোন বিলের ক্ষেত্রে বিলটি বা তাহার কোন বিশেষ বিধান পুনর্বিবেচনার কিংবা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্দেশিত কোন সংশোধনী বিবেচনার অনুরোধ জ্ঞাপন করিয়া একটি বার্তাসহ তিনি বিলটি সংসদে ফেরত দিতে পারিবেন; এবং রাষ্ট্রপতি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।

- (৪) রাষ্ট্রপতি যদি বিলটি অনুরূপভাবে সংসদে ফেরত পাঠান, তাহা হইলে সংসদ রাষ্টপতির বার্তাসহ তাহা পুনর্বিবেচনা করিবেন; এবং সংশোধনীসহ বা সংশোধনী ব্যতিরেকে সংসদ পুনরায় বিলটি গ্রহণ করিলে সম্মতির জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে এবং অনুরূপ উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন; এবং রাষ্ট্রপতি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।

- (৫) সংসদ কর্তৃক গৃহীত বিলটিতে রাষ্ট্রপতি সম্মতিদান করিলে বা তিনি সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইলে তাহা আইনে পরিণত হইবে এবং সংসদের আইন বলিয়া অভিহিত হইবে।

♣♣
- ৭৯ নং অনুচ্ছেদ: সংসদ-সচিবালয়। 
- ৮১ নং অনুচ্ছেদ: অর্থবিল। 
- ৮২ নং অনুচ্ছেদ: আর্থিক ব্যবস্থাবলীর সুপারিশ। 

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪৫৩.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ”অর্থ বিল” সম্পর্কিত বিধানাবলী উল্লেখ আছে?
  1. ৮০ নং
  2. ৮১ নং
  3. ৮২ নং
  4. ৮৪ নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ৮১ অনুচ্ছেদ ”অর্থ বিল” সম্পর্কিত।

৮১(১) এই ভাগে "অর্থবিল" বলিতে কেবল নিম্নলিখিত বিষয়সমূহের সকল বা যে কোন একটি সম্পর্কিত বিধানাবলী-সংবলিত বিল বুঝাইবে: 
 
(ক) কোন কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণ; 
 (খ) সরকার কর্তৃক ঋণগ্রহণ বা কোন গ্যারান্টিদান, কিংবা সরকারের আর্থিক দায়-দায়িত্ব সম্পর্কিত আইন সংশোধন; 
 (গ) সংযুক্ত তহবিলের রক্ষণাবেক্ষণ, অনুরূপ তহবিলে অর্থপ্রদান বা অনুরূপ তহবিল হইতে অর্থ দান বা নির্দিষ্টকরণ; 
 (ঘ) সংযুক্ত তহবিলের উপর দায় আরোপ কিংবা অনুরূপ কোন দায় রদবদল বা বিলোপ; 
 (ঙ) সংযুক্ত তহবিল বা প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব বাবদ অর্থপ্রাপ্তি, কিংবা অনুরূপ অর্থ রক্ষণাবেক্ষণ বা দান, কিংবা সরকারের হিসাব-নিরীক্ষা; 
 (চ) উপরি-উক্ত উপ-দফাসমূহে নির্ধারিত যে কোন বিষয়ের অধীন কোন আনুষঙ্গিক বিষয়। 
৮১(২) কোন জরিমানা বা অন্য অর্থদণ্ড আরোপ বা রদবদল, কিংবা লাইসেন্স-ফি বা কোন কার্যের জন্য ফি বা উসুল আরোপ বা প্রদান কিংবা স্থানীয় উদ্দেশ্যসাধনকল্পে কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কোন কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণের বিধান করা হইয়াছে, কেবল এই কারণে কোন বিল অর্থবিল বলিয়া গণ্য হইবে না। 
 ৮১(৩) রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য তাঁহার নিকট পেশ করিবার সময়ে প্রত্যেক অর্থবিলে স্পীকারের স্বাক্ষরে এই মর্মে একটি সার্টিফিকেটে থাকিবে যে, তাহা একটি অর্থবিল, এবং অনুরূপ সার্টিফিকেট সকল বিষয়ে চূড়ান্ত হইবে এবং সেই সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

অন্যদিকে,
• সংবিধানের ৮০ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে- আইন প্রনয়ন পদ্ধতি।
• সংবিধানের ৮২ আর্টিকেলে ”আর্থিক ব্যবস্থাবলীর সুপারিশ” সম্পর্কিত।
• সংবিধানের ৮৪ আর্টিকেলে ”সংযুক্ত তহবিল ও প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব” সম্পর্কিত।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৪৫৪.
কততম সংশোধনীতে 'বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা' চালু হয়?
  1. ক) ৩য়
  2. খ) ৪র্থ
  3. গ) ৫ম
  4. ঘ) ৬ষ্ঠ
ব্যাখ্যা
৪র্থ সংশোধনী:
- ৪র্থ সংশোধনী বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের বদলে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু হয়।
- দেশে একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করা হয়।
- যার নাম ছিল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক লীগ (বাকশাল)।
- ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী গৃহীত হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
         ii) পৌরনীতি, বাংলাদেশের সংবিধান, এস এস সি প্রোগ্রাম।
১,৪৫৫.
সংবিধান সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদের মোট কত সংখ্যক সদস্যের সম্মতির প্রয়োজন হয়?
  1. অর্ধেক সংসদ সদস্যের সম্মতি
  2. এক-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের সম্মতি
  3. দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের সম্মতি
  4. এক-চতুর্থাংশ সংসদ সদস্যের সম্মতি
ব্যাখ্যা
সংবিধান সংশোধন:

- সংবিধানের দশম ভাগে ১৪২ নং অনুচ্ছেদে সংবিধান সংশোধন বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের জন্যে জাতীয় সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতির প্রয়োজন হয়।
- সংবিধান সংশোধনী বিলে রাষ্টপতিকে সাত দিনের মধ্যে স্বাক্ষর করতে হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৪৫৬.
When was the first amendment of the constitution of Bangladesh has been adopted?
  1. June 1973
  2. July 1973
  3. August 1973
  4. September 1973
  5. October 1973
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম সংশোধনী:
- ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সংবিধানে প্রথম সংশোধনী আনা হয়।

উল্লেখ্য,
- এ সংশোধনীতে বাংলাদশ সংবিধানের ৪৭নং অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করা হয়।
- উক্ত সংশোধনীর মাধ্যমে ৪৭-(ক) নামে একটি নতুন অনুচ্ছেদ সন্নিবেশিত হয়েছে।
- প্রথম সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তু ছিল 'গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনে অন্যান্য অপরাধ' এর বিচার ও শাস্তি অনুমোদন।
- এ সংশোধনীর ফলে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধী ও গণহত্যার অভিযোগে বন্দিদের বিচারের পথ সহজ হয়।
 
উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৫৭.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম?
  1. বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্র
  2. বাংলাদেশ
  3. বাংলাদেশ ইসলামী প্রজাতন্ত্র
  4. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
• প্রজাতন্ত্র:
-  বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র,
- “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ” নামে পরিচিত হবে৷ 
- এটি সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।
-  রাষ্ট্রধর্ম:  প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম।
- তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করবে।

উল্লেখ্য,
- প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানার অন্তর্ভুক্ত হবে:
- ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা-ঘোষণার অব্যবহিত পূর্বে যে সকল এলাকা নিয়ে পূর্ব পাকিস্তান গঠিত ছিল।
-  এবং সংবিধান (তৃতীয় সংশোধন) আইন, ১৯৭৪-এ অন্তর্ভুক্ত এলাকা হিসেবে উল্লিখিত এলাকা।

 উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৪৫৮.
পদাধিকারবলে রাষ্ট্রপতি কোন সংগঠনের প্রধান?
  1. ক) বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি
  2. খ) বাংলাদেশ স্কাউটস
  3. গ) বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
পদাধিকারবলে রাষ্ট্রপতি যে সকল সংগঠনের প্রধান -
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক
পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রধান
বাংলাদেশ স্কাউটস এর প্রধান
বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির প্রধান
১,৪৫৯.
বাংলাদেশের সংবিধানে কয়টি ভাগ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ৪টি
  3. ৭টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে। 
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪৬০.
রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ বা বিপরীত দলে ভোট দেওয়ার কারণে আসন শূন্য হওয়ার বিধান কোন সংবিধান অনুচ্ছেদে আছে?
  1. ৬৬ নং
  2. ৭০ নং
  3. ৭৪ নং
  4. ৭৭ নং
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে সেই দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান বা সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।
- জাতীয় সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করা বা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলাকে বলা হয় ফ্লোর ক্রসিং৷

• ৭০ নং অনুচ্ছেদ:
- রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া -
- সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি -
(ক) উক্ত দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,
- তাহলে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হবার অযোগ্য হবেন না।

অন্যদিকে,
- ৬৬ নং অনুচ্ছেদ: সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা,
- ৭৪ নং অনুচ্ছেদ: স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার,
- ৭৭ নং অনুচ্ছেদ: ন্যায়পাল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৪৬১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জরুরী-অবস্থা ঘোষণার উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৪১
  2. অনুচ্ছেদ ১৪১ (ক)
  3. অনুচ্ছেদ ১৪১ (খ)
  4. অনুচ্ছেদ ১৪৪ (গ)
ব্যাখ্যা

- অনুচ্ছেদ ১৪০ - কমিশনের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪১ - বার্ষিক রিপোর্ট।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(ক) - জরুরী-অবস্থা ঘোষণা।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(খ) - জরুরী-অবস্থার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(গ) - জরুরী-অবস্থার সময় মৌলিক অধিকারসমূহ স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪২ -  সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৩ - প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৪ - সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫ - চুক্তি ও দলিল।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক) - আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৬ - বাংলাদেশের নামে মামলা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৭ - কতিপয় পদাধিকারীর পারিশ্রমিক প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৮ - পদের শপথ।
- অনুচ্ছেদ ১৪৯ - প্রচলিত আইনের হেফাজত।
- অনুচ্ছেদ ১৫০ - ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৪৬২.
সংবিধানের চতুর্থ অধ্যায়ে কী আলোচনা করা হয়েছে?
  1. নির্বাহী বিভাগ
  2. আইনসভা
  3. নির্বাচন
  4. মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
- প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
- তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার;
- চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
- পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
- ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
- সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন।
- অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
- নবম অধ্যায়  - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ;
- দশম অধ্যায়  - সংবিধানের সংশোধন।
- একাদশ অধ্যায়  - বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৪৬৩.
'The Proclamation of Independence' -সংবিধানের কোন তফসিলে সন্নিবেশিত হয়েছে?
  1. ৪র্থ
  2. ৫ম
  3. ৬ষ্ঠ
  4. ৭ম
ব্যাখ্যা
• পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে আরও ৩টি তফসিল সংযোজন করা হয়। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র (The Proclamation of Independence) সংবিধানের ৭ম তফসিলে সংযোজন করা হয়েছে।

• বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।

- প্রথম তফসিল : অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন
- দ্বিতীয় তফসিল : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বিলুপ্ত)
- তৃতীয় তফসিল : শপথ ও ঘোষণা
- চতুর্থ তফসিল : ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী
- পঞ্চম তফসিল : বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ
- ষষ্ঠ তফসিল : বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা
- সপ্তম তফসিল : মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
১,৪৬৪.
সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদে নিচের কোনটি বর্ণিত হয়েছে?
  1. রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার বিলোপ
  2. প্রজাতন্ত্র হইবে গণতন্ত্র
  3. মালিকানার নীতি
  4. মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়:

ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্যে
(ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা,
(খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান,
(গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার,
(ঘ) কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার উপর নিপীড়ন বিলোপ করা হইবে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৪৬৫.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স ৬৫ থেকে ৬৭ বছর করা হয়েছে?
  1. একাদশ
  2. দ্বাদশ
  3. ত্রয়োদশ
  4. চতুর্দশ
ব্যাখ্যা

• চতুর্দশ সংশোধনী: 
- সময়: মে, ২০০৪ সাল।
- চতুর্দশ সংবিধান সংশোধনীতে বলা হয়েছে স্পীকার অথবা ডেপুটি স্পীকার সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাতে অসমর্থ হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করানোর বিধান করা হয়। 
- জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা ৩০০ থেকে ৩৪৫-এ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
- যার মধ্যে ৪৫টি আসন হবে সংরক্ষিত মহিলা আসন। এ ৪৫টি বর্ধিত আসনে মনোনীত নারী প্রার্থীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।
- সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর আওতায় সাধারণ আসনের সংখ্যানুপাতে নারী আসনগুলো ভাগ করা হবে।
- সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসর গ্রহণের বয়স ৬৫ থেকে ৬৭বছর, 
- পিএসসির চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের বয়সসীমা ৬২ থেকে ৬৫ বছর
- এবং মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের অবসর বসয়সীমা ৬০ থেকে ৬৫ বছরে উন্নীত করা হয়।

তথ্যসূত্র:  বাংলাদেশ রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৬৬.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করে?
  1. ২৮ (১) নং
  2. ২৮ (২) নং
  3. ২৮ (৩) নং
  4. ২৮ (৪) নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
⇒ সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে,
• ২৮(১) নং: কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ন, নারী পুরুষ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না।

• ২৮(২) নং: রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন।


• ২৮(৩) নং: কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাবে না।

• ২৮(৪) নং: নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যেকোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করবে না ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪৬৭.
সংবিধানকে ত্রুটিমুক্ত করার উদ্দশ্যেে সংবিধান প্রণয়ন কমিটি কোন ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞের পরার্মশ গ্রহণ করেন?
  1. ক) জন গাথরিক
  2. খ) এডাম হিক
  3. গ) জেসন ফেডরিক
  4. ঘ) এন্ড্রো ফিলিপ
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ভাষাগত ভুল দূর করের জন্য চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান আনিসুজ্জামান (কমিটির প্রধান), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আলী আহসান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড মাযহারুল ইসলাম-এর সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
• তাছাড়া সংবিধানকে ত্রুটিমুক্ত করার উদ্দশ্যেে কমিটি একজন ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞ (জন গাথরিক) পরার্মশ গ্রহণ করেন।
• সংবধিানটি র্পূণাঙ্গ ও উত্তম করার উদ্দশ্যেে কমিটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন ভারত ও ইংল্যান্ড সফর করে সেখানকার পার্লামেন্টের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৪৬৮.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়?
  1. দশম সংশোধনী
  2. চতুর্দশ সংশোধনী
  3. অষ্টম সংশোধনী
  4. সপ্তম সংশোধনী
ব্যাখ্যা
• চতুর্থ জাতীয় সংসদে ১৯৮৮ সালের ৭ জুন সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী গৃহীত হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ২ক নং অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয় যেখানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম সন্নিবেশন করা হয়।
- পরবর্তীতে ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই অনুচ্ছেদটিতে পরিবর্তন আনা হলেও রাষ্ট্রধর্মের বিধান বহাল থাকে।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান।
১,৪৬৯.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে  ’প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের কথা সন্নিবেশিত হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ: ১১৫
  2. অনুচ্ছেদ: ১১৭
  3. অনুচ্ছেদ: ১২০
  4. অনুচ্ছেদ: ১২১
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৭ নং অনুচ্ছেদে ’প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের কথা সন্নিবেশিত হয়েছে।

বিচারবিভাগ:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগে বিচারবিভাগ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ষষ্ঠ ভাগে মোট ৩টি পরিচ্ছদ রয়েছে।
- যথা:
-১ম পরিচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্ট [অনুচ্ছেদ: ৯৪ - ১১৩];
- ২য় পরিচ্ছেদ: অধস্তন আদালত [অনুচ্ছেদ: ১১৪ থেকে ১১৬];
- ৩য় পরিচ্ছেদ: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল [অনুচ্ছেদ: ১১৭]।
অন্যদিকে,
- ১১০ নং অনুচ্ছেদ: অধস্তন আদালত হইতে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা স্থানান্তর।
- ১১৫ নং অনুচ্ছেদ: অধস্তন আদালতে নিয়োগ।
- ১২০ নং অনুচ্ছেদ: নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৪৭০.
সংবিধানের উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সংক্রান্ত সংশোধনী কোনটি?
  1. প্রথম ও চতুর্থ সংশোধনী
  2. তৃতীয় ও দ্বাদশ সংশোধনী
  3. তৃতীয় ও চতুর্থ সংশোধনী
  4. চতুর্থ ও দ্বাদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
সংবিধানের উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সংক্রান্ত সংশোধনী হলো চতুর্থ ও দ্বাদশ সংশোধনী।

• সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী:

- ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি এ সংশোধনীর মাধ্যমেই বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো হয়।

⇒ ৪র্থ সংশোধনীর মাধ্যমে -
- সংসদীয় পদ্ধতি পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়;
- একদলীয় শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়;
- রাষ্ট্রপতি ও সংসদের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রপতি অপসারণ পদ্ধতি জটিল করা;
- সংসদকে একটি ক্ষমতাহীন বিভাগে পরিণত করা;
- মৌলিক অধিকার বলবৎ করার অধিকার বাতিল করা;
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করা ও উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি করা হয়।
- ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাতিল হয়ে যায়।

• সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী:

- এই সংশোধনী আইন পাস হয় ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট।
- এর দ্বারা সংবিধানের ৪৮, ৫৫, ৫৬, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৭০, ৭২. ১০৯, ১১৯, ১২৪, ১৪১ক এবং ১৪২ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।

⇒ এই সংশোধনীর মাধ্যমে -
- বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন ঘটে;
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হন;
- প্রধানমন্ত্রী হন রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী;
- প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ হয়;
- উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ করা হয়,
- জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান করা হয়।

অন্যদিকে,
⇒ প্রথম সংশোধনী:
- সংবিধানের প্রথম সংশোধনী আনা হয় ১৯৭৩ সালের জুলাই মাসে।
- এ সংশোধনীর মাধ্যমে ৪৭ অনুচ্ছেদে দুটি নতুন উপধারা সংযোজন করা হয়।
- এ সংশোধনীর মূল কারণ ছিল গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য আইন তৈরি এবং তা কার্যকর করা।

⇒ তৃতীয় সংশোধনী:
- মূলত ভারত ও বাংলাদেশের সীমানা নির্ধারণী একটি চুক্তি বাস্তবায়ন করার জন্য ১৯৭৪ সালের ২৩ নভেম্বর এ সংশোধনী আনা হয়।
- ভারতের কিছু অংশ বাংলাদেশে আসবে এবং বাংলাদেশের কিছু অংশ ভারতে আসবে- এ চুক্তি বাস্তবায়নের জন্যই তৃতীয় সংশোধনী আনা হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৪৭১.
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান করা হয় কোন সংশোধনী মাধ্যমে?
  1. ৫ম সংশোধন
  2. ৭ম সংশোধন
  3. ৮ম সংশোধন
  4. ১৩তম সংশোধন
ব্যাখ্যা
ত্রয়োদশ সংশোধনী:
- ত্রয়োদশ সংশোধনী আইন সংবিধান আইন,পাস হয় ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ।
- এর দ্বারা একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান করা হয়।
- যা একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন হিসেবে কাজ করবে এবং সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সর্বতোভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করবে।
- একজন প্রধান উপদেষ্টা ও অনূর্ধ্ব ১০ জন উপদেষ্টার সমন্বয়ে গঠিতব্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার সমষ্টিগতভাবে রাষ্ট্রপতির নিকট দায়বদ্ধ থাকবে এবং নতুন সংসদ গঠনের পর নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের তারিখে বিলুপ্ত হবে।

অন্যদিকে, 
- তৃতীয় সংশোধনী: ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন ও রাষ্ট্রীয় সীমানা পুনঃনির্ধারণ, বেডুবাড়িকে ভারতের কাছে হস্তান্তর।
- চতুর্থ সংশোধনী: সংসদীয় শাসন পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন পদ্ধতি চালু এবং একদলীয় রাজনীতি প্রবর্তন। 
- ষষ্ঠ সংশোধনী: উপ-রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের নিশ্চিতকরণ।
- সপ্তম সংশোধনী: ১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ৯ই নভেম্বর পর্যন্ত সামরিক আইন বলবৎ থাকাকালীন সামরিক সরকারের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের বৈধতা দান।
- অষ্টম সংশোধনী: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে স্বীকৃতিদান।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৪৭২.
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান করা হয়েছিল কততম সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. পঞ্চম সংশোধনী
  2. অষ্টম সংশোধনী
  3. দ্বাদশ সংশোধনী
  4. ত্রয়োদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
ত্রয়োদশ সংশোধনী:
- সংবিধান আইন, ১৯৯৬ (ত্রয়োদশ সংশোধনী) পাস হয় ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ।
- এর দ্বারা একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান করা হয়, যা একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন হিসেবে কাজ করবে।
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সর্বতোভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করবে।
- একজন প্রধান উপদেষ্টা ও অনূর্ধ্ব ১০ জন উপদেষ্টার সমন্বয়ে গঠিতব্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার সমষ্টিগতভাবে রাষ্ট্রপতির নিকট দায়বদ্ধ থাকবে।
- নতুন সংসদ গঠনের পর নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের তারিখে বিলুপ্ত হবে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪৭৩.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ প্রভৃতিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ক) ৭ক নং
  2. খ) ৭ নং
  3. গ) ৭খ নং
  4. ঘ) ৬ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- ৭ক নং অনুচ্ছেদ
(১) কোন ব্যক্তি শক্তি প্রদর্শন বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা অন্য কোন অসাংবিধানিক পন্থায় -
(ক) এই সংবিধান বা ইহার কোন অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে ; কিংবা
(খ) এই সংবিধান বা ইহার কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে-তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে।
(২) কোন ব্যক্তি (১) দফায় বর্ণিত-
(ক) কোন কার্য করিতে সহযোগিতা বা উস্কানি প্রদান করিলে; কিংবা
(খ) কার্য অনুমোদন, মার্জনা, সমর্থন বা অনুসমর্থন করিলে-তাহার এইরূপ কার্যও একই অপরাধ হইবে।
(৩) এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
- ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এটি সংবিধানে যুক্ত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪৭৪.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সবার জন্য শিক্ষার নির্দেশনা রয়েছে?
  1. ১১ নং
  2. ১৭ নং
  3. ২৭ নং
  4. ৩৭ নং
ব্যাখ্যা
অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা:
- ১৭ নং অনুচ্ছেদে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে।
- সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে।

অন্যদিকে -
- ১১ নং অনুচ্ছেদে 'গণতন্ত্র ও মানবাধিকার' বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে।
- ২৭নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, 'সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।'
- ৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪৭৫.
গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হয়-
  1. ৪ অক্টোবর, ১৯৭২
  2. ১৩ নভেম্বর, ১৯৭২
  3. ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
  4. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
গণপরিষদ:
গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে- ১০  এপ্রিল ১৯৭২।
গণ পরিষদের খসড়া সংবিধান উত্থাপিত হয় ১২ অক্টোবর ১৯৭২।
সংবিধান গৃহীত হয়- ৪ নভেম্বর ১৯৭২।
কার্যকর হয় -১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২।
গণপরিষদে খসড়া সংবিধান উত্থাপন করেন- ড. কামাল হোসেন।   
গণপরিষদের স্পিকার ছিলেন- শাহ আব্দুল হামিদ।
গণ পরিষদের  ডেপুটি স্পিকার  ছিলেন-মোহাম্মদ উল্লাহ।
গণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন- মাওলানা আব্দুল রশিদ তর্কবাগীশ।
সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য ছিলেন-৩৪ জন
একমাত্র নারী সদস্য- বেগম রাজিয়া বানু।
সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র বিরোধী দলের সদস্য ছিলেন- সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

উল্লেখ্য:
- বাংলাদেশ গণপরিষদ হল ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক  সংবিধান  অধিবেশন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৭৬.
'ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি' সম্পর্কে সংবিধানের কোন তফসিলে বলা আছে?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানে তফসিল ৭টি। যথা:
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন,
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত),
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা,
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী,
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ,
- ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা,
- সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৪৭৭.
’প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার-ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে স্বীকৃত দেওয়া হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ-১২২
  2. অনুচ্ছেদ-১২১
  3. অনুচ্ছেদ-১২৩
  4. অনুচ্ছেদ-১২৪
ব্যাখ্যা

সপ্তম ভাগ: নির্বাচন: 
- অনুচ্ছেদ-১২২:ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা।
- ১২২(১) প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার-ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।
- (২) কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার-তালিকাভু্ক্ত হইবার অধিকারী হইবেন, যদি
- (ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন;
- (খ) তাঁহার বয়স আঠার বৎসরের কম না হয়;
- (গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁহার সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা বহাল না থাকিয়া থাকে;
- ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং
- (ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হইয়া থাকেন।

অন্যদিকে, 
- অনুচ্ছেদ- ১২১: প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।
- অনুচ্ছেদ- ১২৩: নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়।
- অনুচ্ছেদ- ১২৪: নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৪৭৮.
পদাধিকার বলে রাষ্ট্রপতি কোন প্রতিষ্ঠানের প্রধান? 
  1. বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি
  2. বাংলাদেশ স্কাউট 
  3. বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
  4. উল্লেখিত সবকটি
ব্যাখ্যা
পদাধিকার বলে রাষ্ট্রপতি যেসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান সেগুলো নিম্নরুপ:-
- সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক,
- সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর 
- বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ,
- স্কাউট
- এশিয়াটিক সোসাইটির প্রধান ।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন , প্রফেসর মোজাম্মেল হক।
১,৪৭৯.
সংবিধানের ২য় তফসিলের আলোচ্য বিষয় -
  1. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
  2. অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন
  3. ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
  4. স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র
ব্যাখ্যা
সংবিধানের তফসিলসমূহ: 
প্রথম তফসিল - অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
দ্বিতীয় তফসিল - রাষ্ট্রপতি নির্বাচন(বর্তমানে বিলুপ্ত)
তৃতীয় তফসিল - শপথ ও ঘোষণা।
চতুর্থ তফসিল - ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
পঞ্চম তফসিল - ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
ষষ্ঠ তফসিল - স্বাধীনতার ঘোষণা।
সপ্তম তফসিল - স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।
১,৪৮০.
বাংলাদেশের নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হয়?
  1. দ্বাদশ 
  2. ত্রয়োদশ
  3. চতুর্দশ 
  4. পঞ্চদশ
ব্যাখ্যা

সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী:
- ২৭ মার্চ, ১৯৯৬ ত্রয়োদশ সংশোধনী আনা হয়।
- এ সংশোধনীর দ্বারা অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিধান করা হয়।

- ১৯৯৬ সালের ২১ মার্চ জাতীয় সংসদে এ বিলটি উপস্থাপিত হয়। 
- ২৪ মার্চ আইন মন্ত্রীর প্রস্তাব অনুসারে ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি বাছাই কমিটিতে বিলটি প্রেরণ করা হয়। 
- অবশেষে ২৬ মার্চ বিলটি সংশোধনী আকারে সর্বসম্মতিক্রমে ২৬৯-০ ভোটে গৃহীত হয়। 
- এ সংশোধনীর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল -
(১) জাতীয় সংসদ বিলোপের ১৫ দিনের মধ্যে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন।
(২ ) প্রধান উপদেষ্টাকে প্রধানমন্ত্রীর এবং অন্যান্য উপদেষ্টাগণকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা দান।
(৩) এ সরকার নীতি নির্ধারণী কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন না।
(৪) যোগ্য প্রধান উপদেষ্টা পাওয়া না গেলে প্রেসিডেন্টকে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন।
(৫) প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনাক্রমে বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্য থেকে ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ।
(৬) এ সরকারের মেয়াদ হবে তিন মাস; নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ হলে তার হাতে এসব ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

- উচ্চ আদালতের আদেশে ২০১১ সালে এই সংশোধনীটি বাতিল হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

১,৪৮১.
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. দ্বাদশ সংশোধনী
  2. ত্রয়োদশ সংশোধনী
  3. পঞ্চদশ সংশোধনী
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ত্রয়োদশ সংশোধনী:
- ত্রয়োদশ সংশোধনীর শিরোনাম সংবিধান [ত্রয়োদশ সংশোধন] আইন, ১৯৯৬।
- সংসদে বিলটি পাশ হয় ২৭ মার্চ, ১৯৯৬।
- ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।
- ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে আপিল বিভাগ তত্ত্বাবাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সর্ম্পকিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেছে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিবিসি নিউজ, ১০ মে ২০১১।
১,৪৮২.
'২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা' বাংলাদেশের সংবিধানের কোন তফসিলে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে?
  1. ৪র্থ তফসিল
  2. ৫ম তফসিল
  3. ৬ষ্ঠ তফসিল
  4. ৭ম তফসিল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের তফসিল:
- বাংলাদেশের সংবিধানে তফসিল ৭টি।
- যথা:

• প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
• দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত)।
• তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
• চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী।
• পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।
• ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা।
• সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৪৮৩.
সংবিধানের কোন অংশগুলো সংশোধনের অযোগ্য?
  1. রাষ্ট্রভাষা
  2. জাতীয় সংগীত
  3. প্রস্তাবনা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• সংশোধন অযোগ্য 
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৭খ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
এতে বলা হয়:
- সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা,
- প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ: (অনুচ্ছেদ ০৩: রাষ্ট্রভাষা, অনুচ্ছেদ ০৪ : জাতীয় সঙ্গীত)
- দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমুহের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে। 

তথ্যসূত্র:-  বাংলাদেশ সংবিধান। 
১,৪৮৪.
বাংলাদেশের সংবিধানে তফসিল রয়েছে -
  1. ১টি
  2. ৪টি
  3. ৭টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪৮৫.
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটিতে কোন ডাক্তার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন?
  1. ক) ডাঃ আব্দুল মমিন
  2. খ) ডাঃ শওকত আলী খান
  3. গ) ডঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী
  4. ঘ) ডাঃ ক্ষিতিশ চন্দ্র মণ্ডল
ব্যাখ্যা
১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে একমাত্র ডাক্তার সদস্য ছিলেন ডাঃ ক্ষিতিশ চন্দ্র মণ্ডল।
কমিটির সভাপতি ছিলেন তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু। একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত (ন্যাপ-মোজাফফর)।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
১,৪৮৬.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ-প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করতে পারবেন?
  1. ৫৫ 
  2. ৭৭ 
  3. ৮৮ 
  4. ৯৯
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ-প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করতে পারবেন।

⇒ অনুচ্ছেদ - ৭৭ : ন্যায়পাল: 
১. সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ-প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করতে পারবেন।
২. সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালকে কোন মন্ত্রণালয়, সরকারী কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের যে কোন কার্য সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাসহ যেরূপ ক্ষমতা কিংবা যেরকম দায়িত্ব প্রদান করবেন, ন্যায়পাল সেইরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
৩. ন্যায়পাল তার দায়িত্বপালন সম্পর্কে বাৎসরিক রিপোর্ট প্রণয়ন করবেন এবং অনুরূপ রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপিত হবে।
 
অন্যদিকে -
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫ নং অনুচ্ছেদে 'মন্ত্রিসভা'-এর উল্লেখ আছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৮৮ নং অনুচ্ছেদে 'সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়'-এর উল্লেখ আছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৯ নং অনুচ্ছেদে 'অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা'-এর উল্লেখ আছে।
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৪৮৭.
সংবিধানের কোন অধ্যায়ে কর্ম বিভাগ সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ক) সপ্তম অধ্যায়
  2. খ) অষ্টম অধ্যায়
  3. গ) নবম অধ্যায়
  4. ঘ) দশম অধ্যায়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের নবম অধ্যায়ের “বাংলাদেশের কর্মবিভাগ” এবং এর প্রথম পরিচ্ছেদে “কর্মবিভাগ” ও ২য় পরিচ্ছেদে “সরকারী কর্ম কমিশন” সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে।
১,৪৮৮.
বাংলাদেশে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স কত?
  1. ১৮ বছর
  2. ২১ বছর
  3. ২৫ বছর
  4. ৩৫ বছর
ব্যাখ্যা
₻ নির্বাচনী প্রার্থী
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১২২(২) অনুচ্ছেদ বলা হয়েছে - বাংলাদেশের একজন ভোটারের সর্রনিম্ন বয়স ১৮ বছর হতে হবে।
- বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ২৫ বছর। 
- ভোটার হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর।
- রাষ্ট্রপতি হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ৩৫ বছর।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪৮৯.
সংবিধানের কোন অধ্যায়ে 'বাংলাদেশের কর্মবিভাগ' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. চতুর্থ অধ্যায়
  2. অষ্টম অধ্যায়
  3. নবম অধ্যায়
  4. একাদশ অধ্যায়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:

• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন। 
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪৯০.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সাম্রাজ্যবাদ ও ঔপনিবেশিকতাবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থনের কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) ২৪ নং
  2. খ) ২৫ নং
  3. গ) ৩০ নং
  4. ঘ) ৪২ নং
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ২৫(গ) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্র সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করিবেন।’
একই অনুচ্ছেদে আন্তর্জাতিক বিরোধের ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের নীতির প্রতি শ্রদ্ধার কথা ব্যক্ত করা হয়েছে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৪৯১.
How many seats are reserved for women in the Parliament of Bangladesh?
  1. 30
  2. 45
  3. 50
  4. 10
  5. None
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ:
- জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইনসভা।
- এককক্ষ বিশিষ্ট এ আইনসভার সদস্য সংখ্যা ৩৫০।
- যার মধ্যে ৩০০ জন সংসদ সদস্য জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকেন এবং অবশিষ্ট ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। 
- জাতীয় সংসদের প্রধান হলেন স্পিকার।
- বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চমভাগে জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আছে।
- জাতীয় সংসদের প্রতীক শাপলা ফুল।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রতীক দুপাশে ধানের শীষবেষ্টিত শাপলার দুপাশে দুটি করে চারটি তারকা এবং প্রতীকের অপরের দিকে 'বাংলাদেশ' ও নিচের দিকে 'জাতীয় সংসদ' লেখা। 
 
উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪৯২.
’জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ’ বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ-৩৫
  2. অনুচ্ছেদ-৩১
  3. অনুচ্ছেদ-৩৩
  4. অনুচ্ছেদ-৩২
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ-৩২: ’জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ’ ।
- আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হইতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবে না।

অপরদিকে,
- অনুচ্ছেদ- ৩১। আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার;
- অনুচ্ছেদ- ৩২। জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ;
- অনুচ্ছেদ- ৩৩। গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ;
- অনুচ্ছেদ- ৩৪। জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ;
- অনুচ্ছেদ- ৩৫। বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৪৯৩.
’বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট’ গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ- ৯৪
  2. অনুচ্ছেদ- ৬৫
  3. অনুচ্ছেদ- ৪৮
  4. অনুচ্ছেদ- ৭৬
ব্যাখ্যা

• ’বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট’:  
- অনুচ্ছেদ ৯৪(১) "বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট" নামে বাংলাদেশের একটি সর্বোচ্চ আদালত থাকবে এবং আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ লইয়া তাহা গঠিত হবে।
- ৯৪(২) প্রধান বিচারপতি (যিনি "বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি" নামে অভিহিত হবেন) এবং প্রত্যেক বিভাগে আসনগ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতি যেরূপ সংখ্যক বিচারক নিয়োগের প্রয়োজন বোধ করবেন, সেইরূপ সংখ্যক অন্যান্য বিচারক লইয়া সুপ্রীম কোর্ট গঠিত হবে।- - ৯৪ (৩) প্রধান বিচারপতি ও আপীল বিভাগে নিযুক্ত বিচারকগণ কেবল উক্ত বিভাগে এবং অন্যান্য বিচারক কেবল হাইকোর্ট বিভাগে আসন গ্রহণ করবেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৪৯৪.
’ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ বর্ণিত রয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ-৪৮
  2. অনুচ্ছেদ-৫১
  3. অনুচ্ছেদ-৫০
  4. অনুচ্ছেদ-৪৯
ব্যাখ্যা

-  অনুচ্ছেদ-৪৯:  ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার ।
- কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে−কোন দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করিবার এবং যে−কোন দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।

অন্যদিকে, 
- অনুচ্ছেদ- ৪৮ বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন।
- অনুচ্ছেদ- ৫০:  একাদিক্রমে হউক বা না হউক-দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতির পদে কোন ব্যক্তি অধিষ্ঠিত থাকিবেন না। 
- স্পীকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে রাষ্ট্রপতি স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
-অনুচ্ছেদ -৫১:  রাষ্ট্রপতির কার্যভারকালে তাঁহার বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন প্রকার ফৌজদারী কার্যধারা দায়ের করা বা চালু রাখা যাইবে না এবং তাঁহার গ্রেফতার বা কারাবাসের জন্য কোন আদালত হইতে পরোয়ানা জারী করা যাইবে না।

উৎস: বাংলাদশে সংবিধান।

১,৪৯৫.
জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয় কার পরামর্শে?
  1. স্পিকার
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. চিফ হুইপ
  4. প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৭২(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহবান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন।
- তবে এক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৪৯৬.
বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয় কবে?
  1. ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর
  2. ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর
  3. ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর
  4. ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।
- ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- অনুচ্ছেদ আছে ১৫৩ টি।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৪৯৭.
'সংসদের অধিবেশন' বিষয়টি বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ক) ৭০
  2. খ) ৭১
  3. গ) ৭২
  4. ঘ) ৭৩
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ-৭২: সংসদের অধিবেশন
- সরকারী বিজ্ঞপ্তি-দ্বারা রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করিবেন এবং সংসদ আহ্বানকালে রাষ্ট্রপতি প্রথম বৈঠকের সময় ও স্থান নির্ধারণ করিবেন।

সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪৯৮.
সংবিধানের মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলো হলো -
  1. ক) ৮-২৫
  2. খ) ২৬-৪৭
  3. গ) ২৫-৪০
  4. ঘ) ২৭-৪৩
ব্যাখ্যা
- ২৬ থেকে ৪৭ পর্যন্ত মোট ২২টি অনুচ্ছেদ মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ে মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলো বর্ণিত হয়েছে।

• বাংলাদেশ সংবিধান:

- সংবিধান রচনা কমিটির প্রধান ছিলেন ডঃ কামাল হোসেন ।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য রাজিয়া বানু।
- বাংলাদেশ সংবিধানের পাঠ ২ টি। বাংলা ও ইংরেজি।
- বাংলাদেশের সংবিধান ৭টি তফসিল । বাংলাদেশের সংবিধানে ১১ টি অনুচ্ছেদ আছে ।
- বাংলাদেশের সংবিধানের /ধারা ১৫৩ টি
- বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২  হতে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়। 
- প্রথম ভাগে প্রজাতন্ত্র, দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার, চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগ, পঞ্চম ভাগে আইনসভা।
- ষষ্ঠ ভাগে বিচার বিভাগ, সপ্তম ভাগে নির্বাচন, অষ্টম ভাগে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, নবম ভাগে বাংলাদেশের কর্মবিভাগ ও নবম-ক ভাগ জরুরী বিধানাবলী, দশম ভাগে সংবিধান সশোধন এবং একাদশ ভাগ বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪৯৯.
আপিল বিভাগের বিচারপতিদের শপথবাক্য পাঠ করান কে?
  1. ক) প্রধান বিচারপতি
  2. খ) রাষ্ট্রপতি
  3. গ) স্পিকার
  4. ঘ) প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে,
প্রধান ‍বিচারপতি যাদের শপথ বাক্য করান:
- আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ
- পিএসসির সদস্যবৃন্দ
- মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
- নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ।

রাষ্ট্রপতি যাদের শপথ বাক্য পাঠ করান:
-প্রধানমন্ত্রী
- মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ
- স্পিকার
- ডেপুটি স্পিকার
- প্রধান বিচারপতি।

স্পিকার যাদের শপথবাক্য পাঠ করান:
- রাষ্ট্রপতি
- সংসদ সদস্যবৃন্দ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৫০০.
সংবিধানের সপ্তম ভাগের বিষয়বস্তু কী?
  1. নির্বাহী বিভাগ
  2. নির্বাচন
  3. আইনসভা
  4. বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের সপ্তম ভাগের বিষয়বস্তু নির্বাচন।

• বাংলাদেশ সংবিধান:
- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। যথা:
- সংবিধানের ১৫৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
- সংবিধানের ৭টি তফসিল রয়েছে।
- সংবিধান ১৭ বার সংশোধনী হয়েছে।
- সংবিধানের প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।