PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
The Constitutional Law
The Constitutional Law
PrepBank · পাতা ৫ / ৮ · ৪০১–৫০০ / ৭৩১
ব্যাখ্যা
• একটি Judgment -এর চারটি অংশ থাকে; যথা-
০১. A concise statement of fact;
০২. Point of determination or issue;
০৩. Reason behind the judgment;
০8. The decision thereon;
আদালতের Reasoning- কে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
i. Ratio decidendi;
ii. Obiter Dictum;
Obiter Dictum-
"A thing said by the way" অর্থাৎ মামলার রায়ের এমন অংশকে বোঝায়, যেটা মান্য করা বাধ্যতামূলক নয়; বরং বিচারক যেটা কথা প্রসঙ্গে বলে থাকেন। অর্থাৎ, রায় প্রদানের সময় বিচারক প্রসঙ্গক্রমে যে সব কথা বলেন, তাই Obiter Dictum এর binding force নেই তবে, persuasive value আছে।
Ratio decidendi-
সেই সব Legal Basis বা Legal Principles যেগুলোর উপর ভিত্তি করে আদালত রায় প্রদান করে। Precedent হিসেবে Ratio decidendi এর binding force আছে। নজির হিসেবে আদালত মানতে বাধ্য।
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদের বিধান: সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া:
(১) কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে, যদি,
(ক) তাঁহার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিতে অসমর্থ হন:
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পূর্বে স্পীকার যথার্থ কারণে তাহা বর্ধিত করিতে পারিবেন;
(খ) সংসদের অনুমতি না লইয়া তিনি একাদিক্রমে নব্বই বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন;
(গ) সংসদ ভাঙ্গিয়া যায়;
(ঘ) তিনি এই সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন অযোগ্য হইয়া যান; অথবা
(ঙ) এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।
(২) কোন সংসদ-সদস্য স্পীকারের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন, এবং স্পীকার- কিংবা স্পীকারের পদ শূন্য থাকিলে বা অন্য কোন কারণে স্পীকার স্বীয় দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ডেপুটি স্পীকার- যখন উক্ত পত্র প্রাপ্ত হন, তখন হইতে উক্ত সদস্যের আসন শূন্য হইবে।
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৭- প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ:
(১) প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে, যদি-
(ক) তিনি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন; অথবা
(খ) তিনি সংসদ-সদস্য না থাকেন।
(২) সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারাইলে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করিবেন কিংবা সংসদ ভাংগিয়া দিবার জন্য লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শদান করিবেন এবং তিনি অনুরূপ পরামর্শদান করিলে রাষ্ট্রপতি, অন্য কোন সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন নহেন এই মর্মে সন্তুষ্ট হইলে, সংসদ ভাংগিয়া দিবেন।
(৩) প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই অযোগ্য করিবে না।
ব্যাখ্যা
(১) প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করিয়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করিবেন।
(২) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হইলে, এবং
(ক) সুপ্রীম কোর্টে অন্যূন দশ বৎসরকাল এ্যাডভোকেট না থাকিয়া থাকিলে; অথবা
(খ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্যূন দশ বৎসর কোন বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করিয়া থাকিলে; অথবা
(গ) সুপ্রীমকোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকিয়া থাকিলে ; তিনি বিচারকপদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না।
(৩) এই অনুচ্ছেদে ‘‘সুপ্রীম কোর্ট’’ বলিতে এই সংবিধান প্রবর্তনের পূর্বে যে কোন সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে আদালত হাইকোর্ট হিসাবে এখতিয়ার প্রয়োগ করিয়াছে, সেই আদালত অন্তর্ভুক্ত হইবে।
ব্যাখ্যা
-বিদেশের সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হইবে, এবং রাষ্ট্রপতি তাহা সংসদে পেশ করিবার ব্যবস্থা করিবেন;
তবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সহিত সংশ্লিষ্ট অনুরুপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হইবে।
ব্যাখ্যা
যেক্ষেত্রে কোন কার্য বা বিচ্যুতি দুই বা ততোধিক আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হয়, সেই ক্ষেত্রে অপরাধীকে ঐ আইন সমূহের সকল বা যে কোন একটির অধীন অভিযুক্ত এবং শাস্তি প্রদান করা যাবে, কিন্তু একই অপরাধের জন্য দুইবার শাস্তি প্রদান করা যাবে না।
ধারা ২৬ এর মধ্যে দোবারা সাজা নীতি বা ‘Doctrine of Double Jeopardy' প্রতিফলিত হয়েছে। দোবারা সাজা নীতিটি আরো কয়েকটি আইনে বর্ণিত আছে। যথা:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(২);
- ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪০৩;
- দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ১১;
- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৪০; এবং
- ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮ এর ধারা ৮।
ব্যাখ্যা
স্পীকার কর্তৃক ⇒ রাষ্ট্রপতি, সংসদ-সদস্য;
রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ⇒ প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার, প্রধান বিচারপতি;
প্রধান বিচারপতি কর্তৃক ⇒ সুপ্রীম কোর্টের অন্যান্য বিচারক, সরকারী কর্মকমিশনের সদস্য, মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার।
ব্যাখ্যা
⇒ আইন ব্যাখ্যার প্রচলিত পদ্ধতিগুলিকে আক্ষরিক (Grammatical) এবং যুক্তিবাদী (Logical) দুটি ভাগে ভাগ করেছেন বিখ্যাত আইনবিদ খ) Salmond।
স্যালমন্ডের (Salmond) আইন ব্যাখ্যা তত্ত্ব:
স্যার জন স্যালমন্ড (Sir John William Salmond) তার বিখ্যাত গ্রন্থ "Jurisprudence"-এ আইন ব্যাখ্যার পদ্ধতিকে দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেছেন:
আক্ষরিক বা ব্যাকরণগত পদ্ধতি (Grammatical Method): এই পদ্ধতিতে আইনের ভাষার শাব্দিক অর্থ, বাক্য গঠন এবং শব্দের অভিধানিক অর্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এটি আইনের পাঠ্যকে যথাসম্ভব শাব্দিকভাবে ব্যাখ্যা করে।
যুক্তিবাদী পদ্ধতি (Logical Method): এই পদ্ধতিতে আইনের উদ্দেশ্য, প্রেক্ষাপট, এবং আইন প্রণয়নের পেছনের যুক্তি ও নীতিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। এটি আইনের "আত্মা" বা মূল উদ্দেশ্য বুঝতে চেষ্টা করে।
স্যালমন্ডের তত্ত্বের গুরুত্ব:
স্যালমন্ডের মতে, আক্ষরিক ব্যাখ্যা আইনের স্থিতিশীলতা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করে, যেখানে যুক্তিবাদী ব্যাখ্যা আইনের প্রয়োগকে যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায়সঙ্গত করে।
তিনি বলেন, আদর্শ আইন ব্যাখ্যায় উভয় পদ্ধতির সমন্বয় প্রয়োজন।
স্যালমন্ডের তত্ত্বের প্রভাব:
- স্যালমন্ডের এই দ্বিবিভাজন আইন ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে একটি মৌলিক চিন্তাধারা হিসেবে স্বীকৃত।
- এই তত্ত্ব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনবিদ ও বিচারপতিদের দ্বারা গৃহীত হয়েছে।
- বাংলাদেশ ও ভারতের আইনগত ব্যবস্থায়ও এই দ্বিবিভাজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অর্থাৎ আইন ব্যাখ্যার প্রচলিত পদ্ধতিগুলিকে আক্ষরিক (Grammatical) এবং যুক্তিবাদী (Logical) দুটি ভাগে ভাগ করেছেন বিখ্যাত আইনবিদ স্যার জন স্যালমন্ড (Salmond)। তাই সঠিক উত্তর: খ) Salmond।
অন্যান্য আইনবিদদের সাথে তুলনা:
N.S Bindra: তিনি ভারতীয় আইন ব্যবস্থায় বিশেষ অবদান রেখেছেন, কিন্তু আইন ব্যাখ্যার পদ্ধতিকে আক্ষরিক ও যুক্তিবাদী দুই ভাগে ভাগ করার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত নন।
Francis Bacon: তিনি আইন ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, কিন্তু এই নির্দিষ্ট দ্বিবিভাজনের জন্য তিনি পরিচিত নন।
John Chipman Gray: তিনি আইনের উৎস এবং বিচারপতিদের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন, কিন্তু এই নির্দিষ্ট দ্বিবিভাজনের জন্য তিনি পরিচিত নন।
জন সালমন্ড (John Salmond) তাঁর Jurisprudence গ্রন্থে আইন ব্যাখ্যার (statutory interpretation) প্রচলিত পদ্ধতিগুলিকে স্পষ্টভাবে গ্রামাটিক্যাল (Grammatical বা আক্ষরিক) এবং লজিক্যাল (Logical বা যুক্তিবাদী) দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেছেন। এটি কমন ল (যেমন ইংরেজ এবং ভারতীয় আইন) শিক্ষা ও অনুশীলনে ব্যাপকভাবে গৃহীত, কারণ এই বিভাজন আইনের অক্ষরিক অর্থ এবং উদ্দেশ্যের মধ্যে ভারসাম্য স্থাপন করে। অন্যান্য আইনবিদ যেমন গ্রে (Gray) এই বিভাজন উল্লেখ করলেও, তা স্যাভিগনির (Savigny) ফ্রেমওয়ার্কের অংশ হিসেবে এবং অপ্রচলিত বলে উল্লেখ করেছেন, যা সালমন্ডের মতো স্বতন্ত্র অবদান নয়।
Salmond-On-Jurisprudence বই [লিঙ্ক] lawndlegislation ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]
- জন চিপম্যান গ্রে (John Chipman Gray) তাঁর The Nature and Sources of the Law (১৯০৯) গ্রন্থে আইন ব্যাখ্যার (statutory interpretation) পদ্ধতিগুলির উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তিনি এগুলিকে স্পষ্টভাবে শুধুমাত্র 'আক্ষরিক (Grammatical)' এবং 'যুক্তিবাদী (Logical)' দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেননি। বরং, তিনি জার্মান আইনবিদ ফ্রিডরিখ কার্ল ভন স্যাভিগনির (Friedrich Carl von Savigny) চারটি ভাগের (grammatical, logical, historical, systematic) উল্লেখ করে বলেছেন যে এটি 'generally followed' নয়। এই বিভাজন গ্রে-এর মূল অবদান নয়, যেখানে তিনি বিচারকদের ভূমিকা এবং আইনের সোর্সস (judges' decisions as law) উপর বেশি ফোকাস করেছেন।- জন সালমন্ড (John Salmond) তাঁর Jurisprudence (১৯০২) গ্রন্থে এই দ্বৈত বিভাজনকে স্পষ্টভাবে প্রচলিত পদ্ধতি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যা কমন ল-এর ঐতিহ্যে (যেমন ইংল্যান্ড এবং ভারত) ব্যাপকভাবে গৃহীত। গ্রে-এর ক্ষেত্রে এটি secondary reference মাত্র, এবং তাঁর ফোকাস US legal formalism-এ।
The Nature and Sources of the Law বই এর [ লিঙ্ক ]
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৮০(৪) অনুচ্ছেদের অনুসারে, রাষ্ট্রপতি যদি বিলটি প্রথমবার পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠান, তাহলে সংসদ তার বার্তাসহ পুনর্বিবেচনা করে সংশোধন সহ বা ছাড়া পুনরায় গ্রহণ করলে বিলটি আবার রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপিত হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি ৭ দিনের মধ্যে সম্মতি দিতে হবে; না দিলে সম্মতি দিয়েছেন বলে গণ্য হবে।
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৮০ অনুচ্ছেদের বিধান: আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি: (১) আইনপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে সংসদে আনীত প্রত্যেকটি প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হইবে।
(২) সংসদ কর্তৃক কোন বিল গৃহীত হইলে সম্মতির জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিতে হইবে।
(৩) রাষ্ট্রপতির নিকট কোন বিল পেশ করিবার পর পনর দিনের মধ্যে তিনি তাহাতে সম্মতিদান করিবেন কিংবা অর্থবিল ব্যতীত অন্য কোন বিলের ক্ষেত্রে বিলটি বা তাহার কোন বিশেষ বিধান পুনর্বিবেচনার কিংবা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্দেশিত কোন সংশোধনী বিবেচনার অনুরোধ জ্ঞাপন করিয়া একটি বার্তাসহ তিনি বিলটি সংসদে ফেরত দিতে পারিবেন; এবং রাষ্ট্রপতি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
(৪) রাষ্ট্রপতি যদি বিলটি অনুরূপভাবে সংসদে ফেরত পাঠান, তাহা হইলে সংসদ রাষ্টপতির বার্তাসহ তাহা পুনর্বিবেচনা করিবেন; এবং সংশোধনীসহ বা সংশোধনী ব্যতিরেকে সংসদ পুনরায় বিলটি গ্রহণ করিলে সম্মতির জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে এবং অনুরূপ উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন; এবং রাষ্ট্রপতি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
(৫) সংসদ কর্তৃক গৃহীত বিলটিতে রাষ্ট্রপতি সম্মতিদান করিলে বা তিনি সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইলে তাহা আইনে পরিণত হইবে এবং সংসদের আইন বলিয়া অভিহিত হইবে।
------------
⇒ Article 80. Legislative procedure:
(1) Every proposal in Parliament for making a law shall be made in the form of a Bill.
(2) When a Bill is passed by Parliament it shall be presented to the President for assent.
(3) The President within fifteen days after a Bill is presented to him, shall assent to the Bill or, in the case of a Bill other than a Money Bill, may return it to Parliament with a message requesting that the Bill or any particular provisions thereof be reconsidered, and that any amendments specified by him in the message be considered ; and if he fails so to do he shall be deemed to have assented to the Bill at the expiration of that period.
(4) If the President so returns the Bill Parliament shall consider it together with the President's message, and if the Bill is again passed by Parliament with or without amendments, it shall be presented to the President for his assent, whereupon the President shall assent to the Bill within the period of seven days after it has been presented to him, and if he fails to do so he shall be deemed to have assented to the Bill on the expiration of that period.
(5) When the President has assented or is deemed to have assented to a Bill passed by Parliament it shall become law and shall be called an Act of Parliament.
ব্যাখ্যা
- সংসদে উত্থাপন: ১১ মে, ১৯৮৮।
- উত্থাপনকারী: সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।
- সংসদে গৃহীত: ৭ জুন, ১৯৮৮।
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ৯ জুন, ১৯৮৮।
⇒ অষ্টম সংবিধান সংশোধন আইন দ্বারা সংবিধানের ২ক, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়। এই সংশোধনী আইনবলে-
১. ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়;
২. সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদকে সংশোধন করে বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর, রংপুর ও সিলেটে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করা হয়;
৩. সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদে Bengali শব্দটি পরিবর্তন করে Bangla করা হয় এবং Dacca পরিবর্তন করে Dhaka করা হয়;
৪. সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মাননা, পুরস্কার বা অভিধা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।
ব্যাখ্যা
(১) প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন মন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে, যদি-
(ক) তিনি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন;
(খ) তিনি সংসদ-সদস্য না থাকেন, তবে ৫৬ অনুচ্ছেদের (২) দফার শর্তাংশের অধীনে মনোনীত মন্ত্রীর ক্ষেত্রে ইহা প্রযোজ্য হইবে না;
(গ) এই অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুসারে রাষ্ট্রপতি অনুরূপ নির্দেশ দান করেন; অথবা
(ঘ) এই অনুচ্ছেদের (৪) দফায় যেরূপ বিধান করা হইয়াছে তাহা কার্যকর হয়।
(২) প্রধানমন্ত্রী যে-কোন সময়ে কোন মন্ত্রীকে পদত্যাগ করিতে অনুরোধ করিতে পারিবেন এবং উক্ত মন্ত্রী অনুরূপ অনুরোধ পালনে অসমর্থ হইলে তিনি রাষ্ট্রপতিকে উক্ত মন্ত্রীর নিয়োগের অবসান ঘটাইবার পরামর্শ দান করিতে পারিবেন।
(৩) সংসদ ভাংগিয়া যাওয়া অবস্থায় যে-কোন সময়ে কোন মন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের (১) দফার (ক), (খ) ও (ঘ) উপ-দফার কোন কিছুই অযোগ্য করিবে না।
(৪) প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করিলে বা স্বীয় পদে বহাল না থাকিলে মন্ত্রীদের প্রত্যেকে পদত্যাগ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে; তবে এই পরিচ্ছেদের বিধানাবলী-সাপেক্ষে তাঁহাদের উত্তরাধিকারীগণ কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাঁহারা স্ব স্ব পদে বহাল থাকিবেন।
(৫) এই অনুচ্ছেদে "মন্ত্রী" বলিতে প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত।
Article 58: Tenure of office of other Ministers
(1) The office of a Minister other than the Prime Minister shall become vacant –
(a) if he resigns from office by placing his resignation in the hands of the Prime Minister for submission to the President;
(b) if he ceases to be a member of Parliament, but this shall not be applicable to a Minister chosen under the proviso to article 56(2);
(c) if the President, pursuant to the provisions of clause (2), so directs; or
(d) as provided in clause (4).
(2) The Prime Minister may at any time request a Minister to resign, and if such Minister fails to comply with the request, may advise the President to terminate the appointment of such Minister.
(3) Nothing in sub clauses (a), (b) and (d) of clause (1) shall disqualify a Minister for holding office during any period in which Parliament stands dissolved.
(4) If the Prime Minister resigns from or ceases to hold office each of the other Ministers shall be deemed also to have resigned from office but shall, subject to the provisions of this Chapter, continue to hold office until his successor has entered upon office.
(5) In this article “Minister” includes Minister of State and Deputy Minister.
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা
- এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে সকল প্রচলিত আইনের কার্যকরতা অব্যাহত থাকিবে, তবে অনুরূপ আইন এই সংবিধানের অধীন প্রণীত আইনের দ্বারা সংশোধিত বা রহিত হইতে পারিবে।
-----------
⇒ Article 149. Saving for existing laws:
Subject to the provisions of this Constitution all existing laws shall continue to have effect but may be amended or repealed by law made under this Constitution.
ব্যাখ্যা
(১) তৃতীয় তফসিলে উল্লিখিত যে কোন পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তি কার্যভারগ্রহণের পূর্বে উক্ত তফসিল-অনুযায়ী শপথগ্রহণ বা ঘোষণা (এই অনুচ্ছেদে "শপথ" বলিয়া অভিহিত) করিবেন এবং অনুরূপ শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিবেন।
(২) এই সংবিধানের অধীন নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির নিকট শপথগ্রহণ আবশ্যক হইলে অনুরূপ ব্যক্তি যেরূপ ব্যক্তি ও স্থান নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ ব্যক্তির নিকট সেইরূপ স্থানে শপথগ্রহণ করা যাইবে।
২(ক) ১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন অনুষ্ঠিত সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন ব্যক্তি যে কোন কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হইলে বা না করিলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করিবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই ইহার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।]
(৩) এই সংবিধানের অধীন যে ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তির পক্ষে কার্যভার গ্রহণের পূর্বে শপথগ্রহণ আবশ্যক, সেই ক্ষেত্রে শপথগ্রহণের অব্যবহিত পর তিনি কার্যভার গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
ব্যাখ্যা
⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৪ অনুচ্ছেদের বিধান: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ:
(১) সকল প্রকার জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধ; এবং এই বিধান কোনোভাবে লঙ্ঘিত হইলে তাহা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই সেই সকল বাধ্যতামূলক শ্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যেখানে
(ক) ফৌজদারি অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তি আইনত দণ্ডভোগ করিতেছেন; অথবা
(খ) জনগণের উদ্দেশ্যসাধনকল্পে আইনের দ্বারা তাহা আবশ্যক হইতেছে।
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১১৯: নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব:
(১) রাষ্ট্রপতি পদের ও সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার-তালিকা প্রস্তুতকরণের তত্ত্বাবধান, নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ এবং অনুরূপ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং নির্বাচন কমিশন এই সংবিধান ও আইনানুযায়ী-
(ক) রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করিবেন;
(খ) সংসদ-সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করিবেন;
(গ) সংসদে নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ করিবেন; এবং
(ঘ) রাষ্ট্রপতির পদের এবং সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার-তালিকা প্রস্তুত করিবেন।
(২) উপরি-উক্ত দফাসমূহে নির্ধারিত দায়িত্বসমূহের অতিরিক্ত যেরূপ দায়িত্ব এই সংবিধান বা অন্য কোন আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে, নির্বাচন কমিশন সেইরূপ দায়িত্ব পালন করিবেন।
ব্যাখ্যা
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৫(১): বিচারক-নিয়োগ:
প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। অন্যান্য বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির পরামর্শ গ্রহণ করেন।
৯৫(২): বিচারক হতে হলে –
- বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে।
- সুপ্রিম কোর্টে অন্তত ১০ বছর অ্যাডভোকেট হিসেবে প্র্যাকটিস করতে হবে, অথবা
- বিচার বিভাগে অন্তত ১০ বছর পদে অধিষ্ঠান করতে হবে।
৯৫(৩):
"সুপ্রিম কোর্ট" বলতে সংবিধান প্রবর্তনের পূর্বে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমায় হাইকোর্ট হিসেবে কাজ করা কোনো আদালতও অন্তর্ভুক্ত হবে।
ব্যাখ্যা
Article 6 of the Constitution of Bangladesh: Citizenship-
(1) The citizenship of Bangladesh shall be determined and regulated by law.
(2) The people of Bangladesh shall be known as Bangalees as a nation and the citizens of Bangladesh shall be known as Bangladeshies.
অনুচ্ছেদ ৬: নাগরিকত্ব-
(১) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে।
(২) বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশি বলিয়া পরিচিত হইবেন।
ব্যাখ্যা
যখন কোন ব্যক্তির মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়, বা লঙ্ঘিত হওয়ার হুমকি থাকে, সে তার উক্ত মৌলিক অধিকার বলবৎ করতে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা দায়ের করতে পারে। অন্যদিকে, উক্ত মৌলিক অধিকার বলবৎ করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, আদেশ বা রিট জারি করার ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগ-কে ১০২ অনুচ্ছেদে দেয়া হয়েছে। সুতরাং ৪৪ অনুচ্ছেদ মূলত একটি তত্ত্বগত বিধান যেখানে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণের অধিকার দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ১০২ অনুচ্ছেদ মূলত একটি পদ্ধতিগত বিষয়, যেখানে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণে হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন নির্দেশনা, রিট বা আদেশ প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৪৪: মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ
(১) এই ভাগে প্রদত্ত অধিকারসমূহ বলবৎ করিবার জন্য এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা রুজু করিবার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা হইল।
(২) এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটাইয়া সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোন আদালতকে তাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ঐ সকল বা উহার যে কোন ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করিতে পারিবেন।
Article 44: Enforcement of fundamental rights
(1) The right to move the High Court Division in accordance with clause (1) of article 102, for the enforcement of the rights conferred by this Part is guaranteed.
(2) Without prejudice to the powers of the High Court Division under article 102, Parliament may by law empower any other court, within the local limits of its jurisdiction, to exercise all or any of those powers.
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮-এ সুপ্রীম কোর্টকে "কোর্ট অব রেকর্ড" (Court of Record) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান রয়েছে:
১. কোর্ট অব রেকর্ডের মর্যাদা:
- সুপ্রীম কোর্টের সকল রায়, আদেশ ও কার্যক্রম রেকর্ড হিসেবে সংরক্ষিত হয় এবং এগুলো আইনগত প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হয়।
- ভবিষ্যতে কোনো মামলায় এই রেকর্ডগুলি রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
২. অবমাননার ক্ষমতা:
- কোর্ট অব রেকর্ড হিসেবে সুপ্রীম কোর্টের নিজস্ব মর্যাদা রক্ষার অধিকার রয়েছে।
- আদালতের অবমাননা (Contempt of Court) করলে সুপ্রীম কোর্ট তদন্ত করে শাস্তি দিতে পারে (জরিমানা বা কারাদণ্ড)।
ব্যাখ্যা
⇒ ল্যাটিন আইনি ম্যাক্সিম "Injuria sine damno" এর অর্থ হলো "Injury without damage" বা ক্ষতি ছাড়া আঘাত। এই ম্যাক্সিমটি আইনের ক্ষেত্রে বোঝায় যে, কোনো ব্যক্তির আইনি অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে (অর্থাৎ, একটি "আঘাত" বা "injury" সংঘটিত হয়েছে), কিন্তু সেই লঙ্ঘনের ফলে কোনো বাস্তব ক্ষতি (damage) হয়নি। এমন ক্ষেত্রেও আইনি প্রতিকার (remedy) পাওয়া যেতে পারে, কারণ আইনি অধিকার লঙ্ঘনই প্রতিকারের জন্য যথেষ্ট।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ অনুমতি ছাড়া অন্যের সম্পত্তিতে প্রবেশ করে (trespass), তবে সম্পত্তির মালিক কোনো বাস্তব ক্ষতি না হলেও মামলা করতে পারেন, কারণ তাঁর অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এই নীতিটি আইনের ক্ষেত্রে অধিকার রক্ষার গুরুত্বকে জোর দেয়।
অন্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
ক) Injury with damage: এটি ভুল, কারণ ম্যাক্সিমটি ক্ষতি ছাড়া আঘাতের কথা বলে, ক্ষতিসহ আঘাতের কথা নয়।
গ) Damage without injury: এটি উল্টো ধারণা। এটি বোঝায় ক্ষতি হয়েছে কিন্তু আইনি অধিকার লঙ্ঘিত হয়নি, যা "Damnum sine injuria" নামে পরিচিত।
ঘ) No injury, no remedy: এটি ভুল, কারণ এই ম্যাক্সিমটি বলে যে আঘাত (injury) থাকলেই প্রতিকার পাওয়া যায়, এমনকি ক্ষতি না হলেও।
ব্যাখ্যা
(১) অপরাধের দায়যুক্ত কার্যসংঘটনকালে বলবৎ ছিল, এইরূপ আইন ভঙ্গ করিবার অপরাধ ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে না এবং অপরাধ-সংঘটনকালে বলবৎ সেই আইনবলে যে দণ্ড দেওয়া যাইতে পারিত, তাঁহাকে তাহার অধিক বা তাহা হইতে ভিন্ন দণ্ড দেওয়া যাইবে না।
(২) এক অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তিকে একাধিকবার ফৌজদারীতে সোপর্দ ও দণ্ডিত করা যাইবে না।
(৩) ফৌজদারী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচারলাভের অধিকারী হইবেন।
(৪) কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাইবে না।
(৫) কোন ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাইবে না কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া যাইবে না কিংবা কাহারও সহিত অনুরূপ ব্যবহার করা যাইবে না।
(৬) প্রচলিত আইনে নির্দিষ্ট কোন দণ্ড বা বিচারপদ্ধতি সম্পর্কিত কোন বিধানের প্রয়োগকে এই অনুচ্ছেদের (৩) বা (৫) দফার কোন কিছুই প্রভাবিত করিবে না।
Article 35: Protection in respect of trial and punishment
(1) No person shall be convicted of any offence except for violation of a law in force at the time of the commission of the act charged as an offence, nor be subjected to a penalty greater than, or different from, that which might have been inflicted under the law in force at the time of the commission of the offence.
(2) No person shall be prosecuted and punished for the same offence more than once.
(3) Every person accused of a criminal offence shall have the right to a speedy and public trial by an independent and impartial Court or tribunal established by law.
(4) No person accused of any offence shall be compelled to be a witness against himself.
(5) No person shall be subjected to torture or to cruel, inhuman, or degrading punishment or treatment.
(6) Nothing in clause (3) or clause (5) shall affect the operation of any existing law which prescribes any punishment or procedure for trial.
ব্যাখ্যা
- গঠিত হয়- ৬ অক্টোবর, ২০২৪
- কমিশনের প্রধান- অধ্যাপক আলী রীয়াজ
- মোট সদস্য- ৯ জন
• উল্লেখযোগ্য সুপারিশসমূহ:
- সাংবিধানিক নাম: জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ (People's Republic of Bangladesh),
- নাগরিকত্ব: বাংলাদেশি,
- মূলনীতি: ৪টি (সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র),
- সংসদ: দ্বিকক্ষবিশিষ্ট (নিম্নকক্ষ: ৪০০টি আসন; উচ্চকক্ষ: ১০৫টি আসন),
- মেয়াদ: ৪ বছর (সরকারের মেয়াদ, সংসদের মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ),
- সংসদীয় প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স: ২১ বছর।
উৎস: সংবিধান সংস্কার কমিশন।
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনসাধারণের নৈতিকতা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা নিষেধ-সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের
(ক) প্রবেশ, তল্লাশী ও আটক হইতে স্বীয় গৃহে নিরাপত্তা লাভের অধিকার থাকিবে; এবং
(খ) চিঠিপত্রের ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার থাকিবে।
Article 43: Protection of home and correspondence
Every citizen shall have the right, subject to any reasonable restrictions imposed by law in the interests of the security of the State, public order, public morality or public health –
(a) to be secured in his home against entry, search and seizure; and
(b) to the privacy of his correspondence and other means of communication.
ব্যাখ্যা
The control (including the power of posting, promotion and grant of leave) and discipline of persons employed in the judicial service and magistrates exercising judicial functions shall vest in the President and shall be exercised by him in consultation with the Supreme Court.
[বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচারবিভাগীয় দায়িত্বপালনে রত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল- নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরীসহ) ও শৃংখলাবিধান রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং সুপ্রীম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হইবে।]
ব্যাখ্যা
সুপ্রিম কোর্ট:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার বর্ণিত হয়েছে।
- সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, আপীল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হবে।
- সুপ্রিম কোর্টের এই দুই বিভাগের পৃথক এখতিয়ার রয়েছে।
- সংবিধান ও সংবিধানের পাশাপাশি দেশের সাধারণ আইন (সংসদ কর্তৃক পাশকৃত আইন) এই এখতিয়ারের উৎস।
- ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে (১৬তম সংশোধনী বাতিলের পর), সুপ্রীম কোর্টের বিচারকদের অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে অপসারণের জন্য সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিল (SJC) তদন্ত করে রাষ্ট্রপতিকে সুপারিশ করে। SJC-এর চেয়ারম্যান প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য সদস্য আপীল বিভাগের সিনিয়র বিচারক। এই রায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে অ্যাপিলেট ডিভিশন কর্তৃক নিশ্চিত হয়েছে, যা বিচারবিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সংসদের ক্ষমতা বাতিল করে।
অর্থাৎ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের সুপারিশ করার জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল (Supreme Judicial Council) হলো মূল কর্তৃপক্ষ।
- আপিল বিভাগের এক রায়ের মাধ্যমে এই কাউন্সিলকে পুনরায় বিচারক অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
- এর মাধ্যমে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতি অপসারণের যে ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছিল, সেটি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে নেওয়া হয়েছে।
ব্যাখ্যা
কোন ব্যক্তি কোন সরকারী পদ দাবী করতে পারে না যদি না উক্ত পদে তার কোন আইনগত দাবী থাকে। কোন ব্যক্তি কোন সরকারী পদে আসীন থাকলে বা আছে বলে মনে হলে, সেই ক্ষেত্রে কোন কর্তৃত্ববলে উক্ত ব্যক্তি উক্ত পদ দাবী করছে তা জানের চেয়ে হাইকার্ট বিভাগ কারণ দর্শানোর রিট জারী করতে পারে।
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের বিধান:- কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা:
(২) হাইকোর্ট বিভাগের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আইনের দ্বারা অন্য কোন সমফলপ্রদ বিধান করা হয় নাই, তাহা হইলে
(খ) যে কোন ব্যক্তির আবেদনক্রমে-
(অ) আইনসংগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে বা বেআইনী উপায়ে কোন ব্যক্তিকে প্রহরায় আটক রাখা হয় নাই বলিয়া যাহাতে উক্ত বিভাগের নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইতে পারে, সেইজন্য প্রহরায় আটক উক্ত ব্যক্তিকে উক্ত বিভাগের সম্মুখে আনয়নের নির্দেশ প্রদান করিয়া, অথবা
(আ) কোন সরকারি পদে আসীন বা আসীন বলিয়া বিবেচিত কোন ব্যক্তিকে তিনি কোন্ কর্তৃত্ববলে অনুরূপ পদমর্যাদায় অধিষ্ঠানের দাবী করিতেছেন, তাহা প্রদর্শনের নির্দেশ প্রদান করিয়া উক্ত বিভাগ আদেশদান করিতে পারিবেন।
ব্যাখ্যা
(১) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হইলে এবং তাঁহার বয়স পঁচিশ বৎসর পূর্ণ হইলে এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত বিধান-সাপেক্ষে তিনি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন।
(২) কোন ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি
(ক) কোন উপযুক্ত আদালত তাঁহাকে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা করেন;
(খ) তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন;
(গ) তিনি কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন;
(ঘ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত হইয়া থাকেন;
(চ) আইনের দ্বারা পদাধিকারীকে অযোগ্য ঘোষণা করিতেছে না, এমন পদ ব্যতীত তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন; অথবা
(ছ) তিনি কোন আইনের দ্বারা বা অধীন অনুরূপ নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হন।
(২ক) এই অনুচ্ছেদের (২) দফার (গ) উপ-দফা তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হইয়া কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করিলে এবং পরবর্তীতে উক্ত ব্যক্তি-
(ক) দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে, বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করিলে; কিংবা
(খ) অন্য ক্ষেত্রে, পুনরায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করিলে-
এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে তিনি বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন না।
(৩) এই অনুচেছদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে কোন ব্যক্তি কেবল রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপ-মন্ত্রী হইবার কারণে প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত বলিয়া গণ্য হইবেন না।
(৪) কোন সংসদ-সদস্য তাঁহার নির্বাচনের পর এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত অযোগ্যতার অধীন হইয়াছেন কি না কিংবা এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে কি না, সে সম্পর্কে কোন বিতর্ক দেখা দিলে শুনানী ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের নিকট প্রেরিত হইবে এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।
(৫) এই অনুচ্ছেদের (৪) দফার বিধানাবলী যাহাতে পূর্ণ কার্যকরতা লাভ করিতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতাদানের জন্য সংসদ যেরূপ প্রয়োজন বোধ করিবেন, আইনের দ্বারা সেইরূপ বিধান করিতে পারিবেন।
ব্যাখ্যা
⇒ প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোন ব্যক্তি বা
⇒ অন্য কোন ব্যক্তি যে জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের প্রয়োজনে; কিংবা
⇒ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে কোন অঞ্চলে শৃঙ্খলা-রক্ষা বা পুনর্বহালের প্রয়োজনে কোন কার্য করে।
সংসদ আইনের দ্বারা উল্লেখিত ব্যক্তিকে দায়মুক্ত করতে পারবে কিংবা ঐ অঞ্চলে প্রদত্ত কোন দণ্ডাদেশ, দণ্ডও বা বাজেয়াপ্তির আদেশকে কিংবা অন্য কোন কার্যকে বৈধ করে নিতে পারবে। এমন আইন সংবিধানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে এই কারণে অসাংবিধানিক হবে না।
অনুচ্ছেদ ৪৬: দায়মুক্তি-বিধানের ক্ষমতা
এই ভাগের পূর্ববর্ণিত বিধানাবলীতে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোন ব্যক্তি বা অন্য কোন ব্যক্তি জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের প্রয়োজনে কিংবা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে কোন অঞ্চলে শৃঙ্খলা-রক্ষা বা পুনর্বহালের প্রয়োজনে কোন কার্য করিয়া থাকিলে সংসদ আইনের দ্বারা সেই ব্যক্তিকে দায়মুক্ত করিতে পারিবেন কিংবা ঐ অঞ্চলে প্রদত্ত কোন দণ্ডাদেশ, দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির আদেশকে কিংবা অন্য কোন কার্যকে বৈধ করিয়া লইতে পারিবেন।
Article 46: Power to provide indemnity
Notwithstanding anything in the foregoing provisions of this Part, Parliament may by law make provision for indemnifying any person in the service of the Republic or any other person in respect of any act done by him in connection with the national liberation struggle or the maintenance or restoration of order in any area in Bangladesh or validate any sentence passed, punishment inflicted, forfeiture ordered, or other act done in any such area.
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা
(১) জরুরী-অবস্থা ঘোষণার কার্যকরতা-কালে প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা ঘোষণা করিতে পারিবেন যে, আদেশে উল্লেখিত এবং সংবিধানের তৃতীয় ভাগের অন্তর্গত মৌলিক অধিকারসমূহ বলবৎকরণের জন্য আদালতে মামলা রুজু করিবার অধিকার এবং আদেশে অনুরূপভাবে উল্লেখিত কোন অধিকার বলবৎকরণের জন্য কোন আদালতে বিবেচনাধীন সকল মামলা জরুরী-অবস্থা ঘোষণার কার্যকরতা-কালে কিংবা উক্ত আদেশের দ্বারা নির্ধারিত স্বল্পতর কালের জন্য স্থগিত থাকিবে।
(২) সমগ্র বাংলাদেশ বা উহার যে কোন অংশে এই অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত আদেশ প্রযোজ্য হইতে পারিবে।
(৩) এই অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত প্রত্যেক আদেশ যথাসম্ভব শীঘ্র সংসদে উপস্থাপিত হইবে।
Article 141C: Suspension of enforcement of fundamental rights during emergencies
(1) While a Proclamation of Emergency is in operation, the President may, on the written advice of the Prime Minister, by order, declare that the right to move any court for the enforcement of such of the rights conferred by Part III of this Constitution as may be specified in the order, and all proceedings pending in any court for the enforcement of the right so specified, shall remain suspended for the period during which the Proclamation is in force or for such shorter period as may be specified in the order.
(2) An order made under this article may extend to the whole of Bangladesh or any part thereof.
(3) Every order made under this article shall, as soon as may be, be laid before Parliament.
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে, শপথগ্রহণ বা ঘোষণাপত্র পাঠ করানোর ক্ষমতা শুধুমাত্র স্পীকার, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান বিচারপতি-কে দেওয়া হয়েছে।
স্পীকার: রাষ্ট্রপতি ও সংসদ-সদস্যদের শপথ পড়ান।
রাষ্ট্রপতি: প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার ও প্রধান বিচারপতির শপথ পড়ান।
প্রধান বিচারপতি: সুপ্রীম কোর্টের অন্যান্য বিচারক, সরকারী কর্মকমিশনের সদস্য, মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনারের শপথ পড়ান।
তবে প্রধানমন্ত্রী কোনো ব্যক্তিকে শপথ পড়ানোর ক্ষমতা সংবিধানের তৃতীয় তফশিলে দেওয়া হয়নি।
⇒ তৃতীয় তফসিল:
- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ৯টি পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তির শপথগ্রহণ বা ঘোষনাপত্র পাঠের বিষয় উল্লেখ আছে।
- শপথগ্রহণ বা ঘোষণাপত্র পাঠ করানোর ক্ষমতা ৩ জন ব্যক্তিকে দেওয়া হয়ছে।
- যথা- স্পীকার , রাষ্ট্রপতি , প্রধান বিচারপতি।
⇒ স্পীকার কর্তৃক - রাষ্ট্রপতি, সংসদ-সদস্য;
⇒ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক - প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার, প্রধান বিচারপতি;
⇒ প্রধান বিচারপতি কর্তৃক - সুপ্রীম কোর্টের অন্যান্য বিচারক, সরকারী কর্মকমিশনের সদস্য, মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার।
ব্যাখ্যা
(1) This Constitution may be cited as the Constitution of the People's Republic of Bangladesh and shall come into force on the sixteenth day of December, 1972, in this Constitution referred to as the commencement of this Constitution.
(2) There shall be an authentic text of this Constitution in Bengali, and an authentic text of an authorised translation in English, both of which shall be certified as such by the Speaker of the Constituent Assembly.
(3) A text certified in accordance which clause (2) shall be conclusive evidence of the provisions of this Constitution:
Provided that in the event of conflict between the Bengali and the English text, the Bengali text shall prevail.
ব্যাখ্যা
কোন অর্থ বিল, অথবা সরকারী অর্থ ব্যয়ের প্রশ্ন জড়িত রহিয়াছে এমন কোন বিল রাষ্ট্রপতির সুপারিশ ব্যতীত সংসদে উত্থাপন করা যাইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন অর্থ বিলে কোন কর হ্রাস বা বিলোপের বিধান-সংবলিত কোন সংশোধনী উত্থাপনের জন্য এই অনুচ্ছেদের অধীন সুপারিশের প্রয়োজন হইবে না।
⇒ Article 82 of The Constitution of the People's Republic of Bangladesh: Recommendation for financial measures:
No Money Bill, or any Bill which involves expenditure from public moneys, shall be introduced into Parliament except on the recommendation of the President:
Provided that in any Money Bill no recommendation shall be required under this article for the moving of an amendment making provision for the reduction or abolition of any tax.
ব্যাখ্যা
প্রথম তফসিল- অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন;
দ্বিতীয় তফসিল- রাষ্ট্রপতি-নির্বাচন; (বিলুপ্ত)
তৃতীয় তফসিল- শপথ ও ঘোষণা;
চতুর্থ তফসিল- ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী;
পঞ্চম তফসিল- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ;
ষষ্ঠ তফসিল- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা (Declaration of Independence);
সপ্তম তফসিল- ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল তারিখে মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
ব্যাখ্যা
→ সাধারণভাবে, সংসদের মেয়াদ প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে ৫ বছর। তবে রাষ্ট্রপতি ভাঙার আগে না দিলে, ৫ বছর শেষ হলে সংসদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যাবে।
→ যদি দেশ যুদ্ধকালীন অবস্থায় থাকে, তাহলে সংসদের মেয়াদ আইন দ্বারা এককালীন সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
→ যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, বর্ধিত মেয়াদ ৬ মাসের বেশি হতে পারবে না।
ব্যাখ্যা
⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদের বিধান: নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সহায়তাদান:
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে।
Article 126. Executive authorities to assist Election Commission:
It shall be the duty of all executive authorities to assist the Election Commission in the discharge of its functions.
ব্যাখ্যা
English Meaning: “No punishment without law.”
বাংলা অর্থ: আইন ছাড়া কোনো শাস্তি নেই।
মূলনীতি:
এই প্রবচনের মূল অর্থ হলো, কেউ আইন দ্বারা নির্ধারিত অপরাধ না করেই শাস্তি পেতে পারবে না। অর্থাৎ, অপরাধ এবং শাস্তি উভয়ই আইন দ্বারা পূর্বনির্ধারিত হতে হবে। যে কোনো শাস্তি প্রয়োগ করার আগে, সংশ্লিষ্ট আইন বা বিধান দ্বারা সেই কার্যকে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া থাকতে হবে। আইনকে অনুসরণ না করে ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া অবৈধ এবং সংবিধানের পরিপন্থী। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে “Nulla poena sine lege” নীতি মূলনীতি হিসেবে স্বীকৃত।
ব্যাখ্যা
অর্থাৎ সংবিধানে এই তিন ধরনের মালিকানা-ব্যবস্থার কথা বলা আছে।
ব্যাখ্যা
বিচারবিভাগীয় পদে বা বিচার বিভাগীয় দায়িত্বপালনকারী ম্যাজিস্ট্রেট পদে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক উক্ত উদেশ্যে প্রণীত বিধিসমূহ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নিয়োগদান করিবেন।
⇒ Article 115. Appointments to subordinate courts:
Appointments of persons to offices in the judicial service or as magistrates exercising judicial functions shall be made by the President in accordance with rules made by him in that behalf.
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮(৩) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া রাষ্ট্রপতি তাঁর অন্য সকল দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী পালন করেন।
- অতএব, সঠিক উত্তর খ) প্রধানমন্ত্রী।
⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮ এর বিধান রাষ্ট্রপতি:
(১) বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন।
(২) রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করিবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাঁহাকে প্রদত্ত ও তাঁহার উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করিবেন।
(৩) এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তাঁহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোন পরামর্শদান করিয়াছেন কি না এবং করিয়া থাকিলে কি পরামর্শ দান করিয়াছেন, কোন আদালত সেই সম্পর্কে কোন প্রশ্নের তদন্ত করিতে পারিবেন না।
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৬: নাগরিকত্ব-
(১) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে।
(২) বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশি বলিয়া পরিচিত হইবেন।
Article 6: Citizenship-
(1) The citizenship of Bangladesh shall be determined and regulated by law.
(2) The people of Bangladesh shall be known as Bangalees as a nation and the citizens of Bangladesh shall be known as Bangladeshies.
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করা হয়।
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
ব্যাখ্যা
প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মুল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।
Article 11: Democracy and human rights
The Republic shall be a democracy in which fundamental human rights and freedoms and respect for the dignity and worth of the human person shall be guaranteed, and in which effective participation by the people through their elected representatives in administration at all levels shall be ensured.
• সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদের শুরুতে সুস্পষ্ট করা হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্র হিসাবে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হবে। সংবিধানের অন্যতম মূলনীতি গণতন্ত্র। ১১ অনুচ্ছেদে 'প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র' বিধান করার মাধ্যমে গণতন্ত্র যে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সেটারই প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। সেই সাথে, ১১ অনুচ্ছেদে কতিপয় বিষয়ের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে-
⇒ মৌলিক মানবাধিকার;
⇒ স্বাধীনতা; এবং
⇒ মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ।
অন্যদিকে, ১১ অনুচ্ছেদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসনে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা
ভারতীয় সুপ্রীমকোর্ট Rule of Harmonious Construction নীতির নিম্নরূপ ব্যাখ্যা দিয়েছেন:
(১) কোনো আইনে দুটি ধারার প্রয়োগে যদি দেখা যায়, ধারা দু'টি একে অন্যের সাথে বিরোধপূর্ণ; তাহলে ধারা দু'টি এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে, যেন ধারা দুটিকে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রয়োগ করা যায়। অর্থাৎ, এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে যেন উভয় ধারা কার্যকর হয়।
(২) একটি ধারার বিধানকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না, যাতে অন্য কোনো ধারার বিধান অকার্যকর বা সাংঘর্ষিক হয়।
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
• সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে আইনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে-
"আইন" অর্থ কোন আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যে কোন প্রথা বা রীতি;
⇒ “প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত” কেবল সরকারি নীতি বা প্রশাসনিক নির্দেশনা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যার আইনি বল বা আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকে না, যতক্ষণ না তা কোনো আইন বা বিধির অধীনে প্রণীত হয়। তাই, এটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫২ অনুযায়ী “আইন” শব্দের অন্তর্ভুক্ত নয়।
Article 152:
“law” means any Act, ordinance, order, rule, regulation, bye law, notification or other legal instrument, and any custom or usage, having the force of law in Bangladesh;
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫২:
"রাষ্ট্র" বলিতে সংসদ, সরকার ও সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষ অন্তর্ভুক্ত।
Article 152: Interpretation clause-
“the State” includes Parliament, the Government and statutory public authorities;
ব্যাখ্যা
⇒ "Amicus Curiae" একটি ল্যাটিন আইনি Maxim, যার অর্থ "আদালতের বন্ধু" (Friend of the Court)। এটি এমন একজন ব্যক্তি বা সংস্থাকে বোঝায় যিনি কোনো মামলার সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট না হয়েও আদালতের অনুরোধে বা স্বেচ্ছায় মামলার বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে পরামর্শ, তথ্য, বা আইনি বিশ্লেষণ প্রদান করেন। এই সহায়তা সাধারণত জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলায় বা জটিল আইনি প্রশ্নে আদালতের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হয়।
অর্থাৎ "Amicus Curiae" বলতে আদালতের বন্ধু বোঝানো হয়। তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) আদালতের বন্ধু।
ব্যাখ্যা
(২) গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
(2) The State shall adopt effective measures to prevent prostitution and gambling.
ব্যাখ্যা
সংসদের যে কোন আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে এবং আপীল বিভাগ কর্তৃক প্রণীত যে কোন বিধি-সাপেক্ষে আপীল বিভাগের কোন ঘোষিত রায় বা প্রদত্ত আদেশ পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা উক্ত বিভাগের থাকিবে।
Article 105- Review of judgments or orders by Appellate Division:
The Appellate Division shall have power, subject to the provisions of any Act of Parliament and of any rules made by that division to review any judgment pronounced or order made by it.
ব্যাখ্যা
- এই আইনটিকে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা (retrospective effect) দিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়েছে বলে ঘোষণা করেন।
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮(২)-এ (স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে) যে, "গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।"
- এই অনুচ্ছেদটি "জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা" বিষয়কের অধীনে অন্তর্ভুক্ত, যেখানে রাষ্ট্রকে জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা রক্ষার জন্য এই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা:
(১) জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলে গণ্য করবে এবং বিশেষত: আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতীত মদ অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
(২) গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
---------
Article 18: Public health and morality:
(1) The State shall regard the raising of the level of nutrition and the improvement of public health as among its primary duties, and in particular shall adopt effective measures to prevent the consumption, except for medical purposes or for such other purposes as may be prescribed by law, of alcoholic and other intoxicating drinks and of drugs which are injurious to health.
(2) The State shall adopt effective measures to prevent prostitution and gambling.
ব্যাখ্যা
All citizens are equal before law and are entitled to equal protection of law.
অনুচ্ছেদ ২৭: আইনের দৃষ্টিতে সমতা-
সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
• ২৭ অনুচ্ছেদে, আইনের দৃষ্টিতে সমান এই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে যে- প্রচলিত আইন কোন ব্যক্তি বিশেষের অনুকূলে কোন বিশেষ সুবিধা প্রদান করবে না। দেশের প্রচলিত আইনের শর্ত সাপেক্ষে সকলে সমভাবে সমান এবং কোন ব্যক্তি তার মর্যাদা বা অবস্থা যা হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে না এই মর্মে ২৭ অনুচ্ছেদ ঘোষণা করেছে। এই অনুচ্ছেদ আইনের শাসন [Rule of Law] নীতি প্রতিফলন করে।
আইনের সমান আশ্রয় লাভ বলতে বোঝায়, একই অবস্থায় বিদ্যমান সকল ব্যক্তির জন্য একই আইন অভিন্নভাবে এবং কোন প্রকার বৈষম্য ব্যতীত প্রয়োগ করা। অর্থাৎ সমান প্রেক্ষাপটে সমান আচরণ বা সমভাবে বিবেচনা করা। সমানদের মধ্যে আইনও সমান হবে এবং সমভাবে প্রয়োগ হবে।
ব্যাখ্যা
⇒ প্রশ্নে উল্লিখিত বিবৃতিটি "Rule of Harmonious Construction" বা "আইন ব্যাখ্যার সামঞ্জস্যমূলক নীতি"-এর মূল সংজ্ঞা।
- Rule of Harmonious Construction: এই নীতি অনুযায়ী, যদি কোনো আইনের দুটি বা ততোধিক বিধান পরস্পরবিরোধী মনে হয়, তবে সেই বিধানগুলোকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে যাতে সেগুলো পরস্পরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে এবং একই সাথে কার্যকর হতে পারে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো আইনের কোনো অংশকে বাতিল বা অকার্যকর না করে সম্পূর্ণ আইনটিকে একটি সুসংবদ্ধ পুরোটা হিসেবে প্রয়োগ করা।
ভারতীয় সুপ্রীমকোর্ট Rule of Harmonious Construction নীতির নিম্নরূপ ব্যাখ্যা দিয়েছেন:
(১) কোনো আইনে দুটি ধারার প্রয়োগে যদি দেখা যায়, ধারা দু'টি একে অন্যের সাথে বিরোধপূর্ণ; তাহলে ধারা দু'টি এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে, যেন ধারা দুটিকে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রয়োগ করা যায়। অর্থাৎ, এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে যেন উভয় ধারা কার্যকর হয়।
(২) একটি ধারার বিধানকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না, যাতে অন্য কোনো ধারার বিধান অকার্যকর বা সাংঘর্ষিক হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো:
ক) Rule of Ejusdem Generis: এই নীতি প্রয়োগ করা হয় যখন কিছু নির্দিষ্ট শব্দের পরে 'অন্যান্য' বা 'প্রভৃতি' জাতীয় সাধারণ শব্দ ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে সাধারণ শব্দটিকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট শব্দগুলোর মতো একই প্রকৃতির বা জাতীয় বস্তুকে বোঝাতে ব্যাখ্যা করা হয়।
খ) Rule of Literal Interpretation: এই নীতি অনুযায়ী, আইনের শব্দগুলোকে তাদের সাধারণ, সাধারণ ও ব্যাকরণগত অর্থে বুঝতে হবে। যদি শব্দের অর্থ পরিষ্কার থাকে, তবে আদালতকে সেই অর্থ অনুযায়ীই রায় দিতে হবে, ফলাফল যাই হোক না কেন।
গ) Rule of Strict Construction: এই নীতিতে আইনের বিধানকে সংকীর্ণভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। সাধারণত ফৌজদারি আইন, কর আইন বা কোনো ব্যক্তির অধিকার হরণকারী আইনের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রয়োগ করা হয়।
ব্যাখ্যা
(১) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোন আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন।
(২) একাধিক নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া নির্বাচন কমিশন গঠিত হইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাহার সভাপতিরূপে কার্য করিবেন।
(৩) এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে কোন নির্বাচন কমিশনারের পদের মেয়াদ তাঁহার কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসরকাল হইবে এবং
(ক) প্রধান নির্বাচন কমিশনার-পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, এমন কোন ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন না;
(খ) অন্য কোন নির্বাচন কমিশনার অনুরূপ পদে কর্মাবসানের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনাররূপে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন, তবে অন্য কোনভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন না।
(৪) নির্বাচন কমিশন দায়িত্বপালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন এবং কেবল এই সংবিধান ও আইনের অধীন হইবেন।
(৫) সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশনারদের কর্মের শর্তাবলী রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ হইবে; তবে শর্ত থাকে যে, সুপ্রীম কোর্টের বিচারক যেরূপ পদ্ধতি ও কারণে অপসারিত হইতে পারেন, সেইরূপ পদ্ধতি ও কারণ ব্যতীত কোন নির্বাচন কমিশনার অপসারিত হইবেন না।
(৬) কোন নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করিয়া স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
ব্যাখ্যা
প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে প্রধান বিচারপতি তাঁহার দায়িত্বপালনে অসমর্থ বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে ক্ষেত্রমত অন্য কোন ব্যক্তি অনুরূপ পদে যোগদান না করা পর্যন্ত কিংবা প্রধান বিচারপতি স্বীয় কার্যভার পুনরায় গ্রহণ না করা পর্যন্ত আপীল বিভাগের অন্যান্য বিচারকের মধ্যে যিনি কর্মে প্রবীণতম, তিনি অনুরূপ কার্যভার পালন করিবেন।
-------
⇒ Article 97. Temporary appointment of Chief Justice:
If the office of the Chief Justice becomes vacant, or if the President is satisfied that the Chief Justice is, on account of absence, illness, or any other cause, unable to perform the functions of his office, those functions shall, until some other person has entered upon that office, or until the Chief Justice has resumed his duties, as the case may be, be performed by the next most senior Judge of the Appellate Division.
ব্যাখ্যা
ক) সংবিধান লংঘনের জন্য [For Violating Constitution]
খ) গুরুতর অসদারচরণের জন্য [Of grave misconduct]
অভিশংসনের পদ্ধতি:
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করার জন্য সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে অনুক্ষণ অভিযোগের বিবরণ লিপিবদ্ধ করে একটি প্রস্তাবের নোটিশ স্পীকারের নিকট প্রদান করতে হবে। স্পীকারের নিকট অনুরুপ নোটিশ প্রদানের দিন হতে চৌদ্দ (১৪) দিনের পূর্বে বা ত্রিশ দিনের পর এই প্রস্তাব আলোচিত হতে পারবে এবং সংসদ অধিবেশনরত না থাকলে স্পীকার অবিলম্বে সংসদ আহ্বান করবে। অভিযোগ-বিবেচনাকালে রাষ্ট্রপতির উপস্থিত থাকার এবং প্রতিনিধি প্রেরণের অধিকার থাকবে। অভিযোগ-বিবেচনার পর মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলে ঘোষণা করে সংসদ কোন প্রস্তাব গ্রহণ করলে, প্রস্তাব গ্রহণ হওয়ার তারিখ হতে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।
• অনুচ্ছেদ ৫২: রাষ্ট্রপতির অভিশংসন
(১) এই সংবিধান লংঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করা যাইতে পারিবে; ইহার জন্য সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে অনুরূপ অভিযোগের বিবরণ লিপিবদ্ধ করিয়া একটি প্রস্তাবের নোটিশ স্পীকারের নিকট প্রদান করিতে হইবে; স্পীকারের নিকট অনুরূপ নোটিশ প্রদানের দিন হইতে চৌদ্দ দিনের পূর্বে বা ত্রিশ দিনের পর এই প্রস্তাব আলোচিত হইতে পারিবে না; এবং সংসদ অধিবেশনরত না থাকিলে স্পীকার অবিলম্বে সংসদ আহবান করিবেন।
(২) এই অনুচ্ছেদের অধীন কোন অভিযোগ তদন্তের জন্য সংসদ কর্তৃক নিযুক্ত বা আখ্যায়িত কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের নিকট সংসদ রাষ্ট্রপতির আচরণ গোচর করিতে পারিবেন।
(৩) অভিযোগ-বিবেচনাকালে রাষ্ট্রপতির উপস্থিত থাকিবার এবং প্রতিনিধি-প্রেরণের অধিকার থাকিবে।
(৪) অভিযোগ-বিবেচনার পর মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলিয়া ঘোষণা করিয়া সংসদ কোন প্রস্তাব গ্রহণ করিলে প্রস্তাব গৃহীত হইবার তারিখে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইবে।
(৫) এই সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ-অনুযায়ী স্পীকার কর্তৃক রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব-পালনকালে এই অনুচ্ছেদের বিধানাবলী এই পরিবর্তন-সাপেক্ষে প্রযোজ্য হইবে যে, এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় স্পীকারের উল্লেখ ডেপুটি স্পীকারের উল্লেখ বলিয়া গণ্য হইবে এবং (৪) দফায় রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইবার উল্লেখ স্পীকারের পদ শূন্য হইবার উল্লেখ বলিয়া গণ্য হইবে; এবং (৪) দফায় বর্ণিত কোন প্রস্তাব গৃহীত হইলে স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে বিরত হইবেন।
Article 52: Impeachment of the President
(1) The President may be impeached on a charge of violating this Constitution or of grave misconduct, preferred by a notice of motion signed by a majority of the total number of members of Parliament and delivered to the Speaker, setting out the particulars of the charge, and the motion shall not be debated earlier than fourteen nor later than thirty days after the notice is so delivered; and the Speaker shall forthwith summon Parliament if it is not in session.
(2) The conduct of the President may be referred by Parliament to any court, tribunal or body appointed or designated by Parliament for the investigation of charge under this article.
(3) The President shall have the right to appear and to be represented during the consideration of the charge.
(4) If after the consideration of the charge a resolution is passed by Parliament by the votes of not less than two thirds of the total number of members declaring that the charge has been substantiated, the President shall vacate his office on the date on which the resolution is passed.
(5) Where the Speaker is exercising the functions of the President under article 54 the provisions of this article shall apply subject to the modifications that the reference to the Speaker in clause (1) shall be construed as a reference to the Deputy Speaker, and that the reference in clause (4) to the vacation by the President of his office shall be construed as a reference to the vacation by the Speaker of his office as Speaker; and on the passing of a resolution such as is referred to in clause (4) the Speaker shall cease to exercise the functions of President.
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
প্রথম অধ্যায়- প্রজাতন্ত্র (The Republic);
দ্বিতীয় অধ্যায়- রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি (Principles of State Policy);
তৃতীয় অধ্যায়- মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights);
চতুর্থ অধ্যায়- নির্বাহী বিভাগ (The Executive);
পঞ্চম অধ্যায়- আইনসভা (The Legislature);
ষষ্ঠ অধ্যায়- বিচার বিভাগ (The Judiciary);
সপ্তম অধ্যায়- নির্বাচন (Elections);
অষ্টম অধ্যায়- মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (Comptroller and Auditor General);
নবম অধ্যায়- বাংলাদেশের কর্মবিভাগ (Public Service of Bangladesh);
নবম-ক ভাগ- জরুরী বিধানাবলী (Emergency Provisions);
দশম অধ্যায়- সংবিধানের সংশোধন (Amendment of the Constitution);
একাদশ অধ্যায়- বিবিধ (Miscellaneous).
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা
- একই আইনের মধ্যে পরস্পর অসংগতিপূর্ণ বা সাংঘর্ষিক বিধান বিদ্যমান থাকলে তাকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে, যেন ঐ আইনের সবগুলো বিধানকে একই সাথে কার্যকর করা যায়।
- আইন ব্যাখ্যার এই নীতিই 'Rule of Harmonious Construction' (আইন ব্যাখ্যার বৈরিতামুক্ত নীতি/সামঞ্জস্যমূলক নীতি) নামে পরিচিত।
- যখন দুটি বা ততোধিক বিধান একে অপরের সাথে বিরোধপূর্ণ মনে হয়, তখন এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়।
- এর মূল উদ্দেশ্য হলো আইনগুলো একে অপরের পরিপূরক হয়ে কাজ করুক, এবং কোনো বিধান অপরটির বিরুদ্ধে না গিয়ে একত্রে কার্যকর থাকুক।
ভারতীয় সুপ্রীমকোর্ট 'Rule of Harmonious Construction' নীতির নিম্নরূপ ব্যাখ্যা দিয়েছেন:
(১) কোনো আইনে দুটি ধারার প্রয়োগে যদি দেখা যায়, ধারা দু'টি একে অন্যের সাথে বিরোধপূর্ণ; তাহলে ধারা দু'টি এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে, যেন ধারা দুটিকে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রয়োগ করা যায়। অর্থাৎ, এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে যেন উভয় ধারা কার্যকর হয়।
(২) একটি ধারার বিধানকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না, যাতে অন্য কোনো ধারার বিধান অকার্যকর বা সাংঘর্ষিক হয়।
ব্যাখ্যা
এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও- (ক) সংসদের আইন-দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা সংশোধিত হইতে পারিবেঃ তবে শর্ত থাকে যে,
(অ) অনুরূপ সংশোধনীর জন্য আনীত কোন বিলের সম্পূর্ন শিরোনামে এই সংবিধানের কোন বিধান সংশোধন করা হইবে বলিয়া স্পষ্টরূপে উল্লেখ না থাকিলে বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা যাইবে না;
(আ) সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরূপ কোন বিলে সম্মতিদানের জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে না;
(খ) উপরি-উক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তাহা উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন, এবং তিনি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
Article 142: Power to amend any provision of the Constitution
Notwithstanding anything contained in this Constitution- (a) any provision thereof may be amended by way of addition, alteration, substitution or repeal by Act of Parliament: Provided that-
(i) no Bill for such amendment shall be allowed to proceed unless the long title thereof expressly states that it will amend a provision of the Constitution;
(ii) no such Bill shall be presented to the President for assent unless it is passed by the votes of not less than two thirds of the total number of members of Parliament;
(b) when a Bill passed as aforesaid is presented to the President for his assent he shall, within the period of seven days after the Bill is presented to him assent to the Bill, and if he fails so to do he shall be deemed to have assented to it on the expiration of that period.
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।
- প্রথম তফসিল : অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন
- দ্বিতীয় তফসিল : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বিলুপ্ত)
- তৃতীয় তফসিল : শপথ ও ঘোষণা
- চতুর্থ তফসিল : ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী
- পঞ্চম তফসিল : বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ
- ষষ্ঠ তফসিল : বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা
- সপ্তম তফসিল : মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৯(২) অনুযায়ী, স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্ব সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
→ সংসদ আইনের দ্বারা নির্ধারণ করবে:
- প্রশাসন ও সরকারি কর্মচারীদের কার্যক্রম
- জনশৃঙ্খলা রক্ষা
- জনসাধারণের কল্যাণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন
অনুচ্ছেদ ৬০ আরও উল্লেখ করে যে, সংসদ স্থানীয় শাসন প্রতিষ্ঠানসমূহকে কর আরোপ, বাজেট প্রস্তুতকরণ এবং নিজস্ব তহবিল রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতা প্রদান করবে।
→ অতএব, স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্ব সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৯ স্থানীয় শাসন:
(১) আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক এককাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হইবে।
(২) এই সংবিধান ও অন্য কোন আইন-সাপেক্ষে সংসদ আইনের দ্বারা যেরূপ নির্দিষ্ট করিবেন, এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় উল্লিখিত অনুরূপ প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান যথোপযুক্ত প্রশাসনিক এককাংশের মধ্যে সেইরূপ দায়িত্ব পালন করিবেন এবং অনুরূপ আইনে নিম্নলিখিত বিষয় সংক্রান্ত দায়িত্ব অন্তর্ভুক্ত হইতে পারিবে:
(ক) প্রশাসন ও সরকারী কর্মচারীদের কার্য;
(খ) জনশৃংখলা রক্ষা;
(গ) জনসাধারণের কার্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন-সম্পর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ স্থানীয় শাসন- ৬০ সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা:
- এই সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের বিধানাবলীকে পূর্ণ কার্যকরতাদানের উদ্দেশ্যে সংসদ আইনের দ্বারা উক্ত অনুচ্ছেদে উল্লিখিত স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে স্থানীয় প্রয়োজনে কর আরোপ করিবার ক্ষমতাসহ বাজেট প্রস্তুতকরণ ও নিজস্ব তহবিল রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতা প্রদান করিবেন।
ব্যাখ্যা
(১) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হইলে এবং তাঁহার বয়স পঁচিশ বৎসর পূর্ণ হইলে এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত বিধান-সাপেক্ষে তিনি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন।
(২) কোন ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি
(ক) কোন উপযুক্ত আদালত তাঁহাকে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা করেন;
(খ) তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন;
(গ) তিনি কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন;
(ঘ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত হইয়া থাকেন;
(চ) আইনের দ্বারা পদাধিকারীকে অযোগ্য ঘোষণা করিতেছে না, এমন পদ ব্যতীত তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন; অথবা
(ছ) তিনি কোন আইনের দ্বারা বা অধীন অনুরূপ নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হন।
(২ক) এই অনুচ্ছেদের (২) দফার (গ) উপ-দফা তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হইয়া কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করিলে এবং পরবর্তীতে উক্ত ব্যক্তি-
(ক) দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে, বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করিলে; কিংবা
(খ) অন্য ক্ষেত্রে, পুনরায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করিলে-
এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে তিনি বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন না।
(৩) এই অনুচেছদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে কোন ব্যক্তি কেবল রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপ-মন্ত্রী হইবার কারণে প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত বলিয়া গণ্য হইবেন না।
(৪) কোন সংসদ-সদস্য তাঁহার নির্বাচনের পর এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত অযোগ্যতার অধীন হইয়াছেন কি না কিংবা এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে কি না, সে সম্পর্কে কোন বিতর্ক দেখা দিলে শুনানী ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের নিকট প্রেরিত হইবে এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।
(৫) এই অনুচ্ছেদের (৪) দফার বিধানাবলী যাহাতে পূর্ণ কার্যকরতা লাভ করিতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতাদানের জন্য সংসদ যেরূপ প্রয়োজন বোধ করিবেন, আইনের দ্বারা সেইরূপ বিধান করিতে পারিবেন।
ব্যাখ্যা
সংশোধনের ভিত্তিতে সংবিধান:
- সংবিধান সংশোধন বা পরিবর্তন নীতির উপর ভিত্তি করে দুই প্রকার হয়ে থাকে।
- সুপরিবর্তনীয় সংবিধান ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান।
• সুপরিবর্তনীয় সংবিধান:
- এ সংবিধান সংশোধন বা পরিবর্তন করা অপেক্ষাকৃত সহজ।
- কোন ধরনের জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই এই সংবিধানের কোন নিয়ম বা ধারা সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায়।
- তবে আইনসভার সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হয়।
- ব্রিটিশ সংবিধান সুপরিবর্তনীয় সংবিধান।
• দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান:
- যে সংবিধানের কোন নিয়ম বা ধারা সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায় না তাই দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান।
- এটি সংশোধনের জন্য জটিল পদ্ধতি অনুসৃত হয়।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যাখ্যা
যে ক্ষেত্রে, গৃহীত হইবার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয় না এইরূপ সংসদের কোন আইন বা প্রবিধি দ্বারা, উক্ত আইন বা প্রবিধি প্রয়োগ সম্পর্কে, বা তদধীন কোন আদালত বা দপ্তর প্রতিষ্ঠা, বা কোন বিচারক বা কর্মকর্তার নিয়োগ সম্পর্কে করণীয় বিষয়ে বিধি বা উপ- আইন প্রণয়ন, বা আদেশ জারী করিবার ক্ষমতা প্রদান করা হয়, সেই ক্ষেত্রে উল্লিখিত ক্ষমতা উক্ত আইন বা প্রবিধি গৃহীত হইবার পরবর্তীতে যে কোন সময়ে প্রয়োগ করা যাইবে; কিন্তু উক্তরূপে প্রণীত বা জারীকৃত বিধি, উপ-আইন বা আদেশ, উক্ত আইন বা প্রবিধি প্রবর্তন হইবার পূর্ব পর্যন্ত কার্যকর হইবে না।
ব্যাখ্যা
(১) "বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট" নামে বাংলাদেশের একটি সর্বোচ্চ আদালত থাকিবে এবং আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ লইয়া তাহা গঠিত হইবে।
(২) প্রধান বিচারপতি (যিনি "বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি" নামে অভিহিত হইবেন) এবং প্রত্যেক বিভাগে আসনগ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতি যেরূপ সংখ্যক বিচারক নিয়োগের প্রয়োজন বোধ করিবেন, সেইরূপ সংখ্যক অন্যান্য বিচারক লইয়া সুপ্রীম কোর্ট গঠিত হইবে।
(৩) প্রধান বিচারপতি ও আপীল বিভাগে নিযুক্ত বিচারকগণ কেবল উক্ত বিভাগে এবং অন্যান্য বিচারক কেবল হাইকোর্ট বিভাগে আসন গ্রহণ করিবেন।
(৪) এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারক বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন।
----------------
⇒ Article 94. Establishment of Supreme Court:
(1) There shall be a Supreme Court for Bangladesh (to be known as the Supreme Court of Bangladesh) comprising the Appellate Division and the High Court Division.
(2) The Supreme Court shall consist of the Chief Justice, to be known as the Chief Justice of Bangladesh, and such number of other Judges as the President may deem it necessary to appoint to each division.
(3) The Chief Justice, and the Judges appointed to the Appellate Division, shall sit only in that division, and the other Judges shall sit only in the High Court Division.
(4) Subject to the provisions of this Constitution the Chief Justice and the other Judges shall be independent in the exercise of their judicial functions.
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ৬৫ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
- 'জাতীয় সংসদ' নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকবে,
- এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইনপ্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হবে,
- তবে শর্ত থাকে যে, সংসদের আইন-দ্বারা যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন বা আইনগত কার্যকরতাসম্পন্ন অন্যান্য চুক্তিপত্র প্রণয়নের ক্ষমতার্পণ হতে এই দফার কোন কিছুই সংসদকে নিবৃত্ত করবে না।
ব্যাখ্যা
মূল ধারণা:
Stare Decisis এর ভিত্তিতে নিম্ন আদালতগুলিকে উচ্চতর আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করতে হয়।
এটি আইনি প্রক্রিয়ায় স্থিতিশীলতা এবং ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে।
উদাহরণ:
যদি একটি উচ্চ আদালত কোনো বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেয়, তবে নিম্ন আদালতগুলো একই ধরনের মামলায় সেই সিদ্ধান্ত অনুসরণ করতে বাধ্য।
এটি নিশ্চিত করে যে একই ধরনের মামলায় ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত না হয়।
অন্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
ক) The reasoning behind the decision:
এটি Ratio Decidendi বোঝায়, যা আদালতের রায়ের পেছনের যুক্তি।
খ) Courts must adhere to statutes in all of their decisions:
আদালত আইন মেনে চলতে বাধ্য, তবে এটি Stare Decisis নয়।
গ) Parliament can overturn decided cases:
সংসদ যদি কোনো আইন প্রণয়ন করে তবে আদালতকে সেই আইন মেনে চলতে হবে, কিন্তু এটি Stare Decisis এর ধারণা নয়।
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১৪১ক: জরুরী-অবস্থা ঘোষণা:
(১) রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এমন জরুরী-অবস্থা বিদ্যমান রহিয়াছে, যাহাতে যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের দ্বারা বাংলাদেশ বা উহার যে কোন অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন, তাহা হইলে তিনি অনধিক একশত কুড়ি দিনের জন্য জরুরী-অবস্থা ঘোষণা করিতে পারিবে: তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ ঘোষণার বৈধতার জন্য ঘোষণার পূর্বেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি-স্বাক্ষর প্রয়োজন হইবে।
(২) জরুরী-অবস্থার ঘোষণা-
(ক) পরবর্তী কোন ঘোষণার দ্বারা প্রত্যাহার করা যাইবে;
(খ) সংসদে উপস্থাপিত হইবে;
(গ) একশত কুড়ি দিন সময়ের অবসানে কার্যকর থাকিবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, যদি সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় অনুরূপ কোন ঘোষণা জারী করা হয় কিংবা এই দফার (গ) উপ-দফায় বর্ণিত এক শত কুড়ি দিনের মধ্যে সংসদ ভাঙ্গিয়া যায়, তাহা হইলে তাহা পুনর্গঠিত হইবার পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে ত্রিশ দিন অতিবাহিত হইবার পূর্বে ঘোষণাটি অনুমোদন করিয়া সংসদে প্রস্তাব গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত ত্রিশ দিনের অবসানে অথবা একশত কুড়ি দিন সময়ের অবসানে, যাহা আগে ঘটে, অনুরূপ ঘোষণা কার্যকর থাকিবে না।
(৩) যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের বিপদ আসন্ন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে, প্রকৃত যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ সংঘটিত হইবার পূর্বে তিনি অনুরূপ যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের জন্য বাংলাদেশ বা উহার যে কোন অংশের নিরাপত্তা বিপন্ন বলিয়া জরুরী-অবস্থা ঘোষণা করিতে পারিবেন।
ব্যাখ্যা
Ante Litem Motam-কে সংক্ষেপে Ante litem-ও লিখা হয়। Ante অর্থ before.
সুতরাং "Ante Litem Motam" অর্থ হলো:
> Before litigation commenced. (মামলা দায়ের করার পূর্বের সময়)।
> The Time or condition before litigation commenced. (বিচার শুরু হওয়ার পূর্বের অবস্থা)।
ব্যাখ্যা
⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদের বিধান অ্যাটর্নি-জেনারেল:
(১) সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হইবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি-জেনারেল পদে নিয়োগদান করিবেন।
(২) অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৩) অ্যাটর্নি-জেনারেলের দায়িত্বপালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তাঁহার বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে।
(৪) রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করিবেন।
- সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কার্যভার গ্রহণের পূর্বে অ্যাটর্নি জেনারেল পদের শপথ নেওয়া আবশ্যক নয়।
ব্যাখ্যা
Res Integra বলতে এমন কোনো আইনি প্রশ্ন বা বিষয়কে বোঝায়, যা এখনও আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত বা রায় দ্বারা নির্ধারিত হয়নি — অর্থাৎ, যা এখনো অনির্ধারিত বা অমীমাংসিত।
অন্যভাবে বলা যায়,
“Res Integra” হলো এমন একটি বিষয়, যেটি এখনো কোনো পূর্ববর্তী মামলার নজির (precedent) দ্বারা আবদ্ধ নয়, ফলে বিচারক নীতি ও যুক্তির ভিত্তিতে নিজস্বভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
উদাহরণ ও মামলা (Case Laws):
➤ Rajendra Kumar Sharma vs. State of Chhattisgarh & Others
ছত্তীসগড় উচ্চ আদালত (High Court) রায় দেয় যে,
এই মামলার বিষয়টি আর res integra নয়, কারণ সুপ্রিম কোর্ট পূর্বে একাধিক মামলায় স্পষ্ট করেছে যে, অস্থায়ী (ad hoc) নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের চাকরিতে থাকার বা পুনর্বহালের কোনো অধিকার নেই।
➤ Prem Chand and Others vs. Union of India and Others
দিল্লির কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল (CAT) রায় দেয় যে,পূর্ববর্তী সময়ে একই বিষয়ে আবেদনকারীরা দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন,তাই বিষয়টি আর নতুন বা অনির্ধারিত নয় (no more res integra)।
➤ Ghulam Qadir Badder & Another vs. State of J&K and Another
জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্ট রায় দেয় যে, আইনের দৃষ্টিতে এই বিষয়টি আর res integra নয় —
কারণ অভিযোগের স্বীকৃতি (cognizance) ও প্রক্রিয়া জারি (issuance of process) অভিযুক্তের কোনো অধিকার হ্রাস করে না;
যতক্ষণ না দোষ প্রমাণিত হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত অভিযুক্ত কেবল অভিযুক্তই থাকেন।
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৭: সংবিধানের প্রাধান্য:
(১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে৷
(২) জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসমঞ্জস হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে৷
Article 7: Supremacy of the Constitution:
(1) All powers in the Republic belong to the people, and their exercise on behalf of the people shall be effected only under, and by the authority of, this Constitution.
(2) This Constitution is, as the solemn expression of the will of the people, the supreme law of the Republic, and if any other law is inconsistent with this Constitution that other law shall, to the extent of the inconsistency, be void.
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা
(১) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক ৪ জন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে এবং রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করবেন ।
(২) প্রধান নির্বাচন কমিশনার সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন ।
(৩) নির্বাচন কমিশনারের পদের মেয়াদ তাঁর কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে ৫ বৎসর হবে এবং
(ক) প্রধান নির্বাচন কমিশনার-পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, এমন কোন ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগলাভের যোগ্য হবেন না;
(খ) অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার অবসরের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনাররূপে নিয়োগলাভের যোগ্য হবেন, তবে অন্য কোনভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগলাভের যোগ্য হবেন না।
(৪) নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন ।
(৫) সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশনারদের কর্মের শর্তাবলী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারণ হবে:
তবে শর্ত থাকে যে, সুপ্রীম কোর্টের বিচারক যেরূপ পদ্ধতি ও কারণে অপসারিত হতে পারেন, সেইরূপ পদ্ধতি ও কারণ ব্যতীত কোন নির্বাচন কমিশনার অপসারিত হবেন না ।
(৬) কোন নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন।
ব্যাখ্যা
- আইনের মূল ভিত্তিসমূহের মধ্যে "Culpae Poena Par Esto" অন্যতম।
- "Culpae Poena Par Esto" একটি Roman maxim; যার অর্থ হলো: Let the punishment fit the crime.
অর্থাৎ, অপরাধের শাস্তি অপরাধের অনুপাতেই হওয়া উচিত/অপরাধ অনুযায়ীই শাস্তি হবে।
ব্যাখ্যা
ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালী জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করিয়া জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করিয়াছেন, সেই বাঙালী জাতির ঐক্য ও সংহতি হইবে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।
Article 9: Nationalism
The unity and solidarity of the Bangalee nation, which, deriving its identity from its language and culture, attained sovereign and independent Bangladesh through a united and determined struggle in the war of independence, shall be the basis of Bangalee nationalism.
ব্যাখ্যা
কোন ব্যক্তি এই সংবিধানের বিধান অনুযায়ী শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিবার এবং শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিবার পূর্বে কিংবা তিনি সংসদ-সদস্য হইবার যোগ্য নহেন বা অযোগ্য হইয়াছেন জানিয়া সংসদ-সদস্যরূপে আসনগ্রহণ বা ভোটদান করিলে তিনি প্রতি দিনের অনুরূপ কার্যের জন্য প্রজাতন্ত্রের নিকট দেনা হিসাবে উসুলযোগ্য এক হাজার টাকা করিয়া অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Article 69: Penalty for member sitting or voting before taking oath:
If a person sits or votes as a member of Parliament before he makes or subscribes the oath or affirmation in accordance with this Constitution, or when he knows that he is not qualified or is disqualified for membership thereof, he shall be liable in respect of each day on which he so sits or votes to a penalty of one thousand taka to be recovered as a debt due to the Republic.
ব্যাখ্যা
- প্রজাতন্ত্রের হিসাব সম্পর্কিত মহা হিসাব-নিরীক্ষকের রিপোর্টসমূহ রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হইবে এবং রাষ্ট্রপতি তাহা সংসদে পেশ করিবার ব্যবস্থা করিবেন।
-----------------------------
⇒ Article 132. Reports of Auditor General to be laid before Parliament:
- The reports of the Auditor General relating to the public accounts of the Republic shall be submitted to the President, who shall cause them to be laid before Parliament.
ব্যাখ্যা
Article 31: Right to protection of law:
To enjoy the protection of the law, and to be treated in accordance with law, and only in accordance with law, is the inalienable right of every citizen, wherever he may be, and of every other person for the time being within Bangladesh, and in particular no action detrimental to the life, liberty, body, reputation or property of any person shall be taken except in accordance with law.
অনুচ্ছেদ ৩১: আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার:
আইনের আশ্রয়লাভ এবং আইনানুযায়ী ও কেবল আইনানুযায়ী ব্যবহারলাভ যে কোন স্থানে অবস্থানরত প্রত্যেক নাগরিকের এবং সাময়িকভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত অপরাপর ব্যক্তির অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং বিশেষতঃ আইনানুযায়ী ব্যতীত এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে না, যাহাতে কোন ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে।
ব্যাখ্যা
(১) কোন সরকারী কর্ম কমিশনের দায়িত্ব হইবে;
(ক) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদানের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিদিগকে মনোনয়নের উদ্দেশ্যে যাচাই ও পরীক্ষা-পরিচালনা;
(খ) এই অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক কোন বিষয় সম্পর্কে কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হইলে কিংবা কমিশনের দায়িত্ব-সংক্রান্ত কোন বিষয় কমিশনের নিকট প্রেরণ করা হইলে সেই সম্বন্ধে রাষ্ট্রপতিকে উপদেশদান; এবং
(গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য দায়িত্বপালন।
(২) সংসদ কর্তৃক প্রণীত কোন আইন এবং কোন কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত কোন প্রবিধানের (যাহা অনুরূপ আইনের সহিত অসমঞ্জস নহে) বিধানাবলী সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রসমূহে কোন কমিশনের সহিত পরামর্শ করিবেন:
(ক) প্রজাতন্ত্রের কর্মের জন্য যোগ্যতা ও তাহাতে নিয়োগের পদ্ধতি সম্পর্কিত বিষয়াদি;
(খ) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদান, উক্ত কর্মের এক শাখা হইতে অন্য শাখায় পদোন্নতিদান ও বদলিকরণ এবং অনুরূপ নিয়োগদান, পদোন্নতিদান বা বদলিকরণের জন্য প্রার্থীর উপযোগিতা-নির্ণয় সম্পর্কে অনুসরণীয় নীতিসমূহ;
(গ) অবসর-ভাতার অধিকারসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মের শর্তাবলীকে প্রভাবিত করে, এইরূপ বিষয়াদি; এবং
(ঘ) প্রজাতন্ত্রের কর্মের শৃঙ্খলামূলক বিষয়াদি।
ব্যাখ্যা
⇒ General Clauses Act, 1897-এর Section 16 অনুযায়ী, যেখানে কোনো আইনের দ্বারা নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়, সেখানে যদি ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য না থাকে, তবে সেই নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত (suspend) ও বরখাস্ত (dismiss) করাও অন্তর্ভুক্ত।
•জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭ এর ধারা ১৬: নিয়োগের ক্ষমতা সাময়িক বরখাস্ত বা বরখাস্তের ক্ষমতাকে অন্তর্ভুক্ত করবে-
আইনসভা কর্তৃক প্রণীত আইন বা প্রবিধান দ্বারা যদি কোন কর্তৃপক্ষকে নিয়োগের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে, ভিন্নরূপ কোন উদ্দেশ্য প্রতীয়মান না হলে, অনুরূপ কর্তৃপক্ষের উল্লেখিত ক্ষমতা প্রয়োগের আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত বা বরখাস্ত করার ক্ষমতা থাকবে।
------------
- Section 16 of The General Clauses Act,1897: Power to appoint to include power to suspend or dismiss-
Where, by any Act of Parliament or Regulation, a power to make any appointment is conferred, then unless a different intention appears, the authority having for the time being power to make the appointment shall also have power to suspend or dismiss any person appointed whether by itself of any other authority in exercise of that power.
ব্যাখ্যা
প্রথম সংশোধনী:
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
- ১৯৭২ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত মোট ১৭ বার বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী গৃহীত হয় ১৯৭৩ সালে।
- এ সংশোধনীর মাধ্যমে ৪৭ অনুচ্ছেদে দুটি নতুন উপধারা সংযোজন করা হয়।
- এ সংশোধনীর মূল কারণ ছিল গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য আইন তৈরি এবং তা কার্যকর করা।
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদের বিধান: স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার:
(১) কোন সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকে সংসদ-সদস্যদের মধ্য হইতে সংসদ একজন স্পীকার ও একজন ডেপুটি স্পীকার নির্বাচিত করিবেন, এবং এই দুই পদের যে কোনটি শূন্য হইলে সাত দিনের মধ্যে কিংবা ঐ সময়ে সংসদ বৈঠকরত না থাকিলে পরবর্তী প্রথম বৈঠকে তাহা পূর্ণ করিবার জন্য সংসদ-সদস্যদের মধ্য হইতে একজনকে নির্বাচিত করিবেন।
(২) স্পীকার বা ডেপুটি স্পীকারের পদ শূন্য হইবে, যদি-
(ক) তিনি সংসদ-সদস্য না থাকেন;
(খ) তিনি মন্ত্রী-পদ গ্রহণ করেন;
(গ) পদ হইতে তাঁহার অপসারণ দাবী করিয়া মোট সংসদ-সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সমর্থিত কোন প্রস্তাব (প্রস্তাবটি উত্থাপনের অভিপ্রায় জ্ঞাপন করিয়া অন্যূন চৌদ্দ দিনের নোটিশ প্রদানের পর) সংসদে গৃহীত হয়;
(ঘ) তিনি রাষ্ট্রপতির নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে তাঁহার পদ ত্যাগ করেন;
(ঙ) কোন সাধারণ নির্বাচনের পর অন্য কোন সদস্য তাঁহার কার্যভার গ্রহণ করেন; অথবা
(চ) ডেপুটি স্পীকারের ক্ষেত্রে, তিনি স্পীকারের পদে যোগদান করেন।
(৩) স্পীকারের পদ শূন্য হইলে বা তিনি রাষ্ট্রপতিরূপে কার্য করিলে কিংবা অন্য কোন কারণে তিনি স্বীয় দায়িত্বপালনে অসমর্থ বলিয়া সংসদ নির্ধারণ করিলে স্পীকারের সকল দায়িত্ব ডেপুটি স্পীকার পালন করিবেন, কিংবা ডেপুটি স্পীকারের পদও শূন্য হইলে সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধি-অনুযায়ী কোন সংসদ-সদস্য তাহা পালন করিবেন; এবং সংসদের কোন বৈঠকে স্পীকারের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পীকার কিংবা ডেপুটি স্পীকারও অনুপস্থিত থাকিলে সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধি-অনুযায়ী কোন সংসদ-সদস্য স্পীকারের দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৪) সংসদের কোন বৈঠকে স্পীকারকে তাঁহার পদ হইতে অপসারণের জন্য কোন প্রস্তাব বিবেচনাকালে স্পীকার (কিংবা ডেপুটি স্পীকারকে তাঁহার পদ হইতে অপসারণের জন্য কোন প্রস্তাব বিবেচনাকালে ডেপুটি স্পীকার) উপস্থিত থাকিলেও সভাপতিত্ব করিবেন না এবং এই অনুচ্ছেদের (৩) দফায় বর্ণিত ক্ষেত্রমত স্পীকার বা ডেপুটি স্পীকারের অনুপস্থিতিকালীন বৈঠক সম্পর্কে প্রযোজ্য বিধানাবলী অনুরূপ প্রত্যেক বৈঠকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
(৫) স্পীকার বা ডেপুটি স্পীকারের অপসারণের জন্য কোন প্রস্তাব সংসদে বিবেচিত হইবার কালে ক্ষেত্রমত স্পীকার বা ডেপুটি স্পীকারের কথা বলিবার ও সংসদের কার্যধারায় অন্যভাবে অংশগ্রহণের অধিকার থাকিবে এবং তিনি কেবল সদস্যরূপে ভোটদানের অধিকারী হইবেন।
(৬) এই অনুচ্ছেদের (২) দফার বিধানাবলী সত্ত্বেও ক্ষেত্রমত স্পীকার বা ডেপুটি স্পীকার তাঁহার উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল রহিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
ব্যাখ্যা
The General Clauses Act, 1897 এর ধারা ৩০: অর্ডিন্যান্সের ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ:
এই আইনের মধ্যে ‘সংসদে গৃহীত আইন’ শব্দগুচ্ছ, যেখানে-যেখানে এটি ব্যবহার করা হয়েছে (ধারা ৫ ব্যতীত), এবং ‘আইন’ শব্দটি ধারা ৩-এর উপধারা (৯), (১২), (৩৮), (৪৮) ও (৫০) এবং ধারা ২৫-এ ব্যবহৃত হয়েছে, তা এমনভাবে গণ্য হবে যে এটি অর্ডিন্যান্সকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যা প্রণীত ও প্রচলিত হয়েছে যে কেউ সংবিধানের কোনো বিধানের অধীনে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা রাখে অথবা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দ্বারা সংবিধানের অধীনে।
⇒ এই ধারা নিশ্চিত করে যে, আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে অর্ডিন্যান্সকেও ‘আইন’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
ব্যাখ্যা
⇒ The General Clauses Act, 1897-এর ৩০ নং ধারাতে "Application of Act to Ordinances" বা "অর্ডিন্যান্সের ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ" সম্পর্কে বিস্তারিত বিধান রয়েছে।
- এই ধারার মূল উদ্দেশ্য হলো এই বিষয়টি নিশ্চিত করা যে, যখনই The General Clauses Act-এর কোনো বিধানে "সংসদে গৃহীত আইন" (Act of Parliament) বা নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে "আইন" (Act) শব্দটি ব্যবহৃত হবে, তখন তার অর্ন্তভুক্ত হবে সংবিধানের অধীনে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত ও প্রচলিত অর্ডিন্যান্সও।
- অর্থাৎ এই ধারাটি অর্ডিন্যান্সকে সাধারণ আইনের (Act) সমতুল্য আইনি মর্যাদা প্রদান করে এবং এর প্রয়োগ ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে The General Clauses Act-এর বিধানগুলো অর্ডিন্যান্সের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে স্পষ্ট করে।
তাই, আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে অর্ডিন্যান্সকে ‘আইন’ হিসেবে গণ্য করার বিধানটি ধারা ৩০-এ রয়েছে।
The General Clauses Act, 1897 এর ধারা ৩০: অর্ডিন্যান্সের ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ:
এই আইনের মধ্যে ‘সংসদে গৃহীত আইন’ শব্দগুচ্ছ, যেখানে-যেখানে এটি ব্যবহার করা হয়েছে (ধারা ৫ ব্যতীত), এবং ‘আইন’ শব্দটি ধারা ৩-এর উপধারা (৯), (১২), (৩৮), (৪৮) ও (৫০) এবং ধারা ২৫-এ ব্যবহৃত হয়েছে, তা এমনভাবে গণ্য হবে যে এটি অর্ডিন্যান্সকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যা প্রণীত ও প্রচলিত হয়েছে যে কেউ সংবিধানের কোনো বিধানের অধীনে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা রাখে অথবা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দ্বারা সংবিধানের অধীনে।
The General Clauses Act, 1897 Section-30. Application of Act to Ordinances:
In this Act the expression Act of Parliament wherever it occurs, except in section 5, and the word "Act" in clauses (9), (12), (38), (48) and (50) of section 3 and in section 25 shall be deemed to include an Ordinance made and promulgated by any person having authority to legislate under any constitutional provision or by the President of Bangladesh under the Constitution.
ব্যাখ্যা
-চতুর্থ সংশোধনী বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের বদলে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু হয়।
- দেশে একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করা হয়।
- যার নাম ছিল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক লীগ (বাকশাল)।
- ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী গৃহীত হয়।
উল্লেখ্য,
- বাকশাল ব্যবস্থা ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা।
- ১৯৭৫ সালে ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের সকল রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়ে 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ' বা 'বাকশাল' গঠন করা হয়।
- বাকশাল গঠনের মাধ্যমে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হয়।
- ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাকশাল কার্যকর হওয়ার কথা ছিলো।
- এর সভাপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী।
উৎস: i) পৌরনীতি, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যাখ্যা
• অনুচ্ছেদ ১৩৪: কর্মের মেয়াদ-
এই সংবিধানের দ্বারা অন্যরূপ বিধান না করা হইয়া থাকিলে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।
Article 134: Tenure of office-
Except as otherwise provided by this Constitution every person in the service of the Republic shall hold office during the pleasure of the President.
কিছু কিছু পদের মেয়াদ রাষ্ট্রপতির ইচ্ছার উপর নির্ভর করে থাকে। রাষ্ট্রপতি যতদিন চাইবেন কোন ব্যক্তি উক্ত পদে ততদিন বহাল থাকতে পারবেন। সংবিধানের ভাষায় একে 'Doctrine of Pleasure'. সংবিধানের ১৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকবে। তাই বলা যায়, অপশন গুলোর মধ্যে ১৩৪ অনুচ্ছেদেই 'Doctrine of pleasure' নীতিটি বর্ণিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
- এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে তিনটি প্রধান ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে—
১. কর আরোপের ক্ষমতা
২. বাজেট প্রণয়নের ক্ষমতা
৩. নিজস্ব তহবিল রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতা
- এইসব ক্ষমতা প্রদান করা হবে সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের মাধ্যমে, এবং এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের এলাকায় স্বশাসন ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে।
→ অনুচ্ছেদ ৬০ এর মূল বক্তব্য: "এই সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের বিধানাবলীকে পূর্ণ কার্যকরতাদানের উদ্দেশ্যে সংসদ আইনের দ্বারা উক্ত অনুচ্ছেদে উল্লিখিত স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে স্থানীয় প্রয়োজনে কর আরোপ, বাজেট প্রস্তুতকরণ ও নিজস্ব তহবিল রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতা প্রদান করিবেন।"
→ তাই, স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬০-এ উল্লেখ রয়েছে।
ব্যাখ্যা
(১) কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে, যদি,
(ক) তাঁহার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিতে অসমর্থ হন:
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পূর্বে স্পীকার যথার্থ কারণে তাহা বর্ধিত করিতে পারিবেন;
(খ) সংসদের অনুমতি না লইয়া তিনি একাদিক্রমে নব্বই বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন;
(গ) সংসদ ভাঙ্গিয়া যায়;
(ঘ) তিনি এই সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন অযোগ্য হইয়া যান; অথবা
(ঙ) এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।
(২) কোন সংসদ-সদস্য স্পীকারের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন, এবং স্পীকার- কিংবা স্পীকারের পদ শূন্য থাকিলে বা অন্য কোন কারণে স্পীকার স্বীয় দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ডেপুটি স্পীকার- যখন উক্ত পত্র প্রাপ্ত হন, তখন হইতে উক্ত সদস্যের আসন শূন্য হইবে।
----------
⇒ Article 67. Vacation of seats of members:
(1) A member of Parliament shall vacate his seat –
(a) if fails, within the period of ninety days from the date of the first meeting of Parliament after his election, to make and subscribe 42[* * *] the oath or affirmation prescribed for a member of Parliament in the Third Schedule:
Provided that the Speaker may, before the expiration of that period, for good cause extend it;
(b) if he is absent from Parliament, without the leave of Parliament, for ninety consecutive sitting days;
(c) upon a dissolution of Parliament;
(d) if he has incurred a disqualification under clause (2) of article 66; or
(e) in the circumstances specified in article 70.
(2) A member of Parliament may resign his seat by writing under his hand addressed to the Speaker, and the seat shall become vacant when the writing is received by the Speaker or, if the office of Speaker is vacant or the Speaker is for any reason unable to perform his functions, by the Deputy Speaker.
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার।
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৬ অনুযায়ী-
যদি রাষ্ট্রপতির মনে হয় যে, কোনো আইনি প্রশ্ন (question of law) জনগুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের মতামত প্রয়োজন,
তাহলে তিনি সেই প্রশ্নটি আপীল বিভাগের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করতে পারেন।
আপীল বিভাগ তখন শুনানি করে রাষ্ট্রপতিকে তার মতামত (opinion) প্রদান করতে পারে। এই এখতিয়ারকে বলা হয় - “উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার” (Advisory Jurisdiction)।
ব্যাখ্যা
ভারতীয় সুপ্রীমকোর্ট 'Rule of Harmonious Construction' নীতির নিম্নরূপ ব্যাখ্যা দিয়েছেন:
(১) কোনো আইনে দুটি ধারার প্রয়োগে যদি দেখা যায়, ধারা দু'টি একে অন্যের সাথে বিরোধপূর্ণ; তাহলে ধারা দু'টি এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে, যেন ধারা দুটিকে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রয়োগ করা যায়। অর্থাৎ, এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে যেন উভয় ধারা কার্যকর হয়।
(২) একটি ধারার বিধানকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না, যাতে অন্য কোনো ধারার বিধান অকার্যকর বা সাংঘর্ষিক হয়।
ব্যাখ্যা
(১) প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে, যদি-
(ক) তিনি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন; অথবা
(খ) তিনি সংসদ-সদস্য না থাকেন।
(২) সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারালে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন কিংবা সংসদ ভাংগিয়া দিবার জন্য লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দান করিবেন এবং তিনি অনুরূপ পরামর্শদান করিলে রাষ্ট্রপতি, অন্য কোন সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন নহেন এই মর্মে সন্তুষ্ট হইলে, সংসদ ভাংগিয়া দিবেন।
(৩) প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই অযোগ্য করিবে না।
• ৫৭ অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রীর পদের কোন নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ ৫ বৎসর বা এটা বলা হয় নি। ৫৭ অনুচ্ছেদটি এমনভাবে বিধান করা হয়েছে যে, মেয়াদজনিত কারণে কখনও প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হবে না, বা মেয়াদ অতিবাহিত হয়েছে এই কারণে প্রধানমন্ত্রীর পদ কখনও শূন্য হবে না। প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত, প্রধানমন্ত্রী স্বীয় পদে বহাল থাকতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই অযোগ্য করবে না।
Article 57: Tenure of office of Prime Minister
(1) The office of the Prime Minister shall become vacant–
(a) if he resigns from office at any time by placing his resignation in the hands of the President; or
(b) if he ceases to be a member of Parliament.
(2) If the Prime Minister ceases to retain the support of a majority of the members of Parliament, he shall either resign his office or advise the President in writing to dissolve Parliament, and if he so advises the President shall, if he is satisfied that no other member of Parliament commands the support of the majority of the members of Parliament, dissolve Parliament accordingly.
(3) Nothing in this article shall disqualify Prime Minister for holding office until his successor has entered upon office.
ব্যাখ্যা
- Meaning (English): No crime without a law.
অর্থ: আইন ছাড়া কোনো অপরাধ নয়।
ব্যাখ্যা: এটি দণ্ডবিধি ও ফৌজদারি ন্যায়বিচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি। এই নীতির দ্বারা বোঝানো হয়, কোনো ব্যক্তিকে কোনো কাজের জন্য অপরাধী ঘোষণা করা যাবে না, যদি সেই কাজটি সেই সময় প্রচলিত আইনে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত না থাকে।
বাকি অপশনগুলো:
ক) Let the buyer beware. → Caveat emptor.
গ) Ignorance of the law is no excuse. → Ignorantia juris non excusat.
ঘ) The act does not make a person guilty unless the mind is also guilty. → Actus non facit reum nisi mens sit rea.
ব্যাখ্যা
১) রাষ্ট্রপতি,
২) প্রধানমন্ত্রী,
৩) স্পীকার বা ডেপুটি স্পীকার,
৪) মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপ-মন্ত্রী
৫) সুপ্রীম কোর্টের বিচারক,
৬) মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
৭) নির্বাচন কমিশনার,
৮) সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য।
Article 147: Remuneration, etc., of certain officers
(1) The remuneration, privileges and other terms and conditions of service of a person holding or acting in any office to which this article applies shall be determined by or under Act of Parliament, but until they are so determined-
(a) they shall be those (if any) appertaining to the person holding or, as the case may be, acting in the office in question immediately before the commencement of this Constitution; or
(b) if the preceding sub clause is not applicable, they shall be determined by order made by the President.
(2) The remuneration, privileges and other terms and conditions of service of a person holding or acting in any office to which this article applies shall not be varied to the disadvantage of any such person during his term of office.
(3) No person appointed to or acting in any office to which this article applies shall hold any office, post or position of profit or emolument or take any part whatsoever in the management or conduct of any company, association or body having profit or gain as its object:
Provided that such person shall not for the purposes of this clause be deemed to hold any such office, post or position by reason only that he holds or is acting in the office first above mentioned.
(4) This article applies to the offices of –
(a) President;
(b) Prime Minister;
(c) Speaker or Deputy Speaker;
(d) Minister, Minister of State or Deputy Minister;
(e) Judge of the Supreme Court;
(f) Comptroller and Auditor General;
(g) Election Commissioner;
(h) Member of a public service commission.
ব্যাখ্যা
সপ্তদশ সংশোধনী:
সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) আইন, ২০১৮ বলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ ২৫ বৎসর বৃদ্ধি করা হয়। নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসনের ১০ বৎসরের মেয়াদ ২০১৯ সালের ২৪ই জানুয়ারী শেষ হয়। সপ্তদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের মেয়াদ ২৫ বৎসর বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ ১১তম সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হতে পরবর্তী ২৫ বৎসর পর্যন্ত নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের মেয়াদ থাকবে।
ব্যাখ্যা
(১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী লইয়া এই মন্ত্রিসভা গঠিত হইবে।
(২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান-অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে।
(৩) মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন।
(৪) সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে।
(৫) রাষ্ট্রপতির নামে প্রণীত আদেশসমূহ ও অন্যান্য চুক্তিপত্র কিরূপে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত হইবে, রাষ্ট্রপতি তাহা বিধিসমূহ-দ্বারা নির্ধারণ করিবেন এবং অনুরূপভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত কোন আদেশ বা চুক্তিপত্র যথাযথভাবে প্রণীত বা সম্পাদিত হয় নাই বলিয়া তাহার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
(৬) রাষ্ট্রপতি সরকারী কার্যাবলী বন্টন ও পরিচালনার জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করিবেন।
Article 55: The Cabinet:
(1) There shall be a Cabinet for Bangladesh having the Prime Minister at its head and comprising also such other Ministers as the Prime Minister may from time to time designate.
(2) The executive power of the Republic shall, in accordance with this Constitution, be exercised by or on the authority of the Prime Minister.
(3) The Cabinet shall be collectively responsible to Parliament.
(4) All executive actions of the Government shall be expressed to be taken in the name of the President.
(5) The President shall by rules specify the manner in which orders and other instruments made in his name shall be attested or authenticated, and the validity of any order or instrument so attested or authenticated shall not be questioned in any court on the ground that it was not duly made or executed.
(6) The President shall make rules for the allocation and transaction of the business of the Government.
ব্যাখ্যা
১. ওকালতি ও সরকারি দায়িত্ব:
কোনো ব্যক্তি, অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন ব্যতীত, বিচারকের পদে দায়িত্ব পালনের পর অবসর গ্রহণ বা অপসারণের পর তিনি কোনো আদালত বা কর্তৃপক্ষের নিকট ওকালতি বা আইনি কার্য পরিচালনা করতে পারবেন না।
তিনি বিচার বিভাগীয় বা আধা-বিচার বিভাগীয় পদ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের অন্য কোনো লাভজনক পদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন না।
২. আপীল বিভাগে ওকালতির সুযোগ:
যদি কোনো ব্যক্তি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন, তবে অবসর গ্রহণের পর তিনি আপীল বিভাগে ওকালতি বা আইনি কার্য পরিচালনা করতে পারবেন।