বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পরিবেশ বিষয়ক চুক্তি ও সম্মেলন

মোট প্রশ্ন৯২০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পরিবেশ বিষয়ক চুক্তি ও সম্মেলন

PrepBank · পাতা / ১০ · ৮০১৯০০ / ৯২০

৮০১.
রামসার কনভেনশন স্বাক্ষরিত হয়-
  1. ক) ১৯৬৯ সালে
  2. খ) ১৯৭১ সালে
  3. গ) ১৯৭৩ সালে
  4. ঘ) ১৯৮৩ সালে
ব্যাখ্যা

ইরানের রামসার শহরে ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জলাভূমি ও তার সম্পদের সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যবহার বিষয়ক রামসার কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।
- রামসার কনভেনশন কার্যকর হয় ১৯৭৫ সালের ২১ ডিসেম্বর।
- রামসারের ডকুমেন্ট অনুসারে - Number of Contracting Parties: 171
বাংলাদেশ ও রামসারঃ
বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে।
এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের দুটি স্থান রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে -
- সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেষ্ট (২১ মে ১৯৯২) ও
- টাঙ্গুয়ার হাওর (১০ জুলাই ২০০০) রামসার সাইটের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
উৎসঃ রামসার ওয়েবসাইট

৮০২.
'Loss and Damage' নামক আন্তর্জাতিক তহবিল কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ইউক্রেন যুদ্ধে ন্যাটো'র ব্যয়
  2. আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য
  3. আন্তর্জাতিক ঋণ
  4. জলবায়ু পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
• 'Loss and Damage' ফান্ড:

- প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূল থেকে অসংখ্য মানুষ প্রতিনিয়ত পৈতৃক ভিটে মাটি ছেড়ে শহরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
- বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগের কারণে এ সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে বলেই মনে করেন বিজ্ঞানীরা।
- কপ-২৭ জলবায়ু সম্মেলনে একটি ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিল গঠনে সম্মত হয়েছে বিশ্ব।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের উপকূলের যে মানুষেরা উদ্বাস্তু হচ্ছেন বা ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন তাদের সহায়তা এবং পুনর্বাসনে এই তহবিল কাজ করবে বলে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় ১৫৪টি দেশ ১৯৯২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) স্বাক্ষর করে।
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন (COP) প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়।
- এখানে আলোচনা করা হয় কিভাবে ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনার উপায় অর্জন করা উচিত এবং কী অগ্রগতি হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করা।

 উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৮০৩.
বাংলাদেশ কত সালে কার্টাগেনা প্রটোকলে অনুমোদন করে?
  1. ২০০০ সালে
  2. ২০০২ সালে
  3. ২০০৩ সালে
  4. ২০০৪ সালে
ব্যাখ্যা
কার্টাগেনা প্রটোকল:
- কার্টাগোনা প্রটোকল এর পূর্ণরূপ: Cartagena Protocol on Biosafety to the convention on Biological Diversity।
- এটি জাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক প্রটোকল।
- এর উদ্দেশ্য হলো জৈব জ্বালানি সংরক্ষণ।
- কার্টাগেনা প্রটোকল অনুমোদন: ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৯, কলম্বিয়ার কার্টাগেনা শহরে।
- তাই শহরের নামানুসারে এর নাম কার্টাগেনা প্রটোকল।

⇒ কার্টাগেনা প্রটোকল গৃহীত ও কার্যকর: কানাডার মন্ট্রিল শহরে গৃহীত ও কার্যকর হয়।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২৯ জানুয়ারি, ২০০০ সালে।
- কার্যকর হয়: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ সালে।
- চুক্তির পক্ষে স্বাক্ষরকারী দেশ: ১০৩টি।
- অনুমোদনকারী: ১৭৩টি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ কার্টাগেনা প্রটোকল স্বাক্ষর করে ২০০০ সালে এবং অনুমোদন করে ২০০৪ সালে।

উৎস: UNTC ওয়েবসাইট।
৮০৪.
কিয়োটো প্রটোকল কখন স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
• কিয়োটো প্রটোকল:
- চুক্তির নাম: কিয়োটো প্রটোকল,
- স্থান: কিয়োটো, জাপান,
- গৃহীত হয়: ১১ ডিসেম্বর, ১৯৯৭,
- কার্যকর হয়: - ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ সালে কার্যকর হয়।
- আয়োজক সংস্থা: UNFCCC (United Nations Framework Convention on Climate Change)
- জাতিসংঘের ব্যবস্থাপনায় জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি বহুপাক্ষিক চুক্তি।
- উদ্দেশ্যে: কার্বন ডাইঅক্সাইড ও গ্রিন হাউস গ্যাস উদ্‌গিরণ কমানো।
- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সাউথ সুদান এ প্রটোকল অনুসমর্থন করে নি।
- ২০১২ সালে কানাডা নিজেকে প্রত্যাহার করে।

উৎস: Britannica.
৮০৫.
ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্যের আন্তঃরাষ্ট্রীয় চলাচল ও অপসারণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে কোন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়? 
  1. রামসার কনভেনশন
  2. বাসেল কনভেনশন
  3. কার্টাগোনা প্রটোকল
  4. কিয়োটো প্রটোকল
ব্যাখ্যা

• বাসেল কনভেনশন (Basel Convention): 
- বাসেল কনভেনশন হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি ।
- যা বিপজ্জনক বর্জ্য (hazardous waste) এবং অন্যান্য ধরনের বর্জ্যের এক দেশ থেকে অন্য দেশে,
- বিশেষ করে উন্নত দেশ থেকে অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশে, স্থানান্তর ও ব্যবস্থাপনাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- সম্পূর্ণ নাম: Basel Convention on the Control of Transboundary Movements of Hazardous Wastes and Their Disposal
- চুক্তি তারিখ: ২২ মার্চ ১৯৮৯।
- কার্যকর হয়: ৫ মে ১৯৯২।
- স্থান: বাসেল, সুইজারল্যান্ড ।

• উদ্দেশ্য:
- বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তর্জাতিক পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করা।
- বিপজ্জনক বর্জ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
- পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশ ১৯৯৩ সালে বাসেল কনভেনশনে যোগ দেয়।
- এর ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি প্রতিশ্রুতিশীল অবস্থান গ্রহণ করে।

তথ্যসূত্র: Basel Convention ওয়েবসাইট। 

৮০৬.
বাসেল কনভেনশনের কার্যক্রম শুরু হয় কত সালে?
  1. ২২ মার্চ, ১৯৯২ সালে
  2. ৫ মে, ১৯৯২ সালে
  3. ৫ জুন, ১৯৯৩ সালে
  4. ২২ আগস্ট, ১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা
বাসেল কনভেনশন:
- 'বাসেল কনভেনশন' হলো বিপদজনক বর্জ্য দেশের সীমান্তের বাইরে চলাচল এবং নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কনভেনশন।
- বাসেল কনভেনশনের পুরো নাম- The Basel Convention on the Control of Transboundary Movements of Hazardous Wastes and their Disposal.
- গৃহীত হয়: ২২ মার্চ, ১৯৮৯ সালে।
- স্থান: বাসেল, সুইজারল্যান্ড।
- কার্যক্রম শুরু হয়: ৫ মে, ১৯৯২ সালে।
- বাংলাদেশকে 'বাসেল কনভেনশন' অনুমোদন করে: ১৯৯৩ সালে।

তথ্যসূত্র - বাসেল কনভেনশন ওয়েবসাইট।
৮০৭.
'Paris Agreement' কোন ধরনের চুক্তি?
  1. মহামারি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত
  2. জলবায়ু সংক্রান্ত
  3. আন্তর্জাতিক টিকা উৎপাদন সংক্রান্ত
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্যারিস চুক্তি:
- প্যারিস চুক্তি জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- এটি ১২ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে ফ্রান্সের প্যারিসে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে (COP21)।
- এটি ৪ নভেম্বর ২০১৬ এ কার্যকর হয়।
- এর লক্ষ্য হল বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্প স্তরের চেয়ে ২°C এর নিচে রাখা এবং প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া "তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে প্রাক-শিল্প স্তরের উপরে ১.৫°C এ সীমাবদ্ধ করার জন্য।
- বিশ্ব নেতৃবৃন্দ পৃথিবীর তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে ধরে রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
- বিজ্ঞানীরা বলেন শিল্প-বিপ্লব পূর্ববর্তী বিশ্বের তাপমাত্রার তুলনায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে পারলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়কর প্রভাব থেকে বাঁচা যাবে।

তথ্যসূত্র - Unfccc ওয়েবসাইট।
৮০৮.
বিশ্বে প্রথমবারের মতো গবাদিপশুর ওপর কর আরোপ করে কোন দেশ?
  1. ডেনমার্ক 
  2. অস্ট্রেলিয়া
  3. ইংল্যান্ড
  4. নিউজিল্যান্ড
ব্যাখ্যা
কৃষি খাতে CO2 নির্গমন কর:
- ডেনমার্ক প্রথমবারের মতো গবাদি পশুর ওপর কর আরোপ করেছে।
- ডেনমার্ক ২০৩০ সাল থেকে গবাদি পশু থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) নির্গমন কর আরোপ করবে।
- এটি হবে বিশ্বের প্রথম দেশ, যা কৃষি খাতে CO2 নির্গমন কর চালু করবে।
- খামারিদের প্রতি গরু প্রতি বছরে ৯৬ ডলার (প্রায় ১১ হাজার টাকা) কর দিতে হবে।
- পশু পালন থেকে কার্বন গ্যাস নিঃসরণ হয়, যা জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে।
- ২০৩০ সাল থেকে এই নতুন কর কার্যকর হবে।
- সরকার ৪০ বিলিয়ন ক্রোন খরচ করে বনভূমি এবং জলাশয় পুনরুদ্ধার করবে।
- এই বিনিয়োগ ডেনমার্কের পরিবেশগত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে।
- এই সিদ্ধান্তটি ডেনমার্কের সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ ৭০% কমানোর লক্ষ্যে নিয়েছে।
- ডেনমার্কের এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী অন্যান্য দেশকে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স সংবাদ। [লিঙ্ক] 
৮০৯.
পরবর্তী জীববৈচিত্র্য সম্মেলনের (UN Biodiversity Conference (COP-17)) আয়োজক দেশ কোনটি?
  1. কলম্বিয়া 
  2. ব্রাজিল
  3. আর্মেনিয়া
  4. আজারবাইজান
ব্যাখ্যা

UN Biodiversity Conference (UN COP-17):
- পরবর্তী ২০২৬ সালের অক্টোবরে জীববৈচিত্র্য সম্মেলনের (UN Biodiversity Conference (COP-17)) আর্মেনিয়ার ইয়েরেভানে অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে,
- ‘জীব বৈচিত্র্য কনভেনশন’ সম্পর্কিত জাতিসংঘের ১৬তম সম্মেলন (UN COP-16) ২০২৪ সালের অক্টোবরে কলম্বিয়ার ক্যালিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- ‘জৈব নিরাপত্তা সংক্রান্ত কার্টেজেনা প্রোটোকলে’র পক্ষগুলোর ১১তম সম্মেলন এবং ‘নাগোয়া প্রোটোকলে’র পক্ষগুলোর পঞ্চম সম্মেলন কলম্বিয়ার ক্যালিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- কপ-১৬ সম্মেলনের থিম হল ‘প্রকৃতির সাথে শান্তি’।

উৎস: i) OECD.
ii) Convention on Biological Diversity.

৮১০.
রটারডাম কনভেনশন কোথায় গৃহীত হয়?
  1. বেলজিয়াম
  2. অস্ট্রিয়া
  3. সুইজারল্যান্ড
  4. নেদারল্যান্ডস
ব্যাখ্যা

রটারডাম কনভেনশন:
- রটারডাম কনভেনশন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বৈশ্বিক চুক্তি গৃহীত হয়েছিল।
- কনভেনশনটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও কীটনাশকের ব্যবহার দূর করতে।
- গৃহীত হয়েছিল: ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে নেদারল্যান্ডসের রটারডাম।
- কার্যকর হয়: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ তারিখে।
- কনভেনশনের উদ্দেশ্য হল মানব স্বাস্থ্য এবং পরিবেশকে সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কিছু বিপজ্জনক রাসায়নিকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পক্ষগুলির মধ্যে ভাগ করা দায়িত্ব এবং সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টার প্রচার করা।
- এটি ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৬-এ বন্ধ হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - Rotterdam Convention ওয়েবসাইট।

৮১১.
মিনামাটা কনভেনশন (Minamata Convention) মূলত কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে গঠিত?
  1. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ
  2. পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ
  3. পারদ দূষণ নিয়ন্ত্রণ
  4. জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা

মিনামাটা কনভেনশন (Minamata Convention on Mercury):
- পারদের ব্যবহার ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণের জন্য আন্তর্জাতিক চুক্তি মিনামাটা কনভেনশন।
- চুক্তিটি মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশকে পারদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
- এই চুক্তির নামকরণ করা হয়েছে জাপানের মিনামাটা শহরের নামে, যেখানে ২০শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে পারদ-দূষিত শিল্প বর্জ্য পানিতে মিশে হাজার হাজার মানুষ মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন, যা 'মিনামাটা রোগ' নামে পরিচিত। 

⇒ গৃহীত হয়: ১৯ জানুয়ারি ২০১৩ সালে (জেনেভা, সুইজারল্যান্ড)।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১০ অক্টোবর, ২০১৩, কুমামোটো, জাপান।
- কার্যকর হয়: ১৬ আগস্ট, ২০১৭।
- সদস্য দেশ: ১৫২টি।

উৎস: UNEP ওয়েবসাইট।

৮১২.
COP-31 জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজক দেশ কোনটি? 
  1. তুরস্ক
  2. অষ্ট্রেলিয়া 
  3. জার্মানি
  4. ব্রাজিল
ব্যাখ্যা

• জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১:
- ২০২৬ সালে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ আয়োজন করতে যাচ্ছে তুরস্ক।
- তুরস্কের পর্যটননগরী অ্যান্টালিয়া কপ-৩১-এর আয়োজক শহর হবে এবং তুরস্কই আনুষ্ঠানিকভাবে কপ-৩১-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করবে।
- অস্ট্রেলিয়া চাইছিল প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে অ্যাডিলেডে সম্মেলন আয়োজন করতে। 
- অস্ট্রেলিয়া যৌথভাবে এ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তুরস্ক এ দায়িত্ব পেয়েছে।
- তবে এ সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে দর–কষাকষির নেতৃত্ব দেবে অস্ট্রেলিয়া।
- কিন্তু কোনো পক্ষই আপস না করলে সম্মেলনটি জার্মানির বন শহরে অনুষ্ঠিত হতো।
- সমঝোতা অনুযায়ী প্রাক-কপ একটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপে হবে।
- মূল সম্মেলন হবে তুরস্কের আন্তালিয়া শহরে। সভাপতি থাকবেন ক্রিস বোয়েন
- ব্রাজিলে আয়োজিত কপ৩০-এ সমঝোতার মধ্য দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- ২০২২ সালে দুই দেশই সম্মেলনটি আয়োজনের আবেদন করেছিল।

উল্লেখ্য,
- COP এর পূর্ণরূপ Conference of the parties. 
- ১৯৯২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) স্বাক্ষর করে।
- এর উদ্দেশ্য জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা। 
- ১৯৯৫ সাল থেকে 'জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP)' নামে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।  
- ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩০ এর আয়োজন করেছে ব্রাজিল।

তথ্যসূত্র: UN-Habitat অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, বনিক বার্তা।

৮১৩.
ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনসংক্রান্ত ‘বাসেল কনভেনশন’ কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ১৯৮৭ সালে
  2. ১৯৮৯ সালে
  3. ১৯৯১ সালে
  4. ১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা

বাসেল কনভেনশন:
- বাসেল কনভেনশন হলো বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তঃরাষ্ট্রীয় চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- এর পূর্ণরূপ: Basel Convention on the Control of Transboundary Movements of Hazardous Wastes and Their Disposal.
- এটি গৃহীত হয়: ২২শে মার্চ, ১৯৮৯, বাসেল, সুইজারল্যান্ড।
- কার্যকরী হয়: ৫ মে, ১৯৯২।
- সদস্য: ১৯১টি।
- স্বাক্ষরকারী: ৫৩টি।
- বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তঃসীমান্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক চুক্তিকে বাসেল কনভেনশন বলে।
- বাসেল কনভেনশন এর উদ্দেশ্য: উন্নত দেশ থেকে অনুন্নত দেশে বিপজ্জনক বর্জ্য স্থানান্তর রোধ করা।
উল্লেখ্য,
-  বাংলাদেশ বাসেল কনভেনশন কার্যকর করে ১৯৯৩ সালের ৩০ জুন।

উৎস: UN Basel Convention  ওয়েবসাইট।

৮১৪.
বিশ্বের শীর্ষ দূষিত বায়ুর দেশ কোনটি?
  1. ক) ভারত
  2. খ) পাকিস্তান
  3. গ) মঙ্গোলিয়া
  4. ঘ) বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
২০২০ সালে প্রকাশিত IQAir World Air Quality Report - 2019 এ ৯৮টি দেশের মধ্যে শীর্ষ বায়ুদূষিত দেশ হলো বাংলাদেশ। তালিকায় ২য় ও ৩য় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে পাকিস্তান ও মঙ্গোলিয়া। ভারতের অবস্থান ৫ম স্থানে। এছাড়া রাজধানী হিসেবে শীর্ষ দূষিত শহর হলো নয়াদিল্লি। ২য় অবস্থানে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। (সূত্রঃ IQAir World Air Quality Report -2019)
৮১৫.
'কার্বন ক্রেডিট' ধারণাটি কোন চুক্তির সাথে সম্পর্কিত?  
  1. মন্ট্রিল প্রটোকল
  2. কিয়োটো প্রটোকল
  3. প্যারিস জলবায়ু চুক্তি 
  4. নাগোয়া প্রটোকল
ব্যাখ্যা

- কার্বন ক্রেডিট' ধারণাটি 'কিয়োটো প্রটোকল' এর সাথে সম্পর্কিত।  

• কিয়োটো প্রটোকল: 
- কিয়োটো প্রোটোকল একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনকে প্রসারিত করেছিল। 
-  লক্ষ্য:  বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন এবং গ্রিনহাউস গ্যাসের উপস্থিতি হ্রাস করা।
- স্বাক্ষরিত হয়:  জাপানের কিয়োটোতে।
- কিয়োটো প্রটোকল ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে স্বাক্ষরিত হয়,
- কার্যকর হয়: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ সালে। 
- কার্বন ক্রেডিট বা কার্বন বাণিজ্য কিয়োটো প্রটোকলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অন্যদিকে:
- নাগোয়া প্রোটোকল এর উদ্দেশ্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার।
​- মন্ট্রিল প্রোটোকল ওজোনস্তর সংরক্ষণ বিষয়ক একটি বৈশ্বিক চুক্তি।  


তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ, Kyoto Protocol, UNFCCC এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। 

৮১৬.
'হিউগো ফ্রেমওয়ার্ক ফর একশন' কোন বিষয় সম্পর্কিত?
  1. ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা ও দুর্যোগ জনিত ঝুঁকি
  2. খ) জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ
  3. গ) গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ প্রশমন
  4. ঘ) ওজোন স্তরের ক্ষয়
ব্যাখ্যা
• হিউগো ফ্রেমওয়ার্ক ফর একশন (Hugo Framework for Action):
- জাপানের কোবে নগরীতে বিশ্বের ১৬৮টি দেশের প্রতিনিধি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ও দুর্যোগ জনিত ঝুঁকি কমাতে ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে একটি সম্মেলন করেন।
- উক্ত সম্মেলন হিউগো ফ্রেমওয়ার্ক ফর অ্যাকশন নামে পরিচিত।
- পরিবেশ বিষয়ক উক্ত কর্মকাঠামোতে টেকসই উন্নয়নের জন্য, বিভিন্নমুখী আপদ মোকাবেলার কৌশল, দুর্যোগের ভয়াবহতা ও প্রকোপ হ্রাস করা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসকে জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মূলধারায় অন্তর্ভূক্ত করা, ঝুঁকি মোকাবেলায় জাতীয় সামর্থ্যকে শক্তিশালী করা, দুর্যোগ প্রস্তুতিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিনিয়োগ করা, দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জনে সুশীল সমাজকে সম্পৃক্ত করা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৭.
COP এর পূর্ণরূপ কোনটি?
  1. Committee of the Parties
  2. Council of the Parties
  3. Conference of the Parties
  4. Committee of Operations and Planning
ব্যাখ্যা
• COP:
- COP এর পূর্ণরূপ হলো Conference of the Parties.
- ১৯৯২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) স্বাক্ষর করে এবং
- ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতি বছর 'জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP)' নামে এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এছাড়াও, 
- 'কপ-২৯' আগামীতে আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত হয়।
- ২০২৫ সালের কপ-৩০, ব্রাজিল আয়োজন করবে এবং আমাজনীয়ান শহর বেলেম ডো প্যারাকে কপ-৩০ সম্মেলনের জন্য নির্বাচন করেছে জাতিসংঘ।

সূত্র: UNFCCC ওয়েবসাইট, জাতিসংঘ বাংলাদেশ ওয়েবসাইট এবং সময়নিউজ, ব্রাজিলের সরকারি ওয়েবসাইট।
৮১৮.
রিও+২০ সম্মেলনে কোনটির আত্মপ্রকাশ ঘটে?
  1. এমডিজি
  2. এসডিজি
  3. ব্লু ইকোনমি
  4. ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি
ব্যাখ্যা
২০১২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরিও শহরে ১৯৯২ সালের ধরীত্রী সম্মেলনের ২০ পূর্তি উপলক্ষে রিও+২০ সম্মলেন অনুষ্ঠিত হয়।
এই সম্মেলনে এমডিজি'র মেয়াদান্তে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণের বিষয় আলোচনা হয়। এতে করে ২০১৬-২০৩০ মেয়াদে ১৭ টি লক্ষ্য সম্বলিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা গৃহিত হয়।
(সূত্রঃ ইউএনডিপি ওয়েবসাইট)
৮১৯.
ওয়াঙ্গেরি মাথাই নিম্নের কোন আন্দোলনের সূত্রপাত করেন?
  1. ক) Save Silent Valley Movement
  2. খ) Fridays For Future
  3. গ) Green Belt Movement
  4. ঘ) Let’s Save the Planet
ব্যাখ্যা
গ্রিন বেল্ট মুভমেন্ট (Green Belt Movement)
গ্রিন বেল্ট মুভমেন্ট - কেনিয়ার নাইরোবি ভিত্তিক একটি পরিবেশ বিষয়ক আন্দোলন। এর মাধ্যমে গ্রাম্য অঞ্চলে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
⤇ শুরুর সময় - ১৯৭৭ সাল।
⤇ শুরুর স্থান - নাইরোবি, কেনিয়া।
⤇ গ্রিন বেল্ট মুভমেন্ট শুরু করেছিলেন কেনিয়ার নাগরিক প্রফেসর ওয়াঙ্গেরি মাথাই। তিনি ২০০৪ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার ও ২০০৬ সালে ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

 
উৎস: গ্রিন বেল্ট মুভমেন্ট ওয়েবসাইট, ব্রিটানিকা। 
৮২০.
কার্টাগেনা প্রটোকল কোন সংস্থা সংশ্লিষ্ট জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তি?
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. আসিয়ান
  4. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
কার্টাগেনা প্রটোকল:

- কার্টাগেনা প্রটোকল হচ্ছে জাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক একটি চুক্তি
- যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জৈব প্রযুক্তির ব্যবহারের নিরাপত্তা বিষয়ক।
- এটি ২০০০ সালে কার্টাগেনা, কলম্বিয়াতে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে গৃহীত হয় এবং ২০০৩ সালে কার্যকর হয়।
- প্রটোকলের প্রধান লক্ষ্য হলো জীববৈচিত্র্যকে সুরক্ষা দেওয়া এবং জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত অর্গানিজমের (GMOs) ট্রেড এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশসমূহের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- এটি রাষ্ট্রসমূহকে তাদের জাতীয় নীতিমালা তৈরি করতে উৎসাহিত করে এবং জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ক তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে সহায়তা করে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ তারিখে কার্টাগেনা প্রটোকল স্বাক্ষর করে।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৮২১.
কোন চুক্তির মূল লক্ষ্য বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম রেখে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া জোরদার করা?
  1. কিয়োটো প্রোটোকল
  2. মন্ট্রিল প্রোটোকল
  3. প্যারিস চুক্তি
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি-২০১৫:
- প্যারিস জলবায়ু চুক্তি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর প্যারিসে কপ–২১ সম্মেলনে স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ৪ নভেম্বর ২০১৬।

⇒ চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান:
- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম অর্থাৎ ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।
- ২০৩০ সালের মধ্যে বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন প্রায় ৪৩ শতাংশ কমানোর ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। 
- গাছ, মাটি ও সমুদ্র প্রাকৃতিকভাবে যতটা শোষণ করতে পারে, ২০৫০ সাল থেকে ২১০০ সালের মধ্যে কৃত্রিমভাবে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ সেই পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
- প্রতি ৫ বছর অন্তর ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ রোধে প্রত্যেকটি দেশের ভূমিকা পর্যালোচনা করা।
- জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে গরিব দেশগুলোকে ধনী দেশগুলোর ‘জলবায়ু তহবিল’ দিয়ে সাহায্য করা।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৮২২.
পরবর্তী কপ সম্মেলন কোন দেশে অনুষ্ঠিত হবে? [ফেব্রুয়ারি, ২০২৫]
  1. ব্রাজিল
  2. সংযুক্ত আরব আমিরাত
  3. আজারবাইজান
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা
কপ সম্মেলন (Cop Conference):
- COP-এর পূর্ণরূপ: Conference of the Parties.
- কপ সম্মেলন (COP Conference) হলো একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন যেখানে দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত বিভিন্ন আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একত্রিত হয়।
- এই সম্মেলনটি মূলত জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন চুক্তি (United Nations Framework Convention on Climate Change, UNFCCC) এর আওতায় অনুষ্ঠিত হয়।
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন (COP) প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়।
- মূল উদ্দেশ্য: COP সম্মেলনের লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধ করা, পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা, এবং উন্নত দেশগুলোর দায়বদ্ধতা অনুযায়ী উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা ও প্রযুক্তি প্রদান করা।

উল্লেখ্য,
- কপ- ৩০ (COP-30) ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হবে। 
- আমাজনিয়ান শহর বেলেম ডো প্যারাকে কপ-৩০ সম্মেলনের জন্য নির্বাচন করেছে জাতিসংঘ।

অন্যদিকে,
- কপ-২৮ জলবায়ু সম্মেলন ২০২৩ সালে ৩০ নভেম্বর-১২ ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯৫ সালের ২ মার্চ - ৭ এপ্রিল জার্মানির বার্লিনে প্রথম কপ-১ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- ২০২৪ সালের নভেম্বরে আজারবাইজানের বাকুতে ২৯তম জলবায়ু সম্মেলন (COP-29) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৮২৩.
প্রথম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. বার্লিন, জার্মানি
  2. জেনেভা, সুইজারল্যান্ড
  3. নাইরোবি, কেনিয়া
  4. স্টকহোম, সুইডেন
ব্যাখ্যা
প্রথম জলবায়ু সম্মেলন
- বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার উদ্যোগে প্রথম জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- স্থান- জেনেভা, সুইজারল্যান্ড
- ১৯৭৯ সালের ১২-২৩ ফেব্রুয়ারি এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯০ সালে দ্বিতীয় জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলন UNFCCC গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- ১৯৯৫ সাল থেকে UNFCCC এর উদ্যোগে প্রতিবছর COP সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

অন্যদিকে,
- জাতিসংঘের উদ্যোগে ১৯৭২ সালের ৫-১৬ জুন সুইডেনের স্টকহোমে প্রথম বিশ্ব পরিবেশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- স্টকহোম সম্মেলনের সূত্র ধরেই United Nations Environment Programme ( UNEP ) প্রতিষ্ঠিত হয়।

সূত্র- UN ওয়েবসাইট।
৮২৪.
Common but Differentiated Responsibilities (CBDR) নীতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোথায় গৃহীত হয়েছিল?
  1. স্টকহোম সম্মেলন, ১৯৭২
  2. রিও আর্থ সামিট, ১৯৯২
  3. কিয়োটো প্রোটোকল, ১৯৯৭
  4. প্যারিস চুক্তি, ২০১৫
ব্যাখ্যা

Common but Differentiated Responsibilities (CBDR) নীতি:
- Common but Differentiated Responsibilities (CBDR) নীতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত ধরিত্রী সম্মেলনে (Earth Summit/UNCED) গৃহীত হয়।


• CBDR (Common but Differentiated Responsibilities) হলো আন্তর্জাতিক পরিবেশ আইনের একটি মূলনীতি।
- এই নীতি অনুযায়ী, বিশ্বের পরিবেশ রক্ষা করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা করা বিশ্বের সকল দেশের একটি সাধারণ দায়িত্ব। তবে সব দেশের দায়িত্ব সমান নয়। উন্নত দেশগুলো ঐতিহাসিকভাবে বেশি দূষণ করেছে এবং তাদের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বেশি। তাই জলবায়ু পরিবর্তন রোধে তাদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে হবে। 
- এই নীতিটি প্রথম গৃহীত হয় ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত ‘ধরিত্রী সম্মেলনে’ (Earth Summit)।
- এটি মূলত উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সমতা রক্ষার একটি মাধ্যম।
- এটি রিও ঘোষণার "নীতি ৭" হিসেবেও পরিচিত।
- পরবর্তীকালে ১৯৯৭ সালের কিয়োটো প্রটোকল এবং ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতেও এই CBDR নীতিটির প্রয়োগ করা হয়েছে।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) Britannica.
iii) IPCCওয়েবসাইট।

৮২৫.
২০২৪ সালে জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য সম্মেলন (UN COP-16) কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে?
  1. রিও ডি জেনিরো, ব্রাজিল 
  2. বাকু, আজারবাইজান 
  3. প্যারিস, ফ্রান্স 
  4. ক্যালি, কলম্বিয়া
ব্যাখ্যা

২০২৪ সালে জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য সম্মেলন (UN COP-16):
- ‘জীব বৈচিত্র্য কনভেনশন’ সম্পর্কিত জাতিসংঘের ১৬তম সম্মেলন (কপ-১৬) ২০২৪ সালের অক্টোবরে কলম্বিয়ার ক্যালিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ‘জৈব নিরাপত্তা সংক্রান্ত কার্টেজেনা প্রোটোকলে’র পক্ষগুলোর ১১তম সম্মেলন এবং ‘নাগোয়া প্রোটোকলে’র পক্ষগুলোর পঞ্চম সম্মেলন কলম্বিয়ার ক্যালিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- কপ-১৬ সম্মেলনের থিম হল ‘প্রকৃতির সাথে শান্তি’।
- উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের পরিবেশ মন্ত্রী হুয়াং রুন ছিউ উল্লেখ করেন যে, জীব বৈচিত্র্য মানুষের বেঁচে থাকা ও বিকাশের ভিত্তি এবং পৃথিবীতে প্রাণীকুলেরও ভিত্তি। 
- প্রতিনিধিরা ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীর ভূমি ও সমুদ্রের অন্তত ৩০ শতাংশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে অগ্রগতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
- ১৯০টিরও বেশি দেশ থেকে অংশগ্রহণকারীরা এই জৈব বৈচিত্র্য কনভেনশনের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ক্যালিতে সমবেত হয়েছেন।
- ২০২২ সালে কানাডায় অনুষ্ঠিত শেষ বৈঠকে গৃহীত কুনমিং-মন্ট্রিয়াল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক নামক এক চুক্তিতে নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিশ্চিত করেছেন তারা।

উৎস: i) OECD.
ii) Convention on Biological Diversity.

৮২৬.
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধকারী 'প্যারিস প্যাক্ট' স্বাক্ষরিত হয় -
  1. ১৯২৭ সালের ১২ আগস্ট
  2. ১৯২৯ সালের ৫ ডিসেম্বর
  3. ১৯২৮ সালের ২৭ আগস্ট
  4. ১৯২৮ সালের ৩ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
প্যারিস প্যাক্ট  (Pact of Paris)
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার থেকে মানুষ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ সম্পর্কে সচেতন হয়। শান্তিরক্ষার অংশ হিসাবে প্যারিস প্যাক্ট - ১৯২৮ স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির অন্যনাম - Kellogg-Briand Pact।
⤇ তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Frank B. Kellogg ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী - Aristide Briand আলোচনার মাধ্যমে এই চুক্তির খসড়া তৈরি করেন।
- চুক্তিটি স্বাক্ষর হয় - ২৭ আগস্ট, ১৯২৮ সালে ও কার্যকর হয় - ২৪ জুলাই, ১৯২৯ সালে।
এই চুক্তির ফলে যুদ্ধ এড়াতে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়।
অন্যদিকে,
প্যারিস শান্তি চুক্তি (Paris Peace Accords) - যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনামের মধ্যে ১৯৭৩ সালে স্বাক্ষরিত হয়।
প্যারিস চুক্তি - ১৭৮৩ (Treaty of Paris - 1783) - ১৭৮৩ সালে যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস্‌ - এর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।

উৎসঃ History.com
৮২৭.
বাংলাদেশ কবে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুমোদন করে?
  1. ১২ ডিসেম্বর ২০১৫
  2. ২৪ জানুয়ারি ২০১৬
  3. ২২ এপ্রিল ২০১৬
  4. ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ ২০১৬ সালের ২২ এপ্রিল পারিস জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষর এবং ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ চুক্তিটি কার্যকর করেছে।
- জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ১২ ডিসেম্বর ২০১৫ প্যারিস জলবায়ু চুক্তি গৃহিত হয়।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ৪ নভেম্বর ২০১৬।
- বর্তমান পর্যন্ত ১৯৫টি দেশ চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেছে এবং ১৯১টি দেশ এটির অংশীদার।
(তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
৮২৮.
২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তির সাথে সম্পর্কিত বিষয়বস্তু হলাে:
  1. আপদ ঝুঁকি হ্রাস
  2. জলবায়ু পরিবর্তন হ্রাস
  3. জনসংখ্যা বৃদ্ধি হ্রাস
  4. সমুদ্র পরিবহন ব্যবস্থাপনা
ব্যাখ্যা
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি-২০১৫:
- প্যারিস জলবায়ু চুক্তি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর প্যারিসে কপ–২১ সম্মেলনে স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ৪ নভেম্বর ২০১৬।

⇒ চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান:
- জলবায়ু পরিবর্তন হ্রাস।
- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম করা।
- গাছ, মাটি ও সমুদ্র প্রাকৃতিকভাবে যতটা শোষণ করতে পারে, ২০৫০ সাল থেকে ২১০০ সালের মধ্যে কৃত্রিমভাবে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ সেই পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
- প্রতি ৫ বছর অন্তর ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ রোধে প্রত্যেকটি দেশের ভূমিকা পর্যালোচনা করা।
- জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে গরিব দেশগুলোকে ধনী দেশগুলোর ‘জলবায়ু তহবিল’ দিয়ে সাহায্য করা।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৮২৯.
রটারডাম কনভেনশনের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. বিপজ্জনক রাসায়নিক আমদানি নিয়ন্ত্রণ
  2. বন উজাড় রোধ
  3. ওজোন স্তর সুরক্ষা
  4. সামুদ্রিক দূষণ কমানো
ব্যাখ্যা

রটারডাম কনভেনশন:
- রটারডাম কনভেনশন-এর পূর্ণনাম: Rotterdam Convention on the prior informed consent procedure for certain hazardous chemicals and pesticides in international trade.
- কনভেনশনটি গৃহীত হয়েছিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও কীটনাশকের ব্যবহার দূর করতে।
- গৃহীত হয়: ১০ ​​সেপ্টেম্বর, ১৯৯৮ (রটারডাম, নেদারল্যান্ডস)।
- কার্যকর হয়: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪।

• মূল উদ্দেশ্য:
- বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা।
- আমদানিকারক দেশকে পূর্বে অবহিত ও সম্মতি (Prior Informed Consent – PIC) দেওয়ার সুযোগ দেওয়া, যাতে তারা জেনে-বুঝে আমদানি করতে পারে বা নিষিদ্ধ করতে পারে।
- উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বিপজ্জনক রাসায়নিকের অপব্যবহার ও স্বাস্থ্য-পরিবেশ ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা।

উল্লেখ্য,
- এই কনভেনশনের Annex III-এ ৫২+টি বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশকের তালিকা আছে (যেমন DDT, ক্লোরডেন, প্যারাকুয়াট ইত্যাদি)।
রপ্তানিকারক দেশকে আমদানিকারক দেশের সম্মতি নিতে হয়। যদি আমদানিকারক দেশ “না” বলে, তাহলে সেই রাসায়নিক আমদানি করা যাবে না।
- সব সদস্য দেশকে তথ্য বিনিময় করতে হয় (Decision Guidance Document – DGD)।

উৎস: Rotterdam Convention ওয়েবসাইট।

৮৩০.
Green Climate Fund (GCF) এর গঠনের প্রাথমিক ধারণা ও প্রস্তাব উঠে আসে কপ (COP) কততম সম্মেলনে? 
  1. কপ-১৫
  2. কপ-১৪
  3. কপ-১০
  4. কপ-১৩
ব্যাখ্যা

কপ-১৫: 
- ২০০৯ সালের কোপেনহেগেন সম্মেলন, যা COP-15 নামে পরিচিত,
- জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন ছিল,
- যা ৭ থেকে ১৮ ডিসেম্বর ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয়।
- এই সম্মেলনে কোপেনহেগেন অ্যাকর্ড নামক একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২° সেলসিয়াসের নিচে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ।
- শিল্পোন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানায়
- এরই প্রেক্ষিতে, "Copenhagen Accord"-এ Green Climate Fund (GCF) গঠনের প্রাথমিক ধারণা ও প্রস্তাব উঠে আসে।
- লক্ষ্য ছিল উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় অর্থায়ন করা।

অন্যদিকে,
- কানকুন সম্মেলন (COP-16):
- কোপেনহেগেনে তহবিলের ধারণা দেওয়ার পর, পরবর্তী বছর মেক্সিকোর কানকুনে এই তহবিল গঠনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- এই সম্মেলনে GCF-এর কাঠামো, পরিচালনা এবং অর্থায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়।

উৎস: Green Climate Fund ওয়েবসাইট।

৮৩১.
গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড (GCF) কোন সম্মেলনে গৃহীত হয়েছিল?
  1. COP 9
  2. COP 15
  3. COP 16
  4. COP 21
ব্যাখ্যা
গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড (GCF):
- গৃহীত হয়: ২০০৯ সালে, কোপেনহেগেন সম্মেলনে (COP 15) 
- আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর ২০১০ সাল।
- উদ্দেশ্য: উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমন প্রকল্প অর্থায়ন।
- সদর দপ্তর: ইনচন, দক্ষিণ কোরিয়া।

উৎস: UNFCCC।
৮৩২.
মন্ট্রিল প্রটোকলের কিগালি সংশোধনী কোন গ্যাস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রণীত হয়েছে?
  1. কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. হাইড্রো-ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
  3. মিথেন
  4. নাইট্রাস অক্সাইড
ব্যাখ্যা

মন্ট্রিল প্রটোকল:
- Montreal Protocol-এর পূর্ণরূপ: The Montreal Protocol on Substances that Deplete the Ozone Layer.

⇒ মন্ট্রিল প্রোটকলের সংশোধনী: 
- ১৯৮৯ সাল থেকে মন্ট্রিল প্রটোকল ৬ বার সংশোধন করা হয়।এগুলো হলো:
- London amendment 1990,
- Copenhagen amendment 1992,
- Vienna amendment 1995,
- Montreal amendment 1997,
- Beijing amendment 1999,
- Kigali amendment 2016.

• কিগালি সংশোধনী:
- কিগালি সংশোধনী গৃহীত হয়: ১৫ অক্টোবর, ২০১৬। 
- কিগালি সংশোধনী কার্যকর হয়: ১ জানুয়ারি, ২০১৯।
- এটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা রুয়ান্ডার কিগালিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে গৃহীত হয়ছিল।
- এর লক্ষ্য হাইড্রোফ্লুরোকার্বন (HFCs)-এর ব্যবহার কমিয়ে পৃথিবীর উষ্ণায়ন কমানো এবং পৃথিবীকে আরও পরিবেশবান্ধব, টেকসই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে, বিভিন্ন দেশ আগামী ৩০ বছরের মধ্যে HFCs এর উৎপাদন এবং ব্যবহার ৮০%-৮৫% কমিয়ে আনবে।

উৎস: i) UNEP ওয়েবসাইট।
ii) Ozone Secretariat।
ii) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি)।

৮৩৩.
কার্বন ক্রেডিটের ধারণা পাওয়া যায় -
  1. মন্ট্রিল প্রটোকলে
  2. কার্টাগেনা প্রটোকলে
  3. কিয়োটো প্রোটোকলে
  4. নাগোয়া প্রটোকলে
ব্যাখ্যা
• কিয়োটো প্রোটোকল:
- কিয়োটো প্রোটোকল একটি বহুরাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- এটি পরিবেশের সাথে সম্পর্কিত।
- ‘কার্বন ক্রেডিট’ এর ধারণা দেয় কিয়োটা প্রোটোকল।
- এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলিকে গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাসের জন্য দায়বদ্ধ করে।
- এই চুক্তির মূল বিষয়: গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস।
- ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই ডিসেম্বর জাপানের কিয়োটো শহরে এই চুক্তি প্রথম গৃহীত হয়।
- ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ফেব্রুয়ারি কার্যকরী হয়।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৮৩৪.
কোন চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন EU থেকে বের হয়ে যায়?
  1. ক) শেনজেন চুক্তি
  2. খ) ম্যাসট্রিচট চুক্তি
  3. গ) লিসবন চুক্তি
  4. ঘ) ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি
ব্যাখ্যা
- ২০০৭ সালে পর্তুগালের লিসবনে স্বাক্ষরিত চুক্তিকে লিসবন চুক্তি বলে।
- এই চুক্তিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংস্কার চুক্তি বলা হয়।
- এই চুক্তির অনুচ্ছেদ-৫০ এ বলা আছে গণভোটের মাধ্যমে কোন দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করতে পারবে।
- এই চুক্তিটি কার্যকর হয় ২০০৯ সালে।
- এই চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যায়।

উৎসঃ ইইউ এর ওয়েবসাইট।
৮৩৫.
২০২৪ সালের COP সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়? (নভেম্বর, ২০২৪)
  1. মিশর
  2. ব্রাজিল
  3. দুবাই
  4. আজারবাইজান
ব্যাখ্যা
কপ সম্মেলন (Cop Conference):
- জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় ১৫৪টি দেশ ১৯৯২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) স্বাক্ষর করে।
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন (COP) প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়।
- ২০২৪ সালে ২৯তম জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP-29) অনুষ্ঠিত হয় – আজারবাইজান।
- এটি অনুষ্ঠিত হয় ১১ নভেম্বর, ২০২৪- ২২ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে।
- ২৮তম জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন (COP-28) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৮৩৬.
ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হয় -
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৪৯ সালে
  4. ১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ভূখন্ডে ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হয়।

বেলফোর ঘোষণা:
- বেলফোর ঘোষণা হলো ব্রিটিশ ইহুদি সম্প্রদায়ের একজন নেতা ব্যারন রথচাইল্ডের কাছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব আর্থার জেমস বেলফোরের লেখা একটি চিঠি।
- বেলফোর ঘোষণার সাথে আজকের ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠা সরাসরিভাবে জড়িত।

- ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর তৎকালীন ব্রিটেনের পররাষ্ট্র সচিব এ জে বেলফো ব্রিটিশ জায়নিষ্ঠ ফেডারেশনের সভাপতি লর্ড রথচাইল্ডকে একটি চিঠি দেন।
- ১৯২২ সালে জাতিপুঞ্জ (League of Nations) বেলফোর ঘোষণা অনুমোদন করে।
- ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ প্যালেস্টাইন অধ্যুষিত আরব এলাকা বিভক্তির মধ্যে দিয়ে ইসরাইল রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়।

উৎস: Britannica এবং  আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।
৮৩৭.
COP - 27 কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
  1. ক) গ্লাসগো, যুক্তরাজ্য
  2. খ) শারম আল শেখ, মিসর
  3. গ) বার্লিন, জার্মানী
  4. ঘ) দুবাই, আরব আমিরাত
ব্যাখ্যা

- জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক রুপরেখা চুক্তি UNFCCC এর সর্বোচ্চ সিদ্ধান্তগ্রহনকারী কর্তৃপক্ষ (Conference of the Parties) এর সম্মেলনগুলোকে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন বলা হয়।
- এই সংক্রান্ত প্রথম সম্মেলন হয় বার্লিন, জার্মানীতে, ১৯৯৫ সালে।
- UNFCCC ভুক্ত দেশগুলো এই সম্মেলনে অংশ নেয়। সর্বশেষ COP 26 সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় গ্লাসগো, যৃক্তরাজ্যতে।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনকারী দেশ হলো চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। কপ-২৬ সম্মেলন থেকে তারা বলেছে যে ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য অর্জনে একসাথে কাজ করবে।
- COP - ২৭ অনুষ্ঠিত হবে শারম-আল শেখ, মিশর - এ ২০২২ সালে।

সূত্র: UNFCCC এর ওয়েবসাইট।

৮৩৮.
মন্ট্রিল প্রটোকল মূলত কোন গ্যাস নিষিদ্ধ করার জন্য কাজ করে?
  1. কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC)
  3. নাইট্রোজেন
  4. সালফার ডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা

• মন্ট্রিল প্রটোকল:
- প্রটোকলটি গৃহীত হয়: ১৯৮৭ সালে।
- উদ্দেশ্য: ওজোন স্তর সুরক্ষা।
- চুক্তির স্থান: মন্ট্রিল, কানাডা।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: ১ জানুয়ারি, ১৯৮৯।
-  এটি ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করে।
- মন্ট্রিল প্রটোকল চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বর্তমানে সিএফসি গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে।
 
উৎস: UNEP ওয়েবসাইট এবং Britannica.

৮৩৯.
কার্বন ট্রেড-এর ধারণা দেয়-
  1. COP-15
  2. কিয়োটো প্রটোকল
  3. মন্ট্রিল প্রটোকল
  4. কার্টাগেনা প্রটোকল
ব্যাখ্যা

• কিয়োটো প্রটোকল:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জাতিসংঘের উদ্যোগে গঠিত শিল্পোন্নত দেশগুলো গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন বাধ্যতামূলকভাবে হ্রাসকরণের আন্তর্জাতিক চুক্তি হচ্ছে কিয়োটো প্রটোকল।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১১ ডিসেম্বর, ১৯৯৭।
- কার্যকর হয়: ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫।
- স্বাক্ষরের স্থান: কিয়োটো, জাপান।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ৮৩টি।
- অনুমোদনকারী দেশ: ১৯২টি।

• কার্বন ট্রেড:
- বিশ্বের উষ্ণতা রোধে কিয়েটো প্রটোকলকে কার্বন সনদ হিসেবে মনে করা হতো।
- কার্বন ট্রেড-এর ধারণা দেয় কিয়োটো প্রটোকল।
- বায়ুবায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড কম নিঃসরণের জন্য জন্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একটি ক্রেডিট বিনিময়ের নাম কার্বন বাণিজ্য।
- কিয়োটো প্রোটোকল একটি বহুরাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক চুক্তি যা এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলিকে গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাসের জন্য দায়বদ্ধ করে।

উৎস: United Nations Framework Convention on Climate Change ওয়েবসাইট।

৮৪০.
জাতিসংঘ সমুদ্র আইন কত সালে কার্যকর হয়েছিল?
  1. ক) ১৯৭৯ সালে
  2. খ) ১৯৮২ সালে
  3. গ) ১৯৮৩ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৪ সালে
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘের উদ্যোগে ১৯৮২ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন সংক্রান্ত চুক্তি UNCLOS বা United Nations convention on the law of the sea স্বাক্ষরিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে ১৬ই নভেম্বর চুক্তিটি কার্যকর হয়।
৮৪১.
V-20-এর প্রথম সভা কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে?
  1. নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
  2. নাইরোবি, কেনিয়া
  3. লিমা, পেরু
  4. প্যারিস, ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

• V- 20 বা Vulnerable Twenty Group:
- এটি হলো ২০টি জলবায়ু-সংবেদনশীল (climate-vulnerable) দেশের একটি জোট,
- এই দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
- প্রতিষ্ঠাকাল: ২০১৫ সাল।
- প্রথম সভা: লিমা, পেরুতে।
- উদ্যোক্তা দেশ: ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (CVF)।
- প্রথম সদস্য ২০টি দেশ।
- প্রাথমিক সদস্য দেশ যথা:
- আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, ভুটান, কোস্টা রিকা, ইথিওপিয়া, ঘানা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মালদ্বীপ, মাদাগাস্কার, নেপাল, ফিলিপাইন, রুয়ান্ডা, সেন্ট লুসিয়া, দক্ষিণ সুদান, পূর্ব তিমুর, টুভালু, তানজানিয়া, ভিয়েতনাম।
- বর্তমান সদস্য দেশ: ৭০ টি। 

উৎস: V- 20 ওয়েবসাইট।

৮৪২.
‘Loss and Damage Fund’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কোন সম্মেলনে?
  1. কপ-২৬ (গ্লাসগো)
  2. কপ-২৭ (শার্ম এল-শেখ)
  3. কপ-২৮ (দুবাই)
  4. কপ-২৫ (মাদ্রিদ)
ব্যাখ্যা

Loss and Damage Fund:
- ২০২২ সালে মিশরে অনুষ্ঠিত কপ-২৭ সম্মেলনে 'Loss and Damage Fund গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
- পরবর্তীতে ২০২৩ সালে দুবাইতে অনুষ্ঠিত কপ-২৮ সম্মেলনে এই তহবিলের কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- এই তহবিলের মূল উদ্দেশ্য হল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যে ক্ষয়ক্ষতি এবং ক্ষতি হয়, তার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।

⇒ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী বিশ্বের উন্নত দেশগুলো।
- ২০০৯ সালে উন্নত দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
- শেষ পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত তহবিল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ২০২২ সালে মিশরের শার্ম এল-শেখ-এ অনুষ্ঠিত কপ-২৭ শীর্ষ সম্মেলনে একটি চুক্তি হয়।
- আর এটিই হচ্ছে Loss and Damage Fund (লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিল)।
- Loss and Damage Fund-এর লক্ষ্য: উন্নয়নশীল ও দুর্বল দেশগুলোকে জলবায়ু বিপর্যয়ের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।

৮৪৩.
টেকসই উন্নয়ন অভিষ্টের লক্ষ্যমাত্রা কতটি?
  1. ক) ৮টি
  2. খ) ১৫টি
  3. গ) ১৭টি
  4. ঘ) ১৯টি
ব্যাখ্যা
- সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আদলে ২০১৫ সালের ২৫-২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনে ১৭টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় যা ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যস্থির করা হয়।
এসডিজির লক্ষ্যসমূহ হলো:
- দারিদ্র্য নির্মূল
- ক্ষুধামুক্তি
- সুস্বাস্থ্য
- মানসম্মত শিক্ষা
- লিঙ্গ সমতা
- বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন
- সাশ্রয়ী ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি
- উপযুক্ত কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
- শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো
- বৈষম্য হ্রাস
- টেকসই শহর ও জনগণ
- পরিমিত ভোগ ও উৎপাদন
- জলবায়ু বিষয়ে পদক্ষেপ
- সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান
- স্থলভাগের জীবন
- শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং
- অভিষ্টের জন্যে অংশীদারিত্ব।
(সূত্রঃ SDG ওয়েবসাইট)
৮৪৪.
’নাগোয়া প্রটোকল’ কার্যকর হয় কত সাল থেকে?
  1. ২০০০ সাল
  2. ২০১২ সাল
  3. ২০১৪ সাল
  4. ২০০৯ সাল
ব্যাখ্যা
 নাগোয়া প্রটোকল:
- পূর্ণ নাম: The Nagoya Protocol on Access and Benefit-sharing
- নাগোয়া প্রোটোকল হল জৈবিক বৈচিত্র্য কনভেনশনের একটি পরিপূরক চুক্তি। 
- ABS সংক্রান্ত নাগোয়া প্রোটোকলটি ২৯ অক্টোবর ২০১০ তারিখে জাপানের নাগোয়ায় গৃহীত হয়।
- প্রটোকলটি ১২ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে কার্যকর হয়।
- এর উদ্দেশ্য হল জিনগত সম্পদের ব্যবহার থেকে উদ্ভূত সুবিধাগুলির ন্যায্য এবং ন্যায়সঙ্গত বন্টন, যার ফলে জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবহারে অবদান রাখা যায়।
- স্বাক্ষরের স্থান: নাগোয়া, জাপান।

উৎস: Convention on Biological Diversity ওয়েবসাইট।
৮৪৫.
জাতিসংঘের প্রথম পরিবেশ বিষয়ক বিশ্ব সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. কিয়োটো
  2. রোম
  3. ভিয়েনা
  4. স্টোকহোম
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সম্মেলন:
- ১৯৭২ সালে স্টোকহোম জাতিসংঘের প্রথম পরিবেশ বিষয়ক বিশ্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- জাতিসংঘের প্রথম পরিবেশ বিষয়ক বিশ্ব সম্মেলন স্টোকহোমে অনুষ্ঠিত হয়।
- স্টকহোম সম্মেলনের ফলাফল হিসেবে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) তৈরী হয়।
- স্টকহোম ঘোষণাপত্রে ২৬টি নীতি রয়েছে।
- অ্যাকশন প্ল্যানে তিনটি প্রধান বিভাগ ছিল,
• গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম (ওয়াচ প্ল্যান)।
• পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম।
• জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্পাদিত মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে সমর্থন করার জন্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা।
- এই বিভাগগুলিকে ১০৯টি সুপারিশে বিভক্ত করা হয়েছিল।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৮৪৬.
ওজোন স্তরের সংরক্ষণ বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন কোনটি?
  1. রামসার কনভেনশন
  2. কিয়োটো প্রোটোকল
  3. রোম প্রোটোকল
  4. ভিয়েনা কনভেনশন
ব্যাখ্যা

ভিয়েনা কনভেনশন:
- Vienna Convention for the Protection of the Ozone Layer (ভিয়েনা কনভেনশন)- হলো জাতিসংঘের ওজোন স্তরের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিষয়ক চুক্তি।
- স্বাক্ষর ও গৃহীত: ২২ মার্চ, ১৯৮৫ সাল।
- স্বাক্ষরের স্থান: ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।
- কার্যকর হয়: ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৮ সাল।
- স্বাক্ষরকারী পক্ষ: ২৮টি।
- অনুমোদনকারী পক্ষ: ১৯৮টি।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ ওয়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা।

৮৪৭.
'বেলেম জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান' কোন সংস্থার অধীনে গৃহীত?
  1. UN Women
  2. UNFCCC
  3. UNDP
  4. IPCC
ব্যাখ্যা

'বেলেম জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান' (Belem Gender Action Plan):
- ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত কপ-৩০ সম্মেলনে 'বেলেম জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান' জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (UNFCCC)-এর অধীনে গৃহীত হয়েছে।

⇒  কপ-৩০ সম্মেলনের শেষের দিকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নতুন বেলেম জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান (জিএপি-গ্যাপ) অনুমোদন করেছে।
- এই পরিকল্পনা ২০২৬ থেকে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত ন্যূনতম লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং পুরোনো এনহান্সড লিমা ওয়ার্ক প্রোগ্রাম অন জেন্ডার আপডেট ও শক্তিশালী করেছে।
- নতুন পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু নীতি, পরিকল্পনা, প্রকল্প ও অর্থায়নের প্রতিটি স্তরে লিঙ্গভিত্তিক সমতা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
- এখানে ‘নারী’ বলতে কেবল সাধারণ নারী নয়; আদিবাসী, গ্রামীণ, কৃষিজীবী, প্রতিবন্ধী এবং অন্যান্য প্রান্তিক ও উপেক্ষিত গোষ্ঠীর নারীর অংশগ্রহণ ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নারীমুখী ও কমিউনিটিভিত্তিক প্রকল্প এবং জেন্ডার সংবেদনশীল জলবায়ু অর্থায়ন (জেন্ডার রেসপন্সিভ ক্লাইমেট ফিন্যান্স) ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতিও এসেছে।

উল্লেখ্য,
- জলবায়ু আলোচনায় লিঙ্গসমতা অন্তর্ভুক্তির যাত্রা শুরু হয় ২০১৪ সালে কপ২০-এ ‘লিমা ওয়ার্ক প্রোগ্রাম অন জেন্ডার’ গ্রহণের মাধ্যমে। ২০১৭ সালে কপ২৩-এ প্রথম জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান-গ্যাপ গৃহীত হয়, যা জলবায়ু নীতি ও কর্মসূচিতে নারীর অংশগ্রহণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। ২০১৯ সালের কপ২৫-এ এটি  ‘এনহান্সড লিমা ওয়ার্ক প্রোগ্রাম অন জেন্ডার’ হিসেবে আরও শক্তিশালী হয়। সবশেষে, বেলেমে অনুমোদিত নতুন গ্যাপ অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো তৈরি করেছে, যা জলবায়ু নীতি ও অর্থায়নে নারীর সমতা ও অংশগ্রহণকে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা যায়।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।

৮৪৮.
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় 'গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড' বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর জন্য কী পরিমাণ অর্থ মঞ্জুর করেছে?
  1. ১০০ বিলিয়ন ডলার
  2. ১২০ বিলিয়ন ডলার
  3. ১৫০ বিলিয়ন ডলার
  4. ২০০ বিলিয়ন ডলার
ব্যাখ্যা
Green Climate Fund:
- গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (Green Climate Fund) জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন কনভেনশন ফ্রেমওয়ার্ক (UNFCCC) কর্তৃক গঠিত একটি গঠিত তহবিল। শিল্পোন্নত দেশ সমূহের প্রদত্ত চাঁদা থেকে এই তহবিল গঠিত হয়েছে।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: কানকুন, মেক্সিকো।
- প্রতিষ্ঠাকাল: ২০১০ সাল।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সম্মেলন: কপ-১৬।
- সদর দপ্তর: ইয়েনচিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়া।

⇒ ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে ১৫তম কপ সমেলনে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠনের প্রস্তাব রাখা হয় এবং ২০১০ সালে কানকুনে ১৬তম কপ সম্মেলনে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর উদ্যোগে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।
- এর মূল লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোকে সহায়তা করা ও কার্বন নির্গমন কমানো।
- সম্মেলনে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস মধ্যে সীমিত রাখতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ একমত প্রকাশ করে।
- গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠনের মাধ্যমে দরিদ্র দেশগুলোকে ১০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

উৎস: Green Climate Fund ওয়েবসাইট।
৮৪৯.
কোন সম্মেলনের মাধ্যমে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের 'ভেটো ক্ষমতা' নির্ধারিত হয়?
  1. সিটি ফ্রান্সিসস্কো সম্মেলন
  2. আটলান্টিক সম্মেলন
  3. ডাম্বারটন ওকস সম্মেলন
  4. ইয়াল্টা সম্মেলন
ব্যাখ্যা
ইয়াল্টা সম্মেলন
- ১৯৪৫ সালের ৪-১১ ফেব্রুয়ারি সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্রিমিয়ার ইয়াল্টাতে মিত্র পক্ষের এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- যা জাতিসংঘ গঠনের ইতিহাসে “Yalta Conference”  নামে পরিচিত।
- এই সম্মেলনে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের “ভেটো ক্ষমতা” (Veto Power) নির্ধারিত হয়।
- এটি ক্রিমিয়া সম্মেলন নামেও পরিচিত। 

ডাম্বারটন ওকস সম্মেলন   
এ সম্মেলনে কিছু প্রস্তাব গৃহীত হয়। এগুলো হলো- 
- জাতিসংঘের গঠনের রূপরেখা, লক্ষ্য ও দায়িত্ব নির্ধারণ,
- নিরাপত্তা পরিষদ গঠন এবং ৫টি স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র নির্ধারণ। 

সূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট এবং হিস্টোরি.কম।[লিঙ্ক]
৮৫০.
স্টকহোম ঘোষণাপত্রে মোট কয়টি নীতি ছিল?
  1. ২৬টি
  2. ২৭টি
  3. ২৮টি
  4. ২৯টি
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সম্মেলন:
- ১৯৭২ সালে স্টকহোমে জাতিসংঘের প্রথম পরিবেশ বিষয়ক বিশ্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- জাতিসংঘের প্রথম পরিবেশ বিষয়ক বিশ্ব সম্মেলন স্টকহোমে অনুষ্ঠিত হয়।
- স্টকহোম সম্মেলনের  ফলাফল হিসেবে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) তৈরী হয়।
- স্টকহোম ঘোষণাপত্রে ২৬টি নীতি রয়েছে।
- অ্যাকশন প্ল্যানে তিনটি প্রধান বিভাগ ছিল,
• গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম (ওয়াচ প্ল্যান)।
• পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম।
• জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্পাদিত মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে সমর্থন করার জন্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা।
- এই বিভাগগুলিকে ১০৯টি সুপারিশে বিভক্ত করা হয়েছিল।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

৮৫১.
'কিগালি সংশোধনী' নিচের কোন প্রটোকলের সাথে সম্পর্কিত?
  1. মন্ট্রিল প্রোটোকল
  2. নাগোয়া প্রোটোকলে
  3. কিয়োটো প্রোটোকল
  4.  বর্ণিত কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

কিগালি সংশোধনী:
- মন্ট্রিল প্রোটোকলের সর্বশেষ সংশোধনী হলো কিগালি সংশোধনী।
- কিগালি সংশোধনী হলো হাইড্রোফ্লরোকার্বন (HFCs)-এর ব্যবহার এবং উৎপাদন ধীরে ধীরে হ্রাস করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
 - ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর রুয়ান্ডার কিগালিতে মন্ট্রিল প্রটোকলের ২৮তম সভায় শক্তিশালী গ্রিন হাউজ গ্যাস-হাইড্রোফ্লোরো কার্বনের ব্যবহার পর্যায়ক্রমে জ কমিয়ে আনতে মন্ট্রিল প্রটোকল সংশোধিত হয়।
- সংশোধনীটি বাস্তবায়িত হলে স্তবায়িত হলে এই শতাব্দীর শেষে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রায় শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড কমানো সম্ভব হবে।

উৎস: UNEP ওয়েবসাইট।

৮৫২.
রামসার কনভেনশন এর মূল উদ্দেশ্য- 
  1. ওজনস্তর রক্ষা করা 
  2. জলাভূমি সংরক্ষণ করা 
  3. পারমাণবিক বজ্র নিষ্কাশন
  4. উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা

রামসার কনভেনশন:
- রামসার কনভেনশন হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি,
- এটি ১৯৭১ সালে ইরানের রামসার শহরে স্বাক্ষরিত হয়।
-  এই কনভেনশন ২১ ডিসেম্বর, ১৯৭৫ সালে কার্যকর হয়।
- স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৭২টি।
- এর উদ্দেশ্য হলো জলাভূমি সংরক্ষণ করা।
- এবং সারা বিশ্বে এসব এলাকার টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে।
- বাংলাদেশের ২টি স্থান রামসার সাইট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
- রামসার সাইট ২টি হলো: সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর।

উৎস: Ramsar Convention ওয়েবসাইট।

৮৫৩.
বিশ্বের সর্বশেষ জলবায়ু সম্মেলন (ডিসেম্বর, ২০১৮ ) কোথায় অনুষ্ঠিত হয়? 
  1. কাটোউইস, পোল্যান্ড
  2. প্যারিস, ফ্রান্স
  3. রোম, ইতালি
  4. বেইজিং ,চীন
ব্যাখ্যা
এটি তৎকালীন সাম্প্রতিক প্রশ্ন। এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।

২০১৮ সালে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন ক্যাটওয়াইস জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন নামেও পরিচিত। এটি পোল্যান্ডের ক্যাটওয়াইসে২ থেকে ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ তে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

কপ সম্মেলন (Cop Conference):
- COP-এর পূর্ণরূপ: Conference of the Parties.
- জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় ১৫৪টি দেশ ১৯৯২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) স্বাক্ষর করে।
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন (COP) প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়।
- এখানে আলোচনা করা হয় কিভাবে ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনার উপায় অর্জন করা উচিত এবং কী অগ্রগতি হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করা।

উল্লেখ্য,
- সর্বশেষ কপ-২৮ জলবায়ু সম্মেলন ২০২৩ সালে ৩০ নভেম্বর-১২ ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হয়।
- কপ-২৮ সম্মেলনে বিশ্বনেতারা পরিবেশের দূষণ কমানো, জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করেন।
- কপ-২৮ সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন আবুধাবি জাতীয় তেল কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শিল্প ও উন্নত প্রযুক্তিমন্ত্রী সুলতান আহমেদ আল জাবের।
- ২০২৩ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত কপ-২৮ এ ১৯৯ সংখ্যক জাতি অংশগ্রহণ করেছিল।

অন্যদিকে -
- কপ- ২৯, ২০২৪ সালে আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত হবে।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৮৫৪.
'এজেন্ডা ২১' কোন সম্মেলনে গৃহীত হয়?
  1. রিও ডি জেনিরো সম্মেলন
  2. স্টকহোম সম্মেলন
  3. কোপেনহেগেন সম্মেলন
  4. প্যারিস সম্মেলন
ব্যাখ্যা

'এজেন্ডা ২১' জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলনে (আর্থ সামিট) গৃহীত হয়েছিল যা ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত হয়।

Earth Summit: 

- ১৯৯২ সালের ৩ - ১৪ জুন ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে প্রথম পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলন (Earth Summit) অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি রিও সামিট, রিও-কনফারেন্স বা ধরিত্রী সম্মেলন (Earth Summit) নামে পরিচিত।
- এই সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন কনভেনশন (Climate Change Convention) বিষয়ক চুক্তি হয়।

উল্লেখ্য,
- এর উল্লেখযোগ্য একটি নীতি হচ্ছে Polluter pays principle.
- এই সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ১৭৯টি দেশের রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক, বিজ্ঞানী, মিডিয়া প্রতিনিধি এবং বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) একত্রিত হয়ে পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।

⇒ ধরিত্রী সম্মেলনের উল্লেখযোগ্য সাফল্য:
- রিও ঘোষণা: ২৭টি সার্বজনীন নীতিসহ পরিবেশ ও উন্নয়নের কাঠামো।
- এজেন্ডা ২১: ২১শ শতাব্দীর জন্য টেকসই উন্নয়নের কর্মপরিকল্পনা।
- UNFCCC: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার কনভেনশন যা পরে কিয়োটো প্রোটোকল নামে পরিচিত।
- জৈবিক বৈচিত্র্য কনভেনশন: জৈব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার।
- বন ব্যবস্থাপনা নীতিমালা: বন সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার ঘোষণা।
- ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র সম্মেলন: ১৯৯৪ সালে টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রথম সম্মেলন।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

৮৫৫.
নিচের কোন প্রোটোকলটির মূল বিষয় 'জৈব নিরাপত্তা'?
  1. কিয়েটো প্রটোকল
  2. কার্টাগেনা প্রোটোকল
  3. বাসেল কনভেনশন
  4. নাগোয়া প্রটোকল
ব্যাখ্যা

কার্টাগেনা প্রোটোকল:
- কার্টাগেনা প্রোটোকল হচ্ছে জাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক একটি চুক্তি।
- কার্টাগেনা প্রোটোকল এর পুরো নাম Cartagena Protocol in Biosafety to the Convention on Biologcal Diversity.
- কার্টাগেনা প্রোটোকল গৃহীত হয় ২০০০ সালের ২৯ জানুয়ারি।
- কার্টাগেনা প্রোটোকল চুক্তিটি ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৩ সালে কার্যকর হয়।
- বাংলাদেশ কার্টাগেনা প্রোটোকল চুক্তি স্বাক্ষর করে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৪ সালে।

উল্লেখ্য:
- কিয়েটো প্রটোকল-গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস ও বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধ।
- বাসেল কনভেনশন ক্ষতিকর বর্জ্য চলাচল বিষয়ক।
- নাগোয়া প্রটোকল বন্য প্রাণী সংরক্ষণ প্রটোকল।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৮৫৬.
বেলেম জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান কোন জলবায়ু সম্মেলনে গৃহীত হয়েছে?
  1. কপ-২১
  2. কপ-২৫
  3. কপ-২৭
  4. কপ-৩০
ব্যাখ্যা

'বেলেম জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান' (Belem Gender Action Plan):
- ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত কপ-৩০ সম্মেলনে 'বেলেম জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান' জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (UNFCCC)-এর অধীনে গৃহীত হয়েছে।

⇒  কপ-৩০ সম্মেলনের শেষের দিকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নতুন বেলেম জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান (জিএপি-গ্যাপ) অনুমোদন করেছে।
- এই পরিকল্পনা ২০২৬ থেকে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত ন্যূনতম লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং পুরোনো এনহান্সড লিমা ওয়ার্ক প্রোগ্রাম অন জেন্ডার আপডেট ও শক্তিশালী করেছে।
- নতুন পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু নীতি, পরিকল্পনা, প্রকল্প ও অর্থায়নের প্রতিটি স্তরে লিঙ্গভিত্তিক সমতা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
- এখানে ‘নারী’ বলতে কেবল সাধারণ নারী নয়; আদিবাসী, গ্রামীণ, কৃষিজীবী, প্রতিবন্ধী এবং অন্যান্য প্রান্তিক ও উপেক্ষিত গোষ্ঠীর নারীর অংশগ্রহণ ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নারীমুখী ও কমিউনিটিভিত্তিক প্রকল্প এবং জেন্ডার সংবেদনশীল জলবায়ু অর্থায়ন (জেন্ডার রেসপন্সিভ ক্লাইমেট ফিন্যান্স) ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতিও এসেছে।

উল্লেখ্য,
- জলবায়ু আলোচনায় লিঙ্গসমতা অন্তর্ভুক্তির যাত্রা শুরু হয় ২০১৪ সালে কপ২০-এ ‘লিমা ওয়ার্ক প্রোগ্রাম অন জেন্ডার’ গ্রহণের মাধ্যমে। ২০১৭ সালে কপ২৩-এ প্রথম জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান-গ্যাপ গৃহীত হয়, যা জলবায়ু নীতি ও কর্মসূচিতে নারীর অংশগ্রহণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। ২০১৯ সালের কপ২৫-এ এটি  ‘এনহান্সড লিমা ওয়ার্ক প্রোগ্রাম অন জেন্ডার’ হিসেবে আরও শক্তিশালী হয়। সবশেষে, বেলেমে অনুমোদিত নতুন গ্যাপ অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো তৈরি করেছে, যা জলবায়ু নীতি ও অর্থায়নে নারীর সমতা ও অংশগ্রহণকে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা যায়।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।

৮৫৭.
কার্টাগেনা প্রটোকল কার্যকর হয় কবে?
  1. ২০০১ সাল
  2. ২০০২ সাল
  3. ২০০৩ সাল
  4. ২০০৪ সাল
ব্যাখ্যা

কার্টাগেনা প্রটোকল (Cartagena Protocol):
- কার্টাগেনা প্রোটকলের পূর্ণনাম - The Cartagena Protocol on Biosafety to the Convention on Biological Diversity.
- কার্টাগেনা প্রটোকল জৈব-নিরাপত্তা বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। 
- এই চুক্তিটি কলম্বিয়ার কার্টাগেনাতে আলোচিত হয়।
- চুক্তি অনুমোদন - ২৯ জানুয়ারি, ২০০০ সাল। 
- চুক্তি কার্যকর - ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ সাল।

তথ্যসূত্র - কনভেনশন অন বায়ো-ডাইভার্সিটি (CBD) ওয়েবসাইট।

৮৫৮.
কোন সম্মেলনে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি গৃহীত হয়েছিল?
  1. COP-15
  2. COP-21
  3. COP-27
  4. COP-29
ব্যাখ্যা
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি:
- ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ফ্রান্সের প্যারিসে ২১তম UNFCC Conference of Parties (COP-21) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এই সম্মেলনে গৃহীত হয়।
- ২০১৬ সালের ৪ নভেম্বর প্যারিস জলবায়ু চুক্তি কার্যকর হয়।
- এই সম্মেলনে ১৯৬টি দেশ ও সংস্থা অংশ নেয়।
- বাংলাদেশ ২০১৬ সালে এই চুক্তি স্বাক্ষর এবং কার্যকর করে।
- চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।
- গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেয়ার বিষয়েও লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।
- COP-1 সম্মেলন ১৯৯৫ সালে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৮৫৯.
প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কত শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে?
  1. ২৫%
  2. ৩৫%
  3. ৪৩%
  4. ৫০%
ব্যাখ্যা
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি:
- প্যারিস জলবায়ু চুক্তি হলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার জন্য একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২০১৫ সালে (COP-21)।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ৪ নভেম্বর, ২০১৬।
- স্বাক্ষর করেছে: ১৯৫টি দেশ।

⇒ বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর লক্ষ্যে প্যারিস চুক্তি (Paris Agreement) কাজ করে। 
- ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর - ১২ ডিসেম্বর প্যারিসে কপ-২১ সম্মেলনে এই চুক্তি গৃহীত হয়।
- এই চুক্তি অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDCs) দিয়ে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর জন্য অঙ্গীকার করে।

⇒ চুক্তির মূল লক্ষ্য:
- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে সীমাবদ্ধ রাখা এবং ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা।
- ২০৩০ সালের মধ্যে বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন প্রায় ৪৩ শতাংশ কমানোর ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।
- গাছ, মাটি ও সমুদ্র প্রাকৃতিকভাবে যতটা শোষণ করতে পারে, ২০৫০ সাল থেকে ২১০০ সালের মধ্যে কৃত্রিমভাবে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ সেই পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
- প্রতি ৫ বছর অন্তর ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ রোধে প্রত্যেকটি দেশের ভূমিকা পর্যালোচনা করা।
- জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে গরিব দেশগুলোকে ধনী দেশগুলোর ‘জলবায়ু তহবিল’ দিয়ে সাহায্য করা।
 
উল্লেখ্য,
- প্যারিস জলবায়ু চুক্তির আওতায়, উন্নত দেশগুলো ২০২০ সাল থেকে প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু তহবিলে জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই অর্থ উন্নয়নশীল ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রমে ব্যয় করার কথা ছিল। ​ তবে, কপ-২৯ সম্মেলনে (নভেম্বর, ২০২৪) এই প্রতিশ্রুতি বাড়িয়ে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সহায়তায় ব্যয় করা হবে।

উৎস: i) UNFCCC ওয়েবসাইট।
ii) UNTC ওয়েবসাইট।
৮৬০.
Clean Development Mechanism কোন প্রটোকলের অংশ?
  1. মন্ট্রিল প্রটোকল
  2. কার্টাগেনা প্রটোকল
  3. কিয়োটো প্রটোকল
  4. নাগোয়া প্রটোকল
ব্যাখ্যা
কিয়োটো প্রটোকল:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জাতিসংঘের উদ্যোগে গঠিত শিল্পোন্নত দেশগুলো গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন বাধ্যতামূলকভাবে হ্রাসকরণের আন্তর্জাতিক চুক্তি হচ্ছে কিয়োটো প্রটোকল।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১১ ডিসেম্বর, ১৯৯৭।
- কার্যকর হয়: ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫।
- স্বাক্ষরের স্থান: কিয়োটো, জাপান।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ৮৩টি।
- অনুমোদনকারী দেশ: ১৯২টি।

⇒ ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম (CDM):
- ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম বা Clean Development Mechanism কিয়োটো প্রটোকল-এর অংশ।
- প্রোটোকলের ১২ অনুচ্ছেদে অনুসারে, ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম (সিডিএম) এর আওতায় কোন উন্নত দেশ অন্য উন্নয়নশীলদেশে  গ্রীনহাউস গ্যাসের নি:সরণ কমানোর জন্য কোন প্রকল্প নির্মানের  প্রতিশ্রুতি দিয়ে বা বিনিয়োগের মাধ্যমে  চুক্তি  খেলাপের হাত থেকে বাঁচতে পারে।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৮৬১.
'মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের' প্রধান দুই উদ্যোক্তা হলেন -
  1. ভিক্টর চেরনোমাইর্ডিন ও জর্জ ফন ব্রোকি
  2. এভাল্ড ভন ক্লাইস্ট ও হোর্স্ট টেল্টশিক
  3. প্লিসেটস্কায়া ও মিখাইল গর্বাচেভ
  4. এভাল্ড ভন ক্লাইস্ট ও জর্জ ফন হার্টলিং
ব্যাখ্যা
• 'মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন':
- মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন সাধারণত প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত হয়।
- এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র/সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক ও বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী, একাডেমিশিয়ান, বিশেষজ্ঞ প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে বৈশ্বিক নিরাপত্তাগত পলিসি, চ্যালেঞ্জ ও সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা হয়।
- ১৯৬৩ সাল থেকে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
- মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের প্রধান দুই উদ্যোক্তা - এভাল্ড ভন ক্লাইস্ট ও হোর্স্ট টেল্টশিক।
- ৬০তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন ২০২৪ সালের ১৬-১৮  ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের প্রধান দুই উদ্যোক্তা এভাল্ড ভন ক্লাইস্ট ও হোর্স্ট টেল্টশিক এই সম্মেলনকে বিশ্বজনীন রূপ দেওয়ার প্রয়াসে নতুন রূপরেখা তৈরি করেন। 

উৎস: সিকিউরিটি কনফারেন্স সংস্থা ওয়েবসাইট, প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৮৬২.
মন্ট্রিল প্রটোকল চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য কোন গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস পায়?
  1. ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
  2. নাইট্রোজেন
  3. কার্বনডাইঅক্সাইড
  4. নাইট্রিক অক্সাইড
ব্যাখ্যা

• মন্ট্রিল প্রটোকল:
- প্রটোকলটি গৃহীত হয়: ১৯৮৭ সালে।
- উদ্দেশ্য: ওজোন স্তরের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ সীমিতকরণ।
- চুক্তির স্থান: মন্ট্রিল, কানাডা।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: ১ জানুয়ারি, ১৯৮৯।
-  এটি ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করে।
- মন্ট্রিল প্রটোকল চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বর্তমানে সিএফসি গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে।

উৎস: UNEP ওয়েবসাইট এবং Britannica.

৮৬৩.
মন্ট্রিল প্রটোকল কত সালে কার্যকর হয়?
  1. ১৯৮৭ সালে
  2. ১৯৮৯ সালে
  3. ২০০০ সালে
  4. ২০০৩ সালে
ব্যাখ্যা
মন্ট্রিল প্রটোকল:
- Montreal Protocol-এর পূর্ণরূপ: The Montreal Protocol on Substances that Deplete the Ozone Layer.
- মন্ট্রিল প্রোটকলের মূখ্য আলোচ্য বিষয়: ওজোন স্তরের সুরক্ষা।
- বায়ুমন্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে অবস্থিত ওজোন স্তর।
- এই প্রটোকলে ওজোন স্তরের ক্ষতিকর পদার্থ নিঃসরণ বন্ধ বা কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
- গৃহীত হয়: ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭ সালে।
- কার্যকর হয়: ১ জানুয়ারী, ১৯৮৯ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: মন্ট্রিল, কানাডা। 

⇒ ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতি বছর ওজোন স্তর রক্ষা দিবস পালিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ODS (Ozone Depleting Substances) হলো এমন পদার্থ যা সাধারণত রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র এবং অ্যারোসলের মতো পণ্যগুলিতে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: UNEP ওয়েবসাইট।
৮৬৪.
কিগালি সংশোধনী কোন চুক্তির অংশ?
  1. কিয়োটো প্রোটোকল
  2. মন্ট্রিল প্রটোকল
  3. কার্টাগেনা প্রটোকল
  4. বাসেল কনভেনশন
ব্যাখ্যা

কিগালি সংশোধনী:
- মন্ট্রিল প্রোটোকলের সর্বশেষ সংশোধনী হলো কিগালি সংশোধনী।
- কিগালি সংশোধনী হলো হাইড্রোফ্লুরোকার্বন (HFCs)-এর ব্যবহার এবং উৎপাদন ধীরে ধীরে হ্রাস করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর রুয়ান্ডার কিগালিতে মন্ট্রিল প্রটোকলের ২৮তম সভায় শক্তিশালী গ্রিন হাউজ গ্যাস-হাইড্রোফ্লোরো কার্বনের ব্যবহার পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনতে মন্ট্রিল প্রটোকল সংশোধিত হয়।
- সংশোধনীটি বাস্তবায়িত হলে এই শতাব্দীর শেষে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রায় শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড কমানো সম্ভব হবে।

উৎস: UNEP ওয়েবসাইট।

৮৬৫.
আটলান্টিক সনদ কোন দেশগুলোর মধ্যে হয়?
  1. যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া
  2. যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন
  3. যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও রাশিয়া
  4. যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

আটলান্টিক সনদ:
- ১৪ আগস্ট, ১৯৪১ সালে স্বাক্ষরিত হয়।
- স্বাক্ষরের স্থান: আটলান্টিক মহাসাগর।
- পক্ষসমূহ: যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন
- উদ্দেশ্য: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে পৃথিবীতে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা।
- এর ফলে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফ্রাংকলিন ডি রুজভেল্ট ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয় এই সনদ।
- ৮ দফার এই সনদ স্বাক্ষরিত হয় উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে প্রিন্স অব ওয়েলস নামক একটি যুদ্ধ জাহাজে।

উৎস: Britannica.

৮৬৬.
Basel Convention is related to -
  1. Environmentally sound management of hazardous waste
  2. Nuclear weapons reduction
  3. Settlement of International Boundary Disputes
  4. High Seas Treaty
ব্যাখ্যা
 বাসেল কনভেনশন (Basel Convention):
- জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) বিপজ্জনক বা বিষাক্ত বর্জ্য এবং এটির আন্তঃসীমান্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য বাসেল কনভেনশন নামে একটি কনভেনশন গ্রহণ করে।
- এটি গৃহীত হয়: ২২শে মার্চ, ১৯৮৯, বাসেল, সুইজারল্যান্ড।
- কার্যকরী হয়: ৫ মে, ১৯৯২।
- সদস্য: ১৯১টি।
- স্বাক্ষরকারী: ৫৩টি।
- বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তঃসীমান্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক চুক্তিকে বাসেল কনভেনশন বলে।
- বাসেল কনভেনশন এর উদ্দেশ্য: উন্নত দেশ থেকে অনুন্নত দেশে বিপজ্জনক বর্জ্য স্থানান্তর রোধ করা।

উল্লেখ্য,
-  বাংলাদেশ বাসেল কনভেনশন কার্যকর করে ১৯৯৩ সালের ৩০ জুন।

উৎস: UN Basel Convention  ওয়েবসাইট।
৮৬৭.
প্রথম ধরিত্রী সম্মেলন কত সালে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯০ সালে
  4. ১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা

⇒ প্রথম ধরিত্রী সম্মেলন ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত হয়।

ধরিত্রী সম্মেলন:
• পূর্ণ্নাম: The United Nations Conference on Environment and Development.
• তারিখ: ১৯৯২ সালে ৩ - ১৪ জুন।
• পৃথিবীর জলবায়ু রক্ষার্থে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও-তে ধরিত্রী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
• এটি প্রথম ধরিত্রী সম্মেলন নামে পরিচিত।

এছাড়াও,
• 'রিও বা ধরিত্রী সম্মেলন + ৫' অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে।
- এটি ১৯৯৭ সালে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি বিশেষ ধরিত্রী সম্মেলন নামে পরিচিত।

• 'রিও বা ধরিত্রী সম্মেলন + ১০' অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে ২০০২ সালে।
- এটি দ্বিতীয় ধরিত্রী সম্মেলন নামে পরিচিত।

• 'রিও বা ধরিত্রী সম্মেলন + ২০' অনুষ্ঠিত হয় ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও-তে ২০১২ সালে।
- এটি তৃতীয় ধরিত্রী সম্মেলন নামে পরিচিত।

উৎস: ব্রিটানিকা & UN website.

৮৬৮.
মন্ট্রিল প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়-
  1. ক) ১৯৮৭ সালে
  2. খ) ১৯৮৮ সালে
  3. গ) ১৯৮৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৯০ সালে
ব্যাখ্যা
বায়মণ্ডলের ওজোন স্তরকে রক্ষা বিষয়ক প্রটোকল মন্ট্রিল প্রটোকল। এটি ১৯৮৭ সালে স্বাক্ষরিত হয় এবং কার্যকর হয় ১৯৮৯ সালে। এর পুরো নাম- Montreal Protocol on Substance that Deplete the Ozone Layer. বাংলাদেশ অনুমােদন করে- ১৯৯০ সালে।
৮৬৯.
নাগোয়া প্রটোকল কোন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. গ্রীনহাউজ গ্যাসের যৌথ নিঃসরন হ্রাস
  2. ওজোন স্তর রক্ষা
  3. জৈব নিরাপত্তা
  4. জেনেটিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার
ব্যাখ্যা
নাগোয়া প্রটোকল:
- জীববৈচিত্র্য বিষয়ক কনভেনশনের সম্পূরক হিসেবে নাগোয়া প্রটোকল গৃহীত হয়।
- জেনেটিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং জেনেটিক সম্পদের ব্যবহার থেকে উদ্ভূত উপযোগিতার ন্যায্যতাভিত্তিক বন্টন ও বিনিময়ের লক্ষ্যে নাগোয়া প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২৯ অক্টোবর, ২০১০ সালে।
- চুক্তি কার্যকর হয়: ১২ অক্টোবর, ২০১৪ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: নাগোয়া, জাপান।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ: ৯২টি।
- চুক্তি অনুমোদনকারী দেশ: ১৪১টি।
- উদ্দেশ্য: বন্য প্রাণী সংরক্ষণ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের অনুমোদন: ১০ জানুয়ারি, ২০২৩ সাল।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।
৮৭০.
ইয়াল্টা সম্মেলনে নিচের কোনজন উপস্থিত ছিলেন না?
  1. উইনস্টন চার্চিল
  2. ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট
  3. জোসেফ স্টালিন
  4. চার্লস ডি গল
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৫ সালে ৪-১১ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের ইয়াল্টা শহরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মিত্রশক্তির তিন শক্তিধর দেশের সরকার প্রধানরা বৈঠকে মিলিত হয় যা ‘ইয়াল্টা সম্মেলন’ নামে পরিচিত।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা হলো:
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট
- সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট জোসেফ স্ট্যালিন এবং
- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল।
- এই সম্মেলনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যগুলোর ভেটো ক্ষমতা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- এছাড়া মাঞ্চুরিয়ার অংশবিশেষের উপর সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত প্রভাব বৃদ্ধির শর্তে সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক প্রশান্ত মহাসাগরে জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
(তথ্যসূত্র: মার্কিন সরকারি ওয়েবসাইট এবং হিস্টোরি ডটকম)
৮৭১.
মন্ট্রিল প্রটোকলের অধীনে কোন ধরনের পদার্থের উৎপাদন ও ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বন্ধ করা হয়?
  1. কার্বন মনোক্সাইড
  2. সালফার ডাই অক্সাইড
  3. নাইট্রাস অক্সাইড
  4. ওজোনস্তর ক্ষয়কারী পদার্থ (ODS)
ব্যাখ্যা
মন্ট্রিল প্রটোকল:
- Montreal Protocol-এর পূর্ণরূপ: The Montreal Protocol on Substances that Deplete the Ozone Layer.
- মন্ট্রিল প্রোটোকল হল ওজোনস্তর ক্ষয়কারী পদার্থ (ODS) ব্যবহার এবং উৎপাদন বন্ধ করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। 
- মন্ট্রিল প্রোটকলের মূখ্য আলোচ্য বিষয়: ওজোন স্তরের সুরক্ষা।
- বায়ুমন্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে অবস্থিত ওজোন স্তর।

⇒ চুক্তি গৃহীত হয়: ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭ সালে।
- কার্যকর হয়: ১ জানুয়ারী, ১৯৮৯ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: মন্ট্রিল, কানাডা।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ: ২০০টি।
- চুক্তি অনুমোদনকারী দেশ: ১৯৮টি।

উল্লেখ্য,
- ধরিত্রীকে রক্ষার লক্ষ্যে ওজোনস্তর রক্ষায় জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির উদ্যোগে ১৯৮৫ সালে 'ভিয়েনা কনভেনশন' গৃহীত হয়।
- এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কানাডার মন্ট্রিলে "মন্ট্রিল প্রটোকল" নামে এক যুগান্তকারী চুক্তি গৃহীত হয়।

উৎস: i) UNEP ওয়েবসাইট।
ii) Ozone Secretariat।
৮৭২.
২৯তম জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন COP-29 কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ফিনল্যান্ড
  2. আজারবাইজান
  3. উরুগুয়ে
  4. কাতার
ব্যাখ্যা

• কপ সম্মেলন:
- COP -এর পূর্ণরূপ Conferences of the Parties.
- জলবায়ু সংক্রান্ত জাতিসংঘ রূপরেখা সম্মেলন কার্যকর হয় ১৯৯৪ সালে।
- প্রথম কপ-১ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়- জার্মানির বার্লিন শহরে ১৯৯৫ সালে।
- UNFCC ভুক্ত সদস্য দেসসমূহ জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে।

উল্লেখ্য,
- COP‑29 সম্মেলন ২০২৪ সালে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত। 
- COP‑30 সম্মেলন ২০২৫ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
- COP‑31 সম্মেলন ২০২৬ সালে ব্রাজিলে তুরস্কে অনুষ্ঠিত হবে।  

তথ্যসূত্র: UNFCCC ওয়েবসাইট এবং ইউএনবি। 

৮৭৩.
"Earth Summit" নামে পরিচিত কোন সম্মেলন?
  1. নিউইয়র্ক (১৯৯৭) সম্মেলন
  2. স্টকহোম (১৯৭২) সম্মেলন
  3. রিও (১৯৯২) সম্মেলন
  4. জোহানেসবার্গ (২০০২) সম্মেলন
ব্যাখ্যা
রিও সম্মেলন (১৯৯২):
- পূর্ণরূপ: United Nations Conference on Environment and Development (UNCED).
- এটি Earth Summit নামেও পরিচিত।
- স্থান: রিও ডি জেনেইরো, ব্রাজিল।
- তারিখ: ৩-১৪ জুন, ১৯৯২।
- উদ্দেশ্য: টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি।
- গুরুত্বপূর্ণ অর্জন: UNFCCC, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কনভেনশন (CBD), অ্যাজেন্ডা ২১ ।

উৎস: United Nations ওয়েবসাইট।
৮৭৪.
বাংলাদেশ কবে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে?
  1. ক) ১২ ডিসেম্বর ২০১৫
  2. খ) ২৪ জানুয়ারি ২০১৬
  3. গ) ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬
  4. ঘ) ২২ এপ্রিল ২০১৬
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ ২০১৬ সালের ২২ এপ্রিল পারিস জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষর এবং ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ চুক্তিটি কার্যকর করেছে।
- জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ১২ ডিসেম্বর ২০১৫ প্যারিস জলবায়ু চুক্তি গৃহিত হয়।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ৪ নভেম্বর ২০১৬।

[উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট]
৮৭৫.
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি কত তম COP সম্মেলনে গৃহীত হয়?
  1. ১৯তম
  2. ২০তম
  3. ২১তম
  4. ২৫তম
ব্যাখ্যা
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি:
• গৃহীত: ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর।
• স্থান: ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত ২১তম UNFCCC Conference of Parties (COP-21) সম্মেলন।
• সদস্য: ১৯৬টি দেশের প্রতিনিধির দ্বারা প্যারিস জলবায়ু চুক্তি গৃহীত হয়।
• কার্যকর: ৪ নভেম্বর ২০১৬ থেকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি কার্যকর হয়।

• চুক্তির মূল লক্ষ্য-
- একুশ শতকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।
- এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে, ২০২৫ সালের মধ্যে গ্রীনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো শুরু করতে হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৪৩% কমাতে হবে।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৮৭৬.
'কপ-২৫' সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. ক) ফ্রান্স
  2. খ) রোম
  3. গ) স্পেন
  4. ঘ) চিলি
ব্যাখ্যা
২০১৯ সালে স্পেনের মাদ্রিদে 'কপ-২৫' সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
প্রথমে এই সম্মেলনটি চিলির সান্তিয়াগোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে চিলি অপরাগতা প্রকাশ করলে স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত হয়।
কপ-২৬ সম্মেলন ২০২০ সালে স্কটল্যান্ডে হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারীর কারণে ২০২১ সালের ১-১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
উৎসঃ UNFCCC এর ওয়েবসাইট।
৮৭৭.
সর্বশেষ জলবায়ু সম্মেলনে উন্নত বিশ্ব দরিদ্র দেশগুলোকে প্রতিবছর কী পরিমাণ সহায়তার অঙ্গীকার করেছে? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. ১০০ বিলিয়ন ডলার
  2. ২০০ বিলিয়ন ডলার
  3. ২৮০ বিলিয়ন ডলার
  4. ৩০০ বিলিয়ন ডলার
ব্যাখ্যা

২৯তম জলবায়ু সম্মেলন (COP-29):
- জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব একটি বৈশ্বিক সমস্যা।
- তাই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত কাঠামো কনভেনশনের (UNFCCC) আওতায় ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর Conference of Parties (COP) অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

⇒ ২০২৪ সালের নভেম্বরে আজারবাইজানের বাকুতে ২৯তম জলবায়ু সম্মেলন (COP-29) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- এ জলবায়ু সম্মেলনের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ফাইন্যান্স কপ’ বা ‘জলবায়ুর আর্থিক সম্মেলন’।
- জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৯–এর সভাপতিত্ব করেন মুখতার বাবায়েভ (Mukhtar Babayev)।
- এই সম্মেলনে রাষ্ট্রপ্রধান, বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
- যদিও যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ফ্রান্সের মতো বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা অনুপস্থিত ছিলেন।

⇒ এ জলবায়ু চুক্তিতে ঐকমত্যে আসে প্রায় ২০০টি সদস্য দেশ।
- চূড়ান্ত চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল পর্যন্ত দরিদ্র দেশগুলোকে প্রতিবছর ৩০০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার অঙ্গীকার করেছে
- পাশাপাশি, দেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধের জন্য ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে বলে সম্মত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- কপ- ৩০ (COP-30) সম্মেলন ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্রাজিলের বেলেম ডো প্যারাকে অনুষ্ঠিত হবে।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।

৮৭৮.
সবুজ জলবায়ু তহবিল গঠন করা হয় কোন সম্মেলনের মাধ্যমে?
  1. ১৬তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন
  2. ২৫তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন
  3. ২৭তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন
  4. ২৯তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন
ব্যাখ্যা
Green Climate Fund:
- গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (Green Climate Fund) জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন কনভেনশন ফ্রেমওয়ার্ক (UNFCCC) কর্তৃক গঠিত একটি গঠিত তহবিল।
- শিল্পোন্নত দেশ সমূহের প্রদত্ত চাঁদা থেকে এই তহবিল গঠিত হবে।
- প্রতিষ্ঠাকাল: ২০১০ সাল।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: কানকুন, মেক্সিকো।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সম্মেলন: কপ-১৬।
- সদর দপ্তর: ইয়েনচিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়া।
- No. of projects: ২৫৩টি।

⇒ এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর উদ্যোগে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।
- এর মূল লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোকে সহায়তা করা ও কার্বন নির্গমন কমানো।
- সম্মেলনে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস মধ্যে সীমিত রাখতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ একমত প্রকাশ করে।
- গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠনের মাধ্যমে দরিদ্র দেশগুলোকে ১০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

উৎস: Green Climate Fund ওয়েবসাইট।
৮৭৯.
সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র সাক্ষরিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯২০ সালে
  2. খ) ১৯৪৫ সালে
  3. গ) ১৯৪৮ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৮ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মানবাধিকার সংক্রান্ত সার্বজনীন ঘোষণাপত্র সাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে সর্বমোট ৩০ টি ধারা ছিলো। চুক্তি স্বাক্ষরের দিনটিকে প্রতিবছর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে পালন করা হয়। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৮৮০.
কোন শহরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে শান্তিচুক্তি সাক্ষরিত হয়?
  1. ক) দোহা
  2. খ) নিউইয়র্ক
  3. গ) জেনেভা
  4. ঘ) ইসলামাবাদ
ব্যাখ্যা
কাতারের রাজধানী দোহায় ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান গোষ্ঠী ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করে। দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে চলা আফগান যুদ্ধ অবসানকল্পে এই চুক্তি সাক্ষরিত হয়। এতে আমেরিকার পক্ষে জালমি খলিলজাদ এবং তালেবানের পক্ষে সংগঠনটির রাজনৈতিক শাখার প্রধান মোল্লা আব্দুল গানি স্বাক্ষর করেন। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আগামী ১৪ মাসে আফগানিস্তান থেকে আমেরিকা তার সৈন্য প্রত্যাহার করবে। (সূত্রঃ সিএনএন)
৮৮১.
বন্য প্রাণী সংরক্ষণের জন্য কোন প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়?
  1. মন্ট্রিল প্রটোকল
  2. কিয়েটো প্রটোকল
  3. নাগোয়া প্রটোকল
  4. কার্টাগোনা প্রটোকল
ব্যাখ্যা
নাগোয়া প্রটোকল:
- নাগোয়া প্রটোকল হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য ব্যবহার সম্পর্কিত ন্যায্য সুবিধা বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত।
- এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্যের প্রবাহ (Convention on Biological Diversity - CBD) এর আওতায় ২০০০ সালে জাপানের নাগোয়া শহরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে গৃহীত হয়।
- নাগোয়া প্রটোকল মূলত জীববৈচিত্র্যের সম্পদ ব্যবহার এবং এর থেকে প্রাপ্ত উপকারিতা, বিশেষ করে জেনেটিক রিসোর্সের ব্যবহার সম্পর্কিত।

⇒ স্বাক্ষরিত হয়: ২৯ অক্টোবর, ২০১০ সালে।
- চুক্তি কার্যকর হয়: ১২ অক্টোবর, ২০১৪ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: নাগোয়া, জাপান।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ: ৯২টি।
- চুক্তি অনুমোদনকারী দেশ: ১৪১টি।
- উদ্দেশ্য: বন্য প্রাণী সংরক্ষণ প্রটোকল।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের অনুমোদন: ১০ জানুয়ারি, ২০২৩ সাল। 

অন্যদিকে -
- মন্ট্রিল প্রোটকলের মূখ্য আলোচ্য বিষয়: ওজোন স্তরের সুরক্ষা।
- কিয়েটো প্রোটকলের মূখ্য আলোচ্য বিষয়: বিশ্বের উষ্ণতা হ্রাস।
- কার্টাগোনা প্রটোকল হলো জাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক প্রটোকল।

উৎস: United Nations Treaty Collection ওয়েবসাইট।
৮৮২.
বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি কোনটি?
  1. ক) বাসেল কনভেনশন
  2. খ) মন্ট্রিল প্রটোকল
  3. গ) কিয়েটো প্রটোকল
  4. ঘ) ভিয়েনা কনভেনশন
ব্যাখ্যা
Kyoto Protocol, in full Kyoto Protocol to the United Nations Framework Convention on Climate Change, international treaty, named for the Japanese city in which it was adopted in December 1997, that aimed to reduce the emission of gases that contribute to global warming. In force since 2005, the protocol called for reducing the emission of six greenhouse gases in 41 countries plus the European Union to 5.2 percent below 1990 levels during the “commitment period” 2008–12. Source: britannica.com
৮৮৩.
'কিয়েটো প্রটোকল' কোথায় সংশোধিত হয়?
  1. ক) আবুধাবি
  2. খ) রিওডি জেনেরিও
  3. গ) দোহা
  4. ঘ) টোকিও
ব্যাখ্যা
- ২০১২ সালের ৮ ডিসেম্বর কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত COP এর ১৮-তম সম্মেলনে (COP-18) কিয়েটো প্রটোকল সংশোধিত হয়।
- কিয়েটো প্রটোকল - এর সংশোধনী কার্যকরের জন্য এর অনুমোদনকারী পক্ষ সমূহের তিন - চতুর্থাংশ অর্থ্যাৎ ১৪৪টি দেশের অনুসমর্থনের প্রয়োজন ছিল।
- ২০২২ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত ১৪৮টি দেশ তা অনুসমর্থন করায় দোহা সংশোধনীর শর্ত পূরণ হয়েছে। সংশোধনীটি ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ এ কার্যকর হয়।    

কিয়ােটো প্রটোকলঃ
-বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্যে দায়ী গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানাের উদ্দেশ্যে ১৯৯৭ সালের ১১ ডিসেম্বর জাপানের কিয়ােটো শহরে কিয়ােটো প্রটোকল গৃহীত হয়।
- এর অংশীদার মােট ১৯২টি দেশ ও সংস্থা।
- ২০০৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এটি কার্যকর হয়।
- ২০১২ সালে এর মেয়াদ শেষ হলে দোহা অ্যামেন্ডমেন্টের মাধ্যমে এটির মেয়াদ ২০২০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলেও তা এখনাে কার্যকর হয়নি।
 
উৎসঃ UNFCCC ওয়েবসাইট 
৮৮৪.
রামসার কনভেনশনের উদ্দেশ্য-
  1. সমুদ্রে বর্জ্য নিক্ষেপের প্রবণতা কমানো
  2. উষ্ণতা হ্রাস
  3. কার্বন নি:সরণ
  4. জলাশয় ও জলাভূমি সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা
রামসার কনভেনশন:
-রামসার কনভেনশন হলো বিশ্বব্যাপী জৈবপরিবেশ রক্ষা এবং জলাভূমি সংরক্ষণ, ও ব্যাবহারের জন্যে একটি সম্মিলিত প্রয়াস। 
 -ইরানের রামসার শহরের 1971 সালে   কনভেনশন টি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
- রামসার কনভেনশন ১৯৭১ সালে স্বাক্ষরিত হয়।
- মূল লক্ষ- জলাশয় ও জলাভূমি সংরক্ষণ।
- বাংলাদেশের রামসার সাইট ২ টি- সুন্দরবন (১৯৯২) এবং টাঙ্গুয়ার হাওর (২০০০)

উৎস : britannica
৮৮৫.
কার্বন সনদ ধারণাটি পরিবেশ বিষয়ক কোন প্রটোকলের সাথে সম্পর্কিত?
  1. কার্টাগেনা প্রটোকল
  2. কিয়োটো প্রটোকল
  3. মন্ট্রিল প্রটোকল
  4. নাগোয়া প্রটোকল
ব্যাখ্যা

কিয়োটো প্রটোকল:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জাতিসংঘের উদ্যোগে গঠিত শিল্পোন্নত দেশগুলো গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন বাধ্যতামূলকভাবে হ্রাসকরণের আন্তর্জাতিক চুক্তি হচ্ছে কিয়োটো প্রটোকল।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১১ ডিসেম্বর, ১৯৯৭।
- কার্যকর হয়: ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫।
- স্বাক্ষরের স্থান: কিয়োটো, জাপান।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ৮৩টি।
- অনুমোদনকারী দেশ: ১৯২টি।

⇒ কার্বন সনদ:
- কার্বন সনদ (Carbon Credit) ধারণাটি মূলত কিয়োটো প্রোটোকল -এর সাথে সম্পর্কিত। 
- এই প্রটোকলের প্রধান লক্ষ্য ছিল গ্রীনহাউস গ্যাস, বিশেষ করে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) নির্গমন কমানো।
- কারণ, কার্বন ডাই অক্সাইড প্রধান গ্রীনহাউস গ্যাস এবং এটি বিশ্ব উষ্ণতা বৃদ্ধির (গ্লোবাল ওয়ার্মিং) জন্য দায়ী প্রধান উপাদান।

⇒ কার্বন সনদের ধারণাটি আসে বিশেষত কার্বন ডাই অক্সাইডের নির্গমন কমানোর উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং দেশগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সীমা আরোপ করা।
- কিয়োটো প্রটোকল কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের নির্গমন কমানোর জন্য 'কার্বন ক্রেডিট' ব্যবস্থাও চালু করেছিল, যার মাধ্যমে এক দেশ অন্য দেশের নির্গমন কমানোর প্রচেষ্টা কিনতে পারে বা বিক্রি করতে পারে।
- এর মাধ্যমে একটি বৈশ্বিক বাজার তৈরি হয়েছিল, যা 'কার্বন সনদ' বা 'কার্বন ক্রেডিট' নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- কিয়োটো প্রটোকলের অংশ হিসেবে অনেক উন্নত দেশ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসকরণের জন্য নৈতিকভাবে দুটি পর্যায়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়।
- প্রথম প্রতিশ্রুতির সময় ২০০৮-২০১২ এবং দ্বিতীয়টি ২০১৩-২০২০ সাল পর্যন্ত।
- প্রথম চুক্তির মেয়াদ ২০১২ সালে শেষ হলে দ্বিতীয় দফায় সেই চুক্তি সংশোধন করে ২০২০ সাল নাগাদ বর্ধিত করা হলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়নি।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।

৮৮৬.
নিচের কোন দেশটি NPT চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি?
  1. ক) ভারত
  2. খ) পাকিস্তান
  3. গ) ইসরাইল
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
- Non-Proliferation of Nuclear Weapons (NPT) বা পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি ১৯৬৮ সালের ১ জুলাই স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি কার্যকর হয় ১৯৭০ সালের ৫ মার্চ থেকে।
- ভারত, পাকিস্তান, ইসরাইল, দক্ষিণ সুদান ও উত্তর কোরিয়া (প্রত্যাহারকারী) NPT চুক্তিতে স্বাক্ষর বা অনুমোদন করেনি।

- রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, তুরস্ক, ইরানসহ চুক্তিটির মোট অংশীদার ১৯১টি দেশ।
- বাংলাদেশ ৩১ আগস্ট ১৯৭৯ চুক্তিটি অনুমোদন করে।

তথ্যসূত্র:- জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৮৮৭.
নাগোয়া প্রোটোকল কী উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়? 
  1. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার
  2. ওজোনস্তর সংরক্ষণ
  3. পারমাণবিক বর্জ্য সংরক্ষণ
  4. ভূগর্ভস্থ পানি সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা
নাগোয়া প্রোটোকল (২০১০):
- পূর্ণনাম: Nagoya Protocol on Access to Genetic Resources and the Fair and Equitable Sharing of Benefits Arising from their Utilization.
- চুক্তির স্থান: নাগোয়া, জাপান।
- গৃহীত হয়: ২৯ অক্টোবর, ২০১০ সাল।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: ১২ অক্টোবর, ২০১৪।
- এর উদ্দেশ্য: জৈবসম্পদ ব্যবহার থেকে প্রাপ্ত সুবিধা ন্যায্যভাবে ভাগ করে নেওয়া এবং এর মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা।
- বর্তমান সদস্য দেশ: ১৩৮টি দেশ (২০২৪ সাল পর্যন্ত)।
- জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক ন্যায্যতা নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় জনগণের ক্ষমতায়নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রটোকল।

উৎস: CBD (Convention on Biological Diversity) Official Website.
৮৮৮.
ইউরোপীয় পরিবেশ সংস্থার সদরদপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. পোল্যান্ড
  2. জার্মানী
  3. ডেনমার্ক
  4. বেলজিয়াম
ব্যাখ্যা
ইউরোপীয় পরিবেশ সংস্থা (European Environment Agency):

- গঠন - ১৯৯৪ সালে।
- সদরদপ্তর - কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক।
- সদস্য দেশ -৩২ টি।
- সহযোগী দেশ - ০৬টি।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নকে পরিবেশ বিষয়ক তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে সহায়তা করা এই সংস্থার প্রধান কাজ।

তথ্যসূত্র - EEA ওয়েবসাইট।
৮৮৯.
Conference of Parties (CoP) - এর প্রথম বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিলো?
  1. রিও ডি জেনেরিও, ব্রাজিল
  2. জোহানেসবার্গ, দক্ষিণ আফ্রকা
  3. নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
  4. বার্লিন, জার্মানি
ব্যাখ্যা
১৯৯২ সালের ৯ মে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে United Nations Framework Convention on Climate Change (UNFCCC) গৃহিত হয়।
একই বছরের ৪ থেকে ১৪ জুন ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে এটি স্বাক্ষরের জন্যে উন্মুক্ত করা হয় যা ২১ মার্চ ১৯৯৪ কার্যকর হয়।
এতে ১৯৭ টি দেশ ও সংস্থা স্বাক্ষর করে।
UNFCC এর বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনার জন্যে ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর UNFCCC তার উদ্যোগে Conference of Parties (CoP) এর আয়োজন করে আসছে।
১৯৯৫ সালের মার্চ মাসে জার্মানির বার্লিনে প্রথম Conference of Parties (CoP) এর আয়োজন করা হয়। এতে UNFCCC তে স্বাক্ষরকারী পক্ষসমূহ অংশ নেয়।
UNFCCC এর সদরদপ্তর জার্মানির বন শহরে অবস্থিত।

সূত্রঃ UNFCCC ওয়েবসাইট
৮৯০.
সর্বোচ্চ গ্রিনহাউজ গ্যাস উদগীরণে সবচেয়ে বেশি দায়ী নিচের কোন দেশ?
  1. রাশিয়া
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. চীন
  4. ভারত
ব্যাখ্যা
গ্রীণ হাউস গ্যাস:
- গ্রীন হাউস ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউস গ্যাস।
- গ্রীন হাউস গ্যাস সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনী রশ্মি শোষণ করে এবং আবার মহাশুন্যে ফিরিয়ে দেয়, ফলে আমাদের দেহ বেগুনি রশ্মি গুলি থেকে রক্ষা পায়।
- গ্রীন হাউস গ্যাস পৃথিবীর তাপমাত্রা ধরে রাখে ফলে পৃথিবিতে সবসময় প্রায় একই তাপমাত্রা বিরাজ করে। 
- গ্রীণ হাউস গ্যাস গুলি হচ্ছে জলীয় বাষ্প, কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, ওজোন, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরো ফ্লরো কার্বন ইত্যাদি।

গ্রীন হাউস গ্যাস নিঃসরণে শীর্ষ দেশ -
১। চীন।
২। যুক্তরাষ্ট্র।
৩। ভারত।
৪। রাশিয়া।
৫। জাপান।

উৎস: Investopedia ওয়েবসাইট।
৮৯১.
'Friday For Future' কোন ধরনের আন্দোলন?
  1. ধর্মীয় আন্দোলন
  2. পরিবেশবাদী আন্দোলন
  3. শান্তিবাদী আন্দোলন
  4. গণতান্ত্রিক আন্দোলন
ব্যাখ্যা
'Friday For Future' একটি পরিবেশবাদী আন্দোলন। 
- গ্রেটা থুনবার্গ ২০১৮ সালে এই আন্দোলনের সূত্রপাত করে। 

Fridays for future:
- ফ্রাইডেস ফর ফিউচার আন্দোলন হলো একটি পরিবেশবাদী আন্দোলন।
- জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে স্কুল শিক্ষার্থীদের এটি একটি বৈশ্বিক মুভমেন্ট।
- ২০১৮ সালে সুইডেনের গ্রেটা থুনবার্গ নামের ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী এই আন্দোলনের সূত্রপাত করে।
- থুনবার্গ স্কুল বর্জন করে সুইডিশ পার্লামেন্ট ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
- তার এই কর্মসূচি পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
- ফ্রাইডেস ফর ফিউচার মুভমেন্টের উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারগুলোর উপর নৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।

উৎস: Fridays For Future ওয়েবসাইট ও দৈনিক প্রথম আলো।
৮৯২.
IUCN হলো -
  1. পর্যটন সংস্থা
  2. নদী রক্ষা বিষয়ক সংস্থা
  3. আবহাওয়া সংস্থা
  4. জীববৈচিত্র সংরক্ষণবাদী সংস্থা
ব্যাখ্যা
IUCN:
- IUCN-এর পূর্ণরূপ: International Union for Conservation of Nature.
- এটি বিশ্ব জীববৈচিত্র সংরক্ষণবাদী সংস্থা
- IUCN একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যা প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক এবং টেকসই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কাজ করে। 
- এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ৫ অক্টোবর, ১৯৪৮ সালে।
- IUCN এর সদরদপ্তর সুইজারল্যান্ডের গ্ল্যান্ডে।
- এটি নিয়ে বিশ্বের ১৬০টির অধিক দেশ কাজ করছে।

অন্যদিকে -
- World Meteorological Organization (WMO) হলো বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।
- World Wide Fund for Nature (WWF) হলো প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা বিষয়ক সংস্থা।
- United Nations World Tourism Organization হলো বিশ্ব পর্যটন সংস্থা।

উৎস: IUCN এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৮৯৩.
জাতিসংঘের ISAF সামরিক মিশন কোন দেশে নিয়োজিত ছিলো?
  1. ক) ইরাক
  2. খ) আফগানিস্তান
  3. গ) সিরিয়া
  4. ঘ) কসোভো
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনে ২০০১ সালের ২০ ডিসেম্বর আফগানিস্তানে International Security Assistance Force (ISAF) মোতায়েন করা হয়। এই মিশন ন্যাটোর অধীনে আফগানিস্তানে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সক্রিয় ছিলো। এর সদরদপ্তর ছিলো কাবুলে। এই মিশনে প্রায় ১,১৮,০০০ সেনা ছিলো। এর উদ্দেশ্য ছিলো যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে শান্তি ফিরিয়ে আনা। (সূত্রঃ ন্যাটো ওয়েবসাইট)
৮৯৪.
'Fridays for future' আন্দোলনটি কোথায় সংঘটিত হয়?
  1. সুইডেন
  2. কানাডা
  3. ফিনল্যান্ড
  4. নরওয়ে
ব্যাখ্যা
'Fridays for future': 

• Fridays for future আন্দোলন হলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্কুল শিক্ষার্থীদের একটি বৈশ্বিক মুভমেন্ট।
২০১৮ সালে সুইডেনের গ্রেটা থুনবার্গ নামের ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী এই আন্দোলনের সূত্রপাত করে।
• তাঁর উপাধি: পরিবেশ কন্যা। 
• থুনবার্গ স্কুল বর্জন করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে সুইডিশ পার্লামেন্ট ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
• তার এই কর্মসূচি পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং শুক্রবার স্কুল ধর্মঘট করে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান করতে শুরু করে।
• ফ্রাইডেস ফর ফিউচার মুভমেন্টের উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারগুলোর উপর নৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।

উৎস: Fridays For Future এর ওয়েবসাইট।
৮৯৫.
কপ-৩০ কবে অনুষ্ঠিত হবে? [মে, ২০২৫]
  1. ২০২৬ সালের ১০-২১ নভেম্বর
  2. ২০২৫ সালের ১০-২১ নভেম্বর
  3. ২০২৫ সালের ১-১১ নভেম্বর
  4. ২০২৫ সালের ১-১১ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
COP30:
- COP30 হল জাতিসংঘের ৩০তম Conference of the Parties (COP), একটি বার্ষিক বৈশ্বিক সভা যেখানে বিশ্ব নেতা, বিজ্ঞানী, বেসরকারি সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের নেতারা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করার জন্য একত্রিত হন।
- COP30 অনুষ্ঠিত হবে ১০-২১ নভেম্বর, ২০২৫, বেলেম, ব্রাজিল-এ।
- COP21-এ স্বাক্ষরিত প্যারিস চুক্তি এবং পূর্ববর্তী COP-এর আলোচনা COP30 অব্যাহত রেখেছে।
- COP29-এর পর থেকে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং ভবিষ্যতের পদক্ষেপ ত্বরান্বিত করার জন্য বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫°C-তে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য এবং জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতিগুলি মূল বিষয়বস্তু হবে।

উৎস: COP30 Brasil ওয়েবসাইট।
৮৯৬.
সর্বপ্রথম কোন চুক্তি কার্যকরের ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হয়?
  1. ক) CPTPP
  2. খ) TPNW
  3. গ) NPT
  4. ঘ) CTBT
ব্যাখ্যা
- Non-Proliferation of Nuclear Weapons (NPT) বা পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি ১৯৬৮ সালের ১ জুলাই স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ১৯৭০ সালের ৫ মার্চ থেকে।

- বর্তমানে এনপিটি চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশের সংখ্যা ১৯০টি।
- ভারত, পাকিস্তান, ইসরাইল, দক্ষিণ সুদান ও উত্তর কোরিয়া (প্রত্যাহারকারী) NPT চুক্তিতে স্বাক্ষর বা অনুমোদন করেনি।
- বাংলাদেশ ৩১ আগস্ট ১৯৭৯ সালে চুক্তিটি অনুমোদন করে।
- ১৯৮৫ সালে উত্তর কোরিয়া ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। তবে ২০০৩ সালে সেখান থেকে সরে যায় তারা।
- এর তিন বছর পর দেশটির তত্কালীন সর্বোচ্চ নেতা কিম জং–ইলের আমলে প্রথম পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটায় উত্তর কোরিয়া।
 
চুক্তিটির লক্ষ্য ছিল বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার।

ওই চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ছাড়া স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর নিজেদের কাছে পারমাণবিক বোমা রাখা নিষিদ্ধ করা হয়। এর বিনিময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি পায় তারা। চুক্তিতে বলা হয়, এ প্রক্রিয়ার পুরোটাই দেখভাল করবে জাতিসংঘ।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট, প্রথম আলো।
৮৯৭.
২৯তম জাতিসংঘের বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে -
  1. ২০২৫ সালে ব্রাজিলে
  2. ২০২৫ সালে আজারবাইজানে
  3. ২০২৪ সালে ব্রাজিলে
  4. ২০২৪ সালে আজারবাইজানে
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

২৯তম জাতিসংঘের বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৪ সালে আজারবাইজানে।

কপ সম্মেলন (Cop Conference):

- COP-এর পূর্ণরূপ: Conference of the Parties.
- জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় ১৫৪টি দেশ ১৯৯২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) স্বাক্ষর করে।
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন (COP) প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়।
- এখানে আলোচনা করা হয় কিভাবে ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনার উপায় অর্জন করা উচিত এবং কী অগ্রগতি হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করা।

উল্লেখ্য,
- কপ-২৮ জলবায়ু সম্মেলন ২০২৩ সালে ৩০ নভেম্বর-১২ ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হয়।
- কপ-২৮ সম্মেলনে বিশ্বনেতারা পরিবেশের দূষণ কমানো, জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করেন।
- কপ-২৮ সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন আবুধাবি জাতীয় তেল কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শিল্প ও উন্নত প্রযুক্তিমন্ত্রী সুলতান আহমেদ আল জাবের।

অন্যদিকে -
- কপ- ২৯, ২০২৪ সালে আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত হবে।
- কপ- ৩০, ২০২৫ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হবে। আমাজনিয়ান শহর বেলেম ডো প্যারাকে কপ-৩০ সম্মেলনের জন্য নির্বাচন করেছে জাতিসংঘ।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৮৯৮.
কিয়োটো প্রটোকলে গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণের ভিত্তিতে বিশ্বের দেশগুলোকে কয় শ্রেণিতে ভাগ করা হয়?
ব্যাখ্যা

 -কিয়োটো প্রটোকল গ্রিন হাউজ গ্যাস নি:সরণের ভিত্তিতে বিশ্বের দেশগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- যথা:
১- Annex-I ( শিল্পপ্রধান-৪২টি দেশ ) এরা বেশি কার্বন নি:সরণ করে।
২- Annex-II ( উন্নয়নশীল ২৪ টি দেশকে বুঝায়) এরা অপেক্ষাকৃত কম কার্বন নি:সরণ করে।
৩- Non-Annex Countries ( বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্যে দায়ী নয় এমন দেশ) ।
- UNFCCC এর মতে. Annex-I দেশগুলো কার্বন নি:সরণ করে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটায়।
-COP- 15  সম্মেলনে বলা হয়,  Annex-I দেশগুলো কার্বন নি:সরণ করার ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের দেশগুলোকে তাদের জিডিপির ০.৭% ক্ষতিপূরণ দিব। 

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।

৮৯৯.
'মন্ট্রিল প্রটোকল' নিচের কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. ভূমিক্ষয়
  2. পানি দূষণ
  3. ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
  4. নিচের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- 'মন্ট্রিল প্রটোকল' নিচের কোনটির সাথে সম্পর্কিত।

মন্ট্রিল প্রটোকল:
- মন্ট্রিল প্রটোকল ওজোনস্তর সংরক্ষণ বিষয়ক একটি বৈশ্বিক চুক্তি।
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোনস্তরের ক্ষয় সাধনকারী পদার্থের নির্গমন হ্রাস করে ওজোনস্তরকে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এই প্রটোকল গৃহীত হয়।
- কানাডার মন্ট্রিল শহরে প্রটোকলটি গৃহীত হয়।
- গৃহীত হয়: ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭ সাল।
- কার্যকর হয়: ১ জানুয়ারি, ১৯৮৯ সালে।
- মন্ট্রিল প্রটোকল গৃহীত হওয়ার দিন ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবছর আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সংরক্ষণ দিবস হিসেবে পালিত হয়।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৯০০.
বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ- ২৭ কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) গ্লাসগো, স্কটল্যান্ড
  2. খ) শারম আল শেখ, মিসর
  3. গ) লিমা, পেরু
  4. ঘ) কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক
ব্যাখ্যা
- জলবায়ু সংক্রান্ত জাতিসংঘ রূপরেখা সম্মেলন কার্যকর হয় ১৯৯৪ সালে।
- COP -এর পূর্ণরূপ Conferences of the Parties।
- প্রথম সম্মেলন কপ-১ অনুষ্ঠিত হয়- জার্মানির বার্লিন শহরেত ১৯৯৫ সালে।
- UNFCC ভুক্ত সদস্য দেসসমূহ জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে।
- কপ ২৭ অনুষ্ঠিত হয় মিসরের শারম আল শেখ শহরে ৬- ১৮ নভেম্বর ২০২২ সালে।
- কপ ২৮ অনুষ্ঠিত হবে ১২ নভেম্বর- ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ সালে আরব আমিরাত, দুবাই। 

উৎস : জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।