বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সংবিধান

মোট প্রশ্ন২,৩৩১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সংবিধান

PrepBank · পাতা ১৪ / ২৪ · ১,৩০১১,৪০০ / ২,৩৩১

১,৩০১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে অনুপার্জিত আয় সম্পর্কে বলা আছে?
  1. ৮১নং অনুচ্ছেদে
  2. ২৮নং অনুচ্ছেদে
  3. ৮৩নং অনুচ্ছেদে
  4. ২০নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধানের ২০(২) ধারায় বলা আছে, 
- রাষ্ট্র এমন অবস্থাসৃষ্টির চেষ্টা করবে, যেখানে সাধারণ নীতি হিসাবে কোন ব্যক্তি অনুপার্জিত আয় ভোগ করতে সমর্থ হবে না এবং যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিমূলক ও কায়িক-সকল প্রকার শ্র্রম সৃষ্টিধর্মী প্রয়াসের ও মানবিক ব্যক্তিত্বের পূর্ণতর অভিব্যক্তিতে পরিণত হবে। 

অন্যদিকে: 
- ৮৩নং অনুচ্ছেদে "সংসদের আইন ব্যতীত করারোপে বাধা" এর কথা বলা আছে। 
- ২৮নং অনুচ্ছেদে "ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য" এর কথা বলা আছে।  
- ৮১নং অনুচ্ছেদে "অর্থবিল" এর কথা বলা আছে।   

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৩০২.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে গ্রেপ্তার ও আটক বিষয়ে নাগরিকের রক্ষাকবচ উল্লেখ রয়েছে?
  1. ৩৫ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৩৪ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৩৩ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৩২ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ৩৩গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ
-  (১) গ্রেপ্তারকৃত কোন ব্যক্তিকে যথাসম্ভব শীঘ্র গ্রেপ্তারের কারণ জ্ঞাপন না করিয়া প্রহরায় আটক রাখা যাইবে না এবং উক্ত ব্যক্তিকে তাঁহার মনোনীত আইনজীবীর সহিত পরামর্শের ও তাঁহার দ্বারা আত্মপক্ষ-সমর্থনের অধিকার হইতে বঞ্চিত করা যাইবে না।
- (২) গ্রেপ্তারকৃত ও প্রহরায় আটক প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে গ্রেপ্তারের চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে (গ্রেপ্তারের স্থান হইতে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আনয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ব্যতিরেকে) হাজির করা হইবে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত তাঁহাকে তদতিরিক্তকাল প্রহরায় আটক রাখা যাইবে না।
- (৩) এই অনুচ্ছেদের (১) ও (২) দফার কোন কিছুই সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না,
- (ক) যিনি বর্তমান সময়ের জন্য বিদেশী শত্রু; অথবা
- (খ) যাঁহাকে নিবর্তনমূলক আটকের বিধান-সংবলিত কোন আইনের অধীন গ্রেপ্তার করা হইয়াছে বা আটক করা হইয়াছে।

অন্যদিকে,
- ৩২ অনুচ্ছেদ হলো  জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ। 
- ৩৪ অনুচ্ছেদ হলো জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ।
- ৩৫ অনুচ্ছেদ হলো বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৩০৩.
জনগণের মৌলিক অধিকারের উৎস কী?
  1. ক) বিবেকবোধ
  2. খ) মূল্যবোধ
  3. গ) সংবিধান
  4. ঘ) সামাজিক প্রথা
ব্যাখ্যা
-  জনগণের মৌলিক অধিকারের উৎস হলো সংবিধান
- এটি জনগণের মৌলিক অধিকারের রক্ষাকবচ।

- সংবিধানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং অধিকারের নিশ্চয়তার বিধান সন্নিবেশিত থাকে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- এর মধ্যে তৃতীয় ভাগে ২৬ থেকে ৪৭ নং অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।
- এতে মোট ২২টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৩০৪.
সংবিধান অনুসারে কোনটিকে অর্থবিল হিসেবে গণ্য করা হয় না?
  1. সরকার কর্তৃক ঋণ গ্রহণ
  2. সংযুক্ত তহবিল সংক্রান্ত ব্যয়
  3. স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর
  4. সরকারের হিসাব ও নিরীক্ষা
ব্যাখ্যা

 অর্থবিল:
- অর্থবিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল।
- কোনো বিল অর্থবিল কিনা এ প্রশ্নে স্পিকারের দেওয়া সার্টিফিকেট চূড়ান্ত মত বলে গৃহীত হয়।
- অর্থবিল বা অর্থব্যয় সংক্রান্ত বিলের উদ্যোক্তা সরকার।

⇒ প্রতি বছর পরবর্তী বছরের জন্য সরকারের আর্থিক প্রস্তাবাবলি কার্যকর করার উদ্দেশ্যে অর্থবিল সংসদে উত্থাপন করা হয়।
- সংসদে উত্থাপনের পর যথানিয়মে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিলটি পাস করতে হয়।
- অর্থবিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য উপস্থাপিত হলে পনের দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতি প্রদান করেন।
- রাষ্ট্রপতি সম্মতি প্রদানে অসমর্থ হলে উক্ত মেয়াদের শেষে বিলটি আইনে পরিণত হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৮১ নং অনুচ্ছেদে 'অর্থবিল' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

⇒  অনুচ্ছেদ ৮১(১)-এ অর্থবিলের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—
• কর সংক্রান্ত পরিবর্তন,
• সরকার কর্তৃক ঋণ গ্রহণ বা দায়-দায়িত্ব,
• সংযুক্ত তহবিল সংক্রান্ত ব্যয়, 
• সরকারের হিসাব ও নিরীক্ষা। 

কিন্তু ৮১(২)-এ বলা হয়েছে—
- শুধু স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর, জরিমানা, লাইসেন্স ফি বা ফি ধার্যকরণ–এর মতো বিষয় কোনো বিলকে অর্থবিল হিসেবে গণ্য করবে না।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১,৩০৫.
'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল' সংবিধানের কততম সংশোধনীতে করা হয়?
  1. চতুর্দশ
  2. ত্রয়োদশ
  3. দ্বাদশ
  4. পঞ্চদশ
ব্যাখ্যা

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০শে জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন হয় ২০১১ সালের ৩ জুলাই। 
- সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। 
- এই সংশোধনীর দ্বারা 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল' করা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।
- সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়। 

উল্লেখ্য,
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।
- আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট জনস্বার্থে পাঁচ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। 
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে এই সংশোধনীর বেশ কিছু অংশ বাতিল করেছেন হাইকোর্ট।
- রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের বিধান বাতিল করা হয় যা ভবিষ্যতে কার্যকর হবে।
- ১৪২ অনুচ্ছেদ বাতিল করার মধ্য দিয়ে জনগণের ইচ্ছাকে বাতিল করা হয়েছিল।
- যে কারণে ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপন করা হলো।
- সংশোধনীর বাকি বিষয়গুলো পরবর্তী সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হলো।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

১,৩০৬.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে “রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ” বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১
  2. অনুচ্ছেদ ৫
  3. অনুচ্ছেদ ৭
  4. অনুচ্ছেদ ৯
ব্যাখ্যা
- সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ একটি গণপ্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
- সংবিধানে জনগণকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে বলা হয় রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।
- সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে “রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ” বলা হয়েছে। 

অনুচ্ছেদ ৭৷ সংবিধানের প্রাধান্য:
৭৷ (১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে৷ 
 ৭৷ (২) জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সাথে অসমঞ্জস হয়, তাহলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে৷

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশের সংবিধান। 
১,৩০৭.
FIR এর পূর্ণরূপ হলো -
  1. ক) First Information Report
  2. খ) First Information Resource
  3. গ) Firstly Important Report
  4. ঘ) First Insurance Report
ব্যাখ্যা
• FIR- First Information Report বা প্রাথমিক তথ্য বিবরণী যা এজাহার নামে পরিচিত পেনাল কোডের ১৫৫ ও ১৫৪ ধারা অনুযায়ী কোন অপরাধের বিষয়ে থানায় রিপোর্ট করাকে FIR বলে।
• চার্জসিট - এটি একধরনের অভিযোগপত্র। থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোন অপরাধীর অপরাধ তদন্ত ক...
• PP Public Prosecutor যার মাধ্যমে সমস্ত ক্রিমিনাল মামলা কোর্টে যায়।
• প্যারোল নির্বাহী আদেশে মুক্তি ।
• Amicus Curiae আদালতের বন্ধু
• ৫৪ ধারা বিনা ওয়ারেন্টে পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার করার ক্ষমতা।
• ১৪৪ ধারা মানুষের চলাচল, আচরণ অর্থাৎ মৌলিক কর্মকাণ্ডের উপর নিষেধাজ্ঞা ।
• ১৫৪ ধারা ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা।
• ১৬৪ ধারা এই ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
• ১৭৩ ধারা এই ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়।
• ৪২০ ধারা বাংলাদেশ পেনাল কোডের একটি ধারা যেখানে প্রতারণার জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

উৎস:- লজ অব বাংলাদেশ।
১,৩০৮.
সংবিধানের কোন সংশোধনী ২০০৫ সালে হাইকোর্টের রায়ে অবৈধ ঘোষণা করা হয়?
  1. চতুর্থ
  2. পঞ্চম
  3. ষষ্ঠ
  4. সপ্তম
ব্যাখ্যা
পঞ্চম সংশোধনী:
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সংবিধান কার্যকরী হওয়ার পর ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির চারটি মূল স্তম্ভে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। 
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকান্ডের ধারাবাহিকতায় ক্ষমতা দখল করেন জিয়াউর রহমান। 
- এই সামরিক শাসক ১৯৭৯ সালে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের চারটি মূল স্তম্ভের তিনটিতে পরিবর্তন আনেন।
- সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ২৯ আগস্ট, ২০০৫ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে। 
- পরবর্তীতে আপিল বিভাগ ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সালে হাইকোর্ট বিভাগের রায় বহাল রাখে। 

এছাড়া,
- চতুর্থ সংশোধনী বাকশাল গঠন,
- ষষ্ঠ সংশোধনী উপরাষ্ট্রপতির পদে থেকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন এবং
- সপ্তম সংশোধনী সামরিক শাসনের বৈধতা সংক্রান্ত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩০৯.
সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে কত প্রকার রিটের (Writ) উল্লেখ রয়েছে?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৫ প্রকার
  4. ৭ প্রকার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের রিট (Writ):
⇒ মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে প্রতিকার পাওয়ার জন্য সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিট দাখিল করা যায়।
⇒ সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগ কারও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে তা পুনর্বহাল করতে পারে। এই ক্ষমতাকে রিট এখতিয়ার বলা হয়, যা হাইকোর্টের একটি বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতা।
⇒ রিট হলো আদালত বা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের দেওয়া একটি আদেশ বা নির্দেশ।

⇒ সংবিধানে রিটগুলোর নাম উল্লেখ নেই, তবে ১০২(২) অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ করে পাঁচ ধরনের রিটের কথা জানা যায়:

১. Writ of Prohibition: এটি অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(অ)-এ উল্লেখ আছে।
২. Writ of Mandamus: এটি অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(অ)-তে উল্লেখিত।
৩. Writ of Certiorari: এটি অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(আ)-তে উল্লেখিত।
৪. Writ of Habeas Corpus: এটি অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(অ)-তে উল্লেখিত।
৫. Writ of Quo Warranto: এটি অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(আ)-তে উল্লেখিত।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৩১০.
১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে কতটি তফসিল ছিলো?
  1. ক) ছয়টি
  2. খ) পাঁচটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) তিনটি
ব্যাখ্যা
১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে চারটি তফসিল ছিলো।

• সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি,
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ৪ঠা নভেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- তখন সংবিধানের চারটি মূলনীতি ছিলো। এগুলো হলো:
- প্রথম তফসিল : অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন,
- দ্বিতীয় তফসিল : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বিলুপ্ত),  
- তৃতীয় তফসিল : শপথ ও ঘোষণা, 
- চতুর্থ তফসিল : ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী।

অন্যদিকে,
- ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নতুন করে আরো তিনটি তফসিল সংবিধানে যুক্ত করা হয়। এগুলো হলো:
- পঞ্চম তফসিল : বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ, 
- ষষ্ঠ তফসিল : বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা,
- সপ্তম তফসিল : মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
- বর্তমানে সংবিধানে মোট সাতটি তফসিল রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৩১১.
বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান গণপরিষদে প্রথম উত্থাপিত করা হয় কত তারিখে?
  1. ১ অক্টোবর, ১৯৭২
  2. ১২ অক্টোবর, ১৯৭২
  3. ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
  4. ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়: ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন যোগাযোগ মন্ত্রী এম মনসুর আলী।
- খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়: ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন: ১১ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপিত হয়: ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়: ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদের সদস্যগণ হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেনঃ ১৪ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- হস্তলিখিত সংবিধানে ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর ছাড়া ৯৩ পৃষ্ঠা।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর সহ ১০৯ পৃষ্ঠা।
- বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

১,৩১২.
প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট -
  1. ক) ক্ষেত্রফল
  2. খ) বর্গ
  3. গ) বৃত্ত
  4. ঘ) ত্রিভূজ
ব্যাখ্যা
জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক:
অনুচ্ছেদ-৪:
(১) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা”র প্রথম দশ চরণ ৷ 
(২) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত ৷ 
(৩) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হইতেছে উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তাহার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পর-সংযুক্ত পত্র, তাহার উভয় পার্শ্বে দুইটি করিয়া তারকা ৷ 
(৪) উপরি-উক্ত দফাসমূহ-সাপেক্ষে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কিত বিধানাবলী আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে ৷

সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান। 
১,৩১৩.
সংবিধানের ১৮ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. সুযোগের সমতা
  2. মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার কথা
  3. জাতীয় সংস্কৃতি
  4. জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ১৮ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।

অন্যদিকে,
’জাতীয় সংস্কৃতি’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ২৩ নং অনুচ্ছেদ।
’সুযোগের সমতা’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ১৯ নং অনুচ্ছেদ।
’মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার কথা’ ১৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৩১৪.
হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি কে?
  1. আব্দুর রউফ
  2. সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
  3. সাজেদা চৌধুরী
  4. বেগম রাজিয়া বানু
ব্যাখ্যা
সংবিধান:

- ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদের সদস্যগণ হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হস্তলিখিত সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর করেন।
- হস্তলিখিত সংবিধানে ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে। 
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর ছাড়া ৯৩ পৃষ্ঠা।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর সহ ১০৯ পৃষ্ঠা।
- হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেননি- সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
- ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ হতে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৩১৫.
প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা কার কর্তৃত্বে প্রযুক্ত হয়?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. মন্ত্রী
  4. সচিব
ব্যাখ্যা
সংবিধানের চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ।
- ২য় পরিচ্ছেদ: প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা।

⇒ অনুচ্ছেদ-৫৫: মন্ত্রিসভা:
(১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী লইয়া এই মন্ত্রিসভা গঠিত হইবে।
(২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তত্বে এই সংবিধান-অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে।
(৩) মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন।
(৪) সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে।
(৫) রাষ্ট্রপতির নামে প্রণীত আদেশসমূহ ও অন্যান্য চুক্তিপত্র কিরূপে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত হইবে, রাষ্ট্রপতি তাহা বিধিসমূহ-দ্বারা নির্ধারণ করিবেন এবং অনুরূপভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত কোন আদেশ বা চুক্তিপত্র যথাযথভাবে প্রণীত বা সম্পাদিত হয় নাই বলিয়া তাহার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
(৬) রাষ্ট্রপতি সরকারী কার্যাবলী বন্টন ও পরিচালনার জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করিবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৩১৬.
বাংলাদেশ সংবিধানের কততম অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে অধ্যাদেশ জারি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৯৩
  2. অনুচ্ছেদ ৯৪
  3. অনুচ্ছেদ ৯৫
  4. অনুচ্ছেদ ৯৬
ব্যাখ্যা

অধ্যাদেশ জারি করার ক্ষমতা:
- অধ্যাদেশ জারি করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশ সংবিধানের  পঞ্চম ভাগের ৩য় পরিচ্ছেদের ৯৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। 

⇒ ৯৩ নং অনুচ্ছেদ: অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা
- সংসদ ভাঙা বা অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি জরুরি পরিস্থিতিতে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।

অন্যদিকে,
- ৯৪ নং অনুচ্ছেদে সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- ৯৬ নং অনুচ্ছেদে বিচারকদের পদের মেয়াদ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৩১৭.
সংবিধানের ৪০নং অনুচ্ছেদে কোন বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে?
  1. ধর্মীয় স্বাধীনতা
  2. পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা
  3. বাক-স্বাধীনতা
  4. সংগঠনের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৩৫ - বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ ৩৬ - চলাফেরার স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৭ - সমাবেশের স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৮ - সংগঠনের স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৯ - চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪০ - পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪১ - ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪২ - সম্পত্তির অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৪৩ - গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ ৪৪ - মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ।
- অনুচ্ছেদ ৪৫ - শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৩১৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'সংসদ অধিবেশন' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৭১
  2. অনুচ্ছেদ ৭২
  3. অনুচ্ছেদ ৭৩
  4. অনুচ্ছেদ ৭৪
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৭১ - দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা।
- অনুচ্ছেদ ৭২ - সংসদের অধিবেশন।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ - সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ক - সংসদ সম্পর্কে মন্ত্রীগণের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৪ - স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৫ - কার্যপ্রণালী-বিধি, কোরাম প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৭৬ - সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ।
- অনুচ্ছেদ ৭৭ - ন্যায়পাল।
- অনুচ্ছেদ ৭৮ - সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ৭৯ - সংসদ-সচিবালয়।
- অনুচ্ছেদ ৮০ - আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৩১৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮১ অনুযায়ী 'অর্থ বিল' (Money Bill)-এর সংজ্ঞায় কোন ধরনের বিল অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণ
  2. সরকার কর্তৃক ঋণ গ্রহণ বা গ্যারান্টি প্রদান
  3. সংযুক্ত তহবিলের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যয় সংক্রান্ত বিল
  4. স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কর আরোপ বা ফি ধার্যকরণ
ব্যাখ্যা

◉ অনুচ্ছেদ ৮১(১)-এ অর্থবিলের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—
• কর সংক্রান্ত পরিবর্তন,
• সরকার কর্তৃক ঋণ গ্রহণ বা দায়-দায়িত্ব,
• সংযুক্ত তহবিল সংক্রান্ত ব্যয়, 
• সরকারের হিসাব ও নিরীক্ষা। 

কিন্তু ৮১(২)-এ বলা হয়েছে—
শুধু স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর, জরিমানা, লাইসেন্স ফি বা ফি ধার্যকরণ–এর মতো বিষয় কোনো বিলকে অর্থবিল হিসেবে গণ্য করবে না।

অর্থবিল:
- অর্থবিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল।
- কোনো বিল অর্থবিল কিনা এ প্রশ্নে স্পিকারের দেওয়া সার্টিফিকেট চূড়ান্ত মত বলে গৃহীত হয়।
- অর্থবিল বা অর্থব্যয় সংক্রান্ত বিলের উদ্যোক্তা সরকার।

⇒ প্রতি বছর পরবর্তী বছরের জন্য সরকারের আর্থিক প্রস্তাবাবলি কার্যকর করার উদ্দেশ্যে অর্থবিল সংসদে উত্থাপন করা হয়।
- সংসদে উত্থাপনের পর যথানিয়মে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিলটি পাস করতে হয়।
- অর্থবিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য উপস্থাপিত হলে পনের দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতি প্রদান করেন।
- রাষ্ট্রপতি সম্মতি প্রদানে অসমর্থ হলে উক্ত মেয়াদের শেষে বিলটি আইনে পরিণত হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৮১ নং অনুচ্ছেদে 'অর্থবিল' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস:
i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১,৩২০.
সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয় -
  1. ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে
  2. ১২ অক্টোবর, ১৯৭২
  3. ২২ মার্চ, ১৯৭২ সালে
  4. ১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

• সংবিধান:
- সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয় - ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান রচনা কমিটির প্রধান - ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য সংখ্যা ছিল - ৩৪ জন।
- একমাত্র মহিলা সদস্য ছিল - বেগম রাজিয়া বানু।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য - সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত।
- খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপন করে - ১২ অক্টোবর, ১৯৭২
- গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হয় - ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৩২১.
জাতীয় সংসদের সদস্য নন-
  1. ক) স্পিকার
  2. খ) হুইপ
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী
  4. ঘ) রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৫৬(৩) এবং ৭৪(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধানমন্ত্রী এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার জন্যে অবশ্যই সংসদ সদস্য হতে হবে। তাদের সংসদ সদস্যপদ বাতিল হলে তারা তাদের স্ব স্ব বহাল থাকতে পারবেন না।
সংসদ কর্তৃক প্রণীত কার্যপ্রণালী বিধি অনুসারে সংসদের চিফ হুইপ বা হুইপ নির্বাচিত হওয়ার জন্যে অবশ্যই সংসদ সদস্য হবে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হলেও তিনি সংসদের সদস্য নন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
১,৩২২.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ প্রভৃতিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ-৭ক
  2. অনুচ্ছেদ-৭খ
  3. অনুচ্ছেদ-৭
  4. অনুচ্ছেদ-১৫
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান সর্বমোট ১৭বার সংশোধন হয়েছে। 

- বাংলাদেশের সংবিধানের-৭ক অনুচ্ছেদের বিধান: সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ:
(১) কোন ব্যক্তি শক্তি প্রদর্শন বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা অন্য কোন অসাংবিধানিক পন্থায় -
(ক) এই সংবিধান বা ইহার কোন অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে ; কিংবা
(খ) এই সংবিধান বা ইহার কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে-তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে।
(২) কোন ব্যক্তি (১) দফায় বর্ণিত-
(ক) কোন কার্য করিতে সহযোগিতা বা উস্কানি প্রদান করিলে; কিংবা
(খ) কার্য অনুমোদন, মার্জনা, সমর্থন বা অনুসমর্থন করিলে-তাহার এইরূপ কার্যও একই অপরাধ হইবে।
(৩) এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

উল্লেখ্য,
-২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৭ক অনুচ্ছেদটি সংবিধানে যুক্ত করা হয়।

এছাড়াও,
অনুচ্ছেদ-৭ এর বিধান → সংবিধানের প্রাধান্য।
অনুচ্ছেদ-৭খ এর বিধান → সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য। 
অনুচ্ছেদ-১৫ এর বিধান→ মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৩২৩.
নিচের কোনটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান?
  1. ক) বাংলা একাডেমি
  2. খ) জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
  3. গ) এটর্নি জেনারেলের কার্যালয়
  4. ঘ) দুর্নীতি দমন কমিশন
ব্যাখ্যা
সংবিধানের সুস্পষ্ট বিধি মোতাবেক যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাদের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলা হয়।
বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
- বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন
- মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়
- জাতীয় সংসদ
¬- এটর্নি জেনারেলের কার্যালয় প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন হলো সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। বাংলা একাডেমি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান : স্নাতক শ্রেণী)
১,৩২৪.
বাংলাদেশের সংবিধান গণপরিষদে কবে গৃহীত হয়?
  1. ১০ এপ্রিল
  2. ১৭ এপ্রিল
  3. ৪ নভেম্বর
  4. ১৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয় ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল।
- এই কমিটি লক্ষ্য ছিল সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন।
- একইদিনে পরিষদের সামনে সকল প্রস্তাব উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন।
- ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল খসড়া কমিটির প্রথম অধিবেশন বসে।
- গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়  ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে ।
- গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন ১৫ ডিসেম্বর।
- সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত । তিনি এতে স্বাক্ষর করেননি।
- বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।

 উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।

১,৩২৫.
বাংলাদেশের সংবিধান সর্বশেষ সংশোধন করা হয় কত সালে?
  1. ২০১৫ সালে
  2. ২০১৬ সালে
  3. ২০১৭ সালে
  4. ২০১৮ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন:
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
- ১৯৭২ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত মোট ১৭ বার বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধিত হয়েছে।
- ১৯৭৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্যে প্রথম সংশোধনী গৃহীত হয়।
- সর্বশেষ ২০১৮ সালে সংবিধানের ১৭তম সংশোধনী গৃহিত হয়।
- সপ্তদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল সংবিধানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যদের মেয়াদ বৃদ্ধি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

১,৩২৬.
বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চম অধ্যায়ের বিষয়বস্তু নিচের কোনটি?
  1. বিচার বিভাগ
  2. মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
  3. নির্বাহী বিভাগ
  4. আইনসভা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন।
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৩২৭.
বাংলাদেশের সংবিধানে কোন ধরণের মালিকানার উল্লেখ নেই?
  1. রাষ্ট্রীয় মালিকানা
  2. যৌথ মালিকানা
  3. সমবায়ী মালিকানা
  4. ব্যক্তিগত মালিকানা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানে যৌথ মালিকানার উল্লেখ নেই।

মালিকানা নীতি:
- বাংলাদেশ সংবিধানের একটা উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, এখানে তিন ধরনের মালিকানা নীতি স্বীকার করা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এগুলো হচ্ছে-
১. রাষ্ট্রীয় মালিকানা,
২. সমবায় মালিকানা এবং,
৩. ব্যক্তিগত মালিকানা।

⇒ সংবিধানের অনুচ্ছেদ-১৩:
- মালিকানার নীতি- “উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদনব্যবস্থা ও বন্টনপ্রণালীসমূহের মালিক বা নিয়ন্ত্রক হইবেন জনগণ এবং এই উদ্দেশ্যে মালিকানা-ব্যবস্থা নিম্নরূপ হইবে:
(ক) রাষ্ট্রীয় মালিকানা, অর্থাৎ অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান প্রধান ক্ষেত্র লইয়া সুষ্ঠু ও গতিশীল রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারী খাত সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রের মালিকানা;
(খ) সমবায়ী মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে সমবায়সমূহের সদস্যদের পক্ষে সমবায়সমূহের মালিকানা; এবং
(গ) ব্যক্তিগত মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যক্তির মালিকানা৷”

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৩২৮.
সংবিধানের কত অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর?
  1. ক) ৪৮(১) অনুচ্ছেদ
  2. খ) ৪৯ অনুচ্ছেদ
  3. গ) ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ৫০ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নূন্যতম বয়স ২৫ বছর।
- সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১২২(২) খ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যক্তির ভোটাধিকার প্রাপ্তির নূন্যতম বয়স ১৮ বছর।
- সংবিধানের ১২২(১) অনুচ্ছেদে বলা আছে 'প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটাধিকার- এই নীতির ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।'
- তাই ভোটার হওয়ার নূন্যতম বয়স ১৮ বছর।
- রাষ্ট্রপতি হওয়ার নূন্যতম বয়স ৩৫ বছর।

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৩২৯.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ থেকে ৬৭ বছর করা হয়? 
  1. একাদশ
  2. দ্বাদশ  
  3. ত্রয়োদশ
  4. চতুর্দশ 
ব্যাখ্যা

চতুর্দশ সংশোধনী: 
- সময়: মে, ২০০৪ সাল।
- চতুর্দশ সংবিধান সংশোধনীতে বলা হয়েছে স্পীকার অথবা ডেপুটি স্পীকার সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাতে অসমর্থ হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করানোর বিধান করা হয়।
- জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা ৩০০ থেকে ৩৪৫-এ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
- যার মধ্যে ৪৫টি আসন হবে সংরক্ষিত মহিলা আসন। এ ৪৫টি বর্ধিত আসনে মনোনীত নারী প্রার্থীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।
- সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর আওতায় সাধারণ আসনের সংখ্যানুপাতে নারী আসনগুলো ভাগ করা হবে।
- সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসর গ্রহণের বয়স ৬৫ থেকে ৬৭বছর,
- পিএসসির চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের বয়সসীমা ৬২ থেকে ৬৫ বছর
- এবং মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের অবসর বসয়সীমা ৬০ থেকে ৬৫ বছরে উন্নীত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৩০.
কোন তারিখটিকে সংবিধান দিবস হিসাবে পালন করা হয়?
  1. ক) ২৩ মার্চ
  2. খ) ১২ অক্টোবর
  3. গ) ৪ নভেম্বর
  4. ঘ) ১৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধান খসড়া তৈরীর উদ্দেশ্যে গণপরিষদে ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রনয়ন কমিটি গঠন করা হয়। 
- এই কমিটি ৭০টি বৈঠক করে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন করেন। 
- ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ তারিখে গণপরিষদে উত্থাপন করা হয় সাধারন আলোচনার জন্য। 
- গণপরিষদ সদস্যরা সাধারন আলোচনার পর ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর তা গণপরিষদে পাশ হয়। 
- ৪ নভেম্বর সংবিধান দিবস।  
সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান - আরিফ খান

১,৩৩১.
সংবিধানের কোন সংশোধনী আইন বলে, ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়?
  1. নবম সংশোধনী
  2. ষষ্ঠ সংশোধনী
  3. সপ্তম সংশোধনী
  4. অষ্টম সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী:
- সংবিধানের অষ্টম সংশোধী আইন ১৯৮৮ সালের ৭ জুন এই সংশোধনী আইন পাস হয়।
- এর দ্বারা সংবিধানের ২, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।

 • এই সংশোধনী আইনবলে-
(১) ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়;
(২) ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়;
(৩) সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদে ইবহমধষর শব্দটি পরিবর্তন করে ইধহমষধ করা হয় এবং উধপপধ পরিবর্তন করে উযধশধ করা হয়;
(৪) সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী

- রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মাননা, পুরস্কার বা অভিধা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, পরবর্তী সময়ে সুপ্রীম কোর্ট সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদের সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে, কারণ তার দ্বারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তিত হয়েছে।

উৎস: সংবিধান।

১,৩৩২.
স্পিকার হিসেবে বাংলাদেশের সংবিধান প্রমাণীকৃত করেন কে?
  1. মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ
  2. শাহ আবদুল হামিদ
  3. মোহাম্মদ উল্লাহ
  4. আব্দুল মালেক উকিল
ব্যাখ্যা
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর দুপুর বেলায় বাংলাদেশ সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয়। তখন গণপরিষদের স্পিকার ছিলেন মোহাম্মদ উল্লাহ এবং ডেপুটি স্পিকার ছিলেন মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ।
- ১৪ ডিসেম্বর স্পিকার হিসেবে মোহাম্মদ উল্লাহ গণপরিষদে গৃহীত সংবিধান প্রমাণীকৃত করেন।
- ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যগণ এতে স্বাক্ষর করেন।
- প্রথমে বঙ্গবন্ধু এবং এরপর সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং তাজউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষর করেন।
- সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানের মূল কপিতে স্বাক্ষর করেননি।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
১,৩৩৩.
বিষয়বস্তুর দিক কোন দুটি সংশোধনী পরস্পর বিপরীতধর্মী?
  1. ক) তৃতীয় এবং দ্বাদশ
  2. খ) পঞ্চম এবং সপ্তম
  3. গ) অষ্টম এবং দ্বাদশ
  4. ঘ) চতুর্থ এবং দ্বাদশ
ব্যাখ্যা
- বিষয়বস্তুর দিক দিয়ে সংবিধানের চতুর্থ এবং দ্বাদশ সংশোধনী পরস্পর বিপরীত।
- ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় শাসন পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন পদ্ধতি চালু এবং বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় রাজনীতি প্রবর্তনে। 
অন্যদিকে,
- ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৭ বছর পর বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন ঘটে। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৩৩৪.
বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সংক্রান্ত ধারা কয়টি?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৫টি
  3. গ) ১৮টি
  4. ঘ) ১৯টি
ব্যাখ্যা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ২য় অধ্যায়ের ৮ম অনুচ্ছেদ থেকে ২৫তম অনুচ্ছেদ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলো বর্ণিত হয়েছে।
জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এই চারটি বিষয়কে রাষ্ট্রের স্তম্ভ বা মৌলিক আদর্শ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)

১,৩৩৫.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে?
  1. ২৭ নং
  2. ১৯ নং
  3. ২৯ নং
  4. ২৮ নং
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- সংবিধানের ১৯ নং অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে।
- ১৯(৩) নং দফায় বলা হয়েছে “জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।”

অন্যদিকে,
- ২৭ নং অনুচ্ছেদ : আইনের দৃষ্টিতে সমতা
- ২৮ নং অনুচ্ছেদ : ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য না করা
- ২৯ নং অনুচ্ছেদ : সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৩৩৬.
”মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ” সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ৪৫নং
  2. ৪১নং
  3. ৪৬নং
  4. ৪৪নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ৪৪নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু-  মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ।

অন্যদিকে,
• সংবিধানের ৪১নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু-  ধর্মীয় স্বাধীনতা।
• সংবিধানের ৪২নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু- সম্পত্তির অধিকার।
• সংবিধানের ৪৫নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু- শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন।
• সংবিধানের ৪৬নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু- দায়মুক্তি-বিধানের ক্ষমতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৩৩৭.
কোনটি বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার
  2. এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভা
  3. দুষ্পরিবর্তনীয়
  4. প্রজাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকরী হয়।

⇒ মূল সংবিধানের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
১. লিখিত দলিল।
২. দুষ্পরিবর্তনীয়।
৩. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
৪. মৌলিক অধিকার।
৫. এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র।
৬. প্রজাতন্ত্র।
৭. এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
৮. সংসদীয় পদ্ধতির সরকার।
৯. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।
১০. ন্যায়পাল।
১১. সাংবিধানিক প্রাধান্য।

উল্লেখ্য,
- রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য নয়।

উৎস: পৌরনীতি, বাংলাদেশের সংবিধান, এস এস সি প্রোগ্রাম।
১,৩৩৮.
'জরুরী-অবস্থা ঘোষণা' এর উল্লেখ রয়েছে কোন অনুচ্ছেদে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৪১(ক)
  2. অনুচ্ছেদ ১৪১(খ)
  3. অনুচ্ছেদ ১৪১(গ)
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১৩০ - অস্থায়ী মহা হিসাব-নিরীক্ষক।
- অনুচ্ছেদ ১৩১ - প্রজাতন্ত্রের হিসাব-রক্ষার আকার ও পদ্ধতি।
- অনুচ্ছেদ ১৩২ - সংসদে মহা হিসাব-নিরীক্ষকের রিপোর্ট উপস্থাপন।
- অনুচ্ছেদ ১৩৩ - নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলী।
- অনুচ্ছেদ ১৩৪ - কর্মের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ১৩৫ - অসামরিক সরকারী কর্মচারীদের বরখাস্ত প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ১৩৬ - কর্মবিভাগ-পুনর্গঠন।
- অনুচ্ছেদ ১৩৭ - কমিশন-প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ১৩৮ - সদস্য-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ১৩৯ - পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ১৪০ - কমিশনের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪১ - বার্ষিক রিপোর্ট।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(ক) - জরুরী-অবস্থা ঘোষণা।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(খ) - জরুরী-অবস্থার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(গ) - জরুরী-অবস্থার সময় মৌলিক অধিকারসমূহ স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪২ -  সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৩৩৯.
হস্তলিখিত সংবিধানের অঙ্গসজ্জা করেন -
  1. তাজউদ্দীন আহমদ
  2. হাশেম খান
  3. কাইয়ুম চৌধুরী
  4. এস এম সুলতান
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
 
- হস্তলিখিত সংবিধানের অঙ্গসজ্জা করেন হাশেম খান।
- অঙ্গসজ্জা কার্যক্রমের মূল তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন জয়নুল আবেদিন। 
- ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদের সদস্যগণ হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হস্তলিখিত সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর করেন।
- হস্তলিখিত সংবিধানে ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি। 
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর ছাড়া ৯৩ পৃষ্ঠা।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর সহ - ১০৯ পৃষ্ঠা।
- ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ হতে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৩৪০.
সুপ্রীম কোর্টের বিচারকের যোগ্যতা সম্পর্কে সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. ৬৫(১)
  2. ৯৫(২)
  3. ৯৪(১)
  4. ৭৯(১)
ব্যাখ্যা
• বিচারক-নিয়োগ:
৯৫। (১) প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করিয়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে
নিয়োগদান করিবেন।
(২) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হইলে, এবং
(ক) সুপ্রীম কোর্টে অন্যূন দশ বৎসরকাল এ্যাডভোকেট না থাকিয়া থাকিলে; অথবা
(খ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্যূন দশ বৎসর কোন বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করিয়া থাকিলে; অথবা
(গ) সুপ্রীমকোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকিয়া থাকিলে;
তিনি বিচারকপদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না।
(৩) এই অনুচ্ছেদে "সুপ্রীম কোর্ট” বলিতে এই সংবিধান প্রবর্তনের পূর্বে যে কোন সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে আদালত
হাইকোর্ট হিসাবে এখতিয়ার প্রয়োগ করিয়াছে, সেই আদালত অন্তর্ভুক্ত হইবে।]

অন্যদিকে,
- ৭৯। (১) সংসদের নিজস্ব সচিবালয় থাকিবে।
- ৬৫। (১) "জাতীয় সংসদ" নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকিবে এবং এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইনপ্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, সংসদের আইন-দ্বারা যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন বা আইনগত কার্যকরতাসম্পন্ন অন্যান্য চুক্তিপত্র প্রণয়নের ক্ষমতার্পণ হইতে এই দফার কোন কিছুই সংসদকে নিবৃত্ত করিবে না।
- ৯৪। (১) "বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট" নামে বাংলাদেশের একটি সর্বোচ্চ আদালত থাকিবে এবং আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ লইয়া তাহা গঠিত হইবে।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৩৪১.
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ সম্পর্কে সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ৯৩ নং
  2. ৯৪ নং
  3. ৯৫ নং
  4. ৯৬ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ সম্পর্কে বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে।

সুপ্রীম কোর্টের বিচারক নিয়োগ:
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, 
(১) প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করবেন।

(২) কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হলে, এবং (ক) সুপ্রীম কোর্টে অন্যূন দশ বৎসরকাল এ্যাডভোকেট না থাকলে; অথবা
(খ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্যূন দশ বৎসর কোনো বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করে থাঢ়লে; অথবা
(গ) সুপ্রীমকোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলে;তিনি বিচারকপদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না।

(৩) এই অনুচ্ছেদে ‘‘সুপ্রীম কোর্ট’’ বলতে এই সংবিধান প্রবর্তনের পূর্বে যে কোনো সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে আদালত হাইকোর্ট হিসাবে এখতিয়ার প্রয়োগ করেছে, সেই আদালত অন্তর্ভুক্ত হবে।

অন্যদিকে,
- ৯৩ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ প্রণয়নের ক্ষমতা,
- ৯৪ নং অনুচ্ছেদে সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা এবং
- ৯৬ নং অনুচ্ছেদে বিচারকদের পদের মেয়াদ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৩৪২.
বাংলাদেশের সংবিধানের 'অনুচ্ছেদ - ৩' এর বিষয়বস্তু কী?
  1. রাষ্ট্রভাষা
  2. রাষ্ট্রধর্ম
  3. নাগরিকত্ব
  4. রাজধানী
ব্যাখ্যা
- অনুচ্ছেদ ৩: রাষ্ট্রভাষা - প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। 

অন্যদিকে: 
- অনুচ্ছেদ ২ক: রাষ্ট্রধর্ম, 
- অনুচ্ছেদ ৫: রাজধানী। 
- অনুচ্ছেদ ৬: নাগরিকত্ব।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৩৪৩.
বাংলাদেশ সংবিধান গৃহীত হয় কবে?
  1. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  2. ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
  3. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  4. ১৭ নভেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধান:
- সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ বাংলাদেশের জন্য একটি সংবিধান রচনার লক্ষ্যে ১০ এপ্রিল ৪৩০ জন সদস্য বিশিষ্ট গণ-পরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- এদের মধ্য থেকে ৩৪ জন সদস্য নিয়ে একটি খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৯৭২ সালে ১২ অক্টোবর খসড়া সংবিধান বিল গণ-পরিষদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পেশ করা হয়।
-  বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়।
 
উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৪৪.
সংবিধান অনুসারে নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ কত বছরের জন্যে নিয়োগপ্রাপ্ত হন?
  1. ক) ২ বছর
  2. খ) ৩ বছর
  3. গ) ৪ বছর
  4. ঘ) ৫ বছর
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১১৮(৩) নং দফা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনারদের পদের মেয়াদকাল দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পরবর্তী ৫ বছর।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চার জন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৩৪৫.
কবে থেকে বাংলাদেশের সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়?
  1. ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
  2. ১০ জানুয়ারি ১৯৭২
  3. ৪ নভেম্বর ১৯৭২
  4. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- ১৭ এপ্রিল খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় ।
- ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
- সংবিধান রচনা ও গণপরিষদে গৃহীত হওয়ার সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
- গণপরিষদের প্রথম স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার যথাক্রমে শাহ আবদুল হামিদ ও মোহাম্মদ উল্লাহ।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪৬.
বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর করেন কে?
  1. তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. আব্দুর রউফ
  3. এম মনসুর আলী
  4. শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধান:
- হস্তলিখিত সংবিধানের মূল লেখক - এ.কে.এম আব্দুর রউফ।
- হস্তলিখিত সংবিধানে মোট ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।
- হাতে লেখা সংবিধানের পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল ১০৯।
- সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর করেন - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি।
- সংবিধানের প্রচ্ছদে শীতলপাটির উপর লেখা ছিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।

সূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৩৪৭.
বাংলাদেশের সংবিধানে 'অসাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারীদের শাস্তির কথা বলা হয়েছে কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ক) ২৩ক
  2. খ) ১৮ক
  3. গ) ৭খ
  4. ঘ) ৭ক
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
• ৭ক। (১) কোন ব্যক্তি শক্তি প্রদর্শন বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা অন্য কোন অসাংবিধানিক পন্থায় -
  (ক) এই সংবিধান বা ইহার কোন অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে ; কিংবা
 (খ) এই সংবিধান বা ইহার কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে-
 তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে।
 (২) কোন ব্যক্তি (১) দফায় বর্ণিত-
 ক) কোন কার্য করিতে সহযোগিতা বা উস্কানি প্রদান করিলে; কিংবা
  খ) কার্য অনুমোদন, মার্জনা, সমর্থন বা অনুসমর্থন করিলে-
 তাহার এইরূপ কার্যও একই অপরাধ হইবে।
 (৩) এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

অন্যদিকে,
• ৭খ।সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমুহের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে।]

• সংবিধানের ২৩ক নং অনুচ্ছেদ-উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি।

• ১৮ক। রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন।]

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৩৪৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা আছে, “সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান”?
  1. অনুচ্ছেদ ২৭
  2. অনুচ্ছেদ ২৮
  3. অনুচ্ছেদ ২৯
  4. অনুচ্ছেদ ৩২
ব্যাখ্যা
আইনের দৃষ্টিতে সমতা:
- সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয়লাভের অধিকারী। [অনুচ্ছেদ-২৭]

নানান কারণে বৈষম্য:
ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ ভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না। রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষ সমান অধিকার লাভ করবে। কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাবে না। [অনুচ্ছেদ-২৮(১), ২৮(২), ২৮(৩)]

সরকারি নিয়োগলাভের সুযোগের সমতা:
প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদলাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে। ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদলাভের অযোগ্য হবে না। কিংবা সে ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাবে না। [অনুচ্ছেদ- ২৯(১), ২৯ (২)]

জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার রক্ষণ:
- আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না। [অনুচ্ছেদ-৩২]।

উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৩৪৯.
একই অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তিকে একাধিকবার ফৌজদারীতে সোপর্দ ও দণ্ডিত না করার বিধান রয়েছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে? 
  1. অনুচ্ছেদ ৩৬
  2. অনুচ্ছেদ ৩৫
  3. অনুচ্ছেদ ৩৮
  4. অনুচ্ছেদ ৩২
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ৩৫: মৌলিক অধিকার বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ 
(১) অপরাধের দায়যুক্ত কার্যসংঘটনকালে বলবৎ ছিল, এইরূপ আইন ভঙ্গ করিবার অপরাধ ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে না এবং অপরাধ-সংঘটনকালে বলবৎ সেই আইনবলে যে দণ্ড দেওয়া যাইতে পারিত, তাঁহাকে তাহার অধিক বা তাহা হইতে ভিন্ন দণ্ড দেওয়া যাইবে না।

(২) এক অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তিকে একাধিকবার ফৌজদারীতে সোপর্দ ও দণ্ডিত করা যাইবে না।

(৩) ফৌজদারী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচারলাভের অধিকারী হইবেন।

(৪) কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাইবে না।

(৫) কোন ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাইবে না কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া যাইবে না কিংবা কাহারও সহিত অনুরূপ ব্যবহার করা যাইবে না।

(৬) প্রচলিত আইনে নির্দিষ্ট কোন দণ্ড বা বিচারপদ্ধতি সম্পর্কিত কোন বিধানের প্রয়োগকে এই অনুচ্ছেদের (৩) বা (৫) দফার কোন কিছুই প্রভাবিত করিবে না।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৩৫০.
সংবিধানের চেতনার বিপরীতে সামরিক শাসনকে বৈধতা দিতে কোন তফসিলের অপব্যবহার করা হয়?
  1. ক) ৪র্থ তফসিল
  2. খ) ৫ম তফসিল
  3. গ) ৬ষ্ঠ তফসিল
  4. ঘ) ৭ম তফসিল
ব্যাখ্যা
সংবিধানের চেতনার বিপরীতে সামরিক শাসনকে বৈধতা দিতে ৪র্থ তফসিলের অপব্যবহার করা হয়।

• বাংলাদেশে সংবিধান:
- মোট ৭টি তফসিল আছে।
- প্রথম তফসিল : অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বিলুপ্ত)। 
- তৃতীয় তফসিল : শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল : ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী। 
- পঞ্চম তফসিল : বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল : বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল : মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৩৫১.
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করার বিষয়টি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ ২১
  2. অনুচ্ছেদ ২২
  3. অনুচ্ছেদ ২৩
  4. অনুচ্ছেদ ২৪
ব্যাখ্যা

• বিচার বিভাগ:
- রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম।
- বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীন হয়: ১ নভেম্বর ২০০৭ সালে।
- নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগ শেষ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।

⇒ বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
• উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট)।
• অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।

⇒ সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
- সুপ্রিম কোর্ট প্রধান বিচারপতি ও প্রত্যেক বিভাগের বিচারপতিদের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৫ নং ধারা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদেরকে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে থাকেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ষষ্ট বিভাগে বিচার বিভাগের কাঠামো, মর্যাদা এবং কার্যাবলি সম্পর্কিত বিধান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীন হয়: ১ নভেম্বর ২০০৭ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগসমূহ থেকে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণের কথা বলা হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।

তথ্যসূত্র: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।

১,৩৫২.
সংবিধানের 'সপ্তদশ সংশোধনী' কত সালে জাতীয় সংসদে পাস হয়?
  1. ২০১৭ সালে
  2. ২০২১ সালে
  3. ২০১৮ সালে
  4. ২০২২ সালে
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে ২০১৮ সালের ৮ জুলাই পাস হয়েছিল,
- যার মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ আরও ২৫ বছর বাড়ানো হয়। 

'সপ্তদশ সংশোধনী: 

- ২৫ বছরের জন্য জাতীয় সংসদের ৫০টি আসন শুধুমাত্র নারী সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রেখে সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী পাস করেছে সংসদ।
- এর আগে পর্যায়ক্রমে সংবিধানের ৬৫(৩) অনুচ্ছেদ আরও চারবার সংশোধনীর মাধ্যমে নারী আসনের মেয়াদ ও সংখ্যা বাড়ানো হয়। 
- ‘সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) আইন- ২০১৮’ নামে বিলটি পাস হয়।
- বিলের সংশোধনীর পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে ২৯৮টি
- এবং বিলের বিপক্ষে কোনো ‘না’ ভোট পরেনি। ফলে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশকৃত আকারে বিলটি পাস হয়। 

উল্লেখ্য,
- ১৯৯০ সালে সংবিধানের দশম সংশোধনীর মাধ্যমে আরও দশ বছরের জন্য ৩০ জন নারী সদস্যদের আসন সংরক্ষণ করা হয়।
- ২০০৪ সালে চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে আরও দশ বছরের জন্য আইনটি অব্যাহত রাখা হয় এবং নারী সদস্যদের আসন বাড়িয়ে ৪৫জন করা হয়।
- ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পরবর্তী দশ বছরের জন্য আইনটি অব্যাহত রাখা হয় এবং নারী সদস্যদের আসন বাড়িয়ে ৫০ করা হয়।  সে অনুযায়ী, ৩৫০ জন সংসদ সদস্য নিয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

১,৩৫৩.
‘অর্থ বিল’ সম্পর্কিত বিধানাবলী সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. ৬৬ অনুচ্ছেদে
  2. ৭৩ অনুচ্ছেদে
  3. ৭৭ অনুচ্ছেদে
  4. ৮১ অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
অর্থবিল:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৮১ নং অনুচ্ছেদে 'অর্থবিল' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- সরকার যদি দেশের উন্নয়নের জন্য কোন ঋণ গ্রহণ করেন এবং এই সম্পর্কিত কোন বিল সংসদে উত্থাপন করেন তাহলে সেই বিলকে অর্থবিল বলে। 

⇒ ৮১ (১) এই ভাগে "অর্থবিল" বলতে শুধুমাত্র নিম্নলিখিত বিষয়সমূহের সকল বা যে কোন একটি সম্পর্কিত বিধানাবলী-সংবলিত বিল বুঝবে:
- (ক) কোন কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণ;
- (খ) সরকার কর্তৃক ঋণগ্রহণ বা কোন গ্যারান্টি দান, কিংবা সরকারের আর্থিক দায়-দায়িত্ব সম্পর্কিত আইন সংশোধন;
- (গ) সংযুক্ত তহবিলের রক্ষণাবেক্ষণ, অনুরূপ তহবিলে অর্থপ্রদান বা অনুরূপ তহবিল হতে অর্থ দান বা নির্দিষ্টকরণ;
- (ঘ) সংযুক্ত তহবিলের উপর দায় আরোপ কিংবা অনুরূপ কোন দায় রদবদল বা বিলোপ;
- (ঙ) সংযুক্ত তহবিল বা প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব বাবদ অর্থপ্রাপ্তি, কিংবা অনুরূপ অর্থ রক্ষণাবেক্ষণ বা দান, কিংবা সরকারের হিসাব-নিরীক্ষা;
- (চ) উপরি-উক্ত উপ-দফাসমূহে নির্ধারিত যে কোন বিষয়ের অধীন কোন আনুষঙ্গিক বিষয়।

⇒ ৮১ (২) কোন জরিমানা বা অন্য অর্থদণ্ড আরোপ বা রদবদল, কিংবা লাইসেন্স-ফি বা কোন কার্যের জন্য ফি বা উসুল আরোপ বা প্রদান কিংবা স্থানীয় উদ্দেশ্যসাধনকল্পে কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কোন কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণের বিধান করা হয়েছে, কেবল এই কারণে কোন বিল অর্থবিল বলে গণ্য হবে না।

⇒ ৮১ (৩) রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য তাঁর নিকট পেশ করিবার সময়ে প্রত্যেক অর্থবিলে স্পীকারের স্বাক্ষরে এই মর্মে একটি সার্টিফিকেটে থাকিবে যে, তা একটি অর্থবিল, এবং অনুরূপ সার্টিফিকেট সকল বিষয়ে চূড়ান্ত হবে এবং সেই সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

উল্লেখ্য,
- প্রতি বছর পরবর্তী বছরের জন্য সরকারের আর্থিক প্রস্তাবাবলি কার্যকর করার উদ্দেশ্যে অর্থবিল সংসদে উত্থাপন করা হয়। সংসদে উত্থাপনের পর যথানিয়মে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিলটি পাস করতে হয়। অর্থবিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য উপস্থাপিত হলে পনের দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতি প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতি সম্মতি প্রদানে অসমর্থ হলে উক্ত মেয়াদের শেষে বিলটি আইনে পরিণত হয়।

অন্যদিকে:
- অনুচ্ছেদ ৬৬: সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা।
- অনুচ্ছেদ ৭৩: সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী।
- অনুচ্ছেদ ৭৭: ন্যায়পাল।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১,৩৫৪.
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি কত বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন?
  1. ৬২ বছর
  2. ৬৩ বছর
  3. ৬৫ বছর
  4. ৬৭ বছর
ব্যাখ্যা
প্রধান বিচারপতি:
- সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করেই অন্যান্য বিচারপতি দের নিয়োগ দেয়া হয়।
- বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বয়সসীমা দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ বছর।

⇒ সংবিধানের প্রণয়নকালে বিচারপতিদের চাকরির বয়সসীমা ছিল ৬২ বছর।
- ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৯৬ ধারা পুন:স্থাপন করে বিচারপতিদের বয়স করা হয় ৬৭ বছর।
- অর্থাৎ, প্রধান বিচারপতি ৬৭ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য,
- দেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ (২৫তম)।

উৎস: সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।
১,৩৫৫.
কার সম্মতি ব্যতীত বাংলাদেশ কোন যুদ্ধ ঘোষণা বা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে পারে না?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. জাতীয় সংসদ
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৩: যুদ্ধ:
- সংসদের সম্মতি ব্যতীত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না কিংবা প্রজাতন্ত্র কোন যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করবে না।
- এই অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের যুদ্ধ ঘোষণা বা যুদ্ধে জড়িত হওয়ার বিষয়ে সংসদের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের সরকার কোনো যুদ্ধ ঘোষণা করতে চাইলে, বা প্রজাতন্ত্রকে কোনো যুদ্ধে জড়াতে চাইলে, প্রথমে সংসদের অনুমতি বা সম্মতি নিতে হবে।
- এই অনুচ্ছেদটি যুদ্ধ ঘোষণার বিষয়ে সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার ওপর সংসদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৩৫৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ভাগে কর্ম কমিশনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ক) ৯ম
  2. খ) ৭ম
  3. গ) ৮ম
  4. ঘ) ১০ম
ব্যাখ্যা
- ১৯৭২ সালের সংবিধান ছিল একটি লিখিত দলিল যা বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় রচিত হয় তবে বাংলাকে মূল ভাষা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- বাংলাদেশ সংবিধানে ১ টি প্রস্তাবনা, ১১ টি ভাগ, ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ এবং ৪ টি তফসিল রয়েছে।
- বাংলাদেশ সবিধানের প্রথম ভাগে প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ, দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ, তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকারসমূহ, চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগ, পঞ্চম ভাগে জাতীয় সংসদ, ষষ্ঠ ভাগে বিচার বিভাগ, সপ্তম ভাগে নির্বাচন, অষ্টম ভাগে মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক, নবম ভাগে কর্ম কমিশন, দশম ভাগে সংবিধান সংশোধন ও একাদশ ভাগে বিবিধ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য সংখ্যা ছিল ৩৪ জন যার মধ্যে একমাত্র মহিলা সদস্য বেগম রাজিয়া বানু এবং এই কমিটির প্রধান ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- ১৯৭২ সালের ৪ঠা নভেম্বর সংবিধান বিল গণপরিষদে পাস হয় এবং ১৬ই ডিসেম্বর প্রথম বিজয় দিবসে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৫৭.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ভাগে রাষ্ট্রভাষার কথা বলা হয়েছে?
  1. ১ম ভাগে
  2. ২য় ভাগে
  3. ৩য় ভাগে
  4. ৪র্থ ভাগে
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১ম ভাগ:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১ম ভাগে রাষ্ট্রভাষার কথা বলা হয়েছে।
- এছাড়াও বাংলাদেশের সংবিধানের ১ম ভাগে প্রজাতন্ত্র, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা, রাষ্ট্রধর্ম, জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক, জাতির পিতার প্রতিকৃতি, রাজধানী, নাগরিকত্ব, সংবিধানের প্রাধান্য, সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধের কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন। 
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৩৫৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের রক্ষাকর্তা কে? 
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. সেনাবাহিনী প্রধান
  4. রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা

→ বাংলাদেশের সংবিধানের রক্ষক হল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিমকোর্ট।
- সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের প্রধান হিসেবে সংবিধানের রক্ষাকর্তা হলেন প্রধান বিচারপতি।

♦ সংবিধানের রক্ষক:
- সুপ্রীম কোর্ট সংবিধানের অভিভাবক ও ব্যাখ্যাকারক ।
- তাই এর ক্ষমতা ও কার্যাবলী অপরিসীম।
- সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে সুপ্রীম কোর্ট দেশের সকল আদালতের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
- সংবিধান বহির্ভূত সব কিছুকেই সুপ্রীম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করতে পারে।
- সুপ্রীম কোর্ট জনগণের মৌলিক অধিকারের সংরক্ষক ও সংবিধানের রক্ষক।

♦ উল্লেখ্য:
- গণপরিষদের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয়।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল একটি কমিটি গঠন করা হয় ।
- এই কমিটির মোট সদস্য ছিল ৩৪ জন।
- এই কমিটির প্রধান বা সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান ও বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৫৯.
সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী দ্বারা হাইকোর্ট বিভাগের কোন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল?
  1. হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ বিলুপ্তি
  2. আপিল বিভাগ বিলুপ্তি
  3. বিচার বিভাগীয় কেন্দ্রীকরণ
  4. ঢাকার বাইরে ৬টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন
ব্যাখ্যা

৮ম সংশোধনী:
- ৮ম সংশোধনী পাশ হয়: ১৯৮৮ সালে।
- ১৯৮৯ আপীল বিভাগ হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন সংক্রান্ত ধারাটি অসাংবিধানিক উল্লেখ করে তা অবৈধ বলে রায় প্রদান করে।
- অষ্টম সংবিধান সংশোধন আইন দ্বারা সংবিধানের ২ক, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।

♦ এই সংশোধনী আইনবলে-
• ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়। 
• ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়।
• সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদে Bengali শব্দটি পরিবর্তন করে Bangla করা হয় এবং Dacca পরিবর্তন করে Dhaka করা হয়। 
• সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মাননা, পুরস্কার গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

১,৩৬০.
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য সংখ্যা কত?
  1. ৩২ জন
  2. ৩৩ জন
  3. ৩৪ জন
  4. ৩৫ জন
ব্যাখ্যা
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য:

- ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- এই কমিটির মোট সদস্য ছিল ৩৪ জন।
- আওয়ামী লীগ ছাড়া একমাত্র সদস্য ছিলেন ন্যাপের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
- এই কমিটির প্রধান বা সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৩৬১.
সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে কোনটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
  1. ধর্মনিরপেক্ষতা
  2. সমাজতন্ত্র
  3. জাতীয়তাবাদ
  4. বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

সংবিধান সংস্কার কমিশন:
- ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’ গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
- ৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

উল্লেখ্য,
⇒ সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ:
- সংবিধান সংস্কার কমিশন একটি কার্যকর গণতন্ত্র, মৌলিক মানবধিকার সুনিশ্চিতকরণ এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাতটি প্রধান বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছে। সেগুলো যথাক্রমে:
১. ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান আদর্শ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনস্বরূপ সংবিধান ও রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে "সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র" প্রস্তাব,
২. ক্ষমতার প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা,
৩. প্রধানমন্ত্রী পদের একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস,
৪. অন্তবর্তী সরকার কাঠামোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব,
৫. বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ,
৬. শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সুনিশ্চিতকরণ,
৭. মৌলিক অধিকারের আওতা সম্প্রসারণ, সাংবিধানিক সুরক্ষা ও বলবৎযোগ্যতা নিশ্চিতকরণ।

⇒ সংবিধানের মূলনীতি:
- ৫.১ কমিশন সুপারিশ করছে যে, সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
- ৫.২ বাংলাদেশের সমাজের বহুত্ববাদী চরিত্রকে ধারণ করে এমন একটি বিধান সংবিধানে যুক্ত করা সমীচীন। সুতরাং, কমিশন নিম্নোক্ত বিধান অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করছে "বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী, বহু-জাতি, বহু-ধর্মী, বহু-ভাষী ও বহু-সংস্কৃতির দেশ যেখানে সকল সম্প্রদাযের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।

রাষ্ট্রের মূলনীতি
- কমিশন সংবিধানের মূলনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র এবং জাতীযতাবাদ এবং এ সংশ্লিষ্ট সংবিধানের ৮, ৯, ১০ ও ১২ অনুচ্ছেদগুলি বাদ দেয়ার সুপারিশ করছে।

উৎস: i) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ।
ii) সংবিধান সংস্কার কমিশন।

১,৩৬২.
”অর্থবিল” সম্পর্কিত বিধান সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে?
  1. ৮০নং
  2. ৮২নং
  3. ৮১নং
  4. ৮৪নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ৮১নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- অর্থবিল।

উল্লেখ্য,
• সংবিধানের ৮২নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- আর্থিক ব্যবস্থাবলীর সুপারিশ।
• সংবিধানের ৮০নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে-  আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি।
• সংবিধানের ৮৪নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- সংযুক্ত তহবিল ও প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৩৬৩.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে নারী-পুরুষ সমান অধিকার পেয়েছে?
  1. ২৭ নং
  2. ২৮ নং
  3. ২৯ নং
  4. ৩০ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদে নারী-পুরুষ সমান অধিকার পেয়েছে।

⇒ সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে,
- ২৮(১) নং: কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ন, নারী পুরুষ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না।
- ২৮(২) নং: রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন।
- ২৮(৩) নং: কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাবে না।
- ২৮(৪)  নং: নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যেকোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করবে না।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৩৬৪.
কোন সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়?
  1. ক) ত্রয়োদশ
  2. খ) চতুর্দশ
  3. গ) পঞ্চদশ
  4. ঘ) দ্বাদশ
ব্যাখ্যা
- ২৭ মার্চ, ১৯৯৬ সালে ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হয়েছিল।
- ৩০ জুন, ২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। 

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৩৬৫.
সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তির কথা বলা আছে সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে?
  1. ৭৮ নং অনুচ্ছেদে
  2. ৩৭ নং অনুচ্ছেদে
  3. ৩৮ নং অনুচ্ছেদে
  4. ৩৯ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
৭৮ (১) সংসদের কার্যধারার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
(২) সংসদের যে সদস্য বা কর্মচারীর উপর সংসদের কার্যপ্রণালীনিয়ন্ত্রণ, কার্যপরিচালনা বা শৃঙ্খলারক্ষার ক্ষমতা ন্যস্ত থাকিবে, তিনি এই সকল ক্ষমতাপ্রয়োগ সম্পর্কিত কোন ব্যাপারে কোন আদালতের এখতিয়ারের অধীন হইবেন না।
(৩) সংসদে বা সংসদের কোন কমিটিতে কিছু বলা বা ভোটদানের জন্য কোন সংসদ-সদস্যের বিরুদ্ধে কোন আদালতে কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।
(৪) সংসদ কর্তৃক বা সংসদের কর্তৃত্বে কোন রিপোর্ট, কাগজপত্র, ভোট বা কার্যধারা প্রকাশের জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।
(৫) এই অনুচ্ছেদ-সাপেক্ষে সংসদের আইন-দ্বারা সংসদের, সংসদের কমিটিসমূহের এবং সংসদ-সদস্যদের বিশেষ-অধিকার নির্ধারণ করা যাইতে পারিবে।

এছাড়াও -
- ৩৭ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- সমাবেশে স্বাধীনতা।
- ৩৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- সংগঠনের স্বাধীনতা।
- ৩৯ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা।

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান
১,৩৬৬.
বাংলাদেশের সংবিধানে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের বিধান কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. ১০৩নং অনুচ্ছেদ
  2. ১১৭নং অনুচ্ছেদ
  3. ১০৮নং অনুচ্ছেদ
  4. ১১০নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৭নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করতে পারে সংসদ। 

অনুচ্ছেদ ১১৭: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালসমূহ

১. ইতঃপূর্বে যা বলা হয়েছে, তা সত্ত্বেও নিম্নলিখিত ক্ষেত্রসমুহ সম্পর্কে বা ক্ষেত্রসমুহ থেকে উদ্ভূত বিষয়াদির উপর এখতিয়ার প্রয়োগের জন্য সংসদ আইনের দ্বারা এক বা একাধিক প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন-
(ক) নবম ভাগে বর্ণিত বিষয়াদি এবং অর্থদণ্ড বা অন্য দণ্ডসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিদের কর্মের শর্তাবলী;
(খ) যে কোন রাষ্ট্রায়ত্ত উদ্যোগ বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের চালনা ও ব্যবস্থাপনা এবং অনুরূপ উদ্যোগ বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষে কর্মসহ কোন আইনের দ্বারা বা অধীন সরকারের উপর ন্যস্ত বা সরকারের দ্বারা পরিচালিত কোন সম্পত্তির অর্জন, প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও বিলি-ব্যবস্থা;

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ১০৩নং অনুচ্ছেদটি মূলত আপিল বিভাগের এখতিয়ার সংজ্ঞায়িত করে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৮নং অনুচ্ছেদ সুপ্রিম কোর্টকে "কোর্ট অফ রেকর্ড" হিসাবে সংজ্ঞায়িত করে। 
- ১১০নং অনুচ্ছেদ: অধস্তন আদালত হইতে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা স্থানান্তর।

সূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৩৬৭.
'সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী' সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ২৬
  2. অনুচ্ছেদ ২৭
  3. অনুচ্ছেদ ২৮
  4. অনুচ্ছেদ ২৯
ব্যাখ্যা

সংবিধানে মৌলিক অধিকার: 
- বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৭ নং অনুচ্ছেদ থেকে ৪৭ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, 'সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী'।

• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ: 
- অনুচ্ছেদ ২১ - নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।
- অনুচ্ছেদ ২২ - নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।
- অনুচ্ছেদ ২৪ - জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ২৫ - আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ২৬ - মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল।
- অনুচ্ছেদ ২৭ - আইনের দৃষ্টিতে সমতা। 
- অনুচ্ছেদ ২৮ - ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।
- অনুচ্ছেদ ২৯ - সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা।
- অনুচ্ছেদ ৩০ - বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ।
- অনুচ্ছেদে ৪৭ - কতিপয় আইনের হেফাজত বিষয়ে আইন বর্ণিত হয়েছে। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৩৬৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন? 
  1. অনুচ্ছেদ- ৭২(১)
  2. অনুচ্ছেদ-৬৪(১)
  3. অনুচ্ছেদ-৭৪(১)
  4. অনুচ্ছেদ-৭৩(১)
ব্যাখ্যা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ৭২ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি।
- তবে এক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করবেন।
- নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ও নতুন বছরের অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণদান করেন।
- রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদে আলোচনা হয়।
- সময়ে সময়ে রাষ্ট্রপতি সংসদে বাণী প্রেরণ করেন।
- তিনি সংসদ মুলতবি রাখতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে তিনি সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারেন।
- সংবিধানে বর্ণিত কয়েকটি পরিস্থিতিতে যেমন- রাষ্ট্রপতির অভিশংসন এর ক্ষেত্রে স্পিকার সংসদ আহ্বান করতে পারেন।

এছাড়াও, 
 - ৭২(২) অনুচ্ছেদের (১) দফার বিধানাবলী সত্ত্বেও সংসদ-সদস্যদের যে কোন সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হইবার ত্রিশ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহবান করা হইবে।
- ৬৪(১) সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হইবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি-জেনারেল পদে নিয়োগদান করবেন।
- ৭৩(১) রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দান এবং বাণী প্রেরণ করিতে পারিবেন।
- ৭৪(১) কোন সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকে সংসদ-সদস্যদের মধ্য হইতে সংসদ একজন স্পীকার ও একজন ডেপুটি স্পীকার নির্বাচিত করিবেন, 

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৩৬৯.
সংবিধানের ১৫০নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা
  2. ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
  3. জরুরী-অবস্থা ঘোষণা
  4. আন্তর্জাতিক চুক্তি
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ১৫০নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী। 
• সংবিধানের ১৪২নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা। 
• সংবিধানের ১৪১(ক)নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- জরুরী-অবস্থা ঘোষণা। 
• সংবিধানের ১৪৫(ক)নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- আন্তর্জাতিক চুক্তি। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৩৭০.
সংবিধানের কয়টি সংশোধনী আদালত কর্তৃক বাতিল করা হয়েছে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ১টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানে বর্তমান পর্যন্ত মোট ১৭টি সংশোধনী আনা হয়।
- এর মধ্যে চারটি সংশোধনী হাইকোর্ট কর্তৃক বাতিল ঘোষিত হয়েছে।
এগুলো হলো:
• পঞ্চম সংশোধনী (১৯৭৯) : বাতিল (আগস্ট ২০০৫)
• সপ্তম সংশোধনী (১৯৮৬) : বাতিল (আগস্ট ২০১০)
• ত্রয়োদশ সংশোধনী (১৯৯৬) : বাতিল (২০১১)
• ষোড়শ সংশোধনী (২০১৪) : বাতিল (২০১৭)।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৩৭১.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের কথা উল্লেখ আছে-
  1. ১৯ নং অনুচ্ছেদে
  2. ২০ নং অনুচ্ছেদে
  3. ২১ নং অনুচ্ছেদে
  4. ২২ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের কথা উল্লেখ আছে।
- নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য সম্পর্কে উল্লেখ আছে ২১ নং অনুচ্ছেদে।
- ২০ নং অনুচ্ছেদে অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম সম্পর্কে উল্লেখ আছে।
- ১৯ নং অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতা সম্পর্কে উল্লেখ আছে।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৩৭২.
সংবিধানের নবম ভাগে নিচের কোনটির কথা বলা হয়েছে?
  1. নির্বাহী বিভাগ
  2. মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক
  3. সরকারী কর্ম কমিশন
  4. সংবিধান সংশোধন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ সংবিধান:
- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। যথা:-
- সংবিধানের প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: সরকারী কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
১,৩৭৩.
সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন-
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. আবু সাঈদ চৌধুরী
  3. তাজউদ্দীন আহমদ
  4. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন।
- এদিন পরিষদের সামনে সকল প্রস্তাব উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন।
- 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন যোগাযোগ মন্ত্রী এম মনসুর আলী।
- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় ।
- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
- সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন আবু সাঈদ চৌধুরী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান, বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৭৪.
কার নেতৃত্বে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়?
  1. ড. কামাল হোসেন
  2. তাজউদ্দিন আহমদ
  3. বেগম রাজিয়া বানু
  4. মাওলানা ভাসানী
ব্যাখ্যা
গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন: 
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে আইন ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে কমিটি প্রথম বৈঠক করে। এই কমিটি সংবিধান সম্পর্কে মতামত লাভের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে অনেকগুলো বৈঠক করে।
- 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' সংবিধান সম্পর্কে বিভিন্ন মহল থেকে ৯৮টি প্রস্তাব ও সুপারিশ পায়।
- ১০ জুন, ১৯৭২ সালে কমিটির শেষ বৈঠকে সংবিধানের প্রাথমিক খসড়াটি অনুমোদন করা হয়।
- ১১ জুন, ১৯৭২ সালে কমিটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে খসড়া সংবিধানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
- ১১ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে কমিটি সর্বশেষ আলাপ-আলোচনা করে এবং সেদিনই সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ খসড়া চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয়।

উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৩৭৫.
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- 
  1. ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা 
  2. আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন 
  3. গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মূলনীতি 
  4. সুযোগের সমতা
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ ১১:
- ১১ নং অনুচ্ছেদে- গনতন্ত্র ও মানবাধিকারের মূলনীতি প্রণীত হয়েছে। 
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১ -এ উল্লেখ আছে যে, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ হবে।
- এখানে সবাইকে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা দেওয়া হবে।
- মানুষের মর্যাদা ও মূল্যকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
- এছাড়া দেশের সব প্রশাসনিক কাজে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণ অংশগ্রহণ করতে পারবে।

অন্যদিকে,
• ১২ নং অনুচ্ছেদে- ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে।
• ২৫ নং অনুচ্ছেদে- আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়নের কথা উল্লেখ আছে। 
• ১৯ নং অনুচ্ছেদে- সুযোগের সমতার কথা বর্ণিত হয়েছে। 

উৎস: Laws Of Bangladesh. 

১,৩৭৬.
বাংলাদেশের সরকারি কর্মকমিশন সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের অধীনে গঠিত হয়?
  1. ১৩৬ নং অনুচ্ছেদ
  2. ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ
  3. ১৩৮ নং অনুচ্ছেদ
  4. ১১৮ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন:
- বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গঠিত।

উল্লেখ্য যে,
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন প্রধানত বিভিন্ন সরকারি চাকুরি ও পদে নিয়োগ দানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি সাংবিধানিক সংস্থা।
- সংস্থাটি সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতি, পদায়ন, বদলি, শৃঙ্খলা ও আপিলের মতো বিষয়ের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গেও জড়িত।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের নিয়োগ প্রদান করেন।
- সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি।

• বাংলাদেশের সংবিধানের পাঁচটি অনুচ্ছেদ সংবলিত একটি অধ্যায়ে কমিশনের গঠনপ্রণালী ও কার্যাবলি নির্দেশিত হয়েছে:
- ১৩৬ নং: কর্মবিভাগ-পুনর্গঠন।
- ১৩৭ নং: সরকারি কর্ম কমিশন-প্রতিষ্ঠা।
- ১৩৮ নং: সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য-নিয়োগ।
- ১৩৯ নং: সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যপদের মেয়াদ।
- ১৪০ নং: সরকারি কর্ম কমিশনের দায়িত্ব।
- ১৪১ নং: সরকারি কর্ম কমিশন বার্ষিক রিপোর্ট কিভাবে জমা দিবে তার কথা উল্লেখ রয়েছে।

তথ্যসূত্র:
i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ওয়েবসাইট।

১,৩৭৭.
'অবসর গ্রহণের পর বিচারগণের অক্ষমতা' বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়?
  1. ক) অনুচ্ছেদ ৯৯
  2. খ) অনুচ্ছেদ ১০০
  3. গ) অনুচ্ছেদ ১০২
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ ১০৩
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগ বিচারবিভাগ অংশে ১ম পরিচ্ছেদে অনুচ্ছেদ ৯৯ অনুযায়ী অবসর গ্রহণের পর বিচারগণের অক্ষমতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে ।
- অনুচ্ছেদ ৯৯ (১) - কোন ব্যক্তি (এই সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদের বিধানাবলী-অনুসারে অতিরিক্ত বিচারকরুপে দায়িত্ব পালন ব্যতীত) বিচারকরুপে দায়িত্ব পালন করে থাকলে উক্ত পদ হতে অবসর গ্রহণের বা অপসারিত হওয়ার পর তিনি কোন আদালত বা কোন কর্তৃপক্ষের নিকট ওকালতি বা কার্য করবেন না এবং বিচার বিভাগীয় বা আধা-বিচার বিভাগীয় পদ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন না। 
- অনুচ্ছেদ ৯৯ (২) - (১) দফায় যা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক পদে বহাল থাকলে উক্ত পদ হতে অবসর গ্রহণের পর তিনি আপীল বিভাগে ওকালতি বা কার্য করতে পারবেন।

অনুচ্ছেদ ১০০ - সুপ্রীম কোর্টের আসন।
অনুচ্ছেদ ১০১ - হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার। 
অনুচ্ছেদ ১০২ - কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা। 

উৎস:- বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৩৭৮.
সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান কে?
  1. মোহাম্মদ ইকরামুল হক
  2. অধ্যাপক আলী রীয়াজ
  3. এম মঈন আলম ফিরোজী
  4. সালেহ উদ্দিন সিফাত
ব্যাখ্যা

সংবিধান সংস্কার কমিশন: 
- গঠিত হয়- ৬ অক্টোবর, ২০২৪।
- এই কমিশনের প্রধান- অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
- মোট সদস্য- ৯ জন।

• উল্লেখযোগ্য সুপারিশসমূহ:
- মূলনীতি: সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র।
- সংসদ: দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হবে। 
- নিম্নকক্ষ: ৪০০টি আসন।
 - উচ্চকক্ষ: ১০৫টি আসন।
- মেয়াদ: ৪ বছর (সরকারের মেয়াদ, সংসদের মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ)।
- সংসদীয় প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স হবে ২১ বছর। 

উৎস: সংবিধান সংস্কার কমিশন। 

১,৩৭৯.
বাংলাদেশের সংবিধানে কয়টি তফসিল সংযোজন করা হয়েছে? 
  1. ৫টি 
  2. ৬টি 
  3. ৭টি 
  4. ৯টি 
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের তফসিল:
- বাংলাদেশ সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল সংযোজন করা হয়েছে।

৭টি তফসিল:
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত)।
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী।
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 
১,৩৮০.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'যুদ্ধ' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৬৩
  2. অনুচ্ছেদ ৬৪
  3. অনুচ্ছেদ ৬৫
  4. অনুচ্ছেদ ৬৬
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৬০ - স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৬১ - সর্বাধিনায়কতা।
- অনুচ্ছেদ ৬২ - প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগে ভর্তি প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৬৩ - যুদ্ধ।
- অনুচ্ছেদ ৬৪ - অ্যাটর্নি-জেনারেল।
- অনুচ্ছেদ ৬৫ - সংসদ-প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৬৬ - সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা।
- অনুচ্ছেদ ৬৭ - সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া।
- অনুচ্ছেদ ৬৮ - সংসদ-সদস্যদের [পারিশ্রমিক] প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৬৯ - শপথগ্রহণের পূর্বে আসন গ্রহণ বা ভোট দান করিলে সদস্যের অর্থদণ্ড।
- অনুচ্ছেদ ৭০ - রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৩৮১.
রাষ্ট্রপতি কোন ধারার বিধানমতে কারো সাথে কোনো পরামর্শ ছাড়াই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন?
  1. ৪৮ (১) নং
  2. ৪৮ (২) নং
  3. ৪৮ (৩) নং
  4. ৪৮ (৪) নং
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি ৪৮ (৩) নং ধারার বিধানমতে কারো সাথে কোনো পরামর্শ ছাড়াই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন।

রাষ্ট্রপতি:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগের -
- ৪৮ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।

- ৪৮ (২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাঁকে প্রদত্ত ও তাঁর উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করবেন।

- ৪৮ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তাঁর অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করবেন।

- ৪৮ (৪) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হইবার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি-
(ক) পঁয়ত্রিশ বছরের কম বয়স্ক হন; অথবা
(খ) সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য না হন; অথবা
(গ) কখনও এই সংবিধানের অধীন অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ হতে অপসারিত হয়ে থাকেন।

- ৪৮ (৫) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রীয় নীতি সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখবেন এবং রাষ্ট্রপতি অনুরোধ করলে যেকোন বিষয় মন্ত্রিসভায় বিবেচনার জন্য পেশ করবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৩৮২.
অধস্তন আদালতসমূহ প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ক) ১১৪ নং অনুচ্ছেদ
  2. খ) ১১৭ নং অনুচ্ছেদ
  3. গ) ১০৮ নং অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ৯৯ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ১১৪ নং অনুচ্ছেদে অধস্তন আদালত সমূহ প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে বলা হয়েছে এখানে আইনের দ্বারা যেরূপ প্রতিষ্ঠিত হবে, সুপ্রিম কোর্ট ব্যাতীত অন্যান্য অধস্তন আদালত থাকবে ।
- সংবিধানের ১১৭নং অনুচ্ছেদে প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১০৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট একটি কোর্ট অব রেকর্ড হবে এবং ইহার অবমাননা হলে দন্ডাদেশদানের অধিকারি হবে।

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৩৮৩.
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কর্মকান্ড কার নামে পরিচালিত হয়?
  1. মন্ত্রী
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. স্পীকার
ব্যাখ্যা
- কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের সকল প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুহচ্ছে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী।
- রাষ্ট্রপতির নামে রাষ্ট্রের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং
- প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীপরিষদের কার্যকরি প্রধান হিসেবে সকল কার্য পরিচালনা করে থাকেন।
- প্রধানমন্ত্রীর অধীনে থাকেন মন্ত্রীগণ এবং মন্ত্রীদের অধীনে
থাকেন রাষ্ট্রের স্থায়ী প্রশাসন অর্থাৎ সচিবগণ।
- সচিব হলেন বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার অরাজনৈতিক প্রশাসনিক
প্রধান। 
উৎস: এইচ.এস.সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮৪.
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের আলোকে গৃহীত হয়?   
  1. অনুচ্ছেদ ১৪
  2. অনুচ্ছেদ ১৫
  3. অনুচ্ছেদ ১৬
  4. অনুচ্ছেদ ১৯ 
ব্যাখ্যা

• সংবিধানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি: 
- সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি  সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ (ঘ)  এর আলোকে গৃহীত ও বাস্তবায়ন হয়। 
- এই অনুচ্ছেদটি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্র পরিকল্পিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য মৌলিক প্রয়োজনীয়তা (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা) নিশ্চিত করবে। 
- অনুচ্ছেদটি সামাজিক নিরাপত্তাকে নাগরিকের অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি (যেমন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ইত্যাদি) চালু ও সম্প্রসারণের ভিত্তি প্রদান করেছে।
- 'জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল' এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সকল কার্যক্রম এই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।

• অনুচ্ছেদ ১৫: রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশক্তির ক্রমবৃদ্ধিসাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতিসাধন, যাহাতে নাগরিকদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্জন নিশ্চিত করা যায়:

(ক) অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা;
(খ) কর্মের অধিকার, অর্থাৎ কর্মের গুণ ও পরিমাণ বিবেচনা করিয়া যুক্তিসঙ্গত মজুরীর বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার অধিকার;
(গ) যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিনোদন ও অবকাশের অধিকার; এবং
(ঘ) সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতাপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত আয়ত্তাতীত কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারী সাহায্যলাভের অধিকার৷


অন্যদিকে, 
- অনুচ্ছেদ ১৪ : কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি। 
- অনুচ্ছেদ ১৬ : গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব। 
- অনুচ্ছেদ ১৯ : সুযোগের সমতা। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। 

১,৩৮৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জরুরী-অবস্থা ঘোষণার কথা উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৪১(ক)
  2. অনুচ্ছেদ ১৪১(খ)
  3. অনুচ্ছেদ ১৪১(গ)
  4. অনুচ্ছেদ ১৪১(ঘ)
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১৪১ - বার্ষিক রিপোর্ট।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(ক) - জরুরী-অবস্থা ঘোষণা।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(খ) - জরুরী-অবস্থার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(গ) - জরুরী-অবস্থার সময় মৌলিক অধিকারসমূহ স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪২ -  সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৩ - প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৪ - সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫ - চুক্তি ও দলিল।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক) - আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৬ - বাংলাদেশের নামে মামলা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৭ - কতিপয় পদাধিকারীর পারিশ্রমিক প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৮ - পদের শপথ।
- অনুচ্ছেদ ১৪৯ - প্রচলিত আইনের হেফাজত।
- অনুচ্ছেদ ১৫০ - ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৩৮৬.
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. ক) পারমাণবিক শক্তি কমিশন
  2. খ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
  3. গ) কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল অব বাংলাদেশ
  4. ঘ) বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ড
ব্যাখ্যা
- সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ বাংলাদেশ সরকারের আইনি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারের আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় বেশ কয়েকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ:-  
- জাতীয় সংসদ।
- সুপ্রিম কোর্ট। 
-নির্বাচন কমিশন।
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।
- এটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।
- কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল অব বাংলাদেশ।

উৎস:- জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৩৮৭.
সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার চালু করা
  2. সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন
  3. বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা বাড়ানো
  4. উপ-রাষ্ট্রপতির পদ চালু করা
ব্যাখ্যা

সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী:
- এই সংশোধনী আইন পাস হয় ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট।
- এ সংশোধনীর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।
- ১৯৯১ সালের ৬ই আগস্ট ৩০৭-০ ভোটে এ সংশোধনী বিলটি গৃহীত হয়।

⇒ এ সংশোধনীর প্রধান প্রধান দিক:
(১) সংসদীয় সরকার: দ্বাদশ সংশোধনীর প্রধান দিক হল সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন। এ সংশোধনীর দ্বারা বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়।
(২) নামমাত্র রাষ্ট্রপতি: এ সংশোধনীর দ্বারা বাংলাদেশে একজন নামমাত্র রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। তিনি আইনানুসারে সংসদ সদস্য দ্বারা নির্বাচিত হবেন। তিনি যাবতীয় বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে কাজ করবেন।
(৩) রাষ্ট্রপতির মেয়াদ: এ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ নির্ধারিত হয়। রাষ্ট্রপতি ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। একাধিক্রমে তিনি ১০ বছরের বেশি মেয়াদে ক্ষমতায় থাকবেন না।
(৪) উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ: উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ দ্বাদ্বশ সংশোধনীর একটি উল্লেখযোগ্য দিক। দ্বাদশ সংশোধনীর দ্বারা উপ-রাষ্ট্রপতির পদটি বিলোপ করা হয়। এ সংশোধনীতে বলা হয়, কোন কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে জাতীয় সংসদের স্পীকার অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
(৫) মন্ত্রিসভা গঠন: মন্ত্রিসভা গঠন পদ্ধতি সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর একটি বিশেষ দিক। এ সংশোধনীতে বলা হয় বাংলাদেশ সরকার ব্যবস্থায় একটি মন্ত্রিসভা থাকবে। রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের আস্থাভাজন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করবেন। তিনি হবেন এ মন্ত্রিসভার নেতা।
(৬) গণভোট পদ্ধতি: এ সংশোধনীতে গণভোট পদ্ধতির কথা বলা হয়। দ্বাদশ সংশোধনী দ্বারা কেবল প্রস্তাবনা, সংবিধানের প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ সংক্রান্ত কোন সংশোধনী বিল গণভোট আকারে পেশ করার বিধান রাখা হয়।

তাছাড়া,
- সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে এই আইনে স্থানীয় সরকার কাঠামোতে জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়, যা দেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করে।

উৎস: i) BBC.
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৮৮.
গণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন কে?
  1. মাওলানা আব্দুল রশিদ তর্কবাগীশ
  2. ড. কামাল হোসেন
  3. মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  4. শাহ আব্দুল হামিদ
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশ গণপরিষদ হল ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক  সংবিধান  অধিবেশন।
- রাষ্ট্রপতি গণপরিষদের আহ্বান করেন-১০  এপ্রিল ১৯৭২।
- গণ পরিষদের খসড়া সংবিধান উত্থাপিত হয় ১২ অক্টোবর ১৯৭২
- গৃহীত হয় -৪ নভেম্বর ১৯৭২।
- কার্যকর হয় -১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২।
- গণপরিষদে খসড়া সংবিধান উত্থাপন করেন- ড. কামাল হোসেন।   
- গণপরিষদের স্পিকার ছিলেন- শাহ আব্দুল হামিদ।
- গণ পরিষদের  ডেপুটি স্পিকার  ছিলেন-মোহাম্মদ উল্লাহ।
- গণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন- মাওলানা আব্দুল রশিদ তর্কবাগীশ।
- সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য ছিলেন-৩৪ জন।
- একমাত্র নারী সদস্য- বেগম রাজিয়া বানু।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র বিরোধী দলের সদস্য ছিলেন- সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৮৯.
বাংলাদেশ সংবিধানের ____ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ভোটার হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর।
  1. ১২২(২)
  2. ২২
  3. ১০৮
  4. ১৩৮(১)
ব্যাখ্যা
ভোটার হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স:
- বাংলাদেশ সংবিধানের সপ্তম ভাগ 'নির্বাচন' অংশে প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকারের কথা বলা আছে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১২২(২) অনুচ্ছেদ বলা হয়েছে, বাংলাদেশের একজন ভোটারের সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর হতে হবে।

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২২(১) ও (২) অনুযায়ী ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা:
- প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকার-ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
- কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার-তালিকাভু্ক্ত হওয়ার অধিকারী হবেন, যদি
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন;
(খ) তাঁর বয়স আঠার বৎসরের কম না হয়;
(গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁর সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ বলে ঘোষণা বহাল না থাকে;
(ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হয়ে থাকেন।

উৎস:- বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৩৯০.
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ব্যতীত সদস্য সংখ্যা কতজন ছিলো?
  1. ক) ৩৩
  2. খ) ৩২
  3. গ) ৩৪
  4. ঘ) ৩৫
ব্যাখ্যা
- ১১ এপ্রিল ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান প্রণয়নের জন্য ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' গঠন করা হয়।
- ৩৪ জন সদস্যের মধ্যে ২৪ জন আইনজীবী, ৪ জন প্রফেসর, ১ জন ডাক্তার, ১ জন সাংবাদিক, ১ জন কৃষিবিদ ও ৩ জন সমাজকর্মী ছিলেন।
- ১০ জুন ১৯৭২-এর মধ্যে একটি খসড়া প্রস্তুত করে গণপরিষদে উত্থাপনের জন্য কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয় ।
- ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সদস্যরা হলেন :
১. ডঃ কামাল হোসেন (সভাপতি)
২. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
৩. তাজউদ্দীন আহমদ
8. খন্দকার মোস্তাক আহ্মাদ 
৫. এ.এইচ. এম কামরুজ্জামান
৬. এম. আব্দুর রহিম
৭ আব্দুর রউফ
৮ মোঃ লুৎফর রহমান
৯. আব্দুল মমিন তালুকদার
১০. অধ্যাপক আবু সাইয়িদ
১১. মোহাম্মদ বয়তুল্লাহ্
১২. আমীর-উল ইসলাম
১৩. বাদল রশীদ, বার-অ্যাট-ল
১৪. খন্দকার আব্দুল হাফিজ
১৫. মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম মঞ্জুর 
১৬. শওকত আলী খান
১৭. মোঃ হুমায়ুন খালিদ
১৮. আছাদুজ্জামান খান
১৯. এ.কে. মোশাররফ হোসেন আখন্দ
২০. আবদুল মমিন
২১. শামসুদ্দীন মোল্লা
২২. শেখ আব্দুর রহমান
২৩. ফকির সাহাবউদ্দিন আহমদ
২৪. আবদুল মুনতাকীম চৌধুরী
২৫. অধ্যাপক খুরশেদ আলম 
২৬. সিরাজুল হক, অ্যাডভোকেট
২৭. দেওয়ান আবুল আব্বাছ
২৮. হাফেজ হাবীবুর রহমান
২৯. মোঃ আবদুর রশীদ
৩০. সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
৩১. নুরুল ইসলাম চৌধুরী
৩২. মোহাম্মদ খালেদ 
৩৩. বেগম রাজিয়া বানু
৩৪. ডাঃ ক্ষিতীশ চন্দ্ৰ মণ্ডল
-খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি'-তে একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।
-খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটিতে বিরোধীদলীয় একমাত্র সদস্য ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি ছিলেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ, মোজাফফর)-এর সদস্য। তিনি ছাড়া সব সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের।

সূত্র:বাংলাদের সংবিধান-আরিফ খান
১,৩৯১.
Who was the head of the constitution drafting committee of Bangladesh?
  1. Begum Razia Banu
  2. Abu Sayeed Chowdhury
  3. Syed Nazrul Islam
  4. Tajuddin Ahmed
  5. Dr. Kamal Hossain
ব্যাখ্যা
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য:
- ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- এই কমিটির মোট সদস্য ছিল ৩৪ জন।
- আওয়ামী লীগ ছাড়া একমাত্র সদস্য ছিলেন ন্যাপের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
- এই কমিটির প্রধান বা সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৩৯২.
'বাংলাদেশের অস্থায়ী সাংবিধানিক আদেশ' জারি করেন-
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. আবু সাঈদ চৌধুরী
  3. শেখ মুজিবুর রহমান
  4. তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা

- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হয়।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি বাংলাদেশের প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান।
- ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'বাংলাদেশের অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারি করেন।
- এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৩৯৩.
'ফ্লোর ক্রসিং' সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত করা হয়েছে?
  1. ৬৯নং অনুচ্ছেদে
  2. ৬8নং অনুচ্ছেদে
  3. ৭১নং অনুচ্ছেদে
  4. ৭০নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- ৭০তম অনুচ্ছেদে ফ্লোর ক্রসিং সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি সংসদ সদস্যদের নিজের দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া বোঝায়।
- এর মাধ্যমে একজন সংসদ সদস্য যদি নিজ দলের পক্ষে না দাঁড়িয়ে বিরোধী দলের পক্ষে ভোট দেন, এটাকে ফ্লোর ক্রসিং হিসেবে গণ্য করা হয়।

অন্যদিকে, 
- ৬৮নং অনুচ্ছেদে: সংসদ-সদস্যদের [পারিশ্রমিক] প্রভৃতি,
- ৬৯নং অনুচ্ছেদে: শপথগ্রহণের পূর্বে আসন গ্রহণ বা ভোট দান করিলে সদস্যের অর্থদণ্ড,
- ৭১নং অনুচ্ছেদে: দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান। 

১,৩৯৪.
বাংলাদেশের কোন জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু হয়?
  1. ক) প্রথম
  2. খ) দ্বিতীয়
  3. গ) সপ্তম
  4. ঘ) অষ্টম
ব্যাখ্যা
- ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় লাভ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।
- এ সপ্তম জাতীয় সংসদে সর্বপ্রথম প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু করা হয়।
- সংসদের অধিবেশন চলাকালে সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে সংসদ সদস্যগণ প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন এবং তিনি তার জবাব দেন।
- প্রথম দিকে এ প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য সময় বরাদ্দ ছিল ১৫ মিনিট। পরে তা বাড়িয়ে ৩০ মিনিট করা হয়।
- সরকারি দলের সদস্যদের জন্য ১৫ মিনিট এবং বিরোধী দলের সদস্যদের জন্য ১৫ মিনিট ধার্য করা হয়।
উৎসঃ জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট।
১,৩৯৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের ৬নং অনুচ্ছেদের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. ক) রাজধানী
  2. খ) সংবিধানের প্রাধান্য
  3. গ) জাতির পিতার প্রতিকৃতি
  4. ঘ) নাগরিকত্ব
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ০৬ : নাগরিকত্ব
(১) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে।
(২) বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশি।

অন্যদিকে, 
অনুচ্ছেদ ০৫: রাজধানী।
অনুচ্ছেদ ০৪ক : জাতির পিতার প্রতিকৃতি।
অনুচ্ছেদ ০৭: সংবিধানের প্রাধান্য।  

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 
১,৩৯৬.
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ সংবিধানের কোন তফসিলে উল্লেখ রয়েছে?
  1. চতুর্থ
  2. পঞ্চম
  3. ষষ্ঠ
  4. সপ্তম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের তফসিল:
- বাংলাদেশের সংবিধানে তফসিল ৭টি।
- যথা:
• প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন
• দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত)
• তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা
• চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী
• পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।
• ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা।
• সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৩৯৭.
বাংলাদেশ সংবিধান কতটি ভাষায় রচিত?  
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ১টি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধান:
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধান গৃহীত হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধান ২টি ভাষায় রচিত (বাংলা ও ইংরেজি)।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানে মোট ১৫৩ অনুচ্ছেদ রয়েছে।
- সংবিধান হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন।
- বাংলাদেশ সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয়।
- এতে ১১ টি ভাগ বা অধ্যায় রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রস্তাবনা দিয়ে শুরু এবং সাতটি তফসিল দিয়ে শেষ হয়েছে।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৩৯৮.
নিচের কোনটি রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতির প্রয়োগক্ষেত্র নয়?
  1. দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে মৌলিক সূত্র বলে গণ্য হবে
  2. আইন প্রণয়নকালে প্রয়োগ হবে
  3. বিচার বিভাগীয় রায়ের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে প্রযোজ্য
  4. রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কার্যের ভিত্তি হবে সব নীতি
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি 'বিচার বিভাগীয় রায়ের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে প্রযোজ্য' এর প্রয়োগক্ষেত্র নয়।  

রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতির প্রয়োগক্ষেত্র:
- সংবিধানের ৮(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিগুলো কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে তা বলা হয়েছে।
ক. দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে মৌলিক সূত্র বলে গণ্য হবে;
খ. আইন প্রণয়নকালে প্রয়োগ হবে;
গ. সংবিধান ও অন্যান্য আইনের ক্ষেত্রে এই নীতিগুলো দিশারী, নির্দেশক তথা মানদন্ড হিসেবে ব্যবহৃত হবে; এবং
ঘ. রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কার্যের ভিত্তি হবে সব নীতি।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৯৯.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের প্রবেশ, তল্লাশী ও আটক হতে নিজ গৃহে নিরাপত্তালাভের অধিকার থাকবে?
  1. ৪০ নং
  2. ৪১ নং
  3. ৪২ নং
  4. ৪৩ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩য় ভাগে 'মৌলিক অধিকার' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদ 'গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ' অনুযায়ী যোগাযোগ থেকে শুরু করে চিঠিপত্র আদান-প্রদান এবং ব্যক্তিগত সবকিছুর গোপনীয়তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

⇒ ৪৩ নং অনুছেদ:
- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনসাধারণের নৈতিকতা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা নিষেধ-সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের -
(ক) প্রবেশ, তল্লাশী ও আটক হতে নিজ গৃহে নিরাপত্তালাভের অধিকার থাকবে; এবং
(খ) চিঠিপত্রের ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনতারক্ষার অধিকার থাকবে।

অন্যদিকে,
- ৪০ নং অনুচ্ছেদ: পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।
- ৪১ নং অনুচ্ছেদ: ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- ৪২ নং অনুচ্ছেদ: সম্পত্তির অধিকার।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৪০০.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বাধ্যতামূলক শিক্ষার উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৬
  2. অনুচ্ছেদ ১৭
  3. অনুচ্ছেদ ১৮
  4. অনুচ্ছেদ ১৯
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১০ - সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১১ - গণতন্ত্র ও মানবাধিকার।
- অনুচ্ছেদ ১২ - ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ১৩ - মালিকানার নীতি।
- অনুচ্ছেদ ১৪ - কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৫ - মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা।
- অনুচ্ছেদ ১৬ - গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।
- অনুচ্ছেদ ১৭ - অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
- অনুচ্ছেদ ১৮ - জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।
- অনুচ্ছেদ ১৮(ক) - পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ১৯ - সুযোগের সমতা।
- অনুচ্ছেদ ২০ - অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।