বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সংবিধান

মোট প্রশ্ন২,৩৩১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সংবিধান

PrepBank · পাতা ১১ / ২৪ · ১,০০১১,১০০ / ২,৩৩১

১,০০১.
সংবিধানের ৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিকগণ কী বলে পরিচিত হবেন?
  1. বাংলাদেশী
  2. বাঙালী
  3. বাঙাল
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের মোট এগারটি ভাগ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম ভাগ প্রজাতন্ত্র -(১-৭খ)।
- অনুচ্ছেদ ৬(১) অনুযায়ী -  বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে। 
- অনুচ্ছেদ ৬(২)  অনুযায়ী - বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলে পরিচিত হবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান ।

১,০০২.
বাংলাদেশে কোন সাংবিধানিক পদে এখনও নিয়োগ দেওয়া হয়নি?
  1. ন্যায়পাল
  2. নির্বাচন কমিশনার
  3. মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
ন্যায়পাল:
- স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের বেশী সময় অতিবাহিত হলেও বাংলাদেশে এখনও ন্যায়পাল নিয়োগ করা হয় নি। 
- সরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের ঈপ্সিত সেবামূলক কার্যাবলী, জনগণের প্রতি সরকারী কর্মচারীগণের জবাবদিহি ও সর্বোপরি সরকারী প্রশাসনব্যবস্থার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে যথাশীঘ্র ন্যায়পাল পদে নিয়োগদান বাঞ্ছনীয়।
- উপযুক্ত ন্যায়পাল নিয়োগের পর তাঁকে আইনানুগভাবে কাজ করতে দিলে দেশে সরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের দক্ষতা, জবাবদিহি ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।

উৎস: সিভিক এডুকেশন-২, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০৩.
সংবিধানের কততম সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়?
  1. দ্বাদশ সংশোধনী
  2. পঞ্চদশ সংশোধনী
  3. ত্রয়োদশ সংশোধনী
  4. একাদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী.
- সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ২৫ জুন সংসদে পাস হয়।
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়।
- ১৯৭২ মূল সংবিধানের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি যথা: জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।
- রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখার পাশাপাশি সকল ধর্মচর্চার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়

উৎস: বাংলাপিডিয়া, এবং বাংলাদেশ সংবিধান।
১,০০৪.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে মন্ত্রিসভা গঠনের কথা বলা হয়েছে?
  1. ৫১ নং
  2. ৫৫ নং
  3. ৫৮ নং
  4. ৭৩ক নং
ব্যাখ্যা
মন্ত্রিসভা:
- সংবিধানের ৫৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
১• প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করবে, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী নিয়ে এই মন্ত্রিসভা গঠিত হবে।

২• প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হবে।
৩• মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকবেন।
৪• সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হয়েছে বলে প্রকাশ করা হবে।
৫• রাষ্ট্রপতির নামে প্রণীত আদেশসমূহ ও অন্যান্য চুক্তিপত্র কিভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত হবে, রাষ্ট্রপতি তা বিধিসমূহ-দ্বারা নির্ধারণ করবেন এবং অনুরূপভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত কোন আদেশ বা চুক্তিপত্র যথাযথভাবে প্রণীত বা সম্পাদিত হয় নাই বলে তার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না। 
৬• রাষ্ট্রপতি সরকারী কার্যাবলী বন্টন ও পরিচালনার জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করবেন।

এছাড়া,
- ৫১ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।
- ৫৮ নং অনুচ্ছেদ: প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত অন্যান্য মন্ত্রীগণের পদের মেয়াদ।
- ৭৩ক নং অনুচ্ছেদ: সংসদ সম্পর্কে মন্ত্রীগণের অধিকার সংক্রান্ত। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০০৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. গণতন্ত্র
  2. ধর্মনিরপেক্ষতা
  3. জাতীয়তাবাদ
  4. সার্বভৌমত্ব
ব্যাখ্যা
সংবিধানের মূলনীতি:

- সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়।
- প্রস্তাবনা এবং অনুচ্ছেদ ৮ অনুযায়ী বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি চারটি।
যথা-
- জাতীয়তাবাদ,
- গণতন্ত্র,
- ধর্মনিরপেক্ষতা ও
- সমাজতন্ত্র
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১১ টি অধ্যায়, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ, ৭ টি তফসিল, ১৩ টি পরিচ্ছেদ আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০০৬.
কোনটি বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. প্রজাতন্ত্র
  2. গণতন্ত্র
  3. সমাজতন্ত্র
  4. জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা
• প্রজাতন্ত্র - বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অন্তর্ভূক্ত নয়।

• বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি:
- বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে।
- ৮নং অনুচ্ছেদে ১নং দফানুসারে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হলো চারটি।

• এগুলো হলো:
- জাতীয়তাবাদ,
- সমাজতন্ত্র,
- গণতন্ত্র ও
- ধর্মনিরপেক্ষতা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০০৭.
রাষ্ট্র প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করিবেন - এটি সংবিধানে কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ - ১৬
  2. অনুচ্ছেদ - ২৫
  3. অনুচ্ছেদ - ১৪
  4. অনুচ্ছেদ - ১৮
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ২৫নং অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

• অনুচ্ছেদ - ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন: 
জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র- 

(ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করিবেন;
(খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করিবেন; এবং
(গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করিবেন৷

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০০৮.
সংবিধান অনুযায়ী মালিকানা কয় ধরনের হয়?
  1. ১১
ব্যাখ্যা
মালিকানার নীতি: বাংলাদেশ সংবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদের বিধান রয়েছে। মোট ৩ ধরনের মালিকানার কথা উল্লেখ করা আছে।
-উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদনব্যবস্থা ও বন্টনপ্রণালীসমূহের মালিক বা নিয়ন্ত্রক হইবেন জনগণ এবং এই উদ্দেশ্যে মালিকানা-ব্যবস্থা নিম্নরূপ হইবে:
(ক) রাষ্ট্রীয় মালিকানা, অর্থাৎ অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান প্রধান ক্ষেত্র লইয়া সুষ্ঠু ও গতিশীল রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারী খাত সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রের মালিকানা;
(খ) সমবায়ী মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে সমবায়সমূহের সদস্যদের পক্ষে সমবায়সমূহের মালিকানা; এবং
(গ) ব্যক্তিগত মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যক্তির মালিকানা৷

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান। 
১,০০৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' যুক্ত করা হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭৯ সালে
  2. খ) ১৯৮৫ সালে
  3. গ) ১৯৮৯ সালে
  4. ঘ) ২০১১ সালে
ব্যাখ্যা
• ১৯৭৯ সালে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনার শীর্ষে ''বিসমিল্লাহির-রাহমানির রহিম'' (দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে) বাক্য সংযুক্ত হয়।
• ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলা তর্জমায় (পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে) সংযোজন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০১০.
জাতীয় সংসদের অভিভাবক হিসেবে বিবেচিত হন কে?
  1. ক) রাষ্ট্রপতি
  2. খ) প্রধানমন্ত্রী
  3. গ) স্পিকার
  4. ঘ) বিচারপতি
ব্যাখ্যা

- সংসদের প্রধান নির্বাহী হিসেবে স্পিকারের মর্যাদা অনেক উপরে।
- সকল দেশের সংসদেই স্পিকার কে একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হয়।
- সংসদের অভিভাবক হিসেবে তিনি সরকারী এবং বিরোধী উভয় দলের নিকট শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব।
- রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- সংবিধান অনুযায়ী সংসদের কাজ পরিচালনা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও অন্যান্য ক্ষমতা প্রয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে স্পিকার আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নন।
- স্পিকারকে দেয় পারিশ্রমিক সংযুক্ত তহবিলে দায়মুক্ত বলে গণ্য।

উৎসঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পৌরনীতি ২য় পত্র ।
১,০১১.
সংবিধান সংস্কার কমিশন কোন বিষয়ে গণভোট পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে?
  1. সংবিধান সংশোধন
  2. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
  3. স্থানীয় সরকার নির্বাচন
  4. বিচারপতি নিয়োগ
ব্যাখ্যা

সংবিধান সংস্কার কমিশন:
- ৯ সদস্য বিশিষ্ট সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

⇒ সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ:
- সংবিধান সংস্কার কমিশন সংবিধান সংশোধনের জন্য গণভোটের বিধান পুনর্বহালের সুপারিশ করেছে। 
- এছাড়াও, কমিশন সংবিধানের প্রস্তাবনায় জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দিয়ে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। 
- কমিশন সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে।
- বিদ্যমান সংবিধানের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগের অধিকারসমূহ সমন্বিত করে ‘মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা’ নামে একটি একক সনদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আদালতে বলবৎযোগ্য হবে এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অধিকার ও নাগরিক, রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যে বিদ্যমান তারতম্য দূর করবে।
- পাশাপাশি, কমিশন দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রস্তাব করছে, যেখানে একটি নিম্নকক্ষ জাতীয় সংসদ (ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলি) এবং একটি উচ্চকক্ষ (সিনেট) থাকবে এবং এখানে উভয় কক্ষের মেয়াদ হবে চার বছর।
- রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনয়ন এবং রাষ্ট্রীয় অঙ্গ ও প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করার জন্য একটি জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন এবং আইনসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে কিংবা আইনসভা ভেঙে গেলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত, সর্বোচ্চ ৯০ (নব্বই) দিন মেয়াদের একটি অন্তর্বর্তী সরকার নিয়োগের সুপারিশ করেছে।

উৎস: i) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ।
ii) সংবিধান সংস্কার কমিশন।

১,০১২.
১৯৭২ সালের সংবিধানে কতগুলো সংরক্ষিত মহিলা আসন রাখা হয়েছিল?
  1. ১৫টি
  2. ২৫টি
  3. ৩৫টি
  4. ৪৫টি
ব্যাখ্যা
এক কক্ষবিশিষ্ট আইন পরিষদ:
- ১৯৭২-এর সংবিধানে এক কক্ষবিশিষ্ট আইন পরিষদের ব্যবস্থা করা হয়।
- সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে ৩০০ জন সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা আসনে ১৫ জন সদস্য নিয়ে আইন পরিষদ গঠিত হয়। 
- আইন পরিষদ জাতীয় সংসদ বলে অভিহিত হবে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১৩.
নিচের কোনটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়?
  1. ক) বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন
  2. খ) বাংলাদেশ ব্যাংক
  3. গ) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
  4. ঘ) জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের সুস্পষ্ট বিধি মোতাবেক যে প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত তাকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলে।
বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে রয়েছে:
- বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
- বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন
- মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়
- জাতীয় সংসদ
- এটর্নি জেনারেলের কার্যালয় প্রভৃতি।
অন্যদিকে বাংলা একাডেমি, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন হলো সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
(সূত্রঃ রাষ্ট্রবিজ্ঞান : স্নাতক শ্রেণী এবং বাংলাদেশ সংবিধান)
১,০১৪.
সংবিধানের কততম ভাগ মৌলিক অধিকার সংবলিত?
  1. পঞ্চম ভাগ
  2. দ্বিতীয় ভাগ
  3. তৃতীয় ভাগ
  4. সপ্তম ভাগ
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ভাগ মোট ১১টি।
• প্রতিটি ভাগে বিভিন্ন বিধান সংবলিত।
- প্রথম ভাগ: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
- তৃতীয় ভাগ: মৌলিক অধিকার;
- চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ;
- পঞ্চম ভাগ: আইনসভা।
- ষষ্ঠ ভাগ: বিচারবিভাগ।
- সপ্তম ভাগ: নির্বাচন;
- অষ্টম ভাগ:মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক;
- নবম ভাগ: বাংলাদেশের কর্মবিভাগ এবংজরুরী বিধানাবলী।
- দশম ভাগ: সংবিধান-সংশোধন।
- একাদশ ভাগ: বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,০১৫.
সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কবে অবৈধ ঘোষণা করে?
  1. ক) ফেব্রুয়ারি, ২০১১
  2. খ) ফেব্রুয়ারি, ২০১৪
  3. গ) ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
  4. ঘ) ফেব্রুয়ারি, ২০১০
ব্যাখ্যা
• ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি ছিলো:
- জাতীয়তাবাদ
- সমাজতন্ত্র
- গণতন্ত্র ও
- ধর্মনিরপেক্ষতা।
• ১৯৭৯ সালের ৫ এপ্রিল সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার এই চারটি মূলনীতিতে প্রথমবার পরিবর্তন আনা হয়।
• কিন্তু সুপ্রিমকোর্ট ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম সংশোধনীকে বাতিল ঘোষণা করে।
• ফলে ২০১১ সালের ৩ জুলাই জাতীয় সংসদে গৃহিত সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে ‍বাহাত্তরের মূল সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি পুনঃস্থাপন করা হয়। (পুনরায় পরিবর্তন করা হয়)
 • এছাড়া, ২০১১ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করলে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০১৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চম অধ্যায়ের বিষয়বস্তু-
  1. বিচার বিভাগ
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. আইনসভা
  4. নির্বাচন কমিশন
ব্যাখ্যা

• পঞ্চম অধ্যায়- আইনসভা।
- এই অধ্যায়ের পরিচ্ছেদ: তিনটি, 
- ১ম পরিচ্ছেদ: সংসদ,
- ২য় পরিচ্ছেদ: আইন প্রনয়ন ও অর্থসংক্রান্ত পদ্ধতি।
- ৩য় পরিচ্ছেদ: অধ্যাদেশপ্রণয়ন-ক্ষমতা।

• বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
- প্রথম অধ্যায় প্রজাতন্ত্র।
- দ্বিতীয় অধ্যায় রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
- তৃতীয় অধ্যায়- মৌলিক অধিকার।
- চতুর্থ অধ্যায় নির্বাহী বিভাগ।
- পঞ্চম অধ্যায়- আইনসভা।
- ষষ্ঠ অধ্যায়- বিচার বিভাগ।
- সপ্তম অধ্যায় নির্বাচন।
- অষ্টম অধ্যায় মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
- নবম অধ্যায় বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
- দশম অধ্যায় সংবিধানের সংশোধন।
- একাদশ অধ্যায়- বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,০১৭.
সংবিধান সংস্কার কমিশন কয়টি মূলনীতির সুপারিশ করেছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
সংবিধান সংস্কার কমিশন:
- ৯ সদস্য বিশিষ্ট সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

⇒ সংবিধান সংস্কার কমিশন পাঁচটি মূলনীতির সুপারিশ করেছে।
- এই মূলনীতিগুলো হলো: সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র।

⇒ সংবিধানের মূলনীতি:
- ৫.১ কমিশন সুপারিশ করছে যে, সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
- ৫.২ বাংলাদেশের সমাজের বহুত্ববাদী চরিত্রকে ধারণ করে এমন একটি বিধান সংবিধানে যুক্ত করা সমীচীন। সুতরাং, কমিশন নিম্নোক্ত বিধান অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করছে "বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী, বহু-জাতি, বহু-ধর্মী, বহু-ভাষী ও বহু-সংস্কৃতির দেশ যেখানে সকল সম্প্রদাযের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।

⇒ সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ:
- সংবিধান সংস্কার কমিশন একটি কার্যকর গণতন্ত্র, মৌলিক মানবধিকার সুনিশ্চিতকরণ এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাতটি প্রধান বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছে। সেগুলো যথাক্রমে:
১. ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান আদর্শ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনস্বরূপ সংবিধান ও রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে "সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র" প্রস্তাব,
২. ক্ষমতার প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা,
৩. প্রধানমন্ত্রী পদের একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস,
৪. অন্তবর্তী সরকার কাঠামোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব,
৫. বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ,
৬. শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সুনিশ্চিতকরণ,
৭. মৌলিক অধিকারের আওতা সম্প্রসারণ, সাংবিধানিক সুরক্ষা ও বলবৎযোগ্যতা নিশ্চিতকরণ।

উৎস: i) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ।
ii) সংবিধান সংস্কার কমিশন।
১,০১৮.
সংবিধানের সপ্তম অধ্যায়ের বিষয়বস্তু কী?
  1. নির্বাচন
  2. বিচার বিভাগ
  3. নির্বাহী বিভাগ
  4. বাংলাদেশের কর্মবিভাগ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র;
দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি;
তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার;
চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ;
পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা;
ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ;
সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন;
অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক;
নবম - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ;
দশম - সংবিধানের সংশোধন;
একাদশ - বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০১৯.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'কৃষক ও শ্রমিকের' মুক্তির কথা বলা আছে?
  1. ১৪ নং অনুচ্ছেদ
  2. ১৬ নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৪ নং অনুচ্ছেদ
  4. ১৫ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগ:
• রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি:
- কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি
- ১৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে মেহনতী মানুষকে-কৃষক ও শ্রমিককে এবং জনগণের অনগ্রসর অংশসমূহকে সকল প্রকার শোষণ হইতে মুক্তি দান করা।

অন্যদিকে,
- ১৬ নং অনুচ্ছেদ: গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।
- ১৫ নং অনুচ্ছেদ: মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা।
- ২৪ নং অনুচ্ছেদ: জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০২০.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়ার বিধান বর্ণিত আছে?
  1. ৬৫ অনুচ্ছেদে
  2. ৬৬ অনুচ্ছেদে
  3. ৬৭ অনুচ্ছেদে
  4. ৬৮ অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া:
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হতে পারে নিম্নলিখিত কারণে:

- নির্বাচনের পর ৯০ দিনের মধ্যে শপথগ্রহণ করতে না পারলে। তবে স্পীকার বিশেষ কারণে সময় বাড়াতে পারেন।
- সংসদের অনুমতি ছাড়া টানা ৯০টি বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলে। 
- সংসদ ভেঙে গেলে।
- সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অযোগ্য হলে।
- সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পরিস্থিতি তৈরি হলে।
⇒ কোনো সংসদ সদস্য স্পীকারকে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। স্পীকার পত্র গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে তার আসন শূন্য হয়ে যাবে।
⇒ যদি স্পীকার পদ শূন্য থাকে বা দায়িত্ব পালন করতে অক্ষম হন, সেক্ষেত্রে ডেপুটি স্পীকার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করবেন, এবং তা গ্রহণের পর ওই সদস্যের আসন শূন্য বলে গণ্য হবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০২১.
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে গণরিষদ গঠনের আদেশ কে জারি করেন?
  1. আবু সাঈদ চৌধুরী
  2. শাহ আবদুল হামিদ
  3. মোহাম্মদ উল্লাহ
  4. ড. কামাল হোসেন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম গণপরিষদ:
- গণপরিষদ গঠন সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক বিধি-বিধানের সমষ্টি।
- পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে সংবিধান প্রণয়নের জন্য গণপরিষদ গঠন করা হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নেও এমন একটি গণপরিষদ গঠন করা হয়।

⇒ ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ তৎকালীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী গণরিষদ গঠনের আদেশ জারি করেন।
- এ আদেশ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকরী বলে ধরে নেয়া হয়।
- এ আদেশ বলে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গণপরিষদ গঠন করা হয়।
- আইনের দৃষ্টিতে অযোগ্য বলে বিবেচিত এমন ব্যক্তিকে গণপরিষদের সদস্য হতে পারতেন না।
- রাজনৈতিক দল থেকে বহিঃস্কৃত ব্যক্তি গণপরিষদ থেকে বহিঃস্কৃত হতেন।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী সংবিধান রচনার পবিত্র দায়িত্ব এ পরিষদের উপর ন্যস্ত ছিল।

উল্লেখ্য,
- সংবিধান রচনা ও গণপরিষদে গৃহীত হওয়ার সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- গণপরিষদের প্রথম স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার যথাক্রমে শাহ আবদুল হামিদ ও মোহাম্মদ উল্লাহ।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২২.
সংবিধান অনুযায়ী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয় কোনটি? 
  1. সরকারি কর্ম কমিশন
  2. নির্বাচন কমিশন
  3. দুর্নীতি দমন কমিশন
  4. মহাহিসাব নিরীক্ষক
ব্যাখ্যা

- দুর্নীতি দমন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়।

• সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান
- যেসব প্রতিষ্ঠান সংবিধানের সুস্পষ্ট বিধি মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয় তাকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলে।
- বাংলাদেশে এ ধরণের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যা সাংবিধানিক উপায়ে প্রতিষ্ঠিত।
- এরূপ প্রতিষ্ঠান হল-
- এটর্নি জেনারেল
- নির্বাচন কমিশন
- মহাহিসাব নিরীক্ষক
- সরকারি কর্ম কমিশন

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান। 

১,০২৩.
বাংলাদেশ সংবিধানের তফসিলের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
  2. মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা
  3. ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী
  4. শপথ ও ঘোষণা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সংবিধানের তফসিলের অন্তর্ভুক্ত নয় - মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা। 

• সংবিধানের তফসিল:

- বাংলাদেশ সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল সংযোজন করা হয়েছে।

৭টি তফসিল:
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত)।
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী।
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান - আরিফ খান।
১,০২৪.
সংবিধানের কততম  সংশোধনীতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তির বৈধতা নিশ্চিত করা হয়? 
  1. প্রথম সংশোধনী
  2. দ্বিতীয় সংশোধনী
  3. তৃতীয় সংশোধনী
  4. চতুর্থ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান: 
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়। 
- সংবিধান কার্যকর হয়: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে। 
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে। 
- এতে ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ এবং ১১ টি ভাগ রয়েছে। 
- ৭টি তফসিল রয়েছে।

♣♣ বাংলাদেশের সংবিধানের সংশোধনীসমূহ:  
- বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের পর থেকে বিভিন্ন শাসকগোষ্ঠী কখনও নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আবার কখনও জনগণের প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন বা সংশোধন করেছে। বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৭টি সংশোধনী রয়েছে। 

♠ প্রথম সংশোধনী: জুলাই, ১৯৭৩;
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা করা।

♠ দ্বিতীয় সংশোধনী: সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩;
- জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান করা হয় এবং বিনা বিচারে আটকের ক্ষমতা আনয়ন করা।

তৃতীয় সংশোধনী: ১৯৭৪; 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে সম্পাদিত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তির বৈধতা নিশ্চিত করা।

♠ চতুর্থ সংশোধনী: জানুয়ারি, ১৯৭৫;  
- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা আনয়ন করা।
- উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি এবং বাকশাল করা।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা, দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২৫.
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার কোথায় গঠিত হয়েছিল?
  1. ক) ঢাকায়
  2. খ) মেহেরপুরে
  3. গ) চট্টগ্রামের কালুরঘাটে
  4. ঘ) আগরতলায়
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
১,০২৬.
’জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা’ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে রয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ- ১১
  2. অনুচ্ছেদ- ১৮
  3. অনুচ্ছেদ- ১৭
  4. অনুচ্ছেদ- ১৯
ব্যাখ্যা

সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগ:
- অনুচ্ছেদ - ১৮: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।
- (১) জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন এবং বিশেষতঃ আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতীত মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

- (২) গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,০২৭.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১২২
  2. অনুচ্ছেদ ১২৩
  3. অনুচ্ছেদ ১২৪
  4. অনুচ্ছেদ ১২৫
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১১৬ - অধস্তন আদালতসমূহের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা।
- অনুচ্ছেদ ১১৬(ক) - বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন।
- অনুচ্ছেদ ১১৭ - প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালসমূহ।
- অনুচ্ছেদ ১১৮ - নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ১১৯ - নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১২০ - নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ।
- অনুচ্ছেদ ১২১ - প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।
- অনুচ্ছেদ ১২২ - ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা।
- অনুচ্ছেদ ১২৩ - নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়।
- অনুচ্ছেদ ১২৪ - নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১২৫ - নির্বাচনী আইন ও নির্বাচনের বৈধতা।
- অনুচ্ছেদ ১২৬ - নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সহায়তাদান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,০২৮.
'তত্ত্বাবধায়ক সরকার' ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় কততম সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. ক) পঞ্চদশ
  2. খ) সপ্তদশ
  3. গ) চতুর্দশ
  4. ঘ) ত্রয়োদশ
ব্যাখ্যা
- ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার' ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।

 • ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে ২৭ মার্চ, ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হয়েছিল।
- এর অধীনে ৩০ মার্চ বিচারপতি হাবিবুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান।
- ৩ এপ্রিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- এর আগে ১৯৯০ সালে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলেও এর সাংবিধানিক ভিত্তি ছিলো না।
- ফখরুদ্দিন আহমেদ সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন।
- তবে ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ৩০ জুন, ২০১১ সালে 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা' বাতিল করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,০২৯.
সংবিধানের ১২২ অনুচ্ছেদে কোন বিষয় সম্পর্কে বিধান রয়েছে?
  1. নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়
  2. নির্বাচনী আইন ও নির্বাচনের বৈধতা
  3. ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা
  4. নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সহায়তাদান
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ - ১২২: ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা:
১. প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকারের-ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
২. কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার-তালিকাভুক্ত হবার অধিকারী হবেন, যদি -
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন;
(খ) তাঁর বয়স ১৮ বৎসরের কম না হয়;
(গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁর সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ হিসেবে ঘোষণা বহাল না থাকে;
(ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হইয়া থাকেন।

অন্যদিকে,
অনুচ্ছেদ - ১২৩: নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়।
অনুচ্ছেদ - ১২৫: নির্বাচনী আইন ও নির্বাচনের বৈধতা।
অনুচ্ছেদ - ১২৬: নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সহায়তাদান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৩০.
বাংলাদেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা হলেন -
  1. ক) আইন সচিব
  2. খ) এটর্নি জেনারেল
  3. গ) প্রধান বিচারপতি
  4. ঘ) আইনমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
এটর্নি জেনারেল:

- বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা হলেন এটর্নি জেনারেল।
- এটর্নি জেনারেল হলো বাংলাদেশ সরকারের প্রধান ও মুখ্য আইন পরামর্শক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সরকারের প্রাথমিক আইনজীবী।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৪(১) অনুচ্ছেদবলে রাষ্ট্রপতি তাকে নিয়োগদান করেন।
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রধান হলেন প্রধান বিচারপতি।
- জাতীয় সংসদের সভাপতি হলেন মাননীয় স্পিকার।
- বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয়ে নির্বাহী প্রধান হলেন আইনমনন্ত্রী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৩১.
'সম্পত্তির অধিকার' বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখিত আছে?
  1. ক) অনুচ্ছেদ ৪১
  2. খ) অনুচ্ছেদ ৪২
  3. গ) অনুচ্ছেদ ৪৩
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ ৪৪
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের  ৪২নং অনুচ্ছেদে সম্পত্তির অধিকারের কথা বলা হয়েছে।
সম্পত্তির অধিকার:
অনুচ্ছেদ ৪২(১) - আইনের দ্বারা আরোপিত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর বা অন্যভাবে বিলি-ব্যবস্থা করার অধিকার থাকবে এবং আইনের কর্তৃত্ব ব্যতীত কোন সম্পত্তি বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ, রাষ্ট্রায়ত্ত বা দখল করা যাবে না। 
 অনুচ্ছেদ ৪২ (২) - এই অনুচ্ছেদের (১) দফার অধীন প্রণীত আইনে ক্ষতিপূরণসহ বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ, রাষ্ট্রায়ত্তকরণ বা দখলের বিধান করা হবে এবং ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ কিংবা ক্ষতিপূরণ নির্ণয় ও প্রদানের নীতি ও পদ্ধতি নির্দিষ্ট করা হবে; তবে অনুরূপ কোন আইনে ক্ষতিপূরণের বিধান অপর্যাপ্ত হয়েছে বলে সেই আইন সম্পর্কে কোন আদালতে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
অন্যদিকে,
অনুচ্ছেদ ৪১ - ধর্মীয় স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৪৩ - গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ।
 অনুচ্ছেদ ৪৪ - মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ।

উৎস:- বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৩২.
সংবিধানের কততম সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরগ্রহণের বয়স ৬৫ থেকে ৬৭-তে বর্ধিত করা হয়?
  1. পঞ্চদশ সংশোধনী
  2. চতুর্দশ সংশোধনী
  3. অষ্টম সংশোধনী
  4. একাদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী:
- চতুর্দশ সংশোধনী আইন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী আইন ২০০৪ সালের ১৬ মে সংসদে পাস হয়।

• এ সংশেোধনীর মাধ্যমে বিভিন্ন বিধান সংবিধানে যুক্ত হয়। 
যেমন-
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৩০ থেকে ৪৫ এ উন্নীত করা হয়, যা পরবর্তী দশ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরগ্রহণের বয়স ৬৫ থেকে ৬৭-তে বর্ধিত করা হয়।
- এর পাশাপাশি এই সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি তাদের স্ব স্ব কার্যলয়সহ সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে টানানোর ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়।

উৎস: সংবিধান।

১,০৩৩.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ক) ৬৫ নং
  2. খ) ১২২ নং
  3. গ) ৭১ নং
  4. ঘ) ৬৬ নং
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ৬৬ নং অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
এই বিধান অনুসারে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা সমূহ হলো:
- বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া
- বয়স ২৫ বৎসর পূর্ণ হওয়া
আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত না হওয়া
- দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পর দায় থেকে অব্যাহতি না পাওয়া
- বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন বা আনুগত্য ঘোষণা
- ১৯৭২ সালের যোগসাজশকারী আদেশের অধীন কোন অপরাধে দণ্ডিত না হওয়া
- আইনে উল্লিখিত নির্দিষ্ট পদাধিকারী না হওয়া
- নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে অন্যূন দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবার পর পাঁচ বৎসর অতিবাহিত না হওয়া।
অন্যদিকে,
• ৬৫ নং অনুচ্ছেদ : সংসদ প্রতিষ্ঠা
• ৭১ নং অনুচ্ছেদ : দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা
• ১২২ নং অনুচ্ছেদ : ভোটার তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৩৪.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ‘রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়ার বিধানটি বর্ণিত আছে?
  1. ৬৬ নং
  2. ৬৭ নং
  3. ৭০ নং
  4. ৭১ নং
ব্যাখ্যা

 বাংলাদেশ সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ:
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে সেই দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান বা সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।
- জাতীয় সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করা বা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলাকে বলা হয় ফ্লোর ক্রসিং৷

⇒ ৭০ নং অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া -
- সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি -
(ক) উক্ত দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,
- তাহলে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হবার অযোগ্য হবেন না।

অন্যদিকে,
- ৬৬ নং অনুচ্ছেদ: সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা,
- ৬৭ নং অনুচ্ছেদ: সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া,
- ৭১ নং অনুচ্ছেদ: দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,০৩৫.
সংবিধানের কত নং সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়?
  1. ত্রয়োদশ সংশোধনী
  2. চতুর্দশ সংশোধনী
  3. পঞ্চদশ সংশোধনী
  4. ষোড়শ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০শে জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন হয় ২০১১ সালের ৩ জুলাই।
- সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- এই সংশোধনীর দ্বারা 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল' করা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।
- সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান ও  প্রথম আলো।
১,০৩৬.
প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা কার কর্তৃত্বে প্রযুক্ত হয়?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. মন্ত্রী
  4. সচিব
ব্যাখ্যা
চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ।
২য় পরিচ্ছেদ: প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা। 

অনুচ্ছেদ-৫৫: মন্ত্রিসভা: 
(১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী লইয়া এই মন্ত্রিসভা গঠিত হইবে। 
(২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তত্বে এই সংবিধান-অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে। 
(৩) মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন। 
(৪) সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে। 
(৫) রাষ্ট্রপতির নামে প্রণীত আদেশসমূহ ও অন্যান্য চুক্তিপত্র কিরূপে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত হইবে, রাষ্ট্রপতি তাহা বিধিসমূহ-দ্বারা নির্ধারণ করিবেন এবং অনুরূপভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত কোন আদেশ বা চুক্তিপত্র যথাযথভাবে প্রণীত বা সম্পাদিত হয় নাই বলিয়া তাহার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না। 
(৬) রাষ্ট্রপতি সরকারী কার্যাবলী বন্টন ও পরিচালনার জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করিবেন।

তথ্যসূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
১,০৩৭.
কোন সংশোধনীর মূল কারণ ছিল গণহত্যাজনিত অপরাধের জন্য আইন তৈরি এবং তা কার্যকর করা?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান সর্বমোট ১৭বার সংশোধন হয়েছে।

⇒ প্রথম সংশোধনী:
- সংবিধানের প্রথম সংশোধনী গৃহীত হয় ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই ।
- এ সংশোধনীর মাধ্যমে ৪৭ অনুচ্ছেদে দুটি নতুন উপধারা সংযোজন করা হয়।
- এ সংশোধনীর মূল কারণ ছিল গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য আইন তৈরি এবং তা কার্যকর করা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৩৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ ‘ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা’ সংক্রান্ত? 
  1. অনুচ্ছেদ - ১২৩
  2. অনুচ্ছেদ - ১১৮
  3. অনুচ্ছেদ - ১২২
  4. অনুচ্ছেদ - ১২১
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ১২২ অনুচ্ছেদ ‘ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা’ সংক্রান্ত। 

ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা: 

- সংবিধানের ১২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার যোগ্য হবেন, যদি তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন এবং তাঁর বয়স ১৮ বৎসরের কম না হয়। এছাড়াও, যোগ্য আদালত কর্তৃক তিনি অপ্রকৃতিস্থ হিসেবে ঘোষিত না হয়ে থাকেন এবং ঘোষণাটি বহাল না থাকে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী হিসেবে তার বসবাস থাকতে হবে বা আইনের দৃষ্টিতে তিনি ঐ এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হতে হবে। উপরন্তু, তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডিত হয়ে না থাকলে, তিনি ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হবার অধিকারী হবেন।

অন্যদিকে: 
- অনুচ্ছেদ - ১২১ : প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।
- অনুচ্ছেদ - ১১৮ : নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা। 
- অনুচ্ছেদ - ১২৩ : নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়।

সূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৩৯.
সংবিধানে নির্বাহী বিভাগের কোন পরিচ্ছেদে প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগের উল্লেখ রয়েছে?
  1. দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
  2. চতুর্থ পরিচ্ছেদ
  3. তৃতীয় পরিচ্ছেদ
  4. প্রথম পরিচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

- ৪র্থ পরিচ্ছেদ:  প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ।

• চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ। 
- ১ম পরিচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতি।
- ২য় পরিচ্ছেদ: প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা।
- ৪র্থ পরিচ্ছেদ:  প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ।
- ৩য় পরিচ্ছেদ: স্থানীয় শাসন।
- ৫ম পরিচ্ছেদ: অ্যাটর্নি-জেনারেল।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,০৪০.
সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য অন্তত ২৫ বছর বয়সী হতে হবে- সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের বিধান?
  1. ক) ৬৬(৩)
  2. খ) ৬৬(২)
  3. গ) ৬৬(১)
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
৬৬। (১) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হইলে এবং তাঁহার বয়স পঁচিশ বৎসর পূর্ণ হইলে এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত বিধান-সাপেক্ষে তিনি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন।
------------------------------------------------- 
৬৬- 
(২) কোন ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি 
 
(ক) কোন উপযুক্ত আদালত তাঁহাকে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা করেন; 
 
(খ) তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন; 
 
(গ) তিনি কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন; 
 
(ঘ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অনূ্যন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে; 
 
সূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৪১.
সংবিধানের কোন ভাগে মৌলিক অধিকারগুলো লিপিবদ্ধ আছে?
  1. দ্বিতীয় ভাগ
  2. পঞ্চম ভাগ
  3. তৃতীয় ভাগ
  4. চতুর্থ ভাগ
ব্যাখ্যা
সংবিধানে মৌলিক অধিকার:
- বাংলাদেশ সংবিধানের — তৃতীয় ভাগে ২৬ নং অনুচ্ছেদ থেকে ৪৭ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে।
---------------------------- 
• মৌলিক অধিকার:
- মৌলিক অধিকার বলতে বুঝায় নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যক্তির জন্য সে সমস্ত অপরিহার্য শর্তাবলি, যা সার্বভৌম রাষ্ট্রের সংবিধান হতে প্রাপ্ত এবং অলঙ্ঘনীয়।
- নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো রাষ্ট্রের সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকলে তা সাংবিধানিক আইনের মর্যাদা লাভ করে।

• মৌলিক অধিকার রক্ষা:
মৌলিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কোন ব্যক্তির যদি মৌলিক অধিকার খর্ব হয় এবং তিনি যদি আইনের আশ্রয় নেন তাহলে বিচার বিভাগ তাঁর মৌলিক অধিকার রক্ষা করার জন্য পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। এভাবে বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪২.
’প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা’ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ- ১১৮
  2. অনুচ্ছেদ- ১২১
  3. অনুচ্ছেদ- ১২০
  4. অনুচ্ছেদ- ১২২
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের ১২১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে  প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।

- সপ্তম ভাগের গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ সমূহ:
- অনুচ্ছেদ-১১৮: নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ-১১৯:নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদ-১২১: প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।
- অনুচ্ছেদ-১২২: ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,০৪৩.
বাংলাদেশ সংবিধানে ’মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক’ কোন ভাগে দেওয়া আছে?
  1. পঞ্চম ভাগে
  2. সপ্তম ভাগে
  3. নবম ভাগে
  4. অষ্টম ভাগে
ব্যাখ্যা
→ অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক।
- ১২৭ (১) বাংলাদেশের একজন মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (অতঃপর "মহা হিসাব-নিরীক্ষক" নামে অভিহিত) থাকবেন এবং তাঁকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগদান করবেন।

• বাংলাদেশ সংবিধান:

- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। যথা:-
- সংবিধানের প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
১,০৪৪.
নিম্নের কোনটি বাংলাদেশের সাংবিধানিক পদ নয়?
  1. চেয়ারম্যান, মানবাধিকার কমিশন
  2. কম্পট্রোলার ও অডিটর জেনারেল
  3. চেয়ারম্যান, পাবলিক সার্ভিস কমিশন
  4. প্রধান নির্বাচন কমিশনার
ব্যাখ্যা
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বাংলাদেশের সাংবিধানিক পদ নয়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশের একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। 

সাংবিধানিক পদ:
- সংবিধান হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন।
- সাংবিধানিক উপায়ে যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলে।
- সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা, পদের মেয়াদ, পদমর্যাদা, পদত্যাগ ও অপসারণ পদ্ধতি এবং দায়িত্ব সংবিধানে সুনির্দিষ্ট ও সুষ্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় বেশ কয়েকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
- সাংবিধানিক পদগুলো হলো:
• রাষ্ট্রপতি,
• প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীগণ,
• স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার,
• প্রধান বিচারপতি,
• সংসদ সদস্য,
• প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার,
• মহা-হিসাব রক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
• সরকারী কর্ম-কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য,
• অ্যাটর্নি জেনারেল (একমাত্র সাংবিধানিক পদের ব্যক্তি যাকে শপথ পড়তে হয় না। রাষ্ট্রপতির অঙ্গীকার তার শপথ),
• ন্যায়পাল।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,০৪৫.
বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার কোন ভাগে 'শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. ২য় ভাগে
  2. ৩য় ভাগে
  3. ৪য় ভাগে
  4. ৫য় ভাগে
ব্যাখ্যা
প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)।
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)।
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)।
• ৫ম- গনপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৪৬.
সংবিধান অনুযায়ী জেলা বিচারক বলতে-
  1. অতিরিক্ত দায়রা জজ অন্তর্ভুক্ত হবেন
  2. অতিরিক্ত জেলা বিচারক অন্তর্ভুক্ত হবেন
  3. অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অন্তর্ভুক্ত হবেন
  4. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অন্তর্ভুক্ত হবেন
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের একাদশ ভাগের ১৫২ নং অনুচ্ছেদে বিভিন্ন বিষয় যেমন- অধিবেশন, অনুচ্ছেদ, অর্থ-বৎসর, আইন, আদালত ইতাদির অর্থ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫২(১) অনুচ্ছেদে বলা আছে যে-
'জেলা - বিচারক বলিতে অতিরিক্ত জেলা - বিচারক অন্তর্ভুক্ত হইবেন';
১,০৪৭.
সংবিধানের কোন ভাগে নির্বাচন সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমূহ বর্ণিত হয়েছে?
  1. ক) ষষ্ঠ ভাগ
  2. খ) সপ্তম ভাগ
  3. গ) অষ্টম ভাগ
  4. ঘ) নবম ভাগ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১১টি ভাগ রয়েছে।
এর মধ্যে,
- সপ্তম ভাগে ১১৮ থেকে ১২৬ নং অনুচ্ছেদে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে
- ষষ্ঠ ভাগ : বিচার বিভাগ
- অষ্টম ভাগ : মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
- নবম ভাগ : বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
১,০৪৮.
মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন প্রতিকারে হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারবেন কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী?
  1. ক) ৪২
  2. খ) ৪৩
  3. গ) ৪৪
  4. ঘ) ৪৫
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন সংক্ষুব্ধ ব্যাক্তি মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারবেন।
মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য যে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে নির্দেশ দিতে পারবে। সূত্রঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন বই।
১,০৪৯.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ বলে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কারণ জ্ঞাপন না করে আটক রাখা যায় না?
  1. ক) অনুচ্ছেদ - ৩৫(১)
  2. খ) অনুচ্ছেদ - ৪৭ (১)
  3. গ) অনুচ্ছেদ -৩৩(১)
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ - ৪৭ (ক)
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৩৩ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু: গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ। 
 
৩৩। (১) গ্রেপ্তারকৃত কোন ব্যক্তিকে যথাসম্ভব শীঘ্র গ্রেপ্তারের কারণ জ্ঞাপন না করিয়া প্রহরায় আটক রাখা যাইবে না এবং উক্ত ব্যক্তিকে তাঁহার মনোনীত আইনজীবীর সহিত পরামর্শের ও তাঁহার দ্বারা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার হইতে বঞ্চিত করা যাইবে না।
 
 (২) গ্রেপ্তারকৃত ও প্রহরায় আটক প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে গ্রেপ্তারের চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের স্থান হইতে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আনয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ব্যতিরেকে) হাজির করা হইবে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত তাঁহাকে তদতিরিক্তকাল প্রহরায় আটক রাখা যাইবে না।
 
উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান। 
১,০৫০.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্যে বিশেষ বিধান গ্রহণের বিষয়ে বলা হয়েছে?
  1. ১৯(১) নং
  2. ২৮(২) নং
  3. ২৮(৪) নং
  4. ২৯(১) নং
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ২৮(৪) নং অনুচ্ছেদে পিছিয়ে পড়া বা অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্যে বিশেষ বিধান গ্রহণের বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে,
“নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্যে বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।”

অন্যদিকে,
- ১৯(১) নং অনুচ্ছেদ : সকল নাগরিকের জন্যে সুযোগের সমতা নিশ্চিত করা
- ২৮(২) নং অনুচ্ছেদ : রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ
- ২৯(১) নং অনুচ্ছেদ : প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভে সকলের সমতা।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
১,০৫১.
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. ক) পারমাণবিক শক্তি কমিশন
  2. খ) বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ড
  3. গ) নির্বাচন কমিশন
  4. ঘ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
ব্যাখ্যা
- সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ বাংলাদেশ সরকারের আইনি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারের আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় বেশ কয়েকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ:-  
- জাতীয় সংসদ।
- সুপ্রিম কোর্ট। 
- নির্বাচন কমিশন।
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।
- এটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।
- কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল অব বাংলাদেশ।

উৎস:- জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,০৫২.
বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানের উল্লেখিত মূলনীতিগুলি কী কী?
  1. সমাজতন্ত্র, সাম্য, মুক্তি, ন্যায়বিচার
  2. জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্ম
  3. সাম্য, স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার
  4. জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় - ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।

• সংবিধানের চারটি মূলনীতি হলো:
- জাতীয়তাবাদ,
- সমাজতন্ত্র,
- গণতন্ত্র ও
- ধর্মনিরপেক্ষতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৫৩.
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধানের খসড়া গৃহীত হয়-
  1. ক) সুপ্রীম কোর্টে
  2. খ) জাতীয় সংসদে
  3. গ) জাতীয় পরিষদে
  4. ঘ) গণপরিষদে
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্র পরিচালনার
জন্য একটি সংবিধান প্রয়োজন হয়।
- সংবিধান তৈরির জন্য ১৯৭২ সালে ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়।
- এ খসড়া কমিটির প্রথম অধিবেশন বসে ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল।
- এ কমিটি অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান তৈরি করে এবং তা গণপরিষদে উত্থাপিত হয়।
- ১৯ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত গণপরিষদে সংবিধানের খসড়া পাঠ করা হয়।
- গণপরিষদে সদস্যগণ পক্ষে-বিপক্ষে মত দেন অবশেষে পরিমার্জিত হয়ে উক্ত সংবিধান ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ থেকে তা কার্যকর হয়।
- স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ দ্রুততম সময়ে একটি আর্দশ সংবিধান প্রণয়ন করে।

উৎস:- পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫৪.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি কার দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. স্পিকার
  4. আইনমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
সুপ্রীম কোর্টের বিচারক নিয়োগ:
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
(১) প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করবেন।

(২) কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হলে, এবং (ক) সুপ্রীম কোর্টে অন্যূন দশ বৎসরকাল এ্যাডভোকেট না থাকলে; অথবা
(খ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্যূন দশ বৎসর কোনো বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করে থাঢ়লে; অথবা
(গ) সুপ্রীমকোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলে;তিনি বিচারকপদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না।

(৩) এই অনুচ্ছেদে ‘‘সুপ্রীম কোর্ট’’ বলতে এই সংবিধান প্রবর্তনের পূর্বে যে কোনো সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে আদালত হাইকোর্ট হিসাবে এখতিয়ার প্রয়োগ করেছে, সেই আদালত অন্তর্ভুক্ত হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৫৫.
সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয় কত তারিখ?
  1. ১১ এপ্রিল, ১৯৭২
  2. ১২ অক্টোবর, ১৯৭২
  3. ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
  4. ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' গঠন করা হয়েছিল - ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- ১৯৭২ সালরে ১২ অক্টোবর খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপিত হয়।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর ছাড়া ৯৩ পৃষ্ঠা।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর সহ - ১০৯ পৃষ্ঠা।
-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,০৫৬.
বিচারকদের চাকুরীর বয়স ৬৭ বছরের বিষয়টি সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. ক) ৯৬ (১)
  2. খ) ৯৬ (২)
  3. গ) ৯৬ (৩)
  4. ঘ) ৯৬ (৪)
ব্যাখ্যা
• বিচারকদের পদের মেয়াদ:
- ৯৬ (১) এই অনুচ্ছেদের অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে কোন বিচারক সাতষট্টি বৎসর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।
- ৯৬ (২) প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতার দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ ব্যতীত কোন বিচারককে অপসারিত করা যাইবে না।
- ৯৬ (৩) এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন প্রস্তাব সম্পর্কিত পদ্ধতি এবং কোন বিচারকের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবেন।
- ৯৬ (৪) কোন বিচারক রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করিয়া স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।]]

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৫৭.
সংবিধানের মৌলিক প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ক) ১৪ নং
  2. খ) ১৫ নং
  3. গ) ১৬ নং
  4. ঘ) ১৭ নং
ব্যাখ্যা
- ১৫ নং অনুচ্ছেদ : মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা
- ১৪ নং অনুচ্ছেদ : কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি
- ১৬ নং অনুচ্ছেদ : গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।
- ১৭ নং অনুচ্ছেদ : অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,০৫৮.
বাংলাদেশ সংবিধানের কততম তফসিল ’ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী’ সম্পর্কিত?
  1. ৫ম তফসিল
  2. ৪র্থ তফসিল
  3. ৭ম তফসিল
  4. ৬ষ্ঠ তফসিল
ব্যাখ্যা

সংবিধানে তফসিল: 
- সংবিধানের মোট ৭ টি তফসিল রয়েছে।
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- পঞ্চম তফসিলঃ ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,০৫৯.
সংবিধানের অনুচ্ছেদ - ৪ অনুযায়ী, 'আমার সোনার বাংলা'র প্রথম কত চরণ জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃত?
  1. শেষের দশ চরণ
  2. প্রথম আট চরণ
  3. প্রথম দশ চরণ
  4. প্রথম চার চরণ
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

অনুচ্ছেদ - ০৪: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক
 
১. প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত "আমার সোনার বাংলা"র প্রথম দশ চরণ।
২. প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত।
৩. প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পর-সংযুক্ত পত্র, তার উভয় পার্শ্বে দুইটি করে তারকা।
৪. উপরি-উক্ত দফাসমূহ-সাপেক্ষে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কিত বিধানাবলী আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে।

সূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৬০.
বাংলাদেশে অবস্থিত প্রকৃত মালিক বিহীন যে কোন সম্পত্তির মালিকানা গণপ্রজাতন্ত্রের উপর ন্যস্ত হয় - এই সংক্রান্ত বিধান সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. ক) ১৪৩(১)(গ)
  2. খ) ১৪৩(১)(খ)
  3. গ) ১৪৩(১)(ক)
  4. ঘ) ১৪৩(২)
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে অবস্থিত প্রকৃত মালিক বিহীন যে কোন সম্পত্তির গণপ্রজাতন্ত্রের উপর ন্যস্ত হওয়া সংক্রান্ত বিধান সংবিধানের ১৪৩(১)(গ) উল্লেখ আছে।
- ১৪৩(১)(ক) অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের যে কোন ভূমির অন্তঃস্থ সকল খনিজ ও অন্যান্য মূল্যসম্পন্ন সামগ্রী।
- ১৪৩(১)(খ) অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জলসীমার অন্তর্বর্তী মহাসাগরের অন্তঃস্থ কিংবা বাংলাদেশের মহীসোপানের উপরিস্থ মহাসাগরের অন্তঃস্থ সকল ভূমি, খনিজ ও অন্যান্য মূল্যসম্পন্ন সামগ্রী।
- ১৪৫ অনুচ্ছেদে আন্তর্জাতিক চুক্তির কথা বলা হয়েছে।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান

১,০৬১.
'রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ' সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে আছে?
  1. ক) ৪৯
  2. খ) ৫০
  3. গ) ৫১
  4. ঘ) ৫৩
ব্যাখ্যা
- 'রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ' সংবিধানের ৫০ নং অনুচ্ছেদে রয়েছে।

• সংবিধানের ৫০ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে:
- এই সংবিধানের বিধানাবলী সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসরের মেয়াদে তাঁহার পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন।
 - তবে শর্ত থাকে যে, রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাঁহার উত্তরাধিকারী-কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন। 

• সংবিধানের ৫০ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে:
 - একাদিক্রমে হউক বা না হউক-দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতির পদে কোন ব্যক্তি অধিষ্ঠিত থাকিবেন না। 

• সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে:
- স্পীকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে রাষ্ট্রপতি স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।

• সংবিধানের ৫০ (৪) অনুচ্ছেদ অনুসারে:
- রাষ্ট্রপতি তাঁহার কার্যভারকালে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না, এবং কোন সংসদ-সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হইলে রাষ্ট্রপতিরূপে তাঁহার কার্যভার গ্রহণের দিনে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৬২.
সংবিধানের কততম সংশোধনীর মাধ্যমে ’জরুরী অবস্থা’ জারির বিধান করা হয়?
  1. দ্বিতীয় সংশোধনী
  2. প্রথম সংশোধনী
  3. চতুর্থ সংশোধনী
  4. তৃতীয় সংশোধনী
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী:
- এই সংশোধনীর দ্বারা দেশে 'জরুরি অবস্থা' জারির বিধান করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এটি পাস হয়।
- এই সংশোধনীতে সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বিনা বিচারে যে কাউকে আটক রাখা যাবেনা বিধান করা হয়। 

উল্লেখ্য,
"নবম-ক ভাগ (জরুরী বিধানাবলী)
১৪১(ক) অনুচ্ছেদ অনুসারে,

• জরুরী-অবস্থা ঘোষণা:
 - রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এমন জরুরী-অবস্থা বিদ্যমান রহিয়াছে, যাহাতে যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের দ্বারা বাংলাদেশ বা উহার যে কোন অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন, তাহা হইলে তিনি জরুরী-অবস্থা ঘোষণা করিতে পারিবেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,০৬৩.
বর্তমান সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদটি বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ছিলো না?
  1. ক) ২ক নং
  2. খ) ৩ নং
  3. গ) ৫ নং
  4. ঘ) ১৪ নং
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ২ক নং অনুচ্ছেদটি বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ছিলো না।
১৯৮৮ সালে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রধর্মের বিধান সংবলিত ২ক নং অনুচ্ছেদটি সংবিধানে যুক্ত করা হয়।
২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী দ্বারা এটিতে পরিবর্তন কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়।
অন্যদিকে,
৩ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত রাষ্ট্রভাষা, ৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত রাজধানী এবং ১৪ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি সম্পর্কিত বিধান ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের অংশ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
১,০৬৪.
'নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব' সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১১৭
  2. অনুচ্ছেদ ১১৮
  3. অনুচ্ছেদ ১১৯
  4. অনুচ্ছেদ ১২০
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদসমূহ:

- অনুচ্ছেদ ১১৫ - অধস্তন আদালতে নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ১১৬ - অধস্তন আদালতসমূহের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা।
- অনুচ্ছেদ ১১৬(ক) - বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন।
- অনুচ্ছেদ ১১৭ - প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালসমূহ।
- অনুচ্ছেদ ১১৮ - নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ১১৯ - নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১২০ - নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ।
- অনুচ্ছেদ ১২১ - প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।
- অনুচ্ছেদ ১২২ - ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা।
- অনুচ্ছেদ ১২৩ - নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়।
- অনুচ্ছেদ ১২৪ - নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১২৫ - নির্বাচনী আইন ও নির্বাচনের বৈধতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৬৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের ২১নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ
  2. খ) অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
  3. গ) অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর
  4. ঘ) নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার পর খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি একটি খসড়া সংবিধান তৈরি করতে সক্ষম হয়।
- গণপরিষদ ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর এটি গ্রহণ করে এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধান পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান।
- সংবিধান তৈরির জন্য ১৯৭২ সালে ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়।
- এ খসড়া কমিটির প্রথম অধিবেশন বসে ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ কমিটি অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান তৈরি করে এবং তা গণপরিষদে উত্থাপিত হয়। 
- ১৯ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত গণপরিষদে সংবিধানের খসড়া পাঠ করা হয়।
- গণপরিষদে সদস্যগণ পক্ষে-বিপক্ষে মত দেন অবশেষে পরিমার্জিত হয়ে উক্ত সংবিধান ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ থেকে তা কার্যকর হয়- 
বাংলাদেশের সংবিধানের ২১নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য' উল্লেখ করা হয়।
অনুচ্ছেদ ১৭ - অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
অনুচ্ছেদ ২০ - অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর।
অনুচ্ছেদ ২২ - নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।

উৎস:- বাংলাদেশের সংবিধান। 
১,০৬৬.
মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, সংবিধানের কোন তফসিলে অন্তর্ভুক্ত? 
  1. দ্বিতীয় তফসিল
  2. পঞ্চম তফসিল
  3. সপ্তম তফসিল
  4. ষষ্ঠ তফসিল
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধানে মোট সাতটি তফসিল রয়েছে।
যথা:
• প্রথম তফসিল : অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
• দ্বিতীয় তফসিল : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বিলুপ্ত)।
• তৃতীয় তফসিল : শপথ ও ঘোষণা।
• চতুর্থ তফসিল : ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী।
• পঞ্চম তফসিল : শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ।
• ষষ্ঠ তফসিল : শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা।
• সপ্তম তফসিল : মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
• ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে প্রথম চারটি তফসিল ছিলো। ২০১১ সালে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে নতুন করে ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম তফসিল যুক্ত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১,০৬৭.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ বলে রাষ্ট্র নারী, শিশু বা অনগ্রসর নাগরিকদের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান তৈরীর ক্ষমতা পায়?
  1. ২৮(১) অনুচ্ছেদ
  2. ২৮(২) অনুচ্ছেদ
  3. ২৮(৩) অনুচ্ছেদ
  4. ২৮(৪) অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকার অংশে বিশেষ উদ্দেশ্যে মৌলিক অধিকার রহিত করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
- সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'নারী ও শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হতে এ অনুচ্ছেদের কোনোকিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করবে না।'

উল্লেখ্য,
- সংবিধানের ২৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, বাসস্থান বা পেশাগত কারণে রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করবে না।
- সংবিধানের ২৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষ সমান অধিকার লাভ করবে। 
- সংবিধানের ২৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী- পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাবে না’।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৬৮.
খসড়া সংবিধান প্রণয়ণ কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য কে ছিলেন?
  1. মযহারুল ইসলাম
  2. বেগম রাজিয়া বানু
  3. সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
  4. ড. আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য:
- ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- এই কমিটির মোট সদস্য ছিল ৩৪ জন।
- আওয়ামী লীগ ছাড়া একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য ছিলেন ন্যাপের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
- এই কমিটির প্রধান বা সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।

উল্লেখ্য,
- সংবিধান লেখার পর এর বাংলা ভাষারূপ পর্যালোচনার জন্য ড. আনিসুজ্জামানকে আহবায়ক, সৈয়দ আলী আহসান এবং মযহারুল ইসলামকে ভাষা বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি কমিটি গঠন করে পর্যালোচনার ভার দেয়া হয়।
- গণপরিষদ ভবন, যা বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন, সেখানে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির বৈঠকে সহযোগিতা করেন ব্রিটিশ আইনসভার খসড়া আইন-প্রণেতা আই গাথরি।
- সংবিধান ছাপাতে ১৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছিলো। শিল্পী হাশেম খান অলংকরণের দায়িত্বে ছিলেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,০৬৯.
"বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময়" বাংলাদেশের সংবিধানের কোন সংশোধনীর সাথে সম্পৃক্ত?
  1. দ্বিতীয় সংশোধনী
  2. তৃতীয় সংশোধনী
  3. চতুর্থ সংশোধনী
  4. পঞ্চম সংশোধনী
ব্যাখ্যা
তৃতীয় সংশোধনী: 
- বলবৎ হয় ১৯৭৪ সালের ২৮ নভেম্বর।
- এর দ্বারা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কতিপয় ছিটমহল বিনিময় ও সীমান্ত রেখা নির্ধারণের ব্যাপারে একটি চুক্তি কার্যকর করার লক্ষ্যে সংবিধানের ২ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হয়।

অন্যদিকে: 
- দ্বিতীয় সংশোধনী - গৃহীত হয় ১৯৭৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর। এই আইনের ফলে (১) সংবিধানের ২৬, ৬৩, ৭২ ও ১৪২ নং অনুচ্ছেদ সংশোধিত হয়; (২) ৩৩ অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপিত হয়, এবং (৩) সংবিধানে একটি নতুন ভাগ, যথা ভাগ ৯ক সংযুক্ত হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে জরুরি অবস্থাকালীন সময়ে নাগরিকদের কতিপয় মৌলিক অধিকার স্থগিত করা হয়। 

- চতুর্থ সংশোধনী - গৃহীত হয় ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি। সংসদীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়; বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্থলে আনা হয় একদলীয় ব্যবস্থা; জাতীয় সংসদের কতক ক্ষমতা খর্ব করা হয়; বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অনেকটা খর্ব হয়; সুপ্রিম কোর্ট নাগরিকদের মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষা ও প্রয়োগের এখতিয়ার থেকে বঞ্চিত হয়।

- পঞ্চম সংশোধনী - অনুমোদিত হয় ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল। এতে বলা হয় যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তারিখসহ ওই দিন থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল তারিখ পর্যন্ত (ঐ দিনসহ) সামরিক আইন কর্তৃপক্ষের যে কোনো ঘোষণা বা আদেশ বলে সম্পাদিত সংবিধানের সকল সংশোধনী, সংযুক্তি, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন ও বিলুপ্তি বৈধভাবে সম্পাদিত বলে বিবেচিত হবে এবং কোনো কারণেই কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালে এসবের ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৭০.
বাংলাদেশে কোনো ব্যক্তির ভোটাধিকার প্রাপ্তির ন্যূনতম বয়স কত?
  1. ১৬ বছর
  2. ১৮ বছর
  3. ২০ বছর
  4. ২১ বছর
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ সংবিধানের ১২২(২) খ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যক্তির ভোটাধিকার প্রাপ্তির নূন্যতম বয়স ১৮ বছর।
------------------------ 
সপ্তম ভাগ: নির্বাচন - 

অনুচ্ছেদ-১২২: ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা-

(১) প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকার-ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।  
(২) কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার-তালিকাভু্ক্ত হইবার অধিকারী হইবেন, যদি 
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন; 
(খ) তাঁহার বয়স আঠার বৎসরের কম না হয়; 
(গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁহার সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা বহাল না থাকিয়া থাকে; 
(ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং  
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হইয়া থাকেন। 

সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৭১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদবলে বাংলাদেশের নাগরিকগণ “বাংলাদেশী” বলে পরিচিত হন?
  1. ৬ (২) নং
  2. ৭ক নং
  3. ৪ নং
  4. ১০ নং
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১ম ভাগের প্রজাতন্ত্র ৬ নং অনুচ্ছেদ: নাগরিকত্ব
- ৬ (১) নং বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে।
- ৬ (২) নং বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী হিসেবে পরিচিত হবেন।

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ১০ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি।
- সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ৭ক নং অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৭২.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুসারে, গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকরণের লক্ষ্যে রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন?
  1. ১৪নং অনুচ্ছেদ
  2. ১৬নং অনুচ্ছেদ
  3. ১৫নং অনুচ্ছেদ
  4. ১৭নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৬নং অনুচ্ছেদ অনুসারে,
- নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবন যাত্রার মানের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করবার উদ্দেশ্যে কৃষিবিপ্লবের বিকাশ, গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকরণের ব্যবস্থা, কুটিরশিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ এবং শিক্ষা, যোগাযোগ-ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের আমূল রূপান্তরসাধনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।  

অন্যদিকে: 
- অনুচ্ছেদ - ১৪: কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি। 
- অনুচ্ছেদ - ১৫: মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা। 
- অনুচ্ছেদ - ১৭: অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা। 

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 
১,০৭৩.
সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র নারী সদস্য কে ছিলেন?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. বেগম রোকেয়া
  3. বেগম রাজিয়া বানু
  4. সেলিনা পারভীন
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশ গণপরিষদ হল ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক  সংবিধান  অধিবেশন।
- রাষ্ট্রপতি গণপরিষদের আহ্বান করেন-১০  এপ্রিল ১৯৭২।
- গণ পরিষদের খসড়া সংবিধান উত্থাপিত হয় ১২ অক্টোবর ১৯৭২
- গৃহীত হয় -৪ নভেম্বর ১৯৭২।
- কার্যকর হয় -১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২।
- গণপরিষদে খসড়া সংবিধান উত্থাপন করেন- ড. কামাল হোসেন।   
- গণপরিষদের স্পিকার ছিলেন- শাহ আব্দুল হামিদ।
- গণ পরিষদের  ডেপুটি স্পিকার  ছিলেন-মোহাম্মদ উল্লাহ।
- গণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন- মাওলানা আব্দুল রশিদ তর্কবাগী।
- সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য ছিলেন-৩৪ জন।
- একমাত্র নারী সদস্য- বেগম রাজিয়া বানু।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র বিরোধী দলের সদস্য ছিলেন- সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৭৪.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জোরপূর্বক শ্রম থেকে নাগরিককে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৩৭
  2. অনুচ্ছেদ ৩২
  3. অনুচ্ছেদ ৩৪
  4.  অনুচ্ছেদ ৩৫
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ৩৪: মৌলিক অধিকার জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ 

(১) সকল প্রকার জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধ; এবং এই বিধান কোনভাবে লঙ্ঘিত হইলে তাহা আইনতঃ দণ্ডনীয় অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে।

(২) এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই সেই সকল বাধ্যতামূলক শ্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যেখানে
(ক) ফৌজদারী অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তি আইনতঃ দণ্ডভোগ করিতেছেন; অথবা
(খ) জনগণের উদ্দেশ্যসাধনকল্পে আইনের দ্বারা তাহা আবশ্যক হইতেছে।

অন্যদিকে,
অনুচ্ছেদ ৩৭ হলো সমাবেশের স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৩২ হলো জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ।
 অনুচ্ছেদ ৩৫ হলো  বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,০৭৫.
সংবিধানের কয়টি সংশোধনী ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক বাতিল হয়েছে? [সেপ্টেম্বর, ২০২৪]
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয় ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।

⇒ সংবিধান সংশোধন হয়েছে ১৭ বার।
- এর মধ্যে চারটি সংশোধনী ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছে।
- সংবিধানের ১৭টি সংশোধনীর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ে ৪ বার, জিয়াউর রহমানের সময় ২ বার, এরশাদের সময় ৪ বার, শেখ হাসিনার সরকারের সময় ৩ বার ও খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে ৪ বার সংবিধান সংশোধন করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই সংসদে সংবিধানের ১ম সংশোধনী পাশ হয়।
- সংবিধানের সর্বশেষ, অর্থাৎ সপ্তদশ সংশোধনী হয় ২০১৮ সালের ৮ জুলাই। 

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) ৭ এপ্রিল, ২০২৩, দৈনিক ইত্তেফাক।
১,০৭৬.
'আন্তর্জাতিক চুক্তি' সম্পর্কে সংবিধানের কত নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে?
  1. ১৪৬ নং
  2. ৭৫ নং
  3. ৮৭(১) নং
  4. ১৪৫ক নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- 'আন্তর্জাতিক চুক্তি' সম্পর্কেবাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৫ক নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
⇒ ১৪৫ক। নং অনুচ্ছেদ:
- বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে, এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেনঃ তবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট অনুরুপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৫নং অনুচ্ছেদে কোরাম সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৪৬ নং অনুচ্ছেদে 'বাংলাদেশের নামে মামলা' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ৮৭(১) অনুচ্ছেদে বলা আছে 'বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি'। সংবিধানে বলা হয়েছে, 'প্রত্যেক অর্থবছর সম্পর্কে উক্ত অর্থবছরের জন্য সরকারের অনুমিত আয় ও ব্যয় - সংবলিত একটি বিবৃতি সংসদে উপস্থাপিত হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৭৭.
“জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে।” –এটি সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে? 
  1. ২৮(২)
  2. ২৯(২) 
  3. ২৮(৩
  4. ১৯(৩)
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধান: 
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১৯ নং অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে।
- ১৯ (৩)নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,
“জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।”

অপরদিকে,
- ২৮(২) নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভের কথা বলা হয়েছে।
- ২৮(৩) নং অনুচ্ছেদে বিনোদন, বিশ্রাম ও শিক্ষাক্ষেত্রে ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী ও লিঙ্গগত পার্থক্যের কারণে বৈষম্য না করার কথা বলা হয়েছে।
- ২৯(২) নং অনুচ্ছেদে ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গগত পার্থক্যের কারণে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য না করার কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,০৭৮.
সংবিধানের দশম ভাগের বিষয়বস্তু কী?
  1. নির্বাচন
  2. সংবিধান সংশোধন
  3. বিবিধ বিষয়াবলি
  4. মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১১টি ভাগের বিষয়াবলি:
- সংবিধানের প্রথম ভাগে প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ,
- দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে আইনসভা ,
- ষষ্ঠ ভাগে বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে সংবিধান সংশোধন
- একাদশ ভাগে বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান এবং  বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭৯.
সংবিধানের কততম সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে গণভোটের বিধান পুনরুজ্জীবিত হয়েছে?
  1. পঞ্চদশ সংশোধনী
  2. একাদশ সংশোধনী
  3. দ্বাদশ সংশোধনী
  4. ত্রয়োদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে গণভোটের বিধান পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।

⇒ ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আংশিক অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
- বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
- রায়ে আদালত পঞ্চদশ সংশোধনীর মোট ছয়টি বিধান বাতিল করেছে।
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও গণভোট পদ্ধতি ফিরিয়ে আনা হয় এই রায়ের মাধ্যমে।
- ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান বাতিল করাকে বাতিল করা হয়েছে। সংবিধানের প্রস্তাবনা ও কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধনে গণভোটের বিধান ফিরে আসছে।
- ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ বাতিল ঘোষণা করে হাই কোর্ট।
-  ২৭ নভেম্বর ২০২৫ পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবিতে হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়।

পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০ জুন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূলনীতিগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয়, তবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখা হয়।
- এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।

উৎস: বিবিসি [লিংক] এবং বাংলাদেশ সংবিধান।

১,০৮০.
বাংলাদেশ সংবিধানের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিধান বর্ণিত আছে–
  1. ১১৮ অনুচ্ছেদে
  2. ১২০ অনুচ্ছেদে
  3. ১২২ অনুচ্ছেদে
  4. ১২১ অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ৭ম অধ্যায় ( নির্বাচন ) এর ১২২ অনুচ্ছেদে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিধান বর্ণিত আছে।

অনুচ্ছেদ ১২২ –ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা

(১) প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার-ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।
(২) কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার-তালিকাভু্ক্ত হইবার অধিকারী হইবেন, যদি
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন;
(খ) তাঁহার বয়স আঠার বৎসরের কম না হয়;
(গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁহার সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা বহাল না থাকিয়া থাকে;
ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হইয়া থাকেন।]

১১৮ অনুচ্ছেদ – নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা।
১২০ অনুচ্ছেদ – নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ।
১২১ অনুচ্ছেদ – প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।
বাংলাদেশ সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন , যা ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ গণপরিষদে গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ কার্যকর হয়। বাংলাদেশ সংবিধানে,

১ টি প্রস্তাবনা
৪ টি মূলনীতি
১১ টি ভাগ বা অধ্যায়
৭ টি তফসিল এবং
১৫৩ টি অনুচ্ছেদ রয়েছে ।

তথ্যসূত্র – গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান, বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান।
১,০৮১.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে?
  1. ১৪২ নং
  2. ১৪৩ নং
  3. ১৪৬ নং
  4. ১৪৮ নং
ব্যাখ্যা

সংবিধানের অনুচ্ছেদ - ১৪৬: বাংলাদেশের নামে মামলা: 
- 'বাংলাদেশ'-এই নামে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বা বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে। 

অন্যদিকে:
- অনুচ্ছেদ-১৪২: সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ-১৪৩: প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি।
- অনুচ্ছেদ-১৪৮: পদের শপথ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,০৮২.
সংবিধানের কোন অধ্যায়ে মৌলিক অধিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. দ্বিতীয় অধ্যায়
  2. তৃতীয় অধ্যায়
  3. চতুর্থ অধ্যায়
  4. পঞ্চম অধ্যায়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
প্রথম অধ্যায়- প্রজাতন্ত্র (The Republic);
দ্বিতীয় অধ্যায়- রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি (Principles of State Policy);
তৃতীয় অধ্যায়- মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights);
চতুর্থ অধ্যায়- নির্বাহী বিভাগ (The Executive);
পঞ্চম অধ্যায়- আইনসভা (The Legislature);
ষষ্ঠ অধ্যায়- বিচার বিভাগ (The Judiciary);
সপ্তম অধ্যায়- নির্বাচন (Elections);
অষ্টম অধ্যায়- মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (Comptroller and Auditor General);
নবম অধ্যায়- বাংলাদেশের কর্মবিভাগ (Public Service of Bangladesh);
নবম-ক ভাগ- জরুরী বিধানাবলী (Emergency Provisions);
দশম অধ্যায়- সংবিধানের সংশোধন (Amendment of the Constitution);
একাদশ অধ্যায়- বিবিধ (Miscellaneous).
১,০৮৩.
"বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট" নামে বাংলাদেশের একটি সর্বোচ্চ আদালত থাকবে - এটি সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে?
  1. ক) অনুচ্ছেদ ৯৪
  2. খ) অনুচ্ছেদ ৯৬
  3. গ) অনুচ্ছেদ  ৯৫
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ  ৯৩
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৯৪ : সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা
(১) "বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট" নামে বাংলাদেশের একটি সর্বোচ্চ আদালত থাকবে এবং আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে তা গঠিত হবে। 
(২) প্রধান বিচারপতি যিনি "বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি" নামে অভিহিত হবেন এবং প্রত্যেক বিভাগে রাষ্ট্রপতি যেরূপ সংখ্যক বিচারক নিয়োগের প্রয়োজন বোধ করবেন, সেইরূপ সংখ্যক অন্যান্য বিচারক নিয়ে সুপ্রীম কোর্ট গঠিত হবে।
(৩) প্রধান বিচারপতি ও আপীল বিভাগে নিযুক্ত বিচারকগণ কেবল উক্ত বিভাগে এবং অন্যান্য বিচারক হাইকোর্ট বিভাগে আসন গ্রহণ করবেন।
(৪) প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারক বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন।

অন্যদিকে, 
• অনুচ্ছেদ  ৯৩ :  অধ্যাদেশপ্রণয়ন-ক্ষমতা।
• অনুচ্ছেদ  ৯৫ :  বিচারক-নিয়োগ।
• অনুচ্ছেদ ৯৬ : বিচারকের পদের মেয়াদ।  

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান। 
১,০৮৪.
সংবিধানের ৩৮ নং অনুচ্ছেদের মূল আলোচ্য বিষয় কী?
  1. পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা
  2. সমাবেশের স্বাধীনতা
  3. সংগঠনের স্বাধীনতা
  4. বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের তৃতীয় ভাগের গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদসমূহ : 
অনুচ্ছেদ ৩৫ - বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।
অনুচ্ছেদ ৩৭ - সমাবেশের স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৩৮ - সংগঠনের স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৩৯ - চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৪০ - পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৪১ - ধর্মীয় স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৪২ - সম্পত্তির অধিকার।
অনুচ্ছেদ ৪৩ - গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ।
অনুচ্ছেদ ৪৪ - মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ।
অনুচ্ছেদ ৪৫ - শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৮৫.
সংবিধানের ৪(৩)নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) জাতীয় প্রতীক
  2. খ) জাতীয় সঙ্গীত
  3. গ) জাতীয় পতাকা
  4. ঘ) জাতির পিতার প্রতিকৃতি
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ - ০৪ : জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক
১. প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা”র প্রথম দশ চরণ৷
২. প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত৷
৩. প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পর-সংযুক্ত পত্র, তার উভয় পার্শ্বে দুইটি করে  তারকা৷
৪. উপরি-উক্ত দফাসমূহ-সাপেক্ষে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কিত বিধানাবলী আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে।

[উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান]
১,০৮৬.
'পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন' সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ কোনটি? 
  1. ১৬ নং অনুচ্ছেদে 
  2. ১৮ (১) নং অনুচ্ছেদে 
  3. ১৮ ক নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৯ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

• দ্বিতীয় ভাগ
• রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি

সংবিধানের ১৮(ক) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে,
- রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব- বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করবেন।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১৮ক নং অনুচ্ছেদে 'পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন' এর কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে -
- ১৮ (১) নং অনুচ্ছেদ: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।
- ১৬ নং অনুচ্ছেদ: গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।
- ১৯ নং অনুচ্ছেদ: সুযোগের সমতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,০৮৭.
সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী অনুযায়ী সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরগ্রহণের বয়স কত নির্ধারণ করা হয়?
  1. ৬২ বছর
  2. ৬৫ বছর
  3. ৬৭ বছর
  4. ৭০ বছর
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী:
- চতুর্দশ সংশোধনী আইন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী আইন ২০০৪ সালের ১৬ মে সংসদে পাস হয়।

• এ সংশেোধনীর মাধ্যমে বিভিন্ন বিধান সংবিধানে যুক্ত হয়। 
যেমন-
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৩০ থেকে ৪৫ এ উন্নীত করা হয়, যা পরবর্তী দশ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরগ্রহণের বয়স ৬৫ থেকে ৬৭-তে বর্ধিত করা হয়।
- এর পাশাপাশি এই সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি তাদের স্ব স্ব কার্যলয়সহ সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে টানানোর ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়।

উৎস: সংবিধান।

১,০৮৮.
'স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র' সংবিধানের কোন তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
  1. ৩য়
  2. ৪র্থ
  3. ৫ম
  4. ৭ম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের তফসিল:

- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে আরও ৩টি তফসিল সংযোজন করা হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।
• প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
• দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত ।
• তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
• চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
• পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
• ষষ্ঠ তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণা।
• সপ্তম তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৮৯.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একজন ব্যক্তি একাধিক এলাকার সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন না?
  1. ৬৬
  2. ৬৮
  3. ৭১
  4. ৭৮
ব্যাখ্যা
দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা:
- সংবিধানের ৭১ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
(১) কোনো ব্যক্তি একই সময়ে দুই বা ততোধিক নির্বাচনী এলাকার সংসদ-সদস্য হবেন না।

(২) কোনো ব্যক্তির একই সময়ে দুই বা ততোধিক নির্বাচনী এলাকা হইতে নির্বাচনপ্রার্থী হওয়ায় এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় বর্ণিত কোনো কিছুই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না, তবে তিনি যদি একাধিক নির্বাচনী এলাকা হতে নির্বাচিত হন তা হলে-
(ক) তাঁহার সর্বশেষ নির্বাচনের ত্রিশ দিনের মধ্যে তিনি কোন নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে ইচ্ছুক, তা জ্ঞাপন করে নির্বাচন কমিশনকে একটি স্বাক্ষরযুক্ত ঘোষণা প্রদান কঢ়বেন এবং তিনি অন্য যে সকল নির্বাচনী এলাকা হতে নির্বাচিত হয়েছিলেন, অতঃপর সেই সকল এলাকার আসনসমূহ শূন্য হবে;
(খ) এই দফার (ক) উপ-দফা মান্য করতে অসমর্থ হলে তিনি যে সকল আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই সকল আসন শূন্য হবে।

এছাড়া,
- ৬৬ নং অনুচ্ছেদ সংসদে নির্বাচিত হবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা,
- ৬৮ নং অনুচ্ছেদ সংসদ-সদস্যদের [পারিশ্রমিক] প্রভৃতি এবং
- ৭৮ নং অনুচ্ছেদ সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি সংক্রান্ত।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৯০.
বাংলাদেশ সংবিধানে ’শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত’ করা হয়েছে কত নং অনুচ্ছেদে?
  1. ১৪ নং
  2. ২১ নং
  3. ১৭ নং
  4. ২৩ নং
ব্যাখ্যা
→ ১৭ নং অনুচ্ছেদে ’শিক্ষা অধিকার  নিশ্চিত’ করা হয়েছে।

• অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা:

- (ক) একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদান করতে হবে।
- (খ) সমাজের প্রয়োজনের সহিত শিক্ষাকে সঙ্গতিপূর্ণ করার জন্য এবং
- সেই প্রয়োজন সিদ্ধ করিবার উদ্দেশ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদিচ্ছাপ্রণোদিত নাগরিক সৃষ্টির জন্য;
- (গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করিবার জন্য;কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন৷

এছাড়াও,
- ২৩ নং: জাতীয় সংস্কৃতি।
- ২১ নং: নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।
- ১৪ নং: কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
১,০৯১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের আলোকে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি পরিচালিত হয়?
  1. অনুচ্ছেদ ২২
  2. অনুচ্ছেদ ২৪
  3. অনুচ্ছেদ ২৫
  4. অনুচ্ছেদ ১৯
ব্যাখ্যা

সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ:
- জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা,
- আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি।
 - আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবেন; 
 - প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবেন।
 - সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবেন৷ 

অন্যদিকে,
-
অনুচ্ছেদ- ২২: রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হইতে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন৷
- অনুচ্ছেদ- ২৪: বিশেষ শৈল্পিক কিংবা ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন বা তাৎপর্যমন্ডিত স্মৃতিনিদর্শন, বস্তু বা স্থান-সমূহকে বিকৃতি, বিনাশ বা অপসারণ হইতে রক্ষা করিবার জন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন৷
- অনুচ্ছেদ- ১৯ (১): সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হবেন৷

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,০৯২.
কোন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কারোর পরামর্শ গ্রহণে বাধ্য নয়?
  1. সংসদ অধিবেশন আহবান
  2. জরুরি অবস্থা ঘোষণা
  3. প্রধান বিচারপতি নিয়োগ
  4. উপরের সবক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও শাসন বিভাগের সর্বোচ্চ ব্যক্তি। কিন্তু সাংবিধানিকভাবে তার ক্ষমতা খুবই সীমিত।
- তিনি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করে থাকেন।
- শাসন বিভাগের প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারি প্রধানমন্ত্রী ও তার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০৯৩.
বর্তমান সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান কে? (নভেম্বর-২০২৫)
  1. ড. শাহদীন মালিক
  2. অধ্যাপক আলী রীয়াজ
  3. অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের
  4. ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিকী
ব্যাখ্যা

• সংবিধান সংস্কার কমিশন:
- সংবিধান সংস্কার কমিশন হলো ২০২৪ সালে বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি কমিশন যার উদ্দেশ্য হলো অতীতের সাংবিধানিক ব্যর্থতার কারণ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা এবং একটি নতুন অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়নের জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের একটি রোডম্যাপ তৈরি করা।
- ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’ গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
- প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত ৬ষ্ঠ কমিশন এটি।
- সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে আছেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
উল্লেখ্য,
• অন্য আটজন সদস্য হলেন -
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের ও অধ্যাপক মুহাম্মদ ইকরামুল হক, ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিকী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার এম মঈন আলম ফিরোজী, লেখক ফিরোজ আহমেদ, লেখক ও মানবাধিকারকর্মী মো. মুস্তাইন বিল্লাহ এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে আছেন মো. মাহফুজ আলম।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।

১,০৯৪.
খসড়া সংবিধান গণপরিষদে প্রথম উত্থাপিত হয় কবে?
  1. ১০ অক্টোবর ১৯৭২
  2. ১২ অক্টোবর ১৯৭২
  3. ১৯ অক্টোবর ১৯৭২
  4. ৩১ অক্টোবর ১৯৭২
ব্যাখ্যা
-বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ই জানুয়ারি বাংলাদেশ অস্থায়ী সংবিধান আদেশ এবং ২৩শে মার্চ বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশের গেজেট প্রকাশ করা হয়।
- ১১ই এপ্রিল তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে আহবায়ক করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট সংবিধান রচনা কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৭ই এপ্রিল কমিটি তাদের প্রথম বৈঠকে বসে এবং ১২ই অক্টোবর খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপন করে।
- ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহিত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর প্রথমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানে স্বাক্ষর করেন এবং তারপর অন্যান্য গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- তবে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
- সবশেষে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

[উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান]
১,০৯৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে 'প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ'?
  1. ক) ২
  2. খ) ৬
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।
- ৭(১) দফায় বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে।
- ৬(২) নং দফায় বলা হয়েছে বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন।
- ২ নং অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা,
- ২ক অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রধর্ম,
- ৪ নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।

১,০৯৬.
রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ব্যতিরেকে কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে পারেন?
  1. প্রধান নির্বাচন কমিশনার
  2. অডিটর জেনারেল
  3. পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগের -
- ৪৮ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।

- ৪৮ (২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাঁকে প্রদত্ত ও তাঁর উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করবেন।

- ৪৮ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তাঁর অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন। 

- ৪৮ (৪) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি -
(ক) ৩৫ বছরের কম বয়স্ক হন; অথবা
(খ) সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য না হন; অথবা
(গ) কখনও এই সংবিধানের অধীন অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ হতে অপসারিত হয়ে থাকেন।

- ৪৮ (৫) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রীয় নীতি সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখবেন এবং রাষ্ট্রপতি অনুরোধ করলে যেকোন বিষয় মন্ত্রিসভায় বিবেচনার জন্য পেশ করবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,০৯৭.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সর্বপ্রথম বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কোন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ভাষণ দেন?
  1. ক) ভারত
  2. খ) মালদ্বীপ
  3. গ) যুগোশ্লাভিয়া
  4. ঘ) নেপাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে দুজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ভাষণ প্রদান করেন। এরা হলেন সাবেক যুগোশ্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট জোসেফ ব্রোজ মার্শাল টিটো (৩১ জানুয়ারী ১৯৭৪) এবং ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি (১৮ জুন ১৯৭৪)।
(সূত্রঃ জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট)
১,০৯৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের কথা বলা হয়েছে?
  1. ২৪ নং
  2. ২২ নং
  3. ২৫ নং
  4. ২১ নং
ব্যাখ্যা

•সংবিধান: 
 - নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ কথা বলা হয়েছে ২২ নং অনুচ্ছেদে।
 - ২২ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে।
 - মূলত বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য;
 - ১৯৯৪ সালে একটি রিট মামলা করেছিলেন জেলা জজ ও জুডিশিয়াল এসোসিয়েশনের তৎকালীন মহাসচিব মাসদার হোসেন।
 - সেই মামলাটি 'মাসদার হোসন মামলা' নামে পরিচিত, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে যার চূড়ান্ত রায় হয়েছিল ১৯৯৯ সালে।
 - রায়ের আট বছর পর ২০০৭ সালে মূল নির্দেশনাটি বাস্তবায়ন করে বিচার বিভাগকে আলাদা করা হয়েছিল। 

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,০৯৯.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়?
  1. ক) ১৩৭
  2. খ) ১২৭
  3. গ) ১৩৮(১)
  4. ঘ) ১১৮(২)
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- ১৩৮(১) অনুচ্ছে অনুযায়ী, প্রত্যেক সরকারী কর্ম কমিশনের সভাপতি (চেয়ারম্যান) ও অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ হবেন।
- তবে শর্ত থাকে যে, প্রত্যেক কমিশনের যতদূর সম্ভব অর্ধেক (তবে অর্ধেকের কম নহে) সংখ্যক সদস্য এমন ব্যক্তিগণ হবেন, যার বিশ বৎসর বা ততোধিককাল বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে কোন সময়ে কার্যরত কোন সরকারের কর্মে কোন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
 
এছাড়াও -
- ১৩৭ অনুযায়ী সরকারি কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- ১৩৮(২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইন-সাপেক্ষে কোন সরকারী কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যের কর্মের শর্তাবলী রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা যেরকম নির্ধারণ করবে, সেরূপ হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,১০০.
বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে -
  1. ১৪১ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৪১ক নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৫২ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৪২ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
সংবিধান সংশোধন:

- সংবিধানের দশম ভাগে ১৪২ নং অনুচ্ছেদে সংবিধান সংশোধন বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের জন্যে জাতীয় সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতির প্রয়োজন হয়।
- সংবিধান সংশোধনী বিলে রাষ্টপতিকে সাত দিনের মধ্যে স্বাক্ষর করতে হয়।

- সংবিধান সংশোধন হয়েছে ১৭ বার।
- এর মধ্যে চারটি সংশোধনী ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ সংবিধান।