বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সংবিধান

মোট প্রশ্ন২,৩৩১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সংবিধান

PrepBank · পাতা ১৩ / ২৪ · ১,২০১১,৩০০ / ২,৩৩১

১,২০১.
সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগ বা বিচারবিভাগ সম্পর্কে কয়টি পরিচ্ছদ রয়েছে?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে ১১টি ভাগে মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ আছে।
- এছাড়া তফসিল আছে - ৭টি; প্রস্তাবনা আছে ১টি এবং মূলনীতি আছে ৪টি।
সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগ বা অধ্যায়ে বিচারবিভাগ সম্পর্কে বলে হয়েছে।
ষষ্ঠ ভাগে মোট ৩টি পরিচ্ছদ রয়েছে। যথা -
• ১ম পরিচ্ছেদ - সুপ্রীম কোর্ট [অনুচ্ছেদ - ৯৪ থেকে ১১৩];
• ২য় পরিচ্ছেদ - অধস্তন আদালত [অনুচ্ছেদ - ১১৪ থেকে ১১৬];
• ৩য় পরিচ্ছেদ - প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল [অনুচ্ছেদ - ১১৭]।
--------------
ষষ্ঠ ভাগের প্রথম পরিচ্ছেদে সুপ্রীম কোর্ট গঠন, বিচারপতি নিয়োগ ও দায়িত্ব, সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্ব ও কার্যাবলি ইত্যাদি বর্ণনা করা হয়েছে।
সংবিধানের ১০৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে -
"কোর্ট অব রেকর্ড" রূপে সুপ্রীম কোর্ট:
"সুপ্রীম কোর্ট একটি "কোর্ট অব্ রেকর্ড" হইবেন এবং ইহার অবমাননার জন্য তদন্তের আদেশদান বা দণ্ডাদেশদানের ক্ষমতাসহ আইন-সাপেক্ষে অনুরূপ আদালতের সকল ক্ষমতার অধিকারী থাকিবেন।"

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান, আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট। 
১,২০২.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে?
  1. ১৭ নং
  2. ১৮ নং
  3. ১৯ নং
  4. ২১ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৯ নং অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে ১৯ নং অনুচ্ছেদে '‘সুযোগের সমতা’' সম্পর্কে বলা হয়েছে।

• ১৯ নং অনুচ্ছেদ:
- ১৯ (১) সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হবেন।
- ১৯ (২) মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
- ১৯ (৩) জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবেন।

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
- সংবিধানের ১৮ নং অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্য এবং নৈতিকতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ২১ নং: নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,২০৩.
'বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন' এটি সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. ১০৬ নং
  2. ১১২ নং
  3. ১১৬ নং
  4. ১১৬ক নং
ব্যাখ্যা

বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন:
- সংবিধানের ১১৬ক নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন। 
- অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিগণ এবং ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৬ নং অনুচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার।
- ১১২ নং অনুচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্টের সহায়তা। 
- সংবিধানের ১১৬ নং অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হয়েছে, অধস্তন আদালতসমূহের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,২০৪.
কোন অনুচ্ছেদের জন্য বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী পরিবর্তনযোগ্য নয়?
  1. ক) অনুচ্ছেদ ৮
  2. খ) অনুচ্ছেদ ৭ (খ)
  3. গ) অনুচ্ছেদ ৭ (ক)
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ ৭
ব্যাখ্যা
- অনুচ্ছেদ - ৭(খ)  সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।

অন্যদিকে,
- ৭নং অনুচ্ছেদে রয়েছে - সংবিধানের প্রাধান্য
- ৭ক অনুচ্ছেদে রয়েছে - সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ এবং
- ৮নং অনুচ্ছেদে ''রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ'' উল্লেখিত রয়েছে।
- সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমুহের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২০৫.
'প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রয়েছে'- সংবিধানের কোন ধারায় বর্ণণা করা হয়েছে?
  1. ৪১ নং
  2. ৩৮ নং
  3. ৪৮ (১) নং
  4. ৬৫ (১) নং
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের তৃতীয় ভাগের অনুচ্ছেদ ৪১ নং অনুযায়ী,

⇒ ধর্মীয় স্বাধীনতা,
১। আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা-সাপেক্ষে,
- প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রয়েছে;
- প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ-সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রয়েছে।
২। কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যোগদানকারী কোন ব্যক্তির নিজস্ব ধর্ম-সংক্রান্ত না হলে তাঁকে কোন ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ কিংবা কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাসনায় অংশগ্রহণ বা যোগদান করতে হবে না।

অন্যদিকে -
- অনুচ্ছেদ ৩৮: জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।
- অনুচ্ছেদ ৬৫ (১): "জাতীয় সংসদ" নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকবে এবং এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইনপ্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হবে:
- অনুচ্ছেদ ৪৮(১): বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২০৬.
বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম সংশোধনী কবে আনা হয়?
  1. ১৫ জুলাই, ১৯৭৩
  2. ২২ জুলাই, ১৯৭৩
  3. ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩
  4. ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন:
- সংবিধান সর্বমোট ১৭বার সংশোধন হয়েছে।

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম সংশোধনী:
- ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সংবিধানে প্রথম সংশোধনী আনা হয়।
- এ সংশোধনীতে বাংলাদশ সংবিধানের ৪৭নং অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করা হয়।
- ৪৭ অনুচ্ছেদে দুটি নতুন উপধারা সংযোজন করা হয়।
- উক্ত সংশোধনীর মাধ্যমে ৪৭-(ক) নামে একটি নতুন অনুচ্ছেদ সন্নিবেশিত হয়েছে।
- প্রথম সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তু ছিল 'গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনে অন্যান্য অপরাধ' এর বিচার ও শাস্তি অনুমোদন।
- এ সংশোধনীর ফলে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধী ও গণহত্যার অভিযোগে বন্দিদের বিচারের পথ সহজ হয়।

অন্যদিকে,
⇒ দ্বিতীয় সংশোধনী:
- এই সংশোধনীর দ্বারা দেশে 'জরুরি অবস্থা' জারির বিধান করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এটি পাস হয়।
- এই সংশোধনীতে সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বিনা বিচারে যে কাউকে আটকের বিধান করা হয়।
- মূলত এ সংশোধনীর মাধ্যমে শাসন বিভাগ তথা নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
- এটি সংবিধানের নবম ভাগে সন্নিবেশিত হয়েছে।

• এ সশোধনীর মূল কথা হলো "যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ অথবা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ দ্বারা বাংলাদেশ বা এর যে কোন অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপন্ন হবার আশঙ্কা দেখা দিলে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন।
- এ ধরনের ঘোষণার বৈধতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি-স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে।
- জরুরি অবস্থা ঘোষণা পরবর্তী কোন ঘোষণার দ্বারা প্রত্যাহার করা হবে অথবা জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হবে কিংবা ১২০ দিন অতিবাহিত হবার পূর্বে সংসদের প্রস্তাব দ্বারা অনুমোদিত না হলে তা কার্যকর হবে না।
- জরুরি অবস্থা চলাকালীন নাগরিকদের মৌলিক অধিকার স্থগিত থাকবে।
- এ সংবিধানে আরো উল্লেখ করা হয়, এ জরুরি অবিস্থায় গ্রেফতার ও আটকাদেশ সম্পর্কিত বিধানের অবসান ঘটবে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,২০৭.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'সংসদের অধিবেশন' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৭২
  2. অনুচ্ছেদ ৭৩
  3. অনুচ্ছেদ ৭৪
  4. অনুচ্ছেদ ৭৫
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৬৭ - সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া।
- অনুচ্ছেদ ৬৮ - সংসদ-সদস্যদের [পারিশ্রমিক] প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৬৯ - শপথগ্রহণের পূর্বে আসন গ্রহণ বা ভোট দান করিলে সদস্যের অর্থদণ্ড।
- অনুচ্ছেদ ৭০ - রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া।
- অনুচ্ছেদ ৭১ - দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা।
- অনুচ্ছেদ ৭২ - সংসদের অধিবেশন।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ - সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ক - সংসদ সম্পর্কে মন্ত্রীগণের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৪ - স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৫ - কার্যপ্রণালী-বিধি, কোরাম প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৭৬ - সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ।
- অনুচ্ছেদ ৭৭ - ন্যায়পাল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,২০৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের আলােকে বাংলাদেশে বৈদেশিক নীতি পরিচালিত হয়?
  1. অনুচ্ছেদ ২২
  2. অনুচ্ছেদ ২৩
  3. অনুচ্ছেদ ২৪
  4. অনুচ্ছেদ ২৫
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ২৫ নং অনুচ্ছেদে — বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

অনুচ্ছেদ - ২৫: 
- আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন, 
- জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা,
- অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা,
- আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা,
এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র -

(ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করিবেন;
(খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করিবেন; এবং
(গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করিবেন৷

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ২২: নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।
- ২৩ নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় সংস্কৃতি
- ২৪ নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় স্মৃতি নিদর্শন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১,২০৯.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয় কবে?
  1. ১ নভেম্বর, ১৯৭২
  2. ২ নভেম্বর, ১৯৭২
  3. ৩ নভেম্বর, ১৯৭২
  4. ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে। 
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,২১০.
অনুপার্জিত আয় সম্পর্কে বলা আছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ১৭ নং
  2. ২০ নং
  3. ১৫ নং
  4. ২৭ নং
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ২০ নং অনুচ্ছেদ ’অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম’ সংবলিত।

২০(১)- অনুসারে, কর্ম হইতেছে কর্মক্ষম প্রত্যেক নাগরিকের পক্ষে অধিকার, কর্তব্য ও সম্মানের বিষয়, এবং "প্রত্যেকের নিকট হইতে যোগ্যতানুসারে ও প্রত্যেককে কর্মানুযায়ী”-এই নীতির ভিত্তিতে প্রত্যেকে স্বীয় কর্মের জন্য পারিশ্রমিক লাভ করিবেন।

২০(২) অনুসারে, রাষ্ট্র এমন অবস্থাসৃষ্টির চেষ্টা করিবেন, যেখানে সাধারণ নীতি হিসাবে কোন ব্যক্তি অনুপার্জিত আয় ভোগ করিতে সমর্থ হইবেন না এবং যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিমূলক ও কায়িক-সকল প্রকার শ্রম সৃষ্টিধর্মী প্রয়াসের ও মানবিক ব্যক্তিত্বের পূর্ণতর অভিব্যক্তিতে পরিণত হইবে৷।

অন্যদিকে,
• ১৭ নং অনুচ্ছেদ ‘অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা’ সম্পর্কিত।
• ১৫ নং অনুচ্ছেদ ‘মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা’ সম্পর্কিত।
• ২৭ নং অনুচ্ছেদ ‘আইনের দৃষ্টিতে সমতা’ সম্পর্কিত।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,২১১.
’নির্বাহী বিভাগ’ সংবিধানের কোন ভাগে উল্লেখ রয়েছে?
  1. পঞ্চম ভাগে
  2. সপ্তম ভাগে
  3. চতুর্থ ভাগে
  4. দ্বিতীয় ভাগে
ব্যাখ্যা

• চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ রয়েছে।
- এর পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে যথা: 
- ১ম পরিচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি।
- ২য় পরিচ্ছেদ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা।
- ৩য় পরিচ্ছেদ স্থানীয় শাসন।
- ৪র্থ পরিচ্ছেদপ্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ।
- ৫ম পরিচ্ছেদ অ্যাটর্নি-জেনারেল।

• বাংলাদেশ সংবিধান:
- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। যথা:-
- সংবিধানের প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

১,২১২.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়?
  1. পঞ্চম সংশোধনী
  2. অষ্টম সংশোধনী
  3. সপ্তম সংশোধনী
  4.  ষষ্ঠ সংশোধনী 
ব্যাখ্যা
১৯৮৮ সালে অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২-এ পরিবর্তন এনে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করা হয়

অষ্টম সংশোধনী: 
অষ্টম সংশোধনী আইন ১৯৮৮ সালের ৭ জুন এই সংশোধনী আইন পাস হয়।
- এর দ্বারা সংবিধানের ২, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।

এই সংশোধনী আইনবলে
(১) ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়;
(২) ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়;
(৩) সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মাননা, পুরস্কার বা অভিধা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, পরবর্তী সময়ে সুপ্রীম কোর্ট সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদের সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে, কারণ তার দ্বারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তিত হয়েছে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
১,২১৩.
গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় কত তারিখে?
  1. ৩ নভেম্বর ১৯৭২
  2. ১৭ অক্টোবর ১৯৭২
  3. ৪ নভেম্বর ১৯৭২
  4. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
ব্যাখ্যা

• গণপরিষদ:
- গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে- ১০  এপ্রিল ১৯৭২।
- গণ পরিষদের খসড়া সংবিধান উত্থাপিত হয় ১২ অক্টোবর ১৯৭২।
- সংবিধান গৃহীত হয় -৪ নভেম্বর ১৯৭২।
- কার্যকর হয় -১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২।
- গণপরিষদে খসড়া সংবিধান উত্থাপন করেন- ড. কামাল হোসেন।   
- গণপরিষদের স্পিকার ছিলেন- শাহ আব্দুল হামিদ।
- গণ পরিষদের  ডেপুটি স্পিকার  ছিলেন-মোহাম্মদ উল্লাহ।
- গণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন- মাওলানা আব্দুল রশিদ তর্কবাগী।
- সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য ছিলেন-৩৪ জন
- একমাত্র নারী সদস্য- বেগম রাজিয়া বানু।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র বিরোধী দলের সদস্য ছিলেন- সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

উল্লেখ্য:
- বাংলাদেশ গণপরিষদ হল ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক  সংবিধান  অধিবেশন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২১৪.
সংবিধানে প্রস্তাবনার ৩য় ভাগের বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. মূলনীতি গ্রহণ
  2. সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা
  3. গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা
  4. শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে। 
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)। 
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)। 
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)। 
• ৫ম- গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,২১৫.
জাতীয় সংসদে কাস্টিং ভোট কি?
  1. সংসদ নেতার ভোট
  2. হুইপের ভোট
  3. স্পিকারের ভোট
  4. রাষ্ট্রপতির ভোট
ব্যাখ্যা
কাস্টিং ভোট: (Casting Vote):
- জাতীয় সংসদে কাস্টিং ভোট হলো স্পিকারের ভোট। 

⇒ সংসদে কখনো কখনো কোন বিষয়ে দু পক্ষের হা অথবা না ভোটের সংখ্যা সমান হয়ে যেতে পারে।
- এমন অবস্থায় স্পীকার নিজের ভোট দিয়ে সংসদের অচলাবস্থা দূর করেন।
- অন্যভাবে বলা যায়, কোন বিলের ভোটাভুটিতে যখন পক্ষে বিপক্ষে সমান ভোট পরে, তখন স্পিকার সংসদের সভাপতি হিসেবে তার ভোট প্রয়োগ করেন। একে নির্ণায়ক বা কাস্টিং ভোট বলে।
- এ ব্যতীত অন্যকোন ক্ষেত্রে স্পিকার তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না।
- স্পিকারের এই ভোটটিই হলো 'কাস্টিং বা নির্ণায়ক ভোট'।

উল্লেখ্য,
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এর ৭৫ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী: ”উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংসদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্র ব্যতীত সভাপতি (স্পীকার) ভোটদান করিবেন না এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তিনি নির্ণায়ক (casting) ভোট প্রদান করিবেন।”

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২১৬.
বাংলাদেশের রাজধানীর নামের ইংরেজি বানান Dacca থেকে Dhaka করা হয় কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. ক) অষ্টম সংশোধনী
  2. খ) নবম সংশোধনী
  3. গ) সপ্তম সংশোধনী
  4. ঘ) ষষ্ঠ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
অষ্টম সংশোধনী
• সংসদে উত্থাপন: ১১ মে, ১৯৮৮
• উত্থাপনকারী: সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ
• সংসদে গৃহীত: ৭ জুন, ১৯৮৮
• রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ৯ জুন, ১৯৮৮
 
• অষ্টম সংবিধান সংশোধন আইন দ্বারা সংবিধানের ২ক, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।
এই সংশোধনী আইনবলে -
১. ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়; 
২. ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়;
৩. সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদে Bengali শব্দটি পরিবর্তন করে Bangla করা হয় এবং Dacca পরিবর্তন করে Dhaka করা হয়; 
৪. সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মাননা, পুরস্কার বা অভিধা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।  

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান। 
১,২১৭.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা বিলোপের কথা বলা হয়েছে?
  1. ২ক নং অনুচ্ছেদ
  2. ১১ নং অনুচ্ছেদ
  3. ১২(ক) নং অনুচ্ছেদ
  4. ১৯(৩) নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১২(ক) নং অনুচ্ছেদে সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা বিলোপের কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে,
- ২ক নং অনুচ্ছেদ : রাষ্ট্রধর্ম
- ১১ নং অনুচ্ছেদ : গণতন্ত্র ও মানবাধিকার
- ১৯(৩) নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
১,২১৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগের ২য় পরিচ্ছেদে কী সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. অধস্তন আদালত
  2. সুপ্রীম কোর্ট
  3. প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বিচারবিভাগ:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগে বিচারবিভাগ সম্পর্কে বলা হয়েছে। 
- ষষ্ঠ ভাগে মোট ৩টি পরিচ্ছদ রয়েছে।
- যথা:
• ১ম পরিচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্ট [অনুচ্ছেদ: ৯৪ - ১১৩];
• ২য় পরিচ্ছেদ: অধস্তন আদালত [অনুচ্ছেদ- ১১৪ থেকে ১১৬];
• ৩য় পরিচ্ছেদ: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল [অনুচ্ছেদ: ১১৭]।

উৎস: আইন মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১,২১৯.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ভোটার তালিকার বিধান বর্ণিত আছে?
  1. ১২১ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১২০ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১১৯ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১১৮ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম ভাগ - নির্বাচন অংশে ১২১ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার তালিকার বিধান বর্ণনা করা হয়।
- অনুচ্ছেদ ১২১ নং অনুযায়ী সংসদের নির্বাচনের জন্য প্রত্যেক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকার একটি করে ভোটার-তালিকা থাকবে এবং ধর্ম, জাত, বর্ণ ও নারী-পুরুষভেদের ভিত্তিতে ভোটারদের বিন্যস্ত করে কোন বিশেষ ভোটার-তালিকা প্রণয়ন করা যাবে না।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদে ১১৮ - নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদে ১১৯ - নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদে ১২০ - নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ।

উৎস:- বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২২০.
চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স কত করা হয়?
  1. ৬৫ বছর 
  2. ৬৬ বছর 
  3. ৬৭ বছর 
  4. ৬৮ বছর 
ব্যাখ্যা

চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স ৬৭ বছর করা হয়। 

চতুর্দশ সংশোধনী: 

- চতুর্দশ সংশোধনী আইন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী আইন ২০০৪ সালের ১৬ মে সংসদে পাস হয়।
- বিভিন্ন বিধান সংবিধানে যুক্ত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৩০ থেকে ৪৫ এ উন্নীত করা হয়, যা পরবর্তী দশ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
- এছাড়াও এই সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরগ্রহণের বয়স ৬৫ থেকে ৬৭-তে বর্ধিত করা হয়।
- এর পাশাপাশি এই সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি তাদের স্ব স্ব কার্যলয়সহ সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে টানানোর ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১,২২১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী “বাংলাদেশ” এই নামে সরকার কর্তৃক বা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে?
  1. অনুচ্ছেদ - ১৪৩
  2. অনুচ্ছেদ - ১৪৬
  3. অনুচ্ছেদ - ১৪৫
  4. অনুচ্ছেদ - ১৪৯
ব্যাখ্যা
১৪৬নং অনুচ্ছেদ: বাংলাদেশের নামে মামলা:
"বাংলাদেশ"-এই নামে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বা বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে।

অন্যদিকে: 
→ অনুচ্ছেদ - ১৪৩: প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি, 
→ অনুচ্ছেদ - ১৪৫: চুক্তি ও দলিল, 
→ অনুচ্ছেদ - ১৪৯: প্রচলিত আইনের হেফাজত। 

বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- তফসিল আছে ৭টি।

সূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২২২.
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা কত?
  1. ৩৩ জন
  2. ৩৪ জন
  3. ৩৫ জন
  4. ৩৬ জন
ব্যাখ্যা
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য:
- ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- এই কমিটির মোট সদস্য ছিল ৩৪ জন।
- এই কমিটির প্রধান বা সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- আওয়ামী লীগ ছাড়া একমাত্র সদস্য ছিলেন ন্যাপের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,২২৩.
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয় সংবিধানের যে সংশোধনীর মাধ্যমে -
  1. দ্বিতীয়
  2. চতুর্থ
  3. অষ্টম
  4. চতুর্দশ
ব্যাখ্যা
চতুর্থ সংশোধনী:
- ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি এ সংশোধনীর মাধ্যমেই বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো হয়।
- চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় পদ্ধতি পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়;

এছাড়াও,
- একদলীয় শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা; রাষ্ট্রপতি ও সংসদের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রপতি অপসারণ পদ্ধতি জটিল করা; সংসদকে একটি ক্ষমতাহীন বিভাগে পরিণত করা; মৌলিক অধিকার বলবৎ করার অধিকার বাতিল করা; বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করা ও উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি করা হয়।
- ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাতিল হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২২৪.
'বিচারক-নিয়োগ' বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ৯৪ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৯৫ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৯৬ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৯৭ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ সমূহ:

- অনুচ্ছেদ ৯৪ - সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৯৫ - বিচারক-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৬ - বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৯৭ - অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৮ - সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ।
- অনুচ্ছেদ ৯৯ - অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১০০ - সুপ্রীম কোর্টের আসন।
- অনুচ্ছেদ ১০১ - হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার।
- অনুচ্ছেদ ১০২ - কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২২৫.
সংবিধান সংশোধনী বিলে রাষ্ট্রপতিকে কত দিনের মধ্যে স্বাক্ষর করতে হয়?
  1. ০৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১২ দিন
  4. ১৫ দিন
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনী সংক্রান্ত কোন বিল পাসের জন্যে সংসদের মোট সদস্য সংখ্যা অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন।
- বিল পাসের পর এতে রাষ্ট্রপতিকে ৭ দিনের মধ্যে স্বাক্ষর করতে হয়। এই সময়সীমার মধ্যে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর না করলে রাষ্ট্রপতি বিলে স্বাক্ষর করেছেন বলে ধরে নেওয়া হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
১,২২৬.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান করা হয়?
  1. পঞ্চম সংশোধনী
  2. দ্বাদশ সংশোধনী
  3. ত্রয়োদশ সংশোধনী
  4. ষোড়শ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
দ্বাদশ সংশোধনী:
- রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পাল্টিয়ে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পুনরায় প্রবর্তন করা হয় দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।
- ১৯৯১ সালের ৬ই অগাষ্ট সংসদে সংশোধনীটি পাস হয়।

দ্বাদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু:
১. রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হন।
২. প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী বা সরকার প্রধান হন।
৩. প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ হয়।

উল্লেখ্য:
- পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রবর্তিত হয়।
- ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।
- ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিধান পাস করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,২২৭.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অভিশংসন সম্ভব?
  1. ৫১নং অনুচ্ছেদ
  2. ৫৩নং অনুচ্ছেদ
  3. ৫২নং অনুচ্ছেদ
  4. ৫৪নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতির অভিশংসন:
- সংবিধানের ৫২(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই সংবিধান লংঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করা যেতে পারবে; তার জন্য সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে অনুরূপ অভিযোগের বিবরণ লিপিবদ্ধ করে একটি প্রস্তাবের নোটিশ স্পীকারের নিকট প্রদান করতে হবে; স্পীকারের নিকট অনুরূপ নোটিশ প্রদানের দিন হতে চৌদ্দ দিনের পূর্বে বা ত্রিশ দিনের পর এই প্রস্তাব আলোচিত হতে পারবে না; এবং সংসদ অধিবেশনরত না থাকিলে স্পীকার অবিলম্বে সংসদ আহবান করবেন।

অন্যদিকে,
অনুচ্ছেদ ৫১ - রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।
অনুচ্ছেদ ৫৪- অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার।
অনুচ্ছেদ ৫৩- অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২২৮.
'প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ'-এটি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে?
  1. ৭(১) নং
  2. ৭(২) নং
  3. ৭ক নং
  4. ৭খ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
• সংবিধানের ৭ (১) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে।

• সংবিধানের ৭ (২) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সাথে অসমঞ্জস হয়, তা হলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে।

• সংবিধানের ৭ক নং অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ বিষয়ে বলা হয়েছে।

• সংবিধানের ৭খ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য বিষয়ে বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২২৯.
সংবিধানের কততম সংশোধনীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা সংবিধানে সন্নিবেশন করা হয়?
  1. পঞ্চম সংশোধনী
  2. দশম সংশোধনী
  3. একাদশ সংশোধনী
  4. পঞ্চদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
- ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী গৃহীত হয়।
- রাষ্ট্রপতি ৩রা জুলাই এই সংশোধনী বিলে স্বাক্ষর করেন।
- পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা বাংলাদেশ সংবিধানে ষষ্ঠ তফসিল হিসেবে সন্নিবেশন করা হয়।

- একই সংশোধনীতে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষণ সংবিধানের পঞ্চম তফসিল এবং ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানের সপ্তম তফসিল হিসেবে সন্নিবেশিত করা হয়।

বাংলাদেশ সংবিধানে বর্তমানে মোট সাতটি তফসিল রয়েছে।
এগুলো হলো:

প্রথম তফসিল : অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন
দ্বিতীয় তফসিল : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বিলুপ্ত)
তৃতীয় তফসিল : শপথ ও ঘোষণা
চতুর্থ তফসিল : ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
পঞ্চম তফসিল : বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ৭ই মার্চের ভাষণ
ষষ্ঠ তফসিল : বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা
সপ্তম তফসিল : মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান এবং বাংলা ট্রিবিউন)
১,২৩০.
বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী পরিচয়ে পরিচিত হবেন - সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. ৫নং
  2. ৬নং
  3. ৭নং
  4. ৯নং
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ৬নং অনুচ্ছেদে নাগরিকত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে, "বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন"।  

অন্যদিকে: 
- অনুচ্ছেদ ৫-এ রাজধানী সম্পর্কে বলা হয়েছে।  
- অনুচ্ছেদ ৭-এ সংবিধানের প্রাধান্য সম্পর্কে বলা হয়েছে।  
- অনুচ্ছেদ ৯-এ জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে বলা হয়েছে। 

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 
১,২৩১.
সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনার বিধান পুনঃপ্রবর্তন করা হয় কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. ষোড়শ সংশোধনী 
  2. নবম সংশোধনী 
  3. একাদশ সংশোধনী 
  4. চতুর্দশ সংশোধনী 
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী:
- উত্থাপনকারী:এটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক
- গৃহীত: :২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টম্বর।

• ষোড়শ সংশোধনীর আলোচ্য বিষয়-
- ৭২ এর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিধান পাস করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে।

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৩২.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জোরপূর্বক শ্রম থেকে নাগরিককে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৩৭
  2. অনুচ্ছেদ ৩২
  3. অনুচ্ছেদ ৩৪
  4. অনুচ্ছেদ ৩৫
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ৩৪: মৌলিক অধিকার জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ 

(১) সকল প্রকার জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধ; এবং এই বিধান কোনভাবে লঙ্ঘিত হইলে তাহা আইনতঃ দণ্ডনীয় অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে।

(২) এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই সেই সকল বাধ্যতামূলক শ্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যেখানে
(ক) ফৌজদারী অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তি আইনতঃ দণ্ডভোগ করিতেছেন; অথবা
(খ) জনগণের উদ্দেশ্যসাধনকল্পে আইনের দ্বারা তাহা আবশ্যক হইতেছে।

অন্যদিকে,
অনুচ্ছেদ ৩৭ হলো সমাবেশের স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৩২ হলো জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ।
 অনুচ্ছেদ ৩৫ হলো  বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,২৩৩.
বাংলাদেশ সংবিধানে ’বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি’ সম্পর্কে বলা হয়েছে কোন অনুচ্ছেদে? 
  1. ৮৫নং অনুচ্ছেদে
  2. ৮৭নং অনুচ্ছেদে
  3. ৮৬নং অনুচ্ছেদে
  4. ৮৮নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

• পঞ্চম ভাগ: আইনসভা।
- ২য় পরিচ্ছেদ: আইন প্রনয়ন ও অর্থসংক্রান্ত পদ্ধতি।
- বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি:  ৮৭। (১) প্রত্যেক অর্থ-বৎসর সম্পর্কে উক্ত বৎসরের জন্য সরকারের অনুমিত আয় ও ব্যয়-সংবলিত একটি বিবৃতি (এই ভাগে "বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি" নামে অভিহিত) সংসদে উপস্থাপিত হবে।
- (২) বার্ষিক আর্থিক বিবৃতিতে পৃথক পৃথকভাবে: 
- (ক) এই সংবিধানের দ্বারা বা অধীন সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়রূপে বর্ণিত ব্যয়নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ, এবং
- (খ) সংযুক্ত তহবিল হইতে ব্যয় করা হইবে, এইরূপ প্রস্তাবিত অন্যান্য ব্যয়নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ
প্রদর্শিত হইবে এবং অন্যান্য ব্যয় হইতে রাজস্বখাতের ব্যয় পৃথক করিয়া প্রদর্শিত হবে।

অন্যদিকে, 
- অনুচ্ছেদ-৮৫। সরকারী অর্থের নিয়ন্ত্রণ।
- অনুচ্ছেদ-৮৬। প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাবে প্রদেয় অর্থ।
- অনুচ্ছেদ- ৮৮। সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়,
- অনুচ্ছেদ-৮৯। বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সম্পর্কিত পদ্ধতি,

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,২৩৪.
সংবিধানের ৫৭ নং অনুচ্ছেদের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ
  2. মন্ত্রিসভা
  3. মন্ত্রিগণ
  4. স্থানীয় শাসন
ব্যাখ্যা
নির্বাহী বিভাগ:
অনুচ্ছেদ ৫৫ - মন্ত্রিসভা।
অনুচ্ছেদ ৫৬ - মন্ত্রিগণ।
অনুচ্ছেদ ৫৭ - প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
অনুচ্ছেদ ৫৮ - অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
অনুচ্ছেদ ৫৯ - স্থানীয় শাসন।
অনুচ্ছেদ ৬০ -স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।
অনুচ্ছেদ ৬১ - সর্বাধিনায়কতা
অনুচ্ছেদ ৬২ - প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগে ভর্তি প্রভৃতি
অনুচ্ছেদ ৬৩ - যুদ্ধ
অনুচ্ছেদ ৬৪ - অ্যাটর্ণি জেনারেল

উৎস:  বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২৩৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের কততম সংশোধনীর মাধ্যমে 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার' ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়?
  1. অষ্টম
  2. দশম
  3. দ্বাদশ
  4. ত্রয়োদশ
ব্যাখ্যা

ত্রয়োদশ সংশোধনী:
- ২৭ মার্চ, ১৯৯৬ ত্রয়োদশ সংশোধনী আনা হয়।
- এ সংশোধনীর দ্বারা অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিধান করা হয়।

⇒ ১৯৯৬ সালের ২১ মার্চ জাতীয় সংসদে এ বিলটি উপস্থাপিত হয়। 
- ২৪ মার্চ আইন মন্ত্রীর প্রস্তাব অনুসারে ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি বাছাই কমিটিতে বিলটি প্রেরণ করা হয়। 
- অবশেষে ২৬ মার্চ বিলটি সংশোধনী আকারে সর্বসম্মতিক্রমে ২৬৯-০ ভোটে গৃহীত হয়। 
- এ সংশোধনীর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল -
(১) জাতীয় সংসদ বিলোপের ১৫ দিনের মধ্যে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন।
(২ ) প্রধান উপদেষ্টাকে প্রধানমন্ত্রীর এবং অন্যান্য উপদেষ্টাগণকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা দান।
(৩) এ সরকার নীতি নির্ধারণী কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন না।
(৪) যোগ্য প্রধান উপদেষ্টা পাওয়া না গেলে প্রেসিডেন্টকে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন।
(৫) প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনাক্রমে বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্য থেকে ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ।
(৬) এ সরকারের মেয়াদ হবে তিন মাস; নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ হলে তার হাতে এসব ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

⇒ উচ্চ আদালতের আদেশে ২০১১ সালে এই সংশোধনীটি বাতিল হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

১,২৩৬.
বাংলাদেশ সংবিধানের অষ্টম অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়বস্তু কী ছিল?
  1. বাংলাদেশের কর্মবিভাগ
  2. বিচার বিভাগ
  3. মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
  4. আইনসভা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন। 
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২৩৭.
সংসদের অনুমতি ব্যতীত একাধারে কত কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত থাকলে আসন শূন্য হবে?
  1. ৯০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৪৫ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদ: সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া:
 
(১) কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে, যদি,

(ক) তাঁহার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিতে অসমর্থ হন:
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পূর্বে স্পীকার যথার্থ কারণে তাহা বর্ধিত করিতে পারিবেন;
(খ) সংসদের অনুমতি না লইয়া তিনি একাদিক্রমে নব্বই বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন;
(গ) সংসদ ভাঙ্গিয়া যায়;
(ঘ) তিনি এই সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন অযোগ্য হইয়া যান; অথবা
(ঙ) এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।
 
(২) কোন সংসদ-সদস্য স্পীকারের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন, এবং স্পীকার- কিংবা স্পীকারের পদ শূন্য থাকিলে বা অন্য কোন কারণে স্পীকার স্বীয় দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ডেপুটি স্পীকার- যখন উক্ত পত্র প্রাপ্ত হন, তখন হইতে উক্ত সদস্যের আসন শূন্য হইবে।
==================

আইন বিভাগে আলোচ্য সময়সূচি:

- পুনর্বিবেচিত বিল রাষ্ট্রপতি ৭ দিনের মধ্যে সম্মতি দিবেন।
- কোনো বিলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের সর্বোচ্চ সময় ১৫ দিন।
- নির্বাচলের পর সংসদের অভিবেশন আহবান করতে হবে ৩০ দিনের মধ্যে।
- অধ্যাদেশকে অধিবেশন শুরু হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন দিতে হবে।
- সংসদের দুই অধিবেশনের মধ্যবর্তী বিরতিকাল সর্বোচ্চ ৬০ দিন।
- সংসদের অনুমতি ব্যতীত ৯০ দিন অনুপস্থিত থাকলে সংসদপদ শূন্য হয়ে যাবে।
- নির্বাচিত হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে শপথ না নিলে সংসদপদ শূন্য হয়ে যাবে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,২৩৮.
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত সংবিধানের কততম সংশোধনী আংশিক অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট? (ডিসেম্বর, ২০২৪)
  1. ত্রয়োদশ সংশোধনী
  2. চতুর্দশ সংশোধনী
  3. পঞ্চদশ সংশোধনী
  4. ষোড়শ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০ জুন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূলনীতিগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসাবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।

পঞ্চদশ (১৫তম) সংশোধনী এর বিষয়বস্তু:
• তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল;
• দলীয় সরকারের অধীন মেয়াদ শেষ হবার আগের ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান;
• সংরক্ষিত মহিলা আসন ৪৫ থেকে ৫০ করা;
• ৪৭ এর ৩ অনুচ্ছেদে যুদ্ধাপরাধ বা মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য "অন্য কোন ব্যক্তি, ব্যক্তিসমষ্টি বা সংগঠন" এর বিচার করার বিধান সংযুক্ত করা;
• জরুরী অবস্থার মেয়াদ অনধিক ১২০ দিন করা হয়;
• সংবিধানে নতুন তিনটি তফসিল যুক্ত করা হয়- যথা পঞ্চম, ষষ্ঠ, ও সপ্তম।

⇒ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আংশিক অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
- বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোট পদ্ধতি বাতিল করে সংবিধানের যে পঞ্চদশ সংশোধনী আনা হয়েছিলো সেটিকে আংশিক বাতিল করেছে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।
-  এই সংশোধনীতে ৫৪টি পরিবর্তন আনা হয়েছিলো।
- আদালত পঞ্চদশ সংশোধনীর মোট ছয়টি বিধান বাতিল করেছে।

তথ্যসূত্র - ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, বিবিসি বাংলা ও ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, বিবিসি বাংলা।
১,২৩৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ কতটি?
  1. ১৫০টি
  2. ১৫৩টি
  3. ১৫১টি
  4. ১৪৯টি
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধানের পূর্ণ নাম: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান।
- সংবিধানের একটি প্রস্তাবনা আছে- বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
- সংবিধানের মূলনীতি- ৪টি।
- সংবিধানের তফসিল- ৭ টি।
- সংবিধানের ভাগ/অধ্যায়- ১১টি।
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ- ১৫৩টি।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,২৪০.
‘ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা’ সংক্রান্ত সংবিধানের অনুচ্ছেদ কোনটি?
  1. অনুচ্ছেদ - ১২৪
  2. অনুচ্ছেদ - ১২১
  3. অনুচ্ছেদ - ১২৩
  4. অনুচ্ছেদ - ১২২ 
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ - ১২২: ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা:
১. প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকারের-ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
২. কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার-তালিকাভুক্ত হবার অধিকারী হবেন, যদি -
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন;
(খ) তাঁর বয়স ১৮ বৎসরের কম না হয়;
(গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁর সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ হিসেবে ঘোষণা বহাল না থাকে;
(ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের (দালাল আইন) অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হয়ে থাকেন।

অন্যদিকে: 
- অনুচ্ছেদ - ১২১ : প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।
- অনুচ্ছেদ - ১২৪ : নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা। 
- অনুচ্ছেদ - ১২৩ : নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,২৪১.
কোন সংশোধনী দ্বারা ‘সংসদীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা’ প্রবর্তিত হয় 
  1. পঞ্চম সংশোধনী
  2. চতুর্থ সংশোধনী
  3. দ্বাদশ সংশোধনী
  4. অষ্টম সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী:
- চতুর্থ সংশোধনী গৃহীত হয় ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি।
- সংসদীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।
- বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্থলে আনা হয় একদলীয় ব্যবস্থা।
- জাতীয় সংসদের কর্তৃক ক্ষমতা খর্ব করা হয়।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অনেকটা খর্ব হয়।
- সুপ্রিম কোর্ট নাগরিকদের মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষা ও প্রয়োগের এখতিয়ার থেকে বঞ্চিত হয়।

অপরদিকে,
- দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন ঘটে;
- অষ্টম সংশোধনীর ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়; এবং ঢকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়।
- পঞ্চম সংশোধনী আইন দ্বারা সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের সংশোধন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,২৪২.
জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সুপারিশ করা হয়নি কোনটি?
  1. সাম্য 
  2. মানবিক মর্যাদা
  3. সামাজিক ন্যায়বিচার
  4. বহুত্ত্ববাদ
ব্যাখ্যা

- জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলিনীতি হিসাবে সুপারিশ করা হয়নি - বহুত্ত্ববাদ (Pluralism)

• জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫:

- সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অংশে সুপারিশ করা হয়েছে:
(১) সাম্য,
(২) মানবিক মর্যাদা,
(৩) সামাজিক ন্যায়বিচার 
(৪) ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি

- যেখানে ধর্ম নিরপেক্ষতা কথাটি থাকবে না।
- তবে প্রস্তাবের সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতসহ ২৭টি দল একমত হলেও গণফোরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডিসহ কয়েকটি দল ভিন্নমত পোষণ করেছে।

উল্লেখ্য,
- বর্তমানে বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে অনুচ্ছেদ ৮ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে রয়েছে:
(১) জাতীয়তাবাদ,
(২) গণতন্ত্র,
(৩) সমাজতন্ত্র ও
(৪) ধর্মনিরপেক্ষতা

তথ্যসূত্র: জুলাই জাতীয় সনদ ও বিবিসি। (Link) (Link2)

১,২৪৩.
জাতীয় সংসদে স্পিকার প্রদত্ত ভোটকে কী বলা হয়?
  1. ক) ফ্লোর ক্রসিং
  2. খ) সেকেন্ডারি ভোট
  3. গ) কাস্টিং ভোট
  4. ঘ) স্ট্র ভোট
ব্যাখ্যা
কাস্টিং ভোট বা নির্ণায়ক ভোট হলো স্পিকার প্রদত্ত ভোট।
- সংসদে কখনো কখনো কোন বিষয়ে দু পক্ষের হা অথবা না ভোটের সংখ্যা সমান হয়ে যেতে পারে। এমন অবস্থায় স্পীকার নিজের ভোট দিয়ে সংসদের অচলাবস্থা দূর করেন। স্পীকারের এই ভোটটিই হলো 'কাস্টিং বা নির্ণায়ক ভোট'। 
- এটি সংবিধানের ৭৫ (১) খ ধারায় বলা হয়েছে।

অন্যদিকে,
জাতীয় সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করা বা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলাকে ফ্লোর ক্রসিং বলা হয়।


তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান, Marriam Webster
১,২৪৪.
ঐতিহাসিক ২৬মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা বাংলাদেশের সংবিধানের কোন তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
  1. ক) চতুর্থ তফসিল
  2. খ) পঞ্চম  তফসিল
  3. গ) সপ্তম তফসিল
  4. ঘ) ষষ্ঠ তফসিল
ব্যাখ্যা
- ২০১১ সালে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে নতুন করে ৩টি তফসিল যুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭ টি তফসিল রয়েছে :-
• প্রথম তফসিল - অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
• দ্বিতীয় তফসিল - রাষ্টপতি নির্বাচন।
• তৃতীয় তফসিল- শপথ ও ঘোষণা।
• চতুর্থ তফসিল - ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবালী
• পঞ্চম তফসিল - ১৯৭১সালের ৭মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।
• ষষ্ঠ তফসিল -১৯৭১সালের ২৫মার্চ মধ্যরাত শেষে অর্থাৎ ২৬মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা।
• সপ্তম তফসিল- ১০এপ্রিল ১৯৭১ এর মুজিবনগর সরকারের জারিকৃ্ত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ।

উৎস:-  বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২৪৫.
মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রককে নিয়োগ প্রদান করেন -
  1. জাতীয় সংসদ
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. অর্থমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ প্রদান করা হয়ঃ
- প্রধানমন্ত্রী,
- প্রধান বিচারপতি,
- সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি,
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারগণ,
- মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্য,
- পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর,
- অ্যাটর্নি জেনারেল ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২৪৬.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের গঠন সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ১৩৭নং অনুচ্ছেদ
  2. ১৩৮নং অনুচ্ছেদ
  3. ১৩৯নং অনুচ্ছেদ
  4. ১৪১নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
১৩৭নং অনুচ্ছেদ: কমিশন-প্রতিষ্ঠা 
- আইনের দ্বারা বাংলাদেশের জন্য এক বা একাধিক সরকারী কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠার বিধান করা যাবে এবং একজন সভাপতিকে ও আইনের দ্বারা যেরূপ নির্ধারিত হবে, সেইরূপ অন্যান্য সদস্যকে নিয়ে প্রত্যেক কমিশন গঠিত হবে। 

অন্যদিকে:
- ১৩৮নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য-নিয়োগ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৩৯নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যপদের মেয়াদ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৪১নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন বার্ষিক রিপোর্ট কিভাবে জমা দিবে তার কথা উল্লেখ রয়েছে।

সূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২৪৭.
সংবিধান অনুসারে সর্বাধিক কত সংখ্যক সদস্য নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়?
  1. তিনজন
  2. চারজন
  3. পাঁচজন
  4. ছয়জন
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ১১৮(১) নং দফা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজনসহ মোট পাঁচজন সদস্য নিয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের পদের মেয়াদকাল দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
১,২৪৮.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারি করেন কবে?
  1. ক) ২৩ মার্চ, ১৯৭২
  2. খ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭২
  3. গ) ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
  4. ঘ) ১১ এপ্রিল, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
- ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন ।
- ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গণ পরিষদ আদেশ জারি করা হয়।
- রাষ্ট্রপতি ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন আহবান ও উদ্বোধন করেন।
- রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাহ আব্দুল হামিদ ও মােহাম্মদ উল্লাহ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গণপরিষদের যথাক্রমে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।
- প্রথম অধিবেশনে সভাপতি ছিলেন মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ।
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হােসেনকে আহবায়ক করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- কমিটিতে একমাত্র বিরােধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগু ।
- একমাত্র  মহিলা সদস্য  রাজিয়া বানু ।
- ১৭ এপ্রিল ১৯৭২ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- আইনমন্ত্রী ড. কামাল হাসেনে ১২ অক্টোবর গণপরষিদে পেশ করনে।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বেলা ১ঃ১০ মিনিটে গণপরিষদে সংবিধান বিল পাস হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২ স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ ও গণপরিষদ সদস্যগণ সংবিধানের বাংলা ও ইংরেজি অনুলিপিতে(৩৯৯ জন) স্বাক্ষর দান করেন। 
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধান বইতে স্বাক্ষরদানে বিরত থাকেন।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান: আরিফ খান এবং পৌরনীতি ও সুশাসন প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক
১,২৪৯.
কোনটি সাংবিধানিক পদ নয়?
  1. চেয়ারম্যান, পাবলিক সার্ভিস কমিশন
  2. মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
  3. প্রধান নির্বাচন কমিশনার
  4. চেয়ারম্যান, মানবাধিকার কমিশন
ব্যাখ্যা

চেয়ারম্যান, মানবাধিকার কমিশন সাংবিধানিক পদ নয়।

সাংবিধানিক পদ:

- সংবিধান হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন।
- সাংবিধানিক উপায়ে যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলে।
- সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা, পদের মেয়াদ, পদমর্যাদা, পদত্যাগ ও অপসারণ পদ্ধতি এবং দায়িত্ব সংবিধানে সুনির্দিষ্ট ও সুষ্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিল সাংবিধানিক পদের উল্লেখ রয়েছে।

সাংবিধানিক পদ:
১। রাষ্ট্রপতি।
২। প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতি-মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী।
৩। স্পীকার।
৩। ডেপুটি স্পীকার।
৫। সংসদ সদস্য।
৬। প্রধান বিচারপতি।
৭। প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
৮। মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
৯। সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,২৫০.
বাংলাদেশের গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. ড. কামাল হোসেন
  2. মনসুর আলী
  3. এম ইদ্রিস
  4. মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রথম গণপরিষদ:
- সংবিধান রচনার জন্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ 'বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করেন।
- এ আদেশ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকরী বলে ধরে নেয়া হয়।
- এ আদেশ বলে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গণপরিষদ গঠন করা হয়।
- গণপরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ৪০৩ জন।
- সংবিধান প্রণয়নই ছিল গণপরিষদের একমাত্র লক্ষ্য।
- এই আদেশ জারির মধ্য দিয়ে সংবিধান প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়।

⇒ ৪০৩ সদস্য বিশিষ্ট গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।
- গণপরিষদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার মনোনীত না হওয়া পর্যন্ত গণপরিষদের প্রবীনতম সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ-এর সভাপতিত্বে গণপরিষদের কার্যক্রম শুরু হয়। 

⇒ ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ গণপরিষদের অধিবেশনে মনসুর আলী বাংলাদেশের জন্য একটি সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন করার উদ্দেশ্যে একটি প্রস্তাব করেন। সেই প্রস্তাবে ছিল, 'গণপরিষদের ৩৪ জন সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত খসড়া প্রণয়ন কমিটি- যার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. কামাল হোসেন'।
- ১৯৭২ সালের ১০ জুনের মধ্যে কমিটি বিল আকারে একটি খসড়া শাসনতন্ত্রসহ রিপোর্ট পেশ করার কথা থাকলেও কমিটির পক্ষে সভাপতি কামাল হোসেন ১২ অক্টোবর ১৯৭২ 'সংবিধান বিল' গণপরিষদে উত্থাপন করেন।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৫১.
সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন -
  1. বেগম সুফিয়া কামাল
  2. বেগম মতিয়া চৌধুরী
  3. সিতারা বেগম
  4. বেগম রাজিয়া বানু
ব্যাখ্যা

সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য:
- ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- এই কমিটির মোট সদস্য ছিল ৩৪ জন।
- আওয়ামী লীগ ছাড়া একমাত্র সদস্য ছিলেন ন্যাপের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
- এই কমিটির প্রধান বা সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

১,২৫২.
নিম্নে কোনটি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ধর্মনিরপেক্ষতা
  2. জাতীয়তাবাদ
  3. সমাজতন্ত্র
  4. ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ।

• সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সংবলিত:

•সংবিধানের মূলনীতি চারটি:
যথা-
- জাতীয়তাবাদ,
- সমাজতন্ত্র, 
- গণতন্ত্র ও 
- ধর্মনিরপেক্ষতা।

উল্লেখ্য,
সংবিধানের ৮ নং অনুচ্ছেদ মূলনীতিসমূহ সংবলিত।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,২৫৩.
'জরুরি অবস্থা' জারির বিধান সংবিধানের কোন সংশোধনীতে সন্নিবেশিত হয়েছে?
  1. দ্বিতীয়
  2. তৃতীয়
  3. চতুর্থ
  4. পঞ্চম
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় সংশোধনী:
- দ্বিতীয় সংশোধনীটি উত্থাপিত হয় ১৯৭৩ সালের ১৮ সেপ্টম্বর।
- সংশোধনীটি গৃহীত হয় ১৯৭৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর।
- সংশোধনীটি অনুমোদিত হয় ২২ সেপ্টম্বর ১৯৭৩ সালে।
- 'জরুরি অবস্থা' জারির বিধান সংবিধানের ২য় সংশোধনীতে সন্নিবেশিত হয়েছে।
- সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধন আইন দ্বারা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ বা বহিরাক্রমণে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন বাধাগ্রস্ত হলে 'জরুরি অবস্থা' ঘোষণার বিধান চালু করা হয়।
- এছাড়াও, নিবর্তনমূলক আটক ও জরুরী অবস্থার সময় মৌলিক অধিকার স্থগিতকরণ সংক্রান্ত বিধানসমূহ সংযোজন করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৫৪.
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে গণপরিষদের মোট কয়টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ২০টি
  2. ২১টি
  3. ২২টি
  4. ২৩টি
ব্যাখ্যা
সংবিধান:

- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে সময় লেগেছিলো ৯ মাস।
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে গণপরিষদের মোট ২১ টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ জন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহিত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,২৫৫.
হাতে লেখা সংবিধানের পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল -
  1. ক) ১০৯ পৃষ্ঠা
  2. খ) ১১৫ পৃষ্ঠা
  3. গ) ১২০ পৃষ্ঠা
  4. ঘ) ১২৫ পৃষ্ঠা
ব্যাখ্যা
- হাতে লেখা  সংবিধানের পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল - ১০৯।
- সংবিধানের  অঙ্গসজ্জা কাযক্রম তত্ত্বাবধান করেন - জয়নুল আবেদীন।
- সংবিধানের প্রচ্ছদে শীতলপাটির উপর লেখা ছিল - গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
সংবিধানের  -
অঙ্গসজ্জা- হাশেম খান
লিপিকার- এ কে এম আব্দুর রউফ
অংকন- জুনাবুল ইসলাম, সমরজিত রায়, আবুল বারক আলভী।
চামড়ার কাজ- শাহ আবু শফি 
মুদ্রন - বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় 
কভার মুদ্রন - ইস্টার্ন রিগান ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড,ঢাকা।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান।
১,২৫৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চম অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. নির্বাচন
  2. নির্বাহী বিভাগ
  3. বিচার বিভাগ
  4. আইনসভা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন।
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২৫৭.
কোন সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে?
  1. ১৫ তম সংশোধনী
  2. ১২ তম সংশোধনী
  3. ১৩ তম সংশোধনী
  4. ১৪ তম সংশোধনী
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনী:
- সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ২৫ জুন সংসদে পাস হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা হয়।
- রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা আবারও প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল।
- সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে ৫০-এ উন্নীতকরণ।
- সংবিধানের পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদ ৭-এর স্থলে ৭(১) এবং ৭(খ) যুক্ত করা হয়।
- যার উদ্দেশ্য অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলের সমাপ্তি ঘটানো।

উল্লেখ্য,
- ১২ তম সংশোধনীতে, সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- ১৪ তম সংশোধনীর মাধ্যমে নারীদের সংরক্ষিত আসন ৪৫টি  ১০ বছরের জন্য রাখা।
- ১৩ তম সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন। ( বাতিল করা হয়েছে)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৮.
'অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা' সম্পর্কে বলা হয়েছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ক) অনুচ্ছেদ - ১৮
  2. খ) অনুচ্ছেদ - ১৮(ক)
  3. গ) অনুচ্ছেদ - ১৫(ক)
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ - ২৩
ব্যাখ্যা
- অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা : অনুচ্ছেদ - ১৫(ক)
- পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন : অনুচ্ছেদ - ১৮(ক)
- জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা : অনুচ্ছেদ - ১৮
- জাতীয় সংস্কৃতি : অনুচ্ছেদ - ২৩
 
উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান 
১,২৫৯.
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার জাতিকে একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান উপহার দেয় -
  1. ক) ৯ মাসে
  2. খ) ১০ মাসে
  3. গ) ১১ মাসে
  4. ঘ) ১২ মাসে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ই জানুয়ারি বাংলাদেশ অস্থায়ী সংবিধান আদেশ এবং ২৩শে মার্চ বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
- এর ধারাবাহিকতায় ১১ই এপ্রিল তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে আহবায়ক করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট সংবিধান রচনা কমিটি গঠন করা হয়।
- এই কমিটি ১৭ই এপ্রিল তাদের প্রথম বৈঠকে বসে এবং ১২ই অক্টোবর খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপন করে।
- ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন। তবে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
- সবশেষে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
সুতরাং,
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে সময় লেগেছিলো- ৯ মাস। 
- গণপরিষদের মোট ২১টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় এই সংবিধান প্রণয়নে। 


উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান। 
১,২৬০.
কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার জন্য যোগ্যতা নিচের কোনটি?
  1. ক) বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া
  2. খ) তাঁর বয়স পঁচিশ বছর পূর্ণ হওয়া
  3. গ) আদালত তাঁকে অপ্রকৃতিস্থ বলে ঘোষণা না করলে
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ-৬৬: সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা
 (১) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হইলে এবং তাঁহার বয়স পঁচিশ বৎসর পূর্ণ হইলে এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত বিধান-সাপেক্ষে তিনি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন। 
 
(২) কোন ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি 
(ক) কোন উপযুক্ত আদালত তাঁহাকে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা করেন; 
(খ) তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন; 
(গ) তিনি কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন; 
(ঘ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অনূ্যন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে; 
 [(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন যে কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত হইয়া থাকেন; 
 (চ) আইনের দ্বারা পদাধিকারীকে অযোগ্য ঘোষণা করিতেছে না, এমন পদ ব্যতীত তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন; অথবা] 
(ছ) তিনি কোন আইনের দ্বারা বা অধীন অনুরূপ নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হন। 
 
সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২৬১.
মন্ত্রীসভার সদস্যদের কত অংশ সদস্য সংসদের বাইরে থেকে নিয়োগের বিধান রয়েছে?
  1. ক) এক দশমাংশ
  2. খ) নয় দশমাংশ
  3. গ) এক শতাংশ
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
৫৬ (২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, 
প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতীমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদিগকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, তাদের সংখ্যার অন্যূন নয় দশমাংশ সংসদ সদস্যগণের মধ্য হইতে নিযুক্ত হইবেন এবং অনধিক এক দশমাংশ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে মনোনীত হইতে পারিবেন। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,২৬২.
সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে, প্রধান বিচারপতিকে কে শপথ বাক্য পাঠ করায়?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. স্পীকার
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. প্রধান নির্বাচন কমিশনার
ব্যাখ্যা

সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান। 

​বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিল: [১৪৮ অনুচ্ছেদ] শপথ ও ঘোষণা।

- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ৯টি পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তির শপথগ্রহণ বা ঘোষণাপত্র পাঠের বিষয় উল্লেখ আছে।

⇒ সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:
১। রাষ্ট্রপতি [শপথ বাক্য পাঠ করান স্পীকার]।
২। প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতি-মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৩। স্পীকার [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৩। ডেপুটি স্পীকার [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৫। সংসদ সদস্য [শপথ বাক্য পাঠ করান স্পীকার]।
৬। প্রধান বিচারপতি বা বিচারক [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৭। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি]।
৮। মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি।
৯। সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি]।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,২৬৩.
সংবিধান অনুসারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কত বছরের জন্য নির্বাচিত হন?
  1. ৩ বছর
  2. ৪ বছর
  3. ৫ বছর
  4. নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ নেই
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:
- রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রধান।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি দেশের প্রধান নির্বাহী ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ অংশের ৪৮-৫৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধানাবলি বিধৃত হয়েছে।
- রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হন।
- সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে ৫ বছর।
- উল্লেখ্য, দুই মেয়াদের অধিক কেউ রাষ্ট্রপতির পদে কোন ব্যক্তি অধিষ্ঠিত হতে পারবেন না।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,২৬৪.
দেশের কোনো এলাকাতেই ভোটার হননি এমন ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে-
  1. নির্বাচন কমিশনের অনুমতিক্রমে প্রার্থী হতে পারবেন
  2. আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে প্রার্থী হতে পারবেন
  3. সংশ্লিষ্ট দলীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে প্রার্থী হতে পারবেন
  4. কোনোক্রমেই প্রার্থী হতে পারবেন না
ব্যাখ্যা
• গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে বা The representation of the peoples Order (RPO) এ বলা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের কোনো নির্বাচনী এলাকার ভোটার না হলে সে জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

• সংসদ নির্বাচনে যোগ্যতা ও অযোগ্যতা: 

• সংবিধানের ৬৬ নং অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।

এই বিধান অনুসারে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা সমূহ হলো:
- বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া, 
- বয়স ২৫ বৎসর পূর্ণ হওয়া, 

- আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত না হওয়া, 
- দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পর দায় থেকে অব্যাহতি না পাওয়া, 
- বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন বা আনুগত্য ঘোষণা, 
- ১৯৭২ সালের যোগসাজশকারী আদেশের অধীন কোন অপরাধে দণ্ডিত না হওয়া, 
- আইনে উল্লিখিত নির্দিষ্ট পদাধিকারী না হওয়া, 
- নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে অন্যূন দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবার পর পাঁচ বৎসর অতিবাহিত না হওয়া।

উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২৬৫.
সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে ড. কামাল হোসেন কোন কোন দেশ সফর করেন?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য
  2. খ) ভারত ও রাশিয়া
  3. গ) যুক্তরাজ্য জার্মানি
  4. ঘ) যুক্তরাজ্য ও ভারত
ব্যাখ্যা

খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে যুক্তরাজ‍্য ও ভারত সফর করেন।
- গণপরিষদের আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন ডঃ কামাল হোসেন।
- সংবিধান রচনা কমিটির গঠন করা হয় -১১ এপ্রিল ১৯৭২ সালে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,২৬৬.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইন করা যাবে না?
  1. ২৪ নং অনুচ্ছেদ
  2. ২৫ নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৬ নং অনুচ্ছেদ
  4. ২৮ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ২৬ নং অনুচ্ছেদ: মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল;
- সংবিধানের তৃতীয় ভাগ মৌলিক অধিকরের শুরুতেই ২৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইন করা যাবে না।
- আর যদি করা হয়, তবে তা স্বতঃসিদ্ধভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
- এই অনুচ্ছেদ অনুসারে, মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী পূর্বেকার সকল আইন সাংবিধানিকভাবে অবৈধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২৬৭.
সংবিধানের সংশোধন সংক্রান্ত বিধান কোন অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত?
  1. ৭ম অধ্যায়
  2. ৮ম অধ্যায়
  3. ৯ম অধ্যায়
  4. ১০ম অধ্যায়
ব্যাখ্যা

• দশম অধ্যায়:
- সংবিধানের দশম অধ্যায়ে 'সংবিধানের সংশোধন' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- সংসদের আইন-দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা সংশোধিত হইতে পারিবে।
- অনুরূপ সংশোধনীর জন্য আনীত কোন বিলের সম্পূর্ন শিরনামায় এই সংবিধানের কোন বিধান সংশোধন করা হইবে বলিয়া স্পষ্টরূপে উল্লেখ না থাকিলে বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা যাইবে না।

- সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরূপ কোন বিলে সম্মতিদানের জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে না।
- উপরি-উক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তাহা উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন, এবং তিনি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,২৬৮.
বাংলাদেশের ’নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ পাস হয় কত সালে?
  1. ২০০২ সালে
  2. ২০০৫ সালে
  3. ২০০০ সালে
  4. ২০০১ সালে
ব্যাখ্যা

• নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০:
- নারী ও শিশু নির্যাতনমূলক অপরাধসমূহ কঠোরভাবে দমনের উদ্দেশ্যে এ আইন পাশ করা হয়।
- এ আইনের ধারা ৩৫ টি।
- পরিচিতি: এই আইন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ নামে অভিহিত হইবে।
- আইনের প্রাধান্য : আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,২৬৯.
সংবিধানের ৫২ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে নিম্নের কাকে অভিশংসন করা যেতে পারে?
  1. রাষ্ট্রপতি 
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. স্পিকার
ব্যাখ্যা

সংবিধানের ৫২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি-কে অভিশংসন করা যেতে পারে।

রাষ্ট্রপতির অভিশংসন (Impeachment of the President):

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগ নির্বাহী বিভাগের ৫২ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অভিশংসন (Impeachment of the President) সম্পর্কে বলা আছে।

⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগ নির্বাহী বিভাগের ৫২ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অভিশংসন সম্পর্কে বলা আছে।
- ৫২ (১) এই সংবিধান লংঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করা যেতে পারবে; এর জন্য সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে অনুরূপ অভিযোগের বিবরণ লিপিবদ্ধ করে একটি প্রস্তাবের নোটিশ স্পীকারের নিকট প্রদান করতে হবে; স্পীকারের নিকট অনুরূপ নোটিশ প্রদানের দিন হতে চৌদ্দ দিনের পূর্বে বা ত্রিশ দিনের পর এই প্রস্তাব আলোচিত হতে পারবে না; এবং সংসদ অধিবেশনরত না থাকলে স্পীকার অবিলম্বে সংসদ আহবান করবেন।
- ৫২ (২) এই অনুচ্ছেদের অধীন কোন অভিযোগ তদন্তের জন্য সংসদ কর্তৃক নিযুক্ত বা আখ্যায়িত কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের নিকট সংসদ রাষ্ট্রপতির আচরণ গোচর করতে পারবেন।
- ৫২ (৩) অভিযোগ-বিবেচনাকালে রাষ্ট্রপতির উপস্থিত থাকবার এবং প্রতিনিধি-প্রেরণের অধিকার থাকবে।
- ৫২ (৪) অভিযোগ-বিবেচনার পর মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলিয়া ঘোষণা করে সংসদ কোন প্রস্তাব গ্রহণ করলে প্রস্তাব গৃহীত হবার তারিখে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।
- ৫২ (৫) এই সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ-অনুযায়ী স্পীকার কর্তৃক রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব-পালনকালে এই অনুচ্ছেদের বিধানাবলী এই পরিবর্তন-সাপেক্ষে প্রযোজ্য হবে যে, এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় স্পীকারের উল্লেখ ডেপুটি স্পীকারের উল্লেখ বলিয়া গণ্য হবে এবং (৪) দফায় রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইবার উল্লেখ স্পীকারের পদ শূন্য হইবার উল্লেখ বলিয়া গণ্য হবে; এবং (৪) দফায় বর্ণিত কোন প্রস্তাব গৃহীত হলে স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে বিরত হবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,২৭০.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে অ্যাটর্নি-জেনারেল পদের মেয়াদকাল-
  1. ১ বছর
  2. ৪ বছর
  3. ৫ বছর
  4. সুনির্দিষ্ট নয়
ব্যাখ্যা
• অ্যাটর্নি-জেনারেল:
৬৪। (১) সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হইবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি-জেনারেল পদে নিয়োগদান করিবেন।
(২) অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৩) অ্যাটর্নি-জেনারেলের দায়িত্বপালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তাঁহার বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে।
(৪) রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করিবেন।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২৭১.
একটি মাত্র সংসদীয় আসন রয়েছে-
  1. ক) হবিগঞ্জে
  2. খ) নোয়াখালিতে
  3. গ) বান্দরবানে
  4. ঘ) খুলনায়
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের তিনটি জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে।
জেলাগুলো হলো- রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি।
উৎসঃ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট।

১,২৭২.
সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন কে?
  1. জাতীয় সংসদ
  2. নির্বাচন কমিশন
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি: 
- সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নিয়মতান্ত্রিক প্রধান।
- প্রজাতন্ত্রের সকল কাজ তাঁর নামে পরিচালিত হয়।
- তাঁর হাতে কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই।

প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও শাসনসংক্রান্ত ক্ষমতা ও কার্যাবলি: 
- সংসদ নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের আস্থাভাজন নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন।
- প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কারও পরামর্শ গ্রহণ করেন না।
- রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের নিয়োগ ও তাঁদের দপ্তর বণ্টন করেন।
- তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারকবৃন্দ, রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনারদের নিয়োগ দান করেন।

প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ও বিচারসংক্রান্ত কাজ:
- রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন।
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কারও পরামর্শ গ্রহণ করেন না।
- সুপ্রিম কোর্টের অন্য বিচারপতিগণও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,২৭৩.
অধ্যাদেশ জারী পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপনের কত দিনের মধ্যে তা অনুমোদন করতে হয়?
  1. ক) ৭ দিন
  2. খ) ১৫ দিন
  3. গ) ৩০ দিন
  4. ঘ) ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৯৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ ভাঙ্গা কিংবা সংসদ অধিবেশন চলা না কালে বিশেষ প্রয়োজনে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন যা আইনের মতোই প্রযোজ্য। এই অধ্যাদেশ জারির পরবর্তী অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তা সংসদের অনুমোদনের জন্যে উত্থাপন করতে হয়। উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে তা অনুমোদন করতে হয়। অন্যথায় ৩০ দিন পর অধ্যাদেশটি আপনাআপনি অকার্যকর হয়ে যায়। (সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
১,২৭৪.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে ’কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি ' সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ-১০
  2. অনুচ্ছেদ-১৪
  3. অনুচ্ছেদ-১২
  4. অনুচ্ছেদ-১৭
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের ১৪ নং অনুচ্ছেদে 'কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি' সম্পর্কে বলা হয়েছে।

কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি
- রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে মেহনতী মানুষকে-কৃষক ও শ্রমিককে-এবং জনগণের অনগ্রসর অংশসমূহকে সকল প্রকার শোষণ হইতে মুক্তি দান করা।
-  সংবিধানের ১৪ নং অনুচ্ছেদে 'কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি' সম্পর্কে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগে ১০ নং অনুচ্ছেদে 'সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের শোষণমুক্ত, ন্যায়সঙ্গত ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যের কথা বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু: অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,২৭৫.
কোন সাংবিধানিক পদে শপথ গ্রহণ প্রয়োজন হয় না?
  1. সরকারী কর্ম-কমিশনের চেয়ারম্যান
  2. ডেপুটি স্পিকার
  3. মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
  4. অ্যাটর্নি জেনারেল
ব্যাখ্যা
অ্যাটর্নি জেনারেলের পদটি সাংবিধানিক পদ হলেও এপদের শপথ গ্রহণ করতে হয় না। অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং নিয়োগ লাভের পর তিনি রাষ্ট্রপতি বরাবরে যোগদানপত্র দাখিল সাপেক্ষে পদে আসীন হন।

সাংবিধানিক পদ:

- সংবিধান হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন।
- সাংবিধানিক উপায়ে যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলে।
- সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা, পদের মেয়াদ, পদমর্যাদা, পদত্যাগ ও অপসারণ পদ্ধতি এবং দায়িত্ব সংবিধানে সুনির্দিষ্ট ও সুষ্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

⇒ সাংবিধানিক পদগুলো হলো:
• রাষ্ট্রপতি,
• প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীগণ,
• স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার,
• প্রধান বিচারপতি,
• সংসদ সদস্য,
• প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার,
• মহা-হিসাব রক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
• সরকারী কর্ম-কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য,
• অ্যাটর্নি জেনারেল (একমাত্র সাংবিধানিক পদের ব্যক্তি যাকে শপথ পড়তে হয় না। রাষ্ট্রপতির অঙ্গীকার তার শপথ)।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন। [link]
ii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,২৭৬.
জাতীয় সংসদ সদস্যের কত অংশ 'টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী'?
  1. ক) এক-দশমাংশ
  2. খ) দুই-দশমাংশ
  3. গ) তিন-দশমাংশ
  4. ঘ) নয়-দশমাংশ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যের বাইরে থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যায় এক-দশমাংশ।
- অর্থাৎ ১০ শতাংশ সংসদ সদস্যের বাইরে থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যায়।
অনুচ্ছেদ - ৫৬(২) প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদিগকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, তাঁহাদের সংখ্যার অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ-সদস্যগণের মধ্য হইতে নিযুক্ত হইবেন এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে মনোনীত হইতে পারিবেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাদেশ সংবিধান
১,২৭৭.
বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি কে?
  1. ক) এস কে সিনহা
  2. খ) সৈয়দ রিফাত আহমেদ
  3. গ) মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা
  4. ঘ) সৈয়দ মাহমুদ হোসেন
ব্যাখ্যা

দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা) পদত্যাগ করার ৮৫ দিনের মাথায় ২২তম প্রধান বিচারপতি পদে আপিল বিভাগের দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
উৎসঃ দৈনিক পত্রিকা রিপোর্ট

১,২৭৮.
বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থা সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে পুনঃপ্রবর্তিত হয়?
  1. নবম
  2. দশম
  3. একাদশ
  4. দ্বাদশ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী:
- দ্বাদশ সংশোধনী আইন বাংলাদেশের সাংবিধানিক বিকাশের ইতিহাসে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে খ্যাত এই সংশোধনী আইন পাস হয় ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট।
- এর দ্বারা সংবিধানের ৪৮, ৫৫, ৫৬, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৭০, ৭২. ১০৯, ১১৯, ১২৪, ১৪১ক এবং ১৪২ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।

⇒ এই সংশোধনীর মাধ্যমে -
- বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন ঘটে;
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হন;
- প্রধানমন্ত্রী হন রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী;
- প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ হয়;
- উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ করা হয়,
- জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান করা হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।
১,২৭৯.
’গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখিত?
  1. ১৮নং
  2. ১৬নং
  3. ১৩নং
  4. ৯নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ১৬নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।

অন্যদিকে,
’মালিকানার নীতি’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ১৩নং অনুচ্ছেদ।
’পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ১৮নং অনুচ্ছেদ।
’জাতীয়তাবাদ’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ৯নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,২৮০.
'প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম' সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ২(ক)
  2. ৪(ক)
  3. ৫(১)
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রধর্ম:
- অনুচ্ছেদ ২ক এ রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে বলা আছে।
- [২ক। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন]

অন্যদিকে,
- ৩নং অনুচ্ছেদঃ রাষ্ট্রভাষা।
- ৪নং অনুচ্ছেদঃ জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- ৪ক। জাতির পিতার প্রতিকৃতি।
- ৫৷ (১) প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা৷ 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,২৮১.
সংবিধানের তৃতীয় তফসিলের বিষয়বস্তু- 
  1. স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র
  2. ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
  3. শপথ ও ঘোষণা
  4. স্বাধীনতার ঘোষণা
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সংবিধানের তফসিলসমূহ:
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস:  বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান ।

১,২৮২.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি সম্পর্কে বলা আছে?
  1. ৫১ নং
  2. ৫২ নং
  3. ৫৩ নং
  4. ৫৪ নং
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:
- বাংলাদেশের শাসন বিভাগের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ব্যক্তি হলেন রাষ্ট্রপতি।
- তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান।
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সকল সন্মানের উৎস।
- সংসদীয় পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকার রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আইন অনুসারে সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন।

⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগ নির্বাহী বিভাগের ৫১ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি সম্পর্কে বলা আছে।
- অনুচ্ছেদ ৫১ (১) অনুযায়ী এই সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদের হানি না ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতি তাঁর দায়িত্ব পালন কতে গিয়ে কিংবা অনুরূপ বিবেচনায় কোন কার্য করে থাকলে তাঁকে কোন আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না, তবে এই দফা সরকারের বিরুদ্ধে কার্যধারা গ্রহণে কোন ব্যক্তির অধিকার ক্ষুন্ন করবে না।
- অনুচ্ছেদ ৫১ (২) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কার্যভারকালে তাঁর বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন প্রকার ফৌজদারী কার্যধারা দায়ের করা যাবে না এবং তাঁর গ্রেফতার বা কারাবাসের জন্য কোন আদালত হতে পরোয়ানা জারী করা যাবে না।

অন্যদিকে,
- ৫২ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতির অভিশংসন। 
- ৫৩ নং অনুচ্ছেদ: অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ। 
- ৫৪ নং অনুচ্ছেদ: অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২৮৩.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ প্রদান করেন?
  1. ৭২ নং
  2. ৭৩ নং
  3. ৭৪ নং
  4. ৭৫ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান: 
- সংবিধানের ৭৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, 

সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী:
(১) রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দান এবং বাণী প্রেরণ করতে পারবেন।
(২) সংসদ-সদস্যদের প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশনের সূচনায় এবং প্রত্যেক বৎসর প্রথম অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দান করবেন।
(৩) রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত ভাষণ শ্রবণ বা প্রেরিত বাণী প্রাপ্তির পর সংসদ উক্ত ভাষণ বা বাণী সম্পর্কে আলোচনা করবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২৮৪.
’জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন’ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. ২১(২)
  2. ১৯(৩)
  3. ২২
  4. ২৪
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সংবিধান: 
- সুযোগের সমতা ১৯(১) সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হবেন৷
- (২) মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন৷
 - ১৯(৩) জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,২৮৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা' নিয়ে বলা হয়েছে?
  1. ১৭ নং
  2. ১১ নং
  3. ১৬ নং
  4. ২২ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদ: অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
⇒ সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে।
- ১৭ (ক) একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য;
- ১৭ (খ) সমাজের প্রয়োজনের সহিত শিক্ষাকে সঙ্গতিপূর্ণ করার জন্য এবং সেই প্রয়োজন সিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদিচ্ছাপ্রণোদিত নাগরিক সৃষ্টির জন্য;
- ১৭(গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অন্যদিকে,
- ১১ নং অনুচ্ছেদ: গণতন্ত্র ও মানবাধিকার,
- ১৬ নং অনুচ্ছেদ: গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।
- ২২ নং অনুচ্ছেদ: নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,২৮৬.
সংবিধানের কোন ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. প্রথম ভাগে
  2. দ্বিতীয় ভাগে
  3. তৃতীয় ভাগে
  4. চতুর্থ ভাগ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সংবিধানে মোট ১১টি ভাগ রয়েছে।

এগুলো হলো:
প্রথম ভাগ : প্রজাতন্ত্র
দ্বিতীয় ভাগ : রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
তৃতীয় ভাগ : মৌলিক অধিকার
চতুর্থ ভাগ : নির্বাহী বিভাগ
পঞ্চম ভাগ : আইনসভা
ষষ্ঠ ভাগ : বিচার বিভাগ
সপ্তম ভাগ : নির্বাচন
অষ্টম ভাগ : মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
নবম ভাগ : বাংলাদেশের কর্মবিভাগ
নবম-ক ভাগ : জরুরি বিধানাবলী
দশম ভাগ : সংবিধান সংশোধন
একাদশ ভাগ : বিবিধ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
১,২৮৭.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে? 
  1. ১৫১ নং
  2. ১৫২ নং
  3. ১৫৩ নং
  4. ১৪৫ নং
ব্যাখ্যা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে,

১৫২। (১) বিষয় বা প্রসঙ্গের প্রয়োজনে অন্যরূপ না হইলে এই সংবিধানে,

• "রাজনৈতিক দল" বলিতে এমন একটি অধিসঙ্ঘ বা ব্যক্তিসমষ্টি অন্তর্ভুক্ত, যে অধিসঙ্ঘ বা ব্যক্তিসমষ্টি সংসদের অভ্যন্তরে বা বাহিরে স্বাতন্ত্র্যসূচক কোন নামে কার্য করেন এবং কোন রাজনৈতিক মত প্রচারের বা কোন রাজনৈতিক তৎপরতা পরিচালনার উদ্দেশ্যে অন্যান্য অধিসঙ্ঘ হইতে পৃথক কোন অধিসঙ্ঘ হিসাবে নিজদিগকে প্রকাশ করেন;

• সংবিধানের বিভিন্ন টার্মের ব্যাখ্যা ও সংজ্ঞা দেওয়া আছে ১৫২ নং অনুচ্ছদে।

তথ্যসূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।

১,২৮৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদটি নাগরিকদের চলাফেরার স্বাধীনতা সম্পর্কিত?
  1. অনুচ্ছেদ - ৩৬
  2. অনুচ্ছেদ - ৩৭
  3. অনুচ্ছেদ - ৩৮
  4. অনুচ্ছেদ - ৩৯
ব্যাখ্যা

-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের,
- ৩৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- চলাফেরার স্বাধীনতা।
- ৩৭ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- সমাবেশে স্বাধীনতা।
- ৩৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- সংগঠনের স্বাধীনতা।
- ৩৯ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা।

উৎস;- বাংলাদেশের সংবিধান।

১,২৮৯.
বাংলাদেশের শাসন বিভাগের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা কার নামে গৃহীত হয়?
  1. ক) প্রধানমন্ত্রী
  2. খ) রাষ্ট্রপতি
  3. গ) জাতীয় সংসদ
  4. ঘ) স্পীকার
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার সর্বোচ্চ ব্যক্তি হলেন রাষ্ট্রপতি। 
- সংবিধানের ৫৫(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী - 'সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা  রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে'।
১,২৯০.
বাংলাদেশের সংবিধানে মোট কতটি তফসিল সংযুক্ত রয়েছে?
  1. ১ টি
  2. ৫ টি
  3. ৭ টি
  4. ১১ টি
ব্যাখ্যা

• সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে। 
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,২৯১.
সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু কী ছিল?
  1. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
  2. সংসদে মহিলা আসন
  3. উপরাষ্ট্রপতি নিয়োগের বিধান
  4. বহুদলীয় ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
ত্রয়োদশ সংশোধনী:

- ত্রয়োদশ সংশোধনীর শিরোনাম সংবিধান [ত্রয়োদশ সংশোধন] আইন, ১৯৯৬।
- সংসদে বিলটি পাশ হয় ২৭ মার্চ, ১৯৯৬।
- ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।
- ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে আপিল বিভাগ তত্ত্বাবাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সর্ম্পকিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেছে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিবিসি নিউজ, ১০ মে ২০১১।
১,২৯২.
সংবিধান কোন অনুচ্ছেদে সংবিধান সংশোধন করার বিধান রয়েছে?
  1. ১৪৭ নং
  2. ১৪২ নং
  3. ১৪৫ নং
  4. ১৪১ নং
ব্যাখ্যা
১৪২ নং অনুচ্ছেদে সংবিধান সংশোধন করার বিধান রয়েছে।

• সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা: 
-  ১৪২ নং:  সংসদের আইন-দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা সংশোধিত হতে পারে।
- সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরূপ কোন বিলে সম্মতিদানের জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হবে না।
- উপরি-উক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তাহা উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করবে।
- এবং তিনি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য,
১৪১ ক: জরুরী-অবস্থা ঘোষণা;
১৪১ খ: জরুরী-অবস্থার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিতকরণ;
১৪১গ: জরুরী-অবস্থার সময় মৌলিক অধিকারসমূহ স্থগিতকরণ;
১৪৫: চুক্তি ও দলিল;
১৪৫ক: আন্তর্জাতিক চুক্তি;
১৪৭: কতিপয় পদাধিকারীর পারিশ্রমিক প্রভৃতি;
১৪৮: পদের শপথ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
১,২৯৩.
বাংলাদেশর সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) চলাফেরার স্বাধীনতা
  2. খ) সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা
  3. গ) নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ
  4. ঘ) ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- গ্ণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ভাগ ১১ টি।
- অনুচ্ছেদ মোট ১৫৩টি এবং
- তফসিল আছে - সাতটি। 

- ১৯৭২ সালের পর থেকে বাংলাদেশ সংবিধানের সংশোধন ও পরিবর্তন করা হয়েছে ১৭ বার।
- বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের অনুচ্ছেদ ২২ অনুযায়ী নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ করা হয়। 

অপরদিকে -
৩৬ নং অনুচ্ছেদ - চলাফেরার স্বাধীনতা।
২৯ নং অনুচ্ছেদ - সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা।
১২ নং অনুচ্ছেদ - ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।
২২ নং অনুচ্ছেদ  - নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।

উৎস:- বাংলাদেশের সংবিধান
১,২৯৪.
নিচের কোনটি বাংলাদেশ সংবিধানের মূলনীতি?
  1. বাক স্বাধীনতা
  2. ধর্মীয় নিরপেক্ষতা
  3. আইনের দৃষ্টিতে সমতা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
→ ধর্মীয় নিরপেক্ষতা

বাংলাদেশ সংবিধানের মূলনীতি:
১).জাতীয়তাবাদ:
- মূল সংবিধানের ৯নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, "ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে জাতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে। বাঙালি জাতির সেই ঐক্য ও সংহতি হবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।

২) সমাজতন্ত্র:
- মূল সংবিধানের ১০ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,
- "মানুষের উপর মানুষের শোষণের অবসান ঘটিয়ে ন্যায়ানুগ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে শোষণহীন সমাজ কায়েম করা হবে।"
- সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করার লক্ষ্য ছিল মূলত মেহনতি মানুষকে সকল প্রকার শোষণ হতে মুক্তি দেয়া। 

৩) গণতন্ত্র:

- সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
- যেখানে মৌলিক মানবাধিকার, স্বাধীনতার নিশ্চয়তা এবং মানবসত্তার মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে।

২) ধর্ম নিরপেক্ষতা:
- সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে,
- "রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোন ধর্মের ব্যবহার,
- কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির বৈষম্য বা তার উপর উৎপীড়ন করা হবে না।"

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,২৯৫.
“Impeachment of the President” কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. ক) ৫১(১)
  2. খ) ৪৯
  3. গ) ৫২(১)
  4. ঘ) ৫২(৪)
ব্যাখ্যা

 “Impeachment of the President” ৫২(১) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে।
- রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তির কথা ৫১(১) এ উল্লেখ আছে ।
- ৪৯ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকারের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান

১,২৯৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ২২(ক)
  2. অনুচ্ছেদ ২৩(ক)
  3. অনুচ্ছেদ ২৪(ক)
  4. অনুচ্ছেদ ২৫(ক)
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ২০ - অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম।
- অনুচ্ছেদ ২১ - নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।
- অনুচ্ছেদ ২২ - নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।
- অনুচ্ছেদ ২৩ - জাতীয় সংস্কৃতির কথা বলা হয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ২৩(ক) - উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতির উল্লেখ রয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ২৪ - জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ২৫ - আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ২৬ মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল।
- অনুচ্ছেদ ২৮ ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।
- অনুচ্ছেদ ২৯ - সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা।
- অনুচ্ছেদ ৩০- বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,২৯৭.
বাংলাদেশ সংবিধান কী জাতীয়?
  1. পরিবর্তনীয়
  2. অপরিবর্তনীয়
  3. দুষ্পরিবর্তনীয়
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
→ বাংলাদেশ সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয়।

• ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের বৈশিষ্ট্য:

- ১৯৭২ সালের মূল সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের একটি মূল দলিল।
- এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ-

১. লিখিত দলিল:

- মূল সংবিধান একটি সুলিখিত দলিল।
-  এতে ১টি প্রস্তাবনা, ৭টি তফসিল, ১১টি ভাগ এবং ১৫৩টি অনুচ্ছেদ আছে।

২.দুষ্পরিবর্তনীয়:
- বাংলাদেশের সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয়।
- সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব পাস করানো যায়।

৩. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি:
- সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা-এই চারটি মূলনীতিকে সংবিধানের মূল স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

৪. মৌলিক অধিকার:
- সংবিধানের জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- রাষ্ট্রের নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য সংবিধানে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৯৮.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি নয়?
  1. ক) জাতীয়তাবাদ
  2. খ) সুযোগের সমতা
  3. গ) সমাজতন্ত্র ও শোষণ মুক্তি
  4. ঘ) গণতন্ত্র ও মানবাধিকার
ব্যাখ্যা
▪ ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
▪ বাংলাদেশ সংবিধানে রয়েছে ১টি প্রস্তাবনা, ১১টি ভাগ, ৪টি তফসিল ও ১৫৩টি অনুচ্ছেদ ।

বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি ৪ টি।সেগুলো হলোঃ
 ১. জাতীয়তাবাদ
 ২. সমাজতন্ত্র ও শোষণ মুক্তি
 ৩. গণতন্ত্র ও মানবাধিকার
 ৪. ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা
▪ সংবিধানের ১৯ নং অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে।
 
তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ সংবিধান।
১,২৯৯.
বাংলাদেশ সরকারি কর্মবিভাগ পুনর্গঠন সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গঠিত?
  1. ১২৫ নং অনুচ্ছেদ
  2. ১৩৬ নং অনুচ্ছেদ
  3. ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ
  4. ১৩৯ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
₻ কর্মবিভাগ
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের জন্যে আইনের দ্বারা এক বা একাধিক কর্মকমিশন গঠন সম্পর্কে বলা হয়েছে। এই বিধান অনুসারে ‘বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি)’ গঠিত হয়েছে।
অন্যদিকে,
- ১৩৬ নং অনুচ্ছেদ : কর্মবিভাগ পুনর্গঠন
- ১৩৮ নং অনুচ্ছেদ : কর্মকমিশন সদস্যদের নিয়োগ।
- ১৩৯ নং অনুচ্ছেদ : কর্মকমিশনের সদস্যদের পদের মেয়াদ।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান।
১,৩০০.
'বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন'-সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত? 
  1. ১০৬ নং 
  2. ১১২ নং 
  3. ১১৬ক নং 
  4. ১২২ নং
ব্যাখ্যা

বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন:
- সংবিধানের ১১৬ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন। 
- অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিগণ এবং ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৬ নং অনুচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার: যদি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হয় যে, আইনের এমন কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হয় বা উত্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দেয়, যা এমন ধরনের ও এমন জনগুরুত্বসম্পন্ন যে, সেই সম্পর্কে সুপ্রীম কোর্টের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন, তা হইলে তিনি প্রশ্নটি আপীল বিভাগের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করিতে পারবেন এবং উক্ত বিভাগ স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত শুনানীর পর প্রশ্নটি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে স্বীয় মতামত জ্ঞাপন করতে পারবেন।
- ১১২ নং অনুচ্ছেদ" বলতে সাধারণত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদটিকে বোঝায়, যা সুপ্রীম কোর্টের সহায়তা সংক্রান্ত। 
- সংবিধানের ১২২ নং অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হয়েছে, ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।